(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: -)
القول البين الأظهر في الدعوة إلى الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: القول البين الأظهر في الدعوة إلى الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 126

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 184

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কাওলুল বাইয়িনুল আজহার ফিদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমর বিল মারুফি ওয়ান নাহি আনিল মুনকার   (আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজিহি)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-কাওলুল বাইয়িনুল আজহার ফিদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমর বিল মারুফি ওয়ান নাহি আনিল মুনকার

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আর-রাজিহি

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ওয়াকফ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ১২৬

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১)
القول البين الأظهر

في الدعوة إلى الله

والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر

الشيخ

عبد العزيز بن عبد الله الراجحي

‌‌خطبة الرسالة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، نحمده ونستعينه، وأستغفره وأستهديه، أمر بالعدل والإحسان وإيتاء ذي القربى، ونهى عن الفحشاء والمنكر والبغي، موعظة منه سبحانه لعباده لعلهم يتذكرون، والصلاة والسلام على عبده ورسوله نبينا محمد أفضل داع إلى سبيل ربه بالحكمة والموعظة الحسنة على بصيرة، يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر، ويصبر على ما أصابه، احتسابًا لوجه الله، وأداءً لرسالة ربه، وتبليغًا للأمانة، ونصحًا للخلق وإرشادًا لهم، وعلى آله وأصحابه وأتباعه المقتدين به في النصح للخلق ودعوتهم إلى الله وأمرهم بالخير ونهيهم عن الشر، فهم الذين قال الله فيهم {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (1) .

أما بعد:

--------------------------------------------

(1) سورة يوسف آية: 108.
সুস্পষ্ট ও অধিকতর প্রকাশ্য বক্তব্য

আল্লাহর পথে আহ্বানের বিষয়ে

এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রসঙ্গে

শায়খ

আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহী

‌‌রিসালার ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি ও তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি; এবং আমি তাঁর নিকট ক্ষমা ও সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি। তিনি ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেছেন। এটি মহান পবিত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য এক উপদেশ, যেন তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টির সাথে তাঁর রবের পথে শ্রেষ্ঠ আহ্বানকারী। তিনি সৎ কাজের আদেশ দেন ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়, রবের অর্পিত রিসালাত পালনে, আমানত পৌঁছাতে এবং সৃষ্টির কল্যাণকামনা ও তাদের সঠিক পথ প্রদর্শনের নিমিত্তে নিজের ওপর আপতিত বিপদে ধৈর্য ধারণ করেন। এবং (সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং সেই সকল অনুসারীদের ওপর যারা সৃষ্টির হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়া, আল্লাহর দিকে তাদের দাওয়াত প্রদান এবং তাদের কল্যাণের আদেশ ও অকল্যাণ থেকে নিষেধে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাঁরাই সেই সব লোক যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে ডাকছি জাগ্রত জ্ঞান তথা পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টির সাথে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} (১)।

অত:পর:

--------------------------------------------

(১) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২)
فإن الدعوة إلى الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر أصل عظيم من أصول الإسلام حتى ألحقه بعض العلماء بأركان الإسلام التي لا يقوم بناؤه إلا عليها، ولا غرو فإن صلاح العباد في معاشهم متوقف على طاعة الله ورسوله، وتمام الطاعة متوقف على الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وبه كانت هذه الأمة خير أمة أخرجت للناس.

فلما كان هذا الأصل بهذه المنزلة العظيمة من الدين، ولما تساهل أكثر الناس به في هذا الزمن، فأضاعه كثير منهم، وداهن فيه آخرون حتى انتشرت المنكرات وعمت وطمت، وامتلأ منها البر والبحر والجو، رأيت أن أكتب في ذلك رسالة مختصرة، أبين فيها عظم هذا الواجب، وما يترتب على الإخلال به، وما يتبع ذلك من المباحث، مع قصر الباع في ذلك، قيامًا ببعض الواجب، وإن كنت لست من أهل تلك المسالك، ورتبت الرسالة على مقدمة وثلاثة أبواب وخاتمة.

فالمقدمة تشتمل على ما يلي:

1- معنى المعروف والمنكر لغةً.

2- معنى المعروف والمنكر شرعًا.

3- المراد بالمعروف والمنكر عند اجتماعهما وانفراد أحدهما.

4- عظم شأن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والدعوة إلى الله.

5- واجب العلماء وتحذيرهم من التقصير في العمل.
নিশ্চয়ই আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ইসলামের মূলনীতিগুলোর (أصول) মাঝে এক সুমহান মূলনীতি। এমনকি কোনো কোনো আলেম একে ইসলামের এমন এক স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করেছেন, যার ওপর এর ইমারত দণ্ডায়মান। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ বান্দাদের জীবনযাত্রার সংশোধন নির্ভর করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ওপর; আর আনুগত্যের পূর্ণতা নির্ভর করে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ওপর। আর এরই মাধ্যমে এই উম্মত মানুষের কল্যাণে নির্গত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতে পরিণত হয়েছে।

যেহেতু এই মূলনীতিটি (أصل) দ্বীনের মধ্যে এত সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ, অথচ বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ এতে শৈথিল্য প্রদর্শন করছে—ফলে তাদের অনেকে একে বিলুপ্ত করেছে এবং অন্যরা এ ক্ষেত্রে আপসকামিতা করছে, যার ফলে মন্দ কাজসমূহ (منكرات) ছড়িয়ে পড়েছে এবং সর্বত্র ছেয়ে গেছে, এমনকি জল, স্থল ও অন্তরীক্ষ তা দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে গেছে—তাই আমি এই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রচনা করার মনস্থ করেছি। এতে আমি এই ওয়াজিব (واجب) পালনের গুরুত্ব, এর লঙ্ঘনের পরিণতি এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করব। যদিও এ বিষয়ে আমার সামর্থ্য সীমিত, তবুও আংশিক কর্তব্য পালনের উদ্দেশ্যে এটি লিখছি, যদিও আমি এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমি পুস্তিকাটিকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

ভূমিকাটি নিম্নোক্ত বিষয়াবলি সম্বলিত:

1- শাব্দিক (لغةً) অর্থে মারুফ (معروف) ও মুনকার (منكر)-এর সংজ্ঞা।

2- শরয়ি (شرعًا) অর্থে মারুফ (معروف) ও মুনকার (منكر)-এর সংজ্ঞা।

3- মারুফ (معروف) ও মুনকার (منكر) শব্দ দুটি একত্রে বা পৃথকভাবে ব্যবহৃত হলে তার মর্মার্থ।

4- সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের সুমহান মর্যাদা।

5- আলেমদের দায়িত্ব এবং কর্মে অবহেলার পরিণাম সম্পর্কে তাদের প্রতি সতর্কবাণী।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ৩)
والباب الأول: في القيام بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وفيه ثلاثة فصول:

الفصل الأول: في حكم الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

والفصل الثاني: في حكم ترك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من القادر.

والفصل الثالث: في شروط المتصدي للدعوة إلى الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

والباب الثاني: في إنكار المنكر، وفيه ثلاثة فصول:

الفصل الأول: في كيفية الإنكار.

والفصل الثاني: في درجات الإنكار.

والفصل الثالث: في مرتبتي تغيير المنكر أو طريقي الدعوة إلى الله.

والباب الثالث: في الأحوال التي يسقط فيها وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وفيه ثلاثة فصول:

الفصل الأول: في الحال الأولى.

والفصل الثاني: في الحال الثانية.

والفصل الثالث: في الحال الثالثة.

والخاتمة تشتمل على ما يلي:

1- خطر المداهنة في دين الله.

2- الفرق بين المداراة والمداهنة.

3- الحكمة في مشروعية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

4- المفاسد المترتبة على ترك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

5- الحامل على الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সৎকাজের আদেশ প্রদান ও অসৎকাজের নিষেধ করার গুরুত্বারোপ প্রসঙ্গে, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিধান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সক্ষম ব্যক্তি কর্তৃক সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বর্জন করার বিধান প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের গুরুদায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির শর্তাবলি প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অসৎকাজ প্রতিরোধের পদ্ধতি সম্পর্কে, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রতিরোধের পদ্ধতি প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: প্রতিরোধের স্তরসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অসৎকাজ পরিবর্তনের দুটি পর্যায় অথবা আল্লাহর পথে দাওয়াতের দুটি পদ্ধতি প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যেসব অবস্থায় সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের আবশ্যকতা রহিত হয়, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম অবস্থা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় অবস্থা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তৃতীয় অবস্থা প্রসঙ্গে।

উপসংহার নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

1- আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে তোষামোদ বা আপসকামিতার ভয়াবহতা।

2- সৌজন্যবোধ ও তোষামোদ বা আপসকামিতার মধ্যে পার্থক্য।

3- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিধান প্রবর্তনের তাৎপর্য বা প্রজ্ঞা।

4- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বর্জনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ।

5- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধে উদ্বুদ্ধকারী বা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে এমন বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد أوردت فيها آيات من كتاب الله وأحاديث من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ورقمت الآيات وخرجت الأحاديث تيسيرًا على الباحث عند الرجوع إليها، كما نقلت نصوصًا من أقوال العلماء والمفسرين، وبينت مصادرها في أواخر الصفحات ليطمئن القارئ وليكون على ثقة، للاتفاق على جلالة هؤلاء العلماء وعلمهم وورعهم، وذكرت في آخر الرسالة بيانًا بأسماء المراجع والكتب التي استفدت منها في بناء الرسالة، وفهرست الموضوعات إكمالًا للفائدة وتسهيلًا لمن يطلب البحث عن جزئية من جزئيات الرسالة، وسميتها -القول البيّن الأظهر في الدعوة إلى الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر- والله أسأل أن ينفع بها، وأن يجعل العمل لوجهه خالصًا، وأسأله الاستقامة والثبات على الإسلام، وأن لا يزيغ قلوبنا بعد إذ هدانا وأن يهب لنا من لدنه رحمة إنه هو الوهاب، ومن الله أستمد العون والتوفيق والسداد وأستلهمه الرشاد وهو حسبي ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على محمد وآله وصحبه.

الكاتب
আমি এতে আল্লাহর কিতাব থেকে আয়াতসমূহ এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছি। গবেষকদের জন্য সেগুলোতে প্রত্যাবর্তন সহজ করার লক্ষ্যে আমি আয়াতসমূহে নম্বর প্রদান করেছি এবং হাদিসসমূহের তখরিজ (تخريج) করেছি। একইভাবে আমি ওলামায়ে কেরাম ও মুফাসসিরগণের বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং পৃষ্ঠাগুলোর শেষে সেগুলোর উৎস বর্ণনা করেছি, যাতে পাঠক আশ্বস্ত হতে পারেন এবং নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) বোধ করেন; কারণ এই ওলামায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্ব, ইলম ও তাকওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে। আমি এই রচনার শেষে ওই সকল তথ্যসূত্র ও গ্রন্থের একটি তালিকা প্রদান করেছি যা থেকে আমি এই গবেষণাপত্রটি রচনায় উপকৃত হয়েছি। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ ফায়দা এবং রচনার কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সহজে খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে একটি বিষয়ভিত্তিক সূচি যুক্ত করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি— 'আল-কাওলুল বায়্যিনুল আযহার ফিদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফি ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার'। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যাতে তিনি এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং আমলটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমি তাঁর কাছে দ্বীনের ওপর অবিচলতা ও ইসলামের ওপর দৃঢ়তা কামনা করছি; তিনি আমাদের হিদায়েত দান করার পর যেন আমাদের অন্তরকে সত্যচ্যুত না করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা। আমি আল্লাহর কাছেই সাহায্য, তাওফিক ও সঠিক পথের দিশা যাচ্ঞা করি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর।

লেখক
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ৫)
1- بيان‌‌ معنى -المعروف والمنكر- لغةً:

المعروف في اللغة، يدور معناه غالبًا على ما تعارف عليه الناس وعلموه ولم ينكروه، والمنكر في اللغة، يدور معناه غالبا على ما جهله الناس واستنكروه وجحدوه.

قال في القاموس: عرفه يعرفه معرفة وعرفانًا وعرفه بالكسر، وعِرِفّانا بكسرتين مشدّدة الفاء، علمه، والمعروف ضد المنكر (1) .

والنّكُر بالضم وبضمتين، المنكر كالنكراء، والأمر الشديد، والنكرة خلاف المعرفة، وتناكر تجاهل، والقوم تعادوا، ونكر فلان الأمر كفرح نكرًا -محركة-، ونُكُرًا ونُكُورًا بضمها، ونكيرًا، وأنكره واستنكره وتناكره جهله، والمنكر ضد المعروف اهـ (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر ج3 ص 178 -179.

(2) انظر ج2 ص 153 -154.
১- আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুপরিচিত (المعروف) এবং বর্জিত (المنكر) এর অর্থ বিশ্লেষণ:

আভিধানিকভাবে সুপরিচিত (المعروف) এর অর্থ সাধারণত সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় যা মানুষের কাছে সুপরিচিত, যা তারা জানে এবং যা তারা অস্বীকার করে না। অন্যদিকে, আভিধানিকভাবে বর্জিত (المنكر) এর অর্থ সাধারণত সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় যা সম্পর্কে মানুষ অবগত নয়, যা তারা অপছন্দ বা অস্বীকার করে এবং যা তারা প্রত্যাখ্যান করে।

‘আল-কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: সে তাকে চিনেছে, সে তাকে চিনবে, চেনা এবং জ্ঞান লাভ করা। এটি ‘রা’ বর্ণে কাসরাহ (জের) যোগে এবং ‘ফা’ বর্ণে তাশদীদযুক্ত দুই কাসরাহ যোগেও পঠিত হয়, যার অর্থ হলো সে তা জেনেছে। আর সুপরিচিত (المعروف) হলো বর্জিত (المنكر) এর বিপরীত (১)।

আর ‘আল-নুকর’ শব্দটি প্রথম বর্ণে পেশ অথবা উভয় বর্ণে পেশ যোগে ‘বর্জিত’ (المنكر) এর ন্যায় অর্থ প্রকাশ করে, যেমনটি ‘আল-নাকরা’ শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এর অর্থ অত্যন্ত কঠিন বিষয়। ‘আল-নাকিরাহ’ শব্দটি পরিচয়ের বিপরীত। ‘তানাকারা’ অর্থ হলো না জানার ভান করা। আর যখন বলা হয় সম্প্রদায়ের লোকরা ‘তানাকারা’, তার অর্থ হলো তারা একে অপরের শত্রু হয়ে গেছে। অমুক ব্যক্তি বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে—এটি ‘ফারিহা’ ক্রিয়ার ওজনে ব্যবহৃত হয় যার মূল ধাতু হলো ‘নাকরান’ (স্বরচিহ্নযুক্ত), অথবা পেশ যোগে ‘নুকরান’ ও ‘নুকুরান’, অথবা ‘নাকিরান’। কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা, অপছন্দ করা বা না জানার ভান করার অর্থ হলো তা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা। আর বর্জিত (المنكر) হলো সুপরিচিত (المعروف) এর বিপরীত— সমাপ্ত (২)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ৩য় খণ্ড, ১৭৮-১৭৯ পৃষ্ঠা।

(২) দ্রষ্টব্য: ২য় খণ্ড, ১৫৩-১৫৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال في لسان العرب: عرف العرفان العلم … والمعروف ضد المنكر، والعُرف ضد النكر، يقال: أولاه عرفًا أي معروفًا، والمعروف والعارفة خلاف النكر، والمعرف كالعرف، وقوله تعالى: {وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا} (1) أي مصاحبًا معروفًا (2) والإنكار: الجحود، وقوله: {إِنَّ أَنْكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ} (3) أي أقبح الأصوات، والنُّكْر، والنُكُر: الأمر الشديد، والمنكر من الأمر خلاف المعروف، وقد تكرر في الحديث الإنكار والمنكر وهو ضد المعروف، وكل ما قبحه الشرع وحرمه وكرهه فهو منكر، والنكْر والنّكْراء -ممدود-: المنكر، وفي التنزيل العزيز: {لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا} (4) ونكر الأمر نكيرًا، وأنكره إنكارًا ونُكْرًا، جهله عن كراع، وفي التنزيل العزيز: {وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً} (5) اهـ (6) .

وقال في المعجم الوسيط: العُرْفُ: المعروف، وهو خلاف النكر، وما تعارف عليه الناس في عاداتهم ومعاملاتهم (7) .

--------------------------------------------

(1) سورة لقمان آية: 15.

(2) انظر ج9 ص 236 -239.

(3) سورة لقمان آية: 19.

(4) سورة الكهف آية: 74.

(5) سورة هود آية: 70.

(6) انظر ج5 ص 233 -234.

(7) انظر ج2 ص 601.
'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'ইরফান' অর্থ জ্ঞান … আর 'মা'রুফ' (المعروف) হলো 'মুনকার' (المنكر)-এর বিপরীত, এবং 'উরফ' (العُرف) হলো 'নুকর' (النكر)-এর বিপরীত। বলা হয়: সে তাকে 'উরফ' দেখিয়েছে অর্থাৎ 'মা'রুফ' (معروفًا)। 'মা'রুফ' (المعروف) এবং 'আরিফাহ' হলো 'নুকর' (النكر)-এর পরিপন্থী, আর 'মুআরিফ' শব্দটি 'উরফ' (العرف)-এর মতোই। মহান আল্লাহর বাণী: {দুনিয়ায় তাদের সাথে সদ্ভাবে (مَعْرُوفًا) বসবাস করো} (১), অর্থাৎ পরিচিত বা সদ্ভাবপূর্ণ (معروفًا) সাহচর্য (২)। আর 'ইনকার' (الإنكار) হলো অস্বীকার করা। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বরের মধ্যে গাধার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর (أَنْكَرَ)} (৩), অর্থাৎ সবচেয়ে কুৎসিত শব্দ। আর 'নুকর' (النُّكْر) এবং 'নুকুর' (النُّكُر) অর্থ হলো কঠোর বিষয়। কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে 'মুনকার' (المنكر) হলো 'মা'রুফ' (المعروف)-এর বিপরীত। হাদিসে 'ইনকার' (الإنكار) এবং 'মুনকার' (المنكر) শব্দ দুটি বারবার এসেছে এবং তা 'মা'রুফ' (المعروف)-এর বিপরীত। শরিয়ত যা কিছুকে কুৎসিত সাব্যস্ত করেছে, হারাম করেছে এবং অপছন্দ করেছে, তার সবই হলো 'মুনকার' (المنكر)। আর 'নুকর' (النكر) এবং 'নাকরা' (النكراء)—দীর্ঘায়িত স্বরে—অর্থ হলো 'মুনকার' (المنكر)। পবিত্র কুরআনে এসেছে: {নিশ্চয়ই আপনি এক গুরুতর (نُكْرًا) কাজ করেছেন} (৪)। কোনো বিষয় 'নাকারা' করা মানে 'নাকির' (نكيرًا), 'আনকারাহু' (أنكره) 'ইনকারান' (إنكارًا) ও 'নুকরান' (نُكْرًا), অর্থাৎ ভাষাবিদ কুরা-এর বর্ণনা অনুযায়ী—সেটি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা। পবিত্র কুরআনে এসেছে: {এবং তাদের পক্ষ থেকে মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন} (৫)। ইতি (৬) ।

'আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'উরফ' (العُرْفُ) হলো 'মা'রুফ' (المعروف), যা 'নুকর' (النكر)-এর বিপরীত; আর মানুষ তাদের আচার-আচরণ ও পারস্পরিক লেনদেনে যা প্রথা হিসেবে গ্রহণ করেছে (৭) ।

--------------------------------------------

(১) সূরা লোকমান, আয়াত: ১৫।

(২) দেখুন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২৩৬-২৩৯।

(৩) সূরা লোকমান, আয়াত: ১৯।

(৪) সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৭৪।

(৫) সূরা হুদ, আয়াত: ৭০।

(৬) দেখুন খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৩৩-২৩৪।

(৭) দেখুন খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬০১।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ৭)
نَكر فلان نَكَرا ونُكرا ونكارة، فطن وجاد رأيه.. والشيء جهله، وفي التنزيل العزيز: {فَلَمَّا رَأَى أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ} (1) ونَكُر الأمر نكارة، صعب واشتدّ وصار منكرًا، وأنكر الشيء جهله، وفي التنزيل العزيز: {فَدَخَلُوا عَلَيْهِ فَعَرَفَهُمْ وَهُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ} (2) وحقه جحده، وفي التنزيل العزيز: {يَعْرِفُونَ نِعْمَةَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا} (3) (4) .

--------------------------------------------

(1) سورة هود آية: 70.

(2) سورة يوسف آية: 58.

(3) سورة النحل آية: 83.

(4) انظر ج2 ص 960.
অমুক ব্যক্তি প্রখর ধীশক্তি সম্পন্ন হলো এবং তার সিদ্ধান্ত উৎকৃষ্ট হলো। আর কোনো বিষয় সম্পর্কে সে অজ্ঞ থাকল। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: {যখন তিনি দেখলেন যে তাদের হাত খাবারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না, তখন তিনি তাদের অপরিচিত মনে করলেন (نكرهم)} (১)। আর বিষয়টি জটিল ও কঠিন হলো এবং তা অগ্রহণযোগ্য (منكرًا) সাব্যস্ত হলো। আর কোনো কিছুকে অস্বীকার করা মানে তা না চেনা বা সে সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: {অতঃপর তারা তাঁর নিকট প্রবেশ করল, তিনি তাদের চিনতে পারলেন কিন্তু তারা ছিল তাঁর নিকট অপরিচিত (منكرون)} (২)। আর কারো অধিকার অস্বীকার করা। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: {তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনতে পারে, অতঃপর তারা তা অস্বীকার করে} (৩) (৪) ।

--------------------------------------------

(১) সুরা হুদ, আয়াত: ৭০।

(২) সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৮।

(৩) সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৩।

(৪) দেখুন খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৬০।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ৮)
2- بيان‌‌ معنى -المعروف والمنكر- شرعًا

المعروف في الشرع: كل ما يعرفه الشرع ويأمر به ويمدحه ويثني على أهله، ويدخل في ذلك جميع الطاعات، وفي مقدمتها توحيد الله عز وجل والإيمان به.

والمنكر في الشرع: كل ما ينكره الشرع وينهى عنه ويذمه ويذم أهله، ويدخل في ذلك جميع المعاصي والبدع، وفي مقدمتها الشرك بالله عز وجل وإنكار وحدانيته أو ربوبيته أو أسمائه أو صفاته.

وعبارات المفسرين في تفسير المعروف والمنكر- لا تتجاوز ذلك.

فقيل: المعروف: كل قول حسن وفعل جميل وخلق كامل للقريب والبعيد.

وقيل: المعروف: الخير كله، والمنكر: جميع الشر.

وقيل: المعروف: ما عرف حسنه شرعًا وعقلًا، والمنكر: ما عرف قبحه شرعًا وعقلًا.

وقيل: المعروف: الإحسان والطاعة، وكل ما عرف في الشرع والعقل حسنه (1) .

وقيل: المعروف: طاعة الله وما يعرفه الشرع وأعمال البر كلها.

وقيل: المعروف: الإيمان، والمنكر الشرك، وقيل: المعروف السنة، والمنكر البدعة (2) .

وقيل: المعروف: خلع الأنداد ومكارم الأخلاق وصلة الأرحام، والمنكر عبادة الأصنام وقطع الأرحام، وقيل المعروف: الطاعات والفضائل أجمع.

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير ابن سعدي ج -1 ص 194 -196، جـ2 ص 77، جـ3 ص65 -66.

(2) انظر تفسير البغوي جـ2 580، جـ4 ص 249.
2- শরিয়তের পরিভাষায় মারুফ (معروف) ও মুনকার (منكر)-এর অর্থ বর্ণনা

শরিয়তের পরিভাষায় মারুফ (معروف) হলো: এমন সব বিষয় যা শরিয়ত কর্তৃক স্বীকৃত (معروف), যার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং যার প্রশংসা করা হয়েছে ও এর অনুসারীদের গুণকীর্তন করা হয়েছে। সকল প্রকার আনুগত্যমূলক কাজ এর অন্তর্ভুক্ত, যার শীর্ষে রয়েছে মহান আল্লাহর তাওহিদ ও তাঁর প্রতি ঈমান।

আর শরিয়তের পরিভাষায় মুনকার (منكر) হলো: এমন সব বিষয় যা শরিয়ত প্রত্যাখ্যান করে (منكر), যা থেকে নিষেধ করে এবং যার নিন্দা ও এর সাথে সংশ্লিষ্টদের নিন্দা জ্ঞাপন করে। সকল নাফরমানি ও বিদআত (بدعة) এর অন্তর্ভুক্ত, যার শীর্ষে রয়েছে আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং তাঁর একত্ববাদ, রুবুবিয়্যাহ, নামসমূহ অথবা গুণাবলিকে অস্বীকার করা।

মারুফ (معروف) ও মুনকার (منكر)-এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ এর বাইরে নয়।

বলা হয়েছে: মারুফ (معروف) হলো নিকটাত্মীয় ও অনাত্মীয় সবার সাথে বলা প্রতিটি উত্তম কথা, সুন্দর কাজ এবং পূর্ণাঙ্গ সচ্চরিত্র।

আরও বলা হয়েছে: মারুফ (معروف) হলো সামগ্রিক কল্যাণ এবং মুনকার (منكر) হলো সকল প্রকার মন্দ।

বলা হয়েছে: শরিয়ত ও বিবেকের দৃষ্টিতে যার সৌন্দর্য স্বীকৃত (معروف) তাই মারুফ, আর শরিয়ত ও বিবেকের দৃষ্টিতে যার কদর্যতা স্বীকৃত (منكر) তাই মুনকার।

আরও বলা হয়েছে: মারুফ (معروف) হলো ইহসান ও আনুগত্য এবং শরিয়ত ও বিবেকের দৃষ্টিতে সৌন্দর্যমণ্ডিত হিসেবে পরিচিত (معروف) প্রতিটি বিষয়।

বলা হয়েছে: আল্লাহর আনুগত্য, শরিয়ত কর্তৃক স্বীকৃত (معروف) বিষয়াবলি এবং সকল নেক আমলই হলো মারুফ।

বলা হয়েছে: মারুফ (معروف) হলো ঈমান এবং মুনকার (منكر) হলো শিরক। আরও বলা হয়েছে: মারুফ (معروف) হলো সুন্নাহ (سنة) এবং মুনকার (منكر) হলো বিদআত (بدعة)।

বলা হয়েছে: মারুফ (معروف) হলো সমকক্ষদের বর্জন, সচ্চরিত্র অবলম্বন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা; আর মুনকার (منكر) হলো মূর্তিপূজা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা। আরও বলা হয়েছে: মারুফ (معروف) হলো সকল প্রকার আনুগত্য ও ফজিলতপূর্ণ কাজ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাফসির ইবনে সাদি ১ম খণ্ড, ১৯৪-১৯৬ পৃষ্ঠা; ২য় খণ্ড, ৭৭ পৃষ্ঠা; ৩য় খণ্ড, ৬৫-৬৬ পৃষ্ঠা।

(২) দেখুন তাফসির আল-বাগউই ২য় খণ্ড, ৫৮০ পৃষ্ঠা; ৪র্থ খণ্ড, ২৪৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ৯)
وقيل: العرف: صلة الأرحام، وتقوى الله في الحلال والحرام، وغض الأبصار، والاستعداد لدار القرار.

وقيل: المعروف: عبادة الله وتوحيده وكل ما أتبع ذلك، والمنكر: عبادة الأوثان وكل ما أتبع ذلك (1) وهذه الأقوال كلها حق ولا تنافي بينها.

وقال ابن الأثير في النهاية في غريب الحديث:

(عرف) قد تَكرر ذكر -المعروف- في الحديث، وهو اسم جامع لكل ما عرف من طاعة الله والتقرب إليه والإحسان إلى الناس، وكل ما ندب إليه الشرع، ونهى عنه، من المحسِّنات والمقبِّحات، وهو من الصفات الغالبة، أي أمر معروف بين الناس، إذا رأوه لا ينكرونه، والمعروف النصفة وحسن الصحبة مع الأهل وغيرهم من الناس، والمنكر ضد ذلك جميعه اهـ (2) .

وقال: وقد تكرر ذكر -الإنكار والمنكر- في الحديث، وهو ضد المعروف، وكل ما قبّحه الشرع وحرّمه وكرهه فهو منكر، يقال: أنكر الشيء ينكره إنكارًا فهو مُنكِر، ونَكِره ينكَرهُ نُكْرًا فهو منكور، واستنكره فهو مستنكر، والنكير الإنكار، والإنكار الجحود، اهـ (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير القرطبي جـ99، 344 وحـ8 ص203، وحـ14 ص8.

(2) انظر جـ3 ص216.

(3) انظر جـ5 ص115.
এবং বলা হয়েছে: আল-উরফ বা সদাচার (العرف) হলো—আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা, হালাল ও হারামের বিষয়ে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা, দৃষ্টি অবনত রাখা এবং পরকালীন আবাসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

আরও বলা হয়েছে: আল-মা'রুফ বা পরিচিত সৎকাজ (المعروف) হলো—আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর তাওহীদ এবং এর অনুগামী যাবতীয় বিষয়; আর আল-মুনকার বা মন্দ কাজ (المنكر) হলো—মূর্তিপূজা এবং এর অনুগামী সকল বিষয়। (১) এই সকল উক্তিই সত্য এবং এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।

ইবনুল আসীর তাঁর 'আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদিস' গ্রন্থে বলেছেন:

(আইন-রা-ফা) হাদিসে 'আল-মা'রুফ' (المعروف) শব্দটির উল্লেখ বারবার এসেছে। এটি এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর নৈকট্য লাভ, মানুষের প্রতি ইহসান এবং শরিয়ত নির্দেশিত যাবতীয় ভালো কাজ ও নিষিদ্ধ মন্দ কাজের সমষ্টি। এটি একটি ব্যাপক গুণবাচক শব্দ, অর্থাৎ মানুষের মধ্যে এমন একটি পরিচিত বিষয় যা তারা দেখলে অস্বীকার করে না। আর 'আল-মা'রুফ' হলো ইনসাফ এবং পরিবার ও অন্যান্য মানুষের সাথে উত্তম সাহচর্য; আর 'আল-মুনকার' (المنكر) হলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত। (২) সমাপ্ত।

তিনি বলেছেন: হাদিসে 'আল-ইনকার' ও 'আল-মুনকার' (المنكر) এর উল্লেখ বারবার এসেছে। এটি 'আল-মা'রুফ' (المعروف) এর বিপরীত। শরিয়ত যা কিছু কদর্য সাব্যস্ত করেছে, হারাম করেছে এবং অপছন্দ করেছে, তার সবই 'মুনকার' (المنكر)। বলা হয়: কোনো বিষয়কে ইনকার (إنكار) করা হলে ব্যক্তিটি হয় 'মুনকির' (منكر); আর কোনো বিষয়কে মন্দ সাব্যস্ত করা হলে তা হয় 'মানকুর' (منكور); আর কোনো বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করা হলে তা হয় 'মুস্তানকার' (مستنكر)। 'আন-নাকীর' অর্থ হলো প্রত্যাখ্যান (إنكار), আর 'ইনকার' মানে হলো অস্বীকার করা। (৩) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) আল-কুরতুবির তাফসির, খণ্ড ৯৯, পৃষ্ঠা ৩৪৪ এবং খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২০৩ এবং খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৮ দেখুন।

(২) খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২১৬ দেখুন।

(৩) খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১১৫ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১০)
3- بيان‌‌ المراد بالمعروف والمنكر عند اجتماعهما وانفراد أحدهما

إذا أطلق الأمر بالمعروف من غير أن يقرن بالنهي عن المنكر- فإنه يدخل فيه النهي عن المنكر، وذلك لأن ترك المنهيات من المعروف، ولأنه لا يتم فعل الخير إلا بترك الشرّ، ومثال ذلك قول الله تعالى: {لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ} (1) فإن الأمر بالمعروف يتضمن النهي عن المنكر.

وكذلك إذا أطلق النهي عن المنكر -من غير أن يقرن بالأمر بالمعروف- فإنه يدخل فيه الأمر بالمعروف، وذلك لأن ترك المعروف من المنكر، ولأنه لا يتم ترك الشر إلا بفعل الخير.

ومثال ذلك قول الله تعالى: {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ} (2) فإن نهيهم عن السوء يتضمن أمرهم بالخير.

وأما عند اقتران أحدهما بالآخر فيفسر -المعروف - بفعل الأوامر، ويفسر -المنكر- بترك النواهي، وأمثلة ذلك كثيرة في كتاب الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء آية: 114.

(2) سورة الأعراف آية: 165.
৩- বর্ণনা‌‌: সৎকাজ (معروف) এবং অসৎকাজ (منكر) একত্রে ও পৃথকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার উদ্দেশ্য

যখন সৎকাজের আদেশ (امر بالمعروف) কথাটি অসৎকাজে বাধা (نهي عن المنكر) প্রদানের সাথে যুক্ত না হয়ে এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার মধ্যে অসৎকাজে বাধা প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এর কারণ হলো, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করাও সৎকাজ (معروف)-এর অন্তর্ভুক্ত, এবং মন্দ বর্জন করা ব্যতীত কল্যাণকর কাজ সম্পাদন করা পূর্ণতা পায় না। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই; তবে যে ব্যক্তি সদকা, সৎকাজ (معروف) কিংবা মানুষের মাঝে সন্ধি স্থাপনের নির্দেশ দেয় (তার কথা ভিন্ন)} (১)। এখানে সৎকাজের আদেশ (امر بالمعروف) প্রদান বিষয়টি অসৎকাজে বাধা (نهي عن المنكر) প্রদানকেও শামিল করে।

অনুরূপভাবে, যখন অসৎকাজে বাধা (نهي عن المنكر) কথাটি সৎকাজের আদেশ (امر بالمعروف)-এর সাথে যুক্ত না হয়ে এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার মধ্যে সৎকাজের আদেশের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। কেননা সৎকাজ বর্জন করাও একটি অসৎকাজ (منكر), আর মন্দ বর্জন করা কল্যাণকর কাজ সম্পাদন ব্যতীত সম্পন্ন হয় না।

এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যখন সেই উপদেশ ভুলে গেল যা তাদের দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের মুক্তি দিলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বাধা (ينهون عن السوء) দিত} (২)। কেননা তাদের মন্দ কাজ থেকে বাধা প্রদানের বিষয়টি কল্যাণকর কাজের আদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

আর যখন এ দুটির একটি অপরটির সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, তখন সৎকাজ (معروف)-এর ব্যাখ্যা করা হয় আদেশসমূহ পালন করার দ্বারা এবং অসৎকাজ (منكر)-এর ব্যাখ্যা করা হয় নিষেধসমূহ বর্জন করার দ্বারা। মহান আল্লাহর কিতাবে এর বহু উদাহরণ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৪।

(২) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৬৫।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১১)
كقوله تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} (1) .

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة آية: 71.
যেমন মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ (المنكر) হতে নিষেধ করে, তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে} (১) ।

--------------------------------------------

(১) সুরা আত-তাওবাহ্, আয়াত: ৭১।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১২)
4-‌‌ عظم شأن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والدعوة إلى الله

الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والدعوة إلى الله أصل عظيم من آكد الأصول الإسلامية وأوجبها وألزمها، حتى ألحقه بعض العلماء بالأركان التي لا يقوم بناء الإسلام إلا عليها، وإنما أرسلت الرسل وأنزلت الكتب للأمر بالمعروف الذي رأسه وأصله التوحيد، وللنهي عن المنكر الذي رأسه وأصله الشرك والعمل لغير الله، وشرع الجهاد لأجل ذلك، وإن كان الجهاد قدرًا زائدًا على مجرد الأمر والنهي.

إذ بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والدعوة إلى الله يتوقف قيام الدين، فلولاه ما قام الإسلام، ولا ظهر دين الله، ولا علت كلمته، ويتوقف أيضًا قيام الدولة الإسلامية واستقامتها وصلاحها على القيام به، كما أن صلاح العباد متوقف على القيام به.
4-‌‌ সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف), অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের (الدعوة إلى الله) গুরুত্বের মহিমা

সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف), অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত (الدعوة إلى الله) প্রদান হলো ইসলামি মূলনীতিসমূহের (الأصول الإسلامية) মধ্যে একটি সুমহান মূল ভিত্তি (أصل), যা অত্যন্ত সুদৃঢ়, অত্যাবশ্যকীয় এবং অপরিহার্য। এমনকি কোনো কোনো আলেম একে এমন সব স্তম্ভের (الأركان) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা ব্যতীত ইসলামের ইমারত দণ্ডায়মান হতে পারে না। মূলত সৎ কাজের আদেশের (الأمر بالمعروف) উদ্দেশ্যেই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, যার শীর্ষবিন্দু ও মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ (التوحيد)। আর অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) জন্য (রাসূল ও কিতাব পাঠানো হয়েছে), যার শীর্ষবিন্দু ও মূল ভিত্তি হলো শিরক (الشرك) এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে আমল করা। আর এজন্যই জিহাদ (الجهاد) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যদিও জিহাদ কেবল আদেশ ও নিষেধের অতিরিক্ত একটি পর্যায়।

যেহেতু সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف), অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদানের (الدعوة إلى الله) ওপরই দ্বীন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নির্ভরশীল, তাই এটি না থাকলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতো না, আল্লাহর দ্বীন প্রকাশ পেত না এবং তাঁর বাণী সমুন্নত হতো না। একইভাবে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, এর স্থায়িত্ব এবং সংস্কার এই দায়িত্ব পালনের ওপরই নির্ভরশীল, ঠিক তেমনি বান্দাদের সংশোধনও এটি যথাযথভাবে পালনের ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১৩)
وبيان ذلك: أن جماع الدين وجميع الولايات هو أمر ونهي، والأمر الذي بعث الله به رسوله هو الأمر بالمعروف، والنهي الذي بعث الله به رسوله هو النهي عن المنكر، وبهذا نعت الله النبي والمؤمنين فقال تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} (1) وجميع الولايات -كولاية الحكم، وولاية الحرب، وولاية المال، وولاية الحسبة، وغيرها، إنما مقصودها الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وولي الأمر إنما نُصِّب ليأمر بالمعروف وينهى عن المنكر، وهذا هو مقصود الولاية، ولهذا يجب على كل ولي أمر أن يستعين بأهل الصدق والعدل، فإن تعذر ذلك استعان بالأمثل فالأمثل.

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة آية: 71.

এর ব্যাখ্যা হলো: দ্বীনের নির্যাস এবং সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব হলো আদেশ ও নিষেধ। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যে আদেশ দিয়ে পাঠিয়েছেন তা হলো সৎ কাজের (معروف) আদেশ, আর যে নিষেধ দিয়ে পাঠিয়েছেন তা হলো অসৎ কাজের (منكر) নিষেধ। আল্লাহ তাআলা এই গুণেই নবী ও মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন; তিনি ইরশাদ করেন: “আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎ কাজের (معروف) আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে।” (১) সকল প্রকার প্রশাসনিক দায়িত্ব—যেমন শাসন ক্ষমতা, যুদ্ধ পরিচালনা, অর্থ বিভাগ, তদারকি বিভাগ এবং অন্যান্য সকল বিভাগের মূল লক্ষ্যই হলো সৎ কাজের (معروف) আদেশ এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা। শাসক মূলত নিযুক্তই করা হয়েছে সৎ কাজের (معروف) আদেশ প্রদান এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করার জন্য; আর এটিই হলো নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্য। এ কারণেই প্রত্যেক শাসকের জন্য আবশ্যক হলো সত্যবাদী (صدق) ও ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিদের সহায়তা গ্রহণ করা। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা অধিকতর যোগ্য, পর্যায়ক্রমে তাদের সহায়তা গ্রহণ করতে হবে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭১।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১৪)
بل إن صلاح العباد جميعهم يكون بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، إذ إن صلاح العباد ومعائشهم في طاعة الله ورسوله، ولا يتم ذلك إلا بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وبه صارت هذه الأمة خير أمة أخرجت للناس كما قال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (1) ولا يرى تركه والمداهنة فيه إلا من أضاع حظه ونصيبه من العلم والإيمان، فما أَجَلَّ هذا الأصل وما أَعْظَمَهُ وأخطر شأنه في الإسلام؟ (2) .

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران آية: 110.

(2) انظر مجموع الفتاوى لشيخ الإسلام ابن تيمية ج28 ص75 -67 وص306، وانظر الدرر السنية في الأجوبة النجدية جـ7 ص33 -34.
বস্তুত সকল বান্দার সংশোধন সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) মাধ্যমেই সম্ভব। কেননা বান্দাদের সংশোধন ও তাদের জীবনোপকরণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল। আর এটি সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) ব্যতীত পূর্ণতা পায় না। এর মাধ্যমেই এই উম্মত মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে গণ্য হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দাও এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো} (১)। কেবল সেই ব্যক্তিই এটি বর্জন করা এবং এতে তোষামোদ (المداهنة) করাকে সমীচীন মনে করে, যে ইলম ও ঈমান থেকে তার প্রাপ্য ও অংশ হারিয়েছে। সুতরাং ইসলামে এই মূলনীতি (الأصل) কতই না মর্যাদাপূর্ণ ও মহান এবং এর গুরুত্ব কতই না অপরিসীম? (২) .

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০।

(২) দেখুন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৮ খণ্ড, ৬৭-৭৫ পৃষ্ঠা এবং ৩০৬ পৃষ্ঠা; আরও দেখুন আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ, ৭ম খণ্ড, ৩৩-৩৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১৫)
5-‌‌ واجب العلماء وتحذيرهم من التقصير في العمل

العلماء عليهم واجب عظيم ومسئولية خطيرة، فإن عليهم أمر الناس وإرشادهم إلى الخير، ونهيهم وتحذيرهم من الشرّ، وعليهم نصيحتهم وترغيبهم في الخير، وترهيبهم من الشر، وعليهم أن يبذلوا ما بأيديهم من العلم النافع الدال على العمل الصالح، ولا يكتموا منه شيئًا، فإن الله تعالى لما ذمَّ اليهود على حرصهم ومبادرتهم الإثم والعدوان، وأكلهم الحرام في قوله تعالى: {وَتَرَى كَثِيرًا مِنْهُمْ يُسَارِعُونَ فِي الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (1) بيّن واجب العلماء وحضّهم على القيام به، وهو نهيهم للناس عن المعاصي والآثام التي تصدر منهم، ليزول ما عندهم من الجهل وتقوم عليهم الحجة، فقال تعالى: {لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَنْ قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ} (2) أي هلَّا ينهاهم العلماء المتصدون لنفع الناس الذين مَنَّ الله عليهم بالعلم والحكمة عمَّا وقعوا فيه من الإثم وأكل الحرام.

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة آية: 62.

(2) سورة المائدة آية: 63.
5-‌‌ আলেমদের দায়িত্ব এবং আমলের ক্ষেত্রে অবহেলা প্রদর্শনের পরিণাম সম্পর্কে তাদের সতর্ককরণ

আলেমদের ওপর এক মহান কর্তব্য এবং গুরুতর দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে; কেননা তাঁদের কাজ হলো মানুষকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা ও সতর্ক করা। তাঁদের কর্তব্য হলো মানুষকে নসিহত করা, কল্যাণের প্রতি উৎসাহিত করা এবং অকল্যাণ হতে ভীতি প্রদর্শন করা। তাঁদের নিকট গচ্ছিত থাকা নেক আমলের পথপ্রদর্শক উপকারী জ্ঞান তাঁদের বিলিয়ে দিতে হবে এবং এর কোনো কিছুই গোপন করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা যখন ইহুদিদের নিন্দা করেছেন তাদের পাপ ও সীমালঙ্ঘনে তৎপরতা এবং হারাম ভক্ষণের কারণে—যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনি তাদের অনেককে দেখবেন পাপে, সীমালঙ্ঘনে এবং তাদের অবৈধ সম্পদ ভক্ষণে দ্রুত ধাবিত হয়। তারা যা করে তা অবশ্যই মন্দ} (১)—তখন তিনি আলেমদের দায়িত্ব বর্ণনা করেছেন এবং তা পালনে উৎসাহিত করেছেন। আর তা হলো মানুষকে তাদের দ্বারা সংঘটিত নাফরমানি ও পাপসমূহ থেকে নিষেধ করা, যাতে তাদের মূর্খতা দূর হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহওয়ালা ও পণ্ডিতগণ কেন তাদেরকে তাদের পাপোক্তি ও অবৈধ সম্পদ ভক্ষণ থেকে নিষেধ করে না?} (২)। অর্থাৎ, জনকল্যাণে নিয়োজিত ঐ সকল আলেম—যাদেরকে আল্লাহ জ্ঞান ও হিকমত দ্বারা ধন্য করেছেন—তারা কেন তাদেরকে লিপ্ত হওয়া পাপ ও হারাম ভক্ষণ থেকে নিষেধ করল না?

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬২।

(২) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৩।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد وبَّخَ الله العلماء في تركهم واجب النهي عن المنكر والأمر بالمعروف فقال تعالى في الآية السالفة الذكر: {لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ} (1) .

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة آية: 63.

আল্লাহ তাআলা আলেমগণকে অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) এবং সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) করার আবশ্যিক দায়িত্ব বর্জনের কারণে তিরস্কার করেছেন। তাই মহান আল্লাহ পূর্বোল্লিখিত আয়াতে ইরশাদ করেছেন: “তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট!” (১)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৩।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১৭)
كما أخذ الله الميثاق على أهل العلم أن يبينوا للناس ما أنزل إليهم من ربهم، وحذّرهم من الكتمان وتوعدهم عليه فقال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} (1) وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ} {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} (2) وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} {أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ} (3) وفي حديث أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مَنْ

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران آية: 187.

(2) سورة البقرة آية: 159-160.

(3) سورة البقرة آية: 174-175.
যেমন আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যে, তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তারা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন; আর তিনি তাদের তা গোপন করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং এর ওপর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, অবশ্যই তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না} (১)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আমাদের অবতীর্ণ করা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও হেদায়াত গোপন করে, কিতাবে মানুষের জন্য আমরা তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর—আল্লাহ তাদের অভিশাপ দেন এবং অভিশাপ প্রদানকারীরাও তাদের অভিশাপ দেয়} {তবে যারা তওবা করেছে, নিজেদের সংশোধন করেছে এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে—আমি তাদের তওবা কবুল করব, আর আমি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু} (২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ কিতাব গোপন করে এবং তার বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছু ভক্ষণ করে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} {তারাই হেদায়াতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতা এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করেছে। আগুনের ওপর তারা কতই না ধৈর্যশীল!} (৩)। আর আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৭।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৯-১৬০।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৭৪-১৭৫।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১৮)
سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ أُلْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ» (1) (2) .

وهذا الوعيد الشديد لما ينشأ عن ترك هذا الواجب العظيم -الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر- من الفساد والشر، إذ كيف يصلح الناس، وكيف ينزجر الناس عن المعاصي، وكيف تعظم المعصية في قلوب الجاهلين، وكيف يقفون عند الحدود، وكيف يتورعون عن الشبهات، والعلماء يرونها فلا ينكرونها؟!

فما أعظم واجب العلماء؟ وما أشد خطر تقصيرهم في القيام به. (3)

--------------------------------------------

(1) ابن ماجه: المقدمة (264) .

(2) الحديث رواه أحمد وأصحاب السنن الأربعة والحاكم عن أبي هريرة، وعلم عليه السيوطي بالصحة، كشف الخفاء للعجلوني جـ2، ص352 مطبعة الفنون - حلب.

(3) انظر تفسير الإمام ابن كثير جـ2 ص315 طبعة الحكومة المجموع فيها تفسيري ابن كثير والبغوي، وانظر أيضا تفسير الشيخ عبد الرحمن السعدي ج2 ص148.
"যাকে কোনো ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে" (১) (২) ।

এই কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে এই মহান আবশ্যিক কর্তব্য—সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ—পরিত্যাগের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় ও অনিষ্টের প্রেক্ষাপটে। কেননা, আলেমগণ যদি চোখের সামনে অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ না করেন, তবে কীভাবে মানুষের সংশোধন হবে, কীভাবে মানুষ পাপাচার থেকে বিরত থাকবে, কীভাবে মূর্খদের অন্তরে গুনাহের ভয়াবহতা অনুভূত হবে, কীভাবে তারা শরীয়তের সীমারেখায় এসে থমকে দাঁড়াবে এবং কীভাবে তারা সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে?!

সুতরাং আলেমদের দায়িত্ব কতই না মহান! আর তা পালনে তাদের অবহেলার ঝুঁকি কতই না মারাত্মক। (৩)

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ: আল-মুকাদ্দিমাহ (২৬৪) ।

(২) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, সুনান চতুষ্টয়ের সংকলকগণ এবং হাকেম আবু হুরায়রা থেকে; সুয়ূতী একে সহিহ (صحيح) বলে চিহ্নিত করেছেন, আজলুনীর কাশফুল খাফা, ২য় খণ্ড, ৩৫২ পৃষ্ঠা, মাতবাআতুল ফুনুন - আলেপ্পো।

(৩) দেখুন ইমাম ইবনে কাসীরের তাফসির ২য় খণ্ড, ৩১৫ পৃষ্ঠা, সরকারি সংস্করণ যাতে ইবনে কাসীর ও বাগাভীর তাফসির একত্রে সংকলিত হয়েছে; আরও দেখুন শায়খ আব্দুর রহমান আস-সা’দীর তাফসির ২য় খণ্ড, ১৪৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الإمام أحمد رحمه الله في رسالة الصلاة ما نصه: (فرحم الله رجلًا رأى أخاه يسبق الإمام، فيركع أو يسجد معه، أو يصلي وحده فيسيء في صلاته، فينصحه ويأمره وينهاه، ولم يسكت عنه، فإن نصيحته واجبة عليه لازمة له، وسكوته عنه إثم ووزر، وإن الشيطان يريد أن تسكتوا عن الكلام فيما أمركم الله به، وأن تدعوا التعاون على البر والتقوى الذي أوصاكم الله به، والنصيحة التي عليكم بعضكم لبعض، لتكونوا مأثومين مأزورين، وأن يضمحل الدين ويذهب، وأن لا تحيوا سنة ولا تميتوا بدعة، فأطيعوا الله بما أمركم به من التناصح والتعاون على البر والتقوى، ولا تطيعوا الشيطان؛ فإن الشيطان لكم عدو مبين، بذلك أخبركم الله عز وجل فقال تعالى: {إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا} (1) وقال تعالى: {يَابَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ} (2) .

--------------------------------------------

(1) سورة فاطر آية: 6.

(2) سورة الأعراف آية: 27.
ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর নামাজ বিষয়ক পত্রে (রিসালাত আস-সালাত) যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: (আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে তার কোনো ভাইকে ইমামের আগে বেড়ে যেতে দেখল—ফলে সে তার সাথে (ইমামের আগে) রুকু বা সিজদা করে—অথবা সে একাকী নামাজ পড়ছে এবং তার নামাজে ভুল করছে; এমতাবস্থায় সে তাকে নসিহত করে এবং তাকে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করে, আর তার ব্যাপারে চুপ থাকে না। কেননা, তাকে নসিহত করা তার জন্য আবশ্যক ও অপরিহার্য, আর তার ব্যাপারে নীরব থাকা হলো পাপ ও গুনাহ। নিশ্চয়ই শয়তান চায় যে, আল্লাহ তোমাদের যা আদেশ করেছেন সেই কথা বলা থেকে তোমরা বিরত থাকো এবং নেকি ও তাকওয়ার কাজে একে অপরের সহযোগিতা করা ছেড়ে দাও যা আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে অপরের প্রতি নসিহত করা বর্জন করো; যাতে তোমরা পাপী ও গুনাহগার হও এবং দ্বীন মিটে যায় ও বিলীন হয়ে যায়, আর যাতে তোমরা কোনো সুন্নাহ (سنة) পুনরুজ্জীবিত না করো এবং কোনো বিদআত (بدعة) নির্মূল না করো। অতএব আল্লাহ তোমাদের পরস্পর নসিহত এবং নেকি ও তাকওয়ার কাজে একে অপরের সহযোগিতার যে নির্দেশ দিয়েছেন সে বিষয়ে তাঁর আনুগত্য করো এবং শয়তানের আনুগত্য করো না; কারণ শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে বিষয়ে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তোমাদের অবহিত করে বলেছেন: {নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো} (১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদের প্রলুব্ধ না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল} (২)।)

--------------------------------------------

(1) সূরা ফাতির আয়াত: ৬।

(2) সূরা আল-আরাফ আয়াত: ২৭।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২০)
واعلموا أنه ما جاء النقص إلا من المنسوبين إلى الفضل، المكبرين في الجماعات فيمن بالمشرق والمغرب من أهل الإسلام؛ لسكوت أهل العلم والفقه والبصر عنهم، وتركهم ما لزمهم من النصيحة، والتعليم، والأدب، والأمر، والنهي، والإنكار، والتغيير، فلم يروا آمرًا ولا ناهيًا، ولا ناصحًا، ولا مؤدبًا، ولا معلمًا، ولا منكرًا ولا مغيّرًا، إلا ما شاء الله، فجرى أهل الجهالة على المسابقة للإمام، وجرى معهم كثير ممن ينسب إلى العلم والفقه والبصر والنظر استخفافًا منهم بالصلاة.

এবং জেনে রাখুন যে, বিচ্যুতি কেবল তাদের মাধ্যমেই এসেছে যারা মর্যাদাবান হিসেবে পরিচিত এবং পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলিম জামাতসমূহের মধ্যে প্রভাবশালী; এর কারণ হলো তাদের বিষয়ে ইলম, ফিকহ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের নীরবতা এবং নসিহত, শিক্ষা, শিষ্টাচার, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও তা পরিবর্তনের মতো তাদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক দায়িত্বসমূহ বর্জন করা। ফলে তারা আল্লাহ যা চেয়েছেন তা ব্যতীত কোনো আদেশকারী, নিষেধকারী, নসিহতকারী, শিষ্টাচার শিক্ষক, শিক্ষাদানকারী, প্রতিবাদকারী বা পরিবর্তনকারী দেখতে পায়নি। এর ফলে মূর্খ লোকেরা ইমামের অগ্রবর্তী হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং তাদের সাথে ইলম, ফিকহ, দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত এমন অনেক ব্যক্তিও শামিল হয়ে যায় যারা সালাতকে অবজ্ঞা করে।

(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২১)
والعجب كل العجب من اقتداء أهل العلم بأهل الجهل ومجراهم معهم في المسابقة للإمام في الركوع والسجود، والرفع والخفض، وفعله معهم، وتركهم ما حملوا وسمعوا من الفقهاء والعلماء، وإنما الحق الواجب على العلماء أن يعلموا الجاهل وينصحوه، ويأخذوا على يده، فهم فيما تركوا آثمون عصاة خائنون، لجريانهم معهم في ذلك وفي كثير من مساويهم: من الغش والنميمة، ومَحْقَرة الفقراء والمستضعفين، وغير ذلك من المعاصي مما يكثر تعداده، وجاء الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «وَيْلٌ لِلْعَالِمِ مِنَ الْجَاهِلِ حَيْثُ لَا يُعَلِّمُهُ» فتعليم الجاهل واجب على العالم، لازم له؛ لأنه لا يكون الويل للعالم من الجاهل حيث لا يعلمه من تطوع، لأن الله لا يؤاخذ على ترك التطوع، وإنما يؤاخذ على ترك الفرائض. اهـ (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر رسالة الصلاة للإمام أحمد ص110 -111، مطبعة الإمام ومعها رسالتان.
চরম বিস্ময়ের বিষয় হলো আলেম সমাজের পক্ষ থেকে অজ্ঞ ব্যক্তিদের অনুসরণ করা এবং ইমামের আগে রুকু ও সিজদা করা এবং উঠা ও বসার প্রতিযোগিতায় তাদের সাথে শামিল হওয়া। তারা ফকিহ ও আলেমদের নিকট হতে যা শিক্ষালাভ করেছে এবং শ্রবণ করেছে তা বর্জন করে তাদের সাথে এই কার্যে লিপ্ত হয়। অথচ আলেমদের ওপর আবশ্যিক (واجب) কর্তব্য হলো তারা অজ্ঞদের শিক্ষা দেবেন, নসিহত করবেন এবং তাদের হাত ধরে (ভুল থেকে) ফিরিয়ে আনবেন। এই দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে তারা পাপী, অবাধ্য এবং বিশ্বাসভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবেন; যেহেতু তারা তাদের সাথে এই সকল কার্যে এবং তাদের বহু মন্দ অভ্যাসে লিপ্ত হন, যথা: প্রতারণা, পরনিন্দা এবং দরিদ্র ও অসহায়দের তুচ্ছজ্ঞান করা—যা সংখ্যায় অনেক। নবী (সা.) থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “ধ্বংস সেই আলেমের জন্য যে অজ্ঞ ব্যক্তিকে শিক্ষা দেয় না।” সুতরাং অজ্ঞকে শিক্ষা দেওয়া আলেমের ওপর আবশ্যিক (واجب) ও অপরিহার্য; কারণ নফল (تطوع) কাজ বর্জনের জন্য আলেমের প্রতি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি আসতে পারে না, যেহেতু আল্লাহ নফল (تطوع) বর্জনের জন্য পাকড়াও করেন না, বরং তিনি কেবল ফরজ (الفرائض) বর্জনের জন্যই পাকড়াও করেন। সমাপ্ত (اهـ) (১) .

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইমাম আহমদের রিসালাতুস সালাত, পৃষ্ঠা ১১০-১১১, মাতবাআতুল ইমাম, এবং এর সাথে আরও দুটি রিসালাহ (পুস্তিকা) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌وظيفة المحتسب في الإسلام

المحتسب في الإسلام وظيفته الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، مما ليس من خصائص الولاة والقضاة وأهل الديوان ونحوهم، فعليه أن يأمر العامة بالصلوات الخمس في مواقيتها، ويعاقب من لم يصلّ بالضرب والحبس لا القتل، وعليه أن يتعهد الأئمة والمؤذنين، فمن فرط منهم فيما يجب من حقوق الإمامة، أو خرج عن الأذان المشروع ألزمه بذلك، واستعان فيما يعجز عنه بكل مطاع يعين في ذلك، ويأمر المحتسب بالجمع والجماعات، ويصدق الحديث وأداء الأمانات، وينهى المحتسب عن المنكرات: من الكذب والخيانة، وما يدخل في ذلك من تطفيف المكاييل والميزان، والغش في المعاملات والصناعات، ومن العقود المحرمة، مثل: عقود الربا والميسر، ومثل: بيع الغرر والملامسة والمنابذة والنجس، وربا النسيئة وربا الفضل، وسائر أنواع التدليس، وينهى عن المعاملات الربوية، سواء كانت ثنائية أو ثلاثية، إذا كان المقصود بها أخذ دراهم بدراهم أكثر منها إلى أجل، وينهى أيضا عن تلقي السلع وعن الاحتكار وغير ذلك (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر مجموع الفتاوى لشيخ الإسلام ابن تيمية ج28 ص69 -75.
ইসলামে মুহতাসিবের দায়িত্ব

ইসলামে মুহতাসিবের কাজ হলো সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ করা, যা শাসক, বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং অনুরূপ ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত নয়। সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া তার দায়িত্ব। যে নামাজ পড়ে না তাকে প্রহার বা কারাদণ্ডের মাধ্যমে শাস্তি দেবেন, তবে প্রাণদণ্ড নয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের তত্ত্বাবধান করাও তার কাজ। তাদের মধ্যে কেউ যদি ইমামতির আবশ্যকীয় হকের ক্ষেত্রে অবহেলা করেন কিংবা শরয়ি আজানের পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হন, তবে মুহতাসিব তাকে তা পালনে বাধ্য করবেন। যেসব বিষয়ে মুহতাসিবের সক্ষমতা থাকবে না, সেখানে তিনি আদেশ পালনে সহায়ক এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাহায্য নেবেন। মুহতাসিব জুমুআ ও জামাতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেবেন। তিনি সত্য কথা বলা এবং আমানত আদায়ের নির্দেশ দেবেন। মুহতাসিব মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবেন; যেমন—মিথ্যাচার ও খিয়ানত এবং এর অন্তর্ভুক্ত মাপে ও ওজনে কম দেওয়া, লেনদেন ও শিল্পকারখানায় প্রতারণা এবং নিষিদ্ধ চুক্তিসমূহ; যেমন: সুদ ও জুয়ার চুক্তি। এছাড়া অনিশ্চিত ক্রয়-বিক্রয় (بيع الغرر), স্পর্শের মাধ্যমে বিক্রয় (الملامسة), বস্তু নিক্ষেপের মাধ্যমে বিক্রয় (المنابذة), দালালের মাধ্যমে ধোঁকা দিয়ে দাম বাড়ানো (النجس), বাকি বা বিলম্বে পরিশোধের সুদ (ربا النسيئة), হাতে হাতে অসম বিনিময়ের সুদ (ربا الفضل) এবং যাবতীয় প্রতারণা বা ত্রুটি গোপন করা (تدليس) থেকেও তিনি নিষেধ করবেন। তিনি সুদি লেনদেন থেকে নিষেধ করবেন, তা দ্বিপাক্ষিক হোক বা ত্রিপাক্ষিক, যখন এর উদ্দেশ্য হয় নির্দিষ্ট মেয়াদের বিনিময়ে দিরহামের বদলে অতিরিক্ত দিরহাম গ্রহণ করা। এছাড়া তিনি বাজারে পৌঁছানোর আগেই পণ্য কিনে নেওয়া এবং মজুতদারি করা ইত্যাদি থেকেও নিষেধ করবেন (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৮শ খণ্ড, পৃ. ৬৯-৭৫।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২৩)
مسألة:

شَرْط سقوط الحرج عن الباقين، إذا قام بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من يكفي هو أن يكون سكوته لعلمه أن هذا الواجب قد قام به من يكفي.

قال ابن النحاس في كتابه "تنبيه الغافلين ص15 -16": "واعلم أن مقتضى فرض الكفاية، أنه إذا قام به البعض حاز الأجر الجزيل من الله تعالى، وسقط الحرج عن الباقين، ولكن يشترط في سقوط الحرج هنا أن يكون الساكت عن الأمر والنهي إنما سكت لعلمه بقيام من قام عنه بالغرض، فإن سكت ولم يعلم بقيامه، فالظاهر -والله أعلم- أنه لا يسقط عنه الحرج؛ لأنه أقدم على ترك واجب عمدًا، كما لو أقدم على الفطر في رمضان؛ ظانًّا منه النهار باقٍ وكان ليلًا، أو جامع ظانًّا أن الفجر قد طلع وكان ليلًا، فإنه يأثم بذلك. اهـ.
মাসআলা:

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্ব যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক পালন করে, তখন অবশিষ্টদের ওপর থেকে দায়মুক্তির শর্ত হলো—তাদের নীরব থাকাটি হতে হবে এই অবগতির ভিত্তিতে যে, এই আবশ্যকীয় (واجب) দায়িত্বটি পর্যাপ্ত লোক দ্বারা পালিত হচ্ছে।

ইবনুন নাহাস তাঁর 'তানবিহুল গাফিলিন' গ্রন্থে (পৃ. ১৫-১৬) উল্লেখ করেছেন: "জেনে রাখুন, সমষ্টিগত আবশ্যিক বিধানের (فرض الكفاية) দাবি হলো, যখন কেউ তা পালন করে সে আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে মহান প্রতিদান লাভ করে এবং অবশিষ্টদের ওপর থেকে দায়ভার মুক্ত হয়। তবে এক্ষেত্রে দায়মুক্তির জন্য শর্ত হলো, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ থেকে যে ব্যক্তি নীরব রয়েছে, সে যেন কেবল এই অবগতির ভিত্তিতেই নীরব থাকে যে, তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ এই উদ্দেশ্যটি সম্পন্ন করছে। কিন্তু যদি সে এই উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার বিষয়টি না জেনেই নীরব থাকে, তবে বাহ্যিক দৃষ্টিতে—আল্লাহই ভালো জানেন—তার দায়মুক্তি ঘটবে না; কারণ সে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি আবশ্যকীয় (واجب) বিধান বর্জনে অগ্রসর হয়েছে। যেমন কেউ যদি রমজানে এই মনে করে ইফতার করে যে এখনও দিন বাকি আছে অথচ তখন রাত ছিল, অথবা এই মনে করে সহবাস করে যে ফজর হয়ে গেছে অথচ তখন রাত ছিল, তবে সে এর কারণে গুনাহগার হবে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২৪)
مسألة:

الأصل في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر أنه فرض كفاية ولكنه يصير فرض عين في حالتين:

الأولى: أن لا يعلم به إلا هو. الثانية: أن لا يتمكن من إزالته إلا هو. قال أبو زكريا النووي رحمه الله في شرح صحيح مسلم: "وقد يتعين الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، يعني يصير فرض عين، كما إذا كان في موضع لا يعلم به إلا هو، أو لا يتمكن من إزالته إلا هو، وكمن يرى زوجته أو غلامه أو ولده على منكر أو تقصير في المعروف" (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر تنبيه الغافلين لابن النحاس ص 15.
মাসআলা:

সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো এটি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), তবে দুটি অবস্থায় এটি ফরজে আইন (فرض عين) হয়ে যায়:

প্রথমত: যখন তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এ সম্পর্কে অবগত না থাকেন। দ্বিতীয়ত: যখন তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা অপসারিত করতে সক্ষম না হন। আবু যাকারিয়া আন-নববী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) শরহে সহীহ মুসলিম-এ বলেছেন: "কখনো সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ করা সুনির্দিষ্টভাবে আবশ্যক হয়ে যায়, অর্থাৎ তা ফরজে আইন (فرض عين) হয়ে পড়ে; যেমন কোনো ব্যক্তি যদি এমন স্থানে থাকেন যেখানে তিনি ব্যতীত আর কেউ বিষয়টি জানেন না, অথবা তিনি ব্যতীত আর কেউ তা দূর করতে সক্ষম নন। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রী, ভৃত্য বা সন্তানকে কোনো গর্হিত কাজ (منكر) করতে দেখে অথবা সৎকাজে অবহেলা করতে দেখে (তার ক্ষেত্রেও এটি ফরজে আইন)।" (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আন-নাহহাস রচিত তানবিহুল গাফিলিন দেখুন, পৃষ্ঠা ১৫।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২৫)
فائدة:

القائم والمؤدي لفرض الكفاية، له ميزة على القائم بفرض العين، تلك هي أن القائم بفرض العين أسقط الحرج عن نفسه فقط، والقائم بفرض الكفاية أسقط الحرج عن نفسه وعن المسلمين وفرض العين إذا ترك.

وقد قال اختص هو بالإثم، وفرض الكفاية إذا ترك أثم الجميع.

قال ابن النحاس في كتابه "تنبيه الغافلين" ص 17-18 وقد قال النووي رحمه الله في "زوايد الروضة": للقائم بفرض الكفاية مزية على القائم بفرض العين، من حيث إنه أسقط الحرج عن نفسه وعن المسلمين

وقد قال إمام الحرمين رحمه الله في "الغياث": "والذي أراه أن القيام بفرض الكفاية أفضل من فرض العين؛ لأنه لو ترك المتعين لاختص هو بالإثم، ولو فعله اختص بسقوط الفرض، وفرض الكفاية لو ترك أَثِمَ الجميع، ولو فعله سقط الحرج عن الجميع، ففاعله ساع في صيانة الأمة عن الإثم، ولا يشك في رجحان من حل محل المسلمين أجمعين في القيام بمهمة من مهمات الدين والله أعلم" اهـ.
উপকারিতা:

ফরজ-এ-কেফায়া (فرض الكفاية) পালনকারী ও আদায়কারীর ফরজ-এ-আইন (فرض العين) পালনকারীর ওপর একটি শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। সেটি হলো, ফরজ-এ-আইন পালনকারী কেবল নিজের ওপর থেকেই গুনাহের দায়ভার (الحرج) দূর করে, আর ফরজ-এ-কেফায়া পালনকারী নিজের এবং সকল মুসলিমের ওপর থেকে গুনাহের দায়ভার (الحرج) দূর করে। ফরজ-এ-আইন যদি বর্জন করা হয়—

তবে বলা হয়েছে যে, সে একাই পাপে (إثم) লিপ্ত হয়, কিন্তু ফরজ-এ-কেফায়া যদি বর্জন করা হয় তবে সকলে পাপে (إثم) লিপ্ত হয়।

ইবনুন নাহহাস তার "তানবিহুল গাফিলিন" কিতাবের ১৭-১৮ পৃষ্ঠায় বলেন, ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) "জাওয়াইদ আর-রওজাহ" গ্রন্থে বলেছেন: ফরজ-এ-কেফায়া (فرض الكفاية) পালনকারীর জন্য ফরজ-এ-আইন (فرض العين) পালনকারীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে এই দিক থেকে যে, সে নিজের এবং সকল মুসলিমের ওপর থেকে গুনাহের দায়ভার (الحرج) দূর করে।

ইমামুল হারামাইন (রহিমাহুল্লাহ) "আল-গিয়াসি" গ্রন্থে বলেছেন: "আমি যা মনে করি তা হলো, ফরজ-এ-কেফায়া (فرض الكفاية) পালন করা ফরজ-এ-আইন (فرض العين) পালনের চেয়ে উত্তম; কারণ যদি নির্ধারিত ফরজ (المتعين) বর্জন করা হয় তবে কেবল ব্যক্তিই পাপে (إثم) লিপ্ত হয়, আর সে তা পালন করলে কেবল তার ওপর থেকেই আবশ্যকতা রহিত হয়। পক্ষান্তরে ফরজ-এ-কেফায়া বর্জিত হলে সকলেই পাপে (إثم) লিপ্ত হয়, আর তা পালন করলে সকলের ওপর থেকেই দায়ভার (الحرج) অপসারিত হয়। সুতরাং এর পালনকারী উম্মতকে গুনাহ থেকে রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। আর দ্বীনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আঞ্জাম দেওয়ার ক্ষেত্রে যিনি সকল মুসলিমের স্থলাভিষিক্ত হন, তার শ্রেষ্ঠত্বের (رجحان) ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২৬)
أدلة وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر

أ -‌‌ الأدلة التي تأمر بأداء هذا الواجب

الأدلة في وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والدعوة إلى الله تعالى، في كتاب الله تعالى، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم كثيرة ومتنوعة، فمنها الأمر بالقيام بهذا الواجب وأدائه، ومنها الثناء عل أهله، ومنها التوبيخ والوعيد لمن تركه، ومنها الذم والعيب على من تركه.

أ - فمن الأدلة التي تأمر بأداء هذا الواجب ما يلي:

1- قول الله تعالى:

{وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (1) .

2- حديث أبي سعيد الخدري

أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلَسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» (2) (3) .

3- وفي الصحيحين عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران آية: 104.

(2) مسلم: الإيمان (49) ، والترمذي: الفتن (2172) ، والنسائي: الإيمان وشرائعه (5008) ، وابن ماجه: إقامة الصلاة والسنة فيها (1275) ، وأحمد (3 / 49) .

(3) الحديث رواه مسلم وهو في الأربعين النووية وقد سبق.
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ (منكر) নিষেধ করার আবশ্যকতা (وجوب) সংক্রান্ত দলীলসমূহ

ক -‌‌ এই ওয়াজিব (واجب) পালনের নির্দেশ সম্বলিত দলীলসমূহ

মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ-তে সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ (منكر) নিষেধ এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার আবশ্যকতা (وجوب) সংক্রান্ত দলীলসমূহ অসংখ্য ও বৈচিত্র্যময়। সেগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে এই ওয়াজিব (واجب) পালনের নির্দেশ ও তা আদায়ের ব্যাপারে, কিছু রয়েছে এর অনুসারীদের প্রশংসামূলক, কিছু রয়েছে যারা এটি বর্জন করে তাদের প্রতি ধমকি ও কঠোর সতর্কবাণীমূলক, আর কিছু রয়েছে যারা এটি বর্জন করে তাদের নিন্দা ও দোষ-ত্রুটি বর্ণনা সংক্রান্ত।

ক - এই ওয়াজিব (واجب) পালনের নির্দেশ প্রদানকারী দলীলগুলোর মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্যতম:

১- মহান আল্লাহর বাণী:

{আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।} (১) ।

২- আবু সাঈদ আল-খুদরী বর্ণিত হাদিস

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অসৎ কাজ (منكر) দেখে, তবে সে যেন তা তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়। যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন তার মুখ (জিহ্বা) দিয়ে তা পরিবর্তন করে। আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন তার অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে); আর এটিই ঈমানের দুর্বলতম স্তর।» (২) (৩) ।

৩- এবং সহীহাইন-এ আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০৪।

(২) মুসলিম: আল-ঈমান (৪৯), তিরমিযী: আল-ফিতান (২১৭২), নাসাঈ: আল-ঈমান ওয়া শারায়িউহু (৫০০৮), ইবনে মাজাহ: ইকামাতুস সালাত ওয়াস সুন্নাতু ফীহা (১২৭৫), আহমাদ (৩/৪৯)।

(৩) হাদিসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং এটি আরবাঈন আন-নববী গ্রন্থে রয়েছে এবং তা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২৭)
عن النبي صلى الله عليه وسلم «إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ فِي الطُّرُقَاتِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا لَنَا بُدٌّ مِنْ مَجَالِسِنَا نَتَحَدَّثُ فِيهِ، قَالَ: فَإِذَا أَبَيْتُمْ إِلَّا الْمَجْلِسَ فَاعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ، قَالُوا: مَا حَقُّهُ؟ قَالَ: غَضُّ الْبَصَرِ، وَكَفُّ الْأَذَى، وَرَدُّ السَّلَامِ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ» (1) .

فهذه الأدلة صريحة في وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والأمر بأداء هذا الواجب والقيام به.

--------------------------------------------

(1) البخاري: المظالم والغصب (2465) ، ومسلم: اللِّبَاسِ وَالزِّينَةِ (2121) ، وأبو داود: الأدب (4815) ، وأحمد (3 / 36) .
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা রাস্তার ধারে বসা থেকে বিরত থাকো।» তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন: «হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মজলিসগুলোতে বসা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই, যেখানে আমরা কথাবার্তা বলি।» তিনি বললেন: «যদি তোমরা সেখানে বসতেই চাও, তবে রাস্তার হক (অধিকার) প্রদান করো।» তাঁরা বললেন: «এর হক কী?» তিনি বললেন: «দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের উত্তর প্রদান করা এবং সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করা।» (১) .

এই দলিলসমূহ সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) আবশ্যকতা (وجوب) এবং এই ওয়াজিব (الواجب) পালন ও তা সম্পাদন করার নির্দেশের ব্যাপারে সুস্পষ্ট।

--------------------------------------------

(১) বুখারী: আল-মাজালিম ওয়াল গাসাব (২৪৬৫), মুসলিম: আল-লিবাস ওয়াজ জিনাহ (২১২১), আবু দাউদ: আল-আদাব (৪৮১৫) এবং আহমাদ (৩/৩৬)।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২৮)
ب -‌‌ الأدلة التي فيها الثناء على أهله والمدح لمن فعله

ومن الأدلة التي فيها الثناء على أهله والمدح لمن فعله ما يلي:

1- قوله تعالى:

{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (1) .

2- قوله تعالى:

{وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (2) .

3- قوله تعالى:

{مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ} {يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَأُولَئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ} (3) .

4- قوله تعالى:

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران آية: 110.

(2) سورة التوبة آية: 71.

(3) سورة آل عمران آية: 113-114.
খ -‌‌ সেই সকল প্রমাণাদি যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রশংসা এবং যারা তা সম্পাদন করে তাদের গুণগান বর্ণিত হয়েছে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রশংসা এবং যারা তা সম্পাদন করে তাদের গুণগান সম্বলিত প্রমাণাদির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- মহান আল্লাহর বাণী:

{তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভূত করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে (منكر) বাধা প্রদান করো এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো।} (১) ।

২- মহান আল্লাহর বাণী:

{আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজে (منكر) বাধা প্রদান করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। অচিরেই আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (২) ।

৩- মহান আল্লাহর বাণী:

{আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন একদল লোক আছে যারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তারা রাতের বেলা আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তারা সিজদা করে।} {তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজে (منكر) বাধা প্রদান করে এবং কল্যাণমূলক কাজে দ্রুত ধাবিত হয়; তারাই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত।} (৩) ।

৪- মহান আল্লাহর বাণী:

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০।

(২) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭১।

(৩) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১৩-১১৪।
(খণ্ড: ১) আল কাউলুল বাইয়িনুল আজহার ফী আদ দাওয়াতি ইলাল্লাহি ওয়াল আমরু বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার (পৃষ্ঠা: ২৯)
{لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا} (1) .

--------------------------------------------

(1) سورة النساء آية: 114.
{তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই; তবে যে ব্যক্তি দান-সদকা, সৎকাজ কিংবা মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয়, তার কথা স্বতন্ত্র। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এসব করবে, আমি তাকে মহা পুরস্কার দান করব।} (১) ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৪।