(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث المائة المخرجة من الصحيح المسلسلة بالمحمدين   (أبو عبد الرحمن المروزي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأحاديث المائة المخرجة من الصحيح المسلسلة بالمحمدين

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد بن محمد المروزي (ت 578 هـ)

اعتنى به: دار الكمال المتحدة

الناشر: عطاءات العلم - موسوعة صحيح البخاري، https://bukhari-pedia.net

الطبعة: الأولى

عدد أوراق المخطوط: 11

قدمه للشاملة: «عطاءات العلم» جزاهم الله خيرًا

عمل المعتني بالكتاب: تم تنضيد الكتاب عن نسخة شهيد علي الوحيدة -في حدود علمنا- مع العزو إلى مكان الحديث في صحيح الإمام البخاري رحمه الله، والتنبيه على بعض الأوهام والملاحظات.

[الكتاب مخطوط، وترقيمه موافق لأوراق المخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1443

মুহাম্মাদ নামের বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতায় সহীহ থেকে সংকলিত একশত হাদীস   (আবু আবদুর রহমান আল-মারওয়াযী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুহাম্মাদ নামের বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতায় সহীহ থেকে সংকলিত একশত হাদীস

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ৫৭৮ হি.)

সম্পাদনায়: দারুল কামাল আল-মুত্তাহিদা

প্রকাশক: আতাআতিল ইলম - সহীহ বুখারী বিশ্বকোষ, https://bukhari-pedia.net

সংস্করণ: প্রথম

পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১

শামিলা লাইব্রেরির জন্য পেশ করেছেন: «আতাআতিল ইলম» আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন

সম্পাদকের কাজ: গ্রন্থটি আমাদের জানামতে শহীদ আলীর একমাত্র পাণ্ডুলিপি থেকে কম্পোজ করা হয়েছে, সাথে ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সহীহ বুখারীর হাদীসের মূল উৎসের রেফারেন্স প্রদান করা হয়েছে এবং কিছু বিভ্রম ও পর্যবেক্ষণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি এবং এর নম্বর প্রদান পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা অনুযায়ী করা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ١)
جزء فيه الأحاديث المائة المخرجة من كتاب الصحيح

--------------------------------------------

الأحاديث المائة المخرجة من الصحيح المسلسلة بالمحمَّدين مع زياداتها

تخريج: ضياء الدين أبي عبد الرحمن، محمَّد بن محمَّد بن عبد الرحمن الخطيبيِّ الكشميهنيِّ المروزيِّ (ت: 578 هـ)

رواية: أبي عبد الله محمَّد بن المأمون المُطَّوعيِّ اللَّهاوُريِّ (ت: 603 هـ)

 

مقابلة وضبط: عبد الرحيم محمد يوسفان
সহীহ কিতাব থেকে চয়নকৃত একশত হাদীস সংবলিত একটি অংশ

--------------------------------------------

সহীহ থেকে চয়নকৃত এবং মুহাম্মাদ নামধারী ব্যক্তিদের সিলসিলায় বর্ণিত একশত হাদীস ও এর অতিরিক্ত অংশসমূহ

তাখরীজ: যিয়াউদ্দীন আবি আবদুর রহমান, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল-খাতীবী আল-কুশমিহানী আল-মারওয়াযী (মৃত্যু: ৫৭৮ হিজরী)

বর্ণনা: আবি আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-মামুন আল-মুত্তাউয়িই আল-লাহাওয়ুরী (মৃত্যু: ৬০৩ হিজরী)

 

পাণ্ডুলিপি মুকাবিলা ও সম্পাদনা: আবদুর রহীম মুহাম্মাদ ইউসুফান
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌ ‌‌[المقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ الإمام الرباني ضياء الدين أبو عبد الرحمن محمَّد بن محمَّد بن عبد الرحمن الخطيبي المروزي رحمة الله عليه:

الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على نبيه المصطفى محمَّد وآله أجمعين.

هذه أحاديث مخرَّجة من كتاب الصحيح لمحمَّد بن إسماعيل البخاري رحمه الله اجتمع في أسانيدها المحمَّدون؛ تبركًا باسم النبي محمَّد صلى الله عليه وسلم.

وروي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنَّه قال: «إذا كانَ يومُ القيامةِ يُنادي مناد في الموقف أَلَا مَن كان اسمه محمَّد فليدخل الجنَّةَ بلا حساب كرامة لسميِّه».

أخبَرَنا بذلك الإمام أبو حفص عمر بن محمَّد بن عبد الله السرخسي في كتابه: أخبَرَنا أبو ذر عبد الرحمن بن أحمد بن محمَّد السرخسي: أخبَرَنا أبو منصور محمَّد بن عبد الوهاب: حدَّثنا الحافظ أبو إسحاق حمزة بن أحمد بن هارون: حدَّثنا أبو العباس جعفر بن محمَّد الخطيب: حدَّثنا أبو علي زاهر بن أحمد السرَّخسي: حدَّثنا أبو الحسن أحمد بن عمران بن موسى الأُشنانيُّ: حدَّثنا محمَّد بن أحمد بن شُعيب القطان، عن خالد، عن جعفر بن محمَّد، عن آبائه، عن ابن عباس رضي الله عنهم، أنَّه قال ذلك.

ورُوي أحاديث في هذا الفن، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم(1) ونسأل الله تعالى أن يجعلنا منهم بمنِّه وسَعةِ رحمته.

 

‌‌ ‌‌[حديث: أتاني جبريل عليه السلام وبشرني أنه من مات لا يشرك بالله]

1 - أخبَرَنا الإمام الزاهد التقي والدي أبو الفتح محمَّد بن عبد الرحمن الخطيب - رحمة الله عليه - غير مرة: أخبَرَنا أبو الخير محمَّد بن موسى بن عبد الله الصفَّار: أخبَرَنا أبو الهيثم محمَّد بن المكي بن محمَّد الكشميهنيُّ: أخبَرَنا أبو عبد الله محمَّد بن يوسف بن مطر الفربريُّ: أخبَرَنا أبو عبد الله محمَّد بن إسماعيل البخاريُّ الجُعفيُّ: أخبَرَنا محمَّد بن بشار: أخبَرَنا محمَّد بن جعفر - وهو الهُذلي المصري الملقب بغندر-: حدَّثنا شعبةُ، عن واصل، عن المعرور، قال:

سمعتُ أبا ذر رضي الله عنه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: «أَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام وَبَشَّرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ. قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ». [خ¦7487]

 

‌‌ ‌‌[حديث: يا معاذ أتدري ما حق الله على العباد؟]

2 - أخبَرَنا والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا أبو الخير محمَّد: أخبَرَنا أبو الهيثم محمَّد، أخبَرَنا

--------------------------------------------

(1) قال الشَّامي في «سبل الهدى والرشاد» (1: 414) : لم يصح في فضل التسمية به حديث، بل قال الحافظ أبو العباس تقي الدين ابن تيمية الحراني رحمه الله تعالى: كلُّ ما ورد فيه فهو موضوع، ولابن بكير جزء معروف في ذلك كل أحاديثه تالفة.

وانظر تتمة الكلام هناك فقد استوعب البحث رحمه الله تعالى.
[উপক্রমণিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ ইমাম রাব্বানী জিয়াউদ্দীন আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খাতিবী আল-মারওয়াযী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর।

এগুলো হচ্ছে মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সহীহ গ্রন্থ থেকে সংকলিত এমন কিছু হাদীস, যেগুলোর বর্ণনাসূত্রে ‘মুহাম্মাদ’ নামধারী ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়েছেন; নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামের বরকত লাভের উদ্দেশ্যে।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “যখন কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, তখন হাশরের ময়দানে একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন: ‘শোনো, যাদের নাম মুহাম্মাদ তারা যেন বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করে’—এটি তাঁর (নবীর) নামের প্রতি সম্মানের খাতিরে।”

অত্র বর্ণনার ব্যাপারে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সারখাসী তাঁর কিতাবে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যর আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ আস-সারখাসী: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাফেজ আবু ইসহাক হামযা বিন আহমদ বিন হারুন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্বাস জাফর বিন মুহাম্মাদ আল-খাতীব: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আলী যাহির বিন আহমদ আস-সারখাসী: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হাসান আহমদ বিন ইমরান বিন মুসা আল-উশনানী: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন শুআইব আল-কাত্তান, খালিদ হতে, তিনি জাফর বিন মুহাম্মাদ হতে, তিনি তাঁর পিতৃপুরুষদের হতে এবং তাঁরা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এ কথাটি বলেছেন।

এই বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও বিশাল রহমতের বদৌলতে আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

 

[হাদীস: জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে]

1 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম যাহেদ তাকী আমার পিতা আবু ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খাতীব - রহমতুল্লাহি আলাইহি - একাধিকবার: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খাইর মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাইসাম মুহাম্মাদ বিন মাক্কী বিন মুহাম্মাদ আল-কুশমিহানী: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন মাতার আল-ফিরাবরী: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী আল-জু’ফী: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন বাশার: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন জাফর - যিনি আল-হুযালী আল-মিসরী এবং ‘গুনদার’ উপাধিতে ভূষিত: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু’বাহ, ওয়াসিল হতে, তিনি মা’রুর হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আমি আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “আমার কাছে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আসলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম: যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে।” [বুখারী: ৭৪৮৭]

 

[হাদীস: হে মু’য়ায, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী?]

2 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আবু ফাতহ মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খাইর মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাইসাম মুহাম্মাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(1) শামী ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ’ (১: ৪১৪) গ্রন্থে বলেছেন: এই নামে নাম রাখার ফজিলত সম্পর্কে কোনো হাদীস সহীহ নয়। বরং হাফেজ আবু আব্বাস তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: এই বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবই জাল বা বানোয়াট। ইবনে বুকাইরের এই বিষয়ে একটি প্রসিদ্ধ পুস্তিকা রয়েছে যার প্রতিটি হাদীসই পরিত্যাজ্য। সেখানে অবশিষ্ট আলোচনা দেখে নিন, তিনি সেখানে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পেশ করেছেন (রহমতুল্লাহি আলাইহি)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٢)
محمَّد الفربريُّ: أخبَرَنا البخاري محمَّد: أخبَرَنا ابن بشار محمَّد: أخبَرَنا ابن جعفر محمَّد: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي حُصين والأشعث بن سُليم سمعا الأسود بن هلال:

عن معاذ بن جبل، قال: قالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا مُعَاذُ، أَتَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ؟ قلتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: أَنْ يَعْبُدُوهُ(1) وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، أَتَدْرِي مَا حَقُّهُمْ عَلَيْهِ؟» قلتَُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «أَنْ لَا يُعَذِّبَهُمْ». [خ¦7373]

 

‌‌ ‌‌[حديث: لما أراد النبي أن يكتب إلى الروم]

3 - أخبَرَنا والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا أبو الخير محمَّد: أخبَرَنا أبو الهيثم محمَّد: أخبَرَنا الفربري محمَّد: أخبَرَنا البخاري محمَّد: أخبَرَنا ابن بشار محمَّد: أخبَرَنا غندر محمَّد: حدَّثنا شعبةُ قال: سمعت قتادة يحدث:

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: لَمَّا أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَكْتُبَ إِلَى الرُّومِ قَالُوا له: إِنَّهُمْ لَا يَقْرَؤُونَ كِتَابًا إِلَّا مَخْتُومًا. فَأَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِهِ، وَنَقْشُهُ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ. [خ¦7162]

 

‌‌ ‌‌[حديث: رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءًا من النبوة]

4 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن قَتادة:

عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن عُبادة بن الصَّامت، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: «رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنْ النُّبُوَّةِ)). [خ¦6987]

 

‌‌ ‌‌[حديث: لا عدوى ولا طيرة وكان يعجبه الفأل]

5 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعت قتادة:

عن أنس بن مالك، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: «لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ»، وَكَانَ يُعْجِبُهُ(2) الْفَأْلُ. قَالُوا: وَمَا الْفَأْلُ؟ قَالَ: كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ. [خ¦5776]

 

‌‌ ‌‌[حديث: يا رسول الله أنس خادمك فادع الله له]

6 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعتُ قتادة، عن أنس بن مالك:

عن أم سُليم أنَّها قالت: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَسٌ خَادِمُكَ فادْعُ اللَّهَ لَهُ. قَالَ: «اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ». [خ¦6378]

 

‌‌ ‌‌[حديث: خير دور الأنصار بنوا النجار]

7 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعتُ قَتادة، عن أنس:

عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ دُورِ الْأَنْصَارِ بَنُو النَّجَّارِ، ثُمَّ بَنُو عَبْدِ الْأَشْهَلِ، ثُمَّ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ(3) الخَزْرَجٍ، ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ، وَفِي كُلِّ دُورِ الْأَنْصَارِ خَيْرٌ». فَقَالَ سَعْدٌ: مَا أَرَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا وَقَدْ فَضَّلَ عَلَيْنَا؟ فَقِيلَ: فَقَدْ فَضَّلَكُمْ عَلَى كَثِيرٍ. [خ¦3789]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أن رجلًا من الأنصار قال: يا رسول الله ألا تستعملني]

8 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعتُ قتادة:

عن أنس بن مالك، عن أُسيد بن حُضَير(4) : «أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلَا تَسْتَعْمِلُنِي كَمَا اسْتَعْمَلْتَ فُلَانًا؟ /

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (أن يعبدوا).

(2) نص البخاري: «وَيُعْجِبُنِي الْفَأْلُ».

(3) في المخطوط وهمًا: (ثم بنو الحارث، ثم الخزرج).

(4) في المخطوط تصحيفًا: (أسيد بن خير).
মুহাম্মাদ আল-ফিরাবরি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুখারি মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে বাশশার মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে জা’ফর মুহাম্মাদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, আবু হুসাইন ও আল-আশ’আস ইবনে সুলাইম থেকে, তাঁরা উভয়ে আসওয়াদ ইবনে হিলাল থেকে শুনেছেন:

মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে মুয়াজ, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: তারা যেন তাঁর ইবাদত করে(১) এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে। তুমি কি জানো তাঁর ওপর তাদের হক কী?» আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «তিনি যেন তাদের আজাব না দেন»। [বুখারি ৭৩৭৩]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোমকদের নিকট পত্র লিখতে চাইলেন]

৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খাইর মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাইসাম মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফিরাবরি মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুখারি মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে বাশশার মুহাম্মাদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন গুন্দার মুহাম্মাদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে বর্ণনা করতে শুনেছি:

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোমকদের নিকট পত্র লিখতে চাইলেন, তখন তাঁরা তাঁকে বললো: তারা মোহরযুক্ত না হলে কোনো পত্র পড়ে না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুপার একটি আংটি গ্রহণ করলেন, আমি যেন এখনও সেটির উজ্জ্বলতার দিকে তাকিয়ে আছি, আর তাতে খোদাই করা ছিল: মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। [বুখারি ৭১৬২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ]

৪ - এবং এই সনদেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, কাতাদাহ থেকে:

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তিনি বলেছেন: «মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ»। [বুখারি ৬৯৮৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই এবং অশুভ লক্ষণ বলতেও কিছু নেই এবং তিনি শুভ লক্ষণ পছন্দ করতেন]

৫ - এবং এই সনদেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ: আমি কাতাদাহকে শুনেছি:

আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তিনি বলেছেন: «ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই এবং অশুভ লক্ষণ বলতেও কিছু নেই», আর শুভ লক্ষণ তাঁকে মুগ্ধ করতো(২)। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: শুভ লক্ষণ কী? তিনি বললেন: «উত্তম কথা»। [বুখারি ৫৭৭৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: হে আল্লাহর রাসূল, আনাস আপনার খাদেম, তার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন]

৬ - এবং এই সনদেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ: আমি কাতাদাহকে শুনেছি আনাস ইবনে মালিক থেকে:

উম্মু সুলাইম থেকে বর্ণিত যে তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আনাস আপনার খাদেম, আপনি তার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তিনি বললেন: «হে আল্লাহ, তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং আপনি তাকে যা দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন»। [বুখারি ৬৩৭৮]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আনসারদের সর্বোত্তম ঘর হলো বনু নাজ্জার]

৭ - এবং এই সনদেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ: আমি কাতাদাহকে শুনেছি আনাস থেকে:

আবু উসায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আনসারদের ঘরগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো বনু নাজ্জার, অতঃপর বনু আবদিল আশহাল, অতঃপর বনু হারিস ইবনে(৩) খাযরাজ, অতঃপর বনু সায়েদাহ। আর আনসারদের সকল ঘরের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে»। তখন সাদ বললেন: আমি দেখছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন? তখন তাঁকে বলা হলো: তিনি তোমাদেরকে অনেক মানুষের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। [বুখারি ৩৭৮৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: জনৈক আনসারী সাহাবী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমাকে কাজে নিযুক্ত করবেন না?]

৮ - এবং এই সনদেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ: আমি কাতাদাহকে শুনেছি:

আনাস ইবনে মালিক থেকে, উসায়েদ ইবনে হুদায়ের(৪) থেকে বর্ণিত: «জনৈক আনসারী সাহাবী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমাকে কোনো কাজে নিযুক্ত করবেন না যেমনটি অমুক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছেন? /

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে আছে: (যেন ইবাদত করে)।

(২) বুখারির পাঠে আছে: «শুভ লক্ষণ আমাকে মুগ্ধ করে»।

(৩) পাণ্ডুলিপিতে ভুলবশত আছে: (অতঃপর বনু হারিস, অতঃপর খাযরাজ)।

(৪) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণবিভ্রাটের কারণে আছে: (উসায়েদ ইবনে খাইর)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٢)
قَالَ سَتَلْقَوْنَ(1) بَعْدِي أُثْرَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي وَمَوْعِدُكُمْ الْحَوْضِ». [خ¦3792]

 

‌‌ ‌‌[حديث: الأنصار كرشي وعيبتي والناس يكثرون]

9 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعتُ قتادة:

عن أنسٍ، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: «الْأَنْصَارُ كَرِشِي وَعَيْبَتِي، وَالنَّاسُ يَكْثُرُونَ [وَيَقِلُّونَ]، فَاقْبَلُوا مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَتَجَاوَزُوا عَنْ مُسِيئِهِمْ». [خ¦3801]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إن الله أمرني أن أقرأ عليك]

10 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، سمعت قتادة، عن أنس بن مالك قال: قال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم لِأُبَيٍّ: «إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ: {لَمْ يَكُنْ الَّذِينَ كَفَرُوا}». قَالَ: وَسَمَّانِي؟ قَالَ: «نَعَمْ». قال: فَبَكَى. [خ¦3809]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إن قريشًا حديث عهد بجاهلية ومصيبة]

11 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شُعبة: سمعتُ قتادة:

عن أنس بن مالك قال: جَمَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَاسًا مِنْ الْأَنْصَارِ فَقَالَ: «إِنَّ قُرَيْشًا حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَمُصِيبَةٍ، فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَتَأَلَّفَهُمْ وَأَجْزِهم، أَمَا تَرْضَوْنَ(2) أَنْ يَرْجِعَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا، وَتَرْجِعُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى بُيُوتِكُمْ». قَالُوا: بَلَى. قَالَ: «لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَسَلَكَتِ الْأَنْصَارُ شِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الْأَنْصَارِ» أَوْ: «شِعْبَ الْأَنْصَارِ». [خ¦4334]

 

‌‌ ‌‌[حديث في تفسير {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا}]

12 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعتُ قتادةَ: عن أنسٍ بنِ مالكٍ: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا}. قال: الْحُدَيْبِيَةُ. [خ¦4834]

 

‌‌ ‌‌[حديث: رأيت ليلة أسري بي موسى رجلًا آدم طوالاً]

13 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعتُ قتادةَ، عن أبي العاليةِ:

قال: ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ صلوات الله عليه وسلم - يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ - عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «رَأَيْتُ [لَيْلَةَ] أُسْرِيَ بِي مُوسَى رَجُلًا آدَمَ طُوَالًا جَعْدًا كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ، وَرَأَيْتُ عِيسَى رَجُلًا مَرْبُوعًا مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ، وَرَأَيْتُ مَالِكَ خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ: {فَلَا تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ}». [خ¦3239]

 

‌‌ ‌‌[حديث: الصبر عند الصدمة الأولى]

14 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن ثابت قال:

سمعت أنسًا رضي الله عنه، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولَى». [خ¦1302]

 

‌‌ ‌‌[حديث: اقرأ فلان فإنَّها السكينة نزلت أو تنزلت للقرآن]

15 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي إسحاق:

سمعتُ البراء بن عازب رضي الله عنه قال: قَرَأَ رَجُلٌ الْكَهْفَ وَفِي الدَّارِ الدَّابَّةُ، فَجَعَلَتْ تَنْفِرُ فَسَلَّمَ، فَإِذَا ضَبَابَةٌ - أَوْ: سَحَابَةٌ - غَشِيَتْهُ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، /

--------------------------------------------

(1) في المخطوط: (سيلقون).

(2) في المخطوط: (تروضون).
তিনি বললেন, "তোমরা আমার পরে অগ্রাধিকার (অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া) দেখতে পাবে; সুতরাং ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না আমার সাথে মিলিত হও এবং তোমাদের মিলনের প্রতিশ্রুতিস্থল হলো হাউজ (কাউসার)।" [বুখারি: ৩৭৯২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আনসাররা আমার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও অন্তরঙ্গ জন এবং মানুষ বৃদ্ধি পাবে]

৯ - এবং এই সনদেই: শুবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি কাতাদাহ থেকে শুনেছি:

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আনসাররা আমার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও অন্তরঙ্গ জন; আর মানুষ সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে [এবং হ্রাস পাবে], সুতরাং তোমরা তাদের মধ্যকার নেককারদের সৎকাজ কবুল করো এবং তাদের মধ্যকার ভুলকারীদের ভুল ক্ষমা করো।" [বুখারি: ৩৮০১]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আপনাকে পাঠ করে শুনাই]

১০ - এবং এই সনদেই: শুবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি কাতাদাহ থেকে শুনেছি, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাই (রা.)-কে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আপনাকে 'লাম ইয়াকুনিল্লাজিনা কাফারু' (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ) পাঠ করে শুনাই।" তিনি (উবাই) বললেন: "তিনি (আল্লাহ) কি আমার নাম নিয়েছেন?" তিনি (রাসূল) বললেন: "হ্যাঁ।" আনাস (রা.) বলেন: তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। [বুখারি: ৩৮০৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নিশ্চয়ই কুরাইশরা জাহিলিয়াত ও বিপদের নিকটবর্তী সময়ের]

১১ - এবং এই সনদেই: শুবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি কাতাদাহ থেকে শুনেছি:

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল আনসারকে একত্রিত করলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই কুরাইশরা জাহিলিয়াত ও বিপদের নিকটবর্তী সময়ের (অর্থাৎ তারা নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছে), তাই আমি চাচ্ছি তাদের মন জয় করতে এবং তাদের কিছু প্রতিদান দিতে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও(২) যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সঙ্গে নিয়ে তোমাদের বাড়ি ফিরবে?" তারা বললেন: "হ্যাঁ (আমরা সন্তুষ্ট)।" তিনি বললেন: "যদি মানুষ কোনো উপত্যকায় চলে আর আনসাররা কোনো গিরিপথে চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকায়" অথবা (বলেছেন) "আনসারদের গিরিপথেই চলব।" [বুখারি: ৪৩৩৪]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: 'নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি' আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে]

১২ - এবং এই সনদেই: শুবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি কাতাদাহ থেকে শুনেছি: আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।" তিনি বলেন: এটি হলো হুদায়বিয়াহ। [বুখারি: ৪৮৩৪]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: মিরাজের রাতে আমি মুসা (আ.)-কে একজন শ্যামবর্ণ ও দীর্ঘদেহী ব্যক্তি হিসেবে দেখেছি]

১৩ - এবং এই সনদেই: শুবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি কাতাদাহ থেকে শুনেছি, আবু আল-আলিয়া থেকে বর্ণিত:

তিনি বলেন: তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাচাতো ভাই—অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা.)—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে রাতে আমাকে মিরাজে নেওয়া হলো, সে রাতে আমি মুসা (আ.)-কে দেখলাম, তিনি ছিলেন শ্যামবর্ণ, দীর্ঘদেহী ও কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট, যেন তিনি শানুয়াহ গোত্রের একজন লোক। আর আমি ঈসা (আ.)-কে দেখলাম, তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের, সুঠাম দেহী, লালাভ ও সাদাটে রঙের মিশ্রণযুক্ত বর্ণের এবং মাথার চুল ছিল সোজা। আর আমি আগুনের প্রহরী মালিককে এবং দাজ্জালকে দেখলাম। এগুলো ছিল আল্লাহর দেখানো নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত: {সুতরাং আপনি তাঁর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে কোনো সন্দেহে থাকবেন না}।" [বুখারি: ৩২৩৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: সবর হলো বিপদের প্রথম আঘাতেই]

১৪ - এবং এই সনদেই: শুবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আমি আনাস (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "সবর হলো বিপদের প্রথম আঘাতেই।" [বুখারি: ১৩০২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: হে অমুক, পড়তে থাকুন, কারণ এটিই ছিল সাকীনাহ যা কুরআন পাঠের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল]

১৫ - এবং এই সনদেই: শুবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত:

আমি বারা ইবনে আযিব (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি সূরা আল-কাহাফ পাঠ করছিলেন এবং বাড়িতে একটি জন্তু ছিল। সেটি হঠাৎ চমকাতে শুরু করলে তিনি (সালাতে) সালাম ফিরালেন। হঠাৎ একখণ্ড কুয়াশা—বা মেঘ—তাকে ঢেকে ফেলল। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন... /

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (তারা অচিরেই সাক্ষাৎ করবে)।

(২) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (তোমরা কি সন্তুষ্ট হচ্ছ)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٣)
فَقَالَ: «اقْرَأْ فُلَانُ؛ فَإِنَّهَا السَّكِينَةُ نَزَلَتْ لِلْقُرْآنِ - أَوْ: تَنَزَّلَتْ - لِلْقُرْآنِ». [خ¦3614]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أقتلك فلان؟ فأشارت برأسها أن لا]

16 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن هشام بن زيد:

عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ يَهُودِيًّا قَتَلَ جَارِيَةً عَلَى أَوْضَاحٍ لَهَا، قَتَلَهَا بِحَجَرٍ، فَجِيءَ بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبِهَا رَمَقٌ، فَقَالَ: «قَتَلَكِ فُلَانٌ؟» فَأَشَارَ بِرَأْسِهَا أَنْ لَا. ثُمَّ قَالَ الثَّانِيَةَ، فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ لَا، ثُمَّ قالَ في الثَّالِثَةَ فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا أَيْ نَعَمْ، فَقَتَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِحَجَرَيْنِ. [خ¦6879]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إن أهون أهل النار عذابًا يوم القيامة لرجل يوضع]

17 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعت أبا إسحاق يقول:

سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنِ بَشِيرٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ أَهْوَنَ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَرَجُلٌ تُوضَعُ فِي أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ جَمْرَةٌ تغْلِي مِنْهَا دِمَاغُهُ». [خ¦6561]

 

‌‌ ‌‌[حديث: سبحانك اللهم وبحمدك اللهم اغفر لي]

18 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي الضحى، عن مسروق:

عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي». [خ¦4293]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إنكم لأحب الناس إلي]

19 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن هشام قال:

سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: جَاءَتْ امْرَأَةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَخَلَا بِهَا، وَقَالَ: «[وَاللَّهِ] إِنَّكُم لَأَحَبُّ النَّاسِ إِلَيَّ». [خ¦5234]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أقيمت الصلاة ورجل يناجي رسول الله]

20 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عبد العزيز:

عَنْ أَنَسِ بنِ مَالِكٍ قَالَ: أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ وَرَجُلٌ يُنَاجِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَا زَالَ يُنَاجِيهِ حَتَّى نَامَ أَصْحَابُهُ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى. [خ¦6292]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إنكم محشورون حفاة عراة]

21 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن المغيرة بن النعمان، عن سعيد بن جبير:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَامَ [فِينَا] النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَقَالَ: «إِنَّكُمْ مَحْشُورُونَ حُفَاةً عُرَاةً [غُرْلًا] {كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ} الْآيَةَ، وَإِنَّ أَوَّلَ الْخَلَائِقِ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِبْرَاهِيمُ، وَإِنَّهُ سَيُجَاءُ بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِي فَيُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أَصْحَابِي؟ فَيَقُولُ: إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ. فَأَقُولُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ: {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ} إِلَى قَوْلِهِ: {الْحَكِيمُ} فَيُقَالُ: إِنَّهُمْ لَمْ يَزَالُوا مُرْتَدِّينَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ». / [خ¦6526]
অতঃপর তিনি বললেন: «হে অমুক, তুমি পড়ো; কারণ এটি ছিল সাকিনাহ (প্রশান্তি), যা কুরআনের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল - অথবা বলেছিলেন - যা কুরআনের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল।» [বুখারি: ৩৬১৪]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: অমুক কি তোমাকে হত্যা করেছে? তখন সে মাথা নেড়ে ইশারা করল যে, না]

১৬ - এবং এই একই সনদে: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, হিশাম ইবনে যায়িদ থেকে:

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত: একজন ইহুদি এক বালিকাকে তার রূপার অলংকারের লোভে হত্যা করেছিল; সে তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। অতঃপর মেয়েটিকে নবি (সা.)-এর কাছে নিয়ে আসা হলো যখন তার মধ্যে সামান্য প্রাণ অবশিষ্ট ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «তোমাকে কি অমুক হত্যা করেছে?» সে মাথা নেড়ে ইশারা করল যে, না। তারপর তিনি দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করলেন, সে এবারও মাথা নেড়ে না সূচক ইশারা করল। এরপর তিনি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলে সে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক ইশারা করল। ফলে নবি (সা.) তাকে (হত্যাকারীকে) দুটি পাথরের আঘাতে হত্যা করলেন। [বুখারি: ৬৮৭৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নিশ্চয় কিয়ামতের দিন জাহান্নামিদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আজাব হবে সেই ব্যক্তির, যার রাখা হবে...]

১৭ - এবং এই একই সনদে: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ: আমি আবু ইসহাককে বলতে শুনেছি:

আমি নুমান ইবনে বশিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবি (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয় কিয়ামতের দিন জাহান্নামিদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আজাব হবে সেই ব্যক্তির, যার পায়ের তালুর নিচে একটি জলন্ত অঙ্গার রাখা হবে, যার তাপে তার মস্তিষ্ক ফুটতে থাকবে।» [বুখারি: ৬৫৬১]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা, হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন]

১৮ - এবং এই একই সনদে: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আবুদ্ব দুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে:

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবি (সা.) তাঁর রুকু ও সিজদায় বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা, হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।» [বুখারি: ৪২৯৩]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নিশ্চয় তোমরা আমার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়]

১৯ - এবং এই একই সনদে: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, হিশাম থেকে, তিনি বলেন:

আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আনসারদের এক নারী নবি (সা.)-এর কাছে আসলেন, তখন তিনি তার সাথে একান্তে কথা বললেন এবং বললেন: «[আল্লাহর কসম] নিশ্চয় তোমরা আমার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়।» [বুখারি: ৫২৩৪]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: সালাতের ইকামত হয়ে গেল অথচ এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুলের সাথে গোপনে কথা বলছিলেন]

২০ - এবং এই একই সনদে: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আব্দুল আজিজ থেকে:

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের ইকামত হয়ে গেল অথচ এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাথে গোপনে কথা বলছিলেন। তিনি অনবরত তাঁর সাথে কথা বলেই যাচ্ছিলেন, এমনকি তাঁর (রাসুলের) সাহাবিরা ঘুমিয়ে পড়লেন। তারপর তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন। [বুখারি: ৬২৯২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নিশ্চয় তোমাদের সমবেত করা হবে খালি পায়ে, নগ্ন অবস্থায়]

২১ - এবং এই একই সনদে: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, মুগিরা ইবনে নুমান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে:

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবি (সা.) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং বললেন: «নিশ্চয় তোমাদেরকে সমবেত করা হবে খালি পায়ে, নগ্ন অবস্থায় এবং খতনাবিহীন অবস্থায়। {যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব} - আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর নিশ্চয় কিয়ামতের দিন সকল সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম যাকে পোশাক পরানো হবে, তিনি হলেন ইব্রাহিম (আ.)। আর জেনে রেখো, আমার উম্মতের কিছু লোককে আনা হবে এবং তাদের বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব, আমার সাথিরা? তখন তিনি বলবেন: নিশ্চয় আপনি জানেন না আপনার পরে তারা নতুন কী বিষয়ের উদ্ভাবন করেছিল। তখন আমি বলব যেমন নেককার বান্দা বলেছিলেন: {আর আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম যতক্ষণ তাদের মাঝে ছিলাম} - {মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} পর্যন্ত। তখন বলা হবে: নিশ্চয় তারা তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে গিয়েছিল যখন থেকে আপনি তাদের ছেড়েছিলেন।» / [বুখারি: ৬৫২৬]
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌ ‌‌[حديث: أترضون أن تكونوا ربع أهل الجنة؟]

22 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي إسحاق، عن عمرو بن ميمون:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قُبَّةٍ فَقَالَ: «أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟» قَال: نَعَمْ. قَالَ: «أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟» قُلْنَا: نَعَمْ. [قَالَ: «أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا شَطْرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟» قُلْنَا: نَعَمْ.] قَالَ: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَذَلِكَ أَنَّ الْجَنَّةَ لَا يَدْخُلُهَا إِلَّا نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَمَا أَنْتُمْ فِي أَهْلِ الشِّرْكِ إِلَّا كَالشَّعْرَةِ الْبَيْضَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الْأَسْوَدِ، أَوْ كَالشَّعْرَةِ السَّوْدَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الْأَحْمَرِ». [خ¦6528]

 

‌‌ ‌‌[حديث: خيركم قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم]

23 - وبهذا الإسنادِ: سمعت أبا حمزة: حدَّثني زَهْدَمُ بْنُ مُضَرِّبٍ(1)، قَالَ: سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «خَيْرُكُمْ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ - قَالَ عِمْرَانُ: فَمَا أَدْرِي قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ قَوْلِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا؟ - ثُمَّ يَكُونُ بَعْدَهُمْ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلَا يُؤَمَنُونَ وَيَنْذُرُونَ وَلَا يَفُونَ وَيَظْهَرُ فِيهِمْ السِّمَنُ». [خ¦6428]

 

‌‌ ‌‌[حديث: لعن النَّبيِّ المتشبهين من الرجال بالنساء]

24 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن قتادةَ، عن عكرمةَ:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَعَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِنْ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنْ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ. [خ¦5885]

 

‌‌ ‌‌[حديث: اللهم لا عيش إلا عيش الآخرة]

25 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن معاويةَ:

عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

~ «اللَّهُمَّ لَا عَيْشَ إِلَّا عَيْشُ الْآخِرَهْ فَأَصْلِحْ الْأَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ». [خ¦6413]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أنه نهى عن خاتم الذهب]

26 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن قتادةَ، عن النَّضْرِ بن أنس، عن بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ. [خ¦5864]

27 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عبد الملك بن ميسرة، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ:

عَنْ عَلِيِّ رضي الله عنه قَالَ: كَسَانِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حُلَّةً سِيَرَاءَ، فَخَرَجْتُ فِيهَا فَرَأَيْتُ الْغَضَبَ فِي وَجْهِهِ، فَشَقَّقْتُهَا بَيْنَ نِسَائِي. [خ¦5840]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أن ناسًا من أصحاب النبي أتوا على حي]

28 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي بِشْر، عَنْ أبي المتوكِّل النَّاجيِّ:

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: أَنَّ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَتَوْا عَلَى حَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ، فَلَمْ يَقْرُوهُمْ، فَبَيْنَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ(2) لُدِغَ سَيِّدُ أُولَئِكَ، فَقَالُوا: هَلْ مَعَكُمْ مِنْ دَوَاءٍ أَوْ رَاقٍ؟ فَقَالُوا:/

--------------------------------------------

(1) في الأصل تصحيفًا: (مطرف).

(2) في المخطوط: (إذا).
[হাদিস: তোমরা কি জান্নাতবাসীদের এক-চতুর্থাংশ হতে সন্তুষ্ট নও?]

২২ - এবং এই সনদে: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে:

আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি তাঁবুতে ছিলাম। তিনি বললেন: «তোমরা কি জান্নাতবাসীদের এক-চতুর্থাংশ হতে সন্তুষ্ট নও?» তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তোমরা কি জান্নাতবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ হতে সন্তুষ্ট নও?» আমরা বললাম: হ্যাঁ। [তিনি বললেন: «তোমরা কি জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হতে সন্তুষ্ট নও?» আমরা বললাম: হ্যাঁ।] তিনি বললেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই আমি আশা করি তোমরা জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে। আর তা এ কারণে যে, মুসলিম ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। মুশরিকদের মধ্যে তোমরা কালো ষাঁড়ের চামড়ায় একটি সাদা পশমের মতো অথবা লাল ষাঁড়ের চামড়ায় একটি কালো পশমের মতো মাত্র।» [বুখারি: ৬৫২৮]

 

[হাদিস: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আমার যুগের লোক, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ]

২৩ - এবং এই সনদে: আমি আবু হামযাহকে বলতে শুনেছি: যাহদাম ইবনে মুদাররিব(১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ— ইমরান বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই কথার পর দুই বার না তিন বার বলেছিলেন তা আমি জানি না— অতঃপর তাদের পরে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা সাক্ষ্য দেবে কিন্তু তাদের থেকে সাক্ষ্য চাওয়া হবে না, তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে ফলে তাদের বিশ্বাস করা হবে না, তারা মানত করবে কিন্তু তা পূরণ করবে না এবং তাদের মধ্যে স্থূলতা প্রকাশ পাবে।» [বুখারি: ৬৪২৮]

 

[হাদিস: নারীদের বেশধারী পুরুষদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিশাপ]

২৪ - এবং এই সনদে: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে:

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন। [বুখারি: ৫৮৮৫]

 

[হাদিস: হে আল্লাহ, পরকালের জীবনই প্রকৃত জীবন]

২৫ - এবং এই সনদে: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুয়াবিয়া থেকে:

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

~ «হে আল্লাহ! পরকালের জীবন ছাড়া কোনো প্রকৃত জীবন নেই; সুতরাং আপনি আনসার ও মুহাজিরদের সংশোধন করুন (বা কল্যাণ দান করুন)।’ [বুখারি: ৬৪১৩]

 

[হাদিস: নিশ্চয়ই তিনি স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে নিষেধ করেছেন]

২৬ - এবং এই সনদে: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি নাদর ইবনে আনাস থেকে, তিনি বাশির ইবনে নাহিক থেকে:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। [বুখারি: ৫৮৬৪]

২৭ - এবং এই সনদে: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল মালিক ইবনে মাইসারা থেকে, তিনি যায়িদ ইবনে ওয়াহাব থেকে:

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি রেশমি বস্ত্র পরিধান করালেন। আমি তা পরে বের হলাম, তখন তাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন দেখলাম; এরপর আমি সেটি ছিঁড়ে আমার নারীদের মধ্যে ভাগ করে দিলাম। [বুখারি: ৫৮৪০]

 

[হাদিস: নবীর সাহাবীদের একটি দল একটি গোত্রের নিকট আসলেন]

২৮ - এবং এই সনদে: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি আবু আল-মুতাওয়াক্কিল আন-নাজি থেকে:

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী আরবদের কোনো এক গোত্রের নিকট আসলেন, কিন্তু তারা তাঁদের আতিথেয়তা করল না। এমতাবস্থায় ঐ গোত্রের সরদারকে দংশন করা হলো। তারা বলল: তোমাদের কাছে কি কোনো ওষুধ বা ঝাড়ফুঁককারী আছে? তারা বলল:/

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে ভুলক্রমে: (মুতরিফ) রয়েছে।

(২) পাণ্ডুলিপিতে: (ইযা) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٤)
إِنَّكُمْ لَمْ تَقْرُونَا وَلَا نَفْعَلُ حَتَّى تَجْعَلُوا لَنَا جُعْلًا. فَجَعَلُوا لَهُمْ قَطِيعًا مِنْ الشَّاءِ، فَجَعَلَ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَيَجْمَعُ بُزَاقَهُ وَيَتْفِلُ فَبَرَأَ، فَأَتَوْا بِالشَّاءِ فَقَالُوا: لَا نَأْخُذُهُ حَتَّى نَسْأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلُوهُ، فَضَحِكَ، وَقَالَ: «وَمَا أَدْرَاكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ، خُذُوهَا فَاضْرِبُوا لِي بِسَهْمٍ». [خ¦5736]

 

‌‌ ‌‌[حديث: جاء رجل إلى النبي فقال: إن أخي استطلق بطنه]

29 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن قتادةَ، عن أبي المُتوكِّل:

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنَّ أَخِي اسْتَطْلَقَ بَطْنُهُ. فَقَالَ: «اسْقِهِ عَسَلًا». فَسَقَاهُ فَقَالَ: إِنِّي سَقَيْتُهُ فَلَمْ يَزِدْهُ إِلَّا اسْتِطْلَاقًا. فَقَالَ: «صَدَقَ اللَّهُ وَكَذَبَ بَطْنُ أَخِيكَ». [خ¦5716]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إن أول ما يُبدأ به في يومنا هذا نصلي ثم نرجع]

30 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن زُبيد الْإِيَامِيِّ، عَنْ الشَّعْبِيِّ:

عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَوَّلَ مَا يُبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَرْجِعَ فَيُنْحَرَ، مَنْ فَعَلَهُ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلُ فَإِنَّمَا(1) هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لِأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنْ النُّسُكِ فِي شَيْءٍ». فَقَامَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ وَقَدْ ذَبَحَ فَقَالَ: إِنَّ عِنْدِي جَذَعَةً. قَالَ: «اذْبَحْهَا وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ». [خ¦5545]

 

‌‌ ‌‌[حديث: كمل من الرجال كثير، ولم يكمل من النساء إلا]

31 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ الْجَمَلِيِّ(2)، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ:

عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «كَمَلَ مِنْ الرِّجَالِ كَثِيرٌ، وَلَمْ يَكْمُلْ مِنْ النِّسَاءِ إِلَّا مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ، وَفَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ». [خ¦5418]

 

‌‌ ‌‌[حديث: ما لفاطمة ألا تتقي الله]

32 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه: عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: مَا لِفَاطِمَةَ، أَلَا تَتَّقِي اللَّهَ. يَعْنِي: فِي قَوْلِهَا لَا سُكْنَى وَلَا نَفَقَةَ. [خ¦5323]

33 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن محمَّد - يعني ابن الْمُنْكَدِرِ - قَالَ:

سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: دَخَلَ [عَلَيَّ] النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَرِيضٌ، فَتَوَضَّأَ فَصَبَّ عَلَيَّ - أَوْ قَالَ: «صُبُّوه عَلَيْهِ» - [فَعَقَلْتُ] فَقُلْتُ: لَا يَرِثُنِي إِلَّا كَلَالَةٌ، فَكَيْفَ الْمِيرَاثُ؟ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْفَرَائِضِ. [خ¦5676]

 

‌‌ ‌‌[حديث: استنصت الناس لا ترجعوا بعدي كفارًا]

34 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن علي بن مُدْرِكٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ:

سَمِعْتُ جَرِيرًا قَالَ: قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: «اسْتَنْصِتْ النَّاسَ لَا تَرْجِعُوا /

--------------------------------------------

(1) في المخطوط: (فإنها).

(2) في المخطوط تصحيفًا: (البجلي).
তোমরা আমাদের মেহমানদারি করোনি, তাই আমরাও তোমাদের জন্য কোনো কাজ করব না যতক্ষণ না তোমরা আমাদের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নির্ধারণ করো। অতঃপর তারা তাদের জন্য একপাল বকরি নির্ধারণ করল। তখন তিনি উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করতে শুরু করলেন এবং নিজের লালা একত্র করে ফুঁ দিতে লাগলেন, ফলে সে ব্যক্তি সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তারা বকরিগুলো নিয়ে এল এবং বলল: আমরা এগুলো গ্রহণ করব না যতক্ষণ না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করি। অতঃপর তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাসলেন এবং বললেন: «তুমি কীভাবে জানলে যে এটি একটি রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক)? তোমরা এগুলো গ্রহণ করো এবং আমার জন্যও একটি অংশ রেখো»। [বুখারি: ৫৭৩৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: এক ব্যক্তি নবীজির নিকট এসে বললেন: আমার ভাইয়ের পেটের অসুখ হয়েছে]

২৯ - এই একই সনদে: শু’বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু মুতাওয়াক্কিল থেকে:

আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: আমার ভাইয়ের পেটের অসুখ (পেট ঢিলা) হয়েছে। তিনি বললেন: «তাকে মধু পান করাও»। অতঃপর তিনি তাকে মধু পান করালেন এবং পুনরায় এসে বললেন: আমি তাকে পান করিয়েছি কিন্তু এতে তার পেটের অসুখ কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। তিনি বললেন: «আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলেছে»। [বুখারি: ৫৭১৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমাদের এই দিনে প্রথম যা দিয়ে শুরু করা হয় তা হলো সালাত আদায় করা]

৩০ - এই একই সনদে: শু’বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি জুবাইদ আল- ইয়ামি থেকে, তিনি শাবি থেকে:

বারা ইবনে আজিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাদের এই দিনে প্রথম যা দিয়ে শুরু করা হয় তা হলো আমরা সালাত আদায় করব, অতঃপর ফিরে গিয়ে পশু জবেহ করব। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের সুন্নাহর অনুসারী হলো। আর যে ব্যক্তি পূর্বেই জবেহ করল, তা তো নিছক গোশত যা সে তার পরিবারের জন্য অগ্রিম পাঠিয়েছে, কুরবানির কোনো বিষয়ের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই»। তখন আবু বুরদাহ ইবনে নিয়ার দাঁড়িয়ে বললেন—অথচ তিনি জবেহ করে ফেলেছিলেন—আমার নিকট একটি ছয় মাসের বকরি আছে। তিনি বললেন: «ওটিই জবেহ করো, তবে তোমার পর আর কারো জন্য এটি যথেষ্ট হবে না»। [বুখারি: ৫৫৪৫]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন, তবে নারীদের মধ্যে কেউ পূর্ণতা অর্জন করেননি কেবল...]

৩১ - এই একই সনদে: শু’বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে মুররাহ আল-জামালি থেকে, তিনি মুররাহ আল-হামদানি থেকে:

আবু মুসা আল-আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন, তবে নারীদের মধ্যে মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া ব্যতীত অন্য কেউ পূর্ণতা অর্জন করেননি। আর সমস্ত খাবারের ওপর ছারিদ-এর শ্রেষ্ঠত্ব যেমন, নারীদের ওপর আয়িশার শ্রেষ্ঠত্বও তদ্রূপ»। [বুখারি: ৫৪১৮]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: ফাতিমার কী হলো যে সে আল্লাহকে ভয় করে না]

৩২ - এই একই সনদে: শু’বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে: আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছিলেন: ফাতিমার কী হলো, সে কি আল্লাহকে ভয় করে না? অর্থাৎ: (তালাকপ্রাপ্তার জন্য) কোনো বাসস্থান ও খোরপোশ নেই—তার এই উক্তির প্রেক্ষিতে। [বুখারি: ৫৩২৩]

৩৩ - এই একই সনদে: শু’বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ—অর্থাৎ ইবনুল মুনকাদির—থেকে, তিনি বলেন:

আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি অসুস্থ থাকাকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [আমার নিকট] প্রবেশ করলেন। তিনি অজু করলেন এবং আমার ওপর সেই পানি ঢেলে দিলেন—অথবা তিনি বললেন: «তার ওপর ঢেলে দাও»—অতঃপর [আমার জ্ঞান ফিরলে] আমি বললাম: কালালাহ (যাদের সন্তান বা পিতা নেই) ব্যতীত আমার কোনো ওয়ারিশ নেই, তাহলে উত্তরাধিকার কীভাবে বণ্টিত হবে? তখন মিরাসের আয়াত নাজিল হলো। [বুখারি: ৫৬৭৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: লোকদের চুপ করতে বলো, তোমরা আমার পরে কাফির হয়ে ফিরে যেও না]

৩৪ - এই একই সনদে: শু’বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আলি ইবনে মুদরিক থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু জুরআহকে বলতে শুনেছি:

আমি জারির রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় আমাকে বললেন: «লোকদের চুপ করাও, তোমরা আমার পরে ফিরে যেও না /

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ফাইননাহা)।

(২) পাণ্ডুলিপিতে ভুলবশত রয়েছে: (আল-বাজালি)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٤)
بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بعضٍ». [خ¦6869]

 

‌‌ ‌‌[حديث: الكبائر الإشراك بالله، وعقوق الوالدين]

35 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن فراس، عن الشعبي:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو(1) عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْكَبَائِرُ: الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ» أَوْ قَالَ: «الْيَمِينُ الْغَمُوسُ» شَكَّ شُعْبَةُ. [خ¦6870]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أمرنا النبي بإبرار المقسم]

36 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أشعثَ، عن معاويةَ بن سُويدٍ:

عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ: أَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ. [خ¦6654]

 

‌‌ ‌‌[حديث: الله أعلم بما كانوا عاملين]

37 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي بشرٍ، عن سعيدِ بن جُبيرٍ:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَوْلَادِ الْمُشْرِكِينَ؟ فَقَالَ: «اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ». [خ¦6597]

 

‌‌ ‌‌[حديث: يقول الله تعالى: لأهون أهل النار عذابًا يوم القيامة]

38 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي عمرانَ قالَ:

سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى لِأَهْوَنِ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ: لَوْ أَنَّ لَكَ مَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ أَكُنْتَ تَفْتَدِي بِهِ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ. فَيَقُولُ: أَرَدْتُ مِنْكَ أَهْوَنَ مِنْ هَذَا وَأَنْتَ فِي صُلْبِ آدَمَ: أَنْ لَا تُشْرِكَ بِي شَيْئًا، فَأَبَيْتَ إِلَّا أَنْ تُشْرِكَ بِي». [خ¦6557]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى]

39 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن سعيدٍ، سمعتُ إبراهيمَ بن سعد:

عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ: «أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى». [خ¦3706]

 

‌‌ ‌‌[حديث: ألا أعلمكما خيرًا مما سألتما]

40 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن الحكمِ: سمعتُ ابنَ أبي ليلى:

حَدَّثَنَا عَلِيٌّ رضي الله عنه أَنَّ فَاطِمَةَ رضي الله عنها شَكَتْ إِلَى النَّبيِّ مَا تَلْقَى مِنْ أَثَرِ الرَّحَاء، فَأُتَيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بسَبْيٍ فَانْطَلَقَتْ [فَلَمْ تَجِدْهُ] فَوَجَدَتْ عَائِشَةَ رضي الله عنها فَأَخْبَرَتْهَا، فَلَمَّا جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ بِمَجِيءِ فَاطِمَةَ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم [إِلَيْنَا] وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا، فَذَهَبْتُ لِأَقُومَ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «عَلَى مَكَانِكُمَا». فَقَعَدَ بَيْنَنَا، حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمَيْهِ عَلَى صَدْرِي، وَقَالَ: أَلَا أُعَلِّمُكُمَا خَيْرًا مِمَّا سَأَلْتُمَا؟ إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا تُكَبِّرَا أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ، وَتُسَبِّحَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَتَحْمَدَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمَا [مِنْ خَادِمٍ]». [خ¦3705]

 

‌‌ ‌‌[حديث: لما بعث علي عمارًا والحسن إلى الكوفة ليستنفرهم]

41 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن الحكمِ، سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ قَالَ: لَمَّا بَعَثَ عَلِيٌّ رضي الله عنه عَمَّارًا وَالْحَسَنَ إِلَى الْكُوفَةِ لِيَسْتَنْفِرَهُمْ /

--------------------------------------------

(1) في المخطوط تصحيفًا: (بن عمر).
...আমার পরে কাফের হয়ে যেও না যে, তোমরা একে অপরের ঘাড় কাটবে। [বুখারি: ৬৮৬৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: কবিরা গুনাহসমূহ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া]

৩৫ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ফিরাস থেকে, তিনি শা’বী থেকে:

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (১) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কবিরা গুনাহসমূহ হলো: আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।" অথবা তিনি বলেছেন: "মিথ্যা কসম (আল-ইয়ামিনুল গামুস)।" - শু'বাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। [বুখারি: ৬৮৭০]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নবী আমাদের শপথকারী ব্যক্তির শপথ পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন]

৩৬ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আশ’আস থেকে, তিনি মুআবিয়া ইবনে সুওয়াইদ থেকে:

বারা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কসমকারীর কসম পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। [বুখারি: ৬৬৫৪]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তারা কী আমল করত সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত]

৩৭ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে:

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন: "তারা কী আমল করত সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত।" [বুখারি: ৬৫৯৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন জাহান্নামিদের মধ্যে সবথেকে হালকা আযাবভোগীকে বলবেন]

৩৮ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইমরান থেকে, তিনি বলেন:

আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন জাহান্নামিদের মধ্যে যার আযাব সবচেয়ে হালকা হবে তাকে বলবেন: যদি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ তোমার হতো, তবে কি তুমি তা মুক্তিপণ হিসেবে দিতে? সে বলবে: হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তোমার কাছে এর চেয়েও সহজ একটি বিষয় চেয়েছিলাম যখন তুমি আদমের পিঠে ছিলে—যে তুমি আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না; কিন্তু তুমি অস্বীকার করেছ এবং শিরক করেছ।" [বুখারি: ৬৫৫৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে মুসার নিকট হারুনের যে মর্যাদা ছিল সেই মর্যাদায় থাকবে?]

৩৯ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ থেকে, আমি ইবরাহিম ইবনে সাদ থেকে শুনেছি:

তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীকে লক্ষ্য করে বললেন: "তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে তেমনি হবে যেমন মুসার কাছে হারুন ছিলেন?" [বুখারি: ৩৭০৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের চাওয়া জিনিসের চেয়েও উত্তম কিছু শিখিয়ে দেব না?]

৪০ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি হাকাম থেকে: আমি ইবনে আবি লাইলা থেকে শুনেছি:

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) জাঁতা চালানোর ফলে তাঁর হাতে যে কষ্ট হতো সে সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অভিযোগ করলেন। এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিছু যুদ্ধবন্দী আনা হলো। তিনি (ফাতেমা) তাঁর কাছে গেলেন [কিন্তু তাঁকে পেলেন না], তবে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে পেলেন এবং তাঁকে বিষয়টি জানালেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন, আয়েশা তাঁকে ফাতেমার আসার সংবাদ দিলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) [আমাদের নিকট] আসলেন যখন আমরা আমাদের বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। আমি উঠতে চাইলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা নিজ নিজ স্থানেই থাকো।" এরপর তিনি আমাদের মাঝখানে বসলেন, এমনকি আমি আমার বুকের ওপর তাঁর দুই পায়ের শীতলতা অনুভব করলাম। তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়েও উত্তম? যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার বলবে, তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ বলবে এবং তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ বলবে; তা তোমাদের জন্য [একজন খাদেমের] চেয়েও অনেক উত্তম।" [বুখারি: ৩৭০৫]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যখন আলী আম্মার ও হাসানকে কুফাবাসীদের যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পাঠালেন]

৪১ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি হাকাম থেকে, আমি আবু ওয়ািলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আম্মার ও হাসানকে কুফাবাসীদের যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পাঠালেন... /

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে ভুলবশত 'ইবনে ওমর' লেখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٥)
خَطَبَ عَمَّارٌ فَقَالَ: وَاللهِ لَأَعْلَمُ أَنَّهَا زَوْجَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ ابْتَلَاكُمْ لِتَتَّبِعُوهُ أَوْ إِيَّاهَا. [خ¦3772]

 

‌‌ ‌‌[حديث: قالت الأنصار: يا رسول الله لكل نبي أتباع]

42 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عمروٍ: سمعتُ أبا حمزة:

عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ: قَالَتْ الْأَنْصَارُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِكُلِّ نَبِيٍّ أَتْبَاعٌ، وَإِنَّا قَدْ اتَّبَعْنَاكَ، فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَ أَتْبَاعَنَا مِنَّا. فَدَعَا بِهِ. فَنَمَيْتُ ذَلِكَ إِلَى ابْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ: قَدْ زَعَمَ ذَلِكَ زَيْدٌ. [خ¦3787]

أبو حمزة: هو محمَّد بن كعب القُرَظِي.

 

‌‌ ‌‌[حديث: لما أقبل النبي إلى المدينة تبعه سراقة بن مالك]

43 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي إسحاقَ:

سَمِعْتُ الْبَرَاءَ قَالَ: لَمَّا أَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَدِينَةِ تَبِعَهُ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ، فَدَعَا عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَسَاخَتْ بِهِ فَرَسُهُ، قَالَ: ادْعُ اللَّهَ لِي وَلَا أَضُرُّكَ. فَدَعَا لَهُ، قَالَ: فَعَطِشَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ بِرَاعٍ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَأَخَذْتُ قَدَحًا، فَحَلَبْتُ فِيهِ كُثْبَةً مِنْ لَبَنٍ، فَأَتَيْتُهُ فَشَرِبَ حَتَّى رَضِي صلى الله عليه وسلم. [خ¦3908]

 

‌‌ ‌‌[حديث: قدم النبي المدينة واليهود تصوم عاشوراء]

44 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي ذر، عن سعيد بن جبير:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَالْيَهُودُ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فَقَالُوا: هَذَا يَوْمٌ ظَهَرَ فِيهِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ: «أَنْتُمْ أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْهُمْ فَصُومُوا». [خ¦4680]

 

‌‌ ‌‌[حديث: هما ريحانتي من الدنيا]

45 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن محمَّد بن [أبي يعقوب] قال: سمعت ابْنَ أَبِي نُعْمٍ(1) :

سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ وَسَأَلَهُ رجلُ: مَنْ الْمُحْرِمِ - قَالَ شُعْبَةُ: أَحْسِبُهُ يَقْتُلُ الذُّبَابَ - فَقَالَ: أَهْلُ الْعِرَاقِ يَسْأَلُوني عَنْ الذُّبَابِ، وَقَدْ قَتَلُوا ابْنَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟! وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «هُمَا رَيْحَانَتَايَ(2) مِنْ الدُّنْيَا». [خ¦3753]

محمَّد هذا الذي [روى عنه] شعبة هو: محمَّد بن عبد الله بن أبي يعقوب الضَّبيُّ.

 

‌‌ ‌‌[حديث: لو أن الأنصار سلكوا واديًا أو شعبًا]

46 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن محمَّد:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ قَالَ: أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ أَنَّ الْأَنْصَارَ سَلَكُوا وَادِيًا - أَوْ: شِعْبًا - لَسَلَكْتُ فِي وَادِي الْأَنْصَارِ، لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنْ الْأَنْصَارِ». [خ¦3779]

 

‌‌ ‌‌[حديث: عجب الله من قوم يدخلون الجنة في السلاسل]

47 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن محمَّد:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، /

--------------------------------------------

(1) في المخطوط: (نعيم).

(2) في المخطوط: (ريحانيَّتيَّ)
আম্মার (রা.) ভাষণ দিলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই জানি যে তিনি (আয়েশা) দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর (নবীজির) স্ত্রী; কিন্তু আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা করছেন যে তোমরা তাঁকে (আল্লাহকে) অনুসরণ করো নাকি তাঁকে (আয়েশাকে)। [বুখারি: ৩৭৭২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আনসারগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, প্রত্যেক নবীরই অনুসারী থাকে]

৪২ - এবং এই একই সনদে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হামজাকে বলতে শুনেছি:

যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত: আনসারগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, প্রত্যেক নবীরই অনুসারী থাকে, আর আমরা আপনাকে অনুসরণ করেছি। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের অনুসারীদের আমাদের মধ্য থেকেই করেন। এরপর তিনি (নবীজি) এর জন্য দোয়া করলেন। আমি (আমর) এটি ইবনে আবি লায়লার কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: যায়েদ এমনটিই মনে করতেন। [বুখারি: ৩৭৮৭]

আবু হামজা হলেন: মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি।

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যখন নবী (সা.) মদিনার দিকে অগ্রসর হলেন, তখন সুরাকা বিন মালিক তাঁর পিছু নিল]

৪৩ - এবং এই একই সনদে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে:

আমি বারা’ (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনার দিকে অগ্রসর হলেন, সুরাকা বিন মালিক তাঁর পিছু নিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার বিরুদ্ধে দোয়া করলেন, ফলে তার ঘোড়া তাকে নিয়ে (মাটিতে) ধসে গেল। সে বলল: আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, আমি আপনার কোনো ক্ষতি করব না। তখন তিনি তার জন্য দোয়া করলেন। বারা’ (রা.) বলেন: এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৃষ্ণার্ত হলেন এবং এক রাখালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবু বকর (রা.) বলেন: তখন আমি একটি পেয়ালা নিলাম এবং তাতে সামান্য দুধ দোহন করলাম। এরপর আমি তা নিয়ে তাঁর কাছে এলাম এবং তিনি পান করলেন এমনকি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সন্তুষ্ট হলেন। [বুখারি: ৩৯০৮]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নবী (সা.) মদিনায় আসলেন এবং ইহুদিরা আশুরার রোজা রাখছিল]

৪৪ - এবং এই একই সনদে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু যর থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে:

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় আগমন করলেন এমতাবস্থায় যে ইহুদিরা আশুরার রোজা রাখছিল। তারা বলল: এটি এমন একদিন যে দিনে মুসা (আ.) ফেরাউনের ওপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বললেন: "মুসার ব্যাপারে তাদের চেয়ে তোমরাই অধিক হকদার, সুতরাং তোমরা রোজা রাখো।" [বুখারি: ৪৬৮০]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তারা দুইজন দুনিয়াতে আমার দুটি সুগন্ধি ফুল]

৪৫ - এবং এই একই সনদে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন [আবু ইয়াকুব] থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি নু’ম(১) থেকে শুনেছি:

আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-কে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে এক ব্যক্তি ইহরামধারী ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল - শু’বাহ বলেন: আমার ধারণা সে মাছি মারা সম্পর্কে (জিজ্ঞাসা করেছিল) - তখন তিনি বললেন: ইরাকবাসীরা আমাকে মাছি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে, অথচ তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যার সন্তানকে হত্যা করেছে?! আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "তারা দুইজন দুনিয়াতে আমার দুটি সুগন্ধি ফুল।"(২) [বুখারি: ৩৭৫৩]

এই মুহাম্মদ যাঁর থেকে শু’বাহ [বর্ণনা করেছেন] তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবু ইয়াকুব আদ-দাব্বি।

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যদি আনসারগণ কোনো উপত্যকা বা গিরিপথে চলে]

৪৬ - এবং এই একই সনদে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ থেকে:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অথবা তিনি বলেছিলেন: আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যদি আনসারগণ কোনো উপত্যকায় - অথবা গিরিপথে - চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকাতেই চলতাম। যদি হিজরত না থাকত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম।" [বুখারি: ৩৭৭৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় দেখে আশ্চর্য হন যারা শিকলবদ্ধ হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে]

৪৭ - এবং এই একই সনদে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ থেকে:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, /

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (নুয়াইম)।

(২) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (রাইহানিয়াতিয়্যা)
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٥)
عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ عَجِبَ اللَّهُ مِنْ قَوْمٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ فِي السَّلَاسِلِ. [خ¦3010]

 

‌‌ ‌‌[حديث: والذي نفسي بيده لأذودن رجالًا عن حوضي]

48 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن محمَّدٍ:

عن أَبي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأَذُودَنَّ رِجَالًا عَنْ حَوْضِي كَمَا يُذَادُ الْغَرِيبَةُ مِنْ الْإِبِلِ عَنْ الْحَوْضِ». [خ¦2367]

 

‌‌ ‌‌[حديث: كخ كخ أما تعرف أنا لا نأكل الصدقة]

49 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن محمَّدٍ:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ رضي الله عنهما أَخَذَ تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ، فَجَعَلَهَا فِي فِيهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْفَارِسِيَّةِ: «كِخْ، كِخْ؛ أَمَا تَعْرِفُ أَنَّا لَا نَأْكُلُ الصَّدَقَةَ». [خ¦3072]

ومحمَّد هذا الذي بين شعبة وأبي هريرة في هذه الأحاديث الأربع هو: محمَّد بن زياد مولى عثمان بن مظعون.

 

‌‌ ‌‌[حديث: قلت لابن عمر: أريد أن أهاجر إلى الشام]

50 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي بشر، عن مُجَاهِدٍ قالَ: قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ: أُرِيدُ أَنْ أُهَاجِرَ إِلَى الشَّامِ؟ قَالَ: لَا هِجْرَةَ وَلَكِنْ جِهَادٌ، فَانْطَلِقْ فَاعْرِضْ نَفْسَكَ فَإِنْ وَجَدْتَ شَيْئًا وَإِلَّا رَجَعْتَ. [خ¦4309]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أفررتم عن رسول الله يوم حنين]

51 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي إسحاق:

سَمِعَ الْبَرَاءَ أوَ سَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ قَيْسٍ -: أَفَرَرْتُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ؟ فَقَالَ: لَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَفِرَّ؛ كَانَتْ هَوَازِنُ رُمَاةً، وَإِنَّا لَمَّا حَمَلْنَا عَلَيْهِمْ انْكَشَفُوا، فَأَكْبَبْنَا عَلَى الْغَنَائِمِ فَاسْتُقْبِلْنَا بِالسِّهَامِ، وَلَقَدْ رَأَيْتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ، وَإِنَّ أَبَا سُفْيَانَ [بْنَ الْحَارِثِ] آخِذٌ بِزِمَامِهَا، وَهُوَ يَقُولُ:

~أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ. [خ¦4317]

 

‌‌ ‌‌[حديث: من ادعى إلى غير أبيه وهو يعلم فالجنة عليه حرام]

52 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عاصم، سمعت أبا عثمان:

سَمِعْتُ سَعْدًا(1) - وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ - وَأَبَا بَكْرَةَ وَكَانَا تَسَوَّرَا حِصْنَ الطَّائِفِ فِي أُنَاسٍ، فَجَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَا: سَمِعْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ، فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ». [خ¦4326]

 

‌‌ ‌‌[حديث: لأبعثن إليكم رجلًا أمينًا حق أمين]

53 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ: سمعت أبا إسحاق، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ(2) :

عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: جَاءَ أَهْلُ نَجْرَانَ إِلَى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: ابْعَثْ لَنَا رَجُلًا أَمِينًا. فَقَالَ: «لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكُمْ رَجُلًا أَمِينًا حَقَّ أَمِينٍ». فَاسْتَشْرَفَ لَهُ النَّاسُ، فَبَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ. [خ¦4381]

 

‌‌ ‌‌[حديث: كنت أسمع أنه: لا يموت نبي حتى يخير بين]

54 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن سعد، عن عروة:/

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (سعيدًا) وهو تصحيف.

(2) في المخطوط: (زفير).
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহ এমন একদল লোক দেখে বিস্মিত হন, যারা শিকলবদ্ধ অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বুখারি: ৩০১০]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যার হাতে আমার প্রাণ, আমি অবশ্যই আমার হাউজ থেকে কিছু লোককে তাড়িয়ে দেব]

৪৮ - এই একই সূত্রে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ থেকে:

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আমি অবশ্যই আমার হাউজ (কাওসার) থেকে কিছু লোককে তাড়িয়ে দেব, যেভাবে বেওয়ারিশ উটকে হাউজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।» [বুখারি: ২৩৬৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: কিখ কিখ, তুমি কি জানো না যে আমরা সদকার মাল খাই না]

৪৯ - এই একই সূত্রে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ থেকে:

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সদকার খেজুর থেকে একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফারসি ভাষায় বললেন: «কিখ, কিখ (ছি ছি); তুমি কি জানো না যে আমরা সদকার মাল খাই না?» [বুখারি: ৩০৭২]

আর এই চার হাদিসে শু’বাহ এবং আবু হুরাইরার মধ্যবর্তী এই মুহাম্মাদ হলেন: মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ, যিনি উসমান ইবনে মাজউন-এর আযাদকৃত গোলাম।

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমি ইবনে উমরকে বললাম: আমি শামে হিজরত করতে চাই]

৫০ - এই একই সূত্রে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু বিশর থেকে, মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বললাম: আমি শামে হিজরত করতে চাই? তিনি বললেন: (মক্কা বিজয়ের পর) আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ রয়েছে। সুতরাং তুমি যাও এবং নিজেকে (জিহাদের জন্য) পেশ করো, যদি সুযোগ পাও তবে ভালো, নতুবা ফিরে এসো। [বুখারি: ৪৩০৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমরা কি হুনাইনের দিন রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে পালিয়েছিলে]

৫১ - এই একই সূত্রে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে:

তিনি বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন - অথবা কাইস গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন -: আপনারা কি হুনাইনের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন? তিনি বললেন: কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পালাননি। হাওয়াযিন গোত্র ছিল দক্ষ তীরন্দাজ। আমরা যখন তাদের ওপর আক্রমণ করলাম, তারা পিছু হটে গেল। তখন আমরা গনিমতের মালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম, ফলে তারা আমাদের দিকে অবিরাম তীর ছুঁড়তে লাগল। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর সাদা খচ্চরের ওপর সওয়ার থাকতে দেখেছি, আর আবু সুফিয়ান [ইবনে হারিস] তার লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি বলছিলেন:

~আমি নবী, এতে কোনো মিথ্যা নেই; আমি আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর। [বুখারি: ৪৩১৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কারো সন্তান বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম]

৫২ - এই একই সূত্রে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আসিম থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু উসমানকে বলতে শুনেছি:

আমি সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে(১) - যিনি আল্লাহর রাস্তায় প্রথম তীর নিক্ষেপ করেছিলেন - এবং আবু বাকরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি; তাঁরা উভয়ে একদল লোকের সাথে তায়েফের দুর্গের প্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। তারপর তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কারো সন্তান বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।» [বুখারি: ৪৩২৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে একজন আমানতদার লোক পাঠাব, যিনি প্রকৃতই আমানতদার]

৫৩ - এই একই সূত্রে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি আবু ইসহাককে সিলাহ ইবনে যুফার(২) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি:

হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নাজরানবাসী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: আমাদের কাছে একজন বিশ্বস্ত লোক পাঠান। তিনি বললেন: «আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে একজন আমানতদার লোক পাঠাব, যিনি প্রকৃতই আমানতদার।» তখন লোকেরা সে পদটির আকাঙ্ক্ষা করতে লাগল, কিন্তু তিনি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুকে) পাঠালেন। [বুখারি: ৪৩৮১]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমি শুনতাম যে: কোনো নবী মৃত্যুবরণ করেন না যতক্ষণ না তাঁকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়]

৫৪ - এই একই সূত্রে: শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাদ থেকে, উরওয়াহ থেকে:/

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে (সাঈদ) রয়েছে, যা একটি লিপিক্রমিক ভুল।

(২) পাণ্ডুলিপিতে (যুফাইর) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٦)
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَسْمَعُ أَنَّهُ لَا يَمُوتُ نَبِيٌّ حَتَّى يُخَيَّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، فَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَأَخَذَتْهُ بُحَّةٌ [يَقُولُ: {مَعَ] الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ(1)} الْآيَةَ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُ خُيِّرَ. [خ¦4435]

 

‌‌ ‌‌[حديث: لما نزلت الآيات من آخر البقرة قرأهن النبي صلى الله عليه وسلم]

55 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن منصور، عن أبي الضحى، عن مسروق:

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَمَّا أُنْزِلَتْ الْآيَاتُ مِنْ آخِرِ الْبَقَرَةِ قَرَأَهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم [عَلَيْهِمْ] فِي الْمَسْجِدِ، وَحَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ. [خ¦4542]

 

‌‌ ‌‌[حديث: سألت أبي {هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا}]

56 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عمرو، عَنْ مُصْعَبِ قَالَ: سَأَلْتُ أَبِي {[قُلْ] هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا} هُمْ الْحَرُورِيَّةُ؟ قَالَ: لَا، هُمْ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، أَمَّا الْيَهُودُ فَكَذَّبُوا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، وَالنَّصَارَى كَفَرُوا بِالْجَنَّةِ، وَقَالُوا: لَا طَعَامَ فِيهَا وَلَا شَرَابَ، وَالْحَرُورِيَّةُ {الَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ} وَكَانَ سَعْدٌ يُسَمِّيهِمْ: الْفَاسِقِينَ. [خ¦4728]

 

‌‌ ‌‌[حديث: مر بي النبي وأنا أصلي، فدعاني فلم آته]

57 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ: مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أُصَلِّي، فَدَعَانِي فَلَمْ آتِهِ حَتَّى صَلَّيْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُ(2) فَقَالَ: «مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْتِي؟» فَقُلْتُ: كُنْتُ أُصَلِّي. فَقَالَ: «أَلَمْ يَقُلْ اللَّهُ تَعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ [لِمَا يُحْيِيكُمْ]}، أَلَا أُعَلِّمُكُم أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنْ الْمَسْجِدِ». فَذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجَ مِنْ الْمَسْجِدِ فَذَكَّرْتُهُ، فَقَالَ: «{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} هِيَ سَبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الَّذِي أُوتِيتُهُ. [خ¦4703]

 

‌‌ ‌‌[حديث: اختلف أهل الكوفة في قتل المؤمن]

58 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ بن المغيرة بن النعمان، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: اخْتَلَفَ أَهْلُ الْكُوفَةِ فِي قَتْلِ الْمُؤْمِنِ؟ فَرَحَلْتُ فِيهِ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ: نَزَلَتْ فِي آخِرِ مَا نَزَلَتْ، وَلَمْ يَنْسَخْهَا شَيْءٌ. [خ¦4763]

 

‌‌ [حديث: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهِ}]

59 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن العوَّام قال: سَأَلْتُ مُجَاهِدًا عَنْ السَّجْدَةِ فِي {ص} قَالَ: سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ(3) فَبِهُدَاهُمْ اقْتَدِهْ} وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَسْجُدُ فِيهَا. [خ¦4806]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إلا أن تصلوا ما بيني وبينكم من القرابة]

60 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عبد الملك بن ميسرة قال: سَمِعْتُ طَاوُسًا عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ قَوْلِهِ {إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي /

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (الذين أنعمت عليهم).

(2) في المخطوط: (التفتُّ).

(3) في الأصل: (الذين هداهم الله).
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শুনতাম যে, কোনো নবীই দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন না। আমি নবী (সা.)-কে তাঁর অন্তিম অসুস্থতার সময় বলতে শুনেছি যখন তাঁর কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে গিয়েছিল, [তিনি বলছিলেন: {যাদের] প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন(১)}—এই আয়াতটি। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁকে (দুনিয়া অথবা আখিরাত) বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। [বুখারি: ৪৪৩৫]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যখন সূরা বাকারার শেষ অংশ থেকে আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলো তখন নবী (সা.) সেগুলো পাঠ করলেন]

৫৫ - একই সনদে: আমাদের কাছে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি আবু আদ-দুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে:

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন সূরা বাকারার শেষ দিক থেকে আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলো, তখন নবী (সা.) মসজিদে [লোকদের সামনে] সেগুলো পাঠ করলেন এবং মদের ব্যবসা হারাম ঘোষণা করলেন। [বুখারি: ৪৫৪২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম {আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব যে আমলের দিক থেকে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?}]

৫৬ - একই সনদে: আমাদের কাছে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি মুসআব থেকে। মুসআব বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, {[বলুন] আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব যে আমলের দিক থেকে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?} তারা কি হারুরিয়া (খারেজি)? তিনি বললেন: না, তারা হলো ইহুদি ও নাসারা। ইহুদিরা মুহাম্মদ (সা.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, আর নাসারারা জান্নাতকে অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল সেখানে কোনো খাবার ও পানীয় থাকবে না। আর হারুরিয়া হলো {তারা যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে}। সা'দ (রা.) তাদের 'ফাসিক' বলে ডাকতেন। [বুখারি: ৪৭২৮]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নবী (সা.) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি সালাত আদায় করছিলাম, তখন তিনি আমাকে ডাকলেন কিন্তু আমি তাঁর কাছে গেলাম না]

৫৭ - একই সনদে: আমাদের কাছে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন খুবাইব ইবন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি হাফস ইবন আসিম থেকে, তিনি আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা থেকে। তিনি বলেন: নবী (সা.) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি সালাত আদায় করছিলাম, তখন তিনি আমাকে ডাকলেন কিন্তু আমি সালাত শেষ না করা পর্যন্ত তাঁর কাছে গেলাম না। এরপর আমি তাঁর কাছে এলাম(২), তখন তিনি বললেন: "তোমাকে আসতে কিসে বাধা দিল?" আমি বললাম: আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন: "আল্লাহ তাআলা কি বলেননি: {হে মুমিনগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন তোমাদেরকে ডাকেন, তখন তোমরা তাঁর ডাকে সাড়া দাও [যাতে তোমাদের জীবন সঞ্চার হয়]}? জেনে রাখো, আমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই তোমাকে কুরআনের সবচেয়ে মহান সূরাটি শিখিয়ে দেব।" এরপর নবী (সা.) মসজিদ থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন: "{আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন (সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)}, এটাই হলো সাতটি বারবার পঠিত আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকে দান করা হয়েছে।" [বুখারি: ৪৭০৩]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: মুমিন ব্যক্তিকে হত্যার শাস্তির বিষয়ে কুফাবাসীরা মতবিরোধ করেছিল]

৫৮ - একই সনদে: আমাদের কাছে শু'বাহ ইবনুল মুগিরা ইবনুন নুমান বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনু জুবাইর থেকে। তিনি বলেন: মুমিন ব্যক্তিকে হত্যার বিষয়ে কুফাবাসীরা মতবিরোধ করেছিল? এ বিষয়ে (জানার জন্য) আমি ইবনু আব্বাসের কাছে সফর করলাম। তিনি বললেন: এটি সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াতগুলোর একটি, কোনো কিছুই একে রহিত করেনি। [বুখারি: ৪৭৬৩]

 

‌‌ [হাদিস: {তারাই তারা যাদের আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন, সুতরাং আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন}]

৫৯ - একই সনদে: আমাদের কাছে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন আওয়াম থেকে। তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে সূরা 'সোয়াদ'-এর সিজদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: ইবনু আব্বাস (রা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: {তারাই তারা যাদের আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন(৩) সুতরাং আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন}। আর ইবনু আব্বাস (রা.) সেখানে সিজদাহ করতেন। [বুখারি: ৪৮০৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: কেবল আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ছাড়া]

৬০ - একই সনদে: আমাদের কাছে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনু মাইসারা থেকে। তিনি বলেন: আমি তাউসকে ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তাঁকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: {কেবল আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ছাড়া /

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: (যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন)।

(২) পাণ্ডুলিপিতে: (আমি ফিরে তাকালাম)।

(৩) মূল পাঠে: (যাদের আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٦)
الْقُرْبَى} [الشورى: 23] فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: قُرْبَى آلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم. فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: عَجِلْتَ؛ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ بَطْنٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَّا كَانَ لَهُ فِيهِمْ قَرَابَةٌ، فَقَالَ: إِلَّا أَنْ تَصِلُوا مَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ مِنْ الْقَرَابَةِ. [خ¦4818]

 

‌‌ ‌‌[حديث: يا رسول الله ما أرى صاحبك إلا أبطأك]

61 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن الأسود بن قيس:

سَمِعْتُ جُنْدُبًا(1) الْبَجَلِيَّ، قَالَتْ امْرَأَةٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أُرَى صَاحِبَكَ إِلَّا أَبْطَأَكَ. فَنَزَلَتْ: {مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى}. [خ¦4951]

 

‌‌ ‌‌[حديث: قوموا إلى سيدكم أو إلى خيركم]

62 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن سعد قال: سمعت أبا أمامة:

سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُولُ: نَزَلَتْ أَهْلُ قُرَيْظَةَ عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ، فَأَرْسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى سَعْدٍ، فَأَتَى عَلَى حِمَارٍ، فَلَمَّا دَنَا مِنْ الْمَسْجِدِ قَالَ لِلْأَنْصَارِ: «قُومُوا إِلَى سَيِّدِكُمْ» أَوْ: «إِلى أَخْيَرِكُمْ». فَقَالَ: «هَؤُلَاءِ نَزَلُوا عَلَى حُكْمِكَ». فَقَالَ: تَقْتُلُ مُقَاتِلَتَهُمْ وَيُسْبَى ذَرَارِيَّهُمْ. قَالَ: «قَضَيْتَ بِحُكْمِ اللَّهِ» وَرُبَّمَا قَالَ: «بِحُكْمِ الْمَلِكِ». [خ¦4121]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إن عفريتًا من الجن تفلَّت البارح ليقطع عليَّ صلاتي]

63 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن محمَّد بن زياد:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ عِفْرِيتًا مِنْ الْجِنِّ تَفَلَّتَ الْبَارِحَ؛ لِيَقْطَعَ عَلَيَّ صَلَاتِي، فَأَمْكَنَنِي اللَّهُ مِنْهُ، فَأَخَذْتُهُ فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْبِطَهُ عَلَى سَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ؛ حَتَّى تَنْظُرُوا إِلَيْهِ كُلُّكُمْ، فَذَكَرْتُ دَعْوَةَ أَخِي سُلَيْمَانَ: رَبِّ هَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي، فَرَدَدْتُهُ خَاسِئًا». [خ¦3423]

 

‌‌ ‌‌[حديث: استقرؤوا القرآن من أربعة]

64 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عمرو، عن إبراهيم، عن مسروق:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما، سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «اسْتَقْرِؤُوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ، مِنْ ابْنِ مَسْعُودٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَأُبَيِّ بنِ كَعْبٍ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ». [خ¦3806]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أتعجبون من لين هذا؟ لمناديل سعد بن معاذ خير منها]

65 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي إسحاق قال:

سَمِعْتُ الْبَرَاءَ يَقُولُ: أُهْدِيَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حُلَّةُ حَرِيرٍ، فَجَعَلَ أَصْحَابُهُ يَمَسُّونَهَا وَيَعْجَبُونَ مِنْ لِينِهَا، قالَ: «أَتَعْجَبُونَ مِنْ لِينِ هَذِا؟ لَمَنَادِيلُ سَعْدٍ خَيْرٌ مِنْهَا أَوْ أَلْيَنُ». [خ¦3802]

 

‌‌ ‌‌[حديث: اللهم عليك الملأ من قريش]

66 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي إسحاق، عن عمرو بن ميمون:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: بَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدٌ وَحَوْلَهُ نَاسٌ مِنْ قُرَيْشٍ، جَاءَ عُقْبَةُ بْنُ أَبِي مُعَيْطٍ بِسَلَى جَزُورٍ فَقَذَفَهُ عَلَى ظَهْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم /

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (سمعت جندب).
{নিকটাত্মীয়} [আশ-শুরা: ২৩]। সাঈদ ইবনে জুবায়ের বললেন: এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজনের নিকটাত্মীয়তা। ইবনে আব্বাস বললেন: তুমি তাড়াহুড়ো করেছ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরাইশ বংশের এমন কোনো শাখা ছিল না যাদের সাথে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না। তাই আয়াতটির অর্থ হলো: তোমরা আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো। [বুখারি: ৪৮১৮]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: হে আল্লাহর রাসুল, আমি দেখছি আপনার সাথী আপনার কাছে আসতে দেরি করছেন]

৬১ - এবং এই সনদেই: শু'বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আসওয়াদ ইবনে কায়স থেকে:

আমি জুনদুব আল-বাজালিকে বলতে শুনেছি, এক মহিলা বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমি তো দেখছি আপনার সাথী আপনার কাছে আসতে দেরি করছেন। তখন অবতীর্ণ হলো: {আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি।} [বুখারি: ৪৯৫১]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমরা তোমাদের নেতার প্রতি অথবা তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির প্রতি উঠে দাঁড়াও]

৬২ - এবং এই সনদেই: শু'বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাদ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু উমামাহকে বলতে শুনেছি:

আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বলতে শুনেছি: বনু কুরায়জা সাদ ইবনে মুআজের ফয়সালার ওপর (দুর্গ থেকে) নেমে এলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদের কাছে লোক পাঠালেন। তিনি একটি গাধার পিঠে চড়ে এলেন। যখন তিনি মসজিদের কাছাকাছি হলেন, তখন আনসারদের বললেন: «তোমরা তোমাদের নেতার প্রতি উঠে দাঁড়াও» অথবা বললেন: «তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির প্রতি»। এরপর তিনি বললেন: «এরা আপনার ফয়সালার ওপর নেমে এসেছে»। সাদ বললেন: আপনি তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করবেন এবং তাদের বংশধরদের বন্দি করবেন। তিনি (নবী) বললেন: «আপনি আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা করেছেন»। আর সম্ভবত তিনি বলেছিলেন: «মালিক (রাজাধিরাজ আল্লাহর) ফয়সালা অনুযায়ী»। [বুখারি: ৪১২১]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: গত রাতে একটি শক্তিশালী জিন আমার সালাতে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য হঠাৎ আমার ওপর চড়াও হয়েছিল]

৬৩ - এবং এই সনদেই: শু'বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ থেকে:

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে: «গত রাতে একটি শক্তিশালী জিন আমার সালাতে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য হঠাৎ আমার ওপর চড়াও হয়েছিল; কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার ওপর সামর্থ্য দান করলেন। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং ইচ্ছা করলাম তাকে মসজিদের খুঁটিগুলোর কোনো একটির সাথে বেঁধে রাখি, যাতে তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার ভাই সুলাইমানের দোয়ার কথা মনে পড়ে গেল: 'হে আমার রব! আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভা পায় না'। ফলে আমি তাকে লাঞ্ছিত অবস্থায় তাড়িয়ে দিলাম»। [বুখারি: ৩৪২৩]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমরা চারজনের কাছ থেকে কুরআন শেখো]

৬৪ - এবং এই সনদেই: শু'বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমর থেকে, ইবরাহিম থেকে, মাসরুক থেকে:

আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমরা চার ব্যক্তির কাছ থেকে কুরআন শেখো: ইবনে মাসউদ, আবু হুযায়ফার মুক্তদাস সালিম, উবাই ইবনে কাব এবং মুআজ ইবনে জাবাল»। [বুখারি: ৩৮০৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমরা কি এর কোমলতা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছ? জান্নাতে সাদ ইবনে মুআজের রুমালগুলো এর চেয়েও উত্তম]

৬৫ - এবং এই সনদেই: শু'বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি বলেন:

আমি বারাকে বলতে শুনেছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক সেট রেশমি পোশাক উপহার দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সাহাবীগণ তা স্পর্শ করতে লাগলেন এবং এর কোমলতা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতে লাগলেন। তিনি বললেন: «তোমরা কি এর কোমলতা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছ? জান্নাতে সাদের রুমালগুলো এর চেয়েও উত্তম অথবা এর চেয়েও কোমল»। [বুখারি: ৩৮০২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: হে আল্লাহ, আপনি কুরাইশ নেতাদের পাকড়াও করুন]

৬৬ - এবং এই সনদেই: শু'বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, আমর ইবনে মাইমুন থেকে:

আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদারত ছিলেন এবং তাঁর চারপাশে কুরাইশদের কিছু লোক ছিল। তখন উকবা ইবনে আবি মুআইত একটি জবেহ করা উটের নাড়িভুঁড়ি নিয়ে এল এবং তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিঠের ওপর নিক্ষেপ করল...

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: (আমি জুনদুবকে শুনেছি)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٧)
فَلَمْ يَرْفَعْ رَأْسَهُ، فَجَاءَتْ فَاطِمَةُ فَأَخَذَتْهُ مِنْ ظَهْرِهِ وَدَعَتْ عَلَى مَنْ صَنَعَ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ عَلَيْكَ الْمَلَأَ مِنْ قُرَيْشٍ: أَبَا جَهْلِ بْنَ هِشَامٍ، وَعُتْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ، وَشَيْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ، وَأُمَيَّةَ بْنَ خَلَفٍ». أَوْ: «أُبَيَّ بْنَ خَلَفٍ» شُعْبَةُ الشَّاكُّ، فَرَأَيْتُهُمْ قُتِلُوا يَوْمَ بَدْرٍ، فَأُلْقُوا فِي بِئْرٍ، غَيْرَ أُمَيَّةَ - أَوْ: أُبَيِّ - تَقَطَّعَتْ أَوْصَالُهُ فَلَمْ يُلْقَ فِي الْبِئْرِ. [خ¦3854]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أول من قدم علينا مصعب بن عمير]

67 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن أبي إسحاق:

سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ قَالَ: أَوَّلُ مَنْ قَدِمَ عَلَيْنَا مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ(1) وَكَانَا يُقْرِؤونِ النَّاسَ، فَقَدِمَ بِلَالٌ وَسَعْدٌ وَعَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ، ثُمَّ قَدِمَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي كثيرين(2) مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَمَا رَأَيْتُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَرِحُوا بِشَيْءٍ فَرَحَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى جَعَلَ الْإِمَاءُ يَقُلْنَ(3) : قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَمَا قَدِمَ حَتَّى قَرَأْتُ {سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} فِي سُوَرٍ مِنْ الْمُفَصَّلِ. [خ¦3925]

 

‌‌ ‌‌[حديث: صم من الشهر ثلاثة أيام، قال: أطيق أكثر]

68 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن مغيرة: سَمِعْتُ مُجَاهِدًا:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو(4) عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «صُمْ مِنْ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ». قَالَ: أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ. فَمَا زَالَ حَتَّى قَالَ: «صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا». فَقَالَ: «اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ». قَالَ: أُطِيقُ أَكْثَرَ مِن ذلكَ، فَمَا زَالَ حَتَّى قَالَ: فِي ثَلَاثٍ. [خ¦1978]

 

‌‌ ‌‌[حديث: استرقوا لها فإن بها النظرة]

69 - قال: أخبَرَنا الإمام والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا أبو الخير محمَّد: أخبَرَنا أبو الهيثم محمَّد: أخبَرَنا الفربري محمَّد: أخبَرَنا البخاري محمَّد: أخبَرَنا محمَّد بن يحيى: أخبَرَنا محمَّد بن وهب بن عطيَّة: حدَّثنا محمَّد بن حرب: حدَّثنا محمَّد بن الوليد: حدَّثنا الزهري - وهو محمَّد بن مسلم - عن زينب بنت أبي سلمة:

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى فِي بَيْتِهَا جَارِيَةً فِي وَجْهِهَا سَفْعَةٌ، فَقَالَ: «اسْتَرْقُوا لَهَا؛ فَإِنَّ بِهَا النَّظْرَةَ». [خ¦5739]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إذا دعى الرجل امرأته إلى فراشه فأبت أن تجيء]

70 - أخبَرَنا والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا أبو الخير محمَّد: أخبَرَنا أبو الهيثم محمَّد: أخبَرَنا الفربري محمَّد: أخبَرَنا البخاري محمَّد: أخبَرَنا ابن بشار محمَّد: أخبَرَنا ابن أبي عدي، واسمه محمَّد، عن شعبة، عن سليمان ومنصور(5)، عن أبي حازم:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ أَنْ تَجِيءَ لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ». [خ¦5193]

 

‌‌ ‌‌[حديث: ليس منكم من أحد إلا وقد فرغ من مقعده من الجنة]

71 - وبهذا الإسنادِ: عن شعبة، عن سليمان ومنصور، عن سعد /

--------------------------------------------

(1) في المخطوط: (وأبي أم كلثوم).

(2) في البخاري: (عِشْرِينَ).

(3) في المخطوط: (يقولون).

(4) في المخطوط: (بن عمر).

(5) ضبَّب على قوله: (ومنصور) في الأصل الخطي، وهو الصواب إذ منصور لا وجود له في إسناد البخاري.
তিনি তাঁর মাথা তুললেন না, অতঃপর ফাতিমা আসলেন এবং তাঁর পিঠ থেকে তা সরিয়ে দিলেন এবং যারা এই কাজ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন। এরপর তিনি বললেন: «হে আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের এই দলটিকে পাকড়াও করুন: আবু জেহেল বিন হিশাম, উতবা বিন রাবিয়া, শায়বা বিন রাবিয়া এবং উমাইয়া বিন খালাফ»। অথবা: «উবাই বিন খালাফ»—শু'বা এ বিষয়ে সন্দেহ করেছেন। অতঃপর আমি তাদের বদর যুদ্ধের দিন নিহত হতে দেখলাম, তাদের একটি কূপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তবে উমাইয়া—অথবা উবাই—ব্যতীত; তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তাই তাকে কূপে নিক্ষেপ করা হয়নি। [বুখারী ৩৮৫৪]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমাদের নিকট সর্বপ্রথম যিনি আগমন করেছেন তিনি মুসআব বিন উমাইর]

৬৭ - এবং এই সনদে: শু'বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে:

আমি বারা বিন আযিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সর্বপ্রথম যারা আগমন করেন তারা হলেন মুসআব বিন উমাইর ও ইবনে উম্মে মাকতুম(১), তাঁরা মানুষকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। এরপর আসলেন বিলাল, সাদ ও আম্মার বিন ইয়াসির। তারপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক সাহাবীর(২) সাথে উমর বিন খাত্তাব আসলেন। এরপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন। আমি মদিনাবাসীকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনে যতটা আনন্দিত হতে দেখেছি, অন্য কোনো কিছুতে তেমন আনন্দিত হতে দেখিনি। এমনকি দাসীরাও বলতে লাগল(৩) : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। তাঁর আগমনের পূর্বেই আমি ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’ এবং মুফাসসাল সূরাসসমূহের আরও কিছু সূরা পড়ে ফেলেছিলাম। [বুখারী ৩৯২৫]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: মাসে তিন দিন রোজা রাখো, তিনি বললেন: আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি]

৬৮ - এবং এই সনদে: শু'বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুগীরা থেকে: আমি মুজাহিদকে বলতে শুনেছি:

তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর(৪) থেকে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «মাসে তিন দিন রোজা রাখো»। তিনি বললেন: আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি। এভাবে কথা চলতে থাকল যতক্ষণ না তিনি বললেন: «একদিন রোজা রাখো এবং একদিন রোজা ভঙ্গ করো»। তিনি আরও বললেন: «প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করো»। তিনি বললেন: আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি। এভাবে চলতে থাকল যতক্ষণ না তিনি বললেন: «তিন দিনে (খতম করো)»। [বুখারী ১৯৭৮]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তার জন্য ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থা করো, কারণ তাকে নজর লেগেছে]

৬৯ - তিনি বলেন: ইমাম আমার পিতা আবুল ফাতহ মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবুল খায়ের মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু হাইসাম মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ফারাবরী মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: বুখারী মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ওয়াহব বিন আতিয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: যুহরী—যিনি মুহাম্মদ বিন মুসলিম—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়নাব বিনতে আবি সালামাহ থেকে:

উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে একটি ছোট মেয়েকে দেখলেন যার চেহারায় কালচে দাগ ছিল। তখন তিনি বললেন: «তার জন্য ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থা করো; কারণ তাকে নজর (কুদৃষ্টি) লেগেছে»। [বুখারী ৫৭৩৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে কিন্তু সে আসতে অস্বীকার করে]

৭০ - আমার পিতা আবুল ফাতহ মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবুল খায়ের মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু হাইসাম মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ফারাবরী মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: বুখারী মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইবনে বাশার মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইবনে আবি আদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—যার নাম মুহাম্মদ—তিনি শু'বা থেকে, তিনি সুলাইমান ও মানসুর(৫) থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে:

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে কিন্তু সে আসতে অস্বীকার করে, তখন ফেরেশতারা সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি অভিশাপ দিতে থাকে»। [বুখারী ৫১৯৩]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জান্নাতে তার স্থান নির্ধারিত হয়ে যায়নি]

৭১ - এবং এই সনদে: শু'বা থেকে, তিনি সুলাইমান ও মানসুর থেকে, তিনি সাদ থেকে /

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে আছে: (ওয়াহবি উম্মে কুলসুম)।

(২) বুখারীতে আছে: (বিশজন)।

(৩) পাণ্ডুলিপিতে আছে: (তারা বলছিল)।

(৪) পাণ্ডুলিপিতে আছে: (ইবনে উমর)।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে (ও মানসুর) শব্দটির ওপর সংশোধনী চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, আর এটিই সঠিক কারণ বুখারীর সনদে মানসুরের কোনো অস্তিত্ব নেই।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٧)
بن عبيدة، عن أبي عبد الرحمن السُّلَمِيِّ:

عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي جَنَازَةٍ، فَجَعَلَ يَنْكُتُ الْأَرْضَ بِعُودٍ، وَقَالَ: «لَيْسَ مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ فُرِغَ مِنْ مَقْعَدِهِ مِنْ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ». قَالُوا: أَفَلَا نَتَّكِلُ؟ قَالَ: «اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى} الْآيَةَ. [خ¦6217]

 

‌‌ ‌‌[حديث: من حلف على يمين كاذبة ليقتطع بها مال]

72 - وبهذا الإسنادِ: عن شعبة، عن سليمان ومنصور، عن أبي وائل:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ كَاذِبَةٍ يَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ رَجُلٍ مُسْلِمٍ - أَوْ قَالَ: أَخِيهِ - لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ، وَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَهُ: {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ}. [خ¦6659]

 

‌‌ ‌‌[حديث: كان النبي وأصحابه أتوا بسويق فأكلوه]

73 - وبهذا الإسنادِ: عن شعبة، عن يحيى بن سعيد، عن بشر بن بشار:

عَنْ سُوَيْدِ بْنِ النُّعْمَانِ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ - كَانَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ أُتُوا بِسَوِيقٍ فأكلوه(1). [خ¦4175]

 

‌‌ ‌‌[حديث: فتنة الرجل في أهله وماله وجاره يكفرها الصيام]

74 - وبهذا الإسنادِ: عن شعبة، عن سليمان، سمعت أبا وائل يُحدِّث:

عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ؟ فَقَالَ حُذَيْفَةُ: أَنَا أَحْفَظُ كَمَا قَالَ. قَالَ: هَاتِ، إِنَّكَ لَجَرِيءٌ. قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلَاةُ(2) وَالصَّدَقَةُ وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنْ الْمُنْكَرِ». قَالَ: لَيْسَتْ هَذِهِ، وَلَكِنْ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ. قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَا بَأْسَ عَلَيْكَ مِنْهَا؛ إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا. قَالَ: يُفْتَحُ الْبَابُ أَوْ يُكْسَرُ؟ قَالَ: لَا بَلْ يُكْسَرُ. قَالَ: ذَاكَ أَحْرَى أَنْ لَا يُغْلَقَ. قُلْنَا: عَلِمَ [عُمَرُ] الْبَابَ؟ قَالَ: نَعَمْ، كَمَا أَنَّ دُونَ غَدٍ اللَّيْلَةَ، إِنِّي حَدَّثْتُهُ حَدِيثًا لَيْسَ بِالْأَغَالِيطِ. فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَهُ فَأَمَرْنَا مَسْرُوقًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ: مَنْ الْبَابُ؟ قَالَ: عُمَرُ. [خ¦3586]

 

‌‌ ‌‌[حديث: كان في بني إسرائيل رجل قتل تسعة وتسعين إنسانًا]

75 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن قتادةَ، عن أبي سعيد النَّاجِيِّ:

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِنْسَانًا، ثُمَّ خَرَجَ يَسْأَلُ، فَأَتَى رَاهِبًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ: لَهُ تَوْبَةٌ؟ قَالَ: لَا. فَقَتَلَهُ، وَجَعَلَ يَسْأَلُهُ فَقَالَ الرَجُلُ: ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا وَكَذَا. فَأَدْرَكَهُ الْمَوْتُ فَنَاءَ بِصَدْرِهِ نَحْوَهَا، فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ، فَأَوْحَى اللَّهُ /

--------------------------------------------

(1) بهامش المخطوطة: (فَلَاكُوهُ) أصح. قلت: وهو الذي في البخاري.

(2) في الأصل: (يكفرها الصيام).
ইবনে উবাইদাহ থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত:

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সা.)-এর সাথে একটি জানাজায় ছিলাম। তিনি একটি কাঠি দিয়ে মাটি খুঁড়ছিলেন এবং বললেন: «তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জান্নাত বা জাহান্নামের ঠিকানা নির্ধারিত হয়ে যায়নি।» তারা বললেন: আমরা কি তবে আমল ত্যাগ করে ভাগ্যের ওপর ভরসা করব না? তিনি বললেন: «তোমরা আমল করতে থাকো, কারণ প্রত্যেকের জন্য তা সহজ করে দেওয়া হয়েছে (যার জন্য যা সৃষ্টি করা হয়েছে)। {অতঃপর যে দান করল এবং তাকওয়া অবলম্বন করল} - আয়াতটি শেষ পর্যন্ত।» [বুখারি: ৬২১৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে সম্পদ আত্মসাৎ করে]

৭২ - এবং এই একই সনদ পরম্পরায়: শু'বাহ থেকে, তিনি সুলাইমান ও মানসুর থেকে, তারা আবু ওয়াইল থেকে বর্ণিত:

আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ব্যক্তির—অথবা তিনি বলেছেন: তার ভাইয়ের—সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন। আর আল্লাহ এর সত্যায়ন স্বরূপ নাজিল করেছেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর অঙ্গীকারের বিনিময়ে...}।’ [বুখারি: ৬৬৫৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণ ছাতু নিয়ে আসলেন এবং তা খেলেন]

৭৩ - এবং এই সনদ পরম্পরায়: শু'বাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বিশর ইবনে বাশশার থেকে বর্ণিত:

সুওয়াইদ ইবনে নু'মান থেকে বর্ণিত—যিনি বৃক্ষের নিচে শপথ গ্রহণকারী সাহাবীদের (বায়আতে রিদওয়ান) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের নিকট ছাতু আনা হলো এবং তাঁরা তা খেলেন(১)। [বুখারি: ৪১৭৫]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: মানুষের পরিবার, সম্পদ ও প্রতিবেশীর ফেতনা যা রোজা দ্বারা মিটে যায়]

৭৪ - এবং এই সনদ পরম্পরায়: শু'বাহ থেকে, তিনি সুলাইমান থেকে, আমি আবু ওয়াইলকে বর্ণনা করতে শুনেছি:

হুযাইফাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বললেন: তোমাদের মধ্যে কার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফেতনা সম্পর্কিত কথাটি স্মরণ আছে? হুযাইফাহ বললেন: তিনি যেভাবে বলেছেন আমি ঠিক সেভাবেই তা মুখস্থ রেখেছি। উমর বললেন: তা বলো, তুমি তো বেশ সাহসী। হুযাইফাহ বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «মানুষের পরিবার, সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে যে ফেতনা (বিচ্যুতি) দেখা দেয়, নামাজ(২), সদকা এবং সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ তা মিটিয়ে দেয়।’ উমর বললেন: আমি এগুলোর কথা বলছি না, বরং আমি সেই ফেতনার কথা বলছি যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হবে। তিনি (হুযাইফাহ) বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার ওপর সেই ফেতনার কোনো প্রভাব পড়বে না; কারণ আপনার ও সেই ফেতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। উমর জিজ্ঞেস করলেন: সেই দরজাটি কি খুলে দেওয়া হবে নাকি ভেঙে ফেলা হবে? তিনি বললেন: না, বরং ভেঙে ফেলা হবে। উমর বললেন: তবে তো সেটি আর কোনোদিন বন্ধ না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: উমর (রা.) কি সেই দরজাটি সম্পর্কে জানতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যেমন আগামীকাল আসার আগে রাত আসার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে। আমি তাঁকে এমন এক হাদিস শুনিয়েছি যা কোনো ভুল বা গালগল্প নয়। আমরা হুযাইফাহ (রা.)-কে দরজাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে ভয় পাচ্ছিলাম, তাই আমরা মাসরুককে আদেশ করলাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: সেই দরজাটি হলেন উমর (রা.)। [বুখারি: ৩৫৮৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: বনি ইসরাঈলে এক ব্যক্তি ছিল যে নিরানব্বইজন মানুষকে হত্যা করেছিল]

৭৫ - এবং এই সনদ পরম্পরায়: আমাদের নিকট শু'বাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আন-নাজী থেকে বর্ণিত:

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: বনি ইসরাঈলে এক ব্যক্তি ছিল যে নিরানব্বইজন মানুষকে হত্যা করেছিল। অতঃপর সে (ক্ষমার পথ) অনুসন্ধানে বের হলো এবং একজন পাদ্রীর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল যে, তার কি তওবার কোনো সুযোগ আছে? পাদ্রী বলল: না। তখন সে তাকেও হত্যা করল। এরপর সে আবার জিজ্ঞেস করতে লাগল। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল: তুমি অমুক অমুক গ্রামে যাও। অতঃপর (সেদিকে যাওয়ার পথে) তার মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন সে তার বুক দিয়ে সেই গ্রামের দিকে ঝুঁকে পড়ল। এমতাবস্থায় রহমতের ফেরেশতা ও আজাবের ফেরেশতারা তার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হলো। তখন আল্লাহ ওহি পাঠালেন /

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় রয়েছে: (ফলাকুহু - চিবিয়ে খেলেন) অধিক বিশুদ্ধ। আমি বলি: এটিই বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।

(২) মূল পাঠে রয়েছে: (রোজা তা মিটিয়ে দেয়)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٨)
عزَّ وجلَّ إِلَى هَذِهِ أَنْ تُقَرِّبِي، وَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَذِهِ أَنْ تُبَاعِدِي. وَقَالَ: قِيسُوا مَا بَيْنَهُمَا، فَوُجِدَ إِلَى هَذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ، فَغُفِرَ لَهُ. [خ¦3470]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أعرستم الليلة؟ قال: نعم، قال: اللهم بارك لهما]

76 - أخبَرَنا الإمام والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا أبو الخير محمَّد: أخبَرَنا أبو الهيثم محمَّد: أخبَرَنا الفربري محمَّد: أخبَرَنا البخاري محمَّد: حدَّثني محمَّد بن المثنى: حدَّثنا ابن أبي عدي، واسمه محمَّد، عن ابن عون، عن محمَّد:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ ابْنٌ لِأَبِي طَلْحَةَ يَشْتَكِي، فَخَرَجَ أَبُو طَلْحَةَ فَقُبِضَ الصَّبِيُّ، فَلَمَّا رَجَعَ أَبُو طَلْحَةَ قَالَ: مَا فَعَلَ ابْنِي؟ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ: هُوَ أَسْكَنُ مَا كَانَ. فَقَرَّبَتْ إِلَيْهِ الْعَشَاءَ، فَتَعَشَّى، ثُمَّ أَصَابَ مِنْهَا، فَلَمَّا فَرَغَ قَالَتْ: وَارُوُا الصَّبِيَّ. فَلَمَّا أَصْبَحَ أَبُو طَلْحَةَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ: «أَعْرَسْتُمْ اللَّيْلَةَ؟» قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمَا». فَوَلَدَتْ غُلَامًا، قَالَ لِي أَبُو طَلْحَةَ: احْفَظْهُ حَتَّى تَأْتِيَ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَى بِهِ [النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم] فَأَرْسَلَتْ مَعَهُ تَمَرَاتٍ فَأَخَذَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَمَعَكَ شَيْءٌ؟» قَالُوا: نَعَمْ، مَعِيَ تَمَرَاتٌ. فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَضَغَهَا، ثُمَّ أَخَذَ مِنْ فِيهِ فَجَعَلَهَا فِي فِي الصَّبِيِّ، وَحَنَّكَهُ، وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ. [خ¦5470]

 

‌‌ ‌‌[حديث: لا تشربوا في آنية الذهب والفضة]

77 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا ابن أبي عدي، عن ابن عون، عن مجاهد، عن ابن أبي ليلى قال:

خَرَجْنَا مَعَ حُذَيْفَةَ [وَ] ذَكَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَلَا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَالدِّيبَاجَ، فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَكُمْ فِي الْآخِرَةِ». [خ¦5633]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إنه مكتوب بين عينيه كافر]

78 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا ابن أبي عدي، عن ابن عون، عن مجاهد قال:

كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَذَكَرُوا الدَّجَّالَ، فَقَالُوا: إِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ. [خ¦5913]

 

‌‌ ‌‌[حديث: جاء أبو بكر، بضيف له أو أضياف له]

79 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا ابن أبي عدي، عن سليمان، عن أبي عثمان:

قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما: جَاءَ أَبُو بَكْرٍ بِضَيْفٍ لَهُ - أَوْ: أَضْيَافٍ لَهُ - فَأَمْسَى عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا جَاءَ قَالَتْ لَهُ أُمِّي: احْتَبَسْتَ عَنْ ضَيْفِكَ - أَوْ: عَنْ أَضْيَافِكَ - اللَّيْلَةَ؟ قَالَ: مَا عَشَّيْتِهِمْ؟ فَقَالَتْ: عَرَضْنَا عَلَيْهِ - أَوْ: عَلَيْهِمْ - فَأَبَوْا - أَوْ: فَأَبَى - فَغَضِبَ أَبُو بَكْرٍ وَجَزِعَ، وَحَلَفَ لَا يَطْعَمُهُ، فَاخْتَبَأْتُ أَنَا، فَقَالَ: يَا غُنْثَرُ. فَحَلَفَتِ الْمَرْأَةُ: [لَا تَطْعَمُهُ حَتَّى يَطْعَمَهُ فَحَلَفَ الضَّيْفُ أَوْ الْأَضْيَافُ أَنْ] لَا يَطْعَمَهُ أَوْ لَا يَطْعَمُوهُ حَتَّى يَطْعَمُوْهُ. قَالَ أَبُو بَكْرٍ: كَانَ هَذِهِ مِنْ الشَّيْطَانِ. فَدَعَا /
মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ এই ভূমিকে (পুণ্যভূমিকে) আদেশ দিলেন যে, তুমি নিকটে হও এবং ঐ ভূমিকে (পাপভূমিকে) আদেশ দিলেন যে, তুমি দূরে সরে যাও। আর তিনি বললেন: তোমরা উভয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব মেপে দেখ। তখন দেখা গেল যে, সে এই ভূমির (পুণ্যভূমির) এক বিঘত বেশি নিকটবর্তী, ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো। [বুখারি: ৩৪৭০]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমরা কি আজ রাতে বাসর করেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন: হে আল্লাহ, তাদের উভয়ের জন্য বরকত দান করুন]

৭৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম, আমার পিতা আবুল ফাতহ মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খায়ের মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাইসাম মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফারাবরি মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুখারি মুহাম্মদ: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আদি, যার নাম মুহাম্মদ, ইবনে আউন থেকে, মুহাম্মদ থেকে:

আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু তালহার এক পুত্র অসুস্থ ছিল। এমতাবস্থায় আবু তালহা বাইরে বের হলেন এবং শিশুটি মারা গেল। আবু তালহা যখন ফিরে এলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন: আমার ছেলের কী অবস্থা? উম্মু সুলাইম বললেন: সে আগের চেয়ে অনেক শান্ত আছে। অতঃপর তিনি তার সামনে রাতের খাবার পেশ করলেন এবং তিনি আহার করলেন। এরপর তিনি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করলেন। যখন তিনি অবসর হলেন, উম্মু সুলাইম বললেন: শিশুটিকে দাফন কর। ভোরবেলা আবু তালহা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন: «তোমরা কি আজ রাতে বাসর করেছ?» তিনি বললেন: হ্যাঁ। রাসুল বললেন: «হে আল্লাহ, তাদের উভয়ের জন্য বরকত দান করুন।» এরপর তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিল। আবু তালহা আমাকে বললেন: তুমি তাকে হিফাজত কর যতক্ষণ না তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আস। অতঃপর তাকে [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের] নিকট নিয়ে আসা হলো এবং উম্মু সুলাইম তার সাথে কয়েকটি খেজুর পাঠিয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটিকে গ্রহণ করলেন এবং বললেন: «তোমার সাথে কি কিছু আছে?» তারা বলল: হ্যাঁ, আমার সাথে কয়েকটি খেজুর আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো নিলেন এবং চিবালেন। অতঃপর তিনি নিজের মুখ থেকে নিয়ে শিশুটির মুখে দিলেন এবং তার তাহনিক করলেন আর তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ। [বুখারি: ৫৪৭০]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমরা সোনা ও রুপার পাত্রে পান করো না]

৭৭ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আদি, ইবনে আউন থেকে, মুজাহিদ থেকে, ইবনে আবি লাইলা থেকে, তিনি বলেন:

আমরা হুজাইফার সাথে বের হলাম এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা উল্লেখ করে বললেন: «তোমরা সোনা ও রুপার পাত্রে পান করো না এবং রেশম ও দিবায (রেশমি কাপড়) পরিধান করো না; কেননা এগুলো দুনিয়াতে তাদের জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য।» [বুখারি: ৫৬৩৩]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নিশ্চয়ই তার দুই চোখের মাঝখানে 'কাফির' লেখা থাকবে]

৭৮ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আদি, ইবনে আউন থেকে, মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেন:

আমরা ইবনে আব্বাসের নিকট ছিলাম এবং তারা দাজ্জালের কথা আলোচনা করলেন। তখন তারা বললেন: নিশ্চয়ই তার দুই চোখের মাঝখানে 'কাফির' লেখা থাকবে। [বুখারি: ৫৯১৩]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আবু বকর তার একজন মেহমান অথবা কয়েকজন মেহমান নিয়ে আসলেন]

৭৯ - এবং এই একই সনদে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আদি, সুলায়মান থেকে, আবু উসমান থেকে:

আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: আবু বকর তার একজন মেহমান -অথবা বলেছিলেন কয়েকজন মেহমান- নিয়ে আসলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রাত পর্যন্ত অবস্থান করলেন। যখন তিনি আসলেন, আমার মা তাকে বললেন: আজ রাতে আপনি আপনার মেহমান থেকে -অথবা বলেছিলেন মেহমানদের থেকে- দূরে আটকে ছিলেন কেন? তিনি বললেন: তুমি কি তাদের রাতের খাবার খাওয়াওনি? তিনি বললেন: আমরা তার সামনে -অথবা তাদের সামনে- খাবার পেশ করেছিলাম কিন্তু তারা অস্বীকার করেছে -অথবা সে অস্বীকার করেছে-। এতে আবু বকর রাগান্বিত হলেন এবং বিচলিত হয়ে শপথ করলেন যে, তিনি খাবার খাবেন না। তখন আমি লুকিয়ে পড়লাম। তিনি বললেন: হে নির্বোধ! এরপর তার স্ত্রী শপথ করলেন যে, [তিনি খাবার খাবেন না যতক্ষণ না তিনি খাবার খান। তখন মেহমান অথবা মেহমানরা শপথ করলেন যে,] তিনি খাবেন না অথবা তারা খাবেন না যতক্ষণ না তারা (গৃহকর্তারা) খাবার খান। আবু বকর বললেন: এটি শয়তানের পক্ষ থেকে ছিল। এরপর তিনি ডাকলেন /
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٨)
بِالطَّعَامِ فَأَكَلَ، فَأَكَلُوا، فَجَعَلُوا لَا يَرْفَعُونَ لُقْمَةً إِلَّا رِيْبَ مِنْ أَسْفَلِهَا أَكْثَرُ مِنْهَا. قَالَ: يَا أُخْتَ بَنِي فِرَاسٍ مَا هَذَا؟ فَقَالَتْ: وَقُرَّةِ عَيْنِي إِنَّهَا الْآنَ لَأَكْثَرُ قَبْلَ أَنْ يَأْكُلَ. فَأَكَلُوا، وَبَعَثَ بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ أَنَّهُ أَكَلَ مِنْهَا. [خ¦6141]

 

‌‌ ‌‌[حديث: الحلال بيِّن، والحرام بيِّن وبينهما أمور مشتبهة]

80 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا ابن أبي عدي، عن ابن عون، عن الشَّعبيِّ:

سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بنَ بَشِيرٍ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: «الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا أُمُورٌ مُشْتَبِهَةٌ، فَمَنْ تَرَكَ مَا شُبِّهَ عَلَيْهِ مِنْ الْإِثْمِ كَانَ لِمَا اسْتَبَانَ أَتْرَكَ، وَمَنْ اجْتَرَأَ عَلَى مَا يَشُكُّ فِيهِ مِنْ الْإِثْمِ، أَوْشَكَ أَنْ يُوَاقِعَ مَا اسْتَبَانَ، وَالْمَعَاصِي حِمَى اللَّهِ، مَنْ يَرْتَعْ حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ». [خ¦2051]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إن الله يعلم أن أحدكما كاذب فهل منكما تائب]

81 - أخبَرَنا الإمام والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا أبو الخير محمَّد: أخبَرَنا أبو الهيثم محمَّد: حدَّثنا الفربري محمَّد: أخبَرَنا البخاري محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن بشار: حدَّثنا ابن أبي عدي، عن هشام بن حسان، عن عكرمةَ:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ امْرَأَتَهُ فَجَاءَ فَشَهِدتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ، فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ؟» ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ(1). [خ¦5307]

 

‌‌ ‌‌[حديث: احتجم النبي في رأسه وهو محرم]

82 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا ابن أبي عدي، عن هشام، عن عكرمةَ:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: احْتَجَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رَأْسِهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ؛ مِنْ وَجَعٍ كَانَ بِهِ، بِمَاءٍ يُقَالُ لَهُ: لُحْيُ جَمَلٍ. [خ¦5700]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أتى النبي بإناء وهو بالزوراء]

83 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا محمَّد بن أبي عدي، عن سعيد، عن قتادةَ:

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِإِنَاءٍ وَهُوَ بِالزَّوْرَاءِ، فَوَضَعَ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ، فَجَعَلَ الْمَاءُ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ فَتَوَضَّأَ الْقَوْمُ. قَالَ قَتَادَةُ: قُلْتُ لِأَنَسٍ: كَمْ كُنْتُمْ؟ قَالَ: ثَلَاثَ مِائَةٍ. أَوْ: زُهَاءَ ثَلَاثِ مِائَةٍ. [خ¦3572]

 

‌‌ ‌‌[حديث: يكون اثني عشر أميرًا فقال: كلمة لم أسمعها]

84 - أخبَرَنا والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد - وهو البخاري-: أخبَرَنا محمَّد بن المثنى: أخبَرَنا محمَّد بن جعفر - وهو غندر-: أخبَرَنا شعبة، عن عبد الملك:

سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «يَكُونُ اثْنَا عَشَرَ أَمِيرًا» فَقَالَ كَلِمَةً لَمْ أَسْمَعْهَا، قَالَ أَبِي: إِنَّهُ قَالَ: «كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ». [خ¦7222]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أصدق بيت قاله الشاعر: ألا كل شيء ما خلا الله باطل]

85 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عبد الملك بن عمير، عن أبي سلمة:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم /

--------------------------------------------

(1) في المخطوط: (فليشهدت).
খাবার দিয়ে, ফলে তিনি আহার করলেন এবং তারা সকলে আহার করলেন। তারা যখনই কোনো লোকমা তুলছিলেন, তার নিচ থেকে তার চেয়েও বেশি পরিমাণ খাবার বেড়ে যাচ্ছিল। তিনি (আবু বকর) বললেন: হে বনু ফিরাস গোত্রের বোন, এটি কী? তিনি বললেন: আমার নয়নের মণি (আল্লাহর কসম), এটি আহার শুরু করার আগের চেয়েও এখন পরিমাণে অনেক বেশি। অতঃপর তারা আহার করলেন এবং তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (নবী) তা থেকে আহার করেছিলেন। [বুখারী ৬১৪১]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট এবং এ দুয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ]

৮০ - এবং এই সনদে: ইবনু আবী আদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু আউন থেকে, তিনি শা’বী থেকে:

আমি নুমান ইবনে বশীরকে বলতে শুনেছি: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ। সুতরাং যে ব্যক্তি পাপের ব্যাপারে সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ বর্জন করল, সে যা স্পষ্ট (পাপ) তা বর্জনের ক্ষেত্রে অধিক দৃঢ় হবে। আর যে ব্যক্তি পাপের ব্যাপারে সন্দেহযুক্ত বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার দুঃসাহস দেখাল, শীঘ্রই সে স্পষ্ট পাপে নিপতিত হবে। আর অবাধ্যতা হলো আল্লাহর চারণভূমি; যে ব্যক্তি চারণভূমির চারপাশে বিচরণ করে, শীঘ্রই সে তাতে নিপতিত হওয়ার উপক্রম হয়।» [বুখারী ২০৫১]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যে তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী, তবে তোমাদের মাঝে কেউ কি তওবা করবে?]

৮১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আমার পিতা আবুল ফাতহ মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খায়ের মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাইসাম মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফিরবরী মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুখারী মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী আদী হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে:

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: হিলাল ইবনে উমাইয়্যাহ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে (ব্যভিচারের) অপবাদ দিলেন। অতঃপর তিনি আসলেন এবং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে তাঁকে বলতে শুনলাম: «নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যে তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী, তবে তোমাদের মাঝে কেউ কি তওবা করবে?» এরপর সেই নারী দাঁড়ালেন এবং সাক্ষ্য দিলেন(১)। [বুখারী ৫৩০৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মাথায় সিঙা লাগিয়েছিলেন]

৮২ - এবং এই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনু আবী আদী হিশাম থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে:

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ব্যথার কারণে মাথায় সিঙা লাগিয়েছিলেন, 'লুহয়ু জামাল' নামক একটি জলাশয়ের নিকট। [বুখারী ৫৭০০]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি পাত্র আনা হলো যখন তিনি জাওরায় ছিলেন]

৮৩ - এবং এই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবী আদী সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে:

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি পানির পাত্র আনা হলো যখন তিনি জাওরায় ছিলেন। অতঃপর তিনি পাত্রের মধ্যে তাঁর হাত রাখলেন, আর তাঁর আঙুলগুলোর মাঝখান থেকে পানি উপচে পড়তে লাগল। ফলে উপস্থিত সকলে ওযু করলেন। কাতাদাহ বলেন: আমি আনাসকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: তিনশত, অথবা প্রায় তিনশত। [বুখারী ৩৫৭২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: বারোজন আমীর হবেন, অতঃপর তিনি একটি কথা বললেন যা আমি শুনতে পাইনি]

৮৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আবুল ফাতহ মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ -যিনি আল-বুখারী-: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর -যিনি গুন্দার-: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু’বাহ আব্দুল মালিক থেকে:

আমি জাবির ইবনে সামুরাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «বারোজন আমীর হবেন», অতঃপর তিনি এমন একটি কথা বললেন যা আমি শুনতে পাইনি। আমার পিতা বললেন: তিনি বলেছিলেন: «তারা সকলেই কুরাইশ বংশের হবে।» [বুখারী ৭২২২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: কবির বলা সবচেয়ে সত্য পঙক্তি: জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই অসার]

৮৫ - এবং এই সনদে: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে:

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত /

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (যাতে সে সাক্ষ্য দেয়)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٩)
قَالَ: أَصْدَقُ بَيْتٍ قَالَهُ الشَّاعِرُ:

~أَلَا كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلَا اللَّهَ بَاطِلُ. [خ¦6489]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أريت في المنام أني أفرغ بدلو بكرة على قليب]

86 - أخبَرَنا الإمام والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد - وهو البخاري - حدَّثنا محمَّد بن عبد الله بن نمير: حدَّثنا محمَّد بن بشير: حدَّثنا عبيد الله: حدثني أبو بكر بن سالم، عن سالم:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: أَنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُرِيتُ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَنْزِعُ بِدَلْوِ بَكْرَةٍ عَلَى قَلِيبٍ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَنَزَعَ ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ نَزْعًا ضَعِيفًا، وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ، ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَاسْتَحَالَ غَرْبًا، فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا يَفْرِي فَرِيَّهُ، حَتَّى رَوِيَ النَّاسُ وَضَرَبُوا بِعَطَنٍ. [خ¦3682]

 

‌‌ ‌‌[حديث: خير نسائها مريم بنت عمران]

87 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري: حدَّثنا محمَّد بن بشار: أخبَرَنا عَبْدَةُ(1)، عن هشام بن عروة، عن أبيه قال: سمعت عبد الله بن جعفر:

سمعت عَلِيًّا يقولُ: سمعتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ: «خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ بنتُ عمرانَ، وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ. [خ¦3815]

 

‌‌ ‌‌[حديث: قال الله تعالى: ومن أظلم ممن ذهب يخلق كخلقي]

88 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري محمَّد: أخبَرَنا محمَّد بن العلاء، حدَّثنا محمَّد بن فضيل يعني ابن غزوان ـ، عن عمارة، عن أبي زرعة:

سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يقولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قَالَ اللَّهُ تَعالى: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي، فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةً أَوْ شَعِيرَةً». [خ¦7559]

 

‌‌ ‌‌[حديث: كلوا أو اطعَموا فإنه حلال]

89 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري: أخبَرَنا محمَّد بن الوليد: أخبَرَنا غندر - وهو محمَّد بن جعفر-: أخبَرَنا شعبة، عن توبة العنبري قال: قَالَ قَالَ لِي الشَّعْبِيُّ:

أَرَأَيْتَ حَدِيثَ الْحَسَنِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَقَاعَدْتُ ابْنَ عُمَرَ قَرِيبًا مِنْ سَنَتَيْنِ - أَوْ: سَنَةٍ وَنِصْفٍ - فَلَمْ أَسْمَعْهُ رَوَى عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِخَبَرِ هَذَا، قَالَ: كَانَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِمْ سَعْدٌ فَذَهَبُوا يَأْكُلُونَ مِنْ لَحْمٍ، فَنَادَتْهُمْ امْرَأَةٌ مِنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّهُ لَحْمُ ضَبٍّ. فَأَمْسَكُوا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُوا - أَوْ: اطْعَمُوا - فَإِنَّهُ حَلَالٌ - أَوْ قَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ. شَكَّ - وَلَكِنَّهُ لَيْسَ كَشَيءٍ مِنْ طَعَامِي». [خ¦7267]

 

‌‌ ‌‌[حديث: دعها يا أبا بكر إن لكل قوم عيداً]

90 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري: حدَّثنا محمَّد بن المثنى: حدَّثنا غندر: حدَّثنا شعبةُ، عن هشام، عن أبيه:/

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (غندر) تصحيفًا.
তিনি বলেন: কবি যা কিছু বলেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে সত্য পঙ্ক্তি হলো:

~জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া প্রতিটি বস্তুই নশ্বর। [বুখারি: ৬৪৮৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি একটি কপিকলযুক্ত বালতি দিয়ে কূপ থেকে পানি তুলছি]

৮৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আমার পিতা আবুল ফাতহ মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ—যিনি হলেন বুখারি—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমায়ের: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বাশির: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন সালিম, সালিম থেকে:

আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি একটি কপিকলযুক্ত বালতি দিয়ে কূপ থেকে পানি তুলছি। এরপর আবু বকর আসলেন এবং তিনি একটি বা দুটি বালতি পানি তুললেন, তবে তার পানি তোলায় কিছুটা দুর্বলতা ছিল, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। এরপর উমর বিন খাত্তাব আসলেন, আর সেই ছোট বালতিটি একটি বড় বালতিতে পরিণত হলো। আমি কোনো শক্তিশালী বীরকে দেখিনি যে তার মতো নৈপুণ্যের সাথে কাজ করতে পারে, অবশেষে মানুষ তৃপ্ত হলো এবং উটগুলোকে বিশ্রামের স্থানে নিয়ে বসাল। [বুখারি: ৩৬৮২]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তাদের শ্রেষ্ঠ নারী হলেন মারইয়াম বিনতে ইমরান]

৮৭ - এবং এই একই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বুখারি: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বাশশার: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদাহ(১), হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন জাফরকে বলতে শুনেছি:

আমি আলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তৎকালীন শ্রেষ্ঠ নারী ছিলেন মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ নারী হলেন খাদিজা। [বুখারি: ৩৮১৫]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: মহান আল্লাহ বলেছেন: তার চেয়ে বড় জালেম আর কে আছে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে চায়]

৮৮ - এবং এই একই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বুখারি মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ফুদাইল—অর্থাৎ ইবনে গাযওয়ান—উমারা থেকে, আবু যুরআ থেকে:

তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «মহান আল্লাহ বলেছেন: তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করার সংকল্প করে? তারা পারলে একটি অণু সৃষ্টি করুক, অথবা একটি শস্যদানা কিংবা একটি যব সৃষ্টি করুক। [বুখারি: ৭৫৫৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমরা খাও অথবা আহার করাও, কারণ এটি হালাল]

৮৯ - এবং এই একই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বুখারি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন গুন্দার—যিনি হলেন মুহাম্মদ বিন জাফর—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, তাওবাহ আল-আনবারি থেকে, তিনি বলেন: শাবি আমাকে বললেন:

আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাসানের বর্ণিত হাদিসটির ব্যাপারে ভেবে দেখেছেন? অথচ আমি ইবনে উমরের সাথে প্রায় দুই বছর—অথবা দেড় বছর—বসেছি, কিন্তু আমি তাঁকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই সংবাদের বিষয়ে কিছু বর্ণনা করতে শুনিনি। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের মধ্যে কিছু লোক ছিলেন যাদের মধ্যে সাদ-ও ছিলেন। তারা কিছু গোশত খেতে যাচ্ছিলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো এক সহধর্মিনী তাঁদের ডেকে বললেন: এটি গুঁইসাপের গোশত। তখন তাঁরা বিরত হলেন। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তোমরা খাও—অথবা বললেন: আহার করো—কারণ এটি হালাল—অথবা বললেন: এতে কোনো সমস্যা নেই—বর্ণনাকারীর সন্দেহ—তবে এটি আমার সাধারণ খাবারের মতো নয়। [বুখারি: ৭২৬৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: হে আবু বকর, ওদের ছেড়ে দাও, কারণ প্রত্যেক জাতিরই ঈদ রয়েছে]

৯০ - এবং এই একই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বুখারি: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুসান্না: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন গুন্দার: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে:/

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: (গুন্দার), যা একটি লিপিক্রমিক প্রমাদ।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ٩)
عَنْ عَائِشَةَ قَالتْ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ دَخَلَ عَلَيْهَا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا يَوْمَ فِطْرٍ أَوْ أَضْحًى وَعِنْدَهَا قَيْنَتَانِ تُغَنِّيَانِ بِمَا تعازفت الْأَنْصَارُ يَوْمَ بُعَاثٍ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: مِزْمَارُ الشَّيْطَانِ. مَرَّتَيْنِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: دَعْهُمَا يَا أَبَا بَكْرٍ؛ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا، وَإِنَّ عِيدَنَا هَذَا الْيَوْمُ. [خ¦3931]

 

‌‌ ‌‌[حديث: سألت مجاهدًا عن سجدة ص]

91 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري محمَّد: حدَّثني محمَّد بن عبد الله: حدَّثنا محمَّد بن عبيد الطنافسي، عن العوام قال: سَأَلْتُ مُجَاهِدًا عَنْ سَجْدَةِ {ص}، فَقَالَ:

سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ: مِنْ أَيْنَ سَجَدْتَ؟ فَقَالَ: أَوَ مَا تَقْرَأُ: {وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ} {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمْ اقْتَدِهْ}، وَكَانَ دَاوُدُ مِمَّنْ أُمِرَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقْتَدِيَ بِهِ فَسَجَدَهَا دَاوُدُ فَسَجَدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. [خ¦4807]

 

‌‌ ‌‌[حديث: ترى نزلت هذه الآية في أنس بن النضر]

92 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري محمَّد: أخبَرَنا محمَّد بن بشار: وحدَّثني محمَّد بن عبد الله الأنصاري: حدَّثني أبي، عن ثمامة:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: تُرَى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةَ فِي أَنَسِ بْنِ النَّضْرِ {مِنْ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ}. [خ¦4783]

 

‌‌ ‌‌[حديث: لمَّا نزلت: {وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ}]

93 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن بشار: حدَّثنا ابن أبي عدي وهو محمَّد، عن شعبة، عن سليمان بن إبراهيم، عن علقمة:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ: لَمَّا نَزَلَتْ {وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} قَالَ أَصْحَابُهُ: وَأَيُّنَا لَمْ يَظْلِمْ، فَنَزَلَتْ {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ}. [خ¦4629]

 

‌‌ ‌‌[حديث: أتاكم أهل اليمن هم أرق أفئدة، وألين قلوبًا]

94 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن بشار: حدَّثنا محمَّد بن أبي حبيب، عن شعبة، عن سليمان، عن ذكوان:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً، وَأَلْيَنُ قُلُوبًا، الْإِيمَانُ يَمَانٍ، وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ، وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي أَصْحَابِ الْإِبِلِ، وَالسَّكِينَةُ وَالْوَقَارُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ». [خ¦4388]

 

‌‌ ‌‌[حديث: ألا أدلكم على أهل الجنة]

95 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن المثنى: حدَّثنا غُنْدَر - وهو محمَّد بن جعفر - حدَّثنا شعبةُ، عن سعيد بن خالد:

سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ كُلُّ ضَعِيفٍ مُسْتَضْعَفٍ، لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ، وَأَهْلِ النَّارِ؟ كُلُّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ». [خ¦6657] /
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর (রা.) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে নবী (সা.) তাঁর কাছে ছিলেন। সেদিন ছিল ঈদুল ফিতর অথবা ঈদুল আযহার দিন। তখন তাঁর নিকট দুটি গায়িকা বালিকা ছিল যারা আনসারদের বুআস যুদ্ধের বীরত্বগাঁথা কবিতা আবৃত্তি করছিল। তখন আবু বকর (রা.) বললেন: শয়তানের বাদ্যযন্ত্র! তিনি এটি দুবার বললেন। তখন নবী (সা.) বললেন: হে আবু বকর! ওদের ছেড়ে দাও; কেননা প্রত্যেক জাতিরই ঈদ আছে, আর আমাদের ঈদ হলো আজকের এই দিন। [বুখারি: ৩৯৩১]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমি মুজাহিদকে সূরা সোয়াদ-এর সিজদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম]

৯১ - আর এই সনদেই: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম বুখারি মুহাম্মাদ (রহ.): আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আত-তানাফিসি, আওয়াম থেকে, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে সূরা {সোয়াদ}-এর সিজদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন:

আমি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কোথা হতে (কোন প্রমাণের ভিত্তিতে) সিজদা করলেন? তিনি বললেন: তুমি কি পাঠ করোনি: {আর তাঁর সন্তানদের মধ্যে দাউদ ও সুলাইমান} {এরাই তারা যাদের আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন, সুতরাং তাদের হিদায়াতের অনুসরণ করো}। আর দাউদ (আ.) তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের অনুসরণ করার জন্য তোমাদের নবী (সা.)-কে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং দাউদ (আ.) সিজদা করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সিজদা করেছেন। [বুখারি: ৪৮০৭]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: ধারণা করা হয় এই আয়াতটি আনাস বিন নদর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে]

৯২ - আর এই সনদেই: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম বুখারি মুহাম্মাদ (রহ.): আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন বাশশার: এবং আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, সুমামাহ থেকে:

আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ধারণা করা হয় যে, এই আয়াতটি আনাস বিন নদর (রা.) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে}। [বুখারি: ৪৭৮৩]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: যখন অবতীর্ণ হলো: {এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি}]

৯৩ - আর এই সনদেই: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম বুখারি মুহাম্মাদ (রহ.): আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন বাশশার: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আদি (যিনি মুহাম্মাদ), শু'বাহ থেকে, সুলাইমান বিন ইব্রাহিম থেকে, আলকামাহ থেকে:

আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: যখন {এবং যারা তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি} আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ বললেন: আমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে নিজের ওপর জুলুম করেনি? তখন অবতীর্ণ হলো: {নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম}। [বুখারি: ৪৬২৯]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: তোমাদের নিকট ইয়ামেনবাসীরা এসেছে, তারা কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং নরম মনের মানুষ]

৯৪ - আর এই সনদেই: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম বুখারি মুহাম্মাদ (রহ.): আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন বাশশার: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবি হাবিব, শু'বাহ থেকে, সুলাইমান থেকে, যাকওয়ান থেকে:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমাদের নিকট ইয়ামেনবাসীরা এসেছে, তারা কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং তাদের অন্তর অত্যন্ত নরম। ঈমান ইয়ামেনি এবং প্রজ্ঞা ইয়ামেনি। গর্ব ও অহংকার উটপালকদের মধ্যে, আর শান্তি ও গাম্ভীর্য বকরিপালকদের মধ্যে বিদ্যমান।» [বুখারি: ৪৩৮৮]

 

‌‌ ‌‌[হাদিস: আমি কি তোমাদের জান্নাতিদের কথা জানাব না?]

৯৫ - আর এই সনদেই: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম বুখারি মুহাম্মাদ (রহ.): আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-মুসান্না: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন গুন্দার - যিনি মুহাম্মাদ বিন জাফর - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, সাঈদ বিন খালিদ থেকে:

আমি হারিসাহ বিন ওয়াহব (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «আমি কি তোমাদের জান্নাতিদের কথা জানাব না? তারা হলো প্রত্যেক এমন দুর্বল ও অবহেলিত ব্যক্তি, যারা আল্লাহর নামে কসম করলে আল্লাহ তা সত্যে পরিণত করে দেন। আর আমি কি তোমাদের জাহান্নামিদের কথা জানাব না? তারা হলো প্রত্যেক রূঢ় স্বভাবের অহংকারী ব্যক্তি।» [বুখারি: ৬৬৫৭] /
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌ ‌‌[حديث: اللهم إني أعوذ بك من البخل]

96 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عبد الملك بن عُمير، عن مصعب بن سعد:

عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ: كَانَ يَأْمُرُ بِهَؤُلَاءِ الْخَمْسِ، وَيُحَدِّثُهُنَّ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. [خ¦6370]

 

‌‌ ‌‌[حديث: نهى عن ثمن الدم، وثمن الكلب]

97 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ:

عَنْ أَبِيهِ: [أَنَّهُ اشْتَرَى غُلَامًا حَجَّامًا فَقَالَ:] إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الدَّمِ، وَثَمَنِ الْكَلْبِ، وَكَسْبِ الْبَغِيِّ، وَلَعَنَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُوكِلَهُ، وَالْوَاشِمَةَ، وَالْمُسْتَوْشِمَةَ، وَالْمُصَوِّرَةَ. [خ¦5962]

 

‌‌ ‌‌[حديث: الكمأة من المن وماؤها شفاء للعين]

98 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عن عبد الملك، سمعت عمرو بن حُرَيث:

سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْكَمْأَةُ مِنْ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ». [خ¦5708]

 

‌‌ ‌‌[حديث: إذا دخلت ليلًا فلا تدخل أهلك حتى تستحد المغيبة]

99 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري: حدَّثني محمَّد بن الوليد: حدَّثنا محمَّد بن جعفر: حدَّثنا شعبةُ، عن يسار، عن الشَّعبيِّ:

عَنْ جَابِرِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا دَخَلْتَ لَيْلًا فَلَا تَدْخُلْ [عَلَى] أَهْلِكَ حَتَّى تَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ، وَتَمْتَشِطَ الشَّعِثَةُ». قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَعَلَيْكَ بِالْكَيْسِ الْكَيْسِ». [خ¦5246]

 

‌‌ ‌‌[حديث: ما زال بكم صنيعكم حتى ظننت أنه سيكتب عليكم]

100 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا البخاري محمَّد: حدَّثني محمَّد بن زياد: حدَّثنا محمَّد بن جعفر: حدَّثنا عبد الله بن سعيد: حدَّثنا سالم أبو النضر مولى عمر بن عبد العزيز، عن بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ:

عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: احْتَجَرَ(1) رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُجَيْرَةً مُخَصَّفَةً - أَوْ: حَصِيرًا - فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِيهَا، فَتَتَبَّعَ إِلَيْهِ رِجَالٌ، وَجَاؤُوا يُصَلُّونَ بِصَلَاتِهِ، ثُمَّ جَاؤُوا لَيْلَةً(2) فَحَضَرُوا، فَأَبْطَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُمْ، فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ، فَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ وَحَصَبُوا الْبَابَ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ مُغْضَبًا، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا زَالَ بِكُمْ صَنِيعُكُمْ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُكْتَبُ عَلَيْكُمْ، فَعَلَيْكُمْ بِالصَّلَاةِ فِي بُيُوتِكُمْ؛ فَإِنَّ خَيْرَ صَلَاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ». [خ¦6113]

تمت الأحاديث المائة.

--------------------------------------------

(1) في المخطوط: (احتجم).

(2) في المخطوط: (الليلة).
‌‌ ‌‌[হাদীস: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি]

৯৬ - এবং এই একই সনদে: শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেন:

সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত: তিনি এই পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিতেন এবং সেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আমি আপনার নিকট ভীরুতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আমি আপনার নিকট নিকৃষ্টতম বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আমি আপনার নিকট দুনিয়ার ফিতনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমি আপনার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।" [বুখারি: ৬৩৭০]

 

‌‌ ‌‌[হাদীস: রক্তের মূল্য এবং কুকুরের মূল্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে]

৯৭ - এবং এই একই সনদে: শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আওন ইবনে আবি জুহাইফাহ থেকে:

তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত: [তিনি একজন ক্ষৌরকার গোলাম ক্রয় করেছিলেন এবং বললেন:] নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারিণীর উপার্জনকে নিষিদ্ধ করেছেন। আর তিনি অভিশাপ দিয়েছেন সুদখোরকে, সুদদাতাকে, উল্কি অঙ্কনকারিণীকে, উল্কি গ্রহণকারিণীকে এবং ছবি অঙ্কনকারীকে। [বুখারি: ৫৯৬২]

 

‌‌ ‌‌[হাদীস: কামআহ বা ব্যাঙের ছাতা হলো মান্ন-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এর নির্যাস চোখের জন্য আরোগ্য]

৯৮ - এবং এই একই সনদে: শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক থেকে, আমি আমর ইবনে হুরাইসকে বলতে শুনেছি:

তিনি সাঈদ ইবনে যায়েদকে বলতে শুনেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কামআহ (এক প্রকার ছত্রাক) হলো 'মান্ন'-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এর পানি চোখের জন্য আরোগ্য স্বরূপ।" [বুখারি: ৫৭০৮]

 

‌‌ ‌‌[হাদীস: যখন তুমি রাতে (সফর থেকে) ফিরবে, তখন স্ত্রীর নিকট হুট করে প্রবেশ করো না...]

৯৯ - এবং এই একই সনদে: ইমাম বুখারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে ওয়ালিদ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াসার থেকে, তিনি শা'বী থেকে:

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তুমি রাতে (সফর থেকে) ফিরবে, তখন তোমার স্ত্রীর নিকট হুট করে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না সেই নারী যার স্বামী প্রবাসে ছিল সে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করে এবং যার চুল উস্কোখুস্কো হয়ে আছে সে চিরুনি দিয়ে তা বিন্যস্ত করে নেয়।" তিনি (রাবী) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অতঃপর তুমি বুদ্ধিমত্তার সাথে সন্তান লাভের চেষ্টা করো।" [বুখারি: ৫২৪৬]

 

‌‌ ‌‌[হাদীস: তোমাদের এই আচরণ চলতেই থাকল যতক্ষণ না আমি আশঙ্কা করলাম যে এটি তোমাদের ওপর ফরয হয়ে যাবে]

১০০ - এবং এই একই সনদে: ইমাম বুখারি মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের মুক্ত দাস সালিম আবু আন-নযর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, বুসর ইবনে সাঈদ থেকে:

যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের পাতার পাটি—অথবা একটি চাটাই—দিয়ে একটি ছোট কামরা তৈরি করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সালাত আদায়ের জন্য বের হলেন। তখন কিছু লোক তাঁর অনুসরণ করল এবং তাঁরা এসে তাঁর সালাতের অনুকরণে সালাত আদায় করতে লাগল। এরপর এক রাতে তাঁরা উপস্থিত হলো, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট আসতে বিলম্ব করলেন এবং তাঁদের নিকট বের হলেন না। তখন তাঁরা উচ্চস্বরে শব্দ করতে লাগল এবং দরজায় কাঁকর নিক্ষেপ করল। অতঃপর তিনি রাগান্বিত অবস্থায় তাঁদের নিকট বের হয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বললেন: "তোমাদের এই কাজ চলতেই থাকল, এমনকি আমি আশঙ্কা করলাম যে সম্ভবত এটি তোমাদের ওপর ফরয (বাধ্যতামূলক) করে দেওয়া হবে। অতএব তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো; কেননা ফরয সালাত ব্যতীত মানুষের শ্রেষ্ঠ সালাত হলো তার ঘরে (আদায়কৃত সালাত)।" [বুখারি: ৬১১৩]

একশ হাদীস সমাপ্ত হলো।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (তিনি শিঙা লাগিয়েছিলেন)।

(২) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (রাতটি)।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌ و‌‌الزيادة عليها / من هذا النمط أيضًا:

1 - أخبَرَنا الإمام والدي أبو الفتح محمَّد: أخبَرَنا أبو الفضل محمَّد بن أحمد العارف الميهني: أخبَرَنا أبو سعيد محمَّد بن موسى الصيرفي: أخبَرَنا أبو العباس محمَّد بن يعقوب الأصم: أخبَرَنا محمَّد بن عبد الله بن عبد الحكم: أخبَرَنا محمَّد بن إسماعيل بن أبي فديك: أخبَرَنا محمَّد بن عبد الرحمن بن أبي ذئب: أخبَرَنا الزهري - وهو محمَّد بن مسلم بن شهاب - عن طلحة بن عبد الرحمن بن عوف، عن عبد الرحمن بن أزهر:

عن جُبير بن مُطْعِم: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لِلْقُرَشِيِّ مِثْلُ قَوَّةِ الرَّجُلَيْنِ مِنْ غَيْرِ قُرَيْشٍ».

2 - أخبَرَنا والدي: أخبَرَنا العارف محمَّد: أخبَرَنا أبو سعيد محمَّد: أخبَرَنا أبو العباس محمَّد: أخبَرَنا أبو عبد الله محمَّد: أخبَرَنا أبو إسماعيل محمَّد: أخبَرَنا ابن عبد الرحمن محمَّد: أخبَرَنا الزهري محمَّد، عن سعيد بن المسيب، وأبي سلمة بن عبد الرحمن:

عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا سَمِعْتُمُ الإقامةَ فَامْشُوا وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ، فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَاقْضُوا».

3 - أخبَرَنا الشيخ محمَّد بن محمود الرشيدي فيما كتب إلينا من نيسابور: أخبَرَنا أبو طالب محمَّد بن محمَّد بن إبراهيم بن غيلان البزاز: أخبَرَنا أبو بكر محمَّد بن عبد الله الشافعيُّ: أخبَرَنا أبو جعفر محمَّد بن حمَّاد بن ماهان الدَّباغ: حدَّثنا محمَّد بن عبد الرحمن بن بكر العلَّاف: حدَّثنا محمَّد بن سواء، عن سعيد، عن قتادةَ:

عن أنسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ.

4 - أخبَرَنا محمَّد بن محمود الرشيدي: أخبَرَنا أبو طالب محمَّد: أخبَرَنا أبو بكر محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن غالب: حدَّثنا محمَّد بن كثير: حدَّثنا شعبةُ، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه:

عن عائشة أنها قالت: «كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِحُرمِهِ حِيْنَ يُحْرِمَ، وَلِحِلِّهِ حِيْنَ يَحِلُّ قَبْلَ أنْ يُفِيْضَ.

5 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا شعبةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ(1)، قَالَ: جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَبِي، فَنَزَلَ عَلَيْهِ، فَذَكَرَ طَعَامًا، فَأَتَاهُ بِهِ، وَذَكَرَ سَوِيقًا وَشَيْئًا آخَرَ، فَأَتَاهُ بِشَرَابٍ، فَنَاوَلَ مِنْ عَلى يَمِينِهِ، وَأَتَاهُ بِتَمْرٍ، فَجَعَلَ يَأْكُلُ. فَلَمَّا قَامَ لِيَرْكَبَ، أَخَذَ بِلِجَامِ دَابَّتِهِ، وَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ لِي /

--------------------------------------------

(1) في المخطوط: (بشر)، وهو تصحيف.
‌‌ এবং ‌‌এর ওপর বর্ধিতাংশ / এই ধারা থেকেও:

১ - ইমাম আমার পিতা আবুল ফাতহ মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু ফজল মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আরিফ আল-মিহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন মুসা আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল হাকাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আবি ফুদাইক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আবি জিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: যুহরি - তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব - তালহা বিন আবদুর রহমান বিন আউফ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আজহার থেকে:

জুবাইর বিন মুতয়িম থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কুরাইশ বংশীয় একজন ব্যক্তির শক্তি কুরাইশ বহির্ভূত দুইজন ব্যক্তির শক্তির সমান।»

২ - আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আরিফ মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু সাঈদ মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আব্বাস মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু ইসমাইল মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইবন আবদুর রহমান মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: যুহরি মুহাম্মদ, সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব এবং আবু সালামা বিন আবদুর রহমান থেকে:

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তোমরা ইকামত শুনতে পাও, তখন হেঁটে (সালাতের দিকে) আসো এবং তোমাদের ওপর ধীরস্থিরতা বজায় রাখা আবশ্যক; যতটুকু তোমরা পাও তা আদায় করো, আর যতটুকু তোমাদের ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।»

৩ - শায়খ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-রাশিদী নিশাপুর থেকে আমাদের নিকট যা লিখেছেন তাতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু তালিব মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন গায়লান আল-বাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আশ-শাফিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন হাম্মাদ বিন মাহান আদ-দাব্বাগ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন বকর আল-আল্লাফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন সাওয়া’, সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদা থেকে:

আনাস থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন বালকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদের সালাম দিলেন।

৪ - মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-রাশিদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু তালিব মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু বকর মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন গালিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন কাসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: শু’বা, আবদুর রহমান বিন আল-কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে:

আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইহরামের জন্য সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম যখন তিনি ইহরাম বাঁধতেন, এবং তাঁর ইহরাম খোলার পর বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার আগে।»

৫ - এই সনদেই: শু’বা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াজিদ বিন খুমাইর থেকে:

আবদুল্লাহ বিন বুসর(১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতার নিকট আসলেন এবং তাঁর মেহমান হলেন। তিনি (পিতা) খাবারের কথা উল্লেখ করলেন এবং তা নিয়ে আসলেন। তিনি সাউইক (ছাতু) এবং অন্য কিছু উল্লেখ করলেন এবং তা নিয়ে আসলেন। এরপর তিনি পানীয় নিয়ে আসলেন, অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাঁর ডানদিকের ব্যক্তিকে তা প্রদান করলেন। তিনি খেজুর নিয়ে আসলেন এবং তিনি (রাসূলুল্লাহ) তা খেতে লাগলেন। এরপর যখন তিনি আরোহণের জন্য দাঁড়ালেন, আমার পিতা তাঁর পশুর লাগাম ধরলেন এবং বললেন: আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করুন।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (বিশর), যা একটি লেখনীগত ভুল।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ١١)
يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكَ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ، وَاغْفِرْ لَهُمْ، وَارْحَمْهُمْ».

6 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن غالب: حدَّثنا محمَّد بن عقبة السدوسي: حدَّثنا داود بن عبد الجبار أبو سليمان الكوفي: حدَّثنا أَبُو الْجَارُودِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ يَسَارٍ:

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ الْعِنَبَ خَرْطًا.

7 - أخبَرَنا محمَّد هذا: أخبَرَنا أبو طالب محمَّد: أخبَرَنا أبو بكر محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن سلمان الواسطي قال: سألتُ محمَّد بن عبد الله الأنصاري: حدَّثني حميد:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ لِي أَخٌ، يُقَالُ لَهُ: أَبُو عُمَيْرٍ، وَكَانَ لَهُ عُصْفُورٌ يَلْعَبُ بِهِ، فَمَاتَ الْعُصْفُورُ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ بَيْتَنَا، وَيَقُولُ: «يَا بَا عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟».

8 - أخبَرَنا محمَّد هذا: أخبَرَنا أبو طالب محمَّد: أخبَرَنا أبو بكر محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن بشر بن مطر سنة ثمان وتسعين ومائتين: حدَّثنا محمَّد بن عبيد بن خشَّاب: حدَّثنا أبو عوانة، عن أبي عثمان:

عن أنس قالَ: قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لي: «يا بني».

9 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا محمَّد بن بشر بن مطر: حدَّثنا محمَّد بن الصباح الدُّولابي: حدَّثنا سعيد بن عامر، عن شعبة، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه:

عن عائشة قالت: «كَانَ لَنَا ثَوْبٌ فِيهِ تَصَاوِيرُ فَجَعَلْنَاهُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي، قَالَتْ: فَنَهَانَا - أَوْ قَالَتْ: فَكَرِهَهُ - قَالَتْ: فَجَعَلْنَاهُ وَسَائِدًا.

10 - وبهذا الإسنادِ: حدَّثنا محمَّد بن بشر أخو خطاب: حدَّثنا محمَّد بن الصبَّاح: أخبَرَنا محمَّد بن سلمة، عن المثنى، عن عطاء قال:

جَاوَرْتُ عَائِشَةَ رضي الله عنها هَا هُنَا بِأَصْلِ ثَبِيرَ، فَأَتَيْتُهَا أَنَا وَعُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ فَقَالَتْ: مَرْحَبًا بِأَبِي عَاصِمٍ. فَأَمَرَتْ بِنَمْرَقَةٍ فَوُضِعَتْ لَهُ، فَجَلَسَ وَجَلَسْتُ مَعَهُ، ثُمَّ قَالَ: يَا أُمَّهْ، كَيْفَ تَقْرَؤُونَ هَذِهِ الْآيَةَ: {وَالَّذِينَ يَأتُوْنَ مَا أتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ} [المؤمنون: 60]؟ قَالَتْ: كَذَلِكَ كَانُوا يَقْرَؤُونَ. قَالَ فَقَالَ عُبَيْدٌ: لَأَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَتْ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ حُمُرِ النَّعَمِ.

11 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: حدَّثنا محمَّد: حدَّثنا محمَّد، حدَّثنا محمَّد، عن المثنى، عَنْ عَطَاءٍ: فِي رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَاحِدَةً وَالثَّانِيَةَ؟ قَالَ: لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةً حَتَّى تُفِيضَ عَلَيْهَا الْمَاءَ. قَالَ: وَقَالَ طَاوُسٌ: حَتَّى تَفْرُغَ مِنْ غُسْلِهَا. قَالَ: وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ(1) : وَإِذَا رَأَتِ الدَّمَ مِنَ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَانَتْ مِنْهُ.

12 - وبهذا الإسنادِ: عَنْ عَطَاءٍ قَالَ: «هِيَ تَبُتُّهُ».

13 - وبهذا الإسنادِ: أخبَرَنا محمَّد: أخبَرَنا محمَّد: حدَّثنا محمَّد: حدَّثنا محمَّد: حدَّثنا محمَّد: حدَّثنا محمَّد، عن المثنى، عَنْ عَطَاءٍ فِي رَجُلٍ قَالَ:/

--------------------------------------------

(1) في المخطوط: (بن عمير)، وهو تصحيف.
হে আল্লাহর রাসুল! অতঃপর তিনি বললেন: «হে আল্লাহ! আপনি তাদের যে রিযিক দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি দয়া করুন»।

৬ - এবং এই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে গালিব: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উকবা আস-সাদুসি: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আবু সুলাইমান আল-কুফি: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল জারুদ, হাবিব ইবনে ইয়াসার থেকে:

ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে থোকা থেকে টেনে টেনে আঙুর খেতে দেখেছি।

৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এই মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালমান আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারিকে জিজ্ঞাসা করেছি: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ:

আনাস ইবনে মালিক (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার এক ভাই ছিল, তাকে আবু উমায়ের বলা হতো। তার একটি ছোট পাখি ছিল যা দিয়ে সে খেলত। পাখিটি মারা গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বাড়িতে আসতেন এবং বলতেন: «হে আবু উমায়ের! নুগায়েরের (ছোট পাখির) কী হলো?»।

৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এই মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বিশর ইবনে মাতার ২৯৮ হিজরি সনে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে খাশশাব: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা, আবু উসমান থেকে:

আনাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন: «হে আমার বৎস!»।

৯ - এবং এই সনদে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বিশর ইবনে মাতার: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাবাহ আদ-দুলাবি: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আমির, শু'বাহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে:

আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমাদের একটি কাপড় ছিল যাতে ছবি ছিল। আমরা তা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে রাখতাম যখন তিনি সালাত আদায় করতেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমাদের তা করতে নিষেধ করলেন—অথবা তিনি বললেন: তিনি তা অপছন্দ করলেন—তিনি (আয়েশা) বলেন: অতঃপর আমরা তা দিয়ে বালিশ তৈরি করলাম»।

১০ - এবং এই সনদে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খাত্তাবের ভাই মুহাম্মদ ইবনে বিশর: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাবাহ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ, মুসান্না থেকে, আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আমি সাবির পাহাড়ের পাদদেশে আয়েশা (রাযি.)-এর প্রতিবেশী ছিলাম। আমি ও উবাইদ ইবনে উমায়ের তার নিকট আসলাম। তিনি বললেন: আবু আসিমকে স্বাগতম। তিনি একটি গালিচার (বসার আসন) আদেশ দিলেন যা তার জন্য রাখা হলো। তিনি বসলেন এবং আমিও তার সাথে বসলাম। অতঃপর তিনি (উবাইদ) বললেন: হে মা! আপনারা এই আয়াতটি কীভাবে পাঠ করেন: {এবং যারা যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে} [আল-মুমিনুন: ৬০]? তিনি বললেন: এভাবেই তারা পাঠ করতেন। উবাইদ বললেন: এটি যেভাবে তিনি বলেছেন সেভাবে হওয়া আমার নিকট লাল উটের চেয়েও অধিক প্রিয়।

১১ - এবং এই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, মুসান্না থেকে, আতা থেকে বর্ণিত: এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তার স্ত্রীকে একবার বা দুইবার তালাক দিয়েছে? তিনি বললেন: সে (স্ত্রী) গোসল করার পূর্ব পর্যন্ত স্বামীর ফিরে পাওয়ার (রুজু করার) অধিকার থাকে। তিনি বলেন: এবং তাউস বলেছেন: গোসল শেষ করা পর্যন্ত। তিনি বলেন: এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর(১) বলেছেন: যখন সে তৃতীয় মাসিকের রক্ত দেখবে, তখন সে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

১২ - এবং এই সনদে: আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «সে (স্ত্রী) তাকে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়»।

১৩ - এবং এই সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, মুসান্না থেকে, আতা থেকে বর্ণিত এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে বলেছিল:/

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ইবনে উমায়ের), যা একটি অনুলিখন প্রমাদ।
(খণ্ড: ১) আল আহাদিসুল মিআহ আল মুখরাজাহ মিনাস সহীহ আল মুসালসালাহ বিল মুহাম্মাদীন (পৃষ্ঠা: ١١)
عَلَيَّ نَذْرٌ. قَالَ: لَيْسَ بِشَيْءٍ حَتَّى يَقُولَ: لِلَّهِ عز وجل.

14 - أخبَرَنا محمَّد بن محمود كتابةً: حدَّثنا أبو طالب محمَّد: حدَّثنا أبو بكر محمَّد: حدَّثنا محمَّد بن يونس بن موسى القرشيُّ: حدَّثنا محمَّد بن أبي الوزير أَبُو الْمُطَرِّفِ: حدَّثنا هُشَيْمٌ، عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ جَمَّازٍ، عَنْ ثَابِتٍ:

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وُكِّلَ بِالْمُؤْمِنِ مَلَكَانِ يَكْتُبَانِ عَمَلَهُ، وَيَحْفَظَانِ عَلَيْهِ، فَإِذَا مَاتَ وَوُضِعَ فِي قَبْرِهِ قَالُوا: سُبْحَانَكَ، وَكَّلْتَنَا بِعَبْدِكَ هَذَا نَحْفَظُ عَلَيْهِ عَمَلَهُ وَقَدْ قَبَضْتَّهُ، فَأْذَنْ لَنَا فَلْنَصْعَدْ إِلَى السَّمَاءِ؛ فَنُسَبِّحَكَ. فَيَقُولُ اللهُ تعالى: سَمَائِي مَمْلُوءَةٌ مِنْ مَلَائِكَتِي. فَيَقُولَانِ: فَأْذَنْ لَنَا فَنَكُونَ فِي الْأَرْضِ فَنُسَبِّحَكَ. فَيَقُولُ اللهُ تعالى: أَرْضِي مَمْلُوءَةٌ مِنْ خَلْقِي، وَلَكِنْ قُومَا عَلَى قَبْرِ عَبْدِي، فَسَبِّحَانِي، وَاحْمَدَانِي، وَهَلِّلَانِي، وَاكْتُبَا ذَلِكَ لِعَبْدِي حَتَّى يُبْعَثَ».

 

تمت الأحاديث المحمَّدية

والحمد لله رب العالمين، وصلواته على خير خلقه محمَّد وآله أجمعين، عدد عفوه عن خلقه، وعدد نعمه مع خلقه، وقد وقع الفراغ من تحريره لنفسه [على يد] أذنب خلق الله الراجي عفو ربه الرحيم أبي عبد الله محمَّد بن محمود بن الحسن الحُصيري وفقه الله على تحصيل العلوم الدينية في يوم الاثنين الثامن عشر من شهر جمادى الأولى سنة تسع وتسعين وخمس مائة.

وقد نسخ من أصل كان مسموعًا على مخرِّجه الإمام الحافظ بحر أصحاب الحديث أبي عبد الرحمن محمَّد بن محمَّد بن عبد الرحمن الخطيبي المروزي رحمة الله عليه بقراءة الإمام خالد بن أبي طالب بن خالد.

قوبل بالأصل المسموع على مخرجه رحمة الله عليه في السادس والعشرين من جمادى الأولى سنة تسع وتسعين وخمس مائة.

 

عارض هذه النسخة -معي نسخة مسموعة على شيخي الإمام ضياء الدين الخطيبي المروزي قدس الله روحه- صاحب النسخة الإمام محب الدين محمَّد بن محمود الحصيري وصحَّ له السماع بالتاريخ المذكور، والحمد لله أولًا وآخراً، وصلى الله على محمَّد وآله وكتبه أنا يوسف بن الحسن.
"আমার ওপর মানত রয়েছে।" তিনি বললেন: "এটি কোনো বিষয় নয় যতক্ষণ না সে বলে: আল্লাহর জন্য।"

১৪ - মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আমাদের লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন: আবু তালিব মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আবু বকর মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুসা আল-কুরাশি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আবিল ওয়াজির আবুল মুতাররিফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাইসাম ইবনে জাম্মায থেকে, তিনি সাবিত থেকে:

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মুমিনের জন্য দুইজন ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়েছে যারা তার আমলসমূহ লিখে রাখেন এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। যখন সে মারা যায় এবং তাকে তার কবরে রাখা হয়, তখন তারা বলেন: আপনি পবিত্র, আপনি আপনার এই বান্দার জন্য আমাদের নিযুক্ত করেছিলেন, আমরা তার আমলসমূহ সংরক্ষণ করতাম অথচ এখন আপনি তার প্রাণ কবজ করেছেন। সুতরাং আমাদের অনুমতি দিন যেন আমরা আকাশে আরোহণ করতে পারি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারি। তখন মহান আল্লাহ বলেন: আমার আকাশ আমার ফেরেশতাদের দ্বারা পূর্ণ। তখন তারা বলেন: তবে আমাদের অনুমতি দিন যেন আমরা পৃথিবীতে থাকতে পারি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারি। তখন মহান আল্লাহ বলেন: আমার পৃথিবী আমার সৃষ্টিজগত দ্বারা পূর্ণ, বরং তোমরা আমার বান্দার কবরের ওপর অবস্থান করো এবং আমার পবিত্রতা বর্ণনা করো, আমার প্রশংসা করো, আমার একত্ববাদ ঘোষণা করো এবং এগুলো আমার বান্দার জন্য লিখতে থাকো যতক্ষণ না তাকে পুনরুত্থিত করা হয়»।

 

মুহাম্মাদী হাদিসসমূহ সমাপ্ত হলো

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর তাঁর সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর তাঁর রহমত বর্ষিত হোক—তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর ক্ষমার সংখ্যা পরিমাণ এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর নিয়ামতের সংখ্যা পরিমাণ। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক গুনাহগার, তার দয়াবান প্রতিপালকের ক্ষমার প্রত্যাশী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে হাসান আল-হুসাইরি নিজের জন্য এটি অনুলিপি করার কাজ সমাপ্ত করেছেন—আল্লাহ তাকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনে তাওফিক দান করুন—৫৯৯ হিজরি সনের ১৮ই জুমাদাল উলা, সোমবার।

এটি এমন একটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যা এর সংকলক, হাদিসবিশারদদের সমুদ্র ইমাম হাফেজ আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-খাতিবি আল-মারওয়াযি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট পঠিত হয়েছিল, যা পাঠ করেছিলেন ইমাম খালিদ ইবনে আবু তালিব ইবনে খালিদ।

সংকলকের নিকট পঠিত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি ৫৯৯ হিজরি সনের ২৬শে জুমাদাল উলা তারিখে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

 

এই অনুলিপিটির স্বত্বাধিকারী ইমাম মুহিব্বুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল-হুসাইরি আমার সাথে থাকা সেই অনুলিপিটির (যা আমি আমার শাইখ ইমাম জিয়াউদ্দীন আল-খাতিবি আল-মারওয়াযি—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—এর নিকট শ্রবণ করেছি) মোকাবিলা বা তুলনা করেছেন এবং উল্লিখিত তারিখে তাঁর শ্রবণ শুদ্ধ হয়েছে। শুরুতে ও শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। এটি আমি ইউসুফ ইবনুল হাসান লিখেছি।