(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: -)
الفوائد المنتقاة على شرط الإمامين   (أبو على البرداني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الفوائد المنتقاة على شرط الإمامين

المؤلف: أبو علي أحمد بن محمد البرداني (ت 498 هـ)

اعتنى به: دار الكمال المتحدة

الناشر: عطاءات العلم - موسوعة صحيح البخاري، https://bukhari-pedia.net

النشرة: الأولى، 1439 هـ

عدد أوراق المخطوط: 15

قدمه للشاملة: «عطاءات العلم» جزاهم الله خيرًا

عمل المعتني بالكتاب: تم تنضيد الكتاب عن نسخته الوحيدة.

[الكتاب مخطوط، وترقيمه موافق لأوراق المخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1443

দুই ইমামের শর্তানুসারে নির্বাচিত ফায়দাহসমূহ   (আবু আলী আল-বারদানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: দুই ইমামের শর্তানুসারে নির্বাচিত ফায়দাহসমূহ

লেখক: আবু আলী আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বারদানি (মৃত্যু ৪৯৮ হিজরি)

তত্ত্বাবধানে: দারুল কামাল আল-মুত্তাহিদা

প্রকাশক: আতাআতুল ইলম - সহীহ বুখারী বিশ্বকোষ، https://bukhari-pedia.net

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৯ হিজরি

পাণ্ডুলিপির পাতা সংখ্যা: ১৫

শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআতুল ইলম» আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

সম্পাদকের কাজ: কিতাবটির একমাত্র পাণ্ডুলিপি থেকে এটি কম্পোজ করা হয়েছে।

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে এবং এর নম্বর বিন্যাস পাণ্ডুলিপির পাতার সাথে মিল রাখা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১)
الجُزْءُ الأَوَّلُ مِنَ الفَوايِدِ الحِسانِ العَوالِي المُنْتَقاةِ الصِّحاحِ

عَلَى شَرْطِ الإِمامَيْنِ: أَبِي عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدِ بنِ إِسْماعِيلَ البُخارِيِّ وَأَبِي الحُسَيْنِ مُسْلِمِ بنِ الحَجَّاجِ النَّيْسابُورِيِّ.

تَخْرِيجُ الشَّيْخِ الحافِظِ أَبِي عَلِيٍّ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدٍ البَرْدانِيِّ(1)

لِلشَّرِيفِ أَبِي العِزِّ مُحَمَّدِ بنِ المُخْتارِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ الواحِدِ بنِ المُؤَيَّدِ بِاللهِ(2)

عَنْ شُيُوخِهِ.

سَمَاعُ الشَّيخِ الجَلِيْلِ أَبِي مُحَمَّدِ يَلْتِكِين بنِ أَخْبَار التِّرْكِيِّ نفعه الله بالعلم

--------------------------------------------

مقابلة وضبط: عبد الرحيم محمد يوسفان

 

(1) [ت:498]

(2) [ت:507]
আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান আল-আওয়ালি আল-মুনতাকাতুস সিহাহ-এর প্রথম খণ্ড

দুই ইমাম: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী এবং আবুল হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরীর শর্তানুসারে।

শাইখ আল-হাফিয আবু আলী আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-বারদানী কর্তৃক সংকলিত (তাখরিজ)(১)

শরীফ আবুল ইয মুহাম্মদ বিন আল-মুখতার বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-মুয়াইয়িদ বিল্লাহ-এর জন্য(২)

তাঁর উস্তাদগণের নিকট হতে।

সম্মানিত শাইখ আবু মুহাম্মদ ইয়ালতিকিন বিন আখবার আত-তুর্কির শ্রবণকৃত; আল্লাহ তাঁকে ইলমের দ্বারা উপকৃত করুন।

--------------------------------------------

পাঠ মিলকরণ ও সম্পাদনা: আব্দুর রহিম মুহাম্মদ ইউসুফান

 

(১) [মৃত্যু: ৪৯৮ হিজরি]

(২) [মৃত্যু: ৫০৭ হিজরি]
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

1 - أَخْبَرَنا الشَّرِيفُ أَبُو العِزِّ مُحَمَّدُ بْنُ المُخْتارِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ الواحِدِ بنِ المُوَيَّدِ بِاللهِ بنِ المُتَوَكِّلِ عَلَى اللِّهِ، قِراءَةً عَلَيْهِ قالَ:

حدَّثنا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ الحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الحَسَنِ الجَوْهَرِيُّ إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ قالَ: أَخبَرَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ بنِ مالِكٍ القَطِيعِيُّ قالَ: أَخبَرَنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ حَنْبَلٍ قالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قالَ: حدَّثنا سُفْيانُ، عَنْ يَحْيَى بنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بنِ إِبْراهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بنِ وَقَّاصٍ قالَ:

سَمِعْتُ عُمَرَ رضي الله عنه يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّما الأَعْمالُ بِالنِّيَّةِ، وَلِكُلِّ امْرِيٍ ما نَوَى، فَمَنْ كانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ عز وجل فَهِجْرَتُهُ إِلَى ما هاجَرَ إِلَيْهِ، وَمَنْ كانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيا يُصِيبُها أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُها فَهِجْرَتُهُ إِلَى ما هاجَرَ إِلَيْهِ».

صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ يَحْيَى بنِ سَعِيدِ بنِ قَيْسِ بنِ سَعْدٍ الأَنْصارِيِّ المَدَنِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بنِ إِبْراهِيمَ بنِ الحارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي واقِدٍ عَلْقَمَةُ بْنُ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيِّ.

رَواهُ عَنْهُ العَدَدُ الكَثِيرُ والجَمُّ الغَفِيرُ مِنَ الأَيِمَّةِ المَذْكُورِينَ والحُفَّاظِ المُتْقِنِينَ، واتَّفَقَ الإِمامانِ جَمِيعًا أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْماعِيلَ البُخارِيُّ الجُعْفِيُّ وَأَبُو الحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الحَجَّاجِ عَلَى إِخْراجِهِ فِي كِتابَيْهِما.

فَأَمَّا البُخارِيُّ فَأَخْرَجَهُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ الزُّبَيْرِ بنِ عِيسَى -وَهُوَ أَبُو بَكْرٍ الحُمَيْدِيُّ المَكِّيُّ-، وَأَمَّا مُسْلِمٌ فَأَخْرَجَهُ عَنْ مُحَمَّدِ بنِ يَحْيَى بنِ أَبِي عُمَرَ العَدْنِيِّ، جَمِيعًا عَنْ سُفْيانَ بنِ عُيَيْنَةَ -وَهُوَ أَبُو مُحَمَّدٍ الهِلالِيُّ-، عَنْ يَحْيَى بنِ سَعِيدٍ.

وَلَهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ طُرُقٌ كَثِيرَةٌ.

 

2 - ‌‌ حَدَّثَنا العَدْلُ الرِّضا أَبُو إِسْحاقَ إِبْراهِيمُ بْنُ عُمَرَ بنِ أَحْمَدَ البَرْمَكِيُّ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

১ - শরীফ আবুল ইয মুহাম্মদ ইবনুল মুখতার বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-মুওয়াইয়িদ বিল্লাহ বিন আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠকালে তিনি বলেছেন:

শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-জাওহারী তাঁর নিজের মুখের উচ্চারণে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক আল-কাতিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

আমি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সকল আমল বা কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তা-ই পাবে। অতএব যার হিজরত আল্লাহর (আযযা ওয়া জাল্লা) দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহর দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে।»

এটি আবু সাঈদ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে কাইস ইবনে সাদ আল-আনসারী আল-মাদানী থেকে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস, যা তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল হারিস আত-তাইমী থেকে, তিনি আবু ওয়াকিদ আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে প্রচুর সংখ্যক এবং বহু বিদগ্ধ ইমাম ও বিজ্ঞ হাফেযগণ এটি বর্ণনা করেছেন। দুই ইমাম, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী আল-জু’ফী এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এটি তাঁদের কিতাবদ্বয়ে সংকলন করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

ইমাম বুখারী এটি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের ইবনে ঈসা—যিনি আবু বকর আল-হুমাইদী আল-মাক্কী—তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবু উমর আল-আদানী থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না—যিনি আবু মুহাম্মদ আল-হিলালী—তাঁর থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

সহীহাইনদ্বয়ে (বুখারী ও মুসলিমে) এর অনেকগুলো সনদ বা পথ রয়েছে।

 

২ - ‌‌ ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-বারমাকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ২)
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قالَ: أَخبَرَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ إِبْراهِيمَ بنِ أَيُّوبَ بنِ ماسِيٍّ قالَ: حدَّثنا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْراهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بنِ مُسْلِمٍ الكَجِّيُّ البَصْرِيُّ قالَ: حدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الأَنْصارِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبِي، عَنْ ثُمامَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه خَرَجَ بِالعَبَّاسِ مَعَهُ لِيَسْتَسْقِيَ بِهِ وَيَقُولَ: «اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا إِذا قُحِطْنا عَلَى عَهْدِ نَبِيِّنا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ تَوَسَّلْنا إِلَيْكَ بِنَبِيِّنا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، اللَّهُمَّ إِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّكَ صلى الله عليه وسلم».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ فِي كِتابِهِ نازِلًا عَنِ الحَسَنِ بنِ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرانِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ اللهِ الأَنْصارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، بِهَذا.

فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا إِسْحاقَ البَرْمَكِيَّ رضي الله عنه، سَمِعَهُ مِنَ البُخارِيِّ وَحَدَّثَنا بِهِ عَنْهُ، وَكانَتْ وَفاةُ البُخارِيِّ لَيْلَةَ الفِطْرِ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ.

 

3 - ‌‌ أَخْبَرَنا الزَّاهِدُ النَّاطِقُ بِالحِكْمَةِ أَبُو الحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الحَسَنِ القَزْوِينِيُّ -وَما رَأَيْتُ فِي مَعْناهُ- قالَ: حدَّثنا القاضِي أَبُو الحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ الحَسَنِ بنِ عَلِيِّ بنِ مُطَرِّفٍ الجِراحِيُّ إِمْلاءً سَنَةَ خَمْسٍ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ قالَ: حدَّثنا حامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ شُعَيْبٍ قالَ: حدَّثنا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ قالَ: حدَّثنا هُشَيْمٌ قالَ: أَخبَرَنا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بنِ زِيادٍ قالَ: رَأَيْتُ أَبا هُرَيْرَةَ أَتَى قَوْمًا يَتَوَضَّؤونَ فَقالَ لَهُمْ: أَسْبِغُوا الوُضُوءَ؛ فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبا القاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ يَقُولُ: «وَيْلٌ لِلأَعْقابِ مِنَ النَّارِ». أَوِ: «العَراقِيبِ».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ آدَمَ -وَهُوَ: ابْنُ أَبِي إِياسٍ أَبُو الحُسَيْنِ المَرْوَزِيُّ العَسْقَلانِيُّ، وَإِنَّما نَزَلَ عَسْقَلانَ فَنُسِبَ إِلَيْها، وَهُوَ مِنْ شُيُوخِهِ الكِبارِ- عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ.

وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ قُتَيْبَةَ بنِ سَعِيدِ بنِ جَمِيلِ بنِ طَرِيفٍ -وَهُوَ أَبُو رَجاءٍ- وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ عَبْدِ اللهِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ أَبِي شَيْبَةَ العَبْسِيِّ الكُوفِيِّ، وَعَنْ أَبِي كُرَيْبٍ مُحَمَّدِ بنِ العَلاءِ الهَمْدانِيِّ، ثَلاثَتُهُمْ -قُتَيْبَةُ وَأَبُو بَكْرٍ وَأَبُو كُرَيْبٍ- عَنْ وَكِيعِ بنِ الجَرَّاحِ
আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আইয়ুব ইবনে মাসি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম আল-কাজ্জি আল-বাসরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আমার পিতা, তিনি সুমামা থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে সাথে নিয়ে বের হতেন এবং বলতেন: «হে আল্লাহ, আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায় যখন আমরা অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতাম, তখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নবীর অসিলায় প্রার্থনা করতাম। হে আল্লাহ, এখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নবীর চাচার অসিলায় প্রার্থনা করছি»।

ইমাম বুখারি তাঁর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাফরানি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে—এই সনদে নিম্নতর (নাজিল) পর্যায়ে।

ফলে মনে হচ্ছে যেন আমাদের শায়খ আবু ইসহাক আল-বারমাকি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি সরাসরি ইমাম বুখারি থেকে শুনেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম বুখারির মৃত্যু হয়েছিল ২৫৬ হিজরির ঈদুল ফিতরের রাতে।

 

৩ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন প্রজ্ঞাবান ও দুনিয়াবিমুখ (জাহিদ) আবু হাসান আলি ইবনে ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-কাজভিনি—এবং আমি তাঁর সমতুল্য কাউকে দেখিনি—তিনি বলেন: আমাদের কাছে শ্রুতিলিপি (ইমলা) হিসেবে হাদিস বর্ণনা করেছেন কাজি আবু আল-হুসাইন আলি ইবনে হাসান ইবনে আলি ইবনে মুতাররিফ আল-জাররাহি ৩৭৫ হিজরি সালে। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হামিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শুআইব, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুরাইজ ইবনে ইউনুস, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হুশাইম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এক সম্প্রদায়ের কাছে আসতে দেখলাম যারা অজু করছিল। তিনি তাদের বললেন: "তোমরা পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করো; কারণ আমি আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আগুনের কারণে পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস (বা দুর্ভোগ)»।" অথবা তিনি বলেছিলেন: «পায়ের পেছনের রগগুলোর জন্য»।

ইমাম বুখারি এটি আদম থেকে বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন ইবনে আবু ইয়াস আবু আল-হুসাইন আল-মারওয়াজি আল-আসকালানি; তিনি আসকালানে বসবাস করেছিলেন বলে তাঁর নামের সাথে এটি যুক্ত হয়েছে, এবং তিনি ইমাম বুখারির বড় শায়খদের অন্তর্ভুক্ত—তিনি শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে।

আর ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ ইবনে জামিল ইবনে তারিফ থেকে—যিনি আবু রাজা নামে পরিচিত—এবং আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু শায়বাহ আল-আবসি আল-কুফি থেকে, এবং আবু কুরাইব মুহাম্মদ ইবনে আল-আলা আল-হামদানি থেকে; তাঁরা তিনজনই—কুতাইবা, আবু বকর এবং আবু কুরাইব—ওয়াকি ইবনুল জাররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ২)
بنِ مَلِيحِ بنِ فَرَسٍ الرُّواسِيِّ الكُوفِيِّ، عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بنِ زِيادٍ القُرَشِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، بِهَذا.

 

4 - ‌‌ حَدَّثَنا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ القَزْوِينِيُّ إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ قالَ: قُرِئَ عَلَى عُمَرَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الزَّيَّاتِ، وَأَنا أَسْمَعُ: حَدَّثَكُمْ عَلِيُّ بْنُ إِسْحاقَ بنِ زاطِيا قالَ: حدَّثنا الحَسَنُ بْنُ عِيسَى قالَ: أَخبَرَنا ابْنُ المُبارَكِ قالَ: أَخبَرَنا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نافِعٍ، عَنِ القاسِمِ بنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عائِشَةَ رضي الله عنها، أَنّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كانَ إِذا رَأَى المَطَرَ قالَ: «اللَّهُمَّ صَيِّبًا هَنِيًّا».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بنِ مُقاتِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ المُبارَكِ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بنِ عُمَرَ بنِ حَفْصِ بنِ عاصِمِ بنِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ -وَهُوَ أَبُو عُثْمانَ العَدَوِيُّ- عَنْ نافِعٍ مَوْلَى عَبْدِ اللهِ بنِ عُمَرَ، عَنِ القاسِمِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، عَنْ عَمَّتِهِ أُمِّ المُؤْمِنِينَ عايِشَةَ رضي الله عنهم بِذَلِكَ.

 

5 - ‌‌ حَدَّثَنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدٍ الجَوْهَرِيُّ إِمْلاءً قالَ: أَخبَرَنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ بنِ مالِكٍ قالَ: حدَّثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى بنِ صالِحٍ الأَسْدِيُّ قالَ: حدَّثنا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ قالَ: حدَّثنا عَوْفٌ، عَنْ خِلاسٍ، وَمُحَمَّدٌ -وَهُوَ ابْنُ سِيرِينَ- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَن ِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قالَ: «إِذا صامَ أَحَدُكُمْ يَوْمًا فَنَسِيَ فَأَكَلَ وَشَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ؛ فَإِنَّما أَطْعَمَهُ اللَّهُ عز وجل وَسَقاهُ».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ يُوسُفَ بنِ مُوسَى بنِ راشِدٍ القَطَّانِ الضَّبِّيِّ، عَنْ أَبِي أُسامَةَ حَمَّادِ بنِ أُسامَةَ الكُوفِيِّ، عَنْ عَوْفٍ -وَهُوَ ابْنُ أَبِي جَمِيلَةَ الأَعْرابِيُّ- عَنْ خِلاسٍ، وَمُحَمَّدِ بنِ سِيرِينَ جَمِيعًا، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا مُحَمَّدٍ الجَوْهَرِيَّ سَمِعَهُ مِنَ البُخارِيِّ وَحَدَّثَنا بِهِ عَنْهُ.

 

6 - ‌‌ أَخْبَرَنا أَبُو طالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بنِ الفَتْحِ - وَكانَ ثِقَةً صَدُوقًا- قالَ: أَخبَرَنا يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ بنِ مَسْرُورٍ القَوَّاسُ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ العَزِيزِ
ইবনে মালিহ ইবনে ফারাস আর-রুওয়াসি আল-কুফি, শু'বাহ ইবনে হাজ্জাজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আল-কুরাশি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, এই সূত্রে।

 

৪ - ‌‌ আলী ইবনে উমর আল-কাযউইনি আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আয-যাইয়াতের নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তখন শুনছিলাম: আপনাদের কাছে আলী ইবনে ইসহাক ইবনে যাতিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাসান ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাফি' থেকে, তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বৃষ্টি দেখতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ, একে কল্যাণময় ও সুস্বাদু (বৃষ্টি) করুন»।

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে হাফস ইবনে আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব—যিনি আবু উসমান আল-আদাউই—থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের মুক্তদাসী নাফি' থেকে, তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে, তিনি তাঁর ফুফু উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহুম) থেকে এই সূত্রে।

 

৫ - ‌‌ হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারী আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: বিশর ইবনে মুসা ইবনে সালিহ আল-আসাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাওযাহ ইবনে খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আউফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খিলাস ও মুহাম্মদ—যিনি ইবনে সিরিন—থেকে, তাঁরা আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন কোন দিন রোজা রাখে এবং ভুলবশত পানাহার করে ফেলে, তবে সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে; কারণ আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীই তাকে আহার করিয়েছেন এবং পান করিয়েছেন»।

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে মুসা ইবনে রাশিদ আল-কাত্তান আদ-দাব্বি থেকে, তিনি আবু উসামা হাম্মাদ ইবনে উসামা আল-কুফি থেকে, তিনি আউফ—যিনি ইবনে আবু জামিলা আল-আ'রাবি—থেকে, তিনি খিলাস ও মুহাম্মদ ইবনে সিরিন—উভয় থেকে, তাঁরা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

অতএব মনে হচ্ছে আমাদের শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারী এটি বুখারী থেকে শুনেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

৬ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল ফাতহ—যিনি নির্ভরযোগ্য ও অত্যন্ত সত্যবাদী ছিলেন—তিনি বলেছেন: ইউসুফ ইবনে উমর ইবনে মাসরুর আল-কাওয়াস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৩)
البَغَوِيُّ قالَ: أَخبرَنا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ.

ثُمَّ أَخْبَرَنا أَبُو طالِبٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عُبَيْدِ اللهِ المُوَدِّبُ قالَ: حدَّثنا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بنِ شاهِينَ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ البَغَوِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ قالَ: حدَّثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ: {يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ العالَمِينَ} [المطففين:6] قالَ: «يَقُومُونَ حَتَّى يَبْلُغَ الرَّشْحُ أَطْرافَ آذانِهِمْ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِم عَنْ أَبِي نَصْرٍ التَّمَّارِ -واسْمُهُ عَبْدُ المَلِكِ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ النَّسائِيُّ- عَنْ حَمَّادِ بنِ سَلَمَةَ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ -وَهُوَ السِّخْتِيانِيُّ- عَنْ نافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ بِهَذا.

 

7 - ‌‌ أَخْبَرَنا إِبْراهِيمُ بْنُ عُمَرَ بنِ أَحْمَدَ البَرْمَكِيُّ الفَقِيهُ قالَ: أَخبَرَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ إِبْراهِيمَ بنِ أَيُّوبَ بنِ ماسِيٍّ قالَ: حدَّثنا إِبْراهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بنِ مُسْلِمٍ الكَجِّيُّ قالَ: حدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الأَنْصارِيُّ قالَ: حدَّثنا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّ الرُّبَيِّعَ بِنْتَ النَّضْرِ عَمَّتَهُ لَطَمَتْ جارِيَةً فَكَسَرَتْ سِنَّها، فَعَرَضُوا عَلَيْهِمُ الأَرْشَ فَأَبَوْا، فَطَلَبُوا العَفْوَ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَأَمَرَهُمْ بِالقِصاصِ، فَجاءَ أَخُوها أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ فَقالَ: يا رَسُولَ اللهِ أَتَكْسَرُ سِنَّ الرُّبَيِّعِ؟ والَّذِي بَعَثَكَ بِالحَقِّ لا تُكْسَرُ سِنَّها. قالَ: «يا أَنَسُ كِتابُ اللهِ القِصاصُ». فَعَفَى القَوْمُ. فَقالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «إِنَّ مِنْ عِبادِ اللهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ عز وجل لأَبَرَّهُ».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ اللهِ الأَنْصارِيِّ، عَنْ حُمَيْدٍ -وَهُوَ ابْنُ أَبِي حُمَيْدٍ، واسْمُ أَبِي حُمَيْدٍ هِلالٌ- عَنْ أَنَسِ بنِ مالِكٍ -وَهُوَ أَبُو حَمْزَةَ النَّجَّارِيُّ- بِهَذا وَوَقَعَ إِلَيْنا مُوافَقَةً.

 

8 - ‌‌ حَدَّثَنا الحَبْرُ الإِمامُ أَبُو يَعْلَى مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الفَرَّا إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ فِي الجامِعِ -وَكانَ الجَمْعُ كَثِيرًا جِدًّا- قالَ: أَخبرنا عِيسَى بْنُ عَلِيِّ
বাগাভী বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আত-তাম্মার।

অতঃপর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব উমর বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-মুয়াদ্দিব। তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উমর বিন আহমদ বিন শাহীন। তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাভী। তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু নাসর আত-তাম্মার। তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {যেদিন সকল মানুষ জগতসমূহের রবের সামনে দাঁড়াবে} [আল-মুতাফফিফিন: ৬]। তিনি বললেন: «তারা ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে যতক্ষণ না ঘাম তাদের কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে»।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু নাসর আত-তাম্মার থেকে —তার নাম আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ আন-নাসাঈ— তিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ আবু সালামাহ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে —যিনি আস-সাখতিয়ানী— তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এর সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন।

 

7 - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন উমর বিন আহমদ আল-বারমাকী আল-ফকিহ। তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইবরাহীম বিন আইয়ুব বিন মাসী। তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম আল-কাজ্জী। তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী। তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হুমাইদ আনাস থেকে যে, তার ফুফু রুবাইয়ি বিনতে আন-নাদর এক দাসীকে চড় মারেন এবং তার একটি দাঁত ভেঙে ফেলেন। অতঃপর তারা তাদের কাছে জরিমানার প্রস্তাব দিল কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। তারপর তারা ক্ষমার প্রার্থনা করল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলো। তিনি তাদের কিসাস বা প্রতিশোধের নির্দেশ দিলেন। তখন তার ভাই আনাস বিন আন-নাদর এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! রুবাইয়ির কি দাঁত ভেঙে ফেলা হবে? সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তার দাঁত ভাঙা হবে না। তিনি বললেন: «হে আনাস, আল্লাহর বিধান হলো কিসাস»। তখন তারা (প্রতিপক্ষ) ক্ষমা করে দিল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা যদি আল্লাহর নামে শপথ করে বসে, তবে তিনি তা পূর্ণ করে দেন»।

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে —যিনি ইবনে আবু হুমাইদ এবং আবু হুমাইদের নাম হিলাল— তিনি আনাস বিন মালিক থেকে —যিনি আবু হামজা আন-নাজ্জারী— এর সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন এবং এটি আমাদের কাছে মুয়াফাকাত হিসেবে পৌঁছেছে।

 

8 - ‌‌ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন প্রাজ্ঞ ইমাম আবু ইয়ালা মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাররা জামে মসজিদে তার নিজ মুখস্থ বলা থেকে —আর তখন অনেক বড় সমাবেশ ছিল— তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা বিন আলী...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৩)
ابنِ عِيسَى بنِ داوُدَ بنِ الجَرَّاحِ الوَزِيرُ قالَ: أَخْبَرنا أَبُو القاسِمِ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ العَزِيزِ البَغَوِيُّ قالَ: حدَّثنا هُدْبَةُ بْنُ خالِدٍ قالَ: حدَّثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثابِتٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ صُهَيْبٍ، قالَ: قَرَأَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الحُسْنَى وَزِيادَةٌ} [يونس:26] قالَ: «إِذا دَخَلَ أَهْلُ الجَنَّةِ الجَنَّةَ وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ نادَى مُنادٍ: إِنَّ لَكُمْ عِنْدَ اللهِ عز وجل مَوْعِدًا يُرِيدُ أَنْ يُنْجِزَكُمُوهُ. فَيَقُولُونَ: ما هُوَ؟ أَلَمْ يُثَقِّلْ مَوازِينَنا وَيُبَيِّضْ وُجُوهَنا وَيُدْخِلْنا الجَنَّةَ وَيُجِرْنا مِنَ النَّارِ؟ فَيَكْشِفُ لَهُمْ عَنِ الحِجابِ، فَيَنْظُرُونَ إِلَى اللهِ عز وجل، فَما شَيْءٌ أُعْطُوهُ هُوَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَيْهِ، وَهِيَ الزِّيادَةُ».

انْفَرَدَ مُسْلِمٌ بِإِخْراجِهِ، فَرَواهُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ يَزِيدَ بنِ هارُونَ -وَهُوَ أَبُو خالِدٍ الواسِطِيُّ- عَنْ حَمَّادِ بنِ سَلَمَةَ بنِ دِينارٍ -وَهُوَ أَبُو سَلَمَةَ البَصْرِيُّ- عَنْ ثابِتٍ -وَهُوَ ابْنُ أَسْلَمَ أَبُو مُحَمَّدٍ البُنانِيُّ بَصْرِيٌّ- عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ أَبِي لَيْلَى -اسْمُ أَبِي لَيْلَى يَسارٌ- عَنْ صُهَيْبٍ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ.

فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا يَعْلَى ابْنَ الفَرَّا سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمِ بنِ الحَجَّاجِ، وثنا بِهِ عَنْهُ، وَكانَتْ وَفاةُ مُسْلِمٍ فِي سَنَةِ إِحْدَى وَسِتِّينَ وَمِائَتَيْنِ رضي الله عنه

 

9 - ‌‌ حَدَّثَنا الحاكِمُ أَبُو الحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدِ بنِ عُبَيْدِ اللهِ بنِ عَبْدِ الصَّمَدِ بنِ المُهْتَدِي بِاللهِ مِنْ لَفْظِهِ -وَكانَ يُقالُ لَهُ: راهِبُ بَنِي العَبَّاسِ، وَما رَأَيْتُ فِي مَعْناهُ- قالَ: حدَّثنا عُمَرُ بْنُ إِبْراهِيمَ بنِ أَحْمَدَ الكِنانِيُّ إِمْلاءً قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ البَغَوِيُّ قالَ: حدَّثنا عَلِيُّ بْنُ الجَعْدِ قالَ: أَخبَرَنا شُعْبَةُ قالَ: أَخْبَرَني الوَلَيدُ بْنُ العَيْزارِ بنِ حُرَيْثٍ قالَ: سَمِعْتُ أَبا عَمْرٍو الشَّيْبانِيَّ قالَ: حَدَّثَنِي صاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ -وَأَشارَ بِيَدِهِ إِلَى دارِ عَبْدِ اللهِ بنِ مَسْعُودٍ-
ইবনে ঈসা ইবনে দাউদ ইবনে আল-জাররাহ আল-উজির বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুদবাহ ইবনে খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, সাবিত থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সুহাইব থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করলেন: {যারা কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও বেশি} [ইউনুস: ২৬]। তিনি বলেন: «যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা তিনি তোমাদের জন্য পূর্ণ করতে চান। তারা বলবে: সেটা কী? তিনি কি আমাদের নেকির পাল্লা ভারী করে দেননি, আমাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করে দেননি, আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? অতঃপর তিনি তাদের জন্য পর্দা সরিয়ে দেবেন এবং তারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দিকে তাকাবে। তাদের যা কিছু দান করা হয়েছে তার মধ্যে তাঁর দিকে তাকানোর চেয়ে প্রিয়তর আর কিছুই তাদের নিকট হবে না; আর এটাই হলো 'জিয়াদা' বা অতিরিক্ত।»

মুসলিম এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে—যিনি আবু খালিদ আল-ওয়াসিতি—তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে দিনার থেকে—যিনি আবু সালামাহ আল-বসরি—তিনি সাবিত থেকে—যিনি ইবনে আসলাম আবু মুহাম্মদ আল-বুনানি আল-বসরি—তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে—আবু লায়লার নাম হলো ইয়াসার—তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সুহাইব থেকে।

সুতরাং মনে হচ্ছে আমাদের শাইখ আবু ইয়ালা ইবনে আল-ফাররা এটি মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ থেকে শুনেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। আর মুসলিমের মৃত্যু হয়েছিল দুইশত একষট্টি হিজরিতে, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

 

৯ - ‌‌ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকিম আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল সামাদ ইবনে আল-মুহতাদি বিল্লাহ তাঁর নিজ শব্দে—যাকে 'রাহিব বনি আব্বাস' বলা হতো এবং আমি তাঁর সমতুল্য কাউকে দেখিনি—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আহমদ আল-কিনানি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আল-জাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে আল-আইজার ইবনে হুরাইস, তিনি বলেন: আমি আবু আমর আল-শাইবানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে এই ঘরের অধিবাসী বর্ণনা করেছেন—এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ঘরের দিকে ইঙ্গিত করলেন—
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৪)
قالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: أَيُّ الأَعْمالِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ عز وجل؟ قالَ: «الصَّلاةُ لِوَقْتِها». قُلْتُ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قالَ: «بِرُّ الوالِدَيْنِ». قُلْتُ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قالَ: «ثُمَّ الجِهادُ فِي سَبِيلِ اللهِ عز وجل». قالَ: فَحَدَّثْتُهُ بِهَذا وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزادَنِي.

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ أَبِي الوَلِيدِ هِشامِ بنِ عَبْدِ المَلِكِ الطَّيالِسِيِّ البَصْرِيِّ، وَعَنْ سُلَيْمانَ بنِ حَرْبٍ جَمِيعًا، عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ.

وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بنِ مُعاذِ بنِ مُعاذٍ العَنْبَرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ شُعْبَةَ.

وَعَنْ بُنْدارٍ مُحَمَّدِ بنِ بَشَّارِ بنِ كَثِيرٍ العَبْدِيِّ الإِمامِ، عَنْ مُحَمَّدِ بنِ جَعْفَرٍ -غُنْدَرٌ بَصْرِيٌّ- عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ بنِ الوَرْدِ أَبِي بَسْطامٍ العَتَكِيِّ، عَنِ الوَلِيدِ بنِ العَيْزارِ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبانِيِّ -واسْمُهُ سَعْدُ بْنُ إِياسٍ- عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ مَسْعُودٍ -وَهُوَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الهُذَلِيُّ- بِهَذا.

فَكَأَنَّ شَيْخَنا القاضِي أَبا الحُسَيْنِ ابْنَ المُهْتَدِي سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمِ بنِ الحَجَّاجِ، وَحَدَّثَنا بِهِ عَنْهُ رضي الله عنهما

 

10 - ‌‌ أَخْبَرَنا الواعِظُ أَبُو عَلِيٍّ الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ المُذْهِبِ قالَ: أَخْبَرنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ بنِ مالِكٍ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ حَنْبَلٍ قالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قالَ: حدَّثنا هُشَيْمُ بنُ بَشِيْرٍ قالَ: أَخبَرَنا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «يَمِينُكَ عَلَى ما يُصَدِّقُكَ بِهِ صاحِبُكَ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ يَحْيَى بنِ يَحْيَى، وَعَنْ عَمْرِو بنِ مُحَمَّدٍ النَّاقِدِ، جَمِيعًا عَنْ هُشَيْمِ بنِ بَشِيرٍ -وَهُوَ أَبُو مُعاوِيَةَ الواسِطِيُّ، وَكانَ هُشَيْمٌ يُسْئَلُ عَنْ هَذا الحَدِيثِ- عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ -وَهُوَ أَبُو صالِحٍ السَّمَّانُ، وَيُقالُ: الزَّيَّاتُ، واسْمُهُ ذَكْوانُ- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، بِهَذا.

 

11 - ‌‌ أَخْبَرَنا الشَّيْخُ الثِّقَةُ الصَّدُوقُ أَبُو القاسِمِ عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَلِيٍّ الخَيَّاطُ الأَزَجِّيُّ قالَ: أَخبَرَنا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عَلِيٍّ الزَّيَّاتُ قالَ: أَخْبَرنا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ
তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম: মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বললেন: «সালাত তার সঠিক সময়ে আদায় করা»। আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: «পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করা»। আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: «অতঃপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা»। তিনি বলেন: তিনি আমাকে এই কথাগুলো বর্ণনা করেছেন, আর আমি যদি তাঁর কাছে আরও জানতে চাইতাম, তবে তিনি আমাকে আরও বলতেন।

এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ালিদ হিশাম বিন আব্দুল মালিক আত-তায়ালিসি আল-বাসরি এবং সুলাইমান বিন হারব উভয়ের মাধ্যমে শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজ থেকে।

আর মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন মুয়ায বিন মুয়ায আল-আম্বারি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে।

এবং ইমাম বুন্দার মুহাম্মদ বিন বাশশার বিন কাসীর আল-আবদি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর -যিনি গুন্দার বাসরি নামে পরিচিত- থেকে, তিনি শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজ বিন আল-ওয়ারদ আবু বাসতাম আল-আতাকি থেকে, তিনি ওয়ালিদ বিন আল-আইজার থেকে, তিনি আবু আমর আশ-শায়বানি -যার নাম সাদ বিন ইয়াস- থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ -যিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুযালি- থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

যেন আমাদের শাইখ কাজি আবু আল-হুসাইন ইবনুল মুহতাদি এটি মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ থেকে শুনেছেন এবং তিনি আমাদের নিকট তাঁর পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

 

১০ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াইয আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মুযহিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম বিন বাশির, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আবি সালিহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমার শপথ হবে সেই বিষয়ের ওপর, যার ওপর তোমার সাথী তোমাকে সত্যবাদী বলে গণ্য করে»।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া এবং আমর বিন মুহাম্মদ আন-নাকিদ উভয়ের মাধ্যমে হুশাইম বিন বাশির থেকে -যিনি আবু মুয়াবিয়া আল-ওয়াসিতি, আর হুশাইমকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো-, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে -যিনি আবু সালিহ আস-সাম্মান, আবার তাঁকে আয-যাইয়াতও বলা হয় এবং তাঁর নাম যাকওয়ান-, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

 

১১ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী শাইখ আবু আল-কাসিম আব্দুল আজিজ বিন আলী আল-খাইয়াত আল-আযজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আলী আয-যাইয়াত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মদ
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৪)
ابنِ الحَسَنِ بنِ المُسْتَفاضِ الفِرْيابِيُّ قالَ: حدَّثنا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ قالَ: حدَّثنا أَبُو مُعاوِيَةَ مُحَمَّدُ بْنُ خازِمٍ قالَ: حدَّثنا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَوْ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ -شَكَّ الأَعْمَشُ- قالَ: لَمَّا كانَتْ غَزْوَةُ تَبُوكَ أَصابَ النَّاسَ مَجاعَةٌ، قالُوا: يا رَسُولَ اللهِ لَوْ أَذِنْتَ لَنا فَنَحَرْنا نَواضِحَنا فَأَكَلْنا وادَّهَنَّا. فَقالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «افْعَلُوا». فَجاءَ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ رضي الله عنه، فَقالَ: يا رَسُولَ اللهِ إِنْ فَعَلُوا قَلَّ الظَّهْرُ، وَلَكِنِ ادْعُهُمْ بِفَضْلِ أَزْوادِهِمْ، ثُمَّ ادْعُ لَهُمْ عَلَيْها بِالبَرَكَةِ، فَلَعَلَّ اللَّهَ عز وجل أَنْ يَجْعَلَ فِي ذَلِكَ -قالَ عَمْرٌو: قالَ: وَحَسِبْتُ قالَ: خَيْرًا - قالَ: فَدَعا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِنِطْعٍ فَبَسَطَهُ ثُمَّ دَعاهُمْ بِفَضْلِ أَزْوادِهِمْ، قالَ: فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ بِالكَفِّ الذُّرَةِ، والآخَرُ بِكَفِّ التَّمْرِ، والآخَرُ بِالكِسْرَةِ، حَتَّى اجْتَمَعَ عَلَى النِّطْعِ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ، ثُمَّ دَعا عَلَيْهِ بِالبَرَكَةِ. قالَ: ثُمَّ قالَ: «خُذُوا فِي أَوْعِيَتِكُمْ». قالَ: فَأَخَذُوا فِي أَوْعِيَتِهِمْ حَتَّى ما تَرَكُوا فِي العَسْكَرِ وِعاءً إِلا مَلَئُوهُ. قالَ: وَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، وَفَضَلَ مِنْهُ فَضْلَةٌ. فَقالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ، لا يَلْقَى بِها عَبْدٌ غَيْرَ شاكٍّ فَيُحْجَبَ عَنِ الجَنَّةِ».

قالَ عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ: حَدَّثَ أَبُو مُعاوِيَةَ هَذا الحَدِيثَ هاهُنا بِبَغْدادَ، وَلَمْ يُحَدِّثْ بِهِ بِالكُوفَةِ.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ مُحَمَّدِ بنِ العَلاءِ الهَمْدانِيِّ، عَنْ أَبِي مُعاوِيَةَ مُحَمَّدِ بنِ خازِمٍ، عَنِ الأَعْمَشِ -وَهُوَ سُلَيْمانُ بْنُ مِهْرانَ أَبُو مُحَمَّدٍ الكاهِلِيُّ- عَنْ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَوْ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، بِالشَّكِّ عَنْهُما.

 

12 - ‌‌ أَخْبَرَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بنِ الفَتْحِ الحَرْبِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بنِ مُحَمَّدٍ العَلافُ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ العَزِيزِ قالَ: حدَّثنا
ইবনুল হাসান বিন আল-মুসতাফাদ আল-ফিরইয়াবি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন মুহাম্মদ আন-নাকিদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া মুহাম্মদ বিন খাযিম, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ অথবা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে—আমাশ এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন—বর্ণনা করেন: যখন তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হলো, তখন লোকেরা চরম দুর্ভিক্ষের শিকার হলো। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের অনুমতি দিতেন তবে আমরা আমাদের পানি বহনকারী উটগুলো জবেহ করতাম, অতঃপর তা থেকে ভক্ষণ করতাম এবং চর্বি মেখে নিতাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: "তোমরা তা করো।" অতঃপর উমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা যদি এমনটা করে তবে সওয়ারি পশুর সংখ্যা কমে যাবে। বরং আপনি তাদের ডেকে বলুন যেন তারা তাদের উদ্বৃত্ত পাথেয়গুলো নিয়ে আসে, তারপর আপনি সেগুলোর ওপর বরকতের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। সম্ভবত পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ এতে—আমর বলেন, তিনি বলেছেন: এবং আমি মনে করি তিনি বলেছেন—কল্যাণ দান করবেন। তিনি বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চামড়ার দস্তরখান আনালেন এবং তা বিছিয়ে দিলেন। অতঃপর তাদের অবশিষ্ট পাথেয়গুলো নিয়ে আসতে বললেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন কোনো লোক এক মুষ্টি ভুট্টা, কেউ এক মুষ্টি খেজুর, আবার কেউ এক টুকরো রুটি নিয়ে আসতে শুরু করলেন, এমনকি চামড়ার দস্তরখানটির ওপর সামান্য কিছু খাবার একত্রিত হলো। অতঃপর তিনি সেগুলোর ওপর বরকতের জন্য দোয়া করলেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি বললেন: "তোমরা তোমাদের পাত্রগুলোতে খাবার তুলে নাও।" তিনি বলেন: অতঃপর তারা তাদের পাত্রগুলোতে খাবার নিতে থাকলেন, এমনকি তারা সৈন্যবাহিনীর প্রতিটি পাত্রই পূর্ণ করলেন। তিনি বলেন: তারা তৃপ্তি সহকারে খেলেন এবং এর পরেও কিছু অংশ উদ্বৃত্ত থেকে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল। যে কোনো বান্দা কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে এই সাক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তাকে জান্নাত থেকে বাধা দেওয়া হবে না।"

আমর বিন মুহাম্মদ বলেন: আবু মুয়াবিয়া এই হাদিসটি এখানে বাগদাদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি কুফায় এটি বর্ণনা করেননি।

এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-হামদানি থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া মুহাম্মদ বিন খাযিম থেকে, তিনি আল-আমাশ—যিনি সুলাইমান বিন মিহরান আবু মুহাম্মদ আল-কাহিলি—থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ অথবা আবু হুরায়রা থেকে—বর্ণনাকারীদের একজনের ক্ষেত্রে সন্দেহসহ।

 

১২ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ আল-হারবি, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-আল্লাফ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৫)
عَلِيُّ بْنُ الجَعْدِ قالَ: أَخبَرَنا شُعْبَةُ وَشَيْبانُ، عَنْ قَتادَةَ قالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بنَ مالكٍ قالَ: «صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمانَ رضي الله عنهم، فَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا مِنْهُمْ يَجْهَرُ بـ {بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي مُوسَى مُحَمَّدِ بنِ المُثَنَّى وَبِنْدارٌ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنْ غُنْدَرٍ -وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ- عَنْ شُعْبَةَ.

وَأَخْرَجَهُ أَيْضًا عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِي داوُدَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتادَةَ يُحَدِّثُ(1) عَنْ أَنَسٍ.

فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا طالِبٍ العَشَّارِيَّ سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمٍ وَحَدَّثَنا بِهِ عَنْهُ.

وَأَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ حَفْصِ بنِ عُمَرَ النُّمَيْرِيِّ الحَوْضِيِّ -هَوُ أَبُو عُمَرَ البَصْرِيُّ- عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ بِهَذا.

 

13 - ‌‌ حَدَّثَنا الإِمامُ أَبُو يَعْلَى مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ بنِ الفَرَّا مِنْ لَفْظِهِ قالَ: أَخبَرَنا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الحَسَنِ الحَرْبِيُّ السَّكُونِيُّ سَنَةَ سِتٍّ وَثَمانِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ الحَسَنِ بنِ عَبْدِ الجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «مَثَلُ المُوْمِنِ مَثَلُ الزَّرْعِ لا يَزالُ الرِّيحُ تُمِيلُهُ وَلا يَزالُ المُوْمِنُ يُصِيبُهُ بَلاءٌ، وَمَثَلُ المُنافِقِ كَمَثَلِ شَجَرَةِ الأَرْزِ لا تَهْتَزُّ حَتَّى تَسْتَحْصِدَ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي بَكْرٍ عَبْدِ اللهِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى بنِ عَبْدِ الأَعْلَى السَّامِيِّ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ -وَهُوَ ابْنُ المُسَيَّبِ- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذا.

وَوَقَعَ إِلَيْنا مُوافَقَةً.

 

14 - ‌‌ أَخْبَرَنا أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بنِ أَبِي مُوسَى الهاشِمِيُّ قالَ: حدَّثنا قاضِي القُضاةِ أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بنِ مَعْرُوفٍ قالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي مُحَمَّدٍ يَحْيَى بنِ مُحَمَّدِ بنِ صاعِدٍ -وَأَنا أَسْمَعُ- حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ زُنْبُورٍ المَكِّيُّ قالَ: حدَّثنا إِسْماعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ قالَ: حدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ فاطِمَةَ

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (وحده)، والتصحيح من صحيح مسلم.
আলী ইবনুল জাদ বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু’বাহ ও শায়বান, তাঁরা কাতাদাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি, কিন্তু তাঁদের কাউকে উচ্চস্বরে {বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম} পাঠ করতে শুনিনি»।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও বুন্দার মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে, তাঁরা গুন্দার—যিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর—থেকে, তিনি শু’বাহ থেকে।

এবং তিনি এটি আরও বর্ণনা করেছেন আবু মুসা থেকে, তিনি আবু দাউদ থেকে, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, যিনি বর্ণনা করেছেন(১) আনাস থেকে।

ফলে মনে হচ্ছে যেন আমাদের শায়খ আবু তালিব আল-আশারি এটি মুসলিমের থেকে শুনেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন।

এবং বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনে উমর আন-নুমাইরি আল-হাওযি—যিনি আবু উমর আল-বাসরি—থেকে, তিনি শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে এই সূত্রে।

 

১৩ - ‌‌ আমাদের কাছে ইমাম আবু ইয়ালা মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফাররা তাঁর নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-হারবি আস-সাকুনি তিনশত ছিয়াশি হিজরি সনে, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল আলা, মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মুমিনের উদাহরণ হলো শস্যক্ষেত্রের মতো, বাতাস সর্বদা তাকে দুলিয়ে দেয় এবং মুমিন সর্বদা বিপদে পতিত হয়। আর মুনাফিকের উদাহরণ হলো এরজ (সিডার) গাছের মতো, যা কাটা পড়ার আগ পর্যন্ত নড়ে না»।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শাইবাহ থেকে, তিনি আব্দুল আলা ইবনে আব্দুল আলা আস-সামি থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ—যিনি ইবনুল মুসায়্যিব—থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই সূত্রে।

এবং এটি আমাদের নিকট উচ্চ সনদে (মুওয়াফাকাত) পৌঁছেছে।

 

১৪ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি মুসা আল-হাশিমী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাযিল কুযাত আবু মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মারুফ, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ-এর সামনে পাঠ করা হয়েছে—আর আমি তা শুনছিলাম—তিনি আপনাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জুনবুর আল-মাক্কি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে জাফর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর, আবু সালামাহ থেকে, তিনি ফাতিমা থেকে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ওয়াহদাহু), আর সংশোধনটি সহিহ মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৫)
بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّها كانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ فَطَلَّقَها البَتَّةَ، فَأَرْسَلَتْ إِلَى أَهْلِهِ تَبْتَغِي النَّفَقَةَ فَقالُوا: لَيْسَتْ عَلَيْنا نَفَقَةٌ. فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَقالَ: «لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِمْ نَفَقَةٌ وَعَلَيْكِ العِدَّةُ، فانْتَقِلِي إِلَى أُمِّ شَرِيكٍ». ثُمَّ قالَ: «أُمُّ شَرِيكٍ يَدْخُلُ عَلَيْها إِخْوَتُها مِنَ المُهاجِرِينَ الأَوَّلِينَ، فانْتَقِلِي إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ؛ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى وَإِنْ وَضَعْتِ ثِيابَكِ لَمْ يَرَ شَيْئًا».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ يَحْيَى بنِ أَيُّوبَ -وَهُوَ أَبُو زَكَرِيَّا العابِدُ المُقابِرِيُّ- عَنْ إِسْماعِيلَ بنِ جَعْفَرِ بنِ أَبِي كَثِيرٍ المَدَنِيِّ الأَنْصارِيِّ الدَّرَقِيِّ مُؤَدِّبِ مَنْصُورِ بنِ المَهْدِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَبْدِ اللهِ بنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ عَوْفٍ، عَنْ فاطِمَةَ بِهَذا.

 

15 - ‌‌ حَدَّثَنا الإِمامُ أَبُو يَعْلَى مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ بنِ الفَرَّا قالَ: أَخبَرَنا أَبُو القاسِمِ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ إِسْحاقَ بنِ حَبَابَةَ قالَ: حدَّثنا أَبُو القاسِمِ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ العَزِيزِ البَغَوِيُّ قالَ: حدَّثنا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ العَيْشِيُّ قالَ: حدَّثنا سُفْيانُ -يَعْنِي ابْنَ عُيَيْنَةَ- عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ قالَ: حدَّثنا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل إِذا قَضَى الأَمْرَ مِنَ السَّماءِ ضَرَبَتِ المَلايِكَةُ أَجْنِحَتَها خُضْعانًا لِقَوْلِهِ كَصَوْتِ السِّلْسِلَةِ عَلَى الصَّفْوانِ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ عز وجل: {حَتَّى إِذا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قالُوا ماذا قالَ رَبُّكُمْ قالُوا الحَقَّ وَهُوَ العَلِيُّ الكَبِيرُ} [سبأ:23]. قالَ: وَمُسْتَرِقُ السَّمْعِ رُبَّما أَدْرَكَهُ الشِّهابُ قَبْلَ أَنْ يَرْمِيَ إِلَى صاحِبِهِ
বিনতে কায়স থেকে বর্ণিত যে, তিনি বনু মাখজুম গোত্রের এক ব্যক্তির বিবাহাধীনে ছিলেন। সে তাকে চূড়ান্তভাবে তালাক প্রদান করল। অতঃপর তিনি তার পরিবারের নিকট ভরণপোষণের দাবি জানিয়ে লোক পাঠালেন, কিন্তু তারা বলল: তোমার ভরণপোষণের কোনো দায়িত্ব আমাদের ওপর নেই। এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: «তাদের ওপর তোমার ভরণপোষণের কোনো অধিকার নেই, তবে তোমার ওপর ইদ্দত পালন করা আবশ্যক। সুতরাং তুমি উম্মু শারীকের নিকট চলে যাও।» অতঃপর তিনি বললেন: «উম্মু শারীকের নিকট প্রথম যুগের মুহাজিরগণ যাতায়াত করে থাকেন, তাই তুমি বরং ইবনে উম্মু মাকতূমের নিকট চলে যাও; কারণ সে একজন অন্ধ ব্যক্তি, তুমি তোমার পোশাক সরালেও সে কিছু দেখতে পাবে না।»

এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব থেকে—যিনি আবু যাকারিয়া আল-আবিদ আল-মুকাবিরী—তিনি ইসমাঈল বিন জাফর বিন আবি কাসীর আল-মাদানী আল-আনসারী আদ-দারাকী থেকে, যিনি মনসুর বিন আল-মাহদীর শিক্ষক ছিলেন, তিনি মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি আবু সালামা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে এবং তিনি ফাতিমা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

১৫ - ‌‌ আমাদের নিকট ইমাম আবু ইয়া’লা মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফাররা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে হাবাবাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আইশী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান —অর্থাৎ ইবনে উয়াইনাহ— তিনি আমর থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যখন আসমানে কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতারা তাঁর বাণীর প্রতি অনুগত হয়ে নিজেদের ডানাগুলো ঝাপটাতে থাকে, যা মসৃণ পাথরের ওপর শিকল চলার শব্দের মতো মনে হয়। আর এটিই মহান আল্লাহর সেই বাণী: {অবশেষে যখন তাদের অন্তর থেকে ভয়ভীতি দূর করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের পালনকর্তা কী বললেন? তারা বলে, তিনি সত্য বলেছেন এবং তিনি সমুন্নত, মহান} [সাবা: ২৩]। তিনি বলেন: আর আড়ি পেতে শ্রবণকারী অনেক সময় তার সঙ্গীর নিকট সংবাদ পৌঁছানোর আগেই উল্কাপিণ্ডের কবলে পড়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৬)
بِها، وَرُبَّما لَمْ يُدْرِكْهُ الشِّهابُ حَتَّى يَرْمِيَ بِها إِلَى صاحِبِهِ، فَيَرْمِي بِها هَذا إِلَى هَذا، وَهَذا إِلَى هَذا، حَتَّى تُلْقَى عَلَى فَمِ ساحِرٍ أَوْ كاهِنٍ فَيَكْذِبَ مَعَها مِايَةَ كِذْبَةٍ قالَ: فَنُصَدِّقُ وَنَقُولُ: أَلَمْ يُخْبِرْ يَوْمَ كَذا وَكَذا وَيَوْمَ كَذا وَكَذا؟ فَوَجَدْناهُ حَقًّا وَهِيَ الكَلِمَةُ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّماءِ».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنِ الإِمامِ أَبِي الحُسَيْنِ عَلِيِّ بنِ عَبْدِ اللهِ بنِ جَعْفَرٍ المَدِينِيِّ وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ الزُّبَيْرِ -وَهُوَ الحُمَيْدِيُّ- جَمِيعًا عَنْ سُفْيانَ بنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، وَهُوَ ابْنُ دِينارٍ-عَمْرُو بْنُ دِينارٍ قَهْرَمانُ آلِ الزُّبَيْرِ غَيْرُ عَمْرِو بنِ دِينارٍ الَّذِي يَرْوِي عَنْهُ سُفْيانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَقَهْرَمانُ آلِ الزُّبَيْرِ عِنْدَهُمْ مَتْرُوكُ الحَدِيثِ- المَكِّيُّ أَبُو مُحَمَّدٍ الأَثْرَمُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

 

16 - ‌‌ أَخْبَرَنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ المُذْهِبِ قالَ: أَخبَرَنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ قالَ: أَخْبَرنا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ حَنْبَلٍ قالَ: حَدَّثَنِي أَبِي رضي الله عنه قالَ: حدَّثنا هُشَيْمٌ قالَ: أَخبَرَنا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «خَيْرُ أُمَّتِي القَرْنُ الَّذِي بُعِثْتُ فِيهِمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» -واللَّهُ أَعْلَمُ قالَ الثَّالِثَةَ أَمْ لا- «ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ يُحِبُّونَ الشَّهادَةَ يَشْهَدُونَ قَبْلَ أَنْ يُسْتَشْهَدُوا».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ يَعْقُوبَ بنِ إِبْراهِيمَ الدَّوْرَقِيِّ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ -وَهُوَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي وَحْشِيَّةَ- عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ شَقِيقٍ العُقَيْلِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

 

17 - ‌‌ أَخْبَرَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بنِ الفَتْحِ الحَرْبِيُّ رضي الله عنه قالَ: حدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بنِ دَوَسْتٍ قالَ: أَخبَرَنا يَحْيَى بْنُ صاعِدٍ قالَ: حدَّثنا بِنْدارٌ قالَ: حدَّثنا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ قالَ: حدَّثنا شُعْبَةُ، عَنْ حَمْزَةَ الضَّبِّيِّ وَأَبُو التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بنِ مالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، بِمِثْلِ حَدِيثٍ مَتْنُهُ: «بُعِثْتُ أَنا والسَّاعَةُ كَهاتَيْنِ».

أَخْرَجَهُ
তা নিয়ে। এবং কখনো কখনো উল্কাপিন্ড তাকে পাওয়ার আগেই সে তা তার সঙ্গীকে ছুড়ে দেয়। এভাবে এজন অন্যজনকে এবং অন্যজন তার পরবর্তীজনকে দেয়, যতক্ষণ না তা কোনো জাদুকর বা গণকের মুখে নিক্ষিপ্ত হয়। তখন সে এর সাথে শতটি মিথ্যা মিশিয়ে দেয়। তিনি বলেন: তখন আমরা তা বিশ্বাস করি এবং বলি: অমুক অমুক দিন কি সে আমাদের এমন এমন সংবাদ দেয়নি? তখন আমরা তাকে সত্য পাই। আর তা হলো সেই বাণী যা আসমান থেকে শোনা গিয়েছিল।

এটি ইমাম আবুল হুসাইন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর আল-মাদিনী এবং আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের—যিনি আল-হুমাইদী—উভয় হতে বুখারী বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে, তিনি আমর—যিনি ইবনে দিনার—থেকে। (উল্লেখ্য যে, আল-যুবায়ের পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক আমর বিন দিনার এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনা যার থেকে বর্ণনা করেন সেই আমর বিন দিনার এক ব্যক্তি নন; আর আল-যুবায়ের পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক আমর তাদের নিকট পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী)। মক্কী আবু মুহাম্মাদ আল-আছরাম হতে, তিনি ইকরিমা হতে, তিনি আবু হুরাইরা হতে।

 

১৬ - ‌‌ হাসান বিন আলী বিন আল-মুজাহহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বিশর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন শাকীক হতে, তিনি আবু হুরাইরা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ হলো সেই প্রজন্ম যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী" —আল্লাহই ভালো জানেন তিনি তৃতীয়বার বলেছিলেন কি না— "অতঃপর এমন এক জাতির আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য দিতে পছন্দ করবে এবং তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়ার আগেই তারা সাক্ষ্য দিবে।"

এটি মুসলিম ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম আদ-দাওরাকী হতে, তিনি হুশাইম হতে, তিনি আবু বিশর—যিনি জাফর বিন আবু ওয়াহশিয়া—হতে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন শাকীক আল-উকাইলী হতে, তিনি আবু হুরাইরা হতে বর্ণনা করেছেন।

 

১৭ - ‌‌ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ আল-হারবী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন দাওসাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন সায়িদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বুন্দার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামজা আদ-দাব্বী ও আবু আত-তাইয়্যাহ হতে, তাঁরা আনাস বিন মালিক হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই মর্মে হাদিস বর্ণনা করেছেন যার মূলপাঠ: "আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি।"

এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৬)
مُسْلِمٌ، عَنْ بِنْدارٍ مُحَمَّدِ بنِ بَشَّارٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَدِيٍّ -وَهُوَ أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ إِبْراهِيمَ- عَنْ شُعْبَةَ(1) بنِ الحَجَّاجِ، عَنْ حَمْزَةَ الضَّبِّيِّ وَأَبِي التَّيَّاحِ يَزِيدَ بنِ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ أَنَسِ بنِ مالِكٍ رضي الله عنه بِهَذا.

وَوَقَعَ إِلَيْنا مُوافَقَةً.

 

18 - ‌‌ أَخْبَرَنا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَلِيٍّ الأَزَجِّيُّ قالَ: أَخْبَرنا عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بنِ الزَّيَّاتِ قالَ: حدَّثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الفِرْيابِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرِ ابْنُ أَبِي النَّضْرِ قالَ: حدَّثنا أَبُو النَّضْرِ هاشِمُ بْنُ القاسِمِ قالَ: حدَّثنا عُبَيْدُ اللهِ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ مالِكِ بنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فِي مَسِيرٍ فَنَفِدَتْ أَزْوادُ القَوْمِ، قالَ أَحَدُهُمْ: نَنْحَرُ بَعْضَ جِمالِهِمْ. قالَ: فَقالَ عُمَرُ رضي الله عنه: يا رَسُولَ اللهِ، لَوْ جَمَعْتَ ما بَقِيَ مِنْ أَزْوادِ القَوْمِ فَدَعَوْتَ اللَّهَ عز وجل عَلَيْها. فَفَعَلَ، فَجاءَ ذُو التَّمْرَةِ بِتَمْرِهِ وَذُو البُرِّ بِبُرِّهِ -قالَ مُجاهِدٌ: وَذُو النَّوَى بِنَوايِهِ،

قالَ: فَقُلْتُ: وَما كانُوا يَصْنَعُونَ بِالنَّوَى؟ قالَ: يَمُصُّونَهُ وَيَشْرَبُونَ عَلَيْهِ الماءَ- قالَ: فَدَعا عَلَيْها حَتَّى مَلأَ القَوْمُ أَزْوِدَتَهُمْ. قالَ: فَقالَ عَنْ ذَلِكَ: «أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ، لا يُلْقَى بِهِما عَبْدٌ غَيْرَ شاكٍّ فِيهِما إِلَّا دَخَلَ الجَنَّةَ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ هَكَذا عَنْ أَبِي بَكْرِ ابنِ أَبِي النَّضْرِ، كَما أَخْرَجْناهُ عَنْ أَبِي النَّضْرِ هاشِمِ بنِ القاسِمِ الكِنانِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ مالِكِ بنِ مِغْوَلٍ البَجْلِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بنِ مُصَرِّفٍ -وَهُوَ أَبُو عَبْدِ اللهِ الأَيَّامِيُّ قارِئُ أَهْلِ الكُوفَةِ- عَنْ أَبِي صالِحٍ -وَهُوَ الزَّيَّاتُ والسَّمَّانُ أَيْضًا- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَلَيْسَ لِطَلْحَةَ بنِ مُصَرِّفٍ عَنْ أَبِي صالِحٍ فِي الصَّحِيحِ غَيْرُ هَذا الحَدِيثِ، وَوَقَعَ إِلَيْنا عالِيًا وَمُوافَقَةً.

 

19 - ‌‌ أَخْبَرَنا أَبُو القاسِمِ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ أَحْمَدَ بنِ لَوْلَوٍ قِراءَةً عَلَيْهِ وَأَنا أَسْمَعُ -وَكانَ مِنَ الثِّقاتِ المَأْمُونِينَ، وَمِنْ عِبادِ اللهِ الصَّالِحِينَ رحمه الله قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ بنِ مالِكٍ قالَ: حدَّثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ العَبَّاسِ الطَّيالِسِيُّ قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بنِ عَبْدِ اللهِ قالَ: حَدَّثَنِي

--------------------------------------------

(1) لفظة: (شعبة) غير واضحة في الأصل.
মুসলিম, বিনদার মুহাম্মদ বিন বাশারের সূত্রে, তিনি ইবনে আবি আদির থেকে—যিনি আবু আমর মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম—তিনি শু'বা(১) বিন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি হামজা আদ-দাব্বি এবং আবু আত-তায়্যাহ ইয়াজিদ বিন হুমাইদ থেকে, তাঁরা সকলে আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই বর্ণনায়।

এবং এটি আমাদের নিকট মুওয়াফাকাহ (একই সূত্রে পৌঁছানো উচ্চ সনদ) হিসেবে পৌঁছেছে।

 

১৮ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন আলী আল-আজা্জি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন আলী বিন আয-যাইয়াত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনুল আবি আন-নাদির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আন-নাদির হাশিম বিন আল-কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ আল-আশজায়ি, মালিক বিন মিগওয়াল থেকে, তিনি তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে ছিলাম, তখন লোকজনের পাথেয় শেষ হয়ে গেল। তাদের একজন বলল: আমরা আমাদের কিছু উট জবাই করি। তিনি (আবু হুরাইরা) বলেন: তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি লোকজনের অবশিষ্ট পাথেয়গুলো একত্রিত করতেন এবং তার উপর আল্লাহর (আযযা ওয়া জাল্লা) নিকট দুআ করতেন [তবে ভালো হতো]। তিনি তাই করলেন। তখন খেজুরের মালিক তার খেজুর নিয়ে আসল এবং গমের মালিক তার গম নিয়ে আসল। —মুজাহিদ বলেন: এবং আঁটির মালিক তার আঁটি নিয়ে আসল।

তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, আঁটি দিয়ে তারা কী করত? তিনি বললেন: তারা সেটি চুষত এবং তার উপর পানি পান করত।— তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) সেগুলোর উপর দুআ করলেন, এমনকি লোকজন তাদের খাদ্যপাত্রগুলো পূর্ণ করে নিল। তিনি বলেন: তখন তিনি সেই বিষয়ে বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কোনো বান্দা এই দুই সাক্ষ্য নিয়ে সন্দেহাতীতভাবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।»

ইমাম মুসলিম এটি এভাবেই আবু বকর ইবনুল আবি আন-নাদির থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি আমরা উদ্ধৃত করেছি আবু আন-নাদির হাশিম বিন আল-কাসিম আল-কিনানি থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-আশজায়ি থেকে, তিনি মালিক বিন মিগওয়াল আল-বাজালি থেকে, তিনি তালহা বিন মুসাররিফ থেকে—যিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-আইয়ামি, কুফাবাসীদের ক্বারি—তিনি আবু সালিহ থেকে—যিনি আয-যাইয়াত এবং আস-সাম্মান হিসেবেও পরিচিত—তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন। সহিহ গ্রন্থে আবু সালিহ থেকে তালহা বিন মুসাররিফের এই একটি হাদিস ছাড়া আর কোনো হাদিস নেই। এবং এটি আমাদের নিকট 'আলি' (উচ্চ সনদ) এবং 'মুওয়াফাকাহ' হিসেবে পৌঁছেছে।

 

১৯ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন লাউলউ, তাঁর কাছে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম—তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্তদের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের অন্যতম (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন)—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আল-আব্বাস আত-তয়ালিসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন হাফস বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) 'শু'বা' শব্দটি মূল পাণ্ডুলিপিতে স্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৭)
أَبِي قالَ: حَدَّثَنِي إِبْراهِيمُ بْنُ طَهْمانَ، عَنْ مُوسَى بنِ عُقْبَةَ، عَنْ صَفْوانَ بنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطاءِ بنِ يَسارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَما أَيُّوبُ عليه السلام يَغْتَسِلُ عُرْيانًا خَرَّ عَلَيْهِ جَرادٌ مِنْ ذَهَبٍ، فَجَعَلَ يَحْثُوا فِي ثَوْبِهِ، فَناداهُ رَبُّهُ تَعالَى: يا أَيُّوبُ أَلَمْ أَكُنْ أُغْنِيكَ؟ قالَ: بَلَى، وَلَكِنْ لا غِنَى لِي عَنْ بَرَكاتِكَ».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْهُ تَعْلِيقًا مُسْتَشْهِدًا بِهِ قالَ: وَرَواهُ إِبْراهِيمُ بْنُ طَهْمانَ، عَنْ مُوسَى بنِ عُقْبَةَ، عَنْ صَفْوانَ بنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطاءِ بنِ يَسارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

وَصَفْوانُ يُكْنَى أَبا الحارِثِ، وَهُوَ مَوْلَى حُمَيْدِ بنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ عَوْفٍ الزُّهْرِيِّ، وَكانَ أَحَدَ العُبَّادِ المُجْتَهِدِينَ، وَهُوَ عَزِيزُ الحَدِيثِ، والحُفَّاظُ مِنَ المُحَدِّثِينَ يُعْنَوْنَ بِجَمْعِ حَدِيثِهِ.

 

20 - ‌‌ أَخْبَرَنا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ لَوْلَوٍ قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ إِمْلاءً قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ مَنْصُورٍ الحاسِبُ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صالِحٍ قالَ: حدَّثنا أَبُو مُعاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ لِيَقْتَطِعَ بِها مالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَقِيَ اللَّهَ عز وجل وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبانُ» فَقالَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ فِي ذَلِكَ: كانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ اليَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي، فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَقالَ لِي: «أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟» قُلْتُ: لا.

فَقالَ اليَهُودِيُّ: أَحْلِفُ. فَقُلْتُ: يا رَسُولَ اللهِ إِذَنْ واللهِ يَذْهَبُ مالِي. فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ وَأَيْمانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلا} [آل عمران:77].

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ فِي مُسْنَدِ الأَشْعَثِ بنِ قَيْسٍ، وَهُوَ أَبُو مُحَمَّدٍ الكِنْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدٍ غَيْرَ مَنْسُوبٍ، عَنْ أَبِي مُعاوِيَةَ مُحَمَّدِ بنِ حازِمٍ الضَّرِيرِ مَوْلَى بَنِي تَمِيمٍ الكُوفِيِّ، عَنِ الأَعْمَشِ -وَهُوَ سُلَيْمانُ بْنُ مِهْرانَ أَبُو مُحَمَّدٍ الكاهِلِيُّ- عَنْ شَقِيقٍ وَهُوَ ابْنُ سَلَمَةَ أَبُو وايِلٍ الأَسْدِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ مَسْعُودٍ
আমার পিতা বলেছেন: ইব্রাহিম ইবনে তাহমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একদা আইয়ুব আলাইহিস সালাম উলঙ্গ অবস্থায় গোসল করছিলেন, তখন তাঁর ওপর স্বর্ণের পঙ্গপাল এসে পড়তে লাগল। তিনি তখন সেগুলো নিজের কাপড়ে ভরতে লাগলেন। এমতাবস্থায় তাঁর প্রতিপালক মহান আল্লাহ তাঁকে ডেকে বললেন: হে আইয়ুব! আমি কি তোমাকে অভাবমুক্ত করিনি? তিনি উত্তর দিলেন: অবশ্যই, কিন্তু আপনার বরকত থেকে আমি অভাবমুক্ত নই।»

ইমাম বুখারি এটি তাঁর থেকে তালীক হিসেবে প্রমাণস্বরূপ উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন: এবং এটি ইব্রাহিম ইবনে তাহমান, মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

সাফওয়ানের উপনাম ছিল আবু আল-হারিস, তিনি হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আল-জুহরির মুক্তদাস ছিলেন। তিনি ছিলেন অন্যতম পরিশ্রমী ইবাদতকারী এবং বিরল হাদিস বর্ণনাকারী; হাদিস বিশারদ হাফেজগণ তাঁর হাদিস সংগ্রহ করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেন।

 

২০ - ‌‌ উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে লুলু আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান শ্রুতিলিখন হিসেবে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর আল-হাসিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে সালিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি শাকিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খাবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন» তখন আশ'আস ইবনে কায়স এ বিষয়ে বললেন: আমার এবং এক ইহুদি ব্যক্তির মাঝে এক টুকরো জমি নিয়ে বিরোধ ছিল, সে আমার জমি অস্বীকার করেছিল। ফলে আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: «তোমার কি কোনো প্রমাণ আছে?» আমি বললাম: না।

তখন ইহুদি বলল: আমি কসম খাব। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো আল্লাহর কসম, সে আমার সম্পদ নিয়ে যাবে। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও তাদের শপথের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে} [আলে ইমরান: ৭৭]।

ইমাম বুখারি এটি আশ'আস ইবনে কায়সের মুসনাদে উদ্ধৃত করেছেন, আর তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আল-কিন্দি; তিনি মুহাম্মদ (যার বংশ পরিচয় উল্লেখ নেই) থেকে, তিনি বনু তামিমি গোত্রের মুক্তদাস কুফার অধিবাসী আবু মুয়াবিয়া মুহাম্মদ ইবনে হাজিম আদ-দারির থেকে, তিনি আমাশ থেকে —যিনি হলেন সুলাইমান ইবনে মিহরান আবু মুহাম্মদ আল-কাহিলি— তিনি শাকিক থেকে —যিনি হলেন ইবনে সালামাহ আবু ওয়ায়িল আল-আসাদি— তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৭)
الهُذَلِيِّ، وَعَنِ الأَشْعَثِ بنِ قَيْسٍ، وَأَوَّلُ الحَدِيثِ رِوايَةُ ابْنُ مَسْعُودٍ، وَآخِرُهُ رِوايَةُ الأَشْعَثِ.

 

22 - ‌‌ أَخْبَرَنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ المُذْهِبُ قالَ: أَخبَرَنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ قالَ: أَخبَرَنا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ حَنْبَلٍ قالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قالَ: حدَّثنا إِسْحاقُ بْنُ يُوسُفَ قالَ: حدَّثنا سُفْيانُ، عَنْ سُهَيْلِ بنِ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «لا يَجْزِي وَلَدٌ والِدَهُ إِلَّا أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوكًا فَيَشْتَرِيَهُ فَيُعْتِقَهُ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي بَكْرِ ابنِ أَبِي شَيْبَةَ العَبْسِيِّ، عَنْ وَكِيعِ بنِ الجَرَّاحِ، عَنْ سُفْيانَ -وَهُوَ ابْنُ سَعِيدِ بنِ مَسْرُوقٍ أَبُو عَبْدِ اللهِ الثَّوْرِيُّ، ثَوْرُ هَمْدانَ- عَنْ سُهَيْلِ بنِ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذا.

وَسُهَيْلُ بْنُ أَبِي صالِحٍ ثِقَةٌ أَمِينٌ، وَكانَ مِنْ عُبَّادِ أَهْلِ المَدِينَةِ، حَدَّثَ عَنْ أَبِيهِ أَبِي صالِحٍ ذَكْوانَ، ثُمَّ حَدَّثَ عَنْ أَخِيهِ، عَنْ أَبِيهِ، ثُمَّ حَدَّثَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِيهِ، ثُمَّ حَدَّثَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بنِ مُقْسِمٍ، عَنْ أَبِيهِ.

 

23 - ‌‌ حَدَّثَنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدٍ الجَوْهَرِيُّ إِمْلاءً قالَ: أَخبَرَنا أَبُو الحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِسْماعِيلَ بنِ عُبَيْدِ اللهِ الأَنْبارِيُّ قالَ: حدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ سُلَيْمانَ الباغَنْدِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرِ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ قالَ: حدَّثنا عَلِيُّ بْنُ مِسْهَرٍ قالَ: أَخبَرَنا المُخْتارُ بْنُ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بنِ مالِكٍ قالَ: بَيْنا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَظْهُرِنا إِذْ أَغْفَى إِغْفاءَةً، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مُبْتَسِمًا، قُلْنا: ما أَضْحَكَكَ يا رَسُولَ اللهِ؟ قالَ: «نَزَلَتْ عَلَيَّ سُورَةٌ، فَقَرَأَ: {بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ إِنَّا أَعْطَيْناكَ الكَوْثَرَ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وانْحَرْ إِنَّ شانِئَكَ هُوَ الأَبْتَرُ} [الكوثر:1 3] ثُمَّ قالَ: هَلْ تَدْرُونَ ما الكَوْثَرُ؟ قُلْنا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قالَ: فَإِنَّهُ نَهْرٌ وَعَدَنِيهِ رَبِّي عز وجل، وَهُوَ حَوْضِي يَرِدُ عَلَيْهِ أُمَّتِي يَوْمَ القِيامَةِ، آنِيَتُهُ عَدَدُ النُّجُومِ…» وَذَكَرَ باقِيَهُ.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي بَكْرِ ابنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بنِ مِسْهَرٍ قاضِي المَوْصِلِ

 

عَنِ المُخْتارِ بنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بنِ مالِكٍ بِهَذا.

وَوَقَعَ إِلَيْنا عالِيًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرِ ابنِ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُوافَقَةً أَيْضًا.

 

24 - ‌‌ حَدَّثَنا الحاكِمُ أَبُو الحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدِ بنِ عُبَيْدِ اللهِ بنِ عَبْدِ الصَّمَدِ بنِ المُهْتَدِي بِاللهِ مِنْ لَفْظِهِ قالَ: أَخبَرَنا عَبْدُ الواحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ اللهِ بنِ مَهْدِيٍّ قالَ: أَخْبَرنا الحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى بْنُ عَيَّاشٍ القَطَّانُ قالَ: حدَّثنا أَبُو الأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ المِقْدامِ قالَ: حدَّثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قالَ: ما مَسَسْتُ دِيباجًا وَلا حَرِيرًا وَلا شَيْئًا كانَ أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْه، وَلا شَمَمْتُ رائِحَةً قَطُّ أَطْيَبَ مِنْ رِيحِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، وَلَقَدْ خَدَمْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرَ سِنِينَ فَواللهِ ما قالَ لِي أُفٍّ قَطُّ، وَلا قالَ لِشَيْءٍ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ كَذا، وَلا لِشَيْءٍ لَمْ أَفْعَلْهُ أَلَا فَعَلْتَ كَذا.

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ وَحْدَهُ عَنْ سُلَيْمانَ بنِ حَرْبٍ الواشِحِيِّ، عَنْ حَمَّادِ بنِ زَيْدٍ -وَهُوَ أَبُو إِسْماعِيلَ الأَوْدِيُّ البَصْرِيُّ- عَنْ ثابِتٍ -وَهُوَ ابْنُ أَسْلَمَ البُنانِيُّ- عَنْ أَنَسِ بنِ مالِكٍ رضي الله عنه بِهَذا.
আল-হুজালী থেকে, এবং আশআস বিন কায়স থেকে; হাদিসের প্রথমাংশ ইবনে মাসউদের বর্ণনা এবং শেষাংশ আশআসের বর্ণনা।

 

২২ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন আলী আল-মুযহিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর বিন হামদান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসহাক বিন ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «কোনো সন্তানই তার পিতার প্রতিদান দিতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তাকে ক্রীতদাস হিসেবে পায় এবং তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেয়»।

ইমাম মুসলিম এটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আল-আবসি থেকে, তিনি ওয়াকি ইবনুল জাররাহ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে—যিনি হলেন ইবনে সাঈদ বিন মাসরুক আবু আব্দুল্লাহ আস-সাওরি, হামদানের সাওরি গোত্রীয়—তিনি সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আর সুহাইল বিন আবি সালিহ নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তিনি মদিনার ইবাদতগুজার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তার পিতা আবু সালিহ যাকওয়ান থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তার ভাই থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আল-আমাশ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর উবাইদুল্লাহ বিন মাকসাম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

 

২৩ - ‌‌ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-জাওহারি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন ইসমাইল বিন উবাইদুল্লাহ আল-আনবারি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-বাগান্দি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বা, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন মিসহার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুখতার বিন ফুলফুল, আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে ছিলেন, তখন তিনি কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। অতঃপর তিনি মুচকি হেসে তার মাথা তুললেন। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, কিসে আপনাকে হাসালো? তিনি বললেন: «আমার ওপর একটি সূরা নাযিল হয়েছে, অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। অতএব আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন। নিশ্চয় আপনার বিদ্বেষ পোষণকারীই নির্বংশ} [আল-কাউসার: ১-৩]। অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা কি জান কাউসার কী? আমরা বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বললেন: এটি একটি নহর যা আমার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এটি হলো আমার হাওয যেখানে কিয়ামতের দিন আমার উম্মত পানি পানের জন্য উপস্থিত হবে, যার পাত্রগুলোর সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির সমান...» এবং তিনি হাদিসের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেছেন।

ইমাম মুসলিম এটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বা থেকে, তিনি মসুলের বিচারক আলী বিন মিসহার থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

মুখতার বিন ফুলফুল থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে এই সূত্রে।

আর এই হাদিসটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বার সূত্রে আমাদের কাছে উচ্চ সনদে এবং বর্ণনার সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পৌঁছেছে।

 

২৪ - ‌‌ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাকেম আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুস সামাদ বিন আল-মুহতাদি বিল্লাহ তার নিজস্ব শব্দে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন ইয়াহইয়া বিন আইয়াশ আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল আশআস আহমদ বিন আল-মিকদাম, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাম্মাদ বিন জায়েদ, সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালুর চেয়ে নরম কোনো রেশম বা সিল্ক বা অন্য কিছু স্পর্শ করিনি। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গায়ের সুগন্ধির চেয়ে চমৎকার কোনো ঘ্রাণ কখনো পাইনি। আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি, আল্লাহর কসম, তিনি কখনো আমাকে 'উফ' বলেননি। আমি কোনো কাজ করলে তিনি কখনো বলেননি যে, 'কেন তুমি এমন করলে?', আবার কোনো কাজ না করলে তিনি বলেননি যে, 'কেন তুমি এমন করলে না?'।

ইমাম বুখারি এককভাবে এটি সুলাইমান বিন হারব আল-ওয়াশিহি থেকে, তিনি হাম্মাদ বিন জায়েদ থেকে—যিনি আবু ইসমাইল আল-আওদি আল-বাসরি—তিনি সাবিত থেকে—যিনি ইবনে আসলাম আল-বুনানি—তিনি আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৮)
25 - ‌‌ حَدَّثَنا الزَّاهِدُ أَبُو الحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الحَسَنِ القَزْوِينِيُّ إِمْلاءً بِلَفْظِهِ قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ قالَ: قُرِئَ عَلَى عُمَرَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الزَّيَّاتِ، وَأَنا أَسْمَعُ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ عُمَرُ بْنُ الحُسَيْنِ بنِ نَصْرٍ الحَلَبِيُّ قالَ: حدَّثنا عامِرُ بْنُ سَيَّارٍ قالَ: حدَّثنا إِسْماعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ العَلاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «لا يَدْخُلُ الجَنَّةَ مَنْ لا يَامَنُ جارُهُ بَوايِقَهُ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ يَحْيَى بنِ أَيُّوبَ وَقُتَيْبَةَ بنِ سَعِيدٍ وَعَلِيِّ بنِ حُجْرٍ أَبِي الحَسَنِ السَّعْدِيِّ، ثَلاثَتُهُمْ عَنْ إِسْماعِيلَ بنِ جَعْفَرِ بنِ أَبِي كَثِيرٍ المَدَنِيِّ الأَنْصارِيِّ، عَنِ العَلاءِ -وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ يَعْقُوبَ الحُرَقِيِّ، وَهِيَ قَبِيلَةٌ- عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذا.
২৫ - ‌‌ যাহেদ আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-কাযউইনী স্বীয় উচ্চারণে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—তিনি বলেন: উমর বিন মুহাম্মদ বিন আয-যাইয়্যাতের সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তখন শ্রবণ করছিলাম; তাঁকে বলা হলো: উমর বিন আল-হুসাইন বিন নাসর আল-হালাবী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমির বিন সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আলা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, কুতাইবা বিন সাঈদ এবং আলী বিন হুজর আবুল হাসান আস-সাদী থেকে; তাঁরা তিনজনই ইসমাইল বিন জাফর বিন আবু কাসীর আল-মাদানী আল-আনসারী থেকে, তিনি আল-আলা থেকে—আর তিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন ইয়াকুব আল-হুরাকী (এটি একটি গোত্র)-এর পুত্র—তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৮)
26 - ‌‌ أَخْبَرَنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ المُذْهِبِ قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ بنِ مالِكٍ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ حَنْبَلٍ قالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قالَ: حدَّثنا إِسْماعِيلُ بْنُ إِبْراهِيمَ قالَ: حدَّثنا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ أَبُو القاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «إِنَّ فِي الجُمُعَةِ لَساعَةً لا يُوافِقُها مُسْلِمٌ قائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ عز وجل خَيْرًا إِلَّا أَعْطاهُ إِيَّاهُ». وَقالَ بِيَدِهِ، قُلْنا: يُقَلِّلُها يُزَهِّدُها.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ زُهَيْرِ بنِ حَرْبٍ، عَنْ إِسْماعِيلَ بنِ إِبْراهِيمَ -وَهُوَ ابْنُ عُلَيَّةَ أَبُو بِشْرٍ الأَسْدِيُّ- عَنْ أَيُّوبَ -وَهُوَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي تَمِيمَةَ، واسْمُ أَبِي تَمِيمَةَ كَيْسانُ، وَهُوَ أَيُّوبُ السِّخْتِيانِيُّ العَنْزِيُّ بَصْرِيٌّ- عَنْ مُحَمَّدٍ -وَهُوَ ابْنُ سِيرِينَ- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذا.

 

27 - ‌‌ أَخْبَرَنا إِبْراهِيمُ بْنُ عُمَرَ بنِ أَحْمَدَ البَرْمَكِيُّ -وَكانَ مَرْضِيًّا صَدُوقًا- قالَ: أخبَرَنا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِبْراهِيمَ بنِ جَعْفَرِ بنِ بَيانٍ البَزَّازُ قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ الحُسَيْنِ بنِ إِسْحاقَ الصُّوفِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ ابنِ أَبِي شَيْبَةَ قالَ: حدَّثنا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «مَنْ كانَ يُوْمِنُ بِاللهِ واليَوْمِ الآخِرِ فَلا يُوْذِي جارَهُ، مَنْ كانَ يُوْمِنُ بِاللهِ واليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي بَكْرِ ابنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ -واسْمُهُ سَلَّامُ بْنُ سُلَيْمٍ- عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ عُثْمانَ بنِ عاصِمِ بنِ الحُصَيْنِ الأَسْدِيِّ، عَنْ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

وَلَمْ يَكُنْ عِنْدَ أَبِي الأَحْوَصِ عَنْ أَبِي عاصِمٍ غَيْرُ هَذا الحَدِيثِ، وَوَقَعَ إِلَيْنا عالِيًا وَمُوافَقَةً.

 

28 - ‌‌ حَدَّثَنا الإِمامُ أَبُو يَعْلَى مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ بنِ الفَرَّا إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ قالَ: أَخبَرَنا أَبُو الحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بنِ الحُسَيْنِ ابْنِ أَخِي مِيمِيٍّ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ
২৬ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মুজহিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই সময়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়রত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন।" এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন, আমরা বললাম: তিনি এর স্বল্পতার প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন যুহায়ের বিন হারব থেকে, তিনি ইসমাঈল বিন ইবরাহীম থেকে—যিনি হলেন ইবনে উলাইয়্যাহ আবু বিশর আল-আসাদি—তিনি আইয়ুব থেকে—যিনি হলেন আবু বকর বিন আবি তামীমাহ, আর আবু তামীমাহর নাম হলো কায়সান, আর তিনি হলেন আইয়ুব আস-সিখতিয়ানি আল-আনযি বসরী—তিনি মুহাম্মদ থেকে—যিনি হলেন ইবনে সীরীন—তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই সূত্রে।

 

২৭ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন উমর বিন আহমদ আল-বারমাকী—যিনি পছন্দনীয় ও সত্যবাদী ছিলেন—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন ইবরাহীম বিন জাফর বিন বায়ান আল-বাযযার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন ইসহাক আস-সূফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-আহওয়াস, আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিপ্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।"

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে, তিনি আবু আল-আহওয়াস থেকে—তার নাম হলো সাল্লাম বিন সুলাইম—তিনি আবু হুসাইন উসমান বিন আসিম বিন আল-হুসাইন আল-আসাদি থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।

আবু আল-আহওয়াসের নিকট আবু আসিম থেকে এই একটি হাদীস ব্যতীত আর কোনো হাদীস ছিল না। এটি আমাদের কাছে উচ্চ সনদ (আলী) এবং মুওয়াফাকাত হিসেবে পৌঁছেছে।

 

২৮ - ‌‌ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু ইয়ালা মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফাররা স্বীয় মুখনিঃসৃত শব্দে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন ইবনে আখী মীমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৯)
مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ العَزِيزِ البَغَوِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو رَوْحٍ مُحَمَّدُ بْنُ زِيادِ بنِ فَرْوَةَ البَلَدِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو شِهابٍ، عَنْ إِسْماعِيلَ بنِ أَبِي خالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بنِ أَبِي حازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بنِ عَبْدِ اللهِ قالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَنَظَرَ إِلَى القَمَرِ لَيْلَةَ البَدْرِ فَقالَ: «إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ عز وجل عَيانًا كَما تَرَوْنَ هَذا، لا تُضامُّونَ فِي رُوْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لا تُغْلَبُوا عَلَى صَلاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الغُرُوبِ». وَقَرَأَ: فَ {سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الغُرُوبِ} [ق:9].

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ يُوسُفَ بنِ مُوسَى القَطَّانِ، عَنْ عاصِمِ بنِ يُوسُفَ اليَرْبُوعِيِّ، عَنْ أَبِي شِهابٍ الحَنَّاطِ -واسْمُهُ عْبَدُ رَبِّهِ بْنُ نافِعٍ- عَنْ إِسْماعِيلَ بنِ أَبِي خالِدٍ البَجْلِيِّ -واسْمُ أَبِي خالِدٍ هُرْمُزُ- عَنْ قَيْسِ بنِ أَبِي حازِمٍ -واسْمُ أَبِي حازِمٍ عَبْدُ عَوْفٍ- عَنْ جَرِيرِ بنِ عَبْدِ اللهِ البَجْلِيِّ، فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا يَعْلَى ابْنَ الفَرَّا سَمِعَهُ مِنَ البُخارِيِّ، وحدَّثنا بِهِ عَنْهُ، وَكانَتْ وَفاةُ البُخارِيِّ لَيْلَةَ الفِطْرِ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ، وَكانَ مَوْلِدُ شَيْخِنا أَبِي يَعْلَى بنِ الفَرَّاءِ سَنَةَ ثَمانِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ.

 

29 - ‌‌ حَدَّثَنا الإِمامُ أَبُو يَعْلَى بْنُ الفَرَّا إِمْلاءً -أَسْكَنَهُ اللَّهُ جَنَّتَهُ- قالَ: أَخبَرَنا أَبُو الطَّيِّبِ عُثْمانُ بْنُ عَمْرِو بنِ المُنْتابِ الإِمامُ الشَّيْخُ الصَّالِحُ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَمانِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، وَهُوَ أَوَّلُ شَيْخٍ سَمِعْتُ مِنْهُ الحَدِيثَ قالَ: حدَّثنا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بنِ صاعِدٍ قالَ: حدَّثنا الحُسَيْنُ بْنُ الحَسَنِ المَرْوَزِيُّ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ المُبارَكِ قالَ: أَخبَرَنا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ نافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «أَلَا كُلُّكُمْ راعي وَكُلُّكُمْ مَسْوُلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فالأَمِيرُ راعٍ وَهُوَ مَسْوُلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، والرَّجُلُ راعٍ عَلَى أَهْلِهِ وَهُوَ مَسْوُلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وامْرَأَةُ الرَّجُلِ راعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ بَعْلِها وَوَلَدِهِ وَهِيَ مَسْوُلةٌ عَنْهُ، وَعَبْدُ الرَّجُلِ راعٍ عَلَى مالِ سَيِّدِهِ
মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-বাগাবী বলেছেন: আমাদের নিকট আবু রুহ মুহাম্মদ বিন যিয়াদ বিন ফারওয়া আল-বালাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবু শিহাব বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন আবু খালিদ থেকে, তিনি কাইস বিন আবু হাযিম থেকে, তিনি জারীর বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট ছিলাম, তখন তিনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন: «নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের মহান ও পরাক্রমশালী রবকে সচক্ষে দেখতে পাবে যেমনিভাবে তোমরা এই চাঁদকে দেখছ, তাঁর দর্শনে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। অতএব, যদি তোমরা সূর্যোদয়ের আগের এবং সূর্যাস্তের আগের সালাতের ব্যাপারে পরাজিত না হতে পারো (অর্থাৎ তা আদায় করতে সক্ষম হও), তবে তাই করো।» অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {সুতরাং আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে} [ক্বাফ: ৩৯]।

এটি ইমাম বুখারী ইউসুফ বিন মুসা আল-কাত্তান থেকে, তিনি আসিম বিন ইউসুফ আল-ইয়ারবুয়ী থেকে, তিনি আবু শিহাব আল-হান্নাত থেকে—তাঁর নাম আবদু রাব্বিহি বিন নাফে—তিনি ইসমাঈল বিন আবু খালিদ আল-বাজালি থেকে—আবু খালিদের নাম হুরমুয—তিনি কাইস বিন আবু হাযিম থেকে—আবু হাযিমের নাম আবদ আওফ—তিনি জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালি থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে যেন আমাদের শায়খ আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা এটি বুখারী থেকে শুনেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীর ইন্তেকাল হয়েছিল ২৫৬ হিজরীর ঈদুল ফিতরের রাতে এবং আমাদের শায়খ আবু ইয়ালা বিন ফারার জন্ম হয়েছিল ৩৮০ হিজরীতে।

 

২৯ - ‌‌ ইমাম আবু ইয়ালা বিন ফারা শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাঁকে তাঁর জান্নাতে বসবাস করতে দিন—তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাইয়্যেব উসমান বিন আমর বিন আল-মুনতাব, যিনি একজন ইমাম ও সৎ শায়খ ছিলেন, ৩৮৫ হিজরীতে; আর তিনিই প্রথম শায়খ যাঁর থেকে আমি হাদিস শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হুসাইন বিন হাসান আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ বিন মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের মুসা বিন উকবা নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন রাখাল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং আমীর (শাসক) একজন রাখাল এবং তাকে তার প্রজাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের জন্য একজন রাখাল এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। স্ত্রীর তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের জন্য একজন রাখাল এবং তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আর কোনো ব্যক্তির দাস তার মালিকের মালের জন্য একজন রাখাল...»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ৯)
وَهُوَ مَسْوُلٌ عَنْهُمُ، أَلَا فَكُلُّكُمْ راعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْوُلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ عَبْدانَ -وَهُوَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمان- عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ المُبارَكِ، عَنْ مُوسَى بنِ عُقْبَةَ بِهَذا- وَعَبْدانُ هُوَ مِنْ شُيُوخِهِ الكُبراءِ وكانَ أَحَدَ أَئِمَّةِ الدِّينِ- فِي كِتابِهِ: عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَبْدانَ.

 

30 - ‌‌ حَدَّثَنا إِبْراهِيمُ بْنُ عُمَرَ بنِ أَحْمَدَ البَرْمَكِيُّ مِنْ لَفْظِهِ قالَ: أَخْبَرنا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِبْراهِيمَ بنِ جَعْفَرِ بنِ بَيانٍ البَزَّازُ قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ الحَسَنِ بنِ عَبْدِ الجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قالَ: حدَّثنا إِسْحاقُ بْنُ إِسْماعِيلَ الطَّالقانِيُّ قالَ: حدَّثنا سُفْيانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ مُجاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، أَنَّ فاطِمَةَ رضي الله عنها أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ تَسْتَخْدِمُهُ خادِمًا فَقالَ: «أَلا أَدُلُّكِ أَوْ أُعَلِّمُكِ ما هُوَ خَيْرٌ لَكِ مِنْ ذَلِكَ؟ إِذا أَوَيْتِ إِلَى فِراشِكِ تُسَبِّحِي اللَّهَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَكَبِّرِي واحْمَدِي». قالَ سُفْيانُ: أَحَدُهُما أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ. قالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: فَلَمْ أَدَعْها مُنْذُ سَمِعْتُها مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ. قالُوا لَهُ: وَلا لَيْلَةَ صِفِّينَ؟ قالَ: وَلا لَيْلَةَ صِفِّينَ.

صَحِيحٌ مَحْفُوظٌ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ أَبِي لَيْلَى -واسْمُ أَبِي لَيْلَى يَسارٌ- عَنْ أَمِيرِ المُؤْمِنِينَ عَلِيِّ بنِ [أَبِي] طالِبٍ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ، اتَّفَقَ الإِمامانِ جَمِيعًا عَلَى إِخْراجِهِ فِي كِتابَيْهِما، فَأَمَّا البُخارِيُّ فَأَخْرَجَهُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ الزُّبَيْرِ -وَهُوَ أَبُو بَكْرٍ الحُمَيْدِيُّ المَكِّيُّ قاضِي أَهْلِ مَكَّةَ- وَأَمَّا مُسْلِمٌ فَأَخْرَجَهُ عَنْ زُهَيْرِ بنِ حَرْبٍ -وَهُوَ أَبُو خَيْثَمَةَ النَّسائِيُّ- جَمِيعًا عَنْ سُفْيانَ بنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ مُجاهِدٍ -وَهُوَ ابْنُ جَبْرٍ- عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ أَبِي لَيْلَى بِهَذا، وَلَيْسَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَلِيِّ بنِ أَبِي طالِبٍ رضي الله عنه فِي الصَّحِيحِ إِلَّا هَذا الحَدِيثُ وَحَدِيثٌ آخَرُ.

 

31 - ‌‌ حَدَّثَنا أَبُو إِسْحاقَ إِبْراهِيمُ بْنُ عُمَرَ البَرْمَكِيُّ مِنْ لَفْظِهِ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ
এবং তিনি তাদের জন্য দায়বদ্ধ। মনে রেখো, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

ইমাম বুখারি এটি আবদান—যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান—তাঁর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুসা ইবনে উকবাহ থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবদান ছিলেন তাঁর বড় উস্তাদদের একজন এবং দীনের অন্যতম ইমাম। তিনি তাঁর কিতাবে জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবদান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৩০ - ‌‌ ইবরাহিম ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-বারমাকি আমাদের কাছে তাঁর নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে জাফর ইবনে বায়ান আল-বাযযার আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে ইসমাঈল আত-তালিকানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াযিদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একজন সেবক চাইতে এলেন। তখন তিনি বললেন: «আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাতলে দেব না বা শিখিয়ে দেব না, যা তোমার জন্য তার চেয়ে উত্তম? যখন তুমি তোমার বিছানায় যাবে, তখন তুমি তেত্রিশ বার আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করবে, এবং তেত্রিশ বার তাকবির ও তেত্রিশ বার তাহমিদ পাঠ করবে।» সুফিয়ান বলেন: এর মধ্যে একটি চৌত্রিশ বার। আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে এটি শোনার পর আমি তা কখনো ত্যাগ করিনি। তাঁকে বলা হলো: সিফফিনের রাতেও কি না? তিনি বললেন: সিফফিনের রাতেও না।

এটি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা—আর আবি লায়লার নাম হলো ইয়াসার—তাঁর সূত্রে আমিরুল মুমিনিন আলি ইবনে [আবি] তালিব (কররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) থেকে বর্ণিত একটি সহিহ ও সংরক্ষিত হাদিস। ইমামদ্বয় (বুখারি ও মুসলিম) উভয়েই এটি নিজ নিজ কিতাবে বর্ণনা করতে একমত হয়েছেন। বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর—যিনি মক্কার কাজি আবু বকর আল-হুমাইদি আল-মাক্কি—তাঁর থেকে। আর মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে হারব—যিনি আবু খাইসামা আন-নাসায়ি—তাঁর থেকে। তাঁরা সকলে সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াযিদ থেকে, তিনি মুজাহিদ—যিনি ইবনে জাবর—তাঁর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লার সূত্রে আলি ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ‘সহিহ’ গ্রন্থে এই হাদিসটি এবং অন্য একটি হাদিস ছাড়া আর কোনো হাদিস নেই।

 

৩১ - ‌‌ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে উমর আল-বারমাকি আমাদের কাছে তাঁর নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১০)
ابْنُ إِبْراهِيمَ بنِ جَعْفَرِ بنِ بَيانٍ قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ الحَسَنِ بنِ عَبْدِ الجَبَّارِ قالَ: حدَّثنا إِسْحاقُ بْنُ إِسْماعِيلَ قالَ: حدَّثنا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيانَ، عَنْ عَبْدِ الكَرِيمِ، عَنْ مُجاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قالَ: «أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ أَنْ لا أُعْطِيَ مِنْها عَلَى جِزارَتِها شَيْئًا».

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ قَبِيصَةَ بنِ عُقْبَةَ العامِرِيِّ، عَنْ سُفْيانَ -وَهُوَ الثَّوْرِيُّ- وَعَنْ مُحَمَّدِ بنِ كَثِيرٍ، عَنْ سُفْيانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الكَرِيمِ وَهُوَ الجَزَرِيُّ، عَنْ مُجاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ بِهَذا.

وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الكَرِيمِ الجَزَرِيِّ، وَلَهُ طُرُقٌ كَثِيرَةٌ، وَهَكَذا وَجَدْتُهُ فِي كِتابِ شَيْخِنا أَبِي إِسْحاقَ البَرْمَكِيِّ مُخْتَصَرًا، والحَدِيثُ أَتَمُّ مِنْ هَذا.

 

32 - ‌‌ حَدَّثَنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدِ بنِ عَلِيِّ بنِ المُذْهِبِ إِمْلاءً فِي الجامِعِ سَنَةَ إِحْدَى وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ بنِ مالِكٍ قالَ: حدَّثنا أَبُو خَلِيفَةَ الفَضْلُ بْنُ الحُبابِ الجُمَحِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو الوَلِيدِ الطَّيالِسِيُّ قالَ: حدَّثنا شُعْبَةُ قالَ: حدَّثنا زُبَيْدٌ وَمَنْصُورٌ وَسُلَيْمانُ، سَمِعُوا أَبا وايِلٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللهِ -يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ- أَنَّهُ قالَ: «سِبابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتالُهُ كُفْرٌ». قالَ زُبَيْدٌ: فَقُلْتُ لِوايِلٍ: سَمِعْتَ هَذا مِنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ؟ قالَ: نَعَمْ.

صَحِيحٌ مَحْفُوظٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي وايِلٍ شَقِيقِ بنِ سَلَمَةَ الأَسْدِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ مَسْعُودٍ الهُذَلِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

اتَّفَقَ الإِمامانِ جَمِيعًا عَلَى إِخْراجِهِ فِي كِتابَيْهِما، فَأَمَّا البُخارِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بنِ عَرْعَرَةَ بنِ البَرَنْدِ السَّامِيِّ -بَصْرِيٌّ- عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ أَمِيرِ المُؤْمِنِينَ فِي الحَدِيثِ، عَنْ زُبَيْدٍ -وَهُوَ ابْنُ الحارِثِ الأَيَّامِيُّ-، وَعَنْ سُلَيْمانَ بنِ حَرْبٍ الواشِحِيِّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ -وَهُوَ ابْنُ المُعْتَمِرِ أَبُو عَتَّابٍ-، وَعَنْ عُمَرَ بنِ حَفْصِ بنِ غَيَّاثِ بنِ طَلْقِ بنِ مُعاوِيَةَ النَّخَعِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمانَ وَهُوَ الأَعْمَشُ بْنُ مِهْرانَ أَبُو مُحَمَّدٍ الكاهِلِيُّ، ثَلاثَتُهُمْ عَنْ زُبَيْدٍ وَمَنْصُورٌ والأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي وايِلٍ كَما أَخْرَجْناهُ، وَأَمَّا مُسْلِمٌ
ইবন ইব্রাহিম ইবন জাফর ইবন বায়ান বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন হাসান ইবন আবদুল জব্বার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবন ইসমাইল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুল কারিম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আদেশ করেছেন যে, আমি যেন কসাইকে পশুর মজুরি স্বরূপ কিছু না দেই»।

ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন কাবিযাহ ইবন উকবাহ আল-আমিরি থেকে, তিনি সুফিয়ান (যিনি সাওরি) থেকে, এবং মুহাম্মদ ইবন কাসির থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি আবদুল কারিম (যিনি আল-জাযারি) থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি আলী থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিম এটি আবদুল কারিম আল-জাযারির হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর অনেকগুলো সনদ রয়েছে। এভাবেই আমি এটি আমাদের শায়খ আবু ইসহাক আল-বারমাকির কিতাবে সংক্ষেপে পেয়েছি, তবে পূর্ণাঙ্গ হাদিসটি এর চেয়েও দীর্ঘ।

 

৩২ - ‌‌ আমাদের নিকট আল-হাসান ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবনুল মুজহিব ৪৪১ হিজরি সনে জামে মসজিদে এটি ইমলা (শ্রুতলিপি) করিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর আহমদ ইবন জাফর ইবন হামদান ইবন মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু খলিফা আল-ফজল ইবনুল হুবাব আল-জুমাহি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জুবাইদ, মানসুর ও সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তারা আবু ওয়ায়িলকে আবদুল্লাহ (অর্থাৎ ইবন মাসউদ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন: «মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরি»। জুবাইদ বলেন: আমি ওয়ায়িলকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি কি এটি আবদুল্লাহর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।"

এটি আবু ওয়ায়িল শাকিক ইবন সালামাহ আল-আসাদি কর্তৃক বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ আল-হুযালি থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন—এমন একটি সহিহ ও মাহফুজ (সংরক্ষিত) হাদিস।

ইমামদ্বয় (বুখারি ও মুসলিম) একত্রে এটি তাদের কিতাবদ্বয়ে বর্ণনা করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারি এটি মুহাম্মদ ইবন আরআরা ইবন আল-বারান্দ আস-সামি (যিনি বসরাবাসী) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনিন শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি জুবাইদ (যিনি ইবনুল হারিস আল-ইয়ামি) থেকে। আবার তিনি (বুখারি) সুলাইমান ইবন হারব আল-ওয়াশিহি থেকে, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি মানসুর (যিনি ইবনুল মুতামির আবু আত্তাব) থেকে এবং উমর ইবন হাফস ইবন গিয়াস ইবন তালক ইবন মুয়াবিয়া আন-নাখায়ি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি সুলাইমান (যিনি আল-আ’মাশ ইবন মিহরান আবু মুহাম্মদ আল-কাহিলি) থেকে বর্ণনা করেছেন। এই তিন জন অর্থাৎ জুবাইদ, মানসুর ও আ’মাশ—আবু ওয়ায়িল থেকে বর্ণনা করেছেন যেভাবে আমরা এটি বর্ণনা করেছি। আর ইমাম মুসলিমের ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১০)
فَأَخْرَجَهُ عَنْ أَبِي مُوسَى مُحَمَّدِ بنِ المُثَنَّى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ مَهْدِيِّ بنِ حَسَّانٍ الإِمامِ، عَنْ سُفْيانَ -وَهُوَ ابْنُ سَعِيدِ بنِ مَسْرُوقٍ الثَّوْرِيُّ- عَنْ زُبَيْدٍ، وَعَنْ أَبِي مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بنِ جَعْفَرٍ غُنْدَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ، عَنْ مَنْصُورِ بنِ المُعْتَمِرِ، عَنْ أَبِي وايِلٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَلَمْ يُخْرِجْهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ، فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا عَلِيِّ ابْنَ المُذْهِبِ رضي الله عنه سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمِ بنِ الحَجَّاجِ، وَحَدَّثَنا بِهِ عَنْهُ وَقَدْ تَقَدَّمَ وَفاةُ مُسْلِمٍ.

 

33 - ‌‌ أَخْبَرَنا الشَّيْخُ العَدْلُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ عُمَرَ بنِ الحَسَنِ بنِ عُبَيْدِ بنِ عَمْرٍو المَعْرُوفُ بِابْنِ المَسْلَمَةِ قِراءَةً عَلَيْهِ وَأَنا أَسْمَعُ قالَ: أَخْبَرنا أَبُو الفَضْلِ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ اللهِ الزُّهْرِيُّ قالَ: أَخْبَرنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ الحَسَنِ بنِ المُسْتَفاضِ الفِرْيابِيُّ قالَ: حدَّثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قالَ: حدَّثنا إِسْماعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ نافِعِ بنِ مالِكِ بنِ أَبِي عامِرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: «آيَةُ المُنافِقِ ثَلاثٌ: إِذا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذا ائْتُمِنَ خانَ».

صَحِيحٌ مَنْ حَدِيثِ أَبِي أَنَسٍ مالِكِ بنِ أَبِي عامِرٍ الأَصْبَحِيِّ المَدَنِيِّ وَهُوَ جَدُّ مالِكِ بنِ أَنَسٍ الفَقِيهِ.

اتَّفَقَ الإِمامانِ أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْماعِيلَ البُخارِيُّ وَأَبُو الحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الحَجَّاجِ عَلَى إِخْراجِهِ فِي كِتابَيْهِما، فَأَخْرَجاهُ جَمِيعًا عَنْ أَبِي رَجا قُتَيْبَةَ بنِ سَعِيدٍ، عَنْ إِسْماعِيلَ بنِ جَعْفَرِ بنِ أَبِي كَثِيرٍ المَدَنِيِّ الأَنْصارِيِّ الدَّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ نافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي أَنَسٍ مالِكِ بنِ أَبِي عامِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذا.

وَأَبُو سُهَيْلٍ نافِعُ بْنُ مالِكٍ هُوَ عَمُّ مالِكِ بنِ أَنَسٍ الفَقِيهِ.

وَوَقَعَ هَذا الحَدِيثُ إِلَيْنا عالِيًا مِنْ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ وَمُوافَقَةً أَيْضًا.

 

34 - ‌‌ حَدَّثَنا إِبْراهِيمُ بْنُ عُمَرَ بنِ أَحْمَدَ الفَقِيهُ الرِّضا -أَسْكَنَهُ اللَّهُ جَنَّتَهُ- قالَ: حدَّثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ إِبْراهِيمَ بنِ أَيُّوبَ بنِ ماسِيٍّ قالَ: حدَّثنا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْراهِيمُ
তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না থেকে, তিনি ইমাম আব্দুর রহমান বিন মাহদী বিন হাসসান থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে—যিনি হলেন ইবনে সাঈদ বিন মাসরুক আস-সাওরী—তিনি জুবাইদ থেকে; এবং আবু মুসা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর গুন্দার থেকে, তিনি শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি মানসুর বিন আল-মুতামির থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে। আর মুসলিম এটি আ'মাশ-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেননি, ফলে মনে হয় যেন আমাদের শাইখ আবু আলী ইবনুল মুজহিব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) এটি মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ থেকে শুনেছেন এবং আমাদের নিকট এটি তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ মুসলিমের মৃত্যু আগেই হয়ে গিয়েছে।

 

৩৩ - ‌‌ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ন্যায়পরায়ণ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন আল-হাসান বিন উবাইদ বিন আমর, যিনি ইবনুল মাসলামাহ নামে পরিচিত, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফজল উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আয-জুহরী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-মুস্তাফাদ আল-ফিরইয়াবী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন জাফর, আবু সুহাইল নাফি' বিন মালিক বিন আবু আমির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় তখন সে খিয়ানত করে»।

এটি আবু আনাস মালিক বিন আবু আমির আল-আসবাহী আল-মাদানী-এর হাদীস থেকে সহীহ, এবং তিনি হলেন ফকীহ মালিক বিন আনাস-এর দাদা।

দুই ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ তাঁদের দুই গ্রন্থে এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তাঁরা উভয়েই আবু রাজা কুতাইবা বিন সাঈদ থেকে, তিনি ইসমাইল বিন জাফর বিন আবু কাসীর আল-মাদানী আল-আনসারী আদ-দারাকী থেকে, তিনি আবু সুহাইল নাফি' থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু আনাস মালিক বিন আবু আমির থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর আবু সুহাইল নাফি' বিন মালিক হলেন ফকীহ মালিক বিন আনাস-এর চাচা।

এবং এই হাদীসটি কুতাইবা-এর হাদীস থেকে আমাদের নিকট উচ্চ সনদ হিসেবে এবং একইভাবে মুওয়াফাকাহ হিসেবে পৌঁছেছে।

 

৩৪ - ‌‌ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন উমর বিন আহমদ আল-ফকীহ আর-রিদা—আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আইয়ুব বিন মাসী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম ইব্রাহিম।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১১)
ابْنُ عَبْدِ اللهِ بنِ مُسْلِمٍ البَصْرِيُّ قالَ: حدَّثنا مُسْلِمُ بْنُ إِبْراهِيمَ قالَ: حدَّثنا هِشامٌ -يَعْنِي الدَّسْتُوائِيَّ- عَنْ يَحْيَى بنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «لا يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدُكُمْ رَمَضانَ بِيَوْمٍ(1) وَلا يَوْمَيْنِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ صَوْمًا يَصُومُهُ رَجُلٌ مِنْكُمْ ذَلِكَ الصَّوْمُ».

صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي نَصْرٍ يَحْيَى بنِ أَبِي كَثِيرٍ الطَّائِيِّ اليَمامِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَبْدِ اللهِ بنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ عَوْفٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

اتَّفَقَ البُخارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَلَى إِخْراجِهِ فِي كِتابَيْهِما، فَأَمَّا البُخارِيُّ فَأَخْرَجَهُ عَنْ مُسْلِمِ بنِ إِبْراهِيمَ البَصْرِيِّ(2)، كَما أَخْرَجْناهُ، وَوَقَعَ إِلَيْنا عالِيًا وَمُوافَقَةً، وَأَمَّا مُسْلِمٌ فَأَخْرَجَهُ عَنْ أَبِي مُوسَى مُحَمَّدِ بنِ المُثَنَّى، عَنْ أَبِي عامِرٍ عَبْدِ المَلِكِ بنِ عَمْرٍو العَقَدِيِّ، عَنْ هِشامٍ -وَهُوَ ابْنُ أَبِي عَبْدِ اللهِ الدَّسْتُوائِيُّ، واسْمُ أَبِي عَبْدِ اللهِ سَنْبَرٌ، وَكانَ هِشامٌ يُكْنَى أَبا بَكْرٍ- فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا إِسْحاقَ البَرْمَكِيَّ سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمٍ وحدَّثنا بِهِ عَنْهُ.

 

35 - ‌‌ حَدَّثَنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدِ بنِ المُذْهِبِ قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بنِ حَمْدانَ بنِ مالِكٍ القَطِيعِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو خَلِيفَةَ الفَضْلُ بْنُ الحُبابِ الجُمَحِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو الوَلِيدِ قالَ: حدَّثنا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمانَ، عَنْ أَبِي وايِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قالَ: «يُنْصَبُ لِكُلِّ غادِرٍ لِواءٌ يَوْمَ القِيامَةِ، يُقالُ: هَذِهِ غَدْرَةُ فُلانٍ».

صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي وايِلٍ شَقِيقِ بنِ سَلَمَةَ الأَسْدِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ مَسْعُودٍ.

وَثابِتٍ مِنْ رِوايَةِ أَبِي مُحَمَّدٍ سُلَيْمانَ بنِ مِهْرانَ الأَعْمَشِ، اتَّفَقَ الإِمامانِ جَمِيعًا عَلَى إِخْراجِهِ فِي كِتابَيْهِما.

فَأَمَّا البُخارِيُّ فَأَخْرَجَهُ عَنْ أَبِي الوَلِيدِ كَما أَخْرَجْناهُ، وَهُوَ أَبُو الوَلِيدِ الطَّيالِسِيُّ، واسْمُهُ هِشامُ بْنُ عَبْدِ المَلِكِ، بَصْرِيٌّ مِنْ شُيُوخِهِ الكِبارِ النَّبَلِ، وَوَقَعَ إِلَيْنا عالِيًا وَمُوافَقَةً.

وَأَمَّا مُسْلِمٌ فَأَخْرَجَهُ عَنْ أَبِي مُوسَى وَبِنْدارٍ مُحَمَّدِ بنِ بَشَّارٍ العَبْدِيِّ، جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بنِ إِبْراهِيمَ بنِ أَبِي

--------------------------------------------

(1) سقطت الميم من الأصل.

(2) في الأصل: (النصري).
ইবনে আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম আল-বাসরী বলেছেন: মুসলিম বিন ইব্রাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম—অর্থাৎ আদ-দাস্তুওয়ায়ী—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন রমজানের একদিন বা দুই দিন আগে রোজা না রাখে(১), তবে যদি এমন হয় যে সে ব্যক্তি (ঐ দিনগুলোতে) অভ্যস্ত কোনো রোজা পালন করে থাকে (তবে সে তা রাখতে পারে)»।

এটি আবু নাসর ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর আত-তাঈ আল-ইয়ামামির হাদিস থেকে সহীহ, যা তিনি আবু সালামাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ আজ-জুহরী থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম উভয়ে তাদের কিতাবদ্বয়ে এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন ইব্রাহীম আল-বাসরী থেকে(২), যেভাবে আমরা তা বর্ণনা করেছি, এবং এটি আমাদের কাছে উচ্চ সনদ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ (মুওয়াফাকাত) হিসেবে পৌঁছেছে। আর মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না থেকে, তিনি আবু আমির আব্দুল মালিক বিন আমর আল-আকদী থেকে, তিনি হিশাম থেকে—যিনি ইবনে আবী আব্দুল্লাহ আদ-দাস্তুওয়ায়ী, এবং তাঁর পিতা আবু আব্দুল্লাহর নাম সানবার, আর হিশামের উপনাম ছিল আবু বকর—যেন আমাদের শায়খ আবু ইসহাক আল-বারমাকী এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

 

৩৫ - ‌‌ আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজহিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আল-কাতিয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খলিফা আল-ফজল বিন আল-হুবাব আল-জুমাহী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «কিয়ামতের দিন প্রত্যেক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীর জন্য একটি করে ঝাণ্ডা স্থাপন করা হবে এবং বলা হবে: এটি অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা»।

এটি আবু ওয়াইল শাকীক বিন সালামাহ আল-আসাদীর হাদিস থেকে সহীহ, যা তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি আবু মুহাম্মদ সুলাইমান বিন মিহরান আল-আ’মাশের বর্ণনা থেকে প্রমাণিত। উভয় ইমামই এটি তাদের কিতাবদ্বয়ে বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

বুখারী এটি আবু আল-ওয়ালীদ থেকে বর্ণনা করেছেন যেভাবে আমরা বর্ণনা করেছি, আর তিনি হলেন আবু আল-ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী, তাঁর নাম হিশাম বিন আব্দুল মালিক, তিনি বসরার অধিবাসী এবং তাঁর সুমহান ও মর্যাদাশীল শায়খদের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি আমাদের নিকট উচ্চ সনদ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ (মুওয়াফাকাত) হিসেবে পৌঁছেছে।

আর মুসলিম এটি আবু মুসা এবং বুন্দার মুহাম্মদ বিন বাশশার আল-আবদী—উভয় থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম বিন আবী... থেকে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'মীম' অক্ষরটি বাদ পড়েছে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (আন-নাসরী)।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১১)
عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ.

وَعَنْ إِسْحاقَ بنِ إِبْراهِيمَ بنِ راهَوَيْهِ إِمامِ أَهْلِ زَمانِهِ، عَنِ النَّضْرِ بنِ شُمَيْلٍ، عَنْ شُعْبَةَ.

وَعَنْ عُبَيْدِ اللهِ بنِ سَعِيدٍ، وَهُوَ أَبُو قُدامَةَ السَّرْخَسِيُّ [عن] عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ بِهَذا.

فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا عَلِيِّ ابْنَ المُذْهِبِ سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمٍ وحدَّثنا بِهِ عَنْهُ.

 

36 - ‌‌ حَدَّثَنا إِبْراهِيمُ بْنُ عُمَرَ بنِ أَحْمَدَ الفَقِيهُ مِنْ لَفْظِهِ وَكانَ قُرَّةَ عَيْنٍ لِلْمُسْلِمِينَ رضي الله عنه قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِبْراهِيمَ بنِ أَيُّوبَ قالَ: حدَّثنا إِبْراهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بنِ مُسْلِمٍ البَصْرِيُّ قالَ: حدَّثنا مُسْلِمُ بْنُ إِبْراهِيمَ قالَ: حدَّثنا هِشامٌ قالَ: حدَّثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قالَ: «لا تُنْكَحُ البِكْرُ حَتَّى تُسْتَاذَنَ وَلا الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَامَرَ». قِيلَ: يا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ إِذْنُها؟ قالَ: «إِذا سَكَتَتْ فَهُوَ رِضاها». انْفَرَدَ مُسْلِمٌ بِإِخْراجِهِ فَرَواهُ عَنْ أَبِي مَعْنٍ الرَّقاشِيِّ واسْمُهُ زَيْدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ خالِدِ بنِ الحارِثِ، عَنْ هِشامٍ الدَّسْتُوائِيِّ، عَنْ يَحْيَى بنِ أَبِي كَثِيرٍ، كَتَبَ إِلَيْهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا إِسْحاقَ البَرْمَكِيَّ رضي الله عنه، سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمٍ، وحدَّثنا بِهِ عَنْهُ.

وَيَلْزَمُ البُخارِيَّ إِخْراجُهُ؛ لأَنَّهُ أَخْرَجَ فِي كِتابِهِ أَحادِيثَ بِهَذا الإِسْنادِ عَنْ مُسْلِمِ بنِ إِبْراهِيمَ، عَنْ هِشامٍ الدَّسْتُوائِيِّ، عَنْ يَحْيَى بنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ. فَهَذا شَرْطُهُ وَيَلْزَمُهُ إِخْراجُهُ.

 

37 - ‌‌ حَدَّثَنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدٍ الواعِظُ قالَ: حدَّثنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ
আদী থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে।

এবং ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে রাহওয়ায়হ থেকে, যিনি তাঁর সময়ের ইমাম ছিলেন, তিনি নাদর ইবনে শুমাইল থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে।

এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, যিনি আবু কুদামা আস-সারখাসি, তিনি [থেকে] আবদুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে, তিনি শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে এই সূত্রে।

যেন আমাদের শাইখ আবু আলী ইবনুল মুযহিব এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

 

৩৬ - ‌‌ ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-ফকিহ আমাদের নিকট তাঁর নিজ উচ্চারণে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি ছিলেন মুসলিমদের চোখের শীতলতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি গ্রহণ করা ব্যতীত এবং বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীকে তার পরামর্শ গ্রহণ করা ব্যতীত বিয়ে দেওয়া যাবে না।» জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তার অনুমতি কেমন হবে? তিনি বললেন: «যদি সে চুপ থাকে, তবে সেটাই তার অনুমতি।» ইমাম মুসলিম এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু মা'ন আর-রাকাশি থেকে—যাঁর নাম যাইদ ইবনে ইয়াযিদ—তিনি খালিদ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি তাঁর নিকট লিখেছিলেন আবু সালামাহর সূত্রে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।

যেন আমাদের শাইখ আবু ইসহাক আল-বারমাকি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারির জন্যও এটি বর্ণনা করা আবশ্যক ছিল; কারণ তিনি তাঁর গ্রন্থে এই সনদে মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটি তাঁর শর্তের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর জন্য এটি বর্ণনা করা আবশ্যক ছিল।

 

৩৭ - ‌‌ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়ায়েজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১২)
ابنِ حَمْدانَ بنِ مالِكٍ القَطِيعِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو خَلِيفَةَ الفَضْلُ بْنُ الحُبابِ الجُمَحِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو الوَلِيدِ وَشُعَيْبُ بْنُ مُحْرِزٍ، عَنْ سُلَيْمانَ، عَنْ زَيْدِ بنِ وَهْبٍ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ -يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ- قالَ: حدَّثنا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، وَهُوَ الصَّادِقُ المَصْدُوقُ: «إِنَّ خَلْقَ أَحَدِكُمْ يُجْمَعُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا وَأَرْبَعِينَ لَيْلَةً، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ مَلَكًا، فَيُوْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِماتٍ فَيَقُولُ: اكْتُبْ عَمَلَهُ وَأَجَلَهُ وَرِزْقَهُ وَشَقِيًّا، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الجَنَّةِ حَتَّى ما يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الجَنَّةِ إِلَّا ذِراعٌ فَيَغْلِبُ عَلَيْهِ الكِتابُ الَّذِي سَبَقَ فَيُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُ النَّارَ، وَإِنَّ الرَّجُلَ يَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى ما يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَها إِلَّا ذِراعٌ فَيَغْلِبُ عَلَيْهِ الكِتابُ الَّذِي سَبَقَ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الجَنَّةِ فَيَدْخُلُ الجَنَّةَ».

صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ زَيْدِ بنِ وْهَبٍ -وَهُوَ أَبُو سُلَيْمانَ الجُهَنِيُّ- عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ مَسْعُودٍ.

وَثابِتٍ مِنْ رِوايَةِ أَبِي مُحَمَّدٍ سُلَيْمانُ بْنُ مِهْرانَ الأَعْمَشُ، عَنْهُ.

رَواهُ عَنِ الأَعْمَشِ العَدَدُ الكَبِيرُ والجَمْعُ الغَفِيرُ مِنَ الحُفَّاظِ المُتْقِنِينَ والأَئِمّةَِ المَذْكُورِينَ، واتَّفَقَ الإِمامانِ جَمِيعًا عَلَى إِخْراجِهِ فِي كِتابَيْهِما، فَأَمَّا البُخارِيُّ فَأَخْرَجَهُ عَنْ آدَمَ -وَهُوَ ابْنُ أَبِي إِياسٍ العَسْقَلانِيُّ المَرْوَزِيُّ، وَآدَمُ هَذا يُكْنَى أَبا الحَسَنِ، واسْمُ أَبِيهِ ناهِيَةُ وَهُوَ مِنْ شُيُوخِهِ النَّبَلِ- عَنْ شُعْبَةَ، وَعَنْ أَبِي الوَلِيدِ
ইবনে হামদান বিন মালিক আল-কাতিয়ী বলেছেন: আবু খালিফা আল-ফাদল ইবনুল হুবাব আল-জুমাহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালিদ এবং শুআইব ইবনে মুহরিজ সুলাইমান থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ—অর্থাৎ ইবনে মাসউদ—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—যিনি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত পর্যন্ত জমা করা হয়। তারপর সেটি সমপরিমাণ সময় রক্তপিণ্ড হিসেবে থাকে। তারপর সেটি সমপরিমাণ সময় মাংসপিণ্ড হিসেবে থাকে। এরপর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে চারটি বিষয় (লিপিবদ্ধ করার) নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর আল্লাহ বলেন: তার আমল, তার আয়ু, তার রিজিক এবং সে কি হতভাগ্য নাকি সৌভাগ্যবান—তা লিখে নাও। সুতরাং কোনো ব্যক্তি জান্নাতবাসীর মতো আমল করতে থাকে, এমনকি তার এবং জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এমতাবস্থায় তার ওপর তাকদিরের লিখন প্রবল হয়, ফলে তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে জাহান্নামবাসীর আমলের মাধ্যমে এবং সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার কোনো ব্যক্তি জাহান্নামবাসীর মতো আমল করতে থাকে, এমনকি তার এবং জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এমতাহস্থায় তার ওপর তাকদিরের লিখন প্রবল হয়, তখন সে জান্নাতবাসীর মতো আমল করে এবং জান্নাতে প্রবেশ করে।"

এটি যায়েদ ইবনে ওয়াহাব—যিনি আবু সুলাইমান আল-জুহানি—তার সূত্রে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে একটি সহীহ হাদীস।

এবং এটি আবু মুহাম্মদ সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আ’মাশ কর্তৃক তার থেকে বর্ণিত একটি সাব্যস্ত বর্ণনা।

আল-আ’মাশ থেকে এটি বিপুল সংখ্যক এবং এক বিশাল জামাত অত্যন্ত দক্ষ হাফেজে হাদীস ও প্রথিতযশা ইমামগণ বর্ণনা করেছেন। উভয় ইমাম (বুখারী ও মুসলিম) তাদের কিতাবদ্বয়ে এটি সংকলন করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন আদম থেকে—যিনি ইবনে আবু ইয়াস আল-আসকালানি আল-মারওয়াযি; আদমের উপনাম হলো আবুল হাসান এবং তার পিতার নাম নাহিয়াহ, আর তিনি বুখারীর বিশিষ্ট উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত—তিনি শু'বা থেকে এবং আবুল ওয়ালিদ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১২)
الطَّيالِسِيِّ كَما أَخْرَجْناهُ عَنْ شُعْبَةَ وَوَقَعَ إِلَيْنا عالِيًا وَمُوافَقَةً، وَأَمَّا مُسْلِمٌ فَأَخْرَجَهُ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بنِ مُعاذٍ العَنْبَرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بنِ وَهْبٍ بِهَذا.

فَكَأَنَّ شَيْخَنا أَبا عَلِيِّ بنِ المُذْهِبِ سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمٍ وَحَدَّثَنا بِهِ عَنْهُ.

 

38 - ‌‌ أَخْبَرَنا الزَّاهِدُ أَبُو الحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الحَسَنِ القَزْوِينِيُّ رضي الله عنه قالَ: أَخْبَرنا يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ القَوَّاسُ قالَ: حدَّثنا أَبُو الفَضْلِ العَبَّاسُ بْنُ بِشْرٍ الرَّخَجِيُّ إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ سَنَةَ ثَمانِ عَشْرَةَ وَثَلاثِ مِايَةٍ قالَ: حدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلِ بنِ عَسْكَرٍ قالَ: حدَّثنا إِسْماعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قالَ: حدَّثنا سُلَيْمانُ بْنُ بِلالٍ، عَنْ يَحْيَى بنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بنِ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ كانَ عَلَى حِراءٍ فَتَحَرَّكَ، فَقالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «اثْبُتْ حِراءُ، فَما عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ». وَكانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمانُ وَعَلِيٌّ وَطَلْحَةُ والزُّبَيْرُ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ رضي الله عنهم.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الحَجَّاجِ، عَنْ أَحْمَدَ بنِ يُوسُفَ السُّلَمِيِّ وَعُبَيْدِ اللهِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ يَزِيدَ بنِ خُنَيْسٍ، جَمِيعًا عَنْ إِسْماعِيلَ بنِ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمانَ بنِ بِلالٍ، عَنْ يَحْيَى بنِ سَعِيدٍ -وَهُوَ أَبُو سَعِيدٍ الأَنْصارِيُّ المَدَنِيُّ- عَنْ سُهَيْلِ بنِ أَبِي صالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي صالِحٍ ذَكْوانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذا.

وَلَيْسَ لأَبِي سَعِيدٍ يَحْيَى بنِ سَعِيدٍ عَنْ سُهَيْلِ بنِ أَبِي صالِحٍ فِي الصَّحِيحِ غَيْرُ هَذا الحَدِيثِ، وَلَمْ يُخَرِّجِ البُخارِيُّ لِيَحْيَى بنِ سَعِيدٍ عَنْ سُهَيْلٍ شَيْئًا.
তায়ালিসি যেমনটি আমরা শু'বা থেকে বর্ণনা করেছি এবং এটি আমাদের নিকট উচ্চ সনদে ও ঐকমত্যের সাথে পৌঁছেছে। আর ইমাম মুসলিম এটি উবাইদুল্লাহ বিন মুয়াজ আল-আম্বারি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি যায়িদ বিন ওয়াহব থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

যেন আমাদের শায়খ আবু আলী বিন আল-মুজহিব এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন এবং তিনি আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৩৮ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাহিদ আবু হাসান আলী বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-কাযউইনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন উমর আল-কাওয়াস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-ফজল আল-আব্বাস বিন বিশর আর-রাখাজি ৩১৮ হিজরী সনে তাঁর নিজ কণ্ঠে শ্রুতলিপি করিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সাহল বিন আসকার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলায়মান বিন বিলাল, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেরা পাহাড়ে ছিলেন, তখন সেটি নড়াচড়া করতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে হেরা, স্থির হও! কারণ তোমার ওপর একজন নবী অথবা একজন সিদ্দিক অথবা একজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই।» আর সেখানে উপস্থিত ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবায়ের, সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং সাঈদ বিন যায়িদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।

এটি মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইউসুফ আস-সুলামি এবং উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ বিন খুনাইস থেকে, তাঁরা উভয়ই ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস থেকে, তিনি সুলায়মান বিন বিলাল থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে—যিনি আবু সাঈদ আল-আনসারি আল-মাদানি—তিনি সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু সালিহ জাকওয়ান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই সূত্রে।

আর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ ইয়াহইয়া বিন সাঈদের সূত্রে সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে এই হাদিসটি ব্যতীত আর কোনো হাদিস নেই, এবং ইমাম বুখারী ইয়াহইয়া বিন সাঈদের সূত্রে সুহাইল থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
39 - ‌‌ أَخْبَرَنا أَبُو طالِبٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عُبَيْدِ اللهِ المُوَدِّبُ قالَ: حدَّثنا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بنِ شاهِينَ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ مَنِيعٍ قالَ: حدَّثنا خَلَفُ بْنُ هِشامٍ وأَحْمَدُ بْنُ إِبْراهِيمَ المَوْصِلِيُّ، وَإِسْحاقُ بْنُ إِبْراهِيمَ قالُوا: حدَّثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قالَ حَمَّادٌ: لا أَعْلَمُهُ إِلَّا رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرامٌ، وَكُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ». لَفْظُ خَلَفِ بنِ هِشامٍ.

أَخْرَجَهُ بِتَمامِهِ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي الرَّبِيعِ وَعَنْ أَبِي كامِلٍ الفُضَيْلِ بنِ الحُسَيْنِ الجَحْدَرِيِّ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادِ بنِ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ مُسْنَدًا بِهَذا.

 

40 - ‌‌ حَدَّثَنا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَلِيِّ بنِ أَحْمَدَ بنِ الفَضْلِ الأَزَجِّيُّ مِنْ لَفْظِهِ رضي الله عنه قالَ: أَخبَرَنا إِسْماعِيلُ بْنُ الحَسَنِ بنِ عَلِيِّ بنِ عَتَّاسٍ الصَّيْرَفِيُّ قالَ: حدَّثنا الحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى بنِ عَيَّاشٍ(1) قالَ: حدَّثنا الحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ الصَّبَّاحِ قالَ: حدَّثنا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ قالَ: حدَّثنا حَمَّادٌ قالَ: حدَّثنا ثابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّ أَهْلَ اليَمَنِ قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَقالُوا: ابْعَثْ مَعَنا رَجُلا يُعَلِّمُنا السُّنَّةَ والإِسْلامَ. قالَ: فَأَخَذَ بِيَدِ أَبِي عُبَيْدَةَ فَقالَ: «هَذا أَمِينُ هَذِهِ الأُمَّةِ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ عَمْرِو بنِ مُحَمَّدِ بنِ بُكَيْرٍ النَّاقِدِ، عَنْ عَفَّانَ بنِ مُسْلِمٍ، عَنْ حَمَّادٍ -وَهُوَ ابْنُ سَلَمَةَ بنِ دِينارٍ أَبُو سَلَمَةَ البَصْرِيُّ- عَنْ ثابِتٍ البُنانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بِهَذا.

 

41 - ‌‌ قَرَاتُ عَلَى مُحَمَّدِ بنِ عَلِيِّ بنِ الفَتْحِ: أَخْبَرَكُمْ يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ القَوَّاسُ قالَ: قُرِئَ عَلَى عَبْدِ اللهِ بنِ مُحَمَّدٍ وَأَنا أَسْمَعُ: حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الغَضِيْضِيُّ(2)، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى المِصْرِيُّ قالا: حدَّثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بنِ بُكَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمانَ بنِ يَسارٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «بن عياش الصيرفي قال: حدَّثنا الحسين بن يحيى بن عباس» ولم ينقط «عباس».

(2) في الأصل: «العضيضي» والمثبت من كتب الأنساب والتراجم.
৩৯ - ‌‌ আবু তালিব উমর বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-মুওয়াদ্দাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর বিন আহমাদ বিন শাহীন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মানি' আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালাফ বিন হিশাম, আহমাদ বিন ইবরাহিম আল-মাওসিলি এবং ইসহাক বিন ইবরাহিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন: হাম্মাদ বিন যায়িদ আইয়ুব থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। হাম্মাদ বলেন: আমি কেবল এটি জানি যে তিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত (মারফু) করেছেন, তিনি বলেছেন: «প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম এবং প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই মদ।» এটি খালাফ বিন হিশামের শব্দ।

এটি পূর্ণাঙ্গভাবে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু রাবি' এবং আবু কামিল আল-ফুযায়িল বিন আল-হুসাইন আল-জাহদারী থেকে, তাঁরা উভয়েই হাম্মাদ বিন যায়িদ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এই সনদসহ মুসনাদ হিসেবে।

 

৪০ - ‌‌ আব্দুল আজিজ বিন আলি বিন আহমাদ বিন আল-ফাযল আল-আজাজি তাঁর নিজ মুখনিঃসৃত শব্দে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তিনি বলেন: ইসমাইল বিন আল-হাসান বিন আলি বিন আত্তাস আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন বিন ইয়াহইয়া বিন আইয়্যাশ(১) আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আফফান বিন মুসলিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাবিত আনাস থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যে, ইয়ামেনবাসী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: আমাদের সাথে এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠান যিনি আমাদের সুন্নাহ ও ইসলাম শিক্ষা দেবেন। তিনি বলেন: অতপর তিনি আবু উবায়দাহর হাত ধরলেন এবং বললেন: «ইনি এই উম্মতের আমানতদার (বিশ্বস্ত ব্যক্তি)।»

এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন আমর বিন মুহাম্মদ বিন বুকাইর আন-নাকিদ থেকে, তিনি আফফান বিন মুসলিম থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে —যিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ বিন দিনার আবু সালামাহ আল-বাসরি— তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস থেকে এই সনদে।

 

৪১ - ‌‌ আমি মুহাম্মদ বিন আলি বিন আল-ফাতহ-এর নিকট পাঠ করেছি: ইউসুফ বিন উমর আল-কাওয়াস আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম: মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-গাদিশি(২) এবং আহমাদ বিন ঈসা আল-মিসরি আপনাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব মাখরামাহ বিন বুকাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যে, তিনি শুনেছেন...

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: «বিন আইয়্যাশ আস-সাইরাফি বলেন: আল-হুসাইন বিন ইয়াহইয়া বিন আব্বাস» এবং «আব্বাস» শব্দটিতে নুকতা (ফোটা) দেওয়া হয়নি।

(২) মূলে রয়েছে: «আল-আদীদী», কিন্তু বংশনাম ও জীবনীগ্রন্থসমূহ থেকে যা নিশ্চিত হওয়া গেছে তা হলো «আল-গাদিশি»।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
مالِكَ بْنَ أَبِي عامِرٍ يُحَدِّثُ عَنْ عُثْمانَ بنِ عَفَّانَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْه قالَ: «لا تَبِيعُوا الدِّينارَ بِالدِّينارَيْنِ وَلا الدِّرْهَمَ بِالدِّرْهَمَيْنِ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَحْمَدَ بنِ عِيسَى المِصْرِيِّ، كَما أَخْرَجْناهُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ وَهْبٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بنِ بُكَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمانَ بنِ يَسارٍ، عَنْ مالِكِ بنِ أَبِي عامِرٍ الفَقِيهِ المَدَنِيِّ.

وَوَقَعَ إِلَيْنا عالِيًا مِنْ حَدِيثِ أَحْمَدَ بنِ عِيسَى المِصْرِيِّ وَمُوافَقَةً.

 

42 - ‌‌ حَدَّثَنا أَبُو الحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بنِ أَحْمَدَ البَرْمَكِيُّ أَخُو شَيْخِنا إِبْراهِيمَ قالَ: حدَّثنا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بنِ هارُونَ أَبُو حَفْصٍ الآجُرِّيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو عَبْدِ اللهِ الحُسَيْنُ بْنُ إِسْماعِيلَ المَحامِلِيُّ الضَّبِّيُّ قالَ: حدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ الوَلِيدِ البُسْرِيُّ(1) قالَ: حدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قالَ: حدَّثنا شُعْبَةُ قالَ: حدَّثنا الحَكَمُ، عَنْ سَعِيدِ بنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ «أَنَّ الصَّعْبَ بْنَ جَثَّامَةَ أَهْدَى لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَهُوَ بِقَدِيدٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَخِذَ حِمارٍ فَرَدَّهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَهُوَ يَقْطُرُ دَمًا».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ(2) بِنْدارٍ مُحَمَّدِ بنِ بَشَّارٍ وَمُحَمَّدِ بنِ المُثَنَّى، جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بنِ جَعْفَرٍ وَهُوَ غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ بنِ الحَجَّاجِ، عَنِ الحَكَمِ -وَهُوَ ابْنُ عُتَيْبَةَ أَبُو مُحَمَّدٍ- عَنْ سَعِيدِ بنِ جُبَيْرٍ بِهَذا.

 

43 - ‌‌ أَخْبَرَنا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بنِ مُحَمَّدٍ القَزْوِينِيُّ قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ صالِحِ بنِ عُمَرَ الأَبْهَرِيُّ الفَقِيهُ المالِكِيُّ إِمْلاءً سَنَةَ خَمْسٍ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِايَةٍ قالَ: حدَّثنا أَبُو عَرُوبَةَ قالَ: حدَّثنا بِنْدارٌ وَأَبُو مُوسَى وَيَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ قالُوا: حدَّثنا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ قالَ: أَخْبَرَنِي نافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قالَ: «أَيُّما نَخْلٍ بِيعَتْ أُصُولُها فَثَمَرَتُها لِلَّذِي أَبَّرَها، إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَ المُبْتاعُ».

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ أَبِي مُوسَى وَهُوَ

--------------------------------------------

(1) على السين في الأصل فتحة.

(2) في الأصل زيادة: «أَبِي».
মালিক বিন আবি আমির বর্ণনা করেন উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা একটি দিনারের বিনিময়ে দুটি দিনার এবং একটি দিরহামের বিনিময়ে দুটি দিরহাম বিক্রি করো না।»

এটি ইমাম মুসলিম আহমদ বিন ঈসা আল-মিসরি থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব থেকে, তিনি মাখরামা বিন বুকাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে, তিনি মদিনার ফকিহ মালিক বিন আবি আমির থেকে।

এবং এটি আমাদের নিকট আহমদ বিন ঈসা আল-মিসরির হাদিস থেকে উচ্চ সনদে ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পৌঁছেছে।

 

৪২ - ‌‌ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমাদের শাইখ ইবরাহিমের ভাই আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমদ আল-বারমাকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উমর বিন আহমদ বিন হারুন আবু হাফস আল-আজুরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি আদ-দাব্বি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-বুসরি(১) তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাকাম, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, «সাআব বিন জাসসামা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাদিদ নামক স্থানে থাকা অবস্থায় এবং তিনি ইহরাম পরিহিত থাকাকালীন একটি বন্য গাধার পা উপহার দিয়েছিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যখন সেটি থেকে রক্ত ঝরছিল।»

এটি ইমাম মুসলিম বুন্দার মুহাম্মদ বিন বাশশার এবং মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে মুহাম্মদ বিন জাফর থেকে—যিনি গুন্দার নামে পরিচিত—তিনি শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি আল-হাকাম থেকে—যিনি ইবনে উতাইবা আবু মুহাম্মদ—তিনি সাঈদ বিন জুবায়েরের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৪৩ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-কাযউইনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট তিনশ পঁচাত্তর হিজরি সনে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন উমর আল-আবহরি আল-মালিকি আল-ফকিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আরুবাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বুন্দার, আবু মুসা এবং ইয়াহইয়া বিন হাকিম, তারা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: আমাকে নাফে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «যদি কোনো খেজুর গাছ তার মূলসহ বিক্রি করা হয়, তবে তার ফল সেই ব্যক্তির জন্য থাকবে যে তাতে পরাগায়ন করেছে, যদি না ক্রেতা শর্তারোপ করে।»

এটি ইমাম মুসলিম আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হলেন

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'সীন' বর্ণের ওপর জবর রয়েছে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'আবি' শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১৪)
مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى وَحْدَهُ عَنْ يَحْيَى -وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ القَطَّانُ أَبُو سَعِيدٍ الأَحْوَلُ البَصْرِيُّ، إِمامُ أَهْلِ زَمانِهِ- عَنْ عُبَيْدِ اللهِ -هُوَ ابْنُ عُمَرَ بنِ حَفْصِ بنِ عاصِمِ بنِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ أَبُو عُثْمانَ العَدَوِيُّ- عَنْ نافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ.

وَوَقَعَ إِلَيْنا عالِيًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى وَمُوافَقَةً.

 

44 - ‌‌ أَخْبَرَنا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَلِيٍّ الأَزَجِّيُّ قالَ: أَخبَرَنا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ عَلِيِّ بنِ الزَّيَّاتِ قالَ: أَخْبَرنا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ الحَسَنِ بنِ المُسْتَفاضِ الفِرْيابِيُّ قالَ: حدَّثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مالِكٍ، عَنْ إِسْحاقَ بنِ عَبْدِ اللهِ بنِ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مالِكٍ قالَ: قالَ أَبُو طَلْحَةَ لأُمِّ سُلَيْمٍ: لَقَدْ سَمِعْتُ صَوْتَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ضَعِيفًا أَعْرِفُ فِيهِ الجُوعَ، فَهَلْ عِنْدَكِ مِنْ شَيْءٍ؟ قالَتْ: نَعَمْ.

فَأَخْرَجَتْ أَقْراصًا مِنْ شَعِيرٍ، ثُمَّ أَخَذَتْ خِمارًا لَها، فَلَفَّتِ الخُبْزَ بِبَعْضِهِ وَرَدَّتْنِي بِبَعْضِهِ، ثُمَّ أَرْسَلَتْنِي إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قالَ: فَذَهَبْتُ فَوَجَدْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْه فِي المَسْجِدِ وَمَعَهُ النَّاسُ، فَقُمْتُ عَلَيْهِمْ فَقالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «أَرْسَلَكَ أَبُو طَلْحَةَ؟» فَقُلْتُ: نَعَمْ. قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ لِمَنْ مَعَهُ: «قُومُوا». قالَ: فانْطَلَقُوا وانْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِهِمْ حَتَّى جِيْتُ أَبا طَلْحَةَ فَأَخْبَرْتُهُ، فَقالَ أَبُو طَلْحَةَ: يا أُمَّ سُلَيْمٍ قَدْ جاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَيْسَ عِنْدَنا مِنَ الطَّعامِ ما نُطْعِمُهُمْ. فَقالَتِ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. فانْطَلَقَ أَبُو طَلْحَةَ حَتَّى لَقِيَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَبُو طَلْحَةَ حَتَّى دَخَلا، فَقالَ رَسُولُ اللهِ: «هَلُمِّي يا أُمَّ سُلَيْمٍ ما عِنْدَكِ».
মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না এককভাবে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আবু সাঈদ আল-আহওয়াল আল-বাসরি, তাঁর সময়ের ইমাম—উবাইদুল্লাহ থেকে—তিনি হলেন ইবনে উমর ইবনে হাফস ইবনে আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব আবু উসমান আল-আদাবি—নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।

আবু মুসার হাদিস থেকে এটি আমাদের কাছে উচ্চ সনদে এবং মুওয়াফাকাত হিসেবে পৌঁছেছে।

 

৪৪ - ‌‌ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আলী আল-আজজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আয-যাইয়্যাত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনুল মুস্তাফাদ আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ, মালেক থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেককে বলতে শুনেছেন যে, আবু তালহা উম্মু সুলাইমকে বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কণ্ঠস্বর ক্ষীণ শুনলাম, যাতে আমি ক্ষুধার ছাপ বুঝতে পারলাম; তোমার কাছে কি কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

অতঃপর তিনি যবের কয়েকটি রুটি বের করলেন, এরপর নিজের ওড়না নিলেন এবং রুটিগুলোর কিছু অংশ তাতে পেঁচালেন আর ওড়নার বাকি অংশ দিয়ে আমাকে জড়িয়ে দিলেন। এরপর আমাকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি (আনাস) বলেন: আমি গেলাম এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মসজিদে পেলাম, তাঁর সাথে লোকজন ছিল। আমি তাদের সামনে দাঁড়ালে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তোমাকে কি আবু তালহা পাঠিয়েছেন?» আমি বললাম: হ্যাঁ। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সঙ্গীদের বললেন: «উঠো»। তিনি বলেন: তাঁরা রওনা হলেন এবং আমিও তাঁদের অগ্রভাগে চলতে থাকলাম, যতক্ষণ না আমি আবু তালহার কাছে পৌঁছে তাঁকে সংবাদ দিলাম। তখন আবু তালহা বললেন: হে উম্মু সুলাইম! আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো চলে এসেছেন, অথচ আমাদের কাছে তাঁদের খাওয়ানোর মতো কোনো খাবার নেই। তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। অতঃপর আবু তালহা বেরিয়ে গিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু তালহা এগিয়ে এলেন এবং তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে উম্মু সুলাইম! তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে এসো»।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১৪)
فَأَتَتْهُ بِذَلِكَ الخُبْزِ، فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَفُتَّ، وَعَصَدَتْ أُمَّ سُلَيْمٍ عُكَّةً لَها فَأَدَمَتْهُ، ثُمَّ قالَ فِيهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ما شاءَ أَنْ يَقُولَ. ثُمَّ قالَ: «ائْذَنْ لِعَشَرَة». فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، ثُمَّ خَرَجُوا، ثُمَّ قالَ: «ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ». فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، ثُمَّ خَرَجُوا، ثُمَّ قالَ: «ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ». فَأَكَلَ القَوْمُ كُلُّهُمْ وَشَبِعُوا، والقَوْمُ سَبْعُونَ أَوْ ثَمانُونَ رَجُلًا.

أَخْرَجَهُ البُخارِيُّ عَنْ قُتَيْبَةَ بنِ سَعِيدٍ، عَنْ مالِكِ بنِ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحاقَ بنِ عَبْدِ اللهِ بنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بنِ مالِكٍ.

وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ يَحْيَى بنِ يَحْيَى، عَنْ مالِكٍ.

وَيَلْزَمُ مُسْلِمًا إِخْراجُهُ عَنْ قُتَيْبَةَ، عَنْ مالِكٍ؛ لأَنَّهُ أَخْرَجَ بِهَذا الإِسْنادِ أَحادِيثَ فَهَذا شَرْطُهُ وَيَلْزَمُهُ إِخْراجُهُ.

- حَدَّثَنا الإِمامُ أَبُو يَعْلَى ابْنُ الفَرَّا رضي الله عنه قالَ: أخبَرَنا أَبُو الحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مَعْرُوفٍ البَزَّازُ قالَ: حدَّثنا أَبُو عَبْدِ اللهِ -هُوَ الحُسَيْنُ بْنُ إِسْماعِيلَ المَحامِلِيُّ- قالَ: حدَّثنا إِدْرِيسُ قالَ: حدَّثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مُحَمَّدٍ العابِدُ العَبَادانيُّ قالَ: حدَّثنا أَبِي، عَنْ حَمَّادِ بنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ السِّخْتِيانِيِّ قالَ: مَنْ أَحَبَّ عَلِيًّا فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالعُرْوَةِ الوُثْقَى، وَمَنْ قالَ الحَقَّ فِي أَصْحابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَدْ بَرِئَ مِنَ النِّفاقِ.

- أَخْبَرَنا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ الحَسَنِ القَزْوِينِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
অতঃপর তিনি সেই রুটি নিয়ে আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটি চূর্ণ করার নির্দেশ দিলেন এবং তা চূর্ণ করা হলো। উম্মে সুলাইম তাঁর একটি ঘিয়ের পাত্র থেকে তা বের করে সেটিকে তরকারির মতো সিক্ত করলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাতে যা বলার তা বললেন। তারপর তিনি বললেন: «দশজনকে অনুমতি দাও»। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন, ফলে তারা খেলেন এবং তৃপ্ত হলেন, অতঃপর বেরিয়ে গেলেন। পুনরায় তিনি বললেন: «দশজনকে অনুমতি দাও»। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন, ফলে তারা খেলেন এবং তৃপ্ত হলেন, অতঃপর বেরিয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: «দশজনকে অনুমতি দাও»। ফলে সেই দলের সকলেই খেলেন এবং তৃপ্ত হলেন। আর সেই দলটি ছিল সত্তর বা আশিজন লোকের।

এটি ইমাম বুখারী কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে, আর তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি ইমাম মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিমের জন্যও এটি কুতাইবা থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করা আবশ্যক ছিল; কারণ তিনি এই সনদে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুতরাং এটি তাঁর শর্তের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি বর্ণনা করা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল।

- ইমাম আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মারূফ আল-বায্যায, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ - তিনি হলেন হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল-মাহামিলী - তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইদরীস, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুস সামাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আবিদ আল-আবাদানী, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী থেকে বর্ণনা করেন: যে ব্যক্তি আলীকে ভালোবাসল সে সুদৃঢ় হাতল ধারণ করল, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের ব্যাপারে সত্য কথা বলল, সে নিফাক থেকে মুক্ত হলো।

- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-কাযওয়ীনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতু আলা শারতিল ইমামাইন (পৃষ্ঠা: ১৫)
قالَ: حدَّثنا يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ بنِ مَسْرُورٍ القَوَّاسُ قالَ: قُرِئَ عَلَى مُحَمَّدِ بنِ مَخْلَدٍ وَأَنا أَسْمَعُ: حَدَّثَكُمْ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ أَبُو جَعْفَرٍ قالَ: سَمِعْتُ بِشْرَ بْنَ الحارِثِ قالَ: سَمِعْتُ سُفْيانَ بْنَ عُيَيْنَةَ قالَ: كانَ سُفْيانَ الثَّوْرِيَّ ثَوْبٌ مَمْدُودٌ عَلَى العُلَماءِ، فَلَمَّا ماتَ الثَّوْرِيُّ كُشِفَ الثَّوْبُ عَنْهُمْ.

- حَدَّثَنا أَبُو عَلِيٍّ الحَسَنُ بْنُ عُمَرَ بنِ أَحْمَدَ البَرْمَكِيُّ أَخُو شَيْخِنا رضي الله عنهما قالَ: حدَّثنا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بنِ هارُونَ أَبُو حَفْصٍ الآجُرِّيُّ إِمْلاءً قالَ: حدَّثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بنِ إِبْراهِيمَ قالَ: حدَّثنا إِسْحاقُ بْنُ إِبْراهِيمَ الأَنْماطِيُّ قالَ: حدَّثنا ابْنُ أَبِي الحَوارِيِّ قالَ: رَأَيْتُ أَبا سُلَيْمانَ حِينَ أَرادَ أَنْ يُلَبِّيَ غُشِيَ عَلَيْهِ، فَلَمَّا أَفاقَ قالَ: أَحْمَدُ بَلَغَنِي أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَوْحَى إِلَى مُوسَى عليه السلام: مُرْ ظَلَمَةَ بَنِي إِسْرائِيلَ يُقِلُوا ذِكْرِي، فَإِنِّي ذاكِرٌ مَنْ ذَكَرَنِي مِنْهُمْ بِلَعْنَةٍ حَتَّى يَسْكُتَ. يا أَحْمَدُ بَلَغَنِي أَنَّهُ إِذا حَجَّ مِنْ غَيْرِ حِلِّهِ فَلَبَّى قِيلَ لَهُ: لا لَبَّيْكَ وَلا سَعْدَيْكَ حَتَّى تَرُدَّ ما فِي يَدَيْكَ، فَما يُوَمِّنَّا أَنْ يُقالَ لَنا مِثْلُ هَذا، ثُمَّ لَبَّى.

آخِرَ الجزءِ الأوَّلِ، والحمدُ للهِ ربِّ العالمينَ وصَلَوَاتُهُ عَلَى سَيِّدِنا مُحَمَّدٍ النَّبيِّ وآلِهِ وَسَلِّم.

 

‌‌ ‌‌[سماعات الجزء]

بَلَغَ مِنْ أَوَّلِ هَذَا الجُزْءِ سَماعًا عَلَى الشَّريفِ الجَلِيلِ أَبِي العِزِ مُحمَّدِ بنِ المُخْتَارِ بنِ مُحمَّدِ بنِ المُؤَيَّدِ باللهِ رضي الله عنه صاحِبُهُ أَبُو مُحمَّد يَلْتِكِين بن أَخْيَار التُّركيُّ وأبو بَكْر المُبَاركِ بنِ كامِلِ بنِ أَبِي غالِبٍ الحَنْبَلِيُّ وعدْلانَ بنِ أَحْمَدَ بنِ مُحَمَّدِ بنِ مَتَّى السفلاطوني بِقراءةِ هَزارِ ستْ بنِ عَوَض بنِ الحَسنِ الهَرويِّ، وذلكَ في ذيِ الحَجَّةِ مِن سَنَةِ ستٍّ وخمسِ مائةٍ على بابِ دارِهِ بالحَرِيمِ الطَّاهريِّ.
তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউসুফ ইবনে উমর ইবনে মাসরুর আল-কাওয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম: আপনাদের নিকট আহমদ ইবনে মনসুর আবু জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিশর ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: সুফিয়ান সাওরি আলেমদের ওপর এক প্রসারিত চাদর স্বরূপ ছিলেন, অতঃপর যখন সাওরি মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তাদের ওপর থেকে সেই চাদর সরিয়ে নেওয়া হলো।

- আমাদের নিকট আবু আলী হাসান ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-বারমাকি বর্ণনা করেছেন, যিনি আমাদের শাইখের ভাই, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উমর ইবনে আহমদ ইবনে হারুন আবু হাফস আল-আজুররি শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-আনমাতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল আবিল হাওয়ারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সুলাইমানকে দেখেছি যখন তিনি তালবিয়া পাঠ করতে চাইলেন, তখন তিনি মূর্ছা গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, তিনি বললেন: হে আহমদ, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ মুসা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি ওহি পাঠিয়েছেন: বনী ইসরাঈলের জালেমদের নির্দেশ দাও যেন তারা আমার জিকির কম করে, কেননা তাদের মধ্যে যে আমাকে স্মরণ করবে, আমি তাকে লানত বা অভিসম্পাত সহকারে স্মরণ করব যতক্ষণ না সে নীরব হয়। হে আহমদ, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, যখন কেউ অবৈধ উপার্জন নিয়ে হজ করে এবং তালবিয়া পাঠ করে, তখন তাকে বলা হয়: 'তোমার তালবিয়া কবুল নয় এবং তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই, যতক্ষণ না তুমি তোমার হাতে যা আছে তা ফিরিয়ে দাও।' সুতরাং আমাদের ক্ষেত্রেও যে এমনটি বলা হবে না, সে ব্যাপারে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারি? এরপর তিনি তালবিয়া পাঠ করলেন।

প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি, এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর।

 

‌‌ ‌‌[খণ্ডের শ্রবণ বিবরণ]

এই খণ্ডের শুরু থেকে শ্রবণ সম্পন্ন হয়েছে সম্মানিত মহৎ ব্যক্তিত্ব আবু আল-ইজ্জ মুহাম্মদ ইবনুল মুখতার ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুয়ায়্যিদ বিল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট; তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন আবু মুহাম্মদ ইয়ালতিকিন ইবনে আখইয়ার আত-তুর্কি, আবু বকর আল-মুবারক ইবনে কামিল ইবনে আবু গালিব আল-হানবালি এবং আদলান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাত্তা আস-সিফলাতুনি। এটি পাঠ করেছেন হাজার সিত ইবনে আওয়াদ ইবনুল হাসান আল-হারাবি। এটি সম্পন্ন হয়েছে পাঁচশত ছয় হিজরি সনের জিলহজ মাসে, হারিম আত-তাহিরিতে তাঁর বাসগৃহের দ্বারে।