(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: -)
النظام القضائي القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: النظام القضائي
المؤلف: -
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 39
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 71
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিচার ব্যবস্থা বিভাগ: সিয়াসা শারইয়াহ ও বিচার ব্যবস্থা
গ্রন্থ: বিচার ব্যবস্থা
লেখক: -
প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ৩৯
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১)
القضاء في الإسلام
القضاء في الاصطلاح:
يمكن أن نستخلص تعريفا شاملا ومبسطا للقضاء بأنه: (الفصل بين الناس في الخصومات حسما للتداعي وقطعا للنزاع بالأحكام الشرعية المتلقاة من الكتاب والسنة) .
ইসলামে বিচারব্যবস্থা (القضاء)
পরিভাষায় বিচারব্যবস্থা (القضاء):
বিচারব্যবস্থার (القضاء) একটি ব্যাপক ও সহজবোধ্য সংজ্ঞা এভাবে নিরূপণ করা যেতে পারে যে: (মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধের ফয়সালা করা এবং কুরআন ও সুন্নাহ হতে আহরিত শরয়ি বিধানের (الأحكام الشرعية) মাধ্যমে বিবাদ ও দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত অবসান ঘটানো)।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২)
مشروعية القضاء
বিচারকার্যের বৈধতা
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩)
القضاء من عمل الرسل عليهم الصلاة والسلام، يدل على ذلك قوله تعالى: {وَدَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ} {فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلًّا آتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا} ، وقوله: {يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ} ورسول الإسلام محمد صلى الله عليه وسلم صاحب الرسالة الخاتمة والدائمة كما كان مأمورا بالدعوة والتبليغ كان مأمورا بالحكم والفصل في الخصومات وقد ورد في القرآن الكريم في غير ما آية ما يشير إلى ذلك، منها قوله تعالى: {احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ} وقوله: {وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} وقوله: {
বিচারকার্য (القضاء) রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) অন্যতম দায়িত্ব। মহান আল্লাহর এই বাণী এর প্রমাণ বহন করে: {এবং দাউদ ও সুলায়মানকে স্মরণ করুন, যখন তারা বিচার (يحكمان) করছিল একটি শস্যক্ষেত সম্পর্কে, যাতে রাতে অন্য লোকের মেষগুলো ঢুকে পড়েছিল। আর তাদের বিচারকার্য (لحكمهم) পর্যবেক্ষণে আমিই ছিলাম সাক্ষী।} {অতঃপর আমি সুলায়মানকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি তাদের উভয়কেই বিচারিক প্রজ্ঞা (حكمًا) ও জ্ঞান দান করেছিলাম।} এবং তাঁর বাণী: {হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছি; সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার (فاحكم) করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি; যেহেতু তারা বিচার দিবসকে ভুলে গিয়েছিল।} ইসলামের রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন চূড়ান্ত ও শাশ্বত রিসালাতের অধিকারী। তিনি যেমন দাওয়াত ও প্রচারের (التبليغ) জন্য আদিষ্ট ছিলেন, তেমনিভাবে মানুষের বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিচার ও মীমাংসা (بالحكم والفصل) করার জন্যও আদিষ্ট হয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে এর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুসারে তাদের মধ্যে বিচার (احكم) করুন এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আর তাদের থেকে সতর্ক থাকুন যেন আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার কিছু অংশ থেকে তারা আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে।} এবং তাঁর বাণী: {যদি আপনি বিচার (حكمت) করেন, তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার (فاحكم) করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।} এবং তাঁর বাণী: {
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪)
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} وأما السنة المطهرة فتدل لمشروعية القضاء أحاديث كثيرة منها ما رواه عمرو بن العاص رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إذا حكم الحاكم فاجتهد ثم أصاب فله أجران، وإذا حكم فاجتهد ثم أخطأ فله أجر» وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا حسد إلا في اثنين رجل آتاه الله مالا فسلطه على هلكته في الحق ورجل آتاه الله حكمة فهو يقضي بها ويعلمها» وقد نقل غير واحد من العلماء الإجماع على مشروعية القضاء قال ابن قدامة: (وأجمع المسلمون على مشروعية نصب القضاء والحكم بين الناس) .
{অতএব আপনার পালনকর্তার শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়সমূহে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে; অতঃপর আপনি যে ফয়সালা প্রদান করেন, সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} আর পবিত্র সুন্নাহর ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার বৈধতার স্বপক্ষে বহু হাদিস বিদ্যমান। তন্মধ্যে আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: “যখন কোনো বিচারক বিচার করার সময় ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং তিনি সঠিক (أصاب) সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তখন তার জন্য দুটি পুরস্কার রয়েছে। আর যখন তিনি বিচার করার সময় ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং ভুল (أخطأ) করেন, তখন তার জন্য একটি পুরস্কার রয়েছে।” এবং নবী (সা.)-এর বাণী: “কেবল দুটি ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা যায়—সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে সত্যের পথে তা ব্যয় করার সামর্থ্য দিয়েছেন; আর সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং সে তার মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করে ও তা শিক্ষা দেয়।” একাধিক আলিম বিচারব্যবস্থার বৈধতার ওপর ইজমা (إجماع) বর্ণনা করেছেন। ইবনে কুদামা বলেন: (মানুষের মধ্যে বিচারক নিয়োগ এবং ফয়সালা প্রদানের বৈধতার ওপর মুসলিমগণ ঐক্যমত (أجمع) হয়েছেন)।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحكمة من مشروعية القضاءالقضاء أمر لازم لقيام الأمم ولسعادتها وحياتها حياة طيبة ولنصرة المظلوم، وقمع الظالم، وقطع الخصومات، وأداء الحقوق إلى مستحقيها، وللأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وللضرب على أيدي العابثين وأهل الفساد، كي يسود النظام في المجتمع، فيأمن كل فرد على نفسه وماله، وعلى عرضه وحريته، فتنهض البلدان ويتحقق العمران ويتفرغ الناس لما يصلح دينهم، ودنياهم فإن الظلم من شيم النفوس، ولو أنصف الناس استراح قضاتهم ولم يحتج إليهم.
বিচারব্যবস্থা প্রবর্তনের অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞাজাতিসমূহের প্রতিষ্ঠা, সুখ-সমৃদ্ধি এবং একটি সুন্দর ও পবিত্র জীবন যাপনের জন্য বিচারব্যবস্থা এক অপরিহার্য বিষয়। তদুপরি মজলুমের সহায়তা, জালেমের দমন, বিবাদ-বিসংবাদের নিষ্পত্তি, হকদারদের পাওনা অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ও ফাসাদকারীদের প্রতিহত করার জন্য বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন; যাতে সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার জীবন, সম্পদ, সম্মান ও স্বাধীনতার বিষয়ে নিরাপদ থাকতে পারে। এর ফলে দেশসমূহের অগ্রগতি সাধিত হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় এবং মানুষ তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সংস্কারমূলক কাজে মনোনিবেশ করার অবকাশ পায়। কেননা অবিচার করা মানুষের প্রবৃত্তিগত স্বভাব; যদি মানুষ নিজেরা ইনসাফ করত, তবে বিচারকগণ দায়মুক্ত থাকতেন এবং তাদের কোনো প্রয়োজনই হতো না।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬)
حكم القضاء
বিচারকার্যের বিধান
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ৭)
اتفق الفقهاء على أن القضاء، فرض كفاية إذا قام به بعض الأمة سقط الوجوب عن الباقين وإذا لم يقم به أحد منها أثمت الأمة جميعا. أما كونه فرضا فلقوله تعالى: {كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ} وأما كونه على الكفاية، فلأنه أمر، بمعروف أو نهي عن منكر وهما على الكفاية، ولأن أمر الناس لا يستقيم بدون القضاء، فكان واجبا عليهم كالجهاد والإقامة قال الأمام أحمد: (لا بد للناس من حاكم، أتذهب حقوق الناس) ولأن فيه أمرا بالمعروف ونصرة للمظلوم وأداء للحق إلى مستحقيه وردعا للظالم عن ظلمه، وهذه كلها واجبات لا تتم إلا بتوالي القضاء، لذا كان تولي القضاء واجبا والقاعدة الفقهية تقول: (إن ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب) هذا عن حكم القضاء بصفة عامة أما عن حكم الدخول فيه بالنسبة للأفراد فإنه يختلف باختلاف حالاتهم، فيجب على الشخص إذا تعين له ولا يوجد من يصلح غيره، ويكره إذا كان صالحا مع وجود من هو أصلح منه، ويحرم إذا علم من نفسه العجز عنه وعدم الإنصاف فيه لميله للهوى ويباح له فيخير بين قبوله ورفضه إذا استوى هو وغيره في الصلاحية والقيام به وقد سئل مالك رضي الله عنه: (أيجبر الرجل على ولاية القضاء
ফকিহগণ (الفقهاء) এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব (القضاء) পালন করা একটি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية); যদি উম্মতের একাংশ এটি পালন করে, তবে বাকিদের ওপর থেকে এই আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়। আর যদি কেউ তা পালন না করে, তবে উম্মতের সকলেই গুনাহগার হবে। তবে এটি ফরজ (فرض) হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো}। আর এটি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) হওয়ার কারণ হলো, এটি সৎ কাজের আদেশ (أمر بمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধ (نهي عن منكر) করার অন্তর্ভুক্ত এবং এ উভয়টিই ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। এছাড়া মানুষের বিষয়াবলি বিচার ব্যবস্থা ব্যতীত সুশৃঙ্খল হতে পারে না, তাই এটি তাদের ওপর জিহাদ ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার মতোই ওয়াজিব (واجب)। ইমাম আহমাদ বলেছেন: (মানুষের জন্য একজন শাসক (حاكم) থাকা অনিবার্য; অন্যথায় মানুষের অধিকার কি বিলুপ্ত হয়ে যাবে?) কারণ এতে রয়েছে সৎ কাজের আদেশ, মজলুমের সহায়তা, হকদারের কাছে তার প্রাপ্য অধিকার পৌঁছে দেওয়া এবং জালেমকে তার জুলুম থেকে বিরত রাখা। এ সবগুলোই এমন সব ওয়াজিব (واجبات), যা বিচার ব্যবস্থার (القضاء) ধারাবাহিকতা ব্যতীত পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করা ওয়াজিব (واجب) এবং ফিকহি মূলনীতি (القاعدة الفقهية) বলে: (যে কাজ ব্যতীত কোনো ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সেই কাজটি করাও ওয়াজিব)। এটি সাধারণভাবে বিচার ব্যবস্থার বিধান। তবে ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই দায়িত্বে পদার্পণের বিধান তাদের অবস্থার ভিন্নতার প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়। যখন কোনো ব্যক্তি এর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যান এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তি না থাকেন, তখন এটি গ্রহণ করা তার ওপর ওয়াজিব (واجب)। আর যদি তিনি যোগ্য হন কিন্তু তার চেয়ে অধিকতর যোগ্য লোক উপস্থিত থাকে, তবে এটি গ্রহণ করা তার জন্য মাকরুহ (يكره)। আর যদি তিনি নিজের মাঝে এই দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে ন্যায়বিচার করতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানেন, তবে তা গ্রহণ করা তার জন্য হারাম (يحرم)। আর যদি তিনি এবং অন্য কেউ যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনে সমান স্তরের হন, তবে এটি তার জন্য মুবাহ (يباح); এমতাবস্থায় তিনি এটি গ্রহণ করা বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে ইখতিয়ার পাবেন। ইমাম মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: (কোনো ব্যক্তিকে কি বিচারকের দায়িত্ব (ولاية القضاء) গ্রহণে বাধ্য করা যাবে?)
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ৮)
؟ قال نعم إذا لم يوجد منه عوض. قيل له بالضرب والحبس؟ قال نعم) .
? তিনি বললেন, "হ্যাঁ, যদি তার কোনো বিকল্প না পাওয়া যায়।" তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "প্রহার ও কারাবাসের মাধ্যমে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।") .
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ৯)
أولا: البلوغ:فلا يجوز تقليد الصبي القضاء وإذا قلد فلا يصح قضاؤه ولا ينفذ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم قد أمر بالاستعاذة من إمارة الصبيان فقد روى الإمام أحمد أنه صلى الله عليه وسلم قال: «تعوذوا بالله من رأس السبعين ومن إمارة الصبيان» والتعوذ لا يكون إلا من شر، فيكون تقليد الصبيان فسادا في الأرض ومضارة ولأنه لا ولاية للصبي على نفسه فلا تكون له ولاية على غيره بالقضاء ونحوه.
ولأن القضاء ليس في حاجة إلى كمال العقل بكمال البدن فحسب، بل يحتاج كذلك إلى زيادة فطنة وجودة رأي. ولا يشترط في القاضي أن يكون طاعنا في السن، بل المراد اجتماع الشروط المعتبرة في ولايته بعد بلوغه، ولو كان حديث السن، فقد روي أن الخليفة المأمون قلد يحيى بن أكثم قضاء البصرة، وكان ابن ثماني عشرة سنة، فطعن بعض الناس في ولايته لحداثة سنه فكتب إليه المأمون: كم سن القاضي؟ فأجاب يحيى بقوله أنا في سن عتاب بن أسيد حين ولاه الرسول صلى الله عليه وسلم على مكة) على أن ارتفاع السن يجيء من باب الوقار والهيبة التي استحبها العلماء في القاضي.
প্রথমত: প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (البلوغ):শিশুকে বিচারকার্যে (القضاء) নিয়োগ দেওয়া জায়েজ নয়। আর যদি নিয়োগ দেওয়াও হয়, তবে তার বিচারকার্য সঠিক (يصح) হবে না এবং তা কার্যকর (ينفذ) হবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিশুদের নেতৃত্ব (إمارة الصبيان) থেকে পানাহ চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «তোমরা সত্তুর হিজরির শুরু এবং শিশুদের নেতৃত্ব (إمارة الصبيان) থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও।» আর পানাহ কেবল অনিষ্ট থেকেই চাওয়া হয়; সুতরাং শিশুদের বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে জমিনে বিপর্যয় (فساد) ও ক্ষতিকর বিষয়। এছাড়া যেহেতু নিজের ওপর শিশুর কোনো অভিভাবকত্ব (ولاية) নেই, তাই বিচারকার্য (القضاء) বা অনুরূপ বিষয়ে অন্যের ওপরও তার কোনো অভিভাবকত্ব (ولاية) থাকতে পারে না।
তাছাড়া বিচারকার্যের (القضاء) জন্য কেবল শারীরিক পূর্ণতার সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক পূর্ণতাই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রখর মেধা ও উন্নত চিন্তাশক্তিরও প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিচারক (القاضي) হওয়ার জন্য অতি বৃদ্ধ হওয়া শর্ত নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো প্রাপ্তবয়স্ক (بلوغ) হওয়ার পর তার কর্তৃত্বের (ولاية) জন্য বিবেচিত শর্তাবলির সমাবেশ ঘটা, যদিও তিনি অল্প বয়সী হন। বর্ণিত আছে যে, খলিফা আল-মামুন ইয়াহইয়া ইবনে আকসামকে বসরার বিচারকার্যে (قضاء) নিয়োগ দিয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র আঠারো বছর। অল্প বয়সের কারণে কিছু লোক তাঁর নিয়োগের (ولاية) ব্যাপারে সমালোচনা করলে মামুন তাঁকে লিখে পাঠান: বিচারকের (القاضي) বয়স কত? জবাবে ইয়াহইয়া বলেন: আমি সেই বয়সের, যে বয়সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আত্তাব ইবনে আসীদকে মক্কার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। অবশ্য অধিক বয়স হওয়া গাম্ভীর্য ও মর্যাদার পরিচায়ক, যা আলেমগণ (العلماء) বিচারকের (القاضي) ক্ষেত্রে পছন্দনীয় মনে করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثانيا: العقل:فلا يجوز تقليد المجنون أو المعتوه أو مختل النظر لكبر السن أو مرض قياسا على الصبي، بل أولى وإذا قلد أحد هؤلاء فلا يصح قضاؤه ولا ينفذ، قال الماوردي في هذا الشرط: (وهو مجمع على اعتباره ولا يلتقي فيه العقل الذي يتعلق به التكليف من عمله بالمدركات الضرورية حتى يكون صحيح التمييز، جيد الفطنة، بعيد من السهو والغفلة يتوصل بذكائه إلى إيضاح ما أشكل وفصل ما أعطل) .
দ্বিতীয়ত: আকল বা বিচারবুদ্ধি (العقل):অতএব কোনো উন্মাদ, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিংবা বার্ধক্য বা অসুস্থতার কারণে বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়া ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান (تقليد) করা বৈধ নয়। শিশুর (صبي) ওপর অনুমান বা কিয়াস (قياس) করার ভিত্তিতে এটি প্রমাণিত, বরং এটি অধিকতর যুক্তিযুক্ত। যদি এদের কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়, তবে তার বিচারকার্য সঠিক (يصح) হবে না এবং তা কার্যকর (ينفذ) হবে না। এই শর্তের ব্যাপারে আল-মাওয়ার্দি বলেন: (এটি এমন একটি শর্ত যার গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে ইজমা বা সর্বসম্মতি (مجمع) রয়েছে। এখানে কেবল সেই পর্যায়ের আকল বা বিচারবুদ্ধি (العقل) উদ্দেশ্য নয় যা কেবল শরয়ি দায়িত্ব পালনের যোগ্যতার (التكليف) সাথে সংশ্লিষ্ট, বরং এর জন্য এমন বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক যার মাধ্যমে সে প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ উপলব্ধি করতে পারে। যাতে সে সঠিক বিচারশক্তি (التمييز) সম্পন্ন ও প্রখর মেধার অধিকারী হয় এবং বিস্মৃতি (السهو) ও অমনোযোগিতা (الغفلة) থেকে মুক্ত থাকে; যেন সে তার বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে অস্পষ্ট বিষয়সমূহ স্পষ্ট করতে এবং জটিল বিষয়গুলোর মীমাংসা করতে সক্ষম হয়।) ।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثالثا: الحرية:والمراد كمالها، فلا يجوز تقليد من فيه شائبة رق كالمكاتب والمدبر فضلا عن القن (وهو العبد الخالص) وإذا قلد القضاء فلا يصح قضاؤه ولا ينفذ، وذلك لأن العبد ناقص عن ولاية نفسه فمن باب أولى أن يكون ناقصا عن ولاية غيره، كما أن العبد مشغول بحقوق سيده، فمنافعه كلها له، هذا بالإضافة إلى أن القضاء منزلة وحرمة وهيبة لكي يردع أصحاب اللدد وأهل الباطل، ولا شك أن هذه الصفة لا تتوفر في العبد. هذا مذهب جمهور العلماء، خلافا لابن حزم ومنه وافقه في قبول شهادة العبد ويقولون إن أهلية القضاء كأهلية الشهادة.
তৃতীয়: স্বাধীনতা (الحرية):এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এর পূর্ণতা। সুতরাং যার মধ্যে দাসত্বের সামান্যতম লেশ রয়েছে তাকে বিচারকের পদে নিয়োগ করা বৈধ নয়, যেমন: চুক্তিবদ্ধ দাস (مكاتب) এবং মৃত্যুর পর স্বাধীন হওয়ার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত দাস (مدبر), এমনকি পূর্ণ দাসের (قن) (অর্থাৎ খাঁটি দাস) বিষয়টি তো আরও সংগত। যদি তাকে বিচারকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়, তবে তার বিচারকার্য শুদ্ধ (صحيح) হবে না এবং কার্যকর (نافذ) হবে না। এর কারণ হলো, দাস নিজের অভিভাবকত্বের (ولاية) ক্ষেত্রেই অপূর্ণ, সুতরাং অন্যের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সে অপূর্ণ হওয়া আরও স্বাভাবিক। পাশাপাশি দাস তার মালিকের অধিকার পালনে নিয়োজিত থাকে, ফলে তার সকল শ্রম ও উপযোগ মালিকেরই প্রাপ্য। এর সাথে আরও রয়েছে যে, বিচার বিভাগ হলো উচ্চ মর্যাদা, পবিত্রতা ও গাম্ভীর্যের বিষয় যাতে তা একগুঁয়ে বিবাদী এবং বাতিলপন্থীদের প্রতিহত করতে পারে; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বৈশিষ্ট্য দাসের মধ্যে বিদ্যমান থাকে না। এটি জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমদের (جمهور العلماء) মাযহাব, যা ইবনে হাজম এবং যারা দাসের সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণের সপক্ষে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তাদের মতের পরিপন্থী; তারা বলেন যে, বিচারকার্যের যোগ্যতা সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্যতার মতোই।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১২)
رابعا: الإسلام:وذلك لأن القضاء ولاية ولا تجوز ولاية الكافر على المسلم، قال تعالى: {وَلَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا} ثم إن القاضي يطبق أحكام الشريعة الإسلامية وهي دين، وتطبيق الدين يحتاج إلى إيمان به من قبل من يطبقه وخوف من الله يمنعه من الحيدة عن التطبيق السليم لأحكامه ولا يتأتى ذلك من غير المسلم الذي لا يؤمن بهذا الدين بل حمله كفره بالإسلام على تعمد مخالفة أحكامه أو العبث بها. ولا خلاف بين الفقهاء في اشتراط الإسلام في من يتولى القضاء على المسلمين أما تولية القضاء لغير المسلم على غير المسلمين، فقد منعها ولم يجزها جمهور الفقهاء لأن شرط الإسلام عندهم شرط ضروري لا بد منه في من يتولى القضاء سواء كان قضاؤه على المسلمين أو على غير المسلمين. وذهب الحنفية إلى جواز تقليد الذمي وهو غير مسلم القضاء على أهل الذمة وعللوا ذلك بأن أهلية القضاء كأهلية الشهادة والذمي من أهل الشهادة على الذميين فهو أهل لتولي القضاء عليهم.
চতুর্থ: ইসলাম:এর কারণ হলো বিচারকার্য পরিচালনা একটি কর্তৃত্ব (ولاية), আর কোনো মুসলিমের ওপর কাফেরের কর্তৃত্ব বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ কখনোই মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফেরদের জন্য কোনো পথ রাখবেন না।" তদুপরি, বিচারক (قاضي) ইসলামি শরিয়তের বিধানসমূহ প্রয়োগ করেন যা একটি দ্বীন, আর দ্বীনি বিধান বাস্তবায়নের জন্য তা প্রয়োগকারীর পক্ষ থেকে উক্ত দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস এবং আল্লাহভীতি থাকা প্রয়োজন, যা তাকে এর বিধানাবলির সঠিক প্রয়োগ থেকে বিচ্যুত হতে বাধা দেবে। একজন অমুসলিমের ক্ষেত্রে এটি সম্ভব নয় যে এই দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস রাখে না; বরং ইসলামের প্রতি তার কুফরি (كفر) তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে এর বিধানের বিরোধিতা করতে বা তা নিয়ে উপহাস করতে প্ররোচিত করতে পারে। মুসলিমদের ওপর বিচারকার্য পরিচালনাকারীর জন্য ইসলাম শর্ত হওয়ার ব্যাপারে ফকিহদের (فقهاء) মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে অমুসলিমদের ওপর বিচারক হিসেবে কোনো অমুসলিমকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জমহুর ফকিহগণ (جمهور الفقهاء) নিষিদ্ধ করেছেন এবং তা বৈধ মনে করেননি। কারণ তাদের নিকট বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণকারীর জন্য ইসলাম একটি অপরিহার্য শর্ত, চাই তিনি মুসলিমদের ওপর বিচারক হোন কিংবা অমুসলিমদের ওপর। অন্যদিকে হানাফিগণ (الحنفية) জিম্মি (ذمي) তথা অমুসলিম ব্যক্তিকে অন্য জিম্মিদের ওপর বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া বৈধ বলে মত দিয়েছেন। তারা এর স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, বিচারকার্য পরিচালনার যোগ্যতা হলো সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের যোগ্যতার অনুরূপ; আর যেহেতু একজন জিম্মি ব্যক্তি অন্য জিম্মিদের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্য, তাই সে তাদের ওপর বিচারকার্য পরিচালনারও যোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكونه قاضيا خاصا بهم لا يقدح في ولايته ولا يضر كما لا يضر تخصيص القاضي المسلم بالقضاء بين أفراد جماعة معينة من المسلمين. ويرى الماوردي أن إسناد القضاء في غير المسلمين إلى قضاة منهم هو في الصورة تقليد قضاء، وفي الحقيقة تقليد رياسة، بدليل أن لهم أن يدعوا قضائهم هؤلاء ويتحاكمون إلى قضاة المسلمين، وفي هذه الحالة يكون حكمنا بينهم متروكا لاختيارنا كما في قوله تعالى: {فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ} فإن تحاكموا إلى قضائهم فقد التزموا بما يحكمون به لالتزامهم له، وليس لأنه لازم لهم من الأصل.
তাদের জন্য বিশেষ বিচারক হওয়ার বিষয়টি তার কর্তৃত্ব (ولاية) বা ক্ষমতায় কোনো প্রকার ত্রুটি সৃষ্টি করে না এবং কোনো ক্ষতিও করে না, যেমনটি একজন মুসলিম বিচারককে নির্দিষ্ট কোনো মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে বিচারকার্যের জন্য নির্দিষ্ট করে দিলে কোনো ক্ষতি হয় না। আল-মাওয়ার্দী মনে করেন যে, অমুসলিমদের বিচারকার্য তাদের মধ্য থেকে নিযুক্ত বিচারকদের কাছে ন্যস্ত করা (إسناد) বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিচারিক নিয়োগ (تقليد قضاء), তবে প্রকৃতপক্ষে তা নেতৃত্বের অর্পণ (تقليد رياسة)। এর প্রমাণ হলো, তারা চাইলে তাদের এই বিচারকদের বর্জন করে মুসলিম বিচারকদের নিকট বিচারপ্রার্থী হতে পারে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে ফয়সালা প্রদান করা আমাদের ইচ্ছাধীন (اختيار) থাকে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে: "অতঃপর তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে আপনি তাদের মধ্যে বিচার করুন অথবা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন"। সুতরাং তারা যদি তাদের নিজস্ব বিচারকদের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়, তবে তারা সেই বিচারকদের রায়ের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য হয় তাদের নিজস্ব অঙ্গীকারের কারণে, বিষয়টি এমন নয় যে তা মূলগতভাবেই তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
خامسا: الذكورة:
পঞ্চম: পুরুষ হওয়া (الذكورة):
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهي شرط عند جمهور الفقهاء، فلا يجوز عندهم تولية المرأة القضاء وإذا وليت يأثم المولىّ وتكون ولايتها باطلة وقضاؤها غير نافذ ولو فيما تقبل فيه شهادتها. وحجتهم الحديث النبوي الشريف: «لن يفلح قوم ولوا أمرهم امرأة» ولأن المرأة لا تصلح للإمامة العظمى أي رئاسة الدولة ولا الولاية على البلدان، ولهذا لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أحد من خلفائه الراشدين من بعده أنهم ولوا امرأة قضاء ولا ولاية بلد، ولو جاز ذلكم لوقع ولو مرة واحدة وللمم يخل منه جميع البلدان غالبا، وأيضا فإن القاضي يحتاج إلى مخالطة الرجال من الفقهاء والشهود والخصوم، والمرأة في الأصل ممنوعة من مخالطة الرجال لما يخاف عليها من الفتنة بسبب هذه المخالطة التي لا ضرورة لها. وقال فقهاء الحنفية يجوز أن تكون المرأة قاضية في غير الحدود والقصاص لأنه لا شهادة لها في هذه الجنايات ولها شهادة في غيرها وأهلية القضاء عندهم تدور مع أهلية الشهادة. وذهب ابن جرير الطبري إلى أن الذكورة ليست شرطا لتولي القضاء كالإفتاء عنده، والإفتاء لا تشترط فيه الذكورة وعلى هذا يجوز للمرأة أن تكون قاضية في الأموال وغيرها وبهذا القول قال فقهاء
এটি অধিকাংশ ফকিহদের (جمهور الفقهاء) নিকট একটি শর্ত। তাই তাদের মতে বিচারকার্য (قضاء) পরিচালনার জন্য কোনো নারীকে নিয়োগ দেওয়া বৈধ নয়। যদি তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে নিয়োগকর্তা গুনাহগার হবেন, তার এই পদায়ন বাতিল (باطل) বলে গণ্য হবে এবং তার বিচারিক রায় কার্যকর (غير نافذ) হবে না—এমনকি ওই সকল বিষয়েও যেখানে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। তাদের প্রধান দলিল হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস: «সেই জাতি কখনোই সফল হবে না, যারা তাদের বিষয়াবলি পরিচালনার দায়িত্ব কোনো নারীর ওপর ন্যস্ত করেছে।» এছাড়া নারী মহান ইমামত (الإمامة العظمى) অর্থাৎ রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার বা কোনো ভূখণ্ডের শাসনভার (ولاية) গ্রহণের উপযুক্ত নয়। এই কারণেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কিংবা তাঁর পরবর্তী কোনো খুলাফায়ে রাশেদিন থেকে এমনটি বর্ণিত হয়নি যে, তারা কোনো নারীকে বিচারক (قضاء) হিসেবে বা কোনো অঞ্চলের দায়িত্বশীল (ولاية بلد) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। যদি এটি বৈধ হতো, তবে তা অন্তত একবার হলেও সংঘটিত হতো এবং সাধারণত অধিকাংশ জনপদ এ থেকে খালি থাকত না। অধিকন্তু, একজন বিচারকের (قاضي) প্রয়োজন হয় ফকিহ (فقهاء), সাক্ষী ও বিবাদমান পক্ষগুলোর পুরুষদের সাথে মেলামেশা করার; অথচ নারীদের জন্য মূলগতভাবে পুরুষদের সাথে মেলামেশা করা নিষিদ্ধ, কারণ এই জাতীয় অনাবশ্যক মেলামেশার ফলে ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা থাকে। হানাফি ফকিহগণ (فقهاء الحنفية) বলেছেন যে, হুদুদ (الحدود) ও কিসাস (القصاص) ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে কোনো নারী বিচারক হতে পারেন। কারণ এই প্রকারের অপরাধগুলোতে (جنايات) তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য; আর তাদের নিকট বিচারক হওয়ার যোগ্যতা সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্যতার ওপরই আবর্তিত হয়। ইবনে জারির তবারি এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বিচারকার্যের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পুরুষ হওয়া শর্ত নয়, যেমনটি তার নিকট ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) ক্ষেত্রেও শর্ত নয়; আর যেহেতু ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে পুরুষ হওয়া শর্ত নয়, সেই অনুসারে সম্পদের বিষয়াদিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারী বিচারক হতে পারেন। এই মতটি ফকিহগণ...
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المذهب الظاهري كذلك.
জাহিরি মাজহাবও (المذهب الظاهري) অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
سادسا: العدالة:وهي معتبرة في كل ولاية عند جمهور الفقهاء، والمقصود بها أن يكون القاضي قائما بالفرائض والأركان، صادق اللهجة، ظاهر الأمانة عفيفا عند المحارم، متوقيا المآثم بعيدا عن الريب، مستعملا لمروءة مثله في دينه ودنياه. لهذا لا تجوز ولاية الفاسق للقضاء لأنه متهم في دينه، والقضاء أمانة من أعظم الأمانات.
ষষ্ঠ: ন্যায়পরায়ণতা (عدالة):জমহুর ফকিহদের মতে এটি প্রতিটি শাসনকর্তৃত্বের (ولاية) ক্ষেত্রে একটি ধর্তব্য বিষয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বিচারক যেন সকল ফরজ (فرائض) ও রুকনসমূহ (أركان) পালনকারী হন; তিনি যেন সত্যবাদী (صادق), প্রকাশ্য আমানতদার ও নিষিদ্ধ বিষয়াবলি থেকে পবিত্র (عفيف) চরিত্রের অধিকারী হন। এছাড়া তিনি যেন পাপাচার থেকে বেঁচে থাকেন, যাবতীয় সংশয় থেকে দূরে অবস্থান করেন এবং স্বীয় দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে নিজ সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের ন্যায় মারুওয়াত বা ব্যক্তিত্ব বজায় রাখেন। এই কারণে কোনো পাপাচারী বা ফাসিকের (فاسق) জন্য বিচারকের দায়িত্ব পালন করা বৈধ নয়; কেননা সে তার দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত (متهم), আর বিচারকার্য হলো অন্যতম এক সুমহান আমানত।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
سابعا: الاجتهاد:وهو الأهلية لاستنباط الأحكام من مصادر التشريع فالمجتهد هو من يعرف من القرآن والسنة ما يتعلق بالأحكام خاصة وعامة ومجملة ومبنية وناسخة ومنسوخة ومتواتر السنة وغيره، والمتصل والمرسل وحال الرواة قوة وضعفا ولسان العرب لغة ونحوا، وأقوال العلماء من الصحابة فمن بعدهم إجماعا، واختلافا والقياس بأنواعه.
সপ্তম: ইজতিহাদ (الاجتهاد):এটি হলো শরিয়তের উৎসসমূহ হতে বিধানাবলি আহরণের যোগ্যতা। সুতরাং মুজতাহিদ হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি কুরআন ও সুন্নাহর বিধান সংশ্লিষ্ট বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام), সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও সুস্পষ্ট (مبين), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়সমূহ এবং সুন্নাহর মুতাওয়াতির (متواتر) ও অন্যান্য প্রকারভেদ সম্পর্কে জানেন। এছাড়া তিনি সংযুক্ত (متصل) ও বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা, বর্ণনাকারীদের সবলতা (قوي) ও দুর্বলতা (ضعيف) সংক্রান্ত অবস্থা, আরবি ভাষার আভিধানিক ও ব্যাকরণিক প্রয়োগ এবং সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তী যুগের আলেমদের ঐক্যমত (إجماع) ও মতভেদ (اختلاف) এবং কিয়াস (قياس)-এর প্রকারভেদ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ثامنا: سلامة الحواس:والمراد بها السمع والبصر والكلام: وهذا شرط جواز وصحة عند جمهور العلماء فلا تجوز تولية الأصم لأنه لا يسمع كلام الخصمين ولا تجوز تولية الأعمى لأنه لا يعرف المدعي من المدعى عليه ولا المقر من المقر له، ولا الشاهد من المشهود له أو عليه، ولا تجوز تولية الأخرس لأنه لا يمكنه النطق بالحكم، ولا يفهم جميع الناس إشارته أما سلامة باقي الأعضاء فهي هنا إنما تعتبر استحبابا لا لزوما لأن السلامة من الآفات أهيب لذوي الولاية، والهيبة هنا مستحبة لا مستحقة ومن ثم فلا مانع من أن يكون القاضي مقعدا أو أقطع أو أعرج، ومثل هذا يقال في شأن ضعيف النطق أو السمع أو البصر لعدم فوات المقصود من ولاية القضاء.
অষ্টম: ইন্দ্রিয়সমূহের সুস্থতা:আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং বাকশক্তি। সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের (جمهور العلماء) নিকট এটি নিয়োগের বৈধতা ও শুদ্ধতার (صحة) একটি শর্ত। অতএব, বধির ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া জায়েজ নেই, কারণ সে বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের কথা শুনতে পায় না। তদ্রূপ অন্ধ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়াও জায়েজ নেই, কারণ সে বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, এবং স্বীকারোক্তি প্রদানকারী ও যার পক্ষে স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে কিংবা সাক্ষী ও যার অনুকূলে বা প্রতিকূলে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যেও পার্থক্য করতে পারে না। বোবা ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়াও বৈধ নয়, কারণ তার পক্ষে রায় উচ্চারণ করা সম্ভব নয় এবং সকল মানুষ তার ইশারা বুঝতে সক্ষম নয়। আর শরীরের অবশিষ্ট অঙ্গসমূহের সুস্থতা এখানে কেবল মুস্তাহাব (استحباباً) হিসেবে গণ্য হবে, আবশ্যিক (لزوماً) হিসেবে নয়। কারণ শারীরিক ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা বিচারিক পদের অধিকারীদের জন্য অধিক গাম্ভীর্যপূর্ণ; আর এখানে গাম্ভীর্য বজায় রাখা মুস্তাহাব (مستحبة), অপরিহার্য নয়। ফলশ্রুতিতে, বিচারক যদি পঙ্গু, হস্তপদহীন বা ল্যাংড়া হন তবে তাতে কোনো বাধা নেই। তদ্রূপ কথা বলা, শ্রবণ করা বা দৃষ্টিশক্তির ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তির বিষয়েও একই কথা প্রযোজ্য হবে, যেহেতু এর ফলে বিচারিক পদের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا ومن الجدير بالذكر أن القاضي لا يأخذ شرعيته إلا بتعيين من ولى الأمر أو نائبه وذلك حفاظا على وحدة المسلمين وصيانة دمائهم، فالقضاء كما هو معلوم منصب من مناصب الدولة لا يجوز لغير ولي الأمر تعيينه إلا في حالة الضرورة كما لو لم يوجد حاكم في بلد ما فإن لأهل العلم والرأي تعيين قاض يحكم بينهم. على أنه في حالة وجود حاكم بعد ذلك فلا بد من إذنه. كما أن ولاية القاضي تعمم وتخصص، فيجوز أن يكون قاضيا في جميع بلاد المسلمين وفي كل دعوى كما يجوز للحاكم أن يوليه القضاء في مكان معين لا يتعداه أوفي نوع من الدعوى كالحكم بين أهل الذمة. وفي كل ذلك لا يجوز للقاضي أن يتعدى ما رسم له، ولا أن يتجاوز حدود ولاياته. وهو ما يسمى بالاختصاص القضائي. زمانا ومكانا وموضوعا.
এখানে উল্লেখ্য যে, একজন বিচারক (قاضي) কেবল রাষ্ট্রপ্রধান (ولي الأمر) অথবা তাঁর প্রতিনিধির নিয়োগের মাধ্যমেই তাঁর বৈধতা লাভ করেন; আর এটি করা হয়েছে মুসলিমদের ঐক্য রক্ষা এবং তাঁদের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে। কেননা বিচারব্যবস্থা (القضاء) যেমনটি সর্বজনবিদিত, এটি রাষ্ট্রের অন্যতম একটি পদ। তাই রাষ্ট্রপ্রধান ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে বিচারক নিয়োগ করা বৈধ নয়; তবে বিশেষ জরুরি (ضرورة) অবস্থা এর ব্যতিক্রম। যেমন—যদি কোনো জনপদে কোনো শাসক না থাকেন, তবে সেখানকার বিজ্ঞ আলিম ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নিজেদের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য একজন বিচারক (قاضي) নিয়োগ করতে পারেন। তবে পরবর্তীতে সেখানে কোনো শাসক নিযুক্ত হলে, অবশ্যই তাঁর অনুমতির প্রয়োজন হবে। অনুরূপভাবে, বিচারকের বিচারিক কর্তৃত্ব (ولاية) সাধারণ কিংবা বিশেষায়িত—উভয়ই হতে পারে। সুতরাং শাসক চাইলে তাঁকে মুসলিমদের সকল ভূখণ্ডে এবং সকল প্রকার মামলার জন্য বিচারক নিয়োগ করতে পারেন, আবার নির্দিষ্ট কোনো স্থানের জন্যও নিয়োগ করতে পারেন যার বাইরে তিনি যাবেন না, অথবা কোনো বিশেষ ধরনের মামলার জন্য তাঁকে নিযুক্ত করতে পারেন, যেমন—জিম্মিদের (أهل الذمة) মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করা। এই সকল ক্ষেত্রে বিচারকের জন্য তাঁর ওপর অর্পিত সীমার বাইরে যাওয়া কিংবা তাঁর পদের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়। একেই সময়, স্থান ও বিষয়ের প্রেক্ষাপটে বিচারিক এখতিয়ার (الاختصاص القضائي) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أعوان القاضي - استقلال القضاءيحتاج القاضي في وظيفته القضائية إلى مجموعة من الأعوان تعينه على ممارسة مهنته وأدائها على الوجه الأكمل، ومن هؤلاء الأعوان:
(1) جماعة من أهل العلم والفضل: يتخذ القاضي جماعة من أهل العلم والفضل يستشيرهم في ما يعرض عليه من قضايا وما ينبغي لها من أحكام شرعية مناسبة وهذه المشاورة من القاضي مطلوبة وإن كان عالما فقد كان عمر بن الخطاب يستشير كبار الصحابة وعلماءهم كعلي بن أبي طالب وعبد الله بن عباس رضي الله عنهم أجمعين. والغرض من المشاورة تنبيه القاضي إلى ما عسى أن يكون قد فاته أو نسيه مما له تعلق بالدعوى أو تأثير في الحكم مع بيان رأيهم في الحكم المناسب، وقد اشترطوا فيهم أن يكونوا من أهل الاجتهاد والعدالة حتى يمكنهم الدلالة على الحكم الشرعي للقضية.
2 / الكاتب: وهو الذي يكتب بين يدي القاضي حسبما يملي عليه القاضي. وقد قال الفقهاء في هذا الكاتب ينبغي أن يكون عدلا وعلى قدر كاف من الفقه والدراية.
3 / الحاجب: وهو الذي يقدم الخصوم إلى القاضي ليقضي في خصومتهم بحسب أسبقيتهم في الحضور أو على حسب ترتيب رؤية دعاواهم.
বিচারকের সহকারীগণ - বিচার বিভাগের স্বাধীনতাএকজন বিচারক তাঁর বিচারিক দায়িত্ব পালনে একদল সহকারীর মুখাপেক্ষী হন, যাঁরা তাঁকে তাঁর পেশাগত কাজ চর্চা করতে এবং তা পূর্ণাঙ্গরূপে সম্পাদন করতে সাহায্য করেন। এই সহকারীদের মধ্যে রয়েছেন:
(১) ইলম ও ফযিলত সম্পন্ন একদল ব্যক্তি: বিচারক ইলম ও ফযিলত সম্পন্ন এমন একদল ব্যক্তিকে গ্রহণ করবেন, যাঁদের সাথে তিনি তাঁর নিকট উপস্থাপিত মামলাসমূহ এবং সেগুলোর জন্য প্রযোজ্য উপযুক্ত শরয়ি বিধানের বিষয়ে পরামর্শ করবেন। বিচারকের জন্য এই পরামর্শ গ্রহণ কাম্য, যদিও তিনি নিজে বড় আলেম হন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বড় বড় সাহাবী এবং তাঁদের মধ্যকার আলেমদের সাথে পরামর্শ করতেন, যেমন: আলী ইবনে আবি তালিব এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)। এই পরামর্শের উদ্দেশ্য হলো বিচারককে এমন সব বিষয়ে সতর্ক করা যা হয়তো তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে কিংবা মামলা সংশ্লিষ্ট বা রায়ের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী কোনো বিষয় তিনি ভুলে গেছেন। সেই সাথে তাঁরা উপযুক্ত রায়ের ব্যাপারে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করবেন। ফকীহগণ তাঁদের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করেছেন যে, তাঁদের অবশ্যই ইজতিহাদ করার যোগ্য (أهل الاجتهاد) এবং ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণসম্পন্ন হতে হবে, যাতে তাঁরা মামলার শরয়ি বিধান নির্দেশের ক্ষেত্রে সক্ষম হন।
২ / লেখক: তিনি বিচারকের সামনে বসে বিচারক যা শ্রুতিলিপি প্রদান করেন তা লিপিবদ্ধ করেন। ফকীহগণ এই লেখকের ব্যাপারে বলেছেন যে, তাঁকে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতে হবে এবং ফিকহ ও গভীর অনুধাবন (دراية) বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।
৩ / হাজিব (দ্বাররক্ষক): তিনি বিবাদমান পক্ষগুলোকে বিচারকের সামনে উপস্থিত করেন, যাতে বিচারক তাঁদের উপস্থিত হওয়ার অগ্রবর্তিতা অনুযায়ী অথবা মামলার শুনানির তালিকা অনুযায়ী তাঁদের বিবাদের মীমাংসা করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২২)
4 / البواب: ومن وظيفته إعلام الناس بوقت جلوس القاضي للحكم، وإعلامهم بوقت راحته، وإخبار القاضي بمن يريد الدخول عليه والغرض من ذلك حتى إذا أذن له القاضي بالدخول أدخله وإلا لم يدخله.
5 / المترجم: ويتخذ القاضي مترجما عدلا أو مترجمين اثنين أو أكثر فإن لم يكن عند القاضي مترجم خاص ترجم له عند الحاجة ثقة مأمون ومترجمان أفضل من الواحد وتجوز ترجمة المرأة العدل عند الحاجة. ويقوم هؤلاء المترجمون بترجمة أقوال المدعين أو المدعى عليهم أو الشهود إذا كان القاضي لا يعرف لغتهم.
6 / الجلواز: وهو الذي يقوم على رأس القاضي ويقيم الخصوم إذا انتهت الخصومة ليخرجوا من مجلس القضاء وهو الذي يمثل الشرطة التي تحفظ الأمن في المحكمة وتحمي القاضي.
7 / الشهود: وهؤلاء يحضرهم القاضي وجوبا ليشهدوا على القرارات التي تصدر من الخصوم ويحفظها ويدلوا بها عند الحاجة، وينبغي أن تتوفر فيهم العدالة اللازمة لتحمل الشهادة وأدائها.
8 / الأجرياء: ووظيفتهم إحضار الخصوم إلى مجلس القضاء إذا استعدى عليهم أصحاب الحقوق وينبغي أن يكونوا من ذوي الدين والأمانة والبعد عن الطمع. وهؤلاء أيضا يمثلون جزء من شرطة المحاكم.
4 / দারোয়ান (البواب): এবং তার দায়িত্ব হলো বিচারকের বিচারের জন্য বসার সময় এবং তার বিশ্রামের সময় সম্পর্কে মানুষকে জানানো। আর যে ব্যক্তি বিচারকের নিকট প্রবেশ করতে চায় তার পরিচয় এবং আগমনের উদ্দেশ্য বিচারককে অবহিত করা, যাতে বিচারক অনুমতি দিলে তাকে প্রবেশ করানো যায়, অন্যথায় নয়।
5 / অনুবাদক (المترجم): বিচারক একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) অনুবাদক অথবা দুইজন বা তার বেশি অনুবাদক নিয়োগ করবেন। যদি বিচারকের কাছে কোনো বিশেষ অনুবাদক না থাকে, তবে প্রয়োজনে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون) ব্যক্তি তার জন্য অনুবাদ করবেন। একজনের চেয়ে দুইজন অনুবাদক হওয়া উত্তম এবং প্রয়োজনে ন্যায়পরায়ণ (عدل) মহিলার অনুবাদও বৈধ। এই অনুবাদকগণ বাদী, বিবাদী অথবা সাক্ষীদের বক্তব্য অনুবাদ করবেন যদি বিচারক তাদের ভাষা জানেন না।
6 / প্রহরী (الجلواز): তিনি বিচারকের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বিচার কাজ শেষ হলে বিবাদীদের উঠিয়ে দেন যাতে তারা বিচারসভা থেকে বের হয়ে যায়। তিনি মূলত সেই পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন যারা আদালতে নিরাপত্তা রক্ষা করে এবং বিচারককে সুরক্ষা দেয়।
7 / সাক্ষীগণ (الشهود): বিচারক এদের উপস্থিত রাখা আবশ্যক মনে করেন যাতে তারা বিবাদীদের পক্ষ থেকে আসা সিদ্ধান্তগুলোর ওপর সাক্ষ্য দিতে পারেন, সেগুলো সংরক্ষণ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে তা পেশ করতে পারেন। সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রদানের জন্য তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) থাকা বাঞ্ছনীয়।
8 / সমন জারীকারক (الأجرياء): তাদের কাজ হলো বিবাদীদের বিচারসভায় উপস্থিত করা যখন পাওনাদাররা তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করে। তাদের ধার্মিকতা, আমানতদারী এবং লোভ-লালসা থেকে মুক্ত হওয়া প্রয়োজন। তারাও আদালতের পুলিশের একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
9 / المزكون: وهؤلاء رجال عدول يختارهم القاضي دون أن يكونوا معلومين للناس لتزكية الشهود بعد السؤال عنهم.
10 / المؤدبون: هؤلاء نفر من الرجال الأكفاء يكونون في مجلس القضاء ليزجروا من ينبغي زجره من المتخاصمين أو غيرهم إذا أساءوا الأدب في مجلس القضاء، ولهم الحق في إخراجهم من المجلس إذا لم يكفوا عن إساءتهم. وهؤلاء أيضا يتبعون لشرطة المحاكم.
11 / أهل الخبرة: وهؤلاء يختارهم القاضي من أهل العدالة والأمانة والخبرة في الأمور التي تدخل في أعمال القضاء وتحتاج إلى خبرة معينة مثل تقويم الأشياء وإجراء قسمة العقار والمنقول ونحو ذلك.
9 / মুযাক্কীগণ: এরা হলেন এমন একদল ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তি যাদেরকে বিচারক নির্বাচন করেন; জনসাধারণের কাছে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। সাক্ষীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়ার পর তাদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (تزكية) করাই এদের কাজ।
10 / শিষ্টাচার রক্ষাকারী: এরা হলেন একদল দক্ষ ব্যক্তি যারা বিচারিক মজলিসে উপস্থিত থাকেন, যাতে বিবাদমান পক্ষ বা অন্য কেউ আদালতের মজলিসে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করলে তাদের শাসন করতে পারেন। যদি তারা তাদের অসদাচরণ বন্ধ না করে, তবে তাদের মজলিস থেকে বের করে দেওয়ার অধিকারও তাদের রয়েছে। এরাও আদালত পুলিশের অনুসারী।
11 / বিশেষজ্ঞগণ: বিচারক এদেরকে এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নির্বাচন করেন যারা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), আমানতদারি ও অভিজ্ঞতার অধিকারী। বিচারিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত যেসব বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, যেমন—পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বণ্টন এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
12 / صاحب السجن: أو السجان ومن واجباته أن يرفع إلى القاضي كل يوم أحوال المحبوسين وما يجري في السجن حتى يزيل الظلم، ويطلق سراح من لا يستحق البقاء في السجن وكذا من انقضت مدة سجنه. هذا ومن الجدير بالذكر أن هؤلاء الأعوان منهم من يختاره القاضي بنفسه كأهل العلم والفضل الذين يستشيرهم، وكالمزكين والشهود، ومنهم من يعينه الحاكم أو الأمير كالكاتب والحاجب والبواب. ويتقاضى أعوان القضاء أرزاقا من بيت المال مقابل عملهم كل حسب اختصاصه ونوعية عمله. هذا وينبغي للقاضي أن يراقب أعوانه ليطمئن على حسن سيرتهم وقيامهم بواجباتهم المناطة بهم.
১২ / কারাধ্যক্ষ: বা জেলখানা প্রধান এবং তার অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রতিদিন বন্দীদের অবস্থা এবং কারাগারে যা ঘটছে তা বিচারকের নিকট পেশ করা, যাতে তিনি অবিচার দূর করতে পারেন এবং যারা কারাগারে থাকার যোগ্য নয় কিংবা যাদের কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের মুক্তি দিতে পারেন। উল্লেখ্য যে, এই সকল সহযোগীদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিকে বিচারক নিজেই নির্বাচন করেন, যেমন ইলম ও মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ যাদের সাথে তিনি পরামর্শ করেন, এবং চারিত্রিক গুণাবলি সত্যায়নকারী (المزكين) ও সাক্ষী (الشهود) বৃন্দ। আবার তাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যাদের শাসক বা আমির নিযুক্ত করেন; যেমন লেখক, দ্বাররক্ষক ও পাহারাদার। বিচার বিভাগের এই সহযোগীরা তাদের নিজ নিজ বিশেষত্ব ও কাজের ধরন অনুযায়ী বাইতুল মাল থেকে ভাতা লাভ করেন। এছাড়া বিচারকের উচিত তার সহযোগীদের তদারকি করা, যাতে তাদের উত্তম চরিত্র এবং অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত হতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
استقلال القاضي عن السلطة التنفيذيةتمنع نصوص الشريعة وقواعدها العامة ولاة الأمور في الأمة من التدخل في القضاء أو التأثير في أدائه بأي وجه من الوجوه، لأن هذا محرم والنظام الإسلامي يتقيد بصفة عامة في كل أصوله وفروعه ومظاهره بغاية عليا هي العدل القائم على التوحيد، والتوحيد ليس بالقول فحسب بل بالعمل الذي يصادقه هذا العمل، وهو تنفيذ ما أمر الله به، ومنع ما نهى الله عنه، وذلك على وجه التضامن بين الناس، ومن مقتضى ذلك أن تكون أوامره سبحانه وتعالى، ونواهيه معيارا للحق والعدل، فما أمر به هو الحق والعدل، وما نهى عنه هو الباطل والظلم ومنعه هو الحق والعدل.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচারকের স্বাধীনতাশরিয়তের বিধানসমূহ এবং এর সাধারণ নীতিমালা উম্মাহর শাসনকর্তাদের বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা যেকোনোভাবে এর কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতে বাধা প্রদান করে। কেননা এটি নিষিদ্ধ এবং ইসলামি ব্যবস্থা সাধারণত তার সকল মূলনীতি (أصول), শাখা-প্রশাখা (فروع) ও বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে এক সুউচ্চ লক্ষ্যের অনুসারী, আর তা হলো তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ন্যায়বিচার। তাওহিদ কেবল মৌখিক স্বীকৃতির নাম নয়, বরং এমন কর্মের নাম যা সেই স্বীকৃতিকে সত্যায়ন করে; আর তা হলো আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা বাস্তবায়ন করা এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা প্রতিহত করা, যা মানুষের পারস্পরিক সংহতির ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে। এর অনিবার্য দাবি হলো এই যে, মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধসমূহ সত্য ও ন্যায়ের মানদণ্ড হবে। সুতরাং তিনি যা আদেশ করেছেন তা-ই সত্য ও ন্যায়, আর যা তিনি নিষেধ করেছেন তা-ই মিথ্যা ও জুলুম এবং তা প্রতিহত করাই হলো সত্য ও ন্যায়।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد تواترت الآيات في وجوب الحكم بالعدل وتحريم الظلم، ومن ذلك قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} وقال تعالى: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} والشنآن هو البغض والشقاق. وقال تعالى: {وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} وقال تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} وفي الحديث القدسي: «قال الله تعالى يا عبادي إني حرمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرما فلا تظالموا» .
ন্যায়বিচারের মাধ্যমে ফয়সালা করার আবশ্যকতা এবং জুলুমের নিষিদ্ধতা সম্পর্কে আয়াতসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে (متواتر) বর্ণিত হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচার, ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ (منكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন; তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ইনসাফ বর্জন করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার নিকটতর}। আর 'শানআন' অর্থ হলো বিদ্বেষ ও বিবাদ। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করবে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির}। এবং হাদিসে কুদসিতে এসেছে: "আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তা তোমাদের মাঝেও নিষিদ্ধ করেছি। অতএব, তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।"
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تلك هي بعض نصوص الشريعة في شأن وجوب الحكم بالعدل وبما أنزل الله وهو خطاب عام للحاكم والمحكوم على السواء، فالحاكم والسلطان في الإسلام مقيد فيما يجريه بحكم الله، ولا طاعة له فيما جاوز ذلك. هكذا فهم وعمل السلف الصالح بأحكام الشريعة، فهم ولاة الأمور والحاكم هو الله تعالى، وأن الخليفة أو الإمام ليس إلا واحدا من المسلمين سواء بسواء، هم الذين يختارونه ويوسدونه الرئاسة، ولهم مراقبته، وعليه مشاورتهم فإن حاد عن الشرع وأهدر مصالحهم عزلوه. كما فهم ولاة الأمور في الدولة الإسلامية أن أساس الحكم في الإسلام هو العدل الذي قامت به السماوات والأرض، فهذا عمرو بن العاص يقول: لا سلطان إلا برجال، ولا رجال إلا بالمال، ولا مال إلا بعمارة، ولا عمارة إلا بالعدل.
এগুলো হলো ন্যায়বিচার (العدل) এবং আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সেই অনুযায়ী শাসন করার আবশ্যকতা সংক্রান্ত শরীয়তের (الشريعة) কিছু মূলপাঠ (نصوص)। এটি শাসক ও শাসিত—উভয়ের জন্যই একটি সাধারণ সম্বোধন। ইসলামে শাসক ও সুলতান তাঁর কার্যক্রম পরিচালনায় আল্লাহর বিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ; এর বাইরে তাঁর প্রতি কোনো আনুগত্য নেই। এভাবেই সলফে সালেহীন (السلف الصالح) শরীয়তের (الشريعة) বিধানাবলি অনুধাবন করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁরা ছিলেন উলিল আমর (ولاة الأمور) এবং প্রকৃত হুকুমদাতা হলেন আল্লাহ তায়ালা। আর খলিফা (الخليفة) বা ইমাম (الإمام) সাধারণ মুসলিমদের মতোই একজন; মুসলিমরাই তাঁকে নির্বাচিত করেন এবং নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাঁর ওপর নজরদারি করার অধিকার তাঁদের রয়েছে এবং তাঁদের সাথে পরামর্শ করা তাঁর জন্য আবশ্যক। যদি তিনি শরীয়ত (الشرع) থেকে বিচ্যুত হন এবং জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেন, তবে তাঁরা তাঁকে পদচ্যুত করবেন। একইভাবে ইসলামি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলগণ (ولاة الأمور) অনুধাবন করেছিলেন যে, ইসলামে শাসনের মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার (العدل), যার ওপর আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত। এ প্রসঙ্গে আমর ইবনুল আস বলেন: "জনশক্তি ছাড়া কোনো শাসন নেই, সম্পদ ছাড়া জনশক্তি নেই, উন্নয়ন ছাড়া সম্পদ নেই এবং ন্যায়বিচার (العدل) ছাড়া কোনো উন্নয়ন নেই।"
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا عمر بن عبد العزيز يكتب إلى أحد عماله حينما استأذنه في تحصين مدينة قائلا: حصنها بالعدل، ونق طريقها من الظلم. وهذا سعيد بن سويد يقول في إحدى خطبه بحمص: أيها الناس إن للإسلام حائطا منيعا وبابا وثيقا، فحائطه الحق وبابه العدل، ولا يزال الإسلام منيعا ما اشتد السلطان وليس شدة السلطان قتلا بالسيف ولا ضربا بالسوط، ولكن قضاء بالحق وأخذا بالعدل من أجل ذلك أحاط الخلفاء الراشدون ورؤساء الدولة الإسلامية القضاء بكل مظاهر الإجلال والتكريم، وصانوه عن التدخل ضمانا للحق وإرساء للعدل فلم يسعوا إلى تحويل الأحكام لصالحهم، أو لصالح من يحبون، وإنما امتثلوا لأحكام القضاء بالاحترام والتنفيذ فكانوا يقبلون الأحكام الصادرة ضدهم راضين وينفذونها طائعين وكم حدثتنا كتب الأثر عن مخاصمات كان بعض الخلفاء الراشدين وولاة المسلمين ومن بعدهم طرفا فيها، وصدرت ضدهم أحكام القضاة الموالين من قبلهم راضين طائعين ولعل الحق كان معروفا لهؤلاء الخلفاء ولكنهم تعمدوا طرح الخصومة على القضاء لاختبار قوتهم في الحق ولو كان في جانب ذمي من اليهود أو النصارى وضد الخليفة، وليكن ذلك سنة من بعده.
আর এই যে উমর ইবনুল আব্দুল আজিজ, তিনি তাঁর জনৈক গভর্নরকে লিখেছিলেন যখন সে একটি শহরকে সুরক্ষিত করার অনুমতি চেয়েছিল: “একে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সুরক্ষিত করো এবং এর পথকে জুলুম থেকে পবিত্র করো।” আর এই যে সাঈদ ইবনে সুওয়াইদ হিমসে তাঁর এক খুতবায় বলেছিলেন: “হে লোকসকল! ইসলামের জন্য একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর ও একটি মজবুত দরজা রয়েছে। এর প্রাচীর হলো সত্য আর এর দরজা হলো ন্যায়বিচার। ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত শক্তিশালী থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত কর্তৃত্ব সুদৃঢ় থাকবে। আর কর্তৃত্বের সুদৃঢ়তা তলোয়ার দিয়ে হত্যা করা কিংবা চাবুক দিয়ে প্রহার করা নয়, বরং তা হলো হকের ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান করা এবং ইনসাফের সাথে তা গ্রহণ করা।” একারণেই খুলাফায়ে রাশেদিন এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ বিচার ব্যবস্থাকে পূর্ণ সম্মান ও শ্রদ্ধার আবরণে বেষ্টিত করেছিলেন এবং সত্যের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একে যাবতীয় হস্তক্ষেপ থেকে হিফাজত করেছিলেন। ফলে তাঁরা বিচারিক রায়সমূহকে নিজেদের স্বার্থে কিংবা তাঁদের প্রিয়ভাজনদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করেননি, বরং তাঁরা আদালতের রায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও তা বাস্তবায়ন করতেন। তাঁরা নিজেদের বিরুদ্ধে আসা রায়গুলো সন্তুষ্টচিত্তে কবুল করতেন এবং অনুগত হয়ে তা কার্যকর করতেন। আসার (أثر) বা বর্ণনার কিতাবসমূহ আমাদের এমন অনেক বিবাদের কথা বলে যেখানে খুলাফায়ে রাশেদিন, মুসলিম গভর্নরগণ এবং তাঁদের পরবর্তী শাসকরা পক্ষ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদেরই নিযুক্ত বিচারকগণ তাঁদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলেন, যা তাঁরা সন্তুষ্ট ও অনুগত হয়ে গ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত সত্যটি এই খলিফাদের নিকট জানাই ছিল, কিন্তু তাঁরা সত্যের ওপর অটল থাকার শক্তি পরীক্ষা করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিবাদগুলো বিচারকের সামনে পেশ করতেন—এমনকি যদি তা কোনো জিম্মি (ذمي) ইহুদি বা খ্রিস্টানের পক্ষে এবং খলিফার বিপক্ষেও হতো—যাতে তা তাঁদের পরবর্তীদের জন্য একটি সুন্নাহ (سنة) বা অনুসৃত আদর্শ হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আন-নিজামুল ক্বাযায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولم يكن حرص قضاة الإسلام أنفسهم على تلك المعاني بأقل من حرص ولاة الأمور فقد كان القاضي في مجلس قضائه محترما مهيبا لا تأخذه في الحق لومة لائم يسوي في مجلسه بين الأمير والحقير وبين الشريف والوضيع وقد روت لنا كتب التاريخ بعض الأمثلة على ذلك منها: دخل الأشعث بن قيس على القاضي شريح في مجلس الحكومة فقال شريح: مرحبا وأهلا وسهلا بشيخنا وسيدنا، وأجلسه معه، فبينما هو جالس معه إذ دخل رجل يتظلم من الأشعث فقال له شريح: قم فاجلس مجلس الخصم وكلم صاحبك، فقال بل أكلمه في مجلسي فقال له: لتقومن أو لآمرن من يقيمك، فقام امتثالا لأمر القضاء، ويروي أبو يوسف وهو من أفذاذ القضاة عن نفسه: أنه جاءه رجل يدعي أن له بستانا في يد الخليفة فأحضر الخليفة إلى مجلس القضاء وطلب من المدعي البينة فقال: غصبه المهدي مني ولا بينة لدي وليحلف الخليفة، فقال أمير المؤمنين: البستان لي اشتراه لي المهدي ولم أجد به عقدا فوجه القاضي أبو يوسف إلى الخليفة اليمين ثلاث مرات فلم يحلف الخليفة فقضى بالبستان للرجل كتب الخليفة أبو جعفر المنصور إلى سوار بن عبد الله قاضي البصرة: انظر الأرض التي تخاصم فيها فلان القائد، وفلان التاجر
ইসলামের বিচারকগণও এই আদর্শগুলোর প্রতি রাষ্ট্রপ্রধানদের তুলনায় কোনো অংশে কম যত্নশীল ছিলেন না। কেননা বিচারক তার বিচারকক্ষে অত্যন্ত মর্যাদাবান ও প্রভাবক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হতেন; সত্যের প্রশ্নে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। তিনি তার মজলিসে আমীর ও সাধারণ প্রজা এবং উচ্চবংশীয় ও নিম্নবংশীয়দের মধ্যে সমতা বিধান করতেন। ইতিহাসের কিতাবসমূহ আমাদের নিকট এর কিছু দৃষ্টান্ত বর্ণনা (روى) করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: আশআস ইবনে কায়স বিচারক শুরাইহের বিচারালয়ে প্রবেশ করলেন। শুরাইহ তাকে বললেন: "আমাদের শাইখ ও সর্দারের প্রতি সুস্বাগতম," এবং তাকে নিজের পাশে বসালেন। তিনি যখন তার পাশে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি আশআসের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হলো। শুরাইহ তাকে বললেন: "উঠে দাঁড়ান এবং বিবাদীর আসনে বসুন এবং আপনার প্রতিপক্ষের সাথে কথা বলুন।" তিনি বললেন: "বরং আমি আমার এই আসন থেকেই কথা বলব।" তখন শুরাইহ তাকে বললেন: "আপনি অবশ্যই উঠে দাঁড়াবেন নতুবা আমি আপনাকে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য কাউকে আদেশ দেব।" অতঃপর তিনি বিচারবিভাগীয় আদেশের প্রতি অনুগত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। বিচারকদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আবু ইউসুফ নিজের সম্পর্কে বর্ণনা (روى) করেন যে, এক ব্যক্তি তার নিকট এসে দাবি করল যে খলিফার হস্তগত একটি বাগান তার মালিকানাধীন। তখন তিনি খলিফাকে বিচারালয়ে উপস্থিত করলেন এবং বাদীর নিকট প্রমাণ চাইলেন। বাদী বললেন: "মাহদী এটি আমার থেকে জবরদখল করেছেন এবং আমার নিকট কোনো প্রমাণ নেই, এমতাবস্থায় খলিফা শপথ গ্রহণ করুন।" তখন আমীরুল মুমিনীন বললেন: "বাগানটি আমারই, মাহদী এটি আমার জন্য ক্রয় করেছিলেন কিন্তু আমি এর কোনো দলিল খুঁজে পাইনি।" অতঃপর বিচারক আবু ইউসুফ খলিফাকে তিনবার শপথ করার আহ্বান জানালেন, কিন্তু খলিফা শপথ করলেন না। ফলে তিনি বাগানটি ওই ব্যক্তির মালিকানায় দেওয়ার রায় প্রদান করলেন। খলিফা আবু জাফর আল-মানসুর বসরার বিচারক সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট লিখলেন: "অমুক সেনাপতি এবং অমুক ব্যবসায়ীর মধ্যে যে ভূমি নিয়ে বিবাদ চলছে তা পর্যবেক্ষণ করুন।"