(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح المقدمة المحسبة (ابن بابشاذ)
القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح المقدمة المحسبة
المؤلف: طاهر بن أحمد بن بابشاذ (ت 469 هـ)
المحقق: خالد عبد الكريم
الناشر: المطبعة العصرية - الكويت
الطبعة: الأولى، 1977 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438
শারহুল মুকাদ্দিমাতিল মুহাসসাবাহ (ইবনে বাবশায)
বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: শারহুল মুকাদ্দিমাতিল মুহাসসাবাহ
গ্রন্থকার: তাহির বিন আহমদ বিন বাবশায (মৃ. ৪৬৯ হিজরি)
মুহাক্কিক: খালিদ আব্দুল কারীম
প্রকাশক: আল-মাতবাআতুল আসরিয়্যাহ - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)
[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
بسم الله الرحمن الرحيموفق للإتمام يا ذا الجلال والإكرامقال الشيخ الإمام أبو الحسن طاهر بن أحمد بن بابشاذ النحوي رحمه الله: أما بعد حمد الله بجميع المحامد، والتوكل عليه في [كل] المصادر والموارد، والصلاة على نبيه محمد خاتم النبيين، وعلى آله وأصحابه البررة المتقين، والسلام عليهم أجمعين. فإن للمقصد حرمة مأثورة، ونية مشكورة مبرورة. ولما كنت أيها الأخ أبا القاسم عبد الرحمن بن أبي بكر بن أبي سعيد أدام الله توفيقك وإرشادك، وجعل من السعادة في الدين والدنيا والعلم هداك وإمدادك، قد اطلعتني على حالك، وذكرت أنك لم تسافر من الاسكندرية - مع قرب توجه سفرك إلى مقرك - إلا لتحصل ما أمكن من هذا العلم، وأن أقرب ذلك قراءة المقدمة المرسومة لهذا الثان. وإيثارك تعليق شرحها مختصرًا لتنال من ذلك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।হে মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী, পূর্ণতা দান করার তাওফিক দিন।শায়খ ইমাম আবু হাসান তাহির বিন আহমদ বিন বাবশাদ আল-নাহবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: যাবতীয় প্রশংসার মাধ্যমে আল্লাহর হামদ পাঠ, সকল বিষয়ে তাঁর ওপর ভরসা, তাঁর নবী মুহাম্মদ—যিনি শেষ নবী—এবং তাঁর পুণ্যবান ও মুত্তাকী পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম পেশ করার পর। নিশ্চয়ই যেকোনো মহৎ উদ্দেশ্যের একটি ঐতিহ্যগত মর্যাদা রয়েছে এবং যেকোনো সদিচ্ছা প্রশংসিত ও পুণ্যময়। হে ভাই আবু কাসিম আবদুর রহমান বিন আবু বকর বিন আবু সাঈদ—আল্লাহ আপনার তাওফিক ও সঠিক পথপ্রাপ্তি দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং দীন, দুনিয়া ও ইলমের সৌভাগ্যে আপনার হেদায়েত ও সাহায্য প্রদান করুন—যেহেতু আপনি আমাকে আপনার অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, আপনার নিজ গন্তব্যে ফেরার সময় অতি নিকটে হওয়া সত্ত্বেও আপনি কেবল এই ইলম যতটুকু সম্ভব হাসিল করার জন্যই আলেকজান্দ্রিয়া ত্যাগ করেননি, এবং এর নিকটতম উপায় হলো এই বিষয়ের জন্য নির্ধারিত 'মুকাদ্দিমাহ' (ভূমিকা) পাঠ করা। আর আপনি এর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা সংকলনকে প্রাধান্য দিয়েছেন যাতে এর মাধ্যমে আপনি অর্জন করতে পারেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
بلغة إلى حين عودتك بمشيئة الله وعونه، فتشرع في التنجز لهذا الشأن بحسب ما يؤديك إليه اجتهادك، والله معينك في ذلك وموفقك، أجبت سؤالك إيجاب مثلي لمثلك في مقصدك، وابتغاء مرضاة الله سبحانه [وتعالى] ورحمته. والله الموفق للصواب [بمنه].قال الشيخ [أبو الحسن] رحمه الله: أما قولنا «النحو علم مستنبط بالقياس والاستقراء من كتاب الله سبحانه والكلام الفصيح».فإن النحو له تفسيران: لغوي، وصناعي. فاللغوي أن تقول هو القصد من قولهم: نحوت كذا وكذا، أي قصدته. وهذا الاسم وإن كان عامًا في الأصل - لأن كل علم مقصود - فهو مخصوص بالترجمة عن هذا العلم كاختصاص علم الشريعة بالفقه، وإن كان كل علم فقهًا [وفهمًا]. وكاختصاص الكعبة ببيت الله عز وجل وإن كانت المساجد كلها بيوتًا لله تعالى.والنحو من المصادر التي وقعت موقع الأسماء. فالمراد بالنحو الشيء المنحو [إليه] ، كالمراد بنسج اليمن إنه منسوج اليمن، وبقوله / سبحانه (أحل لكم
আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর সাহায্যে আপনার ফিরে আসা পর্যন্ত এটিই যথেষ্ট, এরপর আপনি আপনার ইজতিহাদ অনুযায়ী এ বিষয়টি সম্পন্ন করতে প্রবৃত্ত হবেন। আল্লাহ এ কাজে আপনার সাহায্যকারী ও তাওফিকদাতা। আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি আপনার মতো ব্যক্তির জন্য আমার মতো ব্যক্তির উত্তর হিসেবে, আপনার উদ্দেশ্য পূরণ এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু [ওয়া তা'আলা]-র সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের আশায়। আর আল্লাহই [তাঁর অনুগ্রহে] সঠিক পথের তাওফিকদাতা।শাইখ [আবুল হাসান] রহিমাহুল্লাহ বলেন: আমাদের এই কথা যে— "নাহু হলো এমন এক বিদ্যা যা মহান আল্লাহর কিতাব এবং প্রাঞ্জল কথামালা থেকে কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) ও ইস্তিকরা (পর্যবেক্ষণ)-এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত।"নিশ্চয়ই নাহু-র দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে: আভিধানিক এবং পারিভাষিক। আভিধানিক অর্থ হলো 'উদ্দেশ্য করা', যা আরবদের এই কথা থেকে এসেছে: 'নাহাউতু কাযা ওয়া কাযা', অর্থাৎ 'আমি অমুক জিনিসের সংকল্প বা উদ্দেশ্য করেছি'। এই নামটি যদিও মূলে ব্যাপক—কেননা প্রতিটি জ্ঞানই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে—তথাপি এটি এই বিশেষ শাস্ত্রের পরিচয়ের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেছে; যেমনটি শরয়ি জ্ঞান 'ফিকহ' শব্দের সাথে নির্দিষ্ট, যদিও প্রতিটি জ্ঞানই ফিকহ [ও উপলব্ধি]। আবার যেমনটি কাবা ঘরকে মহান আল্লাহর ঘরের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যদিও সকল মসজিদই মহান আল্লাহর ঘর।আর 'নাহু' শব্দটি সেই সব মাসদারের (ক্রিয়ামূল) অন্তর্ভুক্ত যা বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। সুতরাং 'নাহু' বলতে সেই বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যার 'উদ্দেশ্য করা হয়েছে', যেমনটি 'ইয়েমেনের বয়ন' বলতে 'ইয়েমেনের বয়নকৃত বস্ত্র' বোঝানো হয়। এবং যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
صيد البحر وطعامه) ، أي مصيده. فقد خرج بهذه القضية من حكم المصادر [المنصوبة] على التأكيد. إذا قلت: نحوت النحو، إنما ينتصب انتصاب المفعول به لا انتصاب المصدر المؤكد. وعلى هذا تقول: نجي النحو، فتقيمه مقام ما لم يسم فاعله.وهذه اللفظة كان القياس يجيز فيها فتح الحاء وتسكينها، على حد أنواعها مما فيه حرف من حروف الحلق. من نحو الشعر والشعر والنحر والنحر. لكنهم امتنعوا من الحركة في «النحو» لأجل أن الواو حرف علة، فلو حركوا الحاء لأدى ذلك إلى قلب الواو ألفًا لتحركها وانفتاح ما قبلها، فاجتنب تحريكها لذلك.وأما التفسير الصناعي فهو قولنا «علم مستنبط بالقياس». ولا إشكال في كون النحو علمًا من العلوم الجليلة، إذ كان العلم ضد الجهل، فلذلك سمي علمًا، ولا إشكال في كونه مستنبطًا لأن الاستنباط الاستخراج. من قوله سبحانه (ولو ردوه إلى الرسول وإلى أولي الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم). وأهل هذه الصناعة استخرجوه من كلام الله تعالى والكلام الفصيح. والطريق
(সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য), অর্থাৎ তার শিকার। এই প্রসঙ্গের মাধ্যমে এটি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য ব্যবহৃত [মানসুব] মাসদার হওয়ার বিধান থেকে বহির্ভূত হয়েছে। আপনি যখন বলেন: ‘আমি ব্যাকরণের পথ অনুসরণ করেছি’, তখন এটি মাফউলে বিহি হিসেবে নসব হয়, মাসদারে মুয়াক্কাদ হিসেবে নয়। এর ভিত্তিতে আপনি যখন বলেন: ‘ব্যাকরণ অনুসৃত হয়েছে’, তখন আপনি একে নায়েবে ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত করবেন।এই শব্দটির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ‘হা’ বর্ণটিতে ফাতহা ও সুকুন উভয়ই অনুমোদিত ছিল, যেমনটি কণ্ঠনালীয় বর্ণবিশিষ্ট অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রে দেখা যায়। যেমন ‘শা’র’ ও ‘শাআর’ এবং ‘নাহর’ ও ‘নাহার’। কিন্তু ‘নাহউ’ শব্দটিতে তারা হরকত প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন, কারণ ‘ওয়াও’ হলো একটি দুর্বল বর্ণ। যদি তারা ‘হা’ বর্ণটিকে হরকতযুক্ত করতেন, তবে তা ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে আলিফে রূপান্তরিত করার আবশ্যকতা তৈরি করত; যেহেতু সেটি তখন স্বরচিহ্নযুক্ত হতো এবং তার পূর্বের বর্ণটি ফাতহা বিশিষ্ট হতো। তাই এ কারণে সেখানে হরকত প্রদান বর্জন করা হয়েছে।আর পারিভাষিক ব্যাখ্যা হলো আমাদের এই কথা: ‘এটি নিয়মানুগ পদ্ধতির মাধ্যমে আহরিত একটি বিদ্যা’। নাহু শাস্ত্র একটি সুমহান বিদ্যা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা নেই, কারণ বিদ্যা হলো মূর্খতার বিপরীত, আর সে কারণেই একে বিদ্যা বা ইলম বলা হয়েছে। আর এটি আহরিত বা ‘মুস্তানবাত’ হওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো অস্পষ্টতা নেই, কারণ ‘ইস্তিনবাত’ শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছু উদ্ঘাটন বা নিষ্কাশন করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর যদি তারা তা রাসূলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ঘাটন করে তারা অবশ্যই তা অনুধাবন করতে পারত)। আর এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এটি মহান আল্লাহর কালাম এবং প্রাঞ্জল কথামালা থেকে আহরণ করেছেন। আর পদ্ধতি...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
الذي استخرجوه به طريقان: السماع والقياس. فالسماع بالتتبع والتصفح. والقياس بحمل شيء على شيء لضرب من الشبه. فلذلك قلنا: هو علم مستنبط بالقياس والاستقراء.وأما قولنا: «والغرض به معرفة صواب الكلم من خطائه وفهم كلام الله تعالى وفوائده». فإنه لا ينبغي لأحد أن يدخل في علم من العلوم حتى يعرف الغرض الذي [لأجله] دخل، ليكون على بصيرة مما دخل فيه.وهذا الغرض ينقسم إلى قسمين. أحدهما معرفة الخطاء حتى يجتنب. والآخر معرفة المعاني حتى تعتقد. ولا أجل من فهم معاني كتاب الله عز وجل وفوائده، ومن علم السنة والأخبار عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، والحكم ودواوين العرب. فإن كل هذا لا يفهم على التحقيق إلا بمعرفة العربية. ألا ترى أن القراءة في [مثل] قوله تعالى (أن الله بريء من المشركين ورسوله) بجر الرسول تؤدي إلى التبرء من الرسول بكونه معطوفًا على المشركين المجرورين بمن، و «من» متعلقة ببريء. فيؤدي إلى التبرء من الرسول كالتبرء من المشركين. ونعوذ بالله من إعراب يؤدي إلى فساد الدين. وأن القائل إذا قال لزوجته:
তারা যা আহরণ করেছেন তার পদ্ধতি দুটি: শ্রুতি (তথা পর্যবেক্ষণ) এবং কিয়াস (তথা সাদৃশ্যমূলক অনুমান)। শ্রুতি হচ্ছে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত। আর কিয়াস হলো কোনো এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের ওপর কোনো প্রকার সাদৃশ্যের ভিত্তিতে প্রয়োগ করা। এই কারণেই আমরা বলেছি: এটি এমন এক শাস্ত্র যা কিয়াস এবং ইস্তিকরা (আরোহী পদ্ধতি) এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে।আর আমাদের উক্তি: "এর উদ্দেশ্য হলো শব্দের শুদ্ধাশুদ্ধি নিরূপণ করা এবং মহান আল্লাহর কালাম ও এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা উপলব্ধি করা।" কেননা কোনো ব্যক্তির জন্য উচিত নয় কোনো বিদ্যায় প্রবেশ করা যতক্ষণ না সে এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হয়, যাতে সে যা অধ্যয়ন করছে সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ও অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারে।আর এই উদ্দেশ্যটি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি হলো ভুল চেনা যাতে তা বর্জন করা যায়। অন্যটি হলো অর্থ অনুধাবন করা যাতে তা বিশ্বাস ও ধারণ করা যায়। আর মহান আল্লাহর কিতাবের অর্থ ও শিক্ষা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও হাদিসসমূহ, প্রজ্ঞা এবং আরবদের কাব্যসমগ্র অনুধাবন করার চেয়ে মহান আর কিছু নেই। কারণ এই সবকিছুই আরবি ভাষার জ্ঞান ব্যতীত যথাযথভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আপনি কি দেখেন না যে, মহান আল্লাহর বাণী "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে সম্পর্কহীন এবং তাঁর রাসূলও" এর মতো আয়াত পাঠের ক্ষেত্রে "রাসূল" শব্দটিকে যদি "জের" (কাসরা) দিয়ে পড়া হয়, তবে তা রাসূল থেকেও সম্পর্কহীন হওয়ার অর্থ প্রদান করে? কারণ তখন শব্দটি "মিন" অব্যয় যোগে মাজরুর হওয়া "মুশরিকিন" শব্দের ওপর সমিলিত (আতফ) হয়ে যাবে, আর "মিন" শব্দটি "বারী" (সম্পর্কহীন) পদের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর ফলে মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ন্যায় রাসূলের সাথেও সম্পর্ক ছিন্ন করা বুঝাবে। আমরা আল্লাহর কাছে এমন ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) থেকে আশ্রয় চাই যা দ্বীনের বিকৃতির দিকে নিয়ে যায়। আর যখন কোনো বক্তা তার স্ত্রীকে বলে:
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯১)
أنت طالق إن دخلت الدار. لم تطلق عليه حتى تدخل الدار. ولو فتح إن [فقال: أن] لكانت طالقًا في الحال. لأن الكلام صار علة، وفي الأول كان شرطًا. وأن الرجل إذا أقر فقلا: لفلان عندي مائة غير درهم - بنصب غير - كان مقرًا بتسعة وتسعين درهمًا، لأن غير هنا إذا انتصبت كانت استثناء من المائة. ولو رفع فقال: له عندي مائة غير درهم. لكان مقرًا بالمائة كلها كاملة، لأن غيرًا ها هنا صفة للمائة، وصفتها لا تخرجها عن جملتها ولا تنقص شيئًا منها. إلى غير ذلك من المسائل التي لا تحصى كثرة في أبواب الإقرارات والنكاحات والبيوعات وغيرها.وأما قولنا: «والطريق إلى تحصيله [تكون] بإحكام أصوله وتقديم الأهم فالأهم من فصوله».فإن أول كل مطلوب من شيء أصله. لأن البناء على الأصول، ومنها تتفرع الفروع، كما قال بعضهم: إنما منعهم من الوصول تضييع الأصول فلما أبطلوا تعطلوا.وأما قولنا: «والأهم منها معرفة عشرة أشياء». فلأن مدار الكلام على هذه العشرة، لا ينفك كلام من جملتها أو بعضها. فالحاجة داعية إلى معرفتها.فلذلك أخذ المبتديء بمعرفتها، ولأنها تسهل عليه كل ما يأتي بعدها.
তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো। এক্ষেত্রে ঘর প্রবেশ না করা পর্যন্ত তালাক পতিত হবে না। কিন্তু যদি সে "ইন" কে ফাতহাহ দিয়ে পড়ে [অর্থাৎ বলে: "আন"], তবে সে তৎক্ষণাৎ তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে। কারণ এক্ষেত্রে বাক্যটি ইল্লাত (কারণ) হয়ে গেছে, আর প্রথম অবস্থায় তা ছিল শর্ত। আর কোনো ব্যক্তি যদি স্বীকারোক্তি দিয়ে বলে: "অমুকের আমার কাছে একশত দিরহাম পাওনা আছে কেবল একটি দিরহাম ব্যতীত" — "গাইরা" শব্দটিকে নাসব (যবর) দিয়ে — তবে সে নিরানব্বই দিরহামের স্বীকৃতি প্রদানকারী হবে। কারণ এখানে "গাইরা" শব্দটি যখন মানসুব হয়, তখন তা একশত থেকে ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম) হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি সে রাফ' (পেশ) দিয়ে বলে: "তার আমার কাছে একশত দিরহাম পাওনা আছে যা একটি দিরহাম নয়", তবে সে পূর্ণ একশত দিরহামেরই স্বীকৃতি প্রদানকারী হবে। কারণ এখানে "গাইরু" শব্দটি একশতের জন্য সিফাত (বিশেষণ) হিসেবে এসেছে, আর বিশেষণ একে তার মূল সমষ্টি থেকে বের করে দেয় না এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করে না। এ জাতীয় আরও অসংখ্য মাসআলা রয়েছে যা স্বীকারোক্তি, বিবাহ, ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য অধ্যায়সমূহে গণনার অতীত।আর আমাদের কথা: "এবং তা অর্জনের পথ হলো এর মূলনীতিসমূহকে সুদৃঢ় করা এবং এর পরিচ্ছেদসমূহের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া।"কেননা কোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জনের প্রথম ধাপ হলো তার মূল। কারণ মূলনীতির ওপরই ভিত্তি নির্মিত হয় এবং তা থেকেই শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়। যেমন জনৈক মনীষী বলেছেন: "মূলনীতিসমূহকে অবজ্ঞা করাই তাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছানো থেকে বিরত রেখেছে; সুতরাং তারা যখন মূলকে নষ্ট করল, তখন তারা লক্ষ্যচ্যুত হলো।"আর আমাদের কথা: "এবং এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দশটি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।" এর কারণ হলো, যাবতীয় কথার আবর্তন এই দশটি বিষয়ের ওপরই; কোনো কথাই এর পূর্ণাঙ্গ রূপ বা এর অংশবিশেষ থেকে বিচ্যুত নয়। সুতরাং এগুলো জানার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।এ কারণেই একজন শিক্ষার্থীর জন্য এগুলো জানার মাধ্যমে শুরু করা উচিত, এবং এর ফলে তার পরবর্তী বিষয়গুলো সহজ হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯২)
وأما قولنا: «اسم وفعل وحرف».فإن هذه الثلاثة هي الأصول الأول التي لا يستغنى عن تقدمة معرفتها لأنها أنفس الكلام. وما بعدها فإنما هو كلام على عوارضها الداخلة عليها. ولذلك اتفقت كتب متقدمي النحويين على البداية بها.وإنما كان الكلام ثلاثة لا غير لأن العبارة على حسب المعبر عنه. والمعبر عنه لا يخلو من أن يكون ذاتًا كزيد وعمرو. أو حدثًا من ذات كقام وقعد، أو واسطة بين الذات وحدثها، تكون لايجاب شيء لها، أو نفي شيء عنها، أو شرطًا لها، مثل: إن زيدًا قام، وما زيد قام، وإن قام زيد قام عمرو. فالأسماء عبارة عن الذات. والأفعال عبارة عن الحدث. والحروف عبارة عن الوسائط. فلذلك / كانت ثلاثة على حسب المعبر عنه.وإذا ثبت هذا. فالعلة في تقديم الكلام على الاسم من هذه الثلاثة لأنه أقواها وأمكنها. بدليل أنه يخبر به ويخبر عنه، من نحو: الله ربنا، وربنا الله. والحرف عكسه [لأنه] لا يخبر به ولا يخبر عنه، فأخر لذلك.والفعل يخبر به ولا يخبر عنه، فوسط. ولأن كل شيء محمول على الاسم. لأن الله تعالى لما امتن على نبيه آدم عليه السلام قال: (وعلم آدم الأسماء كلها).
আর আমাদের কথা: "বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়"।নিশ্চয়ই এই তিনটি হলো প্রাথমিক মূলনীতি, যা সম্পর্কে অগ্রিম জ্ঞান লাভ করা অপরিহার্য; কেননা এগুলোই হলো বক্তব্যের মূল ভিত্তি। আর এর পরবর্তী বিষয়গুলো কেবল এগুলোর ওপর আপতিত বিভিন্ন অবস্থা সংক্রান্ত আলোচনা। আর এ কারণেই প্রাচীন ব্যাকরণবিদদের গ্রন্থসমূহ এগুলো দিয়ে শুরু করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।আর বক্তব্য যে কেবল এই তিন প্রকারই হয়ে থাকে, তার কারণ হলো অভিব্যক্তি সর্বদা বর্ণিত বিষয়ের অনুসারী হয়। আর বর্ণিত বিষয় হয় কোনো সত্তা হবে, যেমন—যায়েদ ও আমর; অথবা কোনো সত্তা থেকে প্রকাশিত কাজ হবে, যেমন—সে দাঁড়িয়েছে বা সে বসেছে; অথবা সত্তা এবং তার কাজের মধ্যবর্তী কোনো মাধ্যম হবে, যা তার জন্য কোনো কিছু সাব্যস্ত করতে, কিংবা কোনো কিছু নাকচ করতে, অথবা কোনো শর্তারোপ করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: নিশ্চয়ই যায়েদ দাঁড়িয়েছে, যায়েদ দাঁড়ায়নি এবং যদি যায়েদ দাঁড়িয়ে থাকে তবে আমরও দাঁড়াবে। সুতরাং বিশেষ্যসমূহ সত্তাকে বোঝায়। ক্রিয়াসমূহ কাজকে বোঝায়। আর অব্যয়সমূহ মাধ্যমসমূহকে বোঝায়। এ কারণেই বর্ণিত বিষয়ের সাথে সংগতি রেখে এগুলো তিন প্রকার হয়েছে।যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন এই তিনটির মধ্যে বিশেষ্যকে প্রথমে আলোচনা করার কারণ হলো যে, এটি এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সুদৃঢ়। এর প্রমাণ হলো, এটি সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেওয়া যায় এবং এটি দ্বারাও সংবাদ দেওয়া যায়; যেমন: আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক, এবং আমাদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ। আর অব্যয় এর বিপরীত, কেননা এর মাধ্যমে কোনো সংবাদ দেওয়া যায় না এবং এর সম্পর্কেও কোনো সংবাদ দেওয়া যায় না; এ কারণেই একে সবার শেষে রাখা হয়েছে।আর ক্রিয়া দ্বারা সংবাদ দেওয়া যায় কিন্তু এর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যায় না, তাই একে মাঝে রাখা হয়েছে। এছাড়া সব কিছুই বিশেষ্যের ওপর নির্ভরশীল। কারণ আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর নবী আদম আলাইহিস সালাম-এর প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন, তখন বলেছেন: "আর তিনি আদমকে সকল নামের জ্ঞান দান করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
فلذلك وجبت البداية بالكلام على الاسم.وأما قولنا «وهي الاسم، والفعل، والحرف، والرفع، والنصب، والجر، والجزم، والعامل، والتابع، والخط».فإنما رتبت هذا الترتيب لما تقدم من قوة الاسم، ومن توسط الفعل، ومن تأخر الحرف. ثم قدم الرفع على النصب لأنه من حركات العمد التي هي للفاعل وشبهه وللمبتدأ وشبهه. ثم قدم النصب على الجر لأن النصب كثير، والمنصوبات أكثر من المرفوعات وأقل من المجرورات. ثم قدم الجر على الجزم لأن الجر من إعراب ما هو مستحق للإعراب، وهو الاسم. وليست الأفعال بمستحقة للإعراب في الأصل، وإنما إعرابها للشبه. ثم قدم العامل على التابع لأن العامل لابد منه، والتابع منه بد. لأن التابع إنما يأتي محمولًا على غيره، والعامل يأتي لأمر يحتاج إليه في نفسه. ثم قدم التابع على الخط لأن التابع لاحق بالمتبوع فلحق بما تقدمه. ولم يبق إلا جعل الخط عاشرًا. فهذا فيه معرفة ترتيب هذه الجملة حتى تأخذ كلًا منها على أصل في نفسك مستقر.
সেই কারণে বিশেষ্য (ইসম) সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সূচনা করা আবশ্যক হয়েছে।আর আমাদের কথা— "আর সেগুলো হলো: বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল), অব্যয় (হরফ), রফ্ (পেশ), নসব (জবর), জর (জের), জজম (সুকুন), আমেল (প্রভাবক), তাবে (অনুসারী) এবং লিপি (খত)।"আমি এই বিন্যাসটি সাজিয়েছি বিশেষ্যের (ইসম) শক্তিমত্তা, ক্রিয়ার (ফেল) মধ্যম অবস্থান এবং অব্যয়ের (হরফ) পশ্চাৎপদতার কারণে। এরপর আমি নসবের (জবর) ওপর রফ্-কে (পেশ) প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ এটি সেই সকল অপরিহার্য হরকতের অন্তর্ভুক্ত যা কর্তা (ফায়েল) ও তার সদৃশ এবং মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) ও তার সদৃশের জন্য নির্ধারিত। এরপর আমি জরের (জের) ওপর নসবকে (জবর) প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ নসবের ব্যবহার ব্যাপক, আর মানসুবাত (নসবযুক্ত শব্দসমূহ) মারফু'আতের (রফ্-যুক্ত শব্দসমূহ) চেয়ে অধিক এবং মজরুরাতের (জর-যুক্ত শব্দসমূহ) চেয়ে কম। অতঃপর জজমের ওপর জরকে প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ জর হলো সেই বিষয়ের ই’রাব (শব্দরূপান্তর) যা ই’রাব গ্রহণের উপযুক্ত, আর তা হলো বিশেষ্য (ইসম)। আর মূলত ক্রিয়াসমূহ (আফ'আল) ই’রাব গ্রহণের যোগ্য নয়, বরং এগুলোর ই’রাব কেবল (বিশেষ্যের সাথে) সাদৃশ্য থাকার কারণে হয়ে থাকে। এরপর আমি তাবে-এর (অনুসারী) ওপর আমেল-কে (প্রভাবক) প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ আমেল অপরিহার্য, কিন্তু তাবে অপরিহার্য নয়। কেননা তাবে কেবল অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে আসে, আর আমেল এমন বিষয়ের জন্য আসে যা তার নিজের সত্তাগত প্রয়োজনেই দরকার। অতঃপর আমি খত-এর (লিপি) ওপর তাবে-কে (অনুসারী) প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ তাবে তার মাতবূ-এর (অনুসৃত) অনুগামী হয়, ফলে এটি তার পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়েছে। আর খত-কে দশম স্থানে রাখা ছাড়া আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট ছিল না। এই আলোচনার মাধ্যমে উক্ত বাক্যবিন্যাসের রহস্য জানা গেল, যাতে আপনি এগুলোর প্রত্যেকটিকে নিজের অন্তরে একটি প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
فصل الاسمكل فصل من هذه الفصول فهو مشتمل على ثلاثة أشياء، ما هو في نفسه وما قسمته، وما حكمه. لأن بمعرفة هذه الأشياء الثلاثة يتحصل الغرض في كل ما يفسر [في هذه المقدمة] وبالله التوفيق.قال الشيخ رحمه الله: أما قولنا: «الاسم ما أبان عن مسمى، شخصًا كان أو غير شخص، مثل: رجل وامرأة وزيد وهند ونحوه من المرئيات. وعالم ومعلوم ونحوه من الصفات. وعلم وقدرة وفهم ونحوه من المعاني».فإن هذا جواب عن السؤال الأول، وهو ما الاسم؟ . ولما كانت الأسماء الظاهرة لا تنفك من أن تكون عبارة عن أشخاص، أو عبارةً عن صفات، أو عبارةً عن معانٍ، انقسمت إلى هذه الأقسام المذكورة. فالأشخاص تعرفها بأنها مرئيات، كرجل وامرأة وزيد وهند [وشبه ذلك]. ولما كانت الأشخاص لا تنفك من أن تكون مذكرة أو مؤنثة مثل بالأمرين. ولما كان المذكر والمؤنث لا ينفك من أن يكون معرفةً أو نكرة مثل أيضًا بالمعرفة كما مثل بالنكرة، وهو زيد وهند [ورجل وامرأة]. والصفات تعرفها بأنها تكون جارية على الموصوفين. ومثال جريانها قولك: هذا رجل عالم، ورأيت رجلًا عالمًا، ومررت برجلٍ
বিশেষ্য (ইসম) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদএই প্রতিটি পরিচ্ছেদ তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: তা স্বয়ং কী (পরিচয়), তার প্রকারভেদ এবং তার বিধান। কারণ, এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই [এই মুখবন্ধে] যা কিছু ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হাসিল হয়। আর আল্লাহর তাওফীকেই সাফল্য লাভ হয়।শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমাদের বক্তব্য: «বিশেষ্য হলো যা কোনো নামধারী বস্তুকে প্রকাশ করে, চাই তা কোনো ব্যক্তি হোক বা ব্যক্তি ছাড়া অন্য কিছু। যেমন: পুরুষ, নারী, যায়েদ, হিন্দ এবং দৃশ্যমান বিষয়াবলির অনুরূপ উদাহরণসমূহ। আবার আলিম (জ্ঞানী), মালুম (জ্ঞাত) এবং এজাতীয় গুণাবলি। এছাড়া ইলম (জ্ঞান), ক্ষমতা (কুদরত), ফাহম (উপলব্ধি) এবং এজাতীয় অর্থবাচক বিষয়সমূহ»।এটি মূলত প্রথম প্রশ্নের উত্তর, আর তা হলো—বিশেষ্য (ইসম) কী? যেহেতু প্রকাশ্য বিশেষ্যসমূহ ব্যক্তি, গুণাবলি অথবা অর্থবাচক বিষয়ের অভিব্যক্তি হওয়া থেকে পৃথক নয়, তাই এগুলোকে উল্লিখিত প্রকারগুলোতে বিভক্ত করা হয়েছে। ব্যক্তি বা বস্তুগুলোকে আপনি চিনতে পারবেন এই হিসেবে যে সেগুলো দৃশ্যমান বিষয়; যেমন—পুরুষ, নারী, যায়েদ, হিন্দ [এবং অনুরূপ]। যেহেতু ব্যক্তি বা বস্তুসমূহ পুংলিঙ্গ অথবা স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া থেকে মুক্ত নয়, তাই তিনি উভয়টিরই উদাহরণ দিয়েছেন। আবার পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ যেহেতু নির্দিষ্ট (মারেফা) অথবা অনির্দিষ্ট (নাকেরা) হওয়া থেকে মুক্ত নয়, তাই তিনি অনির্দিষ্টের উদাহরণের পাশাপাশি নির্দিষ্টের উদাহরণও দিয়েছেন; আর তা হলো—যায়েদ ও হিন্দ [এবং পুরুষ ও নারী]। আর গুণাবলিকে (সিফাত) আপনি চিনতে পারবেন এই হিসেবে যে, সেগুলো গুণান্বিত বিষয়ের (মাওসুফ) ওপর প্রয়োগ হয়। এর প্রয়োগের উদাহরণ হলো আপনার এই কথা: «ইনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি», «আমি একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে দেখেছি», এবং «আমি একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি...»
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
عالم. وكذلك كل صفة من نحو آكل وشارب ونحوهما من صفات الفعلية. وأحمر وأصفر ونحوهما من صفات الحلية. ومصري ومغربي ونحوهما من صفات النسبة. كل هذه صفات لأنها جارية على الموصوفين.والمعاني تعرفها بأنها مصادر كالعلم والقدرة، مصدر علم علمًا، وقدر قدرة. ولا تجري هذه صفات كالتي قبلها. لا تقول: هذا رجل علم، كما تقول: هذا رجل عالم. فإذا أردت ذلك ففيه ثلاثة أوجه:أحدها: أن تأتي بـ «ذي» التي بمعنى «صاحب» ، فتقول: هذا رجل ذو علمٍ، ورأيت رجلًا ذا علمٍ، ومررت برجل ذي علمٍ.والوجه الثاني: أن تقول: هذا رجل له علم. فيكون «علم» مبتدأ، و «له» خبرًا مقدمًا [عليه] ، والجملة في موضع [رفع على] الصفة لرجل. والكلام جملتان. فـ «هذا» مبتدأ، و «رجل» خبره، و «له علم» جملة ثانية في موضع الصفة لرجل لا تتغير في نصب ولا جر. تقول في النصب: رأيت رجلًا له علم، فموضع الجملة [الثانية] نصب. وتقول في الجر: مررت برجلٍ له علم، فموضع الجملة الثانية جر أيضًا، نعت لرجل. وليس للجملة الأولى موضع من الإعراب. لأن الجمل التي لها موضع من الإعراب ثلاث، الجملة التي تكون خبرًا لمبتدأ، والجملة التي تكون صفة، والجملة التي تكون حالًا. فالجملة التي تكون صفة قد مثلناها. والتي تكون خبرًا كقولك: هذا أبوه منطلق، فـ «أبوه» منطلق جملة من مبتدأ [وخبر في موضع رفع خبر لـ «هذا» الذي هو مبتدأ أول، «وأبوه» مبتدأ] ثانٍ، و «منطلق» خبر للأب، والأب وخبره خبر «هذا» والجملة التي تكون حالًا نحو قولك: هذا زيد أبوه منطلق. فـ «هذا» مبتدأ،
জ্ঞানী। একইভাবে আহারকারী এবং পানকারী ও এই জাতীয় প্রতিটি গুণ যা ক্রিয়াগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। এবং লাল ও হলুদের মতো সৌন্দর্য বা ভূষণবাচক গুণসমূহ। আর মিসরীয় ও মরক্কীয় এবং এই জাতীয় সম্বন্ধসূচক গুণসমূহ। এগুলোর সবই সিফাত বা গুণ, কারণ এগুলো মাওসুফ বা গুণান্বিত বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়।আর আপনি ভাববাচক অর্থসমূহকে মাসদার (ক্রিয়ামূল) হিসেবে চিনতে পারবেন, যেমন: জ্ঞান এবং সক্ষমতা। 'আলিমা' থেকে 'ইলম' (জ্ঞান) এবং 'কাদারা' থেকে 'কুদরত' (সক্ষমতা) মাসদার হিসেবে এসেছে। এগুলো পূর্ববর্তী গুণগুলোর মতো গুণবাচক হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। আপনি বলবেন না: "এটি একজন জ্ঞান মানুষ", যেমনটি আপনি বলেন: "এটি একজন জ্ঞানী মানুষ"। সুতরাং আপনি যদি এটি প্রকাশ করতে চান, তবে তার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে:প্রথমটি: আপনি 'যূ' শব্দটি নিয়ে আসবেন যা 'অধিকারী' অর্থে ব্যবহৃত হয়। ফলে আপনি বলবেন: "এটি জ্ঞানসম্পন্ন একজন ব্যক্তি", "আমি একজন জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকে দেখেছি" এবং "আমি একজন জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"।দ্বিতীয় পদ্ধতি: আপনি বলবেন: "এটি এমন এক ব্যক্তি যার জ্ঞান আছে"। এখানে 'জ্ঞান' হবে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং 'তার জন্য' অংশটি হবে তার খবর মুকাদ্দাম (অগ্রবর্তী সংবাদ)। আর এই বাক্যটি 'ব্যক্তি' শব্দের সিফাত (গুণ) হিসেবে রফ-এর স্থানে থাকবে। এখানে বক্তব্যটি দুটি বাক্য নিয়ে গঠিত। 'এটি' হলো মুবতাদা এবং 'ব্যক্তি' হলো তার খবর। আর 'যার জ্ঞান আছে' হলো দ্বিতীয় একটি বাক্য যা 'ব্যক্তি'-এর সিফাত হিসেবে রয়েছে এবং নসব বা জর-এর কারণে এর কোনো পরিবর্তন হবে না। আপনি নসব-এর ক্ষেত্রে বলবেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখেছি যার জ্ঞান আছে", এখানে দ্বিতীয় বাক্যটির স্থান হলো নসব। আবার জর-এর ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যার জ্ঞান আছে", এখানেও দ্বিতীয় বাক্যটির স্থান হবে জর, যা 'ব্যক্তি'-এর গুণ বা সিফাত। আর প্রথম বাক্যটির কোনো ব্যাকরণিক (ইরাবি) অবস্থান নেই। কারণ যেসব বাক্যের ব্যাকরণিক অবস্থান থাকে তা তিনটি: যে বাক্যটি মুবতাদার খবর হয়, যে বাক্যটি সিফাত হয় এবং যে বাক্যটি হাল (অবস্থা) হয়। আমরা সিফাত হওয়া বাক্যের উদাহরণ ইতিপূর্বেই দিয়েছি। আর খবর হওয়ার উদাহরণ হলো যেমন আপনার কথা: "এটি এমন ব্যক্তি যার পিতা প্রস্থানকারী"। এখানে 'তার পিতা প্রস্থানকারী' অংশটি মুবতাদা ও খবর নিয়ে গঠিত একটি বাক্য, যা প্রথম মুবতাদা 'এটি'-এর খবর হিসেবে রফ-এর স্থানে আছে। এখানে 'তার পিতা' হলো দ্বিতীয় মুবতাদা এবং 'প্রস্থানকারী' হলো পিতার খবর। আর পিতা ও তার খবর মিলেই 'এটি'-এর খবর হয়েছে। আর যে বাক্যটি হাল বা অবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয় তার উদাহরণ হলো যেমন আপনার কথা: "ইনি যায়েদ, এমতাবস্থায় যে তার পিতা প্রস্থানকারী"। এখানে 'ইনি' হলো মুবতাদা,
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
و «زيد» خبره، و «أبوه منطلق» جملة من مبتدأ وخبره في موضع نصب على الحال. كأنك قلت: هذا زيد منطلقًا أبوه، أي أشرت إليه في حال انطلاق أبيه.[4] فقد بان/ لك [معرفة] الجمل التي لها موضع من الإعراب، من الجمل التي لا موضع لها من الإعراب. وهذا يأتي في موضعه مستوفى إن شاء الله تعالى. وإنما ذكر هذا القدر لما ذكر الاسم الذي هو معنى، وكيف يصح أن يوصف به. وقد بان [لك] أنه إن وصفت به على طريق الإفراد قلت: هذا رجل ذو علم. وإن وصفت به على طريق الجملة قلت: هذا رجل له علم. وإن وصفت به على طريق الاتساع والمبالغة، على حد قولهم: هذا رجل عدل، وهذا رجل رضى، فإنك تقول على هذا: هذا رجل علم. كأنه لكثرة علمه وفهمه جعلته نفس العلم. كما جعلته عدلًا لما كثر عدله، ورضى لما كثر الرضى عنه [ألا ترى أنك لو قلت قولًا محققًا قلت: هذا رجل مرضي عنه فطال [ذلك] ، وعرفت الأشخاص بما قدمته لك، فليس يخرج عن ذلك اسم ظاهر معرب.وأما قولنا: «وإنما لقب هذا النوع اسمًا لأنه سما بمسماه فأوضحه وكشف
এবং 'যায়েদ' হলো তার সংবাদ (খবর), আর 'তার পিতা প্রস্থানকারী' বাক্যটি উদ্দেশ্য (মুক্তাদা) ও বিধেয় (খবর) এর সমন্বয়ে গঠিত যা 'অবস্থা' (হাল) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত। যেন আপনি বললেন: এই যায়েদ যার পিতা প্রস্থানকারী, অর্থাৎ আপনি তার পিতার প্রস্থানের অবস্থায় তার দিকে ইশারা করেছেন।[৪] সুতরাং আপনার নিকট সেই বাক্যগুলোর পরিচয় স্পষ্ট হয়েছে যেগুলোর ব্যাকরণিক স্থান (ইরাব) রয়েছে এবং সেই বাক্যগুলোর যেগুলোর কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই। আর এটি ইনশাআল্লাহ তাআলা যথাস্থানে পূর্ণাঙ্গরূপে আসবে। আর এই পরিমাণ আলোচনা কেবল তখনই করা হয়েছে যখন এমন বিশেষ্য (ইসম) উল্লেখ করা হয়েছে যা একটি অর্থ (গুণ) প্রকাশ করে এবং কীভাবে তার মাধ্যমে গুণান্বিত করা সঠিক হয়। আর আপনার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, আপনি যদি একক শব্দের পদ্ধতিতে এর মাধ্যমে গুণ বর্ণনা করেন তবে বলবেন: এই ব্যক্তিটি জ্ঞানবান। আর আপনি যদি বাক্য আকারে এর গুণ বর্ণনা করেন তবে বলবেন: এই ব্যক্তিটির জ্ঞান আছে। আর যদি আপনি রূপক প্রসারণ ও অতিশয়োক্তির পদ্ধতিতে গুণ বর্ণনা করেন, যেমন তাদের বক্তব্য: এই ব্যক্তিটি হুবহু ন্যায়বিচার, এবং এই ব্যক্তিটি হুবহু সন্তুষ্টি; তবে আপনি সেই ভিত্তিতে বলবেন: এই ব্যক্তিটি হুবহু জ্ঞান। যেন তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রাচুর্যের কারণে আপনি তাকে খোদ জ্ঞান হিসেবে গণ্য করেছেন। ঠিক যেমন আপনি তাকে 'ন্যায়বিচার' গণ্য করেছেন যখন তার ন্যায়বিচারের আধিক্য ঘটেছে, এবং 'সন্তুষ্টি' গণ্য করেছেন যখন তার প্রতি সন্তুষ্টির আধিক্য ঘটেছে [আপনি কি দেখছেন না যে, আপনি যদি সুনির্দিষ্ট কথা বলতেন তবে বলতেন: এই ব্যক্তিটি এমন যার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া হয়েছে; ফলে বিষয়টি দীর্ঘ হয়ে যেত]। আর আমি আপনার নিকট যা ইতিপূর্বে পেশ করেছি তার মাধ্যমে আপনি ব্যক্তিবর্গকে চিনেছেন, সুতরাং কোনো প্রকাশ্য পরিবর্তনশীল বিশেষ্য (মু’রাব ইসম) এর বাইরে নয়।আর আমাদের বক্তব্য: "এই প্রকারকে ইসম (নাম) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি তার নামীয় বস্তুর (মুসাম্মা) ঊর্ধ্বে আরোহণ করে তাকে স্পষ্ট ও উন্মোচন করে...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
معناه». فإن هذه طريقة البصريين، لأن الاسم عندهم مشتق من السمو، والسمو هو العلو. فالاسم هو الذي أبان عن المسمى، شخصًا كان أو صفة أو معنى، فرفعه إلى العقل وأخرجه إلى الوجود. فلولا الاسم لما عرف المسمى. وقال الكوفيون: إن الاسم إنما سمي اسما لأنه اشتق من السمة التي هي العلامة. والصحيح هو [القول] الأول أن اشتقاقه من السمو. لأن لام السمو واو تكون أخيرًا، وفاء السمه واو تكون أولًا، من وسمت [اسم] سمة. فلو كان الاسم مشتقًا من السمة لوجب أن يقال في جمعه «أوسام» ، وفي قوله «أسماء» دليل على أن أصله «أسماو» ، وقلبت الواو الأخيرة همزة [لأن قلبها ألفا] بعد أن قلت ألفًا.ودليل آخر، وهو قولهم في تصغير اسم «سمي» وأصله «سميو» ، قلبت الواو ياء وأدغمت الياء في الياء. ولو كان من السمة لوجب أن تقول فيه «وسيم» أو «أسيم» ، فتقع الواو أولا. فإن شئت أقررتها [على حالها] وإن شئت همزتها على حد «وقتت» و «أقتت». وفي عدم ذلك وأنه لم يقل دليل على أنه مشتق من السمو [لا من السمه].
এর অর্থ। এটি বসরাবাসীদের পদ্ধতি, কারণ তাদের নিকট ‘নাম’ (ইসম) শব্দটি ‘সুমুও’ থেকে ব্যুৎপন্ন, আর ‘সুমুও’ হলো উচ্চতা। সুতরাং নামই হলো সেই সত্তা যা নামধারীকে স্পষ্ট করে, তা কোনো ব্যক্তি হোক, গুণ হোক বা কোনো অর্থ হোক। এটি তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরে উন্নীত করে এবং অস্তিত্বে প্রকাশ করে। যদি নাম না থাকতো, তবে নামধারীকে চেনা যেত না। আর কুফাবাসীরা বলেছেন: নাম-কে ‘ইসম’ বলা হয় কারণ এটি ‘সিমা’ তথা চিহ্ন থেকে ব্যুৎপন্ন। আর সঠিক মতটি হলো প্রথমটি, অর্থাৎ এর ব্যুৎপত্তি ‘সুমুও’ থেকে। কারণ ‘সুমুও’ শব্দের ‘লাম’ বর্ণটি হলো ‘ওয়াও’ যা শেষে থাকে, আর ‘সিমা’ শব্দের ‘ফা’ বর্ণটি হলো ‘ওয়াও’ যা শুরুতে থাকে; যেমন ‘ওয়াসামতু’ থেকে ‘সিমা’ হয়েছে। সুতরাং নাম শব্দটি যদি ‘সিমা’ থেকে ব্যুৎপন্ন হতো, তবে এর বহুবচনে ‘আওসাম’ বলা আবশ্যক হতো। আর এর বহুবচন ‘আসমা’ হওয়া এই প্রমাণ দেয় যে এর মূল ছিল ‘আসমাউ’, এবং শেষোক্ত ‘ওয়াও’ বর্ণটি হামযাহ-তে রূপান্তরিত হয়েছে, যেহেতু আলিফের পরে থাকায় তা আলিফে পরিণত হওয়ার পর রূপান্তরিত হয়েছে।আরেকটি প্রমাণ হলো, ‘ইসম’ শব্দের ক্ষুদ্রার্থবাচক শব্দ হিসেবে তাদের ‘সুমাইয়্যু’ বলা, যার মূল ছিল ‘সুমাইউ’। এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এক ‘ইয়া’ অন্য ‘ইয়া’-এর সাথে একীভূত হয়েছে। যদি এটি ‘সিমা’ থেকে হতো, তবে ক্ষুদ্রার্থবাচক শব্দে ‘ওয়াসাইম’ বা ‘উসাইম’ বলা আবশ্যক হতো, যাতে ‘ওয়াও’ বর্ণটি শুরুতে আসতো। এমতাবস্থায় আপনি চাইলে একে তার নিজ অবস্থায় রাখতেন অথবা ‘ওয়াক্কিতাত’ ও ‘উক্কিতাত’-এর মতো একে হামযাহ-তে রূপান্তর করতেন। এমনটি না হওয়া এবং না বলা একথারই প্রমাণ যে, এটি ‘সুমুও’ থেকে ব্যুৎপন্ন, ‘সিমা’ থেকে নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
وأما قولنا: «وقسمة الأسماء [كلها] ثلاثة: ظاهر، ومضمر، وما بينهما وهو يسمى المبهم».فإن هذا جواب [عن] القسمة التي تعرف بها الجملة، فتنحصر لك الأسماء كلها، ولا يشذ عنك شيء منها. فإن قيل: فما الحاجة إلى قسمتها ثلاثة، وألا جعلت كلها ظاهرة أو مضمرة [أو أسماء إشارة]؟ . قيل: لكل واحد من ذلك غرض صحيح. فالغرض بالأسماء الظاهرة البيان [عن ذات المسمى] كرجل وزيد. والغرض بالأسماء المضمرة الاختصار من نحو: أنا وأنت وهو. والغرض بأسماء الإشارة التنبيه من نحو: ذا [وذه] وذان وتان وألاء. والغرض بكل واحد من هذه الثلاثة غرض صحيح لا يغني عنه الآخر. ولا يخلو كل اسم ظاهر من جواز الثلاثة فيه.وأما قولنا: «أما الظاهر فهو كل ما دل بظاهره وإعرابه على المعنى المراد به».
আর আমাদের কথা: «এবং বিশেষ্যের বিভাজন [সবগুলোই] তিন প্রকার: প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা অস্পষ্ট বা নির্দেশক নামে অভিহিত।»নিশ্চয় এটি সেই বিভাজন পদ্ধতি যার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি জানা যায়, ফলে সমস্ত বিশেষ্য আপনার নিকট সীমাবদ্ধ হয়ে যায় এবং এর কোনো কিছুই আপনার থেকে বিচ্যুত হয় না। যদি প্রশ্ন করা হয়: এগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করার প্রয়োজনীয়তা কী, কেন সবগুলোকে কেবল প্রকাশ্য অথবা অপ্রকাশ্য [অথবা নির্দেশক বিশেষ্য] করা হলো না? উত্তর হলো: এগুলোর প্রত্যেকটির একটি সঠিক উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রকাশ্য বিশেষ্যসমূহের উদ্দেশ্য হলো [নামধারী সত্তা সম্পর্কে] বর্ণনা প্রদান করা, যেমন: পুরুষ এবং যায়েদ। আর অপ্রকাশ্য বিশেষ্যসমূহের উদ্দেশ্য হলো সংক্ষিপ্ত করা, যেমন: আমি, তুমি এবং সে। আর নির্দেশক বিশেষ্যসমূহের উদ্দেশ্য হলো সতর্ক বা দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যেমন: এই, এই মহিলা, এই দুইজন পুরুষ, এই দুইজন মহিলা এবং এরা সকলে। এই তিনটির প্রত্যেকটির উদ্দেশ্যই সঠিক যা অন্যটি দ্বারা পূরণ হয় না। আর প্রতিটি প্রকাশ্য বিশেষ্য এই তিনটির সম্ভাবনা থেকে মুক্ত নয়।আর আমাদের কথা: «প্রকাশ্য বিশেষ্য হলো তা-ই, যা তার বাহ্যিক শব্দ এবং বিভক্তির (ইরাব) মাধ্যমে উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে।»
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
فإن الدلالة دلالتان: دلالة تدل دلالة الذات، ودلالة تدل دلالة الإعراب. فدلالة الذات هي التي تدل على ذات الشيء في نفسه. ودلالة الإعراب هي التي تدل على عوارضه التي تعرض فيه. ألا ترى أنك إذا قلت: ما أحسن زيد [بإسكان النون والدال] ، يفهم من «زيد» معنى الشخصية، وهي ذاته. ولا يعرف ما قصدت [إليه] من المعاني، من نفي الإحسان عنه، أو إثبات الحسن له، أو الاستفهام عن ذلك. فإذا أردت النفي قلت: ما أحسن زيد، برفع «زيد». وإذا أردت إثبات الحسن [له] على طريق التعجب قلت: ما أحسن زيدًا، بالنصب. وإذا أردت الاستفهام جررت «زيدا» ورفعت «أحسن» فقلت: ما أحسن زيد؟ . فهذه معانٍ ثلاثة لم يفرق لك بين كل واحد منها وبين الآخر إلا الإعراب. فبان لك أن الاسم الظاهر ما دل بظاهره وإعرابه على المعنى المراد به. وبان لك شدة الحاجة إلى معرفة الإعراب كمعرفة الذات. وكما لا يصح أن تجهل معرفة الذات فيما هذه سبيله، كذلك لا يصح أن تجهل معرفة الإعراب.لأن البيان مرتبط بهما جميعًا.وأما قولنا: «وجملة الأسماء الظاهرة المعربة عشرة أنواع».فإنه لما كانت الأسماء على أنواع كثيرة، من أسماء صحيحة، وأسماء معتلة. وأسماء مفردة، وأسماء مضافة. وأسماء منصرفة، وأسماء غير منصرفة. [وأسماء منقوصة، وأسماء غير منقوصة. وأسماء مقصورة، وأسماء غير مقصورة]. وأسماء مثناة، [وأسماء غير مثناة]. وأسماء مجموعة [جمع السلامة] ،
নিশ্চয়ই অর্থবোধকতা দুই প্রকার: সত্তাগত অর্থবোধকতা এবং ব্যাকরণিক পরিবর্তনের (ই’রাব) মাধ্যমে অর্থবোধকতা। সত্তাগত অর্থবোধকতা হলো তা যা কোনো বস্তুর নিজস্ব সত্তার ওপর নির্দেশ করে। আর ব্যাকরণিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থবোধকতা হলো তা যা ঐ বস্তুর ওপর আপতিত বিভিন্ন অবস্থার ওপর নির্দেশ করে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যখন আপনি বলেন: 'মা আহসান যাইদ' [নুন এবং দাল-এর সাকিন বা হসন্তসহ], তখন 'যাইদ' শব্দ থেকে কেবল ব্যক্তি সত্তার অর্থ বুঝা যায়, যা তার নিজস্ব সত্তা। কিন্তু আপনি এর দ্বারা কী অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন তা জানা যায় না—চাই তা তার থেকে কোনো কল্যাণকে অস্বীকার করা হোক, অথবা তার সুন্দরের স্বীকৃতি প্রদান হোক, কিংবা সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হোক। অতএব, আপনি যদি অস্বীকার বা না-বোধক অর্থ প্রকাশ করতে চান, তবে বলবেন: 'মা আহসান যাইদুন', 'যাইদ' শব্দটিকে রফ’ (পেশ) প্রদান করে। আর যদি আপনি বিস্ময় প্রকাশের মাধ্যমে তার সুন্দরের স্বীকৃতি দিতে চান, তবে বলবেন: 'মা আহসান যাইদান', নসব (যবর) প্রদান করে। আর যদি আপনি প্রশ্ন করতে চান, তবে 'যাইদ' শব্দটিকে জর (জের) প্রদান করবেন এবং 'আহসান' শব্দটিকে রফ’ (পেশ) প্রদান করে বলবেন: 'মা আহসানু যাইদিন?'। সুতরাং এগুলো হলো তিনটি ভিন্ন অর্থ, যেগুলোর একটি থেকে অপরটিকে ই’রাব বা ব্যাকরণিক পরিবর্তন ছাড়া পৃথক করা সম্ভব নয়। অতএব আপনার নিকট স্পষ্ট হলো যে, প্রকাশ্য বিশেষ্য (ইসম যাহির) হলো তা যা নিজের বাহ্যিক রূপ এবং ই’রাবের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর নির্দেশ করে। আর আপনার কাছে সত্তাগত পরিচয়ের ন্যায় ই’রাব বা ব্যাকরণিক পরিবর্তনের জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো। আর যেভাবে সত্তাগত পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা সমীচীন নয়, তেমনি ই’রাব বা ব্যাকরণিক পরিবর্তনের বিষয়ে অজ্ঞ থাকাও সঠিক নয়।কারণ স্পষ্ট বর্ণনা এই উভয় বিষয়ের সাথেই সম্পৃক্ত।আর আমাদের এই বক্তব্য: "প্রকাশ্য ই’রাব গ্রহণকারী বিশেষ্যসমূহ মোট দশ প্রকার"।বিষয়টি হলো এই যে, বিশেষ্য বা ইসমসমূহ বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, যেমন: সহীহ বিশেষ্য এবং মু’তাল বিশেষ্য। একবচন বিশেষ্য এবং মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) বিশেষ্য। মুনসারিফ (পূর্ণ রূপান্তরশীল) বিশেষ্য এবং গায়র-মুনসারিফ (অ-রূপান্তরশীল) বিশেষ্য। [মানকুস বিশেষ্য এবং অ-মানকুস বিশেষ্য। মাকসুর বিশেষ্য এবং অ-মাকসুর বিশেষ্য]। দ্বিবচন বিশেষ্য [এবং অ-দ্বিবচন বিশেষ্য]। বহুবচন বিশেষ্য [জমে সালামাহ বা সঠিক বহুবচন]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০০)
[وأسماء مجموعة جمع التكسير] ، ولكل واحد من ذلك حكم في الإعراب يخالف الآخر، وجب أن يجمل ذلك على ما ذكرنا من قولنا، ثم يفسر ليقع الحصر. وأن يبدأ بالأقوى فالأقوى على ما يأتي بيانه [إن شاء الله تعالى].[5] فلذلك قلنا: «منها نوع أول يدخله الرفع والنصب والجر/ والتنوين. وذلك كل اسم مفرد صحيح منصرف». وقولنا: «مفرد» احتراز من التثنية والجمع [السالم، لأن إعرابه كإعراب التثنية والجمع] بالحروف لا بالحركات. [ما خلا جمع التكسير فإن إعرابه كإعراب الأسماؤ المفردة]. وقولنا: «صحيح» احتراز من المعتل الذي آخره ياء [خفيفة قبلها كسرة] كالقاضي والداعي. أو ألف كالفتى والمولى. فإن هذا لا يدخله رفع ولا جر. وقولنا: «منصرف» احتراز مما لا ينصرف [مثل أحمد وأحمر]. لأن ما لا ينصرف لا يدخله تنوين ولا جر. وكل ما كان على هذا الشرط دخله الرفع والنصب والجر والتنوين، لأنه متمكن أمكن لم يعرض فيه ما يخرجه من التمكن، فاستوعب الإعراب كله. مثل: هذا فلس وفرس، ورأيت فلسًا وفرسًا، ومررت بفلس وفرس.وأما قولنا: «مثل: فلسٍ، وفرسٍ، وكتفٍ، وعضدٍ، وحبرٍ، وعنبٍ، وإبلٍ، وقفلٍ، وصردٍ، وعتقٍ».فإن هذه الأمثلة العشرة كلها ثلاثية. وهي جامعة لأصول الثلاثي كله. ورتبت هذا الترتيب لأنه بديء بالأخف فالأخف منها. فأخفها فعل مثل فلس،
[এবং জমা তাকসীর হিসেবে সংগৃহীত বিশেষ্যসমূহ], এর প্রতিটির জন্য ই’রাবের ভিন্ন ভিন্ন বিধান রয়েছে যা একে অপরের থেকে পৃথক। তাই আমাদের বক্তব্য অনুযায়ী এগুলোকে সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল, এরপর ব্যাখ্যা করা হয়েছে যাতে এগুলো সীমাবদ্ধতার মধ্যে আসে। আর নিয়ম অনুযায়ী সবচেয়ে শক্তিশালী থেকে শুরু করা হবে যেভাবে সামনে এর বিবরণ আসবে [যদি মহান আল্লাহ চান]।[৫] এ কারণেই আমরা বলেছি: «তার মধ্যে প্রথম প্রকার হলো এমন যাতে রফ্, নাসব, জার এবং তানভীন প্রবেশ করে। আর তা হলো প্রতিটি ইসমে মুফরাদ সহীহ মুনসারিফ (একবচন বিশুদ্ধ রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্য)»। এবং আমাদের «মুফরাদ» শব্দটি তসনিয়া (দ্বিবচন) এবং জমা [সালেম থেকে বাঁচার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, কেননা এর ই’রাব তসনিয়া এবং জমার ই’রাবের মতো] হরফ দ্বারা হয়, হারাকাত দ্বারা নয়। [জমা তাকসীর ব্যতীত, কেননা এর ই’রাব মুফরাদ বিশেষ্যের ই’রাবের মতোই]। এবং আমাদের «সহীহ» কথাটি দ্বারা মু'তাল (ত্রুটিযুক্ত শব্দ) থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য, যার শেষে ইয়া [হালকা ইয়া যার পূর্বে কাসরা রয়েছে] থাকে, যেমন: আল-কাজী এবং আদ-দায়ী। অথবা আলিফ থাকে, যেমন: আল-ফাতা এবং আল-মাওলা। কারণ এতে রফ্ বা জার প্রবেশ করে না। এবং আমাদের «মুনসারিফ» বলাটি গায়রে মুনসারিফ থেকে বাঁচার জন্য [যেমন: আহমাদ এবং আহমারা]। কারণ গায়রে মুনসারিফে তানভীন এবং জার প্রবেশ করে না। আর যা কিছু এই শর্তের ওপর হবে, তাতে রফ্, নাসব, জার এবং তানভীন প্রবেশ করবে, কেননা এটি হলো ‘মুতামাক্কিন আমকান’, যাতে এমন কিছু ঘটেনি যা একে সক্ষমতা থেকে বের করে দেবে। ফলে এটি সমস্ত ই’রাব গ্রহণ করে। যেমন: এটি ফালস (মুদ্রা) এবং ফারাস (ঘোড়া), আমি ফালস ও ফারাস দেখেছি, এবং আমি ফালস ও ফারাসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি।আর আমাদের এই কথা: «যেমন: ফালসুন, ফারাসুন, কাতিফুন, আদুদুন, হিবরুন, ইনাবুন, ইবিলুন, কুফলুন, সুরাদুন, ইতকুন»।এই দশটি উদাহরণ সবই সুলাসি (তিন অক্ষরবিশিষ্ট)। আর এগুলো সমস্ত সুলাসি শব্দের মূল রূপকে অন্তর্ভুক্ত করে। একে এই ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে কারণ এটি সবচেয়ে হালকা থেকে ক্রমান্বয়ে শুরু করা হয়েছে। আর এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা ওজন হলো ‘ফাল’ যেমন: ফালস।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০১)
بفتح الأول وسكون الثاني. وفرس أخف من كتف، لأن المفتوح العين أخف من المكسور العين. وكتف أخف من عضد. لأن المكسور العين أخف من المضموم العين. فهذه أربعة أمثلة أولها مفتوح.ثم ننتقل إلى المكسور الأول الساكن الثاني وهو خبر فتجده أخف من عنب. ثم عنب [فتجده] أخف من إبل، لأن الكسرة الواحدة أخف من الكسرتين. ثم ننتقل إلى المضموم الأول [الساكن الثاني] وهو قفل فتجده أخف من صرد. ثم صرد. [فتجده] أخف من عنق. وعلى هذا الترتيب. فكملت عشرة. وعرفت وجه ترتيبها، والعلة في كثرتها [وكون بعضها أخف من بعض].وأما قولنا: «ومثل: جعفر، وزبرج، وبرثن، ودرهم، وقمطر وجخدب [عند الأخفش]».فإن هذه الأمثلة الستة أوزان لجميع أصول الرباعي. ووزن كل واحد غير وزن الآخر. لكنه يجمعها كلها كونها رباعيةً. كما أن العشرة الأول
প্রথম বর্ণে ফাতহাহ এবং দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন যোগে। এবং ‘ফারাস’ শব্দ ‘কাতিফ’ অপেক্ষা লঘু বা সহজতর, কারণ আইন-বর্ণে ফাতহাহ থাকা আইন-বর্ণে কাসরাহ থাকার চেয়ে লঘু। আবার ‘কাতিফ’ শব্দ ‘আদুদ’ অপেক্ষা লঘু, কারণ আইন-বর্ণে কাসরাহ থাকা আইন-বর্ণে যম্মাহ থাকার চেয়ে লঘু। সুতরাং এই চারটি উদাহরণ হলো এমন যার প্রথম বর্ণ ফাতহাহ-বিশিষ্ট।অতঃপর আমরা প্রথম বর্ণ কাসরাহ-বিশিষ্ট এবং দ্বিতীয় বর্ণ সুকুন-বিশিষ্ট শব্দের দিকে অগ্রসর হই, যা হলো ‘খিবার’; আপনি একে ‘ইনাব’ অপেক্ষা লঘু পাবেন। অতঃপর ‘ইনাব’ শব্দটিকে আপনি ‘ইবিল’ অপেক্ষা লঘু পাবেন, কারণ একটি কাসরাহ দুটি কাসরাহ অপেক্ষা লঘু। এরপর আমরা প্রথম বর্ণ যম্মাহ-বিশিষ্ট এবং দ্বিতীয় বর্ণ সুকুন-বিশিষ্ট শব্দের দিকে অগ্রসর হই, যা হলো ‘কুফল’; আপনি একে ‘সুরাদ’ অপেক্ষা লঘু পাবেন। অতঃপর ‘সুরাদ’ শব্দটিকে আপনি ‘উনুক’ অপেক্ষা লঘু পাবেন। এবং এই বিন্যাস অনুযায়ী দশটি পূর্ণ হলো। আপনি এগুলোর বিন্যাসের পদ্ধতি এবং এগুলোর সংখ্যাধিক্যের কারণ [এবং কেন এগুলোর কিছু অংশ অন্যগুলো অপেক্ষা লঘু] তা অবগত হলেন।আর আমাদের কথা: “এবং উদাহরণস্বরূপ: জা’ফার, যিবরিজ, বুরসুন, দিরহাম, কুমিতার এবং জুখদাব [আখফাশের মতে]।”নিশ্চয়ই এই ছয়টি উদাহরণ হলো চার বর্ণবিশিষ্ট (রুবায়ী) মূলশব্দের সকল ওজনের জন্য। এবং প্রতিটির ওজন অন্যটি থেকে ভিন্ন। তবে এগুলোর সবগুলোকে একীভূত করেছে এগুলোর রুবায়ী হওয়া। যেমনটি প্রথম দশটি শব্দের ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
مختلفة الأوزان ويجمعها كلها كونها ثلاثية.وأما قولنا: «ومثل: سفرجلٍ، وقرطعبٍ، وجحمرشٍ، وقذعملٍ».فإن هذه الأمثلة الأربعة أوزان لجميع أصول الخماسي. ووزن كل واحد غير وزن الآخر يجمعها كلها كونها خماسية.فقد صار أمثلة [الأسماء] الأصول كلها عشرين مثالًا. عشرة ثلاثية، وستة رباعية، وأربعة خماسية. وليس في شيء منها خلاف إلا [في] وزن جخدب. فإن الأخفش. بضم الدال بوزن فعلل كبرثن.وأما قولنا: «وكل ما جاء من هذه الأسماء [وشبهها] بعد «نفعنى» وشبهه فهو فاعل مرفوع. وكل ما جاء منها بعد «نفعت» وشبهه فهو مفعول منصوب. وكل ما جاء منها بعد «انتفعت بكذا أو من كذا» [وشبهه] فهو مجرور».فإن القصد بهذا التمثيل تعريف التصرف في إعراب هذه المثل العشرين. وما أشبهها من جميع الأسماء الظاهرة الصحيحة المفردة المنصرفة لتنصرف في ذلك. ولما كانت [هذه] الأسماء لا تخلو من أن تكون مرفوعة أو منصوبة
এগুলো বিভিন্ন ওজনের এবং এদের সবগুলোকে যা একত্রিত করে তা হলো এগুলোর ত্রিমূলীয় হওয়া।আর আমাদের কথা: "যেমন: সাফারজাল, ক্বিরত'আব, জাহমারিশ এবং ক্বায'আমাল।"নিশ্চয়ই এই চারটি উদাহরণ সমস্ত পঞ্চমূলীয় মূল শব্দের ওজন। এগুলোর প্রত্যেকটির ওজন অন্যটি থেকে ভিন্ন এবং এদের সবগুলোকে যা একত্রিত করে তা হলো এগুলোর পঞ্চমূলীয় হওয়া।সুতরাং মূল [বিশেষ্যগুলোর] উদাহরণসমূহ সর্বমোট বিশটি হলো। দশটি ত্রিমূলীয়, ছয়টি চতুর্মূলীয় এবং চারটি পঞ্চমূলীয়। এগুলোর কোনোটিতেই কোনো মতভেদ নেই কেবল 'জাখদাব' এর ওজনের ক্ষেত্রে ব্যতীত। কেননা আল-আখফাশ দাল বর্ণে পেশ যোগে একে 'ফু'লুল' ওজনে বর্ণনা করেছেন যেমন 'বুরসুন'।আর আমাদের কথা: "এই বিশেষ্যসমূহ [এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ] থেকে যা কিছু 'নাফা'আনি' এবং এর সদৃশ শব্দের পরে আসবে, তা পেশযুক্ত কর্তা। আর এগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু 'নাফা'তু' এবং এর সদৃশ শব্দের পরে আসবে, তা যবরযুক্ত কর্ম। আর এগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু 'ইনতাফা'তু অমুক দ্বারা বা অমুক হতে' [এবং এর সদৃশ শব্দের] পরে আসবে, তা যেরযুক্ত শব্দ।"নিশ্চয়ই এই উদাহরণের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো এই বিশটি দৃষ্টান্ত এবং এর সদৃশ সকল প্রকাশ্য, সহিহ, একবচন ও রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্যের বিভক্তি পরিবর্তনের নিয়মটি পরিচিত করানো যাতে সেগুলো সে অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। আর যেহেতু [এই] বিশেষ্যগুলো পেশযুক্ত অথবা যবরযুক্ত হওয়া থেকে মুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
أو مجرورة - والرفع إنما يكون للفاعل وما أشبهه، والنصب إنما يكون للمفعول وما أشبهه، والجر إنما يكون بحرف الجر وما أشبهه - مثل لكل واحد من ذلك بمثال لتقيس عليه سائر المثل. فنفعني وشبهه، من ضربني وخاطبني وحدثني، فعل ومفعول [مضمر] ، وليس بعد الفعل والمفعول إلا الفاعل. ولذلك وجب أن يكون مرفوعًا. ونفعت وشبهه، من ضربت وخاطبت وحدثت، فعل وفاعل [مضمر] ، وليس بعد الفعل والفاعل إلا المفعول. فلذلك وجب أن يكون منصوبًا. وانتفعت بكذا أو من كذا وشبهه من قولك لكذا أو إلى كذا أو عن كذا أو على كذا، فجميع ذلك حروف جر، وليس بعد حرف الجر إلا المجرور. فلذلك وجب أن تقول: نفعني زيد، ونفعت زيدًا، وانتفعت بزيدٍ. وكذلك حكم الرباعي والخماسي في الإعراب.وأما قولنا: «وكل ذلك إذا وصل بكلام [بعده] ثبت فيه تنوينه وحركته. وإذا وقف عليه سقط منه تنوينه وحركته غالبًا. ما خلا النصب فإنه يبدل من التنوين فيه ألف».فإن الإعراب له حالتان، حال وصل، وحال وقف. فحال الوصل يقتضي ثبات الإعراب للبيان. وحال الوقف يقتضي زوال الإعراب للاستراحة.
অথবা মাজরুর - আর রফ্ কেবল ফায়েল ও তার সদৃশ বিষয়ের জন্য হয়, নাসব কেবল মাফ'উল ও তার সদৃশ বিষয়ের জন্য হয়, এবং জার কেবল হরফে জার ও তার সদৃশ বিষয়ের দ্বারা হয় - তিনি এগুলোর প্রত্যেকটির একটি করে উদাহরণ দিয়েছেন যাতে আপনি এর ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য উদাহরণগুলো অনুমান করতে পারেন। সুতরাং 'নাফাআনী' এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ, যেমন 'দারাবানী', 'খাতাবানী' ও 'হাদ্দাসানী' হলো ফেল ও [প্রচ্ছন্ন] মাফ'উল, আর ফেল ও মাফ'উলের পর ফায়েল ব্যতীত আর কিছুই নেই। এ কারণেই একে মারফু হওয়া আবশ্যক করা হয়েছে। আর 'নাফা'তু' এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ, যেমন 'দারাবতু', 'খাতাবতু' ও 'হাদ্দাসতু' হলো ফেল ও [প্রচ্ছন্ন] ফায়েল, আর ফেল ও ফায়েলের পর মাফ'উল ব্যতীত আর কিছুই নেই। এ কারণেই একে মানসুব হওয়া আবশ্যক করা হয়েছে। আর 'ইনতাফা'তু অমুক দ্বারা' বা 'অমুক হতে' এবং আপনার কথা 'অমুকের জন্য' বা 'অমুকের দিকে' বা 'অমুক হতে' অথবা 'অমুকের ওপর' এর ন্যায় শব্দসমূহ, এগুলোর সবই হলো হরফে জার, আর হরফে জারের পরে মাজরুর ব্যতীত আর কিছুই নেই। এ কারণেই আপনাকে বলতে হবে: 'নাফাআনী যায়দুন', 'নাফা'তু যায়দান', এবং 'ইনতাফাতু বি-যায়দিন'। তদ্রূপ চার অক্ষর ও পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট শব্দের ই'রাবের বিধানও একই।আর আমাদের কথা: "এগুলোর সবকটিই যখন [পরবর্তী] কোনো কথার সাথে মিলিয়ে পড়া হয়, তখন তাতে তানউইন ও হরকত বহাল থাকে। আর যখন সেখানে থামা হয়, তখন সাধারণত তানউইন ও হরকত বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে নাসবের ক্ষেত্রটি ভিন্ন, কেননা সেখানে তানউইনের পরিবর্তে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়।"কেননা ই'রাবের দুটি অবস্থা রয়েছে: মিলিয়ে পড়ার অবস্থা এবং থামার অবস্থা। মিলিয়ে পড়ার অবস্থাটি অর্থ স্পষ্ট করার জন্য ই'রাব বহাল রাখার দাবি রাখে। আর থামার অবস্থাটি বিশ্রামের জন্য ই'রাব বিলুপ্ত করার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
فلذلك قيل: إذا وصل بكلام ثبت فيه تنوينه وحركته [وإذا وقف عليه سقط منه حركته وتنوينه]. فثبات حركته دليل على رفعه أو نصبه أو جره، وثبات تنوينه دليل على صرفه. وإذا وقف عليه زالت الحركة، ثم تبع الحركة التنوين في الزوال، لأن التنوين تابع للحركة، ولما زالا سكن حرف الإعراب، [6] فقلت في الرفع: نفعني زيد. وفي الجر: انتفعت / بزيد.وإنما قلنا «غالبا» احترازًا من وجوه أخر تجوز في الوقف على المرفوع، وهي الإشمام والروم والتضعيف ونقل الحركة. والسكون هو الأصل الأغلب الأكثر من هذه الوجوه فلذلك قلنا «غالبا». فمن سكن فهو الأصل لأنه سلب الحركة [بالجملة]. ومن أشم أو رام أو نقل أو ضاعف فإنما هو حرص على بيان الحركة التي كانت في الوصل. وأما المنصوب فليس فيه في الغالب إلا وجه واحد، وهو أن تبدل من التنوين ألفًا. وإنما تثبت الحركة في المنصوب [في الوقف] لخفتها. وأبدل من التنوين ألف للفرق بين حال الوقف والوصل. ولئلا يلتبس بالنون الأصلية والملحقة. وكل من أسقط الإعراب في الوصل
এজন্যই বলা হয়েছে: যখন কোনো শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়া হয় (ওয়াছল), তখন তাতে তানউইন ও হরকত বহাল থাকে, [আর যখন তাতে থামা হয় (ওয়াকফ), তখন তা থেকে হরকত ও তানউইন বিলুপ্ত হয়]। সুতরাং হরকতের স্থায়িত্ব শব্দটির রাফ‘, নাসব বা জার হওয়ার প্রমাণ, আর তানউইনের স্থায়িত্ব তার মুনসারিফ (তথা তানউইন গ্রহণকারী) হওয়ার প্রমাণ। আর যখন তাতে থামা হয় তখন হরকত বিলুপ্ত হয়ে যায়, অতঃপর হরকতের অনুসরণে তানউইনও বিলুপ্ত হয়; কারণ তানউইন হরকতের অনুগামী। আর যখন উভয়টি বিলুপ্ত হয়, তখন ইরাবের বর্ণটি সাকিন হয়ে যায়। [৬] তাই আপনি রাফ‘-এর ক্ষেত্রে বলেন: নাফানি যাইদ (যাইদ আমার উপকার করেছে)। এবং জার-এর ক্ষেত্রে বলেন: ইনতাফাতু বি-যাইদ (আমি যাইদের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি)।আমরা যে ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে’ বলেছি, তা মারফু শব্দের ওয়াকফের ক্ষেত্রে জায়েয অন্য পদ্ধতিগুলো থেকে সতর্ক থাকার জন্য; আর সেগুলো হলো ইশমাম, রাউম, তাদঈফ (দ্বিত্বকরণ) এবং হরকত স্থানান্তর। আর সাকিন হওয়া হলো এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে মূল, প্রধান ও সর্বাধিক ব্যবহৃত, তাই আমরা ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে’ বলেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি সাকিন করল, সে মূল নিয়মের অনুসরণ করল; কারণ এটি সামগ্রিকভাবে হরকতকে বিলুপ্ত করে দেয়। আর যে ব্যক্তি ইশমাম, রাউম, হরকত স্থানান্তর বা তাদঈফ করল, সে কেবল মিলিয়ে পড়ার সময় বিদ্যমান হরকতটি স্পষ্ট করার আগ্রহ থেকেই তা করল। আর মানসুব শব্দের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় কেবল একটি পদ্ধতিই থাকে, আর তা হলো তানউইনকে আলিফে রূপান্তরিত করা। মানসুব অবস্থায় [ওয়াকফের সময়] হরকত বহাল রাখা হয় এর হালকা হওয়ার কারণে। আর তানউইনকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয় ওয়াকফ ও ওয়াছল অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এবং যাতে এটি মূল নুন বা সংযুক্ত নুনের সাথে মিশে না যায়। আর যে কেউ মিলিয়ে পড়ার সময় ইরাব বিলুপ্ত করে—
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
[فهو] مخطيء. وكل من أثبته في الوقف مخطيء أيضًا. فلذلك شرط [هذا] الشرط المذكور.وأما قولنا: «ومنها نوع ثانٍ يدخله الرفع والنصب والجر من غير تنوين. وهو جميع ما ذكرناه إذا كان مضافًا إلى غير ضمير متكلم، أو فيه ألف ولام».فإن هذا النوع [هو] الثاني من الأنواع العشرة. وليس ينقص عن القسم الأول إلا حذف التنوين. وإنما لم يجمع بين «الألف واللام» والتنوين من قبل أن «الألف واللام» دليل على التعريف، والتنوين في الأصل دليل التنكير فلم يجمع بينهما. فلذلك قلنا: نفعني الغلام، ونفعت الغلام، وانتفعت بالغلام. وكذلك الإضافة لا يجمع بينها وبين التنوين، لأن التنوين دليل الانفصال، والإضافة دليل الاتصال، ولا يكون الشيء منفصلًا متصلًا في حال [واحد]. فلذلك تقول: نفعني غلام الرجل، وغلامه وغلامك. وإنما قلنا: «إذا كان مضافًا إلى غير [ضمير] المتكلم» احترازًا من مثل «غلامي» ، فإن هذا [ونحوه] لا يدخله إعراب بحال. لأن ياء المتكلم لا يكون ما قبلها إلا مكسورًا إذا كان حرفًا صحيحًا، تقول: نفعني غلامي، ونفعت غلامي، وانتفعت بغلامي.
[সে] ভুলকারী। আর যারা বিরতির ক্ষেত্রে এটি সাব্যস্ত করে তারাও ভুলকারী। এই কারণেই [এই] উল্লিখিত শর্তটি আরোপ করা হয়েছে।আর আমাদের বক্তব্য: “আর এর মধ্যে দ্বিতীয় একটি প্রকার হলো যাতে তানউইন ব্যতীত রফ, নাসব এবং জার প্রবেশ করে। আর এটি হলো আমাদের উল্লিখিত সেই সকল শব্দ যা মুতাকাল্লিমের যমীর ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে মুদাফ হয় অথবা যাতে আলিফ-লাম থাকে।”নিশ্চয়ই এই প্রকারটি দশটি প্রকারের মধ্যে দ্বিতীয়। আর এটি তানউইন বিলুপ্ত হওয়া ছাড়া প্রথম প্রকার থেকে পৃথক নয়। মূলত ‘আলিফ-লাম’ এবং তানউইনকে একত্রে আনা হয় না কারণ ‘আলিফ-লাম’ নির্দিষ্টকরণের প্রমাণ, আর তানউইন মূলত অনির্দিষ্টকরণের প্রমাণ; তাই তাদের উভয়কে একত্রিত করা হয় না। একারণেই আমরা বলি: গোলামটি আমাকে উপকৃত করেছে, আমি গোলামটিকে উপকৃত করেছি এবং আমি গোলামটি দ্বারা উপকৃত হয়েছি। তদ্রূপ ইযাফত এবং তানউইনকেও একত্রে আনা হয় না, কারণ তানউইন হলো বিচ্ছেদের প্রমাণ এবং ইযাফত হলো সংযোগের প্রমাণ; আর কোনো বস্তু একই সাথে বিচ্ছিন্ন ও সংযুক্ত হতে পারে না। একারণেই আপনি বলবেন: লোকটির গোলাম আমাকে উপকৃত করেছে, তার গোলাম এবং তোমার গোলাম। আর আমরা যে বলেছি: “যখন তা মুতাকাল্লিমের [যমীর] ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে মুদাফ হবে”, তা ‘আমার গোলাম’ এর মতো শব্দগুলো থেকে সতর্ক থাকার জন্য; কেননা এতে [এবং এর অনুরূপ শব্দে] কোনো অবস্থাতেই দৃশ্যত ইরাব প্রবেশ করে না। কারণ মুতাকাল্লিমের ইয়া-এর পূর্বের হরফটি যদি হরফে সহীহ হয় তবে তা সর্বদা কাসরা (যের) যুক্ত হয়। যেমন আপনি বলবেন: আমার গোলাম আমাকে উপকৃত করেছে, আমি আমার গোলামকে উপকৃত করেছি এবং আমি আমার গোলাম দ্বারা উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
وأما قولنا: «ومنها نوع ثالث يدخله الرفع والنصب ولا يدخله الجر ولا التنوين. وهو كل اسم غير منصرف مما قد اجتمع فيه علتان فرعيتان من علل تسع. أو ما يقوم مقامهما. مثل: إبراهيم، وزينب وطلحة، وعمر، وعثمان، وأحمد، وحضرموت، وأحمر، وحمراء، وأحاد، وسكران، وسكرى، ومساجد».فإن هذا هو النوع الثالث. وهو ينقص عما تقدمه بشيئين، وهما الجر والتنوين. وإنما نقص ذلك لأن كل ما لا ينصرف مشبه للفعل. والفعل لا يكون فيه جر ولا تنوين. وإنما أشبه الفعل لأنه قد اجتمع فيه علتان فرعيتان. وإنما وجب أن يكون مشبهًا للفعل - باجتماع علتين فرعيتين فيه - من قبل أن الفعل نفسه فرع على الاسم. وإنما كان فرعًا على الاسم من وجهين. أحدهما: أن الفعل لا يستقل بنفسه ولابد له من اسم يكون معه. والاسم قد يستقل بنفسه ولا فعل معه. فدل ذلك على أن الفعل فرع على الاسم ومحمول عليه. والجهة الأخرى: أن الأفعال مشتقة من المصادر التي هي أسماء عند المحققين من أصحابنا. وإذا كانت مشتقة منها كانت فرعًا عليها. فقد ثبت أن الأفعال فروع من الأسماء من الوجهين المذكورين.وإذا وجد في الاسم علتان فرعيتان صار بتلك العلتين الفرعيتين مشبهًا للفعل الذي هو فرع على الاسم.وبيان ذلك أن علل ما لا ينصرف تسع. وتلك التسع هي: التعريف، والتأنيث، والتركيب، والعجمة، والزنة، والصفة، والجمع، والعدل، والألف
আর আমাদের কথা: «এবং এর মধ্যে তৃতীয় একটি প্রকার রয়েছে যাতে রফউ এবং নাসব প্রবেশ করে, কিন্তু জার এবং তানভীন প্রবেশ করে না। এটি হলো প্রত্যেক গাইরে মুনসারিফ (রূপান্তরহীন) বিশেষ্য যাতে নয়টি কারণের মধ্য থেকে দুটি শাখা-কারণ একত্রিত হয়েছে, অথবা যা এই দুটির স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমন: ইব্রাহীম, যায়নাব, তালহা, উমর, উসমান, আহমাদ, হাদরামাউত, আহমার, হামরা, উহাদ, সাকরান, সাকরা এবং মাসাজিদ»।নিশ্চয় এটিই হলো তৃতীয় প্রকার। এটি তার পূর্ববর্তী প্রকারগুলো থেকে দুটি বিষয়ে কম, আর তা হলো জার এবং তানভীন। এতে এই ঘাটতি মূলত এজন্য যে, যা কিছু গাইরে মুনসারিফ তা ক্রিয়ার (ফে'ল) সদৃশ। আর ক্রিয়ার মধ্যে জার ও তানভীন হয় না। এটি ক্রিয়ার সদৃশ হয়েছে কারণ এতে দুটি শাখা-কারণ একত্রিত হয়েছে। আর এতে দুটি শাখা-কারণ একত্রিত হওয়ার কারণে একে ক্রিয়ার সদৃশ হওয়া আবশ্যক হয়েছে এই দিক থেকে যে, ক্রিয়া স্বয়ং ইসিমের (বিশেষ্য) একটি শাখা। আর ক্রিয়া দুই দিক থেকে ইসিমের শাখা। তার একটি হলো: ক্রিয়া নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না, বরং তার সাথে অবশ্যই একটি ইসিম থাকতে হয়। আর ইসিম অনেক সময় ক্রিয়া ছাড়াই স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। এটি প্রমাণ করে যে, ক্রিয়া হলো ইসিমের শাখা এবং তার ওপর নির্ভরশীল। অন্য দিকটি হলো: আমাদের সাথীদের (উলামাদের) মধ্য থেকে যারা গবেষক, তাদের মতে ক্রিয়াগুলো মাসদার (ক্রিয়ামূল) থেকে উদ্গত, যা মূলত ইসিম। আর যখন ক্রিয়া মাসদার থেকে উদ্গত হয়, তখন তা তার শাখা হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং উল্লেখিত দুই কারণে প্রমাণিত হলো যে, ক্রিয়াগুলো হলো ইসিমের শাখা।যখন কোনো ইসিমের মধ্যে দুটি শাখা-কারণ পাওয়া যায়, তখন সে ওই দুটি শাখা-কারণের মাধ্যমে ওই ক্রিয়ার সদৃশ হয়ে যায় যা ইসিমের একটি শাখা।এর ব্যাখ্যা হলো, গাইরে মুনসারিফ হওয়ার কারণ নয়টি। আর সেই নয়টি হলো: নির্দিষ্টতা (তা'রীফ), স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া (তানিছ), যৌগিকতা (তারকীব), অনারবীয় শব্দ হওয়া (উজমাহ), ওজন (যিনাহ), গুণবাচকতা (সিফাত), বহুবচন (জামউ), রূপান্তর (আদল) এবং আলিফ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
والنون الزائدتان. وكل واحدة من هذه التسع فرع على غيرها. فالتعريف فرع على التنكير. والتأنيث فرع على التذكير. والتركيب فرع على التوحيد. والعجمة فرع على العربية لأنها مدخلة على كلام العرب. والصفة فرع على الموصوف لأنها بعده. والزنة فرع على الموزون. والجمع فرع على الواحد. والعدل فرع على المعدول [عنه]. والألف والنون الزائدتان فرع على المزيد عليه. فقد ثبت بهذا البيان أن [هذه] العلل كلها فروع. وإذا اجتمع في الاسم علتان فقد اجتمع فيه فرعان. فأشبه بذينك الفرعين الفعل، فامتنع منه الجر والتنوين كما امتنعا من الفعل. وقد مثل في [هذا] العقد باثني عشر اسمًا.لأن كل اسم منها دليل على باب قائم بنفسه. لأن باب ما لا ينصرف لا ينفك من اثنتي عشر مسألة، فالستة الأول منها احدى علتيها التعريف، وهي ابراهيم، وزينب وطلحة، وعمر، وعثمان/، وأحمد، وحضرموت. ابراهيم: تعريف [7] وعجمة. زينب تعريف وتأنيث معنوي. طلحة: تعريف وتأنيث لفظي. عمر: تعريف وعدل. عثمان: تعريف وألف ونون مزيدتان. أحمد: تعريف
এবং অতিরিক্ত আলিফ ও নুন। এই নয়টি কারণের প্রতিটিই অন্য একটির শাখা। সুতরাং নির্দিষ্টতা হলো অনির্দিষ্টতার শাখা। স্ত্রীলিঙ্গত্ব হলো পুংলিঙ্গত্বের শাখা। সংযুক্তি হলো এককত্বের শাখা। অনারবীয় উৎস হলো আরবি ভাষার শাখা, কারণ এটি আরবি কথোপকথনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশেষণ হলো বিশেষ্যের শাখা, কারণ এটি তার পরে আসে। ওজন হলো মূল ওজনের শাখা। বহুবচন হলো একবচনের শাখা। রূপান্তর হলো মূল শব্দের শাখা। এবং অতিরিক্ত আলিফ ও নুন সেই শব্দের শাখা যার ওপর তা অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই বিবরণের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, এই সমস্ত কারণসমূহ সবই শাখা। আর যখন কোনো বিশেষ্যের মধ্যে দুটি কারণ একত্রিত হয়, তখন তাতে দুটি শাখা একত্রিত হয়। ফলে এই দুটি শাখার কারণে শব্দটি ক্রিয়ার সদৃশ হয়ে যায়; তাই ক্রিয়া থেকে যেমন ‘জার’ এবং ‘তানভিন’ নিষিদ্ধ, তেমনি এই বিশেষ্য থেকেও তা নিষিদ্ধ হয়। এই অনুচ্ছেদে বারোটি নাম উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে।কারণ এগুলোর প্রতিটি নাম স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি অধ্যায়ের নির্দেশক। কেননা ‘গায়রে মুনশারিফ’ (অব্যয়ী বিশেষ্য)-এর অধ্যায় বারোটি মাসআলা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাদের মধ্যে প্রথম ছয়টির দুটি কারণের একটি হলো ‘নির্দিষ্টতা’, আর সেগুলো হলো: ইব্রাহিম, যায়নব, তালহা, উমর, উসমান, আহমদ এবং হাদরামাউত। ইব্রাহিম: নির্দিষ্টতা ও অনারবীয় উৎস। যায়নব: নির্দিষ্টতা ও অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গ। তালহা: নির্দিষ্টতা ও শাব্দিক স্ত্রীলিঙ্গ। উমর: নির্দিষ্টতা ও রূপান্তর। উসমান: নির্দিষ্টতা এবং অতিরিক্ত আলিফ ও নুন। আহমদ: নির্দিষ্টতা...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
وزنة. حضرموت: تعريف وتركيب فهذه الستة متى نكرت انصرفت. تقول: نفعني ابراهيم وابراهيم آخر [ونفعت ابراهيم وابراهيما آخر، وانتفعت بابراهيم وابراهيم آخر]. لما زال التعريف بالتنكير بقيت علة واحدة فانصرف.وكذلك باقي [هذه] الستة تجري هذا المجرى.فأما الستة الأخر التي هي: أحمر: صفة ووزن. وحمراء: تأنيث لازم. وأحاد: عدل وصفة. وسكران: مشبهة بباب حمراء. وسكرى: تأنيث لازم: ومساجد: جمع لا نظير له في الآحاد. فجميع هذه [الستة] لا تنصرف وإن كانت نكرة. وإذا لم تنصرف نكرة فأخرى ألا تنصرف معرفة. فللك تقول: نفعني أحمر، وأحمر آخر. ورأيت أحمر، وأحمر آخر. وانتفعت بأحمر وأحمر آخر. وكذلك الباقي.فإن دخل على جميع ما لا ينصرف الألف واللام، أو الإضافة انجر في موضع الجر. مثل: مررت بابراهيمكم ومساجدكم والمساجد. لأن الألف واللام والإضافة يبعدانه من شبه الفعل [ويقربانه من شبه الاسم المتمكن]
ওজন। হাদরামাউত: নির্দিষ্টতা এবং গঠন; এই ছয়টি শব্দ যখন অনির্দিষ্ট (নাকিরা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা পূর্ণ বিভক্তিপ্রাপ্ত (মুনসারিফ) হয়। আপনি বলবেন: ইবরাহিম এবং অন্য একজন ইবরাহিম আমাকে উপকৃত করেছে [এবং আমি ইবরাহিম ও অন্য একজন ইবরাহিমকে উপকৃত করেছি, আর আমি ইবরাহিম ও অন্য একজন ইবরাহিমের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি]। যখন অনির্দিষ্টকরণের কারণে নির্দিষ্টতা (তারিফ) দূর হয়ে গেল, তখন মাত্র একটি কারণ অবশিষ্ট থাকল, ফলে তা পূর্ণ বিভক্তিপ্রাপ্ত হলো।অনুরূপভাবে এই ছয়টির অবশিষ্টগুলোও এই নিয়মেই চলবে।পক্ষান্তরে অন্য যে ছয়টি রয়েছে, সেগুলো হলো: আহমার (লাল): বিশেষণ ও ওজন। হামরা: আবশ্যক স্ত্রীবাচকতা। উহাদ: পরিবর্তন (আদল) ও বিশেষণ। সাকরান: যা হামরা পরিচ্ছেদের সদৃশ। সাকরা: আবশ্যক স্ত্রীবাচকতা। এবং মাসাজিদ: এমন বহুবচন যার একবচনে কোনো নজির নেই। এই [ছয়টির] সবকটিই অনির্দিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও অপূর্ণ বিভক্তিপ্রাপ্ত (গাইরে মুনসারিফ) থাকে। আর যখন অনির্দিষ্ট অবস্থায় অপূর্ণ বিভক্তিপ্রাপ্ত হয়, তখন নির্দিষ্ট অবস্থায় অপূর্ণ বিভক্তিপ্রাপ্ত হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। এই কারণেই আপনি বলবেন: একজন লাল এবং অন্য একজন লাল ব্যক্তি আমাকে উপকৃত করেছে। আমি একজন লাল এবং অন্য একজন লাল ব্যক্তিকে দেখেছি। আমি একজন লাল এবং অন্য একজন লাল ব্যক্তির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি। অবশিষ্টগুলোও অনুরূপ।তবে যদি সমস্ত অপূর্ণ বিভক্তিপ্রাপ্ত (গাইরে মুনসারিফ) শব্দের শুরুতে আলিফ ও লাম যুক্ত হয় অথবা সেটি সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাত) হয়, তবে তা 'জর' (জের) এর স্থানে কাসরা গ্রহণ করবে। যেমন: আমি তোমাদের ইবরাহিম, তোমাদের মসজিদসমূহ এবং নির্দিষ্ট মসজিদগুলোর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। কারণ আলিফ-লাম এবং ইদাফাত শব্দটিকে ক্রিয়ার (ফেল) সাদৃশ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয় [এবং তাকে মূল বিশেষ্যের (ইসম মুতামাক্কিন) সাদৃশ্যের নিকটবর্তী করে দেয়]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
فيدخل فيه ما يدخل في الاسم [المتمكن] وهو الجر.وأما قولنا: «ومنها نوع رابع يدخله الرفع والجر مع التنوين، أو ما قام مقامه. وهو كل [اسم] مؤنث مجموع بالألف والتاء، مثل الزينبات والمسلمات والحبليات والصحراوات. ولا يدخله لفظ النصب».فإن هذا هو النوع الرابع. وهو يخالف ما قبله من القسم الثالث. لأن لفظ الجر يدخله دون النصب. والذي قبله يدخله لفظ النصب دون الجر. فمنصوب هذا محمول على مجروره. ومجرور ما لا ينصرف محمول على منصوبه. وإنما حمل المنصوب على المجرور في هذا لأن جمع المؤنث السالم فرع [محمول] على جمع المذكر السالم. فكما أنه قد حمل منصوب الجمع المذكر على مجروره في مثل: مررت بالمسلمين ورأيت المسلمين، كذلك حمل منصوب [هذا] المؤنث على مجروره في مثل: مررت بالمسلمات، ورأيت المسلمات. فاعرفه.ولما كان المؤنث لا يخلو من أربعة أقسام، مؤنث بغير علامة كزينب وسعاد، ومؤنث بعلامة هي تاء كمسلمة وصالحة، ومؤنث بعلامة هي ألف مقصورة كحبلى، وسكرى، ومؤنث بعلامة هي ألف ممدودة مثل صحراء
এতে সেই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয় যা [মুতামাক্কিন] বিশেষ্যে প্রবেশ করে, আর তা হলো জার (জের)।আর আমাদের বক্তব্য: «সেগুলোর মধ্যে চতুর্থ একটি প্রকার রয়েছে যাতে তানউইনসহ রাফ' ও জার প্রবেশ করে, অথবা যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়। আর তা হলো আলিফ ও তা যোগে গঠিত সকল স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন [বিশেষ্য], যেমন- যায়নাবাত, মুসলিমাত, হুবলিইয়াত ও সাহরাওয়াত। আর এতে নাসব-এর শব্দ (রূপ) প্রবেশ করে না»।নিশ্চয়ই এটি চতুর্থ প্রকার। এটি এর পূর্ববর্তী তৃতীয় প্রকারের বিপরীত। কারণ এতে নাসব ছাড়াই জার প্রবেশ করে। পক্ষান্তরে এর পূর্ববর্তী প্রকারটিতে জার ছাড়াই নাসব প্রবেশ করত। সুতরাং এর মানসুব অবস্থাকে তার মাজরুর অবস্থার ওপর কিয়াস করা হয়। আর গায়রে মুনসারিফ-এর মাজরুর অবস্থাকে তার মানসুব অবস্থার ওপর কিয়াস করা হয়। আর এতে মানসুবকে মাজরুরের ওপর কিয়াস করার কারণ হলো, জামা মুয়ান্নাস সালিম হলো জামা মুযাক্কার সালিমের অনুবর্তী [শাখা]। সুতরাং জামা মুযাক্কারের মানসুব অবস্থাকে যেমন তার মাজরুর অবস্থার ওপর কিয়াস করা হয়েছে, যেমন: ‘আমি মুসলিম পুরুষদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’ এবং ‘আমি মুসলিম পুরুষদের দেখলাম’, অনুরূপভাবে [এই] স্ত্রীলিঙ্গের মানসুব অবস্থাকে তার মাজরুর অবস্থার ওপর কিয়াস করা হয়েছে, যেমন: ‘আমি মুসলিম নারীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’ এবং ‘আমি মুসলিম নারীদের দেখলাম’। সুতরাং এটি জেনে রাখুন।আর যেহেতু স্ত্রীলিঙ্গ (মুয়ান্নাস) চারটি প্রকারের বাইরে নয়: চিহ্নহীন স্ত্রীলিঙ্গ যেমন যায়নাব ও সুয়াদ; চিহ্নযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গ যেখানে চিহ্নটি হলো ‘তা’, যেমন মুসলিমা ও সালিহা; চিহ্নযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গ যেখানে চিহ্নটি হলো ‘আলিফে মাকসুরা’, যেমন হুবলা ও সাকরা; এবং চিহ্নযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গ যেখানে চিহ্নটি হলো ‘আলিফে মামদুদা’, যেমন সাহরা।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১০)
وطرفاء، مثل [من] ذلك بأربع مسائل لتقيس أنت عليها كل ما يجري هذا المجرى [إن شاء الله تعالى]. فما كان مثل زينب وسعاد وعقرب [مما لا علامة فيه للتأنيث] ، نظرت فإن كان معرفةً زدت على جميع ذلك ألفًا ولامًا [من أوله] ليكون كالعوض من تعريف العلمية الذاهب بالجمعية. وإن كان نكرةً كعقربات وسلهبات، لم يلزمك ذلك. إلا أن تريد تعريف من تخبره أو تخاطبه.وما كان من هذا النوع - الذي لا علامة فيه للتأنيث - ثلاثيًا ساكن الأوسط مثل: دعد وعدٍ وهندٍ وجملٍ، فإن المفتوح الأول منه يحرك وسطه [في الجمع] فيقال: الدعدات والوعدات. وما كان مضموم الأول جاز فيه ثلاثة أوجه: الضم على الطريق الاتباع، والفتح للتخفيف، والسكون على الأصل. فتقول: الجملات والجملات [والجملات].وما كان مكسور الأول فكذلك يكسر للاتباع. ويفتح للتخفيف ويسكن على الأصل. فتقول: الهندات والهندات والهندات.وكل ما كان من هذا النوع الذي علامة تأنيثه تاء فإن فيه حذفًا في الجمع. فإذا قلت: مسلمات، وصالحات [ونحوه] ، فإن أصله مسلمتات [وصالحتات]. حذفت التاء الأولى لئلا تجمع بين علامتي تأنيث.
এবং তরফা, তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে চারটি মাসআলা দ্বারা উদাহরণ দিয়েছেন যাতে আপনি এই নিয়মে চলমান সকল বিষয়ের ওপর একে কিয়াস (পরিমাপ) করতে পারেন [যদি আল্লাহ তাআলা চান]। সুতরাং যয়নাব, সুআদ এবং আকরাব-এর মতো যা কিছু রয়েছে [যাতে নারীত্বের কোনো চিহ্ন নেই], আপনি লক্ষ্য করুন, যদি তা নির্দিষ্ট বিশেষ্য (মারেফা) হয় তবে আপনি সেই সবগুলোর শুরুতে একটি আলিফ এবং লাম যুক্ত করবেন, যাতে তা বহুবচনের কারণে বিলুপ্ত হওয়া বিশেষ্যসূচক নির্দিষ্টতার (আলামিয়্যাত) পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত হয়। আর যদি তা অনির্দিষ্ট (নাকেরা) হয় যেমন আকরাবাত এবং সালহাবাত, তবে আপনার জন্য তা আবশ্যক নয়। তবে আপনি যাকে সংবাদ দিচ্ছেন বা যার সাথে সম্বোধন করছেন তাকে নির্দিষ্ট করে বোঝাতে চাইলে তা ভিন্ন বিষয়।আর এই প্রকারের যা কিছু—যার মধ্যে নারীত্বের কোনো চিহ্ন নেই—তিন অক্ষরবিশিষ্ট এবং মধ্যাক্ষর সাকিন, যেমন: দা'দ, ওয়া'দ, হিন্দ এবং জামাল; তার মধ্যে যার প্রথম বর্ণ ফাতহা (যবর) যুক্ত, [বহুবচনের ক্ষেত্রে] তার মধ্যবর্ণকে হরকত প্রদান করা হবে। ফলে বলা হবে: আদ-দা'দাত এবং আল-ওয়া'দাত। আর যা প্রথম বর্ণ দাম্মা (পেশ) যুক্ত, তাতে তিনটি রূপ জায়েয: অনুবর্তিতার (ইত্তিবা) নিয়মে দাম্মা, সহজ করার (তাখফিফ) জন্য ফাতহা এবং মূল রীতি অনুযায়ী সাকিন রাখা। সুতরাং আপনি বলবেন: আল-জুমুলাত, আল-জুমলাত [এবং আল-জুমলাত]।আর যা প্রথম বর্ণ কাসরা (যের) যুক্ত, সেটিও একইভাবে অনুবর্তিতার কারণে কাসরা যুক্ত হবে, সহজ করার জন্য ফাতহা যুক্ত হবে এবং মূল রীতি অনুযায়ী সাকিন থাকবে। সুতরাং আপনি বলবেন: আল-হিনদাত, আল-হিনদাত এবং আল-হিনদাত।আর এই প্রকারের যা কিছুর স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার চিহ্ন হলো 'তা', বহুবচনের ক্ষেত্রে তাতে বিলোপ (হযফ) সাধন করা হয়। সুতরাং আপনি যখন বলেন: মুসলিমাত এবং সালিহাত [ও এই জাতীয় শব্দ], তখন এর মূল রূপ ছিল মুসলিমতাত [এবং সালিহতাত]। প্রথম 'তা' অক্ষরটি বিলুপ্ত করা হয়েছে যাতে দুটি স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক চিহ্ন একত্রে জমা না হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১১)
وخصصت الأولى بالحذف دون الثانية لأن الثانية تدل على معنيين، وهما التأنيث والجمع، والأولى تدل على معنى واحد، وهو التأنيث [لا غير]. فكانت أولى بالحذف.وكل ما جاءك من هذا النوع ثلاثيًا ساكن الأوسط، فما كان منه بوزن فعلةٍ كضربةٍ، وأكلةٍ، وشربةٍ، وجفنةٍ، وقصعةٍ، فإنك تحركه بالفتح في الجمع أبدًا إذا كان اسمًا. مثل: ضربات، وأكلات، وشربات، وجفنات [وقصعات، ونحوه]. فإن كل صفة مثل: جارية خدلةٍ، وحالةٍ سهلةٍ، فإنك لا تحركه بل تبقيه ساكنًا على حاله، فرقًا بين الأسماء والصفات. فتقول: جوارٍ خدلات وحالات سهلات. وإنما لم يحركوا الصفة لثقلها بتضمنها ضميرًا لموصوف.فلم تزد ثقلًا بالحركة.وما كان من هذا النوع مضموم الأول كغرفةٍ وظلمةٍ، أو مكسور الأول ككسرةٍ وخرقةٍ، فإنه يجوز فيه ثلاثة أوجه. الضم والفتح والسكون في المضموم. والفتح والكسر والسكون في المكسور. على ما تقدم من العلة. فتقول [في المضموم]: ظلمات، [وظلمات وظلمات] ، بالضم / والفتح والسكون. وتقول في المكسور: كسرات وكسرات وكسرات. [8]
প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির পরিবর্তে বিলোপের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ দ্বিতীয়টি দুটি অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, আর তা হলো স্ত্রীলিঙ্গ ও বহুবচন; কিন্তু প্রথমটি কেবল একটি অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, আর তা হলো স্ত্রীলিঙ্গ [ছাড়া অন্য কিছু নয়]। ফলে সেটিই বিলোপের অধিক যোগ্য ছিল।এই জাতীয় শব্দগুলোর মধ্যে যা কিছু তিন বর্ণবিশিষ্ট এবং মধ্যবর্ণ সুকুনযুক্ত হয়ে তোমার নিকট আসবে, আর তা যদি ‘ফা’লাহ’ (فعلة) ওজনে হয়—যেমন ‘দারবাহ’, ‘আকলাহ’, ‘শুরবাহ’, ‘জাফনাহ’ এবং ‘কাসআহ’—সেটি যদি বিশেষ্য (ইসম) হয়, তবে বহুবচনের ক্ষেত্রে তুমি সর্বদা তার মধ্যবর্ণকে ফাতহা (জবর) প্রদান করবে। যেমন: ‘দারাবাত’, ‘আকালাত’, ‘শুরাবাত’, ‘জাফানাত’ [ও ‘কাসআত’ এবং তদ্রূপ]। তবে প্রতিটি বিশেষণ (সিফাত)—যেমন স্থূলাঙ্গী দাসী (জারিয়া খাদলাহ) এবং সহজ অবস্থা (হালাহ সাহলাহ)—এক্ষেত্রে তুমি সেটির মধ্যবর্ণকে হরকত দেবে না, বরং বিশেষ্য ও বিশেষণের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য সেটিকে তার পূর্বাবস্থায় সুকুনযুক্ত রাখবে। অতএব তুমি বলবে: ‘জাওয়ারিন খাদলাত’ এবং ‘হালাত সাহলাত’। তারা বিশেষণের ক্ষেত্রে হরকত প্রদান করেনি কারণ এটি তার বিশেষিত পদের (মাউসূফ) একটি সর্বনাম অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে এমনিতেই গুরুভার।ফলে হরকতের মাধ্যমে এর গুরুভার আর বাড়ানো হয়নি।আর এই জাতীয় শব্দগুলোর মধ্যে যার প্রথম বর্ণ পেশযুক্ত—যেমন ‘গুরফাহ’ ও ‘যুলমাহ’, অথবা যার প্রথম বর্ণ যেরযুক্ত—যেমন ‘কিসরাহ’ ও ‘খিরকাহ’, সেক্ষেত্রে তিনটি রূপই বৈধ। পেশযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে পেশ, জবর ও সুকুন; আর যেরযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে জবর, যের ও সুকুন—পূর্বে বর্ণিত কারণ অনুযায়ী। অতএব তুমি [পেশযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে] বলবে: ‘যুলুমাত’, [‘যুলুমাত’ ও ‘যুলমাত’], পেশ, জবর ও সুকুনের সাথে। আর যেরযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে বলবে: ‘কিসারাত’, ‘কিসিরাত’ ও ‘কিসরাত’। [৮]
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১২)
وهذا كله فيما عينه حرف صحيح. فإن كان العين حرف علة، مثل: جوزة وبيضة وطوبة وتينة، فإن جميع ذلك يبقى ساكنًا لثقل الحركة على حرف العلة كما قال سبحانه (ثلاث عوراتٍ لكم) ، وقال تعالى: (في روضات الجنات).وكل ما كان من [هذا] النوع الثالث - أعني الحبليات والسكريات - فإن ألف التأنيث تقلب فيه ياء. وإنما قلبت ياء، ولم تحذف كما حذفت تاء التأنيث من «مسلمات» ، من قبل أن هذه علامة لازمة للتأنيث تتنزل منزلة الجزء من الكلمة. بدليل قولهم: حبلى وحبالى، وكسرى وسكارى. فلذلك ثبتت ولم تحذف. ولما أن تثبت قلبت ياء فقلت «حبليات» [بتحريك الياء].لأنك لو بقيتها ساكنةً لانحذفت لالتقاء الساكنين، فوجب قلبها ياء. ولم تقلب واوًا ليفرق بينها وبين الألف الممدودة.وكل ما كان من [هذا] النوع الرابع مثل صحراء وصحراوات، فإنك تبدل همزته واوًا في هذا الجمع فرقًا بينها وبين المقصورة. والعلة في ثباتها كالعلة في ثبات المقصورة. ولا يجمع من هذا النوع شيء بالألف والتاء وهو صفة، مثل حمراوات وصفراوات. وإنما يجمع ما كان اسمًا لا صفةً، مثل: الصحراء والصحراوات، والخنفساء والخنفساوات.فإن قيل: فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «ليس في الخضراوات صدقة». قيل: الخضراوات هنا اسم للبقولات، ولم يقصد بها قصد
আর এই সব কিছুই সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে শব্দের মধ্যাক্ষরটি (আইন কালিমাহ) একটি সুস্থ বর্ণ (হরফে সহীহ)। যদি মধ্যাক্ষরটি কোনো দুর্বল বর্ণ (হরফে ইল্লাত) হয়, যেমন: জাওযাহ (বাদাম), বাইদাহ (ডিম), তুবাহ (ইট) এবং তিনাহ (ডুমুর), তবে স্বরচিহ্নের (হারাকাত) ভারের কারণে সেই সমস্ত ক্ষেত্রে দুর্বল বর্ণটি সাকিন হিসেবেই বহাল থাকে; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের জন্য তিনটি গোপনীয় সময়", এবং তিনি আরও বলেছেন: "জান্নাতের বাগানসমূহে"।আর যা কিছু [এই] তৃতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ গর্ভবতী নারীগণ (হাবলিইয়াত) এবং মাতাল নারীগণ (সাকরিইয়াত)—সেখানে স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফটি 'ইয়া' বর্ণে রূপান্তরিত হয়। এটি 'ইয়া' বর্ণে রূপান্তরিত হয়েছে এবং বিলুপ্ত হয়নি যেভাবে 'মুসলিমাত' (মুসলিম নারীগণ) শব্দ থেকে স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' বিলুপ্ত হয়। এর কারণ হলো, এটি স্ত্রীলিঙ্গের এমন একটি অবিচ্ছেদ্য চিহ্ন যা শব্দের মূল অংশের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর প্রমাণ হলো আরবদের বক্তব্য: 'হাবলা' (একবচন গর্ভবতী) ও 'হাবালা' (বহুবচন), এবং 'কাসরা' ও 'সাকারা' (মাতালগণ)। একারণেই এটি বহাল থাকে এবং বিলুপ্ত হয় না। আর যখন এটি বহাল রাখা হয়, তখন এটি 'ইয়া' বর্ণে রূপান্তরিত হয়, ফলে তুমি বলবে 'হাবলিইয়াত' [ইয়া বর্ণে হারাকাত বা স্বরচিহ্ন প্রদানের মাধ্যমে]।কারণ তুমি যদি একে সাকিন অবস্থায় রাখতে, তবে দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে এটি বিলুপ্ত হয়ে যেত; তাই একে 'ইয়া' বর্ণে রূপান্তর করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আর একে 'ওয়াও' বর্ণে রূপান্তর করা হয়নি যাতে এর এবং আলিফ মামদুদাহর মধ্যে পার্থক্য বজায় থাকে।আর যা কিছু [এই] চতুর্থ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত যেমন সাহরা (মরুভূমি) এবং সাহরাওয়াত (মরুভূমিসমূহ), সেক্ষেত্রে তুমি এই বহুবচনে এর হামযাহকে 'ওয়াও' বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করবে যাতে এর এবং আলিফ মাকসুরাহর মধ্যে পার্থক্য করা যায়। এটি বহাল থাকার কারণও আলিফ মাকসুরাহ বহাল থাকার কারণের মতোই। আর এই প্রকারের কোনো শব্দ যদি বিশেষণ (সিফাত) হয় তবে আলিফ ও তা যোগে এর বহুবচন হয় না, যেমন হামরাওয়াত (লাল বর্ণ বিশিষ্ট নারীগণ) এবং সাফরাওয়াত (হলুদ বর্ণ বিশিষ্ট নারীগণ)। বরং যা নাম বা বিশেষ্য (ইসম), বিশেষণ নয়, কেবল তারই এমন বহুবচন হয়, যেমন: আস-সাহরা (মরুভূমি) ও আস-সাহরাওয়াত (মরুভূমিসমূহ), এবং আল-খুনফুসা (গুবরে পোকা) ও আল-খুনফুসাওয়াত (গুবরে পোকাগুলো)।যদি প্রশ্ন করা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছেন: "শাকসবজিতে (আল-খাদরাওয়াত) কোনো সদকা নেই।" এর উত্তরে বলা হবে: 'খাদরাওয়াত' এখানে শাকসবজির নাম বা বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এর দ্বারা বিশেষণের উদ্দেশ্য করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
الصفة. وإنما قصد به قصد الاسم فجرى مجرى طرفاء وطرفاوات، فاعرفه. وبالله التوفيق.وأما قولنا: «ومنها نوع [خامس] يدخله النصب وحده مع التنوين أو ما قام مقامه من ألف ولام أو إضافة. ولا يدخله رفع ولا جر. وهو كل اسم منقوص آخره ياء [خفيفة] قبلها كسرة مثل: القاضي وقاضٍ والمعطي والمنتمي والمستدعي».فإن هذا هو النوع الخامس. وإنما امتنع أن يدخله الرفع والجر لثقلهما على الياء المكسور ما قبلها. ولذلك سمي منقوصًا لأنه نقص حركتين. وبقي فيه حركة واحدة، وهي الفتحة في حال النصب. فإذا قلت: هذا قاضٍ، ومررت بقاضٍ، ففيه عملان: حذف حركة، وحذف حرف. فالحركة هي الضمة أو الكسرة، حذفت للثقل. والحرف هو الياء حذفت لالتقاء الساكنين. والساكنان هما التنوين والياء.
বিশেষণ। তবে একে বিশেষ্যের অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে এটি তরফা ও তরফাওয়াত-এর ন্যায় রূপ লাভ করেছে। অতএব এটি জেনে রাখুন। আল্লাহর নিকট হতেই তাওফীক প্রাপ্তি হয়।আর আমাদের বক্তব্য: “এবং এর মধ্যে [পঞ্চম] এমন এক প্রকার রয়েছে যাতে তানভীন অথবা তার স্থলাভিষিক্ত আলিফ-লাম কিংবা ইদাফাতের সাথে শুধুমাত্র নসব গৃহীত হয়। এতে রফ বা জর প্রবেশ করে না। আর তা হলো এমন প্রত্যেকটি ইসম মানকূস যার শেষে একটি [লঘু] ইয়া রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী অক্ষরটি কাসরা-যুক্ত; যেমন: আল-কাজী, কাজী, আল-মু’তী, আল-মুনতামী এবং আল-মুস্তাদ‘ঈ।”বস্তুত এটিই হলো পঞ্চম প্রকার। এতে রফ ও জর প্রবেশ করা বারিত করা হয়েছে কারণ কাসরা-যুক্ত অক্ষরের পরবর্তী ইয়া-এর ওপর এগুলো উচ্চারণ করা অত্যন্ত দুরূহ। এ কারণেই একে ‘মানকূস’ (হ্রাসপ্রাপ্ত) বলা হয়, কেননা এতে দুটি হরকত হ্রাস পেয়েছে। এবং এতে কেবল একটি হরকত অবশিষ্ট থাকে, যা হলো নসবের অবস্থায় ফাতহা। সুতরাং যখন আপনি বলেন: হাযা ক্বাদিন এবং মারারতু বি-ক্বাদিন, তখন সেখানে দুটি বিষয় কার্যকর হয়: হরকত বিলোপন এবং বর্ণ বিলোপন। হরকতটি হলো দম্মাহ কিংবা কাসরা, যা শ্রুতি-কঠিন হওয়ার কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর বর্ণটি হলো ইয়া, যা দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে বিলুপ্ত হয়েছে। সেই সাকিন দুটি হলো তানভীন এবং ইয়া।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
فإن قيل: فلم حذفت الياء دون التنوين؟ . فقل: لأن الياء على حذفها دليل، وهو انكسار ما قبلها، إذ الكسرة من الياء. وليس على حذف التنوين دليل. فإذا صرت إلى النصب لم تحذف حركة ولا ياءً. تقول: رأيت قاضيًا. لم تحذف الحركة لخفتها، ولم تحذف الياء لتحركها.فإن كان في هذا المنقوص ألف ولام أو إضافة فليس فيه إلا حذف واحد، وهو الحركة وحدها. لأنه لا تنوين مع الألف واللام ولا مع الإضافة. فتثبت الياء ساكنة في الرفع والجر، ومفتوحة في النصب. مثالها: هذا القاضي، ومررت بالقاضي، ورأيت القاضي.فإن وقفت على منصوب هذا كان بالسكون لا غير، كالحروف الصحاح. وإن وقفت على المرفوع والمجرور ففيه وجهان. أجودهما إجراء الوقف مجرى الوصل، فيكون بالياء الساكنة، مثل: هذا القاضي. ومررت بالقاضي. والوجه الآخر حذف الياء منهما. تقول: هذا القاض. ومررت بالقاض.وإنما حذفت الياء على هذا الوجه لأن «الألف واللام» معاقبة للتنوين، فأجريت الياء مع الألف واللام في الحذف مجراها مع وجود التنوين.
যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে তানউইন বাদ না দিয়ে কেন ‘ইয়া’ বিলুপ্ত করা হলো? উত্তরে বলুন: কারণ ‘ইয়া’ বিলুপ্ত করার পেছনে একটি প্রমাণ বিদ্যমান, আর তা হলো তার পূর্ববর্তী অক্ষরে কাসরা (যের) থাকা; কেননা কাসরা ‘ইয়া’ থেকেই উদ্ভূত। কিন্তু তানউইন বিলুপ্ত করার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। অতঃপর যখন আপনি নাসব (যবর) অবস্থায় পৌঁছাবেন, তখন হরকত বা ‘ইয়া’ কোনোটিই বিলুপ্ত হবে না। আপনি বলবেন: আমি একজন বিচারককে দেখেছি। এখানে হরকত হালকা হওয়ার কারণে তা বিলুপ্ত হয়নি এবং ‘ইয়া’ সচল হওয়ার কারণে তাও বিলুপ্ত হয়নি।আর যদি এই মানকুস শব্দটিতে আলিফ-লাম যুক্ত থাকে অথবা তা ইযাফত (সম্বন্ধ) অবস্থায় থাকে, তবে সেক্ষেত্রে কেবল একটি বিষয়ই বিলুপ্ত হবে, আর তা হলো শুধু হরকত। কারণ আলিফ-লাম অথবা ইযাফতের সাথে তানউইন থাকে না। এমতাবস্থায় রাফ' (পেশ) ও জার (যের) অবস্থায় ‘ইয়া’ সাকিন হিসেবে বহাল থাকবে এবং নাসব অবস্থায় তা ফাতহা (যবর) যুক্ত হবে। এর উদাহরণ হলো: এই বিচারক, আমি বিচারকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং আমি বিচারককে দেখলাম।যদি আপনি এর নাসব অবস্থার ওপর বিরতি প্রদান করেন, তবে তা অন্য সব সহীহ (সুস্থ) বর্ণের মতোই কেবল সুকুন দিয়ে হবে। আর যদি রাফ' ও জার অবস্থার ওপর বিরতি প্রদান করেন, তবে সেক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে উত্তম পদ্ধতি হলো বিরতিকে মিলানোর অবস্থার অনুগামী করা, ফলে তা সাকিন ‘ইয়া’ সহকারে উচ্চারিত হবে। যেমন: এই বিচারক এবং আমি বিচারকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো উভয় ক্ষেত্র থেকেই ‘ইয়া’ বিলুপ্ত করে দেওয়া। তখন আপনি বলবেন: এই বিচারক এবং আমি বিচারকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম।এই পদ্ধতিতে ‘ইয়া’ বিলুপ্ত করার কারণ হলো, ‘আলিফ-লাম’ তানউইনের বিকল্প হিসেবে আসে। তাই আলিফ-লাম যুক্ত থাকা অবস্থায় ‘ইয়া’ বিলুপ্ত করার ক্ষেত্রে সেটিকে তানউইন বিদ্যমান থাকার অবস্থার নিয়মেই পরিচালনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মুকাদ্দামাতিল মুহাসসাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
والمنصوب ليس في الوقف عليه إلا وجه واحد وهو بالياء الساكنة [لا غير] مثل: رأيت القاضي. ولا يجوز: رأيت القاض، بغير ياء، كما جاز في المرفوع والمجرور. لأن الياء قد قويت بالحركة في حال الوصل فلم تحذف في حال الوقف.فأما الوقف على المنون المرفوع والمجرور فوجهان أيضًا. أجودهما حذف الياء، فتقول في الوقف: هذا قاض، ومررت بقاض. والوجه الآخر: هذا قاضي، ومررت بقاضي، باثبات الياء. لأن التنوين لما زال في الوقف عادت الياء. فإذا صرت إلى النصب فوجه واحد في الوقف [لا غير] ، وهو أن تبدل من التنوين ألفًا فتقول: رأيت قاضيا.ومتى سكن ما قبل الياء جرى مجرى الصحيح فدخلها الرفع والنصب والجر. وذلك مثل: هذا نحي وظبي ورمي ونهي. ومررت بظبي ونحي وشبهه. لأنه لما سكن ما قبلها خفت فلم تثقل عليها ضمة ولا كسرة.وكذلك الياء المشددة يدخلها ضم الإعراب / وجره لأن احدى اليائين ساكنة لأجل الإدغام. وذلك قولك: هذا كرسي وولي، ومررت بكرسي وولي. فاعرفه.فأما التمثيل بالقاضي والمعطي والمنتمي والمستدعي فإنما المقصد به [بيان] أن الطويل من الأسماء المنقوصة والقصير منها هذا حكمه. وأقل
এবং 'মানসুব' (নসবপ্রাপ্ত) অবস্থায় বিরতি (ওয়াকফ) দেওয়ার ক্ষেত্রে মাত্র একটি পদ্ধতি রয়েছে, আর তা হলো সাকিনযুক্ত 'ইয়া' সহকারে [অন্য কিছু নয়]; যেমন: 'রাআইতুল ক্বাদিয়া' (আমি বিচারককে দেখেছি)। 'ইয়া' ব্যতীত 'রাআইতুল ক্বাদি' বলা জায়েজ নয়, যেমনটি 'মারফু' (রফা প্রাপ্ত) ও 'মাজরুর' (জর প্রাপ্ত) অবস্থায় জায়েজ ছিল। কারণ, মিলিয়ে পড়ার (ওয়াসল) সময় হারাকাতের কারণে 'ইয়া' শক্তিশালী হয়ে যায়, তাই বিরতির (ওয়াকফ) সময় তা বিলুপ্ত হয় না।আর তানউইনযুক্ত 'মারফু' ও 'মাজরুর' শব্দের ওপর বিরতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও দুটি পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে উত্তম পদ্ধতি হলো 'ইয়া' বিলুপ্ত করা; সুতরাং বিরতির সময় আপনি বলবেন: 'হাযা ক্বাদিন' (ইনি একজন বিচারক) এবং 'মারারতু বি-ক্বাদিন' (আমি একজন বিচারকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)। আর অন্য পদ্ধতিটি হলো: 'হাযা ক্বাদি' এবং 'মারারতু বি-ক্বাদি', অর্থাৎ 'ইয়া' বহাল রাখা। কারণ বিরতির সময় যখন তানউইন চলে যায়, তখন 'ইয়া' ফিরে আসে। তবে আপনি যখন নসবের (মানসুব) অবস্থায় পৌঁছাবেন, তখন বিরতি দেওয়ার একটিই পদ্ধতি [অন্য কিছু নয়], আর তা হলো তানউইনকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা; তখন আপনি বলবেন: 'রাআইতু ক্বাদিয়া' (আমি একজন বিচারককে দেখেছি)।আর যখনই 'ইয়া'-এর পূর্ববর্তী অক্ষরটি সাকিন হয়, তখন তা 'সহীহ' (সুস্থ) শব্দের মতো আচরণ করে; ফলে তাতে রফা, নসব ও জর প্রবেশ করে। যেমন: 'হাযা নিহ্যুন' (এটি চামড়ার মশক), 'যাব্যুন' (হরিণ), 'রামইউন' (নিক্ষেপ করা) এবং 'নাহইউন' (নিষেধ করা)। আর 'মারারতু বি-যাব্যিন ওয়া নিহ্যিন' এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ। কারণ যখন এর পূর্ববর্তী অক্ষর সাকিন হয়, তখন এটি হালকা হয়ে যায়, ফলে তার ওপর পেশ (যম্মাহ) বা যের (কাসরাহ) ভারী মনে হয় না।অনুরূপভাবে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' ই'রাবের পেশ ও যের গ্রহণ করে; কারণ ইদগামের (সংযোজন) কারণে দুটি 'ইয়া'-এর একটি সাকিন থাকে। আর তা হলো আপনার কথা: 'হাযা কুরসিইয়ুন' (এটি একটি চেয়ার) ও 'ওয়ালিইয়ুন' (একজন অভিভাবক), এবং 'মারারতু বি-কুরসিইয়িন ওয়া ওয়ালিইয়িন'। সুতরাং এটি জেনে রাখুন।আর 'আল-ক্বাদি' (বিচারক), 'আল-মু'তি' (দানকারী), 'আল-মুনতামি' (সম্পর্কিত) এবং 'আল-মুস্তাদ'ই' (আহ্বানকারী) দ্বারা উদাহরণ প্রদানের উদ্দেশ্য হলো এটি [স্পষ্ট করা] যে, ইসমে মানক্বুস-এর দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত উভয় প্রকারের শব্দের বিধান একই। এবং এর চেয়ে কম...