(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
مسألة الإيمان دراسة تأصيلية   (علي بن عبد العزيز الشبل)

القسم: العقيدة


الكتاب: مسألة الإيمان دراسة تأصيلية

المؤلف: علي بن عبد العزيز بن علي الشبل

تقريظ:

الشيخ د. صالح بن فوزان الفوزان

الشيخ عبد الله بن سليمان بن منيع

الشيخ عبد الله بن محمد الغنيمان

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 53

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ঈমান সংক্রান্ত মাসয়ালা: একটি মৌলিক গবেষণা   (আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আশ-শিবল)

বিভাগ: আকীদা


বই: ঈমান সংক্রান্ত মাসয়ালা: একটি মৌলিক গবেষণা

লেখক: আলী ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আলী আশ-শিবল

অভিমত:

শেখ ড. সালেহ ইবনে ফাওজান আল-ফাওজান

শেখ আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে মানি

শেখ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-গুনাইমান

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
مسألة الإيمان

دراسة تأصيلية

 

تأليف

علي بن عبد العزيز بن علي الشبل

عفا الله عنه وعن والديه ومشايخه والمسلمين

 

تقريظ

أصحاب الفضيلة

الشيخ د. صالح بن فوزان الفوزان

الشيخ عبد الله بن سليمان بن منيع

الشيخ عبد الله بن محمد الغنيمان
ঈমানের মাসআলা

একটি মৌলিক গবেষণা

 

রচনায়

আলী ইবন আব্দুল আজিজ ইবন আলী আশ-শিবল

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে, তাঁর উস্তাদদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

 

অভিমত প্রদান করেছেন

সম্মানিত শাইখগণ

শাইখ ড. সালেহ ইবন ফাওজান আল-ফাউজান

শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন সুলাইমান ইবন মানি‘

শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আল-গুনাইমান
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
تقريظ بقلم

فضيلة الشيخ الدكتور

‌‌صالح بن فوزان الفوزان

 

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، وبعد: فقد اطلعت على الكتاب الذي ألفه الشيخ علي بن عبد العزيز الشبل في موضوع حقيقة الإيمان، وأنه قول وعمل واعتقاد كما هو مذهب أهل السنة والجماعة، خلافاً للمرجئة الذين أخرجوا العمل عن مسمى الإيمان، فسهَّلوا للناس طريق المعاصي والمخالفات، وخالفوا كتاب الله وسنة رسوله، وما عليه أهل السنة والجماعة، ولهذه الفرقة الضالة من يروج مذهبها اليوم من المتعالمين. فكان لا بد من بيان ضلالتهم لئلا يغتر بهم من يخفى عليه أمرهم، ويحسن الظن بهم.

 

فوجدته فيما كتبه الشيخ علي وفقه الله، وافياً في الموضوع، فجزاه الله خيراً ونفع بما كتب وبين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين،

 

كتبه

 

صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان

 

في 22/2/1422هـ
অভিমত - কলমে

সম্মানিত শাইখ ডক্টর

‌‌সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান

 

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। এরপর: আমি শাইখ আলী বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল কর্তৃক ঈমানের হাকীকত (বাস্তবতা) বিষয়ে রচিত গ্রন্থটি পাঠ করেছি। এতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি, কর্মে বাস্তবায়ন এবং অন্তরের বিশ্বাসের নাম—যেমনটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব। এটি সেই মুরজিআদের মতবাদের পরিপন্থী যারা আমল বা কর্মকে ঈমানের সংজ্ঞার বাইরে রেখেছে; এর মাধ্যমে তারা মানুষের জন্য পাপ ও অবাধ্যতার পথকে সহজ করে দিয়েছে এবং আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসৃত পথের বিরোধিতা করেছে। বর্তমানে কিছু অল্পবিদ্যাধারী লোক এই পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের মতবাদ প্রচার করছে। তাই তাদের ভ্রষ্টতা স্পষ্ট করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল, যেন তাদের প্রকৃত অবস্থা যাদের অজানা এবং যারা তাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করে, তারা যেন তাদের দ্বারা প্রতারিত না হয়।

 

শাইখ আলী—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—যা লিখেছেন, আমি তা এই বিষয়ে যথেষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ পেয়েছি। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর এই লেখা ও বর্ণনার মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

লিখেছেন

 

সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান

 

২২/০২/১৪২২ হিজরী
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
تقريظ بقلم

فضيلة الشيخ

‌‌عبد الله بن سليمان المنيع

 

الحمد لله وصلى الله وسلم على رسول الله محمد وعلى آله وأصحابه، أما بعد:فقد منَّ الله عليَّ بتكرم أخي فضيلة الشيخ علي بن عبد العزيز الشبل بإطلاعي على مسودة الكتاب القيم ((مسألة الإيمان)) واستعراض آراء علماء العقيدة، وما حصل لمجموعة من الفرق المنتسبة للإسلام من خلل وزلل وانحراف في الاعتقاد في مسألة الإيمان، مع اختلاف بعضهم عن بعض في مقتضيات الإيمان، وأن القول الحق، والاعتقاد المتفق مع أصول الاعتقاد ودلائله وكتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، أن الإيمان إقرار باللسان واعتقاد بالجنان وعمل بالأركان يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية.

 

وقد استعرض فضيلة الشيخ علي أقوال هذه الفرق المنحرفة في الاعتقاد وأصل الإيمان، وردَّ عليهم رداً شافياً سنده في الرد كتاب الله تعالى وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم تمسكاً بقوله صلى الله عليه وسلم: ((تركت فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا كتاب الله وسنة رسوله)) .

 

واستدلاله في رده على ما ذكره المحققون من علماء السلف قديماً وحديثاً ومنه شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم وابن رجب - رحمهم الله تعالى - وغيرهم من أهل العلم وسلامة الاعتقاد.

فجزى الله المؤلف خير جزاء وأتمه، وجعل هذا الكتاب من الحسنات المثقلة للميزان، وعلماً ينتفع به مؤلفه في حياته الدنيا بالدعاء له للانتفاع به، وفي الآخرة مما يتصل به عمله بعد انقطاعه، أطال الله عمره في طاعته وخدمة دينه.

قال هذا وكتبه

عضو هيئة كبار العلماء

عبد الله بن سليمان المنيع

 

والله المستعان

في 13/3/1422هـ
প্রশংসা বাণী

বিশিষ্ট শায়খ

‌‌আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানী

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: আল্লাহ তাআলা আমার ভাই বিশিষ্ট শায়খ আলী বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল-এর মহানুভবতার মাধ্যমে আমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি আমাকে তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "ঈমানের মাসআলা" (মাসআলাতুল ইমান)-এর পাণ্ডুলিপি দেখার এবং আকীদার আলেমদের মতামতসমূহ পর্যালোচনার সুযোগ দিয়েছেন। সেই সাথে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ফিরকা বা দলের মাঝে ঈমানের মাসআলায় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যে ধরনের ত্রুটি, বিচ্যুতি ও বিচ্যুতি ঘটেছে এবং ঈমানের দাবি ও আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে তাদের একে অপরের মধ্যকার পার্থক্যসমূহও এতে উঠে এসেছে। আর সত্য কথা এবং বিশ্বাসের মূলনীতি, তার প্রমাণাদি এবং আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক বিশ্বাস হলো এই যে—ঈমান হলো মুখে স্বীকৃতি, অন্তরে বিশ্বাস এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের মাধ্যমে হ্রাস পায়।

 

বিশিষ্ট শায়খ আলী বিশ্বাস ও ঈমানের মূলনীতির ক্ষেত্রে এই পথভ্রষ্ট ফিরকাগুলোর বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করেছেন এবং তাদের সন্তোষজনক জবাব দিয়েছেন। এই খণ্ডন বা জবাবের ক্ষেত্রে তাঁর ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর ওপর সুদৃঢ় থেকেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ।"

 

জবাব প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি প্রাচীন ও বর্তমান যুগের সালফে সালেহীনদের মধ্য থেকে গবেষক আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন; যাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনে রজব—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—সহ বিশুদ্ধ আকীদার অধিকারী অন্যান্য আলেমবৃন্দ।

আল্লাহ তাআলা লেখককে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন এবং এই গ্রন্থটিকে নেকির পাল্লায় ভারীকারী সৎকর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর এটিকে এমন এক জ্ঞানে পরিণত করুন যার মাধ্যমে লেখক তাঁর পার্থিব জীবনে কল্যাণের দোয়ার মাধ্যমে উপকৃত হন এবং পরকালেও তাঁর মৃত্যুর পর এটি তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট আমল হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহ তাঁর আনুগত্যে এবং তাঁর দ্বীনের সেবায় লেখকের হায়াত দীর্ঘায়িত করুন।

একথা বলেছেন এবং লিখেছেন

সদস্য, হাইআতু কিবারিল উলামা (জেষ্ঠ্য আলেম পরিষদ)

আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানী

 

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি

তারিখ: ১৩/০৩/১৪২২ হিজরী
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
تقريظ بقلم

فضيلة الشيخ

‌‌عبد الله بن محمد الغنيمان

 

الحمد لله رب العالمين الرحمن الرحيم والعاقبة للمتقين ولا عدوان إلا على الظالمين. وأشهد أن لا إله إلا الله الحق المبين، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله الصادق الأمين، اللهم صل على محمد وآل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد، وبارك على محمد وآل محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد. أما بعد:

فإن قضية الإيمان من أكبر القضايا وأعظمها بل هي أعظمها إذ عليها مدار السعادة والشقاء، فمن هدي إليها، وشرح صدره بها، ورزق فهمها والعمل بها فقد سعد في الدنيا والآخرة، ومن حرمها حرم الخير كله؛ فإنه يتمتع في هذه الحياة قليلاً ثم مصيره إلى عذاب الله الذي لا ينقطع.

وهذه الرسالة للشيخ علي بن عبد العزيز الشبل وفقنا الله وإياه للخير والعمل به - فيها إيضاح مسألة الإيمان، وبيان مذهب أهل السنة فيها، وقد قرأتها فألفيتها مفيدة وجديرة بالإشاعة ليعم الانتفاع بها.

أسأل الله - تعالى - لنا ولجامعها التوفيق، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.

 

قاله

عبد الله بن محمد الغنيمان
প্রশংসাপত্র লিখনে

ফযীলাতুশ শাইখ

‌‌আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-গুনাইমান

 

সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য এবং যালিমরা ব্যতীত আর কারো উপর শত্রুতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সত্য ইলাহ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর সত্যবাদী ও আমানতদার রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের উপর বরকত নাযিল করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবারের উপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। অতঃপর:

নিশ্চয়ই ঈমানের বিষয়টি সবচেয়ে বড় ও মহান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, বরং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয়। কারণ এর ওপরই সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের আবর্তন। সুতরাং যাকে এর পথে পরিচালিত করা হয়েছে, যার বক্ষ এর মাধ্যমে উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং যাকে এটি বোঝার ও তদনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করা হয়েছে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান হয়েছে। আর যে ব্যক্তি এটি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে; কারণ সে এই জীবনে সামান্যই সুখ ভোগ করবে, অতঃপর তার গন্তব্য হবে আল্লাহর আযাবের দিকে যা কখনো শেষ হবে না।

শাইখ আলী বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল —আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে কল্যাণের এবং তার ওপর আমল করার তাওফীক দিন— এর এই পুস্তিকাটিতে ঈমানের মাসআলাটি স্পষ্ট করা হয়েছে এবং এতে আহলুস সুন্নাহর মাযহাব বর্ণনা করা হয়েছে। আমি এটি পড়েছি এবং একে উপকারী ও প্রচারের যোগ্য মনে করেছি যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয়।

আমি মহান আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য এবং এর সংকলকের জন্য তাওফীক কামনা করছি। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

বলেন

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-গুনাইমান
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

 

الحمد لله نحمده ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أنْ لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.. أما بعد:

فإن مباحث العقيدة من أهم ما يعتني به المؤمن دراسة وتفهماً، علماً وعملاً؛ لأن العقيدة أهم المهمات وهي أساس الديانة، وقاعدة الملة المتينة، لذا اهتمت بها كتب الله المنزلة، ورسله المرسلة إلى عباده. وعلى العقيدة شُيدت مباني الشريعة، وقامت سوق الجنة والنار.

ولهذا وغيره صار علم العقيدة والإيمان والتوحيد أشرف العلوم وأزكاها، وأعظمها أثراً. وأضحت مسائل العقيدة المبحوثة لها هذه الأهمية، وتداعى لها ذلك الشرف، وتأكد لها عظيم القدر.

هذا وإن من جليل مباحث العقيدة المحتفى بها عند أهل السنة والجماعة- السالكين جادة منهج السلف الصالح من لدن النبي صلى الله عليه وسلم فأصحابه الكرام رضي الله عنهم، فتابعيهم، ثم من تبعهم بإحسان وعلم وهدى - مباحثُ الإيمان، المناطة بأحكام أهله دنيا وأخرى، والمُعبَّر عنها عند العلماء بمسائل الأسماء والأحكام.

وهذه المسألة بما اشتملت عليه من تضاعيف المباحث من أجل مسائل العقيدة، وأول أصول العقيدة افتراقاً في بابها قديماً وحديثاً؛ ولذا اعتنى بها العلماء في تصانيفهم ولا سيما من أئمة السنة، فإن علماء السلف الصالح أول ما قذعوا به الجهمية من ضلالاتهم هذه المسألة: مسألة الإيمان، يدركه من طالع كتب السنة والأثر!

ولما رأيت توافر الدواعي - في زمننا- إلى توضيح هذا الموضوع وتجلية مذهب السلف الصالح: أهل السنة فيه، رأيت المشاركة بهذه الورقيات التأصيلية للمسألة: مسألة الإيمان (1) .

موصياً - ومؤكداً في الوصية - بلزوم كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، والتفقه بفقه السلف الصالح، ورد الإشكال إلى أهل العلم المعتبرين ليحلوه ويوضِّحوه ويبينوه كما في آيتي النحل والأنبياء: {فَسْئَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [الأنبياء:7] .

--------------------------------------------

(1) والواقع أن هذا البحث هو جزء من دراسة أطروحتي العالية: ((ابن الحنبلي وكتابه الرسالة الواضحة في الرد على الأشاعرة)) . مع زيادات عليه. ومحذراً شباب السنة وفتية الإسلام من ضد ذلك، من سلوك بنيات الطريق، ومزالق الفتن، ومسالك التعالم والتجهيل، والانطراح بين يدي الله والإلحاح عليه في الحذر من ذلك كله، والثبات على دينه، والاعتصام بهدي نبيه صلى الله عليه وسلم وصالح سلف المؤمنين، وفقنا الله لذلك آمين.

هذا وقد سميت الموضوع: ((مسألة الإيمان دراسة تأصيلية)) .
ভূমিকা

 

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আকিদার বিষয়সমূহ একজন মুমিনের জ্ঞান অর্জন ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে এবং ইলম ও আমলের দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। কারণ আকিদাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটিই দ্বীনের মূল ভিত্তি ও মিল্লাতের সুদৃঢ় খুঁটি। এ কারণেই আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ এবং তাঁর প্রেরিত রাসূলগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। আকিদার ওপরই শরীয়তের ইমারত নির্মিত হয়েছে এবং এর ওপরই জান্নাত ও জাহান্নামের বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই কারণে এবং অন্যান্য কারণে আকিদা, ঈমান ও তাওহীদের ইলম সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক পবিত্র এবং সবচেয়ে মহান প্রভাব বিস্তারকারী ইলম হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আর আকিদার আলোচিত মাসআলাসমূহ এই গুরুত্ব লাভ করেছে এবং সেই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হয়েছে, যার ফলে এর সুমহান মর্যাদা সুনিশ্চিত হয়েছে।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট আকিদার অন্যতম মহান আলোচিত বিষয় হলো—যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে তাঁর সম্মানিত সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাবেয়ী এবং এরপর যারা ইহসান, ইলম ও হিদায়াতের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, সেই সালফে সালেহীনের আদর্শ মানহাজ অনুসরণকারী—ঈমান সংক্রান্ত আলোচনা; যা দুনিয়া ও আখিরাতে এর অধিকারীদের বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা আলেমদের নিকট ‘আসমা ওয়া আহকাম’ (নাম ও বিধান) সংক্রান্ত মাসআলা হিসেবে পরিচিত।

এই মাসআলাটি এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন আলোচনার কারণে আকিদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাসআলা এবং আকিদার প্রথম মূলনীতি যা নিয়ে প্রাচীন ও আধুনিক কালে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এজন্যই আলেমগণ তাঁদের গ্রন্থাবলীতে এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন, বিশেষ করে সুন্নাহর ইমামগণ। কেননা সালফে সালেহীন আলেমগণ জাহমিয়াদের গোমরাহি থেকে প্রথম যে বিষয়টি খণ্ডন করেছিলেন, তা হলো এই ঈমানের মাসআলা; যারা সুন্নাহ ও আসারের গ্রন্থাবলী পাঠ করেন তারা এটি অনুধাবন করতে পারবেন!

যখন আমি বর্তমান সময়ে এই বিষয়টি স্পষ্ট করার এবং এই বিষয়ে সালফে সালেহীন তথা আহলুস সুন্নাহর মাযহাব উন্মোচন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম, তখন আমি এই ঈমানের মাসআলা (১) এর মৌলিক আলোচনার ওপর এই প্রবন্ধগুলোর মাধ্যমে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

আমি উপদেশ দিচ্ছি—এবং উপদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি—আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার, সালফে সালেহীনের ফিকহ অনুযায়ী দ্বীন বোঝার এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছে উপস্থাপনের, যেন তাঁরা তা সমাধান করতে পারেন এবং স্পষ্ট ও বর্ণনা করতে পারেন, যেমনটি সূরা আন-নাহল এবং সূরা আল-আম্বিয়ার আয়াতে বলা হয়েছে: {যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো} [আল-আম্বিয়া: ৭]।

--------------------------------------------

(১) প্রকৃতপক্ষে এই গবেষণাটি আমার উচ্চতর গবেষণাপত্র: ((ইবনুল হানবালী এবং তাঁর কিতাব ‘আর-রিসালাতুল ওয়াজিহা ফির রাদ্দি আলাল আশায়িরা’)) এর একটি অংশ, সাথে কিছু পরিবর্ধন করা হয়েছে। এবং আমি সুন্নাহর অনুসারী যুবক ও ইসলামের তরুণদের এর বিপরীত পথ চলা, রাস্তার অলিগলি, ফিতনার পিচ্ছিল পথ, এবং জ্ঞান নেই অথচ জ্ঞানী সাজার (তাআলুম) বা অজ্ঞ প্রমাণের পথ থেকে সতর্ক করছি। আর আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া এবং তাঁর কাছে এই সব কিছু থেকে বেঁচে থাকার জন্য আকুল প্রার্থনা করছি, যেন তিনি তাঁর দ্বীনের ওপর অবিচল রাখেন এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের সৎ পূর্বসূরীদের (সালাফ) হিদায়াতের ওপর অটল রাখেন। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফীক দান করুন। আমীন।

আমি এই বিষয়টির নামকরণ করেছি: ((ঈমানের মাসআলা: একটি মৌলিক গবেষণা))।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
((مسألة الإيمان دراسة تأصيلية))

وقد اشتمل على عدة مطالب رئيسة هي:

1.المطلب الأول: مقدمة بأهمية المسألة.

2.المطلب الثاني … : مسألة تعريف الإيمان ومسماه.

3.المطلب الثالث: الأصل الجامع للنزاع في المسألة.

4.المطلب الرابع: بيان فساد أقوال الطوائف إجمالاً.

5.المطلب الخامس: معنى الإيمان لغة.

6.المطلب السادس: العلاقة بين الإسلام والإيمان.

7.المطلب السابع: زيادة الإيمان ونقصانه، والأدلة عليه، وأسباب زيادته ونقصانه.

8.المطلب الثامن: المخالفون في مسألة زيادة الإيمان ونقصانه.

9.المطلب التاسع: تحقيق المروي عن الإمام مالك في نقصان الإيمان.

10.المطلب العاشر: مسألة الإيمان المطلق، ومطلق الإيمان.

11.المطلب الحادي عشر: حقيقة الخلاف مع مرجئة الفقهاء.

12.المطلب الثاني عشر … : الكفر عند أهل السنة والجماعة ومخالفيهم ويشمل: …

... أ- مقدمة في أهمية الموضوع.

… ب- الكفر ومعناه.

… ج- قواعد مهمة في معرفة أنواع الكفر.

 

ولما كان موضوع البحث بهذه الأهمية، عرضته على جمع من كبار العلماء ذوي الخبرة والاختصاص:

 

1-سماحة مفتي عام المملكة: الشيخ عبد العزيز بن عبد الله آل الشيخ.

2- فضيلة الشيخ: د. صالح بن فوزان الفوزان.

3- فضيلة الشيخ: عبد الرحمن الناصر البراك.

4- فضيلة الشيخ: عبد الله بن سليمان بن منيع.

5- فضيلة الشيخ: عبد الله بن محمد الغنيمان. وغيرهم.

 

جزى الله الجميع من نعمائه، وعوالي جنانه، وحرمنا وإياهم سخطه وعذابه ونيرانه.

… ثم إني قد رضيت من مهرها بدعوة خاصة بظهر الغيب إن وافقت قبولاً واستحساناً، أو صادفت كفؤاً كريماً، أو تدبرها عاقل حصيف.

فالحق من توفيق ربي وهدايته، ولقارئه غُنمه، وعلى مُعلقه غُرمه، والله يعامله ويجازيه بالحسنى وبعد: فـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِى هَدَاناَ لِهَذاَ وَماَ كُنا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَاناَ اللَّهُ لَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّناَ بِالْحَقِّ} [الأعراف: 43] .

وأسأله سبحانه أن يعلي بها الدرجات، ويمحو بها السيئات، ويبدلها لنا حسنات، ويحقق بها الزلفى لديه بالمسرات. ويلفح علينا بها النفحات، ويغفر لنا ولمشايخنا ووالدينا وإخواننا المسلمين والمسلمات، برحمة وإحسان مولانا مبدع البريات. {إِنَّ رَبِّى لَطِيفٌ لِماَ يَشَآءُ إِنَّهُ هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} [يوسف:100] .

والله أعلم. اللهم صلِّ على محمد وآله وصحبه وسلّم تسليماً.

 

… ... … ... … ... كتبه الفقير إلى مولاه الأجل

… ... … ... … ... علي بن عبد العزيز بن علي الشبل

… ... … ... … الرياض 11415- ص. ب: 63128

… ... … ... … ... … فاكس 2417438
((ঈমান প্রসঙ্গ: একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ))

এটি বেশ কিছু প্রধান আলোচ্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে, সেগুলো হলো:

১.প্রথম পরিচ্ছেদ: বিষয়টির গুরুত্ব নিয়ে ভূমিকা।

২.দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ … : ঈমানের সংজ্ঞা ও এর নামকরণের স্বরূপ সংক্রান্ত মাসআলা।

৩.তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে বিরোধের মূল কারণ।

৪.চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন উপদলের মতামতের অসারতার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

৫.পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে ঈমান।

৬.ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে সম্পর্ক।

৭.সপ্তম পরিচ্ছেদ: ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস, এর সপক্ষীয় দলিলসমূহ এবং এর হ্রাস-বৃদ্ধির কারণসমূহ।

৮.অষ্টম পরিচ্ছেদ: ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়ে বিরোধিতাকারীবৃন্দ।

৯.নবম পরিচ্ছেদ: ঈমানের হ্রাসের বিষয়ে ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত বর্ণনার বিশ্লেষণ।

১০.দশম পরিচ্ছেদ: পরিপূর্ণ ঈমান এবং ঈমানের মূল উপাদান সংক্রান্ত মাসআলা।

১১.একাদশ পরিচ্ছেদ: ফুকাহায়ে মুরজিয়াদের সাথে বিরোধের প্রকৃত স্বরূপ।

১২.দ্বাদশ পরিচ্ছেদ … : আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং তাদের বিরোধীদের নিকট কুফরের পরিচয়, যা অন্তর্ভুক্ত করে: …

... ক- বিষয়ের গুরুত্ব নিয়ে ভূমিকা।

… খ- কুফর ও এর অর্থ।

… গ- কুফরের প্রকারভেদ জানার গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ।

 

যেহেতু গবেষণার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমি এটি বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ একদল শীর্ষস্থানীয় আলেমের নিকট পেশ করেছি:

 

১-রাজ্যের মহামান্য গ্র্যান্ড মুফতি: শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-শাইখ।

২- শ্রদ্ধেয় শাইখ: ড. সালেহ বিন ফাউজান আল-ফাউজান।

৩- শ্রদ্ধেয় শাইখ: আব্দুর রহমান আন-নাসির আল-বাররাক।

৪- শ্রদ্ধেয় শাইখ: আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মানী'।

৫- শ্রদ্ধেয় শাইখ: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-গুনাইমান। এবং আরও অন্যান্য।

 

আল্লাহ তায়ালা সবাইকে তাঁর নেয়ামত ও জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন এবং আমাদেরকে ও তাদেরকে তাঁর ক্রোধ, আজাব ও অগ্নি থেকে রক্ষা করুন।

… অতঃপর, আমি এর বিনিময় হিসেবে অন্তরালে একটি বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে সন্তুষ্ট থাকব, যদি এটি গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা পায়, অথবা কোনো সম্মানিত যোগ্য ব্যক্তির হস্তগত হয়, অথবা কোনো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমান ব্যক্তি এটি নিয়ে চিন্তা করেন।

সুতরাং সত্য আমার রবের তাওফিক ও হেদায়াতের পক্ষ থেকে, আর পাঠকারীর জন্য এর সুফল, আর এর লেখকের ওপর এর দায়ভার। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাথে সদাচার করুন এবং তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। অতঃপর: {সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। তিনি যদি আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা পথ পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসুলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন} [সূরা আল-আ’রাফ: ৪৩]।

আমি তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন এর মাধ্যমে মর্যাদা বুলন্দ করেন, গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন এবং একে আমাদের নেকিতে রূপান্তর করেন। এর মাধ্যমে যেন তাঁর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। তিনি যেন আমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন এবং আমাদের, আমাদের উস্তাদদের, পিতামাতা এবং মুসলিম নারী ও পুরুষদের ক্ষমা করে দেন; আমাদের মাওলা, সৃষ্টির উদ্ভাবকের রহমত ও দয়ায়। {নিশ্চয়ই আমার রব যা চান তার প্রতি অতিশয় দয়ালু। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [সূরা ইউসুফ: ১০০]।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর শান্তি ও অজস্র রহমত বর্ষণ করুন।

 

… ... … ... … ... মহিমান্বিত মাওলার মুখাপেক্ষী অধম কর্তৃক লিখিত

… ... … ... … ... আলী বিন আব্দুল আজিজ বিন আলী আশ-শিবল

… ... … ... … রিয়াদ ১১৪১৫- পি.ও. বক্স: ৬৩১২৮

… ... … ... … ... … ফ্যাক্স ২৪১৭৪৩৮
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أهمية مسألة الإيمان

 

… مسألة الإيمان من مسائل العقيدة الجليلة التي وقع الاختلاف فيها، والافتراق عليها قديماً في المسلمين؛ بل لا يبتعد إذا قيل إنها أول مسائل الاختلاف في هذه الأمة التي وقع النزاع فيها بين طوائفها، فخالف فيها المبتدعة الأمة الإسلامية!

ومن ثم ترتب عليها اختلافات أُخر في مسائل وثيقة الصلة بمسألة الإيمان.

ومسائل الإيمان يُعبِّر عنها العلماء بمسألة ((الأسماء والأحكام)) ، بمعنى: اسم العبد في الدنيا هو هل مؤمن أو كافر أو ناقص الإيمان..؟ وحكمه في الآخرة أمن أهل الجنة هو أم من أهل النار، أم ممن يدخل النار ثم يخرج منها ويُخلد في الجنة؟

ولأهمية هذه المسائل ضمَّنها أهل السنة والجماعة في مباحث العقيدة الكبار (1) وقال الحافظ ابن رجب مبيناً أهمية هذه المسألة: ((وهذه المسائل، أعني مسائل الإسلام والإيمان، والكفر والنفاق مسائل عظيمة جداً)) .

فإن الله عز وجل علَّق بهذه الأسماء السعادة والشقاوة، واستحقاق الجنة والنار.

والاختلاف في مسمياتها أول اختلاف وقع في هذه الأمة، وهو خلاف الخوارج للصحابة حيث أخرجوا عصاة الموحدين من الإسلام بالكُلية، وأدخلوهم في دائرة الكفر، وعاملوهم معاملة الكفار، واستحَّلوا بذلك دماء المسلمين وأموالهم، ثم حدث بعدهم خلاف المعتزلة وقولهم بالمنزلة بين المنزلتين.

ثم حدث خلاف المرجئة وقولهم: إن الفاسق مؤمن كامل الإيمان.

وقد صنَّف العلماء قديماً وحديثاً في هذه المسائل تصانيف متعددة، وممن صنَّف في الإيمان من أئمة السلف: الإمام أحمد، وأبو عبيد القاسم بن سلَاّم، وأبو بكر أبي شيبة، ومحمد بن أسلم الطوسي، - رحمهم الله تعالى- وكثرت فيه التصانيف بعدهم من جميع الطوائف)) .اهـ. (2) .

وهكذا شأن الابتداع في الدين، فما يبتدع أحد بدعة- ولاسيما في أصول الدين وباب السنة-، إلا اتسعت اتساعهً كبيراً شبراً فباعاً فميلاً.. وحسبك أن تعلم ما يقابل هذا الاتساع من خفاء السنن واندراسها.

ولا يبتدع مبتدع من أهل الأهواء بدعة في هذا الباب إلا ويأتي عقبه من يبتدع بدعة تضاد بدعته وتقابلها، حتى يكون الحق عند من يجده وسطاً بن البدعتين، وهذا تلاحظه في:

--------------------------------------------

(1) بل قدَّمها الإمام البخاري في أول صحيحه من خلال كتاب الإيمان منه.

وقدَّمها الإمام أحمد في كتاب السنة، كما في كتاب السنة للخلال روايته عنه، فقد أضحت مسائل الإيمان والرد على المرجئة أول ما انتقده أهل السنة على الجهمية من ضلالاتهم، لاسيما هم المرجئة المحضة!

(2) من جامع العلوم والحكم-شرح الحديث الثاني-حديث جبريل المشهور (300) .
ঈমানের বিষয়ের গুরুত্ব

 

… ঈমানের বিষয়টি আকিদার সেই সব মহান বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোতে অতীতে মুসলিমদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভক্তি দেখা দিয়েছে; বরং এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, এটিই এই উম্মতের মাঝে সংঘটিত প্রথম মতপার্থক্য, যা বিভিন্ন দল-উপদলের মধ্যে বিবাদের জন্ম দিয়েছে। ফলে বিদআতিরা এ বিষয়ে উম্মতে ইসলামীর বিরুদ্ধাচরণ করেছে!

যার ফলে ঈমানের বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয়েও নানাবিধ মতভেদ তৈরি হয়েছে।

আলেমগণ ঈমানের বিষয়গুলোকে "নাম এবং বিধান" (আসমা ওয়া আহকাম) হিসেবে অভিহিত করেন। এর অর্থ হলো: দুনিয়াতে বান্দার নাম কী হবে—সে কি মুমিন, নাকি কাফির, নাকি ত্রুটিপূর্ণ ঈমানদার? আর আখেরাতে তার বিধান কী হবে—সে কি জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে, নাকি জাহান্নামিদের? নাকি সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বের হয়ে চিরস্থায়ীভাবে জান্নাতে বসবাস করবে?

এই বিষয়গুলোর গুরুত্বের কারণে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এগুলোকে আকিদার বড় বড় আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন (১)। হাফেজ ইবনে রজব এই বিষয়ের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: ((এই বিষয়গুলো, অর্থাৎ ইসলাম, ঈমান, কুফর এবং নিফাকের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়))।

কারণ আল্লাহ তাআলা এই নামগুলোর সাথেই সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য এবং জান্নাত ও জাহান্নামের উপযুক্ত হওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করেছেন।

এই নামগুলোর সংজ্ঞায় মতপার্থক্যই এই উম্মতের মাঝে ঘটা প্রথম মতপার্থক্য। এটি ছিল সাহাবীদের বিরুদ্ধে খারেজীদের বিরোধ, যেখানে তারা গুনাহগার তাওহীদপন্থীদের সম্পূর্ণরূপে ইসলাম থেকে বের করে কুফরের গণ্ডিতে প্রবেশ করিয়েছিল এবং তাদের সাথে কাফিরদের ন্যায় আচরণ করেছিল। এর মাধ্যমে তারা মুসলিমদের রক্ত ও ধন-সম্পদকে হালাল করে নিয়েছিল। এরপর তাদের পর মুতাযিলাদের বিরোধ তৈরি হয় এবং তারা "দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান" (আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন) এর কথা বলে।

এরপর মুরজিআদের মতভেদ প্রকাশ পায় এবং তাদের দাবি ছিল: ফাসেক ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার।

প্রাচীন ও বর্তমান আলেমগণ এই বিষয়গুলোতে বহু কিতাব রচনা করেছেন। সালাফে সালেহীনের ইমামদের মধ্যে যারা ঈমান বিষয়ে কিতাব লিখেছেন তারা হলেন: ইমাম আহমাদ, আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম, আবু বকর ইবনে আবি শায়বা, এবং মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তুসী—আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাদের পরে সকল দলের পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে অনেক কিতাব রচিত হয়েছে))। সমাপ্ত। (২)।

দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবনের (বিদআতের) স্বরূপ এমনই। কেউ কোনো বিদআত উদ্ভাবন করলে—বিশেষ করে দ্বীনের মূলনীতি ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে—তা দ্রুত বড় হতে থাকে, এক বিঘত থেকে এক হাত, তারপর মাইলের পর মাইল... আর এই বিস্তারের বিপরীতে সুন্নাহর বিলুপ্তি ও মিটে যাওয়ার বিষয়টি আপনার জানার জন্য যথেষ্ট।

কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের মধ্যে কোনো বিদআতি এই বিষয়ে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করলেই তার পরপরই এমন কেউ আসে যে তার বিদআতের বিপরীত ও প্রতিপক্ষ অন্য এক বিদআত উদ্ভাবন করে। অবশেষে সত্য তাদের কাছেই থাকে যারা এই দুই বিদআতের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। আর এটি আপনি লক্ষ্য করবেন:

--------------------------------------------

(১) বরং ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের শুরুতেই কিতাবুল ঈমানের মাধ্যমে এটি পেশ করেছেন।

ইমাম আহমাদ একে কিতাবুস সুন্নাহ-তে উপস্থাপন করেছেন, যেমনটি খাল্লালের কিতাবুস সুন্নাহ-তে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ঈমানের বিষয়সমূহ এবং মুরজিআদের খণ্ডন করা সেই সব প্রথম বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল যার মাধ্যমে আহলে সুন্নাতগণ জাহমিয়াদের গোমরাহির সমালোচনা করেছিলেন, বিশেষ করে যারা ছিল চরমপন্থী মুরজিআ!

(২) জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম থেকে—দ্বিতীয় হাদিসের ব্যাখ্যা—বিখ্যাত জিবরীল (আ.) এর হাদিস (৩০০)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
-بدعة الخوارج الوعيدية ومن تبعهم في مسائل الإيمان، ومقابلة المرجئة بطوائفها لهم ببدعتهم، والحق وسط بينهما!

-وفي باب الصفات ببدعة الممثلة المشبهة، ومقابلة المعطلة لهم.

-وفي باب القدر والإرادة بين بدعة القدرية نفاة القدر، وماقابلها من بدعة الجبرية الغلاة في إثباته.

-وفي باب الصحابة والإمامة بين بدعة الخوارج النواصب وما قابلهم من بدعة الروافض.

والحق في كل هو الوسط بين تلك البدع!

ومسائل الإيمان من ذلك، وقد اندرج تحتها عدة مسائل ومباحث بعضها يكون غرة عن بعض.

وأستعين الله بعرض بعض من مسائله المهمة، فبالله التوفيق، ومنه العون والتسديد، وهو حسبي ونعم الوكيل.

 

‌‌مسألة تعريف الإيمان ومسماه:

وهذه المسألة هي الأساس الذي ينبني عليه الخلاف وثمراته في مسائل الإيمان.

واختُلف فيما يقع عليه اسم الإيمان، وما يُراد به اختلافاً كثيراً (1) ، أعرض هاهنا لمجمل الأقوال في المسألة التي لها شهرة، وينبني عليها فهم أهلها واعتقادهم بالمراد بالإيمان.

1ـ قول عامة أهل السنة وأهل الحديث:

… أن الإيمان إقرار باللسان، واعتقاد بالجنان، وعمل بالأركان يزيد بطاعة الرحمن، وينقص بطاعة الشيطان.

2ـ قول الوعيدية من الخوارج والمعتزلة:

… أن الإيمان قول باللسان واعتقاد بالجنان وعمل بالأركان، والعمل شرط في الإيمان يوجد بوجوده، ويعدم بعدمه. فهم وافقوا أهل السنة في مسمى الإيمان لفظاً، وخالفوهم في حقيقته ومعناه، فجعلوا الإيمان يزول بزوال العمل مطلقاً من غير تفصيل في نوع العمل؟!

3ـ قول المرجئة، وهم في هذه المسألة طوائف كثيرة أشهرهم:

--------------------------------------------

(1) ينظر في هذه الأقوال المقالات للأشعري 1/125، 149، 204، 223، 329، وتبصرة الأدلة لأبي المعين النسفي 2/789 وما بعدها، والفرقان بين الحق والباطل ضمن المجموع 13/47-51، والإيمان الكبير لابن تيمية 72، والإيمان الأوسط له 509-511،543-550، وشرح الطحاوية 459 وما بعدها.
-ঈমানের মাসআলাসমূহে ওয়াইদিয়া খাওয়ারিজ এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে তাদের বিদআত, এবং এর বিপরীতে মুরজিয়াদের বিভিন্ন উপদলের বিদআত; আর সত্য হলো এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পথ!

-আর সিফাত বা গুণাবলীর অধ্যায়ে মুমাসসিলাহ ও মুশাব্বিহাদের (সাদৃশ্যদানকারী) বিদআত এবং এর বিপরীতে মুআত্তিলাদের (অস্বীকারকারী) বিদআত।

-আর তাকদির ও ইচ্ছার অধ্যায়ে তাকদির অস্বীকারকারী কাদারিয়াদের বিদআত এবং এর বিপরীতে তাকদির সাব্যস্তকরণে চরমপন্থী জাবারিয়াদের বিদআত।

-আর সাহাবীগণ ও ইমামতের অধ্যায়ে নাওয়াসিব খাওয়ারিজদের বিদআত এবং তাদের বিপরীতে রাফেযীদের বিদআত।

আর প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সত্য হলো সেই বিদআতগুলোর মধ্যবর্তী পথ!

ঈমানের মাসআলাসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত, যার অধীনে অনেকগুলো মাসআলা ও গবেষণার বিষয় রয়েছে যার কিছু অংশ অন্য অংশের চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে।

আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা উপস্থাপনের জন্য; আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফীক, সাহায্য এবং সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সামর্থ্য প্রার্থনা করছি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

‌‌ঈমানের সংজ্ঞা ও এর নামকরণের মাসআলা:

আর এই মাসআলাটিই হলো সেই মূল ভিত্তি যার ওপর ঈমান বিষয়ক মতভেদ ও এর ফলাফলসমূহ গড়ে উঠেছে।

ঈমান নামটি কিসের ওপর প্রযুক্ত হবে এবং এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য, সে বিষয়ে অনেক মতভেদ হয়েছে (১); আমি এখানে এই মাসআলাটির সেই প্রসিদ্ধ অভিমতগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরছি যা এর অনুসারীদের অনুধাবন ও ঈমান সম্পর্কে তাদের আকিদার ভিত্তি।

১. সাধারণ আহলে সুন্নাহ ও আহলে হাদীসের বক্তব্য:

… ঈমান হলো জিহ্বা দ্বারা স্বীকৃতি, অন্তর দিয়ে বিশ্বাস এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করা; যা দয়াময় আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং শয়তানের আনুগত্যের মাধ্যমে হ্রাস পায়।

২. খাওয়ারিজ ও মুতাজিলাদের মধ্য থেকে ওয়াইদিয়াদের বক্তব্য:

… ঈমান হলো জিহ্বা দ্বারা বলা, অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করা; আর আমল হলো ঈমানের এমন এক শর্ত যা থাকলে ঈমান থাকে এবং যা না থাকলে ঈমান বিলুপ্ত হয়। সুতরাং তারা শাব্দিকভাবে ঈমানের নামকরণের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহর সাথে একমত হলেও এর হাকীকত ও অর্থের ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করেছে। ফলে তারা আমলের প্রকারভেদের কোনো পার্থক্য ছাড়াই কেবল আমল না থাকার কারণে ঈমান সম্পূর্ণভাবে চলে যায় বলে গণ্য করেছে?!

৩. মুরজিয়াদের বক্তব্য; আর এই মাসআলায় তারা অনেকগুলো উপদলে বিভক্ত, তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো:

--------------------------------------------

(১) এই মতগুলোর জন্য দেখুন: আল-আশআরী প্রণীত 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন' ১/১২৫, ১৪৯, ২০৪, ২২৩, ৩২৯; আবু মুঈন আন-নাসাফী প্রণীত 'তাবসিরাতুল আদিল্লাহ' ২/৭৮৯ এবং পরবর্তী অংশ; মাজমুউল ফাতাওয়া-র অন্তর্ভুক্ত 'আল-ফুরকান বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতিল' ১৩/৪৭-৫১; ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আল-ঈমানুল কাবীর' ৭২, এবং তাঁর 'আল-ঈমানুল আওসাত' ৫০৯-৫১১, ৫৪৩-৫৫০; এবং শারহুত ত্বহাবিইয়াহ ৪৫৯ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أـ المرجئة المحضة وهم الجهمية ومن وافقهم من القدرية وغيرهم: والإيمان عندهم هو المعرفة بالله، والكفر الجهل به، وفساد هذا القول بيِّن ظاهر جداً.

ب ـ قول جمهور الأشاعرة:

… ... بأن لإيمان هو تصديق القلب فقط.

… ... وربما جنح متكلموهم فيه إلى قول الجهمية بأنه معرفة القلب.

ج- المرجئة الكرَّامية وهو قول ابن كلاب والرقاشي؛ بأن الإيمان تصديق القلب، أما الإقرار باللسان فحسب. ومن لوازمه الباطلة اعتبار المنافقين مؤمنين؟!

د- قول الماتريدية ورواية عن أبي حنيفة: بأن الإيمان تصديق القلب، أما الإقرار باللسان فركن زائد فيه ليس بأصلي، حيث يسقط بالإكراه ونحوه.

هـ-قول مرجئة الفقهاء، هو قول الشمرية والنجارية والغيلانية من طوائف المرجئة، بأن الإيمان قول باللسان، وتصديق بالجنان.

الأصل الجامع للنزاع في المسألة:

هذا وقد استقرأ الشيخ أبو العباس ابن تيمية هذا الأصل الجامع للنزاع في الإيمان من خلال سبره لأقوال الطوائف في الإيمان وتمحيصه لحقائقها، وهو المطلع على أقوال أهل المقالات اطلاعاً لم يُعرف له نظير.

وهذه الأصول هي في الواقع قواعد قعَّدها –رحمه الله في مواقف تلك الطوائف من دلائل الوحي في مسألة الإيمان، وأجوبتهم عليها.

وهي:

* الأصل الأول:

قال رحمه الله في الإيمان الأوسط: ((وأصل نزاع هذه الفرق في الإيمان من الخوارج والمرجئة والمعتزلة والجهمية وغيرهم أنهم جعلوا الإيمان شيئاً واحداً، إذا زال بعضه زال جميعه، وإذا ثبت بعضه ثبت جميعه.
ক- বিশুদ্ধ মুরজিয়া: তারা হলো জাহমিয়া এবং কাদারিয়াসহ তাদের অনুসারী অন্যান্যেরা। তাদের মতে ঈমান হলো আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, আর কুফর হলো তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞতা। এই মতবাদের অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট।

খ- জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আশআরিদের অভিমত:

… ... এই মর্মে যে, ঈমান হলো কেবল অন্তরের সত্যায়ন।

… ... এবং সম্ভবত তাদের কালামশাস্ত্রবিদরা এ বিষয়ে জাহমিয়াদের মতের দিকে ঝুঁকেছেন যে, এটি হলো অন্তরের জ্ঞান।

গ- মুরজিয়া কাররামিয়া: এটি ইবনে কুল্লাব ও রাকিশির অভিমত; তাদের মতে ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন, আর মৌখিক স্বীকৃতি কেবল একটি বিষয়। এর বাতিল ফলাফলগুলোর মধ্যে একটি হলো মুনাফিকদের মুমিন হিসেবে গণ্য করা?!

ঘ- মাতুরিদিদের অভিমত এবং আবু হানিফা থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত: ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন, আর মৌখিক স্বীকৃতি এতে একটি অতিরিক্ত রুকন (অংশ), যা মৌলিক নয়। যেহেতু বাধ্য করা বা অনুরূপ পরিস্থিতিতে এটি রহিত হয়ে যায়।

ঙ- মুরজিআতুল ফুকাহার অভিমত: এটি মুরজিয়াদের অন্তর্ভুক্ত শামরিয়াহ, নাজ্জারিয়াহ এবং গাইলানিয়াহ ফিরকার অভিমত। তাদের মতে ঈমান হলো মুখে বলা এবং অন্তরে সত্যায়ন করা।

এই মাসআলায় মতভেদের মূল ভিত্তি:

শাইখ আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়াহ ঈমান বিষয়ে বিভিন্ন ফিরকার অভিমতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঈমান সংক্রান্ত বিবাদের এই মূল ভিত্তিটি নিরূপণ করেছেন। বিভিন্ন মতাবলম্বীদের বক্তব্য সম্পর্কে তাঁর পাণ্ডিত্য ও জানাশোনা এমন যার কোনো নজির জানা নেই।

আর এই মূলনীতিগুলো মূলত সেই সব নিয়ম যা তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—ঈমান সংক্রান্ত মাসআলায় ওহির দলিলের বিপরীতে ওই সকল ফিরকার অবস্থান এবং সেগুলোর ওপর তাদের জবাবের প্রেক্ষিতে প্রণয়ন করেছেন।

সেগুলো হলো:

* প্রথম মূলনীতি:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-ঈমান আল-আওসাত' গ্রন্থে বলেছেন: "ঈমান বিষয়ে এই সকল ফিরকা—যেমন খাওয়ারিজ, মুরজিয়া, মুতাজিলা, জাহমিয়া এবং অন্যদের—বিরোধের মূল উৎস হলো, তারা ঈমানকে একটি একক সত্তা মনে করেছে। যার কিয়দাংশ বিলুপ্ত হলে সম্পূর্ণটাই বিলুপ্ত হয়ে যায়, আর কিয়দাংশ সাব্যস্ত হলে সম্পূর্ণটাই সাব্যস্ত হয়।"
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
فلم يقولوا بذهاب بعض وبقاء بعض، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((يخرج من النار من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من الإيمان)) .اهـ (1) .

* الأصل الثاني:

ما ضمَّنه شرحه للأصفهانية حيث قال:

((وأصل هؤلاء أنهم ظنوا أن الشخص الواحد لا يكون مُستحقاً للثواب والعقاب، والوعد والوعيد، والحمد والذم. بل إما لهذا وإما لهذا، فأحبطوا جميع حسناته بالكبيرة التي فعلها..)) اهـ (2) .

وهذا هو معنى أن يجتمع في العبد: إيمان وكفر، وإسلام ونفاق، وسنة وبدعة، وطاعة ومعصية.. وهو الحق الذي دلت عليه نصوص الإيمان من الكتاب والسنة.

* الأصل الثالث:

ما ذكره العلماء- رحمهم الله من طريقة أهل البدع في تلقي النصوص والشريفة ((الوحي)) سواء كانوا من الوعيدية من الخوارج والمعتزلة، أو من المرجئة على تنوع مراتبهم وأصنافهم، فهم لا يجمعون بين نصوص الوعد والوعيد؛ بل إنهم – في استدلالهم، ينفردون فيهما بما يؤيد مذاهبهم.

أ-فالوعيدية يستدلون بنصوص الوعيد، ويهملون نصوص الوعد، أو لا يجمعونها مع نصوص الوعيد في التلقي والاستدلال.

ب-وكذلك المرجئة يعوّلون على نصوص الوعد، دون اعتبار للنصوص الواردة في الوعيد، وجمعها في التلقي والاستدلال مع نصوص الوعد. فكلاهما آمنوا ببعض الكتاب وكفروا ببعض.

أما أهل السنة والجماعة فآمنوا بالكتاب كله، وعولَّوا على النصوص جميعها، فنظروا إلى نصوص الوعيد مع نصوص الوعد، فلم يضطربوا ولم يفرقوا بين المتماثلات وإنما كانوا الأمة الوسط، وأسعد الفريقين بالمذهب الحق.

* الأصل الرابع:

--------------------------------------------

(1) انظره في المجموع (7/510) ، وانظر ما بعده، وشرح حديث ((إنما الأعمال بالنيات)) في المجموع (18/270، 276) ، والإيمان الكبير (209-211) ، والفرقان بين الحق والباطل في المجموع 13/48-50، وشرح الأصفهانية (143-144) ، والحديث مخرج في الصحيحين.

(2) في شرح الأصفهانية (137-138) ، وانظر الفرقان بين الحق والباطل (13-48) .
সুতরাং তারা কিছু অংশ চলে যাওয়া এবং কিছু অংশ বাকি থাকার কথা বলেননি, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।" (সমাপ্ত) (১) ।

* দ্বিতীয় মূলনীতি:

যা তিনি আল-আসফাহানিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শরহুল আসফাহানিয়া) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন:

"আর এদের মূল ভিত্তি হলো—তারা ধারণা করেছে যে, একজন ব্যক্তি একই সাথে সওয়াব ও শাস্তি, প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) ও হুঁশিয়ারি (ওয়াইদ) এবং প্রশংসা ও নিন্দার যোগ্য হতে পারে না। বরং সে হয় এটার যোগ্য হবে অথবা ওটার; ফলে তারা তার কৃত কবিরা গুনাহের কারণে তার সমস্ত নেক আমলকে বাতিল করে দিয়েছে..." (সমাপ্ত) (২) ।

আর এটাই হলো বান্দার মধ্যে ঈমান ও কুফর, ইসলাম ও নিফাক, সুন্নাহ ও বিদআত এবং আনুগত্য ও অবাধ্যতা একত্রিত হওয়ার অর্থ। আর এটাই সত্য যা কিতাব ও সুন্নাহর ঈমান বিষয়ক নصوص বা দলীলসমূহ প্রমাণ করে।

* তৃতীয় মূলনীতি:

ওহী বা পবিত্র দলীলসমূহ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদআতপন্থীদের পদ্ধতি সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন—চাই তারা খারেজী ও মুতাযিলাদের মধ্য থেকে 'ওয়াইদিয়া' (হুঁশিয়ারিপন্থী) হোক অথবা বিভিন্ন স্তর ও প্রকারের 'মুরজিয়া' হোক—তারা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) এবং শাস্তির হুঁশিয়ারি (ওয়াইদ) সংক্রান্ত দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় করে না; বরং তারা দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল তা-ই গ্রহণ করে যা তাদের মতবাদকে সমর্থন করে।

ক- ওয়াইদিয়ারা শাস্তির হুঁশিয়ারি (ওয়াইদ) সংক্রান্ত দলীলসমূহ দিয়ে প্রমাণ পেশ করে এবং পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) সংক্রান্ত দলীলসমূহকে উপেক্ষা করে, অথবা দলীল গ্রহণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা উভয় প্রকার দলীলকে একত্রিত করে না।

খ- অনুরূপভাবে মুরজিয়ারা কেবল পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) সংক্রান্ত দলীলসমূহের ওপর নির্ভর করে এবং শাস্তির হুঁশিয়ারি (ওয়াইদ) সংক্রান্ত দলীলসমূহকে বিবেচনা করে না এবং দলীল গ্রহণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে উভয় প্রকার দলীলকে একত্রিত করে না। ফলে উভয় দলই কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান এনেছে এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করেছে।

পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পূর্ণ কিতাবের ওপর ঈমান এনেছে এবং সমস্ত দলীলের ওপর নির্ভর করেছে। তারা শাস্তির হুঁশিয়ারি (ওয়াইদ) সংক্রান্ত দলীলের পাশাপাশি পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) সংক্রান্ত দলীলগুলোকেও বিবেচনা করেছে; ফলে তারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়নি এবং সদৃশ বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করেনি। বরং তারা ছিল মধ্যপন্থী জাতি এবং সত্য মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে উভয় দলের মধ্যে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান।

* চতুর্থ মূলনীতি:

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-মাজমু’ (৭/৫১০), এবং এর পরবর্তী অংশ দেখুন। এছাড়া 'নিশ্চয়ই আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' হাদীসটির ব্যাখ্যা দেখুন আল-মাজমু’ (১৮/২৭০, ২৭৬), আল-ঈমান আল-কাবীর (২০৯-২১১), আল-ফুরকান বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতীল যা আল-মাজমু’র (১৩/৪৮-৫০) অন্তর্ভুক্ত এবং শরহুল আসফাহানিয়া (১৪৩-১৪৪)। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(২) শরহুল আসফাহানিয়া (১৩৭-১৩৮) এবং আল-ফুরকান বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতীল (১৩-৪৮) দেখুন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أن الإيمان وكذا الكفر، كل منهما خصالٌ وشعبٌ عديدة، ومراتب متعددة، فمن الإيمان شعب إذا زالت زال الإيمان كله كالصدق في الحديث والحياء. وكذلك الكفر منه شعب إذا وقعت وقع الكفر الأكبر كالاستهزاء والسب لله ولدينه ولرسوله، ومنه شعب إذا وقعت لم يقع الكفر الأكبر المخرج عن الملة، كسب المسلم وقتاله والنياحة وغير ذلك، وإنما يكون مقترفها واقعاً في الكفر الأصغر، وهو الكفر العملي، وهو لا يخرج من الملة (1) .

 

* * *

 

‌‌بيان فساد أقوال الطوائف إجمالاً: …

وهي الأقوال التي خالفت قول عامة أهل الحديث، أهل السنة والجماعة، إذ التفصيل ليس هذا مقامه، ولا لمثلي بيانه. لأنه يعتمد على عرض شبه كلٍ على حده، وتناولها بالبيان والجواب، وقد أفلح فيه الشيخ ابن تيمية في كتابيه الإيمان الكبير والأوسط، بما أظنه لو تأمله مريد الحق بعمدته لاكتفى به!

ونقد الأقوال إجمالاً يسلمني من مناهج المتكلمين في عرضهم المجرد لمقالات الطوائف دون تعقيب أو توضيح للصواب من ضده.

فأما قول الوعيدية: فقد خالف إجماع الصحابة، وخالف النصوص في الوحيين الشريفين؛ التي دلت على نفع الشفاعة لأصحاب الكبائر وإخراج الموحدين من النار، وعدم خلودهم فيها.

أ- من نحو قوله صلى الله عليه وسلم: ((شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي)) رواه الإمام أحمد وبعض أهل السنن عن أنس وجابر بن عبد الله رضي الله عنهم.

--------------------------------------------

(1) انظر اقتضاء الصراط المستقيم (1/237) ، وتعظيم قدر الصلاة للمروزي (2/516-520) ، وكتاب الصلاة لابن القيم (54-61) ، والرسائل المفيدة للشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن (27/29) ، وأعلام السنة المنشورة للحافظ الحكمي (73-75) وغيرها كثير!
ঈমান এবং কুফর—উভয়েরই রয়েছে বহু বৈশিষ্ট্য ও শাখা এবং বিভিন্ন স্তর। ঈমানের এমন কিছু শাখা রয়েছে যা বিলুপ্ত হলে সমগ্র ঈমান বিলুপ্ত হয়ে যায়, যেমন কথার সত্যবাদিতা ও লজ্জা। তেমনিভাবে কুফরেরও এমন কিছু শাখা রয়েছে যা সংঘটিত হলে বড় কুফর (কুফরে আকবর) সংঘটিত হয়, যেমন আল্লাহ, তাঁর দ্বীন এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে উপহাস করা ও গালি দেওয়া। আবার এর এমন কিছু শাখা রয়েছে যা সংঘটিত হলেও বড় কুফর সংঘটিত হয় না যা একজনকে ধর্ম থেকে বের করে দেয়; যেমন মুসলমানকে গালি দেওয়া, তার সাথে লড়াই করা, বিলাপ করা ইত্যাদি। এর লিপ্ত ব্যক্তি মূলত ছোট কুফরে (কুফরে আসগর) নিপতিত হয়, যা হলো আমলি কুফর (আচরণগত কুফর), এবং এটি ধর্ম থেকে বের করে দেয় না (১)।

 

* * *

 

‌‌বিভিন্ন দলের মতবাদের অসারতার সামগ্রিক বর্ণনা: ...

এগুলো হলো সেই সকল মতবাদ যা সাধারণ আহলে হাদিস তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতের পরিপন্থী। কেননা বিস্তারিত আলোচনার এটি উপযুক্ত স্থান নয় এবং আমার মতো ব্যক্তির পক্ষে তা বর্ণনা করাও সম্ভব নয়। কারণ এটি প্রতিটি সংশয়কে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা এবং সেগুলোর স্পষ্ট বর্ণনা ও উত্তরের ওপর নির্ভরশীল। শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর কিতাব 'আল-ঈমান আল-কাবীর' এবং 'আল-আওসাত'-এ এ বিষয়ে অত্যন্ত সফলভাবে আলোচনা করেছেন। আমি মনে করি, সত্যের সন্ধানী কেউ যদি একনিষ্ঠভাবে তা অনুধাবন করে, তবে তা-ই তার জন্য যথেষ্ট হবে!

মতবাদগুলোর সামগ্রিক সমালোচনা আমাকে মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) পদ্ধতি থেকে রক্ষা করে, যারা বিভিন্ন দলের বক্তব্যকে কোনো মন্তব্য বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট না করেই কেবল উপস্থাপন করে থাকে।

আর ওয়াঈদিয়াদের মতবাদের ব্যাপারে বলা যায়: এটি সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (ঐক্যমত) এবং পবিত্র ওহীদ্বয়ের (কুরআন ও সুন্নাহ) নসের পরিপন্থী; যা কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য সুপারিশের উপকারিতা এবং একত্ববাদীদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনা ও সেখানে তাদের চিরস্থায়ী না হওয়ার প্রমাণ দেয়।

ক- যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((আমার উম্মতের কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য আমার সুপারিশ।)) ইমাম আহমাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহের কতিপয় সংকলক আনাস ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (১/২৩৭), মারওয়াযী রচিত তা’যীমু কাদরিস সালাহ (২/৫১৬-৫২০), ইবনুল কাইয়্যিম রচিত কিতাবুস সালাহ (৫৪-৬১), শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান রচিত আর-রাসাইলুল মুফীদাহ (২৭/২৯), হাফেজ হাকামী রচিত আ’লামুস সুন্নাতিল মানশুরাহ (৭৩-৭৫) এবং আরও অনেক!
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ب- وقوله صلى الله عليه وسلم: يخرج من النار من كان في قلبه مثقال ذرة من إيمان)) متفق عليه من حديث أنس رضي الله عنه) (1) .

ج- كيف وقد وعد سبحانه أن يغفر لمن شاء ممن لم يشرك به شيئاً كما في آيتي النساء {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ ماَدُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَآءُُ} [النساء:48] .

د-وأيضا الهدي النبوي في أصحاب المعاصي والكبائر الذين اقترفوها في عهده صلى الله عليه وسلم حيث لم يُنقل عنه صلى الله عليه وسلم أنه أمرهم بتجديد إيمانهم أو الدخول في الدين من جديد، لو كانوا فارقوه كما يقول هؤلاء؟

هـ-أن هؤلاء محجوجون بأنه ليس أحد إلا ويخطئ أو يترك أمراً واجباً عليه من أوامر الدين ونواهيه، فيلزم على قولهم أنه لم يبق على الإيمان أحد.

لأن الإيمان بهذا القيد عندهم، وهو كل لا يتجزأ ليس إلا الإيمان المطلق؟ ومن يدعيه؟!

وقول المرجئة المحضة بيِّنُ الفسادِ، لما يلزمه من اللوازم القبيحة الباطلة:

أ- فإن أبا لهب وأبا جهل يعرفان ربهما ويوحِّدانه في الربوبية ولا يجهلانه ومع هذا فهما من أهل النار ولا شك.

وكذا عامة من لم يؤمن بالرسول الله صلى الله عليه وسلم من أهل الكتاب والمجوس ونحوهم.

ب- أن أبا طالب عم النبي صلى الله عليه وسلم شهد بأن دين محمد من خير أديان البرية ديناً وكان عارفاً بربه، غير جاهل به، وهو كافر من أهل النار. وكذا أبوه عبد المطلب!

--------------------------------------------

(1) الأحاديث التي أغفل تخريجها هنا يعني أنه سيأتي تخريجها في التعليق على الكتاب المحقق ((الرسالة الواضحة)) بحول ربي وقوته.
খ- এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "জাহান্নাম থেকে এমন ব্যক্তিকে বের করা হবে যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে" (আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এটি সর্বসম্মত)।

গ- এটি কীভাবে সম্ভব যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করবেন যে তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করেনি, যেমনটি সূরা নিসার দুই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং তা ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন" [আন-নিসা: ৪৮]।

ঘ- এবং পাপাচারী ও কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারেও নববীয় আদর্শ পরিলক্ষিত হয়, যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে পাপে লিপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তিনি তাদেরকে ঈমান নবায়ন করার বা নতুন করে ইসলামে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছেন; যদি তারা দ্বীন থেকে বের হয়ে যেতেন—যেমনটি তারা দাবি করে থাকে?

ঙ- প্রকৃতপক্ষে তাদের বিপক্ষে প্রমাণ এই যে, এমন কোনো মানুষ নেই যে ভুল করে না অথবা দ্বীনের আদেশ ও নিষেধের মধ্যে তার ওপর অর্পিত কোনো ওয়াজিব বিষয় বর্জন করে না। এমতাবস্থায় তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ঈমানের ওপর কেউ অবশিষ্ট থাকে না।

কেননা তাদের কাছে এই শর্তে ঈমান হলো একটি অখণ্ড সত্তা যা বিভাজনযোগ্য নয়, আর তা হলো কেবল নিরঙ্কুশ ঈমান। আর কে এমনটি দাবি করতে পারে?!

বিশুদ্ধ মুরজিয়াদের বক্তব্য বাতিল হওয়া সুস্পষ্ট, কারণ এর মাধ্যমে অনেক কদর্য ও অসার ফলাফল অনিবার্য হয়ে পড়ে:

ক- কারণ আবু লাহাব ও আবু জাহেল তাদের প্রতিপালককে চিনত এবং রুবুবিয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর একত্ববাদ স্বীকার করত এবং তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল না, তবুও তারা নিঃসন্দেহে জাহান্নামবাসী।

তেমনিভাবে আহলে কিতাব, অগ্নিপূজক ও তাদের মতাবলম্বীদের মধ্যে যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনেনি তাদের সাধারণ অবস্থাও তদ্রূপ।

খ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবু তালিব সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, "মুহাম্মদের ধর্ম সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ধর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত"; তিনি তাঁর প্রতিপালক সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন, অজ্ঞ ছিলেন না, অথচ তিনি একজন কাফের এবং জাহান্নামবাসী। তদ্রূপ তাঁর পিতা আব্দুল মুত্তালিবও!

--------------------------------------------

(১) যে হাদিসগুলোর সূত্রোল্লেখ এখানে করা হয়নি, তার অর্থ হলো অচিরেই আমার রবের শক্তি ও সামর্থ্যে সম্পাদিত গ্রন্থ "আর-রিসালাতুল ওয়াদিহা"-এর টিকায় সেগুলোর সূত্রোল্লেখ আসবে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ج- ومن لوازم قولهم الفاسد أن فرعون الجاحد لربوبية الله ظاهراً مؤمن كامل الإيمان لأنه عارف بالله في قلبه غير جاهل به، لقول أصدق القائلين سبحانه في آخر سورة الإسراء {قاَلََ لَقَدْ عَلِمْتَ مَآ أَنزَلَ هَؤُلاءِ إلَاّ رَبُّ السَمَوَاتِ وَالأَرْضِ بَضَآئَّرَ وَإِنِّى لأَظَنُّكَ يَا فِرْعَوْنَ مَثْبُوراً} [الإسراء:102] ، وقوله في أول سورة النمل {وَجَحَدُوا بِهاَ وَاسْتَيْقَنَتْها أَنفُسُهُمْ ظُلْماً وَعُلُواًّ فَانظُرْ كَيْفَ كاَنَ عَقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ} [النمل:14] .

د- كما أن من أقبح لوازمه أن إبليس – أعاذنا الله منه- عند هؤلاء الجهمية مؤمن بالله، لأنه عارف له بقلبه غير جاهل به.

هـ- ومن لوازم قولهم أنه لا يكفر إلا الجاهل بربه، والحقيقة أنه لا أجهل من جهم وأضرابه بربهم حيث جعل لله الوجود المطلق، وعطَّله من جميع الصفات، ومن كان كذلك فلا يعرف إلا في الذهن فقط ولا وجود له في الخارج.

فمن أجهل بربه منه؟ سبحان الله وتعالى عما يصفون!

3- من لوازم بطلان مذهب الكرَّامية وأضرابهم بأن الإيمان هو النطق باللسان فقط!

أ- فإن المنافقين الذين كفَّرهم الله وكذَّبهم وجعلهم في الآخرة في الدرك الأسفل من النار. فقال تعالى في سورة النساء: {إِنَّ المْناَفِقِينَ فِي الدَّرْكِ الأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرا ً} [النساء:145] .

وفي أول سورة المنافقون: {إِذَا جَآءَكَ المُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللهِ وَاللهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ * اتَّخَذُوا أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوا عَن سَبِيلِ اللهِ إِنَّهُمْ سَآءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ * ذَلِكَ بِأَنَّهُمْءَامَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا فَطُبِعَ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ} [المنافقون: 1-3] .
গ- তাদের এই ভ্রান্ত মতবাদের একটি আবশ্যিক পরিণতি হলো যে, ফেরাউন—যে বাহ্যিকভাবে আল্লাহর রুবুবিয়্যাহকে অস্বীকার করেছিল—সে একজন পূর্ণ ঈমানদার মুমিন; কারণ সে তার অন্তরে আল্লাহ সম্পর্কে অবগত ছিল এবং তাঁর ব্যাপারে অজ্ঞ ছিল না। কেননা সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী মহান আল্লাহ সূরা আল-ইসরা-এর শেষে বলেছেন: "সে (মূসা) বলল, তুমি অবশ্যই জান যে, আসমান ও জমিনের রব ব্যতীত অন্য কেউ এই চাক্ষুষ নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেননি; আর হে ফেরাউন, আমি অবশ্যই তোমাকে ধ্বংসপ্রাপ্ত মনে করছি।" [আল-ইসরা: ১০২]। এবং সূরা আন-নামল-এর শুরুতে তাঁর বাণী: "তারা অন্যায় ও অহংকারবশত নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল। সুতরাং দেখ, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।" [আন-নামল: ১৪]।

ঘ- তেমনিভাবে এর অন্যতম নিকৃষ্ট পরিণতি হলো যে, এই জহমিয়াদের মতে ইবলিস—আল্লাহ আমাদের তার থেকে রক্ষা করুন—আল্লাহর প্রতি ঈমানদার; কারণ সে তার অন্তরে তাঁকে চিনত এবং তাঁর ব্যাপারে অজ্ঞ ছিল না।

ঙ- তাদের বক্তব্যের আরেকটি আবশ্যিক পরিণতি হলো যে, যে ব্যক্তি তার রব সম্পর্কে অজ্ঞ কেবল সেই কাফের হবে। অথচ বাস্তবতা হলো যে, জহম এবং তার অনুসারীদের চেয়ে তাদের রব সম্পর্কে অধিক অজ্ঞ আর কেউ নেই; কারণ সে আল্লাহর জন্য কেবল একটি বিমূর্ত অস্তিত্ব সাব্যস্ত করেছে এবং তাঁকে সমস্ত গুণাবলি থেকে শূন্য বা অস্বীকার করেছে। আর যার অবস্থা এমন, তাকে কেবল কল্পনাতেই পাওয়া সম্ভব, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

সুতরাং তার চেয়ে নিজের রব সম্পর্কে অধিক অজ্ঞ আর কে হতে পারে? তারা যা আরোপ করে তা থেকে আল্লাহ অতি পবিত্র ও সুমহান!

৩- কাররামিয়া ও তাদের সমমনাদের মতবাদের অসারতার অন্যতম আবশ্যিক পরিণতি হলো তাদের এই দাবি যে, ঈমান কেবল মুখে উচ্চারণের নাম!

ক- অথচ মুনাফিকরা—যাদের আল্লাহ কাফের বলেছেন, মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়েছেন এবং আখেরাতে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নিসায় বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং তুমি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।" [আন-নিসা: ১৪৫]।

এবং সূরা আল-মুনাফিকুন-এর শুরুতে বলেছেন: "যখন মুনাফিকরা আপনার কাছে আসে, তারা বলে, 'আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল'। আল্লাহ জানেন যে আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। তারা তাদের শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে গ্রহণ করেছে, অতঃপর তারা আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। তারা যা করছে তা কতই না মন্দ! এটা এজন্য যে, তারা ঈমান এনেছিল এবং পরে কুফরি করেছে, ফলে তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে, তাই তারা বুঝতে পারে না।" [আল-মুনাফিকুন: ১-৩]।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكذا كل من أبطن في قلبه كفراً أو ناقضاً من نواقض الدين يكون عندهم مؤمناً مادام مُقراً بلسانه (1) .

ب- بل من جمع بين الكفر الاعتقادي والعملي أو النفاق الاعتقادي والعملي أو كلها يكون مؤمناً ما بقي مقراً بالإيمان باللسان!

ج- كما يلزم من ذلك- عندهم- أن من لا يستطيع النطق بلسانه لخرس أو عجز من خوف أو نحوه لا يكون مؤمناً ولو كان قلبه وعمله مطمئناً بالإيمان.

د- مناقضة هذا القول لقوله تعالى في آخر النحل: {مَن كَفَرَ بِاللهِ مِن بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَاّ مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالإِيمَانِ وَلَكِن مَّن شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْراً فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِّنَ اللهِ ولَهُمْ عَذاَبٌ عَظِيمٌ * ذَلِكَ بِأَنَّهُم اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْياَ عَلَى الآخِرَةِ وَأَنَّ اللهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْكَفِرِينَ * أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ * لَا جَرَمَ أَنَّهًُمْ فِى الأَخِرَةِ هُمُ الْخَاسِرُونَ} [النحل: 106-109] .

4- قول جمهور الأشاعرة والماتريدين ونحوهم بأن الإيمان هو تصديق القلب) قول فاسد؛ لعدة اعتبارات منها:

--------------------------------------------

(1) فإن المرجئة سلَّموا أن المكذب في الباطن، المصدق في الظاهر مؤمن، لكنه مُعذب مخلد في النار، فنازعوا في اسمه لا في حكمه، ومن حكي عنهم أنهم جعلوهم من أهل الجنة فهو غلط عليهم، ومع هذا فتسميتهم له مؤمناً بدعة ابتدعوها مخالفة للكتاب والسنة وإجماع سلف الأمة، وهذه البدعة الشنعاء هي التي انفرد بها الكرامية دون سائر مقالاتهم. ذكره أبو العباس ابن تيمية في الإيمان الأوسط (7/475-476) .
একইভাবে, যে ব্যক্তি তার অন্তরে কুফর বা দ্বীনের কোনো বিচ্ছেদকারী বিষয় গোপন রাখে, তাদের নিকট সে ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হিসেবে গণ্য হবে যতক্ষণ সে মুখে স্বীকারোক্তি প্রদান করবে (১)।

খ- বরং, যে ব্যক্তি বিশ্বাসগত ও কর্মগত কুফর, অথবা বিশ্বাসগত ও কর্মগত নিফাক, অথবা এই সবকিছুরই সমন্বয় ঘটায়, সেও মুমিন থাকবে যতক্ষণ সে মুখে ঈমানের স্বীকৃতি প্রদান অব্যাহত রাখবে!

গ- তাদের এই মত থেকে এটিও আবশ্যক হয় যে, যে ব্যক্তি বোবা হওয়ার কারণে বা ভীতি কিংবা অনুরূপ কোনো অক্ষমতার কারণে মুখে উচ্চারণ করতে সক্ষম নয়, সে মুমিন হবে না—যদিও তার অন্তর ও আমল ঈমানের ওপর অটল ও প্রশান্ত থাকে।

ঘ- এই বক্তব্যটি সূরা আন-নাহল এর শেষ দিকের মহান আল্লাহর এই বাণীর বিরোধী: {কেউ তার ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফর করলে (সে আল্লাহর ক্রোধে পতিত হবে), তবে তার জন্য নয় যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অটল। কিন্তু যে ব্যক্তি কুফরের জন্য বুক খুলে দেয়, তাদের ওপর আপতিত হবে আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। এটি এজন্য যে, তারা পরকালের তুলনায় পার্থিব জীবনকে পছন্দ করেছে এবং আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না। এরাই তারা, আল্লাহ যাদের অন্তর, কান ও চোখের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরাই গাফেল। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।} [আন-নাহল: ১০৬-১০৯] ।

৪- জমহুর আশআরি, মাতুরিদি ও তাদের অনুসারীদের বক্তব্য যে, 'ঈমান হলো কেবল অন্তরের সত্যায়ন'—এটি একটি ভ্রান্ত কথা; বেশ কিছু কারণে, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) কেননা মুরজিয়ারা স্বীকার করেছে যে, যে ব্যক্তি গোপনে মিথ্যাচারী অথচ প্রকাশ্যে সত্যায়নকারী, সে একজন মুমিন, তবে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী শাস্তি ভোগ করবে। ফলে তারা তার নামের ব্যাপারে বিতর্ক করেছে, তার হুকুম বা বিধানের ব্যাপারে নয়। আর যাদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করা হয় যে তারা তাকে জান্নাতি সাব্যস্ত করেছে, তা তাদের ওপর একটি ভুল অপবাদ। তা সত্ত্বেও তাকে 'মুমিন' নামকরণ করা একটি বিদআত যা তারা উদ্ভাবন করেছে, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের ইজমার বিরোধী। আর এই জঘন্য বিদআতটি কাররামিয়ারা তাদের অন্যান্য মতবাদের বাইরে এককভাবে পোষণ করে। এটি উল্লেখ করেছেন আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া 'আল-ঈমান আল-আওসাত' (৭/৪৭৫-৪৭৬) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أ-ما ورد تسميته إيمان من الأعمال والأقوال في النصوص الشرعية، كقوله تعالى في سورة السجدة: {إِنَّماَ يُؤْمِنُ بِئَايَتِناَ الَّذِّينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّداً وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15] .

وفي سورة الحجرات: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونُ الَّذِينَءَامَنُوا بِاللهِ وَرَسولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدَوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفًسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّدِقُونَ} [الحجرات:15] .

وقوله عن المؤمنين والمنافقين في التوبة: {لَا يَسْتَئْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ وَاللهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ * إِنَّمَا يَسْتَئْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ} [التوبة: 44-45] .

ولما رواه مسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال ((من غشنا فليس منا ومن حمل علينا السلاح فليس منا)) (1) .

فنصَّ على أن الإتيان بهذه الأعمال من الإيمان، ويُعلم أن تركها نقص في الإيمان ونفيٌّ لكماله الواجب، وصاحبها مستحق للبراءة منه (2) . مع وجود التصديق عندهما في قلبيهما.

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في كتاب الإيمان- باب قوله صلى الله عليه وسلم: (من غشنا فليس منا)) (101) .

(2) ولذا فإن أضبط حدٍّ للكبيرة: أنها كل ذنب تُوعِّد عليه بالحدِّ في الدنيا والغضب أو اللعنة أو النار، أو البراءة من صاحبه، أو نفي الإيمان عنه. كما اختاره المحققون.
ক- শরয়ী দলিলসমূহে যে সকল কাজ ও কথাকে 'ঈমান' হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে, যেমন সূরা আস-সাজদাহ-তে মহান আল্লাহর বাণী: {কেবল তারাই আমাদের আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যাদেরকে এর মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হলে তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তারা অহংকার করে না} [আস-সাজদাহ: ১৫]।

এবং সূরা আল-হুজুরাত-এ: {মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর তারা সংশয় পোষণ করেনি এবং তাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে; তারাই সত্যবাদী} [আল-হুজুরাত: ১৫]।

এবং মুমিন ও মুনাফিকদের সম্পর্কে সূরা আত-তাওবাহ-তে তাঁর বাণী: {যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তারা নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে না; আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। কেবল তারাই আপনার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে না এবং যাদের অন্তর সংশয়াচ্ছন্ন; সুতরাং তারা তাদের সংশয়েই দোদুল্যমান থাকে} [আত-তাওবাহ: ৪৪-৪৫]।

এবং যা ইমাম মুসলিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: ((যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়)) (১)।

অতএব এখানে স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এই কাজগুলো সম্পাদন করা ঈমানের অংশ; আর এটিও জানা কথা যে, এগুলো বর্জন করা ঈমানের অপূর্ণতা এবং এর ওয়াজিব পূর্ণতাকে নাকচ করে দেয়। আর এই অপরাধী ব্যক্তি তার এই কাজের জন্য সম্পর্কচ্ছেদের (বারাআত) উপযুক্ত (২)। যদিও তাদের উভয়ের অন্তরে বিশ্বাস (তাসদীক) বিদ্যমান থাকে।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম এটি ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়) শীর্ষক পরিচ্ছেদে (১০১)।

(২) আর এই কারণেই কবীরা গুনাহের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা হলো: এটি এমন প্রতিটি গুনাহ যার জন্য দুনিয়াতে দণ্ডবিধি (হদ), অথবা আল্লাহর ক্রোধ, লানত কিংবা জাহান্নামের হুমকি প্রদান করা হয়েছে, অথবা অপরাধীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে কিংবা তার থেকে ঈমানকে নাকচ করা হয়েছে। মুহাক্কিকগণ এই সংজ্ঞাকেই পছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
كما روى مسلم أيضاً في حديث أنواع المجاهدة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((فمن جاهدهم بيده فهو مؤمن، ومن جاهدهم بلسانه فهو مؤمن، ومن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن، وليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل)) . فسمَّى النبي صلى الله عليه وسلم عمل القلب واللسان والجوارح إيماناً.

ب-يلزم عليه أن كل من لم ينطق بالشهادتين وهو مَصَّدق بقلبه بصدق الرسول وصحة دينه فهو مؤمن: كأبي طالب وأهل الكتاب من اليهود والنصارى … مع الاتفاق على كفرهم، وأنهم من أهل النار خالدين فيها.

ج-كما يلزم عليه من الباطل أن من صدَّق بقلبه بالله ورسله.. ثم لم يصلِّ، ولم يصم، ولم يحج، أو لم يزكِّ سواءً جاحداً أو متعمداً من غير جحود.. أنه المؤمن الكامل؛ لبقاء التصديق بقلبه.

د-وكذلك يلزم عليه أن من صدق بقلبه ثم أتى ناقضاً من نواقض الإسلام من السحر أو الشرك أو الاستهزاء بالدين.. أنه مؤمن، لبقاء أصل التصديق بالله في قلبه وهذه من أفسد اللوازم على قولهم.

5- أما قول مرجئة الفقهاء وأمثالهم فيستدل عليهم بفساد قولهم:

أ-بالأدلة الدالة على دخول الأعمال في الإيمان وهي كثيرة جداً مضى طرف منها.

ب-يلزم عليه أيضاَ أن من ترك فرضاً أو واجباً في الدين من الأعمال أنه لا يخرج عن الإيمان، كمن امتنع عن الزكاة عمداً، وهو ما أجمع الصحابة رضي الله عنهم على قتالهم، كما فعلوا مع المرتدين من العرب. وهم عند هؤلاء معهم التصديق والإقرار؟!

ج-كذلك من أقرَّ بلسانه وصدَّق بقلبه، لكن فعل ناقضاً كذبح لغير الله، أو سجود أو سحر، أنه مؤمن ليس بكافر؟

د-كذلك يُردُّ عليهم بالنصوص التي نفت الإيمان عمن ارتكب بعض الكبائر – وهي النصوص التي يستدل بها الوعيدية على خروج هؤلاء من الإيمان مثل:
যেমন ইমাম মুসলিমও জিহাদের প্রকারভেদ সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি তার হাত দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন, যে ব্যক্তি তার জিহ্বা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন, এবং যে ব্যক্তি তার অন্তর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন। আর এর বাইরে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান নেই))। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলকে ঈমান হিসেবে নামকরণ করেছেন।

খ- এর ফলে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তি শাহাদাতাইন (দুইটি সাক্ষ্যবাণী) উচ্চারণ করেনি অথচ সে অন্তরে রাসূলের সত্যতা ও তাঁর দ্বীনের সঠিকতা বিশ্বাস করে, সে মুমিন; যেমন আবু তালিব এবং ইহুদি ও খ্রিস্টান আহলে কিতাবগণ … অথচ তাদের কুফরির ব্যাপারে এবং তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে—এ বিষয়ে ঐক্যমত্য রয়েছে।

গ- তেমনিভাবে এটিও একটি ভ্রান্ত পরিণাম হিসেবে আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তি তার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে.. এরপর সে সালাত আদায় করেনি, সিয়াম পালন করেনি, হজ করেনি কিংবা জাকাত প্রদান করেনি—চাই তা অস্বীকার করার কারণে হোক বা অস্বীকার না করে ইচ্ছাকৃতভাবে হোক.. সে একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিন; কারণ তার অন্তরে বিশ্বাস অবশিষ্ট রয়েছে।

ঘ- একইভাবে এটিও আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তি অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এরপর ইসলামের কোনো ভঙ্গকারী বিষয় যেমন জাদু, শিরক কিংবা দ্বীন নিয়ে উপহাস করার মতো কাজে লিপ্ত হয়েছে.. সে মুমিন, কারণ তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের মূল ভিত্তি অবশিষ্ট রয়েছে। আর এটি তাদের বক্তব্যের সবচেয়ে অসার পরিণতিগুলোর একটি।

৫- আর মুরজিআতুল ফুকাহা ও তাদের সমমনাদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে তাদের মতবাদের অসারতা এভাবে প্রমাণিত হয়:

ক- ঈমানের মধ্যে আমল অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দলীলসমূহের মাধ্যমে, যা সংখ্যায় অনেক এবং যার কিছু অংশ ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

খ- এর ফলে এটিও আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আমল পরিত্যাগ করবে সে ঈমান থেকে বের হবে না, যেমন যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাকাত দিতে অস্বীকার করে। অথচ সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছিলেন, যেমনটি তারা আরবের মুরতাদদের বিরুদ্ধে করেছিলেন। অথচ এদের মতে তাদের তো বিশ্বাস ও স্বীকৃতি রয়েছেই?!

গ- একইভাবে যে ব্যক্তি জিহ্বা দিয়ে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং অন্তরে বিশ্বাস করেছে, কিন্তু কোনো ভঙ্গকারী কাজ করেছে যেমন—আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে জবেহ করা, সিজদা করা কিংবা জাদু করা, সে কি মুমিন থাকবে, কাফের হবে না?

ঘ- তদ্রূপ তাদের খণ্ডন করা হয় সেই সকল দলীলের মাধ্যমে যা কোনো কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির ঈমানকে নাকচ করেছে—আর এগুলোই সেই সকল দলীল যা দ্বারা ওয়ায়িদিয়াহরা এদের ঈমান থেকে বের হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করে থাকে, যেমন:
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
قوله صلى الله عليه وسلم: ((لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن، ولا يشرب الخمر حين يشربها وهو مؤمن، ولا يسرق السارق حين يسرق وهو مؤمن، ولا ينهب نهبة ذات شرف فيرفع الناس إليه فيها بأبصارهم حين ينتهبها وهو مؤمن)) الحديث متفق عليه عن أبي هريرة (1) رضي الله عنه.

وأمثاله من نصوص نفي الإيمان ((الكامل)) عن بعض الأعمال من الكبائر كالغلول، وامتهان الجار، وإهانة الكبير..

… هـ-ثبوت التصديق للجوارح في قوله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله كتب على ابن آدم نصيبه من الزنى، مدركٌ ذلك لا محالة، فالعينان زناهما النظر، والأذنان زناهما الاستماع، واللسان زناه الكلام، واليد زناها البطش، والرِّجْل زناها الخطى، والقلب يهوى ويتمنى، ويَصَّدق ذلك الفرج ويكذبه)) متفق عليه من حديث أبي هريرة وهذا لفظ مسلم (2) .

 

‌‌معنى الإيمان لغة:

ذهب كثير من المتكلمين وغيرهم؛ بل هو العُمدة عند جماهير المرجئة أن الإيمان في مفهوم اللغة العربية هو مجرد التصديق، استدلالاً بقوله تعالى في أول سورة يوسف: {وَمَآ أَنتَ بِمُؤْمِنٍ لَّناَ وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} [يوسف:17] .

* الصواب: أن معنى الإيمان في اللغة ليس مرادفاً للتصديق، بل التصديق وزيادة، من الإقرار والإذعان والتسليم ونحوها، لعدة اعتبارات.

أن معنى الآية في الحقيقة: ما أنت بمُقرٌّ لنا ولا تطمئن إلى قولنا ولا تثق به ولا تتأكد منه ولو كناَّ صادقين، فإنهم لو كانوا كذلك فصدقهم، لكنه لم يتأكد ولم يطمئن إلى قولهم. وهذه بلاغة في اللغة.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري موصولاً في كتاب المظالم – باب النهي بغير إذن صاحبه (2475) ، ومسلم في كتاب الإيمان (75) .

(2) رواه البخاري موصولاً في مواضع منها الاستئذان – باب زنا الجوارح دون الفرج (6343) ، ومسلم في كتاب القدر – باب قُدِّر على ابن آدم حظه من الزنى وغيره (2675) .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না, মদ্যপায়ী যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন থাকে না, চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না এবং কোনো ব্যক্তি যখন মর্যাদাপূর্ণ কোনো বস্তু লুণ্ঠন করে আর মানুষ তার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন লুণ্ঠনকারী মুমিন থাকে না।" হাদিসটি আবু হুরায়রা (১) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এবং বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত।

এবং এ জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা যাতে কতিপয় কবিরা গুনাহের কারণে (পরিপূর্ণ) ইমান নাকচ করা হয়েছে, যেমন খেয়ানত করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া এবং বড়দের অসম্মান করা...

… ৫-অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সত্যায়ন সাব্যস্ত হওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম সন্তানের ওপর তার ব্যভিচারের অংশ লিখে দিয়েছেন, যা সে অবশ্যই প্রাপ্ত হবে। চোখের ব্যভিচার হলো দৃষ্টিপাত করা, কানের ব্যভিচার হলো শ্রবণ করা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হলো শক্ত করে ধরা, পায়ের ব্যভিচার হলো হেঁটে যাওয়া এবং অন্তর কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে; আর লজ্জাস্থান একে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে।" আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত এবং এটি মুসলিমের (২) শব্দবিন্যাস।

 

‌‌আভিধানিক অর্থে ইমানের পরিচয়:

অনেক কালামশাস্ত্রবিদ এবং অন্যান্যরা মনে করেন; বরং জমহুর মুরজিয়াদের নিকট এটিই প্রধান ভিত্তি যে, আরবি ভাষার পরিভাষায় ইমান মানে কেবলই বিশ্বাস করা বা সত্যায়ন করা, এর সপক্ষে তারা সূরা ইউসুফের শুরুতে মহান আল্লাহর বাণী থেকে দলিল গ্রহণ করেন: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই} [ইউসুফ: ১৭]।

* সঠিক মত হলো: আভিধানিক অর্থে ইমান কেবল বিশ্বাসের প্রতিশব্দ নয়; বরং এটি বিশ্বাস এবং আরও অতিরিক্ত কিছু, যেমন স্বীকৃতি প্রদান করা, আনুগত্য করা ও আত্মসমর্পণ করা ইত্যাদি, যা বেশ কিছু দিক থেকে প্রমাণিত।

প্রকৃতপক্ষে আয়াতের অর্থ হলো: আপনি আমাদের কথা স্বীকার করবেন না, আমাদের কথায় আপনার মন প্রশান্ত হবে না, আপনি আমাদের ওপর ভরসা করবেন না এবং নিশ্চিত হবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই। কেননা তারা যদি সত্যবাদী হতো তবে তিনি তাদের বিশ্বাস করতেন, কিন্তু তিনি তাদের কথায় নিশ্চিত বা আশ্বস্ত হতে পারেননি। এটি ভাষার একটি অলঙ্কার।

--------------------------------------------

(১) বুখারি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ‘কিতাবুল মাজালিম’ (অত্যাচার অধ্যায়) – ‘মালিকের অনুমতি ব্যতীত কোনো কিছু গ্রহণের নিষেধ’ পরিচ্ছেদে (২৪৭৫) এবং মুসলিম ‘কিতাবুল ইমান’ (৭৫) অধ্যায়ে।

(২) বুখারি হাদিসটি বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন, তন্মধ্যে ‘কিতাবুল ইস্তি'জান’ – ‘লজ্জাস্থান ব্যতীত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যভিচার’ পরিচ্ছেদ (৬৩৪৩) এবং মুসলিম ‘কিতাবুল কদর’ – ‘আদম সন্তানের ওপর তার ব্যভিচারের অংশ নির্ধারিত হওয়া’ পরিচ্ছেদে (২৬৭৫) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أن لفظة الإيمان يقابلها الكفر، وهو ليس التكذيب فقط بل قدر زائد عليه، وإنما الكذب يقابل لفظة التصديق.

فلما كان الكفر في اللغة ليس مقصوراً على التكذيب، فكذلك ما يقابل الكفر وهو الإيمان لا يقابل التصديق، وليس مقصوراً عليه.

أن لفظ الإيمان لا يستعمل في جميع الأخبار المشاهدة وغيرها، وإنما يُستعمل في الأمور الغائبة مما يدخلها الريب والشك، فإذا أقر بها المستمع قيل آمن، بخلاف التصديق، فإنه يتناول الإخبار عن الغائب والشاهد، وإخوة يوسف أخبروا أباهم عن غائب غير مشاهد فصح أن الإيمان أخص من التصديق.

أن لفظ الإيمان تكرر في الكتاب والسنة كثيراًَ جداً، وهو أصل الدين الذي لا بد لكل مسلم من معرفته، فلابد أن يؤخذ معناه من جميع موارده التي ورد فيها في الوحيين لا من آية واحدة؛ الاحتمالُ مُتطرق إلى دلالتها!

أن الإيمان مخالف للتصديق في الاستعمال اللغوي وفي المعنى:

فأما اللغة فقد مضت في الجواب الثالث؛ فالاستعمال اللغوي للإيمان يُتعدى فيه إلى المُخبِر باللام وإلى المُخبَر عنه بالباء كقوله تعالى: {فَئَامِنُوا بِاللهِ وَرَسُولِهِ} .

أما المعنى: فإن الإيمان مأخوذ من الأمن وهو الطمأنينة، كما أن لفظ الإقرار مأخوذ من قرَّ يَقُر، وهو قريب من آمن يأمن.

وأما الصدق فهو عدم الكذب، ولا يلزم أن يوافقه طمأنينة إلا إذا كان المُخبر الصادق يُطمئن إلى خبره وحاله.
'ঈমান' শব্দের বিপরীত হলো 'কুফর'। আর কুফর কেবল মিথ্যা প্রতিপন্ন করা নয়, বরং এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। পক্ষান্তরে, মিথ্যার বিপরীতে হলো 'সত্যায়ন' বা 'তাকদিক' শব্দটি।

যেহেতু ভাষাগতভাবে 'কুফর' কেবল মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেহেতু কুফরের বিপরীত বিষয় অর্থাৎ 'ঈমান'ও কেবল 'সত্যায়ন'-এর সমার্থক নয় এবং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

'ঈমান' শব্দটি প্রত্যক্ষ করা হয়েছে এমন সব সংবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। বরং এটি এমন সব অদৃশ্যের বিষয়ে ব্যবহৃত হয় যাতে সংশয় ও সন্দেহের অবকাশ থাকে। শ্রোতা যখন তা স্বীকার করে নেয়, তখন তাকে বলা হয় সে 'ঈমান' এনেছে। এটি 'সত্যায়ন'-এর বিপরীত, কারণ 'সত্যায়ন' অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান উভয় ধরনের সংবাদকেই অন্তর্ভুক্ত করে। ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর ভাইয়েরা তাঁদের পিতার নিকট একটি অদৃশ্য ও অগোচর বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিলেন; সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, 'ঈমান' শব্দটি 'সত্যায়ন' অপেক্ষা অধিকতর সুনির্দিষ্ট।

'ঈমান' শব্দটি কুরআন ও সুন্নাহতে অত্যন্ত অধিকবার এসেছে। এটি দ্বীনের এমন এক মূলনীতি যা জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। তাই এর অর্থ ও মর্ম ওহীর উভয় উৎসের সেই সমস্ত ক্ষেত্র থেকে গ্রহণ করা আবশ্যক যেখানে এটি বর্ণিত হয়েছে; কেবল একটি আয়াতের ভিত্তিতে নয়। কারণ একটি আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে ভিন্ন সম্ভাবনার অবকাশ থাকতে পারে!

ভাষাগত ব্যবহার এবং অর্থের দিক থেকেও 'ঈমান' ও 'সত্যায়ন'-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে:

ভাষাগত ব্যবহারের বিষয়টি তৃতীয় উত্তরে অতিক্রান্ত হয়েছে। 'ঈমান'-এর ভাষাগত ব্যবহারে সংবাদদাতার ক্ষেত্রে 'লাম' অব্যয় এবং যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে তার ক্ষেত্রে 'বা' অব্যয় ব্যবহার করে ক্রিয়াটি প্রয়োগ করা হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব তোমরা আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো।"

অর্থের দিক থেকে: 'ঈমান' শব্দটি 'আমন' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো প্রশান্তি। যেমন 'স্বীকৃতি' বা 'ইকরার' শব্দটি 'স্থির হওয়া' থেকে গৃহীত, যা 'ঈমান আনা' বা 'নিরাপদ বোধ করা'-এর অর্থের নিকটবর্তী।

আর সত্যবাদিতা হলো মিথ্যার অনুপস্থিতি। এর সাথে মনের প্রশান্তি থাকা অপরিহার্য নয়, যদি না সত্যবাদী সংবাদদাতার সংবাদ ও অবস্থার ওপর প্রশান্তি বা আস্থা অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أن لفظ الإيمان يتعدى إلى غيره باللام دائماً نحو قوله تعالى: {فَئَامَنَ لَهُ لُوطٌ} [العنكبوت:26] ، وقول فرعون في الشعراء: {ءَامَنتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْءَاذَنَ لَكُمْ} [الشعراء:49} ، وقوله تعالى في يونس: {فَمَآءَامَنَ لِمُوسَى إِلَاّ ذُرِّيَّةٌ مِّن قَوْمِهِ} [يونس:83] ، وقوله: {أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُونَ} [المؤمنون:47] . وقوله: {أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الأَرْذَلُونَ} [الشعراء:111] ، وآيات عديدة. أما لفظ التصديق وصدق ليصدق فإنه يتعدى بنفسه نحو: قوله تعالى في الصافات: {قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِناَّ كَذَلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِينَْ} [الصافات:105] . وفي أولها: {بَلْ جَآءَ بِالْحَقِّ وَصَدَّقَ الْمُرْسَلِينَ} [الصافات:37] . وفي سورة الزمر: {وَقالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِى صَدَقَنَا وَعْدَهُ} [الزمر:74] فكلها بمقابل الكذب.

لو فرضنا أن معنى الإيمان لغة التصديق، لوجب أن لا يختص بالقلب فقط بل يكون تصديقاً باللسان، وتصديقاً بالجوارح كما في حديث أبي هريرة رضي الله عنه السابق ((العينان تزنيان..)) الحديث.

كذلك لو قلنا: إن الإيمان أصله التصديق، فإنه تصديق مخصوص، كما أن الصلاة دعاء مخصوص، والصوم إمساك مخصوص يتبيَّن بالمعنى الشرعي حيث يكون للتصديق لوازم شرعية دخلت في مسماه (1) .

 

* * *

 

‌‌العلاقة بين الإسلام والإيمان:

أي هل الإسلام هو الإيمان؟ وهل الإيمان هو الإسلام؟ أو غيره. فهذا مما افترقت فيه الطوائف، كافتراقهم في مسمى الإيمان.

--------------------------------------------

(1) هذه الأوجه وغيرها بسطها أبو العباس ابن تيمية في مواضع من كتبه: في الإيمان الأوسط (7/529-536) ، وشرك الأصفهانية (142-143) ، والمجموع (10/269-276) ، والإيمان الكبير (126-134، 274-281) .
'ঈমান' শব্দটি অন্য পদের প্রতি সর্বদা 'লাম' অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর লুত তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন} [আল-আনকাবুত: ২৬], এবং সূরা আশ-শুআরায় ফেরাউনের উক্তি: {আমি তোমাদের অনুমতি প্রদানের পূর্বেই কি তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনলে?} [আশ-শুআরা: ৪৯], এবং সূরা ইউনূসে মহান আল্লাহর বাণী: {মুসার কওমের কিছু যুবক ছাড়া আর কেউ তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি} [ইউনূস: ৮৩], এবং তাঁর বাণী: {আমরা কি আমাদের মতই দুইজন মানুষের প্রতি ঈমান আনব, অথচ তাদের কওম আমাদের দাসত্ব করছে?} [আল-মুমিনুন: ৪৭]। এবং তাঁর বাণী: {আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব, অথচ তোমার অনুসরণ করছে নিম্নশ্রেণির লোকেরা?} [আশ-শুআরা: ১১১], এবং আরও অনেক আয়াত। পক্ষান্তরে 'তাসদিক' এবং 'সাদ্দাকা' (সত্যায়ন) শব্দটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে (সরাসরি ব্যবহৃত হয়)। যেমন: সূরা আস-সাফফাতে মহান আল্লাহর বাণী: {তুমি অবশ্যই স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ, এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দেই} [আস-সাফফাত: ১০৫]। এবং সেই সূরার শুরুতে রয়েছে: {বরং তিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং রাসূলগণকে সত্য বলে স্বীকার করেছেন} [আস-সাফফাত: ৩৭]। এবং সূরা আয-যুমারে রয়েছে: {তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা সত্য করেছেন} [আয-যুমার: ৭৪]। এই সবগুলোই 'মিথ্যা' এর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে।

যদি আমরা ধরে নেই যে, আভিধানিকভাবে ঈমান অর্থ সত্যায়ন করা, তবে তা কেবল অন্তরের সাথে সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক নয়, বরং তা জিহবা দ্বারা সত্যায়ন এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা সত্যায়নকেও অন্তর্ভুক্ত করবে, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: ((দুই চোখ ব্যভিচার করে...)) হাদিসটি।

অনুরূপভাবে আমরা যদি বলি যে: ঈমানের মূল ভিত্তি হলো সত্যায়ন, তবে তা একটি বিশেষ সত্যায়ন; যেমনিভাবে সালাত হলো একটি বিশেষ দোয়া এবং সাওম হলো একটি বিশেষ বিরত থাকা, যা শরয়ী অর্থের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। কেননা এই সত্যায়নের কিছু শরয়ী অপরিহার্যতা রয়েছে যা এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে (১)।

 

* * *

 

‌‌ইসলাম ও ঈমানের মধ্যবর্তী সম্পর্ক:

অর্থাৎ ইসলাম কি ঈমান? আর ঈমান কি ইসলাম? না কি তা ভিন্ন কিছু? এ বিষয়ে বিভিন্ন দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে, যেমনিভাবে ঈমানের সংজ্ঞায় তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এই দিকগুলো এবং অন্যান্য বিষয়াদি আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া তাঁর কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন: আল-ঈমান আল-আওসাত (৭/৫২৯-৫৩৬), শারহু আসফাহানিয়্যাহ (১৪২-১৪৩), আল-মাজমু (১০/২৬৯-২৭৬) এবং আল-ঈমান আল-কাবীর (১২৬-১৩৪, ২৭৪-২৮১)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
فقالت الوعيدية: إن الإسلام هو الإيمان والعكس صحيح (1) .

وقيل: الإسلام هو الكلمة أي كلمة التوحيد بالشهادتين. والإيمان هو العمل.

وهذان القولان لهما وجه صحيح يتضح عند التحقيق في معناهما.

وذهب الأشاعرة إلى أن الإيمان خصلة من خصال الإسلام، بأن كل إيمان إسلام وليس كل إسلام إيمانا (2) .

وهذا القول فيه حق وباطل يتضح إن شاء الله.

والقول الصواب الذي عليه أهل التحقيق القول بالتفصيل، وهو إجمالاً: الإسلام والإيمان إذا اجتمعا افترقا. وإذا افترقا اجتمعا.

ومعناه:

* أن الإسلام والإيمان إذا اجتمعا في نص واحد من كتاب أو سنة فإن لكل واحد منهما معنىّ يختص به.

فالإسلام: الأعمال الظاهرة ومنها الشهادتان والصلاة..

والإيمان: الأعمال الباطنة من الاعتقادات كالتوكل والخوف والمحبة والرغبة والرهبة… وغيرها.

وقد دل على هذا دلائل كثيرة منها اكتفاءً واختصاراً:

قوله تعالي في سورة الحجرات: {قَالَتِ الأَعْرَابُءَامَنَّا قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِن قَولَوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الإِيمَانُ فِىقُلُوبِكُمْ} [الحجرات:14] فاجتمعا في نص واحد، ونفى عنهم الإيمان، وأثبت لهم الإسلام؛ فدل على افتراقهما أنهم مسلمون لكن لم يبلغوا أن يكونوا مؤمنين.

-وحديث جبريل عليه السلام المشهور وفيه ذَكَر الإسلامَ: بالأركان الخمسة، والإيمان: بالأصول الستة.

فإنهما اجتمعا في نص واحد، أجاب النبي صلى الله عليه وسلم لكلٍ بمعنى غير الآخر؛ فدل على افتراقهما.

--------------------------------------------

(1) كما في الإيمان الكبير (229،1346) ، وجامع العلوم لابن رجب (26) وما بعدها وهو لازم قولهم في مسمى الإيمان عند التأمل! وهو لازم قول الكرامية والمرجئة المحضة..!

(2) وهو قول أبي بكر الباقلاني نقله عنه بلفظه شيخ الإسلام في الإيمان الكبير (147) وما بعدها وقال قبله: ((فصل: قال الذين نصروا مذهب جهم في الإيمان من المتأخرين كالقاضي أبي بكر وهذا لفظه..)) اهـ، فذكره.
ওয়াইদিয়াহরা বলেছে: ইসলামই ঈমান এবং এর বিপরীতটিও সঠিক (১)।

এবং বলা হয়েছে: ইসলাম হলো কালিমা, অর্থাৎ দুই শাহাদাতের মাধ্যমে তাওহিদের বাণী। আর ঈমান হলো আমল বা কর্ম।

এই উভয় বক্তব্যেরই একটি সঠিক দিক রয়েছে যা তাদের অর্থের গভীরে অনুসন্ধান করলে স্পষ্ট হয়।

আশআরিগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, ঈমান হলো ইসলামের একটি বৈশিষ্ট্য; যার অর্থ হলো প্রতিটি ঈমানই ইসলাম, কিন্তু প্রতিটি ইসলাম ঈমান নয় (২)।

এই বক্তব্যের মধ্যে সত্য এবং মিথ্যা উভয়ই বিদ্যমান যা ইনশাআল্লাহ স্পষ্ট হবে।

সঠিক মত—যার ওপর গবেষক আলিমগণ রয়েছেন—তা হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যার মত। তা সংক্ষেপে হলো: ইসলাম এবং ঈমান যখন এক সাথে একত্রিত হয়, তখন তারা ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। আর যখন তারা পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তারা একত্রিত হয় (একে অপরের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে)।

এর অর্থ হলো:

* ইসলাম এবং ঈমান যখন কুরআন বা সুন্নাহর কোনো একটি নস বা ভাষ্যে একত্রিত হয়, তখন তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি বিশেষ অর্থ নির্দিষ্ট থাকে।

তখন ইসলাম হলো: প্রকাশ্য আমলসমূহ, যার অন্তর্ভুক্ত হলো দুই শাহাদাত এবং সালাত।

আর ঈমান হলো: বিশ্বাস সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ আমলসমূহ যেমন আল্লাহর ওপর ভরসা, ভয়, ভালোবাসা, আশা ও আকাঙ্ক্ষা… ইত্যাদি।

এর স্বপক্ষে অনেক দলীল রয়েছে, যার মধ্য থেকে সংক্ষিপ্তসার ও যথেষ্ট হিসেবে উল্লেখ্য:

সূরা আল-হুজুরাতে মহান আল্লাহর বাণী: {মরুবাসীরা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন, ‘তোমরা ঈমান আনোনি; বরং তোমরা বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি; কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি’} [আল-হুজুরাত: ১৪]। এখানে শব্দ দুটি একটি নসে একত্রিত হয়েছে, ফলে তাদের থেকে ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং তাদের জন্য ইসলামকে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটি তাদের ভিন্নতার প্রমাণ দেয় যে, তারা মুসলিম কিন্তু মুমিন হওয়ার স্তরে পৌঁছায়নি।

- এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালামের প্রসিদ্ধ হাদীস, যাতে ইসলামকে পাঁচটি রুকন এবং ঈমানকে ছয়টি মূলনীতির মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেহেতু তারা একটি নসে একত্রিত হয়েছে, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রত্যেকের উত্তর ভিন্ন ভিন্ন অর্থ দিয়ে দিয়েছেন; যা তাদের ভিন্নতার প্রমাণ বহন করে।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি রয়েছে আল-ঈমান আল-কাবীর (২২৯, ১৩৪৬) গ্রন্থে এবং ইবনে রজবের জামিউল উলূম (২৬) ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে। গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় এটি ঈমানের সংজ্ঞায় তাদের বক্তব্যের অনিবার্য ফল! আর এটি কাররামিয়াহ ও খাঁটি মুরজিয়াদের বক্তব্যেরও অনিবার্য ফল..!

(২) এটি আবু বকর আল-বাকিল্লানির বক্তব্য যা শায়খুল ইসলাম আল-ঈমান আল-কাবীর (১৪৭) ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে তার শব্দেই উদ্ধৃত করেছেন। তিনি এর আগে বলেছেন: ((পরিচ্ছেদ: পরবর্তীদের মধ্যে যারা ঈমানের ব্যাপারে জাহমের মাযহাবকে সমর্থন করেছেন—যেমন কাযী আবু বকর—তাদের বক্তব্য হচ্ছে এটি...)) সমাপ্ত। অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وأركان الإسلام الخمسة أعمال ظاهرة، وأصول الإيمان الستة أعمال باطنة، ولا بد منهما جميعاً.

-وحديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال: ((أعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم رهطاً وسعد جالسٌ، فترك رجلاً هو أعجبهم إليَّ، فقلت: يا رسول الله مالك عن فلان؟ فوالله إني لأراه مؤمناً. فقال: ((أو مسلماً)) مالك عن فلان، ثم غلبني ما أعلم منه، فعدت لمقالتي، فقلت: مثل ذلك وأجابني بمثله، ثم غلبني ما أعلم منه فعدت لمقالتي، وعاد صلى الله عليه وسلم ثم قال: ((يا سعد إني لأُعطي الرجل، وغيره أحب إليَّ منه، خشية أن يكبه الله في النار)) متفق عليه واللفظ للبخاري (1) .

ووجه الدلالة كما في دلالة آية الحجرات، بتفريقه صلى الله عليه وسلم بين المؤمن والمسلم في نص واحد، مما يدل أن لكل منهما معنى يختص به.

-ويدل على هذا الفرق الحديث الذي رواه الإمام أحمد في مسنده وغيره: ((ثنا بهز بن حكيم ثنا علي بن مسعدة ثنا قتادة عن أنس رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((الإسلام علانية والإيمان في القلب)) ثم يشير بيده إلى صدره ثلاث مرات ثم يقول: ((التقوى ههنا، التقوى ههنا)) (2)

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري موصولاً في كتاب الإيمان – باب: إذا لم يكن الإسلام على الحقيقة.. (27) ، ومسلم في الإيمان أيضاً – باب تألف قلب من يخاف على إيمانه لضعفه (150) .

(2) أخرجه في الإيمان أحمد في المسند (3/134-135) ، وأخرجه البزار وأبو يعلى قال في المجمع 1/52: ((رواه أحمد وأبو يعلى بتمامه والبزار باختصار ورجاله رجال الصحيح ما خلا علي بن مسعدة وقد وثقه ابن حبان وأبوداود الطيالسي وأبو حاتم وابن معين وضعفه آخرون)) اهـ.

 

وأخرجه ابن حبان في المجروحين (2/111) من طريق ابن مسعدة به، وكذا العقيلي في الضعفاء (2/250) ، وانظره في تفسير ابن كثير (7/352) (الشعب) ، والمطالب العالية (2861) ، والدر المنثور (6/10) ، وعزاه فيه أيضاً لابن مردويه، وأورده الحافظ ابن رجب في الجامع محتجاً به، وعلته ابن مسعدة.

وابن مسعدة هو: علي الباهلي أبو حبيب البصري، مختلف فيه، وسبق من عدَّله وممن جرحه البخاري وقال: فيه نظر، ولذا تبعه العقيلي فأورده في الضعفاء، وضعفه النسائي وأبوداود وابن عدي في الكامل وقال: أحاديثه غير محفوظة.

ولذا قال الحافظ في التقريب: صدوق له أوهام من السابعة، وقد روى له البخاري في الأدب الترمذي وابن ماجه

وأورد صاحب تهذيب الكمال وتهذيبه هذا الحديث في ترجمته، كما فعل الذهبي في الميزان، وانظره في التاريخ الكبير (6/294) ، والميزان (3/156) ، والتهذيب (3/192) (الرسالة) ، والجرح والتعديل (6/204) .

ولا شك أن معنى الحديث صحيح ثابت في الصحيحين وغيره مما يشهد لهذا الحديث ويقوي جانب ثبوته.
ইসলামের পাঁচটি রুকন হলো বাহ্যিক আমল, আর ঈমানের ছয়টি মূলনীতি হলো অভ্যন্তরীণ আমল, এবং এই উভয়টিই অপরিহার্য।

-এবং সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর হাদীস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল লোককে কিছু দান করলেন এবং সাদ সেখানে বসা ছিলেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তিকে বাদ দিলেন যাকে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় মনে হতো। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার কী হলো? আল্লাহর কসম, আমি তাকে মুমিন হিসেবেই দেখি। তিনি বললেন: "অথবা মুসলিম।" অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার কী হয়েছে? এরপর সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আমি যা জানতাম তা আমার মধ্যে প্রবল হয়ে উঠল, তাই আমি পুনরায় আমার কথা বললাম। আমি একই কথা বললাম এবং তিনিও একইভাবে উত্তর দিলেন। পুনরায় আমার জানা বিষয়টি প্রবল হলো এবং আমি আমার কথা পুনরায় বললাম, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় একই উত্তর দিলেন এবং পরে বললেন: "হে সাদ, আমি কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ অন্য ব্যক্তি আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়, এই ভয়ে যে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি, শব্দ বিন্যাস বুখারীর) (১)।

এর প্রমাণের দিকটি হলো সূরা হুজুরাতের আয়াতের দালালাতের মতো, যেখানে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একই পাঠের মধ্যে মুমিন ও মুসলিমের মাঝে পার্থক্য করেছেন, যা প্রমাণ করে যে তাদের প্রত্যেকের একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে।

-এই পার্থক্যের ওপর আরও প্রমাণ বহন করে সেই হাদীসটি যা ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "বাহজ বিন হাকিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী বিন মাসআদাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: 'ইসলাম প্রকাশ্য এবং ঈমান অন্তরে।' এরপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর বুকের দিকে তিনবার ইশারা করতেন এবং বলতেন: 'তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে'।" (২)

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি কিতাবুল ঈমান-এ মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন – অধ্যায়: যখন ইসলাম প্রকৃত না হয়.. (২৭), এবং মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন – অধ্যায়: যার ঈমান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কায় তার অন্তর জয় করা (১৫০)।

(২) এটি ঈমান অধ্যায়ে আহমাদ তার মুসনাদে (৩/১৩৪-১৩৫) বের করেছেন, এবং বাযযার ও আবু ইয়ালাও এটি বের করেছেন। 'আল-মাজমা' (১/৫২) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আহমাদ ও আবু ইয়ালা পূর্ণাঙ্গভাবে এবং বাযযার সংক্ষেপে এটি বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীরা সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে আলী বিন মাসআদাহ ছাড়া। ইবনে হিব্বান, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আবু হাতিম এবং ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, কিন্তু অন্যরা তাকে দুর্বল বলেছেন।" সমাপ্ত।

 

এবং ইবনে হিব্বান 'আল-মাজরুহিন' (২/১১১) গ্রন্থে ইবনে মাসআদাহর সূত্রে এটি বের করেছেন, তেমনি উকায়লি 'আদ-দুয়াফা' (২/২৫০) গ্রন্থে। এটি ইবনে কাসীরের তাফসীর (৭/৩৫২) (আশ-শা'ব সংস্করণ), আল-মাতালিব আল-আলিয়াহ (২৮৬১), আদ-দুররুল মানসুর (৬/১০) গ্রন্থসমূহে দেখুন। সেখানে এটি ইবনে মারদুওয়াইহ-র দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। হাফেজ ইবনে রজব 'আল-জামি' গ্রন্থে এটি দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর এর ত্রুটি হলো ইবনে মাসআদাহ।

আর ইবনে মাসআদাহ হলেন: আলী আল-বাহিলি আবু হাবিব আল-বাসরি। তার ব্যাপারে মতভেদ আছে। যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন তাদের কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে, আর যারা তাকে জরাহ (সমালোচনা) করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বুখারী, তিনি বলেছেন: "তার ব্যাপারে আপত্তি আছে"। এই কারণে উকায়লি তাকে অনুসরণ করেছেন এবং তাকে 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নাসাঈ, আবু দাউদ এবং ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলেছেন এবং বলেছেন: "তার হাদীসগুলো সংরক্ষিত নয়"।

এজন্য হাফেজ 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার ভ্রান্তি রয়েছে, তিনি সপ্তম স্তরের বর্ণনাকারী। ইমাম বুখারী তার 'আল-আদাব'-এ এবং তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

'তাহযীবুল কামাল' ও এর সারসংক্ষেপের লেখক তার জীবনী আলোচনায় এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি করেছেন যাহাবী 'আল-মিযান' গ্রন্থে। এটি আত-তারিখুল কাবীর (৬/২৯৪), আল-মিযান (৩/১৫৬), আত-তাহযীব (৩/১৯২) (আর-রিসালাহ সংস্করণ), এবং আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (৬/২০৪) গ্রন্থে দেখুন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে হাদীসটির অর্থ সঠিক এবং বুখারী-মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে তা সাব্যস্ত রয়েছে, যা এই হাদীসটির স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং এর প্রামাণিকতাকে শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن هنا قال الحافظ بن رجب في جامع العلوم والحكم:

((قال المحققون من العلماء: كل مؤمن مسلم، فإن من حقَّق الإيمان، ورسخ في قلبه، قام بأعمال الإسلام، كما قال صلى الله عليه وسلم ((ألا وإن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله، وإذا فسدت فسد الجسد كله، ألا وهي القلب)) فلا يتحقق القلب بالإيمان إلا وتنبعث الجوارح بالأعمال.

وليس كل مسلم مؤمناً، فإنه قد يكون الإيمان ضعيفاً فلا يتحقق القلب به تحقيقاً تاماً، مع عمل جوارحه أعمال الإسلام فيكون مسلماً، وليس بمؤمن الإيمان التام)) اهـ (1) .

*ومعنى افتراقهما: أن يأتي أحدهما في نص دون الآخر، فعندئذٍ يكون أحدهما بمعنى الآخر، فالإسلام هو الإيمان والعكس صحيح.

ولهذا أدلة كثيرة في الوحيين:

-منها قوله تعالى في سورة آل عمران: {وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِى الأَخِرَةَ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران: 85] .

-وفي أولها قوله سبحانه: {إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللهِ الإِسْلَامُ} [آل عمران:19] .

فاقتضينا أن الدين عند الله الإيمان، ومن يبتغ غير الإيمان ديناً فلن يقبل منه.

-ومنه قوله تعالى في خطابه للمؤمنين في آيات كثيرة: {يَأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا} [البقرة:104] فإن الخطاب أيضاَ متوجه للذين أسلموا ولما يدخل الإيمان في قلوبهم، مما يدل على تناول أحدهما الآخر عند الانفراد.

-وحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((الإيمان بضع وستون شعبة، والحياء شعبة من الإيمان)) متفق عليه واللفظ للبخاري (2) وفي لفظ آخر لهما ((الإيمان بضع وسبعون)) .

--------------------------------------------

(1) جامع العلوم والحكم، شرح الحديث الثاني: حديث جبريل المشهور (28) ، وانظر منهج الحافظ ابن رجب (428) وما بعدها.

(2) أخرجه البخاري موصولاً في كتاب الإيمان – باب أمور الإيمان (9) ، ومسلم في الإيمان أيضاً – باب بيان شعب الإيمان وأفضلها وأدناها (35) .
এজন্যই হাফেজ ইবনে রজব 'জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম'-এ বলেছেন:

((গবেষক আলেমগণ বলেছেন: প্রত্যেক মুমিনই মুসলিম। কারণ যার মধ্যে ঈমান বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তা তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়েছে, সে ইসলামের আমলসমূহ পালন করবেই। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড আছে; যদি তা সংশোধিত হয় তবে পুরো শরীরই সংশোধিত হয়, আর যদি তা কলুষিত হয় তবে পুরো শরীরই কলুষিত হয়ে যায়; জেনে রেখো, সেটি হলো অন্তর।" সুতরাং ঈমানের মাধ্যমে অন্তর ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত রূপ লাভ করে না, যতক্ষণ না অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমলের মাধ্যমে সক্রিয় হয়।

কিন্তু প্রত্যেক মুসলিম মুমিন নয়। কারণ কখনও ঈমান দুর্বল হতে পারে, যার ফলে অন্তর দ্বারা তা পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয় না, যদিও তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ইসলামের আমলসমূহ পালন করে; এমতাবস্থায় সে মুসলিম হবে, তবে পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার হিসেবে মুমিন হবে না।)) সমাপ্ত (১)।

*তাদের পৃথক হওয়ার অর্থ হলো: যখন একটি শব্দ অন্যটির অনুপস্থিতিতে কোনো পাঠ্যে আসে, তখন একটি অন্যটির অর্থ প্রকাশ করে। এমতাবস্থায় ইসলামই হলো ঈমান এবং এর বিপরীতটিও সত্য।

এর স্বপক্ষে উভয় ওহীতে (কুরআন ও সুন্নাহ) অনেক দলিল রয়েছে:

-তন্মধ্যে সূরা আল-ইমরানে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন তালাশ করলে তা কখনোই তার নিকট থেকে কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} [আল-ইমরান: ৮৫]।

-এবং এর শুরুর দিকে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দীন হলো একমাত্র ইসলাম।} [আল-ইমরান: ১৯]।

সুতরাং এতে প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহর নিকট দীন হলো ঈমান, আর যে ব্যক্তি ঈমান ব্যতীত অন্য কিছুকে দীন হিসেবে তালাশ করবে, তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।

-এবং অনেক আয়াতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহ তাআলার সম্বোধন এর অন্তর্ভুক্ত: {হে ঈমানদারগণ!} [আল-বাকারা: ১০৪]। কেননা এই সম্বোধন তাদের প্রতিও যারা ইসলাম কবুল করেছে কিন্তু ঈমান এখনও তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। এটি প্রমাণ করে যে, যখন শব্দ দুটি আলাদাভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন একটি অন্যটিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

-এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে এবং লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা।)) এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন) এবং শব্দাবলী বুখারির (২)। আর তাদের উভয়ের অন্য একটি শব্দাবলীতে এসেছে: ((ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে))।

--------------------------------------------

(১) জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম, দ্বিতীয় হাদিসের ব্যাখ্যা: জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদিস (২৮); এবং দেখুন 'মানহাজুল হাফেজ ইবনে রজব' (৪২৮) ও পরবর্তী অংশ।

(২) বুখারি এটি কিতাবুল ঈমান - ঈমানের বিষয়সমূহ অধ্যায় (৯) এবং মুসলিমও ঈমান অধ্যায় - ঈমানের শাখাগুলোর বর্ণনা এবং এর সর্বোত্তম ও সর্বনিম্ন শাখার বর্ণনা (৩৫) -এ সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فإن الإيمان هنا متناول للإسلام لاشتماله على الصلاة والصيام والحج والزكاة.

-ولما في الصحيحين – واللفظ للبخاري- من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يرفعه إليه صلى الله عليه وسلم: ((المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده، والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه)) (1) .

-وعن أبي سعيد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((يوشك أن يكون خير مال المسلم غنم يتبع بها شغف الجبال ومواقع القطر، يفر بدينه من الفتن)) رواه البخاري (2) .

ففى كلا الحديثين المسلم يشمل المؤمن، مما يدل على أنهما بمعنى واحد عند الاجتماع.

-ومن أصرح الأدلة من السنة على كون افتراقهما يُصِّيرُ معناهما واحداً حديث وفد عبد القيس، المتفق على صحته من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، أنهم جاؤوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: يا رسول الله، إن بيننا وبينك هذا الحي من مضر ولا نستطيع أن نأتيك إلا في الأشهر الحرم، فمرنا بأمر فصل نخبر به من وراءنا، وندخل به الجنة؟ فقال صلى الله عليه وسلم: ((آمركم بالإيمان بالله وحده، أتدرون ما الإيمان بالله وحده؟)) قالوا: الله ورسوله أعلم! قال: ((تشهدوا ألا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وتقيموا الصلاة، وتؤتوا الزكاة، وتصوموا رمضان، وأن تعطوا من المغنم الخمس)) الحديث (3) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري موصولاً في الإيمان – باب المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده (10) ، ومسلم في الإيمان أيضاً – باب بيان تفاضل الإسلام وأي أموره أفضل (40) .

(2) رواه البخاري وهذا لفظه متصلاً في كتاب الإيمان – باب من الدين الفرار من الفتن (19) .

(3) الحديث أخرجه بطوله البخاري في أحد عشر موضعاً في صحيحه كلها متصلة هذا أولها في كتاب الإيمان – باب أداء الخمس من الإيمان (53) وهذا لفظه، وأخرجه مسلم في الإيمان أيضاً – باب الأمر بالإيمان بالله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم وشرائع الدين (17) .
কেননা এখানে ঈমান শব্দটি ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেহেতু এটি সালাত, সিয়াম, হজ ও জাকাতকে শামিল করে।

-এবং যা সহীহাইন-এ (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণিত হয়েছে —শব্দবিন্যাস বুখারির— আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস থেকে যা তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে; আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে।" (১)।

-এবং আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "অচিরেই এমন সময় আসবে যখন মুসলিমের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হবে বকরি, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় ও বৃষ্টির স্থানে চলে যাবে; সে ফেতনা থেকে নিজের দ্বীন নিয়ে পলায়ন করবে।" ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (২)।

উভয় হাদিসেই 'মুসলিম' শব্দটি 'মুমিন'-কে অন্তর্ভুক্ত করে, যা প্রমাণ করে যে, যখন শব্দ দুটি আলাদাভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তারা একই অর্থ প্রকাশ করে।

-সুন্নাহ থেকে এ বিষয়ের সবচেয়ে স্পষ্ট দলিলগুলোর একটি হলো—যেখানে শব্দ দুটি আলাদাভাবে উল্লেখিত হলে তারা একই অর্থ প্রকাশ করে—আবদুল কায়েস প্রতিনিধি দলের হাদিস। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই হাদিসের বিশুদ্ধতার ওপর সকলে একমত যে, তারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের ও আপনার মাঝে মুদার গোত্রের এই জনপদটি অবস্থিত। আমরা হারাম মাসগুলো ছাড়া আপনার কাছে আসতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু চূড়ান্ত আদেশ দিন যা আমরা আমাদের পেছনে থাকা লোকদের জানিয়ে দেব এবং যার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আমি তোমাদের এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জানো এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী?" তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন! তিনি বললেন: "এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; আর সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।" হাদিসটি (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি মুত্তাসিল সনদে কিতাবুল ঈমান-এর 'মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে' অধ্যায়ে (১০) এবং ইমাম মুসলিম কিতাবুল ঈমান-এর 'ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার কোন বিষয়গুলো উত্তম তা বর্ণনা' অধ্যায়ে (৪০) বর্ণনা করেছেন।

(২) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর শব্দবিন্যাসে কিতাবুল ঈমান-এর 'ফেতনা থেকে পলায়ন করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত' অধ্যায়ে (১৯) মুত্তাসিল সনদে বর্ণিত।

(৩) হাদিসটি ইমাম বুখারি তাঁর সহীহ-এর এগারোটি স্থানে দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন, যার সবগুলোই মুত্তাসিল। এটি সেগুলোর মধ্যে প্রথম, যা কিতাবুল ঈমান-এর 'খুমুস প্রদান করা ঈমানের অংশ' অধ্যায়ে (৫৩) বর্ণিত এবং এটি সেই শব্দবিন্যাস। ইমাম মুসলিমও এটি কিতাবুল ঈমান-এর 'আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ঈমান আনার নির্দেশ এবং শরয়ি বিধানসমূহ' অধ্যায়ে (১৭) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فإن النبي صلى الله عليه وسلم أخبرهم في الحديث – في هذا الحال المهم، والسؤال الأهم – عن الإيمان بأركان الإسلام، فدل على أنهما بمعنى واحد، مما يفيد أن أحدهما يغني عن الآخر عند الإفتراق.

وفي الباب أحاديث غير هذه كثيرة جداً تدل على هذا المقصد، وفيما نقلت الكفاية إن شاء الله (1) .

* * *

‌‌زيادة الإيمان ونقصانه:

والبحث فيهما فرع عما سبق من أصل الاختلاف في الإيمان من كونه شيئاً واحداً لا يتجزأ بأن يذهب بعضه وكذا باجتماع الثواب والعقاب، والحسنة والسيئة في العبد الواحد.

فإن الحق الواجب اعتقاده والإيمان به، أن الإيمان يزيد بالإخلاص والطاعات والمسارعة إلى رضوان الله، وتقديم مرضاته وتتبع محابَّه حتى يَستكمل الإيمان في العبد.

وكذا عكسه بأن الإيمان ينقص ويقل كلما ارتكب العبد المحرمات واقترف المنهيات، وفرغ قلبه من تحقيق معاني الألوهية ومعاني أسماء الله وصفاته، وأمره وشرعه حتى يزول الإيمان بالكلية، فتستحكم الشهوات والشبهات عليه؛ فيكون القلب عندئذ أسودَ لا بياض فيه.

يدل على ذلك الأدلة الشرعية والواقع المشاهد.

وذلك أن المؤمن المتقي لله، إنما يتقيه ويؤمن به لقوة الوازع الديني في قلبه.

والعاصي – وهو فاعل الذنب الصغير-، والفاسق – وهو فاعل الكبيرة – لا يعصي ربه إلا بعد ضعف وازع الدين في قلبه!

ومن فضل الله علينا وعلى الناس تكامل دلالة الكتاب الكريم والسنة النبوية المطهرة، والآثار السلفية عن الصحابة ومن بعدهم في تأكيد هذه المسألة، وهذا طرف من ذلك.

 

الأدلة من القرآن على زيادة الإيمان ونقصانه:

فمن ذلك:

--------------------------------------------

(1) ومثل الإسلام والإيمان، مثل البر والتقوى، والفسوق والعصيان، والفقير والمسكين، والإثم والعدوان، والكفر والنفاق، والتوبة والاستغفار، وهكذا كل لفظتين شرعيتين بينهما اشتراك في العموم والخصوص.. والله أعلم.
নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থায় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে হাদিসে তাঁদেরকে ইসলামের রুকনসমূহ দ্বারা ঈমান সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এ দুটি (ইসলাম ও ঈমান) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা এই ফায়দা দেয় যে, শব্দ দুটি যখন পৃথকভাবে উল্লিখিত হয় তখন একটি অন্যটির অর্থ প্রকাশ করে।

এই বিষয়ে এ ছাড়া আরও অনেক হাদিস রয়েছে যা এই উদ্দেশ্যের ওপর প্রমাণ বহন করে। আমি যা বর্ণনা করেছি তা-ই ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট। (১) .

* * *

‌‌ঈমান বৃদ্ধি পাওয়া ও হ্রাস পাওয়া:

এই বিষয়ে আলোচনা হলো ঈমান সম্পর্কিত পূর্বোক্ত মৌলিক মতভেদের একটি শাখা—অর্থাৎ ঈমান কি এমন একটি অবিভাজ্য বিষয় যার কিছু অংশ চলে গেলে সবটুকুই চলে যায়? অনুরূপভাবে, একজন বান্দার মাঝে সওয়াব ও আজাব এবং নেকি ও গুনাহের সমন্বয় ঘটার বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত।

নিশ্চয়ই যে সত্যটি বিশ্বাস ও ঈমান রাখা ওয়াজিব তা হলো: ইখলাস, আনুগত্য, আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া, তাঁর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাঁর পছন্দনীয় বিষয়গুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়, যতক্ষণ না বান্দার ঈমান পূর্ণতা লাভ করে।

অনুরূপভাবে এর বিপরীতও ঘটে; অর্থাৎ বান্দা যখনই হারাম কাজে লিপ্ত হয় এবং নিষিদ্ধ কাজগুলো করে, তখন ঈমান হ্রাস পায় ও কমে যায়। এমনকি তার অন্তর যখন উলুহিয়্যাতের তাৎপর্য এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অর্থ, তাঁর নির্দেশ ও শরিয়ত উপলব্ধি করা থেকে শূন্য হয়ে যায়, তখন ঈমান পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে তার ওপর কুপ্রবৃত্তি ও সংশয়গুলো আধিপত্য বিস্তার করে; তখন অন্তরটি কালো হয়ে যায়, যার মধ্যে কোনো শুভ্রতা থাকে না।

শরয়ি দলিল এবং চাক্ষুষ বাস্তবতা এর প্রমাণ বহন করে।

আর তা এই কারণে যে, আল্লাহভীরু মুমিন আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে কেবল তার অন্তরে দ্বীনি অনুশাসনের প্রবলতার কারণে।

আর পাপিষ্ঠ—যে ছোট গুনাহ করে—এবং ফাসেক—যে বড় গুনাহ করে—তারা কেবল তখনই রবের নাফরমানি করে যখন তাদের অন্তরে দ্বীনি অনুশাসন দুর্বল হয়ে পড়ে!

আমাদের ওপর এবং মানুষের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ এই যে, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, পবিত্র সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের পরবর্তীদের থেকে বর্ণিত সালাফদের নিদর্শনসমূহ এই বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ। এটি তারই একটি অংশবিশেষ।

 

ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের সপক্ষে কুরআন থেকে দলিলসমূহ:

তন্মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) ইসলাম ও ঈমানের উদাহরণ হলো—সততা ও তাকওয়া, অবাধ্যতা ও নাফরমানি, ফকির ও মিসকিন, গুনাহ ও সীমা লঙ্ঘন, কুফর ও নিফাক, তওবা ও ইস্তিগফার এবং অনুরূপ প্রতিটি জোড়া শরয়ি শব্দের মতো, যেগুলোর মধ্যে সাধারণ ও বিশেষত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
قوله تعالى في أول الأنفال: {إِنَمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْءَايَتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [الأنفال:2] .

وقوله سبحانه في أواخر آل عمران: {الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقالُوا حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ} [آل عمران: 173] .

وفي آخر التوبة: {وَإِذَا مَآ أُنزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُم مَّن يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إيماَنًا فَأَمَّا الَّذِينَءَامَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يًسْتَبْشِرُونَ * وَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا إِلَى رِجْسِهِمْ وَمَاتُوا وَهُمْ كَافِرُونَ} [التوبة: 124-125] .

فالمؤمنون يزدادون إيماناً بنزول القرآن والمنافقون يزدادون كفراً ورجساً وينقص إيمانهم إن كان بقي منه شيء قبل نزوله!

وفي سورة الأحزاب: {وَلَمَّا رَءَا الْمُؤْمِنُونَ الأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَاّ إِيمَانَا وَتَسْلِيمًا} [الأحزاب:22] .

وفي أول الفتح: {هُوُ الَّذِى أَنزَلَ السَّكِينَةَ فِى قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيماَنًا مَّعَ إِيمَنِهِمْ} [الفتح:4] .

وفي سورة المدثر: {لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَءَامَنُوا إِيمَانًا} [المدثر:31] .

وكما يزيد الإيمان – كما رأينا فيما مضى من نصوص، فإنه يزيد بزيادة أفراده كالخشوع كما في آية السجدة من الإسراء: {وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا} [الإسراء:109] .
সুরা আল-আনফালের শুরুতে মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিন তো তারাই যাদের সামনে আল্লাহর কথা স্মরণ করা হলে তাদের অন্তরসমূহ ভীত-কম্পিত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।} [আল-আনফাল: ২] ।

এবং সুরা আলে ইমরানের শেষের দিকে পবিত্র আল্লাহর বাণী: {যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো; তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।} [আলে ইমরান: ১৭৩] ।

এবং সুরা আত-তাওবার শেষে: {যখন কোনো সুরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল? সুতরাং যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা আনন্দ প্রকাশ করে। আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, এটি তাদের অপবিত্রতার সাথে আরও অপবিত্রতা যোগ করে এবং তারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।} [আত-তাওবা: ১২৪-১২৫] ।

সুতরাং কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ফলে মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং মুনাফিকদের কুফর ও অপবিত্রতা বৃদ্ধি পায়, আর তাদের যদি অবতীর্ণ হওয়ার আগে সামান্য ঈমান অবশিষ্ট থেকেও থাকে, তা হ্রাস পায়!

এবং সুরা আল-আহজাবে: {মুমিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল, তখন তারা বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন এটি তাই এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। আর এটি কেবল তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি করেছিল।} [আল-আহজাব: ২২] ।

এবং সুরা আল-ফাতহের শুরুতে: {তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি অবতীর্ণ করেছেন যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বাড়িয়ে নিতে পারে।} [আল-ফাতহ: ৪] ।

এবং সুরা আল-মুদ্দাসসিরে: {যাতে কিতাবধারীরা দৃঢ় বিশ্বাসী হয় এবং মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।} [আল-মুদ্দাসসির: ৩১] ।

ঈমান যেভাবে বৃদ্ধি পায়—যা আমরা পূর্বোক্ত ভাষ্যগুলোতে দেখেছি—তেমনি এটি এর শাখাগুলোর বৃদ্ধির মাধ্যমেও বৃদ্ধি পায়, যেমন একাগ্রতা; যেমনটি সুরা আল-ইসরা-এর সিজদার আয়াতে এসেছে: {তারা কাঁদতে কাঁদতে থুতনির ওপর লুটিয়ে পড়ে এবং এটি তাদের একাগ্রতা বৃদ্ধি করে।} [আল-ইসরা: ১০৯] ।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وزيادة الهدى والهداية كما في قوله في سورة مريم: {وَيَزِيدُ اللهُ الَّّذِينَ اهْتَدَوْا هدًى} [مريم:76] .

وفي سورة محمد: {وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَءَاتَهُمْ تَقْوَاهُمْ} [محمد:17] .

وقوله عن الفتية أصحاب الكهفِ: {إِنَّهُمْ فِتْيَةٌءَامَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ} [الكهف:13] .

فما زاد شيء إلا نقص، بدليل كونه قبل الزيادة أنقص منه بعدها.

وكما أن الكفر يزيد كما في قوله تعالى في آيتي المائدة: {وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَنًا وَكُفْرًا} [المائدة:64] . {قُلْ يَأَهْلَ الْكِتَبِ لَسْتُمْ عَلَى شَىْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالإِنْجِيلَ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَيَزِيدَنَّ كَثيِرًا مِّنْهُم مَّآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَنًا وَكُفْرًا فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَفِرِينَ} [المائدة:68] .

وقوله في الإسراء: {وَمَا جَعَلْنَا الرُّءْيَا الَّتِى أَرَيْنَكَ إِلَاّ فِتْنةً لِّلنَّاسِ وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ فِي الْقُرْءَانِ وَنُخَوِّفهُمْ فَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَاّ طُغْياَنًا كَبِيرًا} [الإسراء:60] .

وفي آل عمران: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثًمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّن تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الضَّآلُّونَ} [آل عمران:90] .

وفي النساء: {إِنَ الَّذِينَءَامَنُوا ثُمَّ كّفَرُوا} [النساء:137] .

فكذلك الإيمان يزيد حتى يبلغ أعلى درجاته، والكفر يزيد حتى يسفل إلى أدنى دركاته.

أيضاً مما يدل على زيادة الإيمان عند أهله تفاضلهم فيه، بكون بعضهم أفضل من بعض.

كما قال سبحانه عن الأنبياء: {وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ النَّبيِيِّنَ عَلَى بَعْضٍ} [الإسراء:55] .
হেদায়াত ও সঠিক পথের দিশা বৃদ্ধি পাওয়া, যেমনটি আল্লাহ সুরা মারইয়ামে বলেছেন: "যারা সঠিক পথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদের হেদায়াত বাড়িয়ে দেন" [মারইয়াম: ৭৬]।

এবং সুরা মুহাম্মদে: "যারা সৎপথ পেয়েছে, আল্লাহ তাদের হেদায়াত বাড়িয়ে দেন এবং তাদের তাকওয়া দান করেন" [মুহাম্মদ: ১৭]।

এবং আসহাবে কাহাফের যুবকদের সম্পর্কে তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই তারা ছিল কয়েকজন যুবক যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হেদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম" [কাহাফ: ১৩]।

আর কোনো জিনিসের বৃদ্ধি ঘটার অর্থই হলো (পূর্বাবস্থায়) তার ঘাটতি থাকা; এর প্রমাণ হলো, বৃদ্ধির আগের অবস্থাটি বৃদ্ধির পরের অবস্থার তুলনায় কম বা অপূর্ণ।

অনুরূপভাবে কুফর বা অবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা সুরা মায়িদার দুটি আয়াতে বলেছেন: "আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরই বাড়িয়ে দেবে" [মায়িদা: ৬৪]। "বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা কোনো ভিত্তির ওপরই নও যতক্ষণ না তোমরা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করো। আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরই বাড়িয়ে দেবে। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করবেন না" [মায়িদা: ৬৮]।

এবং সুরা ইসরায় তাঁর বাণী: "আমি আপনাকে যে দৃশ্যটি দেখিয়েছি তা মানুষের জন্য কেবল একটি পরীক্ষার বিষয় করেছি এবং কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত গাছটিকেও। আমি তাদের সতর্ক করি, কিন্তু তা তাদের চরম অবাধ্যতাই বাড়িয়ে দেয়" [ইসরা: ৬০]।

এবং সুরা আল-ইমরানে: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে এবং এরপর তাদের কুফরি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, তাদের তাওবা কখনো কবুল করা হবে না; আর এরাই হলো পথভ্রষ্ট" [আল-ইমরান: ৯০]।

এবং সুরা নিসায়: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফরি করেছে..." [নিসা: ১৩৭]।

সুতরাং একইভাবে ঈমানও বৃদ্ধি পায় যতক্ষণ না তা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়, আর কুফরিও বৃদ্ধি পায় যতক্ষণ না তা সর্বনিম্ন স্তরে পতিত হয়।

এছাড়াও মুমিনদের মাঝে ঈমান বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো তাদের মধ্যকার মর্যাদাগত পার্থক্য, যেখানে কেউ কেউ অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর হন।

যেমনটি মহান আল্লাহ নবীদের সম্পর্কে বলেছেন: "আর আমি অবশ্যই নবীদের একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি" [ইসরা: ৫৫]।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي البقرة: {تَلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِّنهُم مَّن كَلَّمَ اللهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَتٍ وَءَاتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِنَتِ وَأَيَّدْنَهُ بِرُوحِ الْقُدُسْ} [البقرة:253] .

وفي الإسراء: {انْظُرْ كَيْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَلَلأَخِرَةُ أَكْبَرُ دَرَجَتٍ وَأَكْبَرُ تَفْضِيلاً} [الإسراء:21] .

وفاضل سبحانه بين الصحابة في آية الحديد: {لَايَسْتَوْي مْنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقاَتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذينَ أَنفَقَوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا} [الحديد:10] .

وفاضل بين المجاهدين وغيرهم في سورة النساء: {لَاّ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُوْلِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فَضَّلَ اللهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلاًّ وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا * دَرَجَاتٍ مِّنْهُ وَمَعْفِرَةً وَرَحْمَةَ وَكَانَ اللهُ غَفُورًا رَّحِيمًا} [النساء:95-96] .

ومن ذلك قوله: {الَّذِينَءَامَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَهَدُوا فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةَ عِندَ اللهِ وَأولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} [التوبة:20] .

وفاضل بين درجات العلماء أهل الإيمان بقوله في سورة المجادلة: {يَرْفَعِ اللهُ الَّذِينَءَامَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَتٍ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [المجادلة:11] .
এবং সূরা বাকারায় (বলা হয়েছে): “সেই রাসূলগণ—আমি তাদের কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমি মারইয়াম-পুত্র ঈসাকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ দান করেছি এবং তাকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি।” [আল-বাকারা: ২৫৩] ।

এবং সূরা ইসরায় (বলা হয়েছে): “দেখুন, আমি তাদের কাউকে কারো ওপর কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। আর পরকাল তো মর্যাদায় অধিক বড় এবং শ্রেষ্ঠত্বেও অধিক বড়।” [আল-ইসরা: ২১] ।

এবং পবিত্র মহান আল্লাহ সূরা হাদীদের আয়াতে সাহাবীদের মধ্যে তারতম্য করেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরবর্তী সময়ে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে।” [আল-হাদীদ: ১০] ।

এবং তিনি সূরা নিসায় মুজাহিদ ও অন্যদের মধ্যে তারতম্য করেছেন: “মুমিনদের মধ্যে যারা কোনো ওযর ছাড়াই ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করে, তারা সমান নয়। যারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা যারা ঘরে বসে থাকে তাদের চেয়ে এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে আল্লাহ মুজাহিদদের ঘরে বসে থাকা লোকদের ওপর মহা প্রতিদানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। (এগুলো) তাঁর পক্ষ থেকে মর্যাদা, ক্ষমা ও রহমত; আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” [আন-নিসা: ৯৫-৯৬] ।

এর মধ্যে তাঁর এই বাণীও অন্তর্ভুক্ত: “যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা অত্যন্ত বড়। আর তারাই হলো সফলকাম।” [আত-তাওবা: ২০] ।

এবং তিনি সূরা মুজাদিলায় তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ঈমানদার আলেমদের মর্যাদার মধ্যে তারতম্য করেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে অনেক উচ্চ করে দেবেন। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।” [আল-মুজাদিলা: ১১] ।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومايز سبحانه بين أهل الطاعة والمعصية بقوله في سورة الجاثية: {أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئاتِ أَن نَّجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَآءً مَّحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ سَآءَ مَا يَحْكُمُونَ} [الجاثية:21] ، وفي سورة الواقعة ذكر أصحاب اليمين، ثم أصحاب الشمال، ثم السابقين. وكل هذه المفاضلات للتمايز في زيادة الإيمان

 

‌‌الأدلة من السنة على زيادة الإيمان ونقصانه:

فهي أيضاً متنوعة:

1-فمنها ما في الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن، ولا يسرق السارق حين يسرق وهو مؤمن ولا يشرب الخمر حين يشربها وهو مؤمن، ولا ينهب نُهبة ذات شرف يرفع الناس إليه فيها بأبصارهم حين ينتهبها وهو مؤمن)) وهذا لفظ مسلم.

فنفى عنه كمال الإيمان الواجب بفعل هذه الكبائر، مما دل على نقص الإيمان بفعلها.

وهكذا كل ما ورد من نفي كمال الإيمان الواجب أو المستحب تدل على زيادته، ومن ثمَّ نقصانه!

2-ومنها ما عقده البخاري في صحيحه من كتاب الإيمان باباً في تفاضل أهل الإيمان بالأعمال وذكر فيه:

حديث أبي سعيد رضي الله عنه مرفوعاً: ((يدخل أهل الجنة الجنة، وأهل النار النار، ثم يقول عز وجل: أخرجوا من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان..)) الحديث متفق عليه.

مما يدل على أنه أنقص المؤمنين إيماناً، ولو كان الإيمان لا يزيد ولا ينقص لاستحق أهله كلهم الجنة، وبدرجات متساوية!

3-وحديث أبي سعيد رضي الله عنه أيضاً أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((بينا أنا نائم، رأيت الناس يُعرضون عليَّ وعليهم قمص، منها ما يبلغ الثدي، ومنها ما دون ذلك، وعرض عليَّ عمر بن الخطاب وعليه قميص يجره قالوا: فما أوَّلت ذلك يا رسول الله؟ قال: الدين)) متفق عليه.

ورؤيا الأنبياء حق، فدل على زيادة الإيمان في أقوام، ونقصانه في آخرين.
এবং মহান আল্লাহ তাঁর সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আল-জাছিয়ায় তাঁর বাণীর মাধ্যমে আনুগত্যশীল এবং পাপাচারীদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন: "যারা মন্দ কাজ করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের সেই সব লোকের সমান করে দেব যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, যাতে তাদের জীবন ও মৃত্যু সমান হয়? তারা যা ফয়সালা করে তা অত্যন্ত মন্দ।" [জাছিয়া: ২১]। আর সূরা আল-ওয়াকিয়াতে তিনি ডানদিকের দল, তারপর বামদিকের দল, অতঃপর অগ্রগামীদের কথা উল্লেখ করেছেন। এই সকল মর্যাদাগত পার্থক্য মূলত ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধির তারতম্যের কারণেই।

 

‌‌ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কে সুন্নাহ থেকে দলিলসমূহ:

সুন্নাহর দলিলসমূহও বৈচিত্র্যময়:

১-তার মধ্যে রয়েছে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না, চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন অবস্থায় চুরি করে না, মদখোর যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না, আর লুণ্ঠনকারী যখন সম্মানজনক কোনো বস্তু লুণ্ঠন করে যার দিকে মানুষ চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মুমিন অবস্থায় লুণ্ঠন করে না।" এটি মুসলিমের শব্দ।

এখানে এই কবিরা গুনাহসমূহ করার কারণে তার থেকে ওয়াজিব ঈমানের পূর্ণতাকে অস্বীকার করা হয়েছে, যা এই কাজগুলো করার মাধ্যমে ঈমান হ্রাস পাওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে।

অনুরূপভাবে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব ঈমানের পূর্ণতাকে অস্বীকার করার বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা ঈমানের বৃদ্ধি এবং একইভাবে তার হ্রাসের প্রমাণ দেয়!

২-তার মধ্যে আরও রয়েছে ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে ঈমান অধ্যায়ে আমলের মাধ্যমে ঈমানদারদের মর্যাদাগত পার্থক্যের ওপর একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং তাতে উল্লেখ করেছেন:

আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফূ হাদিস: "জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাকে (জাহান্নাম থেকে) বের করে আনো..।" হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

যা প্রমাণ করে যে, সে মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে নিম্নস্তরের। যদি ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি না হতো, তবে সকল মুমিন সমানভাবে এবং সমান স্তরে জান্নাতের অধিকারী হতো!

৩-এবং আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, মানুষকে আমার সামনে পেশ করা হচ্ছে এবং তাদের পরনে কামিজ (জামা) রয়েছে। তাদের কারো কামিজ বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে, আবার কারো কামিজ তার চেয়েও ছোট। আর আমার সামনে উমর ইবনুল খাত্তাবকে পেশ করা হলো এমতাবস্থায় যে, তার পরনের কামিজটি তিনি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন: দ্বীন।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

আর নবীদের স্বপ্ন সত্য। সুতরাং এটি কিছু কওমের মধ্যে ঈমানের বৃদ্ধি এবং অন্যদের মধ্যে ঈমানের হ্রাসের অকাট্য প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুল ঈমান দিরাসাহ তাছীলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
4-حديث أبي سعيد الخدري وابن عمر وأبي هريرة رضي الله عنهم، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((ما رأيت من ناقصات عقل ودين أذهب للبِّ الرجل الحازم من إحداكن، قلن وما نقصان ديننا وعقلنا يا رسول الله؟ قال: أليس شهادة المرأة مثل نصف شهادة الرجل، قلن: بلى؟ قال: فذلك من نقصان عقلها، أليس إذا حاضت لم تصلِّ ولم تصم، قلن: بلى قال: فذلك من نقصان دينها)) وهذا لفظ البخاري (1) .

فهو وإن كان النقص ليس من فعلهن، لكن من صلى وصام كان أكمل إيماناً منهن بهذا الاعتبار لصلاته وصيامه، وتأمل الترجمة التي تحت الحديث عند مسلم!

5-حديث ابن مسعود رضي الله عنه – عند مسلم في المجاهدة –وفيه: ((فمن جاهدهم بيده فهو مؤمن، ومن جاهدهم بلسانه فهو مؤمن، ومن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن، وليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل)) . ويفسره ويبين مدلوله حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((من رأى منكم منكراً فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان)) رواه مسلم (2) .

فدل على أن الإيمان لا يزال يضعف بتخلف تلك المراتب وهو النقصان، وتحصيلها هو زيادته.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في مواضع متصلاً أولها في كتاب الحيض- باب ترك الحائض الصوم (298) ، ومسلم في الإيمان – باب بيان نقصان الإيمان بنقص الطاعات (79، 80) .

(2) رواهما في كتاب الإيمان- باب كون النهي عن المنكر من الإيمان (49،50) .
৪-আবু সাঈদ খুদরী, ইবনে উমর এবং আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "বুদ্ধি ও দ্বীনের ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের চেয়ে অধিক দৃঢ়চেতা পুরুষের বুদ্ধি হরণকারী আমি আর কাউকে দেখিনি। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ঘাটতি কী? তিনি বললেন: একজন নারীর সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটাই হলো তার বুদ্ধির ঘাটতি। আর যখন কোনো নারীর মাসিক হয়, সে কি নামাজ পড়ে না এবং রোজা রাখে না? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটাই হলো তার দ্বীনের ঘাটতি।" এটি বুখারীর শব্দাবলি (১)।

যদিও এই ঘাটতি তাদের নিজেদের কর্মের কারণে নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে ও রোজা রাখে, তার এই নামাজ ও রোজার কারণে সে এই বিচারে তাদের চেয়ে পূর্ণতর ঈমানের অধিকারী হবে। আর মুসলিমের কিতাবে হাদিসের অধীনে দেওয়া অনুচ্ছেদ শিরোনামটি লক্ষ করুন!

৫-ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) এর হাদিস—যা মুসলিমে মুজাহাদা অধ্যায়ে রয়েছে—তাতে আছে: "যে ব্যক্তি তার হাত দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন, যে তার জিহ্বা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন এবং যে তার অন্তর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন। আর এর বাইরে এক সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান নেই।" আর এর ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং এর অর্থ স্পষ্ট করে নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত আবু সাঈদ খুদরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর হাদিস: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় দেখে, সে যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়। যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন নিজ জিহ্বা দিয়ে (প্রতিবাদ করে)। আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে)। আর এটিই হলো সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।

সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এই স্তরগুলো ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে ঈমান ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে এবং এটিই হলো ঘাটতি; আর তা অর্জন করাই হলো ঈমানের বৃদ্ধি।

--------------------------------------------

(১) বুখারি বিভিন্ন স্থানে এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন, যার প্রথমটি হলো মাসিক অধ্যায়ে—অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীর রোজা ত্যাগ (২৯৮), এবং মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে—অনুচ্ছেদ: ইবাদতের ঘাটতির কারণে ঈমানের ঘাটতির বর্ণনা (৭৯, ৮০)।

(২) তিনি এই দুটি হাদিস ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন—অনুচ্ছেদ: মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত (৪৯, ৫০)।