(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
الفتوى الحموية الكبرى   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: الفتوى الحموية الكبرى

المؤلف: تقي الدين أبو العَباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: د. حمد بن عبد المحسن التويجري

الناشر: دار الصميعي - الرياض

الطبعة: الطبعة الثانية 1425هـ / 2004م

عدد الصفحات: 556

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابل]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ আল-কুবরা   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ আল-কুবরা

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হি.)

গবেষক ও সম্পাদক: ড. হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুওয়াইজিরি

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি - রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪২৫ হি. / ২০০৪ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৬

[কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এটি যাচাইকৃত]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الفتوى الحموية الكبرى]ـ

المؤلف: شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن تيمية

المحقق: د. حمد بن عبد المحسن التويجري

الناشر: دار الصميعي - الرياض

الطبعة: الطبعة الثانية 1425هـ / 2004م

عدد الأجزاء: 1

[الكتاب مقابل، وترقيم صفحاته موافق للمطبوع]
[আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ আল-কুবরা]

লেখক: শায়খুল ইসলাম তাক্বীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন তাইমিয়্যাহ

তাহক্বীক্ব: ড. হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুওয়াইজারি

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি - রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি / ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটি যাচাইকৃত এবং এর পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

سُئل شيخُ الإسلام، أبو العباس أحمد بن تيمية [وذلك في سنة ثمان وتسعين وستمائة، وجرى بسبب هذا الجواب أمور ومحن، وهو جواب عظيم النفع جدًا. فقال السائل:]

ما قولكم في آيات الصفات كقوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমাদ বিন তাইমিয়্যাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল [আর এটি ছিল ছয়শত আটানব্বই হিজরি সনে। এই উত্তরের কারণে বিভিন্ন ঘটনা ও পরীক্ষা সঙ্ঘটিত হয়েছিল এবং এটি অত্যন্ত উপকারী একটি উত্তর। অতঃপর প্রশ্নকারী বললেন:]

আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াতসমূহ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {দয়াময় (আল্লাহ) আরশের উপর উঠেছেন
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
اسْتَوَى} [طه: 5] ، وقوله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ} [فصلت: 11] ، إلى غير ذلك من الآيات وأحاديث الصفات؛ كقوله صلى الله عليه وسلم: «إن قلوب بني آدم بين أصبعين من أصابع الرحمن» وقوله: «يضع الجبار قدمه في النار» إلى غير ذلك من الأحاديث [وما قالت العلماء، وابسُطوا القول في ذلك مأجورين إن شاء الله تعالى؟] فأجاب:

তিনি উঠেছেন [ত্ব-হা: ৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি আসমানের দিকে উঠলেন, যখন তা ছিল ধোঁয়া} [ফুসসিলাত: ১১], এই জাতীয় আরও আয়াত এবং সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসসমূহ; যেমন আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: «নিশ্চয়ই বনী আদমের অন্তরসমূহ রহমানের আঙুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙুলের মাঝে অবস্থিত» এবং তাঁর বাণী: «জাব্বার (আল্লাহ) তাঁর পা আগুনের মধ্যে রাখবেন» এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিস [আর এ বিষয়ে আলেমগণ কী বলেছেন? এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন, ইনশাআল্লাহ আপনারা সওয়াব বা প্রতিদান পাবেন।] অতঃপর তিনি উত্তর দিলেন:

(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
[الحمد لله رب العالمين] قولنا فيها ما قاله الله ورسوله صلى الله عليه وسلم والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان، وما قاله أئمة الهدى بعد هؤلاء الذين أجمع المسلمون على هدايتهم ودرايتهم، وهذا هو الواجب على جميع الخلق في هذا الباب وغيره، فإن الله بعث محمدًا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق ليخرج الناس من الظلمات إلى النور بإذن ربهم إلى صراط العزيز الحميد، وشهد له بأنه بعثه داعيًا إليه بإذنه وسراجًا منيرًا، وأمره أن يقول: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108] .

‌‌[إحكام الرسول صلى الله عليه وسلم باب الإيمان بالله اعتقادا وقولا] :

فمن المحال في العقل والدين أن يكون السراج المنير الذي أخرج [الله] به الناس من الظلمات إلى النور، وأنزل معه الكتاب بالحق ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه، وأمر الناس أن يردُّوا ما تنازعوا فيه من دينهم إلى ما بعث به من الكتاب والحكمة، وهو يدعو إلى الله وإلى سبيله بإذنه على
[সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য] এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো তা-ই, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে প্রথম অগ্রগামীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁরা যা বলেছেন, এবং তাঁদের পরবর্তী হিদায়াতের ইমামগণ যা বলেছেন যাদের হিদায়াত ও পাণ্ডিত্যের বিষয়ে সকল মুসলিম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর এ বিষয়টিই এই অধ্যায় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সমস্ত সৃষ্টির ওপর ওয়াজিব (আবশ্যক)। কেননা আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, মহাপরাক্রমশালী ও চিরপ্রশংসিত সত্তার পথের দিকে বের করে নিয়ে আসেন। এবং তিনি তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আর তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা সুস্পষ্ট জ্ঞানের সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি।} [ইউসুফ: ১০৮]।

‌‌[বিশ্বাস ও বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি ঈমানের অধ্যায় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক সুদৃঢ়করণ] :

বুদ্ধি ও দীনের বিচারে এটি অসম্ভব যে, সেই উজ্জ্বল প্রদীপ যার মাধ্যমে [আল্লাহ] মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন, এবং যাঁর সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যেন তা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করে দেয়, আর মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাদের দীনের যাবতীয় বিরোধপূর্ণ বিষয়কে কিতাব ও হিকমতের সেই বার্তার দিকে ফিরিয়ে দেয় যা নিয়ে তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছে; আর তিনি আল্লাহর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে এবং তাঁর পথের দিকে আহ্বান করছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
بصيرة، وقد أخبر أنه أكمل له ولأمته دينهم، وأتم عليهم نعمته ـ محال مع هذا وغيره ـ أن يكون قد ترك باب الإيمان بالله والعلم به ملتبسًا مشتبهًا، فلم يميز [بين] ما يجب لله من الأسماء الحسنى والصفات العليا، وما يجوز عليه وما يمتنع عليه.

فإن معرفة هذا أصل الدين، وأساس الهداية، وأفضل ما اكتسبته القلوب، وحصلته النفوس، وأدركته العقول، فكيف يكون ذلك الكتاب، وذلك الرسول وأفضل خلق الله بعد النبيين لم يحكموا هذا الكتاب اعتقادًا وقولاً؟! ومن المحال أيضًا أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم قد علَّم أُمَّتَه كل شيء حتى الخراءة، وقال: «تركتكم على
প্রজ্ঞা; আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর নিজের জন্য ও তাঁর উম্মতের জন্য তাঁদের দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন। এমতাবস্থায় এটি অসম্ভব যে, তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান লাভের পথকে অস্পষ্ট ও সংশয়পূর্ণ অবস্থায় ছেড়ে গিয়েছেন, যার ফলে আল্লাহর জন্য আবশ্যকীয় সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি এবং তাঁর ক্ষেত্রে যা কিছু সম্ভব ও যা কিছু অসম্ভব—তার মধ্যে পার্থক্য করা হয়নি।

কেননা এই বিষয়ের জ্ঞানই হলো দ্বীনের মূল এবং হেদায়েতের ভিত্তি। আর এটি অন্তরসমূহের অর্জিত সর্বোত্তম বিষয়, নফসসমূহের অর্জিত শ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং আকল বা বুদ্ধির অনুধাবনকৃত সবচেয়ে মহৎ বিষয়। সুতরাং এটি কীভাবে সম্ভব যে, সেই কিতাব, সেই রাসুল এবং নবীদের পর আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিগণ বিশ্বাস ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই কিতাবকে সুদৃঢ়ভাবে গ্রহণ করেননি?! এটিও অসম্ভব যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে মলত্যাগের আদব পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন এবং বলেছেন: “আমি তোমাদেরকে এমন এক উজ্জ্বল পথের ওপর...
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها بعدي إلا هالك» ، وقال فيما صح عنه أيضًا: «ما بعث الله من نبي إلا كان حقًا عليه أن يدل أمته على
উজ্জ্বল শুভ্র পথ, যার রাত দিনের মতোই; আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না» এবং তাঁর থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে তাতে তিনি আরও বলেছেন: «আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যার ওপর তাঁর উম্মতকে দিকনির্দেশনা প্রদান করা আবশ্যক ছিল না
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮০)
خير ما يعلمه لهم وينهاهم عن شر ما يعلمه لهم» .

وقال أبو ذر رضي الله عنه: «لقد توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما من طائر يقلب جناحيه في السماء إلا ذكر لنا منه علمًا» .

وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: «قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم [مقامًا] فذكر بدء الخلق حتى دخل أهل الجنة منازلهم وأهل النار منازلهم، حفظ
তাদের জন্য যা কল্যাণকর বলে তিনি জানেন তা তাদের শিখিয়েছেন এবং যা অকল্যাণকর বলে তিনি জানেন তা থেকে তাদের নিষেধ করেছেন।” .

আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এমন অবস্থায় যে, আকাশে ডানা ঝাপটানো প্রতিটি পাখি সম্পর্কেও তিনি আমাদের কাছে জ্ঞান বর্ণনা করে গেছেন।” .

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে [একস্থানে] দাঁড়ালেন এবং সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে জান্নাতিদের নিজ নিজ আবাসে এবং জাহান্নামিদের নিজ নিজ আবাসে প্রবেশ করা পর্যন্ত সবকিছু বর্ণনা করলেন; যারা মুখস্থ রেখেছে...”
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮১)
ذلك من حفظه ونسيه من نسيه» رواه البخاري.

‌‌[منزلة العلم بالله تعالى] :

محال مع تعليمهم كل شيء لهم فيه منفعة في الدين ـ وإن دقت ـ أن يترك تعليمهم ما يقولونه بألسنتهم [ويعتقدونه] بقلوبهم في ربهم ومعبودهم رب العالمين، الذي معرفته غاية المعارف، وعبادته أشرف المقاصد، والوصول إليه غاية المطالب، بل هذا خلاصة الدعوة النبوية وزبدة الرسالة الإلهية، فكيف يتوهم من في قلبه أدنى مُسكة من إيمان وحكمة، أن لا يكون [بيان] هذا الباب قد وقع من الرسول صلى الله عليه وسلم على غاية التمام، إذا كان قد وقع ذلك منه، فمن المحال أن [يكون] خير أمته
এটি মুখস্থ রেখেছে সে যে মুখস্থ রেখেছে এবং ভুলে গেছে সে যে ভুলে গেছে। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

[আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জ্ঞানের মর্যাদা] :

দ্বীনের মধ্যে তাদের জন্য কল্যাণকর এমন সবকিছু শিক্ষা দেওয়ার সাথে সাথে—তা যতই সূক্ষ্ম হোক না কেন—এটি অসম্ভব যে, তিনি তাদের রব এবং তাদের মাবুদ তথা রব্বুল আলামীন সম্পর্কে তারা তাদের জিহ্বা দিয়ে যা বলবে এবং তাদের অন্তর দিয়ে [যা বিশ্বাস করবে], তা শিক্ষা দেওয়া ছেড়ে দেবেন। যাঁর পরিচয় হলো সমস্ত জ্ঞানের শেষ সীমা, যাঁর ইবাদত হলো সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য এবং যাঁর কাছে পৌঁছানো হলো সমস্ত অন্বেষার মূল লক্ষ্য। বরং এটিই হলো নববী দাওয়াতের নির্যাস এবং ঐশী রিসালাতের সারবস্তু। সুতরাং যার অন্তরে সামান্যতম ঈমান ও প্রজ্ঞা রয়েছে, সে কীভাবে কল্পনা করতে পারে যে, এই অধ্যায়ের [বিবরণ] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হয়নি? যখন তাঁর পক্ষ থেকে এটি সম্পন্ন হয়েছে, তখন এটি অসম্ভব যে, তাঁর উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গ...
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮২)
وأفضل قرونها قصروا في هذا الباب، زائدين فيه أو ناقصين عنه.

‌‌[استحالة تقصير السلف في أصول الدين وفروعه] :

ثم من المحال أيضًا أن تكون القرون الفاضلة ـ القرن الذي بعث فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم ـ كانوا غير عالمين
এবং তাদের শ্রেষ্ঠ প্রজন্মসমূহ এই বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করেছে, এতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করে অথবা তা থেকে কিছু কমিয়ে।

‌‌[দীনের মূলনীতি ও এর শাখাসমূহে সালাফগণের শিথিলতা প্রদর্শনের অসম্ভবতা] :

অতঃপর এটিও অসম্ভব যে, শ্রেষ্ঠ প্রজন্মসমূহ—যে প্রজন্মে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী এবং এরপর যারা তাদের পরবর্তী—তারা অজ্ঞ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
و [غير] قائلين في هذا الباب بالحق المبين، لأن ضد ذلك إما عدم العلم والقول، وإما اعتقاد نقيض الحق وقول خلاف الصدق. وكلاهما ممتنع.

أما الأول فلأن من في قلبه أدنى حياة وطلب للعلم، أو نهمة في
এবং এই বিষয়ে তারা সুস্পষ্ট সত্যের প্রবক্তা [নন], কারণ এর বিপরীত বিষয়টি হয় জ্ঞান ও বাণীর অনুপস্থিতি, নতুবা সত্যের বিপরীত বিশ্বাস পোষণ এবং সত্যের পরিপন্থী বক্তব্য। আর এই উভয় বিষয়ই অসম্ভব।

প্রথমটির ক্ষেত্রে কারণ হলো, যার হৃদয়ে সামান্যতম প্রাণস্পন্দন ও জ্ঞান অন্বেষার আগ্রহ অথবা কোনো বিষয়ের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
العبادة يكون البحث عن هذا الباب والسؤال عنه ومعرفة الحق فيه أكبر مقاصده وأعظم مطالبه، أعني: بيان ما ينبغي اعتقاده، لا معرفة كيفية الرب وصفاته. وليست النفوس الصحيحة إلى شيء أشوق منها إلى معرفة هذا الأمر.

وهذا أمر معلوم بالفطرة الوجدية، فكيف يتصور مع قيام هذا المقتضى ـ الذي هو من أقوى المقتضيات ـ أن يتخلف عنه مقتضاه في أولئك السادة في مجموع عصورهم. هذا لا يكاد يقع في أبلد الخلق، وأشدهم إعراضًا عن الله، وأعظمهم إكبابًا على طلب الدنيا، والغفلة عن ذكر الله، فكيف يقع من أولئك؟!

وأما كونهم كانوا معتقدين فيه غير الحق أو قائليه، فهذا لا يعتقده مسلم ولا عاقل عرف حال القوم.
ইবাদত—এই অধ্যায় সম্পর্কে অনুসন্ধান করা, এই বিষয়ে প্রশ্ন করা এবং এতে নিহিত সত্যকে জানা হলো এর সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য এবং মহানতম লক্ষ্য। আমি বলতে চাচ্ছি: যা বিশ্বাস করা আবশ্যক তা স্পষ্ট করা, রবের এবং তাঁর গুণাবলির ধরণ জানা নয়। আর সুস্থ অন্তরসমূহ এই বিষয়টি জানার চেয়ে অন্য কোনো বিষয়ের প্রতি অধিক আকাঙ্ক্ষী নয়।

এবং এটি সহজাত ফিতরাত দ্বারা জ্ঞাত একটি বিষয়। সুতরাং, এই প্রেরণা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও—যা অত্যন্ত শক্তিশালী প্রেরণাসমূহের একটি—কীভাবে কল্পনা করা যায় যে, সেই সকল মহান ব্যক্তিবর্গের সমগ্র যুগে এর অনিবার্য দাবি বা ফলাফল অর্জিত হয়নি? এটি সৃষ্টির সবচেয়ে স্থবির মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি, আল্লাহর প্রতি চরম বিমুখ এবং পার্থিব চাহিদা পূরণে চরমভাবে নিমগ্ন ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ঘটা প্রায় অসম্ভব; তবে তাঁদের ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব?!

আর তাঁরা এই বিষয়ে সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বিশ্বাস করতেন কিংবা প্রচার করতেন—এমনটি কোনো মুসলিম কিংবা সেই মহান ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি বিশ্বাস করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
ثم الكلام عنهم في هذا الباب أكثر من أن يمكن سطره في هذه الفتوى أو أضعافها، يعرف ذلك من طلبه وتتبعه.

‌‌[طريقة السلف أسلم وأعلم وأحكم] :

ولا يجوز أيضًا أن يكون الخالفون أعلم من السالفين كما يقوله بعض الأغبياء ممن لم يقدر قدر السلف، بل ولا عرف الله ورسوله والمؤمنين به حقيقة المعرفة المأمور بها من أن «طريقة السلف أسلم وطريقة الخلف أعلم
অতঃপর এই বিষয়ে তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা এতই বিস্তৃত যে, তা এই ফতোয়ায় বা এর কয়েক গুণ পরিসরেও লিখে শেষ করা সম্ভব নয়; যারা তা অনুসন্ধান করবে এবং খুঁজে দেখবে তারা তা জানতে পারবে।

[সালাফদের পদ্ধতি অধিকতর নিরাপদ, অধিকতর জ্ঞানগর্ভ এবং অধিকতর প্রজ্ঞাপূর্ণ] :

আর এটাও সমীচীন নয় যে, পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী হবে, যেমনটি এমন কিছু নির্বোধ লোক বলে থাকে যারা সালাফদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেনি, বরং তারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর প্রতি ঈমানদারদের সম্পর্কে সেই প্রকৃত জ্ঞানও অর্জন করেনি যা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; (যাদের দাবি হলো) "সালাফদের পথ অধিক নিরাপদ এবং খালাফদের পথ অধিক জ্ঞানগর্ভ।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
وأحكم» .
এবং সুদৃঢ় করেছেন» ।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
‌‌[منشأ الخطأ عند من فضل طريقة الخلف على طريقة السلف] :

فإن هؤلاء المبتدعة الذين يفضّلون طريقة الخلف على طريقة السلف إنما أتوا من حيث ظنوا أن طريقة السلف هي مجرد الإيمان بألفاظ القرآن والحديث من غير فقه لذلك، بمنزلة الأميين الذين قال فيهم: {وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ} [البقرة:78] ، وأن طريقة الخلف هي استخراج معاني النصوص المصروفة عن حقائقها بأنواع المجازات وغرائب اللغات.
[সালাফদের পদ্ধতির চেয়ে খালাফদের পদ্ধতিকে যারা শ্রেষ্ঠত্ব দেয়, তাদের ভুলের উৎস] :

কেননা এই বিদআতিরা যারা সালাফদের পদ্ধতির ওপর খালাফদের পদ্ধতিকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়, তারা মূলত এই ধারণার বশবর্তী হয়ে ভুল করেছে যে, সালাফদের পদ্ধতি হলো কুরআন ও হাদীসের শব্দাবলির প্রতি কোনো প্রকার বুঝ-জ্ঞান ছাড়াই কেবল ঈমান আনা, অনেকটা সেই নিরক্ষরদের মতো যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "আর তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক রয়েছে, যারা মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না।" [আল-বাকারা: ৭৮], এবং তারা মনে করে খালাফদের পদ্ধতি হলো বিভিন্ন প্রকার রূপক ও ভাষার দুর্লভ প্রয়োগের মাধ্যমে নস বা মূল ভাষ্যসমূহকে তাদের প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে ভিন্ন অর্থ বের করা।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
‌‌[جمع المتكلمين بين الجهل والكذب] :

فهذا الظن الفاسد أوجب تلك المقالة التي مضمونها نبذ الإسلام وراء الظهر، وقد كذبوا على طريقة السلف، وضلوا في تصويب طريقة الخلف، فجمعوا بين الجهل بطريقة السلف في الكذب عليهم، وبين الجهل والضلال بتصويب طريقة الخلف.

وسبب ذلك اعتقادهم أنه ليس في نفس الأمر صفة دلت عليها هذه النصوص للشبهات الفاسدة التي شاركوا فيها إخوانهم من الكافرين، فلما اعتقدوا انتفاء الصفات في نفس الأمر ـ وكان مع ذلك لا بد للنصوص من معنًى ـ بقوا مترددين بين الإيمان باللفظ وتفويض المعنى ـ وهي التي يسمونها طريقة السلف ـ وبين صرف اللفظ إلى معان بنوع تكلف ـ وهي التي يسمونها طريقة الخلف ـ فصار هذا الباطل
[মুতাকাল্লিমদের মূর্খতা ও মিথ্যার সংমিশ্রণ] :

এই ভ্রান্ত ধারণাটি এমন এক বক্তব্যের জন্ম দিয়েছে যার সারমর্ম হলো ইসলামকে পিঠের পেছনে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া। তারা সালাফদের পদ্ধতির ব্যাপারে মিথ্যাচার করেছে এবং খালাফদের পদ্ধতিকে সঠিক সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট হয়েছে। ফলে তারা একদিকে সালাফদের নামে মিথ্যাচারের মাধ্যমে তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা, আর অন্যদিকে খালাফদের পদ্ধতিকে সঠিক সাব্যস্ত করার মাধ্যমে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তিকে একত্রিত করেছে।

এর কারণ হলো তাদের এই বিশ্বাস যে, বাস্তবে এমন কোনো গুণ নেই যা এই দলীলসমূহ নির্দেশ করে। এটি মূলত সেই সব ভ্রান্ত সংশয়ের ফল যাতে তারা তাদের কাফের ভাইদের সাথে একাত্ম হয়েছে। যখন তারা বাস্তবে গুণাবলির অস্তিত্বহীনতার বিশ্বাস পোষণ করল—অথচ এর সাথে সাথে দলীলগুলোর একটি অর্থ থাকাও ছিল অপরিহার্য—তখন তারা শব্দের প্রতি ঈমান আনা ও অর্থের ভার অর্পণ করা (তাফবীজ)—যাকে তারা সালাফদের পদ্ধতি বলে নামকরণ করে—এবং এক প্রকার কষ্টকল্পনার মাধ্যমে শব্দকে অন্য অর্থে সরিয়ে নেওয়া—যাকে তারা খালাফদের পদ্ধতি বলে অভিহিত করে—এই দুইয়ের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ল। ফলে এই বাতিল বিষয়টি...
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯০)
مركبًا من فساد العقل والكفر بالسمع، فإن النفي إنما اعتمدوا فيه على أمور عقلية ظنوها بينات وهي شبهات، والسمع حرفوا فيه الكلام عن مواضعه.

فلما انبنى أمرهم على هاتين المقدمتين الكفريتين كانت النتيجة: استجهال السابقين الأولين، واستبلاههم، واعتقاد أنهم كانوا قومًا أميين، بمنزلة الصالحين من العامة، لم يتبحروا في حقائق العلم بالله، ولم يتفطنوا لدقائق العلم الإلهي، وأن الخلف الفضلاء حازوا قصب السبق في هذا كله.
এটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিকৃতি এবং শ্রুত দলীলের প্রতি কুফুরির এক সংমিশ্রণ; কেননা তারা (আল্লাহর গুণাবলী) অস্বীকারের ক্ষেত্রে এমন কিছু যৌক্তিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছে যেগুলোকে তারা সুস্পষ্ট প্রমাণ মনে করেছিল, অথচ সেগুলো ছিল নিছক সংশয়। আর শ্রুত দলীলের ক্ষেত্রে তারা শব্দসমূহকে তাদের নির্ধারিত স্থান থেকে বিচ্যুত করেছে।

যেহেতু তাদের বিষয়টি এই দুটি কুফরি ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে, তাই এর ফলাফল দাঁড়িয়েছে: প্রথম যুগের অগ্রবর্তী মহান ব্যক্তিবর্গকে অজ্ঞ প্রতিপন্ন করা, তাদেরকে নির্বোধ মনে করা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তারা ছিলেন এক নিরক্ষর জাতি, যারা সাধারণ স্তরের নেককার লোকদের সমপর্যায়ভুক্ত ছিলেন; তারা আল্লাহ বিষয়ক জ্ঞানের নিগূঢ় তত্ত্বসমূহে অবগাহন করতে পারেননি এবং ঐশী জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারেননি। আর পরবর্তী যুগের বিদগ্ধ ব্যক্তিরাই এই সবকিছুর ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯১)
ثم هذا القول إذا تدبره الإنسان وجده في غاية الجهالة، بل في غاية الضلالة. كيف يكون هؤلاء المتأخرون ـ لا سيما والإشارة بالخلف إلى ضرب من المتكلمين ـ الذين كثر في باب الدين اضطرابهم، وغلظ عن معرفة الله حجابهم، وأخبر الواقف على نهايات إقدامهم بما انتهى إليه من مرامهم حيث يقول:

‌‌[الحيرة والشك من صفات المتكلمين] :

لعمري لقد طفتُ المعاهدَ كلَّها … وسَيَّرتُ طَرْفي بين تلك المعالِمِ

فلم أرَ إلا واضعًا كفَّ حائرٍ … على ذقَنٍ أو قارعًا سِنَّ نادمِ
অতঃপর এই বক্তব্যটি যদি কোনো মানুষ চিন্তা-গবেষণা করে, তবে সে এটিকে চরম অজ্ঞতা, বরং চরম ভ্রষ্টতা হিসেবে দেখতে পাবে। কীভাবে এই পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা — বিশেষ করে 'খালাফ' বলতে যাদের একদল কালাম শাস্ত্রবিদদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে — তারা [জ্ঞানী] হতে পারে? দ্বীনের বিষয়ে যাদের অস্থিরতা অত্যধিক, আল্লাহর পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে যাদের অন্তরায় অত্যন্ত নিরেট, এবং তাদের পদযাত্রার শেষ প্রান্ত সম্পর্কে সম্যক অবহিত ব্যক্তি তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে যখন বলেন:

‌‌[বিভ্রান্তি ও সংশয় কালাম শাস্ত্রবিদদের বৈশিষ্ট্য] :

আমার জীবনের শপথ! আমি সমস্ত বিদ্যাপীঠ পরিভ্রমণ করেছি... এবং সেই সব নিদর্শনের মাঝে আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি।

আমি সেখানে কেবল চিবুকে হাত রাখা কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে দেখেছি... অথবা অনুতপ্ত হয়ে দাঁতে দাঁত ঘষছে এমন কাউকে দেখেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯২)
‌‌[اعتراف الرازي] :

وأقروا على نفوسهم بما قالوه متمثلين به أو منشئين له فيما صنفوه من كتبهم؛ كقول بعض رؤسائهم:

نهاية إقدام العقول عقالُ … وأكثر سعي العالمين ضلالُ

وأرواحنا في وحشة من جسومنا … وغاية دنيانا أذى ووبالُ

ولم نستفد من بحثنا طول عمرنا … سوى أن جمعنا فيه قيل وقالوا
‌[রাযীর স্বীকৃতি] :

তারা তাদের রচিত গ্রন্থসমূহে যা কিছু বলেছেন, সে বিষয়ে তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিয়েছেন—চাই তা উদাহরণের মাধ্যমে হোক কিংবা মৌলিক বক্তব্যের মাধ্যমে; যেমন তাদের জনৈক নেতার উক্তি:

বিবেকের অগ্রসর হওয়ার শেষ সীমা হলো বন্ধন (জড়তা) … আর জগৎবাসীর অধিকাংশ প্রচেষ্টাই হলো বিভ্রান্তি।

আমাদের আত্মাগুলো আমাদের দেহের মাঝে একাকিত্বে রয়েছে … আর আমাদের পার্থিব জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি হলো কষ্ট ও বিপর্যয়।

সারা জীবনের দীর্ঘ গবেষণা থেকে আমরা কিছুই লাভ করতে পারিনি … কেবল ‘বলা হয়েছে’ এবং ‘তারা বলেছে’ (অর্থাৎ জনশ্রুতি ও বিতর্ক) সংগ্রহ করা ছাড়া।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
[لقد تأملت الطرق الكلامية، والمناهج الفلسفية، فما رأيتها تشفي عليلاً، ولا تروي غليلاً، ورأيت أقرب الطرق طريقة القرآن. أقرأُ في الإثبات {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] ، {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ} [فاطر:10] ، وأقرأُ في النفي {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى:11] ، {وَلا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا} [طه:110] ، ومن جرب مثل تجربتي عرف مثل معرفتي] .
[আমি কালামশাস্ত্রীয় পদ্ধতিসমূহ এবং দার্শনিক পন্থাসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করেছি, কিন্তু আমি সেগুলোকে কোনো রোগীর আরোগ্যদাতা কিংবা কোনো পিপাসার্তের তৃষ্ণা নিবারণকারী হিসেবে পাইনি। আমি দেখেছি যে, সবচেয়ে নিকটবর্তী পথ হলো কুরআনের পথ। আমি (আল্লাহর গুণাবলি) সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে পাঠ করি {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে} [ফাতির: ১০]; আর (সদৃশতা) বর্জনের ক্ষেত্রে পাঠ করি {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [শুরা: ১১], {তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না} [ত্বহা: ১১০]। আর যে ব্যক্তি আমার অভিজ্ঞতার ন্যায় অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত হবে, সে আমার উপলব্ধির ন্যায় উপলব্ধি করতে পারবে]।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
‌‌[اعترافات إمام الحرمين الجويني] :

ويقول الآخر [منهم] : «لقد خضت البحر الخضم، وتركت أهل الإسلام وعلومهم، وخضت في الذي نهوني عنه، والآن إن لم يتداركني ربي برحمة [منه] فالويل لفلان، وها أنا ذا أموت على عقيدة أمي» .
[ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনীর স্বীকারোক্তি] :

এবং [তাদের মধ্য থেকে] অন্যজন বলেন: «নিশ্চয়ই আমি এক বিশাল সমুদ্রে অবগাহন করেছি এবং ইসলামের অনুসারীগণ ও তাদের জ্ঞানসমূহকে বর্জন করেছি। আমি এমন বিষয়ে লিপ্ত হয়েছি যা থেকে তারা আমাকে নিষেধ করেছিলেন। এখন যদি আমার রব [তাঁর পক্ষ থেকে] রহমত দ্বারা আমাকে উদ্ধার না করেন, তবে অমুকের জন্য ধ্বংস অনিবার্য। আর এই যে আমি আমার মায়ের আকিদার ওপর মৃত্যুবরণ করছি।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
‌‌[قول الغزالي] :

ويقول الآخر منهم: «أكثر الناس شكًا عند الموت أصحاب الكلام» .
[আল-গাযালীর উক্তি] :

তাদের মধ্যে অন্যজন বলেন: "মৃত্যুর সময় মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি সংশয়গ্রস্ত হলো কালাম শাস্ত্রবিদগণ।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
‌‌[استحالة أن يكون الخلف أعلم من السلف] :

ثم [هؤلاء المتكلمون المخالفون للسلف] إذا حقق عليهم الأمر لم يوجد عندهم من حقيقة العلم بالله وخالص المعرفة به خبر، ولم يقفوا من ذلك على عين ولا أثر، كيف يكون هؤلاء المحجوبون المنقوصون المسبوقون الحيارى المتهوكون: أعلم بالله وأسمائه وصفاته،
[পরবর্তীদের জ্ঞান পূর্বসূরিদের চেয়ে অধিক হওয়া অসম্ভব হওয়ার বিবরণ] :

অতঃপর [সালাফদের বিরুদ্ধাচরণকারী এই কালামশাস্ত্রবিদরা], যখন তাদের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়, তখন তাদের নিকট আল্লাহ সংক্রান্ত ইলমের হাকিকত এবং তাঁর পরিচয়ের বিশুদ্ধ কোনো সংবাদ পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে তারা কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য কোনো নিদর্শনের দেখা পায়নি। এই সত্য থেকে বঞ্চিত, অপূর্ণাঙ্গ, পশ্চাৎপদ, বিভ্রান্ত এবং বেপরোয়া ব্যক্তিরা কীভাবে আল্লাহ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী হতে পারে?
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
وأحكم في باب آياته وذاته من السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار، والذين اتبعوهم بإحسان، من ورثة الأنبياء وخلفاء الرسل، وأعلام الهدى ومصابيح الدجى، الذين بهم قام الكتاب وبه قاموا، وبهم نطق الكتاب وبه نطقوا، الذين وهبهم الله من العلم والحكمة ما برزوا به على سائر أتباع الأنبياء، [فضلاً عن سائر الأمم الذين لا كتاب لهم] ، وأحاطوا من حقائق المعارف، وبواطن الحقائق، بما لو جمعت حكمة غيرهم إليها لاستحيا من يطلب المقابلة.

ثم كيف يكون خير قرون الأمة، أنقص في العلم والحكمة ـ لا سيما العلم بالله وأحكام آياته وأسمائه ـ من هؤلاء الأصاغر بالنسبة إليهم؟ أم كيف يكون أفراخ المتفلسفة
আল্লাহর নিদর্শনাবলি ও তাঁর সত্তার বিষয়ে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে অগ্রবর্তী প্রথম দলটি এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—অর্থাৎ নবীদের উত্তরসূরি, রাসূলদের স্থলাভিষিক্ত, হিদায়াতের আলোকবর্তিকা ও অন্ধকারের প্রদীপসমূহ—তাঁরাই ছিলেন সবচেয়ে সুনিশ্চিত জ্ঞানের অধিকারী। তাঁদের মাধ্যমেই কিতাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাঁরাও কিতাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকেছেন; তাঁদের মাধ্যমেই কিতাব কথা বলেছে এবং তাঁরাও কিতাবের মাধ্যমেই কথা বলেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের এমন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন যার মাধ্যমে তাঁরা অন্যান্য নবীদের অনুসারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, [অন্যান্য কিতাবহীন জাতিসমূহের কথা তো বলাই বাহুল্য]। তাঁরা মারেফতের নিগূঢ় তত্ত্ব এবং সত্যের অভ্যন্তরীণ রহস্যসমূহকে এমনভাবে আয়ত্ত করেছিলেন যে, যদি অন্যদের সমস্ত প্রজ্ঞা তাঁদের প্রজ্ঞার পাশে জমা করা হয়, তবে এদের সাথে তুলনা করতে চাওয়া ব্যক্তি অবশ্যই লজ্জিত হবে।

অতঃপর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্মসমূহ কীভাবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায়—বিশেষ করে আল্লাহ সংক্রান্ত জ্ঞান এবং তাঁর নিদর্শনাবলি ও নামসমূহের বিধানের ক্ষেত্রে—এইসব পরবর্তী নগণ্য ব্যক্তিদের তুলনায় অপূর্ণ হতে পারে? অথবা কীভাবে দার্শনিকদের অনুসারীরা...
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
وأتباع الهند واليونان،
এবং ভারত ও ইউনানের অনুসারীবৃন্দ,
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৯৯)
وورثة المجوس والمشركين، وضلال اليهود والنصارى
এবং অগ্নিউপাসক ও মুশরিকদের উত্তরাধিকারীগণ এবং ইহুদি ও নাসারাদের পথভ্রষ্টরা।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০০)
والصابئين وأشكالهم وأشباههم؛ أعلم بالله من ورثة الأنبياء وأهل القرآن والإيمان؟! .
সাবিয়ীগণ এবং তাদের সমগোত্রীয় ও সদৃশরা কি আল্লাহ সম্পর্কে নবীদের উত্তরাধিকারী এবং কুরআন ও ঈমানওয়ালাদের চেয়েও অধিক জ্ঞাত?!
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০১)
‌‌[سبب ضلال كثير من المتأخرين] :

وإنما قدمت هذه المقدمة لأن من استقرت هذه المقدمة عنده علم طريق الهدى أين هو في هذا الباب وغيره.

وعلم أن الضلال والتهوّك إنما استولى على كثير من المتأخرين بنبذهم كتاب الله وراء ظهورهم، وإعراضهم عما بعث الله به محمدًا صلى الله عليه وسلم من البيّنات والهدى، وتركهم البحث عن طريق السابقين والتابعين والتماسهم علم معرفة الله ممن لم يعرف الله بإقراره على نفسه، ولشهادة الأمة على ذلك، وبدلالات كثيرة، وليس غرضي واحدًا، وإنما أصف نوع هؤلاء، ونوع هؤلاء.

‌‌[أدلة علو الله على خلقه] :

‌‌[دلالة القرآن على علو الله] :

وإذا كان كذلك: فهذا كتاب الله من أوله إلى آخره، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم من أولها إلى آخرها، ثم عامة كلام الصحابة والتابعين، ثم كلام سائر الأئمة مملوء بما هو إما نص وإما ظاهر في أن الله سبحانه فوق كل شيء، وعليٌّ على كل شيء، وأنه فوق العرش، وأنه فوق السماء، مثل قوله تعالى: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُه} [فاطر:10] ، {إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ} [آل عمران:55] {أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ • أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًاِ} [الملك:16ـ17] ، {بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ} [النساء:158] ، {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ}
[পরবর্তীদের অনেকের পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণ]:

আমি এই ভূমিকাটি এই কারণেই পেশ করেছি যে, যার নিকট এই ভূমিকাটি বদ্ধমূল হবে, সে এই বিষয়ে এবং অন্যান্য বিষয়ে হিদায়াতের পথ কোথায় তা জানতে পারবে।

এবং সে জানতে পারবে যে, পরবর্তীদের অনেকের উপর পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি তখনই জেঁকে বসেছে যখন তারা আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পিছনে নিক্ষেপ করেছে এবং আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে স্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন তা থেকে বিমুখ হয়েছে। তারা পূর্বসূরি ও তাবিঈদের পথ অনুসন্ধান বর্জন করেছে এবং এমন ব্যক্তিদের নিকট আল্লাহর পরিচয় অন্বেষণ করেছে যারা নিজের স্বীকারোক্তি অনুসারেই আল্লাহকে চিনতে পারেনি এবং উম্মাহর সাক্ষ্য ও বহু প্রমাণও তার অনুকূলে। আমার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, বরং আমি কেবল এক শ্রেণির এবং অন্য শ্রেণির মানুষের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছি।

‌[মাখলুকের উপর আল্লাহর সুউচ্চ হওয়ার প্রমাণাদি]:

‌[আল্লাহর সুউচ্চ হওয়ার বিষয়ে কুরআনের দলীল]:

বিষয়টি যখন এমন, তখন আল্লাহর কিতাব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, অতঃপর সাহাবী ও তাবিঈদের অধিকাংশ বক্তব্য এবং সমস্ত ইমামদের কথা এমন সব দলিলে পরিপূর্ণ যা হয় অকাট্য বর্ণনা অথবা প্রকাশ্য অর্থ, যা প্রমাণ করে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সবকিছুর উপরে, তিনি সবকিছুর উপরে সুউচ্চ এবং তিনি আরশের উপরে ও আসমানের উপরে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পবিত্র বাক্যসমূহ তাঁর দিকেই আরোহণ করে এবং সৎ কাজ তিনি উপরে উঠিয়ে নেন} [ফাতির: ১০], {নিশ্চয়ই আমি তোমার মৃত্যু ঘটাচ্ছি এবং তোমাকে আমার নিকট উঠিয়ে নিচ্ছি} [আলে ইমরান: ৫৫], {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে যিনি আসমানে আছেন যে, তিনি তোমাদের সহ ভূমি ধসিয়ে দেবেন না? এমতাবস্থায় যে তা আকস্মিকভাবে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে যিনি আসমানে আছেন যে, তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝড় পাঠাবেন না?} [মুলক: ১৬-১৭], {বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন} [নিসা: ১৫৮], {ফেরেশতারা এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে}।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০২)
[المعارج:4] ، {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ} [السجدة:5] ، {يَخَافُونَ رَبَّهُم مِّن فَوْقِهِمْ} [النحل:50] ، {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [يونس:3] ، في ستة مواضع، {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] ، {يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَّعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ • أَسْبَابَ السَّمَوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا} [غافر:36ـ37] ، {تَنزِيلٌ مِّنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت:42] ، {مُنَزَّلٌ مِّن رَّبِّكَ} [الأنعام:114] . إلى أمثال ذلك مما لا يكاد يحصى إلا بكلفة.

‌‌[تواتر أدلة السنة على إثبات صفة العلو] :

وفي الأحاديث الصحاح والحسان ما لا يحصى.
[আল-মা‘আরিজ: ৪], {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁরই দিকে উর্ধ্বগামী হয়} [আস-সাজদাহ: ৫], {তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে আছেন} [আন-নাহল: ৫০], {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} [ইউনুস: ৩], ছয়টি স্থানে, {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], {হে হামান! তুমি আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো যাতে আমি উপায়-উপকরণসমূহে পৌঁছাতে পারি—আকাশসমূহের উপায়-উপকরণসমূহে, যেন আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পারি, আর আমি তাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদী মনে করি} [গাফির: ৩৬-৩৭], {এটি প্রজ্ঞাময়, অতি প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} [ফুসসিলাত: ৪২], {আপনার প্রতিপালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ} [আল-আন‘আম: ১১৪]। এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা কষ্টসাধ্য পরিশ্রম ছাড়া গণনা করা সম্ভব নয়।

[আল্লাহর সুউচ্চ হওয়ার গুণ সাব্যস্ত করার বিষয়ে সুন্নাহর দলীলসমূহের আধিক্য] :

এবং সহীহ ও হাসান হাদীসসমূহে এ সংক্রান্ত অগণিত বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাতাওয়াল হামাউইয়াতুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৩)
مثل قصة معراج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى ربه، ونزول الملائكة من عند الله وصعودها إليه، وقول الملائكة الذين يتعاقبون [فيكم] بالليل والنهار، فيخرج الذين باتوا فيكم إلى ربهم فيسألهم وهو أعلم بهم.
যেমন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবের প্রতি মিরাজের ঘটনা, আল্লাহর নিকট হতে ফেরেশতাদের অবতরণ ও তাঁর দিকে তাঁদের আরোহণ এবং সেই ফেরেশতাদের কথা যারা তোমাদের মাঝে রাতে ও দিনে পালাবদল করে আসেন; অতঃপর যারা তোমাদের মাঝে রাত যাপন করেছেন তাঁরা তাঁদের রবের দিকে উঠে যান এবং তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি তাঁদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।