(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الحكمة القسم: كتب عامة
الكتاب: الحكمة
المؤلف: ناصر بن سليمان العمر
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 75
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 88
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-হিকমাহ বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
বই: আল-হিকমাহ
লেখক: নাসির বিন সুলাইমান আল-উমর
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৭৫
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৮
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
الحكمة
الشيخ ناصر بن سليمان العمر
إلى متى عدم الحكمة؟
عندما ألقيت محاضرة (الحكمة) في الرياض، كان أول سؤال يرد إلي بعد الانتهاء من المحاضرة: (إلى متى الحكمة) ؟ فازدادت قناعتي أن هذه الصحوة تحتاج إلى جهود مضاعفة لتوجيهها إلى المنهج الشرعي، منهج أهل السنة والجماعة، قبل أن تزل العقول والأقدام.
وإذا كانت بذلت جهود مباركة -ولا تزال تبذل- من أجل عودة الناس إلى دينهم وعقيدتهم، وحيث حققت هذه الجهود -بعد توفيق الله وبتوفيق منه سبحانه وتعالى تلك الآثار الإيجابية التي نراها من عودة الأمة إلى الله جماعات وآحادا، رجالًا وركبانًا، فإن واجب العلماء وطلاب العلم والدعاة أن يوجهوا جل اهتمامهم لتربية هذه الجموع، ويبينوا لهم الطريق الصحيح، لئلا تغرق السفينة بمن فيها، فإن العبرة ليست (بالكم) ! ولكن (بالكيف) !!.
ولذا رأيت أن من الحكمة طرح موضوع الحكمة بحكمة، وأسأل الله التوفيق والسداد وحسن القصد والمآل. المؤلف
প্রজ্ঞা (الحكمة)
শাইখ নাসির বিন সুলাইমান আল-উমর
কতকাল এই প্রজ্ঞাহীনতা (عدম الحكمة) চলবে?
যখন আমি রিয়াদে 'প্রজ্ঞা' (الحكمة) শীর্ষক একটি বক্তৃতা প্রদান করি, তখন বক্তৃতা শেষ করার পর আমার নিকট আসা সর্বপ্রথম প্রশ্নটি ছিল: "কতকাল এই প্রজ্ঞা (الحكمة)?" এতে আমার এই দৃঢ় বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেল যে, এই জাগরণকে (الصحوة) শরয়ি মানহাজ (المنهج الشرعي) তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মানহাজের দিকে পরিচালিত করার জন্য দ্বিগুণ প্রচেষ্টার প্রয়োজন, যাতে বিবেক ও পদস্খলন ঘটার পূর্বেই তা সম্ভব হয়।
মানুষকে তাদের দীন ও আকিদার (عقيدة) দিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যদি মোবারক প্রচেষ্টা চালানো হয়ে থাকে—এবং যা এখনও অব্যাহত রয়েছে—এবং যেহেতু এই প্রচেষ্টাসমূহ আল্লাহর তৌফিকে সেই ইতিবাচক প্রভাবগুলো অর্জন করেছে যা আমরা উম্মাহর দলে দলে এবং ব্যক্তিগতভাবে (آحاد), পদব্রজে এবং আরোহী অবস্থায় আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মাঝে দেখতে পাচ্ছি; তাই আলেম সমাজ, ইলম অন্বেষণকারী এবং দায়ীগণের (الدعاة) একান্ত কর্তব্য হলো এই জনসমষ্টির তরবিয়তের (تربية) দিকে তাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ নিবদ্ধ করা এবং তাদের সামনে সঠিক পথটি স্পষ্ট করে দেওয়া, যাতে আরোহীসহ এই জাহাজটি ডুবে না যায়। কেননা, আধিক্য বা পরিমাণ (الكم) ধর্তব্য নয়, বরং গুণগত মানই (الكيف) প্রকৃত বিবেচ্য বিষয়!!
তাই আমি প্রজ্ঞার (الحكمة) সাথেই প্রজ্ঞার বিষয়টি উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছি। আমি আল্লাহর নিকট তৌফিক (التوفيق), সঠিক পথনির্দেশ (السداد) এবং উত্তম উদ্দেশ্য ও পরিণাম কামনা করছি। — লেখক।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
تقديمإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102) .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1) .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (الأحزاب: 70، 71) .
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শনকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} (আলে ইমরান: ১০২)।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন (বিচ্ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} (নিসা: ১)।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো} {তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} (আহযাব: ৭০, ৭১)।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
قال الله -جل وعلا-: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} (البقرة: 269) . وقال -سبحانه-: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (النحل: من الآية 125) .
فلما للحكمة من مكانة عظيمة من الكتاب والسنة، ولحاجة الأمة حاضرًا ومستقبلًا إليها في كل شؤونها، ولخفاء معنى الحكمة على كثير من المسلمين، فقد قمت ببحث هذا الموضوع في ضوء القرآن الكريم، مسترشدًا بآياته، مستشهدًا بقصصه، متأملًا لأوامره ونواهيه، مع النهل من معين السنة في فهم معنى الحكمة؛ لأن السنة هي المصدر الثاني من مصادر تفسير القرآن الكريم وفهمه.
كما أفدت من كلام السلف من الصحابة ومن بعدهم، توضيحًا لمعاني الحكمة ومدلولاتها، وقد بذلت جهدي، وحرصت على ضرب بعض الأمثلة من الواقع المعاصر تقريبًا للفهم، وتحقيقًا للقصد.
وقد عشت مع هذا الموضوع مدة طويلة متأملًا وباحثًا ومحققًا، ولم أقدم على تدوينه ونشره إلا بعد قناعتي بأنه قد استوى على سوقه، مع حاجة الناس إليه.
আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ইরশাদ করেছেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করেন; আর যাকে প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করা হয়, তাকে নিশ্চয়ই প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে। আর বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।} (আল-বাকারা: ২৬৯)। এবং তিনি -সুবহানাহু- বলেন: {তোমার রবের পথে প্রজ্ঞা (الحكمة) ও উত্তম উপদেশের (الموعظة الحسنة) মাধ্যমে আহ্বান জানাও এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সেই পদ্ধতিতে যা উৎকৃষ্টতম।} (আন-নাহল: ১২৫ এর অংশবিশেষ)।
যেহেতু কুরআন ও সুন্নাহতে প্রজ্ঞার (الحكمة) সুমহান মর্যাদা রয়েছে, বর্তমান ও ভবিষ্যতে জাতির সকল ক্ষেত্রে এর আবশ্যকতা বিদ্যমান এবং অনেক মুসলিমের কাছে প্রজ্ঞার (الحكمة) মর্মার্থ অস্পষ্ট, তাই আমি পবিত্র কুরআনের আলোকে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছি। এক্ষেত্রে আমি কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছি, এর ঘটনাসমূহকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছি এবং এর আদেশ ও নিষেধসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি। সেই সাথে প্রজ্ঞার (الحكمة) অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে সুন্নাহর প্রবহমান ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করেছি; কারণ সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের তাফসির ও তা অনুধাবনের দ্বিতীয় উৎস।
অনুরূপভাবে আমি সাহাবীগণ ও তাঁদের পরবর্তী সালাফদের (السلف) বক্তব্য থেকেও প্রজ্ঞার (الحكمة) অর্থ ও তাৎপর্যসমূহ স্পষ্ট করার জন্য সাহায্য নিয়েছি। আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং বিষয়টি বোধগম্য করার ও মূল উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে সমকালীন বাস্তব উদাহরণ পেশ করার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি।
আমি দীর্ঘকাল এই বিষয়টি নিয়ে গভীর চিন্তা, অনুসন্ধান ও গবেষণায় (محققًا) নিমগ্ন ছিলাম। যখন আমি নিশ্চিত হলাম যে বিষয়টি পূর্ণতা লাভ করেছে এবং মানুষের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কেবল তখনই আমি এটি লিপিবদ্ধ ও প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
أسأل الله أن يحسن لنا المقاصد والنيات، وأن يوفقنا للحكمة في أقوالنا وأفعالنا، ونياتنا، إنه نعم المولى ونعم النصير.
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের উদ্দেশ্য ও নিয়তসমূহকে সংশোধন করে দেন এবং আমাদের কথা, কাজ ও সংকল্পে আমাদের প্রজ্ঞা দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أهمية الموضوع
تظهر
أهمية موضوع الحكمة من خلال التأمل في العناصر التالية:
1- أن لفظ "الحكيم" ورد في القرآن الكريم عشرات المرات (1) .
2- أن "الحكيم" اسم من أسماء الله -تعالى-.
3- أن الله قد أمر بالحكمة، فقال -سبحانه-: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} (النحل: من الآية 125) .
4- أن الله أثنى على صاحب الحكمة، فقال: {وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} (البقرة: من الآية 269) ، وامتن على لقمان حيث آتاه الحكمة، فقال: {وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ أَنِ اشْكُرْ لِلَّهِ} (لقمان: من الآية 12) .
5- أن الله نسب الحكمة إلى نفسه، وجعل إيتاءها من عنده، فقال: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ} (البقرة: من الآية 269) ، وقال: {وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ} (لقمان: من الآية 12) . وقال: {وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا} (يوسف: من الآية 22) ، وقال: {وَقَتَلَ دَاوُدُ جَالُوتَ وَآتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ} (البقرة: من الآية 251) إلى غير ذلك من الآيات الكثيرة.
--------------------------------------------
বিষয়ের গুরুত্ব
নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনার মাধ্যমে
হিকমতের বিষয়ের গুরুত্ব ফুটে ওঠে:
১- ‘আল-হাকিম’ শব্দটি পবিত্র কুরআনে কয়েক ডজন বার (১) বর্ণিত হয়েছে।
২- ‘আল-হাকিম’ মহান আল্লাহ তাআলার নামসমূহের একটি নাম।
৩- আল্লাহ তাআলা হিকমতের নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি—পবিত্রতা তাঁরই প্রাপ্য—বলেছেন: {তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো} (আন-নাহল: ১২৫ আয়াতাংশ)।
৪- আল্লাহ তাআলা হিকমতের অধিকারীর প্রশংসা করেছেন, তিনি বলেছেন: {যাকে হিকমত দান করা হয়েছে, তাকে মূলত প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে} (আল-বাকারাহ: ২৬৯ আয়াতাংশ); এবং তিনি লোকমানের প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন যেহেতু তিনি তাকে হিকমত দান করেছেন, তিনি বলেছেন: {আমি অবশ্যই লোকমানকে হিকমত দান করেছিলাম এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} (লোকমান: ১২ আয়াতাংশ)।
৫- আল্লাহ তাআলা হিকমতকে নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং তা প্রদান করাকে তাঁর পক্ষ থেকে সাব্যস্ত করেছেন; তিনি বলেছেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত দান করেন} (আল-বাকারাহ: ২৬৯ আয়াতাংশ), আরও বলেছেন: {আমি অবশ্যই লোকমানকে হিকমত দান করেছিলাম} (লোকমান: ১২ আয়াতাংশ)। আরও বলেছেন: {সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলো, তখন আমি তাকে বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান দান করলাম} (ইউসুফ: ২২ আয়াতাংশ), আরও বলেছেন: {আর দাউদ জালুতকে হত্যা করল এবং আল্লাহ তাকে রাজত্ব ও হিকমত দান করলেন} (আল-বাকারাহ: ২৫১ আয়াতাংশ) —এরূপ আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
6- أن الحكمة، هي: الفقه في دين الله، كما فسرها كثير من السلف، والرسول صلى الله عليه وسلم يقول: «من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين» (1) .
7- أن الحكمة ضالة المؤمن، متى وجدها فهو أحق بها.
8- أن الرسول صلى الله عليه وسلم دعا لابن عمه، عبد الله بن عباس رضي الله عنهما فقال: «اللهم علمه الحكمة» (2) .
9- أن مدار نجاح الدعوات على الحكمة.
10- الفهم الخاطئ لمعنى الحكمة من قبل كثير من الناس.
11- مداهنة الظالمين، وضياع الحق، والسكوت على الباطل في كثير من بلاد المسلمين باسم الحكمة.
12- أن الحكمة ظلمت من قبل الخاصة والعامة، فالخاصة وهم بعض صغار طلاب العلم، فمنهم من يدعيها لنفسه، وينسب أعماله إلى الحكمة، وقليل ما هم.
والعامة يصفون كل من أمرهم بخلاف ما هم عليه من هوى أو شهوة، وأنكر بدعهم وضلالاتهم، يسمونه بعدم الحكمة، كالتطرف والعجلة، ونحو ذلك مما يضاد الحكمة.
13- أن الصحوة الإسلامية في يقظتها المعاصرة أحوج ما تكون إلى الحكماء.
--------------------------------------------
৬- হিকমত হলো: আল্লাহর দীনের সঠিক গভীর জ্ঞান (الفقه), যেমনটি অনেক পূর্বসূরি (السلف) এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের গভীর জ্ঞান (الفقه) দান করেন» (১)।
৭- হিকমত হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, যেখানেই সে তা পায়, সে-ই তার অধিক হকদার।
৮- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর জন্য দুআ করে বলেছেন: «হে আল্লাহ! তাকে হিকমত শিক্ষা দিন» (২)।
৯- দাওয়াতের সফলতার মূল ভিত্তি হলো হিকমত।
১০- অনেক মানুষের মাঝে হিকমতের অর্থ সম্পর্কে ভুল ধারণা বিদ্যমান।
১১- হিকমতের নামে অনেক মুসলিম দেশে জালিমদের সাথে আপোষকামিতা (مداهنة), সত্যের অপচয় এবং বাতিলের ওপর নীরবতা পালন।
১২- হিকমত বিশেষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণির পক্ষ থেকে অবিচারের শিকার হয়েছে। বিশেষ শ্রেণি বলতে ইলমের কিছু স্বল্পজ্ঞানী শিক্ষার্থী; যাদের কেউ কেউ নিজের জন্য হিকমতের দাবি করে এবং নিজের কার্যাবলিকে হিকমতের দিকে সম্বন্ধ করে, যদিও তাদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।
আর সাধারণ মানুষ ওই প্রত্যেক ব্যক্তিকে হিকমতহীনতা, চরমপন্থা, অস্থিরতা এবং হিকমত পরিপন্থী এজাতীয় বিশেষণে বিশেষিত করে, যারা তাদের খেয়াল-খুশি বা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করে এবং তাদের বিদআত (بدعة) ও পথভ্রষ্টতা (ضلالة) প্রত্যাখ্যান করে।
১৩- সমকালীন ইসলামী জাগরণ হিকমতসম্পন্ন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রতি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
14- أن بعض المواقف والأعمال التي قامت بها بعض الجماعات الإسلامية، وبعض الدعاة الغيورين كانت تفتقر إلى الحكمة، كالدخول في معارك عسكرية مع الأنظمة، حتى وإن كانت كافرة (1) وقد جرت مثل هذه الأعمال على أمتنا عمومًا، وعلى الدعاة خصوصًا الويلات.
ومثل ذلك أسلوب الاغتيالات، أو إحراق أماكن الفساد في بلد لا يملك فيه المسلمون السلطة.
وكل ذلك بسبب عدم الحكمة الناشئ عن الجهل في فهم النصوص ودلالاتها.
ومن خلال ما سبق تتضح أهمية الحكمة، بل أهمية الحديث عنها في ضوء القرآن الكريم.
--------------------------------------------
১৪- কিছু ইসলামি দল এবং কিছু উদ্যমী দাঈর গৃহীত কিছু অবস্থান ও কর্মকাণ্ড ছিল প্রজ্ঞার পরিপন্থী; যেমন রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া, এমনকি তা কুফরি (كافرة) হলেও (১)। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে আমাদের উম্মাহর ওপর এবং বিশেষ করে দাঈদের ওপর চরম বিপর্যয় বয়ে এনেছে।
অনুরূপভাবে গুপ্তহত্যার পদ্ধতি অবলম্বন করা, কিংবা এমন কোনো দেশে পাপাচারের আড্ডাখানাগুলো পুড়িয়ে দেওয়া যেখানে মুসলিমদের হাতে শাসনক্ষমতা নেই।
আর এ সবকিছুর মূলে রয়েছে প্রজ্ঞার অভাব, যা উদ্ভূত হয়েছে শরয়ি মূল পাঠ (النصوص) এবং তার অর্থগত নির্দেশনা (دلالاتها) অনুধাবনের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা থেকে।
উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রজ্ঞার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়, বরং পবিত্র কুরআনের আলোকে এ বিষয়ে আলোচনার গুরুত্বও প্রতীয়মান হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
1-
المعنى اللغوي للحكمةقال ابن فارس: الحاء والكاف والميم أصل واحد، وهو: المنع، وأول ذلك الحكم، وهو المنع من الظلم، وسميت حكمة الدابة؛ لأنها تمنعها.
والحكمة هذا قياسها؛ لأنها تمنع من الجهل، والمحكم: المجرب المنسوب إلى الحكمة، قال طرفة:
ليت المحكم والموعوظ صوتكما
… تحت التراب إذا ما الباطل انكشفا
أراد بالمحكم الشيخ المنسوب إلى الحكمة (1) .
وقال ابن منظور:
قيل: الحكيم:
ذو الحكمة، والحكمة عبارة عن معرفة أفضل الأشياء بأفضل العلوم، ويقال لمن يحسن دقائق الصناعات ويتقنها: حكيم (2) .
وقال الجوهري:
الحكم: الحكمة من العلم.
وصاحب الحكمة: المتقن للأمور.
وقد حكم- بضم الكاف، أي: صار حكيما، قال النمر بن تولب:
وأبغض بغيضك بغضا رويدا
… إذا أنت حاولت أن تحكما
قال الأصمعي: أي: إذا حاولت أن تكون حكيما، والمحكم -بفتح الكاف- هو الشيخ المجرب، المنسوب إلى الحكمة (3) .
وقال في (تاج العروس) :
والحكمة -بالكسر- العدل في القضاء كالحكم، والحكمة العلم بحقائق الأشياء على ما هي عليه، والعمل بمقتضاها، ولهذا انقسمت إلى علمية وعملية، ويقال: هي هيئة القوة العقلية العلمية.
وقيل: الحكمة: إصابة الحق بالعلم والعمل.
--------------------------------------------
১-
'হিকমাহ' (الحكمة) শব্দের শাব্দিক অর্থইবনে ফারিস বলেন: 'হা', 'কাফ' এবং 'মিম' মূলত একটিই মূল অর্থ নির্দেশ করে, আর তা হলো: নিবারণ করা বা বাধা প্রদান করা (المنع)। এর প্রথম প্রয়োগ হলো 'আল-হুকম' (الحكم), যার অর্থ হলো জুলুম থেকে নিবারণ করা। আর পশুর মুখের লাগামকে 'হিকমাতুদ দাব্বাহ' বলা হয়; কারণ এটি তাকে (নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল থেকে) নিবারণ করে বা আটকে রাখে।
আর 'হিকমাহ' (الحكمة) শব্দটিও এই মূল অর্থের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ এটি মূর্খতা থেকে নিবারণ করে। আর 'আল-মুহকাম' (المحكم) বলতে এমন অভিজ্ঞ (المجرب) ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যাঁর দিকে প্রজ্ঞা বা বিচক্ষণতার সম্বন্ধ করা হয়। তুরাফাহ বলেছেন:
হায়! যদি তোমাদের কণ্ঠস্বর হিকমতপ্রাপ্ত (المحكم) ও উপদেশপ্রাপ্ত হতো... মাটির নিচে থাকাকালীন, যখন বাতিল বা মিথ্যা প্রকাশ পেয়ে যায়।
এখানে তিনি 'মুহকাম' (المحكم) দ্বারা এমন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন যাঁর দিকে হিকমাহ বা প্রজ্ঞার সম্বন্ধ করা হয় (১)।
ইবনে মানযুর বলেন:
বলা হয়েছে যে, 'আল-হাকিম' (الحكيم) হলেন:
প্রজ্ঞার অধিকারী। আর 'হিকমাহ' (الحكمة) হলো সর্বোত্তম জ্ঞানের সাহায্যে সর্বোত্তম বিষয়াবলি সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া। যারা কোনো শিল্পের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিপুণভাবে (يتقنها) সম্পন্ন করতে পারেন, তাদেরকেও 'হাকিম' বা প্রজ্ঞাবান (حكيم) বলা হয় (২)।
জাওহারি বলেন:
'আল-হুকম' (الحكم) হলো জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত 'হিকমাহ' (প্রজ্ঞা)।
আর হিকমাহর অধিকারী ব্যক্তি হলেন তিনি, যিনি সকল কাজে নিপুণ (المتقن)।
'হাকুমা' (حكم) — কাফ বর্ণে পেশ যোগে — এর অর্থ হলো তিনি প্রজ্ঞাবান (حكيما) হয়েছেন। আন-নামির বিন তাওলাব বলেছেন:
তোমার শত্রুর প্রতি ঘৃণা পোষণ করো পরিমিতভাবে... যখন তুমি প্রজ্ঞাবান (تحكما) হতে চেষ্টা করবে।
আসমায়ি বলেন: অর্থাৎ যখন তুমি হাকিম বা প্রজ্ঞাবান হওয়ার চেষ্টা করবে। আর 'আল-মুহকাম' (المحكم) — কাফ বর্ণে জবর যোগে — হলেন এমন অভিজ্ঞ বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, যাঁর দিকে প্রজ্ঞা বা হিকমাহর সম্বন্ধ করা হয় (৩)।
'তাজুল আরুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে:
'হিকমাহ' (الحكمة) — হা বর্ণে জের যোগে — এর অর্থ হলো ফয়সালার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার (العدل), যেমনটি 'হুকম' (الحكم) শব্দের অর্থ। আর 'হিকমাহ' হলো বস্তুর প্রকৃত রূপ অনুযায়ী সেগুলোর হাকিকত বা বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা। একারণেই হিকমাহকে 'ইলমি' (তাত্ত্বিক) ও 'আমালি' (ব্যবহারিক) — এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। আরও বলা হয় যে, এটি হলো বুদ্ধিগত তাত্ত্বিক শক্তির একটি অবস্থা।
অন্যমতে বলা হয়েছে: 'হিকমাহ' হলো জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে সত্যে (الحق) উপনীত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فالحكمة من الله: معرفة الأشياء، وإيجادها على غاية الإحكام، ومن الإنسان: معرفته، وفعل الخيرات.
وأحكمه إحكاما: أتقنه، ومنه قولهم للرجل إذا كان حكيما: قد أحكمته التجارب.
وأحكمه: منعه من الفساد (1) .
وفي (المصباح المنير) : الحكمة وزان قصبة للدابة، سميت بذلك؛ لأنها تذللها لراكبها حتى تمنعها الجماح ونحوه.
ومنه اشتقاق الحكمة؛ لأنها تمنع صاحبها من أخلاق الأرذال (2) .
هذه أهم المعاني اللغوية التي وردت في الحكمة وأصلها.
وكلها تدور حول المنع؛ لأنها تمنع صاحبها من الوقوع فيما يذم فيه، أو ما قد يندم عليه، وتمنعه من اختيار المفضول دون الفاضل، أو المهم قبل الأهم.
--------------------------------------------
আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রজ্ঞা (حكمة) হলো: বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং সেগুলোকে পূর্ণ সুসংহতভাবে (إحكام) অস্তিত্ব দান করা; আর মানুষের ক্ষেত্রে এটি হলো: তার সম্যক জ্ঞান ও কল্যাণকর কার্যাবলি সম্পাদন।
আর তাকে সুদৃঢ় করা (إحكام) অর্থ হলো: তাকে নিপুণ করা; আর এর থেকেই কোনো ব্যক্তি প্রজ্ঞাবান (حكيم) হলে বলা হয়: অভিজ্ঞতাসমূহ তাকে সুদৃঢ় (أحكمته) করেছে।
আর একে সুদৃঢ় করা (أحكمه) এর অর্থ হলো: তাকে বিপর্যয় হতে রক্ষা (منعه) করা (১)।
এবং 'আল-মিসবাহুল মুনির' গ্রন্থে রয়েছে: 'হিকমাহ' (حكمة) শব্দটি পশুর বল্গা বা লাগামের ওজনে ব্যবহৃত হয়; এর এরূপ নামকরণের কারণ হলো—এটি পশুকে আরোহীর নিকট অনুগত করে দেয় যেন তা তাকে অবাধ্যতা বা তদ্রূপ আচরণ থেকে বিরত রাখে (تمنعها)।
আর এখান থেকেই প্রজ্ঞা (حكمة) শব্দের ব্যুৎপত্তি ঘটেছে; কারণ এটি তার অধিকারীকে নিকৃষ্ট স্বভাব (أخلاق الأرذال) থেকে বিরত রাখে (২)।
এগুলোই প্রজ্ঞা (حكمة) এবং এর মূল অর্থের ক্ষেত্রে বর্ণিত প্রধান আভিধানিক অর্থসমূহ।
আর এর প্রতিটি অর্থই 'বিরত রাখা' (المنع) এর আবর্তে ঘোরে; কেননা এটি তার অধিকারীকে এমন বিষয়ে পতিত হওয়া থেকে বিরত রাখে যার কারণে তাকে নিন্দা করা হয় অথবা যার জন্য সে অনুতপ্ত হতে পারে। তদুপরি এটি তাকে উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তমকে বেছে নেওয়া অথবা অধিক গুরুত্বপূর্ণের পূর্বে সাধারণ গুরুত্বপূর্ণকে অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে বিরত রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحكمة في القرآن الكريمورد لفظ الحكمة في القرآن الكريم عشرين مرة، في تسع عشرة آية، في اثنتي عشرة سورة، وقد ورد لعدة معان، وتفصيل ذلك كما يلي: اختلف المفسرون في تفسير الآيات الواردة بلفظ الحكمة، فنجد مقاتل -كما ذكر الرازي - يقول: تفسير الحكمة في القرآن على أربعة أوجه:
أحدها: مواعظ القرآن، قال -تعالى- في سورة البقرة، الآية: 231: {وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ} (البقرة: من الآية 231) ومثلها في آل عمران.
وثانيهما: الحكمة بمعنى: الفهم والعلم، ومنه قوله - تعالى -: {وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا} (مريم: من الآية 12) ، وفي سورة لقمان (الآية: 12) {وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ} (لقمان: من الآية 12) يعني: الفهم والعلم، وفي (الأنعام الآية: 89) : {أُولَئِكَ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ} (الأنعام: من الآية 89) .
পবিত্র কুরআনে হিকমাহ (الحكمة) বা প্রজ্ঞাপবিত্র কুরআনে 'হিকমাহ' (الحكمة) শব্দটি বিশ বার, উনিশটি আয়াতে এবং বারোটি সূরায় বর্ণিত হয়েছে। এটি বেশ কিছু অর্থে এসেছে, যার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ: মুফাসসিরগণ (مفسرون) হিকমাহ (الحكمة) শব্দ সংবলিত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছেন। ইমাম আল-রাজি যেমনটি উল্লেখ করেছেন—মুকাতিল বলেন: কুরআনে হিকমাহ (الحكمة) এর ব্যাখ্যা চারটি দিক থেকে করা হয়েছে:
প্রথমটি: কুরআনের উপদেশসমূহ (مواعظ); আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারার ২৩১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন: {আর তোমাদের ওপর যে কিতাব ও হিকমাহ (الحكمة) নাযিল করেছেন, যা দ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ (يعظكم) দেন} (সূরা আল-বাকারাহ: ২৩১ নম্বর আয়াতের অংশ) এবং সূরা আল-ইমরানেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়টি: বোধশক্তি ও জ্ঞান (الفهم والعلم) অর্থে হিকমাহ; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আমি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা (الحكم) দান করেছিলাম} (সূরা মারইয়াম: ১২ নম্বর আয়াতের অংশ)। সূরা লোকমানের ১২ নম্বর আয়াতে রয়েছে: {আর আমি অবশ্যই লোকমানকে হিকমাহ (الحكمة) দান করেছিলাম} (সূরা লোকমান: ১২ নম্বর আয়াতের অংশ), যার অর্থ হলো: বোধশক্তি ও জ্ঞান (الفهم والعلم)। এবং সূরা আল-আনআমে (আয়াত: ৮৯) ইরশাদ হয়েছে: {তারাই তারা, যাদেরকে আমি কিতাব, প্রজ্ঞা (الحكم) ও নবুওয়াত দান করেছি} (সূরা আল-আনআম: ৮৯ নম্বর আয়াতের অংশ)।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثالثها: الحكمة بمعنى النبوة، ففي النساء 54: {فَقَدْ آتَيْنَا آلَ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} (النساء: من الآية 54) ، وفي (ص 20) {وَآتَيْنَاهُ الْحِكْمَةَ وَفَصْلَ الْخِطَابِ} (ص: من الآية 20) وفي البقرة: {وَآتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ} (البقرة: من الآية 251) .
ورابعها: القرآن بما فيه من عجائب الأسرار، ففي النحل 125 {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ} (النحل: من الآية 125) ، وفي (البقرة 269) {وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} (البقرة: من الآية 269) (1) .
ويقول الفيروزآبادي: وردت -الحكمة- في القرآن على ستة أوجه:
الأول: بمعنى النبوة والرسالة، {وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} (آل عمران: من الآية 48) . {وَآتَيْنَاهُ الْحِكْمَةَ} (صّ: من الآية 20) {وَآتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ} (البقرة: من الآية 251) . أي: النبوة.
الثاني: بمعنى القرآن والتفسير والتأويل، وإصابة القول فيه: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} (البقرة: من الآية 269) .
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: নবুওয়ত (النبوة) অর্থে হিকমত (الحكمة); যেমন সূরা আন-নিসার ৫৪ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: {আমি তো ইব্রাহিমের বংশধরদের কিতাব ও হিকমত (الحكمة) দান করেছি} (আন-নিসা: আয়াত ৫৪-এর অংশবিশেষ), এবং সূরা সোয়াদের ২০ নম্বর আয়াতে: {আর আমি তাকে হিকমত (الحكمة) ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা দান করেছি} (সোয়াদ: আয়াত ২০-এর অংশবিশেষ) এবং সূরা বাকারায়: {আর আল্লাহ তাকে রাজত্ব ও হিকমত (الحكمة) দান করেছেন} (আল-বাকারা: আয়াত ২৫১-এর অংশবিশেষ)।
চতুর্থত: কুরআন এবং এর মধ্যে নিহিত বিস্ময়কর রহস্যসমূহ; যেমন সূরা আন-নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াতে: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমতের (الحكمة) মাধ্যমে আহ্বান করুন} (আন-নাহল: আয়াত ১২৫-এর অংশবিশেষ), এবং সূরা বাকারার ২৬৯ নম্বর আয়াতে: {যাকে হিকমত (الحكمة) দান করা হয়েছে, তাকে অবশ্যই প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে} (আল-বাকারা: আয়াত ২৬৯-এর অংশবিশেষ) (১)।
আল-ফিরোজাবাদি বলেন: কুরআনে ‘হিকমত’ (الحكمة) শব্দটি ছয়টি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:
প্রথমত: নবুওয়ত (النبوة) ও রিসালাত (الرسالة) অর্থে; {আর তিনি তাকে কিতাব ও হিকমত (الحكمة) শিক্ষা দেবেন} (আলে ইমরান: আয়াত ৪৮-এর অংশবিশেষ)। {আর আমি তাকে হিকমত (الحكمة) দান করেছি} (সোয়াদ: আয়াত ২০-এর অংশবিশেষ)। {আর আল্লাহ তাকে রাজত্ব ও হিকমত (الحكمة) দান করেছেন} (আল-বাকারা: আয়াত ২৫১-এর অংশবিশেষ)। অর্থাৎ: নবুওয়ত (النبوة)।
দ্বিতীয়ত: কুরআন, তাফসির (تفسير) ও তাবিল (تأويل) এবং সেই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া অর্থে: {তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত (الحكمة) দান করেন; আর যাকে হিকমত (الحكمة) দান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে} (আল-বাকারা: আয়াত ২৬৯-এর অংশবিশেষ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الثالث: بمعنى فهم الدقائق والفقه في الدين {وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا} (مريم: من الآية 12) .
الرابع: بمعنى: الوعظ والتذكير {فَقَدْ آتَيْنَا آلَ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} (النساء: من الآية 54) . أي: المواعظ الحسنة، {أُولَئِكَ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ} (الأنعام: من الآية 89) .
الخامس: آيات القرآن وأوامره ونواهيه {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} (النحل: من الآية 125) .
السادس: بمعنى حجة العقل على وفق أحكام الشريعة، {وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ} (لقمان: من الآية 12) أي: قولًا يوافق العقل والشرع (1) .
وقال ابن كثير:
قال علي بن طلحة عن ابن عباس: يعني المعرفة بالقرآن، ناسخه ومنسوخه، ومحكمه ومتشابهه، ومقدمه ومؤخره، وحلاله وحرامه، وأمثاله (2) .
وقال -أيضًا-: روي عن ابن عباس مرفوعًا: الحكمة القرآن، يعني تفسيره.
وقال ليث بن أبي سليم عن مجاهد: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ} (البقرة: من الآية 269) . ليست بالنبوة، ولكنه العلم والفقه والقرآن.
وقال إبراهيم النخعي: الحكمة: الفهم.
--------------------------------------------
তৃতীয়: দীনের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি অনুধাবন এবং গভীর প্রজ্ঞা (الفقه) অর্জন করা অর্থে— {আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি (الحكم) দান করেছিলাম} (মারইয়াম: ১২ নং আয়াতের অংশ)।
চতুর্থ: উপদেশ ও নসিহত প্রদান অর্থে— {আমি ইবরাহিমের বংশধরদের কিতাব ও প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করেছি} (আন-নিসা: ৫৪ নং আয়াতের অংশ)। অর্থাৎ: উত্তম উপদেশসমূহ। {তারাই ছিল তারা, যাদেরকে আমি কিতাব, বিচারবুদ্ধি (الحكم) ও নবুওয়াত প্রদান করেছি} (আল-আন'আম: ৮৯ নং আয়াতের অংশ)।
পঞ্চম: কুরআনের আয়াতসমূহ এবং এর আদেশ ও নিষেধসমূহ— {আপনি আপনার রবের পথে প্রজ্ঞা (الحكمة) ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন} (আন-নাহল: ১২৫ নং আয়াতের অংশ)।
ষষ্ঠ: শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ (حجة) অর্থে— {আমি অবশ্যই লুকমানকে প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করেছিলাম} (লুকমান: ১২ নং আয়াতের অংশ)। অর্থাৎ: এমন কথা যা বিবেক ও শরিয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (১)।
ইমাম ইবনে কাসির রহ. বলেন:
আলী ইবনে আবু তালহা ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন: এর অর্থ হলো কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; এর রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ), সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه), এর অগ্রবর্তী ও পশ্চাদবর্তী বিষয়সমূহ, এর হালাল ও হারাম এবং এর উদাহরণসমূহ (২)।
তিনি আরও বলেন: ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: হিকমত হলো কুরআন, অর্থাৎ এর তাফসির বা ব্যাখ্যা।
লায়স ইবনে আবু সুলাইম মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণনা করেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করেন} (আল-বাকারাহ: ২৬৯ নং আয়াতের অংশ)। এটি নবুওয়াত নয়, বরং এটি হলো ইলম (العلم), ফিকহ (الفقه) এবং কুরআন।
ইবরাহিম নাখয়ি রহ. বলেন: হিকমত হলো সঠিক উপলব্ধি (الفهم)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال أبو مالك: الحكمة: السنة.
وقال زيد بن أسلم: الحكمة: العقل.
وقال مالك: وإنه ليقع في قلبي أن الحكمة هي: الفقه في الله، وأمر يدخله الله في القلوب من رحمته وفضله.
قال السدي: الحكمة: النبوة.
وهذه الأقوال ذكرها ابن كثير ثم عقب قائلًا: والصحيح أن الحكمة -كما قال الجمهور- لا تختص بالنبوة، بل هي أعم منها، وأعلاها النبوة، والرسالة أخص (1) ولكن لأتباع الأنبياء حظ من الخير على سبيل التبع، كما جاء في بعض الأحاديث (2) .
وقال عبد الرحمن السعدي مفسرًا الحكمة:
الحكمة، هي: العلوم النافعة والمعارف الصائبة، والعقول المسددة، والألباب الرزينة، وإصابة الصواب في الأقوال والأفعال، ثم قال: وجميع الأمور لا تصلح إلا بالحكمة، التي هي: وضع الأشياء مواضعها، وتنزيل الأمور منازلها، والإقدام في محل الإقدام، والإحجام في موضع الإحجام (3) .
وقال القاسمي في تفسير الحكمة:
قال كثيرون: الحكمة: إتقان العلم والعمل، وبعبارة أخرى: معرفة الحق والعمل به (4) .
وقال الرازي: والمراد بالحكمة: إما العلم، وإما فعل الصواب (5) .
ونواصل الحديث عن (الحكمة) في كتاب الله كما بينها المفسرون.
فقد قال رشيد رضا مفسرًا:
--------------------------------------------
আবু মালিক বলেন: হিকমাহ (প্রজ্ঞা) হলো সুন্নাহ।
যায়েদ ইবনে আসলাম বলেন: হিকমাহ হলো বুদ্ধি বা বিবেচনা।
মালিক বলেন: আমার অন্তরে এটি উদিত হয় যে, হিকমাহ হলো: আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে গভীর সমঝ (الفقه), এবং এমন এক বিষয় যা আল্লাহ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করিয়ে দেন।
সুদ্দী বলেন: হিকমাহ হলো নবুয়ত।
ইবনে কাসীর এই উক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন এবং এরপর মন্তব্য করেছেন: এবং সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, হিকমাহ—যেমনটি সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলিমগণ বলেছেন—কেবল নবুয়তের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং এটি নবুয়ত অপেক্ষা ব্যাপকতর। এর সর্বোচ্চ স্তর হলো নবুয়ত, তবে রিসালাত হলো অধিকতর বিশেষ (أخص) (১)। কিন্তু নবীদের অনুসারীদের জন্যও অনুসরণের মাধ্যমে কল্যাণের একটি অংশ রয়েছে, যেমনটি কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (২)।
আবদুর রহমান আস-সাদী হিকমাহর ব্যাখ্যায় বলেন:
হিকমাহ হলো: উপকারী জ্ঞান, সঠিক তত্ত্বজ্ঞান, সঠিক বিচারবুদ্ধি, সুদৃঢ় মেধা এবং কথা ও কাজে সঠিকতা অর্জন করা। অতঃপর তিনি বলেন: কোনো বিষয়ই হিকমাহ ছাড়া সুচারুরূপে সম্পাদিত হয় না; আর হিকমাহ হলো: প্রতিটি বস্তুকে তার যথাস্থানে স্থাপন করা, বিষয়সমূহকে তাদের উপযুক্ত মর্যাদা দান করা এবং অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়া ও বিরত থাকার স্থানে বিরত থাকা (৩)।
কাসেমী হিকমাহর তাফসিরে বলেন:
অনেকে বলেছেন: হিকমাহ হলো জ্ঞান ও কর্মকে সুদৃঢ় করা; অন্য কথায়: সত্যকে অনুধাবন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা (৪)।
রাযী বলেন: হিকমাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: হয় ইলম (জ্ঞান), নতুবা সঠিক কাজ করা (৫)।
আমরা আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত 'হিকমাহ' সম্পর্কে মুফাসসিরগণের ব্যাখ্যা অনুযায়ী আলোচনা অব্যাহত রাখছি।
রশীদ রিযা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحكمة: التمييز بين ما يقع في النفس من الإلهام الإلهي والوسواس الشيطاني (1) .
قال الألوسي: وفي (البحر) : إن فيها تسعة وعشرين قولًا لأهل العلم، قريب بعضها من بعض، وعد بعضهم الأكثر منها اصطلاحًا واقتصارًا على ما رآه القائل فردًا مهمًا من الحكمة، وإلا فهي في الأصل: مصدر من الإحكام، وهو الإتقان في علم أو عمل أو قول أو فيها كلها (2) .
أما ابن عاشور فقد قال:
وفسرت الحكمة بأنها معرفة حقائق الأشياء على ما هي عليه بما تبلغه الطاقة، أي: بحيث لا تلتبس الحقائق المتشابهة بعضها مع بعض، ولا يغلط في العلل والأسباب (3) .
ونختم أقوال المفسرين في الحكمة بما ذكره سيد قطب رحمه الله حيث فسر الحكمة بأنها:
القصد والاعتدال، وإدراك العلل والغايات، والبصيرة المستنيرة التي تهديه للصالح الصائب من الحركات والأعمال (4) .
هذه خلاصة لأهم أقوال المفسرين في تفسير معنى الحكمة في كتاب الله، ونستطيع أن نقول: إن المفسرين فسروا الحكمة بتفسيرين:
الأول: النبوة.
الثاني: العلم والإتقان، والتوفيق، والبصيرة، والعمل الصائب، ومنع الظلم، ووضع الشيء في موضعه، وكلها معان متقاربة.
--------------------------------------------
প্রজ্ঞা (حكمة): অন্তরে উদিত হওয়া ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা (إلهام) এবং শয়তানি কুমন্ত্রণা (وسواس)-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা (১)।
আলূসী বলেন: আল-বাহর-এ বর্ণিত হয়েছে যে, এ বিষয়ে আলেমগণের উনত্রিশটি অভিমত রয়েছে, যা একে অপরের নিকটবর্তী। কেউ কেউ এর অধিকাংশকেই পারিভাষিক (اصطلاح) শব্দ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং প্রজ্ঞার (حكمة) এমন একটি দিক যা প্রবক্তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে, তার মধ্যেই অর্থকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। অন্যথায়, এটি মূলত ইহকাম (إحكام) থেকে আগত একটি মাসদার (مصدر), যার অর্থ হলো জ্ঞান, কর্ম বা কথার ক্ষেত্রে নিপুণতা (إتقان) অথবা এই সবকিছুর মধ্যেই তা বিদ্যমান থাকা (২)।
আর ইবনে আশুর বলেন:
প্রজ্ঞাকে (حكمة) এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী কোনো বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ যেমন আছে তেমনই জানা। অর্থাৎ, যেন সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো একে অপরের সাথে মিশে না যায় এবং ওজর বা কারণ (علل) ও মাধ্যমসমূহের (أسباب) ক্ষেত্রে কোনো ভুল না হয় (৩)।
মুফাসসিরগণের প্রজ্ঞা (حكمة) বিষয়ক বক্তব্যের সমাপ্তি টানছি সাইয়্যেদ কুতুব (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের মাধ্যমে, তিনি প্রজ্ঞাকে (حكمة) এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:
পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্য, কারণ (علل) ও লক্ষ্যসমূহ (غايات) অনুধাবন করা এবং এমন এক আলোকিত অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة), যা মানুষকে সঠিক ও কল্যাণকর গতিবিধি ও কর্মের দিকে পরিচালিত করে (৪)।
এটি আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত প্রজ্ঞা (حكمة) শব্দের অর্থ ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের সারসংক্ষেপ। আমরা বলতে পারি যে, মুফাসসিরগণ প্রজ্ঞাকে (حكمة) দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন:
প্রথমটি: নবুওয়াত (نبوة)।
দ্বিতীয়টি: জ্ঞান (علم), নিপুণতা (إتقান), তাওফিক (توفيق), অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة), সঠিক কর্ম, জুলুম থেকে বিরত থাকা এবং কোনো বিষয়কে তার সঠিক স্থানে রাখা; আর এ সবগুলোই প্রায় সমার্থক বা কাছাকাছি অর্থবোধক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الحكمة في السنةالسنة هي المفسرة للقرآن، وهي المصدر الثاني للتشريع، ولذا سأذكر بعض الأحاديث التي وردت في الحكمة مع الاختصار في ذلك:
وقد وردت بعض الأحاديث الصحيحة، وكثير من الأحاديث الضعيفة.
وسأقتصر على أهم الأحاديث الصحيحة في هذا الباب، مع ذكر بعض الأحاديث الضعيفة، وبخاصة المشتهر منها على الألسنة.
أولًا: الأحاديث الصحيحة:
1- عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «ضمني رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى صدره، وقال: " اللهم علمه الحكمة» (1) رواه البخاري.
قال البخاري: الحكمة: الإصابة في غير النبوة.
قال ابن حجر: واختلف المراد بالحكمة هنا:
فقيل: الإصابة في القول.
وقيل: الفهم عن الله.
وقيل: ما يشهد العقل بصحته.
وقيل: نور يفرق به بين الإلهام والوسواس.
وقيل: سرعة الجواب بالصواب.
ومنهم من فسر الحكمة هنا بالقرآن (2) .
2- عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كان أبو ذر يحدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «فرج عن سقف بيتي وأنا بمكة فنزل جبريل ففرج صدري ثم غسله بماء زمزم، ثم جاء بطست من ذهب ممتلئ حكمة وإيمانًا فأفرغه في صدري ثم أطبقه» رواه البخاري (3) .
--------------------------------------------
সুন্নাহর আলোকে হিকমাহ (প্রজ্ঞা)সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী এবং শরয়ি বিধানের দ্বিতীয় উৎস। তাই আমি হিকমাহ (প্রজ্ঞা) সম্পর্কে বর্ণিত কিছু হাদিস এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করব:
এ বিষয়ে কিছু সহিহ (صحيحة) হাদিস এবং অনেকগুলো দুর্বল (ضعيفة) হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
আমি এই অধ্যায়ে কেবল গুরুত্বপূর্ণ সহিহ (صحيحة) হাদিসগুলোর বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকব এবং সেই সাথে কিছু দুর্বল (ضعيفة) হাদিসও উল্লেখ করব, বিশেষ করে যেগুলোর লোকমুখে প্রসিদ্ধি রয়েছে।
প্রথমত: সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ:
১- ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! তাকে হিকমাহ (প্রজ্ঞা) শিক্ষা দান করুন।" (১) এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বুখারি বলেন: হিকমাহ হলো নবুওয়াত ব্যতীত সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এখানে হিকমাহর উদ্দেশ্য নিয়ে মতভেদ রয়েছে:
বলা হয়েছে: কথায় সঠিকতা অবলম্বন।
বলা হয়েছে: আল্লাহর পক্ষ থেকে সঠিক উপলব্ধি লাভ।
বলা হয়েছে: বুদ্ধি যার সঠিক হওয়ার সাক্ষ্য দেয়।
বলা হয়েছে: এমন এক জ্যোতি যার মাধ্যমে ইলহাম এবং শয়তানি কুমন্ত্রণার মধ্যে পার্থক্য করা যায়।
বলা হয়েছে: দ্রুততার সাথে সঠিক উত্তর প্রদান।
আবার কেউ কেউ এখানে হিকমাহর ব্যাখ্যা করেছেন কুরআন দ্বারা (২)।
২- আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যখন মক্কায় ছিলাম তখন আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হলো। এরপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন এবং তা যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। এরপর হিকমাহ (প্রজ্ঞা) ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের তশতরী আনা হলো এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দেওয়া হলো, তারপর বক্ষটি পুনরায় জোড়া দিয়ে দেওয়া হলো।" এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
3- وعن عبد الله رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا حسد إلا في اثنتين، رجل آتاه الله مالًا فسلطه على هلكته في الحق، وآخر آتاه الله حكمة فهو يقضي بها ويعلمها» (1) . رواه البخاري.
والحكمة هنا فسرت بالقرآن، كما وردت في حديث آخر. (2)
4- وعن أبي بن كعب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن من الشعر حكمة» (3) . حديث صحيح.
قال ابن حجر: إن من الشعر حكمة، أي: قولًا صادقًا مطابقًا للحق.
وقيل: أصل الحكمة: المنع، فالمعنى: إن من الشعر كلامًا نافعًا يمنع من السفه (4) .
5- وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «أتاكم أهل اليمن هم أرق أفئدة وألين قلوبًا، الإيمان يمان والحكمة يمانية» حديث صحيح (5) .
قال ابن الصلاح:
إن المراد بالحكمة: العلم المشتمل على المعرفة بالله (6) .
ومعاني الحكمة في هذه الأحاديث قريبة من المعاني التي ذكرتها عند بيان الحكمة في كتاب الله.
--------------------------------------------
3- আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কেবল দুটি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তা সত্য পথে ব্যয় করার পূর্ণ সামর্থ্য দিয়েছেন, আর অন্য এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেছেন, ফলে সে তা দিয়ে বিচার-ফয়সালা করে এবং তা শিক্ষা দেয়» (১) । এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
আর এখানে হিকমতের ব্যাখ্যা কুরআন দ্বারা করা হয়েছে, যেমনটি অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। (২)
4- উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতার মধ্যে হিকমত (প্রজ্ঞা) রয়েছে» (৩) । এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।
ইবনে হাজার বলেন: নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতার মধ্যে হিকমত রয়েছে, অর্থাৎ: সত্য কথা যা হকের (সত্যের) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বলা হয়েছে: হিকমতের মূল অর্থ হলো: নিবরণ করা; সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়: নিশ্চয়ই কবিতার মধ্যে এমন কিছু উপকারী কথা রয়েছে যা মূর্খতা থেকে নিবরণ করে (৪) ।
5- আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমাদের কাছে ইয়ামেনবাসীরা এসেছে, তাদের অন্তর অত্যন্ত কোমল এবং হৃদয় অত্যন্ত নরম; ইমান ইয়ামেনি এবং হিকমতও ইয়ামেনি» এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস (৫) ।
ইবনে আস-সালাহ বলেন:
নিশ্চয়ই হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এমন জ্ঞান যা আল্লাহ সম্পর্কে গভীর পরিচয় (মারিফাত) সমৃদ্ধ (৬) ।
আর এই হাদিসগুলোতে হিকমতের অর্থসমূহ সেই অর্থগুলোর নিকটবর্তী যা আমি আল্লাহর কিতাবে হিকমতের বর্ণনার সময় উল্লেখ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولعل مما يجدر ذكره هنا أن هناك بعض الأحاديث المشتهرة على الألسنة في الحكمة مع أن أسانيدها ضعيفة، مع الإشارة إلى جودة معناها، وأنها لا تخرج عن كونها حكمًا، إذا ما يثبت صحة نسبتها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومنها:
1- «إذا رأيتم الرجل قد أعطي زهدًا في الدنيا وقلة منطق، فاقتربوا منه، فإنه يلقن الحكمة» رواه أبو هريرة، وروي عن أبي خلاد، وهو ضعيف (1) .
2- «الحكمة ضالة المؤمن فحيث وجدها فهو أحق بها» وفي لفظ: «حيث وجدها جذبها» ، وهو مروي عن أبي هريرة وعلي، وهو ضعيف جدًا (2) .
3- «من أخلص لله أربعين يوما ظهرت ينابيع الحكمة من قلبه ولسانه» روي عن أبي أيوب، وهو ضعيف (3) .
4- «الطمع يذهب الحكمة من قلوب العلماء» روي عن أنس، وهو موضوع (4) .
5- «قلب ليس فيه حكمة كبيت خرب» روي عن ابن عمر، وهو ضعيف (5) .
6- «رأس الحكمة مخافة الله» روي عن ابن مسعود، وهو ضعيف (6) .
7- «الرفق رأس الحكمة» روي عن جرير، وهو ضعيف (7) .
8- «الحكمة عشرة أجزاء، تسعة منها في العزلة، وواحد في الصمت» رواه أبو هريرة، وهو حديث ضعيف جدا (8) .
9- «الحكمة تزيد الشريف شرفا، وترفع العبد المملوك حتى تجلسه مجالس الملوك» روي عن أنس، وهو ضعيف (9) .
--------------------------------------------
সম্ভবত এখানে উল্লেখ করা সংগত হবে যে, হিকমত বা প্রজ্ঞা সম্পর্কে লোকমুখে প্রচলিত এমন কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোর সনদ বা বর্ণনাধারা দুর্বল (ضعيفة), যদিও এগুলোর অর্থের চমৎকারিত্বের দিকে ইঙ্গিত করা হয় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এগুলোর সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণিত না হলেও এগুলো হিকমত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা হওয়ার গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায় না। সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি হলো:
১- «যখন তোমরা কোনো ব্যক্তিকে দুনিয়াবিমুখতা ও অল্প কথা বলার গুণ অর্জনে ধন্য দেখবে, তখন তোমরা তার নিকটবর্তী হও; কেননা তাকে হিকমত দান করা হয়» এটি আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন এবং আবু খাল্লাদ থেকেও বর্ণিত হয়েছে; আর এটি দুর্বল (ضعيف) (১)।
২- «হিকমত মুমিনের হারানো সম্পদ, যেখানেই সে তা পাবে, সে-ই তার অধিক হকদার» এবং অন্য শব্দে এসেছে: «যেখানেই সে তা পাবে তা আঁকড়ে ধরবে»। এটি আবু হুরায়রা ও আলী থেকে বর্ণিত হয়েছে; আর এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدًا) (২)।
৩- «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য চল্লিশ দিন একনিষ্ঠতা বজায় রাখবে, তার অন্তর ও জিহ্বা থেকে হিকমতের ঝর্ণাধারা প্রকাশ পাবে» এটি আবু আইয়ুব থেকে বর্ণিত; আর এটি দুর্বল (ضعيف) (৩)।
৪- «লোভ আলেমদের অন্তর থেকে হিকমত দূর করে দেয়» এটি আনাস থেকে বর্ণিত; আর এটি জাল (موضوع) (৪)।
৫- «যে অন্তরে হিকমত নেই তা ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের মতো» এটি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত; আর এটি দুর্বল (ضعيف) (৫)।
৬- «হিকমতের মূল হলো আল্লাহভীতি» এটি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত; আর এটি দুর্বল (ضعيف) (৬)।
৭- «নম্রতা হলো হিকমতের মূল» এটি জারীর থেকে বর্ণিত; আর এটি দুর্বল (ضعيف) (৭)।
৮- «হিকমত দশটি অংশে বিভক্ত, যার নয়টিই নির্জনতায় এবং একটি নীরবতার মধ্যে» এটি আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন; আর এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً) হাদিস (৮)।
৯- «হিকমত উচ্চবংশীয় ব্যক্তির সম্মান বৃদ্ধি করে এবং ক্রীতদাসকে এতটাই উন্নত করে যে তাকে রাজদরবারে বসায়» এটি আনাস থেকে বর্ণিত; আর এটি দুর্বল (ضعيف) (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
10- «أنا دار الحكمة وعلي بابها» روي عن علي، وهو موضوع (1) .
--------------------------------------------
১০- «আমি হিকমতের ঘর এবং আলী তার দরজা» এটি আলী থেকে বর্ণিত হয়েছে, এবং এটি জাল (موضوع) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحكمة كما عرفها بعض العلماءهناك عدة تعريفات أخرى للحكمة وهي لا تخرج عن معنى التعريفات السابقة، ولكن ذكرها يزيد الأمر وضوحا، ومن ذلك:
1- قيل: هي وضع الشيء في موضعه (1) .
2- وقال ابن القيم: وأحسن ما قيل في الحكمة قول مجاهد ومالك، إنها: معرفة الحق والعمل به، والإصابة في القول والعمل، وهذا لا يكون إلا بفهم القرآن، والفقه في شرائع الإسلام، وحقائق الإيمان (2) .
3- وقال رشيد رضا: الحكمة: العلم الصحيح، الذي يبعث الإرادة إلى العمل النافع الذي هو الخير (3) .
4- قال الرازي: حكم الحكمة والعقل، هو الحكم الصادق المبرأ من الزيغ والخلل، وحكم الحسن والشهوة والنفس توقع الإنسان في البلاء والمحنة (4) .
وأخيرا: لعل خير خلاصة تجمع أغلب هذه المعاني التي وردت في الحكمة هي أنها: "فعل (5) ما ينبغي على الوجه الذي ينبغي في الوقت الذي ينبغي" (6) .
ولنأخذ، مثلا، يوضح ذلك:
الأمر بالصلاة، مما ينبغي، والأمر بشرب الخمر، لا ينبغي. وعلى الوجه الذي ينبغي، فقد يكون -الأمر بالصلاة- تذكيرا، أو أمرا، أو ضربا حسب الأحوال (7) .
وفي الوقت الذي ينبغي، وذلك بمراعاة الزمان والمكان، وهذا له عدة صور وأحوال تجب مراعاتها.
--------------------------------------------
কতিপয় আলেমের নিকট হিকমতের সংজ্ঞাহিকমতের আরও কিছু সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে যা পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোর অর্থেরই অন্তর্ভুক্ত। তবে এগুলোর উল্লেখ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করবে, যেমন:
১- বলা হয়েছে: হিকমত হলো কোনো বস্তুকে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করা (১)।
২- ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: হিকমতের সংজ্ঞায় সবচেয়ে সুন্দর কথা হলো মুজাহিদ ও মালিকের উক্তি; তা হলো: সত্যকে জানা ও তদনুযায়ী আমল করা এবং কথা ও কাজে সঠিকতা অর্জন করা। আর এটি কুরআন অনুধাবন, ইসলামের বিধিবিধানের গভীর জ্ঞান এবং ঈমানের হাকীকতসমূহ অনুধাবন ব্যতীত সম্ভব নয় (২)।
৩- রশীদ রিদা বলেন: হিকমত হলো সঠিক (صحيح) জ্ঞান, যা ইচ্ছাশক্তিকে এমন কল্যাণকর আমলের দিকে ধাবিত করে যা মূলত মঙ্গলজনক (৩)।
৪- রাজী বলেন: হিকমত ও বিবেকের নির্দেশ হলো সেই সত্য নির্দেশ যা বিচ্যুতি ও ত্রুটি থেকে মুক্ত। পক্ষান্তরে প্রবৃত্তি, কুপ্রবৃত্তি ও নফসের তাড়না মানুষকে বিপদ ও পরীক্ষায় নিপতিত করে (৪)।
পরিশেষে: সম্ভবত হিকমতের এই অধিকাংশ অর্থকে একত্রিতকারী সর্বোত্তম সারসংক্ষেপ হলো: "যথাযথ সময়ে যথাযথ পদ্ধতিতে যথাযথ কাজ (৫) সম্পাদন করা" (৬)।
বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আমরা একটি উদাহরণ গ্রহণ করতে পারি:
সালাতের আদেশ দেওয়া একটি যথাযথ কাজ, আর মদ পানের আদেশ দেওয়া অনুচিত কাজ। আর যথাযথ পদ্ধতির বিষয়টি হলো— সালাতের আদেশ দেওয়া অবস্থাভেদে কখনো নসিহত, কখনো নির্দেশ আবার কখনো প্রহারের মাধ্যমে হতে পারে (৭)।
আর যথাযথ সময় বলতে কাল ও পাত্রের বিবেচনা করাকে বোঝায়। এর বিভিন্ন রূপ ও অবস্থা রয়েছে যা লক্ষ্য রাখা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أقسام الحكمةقال ابن القيم: والحكمة، حكمتان: علمية، وعملية. فالعلمية: الاطلاع على بواطن الأشياء، ومعرفة ارتباط الأسباب بمسبباتها، خلقا وأمرا، قدرا وشرعا. والعملية، كما قال صاحب المنازل: وضع الشيء في موضعه.
قال: وهي على ثلاث درجات:
الدرجة الأولى: أن تعطي كل شيء حقه، ولا تعديه حده، ولا تعجله عن وقته، ولا تؤخره عنه.
الدرجة الثانية: أن تشهد نظر الله في وعده، وتعرف عدله في حكمه، وتلحظ بره في منعه. ومن معاني هذه الدرجة قول أهل الإثبات والسنة: إنها -أي الحكمة- الغايات المحمودة المطلوبة له -سبحانه- بخلقه وأمره، التي أمر لأجلها، وقدر وخلق لأجلها.
الدرجة الثالثة: أن تبلغ في استدلالك البصيرة، وفي إرشادك الحقيقة، وفي إشاراتك الغاية. قال ابن القيم: يريد أن تصل باستدلالك إلى أعلى درجات العلم، وهي البصيرة التي تكون نسبة العلوم فيها إلى القلب كنسبة المرئي إلى البصر، وهذه هي الخصيصة التي اختص بها الصحابة على سائر الأمة، وهي أعلى درجات العلماء (1) .
--------------------------------------------
হিকমতের (প্রজ্ঞার) প্রকারভেদইবনুল কাইয়্যিম বলেন: হিকমত দুই প্রকার: তাত্ত্বিক (علمية) এবং প্রায়োগিক (عملية)। তাত্ত্বিক হিকমত হলো: সৃষ্টি ও আদেশ এবং তাকদির ও শরয়ি বিধানের নিরিখে বস্তুর অন্তর্নিহিত রহস্যসমূহ সম্পর্কে অবগতি লাভ করা এবং কারণের সাথে কার্যকারণের যোগসূত্র সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর প্রায়োগিক হিকমত হলো—যেমনটি মানাজিল-এর লেখক বলেছেন: কোনো বিষয়কে তার সঠিক স্থানে স্থাপন করা।
তিনি বলেন: এটি তিনটি স্তরে বিভক্ত:
প্রথম স্তর: প্রতিটি বিষয়কে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা, তার সীমা লঙ্ঘন না করা, সময়ের আগে তা করার জন্য তাড়াহুড়ো না করা এবং নির্দিষ্ট সময় থেকে তা বিলম্বিত না করা।
দ্বিতীয় স্তর: আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতির মাঝে তাঁর বিশেষ দৃষ্টি প্রত্যক্ষ করা, তাঁর ফয়সালার মাঝে তাঁর ন্যায়বিচারকে অনুধাবন করা এবং কোনো কিছু প্রদান না করার মাঝে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ লক্ষ্য করা। এই স্তরের একটি অর্থ হলো—যা আহলে ইসবাত ও সুন্নাত (أهل الإثبات والسنة) ব্যক্ত করেছেন: হিকমত হলো সেই সকল প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য যা মহান আল্লাহর সৃষ্টি ও আদেশের লক্ষ্য, যার নিমিত্তে তিনি আদেশ দিয়েছেন এবং যার জন্য তিনি তাকদির ও সৃষ্টি নির্ধারণ করেছেন।
তৃতীয় স্তর: তোমার যুক্তি-প্রমাণের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি (البصيرة) অর্জন করা, তোমার দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে ধ্রুব সত্যে পৌঁছানো এবং তোমার ইঙ্গিতসমূহের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত লক্ষ্যে উপনীত হওয়া। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তুমি তোমার দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাবে, আর তা হলো অন্তর্দৃষ্টি (البصيرة), যেখানে হৃদয়ের কাছে জ্ঞানের অবস্থা এমন হবে যেমনটি চোখের সামনে দৃশ্যমান বস্তুর অবস্থা। আর এটিই সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে সাহাবীগণ অন্য সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন এবং এটিই আলেমদের সর্বোচ্চ স্তর (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وتظهر الحكمة في قصتهم بما يلي:
1- أن هدايتهم إلى دين الله، وعدم تقليد قومهم على ما هم عليه هو عين الحكمة، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء.
2- اعتزالهم لقومهم، بعد أن أدركوا أنه لا ينفع معهم نصح ولا دعوة، وهذه هي العزلة المشروعة، وبخاصة عند وقوع الفتن أو الخشية منها، وهذا مصداق الحديث الصحيح: «يوشك أن يكون خير مال أحدكم غنم يتبع بها شغف الجبال ومواقع القطر يفر بدينه من الفتن» .
3- صمودهم على الحق عند مواجهتهم للباطل.
4- العزلة الثانية، وهي عزلة سرية، لأن العزلة الأولى كانت عزلة دون تخف، حيث علم بهم قومهم، وعلموا ما هم عليه.
أما هذه العزلة، فكانت عزلة سرية، لا يعلم مكانهم، لما قد يترتب على ذلك من مفاسد. {إِنَّهُمْ إِنْ يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَنْ تُفْلِحُوا إِذًا أَبَدًا} (الكهف: 20) .
وكأنهم يشيرون إلى العزلة الأولى، ثم الفرصة التي أعطيت لهم، حيث علموا أن الفرصة لن تتكرر.
তাদের কাহিনীতে হিকমত বা প্রজ্ঞা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রকাশ পায়:
১- আল্লাহর দ্বীনের প্রতি তাদের হেদায়াতপ্রাপ্ত হওয়া এবং তাদের কওম যে ভ্রান্ত পথে ছিল, তার অন্ধ অনুকরণ না করাই হলো প্রজ্ঞার মূল নির্যাস। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।
২- তাদের কওমকে বর্জন করা, যখন তারা অনুধাবন করতে পারলেন যে তাদের নিকট উপদেশ বা দাওয়াত কোনো কাজে আসবে না। আর এটিই হলো শরয়ি বিচ্ছিন্নতা, বিশেষ করে যখন ফিতনা প্রকাশ পায় অথবা ফিতনার আশঙ্কা থাকে। এটি এই বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের সত্যতার প্রমাণ: "শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তির সর্বোত্তম সম্পদ হবে কতগুলো ছাগল, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির স্থানে চলে যাবে; সে ফিতনা থেকে নিজের দ্বীন নিয়ে পলায়ন করবে।"
৩- বাতিলের মোকাবিলা করার সময় সত্যের ওপর তাদের অবিচল থাকা।
৪- দ্বিতীয় নির্জনবাস, যা ছিল একটি গোপন নির্জনবাস। কারণ প্রথম নির্জনবাসটি ছিল আত্মগোপন ব্যতিরেকে, যেখানে তাদের কওম তাদের সম্পর্কে জেনে গিয়েছিল এবং তারা কোন আকিদার ওপর আছে তাও অবগত হয়েছিল।
পক্ষান্তরে এই নির্জনবাসটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়, যাতে তাদের অবস্থান সম্পর্কে কেউ জানতে না পারে; কারণ এর ফলে নানাবিধ ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। "তারা যদি তোমাদের খবর পেয়ে যায়, তবে তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তোমাদের তাদের মিল্লাত বা ধর্মে ফিরিয়ে নেবে; আর সেক্ষেত্রে তোমরা কখনোই সফল হতে পারবে না।" (সূরা আল-কাহাফ: ২০)। তারা যেন প্রথম নির্জনবাস এবং এরপর তাদের দেওয়া সুযোগের প্রতি ইঙ্গিত করছেন, কারণ তারা জানতেন যে এই সুযোগ আর দ্বিতীয়বার আসবে না।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
5- حكمتهم في قضاء حوائجهم، {فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هَذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنْظُرْ أَيُّهَا أَزْكَى طَعَامًا فَلْيَأْتِكُمْ بِرِزْقٍ مِنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا} (الكهف: من الآية 19) .
إن هذه القصة، قصة عجيبة، فيها الحكمة، والعبرة، وبيان منهج الدعوة، وحسن استخدام الوسائل، وتقدير المصالح والمفاسد، ومعرفة ما آلت إليه الأمور، إلى غير ذلك من الدروس والعبر.
৫- তাদের প্রয়োজন পূরণে তাদের প্রজ্ঞা; {কাজেই তোমাদের একজনকে তোমাদের এই রূপমুদ্রাসহ শহরে পাঠাও; সে যেন দেখে কোন খাদ্যটি অধিক পবিত্র, অতঃপর সে যেন সেখান থেকে তোমাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসে। আর সে যেন অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে এবং তোমাদের সম্পর্কে কাউকে কিছু জানতে না দেয়।} (কাহাফ: ১৯ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ)।
নিশ্চয়ই এই কাহিনীটি এক বিস্ময়কর ঘটনা, যাতে রয়েছে প্রজ্ঞা, শিক্ষা, দাওয়াতের কর্মপদ্ধতি (منهج) বা মানহাজ প্রদর্শন, উপকরণের যথাযথ ব্যবহার, কল্যাণ ও অকল্যাণের বিচার-বিশ্লেষণ এবং বিষয়ের পরিণাম সম্পর্কে অবগত হওয়া সহ আরও নানাবিধ শিক্ষা ও উপদেশ।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إن إبراز مواطن الحكمة في هذه القصة تبرز من خلال ما يلي:
1- العدل.
2- التثبت.
3- بُعدُ الرؤية، وسعة الأفق.
4- إتقان قاعدة المصالح والمفاسد.
5- القوة بدون عنف، واللين بدون ضعف.
6- أداء المسئولية على وجهها.
7- الشورى.
8- نسبة الفضل لأهله.
9- التنبه والحذر من الاستدراج.
10- القوة في اتخاذ القرار في الوقت المناسب.
এই গল্পের প্রজ্ঞার দিকগুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ফুটে ওঠে:
১- ন্যায়পরায়ণতা (العدل)।
২- যাচাই-বাছাই (التثبت)।
৩- দূরদর্শিতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির প্রশস্ততা।
৪- কল্যাণ ও অকল্যাণ (المصالح والمفاسد) সংক্রান্ত মূলনীতিতে পারদর্শিতা।
৫- উগ্রতা ব্যতিরেকে শক্তি এবং দুর্বলতা ব্যতিরেকে কোমলতা।
৬- যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন।
৭- পরামর্শ (الشورى)।
৮- যোগ্য ব্যক্তিকে কৃতিত্ব প্রদান।
৯- প্ররোচনা সম্পর্কে সতর্কতা ও সাবধানতা।
১০- উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
4 - أن الداعية يخرج من قصة لقمان بعدة دروس أهمها:
(أ) حسن الأسلوب، واختيار أفضل الكلمات للوصول إلى قلوب المدعوين.
(ب) التركيز على الأصول من التوحيد وغيره، مع عدم الإخلال بالفروع.
(جـ) الإيجاز مع التركيز والشمول.
(د) أن الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، ليس بالأمر الهين واليسير، ولذا يخشى على صاحبه من المزالق، ويستطيع الداعية أن يتخلص من ذلك بالصبر، والتواضع، والتزام منهج الوسطية في أموره كلها.
وبعد:
فهذه وقفة سريعة مع هذه القصة العظيمة التي تنبض حكمة وعلما وفقها {وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} (البقرة: من الآية 269) .
4 - একজন দাঈ লুকমান (আ.)-এর কাহিনী থেকে বেশ কিছু শিক্ষা লাভ করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
(ক) উত্তম শৈলী এবং দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হৃদয়ে পৌঁছানোর জন্য সর্বোত্তম শব্দ চয়ন।
(খ) তাওহীদসহ অন্যান্য মূলনীতিসমূহের (أصول) ওপর গুরুত্বারোপ করা, পাশাপাশি শাখা-প্রশাখাগুলোর (فروع) ক্ষেত্রেও কোনো ত্রুটি না করা।
(গ) একাগ্রতা ও ব্যাপকতার সাথে সংক্ষেপন (إيجاز)।
(ঘ) সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) কোনো সহজসাধ্য বিষয় নয়; তাই এর সম্পাদনকারীর পদস্খলনের আশঙ্কা থাকে। আর একজন দাঈ ধৈর্য, বিনয় এবং তার যাবতীয় বিষয়ে মধ্যপন্থা (وسطية) অবলম্বনের মাধ্যমে তা থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারেন।
অতঃপর:
প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও ফিকহ সমৃদ্ধ এই মহান কাহিনীর ওপর এটি ছিল এক সংক্ষিপ্ত আলোকপাত; "আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তাকে অবশ্যই প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে" (আল-বাকারাহ: ২৬৯ নং আয়াতের অংশ)।
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أمثلة من الحكمة في السنة النبويةتجري الحكمة على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم كالماء الزلال، وأفعاله صلى الله عليه وسلم كلها عين الحكمة، فهو المعصوم من الزلل والخطأ.
وسأختار بعض الأمثلة، لبيان الحكمة في السنة، مكتفيا من القلادة بما أحاط بالعنق:
1- فنجد حكمته صلى الله عليه وسلم في حسن تعامله مع أصحابه ومراعاته لأحوالهم، وهذا أكثر من أن يحصى، وأشهر من أن يؤتى له بمثال.
2- إجابة الرسول صلى الله عليه وسلم للسائلين، حيث قد يبدو الخلاف والتعارض -أحيانا- بينها، بينما هي من اختلاف التنوع لا اختلاف التضاد، وذلك لحكمة عظيمة، وهي مراعاة حال السائلين، ولنأخذ هذا المثال:
(أ) " سأل عبد الله بن مسعود رضي الله عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم قائلا: «يا رسول الله! أي العمل أفضل؟ قال: "الصلاة على ميقاتها"، قلت: ثم أي؟ قال: "بر الوالدين"، قلت: ثم أي؟ قال: "الجهاد في سبيل الله"، فسكت عن رسول الله، ولو استزدته لزادني» رواه البخاري (1) .
(ب) وعن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: «يا رسول الله! نرى الجهاد أفضل العمل أفلا نجاهد؟ قال: لكن أفضل الجهاد حج مبرور» رواه البخاري (2) .
--------------------------------------------
সুন্নাহর প্রজ্ঞার কতিপয় দৃষ্টান্তরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবান মুবারক থেকে প্রজ্ঞা নির্মল পানির ন্যায় প্রবাহিত হয় এবং তাঁর প্রতিটি কর্মই হচ্ছে প্রজ্ঞার মূর্ত প্রতীক; কেননা তিনি বিচ্যুতি ও ভুল থেকে সুরক্ষিত (معصوم)।
সুন্নাহর মধ্যে বিদ্যমান প্রজ্ঞা বর্ণনার জন্য আমি গুটিকতক দৃষ্টান্ত চয়ন করব, যা কণ্ঠলগ্নে বিদ্যমান হারের ন্যায় সামগ্রিক বিষয় উপস্থাপনের জন্য যথেষ্ট হবে:
১- আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রজ্ঞা তাঁর সাহাবীদের সাথে উত্তম আচরণ এবং তাঁদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখার ক্ষেত্রে দেখতে পাই। এটি এতই অধিক যে তা গণনা করা অসম্ভব এবং এটি এতই প্রসিদ্ধ যে এর জন্য আলাদা উদাহরণের প্রয়োজন নেই।
২- প্রশ্নকারীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তর প্রদানের পদ্ধতিটি লক্ষ্যণীয়, যেখানে কখনও কখনও উত্তরগুলোর মধ্যে বাহ্যিক বৈসাদৃশ্য ও বিরোধ (تعارض) পরিলক্ষিত হতে পারে; অথচ এগুলো মূলত বৈচিত্র্যগত ভিন্নতা (اختلاف التنوع), বৈপরীত্যমূলক ভিন্নতা (اختلاف التضاد) নয়। এর পেছনে রয়েছে এক সুমহান প্রজ্ঞা, আর তা হলো প্রশ্নকারীদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা। নিম্নোক্ত উদাহরণটি লক্ষ্য করা যাক:
(ক) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করে বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম?" তিনি বললেন: "সময়মতো সালাত আদায় করা।" আমি বললাম: "অতঃপর কোনটি?" তিনি বললেন: "পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করা।" আমি বললাম: "অতঃপর কোনটি?" তিনি বললেন: "আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।" এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিশ্চুপ থাকলাম, যদি আমি আরও জিজ্ঞাসা করতাম তবে তিনি আমাকে আরও বলতেন। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১)।
(খ) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জিহাদকে সর্বোত্তম আমল হিসেবে মনে করি, তবে কি আমরা জিহাদ করব না?" তিনি বললেন: "বরং সর্বোত্তম জিহাদ হলো কবুল হজ।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(جـ) وعن عبد الله بن بسر رضي الله عنه " أن رجلا قال: «يا رسول الله! إن شرائع الإسلام قد كثرت علي فأخبرني بشيء أتشبث به، قال: "لا يزال لسانك رطبا من ذكر الله» رواه أحمد والترمذي (1) .
إلى غير ذلك من الأحاديث التي سأل أصحابها عن أفضل العمل، فاختلفت إجابة رسول الله صلى الله عليه وسلم مراعاة لحال السائلين، وإدراكا منه صلى الله عليه وسلم أن ما يستطيعه هذا قد لا يستطيعه ذاك، إلى غير ذلك من الأسباب التي يراعى فيها حال الفرد وحاجة الأمة وقواعد الشرع.
ولو أن الدعاة استطاعوا أن يكلفوا كل إنسان بما يحسنه (2) ويبتعد عما لا يستطيع، لحققت الأمة اكتفاء ذاتيا في أغلب مجالاتها.
ولكن واقع أغلب الناس، كما قال الشاعر:
ومكلف الأشياء ضدّ طباعها
… متطلب في الماء جذوة نار
3- وانظر إلى هذا الأسلوب الحكيم من لدنه صلى الله عليه وسلم لمعالجة قضية مهمة تحتاج إلى الحكمة، وبعد النظر.
--------------------------------------------
(গ) আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি আরজ করলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! ইসলামের বিধিবিধান আমার জন্য অনেক বেশি হয়ে গিয়েছে, তাই আমাকে এমন কিছু বলে দিন যা আমি আঁকড়ে ধরে থাকতে পারি।" তিনি (সা.) বললেন: "তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সজীব থাকে।" এটি আহমদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (১)।
এ জাতীয় আরও অনেক হাদিস রয়েছে যেখানে সাহাবীগণ সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উত্তরগুলো প্রশ্নকারীদের অবস্থা বিবেচনার প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছিল। এটি তাঁর (সা.) এই উপলব্ধি থেকে যে, একজন যা করতে সক্ষম অন্যজন তা করতে সক্ষম নাও হতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য অনেক কারণ ছিল যাতে ব্যক্তির অবস্থা, উম্মাহর প্রয়োজন এবং শরিয়তের মূলনীতিসমূহ বিবেচনা করা হয়েছে।
যদি দাঈগণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার দক্ষতা অনুযায়ী (২) দায়িত্ব অর্পণ করতে পারতেন এবং যা সে করতে সক্ষম নয় তা থেকে তাকে দূরে রাখতেন, তবে উম্মাহ তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারত।
কিন্তু অধিকাংশ মানুষের বাস্তবতা হলো কবি যেমন বলেছেন:
যে ব্যক্তি বস্তুকে তার স্বভাবের বিপরীতে পরিচালিত করতে চায়
… সে যেন পানির মধ্যে আগুনের স্ফুলিঙ্গ অনুসন্ধান করছে
৩- রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে এই প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতির দিকে লক্ষ করুন যা প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার দাবি রাখে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: «إن فتى شابا أتى إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: " يا رسول الله ائذن لي بالزنا، فأقبل القوم عليه فزجروه، وقالوا: مه مه، فقال: ادنه، فدنا منه قريبا، قال: فجلس، قال: أتحبه لأمك؟ قال: لا والله!! -جعلني الله فداك- قال: ولا الناس يحبونه لأمهاتهم، قال: أفتحبه لابنتك؟ قال: لا والله!! يا رسول الله -جعلني الله فداك- قال: ولا الناس يحبونه لبناتهم، قال: أفتحبه لأختك؟ قال: لا والله!! -جعلني الله فداك- قال: ولا الناس يحبونه لأخواتهم، قال: أفتحبه لعمتك؟ قال: لا والله!! -جعلني الله فداك- قال: ولا الناس يحبونه لعماتهم، قال: أفتحبه لخالتك؟ قال: لا والله!! -جعلني الله فداك-، قال: ولا الناس يحبونه لخالاتهم. قال: فوضع يده عليه، وقال: اللهم اغفر ذنبه وطهر قلبه، وحصن فرجه. فلم يكن بعد ذلك الفتى يلتفت إلى شيء» رواه أحمد (1) .
أرأيتم مثل هذا الأسلوب، كيف جاء هذا الشاب وقد هاجت شهوته، ورغب في الحرام، وعاد عفيفا محصنا بعيدا عن الشهوة والشبهة.
--------------------------------------------
আবু উমামা আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «এক যুবক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ব্যভিচারের অনুমতি দিন।" তখন উপস্থিত লোকজন তার দিকে তেড়ে এল এবং তাকে ধমক দিয়ে বলল: "থামো, থামো!" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "কাছে এসো।" সে তাঁর অত্যন্ত কাছে গিয়ে বসল। তিনি বললেন: "তুমি কি তোমার মায়ের জন্য এটি পছন্দ করবে?" সে বলল: "আল্লাহর কসম, কক্ষনো নয়! — আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন —" তিনি বললেন: "অনুরূপভাবে মানুষও তাদের মায়েদের জন্য তা পছন্দ করে না।" তিনি বললেন: "তুমি কি তোমার মেয়ের জন্য এটি পছন্দ করবে?" সে বলল: "আল্লাহর কসম, কক্ষনো নয়! হে আল্লাহর রাসূল — আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন —" তিনি বললেন: "মানুষও তাদের মেয়েদের জন্য তা পছন্দ করে না।" তিনি বললেন: "তুমি কি তোমার বোনের জন্য এটি পছন্দ করবে?" সে বলল: "আল্লাহর কসম, কক্ষনো নয়! — আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন —" তিনি বললেন: "মানুষও তাদের বোনদের জন্য তা পছন্দ করে না।" তিনি বললেন: "তুমি কি তোমার ফুফুর জন্য এটি পছন্দ করবে?" সে বলল: "আল্লাহর কসম, কক্ষনো নয়! — আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন —" তিনি বললেন: "মানুষও তাদের ফুফুদের জন্য তা পছন্দ করে না।" তিনি বললেন: "তুমি কি তোমার খালার জন্য এটি পছন্দ করবে?" সে বলল: "আল্লাহর কসম, কক্ষনো নয়! — আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন —" তিনি বললেন: "মানুষও তাদের খালাদের জন্য তা পছন্দ করে না।" এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ওপর হাত রাখলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! তার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, তার অন্তর পবিত্র করুন এবং তার লজ্জাস্থান হেফাযত করুন।" এরপর থেকে সেই যুবক আর কোনো কিছুর (হারাম কাজের) দিকে ভ্রূক্ষেপ করত না।» এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১)।
আপনি কি এই পদ্ধতির অনুরূপ কিছু দেখেছেন? কীভাবে এই যুবকটি এসেছিল যখন তার কামভাব উত্তেজিত ছিল এবং সে হারামের প্রতি আগ্রহী ছিল, অথচ সে পবিত্র ও সচ্চরিত্র হয়ে এবং লালসা ও সংশয় থেকে দূরে অবস্থান করে ফিরে গেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
4- ولعل من أهم الأمثلة في هذا المجال، قصة الحديبية، وما وقع فيها من أحداث كانت تقتضي الحكمة في أسمى معانيها، وإلا لحدثت أمور لا تحمد عقباها.
ويصعب التفصيل في ذلك، حيث لا يتسع المجال له -حسب المنهج الذي رسمته- ولكن سأقتصر على قضية واحدة لتكون لنا عبرة ونبراسا، وتلك القضية هي كتابة الصلح، ولنقرأ كما في صحيح البخاري، وفيه:
«فدعا النبي صلى الله عليه وسلم الكاتب فقال النبي صلى الله عليه وسلم اكتب: بسم الله الرحمن الرحيم فقال سهيل: أما الرحمن فوالله ما أدري ما هو، ولكن اكتب: باسمك اللهم، فقال المسلمون: والله لا نكتبها إلا بسم الله الرحمن الرحيم فقال النبي- صلى الله عليه وسلم: اكتب: باسمك اللهم. ثم قال: هذا ما قاضى عليه محمد رسول الله، فقال سهيل: والله لو كنا نعلم أنك رسول الله ما صددناك عن البيت، ولا قاتلناك، ولكن اكتب: محمد بن عبد الله، فقال النبي- صلى الله عليه وسلم: والله إني لرسول الله، وإن كذبتموني، اكتب: محمد بن عبد الله
… » الحديث (1) ".
--------------------------------------------
4- সম্ভবত এই ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো হুদায়বিয়ার ঘটনা এবং এতে সংঘটিত ঘটনাবলি, যা তার সর্বোচ্চ অর্থে প্রজ্ঞার দাবি রাখে; অন্যথায় এমন সব পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো যার পরিণতি শুভ হতো না।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা কঠিন, কারণ আমার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী এখানে তার পর্যাপ্ত অবকাশ নেই। তবে আমি কেবল একটি বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকব যাতে তা আমাদের জন্য শিক্ষা ও আলোকবর্তিকা হয়; আর সেই বিষয়টি হলো সন্ধিপত্র লিখন। চলুন আমরা সহীহ বুখারীতে বর্ণিত বর্ণনাটি পাঠ করি, যেখানে রয়েছে:
«অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লেখককে ডাকলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন: ‘লেখো—বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’। তখন সুহাইল বলল: ‘রহমান কে—আল্লাহর কসম, আমি তা জানি না। বরং তুমি লেখো—বিসমিকাল্লাহুম্মা (আপনার নামে, হে আল্লাহ)।’ তখন মুসলিমরা বলল: ‘আল্লাহর কসম! আমরা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ছাড়া অন্য কিছু লিখব না।’ অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘লেখো—বিসমিকাল্লাহুম্মা।’ এরপর তিনি বললেন: ‘এটি সেই চুক্তি যা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সম্পাদন করেছেন।’ সুহাইল বলল: ‘আল্লাহর কসম! আমরা যদি জানতাম যে আপনি আল্লাহর রাসূল, তবে আপনাকে কাবা গৃহে বাধা দিতাম না এবং আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করতাম না। বরং আপনি লেখো—মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ।’ তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল, যদিও তোমরা আমাকে অস্বীকার করো। লেখো—মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ
… » হাদিস (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল হিকমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إن التأمل في هذه الحادثة العظيمة، يبين لنا مقدار حكمة رسول الله صلى الله عليه وسلم وعدم استجابته للاستفزاز، أو الوقوف عند أمر فيه سعة مع أنه يحقق، للمسلمين مكاسب باهرة، وهذا من باب النظر في المصلحتين والسعي لتحصيل أعلاهما، ولذلك جاءت النتيجة بتسمية الله لهذا الصلح فتحا، {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا} (الفتح: 1) .
وقادة الدعوة بحاجة إلى وعي هذه الدروس، وعدم الاستجابة لضغط القاعدة إذا كان خلاف الحق، أو أن هناك ما هو أولى مما يريده هؤلاء. {وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} (البقرة: من الآية 269) .
ولئلا يتوهم متوهم أن الحكمة تقتضي التنازل دائما إذا كان الأمر في مصلحة الإسلام والمسلمين، كما هو واقع بعض العاملين للإسلام، والمتحمسين للدعوة، ممن ينقصهم العلم الشرعي، وهذا خلل في المنهج، وخطأ في التصرف، وبخاصة أن هؤلاء يحتجون دائما بقصة الحديبية، عند كل تنازل يقدمونه.
এই মহান ঘটনার গভীর পর্যবেক্ষণ আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রজ্ঞার বিশালতা এবং কোনো উস্কানির প্রতি তাঁর সাড়া না দেওয়া অথবা অবকাশ রয়েছে এমন কোনো বিষয়ে অনর্থক পড়ে না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করে; যদিও তা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত চমৎকার সাফল্য বয়ে এনেছিল। এটি মূলত দুটি কল্যাণের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান এবং শ্রেষ্ঠতরটি অর্জনের প্রচেষ্টার অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা এই সন্ধিকে 'বিজয়' হিসেবে অভিহিত করে ফলাফল ঘোষণা করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।} (আল-ফাতহ: ১)।
দাওয়াতের ময়দানের নেতৃবৃন্দের এই শিক্ষাগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ কর্মীদের চাপ যদি সত্যের পরিপন্থী হয় অথবা তাদের চাওয়ার চেয়ে উত্তম কোনো পথ খোলা থাকে, তবে সেই চাপের মুখে নতি স্বীকার করা যাবে না। {আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তাকে মূলত প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে।} (আল-বাকারাহ: ২৬৯ এর অংশবিশেষ)।
আর যাতে কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তি এমন ভ্রান্ত ধারণা না করে যে, ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হলেই প্রজ্ঞা সর্বদা আপস বা ছাড় দেওয়ার দাবি রাখে; যেমনটি বর্তমানে ইসলামি কার্যক্রমে নিয়োজিত কিছু ব্যক্তি এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে অতি-উৎসাহী কিছু মানুষের মধ্যে দেখা যায় যাদের শারঈ জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এটি মূলত মানহায বা মূলনীতিগত ত্রুটি এবং কর্মপদ্ধতির ভুল, বিশেষ করে যখন তারা তাদের প্রতিটি আপস বা ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে হুদাইবিয়ার ঘটনার দলিল পেশ করে।