(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
المستطاب في أسباب نجاح دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله   (عبد الرحمن بن يوسف الرحمة)

القسم: كتب عامة


الكتاب: المستطاب في أسباب نجاح دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله

المؤلف: عبد الرحمن بن يوسف الرحمة

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 46

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 78

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের সফলতার কারণসমূহ সম্পর্কিত চমৎকার গ্রন্থ   (আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-রাহমাহ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের সফলতার কারণসমূহ সম্পর্কিত চমৎকার গ্রন্থ

লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-রাহমাহ

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো প্রকাশনা তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৪৬

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

الحمد لله حق حمده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وعلى آله وصحبه وجنده، وبعد:

فإن الحديث عن الدعوة السلفية النجدية الإصلاحية، التي قام بها، ودعا الناس إليها، الإمام المجدد لما اندرس من معالم الدين، في القرن الثاني عشر، الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله حديث طيب مبارك، ترتاح له أفئدة أهل الإيمان، وتطمئن به نفوس أهل الصدق والإحسان، لما يرونه ويعلمونه من أثرٍ مبارك صادق لهذه الدعوة، في مشارق الأرض ومغاربها، ولما يوقنون به من عظيم نفعها، وكبير وقعها.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেভাবে তাঁর প্রশংসা করা উচিত। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাঁর অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই নজদীয় সংস্কারবাদী সালাফি দাওয়াত সম্পর্কে আলোচনা—যা দ্বাদশ শতাব্দীতে দ্বীনের বিলুপ্তপ্রায় নিদর্শনসমূহের সংস্কারক (مجدد) ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) পরিচালনা করেছেন এবং যার দিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন—তা অত্যন্ত উত্তম ও বরকতময় এক আলোচনা। মুমিনদের অন্তর এতে প্রশান্তি পায় এবং সত্যনিষ্ঠ ও ইহসান (إحسان) অবলম্বনকারীদের আত্মা এতে আশ্বস্ত হয়; কারণ তারা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে এই দাওয়াতের বরকতময় ও বাস্তব প্রভাব প্রত্যক্ষ করছেন এবং এর মহান উপকারিতা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ولا شك أن كل منصف ملتمس للحق وسواه، وباحث عن الخير وهداه، يدرك أن ثمة أسباباً جعلت هذه الدعوة دعوة متبعة عالمية ناجحة في مقاصدها وأطرها وغاياتها، واليوم الأمة تعيش في حالة من المراجعة لذاتها، والتصحيح لأخطائها وزلاتها، والعودة إلى الصدق مع نفسها، كان لزاماً على أنصار هذه الدعوة وأتباعها، ممن هيأ الله لهم قوة العلم، وثاقب النظر، أن يبينوا للأمة جمعاء مزايا هذه الدعوة المباركة وأسباب نجاحها واستمرارها، وازدهارها وانتشارها، حتى تعود الأمة إلى أصل نبعها، وأول سيرتها، ورأس أمرها "ولن يصلح آخر هذه الأمة إلا ما صلح به أولها".

فأحببت من هذا المنطلق السامي في غايته، العظيم في مقصده ونيته، أن أكتب كلمات تنبئ البصير الحاذق، وتنبه الباحث الصادق، عن أسباب نجاح دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সত্যের অন্বেষী প্রত্যেক ইনসাফগার ব্যক্তি এবং কল্যাণ ও সুপথের সন্ধানী মাত্রই এটি উপলব্ধি করেন যে, এমন কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে যা এই দাওয়াতকে একটি অনুসৃত ও বৈশ্বিক দাওয়াতে পরিণত করেছে এবং একে এর লক্ষ্য, কাঠামো ও উদ্দেশ্য অর্জনে সফল করেছে। আজ উম্মাহ নিজের আত্মপর্যালোচনা, নিজের ভুল ও বিচ্যুতি সংশোধন এবং নিজের প্রতি সত্যনিষ্ঠ হওয়ার এক সন্ধিক্ষণ অতিবাহিত করছে। এমতাবস্থায় এই দাওয়াতের সাহায্যকারী ও অনুসারীদের মধ্যে আল্লাহ তাআলা যাদেরকে গভীর জ্ঞান ও তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন, তাদের জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে যে, তারা সমগ্র উম্মাহর সামনে এই বরকতময় দাওয়াতের বৈশিষ্ট্য এবং এর সফলতা, স্থায়িত্ব, সমৃদ্ধি ও প্রসারের কারণসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন; যাতে উম্মাহ তার মূল উৎসে, তার আদি আদর্শে এবং তার মূলনীতিতে ফিরে যেতে পারে। "আর এই উম্মতের শেষাংশ সেই মাধ্যম ব্যতীত সংশোধিত হবে না, যা দ্বারা এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।"

এই সুমহান লক্ষ্য ও মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই আমি এমন কিছু কথা লিখতে চেয়েছি যা একজন বিচক্ষণ ব্যক্তিকে অবহিত করবে এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের সফলতার কারণসমূহ সম্পর্কে একজন সত্যনিষ্ঠ গবেষককে সচেতন করবে।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
- وعلم الله - وددت أن غيري ممن هو أقدر مني كلماً وبياناً، وفصاحة ولساناً لو كفاني هذه الأمانة، وأزاح عني ثقل المؤونة، فلم أجد أحداً إلا قد اعتذر عن ذلك بكثرة أشغاله وأموره الخاصة، فلما رأيت ذلك توكلت على الحي القيوم مستعيناً به في زبر هذه الأوراق، وتقييد معالمها وأسسها، علّ بها بياناً صادقاً للناس، وإيضاحاً للحق، ودعوة الخلق، للرجوع إلى المنبع الأصيل كتاباً وسنة على فهم سلف الأمة، ومازال الأمل معقوداًَ وقائماً على ثلة من أهل الفضل والعلم من أنصار هذه الدعوة وأبنائها على الكتابة فيها وفي أسباب نجاحها، وما عملي وكتابتي إلا جهد المقل، فالله أسأل أن يتقبله بقبول حسن ويجعله من العلم النافع والعمل الصالح إن ربي لسميع الدعاء.

وقد سرت في كتابي هذا على خطة هاك تفصيلها:

أ - المقدمة: وفيها الباعث على تأليف الكتاب.

ب - كلمة فيها بيان: لماذا نحب هذه الدعوة ولماذا نجحت واستمرت؟!!

ج - الأسباب المجملة.

د - الأسباب المفصلة.

هـ - الخاتمة.
আল্লাহই জানেন—আমি চেয়েছিলাম যে, কথা ও বর্ণনায় এবং অলঙ্কার ও বাকপটুত্বে আমার চেয়েও অধিক যোগ্য অন্য কেউ যদি আমার পক্ষ থেকে এই আমানতের দায়িত্ব গ্রহণ করতেন এবং আমার থেকে এই বিশাল বোঝার ভার লাঘব করতেন। কিন্তু আমি এমন কাউকেই পেলাম না যিনি তাঁর অধিক কর্মব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ওজর পেশ করেননি। যখন আমি এই অবস্থা দেখলাম, তখন চিরঞ্জীব ও মহানিয়ন্ত্রক সত্তার ওপর ভরসা করলাম এবং এই পৃষ্ঠাগুলো লিপিবদ্ধ করতে এবং এর বৈশিষ্ট্য ও ভিত্তিগুলো সংজ্ঞায়িত করতে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করলাম। যেন এর মাধ্যমে মানুষের জন্য একটি সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা এবং সত্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা উপস্থাপিত হয় এবং সৃষ্টিজগতকে মূল উৎস—কুরআন ও সুন্নাহর দিকে উম্মাহর সৎ পূর্বসূরিদের (سلف) বুঝ অনুযায়ী ফিরে আসার আহ্বান জানানো যায়। এই দাওয়াতের একদল ফযীলতপূর্ণ আলেম ও জ্ঞানপিপাসু অনুসারীদের প্রতি এই আশাবাদ এখনও বিদ্যমান যে, তাঁরা এ বিষয়ে এবং এর সাফল্যের কারণগুলো নিয়ে লেখালেখি করবেন। আমার এই কর্ম ও লিখনী নিতান্তই এক নগণ্য প্রচেষ্টা মাত্র। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে উত্তমভাবে কবুল করেন এবং একে উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল হিসেবে গণ্য করেন। নিশ্চয়ই আমার রব প্রার্থনা শ্রবণকারী।

আমি আমার এই গ্রন্থে একটি কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করেছি যার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

ক - ভূমিকা: এতে গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট আলোচিত হয়েছে।

খ - একটি ব্যাখ্যামূলক বক্তব্য: কেন আমরা এই দাওয়াতকে ভালোবাসি এবং কেন এটি সফল ও স্থায়ী হয়েছে?!!

গ - সংক্ষিপ্ত (مجمل) কারণসমূহ।

ঘ - বিস্তারিত (مفصل) কারণসমূহ।

ঙ - উপসংহার।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
علمًا بأني راعيت في كتابتي سهولة العبارة، ولطافة الإشارة، ووضوح المعنى، وبيان المقصود، وذكرت الأصول، دون التطرق إلى كثير من الفروع؛ مهتماً بكليات الأسباب وجزئياتها، دون تطويل ممل، ولا تقصير مخل.

هذا؛ والله أسأل أن ينفعني بما كتبت، وينتفع قارئه بما سطرت، وحسبي الله عليه توكلت وإليه أُنيب، والله من وراء القصد وهو الهادي إلى سواء السبيل.

وكتب ذلك حامدًا ومصليًا ومسلمًا

عبد الرحمن بن يوسف الرحمة

في الرياض غرة شهر رمضان المبارك

لعام 1423هـ
উল্লেখ্য যে, আমি আমার লেখনীতে সাবলীল অভিব্যক্তি, সূক্ষ্ম ইঙ্গিত, অর্থের স্পষ্টতা এবং উদ্দেশ্য বর্ণনার প্রতি লক্ষ্য রেখেছি। আমি মৌলিক নীতিসমূহ (الأصول) উল্লেখ করেছি, অধিক শাখাগত বিষয়সমূহ (الفروع) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না করে; কারণসমূহের সামগ্রিক নীতিসমূহ (كليات) এবং বিস্তারিত বিষয়সমূহের (جزئيات) প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি, কোনো ক্লান্তিকর দীর্ঘায়ন ছাড়াই এবং এমন কোনো সংক্ষিপ্তকরণও করিনি যা অর্থের ব্যাঘাত ঘটায়।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে আমার এই লেখার দ্বারা উপকৃত করেন এবং এর পাঠকগণও যেন আমার লিখিত বিষয় দ্বারা উপকৃত হন। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। আল্লাহই সকল উদ্দেশ্যের অন্তরালে এবং তিনিই সরল পথের দিশারি।

আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম পেশপূর্বক এটি লিখিত হলো।

আব্দুর রহমান ইবনে ইউসুফ আর-রাহমাহ

রিয়াদ, পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে

১৪২৩ হিজরি সনে
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌كلمة فيها بيان: لماذا نحب هذه الدعوة ولماذا نجحت واستمرت؟!!

هذا سؤال عريض لا بد من الإجابة عليه إجابة وافية المقصود، بينة العبارة، واضحة الأسلوب، حتى يتضح الصبح لكل ذي عينين: إن هذه الدعوة المباركة أحببناها ونجحت واستمرت لأنها تجديد لأصالة الدين، وروح الملة، ومعدن الشريعة، إنها رجوعٌ بالناس إلى رأس الأمر، وأصل النبع، وأساس النهر، وأول المسيرة، وهي إلغاء لطقوس الكهنة، ومصطلحات مشايخ الطرق، عبدة الجاه، وسدنة الناموس بين البرية.

أحببناها ونجحت لأنها دعوة لم يقم بها العسكر تحت رصاص البنادق، وزحف الدبابات، فهي لا تؤمن بالاختلاس والنهب، هي دعوة لم تتبنَّ حمايتها الأحزاب الخاسرة التي ترفع شعارات تؤمن بها في الأوراق، وتكفر بها في الميدان؛ ولأنها ليست دعوة سياسية صرفة مقصدها الوصول إلى كرسي الحاكم، وابتزاز عصا السلطان، وتصدر الجموع، إنها دعوة أصلها ثابت من الدليل الشرعي، والاقتداء بالمعصوم صلى الله عليه وسلم والدعوة على بصيرة، وفرعها في السماء من العطاء المبارك، والنفع العام، والأثر المحمود.
একটি ব্যাখ্যামূলক বক্তব্য: কেন আমরা এই দাওয়াতকে ভালোবাসি এবং কেন এটি সফল ও অব্যাহত রয়েছে?!!

এটি একটি বিশদ প্রশ্ন যার উত্তর অত্যন্ত পর্যাপ্ত, প্রাঞ্জল অভিব্যক্তি এবং সুস্পষ্ট শৈলীতে হওয়া অপরিহার্য, যাতে প্রত্যেক দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যায়: নিশ্চয়ই এই বরকতময় দাওয়াতকে আমরা ভালোবাসি এবং এটি সফল ও অব্যাহত রয়েছে, কারণ এটি হলো দ্বীনের মৌলিকতা, মিল্লাতের রূহ এবং শরীয়তের আকর সত্তার এক নবায়ন। এটি মানুষকে ইসলামের মূল বিষয়, আদি উৎস, প্রবাহের ভিত্তি এবং অভিযাত্রার সূচনালগ্নের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রয়াস। এটি মূলত পুরোহিততন্ত্রের আচার-সর্বস্বতা এবং সৃষ্টির মাঝে পদের পূজারি ও প্রথার রক্ষক তরীকার মাশায়েখদের উদ্ভাবিত পরিভাষাসমূহ বিলুপ্ত করার নাম।

আমরা একে ভালোবাসি এবং এটি সফল হয়েছে কারণ এটি এমন কোনো দাওয়াত নয় যা বন্দুকের গুলি আর ট্যাঙ্কের অগ্রযাত্রার মাধ্যমে সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত হয়েছে; এটি আত্মসাৎ ও লুণ্ঠনে বিশ্বাস করে না। এটি এমন কোনো দাওয়াত নয় যাকে সেই সকল ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলো লালন করে, যারা কাগজে-কলমে এমন সব স্লোগান ধারণ করে যা তারা বিশ্বাস করে বলে দাবি করে, অথচ বাস্তব ময়দানে তা অস্বীকার করে। আর এটি নিছক কোনো রাজনৈতিক দাওয়াত নয় যার লক্ষ্য ক্ষমতার মসনদে আরোহণ, রাজদণ্ড কুক্ষিগত করা কিংবা জননেতৃত্ব লাভ করা। বরং এটি এমন এক দাওয়াত যার মূল ভিত্তি শাস্ত্রীয় দলীল (الدليل الشرعي), নিষ্পাপ (المعصوم) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ এবং প্রজ্ঞা (بصيرة)-এর ভিত্তিতে দাওয়াত প্রচারের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। আর এর শাখা-প্রশাখা বরকতময় দান, জনকল্যাণ এবং প্রশংসনীয় প্রভাবের মাধ্যমে আসমান পর্যন্ত বিস্তৃত।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
إن هذه الدعوة لم تدلف تحت هتافات الغوغاء، والشعارات الجوفاء، ولم تقم بأغلبية الأصوات، ونتائج صناديق الاقتراع، لم تفعل ذلك لأن هذه الدعوة توقد من شجرة الوحي المبارك، لا شرقية ولا غربية، بل سُنِّيّة سلفية ربّانية.

أحببناها واستمرت لأنها دعوة بدأت من المسجد، وانطلقت من المحراب، وهبّت من المآذن علنية، تعلن مبادئها على المنبر، وتشرح مواثقها في العامة، ليست سرية لها رموز لا يفكها إلا خاصة الخاصة، وليست غامضة لا يفهم مقاصدها إلا أساطينها؛ بل دعوة بينة بيان الحق، ساطعة سطوع الحقيقة، ظاهرة ظهور الفجر.

إنها بإيجاز تدعو لأن تكون كلمة الله هي العليا، وأن يكون الدين كله لله، وتعبد الناس لخالقهم ورازقهم، لا ترى التقليد، ولكنها لا تجرح الأئمة، ولا تقر الجور، ولكنها لا تخرج على الحاكم المسلم، وترفع شعار الجهاد، ولكن لإعلاء كلمة الله.
এই দাওয়াত বিশৃঙ্খল জনতার স্লোগান কিংবা অন্তঃসারশূন্য বুলির মাধ্যমে অনুপ্রবেশ করেনি, এবং এটি অধিকাংশের ভোট কিংবা ব্যালট বাক্সের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমনটি না করার কারণ হলো—এই দাওয়াত ওহীর বরকতময় বৃক্ষ থেকে প্রজ্জ্বলিত, যা প্রাচ্যেরও নয়, পাশ্চাত্যেরও নয়; বরং তা সুন্নাহভিত্তিক (سنية), সালাফী (سلفية) ও রব্বানী (ربانية)।

আমরা একে ভালোবেসেছি এবং এটি অব্যাহত রয়েছে কারণ এটি এমন এক দাওয়াত যা মসজিদ থেকে শুরু হয়েছে, মেহরাব থেকে যাত্রা করেছে এবং মিনারসমূহ থেকে প্রকাশ্যে প্রবহমান হয়েছে। এটি মিম্বারের ওপর এর মূলনীতিসমূহ ঘোষণা করে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এর অঙ্গীকারসমূহ ব্যাখ্যা করে। এটি কোনো গোপন (سرية) বিষয় নয় যার এমন কোনো প্রতীক (رموز) রয়েছে যা কেবল বিশেষ স্তরের ব্যক্তিরাই উন্মোচন করতে পারে, আর না এটি কোনো অস্পষ্ট (غامضة) বিষয় যার উদ্দেশ্য কেবল এর কর্ণধাররাই অনুধাবন করতে পারে। বরং এটি সত্যের বিবৃতির মতোই এক সুস্পষ্ট দাওয়াত, যা ধ্রুব সত্যের মতোই দেদীপ্যমান এবং ভোরের আলোর মতোই প্রকাশ্য (ظاهرة)।

সংক্ষেপে, এটি আহ্বান জানায় যেন আল্লাহর বাণীই সর্বোচ্চ হয়, দ্বীন যেন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয় এবং মানুষ যেন তাদের স্রষ্টা ও রিজিকদাতার ইবাদত করে। এটি অন্ধ অনুসরণ (تقليد) অনুমোদন করে না, তবে ইমামগণের সমালোচনা (جرح) করে না; এটি জুলুমকে স্বীকৃতি দেয় না, কিন্তু মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করে না; এবং এটি জিহাদের স্লোগান উত্তোলন করে, তবে তা কেবল আল্লাহর কালেমাকে উচ্চকিত করার জন্য।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
نجحت واستمرت لأنها دعوة سهلة ميسرة، ومن ينظر في كتب الإمام المجدد، وأبنائه وأحفاده، وأئمة الدعوة، يلمس يسر الشريعة، وسماحة الملة، وسهولة الدين، وكذلك عمرت هذه الدعوة، وأينعت، وطاب قطافها، واستوت على سوقها؛ عملٌ بالكتاب والسنة، على فهم سلف الأمة - صحابة وتابعين - وتقديمٌ للدليل مع احترام أهل العلم، وتحاكم للنص مع عدم مصادرة جهود الخيرين، وبناء دولة مع تقديم الآخرة، وإصلاح القلب مع الاهتمام بالجسم، لم تحش أذهان أتباعها بزبد الخطابة المجردة، والعواطف المجنحة، ووجهات النظر، واستحسانات الفلاسفة، ورغوة علماء الكلام، وجدل المناطقة، ووله الشعراء.

ولم تضع وقت طلابها في مطاردة قصاصات مقالات الصحفيين، الذين لا يعلمون الكتاب إلا أماني وإن هم إلا يظنون.

ولا في تتبع أطروحات المفكرين الذين يتبعون الظنَّ وإن هم إلا يخرصون، ولا في حفظ حروز المتصوفة، الفارغين من النقل، الهائمين في أودية الخيال.

نجحت واستمرت لأن هذه الدعوة ربانية أولى وآخرة، دنيا ودولة، جسدٌ وروح، شكل ومضمون، رواية ودراية، خبر وإنشاء، قولٌ وعملٌ، وتمت كلمة ربك صدقاً وعدلاً.

এটি সফল হয়েছে এবং টিকে আছে কারণ এটি একটি সহজ ও সাবলীল দাওয়াত। যে ব্যক্তি ইমাম মুজাদ্দিদ, তাঁর সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনি এবং দাওয়াতের ইমামগণের কিতাবসমূহ পাঠ করবে, সে শরীয়তের সহজসাধ্যতা, মিল্লাতের সহনশীলতা এবং দ্বীনের সাবলীলতা অনুভব করবে। এভাবেই এই দাওয়াত সমৃদ্ধ হয়েছে, ফলবতী হয়েছে, এর ফসল সুস্বাদু হয়েছে এবং তা আপন কাণ্ডের ওপর স্থির হয়েছে; কিতাব ও সুন্নাহর ওপর আমল, উম্মতের সালাফ (سلف) — সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীগণের (تابعين) — বুঝ অনুযায়ী; আলেমদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি দলিলের (دليل) প্রাধান্য দান, কল্যাণকামী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টাকে খাটো না করে নস (نص)-এর কাছে বিচার প্রার্থনা, আখেরাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র গঠন, এবং শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ের সংশোধন। এটি তার অনুসারীদের মস্তিষ্ককে নিছক বাগ্মীতার অসারতা, উড়ন্ত আবেগ, ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি, দার্শনিকদের মনগড়া পছন্দ, ইলমুল কালাম (كلام) পণ্ডিতদের বাচালতা, যুক্তিবিদদের বিতর্ক এবং কবিদের উন্মাদনা দিয়ে পূর্ণ করেনি।

আর এটি তার শিক্ষার্থীদের (طلاب) সময় অপচয় করেনি সেইসব সাংবাদিকদের নিবন্ধের টুকরোগুলো অনুসরণ করার পেছনে, যারা কিতাব সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখে না কেবল অলীক ধারণা ছাড়া, আর তারা কেবল অনুমান (ظن) করে।

কিংবা ঐসব চিন্তাবিদদের মতবাদ অনুসরণে যারা অনুমানের (ظن) অনুসরণ করে এবং তারা কেবল ধারণা (يخرصون) প্রসূত কথা বলে; অথবা সেইসব সুফীদের কবজ মুখস্থ করার পেছনেও নয়, যারা বর্ণনা (نقل) থেকে রিক্ত এবং কল্পনার উপত্যকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে বিচরণকারী।

এটি সফল হয়েছে এবং টিকে আছে কারণ এই দাওয়াত আদপান্ত রব্বানী; এটি দুনিয়া ও রাষ্ট্র, দেহ ও আত্মা, রূপ ও বিষয়বস্তু, রেওয়ায়েত (رواية) ও দেরায়েত (دراية), সংবাদ (خبر) ও আবেদন (إنشاء), কথা ও কাজের সমন্বয়। আর আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পূর্ণ হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
إنها لم تأت بطرح صوفي يقدس عمامة الشيخ، ويتمسح بثوب الغوث والقطب، ويقبل تراب أقدام الأوتاد والأبدال.

لم تفد بمشروع خارجي يكفر بالكبيرة، ويعلن التمرد لمجرد مخالفة، ويستبيح دم المسلم بالمعصية ويدعو إلى الثورة عند الخطأ؛ ولم تبزغ بوجه رافضي يتبرأ من الصحابة، ويحمل الضغينة على الأبرار، ويأفك في المنهج، ويفتري على الله ورسوله، يضل في المعقول، ويجهل المنقول، يرفض الثوابت.

وصلت للناس كما يصل الماء العذب الرقراق إلى الشفاه، وكما يطلب نور الفجر على الآفاق، ومثلما يهبط الغيث من السماء، فأحيا به الأرض بعد موتها، وإذا الناس بها يستبشرون.
ইহা এমন কোনো সূফী চিন্তাধারা নিয়ে আসেনি যা শায়খের পাগড়িকে পবিত্র জ্ঞান করে, ‘গাউস’ ও ‘কুতুবের’ পোশাকে বরকত তালাশ করে এবং ‘আওতাদ’ ও ‘আবদালদের’ পদতলের ধূলি চুম্বন করে।

এটি এমন কোনো খারেজি (خارجي) প্রকল্প নিয়ে উপস্থিত হয়নি যা কবিরা গুনাহের কারণে কাফির সাব্যস্ত করে, সামান্য অবাধ্যতার কারণে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, পাপাচারের দায়ে মুসলিমের রক্তকে বৈধ মনে করে এবং ভুলের কারণে বিপ্লবের আহ্বান জানায়; এটি এমন কোনো রাফেজি (رافضي) অবয়ব নিয়ে আবির্ভূত হয়নি যা সাহাবীগণের (الصحابة) সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে, পুণ্যবানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, মানহাজে (المنهج) মিথ্যাচার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে; যা বুদ্ধিবৃত্তিক (المعقول) বিষয়ে পথভ্রষ্ট হয়, বর্ণিত (المنقول) জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং অকাট্য বিষয়সমূহকে (الثوابت) অস্বীকার করে।

এটি মানুষের নিকট পৌঁছেছে ঠিক যেভাবে সুমিষ্ট ও নির্মল পানি তৃষ্ণার্ত ওষ্ঠতলে পৌঁছায়, যেভাবে দিগন্তে ভোরের আলো উদ্ভাসিত হয় এবং যেভাবে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয় যার মাধ্যমে তিনি জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন, ফলে মানুষ তাতে আনন্দিত ও আশান্বিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
لقد قامت قبلها ومعها وبعدها دعوات، وحركات، وشعارات، ولكنها لم تكن مثلها، ولم تفعل فعلها، ولم تؤثر أثرها، فهذه الدعوات: إما دعوة دموية مصادمة انتهت بقطع الرؤوس، وبحيرات الدم، وأعقبت الخوف، والتشريد، والتنكيل من الجلد، والحبس والإعدام، أو دعوة سلبت الإنسان حقه في الحياة، فحرمت عليه الطيبات، ومنعته من المناهج، وحشرته في زاوية، يهمهم ويتمتم، على أوراد بدعية، وأعمال شركية، يطوف بالقبر كالحمار بالرحى، ويتمرغ عند الضريح كالثور في المسناة، بهم تطمس إشراقات الملة، وبهم تنطفئ أنوار الشريعة.

أو دعوة بنيت على مذهب اللملمة، تقبل السلفي والرافضي والخارجي والاشتراكي والعلماني، بحجة رص الصف، وجمع الكلمة.
এর পূর্বে, সমসাময়িককালে এবং পরবর্তীতে বহু দাওয়াত, আন্দোলন ও স্লোগান উত্থিত হয়েছে; কিন্তু সেগুলো এর সদৃশ ছিল না, এর মতো কোনো কাজ করতে পারেনি এবং এর মতো প্রভাবও ফেলতে পারেনি। এই দাওয়াতগুলোর ধরণ ছিল এমন: হয় সেটি ছিল শিরশ্ছেদ ও রক্তগঙ্গা বয়ে দেওয়া কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাতপূর্ণ দাওয়াত, যা পরবর্তীকালে কেবল ভীতি, উচ্ছেদ এবং চাবুকপেটা, কারাবরণ ও মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর লাঞ্ছনাই বয়ে এনেছে। অথবা সেটি ছিল এমন কোনো দাওয়াত যা মানুষের জীবনের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তার জন্য পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহ নিষিদ্ধ করেছে, তাকে সঠিক কর্মপন্থা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং তাকে এমন এক কোণে আবদ্ধ করেছে যেখানে সে কেবল উদ্ভাবিত (بدعية) ওজিফা পাঠ ও শিরকি (شركية) কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে বিড়বিড় করে। সে কবরের চারদিকে জাঁতাকলে বাঁধা গাধার মতো প্রদক্ষিণ করে এবং মাজারের কাছে সেচ-যন্ত্রের ষাঁড়ের মতো লুটোপুটি খায়। তাদের দ্বারাই মিল্লাতের দীপ্তি ম্লান হয়ে যায় এবং শরীয়তের আলো নির্বাপিত হয়।

অথবা এমন কোনো দাওয়াত যা একটি সংমিশ্রিত মতবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; যা কাতারবদ্ধ হওয়া ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অজুহাতে সালাফি (السلفي), রাফিজি (الرافضي), খারেজি (الخارجي), সমাজতন্ত্রী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের একত্রে গ্রহণ করে নেয়।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أما دعوة الشيخ المجدد الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وأجزل له الأجر والثواب وأدخله الجنة بلا حساب ولا عذاب - فهي دعوة واضحة المعالم، ثابتة الخطى، متميزة الطرح، بينة الخصائص قامت على التوحيد أصل الأصول، ودعوة الأنبياء، ومهمة الرسل، وأول الواجبات، وأعظم الفرائض، فدعت إليه قولاً وعملاً، ونصرها الله بسيف الشرع، وقوة العلم، وكتائب الجهاد، وأحفاد الفاتحين، فشرَّقت وغربَّت، وآتت أُكلها ضعفين بإذن ربها، كان من حسناتها - وهي حسنات كلها - الاهتمام بحِلق الذكر، ودروس المسجد، وبث الوعي، ونشر العلم، وهي سنة سنها رسول الله رسول الهدى صلى الله عليه وسلم ثم أميت من قرون سلفت، فجاءت هذه الدعوة لبعثها من جديد وإحيائها.

وليت المساجد يعود لها ذاك الزخم المضيء النير في أيام دعوة المجدد، ليعي الناس أمر دينهم، لأن الدراسة المنهجية النظامية، وحدها لا تفي بمهمة المسجد، مع ضآلة ما قرر للدين من حصص، وما قطر لمادة التوحيد من محاضرات، مع هزال المدرس، ونعاس الطالب، وملل الرتابة، وكثرة الصوارف.
শাইখ, সংস্কারক (المجدد), ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকে প্রচুর প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন এবং বিনা হিসাবে ও বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশ করান— তাঁর দাওয়াত ছিল সুষ্পষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, সুদৃঢ় পদক্ষেপসম্পন্ন, স্বতন্ত্র উপস্থাপনাযুক্ত এবং উজ্জ্বল বৈশিষ্টমণ্ডিত। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সকল মূলের মূল তাওহীদের (التوحيد) ওপর, যা ছিল নবীগণের দাওয়াত, রাসূলগণের মিশন, সর্বপ্রথম ওয়াজিব (الواجبات) এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ফরজ (الفرائض)। এই দাওয়াত কথা ও কাজের মাধ্যমে তাওহীদের দিকে আহ্বান জানিয়েছে এবং আল্লাহ একে শরীয়তের তলোয়ার, ইলমের শক্তি, জিহাদী বাহিনী এবং বিজেতাদের উত্তরসূরিদের দ্বারা সাহায্য করেছেন। ফলে এটি পূর্বে ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তার রবের নির্দেশে দ্বিগুণ ফল দান করেছে। এর অন্যতম নেক কাজ ছিল —এবং এর পুরোটাই নেক কাজ— যিকিরের হালকা (حلق الذكر), মসজিদের দরস (دروس), সচেতনতা প্রসার এবং ইলম প্রচারের প্রতি গুরুত্বারোপ করা। এটি এমন এক সুন্নাহ (سنة) যা হেদায়েতের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবর্তন করেছিলেন, অতঃপর বিগত শতাব্দীগুলোতে যা মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। এরপর এই দাওয়াত তা নতুন করে পুনর্জাগরণ ও পুনরুজ্জীবিত করতে আবির্ভূত হয়।

হায়! মসজিদগুলো যদি সেই সংস্কারকের (المجدد) দাওয়াতের দিনগুলোর মতো উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেত, যাতে মানুষ তাদের দ্বীনের বিষয়গুলো বুঝতে পারত। কেননা কেবল নিয়মতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মসজিদের মহান দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট নয়, বিশেষত যখন দ্বীনি শিক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত পিরিয়ডগুলো অতি সামান্য এবং তাওহীদ (التوحيد) বিষয়ের ওপর লেকচারগুলো অত্যন্ত অপ্রতুল; তার ওপর শিক্ষকের দুর্বলতা, ছাত্রের তন্দ্রাচ্ছন্নতা, একঘেয়েমির ক্লান্তি এবং বহুমুখী বিচ্যুতি তো রয়েছেই।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
إن المكان المبارك لنشر عقيدة السلف الصالح، وميراث الرسول صلى الله عليه وسلم وتركته هو المسجد {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} [النور: 36] .

ويوم أصبحت عقيدة السلف تعلم بالكمبيوتر، وصار علم الشرع يؤخذ من القنوات الفضائية، صار الطرح باردًا، والذهن كالًا، والجيل عاطلًا، والعلم ممجوجًا.
সালফে সালেহীনের (السلف الصالح) আকিদা (عقيدة) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিরাস ও উত্তরাধিকার প্রচারের বরকতময় স্থান হলো মসজিদ। "[সেই সব] ঘরে, যেগুলোকে উচ্চ করার এবং যেগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করার অনুমতি তিনি দিয়েছেন।" [আন-নূর: ৩৬]।

আর যেদিন থেকে সালাফদের (السلف) আকিদা (عقيدة) কম্পিউটারের মাধ্যমে শেখানো শুরু হয়েছে এবং শরয়ি জ্ঞান (علم الشرع) স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে, তখন থেকে এর উপস্থাপনা হয়ে পড়েছে প্রাণহীন, মেধা হয়েছে ক্লান্ত, প্রজন্ম হয়েছে লক্ষ্যহীন এবং জ্ঞান হয়েছে অরুচিকর।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الآن حصص الحق، ولكل نبأ مستقر، وأدرك العقلاء أن الدعوة التي تتقبلها القلوب، وتنشرح لها الصدور وتوافقها الفطر، وتصدقها العقول، هي الدعوة الموافقة لدعوة المعصوم صلى الله عليه وسلم المتبعة لا المبتدعة، الربانية لا النفعية، الأثرية لا المخالفة، الوسطية لا الغالية ولا الجافية، وهي دعوة عبرت القرون، واخترقت حاجز الزمن، ونفذت من بوابة الدهر، يحمل علمها محمد صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وأئمة السلف كمالك والشافعي والثوري والأوزاعي وأحمد وابن تيمية ومحمد بن عبد الوهاب، ومع هذا الموكب المبارك نريد أن نسير، ومع هذه الطائفة المنصورة الناجية الباقية نتمنى أن نُحشر، ومع هذا النبع العبّ الثر نريد أن نعبَّ {عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا} [الإنسان: 6] .

وخاتمة للكمة أقول: اللهم إن هذا الشجن مما نفح به الخاطر، وشهد به القلب، وزكاة الضمير، لم يحاب فيه شخص، ولم يتزلف به إلى هيئة، وكلنها شهادة تؤدى يوم تكتب شهادتهم ويسألون، وعقيدة تعتنق، ومذهب يحب، وأمنية غالية، يلهج بها.
এখন সত্য উন্মোচিত হয়েছে, এবং প্রতিটি সংবাদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থল রয়েছে। বুদ্ধিমানরা অনুধাবন করেছেন যে, যে দাওয়াতকে অন্তরসমূহ গ্রহণ করে নেয়, যার জন্য বক্ষসমূহ প্রশস্ত হয়, যা স্বভাবজাত প্রবৃত্তির অনুকূল এবং যা বিবেক দ্বারা সমর্থিত, তা-ই হলো মাসুম (নিষ্পাপ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের অনুসারী দাওয়াত; যা অনুসরণযোগ্য (متبعة), উদ্ভাবিত (مبتدعة) নয়; রব্বানী (ঐশী), বৈষয়িক নয়; আছার-ভিত্তিক (أثرية), বিরোধী নয়; মধ্যপন্থী (وسطية), চরমপন্থী (غالية) বা শিথিলকারী (جافية) নয়। এটি এমন এক দাওয়াত যা শতাব্দীকাল পাড়ি দিয়েছে, সময়ের প্রাচীর ভেদ করেছে এবং মহাকালের প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করেছে। এর ইলম (জ্ঞান) বহন করেছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ এবং সালাফদের ইমামগণ যেমন—মালিক, শাফেয়ী, ছাওরী, আওযায়ী, আহমাদ, ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব। এই বরকতময় কাফেলার সাথেই আমরা পথ চলতে চাই এবং এই সাহায্যপ্রাপ্ত (منصورة), মুক্তিপ্রাপ্ত (ناجية) ও অবশিষ্ট দলের সাথেই হাশরে সমবেত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি। আর এই সুপেয় ও সুপ্রচুর প্রস্রবণ হতে আমরা পান করতে চাই; 'এমন এক প্রস্রবণ যা হতে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা সেটিকে যথাস্থানে প্রবাহিত করবে' [সূরা আল-ইনসান: ৬]।

বক্তব্যের পরিশেষে আমি বলি: হে আল্লাহ! এই আকুতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে উৎসারিত, যার সাক্ষ্য হৃদয় দিচ্ছে এবং যা বিবেকের পরিচ্ছন্নতা স্বরূপ। এতে কোনো ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি এবং কোনো সংস্থার কাছে তোষামোদ করা হয়নি। বরং এটি এমন এক সাক্ষ্য যা সেই দিন পেশ করা হবে যেদিন তাদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এটি এমন এক আকিদা যা ধারণ করা হয়, এমন এক মাযহাব যাকে ভালোবাসা হয় এবং এটি একটি মূল্যবান আকাঙ্ক্ষা যা জিহবায় উচ্চারিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ذلكم مما نفث به القلم المصدور على عجل من أمره، وفي المطولات عن هذه الدعوة غنية وكفاية، ولكنها زكاة نصاب الواجب علي لهذه الدعوة، ولا يسعني السكوت، فإن لم يصبها وابل فطل:

 

ليت الكواكب كانت لي فأنظمها … عقود مدح فما أرضى لكم كلمي
এটি এমন কিছু যা এক ব্যথিত কলম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ব্যক্ত করেছে; এই দাওয়াহ সম্পর্কে বিস্তারিত গ্রন্থাবলিতে পর্যাপ্ত ও যথেষ্ট আলোচনা বিদ্যমান, তবে এটি এই দাওয়াহর বিপরীতে আমার ওপর অর্পিত আবশ্যিক কর্তব্যের জাকাতস্বরূপ। আমার পক্ষে নীরব থাকা সম্ভব নয়; এমতাবস্থায় যদি তা মুষলধারে বৃষ্টি হতে না পারে, তবে যেন অন্তত হালকা বর্ষণ হয়:

 

হায়! নক্ষত্ররাজি যদি আমার আয়ত্তে থাকত তবে আমি সেগুলোকে গেঁথে নিতাম … প্রশংসার কণ্ঠহার হিসেবে, কারণ আপনাদের জন্য নিবেদিত আমার এই কথাগুলোতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الأسباب المجملة

هذه أسباب إيضاحها وإبرازها وتفصيلها يحتاج إلى مزيد وقت وميسرة من زمن ومدة، أسوقها في ثنايا هذا العرض علّ الله أن ينفع بها، ولئن فسح الله في العمر والمدة، سأتعرض لها ببيان وافٍ لها، وشرح لأصولها؛ وتوضيح لمضامينها، فأقول وبالله التوفيق؛ الأسباب المجملة هي على النحو الآتي:

1- التزامها بالحكمة والموعظة الحسنة والرفق واللين واليسر والتبشير وبُعدها عن العنف والغلظة والتنفير والعسر.

2- محاربتها للبدع والمُحدثات والتحذير منها والتنفير عنها.

3- الشمولية العامة للدعوة.

4- التوازن الوسطي في الطرح والأخذ.

5- التقدير المتزن لعلماء الأمة وأمناء الملة دون الغلو والجفاء.

6- البعد عن الحزبية الضيقة، والجاهلية المنتنة، والعصبية المقيتة.

7- الاقتداء التام بالسلف في سائر الأمور كافة.

8- قوة الإيمان وصدق العزيمة لدى علماء الدعوة وأئمتها بدءًا بالإمام المجدد محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

9- الاحتساب والبذل والاجتهاد لنصرة هذه الدعوة.

10- ظهورها في زمان الفساد والكساد والاندراس لمعالم الإسلام والانحراف عن جادة الحق والصواب مما هيأ لها قبولًا عظيمًا، ورواجًا واسعًا.
সংক্ষিপ্ত কারণসমূহ

এগুলো এমন কিছু কারণ যেগুলোর স্পষ্টীকরণ, প্রকাশ এবং বিস্তারিত বর্ণনার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও অনুকূল সময়ের প্রয়োজন। আমি এই আলোচনার ভাজে ভাজে তা উপস্থাপন করছি, সম্ভবত আল্লাহ এর দ্বারা কল্যাণ দান করবেন। আর যদি আল্লাহ হায়াতে বরকত এবং দীর্ঘ সময় দান করেন, তবে আমি সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, মূলনীতির ব্যাখ্যা এবং বিষয়বস্তুর স্পষ্টীকরণ নিয়ে আলোচনা করব। আমি আল্লাহর তৌফিক কামনায় বলছি; সংক্ষিপ্ত কারণসমূহ নিম্নরূপ:

1- প্রজ্ঞা (হিকমত), উত্তম উপদেশ, নম্রতা, কোমলতা, সহজীকরণ ও সুসংবাদ প্রদানের নীতি অবলম্বন এবং উগ্রতা, কঠোরতা, ঘৃণা ও জটিলতা থেকে দূরে থাকা।

2- বিদআত (بدعة) ও নবসৃষ্ট বিষয়সমূহের (محدثات) বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং তা থেকে সতর্ক করা ও বিমুখ রাখা।

3- দাওয়াতের সামগ্রিক ব্যাপকতা।

4- উপস্থাপন ও গ্রহণের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য রক্ষা।

5- চরমপন্থা ও অবহেলা বর্জন করে উম্মাহর আলেম এবং মিল্লাতের আমানতদারদের প্রতি পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন।

6- সংকীর্ণ দলপ্রীতি, পচা জাহিলিয়াত এবং ঘৃণ্য গোঁড়ামি থেকে দূরে থাকা।

7- সকল ক্ষেত্রে সালফে সালেহীনদের পূর্ণ অনুসরণ।

8- দাওয়াতের আলেম ও ইমামদের ঈমানের দৃঢ়তা ও সংকল্পের সততা, যার সূচনা সংস্কারক ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে হয়েছে।

9- আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা, ত্যাগ এবং এই দাওয়াতের সাহায্যের জন্য প্রচেষ্টা (اجتهاد) চালানো।

10- ফাসাদ (বিপর্যয়), স্থবিরতা এবং ইসলামের নিদর্শনসমূহ বিলীন হওয়া এবং সত্য ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতির যুগে এর আবির্ভাব, যা একে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রচার লাভে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
11- وجودها في بيئة بسيطة في العلم قوية في الأخلاق والتحمل والقوة والشجاعة.

12- عدم تأثرها بالثقافات الأجنبية والأطروحات الغربية والمناهج الكلامية المبتدعة.

13- قيامها بإبراز شعائر الملة الحنفية ودعائم الدين القويم ومظاهره الواضحة.

14- تمسكها بالأصول العامة وإحيائها وإفهامها.

15- وجود الخلافة العلمية والورثاء الشرعيين للأئمة من طلابهم وتلاميذهم.

هذه بعض أسباب النجاح المجمل للدعوة، وهي غيض من فيض وقليل من كثير، والله المعين.
11- এটি এমন এক পরিবেশে বিদ্যমান ছিল যা ইলমের দিক থেকে ছিল সরল কিন্তু চরিত্র, ধৈর্যশীলতা, শক্তি ও সাহসিকতার দিক থেকে ছিল সুদৃঢ়।

12- বৈদেশিক সংস্কৃতি, পশ্চিমা চিন্তাধারা এবং নব-উদ্ভাবিত (المبتدعة) কালামশাস্ত্রীয় পদ্ধতিসমূহ দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া।

13- মিল্লাতে হানিফিয়ার নিদর্শনসমূহ, সঠিক দ্বীনের স্তম্ভসমূহ এবং এর সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশগুলো ফুটিয়ে তোলা।

14- সাধারণ মূলনীতিসমূহের (الأصول) প্রতি অবিচল থাকা এবং সেগুলোর পুনর্জাগরণ ও সঠিক বোধগম্যতা নিশ্চিত করা।

15- ইলমি উত্তরাধিকার এবং ইমামগণের ছাত্র ও শাগরেদদের মধ্য থেকে তাঁদের শরয়ি উত্তরসূরিদের অস্তিত্ব।

এগুলো দাওয়াতের সামগ্রিক সাফল্যের কিছু কারণ মাত্র, যা মূল সমুদ্রের সামান্য জলবিন্দু এবং অধিকের মধ্য হতে অল্প কিছু; আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الأسباب المفصلة

‌‌السبب الأول: دعوتها إلى التوحيد واهتمامها به:

إن الدعوة السلفية الإصلاحية دعوة الإمام المجدد محمد بن عبد الوهّاب رحمه الله اعتنت بالتوحيد وجعلته محور أمرها، ومرتكز دعوتها، ونقطة انطلاقتها لأن التوحيد، أساس الملة، وأصل الدين، وقاعدة الإسلام، فمن أجله أُرسلت الرسل، وأُنزلت الكتب، وجُردت السيوف، ومن أجله حصل الولاء والبراء، والمنع والعطاء، والحب والعداء، ومن أجله انقسم الناس إلى مؤمن ومشرك، شقي وسعيد؛ ولأن التوحيد هي القضية الكبرى التي عُنِيَ بها المرسلون والأنبياء، قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] وقال جلّ ذكره: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] .
বিস্তারিত কারণসমূহ

প্রথম কারণ: তাওহিদের প্রতি এর দাওয়াত এবং এর প্রতি গুরুত্বারোপ:

মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংস্কারপন্থী সালাফি দাওয়াত তাওহিদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছে এবং একে তাদের সকল বিষয়ের মূল কেন্দ্র, দাওয়াতের ভিত্তি এবং প্রারম্ভবিন্দু হিসেবে নির্ধারণ করেছে। কারণ তাওহিদ হলো মিল্লাতের ভিত্তি, দ্বীনের মূল এবং ইসলামের বুনিয়াদ। এরই জন্য রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়েছে। এরই কারণে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা, বর্জন ও প্রদান এবং ভালোবাসা ও ঘৃণা নির্ধারিত হয়েছে। এরই ভিত্তিতে মানুষ মুমিন ও মুশরিক, হতভাগা ও সৌভাগ্যবানে বিভক্ত হয়েছে। আর যেহেতু তাওহিদই হলো সেই মহান বিষয় যা নিয়ে নবী ও রাসূলগণ ব্যাপৃত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।” [আন-নাহল: ৩৬] মহান আল্লাহ আরও বলেন: “আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।” [আল-আম্বিয়া: ২৫]।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والتوحيد هو الغاية العظمى من خلق الله للخلق {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] وهو أول مأمور به في القرآن الكريم {يا أيها النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 21] وهو فاتحة القرآن الكريم وخاتمته {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} {مَلِكِ النَّاسِ} {إِلَهِ النَّاسِ} [الناس: 1-3] وهو البداية لدعوة إمام الموحدين، وسيد المرسلين، وإمام الدعوة الصادقين محمد رسول الله صلّى الله عليه وعلى آله وسلّم قال: «يا قوم قولوا لا إله إلا الله تُفلحوا» والتوحيد هو النهاية الحميدة، والعاقبة السعيدة، لمن سار عليه علمًا وعملًا وتعليمًا، اعتقادًا وسلوكًا، سبيلًا وسنة، منهجًا وحياة ومماتًا {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} {لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} [الأنعام: 162-163] . وقال صلى الله عليه وسلم: «لقنوا موتاكم لا إله إلا الله» ، وقال صلّى
আর তাওহিদ হলো সৃষ্টিজগত সৃষ্টিতে আল্লাহর সুমহান উদ্দেশ্য {আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [যারিআত: ৫৬]। এটিই পবিত্র কুরআনে প্রথম নির্দেশিত বিষয় {হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} [বাকারা: ২১]। এটিই পবিত্র কুরআনের প্রারম্ভ এবং সমাপ্তি {সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য} [ফাতিহা: ২] এবং {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে}, {মানুষের অধিপতির কাছে}, {মানুষের ইলাহের কাছে} [নাস: ১-৩]। এটিই ছিল একত্ববাদীদের ইমাম, রাসুলগণের সরদার এবং সত্যনিষ্ঠ দাঈগণের ইমাম মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর দাওয়াতের সূচনা; তিনি বলেছিলেন: «হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা বলো—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তবেই তোমরা সফল হবে»। আর তাওহিদ হলো সেই ব্যক্তির জন্য প্রশংসনীয় সমাপ্তি এবং সৌভাগ্যময় পরিণাম, যে জ্ঞান ও কর্মে, শিক্ষা ও বিশ্বাসে, আচরণে, পথ ও সুন্নাহ (سنة), মানহাজ ও জীবন-মরণে এর ওপর পরিচালিত হয় {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য} {তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি, আর আমিই প্রথম মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত} [আনআম: ১৬২-১৬৩]। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তালকিন প্রদান করো», এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الله عليه وسلّم: «من كان آخر كلامه من الدنيا لا إله إلا الله دخل الجنة» .

أخي القارئ الكريم: فإذا فُهِمَ هذا الأصل العظيم، وتقرر في القلوب وقبلته النفوس، عُلِمَ مدى أهمية العناية بالتوحيد والدعوة إليه، ومن هنا كانت عناية دعوة الإمام رحمه الله بالتوحيد وبُعدها عن الشرك والتنديد، وتحذيرها أشد التحذير من كل ما يخل بذلكم الأصل العظيم.

لقد جاءت هذه الدعوة في زمن اشتدت فيه غربة الإسلام وارتكست فيه الأفهام؛ بل إن عُرى الإسلام - أغلبها - منتقضة، والناس - جُلّهم - عبدوا الكواكب والنجوم، وعظموا القبور، وبنوا عليها المساجد، وعبدوا تلك الضرائح والمشاهد، معتمدين عليها في المهمات والملمات، سائلين ومستغيثين عندها رفع الدرجات، ودفع الكربات، وقضاء الحاجات، وشفاء المرضى، وإغاثة الهلكى، زاعمين - كذبًا وزورًا - أنها تبلغهم أسنى المطالب، وأرفع المراتب، وتحقق لهم قضاء المآرب، وغير ذلك من عظائم الأمور، الموجبة للويل والثبور.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: «যার শেষ কথা দুনিয়া থেকে (বিদায়বেলায়) 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»।

হে আমার সম্মানিত পাঠক ভাই: যখন এই মহান মূলনীতি (أصل) অনুধাবন করা হবে, অন্তরে সুদৃঢ় হবে এবং আত্মা তা গ্রহণ করে নেবে, তখন তাওহীদের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এর দিকে দাওয়াত প্রদানের গুরুত্ব কতখানি তা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। আর এ কারণেই ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের মূল প্রতিপাদ্য ছিল তাওহীদ এবং অংশীবাদ (شرك) ও সমকক্ষ সাব্যস্ত করা থেকে দূরত্ব বজায় রাখা; সেইসাথে এই মহান মূলনীতির (أصل) পরিপন্থী সকল বিষয় থেকে তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

নিশ্চয়ই এই দাওয়াত এমন এক সময়ে এসেছিল যখন ইসলামের নিঃসঙ্গতা তীব্রতর হয়েছিল এবং মানুষের বোধশক্তি বিকৃত হয়ে গিয়েছিল; বরং ইসলামের অধিকাংশ রজ্জুই ছিল ছিন্ন। অধিকাংশ মানুষ গ্রহ ও নক্ষত্রের পূজা করত, কবরসমূহকে মহিমান্বিত করত, সেগুলোর ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং সেইসব মাজার ও স্মৃতিস্তম্ভের উপাসনা করত। গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়ে তারা সেগুলোর ওপরই নির্ভর করত। তারা উচ্চ মর্যাদা লাভ, বিপদ মুক্তি, প্রয়োজন পূরণ, অসুস্থদের আরোগ্য এবং বিপন্নদের উদ্ধারের জন্য সেগুলোর কাছেই প্রার্থনা ও ফরিয়াদ করত। তারা মিথ্যা (كذب) ও বানোয়াট (زور) ভাবে দাবি করত যে, এগুলো তাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য ও সুউচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দেবে এবং তাদের উদ্দেশ্যসমূহ চরিতার্থ করবে। অথচ এগুলো ছিল এমন কিছু গুরুতর বিষয়, যা কেবল ধ্বংস ও লাঞ্ছনাই বৃদ্ধি করে।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فلما رأى ذلك إمام الدعوة رحمه الله وأيقن بحصول الشرك وازدهاره، ونمو الكفر وانتشاره، قام بالدعوة إلى التوحيد اتباعًا لمنهاج الأنبياء، واقتداءً بالربانيين من العلماء، ورأى رحمه الله أن ذلك من أهم المهمات، وآكد الواجبات، فشمر عن ساعد الجد والاجتهاد، ودعا إليه ليلًا ونهارًا، سرًّا وجهارًا، وأعلن أن ذلك من النصح لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين فأثمرت دعوته أعوانًا وأنصارًا، بعد أن وصل التوحيد الصافي إلى سويداء قلوبهم، وغرس جذوره في أعماق نفوسهم، فتحولوا معه إلى الصفاء والنقاء، والطهر والإخلاص لرب السماء، فكانت دعوة عظيمة، ومنَّة كريمة، صافية المشرب، سهلة الموردن خلّصت الناس من لوثات الجاهلية العمياء، وضلالات الوثنية الشوهاء.

যখন দাওয়াতের ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) বিষয়টি প্রত্যক্ষ করলেন এবং শিরক (شرك)-এর প্রাদুর্ভাব ও বিস্তৃতি এবং কুফর (الكفر)-এর বিকাশ ও প্রসারের ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন, তখন তিনি নবিগণের মানহাজ (منهاج) অনুসরণ করে এবং রব্বানী আলেমদের পদাঙ্ক অনুসরণে তাওহীদ (التوحيد)-এর দাওয়াতের কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বিবেচনা করলেন যে, এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আবশ্যিক কর্তব্যসমূহের (الواجبات) মধ্যে অন্যতম। ফলে তিনি চরম গুরুত্ব ও নিষ্ঠার সাথে সচেষ্ট হলেন এবং দিন-রাত, গোপনে ও প্রকাশ্যে এর দিকে আহ্বান জানালেন। তিনি ঘোষণা করলেন যে, এটি আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল এবং মুসলিমদের ইমামগণের প্রতি নসিহত (النصح)-এরই অংশ। তাঁর এই দাওয়াত বহু সহযোগী ও সাহায্যকারী (أنصار) তৈরিতে ফলপ্রসূ হলো, যখন বিশুদ্ধ তাওহীদ (التوحيد) তাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থলে পৌঁছে গেল এবং তাদের অন্তরাত্মার গভীরে এর শিকড় প্রোথিত হলো। এর ফলে তারা তাঁর সাথে স্বচ্ছতা, নির্মলতা, পবিত্রতা এবং আসমানের রবের প্রতি ইখলাস (الإخلاص)-এর পথে ফিরে এল। এটি ছিল এক মহান দাওয়াত এবং এক অনবদ্য অনুগ্রহ, যার উৎস ছিল নির্মল এবং যা ছিল সহজলভ্য; যা মানুষকে অন্ধ জাহেলিয়াত (الجاهلية)-এর কলুষতা এবং কুৎসিত মূর্তিপূজার বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করেছিল।

(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ومن هنا يعلم - كل منصف حصيف - سر نجاح هذه الدعوة واستمرارها ومضي أمرها - ولله الحمد والمنّة - وما زلنا نعيش تحت دوحتها المباركة؛ ونتفيأ ظلالها، وننعم بطيب عبيرها وأريجها، إنني أقول بملء فيّ لو سار الدعاة - في كل مكان من العالم الإسلامي عامة وهاهنا خاصة - على أسسها وقواعدها، لتغير حال الأمة في جميع مناحي الحياة، ولاجتمع المسلمون على كلمة سواء، لأن التوحيد توحيد للكلمة وأساس مكين للاجتماع، وما الذي استفادته الأمة من دعوات وجماعات، أطلت برأسها وفكرها في زمننا المتأخر بعضها دعوتها مندرجة تحت مظلات سياسية، وأفكار واقعية، وبعضها اهتمت ببعض القضايا الزهدية والوعظية، دون العناية بالتأصيلات العلمية والعملية والعقدية، فتمادت بالجميع السنون، وتوالت عليها الأيام، وقدمت لها الأرواح، وبذلت من أجلها الأموال ثم انتهت إلى الفشل والزوال، وكم من جماعات أخرى وحركات حثيثة فاسدة روت طريقها بالدماء، وتبارت في ضروب الفداء، فسقطت دون وصولها إلى أمل منشود، أو هدف مرغوب، ومن فرض القول أن يعلم المؤمن علم يقين أن كل دعوة للإسلام لا تقوم على التوحيد الخالص لله تعالى، ولا تأخذ طريقها إلى منهج السلف الصالح فهي تائهة
এখান থেকেই প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি এই দাওয়াতের সফলতা, এর স্থায়িত্ব এবং এর অগ্রগতির রহস্য অনুধাবন করতে পারেন—আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর—এবং আমরা আজও এর বরকতময় বৃক্ষতলে বসবাস করছি; এর শীতল ছায়া উপভোগ করছি এবং এর পবিত্র সুগন্ধ ও সৌরভে ধন্য হচ্ছি। আমি পূর্ণ প্রত্যয়ের সাথে বলছি যে, যদি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র এবং বিশেষ করে এ অঞ্চলে দাঈগণ এর মূলনীতি ও রীতিনীতির ওপর পরিচালিত হতেন, তবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই উম্মাহর অবস্থার পরিবর্তন ঘটত এবং মুসলিমরা এক অভিন্ন বাক্যে ঐক্যবদ্ধ হতো; কেননা তাওহিদ (التوحيد) হলো ঐক্যের মূল ভিত্তি এবং সম্মিলনের সুদৃঢ় ভিত্তি। আর এই উম্মাহ সেই সব দাওয়াত ও জামাত থেকে কী-ই বা উপকৃত হয়েছে, যারা বর্তমানের এই শেষ সময়ে তাদের চিন্তা ও আদর্শ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে? যাদের কারো দাওয়াত ছিল রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এবং বাস্তববাদী ভাবধারার অধীনে, আবার কেউ কেউ তাত্ত্বিক (علمية), ব্যবহারিক (عملية) এবং আকিদাগত (عقدية) মৌলিক ভিত্তিগুলোর প্রতি যত্নবান না হয়ে কেবল কিছু যুহদ (زهدية) ও নসিহতমূলক বিষয়ে মনোনিবেশ করেছে। এভাবে দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হলো, দিনের পর দিন পার হলো, তাদের জন্য অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া হলো এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলো; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতা ও বিলুপ্তিতে পর্যবসিত হলো। আর কতই না এমন ভ্রষ্ট জামাত ও ক্ষিপ্র গতির আন্দোলন রয়েছে যারা তাদের পথকে রক্তে রঞ্জিত করেছে এবং আত্মত্যাগের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা বা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই তারা মুখ থুবড়ে পড়েছে। পরিশেষে এটি বলাই বাহুল্য যে, একজন মুমিনকে নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقين) সহকারে এটি জানতে হবে যে, ইসলামের প্রতিটি দাওয়াত যা মহান আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ তাওহিদের (التوحيد) ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং যা সালফে সালেহীনের (السلف الصالح) মানহাজ (منهج) অনুসরণ করে না, তা পথভ্রষ্ট ও লক্ষ্যহীন।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
مخذولة مهزومة، وإن توهمت غير ذلك؛ لا تصبر على لقاء، ولا تجسر على حق، ولا تحتمل المواجهة.
তারা পরিত্যক্ত ও পরাভূত, যদিও তারা এর ভিন্ন কিছু কল্পনা করে; তারা সম্মুখ সমরে ধৈর্য ধারণ করতে পারে না, সত্যের পথে সাহস প্রদর্শন করতে পারে না এবং কোনো মোকাবিলা সহ্য করার সক্ষমতা রাখে না।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وغنيٌّ عن القول بعد أن الإمام المجدد رحمه الله قد صنف في تلك الحقبة كتابًا عجيبًا يعدّ من أمتع الكتب وأنفعها، وأفضلها جمعًا وتبينيًا وترتيبًا؛ وأحسنها نظامًا وتبويبًا، وهذا الكتاب هو كتاب التوحيد حق الله على العبيد. ولقد صدق بعض الأفاضل من أهل العلم والإيمان، وأرباب المعرفة والإحسان؛ حينما قال: "إن تبويبات الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في كتاب التوحيد وتراجمه عليها لتدل على فقه كبير، ورأي سديد، وعقلية عليمة فذة من الطراز الأول، وتراجمه وتبويباته شبيهة أو قريبة من تراجم الإمام البخاري في جامعه الصحيح" اه. وكتاب التوحيد اشتمل على ستة وستين باباً، وكل باب يتضمن ترجمة وعنواناً؛ متضمنة للحكم، ثم بعد ذلك الأدلة على الباب والترجمة من الكتاب والسنة وأقوال سلف الأمة، وبعض التوضيحات الجلية من كلام المحققين من العلماء، ثم بعد ذلك - خاتمة مسك - مسائل مفيدة، وقواعد سديدة، وفوائد رشيدة، فيها من العلم النافع الغزير ما تشد إليه الرحال، وفيها وضوح مكانة الإمام رحمه الله العلمية الفائقة وقدرته الرائعة على الاستنباط وقوة العارضة والملكة الفقهية العلمية.

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সংস্কারক (مجدد) ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) সেই যুগে একটি বিস্ময়কর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা অত্যন্ত সুখপাঠ্য ও উপকারী গ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত; আর এটি সংকলন, ব্যাখ্যা ও বিন্যাসের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং শৃঙ্খলা ও অধ্যায় বিন্যাসের (تبويب) দিক থেকে সর্বোত্তম। এই গ্রন্থটি হলো 'কিতাবুত তাওহীদ: হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ'। জ্ঞান ও ঈমানদারগণের অন্তর্ভুক্ত কতিপয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং প্রজ্ঞা ও ইহসানের অধিকারীগণ যথার্থই বলেছেন: "কিতাবুত তাওহীদে ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অধ্যায় বিন্যাস (تبويب) এবং এর শিরোনামগুলো (ترجمة) গভীর ফিকহ (فقه), সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রথম সারির এক অনন্য পাণ্ডিত্যপূর্ণ মানসিকতার প্রমাণ দেয়। তাঁর শিরোনাম (ترجمة) ও অধ্যায় বিন্যাসগুলো (تبويب) অনেকটা সহীহ বুখারী গ্রন্থে ইমাম বুখারীর শিরোনামগুলোর (ترجمة) অনুরূপ বা কাছাকাছি।" কিতাবুত তাওহীদ ৬৬টি অধ্যায় সংবলিত এবং প্রতিটি অধ্যায় একটি শিরোনাম (ترجمة) ও নাম ধারণ করে, যা কোনো না কোনো বিধানকে (حكم) অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর সেই অধ্যায় ও শিরোনামের (ترجمة) সপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ (سنة) ও উম্মতের পূর্বসূরিদের (سلف) বক্তব্য থেকে দলীল উপস্থাপন করা হয়েছে। সাথে রয়েছে গবেষক আলেমদের বক্তব্য থেকে সংগৃহীত কিছু স্পষ্ট ব্যাখ্যা। এরপর—সুগন্ধিময় সমাপ্তি হিসেবে—উপকারী মাসআলা (مسألة), সঠিক মূলনীতি (قاعدة) ও সঠিক দিকনির্দেশনামূলক ফায়দা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে এমন প্রচুর উপকারী জ্ঞান রয়েছে যার সন্ধানে দীর্ঘ সফর করা সমীচীন। এতে ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সুউচ্চ ইলমী মর্যাদা, মাসআলা উদ্ঘাটনের (استنباط) চমৎকার ক্ষমতা এবং তাঁর শক্তিশালী বাগ্মিতা ও ফিকহী (فقهي) যোগ্যতার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعليه فأقول: إن المتأمل لهذا السبب يرى ويدرك ويعلم أن هذه الدعوة الإصلاحية التجديدية، ما أعطت ثمارها، واستوت على سوقها، وآتت أُكلها، إلا بالعناية والاهتمام والدعوة إلى التوحيد فهل من مدكر ومتبصر؟!!

وأي دعوة لا تهتم بالتوحيد فرعاً وأصلاً، ولا تعتني به مضموناً وشكلاً؛ ولا تُلقي له عناية وبالاً، وتسير وراء مناهج وافدة، وأفكار فاسدة؛ فإن مصيرها إلى اضمحلال، ونهايتها - والله - إلى فشل وزوال.

وإن استمرت أعواماً عديدة، وأزمنة مديدة، فلحكمة بالغة ربانية، وتقدير إلهي؛ وقد قال تعالى: {فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ} [الرعد: 17] .
অতএব আমি বলব: নিশ্চয়ই এই কারণটি নিয়ে যিনি গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তিনি দেখতে পাবেন, অনুধাবন করবেন এবং জানতে পারবেন যে, এই সংস্কারমূলক ও পুনর্জাগরণমূলক দাওয়াত তার সুফল দেয়নি, আপন কাণ্ডের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং ফল প্রদান করেনি—একমাত্র তাওহীদের (توحيد) প্রতি যত্ন, গুরুত্বারোপ ও দাওয়াত প্রদানের মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি আছে কি?!!

আর যে কোনো দাওয়াত যা তাওহীদকে (توحيد) শাখা (فرعاً) ও মূল (أصلاً) কোনো দিক থেকেই গুরুত্ব দেয় না, এবং এর বিষয়বস্তু ও কাঠামোগত রূপের প্রতি যত্নশীল হয় না; আর এর প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ ও মনোযোগ নিবদ্ধ করে না, বরং আমদানিকৃত মানহাজ (مناهج) ও কলুষিত চিন্তাধারার অনুসরণ করে; তবে তার পরিণতি হলো বিলুপ্তি, আর আল্লাহর কসম—তার সমাপ্তি হলো ব্যর্থতা ও ধ্বংস।

যদি তা বহু বছর ও দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকে, তবে তা এক সুগভীর রব্বানী প্রজ্ঞা এবং ইলাহী ফয়সালার কারণেই। আর মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {অতঃপর ফেনা তো শুকিয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে টিকে থাকে} [রা'দ: ১৭]।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌السبب الثاني: تمسكها بالسنة وحرصها على الاتباع:

إن التمسك بالسنة، دليل النجاة والصلاح، وعنوان السعادة والفلاح، وأمارة التوفيق والتسديد والنجاح، وعلامة الفوز والنصر والخير، قال تعالى: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 71] .

وقال تعالى: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} [النساء: 69] .

وقال تعالى: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} [النور: 54] .

وهذه الدعوة المباركة حرصت كل الحرص على تعظيم السنة ونصرتها، وبيانها للناس، وإيضاح معالمها وصوابها للخلق، وجعلت ذلك منهجاً لها، وديدناً وطريقة تسير عليها، وتدعو لها، وتحث أتباعها وأنصارها على معرفتها وتعلمها وتعليمها ونشرها بين الحاضر والباد.

وتعظيم السنة الأمر مهم جداً، تحفد له همم أتباع الحق، وأنصار الهدى، وتسعى لبيانه ونشره قلوب المحبين لها، الذابين عن حياضها، المحاربين للبدعة والفتنة وبنيّات الطريق.
দ্বিতীয় কারণ: সুন্নাহর প্রতি অবিচল থাকা এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে এর ঐকান্তিক আগ্রহ:

নিশ্চয়ই সুন্নাহর প্রতি অবিচল থাকা হলো মুক্তি ও সংশোধনের প্রমাণ, সৌভাগ্য ও সাফল্যের শিরোনাম, সঠিক পথনির্দেশনা, সঠিক পথে অটল থাকা ও সার্থকতার নিদর্শন এবং বিজয়, সাহায্য ও কল্যাণের চিহ্ন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করবে।" [সূরা আল-আহযাব: ৭১]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীলগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম!" [সূরা আন-নিসা: ৬৯]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য করো, তবেই তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে।" [সূরা আন-নূর: ৫৪]।

এই বরকতময় দাওয়াত সুন্নাহর মর্যাদা সমুন্নত রাখা ও তার সাহায্যার্থে, মানুষের কাছে এর বিবরণে এবং সৃষ্টির কাছে এর নিশানাসমূহ ও সঠিকতা স্পষ্টীকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। একেই সে তার কর্মপদ্ধতি (منهج), মূলনীতি ও পথ হিসেবে গ্রহণ করেছে যার ওপর সে পরিচালিত হয়, যার দিকে আহ্বান জানায় এবং তার অনুসারী ও সাহায্যকারীদের সুন্নাহ জানা, শেখা, শেখানো এবং শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সর্বত্র তা প্রচার করার ব্যাপারে উৎসাহিত করে।

সুন্নাহর মর্যাদা সমুন্নত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার জন্য সত্যের অনুসারী ও হেদায়েতের সাহায্যকারীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাসমূহ সচেষ্ট হয়। আর যারা সুন্নাহর প্রেমিক, যারা এর হিফাজতকারী এবং যারা বিদআত (بدعة), ফিতনা ও ভ্রান্ত পথের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী, তাদের অন্তরসমূহ সুন্নাহর বর্ণনা ও প্রসারের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإن أكبر مؤثر، وأعظم مؤشر، في نجاح هذه الدعوة؛ ووصولها إلى كل مكان، من مشارق الأرض ومغاربها، إنما هو التمسك بالسنة، والحرص التام على الاتباع، ومن المعلوم أن السنة واتباعها، والسير على لاحب صراطها، وواضح نهجها سبب حقيقي، ودافع أساسي، لشرح الصدر، ووضع الوزر ورفعة الذكر، كما قال تعالى لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم: {أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ} {وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ} {الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ} {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} [الشرح: 1-4] .

وهذه الآية يدخل في عموم مقصدها، وحصول مقصودها كل متبع للسنة قولاً وفعلاً، وسلوكاً وحالاً، وكل ناصرٍ لها بياناً وحجة ومقالاً، كما أفاد ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

وفي ضوء ذلك يتبين للقارئ الكريم أن الاتباع للسنة مصدر عز الأمة وسعادتها، وصلاحها وهدايتها، وسلامتها وريادتها، وشواهد هذا الكلام تبدو جليّة في مسارات هذه الدعوة التي أعادت للأمة روحها وحياتها، وفلاحها وسيادتها لما تمسكت بنور الوحيين، واقتفت آثار النبوة، واهتدت بإسلامها الحق.

ومنهج هذه الدعوة في تمسكها بالسنة، قائم على عدة معالم:
নিশ্চয়ই এই দাওয়াতের সাফল্যে এবং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমের প্রতিটি প্রান্তে এর বিস্তৃতি লাভের পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক এবং মহান নির্দেশক হলো সুন্নাহর (السنة) ওপর অটল থাকা এবং অনুসরণের (الاتباع) প্রতি পূর্ণ আগ্রহ। এটি সুবিদিত যে, সুন্নাহ (السنة) ও তার অনুসরণ (الاتباع) এবং এর প্রশস্ত পথ ও সুস্পষ্ট পদ্ধতিতে চলা বক্ষ প্রশস্ত হওয়া, পাপের বোঝা লাঘব হওয়া এবং মর্যাদা সমুন্নত হওয়ার প্রকৃত কারণ ও মৌলিক চালিকাশক্তি। যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উদ্দেশে বলেছেন: {আমি কি তোমার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি?} {আমি লাঘব করেছি তোমার বোঝা,} {যা তোমার পিঠ ভেঙে দিচ্ছিল।} {আর আমি তোমার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।} [সূরা আল-শারহ: ১-৪] ।

এই আয়াতের সাধারণ উদ্দেশ্যের আওতায় এবং এর লক্ষ্য অর্জনের মধ্যে এমন প্রত্যেক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত, যে কথা, কাজ, আচরণ ও অবস্থায় সুন্নাহর (السنة) অনুসারী (متبع) এবং যে ব্যক্তি বর্ণনা, প্রমাণ (حجة) ও বক্তব্যের মাধ্যমে সুন্নাহর সাহায্যকারী; যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) উল্লেখ করেছেন।

এর আলোকে সম্মানীয় পাঠকের নিকট স্পষ্ট হয় যে, সুন্নাহর (السنة) অনুসরণই (الاتباع) উম্মাহর সম্মান ও সৌভাগ্যের উৎস, এবং তাদের সংশোধন, হেদায়েত, নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের মূল ভিত্তি। এই বক্তব্যের প্রমাণাদি এই দাওয়াতের পথপরিক্রমায় সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা উম্মাহর নিকট তার প্রাণশক্তি ও জীবন এবং সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে এনেছে; যখন তারা ওহীদ্বয়ের (الوحيين) নূরের ওপর অবিচল থেকেছে, নবুওয়াতের পদাঙ্ক অনুসরণ (اقتفت آثار النبوة) করেছে এবং ইসলামের প্রকৃত সত্যের মাধ্যমে হেদায়েত লাভ করেছে।

সুন্নাহর (السنة) ওপর অটল থাকার ক্ষেত্রে এই দাওয়াতের মানহাজ (منهج) কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
المعلم الأول: الاتباع للكتاب والسنة ظاهراً وباطناً، والتسليم لهما إذعاناً وانقياداً.

قال سبحانه وتعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36] .

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «تركت فيكم أمرين، لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وسنة رسوله» [أخرجه الحاكم في المستدرك] .

المعلم الثاني: مرجعها عند التنازع والاختلاف:

إن مرجع هذه الدعوة السلفية الإصلاحية في تنازعها واختلافها سواء كان ذلك مع غيرها أو من ينتمي إليها، إنما هو الكتاب والسنة، ومنهج سلف الأمة، عملاً بقول الله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] .
প্রথম বৈশিষ্ট্য: প্রকাশ্য ও গোপনে কিতাব এবং সুন্নাহর অনুসরণ, এবং আনুগত্য ও বশ্যতার মাধ্যমে এ দুটির প্রতি পূর্ণ সমর্পণ।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত হলো} [আল-আহজাব: ৩৬]।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা এ দুটিকে আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না; তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ" [হাকিম এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন]।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: বিরোধ ও মতভেদের সময় এর প্রত্যাবর্তনস্থল:

এই সংস্কারবাদী সালাফি দাওয়াতের বিবাদ ও মতভেদের ক্ষেত্রে—চাই তা অন্যদের সাথে হোক কিংবা এই দাওয়াতের অনুসারীদের মাঝে হোক—ফয়সালার মূল আধার হলো কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতি (منهج), যা মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতিফলন: {অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণতির দিক দিয়ে অতি উৎকৃষ্ট} [আন-নিসা: ৫৯]।
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومرجعها في فهم نصوص الوحيين كتابًا وسنة، إنما هو فهم الصحابة - رضوان الله عليهم - إذ هم أبر الأمة قلوباً، وأحسنها هدياً، وأقلها تكلفاً، وأصدقها اتباعاً، وأفضلها فهماً، وهم الأمنة للأمة، والأمناء على الملة، ووزراء النبي صلى الله عليه وسلم.

المعلم الثالث: تقديمها لكلام الله وكلام رسوله على مجرد الأقوال والآراء:

فهذه الدعوة وأئمتها وأتباعها من ديدنهم ولاحب طريقتهم تقديم أقوال الوحيين ونصوصهما على أقوال الناس وآرائهم وزبالات أذهانهم، اتباعاً لقول الله تعالى: {يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [الحجرات: 1] . وترى جليًّا واضحًا في نصوص الإمام المجدد رحمه الله أن التقدم بين يدي الله ورسوله من القول على الله بغير علم، وأنه من اتباع الهوى، وتزيين الشيطان.

قلت: هذه معالم رئيسة تميزت بها هذه الدعوة في اتباعها وتمسكها بالسنة عن غيرها من دعوات وجماعات، فكان لها التمكين والسناء والنصرة: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 71] .

صورة عنايتها بالسنة:
ওহিদ্বয়ের (কুরআন ও সুন্নাহ) ভাষ্যসমূহ বুঝার ক্ষেত্রে এর মানদণ্ড হলো সাহাবায়ে কেরাম —রাদিয়াল্লাহু আনহুম— এর বুঝ। কেননা তারা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে হৃদয়ের দিক থেকে সবচেয়ে নেককার, হেদায়েতের দিক থেকে সর্বোত্তম, কৃত্রিমতার দিক থেকে সবচেয়ে মুক্ত, অনুসরণের দিক থেকে সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ এবং বুঝের দিক থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। তারা ছিলেন উম্মতের জন্য নিরাপত্তার প্রতীক, মিল্লাতের বিশ্বস্ত আমানতদার এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহযোগী।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: নিছক কথা ও মতামতের ওপর আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূলের বাণীকে অগ্রাধিকার দেওয়া:

এই দাওয়াত, এর ইমামগণ এবং অনুসারীদের চিরস্থায়ী অভ্যাস ও সুস্পষ্ট পথ হলো মানুষের কথা, মতামত এবং তাদের চিন্তাপ্রসূত আবর্জনার ওপর ওহিদ্বয়ের বাণী ও ভাষ্যসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসরণে: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সমক্ষে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আল-হুজুরাত: ১]। ইমাম মুজাদ্দিদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লেখনীতে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রগামী হওয়া মানেই হলো আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে কথা বলা, এবং এটি কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ ও শয়তানের প্ররোচনা।

আমি বলছি: এগুলোই হলো প্রধান বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে এই দাওয়াত সুন্নাহর অনুসরণ ও তা আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে অন্যান্য দাওয়াত ও দল থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে। এর ফলেই অর্জিত হয়েছে দৃঢ় অবস্থান, মর্যাদা ও বিজয়: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে} [আল-আহযাব: ৭১]।

সুন্নাহর প্রতি এই দাওয়াতের গুরুত্ব প্রদানের স্বরূপ:
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
لقد اعتنت دعوة الإمام المجدد رحمه الله عناية فائقة بالسنة النبوية وتمثلت عنايتها بذلك في عدة صور:
ইমাম মুজাদ্দিদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর দাওয়াত সুন্নাতে নববীর (السنة النبوية) প্রতি অত্যন্ত নিবিড় যত্ন প্রদান করেছে এবং সেই বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রতিফলিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল মুস্তাতাব ফী আসবাবিন নাজাহ দা'ওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
(أ) عنايتها بتصنيف التصانيف النافعة في أصولها، الماتعة في قواعدها، الرائعة في أبوابها، المتنوعة في بيان أحكامها وأحاديثها ودلالاتها، وللإمام المجدد رحمه الله قصب السبق، وقدم الصدق، في الاعتناء بذلك اعتناءً بيّناً واضحاً، ولعل أوضح مثال جمعه لكتاب "مجموعة الحديث النجدية" التي ضمنها طلائع مشرقة من السنة النبوية، والأحاديث الكريمة، كالأربعين النووية وعمدة الأحكام، وفي جمعه هذا إشارة لطيفة، ونكتة شريفة، إذ راعى في جمعه - كما هي عادته الحميدة - حاجة جماهير الناس وعوامهم إلى أحكام العبادات والمعاملات، ثم بيّن لهم بعد ذلك أهمية الاتباع، وخطورة الابتداع في كتابيه: "أصول الإيمان" و "فضل الإسلام"، ثم أوضح لهم خطورة الكبائر والفواحش وعظيم ضررها، وواضح أثرها السيئ على الأمة وذلك في كتابه: "الكبائر" ثم أردفه بنصيحة للمسلمين في: "الآداب الشرعية، والمقاصد السلوكية المرعية"، وهذا الترتيب العجيب، والنمط الفريد، إنما يدل على قوة علمية وعملية امتاز بها الإمام المجدد رحمه الله ومن سار على نهجه ونفسه في الدعوة إلى الله والعناية بإصلاح الناس، وإخراجهم من ظلمات التيه والغي إلى نور الله ودينه

(ক) এর মূলনীতি (أصول) সমূহের ক্ষেত্রে উপকারী গ্রন্থাদি প্রণয়ন, এর মূলসূত্র (قواعد) সমূহের ক্ষেত্রে চিত্তাকর্ষক, এর অধ্যায় (أبواب) সমূহের ক্ষেত্রে অনবদ্য এবং এর বিধানাবলী (أحكام), হাদিস ও নির্দেশনাসমূহ বর্ণনায় বৈচিত্র্যময় অবদানের প্রতি বিশেষ যত্ন। ইমাম মুজাদ্দিদ (রহ.) এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও জোরালো গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে অগ্রণী ভূমিকা ও একনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন। সম্ভবত এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো তাঁর সংকলিত "মাজমুআতুল হাদিস আন-নাজদিয়্যাহ" গ্রন্থটি, যার মধ্যে তিনি নববী সুন্নাহ (سنة) এবং মর্যাদাপূর্ণ হাদিসসমূহের উজ্জ্বল সংকলন অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যেমন: আরবাঈন আন-নববী এবং উমদাতুল আহকাম। তাঁর এই সংকলনের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত এবং এক অনন্য সূক্ষ্মতত্ত্ব (نكتة) নিহিত রয়েছে; কেননা তিনি তাঁর এই সংকলনে—তাঁর প্রশংসনীয় অভ্যাস অনুযায়ী—ইবাদত ও লেনদেনের (معاملات) বিধানাবলী (أحكام) সংক্রান্ত সাধারণ মানুষ ও জনসাধারণের প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। এরপর তিনি তাদের নিকট তাঁর "উসুলুল ঈমান" এবং "ফাদলুল ইসলাম" নামক কিতাবদ্বয়ে অনুসরণের (اتباع) গুরুত্ব এবং নব উদ্ভাবনের (ابتداع) ভয়াবহতা স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের সামনে কবিরা গুনাহ (كبائر) ও অশ্লীলতার ভয়াবহতা, এর বিশাল ক্ষতি এবং উম্মতের ওপর এর সুস্পষ্ট কুপ্রভাব বর্ণনা করেছেন তাঁর "আল-কাবায়ির" কিতাবে। এরপর তিনি মুসলমানদের জন্য উপদেশ হিসেবে এর সাথে যুক্ত করেছেন: "আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ ওয়াল মাকাসিদ আস-সুলুকিয়্যাহ আল-মারইয়্যাহ" গ্রন্থটি। এই বিস্ময়কর বিন্যাস এবং অনন্য শৈলী মূলত সেই ইলমি ও আমলি শক্তিরই পরিচয় দেয়, যার মাধ্যমে ইমাম মুজাদ্দিদ (রহ.) এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত ও মানুষের সংশোধনের ক্ষেত্রে এবং তাদেরকে বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার অন্ধকার থেকে আল্লাহর নূর ও তাঁর দ্বীনের দিকে বের করে আনার ক্ষেত্রে তাঁর পথ ও আদর্শ অনুসরণকারীরা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন।