(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: -)
عقوبتا الزاني والمرتد ودفع الشبهات القسم: كتب عامة
الكتاب: عقوبتا الزاني والمرتد ودفع الشبهات في ضوء القرآن والسنة ودفع الشبهات
المؤلف: عماد السيد محمد إسماعيل الشربينى
عدد الصفحات: 161
جمعه ورتبه وفهرسه الفقير إلى الله عبد الرحمن الشامي
ويسألكم الدعاء
[الكتاب مرقم آلياً]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ব্যভিচারী ও ধর্মত্যাগীদের শাস্তি এবং সংশয় নিরসন বিভাগ: সাধারণ বই
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-এর আলোকে ব্যভিচারী ও ধর্মত্যাগীদের শাস্তি এবং সংশয় নিরসন ও সংশয় নিরসন
লেখক: ইমাদ আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইসমাইল আশ-শারবিনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬১
এটি সংকলন, বিন্যাস এবং সূচিপত্র তৈরি করেছেন আল্লাহর মুখাপেক্ষী আব্দুর রহমান আশ-শামী
তিনি আপনাদের কাছে দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১)
هذا الكتابيتناول فيه المؤلف الرد علي أعداء السنة المطهرة، ودعاة التغريب من خلال
عدة قضايا منها:
1- بيان مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم كما حددها رب العزة في كتابه، واستعراض شبهة أعداء السنة حول هذه المهمة والجواب عنها.
2- بيان أن مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم البيانية إنما تعني الحكمة وهي السنة النبوية، واستعراض
شبهة أعداء السنة، بأن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الحقيقية؛ هي القرآن فقط والجواب عنها.
3- بيان حقيقة وهدف أعداء السنة بإيمانهم ببيان نبوي لرسول الله صلى الله عليه وسلم في رسالته! .
4- بيان وجوب طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم في القرآن والسنة معاَ، والرد علي أعداء السنة في
حصرهم طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم في القرآن فقط.
5- بيان أن طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم في سنته المطهرة هي عين التوحيد لله تعالى، والرد علي
أعداء السنة في زعمهم أن الربط بين طاعة الله عز وجل في كتابه، وطاعة رسوله في سنته
المطهرة شرك.
6- بيان السنة النبوية لعقوبة الزاني الواردة في القرآن الكريم؛ ودفع شبهات المنكرين لهذا البيان النبوي.
7- بيان السنة النبوية لعقوبة المرتد الواردة في القرآن الكريم؛ ودفع شبهات المنكرين لهذا البيان النبوي.
والله الهادي إلي سواء السبيل
صدق الله العظيم صدق الله العظيم صدق الله العظيم صدق الله العظيم.
এই কিতাবটিএতে লেখক পবিত্র সুন্নাহর (سنة) শত্রুদের এবং পাশ্চাত্যকামী দাঈদের অপপ্রচারের খণ্ডন করেছেন নিম্নোক্ত
কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে:
1- আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত তাঁর কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে দায়িত্ব নির্ধারণ করেছেন তা বর্ণনা করা এবং এই দায়িত্ব সম্পর্কে সুন্নাহর (سنة) শত্রুদের সংশয় পর্যালোচনা ও তার উত্তর প্রদান।
2- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যামূলক দায়িত্বের অর্থ যে হিকমাহ (حكمة) তথা সুন্নাহ (سنة)-এ-নববী, তা স্পষ্ট করা; এবং পর্যালোচনা
সুন্নাহর (سنة) শত্রুদের এই সংশয়, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রকৃত সুন্নাহ (سنة) কেবল কুরআন—এবং এর উত্তর প্রদান।
3- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের ক্ষেত্রে তাঁর নববী ব্যাখ্যার (بيان نبوي) প্রতি সুন্নাহর (سنة) শত্রুদের বিশ্বাসের প্রকৃত রূপ ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করা! ।
4- কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) উভয় ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের আবশ্যকতা বর্ণনা করা এবং সুন্নাহর (سنة) শত্রুদের প্রতিবাদ করা তাদের
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যকে কেবল কুরআনের মাঝে সীমাবদ্ধ করার বিষয়ে।
5- পবিত্র সুন্নাহর (سنة) ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করা যে আল্লাহ তাআলার তাওহীদেরই বহিঃপ্রকাশ, তা বর্ণনা করা; এবং প্রতিবাদ করা
সুন্নাহর (سنة) শত্রুদের এই দাবির যে, আল্লাহর কিতাবের আনুগত্যের সাথে তাঁর রাসূলের পবিত্র সুন্নাহর (سنة)
আনুগত্যকে সংশ্লিষ্ট করা শিরক।
6- কুরআনে বর্ণিত ব্যভিচারীর শাস্তির ক্ষেত্রে সুন্নাহ (سنة)-এ-নববীর ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা; এবং এই নববী ব্যাখ্যার (بيان نبوي) অস্বীকারকারীদের সংশয় নিরসন করা।
7- কুরআনে উল্লিখিত মুরতাদের শাস্তির বিষয়ে সুন্নাহ (سنة)-এ-নববীর ভূমিকা বর্ণনা; এবং এই নববী ব্যাখ্যার (بيان نبوي) অস্বীকারকারীদের সংশয়সমূহ দূর করা।
আল্লাহ-ই সরল ও সঠিক পথের দিশারি
মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন। মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন। মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন। মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২)
عقوبتا الزاني والمرتد في ضوء القرآن والسنة ودفع الشبهات
الدكتور عماد السيد الشربيني
مدرس الحديث وعلومه بجامعة الأزهر
1424هـ- 2003 م
بسم الله الرحمن الرحيم
{تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ
فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} (1)
{فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي
أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} (2)
{ادرؤوا الحدود عن المسلمين ما استطعتم، فإن كان له مخرج
فخلوا سبيله، فإن الإمام إن يخطئ في العفو؛
خير له من أن يخطئ في العقوبة} (3) .
تقديمالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام علي المبعوث رحمة للعالمين سيدنا محمد،
وعلي آله، وصحبه، ورضي الله عمن تبعهم بإحسان إلي يوم الدين.
ثم أما بعد
فإن السنة المطهرة، كانت هدفَا لأعداء الإسلام منذ زمن بعيد، لكنها قاومت وتقاوم، وحطمت وتحطم محاولات أعداء الإسلام، وأذيالهم بما رسخ في قلوب المؤمنين، من إيمان وتقديس وحب وإقتداء.
إن الذين يحاولون النيل من السنة المطهرة تختلف مشاربهم وأهدافهم واتجاهاتهم، وإن كثيراً منهم
يفتح له مجال واسع في الإعلام، الذي يجري وراء المادة الغريبة المستحدثة والشاذة، التي تجذب الجماهير.
فإن أراد العلماء أن يكشفوا الزيف، ويردوا الشبهات؛ لم يجدوا المجال الكافي المتكافئ مع نشر
السموم. ومن هنا يتهم العلماء والمتخصصون بالقصور أو التقصير.
--------------------------------------------
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যভিচারী ও ধর্মত্যাগীদের শাস্তি এবং সংশয় নিরসন
ড. ইমাদ আল-সাইয়্যিদ আল-শারবিনি
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান (علومه) বিষয়ের শিক্ষক
১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
{এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, তারাই জালেম।} (১)
{কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়।} (২)
{তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী মুসলিমদের থেকে নির্ধারিত দণ্ডসমূহ (الحدود) রহিত করো। যদি তার (নিষ্কৃতির) কোনো পথ থাকে, তবে তার পথ ছেড়ে দাও। কেননা ইমামের ক্ষমার ক্ষেত্রে ভুল করা, শাস্তির ক্ষেত্রে ভুল করার চেয়ে উত্তম।} (৩) ।
উপস্থাপনাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে—আমাদের নেতা মুহাম্মাদ। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর...
পবিত্র সুন্নাহ দীর্ঘকাল ধরে ইসলামের শত্রুদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছে। কিন্তু সুন্নাহ তা প্রতিরোধ করেছে এবং করছে। মুমিনদের অন্তরে প্রোথিত ঈমান, পবিত্রতা, ভালোবাসা এবং অনুসরণের মাধ্যমে এটি ইসলামের শত্রুদের এবং তাদের অনুসারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে।
যারা পবিত্র সুন্নাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে, তাদের মতাদর্শ, লক্ষ্য ও গতিপথ ভিন্ন ভিন্ন। তাদের অনেকের জন্য গণমাধ্যমে বিশাল ক্ষেত্র উন্মুক্ত থাকে, যা সাধারণত জনতাকে আকর্ষণ করে এমন অদ্ভুত, অভিনব ও অস্বাভাবিক বিষয়বস্তুর পেছনে ছোটে।
এমতাবস্থায় আলেমরা যদি জালিয়াতি উন্মোচন করতে এবং সংশয় নিরসন করতে চান, তবে বিষ ছড়ানোর বিশাল পরিসরের তুলনায় তারা পর্যাপ্ত ক্ষেত্র পান না। এখান থেকেই আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সীমাবদ্ধতা বা গাফিলতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
إن أملنا في عقيدة الأمة الراسخة التي لا تزعزعها العواصف، ولولا قوة إيمانها في عقيدتها وشريعتها الإسلامية، لكانت النتيجة خطيرة منذ زمن بعيد، ولكنه وعد رب العزة {إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) } (1) .ومساهمة متواضعة في التصدي لشراذم البغي قديمَا وحديثَا، ممن يطعنون في شريعتنا الغراء ويتهمونها بالقسوة لما فيها من الحدود، وردَا علي أعداءالسنةالنبوية؛ الذين ينكرون عقوبة الرجم للزانى المحصن، وعقوبة القتل للمرتد، بحجة مخالفتهما للقرآن الكريم.
أسطر هذه السطور حسبة لله تعالى، وانتصارَا لشريعته الغراء، في
ستة مباحث هي:
المبحث الأول: في بيان مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم كما حددها رب العزة في كتابه.
المبحث الثاني: في بيان أن مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلمالبيانية إنما تعني الحكمة، وهي
السنة المطهرة.
المبحث الثالث: في بيان وجوب طاعة رسول صلى الله عليه وسلم في القرآن والسنة معَا.
المبحث الرابع: في بيان أن طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم في سنته المطهرة هي عين التوحيد
الخالص لله عز وجل.
المبحث الخامس: في بيان السنة لعقوبة الزاني الواردة في القرآن ودفع الشبهات.
المبحث السادس: في بيان السنة لعقوبة الردة الواردة في القرآن ودفع الشبهات.
الخاتمة: في نتائج هذا البحث، ومقترحات، وتوصيات، وفهرس الموضوعات.
منهجي في البحث:1-كل ماعرضته في البحث من شبه ومطاعن أهل الزيغ والهوي قديمَا وحديثَا، المتضمنة
الطعن في سنة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإني قرنت ذلك بالرد الحاسم الذي يبين بطلان وزيف
تلك الشبه والمطاعن معتمداً في ذلك علي القرآن الكريم، والسنة المطهرة، والسيرة العطرة،
وكلام أهل السنة قديمَا وحديثَا.
2 - بينت مواضع الآيات التي وردت في البحث بذكر اسم السورة، ورقم الآية في الهامش، مع
--------------------------------------------
উম্মাহর সুদৃঢ় আকিদার প্রতি আমাদের প্রত্যাশা যা কোনো ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে বিচলিত হয় না। যদি তার আকিদা এবং ইসলামি শরিয়তের প্রতি ঈমানের দৃঢ়তা না থাকত, তবে অনেক আগেই এর ফলাফল ভয়াবহ হতো। তবে এটি পরাক্রমশালী প্রতিপালকের ওয়াদা: {নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি তার সংরক্ষণকারী} (১)। আর এটি প্রাচীন ও আধুনিক যুগের সেই পথভ্রষ্ট দলগুলোর মোকাবিলায় একটি বিনীত প্রয়াস, যারা আমাদের দীপ্তিময় শরিয়তের সমালোচনা করে এবং এতে বিদ্যমান হদসমূহের কারণে একে কঠোরতার অপবাদ দেয়। এটি সুন্নাহ (سنة) এর শত্রুদের দাঁতভাঙা জবাব; যারা কুরআনের সাথে বিরোধপূর্ণ হওয়ার অজুহাতে বিবাহিত ব্যভিচারীর জন্য রজম এবং মুরতাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে অস্বীকার করে।
আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির নিমিত্তে এবং তাঁর দীপ্তিময় শরিয়তের সহায়তায় আমি এই পঙ্ক্তিগুলো লিখছি, যা
ছয়টি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব বর্ণনায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যামূলক দায়িত্ব যে হিকমত তথা প্রজ্ঞাকে নির্দেশ করে তা বর্ণনায়, আর তা হলো পবিত্র সুন্নাহ (سنة مطهرة)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) উভয় ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের আবশ্যকতা বর্ণনায়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র সুন্নাহ (سنة مطهرة) এর অনুসরণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করাই যে মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ তাওহীদ তা বর্ণনায়।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কুরআনে বর্ণিত ব্যভিচারীর দণ্ডের বিষয়ে সুন্নাহ (سنة) এর বর্ণনা এবং সংশয় নিরসন প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুরআনে বর্ণিত ধর্মত্যাগের দণ্ডের বিষয়ে সুন্নাহ (سنة) এর বর্ণনা এবং সংশয় নিরসন প্রসঙ্গে।
উপসংহার: গবেষণার ফলাফল, প্রস্তাবনা, সুপারিশমালা এবং বিষয়সূচি।
আমার গবেষণা পদ্ধতি:1-আমি এই গবেষণায় প্রাচীন ও আধুনিক যুগের পথভ্রষ্ট ও প্রবৃত্তি পূজারীদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সেই সকল সংশয় ও অভিযোগ আলোচনা করেছি, যা আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) এর সমালোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমি এর সাথে সেই চূড়ান্ত জবাবও যুক্ত করেছি যা উক্ত সংশয় ও অভিযোগসমূহের অসারতা ও ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করে। এক্ষেত্রে আমি পবিত্র কুরআন, পবিত্র সুন্নাহ (سنة مطهرة), সুগন্ধিময় সীরাত (سيرة) এবং প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আহলে সুন্নাহর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি।
2 - আমি গবেষণায় ব্যবহৃত আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সূরার নাম এবং আয়াতের নম্বর পাদটীকায় উল্লেখ করার সাথে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
وضع الآية بين قوسين.
3- عزوت الأحاديث التى أوردتها فى البحث إلي مصادرها الأصلية، من كتب السنة المعتمدة،
فإن كان الحديث فى الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بالعزو إليهما، بذكر اسم الكتاب، واسم
الباب، وذكر الجزء والصفحة ورقم الحديث، وأقدم فى التخريج من ذكرت لفظه، مع البيان غالباً لدرجة الحديث، من خلال أقوال أهل العلم بالحديث، أو دراستى للسند، إن كان الحديث فى غير الصحيحين، وفيما عدا ذلك اقتصر على ما يفيد ثبوت الحديث أورده.
4 - اعتمدت فى التخريج من الصحيحين على طبعتى البخارى "بشرح فتح البارى" لابن حجر،
والمنهاج "شرح صحيح مسلم" للنووى، لصحة متون الأحاديث فى الشرحين، ولصحة
عرضهما على أصول الصحيحين، وتسهيلاً للقارئ لكثرة تداول تلك الشروح، وإتماماً
للفائدة بالإطلاع على فقه الحديث المخرَّج.
5 - التزمت عند النقل من أى مرجع، أوالإستفادة منه الإشارة إلى رقم جزئه وصفحته
بالإضافة إلى ذكر طبعات المراجع فى الفهرست.
6 - عند النقل من فتح البارى، أو المنهاج شرح مسلم للنووى، أذكر رقم الجزء والصفحة
ورقم الحديث الوارد فيه الكلام المنقول، تيسيراً للوصول إلى الكلام المنقول، نظراً
لاختلاف رقم الصفحات تبعاً للطبعات المتعددة.
7 - اكتفيت فى تراجم الأعلام من الصحابة بذكر مصادر تراجمهم بذكر رقم الجزء والصفحة
ورقم الترجمة، ولم أترجم لهم لعدالتهم جميعا، ولم أخالف فى ذلك إلا فى القليل عندما
تقتضى الترجمة الدفاع عن شبهة.
8 - ترجمت لكثير من الأعلام الذين جرى نقل شئ من كلامهم، مع ذكر مصادر تراجمهم،
بذكر رقم الجزء والصفحة ورقم الترجمة.
9 - شرحت المفردات الغريبة التى وردت فى بعض الأحاديث مستعيناً فى ذلك بكتب غريب الحديث، ومعاجم اللغة، وشروح الحديث.
والله عز وجل أسال أن ينفع بما كتبت، وأن يتقبله خالصَا لوجهه الكريم.
আয়াতসমূহ বন্ধনীতে রাখা হয়েছে।
3- গবেষণায় উল্লেখিত হাদিসগুলোকে আমি সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য মূল উৎসগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
যদি হাদিসটি সহীহাইন অথবা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু সেই গ্রন্থদ্বয়ের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি; এক্ষেত্রে কিতাব ও পরিচ্ছেদের নাম এবং খণ্ড, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি। আর তাকরিজ (تخريج) করার ক্ষেত্রে আমি সেই গ্রন্থের বর্ণনা আগে উল্লেখ করেছি যার শব্দ বিন্যাস আমি গ্রহণ করেছি। যদি হাদিসটি সহীহাইন ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে সাধারণত হাদিস বিশারদদের বক্তব্য অথবা সনদ (سند) পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি হাদিসের মান (درجة الحديث) স্পষ্ট করেছি। এর বাইরে হাদিসটি সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) সপক্ষে যা সহায়ক হয় আমি তা উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
4 - সহীহাইন থেকে তাকরিজ (تخريج) করার ক্ষেত্রে আমি ইবনে হাজারের "ফাতহুল বারী" ব্যাখ্যাসহ বুখারি এবং ইমাম নববীর "আল-মিনহাজ" শারহে সহীহ মুসলিমের মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছি। কারণ এই উভয় ব্যাখ্যাগ্রন্থে হাদিসের মতন (متن) সমূহ নির্ভুল এবং সহীহাইনের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে সেগুলোর উপস্থাপনা সঠিক। এছাড়া পাঠকদের কাছে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো বহুল প্রচলিত হওয়া এবং এর মাধ্যমে বর্ণিত হাদিসের ফিকহ সম্পর্কে অবগত হয়ে পূর্ণ সুফল অর্জনের লক্ষ্যে আমি এমনটি করেছি।
5 - যেকোনো সূত্র থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ বা তা থেকে উপকৃত হওয়ার সময় আমি তার খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করার নীতি অনুসরণ করেছি। এর পাশাপাশি নির্ঘণ্টে সূত্রগুলোর মুদ্রণ সংস্করণের উল্লেখ করা হয়েছে।
6 - ফাতহুল বারী অথবা ইমাম নববীর শারহে মুসলিম থেকে উদ্ধৃতির সময় আমি খণ্ড, পৃষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট আলোচনার হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি যাতে উদ্ধৃত কথাটি সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, কারণ মুদ্রণভেদে পৃষ্ঠা নম্বর ভিন্ন হয়ে থাকে।
7 - সাহাবীগণের জীবনী বর্ণনায় আমি জীবনীগ্রন্থের খণ্ড, পৃষ্ঠা ও জীবনীর ক্রমিক নম্বর উল্লেখের ওপর ক্ষান্ত হয়েছি। তাদের সকলের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) কারণে আমি বিস্তারিত জীবনী লিখিনি। তবে কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে কোনো সংশয় নিরসনে জীবনীর প্রয়োজন হলে আমি এর ব্যতিক্রম করেছি।
8 - অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যাদের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে তাদের জীবনী আমি উল্লেখ করেছি এবং সাথে জীবনীগ্রন্থের খণ্ড, পৃষ্ঠা ও জীবনীর ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি।
9 - কিছু হাদিসে বর্ণিত জটিল শব্দসমূহের (غريب) ব্যাখ্যা করেছি। এক্ষেত্রে আমি গারিবুল হাদিস (غريب الحديث) সংক্রান্ত গ্রন্থ, অভিধান এবং হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের সহায়তা নিয়েছি।
মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই লেখা দ্বারা উপকার করেন এবং একে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করে নেন।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
اللهم تقبل هذا العمل خالصاً لوجهك الكريم، اللهم اجعلني جنداً من جنود كتابك، جنداً من جنود سنة نبيك صلى الله عليه وسلم، اللهم لا تجعلني شقياً ولا محروماً، اللهم لا تعذب لساناً يخبر عنك، ولا عيناً تنظر إلى علوم تدل عليك، ولا قدماً تمشى إلى طاعتك، ولا يداً تكتب حديث رسولك وصفيك صلى الله عليه وسلم. اللهم لا تدخلنى النار، ولا تفضحنى فيها، فقد علم أهلها أنى كنت أذب عن دينك، وأدافع
عن شرعك، وأظهر مكانة وحيك، وأبين عظمة وعصمة نبيك وخليلك وصفيك صلى الله عليه وسلم.
اللهم اجعلنى وما عملت من عمل صالح فى ميزان أبوىَّ
واغفر لهما، وأكرمهما، وارحمهما كما ربيانى صغيراً
وألبسهما حلة الكرامة، وشفع فيهما كتابك ونبيك صلى الله عليه وسلم
… ... والحمد لله رب العالمين
وصلى الله على سيدنا ومولانا
محمد وعلى آله وصحبه وسلم
الراجى عفو ربه الغفور
أبو صلاح الدين
د/ عماد السيد الشربيني
مدرس الحديث وعلومه
بكلية أصول الدين القاهرة
جامعة الأزهر
হে আল্লাহ! আপনার মহান সন্তুষ্টির নিমিত্তে এই আমলটি কবুল করুন। হে আল্লাহ! আমাকে আপনার কিতাবের সৈনিকদের অন্তর্ভুক্ত একজন সৈনিক এবং আপনার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর একজন সৈনিক হিসেবে কবুল করুন। হে আল্লাহ! আমাকে হতভাগা বা বঞ্চিত করবেন না। হে আল্লাহ! এমন জিহ্বাকে আযাব দেবেন না যা আপনার সম্পর্কে সংবাদ দেয়, এমন চোখকে শাস্তি দেবেন না যা আপনার দিকে পথপ্রদর্শনকারী ইলমসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করে, এমন পদযুগলকে আযাব দেবেন না যা আপনার আনুগত্যের পথে ধাবিত হয় এবং এমন হাতকে শাস্তি দেবেন না যা আপনার রাসূল ও মনোনীত বান্দার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদিস লিপিবদ্ধ করে। হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন না এবং সেখানে আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না; কেননা জাহান্নামবাসীরা অবগত আছে যে আমি আপনার দ্বীনকে হেফাযত করতাম এবং প্রতিরক্ষা করতাম
আপনার শরীয়তের, আপনার ওহীর মর্যাদা সমুন্নত করতাম এবং আপনার নবী, খলীল ও মনোনীত বান্দার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহিমা ও নিষ্পাপত্ব (عصمة) বর্ণনা করতাম।
হে আল্লাহ! আমাকে এবং আমার কৃত নেক আমলসমূহকে আমার পিতামাতার মিজানের পাল্লায় শামিল করুন
এবং তাঁদের ক্ষমা করুন, তাঁদের সম্মানিত করুন এবং তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন
এবং তাঁদের সম্মানের পোশাক পরিধান করান এবং তাঁদের ব্যাপারে আপনার কিতাব ও আপনার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুপারিশ কবুল করুন
… ... এবং সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক
মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর
তাঁর অতিশয় ক্ষমাশীল রবের ক্ষমার প্রত্যাশী
আবু সালাহুদ্দীন
ড. ইমাদ আল-সাইয়্যিদ আল-শারবিনী
হাদিস ও এর বিজ্ঞানসমূহের (علومه) শিক্ষক
উসুল আদ-দীন অনুষদ, কায়রো
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الأول: في بيان مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم في رسالتهكما حددها رب العزة في كتابه
…طعن أعداء السنة المطهرة، في دور رسول الله صلى الله عليه وسلم فى تبليغ الوحي، وحصروا بلاغه في الرسالة، على تبليغ القرآن الكريم فقط، وقالوا هى مهمته الوحيدة، وعدوا القول بخلاف قولهم اتهام لرسول الله صلى الله عليه وسلم، بأنه فرط فى تبليغ الوحى.
…وجاءت
أقوالهم فيما يفترون صريحة، وإليك نماذج منها:
قال رشاد خليفة (1) : "إن مهمة الرسول الوحيدة: هى تبليغ القرآن بدون أى تغيير، أو إضافة، أو اختزال، أو شرح" (2) .
وقال فى موضع آخر: "أمر محمد بتبليغ القرآن فقط بدون أى تغيير، وألا يختلق أى
شئ آخر".
ويقول: "محمد ممنوع من التفوه بأى تعالىم دينية سوى القرآن" (3) .
ويقول محمد نجيب (4) : "نسبة أى شئ للرسول غير القرآن طعن فى أمانة الرسول صلى الله عليه وسلم" (5)
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর রিসালতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনায়যেভাবে প্রতাপশালী প্রতিপালক তাঁর কিতাবে তা নির্ধারণ করেছেন
…পবিত্র সুন্নাহর শত্রুরা ওহি প্রচারের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভূমিকার ওপর অপবাদ আরোপ করেছে এবং তারা তাঁর ওহি প্রচারের বিষয়টিকে কেবল আল-কুরআন প্রচারের মাঝেই সীমাবদ্ধ করেছে। তারা বলেছে যে, এটাই তাঁর একমাত্র দায়িত্ব এবং তাদের এই বক্তব্যের বিপরীতে অন্য কোনো কথা বলাকে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহি প্রচারে অবহেলা করার অপবাদ হিসেবে গণ্য করেছে।
…তাদের এই মিথ্যাচারের সপক্ষে তাদের
বক্তব্যসমূহ স্পষ্ট, নিচে এর কিছু নমুনা দেওয়া হলো:
রশাদ খলিফা (১) বলেছেন: "রাসূলের একমাত্র দায়িত্ব হলো কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংকোচন বা ব্যাখ্যা ছাড়াই কুরআন প্রচার করা" (২)।
তিনি অন্য এক জায়গায় বলেছেন: "মুহাম্মদকে কেবল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই কুরআন প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি যেন অন্য কোনো কিছু উদ্ভাবন না করেন।"
তিনি আরও বলেন: "কুরআন ছাড়া অন্য কোনো ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের বিষয়ে মুহাম্মদকে নিষেধ করা হয়েছে" (৩)।
মুহাম্মদ নাজিব (৪) বলেন: "কুরআন ছাড়া অন্য যেকোনো কিছু রাসূলের দিকে সম্বন্ধ করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমানতদারিতার ওপর অপবাদ আরোপ করার নামান্তর" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
ويقول أحمد صبحى منصور (1) : "إن إسناد قول ما للنبى وجعله حقيقة دينية هو اتهام للنبى بأنه فرط فى تبليغ الرسالة
… بإيجاز كانت مهمة النبى مقتصرة على التبليغ دون الإفتاء والتشريع" (2) .
ويقول إسماعيل منصور (3) : "إنه ليس لجبريل عليه السلام فى القرآن الكريم دور إلا النقل الأمين فحسب، كما أنه ليس لمحمد فيه دور كذلك إلا البلاغ الصادق وحده.
قال تعالى: {إن عليك إلا البلاغ} (4) وقال سبحانه: {وما على الرسول إلا البلاغ
المبين} (5) .
ويقول جمال البنا (6) : "ونصوص القرآن الكريم واضحة، وصريحة، ومتعددة، وهى تحصر
--------------------------------------------
আহমেদ সুবহি মানসুর (১) বলেন: "নবীজির প্রতি কোনো কথাকে সম্বন্ধযুক্ত করা (إسنাদ) এবং সেটাকে ধর্মীয় সত্য হিসেবে গণ্য করা মূলত নবীজির ওপর এই অপবাদ দেওয়া যে, তিনি রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা করেছেন… সংক্ষেপে, নবীজির দায়িত্ব কেবল প্রচারের (البلاغ) মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, ফতোয়া প্রদান বা বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে নয়" (২)।
ইসমাইল মানসুর (৩) বলেন: "কুরআন মাজীদে জিবরাইল (আ.)-এর আমানতদারিতার সাথে পৌঁছে দেওয়া (النقل) ছাড়া অন্য কোনো ভূমিকা নেই, তেমনি মুহাম্মদ (সা.)-এরও সেখানে একমাত্র সত্যনিষ্ঠ প্রচার (البلاغ) ছাড়া আর কোনো ভূমিকা নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার ওপর তো কেবল পৌঁছে দেওয়ার (البلاغ) দায়িত্ব} (৪) এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া (البلاغ المبين)} (৫)।
জামাল আল-বান্না (৬) বলেন: "কুরআন মাজীদের পাঠসমূহ (نصوص) সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং বহুমুখী, আর সেগুলো সীমাবদ্ধ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
دور الرسول فى البلاغ، وكثيراً ما تأتى الإشارة إلى البلاغ بصيغة الحصر، ولكنها فى
حالات أخرى تضيف إلى البلاغ صفة "المبين"
قال تعالى: {وإن تولوا فإنما عليك البلاغ} (1) وقال سبحانه: {فإن توليتم فإنما على
رسولنا البلاغ المبين} (2) .
و
يجاب عن هذه المزاعم بما يلي:أولاً: لكل مسلم أن يعجب من جراءة هؤلاء الأدعياء الذين يتسترون بعباءة القرآن الكريم، فى جرأتهم وتطاولهم على الذات العليا من حيث يشعرون أو لا يشعرون.
… إذ بعثة الرسول أو النبى، وتحديد دوره فى رسالته أمر لا يملك منه أحد شئ سوى الخالق
عز وجل؛ وتلك بديهة لا يخالفها عاقل.
فإذا جاء أعداء السنة المطهرة، وزعموا أن مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم قاصرة على بلاغ القرآن
فقط، وأن نسبة أى شئ إليه سوى القرآن يعنى الطعن فى أمانته، وأنه فرط فى تبليغ
الرسالة، فقد تجرءوا وتطاولوا على ربهم جل جلاله. حاسبهم سبحانه بما يستحقون.
ثانياً: إذا كان أعداء السنة المطهرة والسيرة العطرة اتخذوا لأنفسهم شعار "القرآنيون" يستدلون به وحده على ما يزعمون؛ فهم يحرصون دائماً على الإيمان ببعض القرآن، والكفر ببعضه الآخر.
--------------------------------------------
পছন্দসই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার (البلاغ) ক্ষেত্রে রাসূলের ভূমিকা; অনেক সময় এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সীমাবদ্ধতার (الحصر) ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে বার্তা পৌঁছানোর সাথে "সুস্পষ্ট" (المبين) বিশেষণটি যুক্ত করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া} (১) এবং তিনি পবিত্র সত্তা বলেন: {যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো যে, আমাদের রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া (البلاغ المبين)} (২)।
এই সব ভিত্তিহীন দাবির উত্তর নিম্নরূপ:প্রথমত: প্রত্যেক মুসলমান এই সব স্বঘোষিত দাবিদারদের দুঃসাহস দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতে পারেন, যারা কুরআনুল কারীমের আবরণে নিজেদের আত্মগোপন করে রেখেছে। তারা সচেতনভাবে বা অবচেতনভাবে মহান সত্তার প্রতি ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করছে।
… কেননা রাসূল বা নবীর প্রেরণ এবং তাঁর রিসালাতের ভূমিকা নির্ধারণ করা এমন একটি বিষয়, যা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ব্যতীত আর কারও এখতিয়ারভুক্ত নয়; আর এটি এমন এক স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যার সাথে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দ্বিমত পোষণ করেন না।
সুতরাং পবিত্র সুন্নাহর শত্রুরা যখন আসে এবং দাবি করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব কেবল কুরআনের বাণী পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এবং কুরআন ব্যতীত তাঁর দিকে অন্য কিছু সম্পৃক্ত করা মানেই তাঁর আমানতদারিতে আঘাত করা এবং তিনি রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি করেছেন—তবে তারা মূলত তাদের মহান রবের প্রতি ধৃষ্টতা ও অবমাননা প্রদর্শন করেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের প্রাপ্য হিসেব গ্রহণ করবেন।
দ্বিতীয়ত: পবিত্র সুন্নাহ এবং সুবাসিত সীরাতের শত্রুরা যদি নিজেদের জন্য "কুরআনি" (القرآنيون) পরিভাষাটিকে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করে থাকে, যা দিয়ে তারা কেবল তাদের দাবির পক্ষে দলিল দেয়; তবে তারা মূলত কুরআনের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনতে এবং অন্য অংশকে অস্বীকার করতে সচেষ্ট থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
حيث أنهم هنا فى افتراءاتهم يستدلون بظاهر وعموم بعض الآيات القرآنية التى تحث رسول الله صلى الله عليه وسلم، على البلاغ، وتركوا باقى نصوص القرآن الكريم التى تفصل حقيقة هذا البلاغ، وتفصل أيضاً باقى أدوار رسول الله صلى الله عليه وسلم، فى رسالته! .
الأدلة من القرآن الكريم علي أن لرسول الله صلى الله عليه وسلم في رسالته مهمة غير بلاغ القرآن فقط.
… وإليك شواهد من الآيات القرآنية ترد على افتراءاتهم، وتبين فى وضوح وجلاء أن دور
رسول الله صلى الله عليه وسلم فى رسالته ليس قاصراً على بلاغ القرآن الكريم فقط.
وإنما بيان هذا الكتاب الكريم، وإخراج الناس من الظلمات إلى النور، وتزكيتهم، والحكم بينهم فى كل شأن من شئون حياتهم.
وما كل ذلك إلا بالسنة المطهرة، والسيرة العطرة التى ينكرونها.
قال تعالى: {يا أيها الرسول بلغ ما أنزل إليك من ربك} (1) والبلاغ الذى أمر المولى عز وجل به رسوله، هو الوظيفة الأولى له صلى الله عليه وسلم وهو بلاغ عام وشامل لكل ما تحتاج إليه البشرية فى عاجلها وآجلها، ودنياها وأخراها.
وقد وصل إلينا هذا البلاغ فى وحيين:
أحدهما: متلو وهو القرآن الكريم.
وثانيهما: غير متلو وهو السنة المطهرة.
… ويدل على عموم البلاغ، عموم الاسم الموصول "ما" فى الآية الكريمة، كما عمم من أراد تبليغهم، حيث حذف المفعول الأول لـ "بلغ" ليعم الخلق المرسل إليهم.
والتقدير: بلغ جميع ما أنزل إليك من كتاب وسنة، من يحتاج إلى معرفته من أمر الدين الموحى به إليك (2) .
--------------------------------------------
যেহেতু তারা এখানে তাদের মিথ্যা অপবাদগুলোতে পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াতের প্রকাশ্য (ظاهر) ও ব্যাপক (عموم) অর্থের মাধ্যমে দলিল পেশ করে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেবল বাণী পৌঁছে দেওয়ার (بلاغ) নির্দেশ দেয়; অথচ তারা পবিত্র কুরআনের অবশিষ্ট নস বা দলিলাদি (نصوص) বর্জন করেছে যা এই প্রচারের (بلاغ) প্রকৃত রূপ ব্যাখ্যা করে এবং তাঁর রিসালাতের (رسالة) ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য ভূমিকারও বিস্তারিত বিবরণ দেয়! .
পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের (رسالة) দায়িত্ব কেবল কুরআনের প্রচারের (بلاغ) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় শুধু।
… আপনার সামনে পবিত্র কুরআনের কিছু প্রমাণ পেশ করা হলো যা তাদের অপবাদসমূহ খণ্ডন করে এবং অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভূমিকা তাঁর রিসালাতের (رسالة) ক্ষেত্রে কেবল পবিত্র কুরআনের প্রচারের (بلاغ) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বরং এই মহান কিতাবের ব্যাখ্যা (بيان) প্রদান করা, মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনা, তাদের পরিশুদ্ধ (تزكية) করা এবং তাদের জীবনের প্রতিটি বিষয়ে বিচার-মীমাংসা করাও তাঁর দায়িত্ব।
আর এ সবকিছুই কেবল পবিত্র সুন্নাহ (سنة) এবং সেই সুগন্ধময় সীরাতের মাধ্যমেই সম্ভব যা তারা অস্বীকার করে।
মহান আল্লাহ বলেন: {হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন} (১)। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে যে প্রচারের (بلاغ) নির্দেশ দিয়েছেন, তা হলো তাঁর প্রথম দায়িত্ব। আর এটি মানবজাতির ইহকালীন ও পরকালীন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রয়োজনের জন্য একটি ব্যাপক (عام) ও সর্বজনীন প্রচার (بلاغ)।
আর এই প্রচার (بلاغ) আমাদের কাছে দুই প্রকার ওহীর (وحي) মাধ্যমে পৌঁছেছে:
প্রথমটি: তিলাওয়াতকৃত (متلو), যা হলো পবিত্র কুরআন।
দ্বিতীয়টি: তিলাওয়াতবিহীন (غير متلو), যা হলো পবিত্র সুন্নাহ (سنة)।
… আর এই প্রচারের (بلاغ) ব্যাপকতা (عموم) নির্দেশ করে পবিত্র আয়াতে ব্যবহৃত ইসম মাউসুল (اسم موصول) "মা" (ما)-এর ব্যাপকতা (عموم), যেমনটি যাদের কাছে প্রচার করা হবে তাদের ক্ষেত্রটিকেও ব্যাপক করা হয়েছে; যেখানে 'বাল্লিগ' (بلغ) ক্রিয়ার প্রথম কর্মপদটি (مفعول) উহ্য রাখা হয়েছে যাতে তা প্রেরিত সকল সৃষ্টির জন্য ব্যাপক (عام) হয়।
আর এর নিহিতার্থ হলো: আপনার প্রতি কিতাব ও সুন্নাহ (سنة) থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তার সবটুকুই পৌঁছে দিন তাদের কাছে, যাদের এই ওহী (وحي) ভিত্তিক দ্বীনি বিষয়াদি জানার প্রয়োজন রয়েছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
.. أما كون رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما نص القرآن، ما عليه إلا البلاغ، والاستدلال بظاهر ذلك على حصر مهمته فى بلاغ القرآن فقط، فإن ذلك فهم غير مراد؛ لأن قوله تعالى: {ما على الرسول إلا البلاغ} (1) معناه نفى الإكراه على الاعتقاد والإيمان، نحو قوله تعالى: {قل يا أيها الناس قد جاءكم الحق من ربكم فمن اهتدى فإنما يهتدى لنفسه ومن ضل فإنما يضل عليها وما أنا عليكم بوكيل} (2) وقال سبحانه: {فإن أعرضوا فما أرسلناك عليهم حفيظاً إن عليك إلا البلاغ} (3) والمعنى: نفى الإكراه على الإعتقاد والإيمان.
ففى العقيدة والتصديق القلبى، لا إكراه، أى ليس هناك إلا البلاغ.
أما فى شريعة الدولة والسياسة والاجتماع والمعاملات، فهناك السلطان والثواب والعقاب، وليس هناك أدنى تناقض بين وقوف سلطان الرسول صلى الله عليه وسلم، فى العقيدة عند البلاغ؛ {لا إكراه فى الدين قد تبين الرشد من الغى} (4) وبين وجود ووجوب الطاعة المتميزة له، فى إطار بيان وتطبيق الوحى الإلهى
…بل إن القرآن الكريم يجمع بين الأمرين فى الآية الواحدة. وتأمل قوله تعالى: {قل أطيعوا الله وأطيعوا الرسول فإن تولوا فإنما عليه ما حمل وعليكم ما حملتم وإن تطيعوه تهتدوا وما على الرسول إلا البلاغ المبين} (5) فالرسول الله صلى الله عليه وسلم، طاعة متميزة وسلطان وتشريع لإقامة الدين، والإقامة تطبيق وتجسيد، يزيد على مجرد البلاغ والتبليغ بدليل ما يلي:
قوله تعالى: {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون} (6) و"التبيين" هنا غير "التبليغ" الذى هو الوظيفة الأولى للنبى صلى الله عليه وسلم، {يا أيها الرسول بلغ ما أنزل إليك من ربك} (7) .
--------------------------------------------
.. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষেত্রে কুরআনে যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ), এবং এর বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে তাঁর মিশনকে কেবল কুরআনের বাণীর প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত উপলব্ধি; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ)} (১)-এর অর্থ হলো আকিদা ও ঈমানের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতাকে অস্বীকার করা, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: {বলুন, হে লোকসকল! তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সত্য পৌঁছে গেছে; সুতরাং যে হেদায়েতের পথ অবলম্বন করবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করবে, আর যে পথভ্রষ্ট হবে সে নিজের ধ্বংসের জন্যই পথভ্রষ্ট হবে, আর আমি তোমাদের ওপর কোনো কর্মবিধায়ক নই} (২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি, আপনার দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ)} (৩)। আর এর অর্থ হলো: আকিদা ও ঈমানের ক্ষেত্রে জবরদস্তি দূর করা।
সুতরাং আকিদা এবং আন্তরিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কোনো জবরদস্তি নেই, অর্থাৎ সেখানে কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ)-ই কার্যকর।
তবে রাষ্ট্রীয় শরিয়ত, রাজনীতি, সমাজ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব এবং পুরস্কার ও শাস্তি বিদ্যমান। আকিদার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্তৃত্ব 'পৌঁছে দেওয়া' (البلاغ)-র স্তরে সীমাবদ্ধ থাকা—{দীনের ক্ষেত্রে কোনো জবরদস্তি নেই, নিশ্চয়ই সত্য পথ ভ্রান্তি থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে} (৪)—এবং ঐশী ওহির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য একটি বিশেষ ও অপরিহার্য আনুগত্য থাকার মধ্যে সামান্যতম কোনো বৈপরীত্য নেই
…বরং কুরআন মাজিদ একই আয়াতের মধ্যে এই উভয় বিষয়কে একত্রিত করেছে। মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন: {বলুন, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো; অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তিনিই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে; আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া (البلاغ المبين)} (৫)। সুতরাং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য রয়েছে একটি স্বতন্ত্র আনুগত্য, কর্তৃত্ব এবং দীন প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান প্রণয়ন; আর এই প্রতিষ্ঠা হলো বাস্তব প্রয়োগ ও রূপদান, যা কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ) এবং প্রচারের (التبليغ) চেয়েও অতিরিক্ত বিষয়, যার প্রমাণ নিম্নরূপ:
মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আপনার প্রতি জিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা তাদের নিকট ব্যাখ্যা (التبيين) করে দেন এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} (৬)। এখানে 'ব্যাখ্যা করা' (التبيين) বিষয়টি 'পৌঁছে দেওয়া' (التبليغ) থেকে ভিন্ন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাথমিক দায়িত্ব হিসেবে গণ্য: {হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন (بلغ)} (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
و"التبيين" و"التبليغ" وظيفتان موضوعهما واحد هو "القرآن الكريم" عبر عنه فى آية "التبليغ"
بهذا اللفظ: {ما أنزل إليك} وعبر عنه فى آية التبيين بلفظ مختلف: {ما نزل إليهم}
وبينهما فروق لها دلالتها. مردها إلى الفرق بين الوظيفتين.
"فالتبليغ": تأدية النص، تأدية "ما أنزل" كما "أنزل" دون تغيير ما على الإطلاق، لا زيادة ولا نقصان، ولا تقديم ولا تأخير.
و"التبيين": إيضاح، وتفسير، وكشف لمراد الله من خطابه لعباده، كى يتسنى لهم إدراكه، وتطبيقه، والعمل به على وجه صحيح.
"والتبليغ": مسئولية "المبلغ" وهو المؤتمن عليها، وهذا سر التعبير: {وأنزلنا إليك} حيث عدى الفعل "أنزل" بـ "إلى" إلى ضمير النبى صلى الله عليه وسلم المخاطب.
و"التبيين": مهمة، فرضتها حاجة الناس لفهم ما خوطبوا به وبلغوه، وإدراك دلالته الصحيحة، ليطبقوه تطبيقاً صحيحاً.
ومن هنا كانت المخالفة فى العبارة
… "نزل إليهم" حيث عدى الفعل "نزل" بـ "إلى" مضافاً إلى الضمير "هم" أى الناس، وعدى الفعل: "لتبين" إلى الناس بـ "اللام" أن كانت حاجتهم إلى "التبيين" هى السبب والحكمة من ورائه، وهى توحى بقوة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ليس بحاجة إلى ما احتاج إليه الناس من هذا التبيين.
ولعمرى إنه لكذلك، فقد أوحى إليه بيانه وألهمه، فالتقى فى نفسه "البيان" و"المبين" معاً وأصبح مؤهلاً لأن يقوم بالوظيفتين: وظيفة البلاغ، ووظيفة التبيين على سواء! .
وكما أن محالاً أن يكتم رسول الله صلى الله عليه وسلم، شيئاً مما أمر بتبليغه، فمحال أن يترك شيئاً مما أمر بتبليغه دون أن يبينه، فكلا الأمرين: التبليغ والتبيين من صميم رسالته: {بلغ ما أنزل إليك}
… {لتبين للناس ما نزل إليهم} .
"স্পষ্টীকরণ (تبيين)" এবং "পৌঁছে দেওয়া (تبليغ)" হলো দুটি দায়িত্ব, যাদের বিষয়বস্তু অভিন্ন আর তা হলো "আল-কুরআনুল কারিম"। "পৌঁছে দেওয়া (تبليغ)" সংক্রান্ত আয়াতে একে এই শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে:
এই শব্দে: {যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} এবং স্পষ্টীকরণ সংক্রান্ত আয়াতে একে ভিন্ন শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে: {যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে}
এই দুইয়ের মাঝে কিছু পার্থক্য রয়েছে যার সুগভীর অর্থবহতা বিদ্যমান। আর এর মূলে রয়েছে দায়িত্ব দুটির মধ্যকার পার্থক্য।
"পৌঁছে দেওয়া (تبليغ)" হলো: মূল পাঠ (نص) পৌঁছে দেওয়া; "যা অবতীর্ণ হয়েছে" তা ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দেওয়া যেভাবে তা "অবতীর্ণ হয়েছে", কোনো প্রকার পরিবর্তন ব্যতিরেকে—তাতে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন এবং কোনো অগ্রায়ন বা পশ্চাদায়ন ছাড়াই।
আর "স্পষ্টীকরণ (تبيين)" হলো: মহান আল্লাহর তাঁর বান্দাদের প্রতি সম্বোধনের উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করা, ব্যাখ্যা করা এবং উন্মোচন করা; যাতে তাদের পক্ষে তা উপলব্ধি করা, প্রয়োগ করা এবং সঠিকভাবে তার ওপর আমল করা সম্ভব হয়।
"পৌঁছে দেওয়া (تبليغ)" হলো "প্রচারকারী (مبلغ)"-এর জিম্মাদারি এবং তিনি এর ওপর আমানতদার। আর এটাই হলো এই বাচনভঙ্গির রহস্য: {আর আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি}, যেখানে "অবতীর্ণ করা" ক্রিয়াটিকে 'ইলা' (প্রতি) অব্যয়ের মাধ্যমে সম্বোধিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সর্বনামের দিকে ধাবিত করা হয়েছে।
এবং "স্পষ্টীকরণ (تبيين)" হলো একটি মহৎ দায়িত্ব, যা মানুষের সেই বিষয়গুলো বোঝার প্রয়োজনের তাগিদে অর্পিত হয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে এবং যা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে; যাতে তারা এর সঠিক মর্ম অনুধাবন করতে পারে এবং তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে।
আর এখান থেকেই বাক্যের ভিন্নতা সূচিত হয়েছে
… "যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে", যেখানে "অবতীর্ণ হওয়া" ক্রিয়াটিকে 'ইলা' (প্রতি) অব্যয় সহযোগে "হুম" (তারা) অর্থাৎ মানুষের সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আর "যাতে তুমি স্পষ্ট করে দাও" ক্রিয়াটিকে মানুষের দিকে 'লাম' (জন্য) অব্যয়ের মাধ্যমে ধাবিত করা হয়েছে; কেননা তাদের "স্পষ্টীকরণ (تبيين)"-এর প্রয়োজনই ছিল এর পেছনের কারণ ও হিকমত। এটি প্রবলভাবে এই ইঙ্গিত দেয় যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের এই স্পষ্টীকরণের মুখাপেক্ষিতার ঊর্ধ্বে ছিলেন।
আমার জীবনের কসম! বিষয়টি ঠিক এমনই। কারণ তাঁর প্রতি এর বর্ণনা (بيان) প্রত্যাদেশ করা হয়েছে এবং তাঁর হৃদয়ে সঞ্চার করা হয়েছে। ফলে তাঁর সত্তায় "বর্ণনা (بيان)" এবং "বর্ণিত বিষয় (مبين)" একত্রে মিলিত হয়েছে এবং তিনি উভয় দায়িত্ব পালনের পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছেন: প্রচারের দায়িত্ব এবং স্পষ্টীকরণের দায়িত্ব সমভাবে পালন করার!
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষে যেমন এটি অসম্ভব যে তিনি প্রচারের জন্য আদিষ্ট কোনো বিষয় গোপন করবেন, তেমনি এটিও অসম্ভব যে তিনি প্রচারের জন্য আদিষ্ট কোনো বিষয় তার স্পষ্টীকরণ (تبيين) প্রদান করা ছাড়া ছেড়ে দেবেন। কারণ উভয় বিষয়—পৌঁছে দেওয়া (تبليغ) এবং স্পষ্টীকরণ (تبيين)—তাঁর রিসালাত (رسالة)-এর মূল ভিত্তি: {তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দাও}
… {যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দাও যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে}।
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
واختلاف الناس فى فهم القرآن ما بين مصيب ومخطئ
… واختلافهم فى درجات الإصابة، ودرجات الخطأ
… برهان بين على حاجتهم إلى "تبيين" لكتاب ربهم، ينهض به إمام الموقعين عن رب العالمين
… رسول الله الذى أنزل عليه هذا الكتاب.
هنا يقع قول الله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا} (1) موقعاً يسد كل ثغرة، يحاول النفاذ منها من يرفض "سنة رسول الله" أو يهون من شأنها، أو يسعى للتشكيك فيها، وإسقاط حجيتها وإلزامها.
ويقع نفس الموقع قول النبى صلى الله عليه وسلم: "لا ألفين أحدكم متكئاً على أريكته يأتيه أمر مما أمرت به أو نهيت عنه، فيقول: لا أدرى؟ ما وجدنا فى كتاب الله اتبعناه" (2) .
وهنا لى أن أقرر: أن
إنكار مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم، البيانية، أو رفضها أو التشكيك فيها ينطوى على رفض وتكذيب للقرآن نفسه؟.
{كبرت كلمة تخرج من أفواههم إن يقولون إلا كذباً} (3) .
كما ينطوى على الطعن فى عصمة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فى بلاغ وحى الله تعالى إليه، لأن
ترك تبيين كلمة واحدة فى القرآن الكريم، تحتاج إلى تبيين دون أن يبينها تقصير، ككتمان
حرف واحد مما أمر بتبليغه، ورسول الله صلى الله عليه وسلم مبرأ من أن يخون فى التبليغ، أو يقصر فى
التبيين.
فمن المتهم إذن: باتهام رسول الله صلى الله عليه وسلم، بأنه فرط فى تبليغ رسالته؟ من يؤمن بأن من
--------------------------------------------
কুরআন অনুধাবনে মানুষের মাঝে নির্ভুলতা ও ভুলের পার্থক্য
… এবং নির্ভুলতা ও ভুলের স্তরের তারতম্য
… তাদের প্রতিপালকের কিতাবের 'ব্যাখ্যা' (تبيين)-এর প্রতি তাদের মুখাপেক্ষিতার এক সুস্পষ্ট প্রমাণ; যে দায়িত্ব বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বিধান বর্ণনাকারীদের ইমাম আঞ্জাম দিয়ে থাকেন
… অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল, যাঁর ওপর এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে।
এখানে মহান আল্লাহর বাণী: {আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১) এমন এক স্থানে উপনীত হয়েছে যা সেই প্রতিটি ছিদ্রপথ বন্ধ করে দেয়, যেখান দিয়ে রাসূলুল্লাহর সুন্নাহকে অস্বীকারকারী, এর মর্যাদাকে তুচ্ছজ্ঞানকারী, অথবা এতে সন্দেহ পোষণ করে এর প্রামাণিকতা (حجية) ও আবশ্যকতা (إلزام) নাকচ করতে প্রচেষ্টাকারী ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে চায়।
আর ঠিক একই স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি প্রযোজ্য হয়: "আমি যেন তোমাদের কাউকে অবশ্যই তার আসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার আদেশ বা নিষেধ সম্বলিত কোনো বিষয় পৌঁছল আর সে বলল: 'আমি জানি না; আল্লাহর কিতাবে আমরা যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি'।" (২)
এখানে আমি এ কথাটি সুনিশ্চিত করতে চাই যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
ব্যাখ্যামূলক (بيانية) দায়িত্ব অস্বীকার করা, প্রত্যাখান করা বা এতে সন্দেহ পোষণ করা খোদ কুরআনকেই অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নামান্তর।
{তাদের মুখ থেকে বের হওয়া শব্দটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলে} (৩)।
এছাড়াও এটি মহান আল্লাহর ওহী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষ্পাপত্ব (عصمة)-এর ওপর আঘাত হানে। কারণ
কুরআন মাজিদের একটি শব্দও যদি ব্যাখ্যার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তিনি ব্যাখ্যা না করে ছেড়ে দেন তবে তা ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে; যেমনটি তাঁর ওপর অর্পিত প্রচারের দায়িত্বের
একটি অক্ষরও গোপন করার মতো। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার খেয়ানত বা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার
ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
তাহলে কে সেই ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে তাঁর রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অবহেলার অপবাদ দেয়? যে বিশ্বাস করে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مهمته فى رسالته البيان أم من ينكر ذلك؟! .
إن إنكار أعداء السنة المطهرة، لهذه المهمة، بحجة أن المولى عز وجل تكفل بهذا البيان والتفصيل فى قوله: {ثم إن علينا بيانه} (1) وقوله سبحانه: {وهو الذى أنزل إليكم الكتاب مفصلاً} (2) وقوله: {ونزلنا عليك الكتاب تبياناً لكل شئ} (3) .
لا حجة لهم فى ذلك لما يلي:
أن مجئ لفظ البيان فى جانب الله تعالى: {ثم إن علينا بيانه} ، ومجئ لفظ "التبيين" فى جانب رسول الله، {لتبين للناس ما نزل إليهم} لا يفسر بأنه تنويع فى اللفظ، أو تفنن فى العبارة، وإنما هو قصد مقصود، وراءه دلالات يبحث عنها وهى:
أن "بيان" الله للقرآن إنما هو لنبيه صلى الله عليه وسلم.
ومصدره هو الله تعالى.
ومستقبله رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وطريقه: الوحى فى صورة ما من صورة.
أما "التبيين" فهو من رسول الله صلى الله عليه وسلم للناس.
ومصدره رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ومستقبله المخاطبون بهذا القرآن.
وطريقه إنما هو "اللغة" وليس "الوحى".
…والخلاصة: رسول الله يتلقى بيان القرآن عن ربه "وحياً" والناس يتلقون تبيينه عن رسول الله
"لغة وكلاماً".
إذن: هناك اختلاف بين "البيان" و"التبيين" من ثلاث جهات: من جهة المصدر، ومن جهة
--------------------------------------------
তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব কি সুস্পষ্ট বর্ণনা (بيان) করা, নাকি কেউ তা অস্বীকার করে?! .
পবিত্র সুন্নাহর শত্রুরা এই দায়িত্বকে অস্বীকার করে এই অজুহাতে যে, মহান প্রতিপালক স্বয়ং এই বর্ণনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {অতঃপর এর বর্ণনা (بيان) প্রদানের দায়িত্ব অবশ্যই আমারই} (১) এবং তাঁর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সবিস্তারে (مفصل)} (২) এবং তাঁর বাণী: {এবং আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা (تبيان) হিসেবে} (৩) .
নিম্নোক্ত কারণে এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো দলিল নেই:
আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে ‘বিয়ান’ (بيان) শব্দের ব্যবহার: {অতঃপর এর বর্ণনা (بيان) প্রদানের দায়িত্ব অবশ্যই আমারই}, এবং রাসূলুল্লাহর ক্ষেত্রে ‘তুবায়্যিনা’ (تبين) শব্দের ব্যবহার: {যাতে আপনি মানুষের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা (تبين) করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে}—এটি কেবল শব্দের বৈচিত্র্য বা বাকভঙ্গিগত অলংকরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না; বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষয়, যার পেছনে কিছু নিহিত তাৎপর্য রয়েছে, আর তা হলো:
আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনের বর্ণনা (بيان) মূলত তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য।
এর উৎস স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।
এর প্রাপক হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
এর মাধ্যম হলো কোনো না কোনো পন্থায় প্রত্যাদেশ (وحي)।
পক্ষান্তরে ‘তাবিইন’ (تبيين) বা বিশদ ব্যাখ্যা হলো রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পক্ষ থেকে মানুষের জন্য।
এর উৎস হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
এর প্রাপক হলেন কুরআনের সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গ।
এর মাধ্যম হলো ‘ভাষা’ (لغة), ‘প্রত্যাদেশ’ (وحي) নয়।
…সারকথা: রাসূলুল্লাহ তাঁর রবের পক্ষ থেকে কুরআনের বর্ণনা (بيان) গ্রহণ করেন ‘প্রত্যাদেশ’ (وحي) হিসেবে, আর মানুষ রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে তাঁর বিশদ ব্যাখ্যা গ্রহণ করে
‘ভাষা ও কথা’ হিসেবে।
সুতরাং, তিনটি দিক থেকে ‘বিয়ান’ (بيان) ও ‘তাবিইন’ (تبيين)-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে: উৎসের দিক থেকে, প্রাপকের দিক থেকে এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المستقبل، ومن جهة الطريق أو الأداة، أو الوسيلة، التى يعبر خلالها "البيان" أو "التبيين"
إلى مستقبله.
هل يكفى هذا لبيان السبب فى اختصاص كل لفظ بموضعه؟.
وهل يزعم زاعم بعد هذا أن بالإمكان التعبير عن كلا "البيانين" "بيان الله" و"تبيين رسوله"
للقرآن بلفظ واحد.
إن الفرق من السعة والوضوح والعمق، بحيث يفرض اختلاف التعبير فى هذين المقامين
المختلفين (1) .
إن
المراد بتفصيل وتبيان الكتاب لكل شئ يعنى: تفصيل وتبيان القرآن لكل شئ من أحكام هذا الدين كقواعد كلية مجملة.
أما تفاصيل تلك القواعد، وما أشكل منها، فالبيان فيها راجع إلى تبيين رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ويدل على ذلك قول ابن مسعود فى قوله تعالى: {تبياناً لكل شئ} قال: قد بين لنا فى
هذا القرآن، كل علم، وكل شئ. وقال مجاهد: كل حلال وحرام.
وقول ابن مسعود أعم وأشمل؛ فإن القرآن اشتمل على كل نافع من خبر ما سبق، وعلم ما سيأتى، وكل حلال وحرام، وما الناس إليه محتاجون فى أمر دنياهم ودينهم، ومعاشهم ومعادهم.
وقال الأوزاعى "تبياناً لكل شئ" أى بالسنة (2) .
…ولا تعارض بين القولين – ابن مسعود والأوزاعى – فابن مسعود يقصد العلم الإجمالى الشامل،
والأوزاعى يقصد تفصيل وبيان السنة لهذا العلم الإجمالى.
ومن هنا؛ فالقول بأن القرآن الكريم تبيان لكل شئ قول صحيح فى ذاته بالمعنى الإجمالى السابق، ولكن الفساد فيما بنوه عليه من قصر مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم، على بلاغ القرآن فقط، وإنكار مهمته البيانية (السنة المطهرة) والاكتفاء بالقرآن ليؤولوه حسب أهوائهم! .
--------------------------------------------
ভবিষ্যৎ, এবং মাধ্যম, উপকরণ বা পন্থার দিক থেকে, যার মাধ্যমে "আল-বায়ান" (البيان) বা "আত-তাবয়ীন" (التبيين)
তার গন্তব্যে পৌঁছায়।
প্রতিটি শব্দকে তার নিজ নিজ স্থানে নির্দিষ্ট করার কারণ স্পষ্ট করতে কি এটাই যথেষ্ট?
এরপর কি কেউ দাবি করতে পারে যে, কুরআনের ক্ষেত্রে আল্লাহর "বায়ান" (البيان) এবং তাঁর রাসূলের "তাবয়ীন" (التبيين)
উভয়কেই একটি মাত্র শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব?
এই পার্থক্য ব্যাপকতা, স্পষ্টতা এবং গভীরতার দিক থেকে এতটাই যে, এই দুটি ভিন্ন ক্ষেত্রে
ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তি ব্যবহারের দাবি রাখে (১)।
নিশ্চয়ই
কিতাবের প্রতিটি জিনিসের বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل) ও পরিস্ফুটন (تبيان) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই দ্বীনের বিধানাবলির প্রতিটি বিষয়কে সামগ্রিক ও সংক্ষিপ্ত (مجمل) মূলনীতি হিসেবে কুরআনের বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل) ও পরিস্ফুটন (تبيان)।
আর ঐ সকল মূলনীতির বিস্তারিত বিবরণ এবং যা কিছু অস্পষ্ট, সেগুলোর স্পষ্টিকরণ (البيان) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশদ ব্যাখ্যার (تبيين) ওপর নির্ভরশীল।
মহান আল্লাহর বাণী: {সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে} সম্পর্কে ইবনে মাসউদের উক্তি এর প্রমাণ দেয়; তিনি বলেছেন: এই
কুরআনে আমাদের জন্য সব জ্ঞান ও সব কিছু স্পষ্ট করা হয়েছে। আর মুজাহিদ বলেছেন: প্রতিটি হালাল ও হারাম।
ইবনে মাসউদের উক্তিটি অধিকতর ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক; কেননা কুরআন অতীত সংবাদের প্রতিটি উপকারী বিষয়, ভবিষ্যতের জ্ঞান, প্রতিটি হালাল ও হারাম এবং মানুষের দুনিয়া ও দ্বীন, জীবন ও পরকালের প্রয়োজনীয় সব কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
আর আওযায়ী বলেছেন: "সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা" অর্থাৎ সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে (২)।
…ইবনে মাসউদ এবং আওযায়ীর এই দুই উক্তির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; ইবনে মাসউদ সামগ্রিক ও ব্যাপক জ্ঞানকে বুঝিয়েছেন,
আর আওযায়ী সেই সামগ্রিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে সুন্নাহর (السنة) বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل) ও স্পষ্টিকরণ (البيان) বুঝিয়েছেন।
সুতরাং, পবিত্র কুরআন সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা—এই কথাটি পূর্বোক্ত সামগ্রিক অর্থে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সঠিক। কিন্তু বিভ্রান্তি হলো তাদের ক্ষেত্রে, যারা এর ওপর ভিত্তি করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্বকে কেবল কুরআনের বাণী পৌঁছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে এবং তাঁর ব্যাখ্যামূলক দায়িত্বকে (পবিত্র সুন্নাহ) অস্বীকার করে কেবল কুরআনের ওপরই তুষ্ট থাকতে চায়, যাতে তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো এর ব্যাখ্যা করতে পারে! .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وإلا فرب العزة هو القائل فى نفس سورة النحل، وقبل هذه الآية قال: {ليبين لهم الذى اختلفوا فيه وليعلم الذين كفروا أنهم كانوا كاذبين} (1) .
وقال سبحانه: {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون} (2) .
وقال عز وجل: {وما أنزلنا عليك الكتاب إلا لتبين لهم الذى اختلفوا فيه} (3) .
فتلك ثلاث آيات كريمات فى نفس سورة النحل، وسابقة لآية {ونزلنا عليك الكتاب تبياناً لكل شئ} والثلاث آيات تسند صراحة مهمة التبيين إلى نبيه صلى الله عليه وسلم.
فهل يعقل بعد ذلك أن يسلب الله عز وجل هذه المهمة - التبيين - التى هى من مهام الرسل جميعاً
كما قال عز وجل: {وما أرسلنا من رسول إلا بلسان قومه ليبين لهم} (4) .
ويوقع التناقض بقوله جل جلاله: {ونزلنا عليك الكتاب تبياناً لكل شئ} .
وقوله عز وجل: {وهو الذى أنزل إليكم الكتاب مفصلاً} ؟ ! .
إن كل الرافضين لمهمة رسول الله البيانية، لابد أن يلتزموا بهذه النتيجة التى تعود بالنقض على الإيمان بالكتاب، وبمن أنزل الكتاب جل جلاله، سواء أقروا بلسانهم بهذا النقض أم لا، وتنبهوا إلى ذلك أم لا؟!! .
… ويجدر بى هنا أن أشير إلى ما قاله الحافظ ابن حجر مبيناً
المراد من الأحاديث والآثار المؤذنة بالاقتصار على كتاب الله عز وجل. نحو قوله صلى الله عليه وسلم: "وقد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به كتاب الله" (5) .
--------------------------------------------
অন্যথায়, রব্বুল ইজ্জত (প্রবল প্রতাপশালী প্রতিপালক) স্বয়ং সূরা আন-নাহল-এর এই আয়াতের পূর্বেই বলেছেন: "যাতে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছিল তিনি তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট করে দেন এবং যাতে কাফিররা জানতে পারে যে তারা ছিল মিথ্যাবাদী।" (১) ।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "এবং আমি আপনার প্রতি ‘যিকর’ (স্মারক) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে তা সুস্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" (২) ।
এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: "আমি আপনার প্রতি এই কিতাব কেবল এই জন্যই অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তাদের কাছে সেই বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করে দেন যাতে তারা মতভেদ করছিল।" (৩) ।
সুতরাং এগুলো সূরা আন-নাহল-এরই তিনটি সম্মানীয় আয়াত, যা "আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা সবকিছুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা" শীর্ষক আয়াতের পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। এই তিনটি আয়াত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের (تبيين) দায়িত্ব তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ন্যস্ত করে।
এর পরেও কি এটা কল্পনা করা যায় যে, মহান আল্লাহ এই ব্যাখ্যা প্রদানের (تبيين) দায়িত্বটি ছিনিয়ে নেবেন—যা কি না সকল রাসূলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব?
যেমন মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: "আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষা দিয়ে প্রেরণ করেছি, যাতে তিনি তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা (ليبين) করতে পারেন।" (৪) ।
এবং তাঁর মহান বাণী "আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা সবকিছুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা" এর মাধ্যমে কি বৈপরীত্য সৃষ্টি করা হবে?
এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে: "আর তিনি সেই সত্তা যিনি তোমাদের প্রতি বিস্তারিত (مفصلاً) কিতাব অবতীর্ণ করেছেন"?!!
যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যামূলক (البيانية) দায়িত্বকে অস্বীকার করে, তাদের অবশ্যই এই পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে যা কিতাবের প্রতি ঈমান এবং যিনি কিতাব নাযিল করেছেন সেই মহান সত্তার প্রতি ঈমানকেই খণ্ডন করে দেয়; চাই তারা মুখে এই খণ্ডন স্বীকার করুক বা না করুক, কিংবা তারা এ বিষয়ে সচেতন থাকুক বা না থাকুক?!!
... এখানে হাফিজ ইবনে হাজার যা বলেছেন তার প্রতি ইঙ্গিত করা সমীচীন হবে, যেখানে তিনি কেবল আল্লাহর কিতাবের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার ইঙ্গিত দেয় এমন হাদিস ও আছারসমূহের (الآثار) উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি তোমাদের মধ্যে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না, তা হলো আল্লাহর কিতাব" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وعن ابن عباس رضى الله عنهما قال: لما حضر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفى البيت رجال فيهم عمر بن الخطاب، فقال النبى صلى الله عليه وسلم: "هلم أكتب لكم كتاباً لا تضلون بعده" فقال عمر: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قد غلب عليه الوجع، وعندكم القرآن. حسبنا كتاب الله" (1) .
وأشباه هذا مما روى مرفوعاً وموقوفاً، بالإقتصار على القرآن فقط.
…يقول الحافظ: "الإقتصار على الوصية بكتاب الله؛ لكونه أعظم وأهم، ولأن فيه تبيان كل شئ، إما بطريق النص، وإما بطريق الاستنباط، فإذا اتبع الناس ما فى الكتاب، عملوا بكل ما أمرهم النبى صلى الله عليه وسلم، به لقوله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا} (2) وهذا الذى قاله الحافظ رحمه الله، يؤكد ما سبق ذكره.
… ومما هو جدير بالذكر هنا. أن الكلام السابق للحافظ، نقله مبتوراً جمال البنا حيث قال: "التمسك بالقرآن والعمل بمقتضاه، إشارة إلى قوله صلى الله عليه وسلم: "تركت فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا كتاب الله".
وترك جمال البنا، بيان أن العمل بالقرآن الكريم يقتضى العمل بالسنة كما صرح ابن حجر (3) .
…وهذا ما فعله أيضاً أحمد صبحى منصور. حيث نقل كلام الحافظ ابن حجر الذى نقلته، وبتر منه لفظه (النبى صلى الله عليه وسلم .
فصارت العبارة: "فإذا اتبع الناس ما فى الكتاب عملوا بكل ما أمرهم به" (4) .
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে এল, তখন ঘরের ভেতর ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সহ কিছু লোক উপস্থিত ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি কিতাব লিখে দেব, যার পর তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না।" তখন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোগের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছেন, আর তোমাদের কাছে কুরআন রয়েছে। আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট।" (১)
এ জাতীয় আরও কিছু বর্ণনা রয়েছে যা রাসূল থেকে বর্ণিত (مرفوعاً) এবং সাহাবী থেকে বর্ণিত (موقوفاً) হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে।
…হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "আল্লাহর কিতাব অনুসরণের ওসিয়তের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার কারণ হলো এটি মহান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে প্রতিটি জিনিসের সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে—চাই তা সরাসরি বক্তব্যের (نص) মাধ্যমে হোক কিংবা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (استنباط) মাধ্যমে। সুতরাং মানুষ যখন কিতাবের অনুসরণ করবে, তখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু আদেশ করেছেন তার সবকিছুর ওপরই আমল করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (২)। হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন, তা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেটিকে শক্তিশালী করে।"
… এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে, হাফেজের পূর্বোক্ত কথাগুলো জামাল আল-বান্না খণ্ডিতভাবে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন: "কুরআনকে আঁকড়ে ধরা এবং তার দাবি অনুযায়ী আমল করা মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর প্রতি ইঙ্গিত স্বরূপ, যেখানে তিনি বলেছিলেন: 'আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না, আর তা হলো আল্লাহর কিতাব'।"
কিন্তু জামাল আল-বান্না এই বিষয়টি স্পষ্ট করা এড়িয়ে গেছেন যে, কুরআনের ওপর আমল করার জন্য সুন্নাহর ওপর আমল করা অপরিহার্য, যেমনটি ইবনে হাজার (৩) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
…আর এই একই কাজ করেছেন আহমদ সুবহি মানসুর। তিনি হাফেজ ইবনে হাজারের যে বক্তব্যটি আমি উদ্ধৃত করেছি তা নকল করেছেন, কিন্তু সেখান থেকে 'নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)' শব্দটি বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
ফলে বাক্যটি দাঁড়িয়েছে: "সুতরাং মানুষ যখন কিতাবের অনুসরণ করবে, তখন তারা (কিতাব) তাদের যা আদেশ করে তার সবকিছুর ওপর আমল করবে" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وإذا تقرر لك هناك أن لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فى رسالته مهمة غير التبليغ وهى تبيين القرآن الكريم، الملازم للمهمة الأولى وهى تبليغه. فاعلم أن لرسول الله صلى الله عليه وسلم، حُكمٌ فى رسالته، جعله ربه من مهام رسالته.
قال تعالى: {إنا أنزلنا إليك الكتاب بالحق لتحكم بين الناس بما أراك الله} (1) فبين ربنا سبحانه أنه
أنزل الكتاب إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، ليحكم بين الناس بما ألهمه الله وأرشده.
وإذا كان الحكم بالقانون، غير سن القانون فإن حكم رسول الله صلى الله عليه وسلم، بما جاء فى القرآن من
تشريعات، فضلاً عن تبيينه بالسنة، هو أمر زائد على مجرد البلاغ لهذه التشريعات. وتحكيمه صلى الله عليه وسلم فى كل شئون حياتنا، والرضى بحكمه، والتسليم به، جعله رب العزة علامة الإيمان كما قال: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا فى أنفسهم حرجاً مما قضيت ويسلموا تسيلما} (2)
وما ذلك إلا لأن حكمه صلى الله عليه وسلم، وحى من الله واجب الاتباع لقوله {بما أراك الله}
وعلى هذا الفهم صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومن بعدهم.
يدل على ذلك قول عمر رضي الله عنه وهو على المنبر: "يا أيها الناس إن الرأى إنما كان من رسول الله صلى الله عليه وسلم مصيباً لأن الله عز وجل كان يريه، وإنما هو منا الظن والتكلف" (3) .
--------------------------------------------
আর যেহেতু আপনার কাছে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালতের (رسالة) ক্ষেত্রে পৌঁছে দেওয়া (تبليغ) ছাড়াও অন্য একটি দায়িত্ব রয়েছে, আর তা হলো পবিত্র কুরআন ব্যাখ্যা করা (تبيين); যা প্রথম দায়িত্ব অর্থাৎ তা পৌঁছে দেওয়ার (تبليغ) সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালতে (رسالة) ফয়সালা প্রদানের (حكم) এখতিয়ার রয়েছে, যা তাঁর প্রতিপালক তাঁর রিসালতের (رسالة) অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী।" (১) সুতরাং আমাদের মহান প্রতিপালক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিতাব অবতীর্ণ করেছেন
যাতে তিনি মানুষের মাঝে আল্লাহ তাঁকে যা ইলহাম ও নির্দেশনা দান করেছেন তার মাধ্যমে ফয়সালা করেন (حكم)।
আইনের মাধ্যমে ফয়সালা (حكم) করা যদি আইন প্রণয়ন থেকে ভিন্নতর হয়ে থাকে, তবে সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে ব্যাখ্যার পাশাপাশি কুরআনে বর্ণিত বিধিবিধান (تشريعات) অনুযায়ী আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফয়সালা (حكم) প্রদান করা এই বিধিবিধানগুলো পৌঁছে দেওয়ার (بلاغ) চেয়ে অতিরিক্ত একটি বিষয়। আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁকে বিচারক হিসেবে মেনে নেওয়া (تحكيم), তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা এবং তা নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়াকে (تسليم) মহান রাব্বুল ইজ্জত ঈমানের (إيمان) নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; যেমন তিনি ইরশাদ করেছেন: "না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো প্রকার সংশয় না থাকে এবং তারা তা পূর্ণাঙ্গরূপে মেনে নেয়।" (২)
আর এর কারণ হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফয়সালা (حكم) আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী (وحى), যা অনুসরণ করা ওয়াজিব (واجب الاتباع); কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী।"
আর এই উপলব্ধির ওপরই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (صحابة) এবং তাঁদের পরবর্তীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
মিম্বরে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই উক্তিটি এর প্রমাণ বহন করে: "হে লোকসকল! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রায় (رأى) সঠিক (مصيب) হতো কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁকে তা দেখাতেন। আর আমাদের পক্ষ থেকে তা কেবল ধারণা (ظن) এবং সাধ্যাতীত প্রয়াস (تكلف) মাত্র।" (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لقد قال عمر ذلك على المنبر، ولم يعترض عليه أحد من الحاضرين، لا من الصحابة، ولا من التابعين، مما يدل على أنهم جميعاً يعلمون أن لرسول الله حُكم فى رسالته هو من ربه عز وجل، وهو أمر زائد على مجرد البلاغ! .
وقال تعالى: {لقد من الله على المؤمنين إذ بعث فيهم رسولاً من أنفسهم يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة وإن كانوا من قبل لفى ضلال مبين} (1)
إن الله عز وجل فى هذه الآية الكريمة، يمتن على هذه الأمة، ببعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ من أنفسهم، وأنه جاء ليس لمجرد بلاغ وتلاوة القرآن الكريم فقط - كما يزعم أعداء الإسلام!
وإنما جاء مع بلاغ القرآن وتلاوته؛ جاء بتزكيتهم وتعليمهم الكتاب والحكمة.
وهذه
التزكية والتعليم من مهامه صلى الله عليه وسلم فى دعوته، مع بلاغه للقرآن وبيانه لما فيه، وحكمه به.
وبهذه المهمة (التزكية والتعليم) تكون هداية الناس، وإخراجهم من الظلمات إلى النور.
قال تعالى: {كتاب أنزلناه إليك لتخرج الناس من الظلمات إلى النور} (2) أى من ظلمات الكفر والجهل والضلالة، إلى نور الإيمان والعلم والهداية (3)
وقال سبحانه: {وإنك لتهدى إلى صراط مستقيم} (4) فأسند الهداية إليه صلى الله عليه وسلم، مما يدل
على أنه عليه الصلاة والسلام بكل ما جاء به من عند الله عز وجل، يهدى إلى صراط مسقيم.
…وتأمل قوله "لتخرج" وقوله "تهدى" إنه سبحانه اسند الفعلين إليه صلى الله عليه وسلم وفى ذلك دلالة على أن
ذلك من مهام رسالته التى كلفه بها، مع بلاغه للقرآن وتبيينه لما فيه، وحكمه بين الناس
وتزكيته وتعليمه لأمته؛ وكل ذلك ينكره أعداء هذه الأمة! .
--------------------------------------------
উমর মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে এই কথা বলেছিলেন এবং উপস্থিতদের মধ্য হতে কোনো সাহাবী (الصحابة) কিংবা তাবেয়ী (التابعين) এর প্রতিবাদ করেননি। যা একথারই প্রমাণ বহন করে যে, তারা সকলেই অবগত ছিলেন যে রাসুলুল্লাহর রিসালতে তাঁর প্রতিপালক মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান (حكم) রয়েছে, যা কেবল বাণী পৌঁছে দেওয়ার অতিরিক্ত একটি বিষয়!
মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মাঝে নিমজ্জিত ছিল} (১)
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই বরকতময় আয়াতে এই উম্মতের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন; এবং তিনি কেবল আল-কুরআনের বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং তিলাওয়াতের জন্যই আগমন করেননি—যেমনটি ইসলামের শত্রুরা দাবি করে থাকে!
বরং তিনি কুরআনের তিলাওয়াত ও তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে পরিশুদ্ধ করতে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিতে এসেছেন।
আর এই
পরিশুদ্ধকরণ ও শিক্ষা প্রদান হলো তাঁর দাওয়াতের অন্যতম দায়িত্ব, যার সাথে কুরআনের বাণী পৌঁছে দেওয়া, এর বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা প্রদান এবং এর ভিত্তিতে ফয়সালা করাও অন্তর্ভুক্ত।
এই মহান দায়িত্বের (পরিশুদ্ধকরণ ও শিক্ষা) মাধ্যমেই মানুষের হিদায়াত অর্জিত হয় এবং তারা অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন} (২) অর্থাৎ কুফর, অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার অন্ধকার থেকে ঈমান, জ্ঞান ও হিদায়াতের আলোর দিকে (৩)
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে হিদায়াত দান করেন} (৪) এখানে হিদায়াতের সম্বন্ধ তাঁর প্রতি করা হয়েছে, যা একথার প্রমাণ দেয়
যে, তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন, সে সবকিছুর মাধ্যমেই তিনি সরল ও সঠিক পথের দিশা প্রদান করেন।
…লক্ষ্য করুন তাঁর বাণী "যাতে আপনি বের করে আনেন" এবং "আপনি হিদায়াত দান করেন"। মহান আল্লাহ এই উভয় ক্রিয়াকেই তাঁর প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন, যা একথারই ইঙ্গিত (دلالة) প্রদান করে যে
এটি তাঁর রিসালতের সেই দায়িত্বসমূহের অংশ যা তাঁকে অর্পণ করা হয়েছে; যার সাথে রয়েছে আল-কুরআনের বাণী পৌঁছে দেওয়া, এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা, মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালা করা
এবং তাঁর উম্মতের পরিশুদ্ধি ও শিক্ষা দান করা; অথচ এই উম্মতের শত্রুরা এই সব কিছুই অস্বীকার করে! .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إن زعم أعداء السيرة العطرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، مهمته الوحيدة، تبليغ القرآن فقط، وإنكارهم مهمته البيانية للقرآن الكريم، يعد هذا الزعم منهم طعناً فى عصمته صلى الله عليه وسلم فيما بلغه من وحى السنة المطهرة، وطعناً منهم أيضاً فى عصمته فى رجاحة عقله وكماله، لأنهم فى كتاباتهم
المفتراه، يقدمون رؤيتهم القرآنية بياناً، وتفسيراً، ومفهوماً لآيات القرآن الكريم.
فكيف ينكرون أن يكون لرسول الله صلى الله عليه وسلم بيانه، وتفسيره وشرحه لآيات القرآن الكريم؛
وهو أعلم الناس به؛ حيث عليه أنزل؟ ! .
ومن هنا لما قال رجل لمطرف بن عبد الله (1) : لا تحدثونا إلا بما فى القرآن قال مطرف: إن والله ما نريد بالقرآن بدلاً، ولكنا نريد من هو أعلم بالقرآن منا" (2) .
--------------------------------------------
পুণ্যময় সীরাতের শত্রুদের এই দাবি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একমাত্র দায়িত্ব ছিল কেবল কুরআন প্রচার করা এবং কুরআনের বর্ণনামূলক ও ব্যাখ্যাগত (بيانية) দায়িত্বকে তাদের অস্বীকার করা—মূলত তাঁর পবিত্র সুন্নাহর ওহী হিসেবে যা তিনি পৌঁছে দিয়েছেন তার নিষ্পাপত্বের (عصمة) ওপর একটি আঘাত। এটি তাঁর প্রজ্ঞার প্রখরতা ও পূর্ণতার ওপরও একটি অপবাদ; কারণ তারা তাদের লেখনীতে
মনগড়াভাবে পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের বর্ণনা, তাফসীর ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিকেই উপস্থাপন করে থাকে।
সুতরাং তারা কীভাবে অস্বীকার করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের কোনো বর্ণনা, তাফসীর ও ব্যাখ্যা থাকতে পারে; অথচ মানুষের মধ্যে তিনিই কুরআন সম্পর্কে সর্বাধিক প্রাজ্ঞ; যেহেতু তাঁর ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে?!
এ কারণেই যখন জনৈক ব্যক্তি মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহকে (১) বলেছিল: "আমাদের কাছে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না", তখন মুতাররিফ বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আমরা কুরআনের কোনো বিকল্প চাই না, বরং আমরা এমন একজনকে চাই যিনি আমাদের চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
.. ويقول جابر بن عبد الله رضي الله عنه يصف حج النبى صلى الله عليه وسلم،: "فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فى المسجد ثم ركب القصواء (1) حتى إذا استوت به ناقته على البيداء نظرت إلى مد بصرى بين يديه من راكب وماش، وعن يمينه مثل ذلك، وعن يساره مثل ذلك، ومن خلفه مثل ذلك، ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا، وعليه ينزل القرآن، وهو يعرف تأويله، وما عمل به من شئ عملنا به.." الحديث (2) .
… فتأمل قول الصحابى: "ورسول الله بين أظهرنا، وعليه ينزل القرآن وهو يعرف تأويله" إنه صلى الله عليه وسلم، هو الذى علمه الله القرآن، وكل ما من شأنه أن ييسر العمل به، فعلمه تأويله، وأراه ما به يتم الدين.
--------------------------------------------
.. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হজ্জের বর্ণনা দিয়ে বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আল-কাসওয়া (১) নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। এমনকি যখন তাঁর উষ্ট্রী তাঁকে নিয়ে বায়দা নামক সমতল ভূমিতে সোজা হয়ে দাঁড়াল, আমি আমার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত তাঁর সামনে কেবল আরোহী ও পদব্রজে গমনকারীদের দেখলাম। তাঁর ডানেও অনুরূপ, বামেও অনুরূপ এবং পেছনেও অনুরূপ লোক ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং তিনি এর ব্যাখ্যা (تأويل) জানতেন। তিনি যা আমল করতেন আমরাও সে অনুযায়ী আমল করতাম..." হাদিস (২) ।
… সুতরাং সাহাবীর (صحابي) এই উক্তিটির প্রতি লক্ষ্য করুন: "রাসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং তিনি এর ব্যাখ্যা (تأويل) জানতেন।" নিশ্চয়ই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সেই সত্তা যাঁকে আল্লাহ কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং যা কিছু এর ওপর আমল করাকে সহজ করে দেয় তার সবকিছুই শিখিয়েছেন। ফলে তিনি তাঁকে এর ব্যাখ্যা (تأويل) শিখিয়েছেন এবং যার মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণ হয় তা তাঁকে দেখিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
.. إن مقتضى إيمانهم برسالته صلى الله عليه وسلم، أن يسألوه ويحكموه عن كل ما بدا لهم؛ إنهم يعلمون أنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، يأتيه الوحى فى أى وقت بالقرآن وتأويله، وبكل ما يتصل ببيان الدين، ومن هنا سألوا واستفسروا وأجابهم صلى الله عليه وسلم، بما به بين، ووضح، وأفاد وأجاد (1) حتى قال صلى الله عليه وسلم: "قد تركتكم على البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيع عنها بعدى إلا هالك" (2) .
…إن
تأويل وتفسير، رسول الله صلى الله عليه وسلم، للقرآن الكريم، هو فريضة قرآنية، وتكليف إلهى للنبى صلى الله عليه وسلم زائد على مجرد بلاغه - وليس فضولاً ولا تزايداً، ولا إضافة يمكن الإستغناء عنها.
لقوله تعالى: {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون} (3) .
فكيف ينكرون هذا التبيان النبوى للبلاغ القرآنى، بينما يمارسون هم شرح وتفسير آيات القرآن؟ أهذا معقول؟ فضلاً عن أن يكون مقبولاً؟ !! .
… إن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بنص الآيات الكريمات السابق ذكرها، مبلغ، ومبين، وحاكم، ومزكى، ومعلم، وهادى إلى صراط مستقيم، وليس مجرد ساعى بريد؟! .
--------------------------------------------
.. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতের প্রতি তাঁদের ঈমানের দাবি ছিল এই যে, তাঁদের সামনে যা কিছু উদ্ভূত হতো সে সম্পর্কে তাঁরা তাঁকে প্রশ্ন করবেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন; তাঁরা জানতেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যাঁর নিকট যেকোনো সময় কুরআন এবং তার ব্যাখ্যাসহ দ্বীনের বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে ওহী অবতীর্ণ হতো। এখান থেকেই তাঁরা প্রশ্ন করতেন ও জিজ্ঞাসা করতেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের এমনভাবে উত্তর দিতেন যার মাধ্যমে তিনি বিষয়টি সুস্পষ্ট ও বিশদভাবে বর্ণনা করতেন এবং যথাযথ সমাধান প্রদান করতেন (১)। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো (পরিষ্কার); আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না" (২)।
…নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করা একটি কুরআনিক আবশ্যকতা এবং এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অর্পিত এমন একটি ঐশী দায়িত্ব যা কেবল বাণী পৌঁছানোর অতিরিক্ত—এটি কোনো অনর্থক বিষয় বা অতিরঞ্জন নয় এবং এমন কোনো সংযোজনও নয় যা ছাড়াই চলে।
মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আমি আপনার প্রতি এই জিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} (৩)।
তবে তারা কীভাবে কুরআনিক বাণীর এই নববী ব্যাখ্যাকে অস্বীকার করে, যেখানে তারা নিজেরাই কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে লিপ্ত হয়? এটি কি যৌক্তিক? গ্রহণযোগ্য হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না!!
… নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্বে উল্লিখিত পবিত্র আয়াতসমূহের ভাষ্য অনুযায়ী বাণী প্রচারকারী, বর্ণনাকারী, ফয়সালা প্রদানকারী, পবিত্রকারী, শিক্ষক এবং সরল পথের দিশারী; তিনি কেবল কোনো বার্তা বাহক মাত্র নন?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
.. وبعد: إذا تقرر أن من مهام رسول الله صلى الله عليه وسلم، فى رسالته بيان القرآن الكريم، والمسلمون جميعاً يعلمون ذلك، ويسلمون به، يبقى توضيح أن البيان النبوى هو الحكمة، وهى السنة المطهرة التى ينكرها أعداء الإسلام، ويزعمون أن سنته الحقيقية هى القرآن فقط.
فإلى بيان شبهتهم فىالمبحث التالى والرد عليها
صدق الله العظيم صدق الله العظيم صدق الله العظيم صدق الله العظيم صدق الله العظيم
المبحث الثانى: في بيان أن مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم البيانية إنما تعني الحكمةوهي السنة النبوية
…زعم أعداء السنة النبوية، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ليست له سنة، وأن سنته الحقيقية هى القرآن الكريم فقط، و
زعموا أن القول بأن له سنة نبوية، تشويه لسيرته، وتجعله مشرعاً.
…يقول إسماعيل منصور: "إن السنة الحقة، هى سنة واحدة، سنة الله عز وجل، وليست هناك سنة أخرى غيرها، وإنما للرسول، بيان نبوى للقرآن، نرفعه على العين والرأس، متى ثبت تحقيقاً، لا يخالف بأى حال أحكام ومدلولات القرآن الكريم، فنقبله كبيان فحسب، وليس تشريعاً مستقلاً" (1) .
…--------------------------------------------
.. অতঃপর: যদি এটি সাব্যস্ত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতের অন্যতম দায়িত্ব হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করা, আর সকল মুসলিমই তা জানেন এবং তা স্বীকার করেন; তবে এটি স্পষ্ট করা বাকি থাকে যে, নববী ব্যাখ্যাই হলো হিকমাহ (প্রজ্ঞা), আর তা-ই হলো পবিত্র সুন্নাহ যা ইসলামের শত্রুরা অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে তাঁর প্রকৃত সুন্নাহ কেবল কুরআনই।
পরবর্তী পরিচ্ছেদে তাদের সংশয় ও তার নিরসন আলোচনা করা হলো।
মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন, মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন, মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন, মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন, মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাখ্যামূলক দায়িত্বটি যে হিকমাহ (প্রজ্ঞা) অর্থেই ব্যবহৃত হয়, তার বর্ণনাআর তা হলো নববী সুন্নাহ।
…নববী সুন্নাহর শত্রুরা দাবি করেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সুন্নাহ নেই এবং তাঁর প্রকৃত সুন্নাহ কেবল পবিত্র কুরআন। তারা
দাবি করেছে যে, তাঁর কোনো নববী সুন্নাহ থাকার কথা বলা তাঁর সীরাত বা জীবনচরিতকে বিকৃত করার শামিল এবং এটি তাঁকে একজন বিধানদাতার আসনে বসিয়ে দেয়।
…ইসমাইল মনসুর বলেন: "প্রকৃত সুন্নাহ কেবল একটিই, আর তা হলো মহান আল্লাহর সুন্নাহ। এর বাইরে আর কোনো সুন্নাহ নেই। তবে রাসূলের পক্ষ থেকে কুরআনের একটি নববী ব্যাখ্যা রয়েছে, যাকে আমরা অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করি যদি তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابت) হয় এবং কোনোভাবেই পবিত্র কুরআনের বিধান ও মর্মার্থের পরিপন্থী না হয়। তখন আমরা তা কেবল ব্যাখ্যা হিসেবেই গ্রহণ করি, কোনো স্বতন্ত্র বিধান হিসেবে নয়।" (১) .
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ويقول أحمد صبحى منصور: "إن تلك الأحاديث المذكورة فى كتب التراث ليست من الوحى، الذى نزل على النبى، وليس هناك فى الإسلام حديث إلا حديث الله تعالى فى القرآن، أما تلك الأحاديث التراثية، وأسفارها، فلا أول لها ولا آخر، وهى تتناقض حتى فى الكتاب الواحد، وربما فى الصفحة الواحدة وتخالف القرآن مثل الرجم وحد الردة" (1) .
…ويقول صالح الوردانى: "وإذا ما تبين لنا أن مهمة الرسول صلى الله عليه وسلم، هى تبليغ ما يوحى إليه من ربه، فلا يجوز للرسول أن يضيف أحكاماً فوق أحكام القرآن، فمهمته تنحصر فى تبليغ القرآن وتبيينه للناس، وتنتهى هذه المهمة بوفاته" (2) .
ويقول أيضاً: "الروايات المنسوبة للرسول، والتى تضيف على لسانه أحكاماً جديدة، وتخترع أحكاماً لا وجود لها فى القرآن تضع الرسول فى دائرة المشرع" (3) .
--------------------------------------------
আহমদ সুবহি মনসুর বলেন: "ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত ঐ হাদিসগুলো ওহি (وحي)-এর অংশ নয়, যা নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। ইসলামে মহান আল্লাহর বাণী তথা কুরআন ছাড়া আর কোনো হাদিস নেই। পক্ষান্তরে এই ঐতিহ্যবাহী হাদিসসমূহ এবং এগুলোর কিতাবসমূহের কোনো আদি-অন্ত নেই; এগুলো এমনকি একই কিতাবে, এমনকি কখনো একই পৃষ্ঠায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য প্রদান করে এবং কুরআনের বিরোধিতা করে, যেমন—পাথর নিক্ষেপে হত্যা (رجم) এবং ধর্মত্যাগের দণ্ড (حد الردة)।" (১) .
…সালেহ আল-ওয়ারদানি বলেন: "আমাদের নিকট যদি এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রাসুল (সা.)-এর দায়িত্ব হলো তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট যা ওহি (وحي) করা হয়েছে তা পৌঁছে দেওয়া, তবে রাসুলের জন্য কুরআনের বিধানের অতিরিক্ত কোনো বিধান যোগ করা বৈধ নয়। কারণ তাঁর দায়িত্ব কুরআন প্রচার এবং মানুষের নিকট তা ব্যাখ্যা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং তাঁর ইন্তেকালের মাধ্যমেই এই দায়িত্ব সমাপ্ত হয়ে যায়।" (২) .
তিনি আরও বলেন: "রাসুলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বর্ণনা (رواية) সমূহ, যা তাঁর নামে নতুন বিধান যোগ করে এবং এমন সব বিধান উদ্ভাবন করে যার কোনো অস্তিত্ব কুরআনে নেই, তা রাসুলকে একজন আইনদাতার অবস্থানে দাঁড় করায়।" (৩) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
.. و
يجاب عن ما سبق بما يلي:أولاً: سبق فى المبحث السابق تفصيل أن لرسول الله صلى الله عليه وسلم فى رسالته مهمة ووظيفة، زائدة على مجرد البلاغ، وهى مهمة تبيان القرآن الكريم، وهذه المهمة تضاربت فيها أقوال من يسمون أنفسهم "القرآنيون".
فبينما تجد بعضهم فيما سبق يجحد هذه المهمة من أصلها، ترى هنا بعضهم يؤمن بها، وبمفهومه الخاص، القائم على إنكار أن يكون لرسول الله صلى الله عليه وسلم فى رسالته، وحى غير متلو - السنة المطهرة.
ثانياً: إذا تقرر لك بالدليل القاطع أن لرسول الله صلى الله عليه وسلم تبياناً للقرآن الكريم، فاعلم أن لهذا التبيان صفة المبين، من حيث وجوب قبوله، ووجوب العمل به، وصلاحيته لكل زمان ومكان؛
ويستلزم هذا ضرورة أن هذا التبيان النبوى، هو الحكمة وهى السنة النبوية التى عبر عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: "ألا إنى أوتيت القرآن ومثله معه" (1) .
…وبناء الفعل للمجهول "أوتيت" يدل على أن الله تعالى، أعطى لرسوله صلى الله عليه وسلم، القرآن ومثله معه، فما هو المماثل الذى تلقاه رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ربه؟
يصرح القرآن الكريم بأن هذا المماثل هو "الحكمة" التى قرنها رب العزة فى كتابه مع القرآن الكريم فى آيات عدة منها:
--------------------------------------------
..
উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার উত্তর নিম্নরূপ:প্রথমত: পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতের ক্ষেত্রে স্রেফ পৌঁছে দেওয়ার অতিরিক্ত একটি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, আর তা হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান। এই দায়িত্বের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী যারা নিজেদেরকে "কুরআনি" বলে দাবি করে।
যেখানে আপনি দেখবেন যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিপূর্বে এই দায়িত্বকে এর মূল ভিত্তি থেকেই অস্বীকার করেছে, সেখানে আবার দেখবেন যে তাদের কেউ কেউ এতে বিশ্বাস করে, তবে তা তাদের নিজস্ব বিশেষ ধারণা অনুযায়ী; যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতে পবিত্র সুন্নাহ তথা 'অ-পঠিত ওহি' (وحى غير متلو)-এর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে।
দ্বিতীয়ত: যখন অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে আপনার নিকট এটি সাব্যস্ত হলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত, তখন জেনে রাখুন যে, এই ব্যাখ্যার বৈশিষ্ট্য হলো সুস্পষ্টকারী হওয়া; যা গ্রহণ করা ওয়াজিব, যার ওপর আমল করা ওয়াজিব এবং যা সকল কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী।
এর থেকে এটি অনিবার্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, এই নববী ব্যাখ্যাই হলো 'হিকমাহ' (প্রজ্ঞা) তথা নববী সুন্নাহ; যা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং এর সাথে এর অনুরূপ আরেকটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে" (১)।
…ক্রিয়াটি কর্মবাচ্য বা মাজহুল (مجهول) রূপে "আমাকে প্রদান করা হয়েছে" (উতীতু) ব্যবহার করায় এটি নির্দেশ করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআন এবং তার সাথে তদ্রূপ আরেকটি বিষয় দান করেছেন। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে যে অনুরূপ বিষয়টি লাভ করেছেন তা কী?
পবিত্র কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে যে, এই অনুরূপ বিষয়টি হলো "হিকমাহ" (প্রজ্ঞা), যাকে মহান প্রতিপালক তাঁর কিতাবে অনেক আয়াতে পবিত্র কুরআনের সাথে একত্রে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قوله تعالى: {وأنزل الله عليك الكتاب والحكمة وعلمك ما لم تكن تعلم وكان فضل الله عليك عظيماً} (1) فالآية والحديث يفيدان أن الله تعالى، أنزل عليه صلى الله عليه وسلم، الكتاب والحكمة، مثل القرآن، وهى معه، آتاهما الله له صلى الله عليه وسلم.
بل إن إحدى روايات هذا الحديث تتواءم مع الآية أكثر من هذه الرواية، ونصها: "أتانى الله
عز وجل القرآن، ومن الحكمة مثليه" (2) .
وقال تعالى: {واذكرن ما يتلى فى بيوتكن من آيات الله والحكمة} (3) فعطف الحكمة على آيات الله، لتندرج تحت ما أضيف إليها وهو "التلاوة".
وهذا يضفى على الحكمة – وهى السنة – أنها فى حجيتها، ووجوب تبليغها، كالقرآن سواء
بسواء (4) .
وقال تعالى: {لقد من الله على المؤمنين إذا بعث فيهم رسولاً من أنفسهم يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة} (5) قال الإمام الشافعى (6) : "فذكر الله الكتاب وهو القرآن، وذكر الحكمة، فسمعت من أرضى من أهل العلم بالقرآن يقول:
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না এবং আপনার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে} (১)। সুতরাং এই আয়াত ও হাদিস এ কথাই প্রকাশ করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন, যা কুরআনের মতোই এবং এটি তাঁর সাথেই রয়েছে; আল্লাহ তাআলা এই দুটিই তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দান করেছেন।
বরং এই হাদিসের একটি বর্ণনা (رواية) এই আয়াতের সাথে বর্তমান বর্ণনাটির (رواية) চেয়েও অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার পাঠ হলো: "আল্লাহ
পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আমাকে কুরআন এবং হিকমতের মধ্য থেকে তার সমপরিমাণ বিষয় দান করেছেন" (২)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং তোমাদের ঘরে আল্লাহর আয়াত ও হিকমত যা তিলাওয়াত করা হয় তা স্মরণ করো} (৩)। এখানে হিকমতকে আল্লাহর আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে যাতে এটি 'তিলাওয়াত'-এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
আর এটি হিকমতের ওপর—যা মূলত সুন্নাহ—এমন বৈশিষ্ট্য আরোপ করে যে, এর প্রমাণযোগ্যতা (حجية) এবং তা প্রচার করার আবশ্যকতা কুরআনের মতোই সমান ও অভিন্ন (৪)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন} (৫)।
ইমাম শাফেয়ি (৬) বলেন: "আল্লাহ কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন যা হলো কুরআন, এবং হিকমতের কথা উল্লেখ করেছেন; আমি কুরআন সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমদের মধ্যে যাদের ওপর আস্থাশীল তাদের বলতে শুনেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الحكمة (1) سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: وهذا يشبه ما قال، والله أعلم؛ لأن القرآن ذكر واتبعته الحكمة، وذكر الله منته على خلقه بتعليمهم الكتاب والحكمة، فلم يجز – والله أعلم – أن يقال الحكمة ههنا إلا سنة رسول الله، وذلك أنها مقرونة مع كتاب الله" (2) .
وعن ابن عباس رضى الله عنهما قال: "الكتاب والحكمة" الكتاب والسنة (3) .
وعن قتادة قال: والحكمة أى السنة (4) . ونفس القول قال به غيرهما (5) .
وعلى هذا الفهم سلفنا الصالح من أئمة المسلمين (6) .
ثالثاً: إذا تقرر أن تبيان رسول الله صلى الله عليه وسلم للقرآن الكريم هو الحكمة، وأن هذه الحكمة هى السنة النبوية، وأنها متماثلة للقرآن كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهذا يعنى أنها مثل القرآن فى وجوب قبولها، والعمل بها، سواء بسواء؛ لأنها مثل القرآن وحى من عنده تعالى، وإليك تفصيل أدلة ذلك:
--------------------------------------------
হিকমাহ (১) হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة)। তিনি (ইমাম শাফেয়ী) বলেন: এটি তিনি যা বলেছেন তার অনুরূপ, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ; কারণ কুরআন (হিকমাহর) কথা উল্লেখ করেছে এবং হিকমাহ কুরআনকে অনুসরণ করেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির ওপর কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে যে অনুগ্রহ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এটি বলা বৈধ হবে না—আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ—যে এখানে হিকমাহ বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কিছু বোঝানো হয়েছে। আর তা এই কারণে যে, এটি আল্লাহর কিতাবের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত (২)।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি "কিতাব ও হিকমাহ" সম্পর্কে বলেন: কিতাব হলো কুরআন এবং হিকমাহ হলো সুন্নাহ (سنة) (৩)।
কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হিকমাহ অর্থাৎ সুন্নাহ (سنة) (৪)। তাঁদের ব্যতীত অন্য বিশেষজ্ঞগণও একই কথা বলেছেন (৫)।
মুসলিম উম্মাহর ইমামদের (أئمة) মধ্য থেকে আমাদের সালাফে সালেহীন (سلفنا الصالح) এই বুঝ বা উপলব্ধির ওপরেই ছিলেন (৬)।
তৃতীয়ত: যদি এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয় যে, পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যাই হলো হিকমাহ, আর এই হিকমাহই হলো সুন্নাহ নববী, এবং এটি কুরআনের অনুরূপ—যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যে, এটি গ্রহণ করা এবং এর ওপর আমল করার আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার ক্ষেত্রে এটি কুরআনের মতোই সমপর্যায়ের; কারণ এটিও কুরআনের মতোই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي)। নিচে এর প্রমাণাদির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أ- الأدلة من القرآن الكريم على أن السنة وحى من الله تعالى:قال تعالى: {وما ينطق عن الهوى. إن هو إلا وحى يوحى} (1) فأعلمنا ربنا سبحانه وتعالى، أن رسوله صلى الله عليه وسلم، لا ينطق عن هوى وغرض، وإنما ينطق حسبما جاءه الوحى من الله تعالى.
فكلمة "ينطق" فى لسان العرب تشتمل كل ما يخرج من الشفتين من قول أو لفظ (2) أى ما يخرج نطقه صلى الله عليه وسلم عن رأيه، إنما هو بوحى من الله عز وجل (3) .
ولقد جاءت الآيتان بأسلوب القصر عن طريق النفى والاستثناء، والفعل إذا وقع فى سياق النفى دل على العموم،وهذا واضح فى إثبات أن كلامه صلى الله عليه وسلم، محصور فى كونه وحياً لا يتكلم إلا به، وليس بغيره.
وقال سبحانه: {ثم إن علينا بيانه} (4) إنه وعد قاطع بأن بيان القرآن، سوف يتولاه الله تعالى، كما تولى {إن علينا جمعه وقرآنه} (5) على حد سواء، ولا معنى لهذا سوى أن يوحى إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، هذا البيان، بصورة ما من صور الوحى.
وقال عز وجل: {وأنزل الله عليك الكتاب والحكمة وعلمك مالم تكن تعلم وكان فضل الله عليك عظيما} (6) .
وقال تعالى: {واذكروا نعمة الله عليكم وما أنزل عليكم من الكتاب والحكمة يعظكم به} (7) إن هاتين الآيتين تفيدان – أن الله تبارك وتعالى – أنزل على رسوله شيئين: الكتاب: وهو القرآن، والحكمة: وهى سنته صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
ক- কুরআন মাজিদ থেকে সুন্নাহ (سنة) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) হওয়ার প্রমাণাদি:মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি (وحي), যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} (১) অতএব আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জানিয়েছেন যে, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রবৃত্তি বা অভিসন্ধি থেকে কথা বলেন না, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নিকট যে ওহি (وحي) আসে সেই অনুযায়ীই কথা বলেন।
আরবি ভাষায় "কথা বলা" (نطق) শব্দটি ঠোঁট থেকে নির্গত প্রতিটি বক্তব্য বা শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে (২); অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উচ্চারণ তাঁর নিজস্ব মতামত থেকে উৎসারিত নয়, বরং তা মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي)। (৩)
আয়াত দুটি না-বোধক (نفي) এবং ব্যতিক্রম (استثناء)-এর মাধ্যমে সীমাবদ্ধকরণ (قصر) পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। আর ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রিয়া যখন না-বোধক (نفي) প্রেক্ষাপটে আসে, তখন তা ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা কেবল ওহি (وحي) হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তিনি ওহি (وحي) ব্যতীত অন্য কিছু বলেন না।
মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।} (৪) এটি একটি সুনিশ্চিত প্রতিশ্রুতি যে, কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং গ্রহণ করেছেন, ঠিক যেমন তিনি {এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই} (৫) পংক্তিতে সমভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আর কোনো অর্থ হতে পারে না কেবল এটি ছাড়া যে, ওহি (وحي)-এর কোনো না কোনো পন্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এই ব্যাখ্যা ওহি (وحي) হিসেবে অবতীর্ণ হবে।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমাহ (حكمة) অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।} (৬)
মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর যে নেয়ামত রয়েছে এবং কিতাব ও হিকমাহ (حكمة)-এর মধ্য থেকে যা তিনি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন তা স্মরণ করো, যা দ্বারা তিনি তোমাদের উপদেশ দেন।} (৭) এই আয়াত দুটি একথাই ব্যক্ত করে যে—আল্লাহ তবারাকা ওয়া তাআলা—তাঁর রাসূলের প্রতি দুটি বিষয় অবতীর্ণ করেছেন: কিতাব—যা হলো কুরআন, এবং হিকমাহ (حكمة)—যা হলো তাঁর সুন্নাহ (سنة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
السنة المطهرة إذن "وحى من الله تعالى" أنزلها على رسوله صلى الله عليه وسلم، كما أنزل القرآن الكريم، سواء بسواء (1) بشهادة القرآن البينة، وهى أيضاً وحى بشهادة السنة نفسها، وإليك شواهد ذلك:
ب- الأدلة من السنة النبوية على أنها وحى من الله تعالى:قوله صلى الله عليه وسلم: "ألا إنى أوتيت القرآن ومثله معه" وقد سبق قريباً بيان دلالته على أن السنة وحى من الله عز وجل 0
قوله صلى الله عليه وسلم: لما سئل فى عام جدب: سعر لنا يا رسول الله. قال: "لا يسألنى الله عن سنة أحدثتها فيكم لم يأمرنى بها، ولكن اسألوا الله من فضله" (2) .
إن فى الحديث دلالته الصريحة فى أنه صلى الله عليه وسلم، لا يحدث أى سنة، وإنما يبلغ عن الله تعالى، ما
أمره به عز وجل. مما يدل على أن السنة المطهرة، إنما تأتيه بوحى الله سبحانه.
وقوله صلى الله عليه وسلم: "رأيت ما تعمل أمتى بعدى فاخترت لهم الشفاعة يوم القيامة" (3) .
--------------------------------------------
অতএব পবিত্র সুন্নাহ হলো "আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহি" যা তিনি তাঁর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর নাজিল করেছেন, ঠিক যেভাবে তিনি পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন। পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট সাক্ষ্য অনুযায়ী উভয়ই সমান (১) এবং সুন্নাহর নিজের সাক্ষ্য অনুযায়ীও এটি ওহি। এর প্রমাণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
খ- সুন্নাহ যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহি, সে বিষয়ে সুন্নাহর প্রমাণসমূহ:রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তদ্রূপ আরেকটি বিষয় (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে।" সুন্নাহ যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি, সে বিষয়ে এই হাদিসের নির্দেশনার বর্ণনা ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: যখন দুর্ভিক্ষের বছর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে দিন। তিনি বললেন: "আল্লাহ আমাকে এমন কোনো রীতিনীতি (সুন্নাহ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না যা আমি তোমাদের মধ্যে প্রবর্তন করেছি অথচ তিনি আমাকে তা নির্দেশ দেননি; বরং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো" (২)।
নিশ্চয়ই এই হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ থেকে কোনো সুন্নাহ প্রবর্তন করেন না, বরং তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কেবল তাই পৌঁছে দেন যা মহান আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, পবিত্র সুন্নাহ কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওহির মাধ্যমেই তাঁর নিকট অবতীর্ণ হয়।
এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "আমি দেখেছি আমার পরে আমার উম্মত কী আমল করবে, তাই আমি কিয়ামতের দিন তাদের জন্য সুপারিশের বিষয়টি পছন্দ করে নিয়েছি" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুবাতুয যানি ওয়াল মুরতাদ্দ ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقوله صلى الله عليه وسلم: "قمت على باب الجنة، فإذا عامة من دخلها المساكين، وإذا أصحاب الجد (1) محبوسون، إلا أصحاب النار، فقد أمر بهم إلى النار، وقمت على باب النار، فإذا عامة من دخلها النساء" (2) .
إن هذين الحديثين، وما فى معناهما، مما يفيد أن الله تعالى أرى نبيه صلى الله عليه وسلم، كذا وكذا، يأتى تأكيداً لقوله تعالى: {إنا أنزلنا إليك الكتاب بالحق لتحكم بين الناس بما أراك الله} (3) .
فتأمل قوله تعالى: {بما أراك الله} وكل الأحاديث الصحيحة التى جاء فيها أن الله أطلع نبيه صلى الله عليه وسلم، وأراه ما أراه، تعلم أن السنة النبوية وحى من الله تعالى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
حديث جبريل المشهور الذى سأل فيه النبى صلى الله عليه وسلم، عن الإيمان، والإسلام، والإحسان، والساعة، ففى نهايته قال صلى الله عليه وسلم: يا عمر! أتدرى من السائل؟ قلت الله ورسوله أعلم. قال: فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم" (4) .
--------------------------------------------
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়ালাম, দেখলাম সেখানে যারা প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। আর বিত্তশালীদের (১) আটকে রাখা হয়েছে, তবে জাহান্নামীদের ব্যতীত, কারণ তাদের ব্যাপারে জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর আমি জাহান্নামের দরজায় দাঁড়ালাম, দেখলাম সেখানে যারা প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই নারী।" (২) ।
নিশ্চয়ই এই হাদিসদ্বয় এবং এই অর্থের অনুরূপ হাদিসসমূহ যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই এই বিষয় দেখিয়েছেন, তা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সমর্থনস্বরূপ: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করতে পারেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন} (৩) ।
সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন} -এর ব্যাপারে চিন্তা করুন। আর সকল সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবগত করেছেন এবং যা দেখানোর তা দেখিয়েছেন, তা থেকে আপনি জানতে পারবেন যে সুন্নাহ নববীয়াহ হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি প্রেরিত ওহি (وحي)।
জিবরীলের প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান, ইসলাম, ইহসান এবং কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন; এর শেষাংশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন জিবরীল, তিনি তোমাদের দ্বীন শেখানোর জন্য তোমাদের কাছে এসেছিলেন" (৪) ।
--------------------------------------------