(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
محاضرات في علوم الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: محاضرات في علوم الحديث
المؤلف: الدكتور ماهر ياسين الفحل
عدد الصفحات: 38
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) সংক্রান্ত লেকচারসমূহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) সংক্রান্ত লেকচারসমূহ
লেখক: ডক্টর মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১)
محاضرات في علوم الحديثد. ماهر ياسين الفحل
المحاضرة الأولى الحديث الصحيح ......... 15/5/1425 هـ
الحديث الصحيح: هو ما اتصل إسناده برواية عدلٍ تمَّ ضبطهُ عن مثلهِ إلى منتهاه، ولم يكن شاذاً ولا معلاً.
فيظهر من هذا التعريف أن شروط صحة الحديث خمسة:
الأوّل: الاتصال، وهو سماع الحديث لكل راوٍ من الراوي الذي يليه.
ويعرف الاتصال بأحد أَمرين: الأول أن يصرح الراوي بإحدى صيغ السّماع كأن يقول الراوي: حدثنا، أو حدثني، أو أَخبرنا، أو أخبرني، أو أَنبأنا، أو أنبأني، أو سمعت، أو قال لي، أو قال لنا، أو نحوها من صيغ السماع.
الثاني: أن يأتي الراوي بصيغةٍ تحتمل السّماع وغير السّماع، كأن يقول الراوي: عن، أو أن، أو
قال، أو حدث، أو روى، أو ذكر، وغيرها من الصيغ التي تحتمل السّماعَ وعدم السّماع.
فهنا تشترط ثلاثة أمور:
الأول: عدم التدليس.
الثاني: المعاصرة.
الثالث: ثبوت السّماع.
وقد اكتفى مسلم بالشرطين الأوليين، أما الشرط الثالث فقد اشترطه البخاري، وشيخه علي بن المديني، واشتراطه قول جمهور أهل العلم.
وباشتراط الاتصال يخرج المنقطع، والمعضل، والمعلق، والمدلس، والمرسل.
أما الشرط الثاني: فهوَ العدالة: وهي هيئة راسخة في النفس تمنح صاحبها عدم فعل الكبائر، وَعدم الإصرار على الصغائر، وَعدم فعل ما يخرم المروءة.
أمّا الشرط الثالث: فهو الضبط: وهو تيقظ الراوي حين تحمله وفهمه لما سمعه، وضبطه لذلك من وقت التحمل إلى وقت الأداء.
والضبط ضبطان: ضبط صدرٍ، وضبط كتاب، ويلخص مما ذكر في الضبط بقولنا: أنْ يكون الراوي حافظاً عالماً بما يرويه، إن حدث من حفظه، فاهماً إن حدث على المعنى، وحافظاً لكتابه من دخول التحريف أو التبديل، أو النقص عليه إن حدث من كتابه.
হাদিস বিজ্ঞানের ওপর বক্তৃতাড. মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল
প্রথম বক্তৃতা: সহিহ (صحيح) হাদিস......... ১৫/৫/১৪২৫ হিজরি
সহিহ (صحيح) হাদিস: এটি এমন হাদিস যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضبط) বর্ণনাকারী তার অনুরূপ বর্ণনাকারীর কাছ থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, এবং তা ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) বা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয়।
এই সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হাদিস সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্ত পাঁচটি:
প্রথম: নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال), আর তা হলো প্রতিটি বর্ণনাকারী কর্তৃক তার পরবর্তী বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিসটি সরাসরি শ্রবণ করা।
নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) দুটি বিষয়ের যে কোনো একটির মাধ্যমে জানা যায়: প্রথমটি হলো বর্ণনাকারী কর্তৃক শ্রবণের শব্দসমূহের (صيغ السماع) কোনো একটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা; যেমন বর্ণনাকারীর বলা: "আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন" (حدثنا), বা "আমার কাছে বর্ণনা করেছেন" (حدثني), বা "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" (أخبرنا), বা "আমাকে সংবাদ দিয়েছেন" (أخبرني), বা "আমাদের অবহিত করেছেন" (أنبأنا), বা "আমাকে অবহিত করেছেন" (أنبأني), বা "আমি শুনেছি" (سمعت), বা "আমাকে বলেছেন" (قال لي), বা "আমাদের বলেছেন" (قال لنا), অথবা শ্রবণের অনুরূপ কোনো শব্দ ব্যবহার করা।
দ্বিতীয়টি হলো: বর্ণনাকারী এমন শব্দ ব্যবহার করা যাতে শ্রবণ করা এবং না করা উভয় সম্ভাবনা থাকে; যেমন বর্ণনাকারীর বলা: "হতে" (عن), বা "যে" (أن), বা "বলেছেন" (قال), বা "বর্ণনা করেছেন" (حدث), বা "রেওয়ায়াত করেছেন" (روى), বা "উল্লেখ করেছেন" (ذكر) এবং অন্যান্য শব্দাবলী যা শ্রবণ করা এবং না করার উভয় সম্ভাবনা রাখে।
এখানে তিনটি শর্তারোপ করা হয়:
প্রথম: তাদাল্লিস বা বর্ণনায় প্রতারণা (التدليس) না থাকা।
দ্বিতীয়: সমসাময়িক (المعاصرة) হওয়া।
তৃতীয়: শ্রবণ প্রমাণিত (ثبوت السماع) হওয়া।
ইমাম মুসলিম প্রথম দুটি শর্তেই যথেষ্ট মনে করেছেন, তবে তৃতীয় শর্তটি ইমাম বুখারি এবং তাঁর শিক্ষক আলি ইবনুল মাদিনি শর্ত হিসেবোরোপ করেছেন; আর এটিই জমহুর বা সংখ্যাগুরু (جمهور) আলেমদের অভিমত।
নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) শর্তারোপ করার ফলে বিচ্ছিন্ন (منقطع), জটিলভাবে বিচ্ছিন্ন (معضل), সূত্রহীন (معلق), মুদাল্লাস (مدلس) এবং মুরসাল (مرسل) হাদিসসমূহ বাদ পড়ে যায়।
দ্বিতীয় শর্তটি হলো: ন্যায়পরায়ণতা (العدالة); এটি অন্তরে প্রোথিত এমন এক গুণ যা এর অধিকারীকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) করা থেকে, সগিরা গুনাহের (الصغائر) ওপর অটল থাকা থেকে এবং ব্যক্তিত্ব বিনষ্টকারী (خرم المروءة) কাজ করা থেকে বিরত রাখে।
তৃতীয় শর্তটি হলো: নির্ভুলতা (الضبط); আর তা হলো বর্ণনাকারী যখন হাদিস গ্রহণ করেন তখন সতর্ক থাকা এবং যা শুনেছেন তা অনুধাবন করা, এবং সেই নির্ভুলতা হাদিস গ্রহণ করার সময় থেকে বর্ণনা করার সময় পর্যন্ত বজায় রাখা।
নির্ভুলতা (الضبط) দুই প্রকার: স্মৃতির নির্ভুলতা (ضبط صدر) এবং লেখনীর নির্ভুলতা (ضبط كتاب)। নির্ভুলতার (الضبط) ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো: বর্ণনাকারী যা বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে হাফেজ (حافظ) ও জ্ঞানী হওয়া, যদি তিনি নিজের স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেন; আর অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করলে সে বিষয়ে সম্যক বুঝ রাখা; এবং যদি কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তবে কিতাবকে বিকৃতি (تحريف), পরিবর্তন (تبديل) বা হ্রাস (نقص) পাওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখা।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২)
وفي اشتراط الضبط احترازٌ عن حديث المغفل، وكثير الخطأ، وسيئ الحفظ، والذي يقبل التلقين. وهذه الشروط (الاتصال، العدالة، الضبط) الثلاثة تتعلق بالإسناد.
أما الشرط الرابع: فهو عدم الشذوذ، والحديث الشاذ (1) هو الذي خالف فيه راويه من هو أوثق منه عدداً أو حفظاً.
أمّا الشرط الخامس: فهو عدم العلة هو أنْ لا يكون الحديث معلاً، والحديث المعل (2)
--------------------------------------------
সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) শর্ত করার মাধ্যমে অসতর্ক (مغفل), অধিক ভুলকারী (كثير الخطأ), স্মৃতিশক্তি দুর্বল (سيئ الحفظ) এবং অন্যের শিখিয়ে দেয়া গ্রহণকারী (يقبل التلقিন) ব্যক্তিদের হাদিস থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এই তিনটি শর্ত—অবিচ্ছিন্নতা (اتصال), ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط)—সনদ (إسناد) সংক্রান্ত।
চতুর্থ শর্তটি হলো: বিচ্যুতিহীনতা (عدم شذوذ); আর বিচ্যুত (شاذ) (১) হাদিস হলো সেটি, যার বর্ণনাকারী (راوي) তার চেয়ে সংখ্যা বা মুখস্থশক্তির দিক থেকে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) কোনো বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন।
পঞ্চম শর্তটি হলো: ত্রুটিহীনতা (عدم علة), অর্থাৎ হাদিসটি যেন ত্রুটিযুক্ত (معل) না হয়। আর ত্রুটিযুক্ত (معل) (২) হাদিস হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩)
هو ما اطلع فيه على علةٍ خفيةٍ تقدح في صحته، مع أنْ الظاهر سلامة الحديث من العلة.
وينقسم الحديث الصحيح إلى قسمين: صحيح لذاته وصحيح لغيره، فالصحيح لذاته هو ما تقدم تعريفه، وقلنا: لذاته؛ لأن صحته ناشئة من نفسه دون إضافة شيء.
أما الصحيح لغيره: فهو الحديث الحسن الذي ارتقى بمتابع أو شاهد.
وقد تكلم العلماء في أصح الأسانيد فقيل: أصحها الزهري، عن سالم، عن أبيه.
وقيل: الأعمش، عن إبراهيم النخعي، عن علقمة بن قيس، عن عبد الله بن مسعود.
وقيل: مالك، عن نافع، عن ابن عمر.
وقيل: محمد بن سيرين، عن عَبيدة بن عمرو السلماني عن علي.
وهذه تنفع عند الاختلاف، فما قيل فيه: أصح الأسانيد يرجح على غيره، وكذا يعرف به صحة الحديث.
وإذا قال المحدثون: صحيح الإسناد، أو إسناده صحيح، فهذا معناه: أنْ الحديث قد استكمل شروط الصحةِ الثلاثةِ الأولى، ولا يلزم منه أن يكون صحيحاً؛ إذ قد يكون شاذاً أو معلاً فلا يلزم من صحة الإسناد صحة المتن، ولا من ضعف الإسناد ضعف المتن.
وإذا قال المحدثون: أصحُ شيءٍ في الباب فلا يعنون صحته، وإنما يعنون أنه أمثل شيءٍ في الباب.
أما أول من صنّف في الصحيح المجرد فهو الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة المولود سنة (194 هـ) ، والمتوفى سنة (256 هـ) ، وقد طلب العلم صغيراً وله أحد عشر عاماً، وكان من أوعيةِ العلم، وكتابه أصحُ كتابٍ بعد كتاب الله، واسم الكتاب " الجامع الصحيح المسند المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننهِ وأيامهِ ".
ويستفاد من قوله: (الجامع) أنه يجمع الأحكام والفضائل والأخبار عن الأمور الماضية، والآتية، والآداب، والرقائق، والتفسير.
ويستفاد من قوله: (الصحيح) أنه احترز عن إدخال الضعيف في كتابهِ، وقد صح عن الإمام البخاري أنّه قال: ((ما أدخلت في كتابي الجامع إلا ما صح)) .
এটি হলো এমন বিষয় যেখানে একটি গোপন ত্রুটি (علة خفية) পরিলক্ষিত হয় যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة) প্রশ্নবিদ্ধ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে হাদিসটি ত্রুটি (علة) মুক্ত বলে মনে হয়।
বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস দুই প্রকার: সত্তাগতভাবে বিশুদ্ধ (صحيح لذاته) এবং অন্য কারণে বিশুদ্ধ (صحيح لغيره)। সত্তাগতভাবে বিশুদ্ধ (صحيح لذاته) হলো সেই হাদিস যার সংজ্ঞা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে; আর একে 'সত্তাগতভাবে' বলা হয় কারণ এর বিশুদ্ধতা (صحة) অন্য কিছুর সংযুক্তি ছাড়াই হাদিসটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই অর্জিত।
আর অন্য কারণে বিশুদ্ধ (صحيح لغيره) হলো সেই গ্রহণযোগ্য (حسن) হাদিস যা একাধিক সূত্র (متابع) বা সমার্থবোধক অন্য হাদিসের (شاهد) মাধ্যমে উচ্চস্তরে উন্নীত হয়েছে।
আলেমগণ সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। কারো মতে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো: যুহরী, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।
আবার কারো মতে: আমাশ, তিনি ইবরাহিম নাখয়ি থেকে, তিনি আলকামা ইবনে কায়স থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে।
কারো মতে: মালিক, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।
আবার কারো মতে: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, তিনি উবাইদাহ ইবনে আমর আস-সালমানি থেকে, তিনি আলী থেকে।
আর মতপার্থক্যের সময় এগুলো উপকারী হয়; যাকে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) বলা হয়েছে সেটি অন্যের ওপর প্রাধান্য পাবে। একইভাবে এর মাধ্যমে হাদিসের বিশুদ্ধতাও (صحة) জানা যায়।
হাদিস বিশারদগণ যখন বলেন: 'সনদটি বিশুদ্ধ' (صحيح الإسناد) বা 'এর সনদটি বিশুদ্ধ' (إسناده صحيح), তখন এর অর্থ হলো: হাদিসটি বিশুদ্ধতার (صحة) প্রথম তিনটি শর্ত পূরণ করেছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, হাদিসটি সামগ্রিকভাবেই বিশুদ্ধ (صحيح); কারণ তা ব্যতিক্রম (شاذ) কিংবা ত্রুটিযুক্ত (معلل) হতে পারে। সুতরাং সনদ বিশুদ্ধ (صحة الإسناد) হলেই মূল পাঠ বা মতন বিশুদ্ধ (صحة المتن) হওয়া আবশ্যক নয়, আবার সনদ দুর্বল (ضعف الإسناد) হলেই মূল পাঠ বা মতন দুর্বল (ضعف المتن) হওয়াও আবশ্যক নয়।
হাদিস বিশারদগণ যখন বলেন: 'এই অধ্যায়ের সবচেয়ে বিশুদ্ধ বর্ণনা', তখন তাঁরা এর দ্বারা হাদিসটির চূড়ান্ত বিশুদ্ধতা (صحة) বুঝান না, বরং তাঁরা এর দ্বারা বুঝান যে এটি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বা তুলনামূলক ভালো বর্ণনা।
শুধুমাত্র বিশুদ্ধ (الصحيح المجرد) হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে যিনি প্রথম কিতাব রচনা করেছেন, তিনি হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আল-মুগিরা, যিনি ১৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শৈশব থেকেই ইলম অর্জন শুরু করেন যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। তিনি ছিলেন জ্ঞানের আধার। তাঁর কিতাবটি আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব। কিতাবটির নাম হলো "আল-জামি আস-সহিহ আল-মুসনাদ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি"।
তাঁর উক্তি 'আল-জামি' থেকে বুঝা যায় যে, এটি বিধি-বিধান, ফজিলত, অতীত ও ভবিষ্যতের সংবাদ, আদব, আত্মশুদ্ধি এবং তাফসির সংক্রান্ত বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তাঁর উক্তি 'আস-সহিহ' থেকে বুঝা যায় যে, তিনি তাঁর কিতাবে দুর্বল (الضعيف) হাদিস অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থেকেছেন। ইমাম বুখারি থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি আমার আল-জামি কিতাবে বিশুদ্ধ ছাড়া অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি।"
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৪)
ومن قوله: (المسند) أن مقصوده الأصلي تخريج الأحاديث المتصل إسنادها بالصحابةِ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من قولٍ، أو فعلٍ، أو تقريرٍ، وأنّ ما وقع في الكتاب من غير ذلك فإنما وقع تبعاً وعرضاً لا أصلاً ومقصوداً، وذكر للاستشهاد والاستئناس ليكون الكتاب جامعاً لمعاني الإسلام.
ثمَّ تبعه بجمع الصحيح تلميذه وخريجه أبو الحسين مسلم بن الحجاج القشيري النَّيْسابوري المتوفى سنة
(261هـ) ، وقد استفاد من شيخه البخاري، وفاق البخاريَّ من حيث التبويب، والترتيب، والجمع، والتنسيق، وكتاب البخاري أجود من حيث الصحة على رأي الجمهور.
هل استوعب الصحيحان جميع الصحيح؟
لم يستوعب الصحيحان جميع الصحيح، ولم يريدا ذلك، فقد قال البخاري: ((تركت من الصحاح لحالِ الطولِ)) ، وقال الإمام مسلم: ((ليس كل شيء عندي صحيح وَضعته هاهنا)) .
وَيوجد في كتب العلم تصحيح للإمام البخاري ومسلم لكثيرٍ من الأحاديث، وتوجد كتب أخرى التزم مصنفوها الصحة لكنهم وقعوا في بعض الأخطاء منهم ابن خزيمة، وابن حبان، والحاكم، وابن السكن، والضياء في المختارة.
المحاضرة الثانية تتمات الصحيح 23/ جمادي الأولى /1425
المستخرجات: جمع مستخرج، وموضوع المستخرج، هو: أن يأتي المصنفُ إلى كتابٍ من كتب الحديث فيخرج أحاديثه بأسانيد لنفسه من غير طريق صاحب الكتاب، فيجتمع معهُ في شيخه أو من فوقهُ.
وشرطهُ: أن لا يصل إلى شيخٍ أبعد حتى يفقد سنداً يوصلهُ إلى الأقرب إلا لعذرٍ من علوٍ أو زيادة مهمة.
والمستخرجات على الصحيحين، وعلى غيرهما.
فعلى صحيح البخاري: مستخرج الإسماعيلي، ومستخرج البرقاني، ومستخرج الغطريفي، ومستخرج ابن أبي ذهل، ومستخرج أبي بكر ابن مردويه.
وعلى صحيح مسلم: مستخرج أبي عوانة، ومستخرج أبي جعفر بن حمدان، ومستخرج أبي بكر محمد بن رجاء النيسابوري، ومستخرج أبي بكر الجوزقي، ومستخرج أبي حامد
তাঁর উক্তি: (আল-মুসনাদ) থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলো এমন হাদিসসমূহ সংকলন করা যেগুলোর সনদ (إسناد) সাহাবিগণের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌনসম্মতি (تقرير) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন (متصل)। আর এই কিতাবে এর বাইরে যা কিছু এসেছে তা মূলত আনুষঙ্গিক ও প্রাসঙ্গিক হিসেবে এসেছে, মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নয়। এগুলো মূলত প্রমাণ ও অনুধাবনের সহায়িকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যেন কিতাবটি ইসলামের সামগ্রিক বিষয়ের একটি সংকলনে পরিণত হয়।
অতঃপর বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন তাঁর সুযোগ্য ছাত্র ও শাগরেদ আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আল-নাইসাবুরী, যিনি ২৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর উস্তাদ ইমাম বুখারী থেকে উপকৃত হয়েছেন। এমনকি অনুচ্ছেদ বিন্যাস (تبويب), ক্রমবিন্যাস (ترتيب), সংকলন ও সুশৃঙ্খল উপস্থাপনার (تنسيق) দিক থেকে তিনি ইমাম বুখারীর চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তবে জমহুর (جمهور) আলেমদের মতে বিশুদ্ধতার (صحة) বিচারে ইমাম বুখারীর কিতাবটিই অধিক শ্রেষ্ঠ।
সহিহাইন কি সমস্ত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে?
সহিহাইন সমস্ত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেনি এবং তাঁদের সেই উদ্দেশ্যও ছিল না। ইমাম বুখারী বলেন: "আমি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস বর্জন করেছি।" ইমাম মুসলিম বলেন: "আমার নিকট বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত সকল হাদিসই আমি এখানে স্থান দিইনি।"
ইলমী কিতাবসমূহে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম কর্তৃক অনেক হাদিসের বিশুদ্ধতা প্রদান (تصحيح) পাওয়া যায়। এছাড়া এমন আরও কিতাব রয়েছে যেগুলোর সংকলকগণ কেবল বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কিছু ভুল সংঘটিত হয়েছে; তাঁদের মধ্যে ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান, আল-হাকিম, ইবনে আস-সাকান এবং দিয়া আল-মাকদিসি (আল-মুখতারা গ্রন্থে) অন্যতম।
দ্বিতীয় লেকচার: সহিহ হাদিসের পরিশিষ্ট ২৩ জুমাদাল উলা, ১৪২৫ হিজরি
আল-মুস্তাখরাজাত (المستخرجات): এটি মুস্তাখরাজ (مستخرج)-এর বহুবচন। মুস্তাখরাজের আলোচ্য বিষয় হলো: কোনো সংকলক হাদিসের কোনো একটি কিতাব গ্রহণ করে তার হাদিসগুলোকে নিজস্ব সনদের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণনা করবেন যা মূল কিতাবের লেখকের সনদ (طريق) ব্যতিরেকে হবে। এভাবে তাঁর সনদটি (سند) মূল লেখকের উস্তাদ বা তাঁর উর্ধ্বতন কোনো বর্ণনাকারীর সাথে মিলিত হবে।
এর শর্ত হলো: কোনো ওজর (যেমন উচ্চতর সনদ (علو) বা গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) লাভ করা) ব্যতীত মূল লেখকের নিকটবর্তী উস্তাদকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কোনো উস্তাদের সনদে পৌঁছানো যাবে না।
সহিহাইন এবং অন্যান্য কিতাবের ওপর মুস্তাখরাজ (مستخرج) রচিত হয়েছে।
সহিহ বুখারীর ওপর রচিত মুস্তাখরাজসমূহ: মুস্তাখরাজ আল-ইসমাঈলী, মুস্তাখরাজ আল-বারকানী, মুস্তাখরাজ আল-গতরিফী, মুস্তাখরাজ ইবনে আবি জুহাল এবং মুস্তাখরাজ আবু বকর ইবনে মারদুওয়াইহ।
সহিহ মুসলিমের ওপর রচিত মুস্তাখরাজসমূহ: মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা, মুস্তাখরাজ আবু জাফর বিন হামদান, মুস্তাখরাজ আবু বকর মুহাম্মদ বিন রাজা আল-নাইসাবুরী, মুস্তাখরাজ আবু বকর আল-জাওযাকী এবং মুস্তাখরাজ আবু হামিদ।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
الشاذلي، ومستخرج أبي الوليد حسّان بن محمد القُرشي، ومستخرج أبي عمران موسى بن عباس الجويني، ومستخرج أبي نصر الطوسي، ومستخرج أبي سعيد بن أبي عثمان الحيري.
أما المستخرجات على كلا الصحيحين: فالمستخرج لأبي نعيم الأصبهاني، ومستخرج أبي
عبد الله بن الأخرم، ومستخرج أبي ذر الهروي، ومستخرج أبي محمد الخلال، ومستخرج أبي علي الماسرجسي، ومستخرج أبي مسعود سليمان بن إبراهيم الأصفهاني، ومستخرج أبي بكر اليزدي، ومستخرج أبي بكر بن عدنان الشيرازي.
وهناك مستخرجات على غير الصحيحين، منها: المستخرج لمحمد بن عبد الملك بن أيمن على سنن أبي داود، ومستخرج أبي علي الطوسي على جامع الترمذي، ومستخرج أبي نُعيم على التوحيد لابن خزيمة.
وأصحاب المستخرجاتِ لم يلتزم فيها مؤلفوها موافقة الصحيحين في الألفاظ؛ لأنَّهم إنما يروون بالألفاظ التي وقعت لهم عن شيوخهم؛ فحصل فيها تفاوت قليل في اللفظ، وفي المعنى، وكذا ما رواه البيهقي والبغوي في كتبهم لا سيّما السنن والمعرفة وشرح السُنة، قائلين: رواه البخاري أو مسلم وقع في بعضه تفاوت في المعنى وفي الألفاظ، فمرادهم بقولهم ذلك: أنَّهما رويا أصل الحديثِ دون اللفظ الذي أورده؛ فعلى هذا لا يجوز لك أن تنقل من الكتب المذكورة وتقول فيه: هو في الصحيحين إلا أنْ تقابله بهما.
فوائد المستخرجات:
1- علو الإسناد.
2- القوة عند كثرة الطرق للترجيح عند المعارضة.
3- الرواية عن مختلطين قبل الاختلاط.
4- الرواية عن المدلسين مع التصريح بالسماع.
5- بيان المهملين والمبهمين.
6- التمييز فيها للمتن المحال به على المتن المحال عليه، وهو في صحيح مسلم كثير.
لذا قال الحافظ ابن حجر: ((كل علة أُعلت في الصحيحين جاءت رواية المستخرج سالمةٍ
منها)) على أنَّ هذا القول ليس على إطلاقه، فليعلم.
مثال الحديث الصحيح
আশ-শাযিলি, এবং আবু আল-ওয়ালিদ হাসান বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশির মুস্তাখরাজ (مستخرج), আবু ইমরান মুসা বিন আব্বাস আল-জুয়াইনির মুস্তাখরাজ (مستخرج), আবু নাসর আত-তুসির মুস্তাখরাজ (مستخرج), এবং আবু সাঈদ বিন আবু উসমান আল-হাইরির মুস্তাখরাজ (مستخرج)।
আর উভয় সহিহ (صحيحين)-এর ওপর সংকলিত মুস্তাখরাজসমূহ (مستخرجات): আবু নুয়াইম আল-আসফাহানির মুস্তাখরাজ (مستخرج), আবু
আব্দুল্লাহ বিন আল-আখরামের মুস্তাখরাজ (مستخرج), আবু যর আল-হারাবীর মুস্তাখরাজ (مستخرج), আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লালের মুস্তাখরাজ (مستخرج), আবু আলী আল-মাসারজাসির মুস্তাখরাজ (مستخرج), আবু মাসউদ সুলাইমান বিন ইব্রাহিম আল-আসফাহানির মুস্তাখরাজ (مستخرج), আবু বকর আল-ইয়াযদি-র মুস্তাখরাজ (مستخرج) এবং আবু বকর বিন আদনান আশ-শিরাজির মুস্তাখরাজ (مستخرج)।
উভয় সহিহ (صحيحين) ব্যতীত অন্য কিতাবগুলোর ওপরও মুস্তাখরাজ (مستخرجات) রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: সুনান আবু দাউদের ওপর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আইমানের মুস্তাখরাজ (مستخرج), জামি তিরমিযীর ওপর আবু আলী আত-তুসির মুস্তাখরাজ (مستخرج) এবং ইবনে খুযাইমার আত-তাওহীদ-এর ওপর আবু নুয়াইমের মুস্তাখরাজ (مستخرج)।
মুস্তাখরাজ (مستخرجات) সংকলকগণ তাঁদের কিতাবসমূহে শব্দে শব্দে উভয় সহিহ (صحيحين)-এর অনুকরণ করা আবশ্যক মনে করেননি; কারণ তাঁরা মূলত সেই শব্দগুলোতেই বর্ণনা করেন যা তাঁরা তাঁদের শায়খদের থেকে প্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে শব্দ ও অর্থের ক্ষেত্রে সামান্য তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। একইভাবে বায়হাকি ও বাগাউয়ি তাঁদের কিতাবসমূহে—বিশেষ করে সুনান, আল-মারিফাহ এবং শারহুস সুন্নাহ-তে—যখন বলেন: "এটি বুখারি বা মুসলিম বর্ণনা করেছেন", তখন কোনো কোনো অংশে অর্থ ও শব্দে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। তাঁদের এই কথার উদ্দেশ্য হলো: তাঁরা মূল হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তবে সেই নির্দিষ্ট শব্দে নয় যা ইমাম বুখারি বা মুসলিম উল্লেখ করেছেন। অতএব, আপনার জন্য উল্লিখিত কিতাবসমূহ থেকে কোনো হাদিস উদ্ধৃত করে এটি বলা বৈধ নয় যে—'এটি উভয় সহিহ (صحيحين)-এ রয়েছে'—যতক্ষণ না আপনি মূল গ্রন্থ দুটির সাথে তা মিলিয়ে দেখছেন।
মুস্তাখরাজ (مستخرجات)-এর উপকারিতা:
১- উচ্চ সনদ (علو الإسناد)।
২- যখন বর্ণনার বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন সূত্রের আধিক্যের কারণে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার সক্ষমতা বা শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৩- স্মৃতিবিভ্রমপ্রাপ্ত (مختلطين) বর্ণনাকারীদের স্মৃতিবিভ্রমের (اختلاط) আগের বর্ণনা পাওয়া যায়।
৪- মুদাল্লিস (مدلسين) বর্ণনাকারীদের থেকে সরাসরি শ্রবণের (سماع) স্পষ্ট উল্লেখসহ বর্ণনা পাওয়া যায়।
৫- নামোল্লেখহীন (مهملين) এবং অস্পষ্ট (مبهمين) বর্ণনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়া।
৬- এতে যেই মতন (মূলপাঠ)-কে অন্য মতনের দিকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, তার পার্থক্য করা সম্ভব হয়; যা সহিহ মুসলিম-এ প্রচুর দেখা যায়।
এ কারণেই হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন: "সহিহাইন (صحيحين)-এর বর্ণনায় যে সকল ত্রুটি (علة) আরোপ করা হয়েছে, মুস্তাখরাজ (مستخرج)-এর বর্ণনা তা থেকে মুক্ত (سالم)
হয়ে এসেছে।" তবে মনে রাখতে হবে যে, এই উক্তিটি ঢালাওভাবে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
সহিহ (صحيح) হাদিসের উদাহরণ
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
ما رواه الترمذي في شمائل النبي صلى الله عليه وسلم (208) قال: حدثنا علي بن حجر، قال: حدثنا ابن
المبارك، عن عاصم الأحول، عن الشعبي، عن ابن عباس، قال: سقيتُ النبي صلى الله عليه وسلم من زمزم فشرب، وهو قائم.
فهذا حديث صحيح قد استوفى شروط الصحة، فالترمذي صرح بالسماع من شيخه علي بن حجر، وعلي بن حجر صرح بالسماع من شيخه عبد الله بن المبارك، أما عنعنة ابن المبارك في روايته عن شيخه عاصم الأحول فهي محمولة على الاتصال هنا؛ لأنَّ ابن المبارك سماعه معروف من عاصم وروايتة عنه في صحيح البخاري وصحيح مسلم وكتاب النسائي، وهو يذكر في تلاميذ عاصم، وعاصم مذكور في شيوخ ابن المبارك وهو غير مدلسٍ، وكذلك عنعنة عاصم عن الشعبي محمولة على الاتصال فعاصم ليس مدلساً ومعروف بالرواية عن الشعبي وروايته عنه في الكتب الستة، والشعبي من شيوخ عاصم، وعاصم من تلاميذ الشعبي، وكذلك الشعبي في روايته عن ابن عباس فالشعبي ليس مدلساً وهو معروف بالرواية عن ابن عباس، وروايته عنه في الكتب الستة.
فمن خلال هذا العرض السريع يتبين لنا أنَّ هذا الحديث قد استوفى شرط الاتصال.
أما الشرط الثاني والثالث فعليُّ بن حجر قال عنه ابن حجر في التقريب (4700) : ((ثقة حافظ)) . فهذا قد جمع بين العدالة والضبط.
أما عبد الله بن المبارك فقد قال عنه الحافظ في التقريب (3570) : ((ثقة ثبت فقيه عالم جواد مجاهد، جمعت فيه خصال الخير)) . فهذا أيضاً قد جمع بين العدالة والضبط.
أما عاصم بن سليمان الأحول فقد قال عنه الحافظ بالتقريب (3060) : ((ثقة)) . فكذلك قد جمع بين العدالة والضبط.
أما الشعبي فهو عامر بن شراحيل الشعبي فقد قال عنه الحافظ ابن حجر في التقريب (3092) : ((ثقة مشهور فقيه فاضل)) . فكذا قد جمع بين العدالة والضبط.
ইমাম তিরমিজি 'শামাইলুন্নবী' (২০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আলী বিন হাজার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি শাবি থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জমজমের পানি পান করিয়েছিলাম, তিনি দাঁড়িয়ে তা পান করেছিলেন।"
এটি একটি সঠিক (صحيح) হাদিস যা বিশুদ্ধতার শর্তাবলি (شروط الصحة) পূরণ করেছে। ইমাম তিরমিজি এখানে তাঁর উস্তাদ আলী বিন হাজার থেকে সরাসরি শ্রবণের (السماع) বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং আলী বিন হাজার তাঁর উস্তাদ আব্দুল্লাহ বিন মুবারক থেকে শ্রবণের (السماع) কথা ব্যক্ত করেছেন। আর ইবনুল মুবারক তাঁর উস্তাদ আসিম আল-আহওয়াল থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে যে 'হতে' শব্দের ব্যবহার (عنعنة) করেছেন, তা এখানে অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال) হিসেবেই গণ্য হবে; কারণ আসিম থেকে ইবনুল মুবারকের শ্রবণ (سماع) সুপরিচিত এবং তাঁর সূত্রে বর্ণিত হাদিস সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও নাসায়ি গ্রন্থে বিদ্যমান। তিনি আসিমের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত এবং আসিম ইবনুল মুবারকের উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত, আর তিনি তাদলিসকারী নন (غير مدلس)। একইভাবে শাবি থেকে আসিমের 'হতে' শব্দের ব্যবহার (عنعنة) অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال) হিসেবে গণ্য, কারণ আসিম মুদাল্লিস (مدلس) নন এবং শাবির নিকট থেকে বর্ণনার জন্য তিনি সুপরিচিত; কুতুবে সিত্তাহ-তে তাঁর সূত্রে বর্ণনা রয়েছে। শাবি আসিমের উস্তাদদের একজন এবং আসিম শাবির ছাত্রদের একজন। অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস থেকে শাবির বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; কারণ শাবি মুদাল্লিস (مدلس) নন এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি সুপরিচিত; কুতুবে সিত্তাহ-তে তাঁর সূত্রে বর্ণনা রয়েছে।
এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এই হাদিসটি অবিচ্ছিন্নতার (الاتصال) শর্ত পূরণ করেছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় শর্তের ক্ষেত্রে, আলী বিন হাজার সম্পর্কে ইবনে হাজার 'তাক্বরীবুত তাহজীব' (৪৭০০) গ্রন্থে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও হাফিজ (حافظ)"। সুতরাং তিনি ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং ধারণক্ষমতার নির্ভুলতা (الضبط) উভয় গুণের অধিকারী।
আব্দুল্লাহ বিন মুবারক সম্পর্কে হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাক্বরীবুত তাহজীব' (৩৫৭০) গ্রন্থে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), ফকিহ (فقيه), আলেম (عالم), দানশীল (جواد) ও মুজাহিদ (مجاهد), যার মধ্যে কল্যাণের সকল গুণাবলি একত্রিত হয়েছে।" সুতরাং তিনিও ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং ধারণক্ষমতার নির্ভুলতা (الضبط) উভয় গুণের অধিকারী।
আসিম বিন সুলাইমান আল-আহওয়াল সম্পর্কে হাফিজ 'তাক্বরীবুত তাহজীব' (৩০৬০) গ্রন্থে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)"। তিনিও একইভাবে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং ধারণক্ষমতার নির্ভুলতা (الضبط) উভয় গুণের অধিকারী।
আর শাবি হচ্ছেন আমির বিন শারাহিল আশ-শাবি, তাঁর সম্পর্কে হাফিজ ইবনে হাজার 'তাক্বরীবুত তাহজীব' (৩০৯২) গ্রন্থে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة), প্রসিদ্ধ (مشهور), ফকিহ (فقيه) ও মর্যাদাবান (فاضل)"। তিনিও এভাবে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং ধারণক্ষমতার নির্ভুলতা (الضبط) উভয় গুণের অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
فالحديث الآن قد استكمل ثلاثة شروط، وهي: الاتصال والعدالة والضبط؛ فصار إسناد الحديث صحيحاً، وبقي علينا أنَّ نبحث هل في الحديث شذوذاً أو علة؟ فبعد البحث لم نجد في الحديث شذوذ ولا علة فصار الحديث صحيحاً.
أما الصحيح لغيره: فهو الحديث الحسن الذي توبع راويه فارتقى من الحسن إلى الصحة مثل حديث محمد بن عمرو بن علقمة بن وقاص الليثي، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة)) فمحمد بن عمرو صدوق حسن الحديث، وقد توبع متابعات تامة ونازلة، فارتقى حديثه من حيز الحسن إلى حيز الصحة قال ابن الصلاح: ((محمد بن عمرو بن علقمة من المشهورين بالصدق والصيانة، لكنَّه لم يكن من أهل الإتقان حتّى ضعّفه بعضهم من جهة سوء حفظه، ووثقه بعضهم لصدقه وجلالته. فحديثه من هذه الجهة حسن، فلما انضم إلى ذلك. كونه روي من أوجه أخر زال بذلك ما كنا نخشاه عليه من جهة سوء حفظه، وانجبر به ذلك النقص اليسير، فصح هذا الإسناد، والتحق بدرجة الصحيح)) .
ما هو المحكوم بصحته من أحاديث الصحيحين؟
المحكوم بصحته من أحاديث الصحيحين هو ما روياه بالإسناد المتصل أما ما روي معلقاً فهو ليس من نمط الصحيح، إنما ذكر استشهاداً واستئناساً؛ ليكون الكتاب جامعاً لمعاني الإسلام، والمعلقاتُ في البخاري كثيرةٌ بلغت (1341) معلقاً منها (159) مرفوعاً والبقية موقوفاتٌ ومقاطع وفي مسلم المعلقاتُ قليلةٌ بلغت (12) معلقاً وذكر بعض العلماء أن ما ذكره البخاري بصيغة الجزم فهو صحيح إلى من علقه إليه ويبقى النظر فيمن أُبرز من رجاله.
المحاضرة الثالثة الحديث الحسن 1 / جمادى الثانية / 1425
সুতরাং হাদিসটি এখন তিনটি শর্ত পূর্ণ করেছে, সেগুলো হলো: নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال), ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (الضبط); ফলে হাদিসের সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح) হয়েছে। এখন আমাদের অনুসন্ধান করা বাকি রয়েছে যে, হাদিসটিতে কোনো বিচ্যুতি (شذوذاً) বা সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) আছে কি না? অনুসন্ধানের পর আমরা হাদিসটিতে কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) বা সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) পাইনি, তাই হাদিসটি সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে।
পক্ষান্তরে ‘লি-গাইরিহি সহিহ’ (الصحيح لغيره) হলো: এমন হাসান (الحسن) হাদিস যার বর্ণনাকারীকে অন্য কেউ সমর্থন করেছেন (توبع), ফলে তা হাসান (الحسن) পর্যায় থেকে সহিহ (الصحة) পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। যেমন মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলক্বামা বিন ওয়াক্কাস আল-লাইসি, আবু সালামাহর সূত্রে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" এখানে মুহাম্মদ বিন আমর হলেন অত্যন্ত সত্যবাদী (صدوق) এবং তার হাদিস হাসান (حسن)। তার হাদিসের জন্য পূর্ণাঙ্গ এবং আংশিক একাধিক সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعات) পাওয়া গেছে, যার ফলে তার হাদিস হাসান (الحসন) পর্যায় থেকে সহিহ (الصحة) পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ইবনুল সালাহ বলেন: "মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলক্বামা সত্যবাদিতা (الصدق) ও সততার (الصيانة) জন্য প্রসিদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত, তবে তিনি নিখুঁত দক্ষতার (الإتقان) অধিকারী ছিলেন না, এমনকি কেউ কেউ তার স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার (سوء حفظه) কারণে তাকে দুর্বল (ضعّفه) বলেছেন এবং কেউ কেউ তার সত্যবাদিতা ও মর্যাদার কারণে তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। সে হিসেবে তার হাদিসটি হাসান (حسن)। যখন এর সাথে অন্যান্য সূত্রের বর্ণনা যুক্ত হলো, তখন তার স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে আমাদের যে আশঙ্কা ছিল তা দূর হয়ে গেল এবং সেই সামান্য ঘাটতি পূরণ হয়ে গেল। ফলে এই সনদটি (الإسناد) সহিহ (صح) হয়ে গেল এবং সহিহ (الصحيح) এর স্তরে উন্নীত হলো।"
সহিহাইনের কোন হাদিসগুলো সহিহ (صحته) হিসেবে সাব্যস্ত? সহিহাইনের সেই সব হাদিসই সহিহ (صحته) হিসেবে গণ্য যা তারা নিরবচ্ছিন্ন সনদে (الإسناد المتصل) বর্ণনা করেছেন। তবে যা ঝুলন্ত (معلقاً) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে তা সহিহ (الصحيح) এর পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং সেগুলো প্রমাণ বা সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে কিতাবটি ইসলামের বিধিবিধানের একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন হয়। সহিহ বুখারিতে ঝুলন্ত (المعلقات) বর্ণনা অনেক রয়েছে, যার সংখ্যা ১,৩৪১টি; এর মধ্যে ১৫৯টি মারফু (مرفوعاً) এবং অবশিষ্টগুলো মাওকুফ (موقوفات) ও মাকতু (مقاطع)। অন্যদিকে সহিহ মুসলিমে ঝুলন্ত (المعلقات) বর্ণনার সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ১২টি। কিছু আলেম উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারি যা দৃঢ়তাপূর্ণ শব্দে (صيغة الجزم) উল্লেখ করেছেন তা তার নিকট থেকে যার বরাতে ঝুলালেন (علّقه) তার পর্যন্ত সহিহ (صحيح), তবে এরপর যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেই বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ থেকে যায়।
তৃতীয় লেকচার: হাসান (الحديث الحسن) হাদিস ১ / জুমাদাস সানি / ১৪২৫
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحديث الحسن: وسطٌ بين الصحيح والضعيف، قال ابن القطّان في " بيان الوهم والإيهام " (1118) : ((الحسن معناه الذي له حال بين حالي الصحيح والضعيف)) وبنحوه قال عقيب (1173) . وقال عقيب (1432) : ((ونعني بالحسن: ما له من الحديث منْزلة بين منْزلتي الصحيح والضعيف، ويكون الحديث حسناً هكذا؛ إما بأن يكون أحد رواته مختلفاً فيه، وثقّه قوم وضعّفه آخرون، ولا يكون ما
ضعّف به جرحاً مفسراً، فإنّه إن كان مفسراً قدّم على توثيق من وثّقه، فصار به الحديث ضعيفاً)) ؛ ولما كان كذلك عَسُر على أهل العلم تعريفه.
قال الحافظ ابن كثير: ((وذلك لأنّه أمر نسبيٌ، شيءٌ ينقدح عند الحافظ، ربّما تقصر عبارته عنه)) (اختصار علوم الحديث: 37) .
وقال ابن دقيق العيد: ((وفي تحرير معناه اضطرابٌ)) . (الاقتراح: 162) .
وذلك لأنّه من أدق علوم الحديث وأصعبها؛ لأنّ مداره على من اخُتلف فيه، وَمَن وهم في بعض ما يروي. فلا يتمكن كل ناقدٍ من التوفيق بين أقوال المتقدّمين أو ترجيح قولٍ على قولٍ إلا من رزقه الله علماً واسعاً بأحوال وقواعد هذا الفن ومعرفةٍ قوية بعلم الجرح والتعديل، وأمعن في النظر في كتب العلل، ومارس النقد والتخريج والتعليل عمراً طويلاً، ومارس كتب الجهابذة النقاد حتى اختلط بلحمه ودمه، وعرف المتشددين والمتساهلين من المتكلمين في الرجال، ومن هم وسطٌ في ذلك؛ كي لا يقع فيما لا تحمد عقباه؛ ولذلك قال الحافظ الذهبي: ((ثم لا تطمع بأن للحسن قاعدةً تندرج كل الأحاديث الحسان فيها؛ فأنا على إياسٍ من ذلك، فكم من حديثٍ تردد فيه الحفاظ هل هو حسنٌ أو ضعيفٌ أو صحيحٌ؟)) .
(الموقظة: 28) .
হাসান (الحسن) হাদিস: এটি সহিহ (الصحيح) এবং যয়িফ (الضعيف)-এর মধ্যবর্তী পর্যায়। ইবনে আল-কাত্তান তাঁর 'বায়ানুল ওয়াহাম ওয়াল ইহান' (১১১৮) গ্রন্থে বলেন: ((হাসান (الحسن) এর অর্থ হলো যার অবস্থা সহিহ (الصحيح) ও যয়িফ (الضعيف) এই দুই অবস্থার মাঝামাঝি)) এবং অনুরূপ কথা তিনি (১১৭৩)-এর পরে উল্লেখ করেছেন। তিনি (১৪৩২)-এর পরে আরও বলেন: ((হাসান (الحسن) বলতে আমরা বুঝি: হাদিসের এমন এক মর্যাদা যা সহিহ (الصحيح) এবং যয়িফ (الضعيف)-এর দুই মর্যাদার মধ্যবর্তী। আর হাদিস এভাবে হাসান (الحسن) হয়; হয়তো তার কোনো একজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, একদল তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং অন্যদল তাকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন। আর তাঁর সেই দুর্বলতা যেন এমন না হয় যা
স্পষ্ট বা ব্যাখ্যাত ত্রুটি (جرحاً مفسراً) হিসেবে গণ্য। কেননা যদি তা ব্যাখ্যাত হয়, তবে যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন তাদের অভিমতের ওপর এটি প্রাধান্য পাবে, ফলে হাদিসটি যয়িফ (الضعيف) হয়ে যাবে))। আর বিষয়টি এমন হওয়ার কারণেই আলেমদের জন্য এর সংজ্ঞা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাফিজ ইবনে কাসির বলেন: ((এর কারণ হলো, এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়, যা হাফিজের অন্তরে উদিত হয়, কিন্তু অনেক সময় তাঁর শব্দমালায় তা প্রকাশ করতে তিনি সক্ষম হন না)) (ইখতিসার উলুমুল হাদিস: ৩৭)।
ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন: ((এর মর্মার্থ ব্যাখ্যায় অস্থিরতা বা অস্পষ্টতা (اضطراب) রয়েছে)) (আল-ইকতিরাহ: ১৬২)।
এর কারণ হলো, এটি হাদিস শাস্ত্রের সূক্ষ্মতম ও কঠিনতম বিষয়গুলোর একটি; কারণ এর আবর্তন এমন বর্ণনাকারীদের ওপর যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে এবং যারা তাদের বর্ণিত কিছু হাদিসে ভ্রম (وهم) বা ভুল করেছেন। তাই প্রত্যেক সমালোচকের (ناقد) পক্ষে পূর্ববর্তী ইমামদের বক্তব্যের মাঝে সমন্বয় সাধন করা বা এক মতের ওপর অন্য মতকে প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে এই শাস্ত্রের অবস্থা ও মূলনীতি সম্পর্কে প্রশস্ত জ্ঞান এবং জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) বিদ্যায় প্রভূত প্রজ্ঞা দান করেন। এছাড়া তিনি যদি ইলাল (العلل) শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ গভীর মনোযোগের সাথে পাঠ করেন এবং সমালোচনা (النقد), তাখরিজ (التخريজ) ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি নির্ণয় (التعليل) দীর্ঘকাল ধরে চর্চা করেন; প্রাজ্ঞ সমালোচকগণের কিতাবসমূহ এমনভাবে অনুশীলন করেন যা তাঁর রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে যায় এবং তিনি বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে মন্তব্যকারীদের মধ্যে কারা কঠোর (المتشددين), কারা শিথিল (المتساهلين) আর কারা মধ্যমপন্থী, সে সম্পর্কে সম্যক অবগত হন; যাতে করে তিনি অশুভ পরিণতির শিকার না হন। একারণেই হাফিজ যাহাবি বলেছেন: ((অতঃপর হাসান (الحسن) হাদিসের এমন কোনো সাধারণ মূলনীতি বা নিয়মের আশা করো না যার অধীনে সব হাসান (الحسن) হাদিস অন্তর্ভুক্ত হবে; আমি এ ব্যাপারে নিরাশ। কেননা, কত হাদিসই তো এমন রয়েছে যা হাসান (الحسن), যয়িফ (الضعيف) নাকি সহিহ (الصحيح) হবে—সে বিষয়ে হাফিজগণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন))।
(আল-মুকিজাহ: ২৮)।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
وللحافظ ابن حجر محاولةٌ جيّدةٌ في وضعه تحت قاعدة كليةٍ فقد قال في النخبة: ((وخبر الآحاد بنقل عدلٍ تامّ الضبط، متصل السند غير معللٍ ولا شاذٍ: هو الصحيح لذاته
… فإن خفّ الضبط، فالحسن لذاته)) . (النخبة 29، 34) .
وهي محاولةٌ جيدةٌ. وقد مشى أهل المصطلح على هذا من بعده. وحدّوا الحسن لذاته: بأنه ما اتصل سنده بنقل عدلٍ خف ضبطه من غير شذوذٍ ولا علةٍ)) . وشرط الحسن لذاته نفس شرط الصحيح، إلا أنّ راوي الصحيح تامّ الضبط، وراوي الحسن لذاته خفيف الضبط. وسمّي حسناً لذاته؛ لأنّ حسنه ناشئ عن توافر شروط خاصّة فيه، لا نتيجة شيء خارج عنه.
وقد تبين لنا: أنَّ راوي الحسن لذاته هو الراوي الوسط الذي روى جملة من الأحاديث، فأخطأ في بعض ما روى، وتوبع على أكثر ما رواه؛ فراوي الحسن: الأصل في روايته المتابعة والمخالفة، وهو الذي يطلق عليه الصدوق، لأنّ الصدوق هو الذي يهم بعض الشيء فنزل من رتبة الثقة إلى رتبة الصدوق. فما أخطأ فيه وخولف فيه فهو من ضعيف حديثه، وما توبع عليه ووافقه من هو بمرتبته أو أعلى فهو من صحيح حديثه. أما التي لم نجد لها متابعة ولا شاهداً فهي التي تسمّى بـ (الحسان) ؛ لأنّا لا ندري أأخطأ فيها أم حفظها لعدم وجود المتابع والمخالف؟
وقد احتفظنا بهذه الأحاديث التي لم نجد لها متابعاً ولا مخالفاً وسمّيناها حساناً؛ لحسن ظننا بالرواة؛ ولأنّ الأصل في رواية الراوي عدم الخطأ، والخطأ طارئٌ؛ ولأنّ الصدوق هو الذي أكثر ما يرويه مما يتابع عليه. فجعلنا ما تفرد به من ضمن ما لم يخطأ فيه تجوزاً؛ لأنَّ ذلك هو غالب حديثه، ولاحتياجنا إليه في الفقه. وبمعنى هذا قول الخطّابي: ((
… وهو الذي يقبله أكثر العلماء ويستعمله عامة الفقهاء)) .
হাফেজ ইবনে হাজার একে একটি সামগ্রিক নিয়মের অধীনে আনার একটি উত্তম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি নুখবাহ্ গ্রন্থে বলেছেন: "একক বর্ণনা (خبر الآحاد), যা ন্যায়পরায়ণ (عدল) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط) রাবির বর্ণনায় বর্ণিত, যার সনদ সংযুক্ত (متصل السند) এবং যা ত্রুটিমুক্ত (غير معلل) ও বিচ্ছিন্ন (شاذ) নয়, তা-ই স্বকীয়ভাবে সহিহ (الصحيح لذاته)
… আর যদি স্মৃতিশক্তি কিছুটা কম হয়, তবে তা স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته)।" (নুখবাহ্ ২৯, ৩৪)।
এটি একটি উত্তম প্রচেষ্টা। তাঁর পরবর্তী হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ (أهل المصطلح) এই পথই অনুসরণ করেছেন। তাঁরা স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته)-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: "যার সনদ সংযুক্ত (متصل السند) এবং যা ন্যায়পরায়ণ (عدل) কিন্তু লঘু স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (خف ضبطه) রাবির মাধ্যমে বর্ণিত, যা কোনো বিচ্ছিন্নতা (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত।" স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته)-এর শর্তাবলি সহিহ (الصحيح)-এর শর্তাবলির মতোই, পার্থক্য শুধু এই যে সহিহ (الصحيح)-এর রাবি পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط) আর স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته)-এর রাবি লঘু স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (خفيف الضبط)। একে স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته) বলা হয়; কারণ এর হাসান (الحسن) হওয়াটা তার অভ্যন্তরীণ বিশেষ শর্তাবলি পূরণ হওয়ার কারণে হয়েছে, বাইরে থেকে আসা অন্য কোনো বিষয়ের ফলশ্রুতিতে নয়।
আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে: স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته)-এর রাবি হলেন সেই মধ্যম পর্যায়ের রাবি যিনি অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণিত কিছু হাদিসে তিনি ভুল করেছেন এবং তাঁর অধিকাংশ বর্ণনায় অন্য রাবিদের সমর্থন (متابعة) পাওয়া গেছে। সুতরাং হাসান (الحسن)-এর রাবির মূল অবস্থা হলো তাঁর বর্ণনায় অন্য রাবির সমর্থন পাওয়া যাওয়া অথবা বিরোধিতা হওয়া। তাঁকে সত্যবাদী (الصدوق) বলা হয়; কারণ সত্যবাদী (الصدوق) সেই ব্যক্তি যিনি কখনো কখনো ভুল করেন, ফলে তিনি নির্ভরযোগ্য (الثقة) স্তর থেকে নেমে সত্যবাদী (الصدوق) স্তরে পৌঁছান। তাঁর যে বর্ণনায় ভুল হয়েছে এবং বিরোধিতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা তাঁর দুর্বল (ضعيف) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। আর যে বর্ণনায় তাঁর সমর্থন পাওয়া গেছে এবং তাঁর সমপর্যায়ের বা উচ্চপর্যায়ের কেউ তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, তা তাঁর সহিহ (صحيح) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। তবে যে বর্ণনায় আমরা কোনো সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) বা সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (شاهد) খুঁজে পাইনি, সেগুলোকে হাসান (الحسان) বলা হয়; কারণ সমর্থনকারী বা বিরোধিতাকারী না থাকায় আমরা জানি না যে তিনি এতে ভুল করেছেন নাকি সঠিকভাবে মুখস্থ রেখেছেন?
আমরা এই হাদিসগুলোকে সংরক্ষণ করেছি যেগুলোর কোনো সমর্থনকারী (متابع) বা বিরোধিতাকারী (مخالف) আমরা পাইনি এবং সেগুলোকে হাসান (الحسان) নাম দিয়েছি; রাবিদের প্রতি আমাদের সুধারণার কারণে এবং রাবির বর্ণনার মূলনীতি হলো তাতে ভুল না থাকা, আর ভুল হওয়া একটি আকস্মিক বিষয়। এছাড়া সত্যবাদী (الصدوق) রাবি সাধারণত যা বর্ণনা করেন তার অধিকাংশেরই সমর্থন পাওয়া যায়। তাই তিনি যা এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন সেগুলোকে আমরা রূপকার্থে তাঁর নির্ভুল বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করেছি; কারণ তাঁর অধিকাংশ হাদিসই এমন, আর ফقه শাস্ত্রে আমাদের এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। খাত্তাবি-র এই বক্তব্যের অর্থও এটিই: "
… আর এটি এমন হাদিস যা অধিকাংশ আলেম গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ ব্যবহার করেন।"
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولا بأس أن نحد ذلك بنسبة مئوية فكأنّ راوي الحسن من روى - مثلاً لا حصراً - مائتي حديث، فأخطأ في عشرين حديثاً وتوبع في ثمانين. فالعشرون التي أخطأ فيها من ضعيف حديثه. والثمانون التي توبع عليها من صحيح حديثه. أما المائة الأخرى وهي التي لم نجد لها متابعاً ولا مخالفاً فهي من قبيل (الحسن) . ومن حاله كهذا: عاصم بن أبي النجود، فقد روى جملة كثيرة من الأحاديث فأخطأ في بعض وتوبع على الأكثر فما وجدنا له به متابعاً فهو صحيح، وما وجدنا له به مخالفاً أوثق منه عدداً أو حفظاً فهو من ضعيف حديثه. وما لم نجد له متابعاً ولا مخالفاً فهو (حسن) . وممن حاله كحال عاصم: ((عبيدة بن حميد الكوفي، وسليمان بن عتبة وأيوب ابن هانئ، وداود بن بكر بن أبي الفرات، ومحمد بن عمرو بن علقمة، والحارث بن عبد الرحمن بن أبي ذباب، ويونس بن أبي إسحاق، وسماك بن حرب)) .
وهذا الرأي وإن كان بنحو ما انتهى إليه الحافظ ابن حجر العسقلاني إلا أننا لم نجد من فصّله هكذا. وهو جدير بالقبول والتداول بين أهل العلم. وقد يتساءل إنسانٌ بأن من قيل فيهم: صدوق أو حسن الحديث قد اختلف المتقدمون في الحكم عليهم تجريحاً وتعديلاً. وجواب ذلك: أنّ الأئمة النقاد قد اطّلعوا على ما أخطأ فيه الراوي وما توبع عليه فكأنَّ المُجَرِّح رأى أن ما خولف فيه الراوي هو الغالب من حديثه، والمُعَدِّل كذلك رأى أن ما توبع عليه هو غالب حديثه فحكم كلٌّ بما رآه غالباً، غير أنا نعلم أنَّ فيهم متشددين يغمز الراوي بالجرح وإن كان خطؤه قليلاً، ومنهم متساهلين لا يبالي بكثرة الخطأ، وعند ذلك يؤخذ بقول المتوسطين المعتدلين.
ولذا نجد الحافظ ابن عدي في الكامل، والإمام الذهبي في الميزان يسوقان أحياناً ما أنكر على الراوي الوسط ثم يحكمان بحسن رواياته الأخرى، والله أعلم.
এটি একটি শতকরা হারের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে কোনো অসুবিধা নেই। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়—এটিই একমাত্র মাপকাঠি নয়—একজন হাসান (حسن) বর্ণনাকারী হতে পারেন এমন ব্যক্তি যিনি ধরুন দু’শোটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে কুড়িটি হাদিসে ভুল করেছেন এবং আশিটি হাদিসে তাকে সমর্থন (توبع) করা হয়েছে। সুতরাং যে কুড়িটি হাদিসে তিনি ভুল করেছেন সেগুলো তার দুর্বল (ضعيف) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। আর যে আশিটি হাদিসে তাকে সমর্থন করা হয়েছে সেগুলো তার সহিহ (صحيح) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। বাকি একশটি হাদিস—যার ক্ষেত্রে আমরা কোনো সমর্থক (متابع) বা বিরোধী (مخالف) পাইনি—সেগুলো হাসান (حسن) পর্যায়ের। আর যাদের অবস্থা এমন, তাদের একজন হলেন: আসেম ইবনে আবি আল-নাজুদ। তিনি প্রচুর সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার কয়েকটিতে ভুল করেছেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে সমর্থন করা হয়েছে। সুতরাং, যে হাদিসে আমরা তার সমর্থক (متابع) পেয়েছি তা সহিহ (صحيح)। আর যে হাদিসে আমরা তার এমন কোনো বিরোধী (مخالف) পেয়েছি যে সংখ্যায় বা মুখস্থ শক্তিতে তার চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য (أوثق), তা তার দুর্বল (ضعيف) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। আর যেগুলোতে আমরা কোনো সমর্থক (متابع) বা বিরোধী (مخالف) পাইনি, তা হাসান (حسن)। আসেমের মতো একই অবস্থায় রয়েছেন: ওবায়দাহ ইবনে হুমাইদ আল-কুফি, সুলাইমান ইবনে উতবাহ, আইয়ুব ইবনে হানি, দাউদ ইবনে বকর ইবনে আবিল ফুরাত, মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকাহমাহ, আল-হারিস ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি জুবাব, ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক এবং সিমাক ইবনে হারব।
এই মতামতটি যদিও হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানির সিদ্ধান্তের কাছাকাছি, তবে আমরা অন্য কাউকে এভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করতে দেখিনি। এটি আলেমদের মাঝে গ্রহণ ও পর্যালোচনার যোগ্য। কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, যাদের সম্পর্কে সত্যবাদী (صدوق) বা হাসানুল হাদিস (حسن الحديث) বলা হয়েছে, তাদের বিষয়ে পূর্ববর্তী ইমামগণ সমালোচনা (تجريح) ও প্রশংসা (تعديل) প্রদানের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। এর উত্তর হলো: বিশেষজ্ঞ (نقاد) ইমামগণ বর্ণনাকারীর ভুল এবং তার সমর্থিত (توبع) বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন। সমালোচনাকারী (المجرح) সম্ভবত দেখেছেন যে, বর্ণনাকারীর হাদিসসমূহের মধ্যে বিরোধপূর্ণ (خولف) অংশই বেশি। অনুরূপভাবে, প্রশংসাকারী (المعدل) দেখেছেন যে, সমর্থিত (توبع) অংশটিই তার হাদিসের অধিকাংশ। ফলে প্রত্যেকে যা প্রাধান্য পেতে দেখেছেন, সেই অনুযায়ীই হুকুম দিয়েছেন। তবে আমরা জানি যে, তাঁদের মধ্যে এমন কিছু কঠোরপন্থী (متشددون) রয়েছেন যারা বর্ণনাকারীর সামান্য ভুলে সমালোচনা (جرح) করেন; আবার কিছু শিথিলকারী (متساهلون) রয়েছেন যারা ভুলের আধিক্য থাকলেও গ্রাহ্য করেন না। এমন ক্ষেত্রে মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ (معتدلون) ইমামদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।
এজন্য আমরা দেখি যে, হাফিজ ইবনে আদি তার আল-কামিল গ্রন্থে এবং ইমাম দাহাবি তার আল-মিজান গ্রন্থে কখনো কখনো মাঝারি মানের বর্ণনাকারীর সেসব হাদিস উল্লেখ করেন যেগুলোকে প্রত্যাখ্যান (أنكر) করা হয়েছে এবং এরপর তার অন্যান্য বর্ণনাকে হাসান (حسن) বলে রায় দেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
وعلى هذا فالحديث الحسن: ما رواه عدل خف ضبطه عن مثله إلى منتهاه ولم يكن شاذاً ولا معلاً. وهذا هو الحسن لذاته. وهو يستوفي نفس شروط الصحيح خلا الضبط فراوي الصحيح تام الضبط وراوي الحسن خفيف الضبط.
أما الحسن لغيره: فهو الحديث الضعيف الذي تقوى بمتابعة أو شاهد.
مثال الحسن لذاته: حديث محمد بن عمرو السابق، لو لم يتابع لكان سند الحديث حسناً لذاته فلما توبع ارتقى إلى الصحيح لغيره.
ومثاله أيضاً ما رواه الترمذي في شمائل النبي صلى الله عليه وسلم (237) ، قال: حدثنا عباس بن محمد الدُّوري، قال: حدثنا علي بن الحسن بن شقيق، قال: أنبأنا عبد الله بن المبارك، عن أسامة بن زيد، عن سعيد المَقْبُري، عن أبي هريرة، قال: قالوا: يا رسول الله، إنك تداعبنا. قال: ((إني لا أقولُ إلا حقاً)) .
وهذا حديثٌ حسنٌ لذاته من أجل أسامة بن زيد الليثي فهو خفيف الضبط، وهو صدوقٌ حسن الحديث.
أما الحسن لغيره فمثاله: فمثاله ما رواه الترمذي في شمائل النبي صلى الله عليه وسلم (247) قال: حدثنا علي بن حُجْر، قال: حدثنا شَرِيك، عن سِماك بن حرب، عن جابر بن سَمُرة، قال: جالستُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم أكثر من مئة مرة وكان أصحابه يتناشدونَ الشِّعْرَ ويتذاكرون أشياءَ من أمر الجاهلية، وهو ساكتٌ وربما تَبَسَّمَ معهم.
فهذا حديثٌ حسنٌ لغيره؛ فإن شريك بن عبد الله ضعيفٌ عند التفرد بسبب سوء حفظه، لكن تابعه في هذا الحديث زهير أبو خيثمة فارتقى حديثه هذا من حيز الضعف إلى درجة الحسن
مظان الحديث الحسن:
আর এই ভিত্তিতে হাসান (حسن) হাদিস হলো: যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) রাবি বর্ণনা করেছেন যার সংরক্ষণ ক্ষমতা কিছুটা শিথিল (خف ضبطه), এবং তিনি তাঁর অনুরূপ রাবি থেকেই বর্ণনার শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, আর বর্ণনাটি শায (شاذ) বা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয়। আর এটিই হলো হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته)। এটি সহিহ (صحيح) এর সকল শর্তই পূরণ করে কেবল সংরক্ষণ ক্ষমতার (ضبط) বিষয়টি ছাড়া; কেননা সহিহ (صحيহ) হাদিসের রাবি পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ ক্ষমতা সম্পন্ন (تام الضبط) হন এবং হাসান (حسن) হাদিসের রাবি শিথিল সংরক্ষণ ক্ষমতা সম্পন্ন (خفيف الضبط) হন।
পক্ষান্তরে হাসান লি-গাইরিহি (الحسن لغيره) হলো: এমন দুর্বল (ضعيف) হাদিস যা কোনো মুতাবাআত (متابعة) বা শাহেদ (شاهد)-এর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে।
হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته) এর উদাহরণ: মুহাম্মদ ইবনে আমরের পূর্বোক্ত হাদিসটি; যদি এর কোনো মুতাবাআত (متابعة) না থাকত তবে হাদিসটির সনদ হাসান লি-যাতিহি (حسن لذاته) হতো, কিন্তু যখন এর মুতাবাআত (متابعة) পাওয়া গেল তখন তা সহিহ লি-গাইরিহি (صحيح لغيره) এর স্তরে উন্নীত হয়েছে।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো যা তিরমিযী শামাইলুন্নবী (২৩৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাওরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে হাসান ইবনে শাকিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক সংবাদ দিয়েছেন উসামা ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদের সাথে রসিকতা করেন। তিনি বললেন: "আমি সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলি না।"
আর এটি উসামা ইবনে যায়েদ আল-লাইসির কারণে একটি হাসান লি-যাতিহি (حسن لذاته) হাদিস; কেননা তিনি শিথিল সংরক্ষণ ক্ষমতা সম্পন্ন (خفيف الضبط) ছিলেন, আর তিনি সত্যবাদী (صدوق) এবং তাঁর হাদিস হাসান (حسن الحديث) পর্যায়ের।
হাসান লি-গাইরিহি (الحسن لغيره)-এর উদাহরণ: যেমন তিরমিযী শামাইলুন্নবী (২৪৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে হুজর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শারিক বর্ণনা করেছেন সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একশবারেরও বেশি মজলিসে বসেছি, তখন তাঁর সাহাবীগণ কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহেলী যুগের ঘটনাবলী আলোচনা করতেন, আর তিনি চুপ থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে তাদের সাথে হাসতেন।
এটি একটি হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره) হাদিস; কেননা শারিক ইবনে আবদুল্লাহ এককভাবে বর্ণনা করার (تفرد) ক্ষেত্রে তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার (سوء حفظه) কারণে দুর্বল (ضعيف), কিন্তু যুহাইর আবু খাইসামা এই হাদিসে তাঁর মুতাবাআত (متابعة) করেছেন, ফলে তাঁর এই হাদিসটি দুর্বলতার (ضعف) গণ্ডি থেকে হাসানের (حسن) স্তরে উন্নীত হয়েছে।
হাসান হাদিসের উৎসসমূহ:
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
كثيرٌ من كتب الحديث هي مظان الحديث الحسن، ومنها: سنن أبي داود وجامع الترمذي، وقد أكثر الترمذي من ذكره، وقد ظن بعضهم أنَّ كل حديثٍ سكت عنه أبو داود فهو حديثٌ حسن أو صحيح، وهذا خطأ وقد اعتمدوا في ذلك على ما نسبه بعضهم لأبي داود: ((وما سكت عنه فهو حسن)) وهذا لم يصح عن أبي داود إنما قال أبو داود: ((ذكرتُ في كتابي هذا الصحيح وما يشابهه وما يقاربه وما كان في كتابي من حديثٍ فيه وهنٌ شديدٌ فقد بينته، وما لم أذكر فيه شيئاً فهوصالح)) وكلمة صالح تشمل صلاحية الاحتجاج وصلاحية الاعتبار، ويستفاد من قوله: ((وهن شديد)) أن ما كان وهناً يسيراً لا يبينه، ثم إنه يضعف راوياً فإذا تكرر في حديثٍ آخر يسكت عنه لسبقه الكلام عنه، ثم إنَّ روايات السنن مختلفة وفي بعضها من الكلام على الأحاديث والرواة ما لا يوجد في الأخرى، وأبو عبيد الآجري في سؤالاته ينقل تضعيف أبي داود لبعض الأحاديث، وهو قد سكت عنها في السنن.
المحاضرة الرابعة الحديث الضعيف 7/جمادى الآخرة 1425
الحديث الضعيف: هو ما لم يجمع صفات القبول.
وصفات القبول: 1_ الاتصال. 2_ العدالة. 3_ الضبط إن كان تاماً أو خفيفاً. 4_ عدم الشذوذ.
5 ـ عدم العلّة. 6_ وجود العاضد إن احتيج إليه.
فكل حديث فقد شرطاً من هذه الشروط، أو أكثر فهو ضعيف، ويتفاوت الضعف، فكلما فُقدَتْ شروط أكثر كلما ازداد الحديث ضعفاً.
ويتنوع الضعيف إلى أنواع عدة، منها: المقلوب، والشاذ، والمعلّ، والمضطرب، والمرسل، والمنقطع، والمعضل، والمدلَّس، والمنكر، والمتروك، والمدرج، والمصحف، والمحرف.
متى يتقوى الحديث الضعيف؟
ليس كل حديث ضعيف يتقوى بالمتابعات والشواهد؛ فإنَّ بعض الأحاديث يتقوى بذلك، إذا كان الضعف يسيراً؛ مثل: الغفلة، وكثرة الغلط لمن كان حديثه كثيراً، وسوء الحفظ، والاختلاط، وغيرها من أسباب الضعف غير الشديدة.
অনেক হাদিস গ্রন্থ হাসান (حسن) হাদিসের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে গণ্য, যার মধ্যে রয়েছে: সুনান আবু দাউদ এবং জামে তিরমিজি। ইমাম তিরমিজি এটি প্রচুর ব্যবহার করেছেন। কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে, আবু দাউদ যে হাদিস সম্পর্কে নীরব থেকেছেন তা হাসান (حسن) অথবা সহিহ (صحيح); কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। তারা এক্ষেত্রে আবু দাউদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত একটি উক্তির ওপর নির্ভর করেছেন যে: "আমি যা সম্পর্কে নীরব থেকেছি তা হাসান (حسن)।" এটি আবু দাউদ থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়। বরং আবু দাউদ বলেছেন: "আমি আমার এই গ্রন্থে সহিহ (صحيح) এবং এর সদৃশ ও কাছাকাছি হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি। আর আমার কিতাবে এমন যে হাদিস রয়েছে যাতে গুরুতর দুর্বলতা (وهن شديد) আছে, তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি। আর যে বিষয়ে আমি কিছু বলিনি তা গ্রহণযোগ্য (صالح)।" আর ‘সালেহ’ (صالح) শব্দটি দ্বারা দলীল হিসেবে পেশ করার যোগ্যতা (صلاحية الاحتجاج) এবং সমর্থক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা (صلاحية الاعتبار) উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। তাঁর কথা "গুরুতর দুর্বলতা" (وهن شديد) থেকে বোঝা যায় যে, যেখানে সামান্য দুর্বলতা (وهن يسير) থাকে তিনি তা স্পষ্ট করেন না। তদুপরি, তিনি কোনো বর্ণনাকারীকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করলে, সেই বর্ণনাকারী অন্য কোনো হাদিসে পুনরায় আসলে তিনি সেখানে নীরব থাকতে পারেন, কারণ তিনি ইতোপূর্বে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। এছাড়া সুনান-এর পাণ্ডুলিপিগুলো ভিন্ন ভিন্ন এবং কোনো কোনোটিতে হাদিস ও বর্ণনাকারীদের ওপর এমন সব মন্তব্য পাওয়া যায় যা অন্যটিতে নেই। আবু উবাইদ আল-আজেরি তাঁর 'সুয়ালাত'-এ কিছু হাদিসের ব্যাপারে আবু দাউদের দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার উক্তি নকল করেছেন, অথচ আবু দাউদ সুনানে সেগুলোর ব্যাপারে নীরব ছিলেন।
চতুর্থ বক্তৃতা: দুর্বল (ضعيف) হাদিস ৭ জমাদিউল আখিরা ১৪২৫ হিজরি
দুর্বল (ضعيف) হাদিস: যা কবুল বা গ্রহণের গুণাবলী অর্জন করতে পারেনি।
গ্রহণের গুণাবলী: ১. নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال)। ২. ন্যায়পরায়ণতা (العدالة)। ৩. ধারণক্ষমতা (الضبط), তা পূর্ণাঙ্গ হোক বা সামান্য কম। ৪. বৈসাদৃশ্যহীনতা (عدم الشذوذ)।
৫. সূক্ষ্ম ত্রুটিহীনতা (عدم العلة)। ৬. প্রয়োজন সাপেক্ষে সাহায্যকারী বর্ণনার (وجود العاضد) উপস্থিতি।
সুতরাং যে হাদিস এই শর্তগুলোর কোনো একটি বা তার বেশি হারিয়েছে, তা-ই দুর্বল (ضعيف)। আর দুর্বলতার (الضعف) স্তরভেদ রয়েছে; যত বেশি শর্ত অনুপস্থিত থাকবে, হাদিসটি তত বেশি দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য হবে।
দুর্বল (ضعيف) হাদিস কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে, যেমন: ওলটপালটকৃত (المقلوب), বিচ্যুতিপূর্ণ (الشاذ), ত্রুটিপূর্ণ (المعل), অস্থিরতাযুক্ত (المضطرب), বিচ্ছিন্ন (المرسل), কর্তিত সূত্র (المنقطع), জটিল সূত্রবিচ্যুতি (المعضل), লুকায়িত ত্রুটিযুক্ত (المدلس), প্রত্যাখ্যাত (المنكر), পরিত্যক্ত (المتروك), প্রক্ষিপ্ত (المدرج), শব্দ বিকৃত (المصحف) এবং স্বরচিহ্ন বিকৃত (المحرف)।
কখন দুর্বল (ضعيف) হাদিস শক্তিশালী হয়?
সকল দুর্বল (ضعيف) হাদিসই মুতাবাআত (المتابعات) এবং শাওয়াাহিদ (الشواهد) দ্বারা শক্তিশালী হয় না। বরং কিছু হাদিস এগুলোর মাধ্যমে শক্তিশালী হয় যদি তার দুর্বলতা (الضعف) সামান্য হয়; যেমন: অসতর্কতা (الغفلة), অধিক হাদিস বর্ণনা করেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভুলের আধিক্য (كثرة الغلط), মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ), বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম (الاختلاط) এবং গুরুতর নয় এমন সব দুর্বলতার কারণ।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ونستطيع أن نُقَعّد لذلك قاعدة، وهو: أنّ كل ما كان ضعفه بسبب عدم ضبط راويه الصدوق الأمين _ الذي لم تثلم عدالته _ فإنّ كثرة الطرق تقويه؛ فتنفعه المتابعات والشواهد، ويجبر ضعفه بمجيئه من طريق آخر، ونستفيد من تلك الطرق المقوية أنَّ حفظ الراوي الأول لم يختلَّ في هذا لحديث خاصة، بل إنَّه حفظ هذا الحديث؛ بدليل المتابعات، أو الشواهد، وبهذا يرتقي من درجة الضعيف إلى درجة الحسن لغيره.
ويضاف إلى هذا: ما كان ضعفه لإرسال، أو عنعنة مدلس، أو لجهالة حال بعض رواته، أو لانقطاع يسير؛ فإنَّ هذا الضعف يزول بمجيئه من طريق آخر، ويصير الحديث حسناً لغيره؛ بسبب العاضد الذي عضده.
أمّا إذا كان الضعف شديداً، فهذا لا تنفعه المتابعات ولا الشواهد، ولا يرتقي حديثه عن درجة الضعيف، ومثل هذا: من وصف بالكذب، أو اتهم فيه، وكذلك من وصف بالفسق، وكذلك الهلكى، والمتروكين، وشديدي الضعف، فمن كان ضعفه هكذا لا تؤثر فيه كثرة الطرق، ولا يرتقي عن درجة الضعيف؛ لشدّة سوء أسباب هذا الضعف، وتقاعد الجابر عن جبره، وهذه تفاصيل تدرك بالمباشرة، قال الحافظ ابن حجر في النزهة: ((ومتى توبع السيء الحفظ بمعتبر كأن يكون فوقه أو مثله، لا دونه، وكذا المختلط الذي لم يتميز والمستور، والإسناد المرسل وكذا المدَّلس إذا لم يعرف المحذوف منه، صار حديثهم حسناً، لا لذاته بل وصفه بذلك باعتبار المجموع من المتابع والمتابَع لأن مع كل واحد منهم احتمال كون روايته صواباً، أو غير صواب على حدٍ سواء)) .
حكم العمل بالحديث الضعيف.
يعمل بالحديث الضعيف بشروط:
أولاً: أن لا يكون في الأحكام.
ثانياً: أن لا يكون في العقائد.
ثالثاً: أن يكون الضعف غير شديد، فيخرج من انفرد من الكذّابين، والمتهمين بالكذب، ومن فحش غَلَطُه.
رابعاً: أن يندرج تحت أصل معمول.
خامساً: أن لا يُعتَقَدَ عند العمل ثبوته، بل يعتقد الاحتياط.
আমরা এর জন্য একটি মূলনীতি নির্ধারণ করতে পারি, আর তা হলো: যে হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) তার সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত (أمين) বর্ণনাকারীর (راوي) স্মৃতিশক্তির (ضبط) ত্রুটির কারণে হয়—যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ক্ষুণ্ণ হয়নি—তবে অধিক সংখ্যক সূত্র (طرق) একে শক্তিশালী করে; ফলে মুতাবা'আত (متابعات) ও শাওয়াহিদ (شواهد) এর ক্ষেত্রে কার্যকর হয় এবং অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে আসার কারণে এর দুর্বলতা (ضعف) দূরীভূত হয়। এই শক্তিশালীকারী সূত্রগুলো থেকে আমরা এই উপকার পাই যে, প্রথম বর্ণনাকারীর (راوي) সংরক্ষণ (حفظ) ক্ষমতা বিশেষত এই হাদিসটির ক্ষেত্রে বিঘ্নিত হয়নি, বরং সে এই হাদিসটি যথাযথভাবে মুখস্থ (حفظ) রেখেছে; যার প্রমাণ হলো মুতাবা'আত (متابعات) বা শাওয়াহিদ (شواهد)। এর মাধ্যমে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) স্তর থেকে হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره) স্তরে উন্নীত হয়।
এর সাথে আরও যুক্ত হবে: যে হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) ইরসাল (إرسال), বা মুদাল্লিসের 'আন'আনা (عنعنة مدلس), বা কোনো বর্ণনাকারীর (راوي) অবস্থা অজ্ঞাত (جهالة حال) থাকার কারণে, অথবা সামান্য বিচ্ছিন্নতার (انقطاع يسير) কারণে হয়; এই দুর্বলতা (ضعف) অন্য সূত্রের মাধ্যমে আসার কারণে দূর হয়ে যায় এবং সমর্থনকারীর সমর্থনের কারণে হাদিসটি হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره) হয়ে যায়।
পক্ষান্তরে যদি দুর্বলতা (ضعف) প্রকট হয়, তবে মুতাবা'আত (متابعات) বা শাওয়াহিদ (شواهد) কোনো উপকারে আসে না এবং সেই হাদিস দুর্বল (ضعيف) স্তর থেকে উন্নীত হয় না। এর উদাহরণ হলো: যাকে মিথ্যাবাদিতা (كذب) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বা যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ (متهم) রয়েছে, তেমনি যাকে পাপাচার (فسق) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বর্ণনাকারীগণ, পরিত্যক্ত (متروكين) বর্ণনাকারীগণ এবং অত্যন্ত দুর্বল (شديدي الضعف) বর্ণনাকারীগণ। যার দুর্বলতা (ضعف) এমন পর্যায়ের, সূত্রের আধিক্য তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না এবং এই দুর্বলতার (ضعف) কারণগুলো অত্যন্ত গুরুতর হওয়ার কারণে এবং সংশোধনকারী বিষয়গুলো তা সংশোধনে অক্ষম হওয়ার কারণে তা দুর্বল (ضعيف) স্তর থেকে উন্নীত হয় না। এই বিবরণগুলো সরাসরি অনুশীলনের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। হাফিজ ইবনে হাজার নুজহাতুন নাজার গ্রন্থে বলেছেন: "যখন মন্দ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (سيء الحفظ) বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য কেউ সমর্থন (متابعة) করে—যেমন তার চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের বা সমপর্যায়ের কেউ, নিম্ন পর্যায়ের নয়—এবং একইভাবে এমন ইখতিলাতগ্রস্ত (مختلط) বর্ণনাকারী যার সঠিক ও ভুল বর্ণনা পৃথক করা যায়নি, মাস্তুর (مستور) বর্ণনাকারী, মুরসাল সনদ (إسناد مرسل) এবং অনুরূপভাবে মুদাল্লিস (مدلس) বর্ণনাকারী যখন তার বাদ পড়া বর্ণনাকারীর পরিচয় জানা যায় না; তাদের হাদিস হাসান (حسن) হয়ে যায়, হাসান লি-জাতিহি (حسن لذاته) হিসেবে নয়, বরং মুতাবা' (متابَع) ও মুতাবা' (متابع) উভয়ের সমষ্টিগত বিবেচনায় তাকে এই বিশেষণে অভিহিত করা হয়। কারণ তাদের প্রত্যেকের বর্ণনার ক্ষেত্রে সঠিক হওয়া বা সঠিক না হওয়ার সম্ভাবনা সমান থাকে।"
দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বিধান।
দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর কিছু শর্তসাপেক্ষে আমল করা যায়:
প্রথমত: সেটি যেন বিধিবিধান (أحكام) সংক্রান্ত না হয়।
দ্বিতীয়ত: সেটি যেন আকিদা (عقائد) বা বিশ্বাস সংক্রান্ত না হয়।
তৃতীয়ত: দুর্বলতা (ضعف) যেন প্রকট না হয়; ফলে মিথ্যাবাদী (كذابين), মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهمين بالكذب) এবং যাদের মারাত্মক ভুল (فحش غلطه) হয় তাদের একক বর্ণনা এর বাইরে থাকবে।
চতুর্থত: হাদিসটি যেন কোনো প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
পঞ্চমত: আমল করার সময় সেটি সাব্যস্ত হওয়ার বিশ্বাস রাখা যাবে না, বরং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا هو مذهب الجمهور في هذه المسألة، انظر لذلك: " فتح المغيث " (1/ 267-268 - دار الطبري) . والتدريب (1/ 298-299) وغيرهما، والقول المنيف (ص 48-52) ، وذهب جمعٌ من المحققين إلى خلاف هذا القول، فذهب الإمام ابنُ حزم رحمه الله وابن معين - فيما حكاه عنه ابن سيد الناس - وأبو بكر بن العربي - نسبه إليه في فتح المغيث - وأبو شامة المقدسي الشافعي، والشهاب الخفاجي والجلال الدواني. ومن المعاصرين الشيخ أحمد شاكر والعلامة الألباني - رحمهم الله تعالى - إلى عدم العمل بالحديث الضعيف مطلقاً لا في الفضائل ولا في الأحكام، والظاهر والأحوط أن الضعيف لا يعمل به مطلقاً، فالشروط التي ذكرها الأكثرون نظرية غير عملية، فلازم الشرط الثالث رد بعض الضعيف والأخذ ببعضه، وأما الشرط الرابع فهو نظري فقط، إذ ممكن ان يقال: لماذا لا يعمل بالأصل العام؟
فلا يُحتاج حينئذ للعمل بالضعيف، والشرط الخامس من الممكن أن يجاب عنه بالقول بأن الأحوط هو ترك العمل بالضعيف، فكم من حديث ضعيف عمل به ثم أصبح بمنزلة الثابت عند عوام الناس بل وخواصهم.
كيف يروى الحديث الضعيف؟
من أراد أن يروي حديثاً ضعيفاً، فعليه أن يبين ضعف ذلك الحديث، وإذا لم يُبَيّنه، فعليه أن يذكره بصيغة التمريض، وهي التي تدل على الشك في صحته (نحو: يروى، أو يذكر، أو جاء في بعض المواعظ، أو نُقلَ، أو جاء، أو قيل، أو روي، أو بلغنا، أو روى بعضهم) .
وكما يكره أن يذكر الحديث الضعيف بصيغة الجزم (نحو: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو فعل، أو أقرَّ ونحو ذلك) ، فكذلك يكره أن يذكر الحديث الصحيح بصيغة التمريض.
هل يلزم من ضعف الإسناد ضعف المتن؟
لا يلزم من ضعف الإسناد ضعف المتن، كما إنه لا يلزم من صحة الإسناد صحة المتن.
এটিই এই বিষয়ে জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের অভিমত; এ বিষয়ে দেখুন: ফাতহুল মুগীস (১/ ২৬৭-২৬৮ - দারুত তবারী), আত-তাদরীব (১/ ২৯৮-২৯৯) এবং অন্যান্য গ্রন্থ; আরও দেখুন আল-কাউলুল মুনীফ (পৃষ্ঠা ৪৮-৫২)। একদল গবেষক (محققين) এই মতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। ইমাম ইবনে হাজম (রাহিমাহুল্লাহ), ইবনে মাঈন (ইবনে সাইয়্যিদুন নাস তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন), আবু বকর ইবনুল আরাবী (ফাতহুল মুগীস-এ তাঁর প্রতি এই মতটি সম্বন্ধ করা হয়েছে), আবু শামা আল-মাকদিসী আশ-শাফিয়ী, শিহাব আল-খাফাজী এবং জালাল আদ- দাওয়ানী এই পথ অবলম্বন করেছেন। সমসাময়িকদের মধ্যে শেখ আহমদ শাকের এবং আল্লামা আলবানী (রাহিমাহুমুল্লাহ) কোনো অবস্থাতেই দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল না করার পক্ষে মত দিয়েছেন—চাই তা ফাজায়েল (فضائل) তথা নেক আমলের গুরুত্ব বর্ণনার ক্ষেত্রে হোক কিংবা আহকাম (أحكام) তথা বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে। প্রকাশ্য ও সতর্কতামূলক (الأحوط) অবস্থান হলো, দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর একেবারেই আমল করা যাবে না। কারণ অধিকাংশ আলিম যে শর্তাবলি উল্লেখ করেছেন তা তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক নয়। তৃতীয় শর্তের দাবি হলো কিছু দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করা এবং কিছু গ্রহণ করা। আর চতুর্থ শর্তটি কেবল তাত্ত্বিক; কেননা বলা যেতে পারে: কেন সাধারণ মূলনীতির (الأصل العام) ওপর আমল করা হবে না?
এমতাবস্থায় দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার কোনো প্রয়োজনই থাকে না। আর পঞ্চম শর্তের উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, সতর্কতামূলক (الأحوط) অবস্থান হলো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল বর্জন করা। কেননা কতই না দুর্বল (ضعيف) হাদিস এমন রয়েছে যার ওপর আমল করার ফলে তা সাধারণ মানুষ এমনকি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছেও সাব্যস্ত (ثابت) হাদিসের মর্যাদায় পৌঁছে গিয়েছে।
দুর্বল (ضعيف) হাদিস কীভাবে বর্ণনা করা হবে?
কেউ যদি কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করতে চায়, তবে তার কর্তব্য হলো সেই হাদিসের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা। আর যদি সে তা বর্ণনা না করে, তবে তাকে অবশ্যই তা সিগাতুত তামরীদ (صيغة التمريض) তথা সংশয়সূচক শব্দে উল্লেখ করতে হবে, যা এর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রাখে (যেমন: বর্ণিত আছে (يروى), বা উল্লেখ করা হয় (يذكر), বা কোনো কোনো উপদেশে এসেছে (جاء في بعض المواعظ), বা উদ্ধৃত হয়েছে (نُقلَ), বা এসেছে (جاء), বা বলা হয়ে থাকে (قيل), বা রিওয়ায়েত করা হয়েছে (روي), বা আমাদের কাছে পৌঁছেছে (بلغنا), অথবা তাদের কেউ বর্ণনা করেছেন (روى بعضهم))।
যেভাবে দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে সিগাতুল জাযম (صيغة الجزم) তথা দৃঢ়তাসূচক শব্দে (যেমন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم), বা করেছেন (فعل), বা অনুমোদন দিয়েছেন (أقرَّ) ইত্যাদি) উল্লেখ করা অপছন্দনীয় (يكره), তেমনি সহিহ (صحيح) হাদিসকেও সিগাতুত তামরীদ (صيغة التمريض) তথা সংশয়সূচক শব্দে উল্লেখ করা অপছন্দনীয় (يكره)।
সনদের দুর্বলতা (ضعف الإسناد) কি মতনের দুর্বলতাকেও (ضعف المتن) আবশ্যক করে?
সনদ দুর্বল (ضعف الإسناد) হলেই মতন দুর্বল (ضعف المتن) হওয়া আবশ্যক নয়, ঠিক যেমন সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الإسناد) মতন বিশুদ্ধ (صحة المتن) হওয়ার জন্য অপরিহার্য নয়।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أما مظان الحديث الضعيف: 1-كامل ابن عدي 2- الضعفاء للعقيلي 3- المجروحين لابن حبان 4- ميزان الاعتدال 5- المراسيل لأبي داود 6- المراسيل لابن أبي حاتم 7- العلل للدارقطني 8- العلل لابن أبي حاتم 9- العلل لابن المديني 10- نوادر الأصول للحكيم الترمذي 11- كتب الخطيب البغدادي 12- مسند الفردوس 13- تاريخ ابن النجار.
المحاضرة الخامسة طرق تخريج الحديث 15/جمادى الثانية/1425
للتخريج خمس طرق:
* الطريقة الأولى: عن معرفة راوي الحديث من الصحابة، وهذه الطريقة نرجع إليها حينما نعرف اسم الصحابي الذي روى هذا الحديث. وعند تخريجنا لهذه الطريقة نستفيد من مجموعة من الكتب وهي: المسانيد، والمسانيد هي الكتب التي تجمع أحاديث مسند كل صحابي على حدة. مثل مسند أحمد والحميدي، والطيالسي، وأبي يعلى. وكذلك معجم الطبراني الكبير فهو مرتب على حروف المعاجم. وكذلك كتب الأطراف مثل تحفة الأشراف، وإتحاف المهرة وكذا المسند الجامع وجامع المسانيد.
* الطريقة الثانية: فهي على طريقة معرفة أول لفظ من متن الحديث. وهذه طريقة نلجأ إليها حينما نعرف أول متن الحديث. وأفضل كتاب لهذه الطريقة هو كتاب موسوعة أطراف الحديث. وكذلك الكتب التي فيها فهارس والكتب المطبوعة حديثاً. وهناك كثير من الكتب ألفت مرتبة على الفهارس المعجمية مثل صحيح الجامع الصغير، وضعيف الجامع الصغير، والمقاصد الحسنة. وكشف الخفاء.
* أما الطريقة الثالثة: فهي عن طريق معرفة كلمة مشتقة من فعل ثلاثي. مثل ((إنما الأعمال بالنيات)) فالأعمال أصلها ((عمل)) والنيات أصلها ((نوى)) ونستعين على هذه الطريقة بفهارس صحيح مسلم للمرصفي. والمعجم المفهرس لألفاظ الحديث لونسك، ولمسند أبي يعلى لحسين سليم أسد فهرس في مجلدين.
দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহের সম্ভাব্য উৎসসমূহ হলো: ১- ইবনে আদির আল-কামিল ২- উকাইলির আদ-দুয়াফা ৩- ইবনে হিব্বানের আল-মাজরুহিন ৪- মিযানুল ইতিদাল ৫- আবু দাউদের আল-মারাসিল ৬- ইবনে আবি হাতিমের আল-মারাসিল ৭- দারা কুতনির আল-ইলাল ৮- ইবনে আবি হাতিমের আল-ইলাল ৯- ইবনে মাদিনির আল-ইলাল ১০- হাকিম তিরমিযির নাওয়াদিরুল উসুল ১১- খাতিব বাগদাদির কিতাবসমূহ ১২- মুসনাদুল ফিরদাউস ১৩- ইবনে নাজ্জারের তারিখ।
পঞ্চম বক্তৃতা: হাদিস তাখরিজ (تخريج) এর পদ্ধতিসমূহ ১৫/জুমাদাল আখিরা/১৪২৫
তাখরিজ (تخريج) এর পাঁচটি পদ্ধতি রয়েছে:
* প্রথম পদ্ধতি: হাদিসের রাবি (راوي) তথা সাহাবি (صحابي) সম্পর্কে জানার মাধ্যমে। যখন আমরা এই হাদিসটি বর্ণনাকারী সাহাবি (صحابي) এর নাম জানতে পারি, তখন আমরা এই পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করি। এই পদ্ধতিতে তাখরিজ (تخريج) করার সময় আমরা একগুচ্ছ কিতাব থেকে উপকৃত হই, সেগুলো হলো: মাসানিদ; আর মাসানিদ হলো সেই সকল কিতাব যা প্রত্যেক সাহাবি (صحابي) এর বর্ণিত হাদিসগুলোকে পৃথকভাবে একত্র করে। যেমন: মুসনাদে আহমাদ, হুমাইদি, তায়ালিসি এবং আবু ইয়ালা। একইভাবে তাবারানির আল-মুজামুল কাবির, যা বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত। এছাড়াও আতরাফ বিষয়ক কিতাবসমূহ যেমন: তুহফাতুল আশরাফ, ইতহাফুল মাহারা এবং আল-মুসনাদুল জামি ও জামিউল মাসানিদ।
* দ্বিতীয় পদ্ধতি: এটি হাদিসের মতন (متن) এর প্রথম শব্দ জানার পদ্ধতি। যখন আমরা হাদিসের মতন (متن) এর শুরুটা জানি, তখন আমরা এই পদ্ধতির দিকে ফিরে যাই। এই পদ্ধতির জন্য সর্বোত্তম কিতাব হলো মাওসুআতু আতরাফিল হাদিস। একইভাবে সেই সকল কিতাব যেগুলোতে নির্ঘণ্ট রয়েছে এবং আধুনিককালে মুদ্রিত কিতাবসমূহ। বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট অনুযায়ী বিন্যস্ত অনেক কিতাব রচিত হয়েছে, যেমন: সহিহ আল-জামিউস সাগির, জয়িফ আল-জামিউস সাগির, আল-মাকাসিদুল হাসানা এবং কাশফুল খাফা।
* তৃতীয় পদ্ধতি: এটি হলো কোনো তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূল (فعل ثلاثي) থেকে উদ্ভূত শব্দ জানার মাধ্যমে। যেমন: ((নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল))। এখানে ‘আ’মাল’ এর মূল হলো ‘আ-মা-লা’ এবং ‘নিয়্যাত’ এর মূল হলো ‘না-ওয়া-ইয়া’। এই পদ্ধতিতে আমরা মুরসাফির রচিত সহিহ মুসলিমের নির্ঘণ্ট, ওয়েনসিঙ্কের আল-মুজামুল মুফাহরাস লি আলফাজিল হাদিস এবং হুসাইন সালিম আসাদ কর্তৃক বিন্যস্ত মুসনাদে আবু ইয়ালার দুই খণ্ডের নির্ঘণ্টের সাহায্য গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
* أما الطريقة الرابعة: فهي عن طريق معرفة موضوع الحديث. وهو أن نبحث عن الحديث في بابه الفقهي. ونلجأ إليها بالكتب المؤلفة على هذه الطريقة. مثل الجوامع والمستخرجات والمستدركات والسنن. وأحسن شيء لهذه الطريقة. الرجوع لكتب شملت عدة كتب. مثل جامع الأصول، ومجمع الزوائد والمطالب العالية.
* أما الطريقة الخامسة: فهي النظر إلى نوع الحديث فإذا كان الحديث مرسلاً. بحثنا عنه في كتب المراسيل. وإذا كان متواتراً بحثنا عنه في الكتب المتخصصة في ذلك. وإذا كان مشتهراً على ألسنة الناس نبحث عنه في المقاصد الحسنة وكشف الخفاء. وإذا كان الحديث من أحاديث الأحكام نبحث عنه في الكتب التي تعتني في هذا. مثل إرواء الغليل والتلخيص الحبير. ونصب الراية. وإذا كان الحديث من أحاديث التفسير يبحث عنه في كتب التفاسير المسندة مثل تفسير الطبري، وابن أبي حاتم، والبغوي، وكتب الواحدي.
فعلى المخرج أن يخرج على إحدى هذه الطرق حسب الحال.
চতুর্থ পদ্ধতিটি হলো হাদিসের বিষয়বস্তু (موضوع الحديث) জানার মাধ্যমে। আর তা হলো হাদিসটিকে তার ফিকহী অধ্যায়ে অনুসন্ধান করা। আমরা এই পদ্ধতির ওপর রচিত গ্রন্থগুলোর সাহায্য গ্রহণ করি; যেমন: জাওয়ামি, মুসতাখরাজাত, মুসতাদরাকাত এবং সুনান। এই পদ্ধতির জন্য সবচেয়ে উত্তম বিষয় হলো এমন সব গ্রন্থের শরণাপন্ন হওয়া যা একাধিক গ্রন্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: জামিউল উসুল, মাজমাউয যাওয়াইদ এবং আল-মাতালিবুল আলিয়া।
পঞ্চম পদ্ধতিটি হলো হাদিসের প্রকারের (نوع الحديث) প্রতি লক্ষ্য করা। হাদিসটি যদি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হয়, তবে আমরা তা মারাসিল বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে অনুসন্ধান করব। আর যদি তা নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুত (متواتر) হয়, তবে আমরা এ বিষয়ে বিশেষায়িত গ্রন্থগুলোতে অনুসন্ধান করব। আর যদি তা মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধ (مشتهر) হয়, তবে আমরা তা আল-মাকাসিদুল হাসানাহ এবং কাশফুল খাফা গ্রন্থে অনুসন্ধান করব। আর হাদিসটি যদি বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমরা এ বিষয়ে যত্নশীল গ্রন্থগুলোতে তা অনুসন্ধান করব; যেমন: ইরওয়াউল গালীল, আত-তালখীসুল হাবীর এবং নাসবুর রায়াহ। আর যদি হাদিসটি তাফসীর সংক্রান্ত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা সনদভিত্তিক (مسندة) তাফসীর গ্রন্থসমূহে অনুসন্ধান করা হবে যেমন: তাফসীরে তাবারী, ইবনে আবি হাতিম, বাগভী এবং ওয়াহিদী রচিত গ্রন্থসমূহ।
অতএব, একজন তাখরীজকারীর (المخرج) উচিত পরিস্থিতি অনুযায়ী এই পদ্ধতিগুলোর কোনো একটির মাধ্যমে তাখরীজ সম্পন্ন করা।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عند تخريج أي حديثٍ: يحكم على الأحاديث؛ لأنا لا نستطيع أن نعمل بالحديث حتى نعرف صلاحيته من عدمها ونحن نبحث عن حكم المتقدمين فإذا كان الحديث في الصحيحين، أو في واحد منهما، فهو صحيح. وما دون ذلك يبحث عن أقوال أهل العلم في تصحيح الأحاديث وتعليلها. من ذلك كتب العلل. وكتب التخريج القديمة. وبعض الكتب التي شملت أحكاماً مثل جامع الترمذي، وسنن الدارقطني. أما إذا لم نجد لأهل العلم تصحيحاً ولا تضعيفاً في ذلك الحديث المبحوث عنه. فنعمل قواعد الجرح والتعديل وقواعد المصطلح. وهو أمر صعب. نحن نعلم أن شروط صحة الحديث الاتصال، والعدالة والضبط وعدم الشذوذ وعدم العلة. فإذا تخلف شرط من هذه الشروط عن الحديث فالحديث ضعيف. والشروط الثلاثة الأولى تكون في الإسناد ونستطيع أن نبحث عنها بمراجعة كتب الرجال. أما الشرطان الأخيران فهما يحتاجان إلى الحفظ. ولمعرفة عدالة الراوي وضبطهم نستفيد أكثر شيء من تهذيب الكمال، وميزان الاعتدال، والتقريب، وغيرها من كتب الرجال.
و
الحكم على الأسانيد على النحو الآتي:أولاً: إسناده صحيح، إذا كان السند متصلاً بالرواة الثقات، أو فيه من هو صدوق حسن الحديث وقد توبع فهو يشمل السند الصحيح لذاته والسند الصحيح لغيره.
ثانياً: إسناده حسن إذا كان في السند من هو أدنى من رتبة الثقة وهو الصدوق الحسن الحديث ولم يتابع، أو كان فيه ((الضعيف المعتبر به)) أو ((المقبول)) أو ((اللين
الحديث)) أو ((السيئ الحفظ)) ومن وصف بأنه ((ليس بالقوي)) أو ((يكتب حديثه وإن كان فيه ضعف)) ، إذ تابعه من هو بدرجته أو أعلى منزلة منه، فهو يشمل السند الحسن لذاته والحسن لغيره.
ثالثاً: إسناده ضعيف إذا كان في السند من وصف بالضعف، أو نحوه ويدخل فيه: المنقطع، والمعضل، والمرسل، والمدلس رابعاً.
رابعاً: إسناده ضعيف جداً، إذا كان في السند أحد المتروكين أو من اتهم بالكذب.
যেকোনো হাদিসের তাখরিজ (تخريج) করার সময়: হাদিসগুলোর ওপর হুকুম প্রদান করা হয়; কারণ আমরা হাদিস অনুযায়ী আমল করতে পারি না যতক্ষণ না তার গ্রহণযোগ্যতা বা অযোগ্যতা জানতে পারি। আমরা অগ্রজ (المتقدمين) ইমামগণের সিদ্ধান্তের অনুসন্ধান করি। যদি হাদিসটি সহীহ বুখারী বা সহীহ মুসলিম-এ অথবা উভয়ের কোনো একটিতে থাকে, তবে তা সহীহ (صحيح)। এর বাইরে হাদিস সহীহকরণ (تصحيح) ও দোষত্রুটি নির্ণয় (تعليل) বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণের বক্তব্যের অনুসন্ধান করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কিতাবুল ইলাল ও প্রাচীন তাখরিজ (التخريج) গ্রন্থসমূহ। এছাড়া এমন কিছু কিতাব যা হুকুম অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন জামে তিরমিযী ও সুনানে দারা কুতনী। আর যদি আমরা সেই অনুসন্ধানকৃত হাদিস সম্পর্কে কোনো বিশেষজ্ঞের পক্ষ থেকে সহীহ (تصحيح) বা জয়ীফ (تضعيف) হওয়ার কোনো হুকুম না পাই, তবে আমরা জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) এবং পরিভাষার (المصطلح) মূলনীতিগুলো প্রয়োগ করব। আর এটি একটি কঠিন কাজ। আমরা জানি যে, হাদিস সহীহ হওয়ার শর্তসমূহ হলো: নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال), ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), নির্ভুলতা (الضبط), অস্বাভাবিকতা না থাকা (عدم الشذوذ) এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি না থাকা (عدم العلة)। যদি হাদিসের মধ্যে এই শর্তগুলোর কোনো একটির অভাব ঘটে, তবে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। প্রথম তিনটি শর্ত সনদের (الإسناد) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং আমরা রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করতে পারি। পক্ষান্তরে শেষোক্ত শর্ত দুটি মুখস্থ ও গভীর জ্ঞানের মুখাপেক্ষী। বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা ও তাদের নির্ভুলতা জানার জন্য আমরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হই তাহযীবুল কামাল, মীযানুল ইতিদাল, আত-তাকরীব এবং রিজাল শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থ থেকে।
আর
সনদসমূহের (الأسانيد) ওপর হুকুম প্রদানের পদ্ধতি নিম্নরূপ:প্রথমত: এর সনদ সহীহ (صحيح), যখন সনদটি নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন (متصلاً) হয়, অথবা তাতে এমন কেউ থাকেন যিনি সত্যবাদী (صدوق) ও উত্তম হাদিস (حسن الحديث) বর্ণনাকারী এবং তাকে সমর্থন (توبع) করা হয়েছে। এটি স্বকীয়ভাবে সহীহ (الصحيح لذاته) এবং অন্য সূত্রের সমর্থনে সহীহ (الصحيح لغيره) উভয় প্রকার সনদকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয়ত: এর সনদ হাসান (حسن) যখন সনদে এমন কেউ থাকেন যিনি নির্ভরযোগ্য (الثقة) স্তরের নিচে এবং তিনি সত্যবাদী উত্তম হাদিস (الصدوق الحسن الحديث) বর্ণনাকারী কিন্তু তাকে সমর্থন করা হয়নি; অথবা তাতে ‘বিবেচনাযোগ্য দুর্বল’ (الضعيف المعتبر به), ‘গ্রহণযোগ্য’ (المقبول), ‘শিথিল হাদিস’ (اللين الحديث) বর্ণনাকারী বা ‘মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন’ (السيئ الحفظ) কেউ থাকেন, কিংবা যাকে ‘শক্তিশালী নয়’ (ليس بالقوي) বলা হয়েছে অথবা ‘তার হাদিস লেখা হবে যদিও তাতে দুর্বলতা আছে’ (يكتب حديثه وإن كان فيه ضعف) বলে অভিহিত করা হয়েছে—যদি তার সমপর্যায়ের বা উচ্চপর্যায়ের কেউ তাকে সমর্থন করেন। এটি স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته) এবং অন্য সূত্রের সমর্থনে হাসান (الحسن لغيره) উভয় প্রকার সনদকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তৃতীয়ত: এর সনদ দুর্বল (ضعيف) যখন সনদে এমন কেউ থাকেন যাকে দুর্বলতা (الضعف) বা তদ্রূপ বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: বিচ্ছিন্ন (المنقطع), জটিল (المعضل), মুরসাল (المرسل) এবং মুদাল্লাস (المدلس) চতুর্থত।
চতুর্থত: এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً), যদি সনদে বর্জিত (المتروكين) বর্ণনাকারীদের কেউ থাকেন অথবা এমন কেউ থাকেন যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ (اتهم بالكذب) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المحاضرة السادسة أقسام الضعيف 22/جمادى الآخرة /1425
تقدم فيما سبق أن أي شرط يفقده الحديث من شروط القبول أمر يجعل الحديث ضعيفاً، والأحاديث الضعيفة تتنوع بتنوع تلك الشروط غير المتوفرة، فمن خلال استقراء الأحاديث الضعيفة، بان لنا واتضح أن الأحاديث الضعيفة على قسمين:
القسم الأول: ماكان سببه عدم الإتصال.
والقسم الثاني: أسباب أخرى.
وسأذكر تفصيل أنواع القسم الأول، ثم أتكلم عن تفصيل القسم الثاني، فأقول وبالله التوفيق:
إن الإتصال: هو سماع الحديث لكل راو من الراوي الذي يليه، فإذا حصل عدم السماع في سند الحديث فيكون ذلك انقطاعاً، فكل ما فقد الاتصال فهو منقطع، لكن العلماء فصلوا في هذه الانقطاعات، ونوعوها على حسب الانقطاع؛ لتسهيل الاصطلاح، ولتنويع أنواع الانقطاعات حسب شدة الضعف، وأول حديث في صحيح البخاري قال فيه الإمام البخاري:
((حدَّثنا الحميدي (1) ، قال: حدَّثنا سفيان (2) ، قال: حدَّثنا يحيى (3) بن سعيد الأنصاري، قال: أخبرني محمد (4) بن إبراهيم التيمي: أنه سمع علقمة (5) بن وقّاص الليثي يقول: سمعت عمر (6) بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم
…)) .
فهذا سند متصل، فلو فرضنا أن سقطاً في الإسناد حصل، وسقط أحد الرواة، فماذا يسمّى هذا النوع من الانقطاع؟ .
نقول: إذا سقط رقم (1) يسمى الحديث معلّقاً، وإذا سقط رقم (6) يسمّى الحديث مرسلاً، وإذا سقط رقم (2) يسمّى الحديث منقطعاً، وإذا سقط رقم (4 و 5) يسمّى معضلاً، هكذا نوّع المحدّثون أنواع الانقطاعات؛ لفوائد يدركها الناقد.
وسأبدأ مفصلاً لكل نوع من أنواع الانقطاعات:
ألاً: المنقطع: ما سقط من سنده راو واحد، أو أكثر من واحد لا على التوالي.
ষষ্ঠ লেকচার: দুর্বল (ضعيف) এর প্রকারভেদ ২২/ জুমাদাল আখিরাহ / ১৪২৫ হিজরি
পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে, গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলির (شروط القبول) মধ্য থেকে কোনো হাদিস যদি কোনো একটি শর্ত হারায়, তবে তা হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) করে দেয়। আর বিদ্যমান নেই এমন শর্তাবলির ভিন্নতা অনুযায়ী দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহও বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়। সুতরাং দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, দুর্বল (ضعيف) হাদিস মূলত দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: যার কারণ হলো সনদে ধারাবাহিকতা না থাকা (عدم الاتصال)।
দ্বিতীয় প্রকার: অন্যান্য কারণসমূহ।
আমি প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করব, এরপর দ্বিতীয় প্রকারের বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করব। আমি বলছি, আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক বা সাহায্য প্রার্থনা করছি:
নিশ্চয় ধারাবাহিকতা (الاتصال) হলো: হাদিসের প্রত্যেক বর্ণনাকারী কর্তৃক তার পরবর্তী বর্ণনাকারী থেকে হাদিসটি সরাসরি শোনা। সুতরাং যদি হাদিসের সনদে (سند) শ্রবণ (سماع) সংঘটিত না হয়, তবে তা বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) হিসেবে গণ্য হবে। অতএব, যা কিছু ধারাবাহিকতা (الاتصال) হারাবে, তাকেই বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হয়। কিন্তু আলেমগণ এই বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) প্রকারভেদ করেছেন এবং পরিভাষার সহজীকরণের জন্য ও দুর্বলতার (ضعف) তীব্রতা অনুযায়ী বিচ্ছিন্নতার ধরনগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন। সহীহ বুখারীর প্রথম হাদিস সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন:
((আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমায়দী (১), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান (২), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী (৩), তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমী (৪) যে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সীকে (৫) বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে (৬) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি
...)) ।
এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সনদ। এখন যদি আমরা ধরে নেই যে, সনদে (إسناد) কোনো বিচ্যুতি ঘটেছে এবং কোনো একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন, তবে এই প্রকারের বিচ্ছিন্নতাকে (انقطاع) কী বলা হবে?
আমরা বলি: যদি ১ নম্বর বর্ণনাকারী বাদ পড়েন, তবে হাদিসটিকে ঝুলন্ত (معلق) বলা হয়; যদি ৬ নম্বর বর্ণনাকারী বাদ পড়েন, তবে হাদিসটিকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) বলা হয়; যদি ২ নম্বর বর্ণনাকারী বাদ পড়েন, তবে হাদিসটিকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হয় এবং যদি ৪ ও ৫ নম্বর বর্ণনাকারী বাদ পড়েন, তবে তাকে সমস্যাকুল (معضل) বলা হয়। এভাবেই মুহাদ্দিসগণ বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) প্রকারভেদ করেছেন এমন কিছু উপকারের জন্য যা একজন সমালোচক অনুধাবন করতে পারেন।
আমি এখন বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) প্রতিটি প্রকারের বিস্তারিত বর্ণনা শুরু করছি:
প্রথমত: বিচ্ছিন্ন (منقطع): যার সনদ (سند) থেকে একজন বর্ণনাকারী অথবা একের অধিক বর্ণনাকারী ধারাবাহিকভাবে নয় বরং বিচ্ছিন্নভাবে বাদ পড়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مثال ذلك: ما رواه الدارقطني 2/7 من طريق الزهري، عن أم عبد الله الدوسية، قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((الجمعة واجبة على أهل كل قرية، وإن لم يكونوا إلا ثلاثة، رابعهم إمامهم)) .
فهذا الحديث منقطع؛ فإنَّ الزهري لم يسمع من أمّ عبد الله.
وأمّا مثال ماسقط منه رجلان وهو منقطع: ما أخرجه الترمذي في جامعه (739) قال: حدّثنا أحمد بن منيع، قال: حدّثنا يزيد بن هارون، قال: أخبرنا الحجّاج بن أرطاة، عن يحيى بن أبي كثير، عن عروة، عن عائشة، قالت: فقدتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلةً، فخرجتُ فإذا هو بالبقيع، فقال: ((أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله)) ؟ قلت: يا رسول الله، إنّي ظننت أنك أتيتَ بعض نسائك، فقال: ((إنَّ الله عز وجل عز وجل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا، فيغفر لأكثر من عدد شعر غنم كلب))
قال الإمام الترمذي عقب الحديث: ((سمعتُ محمداً يضعف هذا الحديث، وقال: يحيى بن أبي كثير لم يسمع من عروة، والحجّاج بن أرطاة لم يسمع من يحيى بن أبي كثير)) .
وقد أضاف بعض العلماء أن الإبهام في الإسناد يسمّى انقطاعاً أيضاً، مثال ذلك: ما أخرجه أبو داود (3917) قال: ((حدّثنا موسى بن إسماعيل، قال: حدّثنا وهيب، عن سهيل، عن رجل، عن أبي هريرة: أنَّ رسول الله- صلى الله عليه وسلم سمع كلمة فأعجبته، فقال: ((أخذنا فألك من فيك)) .
والحديث الذي في إسناده رجل مبهم ضعيف عند المحدّثين؛ لأنّنا اشترطنا في الراوي العدالة والضبط، ونحن لا نعلم هذين الشرطين؛ لسبب الإبهام، فضُعف الحديث بسبب ذلك، فكان وجوده كعدمه؛ ولهذا سمّاه بعضهم منقطعاً.
এর উদাহরণ হলো: যা দারা কুতনী ২/৭-এ যুহরীর সূত্রে উম্মে আবদুল্লাহ আদ-দাওসিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "প্রত্যেক গ্রামের অধিবাসীদের ওপর জুমুআ ওয়াজিব, যদিও তারা সংখ্যায় মাত্র তিনজন হয়, যাদের চতুর্থজন হবে তাদের ইমাম।"
এই হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (منقطع); কেননা যুহরী উম্মে আবদুল্লাহর থেকে শ্রবণ করেননি।
আর সনদের মধ্য থেকে দুইজন বর্ণনাকারী বাদ পড়া সত্ত্বেও তাকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হয়, তার উদাহরণ হলো: যা তিরমিযী তার জামে (৭৩৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন মানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযীদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাজ্জাজ বিন আরতাহ ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, অতঃপর আমি বের হলাম এবং তাকে বাকী’ কবরস্থানে পেলাম। তিনি বললেন: "তুমি কি ভয় পাচ্ছিলে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ভেবেছিলাম আপনি আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর নিকট গিয়েছেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শাবান মাসের মধ্যরাত্রিতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের ভেড়ার পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন।"
ইমাম তিরমিযী হাদিসটির শেষে বলেন: "আমি মুহাম্মদকে (ইমাম বুখারী) বলতে শুনেছি যে তিনি এই হাদিসটিকে দুর্বল (يضعف) সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর উরওয়াহ থেকে শ্রবণ করেননি এবং হাজ্জাজ বিন আরতাহ ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর থেকে শ্রবণ করেননি।"
কোনো কোনো আলিম আরও যোগ করেছেন যে, সনদের মধ্যে অস্পষ্টতাকেও (إبهام) বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বলা হয়। এর উদাহরণ হলো: যা আবু দাউদ (৩৯১৭) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের নিকট মূসা বিন ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উহাইব সুহাইল থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি কথা শুনলেন যা তার ভালো লাগল, তখন তিনি বললেন: আমরা তোমার মুখ থেকে তোমার শুভলক্ষণ গ্রহণ করলাম।"
যে হাদিসের সনদে কোনো অজ্ঞাত (مبهم) ব্যক্তি থাকে, তা মুহাদ্দিসগণের নিকট দুর্বল (ضعيف); কারণ আমরা বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা (عدالة) ও নির্ভুলতা (ضبط) শর্ত করেছি, কিন্তু অজ্ঞাত হওয়ার কারণে আমরা এই দুটি শর্তের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারি না। ফলে এই কারণে হাদিসটি দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত হয় এবং এর অস্তিত্ব না থাকার মতোই গণ্য হয়; একারণেই কেউ কেউ একে বিচ্ছিন্ন (منقطع) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهذا المبهم وما في معناه ربَّما كان ثقةً، وربَّما كان مجروحاً، ويرجَّح الأخير؛ لأنه لو كان ثقة معلوم القدر والمنزلة، مقبولاً عند من من سمع بذكره لما أبهمه تلميذه، ففي تصرفه ما يشعر بكونه ليس بثقة، ومن خلال استقراء كثير من المبهمات وُجد أغلبها عن ضعفاء، حتى قال الخطيب البغدادي: ((قلَّ من يروي عن شيخ فلا يسمّيه، بل يكنّي عنه، إلاّ لضعفه، وسوء حاله)) .
وممّا يُعرف به الانقطاع: التنصيص على عدم السماع، ويقع ذلك من الراوي نفسه، وهو قليل، كقول عمر بن مرّة: قلت لأبي عبيدة (يعني ابن عبد الله بن مسعود) : تذكر من أبيك شيئاً؟ قال: لا.
وتارةً بتنصيص من روى عنه من الثقات، وتارةً بتنصيص الناقد العارف من جهابذة هذا الفنّ، كما حصل من تصريح البخاري في حديث الترمذي السابق، وذلك بناءاً على الاستقراء، والنظر على عدم الإدراك، أو اللقاء، أو السماع، وكذلك يُعرف عدم السماع بتأريخ وفاة الشيخ، ومولد التلميذ، فإن كان التلميذ ولد بعد وفاة الشيخ، أو كان صغيراً في سن لا يحتمل السماع، فهو انقطاع، وكذلك يُعرف الانقطاع بوجود قرينة تدل على الانقطاع، كقول الراوي: حدّثتُ عن فلان، أو أخبرتُ عن فلان، وكذلك يُعرف الانقطاع بافتراق بلد الراوي وشيخه، بما يكون قرينة على عدم التلاقي.
وهذه أمور تُدرك بمراجعة كتب الرجال، ومنها: مراسيل ابن أبي حاتم، وجامع التحصيل للعلائي، وتحفة التحصيل لأبي زرعة العراقي.
والأصل في الحديث المنقطع: أنه ضعيف عند المحدّثين؛ لأنه فقد شرط الاتصال؛ وللجهالة بحال الساقط الذي لم تعرف عدالته، ولا ضبطه. قال الشوكاني: (ولا تقوم الحجّة بالحديث المنقطع، وهو الذي سقط من رواته واحد ممَّن دون الصحابي؛ وذلك للجهل بحال المحذوف من حيث عدالته وضبطه؛ لأنَّ ثبوت هذا شرط لقبول الحديث) .
এই অস্পষ্ট (مبهم) রাবি এবং এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত বর্ণনাকারীগণ কখনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) হতে পারেন, আবার কখনো সমালোচিত (مجروح) হতে পারেন। তবে শেষোক্ত সম্ভাবনাটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়; কারণ তিনি যদি পদমর্যাদায় খ্যাত একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি হতেন, যাঁর সম্পর্কে আলোচনা শোনা যায়, তবে তাঁর ছাত্র তাঁকে অস্পষ্ট (مبهم) রাখতেন না। সুতরাং ছাত্রের এই আচরণের মাঝে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন। বহু অস্পষ্ট (مبهم) বর্ণনার পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা গেছে যে, তাঁদের অধিকাংশই দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: "খুব কমই এমন হয় যে, কেউ তাঁর উস্তাদ থেকে বর্ণনা করছেন অথচ তাঁর নাম নিচ্ছেন না বরং কেবল উপনাম উল্লেখ করছেন, এটি কেবল তাঁর দুর্বলতা (ضعف) এবং শোচনীয় অবস্থার কারণেই করা হয়।"
সানাদের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) চেনার অন্যতম একটি উপায় হলো: সরাসরি শ্রবণ না করার সুস্পষ্ট বর্ণনা (تنصيص)। এটি স্বয়ং বর্ণনাকারী (راوي) থেকেই প্রকাশিত হয়, তবে এর হার খুবই কম। যেমন আমর বিন মুররাহ-এর উক্তি: "আমি আবু উবাইদাহকে (অর্থাৎ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ) বললাম: আপনার পিতা থেকে আপনার কিছু মনে আছে কি? তিনি বললেন: না।"
আবার কখনো কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবির বর্ণনার মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতা জানা যায়, আবার কখনো এই শাস্ত্রের বিজ্ঞ পারদর্শী সমালোচক (ناقد) ইমামগণের সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়। যেমনটি তিরমিজির পূর্বে বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে ইমাম বুখারির বক্তব্যের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আর এটি করা হয় সামগ্রিক পর্যালোচনা (استقراء) এবং সমকালীন না হওয়া, সাক্ষাৎ (لقاء) না হওয়া কিংবা শ্রবণ (سماع) না হওয়ার ওপর ভিত্তি করে। একইভাবে শ্রবণ (سماع) না হওয়া সম্পর্কে উস্তাদের মৃত্যু এবং ছাত্রের জন্ম তারিখের মাধ্যমেও জানা যায়। যদি ছাত্র উস্তাদের মৃত্যুর পর জন্মগ্রহণ করেন অথবা এমন অল্প বয়সে থাকেন যখন শ্রবণ (سماع) করা সম্ভব নয়, তবে সেটি বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) হিসেবে গণ্য হবে। তদ্রূপ বর্ণনার মাঝে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) সূচক কোনো আলামত (قرينة) বিদ্যমান থাকলেও তা জানা যায়। যেমন বর্ণনাকারী (راوي) যদি বলেন: "অমুক থেকে আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে" কিংবা "অমুক থেকে আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে"। আবার বর্ণনাকারী (راوي) ও তাঁর উস্তাদের আবাসস্থলের ভিন্নতাও সাক্ষাতের অভাবের লক্ষণ বা আলামত (قرينة) হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এসব বিষয় রাবি পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থসমূহ (كتب الرجال) পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ইবনে আবি হাতিমের মারাসিল, আল-আলাইয়ির জামি’ আত-তাহসিল এবং আবু যুরআ আল-ইরাকির তুহফাত আত-তাহসিল।
আর বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিসের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো: এটি হাদিস বিশারদদের নিকট দুর্বল (ضعيف); কারণ এতে ধারাবাহিক সংযুক্ততার (اتصال) শর্তটি অনুপস্থিত এবং যে রাবি মাঝখান থেকে বাদ পড়েছেন তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও সঠিক হেফজ বা স্মৃতিশক্তি (ضبط) সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকার কারণে। ইমাম শাওকানি বলেন: "বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস দ্বারা দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর এটি এমন হাদিস যার বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে সাহাবি (صحابي)-এর পরবর্তী স্তরের কোনো একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন। আর এটি বর্জনীয় হওয়ার কারণ হলো বাদ পড়া রাবির ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং স্মৃতিশক্তি (ضبط) সম্পর্কে অজানা থাকা; কারণ হাদিস কবুলের জন্য এই গুণগুলো সাব্যস্ত হওয়া অপরিহার্য শর্ত।"
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثانياً: المعضل: وهو عبارة عمّا سقط من إسناده اثنان فصاعداً على التوالي، وهو أسوأ حالاً من المنقطع، والمنقطع أسوأ حالاً من المرسل، والمرسل لا تقوم به حجَّة، كما نصَّ عليه بعض العلماء.
وذلك كرواية مالك، عن عمر مثلاً، فمالك لايروي عن عمر إلاّ بينه وبينه راويان: نافع، عن ابن عمر، عنه، أو سالم، عن ابن عمر، عنه.
والمعضل: لقب خاص لنوع من المنقطع، فكل معضل منقطع، وليس كل منقطع معضلاً.
ويُعرف الإعضال بما سبق ممّا يُعرف به المنقطع، ويتأكد ذلك بأحد أمرين:
أولاً: التأريخ، وذلك ببُعد طبقة الراوي، عن طبقة شيخه.
ثانياً: دلالة السبر لطرق الحديث.
المحاضرة السابعة تتمَّات أقسام الضعيف 29/جمادى الآخرة /1425
ثالثاً _ الحديث المرسل: هو ما أضافه التابعي إلى النبي- صلى الله عليه وسلم.
وهذا من أجود التعاريف؛ لأنه يعمّ ما أضيف إلى النبي- صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة؛ فعلى هذا من عرَّفه بأنه: ما قال فيه التابعي: قال النبي- صلى الله عليه وسلم، فتعريفه قاصر؛ لأنه لا يشمل التقرير، أو الصفة، أو الفعل. وكذا من عرَّفه بأنه: ما سقط منه الصحابي، فكذلك تعريفه غير جيد؛ لأنّا لو كنَّا نعلم أن الصحابي وحده هو الساقط لما ضعفنا الحديث، إذ العلة بالمرسل:خشية أن يكون التابعي قد سمعه من تابعي آخر، ولا نعلم لهذا التابعي الآخر عدالةً ولا ضبطاً.
وأما التابعي الذي يروي المرسل: فهو الذي لقي بعض الصحابة، وسمع منهم أحاديث، ولا يشترط فيه أن يكون كبيراً كما اشترطه بعضهم.
أما التابعي الذي له رؤية لبعض الصحابة، ولم يسمع من أحد منهم، فهذا إذا روى شيئاً مباشرةً عن النبي- صلى الله عليه وسلم، فحديثه معضل، وإذا روى شيئاً عن الصحابة فهو منقطع؛ لأنّه ثبت له شرف التابعية، لا أحكامها.
ومن هؤلاء: إبراهيم النّخعي، والأعمش.
দ্বিতীয়ত: মো'দাল (المعضل): এটি হলো এমন হাদিস যার বর্ণনাপরম্পরা (إسناد) থেকে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়ে গেছে। এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) অপেক্ষা খারাপ অবস্থায় রয়েছে, আর যা বিচ্ছিন্ন (منقطع) তা মুরসাল (المرسل) অপেক্ষা খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আর মুরসাল (المرسل) দলিল (حجَّة) হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, যেমনটি কোনো কোনো আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
যেমন উদাহরণস্বরূপ ইমাম মালেকের বর্ণনা উমর থেকে; ইমাম মালেক তো উমর থেকে বর্ণনা করেন না তবে তাঁর ও উমরের মাঝে সাধারণত দুইজন বর্ণনাকারী থাকেন: নাফে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর (উমর) থেকে; অথবা সালেম, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর থেকে।
আর মো'দাল (المعضل) হলো বিচ্ছিন্ন (منقطع) এর একটি বিশেষ প্রকারের পরিভাষা; সুতরাং প্রতিটি মো'দাল (المعضل) হাদিসই বিচ্ছিন্ন (منقطع), কিন্তু প্রতিটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস মো'দাল (المعضل) নয়।
ই'দাল (الإعضال) বা মো'দাল হওয়া ওই সব বিষয়ের মাধ্যমেই চেনা যায় যা দিয়ে বিচ্ছিন্ন (منقطع) চেনা যায়। আর এটি দুটি বিষয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়:
প্রথমত: ইতিহাস (التأريخ), আর তা হলো বর্ণনাকারীর স্তর (طبقة) ও তাঁর শিক্ষকের স্তরের (طبقة) মধ্যবর্তী দীর্ঘ ব্যবধানের মাধ্যমে।
দ্বিতীয়ত: হাদিসের বিভিন্ন সূত্রসমূহ (طرق) যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) নিদর্শনের মাধ্যমে।
সপ্তম লেকচার: দুর্বল (الضعيف) হাদিসের প্রকারভেদের অবশিষ্টাংশ ২৯/জমাদিউল আখিরা/১৪২৫ হিজরী
তৃতীয়ত— মুরসাল (المرسل) হাদিস: এটি হলো যা তাবিঈ (التابعي) সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
এটি সর্বোত্তম সংজ্ঞাগুলোর একটি; কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধকৃত কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير) কিংবা বৈশিষ্ট্য—সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং সেই হিসেবে যারা একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: ‘তাবিঈ যা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন’, তাদের সংজ্ঞা অসম্পূর্ণ; কারণ এটি মৌনসম্মতি (تقرير), বৈশিষ্ট্য বা কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে না। তেমনিভাবে যারা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: ‘যার সনদ থেকে সাহাবী (الصحابي) বাদ পড়ে গেছেন’, তাদের সংজ্ঞাও সঠিক নয়; কারণ আমরা যদি নিশ্চিতভাবে জানতাম যে কেবল সাহাবী (الصحابي)-ই বাদ পড়েছেন, তবে আমরা হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলতাম না। কেননা মুরসাল (المرسل) এর ত্রুটি (العلة) হলো: এই আশঙ্কা যে, তাবিঈ (التابعي) হয়তো এটি অন্য কোনো তাবিঈ থেকে শুনেছেন, আর আমরা সেই দ্বিতীয় তাবিঈর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং মুখস্থ রাখার নির্ভুলতা (ضبط) সম্পর্কে জানি না।
আর যে তাবিঈ (التابعي) মুরসাল (المرسل) বর্ণনা করেন, তিনি হলেন ওই ব্যক্তি যিনি কোনো কোনো সাহাবীর (الصحابة) সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাঁদের থেকে হাদিস শুনেছেন। এক্ষেত্রে তাঁর প্রবীণ তাবিঈ হওয়া শর্ত নয়, যেমনটি কেউ কেউ শর্তারোপ করেছেন।
কিন্তু যে তাবিঈর (التابعي) কেবল কোনো সাহাবীর (الصحابة) দেখা পাওয়ার সুযোগ হয়েছে কিন্তু তাঁদের কারো থেকে কিছুই শোনেননি, তিনি যদি সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু বর্ণনা করেন তবে তাঁর হাদিসটি মো'দাল (معضل)। আর যদি তিনি সাহাবীদের (الصحابة) থেকে কিছু বর্ণনা করেন তবে সেটি বিচ্ছিন্ন (منقطع); কারণ তাঁর জন্য তাবিঈ হওয়ার মর্যাদা সাব্যস্ত হয়েছে, কিন্তু এর বিধিবিধানসমূহ সাব্যস্ত হয়নি।
এঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: ইব্রাহিম আন-নাখায়ি এবং আমাশ।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
فإبراهيم النّخعي لقي عائشة، ولم يسمع منها شيئاً، والأعمش رأى أنساً، ولم يسمع منه شيئاً.
وللفائدة: فإنَّ هذا التعريف للمرسل هو الذي استقر عليه الاصطلاح. أما السابقون: فكانوا يطلقون كلمة (مرسل) على كل منقطع.
فعلى هذا تكون طريقة تمييز المرسل بمجرد أن يعلم أنَّ الذي حدَّث به عن النبي- صلى الله عليه وسلم تابعي، وتمييز التابعين من غيرهم يعرف من كتب رجال الحديث.
حكم الحديث المرسل
اختلف أهل العلم في الاحتجاج بالمرسل على أقوال كثيرة، أشهرها ثلاثة أقوال رئيسة:
القول الأول: إنَّ الحديث المرسل ضعيف، لا تقوم به حجَّة. وهذا ما ذهب إليه جمهور المحدِّثين، وكثير من أهل الفقه والأصول.
قال الإمام مسلم _ رحمه الله تعالى _: ((والمرسل في أصل قولنا، وقول أهل العلم بالأخبار، ليس حجَّة)) .
وقال ابن الصلاح: ((وما ذكرناه من سقوط الاحتجاج بالمرسل، والحكم بضعفه، هو الذي استقرَّ عليه آراء جماعة حفاظ الحديث، ونقّاد الأثر، وتداولوه في تصانيفهم)) .
وحجَّتهم: هو جهالة الواسطة التي روى المرسل الحديث عنه، إذ قد يكون الساقط صحابياً، وقد يكون تابعياً. وعلى الاحتمال الثاني: قد يكون ثقة، وقد يكون غير ثقة، قال الخطيب البغدادي: (والذي نختاره: سقوط فرض العمل بالمرسل، وأنَّ المرسل غير مقبول، والذي يدل على ذلك: أنَّ إرسال الحديث يؤدي إلى الجهل بعين راويه، ويستحيل العلم بعدالته مع الجهل بعينه، وقد بيَّنا من قبل أنَّه لا يجوز قبول الخبر إلاّ ممن عرفت عدالته، فوجب كذلك كونه غير مقبول، وأيضاً فإنَّ العدل لو سئل: عمَّن أرسل؟ فلم يعدله،لم يجب العمل بخبره، إذا لم يكن معروف العدالة من جهة غيره، وكذلك حاله إذا ابتدأ الإمساك عن ذكره، وتعديله؛ لأنَّه مع الإمساك عن ذكره غير معدل له، فوجب أن لا يقبل الخبر عنه)) .
ইব্রাহিম নাখয়ি আয়েশা (রা.)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন, কিন্তু তাঁর থেকে কিছুই শোনেননি। আর আমাশ আনাস (রা.)-কে দেখেছেন, কিন্তু তাঁর থেকে কিছুই শোনেননি।
তথ্যগত ফায়দা: মুরসাল (مرسل)-এর এই সংজ্ঞাই পরিভাষায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে পূর্ববর্তীগণ প্রত্যেক বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদের ক্ষেত্রেই মুরসাল (مرسل) শব্দটি ব্যবহার করতেন।
সুতরাং এই ভিত্তিতে মুরসাল (مرسل) চেনার পদ্ধতি হলো—যখনই এটি জানা যাবে যে, নবী (সা.) থেকে যিনি বর্ণনা করছেন তিনি একজন তাবিঈ (تابعي); আর অন্যদের থেকে তাবিঈদের পৃথক করার বিষয়টি রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে জানা যায়।
মুরসাল (مرسل) হাদিসের বিধান
মুরসাল (مرسل) হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করার বিষয়ে ইলম অন্বেষীগণের মাঝে অনেক মতভেদ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান তিনটি মত অধিক প্রসিদ্ধ:
প্রথম মত: নিশ্চয়ই মুরসাল (مرسل) হাদিস দুর্বল (ضعيف), যা দ্বারা দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। জুমহুর মুহাদ্দিস এবং ফকিহ ও উসুলবিদগণের অনেকেই এই মত পোষণ করেছেন।
ইমাম মুসলিম (রহ.) বলেছেন: "আমাদের মূল বক্তব্য এবং ইলমে আখবার (হাদিস শাস্ত্র) বিশারদগণের বক্তব্য অনুযায়ী মুরসাল (مرسل) হাদিস দলিল (حجة) নয়।"
ইবনে সালাহ বলেন: "মুরসাল (مرسل) হাদিসের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ অযোগ্য হওয়া এবং একে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করার যে বিষয়টি আমরা উল্লেখ করেছি, সেটিই হাদিস বিশারদ এবং আসার (হাদিস) পর্যালোচকগণের জামাতের সুপ্রতিষ্ঠিত অভিমত, যা তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে সংকলন করেছেন।"
তাঁদের দলিল হলো: মুরসাল (مرسل) বর্ণনাকারী যার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন সেই মধ্যস্থতাকারী অজ্ঞাত; কেননা উহ্য থাকা ব্যক্তিটি সাহাবী হতে পারেন, আবার তাবিঈও হতে পারেন। আর দ্বিতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হতে পারেন অথবা অনির্ভরযোগ্য হতে পারেন। খতিব বাগদাদী বলেন: "আমরা যা পছন্দ করি তা হলো: মুরসাল (مرسل) অনুযায়ী আমল করার বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়া এবং মুরসাল (مرسل) গ্রহণযোগ্য নয়। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো: হাদিস ইরসাল করা রাবির পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ার দিকে পরিচালিত করে, আর পরিচয় অজ্ঞাত থাকা অবস্থায় তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) জানা অসম্ভব। আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে জানা নেই তার খবর গ্রহণ করা জায়েজ নয়; সুতরাং একইভাবে এটিও অগ্রহণযোগ্য হওয়া আবশ্যক। এছাড়া কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে তিনি কার থেকে ইরসাল করেছেন এবং তিনি যদি তাকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত (تعديله) না করেন, তবে অন্য কোনো দিক থেকে তার ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেই খবর অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হবে না। একইভাবে যখন তিনি তার নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন এবং তাকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত (تعديله) না করেন, তখনও একই বিধান; কারণ তার নাম গোপন রাখার কারণে তাকে ন্যায়পরায়ণ (معدل) সাব্যস্ত করা যাচ্ছে না, তাই তার থেকে বর্ণিত সংবাদ কবুল না করা ওয়াজিব।"
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال الحافظ ابن حجر، بعد أن ذكر المرسل في أنواع المردود: ((وإنَّما ذُكرَ في قسم المردود؛ للجهل بحال المحذوف؛ لأنَّه يحتمل أن يكون صحابياً، ويحتمل أن يكون تابعياً، وعلى الثاني يحتمل أن يكون ضعيفاً، ويحتمل أن يكون ثقة، وعلى الثاني يحتمل أن يكون حمل عن صحابي، ويحتمل أن يكون حمل عن تابعي، وعلى الثاني فيعود الاحتمال السابق، ويتعدد إمَّا بالتجويز العقلي، فإلى ما لا نهاية، وإمَّا بالاستقراء، فإلى ستة، أو سبعة، وهو أكثر ما وُجدَ في رواية بعض التابعين عن بعض)) .
القول الثاني: يقبل المرسل من كبار التابعين دون غيرهم، بشرط الاعتبار في الحديث المرسَل، والراوي المرسِل. أمَّا الاعتبار في الحديث: فهو أن يعتضد بواحد من أربعة أُمور: أن يروى مسنداً من وجه آخر، أو يُروى مرسلاً بمعناه عن راوٍ آخر لم يأخذ عن شيوخ الأول؛ فيدلّ ذلك على تعدد مخرج الحديث، أو يوافقه قول بعض الصحابة، أو يكون قال به أكثر أهل العلم.
وأمَّا الاعتبار في راوي المرسل: فأن يكون الراوي إذا سمَّى من روى عنه لم يسمِ مجهولاً، ولا مرغوباً عنه في الرواية. فإذا وجدت هذه الأمور كانت دلالة على صحة مخرج حديثه، فيحتجُّ به. وهو قول الإمام الشافعي.
القول الثالث: يقبل المرسل ويحتجّ به إذا كان راويه ثقة.
وهو قول أبي حنيفة، ومالك، ورواية عن أحمد.
হাফেজ ইবনে হাজার 'বিচ্ছিন্ন' (مرسل) হাদিসকে 'প্রত্যাখ্যাত' (مردود) হাদিসের প্রকারভেদে উল্লেখ করার পর বলেন: "এটি প্রত্যাখ্যাত (مردود) হাদিসের বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো, (সনদ থেকে) বাদ পড়া বর্ণনাকারীর অবস্থা অজ্ঞাত (جهالة) থাকা; কারণ এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি একজন সাহাবী (صحابي), আবার এমন সম্ভাবনাও আছে যে তিনি একজন তাবিঈ (تابعي)। দ্বিতীয় সুরতে (তাবিঈ হওয়ার ক্ষেত্রে) সম্ভাবনা থাকে যে তিনি 'দুর্বল' (ضعيف) অথবা তিনি 'নির্ভরযোগ্য' (ثقة)। আর দ্বিতীয় সুরতে (নির্ভরযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে) সম্ভাবনা থাকে যে তিনি একজন সাহাবী থেকে গ্রহণ করেছেন অথবা অপর একজন তাবিঈ থেকে গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় সুরতে (তাবিঈ থেকে গ্রহণের ক্ষেত্রে) পুনরায় পূর্ববর্তী সম্ভাবনাগুলো ফিরে আসে। বুদ্ধিবৃত্তিক অনুমানের ভিত্তিতে এ ধারার পরম্পরা অসীম হতে পারে, তবে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এটি ছয় বা সাত পর্যন্ত হতে পারে; আর তাবিঈগণের একে অপরের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা যা পাওয়া গেছে।"
দ্বিতীয় মত: প্রবীণ তাবিঈগণের (كبار التابعين) থেকে বর্ণিত 'বিচ্ছিন্ন' (مرسل) হাদিস গ্রহণযোগ্য, অন্যদের ক্ষেত্রে নয়। তবে তা 'বিচ্ছিন্ন' (مرسل) হাদিস এবং উক্ত হাদিসটি যিনি 'বিচ্ছিন্ন' (مرسل) ভাবে বর্ণনা করেছেন সেই বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (اعتبار) শর্তসাপেক্ষে। হাদিসটির নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের পদ্ধতি হলো এটি চারটি বিষয়ের কোনো একটির মাধ্যমে শক্তিশালী হওয়া: হাদিসটি অন্য কোনো সূত্রে 'সংযুক্ত সনদ' (مسند) হিসেবে বর্ণিত হওয়া, অথবা অন্য কোনো বর্ণনাকারী থেকে সমার্থবোধক কোনো 'বিচ্ছিন্ন' (مرسل) হাদিস বর্ণিত হওয়া যেখানে বর্ণনাকারী প্রথম সূত্রের উস্তাদদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেননি; যা হাদিসটির একাধিক উৎসকে নির্দেশ করে। অথবা কোনো সাহাবীর (صحابة) বক্তব্য এর অনুকূলে থাকা, অথবা অধিকাংশ আলিম এর পক্ষে মত প্রদান করা।
আর 'বিচ্ছিন্ন' (مرسل) হাদিসের বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি হলো: বর্ণনাকারী যখনই তার উস্তাদের নাম উল্লেখ করবেন, তখন যেন কোনো 'অজ্ঞাত' (مجهول) ব্যক্তি কিংবা হাদিস বর্ণনায় 'অগ্রহণযোগ্য' (مرغوب عنه) এমন কারো নাম না নেন। যখন এই বিষয়গুলো পাওয়া যাবে, তখন সেটি হাদিসের উৎসের বিশুদ্ধতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে দলিল প্রদান (احتجاج) করা যাবে। এটি ইমাম শাফেঈ-এর মত।
তৃতীয় মত: 'বিচ্ছিন্ন' (مرسل) হাদিস গ্রহণযোগ্য এবং এর মাধ্যমে দলিল প্রদান (احتجاج) করা যাবে যদি তার বর্ণনাকারী 'নির্ভরযোগ্য' (ثقة) হন।
এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের মত এবং ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والقول الصحيح هو الأول؛ لأنَّ المرسل فقد شرط الاتصال، والاتصال شرطٌ رئيسيٌ في صحة الحديث، وليس هناك فرق بين القول الأول والثاني؛ لأنَّ أصحاب القول الأول متَّفِقون على أن المرسل ليس من الضعف الشديد، يتقوى بالمتابعات والشواهد، فالقول الثاني ليس هو ناف للقول الأول، إلا أن الفرق أن الشافعي خصه بكبار التابعين، وسبب جعله قسيماً للقول الأول؛ أنَّنا لم نجد من فصَّله بهذا التفصيل الرائع، وعُد هذا من مآثر الإمام الشافعي، زيادة على أنَّ قضية تقوية الأحاديث تدرك بالمباشرة، وجعل ذلك تحت قاعدة كلِّية، يتورع عنها كثير من الناس، إذ لكل حديث حالته الخاصة لاسيما قضية تقوية الحديث بعمل أهل العلم به يتوقف فيها كثير من الناس.
مثال المرسل: ما رواه أبو داود في سننه (105) ، قال: حدَّثنا محمد بن سليمان الأنباري، حدَّثنا كثير بن هشام، عن عمر بن سليم الباهلي، عن الحسن، قال: قال رسول الله- صلى الله عليه وسلم: ((حصِّنوا أموالكم بالزكاة، وداووا مرضاكم بالصدقة، واستقبلوا أمواج البلاء بالدعاء والتضرع)) .
فهذا حديث مرسل، فإنَّ الحسن البصري تابعي، وقد أرسله إلى النبي- صلى الله عليه وسلم، ولم يذكر عمن سمعه، فهو ضعيف من جهة إرساله، وعدم اتصاله.
ومراسيل التابعين كلها ضعيفة، لكنّها تتفاوت، فبعضها أهون من بعض، بحسب قدم التابعي المرسل، وكبره، أو صغره.
فكبار التابعين: الذين أدركوا كبار الصحابة كأبي بكر، وعمر، وعثمان، وابن مسعود، ومعاذ بن جبل، وأكثر روايتهم إذا سمّوا شيوخهم عن الصحابة، وهؤلاء مثل: قيس بن أبي حازم، وسعيد بن المسيب، ومسروق بن الأجدع، ويندرج في جملتهم من يُطلق عليه اسم المخضرمين، وهم التابعون الذين أدركوا الجاهلية والإسلام، لكنهم لم يثبت لهم شرف الصحبة، مثل: سويد بن غفلة، وعمر بن ميمون الأودي، وأبي رجاء العطاردي.
সঠিক (الصحيح) মতটি হলো প্রথমটি; কারণ বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) শর্ত হারিয়েছে, আর নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) হাদিস সহিহ হওয়ার (صحة الحديث) ক্ষেত্রে একটি প্রধান শর্ত। প্রথম ও দ্বিতীয় মতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; কারণ প্রথম মতের প্রবক্তারা একমত যে, বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস চরম দুর্বলতা (الضعف الشديد) পর্যায়ের নয়, বরং এটি মুতাবাআ (المتابعات) এবং শাহেদ (الشواهد) এর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। সুতরাং দ্বিতীয় মতটি প্রথম মতের পরিপন্থী নয়, তবে পার্থক্য এই যে, ইমাম শাফেয়ী একে প্রবীণ তাবেয়ীদের (كبار التابعين) সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। একে প্রথম মতের সমান্তরাল করার কারণ হলো, আমরা এমন চমৎকারভাবে আর কাউকে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে দেখিনি, এবং এটি ইমাম শাফেয়ীর অন্যতম কীর্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। তদুপরি, হাদিস শক্তিশালী করার বিষয়টি সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অনুভূত হয়। একে একটি সামগ্রিক মূলনীতির অধীনে নিয়ে আসা এমন একটি বিষয় যা থেকে অনেকেই বিরত থাকেন; কারণ প্রতিটি হাদিসেরই নিজস্ব প্রেক্ষিত রয়েছে, বিশেষ করে আলেমগণের আমলের মাধ্যমে হাদিস শক্তিশালী হওয়ার বিষয়ে অনেকেই দ্বিধাবোধ করেন।
বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের উদাহরণ: যা আবু দাউদ তাঁর সুনানে (১০৫) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-আনবারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কাসীর বিন হিশাম বর্ণনা করেছেন উমর বিন সুলাইম আল-বাহিলী থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের সম্পদ জাকাতের মাধ্যমে সুরক্ষিত করো, তোমাদের অসুস্থদের সদকার মাধ্যমে চিকিৎসা করো এবং দোআ ও কাকুতির মাধ্যমে বিপদের ঢেউকে মোকাবিলা করো।"
এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস, কেননা হাসান বসরি একজন তাবেয়ী (تابعي), তিনি একে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি সম্পর্কিত করে ইরসাল (إرسال) করেছেন এবং কার নিকট থেকে এটি শুনেছেন তা উল্লেখ করেননি। সুতরাং এটি তার ইরসাল (إرسال) এবং নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) অভাবের কারণে দুর্বল (ضعيف)।
তাবেয়ীদের মুরসাল (مراسيل) হাদিসসমূহ সবই দুর্বল (ضعيفة), তবে এগুলোর মাঝেও স্তরভেদ আছে। কোনোটি অন্যটির চেয়ে তুলনামূলক কম দুর্বল; আর তা নির্ভর করে মুরসাল (المرسل) বর্ণনাকারী তাবেয়ীর জ্যেষ্ঠতা কিংবা বয়সের (বড় বা ছোট হওয়ার) ওপর।
প্রবীণ তাবেয়ী (كبار التابعين) হলেন তাঁরা, যাঁরা আবু বকর, ওমর, ওসমান, ইবনে মাসউদ এবং মুয়াজ ইবনে জাবালের মতো জ্যেষ্ঠ সাহাবীদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তাঁরা যখন তাঁদের শায়খদের নাম উল্লেখ করেন, তখন তাঁদের অধিকাংশ বর্ণনা সাহাবীদের থেকেই হয়ে থাকে। তাঁরা হলেন যেমন: কায়েস ইবনে আবি হাযিম, সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব এবং মাসরুক ইবনুল আজদা। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মুখাদরাম (المخضرمين) নামে অভিহিত ব্যক্তিগণ। তাঁরা এমন তাবেয়ী যারা জাহেলি যুগ এবং ইসলাম উভয়ই পেয়েছেন, কিন্তু তাঁদের ভাগ্যে সাহাবী হওয়ার মর্যাদা জোটেনি। যেমন: সুওয়াইদ ইবনে গাফালাহ, আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদি এবং আবু রাজা আল-আতারিদি।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فمراسيل هؤلاء الكبار أفضل من غيرهم، واحتمال تقويتها بالمتابعات والشواهد، أقوى وأسرع.
أمَّا الطبقة الثانية: فهم طبقة أواسط التابعين، وهم الذين أدركوا علي بن أبي طالب، ومن بقي حياً إلى عهده، وبُعيده من الصحابة كحذيفة بن اليمان، وأبي موسى الأشعري، وأبي أيوب الأنصاري، وعمران بن حصين، وسعد بن أبي وقاص، وعائشة أُمّ المؤمنين، وأبي هريرة، والبراء بن عازب، وعبد الله بن عمر، وعبد الله بن عباس، ووقع سماعهم من بعضهم، ومن هؤلاء التابعين الأوساط الذين أدركوا بعض هؤلاء الصحابة: الحسن البصري، ومحمد بن سيرين،، وعطاء بن أبي رباح، وطاووس اليماني، وأبو سلمة بن عبد الرحمان، وعامر الشعبي، ومجاهد بن جبر.
فمراسيل هذه الطبقة دون مراسيل أصحاب الطبقة الأولى من كبار التابعين، ولكنها تكتب للاعتبار، وتتقوى بالمتابعات والشواهد.
أمَّا الطبقة الثالثة: وهم صغار التابعين، وهم من أدرك وسمع ممن تأخر موته من الصحابة، الواحد والاثنين، والعدد يسير، كمن سمع من أنس بن مالك، وسهل بن سعد، وأبي أمامة الباهلي. ومن هؤلاء من التابعين الصغار: ابن شهاب الزهري، وقتادة بن دعامة السدوسي، ويحيى بن سعيد الأنصاري، وحُميد الطويل، فمراسيل هؤلاء من أضعف المراسيل، وهي أشبه أن تكون معضلة؛ لأنَّ غالب روايات هؤلاء عن التابعين، فإذا أرسل أحدهم فيغلب على الظن أنه أسقط من الإسناد رجلين فأكثر.
ومن أقوى المراسيل: مراسيل سعيد بن المسيب، فقد تتبعت فوجد غالبها مسانيد، ومن المراسيل الجيدة: مراسيل عروة بن الزبير؛ لشدَّة تحرِّيه، وكذلك مراسيل الحسن البصري عند بعضهم، وكذا مراسيل عامر بن شراحيل الشعبي.
সুতরাং এই জ্যেষ্ঠদের বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (مراسيل) অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعات) ও সাক্ষী বর্ণনা (شواهد) দ্বারা এগুলো শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি ও দ্রুত।
দ্বিতীয় স্তর (طبقة): তারা হলেন মধ্যম স্তরের তাবিঈগণ। তারা সেই সব লোক যারা আলী বিন আবি তালিব এবং তাঁর যুগ ও পরবর্তী সময়ে জীবিত সাহাবীদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন, যেমন—হুযাইফা বিন ইয়ামান, আবু মুসা আল-আশআরি, আবু আইয়ুব আল-আনসারি, ইমরান বিন হুসাইন, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা, আবু হুরায়রা, বারা বিন আযিব, আব্দুল্লাহ বিন উমর এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস। তাদের কারো কারো থেকে সরাসরি শ্রবণ (سماع) সংঘটিত হয়েছে। এই মধ্যম স্তরের তাবিঈদের মধ্যে যারা এই সাহাবীদের কয়েকজনের সান্নিধ্য পেয়েছেন তারা হলেন—হাসান বসরি, মুহাম্মদ বিন সিরিন, আতা বিন আবি রাবাহ, তাউস আল-ইয়ামানি, আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান, আমির আশ-শা’বি এবং মুজাহিদ বিন জাবর।
এই স্তরের বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (مراسيل) প্রথম স্তরের বড় তাবিঈদের বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (مراسيل) তুলনায় নিম্নমানের, তবে এগুলো যাচাইয়ের (اعتبار) জন্য লিপিবদ্ধ করা হয় এবং সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعات) ও সাক্ষী বর্ণনা (شواهد) দ্বারা শক্তিশালী হয়।
আর তৃতীয় স্তর (طبقة): তারা হলেন কনিষ্ঠ তাবিঈগণ। তারা সেই সব লোক যারা ঐ সমস্ত সাহাবীদের এক বা দুইজনকে পেয়েছেন এবং তাদের থেকে হাদিস শুনেছেন যাদের মৃত্যু বিলম্বে হয়েছে, আর এমন সাহাবীদের সংখ্যা খুব অল্প; যেমন—আনাস বিন মালিক, সাহল বিন সাদ এবং আবু উমামাহ আল-বাহিলি। এই কনিষ্ঠ তাবিঈদের মধ্যে রয়েছেন—ইবনে শিহাব আজ-জুহরি, কাতাদাহ বিন দিয়ামাহ আস-সাদুসি, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি এবং হুমাইদ আত-তবিল। তাদের বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (مراسيل) সবচেয়ে দুর্বল বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (مراسيل) অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো জটিল (معضلة) হওয়ার সদৃশ; কারণ তাদের অধিকাংশ বর্ণনা হলো তাবিঈদের সূত্রে। তাই যখন তাদের কেউ বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (أرسل) করেন, তখন প্রবল ধারণা হয় যে তিনি সনদ (إسناد) থেকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে বাদ দিয়েছেন।
সবচেয়ে শক্তিশালী বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলোর (مراسيل) মধ্যে রয়েছে—সাঈদ বিন মুসাইয়িবের বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (مراسيل)। আমি অনুসন্ধান করে দেখেছি যে এগুলোর অধিকাংশই নিরবচ্ছিন্ন সনদযুক্ত (مسانيد)। উন্নতমানের (جيدة) বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (مراسيل) অন্তর্ভুক্ত হলো উরওয়াহ বিন যুবাইরের বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (مراسيل); তার অধিক সতর্কতার কারণে। তেমনিভাবে কারো কারো মতে হাসান বসরির বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (مراسيل) এবং আমির বিন শারাহিল আশ-শা’বির বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলোও (مراسيل) অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أمَّا مراسيل الصحابة: وهو ما وقع لبعض الصحابة، ممّا لم يسمعوه من النبي- صلى الله عليه وسلم مباشرة، إنما سمعوه من صحابة آخرين، وهذا يحصل لصغار الصحابة، مثل ابن عباس، وأنس بن مالك، فهذا مقبول عند جمهور المحدِّثين؛ لأنَّ ما لم يسمعوه من النبي- صلى الله عليه وسلم مباشرة، فإنَّما سمعوه من صحابة آخرين، والصحابة كلّهم عدول.
المحاضرة الثامنة تتمات الضعيف 6 رجب 1425
رابعاً: التدليس
هُوَ أحد الأسباب الرئيسة المهمة في علم علل الحديث؛ لأن التدليس يكشف عَنْ سقوط راوٍ أحياناً فيكون لهذا الساقط دور في اختلاف الأسانيد والمتون أو يكون الراوي ضعيفاً ولم يتابع فيضعف الحديث من أجله ولابدّ لنا من تفصيل القَوْل في التدليس:
فالتدليس لغة: مأخوذ من الدَّلَسِ - بالتحريك - وَهُوَ اختلاط الظلام الذي هو سبب لتغطية الأشياء عن البصر. قال ابن حجر: وكأنه أظلم على الناظر لتغطية وجه الصواب فيه. ومنه التدليس في البيع، يقال: دلس فلان على فلان، أي: ستر عنه العيب الذي في متاعه كأنه أظلم عليه الأمر، وأصله مما ذكرنا من الدلس.
أما في الاصطلاح، فإن التدليس عندهم يتنوع إلى عدة أنواع:
الأول: تدليس الإسناد:
وَهُوَ أن يروي الرَّاوِي عمن لقيه ما لَمْ يسمعه مِنْهُ بصيغة محتملة.
والمراد من الصيغة المحتملة: أن لا يصرح بالسماع أَوْ الإخبار مثل: حَدَّثَنَا، وأخبرنا وأنبأنا، وسمعت، وَقَالَ لنا، وإنما يجيء بلفظ يحتمل الاتصال وعدمه، مثل: إن، وعن، وَقَالَ، وحدّث، وروى، وذكر، لذا لَمْ يقبل الْمُحَدِّثُوْنَ حَدِيْث المدلس ما لَمْ يصرِّح بالسماع.
الثاني: تدليس الشيوخ:
সাহাবীদের মুরসাল (مراسيل الصحابة)-এর ক্ষেত্রে বলা যায়: এটি এমন বিষয় যা কিছু সাহাবীর ক্ষেত্রে ঘটেছে, যেখানে তাঁরা সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে তা শ্রবণ করেননি, বরং অন্য সাহাবীদের নিকট থেকে শুনেছেন। এটি সাধারণত অল্পবয়স্ক সাহাবীদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেমন: ইবনে আব্বাস এবং আনাস বিন মালিক। অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট এটি গ্রহণযোগ্য (مقبول); কারণ তাঁরা সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা শুনেননি, তা মূলত অন্য সাহাবীদের নিকট থেকেই শুনেছেন, আর সকল সাহাবীই ন্যায়পরায়ণ (عدول)।
অষ্টম লেকচার: দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার অবশিষ্টাংশ, ৬ রজব ১৪২৫ হিজরিচতুর্থ: তাদলিস (التدليس)
এটি ইলমুল ইলাল (علل الحديث)-এর অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ; কেননা তাদলিস (التدليس) কখনো কখনো কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়ার বিষয়টি উন্মোচন করে। ফলে এই বাদ পড়া বর্ণনাকারীর কারণে সনদের বিভিন্নতা এবং মতন বা মূল পাঠের ক্ষেত্রে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। অথবা কোনো বর্ণনাকারী দুর্বল (ضعيف) হতে পারেন এবং তাঁর কোনো সমর্থিত বর্ণনা (متابعة) না থাকতে পারে, যার ফলে তাঁর কারণে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) হয়ে যায়। তাই আমাদের জন্য তাদলিস (التدليس) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা আবশ্যক:
তাদলিস (التدليس) শব্দটির শাব্দিক অর্থ: এটি ‘আদ-দালাস’ (الدلس) শব্দ থেকে উদ্ভূত—লাম বর্ণে হরকতসহ—যার অর্থ অন্ধকারের সংমিশ্রণ, যা কোনো বস্তুকে দৃষ্টি থেকে আড়াল করে ফেলার কারণ হয়ে থাকে। ইবনে হাজার রহ. বলেন: "যেন বর্ণনার সঠিক দিকটি আড়াল হওয়ার কারণে তা পাঠকের কাছে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়।" কেনাবেচার ক্ষেত্রেও প্রতারণার অর্থে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুকের সাথে প্রতারণা করেছে, অর্থাৎ সে তার পণ্যের খুঁত বা ত্রুটিটি গোপন করেছে; যেন সে তার কাছে বিষয়টি অন্ধকারাচ্ছন্ন বা অস্পষ্ট করে ফেলেছে। আর এর মূল উৎস উপরে বর্ণিত ‘আদ-দালাস’ (الدلس) শব্দ থেকেই এসেছে।
পারিভাষিক অর্থে মুহাদ্দিসগণের নিকট তাদলিস (التدليس) কয়েক প্রকারে বিভক্ত:
প্রথমত: তাদলিসুল ইসনাদ (تدليس الإسناد):
আর তা হলো কোনো বর্ণনাকারী যার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তার নিকট থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি সরাসরি তাঁর থেকে শুনেননি, তবে বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন শব্দ ব্যবহার করা যাতে সরাসরি শোনার সম্ভাবনা (صيغة محتملة) থাকে।
সম্ভাবনাময় শব্দ (صيغة محتملة) বলতে উদ্দেশ্য হলো: সরাসরি শ্রবণ করা বা সংবাদ দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করা, যেমন: ‘হাদ্দাসানা’ (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন), ‘আখবারানা’ (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন), ‘আম্বায়ানা’ (আমাদের অবহিত করেছেন), ‘সামিয়াতু’ (আমি শুনেছি) অথবা ‘ক্বলা লানা’ (আমাদের বলেছেন)—এই শব্দগুলো ব্যবহার না করে বরং এমন শব্দ ব্যবহার করা যাতে সংযোগ থাকা বা না থাকা উভয়টির সম্ভাবনা থাকে। যেমন: ‘আন্না’ (أن), ‘আন’ (عن), ‘ক্বলা’ (قال), ‘হাদ্দাসা’ (حدث), ‘রাওয়া’ (روى), ‘যাকারা’ (ذكر)। এই কারণেই মুহাদ্দিসগণ মুদাল্লিস (المدلس) ব্যক্তির হাদিস ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করেন না, যতক্ষণ না তিনি সরাসরি শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
দ্বিতীয়ত: তাদলিসুশ শুয়ূখ (تدليس الشيوخ):
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَهُوَ أن يأتي باسم شيخه أَوْ كنيته عَلَى خلاف المشهور بِهِ تعمية لأمره وتوعيراً للوقوف عَلَى حاله. وهذا النوع حكمه أخف من السابق، وفي هَذَا النوع تضييع للمروي عَنْهُ وللمروي وتوعير لطريق مَعْرِفَة حالهما. ثُمَّ إن الحال في كراهيته يختلف بحسب الغرض الحامل عَلَيْهِ، إِذْ إن من يدلس هَذَا التدليس قَدْ يحمله كون شيخه الَّذِيْ غيّر سمته غَيْر ثقة، أو أصغر من الرَّاوِي عَنْهُ، أو متأخر الوفاة قَدْ شاركه في السَّمَاع مِنْهُ جَمَاعَة دونه، أو كونه كثير الرِّوَايَة عَنْهُ فلا يحب تكرار شخص عَلَى صورة واحدة.
الثالث: تدليس التسوية:
وَهُوَ أن يروي عَنْ شيخه، ثُمَّ يسقط ضعيفاً بَيْنَ ثقتين قَدْ سَمِعَ أحدهما من الآخر أو لقيه، ويرويه بصيغة محتملة بَيْنَ الثقتين. وممن اشتهر بهذا النوع: الوليد بن مُسْلِم، وبقية بن الوليد. وهذا النوع من التدليس يشترط فِيْهِ التحديث والإخبار من المدلس إلى آخره.
تنبيه: هذا النوع من التدليس قَدْ سماه القدماء تجويداً. فتح المغيث 1/199،وتدريب الرَّاوِي 1/226،وشرح ألفية السيوطي: 36 - أي يذكر فيه الجياد من أهل الإسناد، أو أنه جعل ظاهر الإسناد جيداً بهذا الصنع القبيح، أو لأن المدلس يبقي جيد رواته -. وسماه صاحب ظفر الأماني: 377 بـ: " التحسين " - أي أن المدلس يحسن ظاهر الإسناد.
وسمي هذا النوع من التدليس تسوية؛ لأن فاعله يسقط المجروح من الإسناد من بعد شيخه ليستوي حال رجاله في الثقة.
الرابع: تدليس العطف:
وَهُوَ مثل أن يقول الرَّاوِي: حَدَّثَنَا فُلَان وفلان، وَهُوَ لَمْ يَسْمَع من الثاني.
الخامس: تدليس السكوت:
وَهُوَ كأن يقول الرَّاوِي: حَدَّثَنَا أَوْ سَمِعْتُ، ثُمَّ يسكت برهة، ثُمَّ يقول: هشام بن عروة أو الأعمش موهماً أنه سَمِعَ منهما، وليس كذلك.
السادس: تدليس القطع:
এটি হলো বর্ণনাকারী তার শাইখের নাম বা কুনিয়াত এমনভাবে উল্লেখ করা যা তার প্রসিদ্ধ নামের বিপরীত, যাতে তার পরিচয় অস্পষ্ট থাকে এবং তার অবস্থা (حال) নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রকারের বিধান পূর্ববর্তীটির তুলনায় শিথিল। এই প্রকারের মধ্যে যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে (مروي عنه) এবং যা বর্ণিত হয়েছে (مروي)—উভয়েরই বিনাশ ঘটে এবং উভয়ের অবস্থা (حال) জানার পথ কঠিন হয়ে যায়। এরপর এর অপছন্দনীয়তার বিষয়টি এর পেছনের উদ্দেশ্যের কারণে ভিন্নতর হয়। কেননা, যিনি এই প্রকারের তাদলিস (تدليس) করেন, তাকে হয়তো এই কাজে উদ্বুদ্ধ করে তার শাইখ—যার পরিচয় তিনি পরিবর্তন করেছেন—নির্ভরযোগ্য (ثقة) না হওয়া, অথবা বর্ণনাকারীর চেয়ে বয়সে ছোট হওয়া, কিংবা তার মৃত্যু পরবর্তীকালে হওয়া যাতে তার থেকে শ্রবণে (سماع) এমন একদল লোক অংশ নিয়েছে যারা স্তরে বর্ণনাকারীর নিচে, অথবা তার থেকে বর্ণনার (رواية) আধিক্যের কারণে একই ব্যক্তিকে একই রূপে বারবার উল্লেখ করা তিনি পছন্দ করেন না।
তৃতীয়: তাদলিসুত তাসবিয়াহ (تدليس التسوية):
আর তা হলো বর্ণনাকারী তার শাইখের থেকে বর্ণনা করা, এরপর দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর মধ্য থেকে একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া, যেখানে সেই দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী একে অপরের থেকে শ্রবণ (سماع) করেছেন বা একে অপরের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন; আর তিনি তা এমন একটি সংশয়পূর্ণ শব্দ (صيغة محتملة) ব্যবহার করে বর্ণনা করেন যা ঐ দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর মাঝে প্রযুক্ত হয়। যারা এই প্রকারে প্রসিদ্ধ ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম এবং বাকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ। তাদলিসের (تدليس) এই প্রকারের ক্ষেত্রে তাদলিসকারী (مدلس) থেকে শেষ পর্যন্ত সরাসরি বর্ণনা (تحديث) ও সংবাদ প্রদানের (إخبار) শব্দ ব্যবহারের শর্তারোপ করা হয়।
সতর্কতা: তাদলিসের (تدليس) এই প্রকারকে প্রাচীনগণ ‘তাজবিদ’ (تجويد) নামে অভিহিত করেছেন। ফাতহুল মুগিস ১/১৯৯, তাদরিবুর রাবি ১/২২৬ এবং শারহু আলফিয়্যাতিস সুয়ূতি: ৩৬—অর্থাৎ এতে সনদের উত্তম (جياد) ব্যক্তিদের উল্লেখ করা হয়, অথবা তিনি এই নিকৃষ্ট কর্মের মাধ্যমে সনদের বাহ্যিক রূপকে উত্তম (جيد) করে তুলেছেন, কিংবা যেহেতু তাদলিসকারী (مدلس) কেবল উত্তম (جيد) বর্ণনাকারীদেরই অবশিষ্ট রাখেন। জাফারুল আমানির লেখক: ৩৭৭-এ একে ‘তাহসিন’ (تحسين) বলেছেন—অর্থাৎ তাদলিসকারী (مدلس) সনদের বাহ্যিক দিককে সুন্দর (حسن) করে তোলেন।
তাদলিসের (تدليس) এই প্রকারকে ‘তাসবিয়াহ’ (تسوية) বলা হয়; কারণ এর সম্পাদনকারী তার শাইখের পরবর্তী সনদ (إسناد) থেকে ত্রুটিপূর্ণ (مجروح) বর্ণনাকারীকে বাদ দেন যাতে বর্ণনাকারীদের অবস্থা নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের হয়ে যায়।
চতুর্থ: তাদলিসুল আতফ (تدليس العطف):
যেমন বর্ণনাকারী বললেন: ‘অমুক ও অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)’, অথচ তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তির নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেননি।
পঞ্চম: তাদলিসুস সুকুত (تدليس السكوت):
যেমন বর্ণনাকারী বললেন: ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)’ অথবা ‘আমি শুনেছি (سمعت)’, এরপর কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, তারপর বললেন: ‘হিশাম ইবনে উরওয়া’ অথবা ‘আমাশ’; এর মাধ্যমে তিনি এই বিভ্রান্তিকর ধারণা (إيهام) দিতে চান যে তিনি তাদের থেকে শুনেছেন, অথচ বিষয়টি সেরকম নয়।
ষষ্ঠ: তাদলিসুল কাতা (تدليس القطع):
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَهُوَ أن يحذف الصيغة ويقتصر عَلَى قوله مثلاً: الزهري عَنْ أنس.
السابع: تدليس صيغ الأداء:
وَهُوَ ما يقع من الْمُحَدِّثِيْنَ من التعبير بالتحديث أَوْ الإخبار عَن الإجازة موهماً للسماع، وَلَمْ يَكُنْ تحمله لِذَلِكَ المروي عَنْ طريق السَّمَاع.
وهذه الأنواع السبعة ليست كلها مشتهرة إنما المشتهر مِنْهَا والشائع الأول والثاني وعند الإطلاق يراد الأول. وهذا القسم هُوَ الَّذِيْ لَهُ دورٌ في الاختلافات الحديثية متوناً وأسانيد، إِذْ قَدْ يكشف خلال البحث بَعْدَ التنقير والتفتيش عَنْ سقوط رجل من الإسناد وربما كَانَ هَذَا الساقط ضعيفاً أَوْ في حفظه شيءٌ، أو لَمْ يضبط حديثه هَذَا.
ومن الأمثلة عَلَى ذَلِكَ ما رَوَاهُ ابن حبان في صحيحه (1423) من طريق ابن جريج، عَنْ نافع، عَن ابن عمر، قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تَبُلْ قائماً)) .
وهذا الإسناد رجاله ثقات إلا أنَّ ابن جريج مدلسٌ وَقَدْ عنعن هنا وَلَمْ
يصرح بسماعه من نافع، وَهُوَ قَدْ سَمِعَ من نافع أحاديث كثيرة، فهُوَ معروف
بالرواية عَنْهُ، وروايته عَنْهُ في الكتب الستة. ولكن النقاد ببصيرتهم الناقدة
ونظرهم الثاقب كشفوا أنَّ في هَذَا السند واسطة بَيْنَ ابن جريج ونافع، وأن ابن
جريج لَمْ يسمعه من نافع مباشرة، بَلْ سمعه من عَبْد الكريم بن أبي المخارق الضعيف، وَقَدْ صرّح ابن جريج في بعض طرق الْحَدِيْث بهذا الساقط، فبان تدليسه؛ فَقَدْ رَوَى
عَبْد الرزاق في مصنفه (15924) - ومِنْ طريقه ابن ماجه في سننه (308)) ، وأبو عوانة في مسنده (4/25) ، وابن عدي في الكامل (7/40) ، وتمام
الرازي في: الروض البسام بترتيب وتخريج فوائد تمام (1/203 (148)) ، والحاكم في: المستدرك (1/158) ، والبيهقي في السنن الكبرى (1/102) - عَن ابن جريج، عَنْ عَبْد الكريم بن أبي المخارق، عَنْ نافع، بِهِ.
এটি হলো বর্ণনাভঙ্গি (صيغة) বাদ দেওয়া এবং উদাহরণস্বরূপ কেবল তার বক্তব্য: "জুহরি আনাস থেকে" -এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা।
সপ্তম: বর্ণনাভঙ্গির প্রতারণা (تدليس صيغ الأداء):
এটি হলো মুহাদ্দিসগণের (محدثين) পক্ষ থেকে অনুমতির (إجازة) ক্ষেত্রে 'তাহদিস' বা 'ইখবার' শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে সরাসরি শ্রবণের (سماع) ভ্রম সৃষ্টি করা, অথচ বর্ণিত বিষয়টি তার সরাসরি শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে অর্জন করা ছিল না।
এই সাতটি প্রকারের সবগুলোই প্রসিদ্ধ (مشهور) নয়; বরং এগুলোর মধ্যে কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকারটিই প্রসিদ্ধ (مشهور) ও প্রচলিত এবং সাধারণভাবে শব্দটি ব্যবহার করলে প্রথম প্রকারটিই উদ্দেশ্য হয়। এই প্রকারটিই হাদিসের মূলপাঠ (متن) এবং সনদসমূহের (أسانيد) মতপার্থক্য নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কারণ নিবিড় অনুসন্ধান ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকির মাধ্যমে অনেক সময় সনদের (إسناد) মধ্য থেকে কোনো একজন ব্যক্তির বাদ পড়া প্রকাশ পায়। আর সম্ভবত এই বাদ পড়া ব্যক্তিটি দুর্বল (ضعيف) ছিলেন অথবা তার মুখস্থ শক্তিতে (حفظ) কোনো ত্রুটি ছিল কিংবা তিনি এই হাদিসটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করতে পারেননি।
এর একটি উদাহরণ হলো যা ইবনে হিব্বান তার সহিহ (১৪২৩) গ্রন্থে ইবনে জুরাইজের সূত্রে নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করো না।"
এই সনদের (إسناد) বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে ইবনে জুরাইজ একজন প্রতারক বর্ণনাকারী (مدلس); তিনি এখানে 'আন-আন' (عنعن) পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন এবং নাফে থেকে সরাসরি তাঁর শ্রবণের (سماع) কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তিনি
নাফে থেকে তাঁর সরাসরি শ্রবণের (سماع) কথা উল্লেখ করেননি, অথচ তিনি নাফে থেকে অনেক হাদিস শুনেছেন; ফলে তিনি তার থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সুপরিচিত
এবং কুতুবুত সিত্তাহ-তেও তার সূত্রে নাফের বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু হাদিস বিশারদগণ (نقاد) তাদের তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ ক্ষমতা
এবং সূক্ষ্ম দৃষ্টির মাধ্যমে উন্মোচন করেছেন যে, এই সনদে (سند) ইবনে জুরাইজ ও নাফের মাঝে একজন মধ্যস্থতাকারী (واسطة) রয়েছে এবং ইবনে
জুরাইজ এটি সরাসরি নাফে থেকে শোনেননি, বরং তিনি এটি দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী আব্দুল কারিম বিন আবি আল-মাখারিদ থেকে শুনেছেন। ইবনে জুরাইজ নিজেই হাদিসের কোনো কোনো সূত্রে এই বাদ পড়া বর্ণনাকারীর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যার ফলে তার প্রতারণা (تدليس) প্রকাশ পেয়েছে। چنانچہ বর্ণনা করেছেন
আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ (১৫৯২৪) গ্রন্থে এবং তার সূত্রে ইবনে মাজাহ তার সুনান (৩০৮) গ্রন্থে, আবু আওয়ানা তার মুসনাদ (৪/২৫) গ্রন্থে, ইবনে আদি আল-কামিল (৭/৪০) গ্রন্থে এবং তাম্মাম
আর-রাজি তার: ‘আর-রাওদ আল-বাস্সাম বিতরতিব ওয়া তাখরিজ ফাওয়ায়িদ তাম্মাম’ (১/২০৩ (১৪৮)) গ্রন্থে, হাকেম তার: আল-মুস্তাদরাক (১/১৫৮) গ্রন্থে এবং বায়হাকি আস-সুনান আল-কুবরা (১/১০২) গ্রন্থে ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আব্দুল কারিম বিন আবি আল-মাখারিদ থেকে, তিনি নাফে থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাদারাতু ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن بدائه علم الْحَدِيْث أن حَدِيْث الثقة ليس كله صحيحاً، كَمَا أنّ حَدِيْث الضعيف ليس كله ضعيفاً، ومعرفة كلا النوعين من أحاديث الفريقين ليس بالأمر اليسير إنما يطلع عَلَى ذَلِكَ الأئمة النقاد الغواصون في أعماق ما يكمن في الروايات من صحة أو خطأ، لذا فتّش العلماء في حَدِيْث ابن أبي المخارق هل توبع عَلَيْهِ، أم أخطأ فِيْهِ؟ وخالف الثقات الأثبات أم انفرد؟ فنجدهُمْ قَدْ صرّحوا بخطأ ابن أبي المخارق لمخالفته الثقات الأثبات في ذَلِكَ، قَالَ البوصيري في مصباح الزجاجة (1/45) - بَعْدَ أن ضعّف حَدِيْث ابن أبي المخارق -: ((عارضه خبر عبيد الله بن عمر العمري الثقة المأمون المجمع عَلَى ثقته، ولا يُغتر بتصحيح ابن حِبّان هَذَا الخبر من طريق هشام بن يوسف، عَن ابن جريج عَنْ نافع، عَن ابن عمر. فإنه قَالَ بعده: أخاف أن يَكُوْن ابن جريج لَمْ يسمعه من نافع، وَقَدْ صحّ ظنُّه، فإنّ ابن جريج إمّا سمعه من ابن أبي المخارق كَمَا ثبت في رِوَايَة ابن ماجه هَذِهِ والحاكم في المستدرك واعتذر عَنْ تخريجه أنه إنّما أخرجه في المتابعات)) .
وَقَالَ الترمذي: ((إنما رفع هَذَا الْحَدِيْث عَبْد الكريم بن أبي المخارق، وَهُوَ ضعيف عِنْدَ أهل الْحَدِيْث، ضعّفه أيوب السختياني وتكلم فِيْهِ. وروى عبيد الله، عَنْ نافع عَن ابن عمر قَالَ: قَالَ عمر رضي الله عنه: ما بلتُ قائِماً منذُ أسلَمْتُ. وهذا أصح من حَدِيْث عَبْد الكريم)) الجامع الكبير للترمذي 1/61-62 عقيب (12) .
أقول: رِوَايَة عبيد الله الموقوفة أخرجها ابن أبي شيبة في مصنفه (1324) ، والبزار في مسنده (وَهُوَ المسمى بـ: البحر الزخار (149) ، والحديث أيضاً في كشف الأستار (244)) من طريق عبيد الله بن عمر، عَنْ نافع، عَن ابن عمر، عَنْ عمر موقوفاً، وَهُوَ الصواب.
হাদিস শাস্ত্রের প্রাথমিক বিষয়গুলোর একটি হলো—নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর সকল হাদিস সহিহ (صحيح) নয়, ঠিক তেমনি দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর সকল হাদিস দুর্বল (ضعيف) নয়। উভয় শ্রেণির বর্ণনাকারীদের এই দুই ধরনের হাদিস চিহ্নিত করা সহজ কাজ নয়; বরং এটি কেবল সেসব সমালোচক ইমামদের (الأئمة النقاد) পক্ষেই সম্ভব যারা বর্ণনার গভীর তলদেশে নিহিত সঠিকতা বা ভুল উদ্ঘাটনে পারদর্শী। এ কারণেই ওলামায়ে কেরাম ইবনে আবি আল-মুখারিকের বর্ণিত হাদিসটি গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছেন যে, অন্য কেউ তার সমর্থন (توبع عليه) করেছে কি না, নাকি তিনি ভুল করেছেন? তিনি কি সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্যদের (الثقات الأثبات) বিরোধিতা করেছেন নাকি বর্ণনায় তিনি একক (انفرد)? আমরা দেখতে পাই যে, তারা এক্ষেত্রে সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্যদের (الثقات الأثبات) বিরোধিতা করার কারণে ইবনে আবি আল-মুখারিকের ভুল স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আল-বুসিরি মিসবাহুজ জাজাজাহ (১/৪৫) গ্রন্থে ইবনে আবি আল-মুখারিকের হাদিসটিকে দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত করার পর বলেন: "নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত (الثقة المأمون), যার নির্ভরযোগ্যতার (ثقته) ওপর ঐকমত্য (المجمع عليه) রয়েছে, সেই উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরির বর্ণনা এর বিরোধিতা করছে। হিশাম ইবনে ইউসুফ-এর সূত্রে ইবনে জুরাইজ থেকে নাফি-এর মাধ্যমে ইবনে উমরের যে বর্ণনাটি ইবনে হিব্বান সহিহ (تصحيح) বলেছেন, তার দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। কারণ তিনি এর পরপরই বলেছেন: আমি আশঙ্কা করছি যে ইবনে জুরাইজ সম্ভবত এটি নাফি থেকে শোনেননি। আর তার এই আশঙ্কাই সঠিক হয়েছে; কেননা ইবনে জুরাইজ এটি মূলত ইবনে আবি আল-মুখারিক থেকে শুনেছিলেন, যেমনটি ইবনে মাজাহ-এর এই বর্ণনায় এবং আল-হাকিমের আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে। আর আল-হাকিম এটি সংকলন করার বিষয়ে এই ওজর পেশ করেছেন যে, তিনি এটি কেবল সমর্থনমূলক বর্ণনা (المتابعات) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।"
ইমাম তিরমিজি বলেন: "এই হাদিসটিকে কেবল আব্দুল কারিম ইবনে আবি আল-মুখারিক মারফু (رفع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অথচ হাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট তিনি দুর্বল (ضعيف)। আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি তাকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং তার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে উবায়দুল্লাহ নাফি থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: ইসলাম গ্রহণের পর আমি কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি। আর এই বর্ণনাটি আব্দুল কারিমের হাদিসের তুলনায় অধিক বিশুদ্ধ (أصح)।" (জামে তিরমিজি ১/৬১-৬২, হাদিস নং ১২ এর পরে)।
আমি (লেখক) বলছি: উবায়দুল্লাহর মাওকুফ (موقوفة) বর্ণনাটি ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফ (১৩২৪) গ্রন্থে এবং আল-বাযযার তার মুসনাদ—যা আল-বাহরুয যাখখার (১৪৯) নামে পরিচিত এবং হাদিসটি কাশফুল আসতার (২৪৪)-এও রয়েছে—উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর থেকে মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; আর এটিই সঠিক (الصواب)।