(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: -)
نوادر الفقهاء   (محمد بن الحسن الجوهري)

القسم: الفقه العام


الكتاب: نوادر الفقهاء

المؤلف: محمد بن الحسن التميمي الجوهري (ت حوالي 350 هـ)

المحقق: د. محمد فضل عبد العزيز المراد، الأستاذ المشارك بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

الناشر: دار القلم - دمشق/الدار الشامية - بيروت.

الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م.

عدد الصفحات: 313

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

নাওয়াদিরুল ফুকাহা   (মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-জাওহারী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


কিতাব: নাওয়াদিরুল ফুকাহা

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-তামিমি আল-জাওহারী (মৃত্যু আনুমানিক ৩৫০ হিজরি)

মুহাক্কিক: ড. মুহাম্মাদ ফজল আব্দুল আজিজ আল-মুরাদ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক

প্রকাশক: দারুল কলম - দামেস্ক/আদ-দারুশ শামিয়্যাহ - বৈরুত.

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৩

শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবেতাতুন নাসসাখ টিম, সৌজন্যে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم وبه نستعين

حدثنا الشيخ القاضي أبو القاسم عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد المازري البغدادي رضي الله عنه قال:

حدثنا القاضي أبو بكر الفقيه المالكي محمد بن الحسن قال:

قال محمد بن الحسن التميمي الجوهري نسأل الله عصمته وتوفقيه فإنه لا توفيق إلا به- أما بعد:

فإن الإجماع من الأمة، والاتفاق من أهل القبلة حجة من حجج الله عز وجل على خلقه، ومنار يدل على حقه، يقوم مقام الكتاب والسنة وما أخذناهما عنهما في الجملة ، فيجب إذا قام هذا المقام الذي ذكرنا، ولا رَدّوه مَنْ خَبَرْنَا، أن يكون وجود الإجماع في مسألة، والاتفاق / في نازلة يمنع الاعتداد بقول يخرج عنه، ويجب إسقاطه من حكم من أخذ عنه، إذ لو جاز الاعتداد بذكره، والحكم به على أهل عصره (وإلا به) والإجماع فقد تقدمه بالخلاف، والاتفاق ثابت بالائتلاف، لما ثبتت حجة الإجماع في مسألة إلا بعد انقراض الدنيا وذهاب أهل الفتيا، حتى لا يوجد مخالف يحدث، ولا يتوهم منازع يبحث، وفي ذلك سقوط حجة الإجماع، وبطلان وجوبه عند الانتزاع، وفي فضوح فساد ذلك من القول، ودحوض عليه في العقل، ثبوت
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

শায়খ আল-কাজী আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আল-মাজিরি আল-বাগদাদী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল-কাজী আবু বকর আল-ফকিহ আল-মালিকি মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আত-তামিমি আল-জাওহারি বলেছেন—আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর হেফাযত ও তাওফিক প্রার্থনা করছি, কেননা তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো তাওফিক নেই—অতঃপর:

নিশ্চয়ই উম্মাহর ঐক্যমত (الإجماع) এবং আহলে কিবলার ঐকমত্য (الاتفاق) সৃষ্টিজগতের ওপর মহান আল্লাহর প্রমাণসমূহের (حجج) মধ্যে একটি প্রমাণ (حجة), এবং এটি সত্যের দিশারী এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। এটি সামগ্রিকভাবে কিতাব ও সুন্নাহ এবং এ দুই উৎস থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত হয়। সুতরাং, যখন আমরা যা উল্লেখ করেছি সেই অবস্থান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আমরা যাদের জানি তাদের কেউ তা প্রত্যাখ্যান না করেন, তখন কোনো মাসআলায় ঐক্যমতের (الإجماع) উপস্থিতি এবং কোনো উদ্ভূত সংকটে (نازلة) / ঐকমত্য (الاتفاق) থাকা তার বহির্ভূত কোনো বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করতে বাধা প্রদান করে। আর যারা সেই ভিন্ন মত গ্রহণ করেছে, বিধানের (حكم) ক্ষেত্র থেকে তা বর্জন করা আবশ্যক হয়ে যায়। কারণ, যদি সেই মতটিকে গণ্য করা এবং সমসাময়িকদের ওপর সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করা বৈধ হতো—অথচ ঐক্যমত (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে সেখানে মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান ছিল এবং বর্তমানে সংহতির মাধ্যমে ঐকমত্য (الاتفاق) স্থির হয়েছে—তবে পৃথিবী বিলুপ্ত হওয়া এবং ফতোয়া প্রদানকারী বিজ্ঞ ফকিহগণ (أهل الفتيا) প্রস্থান করার আগে কোনো মাসআলায় ঐক্যমতের (الإجماع) প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হতো না; এমনকি কোনো নতুন বিরোধিতাকারীর অস্তিত্ব পাওয়া যেত না এবং কোনো বিবাদকারীর গবেষণার অবকাশও কল্পনা করা যেত না। এমতাবস্থায় ঐক্যমতের (الإجماع) প্রমাণ (حجة) রহিত হয়ে যায় এবং বিতর্কের সময় এর আবশ্যকতা বাতিল হয়ে যায়। এই বক্তব্যের অসারতা ও এর বুদ্ধিবৃত্তিক অসারতা স্পষ্ট হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
ما أصلناه ووجوب ما قدمناه، في (منع) ذوي الفتيا من الاعتداد بقول يخرج عن الإجماع المتقدم من أقوال العباد، وإن كان/ عن اجتهاد قاله، وبعد الفحص تقلده، لأن الاجتهاد إنما يجب على العلماء، وليلزم حُذَّاق الفقهاء إذا لم يكن في النازلة اتفاق على حكم ولا حقيقة من علم، وإذ قد ثبت مذهبنا فيها بعد إقامة الدليل على مرادنا منها فلنصف الآن من مسائل الفقه ما وصل إلينا وقدرنا عليه من الأقوال النادرة عن الإجماع على خلافها، ليكون مَن عَلِمَه على حقيقة من أمره وهداية في حكمه، وليهلك من هلك عن بينة، ويحيى من حَيَّ عن بينة، فأول ما أذكر من ذلك مسائل الطهارة على النحو الذي ذكرت من هذه الرسالة، ثم أتبعها بما يشاكلها من الفقه إلا كمال فنونه. وبالله توفيقي وعليه أتوكل.
আমরা যা মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং যা ইতিপূর্বে উপস্থাপন করেছি, তা ফতোয়া প্রদানকারীদের এমন মতামতের ওপর ভিত্তি করা থেকে বিরত রাখার (منع) জন্য, যা মানুষের পূর্ববর্তী সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী; যদিও তা ইজতিহাদের (اجتهاد) ভিত্তিতে বলা হয়ে থাকে এবং অনুসন্ধানের পর তা অনুসরণ করা হয়। কেননা ইজতিহাদ (اجتهاد) কেবল আলেমদের ওপর ওয়াজিব এবং তা বিচক্ষণ ফকিহদের (فقهاء) জন্য আবশ্যক তখনই হয়, যখন উদ্ভূত কোনো সমস্যায় (نازلة) কোনো বিধানের ব্যাপারে ঐকমত্য থাকে না অথবা সুনিশ্চিত কোনো জ্ঞান থাকে না। যেহেতু দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের মাযহাব (مذهب) প্রমাণিত হয়েছে, তাই এখন আমরা ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের ঐ সকল মাসআলা বর্ণনা করব যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে এবং আমরা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি, যেগুলোতে সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) বিপরীতে বিরল মত (أقوال نادرة) বর্ণিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি এটি জানবে সে যেন প্রকৃত সত্য ও সঠিক নির্দেশনার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে; আর যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ভিত্তিতে জীবিত থাকে। সুতরাং এই রিসালায় বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী আমি সর্বপ্রথম পবিত্রতা (طهارة) সংক্রান্ত বিষয়াদি আলোচনা করব, অতঃপর ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের অন্যান্য শাখার পূর্ণাঙ্গ বিষয়সমূহ এর অনুগামী হবে। আল্লাহর সাহায্যেই আমার তাওফিক লাভ হয় এবং তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌((باب الطهارة)) /

[1/ 1]- أجمع الفقهاء بجملتهم، والعلماء بكليتهم، أن موت الذباب في
‌((পবিত্রতা অধ্যায়)) /

[১/ ১]- সকল ফকীহ এবং আলেমগণ সামগ্রিকভাবে এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মাছির মৃত্যু... এর মধ্যে
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
الماء الطاهر لا ينجسه، إلّا محمد بن ادريس الشافعي فإنه قال في إحدى روايتين عنه: إن ذلك قد نجسه إذا كان الماء قليلًا.

[2/ 2]- وأجمعوا أن من احتجم فعليه غسل موضع خروج الدم عن الشرط وما جاوزه مما تلطخ بالدم، فإنه لا يجزئ مسحه منه، وإن مسحه
পবিত্র পানিকে তা অপবিত্র করে না, তবে মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ ব্যতীত; কেননা তিনি তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনা (روايتين)-এর একটিতে বলেছেন যে, পানির পরিমাণ যদি অল্প হয় তবে তা পানিকে অপবিত্র করে দেয়।

[২/ ২]- আর তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি শিঙা লাগিয়েছে, তার ওপর পস্তির ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হওয়ার জায়গা এবং রক্ত লেগে থাকা পার্শ্ববর্তী অংশ ধৌত করা আবশ্যক; কেননা তা কেবল মুছে ফেলা যথেষ্ট নয়, যদিও সে তা মুছে ফেলে।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وصلى أمر بغسله وإعادة صلاته، إلا الليث بن سعد المصري، فإنه أجاز له مسحه وصلاته.

[3/ 3]- وأجمعوا أن النوم حال الاضطجاع يوجب الوضوء، إلّا الأوزاعي فإنه أمره به استحبابًا لا إيجابًا.
...এবং তিনি সালাত আদায় করেছেন, তাকে তা ধৌত করার এবং সালাত পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে লাইস ইবন সাদ আল-মিসরী ব্যতীত; কেননা তিনি তার জন্য সেটি মুছে ফেলা এবং সালাত আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন।

[৩/ ৩]- আর তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, পার্শ্বদেশ ঠেকিয়ে শোয়া অবস্থায় ঘুমানো অজু (وضوء) আবশ্যক (يوجب) করে, তবে আওযায়ী ব্যতীত; কেননা তিনি একে মুস্তাহাব (استحباباً) হিসেবে নির্দেশ দিয়েছেন, আবশ্যক (إيجاباً) হিসেবে নয়।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
[4/ 4]- وأجمعوا أن من خرج من جرح بجسده دود ولا بلة لها لم تنتقض طهارته لذلك، إلّا الأوزاعي فإنه قال: _في إحدى الروايتين عنه_ إن ذلك ينقضها.

[৪/ ৪]- এবং তাঁরা এই মর্মে ঐক্যমতে উপনীত হয়েছেন যে, যার শরীরের ক্ষত থেকে কৃমি নির্গত হয় এবং তাতে কোনো আর্দ্রতা থাকে না, তজ্জন্য তার পবিত্রতা বিনষ্ট হবে না; তবে ইমাম আওযাঈ ব্যতীত, কেননা তিনি—_তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (رواية) একটিতে_—বলেছেন যে, নিশ্চয়ই তা পবিত্রতা ভঙ্গ করে।

(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
[5/ 5]- وأجمع / الصحابة أن أكثر مدة الإنفاس إذا لم ينقطع الدم أربعون يومًا، وإنما جاء الخلاف من بعدهم.
[৫/ ৫]- সাহাবীগণ (الصحابة) এই মর্মে ঐক্যমত পোষণ করেছেন (أجمع) যে, যদি রক্ত বন্ধ না হয় তবে নিফাস (الإنفাস)-এর সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো চল্লিশ দিন; আর মূলত তাঁদের পরবর্তীকালেই এ বিষয়ে মতভেদ (الخلاف) সৃষ্টি হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
[6/ 6]- وأجمعوا أن وطء المستحاضة مباح غير محظور، إلا إبراهيم بن عُلَيَّة فإنه منع منه وحظره.
[৬/ ৬]- এবং তাঁরা ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, মুস্তাহাযা (مستحاضة) নারীর সাথে সহবাস বৈধ (مباح) ও নিষিদ্ধ নয়; তবে ইব্রাহিম বিন উলাইয়্যাহ ব্যতীত, কেননা তিনি তা নিষেধ করেছেন এবং একে নিষিদ্ধ (محظور) গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
[7/ 7]- وأجمعوا أن من تيمم على بعض وجهه أو بعض يديه لم يجزه إن صلى به، إلا أن أبا حنيفة رضي الله عنه فإنه قال: _ في إحدى روايتين عنه_ يجزئه ذلك.

[8/ 8]- وأجمعوا أن المتيمم يبدأ بوجهه في تيممه (فيمسحه، ثم بيديه فيمسحهما، ولا يمسح في تيممه) على العضدين، إلا الزهري فإنه
[৭/ ৭]- এবং তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তার মুখমণ্ডলের কিছু অংশ বা তার হাতদ্বয়ের কিছু অংশের ওপর তায়াম্মুম করল, তা দিয়ে সালাত আদায় করলে তা যথেষ্ট (يجزي) হবে না; তবে আবু হানিফা (রা.) থেকে বর্ণিত দু’টি বর্ণনার (رواية) একটিতে তিনি বলেছেন যে, তা যথেষ্ট হবে।

[৮/ ৮]- এবং তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি তার তায়াম্মুমে মুখমণ্ডল থেকে শুরু করবে (সেটি মাসাহ করবে, এরপর তার হাতদ্বয় মাসাহ করবে এবং তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে সে বাহুদ্বয়ের ওপর মাসাহ করবে না), তবে যুহরী ব্যতীত, কেননা তিনি...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قال: تيمم إلى الآباط من أسفل وإلى المناكب من فواق.

[9/ 9]- وأجمعوا أن من تيمم بغير نية أن يصلي به أن ذلك (لا) يجزئه، إلّا الحسن بن صالح فإنه قال: ذلك يجزئه أن يصلي به.
তিনি বললেন: তিনি বগলের নিম্নভাগ থেকে এবং কাঁধের উপরিভাগ পর্যন্ত তায়াম্মুম (تيمم) করেছেন।

[৯/ ৯]- এবং তাঁরা এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের নিয়ত (نية) ব্যতীত তায়াম্মুম (تيمم) করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট (يجزئ) হবে না; তবে হাসান বিন সালিহ ব্যতীত, কেননা তিনি বলেছেন: তা তার সালাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট (يجزئ) হবে।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
[10/ 10]- وأجمعوا أن من أخذ ترابًا من الأرض فجعله على لوح أو على ثوب فتيمم به للصلاة/ أنه يجزئه، إلّا الحسن بن زياد قال: لا يجزئه إلا إن تيمم على الأرض، ولا يجوز إن تيمم بتراب أخذ من الأرض وجعل على غيرها.

[11/ 11]- وأجمعوا سواه أن من تيمم على ثوب أجزأه إذا استثار غباره على اليد، إلا أبا حنيفة رضي الله عنه فإنه قال: يجزئه وإن لم يستثر الغبار.
[10/ 10]- এবং তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, যে ব্যক্তি জমিন থেকে মাটি গ্রহণ করে তা কোনো তক্তা বা কাপড়ের ওপর রাখল এবং তা দিয়ে সালাতের জন্য তায়াম্মুম করল, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট (يجزئه) হবে; কেবল হাসান ইবনে জিয়াদ ব্যতীত, তিনি বলেছেন: সরাসরি জমিনের ওপর তায়াম্মুম না করলে তা যথেষ্ট হবে না এবং জমিন থেকে মাটি নিয়ে অন্য কিছুর ওপর রেখে তায়াম্মুম করা বৈধ (يجوز) নয়।

[11/ 11]- এবং তিনি ব্যতীত অন্য সকলে একমত হয়েছেন (أجمعوا) যে, যদি কেউ কাপড়ের ওপর তায়াম্মুম করে তবে তা যথেষ্ট (أجزأه) হবে যদি তা থেকে হাতে ধুলাবালি ওড়ে; তবে আবু হানিফা (রা.) ব্যতীত, কেননা তিনি বলেছেন: ধুলা না উড়লেও তা যথেষ্ট (يجزئه) হবে।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
2 - ‌‌((باب الصلاة))

[12/ 1]- وأجمع الفقهاء (أن المأموم) يقول_ بعد قول الإمام عند القيام
২ - ((সালাত (الصلاة) অধ্যায়))

[১২/ ১]- এবং ফকিহগণ (فقهاء) ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمع) যে, (মুক্তাদি (المأموم)) ইমামের বাণীর পর দাঁড়ানোর (القيام) সময় বলবে-
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
من الركوع سمع الله لمن حمده_: ربنا ولك الحمد، أو: ربنا لك الحمد بلا واو، وأنه لا يقول كما قال الإمام: ((سمع الله لمن حمده)) ، إلا الشافعي فإنه أمره أن يقول كذلك قبل قوله: ((ربنا ولك الحمد)).

[13/ 2]- وأجمعوا أن الإمام إذا خطب للجمعة خطبة لا جلوس فيها أجزأته صلاة الجمعة على ذلك، إلا الشافعي رضي الله عنه/، فإنه قال: لا تجزئه صلاة الجمعة إلا أن يخطب فيها خطبتين فيها جلسة وإن قلَّت.
রুকু থেকে ওঠার পর 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলার ক্ষেত্রে (পাঠ করবে): 'রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' অথবা 'রাব্বানা লাকাল হামদ' ('ওয়াও' ব্যতিরেকে)। আর মুক্তাদি ইমামের মতো 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে না; তবে ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর ব্যতিক্রম, তিনি তাকে 'রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' বলার আগে এটিও বলার নির্দেশ দিয়েছেন।

[১৩/ ২]- এবং তাঁরা সর্বসম্মত ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, ইমাম যদি জুমার জন্য এমন খুতবা দেন যাতে কোনো উপবেশন (বসা) নেই, তবে তাতেই জুমার সালাত যথেষ্ট হবে। তবে ইমাম শাফিঈ (রা.)-এর মত ভিন্ন; তিনি বলেছেন, ইমাম দুটি খুতবা প্রদান না করা পর্যন্ত এবং তার মাঝে সামান্য সময়ের জন্য হলেও না বসা পর্যন্ত জুমার সালাত পর্যাপ্ত হবে না।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
[14/ 3]- وأجمعوا أن من أدرك ركعة من ركعتي صلاة الجمعة ولم يدرك الأولى، أنه لم يأت والإمام فيها، أو لأنه كان حاضرًا فمنعه من التكبير مع الإمام قبل فراغه من الركعة الأولى مانع، أنه يضيف إلى تلك الركعة (التي) أدرك مع الإمام أخرى ويجزئ من الجمعة، إلا عطاء بن أبي رباح فإنه قال: لا تجزئ أحدًا أدرك مع الإمام بعد فراغه من الخطبة صلاته من الجمعة ولكن يصلي وحده ظهرًا أربعًا.

[15/ 4]- وأجمعوا أن من خاف على عسكر من العدو أن يصلي صلاة
[14/ 3]- তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, যে ব্যক্তি জুমার সালাতের দুই রাকাতের মধ্যে এক রাকাত পেল কিন্তু প্রথম রাকাতটি পেল না—হয়তো সে এমন সময় উপস্থিত হতে পারেনি যখন ইমাম প্রথম রাকাতে ছিলেন, অথবা সে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ইমাম প্রথম রাকাত শেষ করার পূর্বে কোনো প্রতিবন্ধক তাকে ইমামের সাথে তাকবির বলতে বাধা দিয়েছিল—তবে সে ইমামের সাথে প্রাপ্ত রাকাতের সাথে অপর একটি রাকাত যুক্ত করবে এবং তা জুমা হিসেবে যথেষ্ট (يجزئ) হবে। তবে আতা ইবনে আবি রাবাহ ব্যতীত, কেননা তিনি বলেছেন: খুতবা শেষ হওয়ার পর যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাতে শরিক হবে, তার জন্য তা জুমা হিসেবে যথেষ্ট (تجزئ) হবে না, বরং সে একাকী চার রাকাত জোহর পড়বে।

[15/ 4]- এবং তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, যে ব্যক্তি শত্রুর কোনো সৈন্যদলের কারণে সালাত আদায়ের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করে...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
الخوف، وإن اختلفوا في كيفية صلاته ذلك، إلّا أن أبا يوسف رضي الله عنه/، فإنه قال في إحدى روايتين عنه: لا يجوز لأحد أن يصلي صلاة الخوف بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

[16/ 5]- وأجمعوا أن من صلى ركعتي الفجر، ثم دخل مسجدًا ليصلي مع أهله، لا يركع قبل أن يجلس، إلا مالكًا فإنه أباحه ذلك.

[17/ 6]- وأجمعوا أن من سها في صلاته فسلم (بعد) اثنتين في الصلاة ثلاث ركعات أو أربع أنه يجزئ بعد فراغه من الصلاة ساجدًا لسهوه،
...ভীতি (الخوف) [এর সালাত], যদিও তাঁরা এর সালাত আদায়ের পদ্ধতির ব্যাপারে মতপার্থক্য করেছেন, তবে ইমাম আবু ইউসুফ (রা.)-এর বিষয়টি এই যে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (روايتين) একটিতে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে আর কারও জন্য সালাতুল খাউফ আদায় করা বৈধ নয়।

[১৬/ ৫]- এবং তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করে পুনরায় তার পরিজনের সাথে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করল, সে বসার পূর্বে রুকু (يركع) করবে না; তবে ইমাম মালিক ব্যতীত, কেননা তিনি একে বৈধ (أباحه) ঘোষণা করেছেন।

[১৭/ ৬]- এবং তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তার সালাতে ভুল (سها) করল এবং তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতে দুই রাকাতের পর সালাম (سلم) ফিরিয়ে দিল, সালাত সমাপ্ত করার পর তার ভুলের জন্য সিজদা (ساجدًا) প্রদান করাই যথেষ্ট (يجزئ) হবে।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪০)
ويجزئه من ذلك سجدتان، إلا الشافعي رضي الله عنه، فإنه قال: لا سجود عليه لشيء من الذكر على حال، وإنما يجوز السجود في الفعل خاصة.

[18/ 7]- وأجمعوا أن من فاته تكبيرة أو أكثر منها من تكبير الصلاة على الجنازة فقضاها بعد فراغ الإمام من صلاته قبل رفع الجنازة أن ذلك يجزئه،/ إلا الأوزاعي وربيعة بن (أبي) عبد الرحمن قالا: يسلم ولا يأت به.
এবং এর জন্য দুটি সিজদাহ যথেষ্ট (يُجزئ) হবে, তবে ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর ব্যতিক্রম; কেননা তিনি বলেছেন: কোনো অবস্থাতেই জিকিরের কোনো বিষয়ের জন্য সিজদাহ করার বিধান নেই, বরং সিজদাহ কেবল বিশেষ কর্মের (فعل) ক্ষেত্রেই বৈধ।

[১৮/ ৭]- আর তারা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যার জানাজার নামাজের এক বা একাধিক তাকবির (تكبيرة) ছুটে যায় এবং ইমামের নামাজ শেষ হওয়ার পর জানাজা উঠিয়ে নেওয়ার আগে সে তা আদায় (قضاء) করে নেয়, তবে তা যথেষ্ট (يُجزئ) হবে; / তবে আওযায়ী এবং রাবিআ ইবনে (আবি) আবদুর রহমান বলেছেন: সে সালাম ফিরিয়ে নেবে এবং তা আদায় করবে না।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪১)
[19/ 8]- وأجمعوا أنه لا يقال في الأذان لصلاة العشاء الآخرة ((الصلاة خير من النوم)) ، إلّا الحسن بن صالح فإنه أمر بذلك.

[20/ 9]- وأجمعوا أنه لا سهو على المأموم فيما سها به خلف الإمام، إلّا الليث فإنه أمره بسجدتي السهو لذلك.
[19/ 8]- এবং তাঁরা এ বিষয়ে ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, শেষ এশার নামাজের আজানে 'নামাজ ঘুম হতে উত্তম' বলা যাবে না, কেবল হাসান বিন সালিহ ব্যতীত; কেননা তিনি এর নির্দেশ প্রদান করেছেন।

[20/ 9]- এবং তাঁরা এ বিষয়ে ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, ইমামের (إمام) পেছনে থাকা অবস্থায় মুক্তাদির (مأموم) কোনো ভ্রান্তির (سهو) জন্য কোনো দায় নেই, কেবল লাইস ব্যতীত; কেননা তিনি এ কারণে তাঁকে দুটি সাহু সিজদা (سجدتي السهو) করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪২)
[21/ 10]- وأجمعوا أنه من ذكر صلاة حضر في سفر صلاها صلاة حضر، إلا عبيد الله بن الحسن العنبري، فإنه قال: يأتي بها صلاة سفر.

[22/ 11]- وأجمعوا أن المصلي إن ترك الصلاة على محمد صلى الله عليه وسلم في صلاته، ناسيا أو عامدًا، أنه في النسيان معذور، وفي العمد مذموم، والصلاة تجزئ عنه فيهما جميعًا، إلا الشافعي رضي الله عنه فإنه قال: / إذا ترك
[21/ 10]- আর তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, যে ব্যক্তি সফর (سفر) অবস্থায় থাকাকালীন আবাসে থাকাকালীন সময়ের নামাজের (صلاة حضر) কথা স্মরণ করবে, সে তা আবাসের নামাজ (صلاة حضر) হিসেবেই আদায় করবে। তবে উবায়দুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-আম্বারি এর ব্যতিক্রম; কারণ তিনি বলেছেন: সে তা সফরের নামাজ (صلاة سفر) হিসেবে আদায় করবে।

[22/ 11]- আর তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, নামাজি ব্যক্তি যদি তার নামাজে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা ভুলে গিয়ে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেয়, তবে ভুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সে ওজরপ্রাপ্ত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ছাড়ার ক্ষেত্রে সে নিন্দনীয় হবে; আর উভয় ক্ষেত্রেই নামাজটি তার জন্য যথেষ্ট বা শুদ্ধ (تجزئ) হবে। কেবল ইমাম শাফেঈ (রাদিআল্লাহু আনহু) এর ব্যতিক্রম; কারণ তিনি বলেছেন: যখন সে ছেড়ে দেয়...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪৩)
الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في صلاته، أو صلى عليه قبل التشهد الآخر منها لم يجزه.

[23/ 12]- وأجمعوا أنه إذا رفع رأسه من آخر سجدة من الركعة الأولى أو الثالثة من صلاة هي أربع ركعات من صلاة هي أربع ركعات، نهض قائمًا ولم يجلس إلّا الشافعي رضي الله عنه، فإنه استحب كجلوسه في التشهد ثم ينهض إلى القيام.
সালাতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা, অথবা শেষ তাশাহহুদের পূর্বে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা যথেষ্ট (مجزي) হবে না।

[২৩/ ১২]- আর তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যখন চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতের প্রথম অথবা তৃতীয় রাকাতের শেষ সিজদা থেকে মাথা উঠানো হবে, তখন সরাসরি দাঁড়িয়ে যেতে হবে এবং উপবেশন করা যাবে না; তবে ইমাম শাফিঈ (রা.) এর ব্যতিক্রম করেছেন, কেননা তিনি তাশাহহুদের ন্যায় উপবেশনকে পছন্দনীয় (استحباب) মনে করেছেন, অতঃপর কিয়ামের জন্য দণ্ডায়মান হবেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪৫)
3 - ‌‌((باب الزكاة))

[24/ 1]- وأجمع الفقهاء أن ما زاد على الثلاث المائة من الغنم وإن كثر إذا قصر عن تمام مائة رابعة فلا شيء فيه غير الثلاث الشياه الواجبة للثلاث المائة حتى يتمم أربعمائة، فإذا تمت كان فيها أربع شياه، وكذلك فيما هو أكثر من ذلك، لا يجب زيادة شاة في الصدقة إلا بزيادة/ مائة على العدة، إلّا الحسن بن صالح بن حي الكوفي رضي الله عنه، فإنه (قال): إذا زادت الغنم على ثلاثمائة شاة كان فيها أربع شياه، وكذلك فيما هو أكثر (من) ذلك، كلما زادت على مائة شاة واحدة زد في الزكاة شاة أخرى والله أعلم.
3 - ‌‌((জাকাত অধ্যায়))

[24/ 1]- এবং ফকিহগণ ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, তিনশ এর অতিরিক্ত ছাগলের সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন, তা যদি পূর্ণ চারশ হতে কম থাকে, তবে চারশ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনশ ছাগলের জন্য নির্ধারিত তিনটি ছাগল ব্যতীত অন্য কিছু আবশ্যক নয়। যখন চারশ পূর্ণ হবে, তখন তাতে চারটি ছাগল প্রদান করতে হবে। তদ্রূপ এর চেয়ে বেশি সংখ্যার ক্ষেত্রেও, গণনার ওপর পূর্ণ একশ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত সদকা (صدقة) হিসেবে অতিরিক্ত ছাগল বৃদ্ধি করা ওয়াজিব (واجب) হবে না। তবে হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই আল-কুফি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর ব্যতিক্রম বলেছেন; তিনি বলেন: যখন ছাগলের সংখ্যা তিনশ অতিক্রম করবে, তখন তাতে চারটি ছাগল প্রদান করতে হবে। তদ্রূপ এর চেয়ে বেশি সংখ্যার ক্ষেত্রেও, যখনই সংখ্যা একশ এর ওপর একটি বৃদ্ধি পাবে, জাকাতের ক্ষেত্রে আরও একটি ছাগল বৃদ্ধি করতে হবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪৭)
4 - ‌‌((باب زكاة الفضة))

[25/ 1]- وأجمعوا أن الدراهم إذا زادت على المائتين أربعين درهمًا ففيها كلها ربع عشرها إذا حال حولها، إلّا ابراهيم بن إسماعيل بن علية، فإنه قال: لا شيء في تلك الدراهم غير خمسة دراهم حتى يكون الزيادة على المائتين مائتين فيكون فيها كلها ربع العشر جميعًا، وقد قيل: إن ذلك يروى عن طاوس رضي الله عنه.
4 - ‌‌((পরিচ্ছেদ: রৌপ্যের জাকাত))

[২৫/ ১]- তারা এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, দিরহামের পরিমাণ যখন দুইশ অতিক্রম করে আরও চল্লিশ দিরহাম বৃদ্ধি পায়, তখন তার ওপর বছর অতিক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ মালের ওপর এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر) জাকাত প্রদান করতে হবে। তবে ইবরাহিম বিন ইসমাইল বিন উলাইয়্যাহ এর ব্যতিক্রম; তিনি বলেছেন: দুইশর অতিরিক্ত ঐ দিরহামগুলোতে পাঁচ দিরহাম ব্যতীত অন্য কিছু (জাকাত) নেই, যতক্ষণ না অতিরিক্ত অংশটি দুইশতে পৌঁছায়; (দুইশতে পৌঁছালে) তখন তার সবটুকুর ওপর একত্রে এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر) জাকাত ওয়াজিব হবে। আর বলা হয়েছে যে, এটি তাউস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (يروى) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪৮)
[26/ 2]- وأجمعوا أن الذمي لا يعطى / من زكاة الأموال ولا من عشور الأرضين وإن لم يوجد مسلم، إلّا عبيد الله بن الحسن العنبري رضي الله عنه فإنه أجاز إعطاءه منها إذا لم يكن في البلد المعطي مسلم.

[37/ 3]- وأجمعوا أن أخذ الصدقة التطوع حلال لبني هاشم جد محمد النبي صلى الله عليه وسلم ، إلا أحمد بن محمد الأزدي رضي الله عنه فإنه منع من ذلك.
[২৬/ ২]- এবং তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, কোনো জিম্মিকে সম্পদের জাকাত কিংবা ভূমির ওশর থেকে প্রদান করা যাবে না, এমনকি যদি সেখানে কোনো মুসলিম পাওয়া না যায় তবুও। তবে উবায়দুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-আনবারী (রাদিআল্লাহু আনহু) এর ব্যতিক্রম; তিনি জাকাত প্রদানকারী জনপদে কোনো মুসলিম না থাকলে জিম্মিকে তা থেকে প্রদান করা বৈধ করেছেন।

[৩৭/ ৩]- এবং তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশধর বনু হাশেমের জন্য নফল সদকা গ্রহণ করা বৈধ (حلال), তবে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আজদী (রাদিআল্লাহু আনহু) এর ব্যতিক্রম; তিনি তা নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪৯)
[28 - 4]- وأجمعوا أن الزكاة حلال أخذها لبني المطلب بن عبد مناف إذا كانوا من أهل الزكاة، إلّا الشافعي رضي الله عنه -وهو منهم- فإنه منع من ذلك.

[29/ 5]- وأجمعوا أن من ابتاع فاكهة للتجارة ومرّ بها على العاشر أنه يأخذ زكاتها، إلّا أبا حنيفة رضي الله عنه فإنه قال: لا يأخذ/ منها زكاة.
[28 - 4]- এবং তারা সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, বনু মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফ যদি যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত হন তবে তাদের জন্য যাকাত গ্রহণ করা বৈধ (حلال); কেবল ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ব্যতীত—যিনি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত—নিশ্চয়ই তিনি তা নিষেধ (منع) করেছেন।

[29/ 5]- এবং তারা সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি ব্যবসার (تجارة) উদ্দেশ্যে ফলমূল ক্রয় করল এবং তা নিয়ে যাকাত সংগ্রাহকের (عاشر) নিকট দিয়ে অতিক্রম করল, তবে তিনি তার যাকাত গ্রহণ করবেন; কেবল ইমাম আবু হানীফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ব্যতীত, কেননা তিনি বলেছেন: তিনি তা থেকে যাকাত গ্রহণ করবেন না।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫০)
[30/ 6]- وأجمعوا أنه لا زكاة في شيء من البقر حتى تبلغ ثلاثين، فإذا تمت ثلاثين ففيها تبيع، إلا قتادة ومن وافقه فإنه قال: في خمس من البقر شاة. والله أعلم.
[৩০/ ৬]- এবং তাঁরা ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, গরুর সংখ্যা ত্রিশটি না হওয়া পর্যন্ত তাতে কোনো জাকাত নেই; যখন তা ত্রিশ পূর্ণ হবে, তখন তাতে একটি এক বছর বয়সী বাছুর (تبيع) প্রদান করতে হবে। তবে কাতাদাহ এবং যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন তারা ব্যতীত; কেননা তিনি বলেছেন: প্রতি পাঁচটি গরুর জন্য একটি বকরি (شاة) দিতে হবে। আর আল্লাহ্-ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫২)
5 - ‌‌((باب الصيام والاعتكاف))

[31/ 1]- وأجمع الفقهاء في الصدر الأول، أن من جامع في نهار رمضان
৫ - ‌‌((রোজা ও ইতিকাফ অধ্যায়))

[৩১/ ১]- এবং প্রথম যুগের ফকিহগণ এই মর্মে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি রমজানের দিনে সহবাস করবে
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وهو صحيح ولا علة به ولا حجة له تبيح الإفطار، عامدًا بِجِماعِهِ فيه، أن عليه مع القضاء لذلك اليوم عتق رقبة إن كان لها واجدًا، إلا إبراهيم النخعي رضي الله عنه وسعيد بن جبير فإنهما قالا: لا كفارة عليه.

[32/ 2]- وأجمعوا سواهما أن ذلك المجامع إذا لم يجد رقبة أطعم ستين مسكينًا، إلا الحسن البصري/ رضي الله عنه، فإنه قال: إذا لم يجد رقبة أهدى هديًا إلى مكة.
এবং এটি বিশুদ্ধ (صحيح) এবং এতে কোনো ত্রুটি (علة) নেই। আর ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করাকে বৈধতা দেওয়ার মতো কোনো দলিল তার কাছে নেই। তার ওপর সেই দিনের কাজা (قضاء) আদায়ের পাশাপাশি একটি দাস মুক্ত করা আবশ্যক যদি সে তা পাওয়ার সামর্থ্য রাখে। তবে ইবরাহিম আন-নাখায়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং সাঈদ ইবনে জুবায়ের ব্যতীত; তাঁরা উভয়ে বলেছেন যে, তার ওপর কোনো কাফফারা (كفارة) নেই।

[৩২/ ২]- তাঁরা ব্যতীত অন্য সকলে ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, সেই সহবাসকারী ব্যক্তি যদি দাস খুঁজে না পায়, তবে সে ষাটজন মিসকিনকে অন্নদান করবে। তবে হাসান আল-বাসরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর ব্যতিক্রম; তিনি বলেছেন: যদি সে দাস খুঁজে না পায়, তবে সে মক্কায় একটি হাদি (هدي) প্রেরণ করবে।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫৪)
[33/ 3]- وأجمعوا سواهما أن ذلك المجامع إذا لم يجد إطعام ستين
[৩৩/ ৩]- এবং তাঁরা দু’জন ব্যতীত অন্য সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, সেই সঙ্গমকারী ব্যক্তি যদি ষাটজন (দরিদ্রকে) অন্নদান করার সামর্থ্য না রাখে...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫৫)
مسكينًا - أو لم يجد الهدي على قول الحسن رضي الله عنه صام شهرين متتابعين لا يجزه به مفترقين، إلا محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى رضي الله عنه، فإنه قال: إن صامهما مفترقين أجزناه.

[34/ 4]- وأجمعوا سواهما أن المرأة إذا جومعت وهي صائمة في رمضان
মিসকিনকে—অথবা হাসান (রা.)-এর মতানুসারে সে যদি হাদি (الهدي) খুঁজে না পায়, তবে সে একাধারে (متتابعين) দুই মাস রোজা রাখবে; পৃথকভাবে রোজা রাখলে তা তার জন্য যথেষ্ট (يجزئ) হবে না। তবে মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা (রা.) ব্যতীত, কেননা তিনি বলেছেন: যদি সে পৃথকভাবেও রোজা রাখে তবে আমরা তা যথেষ্ট (أجزناه) বলে গণ্য করব।

[৩৪/ ৪]- এবং তাঁরা উভয় ব্যতীত সকলে এ বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, রমজান মাসে কোনো নারী রোজা থাকা অবস্থায় যদি তাঁর সাথে সহবাস করা হয়...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫৬)
بلا عذر، ولا علة بها مع ذلك، وهي مطاوعة، فعليها من الكفارة ما على الأول الذي ذكرنا، إلا الأوزاعي ثم الشافعي رضي الله عنهما فإنهما قالا: كفارة واحدة تجزئ عنهما.

[35/ 5]- وأجمعوا سواهما/ أنه إذا لم يجد رقبة وعجز عن الصوم ولم
কোনো ওজর (عذر) ব্যতীত, এবং তদুপরি তার কোনো অসুস্থতা (علة) নেই, অথচ সে স্বেচ্ছায় সম্মতিদানকারী (مطاوعة); এমতাবস্থায় তার ওপর সেই কাফফারা (كفارة) আবশ্যক হবে যা আমরা প্রথম ব্যক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। তবে আওযায়ী এবং শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর ব্যতিক্রম, কেননা তাঁরা বলেছেন: একটি কাফফারা (كفارة)-ই তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।

[৩৫/ ৫]- তাঁরা দু’জন ব্যতীত অন্য সকলে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যদি সে কোনো দাস (رقبة) খুঁজে না পায় এবং সিয়াম (صوم) পালনে অক্ষম হয় এবং...