(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الحدود في النحو   (جمال الدين الفاكهي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح كتاب الحدود في النحو

المؤلف: عبد الله بن أحمد الفاكهي النحوي المكي (899 - 972 هـ)

المحقق: د. المتولي رمضان أحمد الدميري، المدرس في كلية اللغة العربية بالمنصورة - جامعة الأزهر، والأستاذ المساعد في كلية التربية بالمدينة المنورة جامعة الملك عبد العزيز

الناشر: مكتبة وهبة - القاهرة

الطبعة: الثانية، 1414 هـ - 1993 م

عدد الصفحات: 318

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

নাহু শাস্ত্রের হুদুদ কিতাবের ব্যাখ্যা   (জামাল উদ্দিন আল-ফাকিহি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: নাহু শাস্ত্রের হুদুদ কিতাবের ব্যাখ্যা

লেখক: আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-ফাকিহি আন-নাহবি আল-মাক্কি (৮৯৯ - ৯৭২ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আল-মুতাওয়াল্লি রমজান আহমদ আদ-দামিরি, মানসুরা আরবি ভাষা অনুষদের শিক্ষক - আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, এবং মদিনা মুনাওয়ারা শিক্ষা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক, কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবা - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৮

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতা আন-নাসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩৪)
شرح كتاب الحدود في النحو

للفاكهىّ

(899 - 972 هـ)
নাহু শাস্ত্রের কিতাবুল হুদুদ-এর ব্যাখ্যা

আল-ফাকিহি-র

(৮৯৯ - ৯৭২ হিজরি)
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌[مقدمة الشرح للمؤلف]

بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر وأعن واختم بخير يا كريم

نحمدك يا من من بالفضل على من شاء من عباده، وبلغه بخدمة العلم الشريف غاية مراده.

ونصلي ونسلم على من أرسل للعالمين هدى ورحمة، وخص بجوامع الكلم، وشرح صدره وملئ حكمة، فكان لا ينطق عن الهوى فيما يصدر عنه من قول وكلمة، صلى الله عليه وسلم، ما قام بالنفس ضمير وأعرب عنه فم وتكلم، وعلى آله الغر الكرام، وأصحابه مصابيح الظلام.

أما بعد:
[ব্যাখ্যার ভূমিকা গ্রন্থকারের]

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে প্রতিপালক! সহজ করে দিন, সাহায্য করুন এবং কল্যাণের সাথে সমাপ্তি দান করুন, হে মহানুভব।

আমরা আপনার প্রশংসা করছি হে সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাঁর প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করেছেন এবং মহিমান্বিত ইলমের খিদমতের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছিয়েছেন।

আমরা সালাত ও সালাম পেশ করছি তাঁর প্রতি, যাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, যাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (جوامع الكلم) প্রদানের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে, যাঁর বক্ষকে উন্মোচিত করা হয়েছে এবং যাঁর অন্তর হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা পূর্ণ করা হয়েছে। ফলে তাঁর মুখ নিঃসৃত কোনো বাণী বা কথা নিজ প্রবৃত্তি থেকে উৎসারিত হয় না। তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—যতক্ষণ অন্তরে কোনো সংকল্প উদিত হবে এবং মুখ তা ব্যক্ত করবে; আর তাঁর অত্যন্ত মর্যাদাশীল পরিবার-পরিজন এবং অন্ধকারের প্রদীপতুল্য সাহাবীগণের ওপরও (সালাম বর্ষিত হোক)।

অতঃপর:
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فقد كنت ألفت حدودا في النحو جمعتها من كتب [جمة] ثم سنح لي أن أضع عليها شرحا ممتزجا بكلماتها، يناسبها في الاختصار والإتقان، كافلًا لحل مبانيها وتوضيح معانيها، فوضعت هذه العجالة ملتقطة من نثارهم، سائلا من الله الحكيم الوهاب، أن يهديني طريق الصدق والصواب، فإنه الجدير بالإجابة، والمعول عليه في طلب الإصابة.

فأقول مقتديا بأسلوب الكتاب العزيز، وعاملا بمقتضى الحديثين:
আমি ইতিপূর্বে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে কিছু সংজ্ঞা (حدود) সংকলন করেছিলাম, যা আমি প্রচুর (جمة) গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করেছিলাম। অতঃপর আমার নিকট প্রতীয়মান হলো যে, আমি সেগুলোর উপর এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি যা মূল পাঠের সাথে সংমিশ্রিত থাকবে এবং যা সংক্ষিপ্ততা ও সুনিপুণতার (الإتقان) দিক থেকে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ; এটি এর শব্দশৈলীর জটিলতা নিরসন এবং অর্থসমূহ পরিস্ফুট করার নিশ্চয়তা প্রদান করবে। তাই আমি বিজ্ঞ আলিমগণের বিক্ষিপ্ত জ্ঞানভাণ্ডার থেকে চয়ন করে এই সংক্ষিপ্ত রচনাটি প্রস্তুত করেছি। আমি প্রজ্ঞাময় ও মহা দাতা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাকে সত্য ও সঠিক পথ প্রদর্শন করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুল করার যোগ্য এবং সঠিক লক্ষ্য অর্জনে একমাত্র নির্ভরস্থল।

অতএব, আমি মহাগ্রন্থের রীতির অনুসরণ করে এবং দুটি হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করে বলছি:
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ص: بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله

 

‌‌[شرح مقدمة المتن]

ش: {بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله}

الجار مع مجروره متعلق بمحذوف للعلم به، يقدر مؤخرًا للاهتمام أو للاختصاص، مناسبا لما جعلت التسمية مبدأ له، كما أفاده الزمخشري، إذ كل جار ومجرور - ليس بزائد، ولا مما يستثنى به - لابد أن يتعلق بالفعل، أو بما يشبهه، أو ما أول بما يشبهه، أو ما يشير إلى معناه.

1 - و (الله):

علم على الذات الواجب الوجود، المستحق لجميع المحامد.

ولا خلاف أنه أعرف المعارف وإن كان علما.
স: পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর।

 

‌‌[মূল পাঠের ভূমিকার ব্যাখ্যা]

শ: {পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর।}

অব্যয় ও তার পরবর্তী বিশেষ্য বা যার ও মাজরুর (الجار والمجرور) একটি উহ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা স্পষ্ট হওয়ার কারণে উহ্য রাখা হয়েছে। গুরুত্ব প্রদান অথবা নির্দিষ্টকরণের (اختصاص) উদ্দেশ্যে এই উহ্য পদটিকে বাক্যের শেষে বিবেচনা করা হয়, যা বিসমিল্লাহ পাঠের মাধ্যমে শুরু করা বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ; যেমনটি আল-যামাখশারী উল্লেখ করেছেন। কেননা প্রতিটি যার ও মাজরুর (الجار والمجرور)—যা অতিরিক্ত নয় কিংবা ব্যতিক্রমী পদের অন্তর্ভুক্ত নয়—সেটি অবশ্যই কোনো ক্রিয়া (فعل), অথবা ক্রিয়াসদৃশ কোনো পদ, অথবা যা ক্রিয়ার অর্থ প্রদান করে কিংবা যা ক্রিয়ার অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে, এমন কোনো পদের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হয়।

১ - এবং (আল্লাহ):

অস্তিত্ব যার অপরিহার্য (واجب الوجود), এবং যিনি সকল প্রশংসার যোগ্য, তাঁর জন্য নির্ধারিত একটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (علم)।

এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, এটি একটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (علم) হওয়া সত্ত্বেও সকল পরিচিত বা সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞাসমূহের মধ্যে সর্বাধিক সুনির্দিষ্ট (أعرف المعارف)।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وهو اسم لم يسم به أحد قط إلا الله.

ولمزيد الاعتناء به تكرر في القرآن العظيم ألفي مرة وخمسمائة وستين مرة.

2 - و (الرحمن الرحيم):

صفتان مشبهتان بنيتا للمبالغة من: رحم، بعد نقله 2 إلى (فعل) بضم العين. /

وقدم (الرحمن) لأنه أبلغ، إذ الزيادة في البناء تدل على زيادة المعنى، كما في: قطع، وقطع.

ومن ثم أطلق جماعة (الرحمن): على مفيض جلائل النعم، و (الرحيم): على مقبض دقائقها.

3 - و (الحمد) لغة:

الثناء باللسان على الجميل الاختياري على قصد التعظيم سواء تعلق بنعمة أم لا.
এটি এমন একটি নাম যা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে কখনোই দেওয়া হয়নি।

এর প্রতি অধিক গুরুত্বারোপের কারণে মহান কুরআনে এটি দুই হাজার পাঁচশত ষাট বার পুনরাবৃত্ত হয়েছে।

২ - এবং (আর-রহমান আর-রহীম):

এগুলো অতিশায়নের জন্য গঠিত দুটি স্থায়ী গুণবাচক বিশেষণ যা ‘রাহিমা’ ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত, যা ‘আইন’ বর্ণে পেশ প্রদানের মাধ্যমে ‘ফা-উ-লা’ ওজনে রূপান্তরিত হওয়ার পর গঠিত হয়েছে। /

‘আর-রহমান’ শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে কারণ এটি অধিক অর্থবোধক; কেননা শব্দের রূপগত বৃদ্ধি অর্থের আধিক্যকে নির্দেশ করে, যেমন: ‘কাতাআ’ এবং ‘কাত্তাআ’।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে একদল আলেম ‘আর-রহমান’ বলতে মহান নেয়ামতসমূহের দাতা এবং ‘আর-রহীম’ বলতে সূক্ষ্ম নেয়ামতসমূহের নিয়ন্ত্রণকারীকে বুঝিয়েছেন।

৩ - এবং আভিধানিক অর্থে ‘আল-হামদ’:

সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কোনো ঐচ্ছিক সুন্দরের প্রতি মৌখিক প্রশংসা করা, চাই তা কোনো নেয়ামতের বিনিময়ে হোক বা না হোক।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ص: الذي أعطى من رفع قدره بالعلم مكانًا عليا.

4 - و (الشكر):

فعل يشعر بتعظيم المنعم بسبب كونه منعما على الشاكر أو غيره، سواء كان باللسان، أم بالجنان، أم بالأركان.

فالحمد أعم متعلقًا وأخص موردا، والشكر بالعكس.

5 - والمراد بالجميل:

ما يليق بالشخص ويحسن به، فهو متناول للفضائل والفواضل.

وجملة (الحمد لله) إخبارية لفظا إنشائية معنى، إذ المراد بها: إيجاد الحمد، لا الإخبار بأنه سيوجد.

وهي أبلغ صيغ الحمد، لدلالتها على اختصاص كل حمد بالله سبحانه.

ش: {الذي أعطى من رفع قدره} - أي محله - {بالعلم} الشرعي وما هو آله له - أي بسبب معرفته - {مكانا عليا} - أي
সূ: যিনি দান করেছেন তাকে, যার মর্যাদা তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে সুউচ্চ স্থানে উন্নীত করেছেন।

৪ - এবং (শুকর):

এমন এক কর্ম যা নিয়ামতদাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন জ্ঞাপন করে, যেহেতু তিনি কৃতজ্ঞতাপ্রকাশকারী কিংবা অন্য কারো প্রতি নিয়ামত দান করেছেন; চাই তা রসনা দ্বারা হোক, কিংবা অন্তর দ্বারা অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে।

সুতরাং 'হামদ' (প্রশংসা) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিক থেকে অধিক ব্যাপক এবং উৎসের দিক থেকে অধিক বিশেষ (খাস), আর 'শুকর' এর বিপরীত।

৫ - আর 'জামিল' (সুন্দর) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:

যা ব্যক্তির জন্য সমীচীন ও শোভনীয়; সুতরাং তা মহৎ গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

আর 'আলহামদুলিল্লাহ' বাক্যটি শব্দগত বিচারে বিবৃতিমূলক হলেও অর্থগত বিচারে প্রবর্তক; কেননা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রশংসা নিবেদন করা, প্রশংসা সাধিত হবে এমন সংবাদ প্রদান করা নয়।

এটি প্রশংসার সর্বাধিক অলঙ্কারপূর্ণ রূপ, কারণ এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য সমস্ত প্রশংসার নির্দিষ্টতাকে প্রমাণ করে।

ব্যাখ্যা: {যিনি দান করেছেন তাকে যার মর্যাদা তিনি উন্নীত করেছেন} - অর্থাৎ যার মর্তবাকে - {জ্ঞানের মাধ্যমে} শরয়ি জ্ঞান ও তার উপকরণসমূহের মাধ্যমে - অর্থাৎ তা অর্জনের কারণে - {সুউচ্চ স্থানে} - অর্থাৎ
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪০)
ص: وشرفه باللغة العربية، فكان لفصيح الكلام كفوا ووليا.

وأشهد أن لا إله

مرتفعا - وهو كناية عن علو المنزلة دنيا وأخرى، قال تعالى: «يرفع الله الذين آمنوا منكم والذين أوتوا العلم درجات».

ورفعتها تدل على الفضل، إذ المراد كثرة الثواب، وبها ترفع الدرجات.

ش: {وشرفه} - أي عظمه - {باللغة العربية} - أي بمعرفتها - {فكان} بسبب ذلك {لفصيح الكلام} - أي للكلام الفصيح، من إضافة الصفة للموصوف.

6 - وهو:

الخالص من ضعف التأليف، وتنافر الكلمات، [والتعقيد]. مع فصاحتها - {كفوًا ووليا} له.

{وأشهد} - أي أعلم وأتحقق - {أن لا إله} - أي معبود
ص: এবং তিনি তাকে আরবি ভাষা দ্বারা সম্মানিত করেছেন, ফলে তিনি প্রাঞ্জল বাচনের যোগ্য ও অভিভাবক হয়েছেন।

এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে কোনো উপাস্য (إله) নেই

সমুন্নত - যা দুনিয়া ও আখেরাতে উচ্চ মর্যাদার রূপক; আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করবেন।"

আর এর উচ্চতা শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক, কেননা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সওয়াবের আধিক্য, আর এর মাধ্যমেই মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

শ: {এবং তিনি তাকে সম্মানিত করেছেন} - অর্থাৎ তাকে মহিমান্বিত করেছেন - {আরবি ভাষা দ্বারা} - অর্থাৎ এর জ্ঞানের মাধ্যমে - {ফলে তিনি হয়েছেন} সেই কারণে {প্রাঞ্জল বাচনের} - অর্থাৎ প্রাঞ্জল বাক্যের জন্য, যা বিশেষণের সাথে বিশেষ্যের সম্বন্ধ (إضافة الصفة للموصوف)।

6 - আর তা হলো:

যা বাক্য গঠনের দুর্বলতা (ضعف التأليف), শব্দগত অসঙ্গতি এবং [জটিলতা] থেকে মুক্ত। এর প্রাঞ্জলতার সাথে - তিনি তার জন্য {যোগ্য ও অভিভাবক}।

{এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি} - অর্থাৎ আমি জানি ও সুনিশ্চিত করছি - {যে কোনো উপাস্য নেই} - অর্থাৎ কোনো উপাস্য (معبود) নেই
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪১)
ص: إلا الله وحده لا شريك له، شهادة تلبس قائلها من الشرف حاليًا، وأشهد أن سيدنا محمدا

ش: بحق - {إلا الله} الواجب الوجود {وحده لا شريك له}: في ملكه، وذاته، وصفاته. {شهادة} - مفعول مطلق مؤكد - {تلبس قائلها} - أي الناطق بها - {من الشرف} - بيان لقولنا - {حليا} ، قدم رعاية للسجع.

{وأشهد} - أي أعلم وأتحقق - {أن سيدنا} - أي أفضلنا، [أي البشر]. من: ساد قومه يسودهم، فهو سيد.

وأصله: سيود. وفيه إعلال معروف - {محمدا} 0 عطف بيان، أو بدل.

وهو علم منقول من اسم مفعول المضعف، موضوع لمن كثرت خصاله الحميدة، سمى به نبينا بإلهام لذلك، فهو أبلغ من (محمود) /. 3

واستعمال (السيد) في غير الله تعالى، شائع كثير، يشهد له الكتاب والسنة:
ص: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, যিনি একক এবং যাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য (شهادة), যা এর প্রদানকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে মর্যাদার অলঙ্কারে ভূষিত করে। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের নেতা (سيد) মুহাম্মদ...

ش: প্রকৃতপক্ষে— {আল্লাহ ব্যতীত} যিনি আবশ্যিকভাবে অস্তিত্বশীল (واجب الوجود), {যিনি একক এবং যাঁর কোনো শরিক নেই}: তাঁর রাজত্বে, তাঁর সত্তায় এবং তাঁর গুণাবলিতে। {সাক্ষ্য (شهادة)} — এটি একটি তাকিদ দানকারী (مؤكد) মাফউলে মুতলাক (مفعول مطلق)। {যা প্রদানকারীকে পরিধান করায়} — অর্থাৎ এর উচ্চারণকারীকে। {মর্যাদার (الشرف)} — এটি আমাদের পরবর্তী শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করে— {অলঙ্কার}, যা অন্ত্যমিল বা অনুপ্রাসের (سجع) ভারসাম্য রক্ষার্থে আগে আনা হয়েছে।

{এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি} — অর্থাৎ আমি জানি ও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। {যে আমাদের নেতা (سيد)} — অর্থাৎ আমাদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ, [অর্থাৎ মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ]। এটি 'সাদা' (ساد) ধাতু থেকে উদ্গত, যার অর্থ হলো তিনি তাঁর জাতির নেতৃত্ব দেন, সুতরাং তিনি একজন নেতা (سيد)।

এর মূল রূপ ছিল: 'সাইয়িউদ'। এতে ইলমুল সরফের সুপরিচিত তাত্ত্বিক পরিবর্তন (إعلال) ঘটেছে। {মুহাম্মদ} — এটি আত্বফে বায়ান (عطف بيان) অথবা বদল (بدل)।

এটি একটি বিশেষ্য (علم), যা দ্বিত্বযুক্ত বর্ণবিশিষ্ট কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) থেকে গৃহীত। এটি এমন ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত যার প্রশংসনীয় গুণাবলি অনেক বেশি। ঐশী নির্দেশনার (إلهام) প্রভাবে আমাদের নবীকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে, তাই এটি 'মাহমুদ' (محمود) অপেক্ষা অধিক অর্থবহ।

আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে 'নেতা (سيد)' শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত প্রচলিত ও ব্যাপক, যার সপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর প্রমাণ বিদ্যমান:
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪২)
ص: عبده ورسوله.

فمن الكتاب قوله تعالى: «سيدًا وحصورًا» ، و «ألفيا سيدها لدى الباب».

ومن السنة قوله عليه الصلاة والسلام: «أنا سيد ولد آدم ولا فخر» ، و «قوموا لسيدكم».

وحكى عن الإمام مالك - رحمه الله تعالى - الكراهة.

وفي أذكار النووي عن ابن النحاس: جواز إطلاقه على غير الله إلا أن يعرف بأل، ثم قال: والأظهر جوازه معها

ش: {عبده ورسوله} خبر أن.
মূলপাঠ: তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

পবিত্র কুরআন থেকে মহান আল্লাহর বাণী: “নেতা ও আত্মসংযমী” এবং “তারা দরজার কাছে তার স্বামীকে দেখতে পেল”।

সুন্নাহ থেকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: “আমি আদম সন্তানদের নেতা এবং এতে কোনো অহঙ্কার নেই” এবং “তোমরা তোমাদের নেতার জন্য দাঁড়াও”।

ইমাম মালিক —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— থেকে এটি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

নববীর আযকার-এ ইবনুন নাহহাস থেকে বর্ণিত হয়েছে: আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করা বৈধ, তবে যদি তা আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট করা না হয়। অতঃপর তিনি বলেছেন: অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো এর সাথেও এটি বৈধ।

ব্যাখ্যা: {তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল} হলো ‘আন্না’-এর খবর।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ص: الذي خصه بجوامع الكلم، واتخذه صفيا، صلى الله عليه وسلم.

7 - والمشهور في تعريف الرسول:

أنه إنسان أوحى إليه بشرع وأمر بتبليغه.

8 - والنبي:

أنه إنسان أوحى إليه بشرع وإن لم يؤمر بتبليغه.

فكل رسول نبي ولا عكس.

9 - {الذي خصه} الله {بجوامع الكلم} - أي:

بالكلمات المحتوية على فوائد جليلة بألفاظ يسيرة، من غير إطناب ولا تطويل -

{وأتخذه} - أي صيره - {صفيًا} ، أي حبيبا مصافيا. وجملة {صلى الله عليه وسلم} جملة دعائية، أي اللهم صل وسلم عليه.

10 - والصلاة من الله: رحمة، ومن الملائكة: استغفار، ومن المؤمنين: دعاء وتضرع.
যিনি তাঁকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণী (جوامع الكلم) দ্বারা, এবং তাঁকে মনোনীত করেছেন খাঁটি বন্ধু (صفيًا) হিসেবে, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

7 - আর রাসূল (رسول) এর সংজ্ঞায় প্রসিদ্ধ হলো:

তিনি এমন একজন মানুষ যাঁর প্রতি শরিয়ত ওহী করা হয়েছে এবং তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

8 - আর নবী (نبي) হলেন:

তিনি এমন একজন মানুষ যাঁর প্রতি শরিয়ত ওহী করা হয়েছে, যদিও তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

সুতরাং প্রত্যেক রাসূলই নবী (نبي), তবে প্রত্যেক নবী রাসূল নন।

9 - {যিনি বিশিষ্ট করেছেন} আল্লাহ {ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণী (جوامع الكلم) দ্বারা} - অর্থাৎ:

অল্প শব্দের মধ্যে মহান কল্যাণসমূহ বেষ্টিত বাণীর মাধ্যমে, কোনো প্রকার বাহুল্য বা দীর্ঘসূত্রতা ব্যতিরেকে -

{এবং তাঁকে গ্রহণ করেছেন} - অর্থাৎ বানিয়েছেন - {খাঁটি বন্ধু (صفيًا) হিসেবে}, অর্থাৎ একনিষ্ঠ প্রিয়পাত্র। আর "তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক" বাক্যটি একটি দুআসূচক (دعائية) বাক্য, অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

10 - আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত (صلاة) হলো: রহমত (رحمة), ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে: ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار), এবং মুমিনদের পক্ষ থেকে: দুআ (دعاء) ও আকুতি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪৪)
ص: وعلى آله

وخص الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام - من بين البشر: بالإفراد بلفظ الصلاة، تعظيمًا لهم.

11 - والتسليم: التحية بالسلام.

12 - ومعناها: الإخبار بالسلامة من كل مكروه.

والجمع بينهما مستحب، وإفراد أحدهما عن الآخر مكروه.

13 - {وعلى آله} ، فسر سيبويه:

بالقوم الذين يؤول أمرهم إلى المضاف إليه.

وهذا منه نص في أنه اسم جمع.

وقيل: أصله: أهل. بدليل: تصغيره على: أهيل.

خص استعماله في الأشراف وأهل الخطر.

ومذهب الشافعي رضي الله عنه: أن الشرع خص باسم
মূল পাঠ: এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।

আর নবীগণকে—তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—মানবজাতির মধ্য থেকে স্বতন্ত্র করা হয়েছে কেবল সালাত (صلاة) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে, তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে।

11 - আর তাসলিম (تسليم) হলো: সালামের মাধ্যমে অভিবাদন জানানো।

12 - আর এর অর্থ হলো: সকল প্রকার অপ্রীতিকর বিষয় থেকে নিরাপত্তা লাভের সংবাদ প্রদান।

উভয়টিকে একত্রে যুক্ত করা পছন্দনীয় (مستحب), আর একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক রাখা অপছন্দনীয় (مكروه)।

13 - {এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর}, সিবওয়াইহ ব্যাখ্যা করেছেন:

এমন এক জনসমষ্টি হিসেবে, যাদের বিষয়াদি সেই ব্যক্তির (সম্বন্ধিত পদ) দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা যে, এটি একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (اسم جمع)।

বলা হয়ে থাকে যে, এর মূল উৎস হলো 'আহল'। এর প্রমাণ: এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ (تصغير) হলো 'উহাইয়িল'।

এর ব্যবহার কেবল মর্যাদাবান ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

ইমাম শাফিঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব হলো: শরয়ি বিধান (الشرع) এই নামটিকে নির্দিষ্ট করেছে...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪৫)
ص: وأصحابه، وذريته بكرة.

(آل النبي): مؤمنى بنى هاشم والمطلب، ابنى عبد مناف، من بين أهله كلهم أو من يرجع إليه بقرابة أو نحوها. للدليل المبين في محله.

وإضافته للضمير جائزة - على الصحيح - وليست من لحن العامة.

ش: {وأصحابه}: جمع صحب، وهو اسم جمع لصاحب، بمعنى: الصحابي.

14 - وهو: من اجتمع مؤمنا بمحمد صلى الله عليه وسلم ومات مؤمنا.

وعطف (الأصحاب) على (الآل) الشامل لبعضهم: لتشمل الصلاة باقيهم.

{وذريته}: كأولاد الحسن والحسين / … 4

15 - [بكرة}: أي أول النهار. وهو من الفجر على الصحيح.
স: এবং তাঁর সাহাবীগণ (الصحابة) ও তাঁর বংশধরদের ওপর, সকালবেলায়।

(নবীর পরিবার): তাঁর সকল পরিজনদের মধ্য থেকে বনু হাশিম ও আবদ মানাফের দুই পুত্র মুত্তালিবের মুমিন (مؤمن) সদস্যগণ, অথবা যারা তাঁর সাথে আত্মীয়তা বা অনুরূপ সূত্রে সম্পর্কিত। এর সপক্ষে প্রমাণ যথাস্থানে বর্ণিত হয়েছে।

আর এর সাথে সর্বনাম যুক্ত করা সঠিক (الصحيح) মতানুসারে বৈধ এবং এটি সাধারণ মানুষের ব্যাকরণগত ভুল নয়।

শ: {এবং তাঁর সাহাবীগণ}: এটি ‘সাহব’ শব্দের বহুবচন, যা ‘সাহিব’ শব্দের একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, যার অর্থ: সাহাবী (الصحابي)।

14 - আর তিনি হলেন: যিনি মুমিন (مؤمن) অবস্থায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং মুমিন (مؤمن) হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এবং ‘পরিবার’-এর ওপর ‘সাহাবীগণ’-কে সংযোজন করা হয়েছে—যা তাদের কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করে—যাতে এই দোয়া বাকি সকলের জন্য শামিল হয়।

{এবং তাঁর বংশধরগণ}: যেমন হাসান ও হুসাইনের সন্তানসন্ততি / … 4

15 - [সকালবেলা]: অর্থাৎ দিনের শুরু। আর সঠিক (الصحيح) মতানুসারে এটি ফজর থেকে শুরু হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪৬)
ص: وعشيا.

ش: 16 - {وعشيا}: أي آخر النهار. وهو من غروب الشمس.
স: এবং দিনের শেষভাগে।

শ: ১৬ - {এবং দিনের শেষভাগে}: অর্থাৎ দিনের শেষাংশ। আর তা সূর্যাস্ত থেকে শুরু হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪৭)
ص: وبعد:

فقد سألني من لا تسعني مخالفته أن أجمع له الحدود المختارة المستعملة في علم النحو

 

‌‌[شرح لبيان المؤلف سبب تأليف المتن]

ش: {وبعد]:

هو من الظروف المبنية على الضم، المنقطعة عن الإضافة. والعامل فيه: (أما) المحذوفة، لنيابتها عن الفعل.

وحذفت لكثرة الاستعمال، واستغنى عنها بدخول الفاء في الجواب.

والأصل: مهما يكن من شئ بعد الحمد وما ذكر معه.

{فقد سألني من لا تسعنى مخالفته} ، من هو في الجلالة سيدى وجدى، فرع الشجرة الطيبة الأصل والفاصلة الكبرى، وناهيك بها من فضل، سلالة العلماء الأماثل الأكابر الأفاضل:

{أن أجمع له} من كتب النحاة.

{الحدود المختارة} عندهم، {المستعملة} على ألسنتهم {في علم النحو} ، وهو ما سيجيء.
ص: অতঃপর:

এমন এক ব্যক্তি যার অবাধ্য হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তিনি আমাকে ব্যাকরণ শাস্ত্রে (علم النحو) বহুল ব্যবহৃত এবং নির্বাচিত সংজ্ঞাসমূহ (الحدود) তাঁর জন্য সংকলন করার অনুরোধ করেছেন।

 

‌‌[মূল গ্রন্থ রচনার কারণ বর্ণনায় লেখকের ব্যাখ্যা]

শ: {অতঃপর}:

এটি যম্মাহর (পেশ) ওপর ভিত্তি করে গঠিত মাবনি (مبني) এমন একটি যরফ (ظرف) যা সম্বন্ধ (الإضافة) থেকে বিচ্ছিন্ন। এতে আমলকারী (العامل) হলো উহ্য ‘আম্মা’ (أما), যা ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

অত্যধিক ব্যবহারের কারণে এটি উহ্য করা হয়েছে এবং এর জওয়াবে ‘ফা’ (فاء) যুক্ত হওয়ায় তা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া গেছে।

এর মূল রূপ হলো: হামদ (প্রশংসা) এবং এর সাথে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার পর যাই ঘটুক না কেন।

{এমন এক ব্যক্তি যার অবাধ্য হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন}, যিনি মর্যাদার দিক থেকে আমার নেতা ও আমার পিতামহ, তিনি এক পবিত্র বৃক্ষের শাখা যার মূল সুদৃঢ় এবং যা এক মহান অংশ—আর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট—তিনি শ্রেষ্ঠ, মহান ও গুণী আলিমগণের বংশধর:

{যেন আমি তাঁর জন্য সংকলন করি} ব্যাকরণবিদদের কিতাবসমূহ থেকে।

তাঁদের নিকট {নির্বাচিত সংজ্ঞাসমূহ} (الحدود المختارة), যা তাঁদের নিকট {ব্যাকরণ শাস্ত্রে} (علم النحو) {ব্যবহৃত} (المستعملة); আর তা সামনে আসছে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪৮)
ص: وحدود ما صم إليه.

فأجبته إلى سؤاله، وشرعت فيه مقتصرا على ذكر الحدود فأقول. مستمدًا من الله التوفيق:

ش: {وحدود ما ضم إليه} ، مما يذكر فيه تبعًا وهو من غيره، كالمضمر والوقف والإمالة.

{فأجبته} بعد الاستخارة {إلى سؤاله} ، راجيا من الله الثواب.

{وشرعت فيه} حالة كونى {منتصرا} فيه {على ذكر الحدود}.

وقد أذكر ما يترتب عليه ذلك أو يشعر به.

إذا علمت ذلك {فأقول} حالة كونى {مستمدًا من الله} - أي طالبا منه - {التوفيق}.

16 - وهو: خلق قدرة الطاعة في العبد، وبها يرتكب المأمورات، ويجتنب المنهيات، ويفوز بسعادة الدارين.

وعكسه الخذلان-:
সা: এবং এর সাথে যা সংযুক্ত করা হয়েছে তার সংজ্ঞাসমূহ (حدود)।

অতঃপর আমি তাঁর অনুরোধে সাড়া দিলাম এবং কেবল সংজ্ঞাসমূহ (حدود) উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে এটি রচনা শুরু করলাম। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক (توفيق) প্রার্থনা করে বলছি:

শা: {এবং এর সাথে যা সংযুক্ত করা হয়েছে তার সংজ্ঞাসমূহ (حدود)}, অর্থাৎ যা আনুষঙ্গিক হিসেবে এতে উল্লেখ করা হয় অথচ তা ভিন্ন শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: উহ্য (مضمر), বিরতি (وقف) এবং ইমালাহ (إمالة)।

{অতঃপর আমি সাড়া দিলাম} ইস্তিখারা (استخارة) করার পর {তাঁর অনুরোধে}, আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশা রেখে।

{এবং আমি এটি শুরু করলাম} এমতাবস্থায় যে আমি এতে {সংজ্ঞাসমূহ (حدود) উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ} ছিলাম।

কখনও আমি এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি বা যা দ্বারা এর ইঙ্গিত পাওয়া যায় তাও উল্লেখ করতে পারি।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন {আমি বলছি} এমতাবস্থায় যে আমি {আল্লাহর নিকট সাহায্যপ্রার্থী} - অর্থাৎ তাঁর কাছে যাঞ্চাকারী - {তাওফিক (توفيق)} এর জন্য।

১৬ - আর তা হলো: বান্দার মধ্যে আনুগত্যের সামর্থ্য সৃষ্টি করা, যার মাধ্যমে সে নির্দেশিত কার্যাবলি সম্পাদন করে, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করে এবং উভয় জগতের সৌভাগ্য অর্জন করে।

আর এর বিপরীত হলো খিজলান বা আল্লাহর সাহায্য প্রত্যাহার (خذلان)-:
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪৯)
ص: اعلم أن الحد والمعرف في عرف النحاة والفقهاء والأصوليين، اسمان لمسمى واحد. وهو: ما يميز الشيء عما عداه. ولا يكون كذلك إلا ما كان جامعا مانعا.

 

‌‌[تعريف الحد عند النحاة والفقهاء والأصوليين، والمناطقة]

ش: {اعلم} - فعل أمر مأخوذ من: تعلم، يقتضى مفعولين سد مسدهما هنا (أن) مع اسمها وخبرها - {أن الحد، والمعرف} - بكسر الراء المشددة - {في عرف النحاة، والفقهاء، والأصوليين} ، لا مطلقا: {إسمان لمسمى واحد} - أي معنى واحد -

17 - {وهو} - أي المسمى الواحد -:

{ما يميز الشيء عن} جميع {ما عداه}.

كالحيوان الناطق، فإنه يميز الإنسان عن جميع ما عداه، مما شاركه في مطلق الحيوان.

{ولا يكون كذلك} ، أي ولا يميز الشئ عما عداه {إلا ما كان: جامعا} لأفراد المحدود فلا يخرج عنه شيء منها، {مانعا} من. خول غيرها فيه

وخرج بعرف النحاة وما بعده: عرف المنطقيين، فإن المعرف -
স: জেনে রাখুন যে, ব্যাকরণবিদ, ফকিহ এবং উসুলবিদদের পরিভাষায় সংজ্ঞা (الحد) এবং পরিচায়ক (المعرف) একটি নির্দেশিত বিষয়েরই দুটি নাম। আর তা হলো: যা কোনো বস্তুকে তার অন্য সবকিছু থেকে পৃথক করে। আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সেটি সার্বিক (جامعا) ও ব্যাবর্তক (مانعا) হয়।

 

‌‌[ব্যাকরণবিদ, ফকিহ, উসুলবিদ এবং যুক্তিবিদদের নিকট সংজ্ঞার (الحد) সংজ্ঞা]

শ: {জেনে রাখুন} - এটি একটি আদেশবাচক ক্রিয়া যা 'শেখা' শব্দ থেকে গৃহীত, এটি দুটি কর্মপদ দাবি করে যার স্থলাভিষিক্ত এখানে 'أن' তার বিশেষ্য ও খবরসহ হয়েছে। {নিশ্চয়ই সংজ্ঞা (الحد) এবং পরিচায়ক (المعرف)} - দ্বিত্বযুক্ত 'রা' বর্ণে কাসরা (জের) সহ - {ব্যাকরণবিদ, ফকিহ এবং উসুলবিদদের পরিভাষায়}, নিঃশর্তভাবে নয়: {একই নির্দেশিত বিষয়ের দুটি নাম} - অর্থাৎ একই অর্থের -

17 - {আর তা হলো} - অর্থাৎ সেই একই নির্দেশিত অর্থটি -:

{যা কোনো বস্তুকে পৃথক করে} তার {অন্য সবকিছু} থেকে।

যেমন 'বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী', এটি মানুষকে তার অন্য সবকিছু থেকে পৃথক করে, যা সাধারণ প্রাণী হিসেবে তার সাথে অংশীদার ছিল।

{আর এটি এমন হতে পারে না}, অর্থাৎ কোনো বস্তুকে তার অন্য সবকিছু থেকে পৃথক করতে পারে না {যদি না সেটি: সার্বিক (جامعا)} হয় যা সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সকল সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে ফলে তার কোনো অংশই এর বাইরে থাকে না, এবং {ব্যাবর্তক (مانعا)} হয় যা অন্য কোনো কিছুকে এর মধ্যে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

ব্যাকরণবিদ ও পরবর্তীগণের পরিভাষা বলার মাধ্যমে যুক্তিবিদদের পরিভাষাটি বাদ পড়েছে; কারণ পরিচায়ক (المعرف) -
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫০)
بالمعنى المذكور عندهم - أعم من الحد لشموله له ولغيره، فهو عنده أربعة أقسام:

19 - حد تام: وهو ما تركب من الفصل والجنس القريبين.

20 - وناقص: وهو ما تركب من الفصل القريب وحده./

أو: منه ومن الجنس البعيد.

21 - ورسم تام: وهو ما تركب من الخاصة والجنس القريب

22 - وناقص: وهو ما تركب من الخاصة وحدها.

أو: منها ومن الجنس البعيد.
তাদের নিকট উল্লিখিত অর্থ অনুযায়ী—এটি সংজ্ঞার (حد) চেয়েও ব্যাপক, কারণ এটি একে এবং অন্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তার মতে এটি চার প্রকার:

19 - পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা (حد تام): এটি নিকটতম ব্যবচ্ছেদক (فصل قريب) এবং নিকটতম জাতি (جنس قريب) দ্বারা গঠিত।

20 - অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা (ناقص): এটি কেবল নিকটতম ব্যবচ্ছেদক (فصل قريب) দ্বারা গঠিত।/

অথবা: এটি এবং দূরবর্তী জাতি (جنس بعيد) দ্বারা গঠিত।

21 - পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা (رسم تام): এটি অনন্য বৈশিষ্ট্য (خاصة) এবং নিকটতম জাতি (جنس قريب) দ্বারা গঠিত।

22 - অসম্পূর্ণ বর্ণনা (ناقص): এটি কেবল অনন্য বৈশিষ্ট্য (خاصة) দ্বারা গঠিত।

অথবা: এটি এবং দূরবর্তী জাতি (جنس بعيد) দ্বারা গঠিত।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫১)
ص: فنبدأ ب‌‌تعريف النحو.

 

ش: [تعريف النحو]

وبيان: موضوعه، وفائدته، وغايته، واستمداده، ومسائله إذا عرفت ذلك {فتبدأ بتعريف النحو}:

وهو لغة - يطلق على أحد معانٍ:

بمعنى القصد، وبمعنى البيان، وبمعنى الجانب، وبمعنى المقدار، وبمعنى المثل، وبمعنى النوع، وبمعنى البعض، وبمعنى القريب، وبمعنى القسم.

ويجمع بعضها قول بعض الفضلاء:

نحونا نحو دارك يا حبيبي: لقينا نحو ألف من رقيب

وجدناهم مراضا نحو كلب: تمنوا منك نحوا من زبيب
মূল পাঠ (ص): আমরা নাহু-র (ব্যাকরণ) সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে শুরু করছি।

 

ব্যাখ্যা (ش): [নাহু-র সংজ্ঞা]

এবং এর আলোচ্য বিষয়, উপকারিতা, লক্ষ্য, উৎস ও মাসআলাসমূহের বর্ণনা; যখন আপনি এই বিষয়গুলো জানবেন {তখন নাহু-র সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করবেন}:

শাব্দিকভাবে—এটি বেশ কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়:

উদ্দেশ্য বা সংকল্প অর্থে, বর্ণনা অর্থে, দিক অর্থে, পরিমাণ অর্থে, সদৃশ অর্থে, প্রকার অর্থে, আংশিক অর্থে, নিকটবর্তী অর্থে এবং বিভাগ অর্থে।

কোনো কোনো বিদ্বান ব্যক্তি এর কিছু অর্থকে নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিতে একত্রিত করেছেন:

হে প্রিয়! আমরা তোমার বাড়ির অভিমুখে যাত্রা করেছিলাম; সেখানে আমরা প্রায় এক হাজার পাহারাদারের সম্মুখীন হয়েছিলাম।

আমরা তাদেরকে কুকুরের ন্যায় রুগ্ন অবস্থায় পেলাম; তারা তোমার নিকট কিশমিশ জাতীয় কিছুর প্রত্যাশা করছিল।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫২)
ص: فحده: علم بأصول

والظاهر أنه اصطلاحا منقول من النحو بمعنى القصد. وإطلاقه عليه من باب إطلاق المصدر على اسم المفعول، فالنحو إذًا بمعنى: المنحو. أي المقصود.

وخص به هذا العلم وإن كان كل علم منحوا كاختصاص علم الأحكام الشرعية: بالفقه.

وسبب تسميته بذلك قول سيدنا علي رضي الله عنه: انح هذا النحو. قسمى بذلك تبركا وتيمنا بلفظ الواضع له.

23 - ش: {فحده} اصطلاحًا:

24 - {علم بأصول}: أي بقواعد كلية منطبقة على جزئياتها.

منها:

كل ما اشتمل على علم الفاعلية فهو مرفوع.

وكل ما اشتمل على علم المفعولية فهو منصوب.

وكل ما اشتمل على علم المضاف إليه فهو مجرور.
সাদ: এর সংজ্ঞা: মূলনীতি (أصول) সংক্রান্ত জ্ঞান।

এবং দৃশ্যত এটি পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে 'নাহু' (نحو) শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো উদ্দেশ্য। এর ওপর উক্ত শব্দের প্রয়োগ মূলত কর্মবাচক বিশেষ্যের (اسم المفعول) পরিবর্তে ক্রিয়ামূল (مصدر) ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত; ফলে 'নাহু' (نحو) এর অর্থ হবে 'মানহু' (منحو) অর্থাৎ যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

আর এই জ্ঞানকে এই নামে বিশেষিত করা হয়েছে যদিও প্রতিটি জ্ঞানই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (منحو) হয়ে থাকে, ঠিক যেমন শরিয়তের বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞানকে ফিকহ (فقه) হিসেবে বিশেষিত করা হয়েছে।

এর নামকরণের কারণ হলো আমাদের নেতা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি: "তুমি এই পথ (নحو) অনুসরণ করো।" সুতরাং এর প্রতিষ্ঠাতার ব্যবহৃত শব্দের বরকত ও কল্যাণ কামনায় এর নামকরণ করা হয়েছে।

23 - শিন: {এর সংজ্ঞা} পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে:

24 - {মূলনীতি (أصول) সংক্রান্ত জ্ঞান}: অর্থাৎ এমন কিছু সামগ্রিক নিয়ম (قواعد) যা এর অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র বিষয়াবলির ওপর প্রযোজ্য হয়।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

যা কিছু কর্তা হওয়ার গুণ ধারণ করে, তা মারফু (مرفوع)।

যা কিছু কর্ম হওয়ার গুণ ধারণ করে, তা মানসুব (منصوب)।

যা কিছু মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হওয়ার গুণ ধারণ করে, তা মাজরুর (مجرور)।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫৩)
ص: يعرف بها أحوال الكلم إعرابا وبناء

وكل ما شابه الحرف شبها قويا يدنيه منه فهو مبنى.

ش: {يعرف بها} - أي بسببها - {أحوال الكلم} ، أي الكلمات العربية.

25 - و (الأحوال): ما يعرض للكلم بالتركيب، من الكيفية، والتقديم والتأخيرز

{إعرابا وبناء} ، أي من حيث الإعراب والبناء.

فخرج عن الحد:

ما يعرف منه أحوال الكلم بالنسبة إلى المطابقة لمقتضى الحال وعدمها، وما يعرف منه أحوالها بالنسبة إلى كونها موزونة بأوزان خاصة.

وإنما قيل: علم بأصول. ولم يقل: بأحوال. ليدخل فيه العلم بما هو كالمقدمات له، كالكلمة والكلم والإعراب والبناء وأنواعهما، وأقسام المعارف والنكرات. فإن هذه الأمور
মূল পাঠ (ص): এর মাধ্যমে শব্দের অবস্থাসমূহ জানা যায় ই’রাব (إعرابا) এবং বেনা (بناء) এর দিক থেকে।

এবং প্রতিটি শব্দ যা হরফের (الحرف) সাথে এমন শক্তিশালী সাদৃশ্য রাখে যা তাকে তার নিকটবর্তী করে দেয়, তবে তা অপরিবর্তনীয় (مبنى)।

ব্যাখ্যা (ش): {এর মাধ্যমে জানা যায়} - অর্থাৎ এর কারণে - {শব্দাবলীর অবস্থা}, অর্থাৎ আরবি শব্দাবলি।

25 - এবং (অবস্থাসমূহ): যা বাক্য গঠনের মাধ্যমে শব্দের ওপর আপতিত হয়, যেমন গুণাগুণ, অগ্রবর্তী করা এবং পরবর্তী করা।

{ই’রাব এবং বেনা}, অর্থাৎ ই’রাব (الإعراب) এবং বেনা (البناء) এর প্রেক্ষিত থেকে।

ফলে সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়ে গেল:

এমন বিষয় যার মাধ্যমে পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী শব্দের সামঞ্জস্যতা বা অসামঞ্জস্যতার অবস্থা জানা যায়, এবং এমন বিষয় যার মাধ্যমে শব্দের বিশেষ ছন্দে ছন্দোবদ্ধ হওয়ার অবস্থা জানা যায়।

আর এখানে 'নীতিমালার জ্ঞান' বলা হয়েছে এবং 'অবস্থার জ্ঞান' বলা হয়নি, যাতে এর মধ্যে ওই সমস্ত জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যা এর জন্য ভূমিকা স্বরূপ, যেমন কালিমা (الكلمة), কালাম (الكلم), ই’রাব (الإعرাব), বেনা (البناء) এবং এদের প্রকারভেদ, এবং মারেফাহ (المعارف) ও নাকিরার (النكرات) প্রকারসমূহ। কেননা এই বিষয়গুলো...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫৪)
أصول يعرف بها الأحوال وليست علمًا بالأحوال أنفسها.

واعلم أن هذا الحد جار على عرف الناس الآن من جعل علم الصرف 6 قسما برأسه / غير داخل في علم النحو.

والمتعارف قديما: شمول علم النحو له.

وممن سلك هذا العرق: البدر بن مالك، وكذا ناظر الجيش.

وعليه فيقال في الحد عوض (إعرابًا وبناءً): إفرادًا وتركيبا. كما صنع ناظر الجيش.

وأيضًا: ما وقع في كلام كثير في العرف القديم من عطف الصرف على النحو، يكون من عطف الخاص على العام تنويها به إذ هو الأصل.

وموضوع هذا العلم: الكلمات العربية، لأنه يبحث فيها عن الحركات الإعرابية والبنائية.
এটি এমন কিছু মূলনীতি যার দ্বারা (শব্দের) অবস্থাসমূহ জানা যায়, কিন্তু এটি স্বয়ং অবস্থাসমূহের জ্ঞান নয়।

জেনে রাখুন যে, এই সংজ্ঞাটি বর্তমান প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী প্রদান করা হয়েছে, যেখানে শব্দপ্রকরণ (صرف)-কে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তা ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তবে প্রাচীনকালে প্রচলিত নিয়ম ছিল যে, ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্র একে অন্তর্ভুক্ত করত।

যারা এই পথ অনুসরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: বদর বিন মালিক এবং অনুরূপভাবে নাজির আল-জায়শ।

আর সেই ভিত্তিতেই সংজ্ঞার মধ্যে বিভক্তি (إعراب) ও অপরিবর্তনশীলতা (بناء)-এর পরিবর্তে ‘একক শব্দ’ ও ‘গঠনশৈলী’ বলা হয়; যেমনটি নাজির আল-জায়শ করেছেন।

অধিকন্তু, প্রাচীন পরিভাষায় অনেক বক্তব্যে ব্যাকরণ (نحو)-এর সাথে শব্দপ্রকরণ (صرف)-এর যে সমন্বয় বা একত্র উল্লেখ পাওয়া যায়, তা মূলত সাধারণ বিষয়ের সাথে বিশেষ বিষয়ের সমন্বয় (আতফ), যা এর গুরুত্ব প্রকাশের জন্য করা হয়েছে; কারণ এটিই মূল ভিত্তি।

এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো আরবি শব্দাবলি; কারণ এতে শব্দের বিভক্তিগত (إعرابية) এবং অপরিবর্তনীয় (بنائية) অবস্থাসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وفائدته: الاحتراز عن الخطأ في اللسان.

 

و‌‌[غايته]: الاستعانة على فهم معاني الكتاب والسنة.

ومسائل الفقه، ومخاطبة العرب بعضهم لبعض.

واستمداده: من كلام العرب.

ومسائله: المطالب التي يبرهن عليها فيه، كعلمنا بأن الفاعل مرفوع. وها هنا كلام نفيس ذكره القطب في شرح الشمسية، وهو: أن حقيقة كل علم مسائل ذلك العلم، لأنه قد حصلت تلك المسائل أولا ووضع اسم العلم بإزائها، فلا يكون له ماهية وحقيقة وراء تلك المسائل. فتعريفه بحسب حده وحقيقته لا
এর উপকারিতা (فائدة): জিহ্বার ভুলভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকা।

 

এবং [এর লক্ষ্য (غاية)]: কিতাব ও সুন্নাহর মর্মার্থ অনুধাবনে সহায়তা লাভ করা।

এবং ফিকহের মাসআলাসমূহ (مسائل), এবং আরবদের পারস্পরিক কথোপকথন।

এর উৎস (استمداد): আরবদের কালাম বা বক্তব্য থেকে।

এর মাসআলাসমূহ (مسائل): ঐ সকল প্রতিপাদ্য বিষয় যা এতে প্রমাণ করা হয়; যেমন আমাদের এই ইলম (علم) বা জ্ঞান যে, ফায়েল (فاعل) মারফু (مرفوع) হয়। এখানে আল-কুতুব ‘শারহুশ শামসিয়্যাহ’ গ্রন্থে একটি চমৎকার আলোচনা করেছেন, তা হলো: প্রতিটি ইলমের (علم) হাকিকত (حقيقة) বা প্রকৃত রূপ হলো সেই ইলমের মাসআলাসমূহ (مسائل); কারণ প্রথমে সেই মাসআলাগুলো অর্জিত হয়েছে এবং এরপর সেগুলোর বিপরীতে উক্ত ইলমের নাম রাখা হয়েছে। সুতরাং সেই মাসআলাগুলোর ঊর্ধ্বে এর স্বতন্ত্র কোনো মাহিয়াত (ماهية) বা সত্তা এবং হাকিকত (حقيقة) নেই। অতএব, এর হদ্দ (حد) বা সংজ্ঞা ও হাকিকত (حقيقة) অনুযায়ী এর পরিচিতি...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫৬)
يحصل إلا بجميع مسائله.

ورتب على ذلك كلاما مذكورا في محله.
এটি এর সকল বিষয়ের (مسائل) মাধ্যমেই কেবল সাধিত হয়।

এবং এর ওপর ভিত্তি করে তিনি এমন একটি আলোচনা বিন্যস্ত করেছেন যা স্বস্থানে উল্লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫৭)
ص: الكلام: قول

 

ش: ‌‌[تعريف الكلام]

26 - حد {الكلام}:

- وهو لغة: يطلق على: الخط والإشارة المفيدين، وما يفهم من حال الشئ، والتكليم الذي هو المصدر - وإطلاقه على هذه الأربعة مجاز -، وعلى ما في النفس من المعانى التي يعبر عنها، وعلى اللفظ المركب مطلقا.

وهل هو حقيقة فيهما، أو في الأول فقط، أو الثاني فقط؟ .

ثلاثة مذاهب للنحاة -:

{قول}: أي مقول، قوةً أو فعلًا، استعمالا للمصدر بمعنى المفعول. وسبيأتى حده.

وإيثاره على (اللفظ): لكونه حنسًا قريبا بالنسبة للمصدر بمعنى المفعول. وسيأتي حده.

وإيثاره على (اللفظ): لكونه حنسًا قريبا بالنسبة إلى (اللفظ) ، إذ (اللفظ) يصدق عليه وعلى غيره. كما ستعرفه و (القول) وإن اطلق على غير اللفظ: من الرأى والاعتقاد، بطريق [المجاز أو] الاشتراك، [إلا أن] المراد به هنا: اللفظ.
মূল পাঠ: বাক্য (الكلام) হলো: বক্তব্য/বাণী (قول)

 

ব্যাখ্যা: ‌‌[বাক্যের সংজ্ঞা]

২৬ - {বাক্য (الكلام)}-এর সংজ্ঞা:

- এটি আভিধানিক (لغة) দিক থেকে: অর্থবোধক লিখন ও ইশারা, কোনো বিষয়ের অবস্থা থেকে যা বোঝা যায় এবং 'তাকলিম' তথা কথা বলা—যা একটি ক্রিয়ামূল (مصدر)—এর ওপর প্রয়োগ করা হয়। তবে এই চারটির ওপর এর প্রয়োগ রূপক (مجاز) হিসেবে হয়ে থাকে। এ ছাড়া মনের ভেতরের সেই অর্থসমূহের ওপরও এটি প্রয়োগ করা হয় যা প্রকাশ করা হয়, এবং সাধারণভাবে যৌগিক উচ্চারণের (اللفظ) ওপরও এটি প্রয়োগ করা হয়।

আর এটি কি উভয় ক্ষেত্রে বাস্তব (حقيقة) অর্থে ব্যবহৃত হয়, নাকি কেবল প্রথমটির ক্ষেত্রে, নাকি কেবল দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে? .

ব্যাকরণবিদদের তিনটি মাযহাব বা মতবাদ (مذاهب) রয়েছে -:

{বক্তব্য/বাণী (قول)}: অর্থাৎ যা বলা হয়েছে, সম্ভাব্যভাবে বা বাস্তবে; এখানে ক্রিয়ামূলকে (مصدر) কর্মপদ (مفعول)-এর অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অচিরেই এর সংজ্ঞা আসবে।

এবং একে 'উচ্চারণ' (اللفظ)-এর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো: এটি কর্মপদ (مفعول) অর্থে ব্যবহৃত ক্রিয়ামূলের সাপেক্ষে একটি নিকটতম সাধারণ শ্রেণি (جنس قريب)। অচিরেই এর সংজ্ঞা আসবে।

এবং একে 'উচ্চারণ' (اللفظ)-এর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো: এটি 'উচ্চারণ' (اللفظ)-এর তুলনায় একটি নিকটতম সাধারণ শ্রেণি (جنس قريب), কেননা 'উচ্চারণ' (اللفظ) এর ওপর এবং অন্য কিছুর ওপরও প্রযোজ্য হয়। যেমনটি আপনি জানতে পারবেন। আর যদিও 'বক্তব্য/বাণী' (القول) শব্দটি উচ্চারণ ছাড়াও মত ও বিশ্বাসের ওপর রূপক (مجاز) বা যৌথার্থকতা (اشتراك) পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়, [তথাপি] এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উচ্চারণ (اللفظ)।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫৮)
ص: مفيد، مقصود

للقرينة الدالة على ذلك.

فاستعماله في الحد أولى.

وخرج به: غيره - كالخمسة الأول المذكورة - وإن كان مفيدا، فلا يسمى كلاما اصطلاحا:

ش: {مفيد} بالإسناد، بأن أفهم معنى يحسن السكوت عليه - كما سيجئ - خبريا كان أو إنشائيا.

7 فخرج: / ما لا فائدة فيه. كالمركب الإضافي، والمزجى، والإسنادى المسمى به، والمتوقف على غيره: كإن قام زيد.

والمفيد بالمعنى المذكور يستلزم المركب، فلا حاجة لذكره.

{مقصود} من المتكلم به إفادة السامع.

فخرج به: غيره. كالصادر من النائم، والسكران، وما علم من الطيور.

وبعضهم: أسقط هذا القيد [من] هذا الحد ولم يعتبره.
মূলপাঠ: অর্থবহ (مفيد), উদ্দেশ্যমূলক (مقصود)

এর সপক্ষে নির্দেশক আলামতের (القرينة) কারণে।

তাই সংজ্ঞার (الحد) ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অধিকতর সমীচীন।

এর মাধ্যমে অন্যগুলো বর্জিত হয়েছে—যেমন উল্লিখিত প্রথম পাঁচটি—যদিও সেগুলো অর্থবহ (مفيد) হয়, তবুও পারিভাষিক (اصطلاحا) বিচারে সেগুলোকে ‘কালাম’ (كلام) বলা হয় না:

ব্যাখ্যা: {অর্থবহ (مفيد)} বলতে উদ্দেশ্য হলো অন্বয় বা সম্পর্কের (الإسناد) মাধ্যমে এমন একটি অর্থ প্রদান করা যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন হয়—যেমনটি সামনে আসবে—তা বর্ণনামূলক (خبريا) হোক বা অনুজ্ঞামূলক (إنشائيا) হোক।

৭. ফলে বর্জিত হলো: যাতে কোনো উপকারিতা নেই। যেমন সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ (المركب الإضافي), মিশ্র যৌগিক শব্দ (المزجى), নাম হিসেবে ব্যবহৃত বাক্যসমৃদ্ধ পদ (الإسنادى) এবং যা অন্যের ওপর নির্ভরশীল: যেমন 'যদি জায়েদ দাঁড়ায়'।

আর উল্লিখিত অর্থে ‘অর্থবহ’ (مفيد) শব্দটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যৌগিক শব্দকে (المركب) অন্তর্ভুক্ত করে, তাই তা পৃথকভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

{উদ্দেশ্যমূলক (مقصود)} বলতে বক্তার পক্ষ থেকে শ্রোতাকে কোনো তথ্য বা উপকার প্রদান করার ইচ্ছা পোষণ করা।

এর মাধ্যমে অন্যগুলো বর্জিত হয়েছে। যেমন ঘুমন্ত ব্যক্তি ও মাতালের মুখ থেকে নির্গত শব্দ এবং পাখিদের যা শেখানো হয়।

কেউ কেউ এই সংজ্ঞা (الحد) থেকে এই শর্তটি (القيد) বাদ দিয়েছেন এবং এটিকে গণ্য করেননি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫৯)
ص: لذاته.

وصححه أبو حيان.

واعتبره جمع كثير، وجزم به ابن مالك

وممن اعتبره ابن هشام: فذكره في المغنى، والشذور. وأسقطه من الأوضح، والجامع، [والقطر].

واعتذر عمن أسقطه ممن يعتبره: بأن المفيد بالمعنى المذكور يستلزمه، إذ حسن السكوت يستدعى أن يكون قاصدا لما تكلم به.

وعليه فذكره في الحد من قبيل التصريح بما علم التزاما.

ش: {لذاته}:
মূল পাঠ (ص): স্বীয় সত্তাগতভাবে (لذاته)।

এবং আবু হায়য়ান এটিকে বিশুদ্ধ (صححه) বলে গণ্য করেছেন।

বিপুল সংখ্যক আলেম এটিকে বিবেচনাযোগ্য (اعتبره) মনে করেছেন এবং ইবন মালিক এ বিষয়ে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত (جزم) দিয়েছেন।

যারা এটিকে বিবেচনাযোগ্য (اعتبره) মনে করেন তাদের মধ্যে ইবন হিশাম অন্যতম: তিনি এটি আল-মুগনি এবং আশ-শুযুর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি আল-আওদাহ, আল-জামি এবং [আল-কাত্র] থেকে এটি বাদ দিয়েছেন।

আর যারা এটিকে বিবেচনাযোগ্য (يعتبره) মনে করা সত্ত্বেও বাদ দিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে তিনি এই বলে ওজর পেশ করেছেন যে: উল্লিখিত অর্থের প্রেক্ষিতে 'উপকারী' (المفيد) হওয়া বিষয়টি একে অনিবার্য করে তোলে; কারণ 'চুপ থাকা সমীচীন হওয়া' (حسن السكوت) দাবি করে যে, বক্তা যা বলছেন তা যেন উদ্দেশ্যমূলক হয়।

সেই অনুযায়ী, সংজ্ঞার (الحد) মধ্যে এটি উল্লেখ করা মূলত সেই বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পর্যায়ভুক্ত যা অনিবার্যভাবে (التزاما) জানা গিয়েছে।

ব্যাখ্যা (ش): {স্বীয় সত্তাগতভাবে (لذاته)}:
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৬০)
فخرج به: المقصود لغيره. كصلة الموصول، نحو: جاء الذي قام أبوه. فإنها مفيدة بالضم إليه مقصودة لإيضاح معناه.

وأما اتحاد الناطق، فلا يشترط في الكلام. وصححه ابن مالك وأبو حيان، قالا: كما أن اتحاد الكاتب لا يعتبر في كون الخط خطأ.

وهذا منهما يشعر بتسليم صدور الكلام من ناطقين، واستشكله المرادى.

وقيل: باشتراطه: لأن الكلام عمل واحد فلا يكون عامله إلا واحدا. وعليه يزاد في الحد: من ناطق واحد.

وهذه الزيادة قال بعضهم: لم تنقل عن نحوى فيما نعلم، إنما ذكرها بعض من تكلم في الأصول.
এর মাধ্যমে যা অন্যের জন্য উদ্দেশ্য (المقصود لغيره) তা বহির্ভূত হয়েছে। যেমন সিলাতুল মাওসুল (صلة الموصول), উদাহরণস্বরূপ: "যিনি এসেছেন যার পিতা দাঁড়িয়েছিলেন।" কারণ এটি সংশ্লিষ্ট অংশের সাথে যুক্ত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে এবং তার অর্থ স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়।

আর বক্তার একক হওয়া (اتحاد الناطق) বাক্যের ক্ষেত্রে শর্ত নয়। ইবনে মালিক ও আবু হাইয়ান একে সঠিক (صحيح) হিসেবে গ্রহণ করেছেন; তাঁরা বলেছেন: যেমন কোনো লেখাকে লিপি হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে লেখকের একক হওয়া আবশ্যক নয়।

তাঁদের এই বক্তব্যটি দুই জন বক্তার মাধ্যমে বাক্য প্রকাশিত হওয়াকে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, তবে আল-মুরাদী একে সমস্যাযুক্ত (استشكله) বলে গণ্য করেছেন।

কারো মতে, এটি শর্তারোপ (اشتراطه) করা হয়েছে; কারণ বাক্য একটি একক কাজ, তাই এর সম্পাদনকারী কেবল একজনই হতে পারে। সেই অনুযায়ী সংজ্ঞার (الحد) মধ্যে অতিরিক্ত যোগ করা হয়: "এক জন বক্তার পক্ষ থেকে।"

এই অতিরিক্ত অংশটি সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন: আমাদের জানামতে কোনো ব্যাকরণবিদের (نحوي) পক্ষ থেকে এটি বর্ণিত হয়নি, বরং উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের (الأصول) কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৬১)
ص: وترادفه الجملة عند قوم.

ولعل مراده بهذا البعض: القاضى أبو بكر الباقلانى، فإن الزركشى نقلها عنه في شرحه على (جمع الجوامع).

وبنى الإسنوى على هذه المسألة فروعا فقهية.

 

ش: ‌‌[العلاقة بين الكلام والجملة]

{وترادفه} - أي الكلام - {الجملة} - من: أجملت الشئ، إذا جمعته - {عند قوم} ، فمفهومهما واحد.

27 - والمترادفان: هما اللفظان المختلفان لفظًا المتحدان معنى.

وهو ظاهر قول الزمخشرى في المفصل، بل ظاهر كلام الأندلسى في شرحه عليه أنه رأى الجميع. واختاره ناظر الجيش، وقال: إنه
সা: এবং একদল আলিমের নিকট জুমলাহ (الجملة) কালাম (كلام)-এর সমার্থক (ترادف)।

সম্ভবত এই 'একদল' বলতে তিনি কাজী আবু বকর আল-বাকিল্লানিকে বুঝিয়েছেন; কেননা আয-যারকাশি তার রচিত ‘জামউল জাওয়ামি’ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি তাঁর থেকেই বর্ণনা করেছেন।

এবং আল-ইসনাভি এই মাসআলার ওপর ভিত্তি করে কিছু ফিকহি শাখা-প্রশাখা (فروع فقهية) গঠন করেছেন।

 

শা: ‌‌[কালাম (كلام) এবং জুমলাহ (الجملة)-এর মধ্যকার সম্পর্ক]

{এবং এটি সমার্থক (ترادف)} —অর্থাৎ কালাম (كلام)— {জুমলাহ (الجملة)} —যা 'আমি কোনো বস্তুকে একত্রিত করলাম' এই অর্থ থেকে উৎপন্ন— {একদল আলিমের নিকট}, সুতরাং তাদের উভয়ের মূল পরিভাষা বা ধারণা অভিন্ন।

২৭ - আর সমার্থক শব্দদ্বয় (المترادفان) হলো: এমন দুটি ভিন্ন শব্দ যাদের উচ্চারণ ভিন্ন কিন্তু অর্থ এক ও অভিন্ন।

এটি আল-যামাখশারির ‘আল-মুফাসসাল’ গ্রন্থের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক; বরং আল-আন্দালুসীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে তার বক্তব্যের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি এটিকেই সবার অভিমত হিসেবে দেখেছেন। নাযিরুল জাইশ এটিই পছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: এটি
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল হুদুদ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৬২)
ص: والصحيح أنها أعم منه. بل قيل: إنه الصواب.

الذي اقتضاه كلام النحاة.

ش: {والصحيح} عند غيرهم: {أنها أعم منه} عموما مطلقا، لصدقها عليه وعلى غيره، إذ شرطه الفائدة بخلافها.

فكل كلام جملة ولا عكس بالمعنى اللغوى.

- و (الأعم) هنا بمعنى: العام.

فمن لمجرد الابتداء.

 

‌‌[هذا بالنظر إلى المفهوم].

8 نعم / إن نظر إلى موارد استعمال الكلام فهو باقٍ على أصله.

{بل قيل: إنه الصواب}.

والمصوب لذلك هو جمال النحاة ابن هشام، قال في المغنى: والصواب أنها أعم منه، إذ شرطه الإفادة بخلافها. ولهذا تسمعهم يقولون: جملة الشرط، جملة الجواب، جملة الصلة. وكل ذلك ليس مفيداً.
মূল পাঠ: এবং সঠিক (الصحيح) মত হলো যে, এটি (জুমলা) তার (কালাম) তুলনায় অধিক ব্যাপক। বরং বলা হয়েছে: এটিই যথার্থ।

যা ব্যাকরণবিদদের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।

ব্যাখ্যা: অন্যদের নিকট {সঠিক (الصحيح)} হলো: {তা তার চেয়ে অধিক ব্যাপক} নিরঙ্কুশ ব্যাপকতায়; যেহেতু তা কালাম এবং অন্য সবকিছুর ওপর প্রযোজ্য হয়, কারণ কালাম হওয়ার শর্ত হলো অর্থবহ হওয়া, কিন্তু জুমলার ক্ষেত্রে তা শর্ত নয়।

সুতরাং ভাষাগত অর্থের বিচারে প্রতিটি কালাম-ই হলো জুমলা, কিন্তু এর বিপরীতটি (অর্থাৎ প্রতিটি জুমলা কালাম হওয়া) সঠিক নয়।

- এবং এখানে ‘অধিক ব্যাপক’ শব্দটি ‘ব্যাপক’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

সুতরাং ‘মিন’ কেবল প্রারম্ভিকতা বোঝাতে এসেছে।

 

‌‌[এটি ধারণাগত দিক বিবেচনা করে].

৮ হ্যাঁ / যদি কালামের ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলো বিবেচনা করা হয়, তবে তা তার মূল অর্থেই বহাল থাকে।

{বরং বলা হয়েছে: এটিই যথার্থ}।

এবং এই মতটিকে যিনি সঠিক সাব্যস্ত করেছেন তিনি হলেন ব্যাকরণবিদদের অলংকার ইবনে হিশাম। তিনি আল-মুগনি গ্রন্থে বলেছেন: সঠিক কথা হলো জুমলা কালামের চেয়ে অধিক ব্যাপক, কারণ কালামের শর্ত হলো অর্থ প্রদান করা, যা জুমলার ক্ষেত্রে নয়। আর এই কারণেই আপনি তাদের বলতে শোনেন: শর্তসূচক বাক্য, জওয়াবসূচক বাক্য, সম্বন্ধসূচক বাক্য; আর এগুলোর কোনোটিই (স্বতন্ত্রভাবে) অর্থবহ নয়।