(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: -)
رسالة الملائكة - ت الجندي   (أبو العلاء المعري)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: رسالة الملائكة

أملاه: أبو العلاء أحمد بن عبد الله بن سليمان التنوخي المعري [ت 449 هـ]

عني بتحقيقه وشرحه وضبطه ومعارضته: محمد سليم الجندي [1881 - 1955 م] (عضو المجمع العلمي العربي في دمشق)

الناشر: المجمع العلمي العربي بدمشق، 1363 هـ - 1944 م

(طبع بمناسبة المهرجان الذي أقامه المجمع لمرور ألف سنة على مولد أبي العلاء)

طَبْع: مطبعة الترقي بدمشق

وصوَّرته: دار صادر - بيروت، 1412 هـ - 1992 م، بإذن من المجمع العلمي العربي بدمشق

عدد الصفحات: 309

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

রিসালাতুল মালাইকা - আল-জুন্দির সম্পাদনা   (আবু আল-আলা আল-মাআরি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


কিতাব: রিসালাতুল মালাইকা

শ্রুতলিপি দিয়েছেন: আবু আল-আলা আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আত-তানুখি আল-মাআরি [মৃত্যু ৪৪৯ হিজরি]

তাহকিক, ব্যাখ্যা, বিন্যাস ও পর্যালোচনায় নিয়োজিত ছিলেন: মুহাম্মদ সালিম আল-জুন্দি [১৮৮১ - ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ] (দামেস্কের আরবি বৈজ্ঞানিক একাডেমির সদস্য)

প্রকাশক: দামেস্কের আরবি বৈজ্ঞানিক একাডেমি, ১৩৬৩ হিজরি - ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ

(আবু আল-আলার জন্মসহস্রাব্দ উপলক্ষে একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত উৎসব উপলক্ষে মুদ্রিত)

মুদ্রণ: দামেস্কের আল-তারাক্কি প্রেস

প্রতিলিপি করেছে: দার সাদির - বৈরুত, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ, দামেস্কের আরবি বৈজ্ঞানিক একাডেমির অনুমতিক্রমে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৯

শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, (ইলমি অভিজাত কেন্দ্র)-এর পৃষ্ঠপোষকতায়

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১)
- أ -

 

المقدمة

 

‌‌"كلمة المصحح"

تعاقبت سنون كثيرة ولا يعلم الناس من رسالة الملائكة إلا اسمها وأنها رسالة تشتمل على أجوبة صرفية سُئل عنها أبو العلاء على نحو ما ذكره ياقوت في معجم الأدباء وابن العديم وغيرهما.

ثم عثر على قطعة منها في كتاب الأشباه والنظائر للسيوطي، فتوهموا أنها هي الرسالة بعينها. ثم عثر فريق من العلماء المشارقة والمغاربة على نسخ منفردة لا تزيد عما في الأشباه والنظائر فأطلقوا عليها رسالة الملائكة، ثم طبعت غير مرة، وعني جماعة بضبطها وتحريرها على اعتقاد أنها رسالة الملائكة بتمامها.

 

‌‌أول ما عرفه الغربيون من هذه الرسالة:

ظل علماء الغرب حينًا من الدهر لا يعلمون من أمر هذه الرسالة شيئًا حتى دخلت نسخة خطية من مقدمتها مكتبة ليدن. ثم دخلت بعض بلاد الغرب نسخ من الأشباه والنظائر تحمل في مطاويها هذه المقدمة.

ولما ترجم كتاب كشف الظنون إلى بعض اللغات الأوروبية حمل إلى الغرب تعريفًا مجملًا بهذه الرسالة على نحو ما حمله كتاب معجم الأدباء بعد أن طبع ودخل الغرب.

وقد ذكرها جماعة من المستشرقين فيما كتبوه أو طبعوه من الآثار
- অ -

 

ভূমিকা

 

‌‌"সংশোধকের কথা"

বহু বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে অথচ মানুষ 'রিসালাতুল মালাইকা' (ফেরেশতাদের পত্র) সম্পর্কে কেবল এর নামটুকুই জানত এবং এটি জানত যে এটি এমন একটি পত্র যা কিছু রূপতাত্ত্বিক উত্তর সম্বলিত, যে বিষয়ে আবু আল-আলা-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; যেমনটি ইয়াকুত তার 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে এবং ইবনুল আদীম ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর সুয়ুতির 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর' গ্রন্থে এর একটি অংশ পাওয়া যায়, ফলে তারা ধারণা করে বসেন যে এটিই সেই মূল পূর্ণাঙ্গ পত্র। এরপর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের একদল আলেম এমন কিছু পৃথক পাণ্ডুলিপি খুঁজে পান যা 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর'-এ যা আছে তার চেয়ে বেশি কিছু ছিল না, তাই তারা সেটির নাম দেন 'রিসালাতুল মালাইকা'। এরপর এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং একদল আলেম এই বিশ্বাসে এটি সম্পাদনা ও পরিমার্জনে যত্নবান হয়েছেন যে এটিই পূর্ণাঙ্গ 'রিসালাতুল মালাইকা'।

 

‌‌এই পত্রটি সম্পর্কে পশ্চিমাদের সর্বপ্রথম জ্ঞান:

পশ্চিমা পণ্ডিতগণ দীর্ঘকাল এই পত্রের বিষয়ে কিছুই জানতেন না, যতক্ষণ না এর ভূমিকার একটি পাণ্ডুলিপি লাইডেন লাইব্রেরিতে পৌঁছেছিল। অতঃপর 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর'-এর কিছু অনুলিপি পশ্চিমা দেশগুলোতে পৌঁছায় যেগুলোর ভাজে ভাজে এই ভূমিকাটি বিদ্যমান ছিল।

আর যখন 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থটি কিছু ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়, তখন তা পশ্চিমাদের নিকট এই পত্রটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বহন করে নিয়ে যায়, যেমনটি 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়ে পশ্চিমে পৌঁছানোর পর পরিচিতি তুলে ধরেছিল।

একদল প্রাচ্যবিদ তাদের লিখিত বা মুদ্রিত প্রাচীন সাহিত্যকর্মসমূহে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ২)
- ب -

 

العربية، منهم كولسبير في شرح ديوان الحطيئة ومرجليوث في رسائل أبي العلاء وكيير في شعر الأعشى ثم طبع الأستاذ كرانشكوفسكي المستشرق الروسي هذه المقدمة سنة 1932 بعد أن صرف عشرين عاماً في تحقيقها وضبطها وبعد أن اطلع على نسخة ليدن ونسخة الجامع الأزهر ونسخة أحمد تيمور باشا وغيرها ووضع لها مقدمة ممتعة باللغة الروسية.

 

‌‌أول ما عرفه المتقدمون من المشارقة من هذه الرسالة:

ذكر بعض المتقدمين الذين كتبوا في أبي العلاء من جملة كتبه ورسائله رسالة الملائكة ومنهم ابن العديم وياقوت في معجم الأدباء.

وكل ما كتبوه أن لأبي العلاء كتاب ديوان الرسائل، وأن رسائله ثلاثة أقسام: الأول رسائل طوال تجري مجرى الكتب المصنفة ككتاب رسالة الغفران وكتاب رسالة الملائكة. الثاني رسائل دون هذه الرسائل في الطول كرسالة المنيح … والثالث الرسائل القصار التي جرت بها العادة في المكاتبة … وقال فريق منهم إن هذا الكتاب أربعون جزءاً وقال آخر إنه ثمانمائة كراسة.

واتفقت كلمتهم على أن رسالة الملائكة ألفها جواباً عن مسائل صرفية سأله عنها بعض الطلبة وأنها جزء واحد فتكون عشرين كراسة على تقديرهم.

واقتفى أثرهم في ذلك صاحب كشف الظنون. وذكر في الفلك المشحون ص 44 في كتب محمد بن طولون من رجال القرن العاشر الكلام
- খ -

 

আরবি বিশেষজ্ঞগণ, তাদের মধ্যে রয়েছেন দিওয়ানে হুতাইয়াহর ব্যাখ্যায় কোলসবের, আবু আল-আলার চিঠিপত্রে মারগোলিউথ এবং আল-আশার কবিতায় কায়ার। অতঃপর রাশিয়ান প্রাচ্যবিদ অধ্যাপক ক্রানচকভস্কি ১৯৩২ সালে এই ভূমিকাটি মুদ্রণ করেন, যা সম্পাদনা ও সংশোধনে তিনি বিশ বছর অতিবাহিত করেন। তিনি লাইডেন পাণ্ডুলিপি, জামে আল-আজহার পাণ্ডুলিপি, আহমদ তৈমুর পাশার পাণ্ডুলিপি এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ করার পর এটি সম্পন্ন করেন এবং এতে রাশিয়ান ভাষায় একটি উপভোগ্য ভূমিকা যুক্ত করেন।

 

‌‌এই পত্র সম্পর্কে প্রাচ্যের প্রাচীন পণ্ডিতগণ সর্বপ্রথম যা জানতে পেরেছিলেন:

আবু আল-আলা সম্পর্কে রচনাকারী কিছু প্রাচীন লেখক তাঁর বই ও পত্রবলির মধ্যে 'রিসালাতুল মালাইকা' (ফেরেশতাদের পত্র)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল আদিম এবং মু’জামুল উদাবা-তে ইয়াকুত।

তারা যা লিখেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো, আবু আল-আলার 'দিওয়ানুর রাসায়িল' নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে এবং তাঁর পত্রাবলি তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো দীর্ঘ পত্র যা রচিত কিতাবসমূহের স্থলাভিষিক্ত, যেমন 'রিসালাতুল গুফরান' এবং 'রিসালাতুল মালাইকা'। দ্বিতীয়টি হলো এই পত্রগুলোর চেয়ে দৈর্ঘ্যে ছোট, যেমন 'রিসালাতুল মানিহ' … এবং তৃতীয়টি হলো সংক্ষিপ্ত পত্র যা সাধারণত চিঠিপত্র আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হয় … তাদের একদল বলেছেন যে, এই গ্রন্থটি চল্লিশ খণ্ডবিশিষ্ট এবং অন্য দল বলেছেন এটি আটশত কুরাসা (পাণ্ডুলিপির তা)।

তারা এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, 'রিসালাতুল মালাইকা' গ্রন্থটি তিনি কিছু শিক্ষার্থীর জিজ্ঞাসা করা রূপতত্ত্ব (সরফ) বিষয়ক কিছু মাসআলার জবাবে লিখেছিলেন এবং এটি এক খণ্ডে সমাপ্ত, যা তাদের হিসাব অনুযায়ী বিশ কুরাসা হবে।

এই বিষয়ে 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক তাদের অনুসরণ করেছেন। এবং দশম শতাব্দীর ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ ইবনে তুলুনের গ্রন্থরাজির আলোচনায় 'আল-ফুলকুল মাশহুন' এর ৪৪ পৃষ্ঠায় এই কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৩)
- ج -

 

على رسالة الملائكة وهو في المسودة. ونقل في الأشباه والنظائر مقدمتها ونقل البديعي في أوج التحري قطعة من المقدمة ولم أر من تعرض لوصفها أو التعريف بها من المتقدمين ولا من ذكر شيئًا من أجوبة المسائل التي فيها.

 

‌‌أول ما عرفه المتأخرون من المشارقة منها:

لم يقف المتأخرون على هذه الرسالة كلها وإنما اطلعوا على مقدمتها في الأشباه والنظائر وقد وجدت منها نسخ في ليون والجامع الأزهر في مصر ونسخة عند المرحوم أحمد تيمور باشا ونسخة في حيدر أباد.

ثم طبعت منها نسخة في مصر سنة 1910 وطبع الأستاذ عبد العزيز الميمني نسخة منها في آخر كتابه: أبو العلاء وما إليه سنة 1345 ثم طبعها الأستاذ كامل الكيلاني مع رسالة الغفران ثلاث مرات آخرها سنة 938 وقد قمنا أن الأستاذ كراجكوفسكي طبعها سنة 1932 وكل ما اطلع عليه هؤلاء وطبعوه هو مقدمة الرسالة وكانوا كغيرهم يظنون أنها رسالة الملائكة بتمامها حتى ظهرت نسخة دار الكتب الظاهرية في دمشق فاتضح للناس أن كل ما طبع أو اطلع عليه هو المقدمة.

 

‌‌كيف ظفرت دار الكتب بهذه الرسالة:

في هذه السنة قتل المرحوم السيد محمد المنير من أعيان دمشق فأهدت ورثته إلى دار الكتب الظاهرية طائفة من كتبه وكان في جملتها هذه الرسالة، رسالة الملائكة فسارع المجمع العلمي في دمشق إلى طبعها ليطلع عليها الناس وصدق قول أبي الطيب المتنبي:

بذا قضت الأيام ما بين أهلها … مصائب قوم عند قوم فوائد
- জ -

 

"রিসালাতুল মালাইকা" (ফেরেশতাদের পত্র) সম্পর্কে এবং এটি পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়েছে। "আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির" গ্রন্থে এর ভূমিকা উদ্ধৃত হয়েছে এবং বাদিঈ তাঁর "আওজুত তাহারি" গ্রন্থে ভূমিকার একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন। পূর্বসূরিদের মধ্যে কাউকে এটি বর্ণনা করতে বা এর পরিচয় দিতে আমি দেখিনি, এমনকি এতে থাকা মাসআলাগুলোর উত্তরের কোনো অংশও কেউ উল্লেখ করেননি।

 

‌‌প্রাচ্য অঞ্চলের পরবর্তী পণ্ডিতরা এর সম্পর্কে প্রথম যা জানতে পেরেছেন:

পরবর্তী পণ্ডিতরা এই সম্পূর্ণ রিসালাটি সম্পর্কে অবগত হতে পারেননি, বরং তাঁরা কেবল "আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির" গ্রন্থে এর ভূমিকার খবর পেয়েছিলেন। লিয়ন, মিশরের আল-আজহার মসজিদ, মরহুম আহমদ তাইমুর পাশার সংগ্রহে এবং হায়দ্রাবাদে এর কিছু পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে।

অতঃপর ১৯১০ সালে মিশরে এর একটি সংস্করণ মুদ্রিত হয় এবং উস্তাদ আব্দুল আজিজ আল-মায়মানি ১৩৪৫ হিজরিতে তাঁর গ্রন্থ "আবু আল-আলা ওয়া মা ইলাইহি"-এর শেষে এর একটি সংস্করণ মুদ্রণ করেন। এরপর উস্তাদ কামিল আল-কিলানি "রিসালাতুল গুফরান"-এর সাথে এটি তিনবার মুদ্রণ করেন, যার সর্বশেষটি ছিল ১৯৩৮ সালে। আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে উস্তাদ ক্রাচকভস্কি ১৯৩২ সালে এটি মুদ্রণ করেছিলেন। এঁরা যা কিছু অবগত হয়েছেন এবং মুদ্রণ করেছেন তা ছিল রিসালাটির ভূমিকা মাত্র। অন্যদের মতো তাঁরাও মনে করতেন যে এটিই সম্পূর্ণ "রিসালাতুল মালাইকা", যতক্ষণ না দামেস্কের জাহিরিয়া কুতুবখানায় (লাইব্রেরি) এর একটি পাণ্ডুলিপি প্রকাশ পেল। তখন মানুষের নিকট স্পষ্ট হলো যে, যা কিছু ইতিপূর্বে মুদ্রিত বা দেখা হয়েছে তা ছিল কেবল এর ভূমিকা।

 

‌‌কুতুবখানা কীভাবে এই রিসালাটি লাভ করল:

এই বছর দামেস্কের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম মরহুম সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আল-মুনির নিহত হন। তাঁর উত্তরাধিকারীরা তাঁর গ্রন্থরাজির একটি বড় অংশ জাহিরিয়া কুতুবখানায় উপহার হিসেবে প্রদান করেন এবং সেই সংগ্রহের মধ্যেই এই রিসালাটি অর্থাৎ "রিসালাতুল মালাইকা" অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন দামেস্কের সায়েন্টিফিক একাডেমি (আল-মাজমাউল ইলমি) দ্রুত এটি মুদ্রণের ব্যবস্থা করে যাতে মানুষ এটি পাঠ করতে পারে। আর আবু তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বির এই উক্তিটিই সত্য হলো:

এভাবেই কালচক্র মানুষের মাঝে তার ফয়সালা জারি করে … এক জাতির বিপদ অন্য জাতির জন্য উপকারে আসে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৪)
- د -

 

‌‌التعريف بهذه النسخة:

كنت كتبت كلمة نشرت في مجلة المجمع العلمي في دمشق في ص 48 من الجزء (1 و 2) من المجلد 19 وفي ص 122 من الجزء (3 و 4) من المجلد المذكور وقد تكلفت هذه الكلمة بالتعريف بهذه النسخة تعريفًا كافيًا.

ومن المفيد أن نذكر هنا ما لابد منه حتى نتبين مزية هذه النسخة ولا يحتاج المطلع عليها إلى الرجوع إلى موضع آخر.

ويلخص ذلك فيما يأتي:

1 - ورق هذه النسخة ثخين مصقول وعدد صفحاتها 230 وطول كل ورقة 17 سانتيمًا وعرضها 12.5 وفي كل صفحة 13 سطراً مستوية متساوية في الحجم، وفي أطرافها الأربعة حاشية خالية من الخط تبلغ نحو 3 سانتيمات وكلها بخط واحد جيد وأكثرها مضبوط بالشكل ضبطاً تغلب عليه الصحة.

وفيها كلمات يخالف رسمها الطريقة المتبعة اليوم في الرسم كرسم الهمزة ياء في كل موضع ونقطها في أكثر المواطن وكرسم يسئل ومسئلة، وحذف الهمزة من آخر الاسم الممدود ونقط الياء في مثل موسى وترى، وإهمال النقط في مثل العربيه ورائحه وجعل الضمة علامة السكون ووضعها فوق الياء والواو الساكنتين وفيها شيء من التحريف وإذا كان عدد الكراسة في عرف المتقدمين عشر ورقات فإنها لا تبلغ 12 كراسة.

وقد كتب على الورقة الثانية فهرست ما في هذه الرسالة من المسائل وتحتها ذكرت عناوين المباحث التي تشمل عليها وقد أثبتناها كما هي.
- দ -

 

‌‌এই পাণ্ডুলিপির পরিচিতি:

আমি দামেস্কের মাজমাউল ইলমি (আরব একাডেমি) সাময়িকীর ১৯তম ভলিউমের ১ ও ২ নম্বর অংশের ৪৮ পৃষ্ঠায় এবং উক্ত ভলিউমের ৩ ও ৪ নম্বর অংশের ১২২ পৃষ্ঠায় একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম। এই প্রবন্ধে এই পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি।

এই পাণ্ডুলিপির বৈশিষ্ট্য অনুধাবনের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলো এখানে উল্লেখ করা উপকারী হবে, যাতে পাঠককে অন্য কোনো উৎসের শরণাপন্ন হতে না হয়।

সেগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১ - এই পাণ্ডুলিপির কাগজ পুরু ও মসৃণ। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৩০। প্রতিটি পাতার দৈর্ঘ্য ১৭ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১২.৫ সেন্টিমিটার। প্রতি পৃষ্ঠায় ১৩টি সুবিন্যস্ত সারি রয়েছে যা আকারে সমান। চারদিকে প্রায় ৩ সেন্টিমিটার প্রশস্ত লেখামুক্ত মার্জিন রয়েছে। পুরো পাণ্ডুলিপিটি একজন লেখকের চমৎকার হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এর অধিকাংশ শব্দই হরকত বা স্বরচিহ্ন দ্বারা সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো, যা মূলত নির্ভুল।

এতে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যার লিখনরীতি বর্তমান প্রচলিত রীতির চেয়ে ভিন্ন। যেমন—প্রতিটি ক্ষেত্রে হামযাকে ইয়া হিসেবে লেখা এবং অধিকাংশ স্থানে তাতে নুকতা দেওয়া; ইয়াসআল ও মাসআলার বিশেষ লিখনরীতি; ইসম মামদুদের শেষে হামযা বিলোপ করা; মুসা ও তারার মতো শব্দের শেষে ইয়াতে নুকতা দেওয়া; আল-আরাবিয়্যাহ ও রাইহাহর মতো শব্দে নুকতা বর্জন করা; যম্মাহকে সুকুনের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা এবং সাকিনযুক্ত ইয়া ও ওয়াও-এর ওপর তা স্থাপন করা। এতে সামান্য কিছু বিচ্যুতি রয়েছে। প্রাচীনদের পরিভাষায় যদি এক কুরাসাহ দশটি পাতাকে বোঝায়, তবে এটি ১২ কুরাসাহরও কম।

দ্বিতীয় পাতায় এই রিসালায় বিদ্যমান মাসআলাসমূহের সূচিপত্র লেখা হয়েছে এবং তার নিচে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর শিরোনাম উল্লেখ করা হয়েছে; আমরা তা হুবহু লিপিবদ্ধ করেছি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৫)
- هـ -

 

وكتب على الورقة الثالثة هذا العنوان.

رسالة الملائكة إملاء الشيخ الإمام أبي العلاء أحمد بن عبد الله بن سليمان التنوخي المعري. والفهرست والعنوان مكن خط الرسالة.

وكتب حول العنوان أسماء أناس ملكوا هذه الرسالة منهم إسحق بن إبراهيم بن أبي اليسر شاكر بن عبد الله بن محمد أخي أبي العلاء.

وإسحق هذا لم أقف على ترجمته أما إبراهيم فقد توفى سنة 630 وعمره نحو خمس وثلاثون سنة على ما ذكره ابن العديم فتكون هذه النسخة ملكًا لإسحق في أوائل السابع.

سبب تأليف رسالة الملائكة:

ألمعنا فيما سبق إلى أن المتقدمين ذكروا أن هذه الرسالة جواب عن مسائل صرفية سأله عنها بعض الطلبة ولم يبين واحد منهم من هو السائل ولا ما هي تلك المسائل ولا تعرض أحد لتاريخ تأليفها ولا لشيء يفيد المباحث في إزالة الغموض والإبهام عن ناحية من النواحي:

وقد جاء في المقدمة المطبوعة والمخطوطة هذه الجملة: "ولما وافى شيخنا أبو فلان بتلك المسائل … ولم يعرف أحد من هو أبو فلان".

وجاء في هذه النسخة: "ولما وافى شيخنا أبو القاسم على بن محمد بن همام بتلك المسائل .. فقد صرح بمن أتى بتلك المسائل.

وأبو القاسم هذا لم أقف على ترجمته ولكني أعلم في التنوخيين رجلين كل منهما اسمه همام أحدهما همان بن عامر جد بني المهذب التنوخي وهذا توفى سنة 234 والثاني همام بن الفضل بن جعفر من أحفاد المهذب وهذا
- হ -

 

এবং তৃতীয় পৃষ্ঠায় এই শিরোনামটি লেখা ছিল।

রিসালাতুল মালাইকা (ফেরেশতাদের পত্র), যা শায়খ ইমাম আবুল আলা আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-তানুখি আল-মাআররি কর্তৃক শ্রুতিলিখনকৃত। সূচিপত্র ও শিরোনাম মূল পত্রের হস্তলিপিতেই রয়েছে।

শিরোনামের চারপাশে এই পত্রটির মালিকানায় থাকা ব্যক্তিদের নাম লেখা ছিল, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবিল ইয়াসার শাকির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ—যিনি আবুল আলার ভাই।

এই ইসহাকের জীবনী সম্পর্কে আমি কোনো তথ্য পাইনি; তবে ইবরাহিম ৬৩০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং ইবনুল আদিমের বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর বয়স ছিল প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর। অতএব, এই পাণ্ডুলিপিটি সপ্তম হিজরি শতকের শুরুতে ইসহাকের মালিকানায় ছিল।

রিসালাতুল মালাইকা রচনার কারণ:

আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছি যে, পূর্বসূরিগণ উল্লেখ করেছেন যে এই পত্রটি কিছু সারফ (শব্দতত্ত্ব) সংক্রান্ত মাসআলার উত্তর হিসেবে লেখা হয়েছিল যা জনৈক শিক্ষার্থী তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। কিন্তু তাদের কেউ স্পষ্ট করেননি যে সেই প্রশ্নকারী কে ছিলেন কিংবা মাসআলাগুলোই বা কী ছিল। এমনকি এর রচনার তারিখ কিংবা এমন কিছু নিয়ে কেউ আলোচনা করেননি যা এর অস্পষ্টতা বা সংশয় দূর করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

মুদ্রিত এবং পাণ্ডুলিপি উভয় সংস্করণের ভূমিকায় এই বাক্যটি এসেছে: "যখন আমাদের শায়খ অমুক ব্যক্তি (আবু ফুলান) সেই মাসআলাগুলো নিয়ে আসলেন … এবং কেউ জানে না এই 'আবু ফুলান' বা অমুক ব্যক্তিটি আসলে কে।"

আর এই পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: "যখন আমাদের শায়খ আবুল কাসিম আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাম সেই মাসআলাগুলো নিয়ে আসলেন...। সুতরাং এখানে মাসআলাগুলো নিয়ে আসা ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আবুল কাসিমের জীবনী সম্পর্কেও আমি অবগত হতে পারিনি, তবে তানুখি বংশে আমি এমন দুইজন ব্যক্তিকে চিনি যাদের প্রত্যেকের নাম ছিল হাম্মাম। তাদের একজন হলেন হাম্মাম ইবনে আমির, যিনি বনু মুহাজ্জাব আল-তানুখির পিতামহ এবং তিনি ২৩৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দ্বিতীয়জন হলেন হাম্মাম ইবনে ফজল ইবনে জাফর, যিনি মুহাজ্জাবের বংশধরদের একজন এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৬)
- و -

 

كان معاصرًا لأبي العلاء وله تاريخ نقل عنه ياقوت وابن العديم وابن الوردي كثيراً من الحوادث وله ولد يقال له أبو الحسن علي بن همام وهذا كان تلميذاً لأبي العلاء وقد رثاه بأبيات منها قوله:

إن كنت لم ترق الدماء زهادة … فلقد أرقت اليوم من عيني دمًا

فأما أن يكون أبو القاسم صاحب المسائل هو هذا التلميذ وقد وقع في كنيته تحريف ونسب إلى جده. وإما أن يكون لهمام ولدان أحدهما علي والثاني محمد ولمحمد يقال له أبو القاسم علي وهذا أقرب إلى القبول مع جواز أن يكون أبو القاسم غير من ذكرنا.

متى ألف هذه الرسالة وأين ألفت:

لم أعثر على نص تاريخي يعين الزمان أو المكان الذي ألفت فيه هذه الرسالة وقد قال الأستاذ الميمني: يظهر من فحواها أنها ألفت نحو سنة 435 تقريبًا وهو احتمال قريب ويرى الأستاذ كراجكوفسكى أنها ألفت في الزمن ألفت فيه رسالة الغفران يعني قبل ذلك ببضع سنوات.

وقد ذكر أبو العلاء في المقدمة ما يدل على أنه ألفها حين صدق فجر اللمة وبلغ سن الأشياخ وانقطع عن المعاشر وأصبح الظعن إلى الآخرة قريبًا ولم يعين الزمن وهذه الرسالة إن كانت سابقة على رسالة الغفران فهي نواة لها وإن كانت متأخرة عنها فهي صورة مصغرة عنها.

وعلى كلا التقديرين لا يجد الباحث في رسالة الغفران من المسائل العلمية والصرفية معشار ما يجده في هذه الرسالة.
- ও -

 

তিনি আবুল আলার সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর একটি ইতিহাস গ্রন্থ ছিল যেখান থেকে ইয়াকুত, ইবনুল আদীম এবং ইবনুল ওয়ারদী অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তাঁর আবু আল-হাসান আলী বিন হাম্মাম নামে এক পুত্র ছিল এবং তিনি আবুল আলার ছাত্র ছিলেন। তিনি তাঁর স্মরণে শোকগাঁথা পাঠ করেছিলেন, যার একটি পংক্তি হলো:

যদি আপনি বৈরাগ্যের কারণে রক্তপাত না করে থাকেন … তবে আজ আপনি আমার চোখ থেকে রক্ত ঝরিয়েছেন।

হয়তো 'মাসায়েল' (প্রশ্নাবলি) এর রচয়িতা আবু আল-কাসিমই সেই ছাত্র এবং তাঁর উপনামে কোনো বিকৃতি ঘটেছে অথবা তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। অথবা হতে পারে হাম্মামের দুই পুত্র ছিল, একজন আলী এবং দ্বিতীয়জন মুহাম্মদ, আর মুহাম্মদের পুত্রকে বলা হতো আবু আল-কাসিম আলী। এটি গ্রহণ করার অধিক নিকটবর্তী, যদিও এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে আবু আল-কাসিম আমাদের উল্লিখিত ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কেউ।

এই রিসালাটি কখন এবং কোথায় রচিত হয়েছিল:

আমি এমন কোনো ঐতিহাসিক বর্ণনা খুঁজে পাইনি যা এই রিসালাটি রচনার সময় বা স্থান নির্ধারণ করে। অধ্যাপক আল-মায়মানী বলেছেন: এর বিষয়বস্তু থেকে প্রতীয়মান হয় যে এটি আনুমানিক ৪৩৫ হিজরির দিকে রচিত হয়েছিল, যা একটি নিকটবর্তী সম্ভাবনা। অধ্যাপক ক্রাচকভস্কি মনে করেন যে এটি সেই সময়ে রচিত হয়েছে যে সময়ে 'রিসালাতুল গুফরান' রচিত হয়েছিল, অর্থাৎ তার কয়েক বছর আগে।

আবু আল-আলা মুখবন্ধে এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, তিনি এটি তখন রচনা করেছিলেন যখন বার্ধক্যের শুভ্রতা প্রকাশ পেয়েছিল, তিনি প্রবীণদের বয়সে পৌঁছেছিলেন, লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন এবং পরকালের যাত্রা নিকটবর্তী হয়েছিল। তবে তিনি সময় নির্ধারণ করেননি। এই রিসালাটি যদি 'রিসালাতুল গুফরান'-এর আগে হয়ে থাকে তবে এটি তার মূল ভিত্তি, আর যদি পরে হয়ে থাকে তবে এটি তার একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ।

উভয় বিচারেই, গবেষক 'রিসালাতুল গুফরান'-এ সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রূপতাত্ত্বিক মাসআলাগুলোর দশভাগের একভাগও পাবেন না যা এই রিসালাটিতে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৭)
- ز -

 

‌‌ما تشتمل عليه هذه الرسالة:

سأل أبو القاسم أبا العلاء أو نقل السؤال له عن ست عشرة مسألة وهي المذكورة في فهرس هذه الرسالة فأجابه عنها أبو العلاء وقدم أمام الأجوبة مقدمة ذكر فيها إحدى وعشرين مادة بحث عن أصولها وأوزانها واشتقاقها وأحكامها وغير ذلك وهي:

1 - ملك

2 - عزرائيل

3 - منكر ونكير

4 - موسى

5 - ارزبة

6 - الجدث

7 - الريم

8 - الزبانية

9 - غسلين

10 - جهنم

11 - سفر

12 - مخاطبة الواحد بصيغة المثنى

13 - يا رضو

14 - الكمثرى

15 - سفرجل

16 - سندس

17 - طوبى

18 - الحيوان

19 - الحور

20 - الاستبرق

21 - العبقري

ويظهر للمتأمل إن من هذه المسائل التي سئل عنها ما لا علاقة له بعلم الصرف كقول الراجز أين الشظاظان وأين المربعة فالظاهر من الجواب أن السؤال كان عن الوزن والمعنى وليس فيه ما يتعلق بالصرف إلا ما ذكره في اشتقاق مطبعة وكالقول في المسالة التي ذكرها ابن كيسان فلا يدل الجواب على أن المسالة صرفية وكالمسألتين اللتين ذكرهما النحويون فإن القول فيهما يتعلق بالنحو وكذلك ذكر في المقدمة مثل يا رضو …

وبهذا القدر يظهر أن قول المتقدمين إن الرسالة جواب عن مسائل صرفية مبني على أن أكثر المسائل يتعلق بعلم الصرف والعلماء يتسامحون
- জে -

 

‌‌এই রিসালায় যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

আবু আল-কাসিম আবু আল-আলা-কে ষোলটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন অথবা তাঁর নিকট প্রশ্নটি পৌঁছানো হয়েছিল, যা এই রিসালার সূচিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু আল-আলা সেগুলোর উত্তর দিয়েছিলেন এবং উত্তর প্রদানের পূর্বে একটি ভূমিকা পেশ করেছিলেন, যাতে তিনি একুশটি বিষয় উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর মূল ভিত্তি, ওজন, ব্যুৎপত্তি, বিধান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেগুলো হলো:

১ - মালাক (ফেরেশতা)

২ - আজরাঈল

৩ - মুনকার ও নাকির

৪ - মূসা

৫ - আরযাব্বাহ (হাতুড়ি)

৬ - আল-জাদাছ (কবর)

৭ - আর-রীম (কবর/সাদা হরিণ)

৮ - আজ-জাবানিয়াহ (জাহান্নামের ফেরেশতা)

৯ - গিসলীন

১০ - জাহান্নাম

১১ - সাফার (গ্রন্থসমূহ/সফর)

১২ - একজনকে দ্বিবচনের শব্দে সম্বোধন করা

১৩ - ইয়া রাদ্বু

১৪ - আল-কুমাসরা (নাশপাতি)

১৫ - সাফারজাল (কুইন্স ফল)

১৬ - সুন্দুস (পাতলা রেশম)

১৭ - তূবা

১৮ - আল-হাইওয়ান (জীবন/প্রাণী)

১৯ - আল-হূর (জান্নাতের হুর)

২০ - আল-ইস্তাবরাক (পুরু রেশম)

২১ - আল-আবকারি (চমৎকার কারুকাজ করা গালিচা)

মনোযোগী পাঠকের কাছে এটি স্পষ্ট হবে যে, জিজ্ঞাসিত এই মাসআলাগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার ইলমে সরফের (শব্দতত্ত্ব) সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন জনৈক রাজেজ (কবিতা আবৃত্তিকারী)-এর উক্তি: "কোথায় সেই দুটি শলাকা এবং কোথায় সেই চতুষ্কোণ কাষ্ঠখণ্ড?" উত্তরের ধরন থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রশ্নটি ছিল মূলত শব্দ দুটির ওজন ও অর্থ সম্পর্কে। এতে 'মাতবাআ' শব্দের ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা ছাড়া সরফের সাথে সংশ্লিষ্ট আর কিছু নেই। অনুরূপভাবে ইবনে কায়সান যে মাসআলাটি উল্লেখ করেছেন, তার উত্তরও এটি প্রমাণ করে না যে মাসআলাটি সরফ সংক্রান্ত। তদ্রূপ নাহুবিদগণ যে দুটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর আলোচনা ইলমে নাহুর (ব্যাকরণ) সাথে সংশ্লিষ্ট। একইভাবে তিনি ভূমিকার মধ্যে 'ইয়া রাদ্বু'র মতো বিষয়ের অবতারণা করেছেন...

এই পরিমাণ আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, পূর্ববর্তী আলেমদের এই উক্তি যে—রিসালাটি সরফ সংক্রান্ত মাসআলার উত্তর—তার ভিত্তি হলো এই যে অধিকাংশ মাসআলাই ইলমে সরফের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর আলেমগণ এই সাধারণীকরণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৮)
- ح -

 

بمثل ذلك والمتأخرون كثيراً ما يشايعون المتقدمين من غير تثبيت اعتماداً على ثقتهم بهم.

 

‌‌سبب تسميتها رسالة الملائكة:

لم يصرح أبو العلاء في هذه الرسالة بسبب تسميتها ولعله جعل ذلك عنواناً لها كما سمى غيرها كرسالة المنيح والغفران والاغريض وتاج الحرة. وربما كان سبب تسميتها بذلك أنه افتتح القول فيها بالكلام على ملك وملائكة ثم ذكر جملة من أسماء الملائكة كعزرائيل واسرافيل وجبرائيل وميكائيل ومنكر ونكير ورضوان …

 

‌‌أول معرفتي بهذه الرسالة:

أول ما وقفت عليه مقدمة رسالة الملائكة التي طبعها الأستاذ الميمني ثم التي طبعها الأستاذ الكيلاني ثم الرسالة المطبوعة في روسية. ثم تلطف الأستاذ السيد قدري الكيلاني من فضلاء حماة فبعث إلي بنسخة عنده من المقدمة نقلها من الأشباه والنظائر وعارضها بنسخة مصر ونسخ لرجل من طرابلس ثم اطلعت على ما ذكره منها البديعي في أوج التحري.

هذا ما اطلعت عليه من نسخ المقدمة وأما الرسالة كلها فلم أقف لها على أثر ولا رأيت من ذكر لها خبراً قبل أن ظهرت هذه النسخة في دار الكتب الظاهرية.

وقد عارضت مقدمتها بالنسخ المتقدم ذكرها ورمزت بحرف (م) نسخة الميمني وبحرف (ك) لنسخة كامل الكيلاني وبحرف (ر) نسخة كراجكوفسكي وبحرف (ح) نسخة قدري الكيلاني:
- হা -

 

অনুরূপভাবে, এবং পরবর্তীরা প্রায়শই কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করেন, তাদের প্রতি আস্থার ওপর ভিত্তি করে।

 

‌‌রিসালাতুল মালাইকা নামকরণের কারণ:

আবু আল-আলা এই পত্রে এর নামকরণের কারণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি। সম্ভবত তিনি এটিকে এর শিরোনাম হিসেবে গ্রহণ করেছেন, ঠিক যেমন তিনি তাঁর অন্যান্য রচনার নাম রেখেছেন— যেমন রিসালাতুল মানিহ, আল-গুফরান, আল-ইগরিদ এবং তাজুল হুররাহ। সম্ভবত এর নামকরণের কারণ এই যে, তিনি এর আলোচনার শুরুতে ফেরেশতা ও ফেরেশতাকুল নিয়ে কথা বলেছেন, এরপর বেশ কয়েকজন ফেরেশতার নাম উল্লেখ করেছেন যেমন আজরাঈল, ইসরাফিল, জিবরাঈল, মিকাইল, মুনকার, নাকির এবং রিদওয়ান …

 

‌‌এই পত্রের সাথে আমার প্রথম পরিচয়:

আমি সর্বপ্রথম রিসালাতুল মালাইকার সেই ভূমিকার সন্ধান পাই যা উস্তাদ আল-মাইমানি কর্তৃক মুদ্রিত হয়েছে, এরপর উস্তাদ আল-কিলানি কর্তৃক মুদ্রিত সংস্করণটি এবং পরবর্তীতে রাশিয়ায় মুদ্রিত পত্রটি। অতঃপর হামার অন্যতম বিদ্বান উস্তাদ সাইয়্যেদ ক্বাদরি আল-কিলানি সদয় হয়ে তাঁর কাছে থাকা ভূমিকার একটি অনুলিপি আমাকে পাঠান, যা তিনি ‘আল-আশবাত ওয়ান নাযাইর’ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এবং মিশরের পাণ্ডুলিপি ও ত্রিপোলির জনৈক ব্যক্তির অনুলিপিগুলোর সাথে তা মিলিয়ে দেখেছিলেন। এরপর আমি আল-বাদিঈ কর্তৃক ‘আওজুত তাহরি’ গ্রন্থে উল্লেখিত তথ্যাদি সম্পর্কে অবগত হই।

ভূমিকার পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে এগুলোই আমার নজরে এসেছে। তবে পুরো পত্রটির ক্ষেত্রে বলতে গেলে, আমি এর কোনো হদিস পাইনি এবং ‘দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়া’তে এই পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশ পাওয়ার আগে এর সম্পর্কে কোনো সংবাদ বা উল্লেখ দেখিনি।

আমি এর ভূমিকাটিকে পূর্বে উল্লিখিত অনুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং প্রতীক হিসেবে আল-মাইমানির সংস্করণের জন্য (মিম), কামিল আল-কিলানির সংস্করণের জন্য (কাফ), ক্রাচকভস্কির সংস্করণের জন্য (রা) এবং ক্বাদরি আল-কিলানির সংস্করণের জন্য (হা) বর্ণ ব্যবহার করেছি:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৯)
- ط -

 

‌‌الفروق التي بين المقدمة التي في هذه النسخة وبين بقية النسخ المذكورة:

1 - يتبين من نسخة دار الكتب أنها صححت بعد كتابتها بطريقتين أحدهما القراءة على شيخ لم يبين من هو. زالثاني مقابلتها بغيرها. يدلنا على ذلك أن بعض الكلمات المصححة كتبت في حواشي الصحائف وقد كتب على بعضها. "بلغت قراءة ومقابلة على الشيخ … " وعلى بعضها "بلغت قراءة عليه أيده الله … " والتصحيح من خط النسخة.

2 - إن كثيراً من الكلمات فيها مضبوط بالشكل ضبطًا صحيحًا.

3 - إن هذه النسخة صرح فيها باسم الرجل الذي جاء بتلك المسائل وفي غيرها كني عنه بأبي فلان.

4 - إن الخطأ والتحريف فيها أقل مما في غيرها وإن بعض الطابعين لم يوفقوا إلى الصواب في كثير من الضبط والشرح وقد بينا جملة من ذلك في الكلمة التي نشرت في مجلة المجتمع العلمي وأشرنا إلى بعضه في ذيل هذه النسخة المطبوعة الآن كما أشرنا إلى فروق أخر غير ما ذكرنا.

 

‌‌رسالة الملائكة على حسب نسخة دار الكتب:

تشتمل هذه الرسالة على مقدمة وعلى الأجوبة عن المسائل التي سئل عنها ابو العلاء أما المقدمة فقد ذكر فيها إحدى وعشرين مادة كما قلنا وهذه المواد فيها من كل واد عصا ومن كل باقة زهرة. وقد أراد أبو العلاء أن يجعل لها مناسبات تجعل منها وحدة جامعة لهذه الألفاظ وآصرة محكمة بين كل واحد وآخر منها فجعل نفسه كأنه أشرف على الموت وأراد أن يدافع ملك الموت ويشغله بالبحث عن أصل ملك واشتقاقه ثم جعل نفسه
- ট -

 

‌‌এই পাণ্ডুলিপির ভূমিকা এবং উল্লিখিত অন্যান্য পাণ্ডুলিপির ভূমিকার মধ্যকার পার্থক্যসমূহ:

১ - দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, এটি প্রতিলিপি করার পর দুটি পদ্ধতিতে সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমটি হলো এমন একজন শাইখের নিকট পাঠ করা যার পরিচয় স্পষ্ট করা হয়নি। দ্বিতীয়টি হলো অন্য পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখা। এর প্রমাণ হলো, সংশোধিত কিছু শব্দ পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় লেখা হয়েছে এবং কোনো কোনোটির উপরে লেখা হয়েছে: "শাইখের নিকট পাঠ ও মিলানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে..." এবং কোনো কোনোটির উপর লেখা হয়েছে: "তার নিকট পাঠ সম্পন্ন হয়েছে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন..." আর সংশোধনগুলো পাণ্ডুলিপির মূল হস্তলিপিতেই করা হয়েছে।

২ - এতে অনেক শব্দের হরকত বা স্বরচিহ্ন অত্যন্ত নির্ভুলভাবে প্রদান করা হয়েছে।

৩ - এই পাণ্ডুলিপিতে সেই ব্যক্তির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যিনি এই প্রশ্নগুলো নিয়ে এসেছিলেন, অথচ অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে তার নাম উহ্য রেখে 'আবু ফুলান' (অমুকের পিতা) বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

৪ - এতে ভুল ও বিকৃতি অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় কম। কতিপয় মুদ্রক অনেক ক্ষেত্রে সঠিক শব্দচয়ন ও ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে সফল হতে পারেননি। আমরা 'মাজাল্লাতুল মুজতামা আল-ইলমি' নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে এর একটি বড় অংশ বর্ণনা করেছি এবং বর্তমানে মুদ্রিত এই পাণ্ডুলিপির শেষেও তার কিছু ইঙ্গিত প্রদান করেছি, যেমনটি আমরা উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও অন্যান্য পার্থক্যের দিকে ইশারা করেছি।

 

‌‌দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী রিসালাতুল মালাইকা (ফেরেশতাদের পত্র):

এই রিসালাটি একটি ভূমিকা এবং আবুল আলার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহের উত্তরের সমন্বয়ে গঠিত। ভূমিকা সম্পর্কে আমরা যেমনটি বলেছি, এতে একুশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। এই পরিচ্ছেদগুলোতে বিচিত্র সব বিষয়ের সমাহার ঘটেছে। আবুল আলা চেয়েছিলেন এগুলোর মধ্যে এমন এক যোগসূত্র তৈরি করতে যা এই শব্দগুলোকে একটি সামগ্রিক একতা দান করবে এবং তাদের প্রতিটির মাঝে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করবে। তাই তিনি নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছেন এবং মৃত্যুর ফেরেশতাকে প্রতিহত করতে চাচ্ছেন এবং 'মালাক' (ফেরেশতা) শব্দের মূল ও ব্যুৎপত্তিগত আলোচনা দিয়ে তাকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে চাচ্ছেন। এরপর তিনি নিজেকে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১০)
- ي -

 

كأنه دخل القبر فذكر أسماء لبعض الملائكة ثم خرج إلى المحشر فتصدى إلى البحث عن أسماء مسميات تكون في الجنة أو النار.

وجعل من ذلك صورة خيالية ترتاح إليها النفس، واستطاع بسببها أيضًا أن يجمع بين تلك الألفاظ التي تكلم فيها ولولا هذه الصورة لما وجد الإنسان مناسبة بين ملك وجهم والكمثرى وطوبى والسندس وغيرهما وبهذه الصورة دل على قدرة واضطلاع بهذا العلم وسعة إطلاع على الغريب والنادر والفصيح.

وأما الأجوبة فالمذكور منها أشرنا إلى أن بعضه لا علاقة له بعلم الصرف وأن بعضه غير مذكور وهو القول في يأجوج ومأجوج والقول في السمَّهى والقول في الحديث "أنا فرط القاصفين".

وهذه لا نستطيع الحكم على ما تكلمه فيها لعدم وجوده في هذه النسخة ولأننا لم نطلع عليه في غيرها.

ولا يبعد أن يكون السؤال عن يأجوج ومأجوج راجعاً إلى وزنها واشتقاقهما ونحو ذلك مما يتعلق بعلم الصرف وهما اسمان أعجميان لقبيلتين من خلق الله جاءت القراءة فيهما بهمز وبغير همز. واشتقاق مثلهما من كلام العرب يخرج من أجَّت النار إذا سمع صوت لهبها ومن الماء الأجاج وهو الشديد الملوحة المحرق من ملوحته ووزن يأجوج يعفول ومأجوج معفول.

ويجوز أن يكون يأجوج فاعولاً وكذا مأجوج هذا إذا كان الاسمان عربيين أما إذا كانا أعجميين فلا تشتق الأعجمية من العربية.
- ই -

 

তিনি যেন কবরে প্রবেশ করলেন এবং কিছু ফেরেশতার নাম উল্লেখ করলেন, তারপর হাশরের ময়দানে উপস্থিত হয়ে জান্নাত বা জাহান্নামের মধ্যকার কিছু নাম ও নামধারীর অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হলেন।

আর তিনি এর মাধ্যমে একটি কাল্পনিক চিত্র অঙ্কন করেছেন যা আত্মাকে প্রশান্তি দেয়। এর মাধ্যমেই তিনি সেই শব্দগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম হয়েছেন যা নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। এই চিত্রটি না থাকলে মানুষ একজন ফেরেশতা, জাহান্নাম, নাশপাতি, তুবা, রেশম এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পেত না। এই চিত্রের মাধ্যমে তিনি এই শাস্ত্রে তাঁর সক্ষমতা ও দক্ষতা এবং দুর্লভ, বিরল ও প্রাঞ্জল শব্দাবলির ওপর তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

আর উত্তরগুলোর কথা যদি বলি, তবে যার উল্লেখ করা হয়েছে সে সম্পর্কে আমরা ইঙ্গিত দিয়েছি যে, সেগুলোর কয়েকটির সাথে সরফ শাস্ত্রের (শব্দতত্ত্ব) কোনো সম্পর্ক নেই। আর কিছু উত্তর এখানে উল্লিখিত হয়নি; যেমন- ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্পর্কে বক্তব্য, ‘আস-সামমাহা’ সম্পর্কে বক্তব্য এবং ‘আমি অগ্রগামী দমনকারী’ হাদিসের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বক্তব্য।

এই পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান না থাকায় এবং অন্য কোথাও আমাদের নজরে না আসায় তিনি এসব বিষয়ে কী আলোচনা করেছেন সে সম্পর্কে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না।

এটা অসম্ভব নয় যে, ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্পর্কিত প্রশ্নটি তাদের ওজন (ছন্দোবদ্ধ রূপ) ও শব্দমূল এবং সরফ শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। এই দুটি আল্লাহর সৃষ্টির দুটি গোত্রের অনারব নাম, যা হামযাহসহ এবং হামযাহ ছাড়া উভয় পদ্ধতিতেই পাঠ করা হয়েছে। আরবি ভাষার নিরিখে এগুলোর ব্যুৎপত্তি ‘আগুন জ্বলে ওঠা’ থেকে হতে পারে যখন আগুনের লেলিহান শিখার শব্দ শোনা যায়, অথবা ‘তীব্র লবণাক্ত পানি’ থেকে হতে পারে যা তার লবণাক্ততার কারণে দহন তৈরি করে। আর ইয়াজুজের ওজন হলো ‘ইয়াফউল’ এবং মাজুজের ওজন হলো ‘মাফউল’।

এটাও সম্ভব যে ইয়াজুজের ওজন হলো ‘ফাউল’ এবং মাজুজের ওজনও তদ্রূপ। এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য যদি নাম দুটি আরবি হয়ে থাকে। তবে যদি এগুলো অনারব নাম হয়, তবে অনারব শব্দের ব্যুৎপত্তি আরবি ভাষা থেকে নির্ণয় করা যায় না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১১)
- ك -

 

ومن لا يهمز اللفظين ويجعل الألفين زائدين يقول يأجوج من يججت ومأجوج من مججت.

وكذلك السمهي بضم السين وتشديد الميم بمعنى الباطل وفيها لغات السمَّة والسميهي والسميهاء ويقال جرى فلان السمهي أي جرى إلى غير أمر يعرفه والسمهى الهواء ولعل القول فيها يرجع إلى وزنها واشتقاقها.

وقد ذكرها سيبويه في الأبنية فقال ج 2 ص 324. وجاء على فعلى وهو قليل قالوا السمهى وهو اسم والبدرى وهو اسم ولا نعلمه وصفًا.

وأما القول في الحديث أنا فرط القاصفين فالمشهور في روايته أنا والنبيون فراط القاصفين وفي رواية فراط القاصفين وهذا الحديث رواه نابغة بني جعدة والفراط جمع فارط المتقدم والقاصفون المزدحمون يريد أنهم يتقدمون الأمم إلى الجنة وهم على أثرهم متدافعون متزاحمون وقيل غير ذلك.

فلعل في رواية أخرى فرط القاصفين والفرط المتقدم إلى الماء يتقدم الواردة فيهيء لهم الارسان والدلاء ويملأ الحياض ويستقي لهم. فعل بمعنى فاعل ويقال رجل فرط وقوم فرط.

ولعل القول في هذه المسألة يتعلق بوزن فرط ومعناهما ومعنا القاصف واشتقاقهما ونحو ذلك.

 

‌‌قيمة الرسالة:

لم يصل إلينا شيء كثير من كتب المتقدمين المختصة بعلم التصريف أو الصرف وكل ما أمكننا العثور عليه من هذا العلم مسائل ذكرها
- ক -

 

যারা শব্দ দুটিতে হামজা উচ্চারণ করেন না এবং আলিফ দুটিকে অতিরিক্ত মনে করেন, তারা বলেন ‘ইয়াজুজ’ শব্দটি ‘ইয়াজাজতু’ থেকে এবং ‘মাজুজ’ শব্দটি ‘মাজাজতু’ থেকে নির্গত।

অনুরূপভাবে ‘আস-সুম্মাহা’ শব্দটি সিন বর্ণের পেশ এবং মিম বর্ণের তাশদীদের সাথে ‘বাতিল’ বা অসার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এতে আরও কয়েকটি শব্দরূপ বা উপভাষা রয়েছে, যেমন: আস-সুম্মাহ, আস-সুমাইহা এবং আস-সুমাইহা’উ। বলা হয়ে থাকে, "অমুক ব্যক্তি সুম্মাহা পথে চলেছে" অর্থাৎ সে এমন বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়েছে যা সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই। আবার ‘আস-সুম্মাহা’ অর্থ শূন্যস্থান বা বায়ুমণ্ডল। সম্ভবত এই বিষয়টি এর ওযন (ছন্দকাঠামো) এবং ব্যুৎপত্তি সংশ্লিষ্ট।

সিবওয়াইহি শব্দকাঠামো সংক্রান্ত আলোচনায় এটি উল্লেখ করে বলেছেন (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩২৪): এটি ‘ফু’লা’ ওযনে এসেছে এবং এর ব্যবহার খুবই কম। তারা বলেন ‘আস-সুম্মাহা’ একটি বিশেষ্য, তেমনি ‘আল-বাদরা’ও একটি বিশেষ্য। আমাদের জানামতে এটি গুণবাচক শব্দ বা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।

হাদিসে বর্ণিত এই উক্তি: "আমি কাসিফীনদের অগ্রগামী (ফারাত)"-এর ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ বর্ণনাটি হলো: "আমি এবং নবীগণ কাসিফীনদের অগ্রগামী (ফিরাত)"। অন্য একটি বর্ণনায় ‘ফিরাতুল কাসিফীন’ এসেছে। এই হাদিসটি নাবিগা বনী জা'দা বর্ণনা করেছেন। ‘ফিরাত’ শব্দটি ‘ফারিত’-এর বহুবচন যার অর্থ অগ্রগামী। আর ‘কাসিফুন’ হলো ভিড়কারী জনসমষ্টি। এর মর্মার্থ হলো—তাঁরা জান্নাতের দিকে অন্যান্য উম্মতদের অগ্রগামী হবেন এবং উম্মতরা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভিড় করে ও একে অন্যকে ধাক্কা দিয়ে আসবে। এ প্রসঙ্গে অন্য মতও ব্যক্ত করা হয়েছে।

সম্ভবত অন্য একটি বর্ণনায় ‘ফারাতুল কাসিফীন’ এসেছে। ‘ফারাত’ বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যে পানপ্রার্থীদের আগেই পানির ঘাটে পৌঁছে তাদের জন্য রশি ও বালতি প্রস্তুত করে, হাউজ পূর্ণ করে এবং তাদের পানি পান করায়। এটি ‘ফা’ল’ ওযনের শব্দ হলেও ‘ফা’ইল’-এর অর্থ প্রদান করে। যেমন বলা হয়: অগ্রগামী এক ব্যক্তি এবং অগ্রগামী একদল লোক।

সম্ভবত এই মাসআলাটি ‘ফারাত’-এর ওযন ও তার অর্থ এবং ‘কাসিফ’-এর অর্থ ও ব্যুৎপত্তি এবং এজাতীয় বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত।

 

‌‌রিসালার গুরুত্ব:

পূর্বসূরিদের রচিত ইলমুত তাসরীফ বা শব্দতত্ত্ব বিষয়ক বিশেষায়িত গ্রন্থগুলোর খুব সামান্য অংশই আমাদের হাতে পৌঁছেছে। এই শাস্ত্র থেকে আমরা যা কিছু উদ্ধার করতে পেরেছি তা কেবল ঐ সকল মাসআলা যা আলোচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১২)
- ل -

 

سيبويه في كتابه والمفصل وشروحه وشراح الألفية والكافية والشافية والمراح والعزى ونحوها ولم يوفق إلى الإطلاع على كتب الأئمة المتقدمين من البصريين والكوفيين وغيرهم وإنما وقفنا على أقوال موجزة منقولة عنهم وفيها ما لا ترتاح إليه النفوس إما لذكره بغير تعليل وأما لعدم إقامة دليل عليه وإما لاختصار في بسط ذلك.

ومن وقف على رسالة الملائكة اتضح لديه أن هذا العلم بلغ الذروة القصوى في ذلك العهد وأن لرجاله باعًا طويلًا في معرفة الأبنية وضبطها ووضع المقاييس ورعايتها وقدرة على البحث عن أصول الكلمات واشتقاقها وردها إلى أصولها ومعرفة الشاذ والنادر منها وبراعة في تعليل الأحكام وإيراد الأدلة والشواهد وما شاكل ذلك من الأمور التي تدل على سعة في المدارك ونموّ في الملكات وغزارة في المادة.

فهذه الرسالة تمثل لنا صورة تامة عما وصل إليه هذا العلم في ذلك العصر والعصور التي قبله وعما بلغ إليه العلماء فيه كما تمثل لنا صورة كاملة عما كان يتمتع به العلماء من حرية القول والإقدام على نقد الأئمة ودحض حججهم ومناقشتهم في الدقيق والجليل من المسائل.

وقلما رأينا كتاباً يمثل ذلك كله بالقدر الذي تمثله هذه الرسالة.

أبو العلاء في هذه الرسالة: تواضع أبو العلاء في مقدمة هذه الرسالة وأسرف في تواضعه فزعم أن حق مثله ألا يسأل فإن سئل تعين عليه ألا يجيب فإن أجاب ففرض ألا
- ল -

 

সিবেওয়াইহ তাঁর কিতাবে এবং আল-মুফাসসাল ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, আর আলফিয়্যাহ, কাফিয়্যাহ, শাফিয়্যাহ, মারাহ, ইজ্জী এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহের ব্যাখ্যাকারগণ বসরী, কুফী এবং অন্যান্য পূর্ববর্তী ইমামদের কিতাবসমূহ দেখার সুযোগ পাননি। আমরা কেবল তাঁদের থেকে বর্ণিত কিছু সংক্ষিপ্ত উক্তি সম্পর্কে অবগত হয়েছি, যার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা মনঃপূত নয়; হয় তা কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উল্লেখ করার কারণে, অথবা তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করার কারণে, কিংবা সেই বিষয়ের বিস্তারে অত্যধিক সংক্ষিপ্ততার কারণে।

আর যিনি 'রিসালাতুল মালাইকা' পাঠ করবেন, তাঁর নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এই ইলম সেই যুগে তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল। সেই যুগের মনীষীদের শব্দকাঠামো চেনা ও তা নিয়ন্ত্রণ করা, মানদণ্ড নির্ধারণ ও তা রক্ষা করা, শব্দের মূল উৎস ও তার ব্যুৎপত্তি নিয়ে গবেষণা করা, শব্দকে তার মূলের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং ব্যতিক্রমী ও বিরল শব্দসমূহ চেনার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। এছাড়াও বিধানের যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করা, দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপন করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে তাঁদের অসামান্য পারদর্শিতা ছিল, যা তাঁদের প্রজ্ঞা ও বোধশক্তির প্রশস্ততা, মেধার বিকাশ এবং উপাদানের প্রাচুর্যের প্রমাণ দেয়।

সুতরাং এই রিসালাটি আমাদের সামনে সেই যুগে এবং তার পূর্ববর্তী যুগসমূহে এই ইলমের যে উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল এবং উলামায়ে কেরাম এতে যা অর্জন করেছিলেন তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। তদুপরি, এটি আমাদের সামনে তৎকালীন আলেমদের বাকস্বাধীনতা, ইমামদের সমালোচনা করার সাহস, তাঁদের যুক্তি খণ্ডন করা এবং সূক্ষ্ম ও বৃহৎ সকল মাসআলা নিয়ে তাঁদের সাথে পর্যালোচনার একটি পরিপূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করে।

আমরা খুব কম কিতাবই দেখেছি যা এই রিসালাটি যতটুকু উপস্থাপন করে, তার সমপরিমাণ এই সবকিছুর প্রতিফলন ঘটায়।

এই রিসালায় আবুল আলা: আবুল আলা এই রিসালার ভূমিকায় বিনয় প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বিনয়ে বাড়াবাড়ি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর মতো ব্যক্তিকে কোনো প্রশ্ন করা উচিত নয়; যদি প্রশ্ন করা হয়, তবে তাঁর জন্য উত্তর না দেওয়া আবশ্যক; আর যদি তিনি উত্তর দেন, তবে তাঁর জন্য অনিবার্য হলো যে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১৩)
- م -

 

يسمع فإن سمع منه ففرض ألا يكتب فإن كتب فواجب أن لا ينظر فيه. إلى غير ذلك مما ذكره في المقدمة وهذا سبيله في كثير من رسائله.

ولكنه عند البحث يتخلى عن هذا التواضع وتبدو له المظاهر الآتية:

1 - سعة الخيال: فإنه أبرز صورة من خياله الواسع تدل على أنه كان لبقًا في اختراع الأخيلة قادرًا على تخير الأساليب التي تنفذ كلماته إلى أعماق القلوب فقد جعل نفسه كأنه أشرف على الموت وجاءه الملك فأراد أن يدافعه فذكر له أصل ملك واشتقاقه ثم دار الحديث بينه وبين منكر ونكير إلى أن جرى ما جرى بينه وبين رضوان واتخذ ذلك وسيلة لغايات منها إيجاد مناسبة بين الألفاظ الذى ذكرها وإحداث صلة تربط بعضها ببعض.

ومنها إيصال هذه المباحثات إلى النفوس بغير سآمة ولا ملل وأنه لو سردها ثم تكلم من واحد بعد الآخر لتسرب الملل إلى القارئ ولكنه أورد بعضها على شكل محاورة مع ملك وبعضها على سبيل التعجب ممن يتمتع بشيء من النعيم وهو لا يعرف اسمه ولا وزنه ولا ولا.

2 - نقده العلماء والأئمة: وبعد أن تواضع ما تواضع في المقدمة وجعل منزلته إلى الجهال أدنى منها إلى العلماء ترك ذلك كله ووقف موقف من لا يثق بغيره حتى يكاد يخيل إلى القارئ أنه في مقدمة الرسالة غيره فيما بعدها ويتجلى لك نقد الأئمة في مثل قوله: وقد يقع في الكتب ألفاظ مستغلقة فمنها ما يكون تعذر فهمه من قبل عبارة واضع الكتاب وعلى ذلك جاءت عبارة سيبويه في بعض المواضع.

وقوله: أليس صاحبكم سيبويه زعم أن الياء … قلت قد زعم
- ম -

 

শোনা হবে, আর যদি তাঁর থেকে শোনা হয় তবে তা না লেখা অপরিহার্য, আর যদি তা লেখাই হয় তবে তাতে দৃষ্টিপাত না করা ওয়াজিব। এই জাতীয় আরও অনেক কথা তিনি তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন এবং এটিই তাঁর অধিকাংশ পত্রাবলীতে অনুসৃত পদ্ধতি।

কিন্তু অনুসন্ধানের সময় তিনি এই বিনয় পরিত্যাগ করেন এবং তাঁর মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়:

১ - কল্পনার প্রশস্ততা: তিনি তাঁর বিশাল কল্পনাশক্তি থেকে এমন এক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন যা নির্দেশ করে যে, তিনি কাল্পনিক উদ্ভাবনে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং এমন শৈলী নির্বাচনে সক্ষম ছিলেন যা তাঁর কথাগুলোকে হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে দেয়। তিনি নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাঁর কাছে ফেরেশতা এসেছে, আর তিনি তাকে প্রতিহত করতে চাইছেন। এরপর তিনি ফেরেশতার আধিপত্যের উৎস ও তার বুৎপত্তি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তাঁর এবং মুনকার ও নাকিরের মধ্যে কথোপকথন চলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত রিদওয়ানের সাথে যা ঘটার তা ঘটে। তিনি এটিকে বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর উল্লিখিত শব্দগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করা এবং সেগুলোর একটির সাথে অন্যটির সংযোগ স্থাপন করা।

এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো এই আলোচনাগুলোকে কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই অন্তরে পৌঁছে দেওয়া। তিনি যদি এগুলোকে কেবল ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতেন এবং একের পর এক বলে যেতেন, তবে পাঠকের মনে বিরক্তির উদ্রেক হতো। কিন্তু তিনি এর কিছু অংশ ফেরেশতার সাথে কথোপকথন আকারে এবং কিছু অংশ এমন ব্যক্তির প্রতি বিস্ময় প্রকাশের ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন, যে কোনো নেয়ামত ভোগ করছে অথচ সে তার নাম, তার ওজন বা অন্য কোনো কিছুই জানে না।

২ - উলামা ও ইমামগণের প্রতি তাঁর সমালোচনা: ভূমিকায় চরম বিনয় প্রদর্শন এবং নিজের মর্যাদাকে আলিমদের তুলনায় জাহিলদের কাছাকাছি নির্ধারণ করার পর, তিনি সেই সব কিছু বর্জন করেন এবং এমন এক অবস্থানে দাঁড়ান যেখানে তিনি অন্য কাউকে বিশ্বাস করেন না। এমনকি পাঠকের মনে হতে পারে যে, পত্রের ভূমিকায় যিনি ছিলেন, পরবর্তী অংশে তিনি অন্য কেউ। ইমামদের প্রতি তাঁর সমালোচনা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যখন তিনি বলেন: "কখনও কখনও কিতাবসমূহে এমন কিছু জটিল শব্দ থাকে যার অর্থ বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে ওই কিতাব রচয়িতার প্রকাশভঙ্গির কারণে। আর সিবওয়াইহ-এর ইবারত (প্রকাশভঙ্গি) কিছু কিছু স্থানে ঠিক এমনই হয়েছে।"

এবং তাঁর উক্তি: "তোমাদের সাথি সিবওয়াইহ কি দাবি করেননি যে 'ইয়া' (ي) … আমি বললাম, তিনি তো দাবি করেছেনই।"
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১৪)
- ن -

 

ذلك إلا أن السماع عن العرب لم يأت فيه نحو ما قال إلا أن يكون شاذًا.

وقوله: وكان أبو إسحاق يزعم أن استبرق في الأصل مسمى بالفعل الماضي … وهذه دعوى من أبى إسحق وإنما هو اسم أعجمي عرب.

وقوله: وزعم الفراء أن أصل لكن لاكئن وهذه دعوى لا تثبت.

وقوله: وكان الفارسي يأبى ترك صرف شيطان … والرواية على غير ما قال والأخيار تدل على خلافه.

3 - اعتداده بنفسه وعدم اعتداده برأي غيره ويتراءى ذلك في مثل قوله في سندس: والذي اعتقده أن النون زائدة ولا أمنع أن يكون فعللا ولكن الاشتقاق يوجب ما ذكرت.

وقوله في طوبى: والذي نذهب إليه إذا حملناها على الاشتقاق أنها من ذوات الياء".

وقوله في إياك: والذي اعتقده مذهب الخليل.

وقوله في الضمائر: ولا أمنع أن يستند شيء من ذلك.

وقوله: ولا أمنع أن يجيء الفعل على فعلن وإن لم يذكره المتقدمون.

وقوله: ولا أمنع أن يخالف الأول مخالف.

4 - ثقته بعلمه وسعة إطلاعه ويتضح ذلك في مثل قوله ليس في كلامهم مثل اسفرجل يسفرجل.

مفقود في كلامهم الياء بعدها الواو.

أحدهما أن يكون من همن وهذا فعل ممات.

وقد تكون الكلمة حقيقة في اللفظ ولم ينطقوا بها فيما اشتهر من
- ন -

 

এটা ঠিক, তবে আরবদের থেকে শ্রুত ভাষাতত্ত্বে তার বক্তব্যের অনুরূপ কিছু আসেনি, কেবল ব্যতিক্রম (শায) হিসেবে আসা ছাড়া।

এবং তাঁর উক্তি: আবু ইসহাক দাবি করতেন যে, 'ইস্তাবরাক' শব্দটি মূলত অতীতকালীন ক্রিয়া (ফেলে মাযি) দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে … আর এটি আবু ইসহাকের একটি দাবি মাত্র, বরং এটি একটি অনারব শব্দ যা আরবিকরণ করা হয়েছে।

এবং তাঁর উক্তি: আল-ফাররা দাবি করেছেন যে, 'লাকিন' (لكن) এর মূল হলো 'লাকাইন' (لاكئن), আর এটি এমন এক দাবি যা প্রমাণিত নয়।

এবং তাঁর উক্তি: আল-ফারিসি 'শয়তান' শব্দের রূপান্তর (সারফ) পরিহার করতে অস্বীকার করতেন … অথচ বর্ণনাটি তাঁর বক্তব্যের বিপরীত এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাগুলো এর পরিপন্থী বিষয় নির্দেশ করে।

৩ - নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস এবং অন্যের মতামতের ওপর নির্ভর না করা; এটি 'সুনদুস' সম্পর্কে তাঁর এই উক্তিতে ফুটে ওঠে: "আমি যা বিশ্বাস করি তা হলো 'নুন' বর্ণটি অতিরিক্ত, আর আমি একে 'ফাল্লালা' ওযন হতেও নিষেধ করি না, তবে শব্দমূলের বিশ্লেষণ আমার উল্লিখিত মতটিকেই আবশ্যক করে।"

এবং 'তুবা' সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "আমরা যে মতটি গ্রহণ করি তা হলো—যদি আমরা একে শব্দমূলের ভিত্তিতে বিবেচনা করি—তবে এটি 'ইয়া' বর্ণ বিশিষ্ট মূলধাতু থেকে আগত।"

এবং 'ইয়্যাকা' সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "আমি যা বিশ্বাস করি তা হলো খলিলের মাযহাব।"

এবং সর্বনাম (যমীর) সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "আমি এর কোনো কিছুর ওপর ভিত্তি করাকে অসম্ভব মনে করি না।"

এবং তাঁর উক্তি: "আমি কোনো ক্রিয়া 'ফালান' ওযনে আসাকে নিষেধ করি না, যদিও পূর্বসূরিরা তা উল্লেখ করেননি।"

এবং তাঁর উক্তি: "আমি প্রথম মতের সাথে কোনো বিরোধিতাকারীর ভিন্নমত পোষণ করাকে অসম্ভব মনে করি না।"

৪ - নিজের ইলম এবং গভীর অধ্যয়নের ওপর তাঁর আস্থা; এটি তাঁর এই উক্তি থেকে স্পষ্ট হয় যে, "আরবদের কথাবার্তায় 'ইসফারজাল ইয়াসফারজিল' এর মতো কোনো শব্দ নেই।"

তাদের (আরবদের) কথাবার্তায় 'ইয়া' বর্ণের পর 'ওয়াও' বর্ণ আসা অনুপস্থিত।

এর একটি হলো এটি 'হামানা' থেকে হওয়া, আর এটি একটি বিলুপ্ত (মুমাত) ক্রিয়া।

এবং শব্দটি উচ্চারণের দিক থেকে সঠিক হতে পারে কিন্তু তারা তাদের প্রসিদ্ধ ভাষা রীতিতে তা উচ্চারণ করেনি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১৫)
- س -

 

الكلام كقولهم المدع فهذه الكلمة تشبه كلام العرب ولم يذكر المتقدمون أنهم نطقوا بها وكذلك الرمح وأشياء كثيرة.

ولم يستعمل التلق ولا اللتق ولا القلت.

والثالث بناء أهمل بكليته مثل الخاء والظاء والراء نحو الخظر لم تجيء هذه الكلمة ولا شيء من وجوهها.

وهمن لم يذكره أحد من المتقدمين فيما أعلم.

ومثل هذا الكلام لا يقع إلا ممن يثق بعلمه واستقرائه التام وسعة إطلاعه.

5 - سعة إطلاعه على اللغة وقدرته على رد الكلمات إلى الأصول التي يحملها اللفظ وتوجيهه إلى المعنى الذي يريده، وإكثاره من إيراد الأشباه والنظائر فيما يريد إثباته أو نفيه. وتتجلى قدرته على ذلك فيما أورده من الأبنية والأوزان في كلمة إياك واثنين وابن واسم ومهيمن فقد ذكر لكل واحد منها صيغًا وأوزانًا متعددة وأصولًا مختلفة ووجه كلًا منها إلى المعنى الذي يريده على كل احتمال وتقدير.

6 - معرفته القراءات المتواترة وغيرها حتى يخيل إلى الإنسان أنه أحاط علماً بكل قراءة معروفة في عصره ويظهر ذلك فيما ذكره من قراءة ابن مسعود وابن محيص ويحي بن وثاب ومكورة الأعرابي وغيرهم.

7 - كثرة ما يحفظه من قواعد هذا العلم وضوابطه العامة فتراه في خلال كلامه في كل مادة ينثر جملًا من القواعد الصرفية. مثل قوله المتقدمون لا يزنون الحروف التي جاءت لمعنى … لا يجمعون بين علة
- স -

 

কথা যেমন তাদের উক্তি 'আল-মাদ', এই শব্দটি আরবদের কথার সদৃশ কিন্তু পূর্বসূরিরা উল্লেখ করেননি যে তারা এটি উচ্চারণ করেছেন। একইভাবে 'আর-রুমহ' এবং আরও অনেক বিষয়।

তারা 'আত-তালক', 'আল-লাতাক' বা 'আল-কালত' শব্দগুলো ব্যবহার করেননি।

তৃতীয়টি হলো এমন শব্দগঠন যা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা হয়েছে, যেমন 'খা', 'জা' এবং 'রা' বর্ণের সমন্বয়। যেমন 'আল-খাজার' শব্দটি বা এর কোনো রূপই আরবি ভাষায় আসেনি।

আর 'হামান' শব্দটি সম্পর্কে আমার জানামতে পূর্বসূরিদের কেউ উল্লেখ করেননি।

এ জাতীয় কথা কেবল এমন ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব যিনি নিজের জ্ঞান, পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান এবং ব্যাপক অধ্যয়নের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।

৫ - ভাষার ওপর তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য এবং শব্দসমূহকে তাদের মূল উৎসে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা যা শব্দটি ধারণ করে, এবং শব্দটিকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত অর্থের দিকে পরিচালিত করার সামর্থ্য। এছাড়া তিনি যা প্রমাণ বা অস্বীকার করতে চান, সে বিষয়ে প্রচুর পরিমাণে সদৃশ ও অনুরূপ উদাহরণ পেশ করার ক্ষমতা। তাঁর এই সক্ষমতা ফুটে ওঠে যখন তিনি 'ইয়্যাকা', 'ইসনাইন', 'ইবন', 'ইসম' এবং 'মুহাইমিন' শব্দগুলোর গঠন ও ওজনসমূহ বর্ণনা করেন। তিনি এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য একাধিক রূপ ও ওজন এবং বিভিন্ন মূল উৎস উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটি সম্ভাবনা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী সেগুলোকে কাঙ্ক্ষিত অর্থের দিকে পরিচালিত করেছেন।

৬ - মুতাওয়াতির কিরাতসমূহ এবং অন্যান্য কিরাত সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞান, এমনকি মানুষের মনে হতে পারে যে তিনি তাঁর যুগের প্রতিটি পরিচিত কিরাত সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন। এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় ইবনে মাসউদ, ইবনে মুহাইসিন, ইয়াহইয়া বিন ওয়াসসাব, মাকুরা আল-আরাবি এবং অন্যান্যদের কিরাত সম্পর্কে তাঁর আলোচনার মাধ্যমে।

৭ - এই শাস্ত্রের অজস্র নিয়মাবলী ও সাধারণ মূলনীতিসমূহ তাঁর মুখস্থ থাকা। তাই দেখা যায়, প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় তিনি সরফ বা শব্দতত্ত্বের বহু নিয়ম ছড়িয়ে দিয়েছেন। যেমন তাঁর উক্তি: "পূর্বসূরিরা অর্থের জন্য আসা বর্ণগুলোর ওজন করেন না... তারা দুটি 'ইল্লত' (অসুস্থতা বা কারণ) একত্রিত করেন না।"
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১৬)
- ع -

 

العين واللام. الفات الوصل لا تدخل على الأسماء التي ليست جارية على الأفعال حتى تكون نواقص من آخرها. التأنيث يدخل على التأنيث. الترخيم لا يرد الأمثلة إلى أصولها …

8 - كثرة ما يحفظه من القواعد والضوابط العامة اللغوية فإن في كلامه كثيراً من ذلك مثل قوله مفقود في كلامهم الياء بعد الواو .. لم يستعملوا في الأفعال الماضية ما يجتمع فيه الياء أن غير عي وحي. لم يجيء بناء على افعيله وافعيل إلا إنجيل .. ليس في أبنيتهم ما فيه أربع متحركات …

ليس في كلامهم واو مكسورة بعدها ياء مشددة في صدر الكلمة.

9 - كثرة ما يحفظه من الشواهد فإنه أورد في هذه الرسالة أبياتاً لأكثر من ستين شاعرًا عرفناهم. وهناك أبيات كثيرة لم يعزها إلى أصحابها ولم نعرفهم هذا عدا ما أتى به من آيات القرآن الحكيم والأمثال السائرة وغيرها.

10 - الاستقصاء في البحث والقدرة على إيراد الأدلة والشواهد والأمثلة ومقايسة الأشياء بنظائرها وإيضاح الفروق بين المتشابهين وتعليل الأحكام وذكر القيود والمحترزات، ومن أنعم النظر فيما قاله في إياك مثلًا تبين له أنه لم يدع وزنًا يحتمله اللفظ ولا أصلًا يمكنه إرجاعه إليه إلا أورده، وذكر فوق ذلك ما يشابهه في بعض الصور ويخالفه في الحكم وبيَّن علة ذلك. ثم أورد بعد ذلك ما يمكن أن يبني على وزنه من الألفاظ الصحيحة والمعتلة وقد يأتي بالمثال فيه كلمتان فيبين السبب الذي
- আইন -

 

আইন এবং লাম। হামজাতুল ওয়াসল এমন সব বিশেষ্যের শুরুতে আসে না যা ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন হয়নি, যতক্ষণ না সেগুলোর শেষ অংশ বিলুপ্ত বা অসম্পূর্ণ হয়। স্ত্রীলিঙ্গবাচকতা স্ত্রীলিঙ্গবাচকতার ওপর যুক্ত হয়। তারখিম (শব্দ সংক্ষেপণ) উদাহরণসমূহকে তাদের মূল রূপের দিকে ফিরিয়ে নেয় না …

৮ - তাঁর মুখস্থ করা ভাষাতাত্ত্বিক সাধারণ নিয়ম এবং মূলনীতিসমূহের আধিক্য; কেননা তাঁর বক্তব্যে এর প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। যেমন তাঁর উক্তি: তাদের (আরবদের) বক্তব্যে 'ওয়াও'-এর পরে 'ইয়া' অনুপস্থিত... তাঁরা অতীতকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু ব্যবহার করেননি যেখানে দুটি 'ইয়া' একত্রিত হয়, 'আইয়্যা' এবং 'হাইয়্যা' ব্যতীত। 'ইফইলাহ' এবং 'ইফইল' ওজনে 'ইনজিল' ব্যতীত আর কোনো শব্দ আসেনি... তাদের শব্দ কাঠামোর মধ্যে এমন কিছু নেই যাতে পরপর চারটি স্বরচিহ্ন বা হরকত রয়েছে …

তাদের বক্তব্যে শব্দের শুরুতে কাসরাযুক্ত 'ওয়াও' এবং তারপরে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' নেই।

৯ - তাঁর মুখস্থ করা কাব্যিক প্রমাণের আধিক্য; কেননা তিনি এই রিসালায় আমাদের পরিচিত ষাটেরও বেশি কবির কবিতা উদ্ধৃত করেছেন। এছাড়াও এমন অনেক কবিতা রয়েছে যা তিনি তাদের রচয়িতাদের দিকে সম্বন্ধ করেননি এবং আমরাও তাদের চিনি না। এটি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াত, প্রচলিত প্রবাদ-প্রবচন এবং অন্যান্য যা তিনি পেশ করেছেন তা বাদে।

১০ - গবেষণায় পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান এবং দলীল, প্রমাণ ও উদাহরণ উপস্থাপনের ক্ষমতা; বিষয়সমূহকে তাদের সদৃশ বিষয়গুলোর সাথে তুলনা করা, সদৃশ দুটির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা, বিধানসমূহের কারণ বর্ণনা করা এবং শর্ত ও সতর্কতাগুলো উল্লেখ করা। উদাহরণস্বরূপ, 'ইয়্যাকা' সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তাতে যে ব্যক্তি গভীর দৃষ্টিপাত করবে, তার কাছে এটি স্পষ্ট হবে যে, শব্দটি গ্রহণ করতে পারে এমন কোনো ওজন (ছন্দ বা রূপ) কিংবা এমন কোনো মূল উৎস যার দিকে এটি ফেরানো সম্ভব হতে পারে—তার একটিও তিনি উল্লেখ করতে বাকি রাখেননি। অধিকন্তু তিনি এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা কিছু আকৃতিতে এর সদৃশ হলেও বিধানে ভিন্ন, এবং তিনি এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। এরপর তিনি সহীহ এবং মু'তাল শব্দগুলোর মধ্য থেকে এমন শব্দগুলো উল্লেখ করেছেন যা উক্ত ওজনে গঠন করা সম্ভব। আর তিনি এমন উদাহরণও আনতে পারেন যাতে দুটি শব্দ থাকে, অতঃপর তিনি সেই কারণটি বর্ণনা করেন যা...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১৭)
- ف -

 

أتى به من أجله ثم ينتقل إلى القول في الكلمة الثانية فيبحث في أصلها أو وزنها ثم يعود إلى الكلمة الأصلية فيذكر لها وزنًا آخر أو يبحث في اشتقاقها على تقدير كل معنى يحتمله اللفظ.

ولا يظهر للمتأمل أن في كلامه هذا اقتضابًا ولا تفككًا ولا يشعر باضطراب في تشبيه ولا قلق في أسلوب.

11 - الاختراع. وقلما يجد الإنسان أثرًا لأبي العلاء إلا وفيه شيء من ابتكاره فإنه في هذه الرسالة قسم بيت الشعر إلى قادر وفاتح وواسط وخاتم وكل بيت أما أن يكمل معناه فيه أو يكمل في الذي بعده أو الذي قبله أو فيهما جميعًا وهذا التقسيم لم أره لغير أبي العلاء.

وصفوة القول أن الإنسان مهما إسهب في وصف هذه الرسالة ووصف مؤلفها لا يستطيع أن يوفي كلًا منهما حقه ولا يستطيع إنسان أن يعلم كنه كل منهما حتى يعترض هذه الرسالة جملة فجملة فيتضح له حينئذ ما هي هذه الرسالة ومن هو أبو العلاء ويعلم أنه صادق حيث يقول:

واني وإن كنت الأخير زمانه … لآت بما لم تستطعه الأوائل

ظفر المجتمع العلمي في دمشق بهذه الرسالة فأكبرها وبادر إلى طبعها ورغب إلي أن أتولى تحقيقها وضبطها وشرح الغامض منها ليسهل الانتفاع بها لكل من أراد فنزلت عند رغبته واستفرغت المجهود في تصحيحها وتنقيحها وإيضاح المغلق منها وربما لجأت إلى إيراد البحث كاملًا أو إلى تحرير المسألة بفروعها وفروقها ليتأتى فهم ما في الرسالة من ذلك. وقد صادفت عناء في تحقيق بعض الكلمات لأن
- ফ -

 

যে উদ্দেশ্যে তিনি এটি অবতারণা করেছেন, তারপর দ্বিতীয় শব্দটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং এর মূল রূপ বা ছন্দ-কাঠামো (ওজন) নিয়ে গবেষণা করেন। এরপর পুনরায় মূল শব্দটিতে ফিরে আসেন এবং এর জন্য অন্য একটি ওজন উল্লেখ করেন অথবা শব্দটির প্রতিটি সম্ভাব্য অর্থের নিরিখে এর বুৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করেন।

গভীর মনোযোগী পাঠকের কাছে তাঁর এই বক্তব্যে কোনো কৃত্রিম সংক্ষিপ্ততা বা বিচ্ছিন্নতা প্রকাশ পায় না এবং উপমায় কোনো বিশৃঙ্খলা কিংবা শৈলীতে কোনো জড়তা অনুভূত হয় না।

১১ - উদ্ভাবনী প্রতিভা। আবু আল-আলার এমন কোনো কর্ম পাওয়া দুষ্কর যেখানে তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তির ছাপ নেই। কেননা, এই পত্রে তিনি কবিতার চরণকে 'কাদির', 'ফাতিহ', 'ওয়াসিত' এবং 'খাতিম'—এই কয়টি ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রতিটি চরণের অর্থ হয় তার নিজের মধ্যেই পূর্ণ হয়, অথবা তার পরের চরণে, অথবা আগের চরণে, কিংবা উভয় চরণে পূর্ণ হয়। আবু আল-আলা ব্যতীত অন্য কারও নিকট আমি এই রূপ বিভাজন দেখিনি।

সারকথা হলো, মানুষ এই পত্র এবং এর লেখকের বর্ণনায় যতই দীর্ঘ আলোচনা করুক না কেন, কোনোটিরই যথাযোগ্য হক আদায় করতে সক্ষম হবে না। কোনো মানুষের পক্ষেই এই দুটির প্রকৃত মাহাত্ম্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সে এই পত্রের প্রতিটি বাক্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে। তখনই তার নিকট স্পষ্ট হবে এই পত্রটি আসলে কী এবং আবু আল-আলা কে ছিলেন; আর সে জানতে পারবে যে তিনি সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন:

যদিও আমি সময়ের বিচারে সবার শেষে এসেছি... তবুও আমি এমন কিছু নিয়ে আসব যা পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হয়নি।

দামেস্কের বিদগ্ধ সমাজ এই পত্রটি লাভ করে একে উচ্চমর্যাদা প্রদান করেছেন এবং দ্রুত এটি মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরা আমার নিকট এই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন যেন আমি এর তাহকিক (গবেষণামূলক সম্পাদনা), যথাযথ বিন্যাস এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব গ্রহণ করি, যাতে আগ্রহী ব্যক্তিমাত্রই তা থেকে সহজে উপকৃত হতে পারে। আমি তাঁদের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছি এবং এর সংশোধন, পরিমার্জন ও জটিল বিষয়সমূহ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। কখনো কখনো আমি পূর্ণাঙ্গ গবেষণালব্ধ আলোচনা উপস্থাপন করেছি অথবা কোনো মাসআলাকে তার শাখা-প্রশাখা ও পার্থক্যসমূহসহ বিশ্লেষণ করেছি যাতে পত্রে বর্ণিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হয়। কিছু শব্দের তাহকিক করতে গিয়ে আমি বেশ ক্লেশ স্বীকার করেছি, কারণ...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১৮)
- ق -

 

فيها كثيراً من الألفاظ التي أهمل نقطها وكثيراً من المواطن التي يشتبه فيها حرف بحرف وأكثر ما يكون ذلك بين الكاف واللام لأن كاتبها يهمل الخط الذي يفرق بينهما، ويجعل الضمة علامة السكون ويضع فوق حرف اللين الساكن ضمة علامة على سكونه ونحو ذلك مما يورث الإبهام والشبهة. وقد تألب عليَّ في هذا العمل ضيق الوقت الذي حدد لإنجازه وفقدان مرجع الجأ إليه للمقابلة والتصحيح وانفرادي بالعمل وكثرة أعمالي الخاصة. فاضطررت إلى الإيجاز في بعض المواطن وإلى إهمال القول في بعض آخر وإلى إغفال تراجم بعض الرجال وربما تكرر القول في غير موضع ولم تسلم الرسالة من الهفوات التي تقتضيها العجلة ويوجبها كل واحد مما ذكرنا. وقد بينا بعض ذلك في آخر الرسالة وسنضيف إليه ما فاتنا في كلمة ننشرها في مجلة المجمع.

وبعد كل ما تقدم فإن الأدب العربي مدين للمجمع العلمي في دمشق لطبعه هذا الأثر الجليل وإخراجه للناس في اليوم الذي يحتفلون فيه بأبي العلاء لمرور ألف سنة على ميلاده.

وإني لأرجو ممن وقف على خطأ أو سهو في هذه الرسالة أن ينبهني عليه فأكون له من الشاكرين.

 

محمد سليم الجندي

عضو المجمع العلمي العربي في دمشق
- ক -

 

এতে এমন অনেক শব্দ রয়েছে যেগুলোর নুকতা (বিন্দু) বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এমন অনেক স্থান রয়েছে যেখানে এক বর্ণ অন্য বর্ণের সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এর অধিকাংশ ঘটে থাকে 'কাফ' এবং 'লাম'-এর মধ্যে, কারণ এর লেখক এই দুটির মধ্যে পার্থক্যকারী রেখাটি দিতে অবহেলা করেছেন। তিনি পেশকে (যম্মাহ) সুকূনের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করেন এবং সুকূনযুক্ত হারফে লিনের ওপর তার সুকূনের চিহ্ন হিসেবে পেশ প্রদান করেন। এই জাতীয় আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা অস্পষ্টতা ও সংশয় সৃষ্টি করে। এই কাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের স্বল্পতা, পাণ্ডুলিপি মেলানো ও সংশোধনের জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভাব, একাকী কাজ করা এবং আমার ব্যক্তিগত কাজের আধিক্য—সবকিছুই আমার প্রতিকূলে ছিল। ফলে আমি কিছু স্থানে সংক্ষেপ করতে, কিছু স্থানে আলোচনা বাদ দিতে এবং কিছু ব্যক্তির জীবনী এড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। সম্ভবত কিছু কথা একাধিক স্থানে পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং এই পুস্তিকাটি সেই সব ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত নয় যা তাড়াহুড়োর কারণে এবং উপরে উল্লিখিত প্রতিটি কারণে ঘটে থাকে। আমি এর কিছু অংশ পুস্তিকার শেষে বর্ণনা করেছি এবং যা বাদ পড়েছে তা একাডেমির সাময়িকীতে প্রকাশিতব্য একটি প্রবন্ধে যুক্ত করব।

পরিশেষে, আরবি সাহিত্য দামেস্কের বৈজ্ঞানিক একাডেমির কাছে ঋণী এই মহান নিদর্শনটি মুদ্রণ করার জন্য এবং এমন দিনে মানুষের সামনে তা উপস্থাপন করার জন্য যখন তারা আবুল আলার জন্মের এক হাজার বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করছে।

আমি আশা করি, যে ব্যক্তি এই পুস্তিকায় কোনো ভুল বা বিচ্যুতি লক্ষ্য করবেন, তিনি আমাকে সে বিষয়ে অবহিত করবেন; আমি তার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব।

 

মুহাম্মদ সালিম আল-জুন্দি

দামেস্কের আরবি বৈজ্ঞানিক একাডেমির সদস্য
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: -)
رسالة الملائكة - ت الجندي   (أبو العلاء المعري)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: رسالة الملائكة

أملاه: أبو العلاء أحمد بن عبد الله بن سليمان التنوخي المعري [ت 449 هـ]

عني بتحقيقه وشرحه وضبطه ومعارضته: محمد سليم الجندي [1881 - 1955 م] (عضو المجمع العلمي العربي في دمشق)

الناشر: المجمع العلمي العربي بدمشق، 1363 هـ - 1944 م

(طبع بمناسبة المهرجان الذي أقامه المجمع لمرور ألف سنة على مولد أبي العلاء)

طَبْع: مطبعة الترقي بدمشق

وصوَّرته: دار صادر - بيروت، 1412 هـ - 1992 م، بإذن من المجمع العلمي العربي بدمشق

عدد الصفحات: 309

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

রিসালাতুল মালাইকা - আল-জুন্দির তাহকীক   (আবু আল-আলা আল-মাআররি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: রিসালাতুল মালাইকা

শ্রুতলিপি দিয়েছেন: আবু আল-আলা আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আত-তানুখি আল-মাআররি [মৃত্যু ৪৪৯ হিজরি]

সম্পাদনা, ব্যাখ্যা, বিন্যাস ও পর্যালোচনায়: মুহাম্মদ সালিম আল-জুন্দি [১৮৮১ - ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ] (দামেস্কের আরবি সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য)

প্রকাশক: দামেস্কের আরবি সায়েন্টিফিক একাডেমি, ১৩৬৩ হিজরি - ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ

(আবু আল-আলার জন্মের এক হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত উৎসব উপলক্ষে মুদ্রিত)

মুদ্রণ: আত-তারাঙ্কি প্রেস, দামেস্ক

পুনঃমুদ্রণ: দার সাদির - বৈরুত, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ, দামেস্কের আরবি সায়েন্টিফিক একাডেমির অনুমতিসাপেক্ষে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৯

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতা আন-নুসসাখ দল (মারকাজ আল-নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

وما توفيقي إلا بالله

قال(1) أبو العلاء أحمد بن عبد الله بن سليمان التنوخي الحمد لله رب العالمين وصلواته على سيدنا محمد وعترته المنتخبين، ديانة مولاي الشيخ أدام الله عزه وسلم جسده ونفسه تبعث من سمع بذكره على الشوق إلى حضرته، فإذا أضيف إليها علمه وأدبه همَّ أن يطير بالمشتاق أربه(2) وليس مولاي الشيخ بأول رائد(3) ظعن إلى الأرض العازبة(4) فوجدها من النبات قفرًا ولا بآخر شائم(5) ظنَّ الخير بالسحابة فكانت من قطر صفرًا(6) وقد شهر بالفضل وسمه والمعرفة به اسمه جاءتني من فوائد

--------------------------------------------

(1) في النسخة الروسية. أول الرسالة الحمد لله البديع في جلاله وجماله والصلاة والسلام على سيدنا محمد وصحبه وآله وبعد فقد قال أبو الفضل مؤيد بن موفق الصاحبي في كتاب الحكم البوالغ في شرح الكلم النوابغ رسالة الملائكة ألفها أبو العلاء المعري على جواب مسائل تصريفية ألقاها إليه بعض الطلبة فأجال عنها بهذا الطريق الظريف المشتمل على الفوائد الأنيقة مع صورتها المستغربة الرشيقة

بسم الله الرحمن الرحيم وليس مولاي الشيخ بأول رائد …

وفي نسختي مصر أولها. قال أبو الفضل المؤيد بن الموفق ..

(2) الأرب الحاجة والكلف بالشيء

(3) الرائد الذي يتقدم القوم يبصر لهم الكلأ ومساقط الغيث.

(4) البعيدة وفي ر العارية.

(5) شام السحاب والبرق نظر إليه أين يمطر.

(6) خاليًا والجملتان اللتان بعدها ليستا في غير هذه النسخة ..
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই।

আবুল আলা আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলায়মান আত-তানুখি বলেছেন(১): সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর মনোনীত বংশধরদের উপর। আমার অভিভাবক শায়খের দীনদারী—আল্লাহ তাঁর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখুন এবং তাঁর দেহ ও প্রাণকে নিরাপদ রাখুন—তাঁর কথা যে শোনে, তার মনে তাঁর সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা জাগিয়ে তোলে। যখন এর সাথে তাঁর জ্ঞান ও শিষ্টাচার যুক্ত হয়, তখন সেই ব্যাকুল ব্যক্তির অভিপ্রায় তাকে যেন উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়।(২) আমার অভিভাবক শায়খই প্রথম সেই পথপ্রদর্শক(৩) নন, যিনি কোনো নির্জন ভূমির(৪) দিকে যাত্রা করেছেন অথচ সেখানে কোনো উদ্ভিদ পাননি। আর তিনি শেষ সেই মেঘ-পর্যবেক্ষক(৫) নন, যিনি মেঘ দেখে কল্যাণের আশা করেছিলেন অথচ তা ছিল বারিবিন্দুহীন শূন্য।(৬) তাঁর বৈশিষ্ট্য শ্রেষ্ঠত্বের দ্বারা এবং তাঁর নাম প্রজ্ঞার দ্বারা সুপরিচিত হয়েছে। আমার কাছে নিহিত নানাবিধ উপকার থেকে এসেছে...

--------------------------------------------

(১) রাশিয়ান পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: পত্রের শুরুতে—সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর মহিমা ও সৌন্দর্যে অপূর্ব, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের উপর। অতঃপর আবুল ফজল মুায়্যাদ বিন মুয়াফফাক আস-সাহেবি ‘আল-হিকাম আল-বাওয়ালিগ ফি শারহিল কালিম আন-নাওয়াবিগ’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘রিসালাতুল মালাইকাহ’ আবুল আলা আল-মাআররি রচনা করেছেন শব্দরূপান্তর বিষয়ক কিছু প্রশ্নের উত্তরে যা জনৈক ছাত্র তাঁর কাছে পেশ করেছিল। তিনি এর উত্তর দিয়েছেন এমন এক চমত্কার পদ্ধতিতে যা বিরল ও লাবণ্যময় অবয়বের সাথে সূক্ষ্ম চমৎকারিতা ও উপকারসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমার অভিভাবক শায়খই প্রথম সেই পথপ্রদর্শক নন ...

মিশরের দুটি পাণ্ডুলিপিতে এর শুরু হয়েছে এভাবে: আবুল ফজল আল-মুায়্যাদ বিন আল-মুয়াফফাক বলেছেন ...

(২) ‘আরাব’ অর্থ হলো প্রয়োজন এবং কোনো বিষয়ের প্রতি অনুরাগ বা আসক্তি।

(৩) ‘রায়েদ’ হলো সেই ব্যক্তি যে দলের অগ্রবর্তী হয়ে তাদের জন্য চারণভূমি ও বৃষ্টিপাতের স্থান খুঁজে বেড়ায়।

(৪) দূরবর্তী; আর রাশিয়ান পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে ‘বৃক্ষহীন’।

(৫) মেঘ ও বিজলির দিকে তাকিয়ে দেখা যে কোথায় বৃষ্টি হবে।

(৬) শূন্য; আর এর পরবর্তী বাক্য দুটি এই পাণ্ডুলিপি ছাড়া অন্য কোথাও নেই।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ২)
كأنها في الحسن بنات مخرٍ(1) فأنشأتُ متمثلًا ببيت صخر(2):

لعمري لقد نبهت من كان نائمًا … وأسمعت من كانت له أذانان

إن الله يُسمع من يشاء وما أنت بمسمعٍ من في القبور أولئك ينادون من كان بعيد. وكنت في غيسان(3) الشبيبة أود أنني من أهل العلم فشجنتني عنه شواجن(4) غادرتني مثل الكرة وهي المحاجن(5) فالآن مشيت رويدًا وتركت عمرًا للضارب وزيدًا وما أوثر أن يزاد في صحيفتي خطأ فيخلُد آمنًا من المحو وإذا صدق فجر اللمة(6) فلا عذر لصاحبها في الكذب ومن لمعذب العطش بالعذب(7) وصدق الشعر

--------------------------------------------

(1) بنات مخر سحائب يأتين قبل الصيف منتصبات رقاق بيض حسان.

(2) صخر بن عمرو بن الشريد أخو الخنساء لأبيها كان شاعرًا شجاعًا فلما مات رثته أخته بقصائد كثيرة حتى ضرب بها المثل لأنه كان يحسن إليها أكثر من شقيقها معاوية.

(3) أي حدتها ونعمتها وفي بقية النسخ في عنفوان. أي أول ..

(4) شجنه عن الشيء حبسه وفي بقية النسخ سواجن أي حبستئي والأولى أولى لأن سجن تتعدى بنفسها.

(5) الكرة في الأصل ما أدرت من شيء والتي تضرب بها الكرة على الدواب والمحجن العصا التي أعوج طرفها خلقة في شجرتها وكل معطوف معوج ومحجنة وفي ر وهن المحاجن وفي م رهن المحاجن.

(6) اللمة الشعر إذا ألم بالمنكب يريد إذا ظهر الشيب باللمة.

(7) ضبط هنا المعذب بكسر الذال والعذب بسكونها وفي النسخ بفتحها في الأول وكسرها في الثاني وفسره م بالماء الكدر والأولى الفتح في معذب والسكون في العذب والمعنى من يأتي لمن يعذبه العطش بالماء العذب أي الطيب المستساغ وهذا التركيب يستعمل في استبعاد الشيء كما يقال من لي بالشيبة في الهرم ومن لي بالضحى في الأصيل.
সেগুলো সৌন্দর্যে যেন শুভ্র মেঘমালা(১), তাই আমি সাখরের পঙক্তি দ্বারা উদাহরণ দিয়ে বললাম(২):

আমার জীবনের কসম! তুমি তাকে জাগিয়েছ যে ঘুমিয়ে ছিল … আর তুমি তাকে শুনিয়েছ যার শ্রবণশক্তি রয়েছে।

নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শোনান, আর আপনি কবরে শায়িতদের শোনাতে সক্ষম নন; তারা সেই সকল লোক যাদের দূর থেকে ডাকা হয়। আমি যখন যৌবনের উদ্যমে(৩) ছিলাম, তখন আমি কামনা করতাম যে আমি যেন ইলমের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি। কিন্তু বিবিধ প্রতিবন্ধকতা(৪) আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছে এবং আমাকে বলের মতো করে ছেড়ে দিয়েছে যাকে বাঁকা লাঠি(৫) দিয়ে আঘাত করা হয়। এখন আমি ধীরপদে চলছি এবং আমর ও যায়দকে তাদের প্রহারকারীর জন্য ছেড়ে দিয়েছি। আমি চাই না যে আমার আমলনামায় কোনো ভুল বৃদ্ধি হোক যা মুছে যাওয়া থেকে নিরাপদ হয়ে স্থায়ী হয়ে যাবে। আর যখন চুলে বার্ধক্যের শুভ্রতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে(৬), তখন তার অধিকারীর জন্য মিথ্যা বলার আর কোনো অজুহাত থাকে না। পিপাসায় কাতর ব্যক্তিকে কে সুপেয় পানি পান করাবে(৭)? আর কবির কথা সত্য হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) বানাতু মাখ্র: এমন মেঘমালা যা গ্রীষ্মের আগমনের পূর্বে দেখা যায়; এগুলো খাড়া, পাতলা, সাদা ও সুন্দর।

(২) সাখর ইবনে আমর ইবনে আশ-শারীদ: কবি খানসার পিতৃব্য ভ্রাতা। তিনি একজন বীর কবি ছিলেন। তিনি যখন মারা যান, তখন তাঁর বোন তাঁর স্মরণে অসংখ্য শোকগাথা রচনা করেন, যা প্রবাদে পরিণত হয়েছে। কারণ, তিনি তাঁর আপন ভাই মুয়াবিয়ার চেয়েও খানসার প্রতি অধিক সদাচরণ করতেন।

(৩) অর্থাৎ তার তীব্রতা ও সজীবতা। অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে 'উনফুওয়ান' বা 'সূচনালগ্ন' শব্দ রয়েছে।

(৪) 'শাজানাহু' অর্থ তাকে কোনো কিছু থেকে আটকে রাখা। অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে 'সাওয়াজিন' রয়েছে যার অর্থ 'আটকে রাখা'। তবে প্রথমটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য, কারণ 'সাজানা' ক্রিয়াটি সরাসরি কর্মপদ গ্রহণ করে।

(৫) 'কুরাহ' বা বল মূলত গোলাকার বস্তুকে বলা হয়, যা ঘোড়ায় চড়ে খেলার সময় ব্যবহার করা হয়। আর 'মিহজান' হলো এমন লাঠি যার অগ্রভাগ প্রাকৃতিকভাবেই বাঁকানো; বাঁকানো বা মোচড়ানো প্রতিটি বস্তুকেই 'মিহজান' বলা হয়। বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে এর পাঠান্তরে ভিন্নতা রয়েছে।

(৬) 'লিমানাহ' হলো সেই চুল যা কাঁধ স্পর্শ করে; এর দ্বারা উদ্দেশ্য যখন চুলে বার্ধক্যের শুভ্রতা প্রকাশ পায়।

(৭) এখানে 'মুয়াযযিব' শব্দটি যাল বর্ণের নিচে কাসরা (যের) এবং 'আযব' শব্দটি সুকুন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে প্রথমটি ফাতহা (যবর) এবং দ্বিতীয়টি কাসরা যোগে বর্ণিত হয়েছে। পাণ্ডুলিপি 'মীম'-এ এর ব্যাখ্যায় 'ঘোলা পানি' বলা হয়েছে। তবে প্রথম শব্দটিতে ফাতহা এবং দ্বিতীয়টিতে সুকুন হওয়াই উত্তম। এর অর্থ হলো: পিপাসায় কাতর ব্যক্তিকে কে সুমিষ্ট বা সুপেয় পানি এনে দিবে? এই বাক্যরীতি কোনো কিছুর অসম্ভাব্যতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৩)
في المفرق يوجب صدق الإنسان الفرق(1) وكون الحالية بلا خرصٍ(2) أجمل بها من التخرص وقيام النادبة بالمعاذب(3) أحسن بالرجل من أقوال(4) الكاذب وهو أدام الله الجمال به يلزمه البحث عن غوامض الأشياء لأنه يُعتمد بسؤال رائح وغاد. وحاضر يرجو الفائدة وبادٍ فلا غرو إن كشف عن حقائق التصريف واحتج للنكرة وللتعريف(5) وتكلم في(6) همز وإدغام وأزال الشبه من(7) صدور الطغام فاما أنا فجلس(8) البيت إلا أكن(9) الميت لو أُعرضت إلى غربة عن النعيب إعراضي عن الأدب والأديب لأصبحت لا تحسن نعيبًا ولا يطيق هرمِها زعيبًا(10)، ولما وافى شيخنا أبو القسم علي بن محمد همام(11) بتلك

--------------------------------------------

(1) المفرق وسط الرأس الذي يفرق فيه الشعر والفرق الخائف.

(2) الخرص بالضم والكسر القرط بحبة واحدة وقيل الحلقة من الذهب والفضة والتخرص الكذب.

(3) المعاذب جمع معذبة على القياس وهي عذبة على غير القياس والمعذبة والعذبة والمثلاة خرقة تمسكها النائحة عند النوح وفي بقية النسخ بالمنادب وهي من ندب الميت إذا عدد محاسنه والمعاذب أولى لرعاية لزوم ما لا يلزم.

(4) في م القول الكاذب.

(5) في م للتنكير والتعريف.

(6) في م على همز.

(7) في النسخ عن صدور والطغام م أرذال الناس.

(8) حلس البيت ما يبسط تحت حر المتاع وفلان حلس بيته إذا لم يبرحه وهو ذم أي أنه لا يصلح إلا للزوم البيت وفي المثل صار حلس بيته إذا لزمه لزومًا بليغًا وفي حديث أبي بكر (ض) في فتنة ذكرها كن حلس بيتك حتى تأتيك يد خاطئة أو منية قاضية. يأمره بلزوم بيته.

(9) في النسخ إن لم أكن.

(10) النعيب والزعيب بمعنى واحد وهو صوت الغراب وفي ر وم لا تحص نعيبًا.

(11) في النسخ شيخنا أبو فلان بتلك ....
সিঁথিতে মানুষের সত্যবাদিতা ভয়কে(১) আবশ্যক করে এবং কোনো দুল ছাড়া অলঙ্কার পরিহিতা হওয়া মিথ্যাচারের(২) চেয়ে অধিকতর সুন্দর। আর বিলাপকারিণী নারীর বিলাপের কাপড় নিয়ে(৩) দাঁড়িয়ে থাকা একজন পুরুষের জন্য মিথ্যাবাদীর কথার(৪) চেয়ে অধিকতর উত্তম। আর তিনি—আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে সৌন্দর্যকে স্থায়ী করুন—তাঁর জন্য বিষয়সমূহের গূঢ় রহস্য নিয়ে অনুসন্ধান করা আবশ্যক, কারণ সকাল ও সন্ধ্যায় আগত প্রশ্নকারী এবং উপকার প্রত্যাশী উপস্থিত ও মরুবাসীরা তাঁর ওপরই নির্ভর করে। অতএব তিনি যদি শব্দরূপান্তরের নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন করেন এবং অনির্দিষ্ট ও নির্দিষ্ট বিশেষ্যের(৫) স্বপক্ষে যুক্তি পেশ করেন, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তিনি হামযা ও ইদগাম (সংযোজন) বিষয়ে(৬) আলোচনা করেছেন এবং ইতর লোকদের(৭) অন্তর থেকে সংশয় দূর করেছেন। পক্ষান্তরে আমি তো ঘরের কোণে পড়ে থাকা মাদুর মাত্র(৮), যদি না(৯) আমি মৃত হয়ে থাকি। আমি যদি সাহিত্যের ডাক ও সাহিত্যিকদের থেকে বিমুখ হওয়ার মতো কাকের ডাক থেকে বিমুখ হয়ে প্রবাসে নিক্ষিপ্ত হতাম, তবে সে (কাক) আর সুললিত ডাক ডাকতে পারত না এবং তার বার্ধক্য চিৎকার সহ্য করতে পারত না(১০)। আর যখন আমাদের শাইখ আবুল কাসিম আলী বিন মুহাম্মদ হাম্মাম(১১) সেগুলো নিয়ে উপস্থিত হলেন...

--------------------------------------------

(১) 'মাফরিক' হলো মাথার মধ্যভাগ যেখানে চুল বিভক্ত করা হয়, আর 'ফারক' অর্থ ভীত ব্যক্তি।

(২) 'খুরস' বা 'খিরস' হলো এক দানা বিশিষ্ট কানের দুল; কেউ কেউ বলেছেন এটি সোনা বা রুপার রিং। আর 'তাখাররুস' অর্থ মিথ্যাচার।

(৩) 'মাআযিব' হলো নিয়ম অনুযায়ী 'মুআযিবাহ'-এর বহুবচন, আর নিয়ম বহির্ভূতভাবে এটি 'আযাবাহ'-এর বহুবচন। 'মুআযিবাহ', 'আযাবাহ' এবং 'মিসলাত' হলো সেই নেকড়া যা বিলাপকারিণী নারী বিলাপের সময় ধরে রাখে। অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে 'মানাদিব' শব্দ এসেছে, যা 'নাদাবাল মাইয়্যেত' থেকে উদ্গত, যার অর্থ মৃত ব্যক্তির গুণাবলি বর্ণনা করা। তবে ছন্দমিল বজায় রাখার খাতিরে 'মাআযিব' শব্দটির ব্যবহারই অধিকতর উত্তম।

(৪) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: মিথ্যা উক্তি।

(৫) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: অনির্দিষ্টকরণ ও নির্দিষ্টকরণের জন্য।

(৬) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: হামযার ওপর।

(৭) পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে 'অন্তর থেকে'; আর 'তাগাম' বলতে সমাজের নিকৃষ্ট ইতর লোকদের বোঝানো হয়েছে।

(৮) 'হিলসুল বাইত' হলো ঘরের আসবাবপত্রের নিচে বিছানো চট বা মাদুর। কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের না হলে তাকে 'হিলসু বাইতিহি' বলা হয়; এটি একটি নেতিবাচক বিশেষণ অর্থাৎ সে ঘর আঁকড়ে থাকা ছাড়া আর কিছুর যোগ্য নয়। প্রবাদে আছে: "সে তার ঘরের মাদুর হয়ে গেছে", যখন কেউ ঘরের সাথে ওতপ্রোতভাবে লেগে থাকে। আবু বকর (রা.)-এর বর্ণিত একটি হাদিসে ফিতনার বর্ণনায় এসেছে: "তুমি তোমার ঘরের মাদুর হয়ে থেকো যতক্ষণ না কোনো অন্যায় হাত বা অবধারিত মৃত্যু তোমার কাছে আসে।" এখানে তাকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

(৯) পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে: যদি না আমি হই।

(১০) 'নাঈব' এবং 'যাঈব' একই অর্থবোধক, যার অর্থ কাকের ডাক। 'র' এবং 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: সে ডাক বুঝতে পারত না।

(১১) পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে: আমাদের শাইখ অমুক ব্যক্তি সেগুলো নিয়ে....
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৪)
المسائل ألفيتها في اللذة كأنها الراح يستفزُّ من سمعها المراح(1) فكانت(2) الصهباء الجرجانية طُرق بها عميد كفر بعد ميل الجوزاء وسقوط الغفر وكان عليَّ يحياها(3) جلب(4) إلينا الشمس وإياها فلما جُلبت الهديّ(5) ذكرت ما قال الأسدي(6):

--------------------------------------------

(1) المراح شدة الفرح والنشاط حتى يجاوز قدره.

(2) في النسخ وكانت والصهباء الخمر أو المعصورة من عنب أبيض والجرجانية نسبة إلى جرجان مدينة عظيمة بين طبرستان وخراسان نسب إليها الخمر وطرق أتي ليلًا والعميد السيد والكفر القرية والجوزاء نجم يعترض في جوز السماء. وبرج. والغفر ثلاثة أنجم صغار من الميزان وهو من منازل القمر.

(3) في م. عليّ يجباها وفي ر كان على محياها. ولا يبعد أن يكون الأصل وكان عليّ يجباها أي بجمعها من جبا الماء في الحوض جبًّا وجبًّاز جمعه أو يجناها من جني الثمرة جني تناولها أو من جني الذهب جمعه من معدنه.

(4) في ك جليت وأيا الشمس ضؤوها وحسنها.

(5) كذا في ر وفي ك حلت الندي ولم ترد هذه الجملة في م وفي جليت المقدي ومقد قربة في الشام ينسب إليها الخمر والهديّ العروس وجليت عرضت مجلوة والندي المجلس ما داموا مجتمعين فيه كالنادي.

(6) هو الأقيشر واسمه المغيرة بن عبد الله بن معرض بن أسد ن جزيمة ويكنى أبا معرض كان شاعرًا كوفيًّا ماجنًا مدمن الخمر قبيح المنظر توفي سنة 80 للهجرة والبيت الأول أورده ابن قتيبة في الشعر والشعراء من خمسة أبيات وروايته ويحك والخمر ورواهما ياقوت في سبعة أبيات كان أهل الكوفة يقولون من لم يروها فإنه ناقص المروءة وأولها:

وصهباء جرجانية لم يطف بها … حنيف ولم ينفر بها ساعة قدر

وروايته ويحك الخمر .... تعففت عنها في العصور … بعد ما كمل العمر وويب كلمة مثل ويل. وتجاللت ترفعت وكلأ العمر انتهى ورواه في السان. تعففت .. العصور التي خلت .. وفي الأساس تعففت .. السنين التي خلت. ولم يعزواه إلى أحد.
আমি এই মাসয়ালাসমূহকে (জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়াদি) স্বাদে এমন পেয়েছি যেন তা শরাব, যার কথা শ্রবণকারীকে প্রচণ্ড আনন্দ ও উদ্দীপনায় বিমোহিত করে তোলে(১)। এটি ছিল জুরজানি শরাবের মতো, যা মিথুন রাশির ঢলে পড়া এবং গাফর নক্ষত্রের অস্তমিত হওয়ার পর রাতের বেলা এক জনপদের নেতার কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল। আমার জন্য তা নিয়ে আসা হয়েছিল(৩) যা আমাদের কাছে সূর্য ও তার ঔজ্জ্বল্যকে বহন করে এনেছিল(৪)। যখন কনের ন্যায় সেই উপহার সুসজ্জিত অবস্থায় পেশ করা হলো(৫), তখন আসাদি যা বলেছিলেন তা আমার মনে পড়ে গেল(৬):

--------------------------------------------

(১) ‘আল-মুরাহ’ হলো আনন্দের আতিশয্য ও প্রাণবন্ততা যা সীমার বাইরে চলে যায়।

(২) পাণ্ডুলিপিসম্মূহে ‘ওয়াকানাত’ (এবং ছিল) রয়েছে। ‘আস-সাহবা’ অর্থ শরাব বা সাদা আঙুর থেকে নিংড়ানো রস। ‘আল-জুরজানিয়া’ হলো জুরজানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা তাবারস্তান ও খোরাসানের মধ্যবর্তী একটি বিশাল শহর, যার দিকে শরাবকে সম্বন্ধ করা হয়। ‘তুরাকা’ অর্থ রাতে আসা। ‘আল-আমীদ’ অর্থ নেতা বা প্রধান। ‘আল-কাফর’ অর্থ গ্রাম। ‘আল-জাওজা’ হলো আকাশের মাঝখানে উদিত একটি নক্ষত্র এবং একটি রাশি (মিথুন)। ‘আল-গাফর’ হলো তুলা রাশির তিনটি ছোট নক্ষত্র যা চাঁদের অন্যতম একটি মঞ্জিল বা অবস্থান।

(৩) ‘ম’ পাণ্ডুলিপিতে আছে ‘আলাইয়্যা ইয়াজবাহা’ এবং ‘রা’ পাণ্ডুলিপিতে আছে ‘কানা আলা মুহইয়াহা’। এটি অসম্ভব নয় যে মূল পাঠটি ছিল ‘আলাইয়্যা ইয়াজবাহা’, অর্থাৎ তিনি তা সংগ্রহ করতেন; যেমন হাউজে পানি একত্রিত করাকে ‘জাবা’ বলা হয়। অথবা এটি ‘ইয়াজনিহা’ হতে পারে যা ফল আহরণ করা (জানিউস সামারাহ) বা খনি থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করা থেকে উদ্ভূত।

(৪) ‘কাফ’ পাণ্ডুলিপিতে ‘জুলিয়াত’ রয়েছে। ‘আইয়্যাশ শামস’ অর্থ সূর্যের আলো ও তার সৌন্দর্য।

(৫) ‘রা’ পাণ্ডুলিপিতে এরূপ আছে। ‘কাফ’ পাণ্ডুলিপিতে আছে ‘হাল্লাত আন-নাদি’। ‘মা’ পাণ্ডুলিপিতে এই বাক্যটি নেই। অন্য বর্ণনায় রয়েছে ‘জুলিয়াত আল-মাকদি’; ‘মাকদ’ হলো সিরিয়ার একটি জনপদ যার দিকে শরাবকে সম্বন্ধ করা হয়। ‘আল-হাদি’ অর্থ কনে। ‘জুলিয়াত’ অর্থ সুসজ্জিত অবস্থায় প্রদর্শন করা। ‘আন-নাদি’ হলো মজলিস যতক্ষণ তারা সেখানে সমবেত থাকে।

(৬) তিনি হলেন আল-উকাশির, তার নাম মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মা’রাদ ইবনে আসাদ বিন খুযাইমা, তার উপনাম আবু মা’রাদ। তিনি কুফার একজন বেপরোয়া কবি ও মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তি ছিলেন এবং দেখতে কুৎসিত ছিলেন। তিনি হিজরি ৮০ সনে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে কুতায়বা ‘আশ-শির ওয়াশ শুয়ারা’ গ্রন্থে পাঁচটি চরণের মধ্যে প্রথম চরণটি উল্লেখ করেছেন এবং তার বর্ণনা হলো ‘ওয়াইহাকা ওয়াল খামর’। ইয়াকুত সাতটি চরণে এটি বর্ণনা করেছেন। কুফাবাসীরা বলত, যে ব্যক্তি এটি বর্ণনা করবে না তার পৌরুষ অপূর্ণ। এর প্রারম্ভিক অংশ হলো:

এমন এক জুরজানি শরাব যার চারপাশ কোনো একত্ববাদী (হানিফ) প্রদক্ষিণ করেনি এবং কোনো পাত্র সেখানে মুহূর্তের জন্য রাখা হয়নি... …

তার বর্ণনা হলো ‘ওয়াইহাকা আল-খামর... আমি তা থেকে বিরত থেকেছি যুগে যুগে... বয়স পূর্ণ হওয়ার পর।’ ‘ওয়াইব’ শব্দটি ‘ওয়াইল’ (আফসোস) এর মতো। ‘তাজাল্লালতু’ অর্থ আমি নিজেকে ঊর্ধ্বে তুলেছি। ‘কালা আল-উমর’ অর্থ বয়স শেষ হওয়া। লিসানুল আরব-এ বর্ণিত হয়েছে ‘বিগত যুগে আমি বিরত থেকেছি’। আসাসুল বালাগা-তে রয়েছে ‘বিগত বছরগুলোতে আমি বিরত থেকেছি’। তারা এটি কারো দিকে সম্বন্ধ করেননি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৫)
فقلت اصطحبها أو لغيري فأهدها … فما أنا بعد الشيب ويبك والخمر

تجاللك عنها في السنين التي مضت … فكيف التصابي بعدما كلأ العمر

وما رغبتي في كوني كبعض الـ … كروان(1) تكلم في الخطب جرى

والظليم يسمع ويرى فقال الأخنس أو الفرا(2) اطرق كرا اطرق كرا أن النعام في القرى وحق لمثلي(3) ألا يسأل فإن سئل تعين عليه ألا يجيب فإن أجاب ففرض على السامع ألا يسمع منه فإن خالف باستماعه ففريضة ألا يكتب ما يقول فإن كتبه فواجب ألا ينظر فيه فإن نظر فيه(4) فقد خبط في عشواء وقد بلغتُ سن الأشياخ وما حار(5) بيدي نفع من هذا الهذيان والظعن إلى الآخرة قريب أفتراني أُدافع ملك النفوس(6) فأقول أصل ملك مألك وإنما أخذ من الألوكة وهي الرسالة ثم قلب ويدلنا على ذلك قولهم

--------------------------------------------

(1) الكروان بفتحتين طائر قيل هو الحجل وقيل غيره والجمع كروان بالكسر فالسكون والذكر منه كرَا وفي م في خطب والظليم ذكر النعام.

(2) الأخنس الثور من بقر الوحش والظبي. والفرـ حمار الوحش ولما سكنت همزته في الوقف أبدلت ألفًا. وفي بقية النسخ فقال الأخفش أو الفرا والأولى أليق بالمقام أطرق سكت. وأطرق أرخى عينه ينظر إلى الأرض وهذا مثل يضرب للرجل يتكلم وليس عنده غناء فيقال له اسكت وتوق انتشار ما تلفظ به كراهة ما يتعقبه فيشبه الكروان بالذليل والنعام بالأعزة والمعنى اسكن أو اسكت عند وجود من هو أعز منك. وقيل كرا مرخم كروان وفي م أطرق كرا مرة واحدة وفي الجميع أن النعامة.

(3) في م مثلي.

(4) في م بدون فيه. خبط خبط عشواء.

(5) حار رجع وفي ر جاز والهذيان كلام غير معقول.

(6) في الجميع ملك الموت.
আমি বললাম, তুমি একে নিজের কাছে রাখো অথবা অন্য কাউকে উপহার দাও... তোমার বিনাশ হোক, বার্ধক্যের পর মদ দিয়ে আমার কী কাজ!

বিগত বছরগুলো তোমাকে এসব থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে... বয়স ফুরিয়ে যাওয়ার পর আর যৌবনোচিত আচরণের সুযোগ কোথায়?

আর আমি সেই কারওয়ানের মতো হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি না, যে কোনো বিপদের সময় কথা বলতে গিয়ে দৌড়ে পালায়।(১)

আর পুরুষ উটপাখি শোনে ও দেখে। তখন আখরাস অথবা ফারা(২) বলল: চুপ থাকো হে কুরু, চুপ থাকো হে কুরু, নিশ্চয়ই উটপাখিরা লোকালয়ে এসেছে। আর আমার মতো ব্যক্তির(৩) জন্য এটাই সংগত যে তাকে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। আর যদি প্রশ্ন করা হয় তবে তার জন্য অপরিহার্য হলো উত্তর না দেওয়া। আর যদি সে উত্তর দিয়েও দেয়, তবে শ্রোতার জন্য কর্তব্য হলো তা না শোনা। আর যদি সে শোনার মাধ্যমে বিরুদ্ধাচরণ করেই ফেলে, তবে তার জন্য আবশ্যিক হলো যা বলা হয়েছে তা না লেখা। আর যদি সে তা লিখেও ফেলে, তবে তার জন্য ওয়াজিব হলো সেদিকে না তাকানো। আর যদি সে সেদিকে তাকিয়েই ফেলে,(৪) তবে সে ঘোর অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াল। আমি এখন বৃদ্ধদের বয়সে পৌঁছে গিয়েছি এবং এই অর্থহীন প্রলাপ থেকে কোনো কল্যাণই আমার হাতে ফিরে আসেনি।(৫) আর পরকালের পথে যাত্রা অতি নিকটবর্তী। তুমি কি মনে করো যে আমি রূহের অধিপতিকে(৬) প্রতিহত করতে পারব এবং বলব যে, ‘মালাক’ (ফেরেশতা) শব্দের মূল হলো ‘মা’লাক’, আর এটি কেবল ‘আলুকা’ থেকে গৃহীত হয়েছে যার অর্থ বার্তা, অতঃপর এতে বর্ণ বিপর্যয় ঘটেছে, আর তাদের এই উক্তিই আমাদের সেদিকে পথ দেখায়...

--------------------------------------------

(১) কারওয়ান (দুটি জবরযোগে) একটি পাখি; বলা হয়ে থাকে এটি তিতির পাখি, আবার কেউ কেউ ভিন্ন কথা বলেছেন। এর বহুবচন হলো ক্বিরওয়ান (ক্বাফে কাসরা ও রা-তে সুকুন যোগে)। এর পুরুষবাচক শব্দ হলো ‘কারা’। ‘মীম’ নুসখায় ‘বিপদের সময়’ এবং ‘জ্বলিম’ হলো পুরুষ উটপাখি।

(২) আখরাস হলো বন্য গরু বা হরিণ। আর ফারা হলো বন্য গাধা। যখন বিরতির সময় এর হামজাটি সাকিন হয়, তখন তা আলিফে পরিবর্তিত হয়। অন্যান্য নুসখায় ‘আখফাশ’ অথবা ‘ফারা’ আছে, তবে প্রথমটিই প্রসঙ্গের সাথে অধিক মানানসই। ‘আতরিক’ মানে চুপ থাকল। আবার এর অর্থ হয় নিজের চোখ নিচু করে মাটির দিকে তাকানো। এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় যে কথা বলে কিন্তু তার মাঝে কোনো সারবস্তু নেই। তাকে বলা হয়: চুপ থাকো এবং যা উচ্চারণ করছ তার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকো পাছে তার মন্দ পরিণাম তোমার ওপর আসে। এখানে কারওয়ান পাখিকে লাঞ্ছিত বা হীনের সাথে এবং উটপাখিকে সম্মানিত বা প্রভাবশালীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: যখন তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত কেউ উপস্থিত থাকে তখন শান্ত বা নীরব থাকো। বলা হয়ে থাকে যে, ‘কারা’ শব্দটি কারওয়ানের সংক্ষিপ্ত রূপ। ‘মীম’ নুসখায় ‘আতরিক কুরু’ একবার এসেছে। আর সকল নুসখায় ‘নিশ্চয়ই উটপাখি’ কথাটি রয়েছে।

(৩) ‘মীম’ নুসখায় ‘আমার মতো’।

(৪) ‘মীম’ নুসখায় ‘তাতে’ শব্দহীন। ‘খাবাতা খাবাতা আশওয়া’ (অন্ধের মতো হাতড়ে বেড়ানো)।

(৫) ‘হারা’ মানে ফিরে আসা। ‘রা’ নুসখায় ‘জাযা’ (অতিক্রম করা)। আর ‘হাযইয়ান’ মানে অর্থহীন কথা।

(৬) সকল নুসখায় ‘মৃত্যুর ফেরেশতা’।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৬)
الملائكة في الجمع(1) لأن الجموع تردُّ الأشياء إلى أصولها. وأنشده(2) قول الشاعر:

فلست لأنسيّ ولكن الملأك … تنزل من جو السماء يصوب(3)

فيعجبه ما سمع فينظرني ساعة لاشتغاله بما قلت فإذا هم بالقبض قلت وزن ملك على هذا القول معل لأن الميم زائدة وإذا كان الملك من الألوكة فهو مقلوب من ألك إلى لأك والقلب في الهمزة وحروف العلة معروف عند أهل المقاييس(4) فأما جذب وجبذ ولقم الطرق ولمقه(5)

--------------------------------------------

(1) في الجميع قولهم في الجمع الملائكة.

(2) في الجميع وأنشد.

(3) يصوب بنزل وهذا البيت قيل لرجل من عبد القيس يمدح النعمان وقيل لأبي وجزة يمدح عبد الله بن الزبير وقيل لعلقمة بن عبدة يمدح الحرث بن جبلة بن أبي شمر الغساني ومعنى البيت أنك باينت الأنس في أخلافك وأشبهت الملك النازل من السماء في طهارتك وفضلك.

(4) اختلفت كلمة العلماء في أصل ملك فقيل إنه من ألك بين القوم ألكا وألوكا إذا ترسل والألوك والألوكة والمألك والمألكة الرسالة فملك أصله مألك ووزنه مفعل قلبت الهمزة إلى موضع اللام فصار ملأك على وزن مفعل ثم ألقيت حركة الهمزة على اللام الساكنة قبلها وسقطت فصارت ملك على وزن معل لأن فاء الكلمة هي الهمزة وقد سقطت وقد استعمل متممًا من غير حذف كما في قول الشاعر ولكن الملأك. والأكثر استعماله محذوفًا وقيل إن ملك من لأك والملأك والملأكة الرسالة فأصل ملك ملأك على وزن مفعل فنقلت حركة الهمزة إلى اللام وسقطت الهمزة فصار ملك على وزن مفل لأن الهمزة عين الكلمة وأو العلاء يرى أن الملك إذا كان من الألوكة فهو مقلوب من ألك إلى لأك لما ذكره وهذا قول الكسائي. والميم زائدة على كل حال وعلى القول الأخير يكون وزن ملائكة معافلة لأنها مقلوبة على مآلكة على وزن مفاعلة وإنما فعلوا ذلك لأنهم لو قالوا في الجمع مآلكة لجاءت الهمزة سابقة على الألف فقلبوها وقالوا ملائكة على وزن معافلة فجاءت الألف سابقة على الهمزة وهو أخف كما قلبوا شأى إلى شاء ونأى إلى ناء هذا تحرير هذا البحث فقول أبي العلاء فكأنهم فروا إلخ واضح دال على الغرض خلافًا لما زعمه م في ذيل ص 6.

(5) لقم الطريق وسطه وكذا لمقه.
বহুবচনে 'মালা-ইকাহ' (ফেরেশতাগণ)(১) কারণ বহুবচন শব্দসমূহকে তাদের মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নেয়। আর তিনি(২) জনৈক কবির এই পঙক্তিটি পাঠ করেছেন:

তুমি কোনো সাধারণ মানুষ নও, বরং তুমি একজন ফেরেশতা … যে আকাশের শূন্যমণ্ডল থেকে সোজা নিচে অবতীর্ণ হয়।(৩)

তিনি যা শুনেছেন তা তাকে মুগ্ধ করে, ফলে আমি যা বলেছি তাতে নিমগ্ন হয়ে তিনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন। যখন তারা প্রাণ হরণের সংকল্প করল, তখন আমি বললাম: এই মত অনুযায়ী 'মালাক' শব্দের ওজন হলো 'মুআল', কারণ এখানে 'মিম' বর্ণটি অতিরিক্ত। আর যদি 'মালাক' শব্দটি 'আলুকা' থেকে উদ্ভূত হয়, তবে এটি 'আ-লা-কা' থেকে 'লা-আ-কা'-তে স্থানান্তরিত। আর হামযা ও দুর্বল বর্ণসমূহের এই ধরনের রূপান্তর ভাষাবিদদের নিকট সুপরিচিত।(৪) আর 'জাযাবা' ও 'জাবাযা' এবং 'লাকমাুত ত্বরীক' ও 'লামাকাহু' এর বিষয়টিও অনুরূপ।(৫)

--------------------------------------------

(১) সকল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: বহুবচনে তাদের উক্তি হলো 'আল-মালা-ইকাহ'।

(২) সকল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'আর তিনি আবৃত্তি করেছেন'।

(৩) 'ইয়াসুবু' অর্থ অবতীর্ণ হওয়া। এই পঙক্তিটি 'আবদ আল-কায়স' গোত্রের এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যিনি নু'মানকে প্রশংসা করছিলেন। কেউ বলেন এটি আবু ওয়াজজাহ্ কর্তৃক আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুবায়েরের প্রশংসায় রচিত। আবার কেউ বলেন এটি আলকামাহ ইবনে আবদাহ্ কর্তৃক আল-হারিস ইবনে জাবালাহ ইবনে আবি শামির আল-গাসসানির প্রশংসায় রচিত। কবিতাটির মর্মার্থ হলো: তুমি তোমার স্বভাব-চরিত্রে সাধারণ মানুষ থেকে স্বতন্ত্র হয়েছ এবং তোমার পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তুমি আকাশ থেকে অবতীর্ণ ফেরেশতার সদৃশ হয়েছ।

(৪) 'মালাক' (ফেরেশতা) শব্দের মূল প্রসঙ্গে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন এটি 'আ-লা-কা' থেকে উদ্ভূত, যখন কেউ বার্তা নিয়ে যায় তখন 'আ-লা-কা' ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়। আর 'আল-আলুক', 'আল-আলুকা', 'আল-মা'লাক' ও 'আল-মা'লাকাহ' অর্থ হলো বার্তা। সুতরাং 'মালাক' শব্দের মূল ছিল 'মা'লাক' এবং এর ওজন ছিল 'মাফআল'। এরপর হামযাকে 'লাম' বর্ণের স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে, ফলে এটি 'মালা-আক' হয়েছে। এরপর হামযার স্বরচিহ্ন তার পূর্বের সুকুনবিশিষ্ট 'লাম' বর্ণের ওপর প্রদান করা হয়েছে এবং হামযাটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে এটি 'মুআল' ওজনে 'মালাক' হয়েছে, কারণ শব্দের প্রথম মূল বর্ণ হলো হামযা যা এখানে বিলুপ্ত। কখনো কখনো বিলোপ ছাড়াই পূর্ণ শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেমন কবির উক্তিতে: 'ওয়া লাকিনাল মালা-আক'। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিলুপ্ত রূপটিই ব্যবহৃত হয়। আবার কেউ বলেছেন যে 'মালাক' শব্দটি 'লা-আ-কা' থেকে এসেছে, আর 'আল-মালা-আক' ও 'আল-মালা-আকাহ' অর্থ হলো বার্তা। এই মতে 'মালাক' শব্দের মূল হলো 'মাফআল' ওজনে 'মালা-আক'। এরপর হামযার স্বরচিহ্ন 'লাম' বর্ণের দিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং হামযা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, ফলে এটি 'মুফাল' ওজনে 'মালাক' হয়েছে, কারণ এখানে হামযা হলো শব্দের দ্বিতীয় মূল বর্ণ। আবুল আলা-এর মত হলো যে, 'মালাক' শব্দটি যদি 'আলুকা' থেকে উদ্ভূত হয়, তবে তা 'আ-লা-কা' থেকে 'লা-আ-কা'-তে রূপান্তরিত, যা তিনি উল্লেখ করেছেন। এটি কিসায়ীর মত। 'মিম' বর্ণটি সব অবস্থাতেই অতিরিক্ত। আর শেষোক্ত মত অনুযায়ী 'মালা-ইকাহ' শব্দের ওজন হবে 'মুআ-ফালাহ', কারণ এটি 'মুফা-আলাহ' ওজনে 'মা-আ-লিকাহ' থেকে রূপান্তরিত। তারা এমনটি এই জন্য করেছেন যে, তারা যদি বহুবচনে 'মা-আ-লিকাহ' বলতেন, তবে হামযাটি আলিফের আগে চলে আসত। তাই তারা একে পরিবর্তন করে 'মুআ-ফালাহ' ওজনে 'মালা-ইকাহ' বলেছেন যাতে আলিফ হামযার আগে থাকে, যা উচ্চারণ করা সহজ। যেমন তারা 'শা-আ' শব্দকে 'শা-আ' এবং 'না-আ' শব্দকে 'না-আ' তে রূপান্তর করেছেন। এটিই এই আলোচনার বিশ্লেষণ। সুতরাং আবুল আলা-এর কথা "যেন তারা পলায়ন করেছে..." ইত্যাদি সুস্পষ্ট এবং এটিই উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করছে, যা পৃ. ৬-এর পাদটীকায় 'ম' যা দাবি করেছেন তার বিপরীত।

(৫) 'লাকমাুত ত্বরীক' অর্থ পথের মধ্যভাগ, অনুরূপভাবে 'লামাকাহু' অর্থও তাই।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৭)
فهو عند أهل اللغة قلب والنحويون لا يرونه مقلوبًا بل يرون اللفظين كل واحد منهما أصل في بابه فوزن الملائكة على هذا معافلة لأنها مقلوبة عن مآلكة ومنه قالوا(1) الكني إلى فلان قال الشاعر:(2)

الكني إلى قومي السلام رسالة … بآبة ما كانوا ضعافًا ولا عزلًا

وقال الأعشى(3) في المألكة:

أبلغ يزيد بني شيبان مألكة … أبا ثُبيت أما تنفك تأتكل(4)

فكأنهم فروا (في الملائكة)(5) من ابتدائهم بالهمزة ثم يجيئون بعدها بالأف فرأوا أن مجيء الألف أولًا أخف كما فروا

--------------------------------------------

(1) في النسخ يقال الكني.

(2) هو عمرو بن شاس بن ثعلبة الأسدي شاعر أدرك الإسلام وأسلم وتوفي نحو سنة 30 وظاهر قولهم الكني إلى فلان برسالة أو إسلام أرسلني إليه ولكنه جاء على القلب إذ المعنى كن رسولي إليه بكذا وقد تحذف الباء فيقال الكني إلى فلان السلام كما في البيت فالسلام مفعول ثانٍ ورسالة بدل منه والآية العلامة والعزل جمع أعزل الذي لا سلاح معه وفي اللسان والذي وقع في شعر عمرو بن شاس

الكني إلى قومي السلام ورحمة الـ … إله فما كانوا ضعافًا ولاعزلًا

(لكن رواه سيبويه ج 2 ص 101 كما رواه أبو العلاء.

(3) هو أبو بصير ميمون بن قيس بن بكر بن وائل أحد الشعراء الفحول وأصحاب المعلقات وكان يسمى صناجة العرب توفي نحو سنة 6 للهجرة.

(4) المألكة الرسالة وتاتكل من ائتكل الرجل إذا غضب وهاج وكاد يأكل بعضه بعضًا وقيل معناه تأكل لحومنا وتغتابنا.

(5) في م فروا من المألكة من ابتدائهم ثم بحثوا بعدها … وفيها تحريف ظاهر وفي ر فروا في الماآلكة من ابتدائهم بالهمزة ثم يجيئوا بعدها.
এটি ভাষাবিদদের নিকট 'কালব' (বর্ণের স্থান পরিবর্তন), তবে বৈয়াকরণগণ এটিকে পরিবর্তিত হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁরা মনে করেন শব্দ দুটির প্রতিটিই নিজ নিজ ক্ষেত্রে মূল। সুতরাং এই ভিত্তিতে 'মালাইকা' শব্দের ওজন হবে 'মুআফালাহ', কারণ এটি 'মাআলকা' থেকে পরিবর্তিত। এর থেকেই তারা বলে থাকেন 'অমুকের নিকট আমার বার্তা পৌঁছে দাও'। কবি বলেছেন:

আমার পক্ষ থেকে আমার কওমের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দাও... আল্লাহর কসম, তারা দুর্বল বা অস্ত্রহীন ছিল না।

আল-আ'শা 'আল-মাআলকাহ' (বার্তা) প্রসঙ্গে বলেছেন:

বনু শায়বানের ইয়াজিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দাও... হে আবু থুবাইত! তুমি কি রাগান্বিত হওয়া থেকে বিরত হবে না?

যেন তারা (মালাইকা শব্দের ক্ষেত্রে) হামজা দিয়ে শুরু করা থেকে বিরত থেকেছে, অতঃপর এর পরে আলিফ নিয়ে এসেছে। তারা মনে করেছেন যে প্রথমে আলিফ আসা অধিকতর সহজতর, যেমনটি তারা বিরত থেকেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিগুলোতে 'বলা হয় আলকিনি' রয়েছে।

(২) তিনি হলেন আমর ইবনে শাস ইবনে সা'লাবা আল-আসাদি। একজন কবি যিনি ইসলামের যুগ পেয়েছেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি আনুমানিক ৩০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের উক্তি 'অমুকের কাছে বার্তা বা সালাম পৌঁছানো' এর প্রকাশ্য অর্থ হলো- আমাকে তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি বর্ণের স্থান পরিবর্তনের (কালব) ভিত্তিতে এসেছে, কারণ এর প্রকৃত অর্থ হলো- আমার পক্ষ থেকে অমুকের কাছে অমুক বার্তার বাহক হও। কখনও 'বা' হরফটি বিলুপ্ত করা হয়, ফলে বলা হয় 'অমুকের নিকট সালাম পৌঁছে দাও', যেমনটি এই পঙ্ক্তিতে রয়েছে। এখানে 'সালাম' শব্দটি দ্বিতীয় কর্মপদ এবং 'রিসালাহ' তার স্থলাভিষিক্ত বা বদল। 'আয়াহ' অর্থ চিহ্ন। 'উজল' হলো 'আ'জাল'-এর বহুবচন, যার অর্থ যার কাছে কোনো অস্ত্র নেই। 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে আমর ইবনে শাসের কবিতায় এভাবে এসেছে:

আমার কওমের কাছে সালাম এবং আল্লাহর রহমত পৌঁছে দাও... তারা দুর্বল বা অস্ত্রহীন ছিল না।

(তবে সিবওয়াইহ ২য় খণ্ড, ১০১ পৃষ্ঠায় এটি আবু আল-আলা-এর বর্ণনার মতোই বর্ণনা করেছেন।)

(৩) তিনি হলেন আবু বাসির মায়মুন ইবনে কায়স ইবনে বকর ইবনে ওয়াইল। তিনি শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন এবং মুআল্লাকা রচয়িতাদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁকে 'সান্নজাতুল আরব' (আরবের ঝঙ্কার) বলা হতো। তিনি আনুমানিক ৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

(৪) 'মাআলকাহ' অর্থ বার্তা। 'তাতাকিল' শব্দটি 'ইত্তাকালা' থেকে এসেছে, যা তখন ব্যবহৃত হয় যখন মানুষ রাগান্বিত ও উত্তেজিত হয় এবং প্রায় একে অপরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়। বলা হয়ে থাকে এর অর্থ হলো- তুমি আমাদের সম্মানহানি করছো এবং আমাদের গিবত করছো।

(৫) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তারা 'মাআলকাহ' থেকে বিরত হয়েছে তাদের সূচনার কারণে, অতঃপর তারা এর পরে অনুসন্ধান করেছে... এতে স্পষ্ট বিকৃতি রয়েছে। আর 'র' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তারা 'মাআলকাহ' শব্দের ক্ষেত্রে হামজা দিয়ে শুরু করা থেকে বিরত হয়েছে, অতঃপর তারা এর পরে (আলিফ) নিয়ে এসেছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৮)
من شأي إلى شاء ومن نأي إلى ناء قال عمر بن أبي ربيعة(1)

بأن الحمول فما شأؤنك نقرة … ولقد أراك تشاء بالأظعان

وأنشد أبو عبيدة:(2)

أقول وقد ناءت بهم غربة النوى … نوى خيتعور لا تشط ديارك(3)

فيقول الملك من ابن أبي ربيعة وما أبو عبيدة وما هذه الأباطيل إن كان لك عمل صالح فأنت السعيد وإلا فأخسا(4) وراءك فأقول أمهلني(5) ساعة حتى أخبرك بوزن عزرائيل فأقيم الدليل على أن الهمزة زائدة فيه

--------------------------------------------

(1) هذا البيت لم يرد في ديوان عمر ورواه في اللسان للحرث بن خالد المخزومي وروايته مر الحمول ورواه في المزهر. فما شأونا وهو خطأ وراوه أبو زيد في النوادر مر الحمول وفي الصحاح مر الحدوح وما .. والحمول هنا الأبل عليها النساء وشأونك شفتك وقوله نقرة أي أدنى شيء والأظعان الهوادج فيها النساء والمعنى مرت الحمول فما هيجن شوقك ولا حر كن من قلبك أدنى شيء لأنك كبرت وكنت قبل ذلك يهيج وجدك إذا عاينت الحمول واستشهد بهذا البيت على أن شأى بمعنى حزن وشاق وغيرهما وفي النوادر أن تشاء بمعنى تعجب يقال شؤبت بكذا أي أعجبت ويشاء بمعنى يسبق لا معنى له هنا فليس بمقلوب فراجعه ص 41 وعمر بن عبد الله ابن أبي ربيعة المخزومي شاعر غزل مشهور توفي سنة 93 والحرث بن خالد بن العاص المخزومي شاعر غزل كان يذهب مذهب عمر بن أبي ربيعة في شعره توفي بمكة نحو سنة 80.

(2) أبو عبيدة معمر بن المثنى التيمي البصري من أئمة العلم والأب واللغة قال فيه الجاحظ لم يكن في الأرض أعلم منه بجميع العلوم وله نحو مائتي مؤلف توفي نحو سنة 209.

(3) رواه في اللسان في ختعر أقول وقد نأت ورواه في نأى. وقد ناءت على القلب وخيتعور يجوز أن تكون بمعنى الداهية أو بمعنى الكاذبة أو التي لا تبقى وتشط بضم الشين وكسرها تبعد.

(4) تباعد.

(5) في النسخ فأمهلني.
'শাআ' থেকে 'শা' এবং 'নাআ' থেকে 'না' রূপান্তর প্রসঙ্গে উমর ইবন আবি রাবিআ বলেন(১)

উটগুলো চলে গেল, অথচ তোমার অবস্থা সামান্য বিচলিতও হলো না ... অথচ আমি তোমাকে দেখতাম যে তুমি হাওদাজবাহী উট দেখে আবেগপ্লুত হতে।

আবু উবাইদাহ আবৃত্তি করেছেন:(২)

আমি বলছি, যখন দূরত্বের প্রবাস তাদের দূরে নিয়ে গেল ... এক ক্ষণস্থায়ী দূরত্ব, তোমার গৃহ যেন দূরে না যায়।(৩)

তখন ফেরেশতা বলবেন, "কে এই ইবন আবি রাবিআ? আর কে-ই বা আবু উবাইদাহ? আর এসব অসার কথা কী? যদি তোমার কাছে সৎকর্ম থাকে তবেই তুমি ভাগ্যবান, অন্যথায় দূর হও! পিছনে যাও!"(৪) তখন আমি বলব, "আমাকে কিছু সময় দিন(৫) যাতে আমি আপনাকে 'আজরাঈল' শব্দের ওজন সম্পর্কে বলতে পারি এবং প্রমাণ করতে পারি যে এতে 'হামজা' বর্ণটি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে।"

--------------------------------------------

(১) এই পঙক্তিটি উমরের কাব্যগ্রন্থে (দিওয়ান) পাওয়া যায় না। 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে এটি হারিস ইবন খালিদ আল-মাখজুমির নামে বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে পাঠভেদ রয়েছে। 'আল-মুযহির' গ্রন্থেও এটি বর্ণিত হয়েছে। সেখানে 'মা শাউনা' বলা হয়েছে যা ভুল। আবু যায়েদ 'আন-নাওয়াদির' গ্রন্থে এবং 'আস-সিহাহ' গ্রন্থেও এটি ভিন্ন পাঠে বর্ণিত হয়েছে। এখানে 'হুমুল' অর্থ উট যার পিঠে নারীরা সওয়ার থাকে। 'শাউনুকা' অর্থ তোমার অবস্থা। 'নাকরাহ' অর্থ সামান্যতম বিষয়। 'আজআন' অর্থ শিবিকা বা হাওদাজ যাতে নারীরা থাকে। এর অর্থ হলো: উটগুলো চলে গেল কিন্তু তা তোমার মনে কোনো ব্যাকুলতা বা সামান্যতম চাঞ্চল্য তৈরি করল না; কারণ তুমি বৃদ্ধ হয়েছ। অথচ আগে উটগুলো দেখলে তোমার মনে আবেগ উথলে উঠত। এই পঙক্তিটি দ্বারা প্রমাণ পেশ করা হয়েছে যে 'শাআ' শব্দটি দুঃখিত হওয়া বা ব্যাকুল হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'নাওয়াদির' গ্রন্থে এসেছে যে, 'তাশা' মানে তুমি বিস্মিত হও। আর 'ইউশা' মানে সে অগ্রগামী হয়—তবে এখানে সে অর্থ প্রযোজ্য নয়। উমর ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি রাবিআ আল-মাখজুমী একজন প্রসিদ্ধ গজল কবি, মৃত্যু ৯৩ হিজরি। হারিস ইবন খালিদ ইবনুল আস আল-মাখজুমীও একজন গজল কবি ছিলেন, তিনি তার কবিতায় উমর ইবন আবি রাবিআর পথ অনুসরণ করতেন, মৃত্যু মক্কায় প্রায় ৮০ হিজরিতে।

(২) আবু উবাইদাহ মা'মার ইবনুল মুসান্না আত-তাইমি আল-বাসরি ইলম, আদব ও ভাষাতত্ত্বের অন্যতম ইমাম। জাহিজ তার সম্পর্কে বলেছেন, পৃথিবীতে সকল শাস্ত্রে তার চেয়ে বড় আলেম আর কেউ ছিল না। তার প্রায় দুইশটি গ্রন্থ রয়েছে। মৃত্যু প্রায় ২০৯ হিজরিতে।

(৩) এটি 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে 'খাতআর' ও 'নাআ' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। 'খাইতাঊর' শব্দের অর্থ হতে পারে বিপদ, অথবা মিথ্যাবাদী, অথবা যা স্থায়ী হয় না। 'তাশুত' শব্দের অর্থ হলো দূরে যাওয়া।

(৪) দূরে সরে যাওয়া।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ফা-আমহিলনি' (সুতরাং আমাকে অবকাশ দিন) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ৯)
فيقول الملك هيهات ليس الأمر إليّ إذا جاء أجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون. أم تراني أداري(1) منكرًا ونكيرًا فأقول كيف جاء اسمًا كما عربيين منصرفين وأسماء الملائكة أكثرها(2) من الأعجمية مثل إسرافيل وجبريل وميكاييل فيقولان هات حجتك وخل الزخرف عنك فأقول متقربًا إليها قد كان ينبغي لكما أن تعرفا ما وزن ميكاييل وجبريل على اختلاف اللغات فيها(3) إذ كانا أخويكما في عبادة الله فلا يزيدهما ذلك عليّ إلا غلظة(4) ولو علمت أنهما يرغبان في مثل هذه العلل لأعددت(5) لهما شيئًا كثيرًا من ذلك زلقلت لهما(6) ما تريان في وزن موسى(7) كليم الله الذي سألتماه عن دينه وحجته فأبان وأوضح فإن قالا موسى اسم(8) أعجمي إلا أنه يوافق من العربية وزن(9) مفعل وفُعلى أما مفعل فإذا(10) كان من ذوات(11) الواو مثل أوسيت(12) وأويت فإنك تقول موسى وموري وإن كان من ذوات الهمزة(13) فإنك تخفف حتى تكون الواو خالصة من مُفعلٍ تقول آنيت العشاء(14) فهو مؤنى فإن خففت قلت مُونى.

--------------------------------------------

(1) في ح أدارئ أي أدافع.

(2) في النسخ كلها أعجمية والصواب أكثرها لأنهم قالوا أربعة من أسماء الملائكة عربية وهي رضوان ومالك ومنكر ونكير.

(3) ذكر في التاج في ميكائيل أربع لغات ميكائيل وميكائين وميكاييل وميكئل وفي جبريل سبع عشرة لغة وفي عزرائيل فتح العين وكسرها.

(4) في النسخ غيظًا.

(5) في م لأعدت.

(6) في النسخ بدون لهما.

(7) في الثلاث اسم كليم ..

(8) في م ك بدون اسم.

(9) في الثلاث على وزن.

(10) في الثلاث إذا كان.

(11) في الثلاث بنات الواو.

(12) في ح أو شيت فهو موشى.

(13) في الثلاث الهمز.

(14) في ك الفساد وهو خطأ.
তখন ফেরেশতা বলেন, হায়! বিষয়টি আমার আয়ত্তে নেই, যখন তাদের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা এক মুহূর্তও দেরি করতে পারে না এবং এক মুহূর্তও অগ্রগামী হতে পারে না। অথবা তুমি কি দেখছ যে আমি মুনকার ও নাকিরকে প্রতিহত করছি(১) এবং বলছি, কীভাবে তাদের এই নাম দুটি পুংলিঙ্গবাচক এবং রূপান্তরযোগ্য আরবি শব্দ হিসেবে এল, যেখানে ফেরেশতাদের অধিকাংশ নামই(২) অনারবীয় বা আজমি, যেমন ইসরাফিল, জিবরাইল ও মিকাইল? তখন তারা দুজনে বলবে, "তোমার প্রমাণ পেশ করো এবং অলঙ্কারপূর্ণ কথা ত্যাগ করো।" তখন আমি তাদের কাছে ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিপ্রায়ে বলব, "আপনাদের জন্য জানা উচিত ছিল যে মিকাইল ও জিবরাইলের শব্দের ওজন কী, এর শব্দশৈলীর ভিন্নতা অনুসারে(৩); যেহেতু তারা আল্লাহর ইবাদতে আপনাদেরই ভাই।" কিন্তু এটি তাদের আমার প্রতি কেবল রূঢ়তাই(৪) বৃদ্ধি করবে। আর আমি যদি জানতাম যে তারা এই ধরণের ব্যাকরণগত কারণসমূহে আগ্রহী, তবে আমি তাদের জন্য এ থেকে অনেক কিছু প্রস্তুত রাখতাম(৫) এবং তাদের বলতাম(৬), "আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী মুসার(৭) নামের ওজনের ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কী, যাঁকে আপনারা তাঁর দ্বীন ও প্রমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন, আর তিনি তা বর্ণনা ও স্পষ্ট করেছেন?" যদি তারা বলে, "মুসা" একটি(৮) অনারবীয় নাম, তবে এটি আরবিতে "মুফআল" এবং "ফু’লা" ওজনের(৯) সাথে মিলে যায়। "মুফআল"-এর ক্ষেত্রে যখন(১০) তা ওয়াও-বিশিষ্ট(১১) মূল বর্ণ থেকে হয়, যেমন "আওসাইতু"(১২) ও "আওয়াইতু", তবে আপনি বলবেন "মুসা" ও "মুরা"। আর যদি তা হামজাহ-বিশিষ্ট(১৩) মূল বর্ণ থেকে হয়, তবে আপনি উচ্চারণ হালকা করবেন যাতে তা "মুফআল" থেকে আসা একটি খাঁটি "ওয়াও" হয়। আপনি যেমন বলেন, "আনাইতু আল-আশা" (আমি রাতের খাবারে দেরি করেছি)(১৪), তখন সেটি হবে "মু’না"; আর যদি তা হালকা করে উচ্চারণ করেন তবে বলবেন "মুনা"।

--------------------------------------------

(১) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে ‘আদারি’ অর্থাৎ আমি প্রতিহত করছি বা বাধা দিচ্ছি।

(২) সকল পাণ্ডুলিপিতে অনারবীয় বলা হয়েছে, তবে সঠিক হলো 'তাদের অধিকাংশ', কারণ তারা বলেছেন যে ফেরেশতাদের চারটি নাম আরবি, আর সেগুলো হলো: রিদওয়ান, মালিক, মুনকার ও নাকির।

(৩) 'তাজ' গ্রন্থে মিকাইল শব্দের চারটি রূপ উল্লেখ করা হয়েছে: মিকাইল, মিকাইন, মিকায়িল ও মিকাইল; এবং জিবরাইল শব্দের সতেরোটি রূপ এবং আজরাইল শব্দের ‘আইন’ বর্ণে ফাতহ ও কাসরাহ যোগে উচ্চারণ বর্ণিত হয়েছে।

(৪) পাণ্ডুলিপিগুলোতে ‘গাইযান’ (ক্রোধ) রয়েছে।

(৫) 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে ‘লি-উইদ্দা’ রয়েছে।

(৬) পাণ্ডুলিপিগুলোতে ‘লাহুমা’ শব্দটি নেই।

(৭) তিনটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে ‘ইসমু কালিম...’।

(৮) 'মিম' ও 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে ‘ইসম’ শব্দটি নেই।

(৯) তিনটি পাণ্ডুলিপিতে ‘ওজনের ওপর’ রয়েছে।

(১০) তিনটি পাণ্ডুলিপিতে ‘যখন হয়’ রয়েছে।

(১১) তিনটি পাণ্ডুলিপিতে ‘ওয়াও-এর কন্যারা’ (মূল বর্ণ বুঝাতে) রয়েছে।

(১২) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে ‘আও শাইতু’ রয়েছে, তখন সেটি হবে ‘মুশা’।

(১৩) তিনটি পাণ্ডুলিপিতে ‘আল-হাময’ রয়েছে।

(১৪) 'কাফ' পাণ্ডুলিপিতে ‘আল-ফাসাদ’ রয়েছে, যা একটি ভুল।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - ত আল-জুন্দি (পৃষ্ঠা: ১০)
قال الحطيئة:(1)

وآنيتُ العشاء إلى سُهيل … أو الشعري فطال بي الأناء(2)

ويروى أكريت العشاء وقد حكى بعضهم همز مؤسى إذا كان اسمًا وزعم النحويون أن ذلك لمجاورة الواو الضمة لأن الواو إذا كانت مضمومة ضمًّا لغير أعراب وغير ما يشابه(3) الأعراب جاز أن تحوَّل همزة(4)

--------------------------------------------

(1) هو جرول بن أوس العبسي أبو مليكة أدرك الإسلام وأسلم وكان شاعرًا مقدمًا هجاء توفي سنة 30 تقريبًا وهذا البيت من قصيدة هجا بها الزبرقان.

(2) آني الشيء أخره والاسم منه الأنا وسهيل والشعري كوكبان قيل الشعرى يطلع سحرًا وما أكل بعده فليس بعشاء يريد أنه انتظر معروفه حتى أيس منه وأكريت أخرت والاسم الكراء ورواه في اللسان بالوجهين في أنى وكرى.

(3) في الثلاث أو غير ما يشاكل الأعراب.

(4) الواو المضمومة إما أن تكون في أول الكلمة أو في غيره والتي في الأول إن جاء بعدها واو متحركة وجب قلبها همزًا مثل أو يصل مصغر واصل والأصل وويصل ومثل أول جمع أولى والأصل وول. وإن جاء بعدها واو ساكنة مثل وورى مجهول وأرى جاز قلبها همزًا وإن لم يجئ بعدها واو جاز قلبها مثل وعد ووشح ووجوه والتي في غير الأول يجوز قلبها إذا كانت ضمتها لازمة وكانت غير مشددة ولا زائدة مثل أدؤر جمع دار والأصل أدور أما إذا كانت ضمتها عارضة للإعراب مثل هذه دلوك أو لالتقاء الساكنين مثل اشتروا الضلالة أو كانت مشددة مثل التقول أو زائدة مثل الترهوك ففي كل هذه المواضع لا تقلب همزة وقراءة بعضهم وإن منهم لفريقًا يلؤون بالهمزة شاذة فكلام أبي العلاء يجب أن يحمل على الواو المضمومة في أول الكلمة إذا لم يكن بعدها واو متحركة كما يشعر به تمثيله بوقتت ووشحت.
আল-হুতাইয়াহ বলেছেন:(১)

আমি রাতের খাবার সুহাইল নক্ষত্র উদিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করেছি... অথবা শির’আ নক্ষত্র পর্যন্ত, ফলে আমার এই প্রতীক্ষা দীর্ঘায়িত হলো।(২)

এটি ‘আকরাইতুল ‘আশা’ শব্দযোগেও বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ ‘মুসা’ (ছুরি) শব্দটি যখন বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাতে হামযাহ যোগ করার কথা উল্লেখ করেছেন। ব্যাকরণবিদগণ দাবি করেছেন যে, এটি ঘটেছে ওয়াও বর্ণের পেশের (যম্মাহ) নৈকট্যের কারণে। কারণ, ওয়াও বর্ণের উপর যদি এমন পেশ থাকে যা ব্যাকরণিক পরিবর্তনের (ই’রাব) কারণে নয় এবং ই’রাবের সদৃশও নয়, তবে তাকে হামযাহতে রূপান্তরিত করা বৈধ।(৩)(৪)

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন জারওয়াল বিন আউস আল-আবসি আবু মালিকা। তিনি ইসলামের যুগ পেয়েছেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি একজন অগ্রগণ্য বিদ্রূপাত্মক কবি ছিলেন। আনুমানিক ৩০ হিজরি সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই পঙক্তিটি এমন একটি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে যাতে তিনি যিবরিকানকে বিদ্রূপ করেছেন।

(২) ‘আনা আশ-শাইয়া’ অর্থ হলো সেটিকে বিলম্বিত করা, আর এর বিশেষ্য হলো ‘আনা’। সুহাইল ও শির’আ হলো দুটি নক্ষত্র। বলা হয় যে, শির’আ নক্ষত্র শেষ রাতে উদিত হয়, আর এরপর যা খাওয়া হয় তা আর রাতের খাবার (ইশা) থাকে না। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি তার অনুগ্রহের অপেক্ষা করেছেন এমনকি শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়েছেন। ‘আকরাইতু’ অর্থ হলো আমি বিলম্বিত করেছি এবং এর বিশেষ্য হলো ‘আল-কিরা’। লিসানুল আরব গ্রন্থে ‘আনা’ ও ‘কারা’ উভয় শব্দেই এটি বর্ণিত হয়েছে।

(৩) তিনটি পাণ্ডুলিপিতে অথবা যা ই’রাবের সদৃশ নয়।

(৪) পেশযুক্ত ওয়াও হয় শব্দের শুরুতে থাকে অথবা অন্য কোথাও। যা শব্দের শুরুতে থাকে, যদি এরপর হরকতযুক্ত ওয়াও আসে, তবে তাকে হামযাহতে রূপান্তর করা আবশ্যক। যেমন: ‘উওয়াইসিল’ যা ‘ওয়াইসিল’-এর ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ, এর মূল রূপ ছিল ‘উওয়াইসিল’। অনুরূপভাবে ‘আউওয়াল’ যা ‘উলা’-এর বহুবচন, এর মূল হলো ‘উওয়াল’। আর যদি এরপর সাকিনযুক্ত ওয়াও আসে যেমন ‘উরিয়া’ (কর্মবাচ্য), তবে একে হামযাহতে রূপান্তর করা বৈধ। আর যদি এরপর কোনো ওয়াও না আসে তবে একে রূপান্তর করা বৈধ যেমন ‘উইদা’, ‘উইশাহ’ এবং ‘উজুহ’। আর যা শব্দের শুরুতে নেই, সেটিকে রূপান্তর করা তখনই বৈধ যদি তার পেশটি অপরিহার্য হয় এবং সেটি তাশদীদযুক্ত বা অতিরিক্ত না হয়। যেমন ‘আদউয়ার’ (বাড়িসমূহ) যা ‘দার’-এর বহুবচন এবং এর মূল হলো ‘আদউওয়ুর’। তবে যদি পেশটি ব্যাকরণিক কারণে (ই’রাব) অস্থায়ীভাবে আসে যেমন ‘হাজিহি দালউকা’ অথবা দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে আসে যেমন ‘ইশতারাউয যলালাহ’ অথবা যদি তা তাশদীদযুক্ত হয় যেমন ‘আত-তাকাওয়ুল’ অথবা অতিরিক্ত হয় যেমন ‘আত-তারাওয়ুক’, তবে এই সকল স্থানে একে হামযাহতে রূপান্তর করা যাবে না। কারো কারো ‘ইয়ালউনা’ শব্দটিকে হামযাহ দিয়ে ‘ইয়ালউনা’ পড়াটি বিরল। তাই আবু আল-আলার কথাকে শব্দের শুরুতে থাকা পেশযুক্ত ওয়াও-এর ওপর প্রয়োগ করতে হবে যখন এরপর কোনো হরকতযুক্ত ওয়াও থাকে না, যেমনটি তার ‘উক্কিতাত’ ও ‘উশিহাত’ উদাহরণের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়।