(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: -)
العلماء هم الدعاة   (ناصر العقل)

القسم: كتب عامة


الكتاب: العلماء هم الدعاة

المؤلف: د. ناصر بن عبد الكريم العقل

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 28

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 41

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আলেমগণই হলেন দাঈ   (নাসির আল-আকল)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আলেমগণই হলেন দাঈ

লেখক: ড. নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আকল

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ২৮

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১)
"‌‌ تمهيد "

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

فإن الحديث عن الدُّعاة وعن العلماء، أصبح في ظروفنا المعاصرة أمرا ضروريا. خاصة حينما انتشر مفهوم خاطئ عند الناس، في هذا العصر، وهو: مفهوم التفريق بين العالم والداعي. وبين العلم والدعوة.

وبين الفقه في الدين والفقه في الدعوة. وما نتج عن هذا المفهوم من ظواهر خطيرة في الدين، وفي السلوك، وفي الأفكار، وفي المفاهيم، وفي التعامل والمواقف، والولاء والبراء.
‌‌ ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁরই নিকট তওবা করছি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

আমাদের সমসাময়িক পরিস্থিতিতে দায়ী (الداعي) এবং আলেমদের (العالم) সম্পর্কে আলোচনা করা একটি অপরিহার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে যখন বর্তমান যুগে মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণার বিস্তার ঘটেছে, আর তা হলো: আলেম (العالم) এবং দায়ী-এর (الداعي) মধ্যে পার্থক্যের ধারণা; এবং ইলম (العلم) ও দাওয়াতের (الدعوة) মধ্যে পার্থক্যের ধারণা।

অনুরূপভাবে দ্বীনের ফিকহ (الفقه) এবং দাওয়াতের ফিকহ-এর (الفقه) মধ্যে পার্থক্যের ধারণা। আর এই ভুল ধারণা থেকে দ্বীন, আচরণ, চিন্তা-চেতনা, উপলব্ধি, পারস্পরিক লেনদেন, অবস্থান এবং আনুগত্য ও সম্পর্কচ্ছেদের (الولاء والبراء) ক্ষেত্রে অনেক বিপজ্জনক পরিণতির উদ্ভব হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২)
ومنشأ الموضوع في ذهني: أني رأيت كثيرا من الدعاة، والحركات الإسلامية المعاصرة التي تتصدر الدعوة في العالم الإسلامي، قد نشأ عندها هذا الفصام. وهذا التفريق المبتدع بين الداعي إلى الله- سبحانه وتعالى وبين العالم، أو بين المتصدي للدعوة إلى الله- أو المحترف للدعوة وبين العالم والشيخ. أو بين العلماء وطلاب العلم، وبين الدعاة وأتباع الحركات الدعوية، ونظرا لما لهذا الانفصام والخلل من عواقب وخيمة قد تؤدي إلي الافتراق المذموم، فلابد من الحديث عن هذا الأمر على وجه النصح لا على وجه التشهير، وسأتحدث في هذا الموضوع عن بعض المسائل، لأن الموضوع متشعب وطويل، ذو شجون.
আমার মনে এই বিষয়ের উদ্ভব হওয়ার কারণ হলো: আমি অনেক দাঈ এবং সমকালীন ইসলামি আন্দোলনসমূহকে দেখেছি—যারা মুসলিম বিশ্বে দাওয়াতের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে—তাদের মধ্যে এই বিচ্ছেদ তৈরি হয়েছে। আর এটি হলো আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং বিদ্বান (عالم)-এর মধ্যে, অথবা দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি বা পেশাদার দাঈ এবং বিদ্বান (عالم) ও শায়খের মধ্যে একটি নবউদ্ভাবিত (مبتدع) পার্থক্য। অথবা বিদ্বানগণ ও ইলম অন্বেষণকারী (طلاب العلم) এবং দাঈগণ ও দাওয়াহ আন্দোলনের অনুসারীদের মধ্যে এক প্রকার বিভাজন। এই বিচ্ছিন্নতা ও ত্রুটির ভয়াবহ পরিণতির কথা বিবেচনা করে—যা নিন্দনীয় বিচ্ছিন্নতার (الافتراق المذموم) দিকে নিয়ে যেতে পারে—মানহানি করার উদ্দেশ্যে নয় বরং নসিহত হিসেবে এই বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। আমি এই বিষয়ের কিছু মাসআলা সম্পর্কে কথা বলব, কারণ বিষয়টি অত্যন্ত দীর্ঘ এবং বহু শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المسألة الأولى:

في التعريفات
المتعلقة بعنوان هذه المحاضرة، (1) والتي هي " العلماء هم الدعاة ".

أ -‌‌ مفهوم العلماء وسماتهم:

فالعلماء المقصود بهم: العالمون بشرع الله، والمتفقهون في الدين، والعاملون بعلمهم على هدى وبصيرة، على سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسلف الأمة، الداعون إلى الله بالحكمة التي وهبهم الله إياها: {وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} (البقرة: من الآية 269) .. والحكمة: العلم والفقه.

فعلى هذا؛ فالعلماء بهذا التعريف: هم الدعاة بداهة، والعلماء هم ورثة الأنبياء، والأنبياء هم الدعاة، فأجدر من يتصدر الدعوة بعد الأنبياء- وقد انقضت النبوة وانتهت-: هم العلماء وذلك:

أولا: لأنهم ورثتهم. والأنبياء لم يورثوا درهما ولا دينارا، إنما ورثوا هذا العلم. والدعوة إنما تكون بالعلم، فأهل العلم هم الدعاة.

ثانيا: العلماء هم حجة الله في أرضه على الخلق، والحجة لا تقوم إلا على لسان داعية بفقهه وبعلمه وبقدوته، فعلى هذا، فالعلماء هم أجدر الناس بالدعوة.

--------------------------------------------

(1) ألقيت هذه المحاضرة بمسجد القدس بحي الروابي بالرياض في جمادى الثانية 1412هـ
‌‌প্রথম বিষয় (المسألة الأولى):

সংজ্ঞাগুলো (التعريفات)
সংক্রান্ত যা এই বক্তৃতার শিরোনাম—অর্থাৎ "আলেমরা হলেন দাঈ বা আহ্বানকারী (الدعاة)"—তার সাথে সংশ্লিষ্ট (১)।

ক -‌‌ আলেমদের (العلماء) ধারণা ও তাঁদের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

আলেম (العلماء) বলতে এখানে তাঁদের বোঝানো হয়েছে: যারা আল্লাহর শরীয়ত সম্পর্কে অবগত, দ্বীনের প্রাজ্ঞ সমঝদার (فقه), নিজেদের অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী হেদায়েত ও অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে আমলকারী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) ও উম্মতের সালাফ বা পূর্বসূরিদের (سلف) পদাঙ্ক অনুসরণকারী এবং আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞার (الحكمة) মাধ্যমে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী: {আর যাকে প্রজ্ঞা (الحكمة) দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে} (আল-বাকারাহ: আয়াত ২৬৯ এর অংশ) .. আর প্রজ্ঞা (الحكمة) হলো: জ্ঞান (العلم) ও গভীর বোধ (الفقه)।

অতএব এই সংজ্ঞা অনুযায়ী: আলেমগণ স্বতঃসিদ্ধভাবেই (بداهة) দাঈ বা আহ্বানকারী (الدعاة), আর আলেমরা হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী (ورثة الأنبياء), এবং নবীরাই হলেন মূল দাঈ বা আহ্বানকারী (الدعاة)। সুতরাং নবীদের পর—যেহেতু নবুওয়াত (النبوة) সমাপ্ত ও শেষ হয়ে গেছে—দাওয়াতের ময়দানে নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হলেন আলেম সমাজ, আর এর কারণ হলো:

প্রথমত: কারণ তাঁরা নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা উত্তরাধিকার হিসেবে কোনো দিরহাম বা দিনার রেখে যাননি, বরং তাঁরা রেখে গেছেন এই ইলম বা জ্ঞান (العلم)। আর দাওয়াতের কাজ তো কেবল ইলম বা জ্ঞানের (العلم) মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, তাই জ্ঞানীরাই (أهل العلم) হলেন দাঈ বা আহ্বানকারী (الدعاة)।

দ্বিতীয়ত: আলেমরাই হলেন জমিনের বুকে সৃষ্টির ওপর আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ (حجة), আর প্রমাণ (حجة) কেবল একজন দাঈ বা আহ্বানকারীর (داعية) যবান দিয়েই তাঁর প্রজ্ঞা (فقه), জ্ঞান (علم) এবং আদর্শের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং আলেমরাই দাওয়াতের কাজে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যোগ্য।

--------------------------------------------

(১) এই বক্তৃতাটি ১৪১২ হিজরি সালের জমাদিউস সানি মাসে রিয়াদের আর-রাওয়াবি এলাকার মসজিদুল কুদসে প্রদান করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ৪)
ثالثا: العلماء هم أهل الحل والعقد في الأمة، وهم أولوا الأمر الذين تجب طاعتهم، كما قال غير واحد من السلف في تفسير قوله تعالى: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} النساء: 59،. قال مجاهد: هم أولوا العلم والفقه. (1) . وإذا كانوا هم أولوا الأمر فولايتهم للدعوة من باب أولى.

رابعا: العلماء هم المؤتمنون على مصالح الأمة العظمى، على دينها، وعلى دنياها وأمنها؛ ومن باب أولى أن يكونوا هم المؤتمنون على الدعوة وشئونها.

خامسا: العلماء هم أهل الشورى الذين ترجع إليهم الأمة في جميع شئونها ومصالحها. وإذا كانوا يستشارون في جميع مصالح الأمة- في دينها ودنياها- فمن باب أولى أن يكونوا هم أهل الشورى في الدعوة وقيادتها.

سادسا: العلماء هم أئمة الدين، والإمامة في الدين فضل عظيم، وشرف ومنزلة رفيعة، كما قال تعالى: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} السجدة: 24،. والإمامة في الدين تقتضي بالضرورة الإمامة في الدعوة. وما الدين إلا بالدعوة، وما الدعوة إلا بالدين..

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو خيثمة في (العلم) ، وعزاه السيوطي في «الدر المنثور» إلى سعيد بن منصور، وعبد بن حميد، وابن جرير، وابن أبي حاتم، بلفظ: «هم الفقهاء والعلماء» ، وله لفظ آخر: «أصحاب محمد، أهل العلم والفقه والدين» عزاه لابن أبي شيبة، وعبد بن حميد، وابن جرير، وابن المنذر واشتهر هذا التفسير عن غير واحد من السلف. قال ابن عباس: (أهل العلم) أخرجه ابن عدي في «كامله» . وقال جابر بن عبد الله: (أولي الفقه وأهل الخير) أخرجه الحاكم وصححه. وقال أبو العالية: (هم أهل العلم) أخرجه ابن أبي شيبة وابن جرير، وزاد ابن كثير: عن عطاء والحسن البصري.
তৃতীয়ত: ওলামায়ে কেরাম হলেন উম্মতের নীতিনির্ধারক (أهل الحل والعقد), এবং তাঁরাই সেই উলুল আমর বা আদিষ্ট কর্তৃপক্ষ (أولوا الأمر) যাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব, যেমনটি সালাফদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর তাফসিরে বলেছেন: {আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য হতে যারা উলুল আমর (আদিষ্ট কর্তৃপক্ষ) তাঁদেরও} নিসা: ৫৯। মুজাহিদ (রহ.) বলেন: তাঁরা হলেন ইলম ও ফিকহ বিশারদ (أولوا العلم والفقه)। (১)। আর যদি তাঁরাই উলুল আমর হয়ে থাকেন, তবে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের কর্তৃত্ব থাকা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।

চতুর্থত: ওলামায়ে কেরাম হলেন উম্মতের মহান স্বার্থসমূহ তথা দ্বীন, দুনিয়া এবং নিরাপত্তার আমানতদার; সুতরাং দাওয়াত এবং এর সার্বিক বিষয়ের আমানতদার তাঁরা হওয়া আরও বেশি সংগত।

পঞ্চমত: ওলামায়ে কেরাম হলেন পরামর্শ সভার সদস্য (أهل الشورى) যাদের কাছে উম্মত তাদের যাবতীয় বিষয়ে ও স্বার্থে প্রত্যাবর্তন করে। যখন দ্বীন ও দুনিয়ার সকল স্বার্থে তাঁদের নিকট পরামর্শ চাওয়া হয়, তখন দাওয়াত ও এর নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁরা পরামর্শ সভার সদস্য হওয়া আরও বেশি সমীচীন।

ষষ্ঠত: ওলামায়ে কেরাম হলেন দ্বীনের ইমাম (أئمة الدين), আর দ্বীনের ইমামত (الإمامة في الدين) একটি মহান শ্রেষ্ঠত্ব, সম্মান এবং সুউচ্চ মর্যাদা, যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আমি তাদের মধ্য থেকে ইমাম (أئمة) মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত} সাজদাহ: ২৪। আর দ্বীনের ইমামত অপরিহার্যভাবে দাওয়াতের ইমামতকেও শামিল করে। দাওয়াত ব্যতীত কোনো দ্বীন নেই, আর দ্বীন ব্যতীত কোনো দাওয়াত নেই।

--------------------------------------------

(১) আবু খাইসামা আল-ইলম গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সুয়ূতী আদ-দুররুল মানসুর-এ একে সাঈদ ইবনে মানসুর, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিমের দিকে নিসবত করেছেন এই শব্দে: "তাঁরা হলেন ফকিহগণ (الفقهاء) ও আলেমগণ (العلماء)"। এর আরেকটি পাঠ রয়েছে: "মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবীগণ, ইলম, ফিকহ ও দ্বীনদারির অধিকারী ব্যক্তিগণ"—একে ইবনে আবি শাইবা, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির এবং ইবনে মুনজিরের দিকে নিসবত করা হয়েছে। সালাফদের একাধিক ব্যক্তির নিকট থেকে এই তাফসির প্রসিদ্ধ। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: (ইলমের অধিকারী ব্যক্তিগণ)। ইবনে আদি তাঁর আল-কামিল গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন: (ফিকহের অধিকারী এবং কল্যাণের ধারকগণ)। হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صححه) বলেছেন। আবুল আলিয়াহ বলেন: (তাঁরা হলেন ইলমের অধিকারী ব্যক্তিগণ)। ইবনে আবি শাইবা ও ইবনে জারির এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে কাসির আতা ও হাসান বসরীর উদ্ধৃতি যোগ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ৫)
سابعا: العلماء هم أهل الذكر، والذكر بالعلم والدعوة، كما قال تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} النحل: 43. فعلى هذا هم أهل الدعوة إلى الله تعالى.

ثامنا: العلماء أفضل الناس كما قال تعالى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} المجادلة:11. وأفضل الناس هو الداعي إلى الله.

تاسعا: العلماء هم أزكى الناس، وأخشاهم لله، كما قال تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} فاطر 28،. وإذا كانوا هم كذلك، فهم الأجدر أن يكونوا هم الدعاة على هذه الصفات، وهم الأجدر أن يكونوا هم القادة والرواد في الدعوة.

عاشرا: العلماء هم الآمرون بالمعروف، الناهون عن المنكر بالعلم والحكمة، إذا فالعلماء هم الدعاة.

حادي عشر: العلماء هم شهداء الله الذين أشهدهم الله على توحيده، وقرن شهادتهم بشهادته- سبحانه- وبشهادة ملائكته؟ وفي هذا تزكيتهم وتعديلهم، فقال تعالى: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ} ومن كانوا كذلك فهم المؤتمنون على الدعوة، وهم الأَوْلَى بقيادتها وريادتها.
সপ্তম: আলেমগণ হলেন ‘আহলুজ জিকর’ (স্মরণকারী); আর ইলম ও দাওয়াতের মাধ্যমেই স্মরণ করা হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “যদি তোমরা না জানো, তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো” [সূরা আন-নাহল: ৪৩]। সে অনুযায়ী তাঁরাই মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দানকারী।

অষ্টম: আলেমগণ মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন” [সূরা আল-মুজাদালা: ১১]। আর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আল্লাহর পথের দাওয়াত প্রদানকারী।

নবম: আলেমগণ মানুষের মধ্যে পবিত্রতম এবং আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক ভীত, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে” [সূরা ফাতির: ২৮]। আর যেহেতু তাঁরা এরূপ গুণের অধিকারী, তাই দাওয়াতের এই গুণাবলি ধারণ করার জন্য তাঁরাই সর্বাধিক যোগ্য এবং দাওয়াতের ময়দানে নেতৃত্ব ও পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁরাই অধিকতর উপযুক্ত।

দশম: আলেমগণ হলেন ইলম ও হিকমতের মাধ্যমে সৎ কাজের আদেশদাতা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধকারী। সুতরাং, আলেমগণই হলেন দাওয়াত দানকারী।

একাদশ: আলেমগণ হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সাক্ষী, যাদেরকে আল্লাহ তাঁর তাওহীদের ওপর সাক্ষী রেখেছেন এবং তাঁদের সাক্ষ্যকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিজের ও ফেরেশতাগণের সাক্ষ্যের সাথে যুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁদের চারিত্রিক পবিত্রতা (تزكية) এবং ন্যায়নিষ্ঠতা (تعديل) প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: “আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং আলেমগণও (তা সাক্ষ্য দিয়েছেন)।” আর যাঁরা এরূপ স্তরের অধিকারী, তাঁরাই দাওয়াতের আমানতদার এবং এর নেতৃত্ব ও পরিচালনার জন্য তাঁরাই অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ৬)
هذا على وجه العموم، فالعلماء هم أهل هذه الخصال. ولا يلزم أن تتوفر كل هذه الخصال في كل عالم، فالكمال لا يكون إلا لله- سبحانه- لكنهم في الجملة- أي العلماء- لاشك أنهم المتميزون بهذه الصفات الجديرون بها.

**بطلان دعوى خلو الأرض من العلماء القدوة**

والعلماء لا يمكن أن تخلو الأرض منهم، وهذا دفعا لدعوى قد يدعيها بعض الجهلة ممن ينتسبون للدعوات والحركات المعاصرة وغيرهم وهي زعم بعضهم: أنه لا يوجد علماء قدوة، أو أن العلماء الذين يمكن الاقتداء بهم: مفقودون، أو أنهم يتهمون بمطاعن تسقط اعتبارهم، أو نحو هذا من الدعاوى التي لا تجوز شرعا- بل هي مخالفة للواقع، ومخالفة لصريح النصوص، فإن الله- سبحانه وتعالى تكفل بحفظ هذا الدين، وتكفل بحفظ طائفة من الأمة تبقى ظاهرة منصورة، أمرها بَيِّن- وهذا لا يمكن أن يتأتى إلا بأهل الحجة والقدوة. وهم العلماء، والصفات التي ذكرتها، تتوفر في كل مكان، وكل وقت بحسبه- قوة وضعفا- لكن لا يمكن أن يخلو كل الزمان وكل المكان في الأرض من العلماء- كما ذكرته- إلى قيام الساعة.
এটি সাধারণভাবে বলা হয়েছে, কেননা আলেমগণই এই গুণাবলির অধিকারী। প্রতিটি আলেমের মধ্যে এই সমস্ত গুণের সমাবেশ থাকা আবশ্যক নয়, কারণ পূর্ণতা কেবলমাত্র মহান আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। তবে সামগ্রিকভাবে আলেমগণ নিঃসন্দেহে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে অনন্য এবং এগুলোর যোগ্য।

**আদর্শ আলেমদের থেকে পৃথিবী শূন্য হওয়ার দাবির অসারতা**

পৃথিবী কখনো আলেমশূন্য হতে পারে না। এটি সমকালীন বিভিন্ন দাওয়াত ও আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত কিছু মূর্খ এবং অন্যদের এমন দাবির খণ্ডন—যারা দাবি করে যে, বর্তমানে কোনো আদর্শ আলেম নেই, অথবা যাদের অনুসরণ করা যায় এমন আলেম বিলুপ্ত হয়ে গেছেন, কিংবা তাঁদের প্রতি এমন সব অপবাদ আরোপ করা হয় যা তাঁদের গ্রহণযোগ্যতাকে নষ্ট করে দেয়। এ ধরনের দাবিগুলো শরয়িভাবে বৈধ নয়—বরং এগুলো বাস্তবতার পরিপন্থী এবং সুস্পষ্ট দলিলাদির (نصوص) বিরোধী। কেননা মহান আল্লাহ এই দ্বীন সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন এবং উম্মতের একটি দলের (طائفة) হেফাজতের অঙ্গীকার করেছেন যারা সাহায্যপ্রাপ্ত (منصورة) হয়ে বিজয়ী থাকবে এবং তাঁদের বিষয়টি হবে সুস্পষ্ট। আর এটি কেবল দলিল-প্রমাণ ও আদর্শের যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমেই সম্ভব। তাঁরা হলেন ওলামায়ে কেরাম। আমি যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো প্রতিটি স্থানে এবং প্রতিটি সময়েই বিদ্যমান থাকে—তার প্রবলতা (قوة) ও দুর্বলতার (ضعفا) তারতম্য অনুযায়ী। তবে কিয়ামত পর্যন্ত কখনোই সমগ্র পৃথিবী এবং সকল সময় আলেমশূন্য হতে পারে না—যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ৭)
ب -‌‌ مفهوم الدعاة:

أما بالنسبة للدعاة: فقد عرفنا أن العلماء هم الدعاة، لكن تنزلا للمصطلحات والألفاظ، فإنا نقول:

الدعاة هم: الداعون إلى الله، على بصيرة.

والبصيرة هي اتباع هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الفقه في الدين،

وأول من تتوفر فيه هذه الصفات- لا شك أنهم العلماء، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم، أمر أن يقول بأن سبيله: الدعوة إلى الله على بصيرة، ولا تأتي البصيرة إلا بالعلم والفقه في الدين، قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} يوسف: 108،. ولا شك أن أتباع الأنبياء بالأولى هم العلماء.
খ -‌‌ দাঈগণের (আহ্বায়ক) ধারণা:

আর দাঈগণের ক্ষেত্রে: আমরা ইতিপূর্বেই জেনেছি যে আলেমগণই হলেন প্রকৃত দাঈ, তবে প্রচলিত পরিভাষা ও শব্দের ব্যবহারের খাতিরে আমরা বলতে পারি:

দাঈ হলেন তারা: যারা গভীর প্রজ্ঞা (بصيرة)-র সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন।

আর প্রজ্ঞা (بصيرة) হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াত অনুসরণ করা, যা মূলত দ্বীনি সমঝ বা ফিকহ (فقه)।

আর যাদের মাঝে এই গুণাবলি প্রথমত বিদ্যমান থাকে—নিঃসন্দেহে তারা হলেন আলেম সমাজ। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এটা ঘোষণা করতে যে, তাঁর পথ হলো: প্রজ্ঞা (بصيرة)-র সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া। আর এই প্রজ্ঞা কেবল ইলম এবং দ্বীনি সমঝ বা ফিকহ (فقه) অর্জনের মাধ্যমেই লাভ করা সম্ভব। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা আল্লাহর দিকে আহ্বান করি পূর্ণ প্রজ্ঞার (بصيرة) সাথে} ইউসুফ: ১০৮। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবীদের অনুসারীদের মধ্যে আলেমগণই সর্বাগ্রে অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ৮)
جـ - والدعوة:

هي السعي لنشر دين الله- عقيدة وشريعة وأخلاقا، وبذل الوسع في ذلك، ويتحقق هدف الدعوة إلى الله بالعلم والعمل والقدوة، وبالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والإصلاح والاستقامة والإخلاص والتجرد، وهذه الأركان أكثر ما تتوفر في العلماء.

.*.*.* إشكالات مفترضة، وجوابها.*.*.*.

وهنا لا بد من الاستدراك، قبل أن أفصل في بعض النقاط المهمة في المسائل التي تلي، حيث قد يرد سؤالا عند بعض الناس:

أولا: هل يعنى هذا أنه لا يدعو إلى الله إلا عالم؟

بالطبع لا، بل على كل مسلم عرف شيئا من الدين، وتبصر به: أن يدعو إليه بعد التبصر، وفَقِهَ المسألة التي يدعو إليها. وإنما أقصد أن الذي تتوجه إليه النصوص الشرعية، والذي عليه عمل السلف.

أن قيادة الدعوة، وريادتها، وتوجيهها. لا بد أن يكون من العلماء، وفي العلماء، وأقصد: أن العلماء لا بد أن يتصدروا الدعوات في كل أمر ذي بال، ولابد أن نجعلهم هم القادة، وهم المرجع، والموجهين في الدعوة إلى الله- سبحانه وتعالى ولا يكونوا مجرد مستشارين عند الحاجة كما يفعل كثير من (أصحاب الدعوات) .
গ - দাওয়াত (دعوة):

এটি হলো আল্লাহর দ্বীন—আকিদা (عقيدة), শরিয়াহ (شريعة) ও আখলাক (أخلاق)—প্রচারের প্রচেষ্টা চালানো এবং এ লক্ষ্যে নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা। আর আল্লাহর পথে দাওয়াত (دعوة)-এর লক্ষ্য ইলম (علم), আমল (عمل) ও আদর্শের (قدوة) মাধ্যমে এবং সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (نهي عن المنكر), সংশোধন (إصلاح), ইস্তিকামাত (استقامة), ইখলাস (إخلاص) ও একনিষ্ঠতার (تجرد) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। আর এই রুকনগুলো (أركان) আলেমদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়।

.*.*.* সম্ভাব্য আপত্তিসমূহ ও সেগুলোর উত্তর .*.*.*.

পরবর্তী বিষয়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করার আগে এখানে একটি প্রসঙ্গের অবতারণা করা প্রয়োজন, কারণ কিছু মানুষের মনে একটি প্রশ্ন জাগতে পারে:

প্রথমত: এর অর্থ কি এই যে, আলেম ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর পথে দাওয়াত (دعوة) দিতে পারবে না?

অবশ্যই না, বরং যে মুসলিমই দ্বীনের কোনো বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা লাভ করেছেন, তাঁর কর্তব্য হলো—সেই স্পষ্ট জ্ঞান অর্জনের পর এবং যে বিষয়ে তিনি দাওয়াত (دعوة) দিচ্ছেন সে বিষয়ে ফিকহ (فقه) বা প্রজ্ঞা অর্জনের পর অন্যদেরকে সেদিকে আহ্বান জানানো। আমি মূলত এটিই বুঝাতে চাচ্ছি যে, যা শরিয়তের দলিলসমূহ (نصوص شرعية) দ্বারা প্রমাণিত এবং যা সালাফদের (سلف) কর্মপদ্ধতি ছিল—

তা হলো, দাওয়াত (دعوة)-এর নেতৃত্ব, অগ্রযাত্রা এবং দিকনির্দেশনা অবশ্যই আলেমদের পক্ষ থেকে এবং আলেমদের মাধ্যমেই হতে হবে। আমার উদ্দেশ্য হলো: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলেমদেরকেই দাওয়াত (دعوة)-এর অগ্রভাগে থাকতে হবে এবং আল্লাহর পথে দাওয়াত (دعوة)-এর ক্ষেত্রে আমাদের তাঁদেরকেই নেতা, মারজা বা আশ্রয়স্থল (مرجع) ও দিকনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তাঁদের ভূমিকা যেন কেবল প্রয়োজনে পরামর্শদাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, যেমনটি অনেক দাওয়াতী উদ্যোক্তারা (أصحاب الدعوات) করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ৯)
فالعلماء لا بد أن يكونوا هم المتصدرين للدعوة، وإن لم يكن الأمر كذلك، فإن في الأمر خللا لا بد من استدراكه، وخطأ لا بد من تصحيحه، بل إن لم يكن الأمر كذلك فإن الدعوة ستنحرف لا قدر الله وتعصف بها الأهواء.

ثانيا: ربما يقال: إن العلماء لم يرفعوا راية للدعوة:

فأقول: هذا الإشكال لا يصح، لأنه نابع عن قصور في النظرة للعلماء، فالمنصف يجد أن العلماء- في الجملة- قاموا بما يسعهم من واجب التبليغ ونشر العلم والنصح للأمة والولاة والعامة، كل منهم حسب ما يستطيع، وحسب ما يرى من أساليب يتأدى بها الواجب، ويجب أن لا نتوقع منهم الإشادة بجهودهم أو الدعاية لأنفسهم. ذلك أن الأصل في أهل العلم: (أنهم يُسْعَى إليهم لأخذ العلم عنهم، ولا يَسْعَوْنَ إلى الناس) . والأصل في أهل العلم: أن يكون لهم سمت أساسه التواضع، وأن يكون لهم حق على الأمة، كما أن الأصل في العلماء: أن لا يرفعوا فوق رؤوسهم رايات، ولا يرفعوا شعارات، ولا يطلبوا الانتماءات إليهم، ونحو ذلك مما هو من لوازم بعض الدعوات المعاصرة.

فالعلماء يُقصدون، ويجب أن يلتف حولهم عامة الناس، وطلبة العلم بخاصة.
আলেমগণকেই দাওয়াতের অগ্রভাগে থাকা অনিবার্য; যদি বিষয়টি এমন না হয়, তবে অবশ্যই সেখানে এমন এক বিচ্যুতি বিদ্যমান যা সংশোধন করা আবশ্যক এবং এমন এক ভুল রয়েছে যা পরিমার্জন করা জরুরি। বরং বিষয়টি যদি এমন না হয়, তবে দাওয়াত—আল্লাহ না করুন—বিপথগামী হবে এবং প্রবৃত্তির তাড়না তাকে পর্যুদস্ত করে ফেলবে।

দ্বিতীয়ত: হয়তো বলা হয়ে থাকে যে, আলেমগণ দাওয়াতের কোনো ঝাণ্ডা উত্তোলন করেননি।

এর উত্তরে আমি বলব: এই আপত্তিটি সঠিক নয়; কারণ এটি আলেমদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা থেকে উদ্ভূত। একজন ইনসাফকারী ব্যক্তি দেখতে পাবেন যে, আলেমগণ—সামগ্রিকভাবে—দাওয়াত প্রচারের আবশ্যিক দায়িত্ব পালন, জ্ঞান প্রসার এবং উম্মাহর সর্বসাধারণ ও শাসকগোষ্ঠীর প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী উপদেশের ক্ষেত্রে সাধ্যমতো ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এবং তাঁর দৃষ্টিতে দায়িত্ব পালনের উপযোগী পদ্ধতি অনুসরণ করে তা সম্পন্ন করেছেন। আর আমাদের উচিত নয় তাঁদের নিকট থেকে নিজ প্রচেষ্টার প্রশংসা কিংবা নিজেদের প্রচার-প্রচারণা প্রত্যাশা করা। কারণ জ্ঞানীদের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো: (লোকেরা তাঁদের কাছে জ্ঞান অর্জনের জন্য যাবে, তাঁরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবেন না)। আলেমদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এমন এক গাম্ভীর্য যার ভিত্তি বিনয়, আর উম্মাহর ওপর তাঁদের বিশেষ অধিকার রয়েছে। অনুরূপভাবে আলেমদের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো: তাঁরা নিজেদের মাথার ওপর কোনো ঝাণ্ডা ওড়াবেন না, কোনো স্লোগান তুলবেন না এবং নিজেদের প্রতি দলীয় সম্পৃক্ততার আহ্বান জানাবেন না; অথচ এগুলো বর্তমান যুগের কিছু দাওয়াতি কার্যক্রমের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুতরাং আলেমগণই হলেন লক্ষ্যস্থল, এবং সাধারণ মানুষের—বিশেষ করে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের—উচিত তাঁদের ঘিরে থাকা।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১০)
رفع الرايات والشعارات للدعوات من قِبَلِ من لهم شأن في الأمة- ليس من هدي السلف، فمن رفعه الله بالعلم والتقوى وجب على الأمة أن ترفع قدره. وأقصد: إن إخضاع العلم للدعاية أو للشعارات أو الانتماءات لم يكن من خصال السلف، بل هو من خصال أهل الأهواء والفرق، أما أهل السنة: فهديهم السنة والجماعة- وهي ليست شعارا يرفع، إنما هي سبيل المؤمنين، وصراط الله المستقيم وسنة سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم.

উম্মাহর মধ্যে যারা উচ্চমর্যাদার অধিকারী, তাদের পক্ষ থেকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে ঝাণ্ডা ও স্লোগান উত্তোলন করা সালফদের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং আল্লাহ যাকে ইলম ও তাকওয়ার মাধ্যমে উচ্চাসীন করেছেন, উম্মাহর ওপর আবশ্যক হলো তার মর্যাদা সমুন্নত রাখা। আমার উদ্দেশ্য হলো: ইলমকে প্রচার-প্রচারণা, স্লোগান বা দলীয় আনুগত্যের অনুগামী করা সালফদের বৈশিষ্ট্য ছিল না; বরং এটি হলো প্রবৃত্তিপূজারী (أهل الأهواء) এবং উপদলসমূহের (الفرق) বৈশিষ্ট্য। পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাহর (أهل السنة) আদর্শ হলো সুন্নাহ ও জামায়াত—যা কেবল উত্তোলনের কোনো স্লোগান নয়, বরং এটি মুমিনদের পথ, আল্লাহর সরল পথ এবং রাসূলগণের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ।

(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১১)
المسألة الثانية:

بيان أن الأصل في الكتاب والسنة وما اتفق عليه جمهور سلف الأمة، وهو هديهم.

أن العلماء هم الدعاة، وأن الدعاة- أصلا- هم العلماء، وأن غيرهم تبع لهم، فكما أسلفت: كل طالب علم وكل مسلم عليه أن يدعو إلى الله بقدر وُسْعِهِ، وعلى بصيرة في الأمر الذي يدعو إليه- وكل ذلك مشروط بالتبعية لأهل العلم، لأنهم هم قادة الأمة، وهم من أهل الحل والعقد فيها- وهم جماعتها.
দ্বিতীয় মাসআলা:

কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং উম্মাহর (أمة) সালাফগণের (سلف) অধিকাংশ (جمهور) যে বিষয়ের ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং যা তাঁদের পথনির্দেশনা, সেটিই যে মূল ভিত্তি—তা বর্ণনা করা।

নিশ্চয়ই আলেমগণই হলেন দাঈ (دعاة), আর দাঈগণ—মূলত—হলেন আলেম এবং অন্যরা তাঁদের অনুসারী। আমি ইতিপূর্বেও যেমনটি বলেছি: প্রত্যেক ইলম অন্বেষণকারী (طالب علم) এবং প্রত্যেক মুসলিমের ওপর তার সাধ্য অনুযায়ী এবং যে বিষয়ে সে দাওয়াত দিচ্ছে সে বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা আবশ্যক—আর এ সবকিছুর শর্ত হলো আলেমগণের অনুসরণ করা; কেননা তাঁরাই হলেন উম্মাহর নেতা এবং তাঁরাই উম্মাহর নীতি-নির্ধারক (أهل الحل والعقد) ও এর জামাআত (جماعة)।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১২)
المسألة الثالثة:

في الحديث عن هذه الظاهرة التي أشرت إليها، وهي: الفصل بين العلماء (أي علماء الشرع: أهل الفقه في الدين) وبين الدعاة، أو بين العلم والدعوة (أي طلب العلم الشرعي والدعوة) ، وهذا الفصل- مع الأسف- تركز في أذهان كثير من المسلمين في هذا العصر، لأسباب كثيرة- سأذكر شيئا منها فيما بعد.

بل إن هذا المفهوم الخاطئ لم يتركز في الأذهان فقط، بل صار له أثر في الواقع أي فيما تعيشه الدعوات، وما يعيشه كثير من الدعاة في كثير من بلاد العالم الإسلامي وكما أسلفت كان التفريق بين العلماء والدعاة من سمات أهل البدع، حيث إنهم اتخذوا رؤوسا جهالا. والداعية عندهم- أعني أهل الأهواء والبدع- هو من يخضع لأهوائهم، ويلتزم بها، ويقول بمقولاتهم وينشرها وينتصر لها، ولو لم يفقه من الدين شيئا.

ونجد هذا جليا في الفرق الأولى: كالخوارج، فإن دعاتهم ليسوا العلماء الأكابر، لا فيهم ولا من غيرهم، بل بضاعتهم في الفقه والعلم قليلة وعلى غير طرق سليمة، وكذلك الرافضة: دعاتهم جهالهم، بل أجهل الناس وأقلهم أحلاما، وهكذا المعتزلة، والقدرية، وأهل الكلام، وسائر الفرق على هذه السمة- غالبا- على تفاوت بينهم.
তৃতীয় মাসআলা:

আমি যে পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করেছি, সেই প্রসঙ্গের আলোচনায় বলতে হয়, তা হলো: আলিমদের (অর্থাৎ শরীয়াহর আলিম: দ্বীনি ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিত (أهل الفقه)) এবং দাঈদের মধ্যে বিচ্ছেদ, অথবা ইলম ও দাওয়াতের (অর্থাৎ শরীয়াহর ইলম অর্জন ও দাওয়াত) মধ্যে বিচ্ছেদ। এই বিচ্ছেদ—দুর্ভাগ্যবশত—এই যুগে অনেক মুসলিমের মানসপটে গেঁথে গেছে অনেকগুলো কারণে—যার কিছু আমি পরে উল্লেখ করব।

বরং এই ভুল ধারণাটি কেবল মনেই বদ্ধমূল হয়নি, বরং বাস্তব ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে; অর্থাৎ বর্তমানে দাওয়াত বা আন্দোলনগুলোর যে পরিস্থিতি এবং বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে অনেক দাঈ যেভাবে জীবন যাপন করছেন। যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি, আলিম এবং দাঈদের মধ্যে বিভাজন করা ছিল বিদআতি গোষ্ঠীর (أهل البدع) অন্যতম বৈশিষ্ট্য; কেননা তারা মূর্খ ব্যক্তিদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আর তাদের নিকট দাঈ—আমি এখানে প্রবৃত্তিপূজারী (أهل الأهواء) ও বিদআতিদের (أهل البدع) কথা বুঝাচ্ছি—হলো সেই ব্যক্তি যে তাদের প্রবৃত্তির অনুসারী হয়, তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে, তাদের বক্তব্যগুলোই প্রচার করে এবং তার পক্ষ সমর্থন করে, যদিও সে দ্বীন সম্পর্কে কিছুই অনুধাবন করে না।

আমরা আদি ফিরকা (الفرق) বা দলগুলোর মধ্যে এটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাই: যেমন খারিজি (الخوارج); তাদের দাঈগণ শীর্ষস্থানীয় আলিম ছিলেন না, না তাদের নিজেদের মধ্য থেকে আর না অন্যদের মধ্য থেকে। বরং ফিকহ (الفقه) ও ইলমের ক্ষেত্রে তাদের পুঁজি ছিল অতি সামান্য এবং তা সঠিক পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। একইভাবে রাফেজি (الرافضة): তাদের দাঈগণ তাদের মধ্যকার অজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, বরং তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূর্খ এবং সবচেয়ে কম বিচক্ষণ। একইভাবে মুতাজিলা (المعتزلة), কাদারিয়া (القدرية), ইলমুল কালামের অনুসারী (أهل الكلام) এবং অন্যান্য সমস্ত ফিরকা (الفرق)—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—এই বৈশিষ্ট্যের ওপরই প্রতিষ্ঠিত, যদিও তাদের মাঝে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১৩)
فهؤلاء- أي أهل الافتراق- هم الذين يفصلون بين الدعوة وبين الفقه في الدين، لأنهم- أصلا- يقل فيهم الفقه في الدين. وأكثر زعمائهم ودعاتهم إنما يمتازون بالولاء لفرقتهم، وبالولاء للمقولات التي هم عليها، ولا يفقهون من الدين إلا القليل، ومنهم من لا يفقه شيئا.

وأغلب دعاة هذه الفرق والذين نشروها في الأقاليم الإسلامية قديما من العوام ومن الجهلة أو الذين لهم أهداف وأغراض شخصية أو شعوبية، أو عصبيات، ويسيطر عليهم الجهل المهلك.
তারা—অর্থাৎ অনৈক্য ও বিভেদ সৃষ্টিকারীগণ—তারাই দাওয়াত এবং দ্বীনি প্রজ্ঞার (فقه في الدين) মধ্যে পার্থক্য করে থাকে; কারণ মূলত তাদের মধ্যে দ্বীনি ফিকহ বা গভীর প্রজ্ঞার (فقه في الدين) স্বল্পতা রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশ নেতা ও দাঈদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা কেবল তাদের নিজ দলের প্রতি আনুগত্য এবং তারা যে মতাদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত তার প্রতি অনুগত থাকে; তারা দ্বীন সম্পর্কে খুব সামান্যই প্রজ্ঞা রাখে, এমনকি তাদের মধ্যে এমনও আছে যারা কিছুই বোঝে না।

প্রাচীনকালে এই দলগুলোর অধিকাংশ দাঈ এবং যারা ইসলামি অঞ্চলগুলোতে এগুলো প্রচার করেছিল, তারা ছিল সাধারণ মানুষ (عوام) এবং মূর্খদের (جهلة) অন্তর্ভুক্ত অথবা এমন লোক যাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ও স্বার্থ ছিল, কিংবা ছিল গোষ্ঠীগত শ্রেষ্ঠত্ববাদ (شعوبية) অথবা অন্ধ পক্ষপাতিত্ব (عصبيات); আর তাদের ওপর ধ্বংসাত্মক অজ্ঞতা প্রভাব বিস্তার করে ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১৪)
المسألة الرابعة:

أن هذه الخصلة- مع الأسف- سمة ظاهرة، بدأت تظهر في كثير من الدعوات المعاصرة، وكثير من الحركات الإسلامية- وهي في خارج هذه البلاد أكثر، لكن لا يسعنا إلا أن نتكلم عنها لأسباب:

أولها: أننا لا بد أن نحمل هموم جميع المسلمين في كل بقاع الأرض وهذا واجب شرعا على كل داعية، فعلى كل عالم أن يحمل هم المسلمين لا في إقليم واحد، بل في جميع بقاع الأرض. والمسلمون؛ الأصل فيهم أنهم أمة واحدة، ومقتضى النصح والإشفاق عليهم. بيان ما فيهم من خير وتشجيعهم عليه. وبيان ما فيهم من أخطاء، والتنبيه عليهم، ونصحهم بالعدول عنها.

ومن هذا المنطلق سأتوقف عند ذكر بعض ظواهر الخطأ في هذا الموضوع، في بعض الحركات الإسلامية خارج هذه البلاد.
চতুর্থ মাসআলা:

দুঃখজনক বিষয় হলো, এই বৈশিষ্ট্যটি বর্তমানে একটি প্রকাশ্য লক্ষণে পরিণত হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের অনেক দাওয়াহ এবং অনেক ইসলামি আন্দোলনের মধ্যে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে—যদিও এই দেশের বাইরে এর ব্যাপকতা অনেক বেশি, তবুও কয়েকটি কারণে এ বিষয়ে আমাদের কথা না বলে উপায় নেই:

প্রথমত: বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের সকল মুসলিমের চিন্তা ও উদ্বেগ আমাদের হৃদয়ে লালন করতে হবে এবং এটি প্রত্যেক দায়ীর ওপর শরয়ি বিধান অনুযায়ী আবশ্যিক। সুতরাং প্রত্যেক আলিমকে কেবল একটি অঞ্চলের জন্য নয়, বরং পৃথিবীর সকল ভূখণ্ডের মুসলিমদের নিয়ে ভাবতে হবে। আর মুসলিমদের মূল পরিচয় হলো তারা এক উম্মাহ; তাই তাদের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষা ও মমত্ববোধের দাবি হলো—তাদের মাঝে বিদ্যমান কল্যাণকর দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা এবং সে ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা। পাশাপাশি তাদের ভুলভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করা, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করা এবং সেগুলো বর্জন করার পরামর্শ প্রদান করা।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমি এই ভূখণ্ডের বাইরের কিছু ইসলামি আন্দোলনের এই বিষয়ক কিছু ভুলত্রুটির দিক উল্লেখ করার জন্য এখানে আলোকপাত করব।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১৫)
وثانيها: أن بعض هذه الظواهر- أي الفصل بين العلماء والدعاة- بدأت تظهر عند طوائف من الشباب- عندنا-، وبعض المفكرين، وبعض المثقفين، لسبب أو لآخر، فمن هنا كان لا بد من الكلام عن أوضاع الدعوات المعاصرة، بمجملها، في جميع العالم الإسلامي، وليس في بلد واحد، لأنها يستمد بعضها من بعض.

أعود إلى هذه الخصلة- أو هذه السمة التي وقع فيها كثير من الدعاة والدعوات المعاصرة، وهي: (أن الدعاة عندهم غير العلماء والداعية غير العالم) ، وهذا المفهوم بدأ ينمو في أذهان بعض الناس- مع الأسف- وقد تأصلت هذه المفاهيم حتى في أعمال الدعاة، وفي حركاتهم، وفي مواقفهم، وفي مناهجهم، فصاروا يفصلون بين العالم (الشيخ) وبين الداعية، وأدى ذلك الفصل إلى عواقب وخيمة.
দ্বিতীয়ত: এই জাতীয় কিছু উপসর্গ—অর্থাৎ আলেম ও দাঈদের মধ্যে বিচ্ছেদ—আমাদের মধ্যকার একদল যুবক, কতিপয় চিন্তাবিদ এবং কিছু বুদ্ধিজীবীর মাঝে কোনো না কোনো কারণে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সমকালীন দাওয়াহ কার্যক্রমের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে; এটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, কারণ একটি অন্যটি থেকে প্রভাব গ্রহণ করে থাকে।

আমি পুনরায় সেই বৈশিষ্ট্যের—বা লক্ষণের—প্রসঙ্গে ফিরে আসছি, যার মধ্যে অনেক দাঈ এবং সমকালীন দাওয়াতি সংগঠনগুলো নিপতিত হয়েছে, আর তা হলো: (তাদের নিকট দাঈগণ আলেমদের থেকে পৃথক এবং একজন দাঈ ও একজন আলেম এক ব্যক্তি নন)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই ধারণাটি কিছু মানুষের মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এমনকি এই ধারণাগুলো দাঈদের কর্মতৎপরতা, আন্দোলন, অবস্থান ও কর্মপদ্ধতির মাঝেও বদ্ধমূল হয়ে গেছে; ফলে তারা আলেম (শায়খ) ও দাঈর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ফেলেছে। আর এই বিচ্ছেদ অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১৬)
فالداعية عندهم: هو من ينشط في الدعوة والحركة، لتحقيق مراد أصحابها، أو لتحقيق أهدافها، أو يواليها ويرفع شعارها، ويجمع الناس حوله على هذا الشعار. هذا هو الداعية عند كثير من الدعوات المعاصرة، بصرف النظر عن علمه وفقهه، بل الغالب أنه يكون من قليلي الفقه وقليلي العلم الشرعي. والمشايخ بمفهوم هؤلاء- القاصر- ليسوا دعاة، ولا يصلحون لأن يسهموا في الدعوة أو أن يدخلوا في إطارها أو نطاقها، لأنهم فيهم وفيهم! وبسبب هذا الفصل ظهرت أمور، سنشير إلى شيء منها.
তাদের নিকট দায়ী (داعية) হলো সেই ব্যক্তি, যে দাওয়াত ও আন্দোলনের কাজে সক্রিয় থাকে—চাই তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অভিপ্রায় পূর্ণ করার জন্য হোক, কিংবা এর লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য, অথবা সে এর প্রতি আনুগত্য পোষণ করে ও এর শ্লোগানকে সমুন্নত রাখে এবং এই শ্লোগানের ভিত্তিতেই মানুষকে নিজের চারপাশে সমবেত করে। সমকালীন অনেক দাওয়াতী জামাআতের নিকট দায়ী (داعية) বলতে এমনই বুঝায়, চাই তার জ্ঞান ও ফিকহ (فقه) এর বিষয়টি যেমনই হোক না কেন। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তারা ফিকহ (فقه) ও শরয়ি জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে খুবই নগণ্য। এই সকল লোকের সংকীর্ণ ধারণা অনুযায়ী উলামা-মাশায়েখগণ দায়ী (دعاة) নন এবং তারা দাওয়াতের কাজে অবদান রাখার কিংবা এই পরিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ারও যোগ্য নন; কারণ তাদের মধ্যে নানা বিচ্যুতি রয়েছে! আর এই বিভাজনের ফলেই এমন কিছু বিষয়ের সৃষ্টি হয়েছে, যার কিয়দাংশ আমরা সামনে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌أولا: اتخاذهم رؤوسا جهالا، - أغلبهم- لا يفقهون من الدين إلا ما يحلو لهم. وغاية ما يملك بعضهم من العلم، إنما هو مجرد أفكار وثقافات أشتات، زادُ كثير منهم مجرد العواطف والحركة، حتى كاد أن يكون مصطلح الداعية عندهم من ليس بعالم، وأن العالم ليس بداعية. وأحيانا يقولون: فلان داعية- أي ليس بعالم- وفلان شيخ من المشايخ - أي ليس بداعية! وهذا وقوع فيما حذر منه الرسول صلى الله عليه وسلم من اتخاذ (رؤوسا جهالا) ، يفتون بغير علم، فيضلوا ويضلوا فيما رواه عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله لا يقبض العلم انتزاعا ينتزعه من العباد، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء حتى إذا لم يبق عالما: اتخذ الناس رؤوسا جهالا فسئلوا فأفتوا بغير علم، فضلوا وأضلوا» (1)

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه (1 / 234) كتاب العلم، باب كيف يقبض العلم، وفي (13 / 295) كتاب الاعتصام، باب ما يذكر من ذم الرأي..، ومسلم في صحيحه (2058، 2059) كتاب العلم- باب رفع العلم وقبضه.
প্রথমত: তাদের মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করা, -তাদের অধিকাংশ- দ্বীন সম্পর্কে ততটুকুই বোঝে যতটুকু তাদের পছন্দ হয়। তাদের কারো কারো জ্ঞানের দৌড় কেবল কিছু বিক্ষিপ্ত চিন্তা ও সংস্কৃতির মাঝে সীমাবদ্ধ, আর তাদের অনেকেরই পাথেয় হলো নিছক আবেগ ও তৎপরতা। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাদের নিকট 'দাঈ' পরিভাষাটি প্রায় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যে আলেম নয়, আর আলেম যেন দাঈ নন। কখনও কখনও তারা বলে: অমুক একজন দাঈ—অর্থাৎ তিনি আলেম নন—এবং অমুক একজন শায়খ—অর্থাৎ তিনি দাঈ নন! আর এটি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ে সতর্ক করেছেন তাতেই নিপতিত হওয়া, অর্থাৎ (মূর্খদের নেতা) গ্রহণ করা, যারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করে; ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে ইলম বা জ্ঞান সরাসরি ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে উঠিয়ে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের বিদায়ের মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে, ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে» (১)

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১ / ২৩৪) কিতাবুল ইলম, 'কীভাবে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে' পরিচ্ছেদে এবং (১৩ / ২৯৫) কিতাবুল ইতিসাম, 'রায়ের নিন্দা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে' পরিচ্ছেদে; এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২০৫৮, ২০৫৯) কিতাবুল ইলম, 'ইলম উঠিয়ে নেওয়া ও তা তুলে নেওয়া' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌ثانيا: قلة وجود العلماء والمشايخ، والمتفقهين في الدين، المتضلعين في العلوم الشرعية بينهم، في أكثر الدعوات المعاصرة مع أن وجود أهل العلم المتفقهين في الدين شرط من شروط الدعوة إلى الله- سبحانه وتعالى خاصة في الدعوات الكبرى، التي ينضوي تحت لوائها جماعات وفئام من الناس، فهذه لا ينبغي أن يفقد فيها العالم، أو أن يكون العالم فيها مغموراً، أو لا يتصدر الدعوة.
দ্বিতীয়ত: আলেম ও মাশায়েখদের স্বল্পতা, এবং অধিকাংশ সমকালীন দাওয়াতি আন্দোলনের মাঝে তাদের মধ্যে দ্বীন সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞাবান (المتفقهين في الدين) ও শরয়ী বিদ্যায় পারদর্শী (المتضلعين في العلوم الشرعية) ব্যক্তিদের অভাব; যদিও দ্বীন সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান আলেমদের (أهل العلم المتفقهين في الدين) উপস্থিতি মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার অন্যতম একটি শর্ত—বিশেষ করে সেই সকল বড় দাওয়াতি কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে যেগুলোর পতাকাতলে বিভিন্ন জামাত ও বিশাল জনগোষ্ঠীর সমাবেশ ঘটে। সুতরাং এসকল ক্ষেত্রে আলেমদের অনুপস্থিত থাকা, অথবা সেখানে কোনো আলেম অখ্যাত (مغموراً) হয়ে থাকা কিংবা দাওয়াতের অগ্রভাগে তাঁর অবস্থান না থাকা মোটেও সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌ثالثاً: قصور النظرة في فهم قدر العلماء والمشايخ، وبمنزلتهم عند كثير من أتباع هذه الدعوات. فمن هنا وُجِدَ من بعضهم اتهام للعلماء بالقصور أو التقصير أو قلة الوعي، أو أي نوع من أنواع التنقيص لتبرير عدم صلة الدعاة بالعلماء. بل إن بعض الدعاة يرفع نفسه ودعوته على حساب الكلام في أعراض العلماء، وهذا الأمر- وإن كان كشفه مؤلماً- لكن لا بد من ذكره، ولابد من السعي لعلاجه.
তৃতীয়ত: আলেম ও মাশায়েখদের গুরুত্ব এবং এই দাওয়াতগুলোর অনেক অনুসারীদের নিকট তাঁদের মর্যাদাবোধ উপলব্ধির ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা, এ কারণে তাদের কারো কারো পক্ষ থেকে আলেমদের ওপর অযোগ্যতা, অবহেলা বা সচেতনতার অভাব অথবা আলেমদের সাথে দাঈদের সম্পর্কহীনতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য যেকোনো ধরনের মানহানি (تنقيص) করার প্রবণতা দেখা যায়। এমনকি কিছু দাঈ আলেমদের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিনিময়ে নিজেকে এবং নিজের দাওয়াতকে উচ্চাসনে আসীন করে। এই বিষয়টি—যদিও তা উন্মোচন করা বেদনাদায়ক—তথাপি এটি উল্লেখ করা আবশ্যক এবং এর প্রতিকারের চেষ্টা করা জরুরি।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌رابعاً: توريط بعض شباب الأمة بالانتماء للشعارات والقيادات الدعوية، وليس لأهل العلم والعلماء، بل أصبح الانتماء للشعار والجماعة الدعوية أكثر منه للسنة والجماعة وأهل العلم (1) .

--------------------------------------------

(1) أقرأ كتاب (حكم الانتماء إلى الفرق والأحزاب والجماعات الإسلامية) للشيخ الدكتور بكر بن عبد الله أبو زيد فهو مفيد جداً.
‌‌চতুর্থত: উম্মাহর কতিপয় যুবককে জ্ঞানীদের (أهل العلم) এবং আলেমদের (العلماء) পরিবর্তে বিভিন্ন স্লোগান ও দাওয়াতি নেতৃত্বের অনুসারী হওয়ার জালে জড়িয়ে ফেলা, বরং সুন্নাহ (السنة) ও জামাত (الجماعة) এবং জ্ঞানীদের (أهل العلم) প্রতি সম্পৃক্ত হওয়ার চেয়ে কোনো বিশেষ স্লোগান বা দাওয়াতি গোষ্ঠীর প্রতি সম্পৃক্ততাই এখন অধিক প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে (১)।

--------------------------------------------

(১) শায়খ ডক্টর বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ-এর রচিত 'হুকমুল ইনতিমা ইলাল ফিরাক ওয়াল আহযাব ওয়াল জামাআতিল ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামি দল, উপদল ও গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিধান) বইটি পড়ুন; এটি অত্যন্ত উপকারী।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌خامساً: فصل الشباب عن مشايخهم وعن علمائهم، ومن ثم حجبهم عن النظرة الشرعية الشمولية للدعوة إلى الله- سبحانه وتعالى وغاياتها ومناهجها، وحجبهم عن الاهتداء بهدي أئمة السنة قديماً وحديثاً. بل إن بعض الجماعات تربي شبابها على جوانب من مناهج السلف تخدم أهدافها، أو تخدم الجماعة وشعاراتها، وتغفل الجوانب الأخرى والسنة والعلم وسير أهل العلم، وهذه من أساليب أهل الأهواء وأهل البدع، يأخذون من الأئمة ما يحلو لهم من قول أو فعل، ويتركون الباقي. وهذا خلل في النظرة وخلل في المنهج.
পঞ্চমত: তরুণ সমাজকে তাদের মাশায়েখ (مشايخ) ও উলামাদের (علماء) থেকে বিচ্ছিন্ন করা, যার ফলে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পথে দাওয়াতের (دعوة) সামগ্রিক শারয়ি (شرعية) দৃষ্টিভঙ্গি, এর লক্ষ্যসমূহ ও কর্মপদ্ধতি (مناهج) থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয় এবং প্রাচীন ও আধুনিক যুগের সুন্নাহর (سنة) ইমামদের (أئمة) আদর্শ অনুযায়ী হিদায়াত লাভ থেকে তাদের দূরে রাখা হয়। এমনকি কিছু দল তাদের তরুণদের সালাফদের (سلف) মানহাজের (مناهج) এমন কিছু বিষয়ের ওপর গড়ে তোলে যা কেবল তাদের নিজস্ব লক্ষ্য কিংবা দলের স্লোগান বাস্তবায়নে সহায়ক হয়; অথচ তারা অন্যান্য দিকসমূহ, সুন্নাহ (سنة), ইলম (علم) এবং আহলে ইলমদের (أهل العلم) জীবনচরিত উপেক্ষা করে। এটি মূলত খেয়ালখুশি অনুসারী (أهل الأهواء) ও বিদআতিদের (أهل البدع) অন্যতম পন্থা; তারা ইমামদের (أئمة) কথা বা কাজের মধ্য থেকে কেবল নিজেদের পছন্দমতো অংশটুকু গ্রহণ করে এবং বাকিটুকু বর্জন করে। এটি দৃষ্টিভঙ্গির ত্রুটি এবং মানহাজের (منهج) একটি বড় বিচ্যুতি।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২২)
سادساً: نتج عن الفصل بين الدعاة والعلماء: كثرة الشعارات والأهواء والانتماءات والافتراقات والعصبيات للجماعات أو للأشخاص مع العلم بأن الأمة لا يجمعها على السنة والخير إلا علماؤها، ومهما بالغت الفرق، أو مهما بالغت الجماعات والدعاة في أي مكان وفي أي زمان للسعي إلى جمع المسلمين دون الاسترشاد بأهل العلم، ودون أن يجعلوا العلماء قادة وموجهين ومرشدين وأئمة للدعوات، فإن الشمل لن يجتمع. نعم لن يجتمع شمل الأمة إلا بالالتفاف حول علمائها، مهما بلغت الدعوات من السعي إلى وسائل الجمع وأساليبه. وهذا الخلل سبب رئيسي في كون الجماعات تتنافر ولا تتفاهم، وتفترق وتفرِّق أكثر مما تجتمع وتجمع.. وواقعها شاهد على ذلك.

ষষ্ঠত: দাঈ এবং আলেমদের মধ্যকার বিচ্ছিন্নতার ফলে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য স্লোগান, প্রবৃত্তি পূজা, দলীয় আনুগত্য, বিভেদ এবং বিভিন্ন দল বা ব্যক্তির প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব। অথচ এটি সুনিশ্চিত যে, উম্মাহকে সুন্নাহ (سنة) ও কল্যাণের ওপর কেবল আলেমগণই ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। বিভিন্ন দল (فرق), গোষ্ঠী কিংবা দাঈগণ যে কোনো সময়ে বা স্থানে আলেমদের দিকনির্দেশনা গ্রহণ না করে এবং আলেমদেরকে দাওয়াতের নেতা, পথপ্রদর্শক, নির্দেশক ও ইমাম হিসেবে গ্রহণ না করে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যত প্রচেষ্টাই করুক না কেন, উম্মাহর ঐক্য কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না। হ্যাঁ, ঐক্যের যত উপায় ও পদ্ধতিই অবলম্বন করা হোক না কেন, আলেমদের সান্নিধ্য এবং তাঁদের ঘিরে সমবেত হওয়া ছাড়া উম্মাহর ঐক্য অসম্ভব। আর এই ত্রুটিই হলো দলগুলোর পারস্পরিক বিমুখতা এবং সমঝোতাহীনতার প্রধান কারণ; তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং বিভক্তি সৃষ্টিতে বেশি লিপ্ত হয়। বর্তমান বাস্তবতা এর সুস্পষ্ট সাক্ষী।

(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২৩)
سابعاً: نتج عن العزلة بين العلماء وبعض الدعوات المعاصرة- أقول البعض حتى لا نظلم الذين هم على الاستقامة- أن نشأت لبعض الدعوات مناهج وأفكار وكتب ومؤلفات معزولة عن السنن، وعن العلوم الشرعية بشموليتها. بل وحتى بتفصيلاتها. وصارت كل طائفة تأخذ من العلوم الشرعية ما يناسب أوضاعها. وهذا أسلوب من الأساليب الخاطئة التي تخالف منهج السلف، وحتى نشأ للدعوة في العالم الإسلامي علم يشبه علم الكلام لدى الجماعات في ارتباطه بالأهواء والأشخاص، لا بارتباطه بالسنة وبالأئمة.

وقد برزت في الآونة الأخيرة، نتيجة لهذا الفصل بين الدعاة والعلماء دعوات كبرى، قوامها وركائزها، رؤساء ليسوا بعلماء، وتعتمد على أفكار وحركات محدثة، تخالف هدي الإسلام، وعلى عواطف لا تضبطها القواعد الشرعية ولا المصالح المعتبرة.
সপ্তম: আলেম সমাজ এবং কিছু সমসাময়িক দাওয়াতি আন্দোলনের মধ্যকার বিচ্ছিন্নতার ফলে—আমি 'কিছু' বলছি যাতে যারা হকের ওপর অবিচল রয়েছেন তাদের প্রতি অবিচার না হয়—কিছু দাওয়াতি আন্দোলনের এমন সব মানহাজ, চিন্তা, কিতাব ও রচনার উদ্ভব হয়েছে যা সুনান এবং সামগ্রিক শরয়ী জ্ঞান, এমনকি তার বিস্তারিত বিবরণ থেকেও বিচ্ছিন্ন। বরং প্রতিটি দল শরয়ী জ্ঞান থেকে কেবল তাদের পরিস্থিতির অনুকূল অংশটুকুই গ্রহণ করতে শুরু করেছে। আর এটি একটি ভ্রান্ত পদ্ধতি যা সালাফদের মানহাজ পরিপন্থী। এমনকি মুসলিম বিশ্বের দাওয়াতি অঙ্গনে এমন এক শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে যা বিভিন্ন দলের নিকট ইলমুল কালামের সদৃশ; যার সম্পৃক্ততা প্রবৃত্তি ও ব্যক্তিদের সাথে, সুন্নাহ কিংবা ইমামগণের সাথে নয়।

সাম্প্রতিককালে দায়ী এবং আলেমদের মধ্যকার এই বিচ্ছেদের ফলে কিছু বৃহৎ দাওয়াতি তৎপরতা আত্মপ্রকাশ করেছে, যাদের মূল ভিত্তি ও স্তম্ভ হলো এমন সব নেতৃবৃন্দ যারা আলেম নন। এগুলো এমন সব নব-উদ্ভাবিত (محدثة) চিন্তা ও আন্দোলনের ওপর নির্ভরশীল যা ইসলামের হেদায়েতের পরিপন্থী এবং এমন সব আবেগের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা শরয়ী নীতিমালা বা শরিয়তসম্মত জনকল্যাণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثامناً: كما نتج عن هذا التقصير في طلب العلم الشرعي على أصوله وعلى مناهجه السليمة الصحيحة، بل ونتج من ذلك عند أصحاب الدعوات التي تفصل بين العلماء والدعاة الحيلولة بين أتباعها وبين تحصيل العلم من المشايخ. بل كثيراً ما ترد إشكالات من بعض الشباب في شتى بلاد العالم الإسلامي، ناتجة من صرف بعض الدعاة لأتباعهم عن العلماء بذرائع شتى، حتى أن بعضهم قد يعاقب الشاب الذي ينتمي إليه لماذا جلس يطلب العلم الشرعي على الشيخ فلان!!

ونتيجة لذلك حصل الخلل في المفهوم، فقد فهم بعض الدعاة- هداهم الله- بسبب العزلة بينهم وبين المشايخ أن المشايخ خصوم أو أعداء للدعوة، أو أن لديهم ما يضر بالمنتسب للدعوة، أو ما يشوش أفكاره عليها. وسبب ذلك أن في دعواتهم أمراضاً ومصائب لا يرضاها العلماء، وقد ينتقدونها. ومن هنا تعللوا بصرف شبابهم عن العلماء وأهل العلم والفقه في الدين.
অষ্টমত: শরয়ী ইলমকে এর সঠিক মূলনীতি (أصول) ও নির্ভুল এবং সহিহ (صحيحة) পন্থায় অর্জনের ক্ষেত্রে এই অবহেলার কারণে অনেক নেতিবাচক ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি সেই সব দাওয়াতী মহলের ক্ষেত্রেও একই ফল দেখা গেছে যারা আলেম ও দায়ীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের অনুসারীদের মাশায়েখদের নিকট থেকে ইলম অর্জনে বাধা প্রদান করে। বরং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের যুবকদের পক্ষ থেকে প্রায়শই এমন সব সমস্যার কথা সামনে আসে যা মূলত কিছু দায়ী কর্তৃক বিভিন্ন অজুহাতে তাদের অনুসারীদের আলেমদের থেকে বিমুখ করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ সেই যুবককে শাস্তিও প্রদান করে যে কি না অমুক শায়খের মজলিসে বসে শরয়ী ইলম অর্জন করে!!

এর ফলে ধারণাগত ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটেছে। মাশায়েখদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে কিছু দায়ী—আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিন—এমনটি বুঝেছেন যে, মাশায়েখগণ দাওয়াতের প্রতিপক্ষ বা শত্রু, অথবা তাঁদের কাছে এমন কিছু আছে যা দাওয়াতী কর্মীদের ক্ষতি করবে কিংবা তাদের চিন্তাধারায় সংশয় তৈরি করবে। এর কারণ হলো, তাদের দাওয়াতী কর্মকাণ্ডে এমন কিছু ত্রুটি ও বিপর্যয় রয়েছে যা আলেমগণ পছন্দ করেন না এবং সম্ভবত তারা সেগুলোর সমালোচনা করবেন। একারণেই তারা তাদের যুবকদের আলেম এবং দ্বীনি ইলম ও ফিকহ (الفقه) এর পারদর্শীদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অজুহাত পেশ করে।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي الآونة الأخيرة لما رأى بعضهم عوار هذا النهج صاروا يوجهون شبابهم إلى المشايخ لأخذ العلم عنهم فقط دون ما يتعلق بالمناهج والقضايا الدعوية والتربوية ونحوها، وهذا من مسالك أهل الأهواء، وهو مسلك خطير يجب ألا يستمر عليه من ينشد الحق والإصلاح، ولذلك وجب مناصحة أولئك الدعاة وبيان الحق لهم.
সাম্প্রতিক কালে যখন তাদের কেউ কেউ এই কর্মপন্থার অসারতা প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তারা তাদের তরুণদের কেবল ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে শায়খদের অভিমুখী করতে শুরু করলেন; তবে কর্মপন্থা (مناهج), দাওয়াহ (دعوية) ও তারবিয়াহ (تربوية) সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলো তারা এড়িয়ে গেলেন। এটি মূলত প্রবৃত্তিপূজারীদের (أهل الأهواء) একটি পন্থা এবং এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পথ, যা সত্য ও সংস্কার অন্বেষণকারীদের জন্য অব্যাহত রাখা অনুচিত। এ কারণেই সেই সকল দাঈদের (دعاة) সদুপদেশ প্রদান এবং তাদের নিকট সত্য উন্মোচন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২৬)
تاسعاً: في بعض الدعوات التي تسلك هذا المسلك ظهرت فئام من الجماعات والدعاة والشباب في البلاد الإسلامية وغيرها عددها ليس بالقليل، تجد قادتهم على قلة في الفقه وضعف في العلم، أو تتلمذوا على الأقل علماً واتخذوا شيوخهم من الأصاغر، وقد حذر النبي صلى الله عليه وسلم من ذلك حيث قال: «إن من أشراط الساعة: أن يُلتمس العلم عند الأصاغر» ، (1) وهذا- والله أعلم- يشمل الأصاغر في العلم والقدر والسن. وكل ذلك حاصل في هؤلاء ومنهم طائفة يتخذون شيوخهم كتبهم، وما يرشحونه من كتب فكرية أو ثقافية، وأغلب ما تعتمد هذه الجماعات على الكتب الفكرية والثقافية أكثر من الكتب الشرعية، بل فيهم من يتنكر لكتب السلف الصالح.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن المبارك في الزهد (61) ، واللالكائي في «شرح أصول اعتقاد أهل السنة» (102) وعزاه الهيثمي في «مجمع الزوائد» (1 / 135) إلى الطبراني في «الأوسط» و «الكبير» وغيرهم، وحسنه الحافظ المقدسي، وصححه غيره. وهو الصواب، فالراوي عن ابن لهيعة ابن المبارك- ورواية العبادلة عنه صحيحة، وهذا منها. والله أعلم. وقد فسر ابن المبارك الأصاغر بأهل البدع كما في «شرح أصول اعتقاد أهل السنة» للالكائي و «الفقيه والمتفقه» للخطيب.

নবম: দাওয়াতের ক্ষেত্রে এমন কিছু পন্থা অনুসৃত হচ্ছে যার ফলে মুসলিম দেশগুলোতে এবং অন্যত্র অনেক দল, গোষ্ঠী ও যুবকের আবির্ভাব ঘটেছে যাদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। দেখা যায় তাদের নেতাদের ফিকহ (فقه) বা প্রজ্ঞা ও ইলম (علم) বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে, অথবা তারা অত্যন্ত নগণ্য জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছে এবং অল্পজ্ঞানী বা ছোটদের (الأصاغر) নিজেদের শাইখ হিসেবে গ্রহণ করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন: «নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতসমূহের (أشراط الساعة) অন্তর্ভুক্ত হলো অল্পজ্ঞানী বা ছোটদের (الأصاغر) নিকট ইলম তালাশ করা» (১)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য—আল্লাহই ভালো জানেন—ইলম, মর্যাদা এবং বয়সে যারা ছোট বা অপরিপক্ব তাদের বোঝানো হয়েছে। এদের মধ্যে এ সবগুলো বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান; তাদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা বইকেই নিজেদের শাইখ বা শিক্ষক বানিয়ে নিয়েছে এবং তারা বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক বা সাংস্কৃতিক বইয়ের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করে। এসব দল শরিয়াহর কিতাবসমূহের চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক বইগুলোর ওপরই অধিক নির্ভর করে, এমনকি তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা সালাফে সালেহীনের (السلف الصالح) কিতাবসমূহকে অস্বীকার বা উপেক্ষা করে।

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনুল মুবারক আল-জুহদ (৬১) গ্রন্থে এবং আল-লালাকাঈ শারহু উসুলি ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ (১০২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ (১/১৩৫) গ্রন্থে একে তাবারানির আল-আওসাত ও আল-কাবির এবং অন্যদের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ আল-মাকদিসি একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং অন্যগণ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। আর এটিই সঠিক (الصواب); কারণ ইবনে লাহিয়াহ থেকে বর্ণনাকারী হলেন ইবনুল মুবারক—আর তাঁর থেকে আবাদিলাহর (العبادلة) বর্ণনা বিশুদ্ধ (صحيحة), এবং এটিও তারই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহু আলাম। ইবনুল মুবারক আসাগির বা ছোটদের দ্বারা বিদআতি (أهل البدع) সম্প্রদায়কে বুঝিয়েছেন, যেমনটি লালাকাঈর শারহু উসুলি ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ এবং খতিব বাগদাদীর আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومنهم من جعلوا قادتهم- مع الأسف- جهالهم، وأحكامهم أهواءهم، مما أدى إلى الخلط وإلى الخبط والاضطراب عند بعض هؤلاء في العقائد وفي الأحكام، وفي المواقف، وفي التعامل مع الَاخرين، وفي النظرة إلى قضايا الأمة الكبرى، وفي التصرفات الطائشة التي تحدث من بعضهم، وفي صدور الأحكام المتعجلة، ونحو ذلك من المظاهر التي نراها في فئة من الشباب، وإن كانت والحمد لله قليلة، لكن القليل في مثل هذه الأمور لا ينبغي الاستهانة به، بل ينبغي علاجه لأنه إذا كثر قد يصعب، بل قد يستحيل علاجه.

তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা—আফসোসজনকভাবে—মূর্খদের নিজেদের নেতা বানিয়ে নিয়েছে এবং নিজেদের প্রবৃত্তি (أهواء)-কে বিধান (أحكام) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। এর ফলে এদের কারো কারো মাঝে আকিদা (عقائد), শারয়ী বিধান (أحكام), বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে গৃহীত অবস্থান, অন্যের সাথে আচার-আচরণ এবং উম্মাহর বড় বড় বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি বা সংমিশ্রণ (خلط), বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তাদের কারো কারো থেকে প্রকাশ পাওয়া হঠকারী আচরণ এবং তড়িঘড়ি করে বিধান (أحكام) জারির মতো বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত যা আমরা যুবকদের একটি ক্ষুদ্র অংশের মাঝে লক্ষ্য করি। যদিও আলহামদুলিল্লাহ এদের সংখ্যা নগণ্য, তবুও এ জাতীয় বিষয়ে অল্পকেও তুচ্ছজ্ঞান করা সমীচীন নয়; বরং এর প্রতিকার করা আবশ্যক। কারণ এটি বৃদ্ধি পেলে এর সংশোধন করা কঠিন, বরং অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২৮)
المسألة السادسة

كلمة إنصاف

وسأتكلم فيها عن نوعين من الدعاة:

النوع الأول:

غالب الشباب من طلاب العلم الشرعي عندنا في هذه البلاد (أعني المملكة العربية السعودية) ، أشهد أني أرى عليهم علامات الرشد، والالتفاف حول العلماء، والاسترشاد بأهل العلم والتلقي عنهم- وهذه ظاهرة سارة، وهي الأصل، وينبغي أن نشجع الشباب عليها، وسائر طلاب العلم. كما أني أرى من المظاهر السارة للشباب هنا: استقامة العقيدة، واستقامة السلوك، والحرص على تلقي العلم الشرعي بمناهجه وأساليبه الصحيحة من مصادره الأصلية: كتب السلف المستمدة من الكتاب والسنة، وتلقيه على أهله- وهم العلماء- أئمة الدين، والمشايخ الذين هم القدوة، وهذه ظاهرة تبشر بالخير، وهي نتيجة طبيعية لأخذ العلم الشرعي عن أهله، لكن مع ذلك هناك بعض الظواهر التي أشرت إليها والتي هي- أحيانا- قد تكون من النتائج التي تصحب مثل هذا الإقبال الكبير على الخير والحمد لله فإن غرس الله ظهر، وريح الإيمان هبت، وإقبال الشباب منقطع النظير حتى يكاد يكون أكبر من أن يتحكم به بالإرشاد والتوجيه.
ষষ্ঠ মাসআলা (مسألة)

একটি ইনসাফপূর্ণ কথা

এবং এতে আমি দুই প্রকারের দাঈ সম্পর্কে আলোচনা করব:

প্রথম প্রকার:

আমাদের এই ভূখণ্ডের (অর্থাৎ সৌদি আরব রাজত্ব) শারয়ি ইলমের শিক্ষার্থী যুবকদের অধিকাংশের ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাদের মধ্যে সঠিক পথের দিশা, উলামায়ে কেরামের সান্নিধ্যে থাকা এবং আহলে ইলমদের নিকট থেকে দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা গ্রহণ (تلقي) করার নিদর্শন দেখতে পাচ্ছি—এটি একটি অত্যন্ত আনন্দদায়ক বিষয় এবং এটিই হলো মূল ভিত্তি (أصل)। আমাদের উচিত যুবকদের এবং অন্যান্য সকল ইলম অন্বেষণকারীকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করা। একইভাবে আমি এখানকার যুবকদের মধ্যে কিছু আনন্দদায়ক বৈশিষ্ট্য দেখতে পাচ্ছি: আকিদার দৃঢ়তা, আচরণের বিশুদ্ধতা এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত সালাফদের (سلف) কিতাবসমূহের ন্যায় মৌলিক উৎস থেকে সঠিক মানহাজ (منهج) ও পদ্ধতিতে শারয়ি ইলম অর্জনের ঐকান্তিক আগ্রহ। এছাড়া এই ইলম তার যোগ্য ব্যক্তিদের থেকে—যারা হলেন উলামায়ে কেরাম, দ্বীনের ইমাম এবং অনুসরণীয় মাশায়েখবৃন্দ—গ্রহণ করা; এটি একটি কল্যাণময় নিদর্শন এবং যোগ্য ব্যক্তিদের থেকে শারয়ি ইলম অর্জনের একটি স্বাভাবিক ফলাফল। তবে এর পাশাপাশি এমন কিছু বিষয়ও পরিলক্ষিত হচ্ছে যেগুলোর দিকে আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি; যা মূলত কল্যাণের প্রতি এই ব্যাপক অগ্রসর হওয়ার ফলে অনেক সময় আনুষঙ্গিক ফলাফল হিসেবে দেখা দেয়। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রোপিত চারা আজ দৃশ্যমান হয়েছে, ঈমানের বায়ু প্রবাহিত হয়েছে এবং যুবকদের এই আগ্রহ নজিরবিহীন; যা কেবল নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উলামাউ হুমুদ দুয়াত (পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا الإقبال على الخير والصحوة المباركة أمر يجب أن نفرح به، وأن نستبشر به في الجملة، وهي علامة خير، ولله في ذلك حكمة يعلمها، ولا يمكن أن يكون هذا الإقبال على الخير مجرد ظاهرة اجتماعية، أو مجرد رد فعل لأوضاع سيئة- كما يقال - الأمر أكبر من ذلك، الأمر هو من مراد الله، ومن سننه التي لا تتبدل ولا تتخلف، فقد بلغ السيل الزبد، وقد طغى الزبد، ولابد أن يذهب الزبد جفاء، ولا يمكن ذهابه إلا بجهود بشر، والبشر الذين يصطفيهم الله لا بد أن يكونوا على علم وفقه في الدين، وأظن أن الله هيأ هذا الجيل الطيب، ليقوم بدور عظيم طالما تخلف عنه المسلمون في هذا العصر من نصرة الإسلام ونصرة الحق، وهذا قدر الله وأمره، وهو سنة الله- ولا راد لسنة الله- لكن مع ذلك قد يأتي مع الخير بعض الشر وبعض الشذوذ مثل: التشدد في الدين، أو الأهواء ونزعات الافتراق، مصداقاً لخبر النبي صلى الله عليه وسلم لكن لا بد من علاج هذه الظواهر،، التي تنشأ بشكل طبيعي بين ثنايا الاتجاه العارم إلى الخير.

কল্যাণের প্রতি এই আগ্রহ এবং বরকতময় এই জাগরণ এমন এক বিষয় যাতে আমাদের আনন্দিত হওয়া এবং সামগ্রিকভাবে আশান্বিত হওয়া উচিত। এটি মঙ্গলের একটি নিদর্শন এবং এতে আল্লাহর এমন হিকমত নিহিত রয়েছে যা কেবল তিনিই পরিজ্ঞাত। কল্যাণের প্রতি এই গণজোয়ার স্রেফ কোনো সামাজিক প্রপঞ্চ বা কেবল মন্দ পরিস্থিতির সাধারণ কোনো প্রতিক্রিয়া হতে পারে না—যেমনটি বলা হয়ে থাকে। বরং বিষয়টি তার চেয়েও মহত্তর। এটি আল্লাহর অভিপ্রায় এবং তাঁর সেই শাশ্বত বিধানসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা কখনো পরিবর্তিত বা ব্যাহত হয় না। প্লাবন এখন ফেনিল রূপ ধারণ করেছে এবং সেই ফেনা মদমত্ত হয়ে উঠেছে; তবে নিয়ম অনুযায়ী এই অন্তঃসারশূন্য ফেনারাশিকে অবশ্যই বিলীন হয়ে যেতে হবে। আর মানুষের সক্রিয় প্রচেষ্টা ব্যতীত এর অপসারণ সম্ভব নয়। আল্লাহ যাদের মনোনীত করেন, তাঁদের অবশ্যই দ্বীনের ইলম ও গভীর প্রজ্ঞা (فقه)-এর অধিকারী হতে হবে। আমার বিশ্বাস, আল্লাহ এই পবিত্র প্রজন্মকে এমন এক মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছেন, যা বর্তমান যুগে ইসলামের সহায়তা এবং সত্যের বিজয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহর নিকট থেকে দীর্ঘকাল যাবত অধরা ছিল। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফয়সালা ও তাঁর নির্দেশ; আর এটি আল্লাহর শাশ্বত রীতি—যা রদ করার সাধ্য কারো নেই। তবে এর পাশাপাশি কল্যাণের এই ধারার সাথে কখনো কখনো কিছু মন্দ এবং বিচ্যুতি (شذوذ) পরিলক্ষিত হতে পারে; যেমন: দ্বীনের ব্যাপারে চরমপন্থা কিংবা প্রবৃত্তি ও বিভেদমূলক প্রবণতা। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদত্ত সংবাদ (خبر)-এরই সত্যতা প্রমাণ করে। তবে কল্যাণের এই প্রবল প্রবাহের মাঝে স্বাভাবিকভাবে উদ্ভূত এই নেতিবাচক প্রবণতাগুলোর সংস্কার করা অপরিহার্য।