0/0
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: -)
قواعد الأصول ومعاقد الفصول   (صفي الدين عبد المؤمن القطيعي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: قواعد الأصول ومعاقد الفصول

(مختصر تحقيق الأمل في علمي الأصول والجدل)

المؤلف: صفي الدين عبد المؤمن بن عبد الحق القطيعي البغدادي الحنبلي (ت 739 هـ)

ومعه: حاشية نفيسة لمحمد جمال الدين بن محمد سعيد القاسمي (ت 1332 هـ)

المحقق: أنس بن عادل اليتامى - عبد العزيز بن عدنان العيدان

الناشر: ركائز للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م

عدد الصفحات: 199

أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الأولى 1443

কাওয়াইদুল উসুল ওয়া মাআকিদুল ফুসুল   (সফিউদ্দীন আব্দুল মুমিন আল-কাতিয়ি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


বই: কাওয়াইদুল উসুল ওয়া মাআকিদুল ফুসুল

(তাহকিকুল আমাল ফি ইলমাই আল-উসুল ওয়াল জাদাল-এর সংক্ষিপ্তসার)

লেখক: সফিউদ্দীন আব্দুল মুমিন বিন আব্দুল হক আল-কাতিয়ি আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরি)

এবং সাথে রয়েছে: মুহাম্মদ জামালুদ্দীন বিন মুহাম্মদ সাইদ আল-কাসিমির (মৃত্যু ১৩৩২ হিজরি) একটি মূল্যবান টীকা

গবেষক ও সম্পাদক: আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা - আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান

প্রকাশক: রাকাইজ প্রকাশনী ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৯

শামেলার জন্য উপহার দিয়েছেন: রাকাইজ প্রকাশনী ও বিতরণ؛ আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[বইটির নাম্বার বিন্যাস মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদিউল উলা ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৩)
قواعد الأصول ومعاقد الفصول

مختصر تحقيق الأمل في علمي الأصول والجدل

للعلامة

صفي الدين عبد المؤمن بن عبد الحق القطيعي البغدادي الحنبلي

ت: 739 هـ

ومعه حاشية نفيسة

لعلامة الشام محمد جمال الدين بن محمد سعيد القاسمي

ت: 1332 هـ

حقق على نسختين خطيتين

تحقيق

د. أنس بن عادل اليتامى

د. عبد العزيز بن عدنان العيدان
কাওয়াইদুল উসুল ওয়া মাআকিদুল ফুসুল

উসুল (الأصول) ও জাদাল (الجدل) শাস্ত্রদ্বয়ের 'তাহকীকুল আমাল'-এর সংক্ষিপ্তসার

আল্লামা

সফিউদ্দিন আব্দুল মুমিন বিন আব্দুল হক আল-কাতিয়ি আল-বাগদাদি আল-হাম্বলির রচিত

ওফাত: ৭৩৯ হিজরি

এবং সাথে রয়েছে একটি মূল্যবান টীকা (حاشية)

শামের আল্লামা মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন বিন মুহাম্মাদ সাঈদ আল-কাসিমির রচিত

ওফাত: ১৩৩২ হিজরি

দুইটি পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত

সম্পাদনা (تحقيق)

ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা

ড. আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৫)
وبه نستعين

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد؛

فإن علم أصول الفقه من العلوم المُعِينة على فهم الشريعة الغراء، وآلة مهمة لمعرفة الملة السمحاء، فَبِه يُدرِك المتفقه مُنيته، وينال القاصد بُغيته، فلا غنى لطالب العلم عن دراسته، ولا للفقيه عن مدارسته.

وكان من عناية الله بهذه الأمة أن هيأ لها من أهلها من يُعنى بصيانة الأفهام عمَّا دخلها من علم الفلسفة والكلام، ويحفظ عليها اللسان عما داخلها من العُجمة في النطق والبيان، فألَّف أوَّلًا الإمام المطلبي، محمد بن إدريس الشافعي كتابه
এবং তাঁরই কাছে আমরা সাহায্য প্রার্থনা করছি

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

অতঃপর;

নিশ্চয়ই উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) হলো এমন এক শাস্ত্র যা সমুজ্জ্বল শরিয়াহ অনুধাবনে সহায়তা করে এবং এটি সহজ-সরল দ্বীন সম্পর্কে জানার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মাধ্যমেই একজন ফকিহ (فقيه) তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেন এবং সত্যান্বেষী তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল করেন। তাই একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এটি অধ্যয়ন করা এবং ফকিহের (فقيه) জন্য এটি নিয়মিত চর্চা করা অপরিহার্য।

আর এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি এই জাতির মধ্য থেকেই এমন কিছু মানুষকে তৈরি করেছেন যারা মানুষের বোধ ও চিন্তাধারাকে দর্শন এবং কালাম (كلام) শাস্ত্রের অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষা করেন। তাঁরা মানুষের জিহ্বাকে বাকভঙ্গি ও বর্ণনার ক্ষেত্রে অনারবি ভাষার প্রভাব থেকেও সুরক্ষা প্রদান করেন। ফলশ্রুতিতে ইমাম মুত্তালিবী, মুহাম্মাদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ সর্বপ্রথম তাঁর কিতাবটি রচনা করেন।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৬)
«الرسالة»، فأجاد وبلغ بها الغاية، وصار بفضل الله عليه وعلى المسلمين مرجعًا للمؤلفين، وأصلًا للمصنفين، وصار العلماء يأخذون مما صنفه الشافعي بقوة، ويضيفون ويوسِّعون بحسب ما أُوتِيَه كلُّ مؤلِّف منهم من العلوم، وما رزقه الله من الفهوم.

ولما كانت المؤلفات في علم الأصول متنوعة، ومشارب مصنفيها مختلفة، وكان الغالب على المختصر منها طغيان الغموض وغلبة الإلغاز؛ بحثنا في تلكم المختصرات لنستخرج منها مختصرًا مليحًا صالحًا للمبتدئين، ومعينًا للمتوسطين، ومذكِّرًا للمنتهين، فأرشدنا الله بحكمته ولطفه إلى مختصرٍ هو في بابه غايةٌ في الإبداع والتصنيف، عالي الرتبة في الإيجاز والتأليف، وهو المختصر المعروف بـ «قَوَاعِدِ الْأُصُولِ وَمَعَاقِدِ الْفُصُولِ»، لصفي الدين عبد المؤمن بن عبد الحق القَطِيعي البغدادي الحنبلي رحمه الله.

فاستعنَّا بالله تعالى على تحقيقه غاية الجهد، وألحقناه بتعليقاتٍ منيفةٍ، وحاشيةٍ نافعةٍ مفيدةٍ، للعلامة جمال الدين القاسمي رحمه الله، منقولة من خطِّه.

كما عَمَدنا إلى تيسير المتن للمتلقي، بحيث يسهل عليه التعرف على المسائل الرئيسة في المتن وما يتفرع عنها، والأقوال المذكورة فيها وقائليها، والأقسام والأنواع والشروط المذكورة فيها، فوفقنا الله ليكون المختصر بهذه الحُلَّة، فالله
'আর-রিসালাহ', তিনি তাতে পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন এবং এর মাধ্যমে চরম উৎকর্ষে পৌঁছেছেন। আল্লাহর অনুগ্রহে এটি তাঁর জন্য এবং মুসলিমদের জন্য লেখকদের নিকট একটি রেফারেন্স এবং সংকলকদের জন্য মূলে (أصل) পরিণত হয়েছে। ওলামায়ে কেরাম ইমাম শাফেয়ি যা সংকলন করেছেন তা থেকে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করতে শুরু করেন এবং তাঁদের প্রত্যেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার যে নেয়ামত প্রাপ্ত হয়েছেন, সেই অনুযায়ী তাতে সংযোজন ও সম্প্রসারণ করতে থাকেন।

যেহেতু উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ বৈচিত্র্যময় এবং এগুলোর সংকলকদের দৃষ্টিভঙ্গিও ভিন্ন ভিন্ন, আর এগুলোর সংক্ষিপ্ত (مختصر) সংস্করণগুলোর ওপর অস্পষ্টতা ও জটিলতার প্রাধান্য ছিল; তাই আমরা সেই সংক্ষিপ্তসারগুলোর (مختصرات) মধ্যে অনুসন্ধান চালিয়েছি যাতে এমন একটি চমৎকার সংক্ষিপ্তসার (مختصر) বের করা যায় যা নবীনদের জন্য উপযোগী, মধ্যবর্তীদের জন্য সহায়ক এবং উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্মারক হিসেবে কাজ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞা ও অনুগ্রহে আমাদের এমন একটি সংক্ষিপ্তসারের (مختصر) দিশা দিয়েছেন যা নিজ বিষয়ের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা ও বিন্যাসের দিক থেকে অনন্য এবং সংক্ষেপণ ও রচনার দিক থেকে উচ্চমানের। এটি সাফিউদ্দিন আব্দুল মুমিন ইবনে আব্দুল হক আল-কাতিয়ি আল-বাগদাদি আল-হানবালি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'কাওয়াইদুল উসুল ওয়া মায়াক্বিদুল ফুসুল'।

আমরা মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এর সম্পাদনার (تحقيق) কাজে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং আল্লামা জামালুদ্দিন আল-কাসিমি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হস্তলিপি থেকে সংগৃহীত তাঁর চমৎকার মন্তব্য ও উপকারী টীকা এতে যুক্ত করেছি।

সেই সঙ্গে আমরা পাঠকদের জন্য মূল পাঠ (متن) সহজ করার সঙ্কল্প করেছি, যাতে তাদের জন্য মূল পাঠের (متن) প্রধান মাসআলাসমূহ এবং তা থেকে উদ্ভূত বিষয়সমূহ, তাতে বর্ণিত বক্তব্য ও বক্তাদের পরিচয় এবং উল্লিখিত বিভাগসমূহ, প্রকারভেদ (أنواع) ও শর্তাবলি (شروط) চেনা সহজ হয়। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিয়েছেন যাতে সংক্ষিপ্তসারটি (مختصر) এই আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়। অতঃপর আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৭)
نسأل أن تقر بها عينك وينشرح لها صدرك، وهو الموفق والهادي إلى الخير والصلاح.

ولا يخفى أن ثَمَّ مواطنَ في مثل هذا العمل خاصة تختلف فيها أنظار النظار، إلا أن ذلك لا يُغلق باب تسهيل العلم على المتفقهين، وتقريبه للطالبين، ولا يزال هذا التسهيل والتقريب محل اهتمام المؤلفين والعلماء المصلحين، فما كان فيه من صواب فمن الله وحده، وما كان من اجتهاد خاطئ فمنَّا ومن الشيطان، ونرجو من الله العفو والغفران، ومن القارئ النصح والبيان.

والحمد لله رب العالمين

المحققان
আমরা প্রার্থনা করি যে, এর মাধ্যমে আপনার চক্ষু শীতল হোক এবং আপনার বক্ষ প্রশস্ত হোক; আর তিনিই কল্যাণ ও সততার পথে তাওফিকদাতা ও পথপ্রদর্শক।

এটা অস্পষ্ট নয় যে, বিশেষত এই ধরণের কাজে এমন কিছু ক্ষেত্র থাকে যেখানে পর্যালোচনাকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা হতে পারে; তবে তা ফিকহ অন্বেষণকারীদের জন্য জ্ঞান অর্জন সহজ করার এবং জ্ঞানপিপাসুদের জন্য তা নিকটবর্তী করার দ্বার রুদ্ধ করে না। এই সহজীকরণ ও নিকটবর্তী করার বিষয়টি লেখক ও সংস্কারক আলেমদের নিকট সর্বদা বিশেষ গুরুত্বের বিষয় হয়ে আছে। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল ইজতিহাদ (اجتهاد) হয়েছে তা আমাদের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা এবং পাঠকের নিকট সদুপদেশ ও বর্ণনা প্রত্যাশা করছি।

আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

সম্পাদনাকারীদ্বয়
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌إسناد كتاب قواعد الأصول ومعاقد الفصول

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وعلى آله وصحبه ومن اتبع هداه واستن بسنته إلى يوم الدين، أما بعد:

فهذا إسنادنا إلى كتاب «قَوَاعِدِ الأُصُولِ وَمَعَاقِدِ الفُصُولِ» وغيره من كتب العلامة صفي الدين عبد المؤمن بن عبد الحق القطيعي البغدادي رحمه الله، نرويه إجازة عن شيخنا الشيخ عبد الله ابن العلامة حمود بن عبد الله التويجري، قال: أخبرني والدي حمود التويجري، قال: أخبرنا القاضي عبد الله بن عبد العزيز العنقري، قال: أخبرنا محمد بن إبراهيم بن محمود النجدي الحنبلي، قال: أخبرنا الشيخ عبد الله أبا بُطين، قال: أخبرنا حمد بن ناصر بن معمر، عن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب.

(ح) ويرويه الشيخ عبد الله العنقري عن عبد الله بن عبد اللطيف آل الشيخ والشيخ حمد بن محمد بن فارس، كلاهما عن عبد الرحمن بن حسن، عن جده الشيخ محمد بن عبد الوهاب.

(ح) ويرويه الشيخ عبد الله العنقري عن سعد بن عتيق، قال: أخبرنا به أحمد بن إبراهيم بن عيسى، عن عبد الرحمن بن حسن، عن جده محمد بن عبد الوهاب عن
‌‘কাওয়ায়েদুল উসুল ওয়া মাআকিদুল ফুসুল’ গ্রন্থের সনদ (إسناد)

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান নবীর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী ও যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর প্রদর্শিত পথ ও সুন্নাহর (سنة) অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর:

এটি আল্লামা সফিউদ্দিন আব্দুল মুমিন ইবনে আব্দুল হক আল-কাতিয়ি আল-বাগদাদী (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত ‘কাওয়ায়েদুল উসুল ওয়া মাআকিদুল ফুসুল’ ও তাঁর অন্যান্য কিতাবসমূহের প্রতি আমাদের সনদ (إسناد)। আমরা এটি আমাদের শায়খ, আল্লামা হামুদ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরীর তনয় শায়খ আব্দুল্লাহ থেকে অনুমতি (إجازة) সূত্রে বর্ণনা করছি। তিনি বলেন: আমাকে অবহিত করেছেন (أخبرني) আমার পিতা হামুদ আত-তুয়াইজিরী। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) কাজী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-আনকারী। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرনা) মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাহমুদ আন-নাজদী আল-হাম্বলী। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) শায়খ আব্দুল্লাহ আবা বুতাইন। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرনা) হামাদ ইবনে নাসির ইবনে মুয়াম্মার, তিনি শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব থেকে।

(ح) এবং শায়খ আব্দুল্লাহ আল-আনকারী এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল লতিফ আল-শেখ ও শায়খ হামাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফারেস থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়েই আব্দুর রহমান ইবনে হাসান থেকে, তিনি তাঁর দাদা শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব থেকে।

(ح) এবং শায়খ আব্দুল্লাহ আল-আনকারী এটি সা’দ ইবনে আতিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের এটি অবহিত করেছেন (أخبرنا) আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ঈসা, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে হাসান থেকে, তিনি তাঁর দাদা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব থেকে...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৯)
عبد الله بن إبراهيم بن سيف الفرضي، عن أبي المواهب محمد بن عبد الباقي الحنبلي.

(ح) وبرواية الشيخ أحمد بن إبراهيم بن عيسى عن الشيخ عبد الله أبا بُطين، عن محمد بن عبد الله بن حمد بن طَرَاد الدوسري، عن عبد الرحمن بن عبد الله البَعْلي الحلبي، عن أبي المواهب محمد بن عبد الباقي الحنبلي.

(ح) ونرويه أيضًا عن الشيخ إسماعيل بن محمد بن بدران الدومي الحنبلي بعموم إجازته لنا، عن شيوخه الثلاثة: عبد القادر بن أحمد الحناوي، وعبد المجيد بن أحمد بن عبد المجيد الدومي، وأحمد الشامي الدومي، ثلاثتهم عن مصطفى بن أحمد بن حسن الشطي، عن أبيه أحمد الشطي وعمه محمد بن حسن الشطي، كلاهما عن والدهما حسن بن عمر الشطي، عن مصطفى بن سعد الرحيباني، عن الشمس محمد بن أحمد السفاريني وأحمد البعلي، كلاهما عن أبي المواهب محمد بن عبد الباقي الدمشقي، عن أبيه عبد الباقي والشمس محمد بن بدر الدين البلباني، كلاهما عن أحمد بن الوفائي المفلحي، عن أبي النجا موسى بن أحمد الحجَّاوي الحنبلي، عن الشهاب أحمد بن محمد الشُّويكي، عن شهاب الدين أحمد بن عبد الله العُسْكري، عن علاء الدين علي بن سليمان المرداوي، عن شهاب الدين عبد الرحمن بن سليمان بن أبي الكرم الصالحي، عن علي بن محمد ابن اللحام، عن الحافظ زين الدين عبد الرحمن ابن رجب،
আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন সাইফ আল-ফারাদি, আবু আল-মাওয়াহিব মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-হাম্বলি থেকে।

(তহবিল (ح)) এবং শাইখ আহমদ বিন ইবরাহিম বিন ঈসার বর্ণনার (رواية) সূত্রে, তিনি শাইখ আবদুল্লাহ আবা বুতাইন থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামাদ বিন তরাদ আদ-দাওসারি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-বালি আল-হালাবি থেকে, তিনি আবু আল-মাওয়াহিব মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-হাম্বলি থেকে।

(তহবিল (ح)) এবং আমরা এটি শাইখ ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন বদরান আদ-দুমি আল-হাম্বলির সূত্রেও বর্ণনা করছি, আমাদের প্রতি তার সাধারণ অনুমোদনের (إجازة) ভিত্তিতে; তিনি তার তিন শাইখ থেকে: আব্দুল কাদির বিন আহমদ আল-হান্নাওয়ি, আব্দুল মাজিদ বিন আহমদ বিন আব্দুল মাজিদ আদ-দুমি এবং আহমদ আশ-শামি আদ-দুমি; তারা তিনজনই মুস্তফা বিন আহমদ বিন হাসান আশ-শাত্তি থেকে, তিনি তার পিতা আহমদ আশ-শাত্তি এবং তার চাচা মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শাত্তি থেকে, তারা উভয়েই তাদের পিতা হাসান বিন উমর আশ-শাত্তি থেকে, তিনি মুস্তফা বিন সাদ আল-রুহাইবানি থেকে, তিনি শামস মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাফারিনি এবং আহমদ আল-বালি থেকে, তারা উভয়েই আবু আল-মাওয়াহিব মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আদ-দিমাশকি থেকে, তিনি তার পিতা আব্দুল বাকি এবং শামস মুহাম্মদ বিন বদর উদ্দিন আল-বালবানি থেকে, তারা উভয়েই আহমদ বিন আল-ওয়াফায়ি আল-মুফলিহি থেকে, তিনি আবু আন-নাজা মুসা বিন আহমদ আল-হাজ্জাউয়ি আল-হাম্বলি থেকে, তিনি শিহাব আহমদ বিন মুহাম্মদ আশ-শুওয়াইকি থেকে, তিনি শিহাব উদ্দিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-আসকারি থেকে, তিনি আলা উদ্দিন আলী বিন সুলাইমান আল-মারদাওয়ি থেকে, তিনি শিহাব উদ্দিন আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান বিন আবু আল-কারাম আস-সালিহি থেকে, তিনি আলী বিন মুহাম্মদ ইবনুল লাহহাম থেকে, হাফেজ (الحافظ) জাইন উদ্দিন আব্দুর রহমান ইবনে রজব থেকে।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১০)
عن مؤلف الكتاب صفي الدين عبد المؤمن بن عبد الحق القطيعي البغدادي رحمه الله.
গ্রন্থের রচয়িতা সফিউদ্দিন আব্দুল মুমিন বিন আব্দুল হক আল-কাতিয়ি আল-বাগদাদি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌ترجمة المؤلف (1)

•‌‌ اسمه ونسبه:

عبد المؤمن بن عبد الحق بن عبد الله بن علي بن مسعود بن شمائل، أبو الفضائل، صفي الدين، القطيعي الأصل، البغدادي.

--------------------------------------------

(1) تنظر ترجمته فيما يلي:

- العبر في أخبار من غبر، للذهبي، دار الكتب العلمية - بيروت، (4/ 112).

- ذيل طبقات الحنابلة، لابن رجب، مكتبة العبيكان - الرياض، (5/ 77).

- المقصد الأرشد، لبرهان الدين ابن مفلح، مكتبة الرشد - الرياض، (2/ 167).

- أعيان العصر وأعوان النصر، للصفدي، دار الفكر المعاصر، بيروت، (3/ 181).

- شذرات الذهب، لابن العماد، دار ابن كثير، دمشق - بيروت، (8/ 231).

- الرد الوافر، لابن ناصر الدين، المكتب الإسلامي - بيروت، ص 109.

- ذيل تذكرة الحفاظ، للحسيني، دار الكتب العلمية، ص 11

- الدرر الكامنة، لابن حجر، مجلس دائرة المعارف العثمانية - الهند، (3/ 223).

- الوافي بالوفيات، للصفدي، دار إحياء التراث - بيروت (19/ 163).

- البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع، للشوكاني، دار المعرفة - بيروت، (1/ 404).

- الأعلام، للزركلي، دار العلم للملايين، (4/ 170).

- معجم المؤلفين، كحالة، مكتبة المثنى - بيروت، (6/ 197).

‌লেখকের জীবনী(১)

•‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

আব্দুল মুমিন ইবনে আব্দুল হক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে মাসউদ ইবনে শামায়েল, আবুল ফাযায়েল, সফিউদ্দিন, মূলগতভাবে কাতিয়ী, বাগদাদী।

--------------------------------------------

(১) নিম্নে বর্ণিত গ্রন্থসমূহে তাঁর জীবনী দ্রষ্টব্য:

- আল-ইবার ফি আখবার মান গাবার, আয-যাহাবীর, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত, (৪/ ১১২)।

- যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ, ইবনে রাজাবের, মাকতাবাতুল ওবায়কান - রিয়াদ, (৫/ ৭৭)।

- আল-মাকসাদুল আরশাদ, বুরহানুদ্দিন ইবনে মুফলিহের, মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ, (২/ ১৬৭)।

- আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুস নাসর, আস-সাফাদীর, দারুল ফিকরিল মুয়াসির, বৈরুত, (৩/ ১৮১)।

- শাযারাতুয যাহাব, ইবনুল ইমাদের, দারু ইবনে কাসীর, দামেস্ক - বৈরুত, (৮/ ২৩১)।

- আর-রাদ্দুল ওয়াফির, ইবনে নাসিরুদ্দিনের, আল-মাকতাবুল ইসলামী - বৈরুত, পৃষ্ঠা ১০৯।

- যাইলু তাযকিরাতিল হুফফায, আল-হুসাইনীর, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১১

- আদ-দুয়ারুল কামিনাহ, ইবনে হাজারের, মজলিসে দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া - ভারত, (৩/ ২২৩)।

- আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত, আস-সাফাদীর, দারু ইহইয়ায়িত তুরাস - বৈরুত (১৯/ ১৬৩)।

- আল-বাদরুত তালি বি-মাহাসিনি মান বাদাল কারনিস সাবি, আশ-শাওকানির, দারুল মা'রিফা - বৈরুত, (১/ ৪০৪)।

- আল-আ'লাম, আয-যিরিকলির, দারুল ইলমি লিল-মালায়ীন, (৪/ ১৭০)।

- মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, কাহহালার, মাকতাবাতুল মুসান্না - বৈরুত, (৬/ ১৯৭)।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১২)
•‌‌ مولده ونشأته ومشايخه:

ولد الشيخ صفي الدين في جمادى الآخرة سنة ثمان وخمسين وستمائة، ببغداد.

وسمع بها الحديث من عبد الصمد بن أبي الجيش، وأبي الفضل بن الدَّبَّاب، والكمال البزَّار، وابن الكسَّار، وغيرهم.

وسمع بدمشق: من الشرف أحمد بن هبة الله بن عساكر، وسِتِّ الأهل بنت علوان، وجماعة.

وبمكة: من الفخر التَّوْزَرِيِّ.

وأجاز له ابن البخاري، وأحمد بن شيبان، وزينب بنت مكي، وابن وضاح، وخلق من أهل الشام ومصر والعراق.

وتفقه على أبي طالب عبد الرحمن بن عمر البصري الحنبلي، ولازمه حتى برع وأفتى، ومهر في علم الفرائض والحساب، والجبر والمقابلة والهندسة والمِساحة، ونحو ذلك.

واشتغل في أول عمره بعد الفقه: بالكتابة والأعمال الديوانية مدة، ثم ترك ذلك، وأقبل على العلم، ولازمه مدةً؛ مطالعة وكتابة، وتصنيفًا وتدريسًا، واشتغالًا وإفتاءً، إلى حين وفاته.
তাঁর জন্ম, লালন-পালন ও শিক্ষকগণ:

শায়খ সফিউদ্দিন ৬৫৮ হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি সেখানে আব্দুস সামাদ ইবনে আবিল জাইশ, আবুল ফজল ইবনে আদ-দাব্বাব, আল-কামাল আল-বাজ্জার, ইবনুল কাসসার এবং আরও অনেকের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন (سمع)।

তিনি দামেস্কে আশ-শারাফ আহমাদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির, সিত্তুল আহল বিনতে আলওয়ান এবং একদল উস্তাদের নিকট শ্রবণ করেছেন (سمع)।

এবং মক্কায় আল-ফখর আত-তাওজারীর নিকট (শ্রবণ করেছেন)।

ইবনুল বুখারি, আহমাদ ইবনে শায়বান, যয়নব বিনতে মক্কি, ইবনে ওয়াদদাহ এবং সিরিয়া, মিশর ও ইরাকের অসংখ্য আলেম তাঁকে অনুমতি (أجاز) প্রদান করেছেন।

তিনি আবু তালিব আব্দুর রহমান ইবনে উমর আল-বাসরি আল-হান্বলীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে থেকে পারদর্শিতা অর্জন করেন ও ফতোয়া প্রদান করেন। তিনি উত্তরাধিকার শাস্ত্র (علم الفرائض), গণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি ও ভূমি পরিমাপ এবং এই জাতীয় বিভিন্ন শাস্ত্রে বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

জীবনের শুরুর দিকে ফিকহ চর্চার পর তিনি কিছুকাল দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তা বর্জন করেন এবং ইলম বা জ্ঞানের পথে ধাবিত হন। আমৃত্যু তিনি অধ্যয়ন, লিখন, গ্রন্থ রচনা (تصنيف), অধ্যাপনা, জ্ঞানচর্চা ও ফতোয়া প্রদানে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১৩)
وكتب الكثير بخطه الحسن المليح الحلو، وكان ذا ذهن حاد، وذكاء وفطنة، وكان معتنيًا بالعلم من أول عمره، وعني بالحديث، فنسخ واستنسخ كثيرًا من أجزائه، وخرَّج لنفسه معجمًا لشيوخه بالسماع والإجازة عن نحو ثلاثمائة شيخ، وأكثرهم بالإجازة، وتكلم فيه على أحوالهم ووفياتهم، وحدث به، وبكثير من مسموعاته، وغيرها بالإجازة.

وكان قد رأى شيخ الإسلام تقي الدين ابن تيمية بدمشق، واجتمع معه، ولما صنف كتابه في شرح المحرر أرسل إلى الشيخ تقي الدين يسأله عن مسائل فيه، وقد ذكر عنه في شرحه شيئًا من ذلك.

ولما توفي شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، رثاه الشيخ عبد المؤمن، فقد نقل المحدث ابن طولوبغا من خط الشيخ صفي الدين: قال العبد الفقير عبد المؤمن بن عبد الحق حين بلغه وفاة الشيخ الإمام العالم بقية العلماء المجتهدين تقي الدين أحمد ابن تيمية الحراني رحمه الله تعالى ورضي عنه:

طِبْتَ مَثْوًى يَا خاتمَ العلماءِ … في مقامِ الزُّلْفَى مع الأتقياءِ

وذكر باقي القصيدة(1).

--------------------------------------------

(1) في (48) بيتًا، ذكرها في العقود الدرية ص 507.

তিনি তাঁর সুন্দর, মনোহর ও সাবলীল হস্তাক্ষরে প্রচুর লিখেছিলেন। তিনি তীক্ষ্ণ মেধা, প্রখর বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার অধিকারী ছিলেন। জীবনের প্রারম্ভ থেকেই তিনি ইলম অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন এবং হাদিসের প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেছিলেন। তিনি হাদিসের অনেক সংকলন নিজে অনুলিপি করেছেন এবং অন্যের দ্বারাও অনুলিপি করিয়েছেন। তিনি প্রায় তিনশ জন শিক্ষকের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) ও অনুমতি (إجازة) লাভের মাধ্যমে নিজের জন্য একটি শিক্ষক-অভিধান (معجم) সংকলন করেন, যাদের অধিকাংশের নিকট থেকেই তিনি অনুমতি (إجازة) লাভ করেছিলেন। সেখানে তিনি তাঁদের অবস্থা (أحوال) ও মৃত্যুসন সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এই গ্রন্থটিসহ তাঁর অনেক শ্রবণকৃত বর্ণনা (مسموعات) ও অন্যান্য বিষয় অনুমতি (إجازة) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

তিনি দামেস্কে শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়ার সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং তাঁর সাথে একত্রিত হন। তিনি যখন আল-মুহাররার-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করছিলেন, তখন তিনি শায়খ তাকিউদ্দীনের নিকট পত্র পাঠিয়ে তাতে থাকা বিভিন্ন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তাঁর সেই ব্যাখ্যা গ্রন্থে তিনি এ সংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখও করেছেন।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) যখন ইন্তেকাল করেন, তখন শায়খ আবদুল মুমিন তাঁর শোকগাথা রচনা করেন। মুহাদ্দিস (محدث) ইবনে তুলুবগা শায়খ সফিউদ্দীনের হস্তলিপি থেকে বর্ণনা করেছেন: ফকির বান্দা আবদুল মুমিন ইবনে আবদুল হক বলেন—যখন তাঁর নিকট ইমাম, আলিম এবং মুজতাহিদ (مجتهدين) আলিমগণের উত্তরসূরি তাকিউদ্দীন আহমদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইন্তেকালের সংবাদ পৌঁছাল:

হে আলিমকুলের শিরোমণি, আপনার সমাধিস্থল বরকতময় হোক … মুত্তাকীদের সাথে মহান রবের সান্নিধ্যের সুউচ্চ মকামে।

এবং তিনি কবিতার বাকি অংশ উল্লেখ করেন(১).

--------------------------------------------

(১) এটি মোট ৪৮ পঙক্তির একটি কবিতা, যা আল-উকুদ আদ-দুররিয়াহ গ্রন্থের ৫০৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১৪)
•‌‌ تلاميذه:

قال ابن رجب: (سمع منه خلق كثيرون، وأجاز لي ما يجوز له روايته غير مرة، ودرَّس بالمدرسة البشيرية للحنابلة).

وقال: (وتفرد في وقته ببغداد في علم الفرائض والحساب، حتى يقال: إن الزريراني كان يراجعه في ذلك، ويستفيد منه).

وقال القاضي برهان الدين الزُّرَعِيِّ: (هو إمامنا في علم الفرائض، والجبر والمقابلة)، وكان يثني عليه ويقول: (لو أمكنني الرحلة إليه لرحلت إليه).

• ثناء العلماء عليه:

قال الذهبي رحمه الله: (مات ببغداد عالمها، الإمام، ذو الفنون، صفي الدين عبد المؤمن .... ، وله نظمٌ رائق، وفيه دين، وفتوة، وأخلاق، وتصوف، ولم يتأهل).

وقال عنه ابن رجب: (وكان إمامًا فاضلًا، ذا مروءة، وأخلاق حسنة، وحسن هيئة وشكل، عظيم الحرمة، شريف النفس، منفردًا في بيته، لا يغشى الأكابر ولا يخالطهم، ولا يزاحمهم في المناصب، بل الأكابر يترددون إليه).

وقال سعيد الذهلي فيما نقله عنه ابن حجر العسقلاني: (وكان زاهدًا، خيِّرًا، ذا مروءة وفتوة وتواضع ومحاسن كثيرة، طارِحًا للتكلف على طريقة السلف، محبًّا للخمول، وكان شيخ
•‌‌ তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

ইবনে রাজাব বলেন: (অগণিত লোক তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, এবং তিনি আমাকে একাধিকবার তাঁর নিকট যা বর্ণনা (رواية) করার অনুমতি আছে তার ইজাযাহ (إجازة) প্রদান করেছেন। তিনি হাম্বলিদের আল-মাদরাসাতুল বাশিরিয়্যাহ-তে শিক্ষকতা করেছেন)।

তিনি আরও বলেন: (তিনি তাঁর সময়ে বাগদাদে ফারাইয (উত্তরাধিকার আইন) এবং গণিত শাস্ত্রে অনন্য ছিলেন, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে: আল-যুরায়রানী এই বিষয়ে তাঁর শরণাপন্ন হতেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হতেন)।

কাযী বুরহানুদ্দিন আল-যুরাঈ বলেন: (তিনি ফারাইয, বীজগণিত ও সমীকরণ শাস্ত্রে আমাদের ইমাম (إمام)); তিনি তাঁর প্রশংসা করতেন এবং বলতেন: (যদি তাঁর নিকট সফর করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো, তবে আমি অবশ্যই তাঁর কাছে সফর করতাম)।

• তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের প্রশংসা:

ইমাম আয-যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (বাগদাদের বিদগ্ধ আলিম, ইমাম (إمام) এবং বহু শাস্ত্রের পণ্ডিত শফিউদ্দিন আব্দুল মুমিন বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেছেন... তাঁর চমৎকার কাব্যশৈলী রয়েছে; তিনি ছিলেন দ্বীনদার, উদার, সদাচারী এবং তাসাউফপন্থী। তিনি বিবাহ করেননি)।

তাঁর সম্পর্কে ইবনে রাজাব বলেন: (তিনি একজন শ্রেষ্ঠ ইমাম (إمام), ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সদাচারী, সুশ্রী এবং উন্নত অবয়বের অধিকারী, অত্যন্ত মর্যাদাবান ও আত্মমর্যাদাশীল ছিলেন। তিনি নিভৃতচারী ছিলেন; পদস্থ ব্যক্তিদের নিকট যাতায়াত করতেন না এবং তাদের সাথে মেলামেশা করতেন না, এমনকি পদমর্যাদা নিয়ে তাদের সাথে প্রতিযোগিতাও করতেন না, বরং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাই তাঁর নিকট আসা-যাওয়া করতেন)।

সাঈদ আয-যুহলী বলেন—যেমনটি ইবনে হাজার আল-আসকালানী তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন: (তিনি ছিলেন যাহিদ, কল্যাণকামী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, দানশীল ও বিনয়ী এবং বহু সদগুণের অধিকারী। তিনি সালাফদের অনুসরণে লৌকিকতা বর্জন করতেন এবং অখ্যাত থাকাকে পছন্দ করতেন। তিনি একজন শাইখ (شيخ)
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১৫)
العراق على الإطلاق).

وقال أبو نصر محمد بن طولوبغا السيفي: (الإمام المحدث الفاضل الأديب البارع).

وقال ابن ناصر الدين: (الشيخ الامام العلامة صفي الدين مفتي المسلمين).

وقال ابن بدران: (الفقيه الفرضي المفنن).

 

•‌‌ مصنفاته:

قال ابن رجب: (فأقبل آخرًا على التصنيف، فصنَّف في علوم كثيرة، منها ما لم يكن سبق له فيها اشتغال، وصنَّف في الفقه والأصلين، والجدل والحساب، والفرائض والوصايا، وفي التاريخ والحديث، والطب، وغير ذلك، واختصر كتبًا كثيرة).

فمن تصانيفه:

1 - شرح المحرر(1) في الفقه: ست مجلدات.

2 - شرح العمدة في الفقه: مجلدان(2).

--------------------------------------------

(1) حقق بعضه في رسائل علمية بالجامعة الإسلامية.

(2) قال عبد الرحمن العثيمين رحمه الله تعالى: لا أعلم له وجودًا. ينظر: الذيل على طبقات الحنابلة 5/ 79.

(ইরাকের নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠ)।

আর আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে তুলুবুগা আল-সাইফি বলেছেন: (ইমাম (الإمام), মুহাদ্দিস (المحدث), বিজ্ঞ ফাজেল (الفاضل), দক্ষ সাহিত্যিক (الأديب) এবং পারদর্শী (البارع))।

ইবনে নাসিরুদ্দিন বলেছেন: (শাইখ (الشيخ), ইমাম (الإمام), আল্লামা (العلامة) সফিউদ্দিন, মুসলিমদের মুফতি (مفتي المسلمين))।

ইবনে বাদরান বলেছেন: (ফকিহ (الفقيه), ফারায়েয শাস্ত্রবিদ (الفرضي) এবং বহুমুখী পণ্ডিত (المفنن))।

 

•‌‌ তাঁর রচনাবলি:

ইবনে রজব বলেছেন: (পরবর্তীতে তিনি গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। ফলে তিনি বহু শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেন, যার কোনো কোনোটিতে পূর্বে তাঁর ব্যস্ততা ছিল না। তিনি ফিকহ (الفقه), উসুলাইন (الأصلين - অর্থাৎ আক্বিদা ও উসুলুল ফিকহ), বিতর্কশাস্ত্র (الجدل), গণিত (الحساب), মিরাস (الفرائض) ও অসিয়ত (الوصايا), ইতিহাস (التاريخ), হাদিস, চিকিৎসাবিজ্ঞান (الطب) এবং অন্যান্য বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন এবং অনেক কিতাব সংক্ষিপ্ত করেন)।

তাঁর রচনাবলির মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - শারহুল মুহাররার(১) ফিকহ শাস্ত্রের ওপর: ছয় খণ্ড।

২ - শারহুল উমদাহ ফিকহ শাস্ত্রের ওপর: দুই খণ্ড(২)।

--------------------------------------------

(১) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভে এর কিছু অংশ সম্পাদিত ও পর্যালোচিত হয়েছে।

(২) আব্দুর রহমান আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: এর কোনো অস্তিত্ব আছে বলে আমার জানা নেই। দেখুন: আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ ৫/ ৭৯।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১৬)
3 - إدراك الغاية في اختصار الهداية في الفقه: مجلد لطيف(1).

4 - وشرحه في أربع مجلدات، وسماه: التمهيد.

5 - شرح المسائل الحسابية من الرعاية الكبرى لابن حمدان: مجلد لطيف.

6 - تلخيص المنقح في الجدل: وهو اختصار لكتاب أبي البقاء العكبري المسمى: المنقح من الخطل في علم الجدل.

7 - تحقيق الأمل في علمي الأصول والجدل، وهو أصل كتابنا هذا.

8 - تسهيل الوصول إلى علم الأصول.

9 - قواعد الأصول ومعاقد الفصول، وهو كتابنا هذا.

10 - اللامع المغيث في علم المواريث.

11 - أسرار المواريث: جزء تكلم فيه على حكم الإرث ومصالحه.

12 - المطالب العَوَال لتقرير منهاج الاستقامة والاعتدال:

--------------------------------------------

(1) مطبوع بتحقيق د/ ياسر المزروعي، عن غراس للنشر والتوزيع، عام 1429 هـ، في مجلد.

3 - ইদরাজুল গায়াহ ফী ইখতিসারিল হিদায়াহ ফিল ফিকহ: একখানা ক্ষুদ্র খণ্ড(1)।

4 - এবং চার খণ্ডে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম দিয়েছেন: আত-তামহিদ।

5 - ইবনে হামদান রচিত আর-রিআয়াহ আল-কুবরা-এর গাণিতিক মাসআলাসমূহের ব্যাখ্যা: একখানা ক্ষুদ্র খণ্ড।

6 - তালখিসুল মুনাক্কাহ ফিল জাদাল: এটি আবু আল-বাকা আল-উকবারী রচিত ‘আল-মুনাক্কাহ মিনাল খাতাল ফী ইলমিল জাদাল’ নামক কিতাবটির একটি সংক্ষিপ্তসার (اختصار)।

7 - তাহকিকুল আমাল ফী ইলমাইল উসুল ওয়াল জাদাল; এটি আমাদের এই কিতাবটির মূল উৎস (أصل)।

8 - তাসহীলুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল।

9 - কাওয়াইদুল উসুল ওয়া মাআকিদুল ফুসুল; যা হলো আমাদের এই বর্তমান কিতাবটি।

10 - আল-লামি আল-মুগিস ফী ইলমিল মাওয়ারিস।

11 - আসরারুল মাওয়ারিস: এটি একটি পুস্তিকা (جزء) যাতে মিরাসের বিধান এবং এর হিকমতসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

12 - আল-মাতালিবুল আওয়াল লি-তাকরির মিনহাজিল ইস্তিকামাহ ওয়াল ই'তিদাল:

--------------------------------------------

(1) ড. ইয়াসির আল-মাযরুই-এর তাহকিক (تحقيق) সহ, গ্যারাস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন থেকে ১৪২৯ হিজরিতে এক খণ্ডে মুদ্রিত।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১৭)
اختصر فيه منهاج السنة النبوية لشيخ الإسلام ابن تيمية.

13 - مراصد الاطِّلاع في أسماء الأماكن والبقاع(1): اختصر فيه معجم ياقوت الحموي.

14 - اختصار تاريخ الطبري: في أربع مجلدات.

قال ابن رجب: (وله رحمه الله أوهام كثيرة في تصانيفه، حتى في الفرائض، من حيث توجيه المسائل وتعليلها، رحمه الله تعالى وسامحه، فلقد كان من محاسن زمانه في بلده).

 

•‌‌ وفاته:

توفي رحمه الله تعالى ليلة الجمعة عاشر صفر، سنة تسع وثلاثين وسبعمائة، وصُلِّي عليه من الغد، وحُمل على الأيدي والرؤوس، ودُفن بمقبرة الإمام أحمد بباب حرب، وكانت جنازته مشهودة رحمه الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) مطبوع عن دار الجيل، بيروت، سنة 1412 هـ، في ثلاث مجلدات.

তিনি এতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ সংক্ষেপ করেছেন।

১৩ - মারাসিদুল ইত্তিলা ফি আসমাইল আমাকিন ওয়াল বিদা(১): এতে তিনি ইয়াকুত আল-হামাউয়ি-এর মুজাম সংক্ষেপ করেছেন।

১৪ - ইখতিসারু তারিখিত তাবারি: চার খণ্ডে সমাপ্ত।

ইবনে রজব বলেন: (তাঁর প্রতি আল্লাহ রহম করুন, তাঁর রচনাাবলিতে অনেক বিভ্রান্তি (أوهام) রয়েছে, এমনকি ফরায়েজ শাস্ত্রের মাসআলাসমূহের বিশ্লেষণ ও কারণ দর্শানোর (تعليل) ক্ষেত্রেও; আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই তিনি তাঁর জনপদে নিজ সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।)

 

•‌‌ তাঁর মৃত্যু:

তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) সাতশত উনচল্লিশ হিজরির ১০ই সফর শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেন। পরদিন তাঁর জানাজার নামাজ পড়া হয় এবং তাঁকে মানুষের হাত ও মাথার ওপর বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে বাবুল হারব এলাকায় ইমাম আহমাদ-এর গোরস্থানে দাফন করা হয় এবং তাঁর জানাজায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)।

--------------------------------------------

(১) দারুল জিল, বৈরুত থেকে ১৪১২ হিজরিতে তিন খণ্ডে মুদ্রিত।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌التعريف بالكتاب

•‌‌ توثيق الكتاب:

ذكر ابن رجب - وهو ممن أجاز له المؤلف - أن لصفي الدين عبد المؤمن جملة من الكتب في أصول الفقه، منها كتاب: (قواعد الأصول ومعاقد الفصول).

وذكره بهذا الاسم جميع من ذكر مصنفاته ممن ترجم له، أو عُني بمعاجم الكتب، كما أن هذا الاسم هو المذكور في المخطوطات التي بين أيدينا، ومنها ما هو منقول من أصل المؤلف رحمه الله.

وكتابه هذا مختصر من كتابه الآخر: (تحقيق الأمل في علمي الأصول والجدل).

قال ابن بدران رحمه الله: (وهذا المختصر في نحو سبع وعشرين ورقة، اختصره من كتاب له سماه تحقيق الأمل، وجرده عن الدلائل، من غير إخلال بشيء من المسائل)(1).

وعلى هذا: فإن اسم الكتاب كما يظهر جليًّا هو: (قواعد الأصول ومعاقد الفصول).

--------------------------------------------

(1) المدخل لابن بدران، ص 460.

গ্রন্থ পরিচিতি

•‌ গ্রন্থের নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপাদন (توثيق):

ইবনে রাজাব —যিনি লেখকের নিকট থেকে অনুমতি (إجازة) প্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত— উল্লেখ করেছেন যে, সাফিউদ্দিন আব্দুল মুমিনের উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রে বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: (কাওয়ায়িদ আল-উসুল ওয়া মাআকিদ আল-ফুসুল)।

যাঁরা তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছেন কিংবা গ্রন্থপঞ্জি সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেছেন, তাঁরা সকলেই তাঁর রচনাবলির তালিকায় এই নামেই গ্রন্থটি উল্লেখ করেছেন। তদুপরি, আমাদের নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলোতেও এই নামটিই পাওয়া যায়, যার কোনটি আবার লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) থেকে অনুলিপি করা।

তাঁর এই গ্রন্থটি মূলত তাঁর অন্য একটি গ্রন্থ (তাহকিকুল আমাল ফি ইলমাই আল-উসুল ওয়াল জাদাল)-এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر)।

ইবনে বাদ্রান (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এই সংক্ষিপ্ত (مختصر) সারসংক্ষেপটি প্রায় সাতাশ পৃষ্ঠার। তিনি তাঁর ‘তাহকিকুল আমাল’ নামক গ্রন্থ থেকে এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং মাসআলাসমূহের (المسائل) কোনো প্রকার ত্রুটি করা ছাড়াই একে দলীল-প্রমাণাদি থেকে মুক্ত রেখেছেন)(১)।

এর প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থটির নাম হলো: (কাওয়ায়িদ আল-উসুল ওয়া মাআকিদ আল-ফুসুল)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাদখাল লি-ইবনে বাদ্রান, পৃ. ৪৬০।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ১৯)
•‌‌ مكانة الكتاب:

أشاد العلامة ابن بدران بهذا المختصر كما تقدم كلامه، وجعله من أنفع متون أصول الفقه للمشتغل بهذا الفن، وكفى بهذه الإشادة مكانة لهذا المختصر.

كما أثنى العلامة جمال الدين القاسمي بعد نسخه لهذا المختصر والتعليق عليه، فقال: (لا سيما المتن الأخير - يعني: هذا المختصر -، فإنا لم نعثر منه إلا على نسخة مخطوطة في المكتبة العمومية بدمشق الشام ليس لها ثانية، وما وقفنا عليه حتى رأيناه من أنفس الآثار الأصولية، وأعجبها سبكًا، وألطفها جمعًا للأقوال، وإيجازًا في المقال، ولما تحققنا ما له من الشأن الخطير أسرعنا إلى نقله ثم مقابلته).

وقال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله: (كتاب مختصر مفيد، صالح للطالب بين المبتدئ وبين المنتهي).

وقد ذكر الشيخ عبد الله الفوزان في تقدمة شرحه لهذا المختصر ثلاث مِيزات لهذا المختصر، وهي على سبيل الإيجاز:

1 - وضوح عبارته، وسلامتها من التعقيد.

2 - عنايته بالمسائل التي يحتاجها الفقيه، وإغفاله ما لا تعلق للأصول به من مباحث علم الكلام.
‌‌ কিতাবটির গুরুত্ব ও মর্যাদা:

আল্লামা ইবনে বদরান এই সংক্ষিপ্ত সার (المختصر)-এর উচ্চ প্রশংসা করেছেন যেমনটি পূর্বে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি একে এই শাস্ত্রের চর্চাকারীদের জন্য উসুলুল ফিকহ-এর অন্যতম উপকারী পাঠ্য হিসেবে গণ্য করেছেন। এই সংক্ষিপ্ত সারটির মর্যাদার বর্ণনায় এই প্রশংসাই যথেষ্ট।

অনুরূপভাবে আল্লামা জামালুদ্দিন আল-কাসিমি এই সংক্ষিপ্ত সারটি প্রতিলিপি করার ও তার ওপর টীকা প্রদানের পর এর প্রশংসা করে বলেছেন: (বিশেষত শেষোক্ত মূল পাঠটি (المتن) - অর্থাৎ: এই সংক্ষিপ্ত সার (المختصر) -, কারণ আমরা দামেস্কের পাবলিক লাইব্রেরিতে এর একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাইনি। আমরা যখন এটি হাতে পেলাম, তখন একে উসুলের অন্যতম মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে দেখতে পেলাম; যার বিন্যাস চমৎকার, মতামতের সংকলন অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং বর্ণনা অতি সংক্ষিপ্ত। যখন আমরা এর গুরুত্ব অনুধাবন করলাম, তখন দ্রুত এটি নকল ও মুকাবিলা (مقابلة) তথা যাচাই করতে সচেষ্ট হলাম)।

শায়খ ইবনে উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও উপকারী কিতাব, যা প্রাথমিক ও উচ্চ স্তরের মধ্যবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী)।

শায়খ আবদুল্লাহ আল-ফাওজান তাঁর এই সংক্ষিপ্ত সার (المختصر)-এর ব্যাখ্যার ভূমিকায় এর তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:

1 - এর বাক্যরীতির স্পষ্টতা এবং জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা।

2 - ফকিহ বা ফিকহবিদের প্রয়োজনীয় মাসয়ালাগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ এবং ইলমুল কালামের (علم الكلام) সেসব আলোচনার বিলোপ ঘটানো, উসুলের সাথে যেগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২০)
3 - حسن ترتيبه وأسلوبه وعنايته بالتقسيم.

 

•‌‌ طبعات الكتاب:

طبع الكتاب عدة طبعات، أشهرها:

1 - طبعة الشام، في مجموع اسمه: (متون أصولية مهمة)، وقد طُبع على نفقة محمد أفندي هاشم الكتبي، وكانت تطلب من مكتبته في دمشق، وهي في زهاء 150 صفحة.

2 - طبعة المطبعة السلفية بمصر، برغبة من الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ -مدير معهد الرياض العلمي آنذاك -، ولم يُذكر عليها تاريخ الطباعة.

3 - طبعة دار المعارف بمصر، بعناية أحمد وعلي محمد شاكر، ولم يُذكر عليها تاريخ أيضًا.

4 - طبعة جامعة أم القرى - معهد البحوث العلمية وإحياء التراث الإسلامي -، بتحقيق وتعليق الدكتور/ علي بن عباس الحكمي، سنة 1409 هـ - 1988 م.

5 - طبعة دار الفضيلة بمصر، بعناية أحمد الطهطاوي، وعليها تعليقات الشيخ جمال الدين القاسمي، سنة 1418 هـ.
3 - এর বিন্যাস, শৈলী এবং শ্রেণিবিন্যাসের চমৎকারিত্ব।

 

•‌‌ কিতাবটির সংস্করণসমূহ:

কিতাবটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো:

1 - শাম সংস্করণ, এটি ‘মুতুন উসুলিয়াহ মুহিম্মাহ’ নামক একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত; এটি মুহাম্মদ এফেন্দি হাশিম আল-কুতুবীর অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছে এবং দামেস্কে তাঁর লাইব্রেরি থেকে এটি সংগ্রহ করা যেত। এটি প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠার।

2 - মিশরের মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ সংস্করণ, তৎকালীন রিয়াদ ইলমি ইনস্টিটিউটের পরিচালক শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-শেখ-এর আগ্রহে এটি মুদ্রিত হয়। এতে মুদ্রণের কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

3 - মিশরের দারুল মাআরিফ সংস্করণ, আহমদ ও আলী মুহাম্মদ শাকেরের তত্ত্বাবধানে; এতেও কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

4 - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্করণ—সায়েন্টিফিক রিসার্চ এবং ইসলামিক হেরিটেজ রিভাইভাল ইনস্টিটিউট—ডক্টর আলী বিন আব্বাস আল-হাকামির সম্পাদনা ও টীকাসহ, ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ।

5 - মিশরের দারুল ফাদিলাহ সংস্করণ, আহমদ আত-তাহতাবির তত্ত্বাবধানে এবং এতে শায়খ জামালুদ্দীন আল-কাসিমির টীকা রয়েছে, ১৪১৮ হিজরি।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২১)
•‌‌ شروح الكتاب:

لا يعرف لهذا المختصر شرحٌ عند المتقدمين، وقد قام جماعة من أهل العلم المعاصرين بشرحه، والمطبوع من تلكم الشروح:

1 - تعليقات العلامة جمال الدين القاسمي على قواعد الأصول، ضمن متون أصولية مهمة، طبعها في الشام، ثم طُبعت في مصر عن مكتبة ابن تيمية.

2 - تيسير الوصول إلى قواعد الأصول ومعاقد الفصول، للشيخ عبد الله بن صالح الفوزان، في مجلد متوسط، وهو شرح محرر.

3 - شرح قواعد الأصول ومعاقد الفصول، للشيخ العلامة محمد بن صالح العثيمين، في مجلد متوسط، وهو شرح مفرغ من دروس ألقاها في جامع عنيزة.

4 - شرح قواعد الأصول ومعاقد الفصول، للشيخ الدكتور سعد بن ناصر الشثري، وهو شرح مفرغ من دروس ألقاها في مسجده في الرياض.

5 - إتحاف العقول بشرح قواعد الأصول ومعاقد الفصول، للشيخ أبي العلياء محمد بن سعد أحمد بيومي، في مجلدين، عن دار العاصمة.
•‌‌ গ্রন্থটির ব্যাখ্যাসমূহ:

পূর্বসূরিদের (متقدمين) নিকট এই সংক্ষিপ্ত (مختصر) গ্রন্থটির কোনো ব্যাখ্যা পরিচিত নয়। তবে সমসাময়িক একদল আলেম এটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে যা মুদ্রিত হয়েছে:

1 - আল্লামা জামালুদ্দিন আল-কাসিমির 'তালিকাত আলা কাওয়ায়েদিল উসুল', যা গুরুত্বপূর্ণ উসুলি মূলপাঠসমূহের (متون أصولية) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে শামে মুদ্রিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে মিসরের মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

2 - শেখ আবদুল্লাহ বিন সালিহ আল-ফাওজান রচিত 'তাইয়াসীরুল উসুল ইলা কাওয়ায়েদিল উসুল ওয়া মাআকিদিল ফুসুল'; এটি মাঝারি আকারের এক খণ্ডে প্রকাশিত একটি পরিমার্জিত ব্যাখ্যা।

3 - আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন রচিত 'শরহু কাওয়ায়েদিল উসুল ওয়া মাআকিদিল ফুসুল'; এটি মাঝারি আকারের এক খণ্ডে সংকলিত এবং উনাইজার জামে মসজিদে তাঁর প্রদত্ত দরসসমূহের শ্রুতিলিপি থেকে সংকলিত।

4 - শেখ ডক্টর সাদ বিন নাসির আল-শাসরি রচিত 'শরহু কাওয়ায়েদিল উসুল ওয়া মাআকিদিল ফুসুল'; এটি রিয়াদে তাঁর মসজিদে প্রদত্ত দরসসমূহের শ্রুতিলিপি থেকে সংকলিত।

5 - শেখ আবুল আলিয়া মুহাম্মদ বিন সাদ আহমদ বায়ুমির 'ইতহাফুল উকুল বি-শরহি কাওয়ায়েদিল উসুল ওয়া মাআকিদিল ফুসুল'; এটি দারুল আসিমা থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ترجمة القاسمي (1)

•‌‌ اسمه ونسبه ومولده:

محمد جمال الدين بن محمد سعيد بن قاسم بن صالح بن إسماعيل بن أبي بكر المعروف بالقاسمي، وكنيته: أبو الفرج.

ولد في دمشق سنة 1283 هـ.

• نشأته ومشايخه:

ذكر القاسمي عن نفسه أنه تربى في كنف والده، وقرأ

--------------------------------------------

(1) تنظر ترجمته فيما يلي:

- الأعلام، للزركلي، دار العلم للملايين، 2/ 135.

- مجلة المنار، للأستاذ محمد رشيد رضا، 17/ 558، ضمن مقال من جزأين باسم: (مصاب مصر والشام برجال العلم وحملة الأقلام).

- مجلة المقتبس، لمحمد كرد علي، 85/ 47، مقال باسم: (السيد جمال الدين القاسمي).

- حلية البشر في تاريخ القرن الثالث عشر، لعبد الرزاق بن حسن البيطار، دار صادر، بيروت، ص 435.

- معجم المؤلفين، لعمر بن رضا كحالة، مكتبة المثنى - بيروت، 3/ 157.

- فهرس الفهارس، لعبد الحي الكتاني، دار الغرب - بيروت، 1/ 476.

- وليد القرون المشرقة، جمع وتعليق/ الشيخ محمد بن ناصر العجمي، دار البشائر، 1430 هـ.

‌‌কাসিমীর জীবনী (১)

•‌‌ তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:

মুহাম্মদ জামালুদ্দিন ইবনে মুহাম্মদ সাঈদ ইবনে কাসিম ইবনে সালিহ ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি বকর, যিনি আল-কাসিমী নামে পরিচিত। তাঁর উপনাম (কুনিয়া): আবু আল-ফারাজ।

তিনি ১২৮৩ হিজরিতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষকগণ:

কাসিমী নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং পাঠ গ্রহণ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী নিম্নোক্ত উৎসগুলোতে দেখুন:

- আল-আলাম, যিরিকলি, দারুল ইলম লিল-মালাঈন, ২/১৩৫।

- মাজাল্লাতুল মানার, উস্তাদ মুহাম্মদ রাশিদ রিদা, ১৭/৫৫৮, একটি দুই খণ্ডের প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত যার শিরোনাম: (মিসর ও সিরিয়ার আলেম ও লেখক সমাজের বিপর্যয়)।

- মাজাল্লাতুল মুকতাবিস, মুহাম্মদ কুর্দ আলী, ৮৫/৪৭, প্রবন্ধের শিরোনাম: (আস-সাইয়্যিদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমী)।

- হিলইয়াতুল বাশার ফি তারিখিল কারনিত তালিছি আশার, আবদুর রাজ্জাক বিন হাসান আল-বিতার, দারু সাদির, বৈরুত, পৃষ্ঠা ৪৩৫।

- মুজামুল মুআল্লিফীন, উমর বিন রিদা কাহহালা, মাকতাবাতুল মুছান্না - বৈরুত, ৩/১৫৭।

- ফিহরিসুল ফাহারিস, আবদুল হাই আল-কাত্তানী, দারুল গারব - বৈরুত, ১/৪৭৬।

- ওয়ালিদুল কুরুনিশ শারিকা, সংকলন ও টীকা/ শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমী, দারুল বাশায়ির, ১৪৩০ হিজরি।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২৩)
القرآن صغيرًا حتى ختمه، ثم أخذ في تعلم الكتابة وأتقنها، وكان عمره آنذاك اثني عشر عامًا.

ثم انتقل لقراءة العلم على الشيخ رشيد أفندي، فقرأ عليه مقدمات في فنون شتى قراءة جدٍّ واجتهاد، في التوحيد والصرف والنحو والمنطق والبيان وغيرها، وشرع في قراءة المختصرات الفقهية وغيرها على والده.

وأخذ يتنقل بين المشايخ يأخذ عنهم العلم ويقرأ عليهم الكتب في سائر الفنون، فأخذ عن جم غفير من أهل بلده وغيرهم، وأجازه جماعة منهم.

ويقول عن نفسه: (حبب المولى إلي من حداثتي القراءة والمطالعة ونسخ الكتب، وتأليف الرسائل، فكنت - تحدثًا بنعمة المولى - أنصرف من دروسي وآوي إلى دارنا إلى محل مكتبتي على ما ذكرت، وأذهب المولى بفضله عن عُبَيْدِه حب البطالة وصرف الأوقات سدى، فطالع من كتب الأدب والتاريخ ما لا أحصي، حتى أتذكر أني في سن الخامسة عشرة من عمري أصابني مرض مكثت فيه نحو ثلاثة أشهر، فصرت أتسلى بمطالعة بعض الكتب).

نشأ القاسمي رحمه الله على مثل هذه الحالة زمانًا طويلًا، بين أخذ عن الشيوخ، وأخذ من بطون الكتب، فجمع علمًا كثيرًا رحمه الله رحمة واسعة.
তিনি শৈশবে কুরআন পাঠ করেন এবং তা সমাপ্ত করেন, অতঃপর তিনি লেখা শিখতে শুরু করেন এবং তাতে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন; সে সময় তাঁর বয়স ছিল বারো বছর।

এরপর তিনি শায়খ রশিদ আফেন্দির নিকট ইলম হাসিল করতে যান এবং তাঁর নিকট অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সাথে তাওহিদ, সরফ (শব্দতত্ত্ব), নাহু (ব্যাকরণ), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), বায়ান (অলংকারশাস্ত্র) সহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রাথমিক কিতাবাদি পাঠ করেন। এছাড়া তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহ ও অন্যান্য বিষয় অধ্যয়ন শুরু করেন।

অতঃপর তিনি বিভিন্ন শায়খদের নিকট যাতায়াত করে তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করতে থাকেন এবং তাঁদের নিকট বিভিন্ন শাস্ত্রের কিতাব পাঠ করেন। তিনি তাঁর নিজ শহর ও অন্যান্য জনপদের বিপুল সংখ্যক আলিমের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন এবং তাঁদের একটি জামাত (দল) তাঁকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন।

তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: (মহান প্রতিপালক শৈশব থেকেই আমার নিকট কিতাব পাঠ, অধ্যয়ন, পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করা এবং প্রবন্ধ রচনার বিষয়টিকে প্রিয় করে দিয়েছিলেন। আমি—আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বলছি—আমার পাঠ শেষ করে বাড়িতে আমার লাইব্রেরিতে চলে আসতাম। মহান প্রতিপালক তাঁর অনুগ্রহে তাঁর এই নগণ্য বান্দার অন্তর থেকে অলসতা এবং বৃথা সময় নষ্ট করার প্রবৃত্তি দূর করে দিয়েছিলেন। আমি সাহিত্য ও ইতিহাসের অগণিত কিতাব অধ্যয়ন করেছি; এমনকি আমার মনে পড়ে যখন আমার বয়স পনেরো বছর, তখন আমি এক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন মাস শয্যাশায়ী ছিলাম, তখন আমি কিতাব পাঠের মাধ্যমেই স্বস্তি লাভ করতাম)।

কাসেমী (রাহিমাহুল্লাহ) দীর্ঘকাল এভাবেই জ্ঞান সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন—কখনও শায়খদের নিকট থেকে সরাসরি পাঠ গ্রহণ করে, আবার কখনও কিতাব মন্থনের মাধ্যমে। এভাবে তিনি বিপুল ইলম অর্জন করেন। আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وكان من كبار مشايخه الشيخ بكري بن حامد البيطار، والشيخ حسن بن أحمد بن عبد القادر جبينة، الشهير بالدسوقي، في آخرين.

وقد أجاز له إجازة عامة كثير من كبار الشيوخ، منهم مفتي الشام العلامة محمود أفندي الحمزاوي، ومفتي الشام أيضًا طاهر بن عمر الآمدي، والعلامة الشيخ محمد الطنطاوي الأزهري ثم الدمشقي، وغيرهم كثير.

 

•‌‌ دعوته:

كان القاسمي سلفي العقيدة، متَّبعًا للسنة، بعيدًا عن التعصب، وقد امتحن في ذلك، فاتُّهم بتأسيس مذهب جديد في الدين، وسماه أعداؤه: المذهب الجمالي.

وكان محبًّا لمذهب السلف، متأثرًا بكتب شيخ الإسلام وابن القيم، يقول عن نفسه رحمه الله: (إني ولله الحمد نشأت على حب مؤلفات شيخ الإسلام والحرص عليها والدعوة إليها، وأعتقد أن كل من لم يطالع فيها لم يشم رائحة العلم الصحيح، ولا ذاق لذة فهم العقل).

وقال في رسالة له إلى الشيخ محمد نصيف: (ولا يخفى عليكم أن أعظم واسطة لنشر المذهب السلفي هو طبع كتبه، وأن كتابًا واحدًا تتناوله الأيدي على طبقاتها خير من مائة داعٍ
তাঁর প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন শেখ বকরী বিন হামিদ আল-বিতার এবং শেখ হাসান বিন আহমদ বিন আব্দুল কাদির জুবায়না, যিনি আদ-দুসুকি নামে পরিচিত, এবং আরও অনেকে।

অনেক বরেণ্য শায়খ তাঁকে সাধারণ অনুমতি (إجازة عامة) প্রদান করেছেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন শামের মুফতি আল্লামা মাহমুদ আফেন্দি আল-হামজাভি, শামের আরেক মুফতি তাহির বিন উমর আল-আমিদি, আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আল-তান্তাবি আল-আযহারি (যিনি পরবর্তীতে দামেশকি হিসেবে পরিচিত) এবং আরও অনেকে।

 

•‌‌ তাঁর দাওয়াত:

কাসেমি আকিদাহ (العقيدة) এর ক্ষেত্রে সালাফি ছিলেন, সুন্নাহর (السنة) অনুসারী ছিলেন এবং গোঁড়ামি থেকে দূরে ছিলেন। এ কারণে তিনি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন; তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মে একটি নতুন মাযহাব প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যাকে তাঁর শত্রুরা 'জামালি মাযহাব' নাম দিয়েছিল।

তিনি সালাফদের মাযহাবের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন এবং শায়খুল ইসলাম ও ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) নিজের সম্পর্কে বলেন: (আল্লাহর প্রশংসায়, আমি শায়খুল ইসলামের রচনাবলীর প্রতি ভালোবাসা, সেগুলোর প্রতি গভীর আগ্রহ এবং সেগুলোর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ওপর গড়ে উঠেছি। আমি বিশ্বাস করি, যে ব্যক্তি সেগুলো অধ্যয়ন করেনি সে সঠিক জ্ঞানের ঘ্রাণও পায়নি এবং বুদ্ধিদীপ্ত বুঝের স্বাদ আস্বাদন করেনি)।

তিনি শেখ মুহাম্মদ নাসিফের কাছে লেখা এক পত্রে বলেন: (আপনার নিকট এটি গোপন নয় যে, সালাফি মাযহাব প্রচারের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো এর কিতাবসমূহ মুদ্রণ করা। সর্বস্তরের মানুষের হাতে হাতে একটি কিতাব পৌঁছে যাওয়া একশজন আহ্বানকারী (داعي) এর চেয়েও উত্তম।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২৫)
وخطيب؛ لأن الكتاب يبقى أثره ويأخذه الموافق والمخالف).

اتهمه حسدته بتأسيس مذهب جديد في الدين، سموه (المذهب الجمالي) فقبضت عليه الحكومة سنة 1313 هـ وسألته، فرد التهمة فأخلي سبيله، واعتذر إليه والي دمشق.

انقطع القاسمي في منزله بعد المحنة للتصنيف وإلقاء الدروس الخاصة والعامة، في التفسير وسائر علوم الشريعة الإسلامية، رحمه الله رحمة واسعة.

ومع جهاده ودعوته وحرصه على منهج السلف ونشره والدفاع عنه، واهتمامه وشغفه بكتب شيخ الإسلام وابن القيم، إلا أنه وقع فيما وقع فيه في كتابه: (تاريخ الجهمية والمعتزلة)، و كتابه الآخر: (الجرح والتعديل)، فجاء بآراء باطلة خالف فيها ما عليه أهل العلم المحققون، فيما يتعلق بالجهمية والمعتزلة والأشاعرة وجماعات من أهل البدع والضلالة، فغفر الله له وتجاوز عنه.

 

•‌‌ مصنفاته:

قال تلميذه خير الدين الزركلي: نشر بحوثًا كثيرة في المجلات والصحف، اطلعت له على اثنين وسبعين مصنفًا، منها: (دلائل التوحيد)، و (ديوان خطب)، و (الفتوى في الإسلام)، و (إرشاد الخلق إلى العمل بخبر البرق)، و (شرح
...এবং একজন খতিব; কারণ বইয়ের প্রভাব স্থায়ী হয় এবং অনুসারী ও বিরোধী—উভয়ই তা গ্রহণ করে)।

তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিগণ তাঁর বিরুদ্ধে দ্বীনের মধ্যে একটি নতুন মাযহাব বা মতবাদ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ আনেন, যাকে তারা 'জামালি মাযহাব' (المذهب الجمالي) নামে অভিহিত করত। ফলে ১৩১৩ হিজরি সনে সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে; তিনি সেই অভিযোগ খণ্ডন করেন এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়, আর দামেস্কের ওয়ালি (গভর্নর) তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এই অগ্নিপরীক্ষার পর আল-কাসিমি গ্রন্থ রচনা এবং তাফসির ও ইসলামের অন্যান্য শারীয়াহ বিজ্ঞানের ওপর বিশেষ ও সাধারণ পাঠদানের উদ্দেশ্যে নিজ গৃহে নিবিষ্ট হন; আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন।

তাঁর জিহাদ, দাওয়াত এবং সালাফদের মানহাজ (منهج) প্রচার ও প্রতিরক্ষায় একাগ্রতা এবং শাইখুল ইসলাম ও ইবনুল কাইয়িমের কিতাবসমূহের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও, তিনি তাঁর 'তারিখুল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুতাজিলা' এবং 'আল-জারহ ওয়াত তা'দিল' নামক কিতাব দুটিতে কিছু বিচ্যুতিতে পতিত হয়েছেন। তিনি সেখানে এমন কিছু অসার (باطلة) মত পোষণ করেছেন যা জাহমিয়্যাহ, মুতাজিলা, আশআরিয়া এবং বিদআতি সম্প্রদায় (أهل البدع) ও পথভ্রষ্টতা (ضلالة) সংশ্লিষ্ট দলগুলোর ব্যাপারে বিজ্ঞ গবেষক আলিমগণের অবস্থানের পরিপন্থী। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর ভুলত্রুটি মার্জনা করুন।

 

•‌‌ তাঁর রচনাবলি:

তাঁর ছাত্র খাইরুদ্দিন আয-যিরিকলি বলেন: তিনি বিভিন্ন সাময়িকী ও সংবাদপত্রে অনেক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। আমি তাঁর ৭২টি রচনার খোঁজ পেয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে: 'দালাইলুত তাওহিদ', 'দিওয়ানুল খুত্বাব', 'আল-ফাতওয়া ফিল ইসলাম', 'ইরশাদুল খালক ইলাল আমালি বি-খাবারিল বারক' এবং 'শারহু...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২৬)
لقطة العجلان)، و (نقد النصائح الكافية)، و (مذاهب الأعراب وفلاسفة الإسلام في الجن)، و (موعظة المؤمنين)، اختصر به إحياء علوم الدين للغزالي، و (شرف الأسباط) و (تنبيه الطالب إلى معرفة الفرض والواجب)، و (جوامع الآداب في أخلاق الأنجاب)، و (إصلاح المساجد من البدع والعوائد)، و (تعطير المشام في مآثر دمشق الشام) في أربع مجلدات، و (قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث)، و (محاسن التأويل) في 17 مجلدا في تفسير القرآن الكريم)، وغير ذلك من الكتب.

 

•‌‌ ثناء العلماء عليه:

قال خير الدين الزركلي: (إمام الشام في عصره، علمًا بالدين، وتضلعًا من فنون الأدب).

وقال طاهر الجزائري: (القاسمي وليد القرون، وقد فهم الشريعة كما فهمها الصحابة والتابعون).

وقال عبد الحي الكتاني: (للعلامة المحدث الأصولي النَّظَّار).

وقال الشيخ أحمد شاكر في مقدمة المسح على الجوربين (ص 3): (أستاذنا عالم الشام، الشيخ محمد جمال الدين القاسمي الدمشقي رحمه الله.
'লোকতাতুল আজলান', 'নাকদুন নাসাইহিল কাফিয়া', 'মাজাহিবুল আরাব ওয়া ফালাসিফাতুল ইসলাম ফিল জিন', 'মাওইজাতুল মুমিনিন'—যার মাধ্যমে তিনি গাজালির 'ইহয়াউ উলুমিদ্দিন' সংক্ষেপ করেছেন, 'শারাফুল আসবাত', 'তানবিহুত তালিব ইলা মা'রিফাতিল ফারদি ওয়াল ওয়াজিব', 'জাওয়ামিউল আদাব ফি আখলাকিল আনজাব', 'ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা'ই ওয়াল আওয়াইদ', 'তাতীরুল মাশাম ফি মাসিরি দিমাশকিশ শাম' (চার খণ্ডে), 'কাওয়ায়িদুত তাহদিস মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস' (হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত), 'মাহাসিনুত তাবিল' (পবিত্র কুরআনের তাফসির বিষয়ে ১৭ খণ্ডে) এবং এছাড়া আরও অনেক গ্রন্থ।

 

•‌‌ তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:

খাইরুদ্দিন আজ-জিরিকলি বলেছেন: (তিনি ধর্মীয় জ্ঞানে এবং সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় গভীর পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁর যুগের শামের ইমাম ছিলেন)।

তাহের আল-জাজাইরি বলেছেন: (কাসিমি হলেন শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সন্তান; তিনি শরিয়াহকে তেমনভাবেই বুঝেছেন যেমনটি সাহাবি এবং তাবেয়িগণ বুঝেছিলেন)।

আবদুল হাই আল-কাত্তানি বলেছেন: (মহাজ্ঞানী হাদিস বিশেষজ্ঞ (المحدث), উসুল বিশেষজ্ঞ (الأصولي) ও গভীর পর্যবেক্ষক (النَّظَّار) এর প্রতি)।

শায়খ আহমাদ শাকির 'আল-মাসহু আলাল জাওরাবাইন' গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৩) বলেছেন: (আমাদের উস্তাদ, শামের আলেম শায়খ মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি আদ-দিমাশকি রহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال: (وكنا أحرص ما نكون على كتب السلف الصالح وكتب من نهج منهجهم من المتأخرين، الذين يستمسكون بالهدي النبوي، ويتبعون الدليل الصحيح، دون تعصب لرأي وهوى، ودون جمود على التقليد، وكان في مقدمة من سار على النهج القويم أستاذنا القاسمي رحمه الله، وقد زار مصر قبل‌‌ وفاته، وكنت ممن اتصل به من طلاب العلم، ولزم حضرته واستفاد من توجيهه إلى الطريق السوي والسبيل القويم).

وقال العلامة الألباني في الأجوبة النافعة (ص 113): (الشيخ الفاضل، والعلامة المحقق، السيد جمال الدين القاسمي، ألَّف كتابه القيم: "إصلاح المساجد من البدع والعوائد" وقد انتفعت به كثيرًا).

• وفاته:

توفي رحمه الله تعالى مساء السبت الثالث والعشرين من جمادى الأولى، عام (1332 هـ)، ودفن بباب الصغير، وعمره يوم مات 49 سنة.

وقد كتب الشيخ محمد رشيد رضا، مقالًا له في مجلة المنار بعنوان: (مصاب مصر والشام برجال العلم وحملة الأقلام)، ذكر جملة من المصلحين ممن وافتهم المنية في تلك الحقبة، ومنهم الشيخ جمال الدين القاسمي رحمة الله على علماء المسلمين، وعلى عموم المسلمين أجمعين.

তিনি বলেন: (আমরা সালফে সালেহীন এবং তাঁদের পথ অনুসরণকারী সেই সকল পরবর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম, যারা কোনো মতবাদ বা প্রবৃত্তির প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব এবং তাকলীদের জড়তা ছাড়াই নববী আদর্শকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেন এবং সঠিক (صحيح) দলিল অনুসরণ করেন। এই সঠিক পথে যারা চলেছেন তাদের অগ্রভাগে ছিলেন আমাদের উস্তাদ আল-কাসেমি (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্বে মিসর সফর করেছিলেন এবং আমি ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে এমন একজন ছিলাম যে তাঁর সাথে যোগাযোগ করেছিল, তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করেছিল এবং সঠিক ও ঋজু পথের দিকে তাঁর দিকনির্দেশনা থেকে উপকৃত হয়েছিল)।

আল্লামা আলবানী 'আল-আজউবাতুন নাফিয়াহ' (পৃ. ১১৩) গ্রন্থে বলেন: (মর্যাদাবান শায়খ এবং গবেষক (محقق) আল্লামা সাইয়্যিদ জামালুদ্দিন আল-কাসেমি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ: "ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা’ই ওয়াল আওয়াঈদ" রচনা করেছেন এবং আমি এটি থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি)।

• তাঁর ইন্তেকাল:

তিনি ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৩৩২ হিজরি সনের শনিবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা)। তাঁকে 'বাবুস সগির'-এ দাফন করা হয় এবং মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৪৯ বছর।

শায়খ মুহাম্মদ রশিদ রিদা 'আল-মানার' সাময়িকীতে ‘বিদ্বান ও লেখকদের মৃত্যুতে মিসর ও শামের শোক’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে তিনি সেই সময়ের বেশ কয়েকজন সংস্কারকের কথা উল্লেখ করেছেন যারা মৃত্যুবরণ করেছিলেন; তাঁদের মধ্যে শায়খ জামালুদ্দিন আল-কাসেমিও ছিলেন। মুসলিম উলামায়ে কেরাম এবং সাধারণ সকল মুসলিমের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌التعريف بحاشية جمال الدين القاسمي

لما وقف جمال الدين القاسمي على هذا المختصر في المكتبة العمومية بدمشق، طار به فرحًا؛ لما رأى من نفاسته على إيجازه، فسارع في نسخه والتعليق عليه.

واستعان على تلكم الحاشية بجملة من كتب الأصول، وكان غالب استمداده من مختصر الروضة للطوفي، ونزهة الخاطر لابن بدران.

قال القاسمي في نهاية التحشية مبيِّنًا ذلك: (ومما كان له عندنا اليد الطولى في العون على تصحيحه وتنقيحه من الأمهات الأصولية: كتابَا (مختصر الروضة القدامية للطوفي) و (نزهة الخاطر)؛ لتوافق الكل في معظم المباحث، وترتيب جل المسائل، فصححنا منهما كثيرًا مما غمض من ألفاظه، وأشفعناه بما علَّقنا منهما ما يوضح جملًا من دقائقه، سوى ما راجعناه لأجله من الكتب الشهيرة، كما تراه في العزو في أطراف التعليقات).

وعند النظر في تلكم الحاشية يمكن أن يقال: إن عناية الشيخ جمال الدين القاسمي على كتاب (قواعد الأصول)
‌জামাল উদ্দিন আল-কাসিমির হাশিয়া (حاشية)-এর পরিচিতি

যখন জামাল উদ্দিন আল-কাসিমি দামেস্কের পাবলিক লাইব্রেরিতে এই সংক্ষেপিত গ্রন্থ (مختصر)-টি খুঁজে পান, তখন এর সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও এর অসামান্য গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন; ফলে তিনি দ্রুত এটি অনুলিপি করতে এবং এর ওপর টীকা (تعليق) প্রদান করতে সচেষ্ট হন।

সেই হাশিয়া (حاشية) রচনায় তিনি উসুল (أصول)-শাস্ত্রের একগুচ্ছ কিতাবের সাহায্য নিয়েছিলেন। তার অধিকাংশ তথ্যসূত্র সংগৃহীত হয়েছিল তুফির 'মুখতাসারুর রওদাহ' এবং ইবনে বাদরানের 'নুজহাতুল খাতির' থেকে।

আল-কাসিমি টীকা প্রদানের শেষে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন: (উসুল (أصول) শাস্ত্রের মূল গ্রন্থগুলোর মধ্যে যা আমাদের কাছে এটি সংশোধন ও পরিমার্জনে সবচেয়ে বেশি সহায়ক ছিল তা হলো: তুফির ‘মুখতাসারুর রওদাতুল কুদামিইয়াহ’ এবং ‘নুজহাতুল খাতির’ গ্রন্থদ্বয়; কারণ অধিকাংশ আলোচনার বিষয় (مباحث) এবং প্রায় সব মাসয়ালা (مسائل)-এর বিন্যাসের ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে। ফলে আমরা এই দুটি কিতাবের সাহায্যে মূল পাঠের অনেক অস্পষ্ট শব্দ সংশোধন করেছি এবং গ্রন্থ দুটির ব্যাখ্যা থেকে এমন কিছু অংশ যোগ করেছি যা এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে। এ ছাড়াও আমরা অন্যান্য প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহও এর জন্য পর্যালোচনা করেছি, যা আপনি টীকাগুলোর প্রান্তসীমায় উদ্ধৃতি (عزو) হিসেবে দেখতে পাবেন)।

উক্ত হাশিয়া (حاشية)-র দিকে দৃষ্টিপাত করলে বলা যেতে পারে যে: 'কাওয়াইদুল উসুল' কিতাবের প্রতি শায়খ জামাল উদ্দিন আল-কাসিমির বিশেষ যত্ন...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ২৯)
توجهت إلى أمور:

1 - ضبط بعض الألفاظ المشكلة في المتن.

2 - الترجمة لبعض الأعلام المذكورين.

3 - بيان لبعض الفرق المذكورة في المتن؛ كالقدرية.

4 - التعليق على المشكل من العبارات بما يعين على توضيحها.

5 - ذكر بعض الفوائد التي يحتاجها المتلقي عند قراءته للمسألة.

وقد كُتب في مجلة المقتبس (لمحمد كرد علي، 18/ 42) مقالٌ حول المجموعة الأصولية التي أخرجها الشيخ جمال الدين القاسمي - ومنها هذا المختصر -، وهذا نص المقال:

(لا يوجد فن من الفنون يتسع فيه مجال النظر مثل فن أصول الفقه، ولذلك عُني أهل العلم به، وألفت فيه الكتب الكثيرة، ومن غرائب هذا الفن أنه يتيسر أن تجمع أهم مسائله في ورقة أو ورقات، ويمكن التوسع فيه حتى يكتب فيه في عشرة آلاف ورقة.

وهو كغيره من الفنون قد وقعت فيه كتب في غاية الجودة وكتب دون ذلك، إلا أن أكثر الكتب الجيدة كان يُفقد أثرها،
আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি মনোনিবেশ করেছি:

১ - মূল পাঠের (متن) অন্তর্ভুক্ত কিছু জটিল শব্দের সঠিক রূপ নির্ধারণ করা।

২ - উল্লিখিত কিছু বরণীয় ব্যক্তিত্বের জীবনী প্রদান করা।

৩ - মূল পাঠে (متن) উল্লিখিত কিছু ফেরকা বা দলের পরিচয় প্রদান করা; যেমন: কাদারিয়া।

৪ - অস্পষ্ট বাক্যগুলোর ওপর এমন টীকা প্রদান করা যা সেগুলো স্পষ্ট করতে সহায়ক হয়।

৫ - কোনো মাসআলা পাঠ করার সময় পাঠকের প্রয়োজনীয় কিছু জ্ঞানগর্ভ তথ্য (فوائد) উল্লেখ করা।

আল-মুকতাবাস সাময়িকীতে (মুহাম্মদ কুর্দ আলী সম্পাদিত, ১৮/ ৪২) শেখ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি প্রকাশিত উসুল শাস্ত্রীয় সংকলনটি সম্পর্কে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল — এই সারসংক্ষেপটি (مختصر) সেই সংকলনেরই অন্তর্ভুক্ত — আর নিবন্ধটির মূল পাঠ নিম্নরূপ:

(জ্ঞানের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের ন্যায় গবেষণার ক্ষেত্র এত প্রশস্ত, আর এ কারণেই বিদ্বানগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এতে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এই শাস্ত্রের এক বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো যে, এর অতি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ এক বা একাধিক পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত করা সম্ভব, আবার এর পরিধি এতই বিস্তৃত করা সম্ভব যে তা দশ হাজার পৃষ্ঠা পর্যন্ত গড়াতে পারে।

অন্যান্য শাস্ত্রের ন্যায় এতেও যেমন অত্যন্ত উঁচু মানের গ্রন্থ রচিত হয়েছে, তেমনি সাধারণ মানের বইও রয়েছে; তবে অধিকাংশ উন্নত মানের গ্রন্থের চিহ্ন বা পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাচ্ছিল,
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنها: "رسالة الإمام الشافعي" وهو أول من جمع مسائل هذا الفن، وأكثر ما عُني به المتأخرون كتب في غاية الإيجاز تعد عبارتها من قبيل الألغاز، فكان المبتدئ يبتدئ بها مع أنها لم توضع له البتة، فحدث من ذلك أنه هجر هذا الفن، حتى إن كثيراً من الحواضر لا يوجد بها من له إلمام به.

ولقد حاول بعض أفاضل العلماء أن يبحثوا عن كتب جعلت للمبتدئ، حتى إذا قرأها أولاً هان عليه الأمر فيما بعد.

ومن أعظم من قام بهذا الأمر الشيخ جمال الدين القاسمي من علماء دمشق، فقد انتخب أولاً أربع رسائل من أحسن رسائل هذا الفن، وكتب عليها حواشي نافعة، بحيث تكشف الغطاء في كثير من المواضع، ولم يكفه ما فعل أولاً حتى أتبعها ثانيًا برسائل أربع في مذاهب الأئمة الأربعة وحشاها كذلك، وقد وصلنا هذا المجموع، وهو مشتمل على: (مختصر المنار) لزيد الدين الحلبي الحنفي المتوفى سنة 808 هـ، و (الورقات) لإمام الحرمين الجويني، المتوفى سنة 478 هـ، و (مختصر تنقيح الفصول) لشهاب الدين القرافي المالكي، المتوفى سنة 684 هـ، و (قواعد الأصول) لصفي الدين البغدادي الحنبلي، المتوفى سنة 739 هـ، طبعت هذه الرسائل على نفقة محمد أفندي هاشم الكتبي، وتطلب من مكتبته في دمشق، وهي في زهاء 150 صفحة منصفة القطع).
এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: "ইমাম শাফেয়ীর রিসালা"; তিনি এই শাস্ত্রের (هذا الفن) মাসআলাসমূহ সর্বপ্রথম সংকলন করেন। পরবর্তী যুগের আলেমগণ (المتأخرون) যেসব গ্রন্থের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করেছেন, সেগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে রচিত এবং সেগুলোর প্রকাশভঙ্গি ধাঁধার সমতুল্য। ফলে শিক্ষানবিশগণ (المبتدئ) সেগুলো দিয়েই অধ্যয়ন শুরু করত, যদিও সেগুলো মূলত তাদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি। এর ফলে এই শাস্ত্র (هذا الفن) বিমুখতা তৈরি হয়, এমনকি অনেক বড় বড় জনপদেও এমন কাউকে পাওয়া যায় না যার এ বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান রয়েছে।

কিছু বিজ্ঞ আলেম এমন সব গ্রন্থ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন যা শিক্ষানবিশদের (المبتدئ) জন্য সংকলিত হয়েছে, যাতে সেগুলো আগে পাঠ করলে পরবর্তী বিষয়গুলো তাদের জন্য সহজতর হয়।

যাঁরা এই দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন দামেস্কের আলেম শেখ জামালুদ্দিন আল-কাসেমী। তিনি প্রথমে এই শাস্ত্রের (هذا الفن) সর্বোত্তম চারটি রিসালা নির্বাচন করেন এবং সেগুলোর ওপর অত্যন্ত উপকারী টীকা (حواشي) লিখেন, যা অনেক অস্পষ্ট বিষয়কে উন্মোচিত করে দেয়। প্রথম দফার কাজে পরিতৃপ্ত না হয়ে তিনি পরবর্তীতে চার ইমামের মাযহাবসমূহ (مذاهب) সংক্রান্ত আরও চারটি রিসালা এর সাথে যুক্ত করেন এবং সেগুলোতেও অনুরূপ টীকা যোগ করেন। এই সংকলনটি আমাদের নিকট পৌঁছেছে, যা নিম্নোক্ত কিতাবগুলো অন্তর্ভুক্ত করে: যায়নুদ্দিন আল-হালাবি আল-হানাফী (মৃত ৮০৮ হি.) রচিত 'মুখতাসারুল মানার', ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনী (মৃত ৪৭৮ হি.) রচিত 'আল-ওয়ারাখাত', শিহাবুদ্দিন আল-কারাফী আল-মালিকী (মৃত ৬৮৪ হি.) রচিত 'মুখতাসারু তানকিহিল ফুসুল', এবং সফিউদ্দিন আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী (মৃত ৭৩৯ হি.) রচিত 'কাওয়াইদুল উসুল'। এই রিসালাগুলো মুহাম্মদ এফেন্দি হাশেম আল-কুতুবীর অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছে এবং দামেস্কে তাঁর লাইব্রেরি থেকে এটি সংগ্রহ করা যায়; এটি প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠার মাঝারি আকৃতির একটি সংকলন।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদুল উসূল ওয়া মাআকিদুল ফুসূল (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌وصف النسخ المعتمدة

اعتمدنا في تحقيق هذا المختصر على نسختين خطيتين، ونسختين مطبوعتين:

 

‌‌أولًا: نسخة المكتبة الظاهرية:

وهي نسخة كاملة، قديمة، خطها نسخي، تقع في (27) ورقة، عدد أسطر الصفحة (15) سطرًا تقريبًا، ومكان حفظها: المكتبة الظاهرية بدمشق برقم (2813).

ولم يُذكر في هذه النسخة اسم ناسخها، ولا تاريخ نسخها.

إلا أنها نسخة كتبت في حياة المؤلف، ونقلت من نسخة عليها خط المؤلف، وقوبلت أيضًا، فهي نسخة جيدة متينة، إلا أنه يعكر عليها عدم وضوح بعض عباراتها.

جاء في الورقة الأولى من المخطوط ما يدل على أنها منسوخة في حياة المؤلف: (تأليف الشيخ العالم العلامة الأوحد الفاضل المحقق صفي الدنيا والدين، أبي الفضائل، عبد المؤمن بن عبد الحق بن عبد الله بن علي بن مسعود،
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ

এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির সম্পাদনা (تحقيق)-এর ক্ষেত্রে আমরা দুটি পাণ্ডুলিপি এবং দুটি মুদ্রিত কপির ওপর নির্ভর করেছি:

 

‌‌প্রথমত: জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি:

এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, যার লিপি হলো নাসখি। এটি ২৭টি পত্রক (ورقة) বিশিষ্ট, প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ১৫টি করে লাইন রয়েছে। এটি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে ২৮১৩ নম্বর ক্রমিকে সংরক্ষিত আছে।

এই পাণ্ডুলিপিতে এর লিপিকার (ناسخ)-এর নাম কিংবা অনুলিপি করার তারিখের উল্লেখ নেই।

তবে এটি লেখকের জীবদ্দশায় লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি, যা লেখকের নিজ হস্তাক্ষর সংবলিত একটি কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং এটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة) হয়েছে। ফলে এটি একটি উন্নত ও নির্ভরযোগ্য কপি; তবে এর কিছু বাক্যের অস্পষ্টতা পাঠোদ্ধারে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করে।

পাণ্ডুলিপিটির প্রথম পৃষ্ঠায় এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এটি লেখকের জীবদ্দশায় অনুলিপি করা হয়েছে: (শাইখ, আলিম, আল্লামা, অদ্বিতীয়, বিদগ্ধ গবেষক (محقق), সফিউদ দুনিয়া ওয়াদ দীন, আবুল ফাদায়েল, আবদুল মুমিন বিন আবদুল হক বিন আবদুল্লাহ বিন আলি বিন মাসউদ-এর রচনা,