(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
واقع المرأة قبل الإسلام   (عبد الرحمن بن معلا اللويحق)

القسم: كتب عامة


الكتاب: واقع المرأة قبل الإسلام

المؤلف: عبد الرحمن بن معلا اللويحق

عدد الصفحات: 12

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামপূর্ব যুগে নারীর বাস্তবতা   (আবদুর রহমান বিন মুয়াল্লা আল-লুওয়াইহিক)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


গ্রন্থ: ইসলামপূর্ব যুগে নারীর বাস্তবতা

গ্রন্থকার: আবদুর রহমান বিন মুয়াল্লা আল-লুওয়াইহিক

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২

[শামেলা নাম্বারিং অনুযায়ী ইলেকট্রনিক গ্রন্থ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌واقع المرأة قبل الإسلام

جاء الإسلام وكل أمم الأرض تمتهن المرأة وتبخسها حقها وغاية ما تصل إليه من تقدير: الاعتراف بأصلها الإنساني، فكيف بتقرير كرامتها ومساواتها للرجل في الحقوق والواجبات. فهي عند اليونان وسيلة للترفيه والمتعة، وقد عبر عن ذلك نص (ديمو ستين) .

حين قال (إننا نتخذ العاهرات للذة ،ونتخذ الخليلات للعناية بصحة أجسامنا اليومية، ونتخذ الزوجات ليكون لنا أبناء شرعيون) وعند الرومان كان يحق للأب والزوج أن يبيعها لمن يشاء، أماعند العرب فكان يحق لابن زوجها أن يرثها كما يرث فرض أبيه ودابته! وهذا إن نجاها الله من الوأد عند ميلادها. وهكذا بقية الأمم من فرس وهنود وغيرهم. ودون أن تقوم المرأة بثورات أو احتجاجات على هذا الوضع المزري ،ودون أن يقوم أحد بذلك ،ودون أن تحدث تطورات اجتماعية أو اقتصادية تفرض شيئا من ذلك.

إلى أن جاء الإسلام ليعترف لها بالمساواة مع الرجل ويقرر لها حقوقها كاملة لينقذها من ذلك الوضع المأساوي الشائن إلى أفق سامية على الصعد كافة. فكيف تم ذلك:
ইসলামের পূর্বে নারীর অবস্থা

ইসলাম এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিল যখন পৃথিবীর সকল জাতিই নারীকে অবজ্ঞা করত এবং তার প্রাপ্য অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করত। নারীর মূল্যায়নের সর্বোচ্চ সীমা ছিল কেবল তার মানবিক সত্তার স্বীকৃতি প্রদান; সেখানে অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে তার মর্যাদা ও সমতা নির্ধারণের প্রশ্নটি তো বহুদূরের বিষয় ছিল। গ্রীকদের নিকট নারী ছিল কেবল বিনোদন ও লালসা পূরণের একটি মাধ্যম, যা ডেমোস্থেনিসের (Demosthenes) একটি উদ্ধৃতি থেকে স্পষ্ট হয়।

যখন তিনি বলেছিলেন, "আমরা লালসা মেটানোর জন্য বারাঙ্গনাদের গ্রহণ করি, শরীরের প্রাত্যহিক যত্নের জন্য উপপত্নীদের রাখি এবং বৈধ সন্তান লাভের জন্য আমরা স্ত্রী গ্রহণ করি।" রোমানদের নিকট পিতা বা স্বামীর এই অধিকার ছিল যে, সে নারীকে যার কাছে ইচ্ছা বিক্রয় করতে পারত। আর আরবদের ক্ষেত্রে, স্বামীর মৃত্যুর পর তার পুত্র সেই নারীর মালিকানা লাভ করত, ঠিক যেভাবে সে তার পিতার পরিত্যক্ত সম্পদ ও গবাদি পশুর উত্তরাধিকার লাভ করত! আর এটি কেবল তখনই সম্ভব হতো, যদি জন্মের পর আল্লাহ তাকে জীবন্ত প্রোথিত (الوأد) হওয়া থেকে রক্ষা করতেন। পারসিক, ভারতীয় এবং অন্যান্য জাতির অবস্থাও ছিল তদ্রূপ। এই শোচনীয় পরিস্থিতির বিরুদ্ধে নারীদের পক্ষ থেকে কোনো বিপ্লব বা প্রতিবাদ ছাড়াই এবং অন্য কারো কোনো উদ্যোগ কিংবা কোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তনের আবশ্যকতা ছাড়াই এই পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল।

পরিশেষে ইসলামের আগমন ঘটে যা পুরুষের সাথে নারীর সমতা স্বীকার করে এবং তার পূর্ণ অধিকার সুনিশ্চিত করে, যাতে তাকে সেই বিয়োগান্তক ও কলঙ্কজনক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে এক উচ্চতর দিগন্তে পৌঁছে দেওয়া যায়। এই মহান পরিবর্তন কীভাবে সাধিত হয়েছিল?
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২)
1 /‌‌ المساواة في أصل النشأة:

قرر الإسلام بشكل قاطع وحدة أصل النوع البشري وذلك في عدة آيات: {يا أيها النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً} {يا أيها النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} .
1 /‌‌ উৎপত্তির মূলে সাম্য:

ইসলাম মানবজাতির উৎসের একত্বকে অকাট্য (قطعي) ভাবে নির্ধারণ করেছে এবং তা বেশ কয়েকটি আয়াতে বিধৃত হয়েছে: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন} {হে মানবজাতি! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক আল্লাহভীরু}।
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
2 /‌‌ المساواة في المصير:

كما قرر أن البشر جميعا صائرون إلى الله الذي خلقهم أول مرة وكل واحد منهم ذكرا كان أم أنثى سيلقى هناك جزاء عمله في هذه الدنيا، إن خيرا فخير وإن شرا فشر، {وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا} {وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى} {وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ يُرَى} {ثُمَّ يُجْزَاهُ الْجَزَاءَ الْأَوْفَى} {فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ} {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} .
2 /‌‌ পরিণতির ক্ষেত্রে সমতা:

অনুরূপভাবে তিনি এটিও সাব্যস্ত করেছেন যে, সকল মানুষ আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তনকারী, যিনি তাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। তাদের প্রত্যেকেই—চাই সে পুরুষ হোক বা নারী—পরকালে নিজ নিজ পার্থিব কর্মের প্রতিফল লাভ করবে; যদি কর্ম ভালো হয় তবে ভালো এবং যদি মন্দ হয় তবে মন্দ। {আর কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকেই তাঁর নিকট একাকী উপস্থিত হবে} {আর মানুষের জন্য কিছুই নেই তার প্রচেষ্টা ব্যতীত} {এবং তার প্রচেষ্টা অচিরেই প্রত্যক্ষ করা হবে} {অতঃপর তাকে পূর্ণতম প্রতিদান দেওয়া হবে} {অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন যে, আমি তোমাদের মধ্য হতে কোনো আমলকারীর আমলই বিনষ্ট করি না, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী; তোমরা একে অপরের অংশ} {মুমিন অবস্থায় যে কোনো পুরুষ বা নারী সৎকর্ম করবে, তাকে আমি অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং অবশ্যই তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করব}।
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
3 /‌‌ المساواة في أهلية الخطاب الشرعي:

فخطاب الله إلى البشر ورسالته إلى الناس متجهة إلى المرأة والرجل على حد سواء، وشخصية المرأة تجاه الرجل مستقلة تماما: فهي مطالبة بالإيمان بالله ورسله وكتبه واليوم الآخر ومخاطبة بكافة التكاليف الشرعية دون وساطة أحد أو وصايته ، وهي تتحمل المسؤولية الكاملة في كل ذلك.

{إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ كَفَرُوا اِمْرَأَةَ نُوحٍ وَامْرَأَةَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ}
3 /‌‌ শরয়ি সম্বোধনের যোগ্যতায় সমতা:

মানবজাতির প্রতি আল্লাহর সম্বোধন এবং মানুষের নিকট প্রেরিত তাঁর বার্তা নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রতি সমানভাবে নিবদ্ধ। পুরুষের বিপরীতে নারীর ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ স্বাধীন: তাকে আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ, কিতাবসমূহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো মাধ্যম বা কারো অভিভাবকত্ব ছাড়াই তাকে সমস্ত শরয়ি বিধিবিধান পালনের মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে; আর এই সবকিছুর ক্ষেত্রে সে পূর্ণ দায়বদ্ধতা বহন করে।

{নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও সিয়াম পালনকারী নারী, নিজেদের লজ্জাস্থান রক্ষাকারী পুরুষ ও রক্ষাকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী—আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন।} {আল্লাহ কাফিরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করেছেন; তারা আমাদের দুই নেককার বান্দার অধীনে ছিল, কিন্তু তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে তারা আল্লাহর শাস্তির বিপরীতে তাদের কোনো উপকারে আসেনি এবং বলা হলো, ‘তোমরা প্রবেশকারীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো’।}
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
{وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ آمَنُوا اِمْرَأَةَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِنْدَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} {وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِنْ رُوحِنَا وَصَدَّقَتْ بِكَلِمَاتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِ وَكَانَتْ مِنَ الْقَانِتِينَ} ويقول رسول الله صلى الله عليه وسلم لابنته فاطمة: «يا فاطمة لا أغني عنك من الله شيئا» .
{আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করেছেন; যখন সে বলেছিল: হে আমার প্রতিপালক! আপনার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করুন এবং আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম হতে রক্ষা করুন, আর আমাকে জালিম সম্প্রদায় হতে নাজাত দিন।} {এবং ইমরানের কন্যা মারইয়ামের (উদাহরণ দিয়েছেন), যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তার মধ্যে আমার রূহ হতে ফুঁকে দিয়েছিলাম; সে তার প্রতিপালকের বাণী ও তাঁর কিতাবসমূহ সত্য বলে গ্রহণ করেছিল এবং সে ছিল একান্ত অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।} এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কন্যা ফাতিমাকে বলতেন: «হে ফাতিমা! আল্লাহর পাকড়াও হতে তোমাকে বাঁচাতে আমি কোনোই কাজে আসব না»।
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
4 /‌‌ المساواة أمام القضاء:

والمرأة كذلك لها حصانتها القانونية ولها حق التقاضي ورفع الظلم إن وقع عليها {يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا} وكثيرات هن النساء اللاتي جئن إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يشتكين من الظلم الواقع عليهن من بعض أقاربهن فأنصفهن رسول الله صلى الله عليه وسلم ورفع عنهن ذلك الظلم. فمنهن تلك التي منعها أخوها عن الزواج ممن ترضى فجاءت تشكوه إلى الرسول فنزل قوله تعالى: {فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ} وتلك التي زوجها أبوها وهي كارهة فرد الرسول صلى الله عليه وسلم نكاحها، وتلك الفتاة التي زوجها أبوها ممن تكره فجاءت إليه صلى الله عليه وسلم فخيرها فقالت (قد أجزت ما فعل أبي ولكن أردت أن يعلم النساء أن ليس للآباء من الأمر شيء) .
4 /‌‌ বিচারের ক্ষেত্রে সমতা:

একইভাবে নারীরও আইনি সুরক্ষা রয়েছে এবং তার বিচারপ্রার্থনা করার ও তার ওপর কোনো জুলুম বা অন্যায় সংঘটিত হলে তা প্রতিকার করার অধিকার রয়েছে। {হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাক এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাক্ষ্য দাও; যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে বিত্তবান হোক কিংবা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই পরম হিতৈষী।} এমন অনেক নারী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসতেন যাঁরা তাঁদের নিকটাত্মীয়দের কারো কারো পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর কৃত অন্যায়ের অভিযোগ করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার করেছেন এবং তাঁদের ওপর থেকে সেই জুলুম বা অন্যায় দূরীভূত করেছেন। তাঁদের মধ্যে এমন নারীও ছিলেন যাঁর ভাই তাঁকে তাঁর পছন্দের পাত্রের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা প্রদান করেন; এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে এর অভিযোগ করলে মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়: {যখন তারা বিধিসম্মতভাবে পরস্পর সম্মত হয়, তখন তারা তাদের স্বামীদের পুনরায় বিবাহ করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিও না।} আবার এমন নারীও ছিলেন যাঁকে তাঁর পিতা তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ে দিয়েছিলেন; ফলে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সেই বিবাহ বাতিল করে দেন। আর সেই তরুণীর ঘটনা, যাঁর পিতা তাঁকে এমন একজনের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন যাকে তিনি অপছন্দ করতেন; অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এলে তিনি তাঁকে (বিবাহ রাখা বা না রাখার) ইখতিয়ার বা অধিকার প্রদান করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, "আমার পিতা যা করেছেন আমি তা অনুমোদন করলাম, তবে আমি নারীদের এটা জানাতে চেয়েছিলাম যে, বিবাহের বিষয়ে পিতাদের একক কোনো কর্তৃত্ব নেই।"
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
وأخرى جاءته وقد منع عم ابنتيها أباها من الميراث من أبيهما فنزل قوله تعالى: {فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ} وغيرهن كثيرات.

অপর এক নারী তাঁর নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর দুই কন্যার চাচা তাদেরকে তাদের পিতার উত্তরাধিকার (ميراث) হতে বঞ্চিত করেছিলেন। তখন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়: {অতঃপর তারা যদি দুইয়ের অধিক নারী হয়, তবে তাদের জন্য থাকবে ঐ ত্যাজ্য সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ} এবং তাদের ন্যায় আরও অনেকেই ছিলেন।

(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
المساواة الإسلامية بين الرجل والمرأة

5 /‌‌ المساواة داخل الأسرة بين الحقوق التي للمرأة والواجبات التي عليها:

فقد أعلن الإسلام المساواة والتكافؤ بين الحقوق والواجبات الأسرية للمرأة فقال تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} وأعلن كذلك حقها في الشورى داخل الأسرة في أمر الأبناء وتربيتهم وغير ذلك من أمور الأسرة فقال تعالى في شأن فطام الأبناء {فَإِنْ أَرَادَا فِصَالًا عَنْ تَرَاضٍ مِنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا} وقال: {وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ} أي ليأمر كل واحد من الزوجين الآخر بالمعروف في شئون الأسرة - من إرضاع للأبناء وتربيتهم وغير ذلك.
পুরুষ ও নারীর মাঝে ইসলামি সাম্য

৫ /‌‌ পরিবারের অভ্যন্তরে নারীর অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে সাম্য:

ইসলাম নারীর পারিবারিক অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে সাম্য ও সমতা ঘোষণা করেছে। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর পুরুষদের ওপর নারীদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি ন্যায়সঙ্গতভাবে নারীদের ওপরও পুরুষদের অধিকার রয়েছে।} একইভাবে তিনি সন্তানদের বিষয়, তাদের লালন-পালন এবং পরিবারের অন্যান্য বিষয়ে পরিবারের অভ্যন্তরে তার পরামর্শের অধিকার ঘোষণা করেছেন। সন্তানদের দুধ ছাড়ানোর বিষয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর যদি তারা উভয়ে পারস্পরিক সম্মতি ও পরামর্শের মাধ্যমে (দুধ) ছাড়াতে চায়, তবে তাদের কোনো গুনাহ নেই।} এবং তিনি ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা নিজেদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে পরামর্শ করো।} অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকেই যেন পরিবারের বিষয়াবলিতে—যেমন সন্তানদের দুগ্ধদান, লালন-পালন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে—একে অপরকে ন্যায়ের নির্দেশ প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
أ-‌‌ حقوق المرأة الفكرية والدينية:

كفل الإسلام للإنسان ذكرا أو أنثى حق التفكير والاعتقاد، بل اعتبر التفكير والنظر أمرا واجبا على الإنسان، فتعددت الآيات التي تحض الإنسان على النظر والتفكير في ظواهر الكون والحياة. قال تعالى: {أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ} ، {قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} وقال: {قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ} ، {قُلْ إِنَّمَا أَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍ أَنْ تَقُومُوا لِلَّهِ مَثْنَى وَفُرَادَى ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا مَا بِصَاحِبِكُمْ مِنْ جِنَّةٍ} .
অ-‌‌ নারীর বুদ্ধিভিত্তিক ও ধর্মীয় অধিকারসমূহ:

ইসলাম মানুষের জন্য—সে পুরুষ হোক বা নারী—চিন্তা ও বিশ্বাসের অধিকার নিশ্চিত করেছে; বরং চিন্তা ও গবেষণাকে মানুষের ওপর একটি আবশ্যকীয় (واجب) বিষয় হিসেবে গণ্য করেছে। ফলে মহাবিশ্ব ও জীবনের বাহ্যিক নিদর্শনাবলী নিয়ে গবেষণা ও চিন্তার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে এমন অসংখ্য আয়াতের অবতারণা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা কি আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সে সম্পর্কে দৃষ্টিপাত করে না?}, {বলুন, আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তা প্রত্যক্ষ করো।} এবং তিনি বলেন: {বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো, অতঃপর দেখো কীভাবে তিনি সৃষ্টি শুরু করেছেন}, {বলুন, আমি তোমাদের একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি: তোমরা আল্লাহর জন্য জোড়ায় জোড়ায় অথবা একাকী দাড়াও, অতঃপর চিন্তা করো—তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই।}
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
أما حق الاعتقاد فقد كفله الإسلام للإنسان ومنع الإكراه على تغيير المعتقد {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ} ، {أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ} ، {إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ} {لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُسَيْطِرٍ} وقد توعد القرآن أولئك الذين يفتنون المؤمنين والمؤمنات عن دينهم فقال {إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيقِ} ومن كل تلك النصوص تتجلى استقلالية الشخصية الدينية للمرأة وأنه لا أحد يقرر لها معتقدها وإنما هي التي تقرره بإرادتها الحرة.
বিশ্বাসের অধিকারের বিষয়টি ইসলাম মানুষের জন্য নিশ্চিত করেছে এবং ধর্মবিশ্বাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জবরদস্তি নিষিদ্ধ করেছে। {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে}, {তবে কি আপনি মানুষের ওপর জবরদস্তি করবেন যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়?}, {আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা}, {আপনি তাদের ওপর কোনো আধিপত্য বিস্তারকারী নন}। কুরআন ঐসব ব্যক্তিকে সতর্ক করেছে যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে নির্যাতন করে; ইরশাদ হয়েছে: {নিশ্চয়ই যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের নির্যাতন করেছে, অতঃপর তওবা করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং তাদের জন্য রয়েছে দহন যন্ত্রণা}। এই সকল মূলপাঠসমূহ (نصوص) থেকে নারীর ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের স্বাধীনতা সুস্পষ্ট হয় এবং এটি প্রতীয়মান হয় যে, তার বিশ্বাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ নেই; বরং সে নিজেই নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় তা নির্ধারণ করে।
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ} ، {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لَا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ} ، {يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ مَنْ يَأْتِ مِنْكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ يُضَاعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا} {وَمَنْ يَقْنُتْ مِنْكُنَّ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ} .
{হে মুমিনগণ, যখন তোমাদের নিকট হিজরতকারী মুমিন নারীরা আসে, তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা করো। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত। অতঃপর যদি তোমরা জানতে পারো যে তারা মুমিন, তবে তাদের কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠিয়ে দিও না।} ، {হে নবী, যখন মুমিন নারীরা তোমার কাছে এই মর্মে বায়আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তারা নিজেদের হাত ও পায়ের মধ্যবর্তী কোনো বিষয়ে মিথ্যা অপবাদ রটনা করবে না এবং সৎকাজে তোমার অবাধ্য হবে না, তবে তুমি তাদের বায়আত গ্রহণ করো এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো।} ، {হে নবী-পত্নীগণ, তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হবে, তাকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করা হবে। আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।} {আর তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত হবে এবং সৎকাজ করবে, আমি তাকে তার প্রতিদান দুইবার প্রদান করবো।} .
(খণ্ড: ১) ওয়াকিউল মারআতি ক্বাবলাল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
ولما جاء الإسلام أسلمت المرأة وهاجرت، مع كفر الزوج والأب وكافة الأقارب من الرجال فهذه أم حبيبة بنت أبي سفيان تسلم وتهاجر مع أن أباها كان إذ ذاك من رؤوس الكفر ويرتد زوجها فتثبت هي على الإسلام. وهذه فاطمة بنت الخطاب تسلم قبل إسلام أخيها عمر وتكون هي سبب إسلامه بواسطة تصديها وتحديها له لما علم بإسلامها وأراد أن يفتنها. وهذه أم كلثوم بنت عقبة ابن أبي معيط تسلم وتهاجر رغم أن كل أفراد أسرتها كانوا على الشرك. وكثيرات هن اللواتي كن السبب في إسلام أزواجهن منهن أم سليم زوجة أبي طلحة الأنصاري، وأم حكيم بنت حزام زوجة عكرمة بن أبي جهل، وغيرهن كثير.
যখন ইসলামের আবির্ভাব হলো, তখন নারীরা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং হিজরত করলেন; যদিও তাঁদের স্বামী, পিতা এবং সকল পুরুষ নিকটাত্মীয় কুফরের ওপর লিপ্ত ছিল। এই তো উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান; তিনি ইসলাম গ্রহণ ও হিজরত করেন অথচ তাঁর পিতা তখন কুফরের অন্যতম শীর্ষনেতা ছিলেন এবং তাঁর স্বামী ধর্মত্যাগী (مرتد) হয়ে গেলেও তিনি ইসলামের ওপর অবিচল থাকেন। আর এই হলেন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব; তিনি তাঁর ভাই উমরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই ইসলাম কবুল করেন এবং তাঁর ভাই যখন তাঁর ইসলাম গ্রহণের সংবাদ পেয়ে তাঁকে ফিতনায় ফেলতে উদ্যত হন, তখন তাঁর অটল প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার কারণেই তিনি উমরের ইসলাম গ্রহণের কারণ হন। আর এই উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা ইবনে আবি মুআইত; তিনি ইসলাম গ্রহণ ও হিজরত করেন যদিও তাঁর পরিবারের সকল সদস্য শিরকের ওপর লিপ্ত ছিল। এমন অনেক নারী রয়েছেন যাঁরা তাঁদের স্বামীদের ইসলাম গ্রহণের কারণ হয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে আবু তালহা আনসারীর স্ত্রী উম্মে সুলাইম, ইকরিমা ইবনে আবি জাহলের স্ত্রী উম্মে হাকিম বিনতে হিজাম এবং আরও অনেকে।