(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: -)
وقفات مع كتاب المراجعات القسم: العقيدة
الكتاب: وقفات مع كتاب المراجعات
المؤلف: عثمان الخميس
مصدر الكتاب: موقع المنهج الموقع الرسمي للشيخ عثمان الخميس www.almanhaj.net
[الكتاب مرقم آليا، غير مطبوع وهو أشرطة مفرغة وهذه النسخة تتميز عن سائر النسخ المتاحة على النت بأنها مراجعة على يد أحد تلامذة الشيخ]
عدد الصفحات: 95
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুরাজাআত গ্রন্থের ওপর পর্যালোচনা বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আল-মুরাজাআত গ্রন্থের ওপর পর্যালোচনা
লেখক: উসমান আল-খামিস
গ্রন্থের উৎস: আল-মানহাজ ওয়েবসাইট, শায়খ উসমান আল-খামিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.almanhaj.net
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে, এটি মুদ্রিত সংস্করণ নয় বরং অডিও রেকর্ড থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। ইন্টারনেটে বিদ্যমান অন্যান্য সংস্করণের তুলনায় এই সংস্করণটির বিশেষত্ব হলো এটি শায়খের একজন ছাত্রের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়েছে।]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[وقفات مع كتاب المراجعات]ـ
لفضيلة الشيخ: عثمان الخميس
[خمس محاضرات مفرغة]
تمت المراجعة والتصحيح اللغوي من قبل إدارة موقع المنهج (الموقع الرسمي للشيخ عثمان الخميس حفظه الله)
www.almanhaj.net
-[কিতাবুল মুরাজাআত-এর ওপর কিছু পর্যালোচনামূলক আলোকপাত]-
সম্মানিত শায়খ: উসমান আল-খামিস
[পাঁচটি শ্রুতিলিখনকৃত লেকচার]
আল-মানহাজ ওয়েবসাইটের (শায়খ উসমান আল-খামিস হাফিজাহুল্লাহর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পর্যালোচনা ও ভাষাগত সংশোধনী সম্পন্ন হয়েছে।
www.almanhaj.net
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১)
الشريط الأولبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى اله وصحابته أجمعين، أما بعد..
فكما ترون من العنوان في أعلى هذه الغرفة (وقفات مع كتاب المراجعات)
إن كتاب المراجعات يعتبر من أهم كتب الشيعة الدعائية وذلك أن عندهم كتبا دعائية لا تمثل مذهبهم ولا يعتقدوتها ولكنها دعائية يستخدمونها للدعاية للمذهب، وهذا الكتاب لعله أشهر هذه الكتب، بل إن الشيعة - حسب علمي - يتسابقون على طبع هذا الكتاب وتوزيعه في كل مكان..
وأبدأ به قبل غيره - لأنه في النية إن شاء الله تعالى أن يستمر الحوار حول هذه الكتب وأستعرض قريبا من اثني عشر كتابا، وهذا الكتاب أبدأ به لشهرته وكثرة الناقلين عنه ممن سوف يأتي دورهم بعده، وقد شحن المؤلف وهو عبد الحسين شرف الدين الموسوي كتابه هذا بالأكاذيب والادعاءات والتمويهات كما هي العادة عند من يؤلف عندهم عن أهل السنة.
وقال محقق الكتاب في مقدمة التحقيق ما نصه: " إن كتاب المراجعات للإمام شرف الدين هو من أشهر الكتب التي بحثت بعض الاختلافات في الأمة الاسلامية بحثا موضوعيا علميا.. " هكذا قال.
প্রথম অডিওপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর...
যেমনটি আপনারা এই কক্ষের উপরের শিরোনামে দেখতে পাচ্ছেন (কিতাবুল মুরাজাআত এর ওপর কিছু পর্যালোচনা)
নিশ্চয় 'আল-মুরাজাআত' গ্রন্থটি শিয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রচারণামূলক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এর কারণ হলো, তাদের এমন কিছু প্রচারণামূলক বই রয়েছে যা তাদের মাযহাবের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে না এবং তারা নিজেরাও সেগুলো বিশ্বাস করে না, বরং সেগুলো কেবল মাযহাবের প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। সম্ভবত এই বইটি এ জাতীয় বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। এমনকি শিয়ারা - আমার জানামতে - এই বইটি ছাপানো এবং সর্বত্র বিতরণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে...
আমি অন্যান্য বইয়ের আগে এটি দিয়েই শুরু করছি—কারণ ইনশাআল্লাহ তাআলা ইচ্ছা রয়েছে যে, এই বইগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং আমি প্রায় বারোটি গ্রন্থ পর্যালোচনা করব। এই বইটি দিয়ে শুরু করার কারণ হলো এর প্রসিদ্ধি এবং এর পরবর্তীকালে যাদের নিয়ে আলোচনা আসবে, তাদের অনেকের মাঝেই এই গ্রন্থটি থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। লেখক আব্দুল হুসাইন শরাফউদ্দীন আল-মুসাভী তাঁর এই গ্রন্থটিকে মিথ্যাচার, ভিত্তিহীন দাবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যে পরিপূর্ণ করেছেন, যেমনটি তাদের মধ্যে যারা আহলে সুন্নাত সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করে থাকে তাদের সাধারণ অভ্যাস।
গ্রন্থের মুহাক্কিক (গবেষক) তাঁর পর্যালোচনামূলক ভূমিকার শুরুতে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "নিশ্চয় ইমাম শরাফউদ্দীনের ‘আল-মুরাজাআত’ গ্রন্থটি সেইসব প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা মুসলিম উম্মাহর কতিপয় মতভেদ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক পন্থায় আলোচনা করেছে...।" তিনি এভাবেই বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২)
والآن أشرع بإذن الله تبارك وتعالى ببيان الكذب الذي انطوى عليه هذا الكتاب، وفي الحقيقة لن أفصل كثيرا في الردود بقدر تفصيلي في بيان الأكاذيب وإن يسر الله تبارك وتعالى وكان في العمر مدة أيضا نفصل بحول الله في الردود، وسألتزم بنص كلامه وقد أشرك المحقق أحيانا لأنه لا يخلو من أن يكذب وسأنبه إن شاء الله تعالى بين كلامه وبين كلام المؤلف.
ولكن قبل هذا أقدم بمقدمة عن الكذب:
- يقول الإمام ابن القيم رحمه الله: بالصدق تميز أهل الإيمان عن أهل النفاق، وسكان الجنان من أهل النيران، وهو سيف الله في أرضه الذي ما وضع على شيء إلا قطعه، ولا واجه باطلا إلا أرداه وصرعه، من صال به لم ترد صولته، ومن قال به علت على الخصوم كلمته، ودرجته تالية لدرجة النبوة التي هي أرفع درجات العالمين. (مدارج السالكين ص)
- وقال كذلك - رحمه الله تعالى -: وقسم الله الناس إلى صادق ومنافق فقال: " ليجزي الله الصادقين بصدقهم، ويعذب المنافقين إن شاء أو يتوب عليهم.
(مدارج السالكين)
- وقال أيضا: والإيمان أساسه الصدق، والنفاق أساسه الكذب، فلا يجتمع كذب وإيمان إلا وأحدهما محارب للآخر.
* وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الصدق يهدي إلى البر وإن البر يهدي إلى الجنة وإن الرجل ليصدق حتى يكتب عند الله صديقا وإن الكذب يهدي إلى الفجور وإن الفجور يهدي إلى النار وإن الرجل ليكذب حتى يكتب عند الله كذابا)) (1) .
وصدق الشاعر حين قال:
لا يكذب المرء إلا من مهانته أو عادة السوء أو من قلة الأدب
لجيفة الكلب عندي خير رائحة من كذبة المرء في جد وفي لعب
- وقال أشهب: سئل الإمام مالك عن الرافضة فقال: لا تكلمهم ولا تروي عنهم فإنهم يكذبون.
- وقال حرملة: سمعت الشافعي يقول: لم أرى أشهد بالزور من الرافضة.
--------------------------------------------
আর এখন আমি মহান ও বরকতময় আল্লাহর অনুমতিক্রমে এই বইটিতে অন্তর্ভুক্ত মিথ্যাগুলো স্পষ্ট করা শুরু করছি। প্রকৃতপক্ষে, আমি খণ্ডনমূলক উত্তরে খুব বেশি বিস্তারিত আলোচনা করব না, যতটা বিস্তারিত আলোচনা করব মিথ্যাগুলো প্রকাশ করার ক্ষেত্রে। আর যদি মহান ও বরকতময় আল্লাহ তাওফিক দেন এবং জীবনে সময় থাকে, তবে আল্লাহর শক্তিতে আমরা খণ্ডনমূলক উত্তরগুলোতেও বিস্তারিত আলোচনা করব। আমি তার বক্তব্যের মূল পাঠের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব এবং মাঝে মাঝে মুহাক্কিককেও (সম্পাদনা কারী) এতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, কারণ সেও মিথ্যাচার থেকে মুক্ত নয়। আর আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা লেখকের বক্তব্য এবং মুহাক্কিকের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে দেব।
তবে এর আগে আমি মিথ্যা সম্পর্কে একটি ভূমিকা পেশ করছি:
- ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সত্যের মাধ্যমেই ঈমানদাররা মুনাফিকদের থেকে এবং জান্নাতবাসীরা জাহান্নামীদের থেকে পৃথক হয়। এটি জমিনে আল্লাহর সেই তলোয়ার, যা কোনো কিছুর ওপর রাখা হলে তাকে দ্বিখণ্ডিত না করে ছাড়ে না এবং কোনো বাতিলের মুখোমুখি হলে তাকে ধূলিসাৎ ও পরাজিত না করে ছাড়ে না। যে এর মাধ্যমে আক্রমণ করে, তার আক্রমণ প্রতিহত করা যায় না। আর যে এর মাধ্যমে কথা বলে, বিরোধীদের ওপর তার কথা বিজয়ী হয়। এর মর্যাদা নবুওয়াতের মর্যাদার পরবর্তী স্তর, যা বিশ্বজগতের সর্বোচ্চ স্তরগুলোর একটি। (মাদারিজুস সালিকিন পৃষ্ঠা...)
- তিনি (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) আরও বলেন: আল্লাহ মানুষকে সত্যবাদী ও মুনাফিক—এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি বলেছেন: "যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদের তাদের সত্যবাদিতার জন্য পুরস্কৃত করেন এবং মুনাফিকদের শাস্তি দেন যদি তিনি চান অথবা তাদের তাওবা কবুল করেন।"
(মাদারিজুস সালিকিন)
- তিনি আরও বলেন: ঈমানের ভিত্তি হলো সত্যবাদিতা এবং নিফাকের ভিত্তি হলো মিথ্যাচার। সুতরাং মিথ্যা ও ঈমান কখনো একত্রিত হয় না, বরং একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত থাকে।
* রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা নেক কাজের দিকে ধাবিত করে এবং নেক কাজ জান্নাতের দিকে পথ দেখায়। মানুষ সত্য বলতে থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে পরম সত্যবাদী হিসেবে লিখিত হয়। আর নিশ্চয়ই মিথ্যাচার পাপাচারের দিকে ধাবিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে পথ দেখায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে চরম মিথ্যাবাদী হিসেবে লিখিত হয়।)) (১)
কবি সত্যই বলেছেন:
মানুষ কেবল তার হীনম্মন্যতা, কুস্বভাব অথবা আদবের অভাবের কারণেই মিথ্যা বলে
আমার কাছে কুকুরের মৃতদেহের গন্ধও মানুষের গম্ভীর বা হাসি-তামাশার ছলে বলা মিথ্যার চেয়ে উত্তম সুবাসময়
- আশহাব বলেন: ইমাম মালেককে রাফেজিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: তাদের সাথে কথা বলো না এবং তাদের থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করো না, কারণ তারা মিথ্যা বলে।
- হারমালা বলেন: আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি: আমি রাফেজিদের চেয়ে বেশি মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী আর কাউকে দেখিনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ৩)
- وقال يزيد بن هارون: يكتب عن كل صاحب بدعة إذا لم يكن داعية إلا الرافضة فإنهم يكذبون.
وقال شريك القاضي: احمل العلم عن كل من لقيت إلا الرافضة فإنهم يضعون الحديث ويتخذونه دينا.
وقال ابن تيمية: الرافضة بهائم فلا النقل يصدقون ولا الصدق يقبلون.
هذه أقوال أهل السنة فيهم وبيان كثرة الكذب عندهم، ولقائل أن يقول هذه الأقوال لا تقبل للعداء المعروف بين الشيعة والسنة فلذلك ننقل من كتبهم:
- قال جعفر الصادق رحمه الله ورضي عنه -: " رحم الله عبدا حببنا إلى الناس ولم يبغِّضنا إليهم؛ أما والله لو يروون محاسن كلامنا لكانوا به أعز وما استطاع أحد أن يتعلق عليهم بشيء؛ ولكن أحدهم يسمع الكلمة فيحط عليها عشرا". روضة الكافي ص 192
- وقال أيضا رحمه الله ورضي عنه -: " إن من ينتحل هذا الأمر لمن هو شر من اليهود والنصارى والمجوس والذين أشركوا ". رجال الكشي ص 252
وهذا الكلام قاله عن زرارة بن أعين أعظم رواة الشيعة على الاطلاق!!
- وقال أيضا رحمه الله تعالى: " لو قام قائمنا لبدأ بكذابي الشيعة فقتلهم ". رجال الكشي 253
- وقال أيضا:" ما أنزل الله من آية في المنافقين إلا وهي فيمن ينتحل التشيع ". رجال الكشي ص 154
- وقال أيضا: " إن ممن ينتحل هذا الأمر ليكذب حتى إن الشيطان ليحتاج إلى كذبه ". الروضة من الكافي ص 212
- وقال محمد الباقر – رحمه الله ورضي عنه -: " لو كان الناس كلهم لنا شيعة لكان ثلاثة أرباعهم لنا شكاكا والربع الآخر أحمق ". رجال الكشي ص 179
وقال محمد باقر البهبودي: " ومن الأسف أننا نجد هذه الأحاديث – يعني الضعيفة والكذوبة – في روايات الشيعة أكثر من روايات أهل السنة. (مقدمة صحيح الكافي) .
وهذا الحديث
… موجه لكل سني وموجه كذلك لكل شيعي.
أوجهه لكل سني حتى تطمئن نفسه ويعلم أنه على حق، ويعلم أن صاحب الحق لا يكذب أبدا ولا يدلس ولا يماري.
এবং ইয়াজিদ ইবনে হারুন বলেছেন: "প্রত্যেক বিদআতী ব্যক্তি থেকে ইলম লিপিবদ্ধ করা যাবে যদি সে তার বিদআতের দিকে আহ্বানকারী না হয়, তবে রাফেজীদের ব্যতীত; কারণ তারা মিথ্যা বলে।"
এবং শুরআইক আল-কাজী বলেছেন: "যাহার সাথে তোমার দেখা হয় তাহার নিকট থেকেই ইলম গ্রহণ করো, রাফেজীদের ব্যতীত; কারণ তারা হাদীস জাল করে এবং ইহাকেই দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে।"
এবং ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন: "রাফেজীরা হলো চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়; তারা না কোনো বর্ণনাকে সত্য বলে মেনে নেয়, আর না সত্যকে গ্রহণ করে।"
এইগুলো হলো তাদের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর বক্তব্য এবং তাদের মাঝে মিথ্যার আধিক্যের বর্ণনা। কোনো বক্তা হয়তো বলতে পারেন যে, শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যকার পরিচিত শত্রুতার কারণে এই বক্তব্যগুলো গ্রহণযোগ্য নয়, তাই আমরা তাদের কিতাবসমূহ থেকেই উদ্ধৃতি দিচ্ছি:
- জাফর আস-সাদিক (রাহিমাহুল্লাহ এবং আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: "আল্লাহ সেই বান্দার ওপর রহম করুন, যে আমাদের মানুষকে আমাদের প্রতি অনুরক্ত করে তোলে এবং তাদের নিকট আমাদের ঘৃণিত করে না। আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাদের কথার সৌন্দর্যগুলো বর্ণনা করতো, তবে তারা এর মাধ্যমে অধিক সম্মানিত হতো এবং কেউ তাদের ওপর কোনো কিছু নিয়ে আপত্তি তোলার সুযোগ পেত না। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ একটি কথা শোনে এবং এর সাথে আরও দশটি যোগ করে দেয়।" রওজাতুল কাফী, পৃষ্ঠা ১৯২
- তিনি (রাহিমাহুল্লাহ এবং আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা আমাদের এই বিষয়ের (বিলায়তের) দাবিদার, তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা ইহুদি, নাসারা, অগ্নিপূজক এবং মুশরিকদের চেয়েও নিকৃষ্ট।" রিজালুল কাশশী, পৃষ্ঠা ২৫২
আর এই কথাটি তিনি শিয়াদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বর্ণনাকারী যুরারাহ ইবনে আয়ান সম্পর্কে বলেছিলেন!!
- তিনি (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) আরও বলেছেন: "যদি আমাদের কায়েম (ইমাম মাহদী) আবির্ভূত হতেন, তবে তিনি শিয়াদের মিথ্যাবাদীদের দিয়েই কাজ শুরু করতেন এবং তাদের হত্যা করতেন।" রিজালুল কাশশী, ২৫৩
- তিনি আরও বলেছেন: "মুনাফিকদের ব্যাপারে আল্লাহ এমন কোনো আয়াত নাজিল করেননি যা তাদের ব্যাপারে প্রযোজ্য নয় যারা শিয়া হওয়ার দাবি করে।" রিজালুল কাশশী, পৃষ্ঠা ১৫৪
- তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা এই বিষয়ের দাবিদার তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে যে এত বেশি মিথ্যা বলে যে, শয়তানও তার মিথ্যার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে।" রওজাতুল কাফী, পৃষ্ঠা ২১২
- মুহাম্মদ আল-বাকির (রাহিমাহুল্লাহ এবং আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: "যদি সমস্ত মানুষই আমাদের শিয়া হতো, তবে তাদের তিন-চতুর্থাংশ হতো আমাদের ব্যাপারে সংশয়বাদী এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ হতো নির্বোধ।" রিজালুল কাশশী, পৃষ্ঠা ১৭৯
মুহাম্মদ বাকির আল-বেহবুদী বলেছেন: "অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমরা এই হাদীসগুলো—অর্থাৎ দুর্বল ও বানোয়াট হাদীসগুলো—আহলুস সুন্নাহর বর্ণনার তুলনায় শিয়াদের বর্ণনায় অধিক হারে দেখতে পাই।" (মুকাদ্দিমা সহীহুল কাফী)।
আর এই কথাটি
… প্রত্যেক সুন্নির উদ্দেশ্যে এবং একইভাবে প্রত্যেক শিয়ার উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
আমি এটি প্রত্যেক সুন্নির উদ্দেশ্যে পেশ করছি যাতে তার মন প্রশান্ত হয় এবং সে জানতে পারে যে সে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এবং সে যেন অবগত হয় যে সত্যের অনুসারী কখনও মিথ্যা বলে না, প্রতারণা করে না এবং বৃথা তর্কে লিপ্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ৪)
أوجهه كذلك لكل شيعي حتى يعلم كذلك أين الحق، وحتى يعلم كذلك أنه لا يمكن أبدا علمائه على حق وهم كذلك في نفس الوقت يكذبون (1) .
أيها الشيعي! إن صاحب الحق لا يحتاج إلى الكذب لبيان حقه وإقناع الناس به، وخير مثال على هذا سيرة نبينا وسيدنا ومولانا وحبيبنا محمد – صلى الله عليه وسلم فإنه لم يؤثر عنه كذب قط، وصاحب الباطل دائما يكذب ليموه ويدلس ويخفي باطله بأكاذيب منمقة مرتبة وهذا واقع كل من قرأت لهم من علماء الشيعة الذين صنفوا كتبا يناقشون فيها الصراع بين الشيعة والسنة والخلاف بينهما، وللأسف أيضا هذا ديدن كل من ناقشتهم من علماء الشيعة، كلهم كانوا يكذبون وللأسف وأنا أذكر أسمائهم الآن – أعني الذين ناقشتهم – وبعد ذلك أنظر هل يوجد غيرهم.
من الذين ناقشتهم وهم يكذبون: الدكتور عصام العماد وكذلك الكوراني كذب على مع أني طلبت أن أذكر هذا الكذب فلم يسمح لي أن أدخل غرفتهم لأبين ما كذب علي في ذلك، وكذلك إمام عندنا في الكويت يقال له الدماوندي، وآخر اسمه عبد الله فيروز، وآخر اسمه حسين المعتوق، وثالث اسمه علي الصالح أبو عبد الوهاب وغيرهم ممن لم أعرف أسمائهم ممن ناقشوني وكانوا يكذبون، وهذا عدى من يكتبون في الكتب وأيضا أجدهم يكذبون كمثل أمير القزويني في كتابه " نقد الصواعق المحرقة " أو الموسوي في كتابه " المراجعات " كما سيأتي أو الأنطاكي في كتاب " لماذا اخترت مذهب الشيعة " أوغيرهم كالتيجاني وغيره ممن سيأتي ذكرهم إن يسر الله تعالى لنا هذه الجلسات.
الحقيقة أني تتبعت كتب الشيعة التي تتكلم عن السنة فوجدت الكذب عنهم كثير ولذلك قررت أن أبدأ بمناقشة هذه الأكاذيب ومناقشة ما فيها من الباطل.
أولا: بالنسبة لكتاب المراجعات:
--------------------------------------------
আমি এটি একইভাবে প্রতিটি শিয়া ব্যক্তির উদ্দেশ্যে পেশ করছি, যাতে তারা জানতে পারে সত্য কোথায়, এবং যাতে তারা এও জানতে পারে যে তাদের আলেমগণ কখনোই সত্যের ওপর থাকতে পারে না যখন তারা একই সাথে মিথ্যাও বলে (১)।
হে শিয়া ব্যক্তি! নিশ্চয়ই সত্যের অনুসারীর নিজের সত্য বর্ণনা করার জন্য এবং মানুষকে সে ব্যাপারে আশ্বস্ত করার জন্য মিথ্যার প্রয়োজন হয় না। এর সর্বোত্তম উদাহরণ হলো আমাদের নবী, আমাদের সরদার, আমাদের অভিভাবক এবং আমাদের প্রিয় মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত; কারণ তাঁর থেকে কখনোই কোনো মিথ্যা বর্ণিত হয়নি। আর বাতিলের অনুসারী সর্বদা মিথ্যা বলে যাতে সে বিভ্রান্ত করতে পারে, প্রতারণা করতে পারে এবং সুসজ্জিত ও সাজানো মিথ্যার মাধ্যমে তার বাতিলকে আড়াল করতে পারে। আমি শিয়া আলেমদের মধ্য থেকে যাদের বই পড়েছি এবং যারা শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও মতভেদ নিয়ে বই লিখেছেন, তাদের সবার ক্ষেত্রেই এটি বাস্তব সত্য। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, আমি যেসব শিয়া আলেমদের সাথে আলোচনা করেছি তাদের সবারই এটি নিয়মিত অভ্যাস ছিল। তারা সকলেই মিথ্যা বলতেন, আর দুর্ভাগ্যবশত আমি এখন তাদের নাম উল্লেখ করছি—অর্থাৎ যাদের সাথে আমি আলোচনা করেছি—এবং এরপর দেখব যে আরও কেউ আছে কি না।
যাদের সাথে আমি আলোচনা করেছি এবং যারা মিথ্যা বলতেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ডক্টর ইসাম আল-ইমাদ, এবং একইভাবে আল-কুরানিও আমার নামে মিথ্যাচার করেছেন; যদিও আমি সেই মিথ্যার কথা উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে তাদের রুমে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি যাতে আমি সেখানে তারা আমার নামে যে মিথ্যাচার করেছে তা স্পষ্ট করতে পারি। একইভাবে কুয়েতে আমাদের এখানে একজন ইমাম আছেন যাকে দামাওয়ান্দি বলা হয়, এবং অন্য একজনের নাম আবদুল্লাহ ফিরোজ, আরেকজনের নাম হুসাইন আল-মাতুক, তৃতীয় একজনের নাম আলী আল-সালেহ আবু আব্দুল ওয়াহহাব এবং আরও অনেকে যাদের নাম আমি জানি না কিন্তু তারা আমার সাথে আলোচনা করেছেন এবং মিথ্যা বলেছেন। এছাড়া যারা বই লেখেন আমি তাদেরও মিথ্যা বলতে দেখি, যেমন আমির আল-কাযউইনি তার 'নাকদুস সাওয়ায়িকুল মুহরিকা' বইতে, অথবা মুসাভি তার 'আল-মুরাজাআত' বইতে—যেমনটি সামনে আসবে—অথবা আল-আনতাকি 'লিমাযা ইখতারতু মাযহাবাশ শিয়া' বইতে, অথবা তিজানি এবং আরও অনেকে যাদের কথা আল্লাহ তাআলা চাইলে এই মজলিসগুলোতে আসবে।
প্রকৃত সত্য এই যে, আমি শিয়াদের সেই কিতাবগুলো অনুসরণ করেছি যা সুন্নিদের সম্পর্কে আলোচনা করে এবং আমি সেগুলোতে প্রচুর মিথ্যা পেয়েছি। তাই আমি এই মিথ্যাগুলো নিয়ে এবং এর মধ্যকার বাতিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রথমত: আল-মুরাজাআত কিতাবের প্রসঙ্গে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ৫)
يقول حسين الراضي محقق الكتاب كما قرأنا كلامه بعد قليل والآن أعيده بتفصيل: " إن كتاب المراجعات لسماحة سيدنا الإمام شرف الدين – قدس الله سره – يعتبر بحق من أهم ما أنتجه الفكر الإسلامي والإمامي في توضيح قضايا الإمامة وإثبات وجهتها الحقة بعد وفاة الرسول الأعظم – صلى الله عليه وسلم – وهو في الحقيقة كتاب يدعو للوحدة وجمع الكلمة بين المسلمين ويضع حدا فاصلا لكثير من الخلافات التي كانت سببا في تباعدهم وتباغضهم فبعد التفهم لتلك القضايا على أساس البحث العلمي والدقة الموضوعية ينحسر الجهل ويسفر الصبح ويرجع النصاب إلى أهله ". المقدمة. الطبعة الأولى ص 21.
ويقول الإمام الألباني – رحمه الله تعالى – محدث الديار الشامية في زمنه بل محدث الاسلام في زمنه: " وكتاب المراجعات للشيعي المذكور – أي عبد الحسين شرف الدين – محشو بالأحاديث الضعيفة والموضوعة في فضل علي رضي الله عنه مع كثير من الجهل بهذا العلم الشريف [يعني علم الحديث] والتدليس على القراء والتضليل عن الحق الواقع، بل والكذب الصريح، مما لا يكاد القارئ الكريم يخطر في باله أن أحدًا من المؤلفين يحترم نفسه يقع في مثله ". السلسلة الضعيفة (2/297) حديث رقم (896) .
وأقول: كتاب المراجعات حشاه مؤلفه بالأكاذيب وسأبين إن شاء الله تعالى بالتفصيل الموسع – أعني – ذلك الإفك.
* قال الموسوي عبد الحسين في مقدمة الكتاب ص 55:
" هذه صحف لم تكتب اليوم، وفكر لم تولد حديثا وإنما هي صحف انتظمت منذ زمن يربو على ربع قرن، وكادت يومئذ أن تبرز بروزها اليوم لكن الحوادث والكوارث كانت حواجز قوية عرقلت خطاها ".
গ্রন্থের গবেষক হুসাইন আল-রাদি বলেন, যেমনটি আমরা কিছুক্ষণ পরেই তাঁর বক্তব্য পড়ব এবং এখন আমি তা বিস্তারিতভাবে পুনরায় ব্যক্ত করছি: "সম্মানিত আমাদের সাইয়্যিদ ইমাম শরাফ উদ্দিন —আল্লাহ তাঁর রহস্যকে পবিত্র করুন— প্রণীত 'আল-মুরাজাআত' গ্রন্থটি যথাযথভাবেই মহান রাসূল —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম— এর ইন্তেকালের পর ইমামতের বিষয়গুলো স্পষ্টীকরণে এবং এর সঠিক দিকটি প্রমাণের ক্ষেত্রে ইসলামি ও ইমামি চিন্তাধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। প্রকৃতপক্ষে এটি এমন এক গ্রন্থ যা মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানায় এবং এমন বহু মতভেদের চূড়ান্ত অবসান ঘটায় যা তাদের মধ্যে দূরত্ব ও পারস্পরিক ঘৃণার কারণ ছিল। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বস্তুনিষ্ঠ সূক্ষ্মতার ভিত্তিতে এই বিষয়গুলো অনুধাবন করার পর অজ্ঞতা দূর হয়, সত্যের প্রভাত উদ্ভাসিত হয় এবং অধিকার তার প্রকৃত হকদারের কাছে ফিরে যায়।" ভূমিকা। প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২১।
এবং ইমাম আলবানী —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—, যিনি তাঁর সময়ের শাম অঞ্চলের মুহাদ্দিস বরং সমগ্র ইসলামের মুহাদ্দিস ছিলেন, তিনি বলেন: "উল্লিখিত শিয়া ব্যক্তি —অর্থাৎ আব্দুল হুসাইন শরাফ উদ্দিন— এর 'আল-মুরাজাআত' গ্রন্থটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত সম্পর্কে দুর্বল ও জাল হাদিসে পরিপূর্ণ। এর সাথে এই মহান জ্ঞান [অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্র] সম্পর্কে ব্যাপক অজ্ঞতা, পাঠকদের প্রতি প্রবঞ্চনা এবং প্রকৃত সত্য থেকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস এতে বিদ্যমান; এমনকি এটি স্পষ্ট মিথ্যায় পূর্ণ, যা কোনো সম্মানিত পাঠক কল্পনাও করতে পারবেন না যে, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কোনো লেখক এ জাতীয় কাজে লিপ্ত হতে পারেন।" আস-সিলসিলাতুদ দয়িফাহ (২/২৯৭), হাদিস নং (৮৯৬)।
আমি (লেখক) বলছি: আল-মুরাজাআত গ্রন্থটি এর লেখক মিথ্যায় পূর্ণ করেছেন এবং আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা বিস্তারিতভাবে সেই অপবাদগুলো ব্যাখ্যা করব।
* মুসাভী আব্দুল হুসাইন গ্রন্থের ভূমিকায় ৫৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
"এই লেখাগুলো আজ লেখা হয়নি এবং এই চিন্তাগুলোও নতুন জন্ম নেওয়া নয়। বরং এগুলো এমন পাণ্ডুলিপি যা সিকি শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সুবিন্যস্ত হয়েছে এবং তা সে সময়েই আজকের মতো প্রকাশিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, কিন্তু বিভিন্ন ঘটনা ও বিপর্যয় শক্তিশালী বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে এর গতিকে মন্থর করে দিয়েছিল।"
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ৬)
قلت: لا نعلم في تلك الحقبة حوادث وكوارث تعوق نشر مثل هذا الكتاب وذلك لأنه يتكلم عن عام 1910م يعني قبل تسعين سنة تقريبا، ولكن لعل المقصود بهذه الكوارث والحوادث هي وجود الشيخ البشري الذي يدعي المؤلف أنه ناقشه في هذا الكتاب وذلك أن الشيخ البشري في ذلك الوقت كان حيا، فلما مات الشيخ البشري – رحمه الله – خلا الجو للموسوي لكي يعرض ما عنده ولا يرد عليه أحد، ولذلك عندما تتصفح هذا الكتاب لا تجد أي صورة مخطوطة من رسائل البشري التي تعدت الخمسين رسالة والتي يدعيها الموسوي أنها رسائل أرسلها إليه البشري، فعلى الأقل لابد من أن يذكر صورا لهذه الرسائل عليها توقيع البشري حتى يرى هل هذه للبشري أم لا؟!
ثم كذلك هذا ظاهر من سير المناظرات، فإن البشري في هذه المناظرات يقف بين يدي الموسوي كالتلميذ بين يدي معلمه يسأل ويستفهم فقط، علما بأن الموسوي في هذه الفترة التي يدعي أنها تخللتها الرسائل لم يجاوز الأربعين سنة والبشري قد جاوز الستين تقريبا، ومع هذا البشري يمدح والموسوي يشكر على المديح دائما في هذا الكتاب!
ومما يدل على كذب الموسوي في هذا الكتاب قوله في المراجعة (111) على لسان البشري أنه قال: " أشهد أنكم في الفروع والأصول على ما كان عليه الأئمة من آل الرسول وانصرفت عنك مفلحا منجحا ".
وللأسف لم نسمع أن البشري قد تشيع بعد هذا الكلام!!
ولذلك أقول أن هذا كذب على البشري – رحمه الله تعالى – وهناك من سأل ابن البشري عن هذه المناظرات فقال: ما سمعت قط أنها جرت بين أبي وبين أحد من الناس.
আমি বলি: সেই যুগে এমন কোনো ঘটনা বা বিপর্যয় সম্পর্কে আমাদের জানা নেই যা এই ধরণের বই প্রকাশের পথে বাধা হতে পারে। কারণ এতে ১৯১০ খ্রিস্টাব্দের কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় নব্বই বছর আগের কথা। কিন্তু সম্ভবত এই বিপর্যয় ও ঘটনা দ্বারা শাইখ আল-বিশরির উপস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে, যার সাথে লেখক এই বইয়ে আলোচনা করেছেন বলে দাবি করেছেন। এর কারণ হলো, শাইখ আল-বিশরি সেই সময় জীবিত ছিলেন। অতঃপর যখন শাইখ আল-বিশরি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—ইন্তেকাল করলেন, তখন আল-মুসাবীর জন্য পথ পরিষ্কার হয়ে গেল যাতে তিনি তাঁর কাছে যা আছে তা পেশ করতে পারেন এবং কেউ যেন তাঁর প্রতিবাদ করতে না পারে। এই কারণে, আপনি যখন এই বইটি পড়েন, তখন আল-বিশরির চিঠিপত্রগুলোর কোনো পাণ্ডুলিপির ছবি খুঁজে পাবেন না, যেগুলোর সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি এবং যেগুলো আল-বিশরি তাঁর কাছে পাঠিয়েছেন বলে আল-মুসাবী দাবি করেন। অন্তত এই চিঠিগুলোর এমন কিছু ছবি উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল যেখানে আল-বিশরির স্বাক্ষর রয়েছে, যাতে দেখা যেত এগুলো আল-বিশরির কি না?!
আবার একইভাবে এটি মুনাজারা বা বিতর্কগুলোর ধারা থেকেও স্পষ্ট। কেননা এই বিতর্কগুলোতে আল-বিশরি আল-মুসাবীর সামনে একজন ছাত্রের মতো দাঁড়িয়ে থাকেন যে তার শিক্ষকের কাছে শুধু প্রশ্ন করে এবং কেবল জানতে চায়। অথচ জানা যায় যে, আল-মুসাবী সেই সময়কালে—যে সময়ে এই চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন—চল্লিশ বছর পার হননি, আর আল-বিশরির বয়স তখন প্রায় ষাটোর্ধ্ব ছিল। তা সত্ত্বেও এই বইয়ে আল-বিশরি প্রশংসা করছেন এবং আল-মুসাবী সর্বদা সেই প্রশংসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন!
এই বইয়ে আল-মুসাবীর মিথ্যার অন্যতম প্রমাণ হলো ১১১তম ‘মুরাজাআ’ বা আলোচনায় আল-বিশরির জবানে তাঁর এই উক্তিটি: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনারা শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতিতে সেই পথেই আছেন যে পথে রাসূলের পরিবারের ইমামগণ ছিলেন এবং আমি আপনার কাছ থেকে সফল ও সার্থক হয়ে বিদায় নিচ্ছি।"
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা শুনিনি যে আল-বিশরি এই কথার পর শিয়া মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন!!
তাই আমি বলি, এটি আল-বিশরির—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—প্রতি একটি মিথ্যাচার। আর এমন ব্যক্তিও আছেন যিনি আল-বিশরির ছেলেকে এই মুনাজারাগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: আমি কখনো শুনিনি যে আমার বাবার সাথে কারো মধ্যে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهكذا في جميع كتبهم تجد مناظرات عبارة عن أكاذيب كما هو الحال في كتاب " ليالي بشاور " (1) فإن من يقرأه يرى الكذب، وكذلك مناظرات التيجاني في أشرطته وكتبه دائما هو البطل، ودائما هو الذي ينتصر، ودائما الذي أمامه يقر ويعترف ويظهر عجزه وجهله، وعندما تأتي وتناقشه تجد إنسانا كذابا لا يتقي الله – تبارك وتعالى – في نقله ولا يتقي الله – تبارك وتعالى – في كلامه، والله المستعان (2) .
نعود إلى البشري لأن التيجاني له وقته إن شاء الله تعالى.
ملحوظة: الطبعة التي أنقل منها كلام الموسوي هي طبعة الدار الاسلامية تحقيق حسين الراضي. الطبعة السادسة. الدار الاسلامية في بيروت في كورنيش المزرعة - الحسن سنتر.
كما أنه بذكر رقم المراجعة يسهل الأمر فالكتاب عبارة عن مجموعة من المراجعات كما يدعي الموسوي.
* المراجعة رقم (4) ص 66:
قال الموسوي: " إن تعبدنا في الأصول بغير المذهب الأشعري، وفي الفروع بغير المذاهب الأربعة لم يكن لتحزب أو تعصب ولا للريب في اجتهاد أئمة تلك المذاهب، ولا لعدم عدالتهم وأمانتهم ونزاهتهم وجلالتهم علما وعملا ".
قلت: بالله عليكم أهكذا ينظر الشيعة إلى الأئمة الأربعة؟! يقول: لا لعدم عدالتهم وأمانتهم ونزاهتهم وجلالتهم علما وعملا، ولذلك أقول لكم هذه الكتب دعائية.
انظروا ماذا يقول الشيعة عن أهل السنة:
--------------------------------------------
আর এভাবেই তাদের সমস্ত কিতাবে আপনি এমন সব বিতর্ক পাবেন যা ডাহা মিথ্যায় পরিপূর্ণ, যেমনটি 'লায়ালি পেশোয়ার' (১) কিতাবের ক্ষেত্রে দেখা যায়। যে ব্যক্তিই এটি পড়বে সে মিথ্যা দেখতে পাবে। তদ্রূপ তিজানি তার অডিও ক্যাসেট ও কিতাবসমূহে আয়োজিত বিতর্কগুলোতে সর্বদা নিজেকেই নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করে, সবসময় সেই বিজয়ী হয় এবং তার সামনের জন সর্বদা নিজের অক্ষমতা ও মূর্খতা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু যখন আপনি তার সাথে আলোচনায় বসবেন, তখন তাকে একজন চরম মিথ্যাবাদী হিসেবে পাবেন, যে তার উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলাকে ভয় করে না এবং তার কথাবার্তাতেও আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলাকে ভয় করে না। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি (২) ।
আমরা আবার আল-বিশরির প্রসঙ্গে ফিরে যাই, কারণ তিজানির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আসবে ইনশাআল্লাহ তাআলা।
দ্রষ্টব্য: আমি মুসাভীর যে বক্তব্যগুলো উদ্ধৃত করছি, সেগুলো আদ-দারুল ইসলামিয়া থেকে প্রকাশিত সংস্করণের, যা হুসাইন আর-রাজি কর্তৃক সম্পাদিত। এটি ষষ্ঠ সংস্করণ। প্রকাশনা: আদ-দারুল ইসলামিয়া, বৈরুত, কর্নিশ আল-মাজরাআ - আল-হাসান সেন্টার।
যেহেতু মুসাভী দাবি করেছেন যে কিতাবটি ধারাবাহিক কিছু পর্যালোচনার সমষ্টি, তাই পর্যালোচনার নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে বিষয়টি সহজতর হবে।
* পর্যালোচনা নম্বর (৪), পৃষ্ঠা ৬৬:
মুসাভী বলেন: "মূলনীতিতে (উসুল) আশআরি মাযহাব ব্যতীত অন্য কিছুর অনুসরণ করা এবং শাখাগত বিষয়ে (ফুরু) চার মাযহাবের বাইরের অনুসরণ করা কোনো দলাদলি বা গোঁড়ামির কারণে নয়, আর ওই মাযহাবগুলোর ইমামগণের ইজতিহাদের প্রতি কোনো সন্দেহের কারণেও নয়। এমনকি তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারি, চারিত্রিক নির্মলতা এবং জ্ঞান ও কর্মের সুমহান মর্যাদা নিয়ে কোনো সংশয়ের কারণেও এমনটি করা হয়নি।"
আমি বলব: আল্লাহর কসম, শিয়ারা কি চার ইমামকে এভাবেই দেখে থাকে?! সে বলছে: তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারি, চারিত্রিক নির্মলতা এবং জ্ঞান ও কর্মের সুমহান মর্যাদার কোনো অভাবের কারণে নয়; এই কারণেই আমি আপনাদের বলছি যে, এই কিতাবগুলো কেবল প্রচারণামূলক (প্রোপাগান্ডা)।
দেখুন, শিয়ারা আহলে সুন্নাত সম্পর্কে কী বলে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ৮)
إن تكفير الشيعة الإمامية لأهل السنة بشكل عام أشهر من أن يذكر، وكل من لم يؤمن بالأئمة الإثني عشر كافر، بل من لم يكفر أبا بكر وعمر فهو كافر عندهم!
روى الكليني عن جعفر الصادق – وهو بريء – أنه قال: " لا يكون العبد مؤمنًا حتى يعلم الله ورسوله والأئمة كلهم وإمام زمانه ". أصول الكافي (1/108)
وروى كذلك عن محمد الباقر – رحمه الله وهو برئ من هذا القول -: " إنما يعرف الله عزوجل ويعبده من عرف الله وعرف إمامه منا أهل البيت، ومن لا يعرف الله – عزوجل – ويعرف الإمام منا أهل البيت فإنما يعرف ويعبد غير الله، هكذا والله ضلالا ". الكافي (1/181) .
وروى كذلك عن علي بن موسى الرضا أنه قال: " ليس على ملة الإسلام غيرنا وغيرهم " [يعني شيعتهم] الكافي (1/223) .
وروى المجلسي في بحار الأنوار عن جعفر الصادق أنه قال: " ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا ينظر إليهم ولا يزكيهم ولهم عذاب أليم: من ادعى إماما ليست له إمامة من الله، ومن جحد إماما إمامته من عند الله، ومن زعم أن لهما في الاسلام نصيبا " [يعني أبا بكر وعمر] .بحار الأنوار (69/131) .
وروى الكشي في " رجاله " عن جعفر الصادق أنه سئل عن قول الله تعالى: " الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم " قال: " هو ما استوجبه أبو حنيفة وزرارة " (1) .
وهذا الموسوي يقول: لا لعدم عدالتهم وأمانتهم ونزاهتهم وجلالتهم علما وعملا!! فهذا شيء عجيب.
* المراجعة رقم (8) ص 87:
قال الموسوي: " والصحاح الحاكمة بوجوب التمسك بالثقلين متواترة " وهكذا قال حسين الراضي محقق الكتاب في ص 92.
قلت: فهذا كذب وإدعاء باطل، فمن نقل هذا التواتر وأين؟؟
وحديث الثقلين سيأتي نقاشه مع د/عصام وإلا سأطرحه بالتفصيل إن شاء الله تعالى إن لم يستمر في النقاش.
* المراجعة رقم (8) ص 69:
--------------------------------------------
আহলে সুন্নাতের প্রতি শিয়া ইমামিয়াদের কাফের সাব্যস্ত করার বিষয়টি সাধারণভাবে এতই প্রসিদ্ধ যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না। যে ব্যক্তি বারো ইমামের ওপর ঈমান আনবে না সে কাফের, এমনকি তাদের নিকট যে ব্যক্তি আবু বকর ও ওমরকে কাফের বলবে না সেও কাফের!
কুলয়নি জাফর সাদিক —যিনি এই বক্তব্য থেকে মুক্ত— থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "কোনো বান্দা ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল, সকল ইমাম এবং তার সময়ের ইমাম সম্পর্কে জানবে।" উসুলুল কাফি (১/১০৮)
তিনি একইভাবে মুহাম্মদ আল-বাকির —আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তিনি এই বক্তব্য থেকে মুক্ত— থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লাকে সেই চিনে এবং তাঁর ইবাদত করে, যে আল্লাহকে চিনেছে এবং আমাদের আহলে বাইতের মধ্য থেকে নিজের ইমামকে চিনেছে। আর যে আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লাকে চিনে না এবং আমাদের আহলে বাইতের মধ্য থেকে ইমামকে চিনে না, সে মূলত আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে চিনেছে ও ইবাদত করেছে। আল্লাহর কসম, এভাবেই পথভ্রষ্টতা ঘটে।" আল-কাফি (১/১৮১)।
তিনি আলী বিন মুসা আর-রিদা থেকেও বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমরা এবং তারা [অর্থাৎ তাদের শিয়াগণ] ব্যতীত আর কেউ ইসলাম ধর্মের ওপর নেই।" আল-কাফি (১/২২৩)।
মাজলিসি বিহারুল আনওয়ারে জাফর সাদিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তিন শ্রেণির মানুষের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি: যে এমন ইমামতের দাবি করে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ইমামকে অস্বীকার করে এবং যে ব্যক্তি ধারণা করে যে ইসলামে তাদের দুজনের কোনো অংশ রয়েছে" [অর্থাৎ আবু বকর ও ওমর]। বিহারুল আনওয়ার (৬৯/১৩১)।
কাশি তাঁর "রিজাল" গ্রন্থে জাফর সাদিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে মহান আল্লাহর বাণী: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এটি আবু হানিফা এবং জুরারাহ যা লিপ্ত হয়েছিল তা-ই" (১)।
আর এই মুসাভি বলছেন: তাদের ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারি, পবিত্রতা এবং ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদার অভাবের কারণে নয়!! এটি তো এক আশ্চর্য বিষয়।
* আল-মুরাজাআত নম্বর (৮), পৃষ্ঠা ৮৭:
মুসাভি বলেছেন: "সাকলাইনকে আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ফয়সালাকারী সহিহ হাদিসগুলো মুতাওয়াতির।" আর এই কিতাবের মুহাক্কিক হুসাইন আল-রাদি পৃষ্ঠা ৯২-তে অনুরূপ বলেছেন।
আমি বলছি: এটি মিথ্যা এবং একটি বাতিল দাবি। এই মুতাওয়াতির হওয়ার বিষয়টি কে বর্ণনা করেছেন এবং কোথায় করেছেন??
আর সাকলাইনের হাদিস নিয়ে অচিরেই ড. ইসামের সাথে আলোচনা হবে, অন্যথায় তিনি যদি আলোচনা চালিয়ে না যান তবে ইনশাআল্লাহ আমি এটি বিস্তারিতভাবে পেশ করব।
* আল-মুরাজাআত নম্বর (৮), পৃষ্ঠা ৬৯:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال حسين الراضي المحقق – كما قلت أني سأشركه أحيانا -: " حديث السفينة من الأحاديث المتواترة عند المسلمين ".
قلت: فهذا كذب، فإن الحديث ضعيف ولا يثبت عن النبي – صلى الله عليه وسلم – أخرجه الحاكم في مستدركه (3/151)
وفيه مفضل بن صالح: قال ابن حبان: يروي المقلوبات عن الثقات فوجب ترك الاحتجاج به.
وفيه حنش الكناني: قال النسائي: ليس بالقوي، وضعفه غيره كذلك، ووثقه أبو داوود رحمه الله تعالى.
وفيه أبو اسحاق السبيعي: لم يصرح بالتحديث، وهو يرسل ويدلس.
والحديث ضعفه الذهبي وابن كثير والألباني وغيرهم.
ولذلك نقول أين هذا التواتر ومن نقله؟
إلا إذا كان يزعم أن المسلمين هم الشيعة فقط، فهذا شأن آخر.
* المراجعة رقم (10) ص 103:
قال الموسوي: " وأورده ابن حجر العسقلاني مختصرا في ترجمة زياد بن مطرف في القسم الأول من إصابته ثم قال: في إسناده يحيى بن يعلى المحاربي، وهو واهي " قال الموسوي: " هذا غريب من مثل العسقلاني فإن يحيى بن يعلى المحاربي ثقة بالاتفاق ".
قلت: أين البشري من هذا الكلام؟؟ أين رد البشري على مثل هذا الإدعاء الباطل؟؟
نعم قال ابن حجر هذا الكلام:
قال ابن حجر في الإصابة في ترجمة زياد بن مطرف في إسناده يحيى بن يعلى المحاربي وهو واهي، وأيضا قوله يحيى بن يعلى المحاربي ثقة بالاتفاق صحيح، ولكن ما الذي وقع؟؟
الذي حصل أن يحيى بن يعلى إثنان:
أحدهما: يحيى بن يعلى المحاربي، وهو ثقة باتفاق.
والثاني: يحيى بن يعلى الأسلمي، وهو ضعيف باتفاق.
فكلاهما يحيى بن يعلى، والخلاف في أن هذا أسلمي، وذاك محاربي.
والعجيب أن كل علماء الشيعة ويأتون بهذا الحديث، ويأتون بكلام الموسوي هذا، وكأنهم وجدوا ركازا أي كنزا مدفونا!!
فهو يقول: انظروا أنتم تضعفونه لأن فيه يحيى بن يعلى المحاربي، مع أنكم تعتمدون عليه في غيره من الحديث وهو ثقة بإتفاق.
গবেষক হুসাইন আল-রাদি বলেছেন—যেমনটি আমি বলেছি যে আমি মাঝেমধ্যে তাকে অন্তর্ভুক্ত করব—: "সফিনা (নৌকা) সংক্রান্ত হাদিসটি মুসলিমদের নিকট মুতাওয়াতির হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"
আমি বলছি: এটি মিথ্যা, কারণ হাদিসটি যয়ীফ (দুর্বল) এবং নবী—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—থেকে এটি প্রমাণিত নয়। আল-হাকিম এটি তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে (৩/১৫১) বর্ণনা করেছেন।
এর সনদে মুফাদ্দাল বিন সালিহ রয়েছেন: ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্টো বর্ণনা (মাকলুবাত) করেন, তাই তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা বর্জন করা ওয়াজিব।
এতে হানাশ আল-কিনানী রয়েছেন: আন-নাসায়ী বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন, অন্যরাও তাকে একইভাবে দুর্বল বলেছেন, তবে আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি তাআলা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
এতে আবু ইসহাক আল-সাবি'ঈ রয়েছেন: তিনি সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, আর তিনি মুরসাল বর্ণনা করেন এবং তাদলীস করেন।
যাহাবি, ইবনে কাসীর, আলবানী এবং অন্যরাও এই হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন।
অতএব আমরা বলছি, এই মুতাওয়াতির হওয়া কোথায় এবং কে এটি বর্ণনা করেছেন?
যদি না তিনি দাবি করেন যে কেবল শিয়াগণই মুসলিম, তবে সেটি ভিন্ন বিষয়।
* পর্যালোচনা নম্বর (১০), পৃষ্ঠা ১০৩:
আল-মুসাওয়ী বলেছেন: "ইবনে হাজার আল-আসকালানী তার 'ইসাবাহ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে যিয়াদ বিন মুতাররিফের জীবনীতে এটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন এবং তারপর বলেছেন: এর সনদে ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা আল-মুহারিবী রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত দুর্বল।" আল-মুসাওয়ী বলেছেন: "আসকালানীর মতো ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটি আশ্চর্যজনক, কারণ ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা আল-মুহারিবী সর্বসম্মতিক্রমে নির্ভরযোগ্য।"
আমি বলছি: এই বক্তব্যের ব্যাপারে আল-বিশরীর অবস্থান কোথায়?? এই ধরনের বাতিল দাবির বিপরীতে আল-বিশরীর খণ্ডন কোথায়??
হ্যাঁ, ইবনে হাজার এই কথাটি বলেছেন:
ইবনে হাজার 'ইসাবাহ' গ্রন্থে যিয়াদ বিন মুতাররিফের জীবনীতে বলেছেন যে, এর সনদে ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা আল-মুহারিবী রয়েছেন এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল; আবার ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা আল-মুহারিবী সর্বসম্মতিক্রমে নির্ভরযোগ্য—একথাটিও সঠিক। কিন্তু আসলে কী ঘটেছে??
যা ঘটেছে তা হলো, ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা নামে দুইজন ব্যক্তি রয়েছেন:
একজন হলেন: ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা আল-মুহারিবী, যিনি সর্বসম্মতিক্রমে নির্ভরযোগ্য।
এবং দ্বিতীয়জন হলেন: ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা আল-আসলামী, যিনি সর্বসম্মতিক্রমে দুর্বল।
সুতরাং উভয়েই ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা, পার্থক্য হলো একজন আসলামী এবং অপরজন মুহারিবী।
আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, সমস্ত শিয়া আলেমগণ এই হাদিসটি নিয়ে আসেন এবং আল-মুসাওয়ীর এই বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন, যেন তারা কোনো গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছেন!!
তিনি বলছেন: দেখুন, আপনারা একে দুর্বল বলছেন কারণ এতে ইয়াহইয়া বিন ইয়া'লা আল-মুহারিবী রয়েছেন, অথচ আপনারা অন্যান্য হাদিসের ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভর করেন এবং তিনি সর্বসম্মতিক্রমে নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১০)
ما الذي حصل؟ الذي حصل أن الحديث ليس من رواية يحيى بن يعلى المحاربي، ومن رجع إلى رواية هذا الحديث عند الحاكم وعند الطبراني وذكره الهيثمي في مجمع الزوائد وأبو نعيم في الحلية، كل هؤلاء ذكروه وذكروا أن فيه يحيى بن يعلى الأسلمي الضعيف المتفق على ضعفه، فالذي حصل أنه وقع سبق قلم من الحافظ ابن حجر أو خطئا في الطباعة حيث قال فيه يحيى بن يعلى المحاربي وهو واهي، فكل كلامه صحيح فالحديث فيه يحيى بن يعلى وهو واهي، ولكنه بدل من أن يكتب " الأسلمي " كتب " المحاربي ".
ولنفرض أن ابن حجر قد ضعف المحاربي هنا، فهل الحديث من رواية المحاربي أصلا؟ هو ليس من روايته وإنما من رواية الأسلمي الضعيف عند عند الحاكم (3/128) وعند الطبراني (ج5 حديث رقم 5067) وذكره الهيثمي في مجمع الزوائد (9/108) وأبو نعيم في الحلية (4/349) كلهم قالوا: فيه الأسلمي.
فالحديث من رواية الأسلمي وليس من رواية المحاربي.
ولذلك عجز الموسوي والمحقق وكل علماء الشيعة الذين سيسمعوني، أتحداهم جميعا أن يخرجوا هذا الحديث من رواية يحيى بن يعلى المحاربي، وإنما هو من رواية الأسلمي، وكل الطرق التي ذكرت هذا الطريق ذكرت المحاربي وليس الأسلمي، والحديث موضوع ذكره الألباني في " الضعيفة " رقم 892.
فالموسوي صاد في الماء العكر.
* المراجعة رقم (10) ص 107:
قال الموسوي: " قال رسول الله – صلى الله عليه وسلم: ((واجعلوا أهل بيتي منكم مكان الرأس من الجسد ومكان العينين من الرأس ولا يهتدي الرأس إلا بالعينين)) أخرجه جماعة من أصحاب السنن بالإسناد إلى أبي ذر مرفوعا ".
কি ঘটেছে? যা ঘটেছে তা হলো, এই হাদিসটি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আল-মুহারিবীর বর্ণনা থেকে নয়। যারা হাকেম এবং তাবারানির নিকট এই হাদিসের বর্ণনার দিকে ফিরে যাবেন এবং যা হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ এবং আবু নুআইম 'আল-হিলইয়া'-তে উল্লেখ করেছেন, তারা সবাই এটি উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, এতে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আল-আসলামী রয়েছেন, যিনি দুর্বল এবং যার দুর্বলতার বিষয়ে সকলে একমত। সুতরাং যা ঘটেছে তা হলো, হাফেজ ইবনে হাজারের অসাবধানতাবশত কলমের ভুল হয়েছে অথবা এটি একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি, যেখানে তিনি এতে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আল-মুহারিবীর কথা বলেছেন এবং তাকে 'ওয়াহি' (অত্যন্ত দুর্বল) বলেছেন। তার পুরো কথাটিই সঠিক, কারণ হাদিসটিতে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আছেন এবং তিনি দুর্বল, কিন্তু তিনি 'আল-আসলামী' লেখার পরিবর্তে 'আল-মুহারিবী' লিখে ফেলেছেন।
ধরা যাক, ইবনে হাজার এখানে আল-মুহারিবীকে দুর্বল বলেছেন, কিন্তু হাদিসটি কি আদৌ আল-মুহারিবীর বর্ণনা থেকে? এটি তার বর্ণনা নয়, বরং হাকেম (৩/১২৮) এবং তাবারানির (৫ম খণ্ড, হাদিস নং ৫০৬৭) নিকট থাকা দুর্বল বর্ণনাকারী আল-আসলামীর বর্ণনা থেকে। হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ (৯/১০৮) এবং আবু নুআইম 'আল-হিলইয়া'-তে (৪/৩৪৯) এটি উল্লেখ করেছেন; তারা সবাই বলেছেন: এতে আল-আসলামী রয়েছেন।
সুতরাং হাদিসটি আল-আসলামীর বর্ণনা থেকে, আল-মুহারিবীর বর্ণনা থেকে নয়।
এই কারণেই মুসাভী, গবেষক এবং শিয়া আলেমদের মধ্যে যারা আমাকে শুনছেন তারা সবাই অক্ষম; আমি তাদের সবাইকে চ্যালেঞ্জ করছি যে তারা এই হাদিসটি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আল-মুহারিবীর বর্ণনা থেকে বের করে দেখাক। বরং এটি আল-আসলামীর বর্ণনা থেকে, আর যে সমস্ত সূত্র এই সনদটি উল্লেখ করেছে তারা আল-মুহারিবীর কথাই উল্লেখ করেছে, আল-আসলামীর নয়। হাদিসটি জাল (মাওজু), আলবানী এটি 'আদ-দায়িফাহ' (হাদিস নং ৮৯২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং মুসাভী ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছেন।
* পর্যালোচনা নং (১০) পৃষ্ঠা ১০৭:
মুসাভী বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা আমার আহলে বাইতকে তোমাদের মধ্যে শরীরের তুলনায় মাথার মতো এবং মাথার তুলনায় দুই চোখের মতো স্থান দাও; আর মাথা তো দুই চোখ ছাড়া পথ দেখতে পায় না))। সুনান গ্রন্থসমূহের একদল সংকলক আবু যার থেকে মারফু সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১১)
قلت: هذا كذب، وذلك أن هذا الحديث لم يخرجه أحد من أهل السنن كما يدعي الموسوي بدليل أن الموسوي لم يستطع أن يعزو هذا الحديث ولا لكتاب واحد من كتب السنن، ولا حتى المحقق الراضي، ولا غيره من علماء الشيعة الموجودين حاليا، ولا أحد يستطيع أن يعزوه لكتاب من كتب السنن كما ادعى الموسوي كذبا وزورا.
وعزاه إلى المجمع من رواية سلمان وأغفل كلام الهيثمي على هذا الحديث، إذن هو في مجمع الزوائد وليس في السنن، ومن أخرجه؟
أخرجه الطبراني في معجمه الكبير (ج3 حديث رقم 2640) من رواية سلمان بنفس اللفظ الذي ذكره الموسوي، وفيه زياد بن المنذر: قال ابن معين: كذاب، وقال ابن حبان: كان رافضيا يضع الحديث في الفضائل والمثالب، وقال الهيثمي في المجمع (9/172) : رواه الطبراني وفيه زياد بن المنذر وهو متروك، ولذلك لم الراضي كلامه بل عزاه إلى المجمع وسكت.
هذه خمسة أكاذيب للموسوي تتلوها خمسة وخمسة وخمسة وخمسة، أكاذيب لا تنتهي لا للموسوي ولا للأنطاكي ولا للتيجاني ولا للعماد ولا لغيرهم، أكاذيب لا تنتهي، ولذلك كما قلت ستسطر هذه الأكاذيب كتابة – وهي مسطرة كتابة، وستنقل صوتا حتى يطمئن المسلم السني أنه على حق بدليل أنه لا يكذب، ولا يحتاج إلى أن يكذب، بل لا يكذب إلى صاحب الباطل، وكما قيل الحق أبلج والباطل لجلج، والله أعلى وأعلم، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد.
الشريط الثانيبسم الله الرحمن الرحيم
فهذا هي الجلسة الثانية في بيان ما في كتاب المراجعات من البهتان..
আমি বলি: এটি মিথ্যা, আর তা এজন্য যে মুসাভি যেভাবে দাবি করেছেন, এই হাদিসটি সুনান গ্রন্থকারদের কেউই বর্ণনা করেননি। এর প্রমাণ হলো মুসাভি এই হাদিসটিকে সুনান গ্রন্থসমূহের একটি কিতাবের দিকেও সম্বন্ধ করতে পারেননি, এমনকি গবেষক রাজী বা বর্তমানে বিদ্যমান শিয়া আলেমদের অন্য কেউও তা পারেননি। আর মুসাভি যেভাবে মিথ্যা ও অপবাদের আশ্রয়ে দাবি করেছেন, সেভাবে কেউই একে সুনান গ্রন্থসমূহের কোনো কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করতে সক্ষম হবে না।
তিনি একে সালমানের বর্ণনা হিসেবে মাজমা'-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং এই হাদিসের ব্যাপারে হাইসামির বক্তব্যটি এড়িয়ে গেছেন। সুতরাং এটি মাজমাউজ যাওয়াইদ-এ আছে, সুনান গ্রন্থসমূহে নয়। আর এটি কে বর্ণনা করেছেন?
তাবারানি তাঁর মুজামুল কাবীর-এ (৩য় খণ্ড, হাদিস নং ২৬৪০) সালমানের সূত্রে মুসাভির উল্লিখিত হুবহু শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন। এতে জিয়াদ বিন মুনজির রয়েছে: ইবনে মাঈন বলেছেন: সে চরম মিথ্যাবাদী। ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে ছিল একজন রাফেজি, যে ফযিলত ও দোষত্রুটি সংক্রান্ত বিষয়ে হাদিস জাল করত। হাইসামি মাজমা (৯/১৭২) গ্রন্থে বলেছেন: তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে জিয়াদ বিন মুনজির রয়েছে, যে পরিত্যক্ত (মাতরুক)। একারণেই রাজী হাইসামির বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেননি, বরং তিনি কেবল মাজমা'-এর উদ্ধৃতি দিয়ে চুপ থেকেছেন।
এগুলো মুসাভির পাঁচটি মিথ্যা, যার পর আসবে আরও পাঁচ, আরও পাঁচ, আরও পাঁচ এবং আরও পাঁচ। মুসাভি, আনতাকি, তিজানি, ইমাদ বা অন্য কারোর মিথ্যাচারের কোনো শেষ নেই; এগুলো অন্তহীন মিথ্যা। এজন্যই আমি যেমনটি বলেছি, এই মিথ্যাগুলো লেখনী আকারে লিপিবদ্ধ করা হবে—যা ইতিমধ্যেই লিপিবদ্ধ আছে—এবং কণ্ঠস্বরেও প্রচার করা হবে, যাতে সুন্নি মুসলিমরা আশ্বস্ত হতে পারে যে সে হকের ওপর আছে। এর প্রমাণ হলো, সে মিথ্যা বলে না এবং তার মিথ্যা বলার প্রয়োজনও নেই। বরং কেবল বাতিলপন্থীরাই মিথ্যা বলে। যেমনটি বলা হয়েছে: সত্য উজ্জ্বল এবং বাতিল দ্বিধাগ্রস্ত ও অস্পষ্ট। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
দ্বিতীয় ক্যাসেটপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আল-মুরাজাআত গ্রন্থে বিদ্যমান অপবাদসমূহ উন্মোচনে এটি হলো দ্বিতীয় মজলিস...
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقبل أن ابدأ بذكر ما فيه من البهتان أحب أن انبه على قضية مهمة.. وهي أن صفحات هذا الكتاب في الطبعة التي عندي - طبعة الدار الإسلامية في بيروت تحقيق وتعليق حسين الراضي وهى الطبعة الثالثة طبعت سنة 1406 و 1986 من الميلاد بلغ عدد صفحاتها 738 صفحة، هذا عدى الفهارس فإذا حذفنا منها 60 صفحة وهى المقدمة بقي لنا من الكتاب 678 صفحة، هذا عدد صفحات هذا الكتاب.
ويدعي مؤلف هذا الكتاب وهو: عبد الحسين شرف الدين الموسوي أن هذا الكتاب هو مناظرات ومحاورات ورسائل بينه وبين شيخ الأزهر في ذلك الوقت سليم البشري ومن خلالها أو في نهايتها اقر سليم البشري رحمة الله بأن الشيعة هم الذين على الحق!!
ومن نظر في هذا الكتاب حيث أني حاولت حصر كلام البشري فبلغ كلامه فقط 42 صفحة، وتكلم الموسوي من خلال 636 صفحة!!
636 صفحة للموسوي و 42 صفحة للبشري، ثم يقولون هذا مراجعات حدثت بين البشري وبين عبد الحسين شرف الدين فأي مراجعات (1) هذه؟ !
* ولنأخذ مثال على هذا المراجعات:
المراجعة رقم (35) ص 358:
يقول البشري في مراجعة كاملة حين أرسلها إلى عبد الحسين بعد أن ذكر له الأحاديث الدالة على إمامه علي رضي الله عنه قال: " لله أبوك ما أوضح آياتك وأجلها، وما أفصح بيناتك وأدلها ، فحي على البقية ، حي على البقية من نصوصك المتوالية المتواترة الجلية ولك الفضل والسلام "!!
فقط لا سؤال لا استفسار لا شيء ، وإنما طلبً للمزيد..!!
وهكذا نرى كثيرا من المراجعات على هذا الصيغة، بل لعله يمدح عبد الحسين شرف الدين مدحاً ما مدحه إياه أتباعه من الرافضة! بل يمدحه صاحبنا هذا - إن زعموا أن المناظرات هذه حق - يمدحه مدحاً ما مدحهُ أصحابه.
--------------------------------------------
এতে বিদ্যমান মিথ্যাচারসমূহ উল্লেখ করার পূর্বে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। বিষয়টি হলো, আমার নিকট রক্ষিত এই বইটির সংস্করণে - যা বৈরুতের আদ-দার আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত এবং হুসাইন আল-রাযী কর্তৃক তাহকীক ও তালীককৃত, এটি তৃতীয় সংস্করণ যা ১৪০৬ হিজরী এবং ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে - এর পৃষ্ঠাসংখ্যা ৭৩৮ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি সূচিপত্র ব্যতীত। যদি আমরা ভূমিকা স্বরূপ ৬০টি পৃষ্ঠা বাদ দিই, তবে বইটির মূল অংশ থাকে ৬৭৮ পৃষ্ঠা; এটিই হলো এই বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা।
এই বইয়ের লেখক—যিনি আব্দুল হুসাইন শরাফউদ্দীন আল-মুসাভী—দাবি করেন যে, এই বইটি তৎকালীন আল-আযহারের শাইখ সালিম আল-বিশরী এবং তাঁর মধ্যকার বাহাস, কথোপকথন ও চিঠিপত্র। যার মাধ্যমে অথবা যার শেষ পর্যায়ে সালিম আল-বিশরী (রাহিমাহুল্লাহ) স্বীকার করে নিয়েছেন যে, শিয়াগণই হকের ওপর রয়েছে!!
যে ব্যক্তি এই বইটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সেখানে দেখা যায় আমি আল-বিশরীর কথাগুলো পৃথক করার চেষ্টা করেছি, তাতে তাঁর কথা মাত্র ৪২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছেছে। অথচ মুসাভী কথা বলেছেন ৬৩৬ পৃষ্ঠা জুড়ে!!
মুসাভীর জন্য ৬৩৬ পৃষ্ঠা এবং আল-বিশরীর জন্য ৪২ পৃষ্ঠা, এরপর তারা বলে এগুলো আল-বিশরী ও আব্দুল হুসাইন শরাফউদ্দীনের মাঝে সংঘটিত ‘মুরাজাআত’ (পর্যালোচনা)! এটি কেমন ‘মুরাজাআত’ (১) হতে পারে?!
* চলুন এই মুরাজাআত বা আলোচনার একটি উদাহরণ নেওয়া যাক:
৩৫ নম্বর মুরাজাআহ, ৩৫৮ পৃষ্ঠা:
আল-বিশরী একটি পূর্ণাঙ্গ মুরাজাআতে আব্দুল হুসাইনের নিকট পাঠানোর সময় বলেন—যখন মুসাভী তাঁর নিকট আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামত সাব্যস্তকারী হাদীসসমূহ উল্লেখ করলেন—তিনি বললেন: “আপনার পিতা ধন্য হোন! আপনার নিদর্শনসমূহ কতই না স্পষ্ট ও মহান, আপনার প্রমাণাদি কতই না প্রাঞ্জল ও নির্দেশক! সুতরাং বাকী অংশগুলো নিয়ে আসুন, আপনার একের পর এক মুতাওয়াতির ও সুস্পষ্ট দলীলসমূহের বাকীগুলো পেশ করুন। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা ও সালাম!!”
শুধু এটুকুই, কোনো প্রশ্ন নেই, কোনো জিজ্ঞাসা নেই, কিছুই নেই; বরং কেবল আরও দলীল দেওয়ার আবেদন..!!
এভাবেই আমরা বহু মুরাজাআহ এই ভঙ্গিতে দেখতে পাই। এমনকি সম্ভবত তিনি আব্দুল হুসাইন শরাফউদ্দীনের এমন প্রশংসা করছেন যা তার রাফেযী অনুসারীরাও করেনি! বরং আমাদের এই ব্যক্তি তাঁকে এমন প্রশংসা করছেন—যদি তারা দাবি করে যে এই বিতর্কগুলো সত্য—যে প্রশংসা তাঁর নিজের সঙ্গীরাও তাঁকে করেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
* ولنأخذ مثال على اقتصار مراجعة البشري على السؤال بين يدي الشيخ:
- انظرُ ماذا يقول البشري وهي المراجعة رقم (61) يقول:
" إذا كان كرامة السلف الصالح محفوظة ، فلا بأس بشيء مما أوردتموه من الأحاديث المختصة بالإمام سواء في ذلك حديث الغدير وغيره ، ولا موجب لتأويلها ، ولعل عندكم في هذا الموضوع أحاديث لا يعرفها أهل السنة ، فالتمس إيرادها لنكون على علم منها ، والسلام ". فقط!! دائماً يلتمس ، دائماً يطلب من الموسوي!!
- في مراجعة رقم (63) يقول:
" لا حجة بهذه النصوص على أهل السنة إذ لم تثبت عندهم " – لما ذكر أحاديث من كتب الشيعة، ثم قال:
" ولماذا لم يخرجوها لو كانت ثابتة؟ فعج بنا إلى ما بقي من حديث أهل السنة في هذا الموضوع ، والسلام ". هذه فقط مراجعة البشري!! .
ومثال أخر صفحة 520 مراجعة رقم 65 مراجعة كاملة عبارة عن خمس كلمات يرسلها البشري لعبد الحسين شرف الدين: " حدثنا بحديث الوراثة من طريق أهل السنة ، والسلام ". هذه هي مراجعة البشري!!
ومراجعة رقم 67 يقول: " أهل السنة لا يعرفون الوصية إلى علي ، ولا يتعرفون بشيء من نصوصها ، فتفضلوا بها ولكم الشكر ، والسلام ".
هذه بعض مراجعات البشري الذي يدعون أنه أمام أهل السنة في زمانه ، وأنه وقعت هذه المناظرات بينه وبين عبد الحسين شرف الدين وهذا دليل على كذب هذه المراجعات وإدعائها على سليم البشري رحمه الله تعالى.
لو نظرنا في أول مراجعة، وهى أول رسالة أرسلها البشري كما يزعمون كذب وزورا ، أرسلها إلى عبد الحسين شرف الدين يقول له في أثناء هذا المراجعة: " فلما قدر الله وقوفي على ساحل عيلمك المحيط ، وأرشفتني ثغر كأسك المعين ، شفى الله بسائغ فراتك أوامي ، ونضح عطشي ، وأآلية بمدينة علم الله (جدك المصطفى) وبابها (أبيك المرتضى) أني لم أذق شربة أنقع لغليل ، ولا أنجع لعليل ، من سلسال منهلك السلسبيل.. "
আর শায়খের নিকট আল-বিশরির পর্যালোচনার কেবল প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার একটি উদাহরণ নেওয়া যাক:
- দেখুন আল-বিশরি কী বলছেন, আর এটি হলো ৬১ নম্বর পর্যালোচনা, তিনি বলছেন:
"যদি সালাফে সালেহীনের মর্যাদা সংরক্ষিত থাকে, তবে ইমামের ব্যাপারে আপনারা যে সকল হাদিস উল্লেখ করেছেন তাতে কোনো সমস্যা নেই, চাই তা গাদীরের হাদিস হোক বা অন্য কিছু, এবং সেগুলো ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই। সম্ভবত এই বিষয়ে আপনাদের নিকট এমন কিছু হাদিস আছে যা আহলে সুন্নাত জানে না, তাই আমি সেগুলো পেশ করার অনুরোধ করছি যাতে আমরা সে সম্পর্কে অবগত হতে পারি, ইতি।" কেবল এটুকুই!! সর্বদা তিনি অনুনয় করছেন, সর্বদা তিনি আল-মুসাওয়ীর কাছে প্রার্থনা করছেন!!
- ৬৩ নম্বর পর্যালোচনায় তিনি বলছেন:
"আহলে সুন্নাতের নিকট এই সকল বর্ণনা কোনো দলিল নয়, যেহেতু তাদের নিকট এগুলো প্রমাণিত নয়" – যখন তিনি শিয়াদের কিতাব থেকে হাদিস উল্লেখ করলেন, এরপর বললেন:
"আর যদি এগুলো প্রমাণিতই হতো তবে তারা কেন তা সংকলন করল না? সুতরাং এই বিষয়ে আহলে সুন্নাতের কাছে অবশিষ্ট যে হাদিস রয়েছে সেদিকে আমাদের নিয়ে চলুন, ইতি।" কেবল এটাই হলো আল-বিশরির পর্যালোচনা!!।
আর অন্য একটি উদাহরণ ৫২০ পৃষ্ঠায়, ৬৫ নম্বর পর্যালোচনা; একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা যা মাত্র পাঁচটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত যা আল-বিশরি আব্দ আল-হুসাইন শারাফ উদ্দিনের কাছে পাঠিয়েছেন: "আহলে সুন্নাতের সূত্রে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত হাদিসটি আমাদের শোনান, ইতি।" এটাই হলো আল-বিশরির পর্যালোচনা!!
আর ৬৭ নম্বর পর্যালোচনায় তিনি বলছেন: "আহলে সুন্নাত আলীর প্রতি অসিয়ত সম্পর্কে জানে না এবং এর কোনো বর্ণনা সম্পর্কেও তারা অবগত নয়, সুতরাং মেহেরবানি করে তা পেশ করুন, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল, ইতি।"
এগুলো আল-বিশরির কিছু পর্যালোচনা, যার সম্পর্কে তারা দাবি করে যে তিনি তার সময়ের আহলে সুন্নাতের ইমাম ছিলেন এবং তার ও আব্দ আল-হুসাইন শারাফ উদ্দিনের মধ্যে এই বিতর্কগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর এটিই এই পর্যালোচনাসমূহ মিথ্যা হওয়ার এবং সলিম আল-বিশরি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করার প্রমাণ।
আমরা যদি প্রথম পর্যালোচনার দিকে তাকাই, যা আল-বিশরির পাঠানো প্রথম পত্র বলে তারা মিথ্যা ও বানোয়াটভাবে দাবি করে; তিনি এই পর্যালোচনার ভেতরে আব্দ আল-হুসাইন শারাফ উদ্দিনকে বলছেন: "যখন আল্লাহ আপনার পরিব্যপ্ত অগাধ জ্ঞানের সমুদ্র সৈকতে আমার দাঁড়ানোর ফয়সালা করলেন এবং আপনার স্বচ্ছ পেয়ালার মুখ দিয়ে আমাকে পান করালেন, তখন আল্লাহ আপনার সুমিষ্ট পানি দ্বারা আমার পিপাসা নিবারণ করলেন এবং আমার তৃষ্ণা মিটালেন। আল্লাহর ইলমের শহর (আপনার দাদাজান আল-মুস্তফা) এবং তার দরজা (আপনার পিতাজান আল-মুরতাজা)-এর কসম খেয়ে বলছি, আমি আপনার এই সুমিষ্ট ঝরনার ধারার চেয়ে অধিক তৃপ্তিদায়ক কোনো পানীয় আস্বাদন করিনি এবং কোনো রোগীর জন্য এর চেয়ে অধিক উপকারী আর কিছু হতে পারে না..."
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
انظروا في أول رسالة يرسلها له يقول: وبابها (يعني باب العلم) أبيك المرتضى ثم يسأله عن الأحاديث الواردة في فضل علي! .
- كذلك في صفحة 116 المراجعة رقم 11 يقول له سليم البشري:
" وحين أغرقت في البحث عن حجتك ، وأمعنت في التنقيب عن أدلتك ، رأيتني في أمر مريج، وأنظر في حججك فأراها ملزمة ، وفي بيناتك فأجدها مسلمة ، وأنظر في أئمة العترة الطاهرة فإذا هي بمكانة من الله ورسوله ، يخفض لها جناح الذل هيبة وإجلالاً ، ثم أنظر إلى جمهور أهل القبلة والسواد الأعظم من ممثلي هذا الملة ، فإذا هم مع أهل البيت على خلاف ما توجبه ظواهر تلك الأدلة ، فأنا أؤامر مني نفسين: نفساً تنزع إلى متابعة الأدلة ، وأخرى تفزع إلى الأكثرية من أهل القبلة ، قد بذلت لك الأولى قيادها ، فلا تنبو في يديك ، ونبت عنك الأخرى بعنادها ، فاستعصت عليك ".
كلام جميل ، هذا يقوله من يدافع عن أهل السنة؟؟ أقول: إذا كان هذا صحيحاً فبأي شيء صرت شيخاً للأزهر؟
سبحان الله.. ما ناقش أي دليل وكل شيء مقبول ويا عجباً.. أما يعرف أهل السنة أدلة يستدلون بها على الشيعة (1) ، كله استفسار ، كله طلب للمزيد ، وهذا إنما كان في البداية!!
- وكذلك في صفحة 173 يقول في المراجعة رقم 13: " لله مراعف يراعك ، ومقاطر أقلامك ، ما ارفع مهارقها عن مقام المتحدي والمعارض ، وما أمنع وضائعها ".
--------------------------------------------
লক্ষ্য করুন, তিনি তাকে যে প্রথম পত্রটি পাঠান সেখানে তিনি বলছেন: এবং এর (অর্থাৎ ইলমের বা জ্ঞানের) দরজা হলো আপনার পিতা আল-মুরতাজা। এরপর তিনি তাকে আলীর ফজিলত সম্পর্কিত বর্ণিত হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছেন! .
- তদ্রূপ ১১৬ পৃষ্ঠায় ১১ নম্বর পর্যালোচনায় সালীম আল-বিশরী তাকে বলছেন:
"আমি যখন আপনার দলীলের সন্ধানে নিবিষ্ট হলাম এবং আপনার প্রমাণাদির গভীর অনুসন্ধান করলাম, তখন আমি নিজেকে এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় খুঁজে পেলাম। আমি আপনার যুক্তিগুলো দেখি এবং সেগুলোকে অকাট্য মনে করি; আপনার সুস্পষ্ট প্রমাণগুলো দেখি এবং সেগুলোকে অবিতর্কিত পাই। আমি পবিত্র বংশধরদের (আহলে বাইত) ইমামগণের প্রতি দৃষ্টিপাত করি এবং তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে এমন মর্যাদাবান পাই যে, শ্রদ্ধা ও সম্মানে তাদের সামনে বিনয়ের ডানা অবনমিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি কিবলাপন্থীদের (মুসলিমদের) সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং এই মিল্লাতের প্রতিনিধিদের বিশাল গোষ্ঠীর দিকে তাকাই, তখন দেখি যে তারা আহলে বাইতের ব্যাপারে ঐসব দলীলের বাহ্যিক দাবি যা নির্দেশ করে তার বিপরীতে রয়েছে। ফলে আমি আমার অন্তরের দুটি সত্তার সাথে পরামর্শ করছি: এক সত্তা যা দলীল অনুসরণের দিকে ঝুঁকছে, আর অন্য সত্তা যা কিবলাপন্থী অধিকাংশের (সংখ্যাগরিষ্ঠের) কথা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছে। প্রথম সত্তাটি তার লাগাম আপনার হাতে সঁপে দিয়েছে, তাই সে আপনার হাতে অবাধ্য হবে না; কিন্তু দ্বিতীয়টি তার একগুঁয়েমির কারণে আপনার থেকে বিমুখ হয়েছে, তাই সে আপনার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
চমৎকার কথা! এটি কি সেই ব্যক্তি বলছে যে আহলুস সুন্নাহর পক্ষে কথা বলে?? আমি বলি: যদি এটি সত্য হয়, তবে আপনি কিসের ভিত্তিতে আল-আযহারের শাইখ হয়েছিলেন?
সুবহানাল্লাহ.. তিনি কোনো দলীল নিয়ে আলোচনা করেননি এবং সবকিছুই মেনে নেওয়া হয়েছে, কতই না আশ্চর্যের বিষয়.. আহলুস সুন্নাহ কি এমন কোনো দলীল জানে না যা দিয়ে তারা শিয়াদের বিপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে পারে (১)? সবকিছুই কেবল জিজ্ঞাসা, সবকিছুই আরও জানার অনুরোধ, আর এটি তো ছিল কেবল শুরুতেই!!
- এবং তদ্রূপ ১৭৩ পৃষ্ঠায় ১৩ নম্বর পর্যালোচনায় তিনি বলছেন: "আল্লাহর জন্যই নিবেদিত আপনার লেখনীর নিপুণতা এবং আপনার কলম থেকে নিঃসৃত বারিধারা। এর পাণ্ডুলিপিসমূহ প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধীদের অবস্থানের চেয়ে কতই না উচ্চে এবং এর বিষয়বস্তু কতই না সুদৃঢ়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
دائماً هو يمدح ويثني والأخر يقول جزاك الله خير - أحسنت ، بارك الله فيك ، مع أن البشري في ذلك الوقت حسب ما يدعي الموسوي أكبر من الموسوي بثلاثين سنة ، يقول له بعد أن أثنى عليه بثناء العجيب يقول:
" فالراد عليك سيئ اللجاج ، صلف الحجاج ، يماري في الباطل ويتحكم تحكم الجاهل. وربما اعترض بأن الذين رووا نزول تلك الآيات فيما قلتم إنما هم رجال الشيعة ، ورجال الشيعة لا يحتج أهل السنة بهم ، فماذا يكون الجواب ، تفضلوا به إن شئتم ولكم الشكر ، والسلام ".
تلميذ يرجوا من أستاذة أن يبين له كيف يرد على من خالفه في الحقيقة ، هذا تلميذً نجيب ، قل ما نجد مثله والعجيب أن شيخ الأزهر يرسل المدائح إرسالا ، ماء متحدر من شلال ، ويكتفي الموسوي بالشكر والامتنان.
وكما قلت الأمثلة على هذا كثيرة ، وكلها تصب في معين واحد ألا وهو أن هذه المراجعات مكذوبة على شيخ الأزهر وهو منها بريء، بل إنه في المراجعة رقم 17 صفحة خمسة وتسعين ومائتين يقول له بعد أن ذكر نصوص على إمامة علي رضي الله عنه يقول شيخ الأزهر:
" لم يبقى للسني مانعاً من الاحتجاج بأخيه الشيعي إذا كان ثبتاً ، فرأيك في هذا هو الحق المبين ، ورأي المعترضين تعنت ومماحكة ، أقوالهم بعدم صحة الاحتجاج بالشيعة تعارض أفعالهم ، وأفعالهم في مقام الاحتجاج تناقض أقوالهم ، فقولهم وفعالهم لا يتجاريان في حلبة ، ولا يتسايران إلى غاية ، يصدم كل منهما الأخر فيدفعه في صدره ، وبهذا كانت حجتهم جدماء وحجتك العصماء ".
هذا يقوله شيخ الأزهر في علماء أهل السنة في الحديث!! هل يعقل هذا؟
هل يقول بهذا مسلم فضلاً أن يقوله شيخ الأزهر؟؟
ثم والله لو مدح الموسوي رافضي مثله لما أجاد كما يجيد شيخ الأزهر كما يدعون ، وهذا مما يظهر افتراء هذا الكتاب على شيخ الأزهر!
ثم يقول له بعد ذلك:
তিনি সর্বদা প্রশংসা ও গুণকীর্তন করছেন আর অপরজন বলছেন, 'আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন' - চমৎকার, আল্লাহ আপনার মাঝে বরকত দান করুন। অথচ সেই সময় আল-বাশারী—আল-মুসাভীর দাবি অনুযায়ী—মুসাভীর চেয়ে ত্রিশ বছরের বড় ছিলেন। তিনি তাঁর প্রতি বিস্ময়কর প্রশংসা করার পর তাকে বলছেন:
"যে ব্যক্তি আপনার প্রতিবাদ করবে সে অত্যন্ত কলহপ্রিয় ও দাম্ভিক তার্কিক; সে বাতিলের মাধ্যমে ঝগড়া করে এবং মূর্খের ন্যায় হুকুম দেয়। সম্ভবত এমন আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে যে, আপনারা যা বলেছেন সেই আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার ব্যাপারে যারা বর্ণনা করেছেন তারা তো শিয়া বর্ণনাকারী, আর আহলে সুন্নাত শিয়া বর্ণনাকারীদের দলিল হিসেবে গ্রহণ করে না। এমতাবস্থায় এর উত্তর কী হবে? আপনি চাইলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল, এবং সালাম।"
একজন ছাত্র তার শিক্ষকের কাছে আবেদন করছে যেন তিনি তাকে বুঝিয়ে দেন কীভাবে প্রকৃতপক্ষে বিরোধিতাকারীদের প্রতিবাদ করতে হয়। এটি একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র, যার মত খুব কমই পাওয়া যায়। আর বিস্ময়কর বিষয় হলো, শাইখুল আযহার প্রশংসার তুবড়ি ছুটিয়ে দিচ্ছেন, যেন জলপ্রপাত থেকে নেমে আসা ঝরনাধারা; আর মুসাভী কেবল ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশেই সন্তুষ্ট থাকছেন।
আমি যেমনটি বলেছি, এর উদাহরণ অনেক এবং সবগুলোই একটি উৎসের দিকেই ধাবিত হয়, আর তা হলো—এই সংলাপগুলো শাইখুল আযহারের নামে মিথ্যা আরোপিত এবং তিনি এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এমনকি ১৭ নম্বর সংলাপের ২৯৫ পৃষ্ঠায় আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামতের স্বপক্ষে কিছু দলিল উল্লেখ করার পর শাইখুল আযহার তাকে বলছেন:
"কোনো সুন্নির জন্য তার শিয়া ভাইয়ের থেকে দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা অবশিষ্ট থাকে না যদি সে নির্ভরযোগ্য হয়। সুতরাং এ বিষয়ে আপনার মতামতই হলো সুস্পষ্ট সত্য এবং বিরোধিতাকারীদের রায় হঠকারিতা ও কূটতর্ক বৈ কিছু নয়। শিয়াদের থেকে দলিল গ্রহণ সহীহ না হওয়া সম্পর্কে তাদের বক্তব্য তাদের কর্মেরই পরিপন্থী, আর দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কর্মসমূহ তাদের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক। তাই তাদের কথা ও কাজ একই ময়দানে দৌড়াতে পারে না এবং একই লক্ষ্যের দিকেও ধাবিত হয় না; বরং একটি অপরটিকে সজোরে আঘাত করে। ফলে তাদের দলিল হয়ে পড়েছে অসার আর আপনার দলিল অকাট্য।"
এটি শাইখুল আযহার হাদিস বিশারদ আহলে সুন্নাতের আলেমদের সম্পর্কে বলছেন!! এটা কি বিবেকগ্রাহ্য?
একজন সাধারণ মুসলিম কি এমন কথা বলতে পারেন, আর শাইখুল আযহারের কথা তো বলাই বাহুল্য??
অতঃপর আল্লাহর কসম, যদি কোনো রাফেযী মুসাভীর মত অন্য কোনো রাফেযীর প্রশংসাও করত, তবে তারা যেমনটি দাবি করে শাইখুল আযহারের প্রশংসা তেমন চমৎকার হতো না। আর এটাই শাইখুল আযহারের ওপর এই কিতাবের মিথ্যা অপবাদের বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে!
এরপর তিনি তাকে বলছেন:
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
" فما ندري لماذا عدل أهل القبلة عن أئمة أهل البيت؟! فلم يتعبدوا بمذهبهم في شيء من الأصول والفروع ، ولا وقفوا في المسائل الخلافية عند قولهم ، ولا كان علماء الأمة يبحثون عن رأيهم ، بل كانوا يعارضونهم في المسائل النظرية ، ولا يبالون بمخالفتهم ".
كل هذا الكلام كذب وزور لا شك في هذا وإن شاء الله تعالى سنسرد بقيته في ما سيأتي من الليالي التي نتكلم فيها عن هذا الكتاب.
لكن أردت من خلال هذا المقدمة أن أبين أن هذا الكتاب مكذوب ولا ريب على الشيخ سليم البشري ، وكما قلنا أنها ليست مراجعات وإنما هو طالب يتعلم عند شيخه ، ولذلك بينتَ في البداية أن سليم البشري كل كلامة جمعته في 42 صفحة من مجموع 678 و 663 من كلام الموسوي ، فهل هذه مراجعات!
وقد نبهنا في الجلسة الماضية أن هذا الكتاب لم ينشر إلا بعد وفاة البشري!!
نرجع إلى هذا المراجعات..
* المراجعة رقم (12) صفحة 137:
يقول الموسوي: " أجمع المفسرون على إن هذا الآية إنما نزلت في علي حين تصدق راكعا في الصلاة "
ثم قال أيضا: " وأخرج النسائي في صحيحه نزولها في علي عن عبد الله بن سلام ". يعني قول الله تبارك وتعالى {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ}
هكذا أطلقها هذا الموسوي دون حياء أجمع المفسرين أنها نزلت في علي!
قلت: لا شك أن هذا كذب صريح فقد رد كونها نازلهً في علي ابن كثير والنيسابوري بهامش الطبري، وابن عطية، والقرطبي، وأحمد شاكر، والرازي، والألوسي، ومحمد رشيد رضا ، أما ابن جرير والسيوطي والشوكاني وابن الجوزي فإنهم ذكروا الأقوال في هذا الآية ومن هذه الأقوال أنها نزلت في علي ، وهناك قول ثان وهو أنها نزلت في عبادة بن الصامت ، وقول ثالث أنها نزلت في جميع المؤمنين.
"আমরা জানি না কেন আহলে কিবলা আহলে বাইতের ইমামদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল?! তারা উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) কোনো বিষয়েই তাদের মাযহাব অনুযায়ী ইবাদত করেনি, মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাদের মতামতের ওপর স্থির থাকেনি, আর উম্মাহর আলেমগণও তাদের মতামতের খোঁজ করতেন না। বরং তারা তাত্ত্বিক মাসয়ালাগুলোতে তাদের বিরোধিতা করত এবং তাদের বিরুদ্ধাচরণের পরোয়া করত না।"
এই সব কথা মিথ্যা ও জালিয়াতি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমরা এই কিতাব সম্পর্কে যে রাতগুলোতে আলোচনা করব, তার বাকি অংশ সেখানে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরব।
তবে এই ভূমিকার মাধ্যমে আমি স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে, এই কিতাবটি কোনো সন্দেহ ছাড়াই শায়খ সেলিম আল-বিশরীর নামে মিথ্যাভাবে রচিত। আমরা যেমনটি বলেছি, এটি কোনো 'মুরাজাআত' (পর্যালোচনা) নয়, বরং এটি একজন ছাত্রের তার শায়খের কাছে শেখার মতো। তাই আমি শুরুতে স্পষ্ট করেছি যে, ৬৭৮ পৃষ্ঠার মধ্যে সেলিম আল-বিশরীর সমস্ত কথা মাত্র ৪২ পৃষ্ঠায় জমা করা হয়েছে, আর ৬৬৩ পৃষ্ঠা হলো মুসাভীর কথা। তাহলে কি একে পর্যালোচনা বলা যায়!
আমরা গত মজলিসে সতর্ক করেছিলাম যে, এই কিতাবটি আল-বিশরীর মৃত্যুর আগে প্রকাশিত হয়নি!!
আমরা পুনরায় এই পর্যালোচনার দিকে ফিরে যাই...
* পর্যালোচনা নম্বর (১২) পৃষ্ঠা ১৩৭:
মুসাভী বলেন: "মুফাসসিরগণ একমত হয়েছেন যে, এই আয়াতটি আলীর শানে অবতীর্ণ হয়েছে যখন তিনি নামাজের রুকু অবস্থায় দান করেছিলেন।"
তিনি আরও বলেন: "নাসায়ি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন সালাম থেকে এটি আলীর শানে অবতীর্ণ হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন।" অর্থাৎ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী {তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ—যারা নামাজ কায়েম করে এবং রুকু অবস্থায় জাকাত প্রদান করে}
এই মুসাভী কোনো লজ্জা ছাড়াই এভাবে নির্দ্বিধায় বলে দিলেন যে, মুফাসসিরগণ একমত হয়েছেন যে এটি আলীর শানে অবতীর্ণ হয়েছে!
আমি বলি: নিঃসন্দেহে এটি একটি সুস্পষ্ট মিথ্যা। এটি আলীর শানে অবতীর্ণ হওয়ার দাবিকে ইবনে কাসির, তাবারির হাশিয়ায় নিসাবুরি, ইবনে আতিয়্যাহ, কুরতুবি, আহমাদ শাকির, রাজি, আলূসি এবং মুহাম্মদ রশিদ রিদা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর ইবনে জারির, সুয়ূতি, শাওকানি এবং ইবনুল জাওজি এই আয়াতের ব্যাপারে বিভিন্ন মত উল্লেখ করেছেন। সেই মতগুলোর মধ্যে একটি হলো এটি আলীর শানে অবতীর্ণ হয়েছে, দ্বিতীয় একটি মত হলো এটি উবাদাহ ইবনে সামিতের শানে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তৃতীয় একটি মত হলো এটি সকল মুমিনদের শানে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قلت: وهؤلاء الذين ذكروا هذه الأقوال الثلاثة لم يرجحوا ترجيحاً ظاهراً أيا من هذه الأقوال ، وإن كان ظاهرًا صنيع الطبري فهو يؤكد أنه لا يقول أنها نزلت في علي ، وكذا الأمر بالنسبة للشوكاني ، وذكر الواحدي في أسباب النزول أنها نزلت في علي ولم يذكر قول آخر وكذا ذكر ذلك الزمخشري والنسفي.
فأين الإجماع المدعى؟ ويظهر من هذا كذب الموسوي..
وكذلك قوله: " وأخرج النسائي في صحيحه " تدليس وكذب، فالنسائي لم يخرج هذا الحديث في تفسيره ، ولم يروه في السنن المطبوعة وقوله أخرجه النسائي في صحيحه كذب وتدليس، فكتاب سنن النسائي يقال له سنن النسائي ولا يقال له صحيح النسائي على المشهور بين أهل العلم. وإن كان ينقل عن الدارقطني - رحمه الله تعالى - أنه سماه بصحيح ولكن الجمهور لا يسمونه بصحيح النسائي.
* والآن اذكر أقوال أهل العلم في هذا الآية:
قال ابن كثير: " وأما قوله: {وَهُمْ رَاكِعُونَ} فقد توهم بعض الناس أن هذه الجملة في موضع الحال من قوله {وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ} وحتى إن بعضهم ذكر في هذا أثراً عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن هذه الآية نزلت فيه، وذلك أنه مر به سائل في حال ركوعه فأعطاه خاتمه ".
ثم ذكر ابن كثير الآثار التي رويت عن علي وأنها نزلت فيه وبين ضعفها جميعاً ثم قال: " ليس يصح شيء منها بالكلية لضعف أسانيدها وجهالة رجالها".
وأما ابن عطية في المحرر الوجيز فقال: قال مجاهد: " نزلت الآية في علي بن أبى طالب تصدق وهو راكع وفى هذا القول نظر والصحيح ما قدمناه من تأويل الجمهور ".
وقال: " {وَالَّذِينَ آمَنُوا} أي ومن آمن من الناس حقيقةً لا نفاقاً وهم الذين يقيمون الصلاة المفروضة بجميع شروطها ويؤتون الزكاة ".
ثم قال: " هذا قول جمهور المفسرين ".
أما النسيابوري بهامش تفسير الطبري فقال: " فيها قولان:
আমি বলি: যারা এই তিনটি মত উল্লেখ করেছেন, তারা এই মতগুলোর কোনোটিকেই স্পষ্টভাবে প্রাধান্য দেননি। যদিও ইমাম তাবারির কর্মপদ্ধতি থেকে এটি স্পষ্ট যে, তিনি এই মত পোষণ করেন না যে এই আয়াত আলীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। ইমাম শাওকানির ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। অন্যদিকে ওয়াহিদি ‘আসবাবুন নুযুল’-এ উল্লেখ করেছেন যে এটি আলীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি অন্য কোনো মত উল্লেখ করেননি; যামাখশারি ও নাসাফিও একইভাবে তা উল্লেখ করেছেন।
তাহলে দাবিকৃত ইজমা বা সর্বসম্মতি কোথায়? আর এখান থেকেই মুসাবির মিথ্যাচার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তেমনিভাবে তার কথা: “নাসায়ি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন”—এটি একটি প্রতারণা ও মিথ্যা। কেননা নাসায়ি তাঁর তাফসিরে এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি এবং তাঁর মুদ্রিত সুনান গ্রন্থগুলোতেও এটি বর্ণনা করেননি। তার এই দাবি যে নাসায়ি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—এটি মিথ্যা ও প্রতারণা। কারণ, আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ মতে নাসায়ির সুনান গ্রন্থটিকে ‘সুনানে নাসায়ি’ বলা হয়, ‘সহিহ নাসায়ি’ বলা হয় না। যদিও দারা কুতনি—রহিমাহুল্লাহ তায়ালা—থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি একে ‘সহিহ’ নামে অভিহিত করেছেন, তবে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণ একে ‘সহিহ নাসায়ি’ বলেন না।
* এখন আমি এই আয়াতের ব্যাপারে আলেমদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করছি:
ইবনে কাসির বলেছেন: “আর আল্লাহর বাণী: {এবং তারা রুকু করা অবস্থায় থাকে}—কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে এই বাক্যটি {এবং তারা জাকাত প্রদান করে} কথাটির ‘হাল’ বা অবস্থা হিসেবে এসেছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ এ ব্যাপারে আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি তাঁর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; কারণ এক ভিক্ষুক তাঁর রুকু করা অবস্থায় পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাকে নিজের আংটি দান করেছিলেন।”
এরপর ইবনে কাসির সেই বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন যা আলী (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে এটি তাঁর ব্যাপারে নাজিল হয়েছে এবং তিনি সেগুলোর সবগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: “সনদ দুর্বল হওয়া এবং বর্ণনাকারীরা অজ্ঞাত হওয়ার কারণে এগুলোর কোনোটিই সামগ্রিকভাবে বিশুদ্ধ নয়।”
আর ইবনে আতিয়্যাহ ‘আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ’ গ্রন্থে বলেছেন: মুজাহিদ বলেছেন: “আয়াতটি আলী ইবনে আবি তালিবের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে, তিনি রুকু অবস্থায় সদকা করেছিলেন। তবে এই মতটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। আর সঠিক হলো সেটিই যা আমরা জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের ব্যাখ্যা হিসেবে আগে উল্লেখ করেছি।”
তিনি আরও বলেছেন: “{এবং যারা ঈমান এনেছে} অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যারা প্রকৃতপক্ষে ঈমান এনেছে, মুনাফেকি হিসেবে নয়। আর তারা হচ্ছে তারাই যারা সমস্ত শর্তসহ ফরজ নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে।”
অতঃপর তিনি বলেছেন: “এটিই অধিকাংশ মুফাসসিরের বক্তব্য।”
আর নিশাপুরি তাবারির তাফসিরের টীকায় বলেছেন: “এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الأول: أن المراد عامة المؤمنين ، لأن الآية نزلت في على وفق ما مر من قصة عبادة بن الصامت " ثم قال: " القول الثاني أن المراد به شخص معين، وروي (1) أنه أبو بكر وروي أنه علي ثم رد القول الثاني وهو أن المراد هو شخص معين ".
والقرطبي في جامعه قال:
" «وَالَّذِينَ» عام في جميع المؤمنين. وقد سئِل أبو جعفر محمد بن علي بن الحسين بن عليّ بن أبي طالب رضي الله عنهم عن معنى {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا} هل هو عليّ بن أبي طالب؟ فقال: عليّ من المؤمنين؛ يذهب إلى أن هذا لجميع المؤمنين. قال النحاس: وهذا قول بيّن ".
وهذا الرازي في تفسيره:
ذكر كلاماً طويلاً في إبطال القول بأنها نزلت في علي إلى أن قال:
" إن علي بن أبي طالب كان أعرف بتفسير القرآن من هؤلاء الروافض، فلو كانت هذه الآية دالة على إمامته لاحتج بها في محفل من المحافل، وليس للقوم أن يقولوا: إنه تركه للتقية لأنهم ينقلون عنه أنه تمسك يوم الشورى بخبر الغدير، وخبر المباهلة، وجميع فضائله ومناقبه، ولم يتمسك البتة بهذه الآية في إثبات إمامته، وذلك يوجب القطع بسقوط قول هؤلاء الروافض لعنهم الله ".
(وهذا اللعن من قول الرازي)
وقال الرازي أيضا: " وأما استدلالهم بأن الآية نزلت في حق علي فهو ممنوع، فقد بينا أن أكثر المفسرين زعموا أنه في حق الأمة ".
وهذا الألوسي في روح المعاني يقول:
" {وَهُمْ رَاكِعُونَ} حال من فاعل الفعلين أي يعملون ما ذكر من إقامة الصلاة وإيتاء الزكاة وهم خاشعون ومتواضعون لله تعالى ".
ثم ذكر قول من يقول أنها نزلت في علي وردهُ مفصلا.
وكذا الأمر بالنسبة لمحمد رشيد رضا في تفسير المنار، وعبد الرحمن السعدي في تفسيره، وكذا أحمد شاكر في عمدة التفسير، وكذا الشوكاني في فتح القدير، وابن الجوزي في زاد المسير.
--------------------------------------------
প্রথমত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মুমিনগণ, কারণ আয়াতটি উবাদাহ ইবনুস সামিত-এর ইতিপূর্বে বর্ণিত ঘটনা অনুযায়ী নাজিল হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: "দ্বিতীয় বক্তব্য হলো এর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে; বর্ণিত আছে যে (১) তিনি হলেন আবু বকর এবং এও বর্ণিত আছে যে তিনি হলেন আলী। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় মতটি অর্থাৎ এর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি উদ্দেশ্য হওয়ার বিষয়টি খণ্ডন করেন।"
এবং আল-কুরতুবী তাঁর জামে' গ্রন্থে বলেছেন:
" «এবং যারা» সকল মুমিনের ক্ষেত্রে ব্যাপক। আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে {নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং যারা ঈমান এনেছে তারা তোমাদের বন্ধু} এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এটি কি আলী ইবনে আবি তালিব? তখন তিনি বললেন: আলী মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত; তিনি এই মত পোষণ করেন যে এটি সকল মুমিনের জন্য। আন-নাহহাস বলেন: এটি একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য।"
আর রাযী তাঁর তাফসীরে:
আয়াতটি আলীর শানে নাযিল হওয়ার দাবি বাতিল করার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে পরিশেষে বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আলী ইবনে আবি তালিব এই রাফেযীদের চেয়ে কুরআনের তাফসীর সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। যদি এই আয়াতটি তাঁর ইমামতের দলীল হতো, তবে তিনি কোনো না কোনো মজলিসে এর মাধ্যমে যুক্তি পেশ করতেন। আর সেই দলের লোকেদের এই কথা বলার সুযোগ নেই যে, তিনি তাক্বীয়াহ্ করার কারণে তা ছেড়ে দিয়েছিলেন; কেননা তারা তাঁর থেকে বর্ণনা করে যে, তিনি শূরার দিন গাদীরের সংবাদ, মুবাহালার সংবাদ এবং তাঁর সকল ফযীলত ও মর্যাদা দ্বারা দলীল পেশ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর ইমামত প্রমাণের ক্ষেত্রে এই আয়াতটি দ্বারা কখনোই দলীল পেশ করেননি। এটি সেই রাফেযীদের বক্তব্য বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে, আল্লাহ তাদের লানত করুন।"
(আর এই লানত রাযীর উক্তি হতে উদ্ধৃত)
রাযী আরও বলেন: "আর আয়াতটি আলীর ব্যাপারে নাজিল হয়েছে বলে তাদের দলীল প্রদান অগ্রহণযোগ্য। আমরা বর্ণনা করেছি যে, অধিকাংশ মুফাসসির মনে করেন এটি উম্মতের ব্যাপারে।"
আর আলূসী রূহুল মাআনী-তে বলেন:
" {এবং তারা রুকু অবস্থায় থাকে} এটি পূর্বোক্ত দুটি ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা; অর্থাৎ তারা নামাজ কায়েম এবং জাকাত প্রদানের মতো উল্লিখিত কাজগুলো করে আল্লাহ তাআলার প্রতি বিনীত ও নম্র হয়ে।"
অতঃপর তিনি ঐ ব্যক্তির বক্তব্য উল্লেখ করেন যে দাবি করে এটি আলীর শানে নাজিল হয়েছে এবং তিনি বিস্তারিতভাবে তা খণ্ডন করেন।
মুহাম্মাদ রশীদ রিদা তাঁর তাফসীরুল মানার-এ, আব্দুর রহমান আস-সাদী তাঁর তাফসীরে, আহমদ শাকির তাঁর উমদাতুত তাফসীর-এ, শাওকানী তাঁর ফাতহুল কাদীর-এ এবং ইবনুল জাওযী তাঁর যাদুল মাসীর-এ একইভাবে উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فأين الإجماع الذي زعمه وافتراه الموسوي في كتاب المراجعات؟
وأين سليم البشري من هذا القول؟
ألم يرجع حتى إلى كتاب واحد من تفسير أهل السنة حتى يعرف هل هناك إجماع أم لا!! وإنما هو تسليم منقطع النظير من قبله للموسوي.
* ثم نقول إن كون هذا الآية نزلت في علي باطل لا شك في هذا لأمور منها:
1- يلزم من قولنا إن قول الله تبارك تعالى: {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ} أن يكون من شرط الموالاة إعطاء الزكاة في حال الركوع ، لأنه خصها بالمذكورين بقوله {إِنَّمَا} فقط هؤلاء إذا خص الولاية لمن يدفع الزكاة وهو راكع ، فغيره لا!! لان إنما للحصر وإذا قلنا {َالَّذِينَ آمَنُوا} إذا علي ، إذا ليس لنا مولى إلا علي ، وكل من عدى علي حتى من غيرهم من الأئمة عند الشيعة ليسوا كذلك لأنه قال {إِنَّمَا} فحصر الولاية في الله والرسول وعلي فقط رضى الله عنه وصلى الله على محمد.
2- الله تعالى قال {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا} وهذه للجمع ، والأصل أنه إذا أطلق الجمع يراد به الجمع إلا إذا دل الدليل أنه يراد به فرد، وذكرت على جهة التعظيم ، وإلا الأصل إذا ذكرت به الجمع أن المراد بها الجمع.
3- كذلك الله جل وعلا لا يثني على العبد إلا إذا فعلً محمودا، وإعطاء الزكاة في حال الركوع مكروه إن لم يكن محرمَ.
هل يثنى الله تبارك وتعالى على هذا الفعل؟
وهل هذا الفعل جيد!!
তাহলে মুসাভি 'আল-মুরাজাআত' গ্রন্থে যে ইজমায়ের (ঐক্যমত) দাবি করেছেন এবং মিথ্যা রটনা করেছেন, তা কোথায়?
আর সালিম আল-বিশরিই বা এই বক্তব্যের কোথায় আছেন?
তিনি কি আহলে সুন্নাতের তাফসীরের একটি কিতাবের দিকেও ফিরে তাকাননি, যাতে জানতে পারতেন যে সেখানে কোনো ইজমা আছে কি না!! বরং এটি ছিল মুসাভির প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে এক নজিরবিহীন আত্মসমর্পণ।
* অতঃপর আমরা বলব যে, এই আয়াতটি আলীর শানে নাযিল হয়েছে—এই দাবিটি বাতিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এর কয়েকটি কারণ হলো:
১- আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ; যারা সালাত কায়েম করে এবং রুকু অবস্থায় যাকাত প্রদান করে}—এ থেকে আমাদের একথা মেনে নিতে হয় যে, বন্ধুত্বের শর্ত হলো রুকু অবস্থায় যাকাত প্রদান করা। কারণ তিনি 'ইন্নামা' (কেবল) শব্দ দ্বারা এটি তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। এখন যদি রুকু অবস্থায় যাকাত প্রদানকারীর জন্য বিলায়াত বা অভিভাবকত্ব নির্দিষ্ট করা হয়, তবে অন্য কেউ তা পাবে না!! কারণ 'ইন্নামা' শব্দটি সীমাবদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। আর আমরা যদি বলি 'যারা ঈমান এনেছে' বলতে কেবল আলী, তবে আলী ছাড়া আমাদের আর কোনো অভিভাবক নেই। এমনকি শিয়াদের নিকট আলীর বাইরে যে অন্যান্য ইমামরা রয়েছেন, তারাও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না। কারণ তিনি 'ইন্নামা' বলেছেন, ফলে তিনি অভিভাবকত্বকে কেবল আল্লাহ, রাসূল এবং আলীর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন।
২- আল্লাহ তাআলা বলেছেন {তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ}। এখানে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। আর মূল নিয়ম হলো, যখন বহুবচন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার দ্বারা বহুবচনই উদ্দেশ্য হয়; যতক্ষণ না কোনো দলিল পাওয়া যায় যে এর দ্বারা কোনো একজনকে বোঝানো হয়েছে এবং সম্মান প্রদর্শনের জন্য তা বলা হয়েছে। অন্যথায় মূল নিয়ম হলো, যখন বহুবচন উল্লেখ করা হয়, তখন তার দ্বারা বহুবচনই উদ্দেশ্য।
৩- একইভাবে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা কোনো বান্দার প্রশংসা তখনই করেন যখন সে কোনো প্রশংসনীয় কাজ করে। অথচ রুকু অবস্থায় যাকাত প্রদান করা মাকরূহ, যদি না তা হারাম হয়।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কি এই কাজের ওপর প্রশংসা করবেন?
আর এই কাজটি কি আদৌ ভালো!!
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهو أن الإنسان يعطي الزكاة وهو في حال الصلاة ، هذا طعن في علي رضى الله عنه ، لأن علي عندنا من أئمة الخاشعين في الصلاة الذين قال الله عنهم {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ * الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ} والخاشعون في صلاتهم لا ينشغلون عنها بدفع الزكاة، بل ينتظر حتى ينتهي من صلاته ثم بعد ذلك يدفع الزكاة (1) .
4- ثم كذلك نقول لم خص الركوع دون سائر الأركان؟
فالذي يعطي الزكاة وهو ساجد ، أو الذي يعطي الزكاة وهو قائم لا يصلح لا يصلح منه ذلك!
5- وكذلك نقول: علي رضي الله عنه كان فقيراً فكيف وجبت عليه الزكاة! ومتى وجبت الزكاة على علي - رضى الله عنه - هل يعلم من حضر ومن سيسمع؟؟
إن عليا -رضى الله عنه- أمهر فاطمة درعاً لم يكن يملك غيره ، ألم تأت فاطمة رضى الله عنها إلى النبي صلى الله عليه وسلم تطلب منه خادماً ، ولم يملك علي ولا هي أن يشتروا خادماً ، ألم يذكر كما يدعي الرافضة في قول الله تبارك وتعالى {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِم} أنه جاءهم المسكين وأعطوه المال أو الطعام الذي تركته فاطمة لأولادها رضى الله عنها ولم تبق شيء لأولادها ، لماذا إذا يزكي علي وهو لا يملك ما يطعم به ولده.
6- كذلك الآية فيها وجوب موالاة علي إذا كانت نزلت (2) ونحن لا نختلف معكم في موالاةِ علي، يعني تريدون من الآية أن علي مولى المؤمنين؟! نحن لا نختلف أبدا أن عليا رضى الله عنه مولى المؤمنين.
ولكن هناك فرق عظيم بين الوِلايةُ (بكسر الواو) والوَلاية (بفتح الواو) ، فالمراد بالأولى: المحبة، أما الوَلايةُ بالفتح فهي القضاء والحكم وهذا ليس مراد ولا شك.
--------------------------------------------
আর তা হলো এই যে, মানুষ সালাত আদায় করা অবস্থায় জাকাত প্রদান করবে; এটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি একটি অপবাদ। কারণ আলী আমাদের নিকট সালাতে বিনয়ীদের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের সালাতে বিনয়ী}। আর যারা তাদের সালাতে বিনয়ী, তারা জাকাত প্রদানের মাধ্যমে সালাত থেকে বিচ্যুত হন না। বরং তিনি সালাত শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন এবং এরপর জাকাত প্রদান করবেন (১)।
৪- এরপর আমরা একইভাবে বলি, অন্যান্য রুকন বাদ দিয়ে কেবল রুকূকে কেন নির্দিষ্ট করা হলো?
সুতরাং যে ব্যক্তি সেজদারত অবস্থায় জাকাত দেয়, অথবা যে ব্যক্তি দণ্ডায়মান অবস্থায় জাকাত দেয়, তার পক্ষ থেকে তা কি শুদ্ধ হবে? তা কখনোই শুদ্ধ হবে না!
৫- একইভাবে আমরা বলি: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দরিদ্র ছিলেন, তাহলে তাঁর ওপর জাকাত কীভাবে ওয়াজিব হলো! আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর কখন জাকাত ওয়াজিব হয়েছিল? যারা উপস্থিত আছেন এবং যারা ভবিষ্যতে শুনবেন, তারা কি তা জানেন??
নিশ্চয় আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ফাতিমাকে মোহর হিসেবে একটি বর্ম দিয়েছিলেন যা ছাড়া তাঁর মালিকানায় আর কিছুই ছিল না। ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে একজন সেবক চাইতে আসেননি? অথচ আলী বা তাঁর (ফাতিমার) একজন সেবক কেনার সামর্থ্য ছিল না। রাফেযিরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার বাণী {এবং তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়} সম্পর্কে যা দাবি করে, সেখানে কি উল্লেখ নেই যে, তাদের কাছে একজন মিসকিন এসেছিল এবং তারা তাকে সেই অর্থ বা খাদ্য দিয়ে দিয়েছিলেন যা ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর সন্তানদের জন্য রেখেছিলেন এবং সন্তানদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি? তবে আলী কেন জাকাত দেবেন যখন তাঁর কাছে নিজের সন্তানকে খাওয়ানোর মতো কিছুই নেই।
৬- একইভাবে, আয়াতটি যদি অবতীর্ণ হয়ে থাকে তবে তাতে আলীর প্রতি আনুগত্য (মুওয়ালাত) ওয়াজিব হওয়ার কথা রয়েছে (২)। আর আলীর প্রতি আনুগত্যের ব্যাপারে আমরা তোমাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করি না। অর্থাৎ, তোমরা কি আয়াতটি থেকে এটিই বুঝাতে চাও যে আলী মুমিনদের অভিভাবক? আমরা এতে কখনোই দ্বিমত করি না যে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মুমিনদের অভিভাবক।
কিন্তু 'উইলায়াহ' (ওয়াও অক্ষরে যের দিয়ে) এবং 'ওয়ালায়াহ' (ওয়াও অক্ষরে যবর দিয়ে)-এর মধ্যে এক বিশাল পার্থক্য রয়েছে। প্রথমটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ভালোবাসা (মহব্বত); আর যবর দিয়ে 'ওয়ালায়াহ' হলো বিচারকার্য ও শাসনকর্তৃত্ব, আর নিঃসন্দেহে এটি এখানে উদ্দেশ্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২১)
7- إن الله جل وعلا لا يوصف بأنه متول على عباده بل هو خالقهم ورازقهم ومليكهم سبحانه وتعالى.
8- إذا قال: {إِنَّمَا} للحصر، فقد خرج أولاد علي رضى الله عنهم. وإذا قالوا لا تفيد الحصر وأدخلوا غيرهم لزمهم الدليل الصريح والصحيح على دخولهم، وهذا لا يستطيعونه.
9- كذلك يقال: الذي يمدح هو من يبادر بالزكاة ، أم الذي ينتظر الفقير يأتيه ويطرق عليه الباب، ويقول: أعطني زكاتك؟
لا شك أن الذي يمدح هو الذي يبادر في الزكاة، ويمنع الفقير من أن يتبذل وأن يظهر فقرة وحاجته أمام الناس.
10- ثم أخيرا نقول: أن الزكاة بالخاتم لا تجزئ.
فهذه كذبة من أكاذيب الموسوي لما قال بإجماع المفسرين كما بينا ذلك.
* المراجعة رقم (20) ص 304:
قال الموسوي: " حين أنزل الله تعالى عليه – أي النبي صلى الله عليه وسلم {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} فدعاهم إلى دار عمه أبي طالب وهم يومئذ أربعون رجلاً يزيدون رجلاً أو ينقصونه ، وفيهم أعمامه أبو طالب وحمزة والعباس وأبو لهب ، والحديث في ذلك في صحاح السنن المأثورة ، وفي آخر ما قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: ((يا بني عبد المطلب إني والله ما أعلم شاباً في العرب جاء قومه بأفضل مما جئتكم به ، جئتكم بخير الدنيا والآخرة ، وقد أمرني الله أن أدعوكم إلىه ، فآيكم يؤازرني على أمري هذا على أن يكون أخي ووصيي وخليفتي فيكم؟ فأحجم القوم عنها غير علي – وكان أصغرهم – إذ قام فقال: أنا يا نبي الله أكون وزيرك عليهم ، فاخذ رسول الله برقبته وقال: إن هذا أخي ووصيي وخليفتي فيكم ، فاستمعوا له وأطيعوا ، فقام القوم يضحكون ويقولون لأبي طالب: قد أمرك أن تسمع لابنك وتطيع)) ".
هذا ذكره الموسوي وقال في صحاح السنن المأثورة؟
৭- মহান আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের ওপর ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে বর্ণনা করা যায় না, বরং তিনি তাদের স্রষ্টা, রিযিকদাতা এবং মালিক; তিনি অতি পবিত্র ও সুউচ্চ।
৮- যদি বলা হয়: {ইন্নামা} সীমাবদ্ধতা প্রকাশের জন্য, তবে আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সন্তানরা এর বাইরে চলে যায়। আর যদি তারা বলে যে এটি সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে না এবং অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তাদের অন্তর্ভুক্তির স্বপক্ষে সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ দলীল প্রদান করা তাদের জন্য আবশ্যক, যা করতে তারা সক্ষম নয়।
৯- একইভাবে বলা যায়: প্রশংসার যোগ্য কি সে যে যাকাত প্রদানে অগ্রণী হয়, নাকি সে যে অভাবী মানুষের অপেক্ষায় থাকে যে সে আসবে এবং তার দরজায় কড়া নেড়ে বলবে: আমাকে আপনার যাকাত দিন?
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সেই প্রশংসার যোগ্য যে যাকাত প্রদানে অগ্রণী হয় এবং অভাবী ব্যক্তিকে মানুষের সামনে নিজেকে ছোট করা এবং নিজের দারিদ্র্য ও অভাব প্রকাশ করা থেকে রক্ষা করে।
১০- পরিশেষে আমরা বলি: আংটি দিয়ে যাকাত প্রদান করলে তা আদায় হয় না।
এটি মুসাবীর মিথ্যাচারগুলোর একটি যখন তিনি মুফাসসিরদের ঐকমত্যের (ইজমা) কথা দাবি করেছিলেন, যেমনটি আমরা স্পষ্ট করেছি।
* পর্যালোচনা নম্বর (২০) পৃষ্ঠা ৩০৪:
মুসাবী বলেছেন: "যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর — অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর — নাযিল করলেন {এবং আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন}, তখন তিনি তাদের তাঁর চাচা আবু তালিবের বাড়িতে দাওয়াত দিলেন। সেদিন তারা সংখ্যায় চল্লিশ জন পুরুষ ছিল, একজন কম বা বেশি। তাদের মধ্যে তাঁর চাচারা ছিলেন: আবু তালিব, হামযাহ, আব্বাস এবং আবু লাহাব। এ সংক্রান্ত হাদীসটি বর্ণিত সহীহ সুনান গ্রন্থসমূহে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথার শেষাংশে বলেছিলেন: ((হে বনী আব্দুল মুত্তালিব, আল্লাহর কসম, আমি আরবদের মধ্যে এমন কোনো যুবককে জানি না যে তার জাতির কাছে আমি যা নিয়ে এসেছি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু নিয়ে এসেছে। আমি তোমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিয়ে এসেছি। আর আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি তোমাদেরকে তাঁর দিকে আহ্বান করি। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কে আছো যে এই কাজে আমাকে সাহায্য করবে এই শর্তে যে সে হবে আমার ভাই, আমার অসি (উত্তরাধিকারী) এবং তোমাদের মধ্যে আমার খলীফা? তখন আলী ব্যতীত সবাই পিছপা হলো — এবং তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে কনিষ্ঠতম — তিনি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমি তাদের ওপর আপনার উজির হবো। তখন রাসূলুল্লাহ তাঁর ঘাড় ধরলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই এ আমার ভাই, আমার অসি এবং তোমাদের মধ্যে আমার খলীফা; সুতরাং তোমরা তার কথা শোনো এবং তার আনুগত্য করো। তখন লোকেরা হাসতে হাসতে দাঁড়িয়ে গেল এবং আবু তালিবকে বলতে লাগল: তিনি তোমাকে আদেশ করেছেন তোমার ছেলের কথা শুনতে এবং তার আনুগত্য করতে))।"
এটি মুসাবী উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি বর্ণিত সহীহ সুনান গ্রন্থসমূহে রয়েছে?
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২২)
قلت: لم يذكر الموسوي كتابًا واحدًا من هذه الصحاح كما يدعي ، ومن عادته أن يعزو فيقول: أخرجه فلان وأخرجه فلان ، أما هنا فلم يذكر شيء من الصحاح وإنما عزى إلى تاريخ الطبري، والى تاريخ ابن الأثير، والى شرح نهج البلاغة (1) وما شابه هذه الكتب.
فهل هذه هي صحاح السنن أو هو الكذب والزور!
ثم إن هذا الحديث فيه رجل يقال: له أبو مريم الكوفي، وهو متروك بل كذاب! قال ابن كثير- رحمه الله تعالى -: تفرد به عبد الغفار بن القاسم أبو مريم، وهو متروك كذاب شيعي ، اتهمه ابن المديني وغيرة بوضع الحديث. والبشري يسلم بهذا الحديث وأمثاله؟! ولا شك أن هذا كذب على البشري.
ويقول شيخ الإسلام بن تيمية رحمه الله تعالى راداً متن هذا الحديث:
أولاً: بنو عبد المطلب لم يبلغوا أربعين رجلاً حين نزلت هذا الآية.
قلت ونحن نطلب من النسابة أن يذكروا لنا من هم الأربعون من بني عبد المطلب في ذلك الوقت؟ الذين جمعهم النبي - صلى الله عليه واله وسلم؟!
--------------------------------------------
আমি বলছি: মুসাভী এই সহীহ গ্রন্থগুলোর মধ্য থেকে একটির কথাও উল্লেখ করেননি যেমনটি তিনি দাবি করেন। তাঁর অভ্যাস হলো উদ্ধৃতি দেওয়া এবং বলা: অমুক এটি বর্ণনা করেছেন এবং অমুক এটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এখানে তিনি সহীহ গ্রন্থগুলোর কিছুই উল্লেখ করেননি, বরং তিনি তারীখে তাবারী, তারীখে ইবনুল আসির, শারহু নাহজিল বালাগা (১) এবং এজাতীয় গ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
তাহলে এগুলোই কি সহীহ সুনান গ্রন্থ, নাকি এটি মিথ্যা ও জালিয়াতি!
এছাড়া এই হাদিসে এমন একজন ব্যক্তি রয়েছেন যাকে আবু মারিয়াম আল-কুফি বলা হয়, তিনি মাতরুক (পরিত্যক্ত), বরং একজন চরম মিথ্যাবাদী! ইবনে কাসীর—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—বলেছেন: এটি কেবল আব্দুল গাফফার ইবনে কাসিম আবু মারিয়াম বর্ণনা করেছেন, যিনি একজন মাতরুক, চরম মিথ্যাবাদী শিয়া। ইবনে মাদীনী এবং অন্যরা তাঁর বিরুদ্ধে হাদিস জাল করার অভিযোগ এনেছেন। আর আল-বিশরী কি এই হাদিস এবং এর মতো হাদিসগুলো গ্রহণ করবেন?! নিঃসন্দেহে এটি আল-বিশরীর ওপর একটি মিথ্যাচার।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এই হাদিসের মূল পাঠের (মতন) খণ্ডন করে বলেন:
প্রথমত: যখন এই আয়াত নাজিল হয়, তখন বনু আব্দুল মুত্তালিবের পুরুষদের সংখ্যা চল্লিশে পৌঁছায়নি।
আমি বলছি: আমরা বংশবিশারদদের নিকট অনুরোধ করছি যেন তারা আমাদের জানান যে, সেই সময়ে বনু আব্দুল মুত্তালিবের সেই চল্লিশজন কারা ছিলেন যাদেরকে নবী—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম—একত্রিত করেছিলেন?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم قوله: " فأيكم يؤازرني على أمري هذا على أن يكون أخي ووصيي وخليفتي فيكم " غير صحيح، ذلك لأن مجرد الإجابة للشهادة لا توجب الخلافة، فمن أجابه كثيرون، فقد أجاب النبي صلى الله عليه وسلم جعفر بن أبي طالب ، أسلم وهاجر إلى الحبشة رضى الله عنه وأرضاه ، وأجابه حمزة وعبيدة بن الحارث، كل هؤلاء أجابوه وهؤلاء من السابقين في الإسلام، بل كان لهم أثر في الدعوة إلى الله تبارك وتعالى، خاصة جعفر وحمزة وعبيدة بن الحارث، وذلك لأن عليا رضى الله عنه كان صغيراً في ذلك الوقت ، وكان له من العمر ثمان سنوات ، فإذا كان له ثمان سنوات حين بعث الرسول صلى الله عليه وسلم فكيف يقول: أنا الذي أؤازرك وادفع عنكَ؟! بل لا نعرف دفعاً لعلي بن أبي طالب عن النبي صلى الله عليه وسلم حال وجوده في مكة إلا ما وقع في مبيته في فراش النبي صلى الله عليه وسلم عند هجرته، وهو بلاشك من المواقف العظيمة.
ولذلك سنحاول أن نعد بني عبد المطلب في ذلك الوقت ، فمن هم بني عبد المطلب وهل يبلغون أربعين رجلا أم لا؟ ومن هم أعمام النبي صلى الله عليه وسلم الذين هم أبناء عبد المطلب:
حمزة: لم يعرف أن له ذكور من الأولاد.
الزبير: لم يعقب.
عبد الله: ليس له إلا محمد صلى الله عليه وسلم.
أبو طالب: أربعة من الولد عنده (طالب، وعقيل، وجعفر، وعلي) .
أبو لهب: عنده ثلاثة (عتبة، وعتيبة، ومعتب) .
العباس: كل أولاده صغار ، وأكبرهم الفضل ، والفضل كان صغيراً في ذلك الوقت، وعبد الله بن العباس لم يولد بعد، ولا قسم، ولا تمام، ولا عبد الرحمن، ولا كثير.
فكل هؤلاء لم يولدوا في ذلك الوقت.
এরপর তাঁর কথা: "তোমাদের মধ্যে কে আছ যে আমার এই কাজে আমাকে সহযোগিতা করবে এই শর্তে যে সে হবে তোমাদের মাঝে আমার ভাই, আমার অছি এবং আমার খলিফা?" - এটি সঠিক নয়। কারণ, কেবল সাক্ষ্য প্রদানের (কালিমা পাঠের) আহ্বানে সাড়া দিলেই খিলাফত সাব্যস্ত হয় না। কারণ অনেকেই তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহ্বানে জাফর ইবনে আবি তালিব সাড়া দিয়েছিলেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)। হামজাহ এবং উবায়দাহ ইবনুল হারিসও তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। তাঁরা সকলেই তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং তাঁরা ছিলেন ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত। বরং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের বিশেষ প্রভাব ছিল, বিশেষ করে জাফর, হামজাহ এবং উবায়দাহ ইবনুল হারিসের। এর কারণ হলো, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু সেই সময় ছোট ছিলেন এবং তাঁর বয়স ছিল মাত্র আট বছর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নবুওয়াত লাভ করেন, তখন যদি তাঁর বয়স আট বছর হয়, তবে তিনি কীভাবে বলতে পারেন: "আমিই আপনাকে সহযোগিতা করব এবং আপনাকে রক্ষা করব?!" বরং মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে আলী ইবনে আবি তালিব কর্তৃক কোনো প্রতিরক্ষার কথা আমাদের জানা নেই, কেবল হিজরতের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিছানায় তাঁর রাত কাটানোর ঘটনাটি ছাড়া; যা নিঃসন্দেহে এক মহানুভবতার পরিচয়।
তাই আমরা সেই সময়ে বনু আব্দুল মুত্তালিবের সংখ্যা গণনা করার চেষ্টা করব। বনু আব্দুল মুত্তালিব কারা ছিলেন এবং তাঁরা কি চল্লিশ জন পুরুষ পূর্ণ করতেন কি না? এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাগণ কারা ছিলেন যারা আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র সন্তান ছিলেন:
হামজাহ: তাঁর কোনো পুত্রসন্তান থাকার কথা জানা যায় না।
জুবায়ের: তাঁর কোনো বংশধর ছিল না।
আব্দুল্লাহ: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া তাঁর আর কোনো সন্তান ছিল না।
আবু তালিব: তাঁর চারজন সন্তান ছিল (তালিব, আকিল, জাফর এবং আলী)।
আবু লাহাব: তাঁর তিনজন সন্তান ছিল (উতবাহ, উতাইবাহ এবং মুয়াত্তিব)।
আব্বাস: তাঁর সব সন্তানই ছোট ছিল এবং তাদের মধ্যে বড় ছিল ফজল। ফজল সেই সময়ে ছোট ছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তখনো জন্মগ্রহণ করেননি, তেমনি কাসাম, তাম্মাম, আব্দুর রহমান কিংবা কাসিরও জন্মাননি।
তাদের কেউই সেই সময়ে জন্মগ্রহণ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كم ولد للعباس في ذلك الوقت؟ اثنان، وحتى عبيد الله لم يولد ، ولذلك لم يعرف من أولاد العباس من الصحابة إلا عبد الله والفضل فقط، وعبد الله ولد في شعب أبي طالب قبل هجرة النبي بثلاث سنوات صلوات الله وسلامه عليه ، إذا قدرنا فالموجود الفضل والله أعلم كم كان عمر الفضل في ذلك الوقت.
إذا الزبير عم النبي صلى الله عليه وسلم إذا قدرنا أنه موجود ، وحمزة عم النبي صلى الله عليه وسلم ، وأبو طالب عم النبي صلى الله وسلم (هؤلاء ثلاثة) وأولاد أبي طالب أربعة (هؤلاء سبعة) أبو لهب الثامن وأولاده ثلاثة (هؤلاء أحد عشر رجلا) ، عبد الله والد النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن موجودا، توفي والنبي صلى الله عليه وسلم في بطن أمة صلوات الله وسلامة عليه ، أما المقوم والغيداق وصفار فلم يثبت لهم نسب ، ولا يعرف لهم ، ثم الحارث عم النبي صلى الله عليه وسلم وله أربعة من الولد أبو سفيان بن الحارث ، وكان كبيراً وإذا قدرنا أن أباه موجود فهؤلاء ثلاثة عشر وعبد الله بن الحارث وأبناءه اثنان.
إذا فهم لا يزيدون عن خمسة عشر رجل بأي حال من الأحوال ، فمن أين جاء الأربعون؟! وهذا دليل على كذب هذا الحديث، وصدق شيخ الإسلام ابن تيمية رحمة الله حين قال: " لم يبلغوا عدد أربعين رجلاً حين ذكر هذا الحديث " هذا عدى أن قلنا أن الحديث كذب، ولكن هذا من باب إبطال متن الحديث مع إبطال سنده.
كذلك قال الموسوي في المراجعة أيضا رقم (20) ص 307 عن هذا الحديث نفسه: " إن هذا أخي ووصيي وخليفتي فيكم ، فاستمعوا له وأطيعوا "
ثم قال الموسوي " أخرجه بهذا المعنى مع تقارب في الألفاظ غير واحد من أثبات السنة " هكذا قال:ُ " غير واحد من أثبات السنة ".
ثم قال: " وحسبك ما أخرجه أحمد بن حنبل من حديث علي في صفحة 111 وصفحة 159 من الجزء الأول من مسنده فراجع "
সেই সময় আব্বাসের কয়জন সন্তান ছিল? দুইজন। এমনকি উবায়দুল্লাহও তখন জন্মাননি। এজন্য আব্বাসের সন্তানদের মধ্যে কেবল আবদুল্লাহ ও ফজলকেই সাহাবী হিসেবে চেনা যায়। আবদুল্লাহ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের তিন বছর আগে শি'বে আবু তালিবে জন্মগ্রহণ করেন। যদি আমরা হিসাব করি, তবে সেখানে কেবল ফজল উপস্থিত ছিলেন, আর তখন ফজলের বয়স কত ছিল তা আল্লাহই ভালো জানেন।
সুতরাং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা জুবায়ের—যদি আমরা ধরে নিই তিনি উপস্থিত ছিলেন—এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা হামজাহ, আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা আবু তালিব (এই হলো তিনজন)। আবু তালিবের সন্তান চারজন (এই হলো সাতজন)। আবু লাহাব অষ্টম ব্যক্তি এবং তার সন্তান তিনজন (এই হলো এগারোজন পুরুষ)। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতা আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন না; তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মায়ের গর্ভে ছিলেন। আর মুকাউউয়িম, গাইদাক ও সাফার—তাদের কোনো বংশধারা প্রমাণিত নয় এবং তাদের সম্পর্কে কিছু জানাও যায় না। এরপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা হারিস, তার চারজন সন্তান ছিল; আবু সুফিয়ান বিন হারিস, তিনি বড় ছিলেন, আর যদি আমরা ধরে নিই যে তার পিতাও উপস্থিত ছিলেন, তবে এই হলো তেরোজন, আর আবদুল্লাহ বিন হারিস ও তার দুই সন্তান।
সুতরাং কোনো অবস্থাতেই তাদের সংখ্যা পনেরো জনের বেশি হয় না। তাহলে চল্লিশ জন কোথা থেকে এলো?! এটি এই হাদিসটি মিথ্যা হওয়ার একটি প্রমাণ। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "এই হাদিসটি উল্লেখ করার সময় তাদের সংখ্যা চল্লিশ জনে পৌঁছেনি।" এটি তো হাদিসটি মিথ্যা বলার অতিরিক্ত দিক, বরং এটি হাদিসের সনদের অসারতা প্রমাণের পাশাপাশি এর মূল পাঠকে বাতিল করার একটি পর্যায়।
একইভাবে মুসাবি তার 'আল-মুরাজাআত' গ্রন্থের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের ৩০৭ পৃষ্ঠায় এই একই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয় ইনি আমার ভাই, আমার অসি এবং তোমাদের মধ্যে আমার খলিফা; সুতরাং তোমরা তাঁর কথা শোনো এবং তাঁর আনুগত্য করো।"
এরপর মুসাবি বলেন, "সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য ইমামদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি কাছাকাছি শব্দে এই অর্থের বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন।" তিনি এভাবেই বলেছেন: "সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য ইমামদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি।"
এরপর তিনি বলেন: "আপনার জন্য আহমাদ বিন হাম্বল তাঁর মুসনাদের প্রথম খণ্ডের ১১১ এবং ১৫৯ পৃষ্ঠায় আলী থেকে বর্ণিত যে হাদিসটি এনেছেন তা-ই যথেষ্ট, সুতরাং তা দেখে নিন।"
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم قال المحقق الراضي [ولا ندري هل هذا كلام الراضي أم كلام الموسوي، لكن ظاهره أنه كلام الراضي] : " مسند أحمد الجزء الثاني صفحة 165 " ثم قال: " بسند حسن والجزء الثاني صفحة 352 بسند صحيح " ثم عزى إلى دار المعارف بمصر.
قلت: الذي في المسند الجزء الأول صفحة 111 فيه المنهال يرويه عن عباد بن عبد الله الأسدي وفيه كذلك شريك ، وشريكً ضعيف مدلس وقد عنعن أي لم يصرح بالتحديث ، والأسدي أيضا ضعيف بل هو أقرب إلى الترك ، والذي في المسند صفحة 159 من الجزء الأول ليس فيه كلمة " وصيي وخليفتي " وإنما فيه أنه قال ((فأيكم يبايعني على أن يكون أخي وصاحبي فقام علي وكان أصغر القوم فقال اجلس وذكر ذلك ثلاث مرات ، فلما كانت الثالثة ضرب بيده على يدي)) وليس في الرواية: " فأسمعوا له وأطيعوه " ، فأشترك في الكذب والتدليس الموسوي والراضي.
والله المستعان.
* المراجعة رقم (22) ص 309:
قال الموسوي عن حديث الإنذار أيضا السابق ، وهذا الكلام عجيب يقول:
" وحسبك في تصحيحه ثبوته من طريق الثقات الأثبات الذين احتج بهم أصحاب الصحاح بكل ارتياح ، ودونك ص 111 من الجزء الأول من مسند أحمد تجده يخرج هذا الحديث عن أسود بن عامر عن شريك عن الأعمش عن المنهال عن عباد بن عبد الله الأسدي عن عليً مرفوعا ".
هذا الإسناد يقول عنه الموسوي: " وكل واحد من سلسله هذا السند حجة عند الخصم ".
ويقول: " وكلهم من رجال الصحاح بلا كلام ".
ثم أخذ الموسوي يترجم لكل واحد من هؤلاء الرواة فقال:
" اسود بن عامر: احتج به البخاري ومسلم ، شريك احتج به مسلم ، الأعمش احتج به البخاري ومسلم ، المنهال احتج به البخاري ، عباد بن عبد الله الأسدي هو عباد بن عبد الله بن الزبير بن العوام القرشي الأسدي احتج به البخاري ومسلم ".
والطامة الكبرى ما قاله سليم البشري في رده على هذا المراجعة (المراجعة رقم 23) قال البشري:
এরপর মুহাক্কিক আর-রাদি বলেছেন [এবং আমরা জানি না এটি কি আর-রাদির কথা নাকি আল-মুসাওয়ির কথা, তবে বাহ্যত এটি আর-রাদির কথা বলে মনে হয়]: "মুসনাদে আহমাদ, দ্বিতীয় খণ্ড, ১৬৫ পৃষ্ঠা।" এরপর তিনি বললেন: "হাসান সনদে এবং দ্বিতীয় খণ্ড, ৩৫২ পৃষ্ঠা, সহিহ সনদে।" এরপর তিনি মিশরের দারুল মা'আরিফের দিকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন।
আমি বলি: মুসনাদ-এর প্রথম খণ্ড, ১১১ পৃষ্ঠায় যা রয়েছে তাতে মিনহাল রয়েছেন, তিনি এটি আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে শরিকও রয়েছেন। আর শরিক হচ্ছেন দুর্বল (জয়িফ) এবং মুদাল্লিস, আর তিনি 'আন'আনা' করেছেন অর্থাৎ স্পষ্টভাবে হাদিস শ্রবণের কথা ব্যক্ত করেননি। আল-আসাদিও দুর্বল, বরং তিনি ত্যাজ্য হওয়ার কাছাকাছি। আর মুসনাদের প্রথম খণ্ডের ১৫৯ পৃষ্ঠায় যা রয়েছে তাতে "আমার ওসি এবং আমার খলিফা" শব্দগুলো নেই, বরং তাতে আছে যে তিনি বলেছিলেন: "তোমাদের মধ্যে কে আমার ভাই ও আমার সাথী হওয়ার জন্য আমার নিকট বায়আত গ্রহণ করবে? তখন আলী দাঁড়ালেন, অথচ তিনি ছিলেন কওমের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট। তিনি বললেন: বসো। তিনি তিনবার এটি উল্লেখ করলেন। অতঃপর যখন তৃতীয়বার হলো, তিনি তাঁর হাত আমার হাতের ওপর রাখলেন।" আর বর্ণনায় "সুতরাং তোমরা তাঁর কথা শোনো এবং তাঁর আনুগত্য করো" কথাটি নেই। সুতরাং আল-মুসাওয়ি এবং আর-রাদি উভয়েই মিথ্যাচার এবং জালিয়াতিতে শরিক হলেন।
আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
* আল-মুরাজাআ নম্বর (২২), পৃষ্ঠা ৩০৯:
আল-মুসাওয়ি পূর্বে উল্লিখিত সতর্কীকরণের (ইনজার) হাদিস সম্পর্কে আরও বলেছেন, এবং এই কথাটি আশ্চর্যজনক, তিনি বলেন:
"একে সহিহ সাব্যস্ত করার জন্য আপনার নিকট এটিই যথেষ্ট যে, এটি এমন বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে যাদের মাধ্যমে সিহাহ (বিশুদ্ধ হাদিসগ্রন্থ) সংকলকগণ পূর্ণ নিশ্চিন্তের সাথে দলিল গ্রহণ করেছেন। মুসনাদে আহমাদের প্রথম খণ্ডের ১১১ পৃষ্ঠা আপনার সামনে রয়েছে, সেখানে আপনি পাবেন যে তিনি এই হাদিসটি আসওয়াদ ইবনে আমির থেকে, তিনি শরিক থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মিনহাল থেকে, তিনি আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদি থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।"
এই সনদ সম্পর্কে আল-মুসাওয়ি বলেন: "এবং এই সনদের সিলসিলার প্রত্যেক ব্যক্তিই প্রতিপক্ষের নিকট দলিল হিসেবে গণ্য।"
এবং তিনি বলেন: "আর তারা সকলেই কোনো বিতর্ক ছাড়াই সিহাহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।"
অতঃপর আল-মুসাওয়ি এই বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকের পরিচিতি পেশ করতে শুরু করেন এবং বলেন:
"আসওয়াদ ইবনে আমির: বুখারি ও মুসলিম তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন; শরিক: মুসলিম তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন; আমাশ: বুখারি ও মুসলিম তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন; মিনহাল: বুখারি তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন; আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদি: তিনি হলেন আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের ইবনে আওয়াম আল-কুরাশি আল-আসাদি, বুখারি ও মুসলিম তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন।"
আর সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো সেটি যা সেলিম আল-বিশরি এই মুরাজাআ-এর জবাবে (মুরাজাআ নম্বর ২৩) বলেছেন। আল-বিশরি বলেন:
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
" راجعت الحديث في ص111 من الجزء الأول من مسند أحمد ، ونقبت عن رجال سنده ، فإذا هم ثقاة أثبات حجج ".
هذا الكلام زعموا أنه لسليم البشري شيخ الأزهر!!
ثم قال البشري أيضا: " ثم بحثت عن سائر طرقه فإذا هي متضافرة متناصرة ، يؤيد بعضها بعضاً ، وبذلك آمنت بثبوته ".
قلت: الحمد لله على كل حال ، أنه نقب ، ولولا أنه لم ينقب لما وصل إلى الحق أبدا، يقول: ثقاة إثبات!! الله المستعان.
عباد بن عبد الله الأسدي قال: " هو عباد بن عبد الله بن الزبير بن العوام الأسدي ".
العجيب أن الموسوي لم يترجم إلا لعباد الأسدي ترى لماذا؟! وكلهم قال في ترجمتهم أنهم من رجال الشيخين أو البخاري أو يقول ثقة يحتج بهم إلا عباد الأسدي هذا قال عنه " هو عباد بن عبد الله بن الزبير بن العوام الأسدي ". ترى لماذا قال ذلك؟
هذا العمل لا شك أنه عمل خبيث وكذب وتدليس وتزوير وقد اشترك فيه الموسوي وحسين الراضي الذي حقق هذا الحديث أو الكتاب زعم!! وذلك أن عباد بن عبد الله الأسدي هو غير عباد بن عبد الله بن الزبير فهذان شخصان مختلفان:
فعباد بن عبد الله بن الزبير بن العوام هذا من رجال الصحيحين ، وهو من رجال البخاري ومسلم، وهو غير عباد بن عبد الله الأسدي ، ولو رجع الإنسان إلى كتاب تهذيب التهذيب لوجد أن عباد بن عبد الله بن الزبير بن العوام الأسدي في رأس الصفحة في الطبعة الهندية للكتاب وعباد بن عبد الله الأسدي الكوفي تحته مباشرة ، فهما إذا رجلان ، وعباد بن عبد الله الاسدى هو الذي روى عن علي ، ولذلك لبس وزور وكذب الموسوي حين زعم أن عباد بن عبد الله الأسدي هو نفسه عباد بن عبد الله بن الزبير بن العوام ، وهذا من الكذب والبهتان أعاذنا الله وإياكم منه.
"আমি মুসনাদে আহমদের প্রথম খণ্ডের ১১১ পৃষ্ঠায় হাদীসটি পর্যালোচনা করেছি এবং এর সনদের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করেছি, অতঃপর দেখা গেল যে তারা নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও দলীলযোগ্য।"
তারা দাবি করেছে যে, এই কথাটি শায়খুল আযহার সালীম আল-বিশরী-র!!
অতঃপর বিশরী আরও বলেছেন: "তারপর আমি এর অন্যান্য সূত্রগুলোও অনুসন্ধান করেছি, দেখা গেল সেগুলো পরস্পরকে শক্তিশালী ও সমর্থন করছে, যার ফলে আমি এটি সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।"
আমি বলি: সকল অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা যে, তিনি অনুসন্ধান করেছেন। আর যদি তিনি অনুসন্ধান না করতেন, তবে কখনোই সত্যে পৌঁছাতে পারতেন না। তিনি বলছেন: নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়!! আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।
আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "তিনি হলেন আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম আল-আসাদী।"
আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, আল-মুসাভী কেবল এই আব্বাদ আল-আসাদীরই জীবনী উল্লেখ করেছেন, কেন তা কি জানেন?! তিনি বাকি সবার জীবনীর ক্ষেত্রে বলেছেন যে তারা শাইখাইন বা বুখারীর বর্ণনাকারী অথবা বলেছেন যে তারা নির্ভরযোগ্য ও দলীলযোগ্য; কেবল এই আব্বাদ আল-আসাদী ব্যতীত। তার সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "তিনি হলেন আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম আল-আসাদী।" কেন তিনি এমনটি বলেছেন তা কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন?
এই কর্মটি নিঃসন্দেহে একটি নিকৃষ্ট কাজ, মিথ্যাচার, ধোঁকাবাজি ও জালিয়াতি। এতে আল-মুসাভী এবং হুসাইন আল-রাযী (যিনি দাবি করেছেন যে তিনি এই হাদীস বা কিতাবটি তাহকীক করেছেন) উভয়েই অংশ নিয়েছেন!! আর তা এই কারণে যে, আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী এবং আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবায়ের—দুজন ভিন্ন ব্যক্তি:
আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম হলেন সহীহাইন-এর বর্ণনাকারী, তিনি বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী। তিনি আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী থেকে ভিন্ন ব্যক্তি। যদি কেউ 'তাহযীবুত তাহযীব' কিতাবটি দেখেন, তবে দেখতে পাবেন যে কিতাবটির ভারতীয় সংস্করণে পৃষ্ঠার শুরুতে রয়েছেন আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম আল-আসাদী এবং তার ঠিক নিচেই রয়েছেন আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী আল-কুফী। সুতরাং তারা দুজন ভিন্ন ব্যক্তি। আর এই আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী-ই আলী থেকে বর্ণনা করেছেন। এ কারণেই মুসাভী বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন, জালিয়াতি ও মিথ্যাচার করেছেন যখন তিনি দাবি করেছেন যে, আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী মূলত আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম-ই। এটি চরম মিথ্যা ও অপবাদ, আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের এ থেকে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أما عباد بن عبد الله بن الزبير بن العوام الأسدي فقد روى عن أبيه (عبد الله بن الزبير) وعن جدته أسماء وعن خالة أبيه عائشة ورجل من بني مرة وعمر بن الخطاب وزيد بن ثابت، ولم يذكر أنه روى عن علي شيء ، وهو وكما قلت: ثقة ثبت.
أما عباد بن عبد الله الأسدي قال (1) : روى عن علي وعن المنهال، إذا هذا هو صاحبنا ، قال البخاري: فيه نظر ووقال بن سعد له أحاديث ، وقال علي بن المديني ضعيف الحديث ، وقال ابن الجوزي ضرب ابن حنبل على حديثه عن علي: " أنا الصديق الأكبر " وقال: هو منكر ، وقال ابن حزم هو مجهول ، وذكره ابن حبان في الثقات على عادته (2) .
إذا هذا كذب وزور وبهتان وتدليس ، وسمه ما شئت من التسميات التي تبين لك كذب وتزوير هذا الرجل سواء في كلامه أو في ادعائه أن البشري رجع إلى كتب الرجال ، وتعرف من خلالها على الحقيقة وهى أن عباد بن عبد الله الأسدي هو عباد بن عبد الله بن الزبير الثقة الثبت.. أعاذنا الله وإياكم من ذلك.
فالحاصل في هذا الحديث أن: أسود بن عامر ثقة، شريك حسن الحديث ، الأعمش ثقة ، المنهال ثقة ، لكن العلة كما قلنا هي في عباد بن عبد الله الأسدي.
* المراجعة رقم (26) ص 315:
قال الموسوي: " حديث ابن عباس وفيه عشرة فضائل لعلي أخرجه أحمد والنسائي والحاكم والذهبي وغيرهم من أصحاب السنن بالطرق المجمع على صحتها "
قلت: وهذا فيه كذبتان:
الأولى: قوله " الطرق "، وليس للحديث حسب علمي إلا طريق واحد فالحديث أخرجه النسائي في الخصائص، وأحمد في المسند وفى الفضائل، وكذا ابن أبي عاصم، والحاكم في المستدرك، والطبراني في الكبير ، وكلهم من طريق أبي عوانه عن يحيى بن سليم عن عمر بن ميمونه عن ابن عباس ، فأين الطرق؟!
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর ইবনুল আওয়াম আল-আসাদী তার পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর) থেকে, তার দাদি আসমা থেকে, তার পিতার খালা আয়েশা থেকে এবং বনু মুররার এক ব্যক্তি, উমর ইবনুল খাত্তাব ও যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি আলী থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ নেই। আর তিনি, যেমনটি আমি বলেছি: অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী (সিকাহ সাবাত)।
পক্ষান্তরে আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদী সম্পর্কে তিনি (১) বলেছেন: তিনি আলী ও আল-মিনহাল থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ইনিই আমাদের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি। ইমাম বুখারী বলেছেন: ‘তার ব্যাপারে আপত্তি (ফীহি নাযার) আছে’। ইবনে সাদ বলেছেন: ‘তার থেকে বর্ণিত কিছু হাদিস রয়েছে’। আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন: ‘তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল’। ইবনে আল-জাওজি বলেছেন: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আলী থেকে বর্ণিত তার এই হাদিসটি— "আমিই সিদ্দিকে আকবর" —কেটে দিয়েছেন এবং বলেছেন: এটি ‘মুনকার’ (অস্বীকৃত)। ইবনে হাজম বলেছেন: তিনি ‘মাজহুল’ (অপরিচিত)। আর ইবনে হিব্বান তার রীতি অনুযায়ী তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন (২)।
সুতরাং এটি মিথ্যা, জালিয়াতি, অপবাদ এবং প্রতারণা। আপনি একে যে কোনো নামেই অভিহিত করতে পারেন যা আপনার কাছে এই ব্যক্তির মিথ্যাচার ও জালিয়াতিকে স্পষ্ট করে দেয়, চাই তা তার কথার ক্ষেত্রে হোক কিংবা তার এই দাবির ক্ষেত্রে হোক যে আল-বিশরীয় রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোর দিকে ফিরে গিয়েছেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে সত্য জানতে পেরেছেন—আর তা হলো: আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদী হলেন মূলত আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর, যিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী... আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের এ থেকে রক্ষা করুন।
সারকথা এই যে, এই হাদিসটির ক্ষেত্রে: আসওয়াদ ইবনে আমির নির্ভরযোগ্য, শারীক হাসানুল হাদিস স্তরের বর্ণনাকারী, আমাশ নির্ভরযোগ্য, মিনহাল নির্ভরযোগ্য; কিন্তু ত্রুটি (ইল্লাত) যেমনটি আমরা বলেছি, তা হলো আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদীর মধ্যে।
* পর্যালোচনা নম্বর (২৬), পৃষ্ঠা ৩১৫:
আল-মুসাভী বলেছেন: "ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিস যাতে আলীর দশটি ফযিলত রয়েছে, তা আহমদ, নাসাঈ, হাকেম, যাহাবী এবং অন্যান্য সুনান গ্রন্থকারগণ এমন সব সনদে বর্ণনা করেছেন যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।"
আমি বলি: এর মধ্যে দুটি মিথ্যা রয়েছে:
প্রথমটি: তার উক্তি "সনদসমূহ" (সূত্রসমূহ), অথচ আমার জানামতে এই হাদিসের একটি মাত্র সনদ রয়েছে। হাদিসটি নাসাঈ 'আল-খাসাইস'-এ, আহমদ 'আল-মুসনাদ' ও 'আল-ফাদাইল'-এ, তেমনি ইবনে আবি আসিম, হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক'-এ এবং تাবারানী 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন। তারা সবাই আবু আওয়ানার সূত্রে, ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তাহলে একাধিক সনদ কোথায়?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মা'আ কিতাবিল মুরাজা'আত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الثانية: قوله " المجمع على صحتها "، فمن نقل الإجماع؟ وأين هو؟
ليس إلا الكذب والبهتان.
* المراجعة رقم 42 ص 376:
يقول الموسوي: " والشاهد على ذلك [أي إطلاق صيغة الجمع على المفرد في قوله تعالى: {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ} ] قوله تعالى في سورة آل عمران {الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَاناً وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ} وإنما كان القائل نعيم بن مسعود الأشجعي وحده ، بإجماع المفسرين والمحدثين وأهل الأخبار "
قضية بإجماع تجدها منتشرة في كتبهم ، ما يعجزهم شيء على أن يقولوا بإجماع ، هذا أسهل وأخف شيء على لسانهم وهي إطلاق الإجماعات التي لا مستند ولا دليل عليها يقول " بإجماع المفسرين والمحدثين وأهل الأخبار "
قلت: قوله بإجماع المفسرين كذب ، فمن نقل الإجماع وأين؟؟
وقد ذهب جمهور المفسرين إلى أن هذا الآية نزلت بعد معركة حمراء الأسد وأن القائل هم ركب من عبد القيس ، فأين الإجماع؟
وإن شاء الله تعالى سوف يأتي أقوال المفسرين كما هو الحال في الآية السابقة ، ولكن هذا الآية تركتها لأنها ليست من ضمن أدلتهم وولكني فقد أردت أن آبين انهم يكذبون بل جريئين جداً على هذا الكذب.
* المراجعة رقم 48 ص 309:
قال الموسوي: " قوله صلى الله عليه وسلم وسلم: ((أنا مدينة العلم وعلي بابها ، فمن أراد العلم فليأت الباب)) أخرجه الطبراني في الكبير عن ابن عباس وأخرجه الحاكم في مناقب علي من صحيحه المستدرك بسندين صحيحين: أحدهم عن ابن عباس من طريقين صحيحين ، والآخر عن جابر بن عبد الله " هكذا زعم.
দ্বিতীয়ত: তার উক্তি "যার সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (ইজমা) রয়েছে", কে এই ঐক্যমত বর্ণনা করেছেন? আর কোথায় সেই ঐক্যমত?
এটি মিথ্যাচার এবং অপবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।
* ৪২ নম্বর পর্যালোচনা, পৃষ্ঠা ৩৭৬:
মুসাভী বলেন: "এবং এর প্রমাণ [অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের অভিভাবক হচ্ছেন আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ—যারা সালাত কায়েম করে এবং রুকু অবস্থায় যাকাত প্রদান করে} -এ একবচনের পরিবর্তে বহুবচন ব্যবহারের ক্ষেত্রে] হলো সূরা আলে ইমরানে মহান আল্লাহর এই বাণী: {যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো; ফলে তা তাদের ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক}। অথচ মুফাসসির, মুহাদ্দিস এবং ঐতিহাসিকদের ঐক্যমত অনুযায়ী এই কথাটি একাই নুয়াইম ইবনে মাসউদ আল-আশজাঈ বলেছিলেন।"
ঐক্যমতের এই বিষয়টি আপনি তাদের কিতাবসমূহে ব্যাপকভাবে পাবেন; কোনো কিছুতেই তারা ঐক্যমত দাবি করতে পিছপা হয় না। এটি তাদের মুখে সবচেয়ে সহজ ও হালকা বিষয়—অর্থাৎ এমন সব ঐক্যমতের দাবি করা যার কোনো ভিত্তি বা দলিল নেই। তিনি বলছেন "মুফাসসির, মুহাদ্দিস এবং ঐতিহাসিকদের ঐক্যমত অনুযায়ী" —
আমি বলব: মুফাসসিরদের ঐক্যমতের কথাটি একটি মিথ্যা। কে এই ঐক্যমত বর্ণনা করেছেন এবং কোথায়??
অথচ অধিকাংশ মুফাসসিরের মত হলো যে, এই আয়াতটি হামরাউল আসাদ যুদ্ধের পর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং কথাটি ছিল আবদে কায়াস গোত্রের একটি আরোহী দলের, তাহলে ঐক্যমত কোথায়?
আর ইনশাআল্লাহ তাআলা, পূর্ববর্তী আয়াতের মতো এখানেও মুফাসসিরগণের বক্তব্য শীঘ্রই আসবে। তবে এই আয়াতটি আমি ছেড়ে দিয়েছি কারণ এটি তাদের দলিলের অন্তর্ভুক্ত নয়; কিন্তু আমি শুধু এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে তারা মিথ্যা বলে, বরং এই মিথ্যার ব্যাপারে তারা অত্যন্ত দুঃসাহসী।
* ৪৮ নম্বর পর্যালোচনা, পৃষ্ঠা ৩০৯:
মুসাভী বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: ((আমি জ্ঞানের শহর আর আলী হলো তার দরজা; সুতরাং যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন দরজা দিয়ে আসে))। তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম এটি আলীর মর্যাদা বর্ণনার ক্ষেত্রে তার 'মুস্তাদরাক আলাস-সহীহাইন' গ্রন্থে দুটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন: একটি ইবনে আব্বাস থেকে দুটি সহীহ পথে, আর অন্যটি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে।" সে এমনই দাবি করেছে।