(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: -)
الاستغاثة في الرد على البكري القسم: الفرق والردود
الكتاب: الاستغاثة في الرد على البكري
المؤلف: شيخ الإسلام أحمد بن تيمية (ت 728 هـ)
دراسة وتحقيق: د. عبد الله بن دجين السهلي
أصل التحقيق: رسالة ماجستير - قسم الثقافة الإسلامية بكلية التربية بجامعة الملك سعود
الناشر: مكتبة دار المنهاج للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1426 هـ
عدد الصفحات: 495
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 ذو الحجة 1437
আল-ইস্তিগাছা ফী আর-রাদ্দি আলাল বাকরী বিভাগ: বিভিন্ন দল ও তাদের খণ্ডন
গ্রন্থ: আল-ইস্তিগাছা ফী আর-রাদ্দি আলাল বাকরী
লেখক: শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী)
গবেষণা ও তাহকীক: ড. আবদুল্লাহ বিন দুজাইন আস-সাহলী
তাহকীকের উৎস: মাস্টার্স থিসিস - ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ, শিক্ষা অনুষদ, কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৫
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৩ জিলহজ্জ ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة منشورات مكتبة دار المنهاج للنشر والتوزيع بالرياض (15)
الاستغاثة في الرد على البكري
تأليف
شيخ الإسلام أحمد بن تيمية رحمه الله (المتوفى 728 هـ)
دراسة وتحقيق
د. عبد الله بن دجين السهلي
عضو هيئة التدريس بقسم الثقافة الإسلامية - جامعة الملك سعود
مكتبة دار المنهاج
রিয়াদস্থ মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ প্রকাশনা ও বিতরণী সংস্থার গ্রন্থমালা (১৫)
আল-ইস্তিগাসা ফি আর-রাদ্দি আলাল বাকরি
গ্রন্থকার
শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.)
গবেষণা ও সম্পাদনা
ড. আবদুল্লাহ বিন দুজাইন আস-সাহলি
ইসলামিক কালচার বিভাগ, কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের সদস্য
মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২)
* قال الحافظ ابن كثير:
"والمقصود أن الشيخ رد على البكري ونقض أقواله نقضاً أجاد فيه وأفاد، وبيَّن ما فيه من حق وباطل في مجلدة كبيرة، أبطل فيها أنواع الشرك الاعتقادي والعملي وما يتفرع منهما بالأدلة والبراهين القاطعة المقبولة؛ التي تسر أهل السنة وتقرّ أعينهم عند سماعها، وتسوِّد وجوه أهل الأهواء والبدع ويرهقها قتر وذلة، فرحم الله من قبل الحق ونصره، ورد الباطل وخذله وأهله".
تلخيص الاستغاثة - لابن كثير (ص 5)
هذا الكتاب في الأصل رسالة ماجستير تقدم بها المحقق إلى قسم الثقافة الإسلامية بكلية التربية بجامعة الملك سعود، ونوقشت في الثاني من شهر الله المحرم عام 1417 هـ وبتوفيق الله -تعالى- وفضله أجيزت الرسالة بتقدير ممتاز.
হাফিজ ইবনে কাসীর (রহ.) বলেছেন:
"মূল উদ্দেশ্য হলো, শায়খ আল-বাকরীর প্রত্যুত্তর দিয়েছেন এবং অত্যন্ত নিপুণ ও ফলপ্রসূভাবে তার বক্তব্যসমূহ খণ্ডন করেছেন। তিনি একটি বৃহৎ খণ্ডে এর সত্য ও মিথ্যাকে সুস্পষ্ট করেছেন, যেখানে তিনি বিশ্বাসগত ও কর্মগত শিরকের প্রকারভেদ এবং তা থেকে উদ্ভূত বিষয়সমূহকে অকাট্য ও গ্রহণযোগ্য দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে অসার প্রমাণ করেছেন; যা আহলুস সুন্নাহকে আনন্দিত করে এবং শ্রবণে তাদের চক্ষু শীতল করে, আর প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের চেহারাকে মলিন করে দেয় এবং তাদের ওপর কালিমা ও লাঞ্ছনা ছেয়ে যায়। সুতরাং আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর দয়া করুন, যে সত্যকে গ্রহণ করে ও তাকে সাহায্য করে এবং মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান করে তাকে ও তার অনুসারীদের অপদস্থ করে।"
তালখিসুল ইস্তিগাসাহ - ইবনে কাসীর (পৃষ্ঠা ৫)
এই গ্রন্থটি মূলত একটি মাস্টার্স থিসিস, যা এর সম্পাদক কিং সাউদ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা অনুষদের ইসলামিক কালচার বিভাগে পেশ করেছিলেন। এটি ১৪১৭ হিজরীর ২রা মহররম তারিখে পর্যালোচিত হয় এবং মহান আল্লাহর তাওফিক ও অনুগ্রহে থিসিসটি 'মুমতাজ' (চমৎকার) গ্রেডসহ গৃহীত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৩)
الاسْتغَاثَة في الرَّد عَلَىَ البَكْرِيّ
আল-বাকরির খণ্ডনে সাহায্য প্রার্থনা সংক্রান্ত গ্রন্থ
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৪)
(ح) مكتبة دَار الْمِنْهَاج للنشر والتوزيع، 1425 هـ
فهرسة مكتبة الْملك فَهد الوطنية أثْنَاء النشر
ابْن تَيْمِية، أَحْمد بن عبد الْحَلِيم
الاستغاثة فِي الرَّد على الْبكْرِيّ/ أَحْمد بن عبد الْحَلِيم ابْن تَيْمِية؛ عبد الله بن دجين السهلي - الرياض، 1425 هـ
510 ص؛ 17 × 24 سم
ردمك: 5 - 4 - 9557 - 9960
1 - التَّوْحِيد
2 - الْبدع فِي الْإِسْلَام
أ- السهلي، عبد الله بن دجين (مُحَقّق)
ب- العنوان
ديوي 240
… 7260/ 1425
جَمِيع حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة لدار الْمِنْهَاج بالرياض
الطبعَة الأولى، 1426 هـ
حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة 1426 هـ، لَا يسمح بِإِعَادَة نشر هَذَا الْكتاب أَو أَي جُزْء مِنْهُ بِأَيّ شكل من الأشكال أَو حفظه ونسخه فِي أَي نظام ميكانيكي أَو إلكتروني يُمكن من استرجاع الْكتاب أَو تَرْجَمته إِلَى أَي لُغَة أُخْرَى دون الْحُصُول على إِذن خطى من الناشر.
مكتبة دَار الْمِنْهَاج
للنشر والتوزيع
المَملكَة العَربيَّة السّعُوديَّة. الرّيَاضِ
المركز الرئيسي: طَريق الْملك فَهد/ شمَال الجَوازات
هَاتِف 4065553 - فاكس 4083698 - ص ب 51929 الرياض 11553
الْفُرُوع: طَريق خَالِد بن الْوَلِيد (إنكاس سَابقاً) ت 2322095
مَكة المكَرمة - الشامية هَاتِف 5730980
(গ) মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ প্রকাশনা ও বিতরণ, ১৪২৫ হিজরি
প্রকাশনা চলাকালীন কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং
ইবনে তাইমিয়্যাহ, আহমদ বিন আব্দুল হালিম
আল-ইস্তিগাসা ফি আর-রাদ্দি আলাল বাকরি/ আহমদ বিন আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ; আব্দুল্লাহ বিন দুজাইন আস-সাহলি - রিয়াদ, ১৪২৫ হিজরি
৫১০ পৃষ্ঠা; ১৭ × ২৪ সেমি
আইএসবিএন: ৫ - ৪ - ৯৫৫৭ - ৯৯৬০
১ - তাওহিদ
২ - ইসলামে বিদআত
ক- আস-সাহলি, আব্দুল্লাহ বিন দুজাইন (সম্পাদক)
খ- শিরোনাম
ডিউই ২৪০
… ৭২৬০/ ১৪২৫
রিয়াদের দারুল মিনহাজের জন্য মুদ্রণের সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ, ১৪২৬ হিজরি
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ১৪২৬ হিজরি, প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এই বই বা এর কোনো অংশ কোনো রূপেই পুনঃপ্রকাশ করা, অথবা কোনো যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও অনুলিপি করা যা থেকে বইটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়, অথবা অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা অনুমোদিত নয়।
মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ
প্রকাশনা ও বিতরণ
সৌদি আরব। রিয়াদ
প্রধান কার্যালয়: কিং ফাহাদ রোড/ উত্তর জাওয়াজাত
ফোন ৪০৬৫৫৫৩ - ফ্যাক্স ৪০৮৩৬৯৮ - পি.ও বক্স ৫১৯২৯ রিয়াদ ১১৫৫৩
শাখা: খালিদ বিন ওয়ালিদ রোড (পূর্বে ইনকাস) ফোন ২৩২২০৯৫
মক্কা মুকাররমা - আশ-শামিয়্যাহ ফোন ৫৭৩০৯৮০
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أفضل الرسل والنبيين وعلى آله وصحبه، وبعد:
فأحمد الله -تعالى- على ما منَّ به من نِعَمه العظيمة، وأعظمها نعمة الإسلام والتوحيد واتباع ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، فهذه أكبر النِعَم التي لم يوفق لها طوائف من المسلمين، وهذه الطبعة الثانية من كتاب "الاستغاثة في الرد على البكري"، لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وقد راجعت الكتاب على الأصول الخطية، وعلى المخطوطة الرابعة التي لم تكن كاملة في الطبعة الأولى، وهي مخطوطة المعهد العلمي بحائل، والتي أرمز لها بـ "ح"، وبفضل الله وحده، تم إصلاح بعض المواضع المشكلة، وتصحيح أخرى في هذه الطبعة، كما اختصرت التعليقات والتعريفات، وحذفت بعضها الآخر، ليسهل انتشار الكتاب، ويكون في مجلدة واحدة.
وفّق الله الجميع لما يحب ويرضى، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
د. عبد الله بن دجين السهلي
14/ 6/ 1425 هـ
الرياض
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ রাসূল ও নবীগণের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি। অতঃপর:
আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর দানকৃত মহান নেয়ামতসমূহের জন্য, যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ইসলাম, তাওহীদ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণের নেয়ামত। এগুলো এমন মহান নেয়ামত যা মুসলিমদের অনেক দলই অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আল-ইস্তিগাছা ফী আর-রাদ্দি আলাল বাকরী’ গ্রন্থটির এটি দ্বিতীয় সংস্করণ। আমি গ্রন্থটি মূল পাণ্ডুলিপিসমূহ এবং চতুর্থ একটি পাণ্ডুলিপির সাহায্যে পুনরায় পর্যালোচনা করেছি যা প্রথম সংস্করণে অসম্পূর্ণ ছিল; এটি হলো হাইল-এর বৈজ্ঞানিক ইনস্টিটিউটের পাণ্ডুলিপি, যাকে আমি ‘হা’ বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহে এই সংস্করণে কিছু জটিল স্থান সংশোধন করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিমার্জন করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রন্থটির প্রচার সহজতর করার লক্ষ্যে এবং এটিকে এক খণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য আমি টীকা ও পরিচিতিগুলো সংক্ষিপ্ত করেছি এবং কিছু অংশ বাদ দিয়েছি।
আল্লাহ সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফীক দান করুন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
ড. আবদুল্লাহ বিন দুজাইন আল-সাহলী
১৪/ ০৬/ ১৪২৫ হিজরী
রিয়াদ
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولىإن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً، ثم أما بعد:
فإنه لا يشك مسلم في، أهمية التوحيد الخالص، وضرورته للبشرية أجمع، فما أرسل الله رسولاً إلا وأمره أن يدعو الناس إلى عبادة الله وحده وينذرهم الشرك، قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36]، فالشرك خطره عظيم، ومن تأمل القرآن الكريم، والسنة النبوية الشريفة، وجدهما مصرِّحين، ببطلان دين المشركين وكفر أهله، وأنهم أعداء الله ورسله، وأنهم أولياء الشيطان وعباده، وأنهم أهل النار الذين لا يخرجون منها، وهم الذين حلت بهم المثلات ونزلت بهم العقوبات.
ولذا كانت وصية النبي صلى الله عليه وسلم لأمته، وفي آخر لحظات عمره صلى الله عليه وسلم، التحذير من هذا الداء الوبيل، كما أخرج الإمام مسلم في صحيحه عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه الذي لم يقم منه: "لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد" (1)، وفي رواية: "وصالحيهم"، ولقد كانت الأمة على هذه الوصية الشريفة فى القرون الثلاثة، حتى أصابها ما أصاب الأمم قبلها فظهرت بدعة القبورية (2)، أواخر القرن الثالث الهجري،
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
কোনো মুসলিমই বিশুদ্ধ তাওহীদের গুরুত্ব এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে না। আল্লাহ এমন কোনো রাসুল প্রেরণ করেননি যাকে তিনি মানুষকে কেবল আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দিতে এবং শিরক থেকে সতর্ক করতে আদেশ করেননি। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসুল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [আন-নাহল: ৩৬]। শিরকের ভয়াবহতা অত্যন্ত গুরুতর। যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে দেখতে পাবে যে এই উভয় উৎসই মুশরিকদের ধর্মের অসারতা এবং তাদের কুফরির কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের শত্রু, তারা শয়তানের বন্ধু ও উপাসক এবং তারা জাহান্নামের অধিবাসী যেখান থেকে তারা কখনোই বের হবে না। তাদের ওপরই দৃষ্টান্তমূলক আজাব ও শাস্তি আপতিত হয়েছে।
এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতেও এই মারাত্মক ব্যাধি সম্পর্কে সতর্ক করার অসিয়ত করে গেছেন। যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সেই অসুস্থতার সময় যেখান থেকে তিনি আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি, ইরশাদ করেছেন: "ইহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে (সিজদাহগাহে) পরিণত করেছে" (১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে: "এবং তাদের নেককার ব্যক্তিদের (কবরসমূহকে)"। উম্মত প্রথম তিন শতাব্দী পর্যন্ত এই মহান অসিয়তের ওপর অটল ছিল, এরপর পূর্ববর্তী জাতিসমূহ যে ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিল তারাও তাতে আক্রান্ত হয় এবং হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগে 'কবরপূজা'র (২) বিদআত আত্মপ্রকাশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৮)
حين ضعفت دولة بني العباس، لما تفرقت الأمة وكثر فيها الزنادقة، وقد شاعت بين الرافضة أولاً، لما صارت لهم دويلات، كدولة بني بويه، ودويلات الباطنية من العبيدية (1) والإسماعيلية (2) وغيرهم، حيث نشروا بدع المشاهد والقبور، والعبادة عندها، ودعاء المقبور وغير ذلك.
ثم انتشرت في القرن الرابع والخامس وما بعدهما، وسارت الطرق الصوفية على سبيل الرافضة تنشر هذه البدع، وتروِّجها، حتى عمَّت البلوى في كثير من بلاد الإسلام.
هذا من ناحية
…ومن ناحية أخرى: لما عُرّبت كتب اليونان الوثنية، عكف عليها من سُمُّوا بفلاسفة الإسلام كالفارابي (ت 339 هـ) (3) وابن سينا (ت 280 هـ) (4) وغيرهما، فتأثروا بها ونقلوها، وخالفوا طريقة المرسلين، وسايرهم كثير من المتكلمين؛ كالمعتزلة والأشاعرة وغيرهم، فاختلقوا قضايا موهومة؛ ومشاكل أوقعوا أنفسهم فيها، زعماً منهم أنهم دعاة للتوحيد، وحماة لعقائد المسلمين، وحقيقة حالهم لا للفلاسفة كسروا ولا للإسلام نصروا (5)، وكانوا سبب تسلط الفلاسفة عليهم وعلى الإسلام، فلم يعرفوا التوحيد الذي جاءت به الرسل عليهم الصلاة والسلام.
فمن هذه الطرق الرافضة والفلاسفة والمتكلمين والصوفية الخرافية تسربت البدع القبورية إلى بعض المسلمين وكان من أعظم هذه البدع، بل أمُّ هذه البدع الاستغاثة بالأموات، حتى وصل حال الأمة الإسلامية كما وصفها
--------------------------------------------
যখন আব্বাসীয় শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ল, যখন উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য দেখা দিল এবং ধর্মদ্রোহীদের আধিক্য ঘটল—তখন এটি সর্বপ্রথম রাফেজীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত যখন তাদের জন্য কিছু ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল, যেমন বুওয়াইহী রাষ্ট্র এবং ওবায়দী (১) ও ইসমাইলিদের (২) মতো বাতেনী উপদলগুলোর রাষ্ট্রসমূহ। তারা মাজার ও কবরের বিদআত, কবরের নিকট ইবাদত করা, মৃত ব্যক্তির কাছে দুআ করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলো প্রচার করেছিল।
অতঃপর চতুর্থ ও পঞ্চম হিজরী শতাব্দী এবং পরবর্তী সময়ে তা আরও বিস্তৃত হয়। সূফী তরীকাগুলো রাফেজীদের পথ অনুসরণ করে এই বিদআতগুলো প্রচার করতে থাকে এবং এগুলোর প্রসার ঘটায়, ফলে মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে এই বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।
এটি ছিল একদিক থেকে...
আর অন্যদিক থেকে: যখন পৌত্তলিক গ্রীকদের গ্রন্থগুলো আরবিতে অনূদিত হলো, তখন আল-ফারাবি (মৃত্যু ৩৩৯ হি.) (৩) এবং ইবনে সিনা (মৃত্যু ২৮০ হি.) (৪)-এর মতো তথাকথিত 'ইসলামী দার্শনিকরা' সেগুলোর ওপর ঝুঁকে পড়ে। তারা এসব দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তা প্রচার করতে শুরু করে। তারা রাসূলগণের অনুসৃত পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং অনেক কালামশাস্ত্রবিদও তাদের অনুসরণ করেন; যেমন মুতাজিলা, আশারিয়া ও অন্যান্যরা। তারা অনেক কাল্পনিক বিষয় ও জটিল সমস্যা উদ্ভাবন করে যেগুলোর গোলকধাঁধায় তারা নিজেরাই জড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবি ছিল যে তারা তাওহীদের প্রবক্তা এবং মুসলিমদের আকিদার রক্ষক। কিন্তু তাদের প্রকৃত অবস্থা ছিল এমন যে, তারা না পেরেছে দার্শনিকদের পরাজিত করতে, আর না পেরেছে ইসলামকে বিজয়ী করতে (৫)। বরং তারা ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর দার্শনিকদের আধিপত্যের সুযোগ করে দিয়েছিল। তারা সেই তাওহীদ সম্পর্কে অবগত ছিল না যা নিয়ে রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রেরিত হয়েছিলেন।
রাফেজী, দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদ এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন সূফীদের এই সকল পন্থার মাধ্যমেই কবরকেন্দ্রিক বিদআতগুলো কিছু মুসলিমের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে। আর এই বিদআতগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা জঘন্য, বরং সকল বিদআতের মূল হলো মৃতদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা (ইস্তিগাছা)। এমনকি মুসলিম উম্মাহর অবস্থা সেই পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যা বর্ণনা করা হয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإمام العلامة الأمير محمد بن إسماعيل الصنعاني (1) في قصيدته:
أعادوا بها معنى سواع ومثله
… يغوث ووداً ليس ذلك من ود
وقد هتفوا عند الشدائد باسمها
… كما يهتف المضطر بالواحد الصمد
وكم عقروا في سوحها من عقيرة
… أُهِلَّت لغير الله جهلاً على عمد
وكم من طائف حول القبور مقبل
… ومستلم الأركان منهن بالأيدي (2)
نعم هذه حال بعض المنتسبين للإسلام -هداهم الله- يستغيثون بالمقبورين، ويدعونهم من دون الله، ويطوفون بالقبور، ويحجون إليها، ويرون أنهم قد أربوا في الربح على حجاج البيت الحرام.
فعزمت أن يكون موضوع رسالتي للماجستير في هذا المجال، تحقيقاً أو موضوعاً.
وخلال البحث وجدت أن أغلب من كتب في هذا ينقل أو يحيل إلى كتاب عظيم الفائدة غزير المعنى، قد استوفى المسألة بحثاً وتحقيقاً وتحريراً لإمام من أئمة المسلمين وعَلَم من أعلام السنة النبوية، وهو كتاب "الاستغاثة في الرد على البكري" للإمام المجدد شيخ الإسلام تقي الدين أبي العباس أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية (ت 728 هـ) محيي السنة وقامع البدعة، وهو من أوفى الكتب في هذه المسألة (الاستغاثة بالأموات)، ومن أجلّ الكتب التي نافحت عن العقيدة الصحيحة، ودرأت الشبهات الشيطانية، رد فيه شيخ الإسلام على أحد دعاة القبورية في عصره، وهو علي بن يعقوب البكري (ت 724 هـ). ويمكن إيجاز أهمية الكتاب بما يلي:
--------------------------------------------
ইমাম আল্লামা আল-আমির মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আস-সানআনি (১) তাঁর কবিতায় বলেছেন:
এর মাধ্যমে তারা সুওয়া'র তাৎপর্য এবং অনুরূপভাবে
… ইয়াগুস ও ওয়াদকে পুনরুজ্জীবিত করেছে; অথচ এটি প্রকৃত ভালোবাসা নয়।
তারা বিপদের সময় সেটির নাম ধরে আর্তনাদ করেছে
… ঠিক যেভাবে একজন নিরুপায় ব্যক্তি একক অমুখাপেক্ষী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।
তারা এর প্রাঙ্গণে কত যে পশু জবাই করেছে
… যা অজ্ঞতাবশত কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।
কবরের চারপাশে কতই না তওয়াফকারী রয়েছে যারা তা চুম্বন করছে
… এবং হাত দিয়ে কবরের কোণগুলো স্পর্শ করছে। (২)
হ্যাঁ, এটিই ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কিছু লোকের অবস্থা—আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুন—তারা কবরবাসীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ডাকে, কবরের চারপাশ তওয়াফ করে এবং সেখানে হজ্জ করতে যায়; এমনকি তারা মনে করে যে, তারা সওয়াবের দিক থেকে বাইতুল্লাহর হাজীদেরও ছাড়িয়ে গেছে।
তাই আমি সংকল্প করেছিলাম যে, আমার মাস্টার্স থিসিসের বিষয়টি এই ক্ষেত্রে হবে, তা গবেষণামূলক বা বিষয়ভিত্তিক যে কোনো রূপেই হোক না কেন।
গবেষণার সময় আমি লক্ষ্য করেছি যে, যারা এ বিষয়ে লিখেছেন তাদের অধিকাংশই অত্যন্ত উপকারী ও অর্থবহ একটি কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন অথবা সেটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। কিতাবটি মুসলিম উম্মাহর অন্যতম ইমাম এবং সুন্নাহর এক প্রজ্জ্বলিত নক্ষত্র কর্তৃক রচিত, যিনি এই মাসআলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা, বিশ্লেষণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে পরিপূর্ণ করেছেন। কিতাবটি হলো "আল-ইসতিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি", যার রচয়িতা হলেন ইমাম মুজাদ্দিদ শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবন আব্দুল হালীম ইবন তাইমিয়া (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী), যিনি সুন্নাহর পুনর্জীবিতকারী এবং বিদআতের মূলোৎপাটনকারী। মৃত ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চাওয়া (ইসতিগাসা বিল আমওয়াত) সংক্রান্ত মাসআলায় এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রামাণিক গ্রন্থ। সঠিক আকিদার পক্ষে এবং শয়তানি সংশয় নিরসনে এটি এক মহান কিতাব। এতে শায়খুল ইসলাম তাঁর সমসাময়িক কবরপূজার অন্যতম প্রচারক আলী ইবন ইয়াকুব আল-বাকরির (মৃত্যু ৭২৪ হিজরী) জবাব দিয়েছেন। কিতাবটির গুরুত্ব সংক্ষেপে নিম্নরূপ আলোচনা করা যেতে পারে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১০)
أولاً: إنه أول وأفضل كتاب في الرد على من استغاث بالمقبور، وقضية الاستغاثة بالأموات من أهم موضوعات الخلاف بين دعاة التوحيد ودعاة الشرك، بل هي الركيزة الأساسية في الخلاف، فهو كتاب مهم في موضوع هام.
ثانياً: غالب من تكلم في قضية الاستغاثة يرجع إلى هذا الكتاب، ويبلغ النقل أحياناً عدة صفحات متتابعة، ولا يحسن العناية بهذه الكتب دون مصدرها الذي إليه تورد وعنه تصدر.
ثالثاً: ندرة الكتاب في المكتبات، مطالبة كثير من أهل العلم بإخراجه مع سوء الطبعة السابقة وكثرة الأخطاء في الآيات القرآنية والأحاديث النبوية، وكثرة السقط والتحريف والتصحيف، دون أي خدمة أو معالجة، يقابل ذلك كتب أهل البدعة، التي نراها منتشرة ومحققة، ومطبوعة طباعة فاخرة.
رابعاً: على ما في طبعة الكتاب السابقة من تحريف وسقط، ففيها أخطاء علمية كبيرة، منها: عنونة الكتاب بـ "تلخيص كتاب الاستغاثة المعروف بالرد على البكري"، وهذا غير صحيح، فكتاب "تلخيص الاستغاثة" غير "كتاب الرد على البكري"، فالثاني أصل، والأول تلخيص له، فكتاب تلخيص الاستغاثة لابن كثير، والرد على البكري لابن تيمية، فبينهما فرق.
وهذا الخطأ أدى لأخطاء علمية أخرى، فنقل بعض الباحثين من تلخيص الاستغاثة، وجعل المرجع الرد على البكري (1).
كما أن في التلخيص نصوصاً لابن كثير لم يذكرها ابن تيمية إطلاقاً، بل في الأصل ما يخالف أحدها، وقد بينت هذا في الكلام على التلخيص (2).
خامساً: هذا الكتاب كما أنه وضّح أصل بدعة الاستغاثة بالمقبور وبداية وجودها في الأمة الإسلامية، فهو كذلك يعالج كثيراً من البدع المتعلقة بالقبور وغيرها.
--------------------------------------------
প্রথমত: কবরবাসীর নিকট সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা)কারীদের খণ্ডনে এটি প্রথম ও সর্বোত্তম কিতাব। আর মৃতদের নিকট সাহায্য প্রার্থনার বিষয়টি তাওহীদের দাওয়াত দানকারী এবং শিরকের প্রবক্তাদের মধ্যে মতভেদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বরং এটিই এই বিরোধের মূল ভিত্তি। সুতরাং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রচিত একটি তাৎপর্যপূর্ণ গ্রন্থ।
দ্বিতীয়ত: ইস্তিগাসা বা সাহায্য প্রার্থনার বিষয়টি নিয়ে যারা আলোচনা করেছেন, তাদের অধিকাংশ এই কিতাবটিরই শরণাপন্ন হয়েছেন। এমনকি কখনও কখনও উদ্ধৃতিগুলো কয়েক পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তাই এই ধরনের গ্রন্থগুলোর প্রতি সেগুলোর মূল উৎস ব্যতিরেকে যত্নশীল হওয়া সমীচীন নয়, যেখান থেকে এগুলোর উৎপত্তি এবং যার দিকে এগুলো ফিরে যায়।
তৃতীয়ত: পাঠাগারগুলোতে এই কিতাবটির দুষ্প্রাপ্যতা; অনেক আলিম পূর্বের ত্রুটিপূর্ণ মুদ্রণ ও কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহে বিদ্যমান প্রচুর ভুল, অনেক অংশ বাদ পড়া, বিকৃতি এবং শব্দগত ও অর্থগত ভুলের কারণে কিতাবটি নতুনভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষত যখন পূর্বের সংস্করণে কোনো প্রকার সংস্কার বা সম্পাদনা ছিল না। এর বিপরীতে বিদআতিদের কিতাবগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত, সম্পাদিত ও অত্যন্ত চাকচিক্যময়ভাবে মুদ্রিত দেখা যায়।
চতুর্থত: কিতাবটির পূর্ববর্তী সংস্করণে বিদ্যমান বিকৃতি ও বাদ পড়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ইলমী ভুলও রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো: কিতাবটির নামকরণ করা হয়েছে 'তালখিসু কিতাবিল ইস্তিগাসা আল-মা'রুফ বি আর-রদ্দু আলাল বকরি'। অথচ এটি সঠিক নয়। কেননা 'তালখিসুল ইস্তিগাসা' এবং 'কিতাবুর রদ্দু আলাল বকরি' এক নয়। দ্বিতীয়টি হলো মূল গ্রন্থ, আর প্রথমটি হলো তার সংক্ষিপ্তসার। 'তালখিসুল ইস্তিগাসা' ইমাম ইবনে কাসীরের রচিত, আর 'আর-রদ্দু আলাল বকরি' শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহর রচিত; সুতরাং এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এই ভুলটি অন্যান্য ইলমী ভুলের দিকে নিয়ে গেছে। যেমন কোনো কোনো গবেষক 'তালখিসুল ইস্তিগাসা' থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, অথচ রেফারেন্স হিসেবে 'আর-রদ্দু আলাল বকরি'র নাম উল্লেখ করেছেন (১)।
এছাড়া 'তালখিস' বা সংক্ষিপ্তসারটিতে ইবনে কাসীরের এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে যা ইবনে তাইমিয়াহ আদৌ উল্লেখ করেননি। এমনকি মূল কিতাবে এমন কিছু রয়েছে যা সেই বক্তব্যগুলোর কোনো কোনোটির বিপরীত। 'তালখিস' সংক্রান্ত আলোচনায় আমি এটি স্পষ্ট করেছি (২)।
পঞ্চমত: এই কিতাবটি যেমন কবরবাসীর নিকট সাহায্য চাওয়ার বিদআতের মূল উৎস এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এর সূচনালগ্নকে স্পষ্ট করেছে, তেমনি এটি কবর এবং অন্যান্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিদআতেরও প্রতিকার ও খণ্ডন করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১১)
سادساً: إنه من مصنفات إمام له قدم راسخ في العلم والفهم، متحرر من ربقة التقليد والتعصب، وهو شيخ الإسلام بحق. لهذه الأسباب وغيرها، اخترت هذا الكتاب "كتاب الاستغاثة في الرد على البكري لشيخ الإسلام ابن تيمية" تحقيقاً ودراسة، وذلك في أطروحة الماجستير، وقد أيد هذا الاختيار أساتذتي في قسم الثقافة الإسلامية.
وقد واجهتني بعض الصعوبات عند تسجيل الموضوع وعند العمل فيه، منها:
أولاً: إن هذا الكتاب لم يحظ بما حظيت به كتب الشيخ الأخرى من الحفظ والعناية، فقد فُقد منه أوله، وقد بذلت كثيراً من الجهد والوقت في البحث عنه ولم أجد أي ذكر له، ولربما كان هذا سبباً في إعراض كثيرٍ من الباحثين المهتمين بتراث هذا الإمام عن تحقيقه، فأملي من القراء الكرام من وجد شيئاً من ذلك أن يرشدني إليه مشكوراً مأجوراً مجزيّاً من الله خيراً.
ثانياً: عدم ذكر فهارس المخطوطات والمصادر العلمية لهذا الكتاب أو أي معلومات عنه إلا فيما ندر، ويدل على ذلك أن جميع النسخ الخطية التي اعتمدت عليها لم ترد في فهرسٍ متداول.
ثالثاً: عدم تعاون بعض دور المخطوطات.
رابعاً: مع كثرة ما استطعت جمعه من مخطوطات الكتاب إلا أنه وللأسف يوجد فيها سقط وتحريف وتصحيف، وقد أمضيت أوقاتاً طويلة محاولاً إكمال سقط أو إصلاح تحريف؛ أو تصحيف، كما قال بعضهم:
"ولربما أراد مؤلف الكتاب أن يصلح تصحيفاً، أو كلمة ساقطة، فيكون إنشاء عشر ورقات من حر اللفظ، وشريف المعاني، أيسر عليه من إتمام ذلك النقص حتى يرده إلى موضعه من اتصال الكلام" (1).
قلت: هذه الصعوبة على الكاتب نفسه، فكيف بغيره مع بُعد الزمن، وقصور الهمم، وقلة البضاعة.
--------------------------------------------
ষষ্ঠত: এটি এমন একজন ইমামের রচনাবলি থেকে সংকলিত যার জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সুদৃঢ় অবস্থান রয়েছে এবং যিনি অন্ধ অনুকরণ ও গোঁড়ামির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত; তিনি প্রকৃত অর্থেই শাইখুল ইসলাম। এই এবং অন্যান্য কারণে আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘কিতাবুল ইস্তিগাছাহ ফির রাদ্দি আলাল বাকরি’ গ্রন্থটিকে আমার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) থিসিসের জন্য সম্পাদনা ও গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছি। ইসলামিক কালচার বিভাগের আমার শিক্ষকবৃন্দও এই নির্বাচনকে সমর্থন করেছেন।
বিষয়টি নিবন্ধন করার সময় এবং এতে কাজ করার সময় আমি কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: এই কিতাবটি শাইখের অন্যান্য কিতাবের ন্যায় সংরক্ষণ ও গুরুত্বের সুযোগ লাভ করেনি। এর শুরুর অংশটি হারিয়ে গেছে। আমি এটি অনুসন্ধানে প্রচুর শ্রম ও সময় ব্যয় করেছি কিন্তু এর কোনো হদিস পাইনি। সম্ভবত এই ইমামের জ্ঞানতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার নিয়ে আগ্রহী অনেক গবেষকের এটি সম্পাদনা করা থেকে বিমুখ হওয়ার কারণও ছিল এটি। সুতরাং সম্মানীত পাঠকদের প্রতি আমার নিবেদন, কেউ যদি এর কোনো অংশ খুঁজে পান তবে যেন অনুগ্রহপূর্বক আমাকে সে বিষয়ে পথপ্রদর্শন করেন; আল্লাহ তাকে কৃতজ্ঞচিত্তে এর উত্তম প্রতিদান দান করুন।
দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপি তালিকা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎসসমূহে এই কিতাব সম্পর্কে কদাচিৎ ব্যতীত কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই। এর প্রমাণ হলো, আমি যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি তার কোনোটিই প্রচলিত কোনো ক্যাটালগে বা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
তৃতীয়ত: কিছু পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণাগারের অসহযোগিতা।
চতুর্থত: এই কিতাবের যতগুলো পাণ্ডুলিপি আমি সংগ্রহ করতে পেরেছি তা পরিমাণে অধিক হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে সেগুলোতে বিলুপ্তি, বিকৃতি এবং শব্দ-বিভ্রাট বিদ্যমান। কোনো বিলুপ্ত অংশ পূরণ কিংবা কোনো বিকৃতি বা বিভ্রাট সংশোধনের চেষ্টায় আমি দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছি; যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন:
“সম্ভবত কোনো গ্রন্থের লেখক যখন কোনো শব্দ-বিভ্রাট কিংবা বিলুপ্ত শব্দ সংশোধন করতে চান, তখন তার জন্য সাবলীল ভাষায় ও উচ্চাঙ্গের অর্থে দশটি পৃষ্ঠা রচনা করা সেই অপূর্ণতা পূরণ করে আলোচনার যোগসূত্র স্থাপন করার চেয়ে সহজতর হয়” (১)।
আমি বলি: এই কাঠিন্য যদি স্বয়ং লেখকের জন্যই হয়, তবে সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান, সংকল্পের দীনতা এবং ইলমি পুঁজির স্বল্পতাসহ অন্য কারো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومن أهم نتائج هذا البحث، إثبات المؤلف أن الاستغاثة بالأموات قضية مبتدعة لم تعرفها الأمة الإسلامية عدا الشيعة، إلا في نهاية القرن الثالث الهجري، وأن هذه البدعة الشركية بدأت في الأمة بذكر قصص من استغاث بالنبي صلى الله عليه وسلم، ثم صارت إلى ما كان عليه البكري، ومع ذلك لم يستوعب جميع شبهات القبورية.
فهذه القضية عند هؤلاء القوم في توسع مطرد.
وعملي في الكتاب على قسمين:
* القسم الأول: الدراسة:
وبتكون من بابين:
الباب الأول: ترجمة المؤلف وموقف البكري منه.
الباب الثاني: دراسة للكتاب.
* القسم الثاني: تحقيق الكتاب:
وبين يدي التحقيق وصف للنسخ الخطية ومنهج التحقيق، وقد اعتمدت على أربع نسخ، واستفدت من النسخ الأخرى ثم أعقبت ذلك بالفهارس المختلفة.
* منهج التحقيق:
جعلت أقدم هذه النسخ وأفضلها هي الأصل، وهي المحفوظة بجامعة أم القرى، وقارنتها بثلاث نسخ أخرى، وهي نسخة المكتبة السعودية التابعة للإفتاء ورمزت لها بحرف "ف"، ونسخة دارة الملك عبد العزيز وأصلها في مكتبة جامعة الملك عبد العزيز بجدة ورمزت لها بحرف "د"، ونسخة المعهد العلمي بحائل ورمزت لها بحرف "ح".
وقد عرَّفت بالفرق والمذاهب تعريفاً موجزاً، وترجمت لغير المشهورين من الأعلام، وعزوت الآيات والأحاديث وعلقت على بعض المواضع التي أرى أنها تحتاج إلى تعليق، كل ذلك بقدر الطاقة والاستطاعة مع الاختصار قدر الإمكان.
এই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো—লেখক এটি প্রমাণ করেছেন যে, মৃত ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা (ইস্তিগাসা) একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত), যা শিয়া সম্প্রদায় ব্যতীত মুসলিম উম্মাহর নিকট হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগের আগে পরিচিত ছিল না। এই শিরকপূর্ণ বিদআতটি উম্মাহর মাঝে শুরু হয়েছিল মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য প্রার্থনাকারীদের কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনার মাধ্যমে; পরবর্তীতে এটি বকরির অবস্থানের রূপ নেয়। তবে তা সত্ত্বেও তা কবরপূজারীদের সমস্ত সংশয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি।
সুতরাং এই সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতির পর্যায়ে রয়েছে।
এই কিতাবে আমার কাজ দুই ভাগে বিভক্ত:
* প্রথম অংশ: গবেষণা ও বিশ্লেষণ:
যা দুটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবনী এবং তার সম্পর্কে বকরির অবস্থান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কিতাবটির একটি পর্যালোচনামূলক গবেষণা।
* দ্বিতীয় অংশ: কিতাবটির পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (তাহকীক):
সম্পাদনার প্রারম্ভে পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং সম্পাদনা পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। আমি মূলত চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি এবং অন্যান্য প্রতিলিপি থেকেও উপকৃত হয়েছি। পরিশেষে বিভিন্ন নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র সংযোজন করেছি।
* সম্পাদনা পদ্ধতি:
আমি এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম এবং সর্বোত্তমটিকে মূল (আসাস) হিসেবে গ্রহণ করেছি, যা উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। এরপর এটিকে আরও তিনটি প্রতিলিপির সাথে তুলনা করেছি; সেগুলো হলো: ইফতা বিভাগের অধীনস্থ সৌদি লাইব্রেরির প্রতিলিপি—যাকে আমি 'ফা' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি; দারাতে মালিক আবদুল আজিজের প্রতিলিপি যার মূল কপি জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত—যাকে আমি 'দাল' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি; এবং হাইল সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউটের প্রতিলিপি—যাকে আমি 'হা' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
আমি বিভিন্ন দল ও মতবাদগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়েছি, স্বল্প পরিচিত ব্যক্তিদের জীবনী উল্লেখ করেছি, আয়াত ও হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ করেছি এবং যেসব স্থানে ব্যাখ্যা প্রয়োজন মনে করেছি সেখানে টীকা প্রদান করেছি। এই সবকিছুই যথাসম্ভব সংক্ষেপে এবং সাধ্যানুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وبعد، فأشكر الله تعالى وأحمده على ما منّ به ووفَّق، فحقه تعالى أن يذكر فلا يُنسى، ويشكر فلا يُعصى، ثم أشكر والديّ اللذين ربَّياني وأحاطاني بعنايتهما ورعايتهما، ثم أقدم الشكر الجزيل لكل من ساهم أو سأل أو ساعد في هذا البحث، وأخص أساتذتي سعادة الأستاذ الدكتور محمد أبو الغيط الفرت المشرف على الرسالة بوافر الشكر والامتنان، على ما بذله من وقت وجهد.
وأشكر فضيلة شيخنا الأستاذ الدكتور ناصر بن عبد الكريم العقل الأستاذ بكلية أصول الدين بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية على تفضله وتكرمه بقبول مناقشة هذه الرسالة رغم انشغاله وضيق وقته، كما أشكر سعادة أستاذنا الدكتور رزق بن يوسف الشامي الذي أعطاني من وقته وجهده الكثير، وقد كان مع هذه الرسالة منذ كانت فكرة حتى أصبحت رسالة ليتفضل بمناقشتها، فلهم مني جميعاً وافر الشكر والتقدير، وأسأله تعالى أن يجعل العمل لوجهه خالصاً، وأن ينفع به يوم لا ينفع مال ولا بنون.
وحسبي أني بذلت جهدي وطاقتي؛ فإن أصبت فذلك قصدت، والخير أردت، ورجائي ممن يجد ما يفيد الكتاب أن يبعث إليّ مشكوراً.
وما أحسن ما قال الشاعر:
وإن تجد عيباً فسد الخللا
… فجلَّ من لاعيب فيه وعلا
فما كان من صواب فمن الله وحده، هو المانّ به، وما كان فيه من خطأ فمني ومن الشيطان، وأستغفر الله منه.
والله وحده هو المعين والهادي إلى سواء السبيل، وصلَّى الله وسلَّم على نبينا محمد.
অতঃপর, আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া ও প্রশংসা আদায় করছি যা তিনি দান করেছেন এবং যে তাওফিক দিয়েছেন। তাঁর প্রাপ্য হলো তাঁকে স্মরণ করা হবে, বিস্মৃত হওয়া হবে না; তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে, তাঁর অবাধ্যতা করা হবে না। এরপর আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পিতা-মাতার প্রতি, যারা আমাকে লালন-পালন করেছেন এবং তাঁদের যত্ন ও মমতা দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছেন। অতঃপর এই গবেষণায় যারা অবদান রেখেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন কিংবা সাহায্য করেছেন—তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। বিশেষভাবে আমি আমার উস্তাদ শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আবু আল-গাইত আল-ফারত-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তাঁর ব্যয়িত সময় ও মেহনতের জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।
আমি আরও শুকরিয়া আদায় করছি আমাদের সম্মানিত শায়খ প্রফেসর ডক্টর নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আক্বল-এর প্রতি, যিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের শিক্ষক। তাঁর ব্যস্ততা ও সময়ের স্বল্পতা সত্ত্বেও তিনি সদয়ভাবে এই অভিসন্দর্ভটি পর্যালোচনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। একইভাবে আমি ধন্যবাদ জানাই শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর রিজক বিন ইউসুফ আশ-শামীকে, যিনি আমাকে তাঁর প্রচুর সময় ও শ্রম দিয়েছেন। এই অভিসন্দর্ভটির ভাবনার সূচনা থেকে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ পর্যন্ত তিনি সাথে ছিলেন এবং এখন এটি পর্যালোচনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁদের সকলের প্রতি রইল আমার অগাধ কৃতজ্ঞতা ও সম্মান। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে কবুল করেন এবং এমন একদিনে এর দ্বারা উপকৃত করেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না।
আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমি আমার মেধা ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালিয়েছি। যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি, তবে সেটাই ছিল আমার লক্ষ্য এবং আমি কল্যাণই চেয়েছি। যারা এই গ্রন্থে কোনো উপকারী সংশোধনী পাবেন, তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ—তা যেন অনুগ্রহ করে আমাকে অবহিত করেন।
কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:
যদি কোনো ত্রুটি খুঁজে পাও, তবে সেই শূন্যস্থান পূরণ করে দাও
… মহান ও উচ্চমর্যাদাবান তো কেবল তিনিই, যাঁর কোনো ত্রুটি নেই।
যা কিছু সঠিক হয়েছে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, তিনিই তা দান করেছেন। আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আমি সেজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
একমাত্র আল্লাহই সাহায্যকারী এবং সঠিক পথের দিশারী। আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القسم الأول: الدراسةوتتكون من ترجمة مختصرة لشيخ الإسلام ابن تيمية والبكري ودراسة للكتاب
প্রথম অংশ: গবেষণাএটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও আল-বাকরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং গ্রন্থটির একটি পর্যালোচনার সমন্বয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأول: في ترجمة شيخ الإسلام ابن تيمية وترجمة البكريوفيه فصلان:
الفصل الأول: ترجمة مختصرة لشيخ الإسلام ابن تيمية
الفصل الثاني: ترجمة البكري وموقفه من ابن تيمية
প্রথম অধ্যায়: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আল-বকরীর জীবনী প্রসঙ্গেএতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সংক্ষিপ্ত জীবনী
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-বকরীর জীবনী এবং ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি তাঁর অবস্থান
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأول: ترجمة مختصرة لشيخ الإسلام ابن تيميةيعتبر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله من العلماء البارزين، بل لعل تاريخ الإسلام في عصوره الوسطى والأخيرة لم يشهد شخصية أشهر من ابن تيمية، اعترف لها بالفضل الصديق والخصم، وهو أشهر من أن يُعَرَّف به، وقد حظي بتراجم عديدة، مفردة وغير مفردة، كما أن كتبه ورسائله وفتاواه صارت مجالاً خصباً للتأليف والدراسة والنشر والتحقيق، ولم يغفل محققوها وناشروها الترجمة له.
ولذلك يصعب حصر المصادر والمراجع التي تناولت حياته بالشرح والتفصيل فما بالك بالإحاطة بحياة هذا الإمام الفذ. لذا سأقتصر على ترجمة مختصرة.
*
ترجمة موجزة للمؤلف:
اسمه ونسبه ومولده ونشأته:هو شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس، أحمد بن العلامة (شهاب الدين أبي المحاسن) عبد الحليم بن (مجد الدين أبي البركات) عبد السلام بن (أبي محمد) عبد الله بن (أبي القاسم) الخضر بن محمد بن الخضر بن علي بن عبد الله بن تيمية الحراني الدمشقي.
ولد يوم الاثنين العاشر أو الثاني عشر من ربيع الأول سنة (661 هـ) بحران (1)، ولما بلغ من العمر سبع سنين انتقل مع والده إلى دمشق، لسوء أحوال حران وما حولها بعد استيلاء التتار عليها.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীশায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বরেণ্য আলেমগণের অন্তর্ভুক্ত, বরং সম্ভবত মধ্যযুগ ও পরবর্তীকালের ইসলামের ইতিহাসে ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ কোনো ব্যক্তিত্বের দেখা মেলেনি। বন্ধু ও শত্রু নির্বিশেষে সকলেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি পরিচিতি প্রদানের ঊর্ধ্বে প্রসিদ্ধ। তাঁর ওপর একক ও সামগ্রিকভাবে বহু জীবনীগ্রন্থ রচিত হয়েছে। তদুপরি তাঁর লিখিত কিতাবসমূহ, পত্রাবলি ও ফাতাওয়া সংকলনসমূহ রচনা, গবেষণা, প্রকাশনা এবং তাহকিকের (সম্পাদনার) উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আর এগুলোর মুহাক্কিক (সম্পাদক) ও প্রকাশকগণ তাঁর জীবনী উপস্থাপনের বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবহেলা করেননি।
তাই তাঁর জীবন নিয়ে আলোচনা ও বিস্তারিত বিবরণ প্রদানকারী উৎস ও তথ্যসূত্রগুলো সংখ্যাবদ্ধ করা যেমন কঠিন, তেমনি এই অনন্য ইমামের জীবনের আদ্যোপান্ত পরিবেষ্টন করাও অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। অতএব, আমি এখানে কেবল একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকব।
*
লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী:
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও বেড়ে ওঠা:তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম তাক্বিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আল্লামা (শিহাবুদ্দিন আবুল মাহাসিন) আব্দুল হালিম ইবনে (মাজদুদ্দিন আবুল বারাকাত) আব্দুস সালাম ইবনে (আবু মুহাম্মদ) আব্দুল্লাহ ইবনে (আবুল কাসিম) আল-খিজর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-খিজর ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আদ-দিমাশকি।
তিনি ৬৬১ হিজরির ১০ অথবা ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার হাররানে (১) জন্মগ্রহণ করেন। যখন তাঁর বয়স সাত বছর হলো, তখন তাতারীদের আক্রমণের ফলে হাররান ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলে তিনি তাঁর পিতার সাথে দামেস্কে হিজরত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد نشأ في عائلة اشتهرت بالعلم والمكانة، فجده مجد الدين عبد السلام بن عبد الله من العلماء الأعلام، صاحب التصانيف النافعة التي منها: "المنتقى من أحاديث الأحكام"، "والمجرد في الفقه" وغيرهما. ووالده شهاب الدين أبو المحاسن شيخ حران وحاكمها وخطيبها بعد وفاة والده مجد الدين. وإخوته ثلاثة، وهم: بدر الدين أبو القاسم محمد بن خالد الحراني، وشقيقاه: زين الدين عبد الرحمن بن عبد الحليم، وشرف الدين عبد الله بن عبد الحليم، جميعهم اشتهروا بالعلم والفضل.
ففي هذه البيئة العلمية الصالحة كانت نشأة ابن تيمية، وقد بدأ بطلب العلم أولاً على والده وعلماء دمشق، فحفظ القرآن وهو صغير، ودرس الحديث والفقه والأصول والتفسير، وعُرف بالذكاء وقوة الحفظ والنجابة منذ صغره، ثم توسع في دراسة العلوم وتبحر فيها حتى أفتى ودرَّس قبل بلوغ العشرين عاماً، وما لبث أن صار إماماً يعترف له الجهابذة بالعلم والفضل والإمامة، قبل بلوغ الثلاثين من عمره.
*
مكانته ومنزلته:لقد تبوأ شيخ الإسلام ابن تيمية مكانة عظيمة بين علماء عصره، لأسباب منها:
1 - العلم الغزير، فهو إن درّس أو خطب أو أفتى أو كتب رسالة أو كتاباً في أي فن من الفنون أتى بما يفوق علماء عصره، وما يبهر عقولهم.
2 - بُعده عن المناصب أو أخذ رواتب من الدولة، وكان ذلك عن عزم وتصميم، فلم يتول القضاء أو الإمارة أو غيرها، حتى وهو في السجن لم يأكل من الطعام الذي يُحضر له في السجن.
3 - جهاده في سبيل الله، وأمره بالمعروف ونهيه عن المنكر،
--------------------------------------------
তিনি ইলম ও উচ্চ মর্যাদার জন্য সুখ্যাত এক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর দাদা মাজদুদ্দীন আবদুস সালাম ইবনে আবদুল্লাহ ছিলেন অন্যতম বরেণ্য আলেম এবং বহু তালিফাত বা উপকারী গ্রন্থের রচয়িতা; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘আল-মুনতাকা মিন আহাদিসিল আহকাম’ এবং ‘আল-মুজাররাদ ফিল ফিকহ’ ইত্যাদি। তাঁর পিতা শিহাবুদ্দীন আবুল মাহাসিন ছিলেন হাররানের শায়খ, সেখানকার শাসক এবং তাঁর পিতা মাজদুদ্দীনের ইনতিকালের পর সেখানকার খতিব। তাঁর তিনজন ভাই ছিলেন: বদরুদ্দীন আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-হাররানি এবং তাঁর দুই সহোদর ভাই যাইনুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আবদিল হালিম ও শারফুদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল হালিম; তাঁরা সকলেই ইলম ও ফযিলতের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
এই পুণ্যময় ইলমি পরিবেশে ইবনে তাইমিয়্যাহর বেড়ে ওঠা। তিনি প্রথমত তাঁর পিতা ও দামেস্কের উলামায়ে কেরামের নিকট ইলম অর্জন শুরু করেন। শৈশবেই তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং হাদিস, ফিকহ, উসুল ও তাফসির পাঠ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি তীক্ষ্ণ মেধা, স্মরণশক্তির প্রখরতা ও অনন্য প্রতিভার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এরপর তিনি বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় ব্যাপক বুৎপত্তি অর্জন করেন এবং বিশ বছর বয়স হওয়ার পূর্বেই ফতোয়া প্রদান ও পাঠদান শুরু করেন। অনতিবিলম্বে ত্রিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি এমন এক ইমামে পরিণত হন, যাঁর ইলম, ফযিলত ও নেতৃত্বের কথা তৎকালীন বড় বড় বিশেষজ্ঞ আলেমগণ একবাক্যে স্বীকার করতেন।
*
তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান:শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে এক সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন, যার পেছনে অনেকগুলো কারণ ছিল। যেমন:
১ - অগাধ পাণ্ডিত্য: তিনি যখনই পাঠদান করতেন, খুতবা দিতেন, ফতোয়া দিতেন কিংবা কোনো বিষয়ে পত্র বা কিতাব রচনা করতেন, তখন তিনি এমন কিছু উপস্থাপন করতেন যা তাঁর যুগের আলেমদের ছাড়িয়ে যেত এবং তাঁদের বুদ্ধিকে বিমোহিত করে দিত।
২ - রাষ্ট্রীয় উচ্চপদ ও বেতন বর্জন: এটি ছিল তাঁর দৃঢ় সংকল্প ও সিদ্ধান্তের ফল। তিনি বিচারপতির পদ বা শাসনভার কিংবা এ জাতীয় কোনো পদ গ্রহণ করেননি। এমনকি কারাগারে থাকাকালীন তিনি তাঁর জন্য আনা খাবারও গ্রহণ করতেন না।
৩ - আল্লাহর পথে জিহাদ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفضحه أصحاب الحيل الشيطانية، ورده على أهل الأهواء والبدع.
*
جهاده وأمره بالمعروف ونهيه عن المنكر:لقد تميزت حياة ابن تيمية -يرحمه الله- بهذه الميزة العظيمة: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والجهاد في سبيل الله، والكلام حول هذا الجانب يطول، ولكن نشير إلى مسائل مهمة تتعلق بموضوع هذا الكتاب، وهي التطبيق العملي له، فمن ذلك:
1 - كسره للأصنام والأماكن التي تعظّم من دون الله -تعالى-، قال ابن القيم: "وقد كان بدمشق كثير من الأنصاب، فيسَّر الله -سبحانه- كسرها على يد شيخ الإسلام وحزب الله الموحدين، كالعمود المخلق، والنصب الذي كان بمسجد التاريخ من المصلى يعبده الجهال، والنصب الذي كان تحت الطاحون، الذي عند مقابر النصارى، ينتابه الناس للتبرك به، وكان صورة صنم في نهر القلوط ينذرون له ويتبركون به، وقطع الله النصب الذي كان عند الرحبة يسرج عنده، وبتبرك به المشركون وكان عموداً طويلاً على رأسه حجر كالكرة، وعند مسجد درب الحجر نصب قد بني عليه مسجد صغير يعبده المشركون يسر الله كسره" (1).
وله مواقف عظيمة في جهاد التتار والنصارى، وطوائف من ضلَّال المسلمين من الفلاسفة والمتكلمين والرافضة والباطنية والصوفية وغيرهم. وقد فضح هذه الطوائف وبيّن ضلالها بقلمه ولسانه، وجاهدهم بيده.
والمطلع على هذا الجانب من حياة الشيخ يكاد يجزم بأنه لم يبق له من وقته فُضلة، وقد حورب وأوذي وسجن مرات في سبيل الله، حتى وافته منيته مسجوناً.
ولا تزال بحمد الله ردود الشيخ سلاحاً فعالاً ضد أعداء الحق ودعاة
--------------------------------------------
এবং তিনি শয়তানি চক্রান্তকারীদের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন এবং প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের খণ্ডন করেছেন।
*
তাঁর জিহাদ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ:ইবনে তাইমিয়া -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- এর জীবন এই মহান বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অনন্য হয়ে উঠেছে: সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং আল্লাহর পথে জিহাদ। এই দিকটি নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ, তবে আমরা এই গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করব, যা মূলত এর বাস্তব প্রয়োগ। তার মধ্যে রয়েছে:
১ - মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য যাদের উপাসনা বা সম্মান প্রদর্শন করা হতো, সেই সকল মূর্তি এবং স্থানসমূহ তাঁর চূর্ণ করা। ইবনুল কায়্যিম বলেন: "দামেস্কে এমন অনেক বেদী বা মূর্তি ছিল, যা মহান আল্লাহ শাইখুল ইসলাম এবং আল্লাহর একত্ববাদী বাহিনীর মাধ্যমে ধ্বংস করা সহজ করে দিয়েছিলেন। যেমন সুগন্ধি মাখানো স্তম্ভ, মাসজিদুত তারিখের সেই বেদী যা মূর্খরা পূজা করত, জাঁতাকলের নিচে অবস্থিত সেই বেদী যা খ্রিষ্টানদের কবরস্থানের কাছে ছিল এবং মানুষ বরকত হাসিলের জন্য সেখানে যাতায়াত করত। কালুত নদীতে একটি মূর্তির প্রতিকৃতি ছিল যার নামে তারা মানত করত এবং বরকত গ্রহণ করত। আর আল্লাহ সেই বেদীটি অপসারিত করেছেন যা রাহবাহ এলাকায় ছিল, যেখানে প্রদীপ জ্বালানো হতো এবং মুশরিকরা বরকত নিত; এটি ছিল একটি দীর্ঘ স্তম্ভ যার মাথায় গোল বলের মতো একটি পাথর ছিল। এছাড়া মাসজিদে দারবুল হাজারের কাছে একটি বেদী ছিল যার ওপর একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল এবং মুশরিকরা তার পূজা করত; আল্লাহ সেটি ভাঙার কাজ সহজ করে দিয়েছিলেন।" (১)।
তাতার ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদের ক্ষেত্রে এবং পথভ্রষ্ট মুসলিম দল যেমন— দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদ, রাফেজি, বাতিনি, সুফি এবং অন্যদের বিরুদ্ধে তাঁর মহান ভূমিকা রয়েছে। তিনি তাঁর কলম ও জিহ্বা দ্বারা এই দলগুলোর মুখোশ উন্মোচন করেছেন এবং তাদের ভ্রষ্টতা স্পষ্ট করেছেন, আর নিজ হাতে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন।
শাইখের জীবনের এই দিকটি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলতে পারেন যে, তাঁর হাতে কোনো অতিরিক্ত সময় অবশিষ্ট ছিল না। আল্লাহর পথে তাঁকে বারবার বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, কষ্ট সইতে হয়েছে এবং কারাবরণ করতে হয়েছে, এমনকি বন্দি অবস্থায়ই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আল্লাহর প্রশংসায়, শাইখের দেওয়া জবাবগুলো আজও সত্যের শত্রু এবং ভ্রষ্টতার প্রবক্তাদের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর অস্ত্র হিসেবে টিকে আছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২২)
البدع، لأنها تستند على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وهدي السلف، مع قوة الاستنباط والاستدلال والاحتجاج بالشرع والعقل، مع إنصاف وعدل.
وردود الشيخ كما كانت رداً شافياً وقوياً وتقويماً لضلال فرق عصره رحمه الله فهي رد على امتداد هذه الفرق في هذا العصر، ولذلك فإن كثيراً ممن قام بالرد على أي فرقة لا بد أنه استفاد من كتابات الشيخ وردوده.
*
محنته وسجونه:امتحن شيخ الإسلام ابن تيمية محناً عديدة، ما تكاد تنتهي محنة حتى تبدأ محنة جديدة، إلى أن لقي ربه وهو في سجن القلعة بدمشق.
ولعل من أعظم أسباب هذه المحن عداء بعض العلماء والقضاة له؛ لمواقفه العظيمة؛ ووجاهته عند الناس؛ وتشرّب كثير منهم بالبدع: من بدع الفلاسفة وأهل الكلام أو القبورية والصوفية، وأول هذه المحن محنته بسبب الفتوى الحموية (1)، ثم محنته ومناظرته حول الفتوى الواسطية (2)، وهما في تقرير مذهب السلف في الصفات والرد على المتكلمين، لذا لم يكن للصوفية دور بارز فيهما، وإنما كان لبعض رجالاتهم سعي لدى السلطان؛ لامتحان الشيخ مرة بعد أخرى.
ثم كان امتحان الشيخ وذهابه إلى مصر وسجنه بالجب ثمانية عشر شهراً، أما محنته مع الصوفية ففي مصر بعد خروجه من السجن وبقائه فيها، كان يتطرق إلى جوانب عقدية تمس أحوال الصوفية وبدعهم؛ فقام نصر
--------------------------------------------
বিদআতসমূহ; কারণ এগুলোর ভিত্তি হলো আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ এবং সালাফদের আদর্শ। এর পাশাপাশি রয়েছে শরয়ি ও যৌক্তিক দলিলের মাধ্যমে শক্তিশালী উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত), প্রমাণ উপস্থাপন ও বিতর্ক এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচার।
শাইখের খণ্ডনমূলক লেখাগুলো যেমন তাঁর যুগের ভ্রান্ত দলগুলোর জন্য একটি নিরাময়মূলক, শক্তিশালী ও সংশোধনকারী জবাব ছিল (রাহিমাহুল্লাহ), তেমনিভাবে তা বর্তমান যুগেও সেই দলগুলোর উত্তরসূরিদের জন্য একটি সমুচিত জবাব। আর এই কারণেই, যারা যে কোনো ভ্রান্ত দলের প্রতিবাদে কাজ করেছেন, তাদেরকে অবশ্যই শাইখের লেখা ও তাঁর খণ্ডনগুলো থেকে উপকৃত হতে হয়েছে।
*
তাঁর পরীক্ষা ও কারাবাস:শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বহুবার কঠিন পরীক্ষার (মুহনা) সম্মুখীন হয়েছেন। একটি পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই আরেকটি নতুন পরীক্ষা শুরু হতো; এভাবে দামেস্কের দুর্গ কারাগারে বন্দি অবস্থায় তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান।
সম্ভবত এই পরীক্ষাগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কিছু আলিম ও বিচারকের তাঁর প্রতি শত্রুতা; যা ছিল তাঁর মহান অবস্থান, জনগণের নিকট তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং তাদের অনেকের বিদআতে নিমজ্জিত হওয়ার কারণে—যেমন দার্শনিকদের বিদআত, ইলমুল কালামের অনুসারীদের বিদআত অথবা কবরপূজারী ও সূফীদের বিদআত। এই পরীক্ষাগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল 'ফাতাওয়া হামাউয়্যাহ' (১) কেন্দ্রিক। এরপর ছিল 'ফাতাওয়া ওয়াসিতিয়্যাহ' (২) সংক্রান্ত পরীক্ষা ও মুনাজারা (বিতর্ক)। এই উভয় ফাতাওয়া ছিল আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে সালাফদের মাযহাব প্রতিষ্ঠা এবং ইলমুল কালামের অনুসারীদের খণ্ডন বিষয়ে। ফলে এই দুই ঘটনায় সূফীদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল না; তবে তাদের মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তি সুলতানের নিকট বারবার শাইখকে পরীক্ষা করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছিল।
অতঃপর শাইখের পরীক্ষা এবং মিশরে গমন ও সেখানে আঠারো মাস 'জুব' (কূপ-সদৃশ অন্ধকার কুঠুরি) কারাগারে বন্দি থাকার ঘটনা ঘটে। আর সূফীদের সাথে তাঁর পরীক্ষাটি হয়েছিল মিশরে, কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সেখানে অবস্থানকালে। তিনি সূফীদের অবস্থা ও তাদের বিদআত সংশ্লিষ্ট আকিদাগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেন; তখন নাসর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المنبجي (1) وابن عطاء الله السكندري (2) -وللبكري دور فيها- بإثارة أتباعهم من المتصوفة، فاجتمع خلق كثير منهم؛ من أهل الخوانق والربط والزوايا واتفقوا أن يشكوا الشيخ إلى السلطان، فطلع منهم خلق كثير إلى القلعة وكانت لهم ضجة شديدة لفتت انتباه السلطان، واستعانوا عليه بالأمراء وغيرهم، وذلك في شوال سنة 707 هـ.
فأمر السلطان أن يُعقد له مجلس، فَعُقِد له مجلس يوم الثلاثاء العاشر من شهر شوال سنة 707 هـ، وادعى عليه ابن عطاء بأشياء، فلم يثبت عليه منها شيء، لكنه قال: "لا يستغاث إلا بالله، لا يستغاث بالنبي استغاثة بمعنى العبارة، ولكن يتوسل به، ويستشفع به إلى الله"، فبعض الحاضرين قال: ليس عليه في هذا شيء، ورأى القاضي بدر الدين بن جماعة (3) أن هذا فيه قلة أدب، فحضرت رسالة إلى القاضي أن يعمل معه ما تقتضيه الشريعة، فقال القاضي: "قد قلت له ما يقال لمثله"، ثم جاء الأمر من الدولة أن يخيّر بين أن يسير إلى دمشق أو الإسكندرية بشروط أو الحبس، فاختار الحبس، فدخل عليه جماعة في السفر إلى دمشق ملتزماً ما شرط، فأجاب أصحابه إلى ما اختاروا جبراً لخواطرهم، ثم لما سافر ليلة 18 شوال من السنة نفسها، رُد من الطريق وقيل: "إن الدولة ما ترضى إلا بالحبس"، فقال القاضي ابن جماعة: "وفيه
--------------------------------------------
আল-মানবিজি (১) এবং ইবনে আতাউল্লাহ আল-ইসকান্দারি (২) -এতে আল-বাকরিরও ভূমিকা ছিল- তাদের সুফি অনুসারীদের উত্তেজিত করার মাধ্যমে এক বিশাল সমাবেশ ঘটান; যাদের মধ্যে খানকাহ, রিবাত ও জাউইয়া সমূহের অসংখ্য লোক একত্রিত হয়। তারা শায়খের বিরুদ্ধে সুলতানের কাছে অভিযোগ করার বিষয়ে একমত হন। ফলে তাদের এক বিশাল জনতা দুর্গের দিকে অগ্রসর হয় এবং তারা প্রচণ্ড শোরগোল সৃষ্টি করে যা সুলতানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারা আমীর ও অন্যদের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করে। এটি ৭০৭ হিজরি সালের শাওয়াল মাসের ঘটনা।
অতঃপর সুলতান নির্দেশ দিলেন যেন তার জন্য একটি বিচারসভা গঠন করা হয়। ফলে ৭০৭ হিজরি সালের ১০ই শাওয়াল মঙ্গলবার সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইবনে আতাউল্লাহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ আনেন, কিন্তু তার কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। তবে তিনি (শায়খ) বলেন: "আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাছা) করা যাবে না। নবীজির কাছে শব্দগত অর্থে সাহায্য প্রার্থনা করা যাবে না, তবে তার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে উসিলা ধরা যাবে এবং তার শাফায়াত কামনা করা যাবে।" উপস্থিতদের কেউ কেউ বললেন: এতে তার কোনো দোষ নেই। কিন্তু বিচারক বদরুদ্দিন বিন জামাআ (৩) মনে করলেন যে, এতে শিষ্টাচারের অভাব রয়েছে। অতঃপর বিচারকের কাছে একটি বার্তা পৌঁছাল যেন তিনি তার সাথে শরিয়তসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিচারক বললেন: "তার মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে যা বলা প্রয়োজন, আমি তা বলেছি।" এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ এল যে, তাকে দামেস্ক অথবা ইসকান্দারিয়া (নির্দিষ্ট শর্তে) গমন অথবা কারাবরণের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। তিনি কারাবরণই বেছে নিলেন। কিন্তু তার কিছু অনুসারী এসে তাকে শর্ত মেনে দামেস্কে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন, তাই তিনি তাদের মন রক্ষার্থে তাদের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিলেন। অতঃপর সেই বছরের ১৮ই শাওয়াল রাতে যখন তিনি রওয়ানা হলেন, পথিমধ্যেই তাকে ফিরিয়ে আনা হলো এবং বলা হলো: "প্রশাসন কারাবরণ ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট নয়।" তখন বিচারক ইবনে জামাআ বললেন: "আর এতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مصلحة له"، واستناب ابن جماعة بعض القضاة أن يحكموا فيه بالحبس فامتنع أحدهم وتحير الآخر، فلما رأى الشيخ توقفهم في حبسه قال: "أنا أمضي إلى الحبس وأتبع ما تقتضيه المصلحة"، فأرسل إلى حبس القضاة وأذن له بأن يكون معه من يخدمه، وكان ذلك كله بإشارة نصر المنبجي لوجاهته في الدولة، فإنه كان قد استحوذ على عقل الجاشنكير (1) الذي تسلطن فيما بعد.
واستمر الشيخ في الحبس يستفتى؛ ويقصده الناس ويزورونه، وتأتيه الفتاوى المشكلة، ثم عقد له مجلس بالصالحية بعد ذلك كله، ونزل الشيخ بالقاهرة وأكب الناس على الاجتماع به (2).
فلما كثر اجتماع الناس بالشيخ وترددهم عليه ساء ذلك أعداءه وحصرت صدورهم؛ وصاحب ذلك تسلطن الجاشنكير تلميذ نصر المنبجي، وكان شيخ الإسلام ابن تيمية ينال من الجاشنكير؛ ومن شيخه نصر المنبجي، ويتكلم في ابن عربي وأتباعه.
فقرروا أن يسيِّروه إلى الإسكندرية كهيئة المنفي؛ -في نهاية شهر صفر سنة 709 هـ- ومنعوا أن يذهب معه أحد من أصحابه رجاء أن يقتل، وأقام بثغر الإسكندرية في برج مليح واسع؛ يتردد عليه الناس وقد لحق به أصحابه، وبقي ثمانية أشهر، فلما رجع السلطان الناصر إلى الحكم وقدم مصر في يوم عيد الفطر 709 هـ؛ لم يكن له دأب إلا طلب الشيخ ابن تيمية من الإسكندرية، فقدم إليه في الثامن من شهر شوال.
وبقي الشيخ في القاهرة إلى سنة 712 هـ، حيث خرج لجهاد التتر صحبة
--------------------------------------------
"তার জন্য কল্যাণকর," এবং ইবনে জামাআহ কতিপয় বিচারককে তার বিষয়ে কারাদণ্ডের ফয়সালা দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন। ফলে তাদের একজন অস্বীকৃতি জানালেন এবং অন্যজন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। যখন শায়খ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) তার কারাবাসের বিষয়ে তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি কারাগারেই যাচ্ছি এবং জনকল্যাণ যা দাবি করে তা-ই অনুসরণ করছি।" অতঃপর তাকে বিচারকদের কারাগারে পাঠানো হলো এবং তাকে একজন খাদেম সাথে রাখার অনুমতি দেওয়া হলো। এই পুরো বিষয়টি ঘটেছিল নসর আল-মানবিজির ইঙ্গিতে, কারণ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার বিশেষ প্রভাব ছিল; তিনি জাশানকিরের (১) চিন্তাধারাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলেন, যিনি পরবর্তীকালে সুলতান হয়েছিলেন।
শায়খ কারাগারে থাকা অবস্থাতেও তার কাছে ফতোয়া জানতে চাওয়া হতো; মানুষ তার কাছে আসত এবং তার সাথে সাক্ষাৎ করত। তার কাছে অত্যন্ত জটিল সব ফতোয়া বা মাসআলা পাঠানো হতো। এরপর এই সব ঘটনার পর সালিহিয়্যাহতে তার জন্য একটি মজলিস বা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর শায়খ কায়রোতে অবস্থান করেন এবং মানুষ তার সাথে সাক্ষাতের জন্য ভিড় জমাতে থাকে (২)।
যখন শায়খের কাছে মানুষের সমাগম ও যাতায়াত বৃদ্ধি পেল, তখন তার শত্রুরা এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলো এবং তাদের অন্তর সংকীর্ণ হয়ে উঠল। একই সময়ে নসর আল-মানবিজির শিষ্য জাশানকির সুলতান হিসেবে ক্ষমতা দখল করেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ জাশানকির ও তার পীর নসর আল-মানবিজির সমালোচনা করতেন এবং ইবনে আরাবি ও তার অনুসারীদের (ভ্রান্ত) মতবাদ সম্পর্কে আলোচনা করতেন।
তারা তাকে নির্বাসিত করার ন্যায় আলেকজান্দ্রিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল—৭০৯ হিজরির সফর মাসের শেষের দিকে—এবং তার কোনো সঙ্গীকে তার সাথে যাওয়ার অনুমতি দিল না এই আশায় যে, তাকে যেন হত্যা করা হয়। তিনি আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরের একটি প্রশস্ত ও সুন্দর দুর্গে অবস্থান করেন। সেখানে মানুষ তার কাছে যাতায়াত শুরু করে এবং পরে তার সঙ্গীরাও তার সাথে মিলিত হন। তিনি সেখানে আট মাস অবস্থান করেন। অতঃপর যখন সুলতান নাসির পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসেন এবং ৭০৯ হিজরির ঈদুল ফিতরের দিনে মিশরে পদার্পণ করেন, তখন আলেকজান্দ্রিয়া থেকে শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহকে ফিরিয়ে আনা ছাড়া তার আর কোনো বড় কাজ ছিল না। অতঃপর শায়খ শাওয়াল মাসের আট তারিখে তার দরবারে উপস্থিত হন।
শায়খ ৭১২ হিজরি পর্যন্ত কায়রোতে অবস্থান করেন, যখন তিনি তাতারীদের বিরুদ্ধে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الجيش المصري؛ وقدم دمشق أول ذي القعدة سنة 712 هـ (1)، ثم سجن الشيخ وامتحن بسبب فتواه في الطلاق باعتبار الثلاث بكلمة واحدة طلاقاً رجعياً، في الثاني والعشرين من شهر رجب سنة 719 هـ (2).
ثم كانت أعظم المحن التي مرت على الشيخ وأتباعه، وهي محنته بسبب فتواه في شد الرحال إلى القبور، وقد كُذِبَ عليه فيها وحرِّفت، حتى جاء مرسوم السلطان بإقامته في القلعة في السادس من شهر شعبان سنة 726 هـ، وسجن جماعة من أتباعه وضيِّق عليهم، وعزر جماعة منهم على دواب، ونودي عليهم، ثم أطلقوا؛ سوى ابن القيم الذي حبس في القلعة، ثم أخرج ما عند الشيخ من الكتب بأمر السلطان، وصار يكتب رسائله بالفحم، فكان ذلك من أعظم المصائب عليه (3) حتى مات -يرحمه الله- في الحبس.
ولا يخفى دور الصوفية والرافضة في هذه المحنة، وقد انتصر له كثير من العلماء: من علماء الشام وبغداد وغيرهم، وكتبوا بما يوافق قوله في المسألة (4)، وكان له رحمه الله دور إيجابي في هذه المحن، من الثبات على الحق وتحويل جو المحنة إلى خدمة المبدأ الذي يدعو إليه (5).
*
مؤلفاته ورسائله:كتب ابن تيمية ورسائله كثيرة جداً يصعب حصرها والإحاطة بها، وقد ضاع بعضها، وفقدت أجزاء من بعضها الآخر -مثل كتاب الاستغاثة-، لأن هذه المحن التي مر بها هو وأتباعه لا بد أن تنال كتبه ورسائله، وقد وصل الأمر إلى أن يخاف أتباعه أن يظهروا كتبه (6).
--------------------------------------------
মিশরীয় বাহিনী; তিনি ৭১২ হিজরি সনের যিলকদ মাসের শুরুতে দামেশকে আগমন করেন (১), অতঃপর ৭১৯ হিজরি সনের ২২শে রজব মাসে তালাক সংক্রান্ত ফতোয়ার কারণে শায়খকে কারারুদ্ধ ও পরীক্ষা করা হয়, যেখানে তিনি এক শব্দে তিন তালাককে একটি 'তালাকে রাজঈ' (প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাক) হিসেবে গণ্য করেছিলেন (২)।
এরপর শায়খ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর আসা সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি শুরু হয়; আর তা হলো কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা (শাদ্দুর রিহাল) সংক্রান্ত তাঁর ফতোয়ার কারণে সৃষ্ট পরীক্ষা। এ বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও বিকৃতি করা হয়েছিল, এমনকি ৭২৬ হিজরি সনের ৬ই শাবান দুর্গে তাঁর অবস্থানের সুলতানি ফরমান জারি হয়। তাঁর একদল অনুসারীকে কারারুদ্ধ ও অবরুদ্ধ করা হয়, তাদের অনেককে পশুর ওপর চড়িয়ে প্রকাশ্যে শাস্তি (তা'যীর) দেওয়া হয় এবং তাদের নিন্দা করা হয়। পরে ইবনুল কাইয়্যিম ব্যতীত সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়, যাকে দুর্গে বন্দী রাখা হয়েছিল। এরপর সুলতানের আদেশে শায়খের কাছে থাকা বইপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে তিনি কয়লা দিয়ে তাঁর পত্রসমূহ লিখতে শুরু করেন, যা তাঁর জন্য ছিল অন্যতম বড় বিপদ (৩), অবশেষে তিনি বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন - আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে সুফি ও রাফেযিদের ভূমিকা কারো অজানা নয়। সিরিয়া, বাগদাদ ও অন্যান্য অঞ্চলের বহু আলেম তাঁর সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁরা এই মাসআলায় তাঁর মতের সপক্ষে কলম ধরেন (৪)। এই কঠিন পরীক্ষাগুলোতে তাঁর (রহ.) এক ইতিবাচক ভূমিকা ছিল; সত্যের ওপর অটল থাকা এবং পরীক্ষার পরিবেশকে তাঁর দাওয়াতী আদর্শের সেবায় রূপান্তর করা (৫)।
*
তাঁর রচনাবলি ও পত্রসমূহ:ইবনে তাইমিয়ার কিতাব ও পত্রের সংখ্যা এতই বেশি যে তা গণনা করা বা আয়ত্ত করা কঠিন। এর কিছু অংশ বিলীন হয়ে গেছে এবং অন্য কিছুর কিছু অংশ হারিয়ে গেছে—যেমন 'কিতাবুল ইস্তিগাসা'—কারণ তিনি এবং তাঁর অনুসারীরা যে অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, তাতে তাঁর কিতাব ও পত্রসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অনিবার্য ছিল। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাঁর অনুসারীরা তাঁর বইপত্র প্রকাশ করতে ভয় পেতেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ونقصر الكلام هنا على بعض مؤلفاته التي أفردها في الاستغاثة والتوسل وبدع القبور، منها:
1 - رسالة الاستغاثة:
وهي جواب مختصر في حكم الاستغاثة برسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد طبعت عدة طبعات (1)، وهذه الرسالة هي الأساس لكتابنا الذي نحن بصدد دراسته وتحقيقه، فقد رد البكرى على هذه الرسالة فرد عليه ابن تيمية بهذا الكتاب.
ونقل ابن تيمية غالب هذه الرسالة في كتابه قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة (2)، وفي هذا الكتاب أيضاً (3)، وقد كتبها سنة 711 هـ في مصر قال: "وكنت وأنا بالديار المصرية في سنة 711 هـ قد استُفتيتُ عن التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم
… " (4).
2 - رسالة أخرى:
وهي جواب عن سؤال أطول من السؤال السابق، ويظهر أن السائل من تلاميذ ابن تيمية، ويشير إلى كلام البكري دون ذكر اسمه، ويذكر أقواله مثل: "تكفير من منع الاستغاثة بالنبي صلى الله عليه وسلم"، وفي السؤال أيضاً بعض أقوال ابن تيمية من كتاب الرد على البكري.
وقد أجاب الشيخ على السؤال أيضاً دون ذكر للبكري، ولكن يظهر من ألفاظ الجواب وكأنها مختصرة من هذا الكتاب، ولم يذكر لها عنواناً أو تاريخ تأليف، ولكن من المؤكد أنها بعد الرسالة السابقة وردِّ البكري عليها (5).
--------------------------------------------
আমরা এখানে তাঁর রচিত কিছু গ্রন্থের মধ্যে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব যা তিনি ইস্তিগাসা (সাহায্য প্রার্থনা), তাওয়াসসুল (উসিলা গ্রহণ) এবং কবরের বিদআত সম্পর্কে স্বতন্ত্রভাবে রচনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - রিসালাতুল ইস্তিগাসা:
এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে ইস্তিগাসা করার বিধান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর। এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে (১)। এই রিসালা বা পুস্তিকাটিই আমাদের এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি যা আমরা এখন অধ্যয়ন ও সম্পাদনা (তাহকীক) করছি। আল-বাকরী এই পুস্তিকাটির প্রতিবাদ করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে ইবনে তাইমিয়্যাহ এই গ্রন্থটির মাধ্যমে তাঁর জবাব দেন।
ইবনে তাইমিয়্যাহ এই পুস্তিকাটির অধিকাংশ অংশ তাঁর 'কায়েদাতুন জালীলতুন ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসীলাহ' (২) গ্রন্থে এবং এই গ্রন্থেও (৩) উদ্ধৃত করেছেন। তিনি এটি ৭১১ হিজরীতে মিশরে অবস্থানকালে লিখেছিলেন। তিনি বলেন: "৭১১ হিজরীতে আমি যখন মিশরে ছিলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাওয়াসসুল সম্পর্কে আমার কাছে ফতোয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল..." (৪)।
২ - অন্য একটি পুস্তিকা:
এটি পূর্ববর্তী প্রশ্নের চেয়ে দীর্ঘতর একটি প্রশ্নের উত্তর। প্রতীয়মান হয় যে, প্রশ্নকারী ইবনে তাইমিয়্যাহর ছাত্রদের একজন ছিলেন। এতে তিনি নাম উল্লেখ না করেই আল-বকরীর বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং তাঁর কিছু উক্তি উল্লেখ করেছেন, যেমন: "যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে ইস্তিগাসা করাকে নিষেধ করে তাকে কাফির ঘোষণা করা"। প্রশ্নে 'আর-রাদ্দু আলাল বকরী' গ্রন্থ থেকে ইবনে তাইমিয়্যাহর কিছু বক্তব্যও উদ্ধৃত হয়েছে।
শায়খ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) আল-বকরীর নাম উল্লেখ না করেই প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন। তবে উত্তরের শব্দাবলী দেখে প্রতীয়মান হয় যে এটি যেন এই গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্তসার। তিনি এর জন্য কোনো শিরোনাম বা রচনার তারিখ উল্লেখ করেননি। তবে এটি নিশ্চিত যে, এটি পূর্ববর্তী পুস্তিকা এবং তার ওপর বকরীর প্রতিবাদের পর রচিত হয়েছে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3 - قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة:
وهذا الكتاب من أهم كتب شيخ الإسلام في هذه القضية، وغالبه عن التوسل: أنواعه، وحكم كل نوع وأدلته، ورد على أدلة المخالفين له، والفرق بين التوسل والاستغاثة والشفاعة والدعاء وما بين هذه الأنواع من الفروق، وغير ذلك، وكما سبق فقد ضمنه أجزاء من رسالة الاستغاثة.
وقد ألفه بالشام بعد سنة 712 هـ لقوله: "وكنت وأنا بالديار المصرية في سنة 711 هـ" (1).
ويلاحظ أن كثيراً من القضايا التي أوردها المؤلف في هذا الكتاب، أوردها في كتاب الاستغاثة في الرد على البكري مختصرة جداً (2)، وقد جائت في التلخيص أيضاً مخنصرة (3).
4 - كتاب "الاستغاثة في الرد على البكري" وهو كتابنا الذي نحن بصدده.
5 - "قاعدة في التوسل": وهي، غير الكتاب السابق، محفوظة في المكتبة الظاهرية ضمن مجاميع في 16 ورقة، وله نسخة في الجامعة الإسلامية برقم 1052 (4).
6 - وكتاب "الرد على الأخنائي": وهو في الرد على القاضي تقي الدين المالكي، في مسألة شد الرحال، وقد طبع عدة مرات، وهو آخر كتبه التي ألفها (5).
--------------------------------------------
৩ - তাওয়াসসুল ও ওয়াসিলা সংক্রান্ত একটি মহান মূলনীতি (কায়েদা জালিলা ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলা):
এই বিষয়টি নিয়ে শাইখুল ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো এটি। এর অধিকাংশ আলোচনা তাওয়াসসুল সংক্রান্ত: এর প্রকারভেদ, প্রতিটি প্রকারের বিধান ও তার দলিলসমূহ এবং তাঁর বিরোধীদের উপস্থাপিত দলিলের খণ্ডন। এছাড়া তাওয়াসসুল, ইস্তিগাসা (সাহায্য প্রার্থনা), শাফাআত ও দোয়ার মধ্যকার পার্থক্য এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলোর সূক্ষ্ম পার্থক্য এতে বর্ণিত হয়েছে। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি এতে 'রিসালাতুল ইস্তিগাসা'র কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তিনি এটি ৭১২ হিজরির পর সিরিয়ায় (শাম) থাকাকালীন রচনা করেছেন; কারণ তিনি এতে বলেছেন: "আমি যখন ৭১১ হিজরিতে মিশরে অবস্থান করছিলাম" (১)।
এটি লক্ষ্যণীয় যে, লেখক এই কিতাবে যে সকল মাসআলা উল্লেখ করেছেন, তার অনেকগুলোই আল-বাকরির খণ্ডনে রচিত 'ইস্তিগাসা' গ্রন্থে অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন (২), এবং 'আত-তালখিস' গ্রন্থেও তা সংক্ষেপে এসেছে (৩)।
৪ - "আল-ইস্তিগাসা ফির-রাদ্দি আলাল বাকরি" গ্রন্থ: এটিই আমাদের আলোচ্য মূল গ্রন্থ।
৫ - "কায়েদা ফিত তাওয়াসসুল": এটি পূর্বোক্ত কিতাবটি থেকে ভিন্ন। এটি জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে ১৬ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত আছে এবং মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর একটি অনুলিপি রয়েছে (নম্বর ১০৫২) (৪)।
৬ - "আর-রাদ্দু আলাল আখনায়ি" গ্রন্থ: এটি মূলত 'শাদ-দুর রিহাল' (কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর) সংক্রান্ত মাসআলায় কাযী তাকিউদ্দীন আল-মালিকির খণ্ডনে লিখিত। এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি তাঁর রচিত সর্বশেষ কিতাবসমূহের একটি (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
7 - وكتاب "الجواب الباهر في زوار المقابر": كتبه للسلطان في زيارة القبور وما كُذبَ عليه فيها، وهو مطبوع ضمن مجموع الفتاوى، وله طبعة مستقلة في مجلد.
8 - "ومختصر الأخنائية": وهو مختصر الرد على الأخنائي، وهو مطبوع ضمن مجموع الفتاوى.
وله رسائل وأجوبة صغيرة أخرى في هذا الموضوع.
*
وفاته:توفي الشيخ -يرحمه الله- وهو مسجون بسجن القلعة بدمشق ليلة الاثنين 20 من شهر ذي القعدة سنة 728 هـ، أثر مرض ألم به أياماً يسيرة.
وقد اعتبر المؤرخون جنازة ابن تيمية من الجنائز المشهورة النادرة، فيشبهونها بجنازة الإمام أحمد بن حنبل. وقد هبَّ كل أهل دمشق ومن حولها للصلاة عليه وتشييع جنازته رحمه الله وجزاه عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء (1).
--------------------------------------------
৭ - এবং "আল-জওয়াবুল বাহের ফি যুওয়ারিল মাকাবির" (কবর যিয়ারতকারীদের বিষয়ে প্রোজ্জ্বল উত্তর) গ্রন্থ: এটি তিনি সুলতানের নিকট কবর যিয়ারত এবং এই বিষয়ে তাঁর নামে যা মিথ্যা রটানো হয়েছে সে সম্পর্কে লিখেছেন। এটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে এবং এক খণ্ডে এর একটি স্বতন্ত্র সংস্করণও রয়েছে।
৮ - "মুখতাসারুল আখনাইয়্যাহ": এটি 'আর-রাদ্দু আলাল আখনায়ী' (আখনায়ীর প্রতিবাদে রচিত গ্রন্থ) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে।
এই বিষয়ে তাঁর আরও অনেক ছোট ছোট রিসালাহ (পুস্তিকা) ও উত্তর রয়েছে।
*
তাঁর মৃত্যু:শাইখ —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— ৭২৮ হিজরির ২০শে যিলকদ সোমবার দিবাগত রাতে দামেস্কের দুর্গের কারাগারে বন্দী অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। অল্প কয়েক দিনের অসুস্থতার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ঐতিহাসিকগণ ইবনে তাইমিয়্যাহর জানাজাকে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও বিরল জানাজাগুলোর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন এবং তাঁরা একে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের জানাজার সাথে তুলনা করেন। দামেস্ক ও এর আশপাশের সকল মানুষ তাঁর জানাজার সালাত আদায় করতে এবং তাঁর জানাজায় শরিক হতে ভিড় জমিয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني: ترجمة البكري وموقفه من شيخ الإسلام ابن تيميةتضن المصادر علينا بترجمة البكري، وأغلب من ترجم له ذكره باختصار شديد، حتى ذكره الذهبي والسيوطي في ثلاثة أسطر فقط (1)، ويظهر أنه كان
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-বাকরির জীবনী এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিউৎসগ্রন্থসমূহ আল-বাকরির জীবনী বর্ণনায় আমাদের প্রতি কার্পণ্য করেছে; যারা তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁদের অধিকাংশ অত্যন্ত সংক্ষেপে তা উল্লেখ করেছেন। এমনকি আয-যাহাবি ও আস-সুয়ুতি তাঁকে মাত্র তিন লাইনে বর্ণনা করেছেন (১)। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مغموراً لم يُعرف إلا بسبب رد شيخ الإسلام ابن تيمية عليه.
وهذا مصداق ما ذكره السلف عن أهل البدع، قال: أبو بكر بن عياش -لما قيل له أن بالمسجد أقواماً يجلسون ويجلس إليهم الناس-، فقال: "من جلس للناس جُلس إليه، ولكن أهل السنة يموتون ويبقى ذكرهم، لأنهم أحيوا بعض ما جاء به الرسول فكان لهم نصيب من قوله تعالى: {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ (4)} [الشرح: 4]، وأهل البدعة يموتون ويموت ذكرهم، لأنهم شانوا بعض ما جاء به الرسول فبترهم الله فكان له نصيب من قوله تعالى: {إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ (3)} [الكوثر: 3] " (1) قلت: صدق والله، وترجمة البكري خير مثال على ذلك.
1 - اسمه ونسبه ومولده:هو أبو الحسن نور الدين علي بن يعقوب بن جبريل بن عبد المحسن البكري الشافعي المصري، ينتهي نسبه إلى عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي بكر الصديق رضي الله عنه، ولد سنة 673 هـ.
2 - شيوخه وآثاره العلمية:قال مترجموه: "هو الإمام الفقيه الزاهد"، سمع مسند الشافعي على وزيرة بنت المنجا. ومن شيوخه ابن الجزري (2) الذي نهى تلميذه البكري وأنكر عليه رده على ابن تيمية، وقال له: "أنت لا تحسن الكلام"، وابن الرفعة (3) الذي أوصاه أن يكمل شرح الوسيط، والمسمى المطلب، ولم يتفق
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন অজ্ঞাতনামা, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর তাঁর ওপর খণ্ডন করার কারণেই কেবল তিনি পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
আর বিদআতপন্থীদের সম্পর্কে সালাফে সালেহীন যা উল্লেখ করেছেন এটি তারই সত্যতা প্রমাণ করে। আবু বকর ইবনে আইয়াশকে যখন বলা হলো যে, মসজিদে কিছু লোক বসে এবং মানুষ তাদের কাছে জমায়েত হয়, তখন তিনি বলেন: "যে মানুষের জন্য বসে, মানুষ তার কাছে বসবে। তবে আহলে সুন্নাতগণ মৃত্যুবরণ করলেও তাদের স্মরণ অবশিষ্ট থাকে, কারণ তারা রাসুলুল্লাহ (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তার কিছু অংশকে জীবিত করেছেন; ফলে মহান আল্লাহর এই বাণীর অংশ তাদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে: {আর আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি (৪)} [আশ-শারহ: ৪], অন্যদিকে বিদআতপন্থীরা মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথে তাদের স্মরণও বিলীন হয়ে যায়, কারণ তারা রাসুলুল্লাহ (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তার কোনো অংশের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছে; ফলে আল্লাহ তাদের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অংশ তাদের ভাগ্যে জুটেছে: {নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই লেজকাটা (৩)} [আল-কাওসার: ৩]।" (১) আমি বলি: আল্লাহর কসম, তিনি সত্য বলেছেন; আর বাকরীর জীবনী এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
১ - তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং জন্ম:তিনি হলেন আবুল হাসান নূরুদ্দীন আলী বিন ইয়াকূব বিন জিবরীল বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাকরী আশ-শাফিঈ আল-মিসরী। তাঁর বংশপরম্পরা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি ৬৭৩ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।
২ - তাঁর উস্তাদগণ এবং ইলমি নিদর্শনসমূহ:তাঁর জীবনীকারগণ বলেন: "তিনি ছিলেন ইমাম, ফকীহ এবং অনাড়ম্বর (যাহিদ)।" তিনি ওয়াজীরা বিনতে মানজা-র কাছে 'মুসনাদে শাফিঈ' শ্রবণ করেন। তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল জাযারী (২), যিনি তাঁর ছাত্র বাকরীকে ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতিবাদ করতে নিষেধ করেছিলেন এবং নিন্দা জানিয়ে বলেছিলেন: "তুমি কালামশাস্ত্র (যুক্তিবিদ্যা) ভালো বোঝো না।" আরও রয়েছেন ইবনুর রিফ'আহ (৩), যিনি তাঁকে 'আল-ওয়াসীত'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-মাতলাব' সম্পন্ন করার অসিয়ত করেছিলেন, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
للبكري ذلك، لما كان يغلب عليه من التّجلي (1) والانقطاع، وله كتاب في "البيان" وآخر في "تفسير سورة الفاتحة" وكتاب "الأحكام"، لم أجد منها شيئاً سواء كان مخطوطاً أو مطبوعاً، وله فتوى في تكفير ابن عربي قبحه فيها ولعنه (2)، وابن عربي أهل للتقبيح والتكفير.
ولم أجد من ذكر له تلاميذ، فلعله لم يجلس للتدريس أصلاً، فهو ليس أهلاً لذلك، وبجمع أقواله إلى بعضها يصدق قول شيخه فيه: "إنه لا يحسن الكلام"، ففيها ركاكة العبارة، وضعف الأسلوب، ولذلك فهو ليس من العلماء، بل لديه نوع مشاركة في بعض العلوم.
ومن أثنى عليه فإنما نظر إلى جانب جميل في البكري وهو التديّن، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والشجاعة فيما يرى أنه الحق، ولكن يفسد عليه هذا كله، سوء الاعتقاد، ومصادمة أصول الإسلام العظام في الدعوة لعبادة القبور من دون الله -تعالى-.
3 - مذهبه الفقهي:البكري شافعي المذهب أورده السبكي والإسنوي في طبقات الشافعية، والعبادي في ذيل طبقات الفقهاء الشافعيين، إلا أنه لا يوجد له أي أثر في المذهب.
4 - عقيدة البكري:البكَري صوفي قبوري؛ كما هو واضح فيما نقل عنه شيخ الإسلام ابن تيمية، يدافع عن أقوال الصوفية ويعظمها، اتلدعو إلى تعظيم القبور
--------------------------------------------
আল-বাকরির ক্ষেত্রে এটিই স্বাভাবিক ছিল, কারণ তার ওপর ‘তাজাল্লি’ (১) ও নির্জনবাসের অবস্থা প্রবল থাকত। ‘আল-বায়ান’ নামে তার একটি কিতাব রয়েছে, অপরটি ‘তাফসির সূরা আল-ফাতিহা’ এবং ‘আল-আহকাম’ নামেও একটি গ্রন্থ রয়েছে; আমি এগুলোর কোনোটিরই পাণ্ডুলিপি কিংবা মুদ্রিত কপি খুঁজে পাইনি। ইবনে আরাবিকে কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে তার একটি ফতোয়া রয়েছে যেখানে তিনি তাকে কদর্য বিশেষণে অভিহিত করেছেন এবং অভিশাপ দিয়েছেন (২); আর ইবনে আরাবি কদর্যতা ও তাকফিরেরই যোগ্য।
আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি তার কোনো ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, সম্ভবত তিনি আদতে পাঠদানের জন্য বসেননি, কারণ তিনি তার যোগ্য ছিলেন না। তার বক্তব্যগুলো একত্রিত করলে তার সম্পর্কে তার উস্তাদের মন্তব্যই সত্য বলে প্রমাণিত হয়: "সে কথা গুছিয়ে বলতে পারে না"; কারণ তার বক্তব্যে ভাষাগত দুর্বলতা ও শৈল্পিক ত্রুটি বিদ্যমান। এই কারণে তিনি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত নন, বরং কিছু বিদ্যায় তার যৎসামান্য অংশগ্রহণ ছিল মাত্র।
যারা তার প্রশংসা করেছেন, তারা মূলত বাকরির একটি সুন্দর দিক অর্থাৎ তার ধর্মপ্রাণতা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং সত্য বলে যা বিশ্বাস করতেন সে বিষয়ে তার সাহসিকতার দিকেই দৃষ্টি দিয়েছেন। কিন্তু তার ভ্রান্ত আকিদা এবং আল্লাহ তাআলাকে বাদ দিয়ে কবরের ইবাদতের দিকে আহ্বানের মাধ্যমে ইসলামের মহান মূলনীতিসমূহের সাথে সংঘাত—তার এই সকল ভালো গুণকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
৩ - তার ফিকহি মাযহাব:বাকরি শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন; সুবকি ও ইসনাউয়ি ‘তবাকত আশ-শাফেয়িয়্যাহ’ গ্রন্থে এবং আব্বাদি ‘যাইল তবাকত আল-ফুকাহা আশ-শাফেয়িয়্যিন’ গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করেছেন। তবে মাযহাবে তার কোনো বিশেষ প্রভাব বা অবদান খুঁজে পাওয়া যায় না।
৪ - বাকরির আকিদা:বাকরি ছিলেন একজন কবরপূজারী সুফি; যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তিনি সুফিদের কথাগুলোকে সমর্থন ও মহিমান্বিত করতেন এবং কবরের মাহাত্ম্য প্রচারের আহ্বান জানাতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ودعاء المقبورين من دون الله -تعالى-، بل يكفر ويرمي بالزندقة كل من يرد عليه ضلاله؛ كما فعل مع شيخ الإسلام ابن تيمية، ويرى مثل سلفه الأقدمين أن إنكار بدع القبورية مؤذن بالهلاك، كما قال تعالى عن سلفه قولهم لإبراهيم عليه السلام لما نهاهم عن الشرك: {وَحَاجَّهُ قَوْمُهُ قَالَ أَتُحَاجُّونِّي فِي اللَّهِ وَقَدْ هَدَانِ وَلَا أَخَافُ مَا تُشْرِكُونَ بِهِ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبِّي شَيْئًا وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ (80) وَكَيْفَ أَخَافُ مَا أَشْرَكْتُمْ وَلَا تَخَافُونَ أَنَّكُمْ أَشْرَكْتُمْ بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا فَأَيُّ الْفَرِيقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (81)} [الأنعام: 80 - 81].
فقد قال البكري: (لقد خشيت على كثير من أهل الإقليم بسبب تقاعدهم عن نصرة الرسول صلى الله عليه وسلم) (1)، وهذه عادة عباد القبور في كل عصر ومصر، وقد برأه شيخ الإسلام ابن تيمية من القول بالحلول والاتحاد (2)، وهذا من عدله رحمه الله وإنصافه.
ومع صوفيته وقبوريته فقد أغفله الشعراني في طبقاته، ولم أجد له ذكراً في المصادر الصوفية، ولعل تكفيره ابن عربي شيخ الصوفية الأكبر هو السبب في إغفاله.
وأما اعتقاده في الأسماء والصفات والقدر فليس له كلام واضح فيها، ولكنه يرى بعض آراء الأشاعرة، فهو يرى أن التوحيد هو توحيد الربوبية فقط (3)، وينكر السببية (4)، ويقول بالجبر (5)، وغير ذلك.
5 - طريقة البكري الصوفية:ما وصلنا عن الرجل يظهر أنه لا ينتسب إلى طريقة معينة، وأما بعض الطرق الصوفية التي يطلق عليها اسم البكرية، فلم أجد من نسبه إلى أي منها، وهما:
الأولى: "البكرية" وتنسب إلى عماد الدين عبد الرحمن بن محمد البكري
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ তাআলা-কে বাদ দিয়ে কবরবাসীদের নিকট প্রার্থনা করা; বরং যে কেউ তার এই গোমরাহির প্রতিবাদ করে, তাকেই সে কাফির সাব্যস্ত করে এবং তার প্রতি যিন্দিক হওয়ার অপবাদ আরোপ করে; যেমনটি সে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে করেছিল। সে তার পূর্বসূরিদের মতো মনে করে যে, কবরপূজারীদের বিদআতের প্রতিবাদ করা ধ্বংসের বার্তাবাহী, যেমন আল্লাহ তাআলা তার পূর্বসূরিদের সম্পর্কে বলেছেন যে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম যখন তাদেরকে শিরক থেকে নিষেধ করেছিলেন তখন তারা বলেছিল: {আর তার সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো। তিনি বললেন: তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছ, অথচ তিনি আমাকে হেদায়াত দান করেছেন? আর তোমরা যাদেরকে তাঁর শরীক স্থির করছ আমি তাদেরকে ভয় করি না, তবে আমার প্রতিপালক যদি কিছু চান। আমার প্রতিপালকের জ্ঞান প্রতিটি বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে। তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? (৮০) আর আমি কীভাবে তাদেরকে ভয় পাব যাদেরকে তোমরা শরীক করেছ, অথচ তোমরা এতে ভয় পাচ্ছ না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরীক করেছ যার স্বপক্ষে তিনি তোমাদের নিকট কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি? সুতরাং যদি তোমরা জানো, তবে বলো এই দুই দলের মধ্যে নিরাপত্তার অধিক যোগ্য কে?} [আল-আনআম: ৮০ - ৮১]।
আল-বাকরি বলেছেন: (আমি এই অঞ্চলের অনেক লোকের ব্যাপারে শঙ্কাগ্রস্ত, কারণ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে) (১), আর এটিই হলো প্রত্যেক যুগ ও স্থানের কবরপূজারীদের চিরাচরিত অভ্যাস। তবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাকে হুলুল (সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিতে মিশে যাওয়া) ও ইত্তিহাদ (স্রষ্টা ও সৃষ্টি এক হয়ে যাওয়া) মতবাদ পোষণ করা থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন (২), আর এটি ছিল তাঁর (ইবনে তাইমিয়্যাহর) ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফের বহিঃপ্রকাশ।
তার সুফিবাদ ও কবরপূজারি হওয়া সত্ত্বেও আশ-শারানি তার ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে তাকে এড়িয়ে গেছেন এবং সুফি উৎসগুলোতেও আমি তার কোনো উল্লেখ পাইনি। সম্ভবত সুফিবাদীদের বড় শায়খ ইবনে আরাবিকে তার কাফির ঘোষণা করাই তাকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
আর আসমা-সিফাত (নাম ও গুণাবলী) এবং তাকদিরের ব্যাপারে তার আকিদা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না, তবে তিনি আশআরিদের কিছু মতবাদ পোষণ করেন। তিনি মনে করেন যে, তাওহীদ বলতে কেবল তাওহীদে রুবুবিয়্যাহকেই বোঝায় (৩), তিনি কার্যকারণ সম্পর্ককে (সাবাবিয়্যাহ) অস্বীকার করেন (৪), এবং জাবরিয়া মতবাদ (মানুষের কোনো ইখতিয়ার নেই) পোষণ করেন (৫), ইত্যাদি।
৫ - আল-বাকরির সুফি তরিকা:এই লোকটির সম্পর্কে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট তরিকার সাথে সম্পৃক্ত নন। আর কিছু সুফি তরিকা যেগুলোকে ‘বাকরিয়্যাহ’ নামে অভিহিত করা হয়, সেগুলোর কোনোটির সাথে তাকে সম্পৃক্ত করার মতো কাউকে আমি পাইনি। সেই দুটি হলো:
প্রথমত: "বাকরিয়্যাহ" যা ইমাদুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরির দিকে নিসবত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিগাসা ফির রাদ্দি আলাল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الصقلي (ت 380 هـ) (1) وقد رد عليه الإمام ابن أبي زيد القيرواني الأندلسي (2) (ت 386 هـ)، في كتابيه "كشف التلبيس في الرد على البكرية"، و"الاستظهار في الرد على البكرية"، ومما أنكر عليه ابن أبي زيد الغلو في كرامات الأولياء، مثل: قلب الأعيان، ورؤية الله في اليقظة. وقد ورد اسم هذه الطائفة في بعض المصادر "الفكرية" (3)؛ والصواب البكرية.
الثانية: الطريقة البكرية الصوفية المعاصرة الموجودة في مصر وغيرها، وإن كان رؤساء الطريقة ينتسبون إلى أبي بكر رضي الله عنه، وأبو بكر بريء من ضلالهم وإفكهم كما ينتسب البكري، وقد ذكر رؤساء الطائفة ممن ينسب للصديق رضي الله عنه محمد توفيق البكري في كتابه "بيت الصديق" ولم يذكر علي بن يعقوب البكري (4).
6 - منهج البكري في التكفير:التكفير حق لله -تعالى- فلا يكفر إلا مَنْ كفره الله ورسوله، أما التكفير عند البكري فحاله كحال المبتدعة يبتدعون البدعة ويكفرون من خالفهم فيها،
--------------------------------------------
আস-সিকিল্লি (মৃত্যু ৩৮০ হি.) (১); ইমাম ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি আল-আন্দালুসি (২) (মৃত্যু ৩৮৬ হি.) তাঁর "কাশফুল তালবিস ফি আল-রাদ্দ আলা আল-বাকরিয়্যাহ" এবং "আল-ইসতিজহার ফি আল-রাদ্দ আলা আল-বাকরিয়্যাহ" নামক গ্রন্থদ্বয়ে তাঁর প্রতিবাদ করেছেন। ইবনে আবি যায়েদ তাঁর যে বিষয়গুলোর সমালোচনা করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো আউলিয়াদের কারামতের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন; যেমন: বস্তুর রূপান্তর এবং জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহকে দেখা। কোনো কোনো উৎসে এই সম্প্রদায়ের নাম "আল-ফিকরিয়্যাহ" (৩) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; তবে সঠিক নাম হলো আল-বাকরিয়্যাহ।
দ্বিতীয়ত: মিশরে ও অন্যত্র বিদ্যমান সমসাময়িক সুফি তরীকা 'বাকরিয়্যাহ'। যদিও এই তরীকার প্রধানগণ নিজেদেরকে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর বলে দাবি করেন, তবে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের পথভ্রষ্টতা ও মিথ্যাচার থেকে মুক্ত; যেমনটি আল-বাকরিও নিজেকে তাঁর বংশধর দাবি করে। এই সম্প্রদায়ের প্রধানদের মধ্যে যারা নিজেদের সিদ্দিকে আকবর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর দাবি করেন, মুহাম্মদ তাওফিক আল-বাকরি তাঁর "বাইতুস সিদ্দিক" গ্রন্থে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেখানে তিনি আলি বিন ইয়াকুব আল-বাকরির (৪) নাম উল্লেখ করেননি।
৬ - তাকফিরের ক্ষেত্রে আল-বাকরির মানহাজ:তাকফির বা কাফির সাব্যস্ত করা মহান আল্লাহর অধিকার—সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যাকে কাফির বলেছেন, সে ব্যতিত কাউকে কাফির বলা যাবে না। কিন্তু আল-বাকরির ক্ষেত্রে তাকফিরের বিষয়টি বিদআতিদের মতোই; তারা নিজেরা বিদআত উদ্ভাবন করে এবং যে তাদের সেই বিদআতের বিরোধিতা করে তাকেই তারা কাফির সাব্যস্ত করে।
--------------------------------------------