(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
التوحيد أولا يا دعاة الإسلام القسم: كتب عامة
الكتاب: التوحيد أولا يا دعاة الإسلام
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 24
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 42
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হে ইসলামের দাঈগণ, তাওহিদই সবার আগে বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: হে ইসলামের দাঈগণ, তাওহিদই সবার আগে
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন، বিন আল-হাজ নূহ বিন নাজাতি বিন আদম، আল-আশকুদারী আল-আলবানি (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: বইটি কোনো তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ২৪
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিল নেই]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
التوحيد أولا
يا دعاة الإسلام
للعلامة
محمد ناصر الدين الألباني
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا.
من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102) {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء:1) {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (الأحزاب:70-71) .
তাওহিদ সর্বাগ্রে
হে ইসলামের দাঈগণ
আল্লামা
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকানিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।
আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} (আলে ইমরান: ১০২) {হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} (নিসা: ১) {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।} {তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} (আহযাব: ৭০-৭১) ।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২)
وبعد: فهذه رسالة عظيمة (1) النفع والفائدة للعامة والخاصة؛ يُجيب فيها عالم من علماء هذا العصر وهو فضيلة الشيخ محمد ناصر الدين الألباني حفظه الله تعالى ونفع به، يجيب فيها على سؤال يدور على ألسنة الغيورين على هذا الدين الذي يحملونه في قلوبهم ويشغلون فكرهم به ليلًا ونهارًا ومجمل السؤال هو:
ما هو السبيل إلى النهوض بالمسلمين وما هو الطريق الذي يتخذونه حتى يمكن الله لهم ويضعهم في المكان اللائق بهم بين الأمم؟
فأجاب العلامة الألباني -نفع الله به - على هذا السؤال إجابة مفصلة واضحة. ولما لهذه الإجابة من حاجة، رأينا نشرها. فأسأل الله تعالى أن ينفع بها وأن يهدي المسلمين إلى ما يحب ويرضى؛ إنه جواد كريم.
--------------------------------------------
এরপর: এটি সাধারণ এবং বিশিষ্ট সকলের জন্য অত্যন্ত (১) উপকারী ও কল্যাণকর একটি পুস্তিকা (رسالة); এতে বর্তমান যুগের আলেমদের মধ্য হতে একজন বরেণ্য আলেম উত্তর প্রদান করেছেন, আর তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন এবং তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করুন—তিনি এখানে এমন একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যা এই দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মুখে মুখে ফেরে, যাঁরা এই দ্বীনকে তাঁদের হৃদয়ে লালন করেন এবং দিবারাত্রি এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন। প্রশ্নের সারমর্ম (مجمل) হলো:
মুসলিমদের পুনর্জাগরণের উপায় কী এবং তাঁরা কোন পথ অবলম্বন করবেন যাতে আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং জাতিসমূহের মাঝে তাঁদের উপযুক্ত স্থানে অধিষ্ঠিত করেন?
আল্লামা (العلامة) আলবানি—আল্লাহ তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন—এই প্রশ্নের একটি বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট উত্তর প্রদান করেছেন। যেহেতু এই উত্তরের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে, তাই আমরা এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে ফায়দা দান করেন এবং মুসলিমদের সেই পথে পরিচালিত করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দাতা ও মহানুভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
التوحيد أولا يا دعاة الإسلام
হে ইসলামের আহ্বানকারীগণ, তাওহিদই প্রথম।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
سؤال: فضيلة الشيخ لا شك أنكم تعلمون بأن واقع الأمة الديني واقع مرير من حيث الجهل بالعقيدة، ومسائل الاعتقاد، ومن حيث الافتراق في المناهج وإهمال نشر الدعوة الإسلامية في أكثر بقاع الأرض طبقًا للعقيدة الأولى والمنهج الأول الذي صلحت به الأمة، وهذا الواقع الأليم لا شك بأنه قد ولد غيرة عند المخلصين ورغبة في تغييره وإصلاح الخلل، إلا أنهم اختلفوا في طريقتهم في إصلاح هذا الواقع؛ لاختلاف مشاربهم العقدية والمنهجية - كما تعلم ذلك فضيلتكم - من خلال تعدد الحركات والجماعات الإسلامية الحزبية والتي ادعت إصلاح الأمة الإسلامية عشرات السنين، ومع ذلك لم يكتب لها النجاح والفلاح، بل تسببت تلك الحركات للأمة في إحداث الفتن ونزول النكبات والمصائب العظيمة، بسبب مناهجها وعقائدها المخالفة لأمر الرسول صلى الله عليه وسلم وما جاء به؛ مما ترك الأثر الكبير في الحيرة عند المسلمين - وخصوصًا الشباب منهم - في كيفية معالجة هذا الواقع، وقد يشعر الداعية المسلم المتمسك بمنهاج النبوة المتبع لسبيل المؤمنين، المتمثل في فهم الصحابة والتابعين لهم بإحسان من علماء الإسلام؛ قد يشعر بأنه حمل أمانة عظيمة تجاه هذا الواقع
প্রশ্ন: হে শ্রদ্ধেয় শাইখ, নিঃসন্দেহে আপনি অবগত আছেন যে, আকিদা (عقيدة) এবং বিশ্বাসের বিষয়াবলি সম্পর্কে অজ্ঞতার দিক থেকে উম্মাহর ধর্মীয় বাস্তবতা অত্যন্ত তিক্ত। একইভাবে মানহাজ (منهج) বা কর্মপদ্ধতির ক্ষেত্রে অনৈক্য এবং বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে উম্মাহর সংস্কারের মূল ভিত্তি সেই আদি আকিদা (عقيدة) ও আদি মানহাজ (منهج) অনুযায়ী ইসলামি দাওয়াহ প্রসারে অবহেলার কারণেও এই শোচনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছে। এই বেদনাদায়ক বাস্তবতা নিশ্চিতভাবেই মুখলিস বা একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের হৃদয়ে আত্মমর্যাদাবোধ এবং এই বিচ্যুতি সংশোধন ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করেছে। তবে, এই বাস্তবতা সংশোধনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে তারা মতভেদ করেছেন; কারণ তাদের আকিদাগত ও মানহাজগত (منهجية) দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা রয়েছে—যা আপনার কাছে সুবিদিত। এটি প্রতিফলিত হয়েছে বিভিন্ন ইসলামি আন্দোলন এবং দলীয় গোষ্ঠীগুলোর বহুধা বিভক্তির মাধ্যমে, যারা গত কয়েক দশক ধরে উম্মাহর সংশোধনের দাবি করে আসছে। তা সত্ত্বেও, তাদের ভাগ্যে সফলতা ও কল্যাণ জোটেনি; বরং এই আন্দোলনগুলো উম্মাহর মাঝে ফিতনা (فتنة) সৃষ্টি এবং বড় বড় বিপর্যয় ও মহাবিপদ নেমে আসার কারণ হয়েছে। এর মূলে ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার পরিপন্থী তাদের মানহাজ (مناهج) ও আকিদা (عقائد)। ফলে মুসলিমদের মাঝে—বিশেষ করে যুবসমাজের মাঝে—এই বাস্তবতা মোকাবিলা করার উপায় নিয়ে ব্যাপক সংশয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায়, নবুওয়তের মানহাজ (منهاج النبوة) ধারণকারী এবং মুমিনদের পথ অনুসরণকারী একজন মুসলিম দাঈ, যিনি সাহাবি (صحابة), তাবেয়ি (تابعين) এবং ইসলামের বিশেষজ্ঞ আলিমদের বুঝ ও উপলব্ধিকে আঁকড়ে ধরেন; তিনি এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নিজেকে এক মহান আমানত বহনকারী হিসেবে অনুভব করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
وإصلاحه أو المشاركة في علاجه.
** فما هي نصيحتكم لأتباع تلك الحركات أو الجماعات؟
** وما هي الطرق النافعة الناجعة في معالجة هذا الواقع؟
** وكيف تبرأ ذمة المسلم عند الله عز وجل يوم القيامة؟
এবং এর সংশোধন অথবা এর প্রতিকারে অংশগ্রহণ করা।
** সুতরাং ঐ সকল আন্দোলন বা দলসমূহের অনুসারীদের প্রতি আপনার নসিহত কী?
** আর এই বাস্তবতা মোকাবিলায় কার্যকর ও ফলপ্রসূ উপায়সমূহ কী কী?
** আর কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর নিকট একজন মুসলিমের দায়ভার কীভাবে মুক্ত হবে?
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
الجواب
يجب العناية والاهتمام بالتوحيد أولا كما هو منهج الأنبياء والرسل عليهم السلام:بالإضافة لما ورد في السؤال - السابق ذكره آنفًا - من سوء واقع المسلمين، نقول: إن هذا الواقع الأليم ليس شرًّا مما كان عليه واقع العرب في الجاهلية حينما بعث إليهم نبينا محمد صلى الله عليه وسلم؛ لوجود الرسالة بيننا، وكمالها، ووجود الطائفة الظاهرة على الحق، والتي تهدي به، وتدعو الناس للإسلام الصحيح:عقيدة، وعبادة، وسلوكًا، ومنهجًا، ولا شك بأن واقع أولئك العرب في عصر الجاهلية مماثل لما عليه كثير من طوائف المسلمين اليوم!.
بناء على ذلك نقول: العلاج هو ذاك العلاج، والدواء هو ذاك الدواء، فبمثل ما عالج النبي صلى الله عليه وسلم تلك الجاهلية الأولى، فعلى الدعاة الإسلاميين اليوم - جميعهم - أن يعالجوا سوء الفهم لمعنى " لا إله إلا الله "، ويعالجوا واقعهم الأليم بذاك العلاج والدواء نفسه. ومعنى هذا واضح جدًّا؛ إذا تدبرنا قول الله عز وجل {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (الأحزاب:21) .
উত্তরসর্বপ্রথম তাওহিদের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক (يجب), যেমনটি ছিল নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) মানহাজ (منهج) বা কর্মপদ্ধতি:পূর্বে উল্লেখিত প্রশ্নে মুসলমানদের শোচনীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমরা বলি: এই বেদনাদায়ক বাস্তবতা সেই জাহেলিয়াত যুগের আরবদের বাস্তবতার চেয়ে অধিক মন্দ নয় যখন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন; কারণ আমাদের মাঝে রিসালাত বিদ্যমান এবং তা পূর্ণাঙ্গ। এছাড়া সত্যের ওপর বিজয়ী সেই প্রকাশ্য দল (الطائفة الظاهرة) এখনও বর্তমান রয়েছে, যারা সত্যের পথ প্রদর্শন করে এবং মানুষকে বিশুদ্ধ ইসলামের দিকে আহ্বান জানায়: আকিদা (عقيدة), ইবাদত, আচরণ ও মানহাজ (منهج)-এর ক্ষেত্রে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জাহেলিয়াত যুগের সেই আরবদের অবস্থা বর্তমানের অনেক মুসলিম গোষ্ঠীর অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ!
এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি: প্রতিকার সেটিই এবং ওষুধও সেটিই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেভাবে সেই প্রথম জাহেলিয়াতের চিকিৎসা করেছিলেন, বর্তমানের সকল ইসলামি দাঈদের উচিত "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর অর্থের ব্যাপারে বিদ্যমান ভুল ধারণার সংশোধন করা এবং তাদের এই বেদনাদায়ক বাস্তবতার চিকিৎসা সেই একই প্রতিকার ও ওষুধের মাধ্যমে করা। এর অর্থ অত্যন্ত স্পষ্ট; যদি আমরা মহান আল্লাহর এই বাণী নিয়ে চিন্তা করি: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ (أسوة حسنة)} (আল-আহযাব: ২১)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
فرسولنا صلى الله عليه وسلم هو الأسوة الحسنة في معالجة مشاكل المسلمين في عالمنا المعاصر وفي كل وقت وحين، ويقتضي ذلك منا أن نبدأ بما بدأ به نبينا صلى الله عليه وسلم وهو إصلاح ما فسد من عقائد المسلمين أولا، ومن عبادتهم ثانيًا، ومن سلوكهم ثالثًا. ولست أعني من هذا الترتيب فصل الأمر الأول بدءًا بالأهم ثم المهم، ثم ما دونه! وإنما أريد أن يهتم بذلك المسلمون اهتماما شديدًا كبيرًا، وأعني بالمسلمين بطبيعة الأمر الدعاة، ولعل الأصح أن نقول: العلماء منهم؛ لأن الدعاة اليوم - مع الأسف الشديد - يدخل فيهم كل مسلم ولو كان على فقر مدقع من العلم، فصاروا يعدون أنفسهم دعاة إلى الإسلام، وإذا تذكرنا تلك القاعدة المعروفة - لا أقول: عند العلماء فقط بل عند العقلاء جميعًا - تلك القاعدة التي تقول: "فاقد الشيء لا يعطيه " فإننا نعلم اليوم بأن هناك طائفة كبيرة جدًّا يعدون بالملايين من المسلمين تنصرف الأنظار إليهم حين يطلق لفظة: الدعاة. وأعني بهم: جماعة الدعوة، أو: جماعة التبليغ " ومع ذلك فأكثرهم كما قال الله عز وجل: {وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} (الأعراف: من الآية 187) .
আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্তমান বিশ্বে এবং প্রতিটি যুগে ও সময়ে মুসলিম উম্মাহর সমস্যা নিরসনে সর্বোত্তম আদর্শ। এটি আমাদের নিকট এই দাবি রাখে যে, আমরা যেন সেই বিষয় দিয়েই যাত্রা শুরু করি যা দিয়ে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুরু করেছিলেন। আর তা হলো—প্রথমত মুসলমানদের আকিদাহ বা বিশ্বাসের যা কিছু বিকৃত হয়েছে তার সংশোধন, দ্বিতীয়ত তাদের ইবাদত এবং তৃতীয়ত তাদের চারিত্রিক আচরণের সংস্কার। এই ক্রমবিন্যাস দ্বারা আমার উদ্দেশ্য এটি নয় যে, গুরুত্বের ক্রমানুসারে—অধিক গুরুত্বপূর্ণ, অতঃপর গুরুত্বপূর্ণ এবং পরবর্তীতে তদনুরূপ বিষয়গুলোকে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন করা! বরং আমি চাই মুসলিমরা এই বিষয়গুলোর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করুক। আর মুসলিম বলতে আমি স্বাভাবিকভাবেই 'দায়ী' বা ইসলামের দিকে আহ্বানকারীদের বুঝাচ্ছি; তবে সম্ভবত এটি বলা অধিকতর সঠিক হবে যে—তাদের মধ্যকার আলেমগণ বা বিদ্বান সমাজ। কারণ বর্তমানে দাওয়াতের ময়দানে—অত্যন্ত পরিতাপের সাথে বলতে হয়—এমন প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তিই দাখিল হয়ে পড়েছেন, যাদের ইলম বা জ্ঞানের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ফলশ্রুতিতে তারা নিজেদের ইসলামের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে গণ্য করতে শুরু করেছেন। আমরা যদি সেই সুপরিচিত মূলনীতিটি স্মরণ করি—যা কেবল আলেমদের নিকট নয়, বরং সকল বুদ্ধিমান মানুষের নিকট স্বীকৃত—যে, "যে জিনিসের অভাব নিজের মধ্যে আছে, তা অন্যকে প্রদান করা সম্ভব নয়", তবে আমরা জানতে পারি যে, বর্তমানে মুসলমানদের একটি বিশাল শ্রেণী রয়েছে যাদের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন এবং যখন 'দায়ী' বা 'আহ্বানকারী' শব্দটি ব্যবহৃত হয় তখন তাদের প্রতিই সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। আর আমার উদ্দেশ্য হলো—'জামাআতে দাওয়াত' বা 'তাবলীগী জামাত'। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশ মানুষই তেমন, যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: "কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না" (সূরা আল-আরাফ: ১৮৭)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومعلوم من طريقة دعوتهم أنهم قد أعرضوا بالكلية عن الاهتمام بالأصل الأول - أو بالأمر الأهم - من الأمور التي ذكرت آنفًا، وأعني: العقيدة والعبادة والسلوك، وأعرضوا عن الإصلاح الذي بدأ به الرسول صلى الله عليه وسلم بل بدأ به كل الأنبياء، وقد بيَّنه الله تعالى بقوله: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (النحل: من الآية 36) . فهم لا يعنون بهذا الأصل الأصيل والركن الأول من أركان الإسلام - كما هو معلوم لدى المسلمين جميعًا - هذا الأصل الذي قام يدعو إليه أول رسول من الرسل الكرام؛ ألا وهو نوح صلى الله عليه وسلم قرابة ألف سنة، والجميع يعلم أن الشرائع السابقة لم يكن فيها من التفصيل لأحكام العبادات والمعاملات ما هو معروف في ديننا هذا؛ لأنه الدين الخاتم للشرائع والأديان، ومع ذلك فقد لبث نوح في قومه ألف سنة إلا خمسين عامًا يصرف وقته وجل اهتمامه للدعوة إلى التوحيد، ومع ذلك أعرض قومه عن دعوته كما بيَّن الله عز وجل ذلك في محكم التنزيل {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ
তাদের দাওয়াহর পদ্ধতি থেকে এটি সুবিদিত যে, তারা ইতিপূর্বে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে প্রথম মূলনীতি (الأصل الأول)—বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ হয়েছে। আর আমি তা দ্বারা আকিদাহ (العقيدة), ইবাদত (العبادة) এবং আচরণবিধি বা সুলুক (السلوك) বুঝাতে চাচ্ছি। তারা সেই সংস্কার থেকেও বিমুখ হয়েছে যা স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরু করেছিলেন, বরং যা সকল নবীগণই শুরু করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: "আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" (আন-নাহল: আয়াত ৩৬-এর অংশ)। সুতরাং তারা ইসলামের এই মৌলিক ভিত্তি (الأصل الأصيل) এবং প্রথম স্তম্ভ (الركن الأول) নিয়ে গুরুত্ব প্রদান করে না—যেমনটি সকল মুসলমানের নিকট সুপরিচিত—এই সেই মূলনীতি যার দিকে সম্মানিত রাসুলগণের প্রথম জন অর্থাৎ নূহ আলাইহিস সালাম প্রায় এক হাজার বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন। সকলেই জানেন যে, পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোতে ইবাদত ও লেনদেনের বিধিবিধানের (أحكام العبادات والمعاملات) এমন বিস্তারিত বর্ণনা ছিল না যা আমাদের এই দ্বীনে বিদ্যমান; কারণ এটি হলো সকল শরিয়ত ও ধর্মসমূহের পরিসমাপ্তিকারী দ্বীন। তা সত্ত্বেও নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমের মাঝে পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর অবস্থান করেছেন এবং তাঁর অধিকাংশ সময় ও মনোযোগ তাওহিদের (التوحيد) দাওয়াতের জন্য ব্যয় করেছেন। এরপরও তাঁর কওম তাঁর দাওয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর সুষ্পষ্ট ও অলঙ্ঘনীয় (محكم) নাজিলকৃত কিতাবে বর্ণনা করেছেন: "এবং তারা বলেছিল, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না; আর বর্জন করো না ওয়াদ, সুওয়া ও ইয়াগুছকে..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} (نوح: 23) .
فهذا يدل دلالة قاطعة على أن أهم شيء ينبغي على الدعاة إلى " الإسلام الحق" الاهتمام به دائمًا هو الدعوة إلى التوحيد وهو معنى قوله تبارك وتعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} (محمد: من الآية 19) .
هكذا كانت سنة النبي صلى الله عليه وسلم عملا وتعليمًا.
أما فعله: فلا يحتاج إلى بحث، لأن النبي صلى الله عليه وسلم في العهد المكي إنما كان فعله ودعوته محصورة في الغالب في دعوة قومه إلى عبادة الله لا شريك له.
أما تعليمًا: ففي حديث أنس بن مالك رضي الله عنه الوارد في الصحيحين «أن النبي صلى الله عليه وسلم عندما أرسل معاذًا إلى اليمن قال له: " ليكن أول ما تدعوهم إليه: شهادة أن لا إله إلا الله، فإن هم أطاعوك لذلك» ....." (1) إلخ الحديث. وهو معلوم ومشهور إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
...ইয়াউউক ও নাসর। (নূহ: ২৩)।
এটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, "প্রকৃত ইসলাম"-এর দিকে আহ্বানকারীদের জন্য সর্বদা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করা উচিত, তা হলো তাওহিদের দাওয়াত। আর এটিই মহান ও বরকতময় আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই} (মুহাম্মদ: আয়াত ১৯-এর অংশ)।
কর্ম ও শিক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এমনই ছিল।
তাঁর কর্মের ক্ষেত্রে: এটি কোনো গবেষণার মুখাপেক্ষী নয়; কারণ মক্কী জীবনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম ও দাওয়াত প্রধানত তাঁর কওমকে অংশীদারহীনভাবে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
আর শিক্ষার ক্ষেত্রে: আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে যা সহীহাইন-এ এসেছে যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজকে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তাঁকে বললেন: "তুমি তাদের সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেবে, তা হলো—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতঃপর যদি তারা তোমার সেই কথা মেনে নেয়..."» (১) হাদিসের শেষ পর্যন্ত। এটি ইনশাআল্লাহ তাআলা সুবিদিত ও প্রসিদ্ধ (مشهور)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
إذًا، قد أمر النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه أن يبدؤوا بما بدأ به وهو الدعوة إلى التوحيد، ولا شك أن هناك فرقًا كبيرًا جدًّا بين أولئك العرب المشركين - من حيث إنهم كانوا يفهمون ما يقال لهم بلغتهم -، وبين أغلب العرب المسلمين اليوم الذين ليسوا بحاجة أن يدعوا إلى أن يقولوا: لا إله إلا الله؛ لأنهم قائلون بها على اختلاف مذاهبهم وطرائقهم وعقائدهم، فكلهم يقولون: لا إله إلا الله، لكنهم في الواقع بحاجة أن يفهموا - أكثر - معنى هذه الكلمة الطيبة، وهذا الفرق فرق جوهري - جدًّا - بين العرب الأولين الذين كانوا إذا دعاهم رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يقولوا: لا إله إلا الله يستكبرون، كما هو مبين في صريح القرآن العظيم (1) لماذا يستكبرون؟ ؛ لأنهم يفهمون أن معنى هذه الكلمة أن لا يتخذوا مع الله أندادًا وألا يعبدوا إلا الله، وهم كانوا يعبدون غيره، فهم ينادون غير الله ويستغيثون بغير الله؛ فضلا عن النذر لغير الله، والتوسل بغير الله، والذبح لغيره والتحاكم لسواه....إلخ.
--------------------------------------------
সুতরাং, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সেই বিষয় দিয়েই শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা দিয়ে তিনি নিজে শুরু করেছিলেন; আর তা হলো তাওহিদের (التوحيد) দাওয়াত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তৎকালীন মক্কার অংশীবাদী (المشركين) আরবদের মধ্যে—যারা নিজেদের ভাষায় তাদের যা বলা হতো তা বুঝতে পারত—এবং বর্তমান যুগের অধিকাংশ মুসলিম আরবদের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে। বর্তমানের এই মুসলিমদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার জন্য দাওয়াত দেওয়ার প্রয়োজন নেই; কারণ তাদের বিভিন্ন মাযহাব, তরীকা ও আকিদাগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা সকলেই এটি পাঠ করে। তারা সকলেই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, কিন্তু বাস্তবে তাদের এই পবিত্র বাক্যটির অর্থ আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার প্রয়োজন রয়েছে। এই পার্থক্যটি আদি যুগের আরবদের সাথে একটি অত্যন্ত মৌলিক পার্থক্য। যখনই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার দাওয়াত দিতেন, তখন তারা অহংকার করত; যেমনটি সুমহান কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনায় ফুটে উঠেছে। (১) কেন তারা অহংকার করত? কারণ তারা বুঝতে পারত যে, এই বাক্যের অর্থ হলো আল্লাহর সাথে কোনো সমকক্ষ বা অংশীদার (أندادًا) গ্রহণ না করা এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কারো ইবাদত না করা। অথচ তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করত। তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকত এবং অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা (يستغيثون) করত; এছাড়া আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মানত করা, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের মাধ্যমে উসিলা (التوسل) তালাশ করা, অন্যের উদ্দেশ্যে জবেহ করা এবং গাইরুল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করা ইত্যাদি তো ছিলই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
هذه الوسائل الشركية الوثنية المعروفة التي كانوا يفعلونها، ومع ذلك كانوا يعلمون أن من لوازم هذه الكلمة الطيبة - لا إله إلا الله - من حيث اللغة العربية أن يتبرؤوا من كل هذه الأمور؛ لمنافاتها لمعنى " لا إله إلا الله ".
এই পরিচিত শিরকপূর্ণ ও পৌত্তলিক মাধ্যমগুলো যা তারা অবলম্বন করত, তাসত্ত্বেও তারা জানত যে আরবি ভাষার নিরিখে এই কালিমায়ে তাইয়্যেবা—'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অন্যতম অনিবার্য দাবি হলো এই সমস্ত বিষয় থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা; কারণ এগুলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
غالب المسلمين اليوم لا يفقهون معنى لا إله إلا الله فهمًا جيدًا:أما غالب المسلمين اليوم الذين يشهدون بأن " لا إله إلا الله " فهم لا يفقهون معناها جيدًا، بل لعلهم يفهمون معناها فهمًا معكوسًا ومقلوبًا تمامًا؛ أضرب لذلك مثلا: بعضهم (1) أَلَّفَ رسالة في معنى " لا إله إلا الله " ففسرها: " لا رب إلا الله!! " وهذا المعنى هو الذي كان المشركون يؤمنون به وكانوا عليه، ومع ذلك لم ينفعهم إيمانهم هذا، قال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} (لقمان: من الآية 25) .
فالمشركون كانوا يؤمنون بأن لهذا الكون خالقًا لا شريك له، ولكنهم كانوا يجعلون مع الله أندادًا وشركاء في عبادته، فهم يؤمنون بأن الرب واحد ولكن يعتقدون بأن المعبودات كثيرة، ولذلك ردّ الله تعالى - هذا الاعتقاد - الذي سماه عبادة لغيره من دونه بقوله تعالى: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} (الزمر: من الآية 3) .
--------------------------------------------
বর্তমান যুগের অধিকাংশ মুসলিম 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ সঠিকভাবে অনুধাবন করে না:বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিম যারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" এর সাক্ষ্য প্রদান করে, তারা এর মর্মার্থ সঠিকভাবে বোঝে না; বরং সম্ভবত তারা এর অর্থ সম্পূর্ণ বিপরীত ও উল্টোভাবে বোঝে। এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি: তাদের মধ্যে কেউ কেউ (১) "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর অর্থের ওপর একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো রব নেই!!" অথচ মুশরিকরা এই অর্থের ওপরই ঈমান রাখত এবং এরই ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল; তা সত্ত্বেও তাদের এই ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসেনি। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন যে, কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ} (সূরা লুকমান: আয়াত ২৫ এর অংশ)।
মুশরিকরা বিশ্বাস করত যে, এই মহাবিশ্বের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যাঁর কোনো শরিক নেই, কিন্তু তারা আল্লাহর ইবাদতে অন্যদেরকে সমকক্ষ ও অংশীদার সাব্যস্ত করত। তারা বিশ্বাস করত যে রব একজনই, কিন্তু তাদের ধারণা ছিল মাবুদ অনেক। একারণেই আল্লাহ তাআলা এই বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন—যাকে তিনি তাঁর পরিবর্তে অন্যের ইবাদত হিসেবে অভিহিত করেছেন—তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে (তারা বলে), আমরা তো তাদের ইবাদত একারণেই করি যে, তারা আমাদের আল্লাহর অতি নৈকট্যে পৌঁছে দিবে} (সূরা যুমার: আয়াত ৩ এর অংশ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لقد كان المشركون يعلمون أن قول: " لا إله إلا الله " يلزم له التبرؤ من عبادة ما دون الله عز وجل، أما غالب المسلمين اليوم؛ فقد فسروا هذه الكلمة الطيبة " لا إله إلا الله " بـ: " لا رب إلا الله!! " فإذا قال المسلم: لا إله إلا الله "، وعبد مع الله غيره؛ فهو والمشركون سواء، عقيدة، وإن كان ظاهره الإسلام؛ لأنه يقول لفظة: " لا إله إلا الله" فهو بهذه العبارة مسلم لفظيًّا ظاهرًا، وهذا مما يوجب علينا جميعًا - بصفتنا دعاة إلى الإسلام- الدعوة إلى التوحيد وإقامة الحجة على من جهل معنى" لا إله إلا الله " وهو واقع في خلافها؛ بخلاف المشرك؛ لأنه يأبى أن يقول: " لا إله إلا الله " فهو ليس مسلمًا لا ظاهرًا ولا باطنًا فأما جماهير المسلمين اليوم هم مسلمون؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «فإذا قالوها عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله تعالى» (1) .
--------------------------------------------
মুশরিকরা জানত যে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলার জন্য মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর ইবাদত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমান যুগের অধিকাংশ মুসলিম এই কালিমায়ে তাইয়্যেবা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-কে "আল্লাহ ছাড়া কোনো রব নেই" হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে!! ফলে কোনো মুসলিম যখন "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে এবং আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কারও ইবাদত করে, তখন সে বিশ্বাসের দিক থেকে মুশরিকদের সমান হয়ে যায়, যদিও বাহ্যিকভাবে সে মুসলিম। যেহেতু সে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বাক্যটি উচ্চারণ করে, তাই এই বাণীর মাধ্যমে সে কেবল শাব্দিক ও বাহ্যিকভাবে একজন মুসলিম। আর এটিই ইসলামের দাঈ হিসেবে আমাদের সকলের ওপর তাওহীদের দাওয়াত প্রদান করা এবং যারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-র অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে এর পরিপন্থী কাজে লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করাকে আবশ্যক করে দেয়। এটি মুশরিকদের অবস্থার বিপরীত; কারণ তারা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলতে অস্বীকার করে, তাই তারা বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোনোভাবেই মুসলিম নয়। পক্ষান্তরে বর্তমান যুগের সাধারণ মুসলিম সমাজ মুসলিম হিসেবেই গণ্য; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তারা এটি বলবে, তখন তারা আমার নিকট থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হকের বিধান ব্যতীত; আর তাদের চূড়ান্ত হিসাব মহান আল্লাহর ওপর ন্যাস্ত।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لذلك، فإني أقول كلمة - وهي نادرة الصدور مني -، وهي: إن واقع كثير من المسلمين اليوم شر مما كان عليه عامة العرب في الجاهلية الأولى من حيث سوء الفهم لمعنى هذه الكلمة الطيبة؛ لأن المشركين العرب كانوا يفهمون، ولكنهم لا يؤمنون، أما غالب المسلمين اليوم، فإنهم يقولون ما لا يعتقدون، يقولون: لا إله إلا الله، ولا يؤمنون -حقًّا - بمعناها (1) ، لذلك فأنا أعتقد أن أول واجب على الدعاة المسلمين - حقًّا - هو أن يدندنوا حول هذه الكلمة وحول بيان معناها بتلخيص، ثم بتفصيل لوازم هذه الكلمة الطيبة بالإخلاص لله عز وجل في العبادات بكل أنواعها؛ لأن الله عز وجل لما حكى عن المشركين قوله: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} (الزمر: من الآية 3) ، جعل كل عبادة توجه لغير الله كفرًا بالكلمة الطيبة: لا إله إلا الله؛ لهذا؛ أنا أقول اليوم: لا فائدة مطلقًا من تكتيل المسلمين ومن تجميعهم، ثم تركهم في ضلالهم دون فهم هذه الكلمة الطيبة، وهذا لا يفيدهم في الدنيا قبل الآخرة! نحن نعلم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «من مات وهو يشهد أن لا إله إلا الله مخلصًا من قلبه حرم الله بدنه على
--------------------------------------------
এ কারণে আমি একটি কথা বলতে চাই - যা আমার পক্ষ থেকে সচরাচর প্রকাশ পায় না - আর তা হলো: এই পবিত্র কালিমার অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ের অনেক মুসলিমের বাস্তবতা প্রথম জাহিলিয়াত (جاهلية)-এর সাধারণ আরবদের অবস্থার চেয়েও নিকৃষ্ট; কারণ আরবের মুশরিক (مشركين)-রা এর অর্থ বুঝত কিন্তু তারা ঈমান আনত না। পক্ষান্তরে বর্তমান কালের অধিকাংশ মুসলিম এমন কথা বলে যা তারা অন্তরে পোষণ করে না; তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা এর মর্মার্থের প্রতি ঈমান রাখে না (১)। সেজন্য আমি মনে করি যে, প্রকৃত মুসলিম দাঈদের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হলো এই কালিমা এবং এর অর্থ বর্ণনার ওপর বারবার গুরুত্বারোপ করা। প্রথমে সংক্ষেপে এবং পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে সকল প্রকার ইবাদতে মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা (إخلاص) বজায় রাখার মাধ্যমে এই পবিত্র কালিমার দাবিগুলো ব্যাখ্যা করা। কেননা মহান আল্লাহ যখন মুশরিক (مشركين)-দের সম্পর্কে তাঁর এই বাণী বর্ণনা করেছেন: {আমরা তাদের ইবাদত একারণেই করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়} (সূরা আয-যুমার: আয়াত ৩-এর অংশ), তখন তিনি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের প্রতি নিবেদিত প্রতিটি ইবাদতকে এই পবিত্র কালিমা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর প্রতি কুফর (كفر) হিসেবে গণ্য করেছেন। এ কারণে আমি আজ বলছি: মুসলিমদেরকে শুধু দলবদ্ধ ও একত্রিত করা, অতঃপর এই পবিত্র কালিমা না বুঝিয়েই তাদের বিভ্রান্তির মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার মাঝে কোনো উপকার নেই। আর এটি আখেরাতের আগে দুনিয়াতেও তাদের কোনো কাজে আসবে না! আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী জানি: ‘যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করল যে সে তার অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে (مخلصًا) সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ তার শরীরকে (জাহান্নামের জন্য) হারাম করে দেবেন...’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
النار» وفي رواية أخرى: «دخل الجنة» (1) . فيمكن ضمان دخول الجنة لمن قالها مخلصًا حتى لو كان بعد لأي وعذاب يمس القائل، والمعتقد الاعتقاد الصحيح لهذه الكلمة، فإنه قد يعذب بناءً على ما ارتكب واجترح من المعاصي والآثام، ولكن سيكون مصيره في النهاية دخول الجنة، وعلى العكس من ذلك؛ من قال هذه الكلمة الطيبة بلسانه، ولما يدخل الإيمان إلى قلبه؛ فذلك لا يفيده شيئًا في الآخرة، قد يفيده في الدنيا النجاة من القتال ومن القتل إذا كان للمسلمين قوة وسلطان، وأما في الآخرة فلا يفيد شيئًا إلا إذا كان قائلا لها وهو فاهم معناها أولا، ومعتقدًا لهذا المعنى ثانيًا؛ لأن الفهم وحده لا يكفي إلا إذا اقترن مع الفهم الإيمان بهذا المفهوم، وهذه النقطة؛ أظن أن أكثر الناس عنها غافلون! وهي: لا يلزم من الفهم الإيمان بل لا بد أن يقترن كل من الأمرين مع الآخر حتى يكون مؤمنًا؛ ذلك لأن كثيرًا من أهل الكتاب من اليهود والنصارى كانوا يعرفون أن محمدًا صلى الله عليه وسلم رسول صادق فيما يدعيه من الرسالة والنبوة، ولكن مع هذه المعرفة التي شهد لهم بها ربنا عز وجل حين قال: {يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ}
--------------------------------------------
জাহান্নাম।" আর অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "সে জান্নাতে প্রবেশ করল" (১)। সুতরাং, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে এই কালিমা পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া সম্ভব, যদিও তা ওই পাঠকারীর ওপর আপতিত কোনো কষ্ট ও শাস্তির পরেই হোক না কেন। আর যে ব্যক্তি এই কালিমার ওপর সঠিক বিশ্বাস পোষণ করবে, সে তার কৃত পাপাচার ও গুনাহের কারণে শাস্তি পেতে পারে, তবে পরিশেষে তার গন্তব্য হবে জান্নাত। এর বিপরীতে; যে ব্যক্তি কেবল মুখে এই উত্তম বাক্যটি উচ্চারণ করল অথচ তার অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি; আখেরাতে তা তার কোনো উপকারে আসবে না। দুনিয়াতে হয়তো এটি তাকে লড়াই ও হত্যা থেকে রক্ষা করবে যদি মুসলমানদের শক্তি ও শাসন থাকে, কিন্তু আখেরাতে তা কোনো কাজে আসবে না; যদি না সে প্রথমত এর অর্থ অনুধাবন করে পাঠ করে এবং দ্বিতীয়ত সেই অর্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। কারণ, কেবল উপলব্ধিই যথেষ্ট নয় যতক্ষণ না সেই উপলব্ধির সাথে উক্ত বিষয়ের প্রতি ঈমান যুক্ত হয়। আর এই বিষয়টি সম্পর্কে আমার মনে হয় অধিকাংশ মানুষই উদাসীন! বিষয়টি হলো: কোনো কিছু বুঝলেই ঈমান আনা আবশ্যক হয়ে যায় না, বরং মুমিন হওয়ার জন্য এই উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটা অপরিহার্য। কারণ, আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও নাসারাদের অনেকেই জানত যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রিসালাত ও নবুওয়াতের দাবিতে একজন সত্যবাদী রসূল ছিলেন। কিন্তু এই জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও—যার সাক্ষ্য স্বয়ং আমাদের প্রতিপালক প্রদান করেছেন যখন তিনি বলেছেন: {তারা তাকে তেমনিভাবে চেনে, যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(البقرة: من الآية 146) . ومع ذلك هذه المعرفة ما أغنت عنهم من الله شيئًا لماذا؟ لأنهم لم يصدقوه فيما يدعيه من النبوة والرسالة، ولذلك فإن الإيمان تسبقه المعرفة ولا تكفي وحدها، بل لا بد أن يقترن مع المعرفة الإيمان والإذعان، لأن المولى عز وجل يقول في محكم التنزيل: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} (محمد: من الآية 19) .
وعلى هذا، فإذا قال المسلم: لا إله إلا الله بلسانه؛ فعليه أن يضم إلى ذلك معرفة هذه الكلمة بإيجاز ثم بالتفصيل، فإذا عرف وصدق وآمن؛ فهو الذي يصدق عليه تلك الأحاديث التي ذكرت بعضها آنفًا، ومنها قوله صلى الله عليه وسلم مشيرًا إلى شيء من التفصيل الذي ذكرته آنفًا: «من قال: لا إله إلا الله، نفعته يومًا من دهره» (1) .
--------------------------------------------
(আল-বাকারাহ: ১৪৬ নম্বর আয়াতের অংশ)। তা সত্ত্বেও এই জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কোনো উপকারে আসেনি। কেন? কারণ তিনি নবুয়ত ও রিসালাতের যে দাবি করেছিলেন, তারা তাকে তাতে সত্যায়ন করেনি। এই কারণে, ঈমানের পূর্বে জ্ঞান থাকা আবশ্যক এবং কেবল জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; বরং জ্ঞানের সাথে অবশ্যই ঈমান ও আনুগত্যের সমন্বয় থাকতে হবে। কেননা মহান রব তাঁর সুসংহত অবতীর্ণ গ্রন্থে বলেছেন: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} (মুহাম্মদ: ১৯ নম্বর আয়াতের অংশ)।
এর ওপর ভিত্তি করে, যখন কোনো মুসলিম নিজ জিহ্বায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, তখন তার উচিত এর সাথে এই কালিমার সংক্ষিপ্ত এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জ্ঞানকে যুক্ত করা। অতঃপর সে যখন জানবে, সত্যায়ন করবে এবং ঈমান আনবে, তখনই সে ওইসব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে যেগুলোর কিছু আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। তন্মধ্যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীটি অন্যতম, যেখানে তিনি আমার ইতিপূর্বে বর্ণিত বিস্তারিত বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, তা তার জীবনের কোনো একদিন উপকারে আসবে" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أي كانت هذه الكلمة الطيبة بعد معرفة معناها منجية له من الخلود في النار - وهذا كرره لكي يرسخ في الأذهان - وقد لا يكون قد قام بمقتضاها من كمال العمل الصالح والانتهاء عن المعاصي ولكنه سلم من الشرك الأكبر وقام بما يقتضيه ويستلزمه شروط الإيمان من الأعمال القلبية - والظاهرية حسب اجتهاد بعض أهل العلم وفيه تفصيل ليس هذا محل بسطه - (1) ؛ وهو تحت المشيئة، وقد يدخل النار جزاء ما ارتكب أو فعَل من المعاصي أو أخلَّ ببعض الواجبات، ثم تنجيه هذه الكلمة الطيبة أو يعفو الله عنه بفضل منه وكرمه، وهذا معنى قوله صلى الله عليه وسلم المتقدم ذكره: «من قال: لا إله إلا الله، نفعته يومًا من دهره» ، أما من قالها بلسانه ولم يفقه معناها، أو فقه معناها ولكنه لم يؤمن بهذا المعنى؛ فهذا لا ينفعه قوله: لا إله إلا الله، إلا في العاجلة إذا كان يعيش في ظل الحكم الإسلامي وليس في الآجلة.
--------------------------------------------
অর্থাৎ এই পবিত্র বাণীটি, এর অর্থ অনুধাবন করার পর, তাকে জাহান্নামের চিরস্থায়ী শাস্তি থেকে মুক্তিদানকারী হবে—এবং এটি তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন যাতে তা অন্তরে বদ্ধমূল হয়—হয়তো সে নেক আমলের পূর্ণতা এবং গুনাহ বর্জনের মাধ্যমে এই কালিমার দাবিগুলো পুরোপুরি সম্পাদন করেনি, কিন্তু সে বড় শিরক থেকে মুক্ত ছিল এবং ঈমানের শর্তাবলির দাবি ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অন্তরের আমলসমূহ সম্পাদন করেছে—এবং কিছু বিদগ্ধ আলিমের ইজতিহাদ অনুযায়ী বাহ্যিক আমলও, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে যা এখানে সবিস্তারে বলার অবকাশ নেই— (১); আর সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে; হতে পারে সে তার কৃত গুনাহ বা কোনো ওয়াজিব পালনে ত্রুটির কারণে শাস্তিস্বরূপ জাহান্নামে প্রবেশ করবে, অতঃপর এই পবিত্র বাণীটি তাকে মুক্তি দেবে অথবা আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর এটাই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে উল্লিখিত বাণীর মর্মার্থ: "যে ব্যক্তি বলল: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', তা তার জীবনের কোনো একদিন উপকারে আসবে।" পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কেবল মুখে এটি বলল কিন্তু এর অর্থ বুঝল না, অথবা অর্থ বুঝল কিন্তু সেই অর্থের ওপর ঈমান আনল না; তবে তার এই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা পরকালে কোনো কাজে আসবে না, কেবল দুনিয়াতে কাজে আসতে পারে যদি সে ইসলামি শাসনের অধীনে বসবাস করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لذلك لا بد من التركيز على الدعوة إلى التوحيد في كل مجتمع أو تكتل إسلامي يسعى- حقيقة وحثيثًا - إلى ما تدندن به كل الجماعات الإسلامية أو جُلها، وهو تحقيق المجتمع الإسلامي وإقامة الدولة المسلمة التي تحكم بما أنزل الله على أيّ أرض لا تحكم بما أنزل الله، هذه الجماعات أو هذه الطوائف لا يمكنها أن تحقق هذه الغاية - التي أجمعوا على تحقيقها وعلى السعي- حثيثًا إلى جعلها حقيقة واقعية - إلا بالبدء بما بدأ به الرسول صلى الله عليه وسلم. 50
তাই প্রতিটি ইসলামী সমাজ বা সংগঠনের জন্য তাওহীদের দাওয়াতের ওপর গুরুত্বারোপ করা অপরিহার্য, যা সত্যিকার অর্থে ও নিরলসভাবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে পরিচালিত হয় যা নিয়ে প্রায় সকল ইসলামী দল বা তাদের অধিকাংশ সর্বদা আলোচনা করে থাকে; আর তা হলো—একটি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ এবং এমন একটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী সেই প্রতিটি ভূখণ্ডে শাসন পরিচালনা করবে যেখানে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন চলে না। এই দল বা গোষ্ঠীগুলো কখনোই এই লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে না—যে লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং একে বাস্তবে রূপদান করতে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছে ও নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে—যদি না তারা তা দিয়ে শুরু করে যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরু করেছিলেন। ৫০
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وجوب الاهتمام بالعقيدة لا يعني إهمال باقي الشرع من عبادات وسلوك ومعاملات وأخلاق:وأعيد التنبيه بأنني لا أعني الكلام في بيان الأهم فالمهم وما دونه على أن يقتصر الدعاة فقط على الدعوة إلى هذه الكلمة الطيبة وفهم معناها، بعد أن أتم الله عز وجل علينا النعمة بإكماله لدينه! بل لا بد لهؤلاء الدعاة أن يحملوا الإسلام كُلًّا لا يتجزأ، وأنا حين أقول هذا- بعد ذلك البيان الذي خلاصته: أن يهتم الدعاة الإسلاميون حقًّا بأهم ما جاء به الإسلام، وهو تفهيم المسلمين العقيدة الصحيحة النابعة من الكلمة الطيبة "لا إله إلا الله "، أريد أن أسترعي النظر إلى هذا البيان لا يعني أن يفهم المسلم فقط أن معنى:" لا إله إلا الله "، هو لا معبود بحق في الوجود إلا الله فقط! بل هذه يستلزم أيضًا أن يفهم العبادات التي ينبغي أن يعبد ربنا- عز وجل بها، ولا يوجه شيئًا منها لعبد من عباد الله تبارك وتعالى، فهذا التفصيل لا بد أن يقترن بيانه أيضًا بذلك المعنى الموجز للكلمة الطيبة، ويحسن أن أضرب مثلا - أو أكثر من مثل، حسبما يبدو لي - لأن البيان الإجمالي لا يكفي.
আকীদার প্রতি গুরুত্ব প্রদানের আবশ্যকতা মানে এই নয় যে, ইবাদত, আচরণ, লেনদেন এবং চরিত্রের মতো শরিয়তের অবশিষ্ট বিষয়গুলোকে অবহেলা করা হবে:আমি পুনরায় সতর্ক করছি যে, গুরুত্বের ক্রমানুসারে বিষয়গুলোর বর্ণনায় আমার উদ্দেশ্য এটি নয় যে, দাওয়াত দানকারীরা কেবল এই কালিমা তাইয়্যেবার দাওয়াত এবং এর অর্থ বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন, যেখানে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা দ্বীন পূর্ণ করার মাধ্যমে আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন! বরং এই দায়ীদের জন্য আবশ্যক হলো ইসলামকে একটি অবিভাজ্য পূর্ণাঙ্গ সত্তা হিসেবে ধারণ করা। আমি যখন এ কথা বলছি—সেই বর্ণনার পর যার সারকথা হলো: প্রকৃত ইসলামী দায়ীদের উচিত ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা, আর তা হলো মুসলমানদের সেই সঠিক (صحيح) আকীদা বোঝানো যা কালিমা তাইয়্যেবা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" থেকে উৎসারিত—তখন আমি এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, এই বর্ণনার অর্থ এমন নয় যে একজন মুসলিম কেবল এটুকুই বুঝবে যে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর অর্থ হলো "সৃষ্টিজগতে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য মাবুদ নেই"! বরং এটি এ বিষয়েরও দাবি রাখে যে, সে সেই ইবাদতগুলোকেও বুঝবে যার মাধ্যমে আমাদের প্রতিপালক—আযযা ওয়া জাল্লা—এর ইবাদত করা উচিত, এবং এর কোনো অংশই যেন মহান আল্লাহর কোনো বান্দার প্রতি নিবেদন করা না হয়। সুতরাং কালিমা তাইয়্যেবার সেই সংক্ষিপ্ত অর্থের সাথে এই বিস্তারিত বিবরণটিও যুক্ত থাকা অপরিহার্য। আর আমি একটি বা একাধিক উদাহরণ পেশ করা সমীচীন মনে করছি—যেমনটি আমার কাছে প্রতীয়মান হয়—কারণ সামগ্রিক বর্ণনা যথেষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
أقول: إن كثيرًا من المسلمين الموحدين حقًّا والذين لا يوجهون عبادة من العبادات إلى غير الله عز وجل، ذهنهم خالٍ من كثير من الأفكار والعقائد الصحيحة التي جاء ذكرها في الكتاب والسنة، فكثير من هؤلاء الموحدين يمرون على كثير من الآيات وبعض الأحاديث التي تتضمن عقيدة وهم غير منتبهين إلى ما تضمنته، مع أنها من تمام الإيمان بالله عز وجل، خذوا مثلا عقيدة الإيمان بعلو الله عز وجل، على ما خلقه، أنا أعرف بالتجربة أن كثيرًا من إخواننا الموحدين السلفيين يعتقدون معنا بأن الله عز وجل على العرش استوى دون تأويل، ودون تكييف، ولكنهم حين يأتيهم معتزليون عصريون، أو جهميون عصريون، أو ماتريدي أو أشعري ويلقي إليه شبهة قائمة على ظاهر آية لا يفهم معناها المُوسوِس ولا المُوسوَس إليه، فيحار في عقيدته، ويضل عنها بعيدًا، لماذا؟ لأنه لم يتلق العقيدة الصحيحة من كل الجوانب التي تعرض لبيانها كتاب ربنا عز وجل وحديث نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، فحينما يقول المعتزلي المعاصر: الله عز وجل يقول: {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ} (الملك: الآيتان 16-17) . وأنتم تقولون: إن الله في السماء، وهذا معناه
আমি বলছি: প্রকৃতপক্ষে অনেক মুওয়াহহিদ মুসলিম, যারা মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো প্রতি কোনো প্রকার ইবাদত নিবেদন করেন না, তাদের মন কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত অনেক সঠিক চিন্তা ও আকিদা থেকে শূন্য। এই মুওয়াহহিদদের অনেকে এমন অনেক আয়াত ও কিছু হাদিস পাঠ করেন যা আকিদা সংশ্লিষ্ট, অথচ তারা এর অন্তর্নিহিত বিষয়ের প্রতি মনোযোগী নন, যদিও তা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের পূর্ণতার অংশ। উদাহরণস্বরূপ, সৃষ্টির উপরে মহান আল্লাহর উচ্চতার আকিদাটি গ্রহণ করুন। আমি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানি যে, আমাদের অনেক মুওয়াহহিদ সালাফি ভাই আমাদের সাথে একমত যে, আল্লাহ তাআলা কোনো প্রকার ব্যাখ্যাকরণ (تأويل) এবং ধরণ নির্ধারণ (تكييف) ছাড়াই আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন (استوى)। কিন্তু যখন তাদের নিকট কোনো আধুনিক মুতাজিলা, জাহমি, মাতুরিদি বা আশআরি আসে এবং কোনো আয়াতের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থের ওপর ভিত্তি করে এমন কোনো সংশয় (شبهة) উপস্থাপন করে যার অর্থ কুমন্ত্রণাদানকারী বা যাকে কুমন্ত্রণা দেওয়া হচ্ছে কেউই বোঝে না, তখন সে তার আকিদা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় এবং তা থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হয়। কেন? কারণ সে মহান আল্লাহর কিতাব এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিসে বর্ণিত সকল দিক থেকে সঠিক আকিদা গ্রহণ করেনি। যখন সমসাময়িক মুতাজিলারা বলে: মহান আল্লাহ বলছেন: {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে যিনি আসমানে আছেন?} (আল-মুলক: ১৬-১৭)। আর তোমরা বলছ: আল্লাহ আসমানে আছেন, এর অর্থ হলো...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
أنكم جعلتم معبودكم في ظرف هو السماء المخلوقة!! فإنه يلقي شبهة على من أمامه.
নিশ্চয়ই আপনারা আপনাদের উপাস্যকে এমন এক আধারের (ظرف) মধ্যে স্থাপন করেছেন যা হলো এই সৃষ্ট আকাশ!! মূলত এটি তার সম্মুখে অবস্থানকারীর মনে সংশয় (شبهة) তৈরি করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
بيان عدم وضوح العقيدة الصحيحة ولوازمها في أذهان الكثيرين:
অনেকের মানসপটে সঠিক (الصحيحة) আকিদাহ এবং এর অনিবার্য বিষয়াবলির অস্পষ্টতার বর্ণনা:
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أريد من هذا المثال أن أبين أن عقيدة التوحيد بكل لوازمها ومتطلباتها ليست واضحة - للأسف في أذهان كثير ممن آمنوا بالعقيدة السلفية نفسها، فضلا عن الآخرين الذين اتبعوا العقائد الأشعرية أو الماتريدية أو الجهمية في مثل هذه المسألة، فأنا أرمي بهذا المثال إلى أن المسألة ليست بهذا اليسر الذي يصوره اليوم بعض الدعاة الذين يلتقون معنا في الدعوة إلى الكتاب والسنة؛ إن الأمر ليس بالسهولة التي يدعيها بعضهم، والسبب ما سبق بيانه من الفرق بين جاهلية المشركين الأولين حينما كانوا يُدعون ليقولوا: لا إله إلا الله فيأبَون؛ لأنهم يفهمون معنى هذه الكلمة الطيبة، وبين أكثر المسلمين المعاصرين اليوم حينما يقولون هذه الكلمة؛ ولكنهم لا يفهمون معناها الصحيح، هذا الفرق الجوهري هو الآن متحقق في مثل هذه العقيدة، وأعني بها علو الله عز وجل على مخلوقاته كلها، فهذا يحتاج إلى بيان، ولا يكفي أن يعتقد المسلم {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (طه:5) . «ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء» (1) دون أن يعرف أن كلمة "في " التي وردت في هذا الحديث ليست ظرفية، وهي مثل "في " التي وردت في قوله تعالى: {أَأَمِنْتُمْ
--------------------------------------------
আমি এই উদাহরণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করতে চাই যে, তাওহীদের আকিদা তার সমস্ত অনুষঙ্গ ও আবশ্যকতা সহকারে—দুর্ভাগ্যবশত—স্বয়ং সালাফি আকিদায় বিশ্বাসী অনেকের মনেই স্পষ্ট নয়, অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য যারা এ জাতীয় বিষয়ে আশআরি, মাতুরিদি বা জাহমি আকিদার অনুসরণ করেছে। সুতরাং এই উদাহরণের মাধ্যমে আমার লক্ষ্য হলো এটি বুঝানো যে, বিষয়টি ততটা সহজ নয় যতটা আজ কিতাব ও সুন্নাহর দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের সাথে একমত হওয়া কিছু দাঈ চিত্রিত করেন; বিষয়টি কেউ কেউ যেমন দাবি করেন তেমন সহজ নয়। এর কারণ হলো পূর্বে যা ব্যাখ্যা করা হয়েছে—অর্থাৎ আদি যুগের মুশরিকদের জাহিলিয়াত এবং সমকালীন অধিকাংশ মুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য। প্রথম যুগের মুশরিকদের যখন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার দাওয়াত দেওয়া হতো, তারা তা অস্বীকার করত; কারণ তারা এই পবিত্র কালিমার মর্মার্থ বুঝত। পক্ষান্তরে বর্তমানের অধিকাংশ মুসলিম এই কালিমা মুখে উচ্চারণ করে ঠিকই, কিন্তু তারা এর সঠিক অর্থ বোঝে না। এই মৌলিক পার্থক্যটি এখন এই আকিদার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান, আর তা হলো সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে মহান আল্লাহর উচ্চতা। এটি ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী, আর একজন মুসলিমের জন্য কেবল এতটুকু বিশ্বাস করাই যথেষ্ট নয় যে: {পরম করুণাময় আরশের ওপর সমাসীন হলেন} (ত্বহা: ৫)। কিংবা (হাদিসের এই অংশটি): "তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানের উপরে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন" (১)—এটি না জেনেই যে, এই হাদিসে বর্ণিত "ফি" শব্দটি আধার বা স্থানবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। এটি মহান আল্লাহর বাণীর "ফি"-এর মতো: {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مَنْ فِي السَّمَاءِ} (الملك: الآيتان 15-16) .؛ لأن " في " هنا بمعنى " على " والدليل على ذلك كثير وكثير جدًّا؛ فمن ذلك: الحديث السابق المتدَاول بين ألسنة الناس، وهو بمجموع طرقه -والحمد لله - صحيح، ومعنى قوله صلى الله عليه وسلم: «ارحموا من في الأرض» لا يعني الحشرات والديدان التي هي في داخل الأرض! وإنما من على الأرض؛ من إنسان وحيوان، وهذا مطابق لقوله صلى الله عليه وسلم: "
… «يرحمكم من في السماء» ، أي: على السماء، فمثل هذا التفصيل لا بد للمستجيبين لدعوة الحق أن يكونوا على بينة منه، ويُقَرِّب هذا: حديثُ الجارية وهي راعية غنم، وهو مشهور معروف، وإنما أذكر الشاهد منه؛ حينما سألها رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أين الله؟ " قالت له: في السماء" (1) لو سألت اليوم كبار شيوخ الأزهر - مثلا - أين الله؟ لقالوا لك: في كل مكان! بينما الجارية أجابت بأنه في السماء، وأقرها النبي صلى الله عليه وسلم، لماذا؟ لأنها أجابت على الفطرة، وكانت تعيش بما يمكن أن نسميه بتعبيرنا العصري (بيئة سلفية) لم تتلوث بأي بيئة سيئة - بالتعبير العام -؛ لأنها تخرجت كما يقولون اليوم - من مدرسة الرسول صلى
--------------------------------------------
যিনি আকাশে আছেন} (আল-মুলক: আয়াত ১৫-১৬); কারণ এখানে "আকাশে" শব্দটি "আকাশের উপরে" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সপক্ষে প্রমাণ অনেক এবং অনেক বেশি। তার মধ্যে একটি হলো: মানুষের মুখে প্রচলিত সেই পূর্ববর্তী হাদিসটি, যা এর সনদের সমষ্টিগত বিচারে (بمجموع طرقه) —সকল প্রশংসা আল্লাহর— সহিহ (صحيح)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো»—এর অর্থ এই নয় যে, যারা মাটির ভেতরে থাকা কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড়! বরং এর অর্থ হলো যারা জমিনের উপরে আছে; যেমন মানুষ ও প্রাণী। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "
… «যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন», অর্থাৎ: আকাশের উপরে। সত্যের আহ্বানে সাড়াদানকারীদের জন্য এই ধরনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক। একে আরও স্পষ্ট করে দেয়: দাসী মেয়ের হাদিসটি, যে ছিল একজন মেষপালক। এটি একটি প্রসিদ্ধ (مشهور) ও পরিচিত হাদিস। আমি কেবল এর প্রাসঙ্গিক অংশ (الشاهد) উল্লেখ করছি; যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আল্লাহ কোথায়?" সে তাঁকে উত্তর দিয়েছিল: "আকাশে।" (১) আজ যদি আপনি উদাহরণস্বরূপ আল-আযহারের বড় বড় শায়খদের জিজ্ঞাসা করেন—আল্লাহ কোথায়? তবে তারা আপনাকে বলবে: সব জায়গায়! অথচ দাসী মেয়েটি উত্তর দিয়েছিল যে তিনি আকাশে, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথাকে সমর্থন করেছিলেন। কেন? কারণ সে তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে উত্তর দিয়েছিল এবং সে এমন এক পরিবেশে বসবাস করছিল যাকে আমরা আমাদের আধুনিক পরিভাষায় 'সালাফি পরিবেশ' বলতে পারি, যা কোনো মন্দ পরিবেশ দ্বারা—সাধারণ পরিভাষায়—কলুষিত হয়নি। কারণ সে শিক্ষা লাভ করেছিল—যেমনটি আজ বলা হয়—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাদ্রাসা থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الله عليه وسلم - هذه المدرسة لم تكن خاصة ببعض الرجال ولا ببعض النساء، وإنما كانت مشاعة بين الناس وتضم الرجال والنساء وتعم المجتمع بأكمله، ولذلك عرفت راعية الغنم العقيدة؛ لأنها لم تتلوث بأي بيئة سيئة؛ عرفت العقيدة الصحيحة التي جاءت في الكتاب والسنة وهو ما لم يعرفه كثير ممن يدعي العلم بالكتاب والسنة، فلا يعرف أين ربه! مع أنه مذكور في الكتاب والسنة، واليوم أقول: لا يوجد شيء من هذا البيان وهذا الوضوح بين المسلمين بحيث لو سألت -لا أقول: راعية غنم - بل راعي أمة أو جماعة؛ فإنه قد يحار في الجواب كما يحار الكثيرون اليوم إلا من رحم الله، وقليل ما هم!!!
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—এই শিক্ষায়তন কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কিছু পুরুষ কিংবা কেবল নির্দিষ্ট কিছু নারীর জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত যা নারী ও পুরুষ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করত এবং সমগ্র সমাজে পরিব্যাপ্ত ছিল। এই কারণেই একজন মেষপালিকাও আকিদাহ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন; কারণ তিনি কোনো মন্দ পরিবেশ দ্বারা কলুষিত হননি। তিনি কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত সেই সঠিক (صحيح) আকিদাহ জানতেন যা কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞানের দাবিদার এমন অনেকে জানে না—তারা জানে না তাদের রব কোথায়! অথচ এটি কিতাব ও সুন্নাহতে সুস্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে। আজ আমি বলছি: মুসলমানদের মাঝে এমন বর্ণনা ও স্বচ্ছতা বর্তমানে বিদ্যমান নেই যে, আপনি যদি—আমি কোনো মেষপালিকার কথা বলছি না—বরং কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর পরিচালককেও জিজ্ঞাসা করেন, তবে তিনিও উত্তর দিতে গিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন, যেমনটি আজ অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে আল্লাহ যাদের ওপর রহমত করেছেন তারা ব্যতীত; আর তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য!!!
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الدعوة إلى العقيدة الصحيحة تحتاج إلى بذل جهد عظيم ومستمر:فإذًا، فالدعوة إلى التوحيد وتثبيتها في قلوب الناس تقتضي منا ألا نمر بالآيات دون تفصيل كما في العهد الأول؛ لأنهم - أولا - كانوا يفهمون العبارات العربية بيسر، وثانيًا لأنه لم يكن هناك انحراف وزيغ في العقيدة نبع من الفلسفة وعلم الكلام، فقام ما يعارض العقيدة السليمة، فأوضاعنا اليوم تختلف تمامًا عما كان عليه المسلمون الأوائل، فلا يجوز أن نتوهم بأن الدعوة إلى العقيدة الصحيحة هي اليوم من اليسر كما كان الحال في العهد الأول، وأُقَرِّب هذا في مَثَل لا يختلف فيه اثنان ولا ينتطح فيه عنزان - إن شاء الله تعالى-:
সঠিক আকিদার (العقيدة) প্রতি দাওয়াত দেওয়ার জন্য মহান এবং নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজন:অতএব, তাওহীদের (التوحيد) প্রতি আহ্বান এবং মানুষের অন্তরে তা সুদৃঢ় করার জন্য আবশ্যক যে, আমরা প্রথম যুগের মতো বিস্তারিত আলোচনা ব্যতিরেকে আয়াতসমূহ অতিক্রম করব না। কারণ, প্রথমত—তারা অতি সহজেই আরবি অভিব্যক্তিগুলো বুঝতে পারতেন। দ্বিতীয়ত—তখন আকিদাতে (العقيدة) এমন কোনো বিচ্যুতি ও বক্রতা ছিল না, যার উৎপত্তি হয়েছিল দর্শন ও ইলমুল কালাম (علم الكلام) থেকে, যা সুস্থ আকিদার (العقيدة) পরিপন্থী কোনো কিছু দাঁড় করিয়ে দেবে। সুতরাং আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি আদি যুগের মুসলিমদের অবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাজেই, সঠিক আকিদার (العقيدة) প্রতি দাওয়াত দেওয়া আজকের দিনেও প্রথম যুগের মতো সহজ হবে—এমন ধারণা করা আমাদের জন্য সংগত হবে না। আমি বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করছি, যে ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ তাআলা কোনো দ্বিমত নেই এবং যা অত্যন্ত সুষ্পষ্ট:
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من اليسر المعروف حينئذ أن الصحابي يسمع الحديث من رسول الله صلى الله عليه وسلم مباشرة ثم التابعي يسمع الحديث من الصحابي مباشرة … وهكذا نقف عند القرون الثلاثة المشهود لها بالخيرية، ونسأل: هل كان هناك شيء اسمه علم الحديث؟ الجواب: لا، وهل كان هناك شيء اسمه علم الجرح والتعديل؟ الجواب: لا، أما الآن فهذان العلمان لا بد منهما لطالب العلم، وهما من فروض الكفاية؛ وذلك لكي يتمكن العالم اليوم من معرفة الحديث إن كان صحيحًا أو ضعيفًا، فالأمر لم يعد مُيسرًا سهلا كما كان ذلك ميسرًا للصحابي؛ لأن الصحابي كان يتلقى الحديث من الصحابة الذين زكوا بشهادة الله عز وجل لهم....إلخ. فما كان يومئذ ميسورًا ليس ميسورًا اليوم من حيث صفاء العلم وثقة مصادر التلقي، لهذا لا بد من ملاحظة هذا الأمر والاهتمام به كما ينبغي مما يتناسب مع المشاكل المحيطة بنا اليوم بصفتنا مسلمين، والتي لم تحط بالمسلمين الأولين من حيث التلوث العقدي الذي سبب إشكالات وأوجد شبهات من أهل البدع المنحرفين عن العقيدة الصحيحة منهج الحق تحت مسميات كثيرة، ومنها الدعوة إلى الكتاب والسنة فقط! كما يزعم ذلك ويدعيه المنتسبون إلى علم
এটি তৎকালীন সময়ের এক সুপরিচিত সহজসাধ্য বিষয় ছিল যে, একজন সাহাবী (صحابي) সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতেন, অতঃপর একজন তাবিঈ (تابعي) সরাসরি সাহাবীর (صحابي) নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতেন … এভাবে আমরা কল্যাণময় হিসেবে প্রত্যায়িত শ্রেষ্ঠ তিন যুগ পর্যন্ত পৌঁছাই এবং প্রশ্ন করি: তখন কি ইলমুল হাদিস (علم الحديث) নামক কোনো শাস্ত্রের অস্তিত্ব ছিল? উত্তর হলো: না। এবং সেখানে কি ইলমুল জারহ ওয়াত তাদিল (علم الجرح والتعديل) নামক কোনো শাস্ত্র ছিল? উত্তর হলো: না। তবে বর্তমানে একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এই দুই শাস্ত্রের জ্ঞান থাকা অপরিহার্য এবং এগুলো ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية) পর্যায়ের; যাতে করে বর্তমান সময়ের একজন আলিম কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) নাকি জয়িফ (ضعيف) তা নির্ধারণ করতে সক্ষম হন। বিষয়টি এখন আর তেমন সহজসাধ্য নয় যেমনটি সাহাবীদের (صحابة) জন্য সহজ ছিল; কারণ সাহাবী (صحابي) সেই সব সাহাবীদের (صحابة) নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন যাদের নির্ভরযোগ্যতা মহান আল্লাহ তাআলার সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণিত... ইত্যাদি। সুতরাং ইলমের বিশুদ্ধতা এবং গ্রহণের উৎসের নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে তৎকালীন সময়ে যা সহজ ছিল, আজ তা আর সহজসাধ্য নয়। এজন্য এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখা এবং এর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন যা আমাদের বর্তমান মুসলিম সমাজের চারপাশের সমস্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রথম যুগের মুসলিমগণ এমন আকিদাগত (عقيدة) কলুষতার সম্মুখীন হননি যা বর্তমানে বিভিন্ন জটিলতা ও সংশয় সৃষ্টি করেছে। এসব সংশয় তৈরি করেছে সঠিক আকিদা (عقيدة) ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত সেই সব বিদআতিরা (أهل البدع), যারা অনেক নামে নিজেদের পরিচয় দেয়; যার মধ্যে একটি হলো—কেবল কিতাব ও সুন্নাহর (سنة) দাওয়াত! যেমনটি সেই সব ব্যক্তিবর্গ দাবি করে থাকে যারা নিজেদের ইলমের (علم) সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الكلام.
ويحسن بنا هنا أن نذكر بعض ما جاء في الأحاديث الصحيحة في ذلك ومنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم لما ذكر الغرباء في بعض تلك الأحاديث، قال: «للواحد منهم خمسون من الأجر "، قالوا: منا يا رسول الله أو منهم؟ قال: " منكم» (1) .
--------------------------------------------
আলোচনা।
এ বিষয়ে সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তার কিছু উল্লেখ করা এখানে আমাদের জন্য সমীচীন হবে। তন্মধ্যে একটি হলো: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সেই হাদিসগুলোর কোনোটিতে ‘আগন্তুকদের’ (গুরাবা) কথা উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন: «তাদের একজনের জন্য পঞ্চাশ জনের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে», তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্য হতে না কি তাদের মধ্য হতে? তিনি বললেন: «বরং তোমাদের মধ্য হতে» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদু আউয়ালান ইয়া দুয়াতাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا من نتائج الغربة الشديدة للإسلام اليوم التي لم تكن في الزمن الأول، ولا شك أن غربة الزمن الأول كانت بين شرك صريح وتوحيد خال من كل شائبة، بين كفر بواح وإيمان صادق، أما الآن فالمشكلة بين المسلمين أنفسهم فأكثرهم توحيده مليء بالشوائب، ويوجه العبادات إلى غير الله ويدعي الإيمان؛ هذه القضية ينبغي الانتباه لها أولا، وثانيًا: لا ينبغي أن يقول بعض الناس: إننا لا بد لنا من الانتقال إلى مرحلة أخرى غير مرحلة التوحيد وهي العمل السياسي!! لأن الإسلام دعوته دعوة حق أولا، فلا ينبغي أن نقول: نحن عرب والقرآن نزل بلغتنا، مع تذكيرنا أن العرب اليوم عكس الأعاجم الذين استعربوا، بسبب بُعدهم عن لغتهم، +وهذا+ ما أبعدهم عن كتاب ربهم وسنة نبيهم، فهب أننا - نحن العرب - قد فهمنا الإسلام فهمًا صحيحًا، فليس من الواجب علينا أن نعمل عملا سياسيًّا، ونحرك الناس تحريكًا سياسيًّا، ونشغلهم بالسياسة عما يجب عليهم الاشتغال به، في فهم الإسلام: في العقيدة، والعبادة، والمعاملة والسلوك!! فأنا لا أعتقد أن هناك شعبًا يعد بالملايين قد فهم الإسلام فهمًا صحيحًا -أعني: العقيدة، والعبادة، والسلوك - ورُبي
এবং এটি বর্তমানকালে ইসলামের সেই চরম নিঃসঙ্গতার ফলাফল যা প্রাথমিক যুগে ছিল না। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাথমিক যুগের নিঃসঙ্গতা ছিল স্পষ্ট শিরক এবং সকল কলুষতামুক্ত তাওহীদের মাঝে, প্রকাশ্য কুফর এবং সত্য ঈমানের মাঝে। কিন্তু বর্তমানের সমস্যাটি স্বয়ং মুসলিমদের নিজেদের মধ্যেই; কারণ তাদের অধিকাংশের তাওহীদই কলুষতায় পূর্ণ, তারা ইবাদতসমূহ আল্লাহ ব্যতীত অন্যের প্রতি নিবেদন করে এবং ঈমানের দাবি করে। এই বিষয়টি প্রথমত লক্ষ্য রাখা উচিত। দ্বিতীয়ত, কিছু মানুষের এমন বলা উচিত নয় যে: আমাদের জন্য তাওহীদের পর্যায় ব্যতীত অন্য কোনো পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়া অপরিহার্য, আর তা হলো রাজনৈতিক কার্যক্রম!! কেননা ইসলামের দাওয়াত প্রথমত সত্যের দাওয়াত। তাই আমাদের এমনটি বলা উচিত নয় যে: আমরা আরব এবং কুরআন আমাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে; সাথে এটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে, বর্তমানের আরবরা সেইসব অনারবদের বিপরীত যারা আরবীয় ভাবধারা গ্রহণ করেছে, তাদের নিজস্ব ভাষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে। আর এটিই তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কিতাব এবং তাঁদের নবীর সুন্নাহ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ধরে নিন যে আমরা আরবরা ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝেছি, তবুও আমাদের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা, মানুষকে রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত করা এবং ইসলামের সঠিক বুঝ—অর্থাৎ আকিদাহ, ইবাদত, মুয়ামালাহ ও আচরণের মতো যে বিষয়গুলোতে তাদের মনোনিবেশ করা আবশ্যক, তা থেকে বিচ্যুত করে রাজনীতিতে মগ্ন রাখা সমীচীন নয়!! কারণ আমি বিশ্বাস করি না যে, লক্ষ লক্ষ মানুষের সমন্বয়ে গঠিত এমন কোনো জাতি আছে যারা ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝেছে—অর্থাৎ আকিদাহ, ইবাদত ও আচরণ—এবং সে অনুযায়ী গড়ে উঠেছে...