(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: -)
الاختلاف في العمل الإسلامي الأسباب والآثار   (ناصر العمر)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الاختلاف في العمل الإسلامي الأسباب والآثار

المؤلف: ناصر بن سليمان العمر

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 48

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 77

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামি কর্মতৎপরতায় মতভেদ: কারণ ও প্রভাব   (নাসির আল-উমর)

বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ


কিতাব: ইসলামি কর্মতৎপরতায় মতভেদ: কারণ ও প্রভাব

লেখক: নাসির বিন সুলাইমান আল-উমর

প্রকাশক: কিতাবটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠাসংখ্যা (মুদ্রিত কিতাব) : ৪৮

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৭৭

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১)
الاختلاف في العمل الإسلامي:

الأسباب والآثار

للشيخ الأستاذ الدكتور

ناصر بن سليمان العمر

‌‌أولًا: مقدمات.

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد، فلا يخفى على كل مسلم بصير ما تعيشه أمة الإسلام من شتات وفرقة، واختلافات أوجبت عداوة وشقاق، إذ تجاذبت أهلها الأهواء، وتشعبت بهم البدع، وتفرقت بهم السبل، فلا عجب أن تراهم بين خصومة مذهبية، وحزبية فكرية، وتبعية غربية أو شرقية.. والنتيجة يخبر عنها قول المولى عز وجل: {ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} .

وإذا كان المسلمون اليوم يلتمسون الخروج من هذا المأزق فلا سبيل إلاّ بالاعتصام بحبل الله المتين وصراطه المستقيم، مجتمعين غير متفرقين، متعاضدين غير مختلفين.
ইসলামি কর্মতৎপরতায় মতভেদ:

কারণ ও প্রভাবসমূহ

শাইখ আল-উস্তায ডক্টর

নাসের বিন সুলাইমান আল-উমর এর লেখনী

‌‌প্রথমত: ভূমিকা.

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর, ইসলামি উম্মাহ বর্তমানে যে বিচ্ছিন্নতা ও বিভক্তির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, তা কোনো প্রজ্ঞাবান মুসলিমের কাছে অস্পষ্ট নয়। এই মতভেদগুলো এমন শত্রুতা ও বিবাদের জন্ম দিয়েছে যা নিরসন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে; যেহেতু প্রবৃত্তি (أهواء) তাদের অনুসারীদের প্রলুব্ধ করেছে, বিদআত (بدع) তাদের মধ্যে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছে এবং তাদের পথগুলো বিভক্ত হয়ে গেছে। ফলে আপনি যদি তাদের মাযহাবগত বিবাদ, বুদ্ধিবৃত্তিক দলাদলি এবং পাশ্চাত্য কিংবা প্রাচ্যের অন্ধ অনুকরণের মধ্যে লিপ্ত দেখেন, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এর পরিণাম সম্পর্কে মহান রব ইরশাদ করেন: {মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে তিনি তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।}।

বর্তমানে মুসলিমরা যদি এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পেতে চায়, তবে আল্লাহর মজবুত রজ্জু ও তাঁর সরল পথকে (صراط مستقيم) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ছাড়া আর কোনো পথ নেই; যেখানে তারা হবে ঐক্যবদ্ধ ও অবিচ্ছিন্ন এবং একে অপরের সহযোগী ও অভিন্ন।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২)
ويكون ذلك بتوحيد الهدف والغاية مع حسن النية وسلامة القصد قال ابن القيم رحمه الله: "ووقوع الاختلاف بين الناس أمر ضروري لا بد منه لتفاوت إرادتهم وأفهامهم وقوى إدراكهم ولكن المذموم بغي بعضهم على بعض وعدوانه وإلا فإذا كان الاختلاف على وجه لا يؤدي إلى التباين والتحزب وكل من المختلفين قصده طاعة الله ورسوله لم يضر ذلك الاختلاف فإنه أمر لا بد منه في النشأة الإنسانية ولكن إذا كان الأصل واحدا والغاية المطلوبة واحدة والطريق المسلوكة واحدة لم يكد يقع اختلاف وإن وقع كان اختلافا لا يضر كما تقدم من اختلاف الصحابة فإن الأصل الذي بنوا عليه واحد وهو كتاب الله وسنة رسوله والقصد واحد وهو طاعة الله ورسوله والطريق واحد وهو النظر في أدلة القرآن والسنة وتقديمها على كل قول ورأي وقياس وذوق وسياسة". (1)

--------------------------------------------

(1) الصواعق المرسلة 2 / 519.
এটি অর্জিত হয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে একীভূত করার মাধ্যমে, সাথে সাথে উত্তম নিয়ত এবং সংকল্পের শুদ্ধতা বজায় রাখার মাধ্যমে। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মানুষের মাঝে মতপার্থক্য হওয়া একটি অনিবার্য ও অপরিহার্য বিষয়, যা তাদের ইচ্ছা, বোধ এবং উপলব্ধি করার ক্ষমতার ভিন্নতার কারণে ঘটে থাকে। তবে নিন্দনীয় বিষয় হলো একে অপরের ওপর বাড়াবাড়ি ও শত্রুতা করা। অন্যথায়, যদি মতপার্থক্য এমন রূপ না নেয় যা বিচ্ছিন্নতা ও দলাদলির দিকে নিয়ে যায় এবং বিবাদমান প্রত্যেক পক্ষের উদ্দেশ্য যদি হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করা, তবে সেই মতপার্থক্য কোনো ক্ষতি করে না। কারণ মানবীয় প্রকৃতিতে এটি একটি অবধারিত বিষয়। কিন্তু যদি মূল ভিত্তি এক হয়, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এক হয় এবং অনুসৃত পথ এক হয়, তবে মতপার্থক্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে; আর যদি ঘটেও তবে তা পূর্বোক্ত সাহাবীগণের মতপার্থক্যের ন্যায় কোনো ক্ষতিকর হয় না। কারণ তারা যে মূল ভিত্তির ওপর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তা ছিল অভিন্ন—আর তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহ; তাদের উদ্দেশ্যও ছিল অভিন্ন—যা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য; এবং তাদের পথও ছিল অভিন্ন—আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের নিরিখে বিচার করা এবং অন্য যেকোনো বক্তব্য, ব্যক্তিগত মত (رأي), সাদৃশ্যকরণ (قياس), রুচি বা রাজনীতির ঊর্ধ্বে সেগুলোকে স্থান দেওয়া।" (১)

--------------------------------------------

(১) আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ, ২ / ৫১৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৩)
والاختلاف موضوع الحديث هو: "نقيض الاتفاق. جاء في اللسان ما مفاده: اختلف الأمران لم يتفقا. وكل ما لم يتساوَ فقد اختلف. والخلاف: المضادة، وخالفه إلى الشيء عصاه إليه، أو قصده بعد أن نهاه عنه. ويستعمل الاختلاف عند الفقهاء بمعناه اللغوي وكذلك الخلاف" وبعض الفقهاء فرق بين الاختلاف والخلاف باصطلاحات خاصة، أما " (الافتراق) (والتفرق) (والفرقة) فبمعنى أن يكون كل مجموعة من الناس وحدهم. ففي القاموس: الفريق القطيع من الغنم، والفريقة قطعة من الغنم تتفرق عنها فتذهب تحت الليل عن جماعتها. فهذه الألفاظ أخص من الاختلاف". (1)

فليس كل اختلاف افتراق، وكل افتراق اختلاف، وليس شرطًا أن يكونا مذمومين على ما سيأتي بيانه وإن كان الغلب ذم أهل الفرقة والاختلاف.

--------------------------------------------

(1) الموسوعة الفقهية 2 / 291.
হাদিসের আলোচ্য বিষয় হিসেবে পার্থক্য (الاختلاف) হলো: "ঐকমত্যের বিপরীত। 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে এর মর্মার্থ এভাবে এসেছে: দুটি বিষয় ভিন্ন হওয়া মানে হলো সেগুলো একমত না হওয়া। আর যা কিছু সমান নয়, তা-ই ভিন্ন। আর বিরোধ (الخلاف) হলো: বৈপরীত্য; আর কারো বিরোধিতা করা মানে তার অবাধ্য হওয়া, অথবা কোনো বিষয়ে নিষেধ করার পর তা করার সংকল্প করা। ফকিহগণের নিকট 'পার্থক্য' (الاختلاف) শব্দটি এর আভিধানিক অর্থেই ব্যবহৃত হয় এবং অনুরূপভাবে 'বিরোধ' (الخلاف) শব্দটিও।" কিছু ফকিহ 'পার্থক্য' (الاختلاف) ও 'বিরোধ' (الخلاف) এর মধ্যে বিশেষ পারিভাষিক ব্যবধান নির্ণয় করেছেন। অন্যদিকে 'বিচ্ছিন্নতা' (الافتراق), 'বিভক্তি' (التفرق) এবং 'উপদল' (الفرقة) এর অর্থ হলো মানুষের প্রতিটি দল পৃথক হয়ে যাওয়া। 'আল-কামুস' অভিধানে রয়েছে: 'ফরিক' হলো ভেড়ার পাল, আর 'ফারিক্বাহ' হলো ভেড়ার পালের একটি অংশ যা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং রাতে পালের বাইরে চলে যায়। সুতরাং এই শব্দগুলো 'পার্থক্য' (الاختلاف) শব্দের চেয়ে অধিকতর সুনির্দিষ্ট। (১)

সুতরাং প্রতিটি পার্থক্যই (الاختلاف) বিচ্ছিন্নতা নয়, আবার প্রতিটি বিচ্ছিন্নতাই (الافتراق) একটি পার্থক্য। আর এই দুটি যে সর্বদা নিন্দনীয় হবে তা জরুরি নয়, যেমনটি সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে—যদিও সাধারণত দলাদলি ও মতভেদে লিপ্ত ব্যক্তিদের নিন্দা করা হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২ / ২৯১।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৪)
أقسام الاختلاف:

الاختلاف ينقسم إلى أقسام عدة اعتبارات مختلفة يتباين الحكم عليها فمنها:

انقسام‌‌ الاختلاف باعتبار حقيقة المسائل المختلف فيها فمنه:
মতভেদের (اختلاف) প্রকারভেদ:

মতভেদ (اختلاف) বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের বিচারে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত এবং সেগুলোর বিধান (حكم) ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

বিভাজন মতভেদপূর্ণ বিষয়সমূহের প্রকৃত স্বরূপের (حقيقة) বিচারে মতভেদের (اختلاف) যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৫)
1- اختلاف صوري، ومن قبيله اختلاف التفاوت كالذي يكون في الكلام فيكون بعضه بليغًا وبعضه دون ذلك، ومنه كذلك اختلاف التلاؤم الذي يكون في الكلام، ومن قبيله كذلك اختلاف التنوع وهو "أن يذكر كل من المختلفين من الاسم العام بعض أنواعه على سبيل التمثيل وتنبيه المستمع، لا على سبيل الحد المطابق للمحدود في عمومه وخصوصه. مثال ذلك تفسير قوله تعالى: {فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ} قال بعضهم: السابق الذي يصلي أول الوقت، والمقتصد في أثنائه، والظالم لنفسه الذي يؤخر العصر إلى الاصفرار. وقيل: السابق المحسن بالصدقة، والمقتصد بالبيع، والظالم بأكل الربا. واختلاف التنوع في الأحكام الشرعية قد يكون في الوجوب تارة وفي الاستحباب أخرى: فالأول مثل أن يجب على قوم الجهاد، وعلى قوم الصدقة، وعلى قوم تعليم العلم. وهذا يقع في فروض الأعيان، وفي فروض الكفايات، ولها تنوع يخصها، وهو أنها تتعين على من لم يقم بها غيره: فقد تتعين في وقت، أو مكان، وعلى شخص أو طائفة كما يقع مثل ذلك في الولايات والجهات والفتيا والقضاء. قال ابن تيميه: وكذلك كل تنوع في الواجبات يقع مثله في
১- বাহ্যিক মতভেদ (اختلاف صوري), এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মর্যাদাগত বৈচিত্র্য (اختلاف التفاوت) যেমনটি বক্তব্যের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; যেখানে বক্তব্যের কিছু অংশ অত্যন্ত সাবলীল ও অলঙ্কারপূর্ণ হয় এবং কিছু অংশ তার চেয়ে কম। তেমনিভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হলো সামঞ্জস্যপূর্ণ মতভেদ (اختلاف التلاؤم) যা বক্তব্যের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। আর এরই পর্যায়ভুক্ত হলো বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع), যা হলো— "মতভেদকারীগণের প্রত্যেকে কোনো একটি সাধারণ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত কতিপয় প্রকারকে উদাহরণ হিসেবে এবং শ্রোতাকে বিষয়টি অনুধাবন করানোর উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেন; বিষয়টি তার সাধারণ ও বিশেষত্বের নিরিখে একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায় (حد) আবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে নয়।" এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসির: {অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ সৎকাজে অগ্রগামী}। কেউ কেউ বলেছেন: অগ্রগামী (سابق) হলেন তিনি যিনি ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করেন, মধ্যপন্থী (مقتصد) হলেন তিনি যিনি ওয়াক্তের মাঝখানে আদায় করেন, আর নিজের প্রতি অবিচারকারী (ظالم لنفسه) তিনি যিনি আসরের সালাত আকাশ হলদে হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করেন। আবার বলা হয়েছে: অগ্রগামী (سابق) হলেন সাদাকাহর মাধ্যমে ইহসানকারী, মধ্যপন্থী (مقتصد) হলেন ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তি, আর অবিচারকারী (ظالم) হলেন সুদ গ্রহণকারী। আর শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف التنوع) কখনো ওয়াজিব হওয়ার (وجوب) ক্ষেত্রে হয়, আবার কখনো মুস্তাহাব হওয়ার (استحباب) ক্ষেত্রে হয়। প্রথমটির উদাহরণ হলো— যেমন একদল লোকের ওপর জিহাদ আবশ্যক হওয়া, একদল লোকের ওপর সাদাকাহ এবং অন্য দলের ওপর জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক হওয়া। এটি ফরজে আইন (فروض الأعيان) এবং ফরজে কিফায়ার (فروض الكفايات) ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে। এগুলোর নিজস্ব কিছু বৈচিত্র্য রয়েছে, আর তা হলো— যখন অন্য কেউ তা সম্পাদন না করে তখন তা সুনির্দিষ্টভাবে অবধারিত হয়ে যায়। ফলে কখনো তা কোনো নির্দিষ্ট সময়, স্থান, ব্যক্তি বা দলের ওপর অবধারিত হতে পারে; যেমনটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, বিভিন্ন অঞ্চল, ফতোয়া প্রদান এবং বিচারকার্যের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "অনুরূপভাবে ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় (واجبات) কার্যাবলীর প্রতিটি বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটে থাকে..."
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৬)
المستحبات. قد نظر الشاطبي في المسألة، وحصر الخلاف غير الحقيقي في عشرة أنواع:

منها: ما تقدم من الاختلاف في العبارة. ومنها: أن لا يتوارد الخلاف على محل واحد. ومنها: اختلاف أقوال الإمام الواحد، بناء على تغير الاجتهاد، والرجوع عما أفتى به أولا. ومنها: أن يقع الاختلاف في العمل لا في الحكم، بأن يكون كل من العملين جائزا، كاختلاف القراء في وجوه القراءات، فإنهم لم يقرءوا بما قرءوا به على إنكار غيره، بل على إجازته والإقرار بصحته، فهذا ليس في الحقيقة باختلاف، فإن المرويات على الصحة لا خلاف فيها، إذ الكل متواتر. وهذه الأنواع السابقة تقع في تفسير القرآن، وفي اختلافهم في شرح السنة، وكذلك في فتاوى الأئمة وكلامهم في مسائل العلم. وهي أنواع - وإن سميت خلافا - إلا أنها ترجع إلى الوفاق". (1)

تنبيه الاختلاف الصوري: منه المذموم وهو ما وقع في باطل.

اختلاف حقيقي ومنه اختلاف التضاد وهو قسمان سائغ وغير سائغ ولعله تأتي الإشارة إليهما. (2)

--------------------------------------------

(1) الموسوعة الفقهية 2 / 292-293.

(2) ينظر كذلك فقه الائتلاف لمحمود الخزندار ص34.
মুস্তাহাব (المستحبات) বিষয়সমূহ। ইমাম শাতবি এই বিষয়টি বিবেচনা করেছেন এবং অবাস্তব মতভেদকে দশটি প্রকারে সীমাবদ্ধ করেছেন:

তার মধ্যে রয়েছে: শব্দগত ভিন্নতা যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এবং তার মধ্যে রয়েছে: মতভেদ একই বিষয়ের ওপর আপতিত না হওয়া। আরও রয়েছে: ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তনের কারণে এবং প্রথমবার প্রদত্ত ফতোয়া থেকে ফিরে আসার ভিত্তিতে একই ইমামের বক্তব্যের ভিন্নতা। এবং তার মধ্যে রয়েছে: আমলের ক্ষেত্রে ভিন্নতা হওয়া, বিধান বা হুকুমের (حكم) ক্ষেত্রে নয়; অর্থাৎ উভয় আমলই বৈধ হওয়া। যেমন কিরাত পাঠের ক্ষেত্রে কারীগণের (القراء) বিভিন্ন পদ্ধতির ভিন্নতা; কেননা তারা যা পাঠ করেছেন তা অন্য পদ্ধতির অস্বীকৃতি হিসেবে নয়, বরং তার অনুমতি এবং বিশুদ্ধতা বা সহিহ (صحيح) হওয়ার স্বীকৃতির ভিত্তিতে করেছেন। সুতরাং এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো মতভেদ নয়; কেননা সহিহ (صحيح) হিসেবে বর্ণিত বর্ণনা বা রেওয়ায়েতসমূহের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, যেহেতু তার সবই মুতাওয়াতির (متواتر)। আর উল্লেখিত এই প্রকারগুলো কুরআনের তাফসির, সুন্নাহর ব্যাখ্যায় তাদের মতভেদ এবং একইভাবে ইমামগণের ফতোয়া ও ইলমি মাসআলাসমূহে তাদের আলোচনার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। এগুলো এমন সব প্রকার যা—যদিও মতভেদ নামে অভিহিত করা হয়—তবে এগুলো মূলত ঐকমত্যের দিকেই ফিরে যায়। (১)

সতর্কবার্তা—রূপক মতভেদ: এর মধ্যে কিছু নিন্দনীয় (مذموم) রয়েছে, যা বাতিলের (باطل) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রকৃত মতভেদ; এর মধ্যে রয়েছে বৈপরীত্যমূলক মতভেদ, যা দুই প্রকার: গ্রহণযোগ্য (سائغ) এবং অগ্রহণযোগ্য (غير سائغ)। সম্ভবত সামনে এগুলোর দিকে ইঙ্গিত প্রদান করা হবে। (২)

--------------------------------------------

(১) আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২ / ২৯২-২৯৩।

(২) আরও দ্রষ্টব্য: মাহমুদ আল-খাজানদার রচিত ফিকহুল ইতিলাফ, পৃষ্ঠা ৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৭)
ومن أقسام الاختلاف انقسام‌‌ الاختلاف باعتبار ما يوجبه فمنه:

اختلاف يقتضي عداوة وشقاقا، ويقع في الاختلاف الحقيقي، كالاختلاف في الأصول المجمع عليها.

اختلاف لا يقتضي عداوة وشقاقا، ويقع في عامة الاختلاف الصوري وقد يقع في الاختلاف الحقيقي كالاختلاف في كثير من الفروع باجتهاد سائغ.
মতভেদের (اختلاف) প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে পরিণাম বা যা অনিবার্য হয় সেই বিবেচনায় মতভেদের (اختلاف) বিভাজন। তন্মধ্যে রয়েছে:

এমন মতভেদ (اختلاف) যা শত্রুতা ও বিবাদের উদ্রেক করে এবং এটি প্রকৃত মতভেদের (اختلاف حقيقي) ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, যেমন সর্বসম্মত মূলনীতিসমূহের (الأصول المجمع عليها) ক্ষেত্রে মতভেদ (اختلاف)।

এমন মতভেদ (اختلاف) যা শত্রুতা ও বিবাদের উদ্রেক করে না; এটি সাধারণত বাহ্যিক মতভেদের (اختلاف صوري) ক্ষেত্রে ঘটে থাকে এবং কখনো কখনো প্রকৃত মতভেদের (اختلاف حقيقي) ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে, যেমন গ্রহণযোগ্য ইজতিহাদের (اجتهاد سائغ) ভিত্তিতে অসংখ্য শাখা-প্রশাখাগত (فروع) বিষয়ে মতভেদ (اختلاف)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৮)
ومن أقسام الاختلاف انقسام‌‌ الاختلاف باعتبار أثره فمنه:

1- اختلاف مؤثر في الأحكام والأعمال المترتبة.

2- اختلاف نظري ذهني لا ينبني عليه شيء في أرض الواقع.

فالأول اختلاف مؤثر في العمل ومنه السائغ الذي لا يضر ومنه غير السائغ، والآخر من قبيل اختلاف السفسطائية هل البيضة قبل الدجاجة أم الدجاجة قبل البيضة! قال شيخ الإسلام: "وأما ما يحتاج المسلمون إلى معرفته فإن الله نصب على الحق فيه دليلا فمثال ما لا يفيد ولا دليل على الصحيح منه اختلافهم في لون كلب أصحاب الكهف وفى البعض الذي ضرب به موسى من البقرة وفى مقدار سفينة نوح وما كان خشبها وفى اسم الغلام الذي قتله الخضر ونحو ذلك فهذه الأمور طريق العلم بها النقل فما كان من هذا منقولا نقلا صحيحا عن النبي [صلى الله عليه وسلم] كاسم صاحب موسى أنه الخضر فهذا معلوم وما لم يكن كذلك بل كان مما يؤخذ عن أهل الكتاب كالمنقول عن كعب ووهب ومحمد بن اسحق وغيرهم ممن يأخذ عن أهل الكتاب فهذا لا يجوز تصديقه ولا تكذيبه إلا بحجة" (1) وقال: "وغالب ذلك مما لا فائدة فيه تعود إلى أمر ديني ولهذا يختلف علماء أهل الكتاب في مثل هذا كثيرًا..". (2)

--------------------------------------------

(1) الفتاوى 13 / 345.

(2) الفتاوى 13 / 367.
মতভেদের প্রকারভেদের মধ্যে অন্যতম হলো প্রভাবের বিচারে মতভেদের বিভাজন। যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

১- শরয়ি বিধান এবং এর ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত আমলসমূহের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী মতভেদ।

২- তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মতভেদ, বাস্তব ক্ষেত্রে যার ওপর ভিত্তি করে কিছুই রচিত হয় না।

প্রথম প্রকারটি আমলের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী মতভেদ; যার মধ্যে রয়েছে এমন বৈধ (سائغ) মতভেদ যা কোনো ক্ষতির কারণ হয় না, আবার রয়েছে অবৈধ (غير سائغ) মতভেদ। আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো কুতর্ককারীদের (সফসতায়ী) মতভেদের ন্যায়; যেমন—মুরগি আগে নাকি ডিম আগে! শাইখুল ইসলাম বলেন: "আর মুসলমানদের যা জানার প্রয়োজন রয়েছে, মহান আল্লাহ সে বিষয়ে সত্যের ওপর দলিল (دليل) স্থাপন করেছেন। সুতরাং যা কোনো ফলপ্রসূ নয় এবং যার সহিহ (صحيح) হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল (دليل) নেই তার উদাহরণ হলো—আসহাবে কাহাফের কুকুরের রঙ নিয়ে তাদের মতভেদ, গাভীর কোন অংশ দিয়ে মুসা (আ.) আঘাত করেছিলেন, নূহ (আ.)-এর নৌকার পরিমাপ ও তা কোন কাঠ দিয়ে তৈরি ছিল, খিজির (আ.) কর্তৃক নিহত বালকের নাম এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এই বিষয়গুলো জানার পথ হলো বর্ণনা (نقل)। সুতরাং এগুলোর মধ্যে যা নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে সহিহ (صحيح) বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যেমন—মুসা (আ.)-এর সঙ্গীর নাম যে খিজির, তা সুনিশ্চিতভাবে জ্ঞাত। আর যা তেমন নয়, বরং আহলে কিতাবদের থেকে সংগৃহীত হয়েছে, যেমন—কাব, ওয়াহাব ও মুহাম্মদ ইবন ইসহাক এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত যারা আহলে কিতাবদের থেকে গ্রহণ করতেন, তবে অকাট্য প্রমাণ (حجة) ব্যতীত তা বিশ্বাস করাও জায়েজ নেই, আবার মিথ্যা প্রতিপন্ন করাও জায়েজ নেই।" (১) তিনি আরও বলেন: "এই জাতীয় অধিকাংশ বিষয়ের কোনো ধর্মীয় উপকারিতা নেই। আর এই কারণেই আহলে কিতাবদের পণ্ডিতরা এই ধরনের বিষয়ে অনেক বেশি মতভেদ করে থাকেন।" (২)

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া ১৩ / ৩৪৫।

(২) আল-ফাতাওয়া ১৩ / ৩৬৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৯)
من أهم أقسام الاختلاف التي تحتاج إلى تحرير انقسام‌‌ الاختلاف باعتبار مدح أصحابه وذمهم:
মতভেদের গুরুত্বপূর্ণ প্রকারসমূহের মধ্যে যা সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণের (تحرير) দাবি রাখে তা হলো বিভাজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশংসা (مدح) ও নিন্দার (ذم) বিচারে মতভেদের:
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد حرر ذلك ابن القيم رحمه الله في الصواعق حيث قال:"الاختلاف في كتاب الله نوعان:

أحدهما: أن يكون المختلفون كلهم مذمومين، وهم الذين اختلفوا بالتأويل وهم الذين نهانا الله سبحانه عن التشبه بهم في قوله: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا} [آل عمران:105] ، وهم الذين تسود وجوههم يوم القيامة وهم الذين قال الله تعالى فيهم: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ} [البقرة:176] ، فجعل المختلفين كلهم في شقاق بعيد، وهذا النوع هو الذي وصف الله أهله بالبغي وهو الذي يوجب الفرقة والاختلاف وفساد ذات البين ويوقع التحزب والتباين.
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) আস-সাওয়াইক গ্রন্থে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে মতবিরোধ (اختلاف) দুই প্রকার:

প্রথমটি: যেখানে মতবিরোধকারী সকলেই নিন্দিত; তারা হলো সেইসব লোক যারা অপব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে মতবিরোধ করেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর এই বাণীতে আমাদের তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণে নিষেধ করেছেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতবিরোধ (اختلاف) করেছে} [আলে ইমরান: ১০৫]। এরাই তারা যাদের চেহারা কিয়ামতের দিন কালো হবে এবং এদের সম্পর্কেই আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: {তা এ কারণে যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন; আর যারা কিতাব নিয়ে মতবিরোধ (اختلاف) করেছে, তারা অবশ্যই সুদূরপ্রসারী বিরোধে লিপ্ত} [আল-বাকারাহ: ১৭৬]। এখানে তিনি মতবিরোধকারী সকলকেই সুদূরপ্রসারী বিরোধের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি এমন এক প্রকার যার অনুসারীদের আল্লাহ তা‘আলা সীমালঙ্ঘনের গুণে বিশেষিত করেছেন এবং এটিই সেই বিষয় যা বিভেদ (فرقة), মতভেদ (اختلاف) ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিপর্যয় ঘটাতে বাধ্য করে এবং দলাদলি (تحزب) ও বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি করে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১১)
و‌‌النوع الثاني: اختلاف ينقسم أهله إلى محمود ومذموم، فمن أصاب الحق فهو محمود، ومن أخطأه مع اجتهاده في الوصول إليه فاسم الذم موضوع عنه، وهو محمود في اجتهاده معفو عن خطئه، وإن أخطأه مع تفريطه وعدوانه فهو مذموم.

ومن هذا النوع المنقسم قوله تعالى: {وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَلَكِنِ اخْتَلَفُوا فَمِنْهُمْ مَنْ آمَنَ وَمِنْهُمْ مَنْ كَفَرَ} [البقرة:253] ، وقال تعالى: {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} [الشورى:10] .
এবং দ্বিতীয় প্রকার (النوع): এমন মতভেদ (اختلاف) যার অনুসারীরা প্রশংসনীয় এবং নিন্দনীয়—এই দুই ভাগে বিভক্ত, সুতরাং যে সত্য প্রাপ্ত হয়েছে সে প্রশংসনীয়, আর যে ব্যক্তি সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য গবেষণালব্ধ প্রচেষ্টা (اجتهاد) চালানো সত্ত্বেও ভুল করেছে, তার থেকে নিন্দার বিষয়টি রহিত করা হয়েছে; বরং সে তার গবেষণালব্ধ প্রচেষ্টার (اجتهاد) জন্য প্রশংসনীয় এবং তার ভুলের জন্য ক্ষমাযোগ্য। তবে যদি সে অবহেলা ও সীমালঙ্ঘনবশত ভুল করে, তবে সে নিন্দনীয়।

আর এই বিভক্ত প্রকারের (النوع) অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তাদের পরবর্তী লোকেরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর একে অপরের সাথে লড়াই করত না; কিন্তু তারা মতভেদ (اختلاف) করল। ফলে তাদের মধ্যে কেউ ঈমান আনল এবং তাদের মধ্যে কেউ কুফরি করল} [আল-বাকারাহ: ২৫৩]। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {আর তোমরা যে কোনো বিষয়েই মতভেদ (اختلاف) করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট} [আশ-শুরা: ১০]‌।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১২)
والاختلاف المذموم كثيرًا ما يكون مع كل فرقة من أهله بعض الحق فلا يقر له خصمه به، بل يجحده إياه بغيًا ومنافسة، فيحمله ذلك على تسليط التأويل الباطل على النصوص التي مع خصمه، وهذا شأن جميع المختلفين بخلاف أهل الحق فإنهم يعلمون الحق من كل من جاء به، فيأخذون حق جميع الطوائف ويردون باطلهم فهؤلاء الذين قال الله فيهم: {فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [البقرة:213] ، فأخبر سبحانه أنه هدى عباده لما اختلف فيه المختلفون.

وكان النبي يقول في دعائه: «اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل فاطر السماوات والأرض عالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم.»
নিন্দনীয় মতভেদ (الاختلاف المذموم) অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন হয় যে, প্রতিটি দলের কাছেই কিছু না কিছু সত্য বিদ্যমান থাকে, কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ তা স্বীকার করে না; বরং বিদ্বেষ ও প্রতিযোগিতার বশবর্তী হয়ে তারা তা অস্বীকার করে। আর এই বিষয়টিই তাদেরকে তাদের প্রতিপক্ষের নিকট থাকা দলীলগুলোর ওপর বাতিল ব্যাখ্যা (التأويل الباطل) চাপিয়ে দিতে প্ররোচিত করে। এটিই সকল মতভেদকারীর সাধারণ বৈশিষ্ট্য, তবে সত্যের অনুসারীদের (أهل الحق) বিষয়টি ভিন্ন। কেননা তারা যার মাধ্যমেই সত্য আসুক না কেন তা চিনে নিতে পারে; ফলে তারা সকল দলের সঠিক বিষয়টি গ্রহণ করে এবং তাদের ভ্রান্তিগুলো বর্জন করে। এরাই সেই সকল ব্যক্তি যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর তারা যে বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর নিজ অনুগ্রহে মুমিনদেরকে সেই সত্যের দিশা দিয়েছেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের (صراط مستقيم) দিকে পরিচালিত করেন।" [সূরা আল-বাকারা: ২১৩]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, মতভেদকারীরা যে বিষয়ে লিপ্ত ছিল, তিনি তাঁর বান্দাদেরকে সেই সত্যের দিকে হেদায়েত দান করেছেন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দোয়ায় বলতেন: "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের প্রতিপালক, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হতো আপনি তাদের মাঝে ফয়সালা করবেন। যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সত্যের দিশা দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের (صراط مستقيم) দিকে পরিচালিত করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩)
فمن هداه الله سبحانه إلى الأخذ بالحق حيث كان ومع من كان ولو كان مع من يبغضه ويعاديه ورد الباطل مع من كان ولو كان مع من يحبه ويواليه فهو ممن هدى لما اختلف فيه من الحق، فهذا أعلم الناس وأهداهم سبيلا وأقومهم قيلا وأهل هذا المسلك إذا اختلفوا فاختلافهم اختلاف رحمة وهدى يقر بعضهم بعضًا عليه ويواليه ويناصره، وهو داخل في باب التعاون والتناظر الذي لا يستغني عنه الناس في أمور دينهم ودنياهم، بالتناظر والتشاور وإعمالهم الرأي وإجلائهم الفكر في الأسباب الموصلة إلى درك الصواب فيأتي كل منهم بما قدحه زناد فكره وأدركته قوة بصيرته، فإذا قوبل بين الآراء المختلفة والأقاويل المتباينة وعرضت على الحاكم الذي لا يجور وهو كتاب الله وسنة رسوله وتجرد الناظر عن التعصب والحمية واستفرغ وسعه وقصد طاعة الله ورسوله فقل أن يخفى عليه الصواب من تلك الأقوال، وما هو أقرب إليه، والخطأ، وما هو أقرب إليه، فإن الأقوال المختلفة لا تخرج عن الصواب، وما هو أقرب إليه، والخطأ، وما هو أقرب إليه، ومراتب القرب والبعد متفاوتة، وهذا النوع من الاختلاف لا يوجب معاداة ولا افتراقًا في الكلمة ولا تبديدًا للشمل فإن الصحابة رضي الله عنهم اختلفوا

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকে সত্য (حق) যেখানেই এবং যার কাছেই থাকুক না কেন—চাই সে ব্যক্তি তার অপ্রিয় বা শত্রু হোক না কেন—তা গ্রহণ করার এবং বাতিল (باطل) যার সাথেই থাকুক না কেন—চাই সে ব্যক্তি তার প্রিয় বা বন্ধু হোক না কেন—তা প্রত্যাখ্যান করার হেদায়েত দান করেছেন, তবে তিনি ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা মতভেদপূর্ণ বিষয়ে সত্যের (حق) পথে পরিচালিত হয়েছেন। সুতরাং এই ব্যক্তিই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, সঠিক পথের সবচেয়ে বড় অনুসারী এবং বক্তব্যে সবচেয়ে সুদৃঢ়। এই পথের অনুসারীরা যখন মতভেদ করেন, তখন তাদের সেই মতভেদ হয় রহমত ও হেদায়েতস্বরূপ; তারা একে অপরের মতকে স্বীকৃতি দেন এবং পরস্পর সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বজায় রাখেন। এটি পারস্পরিক সহযোগিতা ও পর্যালোচনার (مناظرة) অন্তর্ভুক্ত, যা মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে অপরিহার্য। এর মাধ্যমে তারা পর্যালোচনা (مناظرة), পরামর্শ (مشاورة), নিজস্ব অভিমত (رأي) প্রয়োগ এবং চিন্তাশীল গবেষণার মাধ্যমে সঠিক (صواب) সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর উপায়সমূহ অন্বেষণ করেন। ফলে তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ চিন্তাশক্তির স্ফুরণ ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে যা উপলব্ধি করেন তা উপস্থাপন করেন। অতঃপর যখন এই বিভিন্ন মতামত ও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যগুলোকে এমন এক বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা হয় যিনি কখনও অবিচার করেন না—আর তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة)—এবং পর্যালোচক যখন গোঁড়ামি ও পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে তার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের সংকল্প করেন, তখন সেই বক্তব্যগুলোর মধ্য থেকে সঠিক (صواب) কোনটি বা কোনটি সঠিকের (صواب) অধিকতর নিকটবর্তী, এবং ভুল (خطأ) কোনটি বা কোনটি ভুলের (خطأ) অধিকতর নিকটবর্তী তা তার কাছে খুব কমই অস্পষ্ট থাকে। কেননা বিভিন্ন বক্তব্যসমূহ সঠিক (صواب) বা তার নিকটবর্তী হওয়া এবং ভুল (خطأ) বা তার নিকটবর্তী হওয়ার ঊর্ধ্বে নয়; আর নৈকট্য ও দূরত্বের স্তরগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এই ধরণের মতভেদ শত্রুতা, অনৈক্য কিংবা সংহতি বিনষ্ট করার কারণ হয় না; কেননা সাহাবী (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গণও মতভেদ করেছিলেন।

(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৪)
في مسائل كثيرة من مسائل الفروع كالجد مع الإخوة، وعتق أم الولد بموت سيدها، ووقوع الطلاق الثلاث بكلمة واحدة، وفي الخلية والبرية والبتة، وفي بعض مسائل الربا، وفي بعض نواقص الوضوء وموجبات الغسل، وبعض مسائل الفرائض وغيرها، فلم ينصب بعضهم لبعض عداوة، ولا قطع بينه وبينه عصمة، بل كانوا كل منهم يجتهد في نصر قوله بأقصى ما يقدر عليه، ثم يرجعون بعد المناظرة إلى الألفة والمحبة والمصافاة والموالاة، من غير أن يضمر بعضهم لبعض ضغنا، ولا ينطوي له على معتبة ولا ذم، بل يدل المستفتي عليه مع مخالفته له، ويشهد له بأنه خير منه وأعلم منه، فهذا الاختلاف أصحابه بين الأجرين والأجر، وكل منهم مطيع لله بحسب نيته واجتهاده وتحريه الحق". (1)

--------------------------------------------

(1) الصواعق المرسلة لابن القيم 2 / 214-218.

শাখা-প্রশাখাগত বহু মাসআলার ক্ষেত্রে—যেমন: ভাইদের সাথে দাদার উত্তরাধিকারের বিধান, মালিকের মৃত্যুতে উম্মে ওয়ালাদ-এর (সন্তানবতী দাসী) মুক্তি, এক শব্দে তিন তালাক কার্যকর হওয়া, এবং আল-খালিয়াহ, আল-বারিয়াহ ও আল-বাত্তাহ (তালাকের বিশেষ পরিভাষা) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ, সুদের কিছু মাসআলা, অজু ভঙ্গের কিছু কারণ ও গোসলের ওয়াজিবসমূহ এবং উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ)-এর কিছু মাসআলাসহ আরও অনেক বিষয়ে—তারা একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করেননি এবং তাদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও ছিন্ন করেননি। বরং তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ মতের সমর্থনে সাধ্যমতো ইজতিহাদ করতেন; অতঃপর জ্ঞানগর্ভ আলোচনার পর তারা পুনরায় হৃদ্যতা, ভালোবাসা, নির্মলতা ও সৌহার্দ্যের দিকে ফিরে আসতেন। তাদের কেউ একে অপরের প্রতি মনে কোনো বিদ্বেষ পোষণ করতেন না এবং কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা নিন্দাকে অন্তরে স্থান দিতেন না। বরং ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও তারা ফতোয়া প্রার্থীকে অন্য আলিমের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং সাক্ষ্য দিতেন যে, ওই ব্যক্তি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও অধিক জ্ঞানী। সুতরাং এই প্রকারের মতভেদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দ্বিগুণ সওয়াব অথবা একটি সওয়াবের অধিকারী হন। আর তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ নিয়ত, ইজতিহাদ ও সত্য অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা অনুযায়ী আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল।

--------------------------------------------

(১) আস-সাওয়ায়েকুল মুরসালাহ, ইবনুল কাইয়্যিম ২ / ২১৪-২১৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذا النوع من الاختلاف بهذا المسلك الذي ذكره يراه بعض أهل العلم كالشاطبي رحمه الله يرجع في الحقيقة إلى وفاق، "فإن الاختلاف في بعض المسائل الفقهية راجع إما إلى دورانها بين طرفين واضحين يتعارضان في أنظار المجتهدين، وإما إلى خفاء بعض الأدلة، أو إلى عدم الاطلاع على الدليل. وهذا الثاني ليس في الحقيقة خلافا، إذ لو فرضنا اطلاع المجتهد على ما خفي عليه لرجع عن قوله، فلذا ينقضي لأجله قضاء القاضي. أما الأول فإن تردده بين الطرفين تحر لقصد الشارع المبهم بينهما من كل واحد من المجتهدين، واتباع للدليل المرشد إلى تعرف قصده. وقد توافقوا في هذين القصدين توافقا لو ظهر معه لكل واحد منهما خلاف ما رآه لرجع إليه، ولوافق صاحبه. وسواء قلنا بالتخطئة أو بالتصويب، إذ لا يصح للمجتهد أن يعمل على قول غيره وإن كان مصيبا أيضا. فالإصابة على قول المصوبة إضافية. فرجع القولان إلى قول واحد بهذا الاعتبار. فهم في الحقيقة متفقون لا مختلفون. ومن هنا يظهر وجه التحاب والتآلف بين المختلفين في مسائل الاجتهاد ; لأنهم مجتمعون على طلب قصد الشارع، فلم يصيروا شيعا، ولا تفرقوا فرقا". (1)

--------------------------------------------

(1) الموسوعة الفقهية 2 / 295.
এই ধরণের মতভেদ (اختلاف) যে পদ্ধতির মাধ্যমে এখানে বর্ণিত হয়েছে, ইমাম শাতবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতো কোনো কোনো আলিমের মতে তা প্রকৃতপক্ষে ঐক্যের দিকেই ফিরে যায়। "কেননা কিছু ফিকহি মাসআলার ক্ষেত্রে মতভেদ (اختلاف) মূলত দুটি স্পষ্ট বিষয়ের মাঝে দোদুল্যমান হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয় যা মুজতাহিদগণের (مجتهدين) দৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী মনে হয়। অথবা কোনো কোনো দলিলের অস্পষ্টতা কিংবা দলিল সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণে এটি ঘটে থাকে। আর এই দ্বিতীয় বিষয়টি মূলত প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধ নয়; কারণ যদি আমরা ধরে নিই যে মুজতাহিদ (مجتهد) সেই অস্পষ্ট বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছেন, তবে তিনি অবশ্যই তার নিজের মত থেকে ফিরে আসতেন। এই কারণেই এ ক্ষেত্রে বিচারকের রায়ও নাকচ হয়ে যায়। আর প্রথম বিষয়টি অর্থাৎ—দুই দিকের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া—তা মূলত প্রত্যেক মুজতাহিদের (مجتهد) পক্ষ থেকে শরিয়তপ্রণেতার সেই উদ্দেশ্যটি অন্বেষণ করার নামান্তর যা তাদের নিকট অস্পষ্ট ছিল এবং তাঁর উদ্দেশ্য নির্ধারণকারী দলিলের অনুসরণ মাত্র। তারা এই উভয় উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ যে, যদি তাদের প্রত্যেকের কাছে নিজের মতের বিপরীত কিছু স্পষ্ট হতো, তবে তারা সেদিকেই ফিরে আসতেন এবং একে অপরের সাথে একমত হতেন। চাই আমরা ভুল সাব্যস্ত করার (تخطئة) নীতি গ্রহণ করি বা সঠিক সাব্যস্ত করার (تصويب) নীতি গ্রহণ করি না কেন, এটি অপরিবর্তিত থাকে। কারণ একজন মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য অন্য কারও মত অনুযায়ী আমল করা বৈধ নয়, যদিও সেই ব্যক্তি সঠিক (مصيب) হয়ে থাকেন। সুতরাং যারা প্রত্যেক মুজতাহিদকে সঠিক মনে করেন তাদের মতে, সঠিক হওয়া (إصابة) বিষয়টি আপেক্ষিক। ফলে এই বিবেচনা অনুযায়ী উভয় বক্তব্যই একটি বক্তব্যে পরিণত হয়। তারা প্রকৃতপক্ষে একমত, ভিন্ন মতাবলম্বী নন। আর এখান থেকেই ইজতিহাদি (اجتهاد) মাসআলাসমূহে মতভেদকারীদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়; কারণ তারা সকলে শরিয়তপ্রণেতার উদ্দেশ্য অনুসন্ধানের ওপর ঐক্যবদ্ধ। ফলে তারা কোনো উপদলে পরিণত হননি এবং বিভিন্ন দলে বিভক্তও হয়ে পড়েননি।" (১)

--------------------------------------------

(১) আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২ / ২৯৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৬)
فلو نظرت هذا النوع من الاختلاف الذي حمده الشاطبي وابن القيم وغيرهم من أهل العلم وجدت الحمد منصبًا على اتفاق المختلفين في مراعاتهم قصد الشارع وطلبهم لمراده واتباعهم الدليل الذي ظهر منهم ومن هذه الجهة جاء مدح مثل هؤلاء المختلفين.

আপনি যদি এই প্রকারের মতভেদ (اختلاف)-এর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন যা ইমাম শাতিবি, ইবনুল কায়্যিম এবং অন্যান্য বিদগ্ধ আলেমগণ প্রশংসা করেছেন, তবে দেখবেন যে, এই প্রশংসা মূলত মতবিরোধকারীদের সেই ঐকমত্যের ওপর নিবদ্ধ যেখানে তাঁরা শরিয়তদাতার উদ্দেশ্য (قصد الشارع) বিবেচনা করেছেন, তাঁর অভিপ্রায় অন্বেষণ করেছেন এবং তাঁদের নিকট প্রকাশিত দলিলের (دليل) অনুসরণ করেছেন। আর এই প্রেক্ষাপট থেকেই এ জাতীয় মতবিরোধকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويتبع للتقسيم الذي سبق‌‌ نوع آخر من الاختلاف:

وهو وفاق في الحقيقة وهو اختلاف في الاختيار والأولى بعد الاتفاق على جواز الجميع كالاختلاف في أنواع الأذان والإقامة وصفات التشهد والاستفتاح وأنواع النسك الذي يحرم به قاصد الحج والعمرة وأنواع صلاة الخوف والأفضل من القنوت أو تركه ومن الجهر بالبسملة أو إخفائها ونحو ذلك فهذا وإن كان صورته صورة اختلاف فهو اتفاق في الحقيقة". (1)

--------------------------------------------

(1) الصواعق 2 / 219.
পূর্ববর্তী বিভাজনের অনুগামী হিসেবে ভিন্ন এক প্রকারের মতপার্থক্য (اختلاف) রয়েছে:

আর এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ঐকমত্য (وفاق), তবে এটি হলো অগ্রাধিকার প্রদান এবং কোনটি অধিক উত্তম সেই নির্বাচনের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য (اختلاف); যেখানে সকল পদ্ধতির বৈধতার বিষয়ে ঐকমত্য (اتفاق) প্রতিষ্ঠিত। যেমন: আযান ও ইকামতের বিভিন্ন ধরন, তাশাহহুদ ও সানা (استفتاح) পাঠের পদ্ধতিসমূহ, হজ ও উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধার ইবাদতগত (نسك) প্রকারভেদসমূহ, ভয়ভীতির নামাজের (صلاة الخوف) পদ্ধতিসমূহ, কুনুত পাঠ করা বা বর্জন করার মধ্যে কোনটি অধিক উত্তম এবং বিসমিল্লাহ উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা বা নীরবে পাঠ করা ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ। সুতরাং এগুলো বাহ্যিক রূপ বিচারে মতপার্থক্য (اختلاف) মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা একটি ঐকমত্য (اتفاق)। (১)

--------------------------------------------

(১) আস-সাওয়ায়েক ২ / ২১৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮)
والأصل ذم الخلاف وتجنبه، مادام اختلافًا حقيقيًا قد يسبب فرقة ويوقع في تعارض، وهذا ما دلت عليه نصوص الوحيين ففي السنة جاء النهي عن "الذرائع التي توجب الاختلاف والتفرق والعداوة والبغضاء كخطبة الرجل على خطبة أخيه وسومه على سومه وبيعه على بيعه وسؤال المرأة طلاق ضرتها وقال إذا بويع لخليفتين فاقتلوا الآخر منهما سدا لذريعة الفتنة والفرقة ونهى عن قتال الأمراء والخروج على الأئمة وإن ظلموا وجاروا ما أقاموا الصلاة سدا لذريعة الفساد العظيم والشر الكبير بقتالهم كما هو الواقع فإنه حصل بسبب قتالهم والخروج عليهم من الشرور أضعاف أضعاف ما هم عليه والأمة في تلك الشرور إلى الآن". (1)

وأدلة القرآن كثيرة ومنها:

--------------------------------------------

(1) إغاثة اللهفان ص369.
মূলনীতি হলো মতভেদকে নিন্দা করা এবং তা পরিহার করা, যতক্ষণ এটি এমন একটি প্রকৃত মতভেদ যা বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে এবং দ্বন্দ্বের সম্মুখীন করতে পারে। ওহীদ্বয়ের পাঠসমূহ এই বিষয়টিই নির্দেশ করে। সুন্নাহর মধ্যে এমন সব মাধ্যম থেকে নিষেধ করা হয়েছে যা মতবিরোধ, বিভেদ, শত্রুতা ও বিদ্বেষের কারণ হয়; যেমন কোনো ব্যক্তির তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেওয়া, তার দরাদরি চলাকালীন দরাদরি করা, তার বিক্রয়ের ওপর বিক্রয় করা এবং কোনো মহিলার তার সতিনের তালাক প্রার্থনা করা। তিনি বলেছেন: "যখন দুই খলিফার জন্য বাইয়াত নেওয়া হয়, তখন তাদের মধ্যে পরবর্তীজনকে হত্যা করো," ফিতনা (فتنة) ও বিভেদের পথ রুদ্ধ করার জন্য। আর তিনি আমিরদের সাথে যুদ্ধ করা এবং ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা থেকে নিষেধ করেছেন, যদিও তারা জুলুম ও অন্যায় করে—যতক্ষণ তারা সালাত কায়েম রাখে। এটি তাদের সাথে যুদ্ধ করার ফলে সৃষ্ট বিশাল ফাসাদ ও মহা-অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করার নিমিত্তে, যেমনটি বাস্তব ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়; কেননা তাদের সাথে যুদ্ধ এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণে যে পরিমাণ অনিষ্ট সাধিত হয়েছে, তা তারা যা করছিল তার চেয়ে বহুগুণ বেশি। আর উম্মাহ এখন পর্যন্ত সেই অনিষ্টের আবর্তে রয়েছে। (১)

আর কুরআনের দলিলসমূহ অসংখ্য, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) ইগাসাতুল লাহফান, পৃষ্ঠা ৩৬৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الله تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} .

وقال سبحانه: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} .
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো; যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তসীমায়, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও।} {আর তোমাদের মধ্য থেকে এমন এক জাতি থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম।} {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতভেদ করেছে; আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।} .

এবং তিনি পবিত্র ও মহান সত্তা বলেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে; আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} .
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال عز وجل: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ} {وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِنْ بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مُرِيبٍ} .

وقال سبحانه: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ} .
এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ আমি ইব্রাহিম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না। আপনি মুশরিকদের যার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন তা তাদের নিকট অত্যন্ত দুঃসহ মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন সান্নিধ্যে টেনে নেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি সঠিক পথ দেখান।} {তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশত তারা নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। আপনার রবের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ প্রদানের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের ফয়সালা হয়ে যেত। আর তাদের পর যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে লিপ্ত।}।

এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {এটি এজন্য যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছেন। আর যারা কিতাব নিয়ে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই চরম বিরোধে লিপ্ত।}।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২১)
بل عمل الخير إذا قصد به التمييز والتفريق بين المؤمنين كان لأصحابه نصيب من الذم، قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِنْ قَبْلُ وَلَيَحْلِفُنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا الْحُسْنَى وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ} {لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} .

فالاختلاف ما دام اختلاف تعارض ينقض بعضه بعضا شر لا يسلم منه إلاّ من كان معه الصواب، فإذا توزع الصواب بين المختلفين كان معهم من الخير والبعد عن الذم بمقدار ما معهم من الحق، ومع ذلك قد يعذر فيه المجتهد المخطئ بل يثاب لإرادته الخير وقصده، ولهذا يسلم من آثار الاختلاف المذموم المجتهدون الذين استفرغوا وسعهم في معرفة الحق والعمل به.
বরং নেক আমল বা ভালো কাজও যদি মুমিনদের মধ্যে বিভাজন ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে তার কর্তাদের জন্য নিন্দার অংশ অবধারিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন, কুফরি এবং মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের গোপন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য; তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (كاذبون)} {আপনি কখনো সেখানে দাঁড়াবেন না। অবশ্যই যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর স্থাপিত হয়েছে, তা আপনার দাঁড়ানোর জন্য অধিকতর উপযুক্ত। সেখানে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন}।

সুতরাং মতভেদ যতক্ষণ এমন বিরোধপূর্ণ হয় যা একে অপরকে খণ্ডন করে, ততক্ষণ তা অনিষ্ট বা অমঙ্গল হিসেবে গণ্য, যা থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই রক্ষা পায় যার নিকট সঠিক বিষয়টি বিদ্যমান। আর যখন মতভেদকারীদের মাঝে সঠিক বিষয়টি বিভক্ত অবস্থায় থাকে, তখন তাদের কাছে যতটুকু হক বা সত্য বিদ্যমান থাকে, সেই অনুপাতে তারা কল্যাণ লাভ করে এবং নিন্দা থেকে দূরে থাকে। এতৎসত্ত্বেও, ভুলকারী মুজতাহিদ (مجتهد) এক্ষেত্রে ক্ষমাপ্রাপ্ত হতে পারেন, বরং তাঁর কল্যাণকামনা ও সৎ সংকল্পের কারণে তিনি সওয়াবপ্রাপ্ত হন। এই কারণেই সেই সকল মুজতাহিদগণ (مجتهدون) নিন্দনীয় মতভেদের কুপ্রভাব থেকে নিরাপদ থাকেন, যারা সত্য জানা এবং তদনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে নিজেদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الاختلاف بين المشيئة الكونية والشرعية:

الاختلاف سنة كونية وقدر واقع لا محالة بمشيئة الله الكونية، قال الله تعالى: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ} {إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} .

والقدر الكوني إن كان شرًا فيجب أن يسعى الإنسان للخروج منه وعدم الوقوع فيه، كالكفر فهو قدر كوني حكم الله بوجوده كونًا، ومع ذلك واجب على كل إنسان أن يجتنبه وكذلك المعاصي، وكل ذلك مقدر شاء الله وقوعه كونًا بناء على علمه باختيار الإنسان، فالله عز وجل وهب خلقه مشيئة واختيارًا خاضعة لمشيئة الله مع علمه باختيارهم وكتابته له وتقدير كونه منهم.

فالخلاف قد يكون قدرًا كونيًا فيه شر ولا يخلو من خير -فالله لا يخلق شرًا محضًا- فلا يستسلم له العبد بل يقاومه بالقدر، فإن لم يزله خفف من آثاره وخرج بأقل أضراره.
বৈশ্বিক ইচ্ছা (مشيئة كونية) এবং বিধানগত ইচ্ছার (مشيئة شرعية) মধ্যে পার্থক্য:

মতভেদ একটি সৃষ্টিগত নিয়ম (سنة كونية) এবং অনিবার্যভাবে সংঘটিত হওয়া তাকদির (قدر), যা আল্লাহর বৈশ্বিক ইচ্ছা (مشيئة كونية) অনুযায়ী হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমার রব যদি চাইতেন, তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে এক উম্মত করে দিতেন; কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে} {তবে তারা ছাড়া যাদের প্রতি তোমার রব দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার রবের এই কথাটি পূর্ণ হয়েছে যে, ‘আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব’}।

সৃষ্টিগত তাকদির (قدر كوني) যদি মন্দ হয়, তবে তা থেকে বেরিয়ে আসার এবং তাতে লিপ্ত না হওয়ার চেষ্টা করা মানুষের জন্য আবশ্যক। যেমন কুফর; এটি একটি সৃষ্টিগত তাকদির (قدر كوني) যার অস্তিত্বের ফয়সালা আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবে দিয়েছেন, তা সত্ত্বেও তা বর্জন করা প্রত্যেক মানুষের জন্য আবশ্যক; একইভাবে পাপাচারও। এই সব কিছুই নির্ধারিত, যা মানুষের পছন্দের বিষয়ে আল্লাহর পূর্বজ্ঞানের ভিত্তিতে তিনি সৃষ্টিগতভাবে ঘটার ইচ্ছা করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিকে ইচ্ছা ও নির্বাচনের ক্ষমতা দান করেছেন যা আল্লাহরই ইচ্ছার অধীন। পাশাপাশি তিনি তাদের নির্বাচন সম্পর্কে সম্যক অবগত, তা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে তা ঘটার তাকদির (قدر) নির্ধারণ করেছেন।

সুতরাং মতভেদ কখনো এমন সৃষ্টিগত তাকদির (قدر كوني) হতে পারে যার মধ্যে মন্দ রয়েছে, তবে তা কল্যাণ বর্জিত নয়—কেননা আল্লাহ নিছক মন্দ সৃষ্টি করেন না—তাই বান্দা এর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না, বরং তাকদির (قدر) দিয়েই তা প্রতিহত করবে। যদি তা পুরোপুরি দূর করতে সক্ষম না হয়, তবে এর প্রভাব লাঘব করবে এবং ন্যূনতম ক্ষতির মাধ্যমে তা থেকে বেরিয়ে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌مسألة هل الاختلاف رحمة وخير أم عذاب وشر؟

رُويت في ذلك أحاديث لا تثبت مثل حديث «أصحابي كالنجوم فبأيهم اقتديتم اهتديتم،» (1) وحديث «اختلاف أمتي رحمة» . (2)

ومع عدم ثبوت نص تباينت أقوال السلف في المسألة فأثر:"عن عمر بن عبد العزيز قوله: ما أحب أن أصحاب رسول الله لم يختلفوا; لأنه لو كان قولا واحدا كان الناس في ضيق، وأنهم أئمة يقتدى بهم، فلو أخذ أحد بقول رجل منهم كان في سعة.

وعن يحيى بن سعيد أنه قال: اختلاف أهل العلم توسعة، وما برح المفتون يختلفون، فيحلل هذا ويحرم هذا، فلا يعيب هذا على هذا، ولا هذا على هذا.

وقال ابن عابدين: الاختلاف بين المجتهدين في الفروع - لا مطلق الاختلاف - من آثار الرحمة فإن اختلافهم توسعة للناس. قال: فمهما كان الاختلاف أكثر كانت الرحمة أوفر.

وهذه القاعدة ليست متفقا عليها، فقد روى ابن وهب عن إمام دار الهجرة مالك بن أنس أنه قال: ليس في اختلاف أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم سعة، وإنما الحق في واحد.

وقال المزني صاحب الشافعي: ذم الله الاختلاف وأمر بالرجوع عنده إلى الكتاب والسنة.

وتوسط ابن تيمية بين الاتجاهين، فرأى أن الاختلاف قد يكون رحمة، وقد يكون عذابًا.

--------------------------------------------

(1) نقل الإمام ابن تيميه تضعيفه عن الأئمة في منهاج السنة 4 / 238، وقال الحافظ العراقي في مختصر المنهاج: إسناده ضعيف من أجل حمزة فقد اتهم بالكذب ص55، وقد حكم الألباني بوضعه في غير موضع انظر الضعيفة 58.

(2) ذكر الألباني أنه موضوع لا سند له انظر ضعيف الجامع 230، وبداية السول ص19، وقد ذكر الحافظ العراقي أثر: اختلاف أصحابي لأمتي رحمة وحكم بأنه مرسل ضعيف، مختصر المنهاج ص60.
মাসয়ালা: মতভেদ কি রহমত ও কল্যাণ, নাকি আজাব ও অকল্যাণ?

এ বিষয়ে এমন কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা প্রমাণিত নয় (لا تثبت), যেমন: «আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের যারই অনুসরণ করবে, হিদায়াত প্রাপ্ত হবে,» (১) এবং «আমার উম্মতের মতভেদ রহমতস্বরূপ»। (২)

কোনো অকাট্য নস বা পাঠ প্রমাণিত না হওয়ায় এ বিষয়ে সালাফদের অভিমত ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন: «রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণ মতভেদ করবেন না—এটি আমি পছন্দ করি না; কারণ যদি তাঁদের বক্তব্য একটিই হতো তবে মানুষ সংকীর্ণতার মধ্যে পড়ত। তাঁরা এমন ইমাম যাদের অনুসরণ করা হয়; ফলে কেউ যদি তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজনের মত গ্রহণ করে, তবে সে প্রশস্ততার মধ্যে থাকে।»

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «বিদ্বানগণের মতভেদ হলো প্রশস্ততা। মুফতিগণ সর্বদা মতভেদ করে এসেছেন; ফলে একজন একে হালাল করেন এবং অন্যজন একে হারাম করেন, কিন্তু কেউ কাউকে দোষারোপ করেন না।»

ইবনে আবিদিন বলেন: «ফুরুআত বা শাখা-প্রশাখায় মুজতাহিদগণের মধ্যে মতভেদ—সাধারণ যেকোনো মতভেদ নয়—তা রহমতের প্রভাবেরই অন্তর্ভুক্ত। কারণ তাঁদের মতভেদ মানুষের জন্য প্রশস্ততাস্বরূপ।» তিনি আরও বলেন: «মতভেদ যত বেশি হবে, রহমত তত বেশি হবে।»

তবে এই নীতিটি সর্বসম্মত নয়। ইবনে ওয়াহাব দারুল হিজরতের ইমাম মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণের মতভেদের মধ্যে কোনো প্রশস্ততা নেই, বরং সত্য কেবল একটিই।»

ইমাম শাফেয়ীর শিষ্য আল-মুযানী বলেন: «আল্লাহ তাআলা মতভেদকে নিন্দা করেছেন এবং মতভেদের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন।»

ইবনে তাইমিয়্যাহ এই দুই মতের মধ্যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। তিনি মনে করেন যে, মতভেদ কখনো রহমত হতে পারে, আবার কখনো আজাবও হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে (৪/২৩৮) ইমামদের থেকে এর দুর্বলতা বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আল-ইরাকি মুখতাসারুল মিনহাজ গ্রন্থে বলেন: হামযা নামক রাবীর কারণে এর সনদ দুর্বল (ضعيف), কারণ সে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (اتهم بالكذب) ছিল (পৃ. ৫৫)। আলবানী একাধিক স্থানে একে জাল (موضوع) বলে হুকুম দিয়েছেন, দেখুন: আল-দঈফাহ ৫৮।

(২) আলবানী উল্লেখ করেছেন যে এটি জাল (موضوع), যার কোনো সনদ নেই; দেখুন: দঈফুল জামি' ২৩০ ও বিদায়াতুস সূল (পৃ. ১৯)। হাফেজ আল-ইরাকি ‘আমার সাহাবীদের মতভেদ আমার উম্মতের জন্য রহমত’—এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন এবং একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) ও দুর্বল (ضعيف) বলে হুকুম দিয়েছেন; মুখতাসারুল মিনহাজ (পৃ. ৬০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال: النزاع في الأحكام قد يكون رحمة إذا لم يفض إلى شر عظيم من خفاء الحكم. والحق في نفس الأمر واحد، وقد يكون خفاؤه على المكلف - لما في ظهوره من الشدة عليه - من رحمة الله به، فيكون من باب {لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} . وهكذا ما يوجد في الأسواق من الطعام والثياب قد يكون في نفس الأمر مغصوبا، فإذا لم يعلم الإنسان بذلك كان كله حلالا لا شيء عليه فيه بحال، بخلاف ما إذا علم. فخفاء العلم بما يوجب الشدة قد يكون رحمة، كما أن خفاء العلم بما يوجب الرخصة قد يكون عقوبة، كما أن رفع الشك قد يكون رحمة وقد يكون عقوبة. والرخصة رحمة. وقد يكون مكروه النفس أنفع كما في الجهاد". (1)

--------------------------------------------

(1) الموسوعة الفقهية 2 / 295-296 بتصرف يسير.
তিনি বলেন: "বিধানাবলি (الأحكام) সংক্রান্ত মতপার্থক্য রহমত হতে পারে, যদি তা বিধানের অস্পষ্টতা থেকে উদ্ভূত বড় কোনো মন্দের দিকে ধাবিত না করে। বস্তুত প্রকৃত সত্য (الحق) একটিই। শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) নিকট সত্য গোপন থাকা—যা প্রকাশ পেলে তার ওপর কঠোরতা (الشدة) আসার সম্ভাবনা ছিল—তার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত হতে পারে। আর এটি নিম্নোক্ত আয়াতের পর্যায়ভুক্ত: {তোমরা এমন সব বস্তু সম্পর্কে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের নিকট প্রকাশ করা হলে তোমাদের জন্য পীড়াদায়ক হবে}। অনুরূপভাবে বাজারে বিদ্যমান খাদ্য ও বস্ত্র প্রকৃতপক্ষে জবরদখলকৃত (مغصوب) হতে পারে, কিন্তু মানুষ যদি তা না জানে তবে তা তার জন্য পুরোপুরি বৈধ (حلال) এবং কোনো অবস্থাতেই এর জন্য সে দায়ী হবে না; অথচ জানার বিষয়টি এর ভিন্ন। সুতরাং যা কঠোরতা (الشدة) আনয়ন করে এমন বিষয়ের জ্ঞান গোপন থাকা রহমত হতে পারে, যেমনিভাবে যা শিথিলতা (الرخصة) আনয়ন করে এমন বিষয়ের জ্ঞান গোপন থাকা শাস্তি হতে পারে। আবার সংশয় (الشك) দূর হওয়া রহমত হতে পারে, আবার শাস্তিও হতে পারে। আর শিথিলতা (الرخصة) হলো রহমত। আর অনেক সময় যা মনের কাছে অপছন্দনীয় তা-ই অধিক কল্যাণকর হয়, যেমনটি জিহাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।" (১)

--------------------------------------------

(১) আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২ / ২৯৫-২৯৬, সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌عمل أهل العلم على الخروج من الخلاف:

لكون الاختلاف مذموما من حيث الجملة، فقد راعى كثير من أهل العلم الخروج من الخلاف في تعليل كثير من الأحكام، ومن ذلك قول بعض فقهاء الحنابلة بكراهة الطهارة بالماء المتغير بمجاورة أو بملح مائي مع أنه طهور، ولكنهم يعللون بمخالفة غيرهم لهم فيما اختاروا، فاستحبوا الخروج من الخلاف بكراهة استعمال ذلك الماء. (1)

ومنه كذلك قول بعض فقهاء الأحناف بالندب للإشهاد على الرجعة خروجًا من الخلاف. (2)

ومنه قول بعض فقهاء المالكية بطواف القدوم بنية الركنية خروجًا من الخلاف. (3)

ومنه قول الشافعية باستحباب عدم القصر لسفر أقل من مسيرة ثلاث أيام للخروج من الخلاف. (4)

ويكاد يطبق أرباب المذاهب الأربعة على التعليل بالخروج من الخلاف في اختياراتهم الفقهية.

--------------------------------------------

(1) الممتع شرح زاد المستقنع لابن عثيمين كتاب الطهارة 1 /.

(2) البحر الرائق لابن نجيم 4 / 55.

(3) منح الجليل شرح مختصر خليل، لعليش 2 / 222.

(4) المجموع 4 / 212.
মতপার্থক্য এড়িয়ে চলার (الخروج من الخلاف) বিষয়ে আলেমগণের কর্মপদ্ধতি:

যেহেতু মতপার্থক্য সাধারণভাবে নিন্দনীয়, তাই অনেক আলেম বিভিন্ন বিধানের কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে মতপার্থক্য এড়িয়ে চলার (الخروج من الخلاف) বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। এর একটি উদাহরণ হলো কিছু হাম্বলি ফকিহদের অভিমত, যারা পার্শ্ববর্তী কোনো বস্তু বা পানির লবণের কারণে পরিবর্তিত পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করাকে মাকরূহ (كراهة) বলেছেন, যদিও তা মূলত পবিত্রকারী (طهور)। তারা এর কারণ হিসেবে তাদের পছন্দের বিপরীতে অন্যদের ভিন্নমত থাকাকে উল্লেখ করেছেন। ফলে তারা মতপার্থক্য এড়িয়ে চলার (الخروج من الخلاف) উদ্দেশ্যে ওই পানি ব্যবহার করা মাকরূহ (كراهة) হওয়াকে উত্তম গণ্য করেছেন। (১)

অনুরূপভাবে, কিছু হানাফি ফকিহ মতপার্থক্য এড়িয়ে চলার (الخروج من الخلاف) খাতিরে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার (রাজআত) সময় সাক্ষী রাখাকে মুস্তাহাব (ندب) বলেছেন। (২)

তেমনিভাবে, কিছু মালিকি ফকিহ মতপার্থক্য এড়িয়ে চলার (الخروج من الخلاف) জন্য তাওয়াফে কুদুমকে রুকন (ركن) হওয়ার নিয়তে আদায় করার কথা বলেছেন। (৩)

শাফেয়ি ফকিহগণ তিন দিনের কম সময়ের সফরে নামাজ কসর না করাকে মতপার্থক্য এড়িয়ে চলার (الخروج من الخلاف) জন্য মুস্তাহাব (استحباب) বলেছেন। (৪)

চার মাযহাবের ইমামগণ তাদের ফিকহি পছন্দসমূহের স্বপক্ষে মতপার্থক্য এড়িয়ে চলাকে (الخروج من الخلاف) কারণ হিসেবে পেশ করার ক্ষেত্রে প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুমতি শারহু জাদিল মুস্তাকনি, ইবনে উসাইমিন, কিতাবুত তাহারাহ ১/।

(২) আল-বাহরুর রায়েক, ইবনে নুজাইম ৪/৫৫।

(৩) মানহুল জলিল শারহু মুখতাসারিল খালিল, আলিশ ২/২২২।

(৪) আল-মাজমু ৪/২১২।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولكنهم وضعوا لذلك ضوابط من أهمها ما قرره العز بن عبد السلام حيث يقول: "والضابط في هذا أن مأخذ المخالف إن كان في غاية الضعف والبعد عن الصواب فلا نظر إليه، ولا التفات عليه، إذ كان ما اعتمد عليه لا يصح نصه دليلًا شرعًا" (1) ثم قال: "وإن تقاربت الأدلة في سائر الخلاف بحيث لا يبعد قول المخالف كل البعد فهذا مما يستحب الخروج من الخلاف فيه حذرا من كون الصواب مع الخصم والشرع يحتاط لفعل الواجبات والمندوبات، كما يحتاط لترك المحرمات والمكروهات".

فالخلاف إذا كان له حظٌّ من النَّظر، والأدلَّة تحتمله، فالمحققون يكرهون ويستحبون لأجل الخروج منه؛ لا لأنَّ فيه خلافًا بل هو من باب «دَعْ ما يَريبُك إلى ما لا يَريبُك» ، ويتأكد هذا بل قد يتعين حتى مع الخلاف الضعيف إن خشي ترتب مفسدة أعظم على الخلاف.

أما إذا كان الخلاف لا حَظَّ له من النَّظر فلا يُمكن أن نعلِّلَ به المسائل؛ ونأخذ منه حكمًا.

 

فليس كلُّ خلافٍ جاء مُعتَبر … ًا إلا خلافٌ له حظٌّ من النَّظر

--------------------------------------------

(1) قواعد الأحكام للعز بن عبد السلام، 1 / 253.
কিন্তু তারা এর জন্য কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো যা ইজ্জ বিন আবদুস সালাম নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন: "এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এই যে, ভিন্নমত পোষণকারীর ভিত্তি যদি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف) এবং সঠিকতা থেকে অনেক দূরে হয়, তবে তা বিবেচ্য হবে না এবং তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না; যেহেতু তিনি যার ওপর নির্ভর করেছেন তার পাঠটি শরীয়তের দলিল হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) নয়।" (১) অতঃপর তিনি বলেন: "আর যদি অন্যান্য মতভেদের ক্ষেত্রে দলিলসমূহ কাছাকাছি হয়, যাতে ভিন্নমত পোষণকারীর বক্তব্যটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন না হয়, তবে এই মতভেদ থেকে বেরিয়ে আসা মুস্তাহাব (مستحب), যেন সত্যটি প্রতিপক্ষের সাথে থাকার সম্ভাবনা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা যায়। কেননা শরীয়ত যেমন ওয়াজিব ও মানদুব (مندوب) পালনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে, ঠিক তেমনি হারাম এবং মাকরূহ (مكروه) বর্জনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করে।"

সুতরাং মতভেদটি যদি বিবেচনাপ্রসূত হয় এবং দলিলসমূহ তার সম্ভাবনা রাখে, তবে গবেষকগণ সেই মতভেদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য কোনো কাজকে অপছন্দ করেন অথবা মুস্তাহাব মনে করেন; এটি কেবল সেখানে মতভেদ বিদ্যমান থাকার কারণে নয়, বরং এটি «যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা বর্জন করে যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না তার দিকে ধাবিত হও»—এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। আর এটি অধিকতর সুনিশ্চিত হয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে অপরিহার্য হয়ে পড়ে, এমনকি দুর্বল (ضعيف) মতভেদের ক্ষেত্রেও, যদি সেই মতভেদের ফলে আরও বড় কোনো অনিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে মতভেদটি যদি বিবেচনাপ্রসূত না হয়, তবে তার মাধ্যমে কোনো মাসআলার যৌক্তিকতা প্রমাণ করা সম্ভব নয় এবং তা থেকে কোনো বিধান গ্রহণ করাও যায় না।

 

কেননা প্রতিটি উপস্থিত মতভেদই ধর্তব্য নয় … কেবল সেই মতভেদই ধর্তব্য যার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) কাওয়ায়েদুল আহকাম, ইজ্জ বিন আবদুস সালাম, ১ / ২৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولأنَّ الأحكام لا تثبت إلاّ بدليل، ومراعاة الخلاف غير المعتبر لا تصلح دليلًا شرعيًا، فيقال: هذا مكروه، أو غير مكروه بناء عليه، إلاّ إن خشي ترتب مفسدة أعظم جراء الفرقة فتقدر حينها الأمور بقدرها وذلك لأمر خارج عن مجرد الخلاف غير المعتبر، مع العمل على إعادة الحق إلى نصابه وإقرار المصيب على صوابه.
যেহেতু বিধিসমূহ (الأحكام) দলিল (دليل) ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না, এবং অগ্রহণযোগ্য মতভেদ (الخلاف غير المعتبر) বিবেচনা করা শরয়ি দলিল (دليل شرعي) হওয়ার যোগ্যতা রাখে না; তাই এর ওপর ভিত্তি করে কোনো বিষয়কে অপছন্দনীয় (مكروه) বা অপছন্দনীয় (مكروه) নয়—এরূপ বলা যাবে না। তবে যদি বিভেদের কারণে বৃহত্তর কোনো অনিষ্টের (مفسدة) আশঙ্কা থাকে, তবে সেক্ষেত্রে বিষয়াবলিকে তার গুরুত্ব অনুযায়ী বিবেচনা করতে হবে; আর তা নিছক অগ্রহণযোগ্য মতভেদের (الخلاف غير المعتبر) বাইরের একটি স্বতন্ত্র বিষয়ের কারণে হবে। এর পাশাপাশি সত্যকে (الحق) তার সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা এবং সঠিক মত পোষণকারীকে তার সঠিকতার ওপর বহাল রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌حكم الاختلاف في العمل الإسلامي

حكم الاختلاف على أنواع:

" النوع الأول: أصول الدين التي تثبت بالأدلة القاطعة، كوجود الله تعالى ووحدانيته، وملائكته وكتبه ورسالة محمد صلى الله عليه وسلم والبعث بعد الموت ونحو ذلك. فهذه أمور لا مجال فيها للاختلاف، من أصاب الحق فيها فهو مصيب، ومن أخطأه فهو كافر.

النوع الثاني: بعض مسائل أصول الدين، مثل مسألة رؤية الله في الآخرة، وخلق القرآن، وخروج الموحدين من النار، وما يشابه ذلك، فقيل يكفر المخالف، ومن القائلين بذلك الشافعي. فمن أصحابه من حمله على ظاهره. ومنهم من حمله على كفران النعم.

النوع الثالث: [الأمور] (1) المعلومة من الدين بالضرورة كفرضية الصلوات الخمس، وحرمة الزنا، فهذا ليس موضعا للخلاف. ومن خالف فيه فقد كفر.

--------------------------------------------

(1) في أصل الموسوعة الفروع، وهذا محل نظر وإن جرى على ألسنة المتكلمين وقد بين ذلك المحققين من أهل العلم.
ইসলামী কর্মতৎপরতায় মতপার্থক্যের বিধান

মতপার্থক্যের বিধান কয়েক প্রকার:

" প্রথম প্রকার: দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (أصول الدين) যা অকাট্য প্রমাণাদি (الأدلة القاطعة) দ্বারা সাব্যস্ত, যেমন মহান আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদ, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। এই বিষয়গুলোতে মতপার্থক্যের কোনো অবকাশ নেই; যে ব্যক্তি এতে সত্যে উপনীত হয়েছে সে সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর যে ভুল করেছে সে অবিশ্বাসী (كافر)।

দ্বিতীয় প্রকার: দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (أصول الدين) কিছু মাসআলা, যেমন আখিরাতে আল্লাহকে দেখা, কুরআন মাখলুক হওয়া, একত্ববাদীদের জাহান্নাম থেকে বের হওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি। বলা হয়েছে যে, এতে বিরোধিতাকারী অবিশ্বাসী (كافر) হবে। ইমাম শাফিঈ এই মত পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ একে তার বাহ্যিক অর্থে গ্রহণ করেছেন, আবার কেউ কেউ একে নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা অর্থে গ্রহণ করেছেন।

তৃতীয় প্রকার: [বিষয়াবলি] (১) যা দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে পরিজ্ঞাত (المعلومة من الدين بالضرورة), যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হওয়া এবং ব্যভিচার হারাম হওয়া। এটি মতপার্থক্যের ক্ষেত্র নয়। যে ব্যক্তি এতে বিরোধিতা করবে সে অবিশ্বাসী (كافر) হয়ে যাবে।

--------------------------------------------

(১) বিশ্বকোষের মূল পাঠে এখানে 'আল-ফুরু' (শাখা-প্রশাখাগত বিষয়) শব্দটি রয়েছে, যা পর্যালোচনার দাবি রাখে, যদিও তা কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) নিকট প্রচলিত। ইলমে দীনের গবেষকগণ (المحققين) বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিলাফু ফিল আমালিল ইসলামী আল-আসবাব ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ২৯)
النوع الرابع: الفروع الاجتهادية التي قد تخفى أدلتها. فهذه الخلاف فيها واقع في الأمة. ويعذر المخالف فيها; لخفاء الأدلة أو تعارضها.. فأما إن كان في المسألة دليل صحيح صريح لم يطلع عليه المجتهد فخالفه، فإنه معذور بعد بذل الجهد، ويعذر أتباعه في ترك رأيه أخذا بالدليل الصحيح الذي تبين أنه لم يطلع عليه. فهذا النوع لا يصح اعتماده خلافا في المسائل الشرعية، لأنه اجتهاد لم يصادف محلا، وإنما يعد في مسائل الخلاف الأقوال الصادرة عن أدلة معتبرة في الشريعة". (1)

أما واقع العمل الإسلامي فإذا كان الاختلاف من قبيل التنوع كأن يتخصص كل فريق أو جماعة في عمل، فهو اختلاف صوري وهو مطلوب، أما إذا كان الاختلاف اختلاف تحزب وتعصب يمنع التعاون والتعاضد وسماع النصيحة من الآخر فهو اختلاف مذموم. وكثير منه يقع في مسائل اجتهادية أو فرعية المخالف فيها معذور، ومثل هذا الخلاف لا ينبغي أن يخرج بالناس إلى ساحة احتراب وتناحر، بل لأصحابه في صحابة رسول الله أسوة حسنة، فمع مخالفة بعضهم لبعض بقي إقرارهم بفضل ذوي الفضل وتوقيرهم مع عمل كل برأيه وسعيه لنشره.

--------------------------------------------

(1) الموسوعة الفقهية 2 / 293-294 بتصرف يسير واختصار.
চতুর্থ প্রকার: ইজতিহাদভিত্তিক শাখাগত মাসআলাসমূহ যেগুলোর দলীলসমূহ অস্পষ্ট হতে পারে। এ সকল বিষয়ে উম্মাহর মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। এক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণকারী ওজরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন; দলীলের অস্পষ্টতা অথবা সেগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য থাকার কারণে। তবে যদি কোনো মাসআলায় এমন কোনো সহীহ (صحيح) ও সুস্পষ্ট দলীল থাকে যা মুজতাহিদের গোচরীভূত হয়নি বিধায় তিনি এর বিপরীতে মত দিয়েছেন, তবে তিনি স্বীয় প্রচেষ্টার পর ওজরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন। আর তার অনুসারীরাও তার মত পরিত্যাগ করে সেই সহীহ (صحيح) দলীলটি গ্রহণের ক্ষেত্রে ওজরপ্রাপ্ত হবেন, যা পরবর্তীতে প্রতীয়মান হয়েছে যে মুজতাহিদের নজরে পড়েনি। সুতরাং এই প্রকারের মতভেদকে শরয়ী মাসআলার ক্ষেত্রে ধর্তব্য মতপার্থক্য হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক নয়; কারণ এটি এমন এক ইজতিহাদ যা সঠিক ক্ষেত্র পায়নি। মূলত শরীয়তের নির্ভরযোগ্য (معتبرة) দলীলসমূহ থেকে উৎসারিত বক্তব্যসমূহকেই কেবল মতভেদপূর্ণ মাসআলার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।" (১)

ইসলামি কর্মতৎপরতার বাস্তব প্রেক্ষাপটে বলা যায়, যদি মতপার্থক্যটি বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়—যেমন প্রতিটি দল বা গোষ্ঠী কোনো বিশেষ কাজে আত্মনিয়োগ করে—তবে তা কেবল বাহ্যিক মতভেদ এবং এটি কাম্য। কিন্তু যদি মতপার্থক্যটি দলাদলি ও গোঁড়ামির রূপ নেয় যা পারস্পরিক সহযোগিতা, সংহতি এবং অন্যের সদুপদেশ শ্রবণে বাধা প্রদান করে, তবে তা একটি নিন্দনীয় মতভেদ। এর অধিকাংশ এমন সব ইজতিহাদি বা শাখাগত মাসআলায় ঘটে থাকে যেখানে ভিন্নমত পোষণকারী ওজরপ্রাপ্ত। এ ধরণের মতভেদ মানুষকে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও হানাহানির ময়দানে ঠেলে দেওয়া সমীচীন নয়; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণের জীবনে উত্তম আদর্শ রয়েছে। কেননা একে অপরের সাথে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও গুণীজনদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে তারা অবিচল ছিলেন; আর তার পাশাপাশি প্রত্যেকে নিজ নিজ মত অনুযায়ী আমল করতেন এবং তা প্রসারে সচেষ্ট থাকতেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মাওসূআ আল-ফিকহিয়্যাহ ২/২৯৩-২৯৪, সামান্য পরিমার্জন ও সংক্ষেপণসহ।