(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: -)
شرح قواعد الإعراب القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح (قواعد الإعراب لابن هشام)
المؤلف: محمد بن مصطفى القُوجَوي، شيخ زاده (ت 950 هـ)
دراسة وتحقيق: إسماعيل إسماعيل مروة
الناشر: دار الفكر المعاصر (بيروت - لبنان)، دار الفكر (دمشق - سورية)
الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1995 م
عدد الصفحات: 224
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1438
শারহু কাওয়াইদিল ইরাব বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: ইবনে হিশামের (কাওয়াইদিল ইরাব)-এর ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-কুজাভি, শায়খ জাদাহ (মৃত্যু ৯৫০ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ইসমাইল ইসমাইল মারওয়া
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-মুআসির (বৈরুত - লেবানন), দারুল ফিকর (দামেস্ক - সিরিয়া)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতা আল-নুসসাখ দল, সৌজন্যে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে হুবহু মিল রয়েছে]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: -)
شرح قواعد الإعراب
لابن هشام المتوفى سنة 761 هـ
تأليف
محمد بن مصطفى القوجوي
(شيخ زاده المتوفى سنة 950 هـ)
دراسة وتحقيق
إسماعيل إسماعيل مروة
কাওয়াইদিল ই'রাব-এর ব্যাখ্যা
ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি) রচিত মূল গ্রন্থের
রচনায়
মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-কুজাওয়ী
(শাইখ জাদাহ, মৃত্যু ৯৫০ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা
ইসমাইল ইসমাইল মারওয়াহ
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ২)
الرقم الاصطلاحي: 1034
الرقم الموضوعي: 450
الْمَوْضُوع: لُغَة (نَحْو وَصرف)
العنوان: شَرْحُ قَوَاعِد الْإِعْرَابِ لِابْنِ هِشَام
التَّأْلِيف: مُحَمَّد بن مصطفى القوجوي (شيخ زَاده)
تَحْقِيق: إِسْمَاعِيل مروة
الصَّفّ التصويري: دَار الْفِكر بِدِمَشْق
التَّنْفِيذ الطباعي: المطبعة العلمية بِدِمَشْق
عدد الصفحات: 304
قِيَاس الصفحة: 17 × 24 سم
عدد النّسخ: 1500
دَار الْفِكر المعاصر
الطبعة الأولى 1416 هـ - 1995 م
جَمِيع الْحُقُوق مَحْفُوظَة
يمْنَع طبع هَذَا الْكتاب أَو جُزْء مِنْهُ بِكُل طرق الطَّبْع والتصوير وَالنَّقْل والترجمة والتسجيل المرئي والمسموع والحاسوبي وَغَيرهَا من الْحُقُوق إلَّا بِإِذن خطي من دَار الْفِكر بِدِمَشْق
دَار الْفِكر
سورية - دمشق - برامكة مُقَابل مَرْكَز الانطلاق الموحد - ص. ب: (962)
برقيًا: فكر - س. ت: 2754
هَاتِف: 2239717، 2211166
فاكس: 2239716
تلكس: FKR 411745 Sy
পরিভাষা নম্বর: ১০৩৪
বিষয়ভিত্তিক নম্বর: ৪৫০
বিষয়: ভাষা (নাহু ও সরফ)
শিরোনাম: ইবনে হিশামের কাওয়ায়েদুল ই’রাবের ব্যাখ্যা (শরহ)
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-কুজাভী (শায়খ জাদাহ)
সম্পাদনা ও গবেষণা: ইসমাইল মারওয়াহ
মুদ্রণ বিন্যাস: দার আল-ফিকর, দামেস্ক
মুদ্রণ সম্পাদন: আল-মাতবা’আ আল-ইলমিয়্যাহ, দামেস্ক
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪
পৃষ্ঠার পরিমাপ: ১৭ × ২৪ সেমি
কপি সংখ্যা: ১৫০০
দার আল-ফিকর আল-মু’আসির
প্রথম সংস্করণ ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দার আল-ফিকর দামেস্ক-এর লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই বই বা এর কোনো অংশ মুদ্রণ, ফটোকপি, অনুলিপি, অনুবাদ, দৃশ্য-শ্রাব্য রেকর্ডিং, কম্পিউটারাইজড বা অন্য কোনো মাধ্যমে পুনরুৎপাদন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
দার আল-ফিকর
সিরিয়া - দামেস্ক - বারামেকাহ, সেন্ট্রাল টার্মিনালের বিপরীতে - পোস্ট বক্স: (৯৬২)
টেলিগ্রাম: ফিকর - বাণিজ্যিক নিবন্ধন: ২৭৫৪
ফোন: ২২৩৯৭১৭, ২২১১১৬৬
ফ্যাক্স: ২২৩৯৭১৬
টেলেক্স: FKR 411745 Sy
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
شَرْحُ قَوَاعِد الْإِعْرَابِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের নিয়মাবলির ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
عرفان
الصديق العزيز
… الأستاذ المفضال
عبد الله أحمد المطوع الموقد
رعيت هذا البحث، وكان لك الفضل الأكبر في إخراجه بهذه الحلة اللائقة
أذكر ذلك عرفانًا وشكرًا
إسماعيل
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
প্রিয় বন্ধু
… পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ
আবদুল্লাহ আহমদ আল-মুতাওয়া আল-মুবিদ
আপনি এই গবেষণার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং একে এই যথাযোগ্য অবয়বে প্রকাশের পেছনে আপনারই রয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান
আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদের সাথে তা স্মরণ করছি
ইসমাঈল
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
إهداءإلى الأستاذ الدكتور
أسعد ذبيان
من رعاني وظنَّ بي الظنَّ الحسن
أرفع بحثي هذا
উৎসর্গপ্রফেসর ডক্টর
আস'আদ যুবইয়ান-এর প্রতি
যিনি আমার তত্ত্বাবধান করেছেন এবং আমার সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করেছেন
আমি আমার এই গবেষণাটি নিবেদন করছি
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
شكرإِلَى النخلةِ المعطاء الَّتِى مَا تزَال تكتوي بهجير الصَّحرَاء.
نبعِ الأخوّة الثر الَّذِي مَا بخل بالعطاء أخي معتز مروة الَّذِي لولاه مَا كتبت حرفا وَاحِدًا فى هَذِه الرسَالَة، أقدّم شكري لَهُ فى غربته.
وَإِلَى زَوْجَتي الطيّبة الَّتِى رافقتني رحلتي العلمية، فَكَانَت نعم الصديقة، لم تتأفّف، وَلم تتبرّم يَوْمًا، بل دفعتني بخلفها الرضيّ، وسماحتها، وقناعتها.
وَإِلَى أَوْلَادِي مُؤمنَة وَمنى وَمُؤمن الغالين وَقد سرقني الْبَحْث مِنْهُم طَويلا .. آمل أَن أعوّضهم فِي قَابل الْأَيَّام.
استحقوا شكري فإليهم أقدمه.
إِسْمَاعِيل
কৃতজ্ঞতা প্রকাশসেই দানশীল খেজুর বৃক্ষের প্রতি, যা নিরন্তর মরুভূমির প্রচণ্ড উত্তাপে দগ্ধ হচ্ছে।
ভ্রাতৃত্বের সেই অফুরন্ত উৎস, যিনি দানে কখনো কার্পণ্য করেননি—আমার ভাই মুতাজ মারওয়াহ, যাঁকে ছাড়া এই গবেষণাপত্রের একটি অক্ষরও আমি লিখতে পারতাম না; তাঁর প্রবাস জীবনে আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
এবং আমার পুণ্যবতী স্ত্রীর প্রতি, যিনি আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরে সহযাত্রী ছিলেন; তিনি ছিলেন এক অনন্য বন্ধু, কোনোদিন তিনি বিরক্ত হননি কিংবা অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, বরং তাঁর সন্তুষ্ট চিত্ত, মহানুভবতা ও অল্পেতুষ্টির মাধ্যমে আমাকে নিরন্তর প্রেরণা যুগিয়েছেন।
এবং আমার প্রিয় সন্তান মু’মিনা, মুনা ও মু’মিনের প্রতি; এই গবেষণা দীর্ঘকাল আমাকে তাদের সান্নিধ্য থেকে ছিনিয়ে রেখেছিল... আমি আশা করি আগামী দিনগুলোতে তাদের সেই অভাব পূরণ করে দেব।
তাঁরা আমার কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য, তাই তাঁদের উদ্দেশ্যেই এটি পেশ করছি।
ইসমাঈল
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وكفى، والصلاة والسلام على النبي الذي اصطفى، وعلى سائر النبيّين، وآل محمد وصحبه الطاهرين، وبعد:
منذُ صارت العربية لغة القرآن المنزل على صدر النبيّ الكريم، نالت عناية من علماء العربية إكرامًا للغة وقرآنها، وفضلُ العربية هذا دفع اللغويين للعمل في تحليلها والتصنيف في علومها، ونشأ من بين علوم العربية عِلْمٌ على جانب كبير من الأهمية -أعاريب القرآن- توزّعت مصنّفاته إلى:
- كتب أخلصت للإعراب القرآني، ودراسة وجوهه وقراءاته، وما يتعلَّق به من علوم أخرى.
- كتب اعتنت بالجوانب الإعرابية في القرآن الكريم، أو ببعض الظواهر التي ما كانت لتكون لولا القرآن الكريم.
وقد نشأ هذا الجانب من التأليف مُبَكّرًا، لكن ذروة نضجه والتأليف فيه كانت عند علامة النحو العربي (ابن هشام الحنبلي الأنصاري 761 هـ) وأهم مصنفاته في هذا الباب "مُغْنِي اللَّبِيب عَن كُتُب الأعَارِيب" والذي ما يزال إلى يومنا يطغى على المصنفات في هذا الباب، حتّى تلك التي سبقت ابن هشام، كمصنفات "الزَّجَّاجي والرُّمَّاني والهَرَوِيّ والمَالَقِيّ والمُرَادِيّ".
ولم يُخْمِل هذا الكتاب ذكر كتب السابقين له وحسب، بل نحّى جانبًا كتب ابن هشام في هذا الفن مثل "الإعْراب عَن قَوَاعِدِ الإعْرَاب". مع أنّه أسبق منه تأليفًا، ومن الباب نفسه، وقد زعم بعض الدّارسين أن "المُغْني" شرح له، وردّ ذلك بعضهم، ولذلك مكانه في الدّراسة ومع أنّ "المغني" سرق الإهتمام، إلاّ أنّ العلماء تنبّهوا إلى قيمة مصنفاته الأخرى، وما فيها من علم غزير مركّز، فقاموا بدراستها وشرحها، وعلى رأسها رسالته الموجزة "الإعراب عن قواعد الإعراب" وسيأتي ذكر شروحها في الدراسة إن شاء الله تعالى.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনিই যথেষ্ট। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই নবীর ওপর যাকে তিনি মনোনীত করেছেন, এবং অন্য সকল নবীর ওপর, আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার ও তাঁর পবিত্র সাহাবীগণের ওপর। অতপর:
যখন থেকে আরবী ভাষা দয়ালু নবীর অন্তরে অবতীর্ণ হওয়া কুরআনের ভাষা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, তখন থেকে এই ভাষা ও এর কুরআনের সম্মানে আরবী ভাষাবিদদের পক্ষ থেকে এটি বিশেষ যত্ন লাভ করেছে। আরবী ভাষার এই শ্রেষ্ঠত্ব ভাষাবিদদের এর বিশ্লেষণ এবং এর বিভিন্ন শাস্ত্র রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। আরবী ভাষা সংশ্লিষ্ট জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধ্য থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে—‘আআরিবুল কুরআন’ (কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ)—যার রচনাসমূহ বিভক্ত হয়েছে নিম্নোক্ত ভাগে:
- ঐ সকল গ্রন্থ যা কেবল কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, এর বিভিন্ন দিক ও কিরাতসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাস্ত্রের অধ্যয়নের জন্য নিবেদিত।
- ঐ সকল গ্রন্থ যা আল-কুরআনুল কারীমের ব্যাকরণিক দিকসমূহ অথবা এমন কিছু ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে, যা কুরআন না থাকলে সৃষ্টি হতো না।
গ্রন্থ রচনার এই ধারাটি প্রাথমিক যুগেই শুরু হয়েছিল, তবে এর পরিপক্কতা ও রচনার চূড়ান্ত শিখর অর্জিত হয়েছিল আরবী ব্যাকরণের পণ্ডিত ইবন হিশাম আল-হানবালী আল-আনসারী (৭৬১ হিজরী)-এর হাতে। এই বিষয়ে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনা হলো ‘মুগনী আল-লাবীব আন কুতুবিল আআরিব’, যা আজও এই বিষয়ের অন্যান্য রচনাবলির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে আছে, এমনকি ইবন হিশামের পূর্ববর্তী যাজ্জাজী, রুম্মানী, হারাভী, মালাকী এবং মুরাদীর রচনাসমূহকেও তা ছাপিয়ে গেছে।
এই গ্রন্থটি কেবল পূর্ববর্তীদের গ্রন্থের আলোচনাকেই ম্লান করে দেয়নি, বরং এই শাস্ত্রেই ইবন হিশামের নিজের রচিত অন্যান্য গ্রন্থ, যেমন ‘আল-ই'রাব আন কাওয়াইদিল ই'রাব’-কেও আড়ালে ঠেলে দিয়েছে। যদিও এটি রচনার দিক থেকে অগ্রবর্তী এবং একই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কোনো কোনো গবেষক দাবি করেছেন যে ‘মুগনী’ হলো এরই ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তবে অন্য অনেকে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই গবেষণার ক্ষেত্রে এর একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। যদিও ‘মুগনী’ অধিকাংশ মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে, তবুও আলেমগণ তাঁর অন্যান্য রচনার মূল্য এবং সেগুলোর মধ্যে থাকা গভীর ও নিবিড় জ্ঞান সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। ফলে তাঁরা সেগুলো অধ্যয়ন ও ব্যাখ্যা করার কাজ হাতে নেন, যার শীর্ষে রয়েছে তাঁর সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা ‘আল-ই'রাব আন কাওয়াইদিল ই'রাব’। ইনশাআল্লাহ গবেষণায় এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর আলোচনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
و"شرح قواعد الإعراب" لـ شَيْخ زَادَه 950 هـ، من الشّروح القيّمة، فمع أنّ الشارح متأخّر في الزمان، إلا أن شرحه غنيٌّ بالفوائد اللغوية، ومصادره الكثيرة التي عاد إليها، جعلت شرحه حاويًا الكتب والآراء معًا.
وللشرح قيمة كبيرة تكمن في أنّ الشّارح عالم مشارك في كثير من العلوم ذات الصلة بالقرآن الكريم.
ولمّا عاينت الكتاب، وجدت فيه فائدة، ولمست فيه نفعًا، لذلك شمرت عن ساعد الجدّ، وقرّرت أن أخرجه إلى النور.
دوافع العمل فيه:
ليس من قبيل المصادفة أن أختار هذا الشرح ليكون موضوع دراستى لنيل شهادة الماجستير في علوم اللغة، بل تمّ اختياره من إيمان قويّ بضرورة تحقيقه، أوجزه بما يلي:
1 - الكتاب المشروح وموضوعه:
إنّه كتاب "الإعراب عن قواعد الإعراب" لابن هشام، الذي لقي عناية من الدّارسين قديمًا، وحديثًا، والسبب في موضوعه الطريف، والجمل وأشباه الجمل، والأدوات النحوية، وهذا الموضوع مع أهميته لم يلق عناية كافية في البحث لوعورته، حتى كاد الانقراض يطوله.
2 - مؤلف المتن:
ابن هشام الذي طبّقت شهرته الآفاق، ولقيت مصنفاته كلُّها عناية كبيرة، واستقبلها المتأدّبون والباحثون بالترحيب، فهي معروفة تتناقلها أيدي الخاصة والعامة.
وابن هشام أفرد عددًا غير قليل من مؤلفاته لهذا الفن حتى نضج:
- القَوَاعِدُ الصُّغرى.
- القَوَاعِدُ الكُبْرى.
- الإعْرَاب عَن قَوَاعِدِ الإعْراب.
- مُغْنِي اللَّبِيب عَن كُتُبِ الأَعَاريب.
৯৫০ হিজরিতে ইনতিকালকারী শায়খ জাদাহ রচিত "শরহু কাওয়াইদিল ইরাব" একটি অত্যন্ত মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ। যদিও ব্যাখ্যাকারক সময়ের দিক থেকে পরবর্তী যুগের, তবুও তাঁর ব্যাখ্যাটি ভাষাগত বহুবিধ উপকারে সমৃদ্ধ। তিনি যে সকল অসংখ্য উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন, তা তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে একই সাথে অনেক কিতাব ও মতামতের আধার হিসেবে গড়ে তুলেছে।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির এক বিশাল মূল্য রয়েছে যা নিহিত আছে ব্যাখ্যাকারকের সেই পাণ্ডিত্যের মাঝে, যেখানে তিনি পবিত্র কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট বহু বিদ্যায় পারদর্শী।
যখন আমি কিতাবটি পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন এতে আমি যথেষ্ট ফায়দা পেলাম এবং এতে কল্যাণ অনুভব করলাম। তাই আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং এটি আলোর মুখ দেখানোর সংকল্প করলাম।
এই কাজের পেছনে অনুপ্রেরণাসমূহ:
ভাষা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য আমার গবেষণার বিষয় হিসেবে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি নির্বাচন করা মোটেও কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না; বরং এর সম্পাদনার প্রয়োজনীয়তার প্রতি এক দৃঢ় বিশ্বাস থেকে এটি নির্বাচন করা হয়েছে, যা আমি নিম্নে সংক্ষেপে উপস্থাপন করছি:
১ - ব্যাখ্যাত মূল কিতাব ও এর বিষয়বস্তু:
এটি ইবনে হিশাম রচিত "আল-ইরাব আন কাওয়াইদিল ইরাব" নামক কিতাব, যা প্রাচীন ও আধুনিককালের সকল গবেষকের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এর কারণ হলো এর চমৎকার বিষয়বস্তু; বাক্য, উপবাক্য এবং ব্যাকরণিক অনুষঙ্গসমূহ। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এর কাঠিন্যের কারণে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি, এমনকি এটি প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল।
২ - মূল পাঠের লেখক:
ইবনে হিশাম, যাঁর খ্যাতি দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত এবং যাঁর সকল রচনাবলী ব্যাপক গুরুত্ব লাভ করেছে। সাহিত্য অনুরাগী ও গবেষকগণ সেগুলোকে সানন্দে গ্রহণ করেছেন। এগুলো এতটাই সুপরিচিত যে বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ মানুষ—সকলের হাতেই এগুলো আবর্তিত হয়।
ইবনে হিশাম এই শাস্ত্রের জন্য তাঁর বেশ কয়েকটি কিতাবকে নির্দিষ্ট করেছেন, যতক্ষণ না শাস্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করেছে:
- আল-কাওয়াইদ আস-সুগরা।
- আল-কাওয়াইদ আল-কুবরা।
- আল-ইরাব আন কাওয়াইদিল ইরাব।
- মুগনী আল-লাবীব আন কুতুবিল আআরীব।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حتى غدت نظرات ابن هشام في الباب، نظرية للعلماء الذين جاؤوا بعده.
3 - الشارح وشرحه:
شارح الكتاب شيخ زاده أحد العلماء المشاركين، وشرحه الذي عثرت عليه في أثناء تنقيري في قوائم مخطوطات المكتبة الظاهرية بدمشق، والتي آلت إلى مكتبة الأسد الوطنية بدمشق، لفتا انتباهي، وفكّرت طويلًا في تصويره وتحقيقه، فكنت أُقْدِم حينًا، وأحجم حينًا ..
وحين فكّرت بموضوع لرسالتي، كان هذا المخطوط أوّل ما أعدتُ النظر فيه.
بحثتُ عنه طويلًا في فهارس المكتبات التي بين يدي، واستعنت بإخوة باحثين أفاضل خارج الوطن، فبحثوا في مكتباتٍ عالميةٍ عدّة، خاصة في تركِيا موطن الشارح، فلم يعثروا على شئ، جزاهم الله خير الجزاء. ودفعني الفضول العلمي إلى تصوير نسختي مكتبة الأسد، فكان فيهما تشجيع لي، فهما تامّتان، جيّدتان، على ما اعتورهما من وهن. ووصلت إلى قناعة بهذا الكتاب، وإلى إمكانية نشره من هاتين النسختين.
لا أريد أن أطنب في التقديم، فلكل مجال واسع في الدراسة، لكن لابد ممّا ليس منه بدّ.
وبعد:
عرضت الأمرَ أمام أستاذي الفاضل الدكتور أسعد ذبيان، فصحَّح العزم مني، وحذّرني ممّا في النصّ من مشكلات، وأشفق عليَّ من مقدار الجهد الذي يتطلّبه، ولمّا وجد رغبة مني، شجعني على ما عقدت عليه العزم ودفعني بروحه العلمية التي عُرف بها، وحثّني على العمل، ولا أنكر أنني ما كنتُ لأنجز ما أنجزت لولا ما بذل من وقته الثمين، وعلمه الوافر وتوجيهاته السديدة، فله عندي دَيْن لا أقضيه ما حييت.
এমনকি এই অধ্যায়ে ইবনে হিশামের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো তাঁর পরবর্তী আলেমদের নিকট একটি তত্ত্বে পরিণত হয়েছে।
৩ - ব্যাখ্যাকার ও তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ:
এই গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার শেখ জাদা ছিলেন অন্যতম অংশগ্রহণকারী আলেম। দামেস্কের আল-জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির তালিকায় অনুসন্ধানের সময় তাঁর যে ব্যাখ্যাগ্রন্থটির খোঁজ আমি পেয়েছিলাম—যা বর্তমানে দামেস্কের আল-আসাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে স্থানান্তরিত হয়েছে—তা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আমি দীর্ঘকাল এটি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করার কথা ভেবেছি; কখনও এ কাজে অগ্রসর হয়েছি, আবার কখনও পিছু হটেছি...
যখন আমি আমার গবেষণাপত্রের জন্য একটি বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম, তখন এই পাণ্ডুলিপিটিই ছিল প্রথম বিষয় যেদিকে আমি পুনরায় দৃষ্টিপাত করি।
আমি দীর্ঘক্ষণ আমার নিকট থাকা লাইব্রেরিগুলোর ক্যাটালগে এটি অনুসন্ধান করেছি এবং দেশের বাইরের সম্মানিত গবেষক ভাইদের সাহায্য নিয়েছি। তাঁরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লাইব্রেরিতে, বিশেষ করে ব্যাখ্যাকারকের স্বদেশ তুরস্কে অনুসন্ধান করেছেন; কিন্তু তাঁরা কিছুই খুঁজে পাননি। আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। বৈজ্ঞানিক কৌতূহল আমাকে আল-আসাদ লাইব্রেরির অনুলিপি দুটি সংগ্রহ করতে প্ররোচিত করে। এই কপি দুটি আমার জন্য উৎসাহব্যঞ্জক ছিল, কারণ জীর্ণতা সত্ত্বেও সেগুলো ছিল পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত। অবশেষে আমি এই গ্রন্থটির বিষয়ে এবং এই দুটি অনুলিপি থেকে এটি প্রকাশের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে আশ্বস্ত হই।
আমি ভূমিকার কলেবর বৃদ্ধি করতে চাই না, কারণ গবেষণার প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলোচনার বিস্তৃতি থাকে; তবে যা বলা অপরিহার্য তা বলতেই হচ্ছে।
অতঃপর:
আমি বিষয়টি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ডক্টর আসআদ জুবিয়ান-এর নিকট পেশ করলাম। তিনি আমার সংকল্পকে সুদৃঢ় করলেন এবং মূল পাণ্ডুলিপির জটিলতাগুলো সম্পর্কে আমাকে সতর্ক করলেন। পরিশ্রমের ব্যাপকতা বিবেচনা করে তিনি আমার প্রতি সমবেদনাও জানালেন। তবে যখন তিনি আমার মাঝে প্রবল আগ্রহ দেখলেন, তখন তিনি আমাকে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকতে উৎসাহিত করলেন এবং তাঁর সেই সুবিদিত উচ্চতর বৈজ্ঞানিক মানসিকতা দিয়ে আমাকে অনুপ্রাণিত করলেন ও কাজে মনোনিবেশ করতে উদ্বুদ্ধ করলেন। আমি অকপটে স্বীকার করছি যে, তাঁর মূল্যবান সময়, অগাধ জ্ঞান এবং সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকলে আমি যা অর্জন করেছি তা সম্ভব হতো না। তাঁর নিকট আমার এমন ঋণ রয়েছে যা আমি সারা জীবনেও শোধ করতে পারব না।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد مدّ يد العون لي في أثناء الإختيار والعمل، ثلاثة من ذوي العلم والفضل، يقتضي المقام أن أذكرهم شاكرًا: أساتذتي د. مزيد إسماعيل نعيم أستاذ النحو في جامعة دمشق، ود. نبيل أبو عمشة أستاذ النحو في جامعة دمشق، وأخي وأستاذي حسن إسماعيل مروة الذي كان نبراسًا ومشجعًا ولم يزل. ولا يفوتني أن أنوّه بأعضاء لجنة الحكم أستاذيّ الفاضلين د. عصام نور الدين ود. عفيف دمشقية على ما أبدياه من ملاحظات. أقدّم عملي هذا راجيًا من الله أن أكون قد وفّقت، فإن كان فلله الفضل والمنة، وإن قصّرت عن الغاية فلأنني لا أعلم، وفوق كلّ ذي عِلْمٍ عليم.
ربنا تقبل عملي هذا، واجعله في صحيفتي يوم الدّين، في خدمة كتابك المُبين، كتاب الحقّ واليقين.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
إسماعيل إسماعيل مروة.
معربا الشّام - دمشق
الثلاثاء 23 ذي القعدة 1414 هـ
3 أيار 1994 م
এই নির্বাচন ও কাজ চলাকালীন জ্ঞান ও মর্যাদাসম্পন্ন তিনজন ব্যক্তি আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যাঁদের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা এই মুহূর্তে আবশ্যক: আমার শিক্ষক দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের অধ্যাপক ড. মাজিদ ইসমাইল নাঈম, দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাহু শাস্ত্রের অধ্যাপক ড. নাবিল আবু আমশা এবং আমার ভাই ও শিক্ষক হাসান ইসমাইল মারওয়া, যিনি আমার জন্য আলোকবর্তিকা ও উৎসাহদাতা ছিলেন এবং এখনও আছেন। বিচারক কমিটির সদস্য আমার দুই শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. ইসাম নুরুদ্দিন ও ড. আফিফ দামেশকিয়া কর্তৃক প্রদত্ত পর্যবেক্ষণের জন্যও আমি তাঁদের প্রশংসা করছি। আমি আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনায় আমার এই কর্মটি উপস্থাপন করছি; যদি আমি সফল হই তবে সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই, আর যদি আমার লক্ষ্যে কোনো ঘাটতি থাকে তবে তা আমার অজ্ঞতার কারণে, আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই রয়েছেন এক মহাজ্ঞানী।
হে আমাদের রব! আমার এই আমল কবুল করুন এবং আপনার সুস্পষ্ট কিতাব—যা সত্য ও ধ্রুব নিশ্চিত কিতাব—তার খিদমতে সম্পাদিত এই কাজকে বিচার দিবসে আমার আমলনামায় অন্তর্ভুক্ত করুন।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ইসমাইল ইসমাইল মারওয়া।
মু'রিবা আশ-শাম - দামেস্ক
মঙ্গলবার, ২৩ জিলকদ ১৪১৪ হিজরি
৩ মে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: -)
شرح قواعد الإعراب القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح (قواعد الإعراب لابن هشام)
المؤلف: محمد بن مصطفى القُوجَوي، شيخ زاده (ت 950 هـ)
دراسة وتحقيق: إسماعيل إسماعيل مروة
الناشر: دار الفكر المعاصر (بيروت - لبنان)، دار الفكر (دمشق - سورية)
الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1995 م
عدد الصفحات: 224
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1438
শারহু কাওয়ায়েদিল ই'রাব (ই'রাবের নিয়মাবলির ব্যাখ্যা) বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: ব্যাখ্যা (ইবনে হিশাম বিরচিত কাওয়ায়েদুল ই'রাব-এর ব্যাখ্যা)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন মুস্তফা আল-কুজাভি، শেখ জাদাহ (মৃত্যু ৯৫০ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ইসমাইল ইসমাইল মারওয়াহ
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-মুয়াসির (বৈরুত - লেবানন)، দারুল ফিকর (দামেস্ক - সিরিয়া)
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর পৃষ্ঠপোষকতায়
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে মিল রয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: -)
شرح قواعد الإعراب
تأليف
محمد بن مصطفى القوجوي
(شيخ زاده المتوفى سنة 950 هـ)
কাওয়াইদুল ই'রাব-এর ব্যাখ্যা
গ্রন্থনায়
মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-কুজাভি
(শায়খ জাদাহ, মৃত্যু: ৯৫০ হিজরি)
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
هذا كتاب شيخ زاده: شرح قواعد الإعراب.
واعلم أن الشيخ لم يُصدّر رسالته بالحمد كما فعله غيره.
إمّا اكتفاءً بالبسملة، بناءً على أن المراد بالحمد الواقع بالحديث هو الوصف بالجميل، على جهة التعظيم والتَّبجيل، لا للحَمْدَلَةِ، على ما نصَّ عليه شارح "مسلم".
وإمّا هضمًا لنفسه، بأنّ كتابه هذا ليس ككتب السّلف حتى يسلك في سننهم ولا يلزم منه عدم الابتداء بالحمد مطلقًا، حتَى يكون بتركه أقطع لجواز إتيانه من غير أن يجعله جزءًا من الكتاب.
فقال:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ: الباء متعلقة بمحذوف تقديره: بسم الله أبدأ. وتقديم المعمول للدلالة على الإختصاص، أو متبرِّكًا باسم الله أبدًا. فعلى الأول يكون الباء للاستعانة، وعلى الثاني يكون للمصاحبة.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
এটি শায়খ জাদাহর কিতাব: শারহু কাওয়ায়িদিল ই’রাব (ব্যাকরণিক নিয়মের ব্যাখ্যা)।
জেনে রাখুন যে, শায়খ তাঁর পুস্তিকাটি অন্যদের মতো হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) দিয়ে শুরু করেননি।
এর কারণ হতে পারে কেবল বিসমিল্লাহর মাধ্যমেই তুষ্ট থাকা। এই ভিত্তির ওপর যে, হাদীসে বর্ণিত হামদ বা প্রশংসা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে সুন্দর গুণ বর্ণনা করা, কেবল 'আলহামদুলিল্লাহ' শব্দ উচ্চারণ করা নয়; যেমনটি 'মুসলিম' শরীফের ব্যাখ্যাকার সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
অথবা তিনি নিজের নফসকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এটি করেছেন, এই মনে করে যে তাঁর এই কিতাবটি পূর্ববর্তী সালাফদের কিতাবসমূহের মতো (মর্যাদাপূর্ণ) নয় যে তাঁদের পদ্ধতিই হুবহু অনুসরণ করতে হবে। এর মানে এই নয় যে তিনি একেবারেই হামদ পাঠ করেননি, যার ফলে এটি বরকতহীন বা অসম্পূর্ণ হয়ে যায়; বরং কিতাবের অংশ না বানিয়েই তিনি তা পাঠ করে থাকতে পারেন।
অতঃপর তিনি বললেন:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে: এখানে 'বা' অক্ষরটি একটি উহ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার সম্ভাব্য রূপ হলো: 'আল্লাহর নামে আমি শুরু করছি'। আর কর্মপদকে আগে আনা হয়েছে কেবল আল্লাহর জন্যই বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করার জন্য, অথবা 'আল্লাহর নামে বরকত গ্রহণ করে আমি শুরু করছি'—এমন অর্থ প্রকাশের জন্য। প্রথমটির ক্ষেত্রে 'বা' অক্ষরটি সাহায্য কামনার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে এটি সান্নিধ্য বা সঙ্গী হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
والاسم: مشتق من السُّمو عند البصريين، لكونه رفعةً وشعارًا للمسمّى، فحذف الآخر، وبُني الأوّل على السكون، فزيدت عليها همزةُ الوصل، إذ كان دأبهم أن يبتدئوا بالمتحرك، ويقفوا على الساكن.
وإذا وقعت في الدَّرْج لم يُحتج إلى زيادة شئ.
ومن السِّمة عند الكوفيين بمعنى العلامة فتاؤها عوض عن الواو كما في عِدة، فيكون أصله وسمًا، فحذفت الواو على غير القياس، وعوّضت همزة الوصل. وإنّما لم يكتب الألف كما هو وضع الخطّ لكثرة الإستعمال.
وتطويل [الباء] عوض عن الألف.
ومن لغاته أن يستغنى عن الهمزة بالتَّحريك، فقيل: سِمْوٌ، بكسر السين على القاعدة الممهّدة، أو بالضم ليدلَّ على الواو.
والله: قال بعضٌ:
إنّه علم لذات، واجب لأنّه يوصف، ولا يوصف به، ولأنه لابدّ له من اسمٍ يجري عليه صفاته، لا يصلح له مما يطلق عليه سواه، ولأنّه لو كان وصفًا لم يكن قوله: لا إله إلَّا الله توحيدًا؛ لأنه لم يمتنع من الشّركة.
এবং 'ইসম' (নাম) শব্দটি: বসরীয়দের মতে এটি 'সুমুও' (উচ্চতা) থেকে ব্যুৎপন্ন, যেহেতু এটি নামধারী সত্তার জন্য উচ্চতা ও পরিচায়ক চিহ্নস্বরূপ। এর শেষ বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং প্রথম বর্ণটিকে সুকুন করা হয়েছে; অতঃপর শুরুতে একটি হামজাতুল ওয়াসল যোগ করা হয়েছে, কেননা তাদের রীতি ছিল সচল বর্ণ দিয়ে শুরু করা এবং স্থির বর্ণের ওপর থামা।
আর যখন এটি শব্দের মাঝখানে বা বাক্যের প্রবাহে আসে, তখন কোনো কিছু অতিরিক্ত যোগ করার প্রয়োজন হয় না।
পক্ষান্তরে কুফীয়দের মতে এটি 'সিমা' (চিহ্ন) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ নিদর্শন; এর 'তা' বর্ণটি 'ওয়াও'-এর পরিবর্তে এসেছে, যেমনটি 'ইদ্দাহ' শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে। সুতরাং এর মূল রূপ ছিল 'ওয়াসমুন'। এরপর নিয়মের বহির্ভূতভাবে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার বদলে হামজাতুল ওয়াসল আনা হয়েছে। আর অধিক ব্যবহারের কারণে লিখনরীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এখানে আলিফ লেখা হয়নি।
এবং [বা] বর্ণটিকে দীর্ঘায়িত করা আলিফের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য।
এর ভাষাগত রূপভেদের মধ্যে একটি হলো হরকত ব্যবহারের মাধ্যমে হামজা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া; ফলে বলা হয়েছে: 'সিমউন', প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী সিন বর্ণে জের (কাসরা) যোগ করে, অথবা পেশ (দম্মা) যোগ করে যাতে তা 'ওয়াও'-এর প্রতি নির্দেশ করে।
এবং আল্লাহ শব্দ সম্পর্কে: কেউ কেউ বলেছেন:
নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর সত্তার জন্য নির্ধারিত একটি নাম, যা অপরিহার্য; কারণ আল্লাহকে গুণান্বিত করা যায়, কিন্তু এই নাম দিয়ে অন্য কাউকে গুণান্বিত করা যায় না। তাছাড়া তাঁর এমন একটি নাম থাকা আবশ্যক যার ওপর তাঁর গুণাবলি আরোপ করা হবে, আর তাঁর জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য নামগুলোর মধ্যে এটি ছাড়া অন্য কোনোটিই এই পদের যোগ্য নয়। অধিকন্তু, এটি যদি গুণবাচক শব্দ হতো তবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই'—এই বাক্যটি তাওহীদ বা একত্ববাদ সাব্যস্ত করত না; কারণ তখন এটি অংশীদারিত্ব বা শিরক হওয়ার সম্ভাবনা থেকে মুক্ত থাকত না।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقال (بعض): الأظهرُ أنّه وصفٌ في أصله، لكنّه لما غلب عليه بحيث لا يستعمل في غيره صار كالعلم، فأجري مجراه.
أصله إله، وهو اسم لكلِّ معبود، ثم غلب - (بحيث لا يستعمل في غيره) - على المعبود بالحقّ على وزن فِعال، بمعنى مَفْعُول، أي مألُوه.
واشتقاقه:
إمّا من أَلِهَ بالفتح، بمعنى عبد، أو بكسر بمعنى تحيّر، لأنّ العقولَ تتحيّر في معرفته.
أو من أَلَهْتُ إلى فلانٍ أي: سكَنْتُ. لأنّ القلوب تطمئن بذكره، وتسكن إلى معرفته. أو من أَلَهَ إذا فزع من أمرٍ نزل عليه، وألَّهَهُ غيره، أي: خلّصه من الحزن، لأن العائذ يُفزَع عليه.
أو من ألَهَ الفصيلُ إذا حَرَصَ على أُمِّه، لأنّ العباد يحرصون عليه بالتَّضرُّع والشّدائد.
أو من وَلِهَ، وهو أيضًا بمعنى تَحَيَّر، فكان أصله وِلَاه، بكسر الواو فقلبت الواو همزة لاستثقال الكسرة عليها، فحذفت الهمزة، وعوّض عنها الألف واللّام، ويدلّ عليه الجمع بحرف النداء والقراءة بالقطع في المنادى.
قال بعضٌ: دخلت عليه الألف واللّام، وحذفت الهمزة تخفيفًا لكثرته في الكلام، ولو كانتا عوضًا عنها لما اجتمعتا مع المعوّض عنه، وقطعت الهمزة في النّداء للزومها تفخيمًا لهذا الاسم.
وأمّا الجمع بينهما وبين حرف النّداء، لعدم الإذن الشرعي في إطلاق الأسماء المبهمة على الله تعالى.
এবং (কেউ কেউ) বলেছেন: প্রকাশ্য মত হলো, এটি মূলত একটি গুণবাচক শব্দ, কিন্তু যখন এটি এমনভাবে প্রাধান্য লাভ করেছে যে অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না, তখন এটি সংজ্ঞাবাচক নামের মতো হয়ে গেছে এবং সেই অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।
এর মূল হলো ইলাহ, যা প্রত্যেক উপাস্যের নাম। এরপর এটি—(অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত না হওয়ার মাধ্যমে)—সত্য উপাস্যের জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। এটি 'ফিয়াল' ছন্দে 'মাফউল' এর অর্থে, অর্থাৎ 'মালুহ' বা উপাসিত।
এর ব্যুৎপত্তি:
হয়তো এটি জবর বিশিষ্ট 'আলাহা' থেকে এসেছে, যার অর্থ ইবাদত করা, অথবা জের বিশিষ্ট 'আলিহা' থেকে এসেছে যার অর্থ বিস্ময় বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া, কারণ বুদ্ধি তাঁর পরিচিতি লাভে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে।
অথবা এটি 'আলাহতু ইলা ফুলান' থেকে এসেছে যার অর্থ: আমি স্থির হলাম। কারণ অন্তরসমূহ তাঁর স্মরণে প্রশান্তি লাভ করে এবং তাঁর পরিচয়ে স্থির হয়। অথবা এটি 'আলাহা' থেকে এসেছে যখন কেউ তার ওপর আপতিত কোনো বিপদে আতঙ্কিত হয়, আর অন্য কেউ তাকে উদ্ধার করে, অর্থাৎ: তাকে দুঃখ থেকে মুক্তি দেয়; কারণ আশ্রয়প্রার্থী বিপদে তাঁর দিকেই ধাবিত হয়।
অথবা এটি উটের বাচ্চার 'আলাহা' হওয়া থেকে এসেছে যখন সে তার মায়ের প্রতি অতি ব্যাকুল হয়, কারণ বান্দারা রোনাজারি ও বিপদের সময় তাঁর প্রতি অতি ব্যাকুল হয়।
অথবা এটি 'ওয়ালিহা' থেকে এসেছে, যা 'বিস্মিত হওয়া' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তখন এর মূল ছিল 'উইলাহ', ওয়াও বর্ণে জের থাকায় এবং ওয়াও-এর ওপর জের উচ্চারণ করা কঠিন মনে হওয়ায় ওয়াও-কে হামজায় পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপর হামজা বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে আলিফ ও লাম যুক্ত করা হয়েছে। আহ্বানের হরফের সাথে এর একত্র হওয়া এবং সম্বোধিত অবস্থায় হামজাকে স্পষ্টভাবে পাঠ করা এর প্রমাণ বহন করে।
কেউ কেউ বলেছেন: এতে আলিফ ও লাম যুক্ত হয়েছে এবং কথাবার্তায় এর অধিক ব্যবহারের কারণে সহজ করার জন্য হামজাকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। যদি আলিফ-লাম সেই হামজার পরিবর্তে হতো, তবে যার পরিবর্তে আনা হয়েছে তার সাথে সেগুলো একত্রিত হতো না। আর আহ্বানের সময় এই নামের মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্য হামজাকে স্পষ্টভাবে পড়া হয়।
আর এই নামের সাথে আহ্বানের হরফ একত্রে আসার কারণ হলো, মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অস্পষ্ট নাম ব্যবহারের কোনো শরয়ী অনুমতি না থাকা।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقيل: أصله لَاهَ، مصدر لَاهَ يَلِيْهُ لَيْهًا ولَاهًا، إذا احتجب وارتفع، لأنّ الله تعالى محجوب عن دَرْك البصائر، ومرتفع عن كلّ شيء، وعمّا لا يليق به.
وقيل: أصله لَاها بالسّريانية، فَعُرِّبَ بحذف الألف الأخيرة، وإدخال اللام عليه. وعلى جميع الوجوه أدغم "اللام الزائدة في الأصل في التلفُّظ دون الخطّ لكونها في الكلمتين.
الرّحمن الرَّحيم: اسمان بُنيا للمبالغة من رَحِمَ.
والرّحمة في اللّغة: رقة القلب، وهي من الأفعال النفسانيّة التي تستحيل من الله تعالى، فعبّر عنها بلازمها، وهو التفضُّل والإحسان.
الرَّحمن أبلغ من الرّحيم، لأنَّ زيادة (اللفظ) تدل على زيادة المعنى، وذلك يكون تارةً باعتبار الكميّة، أي باعتبار كثرة أفراد المُنْعم (عليه) وقلّتها.
فعلى هذا يقال: رَحْمنُ الدُّنيا لأنه للمؤمن والكافر، ورحيم الآخرة، لأنَّه يختصُ بالمؤمن. وتارة باعتبار الكيفية، فيقال: رَحْمن الدُّنيا والآخرة، ورحيم الدُّنيا، لأن النِّعم الأخرويّة كلّها عظامٌ، وأمّا النّعم الدّنيوية فقد تكون جليلةً وحقيرةً.
وإنّما قدّم الرّحمن، مع أنّ القياس يقتضي الترَّقِّي من الأدنى إلى الأعلى؛ لكونه صار كالعلم، من حيثُ إنه لا يوصف به غيره، أو لتقدير رحمة الدّنيا على الوجه الأوّل. وأصلُ الرّحمن: الرّحمان، حذفت الألف من الخطّ تخفيفًا، وقلبت اللام راءً لقرب مخرجهما، فأُدغم فيه في التلفظ دون الخطّ، لكونهما في الكلمتين.
وكذا الرّحيم.
বলা হয়েছে: এর মূল হলো ‘লাহা’, যা ‘লাহা ইয়ালিহু লাইহান ওয়া লাহান’-এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল; যখন কেউ পর্দার অন্তরালে যায় এবং উচ্চে উঠে, কেননা মহান আল্লাহ অন্তর্দৃষ্টির উপলব্ধি থেকে পর্দার অন্তরালে এবং তিনি প্রতিটি বস্তু থেকে এবং যা তাঁর শানের উপযোগী নয় তা থেকে উচ্চে অবস্থান করেন।
আরও বলা হয়েছে: সিরীয় ভাষায় এর মূল হলো ‘লাহা’, অতঃপর শেষ আলিফটি বিলুপ্ত করে এবং শুরুতে ‘লাম’ যুক্ত করে একে আরবি করা হয়েছে। সকল মতেই, উচ্চারণের ক্ষেত্রে মূলের অতিরিক্ত ‘লাম’টি সন্ধিভুক্ত হয়েছে, কিন্তু লিখনের ক্ষেত্রে নয়, কারণ সেগুলো দুটি পৃথক শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
আর-রহমান ও আর-রহীম: এই নাম দুটি অতিশয়তা বা আধিক্য বোঝাতে ‘রহিমা’ ধাতু থেকে গঠিত হয়েছে।
অভিধানে রহমত শব্দের অর্থ হলো অন্তরের কোমলতা; এটি এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব। তাই এর দ্বারা এর অনিবার্য ফলাফলকে বোঝানো হয়েছে, আর তা হলো অনুগ্রহ ও দয়া প্রদর্শন।
আর-রহমান শব্দটি আর-রহীম অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক; কারণ শব্দের কাঠামোগত বৃদ্ধি অর্থের আধিক্যকে নির্দেশ করে। আর এটি কখনো পরিমাণের বিচারে হয়ে থাকে, অর্থাৎ নিয়ামতপ্রাপ্তদের আধিক্য বা অল্পতার বিচারে।
এই ভিত্তিতে বলা হয়: দুনিয়ার রহমান, কারণ তিনি মুমিন ও কাফির উভয়ের প্রতি দয়ালু; এবং আখিরাতের রহীম, কারণ এটি মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট। আবার কখনো গুণের বিচারে বলা হয়: দুনিয়া ও আখিরাতের রহমান এবং দুনিয়ার রহীম; কেননা পরকালীন সকল নিয়ামতই অতি মহান, কিন্তু পার্থিব নিয়ামতসমূহ মহান কিংবা তুচ্ছ উভয়ই হতে পারে।
আর-রহমান শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে—যদিও যৌক্তিক নিয়ম অনুযায়ী নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরের দিকে অগ্রসর হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল—এর কারণ হলো এটি একটি বিশেষ সংজ্ঞাবাচক নামের মতো হয়ে গেছে, কেননা তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে এই গুণে গুণান্বিত করা যায় না; অথবা প্রথম মত অনুযায়ী দুনিয়ার রহমতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য। আর-রহমান-এর মূল রূপ ছিল ‘আর-রহমান’ (অতিরিক্ত আলিফসহ), সহজ করার উদ্দেশ্যে লিখনে আলিফটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর উচ্চারণের স্থান কাছাকাছি হওয়ার কারণে ‘লাম’-কে ‘রা’-তে রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং উচ্চারণে সন্ধিভুক্ত করা হয়েছে কিন্তু লিখনের ক্ষেত্রে নয়, কারণ শব্দদ্বয়ের মাঝে এই প্রক্রিয়াটি ঘটেছে।
আর-রহীম শব্দটির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
قال: ذُكر بلفظ الماضي إمّا للتّفاؤل، أو لكون تأليفه قبل الدّيباجة.
الشيخ الإمام: أي: المُقْتَدَى من حيث العلم والعمل، وإنما تسمى بهم شيخًا، لأنّهم يتخلّقون بأخلاق الشّيوخ؛ يقال للعالم: شيخ ولو كان شابًّا.
العالم العامل: صفة ثالثة له، وإنّما قُدّم على العمل لكونه سببًا له، وما وقع في بعض النُّسخ تقديم العامل عليه لكونه مقصودًا بالذات.
جمالُ الدّين: بالرّفع، بدل عن الشّيخ، أو عطف بيان له، وهو لقب.
أبو محمد: الذي اسمه عبد الله، وهو ابن يوسف بن هشام، ابنُ بالرّفع صفة جمال الدّين، ومضاف إلى هشام. وجملة: نفع الله المسلمين: دعاءٌ لهم بحسب الظاهر، ولنفسه في الحقيقة. بأن يكون علمه منُتفَعًا به.
ببركته: الظّنُّ أن الضمير راجع إلى ابن هشام أي: بخيره الكثير، وإنّما مدح نفسه مع أنّ المدح مذموم من الغير، فكيف من نفسه، ليعلم النّاظر (إليها) في أوّل الأمر إنّها من مؤلفات الثّقات، حتى لا يُنظر إلى رسالته بنظر الحقارة، على أن المراد منه الإخبار عن أنعم الله تعالى عليه، لا المدح، امتثالًا إلى أمر الله تعالى: {وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ}.
هذه: المشار إليه مقدر بمعرفة المقام، وهي الرّسالة.
وجملة ما في الكتاب من هذه محكيُّ القول.
তিনি বলেন: এটি অতীতকালের শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে হয় তো শুভ পরিণতির প্রত্যাশায়, অথবা এর সংকলন প্রস্তাবনার পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছিল বলে।
শাইখ আল-ইমাম: অর্থাৎ, জ্ঞান ও আমলের দিক থেকে তিনি অনুসরণযোগ্য। তাঁদের ‘শাইখ’ নামে অভিহিত করা হয় কারণ তাঁরা বয়োজ্যেষ্ঠদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেন; আলিম ব্যক্তিকে ‘শাইখ’ বলা হয় যদিও তিনি যুবক হয়ে থাকেন।
আল-আলিম আল-আমিল: এটি তাঁর তৃতীয় গুণ। আমলের ওপর জ্ঞানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কারণ জ্ঞান হলো আমলের কারণ বা হেতু। আর কিছু পাণ্ডুলিপিতে ‘আমিল’ শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে কারণ এটিই মূল উদ্দেশ্য।
জামালুদ্দীন: এটি পেশযুক্ত অবস্থায় এসেছে। এটি ‘শাইখ’ শব্দের বদল (পরিবর্ত) অথবা আতফে বায়ান (ব্যাখ্যামূলক সংযোগ)। এটি একটি উপাধি।
আবু মুহাম্মাদ: যাঁর নাম হলো আবদুল্লাহ, তিনি ইউসুফ ইবনে হিশামের পুত্র। ‘ইবন’ শব্দটি পেশযুক্ত অবস্থায় ‘জামালুদ্দীন’-এর বিশেষণ হয়েছে এবং হিশামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। আর ‘আল্লাহ মুসলিমদের উপকৃত করুন’ বাক্যটি বাহ্যিকভাবে তাদের জন্য দুআ হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি নিজের জন্যই; যেন তাঁর জ্ঞান দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে পারে।
তাঁর বরকতে: ধারণা করা হয় যে, সর্বনামটি ইবনে হিশামের দিকে ফিরছে। অর্থাৎ: তাঁর প্রভূত কল্যাণে। তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন অথচ অন্যের প্রশংসা করাই নিন্দনীয়, তাহলে নিজের পক্ষ থেকে তা কেমন হতে পারে? তিনি তা করেছেন যেন পাঠক প্রথম দর্শনেই বুঝতে পারেন যে এটি একজন নির্ভরযোগ্য লেখকের রচনা, যাতে তাঁর এই পুস্তিকাটিকে তুচ্ছ জ্ঞান করা না হয়। তা ছাড়া এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর ওপর আল্লাহ তাআলার নিয়ামতসমূহের বর্ণনা দেওয়া, আত্মপ্রশংসা নয়; যা আল্লাহ তাআলার নির্দেশের আনুগত্যস্বরূপ: “আর আপনি আপনার রবের নেয়ামত বর্ণনা করুন।”
হাযিহি (এই): প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এখানে নির্দেশিত বিষয়টি উহ্য রয়েছে, যা হলো এই পুস্তিকাটি।
আর এই কিতাবে ‘হাযিহি’ পর্যন্ত যা কিছু আছে তা সবই উদ্ধৃতিমূলক বক্তব্য।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
فوائد: جمع فائدة، وهي ما استفدتَ من عِلْم.
وقوله: جليلةٌ: أي عظيمة.
في قواعد: جمع قاعدة، وهو الأَسَاس. والمراد هنا القانون، وهو كلُّ أمر منطبق على جميع جزئياته، كقولنا: كل ما اشتمل على علم الفاعلية فهو مرفوع.
الإعراب: هو الذي آخر الحرف من الحركات والحروف المعهودة. وعند كثير من النُّجاة هو اختلاف آخر الكلمة، فعلى هذا الوجه يكون الإعراب أمرًا معقولًا، وإنّما سُمّي إعرابًا لكونه. مبينيًّا بمعنى الفاعلية والمفعولية والإضافة، من قولهم: أعربَ الرَّجل عن حجته إذا بيّنها.
أو لأنّ فيه أدلّةَ فساد الإلتباس من قولهم: أعْرَبَ إذا أزال العَرْبَ، وهو الفساد.
وجملة تقتفي: حال من هذه، أي تُتبْع تلك الرّسالة متأمّلَها، أي: من نظر إليها مستبينًا.
جادة الصّواب: أي: الطّريق المعظم الخالي عن الخطأ.
وتطلعه: المستتر راجع إلى الرّسالة، والبارز إلى المتأمّل.
في أَمَدٍ قصيرٍ الأَمَدُ: الغاية، والقصير ضدّ الطّويل، والمراد ههنا الزّمان القليل.
على نكت: جمع نُكته، وهي النقطة، استعيرت هنا لمعانٍ دقيقة.
كثيرة: التي كائنة من الأبواب، أي من أنواع الإعراب.
عَمِلْتُها: أي جمعتُها، والتعبير للمشاكلة.
عَمَلَ: بالنصب، أي كعمل.
ফাওয়ায়িদ: এটি ফায়িদার বহুবচন, আর তা হলো জ্ঞান থেকে আপনি যা অর্জন করেছেন।
এবং তাঁর উক্তি: জালিলাহ: অর্থাৎ সুমহান।
কাওয়ায়িদ-এ: এটি কায়িদাহ-এর বহুবচন, যার অর্থ হলো ভিত্তি। আর এখানে এর উদ্দেশ্য হলো কানুন বা নিয়ম, যা এমন একটি বিষয় যা তার সকল খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়; যেমন আমাদের কথা: প্রত্যেক শব্দ যা ফায়িল বা কর্তার চিহ্ন বহন করে তা মারফু (পেশযুক্ত) হয়।
ইরাব (শব্দবিভক্তি): এটি হলো বর্ণের শেষে থাকা পরিচিত হরকত (স্বরচিহ্ন) বা হরফ (বর্ণ)। অনেক ব্যাকরণবিদের মতে, এটি হলো শব্দের শেষের ভিন্নতা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরাব একটি বুদ্ধিগত বিষয়। এর নামকরণ ইরাব রাখা হয়েছে কারণ এটি ফায়িল (কর্তা), মাফউল (কর্ম) এবং ইদাফাত (সম্বন্ধ)-এর অর্থকে স্পষ্টকারী; যা তাদের এই কথা থেকে গৃহীত: ব্যক্তিটি তার প্রমাণকে 'আরাবা' (স্পষ্ট) করেছে, যখন সে তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করে।
অথবা এই কারণে যে, এতে অস্পষ্টতা দূর করার প্রমাণ রয়েছে; যা তাদের এই কথা থেকে গৃহীত: 'আরাবা' অর্থাৎ যখন সে গোলযোগ বা ত্রুটি দূর করে, আর 'আরব' অর্থ হলো গোলযোগ বা বিপর্যয়।
এবং 'তাকতাফি' বাক্যটি: এটি 'হাযিহি' থেকে 'হাল' (অবস্থা) হয়েছে, অর্থাৎ ওই পুস্তিকাটি তার মনোযোগী পাঠককে অনুসরণ করবে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি তা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করার জন্য দেখে।
জাদ্দাতুস সওয়াব: অর্থাৎ ভুলভ্রান্তি মুক্ত প্রধান পথ।
এবং 'তুতলিউহু': এর মধ্যকার লুকায়িত সর্বনামটি পুস্তিকার দিকে ফিরবে, আর দৃশ্যমান সর্বনামটি মনোযোগী পাঠকের দিকে ফিরবে।
অল্প সময়ের মধ্যে: 'আল-আমাদ' অর্থ হলো শেষ সীমা, আর 'কাসীর' হলো দীর্ঘের বিপরীত, এখানে এর উদ্দেশ্য হলো অল্প সময়।
নুকাত-এর ওপর: এটি নুকতাহ-এর বহুবচন, যার অর্থ হলো বিন্দু; এখানে এটি রূপক অর্থে সুক্ষ্ম অর্থসমূহের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রচুর: যা বিভিন্ন অধ্যায় থেকে সংগৃহীত, অর্থাৎ ইরাবের বিভিন্ন প্রকার থেকে।
'আমিলতুহা' (আমি তা তৈরি করেছি): অর্থাৎ আমি তা সংগ্রহ করেছি; আর এই অভিব্যক্তিটি ভাষাগত সামঞ্জস্যের (মুশাকলাহ) জন্য।
'আমালা': নাসব-এর সাথে (জবরযুক্ত), অর্থাৎ কোনো কাজের মতো।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
من طَبَّ لمن حَبَّ، وسميتها: قال المحشِّي [في] "الضوء": سمّى من الأفعال التي تتعدى إلى الثاني بواسطة الحرف، لكن يحذف اتّساعًا.
قال الجوهريُّ: سمّيت فلانًا زيدًا، وسمّيته بزيد [بمعنىً].
فمفعوله الأوّل الضمير الرّاجع إلى الرسالة، والثاني: بالإعراب وجهًا [وإنّما سمّيت به مع أنّ الاختلاف آخر الكلمة أو ما يوجد في آخر المعرب من الحركة، أو الحروف المعهودة مع اختلاف القولين للمبالغة، ويجوز أن يكون الوجهان المذكوران في تسميته للاختلاف بالإعراب] كائنًا عن قواعد الإعراب.
ومن الله: متَعلّق أستمدُّ، والتّقديم للتّخصيص، والاستمداد في اللُّغة طلبُ المدد، ثم استعير لمطلق الطّلب.
التوفيق: وهو استعداد الإقدام على الشيء، وقيل: جعل الله أفعالَ عباده موافقًا لما يحبُّه ويرضاه.
وقيل: هو موافقة تدبير العَبْد لتقدير الحقّ.
وقيل: هو الأمر المقرِّب إلى السّعادة الأبدية، والكرامة السّرمدية.
وقيل: جعل الأسباب موافقةً للمسبّبات.
যার জন্য ভালোবাসা তার জন্য নিরাময়, এবং আমি এর নামকরণ করেছি: 'আদ-দাও' গ্রন্থের টীকাকার বলেছেন: 'নামকরণ করা' (সাম্মা) এমন একটি ক্রিয়া যা অব্যয়ের (হরফ) মাধ্যমে দ্বিতীয় কর্মের (মাফউল) দিকে ধাবিত হয়, তবে ভাষাগত প্রশস্ততার কারণে তা বিলুপ্ত করা হয়।
আল-জাওহারী বলেছেন: আমি অমুকের নাম জায়েদ রেখেছি, এবং তাকে জায়েদ নামে অভিহিত করেছি [একই অর্থে]।
সুতরাং এর প্রথম কর্ম হলো সেই সর্বনাম যা রিসালাহ বা পত্রটির দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে, আর দ্বিতীয়টি হলো: 'ব্যাকরণিক পরিবর্তনের ধারায়' [এর নামকরণ মূলত এই নামেই করা হয়েছে যদিও শব্দের শেষে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, অথবা ই'রাবযুক্ত শব্দের শেষে যে হরকত বা পরিচিত বর্ণগুলো পাওয়া যায় তার ভিত্তিতে হয়, যা দুই মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও গুরুত্বারোপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; এবং এটিও সম্ভব যে, নামকরণে উল্লিখিত দুটি দিক ব্যাকরণিক নিয়মানুযায়ী ই’রাবের ভিন্নতার কারণেই হয়েছে]।
'এবং আল্লাহর নিকট থেকে': এটি 'আমি সাহায্য প্রার্থনা করি' পদের সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং (বাক্যে এর) অগ্রগমন করা হয়েছে নির্দিষ্টকরণের জন্য। আভিধানিক অর্থে 'ইস্তিমদাদ' হলো সাহায্য প্রার্থনা করা, পরবর্তীতে তা সাধারণভাবে যেকোনো কিছু প্রার্থনার অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
তাওফিক: এটি হলো কোনো কাজে প্রবৃত্ত হওয়ার প্রস্তুতি। আবার বলা হয়েছে: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাজসমূহকে তাঁর পছন্দ ও সন্তুষ্টির অনুকূলে করে দেওয়া।
আরও বলা হয়েছে: এটি হলো বান্দার পরিকল্পনার সাথে মহাসত্যের (আল্লাহর) নির্ধারণের বা তাকদিরের মিল হওয়া।
আরও বলা হয়েছে: এটি এমন এক বিষয় যা চিরস্থায়ী সুখ এবং অনন্ত মর্যাদার নিকটবর্তী করে।
আরও বলা হয়েছে: কারণসমূহকে ফলাফলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
والهدايَة: أي الدلالة الموصلة إلى المطلوب، على ما ذكره الزمخشري مستدلًا بقوله تعالى: {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ}.
وذكر الإمام الرّازي في "التفسير الكبير": هي الدّلالة على ما يوصل إلى المطلوب سواء كان أوُصِلَ إليه بالفعل أوّلا. واستدلّ بقوله تعالى: {وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ}.
والحقُّ أنها مستعملة في كلا المعنيين، لكن الاستعمال في معنى الدّلالة الموصلة بالفعل أكثر.
إلى أقوم الطريق: متعلّق إلى الهداية، أي أعدله.
بمنّهِ: متعلّق بأستمدّ، أي بإنعامه وكرمه.
وتنحصر بحسب تأليفه وترتيبه. في أربعة أبواب: الباب في الأصل مدخلُ البيت، وإنّما سمّي به لكون الدّخول في شموله بعد المجاوزة عنه، كما يُدخل في البيت بعد المجاوزة عن بابه. أصلُه: بَوَب، يدلُّ عليه مجيء جمعه [على] أبواب.
الأوّل: قال في "الصحاح": الأوّل نقيض الآخر، وأصله: أوْءَل على وزن أفْعَل مهموز الأوسط، قلبت الهمزة واوًا، وأدغمت. يدلُّ على ذلك قولهم: هذا أوّل منك. والجمع: الأوائل، والأوالي أيضًا على القلب.
হেদায়াত: অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় এমন পথপ্রদর্শন, যেমনটি যামাখশারী উল্লেখ করেছেন এবং মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল দিয়েছেন: "নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে পথপ্রদর্শন করতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন।"
ইমাম রাযী 'তাফসিরে কাবীর'-এ উল্লেখ করেছেন: এটি এমন বিষয়ের পথপ্রদর্শন যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়, চাই বাস্তবে সেখানে পৌঁছানো হোক বা না হোক। তিনি মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল দিয়েছেন: "আর সামুদ জাতির কথা যদি বলি, আমি তাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছিলাম।"
সত্য কথা হলো এটি উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়, তবে বাস্তবে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দেয় এমন পথপ্রদর্শনের অর্থে ব্যবহারই অধিক প্রচলিত।
সবচেয়ে সঠিক পথের দিকে: এটি 'হেদায়াত' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ সবচেয়ে ন্যায়সংগত পথের দিকে।
তাঁর অনুগ্রহে: এটি 'আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ তাঁর নেয়ামত ও করুণার মাধ্যমে।
এর সংকলন ও বিন্যাস অনুযায়ী এটি চারটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ। 'বাব' বা অধ্যায় মূলত ঘরের প্রবেশদ্বারকে বোঝায়, আর একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি অতিক্রম করার পরই এর বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়, যেমন কোনো ঘরের দরোজা অতিক্রম করার পর তাতে প্রবেশ করা হয়। এর মূল রূপ হলো 'বা-ওয়া-বা', এর বহুবচন 'আবেওয়াব' হওয়ার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়।
প্রথম: 'সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: প্রথম হলো শেষের বিপরীত, আর এর মূল রূপ হলো 'আওআল' যা 'আফআলা' ছন্দে গঠিত এবং এর মধ্যাক্ষরে হামযাহ রয়েছে, পরবর্তীতে হামযাহটিকে 'ওয়াও' বর্ণে পরিবর্তন করে সন্ধি করা হয়েছে। এটি প্রমাণিত হয় আরবদের এই উক্তি দ্বারা: "এটি তোমার চেয়ে অগ্রগামী।" এর বহুবচন হলো 'আওয়ািল', আবার বর্ণ বিপর্যয়ের কারণে 'আওয়ালি'-ও ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال قوم: أصلُه وَوّل على وزن فَوْعَل، وقلبت الواو الأولى همزةً، وإنّما لم تجمع على أَوَاوِل لاستثقالهم اجتماع الواوين بينهما ألف الجمع، وهو إذا جعلته صفة لم تصرفه، تقول: لقيته عامًا أوّل، وإذا لم تجعله صفة صرفته، تقول: لقيته عامًا أوّلًا، وتقول في المؤنّث: هي الأولى، والجمع الأُوَلُ، مثل: أُخرى وأُخَر، وكذلك لجماعة الرّجال من حيث التأنيث.
قال الشاعر:
عَوْدٌ عَلَى عَوْدٍ لأَقوامٍ أُوَلْ [الرجز]
একদল লোক বলেছেন: এর মূল ভিত্তি হলো 'ওয়াউওয়াল', যা 'ফাও'আল' ছন্দের ওজনে। প্রথম 'ওয়াও' বর্ণটিকে 'হামযা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। বহুবচনের ক্ষেত্রে একে 'আওয়াউয়িল' করা হয়নি কারণ বহুবচনের 'আলিফ'-এর দুই পাশে দু’টি 'ওয়াও'-এর সমাবেশকে তারা শ্রুতিকটু মনে করেছেন। যখন আপনি একে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করবেন, তখন আপনি একে রূপান্তরহীন রাখবেন; আপনি বলবেন: 'আমি তার সাথে প্রথম বছরে সাক্ষাৎ করেছি' (আমান আউওয়ালা)। আর যখন আপনি একে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করবেন না, তখন একে রূপান্তরযোগ্য করবেন; আপনি বলবেন: 'আমি তার সাথে প্রথম এক বছরে সাক্ষাৎ করেছি' (আমান আউওয়ালান)। স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: 'সে প্রথমা', আর এর বহুবচন হলো 'উওয়াল'; যেমন 'উখরা' ও 'উখার'। অনুরূপভাবে পুরুষদের দলের ক্ষেত্রেও স্ত্রীলিঙ্গের বিচারে এটি ব্যবহৃত হয়।
কবি বলেছেন:
পুরাতনের ওপর পুরাতনের পুনরাবৃত্তি প্রাচীন জাতিদের জন্য। [রাজায ছন্দ]
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
[الباب الأَوّل]
مع الباب الأوّل في
معرفة الجملة وأحكامها، وفيه، أي في هذا الباب.
أربع مسائل: إنّما قَدّم هذا الباب لأنّ المراد من هذه الرسالة بيان الإعراب، وهو لا يوجد إلّا في الكلام، فلذلك قدّم أحوال الجملة، فقال:
[معنى الجملة]المسألة الأولى في شرحها، أي في شرح الجملة.
اعلم: ذكر اعلم تنبيهٌ على أنّ ما بعده ممّا يجب الإصغاء [إليه]، كما في قوله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ}
إنّ اللفظ المفيد يُسَمّى كلامًا وجملة.
اعلم أنّ النحاة أطلقوا المفيد بالإشتراك على ما يقابل المهمل، حتى إنّ كل لفظ موضوع مفيد مفردًا كان أو مركبًا، وعلى ما يفيد فائدة جديدة، وعلى ما يصحُّ السكوت عليه، وفسَّروا صحة السّكوت، بأنّ الكلام لا يستتبع لفظًا آخر، انتظار المحكوم عليه وبه.
فمن ذهب إلى ترادف الجملة والكلام، وهو صاحب "المفصَّل"، وصاحب "اللُّباب"، وابن الحاجب لم يفرّق بين صحّة السّكوت وحُسْن السّكوت.
[প্রথম অধ্যায়]
প্রথম অধ্যায় প্রসঙ্গে:
বাক্য এবং এর বিধানাবলি পরিচিতি, আর এতে, অর্থাৎ এই অধ্যায়ে রয়েছে।
চারটি মাসআলা: তিনি এই অধ্যায়টিকে আগে নিয়ে এসেছেন কারণ এই রিসালাহ (পুস্তিকা) এর উদ্দেশ্য হলো ইরাব বর্ণনা করা, আর তা বাক্য (কালাম) ছাড়া পাওয়া যায় না। তাই তিনি বাক্যের অবস্থাসমূহ আগে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:
[জুমলা বা বাক্যের অর্থ]প্রথম মাসআলা এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে, অর্থাৎ জুমলা বা বাক্যের ব্যাখ্যা।
জেনে রেখো: 'জেনে রেখো' শব্দটির উল্লেখ একটি সতর্কতা যে এর পরে যা আসছে তা মনোযোগ সহকারে শোনা আবশ্যক, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।"
অর্থবোধক শব্দকে 'কালাম' এবং 'জুমলা' বলা হয়।
জেনে রেখো যে, ব্যাকরণবিদগণ 'মুফিদ' (অর্থবোধক) শব্দটি সাধারণভাবে এমন শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যা 'মুহমাল' (অর্থহীন) এর বিপরীত; এমনকি প্রতিটি অর্থবোধক শব্দই 'মুফিদ', তা একক শব্দ হোক বা যৌগিক। এছাড়া যা নতুন কোনো অর্থ প্রদান করে এবং যার ওপর থামা বা চুপ থাকা শুদ্ধ হয় তাকেও মুফিদ বলা হয়। তারা 'চুপ থাকা শুদ্ধ হওয়া'র ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে যে—বাক্যটি এমন হবে না যা উদ্দেশ্য এবং বিধেয় এর অপেক্ষায় অন্য কোনো শব্দের অনুগামী হবে।
সুতরাং যারা 'জুমলা' এবং 'কালাম'কে সমার্থক মনে করেন—যেমন 'আল-মুফাসসাল' এর লেখক, 'আল-লুবাব' এর লেখক এবং ইবনুল হাজিব—তারা 'চুপ থাকা শুদ্ধ হওয়া' এবং 'চুপ থাকা সুন্দর হওয়া' এর মধ্যে পার্থক্য করেননি।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فمن ذهب إلى عموم الجملة، وهو سائر النحاة، فرّق بين صحة السكوت [وحسن السكوت] بأن يقال: المراد بصحّة السكوت كونُ الكلام متضمّنًا للإسناد الأصلي، وكان مقصودًا لذاته.
فعلى هذا، اللفظ المفيد إذا كان مفسّرًا بصحّة السكوت يكون تعريفًا للجملة، وإذا كان مفسّرًا بحسن السكوت يكون تعريفًا للكلام.
ولذلك قال ابن هشام: ونعني بالفائدة.
سواء كان لذلك المفيد فائدة جديدة أو لا، فيندرج تحت تعريف الكلام، مثل: السماء فوقنا. هذا عند كثير من النُّحاة.
وأما عند سيبويه، وهو مختار أرباب المعاني، فالمفيد مفسّر بما يفيد فائدة جديدة، فمثل هذا المثال لا يكون كلامًا.
ما يَحْسُنُ السكوتُ عليه: أي يحسن سكوت المخاطب عليه، بحيث لا يحتاج إلى لفظ آخر ليفيد فائدة تامّة، فيندفع كلامُ بعض الفضلاء بأنّ المراد بالسّكوت سكوت المتكلم دون سكوت المخاطب، لأنّ المخاطب [قد] يتوقّف إلى لفظ آخر في بعض الكلام التّام.
وأنّ الجملة أعمُّ من الكلام فكلّ كلام جملة، ولا ينعكس، أي: كلُّ جملة كلامًا. ألا ترى أنّ نحو: قام زيد من قولك: إن قام زيد قام عمرو، يسمّى جملة ولا يسمّى كلامًا لأنّه لا يحسن السكوتُ عليه.
لما عرفت أن الكلام ما تضمّن للإسناد الأصلي، وكان مقصودًا لذاته، فالجملة الواقعة خبرًا، أو وصفًا، أو حالًا، أو شرطًا، أو صلة، ونحو ذلك جملةٌ وليست بكلام، لأنّ إسنادها لم يكن مقصودًا لذاته، والجملة ما تضمّن الإسناد الأصلى سواء كان مقصودًا لذاته أوْ لا.
অতএব যারা জুমলার (বাক্যের) ব্যাপকতার প্রবক্তা—এবং তারা হলেন সকল বৈয়াকরণ—তারা 'সুকুত (চুপ থাকা) সঠিক হওয়া' এবং ['সুকুত সুন্দর হওয়া']-এর মধ্যে এই বলে পার্থক্য করেন যে: সুকুত সঠিক হওয়া বলতে উদ্দেশ্য হলো কালামটি মূল ইসনাদ (অন্বয়) সম্বলিত হওয়া এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্দেশ্য হওয়া।
এই ভিত্তিতে, অর্থবোধক শব্দকে যদি 'সুকুত সঠিক হওয়া' দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, তবে তা জুমলার সংজ্ঞা হবে। আর যদি তাকে 'সুকুত সুন্দর হওয়া' দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, তবে তা কালামের সংজ্ঞা হবে।
এই কারণেই ইবনে হিশাম বলেছেন: আর ফায়দা (উপকারিতা) বলতে আমরা যা বোঝাতে চাচ্ছি।
সেই অর্থবোধক শব্দের নতুন কোনো ফায়দা থাকুক বা না থাকুক, তা কালামের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে; যেমন: "আকাশ আমাদের উপরে।" অধিকাংশ বৈয়াকরণের নিকট মতটি এমনই।
পক্ষান্তরে সিবওয়াইহ-এর নিকট—যা অর্থ বিশারদগণের (অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ) পছন্দনীয় মত—'মুফিদ' (অর্থবোধক) তাকেই বলা হয় যা নতুন কোনো ফায়দা প্রদান করে। ফলে এই ধরনের উদাহরণ কালাম হিসেবে গণ্য হবে না।
যার উপর সুকুত (চুপ থাকা) সুন্দর হয়: অর্থাৎ যার উপর শ্রোতার চুপ থাকা সুন্দর হয়, এমনভাবে যে পূর্ণাঙ্গ ফায়দা লাভের জন্য সে আর কোনো শব্দের মুখাপেক্ষী থাকে না। এর মাধ্যমে কিছু বিদগ্ধ পণ্ডিতের এই বক্তব্য খণ্ডিত হয়ে যায় যে, সুকুত দ্বারা বক্তার চুপ থাকা উদ্দেশ্য, শ্রোতার চুপ থাকা নয়। কারণ শ্রোতা কোনো কোনো পূর্ণাঙ্গ কালামের ক্ষেত্রেও অন্য কোনো শব্দের অপেক্ষায় থাকতে পারে।
আর জুমলা হলো কালামের চেয়েও ব্যাপক; তাই প্রত্যেক কালামই জুমলা, কিন্তু এর বিপরীতটি সত্য নয়—অর্থাৎ প্রত্যেক জুমলাই কালাম নয়। আপনি কি দেখেন না যে, আপনার উক্তি: "যদি যাইদ দাঁড়ায় তবে আমর দাঁড়াবে"-এর মধ্যে "যাইদ দাঁড়িয়েছে" অংশটিকে জুমলা বলা হয় কিন্তু কালাম বলা হয় না, কারণ এর উপর চুপ থাকা সুন্দর নয়।
যেহেতু আপনি জেনেছেন যে, কালাম হলো যা মূল ইসনাদ ধারণ করে এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্দেশ্য হয়, তাই যে জুমলা খবর (সংবাদ), সিফাত (গুণ), হাল (অবস্থা), শর্ত বা সিলাহ (সম্বন্ধ) ইত্যাদি হিসেবে আসে, তা জুমলা হিসেবে গণ্য হলেও কালাম নয়। কারণ তার ইসনাদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্দেশ্য ছিল না। আর জুমলা হলো যা মূল ইসনাদ ধারণ করে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্দেশ্য হোক বা না হোক।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فالمصدر واسم الفاعل، واسم المفعول، والصفة المشبهة، وأفعل التَّفضيل ليس كلامًا ولا جملة، لأنّ إسنادها ليس بأصليّ، لأنها شبيهة بالخالي من الضمير، لعدم التغيّر في المتكلم والغيبة والخطاب، مثلًا تقول: أنا ضارب، وأنت ضارب، وهو ضارب، كما تقول: هو رجل، وأنا رجل، وأنت رجل.
فلذلك كان إسنادها عارضيًا لا أصليًا.
ثم الجملة على سبيل الإطلاق من غير ملاحظة مادة الافتراق.
وتسمى اسمية إن بدأت باسم صريح.
قدّم الاسمية لبساطة الاسم، وتَركُّبِ الفعل كما فعل بعض النحاة. أو للاحتراز من فصلٍ بين القسمين بدفع سؤالٍ مقدّر وهو قوله: لأن التقدير. . . إلخ.
وإن كان حقّ الفعل التقديم لأصالته في الإسناد، كزيدٌ قائمٌ، يجوز رفع زيد على سبيل الحكاية، وجرّه بالكاف، لكن الأوّل هو الأفصح.
وإنّ زيدًا قائمٌ، وهل زيدٌ قائمٌ، وما زيدٌ قائمًا: أي ليس زيد قائمًا، ولمّا كان ابتداء بعض الجملة الاسمية بالحروف مع أنها اسمية أورد أمثلة لبيان عدم التفاوت في الجملة التي بدأت بالحرف، سواء كان ذلك الحرف عاملًا أوْ لا، لأنّ المراد بالابتداء الابتداء الذي له مدخل في الإسناد.
وفعليةً بالنصب عطف على اسمية، إن بُدئت بفعل، هذا حصر حقيقي إن كان مذهبه كمذهب ابن الحاجب، وهو أن الجملة إمّا جملة اسميّة أو فعلية فقط، والشرطية تدخل في الفعلية، وكذا الظرفية عند أكثر البصريّة، وهم الذين قدروا الفعلَ في الظروف، وادّعائي إن كان مذهبه كمذهب الزمخشري، وهو أن الجملة أربعة، تنبيهًا على أنهما أصلان بالنسبة إلى غيرهما، لكنّ الأوّل أوْلى لدلالة السّياق عليه كقام زيد واعلم أنّ المصنّف لم يذكر مثالًا من مثل: أقائم الزيدان، وهيهات الأمر، وشتان ما بينهما، لا للاسمية ولا للفعلية، لوجود
সুতরাং মাসদার, ইসম ফায়েল, ইসম মাফউল, সিফাতে মুশাব্বাহা এবং আফআলে তাফদিল কোনো কালাম বা জুমলা (বাক্য) নয়। কারণ এগুলোর ইসনাদ (সম্পর্কায়ন) মৌলিক নয়, যেহেতু এগুলো সর্বনামহীন শব্দের সদৃশ। কারণ বক্তা, অনুপস্থিত ব্যক্তি বা সম্বোধনকারীর ক্ষেত্রে এগুলোর কোনো পরিবর্তন হয় না। যেমন আপনি বলেন: আমি প্রহারকারী, তুমি প্রহারকারী, সে প্রহারকারী, ঠিক যেমন আপনি বলেন: সে একজন ব্যক্তি, আমি একজন ব্যক্তি, তুমি একজন ব্যক্তি।
এই কারণেই এগুলোর ইসনাদ আপতিক, মৌলিক নয়।
এরপর পার্থক্যের বিষয়বস্তু বিবেচনা না করেই সাধারণভাবে জুমলা (এর পরিচয় প্রদান করা হয়েছে)।
একে জুমলা ইসমিয়া বলা হয় যদি তা স্পষ্ট ইসম (বিশেষ্য) দ্বারা শুরু হয়।
কিছু ব্যাকরণবিদের ন্যায় তিনি ইসমের সরলতা এবং ফেলের (ক্রিয়া) যৌগিক গঠনের কারণে ইসমিয়াকে আগে উল্লেখ করেছেন। অথবা একটি সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর প্রদানের মাধ্যমে দুই প্রকারের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করা থেকে বাঁচার জন্য, আর তা হলো তাঁর বক্তব্য: 'যেহেতু অনুমানটি হলো...' ইত্যাদি।
যদিও ইসনাদের ক্ষেত্রে মৌলিকত্বের কারণে ফেল আগে আসার দাবি রাখে, তবুও যেমন 'যাইদুন ক্বয়িমুন'—এক্ষেত্রে 'যাইদ' শব্দটিকে হিকায়াত বা উদ্ধৃতি হিসেবে রফা (পেশ) প্রদান করা জায়েজ, আবার কাফ বর্ণ দ্বারা মাজরুর (জের) করাও সম্ভব, তবে প্রথমটিই অধিক বিশুদ্ধ।
এবং 'ইন্না যাইদান ক্বয়িমুন', 'হাল যাইদুন ক্বয়িমুন' ও 'মা যাইদুন ক্বয়িমান' অর্থাৎ 'লাইসা যাইদুন ক্বয়িমান'। যেহেতু কিছু জুমলা ইসমিয়া হরফ (অব্যয়) দিয়ে শুরু হওয়া সত্ত্বেও তা জুমলা ইসমিয়াই থাকে, তাই তিনি ওইসব জুমলার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য উদাহরণগুলো পেশ করেছেন যা হরফ দ্বারা শুরু হয়; চাই সেই হরফটি আমলকারী হোক বা না হোক। কারণ ইবতিদা (শুরু) বলতে এমন শুরুকে বোঝানো হয়েছে যার ইসনাদের ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে।
আর 'ফি'লিয়্যাতান' শব্দটি নসব (যবর) সহকারে 'ইসমিয়্যাহ' শব্দের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে, (অর্থাৎ) যদি বাক্যটি ফেল দ্বারা শুরু হয়। যদি তাঁর মাযহাব ইবনে হাজিবের মাযহাবের মতো হয়, তবে এটি প্রকৃত সীমাবদ্ধকরণ। আর সেটি হলো জুমলা কেবল ইসমিয়া অথবা কেবল ফি'লিয়া। শর্তবাচক বাক্য ফি'লিয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং অধিকাংশ বসরী ব্যাকরণবিদের মতে যরফ-বাচক বাক্যও তাই, আর তারাই যরফের মধ্যে ফেল ঊহ্য ধরেন। কিন্তু যদি তাঁর মাযহাব যামাখশারির মাযহাবের মতো হয়, তবে এটি রূপক সীমাবদ্ধকরণ; তাঁর মতে জুমলা চার প্রকার। এটি এই বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে, অন্য প্রকারগুলোর তুলনায় এই দুটি হলো মূল। তবে পূর্বাপর বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম মতটিই অধিকতর উত্তম, যেমন 'ক্বমা যাইদুন'। জেনে রাখুন যে, লেখক 'আক্বয়িমুন আয-যাইদানি', 'হায়হাতা আল-আমর' এবং 'শাত্তানা মা বাইনাহুমা'—এই জাতীয় কোনো উদাহরণ ইসমিয়া বা ফি'লিয়া কোনোটির জন্যই উল্লেখ করেননি, কারণ সেখানে বিদ্যমান রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الاختلاف في كونها اسمية وفعلية، فإنها جملة اسمية عند الجمهور، وجملة فعلية عند صاحب "اللباب"، وهو صاحب "الضوء"، لأن الجملة الفعلية عندما لا يكون المسند فيه مؤخرًا عن المسند إليه لا لفظًا ولا تقديرًا، ولم يسدّ مسدّ المسند ظرف أو ما جرى مجراه، سواء كان المسند فعلًا، أو اسمًا، أو اسم فعل.
وهل قام زيد، سبق وجه كونها من الجملة الفعلية. وزيدًا ضربته، ويا عبد الله ولمّا كان في هذين المثالين نوع توهمٍ لم يُدفع بمجرد إيراد المثال، رفعه بقوله: لأنّ التقدير: ضربتُ زيدًا ضربته، لأنّ العامل مضمر على شريطة التفسير، فيكون في حكم الملفوظ مقيدًا بالفعل على ذلك التقدير.
وأدعو عبد اللهِ، لعل وجه تعبير المصنف عن التقدير بأدعو عبدَ اللهِ، عازفًا عن حرف النداء اختيار المبرد، وهو أنّ حرف النداء يَسُدُّ مَسَدَّ الفعل، والفاعل مقدّر، فإذا عُبّر عن التقدير بـ (يا) أدعو يلزم ذكرُ النائب والمنوب. فعلى مذهبه يكون أحد جزئي الجملة حرف النداء، والآخر الفاعل المقدّر.
وأمّا عند سيبويه الجملة هو الفعل المقدّر بين حرف النّداء والمنادى وهو أدعو، والآخر الضمير المستتر فيه، فيكون أصله: يا عبد الله، فحذف الفعل حذفًا لازمًا لكثرة استعماله، ولدلالة حرف النداء عليه، وإفادته فائدته، فيكون جزء الجملة هو الفعل والفاعل المقدّرين.
এটি ইসমিয়্যাহ নাকি ফে'লিয়্যাহ (বিশেষ্যমূলক নাকি ক্রিয়ামূলক) বাক্য হবে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। জমহুর (অধিকাংশ) আলেমদের মতে এটি একটি জুমলা ইসমিয়্যাহ, আর 'আল-লুবাব' গ্রন্থের লেখক—যিনি 'আদ-দউ' গ্রন্থের রচয়িতা—তাঁর মতে এটি জুমলা ফে'লিয়্যাহ। কারণ, জুমলা ফে'লিয়্যাহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো মুসনাদ (বিধেয়) যেন মুসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য) থেকে শাব্দিক বা উহ্য কোনোভাবেই পরে না থাকে, এবং মুসনাদের স্থলাভিষিক্ত কোনো জরফ (অধিকরণ) বা তদ্রূপ কিছু না থাকে; চাই সেই মুসনাদটি কোনো ক্রিয়া, বিশেষ্য বা ইসমুল ফে'ল (ক্রিয়া-সদৃশ বিশেষ্য) যাই হোক না কেন।
'হাল কমা যাইদুন' (যাইদ কি দাঁড়িয়েছে?) বাক্যটি জুমলা ফে'লিয়্যাহ হওয়ার কারণ ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। আর 'যাইদান দরাবতুহু' (যাইদকে আমি প্রহার করেছি) এবং 'ইয়া আব্দুল্লাহ' (হে আল্লাহর বান্দা)—যেহেতু এই দুটি উদাহরণের ক্ষেত্রে এক ধরণের সংশয় তৈরি হওয়ার অবকাশ ছিল যা কেবল উদাহরণ পেশ করার মাধ্যমেই নিরসন হয় না, তাই লেখক তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেই সংশয় দূর করেছেন: "কারণ এর উহ্য রূপ হলো 'দরাবতু যাইদান দরাবতুহু' (আমি যাইদকে প্রহার করেছি তাকে প্রহার করেছি), কারণ এখানে আমিলটি (ক্রিয়াটি) শর্তীয় ব্যাখ্যার ভিত্তিতে উহ্য রয়েছে। ফলে সেই উহ্য রূপের বিবেচনায় এটি উচ্চারিত ও ক্রিয়া দ্বারা সীমাবদ্ধ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে।"
এবং 'আদ'উ আব্দুল্লাহ' (আমি আব্দুল্লাহকে ডাকছি)। লেখক সম্ভবত নিদা (সম্বোধন) অব্যয় পরিহার করে মুবাররাদের পছন্দনীয় মতানুসারে 'আদ'উ আব্দুল্লাহ' শব্দে উহ্য রূপটি প্রকাশ করেছেন। মুবাররাদের মত হলো, নিদা অব্যয়টি মূলত ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয় এবং এখানে ফায়িল (কর্তা) উহ্য থাকে। সুতরাং যদি উহ্য রূপকে 'ইয়া' (হে) এবং 'আদ'উ' (আমি ডাকছি) উভয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তবে স্থলাভিষিক্ত এবং যার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে—উভয়ের উল্লেখ আবশ্যক হয়ে পড়ে। অতএব, তাঁর মতানুসারে বাক্যের দুটি অংশের একটি হবে নিদা অব্যয় এবং অপরটি হবে উহ্য ফায়িল।
আর সিবওয়াইহ-এর মতে, জুমলা বা বাক্যটি হলো নিদা অব্যয় এবং মুনাদা (যাকে ডাকা হচ্ছে)-এর মধ্যবর্তী একটি উহ্য ক্রিয়া, যা হলো 'আদ'উ' (আমি ডাকছি), এবং অপর অংশটি হলো এর মধ্যে থাকা গোপন সর্বনাম (ফায়িল)। সুতরাং এর মূল রূপ ছিল: 'ইয়া আব্দুল্লাহ'। অতঃপর অত্যধিক ব্যবহারের কারণে এবং নিদা অব্যয়টি সেই ক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত প্রদান ও একই অর্থ বহন করার কারণে ক্রিয়াটিকে বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বাক্যের অংশ দুটি হবে সেই উহ্য ক্রিয়া ও উহ্য ফায়িল।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال أبو علي الفارسي: إن حرف النّداء اسم فعل، فيكون أحد جزئي الجملة (حينئذ) حرف النّداء، والآخر الضمير المستتر فيه، فعلى مذهبه كونها من الجملة الفعلية على رأي صاحب "اللُّباب".
ولمّا فرغ من بيان الجملة وبعض أحكامها، شرع في بيان التّسمية بالكبرى والصغرى فقال:
وإذا قيل: زيدٌ أبوهُ غلامُه منطلقٌ، فزيدٌ مبتدأ، وأبوه مبتدأ ثانٍ، وغلامُه مبتدأ ثالث، ومنطلقٌ خبر الثالث، [وهو غلامه].
والثالث وخبرُه: بالرفع معطوف على الثالث، ويجوز النَّصب على أن يكون الواو بمعنى مع، خبر الثاني، والثاني وخبره: وإعرابه كإعراب سابقه خبر الأول، وهو زيد. ويسمّى المجموع [جملة] كبرى لكونها أصلًا، ومشتملة على الكثير، وكبرى تأنيث الأكبر. وأفعل التفضيل المجرّد عن حرف التعريف والإضافة إذا جرّد عن معنى التفضيل جاز جمعه، وإذا جاز جمعه جاز تأنيثه.
وغلامه منطلق جملة صغرى: لكونها قليلة، وتابعة للجملة المتقدّمة.
وأبوه غلامه منطلق جملة كبرى بالنسبة إلى غلامه منطلق، وصفرى بالنسبة إلى زيد أبوه غلامه منطلق.
فتكون هذه الجملة ذات وجهين، ويقال: جملة وسطى.
وهذا الاصطلاح غير اصطلاح المنطقيين في إطلاق الصغرى والكبرى، لأنّهم اعتبروا الأهميّة والأخصيّة بخلاف النحويين، فإنّهم اعتبروا الأصلية والتّابعية.
আবু আলী আল-ফারিসি বলেছেন: নিশ্চয়ই নিদা-র বর্ণ (আহ্বানসূচক অব্যয়) হলো একটি 'ইসমু ফিল' (ক্রিয়াসূচক বিশেষ্য), ফলে (এমতাবস্থায়) বাক্যের দুই অংশের একটি হবে নিদা-র বর্ণটি এবং অন্যটি হবে তার মধ্যে লুকায়িত সর্বনাম। সুতরাং তাঁর মাযহাব অনুযায়ী এটি 'আল-লুবাব' গ্রন্থের লেখকের মতানুসারে জুমলা ফিলিয়্যাহ-র (ক্রিয়াসূচক বাক্য) অন্তর্ভুক্ত হবে।
যখন তিনি বাক্য এবং তার কিছু বিধান বর্ণনা শেষ করলেন, তখন তিনি 'কুবরা' (বড়) এবং 'সুগরা' (ছোট) নামকরণের বর্ণনায় প্রবৃত্ত হলেন এবং বললেন:
এবং যখন বলা হয়: 'যাইদুন আবুহু গুলামুহু মুনতালিকুন' (যাইদ, তার পিতা, তার গোলাম প্রস্থানকারী), তখন 'যাইদ' হলো মুবতাদা, 'আবুহু' হলো দ্বিতীয় মুবতাদা, 'গুলামুহু' হলো তৃতীয় মুবতাদা এবং 'মুনতালিকুন' হলো তৃতীয়টির খবর, [আর তা হলো গুলামুহু]।
তৃতীয়টি এবং তার খবর: রফ্ (পেশ) অবস্থায় এটি তৃতীয়টির ওপর আতফ হবে; আবার নাসব (যবর) হওয়াও জায়েয 'ওয়াও' বর্ণটিকে 'মা'আ' (সাথে) অর্থে ধরে নিয়ে। এটি হলো দ্বিতীয়টির খবর। আর দ্বিতীয়টি এবং তার খবর: এবং এর ইরাব তার পূর্ববর্তিটির ইরাবের ন্যায় প্রথমটির খবর হবে, আর তা হলো যাইদ। এবং এই সমষ্টিকে 'জুমলা কুবরা' (বড় বাক্য) বলা হয় এর মূল হওয়ার কারণে এবং এটি অনেক কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে। আর 'কুবরা' শব্দটি 'আকবার'-এর স্ত্রীলিঙ্গ। আর তারিফ (আলিফ-লাম) এবং ইদাফাত (সম্বন্ধ) হতে মুক্ত 'আফআলুত তাফদিল' যখন শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের অর্থ হতে মুক্ত হয়, তখন তার বহুবচন হওয়া জায়েয, আর যখন বহুবচন হওয়া জায়েয হয়, তখন তার স্ত্রীলিঙ্গ হওয়াও জায়েয হয়।
'গুলামুহু মুনতালিকুন' হলো জুমলা সুগরা (ছোট বাক্য): এটি সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে এবং পূর্ববর্তী বাক্যের অনুগামী হওয়ার কারণে।
'আবুহু গুলামুহু মুনতালিকুন' হলো 'গুলামুহু মুনতালিকুন'-এর তুলনায় জুমলা কুবরা, এবং 'যাইদুন আবুহু গুলামুহু মুনতালিকুন'-এর তুলনায় জুমলা সুগরা।
সুতরাং এই বাক্যটি দ্বিমুখী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হবে এবং একে 'জুমলা উসতা' (মধ্যম বাক্য) বলা হয়।
আর এই পরিভাষাটি সুগরা এবং কুবরা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তিবিদদের পরিভাষা হতে ভিন্ন; কারণ তাঁরা গুরুত্ব এবং বিশেষত্বকে বিবেচনা করেছেন, কিন্তু ব্যাকরণবিদগণ এর বিপরীত করেছেন, কেননা তাঁরা মৌলিকতা এবং অনুগামিতাকে বিবেচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومثله: أي مثل زيد أبوه غلامه منطلق، فمثل مبتدأ، وخبره: {لَكِنَّا هُوَ اللَّهُ رَبِّي} إذ الأصل: لكن أنا هو الله ربّي، فأُلقيت حركةُ الهمزة على النُّون، وقيل: حذفت حذفًا، فتلاقت النُّونان فأُدغمت.
فأنا مبتدأ، وهو مبتدأ ثانٍ، والله مبتدأ ثالث، وربّي خبر المبتدأ الثالث، والعائد فيه الياء، والثالث مع خبره خبر الثانى، والثاني مع خبره خبر الأوّل، على منوال: زيد أبوه غلامه منطلق.
ويجوز أن يكون هو مبتدأً ثانيًا، والله: بدلًا منه، وربّي خبر هو، وهو مع خبره خبر أنا. وإنّما قال: إذ الأصل لكن أنا لوجوهٍ.
الأوّل: أن تكون لكن بغير واو، لأنها لو كانت مشدّدة تكون من حروف المشبهة بالفعل، فالوجه فيها ذكر الواو.
وإن كانت مخفّفة تكون من حروف العطف، ولا يجوز إعمالُها إلا عند الأخفش، ويونس، ولا شاهد لهما، كذا في "شرح اللّباب".
فالوجه فيها ترك الواو، وإن كان الوجهان جائزين فيهما.
والثاني: أنّ أكثر القراء أثبتوا الألف في الوقف، وابن عامر ويعقوب أثبتا الألف
এবং এর উদাহরণ হলো: অর্থাৎ 'জায়েদ তার বাবার গোলাম প্রস্থানকারী' এর মতো। এখানে 'উদাহরণ' শব্দটি মুবতাদা, আর এর খবর হলো: {কিন্তু তিনি আল্লাহ আমার রব}। কারণ এর মূল রূপ ছিল: 'লাকিন আনা হুয়াল্লাহু রাব্বি', অতঃপর হামযার হরকত নুন বর্ণের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: হামযাকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়েছে, ফলে দুটি নুন একত্রে মিলিত হয়েছে এবং তাদের ইদগাম করা হয়েছে।
সুতরাং 'আনা' হলো মুবতাদা, 'হুয়া' হলো দ্বিতীয় মুবতাদা, 'আল্লাহ' হলো তৃতীয় মুবতাদা এবং 'রাব্বি' হলো তৃতীয় মুবতাদার খবর। এতে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম হলো 'ইয়া'। আর তৃতীয় মুবতাদা তার খবরসহ মিলে দ্বিতীয় মুবতাদার খবর হয়েছে, এবং দ্বিতীয় মুবতাদা তার খবরসহ মিলে প্রথম মুবতাদার খবর হয়েছে; 'জায়েদ তার বাবার গোলাম প্রস্থানকারী' বাক্যটির বিন্যাস অনুযায়ী।
আরও বৈধ আছে যে, 'হুয়া' হবে দ্বিতীয় মুবতাদা, 'আল্লাহ' হবে তার বদল, আর 'রাব্বি' হবে 'হুয়া'-র খবর। তখন 'হুয়া' তার খবরসহ মিলে 'আনা'-র খবর হবে। তিনি যে বলেছেন—'কেননা এর মূল হলো লাকিন আনা'—তা কয়েকটি কারণে।
প্রথমত: 'লাকিন' শব্দটি 'ওয়াও' বর্ণ ব্যতিরেকে হওয়া। কারণ যদি এটি তাশদীদযুক্ত হতো, তবে এটি হুরুফে মুশাব্বাহ বিল ফিলের অন্তর্ভুক্ত হতো, আর সেক্ষেত্রে এতে 'ওয়াও' উল্লেখ করাই ছিল উত্তম পদ্ধতি।
আর যদি এটি তাশদীদবিহীন হয়, তবে তা হুরুফে আতফ (সংযোজক অব্যয়) হবে। আখফাশ এবং ইউনুস ব্যতীত অন্য কারো মতে একে আমল দান করা বৈধ নয়, অথচ তাদের সপক্ষে কোনো কাব্যিক বা ভাষাগত প্রমাণ নেই। 'শারহুল লুবাব' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
সুতরাং এক্ষেত্রে 'ওয়াও' বর্জন করাই উত্তম পদ্ধতি, যদিও উভয় ক্ষেত্রে উভয় পদ্ধতিই বৈধ।
দ্বিতীয়ত: অধিকাংশ ক্বারী ওয়াকফ করার সময় আলিফকে বহাল রেখেছেন, আর ইবনে আমির ও ইয়াকুব আলিফকে বহাল রেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في الوصل أيضًا، ولو كانت مشدّدة في الأصل لما جاز إثباتها.
والوجه الثالث: ما ذكره المصنّف وهو قوله: وإلا لقيل لكنّه، لأنّ الضمير المرفوع لا يقع بعد لكنّ، ولا يستقيم تقدير ضمير الشّأن، ليكون اسم لكنّ، وقوله: هو الله ربي خبره، لأنّ حذف ضمير الشأن منصوبًا ضعيف إلا مع أنْ المخففة المفتوحة. فإنّ الحذفَ فيها لازم على ما صرّحوا به في كتبهم. فقوله: إلّا ليست للاستثناء، بل مركّب من "إنْ" و"لا" فيكون معناه وإن لم يكن أصله لكن أنا، لقيل لكنّه يكون أكثر استعمالها بالواو وحروف الاستثناء، ولا يستعمل بالواو إلّا أن يكون الاستثناء مكرّرًا نحو:
ما جاءني القومُ إلّا زيدًا وإلّا عمرًا، وقد يستعمل بدون الواو، في قوله تعالى: {إِلَّا تَفْعَلُوهُ} أي: أن لا تفعلوه، فعلى هذا يفرّق من الاستثناء بقرينة المقام، فاحفظه فإنّه جديد جيد صحيح.
মিলানোর ক্ষেত্রেও (ওয়াসল), আর যদি এটি মূলত তাশদীদযুক্ত হতো, তবে একে বহাল রাখা জায়েয হতো না।
এবং তৃতীয় দিকটি হলো: যা গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো তাঁর কথা: অন্যথায় 'লাকিন্নাহু' বলা হতো, কারণ মারফু যমীর (কর্তৃকারকীয় সর্বনাম) 'লাকিন্না'-এর পরে আসে না। আর এখানে যমীরে শান-কে (অবস্থাজ্ঞাপক সর্বনাম) 'লাকিন্না'-এর ইসম হওয়ার জন্য উহ্য ধরাও সঠিক হয় না, এবং তাঁর কথা 'তিনিই আল্লাহ আমার প্রতিপালক' সেটির খবর হওয়ার জন্যও না। কারণ মানসুব (কর্মকারকীয়) অবস্থায় যমীরে শান বিলুপ্ত করা দুর্বল, কেবল জবরযুক্ত হালকা 'আন'-এর ক্ষেত্র ব্যতীত। কেননা ব্যাকরণবিদগণ তাঁদের কিতাবসমূহে যা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন তা অনুযায়ী এতে বিলুপ্তি আবশ্যক। সুতরাং তাঁর কথা: 'ইল্লা' এখানে ব্যতিরেকের (ইস্তিসনা) জন্য নয়, বরং এটি 'ইন' এবং 'লা'-এর সমন্বয়ে গঠিত। ফলে এর অর্থ দাঁড়াবে: আর যদি এর মূল 'লাকিন আনা' না হতো, তবে অবশ্যই 'লাকিন্নাহু' বলা হতো। আর ইস্তিসনার ব্যবহার 'ওয়াও' এবং ব্যতিরেকমূলক হরফসমূহের সাথে অধিক হয়ে থাকে। আর ব্যতিরেক পুনরাবৃত্ত না হওয়া পর্যন্ত 'ওয়াও'-এর সাথে এর ব্যবহার হয় না, যেমন:
আমার নিকট জায়েদ এবং আমর ব্যতীত কওম আসেনি। আর কখনও 'ওয়াও' ছাড়াই ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "যদি তোমরা তা না করো," অর্থাৎ "যদি তোমরা না করো।" সুতরাং এই হিসেবে অনুষঙ্গের (মাকাম) ইংগিত দ্বারা একে ব্যতিরেক থেকে পৃথক করা হবে। অতএব এটি সংরক্ষণ করুন, কারণ এটি নতুন, চমৎকার এবং সঠিক।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাওয়াইদিল ইবরাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[الجمل التي لها محل من الإعراب]المسألة الثانية: في الجملة التي لها محل من الإعراب:
أي لو وقع في موضعها مفرد لظهر فيه الإعراب على ما يقتضيه العامل، وهي سبع.
قدّم المسألة الثانية لأنها هي أصل بالنسبة إلى غيرها، كما أن المسألة الأولى أصل بالنسبة إلى الجميع، والمراد من الجملة ههنا هي الجملة التي لا يصدق عليها الكلام. لأنّ الأحوال الآتية عارضة لها.
[الواقعة خبرًا]إحداها: الواقعة خبرًا، إحدى: مبتدأ مضاف إلى الضمير، الواقعة بالرفع خبره واللام بمعنى التي، والضمير المستتر فيها راجع إلى إحداها، وإن كان للجملة في الحقيقة. وخبرًا مفعول للواقعة، لأنّ وقع يتعدى بنفسه كقولك: وقعتُ السّكينَ، وقد يستعمل بالأداة كقولك: وقعت عن كذا [ومن] كذا ذكره الجوهري في "الصحاح".
وموضعها مبتدأ أي محلّها، وإنما فسّرنا بذلك لأن الجملة من حيث هي جملة مبنية، والمبنيّ مخصوص بالإعراب المحلّي، بخلاف الإعراب اللفظي والتقديري، فإنهما مخصوصان بالمعرب.
رَفْعٌ: خبره في خبر بابي المبتدأ، أصله بابين، سقطت النون بالإضافة إلى المبتدأ.
وإنّ في محل الجرّ بالعطف على المبتدأ، والمراد من باب (إنّ) الحروف المشبهة بالفعل، وما يكون مشابهًا لها في العمل. فخبر (لا) التي لنفي الجنس داخل فيه نحو: لا رجل في الدّار، ففي الدّار جملة ظرفية في محل الرفع على أنه خبر لا.
[যেসব বাক্যের ইরাবি অবস্থান রয়েছে]দ্বিতীয় মাসআলা: যেসব বাক্যের ইরাবি অবস্থান রয়েছে তাদের বর্ণনায়:
অর্থাৎ, যদি সেই বাক্যের স্থলে কোনো একক শব্দ (মুফরাদ) বসানো হতো, তবে আমেলের (ক্রিয়া বা প্রভাবকের) চাহিদা অনুযায়ী তাতে ইরাব (বিভক্তি) প্রকাশ পেত; আর এই বাক্যগুলো সাত প্রকার।
তিনি দ্বিতীয় মাসআলাটিকে অগ্রগণ্য করেছেন কারণ এটি অন্যদের তুলনায় মূল, ঠিক যেমন প্রথম মাসআলাটি সবার সাপেক্ষে মূল। আর এখানে 'জুমলা' বা বাক্য বলতে এমন বাক্য উদ্দেশ্য যা 'কালাম' (পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক উক্তি) হিসেবে পরিগণিত হয় না; কারণ পরবর্তী অবস্থাগুলো এর জন্য আপতিত বিষয়।
[খবর হিসেবে আসা বাক্য]প্রথমটি: যা খবর হিসেবে আসে। এখানে 'এক' শব্দটি সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (মুদাফ) হয়ে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) হয়েছে। 'আসা' শব্দটি রফ-সহকারে তার খবর (বিধেয়), এবং এতে থাকা 'আল' (আলিফ-লাম) অব্যয়টি 'যা' অর্থ প্রদান করছে। এর মধ্যকার উহ্য সর্বনামটি 'এক' শব্দটির দিকে ফিরছে, যদিও প্রকৃতপক্ষে তা বাক্যের জন্য। আর 'খবর' শব্দটি 'আসা' শব্দটির কর্ম (মাফউল), কারণ 'আসা' বা 'ঘটা' ক্রিয়াটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করতে পারে; যেমন আপনি বলেন: 'আমি ছুরিটি ফেলেছি'। আবার এটি অব্যয় যোগেও ব্যবহৃত হয়, যেমন বলা হয়: 'অমুক বিষয় থেকে বিচ্যুত হওয়া', যা জাওহারি তার 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আর এর অবস্থান মুবতাদার, অর্থাৎ তার স্থল। আমরা এই ব্যাখ্যা এ কারণেই করেছি যে, বাক্য বাক্য হওয়ার দিক থেকে মাবনি (অপরিবর্তনীয়), আর মাবনি শব্দ কেবল স্থানিক ইরাবের (ইরাব মাহাল্লি) জন্য নির্দিষ্ট। এটি শাব্দিক বা উহ্য ইরাবের বিপরীত, কারণ সেই দুই প্রকার ইরাব কেবল মোরাব (পরিবর্তনশীল) শব্দের জন্য নির্দিষ্ট।
রফা (পেশ): এটি মুবতাদা ও 'ইন্না'-র পরিচ্ছেদের খবর। এর মূল রূপ ছিল 'বাবাইনি' (দুইটি পরিচ্ছেদ), যা মুবতাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে 'নুন' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে।
আর 'ইন্না' শব্দটি মুবতাদার ওপর আতফ (সংযুক্ত) হওয়ার কারণে যার (জের)-এর স্থানে রয়েছে। 'ইন্না'-র পরিচ্ছেদ বলতে হুরুফে মুশাব্বাহ বিল ফিয়ল এবং আমলের ক্ষেত্রে তার সদৃশ শব্দগুলো উদ্দেশ্য। সুতরাং 'লা নাফিয়া লিল জিনস' (জাতীয়তা অস্বীকারকারী লা)-এর খবরও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন: 'বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই'। এখানে 'বাড়িতে' অংশটি রফ-এর স্থানে জুমলা যারফিয়্যাহ (অব্যয়সূচক বাক্য) হিসেবে 'লা'-এর খবর।