(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: -)
السراج المنير في ترتيب أحاديث صحيح الجامع الصغير   (ناصر الدين الألباني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: السراج المنير في ترتيب أحاديث صحيح الجامع الصغير

المؤلف: الحافظ جلال الدين السيوطي - العلامة محمد ناصر الدين الألباني

رتَّبه وعلق عليه: عصام موسى هادي

الناشر: دار الصديق - توزيع مؤسسة الريان

الطبعة: الثالثة، 1430 هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 محرم 1437

আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহিহিল জামিউস সাগির   (নাসিরুদ্দিন আলবানী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহিহিল জামিউস সাগির

লেখক: হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ুতী - আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী

বিন্যাস ও টীকা প্রদান করেছেন: ইসাম মুসা হাদি

প্রকাশক: দারুস সিদ্দিক - পরিবেশনায় মুয়াসসাসাতুর রাইয়ান

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ মুহররম ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১)
السراج المنير في ترتيب أحاديث صحيح الجامع الصغير

الحافظ جلال الدين السيوطي

العلامة محمد ناصر الدين الألباني

رتبه وعلق عليه

عصام موسى هادي

دار الدليل الأثرية للنشر والتوزيع

مؤسسة الريان للطباعة والنشر والتوزيع
আস-সিরাজুল মুনীর: সহীহ আল-জামি আস-সগীরের হাদীসসমূহের বিন্যাস

হাফিজ জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী

আল্লামা মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

বিন্যাস ও টীকা প্রদান করেছেন

ইসাম মূসা হাদী

দারুদ দালীল আল-আসারিয়্যাহ প্রকাশনী ও বিতরণ

মুয়াসসাসাতুর রায়্যান মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২)
السراج المنير في ترتيب أحاديث صحيح الجامع الصغير

الحافظ جلال الدين السيوطي

العلامة محمد ناصر الدين الألباني

رتبه وعلق عليه

عصام موسى هادي

الجزء الأول

طبعة منقحة ومزيدة

نشر دار الصديق للنشر والتوزيع

توزيع مؤسسة الريان للطباعة والنشر والتوزيع
সহীহ আল-জামি আস-সাগীরের হাদীসসমূহের বিন্যাসে আস-সিরাজুল মুনীর

আল-হাফিজ জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী

আল-আল্লামাহ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

বিন্যাস ও টীকা প্রদান করেছেন

ইসাম মূসা হাদী

প্রথম খণ্ড

পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ

দারুস সিদ্দিক প্রকাশনী ও বিতরণ কর্তৃক প্রকাশিত

আল-রাইয়ান ফাউন্ডেশন মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ কর্তৃক পরিবেশিত
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ৪)
جميع الحقوق محفوظة للناشر

بموجب حقوق الطبع والتأليف والنشر

فلا يحق نشر أي جزء من الكتاب أو تخزينه أو تسجيله بأية وسيلة أو تصويره أو ترجمته دون موافقة خطية مسبقة من الناشر

الطبعة الثالثة

1430 هـ - 2009 م

دار الصديق

الجبيل - المملكة العربية السعودية

ص ب: 573 - رمز بريدي 31951 - هاتف: 3623018

مؤسسة الريان

بيروت - لبنان - تلفاكس (009611) 651327 - 655383 ص ب: 5136/ 14 الرمز البريدي 11052020

البريد الإلكتروني: Alrayan@cyberia-net-lb

الموقع الإلكتروني: http:alrayanpub.com
প্রকাশকের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

মুদ্রণ, সংকলন ও প্রকাশনা স্বত্ব অনুযায়ী

প্রকাশকের পূর্ব লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই বইয়ের কোনো অংশ প্রকাশ করা, জমা রাখা, কোনো মাধ্যমে রেকর্ড করা, ছবি তোলা বা অনুবাদ করা বৈধ নয়

তৃতীয় সংস্করণ

১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

দারুস সিদ্দিক

আল-জুবাইল - সৌদি আরব রাজ্য

পি.ও. বক্স: ৫৭৩ - পোস্ট কোড ৩১৯৫১ - টেলিফোন: ৩৬২৩০১৮

মুয়াসসাসাতুর রাইয়ান

বৈরুত - লেবানন - টেলিফ্যাক্স (০০৯৬১১) ৬৫১৩২৭ - ৬৫৫৩৮৩, পি.ও. বক্স: ৫১৩৬/ ১৪, পোস্ট কোড ১১০৫২০২০

ইমেইল: Alrayan@cyberia-net-lb

ওয়েবসাইট: http:alrayanpub.com
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الطبعة الجديدة

الحمد للَّه ربِّ العالمين، والصلاةُ والسلامُ على سيد المرسلين سيدنا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين، أَمَّا بَعْدُ:

فهذه طبعة مزيدة منقحة، أقدمها للقراء الكرام؛ آملًا أن تنال إعجابهم وقبولهم، حيث امتازت هذه الطبعة عن سابقاتها بما يلي:

‌‌1 - عمل فهرس لأطراف الأحاديث تيسيرًا على من أراد حديثًا بعينه.

‌‌2 - بيان مصادر تخريج شيخنا للأحاديث في كتبه (1)، وسيجد القارئ في كثير منها اختلافًا عما في "صحيح الجامع الصغير" -طبعة المكتب الإسلامي- وذلك لأني غيرت بعض المصادر بأخرى؛ لكون وصول القارئ إليها أسهل وأيسر من المصدر المذكور في طبعة "صحيح الجامع".

‌‌3 - شَكْلُ ما يُشْكِلُ من الكلمات.

‌‌4 - إصلاح ما وقع من سهو قلم أو خطأ مطبعي في الطبعة السابقة.

أقول: هذه أهم الزيادات في هذه الطبعة، كما سيلمس القارئ فوائد أخرى أضفتها في شرح الغريب، أو التعليقات النافعة على بعض الأحاديث.

--------------------------------------------

(1) ولم أعثر على مصادر لعدد قليل من الأحادبث فتركت مكان المصدر فارغًا كما فعل شيخنا رحمه الله في "صحيح الجامع".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌নতুন সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

এটি একটি পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ, যা আমি সম্মানিত পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি; আশা করি এটি তাঁদের পছন্দ ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে। এই সংস্করণটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যমন্ডিত:

‌‌১ - হাদিসের প্রথম অংশের (আতরাফ) সূচিপত্র তৈরি করা হয়েছে, যাতে কেউ নির্দিষ্ট কোনো হাদিস তালাশ করতে চাইলে তা সহজ হয়।

‌‌২ - আমাদের শাইখের কিতাবসমূহে হাদিসগুলোর তাখরিজের (উৎস) বর্ণনা (১)। পাঠক এর অনেক স্থানেই 'মাকতাব আল-ইসলামী' থেকে মুদ্রিত 'সহীহুল জামিউস সগীর'-এর সাথে পার্থক্য লক্ষ্য করবেন—এর কারণ হলো, আমি কিছু উৎসের পরিবর্তে অন্য কিছু উৎস উল্লেখ করেছি; কারণ 'সহীহুল জামি' সংস্করণে উল্লেখিত উৎসের তুলনায় পাঠকদের জন্য এই উৎসগুলোতে পৌঁছানো অধিকতর সহজ।

‌‌৩ - অস্পষ্ট শব্দসমূহে হরকত প্রদান।

‌‌৪ - পূর্ববর্তী সংস্করণে অসাবধানতাবশত বা মুদ্রণজনিত যে সকল ভুল হয়েছিল তা সংশোধন।

আমি বলছি: এগুলোই এই সংস্করণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এছাড়া পাঠক আরও কিছু উপকারিতা লক্ষ্য করবেন যা আমি কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা অথবা কিছু হাদিসের ওপর উপকারী টীকা হিসেবে যোগ করেছি।

--------------------------------------------

(১) অল্প কিছু হাদিসের উৎসের সন্ধান আমি পাইনি, তাই উৎসের স্থানটি খালি রেখেছি; যেভাবে আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) 'সহীহুল জামি'-তে করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ৬)
واللَّهَ أسأل أن ينفع بها كما نفع بسابقتها، وأن يجعل لها القبول؛ إنه وليُّ ذلك والقادر عليه.

وصلِّ اللهم على محمد وعلي آله وأصحابه أجمعين

وكتبه

عصام موسى هادي

عمان - الأردن

7 شعبان/ 1429 هـ الموافق 8/ 8/ 2008 م
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে ফায়দা দান করেন যেমনটি তিনি এর পূর্ববর্তিটির মাধ্যমে করেছেন, এবং তিনি যেন একে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।

হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন

ইসাম মুসা হাদি

আম্মান - জর্ডান

৭ শাবান, ১৪২৯ হিজরি মোতাবেক ৮/ ৮/ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد للَّه؛ نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه، فلا مضلَّ له، ومن يضلل؛ فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد: فقد نَذَرَ شيخنا -رحمه اللَّه تعالى- حياته في تحقيق مشروعه العظيم: "تقريب السنة بين يدي الأمة" حيث عمل ما يزيد على نصف قرن من الزمان ينقب في كتب السنة ويميز صحيحها من ضعيفها؛ نصحًا للأمة وذبًا عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

ومن أَجَلِّ الكتب التي حققها شيخنا وَمَيّز صحيحها من ضعيفها كتاب
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আল-ইমরান: ১০২]।

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষণকারী। (১)} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১)} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর: আমাদের শায়খ —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— তাঁর জীবনকে তাঁর মহান প্রকল্প ‘উম্মাহর নিকট সুন্নাহকে সহজবোধ্যকরণ’-এর কাজে উৎসর্গ করেছেন; যেখানে তিনি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সুন্নাহর গ্রন্থসমূহে অনুসন্ধান চালিয়েছেন এবং উম্মাহর প্রতি কল্যাণকামিতা ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষাস্বরূপ সেগুলোর সহিহ ও যয়িফ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করেছেন।

আমাদের শায়খ যে সকল মহান গ্রন্থ তাহকিক করেছেন এবং তার সহিহ ও যয়িফ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম একটি গ্রন্থ হলো:
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ৮)
"الجامع الصغير من حديث البشير النذير" للحافظ السيوطي والذي وصفه شيخنا بقوله: "فإن كتاب الجامع الصغير من حديث البشير النذير للحافظ السيوطي من أجمع كتب الحديث مادة، وأغزرها فائدة، وأقربها تناولًا، وأسهلها ترتيبًا، فلا غرابة أن سارت به الركبان، وتداولته أيدي العلماء والطلاب في كل زمان ومكان، على اختلاف درجاتهم وتباين مشاربهم وتباعد اختصاصاتهم، فلا يكاد يستغني عنه المحدث فضلًا عن الفقيه والخطيب بله الأديب؛ ولذلك تعددت طبعاته وكثر شراحه. . . " (1).

أقول: ولا يخفى على القارئ -إن شاء اللَّه- أن السيوطي رحمه الله قد رأى في جامعه نقصًا لذا عمل عليه ذيلًا سماه "الزيادة على الجامع الصغير" إلا أنه لم يتح له أن يضمها ويضع كل حديث في مكانه المناسب منه كما قال شيخنا.

فجاء من بعده الشيح يوسف النبهاني فضم الزيادة إلى "الجامع الصغير" ومزج أحدهما بالآخر ورتبهما ترتيبًا لا بأس به وسماه "الفتح الكبير في ضم الزيادة إلى الجامع الصغير".

قلت: وهو الذي قام شيخنا رحمه الله بتخريجه وتحقيقه وقسمه إلى قسمين الأول: "صحيح الجامع الصغير وزيادته" والثاني: "ضعيف الجامع الصغير وزيادته".

وقد قام بطبعه المكتب الإسلامي -جزاه اللَّه خيرًا- فانتفع به الناس، وصار قبلة للباحثين في هذا العصر، فلا يكاد يستغني عنه باحث، وبما أن الكتاب مرتب على حروف المعجم أحوج الباحثين أن يرتب على الأبواب؛ ليسهل الحصول على الحديث، فنهض لذلك الأخ عوني الشريف فرتبه على الأبواب الفقهية، إلا أنه جرد الكتاب من أحكام أحاديثه ومن مصادر تخريجه، وقامت بطبعه مكتبة المعارف الرياض، فجزاهم اللَّه خيرًا.

أقول: وقد مضى على طباعة "صحيح الجامع" سنوات مما أعوز إعادة

--------------------------------------------

(1) مقدمة صحيح الجامع الصغير (1/ 3).
হাফেয সুয়ূতী রচিত "আল-জামিউস সাগীর মিন হাদীসিল বাশিরিন নাযীর", যেটিকে আমাদের শায়খ এভাবে বর্ণনা করেছেন: "হাফেয সুয়ূতী রচিত ‘আল-জামিউস সাগীর মিন হাদীসিল বাশিরিন নাযীর’ গ্রন্থটি হাদীসের সংকলনগুলোর মধ্যে উপাদানগত দিক থেকে অন্যতম পূর্ণাঙ্গ, অত্যন্ত কল্যাণকর, সহজে বোধগম্য এবং বিন্যাসের দিক থেকে সহজতম। তাই এতে কোনো বিস্ময় নেই যে এটি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে এবং আলেম ও শিক্ষার্থীগণ তাদের স্তরের ভিন্নতা, মতাদর্শের বৈচিত্র্য এবং বিশেষায়িত জ্ঞানের পার্থক্য সত্ত্বেও সব সময় ও সব স্থানে এটি ব্যবহার করেছেন। একজন মুহাদ্দিস তো বটেই, এমনকি একজন ফকীহ, খতীব, এমনকি একজন সাহিত্যিকের পক্ষেও এটি এড়িয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। আর এ কারণেই এর বহু সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবং এর ব্যাখ্যাকারীর সংখ্যাও অনেক। . . ." (১)।

আমি বলছি: পাঠকদের কাছে এটি অজানা নয়—ইনশাআল্লাহ—যে সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জামি গ্রন্থে কিছু অসম্পূর্ণতা লক্ষ্য করেছিলেন, যার ফলে তিনি এর একটি পরিশিষ্ট তৈরি করেন এবং এর নাম দেন "আয-যিয়াদাতু আলাল জামিইস সাগীর"। তবে আমাদের শায়খ যেমনটি বলেছেন, প্রতিটি হাদীসকে এর উপযুক্ত স্থানে বিন্যস্ত করে মূল গ্রন্থের সাথে তা একত্রিত করার সুযোগ তিনি পাননি।

এরপর তাঁর পরবর্তীকালে শায়খ ইউসুফ আন-নাবহানী আগমন করেন এবং তিনি 'আয-যিয়াদা' অংশটিকে 'আল-জামিউস সাগীর'-এর সাথে যুক্ত করেন। তিনি এ দুটিকে একে অপরের সাথে সংমিশ্রণ করেন এবং বেশ সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করেন। তিনি এর নাম দেন "আল-ফাতহুল কাবীর ফী যম্মিয যিয়াদাতি ইলাল জামিইস সাগীর"।

আমি বলছি: এটিই সেই গ্রন্থ যেটির তাখরীজ ও তাহকীক আমাদের শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) সম্পন্ন করেছেন এবং একে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন—প্রথমটি: "সহীহ আল-জামিউস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু" এবং দ্বিতীয়টি: "যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু"।

আল-মাকতাবুল ইসলামী এটি প্রকাশ করেছে—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন—যার ফলে মানুষ উপকৃত হয়েছে এবং বর্তমান যুগে এটি গবেষকদের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কোনো গবেষকের পক্ষেই এটি বর্জন করা সম্ভব নয়। যেহেতু গ্রন্থটি বর্ণানুক্রমে সাজানো ছিল, তাই গবেষকদের জন্য এটিকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসের প্রয়োজন দেখা দেয়; যাতে সহজে হাদীস খুঁজে পাওয়া যায়। এই দায়িত্বটি ভাই আওনী আশ-শারীফ গ্রহণ করেন এবং তিনি এটিকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন। তবে তিনি গ্রন্থটি থেকে হাদীসের হুকুম এবং তাখরীজের উৎসসমূহ বাদ দিয়ে দেন। এটি রিয়াদের মাকতাবাতুল মা'আরিফ থেকে প্রকাশিত হয়েছে, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

আমি বলছি: "সহীহ আল-জামি" প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হয়েছে, যার ফলে এটি পুনরায় প্রকাশের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে...

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমাতু সহীহিল জামিইস সাগীর (১/৩)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ৯)
النظر فيه مرة أخرى؛ لما جبل عليه البشر من الخطأ والسهو، ولما يتصف به العلم من عدم الجمود، فكيف إذا كان صاحب هذا الكتاب هو محدث العصر وإمام أهل الحديث؟

أقول: وقد كنت وأنا أمضي معه السويعات في مكتبته رحمه الله أراه دائم التقليب في الكتاب ضامًا إليه الفوائد وآخر التعليقات، وكنت أنقل ما يُغَيّر من أحكام صحة وضعفًا على نسختي إلى أن مرض شيخنا مرضًا أدخله المشفى، ثم تتابع عليه المرض مما حال بينه وبين مشاريعه إلا إعادة النظر في كتابه هذا، فقد نوى رحمه الله أن يختصره ويعيد النظر فيه وكان يقول: هذا مشروع أملاه علي عجزي ومرضي، ولكن المفاجئة أن هذا المشروع الذي أملاه عجز الألباني لا يقوم به كثير من الباحثين الأصحاء الأقوياء؛ مما فتح على شيخنا فوائد وأوقفه على أوهام لم يكن قد انتبه لها مما أدى إلى تغير الاجتهاد في أحكام بعض الأحاديث، وما زالت بعض تلك التعليقات حبيست نسخته ولم يتسن لنا النظر فيها.

وإلى أن ييسر لها من يخرجها لترى ضوء الشمس أحببت أن أرتب صحيح الجامع على الأبواب ثم أنقل آخر ما وقفت عليه من تعديلات واجتهادات لشيخنا مع مراجعة المصادر الأصلية التي ينقل منها السيوطي وبيان ما وقع فيه من سبق قلم ونحو ذلك مما لا ينفك عنه البشر.

والله أسأل أن يبارك في هذا العمل وينفع به كما نفع بأصله إنه سميع مجيب الدعاء.

* * *
এতে পুনর্বার দৃষ্টিপাত করা হয়েছে; কারণ ভুল ও বিস্মৃতি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, এবং জ্ঞান কোনো স্থবির বিষয় নয়। আর যখন এই গ্রন্থের লেখক খোদ এই যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস এবং আহলে হাদীসের ইমাম হন, তখন তো বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

আমি বলছি: আমি যখন তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মাকতাবায় (পাঠাগারে) তাঁর সাথে কিছু সময় অতিবাহিত করতাম, তখন আমি তাঁকে সর্বদা কিতাবটি উল্টেপাল্টে দেখতে পেতাম; তিনি এতে বিভিন্ন ফায়দা ও সর্বশেষ টীকাগুলো যোগ করতেন। হাদীসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার হুকুমের ক্ষেত্রে তিনি যেসব পরিবর্তন আনতেন, আমি সেগুলো আমার কপিতে টুকে নিতাম। পরিশেষে আমাদের শাইখ এমন এক রোগে আক্রান্ত হলেন যা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। এরপর অসুস্থতা তাঁর ওপর এমনভাবে জেঁকে বসল যে, এই কিতাবটি পুনঃপর্যালোচনা করা ছাড়া তাঁর অন্যান্য সকল প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেল। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এটি সংক্ষেপ করার এবং পুনরায় এতে নজর দেওয়ার নিয়ত করেছিলেন। তিনি বলতেন, "এটি এমন এক প্রকল্প যা আমার অক্ষমতা ও অসুস্থতা আমাকে করতে বাধ্য করেছে।" তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আলবানীর অক্ষমতা ও অসুস্থতার সময়ে হাতে নেওয়া এই প্রকল্পের কাজ অনেক সুস্থ ও শক্তিশালী গবেষকও সম্পন্ন করতে সক্ষম নন। এই কাজটির মাধ্যমেই শাইখের সামনে অনেক নতুন তথ্যের দুয়ার খুলে গিয়েছিল এবং তিনি এমন কিছু ভুলের ব্যাপারে অবগত হয়েছিলেন যা আগে তাঁর নজরে আসেনি; ফলে কিছু হাদীসের হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর ইজতিহাদে পরিবর্তন এসেছে। সেই সব টীকাগুলোর কিছু অংশ এখনো তাঁর পাণ্ডুলিপিতেই রয়ে গেছে এবং সেগুলো দেখার সুযোগ আমাদের হয়ে ওঠেনি।

যতক্ষণ না আল্লাহ এই পাণ্ডুলিপিগুলো প্রকাশের কোনো ব্যবস্থা করছেন যাতে তা আলোর মুখ দেখতে পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি 'সহীহুল জামি' গ্রন্থটিকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। অতঃপর আমাদের শাইখের সর্বশেষ সংশোধন ও ইজতিহাদগুলো এতে স্থানান্তর করব, সেই সাথে ইমাম সুয়ূতী যে মূল উৎসগুলো থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোও যাচাই করব এবং অনিচ্ছাকৃত লিখনপ্রমাদ বা এজাতীয় মানবিক ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করব যা থেকে কোনো মানুষই মুক্ত নয়।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজে বরকত দান করেন এবং এর দ্বারা তদ্রূপ উপকার সাধন করেন যেমনটি তিনি এর মূল গ্রন্থের দ্বারা করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

* * *
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌عملي في الكتاب

‌‌1 - رتبته على الأبواب الفقهية؛ لينتفع به عامة الناس ويستفيد منه الواعظ والخطيب وقد مدح شيخنا الألباني رحمه الله مثل هذا الترتيب فقال في كتابه موارد الظمآن (1/ 6): "وإن مما لا شك فيه أن هذا الترتيب -دون شك- أنفع لعامة الناس، وأيسر للاستفادة والتفقه والمراجعة، ولذلك قيل: فقه البخاري في تراجم أبوابه في "صحيحه"، فلا جرم أنه سار على هذا الدرب كبار الأئمة والحفاظ؛ كأصحاب الكتب الستة، وابن خزيمة في "صحيحه" وابن الجارود في المنتقى وغيرهم. بل إني أقول: إنه هو الأوفق للشرع والمتجاوب مع أمره صلى الله عليه وسلم: يسروا، ولا تعسروا. . .، متفق عليه، وهو مخرج في الصحيحة (1151) ".

أقول: وقد استفدت في ترتيبه على الأبواب الفقهية استفادة كبيرة من تبويب الأخ زهير الشاويش له في مجيلد؛ حيث بوبه على أبواب الفقه، ذاكرًا رقم الحديث فقط من كتاب "صحيح الجامع الصغير"، ومن لا يشكر الناس لا يشكر اللَّه.

‌‌2 - حليته بتعقبات شيخنا على السيوطي سواء ما كان منها في صحيح الجامع أو في كتبه الأخرى.

‌‌3 - ألحقت به التعديلات التى كنت قد وقفت عليها بخط شيخنا رحمه الله من حذف لأحاديث كان قد صححها ثم بدا له بَعْدُ ضعفها وبالعكس، وكنت قد أودعتها كتابي: "محدث العصر الإمام الألباني كما عرفته"
গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি

১ - আমি একে ফিকহী পরিচ্ছেদ অনুসারে বিন্যস্ত করেছি; যাতে সাধারণ মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে এবং ওয়াজ ও খতিবগণ এটি থেকে ফায়দা নিতে পারেন। আমাদের শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) এ ধরণের বিন্যাসের প্রশংসা করেছেন। তিনি তাঁর 'মাওয়ারিদুজ জামআন' (১/৬) গ্রন্থে বলেছেন: "নিঃসন্দেহে এই বিন্যাস সাধারণ মানুষের জন্য অধিক উপকারী এবং এর থেকে উপকৃত হওয়া, ফিকহ অর্জন করা ও তথ্য খুঁজে বের করা অধিক সহজতর। এই কারণেই বলা হয়ে থাকে: ইমাম বুখারীর ফিকহ নিহিত রয়েছে তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের পরিচ্ছেদসমূহের শিরোনামে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বড় বড় ইমাম ও হাফেযগণ এই পথেই চলেছেন; যেমন কুতুবে সিত্তার সংকলকগণ, ইবনে খুযাইমাহ তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে, ইবনুল জারুদ 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে এবং আরও অনেকে। বরং আমি বলব: এটিই শরীয়তের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশের অনুগামী, যা হলো: তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না..., এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) এবং 'আস-সহীহা' (১১৫১) গ্রন্থে এর তাখরীজ করা হয়েছে।"

আমি বলছি: একে ফিকহী পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমি ভাই যুহাইর আশ-শাভীশের একটি খণ্ডে করা বিন্যাস থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি; যেখানে তিনি ফিকহের পরিচ্ছেদ অনুযায়ী একে সাজিয়েছেন এবং 'সহীহুল জামি আস-সাগীর' গ্রন্থের কেবল হাদীস নম্বর উল্লেখ করেছেন। আর যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।

২ - ইমাম সুয়ূতীর ওপর আমাদের শায়খের যে সব তদারকি বা সংশোধনী রয়েছে তা দিয়ে আমি একে সজ্জিত করেছি, চাই তা 'সহীহুল জামি' গ্রন্থে হোক বা তাঁর অন্য কোনো গ্রন্থে।

৩ - আমাদের শায়খ রাহিমাহুল্লাহ-এর হস্তলিপিতে আমি যে সব সংশোধন পেয়েছি তাও এতে যুক্ত করেছি। যেমন কোনো হাদীস তিনি আগে সহীহ বলেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর কাছে তা যঈফ (দুর্বল) প্রতিভাত হয়েছে অথবা এর বিপরীত—যা তিনি বর্জন করেছিলেন। আমি এই বিষয়গুলো আমার গ্রন্থ: 'মুহাদ্দিসুল আসর ইমাম আলবানী যেমনটি আমি তাঁকে দেখেছি'-তে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১২)
وكذا ما وقفت عليه من تعديلات أخرى بواسطة كتبه (1) رحمه الله.

وإليك هذه الأحاديث:

 

• "‌‌ ضعيف الجامع الصغير":

‌‌1 - " أتاني جبريل في خضر تعلق به الدر".

أوقفت شيخنا على إسناد له في المسند لأحمد (1/ 407) فقال شيخنا: إسناده حسن. انقله إلى صحيح الجامع.

‌‌2 - "اتقوا اللَّه واعدلوا بين أولادكم، كما تحبون أن يبروكم".

ينقل إلى صحيح الجامع وخرجه شيخنا في "الصحيحة" (6/ 833).

‌‌3 - "اتقوا اللَّه وصلوا الأرحام".

(عبد بن حميد وابن جرير في تفسيرهما) عن قتادة مرسلًا.

(حسن) فقط هذا الشطر من الحديث.

‌‌4 - "اجتنبوا الخمر؛ فإنها مفتاح كل شر". (حسن).

‌‌5 - "إذا أحب أحدكم عبدًا فليخبره، فإنه يجد مثل الذي يجد له". (صحيح).

‌‌6 - "إذا استهل الصبي صلي عليه وورث". (حسن).

‌‌7 - "إذا استيقظ أحدكم من نومه فرأى بللًا ولم ير أنه احتلم اغتسل، وإذا رأى أنه قد احتلم ولم يَر بللًا فلا غسل عليه".

قال شيخنا: ينقل إلى صحيح الجامع.

--------------------------------------------

(1) وقد استفدت من كتاب "تراجع العلامة الألباني" لأبي الحسن الشيخ ومن كتاب "500 حديث مما تراجع عنها المحدث" لعوده بن حسن، ومن لا يشكر الناس لا يشكر اللَّه.
অনুরূপভাবে, আমি তাঁর (১) রহিমাহুল্লাহর কিতাবসমূহের মাধ্যমে অন্যান্য যে সকল সংশোধনী সম্পর্কে অবগত হয়েছি।

এবং আপনার জন্য এখানে এই হাদিসগুলো উপস্থাপন করা হলো:

 

• "‌‌যয়িফ আল-জামি আস-সগির":

‌‌১ - "জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) সবুজ বর্ণের বস্ত্রে আবৃত হয়ে আমার নিকট এসেছিলেন যাতে মুক্তা জড়িত ছিল।"

আমি আমাদের শাইখকে আহমাদ ইবনে হাম্বলের মুসনাদ (১/৪০৭) গ্রন্থে থাকা এর একটি সনদ সম্পর্কে অবহিত করেছিলাম, তখন আমাদের শাইখ বললেন: এর সনদটি হাসান। একে সহিহ আল-জামি গ্রন্থে স্থানান্তর করো।

‌‌২ - "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ কায়েম করো, যেমনটি তোমরা পছন্দ করো যে তারা তোমাদের প্রতি সদাচরণ করুক।"

একে সহিহ আল-জামি গ্রন্থে স্থানান্তর করা হবে এবং আমাদের শাইখ একে "আস-সহিহাহ" (৬/৮৩৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৩ - "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো।"

(আব্দ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারির তাঁদের তাফসিরদ্বয়ে) কাতাদাহ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(হাসান) হাদিসের কেবল এই অংশটি।

‌‌৪ - "তোমরা মদ পরিহার করো; কেননা তা সকল মন্দের চাবিকাঠি।" (হাসান)।

‌‌৫ - "তোমাদের কেউ যখন কোনো বান্দাকে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয়। কারণ সেও অনুরূপ অনুভব করবে যা সে তার জন্য অনুভব করে।" (সহিহ)।

‌‌৬ - "যদি নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চিৎকার করে ওঠে, তবে তার জানাজা পড়া হবে এবং সে উত্তরাধিকার লাভ করবে।" (হাসান)।

‌‌৭ - "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে এবং আর্দ্রতা দেখতে পায় অথচ তার স্বপ্নদোষের কথা মনে নেই, সে যেন গোসল করে। আর যখন সে দেখে যে তার স্বপ্নদোষ হয়েছে কিন্তু কোনো আর্দ্রতা দেখতে না পায়, তবে তার ওপর গোসল ওয়াজিব নয়।"

আমাদের শাইখ বলেছেন: একে সহিহ আল-জামি গ্রন্থে স্থানান্তর করা হবে।

--------------------------------------------

(১) আমি আবুল হাসান আশ-শাইখ রচিত "তরাজু আল-আল্লামা আল-আলবানি" এবং আউদাহ বিন হাসান রচিত "৫০০ হাদিস মিম্মা তরাজাআ আনহা আল-মুহাদ্দিস" গ্রন্থদ্বয় থেকে উপকৃত হয়েছি। আর যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌8 - "إذا تغوط أحدكم فليمسح ثلاث مرات". (صحيح).

‌‌9 - "إذا سقى الرجل امرأته الماء أجر".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌10 - "إذا كان أحدكم في صلاة فإنه يناجي ربه؛ فلينظر أحدكم ما يقول في صلاته، ولا ترفعوا أصواتكم فتؤذوا المؤمنين". (صحيح).

‌‌11 - "إذا مررتم برياض الجنة فارتعوا، قالوا: وما رياض الجنة؟ قال: حلق الذكر". (حسن).

‌‌12 - "أفضل الصدقة إصلاح ذات البين". (حسن لغيره).

‌‌13 - علق شيخنا في الحاشية على حديث رقم (1219) -"أكثروا من قول لا حول ولا قوة إلا باللَّه فإنها تدفع تسعة وتسعين بابًا من الضر أدناها الهم" (طس) عن جابر-: "قلت: لم نره من حديث جابر ولا غيره بهذا التمام، وإنما رواه (طس) من حديث أبي هريرة دون قوله: "أكثروا من قول) راجع المصدر المذكور أعلاه".

قال شيخنا: يحذف هذا التعليق لأنه خطأ.

‌‌14 - "التمسوا ليلة القدر آخر ليلة من رمضان".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌15 - "اللهم انفعني بما علمتني وعلمني ما ينفعني وزدني علمًا، الحمد للَّه على كل حال، وأعوذ باللَّه من حال أهل النار".

قال شيخنا: صحيح دون قوله: الحمد. . . .
‌‌8 - "তোমাদের কেউ যখন মলত্যাগ করে, সে যেন তিনবার মুছে নেয়।" (সহীহ)।

‌‌9 - "যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে পানি পান করায়, তখন সে সওয়াব লাভ করে।"

সহীহুল জামি'-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌‌10 - "তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন সে মূলত তার রবের সাথে গোপনে কথা বলে; অতএব তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে সে তার সালাতে কী বলছে, আর তোমরা নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না যার ফলে মুমিনদের কষ্ট হয়।" (সহীহ)।

‌‌11 - "তোমরা যখন জান্নাতের বাগানসমূহ অতিক্রম করো, তখন সেখানে বিচরণ করো। তারা নিবেদন করল: জান্নাতের বাগানসমূহ কী? তিনি বললেন: জিকিরের মজলিসসমূহ।" (হাসান)।

‌‌12 - "উত্তম সদকা হলো বিবাদমানদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া।" (হাসান লি-গাইরিহি)।

‌‌13 - আমাদের শায়খ ১২১৯ নম্বর হাদিসের পাদটীকায় মন্তব্য করেছেন— "জাবির থেকে বর্ণিত: 'তোমরা অধিক পরিমাণে "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পাঠ করো, কেননা তা নিরানব্বইটি বিপদের দ্বার দূর করে দেয় যার মধ্যে নিম্নতম হলো দুশ্চিন্তা' (তাবরানি আওসাত)—: 'আমি বলছি: জাবির অথবা অন্য কারো হাদিসে আমরা এই পূর্ণাঙ্গ শব্দে এটি দেখিনি, বরং তাবরানি আওসাত এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন "তোমরা অধিক পরিমাণে পাঠ করো" অংশটি ব্যতীত। উল্লিখিত উৎসটি দেখুন'।"

আমাদের শায়খ বলেছেন: এই মন্তব্যটি মুছে ফেলা হবে কারণ এটি ভুল।

‌‌14 - "তোমরা রমজানের শেষ রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।"

সহীহুল জামি'-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌‌15 - "হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাকে উপকৃত করুন, আমাকে এমন জ্ঞান দান করুন যা আমার উপকারে আসবে এবং আমার ইলম বৃদ্ধি করে দিন। সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্য প্রশংসা, এবং আমি জাহান্নামবাসীদের অবস্থা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

আমাদের শায়খ বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা..." অংশটি ব্যতীত এটি সহীহ। . . . .
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌16 - "إنَّ اللَّه جعل هذه الأهلة مواقيت، فإذا رأيتموه فصوموا، وإذا رأيتموه فأفطروا، فإن غم عليكم فعدوا ثلاثين".

قال شيخنا: ينقل إلى الصحيح.

‌‌17 - "إنَّ اللَّه تعالى قسم بينكم أخلاقكم، كما قسم بينكم أرزاقكم، وإن اللَّه يعطي الدنيا من يحب ومن لا يحب، ولا يعطي الدين إلا من أحب".

هذا الشطر من الحديث صح موقوفًا على ابن مسعود وقال شيخنا: بأن له حكم المرفوع. وانظر "الصحيحة" (2714).

‌‌18 - "إنَّ المؤمن ينضي شيطانه كما ينضي أحدكم بعيره في السفر".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌19 - "إنَّ أهل الجنة إذا جامعوا نساءهم عادوا أبكارًا". (صحيح).

‌‌20 - "إنَّ صاحب المكس في النار". (صحيح).

‌‌21 - "إنَّ هذا يوم رخص لكم إذا أنتم رميتم الجمرة أن تحلوا من كل ما حرمتم منه إلا النساء، فإذا أمسيتم قبل أن تطوفوا بهذا البيت صرتم حرمًا كهيئتكم قبل أن ترموا الجمرة حتى تطوفوا به". (صحيح).

‌‌22 - "إنكم لا تسعون الناس بأموالكم، ولكن ليسعهم منكم بسط الوجه، وحسن الخلق". (حسن).

‌‌23 - "أوتي موسى الألواح، وأوتيت المثاني". (صحيح).

‌‌24 - "أيتلعب بكتاب اللَّه وأنا بين أظهركم؟ ".

صححه شيخنا في غاية المرام برقم (261).
১৬ - "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই নতুন চাঁদগুলোকে সময়ের মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন তা দেখবে, তখন রোজা রাখবে এবং যখন তা দেখবে, তখন রোজা ভঙ্গ করবে (ইফতার করবে)। যদি তোমাদের ওপর তা মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে তোমরা তিরিশ দিন পূর্ণ করো।"

আমাদের শায়খ বলেছেন: এটি 'সহিহ' এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

১৭ - "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের মধ্যে তোমাদের চরিত্র বণ্টন করেছেন, যেভাবে তিনি তোমাদের মধ্যে তোমাদের রিজিক বণ্টন করেছেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ দুনিয়া তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন না। কিন্তু তিনি দ্বীন কেবল তাকেই দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন।"

হাদিসের এই অংশটি ইবনে মাসউদের ওপর ‘মাওকুফ’ হিসেবে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত এবং আমাদের শায়খ বলেছেন: এটি ‘মারফু’ এর হুকুম রাখে। দেখুন: 'আস-সহিহাহ' (২৭১৪)।

১৮ - "নিশ্চয়ই মুমিন তার শয়তানকে দুর্বল ও কৃশ করে ফেলে, যেভাবে তোমাদের কেউ সফরে তার উটকে ক্লান্ত-দুর্বল করে ফেলে।"

এটি 'সহিহুল জামি' এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

১৯ - "নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা যখন তাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবে, তখন তারা পুনরায় কুমারী হয়ে যাবে।" (সহিহ)।

২০ - "নিশ্চয়ই অবৈধ কর আদায়কারী জাহান্নামে যাবে।" (সহিহ)।

২১ - "নিশ্চয়ই এটি এমন এক দিন যখন তোমাদের জন্য সহজ করে দেওয়া হয়েছে যে, তোমরা যখন জামরায় পাথর নিক্ষেপ করবে, তখন তোমরা স্ত্রীদের সান্নিধ্য ব্যতীত অন্য সব নিষিদ্ধ বিষয় থেকে হালাল হয়ে যাবে। অতঃপর যদি তোমরা এই ঘরে (কাবায়) তাওয়াফ করার আগেই সন্ধ্যা করে ফেলো, তবে তোমরা পুনরায় আগের মতোই ইহরাম অবস্থায় ফিরে যাবে যে অবস্থায় তোমরা পাথর নিক্ষেপের আগে ছিলে, যতক্ষণ না তোমরা তাওয়াফ করো।" (সহিহ)।

২২ - "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের সম্পদ দিয়ে সকল মানুষকে তুষ্ট করতে পারবে না, তবে তোমাদের পক্ষ থেকে প্রফুল্ল চেহারা এবং উত্তম চরিত্র যেন তাদের তুষ্ট করে।" (হাসান)।

২৩ - "মুসাকে ফলকসমূহ (তওরাত) দেওয়া হয়েছে, আর আমাকে মাসানি (কুরআন) দেওয়া হয়েছে।" (সহিহ)।

২৪ - "আল্লাহর কিতাব নিয়ে কি খেলা করা হবে অথচ আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান?"

আমাদের শায়খ ‘গয়াতুল মারাম’ গ্রন্থের ২৬১ নং ক্রমিকে একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌25 - "أيما رجل تدين دينًا وهو مجمع أن لا يوافيه إياه لقي اللَّه سارقًا".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌26 - "ثلاثة لا يدخلون الجنة: مدمن الخمر، وقاطع الرحم، ومصدق بالسحر، ومن مات وهو مدمن للخمر سقاه اللَّه من نهر الغوطة؛ نهر يجري من فروج المومسات، يؤذي أهل النار ريح فروجهن".

(صحيح لغيره).

‌‌27 - "جنة الفردوس هي ربوة الجنة العليا التي هي أوسطها وأحسنها".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌28 - "حضر موت خير من بني الحارث". (صحيح).

‌‌29 - "الحجر الأسود من الجنة، وكان أشد بياضًا من الثلج؛ حتى سودته خطايا أهل الشرك". (حسن).

‌‌30 - "خصال ست؛ ما من مسلم يموت في واحدة منهن إلا كان ضامنًا على اللَّه أن يدخله الجنة: رجل خرج مجاهدًا فإن مات في وجهه كان ضامنًا على اللَّه، ورجل تبع جنازة فإن مات في وجهه كان ضامنًا على اللَّه، ورجل توضأ فأحسن الوضوء ثم خرج إلى المسجد لصلاة؛ فإن مات في وجهه كان ضامنًا على اللَّه، ورجل في بيته لا يغتاب المسلمين ولا يجر إليه سخطًا ولا تبعة؛ فإن مات في وجهه كان ضامنًا على اللَّه".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌31 - "دب إليكم داء الأمم قبلكم: الحسد والبغضاء، هي الحالقة حالقة الدين، لا حالقة الشعر، والذي نفس محمد بيده لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا، ولا تؤمنوا حتى تحابوا، أفلا أنبئكم بشيء إذا فعلتموه تحاببتم؛ أفشوا السلام بينكم".

ينقل إلى صحيح الجامع.
২৫ - "যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করে আর মনে এই সংকল্প রাখে যে সে তা পরিশোধ করবে না, সে আল্লাহর সাথে চোর হিসেবে সাক্ষাৎ করবে।"

সহীহুল জামি'-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌২৬ - "তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না: মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং জাদুকে সত্য বলে বিশ্বাসকারী। আর যে ব্যক্তি মদ্যপানে অভ্যস্ত অবস্থায় মারা যাবে, আল্লাহ তাকে ‘গুতাহ’ নামক নদী থেকে পান করাবেন; এটি এমন এক নদী যা ব্যভিচারিণীদের লজ্জাস্থান থেকে প্রবাহিত হয়, তাদের লজ্জাস্থানের দুর্গন্ধে জাহান্নামবাসীরা কষ্ট পাবে।"

(অন্যান্য সনদের কারণে সহীহ)।

‌২৭ - "জান্নাতুল ফিরদাউস হলো জান্নাতের উপরিভাগের উঁচু ভূমি, যা এর মধ্যবর্তী ও সর্বোত্তম অংশ।"

সহীহুল জামি'-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌২৮ - "হাদরামাউত বনী হারিস অপেক্ষা উত্তম।" (সহীহ)।

‌২৯ - "হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে আগত, এটি বরফ অপেক্ষা অধিক সাদা ছিল; অবশেষে মুশরিকদের পাপরাশি একে কালো করে দিয়েছে।" (হাসান)।

‌৩০ - "ছয়টি বৈশিষ্ট্য; যে কোনো মুসলিম এগুলোর কোনো একটি অবস্থায় মারা যাবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের জিম্মাদার হবেন: সেই ব্যক্তি যে মুজাহিদ হিসেবে বের হয়েছে, যদি সে তার এই পথে মারা যায় তবে সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে; সেই ব্যক্তি যে জানাযার অনুসরণ করেছে, যদি সে তার এই পথে মারা যায় তবে সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে; সেই ব্যক্তি যে ওযু করল এবং উত্তমরূপে ওযু সম্পন্ন করল, অতঃপর সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে বের হলো; যদি সে তার এই পথে মারা যায় তবে সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে; এবং সেই ব্যক্তি যে নিজ গৃহে অবস্থান করে, মুসলিমদের গীবত করে না এবং নিজের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা দায় টেনে আনে না; যদি সে তার এই পথে মারা যায় তবে সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে।"

সহীহুল জামি'-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌৩১ - "তোমাদের মাঝে তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ব্যাধি সঞ্চারিত হয়েছে: তা হলো হিংসা ও বিদ্বেষ। এটি মুণ্ডনকারী; এটি দ্বীনকে মুণ্ডন করে দেয়, চুল মুণ্ডন করে না। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমান আনবে, আর তোমরা প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের সংবাদ দেব না যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।"

সহীহুল জামি'-তে স্থানান্তরিত হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌32 - "سبحي اللَّه مائة تسبيحة؛ فإنها تعدل لك مائة رقبة من ولد إسماعيل، واحمدي اللَّه مائة تحميدة؛ فإنها تعدل لك مائة فرس مسرجة ملجمة تحملين عليها في سبيل اللَّه، وكبري اللَّه مائة تكبيرة؛ فإنها تعدل لك مائة بدنة مقلدة متقبلة، وهللي اللَّه مائة تهليلة؛ فإنها تملأ ما بين السماء والأرض، ولا يرفع يومئذٍ لأحد عمل أفضل منها إلا أن يأتي بمثل ما أتيت".

(حسن).

‌‌33 - "ستكون هجرة بعد هجرة، فخيار أهل الأرض ألزمهم مهاجر إبراهيم، ويبقى في الأرض شرار أهلها، تلفظهم أرضوهم، وتقذرهم نفس اللَّه، وتحشرهم النار مع القردة والخنازير".

(حسن).

‌‌34 - "السيوف مفاتيح الجنة". (صحيح).

‌‌35 - "صنفان من أمتي لا يردان علي الحوض، ولا يدخلون الجنة: القدرية والمرجئة". (حسن).

‌‌36 - "على أهل كل بيت أن يذبحوا شاة في كل رجب وفي كل أضحى شاة".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌37 - "عليكم بالأبكار؛ فإنهن أنتق أرحامًا، وأعذب أفواهًا، وأقل خبًا، وأرضى باليسير".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌38 - "غنيمة مجالس الذكر الجنة". (حسن).
৩২ - "আপনি আল্লাহর একশত বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করুন; কারণ তা আপনার জন্য ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরের একশত দাস মুক্ত করার সমতুল্য। আর আল্লাহর একশত বার তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করুন; কারণ তা আপনার জন্য আল্লাহর পথে যুদ্ধের সরঞ্জামসহ (জিন ও লাগামযুক্ত) একশত ঘোড়ার উপর আরোহণ করার সমতুল্য। আর আল্লাহর একশত বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) পাঠ করুন; কারণ তা আপনার জন্য (কুরবানির চিহ্নস্বরূপ) গলায় মালা পরানো এবং আল্লাহর নিকট কবুল হওয়া একশত উটের সমতুল্য। আর আল্লাহর একশত বার তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করুন; কারণ তা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দেয়। আর সেদিন কারও আমল এর থেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে আল্লাহর কাছে উন্নীত করা হবে না, যদি না সে আপনার ন্যায় আমল করে।"

(হাসান)।

৩৩ - "হিজরতের পর হিজরত হতে থাকবে। এমতাবস্থায় পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষ হবে তারা, যারা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর হিজরতস্থলকে (শাম দেশকে) আঁকড়ে ধরবে। আর জমিনে কেবল নিকৃষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে। তাদের ভূমি তাদের উগড়ে দিবে এবং আল্লাহর সত্তা তাদের ঘৃণা করবেন। আর আগুন তাদের বানর ও শূকরদের সাথে একত্রিত করবে।"

(হাসান)।

৩৪ - "তলোয়ারসমূহ হলো জান্নাতের চাবিকাঠি।" (সহীহ)।

৩৫ - "আমার উম্মতের মধ্যে দুই শ্রেণীর লোক আমার হাউজে আসতে পারবে না এবং জান্নাতেও প্রবেশ করবে না: কাদরিয়া এবং মুরজিয়া।" (হাসান)।

৩৬ - "প্রত্যেক পরিবারের উপর দায়িত্ব হলো প্রতি রজব মাসে একটি ছাগল এবং প্রতি ঈদুল আযহায় একটি ছাগল জবাই করা।"

সহীহুল জামে-তে স্থানান্তরিত হবে।

৩৭ - "তোমরা কুমারী নারীদের বিবাহ করো; কারণ তারা অধিক সন্তান প্রসবকারিনী, তাদের মুখ অধিক মিষ্ট, তাদের প্রতারণা বা চাতুর্য কম এবং তারা অল্প প্রাপ্তিতে অধিক সন্তুষ্ট থাকে।"

সহীহুল জামে-তে স্থানান্তরিত হবে।

৩৮ - "জিকিরের মজলিসের গনিমত বা প্রতিদান হলো জান্নাত।" (হাসান)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌39 - "قد عفوت عن الخيل والرقيق، فهاتوا صدقة الرقة، من كل أربعين درهمًا درهم، وليس في تسعين ومائة شيء، فإذا بلغت مائتين ففيها خمسة دراهم، فما زاد فعلى حساب ذلك.

وفي الغنم في كل أربعين شاةً شاةٌ، فإن لم يكن إلا تسع وثلاثون فليس عليك فيها شيء.

وفي البقر في كل ثلاثين تبيع، وفي الأربعين مسنة، وليس في العوامل شيء.

وفي خمس وعشرين من الإبل خمسة من الغنم؛ فإذا زادت واحدة ففيها ابنة مخاض، فإن لم تكن ابنة مخاض؛ فابن لبون ذكر، إلى خمس وثلاثين، فإذا زادت واحدة ففيها بنت لبون إلى خمس وأربعين، فإذا زادت واحدة ففيها حقة طروقة الجمل إلى ستين، فإذا كانت واحدة وتسعين ففيها حقتان طروقتا الجمل إلى عشرين ومئة، فإن كانت الإبل أكثر من ذلك ففي كل خمسين حقة ولا يفرق بين مجتمع ولا يجمع بين متفرق خشية الصدقة، ولا يؤخذ في الصدقة هرمة، ولا ذات عوار، ولا تيس إلا أن يشاء المصدق.

وفي النبات ما سقته الأنهار أو سقت السماء العشر، وما سقي بالغرب ففيه نصف العشر".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌40 - "كبري اللَّه مائة مرة، واحمدي اللَّه مائة مرة، وسبحي اللَّه مائة مرة؛ خير من مائة فرس ملجم في سبيل اللَّه، وخير من مائة بدنة، وخير مائة رقبة".

(حسن).

‌‌41 - "كان إذا دخل المسجد صلَّى على محمد وسلم وقال:. . . وافتح لي أبواب رحمتك، وإذا خرج صلَّى على محمد وسلم وقال:. . . وافتح لي أبواب فضلك".

ينقل إلى صحيح الجامع.
৩৯ - "আমি ঘোড়া ও দাস-দাসীদের যাকাত মাফ করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা রৌপ্যমুদ্রার যাকাত প্রদান করো; প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম। একশ নব্বই দিরহামে কোনো যাকাত নেই। যখন তা দুইশ দিরহামে পৌঁছাবে, তখন তাতে পাঁচ দিরহাম যাকাত ওয়াজিব হবে। এর অতিরিক্ত যা হবে, তা এই হিসাব অনুযায়ীই ধার্য হবে।

আর ছাগলের ক্ষেত্রে প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল যাকাত। যদি তা মাত্র ঊনচল্লিশটি হয়, তবে তাতে তোমার ওপর কোনো যাকাত নেই।

আর গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ত্রিশটিতে একটি এক বছর বয়সী বাছুর এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি দুই বছর বয়সী গাভী যাকাত। আর পরিশ্রমী পশুর (যা চাষাবাদে বা পানি টানার কাজে ব্যবহৃত হয়) ওপর কোনো যাকাত নেই।

আর পঁচিশটি উটের ক্ষেত্রে পাঁচটি ছাগল যাকাত; যখন তা একটি বৃদ্ধি পাবে (অর্থাৎ ছাব্বিশটি হবে), তখন তাতে একটি এক বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যদি এক বছর বয়সী মাদি উট না থাকে, তবে দুই বছর বয়সী একটি পুরুষ উট দিতে হবে—পঁয়ত্রিশটি পর্যন্ত। যখন একটি বৃদ্ধি পাবে (অর্থাৎ ছত্রিশটি হবে), তখন পঁয়তাল্লিশটি পর্যন্ত একটি দুই বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যখন একটি বৃদ্ধি পাবে (অর্থাৎ ছেচল্লিশটি হবে), তখন ষাটটি পর্যন্ত একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে যা গর্ভধারণের উপযোগী হয়েছে। যখন একানব্বইটি হবে, তখন একশ বিশটি পর্যন্ত দুইটি তিন বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে যা গর্ভধারণের উপযোগী হয়েছে। উটের সংখ্যা এর বেশি হলে প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট দিতে হবে। যাকাতের ভয়ে (যাকাত কমানো বা ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে) একত্রিত পশু পৃথক করা যাবে না এবং পৃথক পশু একত্রিত করা যাবে না। যাকাত হিসেবে অতি বৃদ্ধ পশু, ত্রুটিযুক্ত পশু এবং প্রজননের জন্য ব্যবহৃত পাঁঠা গ্রহণ করা হবে না, তবে যদি যাকাত প্রদানকারী স্বেচ্ছায় তা দিতে চায় (তবে ভিন্ন কথা)।

আর ফসলের ক্ষেত্রে যা নদ-নদী বা বৃষ্টির পানিতে সিক্ত হয় তাতে ওশর (দশভাগের এক ভাগ) এবং যা বালতি বা সেচের মাধ্যমে সিক্ত হয় তাতে অর্ধেক ওশর (বিশভাগের এক ভাগ) যাকাত।"

সহীহ আল-জামি‘-তে স্থানান্তর করা হবে।

‌৪০ - "তুমি একশ বার আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা (তাকবীর) করো, একশ বার আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) করো এবং একশ বার আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা (তাসবীহ) করো; এটি আল্লাহর পথে লাগামযুক্ত একশ ঘোড়ার চেয়ে উত্তম, একশটি কোরবানির উটের চেয়ে উত্তম এবং একশজন দাস মুক্ত করার চেয়েও উত্তম।"

(হাসান)।

‌৪১ - "তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করতেন এবং বলতেন: . . . আর আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বারসমূহ খুলে দিন। আর যখন বের হতেন, তখন মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করতেন এবং বলতেন: . . . আর আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দ্বারসমূহ খুলে দিন।"

সহীহ আল-জামি‘-তে স্থানান্তর করা হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌42 - "كان إذا دخل المسجد قال:. . . اللَّهم صل على محمد وأزواج محمد".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌43 - "كان إذا رأى الهلال قال: اللهم أهله علينا بالأمن والإيمان، والسلامة والإسلام،. . . ربنا وربك اللَّه".

(حسن بهذا اللفظ).

‌‌44 - "كان يصوم تسع ذي الحجة، ويوم عاشوراء، وثلاثة أيام من كل شهر؛ أول اثنين من الشهر، والخميس، والاثنين من الجمعة الأخرى". (حسن).

‌‌45 - "لتتركن المدينة على خير ما كانت، تأكلها الطير والسباع".

(حسن) ينقل إلى "الصحيحة".

‌‌46 - "لما انتهينا إلى بيت المقدس ليلة أسري بي قال جبريل بأصبعه، فخرق بها الحجر، رشد به البراق".

ينقل إلى الصحيح.

‌‌47 - "لولا أن أشق على أمتي لفرضت عليهم السواك عند كل صلاة، كما فرضت عليهم الوضوء".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌48 - "لينتهين رجال عن ترك الجماعة أو لأحرقن بيوتهم". (حسن).

‌‌49 - "ما أطيبك وأطيب ريحك! ما أعظمك وأعظم حرمتك! (يعني الكعبة) والذي نفس محمد بيده لحرمة المؤمن أعظم عند اللَّه حرمة منك، ماله ودمه وأن يظن به إلا خيرًا". (حسن).
‌৪২ - "তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: . . . হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের স্ত্রীদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন।"

সহীহ আল-জামি-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌‌৪৩ - "তিনি যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন: হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এই চাঁদকে নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে উদিত করুন। . . . আমাদের রব এবং তোমার রব আল্লাহ।"

(এই শব্দে হাসান)।

‌‌৪৪ - "তিনি যিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন, আশুরার দিন এবং প্রতি মাসের তিন দিন রোজা রাখতেন; মাসের প্রথম সোমবার, বৃহস্পতিবার এবং পরবর্তী সপ্তাহের সোমবার।" (হাসান)।

‌‌৪৫ - "অবশ্যই তোমরা মদিনাকে তার সর্বোত্তম অবস্থায় ছেড়ে চলে যাবে, যখন পাখি এবং হিংস্র পশুরা তা ভক্ষণ করবে।"

(হাসান) 'আস-সহীহা'-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌‌৪৬ - "ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের রাতে যখন আমরা বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছলাম, তখন জিবরাঈল তাঁর আঙুল দিয়ে পাথরটিতে ছিদ্র করলেন এবং সেখানে বুরাক বাঁধলেন।"

সহীহ-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌‌৪৭ - "আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করা তাদের ওপর ফরজ করে দিতাম, যেভাবে ওজু তাদের ওপর ফরজ করেছি।"

সহীহ আল-জামি-তে স্থানান্তরিত হবে।

‌‌৪৮ - "লোকেরা যেন অবশ্যই জামাত ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকে, অন্যথায় আমি অবশ্যই তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেব।" (হাসান)।

‌‌৪৯ - "তুমি কতই না চমৎকার এবং তোমার সুগন্ধি কতই না উত্তম! তুমি কতই না মহান এবং তোমার মর্যাদা কতই না বেশি! (অর্থাৎ কাবা)। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ, আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের মর্যাদা তোমার মর্যাদার চেয়েও বেশি—তার সম্পদ, তার রক্ত এবং তার প্রতি কেবল সুধারণা পোষণ করার ক্ষেত্রে।" (হাসান)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌50 - "ما من أحد يدان دينًا يعلم اللَّه منه أنه يريد قضاءه إلا أداه اللَّه عنه في الدنيا".

(ضعيف) من أجل (في الدنيا) وإلا سائره له شواهد.

‌‌51 - "ما من رجل يدرك له ابنتان فيحسن إليهما ما صحبتاه أو صحبهما إلا أدخلتاه الجنة". (حسن).

‌‌52 - "ما من مؤمن يعزي أخاه بمصيبة إلا كساه اللَّه من حلل الكرامة يوم القيامة". (حسن).

‌‌53 - "ما من مسلم تدرك له ابنتان فيحسن إليهما ما صحبتاه إلا أدخلتاه الجنة". (حسن).

‌‌54 - "مثلي ومثل الساعة كفرسي رهان، مثلي ومثل الساعة كمثل رجل بعثه قوم طليعة، فلما خشي أن يسبق ألاح بثوبيه: أتيتم أتيتم، أنا ذاك، أنا ذاك". (صحيح).

‌‌55 - "مروا بالمعروف، وانهوا عن المنكر قبل أن تدعوا فلا يستجاب لكم". (حسن).

‌‌56 - "من أحيا سنة من سنتي، فعمل بها النَّاس كان له مثل أجر من عمل بها، لا ينقص من أجورهم شيئًا، ومن ابتدع بدعة. فعمل بها كان عليه مثل أوزار من عمل بها لا ينقص من أوزارهم شيئًا".

ينقل إلى صحيح الجامع بهذا اللفظ (لأنه وقعت فيه روايات منكرة مثل "بدعة ضلالة، ولا ترض اللَّه ورسوله".
৫০ - "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে ঋণ গ্রহণ করে এবং আল্লাহ তার সম্পর্কে জানেন যে সে তা পরিশোধ করতে চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার পক্ষ থেকে তা দুনিয়াতে আদায় করে দেবেন।"

(দুর্বল) "দুনিয়াতে" শব্দটির কারণে, অন্যথায় এর বাকি অংশের জন্য অন্যান্য সাক্ষ্য বিদ্যমান রয়েছে।

‌৫১ - "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার দুই কন্যাসন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক হয় এবং সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে যতক্ষণ তারা তার সাথে থাকে অথবা সে তাদের সাথে থাকে, তবে তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।" (হাসান)।

‌৫২ - "এমন কোনো মুমিন নেই যে তার ভাইকে কোনো বিপদে সান্ত্বনা প্রদান করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সম্মানের পোশাক পরিধান করাবেন।" (হাসান)।

‌৫৩ - "এমন কোনো মুসলিম নেই যার দুই কন্যাসন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক হয় এবং সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে যতক্ষণ তারা তার সাথে থাকে, তবে তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।" (হাসান)।

‌৫৪ - "আমার এবং কিয়ামতের দৃষ্টান্ত হলো প্রতিযোগিতার দুটি ঘোড়ার মতো। আমার এবং কিয়ামতের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো যাকে কোনো সম্প্রদায় অগ্রগামী পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেছে; যখন সে ভয় পেল যে (শত্রুরা) তাকে ছাড়িয়ে যাবে, তখন সে নিজের পরিধেয় বস্ত্র নেড়ে সংকেত দিতে লাগল: তোমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ হতে যাচ্ছে, তোমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ হতে যাচ্ছে; আমিই সেই সতর্ককারী, আমিই সেই সতর্ককারী।" (সহীহ)।

‌৫৫ - "তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো, অন্যথায় তোমরা দোয়া করবে কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে না।" (হাসান)।

‌৫৬ - "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতসমূহের মধ্য হতে কোনো একটি সুন্নাতকে জিন্দা করল এবং মানুষ সেই অনুযায়ী আমল করল, তবে সে ওই আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে সামান্যতমও কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো বিদআত উদ্ভাবন করল এবং মানুষ সেই অনুযায়ী আমল করল, তবে তার ওপর ওই আমলকারীর সমপরিমাণ পাপের বোঝা চাপবে, এতে তাদের পাপের বোঝা থেকে সামান্যতমও কমানো হবে না।"

এই শব্দবিন্যাসেই এটি 'সহীহুল জামি'তে স্থানান্তরিত হবে (কেননা এতে কিছু মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা প্রবেশ করেছে যেমন "ভ্রষ্ট বিদআত, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে না")।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌57 - "من أدرك الأذان في المسجد ثم خرج لم يخرج لحاجته وهو لا يريد الرجعة فهو منافق". (حسن).

‌‌58 - "من أراد الحجامة فليتحر سبعة عشر، وتسعة عشر، وإحدى وعشرين، لا يتبيغ بأحدكم الدم فيقتله".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌59 - "من أصاب حدًا فعجل عقوبته في الدنيا فاللَّه أعدل من أن يثني على عبده العقوبة في الآخرة. . . ".

قال شيخنا: ما تحته خطأ له شواهد (قلت: وهو ما نقلته لك من الحديث).

‌‌60 - "من أعان ظالمًا ليدحض بباطله حقًا، فقد برئت منه ذمة اللَّه وذمة رسوله".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌61 - "من تخطى رقاب الناس يوم الجمعة اتخذ جسرًا إلى جهنم". (حسن).

‌‌62 - "من تداوى بحرام لم يجعل اللَّه فيه شفاء". (حسن).

‌‌63 - "من ثابر على اثنتي عشرة ركعة من السنة بنى اللَّه له بيتًا في الجنة: أربع ركعات قبل الظهر، وركعتين بعدها، وركعتين بعد المغرب، وركعتين بعد العشاء، وركعتين قبل الفجر".

(حسن).

‌‌64 - "من حمى مؤمنًا من منافق يغتابه بعث اللَّه ملكًا يحمي لحمه يوم القيامة من نار جهنم، ومن رمى مسلمًا بشيء يريد شينه به حبسه اللَّه على جسر جهنم حتى يخرج مما قال".

(حسن).
৫৭ - "যে ব্যক্তি মসজিদে আযান পেল, অতঃপর প্রয়োজন ব্যতীত এবং ফিরে আসার সংকল্প ছাড়াই বেরিয়ে গেল, সে মুনাফিক।" (হাসান)।

৫৮ - "যে ব্যক্তি হিজামা (রক্তমোক্ষণ) করতে চায়, সে যেন (চন্দ্র মাসের) সতেরো, উনিশ এবং একুশ তারিখ অনুসন্ধান করে; তোমাদের কারো রক্ত যেন উথলে উঠে তাকে মেরে না ফেলে।"

সহীহুল জামে-তে স্থানান্তর করা হবে।

৫৯ - "যে ব্যক্তি কোনো দণ্ডযোগ্য অপরাধ করল এবং দুনিয়াতেই তার শাস্তি ত্বরান্বিত করা হলো, তবে আল্লাহ এর চেয়েও অধিক ন্যায়পরায়ণ যে, তিনি পরকালে তাঁর বান্দার ওপর শাস্তির পুনরাবৃত্তি করবেন..."

আমাদের শায়খ বলেছেন: যার নিচে দাগ দেওয়া হয়েছে তার সপক্ষে সমর্থক বর্ণনা রয়েছে (আমি বলছি: আর তা হলো হাদীসের সেই অংশ যা আমি আপনার নিকট উদ্ধৃত করেছি)।

৬০ - "যে ব্যক্তি কোনো যালেমকে তার বাতিলের মাধ্যমে সত্যকে নস্যাৎ করার জন্য সাহায্য করল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি এবং তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি ছিন্ন হয়ে গেল।"

সহীহুল জামে-তে স্থানান্তর করা হবে।

৬১ - "যে ব্যক্তি জুমার দিন মানুষের ঘাড় টপকে সামনে গেল, সে জাহান্নামের দিকে একটি সেতু নির্মাণ করল।" (হাসান)।

৬২ - "যে ব্যক্তি হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করল, আল্লাহ তাতে কোনো আরোগ্য রাখেননি।" (হাসান)।

৬৩ - "যে ব্যক্তি নিয়মিত বারো রাকাত সুন্নাত নামায আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন: যোহরের পূর্বে চার রাকাত, যোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের পূর্বে দুই রাকাত।"

(হাসান)।

৬৪ - "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে এমন মুনাফিকের হাত থেকে রক্ষা করল যে তার গীবত করছিল, আল্লাহ কিয়ামতের দিন একজন ফেরেশতা পাঠাবেন যিনি জাহান্নামের আগুন থেকে তার গোশত রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে তার ওপর কোনো অপবাদ আরোপ করল, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের পুলের ওপর আটকে রাখবেন যতক্ষণ না সে যা বলেছে তার দায় থেকে মুক্ত হয়।"

(হাসান)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌65 - "من رأى عورة فسترها كان كم أحيا موءودة من قبرها".

(حسن إلا لفظة: من قبرها).

‌‌66 - "من رابط ليلة في سبيل اللَّه كانت له كألف ليلة صيامها وقيامها". (حسن).

‌‌67 - "من ستر على مؤمن عورة فكأنما أحيا ميتًا".

(صح بلفظ موءودة).

‌‌68 - "من ستر عورة أخيه المسلم، ستر اللَّه عورته يوم القيامة، ومن كشف عورة أخيه المسلم كشف اللَّه عورته حتى يفضحه بها في بيته". (حسن).

‌‌69 - "من صام رمضان، وصلَّى الصلوات، وحج البيت، كان حقًا على اللَّه أن يغفر له، إن هاجر في سبيل اللَّه أو مكث بأرضه التي ولد فيها". (حسن).

‌‌70 - "من ضم يتيمًا له أو لغيره حتى يغنيه اللَّه عنه وجبت له الجنة". (حسن).

‌‌71 - ". . . ومن تعلق شيئًا وكل إليه".

(حسن) قلت: هذه اللفظة الواقعة في حديث: "من عقد عقدة".

‌‌72 - "من قال لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، يحيي ويميت، وهو على كل شيء قدير، عشر مرات، على أثر المغرب بعث له مسلحة يحفظونه من الشياطين حتى يصبح، وكتب له بها عشر حسنات موجبات، ومحي عنه عشر سيئات موبقات، وكان له بعدل عشر رقبات مؤمنات".

(حسن).

‌‌73 - "المختلعات. . . هن المنافقات". (صح دون لفظة المتبرجات).
‌৬৫ - "যে ব্যক্তি কোনো গোপন দোষ দেখল এবং তা গোপন রাখল, সে যেন কোনো জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে তার কবর থেকে পুনর্জীবিত করল।"

(হাসান, তবে 'তার কবর থেকে' শব্দটুকু ব্যতীত)।

‌‌৬৬ - "যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে এক রাত পাহারায় নিয়োজিত থাকল, তা তার জন্য এক হাজার রাতের রোজা ও কিয়ামের সমান হবে।" (হাসান)।

‌‌৬৭ - "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের গোপন দোষ গোপন রাখল, সে যেন কোনো মৃতকে জীবিত করল।"

(জীবন্ত প্রোথিত করার শব্দে সহিহ)।

‌‌৬৮ - "যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার গোপন দোষ গোপন রাখবেন। আর যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ প্রকাশ করে দেবে, আল্লাহ তার গোপন দোষ প্রকাশ করে দেবেন, এমনকি তাকে তার নিজ গৃহেই লাঞ্ছিত করবেন।" (হাসান)।

‌‌৬৯ - "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, নামাজ আদায় করল এবং বায়তুল্লাহর হজ করল, আল্লাহর ওপর এটি হক হয়ে যায় যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন, চাই সে আল্লাহর পথে হিজরত করুক অথবা তার জন্মভূমিতেই অবস্থান করুক।" (হাসান)।

‌‌৭০ - "যে ব্যক্তি নিজের অথবা অন্যের কোনো এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করল যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে স্বাবলম্বী করেন, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল।" (হাসান)।

‌‌৭১ - ". . . আর যে ব্যক্তি কোনো কিছু ঝুলাল, তাকে সে জিনিসের প্রতিই সোপর্দ করা হলো।"

(হাসান) আমি বলছি: এই শব্দটি 'যে ব্যক্তি গিট দিল' হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

‌‌৭২ - "যে ব্যক্তি মাগরিবের পর দশবার বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান', তবে আল্লাহ তার জন্য একদল প্রহরী নিযুক্ত করবেন যারা তাকে সকাল পর্যন্ত শয়তানদের থেকে রক্ষা করবে, তার জন্য দশটি পুণ্য লেখা হবে, দশটি ধ্বংসাত্মক পাপ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং এটি দশজন মুমিন দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে।"

(হাসান)।

‌‌৭৩ - "খুলাকারী নারীরাই . . . মুনাফিক নারী।" (মুতা্বাররিজাত শব্দ ব্যতীত সহিহ)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌74 - "المسلم آخر المسلم يسعهما الماء والشجر ويتعاونان على الفتان". (حسن).

‌‌75 - "نهى أن يبال بأبواب المساجد".

ينقل إلى صحيح الجامع.

‌‌76 - "نهى أن يبال في قبلة المسجد". (حسن).

‌‌77 - "لا تبيعوا القينات، ولا تشتروهن، ولا تعلموهن، ولا خير في تجارة فيهن، وثمنهن حرام، في مثل هذا أنزلت هذه الآية: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} [لقمان: 6] "

(حسن).

قلت: كذا نقلته من نسخة شيخنا من صحيح الجامع وبالتالي حكم عليه شيخنا في "صحيح سنن الترمذي" بالحسن ثم بدا لشيخنا الرجوع إلى الحكم الأول وتضعيف الحديث لذا يحذف من "صحيح سنن الترمذي".

‌‌78 - "لا تدخل الملائكة بيتًا فيه جرس". (حسن).

‌‌79 - "لا تدخل الملائكة بيتًا فيه جرس ولا تصحب ركبًا فيه جرس". (حسن).

‌‌80 - "لا تشددوا على أنفسكم، فيشدد عليكم فإن قومًا شددوا على أنفسهم فشدد اللَّه عليهم، فتلك بقاياهم في الصوامع والديارات. . . ".

(إلي هنا ينقل إلى الصحيح).

‌‌81 - "لا تعلموا العلم لتباهوا به العلماء، أو لتماروا به السفهاء، أو لتصرفوا به وجوه الناس إليكم، فمن فعل ذلك فهو في النار".

ينقل إلى صحيح الجامع.
৭৪ - "এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই, পানি ও গাছপালা তাদের জন্য পর্যাপ্ত এবং তারা ফিতনা সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য করে।" (হাসান)।

৭৫ - "মসজিদসমূহের দরজায় প্রস্রাব করতে নিষেধ করা হয়েছে।"

এটি সহীহুল জামে-তে স্থানান্তরিত হবে।

৭৬ - "মসজিদের কিবলার দিকে প্রস্রাব করতে নিষেধ করা হয়েছে।" (হাসান)।

৭৭ - "তোমরা গায়িকা দাসীদের বিক্রি করো না, তাদের ক্রয় করো না এবং তাদের (গান) শিখিও না। তাদের ব্যবসায়ে কোনো কল্যাণ নেই এবং তাদের মূল্য হারাম। এই প্রসঙ্গের অনুরূপ বিষয়েই এই আয়াতটি নাযিল হয়েছে: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে যারা লাহওয়াল হাদীস (অসার কথা) ক্রয় করে} [লুকমান: ৬]"

(হাসান)।

আমি (লেখক) বলছি: আমাদের শায়খের 'সহীহুল জামে'-এর কপি থেকে আমি এভাবেই তা উদ্ধৃত করেছি এবং এর ফলে আমাদের শায়খ 'সহীহ সুনানে তিরমিযী'-তে একে 'হাসান' হিসেবে হুকুম দিয়েছেন। পরবর্তীতে শায়খের নিকট পূর্বের হুকুমে ফিরে যাওয়া এবং হাদীসটিকে 'যঈফ' (দুর্বল) সাব্যস্ত করা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে, তাই এটি 'সহীহ সুনানে তিরমিযী' থেকে বাদ দেওয়া হবে।

৭৮ - "ফেরেশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করে না যেখানে ঘণ্টা রয়েছে।" (হাসান)।

৭৯ - "ফেরেশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করে না যেখানে ঘণ্টা রয়েছে এবং এমন কাফেলার সঙ্গী হয় না যাতে ঘণ্টা রয়েছে।" (হাসান)।

৮০ - "তোমরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করো না, তাহলে তোমাদের ওপর কঠোরতা আরোপ করা হবে। কেননা এক সম্প্রদায় নিজেদের ওপর কঠোরতা করেছিল, ফলে আল্লাহ তাদের ওপর কঠোরতা আরোপ করেছিলেন। গীর্জা ও মঠগুলোতে তাদের অবশিষ্টাংশই দেখা যায়..."

(এতটুকু পর্যন্ত 'সহীহ'-তে স্থানান্তরিত হবে)।

৮১ - "তোমরা আলেমদের সাথে গর্ব করার জন্য, মূর্খদের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য অথবা মানুষের দৃষ্টি নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য ইলম (জ্ঞান) অর্জন করো না। যে ব্যক্তি এমনটি করবে, সে জাহান্নামে যাবে।"

এটি সহীহুল জামে-তে স্থানান্তরিত হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌82 - "لا تكرهوا البنات؛ فإنهن المؤنسات الغاليات". (صحيح).

‌‌83 - "لا تمس النار مسلمًا رآني، أو رآى من رآني". (حسن).

‌‌84 - "لا شيء في الهام، والعين حق، وأصدق الطيرة الفأل". (حسن).

‌‌85 - "لا قود في المأمومة، ولا الجائفة، ولا المنقلة". (حسن).

‌‌86 - "لا يؤوي الضالة إلا الضال". (حسن).

‌‌87 - "لا يخرج الرجلان يضربان الغائط، كاشفين عن عورتهما يتحدثان، فإن اللَّه يمقت على ذلك". (حسن).

‌‌88 - "يا أيها الناس إن على أهل كل بيت في كل عام أضحية". (حسن).

‌‌89 - "يا أيها الناس! ما بال أحدكم يزوج عبده أمته ثم يريد أن يفرق بينهما؟ إنما الطلاق لمن أخذ بالساق". (حسن).

‌‌90 - "يا بني إذا دخلت على أهلك فسلم تكون بركة عليك وعلي أهل بيتك".

(حسن لغيره) قلت: فقط هذا الشطر الواقع ضمن حديث صدره: "يا بني إياك والالتفات. . ".

‌‌91 - "يا سفيان لا تسبل إزارك، فإن اللَّه لا يحب المسبلين". (حسن).
82 - "তোমরা কন্যা সন্তানদের অপছন্দ করো না; কারণ তারা হলো অত্যন্ত মমতাময়ী ও মূল্যবান।" (সহীহ)।

83 - "সেই মুসলিমকে আগুন স্পর্শ করবে না যে আমাকে দেখেছে অথবা আমাকে যারা দেখেছে তাদেরকে দেখেছে।" (হাসান)।

84 - "পেঁচা বা অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই, কুদৃষ্টি লাগা সত্য, আর কুলক্ষণের মধ্যে সবচেয়ে সত্য হলো ফাল (উত্তম বাক্য বা শুভক্ষণ)।" (হাসান)।

85 - "মামূমাহ (মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছানো ক্ষত), জাইফাহ (শরীরের গভীরে পৌঁছানো ক্ষত) এবং মুনাক্কিলাহ (হাড় চূর্ণকারী ক্ষত)-এর ক্ষেত্রে কোনো কিসাস (প্রতিশোধ) নেই।" (হাসান)।

86 - "পথভ্রষ্ট ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ হারানো পশুকে (মালিকের কাছে না ফিরিয়ে) নিজের কাছে আশ্রয় দেয় না।" (হাসান)।

87 - "দুইজন পুরুষ যেন মলত্যাগ করতে গিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান উন্মুক্ত রেখে কথাবার্তা না বলে; কেননা আল্লাহ এতে অত্যন্ত রাগান্বিত হন।" (হাসান)।

88 - "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই প্রত্যেক পরিবারের ওপর প্রতি বছর কুরবানী করা আবশ্যক।" (হাসান)।

89 - "হে লোকসকল! তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা নিজ গোলামের সাথে নিজ দাসীর বিয়ে দাও, এরপর তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে চাও? নিশ্চয়ই তালাকের অধিকার কেবল তারই, যে বিবাহের বন্ধন ধারণ করে।" (হাসান)।

90 - "হে বৎস! যখন তুমি তোমার পরিবারের নিকট প্রবেশ করবে, তখন সালাম দিও; এটি তোমার জন্য এবং তোমার পরিবারের জন্য বরকত হবে।"

(হাসান লি-গাইরিহি) আমি (গ্রন্থকার) বলছি: কেবল এই অংশটুকুই সেই হাদীসের অন্তর্ভুক্ত যার প্রারম্ভিক অংশ হলো: "হে বৎস! (সালাতে) এদিক-সেদিক তাকানো থেকে বিরত থেকো..."।

91 - "হে সুফিয়ান! তোমার লুঙ্গি (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে রেখো না, কারণ আল্লাহ কাপড় ঝুলিয়ে রাখা ব্যক্তিদের পছন্দ করেন না।" (হাসান)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌92 - "يجيء القرآن يوم القيامة كالرجل الشاحب، فيقول لصاحبه: أنا الذي أسهرت ليلك، وأظمأت نهارك". (حسن).

‌‌93 - "أيما رجل كشف سترًا فأدخل بصره من قبل أن يؤذن له فقد أتى حدًا لا يحل أن يأتيه، ولو أن رجلًا فقأ عينه لهدرت، ولو أن رجلًا مرَّ على باب لا سترة عليه فرأى عورة أهله فلا خطيئة عليه إنما الخطيئة على أهل الباب". فقد صححه شيخنا في الصحيحة (3463).

‌‌94 - "إذا ذبح أحدكم فليجهز". فقد صححه شيخنا في صحيح الترغيب (1091).

‌‌95 - "ضحك ربنا من قنوط عباده وقرب غِيَرِه". فقد حسنه شيخنا في الصحيحة (2810).

‌‌96 - "استتروا في صلاتكم ولو بسهم". فقد صححه شيخنا في الصحيحة (2783).

‌‌97 - "إن أعمالكم تعرض على أقاربكم وعشائركم من الأموات؛ فإن كان خيرًا استبشروا، وإن كان غير ذلك قالوا: اللهم لا تمتهم حتى تهديهم كما هديتنا". فقد حسنه شيخنا في الصحيحة (2758).

‌‌98 - "لتنتهكن الأصابع بالطهور أو لتنتهكنها النار". فقد صححه شيخنا في صحيح الترغيب والترهيب (218).

‌‌99 - "ليس من الجنة في الأرض شيء إلا ثلاثة أشياء: غرس العجوة، والحجر، وأواق تنزل في الفرات كل يوم بركة من الجنة". فقد حسنه شيخنا في الصحيحة (3111).

‌‌100 - "إذا ضحى أحدكم فليأكل من أضحيته". فقد قواه شيخنا في الصحيحة (3563).

‌‌101 - "نهى عن بيع المحفَّلات". فقد قواه شيخنا في الصحيحة (3236).

‌‌102 - "إذا أديت زكاة مالك فقد أذهبت عنك شره". فقد حسنه شيخنا في صحيح الترغيب (743).
92 - "কিয়ামতের দিন কুরআন ফ্যাকাশে রঙের একজন মানুষের ন্যায় উপস্থিত হবে এবং তার সাথীকে (পাঠকারীকে) বলবে: আমিই সেই যে তোমার রাতকে বিনিদ্র রেখেছিলাম এবং তোমার দিনকে তৃষ্ণার্ত রেখেছিলাম।" (হাসান)।

93 - "যে কোনো ব্যক্তি (কারো ঘরের) পর্দা উন্মোচন করল এবং অনুমতি পাওয়ার আগেই ভেতরে দৃষ্টিপাত করল, সে এমন এক সীমালঙ্ঘন করল যা করা তার জন্য বৈধ নয়। আর যদি কেউ তার চোখ উপড়ে ফেলে দিত, তবে তার কোনো রক্তপণ দিতে হতো না। আর যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো দরজার পাশ দিয়ে যায় যাতে কোনো পর্দা নেই এবং সে ঘরের লোকদের গোপনীয়তা দেখে ফেলে, তবে তার কোনো পাপ হবে না; বরং পাপ হবে দরজার মালিকদের ওপর।" আমাদের শায়খ একে আস-সহিহাহ (৩৪৬৩) গ্রন্থে সহিহ বলেছেন।

94 - "তোমাদের কেউ যখন জবেহ করে, সে যেন তা দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করে।" আমাদের শায়খ একে সহিহ আত-তারগিব (১০৯১) গ্রন্থে সহিহ বলেছেন।

95 - "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের হতাশ হয়ে পড়া এবং তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্য বা পরিবর্তনের নিকটবর্তিতা দেখে হাসেন।" আমাদের শায়খ একে আস-সহিহাহ (২৮১০) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।

96 - "তোমরা সালাতে সুতরা (আড়াল) গ্রহণ করো, যদিও তা একটি তীরের মাধ্যমে হয়।" আমাদের শায়খ একে আস-সহিহাহ (২৭৮৩) গ্রন্থে সহিহ বলেছেন。

97 - "তোমাদের আমলসমূহ তোমাদের মৃত আত্মীয়-স্বজন ও বংশীয় লোকদের কাছে পেশ করা হয়; যদি তা ভালো হয় তবে তারা আনন্দিত হয়, আর যদি তা অন্যরূপ (মন্দ) হয় তবে তারা বলে: হে আল্লাহ! আপনি তাদের মৃত্যু দেবেন না যতক্ষণ না তাদের হিদায়াত দান করেন যেমনিভাবে আমাদের হিদায়াত দান করেছেন।" আমাদের শায়খ একে আস-সহিহাহ (২৭৫৮) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।

98 - "পবিত্রতা অর্জনের সময় আঙুলগুলো অবশ্যই ভালোভাবে ধৌত (খিলাল) করবে, অন্যথায় আগুন সেগুলোকে দহন করবে।" আমাদের শায়খ একে সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব (২১৮) গ্রন্থে সহিহ বলেছেন।

99 - "জান্নাতের কোনো কিছুই পৃথিবীতে নেই তিনটি বস্তু ছাড়া: আজওয়া খেজুরের গাছ, (হাজরে আসওয়াদ) পাথর এবং সেই বরকত যা প্রতিদিন জান্নাত থেকে ফুরাত নদীর পানিতে অবতীর্ণ হয়।" আমাদের শায়খ একে আস-সহিহাহ (৩১১১) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।

100 - "তোমাদের কেউ যখন কুরবানি দেয়, সে যেন তার কুরবানির গোশত থেকে আহার করে।" আমাদের শায়খ একে আস-সহিহাহ (৩৫৬৩) গ্রন্থে শক্তিশালী বলেছেন।

101 - "তিনি 'মুহাফফালাত' (অর্থাৎ যে পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রেখে বেশি দুধের ধারণা দিয়ে ধোঁকা দেওয়া হয় তা) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।" আমাদের শায়খ একে আস-সহিহাহ (৩২৩৬) গ্রন্থে শক্তিশালী বলেছেন।

102 - "তুমি যখন তোমার মালের জাকাত আদায় করলে, তখন তুমি তার অনিষ্টকে তোমার থেকে দূর করে দিলে।" আমাদের শায়খ একে সহিহ আত-তারগিব (৭৪৩) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌103 - "أما إن ربك يحب المدح". فقد حسنه شيخنا في الصحيحة (3179).

‌‌104 - "إذا ظننتم فلا تحققوا، وإذا حسدتم فلا تبغوا، وإذا تطيرتم فامضوا؛ وعلي اللَّه فتوكلوا، وإذا وزنتم فارجحوا". فقد قواه شيخنا في الصحيحة (3942).

‌‌105 - "إذا صلَّى أحدكم فأحدث فليمسك على أنفه، ثم لينصرف". فقد صححه شيخنا في الصحيحة (2976).

‌‌106 - "أفشِ السلام، وابذل الطعام، واستحي من اللَّه تعالى كما تستحيي رجلًا من رهطك ذا هيئة، وليحسن خلقك، وإذا أسأت فأحسن؛ فإن الحسنات يذهبن السيئات". فقد قواه شيخنا في الصحيحة (3559).

‌‌107 - "سافروا تصحوا، واغزوا تستغنوا". صححه شيخنا في الصحيحة (3352).

‌‌108 - "إن الصدقة لتطفئ عن أهلها حر القبور وإنما يستظل المؤمن يوم القيامة في ظل صدقته". حسنه شيخنا في صحيح الترغيب (873).

‌‌109 - "وأحب الأسماء إلى اللَّه تعالى عبد اللَّه وعبد الرحمن، وأصدقها حارث وهمام، وأقبحها حرب ومرة". صححه شيخنا في الكلم الطيب (218/ طبعة المعارف).

‌‌110 - "إن كنت تحبني فأعد للفقر تجفافًا؛ فإن الفقر أسرع إلى من يحبني من السيل إلى منتهاه". فقد صححه شيخنا في الصحيحة (2827).

‌‌111 - "أعطيت ما لم يعط أحد من الأنبياء قبلي: نصرت بالرعب، وأعطيت مفاتيح الأرض، وسميت أحمد، وجعل لي التراب طهورًا، وجعلت أمتي خير الأمم". فقد صححه شيخنا في الصحيحة (3939).

‌‌112 - "قال اللَّه تعالى: افترضت على أمتك خمس صلوات، وعهدت عندي عهدًا أنه من حافظ عليهن لوقتهن أدخلته الجنة، ومن لم يحافظ عليهن فلا عهد له عندي". قواه في الصحيحة (4033).

‌‌113 - "لقد تاب توبة لو تابها صاحب مكس لقبلت منه -يعني ماعزًا-". قواه في الصحيحة (3238).
১০৩ - "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমার রব প্রশংসা পছন্দ করেন।" আমাদের শায়খ আস-সহিহাহ-তে (৩১৭৯) এটিকে হাসান বলেছেন।

১০৪ - "যখন তোমরা কোনো ধারণা পোষণ করো তখন তা যাচাই করতে যেও না (সত্য বলে ধরে নিও না), যখন তোমরা হিংসা করো তখন সীমা লঙ্ঘন করো না, যখন তোমরা কোনো অশুভ লক্ষণ দেখবে তখন (তা উপেক্ষা করে) কাজ চালিয়ে যাও এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো; আর যখন তোমরা ওজন করবে তখন ঝুঁকে (ন্যায্যভাবে) দেবে।" আমাদের শায়খ আস-সহিহাহ-তে (৩৯৪২) এটিকে শক্তিশালী বলেছেন।

১০৫ - "তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায়রত অবস্থায় অযু নষ্ট করে ফেলে, সে যেন তার নাক ধরে (সালাত থেকে) ফিরে যায়।" আমাদের শায়খ আস-সহিহাহ-তে (২৯৭৬) এটিকে সহিহ বলেছেন।

১০৬ - "সালামের প্রসার ঘটাও, খাদ্য দান করো, এবং আল্লাহ তাআলাকে এমনভাবে লজ্জা করো যেমনটি তোমার গোত্রের কোনো মর্যাদাবান ব্যক্তিকে দেখে লজ্জা পাও। তোমার চরিত্রকে সুন্দর করো এবং যখন কোনো মন্দ কাজ করবে তখন (তার পরপরই) ভালো কাজ করো; কেননা নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়।" আমাদের শায়খ আস-সহিহাহ-তে (৩৫৫৯) এটিকে শক্তিশালী বলেছেন।

১০৭ - "তোমরা সফর করো তবে সুস্থ থাকবে এবং যুদ্ধ করো তবে সচ্ছল হবে।" আমাদের শায়খ আস-সহিহাহ-তে (৩৩৫২) এটিকে সহিহ বলেছেন।

১০৮ - "নিশ্চয়ই সাদাকা কবরের অধিবাসীদের থেকে কবরের উত্তাপ নিভিয়ে দেয় এবং কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তি তার সাদাকার ছায়াতলে অবস্থান করবে।" আমাদের শায়খ সহিহ আত-তারগিব-এ (৮৭৩) এটিকে হাসান বলেছেন।

১০৯ - "আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। আর সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ নাম হলো হারিস ও হাম্মাম। আর সবচেয়ে কদর্য নাম হলো হারব ও মুররাহ।" আমাদের শায়খ আল-কালিমুত তাইয়্যিব-এ (২১৮/ মাআরিফ সংস্করণ) এটিকে সহিহ বলেছেন।

১১০ - "যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো, তবে দারিদ্র্যের জন্য বর্ম প্রস্তুত করো; কেননা যে আমাকে ভালোবাসে তার নিকট দারিদ্র্য তার গন্তব্যের দিকে ধাবিত প্লাবনের চেয়েও দ্রুতগতিতে পৌঁছে যায়।" আমাদের শায়খ আস-সহিহাহ-তে (২৮২৭) এটিকে সহিহ বলেছেন।

১১১ - "আমাকে এমন কিছু দান করা হয়েছে যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি: আমাকে ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আমাকে জমিনের চাবিকাঠি প্রদান করা হয়েছে, আমার নাম আহমদ রাখা হয়েছে, আমার জন্য মাটিকে পবিত্রকারী করা হয়েছে এবং আমার উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বানানো হয়েছে।" আমাদের শায়খ আস-সহিহাহ-তে (৩৯৩৯) এটিকে সহিহ বলেছেন।

১১২ - "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমি তোমার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি এবং আমি আমার কাছে এই অঙ্গীকার করেছি যে, যে ব্যক্তি ওয়াক্তমতো সেগুলোর হিফাযত করবে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি সেগুলোর হিফাযত করবে না, আমার কাছে তার জন্য কোনো অঙ্গীকার নেই।" তিনি আস-সহিহাহ-তে (৪০৩৩) এটিকে শক্তিশালী বলেছেন।

১১৩ - "সে এমন তওবা করেছে যে, যদি কোনো অন্যায়ভাবে কর (ট্যাক্স) আদায়কারী ব্যক্তিও এমন তওবা করত তবে তার পক্ষ থেকেও তা কবুল করে নেওয়া হতো —অর্থাৎ মায়েয—।" তিনি আস-সহিহাহ-তে (৩২৩৮) এটিকে শক্তিশালী বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌114 - "سموه بأحب الأسماء إلي: حمزة". قواه في الصحيحة (2878).

‌‌115 - "إن أهل الشبع في الدنيا هم أهل الجوع غدًا في الآخرة". نقله شيخنا إلى الصحيحة كما قال في مقدمة الضعيفة (1/ 488/ طبعة المعارف).

‌‌116 - "إن الحميم ليصب على رؤوسهم فينفذ الحميم حتى يخلص إلى جوفه فيسلت ما في جوفه حتى يمرق من قدميه وهو الصهر ثم يعاد كما كان". قواه في الصحيحة (3470).

‌‌117 - "إذا أديت زكاة مالك فقد قضيت ما عليك". حسنه شيخنا في صحيح الترغيب (752).

‌‌118 - "إذا أنت بايعت فقل: لا خلابة، ثم أنت في كل سلعة ابتعتها بالخيار ثلاث ليال؛ فإن رضيت فأمسك، وإن سخطت فارددها على صاحبها". حسنه شيخنا في الصحيحة (2875).

‌‌119 - "إن هذا الخير خزائن، لتلك الخزائن مفاتيح، فمفاتيحه الرجال، فطوبى لعبد جعله اللَّه مفتاحًا للخير، مغلاقًا للشر، وويل لعبد جعله اللَّه مفتاحًا للشر مغلاقًا للخير". حسنه شيخنا في صحيح الترغيب (66).

‌‌120 - "في كل إشارة في الصلاة عشر حسنات". قواه شيخنا في الصحيحة (3286).

‌‌121 - "إن أولى الناس بي يوم القيامة أكثرهم عليَّ صلاة". حسنه شيخنا في صحيح الترغيب (1668) (1).

‌‌122 - "أما إن كل بناء فهو وبال على صاحبه يوم القيامة إلا ما كان في مسجد أو، أو، أو" وحديث: "أما إن كل بناء وبال على صاحبه إلا ما لا إلا ما لا". الصحيحة (2830).

‌‌123 - "ما ضحك ميكائيل منذ خلقت النار". حسنه في الصحيحة برقم (2511).

‌‌124 - "اعبدوا الرحمن، وأطعموا الطعام، وأفشوا السلام، تدخلوا الجنة بسلام". صححه في الصحيحة (571) وصحيح الترغيب (945).

--------------------------------------------

(1) قلت: فات هذا الاستدراك أخانا أبا الحسن الشيخ.
১১৪ - "আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম অনুযায়ী তাঁর নাম রাখো: হামযাহ।" আস-সহীহাহ্-তে তিনি এটিকে শক্তিশালী বলেছেন (২৮৭৮)।

১১৫ - "দুনিয়াতে যারা অতিভোজনকারী, কিয়ামতের দিন তারাই হবে সবচেয়ে ক্ষুধার্ত।" আমাদের শায়খ এটিকে সহীহাহ্-তে স্থানান্তরিত করেছেন যেমনটি তিনি আদ-দাঈফাহ্-র মুকাদ্দিমায় বলেছেন (১/ ৪৮৮/ আল-মা'আরিফ প্রকাশনী)।

১১৬ - "নিশ্চয়ই (জাহান্নামীদের) মাথার ওপর ফুটন্ত গরম পানি ঢালা হবে, অতঃপর সেই পানি শরীরের ভেতর প্রবেশ করে পেট পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং পেটের ভেতরের সব কিছু গলিয়ে ফেলবে, এমনকি তা তার দুই পা দিয়ে বেরিয়ে আসবে। আর এটিই হলো 'আস-সাহর' (বিগলন), এরপর তাকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।" আস-সহীহাহ্-তে তিনি এটিকে শক্তিশালী বলেছেন (৩৪৭০)।

১১৭ - "যখন তুমি তোমার সম্পদের জাকাত আদায় করলে, তখন তুমি তোমার ওপর যা (আবশ্যক) ছিল তা পূর্ণ করলে।" আমাদের শায়খ সহীহ আত-তারগীব-এ এটিকে হাসান বলেছেন (৭৫২)।

১১৮ - "যখন তুমি কেনা-বেচা করবে তখন বলবে: কোনো প্রতারণা নেই। এরপর তুমি যে পণ্যটি ক্রয় করেছ তাতে তিন রাত পর্যন্ত তোমার ইখতিয়ার (ফেরত দেওয়ার অধিকার) থাকবে; যদি তুমি সন্তুষ্ট হও তবে তা রেখে দাও, আর যদি অসন্তুষ্ট হও তবে তা মালিকের কাছে ফেরত দাও।" আমাদের শায়খ আস-সহীহাহ্-তে এটিকে হাসান বলেছেন (২৮৭৫)।

১১৯ - "নিশ্চয়ই এই কল্যাণ হলো অনেক ভাণ্ডারস্বরূপ, আর সেই ভাণ্ডারসমূহের চাবিকাঠি রয়েছে। সেই চাবিকাঠিগুলো হলো মানুষ। সুতরাং সেই বান্দার জন্য সুসংবাদ যাকে আল্লাহ কল্যাণের চাবিকাঠি এবং অকল্যাণের প্রতিবন্ধক বানিয়েছেন। আর সেই বান্দার জন্য দুর্ভোগ যাকে আল্লাহ অকল্যাণের চাবিকাঠি এবং কল্যাণের প্রতিবন্ধক বানিয়েছেন।" আমাদের শায়খ সহীহ আত-তারগীব-এ এটিকে হাসান বলেছেন (৬৬)।

১২০ - "সালাতের প্রতিটি ইশারায় দশটি করে নেকি রয়েছে।" আমাদের শায়খ আস-সহীহাহ্-তে এটিকে শক্তিশালী বলেছেন (৩২৮৬)।

১২১ - "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে।" আমাদের শায়খ সহীহ আত-তারগীব-এ এটিকে হাসান বলেছেন (১৬৬৮) (১)।

১২২ - "জেনে রেখো, প্রতিটি ইমারত বা ভবনই কিয়ামতের দিন তার মালিকের জন্য বোঝা হবে, তবে যা মসজিদের জন্য হবে তা ছাড়া অথবা... অথবা..." এবং হাদীস: "জেনে রেখো, প্রতিটি ইমারত তার মালিকের জন্য বোঝা, তবে যা না হলে নয়... যা না হলে নয়।" আস-সহীহাহ্ (২৮৩০)।

১২৩ - "জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে ফেরেশতা মিকাঈল কখনো হাসেননি।" আস-সহীহাহ্-তে ২৫১১ নম্বরে তিনি এটিকে হাসান বলেছেন।

১২৪ - "তোমরা দয়াময় রহমানের ইবাদত করো, অন্নদান করো এবং সালামের প্রসার ঘটাও; তবেই তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তিনি এটিকে আস-সহীহাহ্ (৫৭১) এবং সহীহ আত-তারগীব-এ (৯৪৫) সহীহ বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: আমাদের ভাই আবু হাসান শায়খের থেকে এই পর্যবেক্ষণটি বাদ পড়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌125 - "إن اللَّه تعالى ليعجب من الشاب ليست له صبوة". صححه في الصحيحة (2843).

‌‌126 - "الغنيمة الباردة الصوم في الشتاء". حسنه شيخنا في التحقيق الثاني للمشكاة كما في هداية الرواة (2008) وانظر الصحيحة (1922).

‌‌127 - "لا يزال اللَّهُ مقبلًا على العبد وهو في صلاته ما لم يلتفت، فإذا صرف وجهه انصرف عنه". حسنه شيخنا في صحيح الترغيب (554).

‌‌128 - "ما بال أقوام يصلون معنا لا يحسنون الطهور؟! فإنما يلبس علينا القرآن أولئك". صححه كما في هداية الرواة (282).

‌‌129 - "إنكم في زمان من ترك منكم عشر ما أمر به هلك، ثم يأتي زمان من عمل منهم بعشر ما أمر به نجا". صححه في الصحيحة (2510).

‌‌130 - "إن اللَّه تعالى يوصيكم بالنساء خيرًا؛ فإنهن أمهاتكم، وبناتكم، وخالاتكم، إن الرجل من أهل الكتاب يتزوج المرأة وما تعلق يداها الخيط فما يرغب واحد منهما عن صاحبه". صححه في الصحيحة (2871).

‌‌131 - "أمرَّ الدم بما شئت، واذكر اسم اللَّه عز وجل". صححه شيخنا في صحيح أبي داود (2824) وغيره.

‌‌132 - "إن أُدخلتَ الجنة أتيت بفرس من ياقوتة لها جناحان فحملت عليه ثم طار بك حيث شئت" و: "إن يدخلك اللَّه الجنة فلا تشاء أن تركب فرسًا من ياقوتة حمراء تطير بك في أي الجنة شئت إلا ركبت". صححه في الصحيحة (3001).

‌‌133 - "من قال في دبر صلاة الفجر وهو ثاني رجليه قبل أن يتكلم: لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، يحيي ويميت وهو على كل شيء قدير، عشر مرات كتب له عشر حسنات، ومحي عنه عشر سيئات، ورفع له عشر درجات، وكان يومه ذلك كله في حرز من كل مكروه، وحرس من الشيطان، ولم ينبغ لذنب أن يدركه في ذلك اليوم إلا الشرك باللَّه عز وجل". حسنه في صحيح الترغيب (472).
125 - "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সেই যুবকের প্রতি আশ্চর্যান্বিত হন যার কোনো কুপ্রবৃত্তি নেই।" তিনি একে সহীহাহ-তে সহীহ বলেছেন (২৮৪৩)।

126 - "শীতকালের রোজা হলো অনায়াসলব্ধ গনীমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ)।" আমাদের শাইখ মিশকাতের দ্বিতীয় তাহকীকে একে হাসান বলেছেন যেমনটি হিদায়াতুর রুওয়াহ-তে রয়েছে (২০০৮) এবং দেখুন সহীহাহ (১৯২২)।

127 - "আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার দিকে মনোযোগী থাকেন যতক্ষণ না সে নামাযে এদিক-ওদিক তাকায়; যখন সে তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন আল্লাহও তার থেকে বিমুখ হন।" আমাদের শাইখ সহীহুত তারগীব-এ একে হাসান বলেছেন (৫৫৪)।

128 - "সেই কওমের কী হলো যারা আমাদের সাথে সালাত আদায় করে অথচ তারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে না?! মূলত তাদের কারণেই আমাদের উপর কুরআন তিলাওয়াতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।" তিনি একে হিদায়াতুর রুওয়াহ-তে সহীহ বলেছেন (২৮২)।

129 - "নিশ্চয়ই তোমরা এমন এক যুগে আছ যে, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি আদিষ্ট বিষয়ের দশ ভাগের এক ভাগ বর্জন করে তবে সে ধ্বংস হবে; এরপর এমন এক কাল আসবে যখন তাদের মধ্যে কেউ যদি আদিষ্ট বিষয়ের দশ ভাগের এক ভাগ আমল করে তবে সে নাজাত পাবে।" তিনি একে সহীহাহ-তে সহীহ বলেছেন (২৫১০)।

130 - "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদেরকে নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের ওসিয়ত করছেন; কেননা তারা তোমাদের মা, তোমাদের কন্যা এবং তোমাদের খালা। আহলে কিতাবের একজন ব্যক্তি কোনো নারীকে বিবাহ করে অথচ তার হাত সামান্য সুতাও স্পর্শ করেনি, তবুও তাদের কেউই তার সঙ্গীকে অপছন্দ করে না।" তিনি একে সহীহাহ-তে সহীহ বলেছেন (২৮৭১)।

131 - "যে কোনো কিছু দিয়ে রক্ত প্রবাহিত করো এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো।" আমাদের শাইখ সহীহ আবু দাউদ (২৮২৪) এবং অন্যান্য গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।

132 - "যদি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, তবে তোমার কাছে ইয়াকুতের একটি ঘোড়া আনা হবে যার দুটি ডানা থাকবে, এরপর সেটি তোমাকে বহন করবে এবং তোমাকে নিয়ে যেখানে ইচ্ছা উড়ে যাবে।" এবং: "আল্লাহ যদি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, তবে তুমি জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা উড়ে যাওয়ার জন্য লাল ইয়াকুতের কোনো ঘোড়ায় চড়ার ইচ্ছা পোষণ করলেই তাতে চড়তে পারবে।" তিনি একে সহীহাহ-তে সহীহ বলেছেন (৩০০১)।

133 - "যে ব্যক্তি ফজরের সালাতের পর পা ভাঁজ করা অবস্থায় কথা বলার পূর্বে দশবার বলবে: আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর, তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন এবং তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান; তবে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হবে, তার দশটি গুনাহ মুছে দেওয়া হবে, তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে এবং ঐ পুরো দিন সে প্রতিটি অপ্রীতিকর বিষয় থেকে হিফাযতে থাকবে ও শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর আল্লাহর সাথে শিরক করা ব্যতীত অন্য কোনো গুনাহ তাকে ঐ দিনে স্পর্শ করতে পারবে না।" তিনি একে সহীহুত তারগীব-এ হাসান বলেছেন (৪৭২)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌134 - "إذا زنت الأمة فاجلدوها، فإن زنت فاجلدوها، فإن زنت فاجلدوها، ثم بيعوها ولو بضفير". صححه شيخنا في الصحيحة (2921).

‌‌135 - "إخواني! لمثل هذا اليوم فأعدوا". حسنه في الصحيحة (1751).

‌‌136 - "كم من جارٍ متعلق بجاره يوم القيامة يقول: يا رب! هذا أغلق بابه دوني فمنع معروفه". حسنه في الصحيحة (2646).

‌‌137 - "ثلاثة لا ترى أعينهم النار يوم القيامة: عين بكت من خشية اللَّه، وعين حرست في سبيل اللَّه، وعين غضت عن محارم اللَّه". صححه في الصحيحة (2673).

‌‌138 - "إذا وقعت الملاحم بعث اللَّه بعثًا من الموالي من دمشق، هم أكرم العرب فرسًا، وأجودها سلاحًا يؤيد اللَّه بهم هذا الدين". حسنه في الصحيحة (2777).

‌‌139 - "كيف بكم إذا جمعكم اللَّه كما يجمع النبل في الكنانة خمسين ألف سنة لا ينظر إليكم؟ ". صححه في الصحيحة (2817).

‌‌140 - "ما حدثكم أهل الكتاب فلا تصدقوهم، ولا تكذبوهم، وقولوا: آمنا باللَّه وكتبه ورسله، فإن كان باطلًا لم تصدقوه، وإن كان حقًا لم تكذبوه". حسنه في الصحيحة (2800).

‌‌141 - "خيار أمتي الذين إذا رُؤوا ذكر اللَّه، وشرار أمتي: المشاءون بالنميمة، المفرقون بين الأحبة، الباغون البرآء العنت" و: "خياركم الذين إذا رءوا ذكر اللَّه بهم، وشراركم المشاءون بالنميمة، المفرقون بين الأحبة الباغون البرآء العنت". حسنه شيخنا في الصحيحة (2849) وصحيح الترغيب (2824).

‌‌142 - "ألحد آدم، وغسل بالماء وترًا، فقالت الملائكة: هذه سنة ولد آدم من بعده". صححه شيخنا انظر الضعيفة (2859) وصحيح الجامع: "لما توفي آدم".

‌‌143 - "إذا رميت الجمار كان لك نورًا يوم القيامة". حسنه في الصحيحة (2515).

‌‌144 - "إن فقراء المهاجرين يدخلون الجنة قبل أغنيائهم بمقدار خمسمائة سنة". حسنه في صحيح ابن ماجه (3344) وانظر صحيح الجامع: "فقراء المهاجرين".

‌‌145 - "من أحب دنياه أضر بآخرته، ومن أحب آخرته أضر بدنياه، فآثروا ما يبقى على ما يفنى". صححه في صحيح الترغيب (3247).
‌১৩৪ - "যদি কোনো দাসী ব্যভিচার করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো। যদি সে পুনরায় ব্যভিচার করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো। যদি সে আবারও ব্যভিচার করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো, এরপর তাকে বিক্রি করে দাও—চাই তা একটি চুলের রশির বিনিময়ে হলেও।" আমাদের শায়খ একে আস-সহীহাহ (২৯২১) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন।

‌‌১৩৫ - "হে আমার ভাইয়েরা! এই দিনের (মৃত্যু বা কিয়ামত) জন্য তোমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করো।" তিনি আস-সহীহাহ (১৭৫১) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

‌‌১৩৬ - "কিয়ামতের দিন কত প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীকে আঁকড়ে ধরে বলবে: হে আমার রব! এই ব্যক্তি আমার জন্য তার দরজা বন্ধ করে রেখেছিল এবং তার সদাচরণ থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছিল।" তিনি আস-সহীহাহ (২৬৪৬) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

‌‌১৩৭ - "তিন প্রকার ব্যক্তির চোখ কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন দেখবে না: যে চোখ আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করেছে, যে চোখ আল্লাহর পথে পাহারাদারি করেছে এবং যে চোখ আল্লাহর হারামকৃত বিষয়াদি থেকে দৃষ্টি অবনত রেখেছে।" তিনি আস-সহীহাহ (২৬৭৩) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।

‌‌১৩৮ - "যখন মহাযুদ্ধগুলো সংঘটিত হবে, তখন আল্লাহ দামেস্ক থেকে মুক্তদাসদের (মাওয়ালী) একটি বাহিনী পাঠাবেন; তারা ঘোড়সওয়ার হিসেবে আরবদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং অস্ত্রশস্ত্রে সর্বোত্তম হবে। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে এই দ্বীনকে শক্তিশালী করবেন।" তিনি আস-সহীহাহ (২৭৭৭) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

‌‌১৩৯ - "তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে পঞ্চাশ হাজার বছরের জন্য এমনভাবে একত্রিত করবেন যেমনভাবে তূণের মধ্যে তীরগুলো একত্রিত করা হয়, এমতাবস্থায় যে তিনি তোমাদের দিকে তাকাবেন না?" তিনি আস-সহীহাহ (২৮১৭) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।

‌‌১৪০ - "আহলে কিতাবরা তোমাদের যা বলে তা তোমরা বিশ্বাসও করো না এবং মিথ্যাও প্রতিপন্ন করো না। বরং বলো: ‘আমরা আল্লাহ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছি’। ফলে বিষয়টি যদি বাতিল হয় তবে তোমরা তা বিশ্বাস করলে না, আর যদি তা সত্য হয় তবে তোমরা তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে না।" তিনি আস-সহীহাহ (২৮০০) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

‌‌১৪১ - "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম তারা যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। আর আমার উম্মতের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট তারা যারা চোগলখোরি করে বেড়ায়, বন্ধুদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায় এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের দোষ বা কষ্ট অনুসন্ধান করে।" এবং: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা যাদের দেখলে তাদের মাধ্যমে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, আর তোমাদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট তারা যারা চোগলখোরি করে বেড়ায়, বন্ধুদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায় এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের দোষ বা কষ্ট অনুসন্ধান করে।" আমাদের শায়খ আস-সহীহাহ (২৮৪৯) এবং সহীহুত তারগীব (২৮২৪) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

‌‌১৪২ - "আদমের জন্য লাহাদ কবর খনন করা হয়েছিল এবং তাকে বেজোড় সংখ্যক বার পানি দিয়ে গোসল করানো হয়েছিল। অতঃপর ফেরেশতারা বলেছিলেন: এটিই তার পরবর্তী আদম সন্তানদের জন্য সুন্নাত বা পদ্ধতি।" আমাদের শায়খ একে সহীহ বলেছেন; দেখুন আদ-দাঈফাহ (২৮৫৯) এবং সহীহুল জামি': "যখন আদম ইন্তেকাল করলেন"।

‌‌১৪৩ - "যখন তুমি জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবে, তা কিয়ামতের দিন তোমার জন্য নূর বা আলো হবে।" তিনি আস-সহীহাহ (২৫১৫) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

‌‌১৪৪ - "নিশ্চয়ই দরিদ্র মুহাজিররা তাদের ধনীদের চেয়ে পাঁচশত বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তিনি সহীহ ইবনু মাজাহ (৩৩৪৪) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন এবং দেখুন সহীহুল জামি': "দরিদ্র মুহাজিরগণ"।

‌‌১৪৫ - "যে ব্যক্তি তার দুনিয়াকে ভালোবাসবে সে তার আখিরাতের ক্ষতি করবে, আর যে তার আখিরাতকে ভালোবাসবে সে তার দুনিয়ার ক্ষতি করবে। অতএব তোমরা নশ্বর বিষয়ের ওপর অবিনশ্বর বিষয়কে প্রাধান্য দাও।" তিনি সহীহুত তারগীব (৩২৪৭) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌146 - "كلوه فإني لست كاحدكم إني أخاف أن أوذي صاحبي". حسنه في الصحيحة (2784).

‌‌147 - "من خرج في طلب العلم فهو في سبيل اللَّه حتى يرجع". حسنه في صحيح الترغيب (88).

‌‌148 - "إن خيار عباد اللَّه الذين يراعون الشمس والقمر والنجوم والأظلة لذكر اللَّه". صححه في الصحيحة (3440).

‌‌149 - "يا أبا رزين! أليس كلكم يرى القمر ليلة البدر مخليًا به؟ فإنما هو خلق من خلق اللَّه، فاللَّه أجل وأعظم". حسنه كما في ظلال الجنة (459) وصحيح ابن ماجه (150).

‌‌150 - "للمهاجرين منابر من ذهب يجلسون عليها يوم القيامة قد أمنوا من الفزع". حسنه في الصحيحة (3584).

‌‌151 - "رباط يوم في سبيل اللَّه خير من ألف يوم فيما سواه من المنازل". حسنه في صحيح الترغيب (1224) وهداية الرواة.

‌‌152 - "إن أفواهكم طرق للقرآن فطيبوها بالسواك". صححه في صحيح ابن ماجه.

‌‌153 - "إن لكل شيء سنامًا، وإن سنام القرآن سورة البقرة". هذا القدر من الحديث حسنه في صحيح الترغيب (1460).

‌‌154 - "كان إذا دخل المسجد يقوله: بسم اللَّه والسلام على رسول اللَّه، اللهم اغفر لي ذنوبي، وافتح لي أبوابَ رحمتك، وإذا خرج قال: بسم اللَّه والسلام على رسول اللَّه، اللهم اغفر لي ذنوبي، وافتح لي أبواب فضلك". صححه في صحيح ابن ماجه (771).

 

•‌‌ وأما الأحاديث التي في "صحيح الجامع" وتراجع شيخنا عن تصحيحها وأمر بنقلها إلى "ضعيف الجامع" فهي:

‌‌1 - " اتقوا اللَّه فإن أخونكم عندنا من طلب العمل". (ضعيف).

‌‌2 - "إذا أصبح أحدكم فليقل: أصبحنا وأصبح الملك للَّه رب العالمين، اللهم إني أسألك خير هذا اليوم: فتحه، ونصره، ونوره، وبركته، وهداه، وأعوذ بك من شر ما فيه، وشر ما بعده، ثم إذا أمسى فليقل مثل ذلك". (ضعيف) تخريج المشكاة 2412.
১৪৬ - "তোমরা এটি খাও, কেননা আমি তোমাদের কারো মতো নই; নিশ্চয়ই আমি আমার সঙ্গীকে কষ্ট দিতে ভয় পাই।" আস-সাহীহাহ (২৭৮৪) গ্রন্থে একে হাসান বলা হয়েছে।

১৪৭ - "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে থাকে।" সহীহ আত-তারগীব (৮৮) গ্রন্থে একে হাসান বলা হয়েছে।

১৪৮ - "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা আল্লাহর জিকিরের জন্য সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র এবং ছায়ার প্রতি লক্ষ্য রাখে।" আস-সাহীহাহ (৩৪৪০) গ্রন্থে একে সহীহ বলা হয়েছে।

১৪৯ - "হে আবু রাজিন! তোমাদের প্রত্যেকেই কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে এককভাবে দেখতে পাও না? সেটি তো আল্লাহর সৃষ্টিসমূহের মধ্য থেকে একটি সৃষ্টি মাত্র, আর আল্লাহ অতি মহিমান্বিত ও মহান।" যিলালুল জান্নাহ (৪৫৯) এবং সহীহ ইবনে মাজাহ (১৫০) অনুযায়ী একে হাসান বলা হয়েছে।

১৫০ - "মুহাজিরদের জন্য স্বর্ণের মিম্বর থাকবে, কিয়ামতের দিন তারা সেগুলোর উপর বসবে এবং তারা মহাভীতি থেকে নিরাপদ থাকবে।" আস-সাহীহাহ (৩৫৮৪) গ্রন্থে একে হাসান বলা হয়েছে।

১৫১ - "আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া অন্য সব স্থানের এক হাজার দিনের চেয়েও উত্তম।" সহীহ আত-তারগীব (১২২৪) এবং হিদায়াতুর রুওয়াত গ্রন্থে একে হাসান বলা হয়েছে।

১৫২ - "নিশ্চয়ই তোমাদের মুখসমূহ কুরআনের পথ, অতএব মেসওয়াক করার মাধ্যমে তা সুগন্ধযুক্ত করো।" সহীহ ইবনে মাজাহ গ্রন্থে একে সহীহ বলা হয়েছে।

১৫৩ - "নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি চূড়া থাকে, আর কুরআনের চূড়া হলো সূরা আল-বাকারাহ।" হাদীসের এই অংশটুকুকে সহীহ আত-তারগীব (১৪৬০) গ্রন্থে হাসান বলা হয়েছে।

১৫৪ - "তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। আর যখন বের হতেন তখন বলতেন: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ খুলে দিন।" সহীহ ইবনে মাজাহ (৭৭১) গ্রন্থে একে সহীহ বলা হয়েছে।

 

•‌আর 'সহীহুল জামি'র যে হাদীসগুলো সম্পর্কে আমাদের শায়খ তাঁর সহীহ বলার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছেন এবং সেগুলো 'যঈফুল জামি'তে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো হলো:

১ - "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, কারণ তোমাদের মধ্যে আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় খিয়ানতকারী সেই যে পদের প্রত্যাশা করে।" (যঈফ)।

২ - "তোমাদের কেউ যখন ভোরে উপনীত হয় তখন যেন বলে: আমরা ভোরে উপনীত হয়েছি এবং রাজত্বও বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য ভোরে উপনীত হয়েছে। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এই দিনের কল্যাণ প্রার্থনা করছি: এর বিজয়, এর সাহায্য, এর নূর, এর বরকত এবং এর হিদায়াত। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এই দিনের মন্দ থেকে এবং এর পরের মন্দ থেকে। অতঃপর যখন সন্ধ্যা হবে তখনও যেন অনুরূপ বলে।" (যঈফ) তাখরীজুল মিশকাত ২৪১২।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাজুল মুনির ফি তারতিবি আহাদিসি সহীহিল জামিইস সাগীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌3 - "إذا أفطر أحدكم فليفطر على تمر؛ فإنه بركة، فإن لم يجد تمرًا فليفطر على الماء؛ فإنه طهور" وورد أيضًا في صحيح الجامع بلفظ: "إذا كان أحدكم صائمًا فليفطر على التمر فإن لم يجد التمر فعلى الماء فإن الماء طهور".

(ضعيف) قال شيخنا: والصحيح من فعله صلى الله عليه وسلم.

‌‌4 - "ولا على ما وضعها".

هذه اللفظة الواقعة في حديث: "إذا قام أحدكم من النوم".

قال لي شيخنا: إنها منكرة فلتحذف.

‌‌5 - "إذا ولج الرجل بيته فليقل: اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج، باسم اللَّه ولجنا، وباسم اللَّه خرجنا، وعلي ربنا توكلنا، ثم يسلم على أهله". (ضعيف).

‌‌6 - "اللهم اجعل أوسع رزقك علي عند كبر سني". (ضعيف جدًا).

‌‌7 - "أما مررت بوادي قومك ممحلًا ثم تمر به خضرًا ثم تمر به ممحلًا ثم تمر به خضرًا؟ {كَذَلِكَ يُحْيِ اللَّهُ الْمَوْتَى} [البقرة: 73] ". (ضعيف).

‌‌8 - "إن اللَّه يبغض كل جعظري جواظ، سخاب في الأسواق، جيفة بالليل، حمار بالنهار، عالم بالدنيا، جاهل بالآخرة". (ضعيف).

‌‌9 - "إنَّ يوم الجمعة سيد الأيام وأعظمها عند اللَّه، وهو أعظم عند اللَّه من يوم الأضحى ويوم الفطر، فيه خمس خلال: خلق اللَّه فيه آدم، وأهبط اللَّه فيه آدم إلى الأرض، وفيه توفى اللَّه آدم، وفيه ساعة لا يسأل اللَّه فيها العبد شيئًا إلا أعطاه إياه، ما لم يسأل حرامًا، وفيه تقوم الساعة، وما من ملك مقرب ولا سماء ولا أرض ولا رياح ولا جبال ولا بحر إلا وهو يشفق من يوم الجمعة أن تقوم فيه الساعة".

(ضعيف) ويغني عنه حديث أبي هريرة وانظر "الضعيفة" (8/ 201)
৩ - "তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে; কেননা তা বরকতময়। আর যদি সে খেজুর না পায় তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে; কারণ তা পবিত্র।" আর সহীহুল জামি'-তেও এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "তোমাদের কেউ যখন রোজা থাকে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, আর যদি খেজুর না পায় তবে পানি দিয়ে; কারণ পানি হলো পবিত্র।"

(দুর্বল) আমাদের শাইখ বলেছেন: আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্ম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সেটিই সঠিক।

৪ - "এবং তিনি তার হাত কিসের ওপর রেখেছিলেন তার ওপরও নয়।"

এই শব্দটি "যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে ওঠে" হাদিসের পাঠে এসেছে।

আমাদের শাইখ আমাকে বলেছেন: এটি মুনকার (অস্বীকৃত), তাই এটি বাদ দেওয়া উচিত।

৫ - "যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তম প্রবেশস্থল এবং উত্তম বহির্গমনস্থল প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামে আমরা বের হলাম, আর আমাদের রবের ওপর আমরা ভরসা করলাম। এরপর সে যেন তার পরিবারকে সালাম দেয়।" (দুর্বল)।

৬ - "হে আল্লাহ! আমার বার্ধক্যে আপনার প্রশস্ততম রিজিক আমার জন্য বরাদ্দ করুন।" (অত্যন্ত দুর্বল)।

৭ - "তুমি কি তোমার কওমের শুষ্ক ও প্রাণহীন উপত্যকা দিয়ে অতিক্রম করোনি, অতঃপর পুনরায় তা সবুজ-শ্যামল অবস্থায় অতিক্রম করেছ, তারপর আবার তা শুষ্ক অবস্থায় এবং পুনরায় সবুজ অবস্থায় দেখেছ? {এভাবেই আল্লাহ মৃতদের জীবিত করেন} [আল-বাকারা: ৭৩]।" (দুর্বল)।

৮ - "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক রূঢ়-অহংকারী, সম্পদ সঞ্চয়কারী ও কৃপণ, বাজারে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকারকারী, রাতে মৃতদেহের মতো পড়ে থাকা, দিনে গাধার মতো (দুনিয়ার কাজে) পরিশ্রমী, দুনিয়ার বিষয়ে অভিজ্ঞ অথচ আখিরাত সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন।" (দুর্বল)।

৯ - "নিশ্চয়ই জুমার দিন হলো দিনসমূহের সরদার এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মহিমান্বিত। এটি আল্লাহর নিকট ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও মহান। এতে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে: আল্লাহ এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনে আল্লাহ আদমকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিয়েছেন, এই দিনে আল্লাহ আদমের মৃত্যু দিয়েছেন, এতে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছু চায় আল্লাহ তাকে তা দান করেন, যতক্ষণ না সে কোনো হারামের প্রার্থনা করে। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এমন কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা, আকাশ, পৃথিবী, বাতাস, পাহাড় ও সমুদ্র নেই যা জুমার দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে আতঙ্কগ্রস্ত থাকে না।"

(দুর্বল) তবে আবু হুরায়রার হাদিসটি এর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে এবং দেখুন "আদ-দায়িফাহ" (৮/ ২০১)।