(খণ্ড: ১)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: -)
المنهاج في شعب الإيمان القسم: العقيدة
الكتاب: المنهاج في شعب الإيمان
المؤلف: الحسين بن الحسن بن محمد بن حليم البخاري الجرجاني، أبو عبد الله الحَلِيمي (ت 403 هـ)
المحقق: حلمي محمد فودة
الناشر: دار الفكر
الطبعة: الأولى، 1399 هـ - 1979 م
عدد الأجزاء: 3
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 محرم 1437
আল-মিনহাজ ফি শুআব আল-ঈমান বিভাগ: আকিদাহ
বই: আল-মিনহাজ ফি শুআব আল-ঈমান
লেখক: আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হালিম আল-বুখারি আল-জুরাজিানি, আবু আব্দুল্লাহ আল-হালিমি (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি)
সম্পাদক: হিলমি মুহাম্মদ ফাউদাহ
প্রকাশক: দারুল ফিকর
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, সৌজন্যে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রণ সংস্করণের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ মহররম ১৪৩৭
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٣)
مقدمة المؤلفبسم الله الرحمن الرحيم، وبه نستعين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله.
من الحسين بن الحسن الحليمي إلى من بلغه كتابه هذا من أهل القبلة، المشاركين له في الملة، الراغبين في العلم والحكمة، الطالبين علم المنهاج والشرعة، المجعولين لنبي الرحمة، المبعوث بالحنيفية السمحة، محمد خاتم الرسالة، وصاحب الشفاعة، والمؤتمن الشهيد على الجماعة، صلى الله عليه وسلم، وخصه بالفضيلة والزلفة والوسيلة.
سلام عليكم، فإني أحمد إليكم الله الذي لا إله إلا هو، وأسأله أن يصلي على محمد عبده ورسوله. أما بعد، أحسن الله توفيقكم، وسهل إلى ما يرضاه طريقكم، وقوانا وإياكم على طاعته ما أحيانا، وأجزل حظنا وحظكم من رحمته إذا توفانا، ونزع من صدورنا كل غل، وجعل الحق أحب إلينا وإليكم من كل خل.
فالحمد لله الواحد القديم الماجد العظيم، الواسع العليم الذي خلق الإنسان في أحسن تقويم، وعلمه أفضل تعليم، وكرمه على كثير ممن خلق أبين تكريم.
أحمده وأستعينه وأعوذ به من الزلل، وأستهديه لصالح القول والعمل، وأسأله أن يصلي على النبي المصطفى الرسول الكريم المجتبى محمد خاتم النبيين، وسيد المرسلين، وعلى آله الطيبين الطاهرين، وسلم كثيرا، ثم إن هذا كتاب جمعت فيه من الكلام في حقيقة الإيمان، وبيان ما يشتمل هذا الاسم عليه ويشار به عند الاطلاق إليه. وشرح ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (الإيمان بضع وسبعون شعبة أعلاها شهادة أن لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، وتفصيل هذه الشعب واحدة واحدة، والكلام عليها بما يكشف عن حقيقتها، ويقف الناظر فيه على جليتها. ما أملت أن يعظم نفعه،
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, এবং তাঁর কাছেই আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি, এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন।
হুসাইন ইবনুল হাসান আল-হালিমীর পক্ষ থেকে কিবলাপন্থী মুসলিমদের মধ্য থেকে সেই সব ব্যক্তিদের প্রতি যাদের নিকট এই কিতাব পৌঁছেছে, যারা তাঁর দ্বীনের সহযাত্রী, ইলম ও হিকমতের প্রত্যাশী, মানহাজ ও শরীয়তের জ্ঞান অন্বেষণকারী, যারা রহমতের নবীর উম্মত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, যাঁকে উদার ও সহজ হানিফিয়্যাত দিয়ে পাঠানো হয়েছে, যিনি মুহাম্মদ (সা.), রিসালাতের মোহর, শাফায়াতের অধিকারী এবং জামাতের ওপর আমানতদার ও সাক্ষী; আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং তাঁকে ফযীলত, নৈকট্য ও উসিলা দ্বারা বিশিষ্ট করুন।
আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; আমি আপনাদের নিকট সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদের ওপর দরুদ বর্ষণ করেন। অতঃপর, আল্লাহ আপনাদের তাওফিককে উত্তম করুন, তাঁর সন্তুষ্টির পথকে সহজ করে দিন এবং আমাদের ও আপনাদের তাঁর আনুগত্যের ওপর আজীবন অটল রাখুন, আমাদের মৃত্যুকালে তাঁর রহমতের অংশকে পরিপূর্ণ করুন, আমাদের অন্তর থেকে যাবতীয় বিদ্বেষ দূর করে দিন এবং সত্যকে আমাদের ও আপনাদের নিকট অন্য সব কিছুর চেয়ে প্রিয় করে দিন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি একক, অনাদি, মহিমান্বিত, মহান, প্রশস্ত ও সর্বজ্ঞ; যিনি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন, তাকে সর্বোত্তম শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাঁর অনেক সৃষ্টির ওপর তাকে সুস্পষ্টভাবে সম্মানিত করেছেন।
আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং পদস্খলন থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি নেক কথা ও কাজের জন্য তাঁর কাছে হিদায়াত প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন মনোনীত নবী, সম্মানিত ও বরেণ্য রাসূল মুহাম্মদ, যিনি শেষ নবী ও রাসূলদের সরদার, এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গের ওপর অনেক অনেক দরুদ ও সালাম বর্ষণ করেন। অতঃপর, এটি এমন একটি কিতাব যাতে আমি ঈমানের হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ এবং এই নামটি কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ও সাধারণভাবে তা দিয়ে কী বোঝানো হয়, সে সংক্রান্ত আলোচনা একত্রিত করেছি। আর নবী (সা.) থেকে বর্ণিত এই বাণীর ব্যাখ্যা করেছি যে, তিনি বলেছেন: (ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে; যার সর্বোচ্চ স্তর হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া, আর তার সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা) এবং এই শাখাগুলোর প্রতিটির বিস্তারিত বিবরণ ও এমন আলোচনা পেশ করেছি যা এগুলোর স্বরূপ উন্মোচন করবে এবং পাঠক এর প্রকৃত রূপ অনুধাবন করতে পারবেন। আমি আশা করি এর উপকারিতা ব্যাপক হবে,
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٤)
ويكثر فائدته، ويحسن على متأمليه عائدته. وسميته المنهاج إذا كان إبانة لما نهجه الله- تعالى جده- لنا من الدين، وهدانا له من الصراط المستقيم، وقال تعالى جده في كتابه: {لكل جعلنا منكم شرعة ومنهاجا}. وقسمته عشرة أقسام في عشرة أبواب: أولها باب في البيان عن حقيقة الإيمان. وثانيها باب في زيادة الإيمان ونقصانه. وثالثها باب في الاستثناء في الإيمان وما يصح منه أو لا يصح. ورابعها باب في ألفاظ الإيمان وما يصح أو لا يصح. وخامسها باب في إيمان المقلد والمرتاب والتمييز بين المقلد وغيره. وسادسها باب فيمن يكون مؤمنا بإيمان غيره أو لا يكون. وسابعها باب فيمن يصح إيمانه أو لا يصح. وثامنها باب فيمن لم تبلغه الدعوة. وتاسعها باب فيمن مات مستدلا. وعاشرها باب في شعب الإيمان وهذا الباب ينقسم سبعة وسبعين بابا:
أولها باب في الإيمان بالله عز وجل بآياته وبيناته. والثاني باب في الإيمان بالنبي ومن تقدمه من النبيين صلوات الله عليه وعليهم أجمعين بدلائله وحججه. والثالث باب في الإيمان بالملائكة. والرابع باب في الإيمان بالقرآن وسائر كتب الله تعالى المنزلة. والخامس باب في الإيمان بالقدر وأن خيره وشره من الله. والسادس باب في الإيمان باليوم الآخر وتفسيره. والسابع باب في الإيمان بالبعث وكثير من حججه. والثامن باب في الإيمان بالحساب والميزان. والتاسع باب في الإيمان بالجنة والنار وفيه ذكر الصراط. والعاشر باب القول في محبة الله تعالى جده. والحادي عشر باب القول في مخافته والتفكر في وعيده. والثاني عشر باب في رجائه والثقة بوعده، ودخل في هذا الباب القول في الدعاء وشروطه وآدابه وأوقاته وأحواله. والثالث عشر باب القول في التوكل عليه والاعتصام به، دخل فيه القول في التداوي من الأمراض والاسترقاء وما جاء فيهما وفي سائر الاحترازات. والرابع عشر باب حب النبي صلى الله عليه وسلم وآله وأصحابه. والخامس عشر باب في تعظيم النبي صلى الله عليه وسلم وإجلاله وتوقيره. والسادس عشر باب في الشح بالدين.
এর উপকারিতা প্রচুর এবং যারা এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবেন তাদের জন্য এর ফলাফল অত্যন্ত উত্তম। আমি এর নাম রেখেছি 'আল-মিনহাজ', যেহেতু এটি আল্লাহ তাআলা—তাঁর মহিমা সমুন্নত হোক—আমাদের জন্য দ্বীনের যে পথ নির্ধারণ করেছেন এবং যে সরল পথের দিকে আমাদের হেদায়াত দিয়েছেন, তার সুস্পষ্ট বর্ণনা। আল্লাহ তাআলা—তাঁর মহিমা সমুন্নত হোক—তাঁর কিতাবে বলেছেন: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও পথ (মিনহাজ) নির্ধারণ করেছি}। আমি একে দশটি ভাগে দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি: প্রথমটি হলো ঈমানের হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়। দ্বিতীয়টি হলো ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস সংক্রান্ত অধ্যায়। তৃতীয়টি হলো ঈমানের ক্ষেত্রে 'ইনশাআল্লাহ' বলা এবং এর মধ্যে কোনটি সঠিক আর কোনটি সঠিক নয়, তা সংক্রান্ত অধ্যায়। চতুর্থটি হলো ঈমানের শব্দাবলি এবং এর মধ্যে কোনটি সঠিক আর কোনটি সঠিক নয়, তা সংক্রান্ত অধ্যায়। পঞ্চমটি হলো মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) ও সন্দিহান ব্যক্তির ঈমান এবং মুকাল্লিদ ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ সংক্রান্ত অধ্যায়। ষষ্ঠটি হলো অন্যের ঈমানের মাধ্যমে কেউ মুমিন হতে পারে কি না, তা সংক্রান্ত অধ্যায়। সপ্তমটি হলো যার ঈমান শুদ্ধ হয় অথবা হয় না, তা সংক্রান্ত অধ্যায়। অষ্টমটি হলো যার কাছে দাওয়াত পৌঁছেনি, তার সম্পর্কে অধ্যায়। নবমটি হলো যে ব্যক্তি দলিল-প্রমাণের সন্ধানে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তার সম্পর্কে অধ্যায়। দশমটি হলো ঈমানের শাখাসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়, আর এই অধ্যায়টি সাতাত্তরটি উপ-অধ্যায়ে বিভক্ত:
প্রথমটি হলো মহান আল্লাহর নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন সংক্রান্ত অধ্যায়। দ্বিতীয়টি হলো নবী এবং তাঁর পূর্ববর্তী সকল নবীগণের—তাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—প্রতি তাঁদের দলিল ও প্রমাণাদিসহ ঈমান আনয়ন সংক্রান্ত অধ্যায়। তৃতীয়টি হলো ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান আনয়ন সংক্রান্ত অধ্যায়। চতুর্থটি হলো কুরআন এবং আল্লাহর নাযিলকৃত অন্যান্য সকল কিতাবের প্রতি ঈমান আনয়ন সংক্রান্ত অধ্যায়। পঞ্চমটি হলো তাকদিরের প্রতি ঈমান আনয়ন এবং এর কল্যাণ ও অকল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার বিষয়টি সংক্রান্ত অধ্যায়। ষষ্ঠটি হলো শেষ দিবসের প্রতি ঈমান ও তার ব্যাখ্যা সংক্রান্ত অধ্যায়। সপ্তমটি হলো পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান এবং এর বহুবিধ দলিল সংক্রান্ত অধ্যায়। অষ্টমটি হলো হিসাব ও মিজানের প্রতি ঈমান আনয়ন সংক্রান্ত অধ্যায়। নবমটি হলো জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান এবং এতে পুলসিরাতের উল্লেখ রয়েছে। দশমটি হলো আল্লাহ তাআলার—তাঁর মহিমা সমুন্নত হোক—মহব্বত সংক্রান্ত আলোচনা। একাদশ অধ্যায়টি হলো আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর শাস্তির ধমকি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা সংক্রান্ত আলোচনা। দ্বাদশ অধ্যায়টি হলো আল্লাহর প্রতি আশা পোষণ এবং তাঁর প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখা সংক্রান্ত, আর এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে দুআ এবং এর শর্তাবলি, আদবসমূহ, সময় ও অবস্থা সংক্রান্ত আলোচনা। ত্রয়োদশ অধ্যায়টি হলো আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা এবং তাঁকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা সংক্রান্ত আলোচনা; এতে রোগব্যাধির চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক এবং এ সংক্রান্ত ও অন্যান্য সতর্কতা অবলম্বন বিষয়ক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চতুর্দশ অধ্যায়টি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের প্রতি ভালোবাসা সংক্রান্ত অধ্যায়। পঞ্চদশ অধ্যায়টি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়। ষোড়শ অধ্যায়টি হলো দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল হওয়া (দ্বীন হারানোর ভয়ে সতর্ক থাকা) সংক্রান্ত অধ্যায়।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٥)
والسابع عشر باب في طلب العلم والثامن عشر باب في نشر العلم. والتاسع عشر باب في تلاوة القرآن وآدابها وغيره من فضولها. والعشرون باب في الطهارات. والحادي والعشرون باب في الصلوات. والثاني والعشرون باب في الصدقات. والثالث والعشرون باب في الصيام. والرابع والعشرون باب في الاعتكاف. والخامس والعشرون باب في المناسك. والسادس والعشرون باب في الجهاد. والسابع والعشرون باب في المرابطة في سبيل الله. والثامن والعشرون باب في الثبات للعدو عند الالتقاء. والتاسع والعشرون باب في أداء خمس المغنم. والثلاثون باب في العتق ووجه التقرب به إلى الله عز وجل. والحادي والثلاثون باب في الكفارات. والثاني والثلاثون باب في الإيفاء بالعهود. والثالث والثلاثون باب في تعديد نعم الله وما يجب من شكرها. والرابع والثلاثون باب في حفظ اللسان. والخامس والثلاثون باب في الأمانات وما يجب من أدائها إلى أهلها. والسادس والثلاثون باب في تحريم النفوس والجنايات عليها. والسابع والثلاثون باب في تحريم الفروج وما يجب من التعفف عنها. والثامن والثلاثون باب في تحريم أموال الناس وما يجب من التعفف عنها ودخل فيه القول في السرقة وقطع الطريق. والتاسع والثلاثون باب في المطاعم والمشارب وما يجب من التورع عنه منها. والأربعون باب في الملابس والزين والأواني وما يكره منها. والحادي والأربعون باب في تحريم الملاعب والملاهي. والثاني والأربعون باب في الاقتصاد في النفقة وتحريم أكل المال بالباطل. والثالث والأربعون باب في الحث على ترك الغل والحسد. والرابع والأربعون باب في تحريم أعراض الناس وما يلزم من ترك الرتع فيها. والخامس والأربعون باب في إخلاص العمل لله وتحريم الرياء. والسادس والأربعون باب في السرور بالحسنة والاغتمام بالسيئة. والسابع والأربعون باب في معالجة كل ذنب بالتوبة منه. والثامن والأربعون باب في القرابين والابانة عن معناها وغرضها والتاسع والأربعون باب في طاعة أولي الأمر بفضولها. والخمسون باب في التمسك بما عليه الجماعة. والحادي والخمسون باب في الحكم بين الناس وما يتشعب فيه من الكلام. والثاني والخمسون باب في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر. والثالث والخمسون باب في التعاون على البر والتقوى، ونصرة المظلوم وإغاثة اللهفان.
সতেরোতম অধ্যায়: ইলম অন্বেষণের ব্যাপারে। আঠারোতম অধ্যায়: ইলম প্রচারের ব্যাপারে। উনিশতম অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াত, এর আদবসমূহ এবং এর অন্যান্য ফযিলতের ব্যাপারে। বিশতম অধ্যায়: পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে। একুশতম অধ্যায়: নামাযের ব্যাপারে। বাইশতম অধ্যায়: সদকার ব্যাপারে। তেইশতম অধ্যায়: সিয়ামের ব্যাপারে। চব্বিশতম অধ্যায়: ইতিকাফের ব্যাপারে। পঁচিশতম অধ্যায়: হজ্জের কার্যাবলীর ব্যাপারে। ছাব্বিশতম অধ্যায়: জিহাদের ব্যাপারে। সাতাশতম অধ্যায়: আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারার ব্যাপারে। আটাশতম অধ্যায়: শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় অটল থাকার ব্যাপারে। উনত্রিশতম অধ্যায়: গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ আদায়ের ব্যাপারে। ত্রিশতম অধ্যায়: দাস মুক্তি এবং এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়ের ব্যাপারে। একত্রিশতম অধ্যায়: কাফফারার ব্যাপারে। বত্রিশতম অধ্যায়: প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার ব্যাপারে। তেত্রিশতম অধ্যায়: আল্লাহর নেয়ামতসমূহ গণনা করা এবং তার শুকরিয়া আদায়ের আবশ্যকতা সম্পর্কে। চৌত্রিশতম অধ্যায়: জিহ্বা হেফাজত করার ব্যাপারে। পঁয়ত্রিশতম অধ্যায়: আমানতসমূহ এবং তা হকদারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আবশ্যকতা সম্পর্কে। ছত্রিশতম অধ্যায়: জীবন সংহারের হারাম হওয়া এবং প্রাণের ওপর অপরাধের ব্যাপারে। সাইত্রিশতম অধ্যায়: লজ্জাস্থানের হারাম কার্যাবলী এবং তা থেকে বেঁচে থাকার আবশ্যকতা সম্পর্কে। আটত্রিশতম অধ্যায়: মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ হারাম হওয়া এবং তা থেকে বেঁচে থাকার আবশ্যকতা সম্পর্কে; যার মধ্যে চুরি ও ডাকাতি সংক্রান্ত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত। উনচল্লিশতম অধ্যায়: খাদ্য ও পানীয় এবং সেগুলোর মধ্যে যা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক সে সম্পর্কে। চল্লিশতম অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, অলংকার ও পাত্রসমূহ এবং সেগুলোর মধ্যে যা অপছন্দীয় সে সম্পর্কে। একচল্লিশতম অধ্যায়: ক্রীড়া-কৌতুক ও বাদ্যযন্ত্রের হারাম হওয়া সম্পর্কে। বিয়াল্লিশতম অধ্যায়: ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা এবং অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ হারাম হওয়া সম্পর্কে। তেতাল্লিশতম অধ্যায়: বিদ্বেষ ও হিংসা বর্জনের উৎসাহ প্রদানের ব্যাপারে। চুয়াল্লিশতম অধ্যায়: মানুষের মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হারাম হওয়া এবং তাতে লিপ্ত হওয়া বর্জন করার আবশ্যকতা সম্পর্কে। পঁয়তাল্লিশতম অধ্যায়: আল্লাহর জন্য আমল একনিষ্ঠ করা এবং লোকদেখানো ইবাদত হারাম হওয়া সম্পর্কে। ছেচল্লিশতম অধ্যায়: নেক কাজে আনন্দিত হওয়া এবং মন্দ কাজে ব্যথিত হওয়া সম্পর্কে। সাতচল্লিশতম অধ্যায়: তওবার মাধ্যমে প্রতিটি গুনাহের প্রতিকার করার ব্যাপারে। আটচল্লিশতম অধ্যায়: কুরবানি এবং এর অর্থ ও উদ্দেশ্য বর্ণনার ব্যাপারে। উনপঞ্চাশতম অধ্যায়: উলিল আমর বা শাসকবর্গের আনুগত্য ও এর ফযিলতসমূহ সম্পর্কে। পঞ্চাশতম অধ্যায়: জামাআতের আদর্শের ওপর অবিচল থাকার ব্যাপারে। একান্নতম অধ্যায়: মানুষের মধ্যে বিচার-ফয়সালা এবং এ সংক্রান্ত শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে। বাহান্নতম অধ্যায়: সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করার ব্যাপারে। তিপ্পান্নতম অধ্যায়: নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করা, মজলুমকে সাহায্য করা এবং বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করার ব্যাপারে।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٦)
والرابع والخمسون باب في الحياء بفضوله. والخامس والخمسون باب في بر الوالدين. والسادس والخمسون باب في صلة الأرحام. والسابع والخمسون باب في كظم الغيظ وحسن الخلق ولين الجانب والتواضع. والثامن والخمسون باب في الإحسان إلى المماليك. والتاسع والخمسون باب في حق السادة على المماليك. والستون باب في حقوق الأولاد والأهلين على الناس. والحادي والستون باب في مقاربة أهل الدين وموادتهم وإفشاء السلام فيهم. والثاني والستون باب في رد السلام. والثالث والستون باب في عيادة المريض. والرابع والستون باب في الصلاة على من مات من أهل القبلة. والخامس والستون باب في تشميت العاطس. والسادس والستون باب في مباعدة الكفار والمفسدين والغلظة عليهم. والسابع والستون باب في إكرام الجار. والثامن والستون باب في إكرام الضيف. والتاسع والستون باب في الستر على أصحاب القروف. والسبعون باب في الصبر على المصائب. والحادي والسبعون باب في الزهد وقصر الأمل. والثاني والسبعون باب في الغيرة والمذاء. والثالث والسبعون باب في الإعراض عن اللغو. والرابع والسبعون باب في الجود والسخاء. والخامس والسبعون باب في رحم الصغير وتوقير الكبير. والسادس والسبعون باب في الإصلاح بين الناس. والسابع والسبعون باب في أن يحب الرجل لأخيه المسلم ما يحب لنفسه، ويكره ما يكره لنفسه، ويدخل فيه إماطة الأذى عن الطريق.
ووجدت في القرآن عدة آيات تشمل كل واحدة منها على من هذه الشعب التي تقدم ذكرها، وفي الأخبار عن النبي صلى الله عليه وسلم مثلها، وجعلت لها بابا مفردا أفردتها فيه، وتكلمت على ما يحتاج منها إلى فضل إيضاح وشرح حتى ظهر وجهه، واستبان المراد منه بإذن الله تعالى. وقد كان بعض من ألف شعب الإيمان خرجها على تسعة وسبعين بابا، ووجدته عمد إلى شيء واحد اختلف العبارة عنه في الروايات، فأورده في بابين وعده شعبتين، وربما عمد إلى شيئين لا يتميزان ويجمعهما أصل واحد، فجعله شعبتين. وأخل مع ذلك ببعض ما أوردناه فلم يذكر أصلا، فكتبت بابا مفردا ذكرت فيه السبب الذي دعاني إلى تخريج هذه الشعب على سبعة وسبعين بابا. وبينت أن كل ما يظن
৫৪তম অধ্যায়: লজ্জাশীলতা ও এর অনুষঙ্গ সম্পর্কে। ৫৫তম অধ্যায়: পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ সম্পর্কে। ৫৬তম অধ্যায়: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা সম্পর্কে। ৫৭তম অধ্যায়: রাগ সংবরণ, উত্তম চরিত্র, নম্রতা ও বিনয় সম্পর্কে। ৫৮তম অধ্যায়: দাস-দাসীদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন সম্পর্কে। ৫৯তম অধ্যায়: দাস-দাসীদের ওপর মালিকের হক সম্পর্কে। ৬০তম অধ্যায়: মানুষের ওপর সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজনের হক সম্পর্কে। ৬১তম অধ্যায়: দ্বীনদার লোকদের সান্নিধ্য লাভ, তাদের প্রতি সৌহার্দ্য এবং তাদের মাঝে সালামের প্রচার সম্পর্কে। ৬২তম অধ্যায়: সালামের উত্তর প্রদান সম্পর্কে। ৬৩তম অধ্যায়: অসুস্থ ব্যক্তি পরিভ্রমণ সম্পর্কে। ৬৪তম অধ্যায়: আহলে কিবলার মধ্য থেকে মৃত ব্যক্তিদের জানাজা আদায় সম্পর্কে। ৬৫তম অধ্যায়: হাঁচিদাতার উত্তর প্রদান সম্পর্কে। ৬৬তম অধ্যায়: কাফের ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন সম্পর্কে। ৬৭তম অধ্যায়: প্রতিবেশীর সম্মান রক্ষা সম্পর্কে। ৬৮তম অধ্যায়: মেহমানের সম্মান ও আতিথেয়তা সম্পর্কে। ৬৯তম অধ্যায়: পাপাচারীদের দোষ গোপন রাখা সম্পর্কে। ৭০তম অধ্যায়: বিপদে ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে। ৭১তম অধ্যায়: যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা পরিহার করা সম্পর্কে। ৭২তম অধ্যায়: আত্মমর্যাদাবোধ এবং নির্লজ্জতা পরিহার সম্পর্কে। ৭৩তম অধ্যায়: অনর্থক বিষয়াদি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সম্পর্কে। ৭৪তম অধ্যায়: দানশীলতা ও উদারতা সম্পর্কে। ৭৫তম অধ্যায়: ছোটদের স্নেহ করা এবং বড়দের সম্মান করা সম্পর্কে। ৭৬তম অধ্যায়: মানুষের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে দেওয়া সম্পর্কে। ৭৭তম অধ্যায়: একজন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে, এবং যা নিজের জন্য অপছন্দ করে তা তার জন্য অপছন্দ করবে, আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।
আমি কুরআনে এমন বেশ কিছু আয়াত পেয়েছি যার প্রতিটি উপরে বর্ণিত ঈমানের শাখাগুলোর কোনো না কোনোটিকে অন্তর্ভুক্ত করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহেও অনুরূপ পাওয়া যায়। আমি এগুলোর জন্য একটি পৃথক অধ্যায় নির্ধারণ করেছি যেখানে আমি এগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছি এবং এগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর অধিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন ছিল সে বিষয়ে আলোচনা করেছি, যাতে এর স্বরূপ প্রকাশ পায় এবং আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে এর উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়ে যায়। যারা ঈমানের শাখাগুলো সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের কেউ কেউ একে উনআশিটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন। তবে আমি দেখেছি যে, তারা একই বিষয়কে যা বিভিন্ন বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন শব্দে এসেছে, তাকে দুটি ভিন্ন অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং দুটি শাখা হিসেবে গণ্য করেছেন। আবার কখনও তারা এমন দুটি বিষয় গ্রহণ করেছেন যা পরস্পর অবিচ্ছেদ্য এবং একই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, তবুও তারা সেগুলোকে দুটি আলাদা শাখা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এর পাশাপাশি তারা আমাদের বর্ণিত কিছু বিষয় বাদ দিয়েছেন এবং সেগুলো একেবারেই উল্লেখ করেননি। তাই আমি একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় লিখেছি যেখানে আমি এই শাখাগুলোকে সাতাত্তরটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করার কারণ উল্লেখ করেছি। এবং আমি স্পষ্ট করেছি যে, যা কিছু ধারণা করা হয়
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٧)
غيري أنه خارج من هذه الأبواب فهو ملتحق بها وداخل بالحقيقة في جملتها، واشتملت إلى وجه ذلك وأوضحته، فصارت جملة أبواب الكتاب اثني عشر، كل باب منها يجمع ما قصدته ووضع له إلا باب الشعب فإنه ينقسم إلى سبع وسبعين بابا كما تقدم بيانه.
وكان مما حدا بي على تأليف هذا الكتاب، ورغبتي في جمع ما جمعته فيه، خوفي على كثير بما ضمنته إياه من دقائق العلم وخباياه ولطائف الشرع وقضاياه بين أن يدثر ويعفو رسمه فلا يذكر لزوال الهم به عن الصدور، ووقوع الإعراض عنه من الجمهور، والاشتغال عن العلوم بالجملة بالتبقر في الأهل والمال، والتهافت في الحرام والحلال، والتنافس في رتب الدنيا والتغافل عن درج الأخرى، والانقياد لدواعي الهوى وإن قادتهم عناتا إلى الردى وتزحزح هيبة الله عز وجل عن القلوب لما ران عليها من ظلم المعاصي والذنوب، والميل في عامة الأمور إلى الحفظ والدعة، وانشراح الصدر بالجهل الذي هو أدرك منازل الضعة. وفساد النيات والدخل وفتور العزائم والهمم. فإن الحال لما آل إلى ما ذكرت، وتراجعت للتراجع الذي وصفت، صارت طاعة الله- تعالى جده- تقام فيما تدعو إليه الضرورات الحاصلة، وتترك فيما تحرك عليه المتوقعات الآجلة. وكان الهم بالعلم بقدر الهم بالعمل، فطلب منه ما يضطر إلى العمل به سبب عاجل، وهجر منه ما لا يحمل على استعماله في الوقت حامل. ولذلك وقع الاقتصار بعد تقادم العهد وتطاول الأيام من امتثال الشريعة على أبواب معدودة منها: استباحة المباحات كالتبسط في المكاسب والتوسع في المطاعم والمشارب، وإنالة النفس هواها من المناكح والملابس، إذ كانت الإباحة للهوى موافقة، وللشهوات والمني مطابقة. ومنها لزوم ما يجري من شرائع الدين مجرى الأعلام حتى لا يكاد المسلمون يتميزون عن غيرهم إلا بها كإقام الصلاة الخمس وصيام شهر رمضان وحج البيت، فإنهم لو أهملوها لالتحقوا في ظواهر ما يبدو للناس من أفعالهم بالذين لا يدينون دينهم ولا يعتقدون ملتهم، فكان القائم في نفس كل ذي دين، وراجع من معتقده إلى يقين من الميل إلى إظهار ما عنده، والكراهة من أن يظن به
এতদ্ব্যতীত এটি এই অধ্যায়গুলোর বাইরে মনে হলেও আসলে তা এগুলোর সাথে সংযুক্ত এবং প্রকৃতপক্ষে এগুলোরই অন্তর্ভুক্ত। আমি এর যৌক্তিক দিকটি এতে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং তা স্পষ্ট করেছি। ফলে গ্রন্থের মোট অধ্যায় সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বারোটি। প্রতিটি অধ্যায়ই সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে ধারণ করে যার জন্য তা বিন্যস্ত হয়েছে, কেবল ঈমানের শাখা সংক্রান্ত অধ্যায়টি ব্যতীত; কারণ এটি সাতাত্তরটি অধ্যায়ে বিভক্ত যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
এই গ্রন্থ রচনায় আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে এবং এতে যা কিছু আমি সংকলন করেছি তা সংগ্রহ করার যে আগ্রহ আমার জন্মেছে, তার কারণ হলো আমার এই ভয় যে—আমি এতে জ্ঞানের যে সূক্ষ্ম ও গোপন রহস্যসমূহ এবং শরীয়তের যে নিগুঢ় বিষয় ও বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছি—তা হয়ত বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং এর চিহ্ন মুছে যাবে। ফলে অন্তরে এগুলোর প্রতি গুরুত্ব না থাকা এবং সর্বসাধারণের বিমুখতার কারণে এগুলোর কথা আর আলোচিত হবে না। এছাড়া সামগ্রিকভাবে জ্ঞানচর্চা ছেড়ে দিয়ে পরিবার ও সম্পদের প্রাচুর্যে মগ্ন হওয়া, হারাম ও হালালের বাছবিচার না করে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়া, পার্থিব পদমর্যাদা নিয়ে প্রতিযোগিতা করা এবং পরকালের স্তরসমূহ সম্পর্কে উদাসীন থাকা, প্রবৃত্তির আহ্বানে আত্মসমর্পণ করা—যদিও তা তাদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়—এবং গুনাহ ও পাপাচারের অন্ধকারের প্রলেপ পড়ে অন্তর থেকে মহান আল্লাহর ভয় ও মহিমা দূর হয়ে যাওয়া, সাধারণ বিষয়ে আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতার দিকে ঝুঁকে পড়া এবং অজ্ঞতা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা—যা নীচতার নিম্নতম স্তর—এসবই আমাকে শঙ্কিত করেছে। সেই সাথে নিয়তের কলুষতা, অন্তরের মালিন্য এবং সংকল্প ও হিম্মতের শিথিলতাও এর কারণ। কেননা পরিস্থিতি যখন আমি যা উল্লেখ করেছি সেই পর্যায়ে উপনীত হলো এবং যে অবনতির কথা আমি বর্ণনা করেছি তা দেখা দিল, তখন আল্লাহ তাআলার—তাঁর মাহাত্ম্য সুউচ্চ—আনুগত্য কেবল সেই সব ক্ষেত্রেই পালন করা হতে লাগল যেখানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন দেখা দেয়, আর সেই সব বিষয় বর্জন করা হলো যা ভবিষ্যতের প্রত্যাশার সাথে সংশ্লিষ্ট। জ্ঞানের প্রতি গুরুত্ব কেবল আমলের গুরুত্বের পরিমাণ অনুযায়ী হয়ে গেল। ফলে জ্ঞানের মধ্যে কেবল ততটুকুই অন্বেষণ করা হতে লাগল যার ওপর আমল করতে তাৎক্ষণিক কোনো কারণ বাধ্য করে, আর যা সেই মুহূর্তে ব্যবহারের জন্য কোনো চালিকাশক্তি নেই তা বর্জন করা হলো। এই কারণে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এবং কালপরিক্রমায় শরীয়ত পালনের বিষয়টি কেবল গুটিকয়েক অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল: যেমন বৈধ বিষয়গুলোর সুযোগ গ্রহণ করা, যেমন উপার্জনে প্রসারতা আনা এবং পানাহারে বিলাসিতা করা, এবং বিবাহ ও পোশাকের ক্ষেত্রে নফসের কামনা পূরণ করা; যেহেতু বৈধতা প্রবৃত্তির অনুকূল এবং তা কামনা ও বাসনার সাথে সংগতিপূর্ণ। আর এর মধ্যে রয়েছে দ্বীনের সেই সব বিধানের ওপর অটল থাকা যা নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়, এমনকি সেগুলো ছাড়া মুসলমানদের অন্যদের থেকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে; যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করা, রমজান মাসের সিয়াম পালন করা এবং বাইতুল্লাহর হজ করা। কারণ তারা যদি এগুলোও অবহেলা করত, তবে মানুষের সামনে তাদের বাহ্যিক কর্মকাণ্ডের বিচারে তারা সেই সব লোকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত যারা তাদের দ্বীন অনুসরণ করে না এবং তাদের আদর্শে বিশ্বাস করে না। ফলে প্রত্যেক দ্বীনদার ব্যক্তির অন্তরে যা অবশিষ্ট ছিল এবং তার বিশ্বাসে যা ধ্রুব সত্য হিসেবে বিদ্যমান ছিল, তা হলো তার কাছে যা আছে তা প্রকাশ করার প্রতি আগ্রহ এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করাকে অপছন্দ করা...
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٨)
ما يخالف عقده هو الحامل لهم على إقامة هذه الطاعات، والتمسك بها من بين أصناف العبادات.
ومنها القيام بما إن أهملوه لم يحتملوا ولاة الأمور عليه، نحو الزكاة التي تلزمهم في مواشيهم وزرعهم وكرومهم وما يظهر من أموالهم، فإنهم لو منعوها لأخذت منهم قهرا، أو انتزعت من أيديهم جبرا، ونحو اجتناب الكبائر التي بها الحدود. فإن السلطان قائم بأمر الله تعالى جده على كل نفس بما كسبت تردعها عن السيئات وتحول بينهما وبين الموبقات، فمن واحد يقتله، وآخر يقطعه، وثالث يجلده، ورابع يجبسه، وخامس ينفيه ويعذبه، ولولا ذلك لانهمكوا في هذه الجنايات انهماكهم فيما لا حد له فيه من أصناف الخطيات، ولهذا قال بعض السلف: "ما يزع السلطان أكثر مما يزع القرآن "، وقيل: لابد للناس من وزعه، وهم الولاة وعمالهم لأنه لولا مكانهم لأكل الناس بعضهم بعضا، وعطلت الحقوق وانتهكت الحرمات، فعم الصلاح بمكانهم واعتدل النظام بحسن قيامهم.
ومنها إعراضهم عن الحرمات التي لا يشتهونها ولا تميل إليها قلوبهم، وتنكرها نفوسهم كلحم الخنزير والميتة والدم ونكاح الأم والبنت والأخت فإن كل غرض يكون لأكل لحم الخنزير في أكله فهو حاصل له في غيره ولا فائدة في لذة أو منفعة تكون فيه إلا ومثلها أو أكثر منها موجود في اللحوم المحللة، ثم إنها على كثرتها واختلاف طعومها تزيح علة القرم، وتقضي شهوة المطعم، فلا يبقى معها إلى لحم الخنزير حاجة، ولا نفع إليه ضرورة، وأما الميتة والدم فإنهما لخبثهما ورجاستهما لا يشتهيان، ولو كانا محللين لكانا يتركان، فكيف وهما محظوران ومحرمان! وأما نكاح المحارم فإن في القلوب النفار منه والكراهة له لما فيه من هتك الحرمة ومجانبة الحياء والشبه بالبهائم.
তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো কাজ করার ভয়ই তাদেরকে এই আনুগত্যগুলো পালনে এবং বিভিন্ন ইবাদতের মধ্য থেকে এগুলোকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে।
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো এমন সব দায়িত্ব পালন করা, যা অবহেলা করলে তারা শাসকবর্গের চাপ সহ্য করতে পারবে না। যেমন গবাদি পশু, শস্য, আঙুর বাগান এবং তাদের দৃশ্যমান সম্পদের ওপর অর্পিত জাকাত। কারণ তারা যদি তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তা তাদের থেকে বলপূর্বক গ্রহণ করা হবে অথবা তাদের হাত থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কেড়ে নেওয়া হবে। অনুরূপভাবে সেই সব কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা, যেগুলোর জন্য দণ্ডবিধি নির্ধারিত রয়েছে। কেননা মহান আল্লাহ—যাঁর মাহাত্ম্য সুউচ্চ—তাঁর নির্দেশে সুলতান প্রতিটি ব্যক্তির কৃতকর্মের ওপর কড়া নজর রাখেন যেন তাকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা যায় এবং তার ও ধ্বংসাত্মক কাজের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যায়। ফলে তিনি কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেন, কাউকে অঙ্গচ্ছেদ করেন, কাউকে বেত্রাঘাত করেন, কাউকে কারারুদ্ধ করেন এবং কাউকে নির্বাসিত বা শাস্তি প্রদান করেন। যদি এটি না থাকত, তবে তারা এই অপরাধগুলোতে সেভাবেই মগ্ন থাকত যেভাবে তারা সেই সব পাপে মগ্ন থাকে যেগুলোর কোনো নির্ধারিত দণ্ড নেই। এই কারণেই কোনো কোনো পূর্বসূরি বলেছেন: "কুরআন যা দিয়ে মানুষকে বিরত রাখতে পারে না, শাসক তার চেয়েও বেশি মানুষকে বিরত রাখেন।" আরও বলা হয়েছে: মানুষের জন্য শাসনকর্তা বা নিয়ন্ত্রণকারী থাকা অপরিহার্য, আর তারা হলো শাসকগোষ্ঠী ও তাদের কর্মচারীগণ। কারণ তারা না থাকলে মানুষ একে অপরকে খেয়ে ফেলত, অধিকারসমূহ বিলুপ্ত হতো এবং পবিত্র বিষয়গুলোর অবমাননা করা হতো। সুতরাং তাদের উপস্থিতির কারণেই কল্যাণ ব্যাপকতা লাভ করেছে এবং তাদের সুযোগ্য পরিচালনার ফলে শৃঙ্খলা সুসংহত হয়েছে।
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো এমন সব নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিমুখ থাকা যা তারা কামনা করে না, তাদের অন্তর যেগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয় না এবং তাদের মন যা ঘৃণা করে। যেমন শূকরের মাংস, মৃত প্রাণী, রক্ত এবং মা, কন্যা ও বোনের সাথে বিবাহ। কেননা শূকরের মাংস খাওয়ার পেছনে যে উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন, তা অন্য কিছুর মাধ্যমেও পূরণ সম্ভব। এতে এমন কোনো স্বাদ বা উপকার নেই যা হালাল মাংসগুলোতে সমানভাবে বা তার চেয়েও অধিক পরিমাণে বিদ্যমান নেই। তদুপরি, হালাল মাংসের বৈচিত্র্য ও স্বাদের ভিন্নতা মাংসের তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর করে এবং ভোজনের চাহিদা মিটিয়ে দেয়; ফলে শূকরের মাংসের প্রতি কোনো প্রয়োজন বা বাধ্যবাধকতা অবশিষ্ট থাকে না। আর মৃত প্রাণী ও রক্তের বিষয় হলো, তাদের অপবিত্রতা ও নোংরামির কারণে সেগুলো স্বভাবজাতভাবেই অরুচিকর। সেগুলো যদি হালালও হতো, তবুও মানুষ তা বর্জন করত; তাহলে সেগুলো নিষিদ্ধ ও হারাম হওয়া সত্ত্বেও কেন নয়! আর মাহরামদের সাথে বিবাহের ক্ষেত্রে অন্তরে এক ধরনের বিতৃষ্ণা ও ঘৃণা বিদ্যমান থাকে, কারণ এতে পবিত্রতার অবমাননা ঘটে, লজ্জাশীলতা বিসর্জিত হয় এবং চতুষ্পদ জন্তুর সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয়।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٩)
فصارت الشريعة في هذه الأبواب لموافقتها الأهواء مستعملة، كما صارت في المباحثات لمثل هذا السبب ممثلة، ولولا أن ذلك كذلك، لترك من شرب الخمور ما ترك من لحم الخنزير، ومن الزنا بالأجنبيات ما هجر من نكاح المحارم والقرابات. فعلمنا أن ما اتبع من هذه الشرائع قلما حمل على اتباعها من الدواعي التي بيناها.
ومنها التعامل بالعقود والمحافظة فيها على الحدود، وذلك أن أحدهم لا يقضي عن صاحبه فيما يجب له من حق عليه، ومن اعتدى على آخر في نفس أو مال لم يمسك الآخر عنه، حتى يرافعه إلى سلطانه أو قاضي بلده، فأخذ على يده، وأنصف المظلوم من ظالمه، فصاروا لذلك يتبايعون ويتواهبون ويتكارون ويتعاقدون العقود المشروعة ويذرون الغصب والاختلاس والنهب في الأمر الأكثر، والأعم الأغلب، لمعرفتهم بما يلحقهم فيها من التبعات، ويؤيدهم إليه عقباها من المثلات، ثم قد يتفق خلال ذلك من ذوي الجهالة والسفالة هنات وزلات يئتون فيها من الاعتزاز بأنهم عسى لا يلحقون، ولا يقدر عليهم فيؤاخذون، فتجترئ على ذلك قلوبهم، وتقوى في الشر عزائمهم، وأما من غلب الخوف على قلبه وصار الاحتراز من همه، فما أقل ما تقع منه هذه الأمور، ولهذا صار الطريق المخوف إذا نقص بعضه، أمن الناس فيه مدة، ولم يعرض المكروه فيه إلا ندره. فلولا الردع من الفساد هو ما يخشى من الإنكار الوحي لاستوت الأحوال، وما ارتدع في كل وقت الجهال، ولولا أن ما وصفنا استعمال الناس له من الشرائع بعد انقراض عصري النبوة والخلافة، جاز في الأصل الذي ذكرت لهم استعمالهم أبواب الشريعة كلها دقيقها وجليلها، ولم يشذ عنهم منها إلا ما لم يبلغهم عنه خبر، ولم يأتهم ببيانه أثر، لأن من عمل من أمرين خوطب بهما أحدهما وترك الأخر مع تمكنه منه، واقتداره عليه، فقد أشعر أن عمله لم يكن لمجرد الأمر لكن لداعية (سوء) دعته إليها، ولولا ذلك لما كان فعله ما فعل أولى به من فعل ما ترك، ولا تركه ما ترك أولى به من ترك ما فعل، وما ينبغي أن يكون هذا بكذا مع تجلي آيات الله تعالى جده
ফলে এই অধ্যায়গুলোতে শরীয়ত প্রবৃত্তির অনুকূলে হওয়ার কারণে চর্চিত হয়েছে, যেমনটি একই কারণে তাত্ত্বিক আলোচনায় তা দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যদি বিষয়টি এমন না হতো, তবে মদ পানকারী ব্যক্তি তা বর্জন করত যেভাবে সে শূকরের মাংস বর্জন করে, আর পরনারীর সাথে ব্যভিচারকারী ব্যক্তি তা পরিহার করত যেভাবে সে মাহরাম ও নিকটাত্মীয়দের সাথে বিবাহ পরিহার করে। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, এই শরয়ী বিধানগুলোর মধ্যে যা অনুসরণ করা হয়েছে, তা অনুসরণের পেছনে খুব কম ক্ষেত্রেই সেই কারণগুলো কাজ করেছে যা আমরা বর্ণনা করেছি।
এর মধ্যে রয়েছে চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন এবং তাতে সীমারেখা রক্ষা করা। তা এই কারণে যে, তাদের কেউ তার সাথীর ওপর নিজের যে হক বা পাওনা রয়েছে তা স্বেচ্ছায় পরিশোধ করে না। আর যে ব্যক্তি অন্যের জীবন বা সম্পদের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, অপরজন তার থেকে নিবৃত্ত হয় না যতক্ষণ না সে তাকে শাসকের কাছে বা অঞ্চলের বিচারকের কাছে নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি তাকে পাকড়াও করেন এবং অত্যাচারীর কাছ থেকে অত্যাচারিতকে ইনসাফ পাইয়ে দেন। তাই তারা এই কারণে ক্রয়-বিক্রয় করে, একে অপরকে দান করে, ভাড়ায় আদান-প্রদান করে এবং শরীয়তসম্মত চুক্তিসমূহ সম্পাদন করে; আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ও সাধারণত জবরদখল, আত্মসাৎ এবং লুণ্ঠন বর্জন করে। কারণ তারা এর ফলে যে পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে তা জানে এবং এর অশুভ পরিণাম হিসেবে যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে তা তাদের সঠিক পথে থাকতে উদ্ধুদ্ধ করে। অতঃপর এর মাঝে মূর্খ ও নীচ লোকদের থেকে কিছু বিচ্যুতি ও স্খলন ঘটে যেতে পারে, যা তারা এই দম্ভ থেকে করে থাকে যে—সম্ভবত তাদের পাকড়াও করা হবে না বা তাদের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে না ফলে তাদের জবাবদিহি করতে হবে না। ফলে তাদের অন্তর এসব কাজে সাহসী হয়ে ওঠে এবং মন্দের প্রতি তাদের সংকল্প দৃঢ় হয়। আর যার অন্তরে ভয় প্রবল হয় এবং সতর্কতা অবলম্বন করা যার প্রধান চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তার থেকে এ জাতীয় বিষয় খুব কমই প্রকাশ পায়। এই কারণেই কোনো ভীতিসঙ্কুল পথের বিপদ যখন কিছুটা কমে যায়, মানুষ সেখানে কিছুকাল নিরাপদ বোধ করে এবং খুব কম ক্ষেত্রেই সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। সুতরাং ফাসাদ বা বিপর্যয় থেকে বাধা প্রদানকারী বিষয়টি যদি ওহীর অস্বীকৃতির ভয় না হতো, তবে সকল অবস্থা সমান হয়ে যেত এবং মূর্খরা সব সময় নিবৃত্ত হতো না। নবুয়ত ও খিলাফতের যুগ শেষ হওয়ার পর মানুষের শরীয়ত ব্যবহারের যে বর্ণনা আমরা দিয়েছি তা যদি না থাকতো, তবে তাদের জন্য বর্ণিত মূলনীতির ভিত্তিতে শরীয়তের ছোট-বড় সকল অধ্যায় অনুসরণ করা আবশ্যক হতো এবং তাদের থেকে এর কোনো কিছুই বাদ পড়ত না—কেবল তা ব্যতীত যার কোনো খবর তাদের কাছে পৌঁছেনি বা যার বর্ণনায় কোনো আসার আসেনি। কারণ যে ব্যক্তি দুটি আদেশের মধ্যে একটির ওপর আমল করল এবং অপরটি সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বর্জন করল, সে মূলত বুঝিয়ে দিল যে তার আমলটি নিছক আদেশের কারণে ছিল না, বরং তা ছিল কোনো (মন্দ) প্রবৃত্তির কারণে যা তাকে সেদিকে আহ্বান করেছে। তা না হলে সে যা করেছে তা করা, যা সে বর্জন করেছে তা করার চেয়ে অগ্রাধিকার পেত না; আর যা সে বর্জন করেছে তা বর্জন করা, যা সে করেছে তা বর্জন করার চেয়ে অগ্রাধিকার পেত না। আর মহান আল্লাহ—তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ—তাঁর নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট হওয়ার পর এমনটি হওয়া সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
لبصائر العقلاء ووجوب حقوقه في معارف العلماء، بل الأمر اللازم والفرض الواجب أن يجعل المؤمن أمانة الله أمامه، وطاعة الله منهاجه، فلا يفعل الخير إلا إعظاما لأمره، ولا يدع الشر إلا إذعانا لنهيه. ولقد استقصر كثير من العلماء من يفعل الخير رغبة في الثواب، ويدع الشر خيفة من العقاب، وشبهوه بعبد السوء الذي لا يخدم مولاه إلا طمعا في نعمته وتحرزا وتخوفا من سطوته، وبالحمار البليد الذي لا ينساق حيث يساق إلا بالضرب والإرهاق، وإن كانوا لا يختلفون في أن الرجاء والخوف قدما صدق ومنزلتا حق عند الله جل ثناؤه. وإنما ذهبوا في ذلك إلى أن الله تعالى جده وإن كان أطمع وحذر ووعد وأوعد بأنه تبارك وتعالى لو أمر ونهى ولم يضمم إلى الأمر وعدا ولا إلى النهي وعيدا، لكانت الطاعة له واجبة، والمعصية محذورة، كما قال عمر رضي الله عنه لصهيب: "نعم المرء صهيب، لو لم يخف الله لم يعصه". فثبت أن الثواب والعقاب زيادتان واقعتان بعد لزوم الفرض، العبد بعبودته، وارتهان حقوق الله تعالى جده لرقبته، فالأليق به إذا والألزم له أن يؤدي ما عليه من طاعة، وينتهي عما ليس إليه عبودة، ثم يكون رجاؤه الثواب إذا أطاع، وخوفه العقاب إن عصى للبقية بوعد الله ووعيده، لا لمعنى سواهما فيتباديا منه إيمانا ويكتبا له برا وإحسانا، لا سببا حاصلا على أداء اللوازم، والانتهاء عن المعاصي والمحارم، وإذا كان هذا فيمن وصفنا كما بيناه، فكيف بمن لا يخطر بقلبه من وعد الله ووعيده خاطر، ولا يزجره عن سوئهم به من هيبة الله زاجر، وإنما أمامه الهوى أو الضرورة أو خوف الاقران أو نهب السلطان أو حذر القيل والقال، فإذا انتهى إلى ما خلاه الله تعالى فيه وأمانته، ولم ينصب عليه قيما، ولم يقيض له به مطالبا، ولم يجعل له فيه مخاصما، ولم يخش أن يرفع فيه إلى وال أو قاض، نبذه وراء ظهره، وأعرض عنه إعراض من لا يحفل به، ونسب من يأخذ نفسه به إلى التصنع أو سخر منه كما يسخر من الهازل المتلعب، أما يستحق أن يكون مثله مثل العبد السيئ والحمار السيئ، كلا أنه أسوأ حالا منهما، لأن العبد إنما يدري طاعة مثله، والحمار جاهل بصاحبه لا علم له به وحقه. فأما من تقدم وصفه فإنما يدع طاعة ربه ويضيع حق
বুদ্ধিমানদের অন্তর্দৃষ্টির জন্য এবং আলেমদের জ্ঞানের মধ্যে আল্লাহর হকের অপরিহার্যতা বজায় রাখার জন্য; বরং আবশ্যকীয় বিষয় এবং ধার্যকৃত ফরজ হলো এই যে, মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর আমানতকে নিজের সামনে রাখবে এবং আল্লাহর আনুগত্যকে নিজের পথ বানাবে। ফলে সে আল্লাহর আদেশের মহত্ত্বের কারণেই কেবল কল্যাণকর কাজ করবে এবং তাঁর নিষেধের প্রতি আনুগত্যবশতই মন্দ কাজ বর্জন করবে। অনেক আলেম সেই ব্যক্তিকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করেছেন যে সওয়াবের আশায় নেক কাজ করে এবং শাস্তির ভয়ে মন্দ কাজ বর্জন করে। তারা তাকে সেই মন্দ দাসের সাথে তুলনা করেছেন যে তার মূর্তিবর্তার নেয়ামতের লোভে এবং তার প্রতাপ থেকে বেঁচে থাকার ভয়ে ছাড়া সেবা করে না; এবং সেই নির্বোধ গাধার সাথে তুলনা করেছেন যাকে প্রহার ও কষ্ট দেওয়া ছাড়া যেদিকে নেওয়া হয় সেদিকে যায় না। যদিও তারা এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না যে, মহান আল্লাহর নিকট আশা ও ভয় হলো সত্যের দুটি কদম এবং হকের দুটি মাকাম। তারা এ বিষয়ে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, মহামহিম আল্লাহ যদিও সওয়াবের আশা দেখিয়েছেন, সতর্ক করেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ধমক দিয়েছেন, তবুও তিনি যদি আদেশ ও নিষেধ করতেন এবং আদেশের সাথে কোনো প্রতিশ্রুতি আর নিষেধের সাথে কোনো ধমক যুক্ত না করতেন, তাহলেও তাঁর আনুগত্য ওয়াজিব এবং অবাধ্যতা বর্জনীয় হতো। যেমন ওমর (রা.) সুহাইব (রা.) সম্পর্কে বলেছিলেন: "সুহাইব কতই না উত্তম মানুষ, যদি সে আল্লাহকে ভয় না-ও করত, তবুও তাঁর অবাধ্য হতো না।" সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, সওয়াব ও আজাব হলো অতিরিক্ত বিষয় যা ফরজ অপরিহার্য হওয়ার পর সাব্যস্ত হয়; আর বান্দা তার দাসত্বের কারণে এবং তার ঘাড় মহান আল্লাহর হকের কাছে দায়বদ্ধ হওয়ার কারণে তা পালনে বাধ্য। অতএব, তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং আবশ্যক হলো তার ওপর অর্পিত আনুগত্য পালন করা এবং যে বিষয়ে সে দাস হিসেবে আদিষ্ট নয় তা থেকে বিরত থাকা। এরপর সে যখন আনুগত্য করবে তখন সওয়াবের আশা রাখবে এবং যখন অবাধ্য হবে তখন শাস্তির ভয় করবে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও ধমকের কারণে, অন্য কোনো কারণে নয়। যাতে এই আশা ও ভয় তার পক্ষ থেকে ঈমান হিসেবে প্রকাশ পায় এবং তার জন্য পুণ্য ও ইহসান হিসেবে লিখিত হয়; কেবল আবশ্যকীয় কাজ পালন এবং গুনাহ ও হারাম বর্জনের নিয়ামক হিসেবে নয়। আমরা যাদের বর্ণনা করলাম তাদের অবস্থা যদি এমন হয়, তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যার অন্তরে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও ধমক সম্পর্কে কোনো চিন্তাই উদয় হয় না এবং আল্লাহর গাম্ভীর্য যাকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে না? বরং তার সামনে থাকে কেবল প্রবৃত্তি বা প্রয়োজন অথবা সমসাময়িকদের ভয় অথবা সুলতানের দণ্ড কিংবা লোকনিন্দার ভয়। ফলে যখন সে এমন নির্জন অবস্থায় উপনীত হয় যেখানে আল্লাহ তাকে ও তার আমানতকে ছেড়ে দিয়েছেন, তার ওপর কোনো তদারককারী নিযুক্ত করেননি, তার কাছে কোনো দাবিদার পাঠাননি, তার জন্য কোনো বিবাদী রাখেননি এবং সে কোনো শাসক বা বিচারকের কাছে সোপর্দ হওয়ার ভয়ও করে না, তখন সে সেই আমানতকে পিঠের পেছনে ছুড়ে ফেলে দেয়। সে তার থেকে এমনভাবে বিমুখ হয় যেন তার কোনো পরোয়াই নেই। আর যে ব্যক্তি নিজেকে এর ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখে তাকে সে কৃত্রিমতা বা লোকদেখানো বলে অভিহিত করে অথবা তাকে নিয়ে এমনভাবে উপহাস করে যেমনটি কোনো তামাশাকারীকে নিয়ে করা হয়। সে কি এই উপযুক্ত নয় যে তার উদাহরণ হবে সেই মন্দ দাস এবং মন্দ গাধার মতো? বরং সে তো এই দুইয়ের চেয়েও অধম। কারণ দাস তো কেবল তার মতো একজনের আনুগত্য বোঝে, আর গাধা তো তার মালিক সম্পর্কে অজ্ঞ, তার এবং তার হক সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই। কিন্তু যার বর্ণনা পূর্বে দেওয়া হয়েছে, সে তো তার রবের আনুগত্য বর্জন করছে এবং তাঁর হক নষ্ট করছে...
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ١١)
خالقه، ولعل بعض المنهمكين في المعاصي خير منه في بعض المعاصي، لأنه إن لم يخف الله تعالى جده لم يخف من دونه، ومن كانت طاعته من أحد الوجوه التي تقدم ذكرها لا يخاف الله ويخاف من دونه، ومن لا يقدم أحدا على الله في حذره أمثل حالا ممن يقدم خلق الله على الله في بره. فأما حال هؤلاء المذكورين في الشغل بعلم الدين فسوف يقرب من حالهم في العمل بشرائعه، لأنهم إذا خصوا بالعمل أياما بأعيانها خصوها كذلك بطلب علمها، وأما ما خرج من جملتها مما يدخل في جملة الأبواب التي كتبناها في شعب الإيمان وتوخينا شرح ما فيها مما تيسر من البيان ومما يرجع إلى علم القرآن تفسيره وتأويله ومحكمه ومتشابهه وناسخه ومنسوخه، وعلم السنن مستفيضها وشاذها، وموصولها ومقطوعها، ومسندها وموقوفها، ومختلفها ومتفقها، وعلم الاجماع والاختلاف، واللسان الذي نزل به القرآن، وجاءت به السنن والآثار، فإن الأكثرين عنه معرضون، ولم قد يستغنى عنه في أغلب الأحوال عليه مؤثرون. قد رضوا في التوحيد لأنفسهم بمحض التقليد وعابوا الذين جاهدوا أعداء الله تعالى جده فيه، بالكلام الذي يقصر عنه نوافد الهام، والجدال الذي لا يبلغ شأوه شديد القتال، حتى أقاموا قناة الدين، وهدموا بنيان الملحدين، وبلغوا في نصرة الإسلام وأمانة ما نصب الله عليه من الأعلام ما لم تقارب ملي ولا معطل في نصرة قوله مقداره، ولم يبلغ في تأييده والدفع عنه معشاره، وما تركوا لمخالفيهم حجة إلا أدحضوها، ولا علة إلا نقضوها، ولا شبهة إلا جلوها، فليس لهم اليوم بحمد الله كلام يروع مؤمنا، أو يشكل موقنا، وما يخلفهم عن الدخول في دين الله إلا العناد وحب الفساد. ثم إن هؤلاء الموفقين لنصرة الله، القائمين بحق هذه الدعوة ما خصموا أضدادهم إلا بالقرآن وبما أودعه الله تعالى من البيان إلا أنهم لم يقنعوا بعلم ما ظهر منه وتجلى دون الإحاطة بما يظن منه واختفى، ولا بالوقوف على ما يتلى من تنزيله، دون الوصول إلى ما يدل من تأويله، فصرفوا عظم همهم إليه، وقصروا جل شغلهم عليه. حتى أدركوا حقائق ما جاءهم به الرسول، واستبان لهم من قبلها الصحيح والمعلول، وجدوا بعد ذلك واجتهدوا وقرروا مما عرفوا لكل شبهة مدفعا ومن كل معضلة مخرجا، فمن فارقهم في علن ما نزل من القرآن، في هذا العظيم من الشأن، كان لمعظم القرآن هاجرا،
তাঁর সৃষ্টিকর্তা; সম্ভবত পাপাচারের ক্ষেত্রে নিমগ্ন কেউ কেউ তাঁর চেয়ে উত্তম, কারণ সে যদি মহান আল্লাহকে ভয় না করে, তবে সে অন্য কাউকেও ভয় করে না। আর যার আনুগত্য ইতিপূর্বে উল্লিখিত দিকগুলোর কোনো একটি থেকে হয়, সে আল্লাহকে ভয় পায় না বরং অন্যকে ভয় পায়। যে ব্যক্তি তার সতর্কতার ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর কাউকে প্রাধান্য দেয় না, সে সেই ব্যক্তির চেয়ে উন্নত অবস্থায় রয়েছে যে তার নেক কাজে আল্লাহর সৃষ্টির ওপর আল্লাহকে প্রাধান্য দেয়। আর দ্বীনি ইলমে মশগুল থাকা উল্লিখিত ব্যক্তিদের অবস্থা শরীয়তের বিধি-বিধান পালনের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থার কাছাকাছি। কারণ তারা যদি আমলের জন্য সুনির্দিষ্ট দিনগুলোকে নির্দিষ্ট করে নেয়, তবে তারা সেই আমলের ইলম অর্জনের জন্যেও সেগুলোকে নির্দিষ্ট করে। আর এই সীমানার বাইরে যা রয়েছে এবং যা আমরা ঈমানের শাখাগুলোর (শুআবুল ঈমান) অধ্যায়সমূহে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং যা কিছু আমরা সহজবোধ্য বর্ণনার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি—যা কুরআনের ইলম, এর তাফসীর, মর্মার্থের ব্যাখ্যা, সুষ্পষ্ট ও অস্পষ্ট আয়াত, এবং নাসিখ ও মানসুখ সংশ্লিষ্ট; এবং সুন্নাহর ইলম যা বহুল বর্ণিত, বিরল, অবিচ্ছিন্ন, বিচ্ছিন্ন, সনদযুক্ত, সাহাবীদের বক্তব্যে শেষ হওয়া বর্ণনা এবং হাদিসের মতপার্থক্য ও মিল সম্পর্কিত; এছাড়া ঐকমত্য ও মতভেদের ইলম এবং সেই ভাষা যার মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যার মাধ্যমে সুন্নাহ ও পূর্ববর্তীদের বর্ণনা এসেছে—অধিকাংশ মানুষ তা থেকে বিমুখ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া সম্ভব, তাকেই তারা প্রাধান্য দেয়। তারা তাওহীদের ক্ষেত্রে নিছক অন্ধ অনুসরণ নিয়েই সন্তুষ্ট রয়েছে এবং মহান আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে যারা ইলমে কালামের মাধ্যমে সংগ্রাম করেছেন, তাদের তারা দোষারোপ করেছে; এমন বক্তব্য যা তীক্ষ্ণ মেধারও অগম্য এবং এমন বিতর্ক যা প্রবল যুদ্ধেরও ঊর্ধ্বে। শেষ পর্যন্ত তারা দ্বীনের স্তম্ভকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং নাস্তিকদের ভিত্তি ধূলিসাৎ করেছেন। ইসলামের সাহায্যার্থে এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত নিদর্শনসমূহের আমানত রক্ষায় তারা এমন স্তরে পৌঁছেছেন যার সমপরিমাণ কোনো ধর্মাবলম্বী বা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী নিজ মতবাদের সমর্থনে পৌঁছাতে পারেনি এবং তার সমর্থনে ও প্রতিরক্ষায় এর দশমাংশও অর্জন করতে পারেনি। তারা তাদের বিরোধীদের জন্য এমন কোনো দলিল বাকি রাখেননি যা তারা খণ্ডন করেননি, এমন কোনো ত্রুটি রাখেননি যা তারা রদ করেননি এবং এমন কোনো সংশয় রাখেননি যা তারা উন্মোচিত করেননি। সুতরাং আল্লাহর প্রশংসায় আজ তাদের কাছে এমন কোনো কথা নেই যা কোনো মুমিনকে আতঙ্কিত করবে বা কোনো সুনিশ্চিত বিশ্বাসী ব্যক্তির মনে সংশয় সৃষ্টি করবে। কেবল হঠকারিতা ও অনিষ্টের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই তাদের আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে না। অতঃপর আল্লাহর সাহায্যে ধন্য এই সফল ব্যক্তিগণ, যারা এই দাওয়াতের হক আদায় করছেন, তারা কুরআন এবং আল্লাহ প্রদত্ত বর্ণনাশৈলী ব্যতিরেকে তাদের প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেননি। তবে তারা কেবল বাহ্যিক ও প্রকাশিত ইলম নিয়েই তুষ্ট থাকেননি যতক্ষণ না তারা এর অন্তর্নিহিত ও অপ্রকাশিত বিষয়গুলো আয়ত্ত করেছেন; আর তারা কেবল তিলাওয়াতকৃত ওহীর ওপর স্থবির থাকেননি যতক্ষণ না এর মর্মার্থের গভীরতায় পৌঁছেছেন। ফলে তারা তাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ এদিকেই নিবিষ্ট করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ কর্মতৎপরতা এর ওপরই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। অবশেষে তারা রাসূলের আনীত সত্যের হাকীকত অনুধাবন করেছেন এবং তার মাধ্যমে তাদের কাছে সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে গেছে। এরপর তারা প্রচেষ্টা ও গবেষণা চালিয়েছেন এবং তাদের অর্জিত ইলম থেকে প্রতিটি সংশয়ের জবাব এবং প্রতিটি জটিলতার সমাধান স্থির করেছেন। সুতরাং এই মহান বিষয়ে অবতীর্ণ কুরআনের প্রকাশ্য জ্ঞান থেকে যে ব্যক্তি তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, সে যেন কুরআনের অধিকাংশ অংশকেই পরিত্যাগ করল।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وإن كان بما عداه يصير خابرا، لأن آيات الأعلام في كتاب الله أكثر من آيات الأحكام. وقد ذم الله تعالى وجل ثناؤه {الذين جعلوا القرآن عضين، وأقسم ليسألنهم أجمعين: عما كانوا يعملون}، فكيف يسع عاقلا أن يحتذي حذو مسئول في القيامة ملوم، أو موبخ فيها مذموم. وكما نزل القرآن بالأعلام والأحكام، فكذلك قد نزل بالآداب ومكارم الأخلاق، والإنابة عن حقائق العبودة التي تلزم المكلفين أن يأخذوا بها أنفسهم فيكونوا لله داخرين. وفصلت السنة، ولخصت منها ما فصلت من حمل الأحكام، ولخصت مع جوامع الحلال والحرام، ونهجت للناس من الآداب المحمودة والسنن المرضية، في إقامة العبادات ووجه المعاشرات والمعاملات. وما يحق لكل امرئ أن يحافظ عليه في نفسه ومع غيره مثل ما نهجت لهم من أحكام المعاقدات والجنايات والمظالم والخصومات وما شيء من ذلك إلا وإلى القرآن مرجعه، وإلى بعض معانيه منزعه. فمن ألحق هذه الأبواب بالزوائد والفصول، وميزها عن سائر الأركان والفصول، لم يحصل من علم الدين إلا على القليل، وتلك منزلة لا يحمدها أهل الحصافة والتحصيل. وإذا كان هذا حال من لا ينظر في هذه الأبواب غفلة واشتغالا عنها بغيرها، فكيف بمن يسمي الحديث حشوا، والتفسير قصصا؟ وإذا سمع شيئا من محاسن الشريعة قال: هذا متاع المدكرين. فإن نبأ عنه فهمه قال: إنه كلام المبتدعين. وإن جرى عنده علم اللسان قال: هذا علم المؤدبين. فإن من كان هذا رأيه في هذه الأبواب لم يطلب علمها ولم يحم حولها، لأنه إنما يطلب علم الشيء من عرف قدره ومال إليه قلبه. والعلم لا يتعرض لكارهيه. ولا يتصدى للزاهدين فيه، وما الناس وإن تمنوه بنائليه، حتى يطلبوه أجد الطلب، ويرغبوا فيه أشد الرغب، وما هو بمعطيهم بعضه حتى يعطوه كلهم، وإذا أعطوه كلهم كانوا من إعطائه إياهم البعض على خطر، فكانت عاقبة هؤلاء الراصنين من علم الدين بأيسره والظانين إنهم قد حصلوا على جمهوره أو أكثره، وإن خسروا منه ووزروا من عظيم الإثم وما وزروا بنبزهم إخوانهم الذين جدوا في طلب الآثار وجمع
যদিও তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে তিনি অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন, কারণ আল্লাহর কিতাবে হিদায়াতের নিশানাসমূহ বিধিবিধানের আয়াতের চেয়েও অধিক। আল্লাহ তাআলা—যার প্রশংসা অতি মহান—তাদের নিন্দা করেছেন যারা কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে, আর তিনি শপথ করেছেন যে অবশ্যই তিনি তাদের সকলকে জিজ্ঞেস করবেন: তারা যা আমল করত সে সম্পর্কে। এমতাবস্থায় একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে কীভাবে সম্ভব এমন কারোর পদাঙ্ক অনুসরণ করা, যাকে কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে ও তিরস্কার করা হবে, অথবা সেখানে লাঞ্ছিত ও নিন্দিত হতে হবে? আর কুরআন যেভাবে হিদায়াতের নিদর্শন ও বিধিবিধান নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, তেমনিভাবে তা শিষ্টাচার ও মহান চরিত্র এবং দাসত্বের হাকীকতের দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশনা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, যা পালন করা মুকাল্লাফদের জন্য আবশ্যক, যাতে তারা আল্লাহর অনুগত ও বিনয়ী হতে পারে। সুন্নাহ এ বিষয়গুলোকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছে এবং বিধিবিধান বহনকারী যা কিছু বিস্তারিত ছিল তা থেকে সারসংক্ষেপ করেছে, এবং হালাল ও হারামের ব্যাপক বিষয়াবলীর সাথে তা সংক্ষেপ করেছে। সুন্নাহ মানুষের জন্য ইবাদত কায়েম করা এবং সামাজিক ও পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় আদব ও সন্তোষজনক রীতিনীতিকে সুষ্পষ্ট করেছে। এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার নিজের ক্ষেত্রে এবং অন্যদের সাথে যা কিছু মেনে চলা আবশ্যক, যেমন তাদের জন্য চুক্তি, অপরাধদণ্ড, জুলুম এবং বিবাদসমূহের যে বিধানাবলী স্পষ্ট করা হয়েছে; এগুলোর প্রত্যেকটিরই মূল উৎস হলো কুরআন এবং এর কোনো না কোনো অর্থের সাথেই এগুলোর নিগূঢ় সম্পর্ক। সুতরাং যে ব্যক্তি এই অধ্যায়গুলোকে অতিরিক্ত বা গৌণ মনে করে এবং এগুলোকে অন্যান্য রুকন ও মূল অধ্যায় থেকে পৃথক করে দেখে, সে দীনের ইলম থেকে সামান্যই অর্জন করল। আর এটি এমন এক স্তর যা বিচক্ষণ ও জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিগণ প্রশংসা করেন না। আর যে ব্যক্তি অবহেলেবশত বা অন্য কোনো কাজে লিপ্ত থাকার কারণে এই অধ্যায়গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করে না, তার অবস্থা যদি এমন হয়, তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে হাদীসকে অন্তঃসারশূন্য বা অতিরিক্ত বলে এবং তাফসীরকে নিছক কিচ্ছা-কাহিনী মনে করে? আর যখন সে শরীয়তের কোনো সৌন্দর্যের কথা শুনে, তখন বলে: এটি কেবল উপদেশ গ্রহণকারীদের বিষয়। আর যদি তা তার বোধগম্য না হয়, তবে বলে: এটি বিদআতিদের কথা। আর যদি তার সামনে ভাষা বিজ্ঞানের চর্চা হয়, তখন সে বলে: এটি কেবল প্রাথমিক শিক্ষকদের ইলম। যার অভিমত এই অধ্যায়গুলো সম্পর্কে এমন হবে, সে এগুলোর ইলম অন্বেষণ করবে না এবং এর ধারেকাছেও ঘেঁষবে না। কেননা মানুষ কোনো জিনিসের ইলম তখনই অন্বেষণ করে যখন সে তার মর্যাদা জানে এবং তার মন সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। আর ইলম বিরাগভাজনদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করে না এবং এর প্রতি অনিচ্ছুকদের সামনেও উপস্থিত হয় না। মানুষ কেবল আকাঙ্ক্ষা করলেই ইলম লাভ করতে পারে না, যতক্ষণ না তারা তা চূড়ান্ত নিষ্ঠার সাথে অনুসন্ধান করে এবং এর প্রতি প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করে। ইলম মানুষকে তার কিয়দংশও দান করে না যতক্ষণ না তারা নিজেদের সর্বস্ব ইলমের জন্য বিলিয়ে দেয়। আর যখন তারা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেয়, তখনও ইলমের কিয়দংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তারা ঝুঁকির মধ্যেই থাকে। সুতরাং যারা দীনি ইলমের সামান্য অংশ লাভ করেই তুষ্ট থাকে এবং ধারণা করে যে তারা এর সিংহভাগ বা অধিকাংশ অর্জন করে ফেলেছে, তাদের পরিণাম এমনই হয়। যদিও তারা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের ওপর বিশাল পাপের বোঝা চেপেছে—যে পাপের বোঝা তারা বহন করছে তাদের সেই ভাইদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার কারণে যারা হাদীস ও আসার অন্বেষণে এবং তা সংগ্রহে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
السنن والأخبار لقب الحشو، وإطلاقهم ألسنتهم فيهم بالهجر واللغو. وإنما أتى القوم من حيث ظنوا أن تعظيم علم الأحكام الذي يعرف بالفقه لا يتم إلا بالوضع من غيره والازراء بمن يتعاطاه ويشتغل به. وكانوا في ذلك كمن يضع من قدر سورة ليرفع به من قدر سورة، أو يزري بسنة ليعلي به قدر سنة. والإنصاف في ذلك أولى بالمسلمين من التشدد في الخلاف، والرجوع إلى الحق خير من التمادي في الباطل. ومن نظر وتبين علم: أن الفقه إن كان يستوجب الثناء ويستحق المدح والإطراء لأنه علم أصله وحي. فما وصفناه من إضراب علم الشريعة، وحي أصله، تنزيل كله، وإن كان ذلك لما يحتاج إليه فيه من الفهم والفطنة، فما علم من العلوم إلا ومنه جلي ومنه خفي، ولا وجه لإدراك الخفي إلا الاستدلال بالجلي عليه، ولا سبيل إلى الاستدلال بالجلي على الخفي إلا بعد إدراك المعاني وتبينها، وفي ذلك ما يبين أن اسم الفقه علم العلوم، الشريعة كلها، أعلاها الذي يتوصل بها إلى معرفة الله تعالى وجده ووحدانيته وقدسه وعامة صفاته ومعرفة أنبياء الله ورسله، والفرق بينهم وبين من يدعي مثل ما ادعوا، ولا يأتي من البينات بمثل ما أتوا، وما بعد ذلك من علم العبادات وأحكام الاكتساب والمعاملات، والحدود والجنايات، والفصل بين المتنازعين، وإيصال الحقوق إلى المستحقين، ومن علم الأحوال والأخلاق والآداب والسيرة الحميدة والعشرة الجميلة، والمروءة التي هي قرينة العدالة، وإبقاء معاني العبودة على تصرف الأحوال في الجملة. وعلم مع ذلك، إن التذكير مما أمر الله تعالى جده في كتابه، والله لا يأمر بالهزل ولا بما يهزأ به، ولا بما يصنع امتثاله من تمثيله ويحط استعماله من قدر مستعمله، قال الله عز وجل: {وذكر فإن الذكرى تنفع المؤمنين}، وقال: {فذكر فما أنت بنعمة ربك بكافر ولا مجنون}. فيسمي الله تعالى جده، نبيه- صلى الله عليه وسلم مذكرا، وسمى تبليغه وتعليمه تذكيرا، وأمره به إرشادا وتبصيرا. فكيف يعرض لأسباب الضعة ما جعله الله تعالى من أسباب الرفعة؟ وكيف يجري في إعداد أهل النقص طائفة: قائدها نبيها وإمامها رسولها؟ أو كيف يخرج علم
সুন্নাত ও হাদীসের অনুসারীদের 'হাশবিয়া' (অসার বর্ণনাকারী) উপাধি দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও অসার বাক্য ব্যয় করা মূলত এক ধরনের বাড়াবাড়ি। এই লোকগুলো মূলত এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে এমনটি করে যে, ফিকহ হিসেবে পরিচিত শরীয়তের বিধানাবলির ইলমকে উচ্চাসনে বসানো ততক্ষণ সম্ভব নয়, যতক্ষণ না অন্য ইলমকে অবমূল্যায়ন করা হয় এবং যারা সেই ইলম নিয়ে ব্যাপৃত থাকে তাদের তুচ্ছজ্ঞান করা হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো, যে এক সূরার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য অন্য সূরার অবমাননা করে, অথবা এক সুন্নাহর মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্য সুন্নাহকে তুচ্ছজ্ঞান করে। মুসলিমদের জন্য এ জাতীয় মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার চেয়ে ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করা অধিক বাঞ্ছনীয়; আর বাতিলের ওপর অটল থাকার চেয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসা উত্তম। যে ব্যক্তি গভীরভাবে চিন্তা করবে এবং সত্য স্পষ্ট হবে সে জানতে পারবে যে: ফিকহ যদি প্রশংসা ও স্তুতির দাবিদার হয় তবে তা এই কারণে যে, এই ইলমের মূল উৎস হলো ওহী। সুতরাং শরীয়তের ইলমের যে বিভিন্ন শাখার কথা আমরা বর্ণনা করেছি, তার মূলও ওহী এবং পুরোটাই আসমানি বাণীর অবতরণ। আর যদি ফিকহ চর্চার জন্য সঠিক বুঝ ও তীক্ষ্ণ মেধার প্রয়োজন হয়, তবে জেনে রাখা উচিত যে, সকল ইলমেই কিছু বিষয় থাকে স্পষ্ট এবং কিছু বিষয় থাকে সূক্ষ্ম বা অস্পষ্ট। স্পষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে প্রমাণ গ্রহণ করা ছাড়া সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উপলব্ধি করার কোনো পথ নেই। আর মূল অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা ও তা সুষ্পষ্ট করা ছাড়া স্পষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে অস্পষ্ট বিষয়ের ওপর দলিল পেশ করার কোনো অবকাশ নেই। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, 'ফিকহ' নামটি আসলে সকল ইলমের সমষ্টি, বরং তা সমগ্র শরীয়তেরই নাম। এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের ফিকহ হলো সেই ইলম, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর মহিমা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়, তাঁর একত্ববাদ, তাঁর পবিত্রতা ও তাঁর সামগ্রিক গুণাবলি সম্পর্কে জানা যায় এবং আল্লাহর নবী ও রাসূলগণকে চেনা যায়। পাশাপাশি নবীগণ এবং যারা নবুওয়তের মিথ্যা দাবি করে কিন্তু নবীদের ন্যায় অকাট্য প্রমাণাদি পেশ করতে পারে না, তাদের মধ্যে পার্থক্য অনুধাবন করা যায়। এর পরবর্তী স্তরে রয়েছে ইবাদত সংক্রান্ত ইলম, উপার্জন ও লেনদেনের বিধান, দণ্ডবিধি ও অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি, বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মীমাংসা করা এবং হকদারদের কাছে তাদের পাওনা পৌঁছে দেওয়া। আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মানুষের আধ্যাত্মিক অবস্থা, চরিত্র ও শিষ্টাচার, প্রশংসনীয় জীবনচরিত, সুন্দর সামাজিক মেলামেশা এবং সেই মানবিক মর্যাদা যা ন্যায়পরায়ণতার অবিচ্ছেদ্য অংশ; আর সর্বাবস্থায় সামগ্রিকভাবে বন্দেগির ভাব ও তাৎপর্য বজায় রাখা। এর পাশাপাশি এটিও জানা প্রয়োজন যে, নসিহত বা উপদেশ প্রদান করা এমন একটি কাজ যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে দিয়েছেন। আর আল্লাহ কোনো কৌতুক বা এমন বিষয়ের নির্দেশ দেন না যা নিয়ে উপহাস করা যায়, কিংবা এমন কোনো কাজ করতে বলেন না যা পালন করলে মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় বা পালনকারীর মানহানি ঘটে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।" তিনি আরও বলেছেন: "অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনার রবের অনুগ্রহে আপনি কোনো গণক নন এবং উন্মাদও নন।" এখানে মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপদেশদাতা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাঁর বাণী প্রচার ও শিক্ষাদানকে উপদেশ দান হিসেবে নামকরণ করেছেন এবং একে হিদায়াত ও দূরদৃষ্টি লাভের মাধ্যম হিসেবে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যে বিষয়কে উচ্চ মর্যাদার সোপান করেছেন, তা কীভাবে হীনম্মন্যতার কারণ হতে পারে? আর কীভাবে সেই দলকে ত্রুটিপূর্ণদের তালিকায় গণ্য করা যেতে পারে যাদের চালক হলেন স্বয়ং নবী এবং ইমাম হলেন স্বয়ং রাসূল? অথবা কীভাবে সেই ইলমকে...
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
التذكير من جملة الفقه وهو لا يقع إلا من أولي الفطنة والتمييز والخبرة بما يوجبه الحال ويرجى أن ينجع فيمن يذكره المقدار الذي لا يستكثر، فيمل منه، أو يتضجر، وبالوقت الذي يكون التذكير فيه أنفع، ومن قلوب السامعين أوقع، وينبوع الذكر الذي يكون إلى القبول أسرع، وفي القلوب أنجع. وإذا تؤمل هذا المقام وما جرى فيه من الكلام، وجد اشبه المقامات بالقضاء بين المتخاصمين، والحكم بين المتنازعين التذكير، لأن المذكر يفصل بين دواعي النفس، فيميز المردية منها عن المنجية، ويلخص الموبقة من المعتقة، ويرجح دواعي العقل على دواعي الهوى والطبع، ويلزم السامعين أن يقفوا عند الحدود المحدودة لهم ولا يعتدوها، ويلزموا المثل الممثلة لهم ولا يتخطوها، كما أن القاضي يفصل بين المحق في دعواه والمبطل الراكب هواه. ويميز البينات عن دواحض الشبهات. ويرجح من أصنافها ما يجب ترجيحه، ويقدم منها ما يحق تقديمه، ويلزم المتحاكمين إليه أن ينتهوا إلى ما يوجبه الحكم لهم، ولا يرضى ببغي أن ظهر له منهم. فإن كان علم القضاء فقها كما يحتاج القاضي إليه من الفهم والفطنة والذكاء والخبرة، فعلم التذكير مثله، لأنه في هذا المعنى شكله. وبعد هذا فكيف ينفر الناس عن علم القصص وهو من براهين النبوة وأعلام الرسالة، إذ يقول الله عز وجل: {تلك من أنباء الغيب نوحيها إليك ما كنت تعلمها أنت ولا قومك من قبل هذا، فاصبر إن العاقبة للمتقين}. هذا وقد سمى الله عز وجل القرآن قصصا، فقال: {نحن نقص عليك أحسن القصص بما أوحينا إليك هذا القرآن وإن كنت من قبله لمن الغافلين}. وقال: {إن هذا لهم القصص الحق}. وإنما الاقتصاص إذا الخبر على وجهه، فسواء كان المخبر عنه أنباء الأولين أو الحكام أو أحكام ما شرع للآخرين، فكل ذلك قصص. والفقه محتاج فيهما إليه لأن به يدرك مقاصد الاقتصاص، وبإدراكها يتميز العام عن الخاص، وليست بنا من تعظيم اسم الفقه والتنويه باسم الرأي وحسه، ولا ذاك بالذي يلحقنا منه مساءة، فإنا بحمد الله من أهل ذلك كله، وإنا لنحن أحكمنا معاقد الرأي والنظر، بعد أن أوضحنا معالم النقل والخبر، فأبينا على من خالفنا القياس، وأوثقنا منه القواعد والأساس، وفصلنا أقسامه
উপদেশ প্রদান ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত; আর তা কেবল প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা এবং পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মাধ্যমেই সঙ্ঘটিত হয়। আর আশা করা যায় যে, যাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তার ক্ষেত্রে তা তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন উপদেশের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হবে না, যার ফলে সে ক্লান্ত বা বিরক্ত হয়ে পড়ে। এবং তা এমন সময়ে হতে হবে যখন উপদেশ অধিক উপকারী হয় এবং শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করে। আর উপদেশের উৎস এমন হওয়া উচিত যা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে দ্রুততর এবং হৃদয়ের জন্য অধিক কার্যকর হয়। যখন এই বিষয়টি এবং এই বিষয়ে আলোচিত কথাগুলো নিয়ে চিন্তা করা হয়, তখন দেখা যায় যে, বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা এবং বিবাদকারীদের মধ্যে ফয়সালা করার সাথে উপদেশ প্রদানের বিষয়টি সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা উপদেশদানকারী প্রবৃত্তির তাড়নাগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেন; ফলে তিনি ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলোকে মুক্তিদায়ক বিষয়গুলো থেকে পৃথক করেন এবং বিনাশকারী বিষয়গুলোকে পরিত্রাণ দানকারী বিষয়গুলো থেকে আলাদা করেন। তিনি কুপ্রবৃত্তি ও স্বভাবজাত প্রবৃত্তিগুলোর তুলনায় বিবেকের তাড়নাকে প্রাধান্য দেন এবং শ্রোতাদেরকে তাদের জন্য নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করতে এবং তা লঙ্ঘন না করতে বাধ্য করেন। তারা যেন তাদের জন্য উপস্থাপিত আদর্শগুলো আঁকড়ে ধরে এবং তা অতিক্রম না করে; যেমনটি একজন বিচারক তার দাবিতে সত্যবাদী এবং প্রবৃত্তি পূজারী মিথ্যাবাদীর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে থাকেন। তিনি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিকে অসার সংশয়গুলো থেকে পৃথক করেন এবং যেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক সেগুলোকে প্রাধান্য দেন এবং যেগুলোকে অগ্রগণ্য করা উচিত সেগুলোকে অগ্রগণ্য করেন। বিচারপ্রার্থীদের তিনি এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য করেন যা তাদের জন্য অপরিহার্য ফয়সালা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো সীমালঙ্ঘন প্রকাশ পেলে তিনি তাতে সন্তুষ্ট হন না। বিচারকার্য সংক্রান্ত জ্ঞান যদি ফিকহ হয়ে থাকে—যেমন একজন বিচারকের জন্য বোধশক্তি, বিচক্ষণতা, মেধা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়—তবে উপদেশ প্রদানের জ্ঞানও তদ্রূপ; কেননা এই অর্থগত দিক থেকে তা বিচারের অনুরূপ। এরপর মানুষ কীভাবে কাহিনী বা কাসাস সংক্রান্ত জ্ঞান থেকে বিমুখ হতে পারে, অথচ তা নবুওয়াতের প্রমাণাদি এবং রিসালাতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত? যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: "এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ যা আমি আপনার প্রতি ওহী হিসেবে প্রেরণ করছি, যা ইতিপূর্বে আপনি জানতেন না এবং আপনার কওমও জানত না; অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।" অধিকন্তু মহান আল্লাহ আল-কুরআনকে 'কাসাস' (কাহিনী বা বর্ণনা) হিসেবে অভিহিত করেছেন; তিনি বলেছেন: "আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, এই কারণে যে আমি আপনার নিকট এই কুরআন ওহী হিসেবে পাঠিয়েছি, যদিও আপনি এর আগে এ সম্পর্কে অনবহিত ছিলেন।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটিই সত্য কাহিনী।" প্রকৃতপক্ষে বর্ণনা বা ইকতাসাস হলো সংবাদকে তার প্রকৃত রূপে পরিবেশন করা; সুতরাং সংবাদটি পূর্ববর্তীদের খবর হোক, কিংবা শাসকদের সম্পর্কে হোক, অথবা পরবর্তীদের জন্য প্রবর্তিত বিধানাবলি হোক—সবই কাসাস বা কাহিনীর অন্তর্ভুক্ত। আর ফিকহ এই উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয়; কারণ এর মাধ্যমেই বর্ণনার উদ্দেশ্যসমূহ উপলব্ধি করা যায় এবং তা উপলব্ধির মাধ্যমেই সাধারণ (আম) ও বিশেষ (খাস)-এর মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয়। ফিকহ শব্দের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা বা রাঈ (সুচিন্তিত অভিমত) ও এর প্রজ্ঞাকে উচ্চকিত করার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নেই এবং এর দ্বারা আমাদের কোনো ক্ষতিও স্পর্শ করবে না; কেননা আল্লাহর প্রশংসায় আমরা এ সবেরই অন্তর্ভুক্ত। আমরাই তো নকল (বর্ণনা) ও খবরের নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করার পর রাঈ (অভিমত) ও নজরের (চিন্তা-গবেষণা) গ্রন্থিগুলোকে সুসংহত করেছি। সুতরাং আমরা আমাদের বিরুদ্ধাচরণকারীদের মোকাবিলায় কিয়াসের আবশ্যকতা তুলে ধরেছি এবং এর নিয়মাবলী ও ভিত্তিগুলোকে সুদৃঢ় করেছি এবং এর প্রকারভেদসমূহ সবিস্তারে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ولخصنا شروطه وإعلامه، وإنما يسوءنا أن يخرج من جملة الفقه ما ليس بخارج منها لنتذرع بذلك إلى نبذه وهجره، والبخس بحقه والإزراء بقدره، ولا ذلك بالذي يتصور به إلا من يراه، ويركب في استحسانه له هواه. ولكنا من أهل عصر من الأعصار إذا نشأوا عليه، وحدث قبل انقراضهم من يحتاج إلى الأخذ عنهم، احتذى حذوهم ولزم نهجهم، وظن أن لا علم إلا ما حصلوه، وإنهم لو علموا في غيرهم لأحكموه، ولو أبصروا فيه نفعا لم يضيعوه. فلا تزال الأشياء على هذا تتلاحق، والآراء منهم تتوافق وتتطابق، حتى لا يوجد في الناس من يحسن من تفسير القرآن ووجوه الأخيار. وحكم التذكير الذي هو فصل بين السامع وبين هواه، كما القضاء فصل بين المدعي وبين من أنكر دعواه.
وعلم القصص الذي عظم الله تعالى شأنه، وأظهر به النبي صلى الله عليه وسلم برهانه، إلا قليلا فتذهب من علم الشريعة أصوله، وتعفو منه أعلامه ورسومه، فذاك الذي دعاني إلى تأليف هذا الكتاب، وتقسيمه على ما بينت من الأبواب. وقد أثبت فيه بتوفيق الله وعونه جملا من العلوم المهجورة المجفوة، بمقدار ما حملته من الأبواب التي كتبتها في شعب الإيمان، وضمنت كل باب منها من الكلام فيما يلتحق بسمته، ويدخل في جملته ما يكتفي به ويوصل منه إلى غيره. فمن بلغه كتابي هذا فلا يحرمن نفسه جزيل الحظ من الخير الذي سهلته له وسقته إليه بالإعراض عن تدبره، وترك الوقوف عليه إلى أن يحظى بما جمعته وينعم النظر فيما ألفته، فإن ذلك أن تيسر له ولم يخنه فهمه، وحسنت في سعيه نيته، رجوت أن يبتهج بإذن الله تعالى أجمعه، ولا يرى في شيء منه أن يدفعه، وبالله التوفيق والتسديد، والإرشاد والقصد والتأييد، وهو حسبنا الله ونعم الوكيل، نعم المولى ونعم النصير.
***
আমরা এর শর্তাবলী এবং তথ্যাদি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। তবে আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ফিকহশাস্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশগুলোকে এর বহির্ভূত করা হচ্ছে, যাতে সেগুলোকে বর্জন ও পরিত্যাগ করার অজুহাত তৈরি করা যায় এবং এর যথার্থ হক ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা যায়। এটি এমন কেউ কল্পনাও করতে পারে না যে বিষয়টি দেখেনি এবং এটি পছন্দ করার ক্ষেত্রে নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেনি। আমরা তো এমন এক যুগের লোক, যখন কোনো প্রজন্ম কোনো কিছুর ওপর গড়ে ওঠে এবং তাদের তিরোধানের আগে এমন উত্তরসূরির উদ্ভব ঘটে যাদের তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন, তখন তারা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং তাদের পথ আঁকড়ে ধরে। তারা ধারণা করে যে, তারা যা অর্জন করেছে তা ছাড়া আর কোনো জ্ঞান নেই; এবং অন্য কোনো বিষয়ে যদি জ্ঞান থাকত তবে তারা তা সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করত, আর যদি তাতে কোনো কল্যাণ দেখত তবে তারা তা কিছুতেই হেলায় হারাত না। এভাবে বিষয়গুলো একের পর এক চলতে থাকে এবং তাদের মতামতগুলো পরস্পরের সাথে সংগতিপূর্ণ ও মিলে যেতে থাকে, শেষ পর্যন্ত মানুষের মাঝে এমন কেউ অবশিষ্ট থাকে না যে কুরআনের তাফসীর এবং পুণ্যবানদের আদর্শের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখে। আর উপদেশের হুকুম হলো শ্রোতা এবং তার খেয়াল-খুশির মাঝে পার্থক্যকারী, ঠিক যেমন বিচার ব্যবস্থা হলো বাদী এবং বিবাদীর দাবির মাঝে পার্থক্যকারী।
এবং কাহিনীর জ্ঞান যার মর্যাদা আল্লাহ তাআলা সুমহান করেছেন এবং যার মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রমাণাদি ব্যক্ত করেছেন। তবে সামান্য অংশ ছাড়া শরীয়ত বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ হারিয়ে যাচ্ছে এবং এর নিদর্শন ও চিহ্নসমূহ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আর এটিই আমাকে এই গ্রন্থটি রচনা করতে এবং আমার বর্ণিত অধ্যায়গুলো অনুযায়ী একে বিন্যস্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্যে আমি এতে পরিত্যক্ত ও অবহেলিত জ্ঞানসমূহের এমন কিছু সারবস্তু সংকলিত করেছি, যা আমি ঈমানের শাখা (শুআবুল ঈমান) শীর্ষক অধ্যায়গুলোতে অন্তর্ভুক্ত করেছি। প্রতিটি অধ্যায়ে আমি এমন সব আলোচনা যুক্ত করেছি যা এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা একজন মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে ও অন্যান্য বিষয়ের দিকে পথ দেখাবে। সুতরাং যার নিকট আমার এই গ্রন্থটি পৌঁছাবে, সে যেন এর ওপর চিন্তাভাবনা করা থেকে বিমুখ হয়ে এবং এর বিষয়বস্তু অনুধাবন করা ছেড়ে দিয়ে নিজের কল্যাণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত না করে, যা আমি তার জন্য সহজ করে দিয়েছি এবং তার নিকট পৌঁছে দিয়েছি। সে যদি আমার সংকলিত বিষয়গুলো অর্জন করে এবং যা রচনা করেছি তাতে গভীর দৃষ্টিপাত করে, তবে যদি বিষয়টি তার জন্য সহজসাধ্য হয় এবং তার প্রজ্ঞা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে এবং তার প্রচেষ্টায় নিয়ত সৎ থাকে, তবে আমি আশা রাখি যে সে আল্লাহর ইচ্ছায় এর সবকিছুতেই আনন্দিত হবে এবং এর কোনো কিছুকেই প্রত্যাখ্যানযোগ্য মনে করবে না। আল্লাহর নিকটই সঠিক পথপ্রদর্শন, সংগতিবিধান, হেদায়েত, লক্ষ্য অর্জন ও সাহায্যের প্রার্থনা। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক, কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
القسم الأولباب البيان عن حقيقة الإيمانالإيمان اسم مشتق من الأمن الذي هو ضد الخوف، كما قال تبارك وتعالى: {فإن خفتم فرجالا أو ركبانا، فإذا أمنتم فاذكروا الله كما علمكم ما لم تكونوا تعلمون}، ومعناه والغرض الذي يراد به عند إطلاقه هو التصديق والتحقيق لأن الخبر هو القول الذي يدخله الصدق والكذب والأمر والنهي كل واحد منهما قول يتردد بين أن يطاع قائله وبين أن يعصى، فمن سمع خبرا فلم يستشعر في نفسه جواز أن يكون واعتقد أنه حق وصدق، فإنما أمن نفسه باعتقاد ما اعتقد فيما سمع من أن يكون مكذوبا له ملبسا عليه، ومن سمع أمرا ونهيا واعتقد الطاعة له، فكأنما أمن نفسه باعتقاد ما اعتقد فيما سمع من أن يكون مظلوما أو مستسخرا، أو محمولا على ما لا يلزمه قبوله والإنقياد له، فمن ذهب إلى هذا المعنى أنزل قول القائل: أمنت بكذا، والمراد نفسي منزلة قولهم ووطنت نفسي على كذا، أو حملت نفسي على كذا، أو رصنت نفسي أو ذللتها، وصنت نفسي عن كذا بمعنى أمنت، أي بدا لي صدق وما سمعت بأذني، وحق ما أدركته بعقلي، وما اعتقدته أمنا من الخطأ فيه، ويكون تركهم ذكر النفس في قولهم: أمنت، إختصارا لما قد كثر استعماله كما يقال بسم الله بمعنى بدأت، أو ابدأ باسم الله، وحذف ذكر الابتداء لكثرة الاستعمال. والله أعلم.
وفيه وجه آخر وهو أن يكون معنى أمنت، أي أمنت مخبري أو الداعي لي من التكذيب، والخلاف بما صرحت له به من التصديق والوفاق، فإذا قيل: آمنت بالله، فالمعنى أمنت الداعي إلى الله من الخلاف والتكذيب بما أظهرت له من الوفاق والتصديق
প্রথম পরিচ্ছেদঈমানের হাকিকত বা প্রকৃত রূপ বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়ঈমান শব্দটি নিরাপত্তা (আমন) থেকে উদ্ভূত একটি বিশেষ্য, যা ভয়ের বিপরীত। যেমন মহান আল্লাহ বরকতপূর্ণ ও সুউচ্চ কণ্ঠে বলেছেন: "যদি তোমরা ভয়ের মধ্যে থাকো, তবে পায়ে হেঁটে কিংবা সওয়ার হয়ে (নামাজ আদায় করো)। অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো যেভাবে তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।" এর অর্থ এবং সাধারণ ব্যবহারে এর দ্বারা যে উদ্দেশ্য বুঝানো হয় তা হলো সত্যয়ন (তাসদিক) ও দৃঢ়ভাবে সত্য বলে জানা (তাহকিক)। কারণ, সংবাদ হলো এমন বাক্য যার মধ্যে সত্য ও মিথ্যা উভয়ের সম্ভাবনা থাকে। আর আদেশ ও নিষেধের প্রতিটিই এমন বাক্য যা বক্তার আনুগত্য করা অথবা তার অবাধ্য হওয়ার মাঝখানে আবর্তিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো সংবাদ শুনল এবং তার মনে এর বিপরীতে কোনো সম্ভাবনা অনুভব করল না, বরং বিশ্বাস করল যে তা সত্য ও যথার্থ; সে মূলত যা শুনেছে তা মিথ্যা হওয়া বা বিভ্রান্তিকর হওয়ার সম্ভাবনা থেকে নিজেকে নিরাপদ করল ওই বিশ্বাসের মাধ্যমে যা সে পোষণ করেছে। আর যে ব্যক্তি কোনো আদেশ ও নিষেধ শুনল এবং তার প্রতি আনুগত্যের সংকল্প করল, সে যেন যা শুনেছে তাতে মজলুম হওয়া, অনর্থক ব্যবহৃত হওয়া অথবা এমন কিছু গ্রহণে বাধ্য হওয়া যা মেনে নেওয়া বা যার আনুগত্য করা তার জন্য অপরিহার্য নয়—এমন সম্ভাবনা থেকে নিজেকে নিরাপদ করল ওই বিশ্বাসের মাধ্যমে যা সে ধারণ করেছে। সুতরাং যারা এই অর্থের প্রবক্তা, তারা কোনো ব্যক্তির "আমি অমুক বিষয়ে ঈমান এনেছি" এই উক্তিটিকে—যেখানে উদ্দেশ্য হলো নিজের সত্তা—লোকদের এই সকল উক্তির স্থলাভিষিক্ত করেন: "আমি আমার নফসকে অমুক বিষয়ে স্থির করেছি", অথবা "আমি আমার নফসকে অমুক বিষয়ের ওপর অর্পণ করেছি", অথবা "আমি আমার নফসকে সুদৃঢ় করেছি বা অনুগত করেছি", এবং "আমি অমুক বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করেছি"—এই "নিরাপদ করেছি" (আমানতু) অর্থে। অর্থাৎ, আমার কানে যা শ্রবণ করেছি তার সত্যতা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে এবং বুদ্ধির মাধ্যমে যা উপলব্ধি করেছি তার যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে, আর আমি যা বিশ্বাস করেছি তা ভুলের সম্ভাবনা থেকে নিরাপদ। আর তাদের "আমানতু" (আমি ঈমান এনেছি) বলার সময় "নফস" বা নিজের উল্লেখ বর্জন করা হয়েছে বাক্য সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে, যেহেতু এর ব্যবহার ব্যাপক। যেমন বলা হয় "বিসমিল্লাহ" (আল্লাহর নামে), যার অর্থ হলো "আমি শুরু করছি" বা "আল্লাহর নামে শুরু করো"; এখানে অধিক ব্যবহারের ফলে "শুরু করা" অংশটি উহ্য রাখা হয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এতে আরেকটি দিক রয়েছে, আর তা হলো "আমানতু" এর অর্থ হতে পারে—আমি আমার সংবাদদাতাকে বা আহবানকারীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ও বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে অভয় দিয়েছি, সেই সত্যয়ন ও ঐকমত্য প্রকাশের মাধ্যমে যা আমি তার সামনে ব্যক্ত করেছি। সুতরাং যখন বলা হয় "আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম", তখন এর অর্থ দাঁড়ায়—আমি আল্লাহর দিকে আহবানকারীকে বিরুদ্ধাচরণ ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা থেকে নিরাপত্তা দিয়েছি ওই ঐকমত্য ও সত্যয়ন প্রদর্শনের মাধ্যমে যা আমি তার সামনে প্রকাশ করেছি।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
والإيمان بالرسول، إيمانه في نفسه من الشقاق عليه بإظهار التصديق له، والإيمان بالملائكة والكتب إيمان المخبر عنها من الخلاف بإظهار الوفاق.
وقد يجوز أن يكون إيمان من آمن بالله من الملائكة لا عن رسول كان إليه إيمانه بنفسه يحسن الإعتقاد لما أوجبه استدلاله من أن يكون الذي وقع له وسوسة أو ظنا، ويدخل في هذا إيمان المستدلين من الناس أيضا، وذهب بعض الناس إلى أن معنى آمنت بالله، أمنت نفسي من عذاب الله بالاعتراف به والتوحيد له، وهذا لا يصح لأنه لا سبيل لأحد من المؤمنين إلى القطع بأنه قد أمن عذاب الله، وقد قال الله تعالى عز وجل: {فلا يأمن مكر الله إلا القوم الخاسرون}، ولأن الأمور بعواقبها ولا يدري أحد بماذا يختم له، ولأن لقطة الإيمان ليست تستعمل فيما يعقب الذهاب عنه عذابا فقط، ولكنه مستعمل حيث لا يتوهم فيه عذاب، لأن معنى الإيمان التصديق، فقد يجوز أن يقول القائل لصاحبه فيما يحدثه: لا أؤمن بما تقول، كما يقول: لا أصدق: ثم لا يكون المعنى لا أؤمن نفسي من العذاب بتصديقك. فبان أن ليس تأويل الآية ما قاله هذا القائل والله أعلم.
فصل
ثم إن الإيمان الذي يراد به التصديق لا يعدو إلى من يضاف إليه ويلصق به إلا بصلة وتلك الصلة قد تكون باء وقد تكون لاما. أما ما جاء بحرف الباء فمنه قول الله تعالى: {والذين يؤمنون بما أنزل إليك وما أنزل من قبلك}، وقوله: {آمن الرسول بما أنزل إليه من ربه والمؤمنون كل آمن بالله وملائكته وكتبه ورسله}، وقوله جل وعز: {آمنوا بالله ورسوله}، وأما ما جاء باللام فمنه قوله تعالى في قصة إبراهيم صلوات الله عليه: {فآمن له لوط}، وقوله حكاية عن نوح صلوات الله عليه: {أنؤمن لك واتبعك الأرذلون}، وعن قوم فرعون أنهم قالوا لموسى وهارون
রাসুলের প্রতি ঈমান আনা হলো তাঁর বিরোধিতা পরিহার করে অন্তরের বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁকে সত্যায়ন করা। আর ফেরেশতা ও কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা হলো তাদের সম্পর্কে প্রদত্ত সংবাদের বিরোধিতা থেকে নিজেকে রক্ষা করে সম্মতির বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।
এবং সম্ভবত ফেরেশতাদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন কোনো রাসুলের মাধ্যম ছাড়াই, তাদের ঈমান হলো অন্তরের সেই দৃঢ় বিশ্বাস যা তাদের অর্জিত দলিলাদি প্রমাণ করে; যাতে করে তাদের কাছে যা উপস্থিত হয়েছে তা কোনো কুমন্ত্রণা বা ধারণা না হয়। মানুষের মধ্যে যারা দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস স্থাপন করে, তাদের ঈমানও এর অন্তর্ভুক্ত। কিছু লোক মনে করেন যে, 'আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি'-এর অর্থ হলো, আমি তাঁকে স্বীকার করে এবং তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি দিয়ে আল্লাহর আজাব থেকে নিজেকে নিরাপদ করেছি। কিন্তু এই মতটি সঠিক নয়; কারণ কোনো মুমিনের পক্ষেই এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে সে আল্লাহর আজাব থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে। অথচ মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউই আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিরাপদ বোধ করে না।" কারণ কর্মের ফলাফল শেষ পরিণতির ওপর নির্ভর করে এবং কেউই জানে না তার শেষ পরিণতি কী হবে। তদুপরি 'ঈমান' শব্দটি কেবল এমন ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় না যেখানে সেটি না থাকলে আজাব অবধারিত হয়, বরং এটি এমন ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যেখানে আজাবের কোনো কল্পনাও থাকে না। কারণ ঈমানের মূল অর্থ হলো সত্যায়ন করা। যেমন কোনো ব্যক্তি তার সঙ্গীর সাথে কথা বলার সময় বলতে পারে: "তুমি যা বলছ আমি তাতে বিশ্বাস (ঈমান) করছি না", যেমন সে বলে: "আমি তোমাকে সত্যায়ন করছি না।" সেক্ষেত্রে অর্থ এটি হয় না যে, তাকে সত্যায়ন না করে আমি নিজেকে আজাব থেকে নিরাপদ করছি। সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, আয়াতটির ব্যাখ্যা তা নয় যা এই প্রবক্তা বলেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
অনুচ্ছেদ
এরপর ঈমান যা দ্বারা সত্যায়ন করা উদ্দেশ্য হয়, তা যার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তার দিকে কোনো অব্যয় ব্যতীত সরাসরি পৌঁছায় না। সেই অব্যয়টি কখনো 'বা' হতে পারে আবার কখনো 'লাম' হতে পারে। যা 'বা' অক্ষরযোগে এসেছে তার উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর যারা ঈমান আনে যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে।" এবং তাঁর বাণী: "রাসুল তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা প্রত্যেকেই আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো।" আর যা 'লাম' অক্ষরযোগে এসেছে তার উদাহরণ হলো ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীতে মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর লূত তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন।" এবং নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি হিসেবে বর্ণিত তাঁর বাণী: "আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব অথচ নিচ প্রকৃতির লোকেরা তোমার অনুসরণ করছে?" এবং ফেরাউন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যা তারা মূসা ও হারুনকে বলেছিল—
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
صلوات الله عليهما: {أنؤمن لبشرين مثلنا وقومهما لنا عابدون}، وعن أبناء يعقوب صلوات الله عليهم أنهم قالوا لأبيهم: {وما أنت بمؤمن لنا ولو كنا صادقين}، وعن كفار العرب أنهم قالوا فيما بينهم: {ولا تؤمنوا إلا لمن تبع دينكم}. فمن الناس من قال: إن قولهم "آمنت به"، و"آمنت له" لغتان يعبر بهما عن معنى واحد. والصحيح ما خالف هذا، وهو أن قولهم: "آمنت به" إنما يراد إثباته وتحقيقه والتصديق بكونه ووجوده. وقوله: "آمنت له" إنما يراد إتباعه وموافقته،.فالإيمان بالله تعالى جده إثباته والاعتراف بوجوده، والإيمان له القبول عنه والطاعة له. والإيمان بالنبي إثباته والإعتراف بثبوته، والإيمان بالنبي موافقته والطاعة له. ويدل على افتراق الصلتين أن إحداهما تصلح حيث لا تصلح الأخرى، فإن بني يعقوب عليه السلام لو قالوا لأبيهم: "وما أنت بمؤمن بنا" لما صلح لذلك. ولو قال كفار العرب: "ولا تؤمنوا إلا بمن اتبع دينكم" لما أدى ذلك لما أرادوه من المعنى. وأمر الله نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم أن يقول للمنافقين: {لن نؤمن لكم}، أي لن نقبل منكم عذركم، ولو كان مكانه: "لن نؤمن بكم"، ما جاز ولا حسن. وقال جل ثناؤه: {قل أذن خير لكم يؤمن بالله ويؤمن للمؤمنين}، ولو كان مكان ذلك: "ويؤمن بالمؤمنين" لما جاز ولا صلح. فثبت بما اقتصصنا أن الصلتين موضوعان لمعنيين متغايرين لا لمعنى واحد. ويدل على صحة ما ذكرت أن اسم التصديق الذي هو حقيقة الإيمان قد يحتمل صلتين: إحداهما الباء والأخرى الهاء. فأما الباء فإنه يليق بالتصديق وبما يتصرف عنه من فعل ونعت. وأما الهاء فإنه يلزم ما ينصرف عنه من فعل، فإذا جاء النعت جازت اللام مكان الهاء، فيقال: "صدقت فلانا وصدقت به"، فمعنى صدقته أثبت قوله وخبره ووثقت بصحته ومعنى صدقت به: أثبت وجوده وكونه. ثم يقال: صدقت به وأنا مصدق. وإذا قيل صدقته، جاز أن يقال: "وأنا مصدقه ومصدق له، قال الله تعالى: {مصدقا لما بين يديه من الكتاب}، ولا يصلح مكانه ومصدقا بما بين يديه لأن الغرض، أن هذا الكتاب
তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক: {আমরা কি আমাদের মতো দুইজন মানুষের ওপর ঈমান আনব, অথচ তাদের কওম আমাদের দাসত্ব করছে?}, এবং ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্রদের থেকে বর্ণিত যে, তারা তাদের পিতাকে বলেছিল: {আপনি আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই}, এবং আরব কাফিরদের থেকে বর্ণিত যে, তারা নিজেদের মধ্যে বলেছিল: {তোমাদের দ্বীনের যারা অনুসরণ করে, তারা ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করো না}। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তাদের এই কথা "আমি তার প্রতি ঈমান আনলাম" (আমানতু বিহি) এবং "আমি তার কথা মেনে নিলাম" (আমানতু লাহু) হলো দুটি ভাষাগত রীতি যা একই অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। তবে সঠিক মতটি এর বিপরীত; আর তা হলো, তাদের কথা: "আমি তার প্রতি ঈমান আনলাম" দ্বারা কেবল তাকে সাব্যস্ত করা, সুনিশ্চিত করা এবং তার সত্তা ও অস্তিত্বের সত্যতাকে স্বীকার করা উদ্দেশ্য। আর তাদের কথা: "আমি তার কথা মেনে নিলাম" দ্বারা কেবল তার অনুসরণ করা এবং তার সাথে একমত হওয়া উদ্দেশ্য। সুতরাং মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান (ইমান বিল্লাহ) হলো তাঁকে সাব্যস্ত করা এবং তাঁর অস্তিত্বকে স্বীকার করা; আর আল্লাহর নির্দেশ মেনে নেওয়া (ইমান লাহু) হলো তাঁর পক্ষ থেকে আসা বিষয়গুলো গ্রহণ করা এবং তাঁর আনুগত্য করা। নবীর প্রতি ঈমান হলো তাঁকে সাব্যস্ত করা এবং তাঁর সত্যতাকে স্বীকার করা; আর নবীর নির্দেশ মেনে নেওয়া হলো তাঁর সাথে একমত হওয়া এবং তাঁর আনুগত্য করা। এই দুই প্রকারের সম্পর্কের (অব্যয়ের ব্যবহার) ভিন্নতার প্রমাণ হলো এই যে, একটি যেখানে সংগত হয়, অন্যটি সেখানে সংগত হয় না। যদি ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্ররা তাদের পিতাকে বলত: "আপনি আমাদের প্রতি বিশ্বাসী নন" (আমানতু বি-না), তবে তা সংগত হতো না। আবার যদি আরবের কাফিররা বলত: "তোমাদের দ্বীন যারা অনুসরণ করে, তাদের প্রতি ঈমান এনো না" (লা তু'মিনু বি-মান), তবে তারা যে অর্থটি প্রকাশ করতে চেয়েছিল তা প্রকাশ পেত না। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মুনাফিকদের প্রতি বলতে নির্দেশ দিয়েছেন: {আমরা তোমাদের কথা কখনোই বিশ্বাস করব না}, অর্থাৎ আমরা তোমাদের ওজর কবুল করব না। যদি এর স্থলে: "আমরা তোমাদের প্রতি ঈমান আনব না" (লান নু'মিনা বি-কুম) হতো, তবে তা বৈধ হতো না এবং শ্রুতিমধুরও হতো না। মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, তিনি তোমাদের জন্য এক কল্যাণকর কর্ণ; তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেন এবং মুমিনদের কথা বিশ্বাস করেন}। যদি এর স্থলে "মুমিনদের প্রতি ঈমান রাখেন" (ইউ'মিনু বিল মুমিনীন) হতো, তবে তা বৈধ বা সংগত হতো না। সুতরাং আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা থেকে প্রমাণিত হলো যে, এই দুই প্রকারের সংযোগ দুটি ভিন্ন অর্থের জন্য নির্ধারিত, একই অর্থের জন্য নয়। আমি যা উল্লেখ করেছি তার যথার্থতার প্রমাণ হলো ‘তাসদিক’ (সত্যায়ন) শব্দটি, যা ঈমানের মূল হাকিকত; এটি দুটি সংযোগ গ্রহণ করতে পারে: একটি হলো ‘বা’ (ب) এবং অন্যটি হলো ‘হা’ (هـ)। ‘বা’ অব্যয়টি ‘তাসদিক’ এবং তা থেকে নির্গত ক্রিয়া ও বিশেষণের জন্য উপযুক্ত। আর ‘হা’ কেবল তা থেকে নির্গত ক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত হয়। তবে যখন বিশেষণ ব্যবহৃত হয়, তখন ‘হা’-এর স্থলে ‘লাম’ (ل) ব্যবহার করা জায়েজ হয়। যেমন বলা হয়: "আমি অমুককে সত্য বলে স্বীকার করেছি" এবং "আমি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি"। সুতরাং ‘আমি তাকে সত্য বলে মেনেছি’ (সাদ্দাকতুহু) এর অর্থ হলো আমি তার বক্তব্য ও সংবাদকে সাব্যস্ত করেছি এবং এর সঠিকতার ওপর আস্থা রেখেছি। আর ‘আমি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি’ (সাদ্দাকতু বিহি) এর অর্থ হলো আমি তার অস্তিত্ব ও সত্তাকে সাব্যস্ত করেছি। অতঃপর বলা হয়: "আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আমি একজন বিশ্বাসী (মুসাদ্দিক)"। আর যখন বলা হয় "আমি তাকে সত্য বলে মেনেছি", তখন বলা জায়েজ যে: "আমি তার সত্যায়নকারী (মুসাদ্দিকুহু) অথবা আমি তার জন্য সত্যায়নকারী (মুসাদ্দিকুন লাহু)"। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তার সম্মুখে থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী হিসেবে}, আর এর স্থলে "তার সম্মুখে যা আছে তাতে বিশ্বাসকারী হিসেবে" (মুসাদ্দিকান বি-মা) বলা সংগত হতো না; কারণ উদ্দেশ্য হলো, এই কিতাবটি...
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
مثبت من وحدانية الله تعالى وقدسه ووجوب طاعته وتحسين العدل، وتقبيح الظلم والشهادة للذين جاؤوا بالكتب المقدمة، بأنهم جاؤوا بها من عند الله تعالى ما أثبتته تلك الكتب أنفسها. ولو قيل: "مصدقا لما بين يديه من الكتاب"، لصلح، فعلم أن اللام قائمة مقام الهاء في صدقته. ولو قيل: "ومصدقا بما يديه"، لم يدلك على أكثر من أنه أثبت أن كتبا كانت قبله، فثبت بهذا افتراق الصلتين، وتغاير ما يراد بهما، والله أعلم.
وما ينبغي لأحد أن يستنكر هذا الفرق، فإن الوجود منه هو الموافق للصواب والحكمة إذ كان الاعتراف بالله جل جلاله، لابد من أن يسبق حتى يصح القبول عنه وطاعته وعبادته من بعد، والاعتراف بالنبي كذلك لأنه يسبق، ثم تكون متابعته والقبول عنه، ولو تجردت المتابعة بفعل ما يأمر به، والانتهاء عما ينهي عنه عن الاعتراف بالنبوة لما سلمت، ولا سلمت نفعت، فكان حقا أن يعود الأصل من هاتين الخصلتين بإحدى هاتين اللفظتين والتابع منهما بالأخرى. فيكون التصديق بالله إثباته والاعتراف بوجوده، والتصديق له قبول شرائعه، وإتباع فرائضه على أنها صواب وحكمة وعدل، والطاعة فيها لازمة، والمحافظة على حدوده، والثقة بوعده ووعيده.
وكذلك التصديق بالنبي، غير التصديق له. فالتصديق به: هو الاعتراف بوجوده وكونه وإثباته نبيا في الجملة. والتصديق له: إتباعه وطاعته وقبول ما جاء عنه، وكذلك الإيمان بالله: هو الاعتراف به وإثباته: والإيمان له: طاعته وإتباع أمره. وعلى هذا الإيمان بالله أو النبي، إيمان بالدلائل التي دلت عليه، لأنه قبول لدلالتها عنها، وانقياد لموجبها. والإيمان بالكتاب إيمان للدلائل التي دلت على أنه من عند الله.
মহান আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর পবিত্রতা, তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা, ন্যায়ের সৌন্দর্য, অন্যায়ের কুশ্রীতা এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ যারা নিয়ে এসেছিলেন তাদের সাক্ষ্য প্রদান—এসবই সেই কিতাবসমূহ যা স্বয়ং সাব্যস্ত করেছে তা-ই সাব্যস্তকারী। আর যদি বলা হতো: "তার নিকট যা আছে কিতাব থেকে তার সত্যায়নকারী", তবে তাও সঠিক হতো। এর দ্বারা বোঝা গেল যে 'লাম' অক্ষরটি 'হা' অক্ষরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে 'সাদদাকাহু' (তাঁর সত্যায়ন) শব্দের ক্ষেত্রে। আর যদি বলা হতো: "এবং তার সামনে যা আছে তার সত্যায়নকারী", তবে তা কেবল এটাই নির্দেশ করত যে তাঁর পূর্বে কিছু কিতাব ছিল। এর মাধ্যমে দুটি সম্পর্কের পার্থক্য এবং তাদের উদ্দেশ্যগত ভিন্নতা প্রমাণিত হলো। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
আর কারো জন্য এই পার্থক্যকে অস্বীকার করা সমীচীন নয়। কারণ এর অস্তিত্বই সঠিকতা ও প্রজ্ঞার সাথে সংগতিপূর্ণ। যেহেতু মহান আল্লাহর প্রতি স্বীকৃতি অবশ্যই আগে আসতে হবে, যাতে এরপর তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা, তাঁর আনুগত্য ও ইবাদত করা সঠিক হয়। নবীর প্রতি স্বীকৃতিও তেমনিভাবে আগে আসে, এরপর তাঁর অনুসরণ এবং তাঁর থেকে প্রাপ্ত বিষয় গ্রহণ করা হয়। যদি নবুয়তের স্বীকৃতি ব্যতীত কেবল আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জন করার মাধ্যমে অনুসরণ করা হতো, তবে তা সঠিক হতো না এবং সঠিক না হলে তা উপকারে আসত না। সুতরাং এটা যথাযথ হয়েছে যে, এই দুই বৈশিষ্ট্যের মূল অংশকে এই দুই শব্দের একটির মাধ্যমে এবং তার অনুগামী অংশকে অপরটির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। অতএব, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস হলো তাঁর অস্তিত্বের সাব্যস্তকরণ ও স্বীকৃতি প্রদান। আর আল্লাহর জন্য বিশ্বাস হলো তাঁর শরীয়ত কবুল করা, এবং তাঁর ফরজ বিধানসমূহকে সঠিক, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও ইনসাফভিত্তিক মনে করে অনুসরণ করা, তাতে আনুগত্যকে অপরিহার্য গণ্য করা, তাঁর সীমারেখাসমূহ রক্ষা করা এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণীর ওপর আস্থা রাখা।
একইভাবে নবীর প্রতি বিশ্বাস এবং নবীর জন্য বিশ্বাস এক নয়। নবীর প্রতি বিশ্বাস হলো: তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি প্রদান এবং সাধারণভাবে তাঁকে নবী হিসেবে সাব্যস্ত করা। আর নবীর জন্য বিশ্বাস হলো: তাঁর অনুসরণ, আনুগত্য এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা গ্রহণ করা। একইভাবে আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো: তাঁর স্বীকৃতি ও তাঁকে সাব্যস্ত করা; আর আল্লাহর জন্য ঈমান হলো: তাঁর আনুগত্য ও তাঁর আদেশের অনুসরণ। এই ভিত্তিতে আল্লাহর প্রতি বা নবীর প্রতি ঈমান হলো সেইসব দলিলের প্রতি ঈমান যা তাঁর দিকে পথনির্দেশ করে, কারণ এটি তাদের নির্দেশনার গ্রহণযোগ্যতা এবং তাদের দাবির প্রতি আনুগত্য। আর কিতাবের প্রতি ঈমান হলো সেইসব দলিলের প্রতি ঈমান যা প্রমাণ করে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
فأما إذا قلت: "آمنت بالكتاب"، لم تكن دللت على أكثر من أنك أثبته كتابا لله تعالى، والإيمان بالنبي إيمان لله لأنه قبول لدلالته التي أيده بها، وطاعة له فيما أتى به من عنده، والإيمان بالله إيمان بالنبي لأنه إجابة لدعوته ومتابعة له على مقالته. وقد يجوز أن يقول: آمنت للكتاب والتزمت العمل بأمره ووعيده. فإن قال قائل: فما يمنع أن يكون الإيمان بالله إيمانا لله؟ لأن الإيمان بالله من فرائض الله، وطاعته فيه إيمان له، والإيمان بالنبي إيمان للنبي لأنه مؤمن بنفسه كما هو مؤمن بالله، والإقرار له بذلك متابعة له على ما هو عنده، فرجع الأمر: إلى أن الإيمان بمن يضاف الإيمان إليه والإيمان له سواء، فالفرق بينهما ساقط!
فالجواب: إنا لا ننكر أن يكون هذا هكذا إذا كان أحد هذين المعنيين مضافا إلى صيغة اللفظ الآخر وإلى تأويله! وإنما ينكر أن يكون جميعا مضافين إلى صيغة اللفظ إذا كانت الشواهد التي تقدم ذكرها تشهد بأن كل واحدة من اللفظتين موضوعة لغير ما وضعت له الأخرى. فكانت نفس الصيغة تدل على ذلك، لأنه إذا قيل: آمنت بكذا، أوجب ذلك إلصاق الإيمان بذلك الكذا، إذ الباء عندهم حرف إلصاق، فلا يكاد هذا اللفظ يدل على أكثر من التصديق بذات من أضيف الإيمان بالله. فإذا قيل: آمنت لكذا، أوجب ذلك إيمانا غير ملصق بذلك الكذا لكن واقعا لأجله. فكان قولهم: "آمنت بالله"، كقولهم "أثبت الله واعترفت به". وقولهم: "آمنت لله"، كقولهم: "خضعت لله، والخضوع له عز اسمه معنى غير إثباته، فلو جاز أن يقال: أن أحدهما هو الآخر. مع افتراقهما من حيث ذكرت، لجاز أن يقال: أن اسم الصلاة لصيغته موضوع لطاعته، إذ كانت الصلاة لله طاعة له، والصيام وكل عبادة مثلها، فتكون الصلاة صياما لأنها طاعة مثله، أو الصيام صلاة لأنه طاعة مثلها، وكل واحد منهما مستعملا حيث تستعمل الطاعة، إذ كان كل واحد منهما طاعة. فإذا لم يجز أن يقال ذلك لافتراق الاسمين فيما صيغ كل واحد من اللفظين له من المعنى، فكذلك الإيمان بالله والإيمان لله، هذه منزلتهما.
ويدل على صحة ذلك اسم الإسلام يصلح مكان اسم الإيمان عند وصله باللام، ولا
পক্ষান্তরে আপনি যখন বলেন: "আমি কিতাবের প্রতি ঈমান এনেছি", তখন আপনি কেবল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কিতাব হিসেবে এটিকে সাব্যস্ত করা ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করেননি। আর নবীর প্রতি ঈমান আনা আল্লাহর প্রতিই ঈমান আনা, কারণ এটি হলো তাঁর সেই প্রমাণের স্বীকৃতি—যার মাধ্যমে তিনি তাঁকে শক্তিশালী করেছেন—এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা। আবার আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা নবীর প্রতিই ঈমান আনা, কারণ এটি হলো তাঁর দাওয়াতের উত্তর দেওয়া এবং তাঁর বক্তব্যের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করা। কখনো কখনো এটি বলা জায়েয যে: "আমি কিতাবের জন্য ঈমান এনেছি" এবং এর আদেশ ও সতর্কবার্তাকে মেনে নিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি। যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা আল্লাহর জন্য ঈমান হওয়া থেকে কিসে বাধা দেয়? কারণ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা তো আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর এ বিষয়ে তাঁর আনুগত্য করা মূলত তাঁর জন্য ঈমান আনা। তদ্রূপ নবীর প্রতি ঈমান আনা নবীর জন্য ঈমান আনা, কারণ নবী নিজের প্রতি ঈমান রাখেন যেমনটি তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেন। আর এ ব্যাপারে তাঁর স্বীকৃতি হলো তাঁর নিকট যা আছে সে বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করা। সুতরাং বিষয়টি এই দাঁড়াল: যাঁর দিকে ঈমান সম্পৃক্ত করা হয় তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর জন্য ঈমান আনা উভয়ই সমান, ফলে এ দুইয়ের মাঝে পার্থক্যটি বিলুপ্ত হয়ে গেল!
এর উত্তর হলো: আমরা অস্বীকার করি না যে বিষয়টি এমনই হবে যদি এই দুই অর্থের কোনো একটিকে অন্য শব্দের গঠন এবং তার ব্যাখ্যার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়! তবে আমরা এটি অস্বীকার করি যে, উভয়টিই একই শব্দের গঠনের সাথে সম্পৃক্ত হবে, যেখানে ইতিপূর্বে উল্লিখিত প্রমাণসমূহ সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, এই শব্দ দুটির প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থের জন্য নির্ধারিত। স্বয়ং শব্দের গঠনই তার প্রমাণ দেয়। কারণ যখন বলা হয়: "আমি অমুক বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছি", তখন তা সেই বিষয়ের সাথে ঈমানকে সংশ্লিষ্ট করা আবশ্যক করে। যেহেতু তাদের নিকট "বা" বর্ণটি সংশ্লিষ্ট করার অর্থ দেয়। ফলে এই শব্দটি আল্লাহর সত্তার প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে কেবল তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতির চেয়ে বেশি কিছু নির্দেশ করে না। পক্ষান্তরে যখন বলা হয়: "আমি অমুক বিষয়ের জন্য ঈমান এনেছি", তখন তা সেই বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয় বরং তার নিমিত্তে ঘটিত ঈমানকে আবশ্যক করে। সুতরাং তাদের কথা: "আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি", এটি তাদের এই কথার মতো যে "আমি আল্লাহকে সাব্যস্ত করেছি এবং তাঁর স্বীকৃতি দিয়েছি"। আর তাদের কথা: "আমি আল্লাহর জন্য ঈমান এনেছি", এটি তাদের এই কথার মতো যে "আমি আল্লাহর সামনে অবনত হয়েছি"। আর মহান আল্লাহর সামনে অবনত হওয়া এবং তাঁকে সাব্যস্ত করা ভিন্ন ভিন্ন অর্থ। সুতরাং আমি যা উল্লেখ করেছি সেই ভিন্নতা সত্ত্বেও যদি জায়েয হতো যে একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে, তবে এটি বলাও জায়েয হতো যে "সালাত" শব্দটি তার গঠনের দিক থেকে "আনুগত্য" অর্থে ব্যবহৃত, যেহেতু আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করা মূলত তাঁর আনুগত্য করা। রোজা এবং অন্যান্য সকল ইবাদতও তদ্রূপ। ফলে সালাত রোজা হয়ে যেত কারণ এটিও এক প্রকার আনুগত্য, অথবা রোজা সালাত হয়ে যেত কারণ এটিও এক প্রকার আনুগত্য। এবং প্রত্যেকটি শব্দ "আনুগত্য" শব্দের স্থলে ব্যবহৃত হতো যেহেতু প্রত্যেকটিই আনুগত্য। অতএব, যখন শব্দ দুটির প্রত্যেকটি যে অর্থের জন্য গঠিত হয়েছে সেই অর্থের ভিন্নতার কারণে এটি বলা জায়েয নয়, তখন "আল্লাহর প্রতি ঈমান" এবং "আল্লাহর জন্য ঈমান"-এর বিষয়টিও ঠিক তেমন মর্যাদায় রয়েছে।
এর সঠিকতার ওপর প্রমাণ হলো "ইসলাম" নামটি, যা "লাম" বর্ণের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় "ঈমান" নামের স্থলে ব্যবহৃত হওয়া উপযোগী, কিন্তু...
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
يصلح مكانه عند وصله بالباء. إذ قد يجوز أن يقال: "آمنت لله وأسلمت لله"، ولا يجوز أن يقال: "أسلمت بالله" كما يقال: "آمنت بالله". فثبت بهذا ثبوتا ظاهرا إن الإيمان لله غير الإيمان بالله، وأن الإيمان بالله إثباته والاعتراف به. فلما لم يكن من قولهم أسلمت بالله، هذا المعنى، لم يجز استعماله وأن الإيمان لله هو الطواعية له بإتباع أوامره بعد الاعتراف به، إذ كان إتباع الأمر مع الجحود لا يتحقق، فلما كان ذلك إسلاما للنفس وتسليما لأمر الله، صح أن يقال: "أسلمت لله"، فبان عما قلنا أن من قال: "آمنت بالله"، كان الإثبات والاعتراف به هو المعنى المضاف إلى صيغة اللفظ، وأما ما فيه من معنى الطاعة فهو من تأويل اللفظ لا من حكم صيغته. وأما من قال: "آمنت الله"، كان الإذعان والطواعية له بقبول أوامره وسائر ما جاء من عنده، هو المعنى المضاف إلى صيغة اللفظ. فأما ما فيه من معنى الإثبات له والاعتراف به، من حيث أن إتباع الأمر والنهي لا يكون إلا مع الاعتراف، فهو من تأويل اللفظ لا من حكم صيغته، والله أعلم.
فصل
ومن هذا الوجه الذي بيناه أوجبنا أن تكون الطاعات كلها: فرائضها ونوافلها إيمانا، ولم نوجب أن تكون المعاصي الواقعة من المؤمنين كفرا. وذلك أن الكفر بالله أو برسوله مقابل الإيمان به. فإذا كان الإيمان بالله أو برسوله الاعتراف به والإثبات له، كان الكفر به جحوده والنفي له والتكذيب به. فأما الأعمال فإنها إيمان لله ولرسوله بعد وجود الإيمان به. والمراد به إقام الطاعة على شرط الاعتراف المتقدم، فكان الذي يقابله هو الشقاق والعصيان دون الكفر، فلذلك قلنا أن تارك الإتباع مع الثبات على التصديق فاسق وليس بكافر. وكان هذا هو الذي يوجبه اللسان إلى أن يحقق المعاني وينظر فيما يوجبه، والله أعلم.
যখন 'বা' বর্ণের মাধ্যমে যুক্ত করা হয় তখন তার স্থান যথাযথ হয়। কারণ এটি বলা বৈধ যে: "আমি আল্লাহর জন্য ঈমান এনেছি এবং আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি", কিন্তু এটি বলা বৈধ নয় যে: "আমি আল্লাহর দ্বারা ইসলাম গ্রহণ করেছি" যেমনটি বলা হয়: "আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি"। এর দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহর জন্য ঈমান আনা এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ভিন্ন বিষয়। আর আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো তাঁকে সাব্যস্ত করা এবং তাঁর স্বীকৃতি প্রদান করা। যেহেতু তাদের "আমি আল্লাহর দ্বারা ইসলাম গ্রহণ করেছি" বলার মধ্যে এই অর্থ বিদ্যমান নেই, তাই এটি ব্যবহার করা বৈধ নয়। আর আল্লাহর জন্য ঈমান আনা হলো তাঁর স্বীকৃতির পর তাঁর আদেশসমূহ অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করা। যেহেতু অস্বীকারের সাথে আদেশ পালন বাস্তবায়িত হয় না, আর যেহেতু এটি নফসের ইসলাম (আত্মসমর্পণ) এবং আল্লাহর আদেশের প্রতি সমর্পণ, তাই "আমি আল্লাহর জন্য আত্মসমর্পণ করেছি" বলা সঠিক। সুতরাং আমরা যা বলেছি তা থেকে স্পষ্ট হলো যে, যে ব্যক্তি বলে: "আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি", তখন শব্দটির কাঠামোর সাথে যুক্ত অর্থ হলো তাঁকে সাব্যস্ত করা ও স্বীকৃতি দেওয়া। আর এর মধ্যে আনুগত্যের যে অর্থ রয়েছে, তা শব্দের ব্যাখ্যা থেকে আসে, শব্দের কাঠামোগত বিধান থেকে নয়। আর যে ব্যক্তি বলে: "আমি আল্লাহর অনুগত হয়েছি", তখন শব্দটির কাঠামোর সাথে যুক্ত অর্থ হলো তাঁর আদেশ এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা সমস্ত কিছু গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি বশ্যতা ও আনুগত্য প্রকাশ করা। আর এর মধ্যে সাব্যস্তকরণ ও স্বীকৃতির যে অর্থ রয়েছে (যেহেতু আদেশ ও নিষেধের অনুসরণ স্বীকৃতি ছাড়া সম্ভব নয়), তা শব্দের ব্যাখ্যা থেকে আসে, শব্দের কাঠামোগত বিধান থেকে নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
পরিচ্ছেদ
আর আমরা যে দিকটি বর্ণনা করেছি, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা সমস্ত আনুগত্যকে—তার ফরজ ও নফলসমূহকে—ঈমান হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক করেছি; কিন্তু মুমিনদের থেকে সংঘটিত গুনাহসমূহ কুফর হওয়া আবশ্যক করিনি। কারণ আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের প্রতি কুফর হলো তাঁর প্রতি ঈমানের বিপরীত। সুতরাং যদি আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান হয় তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সাব্যস্ত করা, তবে তাঁর প্রতি কুফর হবে তাঁকে অস্বীকার করা, প্রত্যাখ্যান করা এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। পক্ষান্তরে আমলসমূহ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান বিদ্যমান থাকার পর আল্লাহর জন্য এবং রাসূলের জন্য ঈমান। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্ববর্তী স্বীকৃতির শর্তে আনুগত্য কায়েম করা। সুতরাং এর বিপরীত বিষয় হলো বিরোধিতা ও অবাধ্যতা, কুফর নয়। একারণেই আমরা বলেছি যে, সত্যায়নের ওপর অটল থেকে যে ব্যক্তি অনুসরণ ত্যাগ করে, সে ফাসিক, কাফির নয়। অর্থসমূহ বিশ্লেষণ এবং তার আবশ্যকতা বিবেচনা করলে ভাষাগতভাবে এটাই সাব্যস্ত হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فصل
ثم أن التصديق الذي هو معنى الإيمان بالله وبرسوله ينقسم: فيكون منه ما يخفى وينكتم، ويكون منه ما يتجلى ويظهر، وأما الذي يخفى فهو الواقع منه بالقلب ويسمى اعتقادا، وأما الذي يظهر فهو الواقع باللسان ويسمى إقرارا ويسمى شهادة. وكذلك الإيمان لله ولرسوله ينقسم: إلى جلي وخفي. فالخفي منه هو النيات والعزائم التي لا تجوز العبادات إلا بها. واعتقاد الواجب واجبا والمباح مباحا والرخصة رخصة والمحظور محظورا والعبادة عبادة والحد حدا ونحو ذلك. والجلي ما يقام بالجوارح إقامة ظاهرة وهو عدة أمور: منها الطهارة ومنها الصلاة ومنها الحج ومنها العمرة ومنها الزكاة ومنها الصيام ومنها الجهاد في سبيل الله، وأمور سواها ستذكر في مواضعها. وكل ذلك إيمان وإسلام وطاعة لله عز وجل ولرسوله صلى الله عليه وسلم إلا أنه إيمان لله بمعنى أنه عبادة له، وإيمان للرسول بمعنى أنه قبول عنه دون أن يكون عبادة له، إذ العبادة لا تحق لأحد عز وجل.
فصل
ونقول: الخلاف في هذا الأصل الذي تقدم من قبل اللسان تمهيده كثير، ولكن القصد في هذا الكتاب، الكلام على الفريقين:
أحدهما: الذين يقولون أن التصديق بالقلب كان لإثبات الإيمان ومزايلة الكفر، وأن الإقرار باللسان وإن كان فرضا، فليس أن الكفر لا ينتفي إلا به، وإنما هو كالصلاة والزكاة وغيرهما من أركان الإسلام. وهي وإن كانت فرضا، فالكفر ينتفي من دونها، فكذلك الإقرار.
والآخر: الذين يقولون أن التصديق بالقلب واللسان معا هما الإيمان، فمن اعتقد بقلبه وأقر بلسانه فقد استكمل الإيمان، وأما سائر الطاعات والعبادات فاسم الإيمان لا يلحقها، وإنما يقال أنها حقوق الإيمان أو شرائع الإيمان، فأما الإيمان نفسه الاعتقاد والإقرار. وأما نحن فنقول: أن اسم الطاعات كلها فرائضها ونوافلها. فالاعتقاد
পরিশিষ্ট
অতঃপর, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের অর্থ যে তাসদিক বা বিশ্বাস, তা বিভক্ত: এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা গোপন ও প্রচ্ছন্ন থাকে, আর কিছু রয়েছে যা প্রকাশিত ও দৃশ্যমান হয়। যা গোপন থাকে তা হলো অন্তরের মাধ্যমে সম্পাদিত বিষয়, যাকে ইতিকাদ বা বিশ্বাস বলা হয়। আর যা প্রকাশিত হয় তা হলো জিহ্বার মাধ্যমে সম্পাদিত বিষয়, যাকে ইকরার বা স্বীকৃতি এবং শাহাদাত বা সাক্ষ্য প্রদান বলা হয়। একইভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানও দুই ভাগে বিভক্ত: প্রকাশ্য ও গোপন। এর মধ্যে গোপন বিষয় হলো নিয়ত ও সংকল্পসমূহ, যা ছাড়া ইবাদতসমূহ বৈধ হয় না। এছাড়া ওয়াজিবকে ওয়াজিব হিসেবে, মুবাহকে মুবাহ হিসেবে, রুখসত বা ছাড়কে ছাড় হিসেবে, নিষিদ্ধকে নিষিদ্ধ হিসেবে, ইবাদতকে ইবাদত হিসেবে এবং দণ্ডবিধিকে দণ্ডবিধি হিসেবে বিশ্বাস করা ইত্যাদি। আর প্রকাশ্য বিষয় হলো যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে বাহ্যিকভাবে সম্পাদিত হয় এবং তা বেশ কিছু বিষয়: তার মধ্যে রয়েছে পবিত্রতা অর্জন, সালাত, হজ, উমরাহ, জাকাত, সিয়াম, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং আরও অনেক বিষয় যা নিজ নিজ স্থানে আলোচিত হবে। এই সবই হলো মহান আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান, ইসলাম এবং আনুগত্য। তবে আল্লাহর ক্ষেত্রে ঈমান হওয়ার অর্থ হলো এটি তাঁর ইবাদত; আর রাসূলের ক্ষেত্রে ঈমান হওয়ার অর্থ হলো এটি তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করা, তাঁর ইবাদত হওয়া ব্যতীত। কেননা ইবাদত মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রাপ্য নয়।
পরিশিষ্ট
আমরা বলি: এই মূলনীতির বিষয়ে যার ভূমিকা জিহ্বার আলোচনার মাধ্যমে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, সেখানে মতপার্থক্য অনেক। তবে এই কিতাবে আমাদের উদ্দেশ্য হলো দুই দলের ব্যাপারে আলোচনা করা:
প্রথম দল: যারা বলে যে, অন্তরের বিশ্বাসই ঈমান সাব্যস্ত করার এবং কুফর দূর করার জন্য যথেষ্ট। আর জিহ্বার মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান যদিও ফরজ, কিন্তু বিষয়টি এমন নয় যে এটি ছাড়া কুফর দূরীভূত হয় না; বরং এটি সালাত, জাকাত এবং ইসলামের অন্যান্য রুকনের মতো। এগুলো যেমন ফরজ হওয়া সত্ত্বেও এগুলো ছাড়া কুফর অপসারিত হতে পারে, স্বীকৃতির বিষয়টিও তদ্রূপ।
দ্বিতীয় দল: যারা বলে যে, অন্তরের বিশ্বাস এবং জিহ্বার স্বীকৃতি—এই উভয়টি মিলেই ঈমান। সুতরাং যে ব্যক্তি অন্তরে বিশ্বাস করল এবং মুখে স্বীকৃতি দিল, সে ঈমান পূর্ণ করল। অবশিষ্ট আনুগত্য ও ইবাদতসমূহের ওপর ঈমান নামটি প্রযুক্ত হয় না; বরং সেগুলোকে ঈমানের হক বা ঈমানের শরিয়ত বলা হয়। আর ঈমান হলো মূলত বিশ্বাস ও স্বীকৃতি। তবে আমরা বলি যে, সমস্ত আনুগত্য—তার ফরজ ও নফলসমূহ—ঈমান নামের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বিশ্বাস...
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
إيمان، وكل عبادة من صلاة أو زكاة أو حج أو جهاد أو غيرها فهي إيمان. ثم في تسميتها إيمانا وجهان:
أحدهما أن كلها إيمان بالله عز وجل وبرسوله صلى الله عليه وسلم.
والآخر: أن الاعتقاد والإقرار إيمان بالله وبرسوله، وسائر الطاعات والعبادات إيمان لله ورسوله. وسنتكلم عن كل واحد من الوجهين عند الحاجة إليه إن شاء الله.
والدليل على أن التصديق بالقلب لا ينفك عن الكفر دون أن ينضم إليه الإقرار باللسان إذا كان مقدورا عليه- إن الله عز وجل أمر بالقول فقال: {قل آمنا بالله وما أنزل علينا وما أنزل على إبراهيم وإسماعيل وإسحق ويعقوب والأسباط وما أوتي موسى وعيسى والنبيون من ربهم لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون}. ثم قال عز وجل: {فإن آمنوا بمثل ما آمنتم به فقد اهتدوا. وإن تولوا فإنما هم في شقاق}. فأمر المؤمنين أن يقولوا: "آمنا" ثم أخبر- بقوله تعالى: فإن آمنوا بمثل ما آمنتم به- إن ذلك القول منهم إيمان، وسمي قولهم مثل ذلك إن قالوه وإيمانا، إذ لا معنى لقوله: {فإن آمنوا بمثل ما آمنتم به} إلا فإن آمنوا بأن قالوا: "مثل ما قلتم"، فكانوا مؤمنين كما آمنتم. فصح أن القول إيمان، وبأن قوله تعالى: {فإن آمنوا بمثل ما آمنتم فقد اهتدوا وأن تولوا فإنما هم في شقاق} بعد ما ثبت أن تقديره ما وصفنا أن المعنى. فإن قالوا مثل ما قلتم فقد اهتدوا وإن تولوا وأبوا وامتنعوا فإنما هم في شقاق، ومشاقة الله تعالى كفر، فصح أن القول باللسان محتاج إليه لنفي الكفر، والله أعلم.
وقال عز وجل في آية أخرى: {فلما رأوا بأسنا قالوا: أمنا بالله وحده وكفرنا بما كنا به مشركين، فلم يك ينفعهم إيمانهم لما رأوا بأسنا}. إن ذلك القول لم ينقلهم عن الكفر، لأنه كان بعد رؤية البأس، فثبت أنه لو كان قبلها، لنفعها بأن كان ينقلهم عن الكفر إلى الإيمان.
ودلت السنة على مثل ما جاء به القرآن، فروي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (أمرت أن
ঈমান, এবং সালাত, জাকাত, হজ, জিহাদ বা অন্য যে কোনো ইবাদত হলো ঈমান। এরপর এগুলোকে ঈমান হিসেবে নামকরণের ক্ষেত্রে দুটি দিক রয়েছে:
একটি হলো, এগুলোর সবই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান।
অপরটি হলো: বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকারোক্তি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান, আর অন্যান্য আনুগত্য ও ইবাদতসমূহ হলো আল্লাহ ও রাসূলের জন্য ঈমান। ইনশাআল্লাহ, যখন প্রয়োজন হবে তখন আমরা এই দুটি দিকের প্রতিটি সম্পর্কে আলোচনা করব।
আর অন্তরের বিশ্বাসের সাথে যদি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মৌখিক স্বীকারোক্তি যুক্ত না হয়, তবে তা যে কুফর থেকে মুক্ত হয় না তার প্রমাণ হলো— মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: {বলুন, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, এবং যা মুসা, ঈসা ও নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী}। অতঃপর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তোমরা যেভাবে ঈমান এনেছ, তারাও যদি সেভাবে ঈমান আনে, তবে অবশ্যই তারা হিদায়াত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা কেবল বিরোধেই লিপ্ত আছে}। সুতরাং তিনি মুমিনদের বলার নির্দেশ দিয়েছেন: "আমরা ঈমান এনেছি", অতঃপর সংবাদ দিয়েছেন— আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: {অতঃপর তোমরা যেভাবে ঈমান এনেছ, তারাও যদি সেভাবে ঈমান আনে}— যে, তাদের সেই কথাটি হলো ঈমান। আর তারা যখন অনুরূপ কথা বলবে, তখন তাদের সেই কথাকে ঈমান হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কোনো অর্থ হয় না: {অতঃপর তোমরা যেভাবে ঈমান এনেছ, তারাও যদি সেভাবে ঈমান আনে} তবে কেবল এটাই যে, তারা যদি বলার মাধ্যমে ঈমান আনে: "তোমরা যা বলেছ তার অনুরূপ", তবে তারা তোমাদের মতো মুমিন হবে। সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, মৌখিক কথা বলা ঈমান। আর আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {অতঃপর তোমরা যেভাবে ঈমান এনেছ, তারাও যদি সেভাবে ঈমান আনে তবে তারা হিদায়াত পাবে, আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা বিরোধে লিপ্ত আছে}— এর ব্যাখ্যা যা আমরা বর্ণনা করেছি তা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে: তারা যদি তোমাদের মতো কথা বলে তবে তারা হিদায়াত পাবে, আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, অস্বীকার করে এবং বিরত থাকে, তবে তারা কেবল বিরোধেই লিপ্ত। আর আল্লাহ তাআলার সাথে বিরোধ করা কুফর। সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, কুফর দূর করার জন্য মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রয়োজন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেন: {অতঃপর তারা যখন আমাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল: আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং যাদেরকে তাঁর সাথে শরিক করতাম তাদেরকে অস্বীকার করলাম। কিন্তু তারা যখন আমাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসেনি}। নিশ্চয়ই সেই কথাটি তাদেরকে কুফর থেকে বের করতে পারেনি, কারণ তা ছিল শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পর। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, যদি তা তার আগে হতো, তবে তা তাদেরকে কুফর থেকে ঈমানের দিকে স্থানান্তরিত করার মাধ্যমে তাদের উপকারে আসত।
আর সুন্নাহও কুরআনে যা এসেছে তার অনুরূপ বিষয়ের প্রমাণ দেয়। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে...
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله، فإذا قالوها عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها). ومعلوم أن الإيمان هو الواجب للعصمة، فلما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم: أن العصمة المزايلة بالكفر تثبت بالقول، صح أن القول إيمان، وأن الحاجة إليه كالحاجة إلى الاعتقاد لانتفاء الكفر، والنظر يدل على صحة هذا القول، لأن اللسان محل التوحيد كالقلب، فإن القاصد إلى الإيمان كما يخطر بقلبه أن لا إله إلا الله، ويوطن نفسه على أن ذلك كذلك، فيكون موحدا بقلبه. فكذلك يجري لسانه بمثل ما كسب قلبه ويعبر عما في ضميره فيقول: لا إله إلا الله، فيكون موحدا بلسانه، فبان بذلك أن كل واحد من القلب واللسان محل التوحيد، ووجب إذا كان اعتقاد التوحيد أمرا لا ينتفي الكفر بدونه أن يكون القول باللسان في هذا مثله، وأن لا يقضي بزوال الكفر مع خلو محل التوحيد وبالله التوفيق.
ووجه آخر: وهو أن الكفر لما كان يقوم بالعقد وحده وبالقول وحده، لأن من تكلم بكلمة الكفر مختار عالما بمعناها غير حاك لها عن غيره كفر، وإن ما كان لا يعتقد أن ما تنبي عنه الكلمة صحيح، كما أن من اعتقد ضربا من ضروب الكفر كفر، وإن لم يعبر عنه بلسانه. دل ذلك على أنه لا ينتفي إلا باجتماع العقد والقول على نفيه، لأنه لما احتيج إلى عقد القلب لنفي الكفر لم تكن العلة فيه، إلا أن فساد العقد مثبت للكفر، وهذا المعنى موجود في القول لأن فساده موجب للكفر، فصح أنه محتاج إليه لنفي الكفر كالعقد، فوجب أن لا يثبت الإيمان إلا بالجمع بين الاعتقاد الصحيح والإقرار الصريح وبالله التوفيق.
ووجه آخر: وهو أن الإجماع قد حصل على أن الإقرار فرض، وإن كان مختلف في أن البراءة من الكفر تقع من دونه أو لا تقع، فلا يخلو وجوبه من أوجه ثلاثة.
أما أن يكون لشغل جاز حتى التوحيد للجمع بذلك بين ظاهر الإيمان وباطنه، أو
আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের জান ও মাল সুরক্ষিত করে নেবে, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন। এটা সুবিদিত যে, জান-মালের সুরক্ষার জন্য ঈমান অপরিহার্য। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, কুফরের কারণে যে সুরক্ষা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তা মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে অর্জিত হয়, তখন এটি সাব্যস্ত হলো যে মৌখিক স্বীকৃতিই ঈমান। আর কুফর দূর করার জন্য বিশ্বাসের যেমন প্রয়োজন, মৌখিক স্বীকৃতির প্রয়োজনও তদ্রূপ। যৌক্তিক বিচারও এই বক্তব্যের সঠিকতা প্রমাণ করে; কেননা কলবের ন্যায় জিহ্বাও তাওহীদের আধার। কেননা ঈমান অন্বেষণকারী ব্যক্তি যেমন তার হৃদয়ে এই খেয়াল আনে যে—আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মনেপ্রাণে তা বিশ্বাস করে নেয়, ফলে সে অন্তরে মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) হয়; ঠিক তেমনিভাবে তার অন্তর যা অর্জন করেছে তা অনুযায়ী তার জিহ্বাও চালিত হয় এবং তার অন্তরের বিষয়টি ব্যক্ত করে সে বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। ফলে সে জিহ্বার মাধ্যমেও মুওয়াহহিদ হয়। এতে স্পষ্ট হলো যে, অন্তর এবং জিহ্বা—উভয়ই তাওহীদের আধার। আর যখন তাওহীদের বিশ্বাস এমন একটি বিষয় যে তা ব্যতীত কুফর দূরীভূত হয় না, তখন অবধারিতভাবে জিহ্বার স্বীকৃতির বিধানও তদ্রূপ হওয়া আবশ্যক। আর তাওহীদের আধার শূন্য রেখে কুফর দূরীভূত হওয়ার ফয়সালা করা যাবে না। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়।
অন্য একটি দিক হলো: যেহেতু কুফর কেবল অন্তরের বিশ্বাসের মাধ্যমে এবং কেবল মৌখিক উচ্চারণের মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠিত হয়—কেননা যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কুফরি বাক্য উচ্চারণ করে, এর অর্থ সম্পর্কে অবগত হয়ে এবং অন্য কারো উদ্ধৃতি দেওয়া ব্যতীত, সে কাফির হয়ে যায়, যদিও সে মনে করে না যে ঐ বাক্য দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে তা সঠিক—ঠিক যেমন কোনো ব্যক্তি কুফরের কোনো প্রকার অন্তরে পোষণ করলে সে কাফির হয়ে যায়, যদিও সে তা জিহ্বা দ্বারা প্রকাশ না করে। এতে প্রমাণিত হয় যে, কুফর ততক্ষণ দূর হয় না যতক্ষণ না অন্তরের বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতি—উভয়ই তা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে একত্রিত হয়। কারণ কুফর দূর করার জন্য যখন অন্তরের বিশ্বাসের প্রয়োজন হলো, তখন এর কারণ এটাই ছিল যে, অন্তরের বিশ্বাসের কলুষতা কুফরকে সাব্যস্ত করে। আর এই বিষয়টি মৌখিক উচ্চারণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান, কেননা এর বিকৃতিও কুফরকে আবশ্যক করে। সুতরাং সাব্যস্ত হলো যে, কুফর দূর করার জন্য বিশ্বাসের ন্যায় মৌখিক স্বীকৃতিরও প্রয়োজন রয়েছে। অতএব, সঠিক বিশ্বাস এবং সুস্পষ্ট স্বীকৃতির সমন্বয় ব্যতীত ঈমান সাব্যস্ত না হওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়।
আরেকটি দিক হলো: এ বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, মৌখিক স্বীকৃতি প্রদান করা ফরজ, যদিও এটি ছাড়া কুফর থেকে মুক্তি লাভ হবে কি হবে না সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে এর আবশ্যকতা তিনটি অবস্থার বাইরে নয়।
হয়তো এটি তাওহীদের হুকুম জারি করার জন্য হবে যাতে এর মাধ্যমে ঈমানের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার সমন্বয় ঘটে, অথবা—
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ليعلم المقر غيره أنه قد اعتقد التوحيد وترك ما يخالفه، أو لا لهذا ولا لذلك. ولكنه فرض كسائر الفروض التي هي الصلاة والزكاة والصيام، فبطل أن يكون وجوب الإقرار ليعلم المقر غيره حال نفسه من الإيمان، فإن المنفرد بنفسه حيث لا بأس عنده ولا أحد معه يلزمه من الإقرار والتشهد بشهادة الحق، ما يلزم التارك بين الجماعة ومعلوم أنه إذا كان خاليا بنفسه، فليس يحتاج أن يعلم غيره إيمانه بل لا غير فيعلمه، فثبت أن وجود الإقرار ليس للإعلام، ودل على ذلك أيضا أنه لو أقر من حيث لا يسمع إلا لنفسه لسقط عنه فرض الإقرار، فعلم أن وجوبه ليس لأعلام الغير، وبطل أن يكون وجوبه كوجوب الصلاة والزكاة لأنه أخف كلفة وأقل شغلا من الصلاة والزكاة والصيام، ثم لا يتكرر تكرارا متداينا ولا ييكر امتزاجيا، فلو كان وجوبه على أنه من فروع الإيمان لتكرر كما يتكرر ما هو أشق وأثقل منه، فإن قال: فإن الإقرار يتكرر في الصلوات، قيل: أول ما يجب الإقرار فإنما يجب في غير الصلاة فتكرره يجب مرة بعد أخرى في غير الصلاة ليكون مقصودا بنفسه، وأما إذا وجب في الصلاة فإنما يجب لتكميلها، وليس ذلك من وجوبها لنفسها بسبيل. ألا ترى أن عامة ما يجب على الصائم الإمساك عنه، يجب على المصلي الإمساك عنه؟ ثم لا يكون تكرر صيام لأنه مشروط غيره وليس بمقصود في نفسه! فكذلك الإقرار والله أعلم. ولما بطل هذان الوجهان صح الثالث وهو أن الإقرار إنما يلزم لينضم إلى الاعتقاد ويعاونه على نفي الكفر والله أعلم.
ووجه آخر: يدل على أن الإقرار إنما يجب وجوب الاعتقاد، أنه يلزم العاقل البالغ معجلا مضيقا كما يلزمه الاعتقاد معجلا مضيقا، فبان أنه للجمع بين ظاهر الإيمان وباطنه لا لدلالة الغير على استحداث الإيمان، فإن الغرض من الإقرار لو كان تعريف الحال لجاز أن يتأخر إلى أن تقع الحاجة إلى التعريف، ولما لم يجز تأخيره بعد حصول المعرفة كما لا يجوز تأخير الاعتقاد دل على ذلك على أنه لما قلنا من الجمع بين ظاهر الأمر وباطنه والله أعلم.
যাতে স্বীকৃতিদানকারী ব্যক্তি অন্যকে জানাতে পারেন যে তিনি তাওহিদে (একত্ববাদে) বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং এর পরিপন্থী বিষয় বর্জন করেছেন—এজন্য কি মৌখিক স্বীকৃতি প্রদান আবশ্যক? নাকি এর জন্যও নয় এবং অন্য কোনো কারণেও নয়? বরং এটি সালাত, জাকাত ও সিয়ামের মতো অন্যান্য ফরজের ন্যায় একটি ফরজ। সুতরাং এই মতটি বাতিল হয়ে গেল যে, মৌখিক স্বীকৃতির আবশ্যকতা কেবল এজন্য যাতে স্বীকৃতিদানকারী ব্যক্তি অন্যকে তার ইমানের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করতে পারেন। কেননা, যখন কোনো ব্যক্তি একাকী থাকেন এবং তার সাথে অন্য কেউ থাকে না, তখনও তার ওপর সত্যের সাক্ষ্য বা মৌখিক স্বীকৃতি ও শাহাদাত প্রদান করা ঠিক তেমনই আবশ্যক হয়, যেমনটি জনসমক্ষে থাকা কোনো ব্যক্তির ওপর আবশ্যক। এটা সর্বজনবিদিত যে, যখন তিনি একাকী থাকেন, তখন অন্য কাউকে তার ইমান সম্পর্কে অবহিত করার প্রয়োজন পড়ে না, বরং সেখানে জানানোর মতো অন্য কেউ থাকেই না। অতএব প্রমাণিত হলো যে, মৌখিক স্বীকৃতির অস্তিত্ব কেবল অন্যকে জানানোর জন্য নয়। এর প্রমাণ আরও এই যে, যদি কেউ এমনভাবে স্বীকৃতি দেয় যা কেবল সে নিজেই শুনতে পায়, তবুও তার ওপর থেকে স্বীকৃতির আবশ্যকতা (ফরজ) রহিত হয়ে যায়। সুতরাং জানা গেল যে, এর আবশ্যকতা অন্যকে জানানোর জন্য নয়। আবার এর আবশ্যকতা সালাত ও জাকাতের আবশ্যকতার মতো হওয়ার বিষয়টিও বাতিল গণ্য হবে; কারণ এটি সালাত, জাকাত ও সিয়ামের চেয়ে অনেক কম পরিশ্রমসাধ্য এবং স্বল্প সময়ের কাজ। তাছাড়া, এটি ঋণের মতো বারবার আবর্তিত হয় না এবং কোনো মিশ্র উপায়েও বারবার আসে না। যদি এর আবশ্যকতা ইমানের শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে হতো, তবে এটিও সেভাবেই বারবার আবর্তিত হতো যেমনটি এর চেয়ে কঠিন ও ভারী বিষয়গুলো (সালাত ইত্যাদি) হয়ে থাকে। যদি কেউ বলে: মৌখিক স্বীকৃতি তো সালাতের মধ্যে বারবার পাঠ করা হয়? জবাবে বলা হবে: প্রাথমিকভাবে যখন স্বীকৃতি আবশ্যক হয়, তখন তা সালাতের বাইরেই ওয়াজিব হয়। এরপর সালাতের বাইরেও একের পর এক এটি পুনরায় আবশ্যক হয় যাতে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি উদ্দেশ্য হিসেবে সাব্যস্ত হয়। আর যখন সালাতে এটি আবশ্যক হয়, তখন তা কেবল সালাত পূর্ণ করার উদ্দেশ্যেই হয়; স্বতন্ত্র কোনো উদ্দেশ্যে নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, সিয়াম পালনকারীর জন্য যা কিছু থেকে বিরত থাকা আবশ্যক, সালাত আদায়কারীর জন্যও সেই সব বিষয় থেকে বিরত থাকা আবশ্যক? তবুও একে সিয়ামের পুনরাবৃত্তি বলা হয় না, কারণ এটি অন্য বিষয়ের শর্ত হিসেবে এসেছে এবং তা নিজ সত্তায় মূল উদ্দেশ্য নয়। মৌখিক স্বীকৃতির বিষয়টিও তদ্রূপ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। যেহেতু এই দুটি দিক বাতিল প্রমাণিত হলো, তাই তৃতীয়টিই সঠিক সাব্যস্ত হলো। আর তা হলো: মৌখিক স্বীকৃতি কেবল এজন্য আবশ্যক করা হয়েছে যাতে এটি অন্তরের বিশ্বাসের সাথে যুক্ত হয়ে কুফর বা অবিশ্বাস নির্মূল করতে সহায়তা করে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আরেকটি প্রমাণ যা নির্দেশ করে যে মৌখিক স্বীকৃতি অন্তরের বিশ্বাসের মতোই একটি আবশ্যিক বিষয়, তা হলো: এটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির ওপর বিলম্বহীনভাবে এবং সংকীর্ণ সময়ে (অবিলম্বে) আবশ্যক হয়, ঠিক যেমন অন্তরের বিশ্বাস বিলম্বহীনভাবে এবং সংকীর্ণ সময়ে আবশ্যক হয়। এ থেকে স্পষ্ট হলো যে, এটি ইমানের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দিকের সমন্বয়ের জন্য, অন্য কাউকে নতুনভাবে ইমান গ্রহণের বিষয়টি নির্দেশ করার জন্য নয়। যদি মৌখিক স্বীকৃতির উদ্দেশ্য নিজের অবস্থা জানানো হতো, তবে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন দেখা না দেওয়া পর্যন্ত একে পিছিয়ে দেওয়া বৈধ হতো। যেহেতু পরিচয় অর্জনের পর মৌখিক স্বীকৃতি বিলম্বিত করা বৈধ নয়—ঠিক যেমন অন্তরের বিশ্বাস বিলম্বিত করা বৈধ নয়—সেহেতু এটি প্রমাণ করে যে এর কারণ আমরা যা বলেছি তাই, অর্থাৎ বিষয়ের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দিকের সমন্বয় করা। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
ووجه آخر: وهو أن الكافر إذا اعتقد وأقر كان مؤمنا، ثم لا يلزمه في غير أحوال الصلاة أن يتكلم بشهادة الحق، وإن اعترضت في أمره شبهة فاحتاج إلى إزالتها للدفع عن نفسه كفاه أن يقول: إني مسلم أو قد أسلمت من وقت كذا، ولم يلزمه أن يأتي بالشهادة على وجهها. فبان أن ذلك للجمع بين ظاهر الإيمان وباطنه لا لمعنى سواه، إذ لو كان الدلالة على حال نفسه للزمه في كل حال من أحوال الأشكال الواقع في أمره أن يأتي بالشهادة على وجهها. وإذا لم يلزمه في ذلك ما يلزم في بدئ أمره، صح أن مجموع الاعتقاد والإقرار هو الإيمان وبالله التوفيق.
فإن قال قائل: فما أنكرتم أن الإيمان هو التصديق بالقلب وحده، لأن الله عز وجل أمر بالإيمان بقوله: {آمنوا} والتصديق بالقلب إيمان في اللسان، فمن جاء بذلك فقد وفى الأمر حقه وخرج عن عهدته:
فالجواب أن التصديق المطلق قول القائل: صدقت، بقول العرب: إن صدقت فصدقني، وإن أصبت فصوبني، وإن أخطأت فخطئني، وإن أسأت فسؤني، على أن قيل لي: صدقت، أصبت، أخطأت، أسأت،. وقال الله عز وجل: {ولما رأى المؤمنون الأحزاب قالوا: هذا ما وعدنا الله ورسوله، وصدق الله ورسوله وما زادهم إلا إيمانا وتسليما}. فسمى قوله: {وصدق الله ورسوله} بعد تقديم الإيمان زيادة إيمان. فثبت أن الإيمان ليس التصديق بالقلب دون القول به، وأيضا فإن هذه الآية لم تتجرد عن سائر الآيات والسنة التي فيها اشتراط القول لثبوت الإيمان، فوجب أن يكون محمولا على الإيمان ومضمومه إليها. وأيضا فإن لا خلاف بيننا وبين قائل هذا القول في أن الإقرار إيمان لأنه يقول الطاعات كلها إيمان، والإقرار طاعة. فهو إذن إيمان. فإن كان قوله عز وجل: آمنوا، محمولا على الإيمان الجامع لجميع شعبه، فالإقرار منها بل هو رأسها. وإن كان محمولا على كل شيء يلحقه اسم الإيمان فلا ينبغي أن يكون التصديق بالقلب أندر إليه من التصديق باللسان، ولا التصديق باللسان أندر إليه من التصديق بالقلب.
আরেকটি দিক হলো: যখন কোনো কাফির অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তা মুখে স্বীকার করে, তখন সে মুমিন হিসেবে গণ্য হয়। এরপর সালাতের অবস্থা ব্যতিরেকে অন্য সময়ে সত্যের সাক্ষ্য মুখে উচ্চারণ করা তার জন্য বাধ্যতামূলক থাকে না। যদি তার বিষয়ে কোনো সংশয় দেখা দেয় এবং নিজের পক্ষ থেকে তা দূর করার জন্য অপনোদনের প্রয়োজন হয়, তবে তার জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, "আমি একজন মুসলিম" অথবা "আমি অমুক সময় থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছি"। তার জন্য বিধিবদ্ধ পদ্ধতিতে শাহাদাত পাঠ করা আবশ্যক হয় না। এতে স্পষ্ট হয় যে, এটি ঈমানের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সমন্বয় করার জন্য, অন্য কোনো কারণে নয়। কারণ, এটি যদি কেবল তার নিজের অবস্থা নির্দেশ করার জন্য হতো, তবে তার বিষয়ে যখনই কোনো অস্পষ্টতা তৈরি হতো, তখনই তাকে বিধিবদ্ধ পদ্ধতিতে শাহাদাত পাঠ করতে হতো। যেহেতু তার ক্ষেত্রে শুরুতে যা আবশ্যক ছিল পরবর্তীতে তা আবশ্যক নয়, তাই প্রমাণিত হলো যে, বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতির সমষ্টিই হলো ঈমান। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক অর্জিত হয়।
যদি কেউ বলে: আপনারা কেন তা অস্বীকার করছেন যে, ঈমান হলো কেবল অন্তরের সত্যায়ন? কারণ মহান আল্লাহ ‘তোমরা ঈমান আনো’ বলে ঈমানের নির্দেশ দিয়েছেন। আর অন্তরের সত্যায়নই হলো ভাষায় ঈমান। সুতরাং যে ব্যক্তি তা পালন করল, সে নির্দেশের হক আদায় করল এবং তার দায় থেকে মুক্ত হলো।
এর উত্তর হলো, সাধারণ সত্যায়ন হলো কোনো বক্তার কথাকে 'তুমি সত্য বলেছ' বলা। আরবদের ভাষায় যেমন বলা হয়: 'যদি আমি সত্য বলি তবে আমাকে সত্যবাদী বলো, যদি আমি সঠিক হই তবে আমাকে সঠিক বলো, যদি আমি ভুল করি তবে আমাকে ভুল বলো, আর যদি আমি মন্দ করি তবে আমাকে মন্দ বলো'; এর ভিত্তিতেই আমাকে বলা হয়: 'তুমি সত্য বলেছ, তুমি সঠিক করেছ, তুমি ভুল করেছ, তুমি মন্দ করেছ'। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর মুমিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল, তখন তারা বলল: এটিই তা যার ওয়াদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের দিয়েছিলেন, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। আর এটি তাদের কেবল ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি করল।} এখানে ঈমানের উল্লেখের পর 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন' কথাটিকে 'ঈমান বৃদ্ধি' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ঈমান কেবল মৌখিক ঘোষণা ব্যতিরেকে শুধু অন্তরের সত্যায়ন নয়। এছাড়া এই আয়াতটি অন্যান্য আয়াত এবং সুন্নাহ থেকে বিচ্ছিন্ন নয় যেখানে ঈমান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য মৌখিক ঘোষণার শর্ত রয়েছে। সুতরাং একে সেই ঈমানের ওপরই প্রয়োগ করতে হবে যার সাথে মৌখিক স্বীকৃতি যুক্ত। তাছাড়া আমাদের এবং এই মত পোষণকারীর মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, মৌখিক স্বীকৃতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সে বলে যে, সকল আনুগত্যই ঈমান, আর মৌখিক স্বীকৃতিও একটি আনুগত্য। অতএব, এটি ঈমান। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী 'তোমরা ঈমান আনো' যদি ঈমানের সেই সামগ্রিক রূপের ওপর প্রয়োগ করা হয় যা তার সকল শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে মৌখিক স্বীকৃতি এর অন্যতম অংশ বরং এর প্রধান অংশ। আর যদি এটি এমন সব বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যার ওপর 'ঈমান' নাম প্রযুক্ত হয়, তবে অন্তরের সত্যায়ন মৌখিক সত্যায়নের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য হওয়ার কথা নয়, আবার মৌখিক সত্যায়নও অন্তরের সত্যায়নের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য হওয়ার কথা নয়।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
فإن قال قائل: ما أنكرتم أن الإيمان هو التصديق بالقلب وحده لقول الله عز وجل: {قالت الأعراب آمنا، قل: لن تؤمنوا ولكن قولوا أسلمنا ولما يدخل الإيمان في قلوبكم}. فأخبر أن القول ليس بإيمان وأن ما في القلب هو الإيمان.
فالجواب: أن الآية إن كانت توجب أن لا يكون القول إيمانا، فإنما ذلك في القول العاري عن الاعتقاد، ولسنا نخالف ذلك، بل نقول به، فإن قال: فإن في الآية أن التصديق بالقلب إيمان، وإنه لو كان في قلوبهم، لكانوا مؤمنين. قيل: لو كان في قلوبهم لكانوا مؤمنين لجمعهم بين التصديق بالقلب والقول باللسان لا التصديق بالقلب وحده، لأن الله تعالى وصفهم بالقول، لا إنه سلب ذلك القول اسم الإيمان ليعري القلب عن حقيقته، فدل على أن حقيقته إذا كانت موجودة في القلب كان وجود الإيمان بالقلب واللسان معا لا بأحدهما دون الآخر. فإن قال: ما أنكرتم أن الاعتقاد وحده إيمان، لأن من سلب البيان يصح منه الإيمان بقلبه، ومن سلب العقل لم يصح الإيمان منه بلسانه. فعلم أن مدار الإيمان على القلب لا على اللسان! فالجواب أن من سلب البيان صحت منه الصلاة بلا كلام، ومن سلب العقل لم تصح له صلاة أصلا، ولا يدل ذلك على أن الجمع بين العقل والقول غير محتاج إليه في وجود حقيقة الصلاة عند القدرة على الجمع بينهما، فكذلك ما ذكرتم، ثم لا يدل على أن الجمع بين العقل والقول غير محتاج إليه في وجود حقيقة الإيمان عند القدرة على الجمع بينهما. وأيضا فإن من سلب العقل، كما لا يصح منه الإيمان بلسانه فكذلك لا يصح منه الكفر بلسانه، وذلك لا يدل على أن الكفر النافي للإيمان لا يقع باللسان، فلذلك امتناع صحة الإيمان من المجنون لا يدل على أن نفي الكفر لا يقع باللسان، والله أعلم.
فإن قال: لما كان المكره على الكفر يحفظ الإيمان على نفسه بالثبات على اعتقاده مع إجرائه الكفر على لسانه، دل ذلك على أن الاعتماد في الإيمان على القلب.
فالجواب: أن المكره ليس يحفظ الإيمان على نفسه، بمجرد الاعتقاد، لكن به وبالإقرار السابق الذي قدمه ثم لم يتبعه ما ينقصه، وذلك أن القول الذي أكره عليه،
যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনি কেন অস্বীকার করেন যে ঈমান কেবল অন্তরের সত্যয়ন (তাসদিক), মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "মরুবাসীরা বলল, 'আমরা ঈমান এনেছি।' বলুন, 'তোমরা ঈমান আনোনি; বরং তোমরা বলো, 'আমরা আত্মসমর্পণ করেছি', কেননা এখনও তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি।" ফলে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে মৌখিক উক্তি ঈমান নয়, বরং যা অন্তরে থাকে তাই ঈমান।
উত্তর হলো: এই আয়াতটি যদি দাবি করে যে মৌখিক উক্তি ঈমান নয়, তবে তা কেবল সেই উক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা বিশ্বাস (আকীদা) বিবর্জিত। আমরা এর বিরোধিতা করি না, বরং আমরা এটাই বলি। যদি সে বলে: আয়াতে তো বলা হয়েছে যে অন্তরের সত্যয়নই ঈমান, এবং যদি তা তাদের অন্তরে থাকত তবে তারা মুমিন হতো। তবে বলা হবে: যদি তা তাদের অন্তরে থাকত তবে তারা মুমিন হতো তাদের অন্তরের সত্যয়ন এবং জিহ্বার মৌখিক স্বীকৃতির সমন্বয়ের কারণে, শুধু অন্তরের সত্যয়নের কারণে নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মৌখিক উক্তি দ্বারা বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই উক্তি থেকে ঈমান নামটিকে এ কারণে ছিনিয়ে নেননি যে অন্তর তার হাকিকত (প্রকৃত সত্তা) থেকে শূন্য ছিল। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, যখন অন্তরে এর হাকিকত বিদ্যমান থাকে, তখন ঈমানের অস্তিত্ব অন্তর ও জিহ্বা—উভয়ের মাধ্যমেই ঘটে, কেবল একটির মাধ্যমে নয়। যদি সে বলে: আপনারা কেন অস্বীকার করেন যে কেবল বিশ্বাসই ঈমান? কারণ যার বাকশক্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার ক্ষেত্রে অন্তরের মাধ্যমে ঈমান সহিহ হয়, কিন্তু যার বুদ্ধি কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার জিহ্বার মাধ্যমে ঈমান সহিহ হয় না। সুতরাং জানা গেল যে ঈমানের মূল ভিত্তি হলো অন্তর, জিহ্বা নয়! উত্তর হলো: যার বাকশক্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার সালাত কথা বলা ছাড়াই সহিহ হয়। কিন্তু যার বুদ্ধি কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার সালাত আদপেই সহিহ হয় না। এটি একথার প্রমাণ নয় যে, যখন উভয়ের (বুদ্ধি ও উক্তি) সমন্বয়ে সক্ষমতা থাকে, তখন সালাতের হাকিকত বিদ্যমান থাকার জন্য উভয়ের সমন্বয় প্রয়োজন নেই। আপনি যা উল্লেখ করেছেন তার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। তদুপরি, এটি একথারও প্রমাণ দেয় না যে, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ঈমানের হাকিকত বিদ্যমান থাকার জন্য বুদ্ধি ও উক্তির সমন্বয় প্রয়োজন নেই। এছাড়া, যার বুদ্ধি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যেমন তার জিহ্বার মাধ্যমে ঈমান সহিহ হয় না, তেমনি তার জিহ্বার মাধ্যমে কুফরও সাব্যস্ত হয় না। এটি একথার প্রমাণ দেয় না যে, ঈমানকে নস্যাৎকারী কুফর জিহ্বার মাধ্যমে ঘটে না। সুতরাং পাগলের ঈমান সহিহ না হওয়া একথার দলিল নয় যে, কুফর জিহ্বার দ্বারা প্রকাশ পায় না। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
যদি সে বলে: কুফরের ওপর বাধ্য করা ব্যক্তি যখন নিজের জিহ্বায় কুফরি বাক্য উচ্চারণ করা সত্ত্বেও নিজের বিশ্বাসের ওপর অটল থাকার মাধ্যমে নিজের ঈমান রক্ষা করে, তবে তা প্রমাণ করে যে ঈমানের মূল নির্ভরতা অন্তরের ওপর।
উত্তর হলো: বাধ্য হওয়া ব্যক্তি কেবল বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজের ঈমান রক্ষা করে না, বরং বিশ্বাস এবং সেই পূর্ববর্তী স্বীকৃতির মাধ্যমে যা সে আগে প্রদান করেছিল এবং পরবর্তীতে এমন কিছু ঘটেনি যা তাকে বাতিল করে দেয়। কারণ, তাকে যে উক্তি করতে বাধ্য করা হয়েছে,
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٣١)
لا يكمل لنقص الإقرار السابق إذ كان المكره لا يتكلم به لما تحته من المعنى، وإنما يتكلم به لأنه محمول عليه بعينه، فلا يخلص نفسه إلا به. فأوجب ذلك إهدار كلامه حتى إذا هدر كان دوام الإيمان بالاعتقاد وبما تقدم من الإقرار الذي سلم عما ينقصه ويرفعه لا بالاعتقاد وحده، والله أعلم.
فإن قال: الإقرار عمل بإحدى الجوارح الظاهرة، فهو كالصلاة والصيام والحج والجهاد. ومعلوم أن كافرا لو أسلم وقت صلاة أو قبل الفجر من ليلة من ليالي رمضان، أو في وقت قد وقع النفير، لم يتوقف انتقاله عن الكفر وبراءته منه، على فعل ما قد وجب من هذه الأعمال. فكذلك الإقرار شبيه بها، فكان حكمه حكمها!
فالجواب: أن الاعتقاد يتوقف عن الإقرار لأن المقدمة هو المعتقد، والذي يجري على اللسان من الإيمان هو الذي يخطر على القلب ويعقد عليه. وإنما يفرق بين الأمرين الأدلة والوصف، فإن أحدهما يفعل باللسان، والآخر بالقلب، وأحدهما يظهر والآخر لا يظهر. وأما العمل نفسه، فإنه متفق غير مختلف ولا ممنوع فيوقف الاعتقاد على الإقرار للجمع بين ظاهر الإيمان وباطنه. وأما سائر الأعمال، فإنها غير المعتقد بالقلب، والمعبر عنه باللسان، وكلها تزد من الاعتقاد والإقرار منزلة الإمارات من الصحيح، لأن كل واحد بين الاعتقاد والإقرار صريح تصديق، ولا يمكن أن يكون فوقهما أشد صراحة منهما. وأما الأعمال الأخر، فإنها أمارات التصديق يعني أنه إذا كان عاقلا لا يخضع بالتقرب إلى من ينكر وجوده، ولا يتحمل الجهد والمشقة الغليظة في تكلف الأعمال وهو لا يثبته. وإن كان يثبته لا يرى أنه موضع رغبة إليه أو رهبة منه، كانت إقامة العبادات المشروعة ممن يقيمها تصديقا بصانعه، وثقة بوعيده ووعيده، وتصديقا لمن أدى إليه عنه، أنه مريد منه ما هو فاعله ومتعرف عليه. فأما أن يكون ذلك صريح تصديق، فلا! فلم تجز إذا وجد الصريح منه أن يتوقف الحكم به على وجود ما هو أمارة. لأن التوقف على الحكم بأقوى الدلالتين انتظارا لوجود أضعفها، لا معنى له، والله أعلم.
ودل على ما قلنا: أن رجلا لو أقر لرجل بمال ادعاه عليه، لأخذ بدفعه إليه، ولم
পূর্ববর্তী স্বীকৃতির ত্রুটির কারণে এটি পূর্ণতা পায় না, কারণ বাধ্য হওয়া ব্যক্তি তার অন্তর্নিহিত অর্থের জন্য তা উচ্চারণ করে না, বরং সে তা উচ্চারণ করে যেহেতু তার ওপর তা নির্দিষ্টভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তা ব্যতীত সে নিজেকে মুক্ত করতে পারছে না। ফলে এটি তার বক্তব্যকে বাতিল করে দেয়। যখন তার বক্তব্য বাতিল হয়ে যায়, তখন ঈমানের স্থায়িত্ব হয় অন্তরের বিশ্বাস এবং পূর্বে প্রদত্ত সেই স্বীকৃতির মাধ্যমে যা ত্রুটি বা রহিত হওয়া থেকে নিরাপদ ছিল, কেবল বিশ্বাসের মাধ্যমে নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
যদি কেউ বলে: মৌখিক স্বীকৃতি হলো প্রকাশ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের একটি কাজ, সুতরাং তা সালাত, সিয়াম, হজ ও জিহাদের মতো। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, যদি কোনো কাফির সালাতের সময়ে কিংবা রমজানের কোনো এক রাতের ফজর হওয়ার আগে অথবা যুদ্ধের আহ্বানের সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে কুফর থেকে তার প্রস্থান এবং তা থেকে তার দায়মুক্তি এই আমলগুলো সম্পন্ন করার ওপর নির্ভরশীল থাকে না। সুতরাং মৌখিক স্বীকৃতিও এগুলোর সদৃশ, তাই এর বিধানও এগুলোর বিধানের মতোই হবে!
উত্তর হলো: অন্তরের বিশ্বাস মৌখিক স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল, কারণ মূল বিষয় হলো বিশ্বাস। আর ঈমানের যা কিছু রসনায় উচ্চারিত হয়, তা মূলত অন্তরে উদিত এবং সংকল্পিত বিষয়। কেবল দলিল ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হয়; কারণ একটি রসনার কাজ এবং অন্যটি অন্তরের কাজ, আর একটি প্রকাশ পায় এবং অন্যটি প্রকাশ পায় না। আর মূল কাজের ব্যাপারে তো ঐকমত্য রয়েছে, তাতে কোনো মতভেদ বা বাধা নেই; ফলে ঈমানের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিকের সমন্বয় সাধনের জন্য অন্তরের বিশ্বাসকে মৌখিক স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল রাখা হয়। আর অন্যান্য আমলগুলো অন্তরের বিশ্বাস এবং জবান দ্বারা ব্যক্ত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন। সেগুলোর প্রতিটিই বিশ্বাস ও স্বীকৃতির তুলনায় নিছক লক্ষণের মর্যাদা রাখে; কারণ বিশ্বাস ও স্বীকৃতির প্রতিটিই হলো দ্ব্যর্থহীন সত্যায়ন, আর এই দুইয়ের চেয়ে অধিক দ্ব্যর্থহীন আর কিছু হওয়া সম্ভব নয়। আর অন্যান্য আমলগুলো হলো সত্যায়নের লক্ষণ; এর অর্থ হলো, কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি যার অস্তিত্বকে সে অস্বীকার করে তার নৈকট্য লাভের জন্য অনুগত হয় না, এবং সে যাকে স্বীকারই করে না তার ইবাদতের কষ্ট ও কঠোর পরিশ্রমও সে সহ্য করে না। আর যদি সে তাঁকে স্বীকার করে কিন্তু তাঁকে আশা বা ভয়ের স্থান হিসেবে গণ্য না করে, তবে শরয়ি ইবাদত পালনকারীর পক্ষ থেকে তা পালন করা হলো তার স্রষ্টার প্রতি সত্যায়ন, তাঁর প্রতিশ্রুতি ও হুঁশিয়ারির প্রতি আস্থা, এবং যিনি তাঁর পক্ষ থেকে দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর প্রতি সত্যায়ন যে, তিনি তাঁর নিকট থেকে যা চাইছেন তিনি তা-ই করছেন এবং তাঁর সাথে পরিচিত হচ্ছেন। কিন্তু এগুলো কি দ্ব্যর্থহীন সত্যায়ন হতে পারে? না! সুতরাং যখন দ্ব্যর্থহীন সত্যায়ন বিদ্যমান থাকে, তখন নিছক চিহ্নের উপস্থিতির ওপর তার হুকুমকে স্থগিত রাখা বৈধ নয়। কারণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রমাণের অপেক্ষায় দুটি দালিলের মধ্যে শক্তিশালীটির হুকুম স্থগিত রাখার কোনো অর্থ হয় না। আল্লাহই ভালো জানেন।
আমরা যা বলেছি তার প্রমাণ হলো: যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির দাবিকৃত মালের স্বীকৃতি দেয়, তবে সেই মাল তাকে অর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হবে, আর তা...
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
يتوقف الإقرار على الدفع حتى لا يكون صحيحا إلا به إن كان الدفع- إذا وجد- تصديقا للمدعي كما كان قوله باللسان تصديقا. وما ذاك إلا لأن القول صريح، والدفع أمارته. فلم يجز أن يتوقف صحة الصريح على وجود الإمارة. فكذلك هذا في الإيمان والله أعلم.
ووجه آخر: وهو أن الاعتقاد والإقرار معا إيمان بالله عز وجل ونزلا منزلة واحدة. وأما الأعمال فإنها إيمان لله عز وجل ولرسوله صلى الله عليه وسلم، والإيمانان جميعا واجبان، غير أنهما متغايران في الحد والحقيقة، فلم يتوقف أحدهما على الآخر لذلك، ولا تغاير بين الاعتقاد والإقرار في حقيقتهما، فاحتيج إلى وجودهما معا ليقع به الجمع بين ظاهر الإيمان وباطنه والله أعلم.
فإن قيل: إن كانت الأعمال إيمانا لله عز وجل، فهل وجدتم في كتاب أو سنة إيجابهما بهذا الاسم؟ فإن كنتم لم تجدوه، فليس علينا أن نقبله منكم بلا رهان.
فالجواب: إنا وجدنا ذلك لأن الله عز وجل، أخبر عن قوم نوح عليه السلام: {أنؤمن لك واتبعك الأرذلون} قدمهم بذلك، فدل ذلك على أن نوحا عليه السلام كان يدعوهم إلى أن يؤمنوا له فيمتنعون ولولا ذلك لما جادلوه بأن يقولوا له: {أنؤمن لك واتبعك الأرذلون}، ولا ذم الله تعالى ذلك منهم إذ قالوه. وهكذا قوم موسى عليه السلام: {فقالوا أنؤمن لبشرين مثلنا} فدل ذلك على أن موسى وهارون عليهما السلام كانا يأمرانهم أن يؤمنوا لهما. وإذا ثبت ذلك في غير شريعتنا، وكانت الشرائع كلها متفقة على أنها أعمال وقع التعبد بها. صح أنا من حيث أمرنا بها مأمورون بالإيمان لنبينا صلى الله عليه وسلم. فصح لنا ما قلناه من هذا الوجه.
فإن قيل: ما أنكرتم أن معنى قولهم: "أنؤمن لك، أنؤمن بك، وكذلك معنى أنؤمن لبشرين مثلنا، أنؤمن ببشرين مثلنا!
قيل: ليس كذلك! لأن قوم نوح لما قالوا: "أنؤمن لك، وصلوا ذلك بقولهم:
স্বীকারোক্তি (ইকরার) প্রদানের ওপর নির্ভরশীল নয় যে, প্রদান ছাড়া তা সহীহ হবে না—যদি প্রদান করাটি (যদি তা পাওয়া যায়) দাবিকারীর সত্যায়ন স্বরূপ হয়, যেমন মৌখিক বক্তব্যও সত্যায়ন ছিল। এর কারণ হলো, বক্তব্য হলো স্পষ্ট বিষয়, আর প্রদান করা হলো তার নিদর্শন। সুতরাং নিদর্শনের উপস্থিতির ওপর স্পষ্ট বিষয়ের বিশুদ্ধতা নির্ভরশীল হওয়া জায়েজ নয়। ঈমানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
অন্য একটি দিক হলো: বিশ্বাস (ইতিহাদ) এবং স্বীকারোক্তি (ইকরার) উভয়ই একত্রে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং এই দুটি একই স্তরে অবস্থিত। পক্ষান্তরে আমলসমূহ হলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য ঈমান। এই উভয় প্রকার ঈমানই আবশ্যক, তবে সংজ্ঞা ও হাকীকত (বাস্তবতা) এর দিক থেকে এগুলো ভিন্ন ভিন্ন। এই কারণে একটি অন্যটির ওপর নির্ভরশীল নয়। অন্যদিকে বিশ্বাস ও স্বীকারোক্তির হাকীকতের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই, তাই ঈমানের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিককে একত্রিত করার জন্য উভয়টির একত্রে বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
যদি বলা হয়: আমলসমূহ যদি মহান আল্লাহর জন্য ঈমান হয়ে থাকে, তবে কি আপনারা কিতাব বা সুন্নাহতে এই নামে এগুলোর আবশ্যকতা খুঁজে পেয়েছেন? যদি আপনারা তা খুঁজে না পান, তবে প্রমাণ ছাড়া আমাদের ওপর তা গ্রহণ করা আবশ্যক নয়।
উত্তর হলো: আমরা তা পেয়েছি, কারণ মহান আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামের কওম সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন: "আমরা কি তোমার জন্য ঈমান আনব, অথচ তোমার অনুসরণ করছে নিম্নশ্রেণির লোকেরা?" তারা এর মাধ্যমে এটি পেশ করেছে, যা একথার প্রমাণ দেয় যে, নূহ আলাইহিস সালাম তাদেরকে তাঁর জন্য ঈমান আনার আহ্বান জানাচ্ছিলেন এবং তারা তা অস্বীকার করছিল। যদি এমনটি না হতো, তবে তারা তাঁর সাথে এই বলে বিতর্ক করত না যে: "আমরা কি তোমার জন্য ঈমান আনব অথচ তোমার অনুসরণ করছে নিম্নশ্রেণির লোকেরা?" আর আল্লাহ তাআলা তাদের এই উক্তিকে নিন্দা করেছেন। একইভাবে মুসা আলাইহিস সালামের কওম সম্পর্কেও এসেছে: "তারা বলল, আমরা কি আমাদের মতো দুজন মানুষের জন্য ঈমান আনব?" এটি প্রমাণ করে যে, মুসা ও হারুন আলাইহিমাস সালাম তাদেরকে তাঁদের জন্য ঈমান আনার আদেশ দিচ্ছিলেন। যেহেতু এটি আমাদের শরীয়ত ব্যতীত অন্য শরীয়তে প্রমাণিত এবং সকল শরীয়ত একমত যে এগুলো এমন আমল যার মাধ্যমে ইবাদত করা হয়, তাই এটি সাব্যস্ত হলো যে, যেহেতু আমাদের এই আমলগুলোর আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য ঈমান আনার বিষয়ে আদিষ্ট। সুতরাং এই দিক থেকে আমরা যা বলেছি তা সঠিক প্রমাণিত হলো।
যদি বলা হয়: আপনারা কেন অস্বীকার করছেন যে, তাদের কথা "আমরা কি তোমার জন্য ঈমান আনব" এর অর্থ হলো "আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব", এবং একইভাবে "আমরা কি আমাদের মতো দুজন মানুষের জন্য ঈমান আনব" এর অর্থ হলো "আমরা কি আমাদের মতো দুজন মানুষের প্রতি ঈমান আনব"?
বলা হবে: বিষয়টি তেমন নয়! কারণ নূহ আলাইহিস সালামের কওম যখন বলেছিল "আমরা কি তোমার জন্য ঈমান আনব", তারা এর সাথে তাদের এই কথাটি যুক্ত করেছিল:
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
"واتبعك الأرذلون"، فدل على أنهم أرادوا بقولهم، أؤمن لك. أنقبل عنك ونتابعك ولا نرى أحدا اتبعك إلا الأرذلون لنكون أسوة الأراذل، وإنما نحن أماثل. وكذلك قوم موسى لما قالوا: "أنؤمن لبشرين مثلنا" وصلوا ذلك بقولهم {وقومهما لنا عابدون}، فدل ذلك على أنهم أرادوا: نلتزم طاعتهما فنكون قد عبدنا أنفسا لهما وقومهما لنا عابدون. فنحول الذلة عن قومهما إلى أنفسنا، والعز والرفعة عن أنفسنا إليهما وإلى قومهما. ولو كان المراد نفس التصديق لم يلق أن نعتذر من التأخر عنه بما حكى الله عنهم، أنهم قالوا: لا في الطباع والعادات ولا في قياس النظر، لأن أتباع الأراذل رجلا لا يجعل أن يكون صادقا في قوله، ولا العبودة تجعل أن يكون العبد صادقا في قوله. فأما الاعتذار من ترك الطاعة والانقياد بمثل ما ذكر فلائق بما في الطباع، وإن كانت الشرائع لا تسوغه. فيثبت أن المراد بالاثنين ما قلنا، وفي ذلك ثبوت ما وصفنا. وبالله التوفيق.
وجواب آخر: وهو أنا وجدنا في الكتاب والسنة وإيجاب العمل والندب إلى أعمال. ووجدنا في اللسان أن إتباع الأمر إيمان للأمر. فعلمنا من ذلك أن الأعمال التي أمر الله جل وعز طاعة له، والفرق بين الإيمانين قد مضى ذكره وتقريبه والله أعلم، وبه العصمة والتوفيق.
ذكر الكلام مع الفريق الآخر: وأما الدليل على أن الطاعات كلها إيمان. فهو أن الإيمان عند العرب التصديق، وكل طاعة تصديق، لأن أحدا لا يطيع من لا يثبته، أو لا يثبت أمره ولا يعتد به، وإذا كانت الطاعة لا تقع إلا لأمر آمر علمنا أن فعل الطاعة تصديق بالأمر وللآمر، فكذلك قلنا أنه إيمان.
ووجه آخر: وهو أن الدوام على الإيمان إيمان، وهو منزلة بعد الانتقال عن الكفر، وإنما كان ذلك إيمانا لأنه طاعة، فكل طاعة فهو إيمان قياسا عليه.
ووجه آخر: وهو أن كل مستحق بفعله ثواب وبتركه عقاب، فهو إيمان قياسا على الإقرار والاعتقاد.
"এবং নিম্নশ্রেণির লোকেরা আপনার অনুসরণ করেছে", এটি প্রমাণ করে যে তারা তাদের "আমরা কি আপনার প্রতি ঈমান আনব?" উক্তির মাধ্যমে এটিই বুঝিয়েছিল যে— আমরা কি আপনার কথা গ্রহণ করব এবং আপনার অনুসরণ করব? অথচ আমরা দেখছি না যে নিম্নশ্রেণির লোক ছাড়া অন্য কেউ আপনার অনুসরণ করেছে, যার ফলে আমরাও সেই অধমদের আদর্শে পরিণত হব; অথচ আমরা হলাম শ্রেষ্ঠ ও অভিজাত। একইভাবে মুসা (আ.)-এর কওম যখন বলেছিল: "আমরা কি আমাদের মতো দুইজন মানুষের প্রতি ঈমান আনব?" এবং তারা এর সাথে যুক্ত করেছিল যে, {এবং তাদের কওম আমাদের ইবাদতকারী (দাস)}। এটি প্রমাণ করে যে তারা বলতে চেয়েছিল: আমরা যদি তাদের আনুগত্য স্বীকার করি তবে আমরাও তাদের দাসত্ব করলাম, অথচ তাদের কওমই আমাদের দাসত্ব করে। এর ফলে আমরা তাদের কওমের হীনম্মন্যতা নিজেদের ওপর টেনে আনব এবং আমাদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব আমাদের থেকে তাদের এবং তাদের কওমের দিকে স্থানান্তরিত হবে। আর যদি (ঈমান দ্বারা) কেবল সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া উদ্দেশ্য হতো, তবে তাদের পক্ষ থেকে পিছিয়ে থাকার অজুহাত হিসেবে আল্লাহ যা বর্ণনা করেছেন তা উপযুক্ত হতো না; যা তারা বলেছিল। কারণ প্রকৃতিগতভাবে, অভ্যাসগতভাবে কিংবা যুক্তির নিরিখে—কোনো ব্যক্তির পেছনে কেবল নিম্নশ্রেণির লোক থাকা এটা সাব্যস্ত করে না যে ওই ব্যক্তি তার দাবিতে সত্যবাদী নয়। আবার দাসত্ব বা আনুগত্যও এটা সাব্যস্ত করে না যে দাসটি তার দাবিতে সত্যবাদী হবে। পক্ষান্তরে, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ বর্জন করার জন্য তারা যে অজুহাত দিয়েছিল, তা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও শরীয়ত তা অনুমোদন করে না। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, উভয় ক্ষেত্রে (ঈমান দ্বারা) আমরা যা বলেছি সেটিই উদ্দেশ্য, আর এতে আমাদের বর্ণিত বিষয়টিই সাব্যস্ত হলো। আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করছি।
অন্য একটি উত্তর: আর তা হলো, আমরা কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে আমল করাকে অপরিহার্য করা এবং বিভিন্ন আমলের প্রতি উৎসাহিত করা দেখতে পাই। এছাড়া আমরা ভাষাগতভাবে দেখতে পাই যে, কোনো আদেশ অনুসরণ করা মানে সেই আদেশের প্রতি ঈমান আনা। এ থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, মহান আল্লাহ যেসব কাজের আদেশ দিয়েছেন সেগুলো মূলত তাঁর আনুগত্য। আর দুই ধরণের ঈমানের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ, আর তাঁর কাছেই সুরক্ষা ও তাওফীক কামনা করছি।
অন্য দলের সাথে আলোচনার উল্লেখ: আর সমস্ত আনুগত্যই যে ঈমান—তার দলীল হলো এই যে, আরবদের নিকট ঈমান মানে হলো সত্যায়ন করা। আর প্রতিটি আনুগত্যই একটি সত্যায়ন; কেননা কেউ এমন কারোর আনুগত্য করে না যার অস্তিত্ব সে স্বীকার করে না অথবা যার আদেশকে সে সত্য বলে গণ্য করে না কিংবা গুরুত্ব দেয় না। আর যেহেতু আদেশ প্রদানকারীর আদেশ ছাড়া আনুগত্য সংঘটিত হয় না, তাই আমরা জানতে পারলাম যে আনুগত্যমূলক কাজ করা মানেই হলো সেই আদেশ এবং আদেশদাতার প্রতি সত্যায়ন। এই কারণেই আমরা বলেছি যে এটিই ঈমান।
অন্য একটি দিক: আর তা হলো ঈমানের ওপর অবিচল থাকাটাও ঈমান, যা কুফর থেকে ফিরে আসার পরের একটি পর্যায়। আর এটি ঈমান এই কারণে যে এটি একটি আনুগত্য; সুতরাং এর ওপর কিয়াস করে প্রতিটি আনুগত্যই ঈমান।
অন্য একটি দিক: আর তা হলো এমন প্রতিটি কাজ যার পালনে সওয়াব রয়েছে এবং যার বর্জনে শাস্তি রয়েছে, তা-ই ঈমান; যেমনটি মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরের বিশ্বাসের ওপর কিয়াস করা হয়।
(খণ্ড: ١)
আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
ووجه آخر: وهو أنه ما لا يلائم الكفر ولا يكون معه برا وقربة فهو إيمان كالإقرار.
ووجه آخر: وهو أن الله عز وجل وصف المؤمنين في كتابه فقال: {إنما المؤمنون الذين إذا ذكر الله وجلت قلوبهم، وإذا تليت عليهم آياته زادتهم إيمانا وعلى ربهم يتوكلون، الذين يقيمون الصلاة ومما رزقناهم ينفقون، أولئك هم المؤمنون حقا}، فلما أخبر عز وجل: أن المؤمنين هم الذين جمعوا هذه الأعمال، دلل ذلك على أنها من جوامع الإيمان.
فإن قيل: هذا حجة عليكم! لأن الله جل وعز أثبت أن هؤلاء مؤمنون حقا. وأنتم تقولون: أن هؤلاء الموصوفين إن لم يحجوا، ولم يجاهدوا من غير وقوع الكفاية بغيرهم، أو دعي أحدهم إلى شهادة قد تحملها فأبى، أو جحد وديعة عنده، أو كذب، أو قتل، أو زنا، أو سرق، أو شرب خمرا، فليسوا المؤمنين حقا، لأن إيمانهم إيمان ناقص، فالآية توجب أن يكونوا مؤمنين حقا. فهي إذا حجة عليكم!
فالجواب: أن هذه معارضة ساقطة عنا، لأن الآية فيمن إذا تليت عليه آيات الله زادته إيمانا، وليس المتخلف عن الفرائض، والقعود عن الواجبات اللوازم، من زيادة الإيمان بسبيل. فالآية فيمن إذا ذكر الله وجل قلبه، وليس ارتكاب المعاصي ومخالفة الأوامر من إمارات الوجل. فصح أن الذين بيننا: أن يكونوا مؤمنين حقا أو حسبنا أن يكونوا ناقصي الإيمان، غير داخلين في الآية. وأيضا فإنه إذا ثبت أن الموصوفين في الآية، إنما كانوا بما استوجبوا اسم المؤمنين حقا لمكان الأعمال التي وصفهم الله بها، ولم تكن الأعمال المتعبد بها هذه وحدها، صح أن المراد بذكرها هي وما في معناها من الأعمال المفروضة أو المندوب إليها، والصلاة إشارة إلى الطاعات التي تقام بالأبدان خاصة، والإنفاق مما رزق الله عز وجل إلى الطاعات التي تقام بالأموال، ووجل القلوب إشارة إلى الاستقامة من كل وجه. ويدخل فيها إقام الطاعات والابتعاد عن المعاصي. وأيضا فإن الله عز وجل وصف الصلاة: أنها تنهي عن الفحشاء والمنكر. فبان بذلك، أن المحافظ على الصلوات، المقيم بها كما شرعت، الموفي حقها من الاستكانة والتباؤس والخشوع لا
অন্য একটি দিক হলো: যা কুফরের সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এবং কুফরের সাথে যা পুণ্য ও নৈকট্য হিসেবে গণ্য হয় না, তাই ঈমান; যেমন—মৌখিক স্বীকৃতি।
অন্য একটি দিক হলো: মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে মুমিনদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: {মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের সামনে আল্লাহর নাম নেওয়া হলে তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয়, আর যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে; যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তারাই হলো প্রকৃত মুমিন}। অতঃপর যখন মহান আল্লাহ সংবাদ দিলেন যে, মুমিন হলো তারা যারা এই আমলসমূহকে একত্রিত করেছে, তখন এটি প্রমাণ করে যে এগুলো ঈমানের সামগ্রিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত।
যদি বলা হয়: এটি তোমাদের বিরুদ্ধেই দলীল! কারণ মহান আল্লাহ সাব্যস্ত করেছেন যে এরাই হলো প্রকৃত মুমিন। অথচ তোমরা বলছ: এই গুণাবলির অধিকারী ব্যক্তিরা যদি হজ না করে, অথবা যদি (ফরযে কিফায়া পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও) জিহাদ না করে, কিংবা তাদের কাউকে এমন সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকা হয় যা সে বহন করছিল কিন্তু সে তা দিতে অস্বীকার করল, অথবা তার নিকট গচ্ছিত আমানত অস্বীকার করল, অথবা মিথ্যা বলল, অথবা হত্যা করল, অথবা যিনা করল, অথবা চুরি করল, অথবা মদ পান করল—তবে তারা প্রকৃত মুমিন নয়; কারণ তাদের ঈমান ত্রুটিপূর্ণ ঈমান। অথচ আয়াতটি তাদের প্রকৃত মুমিন হওয়াকে আবশ্যক করছে। সুতরাং এটি তোমাদের বিরুদ্ধেই দলীল!
উত্তর হলো: এই আপত্তি আমাদের ক্ষেত্রে অকার্যকর। কেননা আয়াতটি তাদের সম্পর্কে যাদের নিকট আল্লাহর আয়াত পাঠ করা হলে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। আর ফরযসমূহ পালনে বিরত থাকা এবং আবশ্যিক ওয়াজিবসমূহ ত্যাগের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। আয়াতটি তাদের ব্যাপারে যাদের আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রকম্পিত হয়। অথচ পাপাচার করা এবং আদেশসমূহ লঙ্ঘন করা অন্তর প্রকম্পিত হওয়ার কোনো আলামত নয়। সুতরাং এটি সঠিক যে, যাদের কথা আমরা উল্লেখ করেছি—তারা হয় প্রকৃত মুমিন হবে অথবা আমাদের বিচারে তারা ত্রুটিপূর্ণ ঈমানদার হিসেবে গণ্য হবে, যারা এই আয়াতের আওতাভুক্ত নয়। তদুপরি, যদি এটি প্রমাণিত হয় যে, আয়াতে বর্ণিত গুণাবলি সম্পন্ন ব্যক্তিরা কেবল সেই আমলগুলোর কারণেই 'প্রকৃত মুমিন' নামের যোগ্য হয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের গুণান্বিত করেছেন, আর ইবাদতযোগ্য আমল তো কেবল এগুলোই নয়; তবে এটি সঠিক যে, এই আমলগুলোর বর্ণনার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এগুলো এবং এগুলোর সমপর্যায়ের অন্যান্য ফরয বা নফল আমলসমূহ। আর সালাত হলো বিশেষত শারীরিক আনুগত্যের প্রতি ইঙ্গিত, এবং আল্লাহর দেওয়া রিযক থেকে ব্যয় করা হলো আর্থিক আনুগত্যের প্রতি ইঙ্গিত, আর অন্তরের প্রকম্পন হলো সর্বতোভাবে সঠিক পথের ওপর অবিচলতার প্রতি ইঙ্গিত। এর মধ্যে আনুগত্যসমূহ সম্পাদন এবং পাপাচার থেকে বিমুখ থাকা অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, মহান আল্লাহ সালাতের বর্ণনা দিয়েছেন যে, তা অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, যে ব্যক্তি সালাতের হিফাযতকারী, তা সেভাবেই আদায়কারী যেভাবে তা বিধিবদ্ধ হয়েছে এবং বিনয়, দীনতা ও একাগ্রতার সাথে সালাতের হক আদায়কারী—সে ওসফ।