(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
الجريمة والعقاب في الإسلام   (-)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الجريمة والعقاب في الإسلام

المؤلف: -

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 33

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 54

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামে অপরাধ ও শাস্তি   (-)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল


গ্রন্থ: ইসলামে অপরাধ ও শাস্তি

লেখক: -

প্রকাশক: বইটি কোনো তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ৩৩

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১)
الجريمة والعقاب في الإسلام

إن‌‌ الأمن والاستقرار مطلب إنساني ضروري لا يقل أهمية عن المطالب الأخرى كالغذاء والكساء، وبدونه لا يستطيع الإنسان أن يقوم بممارسة حياته اليومية على الوجه الأمثل، فضلا عن أن يبدع فكرة خلّاقة أو يقيم حضارة راقية. وقد انتبه الإنسان إلى ضرورة الأمن منذ بداية حياته وظل يعبر عن هذا الشعور أو هذه الحاجة بشتى الوسائل، ومع تعقد حياته الاجتماعية وتطورها عبر عن تلك الحاجة - وغيرها من الحاجات- بالدولة وبالقوانين لتوفّر الأمن العام وتحسم ما ينشأ من خصومات وصراعات تهدد أمن المجتمع وتواجه ما يهدده من أخطار خارجية من طرف مجتمعات أخرى.
ইসলামে অপরাধ ও দণ্ডবিধি

নিশ্চয়ই‌‌ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা একটি অপরিহার্য মানবিক চাহিদা যা খাদ্য ও বস্ত্রের মতো অন্যান্য চাহিদার চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর এটি ছাড়া মানুষ তার দৈনন্দিন জীবন যথাযথভাবে অতিবাহিত করতে সক্ষম হয় না, কোনো সৃজনশীল চিন্তা উদ্ভাবন করা কিংবা একটি উন্নত সভ্যতা বিনির্মাণ করা তো দূরের কথা। মানুষ তার জীবনের সূচনা থেকেই নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে এবং বিভিন্ন উপায়ে এই অনুভূতি বা চাহিদাকে প্রকাশ করে আসছে। সামাজিক জীবনের জটিলতা ও বিবর্তনের সাথে সাথে সে রাষ্ট্র ও আইনের মাধ্যমে এই চাহিদা—এবং অন্যান্য চাহিদা—প্রকাশ করেছে, যেন জননিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং সমাজের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন বিবাদ ও সংঘাতের মীমাংসা করা যায়, সেই সাথে অন্য সমাজের পক্ষ থেকে আসা বাহ্যিক বিপদসমূহ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২)
ولئن كان تطور هذه القوانين - الموضوعة من طرف الإنسان لم يكتمل إلا في القرون الأخيرة عبر تجارب طويلة من الخطأ والصواب فإن شريعة الإسلام المنزلة في رسالة الله الأخيرة للبشر على محمد صلى الله عليه وسلم قد اهتمت بهذا الجانب وجاءت بنظم متكاملة واضعة في الاعتبار تطور المجتمعات واختلاف ظروفها وثبات الطبيعة العامة للإنسان ومن هنا تضمنت أصولا كلية وقواعد عامة تصلح لمواجهة كل أوضاع الحياة وظروفها زمانا ومكانا كما نصت على عقوبات جرائم محدودة لا تتأثر باختلاف الأوضاع والظروف، وبذلك جمعت بين الثبات والمرونة والأصالة.

فما هو منطلق الإسلام في مواجهة الجريمة؟ وما هي المبادئ التي يقوم عليها النظام العقابي في الإسلام؟ وما هي مميزات هذا النظام؟ وما هي التدابير التي يقوم بها في مواجهة الجريمة؟ وما هي أنواع العقوبات في الإسلام؟ وما هي الأهداف المرسومة والمقصودة من تشريعاته؟ هذا ما سيتم الحديث عنه في الصفحات التالية.
মানুষ কর্তৃক প্রণীত এই আইনসমূহের বিবর্তন—ভুল ও নির্ভুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে—কেবল সাম্প্রতিক শতাব্দীগুলোতে পূর্ণতা লাভ করলেও, মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর সর্বশেষ বার্তায় বিধৃত ইসলামি শরিয়াহ এই বিষয়ের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করেছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা প্রদান করেছে, যা সমাজের বিবর্তন, বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতি এবং মানুষের সহজাত স্বভাবের স্থায়িত্বকে বিবেচনায় রেখেছে। এ কারণেই এতে এমন কিছু সামগ্রিক মূলনীতি এবং সাধারণ নিয়মাবলী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা কাল ও স্থানভেদে জীবনের যাবতীয় অবস্থা ও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম। পাশাপাশি এটি সুনির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য এমন দণ্ডবিধি নির্ধারণ করেছে যা পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনে প্রভাবিত হয় না। এর মাধ্যমে ইসলামি শরিয়াহ স্থায়িত্ব, নমনীয়তা এবং মৌলিকত্বের এক অপূর্ব সমন্বয় সাধন করেছে।

অপরাধ মোকাবিলায় ইসলামের মূল দৃষ্টিভঙ্গি কী? ইসলামের দণ্ডবিধি যে নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত তা কী কী? এই ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কী? অপরাধ দমনে এটি কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে? ইসলামে শাস্তির প্রকারভেদগুলো কী কী? এই বিধানগুলোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ কী কী? পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে এ বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌منطلق الإسلام في مواجهة الجريمة

إن الغاية النهائية لكل نظم الشريعة الإسلامية هي تحقيق مصالح الخلق في الدنيا والآخرة وذلك بإقامة مجتمع صالح يعبد الله ويعمر الأرض ويسخر طاقات الكون في بناء حضارة إنسانية يعيش في ظلها الإنسان - كل إنسان- في جو من العدل والأمن والسلام مع تلبية كاملة لمطالبه الروحية والمادية وعدم إغفال أي عنصر من عناصر شخصيته روحا وعقلا وجسدا.
অপরাধ মোকাবিলায় ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামী শরীয়াহর সকল ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইহকাল ও পরকালে সৃষ্টির কল্যাণ নিশ্চিত করা। আর তা অর্জিত হবে এমন এক পুণ্যবান সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যা আল্লাহর ইবাদত করবে, পৃথিবী আবাদ করবে এবং এক মানবিক সভ্যতা বিনির্মাণে মহাবিশ্বের শক্তিসমূহকে নিয়োজিত করবে। সেই সভ্যতার ছায়াতলে মানুষ—প্রত্যেক মানুষ—ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও শান্তির আবহে বসবাস করবে; যেখানে তার আধ্যাত্মিক ও জাগতিক চাহিদাসমূহের পূর্ণাঙ্গ পরিতৃপ্তি ঘটবে এবং তার ব্যক্তিত্বের কোনো উপাদান—তা আত্মা, বিবেক কিংবা দেহ যা-ই হোক না কেন—উপেক্ষা করা হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
وهذا الهدف النهائي عبرت عنه عدة آيات من القرآن كما دل عليه استقراء مجمل نصوص الشريعة وأحكامها.

فمن الآيات الدالة على ذلك قوله سبحانه: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ} ، {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} ، {يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} ، {وَاللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا} ، {يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا} ، {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ} أما الاستقراء
এই চূড়ান্ত লক্ষ্যটি কুরআনের বেশ কয়েকটি আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যেমনটি শরিয়তের সামগ্রিক মূলপাঠ ও এর বিধানসমূহের অনুসন্ধানের (استقراء) মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।

এ বিষয়ে নির্দেশক আয়াতসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণী: {আমি অবশ্যই আমার রাসূলদের সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আর আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ}, {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না}, {আল্লাহ চান তোমাদের নিকট (বিধান) স্পষ্ট করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসৃত পথসমূহ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের তওবা কবুল করতে। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়}, {আর আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করতে চান, কিন্তু যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসারী তারা চায় যে তোমরা চরমভাবে বিচ্যুত হও}, {আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করতে চান, কারণ মানুষকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে}, {নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ (منكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন}। আর অনুসন্ধান (استقراء) প্রসঙ্গে...
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
والتتبع لأحكام الشريعة فإنه يفيد أنها استهدفت مصالح الخلق والتي ترجع في مجملها إلى كليات تندرج ضمنها سائر المصالح الإنسانية وهي:

1- حفظ النفس.

2-حفظ الدين.

3-حفظ العقل.

4-حفظ النسل.

5-حفظ المال.
শরীয়তের বিধানাবলি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, এগুলোর মূল লক্ষ্য হলো সৃষ্টির কল্যাণ সাধন করা, যা মূলত এমন কিছু মৌলিক উদ্দেশ্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করে যেগুলোর অধীনে মানুষের অপরাপর সকল কল্যাণ নিহিত। আর সেগুলো হলো:

১- জীবন রক্ষা।

২- দ্বীন রক্ষা।

৩- বুদ্ধিবৃত্তি রক্ষা।

৪- বংশধারা রক্ষা।

৫- সম্পদ রক্ষা।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
والنظام العقابي في الإسلام استهدف حفظ هذه الكليات الخمس. فلحفظ النفس شرع القصاص ولحفظ الدين شرع حد الردة -ولحفظ العقل شرع حد الخمر ولحفظ النسل شرع حد الزنا -وللحفاظ على المال شرع حد السرقة -ولحماية هذه كلها شرع حد الحرابة.

ইসলামি দণ্ডবিধি ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো এই পাঁচটি মৌলিক উদ্দেশ্যের (الكليات الخمس) সংরক্ষণ। জীবন রক্ষার জন্য কিসাস (القصاص) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, দ্বীন রক্ষার জন্য ধর্মত্যাগের দণ্ড (حد الردة) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, বুদ্ধি বা বিবেক রক্ষার জন্য মদপানের দণ্ড (حد الخمر) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, বংশধারা রক্ষার জন্য ব্যভিচারের দণ্ড (حد الزنا) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, সম্পদ রক্ষার জন্য চুরির দণ্ড (حد السرقة) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এ সবগুলোর সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য হিরাবাহ বা সশস্ত্র অরাজকতার দণ্ড (حد الحرابة) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
وبهذا يتبين أن‌‌ الجرائم التي حددت لها الشريعة عقوبات ثابتة هي:

1- الاعتداء على النفس بالقتل أو الجرح.

2- الاعتداء على المال (السرقة) .

3- الاعتداء على النسل أو الأسرة (الزنا والقذف) .

4- الاعتداء على العقل (تناول المسكرات) .

5- الاعتداء على الدين (الردة) .

6- الاعتداء المنظم على الكليات مجتمعة (الحرابة) .
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, শরিয়ত যেসব অপরাধের জন্য সুনির্ধারিত শাস্তি নির্ধারণ করেছে সেগুলো হলো:

১- হত্যা বা জখমের মাধ্যমে জীবনের ওপর আক্রমণ।

২- সম্পদের ওপর আক্রমণ (চুরি)।

৩- বংশধারা বা পরিবারের ওপর আক্রমণ (ব্যভিচার এবং অপবাদ)।

৪- বিবেকের ওপর আক্রমণ (মাদকদ্রব্য সেবন)।

৫- ধর্মের ওপর আক্রমণ (ধর্মত্যাগ)।

৬- সামগ্রিক মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর সুসংগঠিত আক্রমণ (হিরাবাহ বা সশস্ত্র ডাকাতি)।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌مبادئ النظام العقابي الإسلامي

يقوم النظام العقابي في الإسلام على جملة من المبادئ من أهمها:

‌‌أولا: أنه لا تجريم قبل ورود الشرع: فالأفعال إنما تضاف لهذا الوصف- وصف التجريم- إذا ورد في الشرع نص يحرمها ويعتبرها جرائم وقد تضَّمن هذا المبدأ عدة آيات وعدة قواعد من قواعد (أصول الفقه) فمن الآيات قوله تعالى: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} وقوله: {وَمَا كَانَ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى حَتَّى يَبْعَثَ فِي أُمِّهَا رَسُولًا يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا} وفي هاتين الآيتين وغيرها استخلص الفقهاء قاعدتين من قواعد أصول الفقه هما أنه لا تكليف قبل ورود الشرع. وأن الأصل في الأشياء الإباحة.

وتطبيق هاتين القاعدتين في نظام العقوبات على الصور السلوكية التي ورد النص بتحريمها إذا ارتكب الفعل بعد ورود النص القاضي بذلك.

هذا في الجرائم التي وردت عقوباتها محددة أما الجرائم التعزيرية فالأصل فيها النص على تجريم الفعل دون العقوبة التي ترك تحديدها للسلطة المختصة في الدولة ضمن ضوابط العقاب المحددة في الشريعة الإسلامية.
ইসলামি দণ্ডবিধির মূলনীতিসমূহ

ইসলামের দণ্ডবিধি কতগুলো মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

প্রথমত: শরিয়তের বিধান আসার আগে কোনো কার্যকে অপরাধ গণ্য করা হয় না: কোনো কাজকে অপরাধের বৈশিষ্ট্যে তখনই বিশেষায়িত করা হয়, যখন শরিয়তে এমন কোনো স্পষ্ট দলীল (نص) আসে যা সেটিকে নিষিদ্ধ করে এবং অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করে। এই মূলনীতিটি বেশ কিছু আয়াত এবং উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-এর কতিপয় নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত। আয়াতসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি প্রদান করি না।} এবং তাঁর বাণী: {আপনার পালনকর্তা জনপদসমূহ ধ্বংস করেন না, যতক্ষণ না তার কেন্দ্রে কোনো রাসূল পাঠান, যিনি তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন।} এই দুটি আয়াত ও অন্যান্য দলীল থেকে ফকিহগণ উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-এর দুটি মূলনীতি আহরণ করেছেন; সেগুলো হলো—শরিয়তের বিধান আসার আগে কোনো দায়বদ্ধতা (تكليف) নেই এবং সকল বস্তুর মূল বিধান হলো বৈধতা (إباحة)।

দণ্ডবিধিতে এই দুটি মূলনীতির প্রয়োগ সেই সব আচরণের ক্ষেত্রে হয়, যেগুলোকে নিষিদ্ধ করে টেক্সট বা দলীল (نص) অবতীর্ণ হয়েছে, যদি অপরাধটি উক্ত দণ্ডাজ্ঞা সম্বলিত দলীল আসার পর সংঘটিত হয়।

এটি সেই সব অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেগুলোর দণ্ড সুনির্ধারিত। পক্ষান্তরে তাজিরি (تعزيرية) বা বিবেচনামূলক অপরাধের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, কেবল বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে দলীলের (نص) উপস্থিতি থাকা; কিন্তু এর দণ্ড নির্ধারণের বিষয়টি ইসলামি শরিয়তে নির্ধারিত শাস্তির নীতিমালা অনুযায়ী রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ثانيا: العفو عما سلف (عدم رجعية العقوبة) : ويؤدي هذا المبدأ - الذي يتفرع عن المبدأ السابق- أن النصوص المحددة للعقوبات لا تطبق على الحالات التي وقعت قبل تشريع هذه النصوص وإنما تطبق على الحالات على الجرائم المرتكبة بعد صدور التشريعات المحددة للعقوبة وهذا المبدأ دلت عليه الآيات السابقة وتدل عليه آيات أخرى مثل قوله تعالى: {عَفَا اللَّهُ عَمَّا سَلَفَ} ، {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ}
দ্বিতীয়ত: অতীতে যা হয়েছে তা ক্ষমা করা (العفو عما سلف) (শাস্তির ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা না থাকা - عدم رجعية العقوبة) : এই নীতিটি—যা পূর্ববর্তী নীতি থেকে উদ্ভূত—এর দাবি হলো, দণ্ড (العقوبات) নির্ধারণকারী মূল পাঠসমূহ (النصوص) এমন কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে না যা এই পাঠগুলো বিধিবদ্ধ হওয়ার (تشريع) পূর্বে সংঘটিত হয়েছে; বরং এগুলো কেবল সেই সকল অপরাধের (الجرائم) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে যা দণ্ড নির্ধারণকারী বিধানসমূহ (التشريعات) জারির পর সংঘটিত হয়েছে। পূর্ববর্তী আয়াতসমূহ এই নীতির দিকে নির্দেশ করেছে এবং অন্যান্য আয়াতও এর প্রমাণ বহন করে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যা গত হয়েছে আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন}, {কাফিরদের বলো, তারা যদি বিরত থাকে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তাদের জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হবে}।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌ثالثا: لا تكسب كل نفس إلا عليها (خصوصية العقوبة) : ومؤدى هذا المبدأ في الشريعة الإسلامية أن الشخص هو وحده المسؤول عن جنايته ولا يتحمل غيره وزر فعل ارتكبه هو. فلا يؤاخذ بالفعل إلا فاعله ولا يؤاخذ أحد بجريمة غيره مهما كانت درجة قرابته منه أو علاقته به وقد قرر القرآن هذا المبدأ في آيات كثيرة منها قوله تعالى: {وَلَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} ، {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا} ، {وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى} ، {مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ} ، {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ}
‌তৃতীয়ত: প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করে তা তার নিজের ওপরই বর্তায় (শাস্তির ব্যক্তিগত প্রকৃতি (خصوصية العقوبة)): ইসলামী শরিয়াহর এই মূলনীতির মর্মার্থ হলো, ব্যক্তি কেবল তার অপরাধের (جناية) জন্যই দায়ী এবং তার কৃতকর্মের পাপের বোঝা (وزر) অন্য কেউ বহন করবে না। সুতরাং, কোনো কাজের জন্য কেবল তার কর্তাকেই অভিযুক্ত করা হবে এবং অন্যের অপরাধের জন্য কাউকে পাকড়াও করা হবে না, তাদের মধ্যকার আত্মীয়তা বা সম্পর্কের গভীরতা যাই হোক না কেন। পবিত্র কুরআন এই মূলনীতিটি বহু আয়াতে সুনিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার বাণীসমূহ হলো: {প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করে তা তার নিজের ওপরই বর্তায় এবং কোনো বোঝা বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না}, {যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে, আর যে মন্দ কাজ করে তার প্রতিফল তার ওপরই বর্তাবে}, {এবং মানুষের জন্য তাই রয়েছে যার জন্য সে চেষ্টা করে}, {যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে}, {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়ে দায়বদ্ধ (رهينة)}।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌رابعا: عمومية العقوبة:
‌চতুর্থত: শাস্তির ব্যাপকতা (عمومية):
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
مميزات النظام العقابي في الإسلام

بالمبادئ السابقة قد تلتقي الشريعة الإسلامية مع النظم الحديثة وإن كان للشريعة فضل السبق إليها. إلا أن هناك خصائص أو مميزات للنظام العقابي في الشريعة الإسلامية ومن أهم تلك المميزات:

أولا: التكامل بين الوازع الداخلي والرقابة الخارجية:

فالشريعة الإسلامية في تعاملها مع مشكلات المجتمع - ومن بينها الجرائم - لا تعتمد على أسلوب التشريع أو الرادع الخارجي فحسب بل تركز بالإضافة إلى ذلك على الوازع الداخلي، فهي تهتم بالضمير الخلقي اهتماما أكبر وتسعى إلى تربيته منذ الصغر لدى الإنسان حتى يتربى على الأخلاق الفاضلة، وتربط ذلك كله بالوعد الأخروي فتعد من يعمل الصالحات بالفوز والفلاح وتنذر المسيء سوء المصير، ومن ثم فهي تثير الوجدان حتى يساهم في إقلاع المجرم عن الإجرام إيمانا بالله ورجاء لرحمته وخوفا من عذابه والتزاما بالأخلاق الفاضلة حبا للآخرين وإحسانا إليهم وتركا للإساءة إليهم.
ইসলামি দণ্ডবিধির বৈশিষ্ট্যসমূহ

উল্লিখিত মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়াহ আধুনিক ব্যবস্থাগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে, যদিও এ ক্ষেত্রে অগ্রণী হওয়ার কৃতিত্ব শরিয়াহরই। তবে ইসলামি শরিয়াহর দণ্ডব্যবস্থার এমন কিছু স্বাতন্ত্র্য বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো:

প্রথমত: অভ্যন্তরীণ তাড়না এবং বাহ্যিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে সমন্বয়:

ইসলামি শরিয়াহ সামাজিক সমস্যাবলি—যার অন্তর্ভুক্ত হলো অপরাধসমূহ—মোকাবেলার ক্ষেত্রে কেবল আইনি পদ্ধতি বা বাহ্যিক প্রতিরোধের ওপর নির্ভর করে না; বরং এর পাশাপাশি মানুষের অভ্যন্তরীণ তাড়নার ওপরও গুরুত্বারোপ করে। এটি মানুষের নৈতিক বিবেকের প্রতি অধিকতর গুরুত্ব দেয় এবং শৈশব থেকেই তা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালায়, যাতে সে উচ্চতর নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে ওঠে। শরিয়াহ এই পুরো বিষয়টিকে পরকালীন প্রতিশ্রুতির সাথে যুক্ত করে; ফলে যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য বিজয় ও সাফল্যের সুসংবাদ দেয় এবং পাপাচারীদের মন্দ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে। এভাবে শরিয়াহ মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে, যাতে অপরাধী আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর রহমতের আশা এবং তাঁর আজাবের ভয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে এবং অন্যদের প্রতি ভালোবাসা, কল্যাণকামিতা ও অনিষ্ট পরিহারের মাধ্যমে উন্নত নৈতিকতার প্রতি দায়বদ্ধ থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مميزات النظام العقابي في الإسلام

بالمبادئ السابقة قد تلتقي الشريعة الإسلامية مع النظم الحديثة وإن كان للشريعة فضل السبق إليها. إلا أن هناك خصائص أو مميزات للنظام العقابي في الشريعة الإسلامية ومن أهم تلك المميزات:

‌‌أولا: التكامل بين الوازع الداخلي والرقابة الخارجية:

فالشريعة الإسلامية في تعاملها مع مشكلات المجتمع - ومن بينها الجرائم - لا تعتمد على أسلوب التشريع أو الرادع الخارجي فحسب بل تركز بالإضافة إلى ذلك على الوازع الداخلي، فهي تهتم بالضمير الخلقي اهتماما أكبر وتسعى إلى تربيته منذ الصغر لدى الإنسان حتى يتربى على الأخلاق الفاضلة، وتربط ذلك كله بالوعد الأخروي فتعد من يعمل الصالحات بالفوز والفلاح وتنذر المسيء سوء المصير، ومن ثم فهي تثير الوجدان حتى يساهم في إقلاع المجرم عن الإجرام إيمانا بالله ورجاء لرحمته وخوفا من عذابه والتزاما بالأخلاق الفاضلة حبا للآخرين وإحسانا إليهم وتركا للإساءة إليهم.
ইসলামি দণ্ডবিধির বৈশিষ্ট্যসমূহ

পূর্বোক্ত নীতিমালার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়াহ আধুনিক আইনব্যবস্থাগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে, যদিও এই পথে শরিয়াহর অগ্রবর্তিতার গৌরব অনস্বীকার্য। তবে ইসলামি শরিয়াহর দণ্ডবিধির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা স্বাতন্ত্র্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

প্রথমত: অভ্যন্তরীণ অনুশাসন ও বাহ্যিক তদারকির মধ্যে সমন্বয়:

ইসলামি শরিয়াহ সমাজের সমস্যাবলি—যার অন্তর্ভুক্ত অপরাধসমূহ—মোকাবেলায় কেবল আইন প্রণয়ন বা বাহ্যিক দণ্ডদানের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না, বরং এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অনুশাসনের ওপরও গুরুত্বারোপ করে। এটি নৈতিক বিবেকের প্রতি অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করে এবং শৈশব থেকেই মানুষের মাঝে তা বিকাশের চেষ্টা করে যাতে সে উন্নত চরিত্রের ওপর গড়ে ওঠে। এই সবকিছুকে শরিয়াহ পরকালীন প্রতিশ্রুতির সাথে সম্পৃক্ত করে; ফলে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে তাদের সাফল্য ও কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং পাপাচারীদের অশুভ পরিণতির ভয় দেখায়। পরিণামে এটি মানুষের বিবেককে এমনভাবে জাগ্রত করে যাতে অপরাধী আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর রহমতের আশা ও তাঁর আজাবের ভয় থেকে এবং উন্নত চরিত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা, অন্যের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও অন্যের অনিষ্ট সাধন বর্জনের মাধ্যমে অপরাধকর্ম থেকে নিবৃত্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ثانيا: النظرة المتوازنة إلى علاقة الفرد والجماعة: ويتجلى ذلك في كون الشريعة وهي تحمي المجتمع بتشريع العقوبات وقطع الطريق أمام الإجرام، لا تهدر كيان الفرد لصالح الجماعة، بل تحمي الفرد أولا وتصون حرياته وحقوقه كلها وتضع كل الضمانات التي تجعل لجوءه إلى الجريمة أمرا غير مبرر فلا تلجأ إلى العقاب إلا وقد هيأت للفرد الظروف الملائمة التي توفر له الحياة الكريمة والعيش السعيد.
দ্বিতীয়ত: ব্যক্তি ও সমষ্টির সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি: এটি এই বাস্তবতায় সুস্পষ্ট হয় যে, শরিয়াহ যখন দণ্ডবিধি প্রণয়ন এবং অপরাধের পথ রুদ্ধ করার মাধ্যমে সমাজকে সুরক্ষা প্রদান করে, তখন তা সমষ্টির স্বার্থে ব্যক্তির অস্তিত্বকে বিলীন করে দেয় না; বরং তা সর্বপ্রথম ব্যক্তিকে সুরক্ষা দান করে এবং তার সকল স্বাধীনতা ও অধিকার সংরক্ষণ করে। এছাড়া এটি এমন সকল নিশ্চয়তা প্রদান করে যা অপরাধের আশ্রয় গ্রহণকে অযৌক্তিক করে তোলে। ফলে শরিয়াহ ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তির বিধান প্রয়োগ করে না, যতক্ষণ না ব্যক্তির জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও সুখী জীবন যাপনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ثالثا: معالجة الأسباب والدوافع الاجتماعية للإجرام: فالإسلام يواجه الجريمة قبل وقوعها بمعالجة أسبابها البعيدة والقضاء على دوافعها الاجتماعية. وذلك يتضح بالنظر إلى أسباب كل جريمة على حدة وتتبع الإجراءات التي يكافح بها الإسلام تلك الدوافع.
তৃতীয়ত: অপরাধের সামাজিক কারণ ও উদ্দীপকসমূহের প্রতিকার: ইসলাম অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই এর সুদূরপ্রসারী কারণসমূহ প্রতিকার এবং সামাজিক উদ্দীপকসমূহ নির্মূল করার মাধ্যমে অপরাধের মোকাবিলা করে। প্রতিটি অপরাধের কারণ পৃথকভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে এবং ইসলাম ঐ উদ্দীপকসমূহ দমনে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা অনুসরণের মাধ্যমে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الدوافع الاجتماعية للقتل وحل الإسلام لها

الدوافع للقتل- غالبا - نوعان:

(1) نوع راجع إلى عوامل اقتصادية.

(2) نوع يعود إلى أسباب تمس العرض.

أما الأسباب الاقتصادية فقد شرع الإسلام لها الحلول التالية:

1- أنه دعا إلى فتح المجال أمام الطاقات الفردية لتعمل وتنتج وتعمر الأرض باعتبار ذلك أحد مقتضيات الاستخلاف في الأرض الذي حددته عدة آيات كمهمة أساسية للإنسان في هذه الأرض: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً} {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ} ومن ثم أزاح كل العقبات المادية والمعنوية التي تمنع الإنسان من العمل.

2- أنه كلف ولي الأمر بحل مشكلة التوازن الاجتماعي وتحقيق العدالة الاجتماعية بحيث لا يظهر الغنى الطاغي إلى جانب الفقر المدقع وذلك بمنع احتكار الثروة عند فئة قليلة. {كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ}

3- تحريم الربا والاحتكار وهما وسيلتا التضخم الرأسمالي الذي هو السبب الرئيسي في فقدان التوازن الاجتماعي.

4- فرض الزكاة وهي حق معلوم يؤخذ من الأغنياء وجوبا - ويدفعونه بدافع إيماني - فيرد على الفقراء.
হত্যার সামাজিক প্ররোচনা এবং ইসলামে এর সমাধান

হত্যার প্ররোচনা—সাধারণত—দুই প্রকার:

(১) এক প্রকার যা অর্থনৈতিক উপাদানের সাথে সংশ্লিষ্ট।

(২) অন্য প্রকার যা ইজ্জত-সম্মান বা সম্ভ্রমহানি সংশ্লিষ্ট কারণে ঘটে থাকে।

অর্থনৈতিক কারণগুলোর জন্য ইসলাম নিম্নোক্ত সমাধানগুলো বিধিবদ্ধ করেছে:

১- ইসলাম ব্যক্তিগত সক্ষমতার দ্বার উন্মোচন করার আহ্বান জানিয়েছে যাতে মানুষ শ্রম দিতে পারে, উৎপাদন করতে পারে এবং পৃথিবীকে আবাদ করতে পারে। এটিকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বের অন্যতম দাবি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা বেশ কিছু আয়াতে মানুষের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে: {স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি’} {এবং তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন}। ফলশ্রুতিতে, ইসলাম মানুষের কর্মক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুগত ও মনস্তাত্ত্বিক অন্তরায় দূর করেছে।

২- ইসলাম শাসককে সামাজিক ভারসাম্যহীনতার সমস্যা সমাধান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব অর্পণ করেছে, যাতে চরম দারিদ্র্যের পাশাপাশি সীমাহীন সম্পদের আতিশয্য দেখা না দেয়। এটি নিশ্চিত করা হয়েছে মুষ্টিমেয় একদল মানুষের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত হওয়া রোধ করার মাধ্যমে। {যাতে তোমাদের বিত্তবানদের মধ্যেই কেবল সম্পদ আবর্তিত না হয়}

৩- সুদ ও মজুতদারি হারাম করা; কারণ এ দুটি হলো পুঁজিবাদী স্ফীতির প্রধান মাধ্যম, যা সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মূল কারণ।

৪- জাকাত ফরজ করা; এটি একটি সুনির্দিষ্ট অধিকার যা ধনীদের কাছ থেকে আবশ্যিকভাবে গ্রহণ করা হয়—এবং তারা ইমানি অনুপ্রেরণা থেকে তা প্রদান করে—অতঃপর তা দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
5- نظام الإرث الذي يفتت الثروة عند كل جيل ويوزعها توزيعا دقيقا على الأقارب.

6- مبدأ التأمين الاجتماعي عند العجز عن الكسب.

7- مسؤولية الدولة عن فتح أبواب ومجالات العمل ضمن مسؤولياتها عن تحقيق المصالح العامة.

8- إلى جانب ذلك كله يولي الإسلام عناية كبرى للضمير الفردي والوجدان فيربيه منذ الصغر على التوكل على الله والإيمان به وعلى قيم الأمانة والعفة والنزاهة ومشاعر الحب للآخرين وخلق التعاون والمشاركة الاجتماعية وبذلك يقضي على بذور الحقد في القلوب قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ} قال الله تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} {وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ}

أما الأسباب المتصلة بالعرض فقد شرع الإسلام لتلافيها ما يلي:
5- উত্তরাধিকার ব্যবস্থা যা প্রতি প্রজন্মে সম্পদকে খণ্ডিত করে এবং নিকটাত্মীয়দের মধ্যে তা সুচারুভাবে বণ্টন করে।

6- উপার্জন করতে অক্ষম হওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তার নীতি।

7- জনকল্যাণ সাধনের দায়িত্বের অংশ হিসেবে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও ক্ষেত্রসমূহ তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা।

8- এ সব কিছুর পাশাপাশি ইসলাম ব্যক্তিগত বিবেক ও অন্তরাত্মার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। ফলে শৈশব থেকেই তাকে আল্লাহর ওপর ভরসা এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাসের পাশাপাশি আমানতদারি, চারিত্রিক পবিত্রতা, সততা, অন্যের প্রতি ভালোবাসা এবং সামাজিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের নৈতিকতায় গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে অন্তরের বিদ্বেষের বীজ নির্মূল করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না}। {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট}।

সরবরাহ বা যোগান সংশ্লিষ্ট কারণগুলো প্রতিকারের জন্য ইসলাম যা বিধিবদ্ধ করেছে তা নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
1- تربية الفرد على التعود على ضبط غرائزه والتحكم في شهواته وتصريفها في الحدود المشروعة. قال الله تعالى: {وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ} {الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ}

2- كما ضمنت الشريعة الإسلامية محاصرة تلك الأسباب بالإجراءات التي شرعتها للوقاية من الزنا والتي سيتم التطرق لها لاحقا. وبهذه الإجراءات تكون عقوبة القتل عادلة ومنطقية وتنحصر دوافع هذه الجريمة في العدوانية البحتة التي تجب إيقافها عند حدها حتى لا يتعرض أمن المجتمع إلى اختلاف وفساد كبير.
1- ব্যক্তিকে তার সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত করা এবং তার কামনা-বাসনাকে দমন করে তা শরয়ি (مشروعة) সীমার মধ্যে পরিচালনার প্রশিক্ষণ প্রদান করা। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনব্যাপী, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে} {যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল।}

2- এছাড়া ইসলামি শরিয়ত ব্যভিচার প্রতিরোধের জন্য যেসব বিধান প্রণয়ন করেছে, তার মাধ্যমে এই সকল কারণকে অবরুদ্ধ করার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, যা নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক সাব্যস্ত হয় এবং এই অপরাধের মূল চালিকাশক্তি তখন কেবল সেই বিশুদ্ধ আগ্রাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে যা কঠোরভাবে দমন করা আবশ্যক; যাতে সমাজের নিরাপত্তা কোনো বিশৃঙ্খলা বা বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন না হয়।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌دوافع السرقة وعلاج الإسلام لها:

وأما السرقة فدوافعها المعقولة هي الجوع والعجز عن الكسب واضطراب الميزان الاقتصادي للمجتمع، إضافة إلى عوامل نفسية أخرى.

وما ذكر في الفقرة السابقة عن علاج الإسلام لمسألة عدم التوازن الاجتماعي وما يقوم به من احتياطات في هذا السبيل يقال في السرقة كذلك وإذا حدث رغم تلك الاحتياطات أن وجد جائع يسرق ليأكل أو ليستكمل وسائل حاجته الضرورية فإن الإسلام لا يقيم عليه الحد في هذه الحالة لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: «ادرءوا الحدود بالشبهات»
চুরির প্রেষণা এবং এর প্রতিকারে ইসলামের সমাধান:

আর চুরির যৌক্তিক কারণগুলো হলো ক্ষুধা, উপার্জনে অক্ষমতা এবং সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্যের বিপর্যয়; এর পাশাপাশি অন্যান্য মনস্তাত্ত্বিক উপাদানসমূহও রয়েছে।

সামাজিক ভারসাম্যহীনতার সমস্যায় ইসলামের সমাধান এবং এ পথে গৃহীত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে, তা চুরির ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। এসব সতর্কতা সত্ত্বেও যদি কোনো ক্ষুধার্ত ব্যক্তি আহারের জন্য কিংবা তার মৌলিক প্রয়োজন পূরণের জন্য চুরি করে, তবে ইসলাম এই অবস্থায় তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) প্রয়োগ করে না। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "তোমরা সংশয় (شبهات) দ্বারা নির্ধারিত দণ্ডসমূহ (الحدود) রহিত করো।"
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
1-‌‌ تربية الإنسان منذ الصغر على قيم التقوى والعفة وخشية الله وتعميق الدافع الإيماني في نفسه وهو ما له أثره الفعال في الكف عن الحرام {وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّى يُغْنِيَهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ} مما يعود الفرد على ضبط شهواته والتحكم في غرائزه تعليقا وتأجيلا إلى أن يتيسر الزواج.
1-‌‌ শৈশব থেকেই মানুষকে তাকওয়া, পবিত্রতা ও আল্লাহর ভীতির মূল্যবোধের ওপর গড়ে তোলা এবং তার অন্তরে ঈমানি অনুপ্রেরণাকে সুগভীর করা; যা হারাম থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে। {আর যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই, তারা যেন পবিত্রতা অবলম্বন করে যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেন}। এটি ব্যক্তিকে তার কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত করে তোলে এবং বিবাহ সহজতর হওয়া পর্যন্ত স্বীয় কামনা-বাসনা দমন ও স্থগিত রাখতে সহায়তা করে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
2-‌‌ إقامة المجتمع على أساس الفضيلة والقيم الأخلاقية والاحتشام وعدم التبرج والخلاعة في وسائل الإعلام وغيرها ومنع كل ما يثير الشهوات ويشيع الفواحش في المجتمع {إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} ، {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ} ، {وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا}
২-‌‌ নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ও চারিত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ গঠন করা এবং গণমাধ্যম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা, বেপর্দা হওয়া ও অশ্লীলতা পরিহার করা এবং যা কিছু কামভাব জাগ্রত করে ও সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয় তা প্রতিরোধ করা; {নিশ্চয়ই যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তা পছন্দ করে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি}, {মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে}, {এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া}।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
3-‌‌ شغل الفتيان والفتيات بما ينفس عن الطاقة الجنسية بالدراسة والرياضة والعمل الاجتماعي وغير ذلك.
৩-‌‌ তরুণ-তরুণীদের যৌন শক্তিকে সঠিক পথে চালিত করে এমন বিষয়ে নিয়োজিত রাখা পড়াশোনা, খেলাধুলা, সামাজিক কাজ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
4-‌‌ الإكثار من الصوم لمن لم يتمكن من الزواج لعدم قدرته عليه «يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة - وهي أعباء الزواج - فليتزوج فإن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء»
৪-‌‌ বিবাহের সামর্থ্য না থাকার কারণে যারা বিবাহ করতে সক্ষম নয়, তাদের জন্য অধিক হারে রোজা রাখা সামর্থ্য না থাকার দরুন: «হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে—অর্থাৎ বিবাহের ব্যয়ভার—সে যেন বিবাহ করে। আর যে সামর্থ্য রাখে না, তার উচিত রোজা রাখা; কেননা তা তার জন্য কামস্পৃহা দমনকারী ঢালস্বরূপ»
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
5-‌‌ الدعوة إلى العودة بالمجتمع إلى قيم الإسلام السابقة الذكر كلما جنح إلى الانحراف عنها سواء تعلق الأمر بإقامة العراقيل أمام الزواج أو التفريط في القيم الخلقية التي تحمي المجتمع وتعصمه من الوقوع في الرذائل أو تعلق بالتخلي عن قيم التكافل وإعانة العاجزين كي يتزوجوا أو بضعف التربية الإيمانية، فالمجتمع مطالب على كل حال أن يعود إلى رشده وأن يرجع إلى ربه، ومن أجل هذا شرع الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ}
5-‌‌ সমাজকে ইসলামের ইতিপূর্বে উল্লিখিত মূল্যবোধসমূহের দিকে ফিরিয়ে আনার আহ্বান সমাজ যখনই তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়বে—চাই তা বিবাহের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হোক, অথবা সমাজকে সুরক্ষা প্রদানকারী ও পাপাচারের অতলে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষাকারী নৈতিক মূল্যবোধসমূহের অবহেলার কারণে হোক, কিংবা পারস্পরিক সহযোগিতার মূল্যবোধ বর্জন ও অক্ষমদের বিবাহের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান ত্যাগ করার কারণে হোক, অথবা ঈমানি প্রশিক্ষণের দুর্বলতার কারণে হোক; সমাজ সর্বাবস্থায় স্বীয় সঠিক বোধের দিকে ফিরে আসতে এবং তার রবের সমীপে প্রত্যাবর্তন করতে আদিষ্ট। আর এ উদ্দেশ্যেই সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে— {এবং তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দিবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (النهي عن المنكر) করবে।}
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
6-‌‌ تشريع الطلاق لمواجهة الحالات التي يرغب فيها أحد الزوجين عن الآخر كرها أو لأنه لا يحقق له رغبته الجنسية، وذلك من أجل أن يقترن بإنسان آخر يجد عنده المودة والحب وتحقيق الرغبة. {وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ}
৬-‌‌ তালাকের বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলায় যেখানে স্বামী-স্ত্রীর একজন অন্যজনের প্রতি অনীহা বা ঘৃণা পোষণ করে অথবা একারণে যে, সে তার যৌন চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে না; আর এটি করা হয়েছে একারণে যে, যাতে সে অন্য এমন কোনো ব্যক্তির সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে যার সান্নিধ্যে সে মমতা, ভালোবাসা ও কামনার সার্থকতা খুঁজে পায়। {আর যদি তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য দ্বারা তাদের প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন।}
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌دوافع شرب الخمر وعلاج الإسلام لها:

تناول الخمر وغيرها من المسكرات أحد الأدواء الاجتماعية ذات الخطورة الكبيرة على الفرد في جسمه لما تؤدي إليه من الأمراض، وفي عقله لما تدمر من طاقاته وتعوده على الهروب من معالجة المشكلات وفي ماله لما تتطلب من نفقات خاصة إذا أصبحت عادة يبذل فيها الفرد الغالي والنفيس. كما يمتد ضررها إلى الأسرة والمجتمع ككل ومظاهر ذلك بادية للعيان في كل مجتمع اعتاد هذه العادة السيئة ومن أجل تلك الأضرار حرمها الإسلام، وشرع حدا على شاربها. ولكنه بالمقابل عالج أسباب تعاطيها وتتبع جذورها الاجتماعية.
মদপানের কারণসমূহ এবং ইসলামের প্রতিকার:

মদ এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য (المسكرات) গ্রহণ করা এমন একটি সামাজিক ব্যাধি যা একজন ব্যক্তির দেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি বিভিন্ন ব্যাধির সৃষ্টি করে। এটি মানুষের বিবেকের জন্যও ক্ষতিকর, কারণ এটি তার কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে এবং তাকে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে পলায়নপরতায় অভ্যস্ত করে তোলে। এছাড়া এটি আর্থিক ক্ষতিরও কারণ, বিশেষত যখন এটি এমন এক অভ্যাসে পরিণত হয় যার জন্য ব্যক্তি তার মহামূল্যবান সম্পদ ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। এর ক্ষতিকর প্রভাব পরিবার এবং সামগ্রিক সমাজের ওপরও বিস্তৃত হয় এবং এই মন্দ অভ্যাসে লিপ্ত প্রতিটি সমাজে এর নেতিবাচক দিকগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। এসব ক্ষতির কারণেই ইসলাম একে হারাম (حرام) ঘোষণা করেছে এবং মদ্যপায়ীর ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) বিধিবদ্ধ করেছে। তবে এর পাশাপাশি ইসলাম মাদক সেবনের কারণগুলোর চিকিৎসা করেছে এবং এর সামাজিক উৎসগুলো উদঘাটন করে তা নিরসনের ব্যবস্থা করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
فالدوافع الاجتماعية للخمر ترجع في مجملها إلى فقدان التوازن الاجتماعي مما يؤدي إلى أن يعاقرها صنفان من الناس:

أ- الصنف الأول أهل الترف، فالمترف بما يجده من فراغ وسآمة وتبلد في الحس يلجأ إلى الخمر ينشد فيها ما يحثه على النشاط ويضفي على نفسه البهجة والتجدد.

ب- أما الصنف الثاني فهم المحرومون، فالمحروم يغيب بالخمر من واقعه التعيس، ومتاعبه اليومية المليئة بالمشاحنات.
মদপানের সামাজিক প্রেষণাগুলো সামগ্রিকভাবে সামাজিক ভারসাম্যহীনতার দিকেই ফিরে যায়, যার ফলশ্রুতিতে দুই শ্রেণির মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ে:

ক- প্রথম শ্রেণি হলো বিলাসপ্রিয় ব্যক্তিবর্গ। বিলাসী ব্যক্তি তার অবসর, একঘেয়েমি এবং অনুভূতির জড়তার কারণে মদের আশ্রয় গ্রহণ করে; সে এতে এমন কিছুর অন্বেষণ করে যা তাকে সক্রিয় হতে উৎসাহিত করে এবং তার মনে প্রফুল্লতা ও সজীবতা দান করে।

খ- আর দ্বিতীয় শ্রেণি হলো বঞ্চিত সমাজ। বঞ্চিত ব্যক্তি মদের নেশায় মগ্ন হয়ে তার শোচনীয় বাস্তবতা এবং বিবাদপূর্ণ প্রাত্যহিক ঝামেলার হাত থেকে বিস্মৃতি খুঁজে ফেরে।
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد عالج الإسلام هذه الأسباب بما يلي:

1- دعوته إلى إعادة توازن المجتمع كل ما جنح ميزانه إلى الاختلال حتى لا يصبح المال والأعمال ومصادر الثراء حكرا على طائفة من الناس كي لا تكون دولة بين الأغنياء.

2- أنه يربط قلب المؤمن بالله ويجعله موصولا به بشكل دائم، فلا يعيش فيها لهمومه البائسة قال الله تعالى: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا} {وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ}

3- كما أنه يعتبر العمل والكفاح من أجل تحصيل المعايش عبادة يثاب عليها صاحبه، ما دام موصول القلب بالله مخلص النية له، والشعور بذلك يكسب القلب ثقة بالله ونشوة في العبادة وروحا معنوية عالية لشعوره بمحبة الله له {وَاللَّهُ مَعَكُمْ}
ইসলাম এই কারণগুলোকে নিম্নলিখিত উপায়ে সমাধান করেছে:

১- এটি সমাজের ভারসাম্য যখনই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়; যাতে সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধনাঢ্যতার উৎসগুলো কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া অধিকারে পরিণত না হয় এবং তা যেন কেবল ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না থাকে।

২- এটি মুমিনের অন্তরকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করে এবং তাঁকে স্থায়ীভাবে তাঁর সাথে যুক্ত রাখে, ফলে সে তার হতাশাজনক দুশ্চিন্তার মধ্যে নিমজ্জিত থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন} {এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন}

৩- তদুপরি, এটি জীবনধারণের জন্য পরিশ্রম ও সংগ্রামকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করে যার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সওয়াব প্রাপ্ত হন, যতক্ষণ পর্যন্ত তার অন্তর আল্লাহর সাথে যুক্ত থাকে এবং তাঁর প্রতি নিয়ত একনিষ্ঠ থাকে। এই অনুভূতি অন্তরে আল্লাহর প্রতি আস্থা (ثقة) এবং ইবাদতে এক বিশেষ প্রশান্তি সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর ভালোবাসা অনুভবের মাধ্যমে এক উচ্চতর মানসিক শক্তি দান করে {আর আল্লাহ তোমাদের সাথেই আছেন}
(খণ্ড: ১) আল-জারিমা ওয়াল ইক্বাব ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
4- أنه يربي الفرد على مواجهة مشكلاته وعدم الهروب منها، وعلى التوكل على الله في مواجهتها والتصدي لها، والإيمان بأن ما أصابه لم يكن ليخطئه وما أخطأه لم يكن ليصيبه: {قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا} ويربيه على الثقة بالله وبأنه لن يتركه يواجه مصيره وحده بل هو محفوف بالعناية الإلهية للمؤمنين: {وَاللَّهُ مَعَكُمْ وَلَنْ يَتِرَكُمْ أَعْمَالَكُمْ} أن مجهوده لن يضيع لأنه إن لم يجده في الدنيا والآخرة معا وجده في الآخرة قال الله تعالى: {أُولَئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ بِمَا صَبَرُوا} والرزق بيد الله يؤتيه من يشاء {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ}

فهذه القيم الإيمانية كلها تربي المؤمن على الصلابة والصبر لحلها وعدم الغيبوبة عنها بأي وسيلة، ومن ثم فالذي يحمل هذا القيم ويؤمن بها لن يلجأ غالبا في حل مشكلاته إلى مثل الخمر أو غيرها من المغيبات ليهرب عن واقعه ومواجهة مشكلاته.
4- এটি ব্যক্তিকে তার সমস্যার সম্মুখীন হতে এবং তা থেকে পলায়ন না করতে গড়ে তোলে; এটি তাকে সমস্যার মোকাবিলা ও তা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা এবং এই বিশ্বাসের ওপর গড়ে তোলে যে, যা তাকে স্পর্শ করেছে তা তাকে পরিহার করার ছিল না এবং যা তাকে পরিহার করেছে তা তাকে স্পর্শ করার ছিল না: {বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন, তা ব্যতীত অন্য কিছুই আমাদের ওপর আপতিত হবে না}। এটি তাকে আল্লাহর ওপর আস্থার শিক্ষা দেয় এবং এই বিশ্বাসের ওপর গড়ে তোলে যে, তিনি তাকে তার ভাগ্যের মোকাবিলায় একাকী ছেড়ে দেবেন না, বরং তিনি মুমিনদের জন্য ঐশ্বরিক সুরক্ষায় পরিবেষ্টিত: {আর আল্লাহ তোমাদের সাথে আছেন এবং তিনি কখনোই তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করবেন না}। তার শ্রম বৃথা যাবে না, কারণ সে যদি তা দুনিয়া ও আখিরাতে একত্রে নাও পায়, তবে আখিরাতে অবশ্যই তা পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে দুইবার প্রতিদান দেওয়া হবে}। আর রিজিক আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহই রিজিকদাতা, প্রবল শক্তির অধিকারী}।

এই সকল ঈমানি মূল্যবোধ মুমিনকে সমস্যার সমাধানে দৃঢ়তা ও ধৈর্যের ওপর গড়ে তোলে এবং কোনোভাবেই কোনো উপায়ে তা থেকে বিমুখ না হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলস্বরূপ, যে ব্যক্তি এই মূল্যবোধসমূহ ধারণ করে এবং তাতে বিশ্বাস রাখে, সে সাধারণত বাস্তবতাকে এড়াতে এবং সমস্যার মোকাবিলা থেকে পলায়ন করতে মদ বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের আশ্রয় গ্রহণ করবে না।