(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: -)
عدالة الصحابة رضى الله عنهم ودفع الشبهات القسم: كتب عامة
الكتاب: عدالة الصحابة رضى الله عنهم في ضوء القرآن الكريم والسنة النبوية ودفع الشبهات
المؤلف: عماد السيد محمد إسماعيل الشربينى
عدد الصفحات: 143
[الكتاب مرقم آلياً]
جمعه ورتبه وفهرسه الفقير إلى الله عبد الرحمن الشامي
ويسألكم الدعاء
مصدر الكتاب المعد للشاملة: ملتقى أهل الحديث
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الصحابة) এবং সংশয় (شبهات) নিরসন বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) আলোকে সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الصحابة) এবং সংশয় (شبهات) নিরসন
লেখক: ইমাদ আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইসমাইল আশ-শারবিনি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৩
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]
এটি সংগ্রহ, বিন্যাস এবং সূচিপত্র প্রণয়ন করেছেন আল্লাহর মুখাপেক্ষী আবদুর রহমান আশ-শামি
তিনি আপনাদের নিকট দুআ প্রার্থী
শামেলার জন্য প্রস্তুতকৃত গ্রন্থের উৎস: মুলতাকা আহলে হাদিস
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১)
هذا الكتابيتناول فيه المؤلف الرد علي الطاعنين في عدالة صحابة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، من أعداء الإسلام من المستشرقين، وأذيالهم ممن يسمون أنفسهم (القرآنيون) وذلك من خلال عدة قضايا أهمها مايلى:
- بيان أن الصحابة رضي الله عنهم هم حجر الزاوية فى بناء الأمة المسلمة، عنهم قبل غيرهم تلقت الأمة كتاب الله عز وجل، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فالغض من شأنهم والتحقير لهم، بل النظر إليهم بالعين المجردة من الإعتبار، لا يتفق والمركز السامى الذي تبوءوه، ولا يوائم المهمة لكبرى التى انتدبوا لها ونهضوا بها. كما أن الطعن فيهم والتجريح لهم، يقوض دعائم الشريعة، ويشكك فى صحة القرآن، ويضيع الثقة بسنة سيدالأنام صلى الله عليه وسلم! ؛ فضلَا عن أنه تجريح وقدح فيمن بوأهم تلك المكانة، وجعلهم خير أمة أخرجت للناس!!!
- بيان أن المنافقين الذين كشف الله ورسوله - سترهم، ووقف المسلمون على حقيقة أمرهم، والمرتدين الذين ارتدوا فى حياة النبى صلى الله عليه وسلم وبعد وفاته، ولم يتوبوا ويرجعوا إلى الإسلام، وماتوا على ردتهم، هم بمعزل من شرف الصحبة، وبالتالى بمعزل عن أن يكونوا من المرادين بقول جمهور العلماء والأئمة إنهم عدول، وفى تعريف العلماء للصحبة ما ينفى عنها هؤلاء؛ وأولئك.
- إن الآيات القرآنية، التى جاء فيها عتاب للصحابة أو لبعضهم لارتكابهم بعض المعاصى لخير دليل شاهد على أن المراد بعدالتهم جميعاً؛ عصمتهم من الكذب فى حديث سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وليس معنى عدالتهم عصمتهم من المعاصى أو من السهو أو الغلط، فهذا لم يقل به أحد من أهل العلم، وحتى مع ارتكاب بعضهم لبعض الذنوب، فقد امتن الله عز وجل عليهم بالتوبة والمغفرة لذنوبهم؛ وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء.
এই গ্রন্থটিএতে লেখক ইসলামের শত্রু প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারী যারা নিজেদের 'কুরআনি' বলে দাবি করে, তাদের পক্ষ থেকে আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-এর ওপর কৃত আপত্তির খণ্ডন করেছেন। এটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে:
- এটি স্পষ্ট করা যে, সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হলেন মুসলিম উম্মাহ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি। উম্মাহ অন্যদের চেয়ে অগ্রগণ্য হিসেবে তাঁদের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ লাভ করেছে। সুতরাং তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা ও অবজ্ঞা করা, এমনকি তাঁদের যথাযথ সম্মান ছাড়া সাধারণ নজরে দেখা—তাঁদের সেই সুউচ্চ অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় যা তাঁরা লাভ করেছেন এবং সেই মহান দায়িত্বের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ নয় যা পালনের জন্য তাঁরা আদিষ্ট হয়েছিলেন এবং যা তাঁরা সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। এছাড়া তাঁদের সমালোচনা করা এবং তাঁদের প্রতি দোষারোপ (تجريح) করা শরীয়তের ভিত্তিগুলোকে উপড়ে ফেলে, কুরআনের বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় তৈরি করে এবং সৃষ্টির সেরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতি নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) নষ্ট করে দেয়! তদুপরি, এটি তো আসলে তাঁরই সমালোচনা ও নিন্দা করার নামান্তর যিনি তাঁদের এই সুউচ্চ মর্যদায় অধিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁদেরকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন!!!
- এটি স্পষ্ট করা যে, মুনাফিকরা—যাদের পর্দা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল উন্মোচন করে দিয়েছেন এবং মুসলিমরা যাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়েছে—এবং মুরতাদরা—যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় বা তাঁর ইন্তেকালের পর ধর্মত্যাগ করেছিল এবং তওবা করে ইসলামে ফিরে না এসে কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে—তারা সাহচর্যের (صحبة) এই মহান মর্যাদা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ফলস্বরূপ, জমহুর আলিম ও ইমামগণ যখন বলেন যে "সাহাবীগণ ন্যায়পরায়ণ (عدول)", তখন এই শ্রেণির লোকেরা সেই বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। সাহাবীর সংজ্ঞায় আলিমগণ যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে ওই সকল মুনাফিক ও মুরতাদরা আপনাআপনিই বহিষ্কৃত।
- কুরআনের যে সকল আয়াতে কোনো কোনো গুনাহ করার কারণে সাহাবীগণ বা তাঁদের কারো প্রতি তিরস্কার এসেছে, তা-ই এই বিষয়ের বড় প্রমাণ যে, তাঁদের সকলের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের মিথ্যা থেকে সুরক্ষিত (عصمة) থাকা। তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-এর অর্থ এই নয় যে, তাঁরা গুনাহ, ভুল বা ত্রুটি থেকে মাসুম বা নিষ্পাপ (عصمة); আলিমদের মধ্যে কেউই এমনটি বলেননি। এমনকি তাঁদের কারো মাধ্যমে কোনো পাপ সংঘটিত হলেও আল্লাহ তাআলা তাঁদের তওবা করার তাওফিক দিয়েছেন এবং তাঁদের ক্ষমা করে ধন্য করেছেন; আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২)
- أن الصورة الحقيقية لسيدنا معاوية رضي الله عنه، تخالف الصورة الكاذبة التى يصورها الزنادقة من الرافضة؛ ومن تابعهم من أعداء الإسلام، والسنة المطهرة، تلك الصورة التى تنكر ما جاء فى السنة المطهرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعن الصحابة، والتابعين، من الشهادة له بالصحبة، والفقه، والملك العادل، وحسن السيرة، حتى شهد له من أدركه كمجاهد؛ والأعمش بأنه المهدى.
- ما اتهم به سيدنا أبو هريرة رضي الله عنه، من أكاذيب وافتراءات من قبل أرباب الأهواء قديماً وحديثاً، سندهم فيه إما روايات مكذوبة أو ضعيفة، وإما روايات صحيحة لم يفهموها على وجهها، بل تأولوها تأويلاً باطلاً يتفق وأهواءهم.
ونسأل الله عز وجل التوفيق والسداد
…
- আমাদের নেতা মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রকৃত চিত্র সেই মিথ্যা চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত, যা রাফেযি (رافضة) যিনদিক (زنادقة)গণ এবং ইসলাম ও পবিত্র সুন্নাহর শত্রুদের মধ্য থেকে তাদের অনুসারীরা চিত্রিত করে থাকে; এটি এমন এক চিত্র যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবী (صحابة) এবং তাবিঈ (تابعين)গণের পক্ষ থেকে পবিত্র সুন্নাহর বর্ণনায় তাঁর সাহচর্য, ফিকহ (فقه), ন্যায়পরায়ণ রাজত্ব এবং উত্তম জীবনচরিত্রের বিষয়ে প্রদত্ত সাক্ষ্যকে অস্বীকার করে; এমনকি মুজাহিদ ও আ'মাশ-এর মতো যারা তাঁকে পেয়েছেন, তারা তাঁকে হিদায়াতপ্রাপ্ত (مهدي) হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
- আমাদের নেতা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে প্রাচীন ও বর্তমানকালের প্রবৃত্তি পূজারীরা যেসব মিথ্যা ও অপবাদ আরোপ করেছে, সেক্ষেত্রে তাদের ভিত্তি হলো হয় বানোয়াট (مكذوبة) অথবা দুর্বল (ضعيفة) বর্ণনা (روايات), অথবা এমন সব বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনা যা তারা যথাযথভাবে বুঝতে সক্ষম হয়নি, বরং সেগুলোর এমন বাতিল ব্যাখ্যা প্রদান করেছে যা তাদের প্রবৃত্তির সাথে সংগতিপূর্ণ।
এবং আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি
…
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
عدالة الصحابة رضى الله عنهمفي ضوء القرآن الكريم والسنة النبوية
ودفع الشبهات
الدكتور
عماد السيد الشربيني
مدرس الحديث وعلومه
بجامعة الأزهر
1425 هـ - 2005 م
সাহাবীগণের (الصحابة) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
এবং সংশয় নিরসন
ডক্টর
ইমাদ আস-সাইয়্যিদ আশ-শারবিনী
হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) শিক্ষক
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
১৪২৫ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الله عز وجل
{مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ
ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ
وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ
لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} (1) .
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم
" إن الله اختار أصحابي على العالمين، سوى النبيين والمرسلين، واختار لي من أصحابي أربعة:
أبا بكر، وعمر، وعثمان، وعلياً رضي الله عنهم فجعلهم أصحابي
قال في أصحابي كلهم خير، وأختار أمتي على الأمم
وأختار من أمتي أربعة قرون
القرن الأول، والثاني، والثالث، والرابع " (2) .
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন:
{মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের চেহারায় সিজদার প্রভাবে বিশেষ চিহ্ন পরিস্ফুটিত।
তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এমনই।
আর ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা একে শক্তিশালী করে, পরে তা পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়, যা কৃষকদেরকে মুগ্ধ করে;
যাতে তিনি (আল্লাহ) তাদের দ্বারা কাফিরদের ক্রোধ প্রজ্বলিত করতে পারেন।
তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।} (১) ।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত বিশ্বজগতের ওপর আমার সাহাবীদের (أصحابي) মনোনীত করেছেন এবং আমার সাহাবীদের (أصحابي) মধ্য থেকে চারজনকে আমার জন্য নির্বাচিত করেছেন:
আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম; অতঃপর তিনি তাদেরকে আমার সাহাবী (أصحابي) বানিয়েছেন।
তিনি আমার সকল সাহাবী (أصحابي) সম্পর্কে বলেছেন যে তাঁরা সকলেই কল্যাণময়; এবং তিনি সকল উম্মতের ওপর আমার উম্মতকে মনোনীত করেছেন।
আর আমার উম্মতের মধ্য থেকে চারটি প্রজন্ম (قرون) মনোনীত করেছেন:
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্ম (القرن)।" (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديمالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام علي المبعوث رحمة للعالمين سيدنا محمد، وعلي آله، وصحبه البررة الأوفياء، أئمة الدين، وصفوة الخلق بعد الأنبياء والمرسلين، ورضي الله عمن تبع سنتهم، وسلك طريقتهم، واقتفى أثرهم، ونصرهم إلى يوم الدين.
ثم أما بعد
فإن الطعن فى عدالة رواة السنة النبوية من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، والتابعين فمن بعدهم إلى الأئمة أصحاب المصنفات الحديثية، من وسائل غلاة المبتدعة الرافضة، والخوارج، والمعتزلة، والزنادقة (1) - فى الطعن فى السنة النبوية.
وغرضهم من ذلك تحطيم الوسيلة التى وصلت السنة النبوية بها إلينا، وإذا تحطمت الوسيلة يصبح الأصل معتمداً على لا شئ فيصبح لا شئ.
وقديماً صرح بذلك أحد الزنادقة فيما رواه الخطيب البغدادي فى تاريخه عن أبى داود السجستانى قال: "لماء جاء الرشيد بشاكر - رأس الزنادقة ليضرب عنقه - قال: أخبرنى، لم تعلِّمون المتعلم منكم أول ما تعلمونه الرفض - أى الطعن فى الصحابة -؟ قال: إنا نريد الطعن على الناقلة، فإذا بطلت الناقلة؛ أوشك أن نبطل المنقول" (2) .
وبذلك صرح ذيل (شاكر) محمود أبو ريه فى كتابه أضواء على السنة قائلاً: "إن عدالة الصحابة تستلزم ولا ريب الثقة بما يروون، وما رووه قد حملته كتب الحديث بما فيه من غثاء، وهذا الغثاء هو مبعث الضرر وأصل الداء" (3) .
نعم: إن الصحابة رضي الله عنهم "هم حجر الزاوية فى بناء الأمة المسلمة، عنهم قبل غيرهم تلقت الأمة كتاب الله عز وجل، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فالغض من شأنهم والتحقير لهم، بل النظر إليهم بالعين المجردة من الإعتبار، لا يتفق والمركز السامى الذي تبوءوه، ولا يوائم المهمة الكبرى التى انتدبوا لها ونهضوا بها.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকাসকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সৎ ও অনুগত সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা দ্বীনের ইমাম এবং নবী ও রাসূলগণের পর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিবর্গ। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁদের ওপর যাঁরা তাঁদের সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন, তাঁদের পথে চলেছেন, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের সাহায্য করেছেন।
অতঃপর...
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ থেকে শুরু করে তাবিঈ এবং পরবর্তীতে হাদিস গ্রন্থসমূহের রচয়িতা ইমামগণ পর্যন্ত সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের (رواة) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা আক্রমণ করা ছিল চরমপন্থী বিদআতী (مبتدعة) রাফেজী, খারেজী, মুতাজিলা এবং যিন্দিকদের একটি মাধ্যম—যাতে তারা সুন্নাহর ওপর আক্রমণ চালাতে পারে।
তাদের উদ্দেশ্য হলো সেই মাধ্যমটিকে ধ্বংস করা যার মাধ্যমে সুন্নাহ আমাদের নিকট পৌঁছেছে। যদি মাধ্যমটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে মূল উৎসটি (সুন্নাহ) ভিত্তিহীন হয়ে পড়বে এবং পরিণামে তা অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে।
প্রাচীনকালেই জনৈক যিন্দিক এ কথাটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিল, যেমনটি খতীব বাগদাদী তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "যখন হারুনুর রশীদ যিন্দিকদের প্রধান শাকেরকে তার শিরশ্ছেদ করার জন্য নিয়ে এলেন, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: 'আমাকে বলো, তোমরা তোমাদের শিষ্যদের প্রথমেই কেন রাফয (الرفض) অর্থাৎ সাহাবীদের নিন্দা শিক্ষা দাও?' সে উত্তর দিল: 'আমরা মূলত বর্ণনাকারীদের (الناقلة) ওপর অপবাদ দিতে চাই; কারণ যখন বর্ণনাকারী বাতিল সাব্যস্ত হয়ে যায়, তখন যা বর্ণিত হয়েছে তাও বাতিল হওয়া অত্যাসন্ন হয়'।"
একইভাবে (শাকেরের) অনুসারী মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ তাঁর 'আদওয়া আলাস সুন্নাহ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলেছেন: "সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিঃসন্দেহে তাঁদের বর্ণিত হাদিসের প্রতি নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) দাবি করে। অথচ তাঁরা যা বর্ণনা করেছেন তা হাদিসের কিতাবসমূহে অসার বিষয়সহ সংগৃহীত হয়েছে; আর এই অসারতাই হলো ক্ষতির উৎস এবং মূল ব্যাধি।"
হ্যাঁ, সাহাবীগণ (রা.) হলেন "মুসলিম উম্মাহর বিনির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর। অন্য যে কারো পূর্বে উম্মাহ তাঁদের মাধ্যমেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ লাভ করেছে। সুতরাং তাঁদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা এবং তাঁদের তুচ্ছজ্ঞান করা, এমনকি তাঁদের প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বহীন দৃষ্টিতে তাকানো সেই সুউচ্চ অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় যা তাঁরা লাভ করেছেন এবং সেই মহান দায়িত্বের সাথেও খাপ খায় না যার জন্য তাঁরা নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং যা তাঁরা অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
كما أن الطعن فيهم، والتجريح لهم؛ يغال فى الباطل! ، وتهجم على الأكابر، وجرح لشعور المسلمين، وهو مرفوض بادئ ذى بدء، كما أنه يقوض دعائم الشريعة، ويشكك فى صحة القرآن، ويضيع الثقة بسنة سيد الأنام صلى الله عليه وسلم! ؛ فضلَا عن أنه تجريح وقدح، فيمن بوأهم تلك المكانة، وجعلهم خير أمة أخرجت للناس!!! . ولا يقبل عاقل مثل هذا القول!!.
لذلك عنى علماء الإسلام قديماً وحديثاً، بالدفاع عن عدالة الصحابة، لأنه - كما رأيت - دفاع عن الإسلام، ولم يكن ذلك الدفاع نزوة هوى، ولا عصبية؛ بل كان نتيجة لدراسات تحليلية وأبحاث تاريخية، وتحقيقات بارعة واسعة، عرضتهم على أدق موازين الرجال؛ مما تباهى به الأمة الإسلامية كافة الأمم والأجيال.
وبعد هذا التحقيق والتدقيق، خرج الصحابة رضي الله عنهم من بوتقة هذا البحث، وإذا هم خير أمة أخرجت للناس، وأسمى طائفة عرفها التاريخ، وأنبل أصحاب لنبي ظهر على وجه الأرض، وأوعى وأضبط جماعة لما استحفظوا عليه من كتاب الله عز وجل، وهدى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد اضطر أهل السنة والجماعة، أن يعلنوا رأيهم هذا كعقيدة، فقرروا أن الصحابة كلهم عدول. ولم يشذ عن هذا الرأى إلا المبتدعة والزنادقة قبحهم الله" (1) .
وطعون المبتدعة والزنادقة قديماً وحديثاً فى صحابة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم كثيرة.
وسوف أتناول هنا بمشيئة الله تعالى نماذج من تلك الطعون والشبهات؛ التي طعنوا بها في عدالة الصحابة، استعرضها وأفندها.
على أن أًفرد أيضاً ترجمة لراوية الإسلام الأول أبو هريرة رضي الله عنه لنتعرف على مكانته فى الإسلام.
وهذا
البحث يقع في ثمانية مباحث:المبحث الأول: التعريف بالصحابة لغة واصطلاحاً.
المبحث الثاني: التعريف بالعدالة لغة واصطلاحاً.
--------------------------------------------
তদ্রূপ তাঁদের প্রতি অভিযোগ তোলা এবং তাঁদের ওপর ত্রুটিারোপ (تجريح) করা মিথ্যাচারে চরম বাড়াবাড়ি করার নামান্তর! এটি মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি ধৃষ্টতা এবং মুসলিমদের অনুভূতিতে চরম আঘাত, যা শুরুতেই বর্জনীয়। তদুপরি এটি শরীয়তের ভিত্তিগুলোকে ধ্বংস করে, কুরআনের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করে এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ (সা.)-এর সুন্নাহর প্রতি আস্থা নষ্ট করে দেয়! পাশাপাশি এটি সেই সত্তার প্রতিও ত্রুটিারোপ (تجريح) ও দোষারোপ করার শামিল, যিনি তাঁদেরকে সেই উচ্চ আসনে আসীন করেছেন এবং মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মনোনীত করেছেন!!! কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এই ধরনের কথা গ্রহণ করতে পারে না!!
এই কারণেই প্রাচীন ও আধুনিককালের ইসলামের আলিমগণ সাহাবীদের (الصحابة) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) রক্ষার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ, আপনি যেমনটি দেখেছেন—এটি ইসলামেরই প্রতিরক্ষা। এই প্রতিরক্ষা কোনো খেয়াল-খুশি বা অন্ধ অনুকরণপ্রসূত ছিল না; বরং তা ছিল বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন, ঐতিহাসিক গবেষণা এবং সূক্ষ্ম ও ব্যাপক অনুসন্ধানের এক অনিবার্য ফলাফল। আলিমগণ তাঁদেরকে রাবী মূল্যায়নকারী অত্যন্ত সূক্ষ্ম মানদণ্ডের (موازين الرجال) আলোকে যাচাই করেছেন; যা নিয়ে মুসলিম উম্মাহ অন্যান্য সকল জাতি ও প্রজন্মের সামনে গর্ব বোধ করে।
এই সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের পর সাহাবীগণ (الصحابة) এই গবেষণার অগ্নিপরীক্ষায় সগৌরবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ জাতি, ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দল এবং পৃথিবীতে আবির্ভূত কোনো নবীর সর্বোত্তম সঙ্গী। তাঁরা আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিদায়াত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সচেতন ও অধিকতর সংরক্ষণকারী (أضبط) জামাত। এমতাবস্থায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এই বিষয়টিকে একটি আকিদাহ হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, সাহাবীগণ (الصحابة) সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)। বিদআতি (المبتدعة) ও যিনদিক (الزنادقة) ছাড়া আর কেউ এই মতের বিরুদ্ধাচরণ করেনি; আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত করুন। (১)
আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের (الصحابة) ব্যাপারে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের বিদআতি (المبتدعة) ও যিনদিকদের (الزنادقة) অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
আমি এখানে ইনশাআল্লাহ সেই সমস্ত অভিযোগ ও সংশয়ের কিছু নমুনা তুলে ধরব, যার মাধ্যমে তারা সাহাবীদের (الصحابة) ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে; আমি সেগুলো পর্যালোচনা করব এবং খণ্ডন করব।
পাশাপাশি আমি ইসলামের প্রথম মহান বর্ণনাকারী (راوية) আবু হুরায়রা (রা.)-এর একটি স্বতন্ত্র জীবনবৃত্তান্ত (ترجمة) উপস্থাপন করব, যাতে ইসলামে তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে আমরা সম্যক অবগত হতে পারি।
এই
গবেষণাটি আটটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে:প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সাহাবীদের (الصحابة) পরিচয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) পরিচয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الثالث: أدلة عدالة الصحابةرضي الله عنهم.
المبحث الرابع: شبهات حول عدالة الصحابة والرد عليها.
المبحث الخامس: سنة الصحابة رضي الله عنهم حجة شرعية.
المبحث السادس: من أراد معاوية رضي الله عنه فإنما أراد الصحابة جميعاً رضي الله عنهم.
المبحث السابع: شبهات حول راوية السنة الأول (أبو هريرةرضي الله عنه) والرد عليها.
المبحث الثامن: حكم الطاعن فى عدالة الصحابة رضي الله عنهم.
الخاتمة: في نتائج هذا البحث، وفهرس الموضوعات.
منهجي في البحث:1ـ استعرضت شبه ومطاعن أهل الزيغ والهوي، قديمَا وحديثَا، المتضمنة الطعن في عدالة
صحابة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقرنت ذلك بالرد الحاسم الذي يبين بطلان وزيف تلك
الشبه والمطاعن معتمدَا في ذلك علي القرآن الكريم، والسنة المطهرة، والسيرة العطرة،
وكلام أهل السنة قديمَا وحديثَا.
2 ـ بينت مواضع الآيات التي وردت في البحث بذكر اسم السورة، ورقم الآية في الهامش، مع
وضع الآية بين قوسين.
3 ـ عزوت الأحاديث التي أوردتها في البحث إلي مصادرها الأصلية، من كتب السنة المعتمدة
فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بالعزو إليهما، بذكر اسم الكتاب، واسم
الباب، وذكر الجزء والصفحة ورقم الحديث، وأقدم في التخريج من ذكرت لفظه، مع البيان
غالباً لدرجة الحديث، من خلال أقوال أهل العلم بالحديث، أو دراستي للسند، إن كان الحديث
في غير الصحيحين، وفيما عدا ذلك اقتصر على ما يفيد ثبوت الحديث أورده.
4 ـ اعتمدت في التخريج من الصحيحين على طبعتى البخارى "بشرح فتح البارى" لابن حجر،
والمنهاج "شرح صحيح مسلم" للنووي، لصحة متون الأحاديث في الشرحين، ولصحة
عرضهما على أصول الصحيحين، وتسهيلاً للقارئ لكثرة تداول تلك الشروح، وإتماماً
للفائدة بالإطلاع على فقه الحديث المخرَّج.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) সংক্রান্ত প্রমাণাদি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরামের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) বিষয়ে উত্থাপিত সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সুন্নাহ একটি শরয়ি দলিল (حجة)।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে লক্ষ্যবস্তু বানায়, সে মূলত সকল সাহাবায়ে কেরামকেই (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) লক্ষ্যবস্তু বানায়।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রধান বর্ণনাকারী (راوية) (আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) বিষয়ে অপবাদদানকারীর হুকুম।
উপসংহার: এই গবেষণার ফলাফল এবং বিষয়সূচি।
আমার গবেষণাপদ্ধতি:১- আমি প্রাচীন ও আধুনিক যুগের পথভ্রষ্ট ও প্রবৃত্তি পূজারীদের সংশয় ও অপবাদসমূহ পর্যালোচনা করেছি, যেগুলোর মধ্যে আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবায়ে কেরামের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) ক্ষুণ্ণ করার অপপ্রয়াস রয়েছে। কুরআনুল কারিম, পবিত্র সুন্নাহ, বরকতময় সীরাত এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আহলে সুন্নাতের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সেই সকল সংশয় ও অপবাদের অসারতা ও কৃত্রিমতা উন্মোচনে আমি জোরালো খণ্ডন উপস্থাপন করেছি।
২- গবেষণায় উল্লিখিত আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ করার ক্ষেত্রে ফুটনোটে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি এবং আয়াতটিকে ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি।
৩- গবেষণায় উদ্ধৃত হাদিসগুলোকে আমি সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য (معتمدة) মূল উৎসসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছি। যদি হাদিসটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এর যেকোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু সেই গ্রন্থদ্বয়ের প্রতি নির্দেশ করেই ক্ষান্ত হয়েছি; সেক্ষেত্রে কিতাবের নাম, অধ্যায়ের (باب) নাম, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি। হাদিস বিশ্লেষণের (تخريج) ক্ষেত্রে আমি যার শব্দ চয়ন করেছি তাকেই প্রথমে উল্লেখ করেছি। যদি হাদিসটি সহিহাইন-এর বাইরে হয়, তবে হাদিস বিশারদদের উক্তি অথবা আমার সনদ (سند) পর্যালোচনার আলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদিসের মান (درجة) স্পষ্ট করেছি। এর বাইরে হাদিসটি সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) সপক্ষে যা প্রয়োজনীয় তা বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
৪- সহিহাইন থেকে হাদিস বিশ্লেষণের (تخريج) ক্ষেত্রে আমি ইবনে হাজারের "ফাতহুল বারী" শারহসহ বুখারি এবং ইমাম নববীর "আল-মিনহাজ" শারহসহ সহিহ মুসলিম মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছি। এর কারণ হলো উভয় শারহ গ্রন্থে হাদিসের মূল পাঠের (متن) নির্ভুলতা এবং সহিহাইন-এর মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে সেগুলোর সুসংগত উপস্থাপন। এছাড়া পাঠকদের নিকট এই শারহগুলো অধিক প্রচলিত হওয়ায় তাদের সহজবোধ্যতা এবং বিশ্লেষণকৃত হাদিসের ফিকহ বা গভীর মর্মার্থ সম্পর্কে অবগত হয়ে পূর্ণ সুফল অর্জনের লক্ষ্যে আমি এটি করেছি।
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
5 ـ التزمت عند النقل من أي مرجع، أوالإستفادة منه الإشارة إلى رقم جزئه وصفحته
بالإضافة إلى ذكر طبعات المراجع في الفهرست.
6ـ عند النقل من فتح البارى، أو المنهاج شرح مسلم للنووي، أذكر رقم الجزء والصفحة
ورقم الحديث الوارد فيه الكلام المنقول، تيسيراً للوصول إلى الكلام المنقول، نظراً
لاختلاف رقم الصفحات تبعاً للطبعات المتعددة.
7ـ اكتفيت في تراجم الأعلام من الصحابة بذكر مصادر تراجمهم بذكر رقم الجزء والصفحة
ورقم الترجمة، ولم أترجم لهم لعدالتهم جميعا، ولم أخالف في ذلك إلا في القليل عندما
تقتضى الترجمة الدفاع عن شبهة.
8 ـ ترجمت لكثير من الأعلام الذين جرى نقل شئ من كلامهم، مع ذكر مصادر تراجمهم،
بذكر رقم الجزء والصفحة ورقم الترجمة.
9- شرحت المفردات الغريبة التي وردت في بعض الأحاديث مستعيناً في ذلك بكتب غريب
الحديث، ومعاجم اللغة، وشروح الحديث.
والله عز وجل أسال أن ينفع بما كتبت، وأن يتقبله خالصَا لوجهه الكريم.
والحمد لله رب العالمين
وصلى الله على سيدنا ومولانا
محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
الراجي عفو ربه الكريم
أبو نور الدين
د/ عماد السيد محمد الشربيني
مدرس الحديث وعلومه
بكلية أصول الدين
جامعة الأزهر
৫ — যেকোনো উৎস থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ বা তা থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে আমি তার খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করার নীতি অনুসরণ করেছি,
সেই সাথে নির্ঘণ্টে গ্রন্থগুলোর সংস্করণের বিবরণ প্রদান করেছি।
৬ — ফাতহুল বারী অথবা নববী রচিত আল-মিনহাজ শারহু মুসলিম থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের সময় আমি খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর
এবং উদ্ধৃত বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি, যাতে উদ্ধৃত পাঠটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়; কারণ
বিভিন্ন মুদ্রণের কারণে পৃষ্ঠা নম্বর ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
৭ — সাহাবিদের জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি কেবল তাঁদের জীবনীর উৎস হিসেবে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর
এবং জীবনী নম্বর উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি। তাঁদের সকলের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিশ্চিত হওয়ার কারণে আমি তাঁদের বিস্তারিত জীবনী আলোচনা করিনি। তবে খুব সামান্য ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম করেছি যখন
কোনো সংশয় নিরসনে জীবনী আলোচনা করার প্রয়োজন পড়েছে।
৮ — যাদের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে এমন অনেক ব্যক্তির জীবনী আমি প্রদান করেছি এবং সাথে তাঁদের জীবনীর উৎস হিসেবে
খণ্ড, পৃষ্ঠা ও জীবনী নম্বর উল্লেখ করেছি।
৯- হাদিসে ব্যবহৃত অপরিচিত শব্দগুলো (غريب) আমি 'গারিবুল হাদিস' (غريب الحديث)
বিষয়ক গ্রন্থাবলি, অভিধান ও হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থের সহায়তায় ব্যাখ্যা করেছি।
মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই লেখনী দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর।
সালাম ও দরুদ বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক
মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর।
মহান রবের ক্ষমার প্রত্যাশী
আবু নূরুদ্দিন
ড. ইমাদ আস-সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আশ-শারবিনী
হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক
উসুলুদ দিন অনুষদ
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: التعريف بالصحابة لغةً واصطلاحاً…
الصحابة فى اللغة: يقال صحب أى دعاه إلى الصحبة ولازمه، وكل شئ لازم شيئاً فقد استصحبه (1) .
… وقال أبو بكر الباقلانى (2) : "لا خلاف بين أهل اللغة فى أن القول "صحابى" مشتق من الصحبة، وأنه ليس بمشتق من قدر منها مخصوص، بل هو جار على كل من صحب غيره قليلاً كان أو كثيراً
… يقال صحبت فلاناً حولاً، ودهراً، وسنة، وشهراً، ويوماً، وساعة، فيوقع اسم المصاحبة بقليل ما يقع منها وكثيرة.
وذلك يوجب فى حكم اللغة: إجراء هذا على من صحب سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أى قدر من الوقت. (3) .
… وقال الإمام ابن تيمية (4)
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীদের আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয়…
আভিধানিক অর্থে সাহাবী: বলা হয় 'সাহাবা' (صحب) অর্থাৎ তাকে সাহচর্যের জন্য আহ্বান করল এবং তার সাথে লেগে থাকল। আর প্রতিটি বস্তু যা অন্য বস্তুর সাথে লেগে থাকে, তাকে তার সহগামী (استصحبه) বলা হয় (১)।
… আবু বকর আল-বাকিলানি (২) বলেন: "ভাষাবিদদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, 'সাহাবী' শব্দটি 'সাহচর্য' (صحبة) থেকে উদ্ভূত। এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং এটি প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যে অন্যের সাহচর্য লাভ করেছে, তা অল্প হোক বা বেশি
… বলা হয়, আমি অমুক ব্যক্তির সাথে এক বছর, এক যুগ, এক বছর, এক মাস, একদিন বা এক মুহূর্ত সাহচর্য দান করেছি। সুতরাং সাহচর্যের নাম অল্প বা অধিক—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়।"
আর ভাষাগত বিধানে এটি আবশ্যক করে যে, যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছেন—তা যে কোনো সময়ের জন্যই হোক না কেন—তাদের সবার ওপর এটি প্রযোজ্য হবে (৩)।
… এবং ইমাম ইবনে তাইমিয়া (৪) বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
: "والأصحاب جمع صاحب، والصاحب اسم فاعل من صحبه يصحبه، وذلك يقع على قليل الصحبه وكثيرها" (1) . وعلى هذا التعريف اللغوى جرى أصحاب الحديث فى تعريفهم بالصحابى اصطلاحاً: فذهبوا إلى إطلاق (الصحابى) على كل من صحب سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولو ساعة واحدة فما فوقها.
الصحابة فى الاصطلاح:قال الإمام بدر الدين الزركشى (2) : "ذهب الأكثرون إلى أن الصحابى من اجتمع - مؤمناً - بسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وصحبه ولو ساعة، روى عنه أو لا، لأن اللغة تقتضى ذلك، وإن كان العرف يقتضى طول الصحبة وكثرتها
… وهو ما ذهب إليه جمهور الأصوليين، أما عند أصحاب الحديث فيتوسعون فى تعريفهم لشرف منزلة النبى صلى الله عليه وسلم (3) .
… يقول الإمام ابن حزم (4)
--------------------------------------------
: "আসহাব (الأصحاب) হলো সাহিব (صاحب)-এর বহুবচন। সাহিব শব্দটি ‘সাহাবাহু ইয়াসহাবূহু’ (সহচর্য দেয়া) ক্রিয়ামূল থেকে নির্গত ইসমে ফায়িল (اسم فاعل), যা অল্প বা দীর্ঘ উভয় প্রকার সহচর্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়" (১)। এই ভাষাতাত্ত্বিক সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করেই হাদিস বিশারদগণ সাহাবি (الصحابى)-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন। তাঁদের মতে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচর্য লাভ করেছেন, চাই তা এক মুহূর্তের জন্য হোক বা তার বেশি, তাকেই সাহাবি (الصحابى) বলা হয়।
পরিভাষায় সাহাবি (الصحابة):ইমাম বদরুদ্দিন আল-যারকাশী (২) বলেন: "অধিকাংশের মত হলো, সাহাবি (الصحابى) তিনি যিনি ঈমান থাকা অবস্থায় আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর সহচর্য লাভ করেছেন—চাই তা এক মুহূর্তের জন্য হোক না কেন, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা (روى) করুন বা না করুন। কারণ ভাষার দাবি এটাই, যদিও প্রচলনগতভাবে দীর্ঘকাল সহচর্য থাকাকে বুঝায়
… আর এটিই অধিকাংশ মূলনীতিবিদ (الأصوليين)-এর অভিমত। তবে হাদিস বিশারদগণের ক্ষেত্রে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে তাঁরা এই সংজ্ঞার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছেন (৩)।
… ইমাম ইবনে হাজম (৪) বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
: " فأما الصحابة رضي الله عنهم فهم كل من جالس النبى صلى الله عليه وسلم ولو ساعة، وسمع منه ولو كلمة فما فوقها، أو شاهد منه عليه السلام أمراً يعيه " (1) .
والتعريفات التى وضعها العلماء للصحابة (اصطلاحاً) كثيرة، ولكن التعريف الصحيح المعتمد هو ما قرره الحافظ ابن حجر (2) بقوله: "وأصح ما وقفت عليه من ذلك أن الصحابى هو من لقى النبى صلى الله عليه وسلم مؤمناً به، ومات على الإسلام، ولو تخللت ردة على الأصح.
ثم شرح التعريف فقال: "فيدخل فيمن لقيه" من طالت مجالسته له، أو قصرت، ومن روى عنه أو لم يرو ومن غزا معه أو لم يغز، ومن رآه رؤية، ولو لم يجالسه، ومن لم يره لعارض كالعمى.
ومن هنا كان التعبير بالًّلقِىِّ أولى من قول بعضهم: "الصحابى من رأى النبى صلى الله عليه وسلم " لأنه يخرج حينئذ ابن أم مكتوم ونحوه من العميان وهم صحابة بلا تردد.
ويخرج "بقيد الإيمان" من لقيه كافراً ولو أسلم بعد ذلك إذا لم يجتمع به مرة أخرى.
وقولنا"به"يخرج من لقيه مؤمناً بغيره كمن لقيه مؤمناً من مؤمنى أهل الكتاب قبل البعثة.
ويدخل فى قولنا "مؤمناً به" كل مكلف من الجن والإنس
…0
--------------------------------------------
: " আর সাহাবী (الصحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রসঙ্গে বলা যায়, তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বসেছেন চাই তা এক মুহূর্তের জন্য হলেও, এবং তাঁর থেকে একটি শব্দ বা তার চেয়ে বেশি শুনেছেন, অথবা তাঁর (আলাইহিস সালাম) থেকে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেছেন যা তিনি উপলব্ধি করেছেন " (১) ।
সাহাবীদের পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞায় আলেমগণ বহু সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তবে হাফেজ ইবনে হাজার (২) কর্তৃক নির্ধারিত নির্ভরযোগ্য (المعتمد) সংজ্ঞাটিই হলো যা তিনি উল্লেখ করেছেন: "এ বিষয়ে আমি যে সকল সংজ্ঞার সন্ধান পেয়েছি তার মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) হলো— সাহাবী (الصحابي) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মুমিন অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী মাঝখানে ধর্মত্যাগ (ردة) ঘটে থাকে।
এরপর তিনি সংজ্ঞাটির ব্যাখ্যা করে বলেন: "সাক্ষাৎ করার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হবেন" সেই ব্যক্তি যার সান্নিধ্য দীর্ঘ ছিল কিংবা সংক্ষিপ্ত, যিনি তাঁর থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন অথবা করেননি, যিনি তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন অথবা করেননি, এবং যিনি তাঁকে কেবল এক পলক দেখেছেন অথচ তাঁর সাথে বসার সুযোগ পাননি, এমনকি অন্ধত্বের ন্যায় কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে যিনি তাঁকে দেখতে পাননি তিনিও এর অন্তর্ভুক্ত।
এই কারণেই 'সাক্ষাৎ' (اللقي) শব্দটি ব্যবহার করা কারো কারো বলা "সাহাবী হলেন তিনি যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন" বাক্যের চেয়ে অধিক উত্তম। কারণ দ্বিতীয় সংজ্ঞাটি গ্রহণ করলে ইবনে উম্মে মাকতূম এবং তাঁর মতো অন্ধ ব্যক্তিগণ বাদ পড়ে যান, অথচ তারা নিঃসন্দেহে সাহাবী।
আর "ঈমানের শর্ত" দ্বারা সেই ব্যক্তি বহির্ভূত হয়ে যায় যে কাফের অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছে, যদিও সে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে থাকে—যদি না সে পুনরায় তাঁর সাথে মিলিত হয়।
এবং আমাদের বলা "তাঁর প্রতি" অংশটি দ্বারা সেই ব্যক্তি বাদ পড়ে যায় যে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার সময় অন্য কারো প্রতি ঈমানদার ছিল; যেমন নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে মুমিন অবস্থায় যারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
আর আমাদের বলা "তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারী" বাক্যের অধীনে জিন ও ইনসানের মধ্য থেকে সকল দায়বদ্ধ (মুকাল্লাফ) ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হবে
…০
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وخرج بقولنا "ومات على الإسلام" من لقيه مؤمناً به ثم ارتد ومات على ردته والعياذ بالله - كعبيد الله بن جحش، وابن خطل، ويدخل فيه من ارتد وعاد إلى الإسلام قبل أن يموت سواء اجتمع به صلى الله عليه وسلم مرة أخرى أم لا، كالأشعث بن قيس فإنه كان ممن ارتد ثم أسلم فى حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، لكنه لم يلقه. وأتى به إلى أبى بكر الصديق أسيرا ً، فعاد إلى الإسلام فقبل منه، وزوجه أخته، ولم يتخلف أحد عن ذكره فى الصحابة، ولا عن تخريج أحاديثه فى المسانيد وغيرها.
… وهذا هو الصحيح المعتمد، ووراء ذلك أقوال شاذة أخرى كقول من قال لا يعد صحابياً إلا من وصف بأحد أوصاف أربعة:
من طالت مجالسته، أو حفظت روايته، أو ضبط أنه غزا معه، أو استشهد بين يديه، وكذا من اشترط فى صحة الصحبة بلوغ الحلم، أو المجالسة ولو قصرت" (1) .
قال الحافظ السيوطى (2) مؤيداً الحافظ ابن حجر- رحمهما الله تعالى-:
"وهو المعتبر " (3) .
--------------------------------------------
আমাদের বক্তব্য "এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন" এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তিরা বাদ পড়েছেন যারা মুমিন অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে ধর্মত্যাগী হয়েছেন এবং ধর্মত্যাগী অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেছেন - আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন - যেমন উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ এবং ইবনে খাতাল। এর অন্তর্ভুক্ত হবেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা ধর্মত্যাগী হওয়ার পর পুনরায় ইসলামে ফিরে এসেছেন এবং মৃত্যুর পূর্বে ইসলামেই অটল ছিলেন, চাই তাঁর (সা.) সাথে দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎ হোক বা না হোক, যেমন আশ'আস ইবনে কাইস। কেননা তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ধর্মত্যাগী হওয়ার পর পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু পুনরায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তাকে বন্দী অবস্থায় আবু বকর সিদ্দিকের নিকট আনা হয়েছিল, তখন তিনি ইসলামের দিকে ফিরে আসেন এবং তা গ্রহণ করা হয়। আবু বকর তার সাথে নিজের বোনের বিবাহ দেন। সাহাবীদের বর্ণনায় তাকে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে এবং মুসনাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে তার হাদিসসমূহ সংকলন করার ক্ষেত্রে কেউ দ্বিমত করেননি।
… আর এটিই হলো সহিহ (صحيح) ও নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত। এর বাইরে আরও কিছু বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত রয়েছে, যেমন কারো মতে ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে সাহাবী গণ্য করা যাবে না যতক্ষণ না সে চারটি গুণের কোনো একটির অধিকারী হবে:
যাঁর সাহচর্য দীর্ঘ হয়েছে, অথবা যাঁর বর্ণনা সংরক্ষিত আছে, অথবা যিনি তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, অথবা যিনি তাঁর সামনে শাহাদাত বরণ করেছেন। অনুরূপভাবে কেউ কেউ সাহাবী হওয়ার শর্ত হিসেবে বালেগ হওয়া বা দীর্ঘ সাহচর্য থাকার শর্তারোপ করেছেন (১)।
হাফেজ (حافظ) সুয়ূতী (২) হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর মতকে সমর্থন করে বলেন:
"এটিই হলো গ্রহণযোগ্য (معتبر) মত" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وذهب إليه الجمهور من الأصوليين، منهم الآمدى فى الإحكام (1) ، وابن عبد الشكور فى فواتح الرحموت بشرح مسلم الثبوت (2) ، والزركشى فى البحر المحيط (3) ، والشوكانى فى إرشاد الفحول (4) وغيرهم.
ويقول الحافظ السخاوى (5) مؤيداً رأى شيخه ابن حجر "والعمل عليه عند المحدثين والأصوليين" (6) .
--------------------------------------------
উসূল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) অংশ এই মত পোষণ করেছেন; যাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে আল-আমিদী (১), 'মুসলিমুস সুবুত'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাওয়াতীহুর রাহমুত'-এ ইবনু আব্দুশ শাকুর (২), 'আল-বাহরুল মুহিত' গ্রন্থে আল-যারকাশী (৩), 'ইরশাদুল ফুহুল' গ্রন্থে আল-শাওকানী (৪) এবং আরও অনেকে।
হাফেজ আল-সাখাভী (৫) তার উস্তাদ ইবনু হাজার-এর মতকে সমর্থন করে বলেন, "হাদিস বিশারদ (المحدثين) এবং উসূল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) নিকট এর উপরেই আমল (العمل عليه) চলমান" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
السر فى التعميم فى تعريف الصحابى:… التعميم فى تعريف الصحابى نظراً إلى أصل فضل الصحبة، ولشرف منزلة النبى صلى الله عليه وسلم، ولأن لرؤية نور النبوة قوة سريان فى قلب المؤمن، فتظهر آثارها على جوارح الرائى فى الطاعة والاستقامة مدى الحياة، ببركته صلى الله عليه وسلم ويشهد لهذا قوله صلى الله عليه وسلم: " طوبى لمن رآنى وآمن بى، وطوبى لمن رأى من رآنى، ولمن رأى من رأى من رآنى وآمن بى " (1) .
وفى ذلك يقول الإمام السبكى (2) : "والصحابى هو كل من رأى النبى صلى الله عليه وسلم مسلماً، وقيل: من طالت مجالسته، والصحيح الأول، وذلك لشرف الصحبة، وعظم رؤية النبى صلى الله عليه وسلم، وذلك أن رؤية الصالحين لها أثر عظيم، فكيف رؤية سيد الصالحين؟! فإذا رآه مسلم ولو لحظة، انطبع قلبه على الاستقامة، لأنه بإسلامه متهيئ للقبول، فإذا قابل ذلك النور العظيم، أشرق عليه وظهر أثره فى قلبه وعلى جوارحه" (3) .
--------------------------------------------
সাহাবীর (الصحابي) সংজ্ঞায় ব্যাপকতা অবলম্বনের রহস্য:… সাহাবীর (الصحابي) সংজ্ঞায় ব্যাপকতা অবলম্বন করা হয়েছে সাহচর্যের মূল ফজিলত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুউচ্চ মর্যাদার প্রতি লক্ষ রেখে। কারণ নবুয়তের নূরের দর্শনের এক শক্তিশালী প্রভাব মুমিনের অন্তরে সঞ্চারিত হয়, ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরকতে তাঁর সেই আনুগত্য ও ইস্তিকামতের (অবিচলতা) আছর বা প্রভাব সারাজীবন সেই ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রকাশ পায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী এর সাক্ষ্য দেয়: "সুসংবাদ তাঁর জন্য যিনি আমাকে দেখেছেন এবং আমার ওপর ঈমান এনেছেন, আর সুসংবাদ তাঁর জন্য যিনি তাঁকে দেখেছেন যিনি আমাকে দেখেছেন, আর সুসংবাদ তাঁর জন্য যিনি তাঁকে দেখেছেন যিনি সেই ব্যক্তিকে দেখেছেন যিনি আমাকে দেখেছেন এবং আমার ওপর ঈমান এনেছেন।" (১)।
এ প্রসঙ্গে ইমাম সুবকী (২) বলেন: "সাহাবী (الصحابي) হলেন তিনি, যিনি মুসলিম অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন। কেউ কেউ বলেন: যাঁর সাহচর্য দীর্ঘকাল স্থায়ী ছিল। তবে প্রথম মতটিই সঠিক (الصحيح)। আর তা হলো সাহচর্যের মর্যাদা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখার মাহাত্ম্যের কারণে। কেননা নেককারদের দেখারই এক বিশাল প্রভাব রয়েছে, তাহলে নেককারদের সর্দারের দেখার প্রভাব কেমন হবে?! সুতরাং যখন কোনো মুসলিম তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও দেখেন, তাঁর অন্তর ইস্তিকামতের (অবিচলতা) ওপর অঙ্কিত হয়ে যায়। কারণ তিনি তাঁর ইসলামের কারণে সেই প্রভাব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকেন। ফলে যখন তিনি সেই মহান নূরের সম্মুখীন হন, তখন তা তাঁর ওপর আলোকপাত করে এবং তাঁর অন্তরে ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এর প্রভাব প্রকাশ পায়।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يقول الأستاذ عبد الفتاح أبو غدة رحمه الله: "فالتعميم فى تعريف (الصحابى) نظراً إلى أصل فضل الصحبة، وأما تفاوت من يشملهم هذا اللقب فى الفضل والدين وسائر خصال الخير
… فهذا أمر وراء ذلك" (1) أ. هـ.
طريق معرفة الصحبة:… تثبت الصحبة بأمور متعددة منها:
التواتر كأبى بكر الصديق المعنى بقوله تعالى: {إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} (2) وسائر العشرة المبشرين بالجنة وغيرهم.
أو باشتهار قاصر عن التواتر؛ وهو الاستفاضة، كعكاشة بن محصن، وضمام بن ثعلبة
وغيرهما.
أو بقول صاحب آخر معلوم الصحبة، إما بتصريح بها كأن يجئ عنه أن فلاناً له صحبة
مثلاً أو نحوه، كقوله: كنت أنا وفلان عند النبى صلى الله عليه وسلم، أو دخلنا على النبى صلى الله عليه وسلم.
بشرط أن يعرف إسلام المذكور فى تلك الحالة.
4- وكذا تعرف بقول آحاد ثقات التابعين؛ على الراجح من قبول التزكية من عدل واحد" (3) .
انتهى.
--------------------------------------------
উস্তাদ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সাহাবীর (الصحابي) সংজ্ঞায় সাধারণীকরণ করা হয়েছে সাহচর্যের মূল মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে। আর যারা এই উপাধির অন্তর্ভুক্ত, তাদের মধ্যে মর্যাদা, দ্বীনদারি এবং অন্যান্য চারিত্রিক উৎকর্ষের ক্ষেত্রে যে পার্থক্য বিদ্যমান... তা এর বাইরের বিষয়।" (১) সমাপ্ত।
সাহচর্য নির্ণয়ের মাধ্যম:… সাহচর্য বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
মুতাওয়াতির (التواتر) বর্ণনা, যেমন আবু বকর আস-সিদ্দিক, যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যখন তিনি তাঁর সাথীকে বলছিলেন: চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন} (২) এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত অন্য দশজন এবং অন্যান্য সাহাবীগণ।
অথবা মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ের নিচের প্রসিদ্ধির মাধ্যমে; আর তা হলো ইস্তিফাদাহ (الاستفاضة), যেমন উক্কাহশাহ ইবনে মিহসান, দ্বিমাম ইবনে সা'লাবা এবং অন্যান্যরা।
অথবা যার সাহচর্য নিশ্চিত এমন অন্য একজন সাহাবীর (صاحب) বক্তব্যের মাধ্যমে। তা হতে পারে সরাসরি বর্ণনার মাধ্যমে, যেমন তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত হওয়া যে, অমুক ব্যক্তি সাহচর্য (صحبة) লাভ করেছেন অথবা এই জাতীয় কোনো বক্তব্য, যেমন তাঁর কথা: "আমি এবং অমুক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম" অথবা "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম।"
তবে শর্ত হলো সেই অবস্থায় উল্লিখিত ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।
4- একইভাবে নির্ভরযোগ্য (ثقات) তাবিঈদের এককের সংবাদের (آحاد) মাধ্যমেও তা জানা যায়; একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির পক্ষ থেকে চারিত্রিক সত্যায়ন (التزكية) গ্রহণযোগ্য হওয়ার অগ্রগণ্য মত (الراجح) অনুযায়ী।" (৩)।
সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثانى: التعريف بالعدالة لغة واصطلاحاً… العدالة لغة: العدل ضد الجور، يقال عدل عليه فى القضية فهو عادل، وبسط الوالى عدله ومَعْدِلَتَه - بكسر الدال وفتحها -، وفلان من أهل المَعْدَلَة - بفتح الدال -، أى: من أهل العدل، ورجل عدل، أى: رضا ومقنع فى الشهادة.
والعدالة: وصف بالمصدر معناه ذو عدل، قال تعالى: {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ} (1) ويقال: رجل عدل ورجلان عدل، ورجال عدل، وامرأة عدل، ونسوة عدل، كل ذلك على معنى رجال ذوو عدل، ونسوة ذوات عدل، فهو لا يثنى، ولا يجمع، ولا يؤنث، فإن رأيته مجموعاً، أو مثنى أو مؤنثاً، فعلى أنه قد أجرى مجرى الوصف الذى ليس بمصدر، وتعديل الشئ تقويمه، يقال عدلته فاعتدل، أى قومته فاستقام (2) أ. هـ
فمن هذه التعاريف اللغوية يتبين أن معنى العدالة فى اللغة الاستقامة، والعدل هو المتوسط فى الأمور من غير إفراط فى طرفى الزيادة والنقصان، ومنه قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} (3) أى عدلاً فالوسط والعدل بمعنى واحد (4) .
والعدالة اصطلاحاً: تنوعت فيها عبارات العلماء من محدثين وأصوليين وفقهاء، إلا أنها ترجع إلى معنى واحد وهو أنها: ملكة أى صفة راسخة فى النفس تحمل صاحبها على ملازمة التقوى والمروءة.
… والتقوى ضابطها: امتثال المأمورات، واجتناب المنهيات من الكبائر ظاهراً، وباطناً من شرك أو فسق أو بدعة.
… والمروءة ضابطها: آداب نفسية تحمل صاحبها على التحلى بالفضائل، والتخلى عن الرذائل، وترجع معرفتها إلى العرف.
وليس المراد بالعرف هنا سيرة مطلق الناس بل الذين نقتدى بهم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-এর পরিচয়… আভিধানিক অর্থে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة): 'আদল' হলো অবিচারের বিপরীত। বলা হয়ে থাকে, সে বিচারকার্যে ইনসাফ করেছে, তাই সে ন্যায়পরায়ণ (عادل)। শাসক তার ন্যায়বিচার ও ইনসাফ (معدلة) —দাল বর্ণে কাসরা বা ফাতহা উভয়যোগে— বিস্তার করেছেন। অমুক ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণদের (معدلة) —দাল বর্ণে ফাতহা যোগে— অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ সে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আর 'রজুলুন আদল' (ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি) অর্থ হলো, সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সে সন্তোষজনক ও গ্রহণযোগ্য।
আর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) হলো মূল ধাতু (মাসদার) ব্যবহারের মাধ্যমে গুণ বর্ণনা করা, যার অর্থ ন্যায়বিচারের অধিকারী। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো।" (১) বলা হয়ে থাকে: একজন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ, দুইজন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ, একাধিক ন্যায়পরায়ণ পুরুষ, একজন ন্যায়পরায়ণ নারী এবং একাধিক ন্যায়পরায়ণ নারী। এই সবগুলোরই অর্থ হলো: ন্যায়বিচারের অধিকারী পুরুষগণ বা নারীগণ। তাই এই শব্দটি দ্বিবচন, বহুবচন বা স্ত্রীবাচক হয় না। তবে যদি আপনি একে বহুবচন, দ্বিবচন বা স্ত্রীবাচক রূপে দেখেন, তবে বুঝতে হবে এটি এমন একটি গুণবাচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা মূল ধাতু বা মাসদার নয়। আর কোনো কিছুকে 'তাদীল' (تعديل) করা মানে তাকে সোজা বা সঠিক করা। বলা হয়— 'আমি তাকে সোজা করেছি ফলে সে সোজা হয়েছে', অর্থাৎ আমি তাকে ঠিক করেছি ফলে সে সুসংহত হয়েছে। (২)
এই আভিধানিক সংজ্ঞাগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অভিধানে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-এর অর্থ হলো অবিচলতা (استقامة)। আর 'আদল' (عدل) হলো বিষয়াবলির ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা, যেখানে কোনো দিকেই বাড়াবাড়ি বা কমতি থাকবে না। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسط) উম্মত হিসেবে গড়ে তুলেছি" (৩), অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণ। সুতরাং মধ্যপন্থা (وسط) এবং ন্যায়পরায়ণতা (عدل) একই অর্থবোধক। (৪)
পারিভাষিক অর্থে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة): এই বিষয়ে হাদিস বিশারদ, উসুলবিদ এবং ফকিহগণের সংজ্ঞায় ভিন্নতা থাকলেও, সেগুলো মূলত একটি অর্থের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। আর তা হলো: এটি একটি চারিত্রিক দৃঢ়তা (ملكة) বা অন্তরে প্রোথিত এমন এক স্থায়ী বৈশিষ্ট্য, যা ব্যক্তিকে তাকওয়া (تقوى) এবং মুরুওয়াত (مروءة) আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে।
… তাকওয়া (تقوى)-এর মানদণ্ড হলো: নির্দেশাবলি পালন করা এবং প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে শিরক, পাপাচার (فسق) বা বিদআত (بدعة) এর মতো কবিরা গুনাহসমূহ বর্জন করা।
… মুরুওয়াত (مروءة)-এর মানদণ্ড হলো: এমন এক আত্মিক শিষ্টাচার যা ব্যক্তিকে উত্তম গুণাবলি অর্জনে এবং মন্দ বিষয় বর্জনে উৎসাহিত করে। আর এটি নির্ধারণের ভিত্তি হলো সামাজিক প্রথা (عرف)।
এখানে প্রথা (عرف) বলতে সাধারণ মানুষের চালচলন উদ্দেশ্য নয়, বরং সেই সব ব্যক্তিদের আদর্শ উদ্দেশ্য যাদেরকে আমরা অনুসরণ করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
.. ولا تتحقق العدالة فى الراوى إلا إذا اتصف بصفات خمسة: الإسلام، والبلوغ والعقل، والسلامة من أسباب الفسق، وخوارم المروءة (1) .
و
ليس المقصود من العدل أن يكون بريئاً من كل ذنب، وإنما المراد أن يكون الغالب عليه التدين، والتحرى فى فعل الطاعات.
وفى ذلك يقول الإمام الشافعى: " لو كان العدل من لا ذنب له لم نجد عدلاً، ولو كان كل مذنب عدلاً لم نجد مجروحاً، ولكن العدل من اجتنب الكبائر؛ وكانت محاسنه أكثر من مساويه " (2) .
ويعبر أبو يوسف عن هذا الإتجاه حين يقول: "من سلم أن تكون منه كبيرة من الكبائر التى أوعد الله تعالى عليها النار، وكانت محاسنه أكثر من مساوئه فهو عدل " (3) .
ونخلص مما سبق فيما يخص بتعريف الصحابة رضي الله عنهم أن المنافقين الذين كشف الله ورسوله - سترهم، ووقف المسلمون على حقيقة أمرهم، والمرتدين الذين ارتدوا فى حياة النبى وبعد وفاته، ولم يتوبوا ويرجعوا إلى الإسلام، وماتوا على ردتهم، هم بمعزل من شرف هذه الصحبة، وبالتالى بمعزل عن أن يكونوا من المرادين بقول جمهور العلماء والأئمة إنهم عدول، وفى تعريف العلماء للصحبة ما ينفى عنها؛ هؤلاء وأولئك.
و
معنى عدالة الصحابة: " أنهم لا يتعمدون الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، لما اتصفوا به من قوة الإيمان، والتزام التقوى، والمروءة، وسمو الأخلاق والترفع عن سفاسف الأمور.
و
ليس معنى عدالتهم أنهم معصومون من المعاصى أو من السهو أو الغلط فإن ذلك لم يقل به أحد من أهل العلم.
--------------------------------------------
.. একজন বর্ণনাকারীর মাঝে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জিত হয় না যতক্ষণ না তিনি পাঁচটি গুণে গুণান্বিত হন: ইসলাম, বয়ঃপ্রাপ্তি, বিবেকবান হওয়া, পাপাচারের (فسق) কারণসমূহ থেকে মুক্ত থাকা এবং ব্যক্তিত্ব বিনষ্টকারী বিষয় (خوارم المروءة) থেকে বেঁচে থাকা (১) ।
এবং
ন্যায়পরায়ণ (عدل) হওয়ার উদ্দেশ্য এটি নয় যে তিনি সকল গুনাহ থেকে মুক্ত হবেন, বরং এর অর্থ হলো তার মাঝে দ্বীনদারির প্রাধান্য থাকা এবং ইবাদত পালনে সচেষ্ট হওয়া।
এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেয়ী বলেন: "যদি ন্যায়পরায়ণ (عدل) ওই ব্যক্তিকে বলা হতো যার কোনো গুনাহ নেই, তবে আমরা কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি খুঁজে পেতাম না। আবার যদি প্রত্যেক গুনাহগার ব্যক্তিই ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতো, তবে আমরা কোনো ত্রুটিপূর্ণ (مجروح) বর্ণনাকারী খুঁজে পেতাম না। বরং ন্যায়পরায়ণ (عدل) হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি কবিরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকেন এবং যার সৎকর্ম তার মন্দ কর্মের তুলনায় অধিক হয়" (২) ।
আবু ইউসুফ এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করে বলেন: "যিনি এমন কোনো কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকেন যার জন্য আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এবং যার সৎকর্ম তার মন্দ কর্মের তুলনায় অধিক হয়, তিনি হলেন ন্যায়পরায়ণ (عدل)" (৩) ।
সাহাবিদের (রা.) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আমরা পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, সেই সকল মুনাফিক—যাদের প্রকৃত রূপ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল উন্মোচন করে দিয়েছেন এবং মুসলমানরা যাদের স্বরূপ জানতে পেরেছেন—এবং সেই সকল ধর্মত্যাগী যারা নবীজির জীবদ্দশায় অথবা তাঁর ইন্তেকালের পর ইসলাম ত্যাগ করেছিল এবং তওবা করে ইসলামে ফিরে না এসে মুরতাদ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল, তারা সাহাবি হওয়ার এই মহান মর্যাদা থেকে অনেক দূরে। ফলস্বরূপ, জমহুর (অধিকাংশ) আলেম ও ইমামগণের সেই বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই যে "সাহাবিরা সকলে ন্যায়পরায়ণ (عدول)"; আর আলেমগণ সাহচর্যের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তা এই উভয় শ্রেণিকেই সাহাবি হওয়া থেকে বাদ দেয়।
এবং
সাহাবিগণের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) অর্থ হলো: "তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ইচ্ছাকৃত মিথ্যারোপ করতেন না। কারণ তারা ঈমানের দৃঢ়তা, তাকওয়ার অনুসরণ, ব্যক্তিত্ব, উন্নত নৈতিকতা এবং তুচ্ছ বিষয়াদি থেকে ঊর্ধ্বে থাকার গুণে গুণান্বিত ছিলেন।"
এবং
তাদের ন্যায়পরায়ণ (عدالة) হওয়ার অর্থ এটি নয় যে তারা গুনাহ, বিস্মৃতি কিংবা ভুলভ্রান্তি থেকে মাসুম (নিষ্পাপ) কেননা কোনো আলেমই এ কথা বলেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومما ينبغى أن يعلم أن الذين قارفوا إثماً ثم حدوا - كان ذلك كفارة لهم - وتابوا وحسنت توبتهم، وهم فى نفس الوقت قلة نادرة جداً؛ لا ينبغى أن يغلب شأنهم وحالهم على حال الألوف المؤلفة من الصحابة الذين ثبتوا على الجادة والصراط المستقيم، وجانبوا المآثم، والمعاصى ما كبر منها وما صغر، وما ظهر منها وما بطن، والتاريخ الصادق أكبر شاهد على هذا " (1) أ. هـ.
ويؤكد ما سبق الإمام الأبيارى (2) بقوله: "وليس المراد بعدالتهم ثبوت العصمة لهم، واستحالة المعصية عليهم، وإنما المراد: قبول روايتهم من غير تكلف بحث عن أسباب العدالة وطلب التزكية، إلا أن يثبت ارتكاب قادح، ولم يثبت ذلك ولله الحمد! فنحن على استصحاب ما كانوا عليه فى زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم، حتى يثبت خلافه، ولا التفات إلى ما يذكره أهل السير، فإنه لا يصح، وما صح فله تأويل صحيح " (3) أهـ.
--------------------------------------------
এটি জানা আবশ্যক যে, যারা কোনো পাপে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে নির্ধারিত দণ্ডের (حد) সম্মুখীন হয়েছিলেন—যা তাদের জন্য কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) স্বরূপ ছিল—এবং তারা তওবা করেছিলেন ও তাদের তওবা উত্তম হয়েছিল, তারা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। তাদের অবস্থা ও পরিস্থিতি যেন সেই হাজার হাজার সাহাবীর অবস্থার ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে, যারা সঠিক পথ ও সরল পথে অবিচল ছিলেন এবং ছোট-বড়, প্রকাশ্য-গোপন সকল প্রকার পাপ ও অবাধ্যতা থেকে দূরে ছিলেন। সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসই এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী।" (১) সমাপ্ত।
ইমাম আল-আবিয়ারী (২) পূর্বোক্ত বিষয়টিকে সমর্থন করে বলেন: "তাদের নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) দ্বারা উদ্দেশ্য তাদের জন্য নিষ্পাপতা (عصمة) সাব্যস্ত করা কিংবা তাদের দ্বারা গুনাহ হওয়া অসম্ভব হওয়া নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো: নির্ভরযোগ্যতার (عدالة) কারণসমূহ অনুসন্ধান করার এবং চারিত্রিক বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের (تزكية) কোনো প্রকার কষ্ট না করে সরাসরি তাদের বর্ণনা (رواية) কবুল করা; যতক্ষণ না কোনো ত্রুটি বা দোষ (قادح) করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। আর আলহামদুলিল্লাহ, তা প্রমাণিত হয়নি! সুতরাং আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তারা যে অবস্থায় ছিলেন, তার ওপরই ভিত্তি করব যতক্ষণ না এর বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়। আর ইতিহাসবিদরা যা উল্লেখ করেন তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই; কারণ তা বিশুদ্ধ নয়, আর যা বিশুদ্ধ তার সঠিক ব্যাখ্যা রয়েছে।" (৩) সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثالث: أدلة عدالة الصحابة رضي الله عنهم… إن العدالة التى نثبتها لصحابة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم لم نعطها هبة لهم من عند أنفسنا - فنحن أقل من ذلك فضلاً عن أننا لا نملك ذلك، وإنما العدالة ثابتة لهم جميعاً بنص الكتاب العزيز، والسنة الشريفة - سواء منهم من تقدم إسلامه ومن تأخر، ومن هاجر ومن لم يهاجر، ومن اشترك فى الغزوات ومن لم يشترك، ومن لابس الفتنة ومن لم يلابسها (1) . فهذه العدالة لهم جميعاً تضافرت عليها الأدلة من الكتاب الكريم والسنة النبوية المطهرة.
أولاً: دلالة القرآن الكريم على عدالة الصحابة رضي الله عنهم:لقد وصف رب العزة صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالعدالة وأثنى عليهم فى آيات يطول ذكرها منها مايلى:
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবায়ে কিরাম (রাদিআল্লাহু আনহুম)-এর ন্যায়নিষ্ঠার (عدالة) প্রমাণসমূহ… আমাদের সাইয়্যেদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য আমরা যে ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) সাব্যস্ত করি, তা আমাদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি প্রদত্ত কোনো উপহার নয়—কেননা আমরা তার চেয়ে অনেক নগণ্য, তাছাড়া আমরা এর মালিকও নই। বরং মহিমান্বিত কিতাব এবং সুন্নাহর অকাট্য দলিলের মাধ্যমে তাঁদের সকলের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) প্রমাণিত—চাই তাঁদের মধ্যে যারা আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন কিংবা পরে, যারা হিজরত করেছেন কিংবা করেননি, যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কিংবা করেননি এবং যারা ফেতনার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন কিংবা হননি (১)। তাঁদের সবার এই ন্যায়নিষ্ঠার (عدالة) সপক্ষে পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর অসংখ্য দলিল বিদ্যমান রয়েছে।
প্রথমত: সাহাবায়ে কিরাম (রাদিআল্লাহু আনহুম)-এর ন্যায়নিষ্ঠার (عدالة) ওপর পবিত্র কুরআনের প্রমাণ:মহাসম্মানিত রব্বুল ইজ্জত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদেরকে ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) দ্বারা গুণান্বিত করেছেন এবং এমন অনেক আয়াতে তাঁদের প্রশংসা করেছেন যা উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হবে, তার মধ্য থেকে কিছু নিম্নে দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
1- قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} (1) ووجه الاستدلال بهذه الآية على عدالة الصحابة رضي الله عنهم أن وسطاً بمعنى "عدولاً خياراً" (2) ، ولأنهم المخاطبون بهذه الآية مباشرة (3) . وقد ذكر بعض أهل العلم أن اللفظ وإن كان عاماً إلا أن المراد به الخصوص، وقيل: "إنه وارد فى الصحابة دون غيرهم (4) .
2- وقوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (5) ووجه دلالة هذه الآية على عدالة الصحابة رضي الله عنهم أنها أثبتت الخيرية المطلقة لهذه الأمة على سائر الأمم قبلها، وأول من يدخل فى هذه الخيرية المخاطبون بهذه الآية مباشرة عند النزول، وهم الصحابة الكرام رضي الله عنهم، وذلك يقتضى استقامتهم فى كل حال، وجريان أحوالهم على الموافقة دون المخالفة، ومن البعيد أن يصفهم الله عز وجل بأنهم خير أمة ولا يكونوا أهل عدل واستقامة، وهل الخيرية إلا ذلك؟
--------------------------------------------
১- মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন} (১) সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সপক্ষে এই আয়াত দ্বারা প্রমাণের দিকটি হলো, 'ওয়াসাত' (وسط) শব্দটি 'ন্যায়পরায়ণ ও শ্রেষ্ঠ' (عدولاً خياراً) (২) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং কারণ তারা সরাসরি এই আয়াতের সম্বোধিত ব্যক্তি (৩)। কোনো কোনো আলিম উল্লেখ করেছেন যে, শব্দগতভাবে এটি ব্যাপক (عام) হলেও এর দ্বারা নির্দিষ্ট (خاص) অর্থ উদ্দেশ্য এবং বলা হয়েছে: "এটি অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল সাহাবিদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে" (৪)।
২- মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদেরকে মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো} (৫) সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ওপর এই আয়াতের দালিলিক দিক হলো, এটি পূর্ববর্তী সকল উম্মতের ওপর এই উম্মতের নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে এবং এই শ্রেষ্ঠত্বের অন্তর্ভুক্ত প্রথম ব্যক্তিগণ হলেন তারা, যারা নাযিলের সময় সরাসরি এই আয়াতের সম্বোধিত ছিলেন; আর তারা হলেন সম্মানিত সাহাবা (রা.)। আর এটি সকল অবস্থায় তাদের অটলতা (استقامة) এবং অবাধ্যতার পরিবর্তে আনুগত্যের ওপর তাদের অবিচল থাকাকেই দাবি করে। মহান আল্লাহ তাদেরকে 'শ্রেষ্ঠ জাতি' হিসেবে বর্ণনা করবেন আর তারা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও অটলতার (استقامة) অধিকারী হবেন না—এটি অসম্ভব। আর শ্রেষ্ঠত্ব কি এছাড়া অন্য কিছু?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
.. كما أنه لا يجوز أن يخبر الله تعالى بأنه جعلهم أمة وسطاً – أى عدولاً – وهم على غير ذلك، فيصح أن يطلق على الصحابة أنهم خير أمة بإطلاق، وأنهم وسط أى عدول بإطلاق" (1) .
وهكذا سائر الآيات التى جاءت بمدحهم قال تعالى: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ (8) وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (2) فالصادقون هم المهاجرون، والمفلحون هم الأنصار، بهذا فسر أبو بكر الصديق، هاتين الكلمتين، من الآيتين، حيث قال فى خطبته يوم السقيفة مخاطباً الأنصار:"إن الله سمانا (الصادقين) وسماكم (المفلحين) ،وقد أمركم أن تكونوا حيثما كنا، فقال: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ} (3) .
فهذه الصفات الحميدة فى هاتين الآيتين كلها حققها المهاجرون والأنصار من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، واتصفوا بها، ولذلك ختم الله صفات المهاجرين بالحكم بأنهم صادقون، وختم صفات الذين آزروهم ونصروهم وآثروهم على أنفسهم بالحكم لهم بأنهم مفلحون.
--------------------------------------------
..তেমনিভাবে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এমন সংবাদ প্রদান করা বৈধ নয় যে, তিনি তাঁদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত—অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণ (عدول)—হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, অথচ তাঁরা তেমন নন। সুতরাং সাহাবীগণকে নিঃশর্তভাবে 'সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত' হিসেবে অভিহিত করা এবং তাঁরা নিঃশর্তভাবে মধ্যমপন্থী তথা ন্যায়পরায়ণ (عدول) হওয়া সঠিক। (১) .
অনুরূপভাবে তাঁদের প্রশংসায় অবতীর্ণ অন্যান্য আয়াতসমূহ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সেই অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী। আর যারা তাদের আগে এই জনপদে (মদিনায়) বসবাস করেছিল এবং ঈমান এনেছিল, তারা হিজরত করে আসা লোকেদের ভালোবাসে এবং যা তাদের (মুহাজিরদের) দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে কোনো ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়। আর যারা নিজেদের মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত থাকে, তারাই সফলকাম।} (২) সুতরাং 'সত্যবাদী' হলেন মুহাজিরগণ এবং 'সফলকাম' হলেন আনসারগণ। এই দুই আয়াতের এই শব্দদ্বয়কে আবু বকর সিদ্দিক এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন, যখন তিনি সকিফাহর দিনে আনসারদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের 'সত্যবাদী' এবং আপনাদের 'সফলকাম' নামে অভিহিত করেছেন। আর আপনাদের নির্দেশ দিয়েছেন আপনারা যেন আমাদের সাথে থাকেন। তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো।}" (৩) .
এই দুই আয়াতে বর্ণিত এই সকল প্রশংসনীয় গুণাবলি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী মুহাজির ও আনসারগণ অর্জন করেছিলেন এবং তাঁরা এই বৈশিষ্ট্যে ভূষিত হয়েছিলেন। এজন্যই আল্লাহ তাআলা মুহাজিরদের গুণাবলি বর্ণনার সমাপ্তিতে এই ফয়সালা দিয়েছেন যে তাঁরা সত্যবাদী, আর যারা তাঁদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন এবং নিজেদের ওপর তাঁদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তাঁদের গুণাবলি বর্ণনার শেষে তাঁদের জন্য সফলকামের ফয়সালা দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهذه الصفات العالية لا يمكن أن يحققها قوم ليسوا بعدول " (1) .
وحتى الآيات التى جاء فيها عتاب لهم أو لبعضهم شاهدة بعدالتهم حيث غفر الله لهم ما عاتبهم فيه وتاب عليهم قال تعالى: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (67) لَوْلَا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (68) فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (2) وتأمل ختام العتاب "إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ" وهل بعد مغفرة الله عز وجل من شئ؟!.
وقال تعالى: {وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لَا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} وتأمل ختام الآية "إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ" (3) .
… وغير ذلك من الآيات الشاهدة بمغفرة الله عز وجل لهم لما ارتكبوا من بعض المعاصى - وسيأتى ذكر بعضها فى الرد على الشبهات حول عدالة الصحابة.
إن تلك الآيات التى جاء فيها عتاب للصحابة أو لبعضهم لارتكابهم بعض المعاصى لخير دليل شاهد على ما سبق ذكره، من أن المراد بعدالتهم جميعاً عصمتهم من الكذب فى حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وليس معنى عدالتهم عصمتهم من المعاصى أو من السهو أو الغلط، فهذا لم يقل به أحد من أهل العلم. وحتى مع ارتكاب بعضهم لبعض الذنوب، فقد امتن الله عز وجل عليهم بالتوبة والمغفرة لذنوبهم.
--------------------------------------------
"আর এই উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন গুণাবলী এমন এক জাতির পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয় যারা ন্যায়পরায়ণ (عدول) নয়।" (১)।
এমনকি যে সকল আয়াতে তাদের সকলের বা তাদের মধ্য থেকে কারো কারো প্রতি তিরস্কার এসেছে, সেগুলোও তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এর সাক্ষ্য বহন করে। কেননা মহান আল্লাহ তাদের সেই তিরস্কারকৃত বিষয়গুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তাদের তাওবা কবুল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "কোনো নবীর জন্য সংগত নয় যে, তাঁর কাছে যুদ্ধবন্দী থাকবে, যতক্ষণ না তিনি জমিনে শত্রুকে সম্পূর্ণ পরাভূত করেন। তোমরা দুনিয়ার নশ্বর সম্পদ কামনা করছ, অথচ আল্লাহ চাচ্ছেন পরকাল। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার জন্য তোমাদের ওপর মহা আজাব আপতিত হতো। সুতরাং তোমরা যুদ্ধে যা গনিমত হিসেবে লাভ করেছ, তা হালাল ও পবিত্র হিসেবে ভোগ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (২)। তিরস্কারের সমাপ্তি লক্ষ্য করুন— "নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। মহান আল্লাহর ক্ষমার পর আর কী-ই বা থাকতে পারে?!।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এবং তিনি ক্ষমা করলেন সেই তিনজনকে যাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল এবং তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, আল্লাহ ছাড়া আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল হলেন যাতে তারা তাওবা করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" আয়াতের শেষাংশ লক্ষ্য করুন— "নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু" (৩)।
… এবং এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা তাদের করা কিছু পাপের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার সাক্ষ্য দেয়—যার কিছু অংশ সাহাবায়ে কেরামের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়সমূহের জবাবে সামনে আসবে।
সাহাবায়ে কেরাম বা তাদের মধ্য থেকে কারো কারো প্রতি কিছু পাপের কারণে যে তিরস্কারসূচক আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে, সেগুলো পূর্বে উল্লেখিত বিষয়েরই উৎকৃষ্ট প্রমাণ। আর তা হলো—তাদের সকলের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বলতে উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে মিথ্যার কবল থেকে তাদের সুরক্ষা (عصمة)। তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) মানে এই নয় যে, তারা পাপ থেকে নিষ্পাপ (عصمة) কিংবা তারা অসতর্কতা (سهو) বা ভুল (غلط) থেকে মুক্ত। আহলে ইলম বা বিদ্বানগণের কেউই এমন কথা বলেননি। এমনকি তাদের কারো কারো দ্বারা কিছু গুনাহ সংঘটিত হলেও মহান আল্লাহ তাদের তাওবা করার তৌফিক দিয়ে এবং তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিয়ে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وما هذه المنة من ربهم عز وجل إلا بيان لعباده مؤمنهم وكافرهم إلى قيام الساعة؛ بعظم مكانة من اختارهم لصحبة سيد أنبيائه ورسله صلى الله عليه وسلم، وأن التجريح والقدح فى تلك المكانة والعدالة إنما هو تجريح وقدح فيمن بوأهم تلك المكانة، وجعلهم خير أمة أخرجت للناس!!!
نعوذ بالله عز وجل من الخذلان.
ثانياً: دلالة السنة المطهرة على عدالة الصحابة رضي الله عنهم:لقد وصف النبى صلى الله عليه وسلم أصحابه بالعدالة، وأثنى عليهم فى أحاديث يطول تعدادها منها:
1- قوله صلى الله عليه وسلم:"ألا ليبلغ الشاهد منكم الغائب" (1) "ففى هذا الحديث أعظم دليل على أن الصحابة كلهم عدول ليس فيهم مجروح، ولا ضعيف إذ لو كان فيهم أحد غير عدل، لاستثنى فى قوله صلى الله عليه وسلم وقال: "ألا ليبلغ فلان منكم الغائب" فلما أجملهم فى الذكر بالأمر بالتبليغ لمن بعدهم، دل ذلك على أنهم كلهم عدول، وكفى بمن عدله رسول الله صلى الله عليه وسلم شرفاً " (2) .
--------------------------------------------
মহান রবের পক্ষ থেকে এই অনুগ্রহটি কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর মুমিন ও কাফির সকল বান্দার নিকট কেবল এটিই স্পষ্ট করে যে, তিনি যাঁদেরকে তাঁর নবী ও রাসুলদের সর্দার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন, তাঁদের মর্যাদা কত মহান! আর তাঁদের সেই মর্যাদা ও ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-র বিষয়ে কোনো প্রকার সমালোচনা (تجريح) ও দোষারোপ (قدح) করা মূলত সেই সত্তারই সমালোচনা (تجريح) ও দোষারোপ (قدح), যিনি তাঁদেরকে এই উচ্চাসনে আসীন করেছেন এবং তাঁদেরকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন!!!
আমরা মহান আল্লাহর নিকট লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
দ্বিতীয়ত: সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-র ওপর পবিত্র সুন্নাহর প্রমাণ:নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণকে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) দ্বারা গুণান্বিত করেছেন এবং অসংখ্য হাদিসে তাঁদের প্রশংসা করেছেন, যার মধ্য হতে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "সাবধান! তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে (তা) পৌঁছে দেয়।" (১) "এই হাদিসের মধ্যে এটিই সর্বোত্তম দলিল যে, সাহাবায়ে কিরামের সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول); তাঁদের মধ্যে কোনো সমালোচিত (مجروح) বা দুর্বল (ضعيف) কেউ নেই। কেননা, যদি তাঁদের মধ্যে কেউ ন্যায়পরায়ণ (عدل) না হতেন, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীতে ব্যতিক্রম রাখতেন এবং বলতেন: 'সাবধান! তোমাদের মধ্য থেকে অমুক ব্যক্তি যেন অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দেয়।' সুতরাং যখন তিনি তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট দীন পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশের ক্ষেত্রে তাঁদের সকলকে সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, তখন এটিই প্রমাণ করে যে তাঁরা সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)। আর যাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدل) স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা করেছেন, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
2- وقال صلى الله عليه وسلم: "خير الناس قرنى ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم يجئ قوم تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِم يَمِيَنهُ ويَميِنُهُ شَهَادَتَهُ" (1) وهذه الشهادة بالخيرية مؤكدة لشهادة رب العزة: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} (2) .
3- وقوله صلى الله عليه وسلم: "النجومُ أَمنةٌ للسماءِ، فإذا ذهبتِ النجوُمِ، أَتى السماءَ ما تُوعدُ، وأَنا أَمَنةٌ لأَصْحَابى. فإذا ذهبتُ أَتَى أَصْحَابِى ما يُوعدونَ، وأَصْحَابى أَمنةٌ لأُمَّتِى، فإِذا ذهب أصحابى أتى أُمِتى ما يُوعَدُون" (3) .
4- وقال صلى الله عليه وسلم: "إن الله اختار أصحابى على العالمين، سوى النبيين والمرسلين، واختار لى من أصحابى أربعة أبا بكر، وعمر وعثمان، وعلياً رضي الله عنهم فجعلهم أصحابى قال فى أصحابى كلهم خير، وأختار أمتى على الأمم، وأختار من أمتى أربعة قرون، القرن الأول والثانى والثالث، والرابع" (4) .
--------------------------------------------
2- এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার প্রজন্মের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের একজনের সাক্ষ্য তার শপথের অগ্রগামী হবে এবং তার শপথ তার সাক্ষ্যের অগ্রগামী হবে।" (১) শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কিত এই সাক্ষ্য মহান প্রতিপালকের বাণীরই পরিপূরক: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে} (২)।
3- এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নক্ষত্ররাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, তখন আকাশের প্রতি প্রতিশ্রুত (বিপর্যয়) নেমে আসবে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; যখন আমি চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের ওপর প্রতিশ্রুত বিষয় নেমে আসবে। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; সুতরাং যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন, তখন আমার উম্মতের ওপর প্রতিশ্রুত বিষয় নেমে আসবে।" (৩)।
4- এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত সমগ্র জগতের ওপর আমার সাহাবীদের মনোনীত করেছেন। আর আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে আমার জন্য চারজনকে মনোনীত করেছেন—আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)—এবং তাঁদেরকে আমার সাহাবী বানিয়েছেন। তিনি আমার সকল সাহাবীর ব্যাপারে বলেছেন যে তারা সকলেই কল্যাণময়। আর তিনি অন্য সকল উম্মতের ওপর আমার উম্মতকে মনোনীত করেছেন এবং আমার উম্মতের মধ্য থেকে চারটি প্রজন্মকে মনোনীত করেছেন—প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্ম।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذا الحديث مؤكد لقوله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} (1) .
ويؤكد ابن مسعود رضي الله عنه ما سبق من الآية والحديث قائلاً: "إن الله نظر فى قلوب العباد، فوجد قلب محمد صلى الله عليه وسلم خير قلوب العباد، فاصطفاه لنفسه وابتعثه برسالته، ثم نظر فى قلوب العباد بعد قلب محمد فوجد قلوب أصحابه خير قلوب العباد، فجعلهم وزراء نبيه صلى الله عليه وسلم يقاتلون عن دينه " (2) .
يقول الإمام الآمدى (3) : " واختيار الله لا يكون لمن ليس بعدل " (4) .
--------------------------------------------
এই হাদিসটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সমর্থক: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন বর্তমান। তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরকমই এবং ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা শক্ত হয়, তারপর তা পুষ্ট হয়ে নিজ কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে যায়, যা কৃষকদের আনন্দ দেয়—যাতে তিনি তাদের মাধ্যমে কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।" (১)।
ইবনে মাসউদ (রা.) উপরোক্ত আয়াত ও হাদিসকে সমর্থন করে বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর রিসালাত দিয়ে তাঁকে পাঠিয়েছেন। এরপর তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্তরের পর বান্দাদের অন্তরের প্রতি লক্ষ্য করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। তাই তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর উজির (সহায়ক) বানিয়েছেন, যাঁরা তাঁর দ্বীনের জন্য লড়াই করেন।" (২)।
ইমাম আল-আমিদি (৩) বলেন: "আল্লাহর মনোনয়ন এমন কারো জন্য হয় না, যে ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) নয়।" (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
5- وقال صلى الله عليه وسلم: "لا تسبوا أصحابى. لا تَسُبُّوا أصحابى: فوالذى نفسى بيده! لو أن أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مثلَ أُحُدٍ ذهباً، ما أَدركَ مُدَّ أَحَدِهِم، ولا نَصِيَفهُ" (1) .
يقول الصحابى الجليل سعيد بن زيد بن عمرو (2) ، أحد العشرة المبشرين بالجنة رضي الله عنهم لما سمع رجلاً من أهل الكوفة يسب رجلاً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "
… والله لمشهد شهده رجل يغبر فيه وجهه مع رسول الله صلى الله عليه وسلم: أفضل من عمل أحدكم، ولو عمر عمر نوح عليه السلام " (3) .
يقول فضيلة الشيخ محمد الزرقانى رحمه الله "فأنت ترى من هذه الشهادات العالية فى الكتاب والسنة، ما يرفع مقام الصحابة إلى الذروة، وما لا يترك لطاعن فيهم دليلاً، ولا شبهة دليل.
والواقع أن العقل المجرد من الهوى والتعصب، يحيل على الله فى حكمته ورحمته، أن يختار لحمل شريعته الختامية، أمة مغموزة، أو طائفة ملموزة، تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً.
--------------------------------------------
৫- এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবুও তাদের কারো এক 'মুদ' (এক অঞ্জলি) বা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবেরও সমতুল্য হতে পারবে না।" (১) ।
মহান সাহাবী সাঈদ ইবন যায়িদ ইবন আমর (২), যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অন্তর্ভুক্ত, যখন তিনি কুফার জনৈক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবীকে গালি দিতে শুনলেন, তখন বললেন: "
… আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো এক ময়দানে কারো উপস্থিত হওয়া, যাতে তার চেহারা ধূলিমলিন হয়েছে—তা তোমাদের সারা জীবনের আমলের চেয়ে উত্তম, যদিও তোমরা নূহ আলাইহিস সালামের মতো দীর্ঘ হায়াত পাও।" (৩) ।
ফদ্বীলাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ আল-জুরকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আপনি কুরআন ও সুন্নাহর এই উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সাক্ষ্যসমূহ থেকে দেখছেন যে, তা সাহাবীদের মাকামকে চূড়ায় পৌঁছে দেয় এবং তাদের সম্পর্কে কোনো নিন্দুকের জন্য কোনো দলিল বা দলিলের লেশমাত্র সংশয়ও অবশিষ্ট রাখে না।
আর বাস্তবতা হলো, প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি মুক্ত বিবেক এটাই বলে যে, আল্লাহর হিকমত ও রহমত এমনটি হওয়া অসম্ভব করে দেয় যে, তিনি তাঁর সর্বশেষ শরীয়ত বহন করার জন্য কোনো ত্রুটিযুক্ত উম্মত বা দোষারোপযোগ্য দলকে মনোনীত করবেন; আল্লাহ এ ধরনের বিষয় থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن هنا كان توثيق هذه الطبقة الكريمة طبقة الصحابة، يعتبر دفاعاً عن الكتاب، والسنة، وأصول الإسلام من ناحية، ويعتبر إنصافاً أدبياً لمن يستحقونه من ناحية ثانية، ويعتبر تقديراً لحكمة الله البالغة فى اختيارهم لهذه المهمة العظمى من ناحية ثالثة.
كما أن تَوْهِينهم والنيل منهم، يعد غمزاً فى هذا الاختيار الحكيم، ولمزاً فى ذلك الاصطفاء والتكريم، فوق ما فيه من هدم الكتاب، والسنة، والدين" (1) أ. هـ.
ثالثاً: دلالة إجماع الأمة على عدالة الصحابة رضي الله عنهم:… أجمعت الأمة - إلا من شذ ممن لا يعتد بخلافهم (2) . على ما سبق من تعديل الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم للصحابة أجمع، والنقول فى هذا الإجماع كثيرة عن علماء الأمة، من المحدثين، والفقهاء، والأصوليين.
… يقول الخطيب البغدادى: "إنه لو لم يرد من الله عز وجل ورسوله فيهم شئ مما ذكرناه، لأوجبت الحال التى كانوا عليها من الهجرة، والجهاد، والنصرة، وبذل المهج، والأموال، وقتل الآباء والأولاد، والمناصحة فى الدين، وقوة الإيمان واليقين: القطع على عدالتهم، والاعتقاد لنزاهتهم، وأنهم أفضل من جميع المعدلين والمزكين، الذين يجيئون من بعدهم أبد الآبدين. هذا مذهب كافة العلماء ومن يعتد بقوله من الفقهاء" (3) .
… وقال ابن الصلاح: " للصحابة بأسرهم خصيصة، وهى أنه لا يسأل عن عدالة أحد منهم، بل ذلك أمر مفروغ منه لكونهم على الإطلاق معدلين بنصوص الكتاب، والسنة، وإجماع من يعتد به فى الإجماع من الأمة" (4) .
--------------------------------------------
ومن এখান থেকেই সাহাবীদের এই সম্মানিত স্তরের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) করা একদিকে যেমন কুরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামের মূলনীতিসমূহের প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়, তেমনি অন্যদিকে এটি তাদের প্রাপ্য নৈতিক ইনসাফ হিসেবে গণ্য হয়। পাশাপাশি, এই মহান কাজের জন্য তাদের মনোনীত করার পেছনে আল্লাহর সুগভীর হিকমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হিসেবেও পরিগণিত হয় তিন নম্বর দিক থেকে।
একইভাবে তাদের দুর্বল প্রতিপন্ন করা (توهين) এবং তাদের সমালোচনা করা আল্লাহর এই প্রজ্ঞাপূর্ণ নির্বাচনের প্রতি এক প্রকার বিদ্রূপ এবং তাঁর এই মনোনীতকরণ ও সম্মানের প্রতি অপবাদ দেওয়ার শামিল। তাছাড়া এর মাধ্যমে কুরআন, সুন্নাহ এবং দ্বীনকেও ধ্বংস করা হয় (১)।
তৃতীয়ত: সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-র বিষয়ে উম্মাহর সর্বসম্মত ঐক্যের (إجماع) প্রমাণ:… উম্মাহর সকল আলিম—যাদের মতভেদ ধর্তব্য নয় এমন কিছু বিচ্যুত ব্যক্তি ব্যতীত (২)—আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে সকল সাহাবীর সততা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপাদন (تعديل)-এর বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এই সর্বসম্মত ঐক্যের (إجماع) বিষয়ে মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং উসুলবিদগণের পক্ষ থেকে অসংখ্য বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে।
… খতিব আল-বাগদাদি বলেন: "আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে সাহাবীদের ব্যাপারে যদি কিছুই বর্ণিত না হতো, তবুও হিজরত, জিহাদ, দ্বীনের জন্য সাহায্য, জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ, পিতৃ ও সন্তানদের হত্যা, দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ উপদেশ এবং শক্তিশালী ঈমান ও সুদৃঢ় প্রত্যয়ের মতো তাদের যে অবস্থা ছিল, তা তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। তাদের পবিত্রতার বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত পরে আসবে তাদের মধ্যকার যাবতীয় জরাহ-তাদিলের ইমামদের দ্বারা সত্যায়িত ব্যক্তিগণ (المعدلين) এবং চারিত্রিক শুদ্ধতা প্রত্যায়নকৃত ব্যক্তিগণ (المزكين)-এর চেয়ে তাদের শ্রেষ্ঠ মনে করা অনিবার্য করে তোলে। এটিই সকল আলিম এবং যাদের কথা ধর্তব্য সেই ফকিহগণের মাজহাব।" (৩)।
… ইবনুল সালাহ বলেন: "সাহাবীদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আর তা হলো—তাদের কারও ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বরং এটি একটি মীমাংসিত বিষয়; কারণ তারা কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাহর নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) অনুযায়ী সাধারণভাবে সততা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপাদনকৃত (معدلين) ব্যক্তিবর্গ।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
.. وقال العراقى: "إن جميع الأمة مجمعة على تعديل من لم يلابس الفتن منهم وأما من لابس الفتن منهم وذلك حين مقتل عثمان رضي الله عنه فأجمع من يعتد به أيضاً فى الإجماع على تعديلهم إحساناً للظن بهم، وحملاً لهم فى ذلك على الاجتهاد " (1) .
… وقال الإمام الغزالى: "والذى عليه سلف الأمة، وجماهير الخلق، أن عدالتهم معلومة بتعديل الله عز وجل إياهم وثنائه عليهم فى كتابه، فهو معتقدنا فيهم، إلا أن يثبت بطريق قاطع ارتكاب واحد لفسق مع علمه به، وذلك مما لا يثبت فلا حاجة لهم إلى التعديل – ثم ذكر بعض ما دل على عدالتهم من كتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ثم قال: فأى تعديل أصح من تعديل علام الغيوب – سبحانه - وتعديل رسوله صلى الله عليه وسلم كيف ولو لم يرد الثناء لكان فيما اشتهر وتواتر من حالهم فى الهجرة، والجهاد، وبذل المهج، والأموال، وقتل الآباء والأهل، فى موالاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونصرته، كفاية فى القطع بعدالتهم" (2) .
… فهذه النقول المباركة للإجماع من هؤلاء الأئمة وغيرها كثير. كلها فيها بيان واضح، ودليل قاطع على أن ثبوت عدالة الصحابة عموماً بلا استثناء، أمر مفروغ منه، ومسلم به.
فلا يبقى لأحد شك،ولا ارتياب بعد تعديل الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم وإجماع الأمة على ذلك (3) .
…--------------------------------------------
.. আল-ইরাকি বলেন: "নিশ্চয়ই সমগ্র উম্মত তাদের মধ্যে যারা ফিতনায় লিপ্ত হননি তাদের ন্যায়পরায়ণতা (تعديل) সাব্যস্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। আর যারা ফিতনায় লিপ্ত হয়েছিলেন—যা উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের সময়কালে ঘটেছিল—তাদের ন্যায়পরায়ণতা (تعديل) সাব্যস্ত করার বিষয়েও গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি তাদের প্রতি সুধারণা পোষণ এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে ইজতিহাদ (اجتهاد) হিসেবে গণ্য করার ভিত্তিতে করা হয়েছে।" (১) ।
… ইমাম আল-গাজালি বলেন: "উম্মতের পূর্বসূরি (সালাফ) এবং জমহুর ওলামায়ে কিরাম যে মতের ওপর রয়েছেন তা হলো, তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের ন্যায়পরায়ণ ঘোষণা (تعديل) এবং তাঁর কিতাবে তাদের প্রশংসার মাধ্যমেই সুনিশ্চিতভাবে জানা গেছে। অতএব, এটিই তাদের সম্পর্কে আমাদের আকিদা; যতক্ষণ না অকাট্যভাবে কোনো একজনের দ্বারা সজ্ঞানে পাপাচার (فسق) সংঘটিত হওয়া প্রমাণিত হয়। আর এ জাতীয় কিছু যেহেতু প্রমাণিত নয়, তাই তাদের জন্য নতুন করে আর কোনো ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণের (تعديل) প্রয়োজন নেই। —অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাব ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে তাদের ন্যায়পরায়ণতার সপক্ষে কিছু দলিল উল্লেখ করেন এবং বলেন: অদৃশ্য জগতের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত এবং তাঁর রাসুল (সা.)-এর পক্ষ থেকে প্রদত্ত ঘোষণার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কোনো ন্যায়পরায়ণ ঘোষণা (تعديل) হতে পারে? এমনকি যদি তাদের প্রশংসায় কোনো বর্ণনা না-ও থাকত, তবুও তাদের হিজরত, জিহাদ, জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য ও সহযোগিতায় পিতা ও স্বজনদের হত্যার মতো তাদের যে অবস্থা সুপ্রসিদ্ধ এবং বহুল প্রচারিত (تواتر) হিসেবে পরিগণিত, তা-ই তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) অকাট্যভাবে প্রমাণের জন্য যথেষ্ট ছিল।" (২) ।
… এই ইমামদের থেকে বর্ণিত ইজমার এই বরকতময় উদ্ধৃতিগুলো এবং এ জাতীয় আরও অনেক উদ্ধৃতি বিদ্যমান। এ সবই এই কথার সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং অকাট্য দলিল যে, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সাধারণভাবে সকল সাহাবীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রমাণিত হওয়া একটি মীমাংসিত এবং স্বীকৃত বিষয়।
অতএব, মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর পক্ষ থেকে তাদের ন্যায়পরায়ণ ঘোষণার (تعديل) পর এবং এ বিষয়ে উম্মতের ঐকমত্যের পর আর কারও কোনো সন্দেহ বা সংশয় অবশিষ্ট থাকে না (৩) ।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদলাতুস সাহাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া দাফউশ শুবুহাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
"وإذا تقرر لك عدالة جميع من ثبتت له الصحبة، علمت أنه إذا قال الراوى عن رجل من الصحابة، ولم يسمه كان ذلك حجة، ولا يضر الجهالة، لثبوت عدالتهم على العموم" (1) .
… قال الإمام الجوينى: "ولعل
السبب فى قبولهم من غير بحث عن أحوالهم، والسبب الذى أتاح الله الإجماع لأجله، أن الصحابة هم نقلة الشريعة، ولو ثبت توقف فى رواياتهم، لانحصرت الشريعة على عصر رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولما استرسلت على سائر الأعصار" (2) .
أولئك آبائى فجئنى بمثلهم *** إذا جمعتنا يا جرير المجامع
غمرهم الله برحمته ورضوانه
… آمين.
--------------------------------------------
"যখন আপনার নিকট এমন সকল ব্যক্তির ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) সুপ্রতিষ্ঠিত হলো যাদের সাহচর্য (صحبة) সাব্যস্ত হয়েছে, তখন আপনি জানলেন যে, যদি কোনো বর্ণনাকারী (راوي) সাহাবীগণের (صحابة) মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর নাম উল্লেখ না করেন, তবে তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে। আর (ব্যক্তির) পরিচয় অজ্ঞাত থাকা (جهالة) কোনো ক্ষতি করবে না, যেহেতু সাধারণভাবে তাঁদের সকলের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) প্রমাণিত।" (১) .
… ইমাম জুয়াইনি বলেন: "সম্ভবত তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে কোনো অনুসন্ধান না করেই তাঁদের বর্ণনা গ্রহণ করার কারণ এবং যে কারণে আল্লাহ তাআলা ঐকমত্য (إجماع) সহজ করে দিয়েছেন তা হলো, সাহাবীগণ (صحابة) হলেন শরিয়াহর বাহক। যদি তাঁদের বর্ণনা (رواية) গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো স্থগিতাদেশ সাব্যস্ত হতো, তবে শরিয়াহ কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ত এবং পরবর্তী সকল যুগে তা বিস্তৃত হতো না।" (২) .
তাঁরাই আমার পিতৃপুরুষ, সুতরাং হে জারির! যখন কোনো সমাবেশে আমরা একত্রিত হব, তখন তুমিও তাঁদের ন্যায় কাউকে আমার সামনে নিয়ে এসো।
আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা সিক্ত করুন
… আমিন।
--------------------------------------------