(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: -)
الأمة بين سنتي الابتلاء والعمل القسم: كتب عامة
الكتاب: الأمة بين سنتي الابتلاء والعمل
المؤلف: مجموعة من العلماء
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 94
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 154
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পরীক্ষা ও কর্মের দুই সুন্নাহর মাঝে উম্মাহ বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: পরীক্ষা ও কর্মের দুই সুন্নাহর মাঝে উম্মাহ
লেখক: একদল আলেম
প্রকাশক: বইটি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৯৪
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৪
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১)
الأمة بين سنتي الابتلاء والعمل
مجموعة من العلماء
تصل لموقع الإسلام أسئلة كثيرة، أفرزها ما يعيشه المسلمون من حوادث مريعة، وجراءة كبيرة من أعدائهم، وهذه الأسئلة تبث ألمها، وتتساءل عن الدور الذي يمكن أن يكون للفرد عمله وتحقيقه، ولا شك أن هذا التساؤل دليل حياة، ومؤشر على خير في النفوس، ولكن ما لم يتم التوجيه الرشيد لهذه المشاعر فإنها قد تبرد وتتبلَّد مع مرور الوقت فنخسرها، أو تنحرف فنشقى بها.
ولذا رأينا توجيه هذه الأسئلة إلى كوكبة من المشايخ الذين يعيشون هموم هذه الأمة، ويدركون ما يحيق بها من أخطار؛ علهم أن يسهموا في تلك الإشكالات التي تطرحها تلك التساؤلات بتوجيه يشفي الصدور، ويوجه الطاقات من خلال برنامج عملي واضح. وقد جاءت إجابات المشايخ الأجلاء - مشكورين- في محورين:
المحور الأول: الشباب بين الحماسة والفتور- الأسباب - الآثار- العلاج.
المحور الثاني: الأمة بين سنتي الابتلاء والعمل لهذا الدين.
পরীক্ষার বিধান ও কর্মতৎপরতার মাঝে মুসলিম উম্মাহ
একদল আলেম
ইসলামী ওয়েবসাইটে অনেক প্রশ্ন আসছে, যা মুসলমানদের বর্তমান ভয়াবহ ঘটনাপ্রবাহ এবং তাদের শত্রুদের দুঃসাহসিক আস্ফালনের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত হয়েছে। এই প্রশ্নগুলো যেমন হৃদয়ের ব্যথা উগরে দিচ্ছে, তেমনি এক একজন ব্যক্তির কী ভূমিকা পালন করা বা অর্জন করা সম্ভব সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। নিঃসন্দেহে এই জিজ্ঞাসা প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ এবং অন্তরে বিদ্যমান কল্যাণের বহিঃপ্রকাশ। তবে, যদি এই অনুভূতিগুলোর সঠিক ও প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনা না দেওয়া হয়, তবে সময়ের সাথে সাথে এগুলো স্তিমিত ও নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে এবং আমরা তা হারিয়ে ফেলতে পারি, অথবা এগুলো লক্ষ্যচ্যুত হতে পারে যা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের কারণ হবে।
এই কারণে আমরা এই প্রশ্নগুলো এমন একদল বিজ্ঞ শায়খদের কাছে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা এই উম্মাহর ব্যথায় ব্যথিত এবং এর চারপাশ ঘিরে থাকা বিপদসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। আশা করা যায় যে, তারা এই জিজ্ঞাসাগুলো থেকে উদ্ভূত সমস্যাবলির এমন দিকনির্দেশনা প্রদান করে সমাধানে অবদান রাখবেন যা হৃদয়ে প্রশান্তি দেবে এবং একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে মানুষের কর্মশক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে। সম্মানিত শায়খদের—আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন—প্রদত্ত উত্তরগুলো দুটি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এসেছে:
প্রথম বিষয়: উদ্দীপনা ও শিথিলতার মাঝে যুবসমাজ—কারণ, প্রভাব এবং প্রতিকার।
দ্বিতীয় বিষয়: পরীক্ষার বিধান ও এই দ্বীনের জন্য কর্মতৎপরতার মাঝে মুসলিম উম্মাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২)
1-
الحيوية والقوة:أن الشباب فيه حيوية وقوة والله سبحانه وتعالى كما جاء في التقديم قال: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً} (الروم: 54) .
1-
প্রাণচাঞ্চল্য ও শক্তি (قوة):নিশ্চয়ই যৌবনকালে রয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য ও শক্তি (قوة); আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, যেমনটি উপস্থাপনায় এসেছে, তিনি বলেছেন: {আল্লাহ তিনি, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন দুর্বলতা (ضعف) থেকে, অতঃপর দুর্বলতার (ضعف) পর দান করেছেন শক্তি (قوة), পুনরায় শক্তির (قوة) পর দিয়েছেন দুর্বলতা (ضعف) ও বার্ধক্য।} (আর-রুম: ৫৪) .
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ৩)
فالشباب قوة بين ضعفين وانطلاقة بين هدوءين أو سكونين وحركة واندفاع بين جانبين فيهما من الهدوء والسكينة ما فيهما وحتى من الناحية الطبية نعلم أن الفئة العمرية في فترة البلوغ ما يزال الخلايا والأعضاء تزيد وتنمو وتعظم وتتكاثر وهذا أمر بين وإذا رجعنا حتى إلى اللغة تسعفنا هذه المعاني بشكل واضح لأن الاشتقاق اللغوي لأصل شب وهو أصل الشين والباء في اللغة يدل على نماء الشيء وقوته في حرارة تعتريه وهذا يدلنا على طبيعة الامتزاج بين الحيوية والحرارة والقوة وطيعة الشباب ومن ذلك قولهم: شبت النار أو شببت الحرب ثم كما يقول ابن فارس ثم اشتق الشباب منه وهو النماء والزيادة في قوة جسمه وحرارته ولذلك نرى هذا الأمر واضحا وأن من طبيعة الشباب الفطرية بل والخلقية البدنية أو ما يسمى بالبيولوجية أي الطبيعية الفيزيائية أنه بطبيعة خلقته في هذه الفترة العمرية فيه نمو وزيادة وشيء مما يزداد قوة ويزداد..
ومن هنا فالحماسة قرينة الشباب بدون أن يكون هناك افتعال لها أو تكلف فيها أو تطلب لأسبابها بل هي قرينة الشباب من هذا الوجه.
যৌবন হলো দুই দুর্বলতার মধ্যবর্তী এক শক্তি, দুই প্রশান্তি বা স্থিরতার মধ্যবর্তী এক নবসূচনা এবং দুই প্রান্তের—যাতে রয়েছে পরম স্থৈর্য ও প্রশান্তি—মাঝখানে এক গতি ও ক্ষিপ্রতা। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও আমরা জানি যে, বয়ঃসন্ধিকালের এই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, বিকশিত হয়, সুগঠিত হয় এবং সংখ্যায় বাড়তে থাকে; এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয়। আমরা যদি ভাষার দিকে ফিরে তাকাই, তবে এই অর্থগুলো আমাদের স্পষ্টভাবে সাহায্য করে। কারণ আরবি ভাষায় 'শিন' ও 'বা' (শাব্বা) মূল ধাতুর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো কোনো বস্তুর বৃদ্ধি এবং তার মাঝে সঞ্চারিত উত্তাপের কারণে সৃষ্ট শক্তি। এটি আমাদের প্রাণচাঞ্চল্য, উত্তাপ ও শক্তির সংমিশ্রণ এবং যৌবনের সহজাত প্রকৃতির দিকে দিকনির্দেশনা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে বলা হয়ে থাকে: ‘আগুন প্রজ্বলিত হয়েছে’ অথবা ‘যুদ্ধ শুরু হয়েছে’। ইবনে ফারিস যেমনটি বলেছেন, ‘শাবাব’ (যৌবন) শব্দটি এ থেকেই উদ্ভূত, যা শরীরের শক্তি ও উত্তাপের বৃদ্ধি ও আধিক্যকে নির্দেশ করে। এজন্য আমরা এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখতে পাই যে, যৌবনের সহজাত ও সৃষ্টিগত শারীরিক প্রকৃতি—যাকে জৈবিক বা প্রাকৃতিক গঠনতন্ত্র বলা যায়—তা হলো তার সৃষ্টিগত স্বভাবের কারণেই জীবনের এই পর্যায়ে তার মাঝে বৃদ্ধি, বিকাশ এবং শক্তি ও সামর্থ্যের ক্রমাগত উন্নতি ঘটতে থাকে।
এ কারণে উদ্দীপনা হলো যৌবনের এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ, যা কোনো কৃত্রিমতা, লৌকিকতা বা বাহ্যিক কারণ ছাড়াই স্বতস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়; বরং এই দিক থেকে তা যৌবনেরই এক সহজাত বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ৪)
2-
الإرادة والتحدي:جانب آخر في طبيعة الشباب في مقتبل العمر وهو قضية الإرادة والتحدي: من طبيعة هذه الفترة العمرية أن فيها عزيمة صلبة وإرادة قوية من خصائص الشباب قبول التحدي بل والتعرض له والبحث عنه والثبات عليه ولو أننا أردنا أن نأخذ أمثلة والأمثلة اعذروني ستكون دائما محدودة لأننا لو تشعبنا فيها يضيق المقام عن ذكر ما وراء ذلك.
2-
ইচ্ছা ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ:যৌবনের প্রারম্ভে তরুণদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের আরেকটি দিক হলো ইচ্ছা ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের বিষয়টি: জীবনের এই পর্যায়ের প্রকৃতি হলো এতে সুদৃঢ় সংকল্প এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি বিদ্যমান থাকে। তরুণদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা, বরং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া, তা অন্বেষণ করা এবং তার ওপর অবিচল থাকা। আমরা যদি এ ক্ষেত্রে কিছু উদাহরণ পেশ করতে চাই—আর উদাহরণগুলো সবসময়ই সীমিত হবে, তাই আমাকে মার্জনা করবেন—কারণ আমরা যদি সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনায় প্রবৃত্ত হই, তবে পরবর্তী বিষয়গুলো উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত অবকাশ থাকবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
قصة لابن مسعود وأنتم تعرفون ابن مسعود كان من صغار الصحابة وشبابهم وكان إلى ذلك نحيل الجسم دقيق الساقين كان الصحابة يضحكون من دقة ساقيه في الفترة المكية العصيبة التي كانت فيها المواجهة قاسية وشديدة وشاملة من قريش ضد المسلمين وفي جلسة بين بعض المسلمين كانوا يتداولون فيما بينهم من يمكن أن يقرأ القرآن ويصدع به في نوادي قريش وهي عملية تحد كبيرة وعملية تحتاج إلى قوة إرادة وصلابة عزيمة فانتدب لذلك ابن مسعود الشاب النحيل وذهب إلى منتدى قريش في البيت الحرام وصدع بآيات القرآن يقرؤها بين ظهرانيهم وإذا به كما هو متوقع ولم يكن هو يظن أن ذلك سيعجبهم بل كان يعرف ما يترتب على ذلك عمدوا إليه وضربوه وأثخنوه بالجراح ولعلنا نقول بعد هذا الحدث أنه قد أخذ درسا كافيا لكن ما الذي حصل؟ في اليوم الذي يليه عندما تداول المسلمون تلك الحادثة قال: (أما لو شئتم لأعاودنهم بها) فهي طبيعة الإرادة القوية والتحدي لأن نفس الشاب دائما فيها هذه الحيوية التي تأبى في الجملة أن تلين أو أن تهادن أو أن تتراجع بل تريد دائما أن تثبت نفسها وأن تظهر قوتها وأن تصر على رأيها وأن تثبت على مبدئها وأن تكون نموذجا ينسجم مع طبيعة التفاعلات
ইবনে মাসউদের একটি ঘটনা, আর আপনারা জানেন যে ইবনে মাসউদ ছিলেন কনিষ্ঠ সাহাবী (صغار الصحابة) ও তরুণদের অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি তিনি ছিলেন কৃশকায় দেহের অধিকারী এবং তাঁর পা দুটি ছিল অত্যন্ত চিকন; তাঁর পায়ের এই চিকন গঠন দেখে সাহাবীগণ হাসতেন। মক্কী জীবনের সেই সংকটময় সময়ে, যখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের পক্ষ থেকে কঠোর, তীব্র ও সর্বাত্মক বিরোধিতা বিদ্যমান ছিল, তখন কিছু মুসলমানের একটি বৈঠকে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন যে, কে কুরাইশদের মজলিসগুলোতে প্রকাশ্যে কুরআন পাঠ করতে পারে? এটি ছিল একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ এবং এমন এক কাজ যার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও সুদৃঢ় সংকল্প। এমতাবস্থায় সেই কৃশকায় যুবক ইবনে মাসউদ এই কাজের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এলেন। তিনি বায়তুল হারামে কুরাইশদের আড্ডায় গিয়ে তাদের সামনে উচ্চস্বরে কুরআনের আয়াত পাঠ করতে শুরু করলেন। তখন প্রত্যাশিত বিষয়টিই ঘটল; তিনি নিজেও ভাবেননি যে তারা এতে সন্তুষ্ট হবে, বরং তিনি জানতেন এর পরিণাম কী হতে পারে। তারা তাঁর দিকে ধাবিত হলো, তাঁকে মারধর করল এবং জখম করে তাঁকে পর্যুদস্ত করে দিল। এই ঘটনার পর হয়তো আমরা মনে করতাম যে তিনি যথেষ্ট শিক্ষা পেয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে কী ঘটেছিল? পরের দিন যখন মুসলমানরা সেই ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন তিনি বললেন: "আপনারা চাইলে আমি পুনরায় তাদের সামনে গিয়ে একই কাজ করতে পারি।" এটাই হলো প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের স্বভাব। কারণ একজন তরুণের মনস্তত্ত্বে সর্বদা এমন এক প্রাণশক্তি থাকে যা সাধারণভাবে নতি স্বীকার করতে, আপস করতে বা পিছু হটতে অস্বীকার করে। বরং তা সর্বদা নিজেকে প্রমাণ করতে চায়, নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নিজের মতামতে অটল থাকতে চায়, নিজের আদর্শে অবিচল থাকতে চায় এবং এমন একটি আদর্শ হতে চায় যা পারিপার্শ্বিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
والمشاعر النفسية والعواطف الجياشة التي تمور بها النفس وكذلك:
এবং মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি ও সেই প্রবল আবেগ যা আত্মার অভ্যন্তরে আলোড়িত হয়, এবং সেইসাথে:
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ৭)
3-الأمل والطموح:
3-আশা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা:
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ৮)
لأن الشباب في مقتبل العمر فما زالت الصورة ممتدة والأفق واسعا قد يرسم طريقا في تخيله في آماله وطموحاته في مجال العلم وأنه سيحصل فيه وأن سيكون له كذا وكذا وكذا وقد يرسم طريقا في مجال حياته الاجتماعية أو في حياته العملية لكن لو أننا تصورنا المرأة في الخمسين أو في الستين لا شك أن الأمل موجود لكنه قطعا سيكون محدودا ولن يكون له مثل طبيعة هذا الأمل الممتد العريض كالشباب في حياتهم وطموحاتهم ولو أردنا أن نأخذ أمثلة لوجدنا كذلك هذه الأمثلة في فتى الرابعة عشر الذي كان النبي عليه الصلاة والسلام في جملة تربيته لأصحابه يعرف كيف يصقل هذه النفوس وكيف يذكي تلك الآمال وكيف يشحذ تلك الهمم ربيعة بن كعب الذي كان يبيت إلى جوار بيوت النبي صلى الله عليه وسلم حتى إذا قام من الليل قام يصب له وضوءه عليه الصلاة والسلام فأراد النبي أن يكرمه كما هو معروف في قصته فقال: (يا ربيعة سلني ما شئت؟) والقائل هو رسول الله صلى الله عليه وسلم المجاب الدعوة فقال: انظرني يا رسول الله، وعندما نقول الآن للشباب ماذا تريد؟ ما هو أملك؟ ما هو رجاؤك؟ اطلب ما سنحققه لك ويكون رهن إشارتك وبين يديك؟ فربما نعرف اليوم أنه ربما يطمح إلى هذا
যেহেতু যুবকগণ জীবনের প্রারম্ভে অবস্থান করে, তাই তাদের সম্মুখস্থ ভবিষ্যতের চিত্রটি দীর্ঘায়িত এবং দিগন্ত সুবিস্তৃত থাকে। তারা তাদের কল্পনা, আশা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার আলোকে জ্ঞানার্জনের (العلم) ক্ষেত্রে একটি পথরেখা অঙ্কন করতে পারে যে, সে এতে অমুক অমুক বিষয়গুলো অর্জন করবে এবং তার প্রাপ্তি হবে এমন এমন। একইভাবে সে তার সামাজিক বা কর্মজীবনের ক্ষেত্রেও একটি পথরেখা চিত্রায়ন করতে পারে। কিন্তু আমরা যদি পঞ্চাশ বা ষাট বছর বয়সী কোনো নারীর কথা কল্পনা করি, তবে নিঃসন্দেহে সেখানেও আশা বিদ্যমান থাকে, কিন্তু তা অবধারিতভাবেই সীমিত হবে। যুবকদের জীবন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার ন্যায় সেই আশার প্রকৃতি এমন সুদূরপ্রসারী ও ব্যাপক হবে না। আমরা যদি এর উদাহরণ গ্রহণ করতে চাই, তবে চৌদ্দ বছর বয়সী সেই কিশোরের মাঝে তা খুঁজে পাব; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের (صحابة) লালন-পালনের ক্ষেত্রে জানতেন কীভাবে এই আত্মাগুলোকে মার্জিত করতে হয়, কীভাবে সেই আশাগুলোকে প্রজ্বলিত করতে হয় এবং কীভাবে সেই হিম্মত বা সংকল্পগুলোকে শাণিত করতে হয়। তিনি হলেন রাবিয়াহ বিন কাব, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহের সন্নিকটে রাত্রিযাপন করতেন, যেন তিনি যখন রাতে জাগ্রত হতেন তখন তিনি তাঁর অজুর পানি ঢেলে দিতে পারেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনচরিতে বর্ণিত প্রসিদ্ধ ঘটনা অনুযায়ী তাঁকে সম্মানিত করতে চাইলেন এবং বললেন: (হে রাবিয়াহ! আমার নিকট যা চাও তা প্রার্থনা করো)। আর এই কথাটি বলছিলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যাঁর দোয়া কবুল (المجاب الدعوة) হতো। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছুটা সময় দিন। আজ যদি আমরা যুবকদের বলি যে, ‘তুমি কী চাও? তোমার আশা কী? তোমার আকাঙ্ক্ষা কী? এমন কিছু প্রার্থনা করো যা আমরা তোমার জন্য বাস্তবায়ন করব এবং তা তোমার হাতের নাগালে থাকবে’; তবে সম্ভবত আমরা জানি যে বর্তমান সময়ে সে হয়তো এ জাতীয় কোনো কিছুরই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ৯)
أو ذاك من أمور الدنيا وشؤونها لكن ربيعة بعد أن تريث وتأنى قال مقالة عظيمة رائعة فريدة لو اجتمعت لها عقول الشيوخ الكبار والعلماء العظام لربما قصروا عن أن يصيبوا مثل ما قال فأوجز وأبلغ في أمله وطموحه فقال: أسألك مرافقتك في الجنة، فلم يسأل الله الجنة بل سأل مرافقة الرسول في الجنة ليكون سؤاله في أعلى وأعظم مطلب فماذا قال له النبي عليه الصلاة والسلام؟ وهذه هي التربية لكي يبقى الأمل ممتدا والطموح متواصلا «أعني على نفسك بكثرة السجود» ونعلم قوله لعبد الله بن عمر يوم أول رؤياه قال: «نعم الرجل عبد الله لو كان يقوم من الليل» والأمر في هذا واضح وجلي وكثير.
وكان النبي عليه الصلاة والسلام يعطي لكل ما كان يناسبه حتى يمتد في مجاله وميدانه الذي تتعلق به نفسه وأمله كما هو معروف في الحديث الذي رواه الترمذي عندما عدد النبي عليه الصلاة والسلام الصحابة وذكر في كل منهم خصيصة يتميز بها قال: «أقرؤهم أبي وأفرضهم زيد وأعلمهم بالحلال والحرام معاذ» إلى آخر ما ذكره عليه الصلاة والسلام.
কিংবা পার্থিব কোনো বিষয় ও কার্যাবলি। তবে রবীআহ কিছুক্ষণ চিন্তা ও স্থিরতা অবলম্বনের পর এমন এক মহান, চমৎকার ও অনন্য কথা বললেন, যা যদি বড় বড় শাইখ ও মহান আলেমদের সম্মিলিত প্রজ্ঞার দ্বারা বিচার করা হতো, তবে হয়তো তারাও তাঁর মতো এমন সুগভীর কথা বলতে সক্ষম হতেন না। তিনি অত্যন্ত সংক্ষেপে কিন্তু সুনিপুণভাবে নিজের আশা ও আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বললেন: "আমি জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি।" তিনি আল্লাহর কাছে কেবল জান্নাত চাননি, বরং জান্নাতে রাসূলের সান্নিধ্য চেয়েছিলেন, যাতে তাঁর প্রার্থনাটি সর্বোচ্চ ও মহত্তম স্তরে উপনীত হয়। এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কী বলেছিলেন? এটিই হলো সেই তরবিয়ত বা আত্মিক প্রশিক্ষণ, যা আশা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুদূরপ্রসারী ও নিরবচ্ছিন্ন রাখে: "অধিক সেজদার মাধ্যমে তোমার নফসের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো।" আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমর সম্পর্কে নবীজীর সেই বাণীর কথা জানি, যা তিনি তাঁর প্রথম স্বপ্নের বর্ণনার দিন বলেছিলেন: "আবদুল্লাহ কতই না উত্তম ব্যক্তি হতো, যদি সে রাতে সালাত আদায় করত।" এ বিষয়ক দৃষ্টান্তসমূহ অত্যন্ত স্পষ্ট, প্রোজ্জ্বল এবং প্রচুর।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেককে তাঁর যোগ্যতার নিরিখে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করতেন, যাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্র ও অঙ্গনে বিকশিত হতে পারে, যার সাথে তাদের মন ও আকাঙ্ক্ষা জড়িত ছিল। যেমনটি তিরমিজীতে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিসে এসেছে, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং প্রত্যেকের বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "তাদের মধ্যে কুরআন পাঠে সবচেয়ে পারদর্শী হলেন উবাই, উত্তরাধিকার জ্ঞানে সবচেয়ে দক্ষ হলেন যায়েদ এবং হালাল ও হারাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হলেন মুয়াজ"—রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা উল্লেখ করেছেন তার শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১০)
4-
تنوع الخيارات:مازال في مقتبل العمر هل يتزوج الآن؟ هل يكمل دراسته؟ هل يدخل ميدان العمل؟ أما من قد طويت صفحات عمره فإن الخيارات في غالب الأحوال تكون محدودة وربما نرى نحن أننا نضيق الآن المجال فلا يبقى مساحة إلا لكم معاشر الشباب الذين تدخلون في جميع التعريفات أما من له تعريف واحد يتيح له أن يدخل في الشباب وتعريفات أخرى تخرجه منه يبدأ تضييق الدائرة عليه كما قلنا فلذلك لما كانت هذه الحماسة من طبيعة الشباب فنحن نرحب بها ولا نعارضها ولا نقول إنها شيء شاذ أو أمر غريب ولكننا نواصل أيضا في مدح هذه الحماسة وبيان ثمراتها وبعض فوائدها ليكمل لنا حينئذ الصورة الإيجابية في هذه الحماسة بإذن الله عز وجل.
4-
পছন্দের বৈচিত্র্য:তিনি এখনও জীবনের প্রারম্ভে আছেন; তিনি কি এখন বিবাহ করবেন? তিনি কি তার পড়াশোনা সম্পন্ন করবেন? তিনি কি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন? পক্ষান্তরে, যার জীবনের পাতাগুলো ইতোমধ্যে গুটিয়ে এসেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার পছন্দ বা সুযোগগুলো সীমিত হয়ে যায়। সম্ভবত আমরা দেখছি যে, আমরা এখন ক্ষেত্রটিকে সংকীর্ণ করে আনছি, ফলে কেবল তোমাদের ন্যায় যুবক সম্প্রদায়ের জন্যই অবকাশ বাকি থাকছে যারা (যুবক হওয়ার) সকল সংজ্ঞার আওতাভুক্ত। আর যার ক্ষেত্রে এমন একটি সংজ্ঞা রয়েছে যা তাকে যুবকদের অন্তর্ভুক্ত করে এবং অন্যান্য সংজ্ঞা তাকে তা থেকে বের করে দেয়, তার ওপর গণ্ডিটি সংকীর্ণ হতে শুরু করে যেমনটি আমরা বলেছি। অতএব, যেহেতু এই উদ্দীপনা যুবকদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য, তাই আমরা একে স্বাগত জানাই এবং এর বিরোধিতা করি না। আমরা একে কোনো ব্যতিক্রমী (شاذ) বিষয় কিংবা অদ্ভুত (غريب) কিছু বলি না; বরং আমরা এই উদ্দীপনার প্রশংসা এবং এর সুফল ও কিছু উপকারিতা বর্ণনা করা অব্যাহত রাখব, যাতে ইনশাআল্লাহ আমাদের নিকট এই উদ্দীপনার একটি ইতিবাচক চিত্র পূর্ণতা লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثمرات الحماسة:
الحماسة تورث خلالا كثيرة وسمات عديدة:
1-
الهمة والعزة:
হামাসার (বীরত্ব ও উদ্দীপনা) সুফলসমূহ:
বীরত্ব ও উদ্দীপনা অনেক সদ্গুণ ও বহু বৈশিষ্ট্যের জন্ম দেয়:
১-
উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদা:
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১২)
فهذه الحماسة تجعل الهمة عالية والعزيمة ماضية والعزة أبية والروح فتية بحيث إن هذه المشاعر تترجم إلى مواقف وإلى سمات شخصية تعد من مظاهر القوة الإيجابية ليس في الشباب رخاوة وليس في الشباب ضعف وإن كان حالنا اليوم أو حال بعض شبابنا قد جعلت لهم صورة أخرى في الشباب هي صورة الدعة والترف والرخاء ولكننا نقول إن الأصل في طبيعة الشباب في التربية الصحيحة في الأجواء النقية أن يكون لهم همتهم القوية وعزتهم الأبية التي تجعلهم دائما في قصب السبق والتقدم كما سيأتي في المراحل التالية ولعلنا نريد أن نصور بعض هذه الهمم في سير الشباب من أصحاب النبي عليه الصلاة والسلام والأمثلة محدودة كما قلت بحكم الوقت هذا نموذج رده النبي عليه الصلاة والسلام إلى الاعتدال لكننا نرى كيف كانت القوة في أصل هذا النموذج عند البخاري في الصحيح من حديث النبي عليه الصلاة والسلام مع عبد الله بن عمرو بن العاص قال له عليه الصلاة والسلام: «ألم أخبر أنك تصوم فلا تفطر وتصلي فلا تنام وتقرأ القرآن في كل ليلة) فقال: بلى يا رسول الله،» هذا الخبر بلغه عن عبد الله بن عمرو انظروا إلى همته وطاقته المتدفقة كيف كان على حال لا يفطر ولا ينام ليله
এই উদ্দীপনা হিম্মতকে সুউচ্চ করে, সংকল্পকে কার্যকর করে, মর্যাদাবোধকে অটল রাখে এবং আত্মাকে সজীব রাখে; যার ফলে এই আবেগসমূহ এমন সব অবস্থান ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে রূপান্তরিত হয় যা ইতিবাচক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত। তারুণ্যে কোনো শিথিলতা নেই এবং তারুণ্যে কোনো দুর্বলতা নেই। যদিও আমাদের বর্তমান অবস্থা কিংবা আমাদের কিছু যুবকের বর্তমান অবস্থা তাদের তারুণ্যের এক ভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে—যা হলো আয়েশ, বিলাসিতা ও সচ্ছলতার চিত্র। তবে আমরা বলি যে, সঠিক প্রতিপালন ও নির্মল পরিবেশে তারুণ্যের স্বভাবজাত মূল বৈশিষ্ট্য হলো তাদের শক্তিশালী হিম্মত ও সুদৃঢ় আত্মমর্যাদাবোধ, যা তাদের সর্বদা অগ্রগামী ও সম্মুখ সারিতে রাখে, যেমনটি পরবর্তী পর্যায়গুলোতে আসবে। সম্ভবত আমরা নবী (সা.)-এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে যুবক সাহাবীদের জীবনীতে (سير) এই হিম্মতের কিছু চিত্র তুলে ধরতে চাই; আর সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে উদাহরণগুলো সীমিত। এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত যা নবী (সা.) মধ্যপন্থার দিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, তবে আমরা দেখতে পাই এই উদাহরণের মূলে শক্তি কেমন ছিল; যা সহীহ বুখারীতে নবী (সা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর মধ্যকার একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নবী (সা.) তাঁকে বললেন: «আমি কি সংবাদ পাইনি যে, তুমি সওম পালন করো এবং কখনো বিরতি দাও না, আর সালাত আদায় করো এবং ঘুমাও না এবং প্রতি রাতে কুরআন পাঠ করো?» তিনি বললেন: «হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!» আবদুল্লাহ ইবনে আমর সম্পর্কে এই সংবাদ (خبر) তাঁর নিকট পৌঁছেছিল। লক্ষ্য করুন তাঁর হিম্মত ও উপচে পড়া শক্তির দিকে, কীভাবে তিনি এমন এক অবস্থায় ছিলেন যে সওম ভাঙতেন না এবং রাতে ঘুমাতেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ويختم في كل ليلة نعم رده النبي عليه الصلاة والسلام إلى الاعتدال المعروف في الحديث لكن الشاهد عندنا هو هذه الهمة العالية القوية التي كانت عنده ورسول الله صلى الله عليه وسلم في مقتبل عمره وفي بداية دعوته كانت له المواقف العظيمة في مثل هذا.
তিনি প্রতি রাতেই [কুরআন] খতম করতেন। হ্যাঁ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে হাদিসে সুপরিচিত সেই পরিমিতিবোধের (اعتدال) দিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। তবে আমাদের নিকট মূল বিবেচ্য বিষয় (شاهد) হলো তাঁর সেই সুউচ্চ ও বলিষ্ঠ হিম্মত, যা তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবনের প্রারম্ভে এবং দাওয়াতের সূচনা লগ্নে এই জাতীয় বিষয়ে অত্যন্ত মহান সব অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2- العمل والإنتاج:
২- কর্ম ও উৎপাদন:
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الهمة والعزة تتحول إلى عمل مثمر وإلى تواصل في الإنجاز وحرق المراحل لكي يكون هناك ثمرة ظاهرة ونتيجة باهرة من خلال هذه الهمة لأن صاحب الهمة لا يرضى بالقعود ولا يرضى بالكسل والخمول ولا يرضى إلا أن تكون كل ثانية من ثواني حياته مملوءة بما يتناسب مع طبيعة هذه المشاعر المتدفقة والعواطف المتأججة في نفسه ولذلك نرى كيف كان شباب الصحابة والشباب في مراحل التاريخ الإسلامي كلها في الأجواء الصحيحة والتربية الجادة كيف كانوا دائما يأتون بالعجائب والإنجازات الباهرة حتى في مجالات مختلفة لعلي أذكر مثالا في قصة زيد بن ثابت رضي الله عنه وهو الذي كان غلاما صغيرا في نحو السادسة عشر من عمره فقال له النبي عليه الصلاة والسلام كما في المسند عند الإمام أحمد: «اقرأ حرف يهود» يعني حتى يقرأ له أراد النبي صلى الله عليه وسلم أن يتعلم اللغة حتى يقرأ للنبي صلى الله عليه وسلم ما يأتيه عفوا فتعلم السريانية في بعض الروايات أنه تعلمها في خمسة عشر يوما فكان يقرأ للرسول وكان يكتب له وفي بعضها في سبعة عشر يوما وبالمناسبة أيضا زيد بن ثابت كانت له المهمة الفريدة التي جعل من مؤهلاتها الشباب في صحيح البخاري الحديث المشهور في
উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদা ফলপ্রসূ কর্মে এবং অর্জনের ধারাবাহিকতায় ও দ্রুত ধাপ অতিক্রম করার প্রচেষ্টায় রূপান্তরিত হয়, যাতে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে একটি দৃশ্যমান ফল এবং একটি চমৎকার ফলাফল অর্জিত হয়। কেননা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি নিষ্ক্রিয় বসে থাকায় সন্তুষ্ট হয় না, অলসতা ও জড়তায় তুষ্ট হয় না; বরং সে চায় তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার অন্তরের প্রবাহমান অনুভূতি ও প্রজ্বলিত আবেগের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজে পূর্ণ থাকে। এই কারণেই আমরা দেখতে পাই, সাহাবীগণের তরুণ প্রজন্ম এবং ইসলামি ইতিহাসের সকল পর্যায়ের যুবসমাজ সঠিক পরিবেশ ও সুনিপুণ প্রশিক্ষণের মধ্যে থেকে কীভাবে সর্বদা বিস্ময়কর কাজ ও চমৎকার সব সাফল্য নিয়ে আসতেন, এমনকি জীবন ও জগতের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রেও। আমি সম্ভবত জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর জীবনের একটি উদাহরণ উল্লেখ করতে পারি; তিনি ছিলেন প্রায় ষোলো বছর বয়সের এক কিশোর। নবী (সা.) তাকে বলেছিলেন, যেমনটি ইমাম আহমদের মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: «তুমি ইয়াহুদিদের লিপি শেখো।» অর্থাৎ, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে পড়তে পারেন। নবী (সা.) চেয়েছিলেন যে তিনি ভাষাটি শিখে নিন যাতে রাসুল (সা.)-এর নিকট যা আসত তা তিনি পাঠ করতে পারেন। কোনো কোনো বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে যে, তিনি সিরিয়াক ভাষা মাত্র পনেরো দিনে শিখেছিলেন; ফলে তিনি রাসুল (সা.)-এর জন্য পাঠ করতেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে লিখে দিতেন। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় সতেরো দিনের কথা বর্ণিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, জায়েদ ইবনে সাবিতের একটি অনন্য দায়িত্বও ছিল যার অন্যতম যোগ্যতা হিসেবে তাঁর তারুণ্যকে বিবেচনা করা হয়েছিল, যা সহীহ বুখারী-র সেই প্রসিদ্ধ হাদিস-এ বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جمع القرآن (قال أبو بكر عندما استدعى زيد بن ثابت: إنك شاب عاقل لا نتهمك كنت تكتب الوحي على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأول هذه الخصائص أنه شاب مهمة ثقيلة تحتاج إلى قوة تحتاج إلى عمل متواصل أسندت إلى هذا الشاب الفتي مع ما عنده من الأمانة والعلم والخبرات السابقة كما يقال ثم كلفه بجمع القرآن وكتابته ومع أن الذي كان يحدثه أبو بكر خليفة المسلمين ومعه عمر وزيره وهما أفضل الصحابة وأكبرهما سنا إلى غير ذلك مع ذلك كله قال بكل رباطة جأش وهمة تناسب الشباب قال: كيف تفعلان شيئا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم؟) وهذا يدل على قوة هذه الشخصية لكن بعد أن جاءت المراجعة وانشرح صدره لذلك قال: فوالله لو كلفني نقل جبل من مكانه لكان أهون علي ثم انطلق وبدأ في هذه المهمة وأعانه عمر ووضع الشروط والضوابط والشهادة المطلوبة على كل وهو مكتوب أنه ثبتت كتابته بأمر النبي عليه الصلاة والسلام أو بحضرته وأتم هذه المهمة على أدق وأحكم وأمتن صورة ما كانت لتكون لولا هذه الفتوة والحيوية والحماسة والقوة في حياة الشباب والأمر في هذا كما قلنا يطول الحديث عنه.
কুরআন সংকলন (আবু বকর যখন জায়েদ ইবনে সাবিতকে আহ্বান করেছিলেন তখন বলেছিলেন: আপনি একজন বুদ্ধিমান যুবক, আমরা আপনাকে কোনো দোষে অভিযুক্ত করি না (অর্থাৎ আপনি আমাদের নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة)); আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমসাময়িককালে ওহী লিপিবদ্ধ করতেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো তিনি একজন যুবক ছিলেন; এটি ছিল একটি গুরুভার কাজ যার জন্য শারীরিক শক্তি ও নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতার প্রয়োজন ছিল। এই তেজস্বী যুবকের ওপর তাঁর আমানতদারী (أمانة), জ্ঞান এবং পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি তাকে কুরআন সংগ্রহ ও তা লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। যদিও নির্দেশদাতা ছিলেন মুসলিমদের খলিফা আবু বকর এবং তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর উজির উমর—যাঁরা সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং বয়সেও বড়—তা সত্ত্বেও জায়েদ (রা.) পূর্ণ মানসিক দৃঢ়তা ও যুবকোচিত সাহসিকতার সাথে বলেছিলেন: আপনারা এমন কাজ কীভাবে করবেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি?) এটি তাঁর ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা নির্দেশ করে। কিন্তু পরবর্তী পর্যালোচনায় যখন তাঁর অন্তর এ কাজের জন্য প্রশস্ত হলো, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, তিনি যদি আমাকে পাহাড় স্থানান্তরের দায়িত্ব দিতেন, তবে তা আমার কাছে অধিক সহজ মনে হতো। অতঃপর তিনি এই মিশনে অবতীর্ণ হলেন এবং উমর (রা.) তাঁকে সহায়তা করলেন। তাঁরা প্রতিটি লিখিত অংশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী, নীতিমালা এবং সাক্ষ্যের (شهادة) ব্যবস্থা রেখেছিলেন। প্রতিটি অংশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে বা তাঁর উপস্থিতিতে লিপিবদ্ধ হওয়া সাব্যস্ত (ثابت) হওয়ার পরেই তা গ্রহণ করা হতো। তিনি এই কার্যটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, সুসংহত ও সুদৃঢ় রূপে সম্পন্ন করেছিলেন, যা যৌবনের প্রাণশক্তি, উদ্দীপনা ও শক্তি ছাড়া সম্ভব হতো না। এ বিষয়ে আলোচনা, যেমনটি আমরা বলেছি, অনেক দীর্ঘ।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
3- الثبات والإصرار:
৩- অবিচলতা (الثبات) ও দৃঢ়সংকল্প (الإصرار):
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كثير من الأعمال لا تعطي ثمرتها إلا مع طول الزمن ومع استمرارية العمل وذو النفس التي ليست فيها هذه الحماسة غالبا ما ينقطع نفسه وينقطع عمله وينقطع بعد ذلك أثره ويطوى خبره لأن المسألة تحتاج إلى مثل هذا كما سنشير من مزايا الشباب في الحماسة: أنها تعطيهم قوة وثباتا بشكل منقطع النظير أبو موسى الأشعري رضي الله عنه وهو أمير على الكوفة ظل يقرئ القرآن في مسجدها أربعين عاما كل يوم وهو أمير وهو يتولى الحكم لكنه كان في صفته وسمته يدل على هذا العطاء المستمر والثبات على العمل ليست قضية ردود أفعال ولا سحابة صيف تنقشع ولا أمرا أثارته بعض العواطف المهيجة ثم جاء غيرها ونرى بعض الشباب وهو يتموج ويذهب يمنة ويسرة مع بعض هذه التقلبات العاطفية وخاصة نحن في عصر عولمة وإعلام وكوكبة وموجات متدفقة هنا وهناك تعبث بالعقول والعواطف عبثا كبيرا وحبيب بن زيد رضي الله عنه وهو من أمثلة الشباب كيف ثبت لما أرسله النبي عليه الصلاة والسلام إلى مسيلمة الكذاب فكان يقول: أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله يقول مسيلمة: قل أشهد أن لا إله إلا الله وأن مسيلمة رسول الله يقول: لا أسمع لا أسمع وإذا بمسيلمة بعد ذلك يبدأ في
অনেক কাজই দীর্ঘ সময়ের ব্যাপ্তি এবং কর্মের ধারাবাহিকতা ব্যতীত ফলপ্রসূ হয় না। যার হৃদয়ে এই উদ্দীপনা নেই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার উদ্যম স্তিমিত হয়ে যায়, তার কর্মধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, পরবর্তীকালে তার বিবরণ (أثر) মুছে যায় এবং তার সংবাদ (خبر) বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। কেননা বিষয়টি এই পর্যায়ের দৃঢ়তা দাবি করে, যেমনটি আমরা যুবকদের উদ্দীপনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করব: এটি তাদের অতুলনীয় শক্তি ও অবিচলতা দান করে। আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুফার আমির থাকাকালীন দীর্ঘ চল্লিশ বছর প্রতিদিন সেই মসজিদে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন; তিনি আমির হওয়া এবং শাসনকার্য পরিচালনার গুরুদায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তাঁর আচার-আচরণ ও চরিত্রে এই নিরবচ্ছিন্ন দান এবং কর্মে দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশ ঘটত। এটি কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বিষয় নয়, কিংবা গ্রীষ্মের মেঘের মতো নয় যা দ্রুত অপসারিত হয়, আর এমন কোনো বিষয়ও নয় যা কিছু সাময়িক আবেগের দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে আবার অন্য কিছুর আগমনে থিতিয়ে যায়। আমরা কিছু যুবককে দেখি যারা দোদুল্যমান থাকে এবং বিভিন্ন আবেগপ্রসূত পরিবর্তনের সাথে সাথে ডানে-বামে বিচ্যুত হয়; বিশেষত আমরা এখন বিশ্বায়ন, গণমাধ্যম এবং প্রযুক্তির এমন এক যুগে রয়েছি যেখানে চারপাশের নানামুখী প্রবাহ মানুষের বিবেক ও আবেগ নিয়ে চরমভাবে ছিনিমিনি খেলছে। হাবিব ইবনে যাইদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যুবকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকে চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) মুসাইলামার নিকট প্রেরণ করেছিলেন, তখন তিনি কীরূপ অটল ছিলেন। তিনি ঘোষণা করতেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।" মুসাইলামা বলত: "বলো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুসাইলামা আল্লাহর রাসুল।" তিনি উত্তর দিতেন: "আমি শুনছি না, আমি শুনছি না।" অতঃপর মুসাইলামা এরপরে শুরু করল...
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تقطيعه يقطع أذنه يجدع أنفه ويقطع إربا إربا وهو ثابت على هذا النهج الذي كان عليه مصعب بن عمير الشاب المدلل المترف المعطر الذي قال فيه النبي عليه الصلاة والسلام: «ما رأيت فتى أحسن لمة في أهل مكة من مصعب بن عمير» لما دخل الإيمان في قلبه وتمكن وأعطى عاطفته كلها لهذا المعتقد والمبدأ ووجه بكل أنواع الحصار والتضييق وشظف العيش لم تلن له قناة ولم يتغير له موقف ولم يتراجع في أي صورة من الصور التي أخذ بها رضي الله عنه وأرضاه حتى كانت بعد ذلك قصة استشهاده مضرب مثل بل موضع عبرة لكبار الصحابة أبكتهم سنواتا طوالا بعد مصعب بن عمير رضي الله عنه كما ورد في الصحيح من حديث عبد الرحمن بن عوف عند البخاري أنه كان صائما في يوم خميس وأتي له بطعام الإفطار وكان فيه صنفين من الطعام نوعين من الطعام فقط نوعين فبكى عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه فتعجب الناس قالوا: ما يبكيك؟ قال: ذكرت مصعب بن عمير مات يوم أحد يوم مات ولم نجد ما نكفنه به إلا بردة إن غطينا رأسه بدا قدماه وإن غطينا قدماه بدا رأسه وأخشى أن نكون قد عجلت لنا طيباتنا، بقي موقف مصعب في ثباته الفريد يوم قطعت يده اليمنى فرفع الراية بيسراه فقطعت فضمها بعضديه
তাকে খণ্ডবিখণ্ড করা হচ্ছিল, তার কান কাটা হচ্ছিল, তার নাক বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছিল এবং তাকে টুকরো টুকরো করা হচ্ছিল, তবুও তিনি সেই আদর্শের ওপর দৃঢ় (ثابت) ছিলেন যার ওপর মুসআব ইবন উমাইর (রা.) প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। মুসআব ছিলেন সেই আদুরে, বিলাসপ্রিয় এবং সুগন্ধি মাখা যুবক, যার সম্পর্কে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "আমি মক্কাবাসীদের মধ্যে মুসআব ইবন উমাইরের চেয়ে সুন্দর কেশধারী আর কোনো যুবক দেখিনি।" যখন তার অন্তরে ঈমান প্রবেশ করল এবং তা বদ্ধমূল হলো, তিনি তার সমস্ত আবেগ এই আকিদা ও মূলনীতির জন্য উৎসর্গ করলেন। তিনি সব ধরনের অবরোধ, সংকীর্ণতা ও জীবনযাত্রার কঠোরতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, কিন্তু তার দৃঢ়তা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি, তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তিনি যে পথ অবলম্বন করেছিলেন তা থেকে কোনো অবস্থাতেই বিচ্যুত হননি। এমনকি তার শাহাদাতের ঘটনাটি পরবর্তীকালে এক প্রবাদতুল্য উপমা এবং প্রবীণ সাহাবিদের জন্য এক মহান শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা মুসআব ইবন উমাইর (রা.)-এর শাহাদাতের পর দীর্ঘ বছর পর্যন্ত তাঁদের অশ্রুসিক্ত করেছিল। যেমনটি বুখারি-তে বর্ণিত আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রা.)-এর বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি একদিন রোজা রেখেছিলেন এবং ইফতারের সময় তাঁর নিকট খাবার আনা হলো যাতে কেবল দুই প্রকারের খাদ্য ছিল। তখন আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রা.) কেঁদে ফেললেন। মানুষ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, "আপনার কান্নার কারণ কী?" তিনি বললেন, "আমার মুসআব ইবন উমাইরের কথা মনে পড়ে গেল, যিনি ওহুদের দিন শহিদ হয়েছিলেন। যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন আমরা তাকে কাফন দেওয়ার জন্য একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাইনি। তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা উন্মুক্ত হয়ে যেত। আমার ভয় হচ্ছে যে, আমাদের যাবতীয় নেয়ামত হয়তো ইহকালেই আমাদের জন্য ত্বরান্বিত করা হয়েছে।" মুসআবের সেই অনন্য অটল অবস্থানের দৃশ্যটি আজও অম্লান হয়ে আছে, যেদিন তার ডান হাত কেটে ফেলা হয়েছিল তখন তিনি বাম হাত দিয়ে পতাকা তুলে ধরেছিলেন, আর যখন সেটিও কেটে ফেলা হলো তখন তিনি তা অবশিষ্ট দুই বাহু দিয়ে আঁকড়ে ধরেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২০)
حتى خر واستشهد رضي الله عنه على هذه الصورة من الثبات الرائع في قوة الحماسة والثبات على المنهج والمبدأ.
পরিশেষে তিনি লুটিয়ে পড়লেন এবং আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এই অবস্থায় শাহাদাত বরণ করলেন, যা ছিল সুদৃঢ় উদ্দীপনা এবং আদর্শ ও মূলনীতির ওপর অবিচলতার এক বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২১)
4-
نجدة وإعانة:وينتج عن هذه الحماسة في الجلة أيضا نجدة وإعانة لأن المتحمس يأبى أن يرى الضيم ويسكت يأبى أن يرى المحتاج وهو واقف لا تستجيشه تلك العاطفة إلى أن يمد يد العون وإلى أن يسابق وإلى أن يكون في الصفوف الأول في كل هيعة وفي كل ميدان من ميادين العطاء والنجدة ولعل قصة حنظلة بن أبي عامر غسيل الملائكة الذي دخل على زوجه وعروسه في ليلة عرسه ثم أصبح على ظهر الخيل مجاهدا في سبيل الله ناسيا أن يغتسل من جنابته حتى غسلته الملائكة فيما بين السماء والأرض كما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم تلك هي روح الحماسة المتدفقة في ميدانها الصحيح وفي عطائها الإيجابي.
4-
সাহায্য ও সহযোগিতা:এই প্রবল উদ্দীপনা থেকে সাধারণত সাহায্য ও সহযোগিতার মনোভাবও সৃষ্টি হয়। কারণ, তেজোদীপ্ত ব্যক্তি কোনো নিপীড়ন দেখে নীরব থাকতে পারেন না। তিনি কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিয়ে কিংবা আর্তসেবা ও সহযোগিতার প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং যুদ্ধের প্রতিটি ভয়াবহ আহবানে সাড়া দিয়ে প্রথম কাতারে শামিল হওয়ার আবেগ দ্বারা আলোড়িত না হয়ে থাকতে পারেন না। সম্ভবত হানজালা ইবনে আবি আমির—যাঁকে ফেরেশতারা গোসল করিয়েছিলেন—তাঁর ঘটনাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ; যিনি বিয়ের রাতে তাঁর নববধূর নিকট গিয়েছিলেন, অতঃপর পরদিন সকালে আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে অশ্বারোহী যোদ্ধা হিসেবে বের হয়ে পড়েছিলেন। তিনি জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করার কথা বিস্মৃত হয়েছিলেন, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি সংবাদ দিয়েছেন, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানে ফেরেশতারা তাঁকে গোসল করিয়েছিলেন। এটিই হলো সঠিক ক্ষেত্রে এবং ইতিবাচক অবদানে স্বতঃস্ফূর্ত উদ্দীপনার প্রকৃত রূপ।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২২)
5-
امتنان وانتفاع:وبعد ذلك لا شك أن هذا كله تتسع به دائرة الامتنان في الأوساط التي يعيش فيها الشباب بهذه الروح وبهذا العطاء وانتفاع من حولهم بهم بدلا من أن يكون ما قد يكون من عكس ذلك مما قد نعرج عليه في حديثنا هذا.
৫-
কৃতজ্ঞতা ও উপকারিতা:অতঃপর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সবকিছুর মাধ্যমে সেই সামাজিক পরিমণ্ডলগুলোতে কৃতজ্ঞতার পরিধি বিস্তৃত হয় যেখানে যুবকরা এই চেতনা ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে বসবাস করে এবং তাদের চারপাশের মানুষ তাদের দ্বারা উপকৃত হয়; এটি সেই বিরূপ পরিস্থিতির পরিবর্তে ঘটে যা ঘটার সম্ভাবনা থাকে এবং যে বিষয়ে আমরা আমাদের এই আলোচনায় হয়তো আলোকপাত করব।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
1- الفتور والإحباط:
১- অবসাদ ও নৈরাশ্য:
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عندما تكون الاندفاعة قوية أكثر من اللازم وغير مستوعبة للواقع ولا مدركة للإمكانيات ولا متهيئة في الأخذ بالأسباب فإن هذه الاندفاعة تمضي فلا تحقق نتيجتها فيرتد حينئذ بعد تجربة وثانية وثالثة إلى فتور يترك معه كل عمل وكل حيوية وكل نشاط وكل إيجابية بل يرتد حينئذ إلى نفسية محطمة مهزومة لم تعد عندها أدنى درجات الثقة بالنفس التي يمكن أن تكون أساسا للإنطلاق أو العمل ولعلي أضرب مثالا يدور أو يقع في صفوف الشباب كثيرا في بعض الجوانب الحياتية على سبيل المثال ربما يسمع كثير من الشباب الحث على العلم وطلب العلم وفضيلة العلم وتأتي هذه النصوص وتلك المحاضرات فتلهب في نفسه الحماسة وإذا به ولم تكن له سابق تجربة ولم يأخذ خبرة من صاحب تجربة يندفع اندفاعة من الناحية المنهجية غير صحيحة ومن الناحية التي تناسب طبيعته وقدرته غير متطابقة معها فإذا به لا يلوي على شيء ذكر البغوي في كتاب العلم شرح السنة عن الزهري رحمه الله قال: من رام العلم جملة فقده جملة، وهذه طبيعة ونحن نرى كيف يقبل كثير، وهذه ظاهرة موجودة الشباب يقبل ويريد أن يدرس هذا العلم وذاك العلم ويحفظ هذا المتن اندفاعة ليست متكاملة فكثيرا ما يؤول به الأمر
যখন আবেগ বা কর্মোদ্যম অতিমাত্রায় প্রবল হয় এবং তা বাস্তবতাকে অনুধাবন করতে পারে না, সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন থাকে না কিংবা কার্যকারণ বা উপায় (الأسباب) অবলম্বনে প্রস্তুত থাকে না, তখন এই প্রবল আবেগ অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। ফলে বারবার প্রচেষ্টার পর ব্যক্তি এমন এক অবসাদে নিমজ্জিত হয়, যার দরুন সে সমস্ত কর্মতৎপরতা, প্রাণচাঞ্চল্য এবং ইতিবাচকতা বিসর্জন দেয়। এমনকি সে তখন এমন এক বিধ্বস্ত ও পরাজিত মানসিকতায় আক্রান্ত হয় যে, তার মধ্যে ন্যূনতম আত্মবিশ্বাসটুকুও অবশিষ্ট থাকে না, যা নতুন কোনো পথচলার ভিত্তি হতে পারত। আমি সম্ভবত এমন একটি উদাহরণ দিতে পারি যা যুবসমাজের মাঝে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, অনেক যুবক হয়তো ইলম অর্জন এবং এর ফযিলত সম্পর্কে আলোচনা শুনে থাকেন। এই সকল বক্তব্য তাদের মনে প্রবল উদ্দীপনা সৃষ্টি করে; অথচ পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় কিংবা কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির দিকনির্দেশনা না নেওয়ায় সে পদ্ধতিগত (منهجية) ভাবে ভুল পথে অগ্রসর হয়, যা তার প্রকৃতি ও সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে সে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ইমাম বাগাউই তাঁর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থের কিতাবুল ইলম অধ্যায়ে ইমাম যুহরি (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি একযোগে সকল ইলম হাসিল করতে চায়, সে তা একযোগেই হারিয়ে ফেলে।" এটিই মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এবং আমরা বর্তমানে এই প্রবণতা প্রকটভাবে দেখতে পাই যে, যুবকরা জ্ঞান অর্জনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করতে চায় কিংবা নির্দিষ্ট মূল পাঠ (متن) মুখস্থ করতে চায়; কিন্তু তাদের এই উদ্যম সুসংহত না হওয়ায় প্রায়শই তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إلى أن يترك ذلك كله أو حتى في جانب الالتزام الشخصي والأخذ بأمور الفرائض والعبادات والتطوعات يندفع فيها بغير ما يتناسب مع طاقته أو ظرفه ويكون فقط تحت تأثير عاطفي مؤقت ثم يرجع إلى ما وراء ذلك ونجد في هذا كما قلت من الناحية الواقعية أمثلة كثيرة والتجربة فيه واضحة حتى نستطيع إن شاء الله أن نواصل هذه المعاني.
যতক্ষণ না সে এই সবকিছু বর্জন করে অথবা এমনকি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং আবশ্যিক বিধানসমূহ, ইবাদত ও নফল কার্যাবলি পালনের ক্ষেত্রেও সে তার সামর্থ্য বা পরিস্থিতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ধাবিত হয় এবং যা কেবল সাময়িক আবেগের বশবর্তী হয়ে হয়ে থাকে, অতঃপর সে পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। বাস্তবতার নিরিখে আমি ইতিপূর্বে যেমনটি বলেছি, এর অনেক উদাহরণ আমরা খুঁজে পাই এবং এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যাতে ইনশাআল্লাহ আমরা এই বিষয়গুলোর ধারা অব্যাহত রাখতে পারি।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
2-
تعطيل وإعاقة:كثيرا ما تدفع الحماسة إلى عمل متهور تفسد به كل تلك الرؤى التي كانت تبنى عليها الآمال وتقام عليها الأحلام لمواصلة في عمل ما لأن الاندفاع الشديد والخروج عن المسار الصحيح لا شك أنه سوف يفعل ردود أفعال كثيرة وهذه ردود الأفعال سوف تكون تعطيل ومنع وإعاقة وواقع الشباب المسلم في المجتمعات الإسلامية أيضا فيه أمثلة كثيرة من ذلك ونحن نعرف في كثير من بلاد المسلمين كيف كانت ثورات من الاندفاع في بلاد كثيرة أدت إلى منع خير كثير وإلى سد أبواب من الإصلاح والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بل إلى تغييرات أعمق وأشد تأثيرا بدلا من ذلك الخير الذي كان ينشده بنسبة محدودة وإذا به ينقلب إلى كثير من العوائق والموانع والسدود التي تمنع كثيرا وكثيرا من الخير عليه وعلى آلاف مؤلفة من ورائه ولعلنا أيضا لا يخفى علينا مثل هذا فيما جرى في كثير من البلاد التي انفرط فيها عقد أمنها واختلت فيها الموازين وكثر فيها الهرج والمرج مما سيأتي أيضا ذكر بعضه فيما نأتي به في هذه النقاط:
2-
স্থবিরতা ও বাধা সৃষ্টি:আবেগ প্রায়শই মানুষকে এমন হঠকারী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করে যা সেই সব রূপকল্পকে বিনষ্ট করে দেয় যার ওপর ভিত্তি করে কোনো কাজ অব্যাহত রাখার আশা ও স্বপ্নগুলো লালিত হচ্ছিল। কারণ চরম হঠকারিতা ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি নিঃসন্দেহে বহুবিধ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়; আর এই প্রতিক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত কাজের ক্ষেত্রে স্থবিরতা, প্রতিবন্ধকতা ও বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মুসলিম সমাজগুলোতে মুসলিম যুবকদের বাস্তব অবস্থায় এর বহু উদাহরণ বিদ্যমান। আমরা জানি অনেক মুসলিম দেশে কীভাবে আবেগের বশবর্তী হয়ে পরিচালিত বিপ্লবগুলো প্রভূত কল্যাণ অর্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং সংস্কার তথা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। বরং ব্যক্তি যে সীমিত কল্যাণের প্রত্যাশা করেছিল, তার পরিবর্তে এমন সুদূরপ্রসারী ও প্রবল প্রভাবসম্পন্ন পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা তার নিজের এবং তার অনুসারী হাজার হাজার মানুষের জন্য অনেক অনেক কল্যাণের পথে প্রতিবন্ধকতা, অন্তরায় ও দেয়ালে পরিণত হয়েছে। সম্ভবত আমাদের কাছে সেই সব দেশের পরিস্থিতি অস্পষ্ট নয় যেখানে নিরাপত্তার শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বৃদ্ধি পেয়েছে; যার কিছু অংশ আমরা পরবর্তী পয়েন্টগুলোতে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3-
موت وإتلاف:يعني قد يبلغ الأمر إلى هذا المبلغ ونحن نعرف أن الحماسة المتمكنة في النفس أحيانا قد تصل إلى شيء من تغييب العقل وعدم النظر حتى في الضوابط والأحكام الشرعية ونحن نحب أن نؤكد هنا على أمر مهم وهو أن المنطلقات التي تحكم المسلم ليست منطلقات العاطفة ولا الشعور ولا ردود الأفعال ولا الانتصار للذات الذي يحكمنا أمران هما الأساسيان في تصرفاتنا كلها:
الأول: هو حكم الشرع من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فما كان واجبا أمضيناه وما كان محرما تركناه ويلحق به ويكمله
৩-
মৃত্যু ও বিনাশ:অর্থাৎ, বিষয়টি এই পর্যায় পর্যন্ত গড়াতে পারে। আমরা জানি যে, অন্তরে প্রোথিত প্রবল আবেগ কখনও কখনও বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলার মতো পর্যায়ে চলে যায় এবং এমনকি শরয়ী নীতিমালা ও বিধানসমূহের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার স্তরে পৌঁছে দেয়। আমরা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিতে চাই, আর তা হলো—একজন মুসলিমের চালিকাশক্তি কেবল আবেগ, অনুভূতি, প্রতিক্রিয়া কিংবা আত্মপ্রীতি নয়; বরং আমাদের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি হলো দুটি বিষয়:
প্রথমটি হলো: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ হতে প্রাপ্ত শরয়ী বিধান। সুতরাং যা আবশ্যক (واجب) তা আমরা সম্পাদন করি এবং যা নিষিদ্ধ (حرام) তা আমরা বর্জন করি। এর সাথে যুক্ত হয় এবং একে পূর্ণতা দান করে...
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الثاني: مراعاة المصلحة الشرعية في تنزيل الحكم الشرعي على الواقع المعاصر فإن من الأمور ما قد يكون واجبا أو قد يكون مباحا لكن إيقاعه في هذا الوقت أو في هذا المكان قد تترتب عليه مفاسد أعظم وقد يكون فعله في هذا الموطن محرما وإن كان في أصله واجبا وهذه موازنات معروفة في مقاصد الشريعة الكلية التي ينبغي مراعاتها وفي القواعد الفقهية المستقاة والمستنبطة من الأدلة الكلية والفرعية في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم مثل: «لا ضرر ولا ضرار» وغير ذلك من القواعد المعروفة فهناك ما قد يصل إلى هذا مما يقع به إزهاق الأرواح وإتلاف الأموال وإفساد كثير من الأصول الثابتة التي لا بد من معرفتها ولعلي هنا أيضا أركز في هذا المعنى لأن بعض الأفهام تتجاذبها عواطف ولا تكاد تفهم حقائق النصوص وإذا تأملنا في هذا الجانب ثمة أمر مهم نحن نذكره لأنه من دين الله ولا بد أن نفقه ديننا وأن نعرف أن الأصل أننا متعبدون بشرع الله عز وجل وأنه لا بد لنا أن نتأمل في حكمة الشارع لأن الشارع معصوم سواء كان ذلك في كتاب الله أو ما ثبت من سنة رسوله صلى الله عليه وسلم ولعلي أخص هنا موضعا محددا من هذه المواضع التي أصبحت فيها الفتنة
দ্বিতীয়ত: সমসাময়িক বাস্তবতার ওপর শরয়ি হুকুম (الحكم الشرعي) প্রয়োগের ক্ষেত্রে শরয়ি জনস্বার্থের (المصلحة الشرعية) প্রতি লক্ষ রাখা; কেননা কোনো কোনো বিষয় এমন হতে পারে যা ওয়াজিব (واجب) অথবা মুবাহ (مباح), কিন্তু এই নির্দিষ্ট সময়ে বা এই নির্দিষ্ট স্থানে তা বাস্তবায়ন করার ফলে আরও বড় ধরণের অনিষ্টের (مفاسد) কারণ হতে পারে। এমনকি কোনো কাজ তার মূলগত দিক থেকে ওয়াজিব (واجب) হওয়া সত্ত্বেও এই প্রেক্ষাপটে তা সম্পাদন করা হারাম (محرم) হতে পারে। শরিয়তের সামগ্রিক উদ্দেশ্যের (مقاصد الشريعة الكلية) ক্ষেত্রে এটি একটি সুপরিচিত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়, যা বিবেচনায় রাখা আবশ্যক। অনুরূপভাবে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মৌলিক ও শাখাভিত্তিক দলিল থেকে গৃহীত ও উদ্ভূত ফিকহি মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। যেমন: 'ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না' (لا ضرر ولا ضرار) এবং এ জাতীয় অন্যান্য সুপরিচিত মূলনীতি। এখানে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা জানমালের বিনাশ এবং অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতির (الأصول الثابتة) ধ্বংস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা জানা অপরিহার্য। সম্ভবত আমি এখানে এই অর্থটির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি, কারণ কিছু মানুষের উপলব্ধি আবেগ দ্বারা চালিত হয় এবং তারা নصوص বা মূল পাঠের (النصوص) প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারে না। আমরা যদি এই দিকটি নিয়ে চিন্তা করি, তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা আমরা উল্লেখ করছি; কারণ এটি আল্লাহর দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং আমাদের দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। আমাদের এটি জানা প্রয়োজন যে, মূলত আমরা মহান আল্লাহর শরিয়ত পালনের মাধ্যমেই তাঁর ইবাদত করি এবং আমাদের জন্য বিধানদাতার হিকমত নিয়ে চিন্তা করা অপরিহার্য। কেননা বিধানদাতা নিষ্পাপ (معصوم), তা আল্লাহর কিতাবেই হোক বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে তাতেই হোক। সম্ভবত আমি এখানে সেই স্থানগুলোর মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে বিশেষভাবে চিহ্নিত করব, যেখানে ফেতনার (الفتنة) উদ্ভব হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-উম্মাহ বাইনা সুন্নাতাইল ইবতিলা ওয়াল আমাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عامة في كثير من مجتمعات وبلاد المسلمين.
অনেক মুসলিম সমাজ ও জনপদে এটি একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।