(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأساس في السنة وفقهها - السيرة النبوية   (سعيد حوى)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الأساس في السنة وفقهها - السيرة النبوية

المؤلف: سعيد حوّى [ت 1409 هـ]

الناشر: دار السلام، القاهرة - مصر

الطبعة: الثالثة، 1416 هـ - 1995 م

عدد الأجزاء: 4 (متسلسلة الترقيم)

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 ذو الحجة 1437

আল-আসাস ফিস সুন্নাহ ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ   (সাঈদ হাওয়া)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: আল-আসাস ফিস সুন্নাহ ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ

লেখক: সাঈদ হাওয়া [মৃত্যু ১৪০৯ হিজরি]

প্রকাশক: দারুস সালাম، কায়রো - মিশর

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: আবু ইয়াসির আল-জাজাইরি

[বইয়ের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জিলহজ ১৪৩৭ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
سعيد حوى

الأساس في السنة

وفقهها

المجلد الأول

القسم الأول

السيرة النبوية

دار السلام

للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة
সাঈদ হাওয়া

আল-আসাস ফিস সুন্নাহ

এবং এর ফিকহ

প্রথম খণ্ড

প্রথম অংশ

সীরাতুন নবী

দারুস সালাম

মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিতরণ ও অনুবাদের জন্য
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
الأساس في السنة

وفقهها

السيرة النبوية
সুন্নাহর ভিত্তি

এবং এর ফিকহ

নববী সীরাত
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسّلامُ عَلَىَ رَسُولِ اللهِ وَآلِهِ وَأَصْحَابِهِ

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا، إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

 

راجع هذا القسم ودققه

فضيلة الشيخ

عبد الحميد الأحدب

حفظه الله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীবৃন্দের ওপর।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

 

এই অংশটি পর্যালোচনা ও নিরীক্ষণ করেছেন

ফাযীলাতুশ শাইখ

আব্দুল হামীদ আল-আহদাব

আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقَدِّمَةُ النَّاشِر

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وأصحابه الطيبين الطاهرين ومن تبع سنتهم وعمل بهديهم إلى يوم الدين.

فقد روى الإمام مالك في الموطأ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تركتُ فيكم أمرين لن تضلوا ما مسكتم بهما: كتاب الله وسنة نبيه" فلقد يسر الله لنا أن قدمنا للأمة الإسلامية تفسير كتاب الله (الأساس في التفسير) وهو يعتبر القسم الأول من سلسلة الأساس في المنهج وأرجو أن نكون وقفنا في ذلك وها نحن والحمد لله نقدم لأمتنا الغالية (التي لم تعرف قدر نفسها) الكتاب الأول من القسم الثاني من سلسلة الأساس في المنهج والمكون من خمس كتب.

والتي تمثل الأساس في السنة وفقهها، وهذا القسم له ما للتفسير من الأهمية، وخاصة في هذا العصر الذي كثرت فيه الصيحات للأخذ بالقرآن دون السنة وهذا عن جهل أحياناً وعن علم وتخطيط ومكر أحياناً أخرى وقد اتخذت هذه الدعوات أشكالاً شتى، تارة بالطعن فيها وتارة بطبع الكتب وتوزيعها وتارة بالتشكيك في حجيتها ونصوصها وتارة في صحة نقلها وتارة بالطعن في رواتها كما تفعل بعض الفرق الضالة. وهذا الاتجاه قديم يعود للقرن الهجري الأول فقد أخرج البيهقي بسنده عن شبيب بن أبي فضالة المكي أن عمران بن حصين رضي الله عنه ذكر الشفاعة فقال رجل من القوم: يا أبا نجيد إنكم تحدثونا بأحاديث لم نجد لها أصلاً في القرآن فغضب عمران وقال للرجل: قرأت القرآن؟ قال: نعم. قال فهل وجدت فيه صلاة العشاء أربعاً وصلاة المغرب ثلاثاً والغداة - أي الصبح - ركعتين والظهر أربعاً والعصر أربعاً؟ قال لا. قال: فعمن أخذتم ذلك؟ ألستم عنا أخذتموه وأخذناه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم … إلخ الحديث، وفي نهاية الحديث يقول عمران بن حصين رضي الله عنه {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا}. قال عمران: فقد أخذنا عن رسول الله أشياء ليس لكم بها علم.

بل إن الرسول صلى لله عليه وسلم قد أخبرنا عن أمثال هؤلاء المشككين في السنة النبوية وحذر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌প্রকাশকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজন, সাহাবীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের সুন্নাহর অনুসরণ করবে ও তাঁদের হেদায়েত অনুযায়ী আমল করবে তাদের ওপর।

ইমাম মালিক মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ।" আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন যে, আমরা মুসলিম উম্মাহর নিকট আল্লাহর কিতাবের তাফসীর (আল-আসাস ফিত-তাফসীর) পেশ করেছি। এটি 'আসাস ফিল মানহাজ' সিরিজের প্রথম অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। আমি আশা করি আমরা এতে সফল হয়েছি। আর এখন আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আমাদের প্রিয় উম্মাহর জন্য (যারা নিজেদের মর্যাদা চেনে না) 'আসাস ফিল মানহাজ' সিরিজের দ্বিতীয় অংশের প্রথম কিতাবটি পেশ করছি যা পাঁচটি কিতাব নিয়ে গঠিত।

যা সুন্নাহ এবং এর ফিকহ বা সমঝের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি স্বরূপ। এই অংশের গুরুত্ব তাফসীরের গুরুত্বের মতোই, বিশেষ করে বর্তমান যুগে যখন সুন্নাহ বাদ দিয়ে কেবল কুরআন গ্রহণ করার রব উঠেছে। এটি কখনও অজ্ঞতাবশত, আবার কখনও জ্ঞানত, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এই আহ্বানগুলো বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে; কখনও সুন্নাহর সমালোচনা করে, কখনও বই ছাপিয়ে তা বিতরণের মাধ্যমে, কখনও এর প্রামাণিকতা ও পাঠ্যসমূহ নিয়ে সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে, কখনও এর বর্ণনাকারীদের ওপর অপবাদ আরোপের মাধ্যমে, যেমনটি কিছু ভ্রান্ত ফেরকা করে থাকে। এই প্রবণতাটি প্রাচীন, যা প্রথম হিজরি শতাব্দী থেকেই চলে আসছে। ইমাম বায়হাকী তাঁর সনদে শাবিব বিন আবু ফাযালা আল-মাক্কী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু শাফায়াত (সুপারিশ) সম্পর্কে আলোচনা করলে লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: হে আবু নুজাইদ! আপনারা আমাদের কাছে এমন সব হাদীস বর্ণনা করেন যার কোনো ভিত্তি আমরা কুরআনে পাই না। তখন ইমরান রা. রাগান্বিত হলেন এবং লোকটিকে বললেন: তুমি কি কুরআন পড়েছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কি তাতে এশার সালাত চার রাকাত, মাগরিবের সালাত তিন রাকাত, সকালের —অর্থাৎ ফজরের— সালাত দুই রাকাত এবং জোহর ও আসরের সালাত চার রাকাত পেয়েছ? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে তোমরা এগুলো কার কাছ থেকে গ্রহণ করেছ? তোমরা কি আমাদের থেকে তা গ্রহণ করোনি? আর আমরা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গ্রহণ করেছি... হাদীসের শেষ পর্যন্ত। হাদীসের শেষে ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। ইমরান রা. বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে এমন অনেক কিছু গ্রহণ করেছি যে সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই।

বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টিকারী এ জাতীয় লোকদের সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
منهم فقد روى الإمام أحمد وأبو داود بسند صحيح عن المقدام بن معد يكرب رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: "ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه، ألا إني أوتيتُ القرآن ومثله معه، ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه وإن ما حرم رسول الله مثل ما حرم الله". وصدق رسول الله صلى الله عليه وسلم. ويقول الله تبارك وتعالى {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ}.

وأقول: الحمد لله الذي حفظ لنا القرآن الكريم وسنة نبيه صلى الله عيه وسلم، والشائع أن الآية الكريمة {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} هي للقرآن فقط، وإن كان هذا على أرجح الأقوال إلا أن حفظ السنة النبوية من لوازم حفظ الشريعة، وقد اختارها الله تعالى ديناً لعباده إلى قيام الساعة، وختم بها الشرائع، فكان من لوازم التدبير الإلهي أن تحفظ هذه الشريعة الغراء ولن يتحقق ذلك الحفظ إلا بحفظ أصيلها العظيمين الكتاب والسنة.

وقد انفرد هذه الأمة عن باقي الأمم بأنها حفظت نصوص دينها حفظاً دقيقاً كاملاً لا مثيل له لتبقى زاد الأمم ومصدر هدايتها إلى قيام الساعة.

إلا أن فهم هذه النصوص هي التي محل اجتهاد وتقديمها للناس بأسلوب يناسب العصور على تتابعها، والتركيز على ما يهم كل جيل من الأجيال وتلمس حاجاته ومراعاة مدى استيعابه وفهمه، وحل مشاكله. فهذا هو الذي نحن بحاجة إليه في عصرنا، فكان هذا الكتاب، الذي نأمل من الله تبارك وتعالى أن يسد ثغرة في وجه المشككين بالسنة.

وأكرر دعوة وجهتها للقارئ الكريم على صفحات المقدمة في الأساس في التفسير أن لا يألو جهداً في توجيه النصح لنا لكي نتدارك ذلك في الطبعات القادمة إن شاء الله سواء ذلك للمؤلف حفظه الله أو للناشر فنكون له من الشاكرين، ورحم الله عملاق هذه الأمة الفاروق عمر بن الخطاب رضي الله عنه حينما قال: رحم الله أمرأ أهدى إليَّ عيوبي.

وفي الختام اللهم لك الحمد كما ينبغي لجلال وجهك وعظيم سلطانك.

الناشر

عبد القادر البكار
তাদের মধ্য হতে ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ একটি সহীহ সনদে মিকদাম বিন মা’দি কারিব (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু দেওয়া হয়েছে। জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু দেওয়া হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: 'তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল সাব্যস্ত করবে আর যা হারাম পাবে তাকেই হারাম সাব্যস্ত করবে।' অথচ আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার মতোই (হারাম)।" আল্লাহর রাসূল (সা.) সত্য বলেছেন। আর মহান আল্লাহ বলেন, "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।"

আমি বলি: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের জন্য পবিত্র কুরআন এবং তাঁর নবীর (সা.) সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছেন। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী মহান আল্লাহর বাণী—"নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক"—কেবল কুরআনের জন্যই প্রযোজ্য। যদিও অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটাই সঠিক, তবুও সুন্নাহর সংরক্ষণ শরীয়ত সংরক্ষণেরই একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর বান্দাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন এবং এর মাধ্যমেই পূর্ববর্তী সকল শরীয়তের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তাই এই মহিমান্বিত শরীয়তকে সংরক্ষণ করা ঐশ্বরিক ব্যবস্থারই একটি দাবি ছিল, আর এই সংরক্ষণ তার প্রধান দুটি মূল উৎস—কিতাব ও সুন্নাহ—উভয়টির সংরক্ষণ ছাড়া বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব ছিল না।

এই উম্মত অন্যান্য সকল উম্মত থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এই কারণে যে, তারা তাদের দ্বীনের মূল পাঠ্যসমূহকে এমন নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষণ করেছে যার কোনো নজির নেই, যেন তা কিয়ামত পর্যন্ত সকল জাতির পাথেয় এবং হিদায়াতের উৎস হিসেবে টিকে থাকে।

আমি সেই আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করছি যা আমি সম্মানিত পাঠকের উদ্দেশ্যে ‘আল-আসাস ফিত তাফসীর’-এর ভূমিকার পাতায় প্রদান করেছিলাম—যেন আমাদের ভুলত্রুটি সংশোধনে নসিহত প্রদানে কোনো প্রকার কুণ্ঠাবোধ না করা হয়, যাতে আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তী সংস্করণগুলোতে তা শুধরে নিতে পারি। পরামর্শটি লেখক (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) কিংবা প্রকাশক যার উদ্দেশ্যেই হোক না কেন, আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। এই উম্মতের মহান ব্যক্তিত্ব ফারুক উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) রহমত কামনা করে যথার্থই বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে আমার কাছে আমার ত্রুটিগুলো উপহার স্বরূপ পেশ করে।"

পরিশেষে, হে আল্লাহ! আপনার জন্য সকল প্রশংসা, যেমনটি আপনার সত্তার মাহাত্ম্য এবং আপনার সুমহান রাজত্বের জন্য উপযুক্ত ও শোভনীয়।

প্রকাশক

আব্দুল কাদির আল-বাক্কার
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

تستطيع أن تقول إذا قرأت هذا الكتاب أنك كدت تحيط بمعاني السنة النبوية، لأنه حوى الهدي النبوي الذي روته أمهات كتب السنة: صحيحا البخاري ومسلم، والسنن الخمسة: لأبي داود والنسائي والترمذي وابن ماجه والدارمي، وموطأ الإمام مالك، ومسانيد: الإمام أحمد وأبي يعلي الموصلي وأبي بكر البزار، وصحيحا ابن خزيمة وابن حبان، ومعاجم الطبراني الثلاثة ومستدرك الحاكم وما تيسر جمعه من يغر هذه الكتب من صحيح السنة وحسنها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আপনি এ কথা বলতে পারেন যে, আপনি যদি এই গ্রন্থটি পাঠ করেন তবে আপনি প্রায় নববী সুন্নাহর মর্মার্থসমূহ আয়ত্ত করে ফেলবেন। কারণ এতে সেই নববী হিদায়াতসমূহ সংকলিত হয়েছে যা সুন্নাহর মূল গ্রন্থসমূহ বর্ণনা করেছে: সহীহ বুখারী ও মুসলিম; পাঁচ সুনান গ্রন্থ: আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও দারেমী; ইমাম মালিকের মুওয়াত্তা; ইমাম আহমাদ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী ও আবু বকর আল-বায্যারের মুসনাদসমূহ; ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনে হিব্বানের সহীহদ্বয়; তাবারানীর তিনটি মু'জাম, হাকেমের মুস্তাদরাক এবং এসকল কিতাব ছাড়াও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে সুন্নাহর যা কিছু সহীহ ও হাসান হিসেবে সংগ্রহ করা সহজসাধ্য হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة

الأساس في السنة وفقهها

وفيها

أولاً: تعريف بهذا الكتاب.

ثانياً: التعريف بأصول هذا الكتاب ومصنفيها.
ভূমিকা

সুন্নাহ ও তার ফিকহ-এর মূলভিত্তি

এবং এতে রয়েছে

প্রথমত: এই কিতাবের পরিচিতি।

দ্বিতীয়ত: এই কিতাবের মূল উৎসসমূহ এবং তাদের রচয়িতাদের পরিচিতি।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أولاً: تعريف بهذا الكتاب

‌‌تمهيد

أقبلت على الدعوة الإسلامية - بفضل الله - في سنِّ مبكرة من حياتي، وكانت المكتبة الإسلامية لحديثة فقيرة، وكان من أبرز الكُتَّاب الذين تصادفنا كتبهم في تلك الأيام الشيخ محمد الغزالي - أطال الله بقاءه - وكان مما قرأت له كتاب فقه السيرة، وكان مما قاله في هذا الكتاب:

إن القرآن روح الإسلام ومادته، وفي آياته المحكمة شُرِحَ دستوره وبُسِطَتْ دعوته، وقد تكفل الله بحفظه فصِينت به حقيقة الدين، وكُتِبَ لها الخلود أبد الآبدين، وكان الرجل الذي اصطفاه الله لإبلاغ آياته وحمل رسالته (قرآناً) حياً يسعى بين الناس، كان مثالاً لما صوَّره القرآن من إيمان وإخبات، وسعي وجهاد، وحق وقوة، وفقه وبيان، فلا جرم أن قوله وفعله وتقريره وأخلاقه وأحكامه، ونواحي حياته كلها تعد ركناً في الدين، وشريعة للمؤمنين.

إن الله اختاره ليتحدث باسمه ويبلغ عنه، فمن أولى منه بفهم مراد الله فيما قال؟ ومن أولى منه بتحديد المسلك الذي يتواءم مع دلالات القرآن القريبة والبعيدة؟ إن تطبيق القانون لا يقل خطراً عن صياغته، وللقانون نص وروح، وعند علاج الأحداث المختلفة لتسير وفق القانون العتيد، تجدُّ فتاوى وتدوّنُ نصائح، وتُحفظ تجارب وعِبر، وتثبت أحكام بعضها أقرب إلى حرفية النص وبعضها أدنى إلى روحه .. وهكذا.

والقرآن هو قانون الإسلام، والسنة هي تطبيقه، والمسلم مكلف باحترام هذا التطبيق تكليفه باحترام القانون نفسه، وقد أعطى الله نبيه صلى الله عليه وسلم حق الاتباع فيما يأمر به وينهى عنه لأنه - في ذلك - لا يصدر عن نفسه بل عن توجيه ربه، فطاعته هي طاعة الله، قال الله عز وجل: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ
প্রথম: এই কিতাবটির পরিচিতি

ভূমিকা

আমি আল্লাহর অনুগ্রহে আমার জীবনের অল্প বয়সেই ইসলামি দাওয়াতের দিকে মনোনিবেশ করেছি। সে সময় আধুনিক ইসলামি লাইব্রেরি ছিল অসচ্ছল। সেই দিনগুলোতে আমরা যেসব বিশিষ্ট লেখকদের বইপত্রের দেখা পেতাম, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শাইখ মুহাম্মাদ আল-গাজালি—আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন। তাঁর যেসব বই আমি পড়েছিলাম তার মধ্যে একটি ছিল ফিকহুস সিরাহ এবং সেই বইতে তিনি যা বলেছিলেন তার কিয়দংশ হলো:

নিশ্চয়ই কুরআন হলো ইসলামের রূহ এবং এর মূল উপাদান। এর মুহকাম আয়াতসমূহে এর সংবিধান ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং এর দাওয়াতকে প্রসারিত করা হয়েছে। আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, ফলে এর মাধ্যমে দ্বীনের হাকীকত সংরক্ষিত হয়েছে এবং একে অনন্তকালের জন্য চিরস্থায়ী করা হয়েছে। আর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁর রিসালাত বহন করার জন্য যাকে মনোনীত করেছিলেন, তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে বিচরণকারী এক জীবন্ত (কুরআন)। কুরআন ঈমান, বিনয়, প্রচেষ্টা, জিহাদ, সত্য, শক্তি, প্রজ্ঞা ও বর্ণনার যে চিত্র অঙ্কন করেছে, তিনি ছিলেন তার এক মূর্ত প্রতীক। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর কথা, কাজ, মৌন সম্মতি, চরিত্র, আহকাম এবং তাঁর জীবনের সকল দিক দ্বীনের একটি রুকন এবং মুমিনদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁকে তাঁর পক্ষ থেকে কথা বলতে এবং তাঁর বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন; সুতরাং আল্লাহ যা বলেছেন তার উদ্দেশ্য বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অধিক যোগ্য আর কে হতে পারে? এবং কুরআনের নিকটবর্তী ও দূরবর্তী নির্দেশনাসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পথ নির্ধারণে তাঁর চেয়ে বেশি উপযুক্তই বা আর কে আছে? আইনের প্রয়োগ এর প্রণয়নের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আইনের যেমন শব্দ বা পাঠ থাকে, তেমনি থাকে এর মূল লক্ষ্য বা চেতনা। বিভিন্ন ঘটনাবলিকে প্রতিষ্ঠিত আইনের আলোকে পরিচালনার জন্য ফতোয়া প্রদান করা হয়, নসিহত লিপিবদ্ধ করা হয়, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা সংরক্ষিত হয় এবং এমন সব বিধান সাব্যস্ত হয় যার কোনোটি মূল পাঠের আক্ষরিক অর্থের নিকটবর্তী, আবার কোনোটি এর মূল চেতনার সাথে অধিক সংগতিপূর্ণ... এভাবেই চলতে থাকে।

আর কুরআন হলো ইসলামের আইন, আর সুন্নাহ হলো তার প্রয়োগ। একজন মুসলিমকে এই প্রয়োগকে সম্মান করতে ঠিক তেমনিভাবে আদেশ দেওয়া হয়েছে যেমনভাবে তাকে খোদ আইনকে সম্মান করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আদেশ করেন এবং যা নিষেধ করেন, তাতে তাঁকে অনুসরণ করার অধিকার প্রদান করেছেন; কারণ তিনি এই ক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলেন না, বরং তাঁর রবের নির্দেশনার আলোকেই বলেন। সুতরাং তাঁর আনুগত্যই হলো আল্লাহর আনুগত্য। মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি...}
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
حَفِيظًا} (1). وقال: {بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (2). وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (3).

إن السير في ركاب المرسلين هو الخير كله، ومن ثَمَّ كانت سنة محمد عليه الصلاة والسلام مصدراً لشريعته مع الكتاب الذي شرفهُ الله به، إلا أن السنن المأثورة عرض لها ما يوجب اليقظة في تلقيها، فليس كل ما ينسب إلى الرسول عليه الصلاة والسلام سنة تقبل، ولا كل ما صحت نسبته صح فهمهن أو وُضِعَ موضعه.

والمسلمون لم يؤذوا من الأحاديث الموضوعة - لسهولة تزييفها وفضحها - قدر ما أوذوا من الأحاديث التي أُسيءَ فهمها واضطربت أوضاعها، حتى جاء أخيراً من ينظر إلى السنن جمعاء نظرة ريبة واتهام، ويتمنى لو تخلص المسلمون منها.

وهذا خطأ من ناحيتين: إهمال الحقيقة التاريخية أولاً، فإن الدنيا لم تعرف بشراً أحصيت آثاره ونقدت بحذر، ومُحِّصت بدقة، كما حدث ذلك في آثار محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم.

والناحية الأخرى أن في السنة كنوزاً من الحكمة العالية، لو نسب بعضها إلى أحد من الناس لكان من عظماء المصلحين، فلماذا تضيع ويحرم الناس خيرها؟!

عندما درسنا تراث محمد صلى الله عليه وسلم في (الأخلاق) وذاكرنا أحاديثه التي تربو على الألوف في شتى الفضائل، خيل إلينا: لو أن جيشاً من علماء النفس والتربية اجتمع ليسوق للعالم مثل هذا الأدب لعجز، والأخلاق شعبة واحدة من رسالة محمد عليه الصلاة والسلام الضخمة أهـ.

وهكذا استقر في ذهني منذ بدايات سيري إلى الله ضرورة التعرف على السنة الصحيحة والحسنة، وضرورة فهمها فهماً صحيحاً. وبعد مطالعات كثيرة في كتب السنة وجدت أن الحاجة ملحة لوجود كتاب يجمع السنة الصحيحة والحسنة، ويقدم مع ذلك الفهم الصحيح للنصوص التي تحتاج إلى شرح أو توضيح. ومن ثم ولدت فكرة هذا الكتاب.

--------------------------------------------

(1) النساء: 80.

(2) النحل: 44.

(3) الحشر: 7.
রক্ষক হিসেবে।} (১)। এবং তিনি বলেছেন: {সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ও আসমানি কিতাবসহ; আর আমি আপনার কাছে যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যেন তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} (২)। এবং তিনি বলেছেন: {আর রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} (৩)।

রাসূলগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে সকল কল্যাণ। এ কারণেই মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর সুন্নাহ তাঁর শরিয়তের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়েছে সেই কিতাবের পাশাপাশি যার দ্বারা আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন। তবে বর্ণিত সুন্নাহগুলোর ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয় প্রকাশ পেয়েছে যা গ্রহণে সচেতন হওয়া আবশ্যক। কেননা, মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত প্রতিটি বিষয়ই গ্রহণযোগ্য সুন্নাহ নয়, আর যা কিছু সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে তার সবটুকুই যে সঠিকভাবে বোঝা হয়েছে বা সঠিক স্থানে প্রয়োগ করা হয়েছে, এমনটিও নয়।

জাল হাদীসের কারণে মুসলমানরা ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি—যেহেতু সেগুলো চিহ্নিত করা ও স্বরূপ উন্মোচন করা সহজ—যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেইসব হাদীসের কারণে যেগুলোর ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং যেগুলোর প্রয়োগে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এমনকি শেষ পর্যন্ত এমন একদল লোকের উদ্ভব হয়েছে যারা সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর প্রতি সন্দেহ ও অভিযোগের দৃষ্টিতে তাকায় এবং কামনা করে যে মুসলমানরা যদি তা থেকে মুক্তি পেত!

এটি দুই দিক থেকে ভুল: প্রথমত, ঐতিহাসিক সত্যকে উপেক্ষা করা। কেননা পৃথিবী এমন কোনো মানুষকে দেখেনি যাঁর কথা ও কর্ম এত সতর্কতার সাথে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, এত সাবধানতার সাথে যাচাই করা হয়েছে এবং এত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেমনটি আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে করা হয়েছে।

অন্য দিকটি হলো, সুন্নাহর মাঝে উচ্চতর হিকমত বা প্রজ্ঞার এমন ভাণ্ডার রয়েছে যে, তার সামান্য কিছুও যদি অন্য কোনো মানুষের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হতো, তবে তিনি মহান সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত হতেন। তাহলে কেন তা হারিয়ে যাবে এবং মানুষ তার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে?!

যখন আমরা (চরিত্র) সম্পর্কে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উত্তরাধিকার অধ্যয়ন করি এবং বিভিন্ন সচ্চরিত্রতা বিষয়ে তাঁর হাজার হাজার হাদীস পর্যালোচনা করি, তখন আমাদের মনে হয়: যদি একদল মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ একত্রিত হয়ে বিশ্বের সামনে এমন শিষ্টাচার পেশ করতে চাইতেন, তবে তারা অক্ষম হতেন। আর চরিত্র তো মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বিশাল রিসালাতের একটি শাখা মাত্র।

এভাবেই আল্লাহর পথে চলার শুরুর দিক থেকেই আমার মনে বদ্ধমূল হয়েছে যে, সহীহ ও হাসান সুন্নাহর সাথে পরিচিত হওয়া এবং তার সঠিক অনুধাবন অপরিহার্য। সুন্নাহর কিতাবসমূহে দীর্ঘ পাঠের পর আমি অনুভব করেছি যে, এমন একটি কিতাবের তীব্র প্রয়োজন যা সহীহ ও হাসান সুন্নাহকে একত্রিত করবে এবং সেই সাথে নস বা পাঠগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করবে যেগুলোর ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আর এভাবেই এই কিতাবটির ধারণা জন্ম নেয়।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ৮০।

(২) আন-নাহল: ৪৪।

(৩) আল-হাশর: ৭।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأثناء مطالعاتي في كتب السنة كنت أتردد في قراءة بعض الكلمات أو الأسماء بسبب من غياب الشكل والضبط، وإذا ما أردت التحقيق كان ذلك يستغرق قسماً من الوقت ليس قليلاً، وكثيراً ما كانت تفوتني معاني بعض الكلمات والتراكيب، وكان ذلك يقتضي مني بحثاً طويلاً إن أردت المعرفة، فشعرت أنه إذا كان من الضروري أن تجمع السنة المعتمدة في كتاب، وأن يعرض ي هذا الكتاب الفهم الصحيح لبعض النصوص، فلابد أن يكون هذا الكتاب مشكلاً مشروحاً فيه كل ما هو غامض في حق القارئ العادي.

وأثناء مطالعاتي ف يكتب السنة كنت ألاحظ أن المؤلفين فيها ما تركوا شيئا إلا وعملوا على خدمة السنة النبوية فيه، ولكنه شيء عادي أن يتحكم في تأليف كل عصر اهتمامات ذلك العصر، فالتأليف في الأصل وليد الحاجة أو وليد الظرف، فمثلاً حيثما وجد صراع مذهبي أو وجدت فرقة ضالة أو جهل معين أو انحراف ما فلابد أن يراعى في تأليف أهل ذلك العصر مثل هذا، ومن ههنا تبرز عناوين ويركز على موضوعات، وقد يتغلب نوع من الترتيب في عصر على غيره، وقد وجدت أن موضوعات كثيرة مما تهم عصرنا لم تنل حظها من الإبراز، كما أني وجدت أن نوعاً من الترتيب يمكن أن يكون أكثر مناسبة للقارئ العادي، وأكثر تحقيقاً لبعض المعاني التربوية أو النفسية التي أحرص عليها.

وكان مما استقر ف نفسي أن احتياجات القارئ العادي غير احتياجات القارئ المختص، فالقارئ العادي يهمه الجوهر دون ما احتاجه حفظ هذا الجوهر أو تمييزه عن غيره، ولما كانت أكثر كتب الحديث تهتم بما أحاط بالسنة أو لزم لتمحيصها اهتمامها بالسنة نفسها فقد وجدت أن كتاباً ينصبُّ الكلام فيه على السنة ذاتها دون ما أحاط بها من ضرورات التحقيق هو الذي يحتاجه القارئ غير المختص في عصرنا. وهذا الكتاب للقارئ المسلم مطلقاً.

وإذ كنت أرى أن من واجبات دعاة الإسلام في عصرنا أن يقدموا للناس نصوص الكتاب والسنة بأسهل عرض وأجوده، وأقوم شرح وأعدله، خاصة وهم يريدون أن يقدموا للعالم هذا الإسلام، ويريدون أن يصوغوا الحياة عليه، فقد وجدت من الضرورة أن توجد
সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নকালে স্বরচিহ্ন ও নুক্তার অনুপস্থিতির কারণে কিছু শব্দ বা নাম পাঠ করার ক্ষেত্রে আমি দ্বিধাবোধ করতাম। আমি যদি এগুলোর সঠিকতা যাচাই করতে চাইতাম, তবে তাতে বেশ খানিকটা সময়ের প্রয়োজন হতো। অনেক সময় কিছু শব্দ ও বাক্যরীতির অর্থ আমার বোধগম্য হতো না, আর তা জানতে চাইলে আমাকে দীর্ঘ গবেষণার প্রয়োজন হতো। তখন আমি অনুভব করলাম যে, যদি নির্ভরযোগ্য সুন্নাহসমূহ একটি গ্রন্থে সংকলন করা আবশ্যক হয় এবং সেই গ্রন্থে যদি নির্দিষ্ট কিছু পাঠের সঠিক অনুধাবন তুলে ধরা প্রয়োজন হয়, তবে সেই কিতাবটি অবশ্যই স্বরচিহ্নযুক্ত এবং ব্যাখ্যা সম্বলিত হতে হবে, যেন সাধারণ পাঠকের নিকট অস্পষ্ট বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যায়।

সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ পাঠকালে আমি লক্ষ্য করেছি যে, গ্রন্থকারগণ নববী সুন্নাহর সেবায় কোনো কিছুই বাকি রাখেননি। তবে প্রতিটি যুগের গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে সেই যুগের চাহিদা ও আগ্রহের প্রতিফলন ঘটাটাই স্বাভাবিক। কেননা গ্রন্থ রচনা মূলত প্রয়োজন বা পরিস্থিতির ফসল। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে কোনো মাযহাবী বিতর্ক বা কোনো বিভ্রান্ত দল অথবা নির্দিষ্ট কোনো অজ্ঞতা কিংবা বিচ্যুতি দেখা দিত, তখন সেই যুগের লেখকদের রচনায় সে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা অনিবার্য হয়ে পড়ত। আর এ কারণেই নির্দিষ্ট কিছু শিরোনাম প্রকাশ পেত এবং বিশেষ কিছু প্রসঙ্গের ওপর গুরুত্বারোপ করা হতো। কোনো এক যুগে এক ধরণের বিন্যাস পদ্ধতি অন্য পদ্ধতির ওপর প্রাধান্য পেত। আমি লক্ষ্য করেছি যে, বর্তমান সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি। তেমনিভাবে আমি অনুভব করলাম যে, বিন্যাসের এমন একটি পদ্ধতি থাকা সম্ভব যা সাধারণ পাঠকের জন্য অধিক উপযোগী হবে এবং এর মাধ্যমে এমন কিছু শিক্ষামূলক বা মনস্তাত্ত্বিক লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে যা আমি অর্জন করতে চাই।

আমার মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, একজন সাধারণ পাঠকের প্রয়োজন একজন বিশেষজ্ঞ পাঠকের প্রয়োজন থেকে ভিন্ন। সাধারণ পাঠকের কাছে মূল নির্যাসটুকুই প্রধান, সেটি সংরক্ষণের পদ্ধতি বা অন্য বিষয় থেকে তাকে পৃথক করার প্রক্রিয়া তার মূল বিবেচ্য নয়। যেহেতু হাদীসের অধিকাংশ গ্রন্থই সুন্নাহর মূল পাঠের চেয়ে এর প্রাসঙ্গিক বিষয় বা এর বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের পদ্ধতির ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছে, তাই আমি মনে করেছি যে, বর্তমান যুগের সাধারণ পাঠকের জন্য এমন একটি গ্রন্থের প্রয়োজন যেখানে সরাসরি সুন্নাহর ওপরই আলোচনা নিবদ্ধ থাকবে এবং গবেষণামূলক জটিলতাগুলো পরিহার করা হবে। এই গ্রন্থটি সাধারণভাবে সকল মুসলিম পাঠকের জন্য।

যেহেতু আমি মনে করি যে, বর্তমান যুগে ইসলামের দায়ীদের অন্যতম দায়িত্ব হলো মানুষের সামনে কুরআন ও সুন্নাহর পাঠসমূহ অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল উপস্থাপনায় এবং সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যায় তুলে ধরা, বিশেষ করে যখন তারা বিশ্বের কাছে এই ইসলামকে উপস্থাপন করতে চান এবং ইসলামের আলোকে জীবন পরিচালনা করতে চান, তখন আমি অপরিহার্য মনে করলাম যে...
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
سلسلة في هذا الشأن، وهكذا تأكد لديَّ إصدار سلسلة الأساس في المنهج بأقسامها الثلاثة: (الأساس في التفسير) و (الأساس في السنة) و (الأساس في قواعد المعرفة وضوابط الفهم للنصوص).

وإذ كنت أتصور أنه لا تنضج شخصية الداعية والقائد المسلم في عصرنا إلا باستكماله دراسة عدة أمور، منها السنة النبوية، فقد رأيت أنه لابد من كتاب جامع لنصوص السنة الصحيحة والحسنة يدرسه كل من يتصدر للدعوة إلى الله أو تؤهله مؤهلاته لذلك، أو يقدمه إخوانه للقيادة الإسلامية الراشدة.

وكان هذا عاملاً من عوامل تأليف هذا الكتاب.

* * *

هذه بعض الدوافع التي دفعت إلى التفكير في إخراج هذا الكتاب. ودعني الآن أحدثك بعض الحديث عن بعض المباحث الحديثية وغيرها بين يدي ما فعلته؛ ليخرج هذا الكتاب بالشكل الذي تراه، والذي أطمع أن يكون قد حقق كل ما استهدفته منه.

(1)

انفردت الأمة الإسلامية عن جميع الأمم بأنها حفظت نصوص دينها حفظاً دقيقاً كاملاً، وذلك من معجزات الإسلام، وأن ما قاله كتابه هو الحق والصدق، يشهد لذلك تحقق قوله جل جلاله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (1) فلقد حفظ القرآن حفظاً لا ينتطح فيه عنزان، وحفظت السنة النبوية التي تشرح القرآن حفظاً هو وحده معجزة، فلقد وُقِّفَتْ هذه الأمة إلى اعتماد كل ما يلزم لحفظ النصوص، وقد قامت جهود هائلة من أجل ذلك، ومن عرف حقائق هذا الأمر أدرك معجزة الإسلام هذه.

(2)

اعتمدت الأمة الإسلامية من أجل حفظ نصوص الوحي مبدأي الرواية والتثبت،

--------------------------------------------

(1) الحجر: 9.
এই বিষয়ে একটি ধারাবাহিক, আর এভাবেই আমার কাছে পদ্ধতি বা মানহাজের ক্ষেত্রে 'আল-আসাস' (ভিত্তি) সিরিজটি এর তিনটি বিভাগে প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে: (তাফসীরের ক্ষেত্রে আল-আসাস), (সুন্নাহর ক্ষেত্রে আল-আসাস) এবং (জ্ঞানের মূলনীতি ও মূল পাঠ বা নصوص অনুধাবনের নিয়মনীতির ক্ষেত্রে আল-আসাস)।

যেহেতু আমি মনে করি যে, আমাদের যুগে একজন দাঈ ও মুসলিম নেতার ব্যক্তিত্ব ততক্ষণ পরিপক্ব হয় না, যতক্ষণ না তিনি বেশ কিছু বিষয়ের অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো সুন্নাহে নববী; তাই আমি অনুভব করেছি যে, সহীহ ও হাসান সুন্নাহর মূল পাঠসমূহ সম্বলিত একটি সংকলিত গ্রন্থ থাকা আবশ্যক, যা আল্লাহ্‌র পথে দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত প্রত্যেকেই অধ্যয়ন করবেন, অথবা যাদের যোগ্যতা তাদের সেই কাজের উপযুক্ত করে তুলেছে, কিংবা যাদেরকে তাদের ভাইয়েরা সঠিক ইসলামী নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করেছেন।

এই গ্রন্থটি রচনার পেছনে এটিও অন্যতম একটি কারণ ছিল।

* * *

এই গ্রন্থটি প্রকাশের চিন্তার পেছনে এগুলোই ছিল কিছু প্রেষণা। এখন আমি যা করেছি তার প্রেক্ষাপটে হাদীস বিষয়ক কিছু আলোচনা এবং অন্যান্য কিছু কথা আপনার সামনে উপস্থাপন করছি; যাতে এই কিতাবটি আপনার সামনে এই রূপে প্রকাশ পায় যেভাবে আপনি দেখছেন, এবং আমি আশা করি এর মাধ্যমে আমি যা লক্ষ্য স্থির করেছিলাম তা অর্জিত হয়েছে।

(১)

মুসলিম উম্মাহ পৃথিবীর সকল জাতির মধ্যে এদিক থেকে অনন্য যে, তারা তাদের দ্বীনের মূল পাঠসমূহ (নصوص) অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করেছে। এটি ইসলামের অন্যতম মুজিজা। আর এর কিতাব যা বলেছে তা পরম সত্য ও বাস্তব; এর প্রমাণ স্বরূপ মহান আল্লাহর বাণীর প্রতিফলন ঘটেছে: {নিশ্চয়ই আমি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।} (১) কুরআন এমনভাবে সংরক্ষিত হয়েছে যে তাতে সামান্যতম বাদানুবাদের অবকাশ নেই, এবং কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ সুন্নাহে নববী এমনভাবে সংরক্ষিত হয়েছে যা নিজেই একটি মুজিজা। এই উম্মাহকে মূল পাঠসমূহ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পথ অবলম্বনের তাওফীক দেওয়া হয়েছে, আর এর জন্য পরিচালিত হয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। যে ব্যক্তি এই বিষয়ের স্বরূপ সম্পর্কে অবগত, সে ইসলামের এই মুজিজাটি অনুধাবন করতে সক্ষম।

(২)

ওহীর মূল পাঠসমূহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মুসলিম উম্মাহ বর্ণনা (রেওয়ায়েত) এবং যাচাই-বাছাই (তাসাব্বুত) - এই দুই মূলনীতির ওপর নির্ভর করেছে।

--------------------------------------------

(১) আল-হিজর: ৯।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وتوضَّعَتْ نتيجة لاعتماد هذين المبدأين مئات الاصطلاحات والقواعد والضوابط وعشرات العلوم وأنواع الدراسات، ونتج عن ذلك عشرات الألوف من الكتب، وكل ذلك للوصول في النهاية إلى ما يصح اعتماده من النصوص ومالا يصح.

(3)

انصب جهد القراء على حفظ الشاردة والواردة مما له علاقة بالقرآن الكريم، أحرفه ورواياته، من الهمس فيه إلى تعدد اللهجات في النطق به، إلى استقراء طرائق الأداء التي أدى بها الرسول صلى الله عليه وسلم هذا القرآن لشتى القبائل.

وانصبَّ جهد المحدثين على حفظ الحديث وتبيان ما داخله أو خالطه أو أدخل عليه.

وبهذا الجهد وذاك قدم القراء والمحدثون المادة الخام لكل علوم الإسلام التي انبثقت عن الكتاب والسنة، كعلم أسباب النزول وعلم الناسخ والمنسوخ وعلم التفسير وعلم الأصول وعلوم العقائد والفقه والأخلاق والآداب والسلوك وعلوم السيرة والشمائل والخصائص إلى غير ذلك من علوم أمهات، ولقد وسِعَتْ هذه المادة الخام الحياة كلها؛ ولذلك فإن الدراسات والمعاني التي يمكن أن تنبثق عن الكتاب والسنة لا تتناهى.

وإذا كانت المحصلة المرادة من النصوص هي الأحكام الشرعية فقد وجد علم أصول الفقه الذي يضبط كيفية الوصول إلى الأحكام الشرعية التي تسع الزمان والمكان والتي لا تتناهى كذلك.

وهذا العلم - علم أصول الفقه - هو الذي وضع القواعد التي تضع السنة في محلها بالنسبة لأصول التشريع، والذي وضع قواعد الوصول إلى الحكم الشرعي من خلال استشراف النصوص وأصول الأحكام.

وهكذا تعاون القراء والمحدثون والمجتهدون والأصوليون والراسخون في العلم بعامة على وضع كل نص في محله بالنسبة لبناء الإسلام.
এই দুটি মূলনীতি গ্রহণের ফলে শত শত পরিভাষা, নিয়ম ও বিধিবিধান এবং কয়েক ডজন বিজ্ঞান ও বিভিন্ন ধরণের গবেষণা তৈরি হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে হাজার হাজার কিতাব রচিত হয়েছে, যার সবকিছুর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো পরিশেষে পাঠ্যসমূহ (নصوص) থেকে কোন্ অংশটি নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক এবং কোনটি সঠিক নয়—তা নির্ধারণ করা।

(৩)

ক্বারীগণের (পবিত্র কুরআন পাঠকারীদের) সমস্ত প্রচেষ্টা নিবদ্ধ ছিল কুরআনুল কারীমের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় সংরক্ষণের ওপর; এর বর্ণসমূহ ও রেওয়ায়েতসমূহ থেকে শুরু করে, এর উচ্চারণের মৃদু ধ্বনি (হামস) এবং এর উচ্চারণে উপভাষাগত বৈচিত্র্য থেকে শুরু করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন গোত্রের কাছে যেভাবে কুরআন তিলাওয়াত করে পৌঁছে দিয়েছেন, তার শৈলীসমূহের পদ্ধতিগত পর্যালোচনা পর্যন্ত।

আর মুহাদ্দিসগণের প্রচেষ্টা নিবদ্ধ ছিল হাদিস সংরক্ষণ এবং এর মধ্যে যা কিছু অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে, সংমিশ্রিত হয়েছে বা যা এতে নতুন করে আরোপ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার ওপর।

ক্বারী ও মুহাদ্দিসগণ এই দ্বিমুখী প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সেই সকল শাখার জন্য মূল রসদ বা উপাদান সরবরাহ করেছেন যা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত হয়েছে। যেমন— আসবাবুন নুযূল সংক্রান্ত ইলম, নাসিখ ও মানসুখ সংক্রান্ত ইলম, তাফসীর শাস্ত্র, উসূলে ফিকহ, আকাইদ শাস্ত্র, ফিকহ, আখলাক, আদব ও সুলূক এবং সীরাত, শামায়েল ও খাসায়েস সহ অন্যান্য মৌলিক জ্ঞান-বিজ্ঞান। এই মূল উপাদান সমগ্র জীবনকে পরিব্যপ্ত করে আছে; আর একারণেই কিতাব ও সুন্নাহ থেকে যেসব গবেষণা ও গূঢ় অর্থ উদ্ভূত হতে পারে তার কোনো পরিসীমা নেই।

যদি পাঠ্যসমূহ (নصوص) থেকে কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত নির্যাস হয় শরয়ী আহকাম (বিধানাবলী), তবে সেক্ষেত্রে উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে। এই শাস্ত্র এমন এক পদ্ধতি নির্ধারণ করে যার মাধ্যমে সেই সকল শরয়ী আহকাম অর্জন করা সম্ভব যা দেশ ও কালকে পরিব্যপ্ত করে এবং যার কোনো শেষ নেই।

এই উসূলে ফিকহ শাস্ত্রই সেই সকল নিয়মাবলী প্রণয়ন করেছে যা আইন প্রণয়নের মূল উৎস হিসেবে সুন্নাহকে তার যথাযথ অবস্থানে স্থাপন করে এবং যা পাঠ্যসমূহ (নصوص) ও আহকামের মূলনীতির গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শরয়ী সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার নিয়মাবলী নির্ধারণ করেছে।

এভাবেই ক্বারী, মুহাদ্দিস, মুজতাহিদ, উসূলবিদ এবং সামগ্রিকভাবে ইলমে পারদর্শী গভীর প্রজ্ঞাবানগণ ইসলামের অবকাঠামো নির্মাণে প্রতিটি পাঠ্য বা দলিলকে তার যথাযথ অবস্থানে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
(4)

وقد اشتغل المحدثون للتثبت من المرويات على محورين: محور السند، ومحور المتن.

فعلى محور السند: درسوا وضع الرواة: عدالتهم وصدقهم وضبطهم، واجتماعهم ببعضهم، وإمكانية أخذ بعضهم عن بعض، إلى غير ذلك.

وعلى محور المتن: قارنوا بين المتون المروية فإذا خالف الثقة من هو أوثق منه أو إذا خالف الثقة الثقات لم يقبلوا المتن إلا إذا أمكن الجمع بين الحديثين.

وهكذا من خلال سير السند ومقارنة المتون أحكموا أمر التثبت، ومع ذلك فإنهم لم يكتفوا بذلك بل أوجبوا على أنفسهم أن ينظروا نظرة شمولية إلى السند والمتن بعي الخبير بشأنها البصير بهما، لعلهم يكتشفون قادحاً خفياً، ومن ثم أوجدوا ما يسمى بعلم العلل، ولم يعتبروا الحديث صحيحاً إلا إذا سلم من الشذوذ والعلة.

وهذا كله كان جهد المحدثين، وأكمل عملهم الأئمة المجتهدون، فإذا كان المحدثون مهمتهم النظر في السند والمتن ومقارنة متون السنة النبوية ببعضها البعض لمعرفة الشذوذ في الرواية، فمهمة المجتهدين أن يستشرفوا نصوص الكتاب والسنة، وأن يلحظوا ما إذا كانت رواية من الروايات تخالف معنى قرآنياً أو قاعدة تشريعية، وهكذا أكمل المجتهد عمل المحدث، ولذلك ترى بعض النصوص صححها المحدثون ولم يأخذ بها الأئمة المجتهدون إما لاعتبارها مخالفة لنص قرآني أو لقاعدة شرعية محكمة أو لاعتبارهم إياها سنة يومية فعلها رسول الله صلى الله عليه وسلم بحكم قيادته السياسية للدولة الإسلامية، وإذ كانت هذه القضية من أخطر القضايا لما يترتب عليها من تعطيل السنن فإنها محرمة إلا على أهل الاجتهاد، ولذلك اعتبروا من يتصدر للاجتهاد وليس أهلاً له ضالاً مضلاً؛ لما يترتب على اجتهاده من تعطيل لبعض النصوص أو مس لهيكل الشريعة.

وهكذا تضافرت جهود لا مثيل لها حتى بقيت نصوص الإسلام سليمة من الخلط أو التحريف أو التبديل أو الزيادة أو النقص، لتبقى زاد الأمم ومصدر هدايتها إلى قيام الساعة.

* * *
(৪)

বর্ণিত বিষয়সমূহ (রেওয়ায়েত) নিশ্চিত করার জন্য মুহাদ্দিসগণ দুটি অক্ষ বা দিক নিয়ে কাজ করেছেন: সনদের অক্ষ এবং মতনের (মূল পাঠের) অক্ষ।

সনদের অক্ষের ক্ষেত্রে: তাঁরা বর্ণনাকারীদের (রাবী) অবস্থা অধ্যায়ন করেছেন: তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা, সত্যবাদিতা, স্মরণশক্তি ও নির্ভুলতা, একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ এবং একজনের থেকে অন্যের হাদীস গ্রহণের সম্ভাবনা, ইত্যাদি বিষয়।

আর মতনের অক্ষের ক্ষেত্রে: তাঁরা বর্ণিত মতনগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন; ফলে যদি কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য কারো বিরোধিতা করেন অথবা যদি কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য একদল বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন, তবে তাঁরা সেই মতনটি গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না হাদীস দুটির মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হতো।

এভাবে সনদের পর্যালোচনা এবং মতনগুলোর তুলনার মাধ্যমে তাঁরা যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টিকে সুসংহত করেছেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং নিজেদের জন্য এটি আবশ্যক করে নিয়েছেন যে, তাঁরা বিশেষজ্ঞ ও সূক্ষ্মদর্শীর দৃষ্টিতে সনদ ও মতনের প্রতি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিপাত করবেন, যাতে সম্ভবত কোনো গোপন ত্রুটি উদঘাটন করা যায়। এর ফলে তাঁরা 'ইলমে ইলাল' (ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) নামক শাস্ত্র উদ্ভাবন করেন এবং কোনো হাদীসকে ততক্ষণ পর্যন্ত সহীহ হিসেবে গণ্য করতেন না, যতক্ষণ না সেটি শ্যুজূয (অসংগতি) এবং ইলাল (ত্রুটি) থেকে মুক্ত হতো।

আর এই পুরো প্রচেষ্টা ছিল মুহাদ্দিসগণের। তাঁদের এই কাজকে পূর্ণতা দিয়েছেন মুজতাহিদ ইমামগণ। মুহাদ্দিসগণের দায়িত্ব যদি হয়ে থাকে সনদ ও মতন নিয়ে গবেষণা করা এবং বর্ণনার অসংগতিগুলো জানার জন্য সুন্নাহর মতনগুলোর মধ্যে একে অপরের সাথে তুলনা করা, তবে মুজতাহিদগণের কাজ হলো কুরআন ও সুন্নাহর নসগুলোর (পাঠ্য) ওপর গভীর দৃষ্টি রাখা এবং লক্ষ্য করা যে, কোনো বর্ণনা কুরআনের কোনো অর্থের বা শরীয়তের কোনো মূলনীতির পরিপন্থী কি না। এভাবে মুজতাহিদ মুহাদ্দিসের কাজকে পূর্ণতা দান করেছেন। এই কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, কিছু নসকে মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন কিন্তু মুজতাহিদ ইমামগণ তা গ্রহণ করেননি; হয় সেটিকে কুরআনের কোনো নস বা শরীয়তের কোনো সুদৃঢ় মূলনীতির পরিপন্থী মনে করার কারণে, অথবা সেটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জায়গা থেকে করা কোনো দৈনন্দিন সুন্নাহ বা কাজ হিসেবে গণ্য করার কারণে। যেহেতু এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়—কারণ এর ফলে সুন্নাহ অকার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে—তাই ইজতিহাদের যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য এটি নিষিদ্ধ। একারণেই তাঁরা এমন ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী হিসেবে গণ্য করেছেন যে ইজতিহাদের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও এর দাবিদার হয়; কারণ তার ইজতিহাদের ফলে কোনো নস অকার্যকর হতে পারে অথবা শরীয়তের কাঠামোর ওপর আঘাত আসতে পারে।

এভাবে অতুলনীয় প্রচেষ্টা একত্রিত হয়েছে, যার ফলে ইসলামের নসসমূহ সংমিশ্রণ, বিকৃতি, পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন থেকে সুরক্ষিত রয়েছে, যাতে তা কিয়ামত পর্যন্ত জাতিসমূহের পাথেয় এবং হিদায়াতের উৎস হিসেবে টিকে থাকে।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌ضخامة المكتبة الحديثية:

وائذن لي أن أحدثك من أقرب طريق - عن المكتبة الحديثية، وذلك من خلال استعراض كتاب مشهور عنوانه: (الرسالة المستطرفة لبيان مشهور كتب السنة المشرفة) لمؤلفه السيد: محمد بن جعفر الكتاني رحمه الله وذلك بين يدي ما فعلت لتحقيق ما استهدفته في هذا الكتاب.

بدأ المؤلف الحديث عن المؤلفات الأولى في السنة النبوية، وذكر أعلام المؤلفين في القرنين الأول والثاني، ثم تحدث عن تتابع التأليف فقال:

ثم كثرت بعد ذلك التصانيف، وانتشرت في أنواعه وفنونه التآليف، حتى أربت على العد وارتقت من كثرتها عن التفصيل والحد، وهي مراتب متفاوتة وأنواع مختلفة، فمنها ما ينبغي لطالب الحديث البداءة به، وذكر الأصول الستة صحيح البخاري وصحيح مسلم وسنن أبي داود وسنن الترمذي وسنن النسائي وسنن ابن ماجه.

ثم ذكر كتب السنة التي تعتبر أساساً لمذاهب الأئمة الأربعة فذكر موطأ الإمام مالك ومسند الإمام أبي حنيفة وقد قال في الأخير منهما:

ومسند إمام الأئمة - أيضاً - ركن الإسلام أبي حنيفة النعمان بن ثابت القارئ الكوفي فقيه العراق، المتوفى ببغداد سنة خمسين أو إحدى وخمسين ومائة، وله خمسة عشر مسنداً، وأوصلها الإمام أبو الصبر أيوب الخلوتي في ثبته إلى سبعة عشر مسنداً، كلها تنسب إليه لكونها من حديثه وإن لم تكن من تأليفه، وقد جمع بين خمسة عشر منها أبو المؤيد محمد بن محمود بن محمد بن الحسن الخطيب الخوارزمي - نسبة إلى خُوارِزم بضم الخاء وكسر الراء ناحية معلومة - المتوفى سنة خمس وخمسين وستمائة، في كتاب سماه جامع المسانيد، رتبه على ترتيب أبواب الفقه بحذف المعاد وترك تكرير الإسناد.

ثم ذكر مسند الإمام الشافعي وعرّف به ثم ذكر مسند الإمام أحمد وعرف به وبعد ذلك قال:

فهذه كتب الأئمة الأربعة وبإضافتها إلى الستة الأول تكمل الكتب العشرة التي هي أصول
হাদিস বিষয়ক লাইব্রেরির বিশালতা:

আর আমাকে অনুমতি দিন যাতে আমি আপনাকে অত্যন্ত সহজভাবে হাদিস বিষয়ক লাইব্রেরি সম্পর্কে বলতে পারি—তা হলো ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফা লি-বায়ানি মাশহুরি কুতুবিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ’ নামক একটি প্রসিদ্ধ বই পর্যালোচনার মাধ্যমে, যার লেখক হলেন আস-সায়্যিদ মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাত্তানি (রহিমাহুল্লাহ)। এই বইতে আমার উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমি যা করেছি, এটি তারই একটি ভূমিকা।

লেখক সুন্নাহর প্রাথমিক গ্রন্থাবলি সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছেন এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রখ্যাত লেখকদের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থ রচনার ধারা সম্পর্কে বলেছেন:

এর পরে রচনার সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুন্নাহর বিভিন্ন প্রকার ও শাখায় কিতাবসমূহ ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি তা গণনার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং এর আধিক্যের কারণে বিস্তারিত বিবরণ ও সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। এগুলোর স্তর ও প্রকারভেদ ভিন্ন ভিন্ন। এর মধ্যে এমন কিছু কিতাব রয়েছে যা দিয়ে একজন হাদিসের ছাত্রের পাঠ শুরু করা উচিত। অতঃপর তিনি ছয়টি মূল কিতাব—সহীহ আল-বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে নাসাঈ ও সুনানে ইবনে মাজাহ-এর কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি সুন্নাহর সেই কিতাবসমূহ উল্লেখ করেছেন যা চার ইমামের মাযহাবের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ইমাম মালিকের মুয়াত্তা এবং ইমাম আবু হানিফার মুসনাদ উল্লেখ করেছেন এবং শেষোক্তটি সম্পর্কে বলেছেন:

এবং ইমামদের ইমাম, ইসলামের স্তম্ভ আবু হানিফা আন-নুমান বিন সাবিত আল-কুফি আল-কারি, ইরাকের ফকিহ, যিনি ১৫০ বা ১৫১ হিজরিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেছেন—তাঁরও মুসনাদ রয়েছে। তাঁর পনেরটি মুসনাদ রয়েছে। ইমাম আবুস সাবর আইয়ুব আল-খালওয়াতী তাঁর ‘সাবত’ গ্রন্থে এগুলোকে সতেরটি মুসনাদ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। এই সবগুলোই তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় কারণ এগুলো তাঁর বর্ণিত হাদিস, যদিও এগুলো সরাসরি তাঁর সংকলিত নয়। আবু মুয়াইয়িদ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান খতিব আল-খোয়ারিজমি (খোয়ারিজম একটি সুপরিচিত অঞ্চল), যিনি ৬৫৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন, তিনি এগুলোর মধ্য থেকে পনেরটিকে ‘জামেউল মাসানিদ’ নামক গ্রন্থে একত্রিত করেছেন। তিনি এটি ফিকহের অধ্যায় অনুসারে সাজিয়েছেন এবং পুনরাবৃত্তি বর্জন ও সনদের দ্বিরুক্তি পরিহার করেছেন।

এরপর তিনি ইমাম শাফেঈর মুসনাদ উল্লেখ করে সেটির পরিচয় দিয়েছেন, তারপর ইমাম আহমদের মুসনাদ উল্লেখ করে সেটির পরিচয় দিয়েছেন এবং এরপর বলেছেন:

এই হলো চার ইমামের কিতাবসমূহ এবং এগুলোকে প্রথম ছয়টি কিতাবের সাথে যুক্ত করলে দশটি কিতাব পূর্ণ হয় যা হলো সুন্নাহর মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الإسلام وعليها مدار الدين.

ثم قال: ومنها - أي ومن كتب السنة - كتب التزم أهلها فيها الصحة من غير ما تقدم. فذكر: صحيح ابن خزيمة وصحيح ابن حبان وصحيح الحاكم وكتاب الإلزامات للدارقطني كتاب المستدرك للحافظ أبي ذر الهروي وصحيح الحافظ أبي حامد النيسابوري المعروف بابن الشرفي وكتاب الأحاديث الجياد المختارة لضياء الدين المقدسي وكتاب المنتقى لابن الجارود وكتاب المنقى لابن أصبع الأندلسي وصحيح ابن السكن، والكتب المخرّجة على الصحيحين أو أحدهما: كمستخرج الإسماعيلي، ومستخرج الغطريفي ومستخرج أبي ذهل ومستخرج ابن مردويه الكبير ومستخرج أبي عوانة ومستخرج ابن أصبع ومستخرج أبي جعفر الحبري ومستخرج محمد بن محمد النيسابوري ومستخرج الجوزقي ومستخرج الشاركي ومستخرج أبي الوليد القزويني ومستخرج أبي عمران الجويني ومستخرج أبي النصر الطوسي ومستخرج أبي عثمان الحيري ومستخرج أحمد بن سلمة النيسابوري ومستخرج أحمد بن محمد الطوسي البلاذري … إلى كثيرين آخرين ذكرهم، لهم مستخرجات بأسانيد أخرى للصحيحين أو لأحدهما، وكلها تفيد توثيق أحاديث الصحيحين: صحيح البخاري وصحيح مسلم.

ثم تحدث عن الكتب المؤلفة في السنن، وهي الكتب المؤلفة على أبواب الفقه، فذكر زيادة على الكتب الأربعة المشهورة: سنن الإمام الشافعي للمزني وسنن النسائي الكبرى وسنن ابن جريج الرومي وسنن سعيد بن منصور وسنن الكشي وسنن محمد بن الصباح البزار وسنن أبي قرة موسى بن طارق وسنن الأشرم وسنن الخلال وسنن سهل بن أبي سهل وسنن الصفار وسنن الهمداني وسنن ابن لال وسنن النجاد وسنن بان إسحاق وسنن يوسف بن يعقوب الأزدي اللالكائي. ثم قال: فهذه هي مشاهير كتب السنة وبعضها أشهر من بعض وبإضافتها إلى السنن الأربعة السابقة تكمل كتب السنن خمسة وعشرين كتاباً.

ثم تحدث عن نوع آخر من التأليف، وهو في الحض على اتباع السنة وترك الأهواء والبدع، فذكر ستة عشر كتاباً.
ইসলাম এবং এর উপরেই দ্বীনের ভিত্তি আবর্তিত।

তারপর তিনি বললেন: এবং এগুলোর মধ্যে - অর্থাৎ সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্যে - এমন কিছু কিতাব রয়েছে যেগুলোর সংকলকগণ পূর্বে বর্ণিত কিতাবসমূহ ব্যতীত অন্য কিতাবের ক্ষেত্রেও সহীহ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন: সহীহ ইবনে খুযায়মাহ, সহীহ ইবনে হিব্বান, সহীহ আল-হাকিম, দারাকুতনী সংকলিত কিতাবুল ইলযামাত, হাফিয আবু যার আল-হারাভী সংকলিত কিতাবুল মুস্তাদরাক, ইবনুশ শারফী নামে পরিচিত হাফিয আবু হামিদ আন-নিসাবুরী সংকলিত সহীহ, যিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী সংকলিত কিতাবুল আহাদিস আল-জিয়াদ আল-মুখতারা, ইবনুল জারুদ সংকলিত কিতাবুল মুনতাকা, ইবনে আসবা আল-আন্দালুসী সংকলিত কিতাবুল মুনাক্কা এবং সহীহ ইবনে আস-সাকান। এবং সেই কিতাবসমূহ যা সহীহাইন বা এর যেকোনো একটির উপর ভিত্তি করে মুস্তাখরাজ হিসেবে রচিত: যেমন মুস্তাখরাজ আল-ইসমাঈলী, মুস্তাখরাজ আল-গাতরীফী, মুস্তাখরাজ আবু যুহাল, মুস্তাখরাজ ইবনে মারদুওয়াইহ আল-কাবীর, মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা, মুস্তাখরাজ ইবনে আসবা, মুস্তাখরাজ আবু জাফর আল-হাবরী, মুস্তাখরাজ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আন-নিসাবুরী, মুস্তাখরাজ আল-জাওযাকী, মুস্তাখরাজ আশ-শারকী, মুস্তাখরাজ আবু ওয়ালিদ আল-কাযভীনী, মুস্তাখরাজ আবু ইমরান আল-জুওয়াইনী, মুস্তাখরাজ আবুন নাসর আত-তুসী, মুস্তাখরাজ আবু উসমান আল-হীরী, মুস্তাখরাজ আহমাদ বিন সালামাহ আন-নিসাবুরী এবং মুস্তাখরাজ আহমাদ বিন মুহাম্মদ আত-তুসী আল-বালাযুরী … এ ছাড়াও আরও অনেকের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, যাঁদের সহীহাইন বা এর কোনো একটির উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন সনদে মুস্তাখরাজ কিতাব রয়েছে। আর এগুলোর সবই সহীহাইনের হাদীসসমূহের নির্ভরযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে: অর্থাৎ সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিম।

অতঃপর তিনি সুনান বিষয়ক কিতাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন, যা ফিকহী অধ্যায় বিন্যাসে রচিত। তিনি প্রসিদ্ধ চারটি কিতাব ছাড়াও আরও উল্লেখ করেন: আল-মুযানী কর্তৃক সংকলিত সুনানে ইমাম শাফিঈ, সুনানে নাসাঈ কুবরা, সুনানে ইবনে জুরাইজ আর-রুমী, সুনানে সাঈদ বিন মানসুর, সুনানে আল-কাশ্শী, সুনানে মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ আল-বাযযার, সুনানে আবু কুররাহ মূসা বিন তারিক, সুনানে আল-আশরাম, সুনানে আল-খাল্লাল, সুনানে সাহল বিন আবু সাহল, সুনানে আস-সাফফার, সুনানে আল-হামদানী, সুনানে ইবনে লাল, সুনানে আন-নাজ্জাদ, সুনানে ইবনে ইসহাক এবং ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-আযদী আল-লালকাঈ রচিত সুনান। এরপর তিনি বলেন: এগুলোই হলো সুন্নাহর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ এবং এগুলোর একটি অন্যটির চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ। পূর্বোক্ত চারটি সুনান কিতাবের সাথে এগুলো যুক্ত করলে সুনান গ্রন্থ সংখ্যা পঁচিশটিতে পূর্ণ হয়।

তারপর তিনি অন্য এক প্রকারের রচনা নিয়ে আলোচনা করেন, যা সুন্নাহ অনুসরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং প্রবৃত্তিপূজা ও বিদআত বর্জনের বিষয়ে রচিত। এক্ষেত্রে তিনি ষোলোটি কিতাব উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثم ذكر نوعاً آخر من التآليف في السنة وهي كتب مرتبة على الأبواب الفقهية، مشتملة على السنن وما هو في حيزها أو له تعلق بها بعضها يسمى مصنفاً وبعضها جامعاً وغير ذلك سوى ما تقدم، فذكر اثنين وعشرين كتاباً.

ثم ذكر نوعاً آخر من التصانيف وهي الكتب المفردة في الآداب والأخلاق والترغيب والترهيب والفضائل ونحو ذلك فذكر حوالي مئة وأربعين كتاباً.

ثم ذكر نوعاً آخر من التصانيف وهي كتب المسانيد - جمع مسند - وهي الكتب التي موضوعها جعل حديث كل صحابي على حدة صحيحاً كان أو حسناً أو ضعيفاً، مرتبين على حروف الهجاء أو على القبائل أو على السابقة في الإسلام أو الشرف في النسب، وقد يقتصر في بعضها على أحاديث صحابي واحد أو أكثر.

قال: (والمسانيد كثيرة جداً) ثم عدد ما تيسر له ذكره منها فذكر اثنين وثمانين مسنداً

ثم ذكر كتباً لم تؤلف في السنة قصداً، ولكنها حوت الكثير من نصوصها، ككتب التفسير والكتب المؤلفة في المصاحف والقراءات وكتب الناسخ والمنسوخ وذكر أسماء العشرات منها.

ثم تحدث عما يُسمى بالأجزاء الحديثية وهي كتب مفردة في موضوع أو في روايات أو مرويات فذكر العشرات منها.

ثم ذكر كتباً مؤلفة تحت عنوان (الفوائد) فذكر كثيراً منها.

ثم ذكر ما يُسمَّى خصوصيات انفرد بها بعض الأئمة وألف فيها آخرون فذكر الكثير من ذلك.

ثم تحدث عن كتب الشمائل النبوية والسير المصطفوية والمغازي فذكر منها تسعة
এরপর তিনি সুন্নাহর সংকলনসমূহের আরেকটি প্রকারের উল্লেখ করেছেন, যা ফিকহী অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত। এগুলোতে সুন্নাহ এবং এর অন্তর্ভুক্ত বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বিদ্যমান। এগুলোর কিছুকে 'মুসান্নাফ' বলা হয়, কিছুকে 'জামি' এবং ইতোপূর্বে উল্লেখিত বিষয়গুলো ব্যতীত অন্যান্য নামেও অভিহিত করা হয়। তিনি এ জাতীয় বাইশটি কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি রচনার আরেকটি প্রকারের কথা উল্লেখ করেছেন, যা শিষ্টাচার, আখলাক, পুণ্যকর্মে উৎসাহ প্রদান (তারগিব), পাপকর্মে ভীতি প্রদর্শন (তারহিব), ফজিলত এবং এ জাতীয় বিশেষায়িত কিতাবসমূহ। তিনি প্রায় একশত চল্লিশটি কিতাবের উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি রচনার আরেকটি প্রকারের উল্লেখ করেছেন, যা হলো মাসানিদ—মুসনাদ এর বহুবচন—এগুলো এমন কিতাব যার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রত্যেক সাহাবীর হাদিসকে আলাদাভাবে সংকলন করা, চাই তা সহিহ, হাসান বা যয়িফ হোক না কেন। এগুলো বর্ণানুক্রমিক, গোত্রীয় বিন্যাস, ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতা অথবা বংশীয় আভিজাত্যের ভিত্তিতে বিন্যস্ত হতে পারে। কোনো কোনো কিতাবে কেবল একজন বা একাধিক সাহাবীর হাদিসও সীমাবদ্ধ রাখা হতে পারে।

তিনি বলেছেন: (মুসনাদসমূহ সংখ্যায় অনেক)। এরপর তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে যা সম্ভব হয়েছে তা গণনা করেছেন এবং বিরাশিটি মুসনাদের উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি এমন কিছু কিতাবের উল্লেখ করেছেন যা মূলত সুন্নাহর ওপর রচিত হয়নি, কিন্তু সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সুন্নাহর নস (মূল পাঠ) বিদ্যমান। যেমন তাফসিরের কিতাবসমূহ, মাসাহিফ ও কিরাত বিষয়ক কিতাবসমূহ এবং নাসিখ-মানসুখ বিষয়ক কিতাবসমূহ। তিনি এ জাতীয় কয়েক দশটি কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি ‘আল-আজজাউল হাদিসিয়্যাহ’ (হাদিসের ক্ষুদ্র সংকলন) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়, বিশেষ কোনো বর্ণনা বা বর্ণনাকারীর হাদিস সম্বলিত স্বতন্ত্র কিতাব। তিনি এমন কয়েক দশটি কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি ‘আল-ফাওয়ায়িদ’ শিরোনামে রচিত কিতাবগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন এবং এ জাতীয় অনেক কিতাবের কথা বলেছেন।

এরপর তিনি ‘খুসুসিয়াত’ (বিশেষত্ব) হিসেবে পরিচিত বিষয়গুলোর উল্লেখ করেছেন, যেগুলোতে কিছু ইমাম একক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন এবং অন্যরা সেসব বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন। তিনি এরও অনেক উদাহরণ পেশ করেছেন।

এরপর তিনি শামায়িলে নববী, সীরাতে মুস্তফা এবং মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক কিতাবসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এর মধ্য থেকে নয়টির কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وعشرين كتاباً.

ثم تحدث عن نوع من الكتب يجمع أحاديث شيوخ بأعيانهم فذكر أحد عشر كتاباً.

ثم ذكر كتباً تجمع طرق بعض الأحاديث فذكر عشرة كتب.

ثم تحدث عن نوع من الكتب فذكر رواية بعض الأئمة المشهورين فذكر اثني عشر كتاباً.

ثم ذكر الكتب التي تتحدث عن الأحاديث الأفراد فذكر أربعة كتب.

ثم تحدث عن الكتب التي تتحدث عن المتفق لفظاً وخطأ والمفترق معنى من الأسماء والألقاب والأنساب وعن المتفق خطا والمختلف لفظاً .. وذكر ثلاثة وثلاثين كتاباً مؤلفاً فيها.

ثم تحدث عن نوع آخر من التأليف وهو في مهمات الأسانيد والمتون فذكر ثلاثة عشر كتاباً.

ثم تحدث عن كتب الأنساب فذكر أحد عشر كتاباً.

ثم تحدث عن الكتب المؤلفة في معرفة الصحابة فذكر ثمانية عشر كتاباً.

ثم تحدث عن الكتب المؤلفة في تواريخ الرجال وأحوالهم فذكر ثلاثة عشر كتاباً.

ثم تحدث عن كتب المعاجم، وهي الكتب التي تذكر الأحاديث على ترتيب الصحابة أو الشيوخ أو البلدان أو غير ذلك فذكر ثلاثة وأربعين معجماً.

ثم تحدث عن كتب الطبقات وهي التي تشتمل على ذكر الشيوخ وأحوالهم ورواياتهم طبقة بعد طبقة وعصراً بعد عصر إلى زمن المؤلف فذكر ثمانية عشر كتاباً.

ثم تحدث عن كتب المشيخات، وهي التي تشتمل على ذكر الشيوخ الذين لقيهم مؤلف وأخذ عنهم، أو أجازوه وإن لم يلقهم فذكر ثلاثة عشر كتاباً.
এবং বিশটি কিতাব।

অতঃপর তিনি এমন এক প্রকার কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করেন যা নির্দিষ্ট শাইখগণের হাদীসসমূহ একত্রিত করে, সেখানে তিনি এগারোটি কিতাবের উল্লেখ করেন।

এরপর তিনি এমন সব কিতাব উল্লেখ করেন যা নির্দিষ্ট কিছু হাদীসের তুরুক (সূত্রসমূহ) একত্রিত করে, সেখানে তিনি দশটি কিতাবের কথা বলেন।

তারপর তিনি এক প্রকার কিতাব নিয়ে আলোচনা করেন যাতে কতিপয় প্রসিদ্ধ ইমামের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে তিনি বারোটি কিতাবের বর্ণনা দেন।

এরপর তিনি সেই সকল কিতাবের কথা উল্লেখ করেন যা আফরাদ বা একক হাদীসসমূহ নিয়ে রচিত, সেখানে তিনি চারটি কিতাব উল্লেখ করেন।

অতঃপর তিনি এমন সব কিতাব নিয়ে আলোচনা করেন যা নাম, উপাধি এবং বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে উচ্চারণ ও লেখায় এক কিন্তু অর্থে ভিন্ন এবং লেখায় এক কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন বিষয় নিয়ে রচিত; এই বিষয়ে তিনি তেত্রিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেন।

এরপর তিনি রচনার অন্য একটি ধরণ নিয়ে আলোচনা করেন যা সনদ ও মতনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সংক্রান্ত, সেখানে তিনি তেরোটি কিতাবের উল্লেখ করেন।

তারপর তিনি বংশপরম্পরা বিষয়ক কিতাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং এগারোটি কিতাবের উল্লেখ করেন।

অতঃপর তিনি সাহাবীগণের পরিচিতি নিয়ে রচিত কিতাবসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং আঠারোটি কিতাবের উল্লেখ করেন।

তারপর তিনি বর্ণনাকারীদের ইতিহাস ও তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে রচিত কিতাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং তেরোটি কিতাবের উল্লেখ করেন।

অতঃপর তিনি মু'জাম গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন; আর এগুলো হলো সেই সব কিতাব যেখানে সাহাবী, শাইখ, দেশ অথবা অন্য কোনো ক্রমানুসারে হাদীসসমূহ উল্লেখ করা হয়, সেখানে তিনি তেতাল্লিশটি মু'জামের উল্লেখ করেন।

তারপর তিনি তাবাকাত গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন; যা লেখক বা সংকলকের সময়কাল পর্যন্ত যুগের পর যুগ এবং এক স্তরের পর অন্য স্তরের শাইখগণের পরিচিতি, তাঁদের অবস্থা ও বর্ণনাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, সেখানে তিনি আঠারোটি কিতাবের কথা উল্লেখ করেন।

অতঃপর তিনি মাশয়াখাত কিতাবসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেন; যা ঐ সকল শাইখদের বর্ণনায় সমৃদ্ধ যাদের সাথে লেখকের সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, অথবা তাঁরা তাঁকে ইজাযাহ প্রদান করেছেন যদিও তাঁদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটেনি, সেখানে তিনি তেরোটি কিতাব উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم تحدث عن الكتب المؤلفة في علوم الحديث - أي مصطلحه -، ذكرت فيها أحاديث بأسانيد فذكر منها ثمانية كتب.

ثم تحدث عن الكتب التي تتحدث عن الضعفاء من الرواة، أو تتحدث عن الثقات، فذكر خمسة وعشرين كتاباً.

ثم ذكر الكتب التي تتحدث عن الأحاديث الموضوعة المكذوبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ثلاثة وعشرين كتاباً.

ثم ذكر الكتب المؤلفة في غريب الحديث - أي في شرح الكلمات الغامضة منه - فذكر سبعة عشر كتاباً.

ثم ذكر كتباً تتحدث عن مشكل الحديث وهي كتب تجمع بن النصوص فترد المتشابه إلى المحكم او ترجح النسخ أو عدمه فذكر خمسة كتب.

وهناك كتب الأمالي التي يملي فيها الشيخ على تلاميذه في جلسات عامة فتسجل، ذكر منها واحداً وثلاثين كتاباً.

ثم ذكر الكتب التي تتحدث عن رواية الأكابر عن الأصاغر، ورواية الآباء عن الأبناء والعكس، فذكر ستة كتب مؤلفة فيها.

ثم تحدث عن الكتب التي يجمع فهيا الأسانيد العالية أي التي يقل فيها الرواية بين الشيخ وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر أربعة عشر كتاباً.

ثم ذكر كتباً في التصوف فيها أحاديث بأسانيد فذكر ثلاثة عشر كتاباً.

ثم تحدث عن كتب الأطراف، وهي التي يقتصر فيها على ذرك طرف الحديث الدالِّ على بقيته، مع الجمع لأسانيده إما على طريق الاستيعاب أو على جهة التقيد بكتب مخصوصة، فذكر خمسة عشر كتاباً.

ثم تحدث عن كتب الزوائد، أي الأحاديث التي تزيد فيها بعض كتب الحديث على بعض آخر معين منها، كزوائد سنن ابن ماجه على كتب الحفاظ الخمسة للشهاب البوصيري،
এরপর তিনি হাদিস বিজ্ঞান - অর্থাৎ এর পরিভাষা - বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যাতে সনদসহ হাদিসসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে; তিনি এ বিষয়ে আটটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি দুর্বল রাবি (বর্ণনাকারী) অথবা নির্ভরযোগ্য রাবিদের সম্পর্কে রচিত গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এরূপ পঁচিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপিত জাল হাদিসসমূহ নিয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে তেইশটি গ্রন্থের কথা বলেছেন।

অতঃপর তিনি 'গরীবুল হাদিস' - অর্থাৎ হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দসমূহের ব্যাখ্যা - বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং এরূপ সতেরোটি গ্রন্থের কথা বলেছেন।

এরপর তিনি 'মুশকিলুল হাদিস' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করেছেন; এগুলো এমন গ্রন্থ যা বিভিন্ন নস (মূল পাঠ) এর মাঝে সমন্বয় সাধন করে, অস্পষ্ট বিষয়কে সুস্পষ্ট বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তিত করে অথবা নাসিখ (রহিতকারী) হওয়া বা না হওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়; এমন পাঁচটি গ্রন্থের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।

সেখানে 'আমালি' (বক্তব্য শুনে লিখে নেওয়া) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রয়েছে, যাতে শাইখ সাধারণ মজলিসে তাঁর ছাত্রদের নিকট পাঠদান করেন এবং তা লিপিবদ্ধ করা হয়; তিনি এ ধরনের একত্রিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি বড়দের থেকে ছোটদের বর্ণনা এবং সন্তানদের থেকে পিতাদের বর্ণনা ও এর বিপরীত বিষয় নিয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করেছেন; এ বিষয়ে রচিত ছয়টি গ্রন্থের কথা তিনি বলেছেন।

অতঃপর তিনি উচ্চ সনদবিশিষ্ট হাদিস সংকলিত গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন, অর্থাৎ যে সনদগুলোতে শাইখ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম; তিনি এরূপ চৌদ্দটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি তাসাউফ বিষয়ক কিছু গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন যাতে সনদসহ হাদিস বিদ্যমান; তিনি এরূপ তেরোটি গ্রন্থের কথা বলেছেন।

অতঃপর তিনি 'আতরাফ' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন; এগুলো এমন গ্রন্থ যেখানে হাদিসের কেবল এমন একটি অংশ উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয় যা বাকি অংশের প্রতি ইঙ্গিত করে, সেই সাথে এর সনদসমূহকে ব্যাপকভাবে অথবা নির্দিষ্ট কিছু গ্রন্থের গণ্ডিতে সংকলন করা হয়; তিনি এরূপ পনেরোটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি 'যাওয়ায়েদ' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন, অর্থাৎ ঐ সকল হাদিস যা নির্দিষ্ট কোনো হাদিস গ্রন্থের তুলনায় অন্য গ্রন্থে অতিরিক্ত হিসেবে থাকে, যেমন শিহাব আল-বুসাইরি রচিত পাঁচজন হাফিজের কিতাবসমূহের ওপর সুনানে ইবনে মাজাহ-র অতিরিক্ত হাদিসসমূহ (যাওয়ায়েদ)।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فذكر تسعة عشر كتاباً.

ثم ذكر الكتب التي تجمع بين بعض الكتب الحديثية فذكر سبعة عشر كتاباً.

ثم ذكر كتباً مجردة من الأسانيد أو كتباً فيها أحاديث منتقاة فذكر واحداً وثلاثين كتاباً.

ثم ذكر كتباً تختص بتخريج الأحاديث الواردة في كتب بعض المصنفين فذكر ثلاثة وأربعين كتاباً.

ثم ذكر بعض الكتب التي تتحدث عن الأحاديث المشتهرة على الألسنة فذكر أحد عشر كتاباً.

ثم تحدث عن الكتب التي جمعت فتاوى مبناها على النصوص، والتي تسمى الفتاوى الحديثية، فذكر منها ستة كتب.

ثم تحدث عن كتب تجمع نوعاً من الحديث كالحديث المتواتر، فذكر خمسة كتب.

ثم ذكر كتباً في التفسير والشروح الحديثية لأهلها اعتناء بالحديث ومعرفة به وإكثار من رواياته، فذكر عشرة كتب.

ثم ذكر كتباً في السيرة النبوية والخصائص المحمدية غير ما سبق، فتحدث عن ثلاثة وثلاثين كتاباً.

ثم تحدث عن كتب في أسماء الصحابة غير ما ذكر، فذكر ثلاثة عشر كتاباً.

ثم تحدث عن كتب تذكر أحوال الرواة وتضبط أسماءهم وأسماء بلدانهم غير ما ذكره من قبل، فذكر ثلاثة وخمسين كتاباً.

ثم تحدث عن كتب الوفيات فذكر أربعة عشر كتاباً.

ثم تحدث عن كتب مصطلح الحديث فذكر ستة وثلاثين كتاباً.

ثم ختم كتابه بالحض على الاشتغال بعلوم الحديث.

* * *
এরপর তিনি উনিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি এমন গ্রন্থসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন যা হাদীসের কতিপয় কিতাবকে একত্রিত করেছে, এ প্রসঙ্গে তিনি সতেরটি গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি সনদবিহীন গ্রন্থসমূহ অথবা নির্বাচিত হাদীসসম্বলিত গ্রন্থসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে একত্রিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি এমন গ্রন্থসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন যা নির্দিষ্ট কিছু লেখকের কিতাবে বর্ণিত হাদীসসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) সংক্রান্ত, এ বিষয়ে তিনি তেতাল্লিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি লোকমুখে প্রচলিত হাদীসসমূহ নিয়ে লিখিত কিছু গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে এগারটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি এমন সব গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন যাতে দলীলভিত্তিক ফতোয়া সংকলিত হয়েছে, যেগুলোকে 'হাদীসভিত্তিক ফতোয়া' বলা হয়; তিনি এ ধরনের ছয়টি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি এমন গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলো কোনো বিশেষ প্রকারের হাদীস যেমন মুতাওয়াতির হাদীসকে একত্রিত করেছে, এখানে তিনি পাঁচটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি তাফসীর এবং হাদীসের এমন সব ব্যাখ্যাগ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোর রচয়িতাগণ হাদীসের প্রতি বিশেষ যত্নবান ও এ বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং প্রচুর হাদীস বর্ণনা করেছেন; এখানে তিনি দশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি ইতিপূর্বে আলোচিত গ্রন্থসমূহ ব্যতীত সীরাতুন নবী এবং মুহাম্মাদী বৈশিষ্ট্যাবলী সংক্রান্ত কিতাবসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তেত্রিশটি গ্রন্থের আলোচনা করেছেন।

অতঃপর তিনি ইতিপূর্বে বর্ণিত গ্রন্থগুলো ছাড়া সাহাবীগণের নাম সংক্রান্ত কিতাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তেরটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং তাদের নাম ও বাসস্থানের নামসমূহ নির্ভুলভাবে নির্ধারণকারী গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন যা তিনি আগে উল্লেখ করেননি; এ প্রসঙ্গে তিনি তিপ্পান্নটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি মৃত্যুসন সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং চৌদ্দটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ছত্রিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি হাদীস বিজ্ঞানের চর্চায় নিয়োজিত হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে তাঁর গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
من هذا العرض المختصر ندرك الجهود الهائلة التي بذلتها الأمة الإسلامية في خدمة سنة نبيها صلى الله عليه وسلم حتى تبقى غضة طرية متميزة عما سواها، معلماً للهداية الربانية، فإذا ما ألقيت نظرة على كتب مصطلح الحديث تجد الدقة العلمية في البحث بما لا تطال العقول أرفع منه، ولا تحكم العقول بأن هناك أكثر منهجية في الوصول إلى الحق الخالص منه، فهناك قواعد لجرح وتعديل الرواة، وهناك قواعد تُسيرُ بها المتون.

وكأثر عن هذا كله ميز العلماء بين أكثر من خمسين نوعاً من أنواع الأحاديث كلها متفرعة عن دراسة السند والمتن، وكل ذلك في النهاية للوصول إلى ما تبنى عليه الأحكام من المرويات، كالأحاديث المتواترة لفظاً ومعنى، أو معنى فقط، والأحاديث الصحيحة والحسنة، ومن أجل ذلك كتبوا كل رواية لأن الروايات الضعيفة يمكن أن يكون لها دخل في تحسين حديث أو في تصحيحه، واقتضى ذلك منهم جهوداً كبيرة، حتى إن الإمام أحمد كان يحفظ مليون حديث بأسانيدها ومتونها، وهذا يعني بالضرورة أنه دخل كثيرون من الرجال تحت أشعة رصده، فإذا ما عرفنا أن تشعب الروايات يكثر كلما تطاول الزمن أدركنا كم من الجهود بذلت في خدمة السنة النبوية. ومن أجل الوصول إلى هذا الجوهر كم وجدت من دراسات وتوضعت من قواعد، ويكفي أن تقرأ كتاباً في مصطلح الحديث حتى تدرك جلل ما تذكره لك.

فمن أجل تمحيص الرواية وُجدتْ علوم كعلم الوفيات وسني الولادة، ووجدت دراسات مستوعبة عن كل راوٍ، عن عقيدته وسلوكه وصدقه وكذبه وعن عوامل الجرح أو التعديل في حياته، ومن أجل المتن وجدت علوم كعلم المقارنة بين المتون لمعرفة العلل والشذوذ، ولمعرفة الناسخ والمنسوخ، وتوضعت نتيجة لذلك مصطلحات.

ثم كان علم أصول الفقه هو العلم المكمل بالنسبة للسنة النبوية، إذ أنه هو العلم الذي تحدث عن محل السنة بالنسبة لأصول التشريع الأربعة الرئيسية وهي: الكتاب والسنة والإجماع والقياس. وهو الذي تحدث عن قوة إلزامية السنة بحسب كونها متواترة أو صحيحة أو حسنة أو غير ذلك، وهو الذي وضع القواعد التي تجمع بين النصوص بعضها مع بعض وبين
এই সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা হতে আমরা অনুধাবন করতে পারি যে, মুসলিম উম্মাহ তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর সেবায় কতটা বিশাল প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে, যাতে তা রব্বানী হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হিসেবে অন্য সব কিছু থেকে স্বতন্ত্র এবং সজীব ও অকৃত্রিম থাকে। আপনি যদি হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা বা উসুলুল হাদীসের গ্রন্থগুলোর দিকে লক্ষ্য করেন, তবে গবেষণার এমন এক বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতা দেখতে পাবেন যার ঊর্ধ্বে কোনো জ্ঞান পৌঁছাতে পারে না, এবং মানব বুদ্ধি এটা বিচার করতে সক্ষম হবে না যে, বিশুদ্ধ সত্যে পৌঁছানোর জন্য এর চেয়ে অধিক সুশৃঙ্খল আর কোনো পদ্ধতি থাকতে পারে। সেখানে বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গুণাগুণ নির্ণয়ের (জারহ ও তা’দীল) জন্য নীতিমালা রয়েছে এবং হাদীসের মূল পাঠ বা মতনসমূহ পর্যালোচনার জন্যও সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।

এই সবকিছুর ফলশ্রুতি হিসেবে উলামায়ে কিরাম হাদীসের পঞ্চাশটিরও বেশি প্রকারভেদ চিহ্নিত করেছেন, যার প্রতিটিই সনদ ও মতনের গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এই সবকিছুর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো সেই সব বর্ণনা পর্যন্ত পৌঁছানো যার ওপর ভিত্তি করে বিধানসমূহ সাব্যস্ত হয়; যেমন শব্দ ও অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির হাদীস, অথবা কেবল অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির হাদীস, এবং সহীহ ও হাসান হাদীসসমূহ। এই লক্ষ্যেই তাঁরা প্রতিটি বর্ণনা লিখে রেখেছেন, কারণ দুর্বল বর্ণনাও কোনো হাদীসকে হাসান বা সহীহ পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। আর এটি তাঁদের কাছ থেকে বিশাল পরিশ্রম দাবি করেছিল, এমনকি ইমাম আহমাদ সনদ ও মতনসহ দশ লক্ষ হাদীস মুখস্থ রাখতেন। এর অনিবার্য অর্থ হলো, তাঁর পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার অধীনে অসংখ্য বর্ণনাকারী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন আমরা জানতে পারি যে, সময়ের ব্যবধানে বর্ণনার শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন আমরা বুঝতে পারি নবীর সুন্নাহর সেবায় কত বিশাল শ্রম ব্যয় করা হয়েছে। এই মূল নির্যাস পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য কত যে গবেষণা হয়েছে এবং কত নীতিমালা প্রণীত হয়েছে! আপনার জন্য হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষার একটি কিতাব পড়াই যথেষ্ট যাতে আপনি এর গুরুত্ব ও বিশালতা উপলব্ধি করতে পারেন।

বর্ণনা যাচাই-বাছাই করার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর তারিখ ও জন্মের সাল সংক্রান্ত বিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে। প্রতিটি বর্ণনাকারীর আকীদা, আচরণ, সত্যবাদিতা, মিথ্যাচার এবং তাঁর জীবনের জারহ (সমালোচনা) বা তা’দীলের (প্রশংসা) কারণসমূহ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। মতনের (মূল পাঠের) ক্ষেত্রে মতনসমূহের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণের শাস্ত্র উদ্ভাবিত হয়েছে যাতে সুক্ষ্ম ত্রুটি ও অস্বাভাবিকতা চেনা যায় এবং নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) চিহ্নিত করা যায়। ফলস্বরূপ বিভিন্ন পরিভাষা সুসংজ্ঞায়িত হয়েছে।

অতঃপর উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রটি সুন্নাতে নববীর জন্য একটি পরিপূরক শাস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কেননা এটি এমন একটি শাস্ত্র যা শরীয়তের চারটি প্রধান মূল উৎস—অর্থাৎ কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের মধ্যে সুন্নাহর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে। এটিই সুন্নাহর বিধান মানার আবশ্যকতা নিয়ে আলোচনা করে যে, তা কি মুতাওয়াতির, সহীহ, হাসান নাকি অন্য কিছু। এটিই সেই শাস্ত্র যা বিভিন্ন দলীলের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় সাধনের নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং...
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
النصوص والأحكام العقلية والعادية، وهو الذي وضع القواعد لاستخراج الحكم الشرعي بناء على أن هناك رخصة وعزيمة وقواعد أصلية وأحوالاً استثنائية …

إن من ثمرات العلم بالكتاب والسنة وأصول الفقه الوصول إلى معرفة الحكم الشرعي في كل قضية من قضايا المكلفين، وثمرة ذلك كله الاعتقاد الصحيح والعمل الصحيح، المقبولان عند الله تعالى، وإن ذلك لشيء عظيم وكبير، فهؤلاء الذين اجتمع لهم حسن الاعتقاد وحسن العمل هم وحدهم من بين أفراد هذا العالم الذين حققوا معنى العبودية لله عز وجل.

* * *

إذا عرفت ما مرَّ وثقت في تحقيقات الراسخين في العلم، وأدركت عظم الجهود التي قام بها علماؤنا في خدمة السنة النبوية، تثبتاً في شأنها وتخليصاً لها عن سواها، وفي الوقت نفسه تدرك استحالة جمع كل ما ورد في السنة النبوية في كتاب، بل استحالة أن يطلع إنسان ما على كل ما كتب في السنة، فضلاً عن جمع كل روايات السنة في كتاب.

ولكن إذا عرفت معاني أخرى فإن ذلك يرجعك إلى أن تطمئن إلى أنه بإمكانك أن تطلع بسرعة على معاني السنة دون أن تغرق في بحار التآليف.

إنك إذا عرفت أن الكتب الستة المشهورة في السنة وهي: صحيحا البخاري ومسلم، والسنن الأربعة لأبي داود والترمذي والنسائي وابن ماجه، والمختلف في السادس منها: هل هو الموطأ أو سنن ابن ماجه - والتي تلقتها ألأمة بالقبول - ما فاتها إلا القليل من الأحاديث الصحيحة، وإذا عرفت أن هذه الكتب الستة تمت محاولات لجمع معانيها في مجلدين كما فعل ذلك ابن الديبع الشيباني في كتابه: (تيسير الوصول إلى جامع الأصول) مثلاً؛ إذا عرفت ذلك أدركت أن بإمكانك أن تعرف معاني السنة النبوية عن طرق مختصرة.

وقد اشتهرت بجانب الكتب الستة كتب أخرى، كمسند الإمام أحمد ومسند أبي بكر والبزار ومسند أبي يعلي الموصلي، ومعاجم الطبراني الثلاثة، فلو أنك قرأت زوائد هذه الكتب على الكتب الستة أو السبعة فإنك تستطيع أن تثق أنه ما فاتك إلا القليل، وإلا تحقيقات وكماليات، فإذا اطمأننت إلى كلامنا هذا فقد آن الأوان لنحدثك عن كتابنا هذا.

* * *
দলিলসমূহ এবং বুদ্ধিভিত্তিক ও সাধারণ বিধানসমূহ; আর তিনিই শরয়ী বিধান আহরণের মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করেছেন এই ভিত্তিতে যে, সেখানে রুখসত (শিথিলতা), আজিমত (দৃঢ়তা), মৌলিক নীতিমালা এবং ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি রয়েছে …

নিশ্চয়ই কিতাব, সুন্নাহ এবং উসূলে ফিকহ সংক্রান্ত ইলমের অন্যতম ফল হলো মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের) প্রতিটি বিষয়ের শরয়ী বিধান জানার স্তরে পৌঁছানো। আর এই সবকিছুরই চূড়ান্ত ফল হলো সঠিক আকিদা এবং সঠিক আমল, যা আল্লাহ তাআলার নিকট কবুলযোগ্য। নিশ্চয়ই এটি এক মহান ও বিশাল বিষয়। সুতরাং যাদের মধ্যে উত্তম আকিদা ও উত্তম আমলের সমন্বয় ঘটেছে, এই জগতের অধিবাসীদের মধ্যে একমাত্র তারাই মহান আল্লাহর দাসত্বের প্রকৃত অর্থ বাস্তবায়ন করেছেন।

* * *

আপনি যদি পূর্বোক্ত বিষয়গুলো অনুধাবন করে থাকেন, তবে ইলমের ক্ষেত্রে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারীদের গবেষণালব্ধ ফলাফলের প্রতি আপনি আস্থাশীল হবেন এবং সুন্নাহর বিশুদ্ধতা যাচাই ও একে অন্যান্য বিষয় থেকে পৃথক করার মাধ্যমে আমাদের উলামায়ে কেরাম নববী সুন্নাহর খিদমতে যে বিশাল প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন তার মহত্ব অনুধাবন করবেন। একই সাথে আপনি এটিও উপলব্ধি করবেন যে, নববী সুন্নাহয় বর্ণিত সব কিছুকে একটি কিতাবে সংকলন করা অসম্ভব; বরং সুন্নাহ বিষয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে তার সবটুকুর উপর কোনো মানুষের অবগত হওয়াও অসম্ভব, সুন্নাহর সমস্ত রেওয়ায়াত একটি কিতাবে একত্র করার কথা তো বলাই বাহুল্য।

কিন্তু আপনি যদি অন্যান্য বিষয়গুলো জানতে পারেন, তবে তা আপনাকে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করবে যে, কিতাবসমূহের বিশাল সমুদ্রে নিমজ্জিত না হয়েও আপনি দ্রুত সুন্নাহর মর্মার্থ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

আপনি যখন জানবেন যে সুন্নাহর প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাব—যথা: সহীহ বুখারী ও মুসলিম এবং আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহর চারটি সুনান (ষষ্ঠ কিতাবটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে যে সেটি মুয়াত্তা নাকি সুনানে ইবনে মাজাহ), যেগুলোকে মুসলিম উম্মাহ সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে—সেগুলো থেকে খুব অল্প কিছু সহীহ হাদীসই বাদ পড়েছে; এবং আপনি যখন জানবেন যে এই ছয়টি কিতাবের মর্মার্থ দুই খণ্ডে সংকলন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যেমনটি ইবনুদ দাইবা আশ-শায়বানী তার 'তয়সীরুল উসূল ইলা জামিউল উসূল' গ্রন্থে করেছেন—এসব বিষয় জানলে আপনি বুঝতে পারবেন যে, সংক্ষিপ্ত উপায়েও নববী সুন্নাহর মর্মার্থ জানা আপনার জন্য সম্ভব।

এই ছয়টি কিতাবের পাশাপাশি অন্যান্য আরও কিতাব প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যেমন ইমাম আহমদের মুসনাদ, আবু বকরের মুসনাদ, বাযযারের মুসনাদ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলীর মুসনাদ এবং তাবারানীর তিনটি মু'জাম। আপনি যদি ছয়টি বা সাতটি মূল কিতাবের অতিরিক্ত হিসেবে এই কিতাবগুলোর অতিরিক্ত হাদীসসমূহ পড়ে নেন, তবে আপনি এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন যে, খুব সামান্য কিছু ছাড়া আপনার আর কিছুই বাদ পড়েনি, আর যা বাকি আছে তা মূলত সূক্ষ্ম গবেষণা ও পরিপূরক বিষয়াদি। সুতরাং আপনি যদি আমাদের এই কথায় আশ্বস্ত হয়ে থাকেন, তবে এখন আমাদের এই কিতাবটি সম্পর্কে আপনার কাছে আলোচনা করার সময় হয়েছে।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌منهج تأليف هذا الكتاب

1 - تستطيع أن تقول إذا قرأت هذا الكتاب أنك كدت أن تحيط بمعاني السنة النبوية، لأنه حوى الهدي النبوي الذي روته أمهات كتب السنة وهي سبعة عشر كتاباً هي: صحيحا البخاري ومسلم، والسنن الخمسة: لأبي داود والنسائي والترمذي وابن ماجه والدارمي، وموطأ الإمام مالك، ومسانيد الإمام أحمد وأبي يعلي الموصلي وأبي بكر البزار، وصحيحا ابن خزيمة وابن حبان، ومعاجم الطبراني الثلاثة، ومستدرك الحاكم، وما تيسر جمعه من غير هذه الكتب من صحيح السنة وحسنها.

فقد اتجه الهمة لأن تكون هذه الكتب السبعة عشر هي أصول هذا الكتاب، على أن أستفيد من الكتب التي جمعت بعضها أو أكثر من أمثال الجامع للأصول لابن الأثير أو مجمع الزوائد للهيثمي أو جمع الفوائد لحمد بن محمد بن سليمان المغربي.

2 - وقد ألزمت نفسي ألا آخذ من هذه الأصول إلا حديثاً صحيحاً أو حسناً، وقد أدخلت في الكتاب بعض ما صادفني من الحديث الصحيح أو الحسن مما ليس في الكتب السبعة عشر، فتميز هذا الكتاب على كتب الجمع الأخرى بأنه ما حوى إلا الصحيح والحسن، وحاول أن يستقصي أصوله، مع ملاحظة أن هناك روايات في أصول هذا الكتاب لا تدخل بشكل مباشر في مقصوده، فأسقطتها، فهناك روايات كثيرة مثلاً تتحدث عن أنساب الصحابة وعن تاريخ وفياتهم مما يصلح لدراسات إحصائية استقرائية، ومما محله كتب التاريخ ومما لا تعلق مباشراً له بالهدي النبوي الذي يحتاجه كل مسلم، أو بالمعرفة التي يُطالب بها كل مسلم، ولذلك فقد أسقطت مثل هذه الروايات في الغالب من كتابي.

وقد أدخلت في هذا الكتاب بعض الأحاديث المرسلة مع ما يقال في الأحاديث المرسلة، لأن لها محلها في البناء الأصولي لمن يريد التحقيق، وأدخلت روايات أناس اختلف عليهم إذا حكم إمام لحديثهم بالصحة أو الحسن إذا وُجد ما يقوي الرواية.

3 - ولم أكتف بتصحيح أو تحسين من اشتهر عنهم أنهم يتساهلون في التصحيح والتحسين كالترمذي وابن حبان والحاكم إلا إذا أكد ذلك إمام آخر أو محقق ثبت، وكل ذلك ليطمئن
এই গ্রন্থ সংকলনের পদ্ধতি

১ - আপনি এই গ্রন্থটি পাঠ করার পর বলতে পারেন যে, আপনি সুন্নাহর মর্মার্থকে প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে পেরেছেন। কারণ এটি সেই নববী হিদায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা হাদীস শাস্ত্রের সতেরোটি মূল গ্রন্থ বর্ণনা করেছে। সেগুলো হলো: বুখারী ও মুসলিমের দুই সহীহ, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও দারেমীর পাঁচটি সুনান গ্রন্থ, ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, ইমাম আহমাদ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী ও আবু বকর আল-বায্যারের মুসনাদসমূহ, ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বানের দুই সহীহ, তাবারানীর তিনটি মু'জাম, হাকিমের মুস্তাদরাক এবং এই গ্রন্থগুলো ছাড়াও সহীহ ও হাসান সুন্নাহর যতটুকু সংগ্রহ করা সহজ হয়েছে।

এই সতেরোটি গ্রন্থকে এই কিতাবের মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করার সংকল্প করা হয়েছে, তবে ইবনে আসীরের 'জামি'উল উসুল', হাইসামীর 'মাজমাউয যাওয়াঈদ' অথবা হামাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আল-মাগরিবীর 'জামউল ফাওয়ায়িদ'-এর মতো সংকলন গ্রন্থগুলো থেকেও উপকৃত হওয়া হয়েছে।

২ - আমি নিজেকে এই নিয়মে আবদ্ধ করেছি যে, এই মূল উৎসগুলো থেকে শুধুমাত্র সহীহ অথবা হাসান হাদীসই গ্রহণ করব। আমি এই গ্রন্থে এমন কিছু সহীহ বা হাসান হাদীসও অন্তর্ভুক্ত করেছি যা এই সতেরোটি কিতাবে নেই কিন্তু আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ফলে অন্যান্য সংকলন গ্রন্থের তুলনায় এই কিতাবটি এই বৈশিষ্ট্যে অনন্য যে, এটি কেবল সহীহ এবং হাসান হাদীসকেই ধারণ করেছে এবং এর মূল উৎসগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তালাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যণীয় যে, এই মূল কিতাবগুলোতে এমন কিছু বর্ণনাও রয়েছে যা সরাসরি এই গ্রন্থের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই আমি সেগুলো বাদ দিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ, এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যা সাহাবীগণের বংশপরিচয় এবং তাঁদের মৃত্যু তারিখ নিয়ে আলোচনা করে, যা পরিসংখ্যানগত ও গবেষণামূলক পর্যালোচনার জন্য উপযোগী এবং যার উপযুক্ত স্থান হলো ইতিহাসের কিতাবসমূহ। এগুলোর সাথে প্রতিটি মুসলিমের প্রয়োজনীয় নববী হিদায়াত বা যে জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য, তার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। একারণে আমি আমার কিতাব থেকে সাধারণত এই জাতীয় বর্ণনাগুলো বাদ দিয়েছি।

আমি এই কিতাবে কিছু মুরসাল হাদীসও অন্তর্ভুক্ত করেছি—যদিও মুরসাল হাদীস সম্পর্কে ভিন্ন মত রয়েছে—কারণ মৌলিক জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে যারা গবেষণা করতে চান তাদের নিকট এর গুরুত্ব রয়েছে। আমি এমন ব্যক্তিদের বর্ণনাও অন্তর্ভুক্ত করেছি যাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে তা তখনই করা হয়েছে যখন কোনো ইমাম তাদের হাদীসকে সহীহ বা হাসান বলে রায় দিয়েছেন এবং যখন সেই বর্ণনাকে শক্তিশালী করার মতো অন্য কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে।

৩ - যারা হাদীস সহীহ বা হাসান বলার ক্ষেত্রে শিথিলতার জন্য পরিচিত, যেমন তিরমিযী, ইবনে হিব্বান এবং হাকিম—আমি কেবল তাঁদের সত্যায়নের ওপর নির্ভর করিনি, যতক্ষণ না অন্য কোনো ইমাম বা নির্ভরযোগ্য গবেষক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আর এই সবকিছুই করা হয়েছে যাতে পাঠক আশ্বস্ত হতে পারেন...
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
القارئ والداعية أن ما يأخذه من هذا الكتاب حجة وبه تقوم الحجة بإذن الله، ونرجو أن يكون مأجوراً في علمه وعمله إذا بناه على هذا الكتاب.

وإذا كنا أد

خلنا روايات لأناس اختلف عليهم فذلك لأن التصحيح والتحسين والتضعيف يخضع في بعض حيثياته لعوامل ذوقية. وللتبحر في علم الحديث، وللخبرة دخلهما في ذلك، ومن ثم كان للاجتهاد دخل في التصحيح أو التحسين أو التضعيف، ألا ترى أن بعض قواعد الجرح والتعديل محل خلاف؟

ومع أننا أدخلنا بعض ما اختلف فيه إذا كان التحقيق يوصل إلى تصحيح أو تحسين، فقد حاولنا أن نذكر وجهات النظر الأخرى إذا عثرنا عليها احتياطاً لحرمة جناب السنة النبوية المطهرة.

وإنما انصب جهدي على جمع الصحيح والحسن؛ لأنهما اللذان عليهما مدار الأحكام، وبهما تقوم الحجة، ولم أدخل الضعيف في متن هذا الكتاب - مع أن الضعيف لا يعتبر موضوعاً بالضرورة، وبالتالي فاحتمال أنه من كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم قائم - لأنني استهدفت بهذا الكتاب معاني متعددة ..

منها: أن يألف القارئ العبارة النبوية وأن يراها خالصة لا يخالطها غيرها.

ومنها: حفظ القارئ عن التشويش والاضطراب وتغير الخاطر وقلق الفكر.

ومنها: حفظ وقت القارئ.

ومنها: أن يندفع القارئ في العمل دون تردد.

4 - وقد كنت ذكرت في مقدمة كتاب الأساس في التفسير بعض احتياجات الأمة الإسلامية في عصرنا بالنسبة للسنة فقلت:

أ - المسلم المعاصر عنده رغبة في أن يتعرف على السنة المتواترة والصحيحة والحسنة السند، ويحتاج إلى كتاب جامع لذلك كله، على أن يكون هذا الكتاب مضبوطاً شكله
পাঠক এবং দাঈ (আহ্বায়ক) জানবেন যে, এই কিতাব থেকে তিনি যা গ্রহণ করবেন তা দলীল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় এর মাধ্যমে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করি যে, তিনি যদি এই কিতাবের ওপর ভিত্তি করে তাঁর জ্ঞান এবং আমল পরিচালনা করেন, তবে তিনি পুরস্কৃত হবেন।

আর যদি আমরা এমন ব্যক্তিদের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করে থাকি যাদের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে তার কারণ হলো এই যে, (হাদিস) সহিহ, হাসান বা জয়িফ নির্ধারণের বিষয়টি কোনো কোনো ক্ষেত্রে রুচিগত বা ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির ওপর নির্ভর করে। এবং হাদিস শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতারও এতে প্রভাব রয়েছে; যার ফলে সহিহ, হাসান বা জয়িফ নির্ধারণে ইজতিহাদের (গবেষণালব্ধ মতের) অবকাশ থাকে। আপনি কি দেখেন না যে, জারাহ ও তা’দিলের (সমালোচনা ও গুণাবলি যাচাইয়ের) কিছু মূলনীতিও মতভেদের স্থান?

যদিও আমরা এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছি যেগুলোতে মতভেদ রয়েছে—যদি তাহকিক বা যাচাই-বাছাই সেটিকে সহিহ বা হাসান হওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়—তবুও আমরা পবিত্র সুন্নাহর মর্যাদার সুরক্ষার্থে সতর্কতা হিসেবে অন্য মতগুলোকেও উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি, যদি আমরা তা পেয়ে থাকি।

আমি মূলত সহিহ এবং হাসান হাদিস সংগ্রহের ওপর শ্রম ব্যয় করেছি; কারণ আহকাম বা বিধি-বিধান এ দুটির ওপরই আবর্তিত হয় এবং এগুলোর মাধ্যমেই দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি এই কিতাবের মূল পাঠে জয়িফ বা দুর্বল হাদিস অন্তর্ভুক্ত করিনি—যদিও জয়িফ হাদিস মানেই তা বানোয়াট নয়, ফলে তা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়—কারণ আমি এই কিতাবের মাধ্যমে বহুমুখী উদ্দেশ্য সামনে রেখেছি...

তার মধ্যে রয়েছে: পাঠক যেন নববী বাণীর সাথে পরিচিত হতে পারেন এবং একে বিশুদ্ধ রূপে দেখতে পান যেখানে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ নেই।

এর মধ্যে রয়েছে: পাঠককে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, মনের পরিবর্তন এবং চিন্তা-উদ্বেগ থেকে রক্ষা করা।

এর মধ্যে রয়েছে: পাঠকের সময়ের হেফাজত করা।

এর মধ্যে রয়েছে: পাঠক যেন কোনো দ্বিধা ছাড়াই আমল করার ক্ষেত্রে অগ্রসর হতে পারেন।

৪ - আমি 'আল-আসাস ফিত তাফসির' কিতাবের ভূমিকায় সুন্নাহর ক্ষেত্রে বর্তমান যুগে মুসলিম উম্মাহর কিছু প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে বলেছিলাম:

ক - সমকালীন মুসলিমের মধ্যে মুতাওয়াতির, সহিহ এবং হাসান সনদবিশিষ্ট সুন্নাহ সম্পর্কে জানার আগ্রহ রয়েছে এবং তার এমন একটি কিতাব প্রয়োজন যা এই সবকিছুর সমন্বিত রূপ হবে, পাশাপাশি কিতাবটি হতে হবে পূর্ণাঙ্গ হরকত বা চিহ্নযুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
مشروحاً غريبه.

ب - والمسلم غير المتخصص في الحديث يهمه كذلك أن يأخذ الجوهر - دون ما احتاجه هذا الجوهر لحمايته - أي هو يحرص على أن يقرأ متون السنة دون أسانيدها.

جـ - والمسلم المعاصر بحاجة إلى أني فهم السنة فهماً صحيحاً وأن يأخذ الجواب الشافي على كثير من الإشكالات، وأن يعرف كثيراً من الأمور التي يتلجلج في قلبه سؤال عنها.

د - وهناك شبهات حول السنة يثيرها أعداء الله عز وجل، وهناك مناقشات حادة حول الكثير من الأمور بين المسلمين أنفسهم في شأن فهم الكثير من متون السنة، وكل ذلك يحتاج المسلم المعاصر إلى أن يرتاح قلبه في شأنه.

هذا ما ذكرته في مقدمة كتاب التفسير عما يحتاجه المسلم المعاصر بالنسبة للسنة وشيء عادي أن أراعي ذلك في هذا الكتاب.

5 - ولما كان هذا الكتاب ليس جمعاً للسنة فقط، بل جمع للسنة وحديث عن شيء من فقهها، وذلك من أهداف هذا الكتاب، فإنني أدخلت بعض تحقيقات أهل الاختصاص فيه، وذلك شيء لابد منه لمريد فهم السنة؛ فهناك نصوص في السنة فهمها بعض الناس فهماً خاطئاً فضلوا وأضلوا، كتلك الفرق المنشقة عن جسم الأمة الإسلامية.

وهناك نصوص يمكن أن يفهمها بعض الناس فهماً خاطئاً كالنصوص التي تتحدث عن تسلسل الأحداث إلى قيام الساعة، وأقواله عليه الصلاة والسلام من جوامع الكلم، وأفعاله كلها في غاية من الحكمة، وفي هذا وذاك يوجد الفقيه والأفقه، والاستفادة من فقه أهل الفقه مهمة.

وهناك نصوص تعددت في فهمها أو في الموقف منها آراء أئمة الاجتهاد فكان لابد من تبيان أسباب ذلك لتبقى ثقة الأمة الإسلامية بأئمتها على أشدها فذلك هو الذي يعصم من السير وراء الأهواء، أو عن الاندفاع وراء الآراء الشاذة، أو عن الخطأ في المواقف.

وهناك - أيضاً - قضايا كثيرة تحتاج إلى أن يذكر فيها تحقيق المحققين كل في
এর অপ্রচলিত শব্দগুলোর ব্যাখ্যাসহ।

খ - একইভাবে, হাদীস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ নন এমন একজন মুসলিমের কাছেও সারবস্তু গ্রহণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ—সেই সারবস্তুকে রক্ষার জন্য যা কিছুর প্রয়োজন হয়েছে তা বাদ দিয়ে—অর্থাৎ তিনি সনদের পরম্পরা ছাড়াই সুন্নাহর মূল পাঠ পড়ার ব্যাপারে আগ্রহী থাকেন।

গ - সমসাময়িক একজন মুসলিমের প্রয়োজন হলো সুন্নাহকে সঠিকভাবে বোঝা এবং অনেক জটিল সমস্যার সন্তোষজনক উত্তর লাভ করা, এবং এমন অনেক বিষয়ে অবগত হওয়া যে সম্পর্কে তার হৃদয়ে প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধে।

ঘ - মহান আল্লাহর শত্রুরা সুন্নাহ সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় সৃষ্টি করে এবং সুন্নাহর অনেক মূল পাঠ বোঝার ক্ষেত্রে খোদ মুসলিমদের নিজেদের মধ্যেই অনেক বিষয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। এই সমস্ত বিষয়ে সমসাময়িক মুসলমানের হৃদয়ে প্রশান্তি আসা প্রয়োজন।

সুন্নাহর বিষয়ে সমসাময়িক মুসলমানের যা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে আমি তাফসীর গ্রন্থের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছি তা-ই এটি। আর এই গ্রন্থে আমি সেই বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখব, এটাই স্বাভাবিক।

৫ - যেহেতু এই গ্রন্থটি কেবল সুন্নাহর সংকলন নয়, বরং সুন্নাহর সংকলন এবং এর ফিকহ বা গভীর প্রজ্ঞা নিয়ে আলোচনা, আর এটিই এই গ্রন্থের অন্যতম উদ্দেশ্য; তাই আমি এতে বিশেষজ্ঞগণের কিছু সূক্ষ্ম গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করেছি। সুন্নাহ বুঝতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। কারণ সুন্নাহর এমন কিছু পাঠ বা নস রয়েছে যা কিছু মানুষ ভুলভাবে বুঝেছে, ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করেছে, যেমনটি মুসলিম উম্মাহর মূল দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া দলগুলোর ক্ষেত্রে ঘটেছে।

আবার এমন কিছু পাঠ বা নস রয়েছে যা কিছু মানুষ ভুল বুঝতে পারে, যেমন কিয়ামত পর্যন্ত ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ। তাঁর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বাণীসমূহ সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ এবং তাঁর সমস্ত কাজ অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ। এ সবকিছুর ক্ষেত্রে ফকীহ এবং অধিক প্রাজ্ঞ ফকীহ বিদ্যমান রয়েছেন, আর ফকীহগণের প্রজ্ঞা থেকে উপকৃত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুন্নাহর এমন কিছু পাঠও রয়েছে যা বোঝার ক্ষেত্রে অথবা সেগুলোর বিষয়ে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুজতাহিদ ইমামগণের একাধিক মত রয়েছে। ফলে এর কারণগুলো স্পষ্ট করা আবশ্যক ছিল, যাতে ইমামগণের প্রতি মুসলিম উম্মাহর আস্থা সুদৃঢ় থাকে। কারণ এটিই প্রবৃত্তির অনুসরণ, বিভ্রান্তিকর মতামতের পেছনে ছোটা অথবা ভুল অবস্থানে পা বাড়ানো থেকে রক্ষা করে।

এছাড়াও এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেখানে গবেষকদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উল্লেখ করা প্রয়োজন, যার প্রতিটি ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
اختصاصه، فمثلاً: تجد في السيرة كثيراً من النصوص الصحيحة والحسنة تشير إلى حادثة بعينها، ولكنك لا تجد في النصوص الصحيحة والحسنة التفصيلات، فإذا ما وجدت تفصيلات عند أئمة السير والمغازي فهذه التحقيقات مهمة ومفيدة، فهي لا تخرج عن أن يكون مضمونها مذهباً لصاحب التحقيق، فإذا كان إماماً فلنا في هذه الحالة أن نتابعه في قضية ليس فيها نص مخالف، وفي قضايا العقائد أو السلوك أو الفقه أو الطب أو التفسير نجد تحقيقات مهمة ومفيدة، تعين على الفهم أو تجيب على تساؤلات.

كل ذلك دعاني إلى إدخال تحقيق أهل التحقيق من أهل الاختصاص في هذا الكتاب، ولكن بأقصى ما أستطيع من الاختصار حتى لا يتوسع حجم الكتاب، وعلى هذا الهدي علقت وحشيت وهمشت وأدخلت كثيراً من الفوائد ليحقق الكتاب مجموع أهدافه.

6 - وإذ كنت مولعاً بالبحث عن الكليات وربط أجزائها بها فقد راعيت في هذا الكتاب أن تأخذ موضوعات السنة محلها ضمن تسلسل يستشعر فيها القارئ وحدة السنة النبوية وكأنها في الأصل كتاب واحد.

7 - وقارئ هذا الكتاب يخرج بانطباع أنه أمام أعظم هدي بشري لنبي. وقد راعيت فيه أن لا يمل قارئه وأن يزداد رغبة في القراءة كلما أوغل فيه، كما راعيت فيه أن يخرج قارئه وقد فقه السنة حق الفقه، مركزاً على ما يغفل عنه أبناء العصر من موضوعات تفرضها وقائع ومناقشات.

8 - وقد بذلت جهداً كبيراً في تحقيق روايات بعض الكتب التي لم تنل من التحقيق ما يكفي، مما يعتبر وحده جهداً تتوجه إليه مقاصد الراغبين في السنة، كمجمع الزوائد للهيثمي، وقمت بضبط وتحقيق وتشكيل ما يشكل على القارئ العادي، معتمداً في ذلك على مصادر السنة الصحيحة المحققة وكتب اللغة المعتمدة.

9 - وقد كان لأعداء الإسلام دور كبير في محاولة التشكيك في السنة وفي بعض معانيها، مما جعلني ألحظ ذلك في تأليف هذا الكتاب بشكل غير مباشر، بحيث تعود الكرة إلى مرمى أهلها، فيصبح ما هو محل تشكيك في زعمهم محل إيمان كما هو في الواقع والحقيقة.
তাঁর বিশেষত্ব; উদাহরণস্বরূপ: আপনি সীরাতের মধ্যে অনেক সহীহ এবং হাসান বর্ণনা পাবেন যা একটি নির্দিষ্ট ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে, কিন্তু আপনি সেই সহীহ এবং হাসান বর্ণনাগুলোর মধ্যে বিস্তারিত বিবরণ পাবেন না। সুতরাং যদি সীরাত ও মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) শাস্ত্রের ইমামদের কাছে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়, তবে এই বিশ্লেষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী। এর সারকথা সংশ্লিষ্ট গবেষকের নিজস্ব গবেষণালব্ধ মতামতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যদি ইমাম পর্যায়ের কেউ হন, তবে এমন ক্ষেত্রে আমরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারি যেখানে কোনো বিপরীত দলীল বিদ্যমান নেই। আকিদা, আচরণবিধি, ফিকহ, চিকিৎসা বা তাফসীরের ক্ষেত্রে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী গবেষণা পাই যা বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করে অথবা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে।

এই সবকিছুই আমাকে এই বইটিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ গবেষকদের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, তবে তা যথাসম্ভব সংক্ষেপ করার চেষ্টা করেছি যাতে বইটির কলেবর বৃদ্ধি না পায়। এই নীতি অনুসরণ করেই আমি টীকা ও পাদটীকা প্রদান করেছি এবং অনেক শিক্ষণীয় বিষয় যুক্ত করেছি যাতে বইটি তার সামগ্রিক লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে পারে।

৬ - যেহেতু আমি মৌলিক মূলনীতিসমূহ অনুসন্ধান এবং সেগুলোর সাথে শাখা-প্রশাখাগুলোর সংযোগ স্থাপনে আগ্রহী, তাই আমি এই বইটিতে সুন্নাহর বিষয়গুলোকে এমন এক ধারাবাহিকতায় সাজানোর প্রতি লক্ষ্য রেখেছি যাতে পাঠক সুন্নাহর একক সত্তা অনুভব করতে পারেন, যেন তা মূলত একটিই কিতাব।

৭ - এই কিতাবের পাঠক এমন এক ধারণা নিয়ে ফিরবেন যে, তিনি একজন নবীর সর্বোত্তম মানবীয় হিদায়াতের সামনে রয়েছেন। এতে আমি লক্ষ্য রেখেছি যেন পাঠক ক্লান্ত না হন এবং তিনি কিতাবটির যত গভীরে প্রবেশ করবেন ততই যেন পড়ার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। আমি আরও লক্ষ্য রেখেছি যেন পাঠক সুন্নাহর প্রকৃত বুঝ বা ফিকহ লাভ করতে পারেন, বিশেষ করে বর্তমান যুগের মানুষ যেসব বিষয়ে অসচেতন এবং সমসাময়িক বাস্তবতা ও বিতর্কের কারণে যেসব বিষয় সামনে চলে আসে সেগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছি।

৮ - আমি এমন কিছু কিতাবের বর্ণনাসমূহ তাহকীক বা বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক শ্রম দিয়েছি যেগুলোতে পর্যাপ্ত কাজ হয়নি, যা সুন্নাহর অনুরাগী অন্বেষণকারীদের জন্য একটি একক প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে; যেমন হাইসামীর ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’। আমি সাধারণ পাঠকের জন্য অস্পষ্ট শব্দগুলোর সঠিক পাঠ নির্ধারণ ও হরকত প্রদান করেছি এবং এ ক্ষেত্রে সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য ও তাহকীককৃত উৎসসমূহ এবং প্রামাণ্য ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানের ওপর নির্ভর করেছি।

৯ - সুন্নাহ এবং এর কিছু মর্মার্থের ব্যাপারে সংশয় তৈরির ক্ষেত্রে ইসলামের শত্রুদের এক বিরাট ভূমিকা ছিল। এটি আমাকে এই কিতাব রচনার সময় পরোক্ষভাবে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে নিক্ষিপ্ত বল তাদের কোর্টেই ফিরে যায়। ফলে তাদের দাবি অনুযায়ী যা সংশয়ের বিষয় ছিল, তা বাস্তবতা ও সত্যের নিরিখে ঈমানের বিষয়ে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
10 - وإذا كانت بعض الموضوعات تحتاج إلى الاستفادة من معطيات عصرنا، وإذ كانت بعض معطيات عصرنا تُظهر من معجزات نبينا صلى الله عليه وسلم الكثير، فقد كان هذا وهذا محل تركيز في هذا الكتاب.

11 - ثم إن المسلم في عصرنا يحتاج إلى أن تفتح أمامه آفاق جديدة على الحاضر والمستقبل التزاماً وتطبيقاً، وأملاً وتفاؤلاً، وإذ كانت النصوص تعطي هذا كله فقد كان هذا محل تركيز في الكتاب، خاصة وأن بعض الموضوعات قد فهمت فهماً مغلوطاً انعكس على نفسية الأمة يأساً وإحباطاً.

12 - وكما أن بعض الموضوعات قد ركزت عليها شرحاً وتقديماً وتعليقاً وتلخيصاً وإلحاقاً إياها بمسائل وفوائد، فإنني سردت أحاديث بعض الموضوعات سرداً؛ لرؤيتي أن حاجة المسلم هي تملي هذه النصوص صرفاً لم تُشبْ بتعليقات الرجال.

13 - ومع هذا كله فإن هذا الكتاب لا يعتبر شرحاً تقليدياً للسنة ولا يعتبر تحقيقاً تقليدياً لها، ولكنه كتاب يعطيك السنة عن أقرب طريق ويعطيك فهماً لها عن أيسر طريق، الحشو فيه مستبعد، والتعقيد فيه متروك، هذا مع المحاولة بألا يفوتك شيء من الهدي النبوي إن شاء الله.

14 - والأصل عندي أن أختصر ما أمكن ليسهل على القارئ الاستيعاب السريع، ولذلك لم أكرر إلا حيث وجدت ملحظاً يقتضي التكرار: إما لإعلام أن أكثر من صحابي قد روى معنى من المعاني، وإما لضرورة أن يكرر حديث في أكثر من مكان إلى غير ذلك من الضرورات، ولقد أهملت بعض المعاني الفنية عمداً رغبة في الاختصار، حيث أجد أن ما أذكره كاف ليثق المسلم فيعتقد ويعمل.

ومن باب الاختصار أيضاً أنني في بداية كل حديث أذكر من أخرجه، ثم أحذف السند، وأكتفي بالصحابي الذي رواه فأقول مثلاً: روى البخاري عن أبي هريرة … وكان ينبغي أن يقال: روى البخاري بسنده عن أبي هريرة، ولكن حذفت الجار والمجرور تخفيفاً، اعتماداً على أن هذا مفهوم من الكلام، ويستطيع القارئ الكريم أن يقدرهن بناء على معرفته بشرط هذا الكتاب.
১০ - যেহেতু কিছু বিষয় আমাদের বর্তমান সময়ের তথ্য ও উপাত্ত থেকে উপকৃত হওয়ার মুখাপেক্ষী, এবং যেহেতু আমাদের বর্তমান সময়ের কিছু তথ্য-উপাত্ত আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনেক মুজিযা প্রচুর পরিমাণে প্রকাশ করে, তাই এই গ্রন্থে এ উভয় দিকটির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

১১ - অতঃপর, বর্তমান সময়ের একজন মুসলিমের সামনে আনুগত্য ও অনুসরণের ক্ষেত্রে এবং আশা ও ইতিবাচকতার ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু শরয়ি নসসমূহ (মূল পাঠ) এই সবকিছুর যোগান দেয়, তাই কিতাবটিতে এ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে; বিশেষ করে যখন কিছু বিষয় ভুলভাবে অনুধাবন করা হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব উম্মাহর মানসিকতায় নিরাশা ও হতাশা হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।

১২ - আর যেহেতু আমি কিছু বিষয়ের ওপর ব্যাখ্যা, উপস্থাপনা, টীকা প্রদান, সারসংক্ষেপকরণ এবং আনুষঙ্গিক মাসআলা ও ফায়েদা যুক্ত করার মাধ্যমে গুরুত্বারোপ করেছি, তেমনিভাবে কিছু বিষয়ের হাদিসসমূহকে আমি কেবল ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছি; কারণ আমার দৃষ্টিতে মুসলিমদের প্রয়োজন হলো এই নসসমূহকে বিশুদ্ধভাবে গ্রহণ করা, যা মানুষের নিজস্ব কোনো মন্তব্যের সংমিশ্রণমুক্ত।

১৩ - এতদসত্ত্বেও এই কিতাবটি সুন্নাহর কোনো গতানুগতিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয় এবং এর কোনো প্রথাগত তাহকিকও (গবেষণা) নয়। বরং এটি এমন একটি কিতাব যা আপনাকে নিকটতম পন্থায় সুন্নাহর জ্ঞান প্রদান করবে এবং সহজতম উপায়ে তার সঠিক বুঝ দান করবে। এতে অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা বর্জন করা হয়েছে এবং জটিলতা পরিহার করা হয়েছে; সেই সাথে এই প্রচেষ্টাও করা হয়েছে যেন ইনশাআল্লাহ নববী হিদায়াতের কোনো কিছুই আপনার হাতছাড়া না হয়।

১৪ - আমার মূল নীতি হলো যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করা, যাতে পাঠকের পক্ষে দ্রুত অনুধাবন করা সহজ হয়। এই কারণে আমি পুনরাবৃত্তি করিনি, তবে যেখানে পুনরাবৃত্তির বিশেষ কারণ খুঁজে পেয়েছি কেবল সেখানেই তা করেছি: হয় এটি জানানোর জন্য যে একাধিক সাহাবী কোনো একটি বিষয় বর্ণনা করেছেন, অথবা অন্য কোনো প্রয়োজনে কোনো একটি হাদিস একাধিক স্থানে উল্লেখ করা আবশ্যক হয়েছে ইত্যাদি। আমি সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু পারিভাষিক ও তাত্ত্বিক বিষয় বর্জন করেছি, যেখানে আমি মনে করেছি যে আমার উল্লিখিত বিষয়গুলোই একজন মুসলিমের আস্থা অর্জন করে আকিদা পোষণ ও আমল করার জন্য যথেষ্ট।

সংক্ষিপ্তকরণের অংশ হিসেবে আমি প্রতিটি হাদিসের শুরুতে তা সংকলনকারীর নাম উল্লেখ করেছি, অতঃপর সনদ (সূত্রপরম্পরা) বাদ দিয়ে কেবল হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীর উল্লেখের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। যেমন আমি বলেছি: বুখারী আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন … অথচ বলা উচিত ছিল: বুখারী স্বীয় সনদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সহজ করার উদ্দেশ্যে আমি শব্দসংক্ষেপ করেছি এই আশায় যে, এটি বক্তব্য থেকেই সুস্পষ্ট এবং সম্মানিত পাঠক এই কিতাবের মানদণ্ড সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের ভিত্তিতে তা বুঝে নিতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
15 - وفي عملية جمع النصوص من أصول هذا الكتاب صادفني أن بعض الروايات موجودة في أكثر الأصول فلم أر أن أذكر الصول كلها في العزو لأن ذلك يضخم حجم الكتاب دون فائدة للقارئ العادي، ولذلك اختصرت في العزو بالقدر الذي يحقق الغرض، وإذ كانت أكثر روايات الأصول الزائدة على الكتب الستة تكراراً لما في الكتب الستة، فإنك لا تجد كثيراً من العزو إلى هذه الأصول، فلا تظنن أن هذا قصور في الكتاب.

16 - وعلى عادتي فيما أؤلف فإنني لا أتوانى أن أنقل تحقيقات المحققين مما يحتاجه كتابي، دون أن أحاول إعادة صياغته، ولا حرج عليَّ في كل ما فعلته فلقد درج علماء المسلمين خلال العصور على أن يعتبروا مجرد الدمج بين كتابين أو أكثر هدفاً، وأن يعتبروا الانتقاء والاختيار من كتاب أو مجموعة كتب هدفاً، وأن يزيد اللاحق على فعل السابق آخذاً جهده مضيفاً إليه هدفاً، ومجرد تجميع الفوائد من كتب متعددة هدفاً.

فإذا حاولت أن أوجد عقد جوهر من جواهر مبثوثة، فإني لا أجد حرجاً من أن أكثر النقل فقد لا يصل الكتاب المنقول عنه إلى قارئي فأكون وسيطاً، ثم إن كثيرين يعرضون بعض الأمور عرضاً موفقاً قد لا أطيقه لو أني أردته، فماذا لو أنني رصعت كتابي بفوائد أمثال هؤلاء؟!

17 - وقد أفدت من تحقيقات البوصيري لزوائد ابن ماجه، وتحقيقات عبد الله اليماني لجمع الفوائد وتحقيقات عبد القادر أرناؤوط لجامع الأصول وتحقيقات الهيثمي لمجمع الزوائد وتحقيقات الذهبي للحاكم وتحقيقات الشيخ عبد الفتاح أبو غدة وناصر الألباني وشعيب الأرناؤوط وغيرهم، فجزى الله الجميع خيراً.

18 - ولعل قصة الجهد الذي بذلناه في هذا الكتاب تجعل لنا عند أهل الإنصاف عُذراً فيما يرونه من تقصير، فلكي أتجنب أخطاء النقل الكتابي، ولكي لا يفوتني حديث من أحاديث الكتب التي قررت أن أجمع منها هذا الكتاب، فقد جعلت كل حديث من أصول هذه الكتب في ورقة مستقلة تصويراً أو أخذاً مباشراً من نسخ هذه الكتب، حتى إذا انتهى
১৫ - এই গ্রন্থের মূল উৎসসমূহ থেকে পাঠ্যগুলো সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় আমি লক্ষ্য করেছি যে, কিছু বর্ণনা একাধিক মূল গ্রন্থে বিদ্যমান। তাই উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সব কটি উৎসের কথা উল্লেখ করা আমি সমীচীন মনে করিনি, কারণ এটি সাধারণ পাঠকের জন্য কোনো বিশেষ উপকার ছাড়াই গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধি করবে। সে কারণে আমি উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য পূরণ হয় এমন সংক্ষিপ্ত রূপ গ্রহণ করেছি। যেহেতু 'কুতুবুস সিত্তা' বা ছয়টি গ্রন্থের অতিরিক্ত উৎসগুলোর অধিকাংশ বর্ণনা মূলত সেই ছয়টি গ্রন্থের বর্ণনারই পুনরাবৃত্তি, তাই আপনি এসব উৎসের প্রতি অধিক উদ্ধৃতি দেখতে পাবেন না; সুতরাং একে এই গ্রন্থের কোনো ত্রুটি হিসেবে গণ্য করবেন না।

১৬ - আমার রচনারীতি অনুযায়ী, আমার গ্রন্থে গবেষকদের যেসব তাহকীক বা গবেষণালব্ধ বিষয়ের প্রয়োজন হয়, আমি সেগুলো পুনঃনির্মাণের চেষ্টা না করে সরাসরি উদ্ধৃত করতে কুণ্ঠাবোধ করি না। আর আমি যা করেছি তাতে কোনো দোষ নেই; কেননা যুগে যুগে মুসলিম আলিমগণ দুটি বা ততোধিক গ্রন্থের সমন্বয় ঘটানোকেই একটি স্বতন্ত্র লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। তদ্রূপ কোনো একটি গ্রন্থ বা একগুচ্ছ গ্রন্থ থেকে বাছাই ও নির্বাচন করাকেও তারা একটি উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য করেছেন। এছাড়া পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের প্রচেষ্টাকে গ্রহণ করে তাতে নতুন কোনো লক্ষ্য যুক্ত করা এবং বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে কেবল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ (ফাওয়ায়েদ) সংগ্রহ করাকেও লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছেন।

সুতরাং আমি যদি ছড়িয়ে থাকা রত্নরাজি থেকে একটি রত্নহার তৈরির চেষ্টা করি, তবে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি দিতে আমি কোনো সংকোচ বোধ করি না; কারণ যে গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হচ্ছে তা হয়তো আমার পাঠকের নিকট নাও পৌঁছাতে পারে, ফলে আমি একজন মাধ্যম হিসেবে কাজ করি। অধিকন্তু, অনেকে অনেক বিষয় এমন চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন যা আমি নিজে চাইলেও হয়তো সম্ভব হতো না। এমতাবস্থায় আমি যদি তাদের দেওয়া সেই উপকারী বিষয়গুলো দিয়ে আমার গ্রন্থটিকে সজ্জিত করি, তবে তাতে ক্ষতি কী?!

১৭ - আমি ইবনে মাজাহ-এর অতিরিক্ত বর্ণনা (জাওয়ায়িদ) সম্পর্কে বুসয়িরির তাহকীক, 'জামউল ফাওয়াইদ'-এর ওপর আব্দুল্লাহ আল-ইয়ামানির তাহকীক, 'জামিউল উসুল'-এর ওপর আব্দুল কাদির আরনাউতের তাহকীক, 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এর ওপর হাইসামির তাহকীক, 'মুস্তাদরাকে হাকেম'-এর ওপর যাহাবির তাহকীক এবং শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, নাসির আল-আলবানি, শুয়াইব আরনাউত ও অন্যান্যদের তাহকীক থেকে উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

১৮ - এই গ্রন্থের পেছনে আমাদের ব্যয়িত শ্রমের ইতিহাস হয়তো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের কাছে আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষেত্রে ওজর হিসেবে গণ্য হবে। কেননা লিখিত উদ্ধৃতি প্রদানের ভুল এড়াতে এবং যেসব গ্রন্থ থেকে আমি এই সংকলনটি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার কোনো একটি হাদিসও যেন বাদ না পড়ে, সেজন্য আমি মূল গ্রন্থগুলোর প্রতিটি হাদিসকে ফটোকপি বা সরাসরি সংগ্রহের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র কাগজে বিন্যস্ত করেছি। যাতে যখন শেষ হলো...
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
هذا الجهد، وجدتني أمام عشرات الآلاف من أوراق، فبدأت بحذف الضعيف، وضم النظير إلى النظير، على ضوء نظرية جامعة في الترتيب والتبويب، ثم كانت مرحلة ثانية وثالثة ورابعة، وخامسة حتى استكمل هذا الكتاب شكله الذي أقدمه إليك.

ونرجو من أي إنسان عنده علم في السنة أن يقدم لنا ملاحظاته، فنحن بفضل الله نفرح إن أهدانا أحد هدية الدلالة على خطأ.

* * *
এই প্রচেষ্টায়, আমি নিজেকে দশ হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার সম্মুখে দেখতে পাই। অতঃপর বিন্যাস ও অধ্যায় নির্ধারণের একটি সমন্বিত মূলনীতির আলোকে আমি দুর্বল বর্ণনাগুলো বর্জন করতে এবং সমজাতীয় বিষয়গুলোকে একত্রিত করতে শুরু করি। এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম পর্যায় অতিবাহিত হয়, যতক্ষণ না এই কিতাবটি সেই পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে, যা আমি আপনার নিকট পেশ করছি।

আর সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন যে কোনো ব্যক্তির নিকট আমরা এই আশা রাখি যে, তিনি যেন আমাদের নিকট তাঁর পর্যবেক্ষণসমূহ পেশ করেন। কেননা আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা আনন্দিত হই যদি কেউ আমাদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে উপহার প্রদান করেন।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-আসাস ফিস সুন্নাতি ওয়া ফিকহিহা - আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌أقسام الكتاب

وقد جعلت هذا الكتاب مقدمة وخمسة أقسام:

المقدمة: وفيها تعريف بهذا الكتاب ومنهج البحث فيه، وإلمامه بأصوله، وتعريف بالجهود الكبرى التي جمعت بين هذه الأصول وأفدت منها.

وجعلت القسم الأول من الكتاب في السيرة النبوية، لأن التعريف بالرسول صلى الله عليه وسلم مقدم على التعريف بالرسالة، ولأن الإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم هو المقدمة العادية لتلقي هديه.

وجعلت القسم الثاني في العقائد، لأنها هي الأساس، وعنها يصدر العمل وإذا صحت وجد القبول، ولأنها أول ما يخاطب به الإنسان، وهي المظهر الأول لدعوة رسول الله صلى الله عليه وسلم فناسب أن يكون أول ما يطالعه الإنسان بعد سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم العقائد، وقد جمعت في قسم العقائد بين الفهم الفطري للنصوص، ومباحث الأصوليين، وتحقيق المحققين.

وجعلت القسم الثالث في العبادات الرئيسية وما هو ألصق بها.

وجعلت القسم الرابع في الأخلاقيات وأحكام الحياتيات والعاديات.

وجعلت القسم الخامس في الحكم وما أهو ألصق به وفي حقوق الإنسان.

وسنرى أن الربط بين أبحاث كل قسم والتسلسل بين الأقسام كان قوياً لدرجة يجعل الكتاب بعضه أخذاً برقاب بعض، وقد لحظت في هذا الترتيب معاني تربوية ونفسية نرجو أن تكون ذا نفع.

* * *

وبعد: فهاك السنة النبوية تكاد تكون مجموعة من كتاب، وإني لأرجو لمن قرأ هذا الكتاب وكتاب الأساس في التفسير وكتاب الأساس في قواعد المعرفة وضوابط الفهم، أن يكون قد اجتمع له إبصار كامل بمواطن الحق والباطل والخطأ والصواب.

ولقد مرت على المسلمين أدوار، دور كانوا يأخذون فيه الكتاب والسنة وحدهما، ودور
গ্রন্থের বিন্যাস

আমি এই গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা ও পাঁচটি অংশে বিন্যস্ত করেছি:

ভূমিকা: এতে রয়েছে গ্রন্থটির পরিচিতি ও এতে অনুসৃত গবেষণা পদ্ধতি, এর মূলনীতির স্বরূপ বিশ্লেষণ এবং সেই মহান প্রচেষ্টাসমূহের পরিচয় যা এই মূলনীতিগুলোকে সমন্বিত করেছে এবং যেখান থেকে আমি উপকৃত হয়েছি।

আমি গ্রন্থের প্রথম অংশটি সীরাতে নববী বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিতের জন্য নির্ধারণ করেছি। কারণ, রিসালাত বা বাণীর পরিচিতির পূর্বে রাসূলের পরিচিতি প্রদান অগ্রগণ্য। তদুপরি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনাই হলো তাঁর হিদায়াত গ্রহণের স্বাভাবিক সোপান।

আমি দ্বিতীয় অংশটি আকাইদ বা বিশ্বাসমালার জন্য নির্ধারণ করেছি। কারণ, এটিই হলো মূল ভিত্তি, যা থেকে আমল বা কর্মের উৎপত্তি ঘটে। যদি তা সঠিক হয়, তবেই গ্রহণযোগ্যতা অর্জিত হয়। এছাড়া এটিই সর্বপ্রথম বিষয় যা নিয়ে মানুষকে সম্বোধন করা হয় এবং এটিই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের প্রাথমিক রূপ। সুতরাং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত পাঠের পর মানুষের জন্য সর্বপ্রথম আকাইদ পাঠ করা সংগত। আকাইদ অংশে আমি দলীলসমূহের সহজাত উপলব্ধি, উসুলবিদদের আলোচনা এবং গবেষকগণের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটিয়েছি।

আমি তৃতীয় অংশটি প্রধান ইবাদতসমূহ এবং এর সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির জন্য নির্দিষ্ট করেছি।

আমি চতুর্থ অংশটি নৈতিকতা এবং জীবন পরিচালনা ও প্রাত্যহিক রীতিনীতি সংক্রান্ত বিধানাবলীর জন্য নির্দিষ্ট করেছি।

আমি পঞ্চম অংশটি শাসনব্যবস্থা ও এর সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী এবং মানবাধিকারের জন্য নির্দিষ্ট করেছি।

আমরা দেখতে পাব যে, প্রতিটি অংশের গবেষণার মধ্যকার যোগসূত্র এবং বিভিন্ন অংশের মধ্যবর্তী পরম্পরা এতটাই শক্তিশালী যে, তা গ্রন্থটির প্রতিটি অংশকে একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে গ্রথিত করেছে। আমি এই বিন্যাসের ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো লক্ষ রেখেছি, যা অত্যন্ত উপকারী হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

* * *

অতঃপর: এখানে সুন্নাহে নববীকে একটি গ্রন্থের অবয়বে প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি আশা করি, যে ব্যক্তি এই গ্রন্থটি এবং 'আল-আসাস ফিত তাফসির' ও 'আল-আসাস ফি কাওয়াইদুল মা'রিফা ওয়া দাওয়াবিতুল ফাহম' গ্রন্থদ্বয় পাঠ করবেন, সত্য ও মিথ্যা এবং ভুল ও সঠিকের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে তার পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি অর্জিত হবে।

মুসলমানদের ওপর দিয়ে অনেক যুগ অতিবাহিত হয়েছে; এমন এক যুগ যখন তারা কেবল কুরআন ও সুন্নাহকে গ্রহণ করত, এবং এমন এক যুগ যখন...