(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: -)
التكافل الاجتماعي القسم: كتب عامة
الكتاب: التكافل الاجتماعي
المؤلف: -
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 29
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 38
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সামাজিক সংহতি বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: সামাজিক সংহতি
লেখক: -
প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ২৯
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১)
مفهوم ونطاق التكافل الاجتماعييقصد بالتكافل الاجتماعي: أن يكون أفراد المجتمع مشاركين في المحافظة على المصالح العامة والخاصة ودفع المفاسد والأضرار المادية والمعنوية، بحيث يشعر كل فرد فيه أنه إلى جانب الحقوق التي له أن عليه واجبات للآخرين وخاصة الذين ليس باستطاعتهم أن يحققوا حاجاتهم الخاصة وذلك بإيصال المنافع إليهم ودفع الأضرار عنهم.
نطاق التكافل الاجتماعي:
إن المجتمع المسلم هو الذي يطبق فيه الإسلام عقيدة وعبادة وشريعة ونظاما وخلقا وسلوكا، وفقا لما جاء به الكتاب والسنة، واقتداء بالصورة التي طبق بها الإسلام في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم والخلفاء الراشدين من بعده.
সামাজিক সংহতির ধারণা ও পরিধিসামাজিক সংহতি বলতে বোঝায়: সমাজের সদস্যগণ সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত স্বার্থ সংরক্ষণে এবং বস্তুগত ও নৈতিক অনিষ্ট ও ক্ষতি রোধে অংশগ্রহণ করবেন, যাতে সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি অনুভব করে যে তার প্রাপ্য অধিকারের পাশাপাশি অন্যদের প্রতিও তার সুনির্দিষ্ট কিছু কর্তব্য রয়েছে, বিশেষ করে যারা তাদের নিজস্ব প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম নয়; তাদের নিকট কল্যাণ পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের থেকে ক্ষতি দূর করার মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালিত হয়।
সামাজিক সংহতির পরিধি:
একটি মুসলিম সমাজ হলো সেটি যেখানে কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদীনের (الخلفاء الراشدون) যুগে ইসলাম যেভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল তার অনুসরণে আকিদাহ (عقيدة), ইবাদত (عبادة), শরীয়াহ (شريعة), রাষ্ট্রব্যবস্থা, নৈতিকতা ও আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামকে প্রয়োগ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২)
وعندما يلتزم المجتمع بهذه القاعدة يجد التكامل الاجتماعي مكانه بارزا في المجتمع بحيث تتحقق فيه جميع مضامينه ، ذلك أن الإسلام قد اهتم ببناء المجتمع المتكامل وحشد في سبيل ذلك جملة من النصوص والأحكام لإخراج الصورة التي وصف بها الرسول صلى الله عليه وسلم ذلك المجتمع بقوله: «مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر» لذا فإن التكافل الاجتماعي في الإسلام ليس مقصودا على النفع المادي وإن كان ذلك ركنًا أساسيًّا فيه بل يتجاوزه إلى جميع حاجات المجتمع أفرادا وجماعات، مادية كانت تلك الحاجة أو معنوية أو فكرية على أوسع مدى لهذه المفاهيم ، فهي بذلك تتضمن جميع الحقوق الأساسية للأفراد والجماعات داخل الأمة.
যখন সমাজ এই নিয়ম মেনে চলে, তখন সামাজিক সংহতি সমাজে এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করে, যার ফলে এর সকল অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বাস্তবায়িত হয়। কারণ ইসলাম একটি সুসংহত সমাজ গঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং এই লক্ষ্যে একগুচ্ছ অকাট্য পাঠ (نصوص) ও বিধানসমূহকে সুসংহত করেছে, যাতে সেই প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা যায় যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: «পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, দয়া ও মমত্ববোধের ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ হলো একটি দেহের ন্যায়। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো দেহ জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে তার জন্য সাড়া দেয়।» তাই ইসলামে সামাজিক সংহতি কেবল বস্তুগত উপকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—যদিও এটি তার একটি মৌলিক স্তম্ভ (ركن)—বরং এটি ব্যক্তি ও সমষ্টি নির্বিশেষে সমাজের যাবতীয় প্রয়োজন পর্যন্ত বিস্তৃত; চাই সেই প্রয়োজন বস্তুগত, আধ্যাত্মিক কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক হোক—এই ধারণাগুলোর ব্যাপকতম অর্থ অনুযায়ী। ফলে এটি উম্মাহর অভ্যন্তরে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীসমূহের সকল মৌলিক অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩)
والتكافل الاجتماعي في الإسلام ليس معنيا به المسلمين المنتمين إلى الأمة المسلمة فقط بل يشمل كل بني الإنسان على اختلاف مللهم واعتقاداتهم داخل ذلك المجتمع كما قال الله تعالى: {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ} ؛ ذلك أن أساس التكافل هو كرامة الإنسان حيث قال الله تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا}
ইসলামে সামাজিক সংহতি কেবল মুসলিম উম্মাহভুক্ত মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং তা সেই সমাজের অন্তর্গত সকল মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাদের ধর্ম ও বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {দ্বীনের বিষয়ে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না}। এর কারণ এই যে, পারস্পরিক সংহতির ভিত্তি হলো মানুষের মর্যাদা; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি, তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদেরকে উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমার অনেক সৃষ্টির ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছি}।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪)
التكافل بين المرء وذاته:الإنسان مسؤول عن نفسه أولا فهو مسؤول عن تزكيتها وتهذيبها وإصلاحها ودفعها إلى الخير وحجزها عن الشر. قال الله تعالى: {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا} {فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا} {وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا} كما أنه مسؤول عن حفظها ورعاية صحتها وتمتعها في حدود المباح. قال الله تعالى: {وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ}
ثم إنه منهي عن إتلاف نفسه وإضعافها وتعذيبها فقد نهى الله تعالى عن الانتحار بقوله: {وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قتل نفسه بحديدة فحديدته في يده يجأ بها في بطنه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا»
كما يحرم عليه تعاطي كل ما يؤثر على صحته أو عقله فإن من المقاصد العامة الضرورية للشريعة الإسلامية حفظ النفس والعقل والمال.
মানুষ ও তার নিজ সত্তার মধ্যকার পারস্পরিক সংহতি:মানুষ সর্বপ্রথম নিজের জন্য দায়ী। সে তার নফসের পরিশুদ্ধকরণ (تزكية), পরিমার্জন (تهذيب), সংস্কার (إصلاح), তাকে কল্যাণের পথে ধাবিত করা এবং মন্দ থেকে নিবৃত্ত রাখার জন্য দায়বদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন: {শপথ প্রাণের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন। অতঃপর তাকে তার পাপাচার ও তার আল্লাহভীতি বা তাকওয়া (تقوى) সম্পর্কে জ্ঞান দান করেছেন। অবশ্যই সফল হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ (زكاها) করেছে। আর নিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে কলুষিত (دساها) করেছে।} তদ্রূপ সে তার জীবন রক্ষা, স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং বৈধ (مباح) সীমার মধ্যে পার্থিব নেয়ামত উপভোগ করার জন্যও দায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তা দিয়ে পরকাল অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেও না। তুমি অনুগ্রহ করো, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না।}
অতঃপর তাকে নিজের জীবন বিনাশ করা, নিজেকে দুর্বল করা বা নিজেকে যন্ত্রণা দেওয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ আত্মহত্যা থেকে বারণ (نهى) করে বলেছেন: {তোমরা নিজেদের হত্যা করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।} আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সেই লোহার অস্ত্রটিই তার হাতে থাকবে এবং তা দিয়ে সে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে, সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে (خالدًا مخلدًا) অবস্থান করবে।"
তদ্রূপ তার জন্য এমন সব বস্তু সেবন করা নিষিদ্ধ (حرام), যা তার স্বাস্থ্য বা বুদ্ধিবৃত্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। কেননা ইসলামী শরিয়াহর সাধারণ অপরিহার্য উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد العامة الضرورية) অন্যতম হলো জীবন (نفس), বুদ্ধি (عقل) ও সম্পদ (مال) সংরক্ষণ (حفظ) করা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫)
قال الله تعالى في الخمر: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} {إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ}
মহান আল্লাহ মদ সম্পর্কে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ বৈ নয়। অতএব তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।} {শয়তান তো কেবল মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বাধা প্রদান করতে চায়; তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?}
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬)
التكافل داخل الأسرة:لقد أكد الإسلام على التكافل بين أفراد الأسرة وجعله الرباط المحكم الذي يحفظ الأسرة من التفكك والانهيار.
ويبدأ التكافل في محيط الأسرة من الزوجين بتحمل المسؤولية المشتركة في القيام بواجبات الأسرة ومتطلباتها؛ كل بحسب وظيفته الفطرية التي فطره الله عليها قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الرجل راع في بيته ومسؤول عن رعيته والمرأة راعية في بيت زوجها ومسؤولة عن رعيتها» .
ويأتي تقسيم وتوزيع المسؤوليات داخل البيت بين الرجل والمرأة بما يضمن قيام الأسس المادية والمعنوية التي تقوم عليها الأسرة فالله سبحانه وتعالى يخاطب أرباب الأسر رجالا ونساء بقوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ}
পরিবারের অভ্যন্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা:ইসলাম পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং একে এমন এক সুদৃঢ় বন্ধন হিসেবে নির্ধারণ করেছে যা পরিবারকে বিচ্ছিন্নতা ও ভাঙন থেকে রক্ষা করে।
পারিবারিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক সংহতি ও সহযোগিতার সূচনা হয় স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে, যেখানে তারা পরিবারের কর্তব্য ও প্রয়োজনীয়তা পালনে যৌথ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন; প্রত্যেকেই তার সেই স্বভাবজাত ভূমিকা অনুযায়ী যা আল্লাহ তাকে প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে, আর নারী তার স্বামীর গৃহের অভিভাবিকা এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে»।
পরিবারের অভ্যন্তরে নারী ও পুরুষের মধ্যে দায়িত্বের এই বণ্টন ও বিভাজন এমনভাবে সম্পন্ন হয় যা পরিবারের বস্তুগত ও আত্মিক ভিত্তিকে সুসংহত করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরিবারের কর্তাব্যক্তিদের—পুরুষ ও নারী উভয়কে—উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো সেই আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর}।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولا تتم هذه الوقاية إلا بالتبصر بالحق وتعليم العلم النافع والإرشاد إلى أبواب الخير وهذا هو قوام التكافل العلمي والتثقيفي للأسرة، وهو مسؤولية مشتركة بين الزوجين فكلما وجد أحدهما في الآخر تقاعسا أو تقصيرا نبهه وأرشده إلى الصلاح والإصلاح. قال الله تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} وقد حث الإسلام على تنمية الود والحب الغريزي بين الرجل والمرأة في حياتهم الزوجية فقال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً}
وأرسى لتحقيق ذلك مبادئ وضمانات عديدة منها:
أ: حفظ الحقوق بين الزوجين:
قال تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ}
ب: حسن اختيار الزوجة والزوج:
ذلك أن الأسرة هي الخلية التي ينشأ فيها الأبناء لذا لزم أن تكون هذه الخلية صالحة من أساسها فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تنكح المرأة لأربع: لمالها، ولحسبها، ولجمالها، ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك»
আর এই সুরক্ষা কেবল সত্যের উপলব্ধি, কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা এবং কল্যাণের পথপ্রদর্শনের মাধ্যমেই সম্ভব। এটিই পরিবারের জ্ঞানগত ও সাংস্কৃতিক সংহতির ভিত্তি এবং এটি স্বামী-স্ত্রীর যৌথ দায়িত্ব; ফলে যখনই তাদের একজন অন্যজনের মধ্যে কোনো শিথিলতা বা অবহেলা লক্ষ্য করে, তখন সে তাকে সতর্ক করে এবং সংশোধন ও সংস্কারের দিকে পরিচালিত করে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ (منكر) হতে নিষেধ করে।} ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক জীবনে সহজাত সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া।}
আর তা অর্জনের জন্য তিনি বেশ কিছু মূলনীতি ও নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
ক: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার অধিকারসমূহ সংরক্ষণ:
মহান আল্লাহ বলেন: {আর নারীদের তেমনই ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের ওপর পুরুষদের অধিকার রয়েছে।}
খ: উত্তম স্ত্রী ও স্বামী নির্বাচন:
কেননা পরিবার হলো এমন একটি মূল একক যেখানে সন্তানরা গড়ে ওঠে। তাই এই এককটি তার বুনিয়াদ থেকেই যোগ্য (صالح) হওয়া আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «চারটি গুণের কারণে কোনো নারীকে বিবাহ করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারির কারণে। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকেই গ্রহণ করো, অন্যথায় তোমার হাত ধূলিমলিন হবে (অর্থাৎ তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে)।»
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأما فيما يختص باختيار المرأة لزوجها فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا أتاكم من ترضون دينه وخلقه فأنكحوه إلا تفعلوا تكن فتنة في الأرض وفساد كبير» وقال الله تعالى: {وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ}
ج: حسن المعاملة بينهما:
فقد حث الإسلام على المعاملة الحسنة بين الزوجين وثبت ذلك بنصوص الكتاب والسنة، فقد قال الله تعالى: {وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ} وقال الله تعالى: {فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ} وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم «أكمل المؤمنين إيمانا أحسنهم خلقا وخياركم خياركم لنسائهم» وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم خير الناس معاشرة لأزواجه وأحسن الناس رفقا بهم.
আর নারীর জন্য স্বামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের নিকট যদি এমন কেউ আসে যার দ্বীন ও চরিত্রের ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিবাহ সম্পন্ন করো। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও বড় বিপর্যয় দেখা দেবে» এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা মুশরিক নারীদের ঈমান আনা পর্যন্ত বিয়ে করো না। মুমিন দাসী মুশরিক নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। আর তোমরা মুশরিক পুরুষদের ঈমান আনা পর্যন্ত তাদের সাথে (মুমিন নারীদের) বিয়ে দিয়ো না। মুমিন দাস মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। তারা জাহান্নামের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিক্রমে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। তিনি মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।}
গ: উভয়ের মাঝে সদ্ব্যবহার:
নিশ্চয়ই ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সদ্ব্যবহারের প্রতি উৎসাহিত করেছে এবং তা কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ (نصوص) দ্বারা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো} এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হয় তোমরা সদ্ভাবে তাদের রাখবে, নতুবা সদ্ভাবে তাদের বিদায় দেবে}। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সেই সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা তাদের স্ত্রীদের নিকট উত্তম» এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন তাঁর স্ত্রীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম এবং তাদের প্রতি সবচেয়ে বেশি কোমল।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكان يمازحهن ويساعدهن في أعمالهن ويسامحهن فيما يبدر منهن من أخطاء وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «خيركم خيركم لأهله وأنا خيركم لأهلي»
د: الإنفاق على الأسرة:
তিনি তাঁদের সাথে কৌতুক করতেন, তাঁদের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিতেন। আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম; আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম।”
ঘ: পরিবারের জন্য ব্যয় করা:
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ذلك أن المال قوام الحياة المادية، والمرأة داخلة في ولاية زوجها فهو مسؤول عنها بالنفقة، قال الله تعالى: {لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا} بل إن الإسلام قد أوجب النفقة للزوجة على الزوج حتى لو كانت مطلقة فإن النفقة والسكن واجبة عليه طول فترة العدة - وهي المدة التي تنتظرها المرأة المطلقة ولا تتزوج من غيره استبراء للرحم كما أنه يدفع لها ثمن إرضاعها لابنه منها حال طلاقها قال الله تعالى: {أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ وَإِنْ تَعَاسَرْتُمْ فَسَتُرْضِعُ لَهُ أُخْرَى}
هـ: الاعتناء بالأولاد رعاية وتربية:
এর কারণ হলো সম্পদই পার্থিব জীবনের মূল ভিত্তি, আর স্ত্রী তার স্বামীর অভিভাবকত্বের অধীনে থাকে; তাই স্বামী তার ভরণপোষণের জন্য দায়বদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন: {সামর্থ্যবান ব্যক্তি যেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে; আর যার জীবনোপকরণ সংকুচিত করা হয়েছে, সে যেন আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করে। আল্লাহ কাউকে তিনি যা দিয়েছেন তার চেয়ে অতিরিক্ত ভার অর্পণ করেন না। আল্লাহ কষ্টের পর শীঘ্রই স্বস্তি দান করবেন।} বরং ইসলাম স্ত্রীর জন্য স্বামীর ওপর ভরণপোষণ বাধ্যতামূলক করেছে এমনকি সে তালাকপ্রাপ্তা হলেও; কেননা পুরো ইদ্দত চলাকালীন সময় তার ভরণপোষণ ও আবাসন নিশ্চিত করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব—আর ইদ্দত হলো সেই সময়কাল যা একজন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে অতিবাহিত করতে হয় এবং গর্ভাশয় সন্তানমুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তিনি এ সময় অন্য কাউকে বিবাহ করতে পারেন না। তদুপরি, তালাকপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকাকালীন সে যদি স্বামীর সন্তানকে স্তন্যদান করে, তবে স্বামী তাকে তার পারিশ্রমিক প্রদান করবে। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে নিজেরা বসবাস করো, সেখানে তাদেরও বাসের ব্যবস্থা করো। তাদের সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না। আর তারা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয় করো। অতঃপর যদি তারা তোমাদের সন্তানদের স্তন্যদান করে, তবে তাদের পাওনা পরিশোধ করো এবং নিজেদের মধ্যে সঙ্গতভাবে পরামর্শ করো। আর যদি তোমরা পরস্পর সংকটে পড়ো, তবে অন্য কোনো নারী তার পক্ষে স্তন্যদান করবে।}
ঙ: সন্তানদের যত্ন নেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালন:
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১১)
لقد أكد الإسلام حق الأولاد الصغار في الرعاية والتربية وجعل ذلك أهم واجبات الأبوين فلم يكتف الإسلام بالدافع الفطري لقيام الأبوين بواجبهما بل عزز ذلك بقواعد محددة تضمن للأولاد النشوء في صورة مثلى تكفل لهم حقوقهم كاملة. فمنذ الولادة نص على استكمال الرضاعة قال الله تعالى: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ} كما جعل له الحق في التربية قال الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مروا أولادكم بالصلاة لسبع واضربوهم عليها لعشر وفرقوا بينهم في المضاجع»
ইসলাম শিশুদের লালন-পালন ও যত্নের অধিকারকে সুনিশ্চিত করেছে এবং একে পিতামাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। ইসলাম কেবল পিতামাতার সহজাত প্রবৃত্তিগত তাড়নার ওপর এই দায়িত্ব পালনের বিষয়টি ছেড়ে দেয়নি, বরং একে সুনির্দিষ্ট কিছু বিধিনিয়মের মাধ্যমে সুসংহত করেছে যা শিশুদের একটি আদর্শ পরিবেশে বেড়ে ওঠার নিশ্চয়তা দেয় এবং তাদের অধিকারসমূহকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষণ করে। শিশুর জন্মের পর থেকেই দুগ্ধপানের মেয়াদ পূর্ণ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন: {আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে, যদি কেউ দুধ পানের সময়সীমা পূর্ণ করতে চায়। আর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মায়েদের ভরণ-পোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদ প্রদান করা সন্তানের পিতার ওপর কর্তব্য}। তদ্রূপ শিশুদের সুশিক্ষা ও লালন-পালনের অধিকারও ইসলাম প্রদান করেছে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো}। এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: “তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাত আদায়ের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে তার জন্য (সালাত আদায় না করলে) তাদের প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দাও।”
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১২)
التكافل داخل الجماعة:لقد أقام الإسلام تكافلا مزدوجا بين الفرد والجماعة فأوجب على كل منهما التزامات تجاه الآخر ومازج بين المصلحة الفردية والمصلحة العامة بحيث يكون تحقيق المصلحة الخاصة مكملا للمصلحة العامة وتحقيق المصلحة العامة متضمنا لمصلحة الفرد فالفرد في المجتمع المسلم مسؤول تضامنيا عن حفظ النظام العام وعن التصرف الذي يمكن أن يسيء إلى المجتمع أو يعطل بعض مصالحه قال الله تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} كما أن الفرد مأمور بإجادة أدائه الاجتماعي بأن يكون وجوده فعالا ومؤثرا في المجتمع الذي يعيش فيه قال الله تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ}
জামাতের অভ্যন্তরে সামাজিক সংহতি:ইসলাম ব্যক্তি ও সমষ্টির মধ্যে এক দ্বিমুখী সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠা করেছে এবং একে অপরের প্রতি উভয়েরই দায়বদ্ধতা আবশ্যক করেছে। এটি ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং জনস্বার্থের মাঝে এমন এক সমন্বয় সাধন করেছে যাতে ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জন জনস্বার্থের পরিপূরক হয় এবং জনস্বার্থ সাধন ব্যক্তির স্বার্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং মুসলিম সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি জনশৃঙ্খলার সুরক্ষা এবং সমাজের ক্ষতি করতে পারে বা এর কোনো স্বার্থকে ব্যাহত করতে পারে এমন আচরণের জন্য যৌথভাবে দায়বদ্ধ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ (منكر) হতে নিষেধ করে এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। তাদের ওপরই আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" তদ্রূপ ব্যক্তিকে তার সামাজিক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে আঞ্জাম দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সে যে সমাজে বসবাস করে সেখানে তার উপস্থিতি কার্যকর ও প্রভাবশালী হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "তোমরা নেকি ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم «المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا» وقد بين الرسول صلى الله عليه وسلم حال أفراد المجتمع في تماسكهم وتكافلهم بصورة تمثيلية رائعة حيث قال: «مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاونهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر» من جانب آخر حقوقه وحرياته الخاصة فإن الجماعة أيضا مسؤولة عن حفظ حرمات الفرد وكفالة حقوقه وحرياته الخاصة.
قال الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَومٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا}
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ইমারত সদৃশ, যার এক অংশ অপর অংশকে সুদৃঢ় রাখে।" রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমাজের ব্যক্তিদের পারস্পরিক সংহতি ও সহমর্মিতার স্বরূপ অত্যন্ত চমৎকার এক উপমাচিত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো শরীর জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে তার প্রতি সাড়া দেয়।" অন্য দিকে, ব্যক্তিগত অধিকার ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সমাজও ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং তার অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারী যেন অন্য কোনো নারীকে উপহাস না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা অতি নিকৃষ্ট কাজ। যারা তওবা করে না, তারাই জালেম।} {হে মুমিনগণ, তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাকো; কারণ কোনো কোনো অনুমান গোনাহ। আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না।}
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد صور الرسول صلى الله عليه وسلم هذه الصورة التكافلية في مثال رائع بقوله: «مثل القائم على حدود الله - أي القائم على حفظ النظام العام للمجتمع وأفراده - والواقع فيه كمثل قوم استهموا على سفينة فصار بعضهم أعلاها وبعضهم أسفلها فكان الذين في أسفلها إذا استقوا من الماء مروا على من فوقهم، فقالوا لو أنا خرقنا في نصيبنا هذا خرقا ولم نؤذ من فوقنا، فإن تركوهم وما أرادوا هلكوا وإن أخذوا على أيديهم نجوا ونجوا جميعا»
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই পারস্পরিক সহযোগিতামূলক চিত্রটি একটি চমৎকার উদাহরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন; তিনি ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহর নির্ধারিত সীমার ওপর অটল ব্যক্তি—অর্থাৎ যিনি সমাজের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও এর সদস্যদের সুরক্ষায় নিয়োজিত—এবং তাতে লিপ্ত (সীমালঙ্ঘনকারী) ব্যক্তির উদাহরণ সেই দলের মতো, যারা লটারির মাধ্যমে একটি নৌকায় নিজেদের স্থান নির্ধারণ করল। ফলে তাদের কেউ উপরের তলায় এবং কেউ নিচের তলায় স্থান পেল। নিচের তলার লোকেরা যখন পানির প্রয়োজন বোধ করত, তখন তাদের উপরের তলার লোকদের অতিক্রম করে যেতে হতো। তখন তারা বলল, 'আমরা যদি আমাদের অংশে একটি ছিদ্র করে নিই, তবে আমরা আমাদের উপরের লোকদের কষ্ট দেব না।' এমতাবস্থায় তারা যদি এদেরকে এদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়, তবে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা তাদের হাত ধরে (বাধা দেয়), তবে তারা নিজেরাও রক্ষা পাবে এবং সকলেই রক্ষা পাবে।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما التكافل بين جميع المجتمعات الإنسانية فهو الذي ترسم ملامحه الآية الكريمة {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} فهي تعلن مبادئ تكافل دولي بموجبه تنتظم كافة المجتمعات الإنسانية في رباط عالمي هدفه النهائي والحقيقي إقامة مصالح العالمين ودفع المفاسد عنهم وتبادل المنافع فيما بينهم، مادية ومعنوية ، علمية وثقافية واقتصادية مع الحفاظ على خصوصيات كل مجتمع وكيان دون تهديد لتلك الخصوصيات بما يهدمها أو يلغيها، وأساس ذلك إحساس الجميع بوحدة أصلهم ومنشأهم ومصيرهم.
আর সমস্ত মানব সমাজের মধ্যেকার পারস্পরিক সামাজিক সংহতি ও দায়বদ্ধতার যে বিষয়টি রয়েছে, তার রূপরেখা অঙ্কন করেছে এই মহিমান্বিত আয়াত: {হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, আর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} এটি আন্তর্জাতিক সংহতির এমন কতিপয় মূলনীতি ঘোষণা করে যার মাধ্যমে সমস্ত মানব সমাজ এক বৈশ্বিক বন্ধনে সুসংগঠিত হয়। এর চূড়ান্ত ও প্রকৃত লক্ষ্য হলো বিশ্ববাসীর কল্যাণ সাধন করা, তাদের থেকে অকল্যাণ দূর করা এবং তাদের মধ্যে পার্থিব ও আধ্যাত্মিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উপকারের পারস্পরিক বিনিময় ঘটানো। পাশাপাশি প্রতিটি সমাজ ও কাঠামোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসমূহ সংরক্ষণ করা, যাতে এমন কোনো হুমকির সৃষ্টি না হয় যা সেই বৈশিষ্ট্যগুলোকে ধ্বংস বা বিলুপ্ত করে দেয়। আর এর মূল ভিত্তি হলো সকলের মাঝে নিজেদের অভিন্ন উৎস, উৎপত্তি ও পরিণতির বোধ জাগ্রত থাকা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذا التكافل لا يقف عند تحقيق مصالح الجيل الحاضر بل يتعدى ذلك إلى نظرة شاملة تضع في الاعتبار مصالح أجيال المستقبل، وهو ما من شأنه أن يسهم في حل كثير من الأزمات المعاصرة ويحاصر كثير من الأخطار التي تواجه مستقبل البشرية والتي نشأت من جراء لهاث هذا الجيل وراء مصالحه دون اعتبار للمستقبل البشري العام، وهي أخطار ومشكلات كثيرة لعل من أخطرها مشكلة البيئة والموارد الطبيعية. قال تعالى: {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا} .
ونجد مراعاة هذا التكافل بين الأجيال في سياسة عمر بن الخطاب رضي الله عنه في أرض السواد - الأرض الزراعية الخصبة في العراق - حينما فتحها المسلمون وأراد الجنود أن يقتسموها بينهم شأن بقية الغنائم فرفض هذا الرأي قائلا: (إني أريد أمرا يسع الناس أولهم وآخرهم) فقرر أن يضرب الخراج على هذه الأرض ويتركها في يد عمال يعملون فيها ويؤدون ضريبة لبيت المال (الخزينة العامة للدولة)
আর এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধ (التكافل) কেবল বর্তমান প্রজন্মের স্বার্থ হাসিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ধাবিত হয় যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থসমূহকেও বিবেচনায় রাখে। এটি এমন একটি বিষয় যা সমকালীন বহু সংকট সমাধানে অবদান রাখতে সক্ষম এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের সামনে আসা অনেক বিপদকে প্রতিহত করতে পারে, যা মূলত বর্তমান প্রজন্মের সাধারণ মানবীয় ভবিষ্যতের তোয়াক্কা না করে কেবল নিজেদের স্বার্থের পেছনে অন্ধভাবে ছোটার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এই বিপদ ও সমস্যাসমূহ অনেক, যার মধ্যে সম্ভবত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সমস্যাটিই সবচেয়ে গুরুতর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর আল্লাহ যদি মানুষের এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হয়ে যেত সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ, যেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে স্মরণ করা হয়।}
আমরা প্রজন্মগুলোর মধ্যে এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধের (التكافل) প্রতিফলন দেখতে পাই উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ‘আরদুস সাওয়াদ’ (ইরাকের উর্বর কৃষিজমি) সংক্রান্ত নীতিতে—যখন মুসলিমগণ তা জয় করেন এবং সৈন্যরা অন্যান্য যুদ্ধলব্ধ মালের (الغنائم) ন্যায় তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিতে চেয়েছিলেন। তিনি এই মত প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন: "আমি এমন এক ব্যবস্থা চাই যা বর্তমান ও পরবর্তী সকল মানুষের জন্য পর্যাপ্ত হবে।" অতঃপর তিনি এই ভূমির ওপর ভূমিকর (الخراج) ধার্য করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তা কৃষকদের হাতেই ন্যস্ত রাখলেন যাতে তারা সেখানে কাজ করে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে (বায়তুল মাল) নির্দিষ্ট কর প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد استنبط هذا المبدأ من قول الله تعالى في تحديد العلاقة بين أجيال الأمة المسلمة: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا} وحتى يحمل جيل المستقبل انطباعا جيدا عن جيل الحاضر ويحفظ له مكانته ويستغفر له ويحمل له في قلبه أرق المشاعر. وهكذا ينبغي أن يحس جيل الحاضر بهذه العلاقة المتبادلة وبآثار تصرفاته على من سيأتي بعده فلا ينتهب الموارد ولا يبدد طاقات الحياة التي يمتلكها وحده، وبذلك يضع السماد الطيب في تربة التواصل بين الأجيال فتشق الأمة طريقا بين الماضي والمستقبل موصولة الخطى على أرض صلبة وتراث عريق مقدر.
وبهذا ترسم صورة إنسانية مثلى للتكافل يحنو فيها الحاضرون على الخالفين وتهفو قلوب الخالفين إلى الماضين بالود وتتحرك ألسنتهم بالاستغفار فيتحقق بذلك التكافل الشامل لأمر الآخرة والأولى لكافة أجيال الأمة.
মুসলিম উম্মাহর (الأمة المسلمة) প্রজন্মগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণে মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে এই মূলনীতিটি (المبدأ) আহরণ (استنبط) করা হয়েছে: {আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের (الإيمان) সাথে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছেন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না}। আর এটি এজন্য, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বর্তমান প্রজন্ম সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে, তাদের মর্যাদাকে রক্ষা করে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) করে এবং হৃদয়ে তাদের প্রতি অত্যন্ত কোমল অনুভূতি লালন করে। একইভাবে বর্তমান প্রজন্মের উচিত এই পারস্পরিক সম্পর্ক এবং পরবর্তী প্রজন্মের ওপর তাদের কর্মপদ্ধতির প্রভাব উপলব্ধি করা; যাতে তারা কেবল নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ লুণ্ঠন না করে কিংবা জীবনশক্তি অপচয় না করে। এর মাধ্যমে প্রজন্মের মধ্যকার সেতুবন্ধনের মৃত্তিকায় উৎকৃষ্ট সার প্রদান করা হয়, ফলে উম্মাহ (الأمة) অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝে এক সুদৃঢ় ভিত্তি এবং সুমহান ঐতিহ্যের (تراث) ওপর অবিচল পদক্ষেপে নিজের পথ সুগম করে।
এভাবেই পারস্পরিক সংহতির (التكافل) এক আদর্শ মানবিক চিত্র অঙ্কিত হয়, যেখানে বর্তমান প্রজন্ম উত্তরসূরিদের (الخالفين) প্রতি মমতাশীল হয় এবং উত্তরসূরিদের (الخالفين) অন্তর পূর্বসূরিদের (الماضين) প্রতি ভালোবাসায় ব্যাকুল হয় ও তাদের জিহ্বা ক্ষমা প্রার্থনায় (استغفار) রত থাকে। এর মাধ্যমে উম্মাহর (الأمة) সকল প্রজন্মের জন্য ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় বিষয়ে এক সর্বজনীন সংহতি (التكافل) বাস্তবায়িত হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كفالة كبار السن:
প্রবীণদের রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান:
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لقد وجه الإسلام عناية خاصة لكبار السن واعتبرهم مستحقين الشيء الكبير من الرعاية مقابل التضحيات التي قدموها من أجل إسعاد الجيل الذي ربوه ورعوه، والعناية بكبار السن والمسؤولية عنه قد أنيطت في الإسلام بالأبناء أولا {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ} ، {وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا} فمسؤولية الأبناء عن بر الآباء ورعايتهم مسؤولية إلزامية ديانة وقضاء بمعنى أن أوامر الدين توجب على الأولاد وتلزمهم بها فإذا قصروا فيها ألزمهم بها القضاء ولو كان دينهما مختلفا عن الأبناء فإن ذلك لا يسقط حقهم ولا يلغي تلك المسؤولية، قال تعالى: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ} {وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا} وإذا لم يكن لهم أبناء انتقلت المسؤولية عنهم إلى المجتمع ممثلا في الدولة بصورة إلزامية ، كذلك يعزز ذلك ما تزخر به النصوص من ترغيب في الخير وفي الإحسان إلى الآخرين وخاصة
ইসলাম প্রবীণদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং তাদের এমন এক প্রভূত যত্নের অধিকারী হিসেবে গণ্য করেছে, যা তারা তাদের লালিত-পালিত প্রজন্মকে সুখী করার নিমিত্তে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার বিনিময়ে প্রাপ্য। ইসলামে প্রবীণদের যত্ন ও তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সর্বপ্রথম সন্তানদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে— {আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি}, {আর পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো}। সুতরাং পিতা-মাতার সেবা ও যত্নের বিষয়ে সন্তানদের দায়বদ্ধতা ধর্মীয় ও আইনি উভয় দিক থেকেই একটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। এর অর্থ হলো, দ্বীনের নির্দেশনাবলি সন্তানদের ওপর এটি আবশ্যক করে এবং তাদের তা পালনে বাধ্য করে; ফলে তারা যদি এতে অবহেলা করে, তবে বিচারব্যবস্থা তাদের তা পালনে বাধ্য করবে। এমনকি তাদের ধর্ম যদি সন্তানদের ধর্ম থেকে ভিন্নও হয়, তবুও তা তাদের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে না এবং সেই দায়িত্বকেও রহিত করে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি; তার মা কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছেন এবং দুই বছরে তার দুগ্ধপান ছাড়ানো হয়। (নির্দেশ দিয়েছি যে,) আমার প্রতি এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।} {আর তারা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের কথা মানবে না; কিন্তু পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো।} আর যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে, তবে সেই দায়বদ্ধতাটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বে বাধ্যতামূলকভাবে সমাজের ওপর বর্তাবে। একইভাবে, শরিয়তের দলিলসমূহ কল্যাণের পথে এবং অন্যের প্রতি সদাচরণ করার যে ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করেছে, তা এই বিষয়টিকে আরও সুদৃঢ় করে, বিশেষ করে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২০)
العاجزين بما فيهم كبار السن والذي ينشئ في النفس المؤمنة دافعا تلقائيا إلى بذل الخير طواعية في تلك الوجوه. والرعاية لكبار السن لا تقف عند الجانب المادي بل يدخل فيها الجانب النفسي والعاطفي الذي هم أشد حاجة إليه: {إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا} {وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّي ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا} ، «ليس منا من لم يرحم صغيرنا ويوقر كبيرنا»
অক্ষম ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে প্রবীণদের অবস্থা মুমিনের অন্তরে এক প্রকার স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণা সৃষ্টি করে, যা তাকে স্বেচ্ছায় এসব ক্ষেত্রে কল্যাণ সাধনে উদ্বুদ্ধ করে। প্রবীণদের প্রতি যত্ন ও সেবা কেবল বস্তুগত দিকের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় দিক, যেটির প্রয়োজনীয়তা তাদের নিকট সবচেয়ে বেশি: {যদি তোমার কাছে তাদের কোনো একজন অথবা উভয়ে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তুমি তাদের প্রতি ‘উফ’ শব্দটিও উচ্চারণ করো না এবং তাদের ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।} {আর মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনমিত করো এবং বলো: হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।} , «সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে না»
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২১)
كفالة الصغار والأيتامسبق عند الحديث عن التكافل داخل الأسرة أن الإسلام يهتم بالطفولة ويلزم الآباء برعاية الأبناء وتربيتهم حتى بلوغ سن الرشد مع القدرة على استقلالهم بالمسؤولية.
فإذا فقد هؤلاء الأبناء آباءهم فإن المسؤولية تنتقل بشكل متدرج إلى الأقارب القادرين فإذا انعدموا قامت على المجتمع بأسره.
وقد ورد في الحث على كفالة الأيتام والعناية بهم ما يبعث في نفس المؤمن دافعا قويا إلى ذلك ، إضافة إلى المسؤولية الواجبة والتي تطالب الدولة ، ممثلة في المجتمع ، بالقيام بهذه الكفالة {فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ} {وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ} ، {وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ} ، {وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ} ، {أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ} {فَذَلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ} {وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ} ، {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ}
শিশু ও এতিমদের লালনপালনপরিবারের অভ্যন্তরীণ পারস্পরিক সংহতি বিষয়ক আলোচনার ক্ষেত্রে ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলাম শৈশবকালের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এবং সন্তানদের সাবালকত্ব অর্জন ও স্বতন্ত্রভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হওয়া পর্যন্ত তাদের দেখাশোনা ও লালনপালন করা পিতা-মাতার জন্য আবশ্যক করে।
যদি এই সন্তানরা তাদের পিতাকে হারায়, তবে সেই দায়িত্বটি পর্যায়ক্রমে সক্ষম আত্মীয়-স্বজনদের ওপর বর্তায়; আর যদি তারা না থাকে, তবে সমগ্র সমাজের ওপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়।
এতিমদের লালনপালন ও তাদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার উৎসাহ প্রদান সম্পর্কে এমন সব বর্ণনা এসেছে যা মুমিনের মনে এক শক্তিশালী প্রেরণা জাগ্রত করে; এর পাশাপাশি এটি একটি অপরিহার্য দায়িত্ব যা সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রের ওপর এই লালনপালন নিশ্চিত করার দাবি রাখে। {সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না} {এবং সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দেবেন না} , {পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করো এবং নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের সাথেও} , {এবং সম্পদের প্রতি মোহ থাকা সত্ত্বেও তা নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের দান করে} , {আপনি কি তাকে দেখেছেন যে বিচার দিবসকে অস্বীকার করে?} {সে তো সেই ব্যক্তি যে এতিমকে তাড়িয়ে দেয়} {এবং মিসকিনকে অন্নদানে উৎসাহিত করে না} , {তোমরা জেনে রাখো যে, তোমরা যা কিছু গণিমত হিসেবে লাভ করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের জন্য}
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وإذا تصفحنا تاريخ الإسلام وجدنا أن كثيرا من عباقرة الإسلام والمبدعين على أكثر من صعيد كانوا قد فقدوا آباءهم وهم صغار وما ذلك إلا نتاج ملموس للتوجيهات والسياسات الإسلامية في هذا الصدد والتي أصبح المجتمع يقوم بها بشكل طوعي وتلقائي حتى في الأوقات التي تتخلى فيها الدولة عن واجبها فإن هذه العناية لم تغب إذ قام بها المجتمع وأقام لها من المؤسسات الخيرية ما يلبي حاجتها.
আমরা যদি ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাই যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামের বহু মনীষী ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব শৈশবেই পিতৃহারা হয়েছিলেন। এটি মূলত এই বিষয়ে ইসলামের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও নীতিমালারই এক বাস্তব প্রতিফলন, যা সমাজ স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পাদন করে আসছে। এমনকি রাষ্ট্র যখন তার দায়িত্ব পালনে বিমুখ হয়েছে, তখনও এই বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যা বিলীন হয়ে যায়নি; বরং সমাজই সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং এমন সব জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে যা তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن مظاهر العناية التي أولاها الإسلام للأيتام حفظ أموالهم والسعي في تنميتها والابتعاد عن كل تصرف ضار بها {وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ} ، {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا} ، {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا} ، {وَآتُوا الْيَتَامَى أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا} ، كما دعا إلى استثمارها والإنفاق عليهم {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ} ، {وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا}
ইসলাম এতিমদের প্রতি যে বিশেষ যত্ন ও গুরুত্বারোপ করেছে, তার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো তাদের সম্পদ সংরক্ষণ করা, সেই সম্পদের প্রবৃদ্ধি সাধনে সচেষ্ট হওয়া এবং তাদের জন্য ক্ষতিকর হয় এমন প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা। {আর তোমরা এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, তবে এমন পন্থায় যা সবচেয়ে উত্তম, যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হয়}। {নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা মূলত তাদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে}। {আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করতে থাকো যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে উপনীত হয়; অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিচক্ষণতা অনুভব করো, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পণ করো। আর তারা বড় হয়ে যাবে—এই ভয়ে তোমরা অপচয় ও তাড়াহুড়ো করে তাদের সম্পদ ভক্ষণ করো না}। {আর তোমরা এতিমদের তাদের সম্পদ প্রদান করো এবং অপবিত্র বস্তুকে পবিত্র বস্তু দ্বারা বিনিময় করো না; আর তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে গ্রাস করো না। নিশ্চয়ই তা মহাপাপ}। তদ্রূপ ইসলাম এই সম্পদ বিনিয়োগ করার এবং তাদের জন্য ব্যয় করার প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে। {তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, তাদের জন্য সংশোধন বা কল্যাণকর ব্যবস্থা গ্রহণ করাই উত্তম। আর যদি তোমরা তাদের সাথে একত্রে মিলেমিশে থাকো, তবে তারা তোমাদেরই ভাই। আর আল্লাহ অনিষ্টকারীকে সংশোধনকারী থেকে পৃথকভাবে জানেন}। {আর তোমরা তাদের সেই সম্পদ থেকে জীবিকা ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করো এবং তাদের সাথে সদালাপ করো}।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كفالة الفقراء والمساكينإن النصوص الإسلامية ذاخرة بالحض على كفالة الفقراء والمساكين ومشاركتهم آلامهم وتنفيس الكرب عنهم وبذل العون لهم ماديا ومعنويا.
إن الإسلام في مواجهة المشكلات الاجتماعية يفرض الحد الأدنى لاستقامة الحياة وجريانها على الصلاح ثم يفتح المجال أمام التطوع والإحسان مع الترغيب فيه والحث عليه وبيان ما ينتظر صاحبه من جزاء في الدنيا والآخرة.
দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের ভরণপোষণইসলামি মূলপাঠসমূহ দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের রক্ষণাবেক্ষণ, তাদের দুঃখ-কষ্টে অংশগ্রহণ, তাদের বিপদ মোচন এবং তাদেরকে বস্তুগত ও আত্মিকভাবে সহায়তা প্রদানের উৎসাহে পরিপূর্ণ।
সামাজিক সমস্যাবলি মোকাবিলায় ইসলাম জীবনযাত্রার ভারসাম্য রক্ষা ও তা সততার পথে পরিচালনার জন্য একটি ন্যূনতম সীমা নির্ধারণ করে দেয়; অতঃপর এটি স্বেচ্ছাসেবা ও মহানুভবতার পথ উন্মুক্ত করে দেয় এবং এর প্রতি উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইহকাল ও পরকালে এর সম্পাদনকারীর জন্য যে প্রতিদান অপেক্ষা করছে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وكما هو شأن الإسلام في مواجهة مشاكل الحياة والاجتماع فإننا نجده يسلك نفس السلوك في مشكلة الفقر ففي الوقت الذي يفتح فيه فرص العمل أمام الجميع ويزيل العقبات والعراقيل أمام الفقراء ليعملوا فإنه يفرض على المجتمع المسؤولية الكاملة عن فقرائه الذين لا يجدون عملا أو لا تتسع مواردهم للوفاء بحاجتهم وذلك من خلال فريضة الزكاة التي تتمثل في قيمة 2،5 % من ثروة المجتمع تجنيها الدولة كل سنة لتردها على الفقراء والمساكين وغيرهم من مصارف الزكاة الذين حددهم الله تعالى في القرآن الكريم بقوله: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاِبْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} .
জীবন ও সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় ইসলামের যে চিরাচরিত ধারা, দারিদ্র্যের সমস্যার ক্ষেত্রেও আমরা তাকে একই পন্থা অবলম্বন করতে দেখি। যে সময়ে এটি সবার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ উন্মুক্ত করে এবং দরিদ্রদের কাজ করার পথে সকল বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে, ঠিক সেই সময়েই এটি সমাজের ওপর ওইসব দরিদ্রদের পূর্ণ দায়িত্বভার অর্পণ করে যারা কোনো কাজ পায় না অথবা যাদের সম্পদ তাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। আর এটি সম্পন্ন হয় জাকাতের বিধানের মাধ্যমে, যা সমাজের মোট সম্পদের ২.৫ শতাংশের সমপরিমাণ; রাষ্ট্র প্রতি বছর এটি সংগ্রহ করে দরিদ্র, মিসকিন এবং জাকাতের অন্যান্য খাতে বণ্টন করার জন্য, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নির্ধারিত করে দিয়েছেন: {নিশ্চয়ই সদকা হচ্ছে কেবল দরিদ্র, মিসকিন, জাকাত ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মচারী, যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য, দাসমুক্তিতে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুনির্ধারিত বিধান; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।}
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
كما يعلن مسؤولية الدولة عن توفير العمل لمن لا يجد عملا وإيجاد ميادين العمل وفتح أبوابه أمام العاطلين، بل إنه يجعل للإمام في الحالات التي يهدد فيها التوازن الاجتماعي وتميل فيه الكفة نحو احتكار المال في أيد محدودة يجعل له الحق في أن يعيد الأمور إلى نصابها ويتخذ من الإجراءات ما يراه كفيلا بإعادة التوازن إلى المجتمع ، ثم يفتح بعد ذلك الطريق أمام التطوع والإحسان ويحض عليه ابتغاء الدار الآخرة والثواب من الله تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ} ، {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} ، {فَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ ذَلِكَ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ}
তদুপরি এটি বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা এবং যারা কাজ খুঁজে পাচ্ছে না তাদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ঘোষণা করে। বরং এটি এমন পরিস্থিতিতে ইমামের জন্য সেই অধিকার প্রদান করে যখন সামাজিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ে এবং মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সমাজে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে যা প্রয়োজনীয় মনে করেন সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। অতঃপর এটি স্বেচ্ছাসেবা ও মহানুভবতার পথ উন্মুক্ত করে এবং পরকালীন জীবনের সাফল্য ও মহান আল্লাহর নিকট থেকে প্রতিদান প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে এর প্রতি উৎসাহিত করে: {পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোর নামই সৎকর্ম নয়; বরং সৎকর্মশীল সেই ব্যক্তি, যে ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, পরকালের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর, কিতাবসমূহের ওপর এবং নবীগণের ওপর। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাসমুক্তির জন্য অর্থ দান করে}, {তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো}, {সুতরাং আত্মীয়-স্বজনকে তাদের প্রাপ্য হক প্রদান করো এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদেরও। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের জন্য এটিই উত্তম এবং তারাই সফলকাম।}
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رعاية حق الجارومن مظاهر التكافل في الإسلام أيضا رعاية حقوق الجوار فقد أكد الإسلام على البر بالجار وصلته وكف الأذى عنه وإيصال الخير إليه.
قال تعالى: {وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ} وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليكرم جاره» وقال: «والله لا يؤمن والله لا يؤمن. قيل: ومن يا رسول الله؟ قال: (الذي لا يأمن جاره بوائقه) » ، وحدد حقوق الجار فقال: «إن مرض عدته وإن أصابه خير هنأته وإن أصابته مصيبة عزيته ولا تستطل عليه بالبنيان فتحجب عنه الريح إلا بإذنه ولا تؤذه بريح قدرك إلا أن تغرف له منها وإن اشتريت فاكهة فأهد له، فإن لم تفعل فأدخلها سرا ولا يخرج بها ولدك ليغيظ بها ولده»
প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষাইসলামে পারস্পরিক সংহতির অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি যত্নশীল হওয়া। ইসলাম প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করা, সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাকে কষ্ট প্রদান থেকে বিরত থাকা এবং তার নিকট কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা পিতামাতার প্রতি সদাচরণ করো এবং নিকটাত্মীয়, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী ও দূর প্রতিবেশীর প্রতিও।} এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।" তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর শপথ, সে মুমিন নয়; আল্লাহর শপথ, সে মুমিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কে সে? তিনি বললেন: যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।" তিনি প্রতিবেশীর অধিকার সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন: "সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে, সে কোনো কল্যাণের অধিকারী হলে তাকে অভিনন্দন জানাবে, কোনো বিপদে পড়লে তাকে সান্ত্বনা দেবে। তার অনুমতি ব্যতীত নিজের গৃহের উচ্চতা এমন বৃদ্ধি করবে না যাতে তার বাতাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তোমার হাঁড়ির ধোঁয়া দিয়ে তাকে কষ্ট দেবে না, যদি না তুমি সেখান থেকে তাকে কিঞ্চিৎ খাবার প্রদান করো। আর যদি তুমি কোনো ফল ক্রয় করো, তবে তাকে উপহার দিও; আর যদি তা করতে না পারো, তবে তা গোপনে ঘরে নিয়ে যাবে এবং তোমার সন্তান যেন তা নিয়ে বাইরে বের না হয় যাতে তার (প্রতিবেশীর) সন্তানের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি না হয়।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حقوق الضيف والغريبلقد حض الإسلام على إكرام الضيف وعلى إحسان ضيافته واعتبر إكرام الضيف خلقا كريما يدل على صدق الإيمان وتأصله في النفس ، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليكرم ضيفه» كما أكد على الإحسان إلى الغريب (ابن السبيل) - وهو الذي انقطعت به السبل ولم يستطع الوصول إلى بلده- وجعل له حقا واجبا في الزكاة {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا} . . . . {وَاِبْنِ السَّبِيلِ}
মেহমান ও মুসাফিরের অধিকারইসলাম মেহমানকে সম্মান প্রদান এবং তার প্রতি উত্তম আতিথেয়তার নির্দেশ দিয়েছে। মেহমানদারিকে একটি মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা ঈমানের সত্যতা ও অন্তরে তার গভীর মূল প্রোথিত থাকার বহিঃপ্রকাশ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে।" তেমনিভাবে ইসলাম মুসাফির বা পথিকের (ابن السبيل) প্রতি—যিনি পথিমধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং নিজ বাসস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম নন—সদাচরণের প্রতি তাকিদ দিয়েছে এবং জাকাতের ক্ষেত্রে তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অধিকার নির্ধারণ করেছে: {নিশ্চয়ই সদকা কেবল ফকির, মিসকিন এবং এর ওপর নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য... এবং মুসাফির বা পথিকের (ابن السبيل) জন্য।}
(খণ্ড: ১)
আত-তাকাফুলুল ইজতিমায়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الوسائل المنوطة بأفراد المجتمع.
أناط الإسلام بالأفراد عددا من هذه الوسائل وجعل بعضها إلزاميا وترك البعض الآخر للتطوع
সমাজের ব্যক্তিবর্গের ওপর অর্পিত মাধ্যমসমূহ.
ইসলাম ব্যক্তিবর্গের ওপর এ জাতীয় বেশ কিছু মাধ্যম অর্পণ করেছে এবং সেগুলোর কোনো কোনোটিকে বাধ্যতামূলক করেছে আর অন্যগুলোকে ঐচ্ছিক হিসেবে ছেড়ে দিয়েছে।