(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: -)
المتفق والمفترق فيمن ذكر بكنيته من الرواة في الكتب الستة   (يوسف بن جودة الداودي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: المتفق والمفترق فيمن ذكر بكنيته من الرواة في الكتب الستة

(مستلة من حولية كلية أصول الدين والدعوة بالمنوفية)

المؤلف: يوسف بن جودة يس يوسف الداودي

الناشر: دار الأندلس للطباعة - شبين الكوم، مصر

عدد الصفحات: 114

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 محرم 1438

সিত্তাহ বা ছয় কিতাবে যাদের উপনাম (কুনিয়াত) উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক (নামের অভিন্নতা ও পরিচয়ের পার্থক্য)   (ইউসুফ বিন জওদাহ আদ-দাউদি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: সিত্তাহ বা ছয় কিতাবে যাদের উপনাম (কুনিয়াত) উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক

(মানুফিয়ার উসুল আদ-দীন ও দাওয়াহ অনুষদের বার্ষিকী থেকে সংগৃহীত)

লেখক: ইউসুফ বিন জওদাহ ইয়াসিন ইউসুফ আদ-দাউদি

প্রকাশক: দারুল আন্দালুস প্রিন্টিং প্রেস - শিবীন আল-কউম, মিসর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে মিল রয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ মুহররম ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১)
جامعة الأزهر

كلية أصول الدين والدعوة الإسلامية بالمنوفية

المُتَّفِقُ والمُفْتَرِقُ

فيمن ُذِكرَ بِكُنْيَتهِ من الرُّواةِ في الكتب السِّتَّةِ

 

تأليف

الدكتور/ يوسف بن جودة بن يس الدَّاودي

--------------------------------------------

مستلة من حولية أصول الدين والدعوة بالمنوفية

العدد الثاني والثلاثون لعام 1434 هـ - 2013 م

والمودعة بدار الكتب تحت رقم 6157/ 2013

دار الأندلس للطباعة - أمام كلية الهندسة - عمارات الزراعيين - شبين الكوم
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়

মনোফিয়া উসুলুদ দ্বীন ও ইসলামি দাওয়াহ অনুষদ

আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক (নামের অভিন্নতা ও ব্যক্তির ভিন্নতা)

ছয়টি কিতাবে (কুতুবে সিত্তাহ) যে সকল বর্ণনাকারীদের উপনামের মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে

 

রচনায়

ডক্টর ইউসুফ বিন জওদাহ বিন ইয়াসিন আদ-দাউদি

--------------------------------------------

মনোফিয়া উসুলুদ দ্বীন ও দাওয়াহ বার্ষিকী থেকে সংগৃহীত

৩২তম সংখ্যা, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় গ্রন্থাগারে ৬১৫৭/ ২০১৩ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত

দারুল আন্দালুস মুদ্রণালয় - প্রকৌশল অনুষদের সামনে - যিরায়ীন ভবন - শিবিন আল-কুম
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২)
جامعة الأزهر

كلية أصول الدين والدعوة الإسلامية بالمنوفية

 

المُتَّفِقُ والمُفْتَرِقُ

فيمن ُذِكرَ بِكُنْيَتهِ من الرُّواةِ في الكتب السِّتَّةِ

 

تأليف

الدكتور/ يوسف بن جودة بن يس الدَّاودي
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়

উসুলুদ দ্বীন এবং দাওয়াহ ইসলামিয়া অনুষদ, মনোফিয়া

 

আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক

ছয়টি কিতাবের বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদেরকে তাদের উপনামে (কুনিয়াহ) উল্লেখ করা হয়েছে

 

রচনায়

ড. ইউসুফ বিন জওদাহ বিন ইয়াসীন আদ-দাউদী
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

الحمد لله ربّ العالمين واهب النِّعم، مسدل الخيرات على جميع الأمم، وخص هذه الأمة بعلو الهمم، وأرسل خير البرية صلى الله عليه وسلم لخير الأمم، فأخرجها من الظلمات إلى النُّور، وأشرقت جوانبها بأفضل العلوم، فعلَّمَ وهدى، وبيَّن لنا الطريق القويم، وأرسى الحكمة في المعمورة بأسرها، اللَّهُمَّ صَلِّ عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيراً، صلاةً كلما ذكره الذاكرون، وغفل عن ذكره الغافلون، أما بعد:

 

لما كانت كثير من الأسماء والكُنَى والألقاب والأنساب تتشابه في دواوين الحديث وتفترق في حقيقة أمرها، فضلا عن اشتباه كثير من الألفاظ ببعضها وائتلافها في الرسم واختلافها في النقط أو اللفظ، قام جهابذة المحدثين بالاهتمام بالمتشابه من أسماء الرِّجال ومنها المُتَّفِق والمُفْتَرِق من أسماء الرُّواة، وهو بيان الأسماء والكُنَى والألقاب والأنساب التي وردت في أسانيد الحديث متفقة متماثلة وإذا اعتبرت وجدت مفترقة متباينة، وبهذا العلم يُؤمن الوقوع في الإشكال لاشتباهها وتضاهيها، ولكون الكتب السِّتَّة (1) أعظم المصادر في دواوين السُّنَّة،

--------------------------------------------

(1) كتب اتفق أهل الحديث على علوها وتقدمها على غيرها وهي بالترتيب: الصَّحِيحَيْن صَحِيح البخاري، وصَحِيح مُسلم لأَنَّهُمَا أصح الْكتب بعد كتاب الله تَعَالَى، وَقُدِّم أَولهمَا لكَونه على الصحيح أرجحهما لتَقَدُّم مُصَنِّفه في الْفَنِّ، ثمَّ بعدهمَا السُّنَن الأربعة وهى: سُنَن أبى دَاوُد، وجَامِع التِّرمِذي، وسُنَن النَّسائي، وسُنَن ابن مَاجَه. انظر الغاية في شرح الهداية للسخاوي (ت: 902 هـ) (ص 77)، والباعث الحثيث لأحمد شاكر (ص 240).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি নিআমত দানকারী, সকল উম্মতের ওপর কল্যাণ বর্ষণকারী। তিনি এই উম্মতকে সুউচ্চ সংকল্পের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন এবং শ্রেষ্ঠ উম্মতের নিকট সৃষ্টির সেরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রেরণ করেছেন। ফলে তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং তাদের চারপাশকে শ্রেষ্ঠ ইলমের মাধ্যমে আলোকিত করেছেন। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন ও হিদায়াত করেছেন এবং আমাদের জন্য সঠিক পথ বর্ণনা করেছেন। তিনি সমগ্র বিশ্বে হিকমত বা প্রজ্ঞাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন; এমন সালাত যা সর্বদা চলতে থাকবে যতক্ষণ যিকিরকারীরা তাঁর যিকির করবে এবং গাফেলরা তাঁর যিকির থেকে উদাসীন থাকবে। অতপর:

 

যেহেতু হাদীসের সংকলনগুলোতে অনেক নাম, কুনিয়াত (উপনাম), উপাধি এবং বংশপরিচয় একে অপরের সদৃশ হয়ে থাকে কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়; তদুপরি অনেক শব্দ একে অপরের সাথে মিশে যায়, লিখনে একরকম মনে হলেও নুকতা (বিন্দু) বা উচ্চারণে ভিন্ন হয়; তাই বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ রাবীদের নামের মধ্য থেকে এই অস্পষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। যার অন্তর্ভুক্ত হলো রাবীদের নামের ক্ষেত্রে 'আল-মুত্তাফিক ওয়াল-মুফতারিক' (একই রকম কিন্তু ভিন্ন ব্যক্তি)। এটি মূলত সেই সকল নাম, কুনিয়াত, উপাধি ও বংশপরিচয়ের বর্ণনা যা হাদীসের সনদে বাহ্যিকভাবে হুবহু এক ও অভিন্ন মনে হয়, কিন্তু যাচাই করলে দেখা যায় সেগুলো পৃথক ও ভিন্ন ভিন্ন। এই ইলমের মাধ্যমে নামের সাদৃশ্য ও অভিন্নতার কারণে সৃষ্ট বিভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। আর যেহেতু 'কুতুবুত সিত্তা' (১) সুন্নাহর সংকলনগুলোর মধ্যে মহানতম উৎস হিসেবে পরিগণিত,

--------------------------------------------

(১) এগুলো এমন কিতাব যেগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব ও অন্যান্য গ্রন্থের ওপর এগুলোর প্রাধান্য লাভের বিষয়ে হাদীস বিশেষজ্ঞগণ একমত হয়েছেন। ক্রমানুসারে সেগুলো হলো: সহীহাইন—সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিম; কেননা আল্লাহর কিতাবের পর এই দুটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব। এই দুটির মধ্যে প্রথমটিকে (বুখারী) অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে কারণ বিশুদ্ধতার বিচারে এটি অধিক অগ্রগণ্য এবং এর সংকলক এই বিদ্যায় অধিক পারদর্শী। এরপর রয়েছে চারটি সুনান গ্রন্থ: সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিযী, সুনানে নাসাঈ এবং সুনানে ইবনে মাজাহ। দেখুন: আস-সাখাবী (মৃত: ৯০২ হি.) রচিত 'আল-গায়া ফী শারহিল হিদায়া' (পৃষ্ঠা ৭৭) এবং আহমাদ শাকির রচিত 'আল-বাইসুল হাসীস' (পৃষ্ঠা ২৪০)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وهي الركن الركين، والمرجع الأمين لكل المشتغلين بهذا الفن؛ لهذا أحببت أن أجمع المُتَّفِق والمُفْتَرِق من الرُّواة الذين ذُكِرُوا بِكُنَاهُم في أسانيد الأحاديث التي في الكتب السِّتَّة، للتَّمييز بين المتشابهين في الكُنَية واسم الأب وأحيانا في اسم الجد كما وقع في كثير من أسماء الرُّواة. وثمة سبب آخر دفعني لهذا البحث وهو قلة من كتب أو جمع في هذا العلم الدقيق من علوم الحديث. وتكمن‌‌ أهمية هذا البحث في عدة أمور منها:

1 - عدم الخلط بين الرُّواة، ومعرفة الثقة من الضعيف للحكم بدقة على الأحاديث.

2 - بيان الأوهام التي وقعت؛ بسبب الظَّن أنَّ الشَّخْصَين شَخْصٌ واحِدٌ، أوالعكس.

3 - تسهيل دراسة أسانيد الكتب السِّتَّة للباحثين وبيان ما أُشْكل منها.

4 - التمييز بين رجال الكتب السِّتَّة الذين ذكروا بكُنَاهم ومعرفة أسمائهم.

5 - الاهتمام بدقيق العلم لكيلا يضيع بين غالٍ فيه وجافٍ عنه.

 

‌‌الدراسات السابقة:

لم أجد دراسات جديدة سابقة متصلة بهذا البحث إلا مصنفات لأئمة السلف أذكر منها:

1 - كتاب الْمُتَّفِق والمُفْتَرِق، لأَبِي بَكْرٍ مُحَمَّد بن عبد الله الجوزقي (ت: 388 هـ) (1)، وهو مخطوط من مخطوطات خزانة التراث برقم تسلسلي (67388) حديث/فهرس مخطوطات مركز فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية، الرياض.

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون (2/ 1585)، والرسالة المستطرفة (ص 115).
এটি এই শিল্পের (বিদ্যার) চর্চাকারীদের জন্য একটি সুদৃঢ় স্তম্ভ এবং নির্ভরযোগ্য উৎস। এজন্য আমি কুতুবুস সিত্তা (ছয়টি কিতাব)-এর হাদীসের সনদে যে সকল বর্ণনাকারী তাদের কুনিয়াত (উপনাম) দ্বারা উল্লিখিত হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে 'আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক' (যাদের কুনিয়াত বা নাম এক কিন্তু ব্যক্তি ভিন্ন) সংকলন করতে চেয়েছি। যাতে বর্ণনাকারীদের অনেকের নামের ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছে, তেমনি কুনিয়াত, পিতার নাম এবং কখনো কখনো দাদার নামের সাদৃশ্যের কারণে যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়, তার মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করা যায়। এই গবেষণার পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে, আর তা হলো হাদীস বিজ্ঞানের এই সূক্ষ্ম শাখাটি নিয়ে রচিত বা সংকলিত গ্রন্থের স্বল্পতা। এই গবেষণার গুরুত্ব নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে নিহিত:

১ - বর্ণনাকারীদের মধ্যে সংমিশ্রণ রোধ করা এবং হাদীস সম্পর্কে নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য (ছিকাহ) ও দুর্বল (যয়ীফ) বর্ণনাকারীকে চিনে নেওয়া।

২ - দুইজন ব্যক্তিকে একজন মনে করা অথবা এর উল্টোটা মনে করার কারণে যে ভুলগুলো (ভ্রান্তি) সংঘটিত হয়েছে তা স্পষ্ট করা।

৩ - গবেষকদের জন্য কুতুবুস সিত্তার সনদসমূহ অধ্যয়ন সহজতর করা এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করা।

৪ - কুতুবুস সিত্তার যে সকল বর্ণনাকারী তাদের কুনিয়াত দ্বারা পরিচিত, তাদের মধ্যে পার্থক্য করা এবং তাদের আসল নামগুলো জানা।

৫ - জ্ঞানের এই সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা, যাতে অতিরঞ্জনকারী এবং অবহেলাকারীদের মাঝে এটি হারিয়ে না যায়।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণা:

সালাফ ইমামগণের কিছু সংকলন ব্যতীত এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট নতুন কোন পূর্ববর্তী গবেষণা আমি পাইনি। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - কিতাবুল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক, রচয়িতা: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জাওযাকী (মৃত্যু: ৩৮৮ হি.) (১)। এটি 'খিজানাতুত তুরাস'-এর একটি পাণ্ডুলিপি যার ক্রমিক নম্বর (৬৭৩৮৮) হাদীস/ রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এর পাণ্ডুলিপি সূচি।

--------------------------------------------

(১) কাশফুজ জুনুন (২/ ১৫৮৫), এবং আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ (পৃ. ১১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
2 - كتاب الْمُتَّفِق والمُفْتَرِق لأَبِي بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي (ت: 463 هـ)، ويقع في ستة عشر جزءًا (1)، وكان شرطه كما بيَّنَهُ في مقدمة كتابه أنه لم يذكر في كتابه إلا ما حفظه عمن يوثق به من قدماء أسلافه وأئمة الحفاظ والعلماء (2). وله عدة طبعات منها: طبعة دار القادري، دمشق، دراسة وتحقيق: د. محمد صادق آيدن الحامدي، الطبعة: الأولى سنة 1417 هـ، ويقع في ثلاثة أجزاء.

3 - كتاب الموضح لأوهام الجمع والتفريق، للخطيب البغدادي أيضاً ويقع في مجلد (3)، وهو مطبوع طبعته دار المعرفة بيروت بتحقيق د. عبد المعطي قلعجي. عام 1407 هـ.

4 - تلخيص المتشابه، للحافظ الخطيب البغدادي أيضًا ويقع في مجلد كبير، وهو مطبوع طبعته دار طلاس بدمشق. بتحقيق سكينة الشهابي. عام 1985 م.

5 - تالي تلخيص المتشابه، للحافظ أبي بكر أحمد بن علي الخطيب البغدادي أيضاً ويقع في أجزاء (4)، وهو مطبوع طبعته دار الصميعي بالرياض. بتحقيق مشهور بن حسن سلمان، وأحمد الشقيرات.

6 - المعجم في مشتبه أسامي المحدِّثين للحافظ أبي الفضل عبيد الله بن عبد الله بن أحمد الهروي (405 هـ) (5). وهو مطبوع طبعته مكتبة الرشد بالرياض. بتحقيق نظر محمد الفاريابي. عام 1411 هـ.

--------------------------------------------

(1) الرسالة المستطرفة (ص 115)، هداية العارفين (2/ 79).

(2) الخطيب البغدادي: الْمُتَّفِق والمُفْتَرِق (1/ 119).

(3) تذكرة الحفاظ (3/ 223)، وفتح المغيث (4/ 202)، وهداية العارفين (2/ 79).

(4) كلا من تلخيص المتشابه وتالي تلخيصه في تذكرة الحفاظ (3/ 223).

(5) ابن الجوزي: تلقيح فهوم أهل الأثر (ص 447)، وفتح المغيث (4/ 269).
২ - আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) রচিত 'আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক' গ্রন্থ, এটি ১৬টি খণ্ডে বিন্যস্ত (১)। তিনি তাঁর বইয়ের ভূমিকায় যেমনটি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর এই গ্রন্থে তাঁর পূর্বসূরি এবং হাফেজ ও ওলামায়ে কেরামদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে যা সংরক্ষণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করেননি (২)। এর বেশ কয়েকটি সংস্করণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম: দামেস্কের দারুল কাদরি থেকে প্রকাশিত সংস্করণ, যা ড. মুহাম্মদ সাদিক আইদিন আল-হামিদি কর্তৃক গবেষণা ও সম্পাদিত, প্রথম সংস্করণ ১৪১৭ হিজরি, এবং এটি তিনটি খণ্ডে বিন্যস্ত।

৩ - খতিব আল-বাগদাদি রচিত 'আল-মুওয়াদিহ লি-আওহামিল জামই ওয়াত তাফরিক' গ্রন্থ, এটি এক খণ্ডে বিন্যস্ত (৩)। এটি বৈরুতের দারুল মারিফাহ থেকে ড. আব্দুল মু'তি কালাজির সম্পাদনায় ১৪০৭ হিজরিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে।

৪ - হাফেজ খতিব আল-বাগদাদি রচিত 'তালখিসুল মুতাশাবিহ' গ্রন্থ, এটি একটি বিশাল খণ্ডে বিন্যস্ত এবং এটি দামেস্কের দার তুলাস থেকে সুকাইনা আশ-শিহাবির সম্পাদনায় ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।

৫ - হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী খতিব আল-বাগদাদি রচিত 'তালি তালখিসিল মুতাশাবিহ' গ্রন্থ, এটি কয়েকটি খণ্ডে বিন্যস্ত (৪)। এটি রিয়াদের দারুস সুমাইয়ি থেকে মাশহুর বিন হাসান সালমান এবং আহমদ আশ-শুকাইরাতের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

৬ - হাফেজ আবুল ফজল উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-হারাউই (৪০৫ হিজরি) রচিত 'আল-মু'জাম ফি মুশতাবাহি আসামিন মুহাদ্দিসিন' (৫)। এটি রিয়াদের মাকতাবাতুর রুশদ থেকে নজর মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবির সম্পাদনায় ১৪১১ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (পৃ. ১১৫), হিদায়াতুল আরিফিন (২/৭৯)।

(২) খতিব আল-বাগদাদি: আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক (১/১১৯)।

(৩) তাজকিরাতুল হুফফাজ (৩/২২৩), ফাতহুল মুগিস (৪/২০২), এবং হিদায়াতুল আরিফিন (২/৭৯)।

(৪) 'তালখিসুল মুতাশাবিহ' এবং 'তালি তালখিসিহি' উভয় গ্রন্থই তাজকিরাতুল হুফফাজ-এ (৩/২২৩) উল্লিখিত।

(৫) ইবনুল জাওজি: তালকিহু ফুহুমি আহলিল আসার (পৃ. ৪৪৭), এবং ফাতহুল মুগিস (৪/২৬৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
7 - إيضاح الإشكال في الرُّواة للحافظ أبي محمد عبد الغني بن سعيد الأَزْدِيّ المصري (ت: 409 هـ) (1)، وهو مخطوط في المكتبة الآصفيه، حيدر آباد، الهند، رقم الحفظ: (3/ 324 رقم 190).

8 - الْمُتَّفق والمفترق فِي الأنساب لابن القيسرانى مُحَمَّد بن طَاهِر بن أبى الْحسن الشَّيْبَانِيّ الْحَافِظ أَبِي الْفضل الْمَقْدِسِي (ت: 507 هـ) بِبَغْدَاد (2). وللكتاب اسم آخر وهو: الأنساب المتفقة في الخط المتماثلة في النقط والضبط، ويقع في (224) صفحة في مجلد واحد، وهو مطبوع بمطبعة ليدن، بريل 1282 هـ - 1865 م، تحقيق: المستشرق الهولندي دي يونج، ثم أعيد تصويره في دار ابن الجوزي بالدمام.

9 - كتاب المُتَّفِق والمُفْتَرِق لابْن النَّجَار مُحَمَّد بن مَحْمُود بن هبة الله أَبُو عبد الله الْبَغْدَادِيّ الشَّافِعِي (ت: 643 هـ) (3)، وهو مخطوط في مركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الاسلامية، الرياض، برقم تسلسلي (21849)، رقم الحفظ: 1086 - ف، ولم أجد له طبعة مع طول البحث.

10 - تلخيص المُتَّفِق والمُفْتَرِق للخطيب البغدادي لخصه الحافظ ابن حجر العسقلاني كما ذكر ذلك في نزهة النظر في باب المُتَّفِق والْمُفْتَرِق (4). وقال الكتاني: " وشرع الحافظ ابن حجر في تلخيصه مع استدراك ما فاته

--------------------------------------------

(1) ابن خير الأشبيلي: في فهرسته (1/ 187) برقم (378)، وتهذيب التهذيب في مواضع (3/ 113) (3/ 439)، (4/ 214)، وفتح المغيث للسخاوي (4/ 202).

(2) معجم المطبوعات العربية والمعربة لسركيس (1/ 221)، وهداية العارفين (2/ 83).

(3) كشف الظنون (2/ 1585)، الرسالة المستطرفة (ص 115)، وهداية العارفين (2/ 122).

(4) نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر (ص 129)، والرسالة المستطرفة (ص 115).
৭ - হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি বিন সাঈদ আল-আজদী আল-মিসরী (মৃত্যু: ৪০৯ হি.) রচিত 'ইযাহুল ইশকাল ফির-রুওয়াত' (১), এটি ভারতের হায়দ্রাবাদের আসাফিয়া লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত আছে, সংরক্ষণ নম্বর: (৩/ ৩২৪ নম্বর ১৯০)।

৮ - ইবনুল কায়সারানী মুহাম্মদ বিন তাহের বিন আবিল হাসান আল-শায়বানী আল-হাফেজ আবিল ফাদল আল-মাকদিসী (মৃত্যু: ৫০৭ হি. বাগদাদে) রচিত 'আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক ফিল আনসাব' (২)। এই কিতাবটির আরেকটি নাম হলো: 'আল-আনসাবুল মুত্তাফিকাহ ফিল খাত্তিল মুতামাছিলাহ ফিন-নুকতি ওয়াদ-দাবতি'। এটি এক খণ্ডে ২২৪ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত। এটি ১২৮২ হিজরী - ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে নেদারল্যান্ডের লিডেন ব্রিল প্রেস থেকে ওলন্দাজ প্রাচ্যবিদ ডি জং-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে। পরবর্তীতে দাম্মামের দার ইবনুল জাওযী থেকে এটি পুনর্মুদ্রিত হয়।

৯ - ইবনুন নাজ্জার মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন হেবাতুল্লাহ আবু আবদুল্লাহ আল-বাগদাদী আল-শাফিঈ (মৃত্যু: ৬৪৩ হি.) রচিত 'কিতাবুল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক' (৩)। এটি রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত আছে, যার ক্রমিক নম্বর (২১৮৪৯) এবং সংরক্ষণ নম্বর: ১০৮৬ - ফা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরেও আমি এর কোনো মুদ্রিত সংস্করণ খুঁজে পাইনি।

১০ - আল-খতিব আল-বাগদাদীর 'আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক' গ্রন্থের সারসংক্ষেপ বা তালখিস, যা হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী প্রস্তুত করেছেন। তিনি নিজেই 'নুযহাতুন নাযার' গ্রন্থের 'আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক' পরিচ্ছেদে এটি উল্লেখ করেছেন (৪)। কাত্তানী বলেন: "হাফেজ ইবনে হাজার এটি সংক্ষেপ করতে শুরু করেন এবং এতে যা বাদ পড়েছিল তা সংযোজন করেন...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল খায়ের আল-ইশবিলী: তাঁর রচিত 'ফিহরিস্ত' (১/ ১৮৭) নম্বর (৩৭৮); এবং 'তাহযিবুত তাহযিব' এর বিভিন্ন স্থানে (৩/ ১১৩) (৩/ ৪৩৯), (৪/ ২১৪); এবং সাখাবীর 'ফাতহুল মুগীস' (৪/ ২০২)।

(২) সারকিসের 'মু'জামুল মাতবুয়াত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মুয়াররাবাহ' (১/ ২২১) এবং 'হিদায়াতুল আরিফীন' (২/ ৮৩)।

(৩) 'কাশফুয যুনুন' (২/ ১৫৮৫), 'আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ' (পৃষ্ঠা ১১৫) এবং 'হিদায়াতুল আরিফীন' (২/ ১২২)।

(৪) 'নুযহাতুন নাযার ফি তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার' (পৃষ্ঠা ১২৯) এবং 'আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ' (পৃষ্ঠা ১১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
فكتب منه شيئاً يسيراً ولم يكمله" (1).

 

‌‌خطة البحث:

البحث ويشتمل على:

- المقدمة وفيها: أهمية البحث، وأسباب اختياره، والدراسات السابقة، وخطة البحث، ومنهج البحث.

- التمهيد وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: معرفة علم الْمُتَشَابه من أسماء الرِّجال.

المطلب الثاني: معرفة الكُنَى للرُّواة.

المطلب الثالث: سبب اهتمام الأئمة بعلم الْمُتَشَابه.

- ترتيب المُتَّفِق والمُفْتَرِق فيمن ذكر بِكُنْيَتهِ من الرُّواةِ في الكتب السِّتَّةِ على حروف المعجم بالنسبة للمكنى به، وعددهم سبعةٌ وأربعون ترجمة.

- الخاتمة: وفيها أهم النتائج والتوصيات.

- ثبت المصادر والمراجع

- الفهارس العلمية:

فهرس الآيَاتِ القُرَآنِيةِ

فهرس الأَحَادِيثِ والآثَارِ

فهرس المُتَّفِق والمُفتَرق من الكُنَى الْمُتَرجَم لَهُم

فهرس الموضوعات

--------------------------------------------

(1) الرسالة المستطرفة (ص 115).
তাই তিনি এর থেকে সামান্য কিছু লিখেছেন এবং তা সমাপ্ত করেননি (১)।

 

‌গবেষণা পরিকল্পনা:

গবেষণাটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

- ভূমিকা, যাতে রয়েছে: গবেষণার গুরুত্ব, গবেষণার বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণা পদ্ধতি।

- উপক্রমণিকা, যাতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: রাবি বা বর্ণনাকারীদের নামের ক্ষেত্রে ‘মুতাশাবিহ’ (সদৃশ) শাস্ত্রের পরিচয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের উপনাম (কুনিয়াত) পরিচিতি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাশাবিহ শাস্ত্রের প্রতি ইমামগণের গুরুত্ব প্রদানের কারণ।

- কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত ঐ সকল বর্ণনাকারীদের ‘মুত্তাফাক’ ও ‘মুফতারাক’ (নামের সাদৃশ্যপূর্ণ কিন্তু ভিন্ন ব্যক্তি) এর বিন্যাস যাদের উপনামের মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে; এটি উপনামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিক সাজানো হয়েছে এবং তাদের মোট সংখ্যা হলো সাতচল্লিশ জন।

- উপসংহার: এতে রয়েছে গবেষণার প্রধান ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ।

- তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি

- জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্টসমূহ:

কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট

হাদিস ও আসারের (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণী) নির্ঘণ্ট

যাদের জীবনী আলোচিত হয়েছে তাদের উপনামের ‘মুত্তাফাক’ ও ‘মুফতারাক’ এর নির্ঘণ্ট

বিষয়সূচি

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (পৃষ্ঠা ১১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌منهج البحث:

قد سلكتُ في تكوين هذا البحث الخطوات الآتية:

1 - الابتداء بكُنْيةِ الرَّاوي واسم أبيه ثم ذكر عدد الرُّواة الذين أُطلِق عليهم ذلك، وبيان مجمل للتفريق بينهما، ثم تفصيل التراجم كُلٌ على حدة.

2 - تأسَّيتُ بالحافظَين المزّي وابن حجر فوضعتُ الرقم على أول ترجمة الرَّاوي، إشارة إلى من أخرج حديثه من الأئمة. فالبخاري (خ)، والبخاري في التعليقات (خت)، ولمسلم (م)، ولأبي داود (د)، وللترمذي (ت)، وللنَّسائي (الصغرى أو الكبرى) (س)، ولابن ماجه (ق)، وإذا اجتمعت فالرقم (ع).

3 - ذكرت في ترجمة الرَّاوي اسمه، ونسبه، وطبقته، ومولده إن وجد، وشيوخه، وتلامذته، ودرجته، ومن أخرج حديثه من الكتب السِّتَّة، وأشير إلى الأحاديث في المصنفات على الوجه الآتي: إن كان للرَّاوي حديثٌ واحدٌ جئتُ به، أو بما يشير إلى متنه، وإن كان أكثر من أربعةٍ أُشِيرُ إلى ثلاثة أحاديث في المصنف الذي ذُكِرَ الرَّاوي فيه بكنيته على أقل تقدير، سواء كان الرَّاوي مُقِلاًّ أو مُكْثرًا، ثم أذكر سنة الوفاة.

4 - اكتفيت بذكر موضع إخراج أصحاب الكتب السِّتَّة لأحاديث الرِّاوي بالإشارة لأرقام الأحاديث، ولتراجم الرُّواة بالجزء والصفحة، هذا وقد ذكر الحافظ المزيُّ، وكذا الحافظ ابن حجر في التهذيب مَنْ رَوَى لهم النَّسائي باعتبار السنن الكبرى أو الصغرى (1).

--------------------------------------------

(1) قد ثبت هذا بالاستقراء والبحث الدقيق على مجموعة كبيرة من أقوال الحافظين في مصنفاتههم.
গবেষণা পদ্ধতি:

এই গবেষণাটি প্রস্তুত করতে আমি নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করেছি:

১ - বর্ণনাকারীর উপনাম (কুনিয়াত) ও তার পিতার নাম দিয়ে শুরু করা, এরপর সেই নামে অভিহিত বর্ণনাকারীদের সংখ্যা উল্লেখ করা এবং তাদের মধ্যে পার্থক্যের একটি সারসংক্ষেপ প্রদান করা, অতঃপর প্রত্যেকের জীবনী আলাদাভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করা।

২ - আমি দুই হাফিজ আল-মিযযী ও ইবনে হাজার-এর অনুসরণ করেছি; তাই বর্ণনাকারীর জীবনীর শুরুতে একটি প্রতীক চিহ্ন বসিয়েছি, যা নির্দেশ করে যে ইমামদের মধ্যে কারা তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। যেমন: বুখারী (খ), বুখারীর তালীকাত (খত), মুসলিম (ম), আবু দাউদ (দ), তিরমিযী (ত), নাসায়ী (সুনানে সুগরা বা কুবরা) (স), ইবনে মাজাহ (ক); আর যদি সকলে ঐক্যবদ্ধ হন তবে প্রতীক (আ)।

৩ - বর্ণনাকারীর জীবনীতে আমি তাঁর নাম, বংশপরিচয়, স্তর (তাবাকা), জন্মকাল (যদি পাওয়া যায়), তাঁর উস্তাদগণ, ছাত্রগণ, তাঁর নির্ভরযোগ্যতার মান এবং কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ) রচয়িতাদের মধ্যে কারা তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছি। গ্রন্থসমূহে হাদিসের দিকে আমি নিম্নোক্তভাবে ইঙ্গিত করেছি: যদি বর্ণনাকারীর মাত্র একটি হাদিস থাকে, তবে আমি সেটি অথবা তাঁর মূল পাঠের (মতন) দিকে ইঙ্গিতকারী অংশ নিয়ে এসেছি। আর যদি চারের অধিক হাদিস থাকে, তবে অন্ততপক্ষে সেই গ্রন্থ থেকে তিনটি হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছি যেখানে বর্ণনাকারীকে তাঁর উপনামে (কুনিয়াত) উল্লেখ করা হয়েছে, বর্ণনাকারী অল্প হাদিস বর্ণনাকারী হোক বা অধিক। এরপর আমি মৃত্যুর বছর উল্লেখ করেছি।

৪ - কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ বর্ণনাকারীর হাদিসসমূহ যেখানে বর্ণনা করেছেন, আমি কেবল সেই হাদিস নম্বরগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর বর্ণনাকারীদের জীবনীর ক্ষেত্রে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। হাফিজ আল-মিযযী এবং অনুরূপভাবে হাফিজ ইবনে হাজার 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে নাসায়ী যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের ক্ষেত্রে সুনানে কুবরা বা সুগরা উভয়কেই বিবেচনায় নিয়েছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) দুই হাফিজের সংকলনসমূহের এক বিশাল সংখ্যক বক্তব্যের ওপর সূক্ষ্ম অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
5 - إذا كان الرَّاوي متفقًا على ثقته أو ضعفه؛ فإنِّي أكتفي بذكر درجته من تقريب التهذيب للحافظ ابن حجر.

6 - وأما إذا كان الرَّاوي مختلفًا في توثيقه؛ فإنِّي أذكر أقوال أئمة النقد فيه جرحًا وتعديلاً ثم أرجح الأقرب للصواب، على أن يكون ترتيب ذكر الأقوال على سنة الوفاة.

7 - اجتهدت بتقييد كثير من الأَسماء، والكُنَى، وأسماء البلدان، ومعظم الأنساب في التراجم بالشَّكْل تقييد القلم على أصل النص، وربما قيدت ما أخشى وقوع التَّصْحِيف والتَّحْرِيف فيه ضبطاً بالحروف زيادة في التَّحري.

ولا يسعني في هذا المقام إلا أن أشكر الله تعالى على نعمته وعظيم فضله سبحانه أن وفقني لإتمام هذا البحث بمنِّه وكرمه، كما أتقدم بالشكر الجزيل لفَضِيلَةِ الأُسْتَاذِ الدَّكْتُورِ الشَّيْخِ صَالحِ بن عَبْدِ الوَهَّاب الفقِّي أستاذ الحديث بالجامعة الإسلامية المدينة المنورة على نصحه وإرشاده، فقد نصح فأخلص، وأرشد فأجاد فجزاه الله عني خير الجزاء، كما أتقدم بِشُكْرِي العَمِيقِ وَامْتِنَانِي العَظِيمِ لِشُيُوخِي الأَفَاضِلِ الَّذِينَ كَانَ لَهُمْ الفَضْلُ عَلَيَّ- بَعْدَ اللهِ عز وجل فِي مَعْرِفَةِ عِلْمِ الحَدِيثِ وَأَخُصُّ بِالذِّكْرِ: فَضِيلَةَ الشَّيْخِ مُحَمَّدَ بنَ عَمْرِو بْنَ عَبْدِاللَّطِيفِ رحمه الله وَأَدْخَلَهٌ فَسِيحَ جَنَّاتِهِ -، فَإِنَّهُ كَانَ مِنْ كِبَارِ عُلَمَاءِ الحَدِيثِ فِي أَرْضِ الكَنَانَةِ، وَكَذَلِكَ فَضِيلَةَ الشَّيْخِ حِجَازِي أَبَا إِسْحَاقَ الحُوِينِي - حَفِظَهُ الله - وإلى زوجتي وأولادي، وكل من ساعدني بنصح أو بإرشادٍ أو توجيه، فجزاهم الله عني خير الجزاء، وأسأل الله العظيم أن يجعل عملي هذا خالصاً لوجه سبحانه فإنه خير الراحمين، ونعم المولى ونعم النصير.
5 - যদি বর্ণনাকারীর (রাবী) নির্ভরযোগ্যতা বা দুর্বলতার বিষয়ে ঐকমত্য থাকে, তবে আমি হাফিয ইবনে হাজারের 'তাকরীবুত তাহযীব' থেকে তাঁর মান উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।

6 - আর যদি বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে মতভেদ থাকে, তবে আমি তাঁর সম্পর্কে জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও গুণগান) শাস্ত্রের ইমামগণের উক্তিগুলো উল্লেখ করি এবং এরপর সত্যের নিকটতর মতটিকে প্রাধান্য দেই; এক্ষেত্রে উক্তিগুলো উল্লেখ করার বিন্যাস রাখা হয়েছে তাঁদের মৃত্যুসাল অনুযায়ী।

7 - আমি জীবনীগুলোতে অনেক নাম, উপনাম, দেশের নাম এবং অধিকাংশ বংশপরিচয় মূল পাঠ্য অনুযায়ী হরকত প্রদানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। অধিকতর সতর্কতার খাতিরে যেসকল শব্দে ভুল পাঠ বা বিকৃতির আশঙ্কা করেছি, সেগুলোকে আমি বর্ণ দিয়ে লিখে সুস্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি।

এই পর্যায়ে মহান আল্লাহর নিআমত এবং তাঁর সুমহান অনুগ্রহের জন্য শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি তাঁর দয়া ও করুণায় আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন। সেই সাথে আমি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগের অধ্যাপক পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর শেখ সালিহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ফাক্বী-কে তাঁর নসীহত ও নির্দেশনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি; তিনি একনিষ্ঠভাবে নসীহত করেছেন এবং নিপুণভাবে পথপ্রদর্শন করেছেন, আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি আমার শ্রদ্ধেয় শাইখদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা ও অশেষ ঋণ স্বীকার করছি, মহান আল্লাহর পর হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনে যাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি: পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আব্দুল লতিফ-এর কথা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত বাগানে দাখিল করুন); তিনি ছিলেন মিসর ভূখণ্ডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদ। একইভাবে পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ হিজাযী আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর প্রতি এবং আমার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি, আর যারা আমাকে উপদেশ, পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই কাজকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু, এবং তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক ও কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
التمهيد وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: معرفة علم الْمُتَشَابه من أسماء الرِّجال.

المطلب الثاني: معرفة الكُنَى للرُّواة.

المطلب الثالث: سبب اهتمام الأئمة بعلم الْمُتَشَابه.
ভূমিকা এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের নামের মধ্যকার সমরূপ (মুতাশাবিহ) বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের কুনিয়াত (উপনাম) সংক্রান্ত জ্ঞান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সমরূপ (মুতাশাবিহ) বিষয়ক শাস্ত্রের প্রতি ইমামগণের গুরুত্ব প্রদানের কারণ।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تمهيد

‌‌المطلب الأول معرفة علم المتشابه من أسماء الرِّجال

يعتبر علم المتشابه من أسماء الرِّجال من ألطف علوم الحديث، وأعمقها ضربًا، وأعظمها فائدة للباحث، وكفى بهذا العلم شرفًا أنَّه لم يتقنه إلا الأفذاذ من نقاد الحديث، وقد عَرَّفه جمع من أئمة الحديث بمعرفَة مَا يُشْتَبه ويُتَصَحَّف من الأَسْمَاء والأنساب، والكُنَى والألقاب، وقسموه على قسمين (1):

الأول: المُتَّفِق والمُفْتَرِق وهو الأسماء والأنساب التي وردت في الحديث متفقة متماثلة وإذا اعتبرت وجدت مفترقة متباينة (2) في حقيقة أمرها، وقال الحافظ ابن حجر في النزهة: "إِنِ اتفقتْ أَسماؤهم وأَسْماءُ آبائِهِمْ فَصاعِداً، واختلفتْ أَشْخَاصُهُمْ، سواءٌ اتَّفَقَ في ذلك اثنان منهم أو أكثر، وكذلك إذا اتفق اثْنانِ فصاعِداً في الكُنيةِ والنِّسبةِ فهُو النَّوعُ الذي يُقالُ لهُ: المُتَّفِقُ والْمُفْتَرِقُ (3). وهذا النَّوع له صور مختلفة نمثل لبعضها:

1 - من اتفقت أسماؤهم وأسماء آبائهم مثل: أَحْمَد بن إِسْحَاقَ ثلاثة رجال سموا بذلك من رجال الكتب السِّتَّة وهم: السُرْمَارِي، والحَضْرَمِيُّ، والأَهْوَازِيُّ.

2 - أن تتفق أسماؤهم وأسماء آبائهم وأجدادهم مثل: أَحْمَدُ بنُ عَبْدِ اللهِ بن عَلِيّ رَجُلان سموا بذلك وهما: الْمَنْجُوفِيُّ، والمِصِّيْصِيُّ.

3 - أن تتفق الكنية والنسبة معاً مثل: أَبُو الْحَكَمِ العَنْزيُّ رَجُلان: الأول: زيد بن أبي الشعثاء البَصْرِيُّ، والثاني: سَيَّار الوَاسِطِيُّ.

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن الصلاح (ص 344 - 362)، والتقريب للنووي (ص 106 - 112).

(2) كذا عَرَّفه الخطيب البغدادي في كتابه المُتَّفِق والْمُفْتَرِق (1/ 105).

(3) ابن حجر العسقلاني: نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر (ص 129).
ভূমিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: রাবিদের নামের সাদৃশ্যপূর্ণ (মুতাশাবিহ) বিষয়ের জ্ঞান

রাবিদের নামের সাদৃশ্যপূর্ণ (মুতাশাবিহ) বিষয়ের ইলম হাদিস শাস্ত্রের সূক্ষ্মতম ও গভীরতম শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং একজন গবেষকের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। এই ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, হাদিস সমালোচকদের মধ্যে কেবল অপ্রতিদ্বন্দ্বী পণ্ডিতগণই এতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। একদল হাদিস ইমাম এর সংজ্ঞায় বলেছেন—নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধিগুলোর মধ্যে যা কিছু সাদৃশ্যপূর্ণ হয় এবং যেগুলোতে ভুল পাঠের (তাসহীফ) সম্ভাবনা থাকে, তা জানার নামই হলো এই ইলম। তাঁরা একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন (১):

প্রথমত: আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক। এটি হলো সেই সমস্ত নাম ও বংশপরিচয় যা হাদিসে বর্ণনার ক্ষেত্রে অভিন্ন ও সাদৃশ্যপূর্ণ, কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় যে সেগুলো বাস্তবে স্বতন্ত্র ও ভিন্ন ভিন্ন সত্তা (২)। হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর ‘নুযহা’ গ্রন্থে বলেছেন: “যদি রাবিদের নাম এবং তাদের পিতার নাম ও তার পরবর্তী নামগুলো মিলে যায়, কিন্তু ব্যক্তিরা ভিন্ন হয়—চাই তারা দুই জন হোক বা তার বেশি; অনুরূপভাবে যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি উপনাম ও বংশপরিচয়ে (নিসবাত) এক হয়ে যায়, তবে তাকে ‘আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক’ বলা হয় (৩)। এই প্রকারের বিভিন্ন রূপ রয়েছে, নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

১ - যাদের নিজেদের নাম ও পিতার নাম মিলে গেছে, যেমন: আহমদ ইবনে ইসহাক। কুতুবে সিত্তাহর রাবিদের মধ্যে এই নামে তিনজন ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁরা হলেন: আস-সুরমারি, আল-হাদরামি এবং আল-আহওয়াজি।

২ - যাদের নাম, পিতার নাম ও দাদার নাম মিলে গেছে, যেমন: আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলী। এই নামে দুইজন ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁরা হলেন: আল-মানজুফি এবং আল-মাসসিসি।

৩ - যাদের উপনাম ও বংশপরিচয় (নিসবাত) উভয়টি মিলে গেছে, যেমন: আবু আল-হাকাম আল-আনযি। এই নামে দুইজন ব্যক্তি রয়েছেন: প্রথমজন হলেন যায়েদ ইবনে আবিশ শা’সা আল-বাসরি এবং দ্বিতীয়জন হলেন সাইয়্যার আল-ওয়াসিতি।

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা ৩৪৪ - ৩৬২), এবং ইমাম নববীর আত-তাকরীব (পৃষ্ঠা ১০৬ - ১১২)।

(২) খতিব বাগদাদি তাঁর ‘আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক’ গ্রন্থে (১/ ১০৫) এভাবেই সংজ্ঞা দিয়েছেন।

(৩) ইবনে হাজার আল-আসকালানি: নুযহাতুন নাযার ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা ১২৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
4 - أن يتفق الاسم واسم الأب والنسبة مثل: محمد بن عبد الله الأَنْصَارِيّ رجلان: الأول: أبو عبدالله محمد بن عبدالله بن المثنى البصري، والثاني: أبو سلمة محمد بن عبدالله ابن زياد الأنصاري مولاهم البصري.

5 - أن تتفق الكُنَى وأسماء الآباء مثل: أَبُو بَكْرٍ بن عَيَّاشٍ رَجُلان: الكُوفِيُّ المُقْرِئُ، والبَاجُدَّائِيُّ الرَّقِّيُّ.

ولم يُصَنَّفْ في هذا النَّوع إلا مصنفات قليلة فيما أعلم أشهرها كتاب المُتَّفِق والمُفْتَرِق للخطيب البغدادي، وكان شرطه كما بيَّنَهُ في كتابه فقال: "وإني لم أذكر في كتابي هذا إلا ما حفظته عمن يُوثَقُ به من قدماء أسلافنا وأئمة حُفَّاظنا وعلمائنا وقد جعلت الأسماء مرتبة على نسق حروف المعجم؛ لأَنِّي رأيت ذلك أصوب وأجمل ومتى أُرِيدَ شيء منها كان طلبه أقرب وأسهل" (1). ثم قام ابن حجر بتلخيص كتاب الخطيب ولم يكمله، كما بينت ذلك بالمقدمة في دراسات سابقة جميع ما وجدت من تصنيفات في هذا النَّوع (2).

 

والثاني: مشتبه مِمَّا اتّفَق خَطًّا، وَاخْتلف نُطقًا، وَيَاتِي غالبه فِي الأَسَانِيد والمرْويَّات والذي يسمى بعلم الْمُؤْتَلِفِ وَالْمُخْتَلِفِ، وهذا النَّوع له صور كثيرة نمثل لبعضها:

1 - ما ائتَلَفَتْ صورة حروفه واختلفت في الشَّكل مثل: سَلَام بتسهيل اللام وسَلَّام … بالتشديد، أو كعَقِيل -بفتحِ العينِ- وعُقَيْل -بضمها-، وهكذا.

2 - ما ائتَلَفَتْ صورة حروفه واختلفت في إعجامها مثل: سِرَاج بالجيم المُعجمةِ وسِرَاح بالحاءِ المُهملةِ، أو كشُرَيْح بالشِّينِ المُعجمةِ والحاءِ المُهملةِ وسُرَيْج بالسِّينِ المُهمَلَةِ والجيمِ.

--------------------------------------------

(1) الخطيب البغدادي: المُتَّفِق والْمُفْتَرِق (1/ 105).

(2) الدراسة (ص 3 - 5).
৪ - নাম, পিতার নাম এবং নিসবত বা সম্বন্ধসূচক নাম এক হওয়া। যেমন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী নামক দুইজন ব্যক্তি: প্রথম জন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুসান্না আল-বাসরী, এবং দ্বিতীয় জন: আবু সালামা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আল-আনসারী মাওলাহুম আল-বাসরী।

৫ - কুনিয়া (উপনাম) এবং পিতার নাম এক হওয়া। যেমন: আবু বকর ইবনে আয়্যাশ নামক দুইজন ব্যক্তি: আল-কূফী আল-মুকরী এবং আল-বাজুদ্দায়ী আর-রাক্কী।

আমার জানামতে এই বিষয়ে খুব অল্প সংখ্যক গ্রন্থই রচিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো খতীব আল-বাগদাদীর কিতাব 'আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক'। তিনি তার কিতাবে নিজের শর্ত বর্ণনা করে বলেছেন: "আমি আমার এই কিতাবে কেবল সেসব বিষয়ই উল্লেখ করেছি যা আমি আমাদের নির্ভরযোগ্য পূর্বসূরী এবং ইমাম, হাফেজ ও আলেমদের থেকে সংরক্ষণ করেছি। আমি নামগুলোকে বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছি; কারণ আমি মনে করি এটিই অধিক সঠিক ও সুন্দর এবং যখন এর কোনোটি প্রয়োজন হবে তখন তা খুঁজে বের করা অনেক সহজ ও নিকটবর্তী হবে" (১)। এরপর ইবনে হাজার খতীবের কিতাবটির সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেন কিন্তু তা সম্পন্ন করেননি, যেমনটি আমি পূর্ববর্তী গবেষণার ভূমিকায় এই প্রকারের সমস্ত রচনার বর্ণনায় স্পষ্ট করেছি (২)।

 

দ্বিতীয়: 'মুশতাবিহ' বা বিভ্রান্তিকর, যা লেখার ক্ষেত্রে একরূপ কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন। এর অধিকাংশ দেখা যায় সনদ ও বর্ণিত বিষয়সমূহের মধ্যে, যাকে 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' শাস্ত্র বলা হয়। এই প্রকারের অনেক রূপ রয়েছে, নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:

১ - যার অক্ষরের অবয়ব এক কিন্তু হরকত বা চিহ্নে ভিন্ন। যেমন: সালাম (লাম হালকা করে) এবং সাল্লাম … (লামের ওপর তাশদীদের সাথে), অথবা যেমন: আকীল (আইন-এ যবর দিয়ে) এবং উকাইল (আইন-এ পেশ দিয়ে), ইত্যাদি।

২ - যার অক্ষরের অবয়ব এক কিন্তু নুকতা বা বিন্দুতে ভিন্ন। যেমন: সিরাজ (নুকতাযুক্ত জীম দিয়ে) এবং সিরাহ (নুকতাহীন হা দিয়ে), অথবা যেমন: শুরাইহ (নুকতাযুক্ত শীন ও নুকতাহীন হা দিয়ে) এবং সুরাইজ (নুকতাহীন সীন ও নুকতাযুক্ত জীম দিয়ে)।

--------------------------------------------

(১) খতীব আল-বাগদাদী: আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক (১/ ১০৫)।

(২) গবেষণা (পৃষ্ঠা ৩ - ৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - ما ائتَلَفَتْ صورته واختلف في حروفه مثل: زُنَيْر -آخِرُ الْحُرُوفِ رَاءٌ-، وزُنَيْن آخِرُ الْحُرُوفِ نونٌ، أو كجُبَيْرٍ -بالجيم المُعجمةِ والباء الموحدة وياء تحتانيَّةٌ، وآخِرُ الْحُرُوفِ الراء- وحُنَيْنٍ بالحاء المهملة ونون وياء تحتانيَّةٌ وآخِرُ الْحُرُوفِ النون.

وهذا المتشابه المتماثل في الصورة من أدق مَا يشْتَبه في المخطوطات؛ لاسيما في القديمة منها والتي كانت غير منقوطة، وقد كثر التصنيف في هذا النوع من المشتبه فكان أهم ما صُنِفَ فيه كتاب المشتبه والمختلف (1) للْحَافِظ عبدالْغَنِيّ بن سعيد الأَزْدِيِّ (ت: 409 هـ) ثم اختصره الإمام الذَّهَبِيّ رحمه الله (ت: 748 هـ) في كتاب الْمُشْتَبَه فِي الرِّجَال، أَسمائهم وأنسابهم سنة ثَلاث وَعشْرين وَسبع مئة هجرية (2)، لَكِن اختصاره كان في غاية المبالغة كما صرح الإمام الذَّهَبِيّ نفسه في مقدمة المختصر (3) بقوله أنَّه يُحِيل كذلك فِيهِ على ضبط الْقَلَم إِلا فِيمَا يصعب وَيشكل فقيده وأشكله بالحروف. ثم قام عدة من علماء الحديث بالتذليل والتعقيب عليه والتوضيح له نذكر منها:

1 - توضيح المشتبه: لأبي عبد الله محمد بن أبي بكر عبد الله بن ناصر الدين الدِّمشقي (ت: 842 هـ) (4)، وهو من أفضل المصنفات في هذا الباب

--------------------------------------------

(1) وله مسمى آخر هو: المختلف والمؤتلف انظر كشف الظنون (2/ 1637)، وهو مخطوطة مصورة بمعهد المخطوطات العربية بالقاهرة تحت رقم 397، تاريخ (بعثة المغرب الثانية).

(2) انظر توضيح المشتبه لابن ناصر الدين (1/ 115)، وكشف الظنون (2/ 1691)، والرسالة المستطرفة (ص 118)، وهداية العارفين (2/ 155).

(3) توضيح المشتبه لابن ناصر الدين (1/ 116).

(4) كشف الظنون (2/ 1691)، والرسالة المستطرفة (ص 119)، وهداية العارفين (2/ 193).
৩ - যার রূপ এক কিন্তু বর্ণগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন: যুনাইর -যার শেষ বর্ণটি 'রা'-, এবং যুনাইন -যার শেষ বর্ণটি 'নুন'-। অথবা জুবাইর -নুকতাযুক্ত 'জীম', এক নুকতাওয়ালা 'বা', নিচে দুই নুকতাওয়ালা 'ইয়া' এবং শেষ বর্ণটি 'রা' দিয়ে- এবং হুনাইন -নুকতাহীন 'হা', 'নুন', নিচে দুই নুকতাওয়ালা 'ইয়া' এবং শেষ বর্ণটি 'নুন' দিয়ে-।

আকৃতিতে হুবহু এক হওয়ার কারণে এই সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টি পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অন্যতম সূক্ষ্ম কারণ; বিশেষ করে প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোতে যেগুলোতে নুকতা ছিল না। এই ধরনের সংশয়পূর্ণ (মুশতাবিহ) বিষয়ের ওপর প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো হাফেয আবদুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আযদি (মৃত্যু: ৪০৯ হিজরি) রচিত 'আল-মুশতাবিহ ওয়াল মুখতালিফ' (১)। অতঃপর ইমাম যাহাবি (রহ.) (মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরি) ৭২৩ হিজরি সালে (২) 'আল-মুশতাবিহ ফির রিজাল, আসমা-ইহিম ওয়া আনসাবিহিম' গ্রন্থে এটি সংক্ষিপ্ত করেন। কিন্তু তাঁর এই সংক্ষেপায়ন ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যেমনটি ইমাম যাহাবি স্বয়ং তাঁর এই সংক্ষেপিত গ্রন্থের ভূমিকায় (৩) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে শব্দের সঠিক রূপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে লেখনীর ওপর নির্ভর করেছেন, কেবল যেখানে কঠিন ও অস্পষ্ট মনে হয়েছে সেখানে তিনি বর্ণ দ্বারা তা নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর হাদিস বিশারদদের একদল এই গ্রন্থের পরিশিষ্ট, পর্যালোচনা এবং ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তার মধ্যে আমরা উল্লেখ করছি:

১ - তাওযীহুল মুশতাবিহ: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি (মৃত্যু: ৮৪২ হিজরি) রচিত (৪)। এটি এই বিষয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।

--------------------------------------------

(১) এর আরেকটি নাম রয়েছে: আল-মুখতালিফ ওয়াল মুআত্তালিফ। দেখুন: কাশফুয যুনুন (২/১৬৩৭)। এটি কায়রোর ‘মাহাদুল মাখতুতাত আল-আরাবিয়্যাহ’ (আরবি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট)-এ ৩৯৭ নম্বর অধীনে একটি মাইক্রোফিল্ম হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে, ইতিহাস (মরক্কোর দ্বিতীয় মিশন)।

(২) দেখুন: ইবনে নাসিরুদ্দিনের তাওযীহুল মুশতাবিহ (১/১১৫), কাশফুয যুনুন (২/১৬৯১), আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (পৃষ্ঠা ১১৮) এবং হিদায়াতুল আরিফীন (২/১৫৫)।

(৩) ইবনে নাসিরুদ্দিনের তাওযীহুল মুশতাবিহ (১/১১৬)।

(৪) কাশফুয যুনুন (২/১৬৯১), আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (পৃষ্ঠা ১১৯) এবং হিদায়াতুল আরিফীন (২/১৯৩)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
لاشتماله على فَوَائِد المشتبه، ونفائس مصنفات من سبق، بالإضافة لتحقيق وتدقيق الحافظ ابن ناصر الدين، مطبوع مؤسسة الرسالة، بيروت سنة 1993 م، تحقيق: محمد نعيم العرقسوسي.

2 - الإعلام بما وقع في مشتبه الذهبي من الأوهام: لابن ناصر الدين الدِّمِشْقِي (1)، وهو مجرد من كتاب توضيح المشتبه له، مطبوع في مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة سنة 1407 هـ، تحقيق عبد رب النبي محمد.

3 - تبصير المنتبه بتحرير المشتبه: لأبي الفضل أحمد بن علي بن حجر العسقلاني ت: (852 هـ) (2)، وهو كتاب غاية في التدقيق والإتقان مع زيادات، مطبوع في المكتبة العلمية، بيروت، تحقيق: علي محمد البجاوي، مراجعة: محمد علي النجار.

--------------------------------------------

(1) الرسالة المستطرفة (ص 119).

(2) كشف الظنون (1/ 339)، (2/ 1691)، والرسالة المستطرفة (ص 119)، وهداية العارفين (2/ 563).
এতে 'আল-মুশতাবিহ'-এর উপকারিতা এবং পূর্বসূরিদের মূল্যবান রচনাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকার পাশাপাশি হাফেজ ইবনে নাসের উদ্দিনের তাহকিক ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ রয়েছে। বৈরুতের মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে ১৯৯৩ সালে মুদ্রিত। তাহকিক: মুহাম্মদ নাঈম আল-আরকাসুসি।

২ - আল-ইলাম বিমা ওয়াকা'আ ফি মুশতাবীহিজ জাহাবি মিনাল আওহাম: ইবনে নাসের উদ্দিন আদ-দিমাশকি (১) রচিত। এটি তাঁর রচিত 'তাওদিহুল মুশতাবীহ' গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত। মদিনা মুনাওয়ারার মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম থেকে ১৪০৭ হিজরি সনে মুদ্রিত। তাহকিক: আবদ রাব্বিন নবী মুহাম্মদ।

৩ - তাবসিরুল মুনতাবিহ বিতাহরীরিল মুশতাবীহ: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু: ৮৫২ হি.) (২) রচিত। এটি পরিমার্জন ও নিপুণতার সর্বোচ্চ স্তরের একটি কিতাব, যাতে অতিরিক্ত তথ্য সংযোজিত হয়েছে। বৈরুতের আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত। তাহকিক: আলী মুহাম্মদ আল-বিজাউয়ি। সম্পাদনা: মুহাম্মদ আলী আন-নাজ্জার।

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাহ আল-মুস্তাতরাফাহ (পৃ. ১১৯)।

(২) কাশফুয যুনুন (১/ ৩৩৯), (২/ ১৬৯১), এবং আর-রিসালাহ আল-মুস্তাতরাফাহ (পৃ. ১১৯), এবং হিদায়াতুল আরিফিন (২/ ৫৬৩)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المطلب الثاني معرفة الكُنَى للرُّواة

مَعرفة أَصْحَابِ الْكُنَى من الْمُحَدِّثِينَ من أنفع المهمات في علم الحديث؛ ولأَنَّ الجهل به عَيْبٌ للمُحَدِّث؛ لهذا اهتمَّ علماء الحديث بمعرفة الكُنَى اهتماماً بالغاً فأفرد بعضهم كُنَى الرُّواة في مصنفات كبيرة، مُلِئت بالدُّرر والفوائد التي لا يَسْتَغْنِي عنها المنتهي فضلاً عن المبْتدي، والكُنْيَة في اللغة: كَنَّى: كَنْيَتُ عن الأمر، إذا تكلمت بغيره مما يُسْتَدَلُّ به عليه، ولذلك تُسمى الكنية كأنَّها تورية عن الاسم (1). وهي ما صُدِّرَ بأَبٍ أو أُمٍ أو ابن أو بنت على الأصح في الأخيرين. وأما في الاصطلاح: فعرفها الْخَطِيبُ في الجامع لأخلاق الرَّاوي فقال: " جَمَاعَةٌ اكْتَفَى الرُّوَاةُ عَنْهُمْ بِذِكْرِ كُنَاهُمْ دُونَ أَسْمَائِهِمْ وَأَنْسَابِهِمْ لِغَلَبَتْهَا عَلَيْهِمْ وَاشْتِهَارِهِمْ بِهَا وَالأَمْنِ مِنْ دُخُولِ اللَّبْسِ فِيهَا" (2).

وللكُنْيَةِ عند أهل الحديث صور كثيرة نشير إليها إجمالا دون تفصيل (3):

1 - الَّذِينَ سُمُّوا بِالْكُنَى، فَأَسْمَاؤُهُمْ كُنَاهُمْ، لا أَسْمَاءَ لَهُمْ غَيْرُهَا وَيَنْقَسِمُ هَؤُلاءِ إِلَى قِسْمَيْنِ:

الأول: مَنْ لَهُ كُنْيَةٌ أُخْرَى سِوَى الْكُنْيَةِ الَّتِي هِيَ اسْمُهُ، فَصَارَ كَأَنَّ لِلْكُنْيَةِ كُنْيَةً، وَهَذَا كَأَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ الْمَخْزُومِيِّ (4)، أَحَدِ فُقَهَاءِ

--------------------------------------------

(1) ابن فارس: في مجمل اللغة (1/ 771)، وابن الأثير: في النهاية (4/ 207).

(2) الْخَطِيب: الجامع لأخلاق الرَّاوي وآداب السامع (2/ 77).

(3) خلاصة كلام ابن الصلاح (ت: 643 هـ) في معرفة أنواع علوم الحديث (ص 330 - 335).

(4) بفتح الميم وسكون الخاء المعجمة وضم الزَّاى وفي آخرها الميم، هذه النسبة إلى قبيلتين، إحداهما تنسب إلى مخزوم بن عمرو، والأخرى إلى مخزوم قريش، وهو مخزوم بن يقظة بن مرة بن كعب بن لؤيّ بن غالب. كما في الأنساب للسمعاني (2/ 135 - 136).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাবিগণের উপনাম (কুনিয়া) পরিচিতি

মুহাদ্দিসগণের মধ্যে উপনাম (কুনিয়া) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা হাদীস শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী বিষয়। কারণ এটি না জানা একজন মুহাদ্দিসের জন্য ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়। এই কারণেই হাদীস বিশারদগণ উপনামের জ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ রাবিগণের উপনামসমূহ নিয়ে বিশাল বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা এমন সব মূল্যবান মুক্তা ও তথ্যে পরিপূর্ণ যেখান থেকে একজন অভিজ্ঞ আলিম তো বটেই, এমনকি একজন নবীন শিক্ষার্থীও বিমুখ থাকতে পারেন না। আভিধানিক অর্থে 'কুনিয়া' হলো: কোনো বিষয়কে সরাসরি উল্লেখ না করে এমন কিছু বলা যা থেকে আসল উদ্দেশ্য বুঝা যায়। এজন্যই কুনিয়াকে কুনিয়া বলা হয় কারণ এটি মূল নামের বদলে সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয় (১)। আর বিশুদ্ধ মতানুসারে, যে নামের শুরুতে পিতা (আবু), মাতা (উম্মু), পুত্র (ইবন) বা কন্যা (বিনত) যুক্ত থাকে তাকেই কুনিয়া বলে। পারিভাষিক সংজ্ঞায় আল-খতিব আল-বাগদাদী 'আল-জামি লি আখলাকুর রাবি' গ্রন্থে বলেন: "একদল রাবি যাদের ক্ষেত্রে তাদের মূল নাম ও বংশ পরিচয়ের পরিবর্তে কুনিয়া ব্যবহারের মাধ্যমেই তারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং এতে কোনো বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে না বলেই রাবিগণ তাদের কুনিয়া উল্লেখ করেই সন্তুষ্ট থাকতেন" (২)।

হাদীস শাস্ত্রবিশারদগণের নিকট কুনিয়ার অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। আমরা এখানে বিস্তারিত আলোচনা না করে সংক্ষেপে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করছি (৩):

১ - যাদের কুনিয়াই তাদের নাম; অর্থাৎ তাদের কুনিয়া ব্যতিরেকে অন্য কোনো নাম নেই। এরা আবার দুই প্রকারে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: যাদের কুনিয়াটিই তাদের নাম হওয়া সত্ত্বেও তাদের আলাদা আরেকটি কুনিয়া রয়েছে। ফলে মনে হয় যেন কুনিয়ারও একটি কুনিয়া আছে। যেমন: আবু বকর ইবন আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবন হিশাম আল-মাখজুমি (৪), যিনি মদিনার অন্যতম ফকীহ...

--------------------------------------------

(১) ইবন ফারিস: মুজমালুল লুগাহ (১/৭৭১), এবং ইবনুল আসীর: আন-নিহায়াহ (৪/২০৭)।

(২) আল-খতিব: আল-জামি লি আখলাকুর রাবি ওয়া আদাবিস সামি (২/৭৭)।

(৩) মা'রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস (পৃষ্ঠা ৩৩০-৩৩৫)-এ ইবনুস সালাহ (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরী)-এর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।

(৪) মীম বর্ণে ফাতহা (যবর), খ বর্ণে সুকুন, যা বর্ণে যম্মাহ (পেশ) এবং শেষে মীম; এই নিসবত বা সম্বন্ধটি দুটি গোত্রের দিকে করা হয়। একটি আমর ইবন মাখজুমের দিকে এবং অন্যটি কুরাইশের মাখজুমের দিকে; আর তিনি হলেন মাখজুম ইবন ইয়াকাজা ইবন মুররা ইবন কাব ইবন লুআই ইবন গালিব। যেমনটি সাম'আনীর 'আল-আনসাব' (২/১৩৫-১৩৬) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الْمَدِينَةِ السَّبْعَةِ، اسْمُهُ أَبُو بَكْرٍ، وَكُنْيَتُهُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَكَذَلِكَ أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو ابْنِ حَزْمٍ الأَنْصَارِيُّ، يُقَالُ إِنَّ اسْمَهُ أَبُو بَكْرٍ، وَكُنْيَتُهُ أَبُو مُحَمَّدٍ.

الثَّانِي: مِنْ هَؤُلاءِ: مَنْ لا كُنْيَةَ لَهُ غَيْرُ الْكُنْيَةِ الَّتِي هِيَ اسْمُهُ، مِثَالُهُ: أَبُو بِلالٍ الأَشْعَرِيُّ (1)، الرَّاوِي عَنْ شَرِيكٍ وَغَيْرِهِ، وَهَكَذَا أَبُو حَصِينِ بْنُ يَحْيَى بْنِ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ بِفَتْحِ الْحَاءِ.

2 - الَّذِينَ عُرِفُوا بِكُنَاهُمْ، وَلَمْ يُوقَفْ عَلَى أَسْمَائِهِمْ وَلا عَلَى حَالِهِمْ فِيهَا، هَلْ هِيَ كُنَاهُمْ أَوْ غَيْرُهَا؟ مِثَالُهُ مِنَ الصَّحَابَةِ: أَبُو أُنَاسٍ الْكِنَانِيُّ رضي الله عنه (2)، وَأَبُو شَيْبَةَ الْخُدْرِيُّ رضي الله عنه (3).

3 - الَّذِينَ لُقِّبُوا بِالْكُنَى، وَلَهُمْ غَيْرُ ذَلِكَ كُنَى وَأَسْمَاءٌ، مِثَالُهُ: عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، يُلَقَّبُ بِأَبي تُرَابٍ، وَيُكْنَى أَبَا الْحَسَنِ. وأَبُو الزِّنَادِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ذَكْوَانَ، كُنْيَتُهُ أَبُو عَبْدِالرَّحْمَنِ، وَأَبُو الزِّنَادِ لَقَبٌ، وَكَانَ عَالِمًا مُتْقِنًا.

4 - مَنْ لَهُ كُنْيَتَانِ أَوْ أَكْثَرُ، مِثَالُ ذَلِكَ: عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جُرَيْجٍ، كَانَتْ لَهُ كُنْيَتَانِ: أَبُو خَالِدٍ، وَأَبُو الْوَلِيدِ، وعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ الْعُمَرِيُّ، أَخُو عُبَيْدِ اللَّهِ، رُوِيَ أَنَّهُ كَانَ يُكْنَى أَبَا الْقَاسِمِ، فَتَرَكَهَا وَتَكَنَّى بِأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ.

--------------------------------------------

(1) بفتح الألف وسكون الشين المعجمة وفتح العين المهملة وكسر الراء، هذه النسبة الى أشعر وهي قبيلة مشهورة من اليمن، كما في الأنساب للسمعاني (1/ 266).

(2) بكسر الكاف وفتح النون وكسر النون الثانية هذه النسبة إلى عدة من القبائل، منها أبو قرصافة جندرة بن نفير الكناني من قريش، كما في الأنساب للسمعاني (11/ 151).

(3) بضم الخاء المعجمة وسكون الدال المهملة والراء في آخرها، هذه النسبة إلى خدرة، واسمه الأبجر ابن عوف بن الحارث بن الخزرج بن حارثة، قبيلة من الأنصار، كما في الأنساب للسمعاني (5/ 60)، وانظر إلى جمهرة أنساب العرب لابن حزم (ص 362).
মদীনার সাতজন ফুকাহার মধ্যে একজন, তাঁর নাম হলো আবু বকর এবং তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) হলো আবু আবদুর রহমান। একইভাবে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম আল-আনসারী; বলা হয় যে, তাঁর নাম আবু বকর এবং তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ।

দ্বিতীয় প্রকার: তাদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তি যার সেই উপনামটি ছাড়া অন্য কোনো উপনাম নেই যা তাঁর নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ: আবু বিলাল আল-আশআরি (১), যিনি শারীক ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আবু হাসীন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান আর-রাজি, যেখানে 'হা' বর্ণটি ফাতহাহ (যবর) যোগে উচ্চারিত হবে।

২ - যারা তাঁদের উপনামের মাধ্যমেই পরিচিত হয়েছেন এবং তাঁদের প্রকৃত নাম জানা যায়নি, কিংবা তাঁদের নামের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, সেটি কি তাঁদের উপনাম নাকি অন্য কিছু? সাহাবীদের মধ্য থেকে এর উদাহরণ হলো: আবু উনাস আল-কিনানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (২) এবং আবু শাইবাহ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (৩)।

৩ - যাদেরকে উপনামের মাধ্যমে উপাধি দেওয়া হয়েছে, অথচ তাঁদের এর বাইরেও অন্য উপনাম ও নাম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তাঁকে 'আবু তুরাব' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে, অথচ তাঁর উপনাম হলো 'আবুল হাসান'। এছাড়া আবুয যিনাদ আবদুল্লাহ ইবনে যাকওয়ান, তাঁর উপনাম হলো আবু আবদুর রহমান, আর 'আবুয যিনাদ' হলো তাঁর উপাধি; তিনি একজন দক্ষ ও সুনিপুণ আলিম ছিলেন।

৪ - যার দুই বা ততোধিক উপনাম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: আবদুল মালিক ইবনে আবদুল আযীয ইবনে জুরাইজ, তাঁর দুটি উপনাম ছিল: আবু খালিদ ও আবু ওয়ালিদ। এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে হাফস আল-উমারি, যিনি উবাইদুল্লাহর ভাই; বর্ণিত আছে যে তাঁর উপনাম ছিল আবুল কাসিম, পরবর্তীতে তিনি তা বর্জন করেন এবং আবু আবদুর রহমান উপনাম গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) আলিফ বর্ণে ফাতহাহ (যবর), শীন বর্ণে সুকুন, আইন বর্ণে ফাতহাহ এবং রা বর্ণে কাসরা (যের) যোগে। এই সম্বন্ধটি আশআর গোত্রের দিকে, যা ইয়ামেনের একটি প্রসিদ্ধ গোত্র, যেমনটি সামআনির আল-আনসাব (১/২৬৬) গ্রন্থে রয়েছে।

(২) কাফ বর্ণে কাসরা, নুন বর্ণে ফাতহাহ এবং দ্বিতীয় নুন বর্ণে কাসরা যোগে। এই সম্বন্ধটি বেশ কয়েকটি গোত্রের দিকে করা হয়, তাদের মধ্যে আবু কিরসাফাহ জানদারাহ ইবনে নুফাইর আল-কিনানি কুরাইশ বংশীয়, যেমনটি সামআনির আল-আনসাব (১১/১৫১) গ্রন্থে রয়েছে।

(৩) খা বর্ণে যম্মাহ (পেশ), দাল বর্ণে সুকুন এবং শেষে রা বর্ণ যোগে। এই সম্বন্ধটি খুদরাহ এর দিকে, তাঁর নাম হলো আবজার ইবনে আওফ ইবনে হারিস ইবনে খাযরাজ ইবনে হারিসাহ; এটি আনসারদের একটি গোত্র, যেমনটি সামআনির আল-আনসাব (৫/৬০) এবং ইবনে হাযমের জামহারাতু আনসাবিল আরব (পৃষ্ঠা ৩৬২) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
5 - مَنِ اخْتُلِفَ فِي كُنْيَتِهِ، فَذُكِرَ لَهُ عَلَى الاخْتِلافِ كُنْيَتَانِ أَوْ أَكْثَرُ، وَاسْمُهُ مَعْرُوفٌ، مِثَالُهُ: أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ رضي الله عنه، حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِيلَ: كُنْيَتُهُ أَبُو زَيْدٍ، وَقِيلَ: أَبُو مُحَمَّدٍ، وَقِيلَ: أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، وَقِيلَ: أَبُو خَارِجَةَ. وكأُبَيّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه قِيلَ: كُنْيَتُهُ أَبُو الْمُنْذِرِ، وَقِيلَ: أَبُو الطُّفَيْلِ.

6 - مَنْ عُرِفَتْ كُنْيَتُهُ وَاخْتُلِفَ فِي اسْمِهِ، مِثَالُهُ مِنَ الصَّحَابَةِ أَبُو هُرَيْرَةَ الدَّوْسِيُّ رضي الله عنه (1)، اخْتُلِفَ فِي اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ، وَلَمْ يُخْتَلَفْ مِثْلُهُ فِي اسْمِ أَحَدٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَالإِسْلامِ، وَذَكَرَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ أَنَّ فِيهِ نَحْوَ عِشْرِينَ قَوْلَةً فِي اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ، ورَجَّح أن يكون اسْمه عَبْدَ اللَّهِ أَوْ عَبْدَالرَّحْمَنِ، وَذُكِرُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ أَنَّ اسْمَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَخْرٍ، وَمِنْ غَيْرِ الصَّحَابَةِ: أَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيُّ، أَكْثَرُهُمْ عَلَى أَنَّ اسْمَهُ عَامِرٌ، وَعَنْ ابْنِ مَعِينٍ أَنَّ اسْمَهُ الْحَارِثُ.

7 - مَنِ اخْتُلِفَ فِي كُنْيَتِهِ وَاسْمِهِ مَعًا، وَذَلِكَ قَلِيلٌ، مِثَالُهُ: سَفِينَةُ رضي الله عنه مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِيلَ: اسْمُهُ عُمَيْرٌ، وَقِيلَ: صَالِحٌ، وَقِيلَ: مِهْرَانُ، وَكُنْيَتُهُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَقِيلَ: أَبُو الْبَخْتَرِيِّ.

8 - مَنْ لَمْ يُخْتَلَفْ فِي كُنْيَتِهِ وَاسْمِهِ، وَعُرِفُوا جَمِيعًا وَاشْتَهَروا، وَمِنْ أَمْثِلَتِهِ: أَئِمَّةُ الْمَذَاهِبِ مَالِكٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ (2)، وَأَبُو حَنِيفَةَ، النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ، فِي خَلْقٍ كَثِيرٍ.

--------------------------------------------

(1) بفتح الدال المهملة وسكون الواو وكسر السين المهملة، هذه النسبة إلى قبيلة دَوْس، كما في الأنساب للسمعاني (5/ 401)، وانظر إلى جمهرة أنساب العرب لابن حزم (ص 386).

(2) بفتح الثاء المنقوطة بثلاث وفي آخرها الراء، هذه النسبة الى بطن من همدان وبطن من تميم، كما كما في الأنساب للسمعاني (3/ 152).
৫ - যাঁদের কুনিয়াত (উপনাম) নিয়ে মতভেদ রয়েছে, ফলে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর জন্য দুটি বা ততোধিক কুনিয়াত উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ তাঁর নাম সুপরিচিত। এর উদাহরণ: উসামা বিন যাইদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ছিলেন। বলা হয়েছে: তাঁর কুনিয়াত আবু যাইদ; আবার বলা হয়েছে: আবু মুহাম্মদ; আরও বলা হয়েছে: আবু আবদুল্লাহ; এবং এও বলা হয়েছে যে: আবু খারিজাহ। অনুরূপভাবে উবাই বিন কা’ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু), বলা হয়েছে: তাঁর কুনিয়াত আবু মুনযির; আবার বলা হয়েছে: আবু তুফাইল।

৬ - যাঁদের কুনিয়াত সুপরিচিত কিন্তু নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সাহাবীগণের মধ্য থেকে এর উদাহরণ: আবু হুরায়রা আদ-দাওসী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (১), তাঁর এবং তাঁর পিতার নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। জাহিলী যুগ ও ইসলামি যুগে আর কারো নাম নিয়ে তাঁর মতো এত অধিক মতভেদ হয়নি। ইবনে আবদিল বার উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর ও তাঁর পিতার নামের ব্যাপারে প্রায় বিশটি অভিমত রয়েছে। তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন যে, তাঁর নাম আবদুল্লাহ অথবা আবদুর রহমান। মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর নাম আবদুর রহমান বিন সাখর। আর সাহাবীগণ ব্যতীত অন্যদের মধ্যে উদাহরণ: আবু বুরদাহ বিন আবী মুসা আল-আশআরী; অধিকাংশের মতে তাঁর নাম আমির, আর ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে তাঁর নাম হারিস।

৭ - যাঁদের কুনিয়াত ও নাম—উভয়টি নিয়েই মতভেদ রয়েছে, আর এটি বিরল। এর উদাহরণ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্তদাস সাফীনাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। বলা হয়েছে: তাঁর নাম উমাইর; আবার বলা হয়েছে: সালিহ; আরও বলা হয়েছে: মিহরান। আর তাঁর কুনিয়াত আবু আবদির রহমান; আবার বলা হয়েছে: আবু আল-বাখতারী।

৮ - যাঁদের কুনিয়াত ও নাম নিয়ে কোনো মতভেদ নেই, বরং উভয়টিই সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। এর উদাহরণ: মাযহাবের ইমামগণ—মালিক, মুহাম্মদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈ, আহমাদ বিন হাম্বল, সুফিয়ান আস-সাওরী (২) এবং আবু হানীফা নুমান বিন সাবিতসহ আরও অসংখ্য ব্যক্তি।

--------------------------------------------

(১) নুকতাহীন দাল বর্ণে ফাতহাহ, ওয়াও বর্ণে সুকুন এবং নুকতাহীন সীন বর্ণে কাসরাহ যোগে; এই নিসবতটি দাওস গোত্রের দিকে, যেমনটি সামআনীর ‘আল-আনসাব’ (৫/৪০১) গ্রন্থে রয়েছে; আরও দেখুন ইবনে হাজমের ‘জামহারাতু আনসাবিল আরব’ (পৃ. ৩৮৬)।

(২) তিন নুকতাযুক্ত সা বর্ণে ফাতহাহ এবং শেষে রা বর্ণ যোগে; এই নিসবতটি হামদান গোত্রের একটি শাখা এবং তামীম গোত্রের একটি শাখার দিকে, যেমনটি সামআনীর ‘আল-আনসাব’ (৩/১৫২) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
9 - مَنِ اشْتَهَرَ بِكُنْيَتِهِ دُونَ اسْمِهِ، وَاسْمُهُ مَعَ ذَلِكَ غَيْرُ مَجْهُولٍ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ، مِثَالُهُ: أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيُّ، اسْمُهُ عَائِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وأَبُو إِسْحَاقَ السَّبِيعِيُّ (1) اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ الله.

هذا وقد صَنَّف الأئمة في هذا النَّوع من علم الحديث مصنفات قَيِّمة وكان منهجهم إيراد كُنَى الرُّواة وأسمائهم وأنسابهم وشيوخهم وتلامذتهم. وما يتعلق بهم من جرح وتعديل، وربما ذكروا أحاديثهم، ومن أشهر هذه المصنفات:

1 - الأَسَامِي والكُنَى للإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل الشَّيْبَانِيّ (ت: 241 هـ) رِوَايَة ابْنه صَالح، طبعة: مكتبة دار الأقصى، الكويت الطبعة الأولى، 1406 هـ، تحقيق: عبد الله بن يوسف الجديع، جزء واحد.

2 - الكُنَى والأسماء للإمام مسلم بن الحجاج أبو الحسن القشيري النيسابوري (ت: 261 هـ)، طبعته: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، الطبعة الأولى، 1404 هـ تحقيق: عبد الرحيم محمد أحمد القشقري، عدد الأجزاء: 2.

3 - الكنى والأسماء لأبي بِشْر محمد بن أحمد الدُّولابِيِّ (ت: 310 هـ)، طبعة: دار ابن حزم، بيروت، الطبعة الأولى 1421 هـ، تحقيق: أبو قتيبة نظر محمد الفاريابي، عدد الأجزاء: 3.

4 - كتاب الكُنَى لمن لا يعرف له اسم من أصحاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم، لأبي الفتح محمد بن الحسين الأزدي (ت: 374 هـ)، طبعة: الدار السلفية، بومباي الهند، الطبعة الأولى 1410 هـ، تحقيق: إقبال أحمد بن محمد بسكوبري، جزء واحد.

--------------------------------------------

(1) بفتح السين المهملة وكسر الباء الموحدة وسكون الياء المنقوطة من تحتها باثنتين وفي آخرها العين المهملة، هذه النسبة إلى سبيع وهو بطن من همدان، كما في الأنساب للسمعاني (7/ 68).
৯ - যারা নিজেদের নামের পরিবর্তে উপনামের (কুনিয়াহ) মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, অথচ হাদীস বিশারদদের নিকট তাদের আসল নামও অজ্ঞাত নয়। উদাহরণস্বরূপ: আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি, যার নাম হলো আয়িযুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ; এবং আবু ইসহাক আস-সাবিঈ (১), যার নাম হলো আমরু বিন আবদুল্লাহ।

ইমামগণ ইলমে হাদীসের এই প্রকারের ওপর বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাদের অনুসৃত পদ্ধতি ছিল বর্ণনাকারীদের উপনাম, নাম, বংশ পরিচয়, উস্তাদ এবং ছাত্রদের নাম উল্লেখ করা। এছাড়া তারা তাদের সম্পর্কে জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও প্রশংসা) সংক্রান্ত আলোচনা এবং কখনও কখনও তাদের বর্ণিত হাদীসসমূহও উল্লেখ করেছেন। এই জাতীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর কয়েকটি হলো:

১ - ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানীর (মৃত্যু: ২৪১ হিজরী) ‘আল-আসামী ওয়াল কুনা’, যা তাঁর পুত্র সালেহের বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত। প্রকাশনা: মাকতাবাতু দারিল আকসা, কুয়েত, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৬ হিজরী, তাহকীক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদিঈ, এক খণ্ড।

২ - ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ আবুল হাসান আল-কুশাইরী আন-নিশাবুরীর (মৃত্যু: ২৬১ হিজরী) ‘আল-কুনা ওয়াল আসমা’। প্রকাশনা: উমাদাতুল বাহসিল ইলমী, আল-জামিআতুল ইসলামিয়্যাহ, মদীনা মুনাওয়ারা, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরী, তাহকীক: আবদুর রহীম মুহাম্মাদ আহমাদ আল-কাশগারী, খণ্ড সংখ্যা: ২।

৩ - আবু বিশর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আদ-দুলাবীর (মৃত্যু: ৩১০ হিজরী) ‘আল-কুনা ওয়াল আসমা’। প্রকাশনা: দার ইবনে হাযম, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরী, তাহকীক: আবু কুতাইবা নাযার মুহাম্মাদ আল-ফারইয়াবি, খণ্ড সংখ্যা: ৩।

৪ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই সকল সাহাবী যাদের নাম জানা যায় না, তাদের সম্পর্কে আবু ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-আযদীর (মৃত্যু: ৩৭৪ হিজরী) ‘কিতাবুল কুনা’। প্রকাশনা: আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ, বোম্বাই, ভারত, প্রথম সংস্করণ, ১৪১০ হিজরী, তাহকীক: ইকবাল আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিসকুবরী, এক খণ্ড।

--------------------------------------------

(১) সীন বর্ণে ফাতহাহ (যবর), এক নুক্তা বিশিষ্ট বা বর্ণে কাসরাহ (যের), নিচে দুই নুক্তা বিশিষ্ট ইয়া বর্ণে সুকুন এবং শেষে আইন বর্ণ সহযোগে। এই নিসবতটি (সম্বন্ধ) সাবিই-এর দিকে, যা হামদান গোত্রের একটি উপশাখা, যেমনটি সামআনীর ‘আল-আনসাব’ (৭/৬৮) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
5 - فتح الباب في الكُنَى والألقاب، لأبي عبد الله محمد بن إسحاق بن مَنْدَةَ (ت: 395 هـ)، طبعة: مكتبة الكوثر، الرياض، الطبعة الأولى، 1417 هـ، تحقيق: أبو قتيبة نظر محمد الفاريابي، جزء واحد.

6 - الإكمال في رفع الارتياب عن المؤتلف والمختلف، لأبي نصر علي بن هبة الله بن جعفر بن ماكولا (ت: 475 هـ)، طبعة: دار الكتب العلمية، بيروت، الطبعة الطبعة الأولى 1411 هـ، عدد الأجزاء: 7.

7 - المقتنى في سرد الكُنَى لأبي عبد الله محمد قَايْماز الذَّهَبِي (ت: 748 هـ)، طبعة: المجلس العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، الطبعة الأولى، 1408 هـ، تحقيق: محمد صالح عبد العزيز المراد، عدد الأجزاء: 2.
৫ - ফাতহুল বাব ফিল কুনা ওয়াল আলকাব, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মানদাহ (মৃত্যু: ৩৯৫ হি.) কৃত, প্রকাশনা: মাকতাবাতুল কাওসার, রিয়াদ, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৭ হি., সম্পাদনা: আবু কুতাইবা নজর মুহাম্মদ আল-ফারিইয়াবি, এক খণ্ড।

৬ - আল-ইকমাল ফি রাফয়িল ইরতিয়াব আনিল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ, আবু নাসর আলি বিন হিবাতুল্লাহ বিন জাফর বিন মাকুলা (মৃত্যু: ৪৭৫ হি.) কৃত, প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৪১১ হি., মোট খণ্ড: ৭।

৭ - আল-মুকতানা ফি সারদিল কুনা, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ কায়মাজ আয-যাহাবি (মৃত্যু: ৭৪৮ হি.) কৃত, প্রকাশনা: আল-মাজলিসুল ইলমি, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৮ হি., সম্পাদনা: মুহাম্মদ সালেহ আব্দুল আজিজ আল-মুরাদ, মোট খণ্ড: ২।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المطلب الثالث سبب اهتمام الأئمة بهذا الفن

اهتمَّ أهل الحديث بعلم الْمُتَشَابه من أسماء الرُّواة؛ لوقوع اللَّبس والوهم حتى من كبار الحفَّاظ؛ بسبب الخلط بين المتُشَابِهِين؛ لاسيما إذا كانوا في طبقات مُتَقَارِبة، ونظرًا للقيمة العلمية للتمثيل، سوف أستعرض في هذا المطلب بعض هذه الأوهام على سبيل المثال لا الحصر فمنها: ما أشار إليه الخطيب البَغْدَاديُّ في مقدمة المُتَّفِق والمُفْتَرِق فقال: "وقد وَهَمَ غَير واحدٍ من حملة العلم المعروفين بحسن الحفظ والفهم في شيء من هذا النَّوع الذي ذكرناه، فحدانا ذلك على أن شرحناه ولخصناه، ونسأل الله العصمة من الخطأ في جميع الأمور والعفو عن زللنا" (1)، ثم ساق مثالاً على ذلك فقال: في قول يَحْيَى بْنِ مَعِين: "رَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عن شيخٍ له يقال له عَبْد الْمَلِكِ بْن قُرَيْبٍ وهو الأَصْمَعِيّ ولكن في كتاب مالك: عَبْد الْمَلِكِ بْنِ قُرَيْرٍ وهو خطأ إنَّما هو الأَصْمَعِيّ" (2).

فتعقبه الخطيب البغدادي فقال: "قد غَلَط ابْنُ مَعِين في هَذَا القَول غَلَطًا ظَاهرًا وأخطأ خطأ فاحشًا، وحديث مالك صحيح رواه عنه كافة أصحابه وساقه في موطأه عن عَبْدِالْمَلِكِ بْنِ قُرَيْرٍ، عن محمد بن سيرين. ويرى أنَّ الوهم دخل فيه على يَحْيَى لاتفاق الاسمين وتقارب الأبوين، أعني من عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قُرَيْرٍ (3)،

--------------------------------------------

(1) الخطيب البغدادي: المُتَّفِق والمُفْتَرِق (1/ 105 - 106).

(2) وذكره البخاري أيضاً في التاريخ الكبير (5/ 428).

(3) وهو الْقَيْسِيُّ الْبَصْرِيُّ العَبْدِيُّ رَوَى عَنْهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ بخلاف الذي يليه، كما في تلخيص المتشابه في الرسم للخطيب البغدادي (ص 746)، وتهذيب التهذيب لابن حجر (6/ 417).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই শাস্ত্রের প্রতি ইমামগণের গুরুত্ব প্রদানের কারণ

আহলে হাদিসগণ বর্ণনাকারীদের নামের মধ্যে ‘মুতাশাবিহ’ (সদৃশ) বিষয়ক শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছেন; কারণ বড় বড় হাফেজদের ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তি ও সংশয় ঘটার সম্ভাবনা থাকে; পরস্পর সদৃশ নামগুলোর মধ্যে সংমিশ্রণ হয়ে যাওয়ার কারণে; বিশেষ করে যদি তারা কাছাকাছি স্তরের হয়ে থাকেন। উদাহরণের ইলমি মূল্যের দিকে লক্ষ্য রেখে, আমি এই পরিচ্ছেদে এই ধরনের কিছু সংশয়ের উদাহরণ দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরব, তবে তা কেবল এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যেমন: আল-খতিব আল-বাগদাদি ‘আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক’ গ্রন্থের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "স্মরণশক্তি ও প্রজ্ঞার জন্য সুপরিচিত ইলম বহনকারী একাধিক ব্যক্তি আমরা যা উল্লেখ করেছি তার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশয়ে নিপতিত হয়েছেন। তাই এটিই আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে বিষয়টি ব্যাখ্যা ও সংক্ষেপ করতে। আমরা সমস্ত বিষয়ে ভুল থেকে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা প্রার্থনা করি এবং আমাদের স্খলনের জন্য ক্ষমা চাই" (১)। অতঃপর তিনি এর একটি উদাহরণ পেশ করে বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে মঈনের একটি উক্তি প্রসঙ্গে: "মালিক ইবনে আনাস তাঁর জনৈক শায়খের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যাকে আব্দুল মালিক ইবনে কুরাইব বলা হয় এবং তিনি হলেন আল-আসমায়ী। কিন্তু ইমাম মালিকের কিতাবে রয়েছে: আব্দুল মালিক ইবনে কুরাইর, আর এটি ভুল; মূলত তিনি হলেন আল-আসমায়ী" (২)।

অতঃপর খতিব আল-বাগদাদি এর সমালোচনা করে বলেছেন: "ইবনে মঈন এই উক্তিতে সুস্পষ্ট ভুল করেছেন এবং গুরুতর ভ্রান্তি করেছেন। ইমাম মালিকের হাদিসটি সঠিক, তাঁর সকল ছাত্র তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর মুয়াত্তা গ্রন্থে এটি আব্দুল মালিক ইবনে কুরাইর-এর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন। ধারণা করা হয় যে, ইয়াহইয়ার মধ্যে এই সংশয়টি প্রবেশ করেছে নাম দুটির মিল এবং পিতার নামের সাদৃশ্যের কারণে, অর্থাৎ আব্দুল মালিক ইবনে কুরাইর থেকে (৩),"

--------------------------------------------

(১) আল-খতিব আল-বাগদাদি: আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক (১/ ১০৫ - ১০৬)।

(২) এবং ইমাম বুখারিও এটি আত-তারিখুল কাবিরে (৫/ ৪২৮) উল্লেখ করেছেন।

(৩) তিনি হলেন আল-কায়সি আল-বাসরি আল-আবদি, যার থেকে মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন, তার পরবর্তী ব্যক্তির বিপরীত। যেমনটি খতিব আল-বাগদাদির ‘তালখিসুল মুতাশাবিহ ফির রাসম’ (পৃষ্ঠা ৭৪৬) এবং ইবনে হাজারের ‘তাহজিবুত তাহজিব’ (৬/ ৪১৭) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قُرَيْبٍ (1) مع ما أخبرنا به أبو سعيد الصيرفي، قال: سمعت محمد بن يعقوب الأصم، يقول: سمعت العَبَّاس الدُّورِيُّ يقول: سمعتُ يَحْيَى بْن مَعِين يقول: سمعتُ الأَصْمَعِيّ يقول: سمع مِنِّي مالك بن أنس فلما صح سماع يَحْيَى هذا من الأَصْمَعِيِّ واسمه عبد الملك بن قريب وانتهت إليه رواية مالك عن عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قُرَيْرٍ ظنه الأَصْمَعِيّ، فقضى على مالك بالخطأ وألزمه الوهم ولو أَمْعَن يَحْيَى النَّظرَ لعلم أَنَّ الأَصْمَعِيّ لا يَرْوِى عن محمد بن سيرين، وعَبْد الْمَلِكِ بْن قُرَيْرٍ الذي روى عنه مالك هو العَبْدِيّ أخو عبد العزيز بن قُرَيْرٍ من أهل البصرة، وهو يروي عن الأحنف بن قيس، وعن محمد بن سيرين أيضًا، فإذا كان يَحْيَى بن معين لم يسلم من الوهم مع ثبوت قدمه في هذا العلم لأدنى شبهة دخلت عليه من قبل كلام وقع إليه فكيف يكون حال من هو دونه إذا ورد اسمان في كل جهة متفقان نسبا وتسمية وطبقة ورواية إن وقوع الإشكال يكون أكثر إلا من أمعن النظر" (2).

ووقع الوهم من بعض الحفاظ كذلك؛ بسبب الظَّن أنَّ الشَخْصَ الوَاحد شَخْصَان، ومثال ذلك ما ذكره ابن ماكولا (ت: 475 هـ) في تهذيب مستمر الأوهام فقال: "بجير ابن أَحْمَر (3)، عَن ابْن عَبَّاس، روى عَنهُ دَاوُد بن أبي هِنْد،

--------------------------------------------

(1) وهو أَبُو سَعِيدٍ الْبَصْرِيُّ الأَصْمَعِيُّ، صَاحِبُ النَّحْوِ وَاللُّغَةِ وَالْغَرِيبِ وَالأَخْبَارِ، كما في تلخيص المتشابه (ص 746)، والتاريخ الكبير للبخاري (5/ 428)، وتهذيب التهذيب (6/ 415).

(2) الخطيب البغدادي: المُتَّفِق والمُفْتَرِق (1/ 109 - 111).

(3) هو والد عَبد اللهِ بْن بُجَير بْن حُمْران، القَيسِيّ، البصريّ، كما في التاريخ الكبير للبخاري (2/ 139)، ترجمة رقم (1973).
এবং আব্দুল মালিক ইবন কুরাইব (১), সাথে যা আমাদের আবু সাঈদ আস-সাইরাফি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-আসামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্বাস আদ-দুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবন মাঈনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আসমায়িকে বলতে শুনেছি যে, মালিক ইবন আনাস আমার থেকে (হাদিস) শুনেছেন। সুতরাং যখন আসমায়ি—যার নাম আব্দুল মালিক ইবন কুরাইব—থেকে ইয়াহইয়ার এই শোনার বিষয়টি নিশ্চিত হলো এবং মালিকের বর্ণনা আব্দুল মালিক ইবন কুরাইর থেকে হওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি তাকে আসমায়ি বলে মনে করলেন। ফলে তিনি মালিকের ব্যাপারে ভুলের সিদ্ধান্ত দিলেন এবং তাকে ভ্রমের শিকার সাব্যস্ত করলেন। অথচ ইয়াহইয়া যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন তবে জানতে পারতেন যে, আসমায়ি মুহাম্মদ ইবন সিরিন থেকে বর্ণনা করেন না। আর আব্দুল মালিক ইবন কুরাইর, যাঁর থেকে মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আল-আবদি, যিনি আব্দুল আজিজ ইবন কুরাইরের ভাই এবং বসরার অধিবাসী। তিনি আহনাফ ইবন কাইস এবং মুহাম্মদ ইবন সিরিন থেকেও বর্ণনা করেন। সুতরাং এই শাস্ত্রে সুদৃঢ় পদচারণা থাকা সত্ত্বেও সামান্য সংশয়ের কারণে ইয়াহইয়া ইবন মাঈন যদি ভ্রম থেকে মুক্ত থাকতে না পারেন, তবে তাঁর নিম্নস্তরের লোকদের অবস্থা কেমন হবে, যখন উভয় ক্ষেত্রে এমন দুটি নাম আসে যা বংশনাম, নাম, স্তর এবং বর্ণনায় একরূপ? সেক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, যদি না কেউ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে" (২)।

একইভাবে কোনো কোনো হাফিজের ক্ষেত্রেও ভ্রম ঘটেছে এই ধারণার কারণে যে, একই ব্যক্তি মূলত দুজন পৃথক ব্যক্তি। এর উদাহরণ হলো যা ইবন মাকুলা (মৃ: ৪৭৫ হি.) তাঁর 'তাহজিবু মুস্তামিররিল আওহাম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "বুজাইর ইবন আহমার (৩), ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে দাউদ ইবন আবি হিন্দ বর্ণনা করেছেন,

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু সাঈদ আল-বসরি আল-আসমায়ি, নাহু, লুগাত (ভাষা), গারিব এবং আখবার (ইতিহাস) শাস্ত্রের পণ্ডিত, যেমনটি উল্লেখ আছে তালখিসুল মুতাশাবিহ (পৃ. ৭৪৬), বুখারির আত-তারিখুল কাবির (৫/ ৪২৮) এবং তাহজিবুত তাহজিব (৬/ ৪১৫) গ্রন্থে।

(২) আল-খতিব আল-বাগদাদি: আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক (১/ ১০৯ - ১১১)।

(৩) তিনি আব্দুল্লাহ ইবন বুজাইর ইবন হুমরানের পিতা, আল-কাইসি, আল-বসরি, যেমনটি বুখারির আত-তারিখুল কাবির (২/ ১৩৯) গ্রন্থে ১৯৭৩ নং জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقَالَ بعده بجير بن حمْرَان عَن أبي الْعَالِيَة، روى عَنهُ الْجريرِي، وَعمْرَان بن حدير … ، قَالَ ذَلِك عَليّ بن الْمَدِينِيّ.

قلتُ - ابن ماكولا-: وَهَذَا وهم وهما وَاحِد بَين ذَلِك البُخَارِيّ فَقَالَ فِي التَّارِيخ (1): بجير بن أَحْمَر، عَن ابْن عَبَّاس روى عَنهُ دَاوُد بن أبي هِنْد فِي الْقِبْلَة قَوْله، وَيُقَال عَن هِلال ابن حق، عَن الْجريرِي، عَن بجير بن حمْرَان وروى عَنهُ الْجريرِي، وَعمْرَان بن حدير، ويروي عَن أبي الْعَالِيَة، وَيُقَال عَن عَليّ وَهُوَ وَالِد عبد الله بن بجير بن حمْرَان الْقَيْسِي الْبَصْرِيّ، وَابْن حمدَان أصح فقد بَان بِهَذَا أَنَّهُمَا وَاحِد وَللهِ الْحَمد والْمنَّة" (2).

ونبه الحافظ الذَّهبي في ترجمة عُثْمَان بْنِ عَبْد الرَّحْمَن القُرَشِيّ الوَقَّاصِيِّ (3) في الميزان إلى ما وقع للإمام ابن عدي من وهم في كتابه الكامل في التَّاريخ (4) فقال: "وذكر ابن عدي في ترجمة الجُمَحِيِّ (5) جملة أحاديث سطرها، إنما هي للوَقَّاصِيِّ لا الجُمَحِيّ بدليل أنَّ بعضها حدثنا عطاء، وحدثنا نافع، والجُمَحِيّ لم يدركهما " (6)، "ومنها: عَامِر بن سَيَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (2/ 139).

(2) ابن ماكولا: تهذيب مستمر الأوهام (ص 98 - 99).

(3) قال ابن معين: "لا يكتب حديثه كان يَكْذِب"، انظر تهذيب التهذيب لابن حجر (7/ 133).

(4) ابن عدي: الكامل في ضعفاء الرجال (6/ 273 - 277).

(5) وهو عُثْمَان بْنِ عَبْد الرَّحْمَن أبو عُمَر البَصْرِيّ، الجُمَحِيّ (ت: 184 هـ)، بضم الجيم وفتح الميم وفي آخرها الحاء المهملة هذه النسبة إلى بنى جُمَح وهم بطن من قريش كما في الأنساب للسمعاني (3/ 326)، قال الذَّهبِي في الميزان (3/ 47): "صويلح"، وتهذيب التهذيب (7/ 135).

(6) الذَّهبي: ميزان الاعتدال (3/ 44).
এরপর তিনি বলেছেন, বুজাইর ইবনে হামরান আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তার থেকে বর্ণনা করেছেন আল-জুরাইরী এবং ইমরান ইবনে হুদাইর ... , এ কথা আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন।

আমি (ইবনে মাকুলা) বলছি: এটি একটি ভ্রম, তারা মূলত একজনই। ইমাম বুখারি তাঁর 'তারিখ' (১) গ্রন্থে এটি স্পষ্ট করেছেন এবং বলেছেন: বুজাইর ইবনে আহমুর, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; কিবলা সম্পর্কে তাঁর উক্তিটি দাউদ ইবনে আবি হিন্দ বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত আছে যে হিলাল ইবনুল হাক্ক আল-জুরাইরী থেকে, তিনি বুজাইর ইবনে হামরান থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আল-জুরাইরী এবং ইমরান ইবনে হুদাইর বর্ণনা করেছেন। তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন। বলা হয় আলী থেকে, আর তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে বুজাইর ইবনে হামরান আল-কায়সী আল-বসরীর পিতা। 'ইবনে হামদান' নামটি অধিকতর সঠিক। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে তারা উভয়ই একজন। সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই। (২)।

হাফেজ যাহাবী তাঁর 'মিজান' গ্রন্থে উসমান ইবনে আবদুর রহমান আল-কুরাশি আল-ওয়াক্কাসি-এর (৩) জীবনীতে ইমাম ইবনে আদি তাঁর 'আল-কামিল ফিত তারিখ' (৪) গ্রন্থে যে ভ্রম করেছেন সে বিষয়ে সজাগ করেছেন। তিনি বলেছেন: "ইবনে আদি জুমাহি-এর (৫) জীবনীতে একগুচ্ছ হাদিস উল্লেখ করেছেন যা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন, কিন্তু সেগুলো মূলত ওয়াক্কাসি-এর, জুমাহি-এর নয়। এর প্রমাণ হলো এগুলোর কিছু সনদে আছে 'আতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন' এবং 'নাফি' আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন', অথচ জুমাহি তাঁদের কাউকেই পাননি।" (৬)। "সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আমির ইবনে সাইয়্যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু আমর উসমান ইবনে...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (২/ ১৩৯)।

(২) ইবনে মাকুলা: তাহজিব মুস্তামিররিল আওহাম (পৃ. ৯৮ - ৯৯)।

(৩) ইবনে মাইন বলেন: "তার হাদিস লেখা যাবে না, সে মিথ্যা বলত", দেখুন ইবনে হাজারের তাহজিবুত তাহজিব (৭/ ১৩৩)।

(৪) ইবনে আদি: আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল (৬/ ২৭৩ - ২৭৭)।

(৫) তিনি হলেন উসমান ইবনে আবদুর রহমান আবু উমর আল-বসরী, আল-জুমাহি (মৃত্যু: ১৮৪ হি.), জীম বর্ণে পেশ, মীম বর্ণে জবর এবং শেষে হা বর্ণসহ; এই নিসবতটি বনু জুমাহ গোত্রের দিকে, যারা কুরাইশদের একটি শাখা, যেমনটি সাম'আনীর আল-আনসাব (৩/ ৩২৬) গ্রন্থে এসেছে। যাহাবী মিজানে (৩/ ৪৭) বলেছেন: "মোটামুটি গ্রহণযোগ্য (সওয়াইলিহ)", এবং তাহজিবুত তাহজিব (৭/ ১৩৫)।

(৬) যাহাবী: মিজানুল ইতিদাল (৩/ ৪৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
عَبْدِ الرَّحْمَن، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: «زُرْ غِبًّا تَزْدَدْ حُبًّا» (1)، إسحاق بن كعب، حدثنا عثمان بن عبد الرحمن، عن عطاء، عن ابن عباس، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ عَلِّم مُعَاوِيَةَ الكِتَابَ والْحِسَابَ، وِقِهِ العَذَابَ» (2)، هكذا ذكرهما ابن عدي هنا فوهم" (3).

وذكر جمال الدِّين الزَّيْلَعِيّ ما وقع للإمامِ ابْنِ الْجَوْزِيِّ من الوهم بسبب التَّشَابُه الشديد في أسماء الرُّواة، فقال: "حَدِيثٌ آخَرُ، رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ فِي كِتَابِهِ: حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَنْبَرِيُّ، ثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، سَمِعْتُ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يُغْسَلُ الإِنَاءُ إذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ سَبْعَ مَرَّاتٍ، وَإِذَا وَلَغَتْ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً»، انْتَهَى. وَقَالَ: حَدِيثٌ

--------------------------------------------

(1) حديث ضعيف معلول: رُوُي عن جماعة من الصحابة منهم: أَبُو هُرَيْرَةَ، وأَبُو ذَرٍّ، وعَائِشَة، رضي الله عنهم، بطرق مختلفة معلولة تربو عن العشرة، أذكر منها طريقًا واحدًا وهو أشهرها أخرجه أَبُو دَاوُدَ الطَيَاِلسِيُّ (ت: 204 هـ) في مسنده (4/ 268)، والخرائطي (ت: 327 هـ) في اعتلال القلوب (2/ 295)، وابن الأعرابي (ت: 340 هـ) في معجمه (2/ 752)، والطبراني (ت: 360 هـ) في المعجم الأوسط (6/ 9)، وغيرهم كُلُّهُمْ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، به، أعله أَبُو حَاتمٍ (ت: 277 هـ) بقوله: "هذا حديث منكر" في مواضع من العلل: (5/ 542 - 543)، (6/ 181)، (6/ 304). وقَالَ أَبُو بَكْرٍ الْبَزَّار (ت: 292 هـ) في مسنده (16/ 191): "ليس في زُرْ غِبًّا تَزْدَدْ حُبًّا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حديث صحيح". كما أورده ابنُ عدي (ت: 365 هـ) في عدة مواضع من كامله وأعلها كلها منها: (4/ 63)، (4/ 186)، (4/ 250)، (5/ 165).

(2) حديث ضعيف: أخرجه أحمد في المسند (28/ 383) فيه الْحَارِث بْن زِيَادٍ، قَالَ ابن حجر في التهذيب (2/ 142): "قرأت بخط الذَّهَبِي في الميزان مجهول، وقال ابن عبد البر: مجهول وحديث منكر".

(3) الذَّهبي: ميزان الاعتدال (3/ 47).
আব্দুর রহমান (থেকে বর্ণিত), আতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "মাঝে মাঝে সাক্ষাৎ করো, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে" (১)। ইসহাক ইবনে কাব (থেকে বর্ণিত), উসমান ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! মুআবিয়াকে কিতাব ও গণিত শিক্ষা দিন এবং তাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করুন" (২)। এভাবেই ইবনে আদি এই দুটি বর্ণনা এখানে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি ভুল করেছেন" (৩)।

জামালুদ্দিন যায়লায়ি ইমাম ইবনুল জাওযির সেই ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন যা বর্ণনাকারীদের নামের অতি সাদৃশ্যের কারণে ঘটেছিল, তিনি বলেন: "অন্য একটি হাদিস, যা তিরমিজি তার কিতাবে বর্ণনা করেছেন: সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনবারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুতামির ইবনে সুলাইমান আমাদের বলেছেন, আমি আইয়ুবকে শুনেছি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: 'কুকুর যদি পাত্রে মুখ দেয় তবে তা সাতবার ধৌত করতে হবে, আর যদি বিড়াল মুখ দেয় তবে একবার ধৌত করতে হবে'। সমাপ্ত। এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাদিস...

--------------------------------------------

(১) এটি একটি দুর্বল ও ত্রুটিযুক্ত (মা’লুল) হাদিস: এটি একদল সাহাবির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু হুরায়রা, আবু যার এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। দশটিরও অধিক বিভিন্ন ত্রুটিযুক্ত সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে, আমি সেগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখ করছি যা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ তায়ালিসি (মৃ. ২০৪ হি.) তার মুসনাদে (৪/২৬৮), আল-খারায়েতি (মৃ. ৩২৭ হি.) 'ইতিলালুল কুলুব' গ্রন্থে (২/২৯৫), ইবনুল আরাবি (মৃ. ৩৪০ হি.) তার মুজামে (২/৭৫২), তাবারানি (মৃ. ৩৬০ হি.) 'আল-মুজামুল আওসাত' গ্রন্থে (৬/৯) এবং অন্যান্যরা। তারা সবাই ত্বলহা ইবনে আমর থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম (মৃ. ২৭৭ হি.) 'আল-ইলাল' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে (৫/৫৪২-৫৪৩, ৬/১৮১, ৬/৩০৪) এটিকে 'মুনকার হাদিস' বলে চিহ্নিত করেছেন। আবু বকর আল-বাযযার (মৃ. ২৯২ হি.) তার মুসনাদে (১৬/১৯১) বলেছেন: "মাঝে মাঝে সাক্ষাৎ করো ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে - এই মর্মে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো সহিহ হাদিস নেই।" তদ্রূপ ইবনে আদি (মৃ. ৩৬৫ হি.) তার 'আল-কামিল' গ্রন্থের বেশ কিছু স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর সবকটিকেই ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, যেমন: (৪/৬৩, ৪/১৮৬, ৪/২৫০, ৫/১৬৫)।

(২) দুর্বল হাদিস: আহমদ এটি মুসনাদে (২৮/৩৮৩) বর্ণনা করেছেন, এতে হারিস ইবনে যিয়াদ রয়েছে। ইবনে হাজার 'আত-তহজিব' গ্রন্থে (২/১৪২) বলেছেন: "আমি যাহাবির নিজ হাতের লেখায় 'আল-মিজান' গ্রন্থে পড়েছি যে সে মাজহুল (অপরিচিত), এবং ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: সে মাজহুল এবং হাদিসটি মুনকার।"

(৩) যাহাবি: মিজানুল ইতিদাল (৩/৪৭)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
حَسَنٌ صَحِيحٌ، وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يَذْكُرْ فيه وُلُوغَ الْهِرِّ (1)، انْتَهَى. قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي التَّحْقِيقِ: وَالسَّوَّارُ قَالَ فِيهِ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ: لَيْسَ بِشَيْءٍ (2)، قَالَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ فِي الإِمَامِ: وَهَذَا وَهْمٌ فَاحِشٌ، فَإِنَّ سَوَّارًا هَذَا شَيْخُ التِّرْمِذِيِّ، هُوَ سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَوَّارِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ قُدَامَةَ مَاتَ سَنَةَ خَمْسٍ وأربعين ومائتين، روى عَنْهُ أَبُو دَاوُد، وَالنَّسَائِيُّ. وَخَلْقٌ، وَقَالَ النَّسَائِيّ: ثِقَةٌ، وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ، وَسَوَّارٌ الَّذِي جَرَحَهُ سُفْيَانُ، هُوَ سَوَّارُ بْنُ عَبْدِاللَّهِ بْنِ قُدَامَةَ مُتَقَدِّمُ الطَّبَقَةِ" (3).

المتأمل لهذه الأمثلة الدَّارسُ لها يجد قيمة وأهمية علم المُتَّفِق والمُفْتَرِق، فإنَّ هؤلاء الحفاظ الأثبات قد وقعوا في الخلط بين الرُّواة مع حفظهم وإتقانهم، فكيف بالباحثين وطلاب العلم في هذا العصر؟ لاشك أنهم في أشد الحاجة لدراسة ومعرفة هذا الفن الجليل الذي أصبح في عصرنا هذا نسيًا منسيًا، وضربًا مما عفا عليه الزَّمان، فحقيق على الباحثين وطلبة العلم الاهتمام بعمل دراسات وبحوث في علم المُتَشابه من الرُّواة؛ فإنَّ أنواعه مُتَعَدِّدة ومُتَشَعِّبة، ولم يُصَنَّفْ في كثير من هذه الأنواع قديمًا وحديثًا، وإنمَّا ذكرها أهل العلم في مصنفاتهم للإشارة إليها جملة دون تفصيل.

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح: أخرجه عَبْدُ الرَّزَّاقِ الصَّنْعَانِيّ (ت: 211) في المصنف (1/ 97) بدون لفظة: "وُلُوغَ الْهِرِّ "، وأخرجه التِّرْمِذِيّ (ت: 279) وَصَحَّحَه في السنن (1/ 150)، وَقد اخْتلف فِي رَفع الشطر الأخير منه، قال الدَارَقُطْنيُّ في العلل (8/ 117): "وَالصَّحِيحُ قَوْلُ مَنْ وَقَفَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي الْهِرِّ خَاصَّةً". وقال ابن عبد الهادي (ت: 744 هـ) في المحرر (1/ 88): "الصَّوَاب وقفه".

(2) ابن الجوزي: التَّحْقِيق فِي أَحَادِيث الْخلاف (1/ 81)، حديث رقم (67).

(3) الزَّيْلَعِيّ: نصب الرَّاية (1/ 135 - 136).
এটি হাসান সহীহ। এটি আবু হুরায়রা থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে এতে বিড়ালের মুখ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ নেই, সমাপ্ত। ইবনুল জাওযী 'আত-তাহকীক' গ্রন্থে বলেছেন: সাউওয়ার সম্পর্কে সুফিয়ান সাওরী বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। শায়খ তাকীউদ্দীন 'আল-ইমাম' গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি মারাত্মক ভুল। কেননা এই সাউওয়ার হলেন তিরমিযীর উস্তাদ; তিনি হলেন সাউওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাউওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুদামা, যিনি দুইশত পঁয়তাল্লিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর থেকে আবু দাউদ, নাসাঈ এবং একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। নাসাঈ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। আর সুফিয়ান যাকে সমালোচনা করেছেন, তিনি হলেন সাউওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুদামা, যিনি পূর্ববর্তী প্রজন্মের বর্ণনাকারী।

এই উদাহরণগুলো নিয়ে চিন্তাকারী এবং অধ্যয়নকারী ব্যক্তি 'মুত্তাফাক ও মুফতারাফ' (নামের মিল কিন্তু ব্যক্তি ভিন্ন) ইলমের গুরুত্ব ও তাৎপর্য খুঁজে পাবেন। কারণ এই নির্ভরযোগ্য হাফেযগণ তাঁদের হেফজ ও নিপুণতা সত্ত্বেও বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন, তাহলে বর্তমান সময়ের গবেষক ও ইলম অন্বেষীদের অবস্থা কী হবে? নিঃসন্দেহে তাঁরা এই মহান বিদ্যাটি অধ্যয়ন ও জানার জন্য চরম মুখাপেক্ষী, যা বর্তমান যুগে বিস্মৃত এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং সময়ের আবর্তনে বিলীন হওয়া একটি বিষয়ে রূপ নিয়েছে। তাই গবেষক ও তালিবে ইলমদের জন্য বর্ণনাকারীদের 'মুতাশাবিহ' (সাদৃশ্যপূর্ণ) ইলমের ওপর গবেষণা ও অধ্যয়ন করা অত্যন্ত জরুরি; কারণ এর প্রকারভেদ অনেক এবং শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত। প্রাচীন বা আধুনিক কালে এর অনেক প্রকার নিয়ে পৃথক গ্রন্থ রচিত হয়নি, বরং আহলে ইলমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই কেবল সংক্ষেপে এর উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ হাদীস: আব্দুর রাজ্জাক আস-সানআনী (মৃত্যু: ২১১) 'আল-মুসান্নাফ' (১/৯৭) গ্রন্থে "বিড়ালের মুখ দেয়া" শব্দটুকু ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (মৃত্যু: ২৭৯) এটি তাঁর 'সুনান' (১/১৫০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন। তবে এর শেষ অংশের মারফু হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। দারাকুতনী 'আল-ইলাল' (৮/১১৭) গ্রন্থে বলেছেন: "সঠিক মত হলো এটি আবু হুরায়রার উক্তি হিসেবে মাওকুফ হওয়া, যা বিশেষভাবে বিড়ালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।" ইবনে আব্দুল হাদী (মৃত্যু: ৭৪৪ হিজরী) 'আল-মুহাররার' (১/৮৮) গ্রন্থে বলেছেন: "সঠিক হলো এটি মাওকুফ হওয়া।"

(২) ইবনুল জাওযী: আত-তাহকীক ফী আহাদিসিল খিলাফ (১/৮১), হাদীস নং (৬৭)।

(৩) আয-যাইলায়ী: নাসবুর রাইয়াহ (১/১৩৫-১৩৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ترتيب المُتَّفِق والمُفْتَرِق فيمن ذُكِرَ بِكُنْيَتهِ من الرُّواةِ في الكتب السِّتَّةِ على حروف المعجم بالنسبة للمكنى به،

وعددهم سبعة وأربعون ترجمة.
কুতুবে সিত্তার ঐ সকল বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে ‘আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক’ (নামে মিল অথচ সত্তায় ভিন্ন)-এর বিন্যাস যাদেরকে তাদের কুনিয়া (উপনাম) দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে এবং যা কুনিয়ার বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে,

আর তাদের সংখ্যা হলো সাতচল্লিশটি জীবনী।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌حرف الباء

-‌‌ أَبُو بَكْرٍ بنُ حَفْصٍ وتطلق على اثنين: الأول عَبد اللَّهِ بْن حفص الزُّهْرِيّ (1)، والثاني إِسْمَاعِيل بن حفص الأُبُلِّيّ (2) بالموحدة.

1 - (ع)‌‌ أَبُو بَكْرٍ بنُ حَفْصٍ: هو عَبد اللَّهِ بْن حفص بْن عُمَر بْن سعد بن أَبي وقاص القُرشِيُّ الزُّهْرِيّ، ثقة من صغار التابعين (3)، رَوَى عَن: أبيه وجدته، وابن عمر، وسالم بن عبد الله بن عمر، وأنس، وعبد الله بن حنين، وعبد الله بن مُحَيْرِيزٍ، وعروة بن الزبير، وأبي سلمة بن عبد الرَّحمن، وسلمان الأَغَرّ، وعبد الله بن عامر بن ربيعة، وحسن بن حسن بن علي، والزُّهري وغيرهم، وعنه: ابن جريج، وزيد بن أبي أنيسة، وأبان بن عبد الله البجلي، وبلال بن يحيى العبسي، وسعيد بن أبي بردة، وشعبة، ومحمد بن سوقة، ومسعر وجماعة (4)، أخرج له السِّتَّة في مصنفاتهم. فعند البخاريّ في الصحيح له ثلاثة أحاديث (5): في كتاب الغسل، والبيوع، وفي صحيح مسلم له أربعة أحاديث (6): في كتاب

--------------------------------------------

(1) الزُّهْرِيّ: بضم الزَّاى وسكون الهاء وكسر الراء، هذه النسبة إلى زُهْرة بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤيّ وهي من قريش، كما في الأنساب للسمعاني (ت: 562 هـ)، (6/ 350)، وتوضيح المشتبه لابن ناصر الدين (ت: 842 هـ)، (4/ 319).

(2) الأُبُلِّيّ: بضم الهمزة والباء المعجمة بواحدة وتشديد اللام فجماعة ينسبون إلى الأُبُلّة بالقرب من البصرة، انظر الإكمال لابن ماكولا (ت: 475 هـ) (1/ 130)، وانظر الأنساب للسمعاني (ت: 562 هـ)، (1/ 98)، وانظر تبصير المنتبه بتحرير المشتبه لابن حجر (ت: 852 هـ) (1/ 33).

(3) ابن حجر العسقلاني: تقريب التهذيب (ص 622).

(4) ابن حجر: تهذيب التهذيب (5/ 188 - 189).

(5) البخاري: الجامع الصحيح بأرقام: (251)، (263)، (2104).

(6) مسلم: الجامع الصحيح بأرقام: (320)، (481)، (512)، (2068).
‌'বা' বর্ণ

-‌‌ আবু বকর বিন হাফস এটি দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়: প্রথম জন হলেন আবদুল্লাহ বিন হাফস আল-জুহরি (১), এবং দ্বিতীয় জন হলেন ইসমাইল বিন হাফস আল-উবুল্লি (২) এক নুকতাওয়ালা 'বা' সহ।

১ - (আ)‌‌ আবু বকর বিন হাফস: তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন হাফস বিন উমর বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস আল-কুরাশি আল-জুহরি, তিনি ছোট স্তরের তাবেয়ীদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী (৩)। তিনি বর্ণনা করেছেন: তাঁর পিতা ও দাদী, ইবনে উমর, সালিম বিন আবদুল্লাহ বিন উমর, আনাস, আবদুল্লাহ বিন হুনাইন, আবদুল্লাহ বিন মুহায়রিজ, উরওয়াহ বিন আল-জুবাইর, আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান, সালমান আল-আগার, আবদুল্লাহ বিন আমির বিন রাবিয়াহ, হাসান বিন হাসান বিন আলি, আল-জুহরি এবং অন্যদের থেকে। আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবনে জুরাইজ, যাইদ বিন আবি আনিসাহ, আবান বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালি, বিলাল বিন ইয়াহইয়া আল-আবসি, সাঈদ বিন আবি বুরদাহ, শু'বাহ, মুহাম্মদ বিন সাওকাহ, মিসআর এবং একটি দল (৪)। কুতুবে সিত্তার ছয়জন ইমামই তাঁদের সংকলনসমূহে তাঁর হাদিস উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম বুখারির নিকট সহিহ বুখারিতে তাঁর তিনটি হাদিস রয়েছে (৫): গোসল ও ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে। আর সহিহ মুসলিমে তাঁর চারটি হাদিস রয়েছে (৬): নিম্নোক্ত অধ্যায়সমূহে...

--------------------------------------------

(১) আল-জুহরি: 'যা' বর্ণে পেশ, 'হা' বর্ণে সুকুন এবং 'রা' বর্ণে জের সহ। এটি জুহরাহ বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা কুরাইশ বংশের একটি শাখা। যেমনটি আস-সামআনি (মৃত্যু: ৫৬২ হিজরি) তাঁর 'আল-আনসাব' (৬/ ৩৫০) গ্রন্থে এবং ইবনে নাসিরুদ্দিন (মৃত্যু: ৮৪২ হিজরি) তাঁর 'তাওদিহুল মুশতাবিহ' (৪/ ৩১৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(২) আল-উবুল্লি: হামজা ও এক নুকতাওয়ালা 'বা' বর্ণে পেশ এবং 'লাম' বর্ণে তাশদিদ সহ। একদল লোক বসরাহ-এর নিকটবর্তী 'উবুল্লাহ' নামক স্থানের দিকে নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করেন। দেখুন: ইবনে মাকুলা (মৃত্যু: ৪৭৫ হিজরি) রচিত 'আল-ইকমাল' (১/ ১৩০), আস-সামআনি (মৃত্যু: ৫৬২ হিজরি) রচিত 'আল-আনসাব' (১/ ৯৮) এবং ইবনে হাজার (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) রচিত 'তাবসিরুল মুনতাবিহ বি তাহরিরিল মুশতাবিহ' (১/ ৩৩)।

(৩) ইবনে হাজার আল-আসকালানি: তাকরিবুত তাহজিব (পৃষ্ঠা ৬২২)।

(৪) ইবনে হাজার: তাহজিবুত তাহজিব (৫/ ১৮৮ - ১৮৯)।

(৫) আল-বুখারি: আল-জামিউস সহিহ, হাদিস নম্বর: (২৫১), (২৬৩), (২১০৪)।

(৬) মুসলিম: আল-জামিউস সহিহ, হাদিস নম্বর: (৩২০), (৪৮১), (৫১২), (২০৬৮)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الحيض، والصلاة، واللباس، والزينة، كما له عند أبي داود السنن حديثان (1): في كتاب الطهارة، والصلاة، وله عند الترمذي في السنن حديثان (2): في كتاب الجمعة، والبر والصلة، وله عند النَّسائي في السنن الصغرى أربعة أحاديث (3): في كتاب الطهارة، والزينة، والأشربة، وله عند ابن ماجه في السنن حديثان (4): في كتاب النكاح، والأشربة.

 

2 - (س ق) أَبُو بَكْرٍ بنُ حَفْصٍ: هو إِسْمَاعِيل بن حفص بن عُمَر الأُبْلِّيّ (5)، أَبُو بكر الأَودِيّ البَصْرِيّ، من كبار الآخذين عن تبع الأتباع (6)، قال ابن أبي حاتم: " كان أبوه يكذب (7) وهو بخلاف أبيه، قلت لا بأس به؟ قال لا يمكنني أن أقول لا بأس به" (8)، وقال النَّسائي في مشيخته: "أرجو أن لا يكون به بأس" (9)، ووثقه ابن حبان (10)، قلتُ: ورجح الحافظ ابن حجر أنَّه

--------------------------------------------

(1) أبو داود: السنن بأرقام: (194)، (710).

(2) الترمذي: السنن بأرقام: (538)، (1904).

(3) النَّسائي: السنن الصغرى بأرقام: (178)، (227)، (5266)، (5658).

(4) ابن ماجه: السنن بأرقام: (1963)، (3385).

(5) وقع في المطبوع من تهذيب التهذيب (1/ 288) "الأيلي" بمثناة تحت وهو تصحيف، والصواب الأُبْلِِّيّ بالموحدة، وهي نسبة إلى الأُبُلّة بالقرب من البصرة كما بينت سالفاً.

(6) ابن حجر العسقلاني: تقريب التهذيب (ص 622).

(7) انظر إلى ترجمة حفص بن عُمَر الأُبْلِِّيّ في الجرح والتعديل لابن أبي حاتم (3/ 183) رقم (789)، وميزان الاعتدال للذَّهبِي (1/ 561)، برقم (2132)، وتهذيب التهذيب (1/ 288).

(8) ابن أبي حاتم: الجرح والتعديل (2/ 166).

(9) النَّسائي: تسمية الشيوخ (ص 105).

(10) ابن حبان: الثقات (8/ 102)، ووقع عنده "الأَيْلِي" بمثناة وهو تصحيف، والصحيح ما أثبته.
ঋতুস্রাব, সালাত, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সাজসজ্জা বিষয়ক। অনুরূপভাবে আবু দাউদের আস-সুনান গ্রন্থে তাঁর দুটি হাদিস রয়েছে (১): পবিত্রতা এবং সালাত অধ্যায়ে; তিরমিযীর আস-সুনান গ্রন্থে তাঁর দুটি হাদিস রয়েছে (২): জুমুআ এবং সদাচরণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা অধ্যায়ে; নাসাঈর আস-সুনান আস-সুগরা গ্রন্থে তাঁর চারটি হাদিস রয়েছে (৩): পবিত্রতা, সাজসজ্জা এবং পানীয় অধ্যায়ে; এবং ইবনে মাজাহর আস-সুনান গ্রন্থে তাঁর দুটি হাদিস রয়েছে (৪): বিবাহ এবং পানীয় অধ্যায়ে।

 

২ - (সিন, কফ) আবু বকর বিন হাফস: তিনি হলেন ইসমাইল বিন হাফস বিন উমর আল-উবুল্লি (৫), আবু বকর আল-আওদি আল-বাসরি। তিনি তাবি-তাবিঈদের নিকট হতে জ্ঞান গ্রহণকারী বড় স্তরের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত (৬)। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: "তাঁর পিতা মিথ্যা বলতেন (৭), তবে তিনি তাঁর পিতার বিপরীত ছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর মধ্যে কি কোনো সমস্যা নেই? তিনি বললেন, আমি এ কথা বলতে পারছি না যে তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই" (৮)। এবং নাসাঈ তাঁর 'মাশইয়াখাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "আমি আশা করি তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই" (৯)। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (১০)। আমি বলছি: হাফেজ ইবনে হাজার প্রাধান্য দিয়েছেন যে তিনি...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ: আস-সুনান, হাদিস নং: (১৯৪), (৭১০)।

(২) তিরমিযী: আস-সুনান, হাদিস নং: (৫৩৮), (১৯০৪)।

(৩) নাসাঈ: আস-সুনান আস-সুগরা, হাদিস নং: (১৭৮), (২২৭), (৫২৬৬), (৫৬৫৮)।

(৪) ইবনে মাজাহ: আস-সুনান, হাদিস নং: (১৯৬৩), (৩৩৮৫)।

(৫) তাহযীবুত তাহযীব-এর মুদ্রিত কপিতে (১/২৮৮) "আল-আইলি" (নিচে দুই নুক্তাযুক্ত ইয়া সহকারে) এসেছে যা একটি মুদ্রণজনিত ভুল; সঠিক হলো "আল-উবুল্লি" (বা অক্ষর সহকারে)। এটি বসরার নিকটবর্তী উবুল্লাহ অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ত, যা আমি ইতোপূর্বে বর্ণনা করেছি।

(৬) ইবনে হাজার আল-আসকালানি: তাকরিবুত তাহযীব (পৃষ্ঠা ৬২২)।

(৭) ইবনে আবি হাতিম-এর আল-জারহ ওয়াত তা'দীল (৩/১৮৩), নং (৭৮৯); জাহাবির মিযানুল ইতিদাল (১/৫৬১), নং (২১৩২) এবং তাহযীবুত তাহযীব (১/২৮৮) গ্রন্থে হাফস বিন উমর আল-উবুল্লির জীবনী দেখুন।

(৮) ইবনে আবি হাতিম: আল-জারহ ওয়াত তা'দীল (২/১৬৬)।

(৯) নাসাঈ: তাসমিয়াতুশ শুয়ূখ (পৃষ্ঠা ১০৫)।

(১০) ইবনে হিব্বান: আস-সিকাত (৮/১০২)। তাঁর এখানে "আল-আইলি" (নিচে দুই নুক্তাযুক্ত ইয়া সহকারে) এসেছে যা একটি মুদ্রণজনিত ভুল; সঠিক হলো যা আমি প্রতিষ্ঠিত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
صدوق (1)، رَوَى عَن: أبيه، وحفص بن غياث، ومعتمر بن سليمان، والوليد بن مسلم وغيرهم. وعنه: النَّسائي، وابن ماجه، وابن خزيمة، وابن أبي عاصم، والبزار، وزكرياء السَّاجِيُّ، وجماعة، (2)، لَمْ يُخَرِّجْ له من السِّتَّة إلا النَّسائي، وابن ماجه كذا ذكر الحافظ ابن حجر، قلتُ: فأما النَّسائي فلم يخرج له في السنن الصغرى شيء، وإنما أخرج له في السنن الكبرى حديثًا واحدًا في كتاب الحد في الخمر عن مُعَاوِيَةَ رضي الله عنه، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ، فَاجْلِدُوهُ ثُمَّ إِنْ عَادَ فَاجْلِدُوهُ، ثُمَّ إِنْ عَادَ فِي الرَّابِعَةِ فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ» (3)، وله عند ابن ماجه أربعة أحاديث: في كتاب المناسك، والأدب، والفتن، والزُّهد (4)، مات سنة (256 هـ أو قبلها بقليل أو بعدها) (5).

 

-‌‌ أَبُو بَكْرٍ بنُ عَبْدِ اللهِ وتطلق على أربعة: الأوَّل العَدَويّ، والثَّاني ابْن الزُّبَيْر بْن الْعَوَّامِ، والثَّالث العَامِرِيّ، والرَّابع الغَسَّانِيّ.

1 - (م ت س ق)‌‌ أَبُو بَكْرٍ بنُ عَبْدِ اللهِ: هو ابن أَبِي الجهمٍ العَدَويُّ (6)، وقد ينسب إلى جده، ثقة فقيه من الطبقة التي تلي الوسطى من التَّابعين (7)، روى عن: عمه محمد بن أبي الجهم بن حذيفة، وابن عمر، وفاطمة بنت قيس،

--------------------------------------------

(1) ابن حجر: تقريب التهذيب (ص 106).

(2) ابن حجر: تهذيب التهذيب (1/ 288 - 289).

(3) النَّسائي: السنن الكبرى برقم (5278).

(4) ابن ماجه: السنن برقم (3119)، (3688)، (3930)، (4272).

(5) ابن حجر: تهذيب التهذيب (1/ 288 - 289).

(6) العَدَويُّ: بفتح العَين والدَّال المهملتين، نِسْبَة إِلَى رَهْط أَمِير الْمُؤمنِينَ عمر رضي الله عنه، وَإِلَى عَدِي بن كعب بن لؤيّ جده كما في الأنساب للسمعاني (9/ 251)، وتوضيح المشتبه لابن ناصر (6/ 207).

(7) ابن حجر: تقريب التهذيب (ص 623).
সদুক (১), তিনি বর্ণনা করেছেন: তাঁর পিতা, হাফস বিন গিয়াস, মু’তামির বিন সুলাইমান, ওয়ালিদ বিন মুসলিম এবং অন্যদের থেকে। আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমা, ইবনে আবি আসিম, বাজ্জার, যাকারিয়া আস-সাজি এবং একদল রাবি (২)। সিহাহ সিত্তার সংকলকদের মধ্যে কেবল নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, হাফেজ ইবনে হাজার এমনই উল্লেখ করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: নাসায়ি তাঁর ‘সুনানে সুগরা’তে তাঁর কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি, বরং তিনি ‘সুনানে কুবরা’র মদ সম্পর্কিত দণ্ডবিধি (হুদুদ) অধ্যায়ে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি মাত্র হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি (মুয়াবিয়া) বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি মদ পান করে তাকে বেত্রাঘাত করো, যদি পুনরায় পান করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো, যদি চতুর্থবার পান করে তবে তার গর্দান উড়িয়ে দাও (মৃত্যুদণ্ড দাও)» (৩)। ইবনে মাজাহর নিকট তাঁর বর্ণিত চারটি হাদিস রয়েছে: মানাসিক (হজ), আদব (শিষ্টাচার), ফিতান (বিপর্যয়) এবং যুহদ (বৈরাগ্য) অধ্যায়ে (৪)। তিনি ২৫৬ হিজরি সনে অথবা তার সামান্য আগে বা পরে মৃত্যুবরণ করেন (৫)।

 

-‌‌ আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ এই নামটি চারজনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়: প্রথমজন আদাবি, দ্বিতীয়জন ইবনুত জুবায়ের বিন আওয়াম, তৃতীয়জন আমিরি এবং চতুর্থজন গাসসানি।

১ - (ম, ত, স, ক)‌‌ আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ: তিনি হলেন ইবনে আবি জাহাম আদাবি (৬), কখনো তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধ করে ডাকা হয়। তিনি নির্ভরযোগ্য ফকিহ এবং তাবেয়িদের মধ্যবর্তী স্তরের পরবর্তী স্তরের অন্তর্ভুক্ত (৭)। তিনি বর্ণনা করেছেন: তাঁর চাচা মুহাম্মদ বিন আবি জাহাম বিন হুজাইফা, ইবনে উমর এবং ফাতেমা বিনতে কাইস থেকে,

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার: তাকরিবুত তাহজিব (পৃ. ১০৬)।

(২) ইবনে হাজার: তাহজিবুত তাহজিব (১/ ২৮৮ - ২৮৯)।

(৩) নাসায়ি: আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস নম্বর (৫২৭৮)।

(৪) ইবনে মাজাহ: আস-সুনান, হাদিস নম্বর (৩১১৯), (৩৬৮৮), (৩৯৩০), (৪২৭২)।

(৫) ইবনে হাজার: তাহজিবুত তাহজিব (১/ ২৮৮ - ২৮৯)।

(৬) আদাবি: আইন এবং দাল বর্ণদ্বয়ের ফাতহাহ (যবর) যোগে। এটি আমিরুল মুমিনীন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর গোত্রের প্রতি এবং তাঁর দাদা আদি বিন কাব বিন লুয়াই-এর প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ প্রকাশ করে, যেমনটি সামআনির ‘আল-আনসাব’ (৯/ ২৫১) এবং ইবনে নাসিরের ‘তাওদিহুল মুশতাবহ’ (৬/ ২০৭) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৭) ইবনে হাজার: তাকরিবুত তাহজিব (পৃ. ৬২৩)।
(খণ্ড: ১) আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক ফীমান জুকিরা বিকুনিয়াতিহি মিনার রুওয়াত ফিল কুতুবিল সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة وغيرهم، وعنه: شعبة، والثوري، وأَبُو العُمَيْسِ، وعلي بن صالح بن حي، وشريك (1)، أخرج له مسلم حديثين كلاهما في كتاب الطلاق (2)، وله عند الترمذي حديث واحد في كتاب النكاح عن فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ رضي الله عنهم أنها حَدَّثَت، أَنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا ثَلاثًا، وَلَمْ يَجْعَلْ لَهَا سُكْنَى وَلا نَفَقَةً، قَالَتْ: وَوَضَعَ لِي عَشَرَةَ أَقْفِزَةٍ عِنْدَ ابْنِ عَمٍّ لَهُ … الحديث (3)، كما أخرج له النَّسائي في السنن الصغرى ثلاثة أحاديث (4): في كتاب صلاة الخوف، والطلاق، وله متابعة واحدة عند أبي داود في كتاب الطلاق حديث فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ رضي الله عنهم السابق (5)، وله عند ابن ماجه في السنن حديثان (6): في كتاب النِّكاح، وكتاب الطلاق.

 

2 - (ق)‌‌ أَبُو بَكْرٍ بنُ عَبْدِ اللهِ: هو ابن الزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ القُرَشِيّ من الوسطى من التابعين (7)، أورده المزي في التهذيب (8)، والذَّهبِي في الكاشف (9)، ولم يذكرا فيه جرحًا ولا تعديلاً، وقال الحافظ ابن حجر: مستور (10).

--------------------------------------------

(1) ابن حجر: تهذيب التهذيب (12/ 26).

(2) مسلم: الجامع الصحيح برقم (1480) والذي يليه.

(3) الترمذي: السنن برقم (1135).

(4) النَّسائي: السنن الصغرى بأرقام: (1533)، (3418)، (3551).

(5) أبو داود: السنن برقم: (2287).

(6) ابن ماجه: السنن بأرقام: (1869)، (2035).

(7) ابن حجر: تقريب التهذيب (ص 623).

(8) المزي: تهذيب الكمال (33/ 101)، برقم (7238).

(9) الذَّهبِي: الكاشف (2/ 410).

(10) ابن حجر: تقريب التهذيب (ص 623).
উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ এবং অন্যান্যরা; আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: শু'বাহ, সাওরী, আবুল উমাইস, আলী বিন সালিহ বিন হাইয়্য এবং শারীক (১)। ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যার উভয়টিই তালাক অধ্যায়ে (২)। ইমাম তিরমিযীর নিকট বিবাহ অধ্যায়ে ফাতিমা বিনতে কায়েস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে তাঁর একটি হাদীস রয়েছে যে, তিনি বর্ণনা করেছেন, তাঁর স্বামী তাঁকে তিন তালাক দিয়েছিলেন এবং তাঁর জন্য কোনো আবাসন বা ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেননি। তিনি বলেন: এবং তিনি আমার জন্য তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের নিকট দশ কফীজ (পরিমাপক) রেখেছিলেন … হাদীস (৩)। অনুরূপভাবে ইমাম নাসাঈ সুনান আস-সুগরায় তাঁর থেকে তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন (৪): ভীতিপ্রদ অবস্থার সালাত (সালাতুল খাওফ) এবং তালাক অধ্যায়ে। ইমাম আবু দাউদের নিকট তালাক অধ্যায়ে ফাতিমা বিনতে কায়েস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর পূর্বোক্ত হাদীসটির ক্ষেত্রে তাঁর একটি মুতাবিআত (অনুসরণমূলক বর্ণনা) রয়েছে (৫)। ইমাম ইবনে মাজাহর নিকট সুনানে তাঁর দুটি হাদীস রয়েছে (৬): বিবাহ অধ্যায় এবং তালাক অধ্যায়ে।

 

২ - (ক্ব)‌‌ আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ: তিনি হলেন ইবনুল জুবায়ের বিন আওয়াম আল-কুরায়শী, তাবেয়ীদের মধ্যম স্তরের অন্তর্ভুক্ত (৭)। মিযযী 'তাহযীব' গ্রন্থে (৮) এবং যাহাবী 'আল-কাশিফ' গ্রন্থে (৯) তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁরা সেখানে কোনো জারহ (সমালোচনা) বা তা'দীল (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: মাসতূর (অজ্ঞাতাবস্থা) (১০)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার: তাহযীবুত তাহযীব (১২/ ২৬)।

(২) মুসলিম: আল-জামি আস-সহীহ, হাদীস নং (১৪৮০) এবং এর পরবর্তীটি।

(৩) তিরমিযী: আস-সুনান, হাদীস নং (১১৩৫)।

(৪) নাসাঈ: সুনান আস-সুগরা, হাদীস নং: (১৫৩৩), (৩৪১৮), (৩৫৫১)।

(৫) আবু দাউদ: আস-সুনান, হাদীস নং: (২২৮৭)।

(৬) ইবনে মাজাহ: আস-সুনান, হাদীস নং: (১৮৬৯), (২০৩৫)।

(৭) ইবনে হাজার: তাকরীবুত তাহযীব (পৃ. ৬২৩)।

(৮) মিযযী: তাহযীবুল কামাল (৩৩/ ১০১), নং (৭২৩৮)।

(৯) যাহাবী: আল-কাশিফ (২/ ৪১০)।

(১০) ইবনে হাজার: তাকরীবুত তাহযীব (পৃ. ৬২৩)।