(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
المعلم الأول صلى الله عليه وسلم القسم: كتب عامة
الكتاب: المعلم الأول صلى الله عليه وسلم
المؤلف: فؤاد بن عبد العزيز الشلهوب
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 129
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 185
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
প্রথম শিক্ষক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: প্রথম শিক্ষক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
লেখক: ফুয়াদ বিন আব্দুল আজিজ আল-শালহুব
প্রকাশক: কিতাবটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত কিতাব) : ১২৯
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৫
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمةالحمد لله الذي علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم، والصلاة والسلام على المعلم الأول - صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم -.
أما بعد
… هذا كتاب حوى جملة نافعة من أخبار المصطفى صلوات الله وسلامه عليه، أثناء تعليمه لأمته أمر دينهم وما يستقيم به أمرهم، ولقد رأيت خلال ممارستي للتعليم ومطالعتي لسنن المصطفى صلوات الله وسلامه عليه أن هناك كمًّا هائلًا من الأقوال والأفعال النبوية تفيد المدرس بالدرجة الأولى، فاستعنت بالله في جمع ما ييسره لي الباري جل وعلا.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রথম শিক্ষক —তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর—।
অতঃপর
… এটি এমন একটি গ্রন্থ যা মুস্তফা (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সংবাদসমূহের (أخبار) একটি উপকারী সংকলন ধারণ করেছে, যা তিনি তাঁর উম্মতকে তাদের দ্বীনি বিষয়াদি এবং যা দ্বারা তাদের বিষয়সমূহ সুসংহত হয় তা শিক্ষা দেওয়ার সময় প্রদান করেছেন। আমি আমার শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকাকালীন এবং মুস্তফা (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সুনান পাঠকালে লক্ষ্য করেছি যে, সেখানে নবীজির বাণীসমূহ (أقوال) ও কর্মসমূহের (أفعال) এমন এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে যা একজন শিক্ষককে প্রথমত ও প্রধানত উপকৃত করে। তাই মহান প্রতিপালক আমার জন্য যা সহজ করে দিয়েছেন তা সংগ্রহ করতে আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২)
ثم أنني لم أحط - خلال جمعي وبحثي - بكل ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم في أمر التربية والتعليم، ولكن حسبي أني قد جمعت ما إذا وقف الناظر عليه رأى ما يبهج قلبه ويكفيه ويشفيه - بإذن الله -. ولقد تطرق بعض العلماء قديماً إلى هذا أو قريباً منه، كابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله، وابن مفلح في الآداب الشرعية، والغزالي في إحياء علوم الدين، وغيرهم ولكنهم لم يقصروا كتبهم وبحوثهم على أفعال النبي صلى الله عليه وسلم وأقواله في التربية والتعليم بلك كانوا يحشدون أقوال الصحابة والتابعين والعلماء الأجلاء وغيرهم، وهم أيضاً رحمهم الله كانوا يتوسعون في ذلك فيدخلون في كتبهم هذه كل ما يتعلق بالعلم والتعليم، كما يتبين للناظر في كتبهم. ولعلك بعد أن تطالع كتابنا هذا يتبين لك ما قلناه آنفاً.
ويجدر بنا الإشارة إلى أن هناك رسائل وبحوثاً معاصرة قيمة ومفيدة، وهي قريبة من هذا المسلك الذي اتخذته في عمل هذه الرسالة.
এরপর, আমার সংগ্রহ ও গবেষণার সময় শিক্ষা ও প্রতিপালনের বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সব কিছু আমি আয়ত্ত করতে পারিনি। তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি এমন কিছু বিষয় সংগ্রহ করেছি যা কোনো পাঠক দেখলে তা তার অন্তরকে আনন্দিত করবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তার জন্য যথেষ্ট ও আরোগ্যদায়ক হবে। অতীতে কিছু আলেম এই বিষয়ে বা এর কাছাকাছি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন; যেমন— ইবনে আবদিল বার তার ‘জামেউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ গ্রন্থে, ইবনে মুফলিহ তার ‘আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ’ গ্রন্থে এবং ইমাম গাজালি তার ‘ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন’ গ্রন্থে। তবে তারা তাদের কিতাব ও গবেষণাকে শিক্ষা ও প্রতিপালন বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং তারা সাহাবি (الصحابة), তাবেয়ি (التابعين), বরেণ্য আলেম এবং অন্যদের উক্তিগুলোও সেখানে সংকলিত করেছেন। এছাড়াও তারা (রহিমাহুমুল্লাহ) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জ্ঞান ও শিক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তাদের কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা তাদের গ্রন্থগুলো পাঠ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্ভবত আমাদের এই কিতাবটি পাঠ করার পর ইতিপূর্বে বলা আমাদের কথাটি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বর্তমানেও কিছু মূল্যবান ও উপকারী অভিসন্দর্ভ এবং গবেষণা রয়েছে, যা এই গবেষণাপত্রটি তৈরিতে আমার গৃহীত পদ্ধতির কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
فعسى الله أن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل وأن ينفعنا وينفع المسلمين به. والله الموفق، ولا حول لنا ولا قوة إلا به. وصلى الله وسلم وبارك على نبينا وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً. والحمد لله رب العالمين.
كتبه: فؤاد الشلهوب
الرياض: ص. ب 8810
الرمز البريدي: 11492
আশা করি আল্লাহ আমাদের কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা দান করবেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করবেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা, আর তাঁর সাহায্য ব্যতীত আমাদের কোনো উপায় বা শক্তি নেই। আমাদের নবি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিগণের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন: ফুয়াদ আল-শালহুব
রিয়াদ: পি.ও. বক্স ৮৮১০
পোস্টাল কোড: ১১৪৯২
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
مدخلمهنة التعليم لا تساويها مهنة في الفضل والرفعة، ووظيفة المعلم من أشرف الوظائف وأعلاها. وكلما كانت المادة العلمية أشرف وأنفع، ارتفع صاحبها شرفاً ورفعة ً، وأشرف العلوم على الإطلاق العلوم الشرعية، ثم العلوم الأخرى كل بحسبه. والمعلم إذا أخلص عمله لله، وعني بتعليمه نفع الناس، وتعليمهم الخير، لقول النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: «إنما الأعمال بالنيات» . ولعل حديث أبي أمامة رضي الله عنه يبين لنا فضل تعليم الخير. يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله وملائكته وأهل السموات والأرض حتى النملة في جحرها وحتى الحوت في البحر ليصلون على معلم الناس الخير» (1) .
--------------------------------------------
ভূমিকাশিক্ষা প্রদান পেশার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে অন্য কোনো পেশার তুলনা হয় না এবং শিক্ষকের দায়িত্ব হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কাজ। শিক্ষার বিষয়বস্তু যত বেশি সম্মানজনক ও উপকারী হবে, তার অধিকারীর মর্যাদা ও সম্মান তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। আর সকল বিদ্যার মধ্যে শরয়ি জ্ঞানই হলো নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক সম্মানজনক, অতঃপর অন্যান্য বিষয়সমূহ স্ব-স্ব মর্যাদা অনুযায়ী বিবেচিত হয়। শিক্ষক যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর কাজ একনিষ্ঠভাবে সম্পন্ন করেন এবং তাঁর শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গল সাধনে সচেষ্ট হন, তখন তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সহিহ (صحيح) হাদিসে বলেছেন: «নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল»। সম্ভবত আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি আমাদের নিকট কল্যাণমূলক শিক্ষা প্রদানের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট করে। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসীগণ, এমনকি গর্তের পিঁপড়া ও সাগরের মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করে, যে মানুষকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দেয়» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومهمة المعلم لا تقتصر على طرح المادة العلمية على طلابه فقط، بل هي مهمة عسيرة وشاقة - وهي يسيرة على من يسرها لله عليه - فهي تتطلب من المعلم صبراً، وأمانة، ونصحاً، ورعاية لمن تحته، ولو عددنا ما الذي ينبغي توفره في المعلم لطال بنا المقام (1) . وقبل أن ندخل في فصول هذا الكتاب أحب أن أنوه إلى مسألة توضح مقصود هذا الكتاب، وهو أنني جعلت من أفعال النبي صلى الله عليه وسلم وأقواله، مستنداً لي في استنباط صفات المعلم، وطرق التدريس المختلفة، وذلك لأن لنا في رسول الله صلى الله عليه وسلم أسوة حسنة {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} (2) ، ولأنه صلى الله عليه وسلم المعلم الأول الذي علم وربى صحابته فكانوا خير طلاب لخير معلم.
{كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ} (3) .
--------------------------------------------
একজন শিক্ষকের দায়িত্ব কেবল শিক্ষার্থীদের সামনে জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি কঠিন ও শ্রমসাধ্য কাজ—তবে আল্লাহ যার জন্য এটি সহজ করে দেন তার জন্য এটি সহজ। এটি শিক্ষকের নিকট থেকে ধৈর্য, আমানতদারি, সদুপদেশ এবং তাঁর অধীনস্থদের প্রতি যত্নশীলতা দাবি করে। একজন শিক্ষকের মাঝে কোন কোন গুণের উপস্থিতি কাম্য, তা যদি আমরা গণনা করতে যাই তবে আমাদের এই আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে (১)। এই কিতাবের বিভিন্ন অধ্যায়ে প্রবেশের পূর্বে আমি একটি বিষয় নির্দেশ করতে চাই যা এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করবে; আর তা হলো, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কার্যাবলি ও বাণীসমূহকে শিক্ষকের গুণাবলি এবং পাঠদানের বিভিন্ন পদ্ধতি আহরণ বা উদ্ভাবনের (استنباط) ক্ষেত্রে আমার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। কারণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} (২)। আর একারণেই যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন প্রথম শিক্ষক, যিনি তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দান করেছেন এবং তাঁদের পরিশুদ্ধ করেছেন; ফলে তাঁরা ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী।
{যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত (الحكمة) শিক্ষা দেন; আর তোমাদেরকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولعلك بعد تطالع كتابنا هذا يتبن لك أن ما ادعاه منظروا التربية والتعليم من إحداث طرق وأساليب متنوعة، في التربية والتعليم ليس بمستقيم لهم ولا مسلم به على كل حال، بل إن المعلم الأول صلى الله عليه وسلم سبقهم بذلك بأربعة عشر قرناً. والله الموفق.
সম্ভবত আমাদের এই গ্রন্থটি পাঠ করার পর আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল উদ্ভাবন সম্পর্কে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি তাদের জন্য সঠিক নয় এবং তা সর্বাবস্থায় স্বীকৃতও নয়; বরং প্রথম শিক্ষক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চৌদ্দশ বছর পূর্বেই এ ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগামী হয়েছেন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
[1]
إخلاص العلم للهأمر عظيم غفل عنه كثير من المعلمين والمربين، ألا وهو تأسيس وغرس مبدأ إخلاص العلم والعمل لله. وهو أمر لا يفطن له لبعد فئام من الناس عن المنهج الرباني. ولعمر الله كم من علوم مفيدة وأعمال جليلة للأمة، لم يستفد أصحابها منها شيئاً وذهبت أدراج الرياح وكانت هباءً منثوراً. وذلك لأن أصحابها لم يخلصوا في علومهم وأعمالهم، ولم يجعلوها في سبيل الله، ولم يكن همهم نفع إخوانهم المسلمين بهذه العلوم والمعارف والأعمال، إنما كانت أغراضهم نيل منصب أو جاه ونحو ذلك، ولذلك استحقت أن تكون هباءً منثوراً، أي نعم قد ينتفع أولئك بعلومهم ومعارفهم في الدنيا، من مدح وثناء ونحو ذلك ولكن ذلك عاقبته إلى زوال ولعل الحديث الذي رواه أبو هريرة يجسد ذلك المعنى:
[১]
আল্লাহর উদ্দেশ্যে জ্ঞানের একনিষ্ঠতাএটি এক মহান বিষয় যা অনেক শিক্ষক ও প্রশিক্ষক উপেক্ষা করে থাকেন; আর তা হলো—আল্লাহর উদ্দেশ্যে জ্ঞান ও আমলের একনিষ্ঠতার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং তা অন্তরে প্রোথিত করা। এটি এমন এক বিষয় যা অনুধাবন করা সম্ভব হয় না, কারণ মানুষের একটি বিশাল অংশ রব্বানি মানহাজ বা ঐশী পন্থা থেকে দূরে সরে গেছে। আল্লাহর কসম! উম্মাহর জন্য কত কত উপকারী জ্ঞান এবং মহৎ কর্ম রয়েছে, যা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিন্দুমাত্র উপকৃত হতে পারেনি; বরং সেগুলো বাতাসে বিলীন হয়ে গেছে এবং ধূলিকণায় পরিণত হয়েছে। এর কারণ হলো, তারা তাদের জ্ঞান ও কর্মে একনিষ্ঠ ছিল না এবং তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদন করেনি। এই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মুসলিম ভাইদের উপকার করা তাদের লক্ষ্য ছিল না; বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল পদমর্যাদা, খ্যাতি বা এই জাতীয় কিছু অর্জন করা। আর এই কারণেই সেই কাজগুলো ধূলিকণায় পরিণত হওয়ার উপযুক্ত হয়েছে। হ্যাঁ, দুনিয়াতে তারা তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দ্বারা মানুষের প্রশংসা ও স্তুতির মাধ্যমে হয়তো উপকৃত হতে পারে, কিন্তু পরকালে তার পরিণাম হলো বিনাশ। সম্ভবত আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটি এই বিষয়টিকেই ফুটিয়ে তোলে:
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم ".. «ورجل تعلم العلم، وقرأ القرآن، فأتي به، فعرفه نعمه، فعرفها فقال: ما عملت فيها، قال تعلمت العلم وعلمته وقرأت فيك القرآن، قال كذبت، ولكنك تعلمت العلم ليقال: عالم، وقرأت القرآن ليقال قارئ فقد قيل، ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار» .. الحديث " (1) . ولذا كان حري بالمربين والمعلمين أن يغرسوا في نفوس ناشئتهم إخلاص العلم والعمل لله، وابتغاء الأجر والثواب من الله، ثم إن حصل بعد ذلك مدح وثناء من الناس فذلك فضل من الله ونعمة والحمد لله. قال ابن رجب: فأما إذا عمل العمل لله خالصاً، ثم ألقى الله له الثناء الحسن في قلوب المؤمنين بذلك، ففرح بفضل الله ورحمته، واستبشر بذلك، لم يضره ذلك. وفي هذا المعنى جاء حديث أبي ذر، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه «سئل عن الرجل يعمل العمل لله من الخير يحمده الناس عليه فقال: " تلك عاجل بشرى المؤمن» أخرجه مسلم. أهـ. ومدار ذلك كله على النية، والنية محلها الصدور والله سبحانه وتعالى لا تخفى عليه خافية {قُلْ إِنْ تُخْفُوا مَا فِي صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ".. «এবং এক ব্যক্তি যে ইলম অর্জন করেছে, তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে (বিচারের দিন) উপস্থিত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে তা স্বীকার করবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তুমি এসব নেয়ামত দ্বারা কী আমল করেছ?’ সে বলবে: ‘আমি ইলম অর্জন করেছি, তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি।’ আল্লাহ বলবেন: ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি ইলম অর্জন করেছিলে যাতে তোমাকে ‘আলেম’ বলা হয় এবং কুরআন পাঠ করেছিলে যাতে তোমাকে ‘ক্বারী’ বলা হয়। আর তা বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, তাকে উপুড় করে মুখমণ্ডলের ওপর টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং অবশেষে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’ .. হাদিস" (১)। এজন্যই শিক্ষক ও লালন-পালনকারীদের জন্য এটি সমীচীন যে, তারা যেন তাদের নতুন প্রজন্মের অন্তরে ইলম ও আমল কেবল আল্লাহর জন্যই একনিষ্ঠ করার মানসিকতা এবং আল্লাহর নিকট থেকে প্রতিদান ও সওয়াবের আশা গেঁথে দেন। এরপর যদি মানুষের পক্ষ থেকে প্রশংসা ও গুণকীর্তন আসে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নেয়ামত; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। ইবনে রাজাব বলেন: "পক্ষান্তরে যদি কেউ আমলটি কেবল আল্লাহর জন্যই একনিষ্ঠভাবে সম্পাদন করে, অতঃপর আল্লাহ মুমিনদের অন্তরে তার প্রতি উত্তম প্রশংসা সৃষ্টি করে দেন এবং সে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আনন্দিত ও প্রফুল্ল হয়, তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।" এই অর্থেই আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটি এসেছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কল্যাণের কাজ করে এবং মানুষ তার প্রশংসা করে। তিনি বললেন: "এটি হলো মুমিনের জন্য দুনিয়াতে দ্রুত আসা সুসংবাদ।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। আর এসব কিছুর মূল ভিত্তি হলো নিয়ত, আর নিয়তের স্থান হলো অন্তর। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট কোনো গোপন বিষয়ই অস্পষ্ট নয়। {বলুন, তোমাদের অন্তরে যা আছে তা যদি তোমরা গোপন করো কিংবা প্রকাশ করো, আল্লাহ তা জানেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
اللَّهُ} (1) فمن كانت نيته لله خالصة فليبشر بقبول عمله، وأجر من الله ومثوبة.
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قول «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه» (2)
الخلاصة:
(1) المعلم أن يغرس في نفوس طلابه حقيقة الإخلاص.
(2) وعلى المعلم استصحاب تلك الحقيقة في بدايات الأعمال، والتذكير بها دائماً.
--------------------------------------------
আল্লাহর জন্য} (১) সুতরাং যার নিয়ত আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হবে, সে যেন তার আমল কবুল হওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ করে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান ও সওয়াবের আশা রাখে।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই লক্ষ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" (২)
সারসংক্ষেপ:
(১) শিক্ষকের উচিত তাঁর ছাত্রদের অন্তরে ইখলাসের (একনিষ্ঠতা) প্রকৃত স্বরূপ বপন করে দেওয়া।
(২) শিক্ষকের উচিত প্রতিটি কাজের শুরুতে সেই একনিষ্ঠতাকে বজায় রাখা এবং সর্বদা তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
[2]
صدق المعلمإن الصدق تاج على رأس المعلم، إذا فقده فقد ثقة الناس بعلمه، وبما يمليه عليهم من معلومات. لأن الطالب في الغالب يتقبل من معلمه كل ما يقوله، فإذا بان للطلاب كذب معلمهم في بعض الأمور، فإن ذلك ينعكس عليه مباشرة، ويؤدي إلى سقوطه من أعين طلابه.
والصدق منجاة للعبد في الدنيا والآخرة، وقد أثنى الله على الصادقين، ورغب المؤمنين أن يكونوا من أهله بقوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ} (1) ، وأرشد المعلم الأول إلى أن الصدق يهدي إلى الجنة بقوله:
--------------------------------------------
[2]
শিক্ষকের সত্যবাদিতানিশ্চয় সত্যবাদিতা শিক্ষকের মাথার মুকুট; যদি তিনি এটি হারিয়ে ফেলেন, তবে তিনি তাঁর ইলম এবং তিনি শিক্ষার্থীদের যে সকল তথ্য প্রদান করেন, সে বিষয়ে মানুষের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) হারাবেন। কারণ ছাত্র সাধারণত তার শিক্ষকের নিকট থেকে তাঁর প্রতিটি কথা গ্রহণ করে থাকে। সুতরাং যদি ছাত্রদের কাছে কোনো বিষয়ে তাদের শিক্ষকের মিথ্যা প্রকাশ পায়, তবে তা সরাসরি তাঁর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ছাত্রদের দৃষ্টিতে তাঁর মর্যাদার পতন ঘটায়।
আর সত্যবাদিতা দুনিয়া ও আখিরাতে বান্দার জন্য মুক্তির মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা সত্যবাদীদের প্রশংসা করেছেন এবং মুমিনদের তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো} (১)। আর প্রথম শিক্ষক এই মর্মে পথপ্রদর্শন করেছেন যে, সত্যবাদিতা জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
1- «إن الصدق يهدي إلى البر، وإن البر يهدي إلى الجنة، وإن الرجل ليصدق ويتحى الصدق حتى يكتب عند الله صديقاً، وإن الكذب يهدي إلى الفجور، وإن الفجور يهدي إلى النار، وإن الرجل ليكذب ويتحرى الكذب حتى يكتب عند الله كذاباً» (1) وعند تأمل السيرة النبوية، نجد أن نبيكم صلى الله عليه وسلم كان يسمى بالصادق الأمين، ولم يعهد منه كفار مكة كذبة واحدة. ولما بعث وظهر أمره، عاداه سادات قريش وأعيانهم، لا لكذبه عليهم، ولكن استكباراً وتجبراً، وخوفاً من سقوط هيبتهم وجاههم ومقامهم بين القبائل، وقد صرح بحقيقة ذلك بعض أعيانهم. ولقد كان لا تصافه صلى الله عليه وسلم بالصدق أثراً كبيراً في دخول كثير من الناس في دين الله، ورحم الله ذلك الصحابي (2) الذي عندما رأى النبي صلى الله عليه وسلم لأول وهلة قال: لما رأيت وجهه عرفت أن وجهه ليس بوجه كذاب!!
--------------------------------------------
1- «নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা পুণ্যের দিকে পরিচালিত করে এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ সত্য বলতে থাকে এবং সত্যনিষ্ঠ হতে চেষ্টা করে, যতক্ষণ না আল্লাহর নিকট তাকে পরম সত্যবাদী (صديق) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর নিশ্চয়ই মিথ্যা পাপাচারের দিকে পরিচালিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যা বলতে চেষ্টা করে, যতক্ষণ না আল্লাহর নিকট তাকে চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়» (১) নবীজির সীরাত পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, আপনাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ‘আল-সাদিক আল-আমিন’ নামে ডাকা হতো এবং মক্কার কাফেররা তাঁর থেকে একটি মিথ্যাও কখনো দেখেনি। যখন তিনি নবুওয়াত লাভ করলেন এবং তাঁর দাওয়াত প্রকাশিত হলো, তখন কুরাইশদের সর্দার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর সাথে শত্রুতা শুরু করল। তারা এটি তাঁর মিথ্যার কারণে করেনি, বরং তা ছিল অহংকার ও ঔদ্ধত্যের বশবর্তী হয়ে এবং গোত্রগুলোর মাঝে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়ে; তাদের মধ্যে কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি এ বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে স্বীকারও করেছেন। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্যবাদিতার গুণটি মানুষের আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। আল্লাহ সেই সাহাবীর (২) প্রতি রহম করুন, যিনি নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রথমবার দেখেই বলেছিলেন: “যখন আমি তাঁর চেহারা দেখলাম, তখনই বুঝতে পারলাম যে তাঁর চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর (كذاب) চেহারা হতে পারে না!!”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
و (1) صدق المعلم يدعو المتعلم إلى الثقة به وبما يقول، ويكسبه احترام المعلمين، ويرفع من شأنه في عمله، ويتمثل صدق المعلم في مستلزمات المسئولية الملقاة على عاتقه، والتي منها نقل المعرفة بما فيها من حقائق ومعلومات للأجيال، فإن لم يكن المعلم متحلياً بالصدق فإنه سينقل لهم علماً ناقصاً ومبتوراً، وحقائق ومعلومات مغايرة للصورة التي يجب أن ينقلها، وإذا تعود التلميذ على قبول هذا السلوك السيء من المعلم فإنه ربما يستحسن هذا العمل حتى يصبح ملازماً له، وهو أمر خطير على المجتمع أهـ.
--------------------------------------------
এবং (১) শিক্ষকের সততা শিক্ষার্থীকে তাঁর প্রতি এবং তাঁর বক্তব্যের প্রতি আস্থাশীল (الثقة) হতে উদ্বুদ্ধ করে, তাকে অন্যান্য শিক্ষকদের নিকট শ্রদ্ধেয় করে তোলে এবং তার কর্মক্ষেত্রে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে। শিক্ষকের সততা তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বের আবশ্যকীয় বিষয়সমূহের মধ্যে প্রতিফলিত হয়, যার অন্যতম হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সত্য ও তথ্যসহ জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া। শিক্ষক যদি সততায় ভূষিত না হন, তবে তিনি তাদের কাছে অসম্পূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন (مبتور) জ্ঞান এবং প্রকৃত রূপের বিপরীত তথ্য ও উপাত্ত পৌঁছে দেবেন। আর শিক্ষার্থী যদি শিক্ষকের এই মন্দ আচরণ গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তবে সম্ভবত সে এই কাজটিকে উত্তম মনে করতে শুরু করবে এবং শেষ পর্যন্ত এটি তার মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হবে; যা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়। ইতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وإليك أيها المعلم مثالاً يبين أثر الكذب على الطلاب. يقول الشيخ محمد جميل زينو: حدث أن سأل أحد الطلاب معلمه مستنكراً تدخين أحد المعلمين، فأجاب المعلم مدافعاً عن زميله، بأن سبب تدخينه هو نصيحة الطبيب له، وحين خرج التلميذ من الصف قال: إن المعلم يكذب علينا. (قال محمد جميل) وحبذا لو صدق المعلم في إجابته، وبين خطأ زميله، بأن التدخين حرام، لأنه مضر بالجسم، مؤذ للجار، متلف للمال، فلو فعل ذلك لكسب ثقة الطلاب وحبهم، ويستطيع أن يقول هذا المعلم إلى طلابه: إن هذا المعلم فرد من الناس تجري عليه الأعراض البشرية، فهو يصيب ويخطئ.. . (1)
الخلاصة:
(1) الصدق نجاة للمعلم في الدنيا والآخرة.
الكذب على الطلاب، عائق عن التلقي، وفاقد للثقة.
الكذب أثره يتعدى إلى المجتمع، ولا يقتصر على منتحله.
--------------------------------------------
হে শিক্ষক, আপনার জন্য এমন একটি উদাহরণ পেশ করা হলো যা শিক্ষার্থীদের ওপর মিথ্যার প্রভাবকে স্পষ্ট করে। শায়খ মুহাম্মদ জামিল যাইনু বলেন: একবার জনৈক ছাত্র তার শিক্ষকের কাছে অন্য একজন শিক্ষকের ধূমপান করার ব্যাপারে বিস্ময় ও আপত্তি জানিয়ে প্রশ্ন করল। শিক্ষক তখন তার সহকর্মীর পক্ষ সমর্থন করে উত্তর দিলেন যে, তার ধূমপানের কারণ হলো চিকিৎসকের পরামর্শ। ছাত্রটি যখন শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হলো, তখন সে বলল: শিক্ষক আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলছেন। (মুহাম্মদ জামিল বলেন) শিক্ষক যদি তার উত্তরে সত্যনিষ্ঠ হতেন এবং তার সহকর্মীর ভুলটি স্পষ্ট করে দিতেন যে ধূমপান হারাম, কারণ এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর, প্রতিবেশীর জন্য কষ্টদায়ক এবং সম্পদের অপচয়কারী; তবে তা কতই না উত্তম হতো। তিনি যদি এমনটি করতেন, তবে তিনি শিক্ষার্থীদের আস্থা (ثقة) ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারতেন। শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের বলতে পারতেন যে: সেই শিক্ষকও মানুষেরই একজন, যার ওপর মানবিক বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রভাব ফেলে, তাই তিনি সঠিক কাজও করেন আবার ভুলও করেন...। (১)
সারসংক্ষেপ:
(১) সত্যবাদিতা দুনিয়া ও আখেরাতে শিক্ষকের জন্য মুক্তির পথ।
শিক্ষার্থীদের সাথে মিথ্যা বলা জ্ঞান অর্জনের পথে অন্তরায় এবং এটি আস্থা (ثقة) বিনষ্টকারী।
মিথ্যার প্রভাব সমাজের ওপর পড়ে এবং তা কেবল মিথ্যাবাদীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[3]
مطابقة القول العملقال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ} {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} . (1) أي: لم تقولون الخير، وتحثون عليه، وربما تمدحتم به، وأنتم لا تفعلونه. وتنهون عن الشر، وربما نزهتم أنفسكم عنه، وأنتم متلوثون متصفون به. فهل تليق بالمؤمنين، هذه الحالة الذميمة؟ أم من أكبر المقت عند الله، أن يقول العبد ما لا يفعل؟ . ولهذا ينبغي للآمر بالخير أن يكون أول الناس مبادرة إليه، والناهي عن الشر، أن يكون أبعد الناس عنه، قال تعالى: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} . وقال شعيب عليه السلام: {وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ} أهـ (2) .
--------------------------------------------
[৩]
কথা ও কাজের মিলমহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?} {আল্লাহর নিকট এটি অত্যন্ত অসন্তোষজনক যে, তোমরা তা বলো যা তোমরা করো না।} (১) অর্থাৎ: তোমরা কেন কল্যাণের কথা বলো এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান করো, এমনকি কখনো তা নিয়ে প্রশংসাও কুড়াও, অথচ নিজেরা তা করো না? আর তোমরা মানুষকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং কখনো নিজেকে তা থেকে পবিত্র দাবি করো, অথচ নিজেরা তাতে লিপ্ত ও পঙ্কিল। এই নিন্দনীয় অবস্থা কি মুমিনদের জন্য মানানসই? নাকি আল্লাহর নিকট এটি সবচেয়ে বড় ক্রোধের বিষয় যে, বান্দা যা করে না তা সে বলে? একারণেই সৎকাজের আদেশদাতার উচিত হবে তাতে সর্বাগ্রে ধাবিত হওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধকারীর উচিত হবে তা থেকে সবচেয়ে দূরে থাকা। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও আর নিজেদের কথা ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করো; তবে কি তোমরা অনুধাবন করবে না?}। এবং শুয়াইব আলাইহিস সালাম বলেছেন: {আমি তোমাদের যা হতে নিষেধ করি, তার বিরুদ্ধাচরণ করে আমি তা করতে চাই না।} সমাপ্ত (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ورسولنا صلى الله عليه وسلم كان يأمر الناس بالخير وهو أول من يأتيه، وكان ينهاهم عن الشر وهو أول من يجتنبه ويبتعد عنه، وهذا من كمال خلقه عليه الصلاة والسلام، ولا عجب فقد كان خلقه القرآن. ومطاقة القول العمل، أسرع في الاستجابة من مجرد القول بمفرده، يتبين لنا ذلك من خلال عرض هذا الحدث الذي وقع للنبي صلى الله عليه وسلم، والمسلمين معه في قصة الحديبية. فعندما صالح المشركون المسلمين على شروط معينة ومنها أن يرجع المسلمون من عامهم هذا عن مكة ويحجوا في عامهم المقبل. قال ابن القيم:
(1) فلما فرغ من قضية الكتاب، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قوموا فانحروا، ثم احلقوا " فوالله ما قام منهم رجل واحد حتى قال ذلك ثلاث مرات، فلما لم يقم منهم أحد (2) ، دخل على أم سلمة، فذكر لها ما لقي منه الناس، فقالت أم سلمة: يا رسول الله: أتحب ذلك؟ اخرج ثم لا تكلم أحداً منهم كلمة حتى تنحر بدنك، وتدعو حالقك فيحلقك، فقام، فخرج، فلم يكلم أحداً منهم حتى فعل ذلك: نحر بدنه، ودعا حالقه فحلقه، فلما رأى الناس ذلك، قاموا فنحروا، وجعل بعضهم يحلق بعضاً» .
--------------------------------------------
আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে কল্যাণের আদেশ দিতেন এবং তিনি নিজেই তা পালনকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাদের মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতেন এবং তিনি নিজেই তা থেকে প্রথম দূরে থাকতেন ও তা পরিহার করতেন। এটি ছিল তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) চরিত্রের পূর্ণতা। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন। বাণীর সাথে কর্মের সামঞ্জস্য কেবল বাণীর চেয়ে দ্রুত সাড়া প্রদান করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাথে থাকা মুসলমানদের ক্ষেত্রে হুদায়বিয়ার ঘটনায় যা ঘটেছিল তা পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যখন মুশরিকরা মুসলমানদের সাথে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে সন্ধি করল, যার মধ্যে একটি ছিল মুসলমানরা এ বছর মক্কা থেকে ফিরে যাবে এবং আগামী বছর তারা হজ করবে। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:
(1) “যখন তিনি চুক্তির কাজ শেষ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘তোমরা ওঠো, পশু কোরবানি করো এবং এরপর মাথা মুণ্ডন করো।’ আল্লাহর শপথ! তিনি এ কথা তিনবার বলা পর্যন্ত তাদের মধ্য থেকে একজন লোকও উঠল না। যখন তাদের কেউ উঠল না, তখন তিনি উম্মে সালামাহ-এর নিকট প্রবেশ করলেন এবং মানুষের কাছ থেকে তিনি যে আচরণের সম্মুখীন হয়েছেন তা তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন। তখন উম্মে সালামাহ বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সেটিই পছন্দ করেন (যে তারা কোরবানি করুক)? আপনি বের হোন এবং তাদের কারোর সাথে কোনো কথা না বলে নিজের উটটি কোরবানি করুন এবং আপনার নাপিতকে ডাকুন যাতে সে আপনার মাথা মুণ্ডন করে দেয়।’ অতঃপর তিনি উঠলেন এবং বের হলেন, এরপর তাদের কারোর সাথে কোনো কথা না বলে নিজের কাজ সম্পন্ন করলেন: উট কোরবানি করলেন এবং নাপিতকে ডাকলেন, সে তাঁর মাথা মুণ্ডন করে দিল। যখন মানুষ তা দেখল, তারা উঠে দাঁড়াল এবং কোরবানি করল ও একে অপরের মাথা মুণ্ডন করে দিতে লাগল।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وهنا يتضح لنا جلياً كيف أن الصحابة تأخروا عن تنفيذ قوله صلى الله عليه وسلم، ولكن لما رأوا أنه بادر إلى ذلك قبلهم، تبعوه ولم يتخلف منهم أحد.
والمعلم هو أحوج الناس إلى التزام ذلك المنهج في واقع حياته، لأنه قدوة يحتذى، وطلابه يأخذون عنه الأخلاق، والأدب، والعلم ولعمر الله أي فائدة ترجى من معلم ينقض قوله عمله! (1) . ثم إن التناقض الذي يشاهده الطالب من قبل معلمه يوقعه في حيرة عظيمة، وكأني بذلك الطالب المحتار وهو يسأل نفسه: لقد احترت في أمري، ماذا أفعل، هل أصدق قوله، أم فعله الذي يناقض قوله؟ ، فهو يقول لنا: الكذب عادة سيئة مذمومة وعاقبتها إلى الخسران، ثم نسمعه بعد ذلك مراراً يكذب علينا! .
من أجل ذلك كان النهي الشديد في قوله تعالى: {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} . فالواجب على المربين والمعلمين أن يتقوا الله في فلذات الأكباد، فهم أمانة في أعناقهم، فليحرصوا على تعليمهم ما ينفعهم، ومطابقة أقوالهم لأعمالهم، لأن في ذلك ترسيخاً للعلم الذي تعلموه من معلميهم ومربيهم.
--------------------------------------------
এখানে আমাদের নিকট স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সাহাবীগণ কীভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ পালনে বিলম্ব করেছিলেন; কিন্তু যখন তাঁরা দেখলেন যে তিনি স্বয়ং তাঁদের পূর্বেই তা পালনে অগ্রণী হয়েছেন, তখন তাঁরা তাঁর অনুসরণ করলেন এবং তাঁদের মধ্যে একজনও পিছিয়ে থাকলেন না।
আর একজন শিক্ষক তাঁর বাস্তব জীবনে এই পদ্ধতি অনুসরণে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক মুখাপেক্ষী, কেননা তিনি হলেন একজন অনুসরণীয় আদর্শ এবং তাঁর ছাত্ররা তাঁর নিকট থেকে চরিত্র, শিষ্টাচার ও জ্ঞান গ্রহণ করে। আল্লাহর শপথ! এমন শিক্ষক থেকে কী-ই বা উপকার আশা করা যেতে পারে যার কথা তার কাজের পরিপন্থী হয়! (১)। অধিকন্তু, একজন ছাত্র তার শিক্ষকের পক্ষ থেকে যে বৈপরীত্য প্রত্যক্ষ করে, তা তাকে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত করে। যেন আমি সেই বিভ্রান্ত ছাত্রকে দেখছি যে নিজেকে প্রশ্ন করছে: আমি আমার বিষয়ে সংশয়ে পড়ে গেছি, আমি কী করব? আমি কি তাঁর কথা বিশ্বাস করব, নাকি তাঁর সেই কাজ—যা তাঁর কথার সম্পূর্ণ বিপরীত? তিনি আমাদের বলেন: মিথ্যা (كذب) একটি জঘন্য ও নিন্দনীয় (مذمومة) অভ্যাস এবং এর পরিণাম হলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া; অথচ এরপর আমরা তাকে বারবার আমাদের সাথে মিথ্যা (كذب) বলতে দেখি!
এ কারণেই মহান আল্লাহর বাণীতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে: {আল্লাহর নিকট এটি অত্যন্ত ক্রোধের বিষয় যে, তোমরা যা করো না তা বলো}। সুতরাং প্রশিক্ষক ও শিক্ষকদের কর্তব্য হলো এই কোমলমতি সন্তানদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা, কেননা তারা তাঁদের নিকট আমানত। অতএব, তাঁরা যেন তাদের উপকারী বিষয়সমূহ শিক্ষা দিতে সচেষ্ট হন এবং তাঁদের কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় রাখেন; কারণ এর মাধ্যমেই তাঁদের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের নিকট থেকে অর্জিত জ্ঞানের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الغزالي (1) : الوظيفة الثامنة: أن يكون المعلم عاملاً بعلمه فلا يكذب قوله فعله لأن العلم يدرك بالبصائر والعمل يدرك بالأبصار وأرباب الأبصار أكثر. فإذا خالف العمل العلم منع الرشد وكل من تناول شيئاً وقال للناس لا تتناولوه فإنه سم مهلك سخر الناس به واتهموه وزاد حرصهم على ما نهوا عنه فيقولون لولا أنه أطيب الأشياء وألذها لما كان يستأثر به. ومثل المعلم المرشد من المسترشدين مثل النقش من الطين والظل من العود فكيف ينتقش الطين بما لا نقش فيه ومتى استوى الظل والعود أعوج؟
قال أبو الأسود الدؤلي (2) :
يا أيها الرجل المعلمُ غيرهَ
… هلا لنفسك كان ذا التعليمُ
لا تنه عن خلق وتأتيَ مثلَه
… عارٌ عليك إذا فعلتَ عظيمُ
وابدأ بنفسك فانهها عن غيها
… فإذا انتهت عنه فأنت حكيمُ
فهناك تُقبل إن وعظت ويُقتدى
… بالقول منك وينفع التعليمُ
تصفُ الدواءَ لذي السقام الضنا
… كيما يصح به وأنت سقيمُ
وأراك تلقح بالرشاد عقولنا
… نصحاً وأنت من الرشادِ عديمُ
الخلاصة:
--------------------------------------------
গাজ্জালী (১) বলেন: অষ্টম দায়িত্ব: শিক্ষককে তার ইলম অনুযায়ী আমলকারী হতে হবে, যাতে তার কথা তার কাজের পরিপন্থী না হয়। কারণ ইলম অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে উপলব্ধি করা হয় এবং আমল চাক্ষুষ দৃষ্টির মাধ্যমে দেখা হয়, আর চাক্ষুষ দ্রষ্টাদের সংখ্যাই অধিক। সুতরাং যখন আমল ইলমের বিপরীত হয়, তখন তা সঠিক পথপ্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। যে ব্যক্তি নিজে কোনো কিছু গ্রহণ করে আর মানুষকে বলে, "এটি গ্রহণ করো না, কারণ এটি একটি প্রাণঘাতী বিষ," তখন মানুষ তাকে নিয়ে উপহাস করে এবং তাকে অভিযুক্ত করে। ফলে যে বিষয়ে তাদের নিষেধ করা হয়েছে, তার প্রতি তাদের লালসা আরও বৃদ্ধি পায় এবং তারা বলে, "যদি এটি সবচাইতে উত্তম ও সুস্বাদু বস্তু না হতো, তবে সে নিজে এটি একচ্ছত্রভাবে ভোগ করত না।" পথপ্রদর্শক শিক্ষক এবং হিদায়াতপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীর উদাহরণ হলো মাটির ওপর নকশা এবং লাঠির ছায়ার মতো। মাটির ওপর কীভাবে সেই নকশা ফুটে উঠবে যা নকশা করার ছাঁচেই নেই? আর লাঠি যখন বাঁকা, তখন তার ছায়া কখন সোজা হয়?
আবু আল-আসওয়াদ আল-দুয়ালী (২) বলেন:
হে অন্যকে শিক্ষা দানকারী ব্যক্তি!
… কেন নিজের জন্য এই শিক্ষা হলো না?
তুমি কোনো আচরণের নিষেধ করো না যা তুমি নিজেই করছ
… যদি তা করো, তবে তা তোমার জন্য এক বড় লজ্জার বিষয়।
নিজের নফস থেকে শুরু করো এবং তাকে ভ্রষ্টতা থেকে বারণ করো
… যদি সে বিরত হয়, তবেই তুমি প্রজ্ঞাবান।
তবেই তোমার উপদেশ গৃহীত হবে, তোমার কথা
… অনুসৃত হবে এবং তোমার শিক্ষা ফলপ্রসূ হবে।
তুমি রুগ্ন ও জীর্ণ ব্যক্তির জন্য ওষুধের বর্ণনা দাও
… যেন সে তার দ্বারা সুস্থ হয়, অথচ তুমি নিজেই অসুস্থ।
আমি দেখছি তুমি উপদেশের মাধ্যমে আমাদের বুদ্ধিকে সঠিক পথে পরিচালিত করছ
… অথচ তুমি নিজে সঠিক পথ থেকে বঞ্চিত।
সারসংক্ষেপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحالة الذميمة التي يتحلى بها من خالف قوله عمله، وكفى بقوله تعالى: {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} فإنه فيه عظة وعبرة لمن عقل.
إن مخالفة القول للعمل توقع الطالب في حيرة، وتجعله لا يستقر على حال.
عظم المهمة الملقاة على المعلمين والمربين.
যে ব্যক্তির কথা ও কাজের মধ্যে বৈপরীত্য বিদ্যমান, তার এই অবস্থা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আর মহান আল্লাহর এই বাণীই (প্রমাণ হিসেবে) যথেষ্ট: {তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়}। নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিমানদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা রয়েছে।
নিশ্চয়ই কথা ও কাজের অমিল জ্ঞানান্বেষীকে বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত করে এবং তাকে কোনো একটি অবস্থায় স্থির থাকতে দেয় না।
শিক্ষক এবং মুরুব্বিদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্ব ও বিশালতা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[4] العدل والمساواة.
[4] ন্যায়বিচার ও সমতা.
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} (1) وقال تعالي: {وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ} (2) . وقال تعالى: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} (3) . وقال تعالى: {وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى} (4) . . ففي الآية الأولى يأمر الله بالعدل ويوجبه على العباد فالعدل الذي أمر الله به، يشمل العدل في حقه، وفي حق عبادة.. ويعامل الخلق بالعدل التام فيؤدي كل والٍ ما عليه، تحت ولايته، سواء في ذلك ولاية الإمامة الكبرى، وولاية القضاء، ونواب الخليفة، ونواب القاضي. أهـ (5) وقس على ذلك الولاية التي تكون للمعلم على تلميذه فإن له ولاية على طلابه بحسبها. وفي الآية الثانية أمر الله رسوله صلى الله عليه وسلم بأن يعدل بين أهل الكتاب، وأن لا تكون هذه العداوة مانعة من العدل في الأحكام، وكذلك الآية الثالثة تحث على إقامة العدل
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা (عدل), সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তিনি অশ্লীলতা, বর্জনীয় (منكر) কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো} (১)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার (عدل) করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি} (২)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার (عدل) না করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার (عدল) করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত} (৩)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ন্যায়সংগত (عدل) কথা বলবে, যদিও সে নিকটাত্মীয় হয়} (৪)। . . প্রথম আয়াতে আল্লাহ তাআলা ন্যায়পরায়ণতার (عدل) নির্দেশ দিয়েছেন এবং বান্দাদের ওপর তা আবশ্যক করেছেন। আল্লাহ যে ন্যায়পরায়ণতার (عدل) নির্দেশ দিয়েছেন, তা তাঁর হকের ক্ষেত্রে এবং তাঁর বান্দাদের হকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য.. তিনি সৃষ্টির সাথে পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতার (عدل) সাথে আচরণ করেন। সুতরাং প্রত্যেক দায়িত্বশীল তার অধীনে থাকা বিষয়ে তার কর্তব্য পালন করবে, তা ইমামতে কুবরা (সর্বোচ্চ নেতৃত্ব), বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব, খলিফার প্রতিনিধি বা বিচারকের প্রতিনিধি—যে কোনো দায়িত্বই হোক না কেন। [সমাপ্ত] (৫)। আর এর ওপর ভিত্তি করেই একজন শিক্ষকের তার ছাত্রের ওপর যে দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব রয়েছে তা তুলনা করো; কেননা ছাত্রদের ওপর তার অবস্থানের অনুপাতে তার কর্তৃত্ব রয়েছে। দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আহলে কিতাবদের মধ্যে ন্যায়বিচার (عدل) করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন যেন এই শত্রুতা বিচারকার্যে ন্যায়বিচার (عدل) থেকে বিরত না রাখে। একইভাবে তৃতীয় আয়াতটিও ন্যায়বিচার (عدল) প্রতিষ্ঠার প্রতি উৎসাহিত করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
مع الأعداء، ألا ترى إلى قوله: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ} أي لا يحملنكم بغضكم لهم على ألا تعدلوا. ثم أخبر تعالى في ختام الآية أن تحقيق العدل وإقامة القسط ولو كان مع العدو فإنه سبب في كمال التقوى. وفي قوله تعالى {هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} أي كلما حرصتم على العدل واجتهدتم في العمل به، كان ذلك أقرب لتقوى قلوبكم فإن تم العدل كملت التقوى. أهـ (1) . وفي الآية الرابعة أمر الله سبحانه بالعدل مع القريب والبعيد. قال ابن كثير: وقوله: {وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى} كقوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} وكذا التي تشبهها في سورة النساء يأمر الله تعالى بالعدل في الفعال والمقال على القريب والبعيد والله تعالى يأمر بالعدل لكل أحد في كل وقت وفي كل كل حال.
--------------------------------------------
শত্রুদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রেও; আপনি কি মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করবেন না: {কোন সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে, তোমরা ইনসাফ করবে না}। অর্থাৎ, তাদের প্রতি তোমাদের বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার বর্জন করতে প্ররোচিত না করে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আয়াতের শেষে অবহিত করেছেন যে, ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা এবং ইনসাফ কায়েম করা—তা শত্রুর সাথে হলেও—তা তাকওয়ার পূর্ণতার কারণ। আর মহান আল্লাহর বাণী {এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী}-এর ব্যাখ্যা হলো: তোমরা ন্যায়বিচারের প্রতি যত বেশি যত্নশীল হবে এবং তা পালনে সচেষ্ট হবে, তা তোমাদের অন্তরের তাকওয়ার তত নিকটবর্তী হবে; কেননা যখন ন্যায়বিচার পূর্ণ হয়, তখন তাকওয়াও পূর্ণতা পায়। ই.আ. (১)। আর চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী সবার সাথেই ইনসাফ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনে কাসীর বলেন: মহান আল্লাহর বাণী {আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ন্যায়সংগত বলবে, যদিও সে নিকটাত্মীয় হয়}—এটি আল্লাহর এই বাণীর সদৃশ: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্যদানে ইনসাফের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক; যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই শ্রেষ্ঠতর অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো কিংবা বিমুখ হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা করো সে বিষয়ে সম্যক অবগত।} অনুরূপভাবে সূরা আন-নিসায় এর সদৃশ আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলা নিকট ও দূরের সবার ক্ষেত্রে কাজে ও কথায় ইনসাফ করার আদেশ দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, সর্বসময়ে এবং সর্বাবস্থায় ন্যায়বিচারের নির্দেশ প্রদান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
أهـ (1) .
فمما سبق يتبين أن القيام بالقسط والعدل بين الناس، شأنه عظيم، ولذلك جاءت الآيات في بيان أمره والتعظيم من شأنه. ورسولنا صلى الله عليه وسلم يضرب أروع الأمثلة في تحقيقه للعدل بين أفراد أمته. انظر للحديث الذي ترويه أم المؤمنين عائشة - رضى الله عنها -
1- قالت: «إن قريش أهمهم شأن المرأة المخزومية التي سرقت، فقالوا: ومن يكلم فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقالوا: ومن يجترئ عليه إلا أسامة بن زيد، حب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فكلمه أسامة، فقال: رسول الله " أشفع في حد من حدود الله؟ " ثم قام فاختطب، ثم قال: " إنما أهلك الذين قبلكم أنهم كانوا، إذا سرق فيهم الشريف تركوه، وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد، وايم والله! لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها» (2) الله أكبر! انظر إلى من بلغ الذروة في تحقيق العدالة «لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها» وحاشاها أن تفعل ذلك
--------------------------------------------
সমাপ্ত (১)।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, মানুষের মাঝে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার কায়েম করার বিষয়টি অত্যন্ত মহিমান্বিত। আর একারণেই এর বিধান বর্ণনা করে এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরে কুরআনের আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে। আমাদের রাসূল (সা.) তাঁর উম্মতের সদস্যদের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণিত এই হাদিসটির দিকে লক্ষ্য করুন—
১- তিনি বলেন: “মাখজুম গোত্রের জনৈক মহিলার চুরির বিষয়টি কুরাইশদের অত্যন্ত চিন্তিত করে তুলল। তারা বলাবলি করতে লাগল, ‘এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে কে কথা বলবে?’ তারা বলল, ‘আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় উসামা বিন যায়েদ ব্যতীত আর কেইবা এ দুঃসাহস দেখাতে পারে?’ অতঃপর উসামা (রা.) এ বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, ‘তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধিগুলোর কোনো একটির ব্যাপারে সুপারিশ করছ?’ অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণ ছিল এই যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত; আর যখন কোনো দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তার ওপর দণ্ড কার্যকর করত। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম’।” (২) আল্লাহু আকবার! যিনি ন্যায়বিচার কায়েমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন তাঁর দিকে লক্ষ্য করুন— “যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম”—অথচ তাঁর পক্ষে এমন কাজ করা ছিল একেবারেই অসম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
2- «عن النعمان بن بشير قال: تصدق علي أبي ببعض ماله. فقالت أمي عمرة بنت رواحة: لا أرضى حتى تشهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فانطلق أبي إلى النبي صلى الله عليه وسلم ليشهده على صدقتي. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أفعلت هذا بولدكم كلهم؟ " قال: لا. قال:" اتقوا الله واعدلوا في أولادكم ". فرجع أبي فرد تلك الصدقة» (1) . وجاء في رواية أخرى: «فلا تشهدني إذًا. فإني لا أشهد على جور» . (2)
والمعلمون، يتعرضون لمواقف كثيرة من قبل طلابهم، سواء في توزيع المهام والواجبات إن كانت هناك أعمال تحتاج إلى مشاركات جماعية أو تفضيل بعضهم دون بعض ونحو ذلك. ويتأكد العدل عند وضع العلامات ورصد الدرجات، فلا مجال لمحاباة أحد، أو تفضيل أحد على أحد سواء لقرابته أو معرفته أو لأي أمر كان، فإن هذا من الظلم الذي لا يرضاه الله وصاحبه متوعد بالعقوبة.
إن اختلال هذا الميزان عند المعلم، أي وجود التميز بين الطلاب، كفيل بأن يخلق التوتر وعدم الانسجام والعداوة والبغضاء بين الطلاب، وكفيل بأن يجعل هناك هوة واسعة بين المعلم وطلابه الآخرين الذين بين طلابه لكي يشيع الإخاء والمحبة بينهم.
--------------------------------------------
২- «নূমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা তাঁর সম্পদের কিছু অংশ আমাকে সদকা হিসেবে দান করলেন। তখন আমার মাতা উমরাহ বিনতে রাওয়াহা বললেন: আমি এতে সন্তুষ্ট হব না যতক্ষণ না আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর সাক্ষী করেন। তখন আমার পিতা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন যাতে তাঁকে আমার সদকার বিষয়ে সাক্ষী রাখতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "তুমি কি তোমার সকল সন্তানের ক্ষেত্রে এরূপ করেছ?" তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো।" এরপর আমার পিতা ফিরে এলেন এবং সেই সদকা ফেরত নিলেন» (১)। অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কেননা আমি কোনো অবিচারের সাক্ষী হব না»। (২)
শিক্ষকরাও তাঁদের ছাত্রদের পক্ষ থেকে অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, চাই তা কাজ ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে হোক যেখানে দলগত অংশগ্রহণ প্রয়োজন, অথবা একে অপরের ওপর প্রধান্য দেওয়ার বিষয় হোক কিংবা এই জাতীয় অন্য কিছু। নম্বর প্রদান এবং গ্রেড সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে কাউকে পক্ষপাতিত্ব করার বা একজনের ওপর অন্যজনকে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, চাই তা আত্মীয়তার কারণে হোক বা পরিচয়ের কারণে অথবা অন্য যেকোনো কারণেই হোক। নিশ্চয়ই এটি সেই জুলুম বা অন্যায়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ পছন্দ করেন না এবং এর কর্তার জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে।
শিক্ষকের নিকট এই ভারসাম্যের বিচ্যুতি ঘটা, অর্থাৎ ছাত্রদের মধ্যে বৈষম্য বিদ্যমান থাকা ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা, অসঙ্গতি, শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট। এটি শিক্ষক এবং তাঁর অন্যান্য ছাত্রদের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি করে দেয়; অথচ তাঁর উচিত ছিল ছাত্রদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أيها المعلم: إن كانت لك علاقة قربى أو صداقة مع أحد طلابك، فلتكن بعيدة عن مسمع ومرأى الطلاب الآخرين.
روي عن مجاهد قال: (المعلم إذا لم يعدل كتب من الظلمة)
…ويروى عن الحسن البصري قوله: (إذا قوطع المعلم على الأجر فلم يعدل بينهم - أي الطلاب - كتب من الظلمة) (1) .
الخلاصة:
عظم شأن العدل، حيث أمر الله به وأوجبه مع القريب والبعيد، ومع العدو أيضاً
أهمية تحقيق العدل والمساواة بين الطلاب، لما فيه من إشاعة المحبة والمودة بينهم.
يتأكد العدل ويتعين، عند وضع العلامات ورصد الدرجات.
الحرص على إبقاء علاقات القرابة أو الصداقة، بعيدة عن مسمع ومرأى الطلاب الآخرين.
--------------------------------------------
হে শিক্ষক: আপনার যদি আপনার কোনো ছাত্রের সাথে আত্মীয়তা বা বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকে, তবে তা যেন অন্য ছাত্রদের শ্রবণ ও দর্শনের আড়ালে থাকে।
মুজাহিদ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: (শিক্ষক যখন ইনসাফ করেন না, তখন তিনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ হন)
…হাসান বসরী থেকেও তাঁর এই উক্তিটি বর্ণিত (يروى) হয়েছে: (যখন শিক্ষককে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয় এবং তিনি তাদের — অর্থাৎ ছাত্রদের — মধ্যে ইনসাফ না করেন, তবে তিনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ হন) (১)।
সারসংক্ষেপ:
ন্যায়ের গুরুত্ব অপরিসীম, যেহেতু আল্লাহ এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিকটাত্মীয় ও অনাত্মীয়ের পাশাপাশি শত্রুর সাথেও এটি বজায় রাখা আবশ্যক করেছেন।
ছাত্রদের মাঝে ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব, যা তাদের মাঝে ভালোবাসা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি করে।
পরীক্ষার নম্বর প্রদান এবং মান নির্ধারণের সময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সুনিশ্চিত ও আবশ্যক হয়ে পড়ে।
আত্মীয়তা বা বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অন্য ছাত্রদের শ্রবণ ও দৃষ্টির অগোচরে রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[5]
التحلي بالأخلاق الفاضلة والحميدة.
لا شك أن الكلمة الطيبة والعبارة الحسنة تفعل أثرها في النفوس، وتؤلف القلوب، وتذهب الضغائن والأحقاد من الصدور، وكذلك التعبيرات التي تظهر على وجه المعلم تحدث مردوداً إيجابياً أو سلبياً لدى الطالب، وذلك لأن انبساط الوجه وطلاقته مما تأنس به النفس وترتاح إليه. وأما عبوس الوجه وتقطيب الحاجبين فهو مما تنفر منه النفس وتنكره.
والرسول صلى الله عليه وسلم كان أطيب الناس روحاً ونفساً، وكان أعظمهم خلقاً {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} (1) ولم يكن فظاً غليظاً حاد الطباع بل كان سهلاً سمحاً ليناً رءوفاً بأمته {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} (2) وقال تعالى: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} (3) .
--------------------------------------------
[৫]
শ্রেষ্ঠ এবং প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুণাবলীতে ভূষিত হওয়া.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উত্তম বাক্য এবং সুন্দর প্রকাশভঙ্গি অন্তরে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে, অন্তরসমূহকে সখ্যতাপূর্ণ করে এবং বক্ষদেশ থেকে বিদ্বেষ ও হিংসা দূর করে। একইভাবে শিক্ষকের চেহারায় ফুটে ওঠা অভিব্যক্তিগুলো শিক্ষার্থীর মনে ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে; আর এটি এই কারণে যে, চেহারার প্রসন্নতা ও হাসোজ্জ্বলতা এমন এক বৈশিষ্ট্য যা দেখে মন আশ্বস্ত হয় এবং প্রশান্তি লাভ করে। পক্ষান্তরে মুখ ভার করা এবং ভ্রু কুঁচকানো এমন এক আচরণ যা থেকে মন বিমুখ হয় এবং যা সে অপছন্দ করে।
আর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন আত্মিক ও মানসিক দিক থেকে মানুষের মাঝে সবচেয়ে পবিত্র এবং চরিত্রের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} (১)। তিনি রূঢ়, কঠোর বা উগ্র মেজাজের ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন কোমল, সহনশীল, নম্র এবং নিজ উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু {তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল এসেছেন, তোমাদের যে কষ্ট তা তাঁর নিকট অসহনীয়। তিনি তোমাদের কল্যাণে অতি আগ্রহী, মুমিনদের প্রতি তিনি স্নেহশীল ও পরম দয়ালু} (২)। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমলহৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
1- «فعن عطاء بن يسار قال: (لقيت عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه، فقلت: أخبرني عن صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة، فقال: (أجل، والله إنه لموصوف في التوراة ببعض صفته في القرآن: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا} وحرزًا للأميين، أنت عبدي ورسولي سميتك المتوكل، ليس بفظ ولا غليظ، ولا صخاب في الأسواق، ولا يدفع السيئة بالسيئة، ولكن يعفو ويصفح، ولن يقبض الله حتى يقيم به الملة العوجاء، بأن يقولوا: (لا إله إلا الله) ويفتح به أعيناً عمياً وآذاناً صماً، وقلوباً غلفاً» (1) تلكم كانت بعض صفات النبي صلى الله عليه وسلم، خلق عظيم، وبالمؤمنين رءوف رحيم، ليس بفظ ولا غليظ القلب
… إلخ وتلك صفات كانت من لوازم الدعوة إذ إن المدعوين يحتاجون إلى من يرفق بهم ن ويعلمهم أمور دينهم، ففيهم الجاهل وفيهم الصغير وفيهم الكبير، وكل أولئك يلزمهم رفق، وخلق، وحلم، وأناة، ولطف، وحسن تصرف وإلا انفضوا وغضبوا ولم يتبعوا الهدى ممن جاء به. ولقد ضرب رسولنا الكريم - بأبي هو وأمي صلى الله عليه وسلم أروع الأمثلة في حسن الخلق، كيف لا
--------------------------------------------
1- আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: তাওরাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন: (হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তাওরাতে তাঁর এমন কিছু গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে যা কুরআনে বর্ণিত গুণাবলির অনুরূপ: {হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি} এবং নিরক্ষরদের জন্য আশ্রয়স্বরূপ। আপনি আমার বান্দা ও রাসূল, আমি আপনার নাম রেখেছি ‘মুতাওয়াক্কিল’। তিনি রূঢ় নন, কঠোর স্বভাবের নন এবং হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বিনিময়ে মন্দ করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু ঘটাবেন না, যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে (ধর্মাদর্শকে) সুপ্রতিষ্ঠিত করেন—যাতে তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ এবং তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চোখ, বধির কান ও মোহরাঙ্কিত হৃদয়গুলো খুলে দেন।») (১) এগুলো ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিছু গুণাবলি—এক সুমহান চরিত্র, মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত মমতাশীল ও দয়ালু। তিনি রূঢ় বা কঠোর হৃদয়ের ছিলেন না... ইত্যাদি। আর এই গুণাবলি দাওয়াতের ক্ষেত্রে অপরিহার্য ছিল, কারণ যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করা এবং তাদের দ্বীনের বিষয়সমূহ শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। কেননা তাদের মধ্যে যেমন অজ্ঞ ব্যক্তি ছিল, তেমনি ছিল ছোট ও বড়; তাদের সকলের জন্যই কোমলতা, সচ্চরিত্রতা, সহনশীলতা, ধীরস্থিরতা, অনুগ্রহ ও উত্তম আচরণের প্রয়োজন ছিল। অন্যথায় তারা দূরে সরে যেত ও ক্ষুব্ধ হতো এবং যিনি হিদায়াত নিয়ে এসেছেন তাঁর অনুসরণ করত না। আমাদের প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—যাঁর চরণে আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোন—উত্তম চরিত্রের শ্রেষ্ঠতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কেনই বা করবেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وربنا عز وجل هو الذي امتدحه بذلك {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} وكانت عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها تقول: «كان خلقه القرآن» (1) . وتعال معنا لنرى ذلك الموقف الذي يرويه «أنس بن مالك:
2-قال: (كنت أمشي مع النبي صلى الله عليه وسلم، وعليه برد نجراني غليظ الحاشية، فأدركه أعرابي فجبذه بردائه جبذة شديدة، حتى نظرت إلى صفحة عاتق رسول الله قد أثرت بها حاشية البرد من شدة جبذته، قال: يا محمد، مر لي من مال الله الذي عندك، فالتفت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ضحك ثم أمر له بعطاء» (2) .
ما أعظم ذلك الخلق الرفيع الذي امتاز به النبي صلى الله عليه وسلم، كان في مقدوره أن يؤدب ذلك الأعرابي على صنيعه، ولكن لم تكن تلك من شيم ولا أخلاق المعلم الأول صلى الله عليه وسلم، كيف يفعل ذلك وهو الذي قال:
«من كظم غيظاً وهو يقدر أن ينفذه دعاه الله على رءوس الخلائق يوم القيامة، حتى يخيره في أي الحور العين شاء» (3) .
--------------------------------------------
আমাদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন, {নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী}। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলতেন, "কুরআনই ছিল তাঁর চরিত্র।" (১)। আসুন আমাদের সাথে সেই ঘটনাটি দেখুন যা আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন:
২-তিনি বলেন: (আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাঁটছিলাম, তাঁর পরিধানে ছিল মোটা পাড় বিশিষ্ট একটি নাজরানি চাদর। এমতাবস্থায় একজন বেদুঈন তাঁর কাছে এসে তাঁর চাদর ধরে সজোরে টান দিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাঁধের উপরিভাগের দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, বেদুঈনের প্রবল টানের কারণে চাদরের পাড়ের দাগ সেখানে বসে গেছে। এরপর সে বলল: হে মুহাম্মদ! তোমার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ আছে তা থেকে আমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দাও। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন।) (২)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সুউচ্চ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন তা কতই না মহান! তিনি চাইলে সেই বেদুঈনকে তার কৃতকর্মের জন্য শাস্তি দিতে পারতেন, কিন্তু এটি প্রথম শিক্ষকের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শ বা চরিত্রের অংশ ছিল না। তিনি এমনটি করবেনই বা কেন, যখন তিনি নিজেই বলেছেন:
"যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ সংবরণ করে অথচ সে তা চরিতার্থ করার ক্ষমতা রাখে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডেকে আনবেন এবং জান্নাতের হুরদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে বেছে নেওয়ার অধিকার দেবেন।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والمربون والمعلمون حري بهم أن يترسموا خطى المعلم الأول صلى الله عليه وسلم، في التحلي بالأخلاق الفاضلة والأدب الرفيع، وهي من أنجع الوسائل في التعليم والتربية، حيث إن الطالب في الغالب يتأثر وتخلق بأخلاق معلمه ويتقبل منه أكثر من غيره، فإذا كان المعلم يتحلى بأخلاق حميدة أثر ذلك على طلابه إيجاباً، وعملت في نفوسهم ما لم تعمله عشرات النصائح والدروس، ومن هنا نفهم سر قوله صلى الله عليه وسلم «ما من شيء في الميزان أثقل من حسن الخلق» (1) وقوله: «إن الرجل ليدرك بحسن خلقه درجات قائم الليل، وصائم النهار» (2) . لأن حسن الخلق سجية تعمل عمل السحر في أسر القلوب، واستمالة النفوس، وإشاعة المحبة بين أفراد المجتمع. والمعلمون هم أولى الناس بذلك! .
الخلاصة:
الأخلاق صفة حميدة ينبغي للمعلم أن يتحلى بها، ويحث طلابه على التخلق بها.
الكلمة الطيبة، والبشاشة وطلاقة الوجه، من الأسباب التي تزيل الحاجز النفسي بين المعلم وتلميذه.
الحلم والأناة، وانشراح صدر المربي، في مقابل جهل الطالب.
--------------------------------------------
মربی ও শিক্ষকদের উচিত প্রথম শিক্ষক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা, শ্রেষ্ঠ চরিত্র ও উন্নত শিষ্টাচার অবলম্বনের মাধ্যমে। এটি শিক্ষা ও দীক্ষার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। কেননা ছাত্র সাধারণত তার শিক্ষকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত হয়, তা ধারণ করে এবং অন্যদের তুলনায় শিক্ষকের কাছ থেকে অধিক গ্রহণ করে। সুতরাং শিক্ষক যদি উত্তম চরিত্রের অধিকারী হন, তবে তা ছাত্রদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাদের অন্তরে এমন কাজ করে যা দশর্ক উপদেশ ও পাঠও করতে পারে না। এখান থেকেই আমরা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাহাত্ম্য বুঝতে পারি: "মিজানের পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কিছুই নেই" (১) এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই এক ব্যক্তি তার উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে রাতভর ইবাদতকারী এবং দিনভর রোজা পালনকারীর মর্যাদা লাভ করে" (২)। কারণ উত্তম চরিত্র হলো এমন এক স্বভাব যা হৃদয় জয় করতে, মনের আকর্ষণ সৃষ্টি করতে এবং সমাজের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে জাদুর মতো কাজ করে। আর শিক্ষকগণই এর জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত!
সারসংক্ষেপ:
চরিত্র একটি প্রশংসনীয় গুণ যা শিক্ষকের ধারণ করা উচিত এবং তার ছাত্রদেরও তা অর্জনে উৎসাহিত করা উচিত।
উত্তম কথা, হাসিমুখে থাকা এবং প্রফুল্লতা হলো এমন কিছু কারণ যা শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যবর্তী মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর করে।
ছাত্রের অজ্ঞতার বিপরীতে শিক্ষকের সহিষ্ণুতা, ধৈর্য এবং প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়া প্রয়োজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুআল্লিমুল আউয়াল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[6]
تواضع المعلمالتواضع خلق حميد، يضفي على صاحبة إجلالاً ومهابة، ومن ظن أن التواضع خلق مرذول ينبغي تجنبه وترك التخلق به فقد أخطأ وأبعد النجعة، وحسبك بإمام الأتقياء مثلاً (1) صلى الله عليه وسلم والتواضع وإن كان من لوازمه الذل، فهو إن كان في جانب الله فما ألذه من ذل وما أطيبه، لأن العبودية لا تتحقق ولا تكمل إلا بالذل لله والانكسار بين يديه، وأما الذل الذي يكون في جانب المخلوقين فهو في حق المؤمنين خاصة، قال تعالى: {أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ} (2) فهم للمؤمنين أذلة، من محبتهم لهم، ونصحهم لهم، ولينهم، ورفهم، ورأفتهم، ورحمتهم بهم وسهولة جانبهم، وقرب الشيء الذي يطلب منهم.. (3)
والمعلم في أمس الحاجة إلى التخلق بهذا الخلق العظيم، لما فيه من تحقيق الاقتداء بسيد المرسلين، ولما فيه من نفع عظيم للمتعلمين.
--------------------------------------------
[৬]
শিক্ষকের বিনয়বিনয় একটি প্রশংসনীয় গুণ, যা এর অধিকারীকে মর্যাদা ও গাম্ভীর্য দান করে। যে ব্যক্তি মনে করে যে বিনয় এক বর্জনীয় ও হীন স্বভাব, সে ভুল করেছে এবং সঠিক পথ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছে। আপনার জন্য মুত্তাকীদের ইমাম (১) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদাহরণই যথেষ্ট। বিনয়ের জন্য যদিও এক প্রকার হীনতা বা নম্রতা আবশ্যক, তবে তা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয় তবে সেই হীনতা কতই না চমৎকার ও কতই না উত্তম! কেননা আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হওয়া এবং তাঁর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়া ছাড়া প্রকৃত দাসত্ব অর্জিত বা পূর্ণতা লাভ করে না। আর সৃষ্টির প্রতি যে বিনয়, তা বিশেষভাবে মুমিনদের প্রাপ্য। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা মুমিনদের প্রতি কোমল ও কাফেরদের প্রতি কঠোর} (২)। অর্থাৎ তারা মুমিনদের প্রতি বিনয়ী; তাদের প্রতি ভালোবাসা, কল্যাণকামিতা, কোমলতা, সৌজন্য, মমতা ও দয়ার কারণে এবং তাদের জন্য নিজেদের সহজলভ্য করা ও তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সহজসাধ্য করার কারণে। (৩)
একজন শিক্ষকের এই মহান গুণটি অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি; কারণ এতে রাসূলদের সরদারের যথাযথ অনুসরণের প্রতিফলন ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের জন্যও এতে প্রভূত কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
--------------------------------------------