(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: -)
توجيه اللمع   (ابن الخباز)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: توجيه اللمع

المؤلف: أحمد بن الحسين بن الخباز

دراسة وتحقيق: أ. د. فايز زكي محمد دياب، أستاذ اللغويات بكلية اللغة العربية جامعة الأزهر

أصل التحقيق: رسالة دكتوراة - كلية اللغة العربية جامعة الأزهر

الناشر: دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة - جمهورية مصر العربية

الطبعة: الثانية، 1428 هـ - 2007 م.

عدد الصفحات: 617

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

তাওজিহুল লুমা   (ইবনুল খাব্বাজ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: তাওজিহুল লুমা

লেখক: আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-খাব্বাজ

গবেষণা ও সম্পাদনা: প্রফে. ড. ফায়েজ জাকি মুহাম্মাদ দিয়াব, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, আরবি ভাষা অনুষদ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস - আরবি ভাষা অনুষদ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: দারুস সালাম মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিতরণ ও অনুবাদ - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১৭

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মার্কাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول: ابن جني وكتابه «اللمع»

ابن جني:

اسمه ونسبه: هو أبو الفتح عثمان بن جني الموصلي، وكان أبوه «جني» مملوكًا روميًا لسليمان بن فهد بن أحمد الأزدي الموصلي.

مولده: ولد رحمه الله بالموصل قبل الثلاثين والثلاثمائة للهجرة النبوية الشريفة.

ثقافته: إن القارئ لمؤلفات هذا العالم ليدرك من أول وهلة ويفهم من أول نظرة أنه إمام عالم واسع الثقافة طويل الباع، كثير الاطلاع، غزير العلم، كتب في النحو والتصريف، ودرس الأصوات والحروف دراسة «وألف كتبًا كثيرة أبر بها على المتقدمين وأعجز المتأخرين، ولم يتكلم أحد في التصرف أدق كلامًا منه».

وذكر أبو الفتح رحمه الله أنه أخذ عن شيوخ كثيرين، فقد ذكر في إجازته لأبي عبد الله الحسين بن أحمد بن نصر أنه سمع شيوخًا وقرأ عليهم بالعراق والموصل والشام وغير هذه البلاد التي أتاها وأقام بها.

مكانته العلمية:

لقد بلغ أبو الفتح مكانه علمية راقية اعترف له بها المتقدمون والمتأخرون على السواء. قال الثعالبي فيه: «هو القطب في لسان العرب، وإليه انتهت الرياسة في الأدب … وكان الشعر أقل خلاله لعظم قدره وارتفاع حاله» وقال ياقوت: «عثمان بن جني النحوي … من أحذق أهل الأدب وأعلمهم بالنحو والتصريف».

شيوخه:

سمع ابن جني عن كثير من علماء العراق والموصل والشام، واغترف من منهلهم
প্রথম অধ্যায়: ইবনে জিন্নি এবং তাঁর গ্রন্থ ‘আল-লুমআ’

ইবনে জিন্নি:

নাম ও বংশপরিচয়: তিনি হলেন আবুল ফাতহ উসমান বিন জিন্নি আল-মাওসিলি। তাঁর পিতা ‘জিন্নি’ ছিলেন সুলাইমান বিন ফাহাদ বিন আহমদ আল-আজদি আল-মাওসিলির একজন রোমান গোলাম।

জন্ম: তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সম্মানিত হিজরি ৩৩০ সনের পূর্বে মাওসিলে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পাণ্ডিত্য: এই আলেমের রচনাবলির পাঠক প্রথম দৃষ্টিতেই উপলব্ধি করতে পারেন এবং বুঝতে পারেন যে, তিনি ছিলেন এক বিশাল পাণ্ডিত্যের অধিকারী এবং অগাধ ইলমের অধিকারী একজন ইমাম। তিনি নাহু এবং সরফ বিষয়ে লিখেছেন এবং ধ্বনি ও বর্ণ নিয়ে নিবিড় অধ্যয়ন করেছেন। তিনি এমন অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন যার মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং পরবর্তীদের জন্য অনুকরণ করা দুঃসাধ্য করে দিয়েছেন; আর সরফ বা শব্দতত্ত্ব বিষয়ে তাঁর চেয়ে সূক্ষ্ম আলোচনা আর কেউ করেননি।

আবুল ফাতহ (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি অনেক শায়খের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন নাসরকে প্রদানকৃত ইজাজতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইরাক, মাওসিল, শাম এবং অন্যান্য যেসব দেশে তিনি ভ্রমণ ও অবস্থান করেছেন, সেখানকার বহু শায়খের নিকট ইলম শুনেছেন এবং তাঁদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন।

তাঁর ইলমি মর্যাদা:

আবুল ফাতহ এমন এক উচ্চতর ইলমি মর্যাদায় পৌঁছেছিলেন যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল আলেম সমানভাবে স্বীকার করেছেন। আস-সাআলিবি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি আরবি ভাষার মূল স্তম্ভ, আর আদব বা সাহিত্যের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসেই সমাপ্ত হয়েছে … তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে কবিতা ছিল তাঁর গুণাবলির মধ্যে সামান্যতম বিষয়।" ইয়াকুত বলেন: "উসমান বিন জিন্নি আন-নাহবি … সাহিত্যের পণ্ডিতদের মধ্যে অত্যন্ত দক্ষ এবং নাহু ও সরফ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী।"

তাঁর শায়খগণ:

ইবনে জিন্নি ইরাক, মাওসিল ও শামের বহু আলেমের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁদের জ্ঞানের প্রস্রবণ থেকে সুধা আহরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১০)
العذب، حتى تكونت شخصيته العلمية، وأهم هؤلاء الشيوخ الذين أخذ عنهم واستفاد منهم ما يلي:

1 - أبو علي الفارسي: هو أبو علي الحسن بن أحمد بن عبد الغفار الفارسي الفسوي، وهو أعظم أستاذ تخرج عليه ابن جني وتأثر به، مات سنة (377 هـ).

2 - أبو بكر محمد بن الحسن بن يعقوب المعروف بابن مقسم، وهو أحد القراء ببغداد، وكان عالمًا باللغة والشعر، ومن أحفظ الناس لنحو الكوفيين مات رحمه الله سنة (354 هـ).

3 - أبو الفرج الأصفهاني: هو علي بن الحسين بن الهيثم القرشي من ولد هشام ابن عبد الملك، وكان شاعرًا مصنفًا أديبًا، مات سنة نيف وستين وثلاثمائة.

4 - أحمد بن محمد أبو العباس الموصلي النحوي، ويعرف بالأخفش، قال ابن النجار: «كان إمامًا في النحو، فقيهًا فاضلًا، عارفًا بمذهب الشافعي».

وغير هؤلاء كثير ممن استفاد منهم ابن جني ونقل عنهم.

تلاميذه:

لما ذاع صيت ابن جني وطبقت شهرته الآفاق أقبل عليه الناس يأخذون عنه وينهلون من مورده، ومن أشهر هؤلاء ما يأتي:

1 - الشريف الرضي: هو أبو الحسن محمد بن الحسين بن موسى الشاعر المشهور وقد تلقى دروس اللغة على أبي الفتح. مات ببغداد سنة (406 هـ).

2 - الثمانيني: هو أبو القاسم عمر بن ثابت الثمانيني النحوي الضرير، أخذ عن أبي الفتح، وشرح كتابه «اللمع» مات سنة (442 هـ).

3 - أبو أحمد عبد السلام البصري: هو عبد السلام بن الحسين بن محمد أبو أحمد البصري اللغوي، قرأ على الفارسي والسيرافي وابن جني وغيرهم، مات سنة (405 هـ).
সুমিষ্ট, এমনকি তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব গঠিত হওয়া পর্যন্ত। তাঁর প্রধান শায়খ বা শিক্ষকগণ যাদের থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন তারা হলেন:

১ - আবু আলী আল-ফারিসি: তিনি হলেন আবু আলী হাসান ইবন আহমদ ইবন আব্দুল গাফফার আল-ফারিসি আল-ফাসাওয়ি। তিনি ইবন জিন্নির শ্রেষ্ঠ উস্তাদ যার কাছে তিনি শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং যার দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন। তিনি ৩৭৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

২ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবন হাসান ইবন ইয়াকুব, যিনি ইবন মিকসাম নামে পরিচিত। তিনি বাগদাদের অন্যতম ক্বারী ছিলেন। তিনি ভাষা ও কবিতার পণ্ডিত ছিলেন এবং কুফাবাসীদের নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাফেয ছিলেন। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৩৫৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৩ - আবুল ফারাজ আল-আসফাহানি: তিনি হিশাম ইবন আব্দুল মালিকের বংশধর আলী ইবন হুসাইন ইবন হাইসাম আল-কুরাশি। তিনি একজন কবি, গ্রন্থকার ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি তিনশ ষাট হিজরির কিছুকাল পরে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ - আহমদ ইবন মুহাম্মদ আবুল আব্বাস আল-মাওসিলি আন-নাহবি, যিনি আল-আখফাশ নামে পরিচিত। ইবনুন নাজ্জার বলেন: «তিনি নাহু শাস্ত্রে ইমাম, একজন ফাযেল ফকিহ এবং শাফেয়ী মাযহাবের বিশেষজ্ঞ ছিলেন»।

তাঁরা ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন যাদের থেকে ইবন জিন্নি উপকৃত হয়েছেন এবং জ্ঞান বর্ণনা করেছেন।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

যখন ইবন জিন্নির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল এবং তাঁর সুখ্যাতি দিগন্ত স্পর্শ করল, তখন মানুষ তাঁর কাছে জ্ঞান অর্জন করতে এবং তাঁর জ্ঞান-উৎসমূল হতে পান করতে আসতে শুরু করল। তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধগণ হলেন:

১ - আশ-শরীফ আর-রাযী: তিনি হলেন বিখ্যাত কবি আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবন হুসাইন ইবন মুসা। তিনি আবুল ফাতহ (ইবন জিন্নি)-এর নিকট ভাষার পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি ৪০৬ হিজরি সনে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন।

২ - আস-সামানিনি: তিনি হলেন অন্ধ নাহুবিদ আবু কাসিম উমর ইবন সাবিত আস-সামানিনি। তিনি আবুল ফাতহ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর রচিত «আল-লুমআ» গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। তিনি ৪৪২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৩ - আবু আহমদ আব্দুস সালাম আল-বাসরি: তিনি হলেন ভাষাবিদ আব্দুস সালাম ইবন হুসাইন ইবন মুহাম্মদ আবু আহমদ আল-বাসরি। তিনি আল-ফারিসি, আস-সিরাফি, ইবন জিন্নি এবং অন্যান্যদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি ৪০৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১১)
4 - أبو الحسن السمسمي: هو علي بن عبيد الله بن عبد الغفار السمسمي اللغوي كان لغويًا بارعًا، أخذ عن أبي الفتح، مات سنة (415 هـ).

5 - ثابت بن محمد أبو الفتوح الجرجاني الأندلسي النحوي، كان من أئمة اللغة العربية البارزين، وقد روى ببغداد عن ابن جني وعلي بن عيسى الربعي وعبد السلام بن الحسين البصري مات سنة (431 هـ).

***

كتاب اللمع لأبي الفتح ابن جني:

لقد ترك لنا ابن جني رحمه الله ثروة تأليفية ضخمة ذات قيمة علمية عظيمة في النحو والتصريف واللغة والعروض والقراءات وغير ذلك من الفنون، ومن هذه الثروة كتاب اللمع في النحو، جمع فيه صاحبه بين النحو والتصريف، وقد ضمنه الكلام على الأبواب التالية:

الكلام، المعرب والمبني، الإعراب والبناء، إعراب الاسم الواحد، إعراب الاسم المعتل، التثنية، جمع التذكير، جمع التأنيث، جمع التكسير، الأفعال معرفة الأسماء المرفوعة، المبتدأ، الخبر، الفاعل، المفعول الذي لم يسم فاعله، كان وأخواتها، إن وأخواتها، باب «لا» في النفي، معرفة الأسماء المنصوبة المفعول المطلق، المفعول به، المفعول فيه، ظروف الزمان، ظروف المكان، المفعول له، المفعول معه، المشبه بالمفعول في اللفظ، الحال، التمييز، الاستثناء، معرفة الأسماء المجرورة، حروف الجرو مذ ومنذ، حتى، الإضافة، معرفة ما يتبع الاسم في إعرابه، الوصف، التوكيد، البدل، عطف البيان، عطف النسق، النكرة والمعرفة، النداء، الترخيم، الندبة، إعراب الأفعال وبناؤها الحروف التي تنصب الفعل، حروف الجزم، الشرط وجوابه، التعجب، نعم وبئس، حبذا، عسى، كم، معرفة ما ينصرف وما لا ينصرف، العدد، الجمع، القسم، الموصول والصلة، النونين، النسب التصغير، ألفات القطع وألفات الوصل، الاستفهام، ما يدخل على الكلام فلا يغيره، الحكاية، الخطاب، الإمالة.

تلك هي الأبواب التي اشتمل عليها كتاب «اللمع» في النحو لابن جني، وهي كما نرى موزعة بين النحو والتصريف، وإن كان النحو قد نال حظه موفورًا منها،
৪ - আবুল হাসান আস-সিমসিমি: তিনি হলেন আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল গাফফার আস-সিমসিমি আল-লুগাভী। তিনি একজন দক্ষ ভাষাবিদ ছিলেন, তিনি আবুল ফাতহের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ৪১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৫ - সাবিত ইবনে মুহাম্মদ আবুল ফুতুহ আল-জোরজানি আল-আন্দালুসি আন-নাহবী। তিনি আরবি ভাষার অন্যতম প্রধান ইমাম ছিলেন। তিনি বাগদাদে ইবনে জিন্নি, আলী ইবনে ঈসা আর-রিবয়ি এবং আব্দুস সালাম ইবনুল হুসাইন আল-বসরির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৪৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

***

আবুল ফাতহ ইবনে জিন্নির কিতাবুল লুমা:

ইবনে জিন্নি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের জন্য ব্যাকরণ (নাহু), রূপান্তর (সরফ), ভাষা, ছন্দবিজ্ঞান, ক্বিরাআত এবং অন্যান্য বিদ্যায় এক বিশাল ও অত্যন্ত মূল্যবান রচনামূলক সম্পদ রেখে গেছেন। এই সম্পদেরই অন্তর্ভুক্ত হলো নাহু শাস্ত্রের ওপর লিখিত 'কিতাবুল লুমা'। এতে গ্রন্থকার নাহু এবং সরফের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তিনি এই গ্রন্থে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ আলোচনা করেছেন:

বাক্য, মোরাব ও মাবনি, ইরাব ও বেনা, একবচন বিশেষ্যের ইরাব, মো'তাল (ত্রুটিযুক্ত) বিশেষ্যের ইরাব, দ্বিবচন, পুংলিঙ্গ বহুবচন, স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন, ভগ্ন বহুবচন, ক্রিয়াপদ, মারফু (পেশযুক্ত) বিশেষ্যসমূহের পরিচয়, মুবতাদা, খবর, ফায়েল, নায়েবে ফায়েল, কানা ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ, ইন্না ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ, না-বোধক 'লা'-এর পরিচ্ছেদ, মানসুব (যবরযুক্ত) বিশেষ্যসমূহের পরিচয়, মফউলে মুতলাক, মফউলে বিহি, মফউলে ফীহি, সময়ের কালবাচক শব্দসমূহ, স্থানের কালবাচক শব্দসমূহ, মফউলে লাহু, মফউলে মাহু, শব্দের দিক থেকে মফউলের সদৃশ শব্দসমূহ, হাল (অবস্থা), তামীয (পার্থক্যকারী), ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম), মাজরুর (জেরযুক্ত) বিশেষ্যসমূহের পরিচয়, হরফে জর, মুয ও মুনযু, হাত্তা, ইজাফাত (সম্বন্ধ), ইরাবের ক্ষেত্রে পদাশ্রিত অনুসর্গগুলোর পরিচয়, সিফাত (গুণ), তাকিদ (দৃঢ়তা প্রদান), বদল, আতফে বায়ান, আতফে নাসাক্ব, অনির্দিষ্ট ও নির্দিষ্ট বিশেষ্য, সম্বোধন (নিদা), তারখীম, আক্ষেপ প্রকাশ (নুদবা), ক্রিয়াপদের ইরাব ও বেনা, ক্রিয়াপদকে নসব প্রদানকারী হরফসমূহ, জযম প্রদানকারী হরফসমূহ, শর্ত ও জওয়াবে শর্ত, বিস্ময়সূচক বাক্য (তাজ্জুব), নি'মা ও বি'সা, হাব্বাযা, আসা, কাম, পরিবর্তনশীল ও অপরিবর্তনশীল বিশেষ্যের পরিচয়, সংখ্যা, বহুবচন, কসম (শপথ), মওসুল ও সিলাহ, নুনদ্বয় (তাকিদ), সম্বন্ধ (নিসবাত), ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দ (তাসগীর), হামযাতুল ক্বাত ও হামযাতুল ওয়াসল, প্রশ্নবোধক বাক্য, বাক্যে প্রবেশ করে যা কোনো পরিবর্তন ঘটায় না, উদ্ধৃতি (হিকায়াত), সম্বোধন (খিতাব), ইমালাহ।

এগুলোই হলো ইবনে জিন্নির নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থ 'আল-লুমা'-এর অন্তর্ভুক্ত পরিচ্ছেদসমূহ। আমরা যেমনটি দেখছি, এগুলো নাহু এবং সরফের মধ্যে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যদিও নাহু এতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১২)
إذا لم يشمل التصريف سوى ستة أبواب هي باب جمع التكسير، وباب النسب، وباب التصغير، وباب ألفات القطع وألفات الوصل، وباب الخطاب، وباب الإمالة، وشمل النحو باقيها.

وبالنظر في كتاب «اللمع» نجد أن أبواب التصريف قد أخذت مكانها في آخر الكتاب، كما هو شأن كتب النحو جميعها، قال ابن جني: «لا تجد كتابًا في النحو إلا والتصريف في آخره» غير أن ابن جني لم يذكر أبواب التصريف متوالية كما هي عادة النحاة جميعًا وإنما ذكرها متداخلة مع بعض أبواب النحو، كما هي واضح من العرض السابق.

ويذكر لنا ابن جني رحمه الله العلاقة بين النحو والتصريف مبينًا السبب الذي دعا إلى تقديم النحو في الذكر مع أن التصريف أحق منه بذلك، فيقول:

«فالتصريف إنما هو لمعرفة أنفس الكلم الثابتة، والنحو إنما هو لمعرفة أحواله المتنقلة …

وإذا كان ذلك كذلك فد كان من الواجب على من أراد معرفة النحو أن يبدأ بمعرفة التصريف، لأن معرفة ذات الشيء الثابتة ينبغي أن يكون أصلًا لمعرفة حاله المتنقلة، إلا أن هذا الضرب من العلم لما كان عويصًا صعبًا بدئ قبله بمعرفة النحو، ثم جيء به بعد ليكون الارتياض في النحو موطئًا للدخول فيه، ومعينا على معرفة أغراضه ومعانيه».

وبالنظر فيما استعمله ابن جني في كتابه من شواهد نجد أنها متنوعة فتارة يستشهد بالقرآن المجيد، وتارة بالشعر العربي وفصيح كلام العرب.

أما استشهاده بالقرآن فواضح في كتابه، حيث استشهد باثنين وأربعين آية منه، إذ هو ممن يقول: بجواز الاحتجاج بمتواتر القرآن وشاذه.

وأما شواهده الشعرية فقد بلغت في كتابه ثمانية وسبعين شاهدًا نسب بعضها وأغفل نسبة الباقي.

وقد وقع من ابن جني خطأ في نسبة شاهدين من شواهده الشعرية المنسوبة أولهما: قول الشاعر:

بالوارث الباعث الأموات قد ضمنت … إياهم الأرض في دهر الدهارير

فقد نسب ابن جني هذا البيت في كتابيه «اللمع والخصائص» إلى أمية بن أبي
যদি তাসরিফ (রূপতত্ত্ব) শুধুমাত্র ছয়টি অধ্যায় যথা: জাম'উত তাকসির (ভগ্ন বহুবচন) অধ্যায়, নাসাব (সম্বন্ধবাচক রূপ) অধ্যায়, তাসগির (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ) অধ্যায়, আলফাতুল কাত' (বিচ্ছেদকারী আলিফ) ও আলফাতুল ওয়াসল (সংযোগকারী আলিফ) অধ্যায়, খিতাব (সম্বোধন) অধ্যায় এবং ইমালাহ অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং নাহু (ব্যাকরণ) অবশিষ্ট অংশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।

‘আল-লুমা’ গ্রন্থের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে, তাসরিফের অধ্যায়গুলো গ্রন্থের শেষে স্থান পেয়েছে, যেমনটি সকল নাহু গ্রন্থের রীতি। ইবনে জিন্নি বলেন: "আপনি নাহুর এমন কোনো গ্রন্থ পাবেন না যার শেষে তাসরিফ নেই।" তবে ইবনে জিন্নি সকল ব্যাকরণবিদের সাধারণ অভ্যাসের ন্যায় তাসরিফের অধ্যায়গুলোকে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেননি, বরং তিনি সেগুলোকে নাহুর কিছু অধ্যায়ের সাথে আন্তঃসম্পর্কিতভাবে উল্লেখ করেছেন, যা পূর্বোক্ত উপস্থাপনা থেকে স্পষ্ট।

ইবনে জিন্নি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের কাছে নাহু এবং তাসরিফের মধ্যকার সম্পর্ক উল্লেখ করে সেই কারণ বর্ণনা করেছেন যা তাসরিফ অধিকতর অগ্রাধিকারের দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও নাহুকে আলোচনার শুরুতে উপস্থাপনে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি বলেন:

“তাসরিফ তো কেবল শব্দের মূল ও স্থির সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য, আর নাহু কেবল এর পরিবর্তনশীল অবস্থাগুলো জানার জন্য …

আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে যে ব্যক্তি নাহু জানতে চায় তার জন্য তাসরিফ জানার মাধ্যমে শুরু করা আবশ্যক ছিল। কারণ কোনো স্থির বস্তুর সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা তার পরিবর্তনশীল অবস্থা জানার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। তবে জ্ঞানের এই শাখাটি যেহেতু জটিল ও কঠিন ছিল, তাই এর আগে নাহু শিক্ষার মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে। অতঃপর একে পরে আনা হয়েছে যাতে নাহুর অনুশীলন এতে প্রবেশের পথ সুগম করে এবং এর উদ্দেশ্য ও অর্থ বুঝতে সহায়ক হয়।”

ইবনে জিন্নি তাঁর গ্রন্থে যেসব প্রমাণাদি ব্যবহার করেছেন তার দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাই যে সেগুলো বৈচিত্র্যময়। কখনো তিনি মহিমান্বিত কুরআন থেকে দলিল পেশ করেন, আবার কখনো আরবি কবিতা এবং আরবদের প্রাঞ্জল কথা থেকে উদ্ধৃতি দেন।

তাঁর কুরআনি উদ্ধৃতি ব্যবহারের বিষয়টি তাঁর গ্রন্থে স্পষ্ট, যেখানে তিনি বিয়াল্লিশটি আয়াত থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন। কেননা তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা কুরআনের মুতাওয়াতির এবং শায (বিরল) উভয় প্রকার পাঠ দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ মনে করেন।

আর তাঁর কাব্যিক প্রমাণাদির সংখ্যা তাঁর গ্রন্থে আটাত্তরটিতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে তিনি কিছু সংখ্যক কবির নাম উল্লেখ করেছেন এবং বাকিগুলোর নাম উল্লেখ করেননি।

ইবনে জিন্নি তাঁর উদ্ধৃত কাব্যিক প্রমাণাদির মধ্যে দুটির রচয়িতা নির্ধারণে ভুল করেছেন। তার প্রথমটি হলো কবির এই উক্তি:

সেই উত্তরাধিকারী ও মৃতদের পুনরুত্থানকারীর শপথ, যাঁর কাছে তারা গচ্ছিত আছে … পৃথিবী দীর্ঘ কাল ধরে তাদের ধারণ করে আছে।

ইবনে জিন্নি তাঁর ‘আল-লুমা’ এবং ‘আল-খাসাইস’ উভয় গ্রন্থে এই কবিতাটিকে উমাইয়া ইবনে আবি-র প্রতি নিসবত করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الصلت والصحيح أن هذا البيت للفرزدق، فإنه ذكر في ديوانه ولم تعثر عليه في ديوان أمية بن أبي الصلت وقد نبه على هذا الخطأ ابن الخباز في «توجيه اللمع» فقال وقوله: أي ابن جنى في البيت الثاني لأمية تخليط، وقد رأيت البيت في شعر الفرزدق ثانيهما: قول الشاعر:

* يا حكم الوارث عن عبد الملك *

نسب ابن جني هذا البيت إلى العجاج، وتبعه في هذه النسبة الخاطئة ابن الخباز في كتابه «توجيه اللمع» ولكنه في كتابه «الغرة المخفية» قد صحح هذا الخطأ، وأثبت أن البيت لرؤبة بن العجاج، وتلك هي النسبة الصحيحة.

ومما يلاحظ على ابن جني أيضًا أنه ذكر شاهدًا شعريًا مركبًا من شطري يتبين وهو كما ذكره ابن جني:

حاشا أبي ثوبان أن به … ضنا على الملحاة والشتم

وقد تنبه ابن الخباز في كتابه «توجيه اللمع» إلى هذا الخلط، فقال: «والبيت الذي أنشده أبو الفتح رحمه الله أنشده المفضل، وقد حرفه فجعل صدر غيره له، والصواب ما أذكره لك، قال:

حاشا أبي ثوبان أن أبا … ثوبان ليس بزمل قدم

عمرو بن عبد الله أنه به … ضنًا على الملحاة والشتم

وقد استشهد ابن جني كذلك بالنثر العربي في كتابه «اللمع» ومن ذلك استشهاده على زيادة الألف بين النونات تخفيفًا بكلام أبي مهدية، وهو قوله: «اخسأنان عني».

شروح كتاب اللمع

وجد كتاب اللمع لابن جني اهتمامًا بالغًا لدى كثير من علماء العربية، فقد
আস-সালত এবং সঠিক হলো এই যে, এই চরণটি ফারাজদাক-এর। কারণ এটি তাঁর কাব্যগ্রন্থে (দিওয়ান) উল্লিখিত হয়েছে কিন্তু উমাইয়্যা বিন আবিস সালত-এর কাব্যগ্রন্থে তা পাওয়া যায়নি। ইবনুল খাব্বাজ ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থে এই ভুলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন: দ্বিতীয় চরণটিকে উমাইয়্যার প্রতি ইবনে জিন্নি-র নিসবত করা একটি সংমিশ্রণ বা বিভ্রান্তি, আমি এই চরণটি ফারাজদাক-এর কবিতায় দেখেছি। দ্বিতীয়টি হলো কবির উক্তি:

* হে হাকাম, আব্দুল মালিকের উত্তরাধিকারী *

ইবনে জিন্নি এই চরণটিকে আল-আজ্জাজ-এর প্রতি নিসবত করেছেন এবং ইবনুল খাব্বাজ তাঁর ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থে এই ভুল নিসবতে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। তবে তিনি তাঁর ‘আল-গুররাতুল মাখফিয়্যাহ’ গ্রন্থে এই ভুলটি সংশোধন করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে চরণটি রু’বা বিন আল-আজ্জাজ-এর, আর সেটিই সঠিক নিসবত।

ইবনে জিন্নি-র ব্যাপারে আরও যা লক্ষ্য করা যায় তা হলো তিনি দুটি চরণের অংশবিশেষ দ্বারা গঠিত একটি কাব্যিক উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। ইবনে জিন্নি যেভাবে তা উল্লেখ করেছেন তা হলো:

আবু সাওবান ব্যতীত, তার মধ্যে … তিরস্কার ও গালমন্দের প্রতি কৃপণতা রয়েছে

ইবনুল খাব্বাজ তাঁর ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থে এই সংমিশ্রণের প্রতি সচেতন হয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আবুল ফাতহ (ইবনে জিন্নি) -রহিমাহুল্লাহ- যে চরণটি আবৃত্তি করেছেন তা আল-মুফাদ্দাল আবৃত্তি করেছেন, তবে তিনি এতে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন এবং অন্যের চরণের প্রথমাংশ এর সাথে যুক্ত করেছেন। সঠিকটি হলো যা আমি আপনার নিকট উল্লেখ করছি, তিনি বলেছেন:

আবু সাওবান ব্যতীত, নিশ্চয়ই আবু … সাওবান ভীরু পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়া ব্যক্তি নন

আমর বিন আব্দুল্লাহ, নিশ্চয়ই তার মধ্যে … তিরস্কার ও গালমন্দের প্রতি কৃপণতা রয়েছে

ইবনে জিন্নি তাঁর ‘আল-লুমা’ গ্রন্থে একইভাবে আরবি গদ্য থেকেও প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো সহজ করার উদ্দেশ্যে নূন-সমূহের মাঝে আলিফ বৃদ্ধি করার স্বপক্ষে আবু মাহদিয়্যার উক্তি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান, যা হলো: "তোমরা আমার নিকট থেকে দূরে সরে যাও"।

কিতাবুল লুমা-র ব্যাখ্যাসমূহ

ইবনে জিন্নি-র ‘আল-লুমা’ গ্রন্থটি বহু আরবি ভাষাবিদদের নিকট ব্যাপক সমাদর ও গুরুত্ব লাভ করেছে, ফলে
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৪)
حفظ لنا التاريخ منذ القرن الخامس الهجري حتى القرن الثامن أسماء نخبة ممتازة من جلة وكبار العلماء الذين عكفوا على دراسة هذا الكتاب، وبذلوا ما في وسعهم من جهد في شرحه أو تخريج شواهده، وجعلوا منه مدرسة نحوية في مصر والشام والعراق وجزيرة العرب.

وإليك ما أمكن التعرف عليه من هذه الشروح التي حظى بها كتاب اللمع لابن جني:

1 - شرح أبي القاسم عمر بن ثابت الثمانيني النحوي الضرير المتوفى سنة (442 هـ).

2 - شرح أبي نصر الحسن بن أسد بن الحسن الفارقي المتوفى سنة (482 هـ) وأسماء صاحبه بالتصنيف البديع في شرح اللمع.

3 - شرح الحسن بن علي بن محمد بن عبد العزيز الطائي من أهل مرسية ويكنى أبا بكر، توفي سنة (498 هـ).

4 - شرح أبي نصر القاسم بن محمد بن مناذر الواسطي النحوي الضرير.

5 - النظامي في النحو، وهو لمحمود بن حمزة بن نصر الكرماني النحوي المتوفى بعد الخمسمائة اختصره من كتاب اللمع لابن جني.

6 - شرح أبي القاسم ناصر بن أحمد بن بكر الخويي النحوي الأديب توفي سنة (507 هـ).

7 - شرح أبي البركات عمر بن إبراهيم بن محمد بن محمد العلوي الزيدي الكوفي توفي عام (593 هـ).

8 - شرح أبي السعادات هبة الله بن علي عبد الله العلوي المعروف بابن الشجري البغدادي المتوفي سنة (542 هـ).

9 - شرح أبي عبد الله محمد بن علي بن أحمد الحلي المعروف بابن حميدة
পঞ্চম হিজরি শতাব্দী থেকে অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত ইতিহাস আমাদের জন্য এমন একদল শ্রেষ্ঠ ও মহান পণ্ডিতের নাম সংরক্ষণ করেছে, যারা এই গ্রন্থটি অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাঁরা এর ব্যাখ্যা প্রদান অথবা এর কাব্যিক প্রমাণসমূহের (শাওয়াহিদ) উৎস নির্ণয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং একে মিশর, সিরিয়া, ইরাক ও আরব উপদ্বীপে একটি ব্যাকরণিক ধারায় পরিণত করেছেন।

ইবনে জিন্নীর ‘আল-লুমা’ গ্রন্থটি যে সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শরহ) মর্যাদা লাভ করেছে, সেগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়েছে তা নিম্নরূপ:

১ - আবু কাসেম উমর ইবনে সাবিত আস-সামানিনী আন-নাহবী আদ-দারীরের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ৪৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২ - আবু নাসর হাসান ইবনে আসাদ ইবনে হাসান আল-ফারিকীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ৪৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; এর রচয়িতা এর নাম রেখেছেন ‘আত-তাসনিফ আল-বাদি ফি শারহিল লুমা’।

৩ - মুরসিয়া নিবাসী হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আত-তায়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার উপনাম আবু বকর; তিনি ৪৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ - আবু নাসর কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানাযির আল-ওয়াসিতী আন-নাহবী আদ-দারীরের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৫ - আন-নিযামী ফিন নাহব; এটি মাহমুদ ইবনে হামজা ইবনে নাসর আল-কিরমানী আন-নাহবীর রচনা, যিনি পাঁচশ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এটি ইবনে জিন্নীর ‘আল-লুমা’ গ্রন্থ থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন।

৬ - আবু কাসেম নাসির ইবনে আহমদ ইবনে বকর আল-খুয়ী আন-নাহবী আল-আদীবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ৫০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৭ - আবু বারাকাত উমর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আলাওয়ী আজ-জাইদী আল-কুফীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ৫৯৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৮ - আবুল সা’দাত হিবাতুল্লাহ ইবনে আলী আব্দুল্লাহ আল-আলাওয়ী, যিনি ইবনে আশ-শাজারী আল-বাগদাদী নামে পরিচিত, তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; তিনি ৫৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৯ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-হিল্লীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ইবনে হুমাইদাহ নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৫)
النحوي المتوفي سنة (550 هـ).

10 - شرح أبي محمد عبد الله بن أحمد بن أحمد بن عبد الله بن نصر بن الخشاب النحوي المتوفى سنة (567 هـ).

11 - شرح أبي محمد سعيد بن المبارك بن علي بن عبد الله بن سعيد بن محمد ابن نصر بن عاصم المعروف بابن الدهان، المتوفى بالموصل سنة (569 هـ).

12 - شرح أسعد بن نصر بن أسعد أبي منصور العبرتي المتوفى سنة (589 هـ).

13 - شرح أبي الحسن الباقولي علي بن الحسين بن علي الضرير الأصفهاني النحوي المتوفى سنة (543 هـ).

14 - شرح أبي الحسن علي بن الحسن بن عنتر بن ثابت الحلي الأديب المعروف بشميم المتوفى سنة (601 هـ) وهذا الشرح قد سماه مؤلفه بالمخترع في شرح اللمع.

15 - شرح أبي البقاء عبد الله بن الحسين بن عبد الله النحوي الضرير العكبري الأصلي البغدادي المولد والدار المتوفى سنة (616 هـ).

16 - شرح أبي محمد القاسم بن القاسم بن عمر بن منصور الواسطي النحوي اللغوي المتوفى سنة (626 هـ).

17 - شرح أبي بكر بن يحيى بن عبد الله الجذامي المالقي النحوي المعروف بالخفاف، المتوفى سنة (657 هـ).

18 - شرح أحمد بن عبد الله المهابا ذي الضرير، قال ياقوت: «من تلاميذ عبد القاهر الجرجاني من مصنفاته: شرح اللمع».
নাহবি (ব্যাকরণবিদ), যিনি ৫৫০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১০ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নাসর ইবনুল খাশশাব নাহবি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ৫৬৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১১ - আবু মুহাম্মদ সাঈদ ইবনুল মুবারক ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর ইবনে আসিম, যিনি ইবনুদ দাহহান নামে পরিচিত, তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; তিনি ৫৬৯ হিজরি সনে মোসেলে মৃত্যুবরণ করেন।

১২ - আসআদ ইবনে নাসর ইবনে আসআদ আবু মনসুর আল-ইবারতি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ৫৮৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১৩ - আবুল হাসান আল-বাকুলি আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী আদ-দরির আল-আস্পাহানি নাহবি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ৫৪৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১৪ - আবুল হাসান আলী ইবনুল হাসান ইবনে আনতার ইবনে সাবিত আল-হিল্লি আল-আদিব, যিনি শামিম নামে পরিচিত, তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; তিনি ৬০১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। লেখক এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নাম রেখেছেন ‘আল-মুখতারি’ ফি শারহিল লুমা’।

১৫ - আবু আল-বাকা আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ নাহবি আদ-দরির আল-উকবারী; তার আদি নিবাস ছিল উকবারা এবং জন্ম ও আবাসস্থল ছিল বাগদাদে; তিনি ৬১৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১৬ - আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনুল কাসিম ইবনে উমর ইবনে মনসুর আল-ওয়াসিতি নাহবি লুগাভি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি ৬২৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১৭ - আবু বকর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ আল-জুজামি আল-মালিকি নাহবি, যিনি আল-খাফফাফ নামে পরিচিত, তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; তিনি ৬৫৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১৮ - আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মাহাবাজি আদ-দরির-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; ইয়াকুত বলেন: "তিনি আব্দুল কাহির আল-জুরজানির শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: শারহুল লুমা।"
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৬)
19 - شرح اللمع ليحيى بن علي بن محمد بن الحسن بن محمد بن موسى بن بسطام الشيباني أبي زكريا ابن الخطيب التبريزي المتوفي سنة (502 هـ).

20 - هناك نسخة لأحد شروح اللمع غير منسوبة إلى معين، وهي بدار الكتب تحت رقم (5351 هـ) وكتبت سنة (659 هـ) بخط أبي بكر بن عثمان بن أبي بكر.

21 - أشار بروكلمان في تاريخ الأدب العربي (2/ 247) إلى وجود نسخة غير منسوبة من شرح اللمع لابن جني بمكتبة بايزيد تحت رقم (1992).

22 - شرح شواهد اللمع لابن هشام الأنصاري، وقد سماه مؤلفه «بالروضة الأدبية في شواهد علوم العربية».

23 - شرح اللمع لابن الخباز وقد أسماه «بالإلماع في شرح اللمع» وهذا الشرح قد أشار إليه العلامة ابن الخباز في ثناينا كتابه «توجيه اللمع» حيث قال عند الكلام على نون الوقاية وفي هذه النون مسائل كثيرة استقصيتها في كتاب «الإلماع في شرح اللمع».

24 - ولعل من أهم هذه الشروح «شرح اللمع» لابن الخباز أبي العباس أحمد ابن الحسين بن أحمد بن معالي بن منصور بن علي الشيخ شمس الدين، المتوفى بالموصل عاشر رجب سنة تسع وثلاثين وستمائة.

وهذا الشرح أسماه ابن الخباز في مقدمة كتابه «بتوجيه اللمع» وهو موضوع دراستنا، ويوجد منه نسخة وحيدة بمكتبة الأزهر الشرف تحت رقم (2348 السقا) (28676 نحو) ، والنسخة في مجلد واحد ومكتوبة في سنة (786 هـ) بقلم نسخ قديم وتقع في (208 ورقة) ، والشرح من الشروح المختصرة.

وسوف أبسط الكلام على هذا الشرح في الفصل الثالث من هذه الدراسة إن شاء الله.

***
১৯ - আবু জাকারিয়া ইবনুল খাতিব আত-তাবরিজি নামধারী ইয়াহইয়া ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে বাসতাম আশ-শাইবানি (মৃত্যু ৫০২ হিজরি) কর্তৃক রচিত শারহুল লুমা।

২০ - শারহুল লুমা-র ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে এমন একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা নির্দিষ্ট কোনো লেখকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত নয়। এটি 'দারুল কুতুব'-এ (৫৩৫১ হিজরি) নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত এবং ৬৫৯ হিজরি সনে আবু বকর ইবনে উসমান ইবনে আবু বকরের হস্তলিপিতে লিখিত হয়েছে।

২১ - ব্রোকলম্যান তার 'তারিখুল আদাবিল আরাবি' (২/২৪৭) গ্রন্থে বায়েজিদ লাইব্রেরিতে ১৯৯২ নম্বরের অধীনে ইবনে জিন্নি রচিত 'শারহুল লুমা'-র একটি নামহীন ব্যাখ্যাগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।

২২ - ইবনে হিশাম আল-আনসারি রচিত 'শারহু সাওয়াহিদুল লুমা', লেখক নিজে এর নামকরণ করেছেন 'আর-রওজাতুল আদাবিয়্যাহ ফি সাওয়াহিদি উলুমিল আরাবিয়্যাহ'।

২৩ - ইবনে আল-খাব্বাজ রচিত 'শারহুল লুমা', যা তিনি 'আল-ইলমা ফি শারহিল লুমা' নামে অভিহিত করেছেন। আল্লামা ইবনে আল-খাব্বাজ তার 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। যেমন 'নুনুল বিকায়া' সংক্রান্ত আলোচনার সময় তিনি বলেছেন: "এই নুন সম্পর্কে অনেক মাসআলা রয়েছে যা আমি আমার 'আল-ইলমা ফি শারহিল লুমা' গ্রন্থে বিস্তারিত অনুসন্ধান করেছি।"

২৪ - সম্ভবত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইবনে আল-খাব্বাজ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে মাআলি ইবনে মানসুর ইবনে আলি আশ-শাইখ শামসুদ্দিনের 'শারহুল লুমা', যিনি ৬৩৯ হিজরি সনের ১০ই রজব মোসেলে মৃত্যুবরণ করেন।

আর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকেই ইবনে আল-খাব্বাজ তার গ্রন্থের ভূমিকায় 'তাওজিহুল লুমা' নামে অভিহিত করেছেন, যা আমাদের এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য। এর একমাত্র পাণ্ডুলিপিটি আল-আজহার আল-শরিফ লাইব্রেরিতে (২৩৪৮ সাক্কা) (২৮৬৭৬ নাহু) নম্বরের অধীনে বিদ্যমান। পাণ্ডুলিপিটি এক খণ্ডে সমাপ্ত এবং ৭৮৬ হিজরি সনে প্রাচীন নাসখ লিপিতে ২০৮ পৃষ্ঠায় (পত্রে) লিখিত। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

ইনশাআল্লাহ, এই গবেষণার তৃতীয় অধ্যায়ে আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

***
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الثاني: ابن الخباز عصره ونشأته

عاش ابن الخباز أحمد بن الحسين بين القرنين السادس والسابع الهجريين.

الحالة السياسية في عصره:

ضعفت الدولة العباسية الثانية ضعفًا شديدًا أدى إلى انفصال كثير من ولاياتها عنها، واستقلالها استقلالًا تامًا، مما كان له أكبر الأثر في تمزق أواصر هذه الدولة وانفراط عقدها، وكان من نتائج ذلك أن عاشت هذه الدولة في بؤرة من الفساد الداخلي والنزاع الخارجي، فكان ولاة الأقاليم في نزاع مستمر، واحتكاك دائم، حيث كان كل منهم يود أن يفوز - بطريقة أو بأخرى - بأكبر عدد من الألوية والقطاعات ليسيطر عليها ويتولى مقاليد أمورها.

الحالة الاجتماعية في عصره:

بالنظر إلى المجتمع الإسلامي في القرن السابع الهجري نجده قد تألف من عناصر بشرية متباينة الأشكال والألوان مختلفة الأجناس، والطباع، فقد كان منهم العربي، والفارسي، والتركي، والأرمني، بالإضافة إلى طائفة الرقيق.

وكان الناس في هذا العصر يكونون طبقتين: طبقة الخاصة، وطبقة العامة.

أما طبقة الخاصة: فكانت تضم الخليفة وأهله ورجال دولته، ورجال البيوتات، وتضم كذلك توابع الخاصة من الجند والأعوان، والموالي والخدم.

أما طبقة العامة وهم السواد الأعظم من الأمة: فكانت تشمل الزراع، والصناع، والعيارين، والشطار واللصوص، والمخنثين، والصعاليك، وغيرهم ممن لا يحصى.

وكان المجتمع الإسلامي حيننذاك غير قاصر على المسلمين، بل كان يضم بجانبهم المسيحيين واليهود، وكانوا يؤدون شعائرهم الدينية في حرية تامة، لأن التسامح الديني كان صفة غالبة على المسلمين، فكانوا يعاملون غيرهم من أهل، الديانات الأخرى معاملة حسنة، وأكثر من ذلك كانوا يتيحون لهم فرص العمل في أجهزة الدولة المختلفة.

وكان المسلمون وأهل الذمة يرتعون في بحبوحة من العيش في ظل المحبة والمعاملة الطيبة، ولكن هذه الحالة لم تدم طويلًا فقد عصفت بها أعاصير التعصب الممقوت الذي
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনুল খাব্বাজ, তাঁর যুগ ও বেড়ে ওঠা

ইবনুল খাব্বাজ আহমদ বিন আল-হুসাইন হিজরি ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে বসবাস করতেন।

তাঁর যুগের রাজনৈতিক পরিস্থিতি:

দ্বিতীয় আব্বাসীয় রাষ্ট্র চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে এর অনেক প্রদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। এটি এই রাষ্ট্রের বন্ধন ছিন্নভিন্ন করতে এবং সংহতি বিনষ্ট করতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এর অন্যতম ফলাফল ছিল এই যে, রাষ্ট্রটি অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং বৈদেশিক বিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। প্রাদেশিক গভর্নররা নিরন্তর বিবাদ এবং স্থায়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন; কারণ তাদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক অঞ্চল ও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে এবং সেগুলোর শাসনভার গ্রহণ করতে উচ্চাভিলাষী ছিলেন।

তাঁর যুগের সামাজিক পরিস্থিতি:

হিজরি সপ্তম শতাব্দীর মুসলিম সমাজের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, এটি বিভিন্ন আকৃতি, বর্ণ, বংশ এবং স্বভাবের মানব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। তাদের মধ্যে আরব, পারস্য, তুর্কি এবং আরমানি বংশোদ্ভূতদের পাশাপাশি দাসের এক বিশাল গোষ্ঠী ছিল।

সেই যুগের মানুষ দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল: বিশেষ শ্রেণী এবং সাধারণ শ্রেণী।

বিশেষ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন খলিফা ও তাঁর পরিবার, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সম্ভ্রান্ত বংশীয় ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও এই শ্রেণীর অনুসারী হিসেবে সৈন্যবাহিনী, সাহায্যকারী, মুক্তদাস এবং সেবকরাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আর সাধারণ শ্রেণী, যারা ছিল উম্মাহর বৃহত্তর অংশ: এর মধ্যে কৃষক, কারিগর, লড়াকু যুবক, ধূর্ত চোর ও চোর-ডাকাত, হিজড়া, নিঃস্ব ভবঘুরে এবং অগণিত অন্যান্য লোকজন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তৎকালীন মুসলিম সমাজ কেবল মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাদের পাশাপাশি খ্রিস্টান ও ইহুদিরাও সেখানে বসবাস করত। তারা পূর্ণ স্বাধীনতায় নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করত। কারণ ধর্মীয় সহনশীলতা ছিল মুসলমানদের একটি প্রধান গুণ। তারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে অত্যন্ত সুন্দর আচরণ করত এবং এর চেয়েও বড় কথা হলো, তারা তাদেরকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করার সুযোগ প্রদান করত।

মুসলমান এবং জিম্মিরা অত্যন্ত হৃদ্যতা ও উত্তম আচরণের ছায়াতলে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করত। কিন্তু এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ একে চরম ঘৃণ্য গোঁড়ামির ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল যা...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৮)
ظهر بين المسلمين وأهل الذمة.

وكلما كانت الخلافة العباسية تتقدم نحو الشيخوخة، كان هذا التعصب يشتد لهيبة ويستعر أواره.

الحالة العلمية:

رغم الحروب والفتن التي سادت العراق إبان ذلك القرن، فقد كانت الحياة العلمية قائمة، ومزدهرة، وكان العلماء يمارسون نشاطهم العلمي ويؤدون مهامهم الثقافية والدينية، وكان من نتائج ذلك: أن ظلت المعارف رائجة والعلوم منتشرة وبخاصة علوم اللغة العربية، فإنها لقيت عناية كبيرة باعتبارها لغة القرآن المجيد والسنة النبوية الشريفة، وأنها اللغة الرسمية للدولة.

ومن أوضح مظاهر ازدهار المعارف وانتشار العلوم في هذه الفترة: بقاء المدارس تؤدي أغراضها العلمية مثل: المدرسة المستنصرية التي أنشأها الخليفة العباسي المستنصر بالله جعفر المنصور بن الظاهر بأمر الله، فقد بدأ في تشييد هذا الصرح عام (625 هـ) أي بعد تولية الخلافة بسنتين وهذه المدرسة قد احتضنت النحو واحتفت به أيما احتفاء، وإن كان لم يجعل له فيها جناح خاص به كبقية علوم تلك المدرسة، وما ذلك إلا لأنه كان قاسمًا مشتركًا بين جميع الفروع والأقسام العلمية فيها دون استثناء. وهذا يترجم عن مدى العناية به ومبلغ الاهتمام بدراسته.

ومن هذه المدارس أيضًا: المدرسة النظامية، والمدرسة البشرية، ومدرسة القلعة بأربل، وغير هذه المدارس كثير، وكانت هناك أيضًا الرباطات ومشيخاتها.

ومن المدن العراقية التي راجت فيها الحركة العلمية رغم ما كان ينزل بها من زوابع ويحل بها من اضطرابات وعوائل: إربل، والموصل، وسوف نورد تعريفًا موجزًا عن هاتين المدينتين، وقد خصصتهما بالذكر دون غيرهما باعتبارهما مولد ومنشأ ابن الخباز موضوع دراستنا.

إربل:

قال ياقوت: قال الأصمعي: الربل ضرب من الشجر إذا برد الزمان عليه وأدبر
মুসলমান এবং জিম্মিদের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছিল।

আব্বাসীয় খিলাফত বার্ধক্যের দিকে যতোই অগ্রসর হচ্ছিল, এই গোঁড়ামির শিখা ততোই তীব্রতর হচ্ছিল এবং তার তেজ প্রজ্বলিত হচ্ছিল।

শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা:

সেই শতাব্দীতে ইরাকে বিরাজমান যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ফিতনা সত্ত্বেও জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন ছিল স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ। উলামায়ে কেরাম তাঁদের বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন এবং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর ফলশ্রুতিতে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রসার অব্যাহত ছিল, বিশেষ করে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের জ্ঞান। কুরআন মাজিদ ও সুন্নাহে নববী (সা.)-এর ভাষা এবং রাষ্ট্রের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে এটি ব্যাপক যত্ন ও গুরুত্ব লাভ করেছিল।

এই যুগে জ্ঞানের সমৃদ্ধি ও বিজ্ঞানের প্রসারের অন্যতম স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ছিল মাদ্রাসাগুলোর সক্রিয়তা। যেমন: আল-মাদরাসা আল-মুস্তানসিরিয়া, যা আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তানসির বিল্লাহ জাফর আল-মানসুর বিন আল-জাহির বি-আমরিল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ৬২৫ হিজরিতে অর্থাৎ খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পর তিনি এই বিশাল সৌধটি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এই মাদ্রাসাটি আরবি ব্যাকরণকে (নাহু) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছিল। যদিও এই মাদ্রাসার অন্যান্য শাস্ত্রের মতো ব্যাকরণের জন্য কোনো স্বতন্ত্র শাখা নির্ধারণ করা হয়নি, তবে এর কারণ ছিল ব্যাকরণ শাস্ত্রটি ব্যতিক্রমহীনভাবে সেখানে পাঠদানকৃত সকল বিভাগ ও শাখার একটি অভিন্ন ভিত্তি ছিল। এর মাধ্যমে ব্যাকরণ চর্চার প্রতি বিশেষ যত্ন ও গভীর মনোযোগের বিষয়টি ফুটে ওঠে।

এই মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে আরও ছিল: আল-মাদরাসা আন-নিজামিয়া, আল-মাদরাসা আল-বাশারিয়া, আরবেলের কেল্লা মাদ্রাসা এবং এ জাতীয় আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও সেখানে রিবাতসমূহ এবং সেগুলোর শায়খগণ বিদ্যমান ছিলেন।

ইরাকের যেসব শহরে নানাবিধ প্রতিকূলতা ও অস্থিরতা সত্ত্বেও জ্ঞানচর্চার আন্দোলন বেগবান ছিল, সেগুলো হলো: আরবেল এবং মসুল। আমরা এই শহর দুটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করব। আমাদের গবেষণার মূল বিষয় ইবনুল খাব্বাজের জন্ম ও বেড়ে ওঠার স্থান হওয়ায় আমি বিশেষভাবে শহর দুটির কথা উল্লেখ করেছি।

আরবেল:

ইয়াকুত বলেন: আসমাঈ বলেছেন: 'রাবল' হলো এক প্রকার বৃক্ষ, যখন আবহাওয়া শীতল হয়ে যায় এবং (বসন্ত) বিদায় নেয়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৯)
الصيف تفطر بورق أخضر من غير مطر، ويقال: تربلت الأرض: لا يزال بها ربل، فيجوز أن تكون إربل مشتقة من ذلك، وقال الفراء: الريبال: النبات الكثير الملتف الطويل، فيجوز أن تكون هذه الأرض اتفق فيها في بعض الأحيان من الخصب وسعة النبت ما دعاهم إلى تسميتها بذلك، ثم استمر، كما فعلوا بأسماء الشهور.

وإربل هذه قلعة حصينة ومدينة كبيرة في فضاء من الأرض واسع بسيط، ولقلعتها خندق عميق، وهي في طرف من المدينة، وسور المدينة ينقطع في نصفها، وهي على تل عال من التراب عظيم واسع الرأس. وفي هذه القلعة أسواق ومنازل للرعية وجامع للصلاة وهي شبيهة بقلعة حلب إلا أنها أكبر وأوسع رقعة … ومع سعة هذه المدينة فبنيانها وطباعها بالقرى أشبه منها بالمدينة، وأكثر أهلها أكراد قد استعربوا … وبينها وبين بغداد مسيرة سبعة أيام للقوافل، وليس حولها بستان ولا فيها نهر جار على وجه الأرض، وأكثر زروعها على القنى المستنبطة تحت الأرض وشربهم من آبارهم العذبة الطيبة المرئية، التي لا فرق بين مائها وماء دجلة في العذوبة والخفة.

الموصل:

بفتح الميم وكسر الصاد «المدينة المشهورة العظيمة، إحدى قواعد بلاد الإسلام، قليلة النظير كبرًا وعظمًا، وكثرة خلق، وسعة رقعة، فهي محط رحال الركبان، ومنها يقصد إلى جميع البلدان» وهو بلد جليل حسن البناء، طيب الهواء، صحيح الماء، كبير الاسم، قديم الرسم، حسن الأسواق والفنادق، كثير الملوك والمشايخ، لا يخلو من إسناد عال وفقيه مذكور وقال ياقوت: «وكثيرًا ما وجدت العلماء يذكرون في كتبهم أن الغريب إذا أقام بالموصل سنة تبين في بدنه فضل قوة وما نعلم لذلك سببًا إلا صحة هواء الموصل وعذوبة مائها».

ابن الخباز

اسمه ونسبه: هو أحمد بن الحسين بن أحمد بن معالي بن منصور بن علي
গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি ছাড়াই এটি সবুজ পাতায় ছেয়ে যায়; বলা হয়ে থাকে: ভূমি ‘তারাব্বালাত’ হয়েছে, অর্থাৎ সেখানে অবিরাম ‘রাবল’ (সবুজ উদ্ভিদ) বিদ্যমান। তাই ইর্বিল শব্দটি এর থেকে উদ্ভূত হওয়া সম্ভব। আল-ফাররা বলেন: ‘আর-রিবাল’ হলো ঘন, জটলা পাকানো ও লম্বা উদ্ভিদ। হতে পারে এই ভূমিতে কোনো কোনো সময়ে এমন উর্বরতা এবং উদ্ভিদের প্রাচুর্য দেখা দিয়েছিল যা তাদের একে এই নামে ডাকতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, অতঃপর এটি স্থায়ী হয়ে যায়, যেমনটি তারা মাসের নামগুলোর ক্ষেত্রে করেছিল।

আর এই ইর্বিল হলো একটি সুদৃঢ় দুর্গ এবং একটি বিশাল শহর যা এক প্রশস্ত ও সমতল ভূমিতে অবস্থিত। এর দুর্গের একটি গভীর পরিখা রয়েছে এবং এটি শহরের এক প্রান্তে অবস্থিত। শহরের প্রাচীরটি এর মাঝপথে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এটি একটি সুউচ্চ মাটির টিলার উপর অবস্থিত যার উপরিভাগ অত্যন্ত বিশাল ও প্রশস্ত। এই দুর্গের ভেতরে বাজার, প্রজাসাধারণের জন্য ঘরবাড়ি এবং সালাতের জন্য জামে মসজিদ রয়েছে। এটি অনেকটা আলেপ্পো দুর্গের মতো, তবে এটি আয়তনে আরও বড় ও প্রশস্ত … এই শহরের বিশালতা সত্ত্বেও এর স্থাপত্যশৈলী এবং স্বভাবচরিত্র শহরের তুলনায় গ্রামের সাথে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। এর অধিবাসীদের অধিকাংশই কুর্দি যারা আরবীয় ভাবধারা গ্রহণ করেছে … এর ও বাগদাদের মধ্যে কাফেলার জন্য সাত দিনের পথ। এর চারপাশে কোনো বাগান নেই এবং ভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত কোনো নদীও নেই। এর অধিকাংশ চাষাবাদ ভূগর্ভস্থ খননকৃত নালার ওপর নির্ভরশীল এবং তারা তাদের সুপেয়, চমৎকার ও দৃশ্যমান কূপের পানি পান করে, যা স্বাদ ও হালকা হওয়ার দিক থেকে দজলা নদীর পানির সমতুল্য।

মাওসিল:

মিম অক্ষরে ফাতহা এবং সদ অক্ষরে কাসরা যোগে। «এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ ও মহান নগরী, ইসলামী দেশসমূহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিশালত্ব, মহত্ত্ব, জনবহুলতা এবং আয়তনের দিক থেকে এটি প্রায় অতুলনীয়। এটি পর্যটকদের বিশ্রামের স্থল এবং এখান থেকেই সমস্ত দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হয়»। এটি একটি মর্যাদাশীল জনপদ, যার নির্মাণশৈলী সুন্দর, আবহাওয়া মনোরম, পানি বিশুদ্ধ, খ্যাতি সুবিশাল এবং ঐতিহ্য প্রাচীন। এর বাজার ও সরাইখানাগুলো চমৎকার, এখানে বহু রাজা-বাদশাহ ও মাশায়েখদের বিচরণ ছিল। এটি সবসময় উচ্চ পর্যায়ের সনদ এবং প্রসিদ্ধ ফকিহদের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকে। ইয়াকুত বলেন: «আমি প্রায়ই আলেমদের তাদের কিতাবসমূহে উল্লেখ করতে দেখেছি যে, কোনো আগন্তুক যদি মাওসিলে এক বছর অবস্থান করে, তবে তার শরীরে অতিরিক্ত শক্তি পরিলক্ষিত হয়। এর কারণ হিসেবে মাওসিলের স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া এবং এর পানির সুপেয়তা ছাড়া অন্য কিছু আমাদের জানা নেই»।

ইবনুল খাব্বাজ

নাম ও বংশপরিচয়: তিনি হলেন আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন মাআলি বিন মানসুর বিন আলী।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২০)
المعروف بابن الخباز الإربلي الموصلي النحوي الضرير أبو العباس شمس الدين.

شهرته: اشتهر هذا العالم الفذ النحوي البارع بلقلب «ابن الخباز» وشاع ذلك في كتب النحاة والمترجمين.

كنيته: من اطلاعي على كتب التراجم التي اهتمت بالتعريف بابن الخباز وجدت أنه كان يكنى بإحدى كنيتين: إما بأبي العباس كما في (هدية العارفين) ، (الفلاكة والمفلوكين) ، وكما في مقدمة كتابه (شرح اللمع) وإما بأبي عبد الله كما في (شذرات الذهب) و (تلخيص مجمع الآداب في معجم الألقاب) ، (نكت الهميان في نكت العميان) و (الأعلام).

مولده: لم تشر كتب التراجم إلى السنة التي ولد فيها ابن الخباز، ولكن ابن العماد ذكر في كتابه (شذرات الذهب) أنه مات وله من العمر خمسون سنة وأشار إلى ذلك أيضًا ابن شهبة الأسدي في كتابه (طبقات النحاة) وبما أن معظم المترجمين له ذكروا أنه قد توفي سنة (639 هـ) فتكون سنة ولادته (589 هـ) ، ويغلب على الظن أنه قد ولد في هذه السنة أو قريبًا منها ليتهيأ له السن المناسبة والعقل الكبير للأخذ عن أستاذه الذي طالما نقل عنه في كتابه «توجيه اللمع» وقد مات أستاذه هذا في سنة (613 هـ) فيكون لابن الخباز من العمر أربعة وعشرون عامًا، وهي سن مناسبة للأخذ والتلقي.

نشأته: يبدو أن أن ابن الخباز (أحمد بن الحسين) قد ولد بأريل، وسكن الموصل ونشأ بها وتلقى علومه فيها، وتخرج على شيوخها وعاش فيها إلى أن وافاه الأجل بها أيضًا، وقد كانت كتب التراجم تنسبه دائمًا إلى إربل فالموصل فتقول: ابن الخباز الإربلي الموصلي.

ويبدو أنه عاش حياته رغم علمه وفضله فقيرًا مغمورًا غير منصف من أهل
ইবনুল খাব্বাজ আল-ইরবিলি আল-মাওসিলি নামে পরিচিত, অন্ধ ব্যাকরণবিদ আবু আব্বাস শামসুদ্দিন।

খ্যাতি: এই অনন্য ও দক্ষ ব্যাকরণবিদ আলেম 'ইবনুল খাব্বাজ' উপাধিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং ব্যাকরণবিদ ও জীবনীকারদের গ্রন্থে তা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উপনাম (কুনিয়াত): ইবনুল খাব্বাজের জীবনী সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করে আমি দেখেছি যে, তার দুটি উপনামের যেকোনো একটি ব্যবহার করা হতো: হয় 'আবু আব্বাস', যা (হাদিয়াতুল আরিফিন), (আল-ফালাকাহ ওয়াল মাফলুকিন) এবং তাঁর (শারহুল লুমা') গ্রন্থের ভূমিকায় পাওয়া যায়; অথবা 'আবু আবদুল্লাহ', যা (শাযারাতুয যাহাব), (তালখিস মাজমাউল আদাব ফি মুজামিল আলকাব), (নুকাতুল হিমইয়ান ফি নুকাতুল উমইয়ান) এবং (আল-আলাম) গ্রন্থে পাওয়া যায়।

জন্ম: জীবনীগ্রন্থগুলোতে ইবনুল খাব্বাজের জন্মসাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইবনুল ইমাদ তাঁর (শাযারাতুয যাহাব) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল পঞ্চাশ বছর। ইবনু শুহবাহ আল-আসাদিও তাঁর (তাবাকাতুন নুহাত) গ্রন্থে একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। যেহেতু অধিকাংশ জীবনীকার উল্লেখ করেছেন যে তিনি (৬৩৯ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাই তাঁর জন্মসাল দাঁড়ায় (৫৮৯ হিজরি)। প্রবল ধারণা করা হয় যে, তিনি এই বছর বা এর কাছাকাছি কোনো সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যাতে করে তিনি তাঁর সেই উস্তাদের কাছে শিক্ষালাভের উপযুক্ত বয়স ও ধীশক্তি লাভ করতে পারেন, যাঁর কাছ থেকে তিনি তাঁর ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এই উস্তাদ (৬১৩ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় ইবনুল খাব্বাজের বয়স ছিল চব্বিশ বছর, যা শিক্ষা গ্রহণের জন্য একটি উপযুক্ত বয়স।

শৈশব ও বেড়ে ওঠা: প্রতীয়মান হয় যে, ইবনুল খাব্বাজ (আহমদ ইবনুল হুসাইন) এরবিলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে তিনি মোসেলে (মাওসিল) বসবাস করতেন, সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং জ্ঞানার্জন করেন। সেখানকার আলেমদের কাছে তিনি শিক্ষা সমাপন করেন এবং মৃত্যু অবধি সেখানেই অবস্থান করেন। জীবনীগ্রন্থগুলোতে সর্বদা তাঁকে এরবিল ও মোসেলের সাথে সম্পৃক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে; যেমনটি বলা হয়: ইবনুল খাব্বাজ আল-ইরবিলি আল-মাওসিলি।

এবং প্রতীয়মান হয় যে, অগাধ জ্ঞান ও মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তিনি সমসাময়িকদের নিকট থেকে প্রাপ্য সম্মান না পেয়ে সারাজীবন দরিদ্র ও নিভৃতচারী হিসেবে অতিবাহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২১)
زمانه كثير العناء مغمورًا بالهموم والأوجال، فتراه دائمًا يندب حظه، ويرثي حاله ويشكو من أهل بلدته، وكثيرًا ما كان يعتذر عن الخطأ الذي عساه يقع في مؤلفاته بما كان يعانيه من الهموم والأوصاب، قال صاحب إشارة التعيين: «وكان كثير العتب على الزمان مستحضر الجمل من الأشعار والنوادر» وقد نقل صاحب كتاب «الفلاكة والمفلوكين» عن ابن هشام قوله في ابن الخباز: «وكأنه كان غير منصف من أهل زمانه، وقد وقفت له على عدة تآليف، يشكو فيها حاله، فمن ذلك قوله في خطبة كتابه الذي سماه «الفريدة في شرح القصيدة» وهي قصيدة أبي عثمان سعيد بن المبارك الشهير بابن الدهان: «فإن أصبت فمن فضل الله الرحيم، وإن أخطأت فمن الشيطان الرجيم، ومن علم حقيقة حالي عذرني إذا قصرت بأن عندي من الهموم ما يزع الجنان عن حفظه، ويكف اللسان عن لفظه، ولو أن ما بي بالجبال لهدها، وبالنار أطفأها، وبالماء لم يجز، وبالناس لم يحيوا، وبالدهر لم يكن، وبالشمس لم تطلع، وبالنجم لم يسر».

فيبدو من هذه العبارة أن الهموم قد تزاحمت عليه، وأن المشاكل قد تسابقت إليه، والأوجال تطرق أبوباه والمتاعب تقف على أعتابه، تريد أن تقيم في رحابه وتسير في ركابه، فهو في ظلمات بعضها فوق بعض.

وقال يشكو أهل بلدته: «وأنا مع ذلك بين أهل بلدة تجعل رؤيتهم الذكي بليدًا، ينفرون من الفضائل وأهلها نفور الضب من البحار، والنون من البيد القفار، كلما زاد المرء بينهم فضلًا زاد عندهم نقصًا … يبتغون الشكر على الأذى وتنوير العيون بالقذى، والموت دون الحكم بذا، واللائق أن تطوى أحوالهم على غرها خوفًا من عدوى عرها».

ولعل فقر هذا الرجل وعماه كانا من الأسباب التي جعلته يعيش حياته مغمورًا منعزلًا، فلم ينل حظه من الترجمة الموسعة، التي توضح لنا جوانب حياته المختلفة، وقد حاولت جهدي في هذا المقام أن أتلمس الخيوط التي تشير من بعيد أو قريب إلى ملامح شخصيته، وأستشف من النصوص التي وردت عنه طرفًا من نشأته وأخلاقه وسيرته.

أخلاقه: لم تنص كتب التراجم على ما يقيد في هذا الموضوع، ولكن يبدو من
তাঁর সময়কাল ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক, তিনি চিন্তা ও উদ্বেগে নিমজ্জিত ছিলেন। আপনি তাঁকে সর্বদা নিজের ভাগ্যের ওপর আক্ষেপ করতে, নিজের অবস্থার জন্য বিলাপ করতে এবং নিজ শহরবাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে দেখবেন। প্রায়শই তিনি তাঁর গ্রন্থাবলিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যাওয়া ভুলের জন্য তাঁর ভোগ করা দুঃখ ও কষ্টের দোহাই দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। ‘ইশারাতুত তায়্যিন’ গ্রন্থের লেখক বলেছেন: “তিনি সময়ের প্রতি অত্যন্ত অনুযোগকারী ছিলেন এবং কবিতা ও বিরল ঘটনাবলির উদ্ধৃতি দিতে পটু ছিলেন।” ‘আল-ফালাকাহ ওয়াল মাফলুকিন’ গ্রন্থের লেখক ইবনে হিশাম থেকে ইবনুল খাব্বায সম্পর্কে তাঁর উক্তি বর্ণনা করেছেন: “মনে হয় তিনি তাঁর সমসাময়িক লোকদের প্রতি সুবিচার পাননি। আমি তাঁর বেশ কিছু রচনা দেখেছি যেখানে তিনি তাঁর অবস্থার অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর ‘আল-ফারিদাহ ফি শারহিল কাসিদাহ’ নামক গ্রন্থের মুখবন্ধে দেওয়া বক্তব্য, যা আবু উসমান সাঈদ ইবনুল মুবারক (যিনি ইবনুদ্দাহহান নামে পরিচিত) এর একটি কাসিদার ব্যাখ্যা: ‘যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা দয়াময় আল্লাহর অনুগ্রহে, আর যদি ভুল করি তবে তা বিতাড়িত শয়তানের পক্ষ থেকে। যে ব্যক্তি আমার অবস্থার প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অবগত হবে, সে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য আমাকে ক্ষমা করবে; কারণ আমার এমন সব দুশ্চিন্তা রয়েছে যা অন্তরকে কোনো কিছু স্মরণে রাখতে বাধা দেয়, জিহ্বাকে উচ্চারণ থেকে বিরত রাখে। আমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা যদি পাহাড়ের ওপর হতো তবে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেত, আগুনের ওপর হলে তা নিভে যেত, পানির ওপর হলে তা প্রবাহিত হতো না, মানুষের ওপর হলে তারা জীবিত থাকত না, কালের ওপর হলে তা অস্তিত্বহীন হতো, সূর্যের ওপর হলে তা উদিত হতো না এবং নক্ষত্রের ওপর হলে তা পরিভ্রমণ করত না’।”

এই বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর ওপর দুশ্চিন্তাসমূহ ভিড় করেছিল, সমস্যাগুলো তাঁর দিকে ধাবিত হয়েছিল, ভীতি তাঁর দরজায় কড়া নাড়ছিল এবং কষ্টগুলো তাঁর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল, তারা যেন তাঁর আঙিনায় অবস্থান করতে এবং তাঁর সাথে পথ চলতে চাইছিল; ফলে তিনি এক অন্ধকারের ওপর আরেক অন্ধকার—এমন ঘনঘোর অন্ধকারের মধ্যে ছিলেন।

তিনি তাঁর শহরবাসীর অভিযোগ করে বলেছেন: “এতদসত্ত্বেও আমি এমন এক শহরবাসীর মাঝে রয়েছি যাদের দর্শন একজন বুদ্ধিমানকে নির্বোধ বানিয়ে দেয়। তারা সদ্ব্যবহার ও গুণীজনদের থেকে এমনভাবে দূরে পালায় যেমনভাবে মরু-গুইসাপ সমুদ্র থেকে পালায় এবং মাছ যেমন নির্জন মরুভূমি থেকে পালায়। তাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব যত বৃদ্ধি পায়, তাদের কাছে সে ততটাই তুচ্ছ হয়ে যায় … তারা কষ্ট দেওয়ার বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা চায় এবং চোখের ময়লা দিয়ে চোখকে আলোকিত করতে চায়, এই বিচারের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়। আর সংগত কাজ হলো তাদের অবস্থাকে তাদের অজ্ঞতার মধ্যেই গুটিয়ে রাখা, পাছে তাদের পঙ্কিলতার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে।”

সম্ভবত এই ব্যক্তির দারিদ্র্য ও অন্ধত্বই ছিল তাঁর জীবনকে লোকচক্ষুর অন্তরালে ও নিঃসঙ্গ করে রাখার অন্যতম কারণ। তাই তিনি বিস্তারিত জীবনীর সেই অংশটুকু পাননি যা আমাদের কাছে তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক স্পষ্ট করতে পারত। আমি এই স্থানে আমার সাধ্যমতো সেই সূত্রগুলো খোঁজার চেষ্টা করেছি যা দূর বা কাছ থেকে তাঁর ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করে এবং তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত পাঠ্যসমূহ থেকে তাঁর বেড়ে ওঠা, চরিত্র ও জীবনবৃত্তান্তের কিছুটা আঁচ করার চেষ্টা করেছি।

তাঁর চরিত্র: জীবনীগ্রন্থগুলোতে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি প্রতীয়মান হয় যে...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২২)
النظر في بعض النصوص التي وردت عنه أنه كان عارفًا بربه حق المعرفة، ويثق بما عنده ويلجأ إليه في كل الأمور، ويجأر إليه بالدعاء كلما حزبه أمرٌ أو نزل به مكروه، فتراه يقول: «وأنا أسأل الله العظيم أن يكفيني شر شكواي، وأن لا يزيدني على بلواي، فإني كلما أردت خفض العيش صار مرفوعًا، وعاد بالحزن سبب المسرة مقطوعًا، والله المستعان في كل حال، ومنه المبدأ وإليه المآل» وكان معتزًا بكرامته يصون وجهه عن الخضوع لغير الله، فيقول في خاتمة كتابه «شرح اللمع»: فأسأل الذي صان أوجهنا عن السجود لغيره أن يصون ألسنتنا عن السؤال لغيره، وأن يعرفنا عيوب أنفسنا، ويشغلنا بسترها، وأن يفتح علينا أبواب رزقه العميم ومنه الجسيم، وأن يجمع لنا بين العلم والعمل، وإن يحقق لنا هذا الأم، وأن يصلي على نبيه محمد الذي أرسله شاهدًا ومبشرًا ونذيرًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا وعلى آله الهادين، وأصحابه المهديين، وأن يجعل ما أمليته خالصًا لوجهه الكريم، إنه أكرم مسئول، ولديه تحقيق كل مأمول، فهو حسبي ونعم الوكيل».

فمثل هذه العبارات لا تنبع إلا من قلب صاف عمر بالإيمان، وأضار بنور اليقين، ولا تجري إلا على لسان رطب بذكر الله، ومن هنا يمكن القول بأنه كان عالمًا بارعًا متدينًا صالحًا، وكان رحمه الله متمتعًا بخلق العلماء من تواضع ووفاء، فكان إذا تعرض لذكر شيخه الذي أخذ عنه كثيرًا في كتابه ترفع عن ذكره باسمه إجلالًا له وتقديرًا وذكره يلقب الشيخ، ثم يتبع هذا اللقب بالترحم عليه أو الترضي عنه.

قال ابن الخباز (باب الحال): وقال لنا الشيخ رحمه الله: إذا كان اسم الفاعل والمفعول صلة للام، لم يجز تقديم الحال عليه تقول: زيد المنطلق مسرعًا، ولا يجوز زيد مسرعًا المنطلق، لتقديمك بعض الصلة على الموصول «وقال في (باب التصغير) معللًا تصغير وراء وقدام وأمام، مع إلحاقها تاء التأنيث: قال الشيخ رحمه لله: لأن الغالب على الظروف التذكير، وهذه مؤنثات، فلو صغرت بغير تاء لألحقت بالغالب.

«وأيضًا كان وفيًا لمن استفاد من علمهم ونهل من موردهم فلا يذكر أحدهم إلا ويتبع اسمه بالترحم عليه مثل قوله: أنشد يعقوب رحمه الله، وأنشد ابن فارس رحمه الله، وأنشد سيبويه رحمه الله وهكذا كان يأبى عليه وفاؤه إلا أن يكرم أهل الفضل، ويعترف بأياديهم عليه، شكرًا وامتنانًا، وتلك هي أخلاق العلماء وصفات الصالحين الفضلاء.
তাঁর থেকে বর্ণিত কিছু পাঠ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, তিনি তাঁর রব সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, তাঁর নিকট যা রয়েছে তাতে পূর্ণ আস্থা রাখতেন এবং সকল বিষয়ে তাঁরই আশ্রয় নিতেন। যখনই কোনো বিষয় তাঁকে ব্যথিত করত বা কোনো অপছন্দনীয় বিষয় তাঁর ওপর আপতিত হতো, তখনই তিনি তাঁর কাছে বিনীতভাবে প্রার্থনা করতেন। তাই আপনি তাঁকে বলতে দেখেন: "আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে আমার অভিযোগের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং আমার বিপদের ওপর আর বৃদ্ধি না করেন। কেননা, যখনই আমি জীবনকে সহজ করতে চেয়েছি তখনই তা কঠিন হয়ে গিয়েছে, আর সুখের কারণগুলো বিচ্ছেদের মাধ্যমে শোকে পরিণত হয়েছে। সকল অবস্থায় আল্লাহই সাহায্যকারী, তাঁর থেকেই শুরু এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন।" তিনি তাঁর মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের সামনে মাথা নত করা থেকে স্বীয় মুখমণ্ডলকে রক্ষা করতেন। তিনি তাঁর 'শারহুল লুমা' গ্রন্থের শেষে বলেন: "অতঃপর আমি সেই সত্তার নিকট প্রার্থনা করি যিনি আমাদের মুখমণ্ডলকে তাঁর ব্যতীত অন্যের সামনে সিজদা করা থেকে রক্ষা করেছেন, তিনি যেন আমাদের জিহ্বাকে তাঁর ব্যতীত অন্যের কাছে প্রার্থনা করা থেকে রক্ষা করেন, আমাদের নিজেদের দোষগুলো আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেন এবং সেগুলো গোপন রাখাতে আমাদের ব্যাপৃত রাখেন। তিনি যেন আমাদের ওপর তাঁর ব্যাপক রিজিক ও মহান অনুগ্রহের দ্বার উন্মোচন করেন, আমাদের জন্য ইলম ও আমলকে একত্রিত করে দেন, আমাদের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদের ওপর দরুদ বর্ষণ করেন যাকে তিনি তাঁর অনুমতিক্রমে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর তাঁর হিদায়াতকারী বংশধর ও হিদায়াতপ্রাপ্ত সাহাবীগণের ওপরও রহমত বর্ষণ করুন। আমি যা লিখিয়েছি তা যেন তিনি তাঁর সম্মানিত সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা এবং সকল প্রত্যাশা পূরণকারী। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।"

এ জাতীয় অভিব্যক্তি কেবল ঈমানে পরিপূর্ণ এক স্বচ্ছ অন্তর থেকেই নিঃসৃত হতে পারে, যা দৃঢ় বিশ্বাসের আলোয় উদ্ভাসিত। আর তা কেবল আল্লাহর স্মরণে সিক্ত জিহ্বা থেকেই নির্গত হয়। এখান থেকেই বলা যায় যে, তিনি একজন দক্ষ আলেম, ধর্মপ্রাণ ও নেককার ব্যক্তি ছিলেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি বিনয় ও আনুগত্যের মতো উলামায়ে কিরামের চারিত্রিক গুণাবলীতে ভূষিত ছিলেন। যখনই তিনি তাঁর গ্রন্থে এমন কোনো শিক্ষকের উল্লেখ করতেন যার কাছ থেকে তিনি অনেক ইলম অর্জন করেছেন, তখন তাঁর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনার্থে নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকতেন এবং তাঁকে 'আশ-শাইখ' (শিক্ষক) উপাধিতে সম্বোধন করতেন। এরপর সেই উপাধির সাথে তাঁর জন্য রহমত বা সন্তুষ্টির দোয়া করতেন।

ইবনুল খাব্বায 'অবস্থা সম্পর্কিত অধ্যায়'-এ বলেন: শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাদের বলেছেন: যখন কর্তৃবাচক বা কর্মবাচক বিশেষ্য 'আলিফ-লাম'-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হবে, তখন তার পূর্বে অবস্থা বর্ণনা করা জায়েজ নয়। আপনি বলবেন: 'যায়েদ দ্রুত প্রস্থানকারী', কিন্তু 'যায়েদ দ্রুত প্রস্থানকারী' কথাটি এমনভাবে বলা যাবে না যাতে সিলার অংশ মাউসুলের আগে চলে আসে। তিনি 'ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ গঠন' অধ্যায়ে 'পিছনে', 'সামনে' ও 'সম্মুখে' শব্দগুলোর শেষে স্ত্রীবাচক 'তা' যুক্ত হওয়ার কারণ বর্ণনা করে বলেন: শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: কারণ স্থান বা কালবাচক শব্দগুলো সাধারণত পুংলিঙ্গ হয়, আর এগুলো হলো স্ত্রীলিঙ্গ; তাই যদি 'তা' ছাড়া এগুলো গঠন করা হতো তবে তা সাধারণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত।

এছাড়াও তিনি যাদের ইলম থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং যাদের জ্ঞানের উৎস থেকে পান করেছেন, তাঁদের প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিলেন। তাই তাঁদের কারো উল্লেখ করলেই নামের শেষে তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করতেন। যেমন তাঁর উক্তি: "ইয়াকুব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আবৃত্তি করেছেন", "ইবনুল ফারিস (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আবৃত্তি করেছেন", "সিবওয়াইহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আবৃত্তি করেছেন"। এভাবেই তাঁর আনুগত্য তাঁকে গুণীজনদের সম্মান করতে এবং কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদের সাথে তাঁর ওপর তাঁদের অনুগ্রহের কথা স্বীকার করতে বাধ্য করত। আর এটিই হলো উলামায়ে কিরামের চরিত্র এবং সৎ ও গুণী ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثقافته: لم تكن ثقافة ابن الخباز محصورة في فن بعينه، أو مقصورة على لون من ألوان المعرفة، ولكنها تعدت هذا النطاق الضيق، وتجاوزت ذلك القدر المحدود، وشملت عدة فروع من المعرفة، شملت: النحو، والصرف، واللغة، والعروض، والفقه، والفرائض، والأدب والحساب، فقد أشار ابن العماد إلى أن له تصانيف أدبية وذكر ابن تعرى بردي أنه كان أديبًا وشاعرًا وأورد له يتبين من الشعر في العناق هما:

كأنني عانقت ريحانة … تنفست في ليلها البارد

فلو ترانا في قميص الدجى … حسبتنا في جسد واحد

وذكر له أبو المحاسن في كتابه (إشارة التعيين) يتبين من الشعر في ذم أهل الزمان هما:

أعراضهم لو تزل مسودة فإذا … قدحت فيهم أصاب القدح إحراقًا

بلوتهم وطعمت السم في عسل … وما وجدت سوى الهجران ترياقا

وأوضح صاحب (إشارة التعيين) وابن شهبة الأسدي إلى أنه كان له معرفة بالحساب وأنه كان مستحضر الجمل من الأشعار والنوادر، وكان من جملة محفوظة: الإيضاح، والتكملة، والمفصل، ومجمل اللغة لابن فارس.

ويتضح من كتابه «توجيه اللمع» أنه كان يجيد حفظ القرآن الكريم وعلى معرفة بقراءته القرآنية، وكان أيضًا حافظًا للجيد الكثير من أشعار العرب كما هي عادة الدارسين في عصره، فإملاؤه هذا يدل بوضوح على أنه كان حسن النظر واسع الإطلاع.

***

مكانته العلمية:

يبدو أن ابن الخباز (أحمد بن الحسين بن أحمد) كان ذا منزلة علمية عالية ومكانة رفيعة بين أقرانه من العلماء فقد كان رحمه الله عالمًا فاضلًا مجيدًا لفنون النحو والصرف واللغة والفقه والعروض والفرائض والأدب والحساب، وشخصيته تجيد كل
তার সংস্কৃতি: ইবনুল খাব্বাজের সংস্কৃতি কোনো বিশেষ শিল্পে সীমাবদ্ধ ছিল না, কিংবা জ্ঞানের কোনো নির্দিষ্ট শাখার মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। বরং তা এই সংকীর্ণ গণ্ডি এবং সীমিত পরিসর অতিক্রম করে জ্ঞানের বহুমুখী শাখায় বিস্তৃত ছিল। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল: ব্যাকরণ, রূপতত্ত্ব, ভাষা, ছন্দবিজ্ঞান, ফিকহ, ফারায়েদ, সাহিত্য এবং পাটিগণিত। ইবনুল ইমাদ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাঁর বেশ কিছু সাহিত্যিক সংকলন রয়েছে। ইবনে তাগরি বারদি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একজন সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন এবং আলিঙ্গন বিষয়ক তাঁর দুটি কাব্যপদ উদ্ধৃত করেছেন, যা হলো:

মনে হলো আমি যেন একটি সুগন্ধি উদ্ভিদকে জড়িয়ে ধরলাম … যা তার শীতল রাতে নিশ্বাস নিচ্ছিল

যদি তুমি আঁধারের চাদরে আমাদের দেখতে পেতে … তবে আমাদের মনে করতে যেন আমরা একই দেহে রয়েছি

আবুল মাহাসিন তাঁর 'ইশারাতুত তায়িন' গ্রন্থে সমসাময়িক লোকদের নিন্দায় তাঁর দুটি কাব্যপদ উল্লেখ করেছেন, যা হলো:

তাদের সম্মান যদি সর্বদা কলঙ্কিতই থাকে, তবে যখনই … তাদের নিয়ে সমালোচনা করা হবে, তা দহনই সৃষ্টি করবে

আমি তাদের পরীক্ষা করেছি এবং মধুর মাঝে বিষের স্বাদ পেয়েছি … আর বিচ্ছেদ ছাড়া অন্য কোনো মহৌষধ খুঁজে পাইনি

'ইশারাতুত তায়িন'-এর লেখক এবং ইবনে শুহবাহ আল-আসাদি স্পষ্ট করেছেন যে, পাটিগণিতে তাঁর জ্ঞান ছিল এবং প্রচুর কবিতা ও বিরল ঘটনা তাঁর নখদর্পণে ছিল। তাঁর মুখস্থ গ্রন্থগুলোর মধ্যে ছিল: আল-ইদাহ, আত-তাকমিলাহ, আল-মুফাসসাল এবং ইবনে ফারিসের মুজমালুল লুগাহ।

তাঁর 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থ থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করাতে পারদর্শী ছিলেন এবং কুরআনের কিরাত সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল। সেই যুগের শিক্ষার্থীদের প্রথা অনুযায়ী তিনি প্রচুর উৎকৃষ্ট মানের আরবি কবিতাও মুখস্থ রেখেছিলেন। তাঁর এই শ্রুতিলখন (ইমলা) স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী এবং ব্যাপক অধ্যয়নশীল ছিলেন।

***

তাঁর ইলমি মর্যাদা:

প্রতীয়মান হয় যে, ইবনুল খাব্বাজ (আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আহমদ) তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ ইলমি মর্যাদা ও উচ্চাসনের অধিকারী ছিলেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একজন প্রাজ্ঞ আলেম ছিলেন এবং ব্যাকরণ, রূপতত্ত্ব, ভাষা, ফিকহ, ছন্দবিজ্ঞান, ফারায়েদ, সাহিত্য ও পাটিগণিতে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব এই সকল বিষয়েই পারদর্শী ছিল...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৪)
هذه الفنون جديرة بالإجلال والتقدير، قال صاحب (إشارة التعيين) في حق ابن الخباز «وجلس مكان شيخه يقرئ النحو واللغة والعروض والقوافي والفرائض والحساب، وتزاحم الناس عليه، ولم ير في زمانه أسرع حفظًا منه».

وقال السيوطي: وكان أستاذًا بارعًا علامة زمانه في النحو واللغة، والفقه والعروض والفرائض» وقال ابن تغرى بردي مشيدًا بابن الخباز: «كان إمامًا بارعًا مفتيًا عالمًا بالنحو واللغة والأدب» وقال شهاب الملة والدين الدلجي في الحديث عن ابن الخباز: «أنه كان من علماء النحو وفرسانه، أدبيًا لطيف الروح عذب العبارة».

ومما يبرز لنا مقدرته العلمية أنه أملى كتابه «توجيه اللمع» من محفوظه، ولم يستعن في مدة إملائه عليه بمطالعة كتاب» فالسيوطي قد وصفه بالأستاذية وهي لقب علمي مرموق، ووصفه كذلك بالبراعة، وهي صفة تشير إلى مدى رسوخ قدمه وطول باعه وقال: إنه علامة زمانه، وابن تغرى بردي خلع عليه وصفي الإمامة والبراعة، والدلجي وصفه بأنه فارس من فرسان النحو، وأجدر بمن يوسم بكل هذه السمات ويوصف بكل تلك الصفات، أن يكون علامة عصره وإمام دهره ذا علم جم وأدب رفيع وذكاء خارق وعقل راجح وحافظة قوية.

***

شخصيته وأمانته العلمية:

تبدو شخصية ابن الخباز واضحة في ثنايا كتابه «توجيه اللمع» وذلك بما يسوق من تعليل للأحكام النحوية وبما يستدركه على ابن جني من أمور، وهاتان الناحيتان سوف نتكلم عنهما فيما بعد، وتبدو شخصيته كذلك بتعقيبه على النحاة مبينًا صحتها أو بطلانها، وتتضح كذلك في طريقة عرضه للمادة العلمية، وذلك بما يبرزه لنا من تقسيم للقضايا وتفريع للمسائل، فتبدو واضحة المعالم سهلة التناول، مما ييسر على الباحث استيعابها وضبطها.

وكان لديه أمانة عليمة، فغالبًا ما ينسب الآراء إلى أصحابها والنقول إلى ذويها.
এই শিল্পসমূহ শ্রদ্ধা ও মূল্যায়নের যোগ্য। 'ইশারাতুত তায়ীন'-এর লেখক ইবনুল খাব্বাজ সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি তাঁর শাইখের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নাহু, লুগাহ, আরুজ, কাওয়াফি, ফরায়েজ এবং হিসাব শিক্ষা দিতেন। তাঁর কাছে মানুষের ভিড় লেগে থাকত এবং তাঁর সময়ে তাঁর চেয়ে দ্রুত মুখস্থকারী আর কাউকে দেখা যায়নি।"

সুয়ুতী বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন দক্ষ উস্তাদ, নাহু, লুগাহ, ফিকহ, আরুজ এবং ফরায়েজ শাস্ত্রে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলিম।" ইবনে তাগরি বারদি ইবনুল খাব্বাজের প্রশংসা করে বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ইমাম, মুফতি এবং নাহু, লুগাহ ও আদব শাস্ত্রে পণ্ডিত।" শিহাবু মিল্লাতি ওয়াদ্দীন আদ-দালজি ইবনুল খাব্বাজ সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন নাহু শাস্ত্রের অন্যতম আলিম ও বীর সওয়ার, মার্জিত রুচিবোধ সম্পন্ন সাহিত্যিক এবং মিষ্টভাষী।"

তাঁর ইলমি সক্ষমতা যা থেকে স্পষ্ট হয় তা হলো, তিনি তাঁর 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থটি স্মৃতি থেকে শ্রুতিলিপি হিসেবে লিখিয়েছিলেন এবং এই শ্রুতিলিপি দেওয়ার সময় তিনি কোনো কিতাব দেখার সাহায্য নেননি। সুয়ুতী তাঁকে 'উস্তাদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইলমি উপাধি। তিনি তাঁকে 'দক্ষ' হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, যা তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও অভিজ্ঞতার প্রশস্ততাকে নির্দেশ করে। তিনি বলেছেন যে, তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলিম। ইবনে তাগরি বারদি তাঁকে 'ইমামত' ও 'দক্ষতা'—এই দুটি গুণে ভূষিত করেছেন। দালজি তাঁকে নাহু শাস্ত্রের একজন বীর সওয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যাঁর মধ্যে এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান এবং যাঁকে এই সকল গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে, তিনি তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আলিম এবং কালের ইমাম হওয়ারই যোগ্য; যিনি অগাধ জ্ঞান, উচ্চমানের সাহিত্যজ্ঞান, অলৌকিক মেধা, সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

***

তাঁর ব্যক্তিত্ব ও ইলমি আমানতদারি:

ইবনুল খাব্বাজের ব্যক্তিত্ব তাঁর 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থের পরতে পরতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নাহু শাস্ত্রের বিধানগুলোর কারণ দর্শানো এবং ইবনে জিন্নীর ওপর তাঁর বিভিন্ন সংশোধনী প্রদানের মাধ্যমে। আমরা এই দুটি দিক নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করব। এছাড়া বৈয়াকরণদের মতামতের ওপর তাঁর মন্তব্য—সেগুলোর সঠিকতা বা অসারতা বর্ণনার মাধ্যমেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। তাঁর ইলমি বিষয়বস্তু উপস্থাপনার পদ্ধতির মধ্যেও এটি স্পষ্ট হয়, যেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয়কে সুবিন্যস্তভাবে ভাগ করেছেন এবং মাসআলাগুলোর শাখা-প্রশাখা বর্ণনা করেছেন। ফলে তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং সহজবোধ্য হয়ে উঠেছে, যা গবেষকদের জন্য তা অনুধাবন ও আয়ত্ত করা সহজ করে দেয়।

তাঁর মধ্যে ইলমি আমানতদারি বিদ্যমান ছিল; তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে মতামতগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিকে এবং উদ্ধৃতিগুলোকে প্রকৃত প্রবক্তাদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করতেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৫)
من اشتهروا بلقب ابن الخباز:

1 - أحمد بن الحسين بن أحمد بن معالي بن منصور بن علي الشيخ شمس الدين ابن الخباز الأربلي الموصلي النحوي الضرير، توفي سنة (639 هـ).

2 - محمد بن أبي بكر بن علي الموصلي الشافعي المعروف بابن الخباز نجم الدين نحوي، قدم مصر ثم عاد إلى حلب، من تصانيفه: شرح ألفية ابن معطي في النحو مات في السابع من ذي الحجة سنة (631 هـ).

3 - محمد بن عبد الله بن أحمد بن حبيب العامري المعروف بابن الخباز أبو بكر، من تصانيفه شرح الشهاب، مات سنة (530 هـ).

4 - محمد بن عبد الله المعروف باتمكجي زاده، أي ابن الخباز الرومي «محيي الدين» وهي صوفي. من تصانيفه: أخلاق الكرام، وحق اليقين، والرسالة الشمسية، والرسالة العينية، والمصادر السنية، مات سنة (1014 هـ).

5 - أبو عبد الله محمد بن مبارك، ويعرف بابن الخباز، أديب لغوي إخباري من أهل سرقسطة، له تآليف، مات سنة (483 هـ).

***

شيوخه:

لم تسعفنا كتب التراجم بشيء عن أساتذة وشيوخ ابن الخباز، ولكنه صرح في خاتمة كتابة «توجيه اللمع» بأستاذه الذي اغترف من بحره ونهل من مورده، واستفاد منه الكثير، ونقل عنه الجم الغفير من النصوص في كتابه هذا، وسوف نورد طرفًا من هذه النقول عقب ذكر ترجمة قصيرة له فنقول: شيخ ابن الخباز: هو عمر ابن أحمد ابن أبي بكر بن أحمد بن مهران العراقي النحوي مجد الدين أبو حفص الضرير.

كان رحمه الله بارعًا في علم النحو، وله ذكاء وفكرة حسنة، وكان في لسانه حبسة
যাঁরা ইবনুল খাব্বাজ উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন:

১ - আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন মাআলি বিন মানসুর বিন আলী, শায়খ শামসুদ্দিন ইবনুল খাব্বাজ আল-আরবালি আল-মাওসিলি, অন্ধ ব্যাকরণবিদ। তিনি ৬৩৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

২ - মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আলী আল-মাওসিলি আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনুল খাব্বাজ নাজমুদ্দিন নামে পরিচিত, একজন ব্যাকরণবিদ। তিনি মিশরে এসেছিলেন এবং পরবর্তীতে আলেপ্পোতে ফিরে যান। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ব্যাকরণ শাস্ত্রের 'শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মু'তি'। তিনি ৬৩১ হিজরি সনের ৭ই জিলহজ ইন্তেকাল করেন।

৩ - মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাবিব আল-আমিরি, আবু বকর নামে পরিচিত ইবনুল খাব্বাজ। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে 'শারহুশ শিহাব'। তিনি ৫৩০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

৪ - মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, যিনি আতমাকজি জাদা অর্থাৎ ইবনুল খাব্বাজ আর-রুমি 'মুহিউদ্দিন' নামে পরিচিত। তিনি একজন সুফি ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: 'আখলাকুল কিরাম', 'হাক্কুল ইয়াকিন', 'আর-রিসালাতুশ শামসিয়্যাহ', 'আর-রিসালাতুল আইনিয়্যাহ' এবং 'আল-মাসাদিরুস সুন্নিয়্যাহ'। তিনি ১০১৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

৫ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুবারক, যিনি ইবনুল খাব্বাজ নামে পরিচিত। তিনি সারাকুস্তা (সারাগোসা) অঞ্চলের একজন সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও ইতিহাসবিদ ছিলেন। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে। তিনি ৪৮৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

***

তাঁর শিক্ষকগণ:

জীবনী গ্রন্থগুলো ইবনুল খাব্বাজের উস্তাদ ও শায়খদের সম্পর্কে আমাদের তেমন কোনো তথ্য প্রদান করেনি; তবে তিনি তাঁর 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থের শেষে তাঁর সেই উস্তাদের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যাঁর জ্ঞান-সমুদ্র থেকে তিনি অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করেছেন এবং যাঁর ঝরনাধারা থেকে তৃষ্ণা নিবারণ করেছেন। তিনি তাঁর থেকে অনেক উপকৃত হয়েছেন এবং নিজের এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর সংখ্যক উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। আমরা তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনার পর এই উদ্ধৃতিগুলোর কিছু অংশ তুলে ধরব। আমরা বলছি: ইবনুল খাব্বাজের শায়খ হলেন—উমর ইবন আহমদ ইবন আবি বকর ইবন আহমদ ইবন মিহরান আল-ইরাকি আন-নাহবি মাজদুদ্দিন আবু হাফস আদ-দরির (অন্ধ)।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ব্যাকরণ শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং তাঁর প্রখর মেধা ও চমৎকার চিন্তাশক্তি ছিল। তবে তাঁর জিহবায় কিছুটা জড়তা ছিল।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৬)
عظيمة، وعنده ثقل في كلامه فلا يكاد يبين، أراد مناظرة محمود بن الأرملة فلم يجبه خوفًا منه، وتخرج على مكي بن ريان بن شبة بن صالح الماكسيني الضرير وتصدر بعده لإقراء علم النحو، وصار أنحى أهل عصره، وأتقن العروض والنحو واللغة والشعر، وكان مفرط الذكاء تخرج به أئمة، ومنهم ابن الخباز، توفي يوم عيد الفطر سنة (613 هـ).

وقد ظهر أثره واضحًا في كتاب ابن الخباز، قال ابن الخباز: وحكى له شيخنا رحمه الله أن بعض العصريين من أهل بلدنا تخيل أن المراد بتغيير الآخر تنحية حرف ووضع حرف مكانه.

وقال ابن الخباز: من الناس من يرى تقديم الفاعل على سائر المرفوعات، قال شيخنا رحمه الله: لأن عامله لفظي وهو فعل.

وقال: وسألت شيخنا رحمه الله فقلت له: هلا اكتفوا بتأنيث الفاعل فقال: هذا لا يستقيم، لأن المذكر قد يسمى بالمؤنث.

وقال: وسألت شيخنا رحمه الله لم لم تصغر (يعني عند) فقال: لأن تصغير الظروف يفيد التعريف، وعند مستغنية عنه.

ويذكر العلماء أنه روى عن محمد بن أحمد بن محمد المعروف بالشريشي المالكي النحوي، وزين الدين أبي العباس أحمد بن عبد الدايم بن إبراهيم
মহান মর্যাদার অধিকারী, তাঁর কথাবার্তায় কিছুটা জড়তা ছিল যার ফলে তা প্রায় অস্পষ্ট থাকত। তিনি মাহমুদ ইবনুল আরমালাহ-এর সাথে বিতর্ক করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি (মাহমুদ) তাঁর ভয়ে তাতে সাড়া দেননি। তিনি মাক্কী বিন রাইয়ান বিন শাব্বা বিন সালিহ আল-মাকসিনি আদ-দারীরের নিকট শিক্ষালাভ করেন এবং তাঁর পরে ইলমে নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষাদানের স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ হয়ে ওঠেন এবং ছন্দতত্ত্ব, নাহু, ভাষা ও কবিতায় পূর্ণ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি অত্যন্ত প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর নিকট বহু ইমাম শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন, যাদের মধ্যে ইবনুল খাব্বায অন্যতম। তিনি ৬১৩ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের দিনে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনুল খাব্বাযের কিতাবে তাঁর প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ইবনুল খাব্বায বলেন: আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের দেশের সমসাময়িক কিছু লোক ধারণা করেছিল যে, শব্দের শেষ পরিবর্তন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একটি হরফ বা বর্ণ সরিয়ে সেখানে অন্য একটি বর্ণ প্রতিস্থাপন করা।

ইবনুল খাব্বায বলেন: মানুষের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা সকল মারফু'আত-এর ওপর ফায়েল বা কর্তাকে প্রাধান্য দেওয়া সমীচীন মনে করেন। আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: কারণ এর আমিল বা ক্রিয়াশীল সত্তা হলো শাব্দিক (লফযী) আর তা হলো ফেল বা ক্রিয়া।

তিনি বলেন: আমি আমাদের শায়খকে (রাহিমাহুল্লাহ) জিজ্ঞাসা করলাম যে, তারা কেন ফায়েলকে মুয়ান্নাস বা স্ত্রীলিঙ্গ করার মাধ্যমেই যথেষ্ট মনে করল না? তিনি বললেন: এটি সঠিক নয়, কারণ মুযাক্কার বা পুরুষলিঙ্গকেও মুয়ান্নাস বা স্ত্রীলিঙ্গ নামে নামকরণ করা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন: আমি আমাদের শায়খকে (রাহিমাহুল্লাহ) জিজ্ঞাসা করলাম কেন ‘ইন্দা’ শব্দটির তাসগীর (ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ) করা হয় না? তিনি বললেন: কারণ যরফ বা ক্রিয়াবিশেষণের তাসগীর করার মাধ্যমে তা নির্দিষ্টতা (তারীফ) লাভ করে, আর ‘ইন্দা’ শব্দটির এর প্রয়োজন নেই।

উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেন যে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ, যিনি আশ-শারিশী আল-মালিকি আন-নাহবী হিসেবে পরিচিত এবং যাইনুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল দায়েম বিন ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৭)
والجمال البغدادي عبد الرحمن بن سليمان ومحب الدين أبي العباس أحمد بن عبد الله شيخ الحرم الطبري المكي، ومجد الدين محمد بن الظهير الأربلي ورشيد الدين البصروي الحنفي النحوي مع أنهم جميعًا قد ماتوا بعده بزمن طويل حيث إن ابن الخباز قد توفي سنة (639 هـ) على الأرجح، وهم قد عاشوا بعده فترة تتراوح بين الثلاثين والخمسين عامًا. ولكن بالتأمل في سني ميلادهم نجد أنهم قد عاصروه وإن كانت قد طالت أعمارهم بعده فلا مانع من أن يكون روى عنهم أثناء حياته. ويحتمل أن يكون ابن الخباز الراوي عنهم هو غير صاحبنا. والله أعلم.

من تلاميذه:

1 - محمد بن ميكال بن أحمد بن راشد مجد الدين الموصلي الفرضي النحوي، وقد استملى على ابن الخباز كتاب «التوجيه في العربية» ومات في شوال سنة ثمانين وستمائة عن ثمان وسبعين سنة.

2 - عز الدين أبو محمد عبد الوهاب بن إبراهيم بن محمد الزنجاني الأديب الفاضل نزيل تبريز.

كان فاضلًا عالمًا أديبًا حكيمًا عارفًا بالمنقول والمعقول، واستوطن تبريز، وكان قد
এবং জামাল বাগদাদী আব্দুর রহমান বিন সুলায়মান, মুহিব্বুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ শায়খুল হারাম তাবারী মাক্কী, মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ বিন জহীর আরবীলী এবং রশীদুদ্দীন বাসরোওয়ী হানাফী নাহবী; যদিও তাঁরা সকলেই তাঁর মৃত্যুর দীর্ঘকাল পর মৃত্যুবরণ করেছেন। কেননা ইবনুল খাব্বাজ সম্ভবত ৬৩৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, আর তাঁরা তাঁর মৃত্যুর পর আরও ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাঁদের জন্মসালের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে, তাঁরা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। সুতরাং তাঁরা তাঁর পরে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকলেও তাঁর জীবদ্দশায় তাঁদের থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আবার এটাও সম্ভব যে, তাঁদের থেকে বর্ণনাকারী ইবনুল খাব্বাজ আমাদের আলোচ্য ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - মুহাম্মদ বিন মিকাল বিন আহমাদ বিন রাশিদ মাজদুদ্দীন মাওসিলী ফারাজী নাহবী। তিনি ইবনুল খাব্বাজের নিকট «আত-তাওজীহ ফিল আরাবিয়্যাহ» কিতাবটি শ্রুতলিখন করেছিলেন এবং ৬৮০ হিজরির শাওয়াল মাসে ৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

২ - ইজ্জুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ জানজানী; তিনি একজন শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন এবং তাবরীজে বসবাস করতেন।

তিনি ছিলেন একজন গুণী, আলেম, সাহিত্যিক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি, যিনি শাস্ত্রীয় (মানকুল) এবং যুক্তিনির্ভর (মাকুল) উভয় জ্ঞানেই পারদর্শী ছিলেন। তিনি তাবরীজে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৮)
أقام بالموصل، واستملى من الشيخ شمس الدين ابن الخباز تصنيفه وكان عالمًا بالنحو واللغة والتصريف وعلم المعاني والبيان.

من مؤلفاته: الهادي في علم النحو والصرف، وشرحه شرحًا وافيًا بسيطًا سماه: الكافي، وكتاب معيار النظار في علوم الأشعار في علم العروض، والتصريف العزي المطبوع المشهور. مات سنة (660 هـ).

آثاره العلمية:

ترك ابن الخباز - بعد حياة علمية حافلة بالنشاط - آثارًا علمية وافرة منها:

1 - شرح اللمع وهو المسمى «بتوجيه اللمع» وهو موضوع دراستنا ومنه نسخة وحيدة بمكتبة الأزهر تحت رقم «2348 السقا 28676) وهي نسخة كاملة تبتدأ بمقدمة وتنتهي بخاتمة.

2 - الإلماع في شرح اللمع لابن جني، وهذا الكتاب - وإن كان لم تشر إليه كتب التراجم أو فهارس المكتبات - أشار إليه ابن الخباز في ثنايا كتابه توجيه اللمع حين قال - في معرض الحديث عن نون الوقاية: «وفي هذه النون مسائل كثيرة، استقصيتها في كتاب الإلماع في شرح اللمع».

3 - الغرة المخفية في شرح الدرة الألفية لابن معطي ومنه نسخة بمكتبة الأزهر تحت رقم (3286 عروس 42613) وهي في مجلد واحد وكتبت بقلم معتاد، وتقع في (157) ورقة، ونسخة أخرى نفيسة بالإسكوريال تحت رقم (22) وكتبت سنة (644 هـ) ومنها ميكروفيلم بمعهد المخطوطات بالجامعة العربية تحت رقم (117) وهي تقع في (150 ورقة) ، وقد كتبها عبد الله بن محمد الزرندي الساوي بالمدرسة القاهرية بالموصل، وقدمها لحاكم أربل محمد بن سعيد بن محمد سنة (647 هـ) وعليها خط الصفدي.

4 - الكفاية في النحو - وهو وإن لم تشر إليه الفهارس التي أمكنني الاطلاع
তিনি মোসেলে অবস্থান করেন এবং শায়খ শামস উদ্দিন ইবনুল খাব্বাজের নিকট থেকে তাঁর রচনাবলি অনুলিখন করেন। তিনি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা), তাসরিফ (রূপতত্ত্ব) এবং ইলমে মাআনি ও বয়ানে পারদর্শী ছিলেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ইলমে নাহু ও সরফের ওপর 'আল-হাদী', এবং এর একটি পর্যাপ্ত ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম দিয়েছেন তিনি 'আল-কাফী'; ইলমে আরুজ ও কবিতা বিষয়ক 'মিইয়ারুন নাজ্জার ফী উলুমিল আশআর' এবং বর্তমানে সুপরিচিত ও মুদ্রিত 'আত-তাসরিফ আল-ইজ্জী'। তিনি ৬৬০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর ইলমী অবদানসমূহ:

ইবনুল খাব্বাজ তাঁর কর্মমুখর ও প্রাণবন্ত ইলমী জীবনের পরে প্রচুর ইলমী নিদর্শন রেখে গেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - শারহুল লুমা, যার নাম রাখা হয়েছে 'তাওজীহুল লুমা'। এটিই আমাদের আলোচনার মূল বিষয়। এর একমাত্র পাণ্ডুলিপি আল-আজহার লাইব্রেরিতে '২৩৪৮ আস-সাক্কা ২৮৬৭৬' নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কপি যা ভূমিকা দিয়ে শুরু হয়েছে এবং উপসংহার দিয়ে শেষ হয়েছে।

২ - ইবন জিন্নি রচিত শারহুল লুমার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ইলমা'। যদিও জীবনী গ্রন্থ বা লাইব্রেরি ক্যাটালগগুলোতে এই বইটির উল্লেখ নেই, কিন্তু ইবনুল খাব্বাজ তাঁর 'তাওজীহুল লুমা' কিতাবের ভেতর নুন-এ-বিকায়াহ সংক্রান্ত আলোচনার এক পর্যায়ে এর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "এই নুন সম্পর্কে অনেক মাসআলা রয়েছে, যা আমি আমার 'আল-ইলমা ফী শারহিল লুমা' গ্রন্থে সবিস্তারে আলোচনা করেছি।"

৩ - ইবন মুতি রচিত আদ-দুররাতুল আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-গুররাতুল মাখফিয়্যাহ'। এর একটি কপি আল-আজহার লাইব্রেরিতে '৩২৮৬ আরূস ৪২৬১৩' নম্বরে সংরক্ষিত। এটি এক খণ্ডে সাধারণ হাতের লেখায় লেখা এবং ১৫৭টি পত্র সম্বলিত। অপর একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি এস্কোরিয়াল লাইব্রেরিতে ২২ নম্বর সংকলনে আছে, যা ৬৪৪ হিজরিতে লেখা হয়েছে। আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ১১৭ নম্বর অধীনে এর একটি মাইক্রোফিল্ম রয়েছে এবং এটি ১৫০ পত্রের। এটি মোসেলের মাদরাসায়ে কাহিরাহ-তে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আয-যারান্দি আস-সাবী কর্তৃক লিখিত হয়েছে এবং ৬৪৭ হিজরিতে এরবিলের শাসক মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন মুহাম্মদের নিকট পেশ করা হয়েছিল। এতে আস-সাফাদীর হস্তাক্ষর রয়েছে।

৪ - আল-কিফায়াহ ফিন নাহু - যদিও আমার পক্ষে দেখা সম্ভব হয়েছে এমন ক্যাটালগগুলোতে এর কোনো উল্লেখ নেই-
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৯)
عليها قد أشار إليه ابن الخباز في كتابه «الغرة المخفية» حيث قال: «وقد ذكرت هذه الأبواب في النحو مسرودة المسائل في كتاب الكفاية.

5 - شرح ميزان العربية للأنباري.

6 - النظم الفريد في نثر التقييد.

7 - النهاية في النحو وقد نقل ابن هشام في مغني اللبيب نصوصًا عن هذا الكتاب في (1/ 179 و 2/ 488) ويقول خبراء المكتبات: إن هذا كان ضمن مخطوطات برنستن بولاية نيوجرسي بأمريكا.

8 - شرح الجزولية وأشار إليه أيضًا ابن هشام في مغني اللبيب (2/ 343) ، والمرادي في شرح التسهيل (ق 105) ، والسيوطي في الأشباه والنظائر (2/ 66، 108).

9 - شرح الإيضاح للفارسي، وقد أشار إليه ابن هشام في مغني اللبيب (1/ 191، 307، 2/ 494).

10 - الفريدة في شرح القصيدة، وهي قصيدة أبي عثمان سعيد بن المبارك الشهير بابن الدهان، وأشار إلى هذا الكتاب نقلًا عن ابن هشام شهاب الملة والدين أحمد بن علي الدلجي في كتابه المسمى «بالفلاكة والمفلوكين».

11 - التوجيه في النحو.

هكذا ذكروا كتاب التوجيه في النحو بين مؤلفات ابن الخباز، فهل هل كتاب توجيه اللمع الذي بأيدينا؟ أو هو كتاب آخر؟ لم نجد ما يبين هذا بيانًا شافيًا.
এর প্রতি ইবনুল খাব্বায তার ‘আল-গুররাতুল মাখফিয়্যাহ’ গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: “আমি নাহুর এই অধ্যায়গুলোর মাসআলাসমূহ ধারাবাহিকভাবে ‘কিতাবুল কিফায়াহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।”

৫ - আল-আনবারী রচিত ‘মীযানুল আরাবিয়্যাহ’-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)।

৬ - আন-নাযমুল ফারিদ ফী নাশরুত তাকয়ীদ।

৭ - আন-নিহায়াহ ফিন নাহু। ইবনে হিশাম ‘মুগনীল লাবীব’ গ্রন্থে এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন (১/ ১৭৯ এবং ২/ ৪৮৮)। গ্রন্থাগার বিশেষজ্ঞরা বলেন: এটি আমেরিকার নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের প্রিন্সটন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৮ - শারহুল জাযুলিয়্যাহ। ইবনে হিশাম ‘মুগনীল লাবীব’ (২/ ৩৪৩), আল-মুরাদী ‘শারহুত তাসহীল’ (পৃষ্ঠা ১০৫) এবং আস-সুয়ূতী ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর’ (২/ ৬৬, ১০৮) গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

৯ - আল-ফারিসী রচিত ‘আল-ঈযাহ’-এর শারহ। ইবনে হিশাম ‘মুগনীল লাবীব’ (১/ ১৯১, ৩০৭ এবং ২/ ৪৯৪) গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

১০ - আল-ফারিদাহ ফী শারহিল কাসিদাহ। এটি মূলত ইবনুদ দাহহান নামে পরিচিত আবু উসমান সাঈদ ইবনুল মুবারকের একটি কাসিদাহ। শিহাবু মিল্লাতি ওয়াদ-দীন আহমাদ ইবনে আলী আদ-দালজী ইবনে হিশামের বরাতে তার ‘আল-ফালাকাহ ওয়াল মাফলুকীন’ নামক গ্রন্থে এই কিতাবটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

১১ - আত-তাওজীহ ফিন নাহু।

এভাবেই তারা ইবনুল খাব্বাযের রচনাবলির মধ্যে ‘আত-তাওজীহ ফিন নাহু’ কিতাবটির উল্লেখ করেছেন। তবে এটিই কি আমাদের নিকট বর্তমান থাকা ‘তাওজীহুল লুমা’ কিতাবটি? নাকি এটি অন্য কোনো কিতাব? আমরা এমন কিছু পাইনি যা বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩০)
12 - مناقب الشيخ ابن قدامة (إبراهيم بن عبد الله الحنبلي) المتوفى سنة 666 هـ وهذا الكتاب يقع في مجلد واحد كما أشار إلى ذلك صاحب كشف الظنون.

13 - الفصول الخمسون في النحو، وهو بمكتبة برلين.

مذهبه النحوي:

إذا ما تأملنا مناقشات ابن الخباز للمسائل النحوية ومواقفه من آراء النحاة بصريين وكوفيين، أدركنا بوضوح ميوله للمذهب البصري، إذ كثيرًا ما كان يبطل المذهب الكوفي، ويدمغه بالفساد، مبينًا أسباب ذلك، وأيضًا مما يقوي لدينا الحكم بميله البصري: أنه كثيرًا ما يعبر عن البصريين بقوله: «هذا عندنا» أو «ومذهب أصحابنا» كذلك إذا نظرنا إلى الاصطلاحات التي استعملها في أسلوبه وجدنا أنها اصطلاحات بصرية غالبًا، ويتضح ذلك بالنماذج الآتية:

قال ابن الخباز: (باب الإعراب والبناء): وبنى خذ وكل، لأنهما فعلان، وسكنًا لأنه الأصل، وذهب الكوفيون إلى أن الأمر معرب مجزوم بلام الأمر المحذوفة، فالأصل عندهم: لتأخذ ولتأكل، فحذف اللام والتاء، والسكون جزم لا وقف، وهذا عندنا فاسد، لأنه لما حذف منه حرف المضارعة جرى مجرى الماضي في التعري منه، فعاد إلى البناء.

وقال: (باب الأفعال) «الأفعال مشتقة من المصادر».

وقال: (باب المفعول المطلق) «وإنما سمي مصدرًا، لأن الفعل يصدر عنه من حيث إنه مشتق عنه».

ونحن ندرك جيدًا أن البصريين هم الذين يقولون: إن الأفعال مشتقة من المصادر، فإطلاقه هذا القول دليل اتباعه مذهبهم واعتناقه نزعتهم.

وقال: (باب المفعول به): واختلف النحويون في ناصب المفعول الثاني، فقال البصريون: إذا قلت: أعطيت زيدًا درهمًا، فناصب درهمًا أعطيت، لأنه اقتضاه فعمل فيه، وقال الكوفيون: هو منصوب بفعل محذوف، دل عليه أعطيت، كأنه
১২ - শেখ ইবনে কুদামার (ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-হাম্বলি) মানাকিব (গুণগান), যিনি ৬৬৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। কাশফুয যুনুন-এর লেখক যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এই বইটি এক খণ্ডে রচিত।

১৩ - আল-ফুসুলুল খামসুন ফিন নাহু (ব্যাকরণের পঞ্চাশটি অধ্যায়), এটি বার্লিন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

তাঁর ব্যাকরণিক মাযহাব বা মতবাদ:

আমরা যদি ব্যাকরণিক মাসআলাসমূহ নিয়ে ইবনুল খাব্বাযের আলোচনা এবং বসরী ও কুফী বৈয়াকরণদের মতামতের প্রতি তাঁর অবস্থান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে বসরী মাযহাবের প্রতি তাঁর ঝোঁক স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারি। কারণ, তিনি প্রায়শই কুফী মাযহাবকে বাতিল করে দিতেন এবং এর কারণসমূহ বর্ণনা করে সেটিকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে সাব্যস্ত করতেন। এছাড়াও বসরী মতবাদের প্রতি তাঁর ঝোঁক থাকার বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তকে যা জোরালো করে তা হলো: তিনি প্রায়শই বসরীদের সম্পর্কে এভাবে ব্যক্ত করতেন যে— "এটি আমাদের নিকট" অথবা "আমাদের সাথীদের মাযহাব"। অনুরূপভাবে, তাঁর শৈলীতে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে সেগুলো মূলত বসরী পরিভাষা। নিচের উদাহরণগুলো থেকে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

ইবনুল খাব্বায বলেছেন: (ই'রাব ও বিনার অধ্যায়): 'খুয' (নাও) এবং 'কুল' (খাও) শব্দ দুটি মাবনি (অপরিবর্তনীয়), কারণ সেগুলো ফেল (ক্রিয়া); এবং এগুলোতে সুকুন হয়েছে কারণ সেটিই মূল। কুফীদের মত হলো— আমরের সিগা বা আদেশসূচক ক্রিয়া 'মু'রাব', যা উহ্য 'লামে আমর' দ্বারা মাজযূম। তাঁদের মতে এর মূল রূপ হলো: 'লিতাহখুয' এবং 'লিতাকুল'। অতঃপর 'লাম' ও 'তা' বিলুপ্ত করা হয়েছে, আর সুকুনটি হলো জযম, ওয়াকফ নয়। এটি আমাদের নিকট বাতিল; কারণ যখন এটি থেকে মুযারে'র হরফ বিলুপ্ত করা হয়েছে, তখন এটি তা থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে মাযী বা অতীতকালীন ক্রিয়ার পর্যায়ভুক্ত হয়ে পড়েছে, ফলে এটি পুনরায় 'বিনা' বা অপরিবর্তনীয় অবস্থায় ফিরে এসেছে।

তিনি বলেছেন: (ক্রিয়াসমূহের অধ্যায়) «ক্রিয়াসমূহ মাসদার বা ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত»।

তিনি আরও বলেছেন: (মাফউলে মুতলাকের অধ্যায়) «এটিকে মাসদার নামকরণ করা হয়েছে কারণ ফেল বা ক্রিয়া এ থেকে নির্গত হয়, যেহেতু ক্রিয়া এ থেকেই উদ্ভূত হয়»।

আমরা ভালো করেই জানি যে, বসরীরাই বলেন: ক্রিয়াসমূহ মাসদার থেকে উদ্ভূত। তাঁর এই উক্তিটি নিরঙ্কুশভাবে প্রদান করা প্রমাণ করে যে তিনি তাঁদের মাযহাবের অনুসারী এবং তাঁদের প্রবণতাকেই গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেছেন: (মাফউলে বিহি-র অধ্যায়): দ্বিতীয় মাফউলকে নসব প্রদানকারী সম্পর্কে বৈয়াকরণরা মতভেদ করেছেন। বসরীরা বলেছেন: যখন তুমি বলবে— 'আ'তাইতু যায়দান দিরহামান', তখন 'দিরহামান' শব্দটিকে নসব প্রদানকারী হলো 'আ'তাইতু' ক্রিয়াটি, কারণ এটি তাকে দাবি করে এবং এতে আমল (ক্রিয়াশীলতা) করে। আর কুফীরা বলেছেন: এটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা মানসুব, যার প্রতি 'আ'তাইতু' ইঙ্গিত করে, যেন এটি—
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩১)
قال: أعطيت زيدًا، فأخذ درهمًا لأن الإعطاء يدل على الأخذ وهذا عندنا فاسد، لأنا نقول: أعطيت زيدًا درهمًا فلم يأخذه، فلو كان التقدير كما زغموا، لصار معنى الكلام: أعطيت زيدًا فأخذ درهمًا فلم يأخذه، وتلك مناقضة ظاهرة.

وقال: (باب عطف النسق): ولا يجوز أن تقول: قام زيد لكن عمرو، وأجازه الكوفيون، واحتج أصحابنا بأن «بل» أغنت عنها، واحتج الكوفيون بقياسها على «بل» وأجاب أصحابنا بأن لكن تزول عن العطف إذا دخلت الواو عليها.

وقال: (باب إعراب الاسم الواحد): «وتوهم بعض العصريين أن قسمة الصحيح إلى المنصرف وغير المنصرف مؤذنة بأن المعتل ليس كذلك وهذا توهم باطل».

وقال: (باب خبر المبتدأ): وإنما أخبر عن المبتدأ بالجملة لوجهين: أحدهما: التوسع في العبارة، لأن الجملة تتضمن ضميرًا يعود على المبتدأ والضمير هو المبتدأ في المعنى.

فتعبيره عن نحاة البصرة بقوله: «أصحابنا» وقوله: «وهذا عندنا» واستعماله اصطلاحات المدرسة البصرية كالمنصرف والضمير، دليل قاطع على نزعته البصرية، وإن كان من متأخري النحاة.

***

وفاته:

اختلفت كلمة المترجمين له في تحديد سنة وفاته، فيرى صاحب النجوم الزاهرة وصاحب كتاب الذيل على الروضتين، وابن العماد في شذرات الذهب، وابن الفوطي في تلخيص مجمع الآداب، وكحالة في معجم المؤلفين، والزركلي في الأعلام، واليافعي في مرآة الجنان، وابن شهبة الأسدي في طبقات النحاة، وأبو المحاسن في إشارة التعيين أنه مات في سنة (639 هـ) ، ويرى صاحب هدية العارفين وصاحب كشف الظنون والسيوطي في البغية أنه توفي سنة (637 هـ).

وكانت وفاته رحمه الله بالموصل في شهر رجب، وذكر المقدسي أنه توفى في السابع من رجب، أما السيوطي وابن شهبة فيقولان: إنه مات في العاشر من ذلك الشهر ودفن رحمه الله بظاهر الموصل.
তিনি বললেন: আমি যায়দকে দিয়েছি, যার অর্থ হলো সে একটি দিরহাম গ্রহণ করেছে, কারণ কোনো কিছু দেওয়া তাকে গ্রহণ করার ওপর প্রমাণ বহন করে। আমাদের মতে এটি একটি ভ্রান্ত মত; কেননা আমরা বলি: "আমি যায়দকে একটি দিরহাম দিয়েছি কিন্তু সে তা গ্রহণ করেনি"। যদি এর রূপরেখা তাদের ধারণানুযায়ী হতো, তবে বাক্যের অর্থ দাঁড়াত: "আমি যায়দকে দিয়েছি যার ফলে সে দিরহামটি গ্রহণ করেছে কিন্তু সে তা গ্রহণ করেনি", যা একটি সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতা।

তিনি বললেন: (আতিফুন নাসাক পরিচ্ছেদ): "যায়দ দাঁড়িয়েছে কিন্তু আমর" বলা বৈধ নয়, তবে কুফাবাসীরা এটিকে বৈধ বলেছেন। আমাদের সঙ্গীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, "বাল" শব্দটি এর প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দিয়েছে। কুফাবাসীরা একে "বাল" শব্দের সাথে তুলনা করে যুক্তি দেখিয়েছেন। আমাদের সঙ্গীরা উত্তর দিয়েছেন যে, "লাকিন" শব্দটির ওপর যখন "ওয়াও" যুক্ত হয় তখন তার সংযোজক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তিনি বললেন: (একক ইসমের ইরাব পরিচ্ছেদ): "বর্তমান যুগের কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে, সহীহ শব্দকে মুনসারিফ ও গায়র-মুনসারিফ হিসেবে বিভক্ত করা এই ইঙ্গিত দেয় যে মু’তাল বা দুর্বল বর্ণবিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়, অথচ এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা।"

তিনি বললেন: (মুবতাদার খবর পরিচ্ছেদ): মুবতাদা সম্পর্কে জুমলা বা বাক্যের মাধ্যমে খবর দেওয়ার দুটি কারণ রয়েছে: প্রথমত, বর্ণনায় প্রশস্ততা আনা; কেননা জুমলা একটি জমির বা সর্বনাম ধারণ করে যা মুবতাদার দিকে ফিরে যায়, আর অর্থগতভাবে জমিরটিই হলো মুবতাদা।

বসরার ব্যাকরণবিদদের সম্পর্কে তাঁর "আমাদের সঙ্গীরা" উক্তিটি এবং "আমাদের নিকট এটি" বলা এবং মুনসারিফ ও জমিরের মতো বসরী মাযহাবের পরিভাষাগুলো ব্যবহার করা তাঁর বসরী চিন্তাধারার দিকে ঝুঁকে থাকার অকাট্য প্রমাণ, যদিও তিনি পরবর্তী যুগের ব্যাকরণবিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

***

তাঁর মৃত্যু:

তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর মৃত্যুর বছর নির্ধারণে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। আন-নুজুমুয যাহেরা এর লেখক, আয-যাইল আলা রওদাতাইন এর লেখক, শাযারাতুয যাহাব গ্রন্থে ইবনুল ইমাদ, তালখিসু মাজমাউল আদাব গ্রন্থে ইবনুল ফুওয়াতী, মুজামুল মুয়াল্লিফিন গ্রন্থে কাহহালা, আল-আলাম গ্রন্থে যারকালী, মিরআতুল জিনান গ্রন্থে ইয়াফেয়ী, তাবাকাতুন নুহাত গ্রন্থে ইবনে শাহবা আল-আসাদী এবং ইশারাতুত তায়িন গ্রন্থে আবু মাহাসিন মনে করেন যে তিনি ৬৩৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে হাদিয়াতুল আরিফিন এর লেখক, কাশফুজ জুনুন এর লেখক এবং আল-বুগয়াহ গ্রন্থে সুয়ূতী মনে করেন যে তিনি ৬৩৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মসুলে রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন। মাকদিসী উল্লেখ করেছেন যে তিনি রজব মাসের সাত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। তবে সুয়ূতী এবং ইবনে শাহবা বলেন: তিনি সেই মাসের দশ তারিখে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে (রাহিমাহুল্লাহ) মউসিলের উপকণ্ঠে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الثالث: كتاب «توجيه اللمع» ومنهج ابن الخباز فيه

كتاب «توجيه اللمع»:

هو كتاب في النحو، يشرح به مؤلفه كتاب «اللمع لابن جني» بأسلوب سهل وعبارة واضحة سلسة، مع تعليل النحوية وإظهار الأسرار التي تنطوي عليها قضاياها، ويبين لنا ابن الخباز في مقدمة كتاب الأسباب والدواعي التي حفزته إلى تأليف هذا الكتاب فيقول: أما بعد: فإن جماعة من حفظة كتاب «اللمع» في النحو لأبي الفتح عثمان بن جني رحمه لله أطمعهم فيه صغر حجمه، وآيسهم منه عدم فهمه، وذلك لأن الكتب المصنوعة لتفسيره منها الكبير الممل، ومنها الصغير المخل، والمتوسط بينهما إما يفقد، وإما يقل، فضمنت لهم إملاء مختصرًا.

وهذا الكتاب يشتمل على كل الأبواب التي اشتمل عليها كتاب «اللمع» لأنه شرح له.

وقد التزم ابن الخباز في كتابه الترتيب الذي وردت عليه أبواب «اللمع» فلم يقد فيه ولم يؤخر، بل ابتدأ بما ابتدأ به ابن جني، وتتبع أبوابه شرحًا وتعليلًا وعرضًا لآراء النحاة في القضايا الخلافية، ثم اختتم كتابه بالأبواب التي أنهى بها ابن جني كتابه.

وينهي ابن الخباز شرحه هذا بخاتمة يقول في مستهلها: «هذا آخر ما عمدت لإملائه من شرح كتاب «اللمع» وقد جئت به كما ضمنت في خطبته ومن تصفحه وتأمله علم صدق دعواي، ولم أستعن في مدة إملائه عليه بمطالعة كتاب، وقد أودعته نبذًا مما رويته عن شيخي مجد الدين أبي حفص عمر بن أحمد بن أبي بكر ابن مهران، يرد الله مضجعه، وطيب مهجه، ومن عثر لي في هذا الإملاء على عثرة، فليكن العاثر غادرًا لزللها، وسادًا لخللها، فإن السعيد من عدت سقطاته.

مصادره:

بالتأمل في كتاب «توجيه اللمع» لابن الخباز نستطيع التعرف بوضوح على المصادر التي استقى منها الشارح مادة كتابته العلمية، فقد كان رحمه الله يشير إلى من روى عنهم أو نقل من كتبهم أو استعان بآرائهم المثبوتة في كتب غيرهم، ومن أبرز
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: «তাওজিহুল লুমা’» গ্রন্থ এবং এতে ইবনুল খাব্বাজের পদ্ধতি

«তাওজিহুল লুমা’» গ্রন্থ:

এটি একটি নাহু (আরবি ব্যাকরণ) বিষয়ক গ্রন্থ, যেখানে এর লেখক ইবনে জিন্নি রচিত «আল-লুমা’» গ্রন্থটিকে সহজ সাবলীল ভাষায় ও প্রাঞ্জল বর্ণনায় ব্যাখ্যা করেছেন। এতে তিনি ব্যাকরণিক কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং এর বিষয়াবলীর গভীরে নিহিত রহস্যসমূহ উন্মোচন করেছেন। ইবনুল খাব্বাজ এই গ্রন্থের ভূমিকায় গ্রন্থটি রচনার কারণ ও অনুপ্রেরণা সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: "অতঃপর: আবু ফাতহ ওসমান ইবনে জিন্নি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) রচিত নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থ «আল-লুমা’»-এর একদল হাফেজ (মুখস্থকারী) এর সংক্ষিপ্ত আকারের কারণে এটি আয়ত্ত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন, কিন্তু এটি না বোঝার কারণে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। কারণ এর ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোনটি অতি দীর্ঘ ও বিরক্তিকর, আবার কোনটি অতি সংক্ষিপ্ত ও অপূর্ণাঙ্গ। আর এ দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থার গ্রন্থ হয় পাওয়া যায় না, অথবা খুবই বিরল। তাই আমি তাদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলাম।"

এই গ্রন্থটি «আল-লুমা’» গ্রন্থে বিদ্যমান সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, কারণ এটি উক্ত গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

ইবনুল খাব্বাজ তাঁর গ্রন্থে «আল-লুমা’»-এর অধ্যায়গুলোর ক্রমধারা বজায় রেখেছেন। তিনি এতে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন করেননি; বরং ইবনে জিন্নি যা দিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি তা দিয়েই শুরু করেছেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ের ব্যাখ্যা, কারণ বর্ণনা এবং বিবাদমান বিষয়গুলোতে ব্যাকরণবিদদের মতামত উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। অতঃপর তিনি ইবনে জিন্নি যে অধ্যায়গুলো দিয়ে গ্রন্থ সমাপ্ত করেছেন, সেগুলো দিয়েই তাঁর গ্রন্থ শেষ করেছেন।

ইবনুল খাব্বাজ তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে শেষ করেছেন যার শুরুতে তিনি বলেন: "এটিই ‘আল-লুমা’ গ্রন্থের ব্যাখ্যার শেষ অংশ যা আমি রচনার সংকল্প করেছিলাম। আমি এটি সেভাবেই উপস্থাপন করেছি যেভাবে আমি এর ভূমিকায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবেন এবং চিন্তা করবেন, তিনি আমার দাবির সত্যতা উপলব্ধি করবেন। এটি বর্ণনা করার সময় আমি অন্য কোনো গ্রন্থ অধ্যয়নের সহায়তা গ্রহণ করিনি। আমি এতে আমার শায়খ মাজদুদ্দিন আবু হাফস ওমর বিন আহমদ বিন আবু বকর ইবনে মহরান—আল্লাহ তাঁর শয্যাকে সুশীতল করুন এবং তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাসমূহের সারাংশ অন্তর্ভুক্ত করেছি। কেউ যদি আমার এই লেখনীতে কোনো ভুলত্রুটি দেখতে পান, তবে তিনি যেন সেই পদস্খলনকে মার্জনা করেন এবং এর ত্রুটি সংশোধন করে দেন, কারণ সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যার ভুলগুলো গণনা করা যায়।"

এর উৎসসমূহ:

ইবনুল খাব্বাজের «তাওজিহুল লুমা’» গ্রন্থটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আমরা সেই সব উৎস সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে পারি যেখান থেকে ব্যাখ্যাকার তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান সংগ্রহ করেছেন। তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যাদের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন বা যাদের গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন অথবা অন্যদের গ্রন্থে সংরক্ষিত যাদের মতামতের সাহায্য নিয়েছেন, তাঁদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলো...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
من استفاد منهم ابن الخباز في كتابه هو شيخه مجد الدين بن أبي حفص عمر بن أحمد، فكثيرًا ما كان يصنع معه صنيع سيبويه مع الخليل، وابن جني مع الفارسي، فكان يقول: وسألت شيخنا رحمه الله أو وحدثنا رحمه الله، أو قال شيخنا رحمه الله، وقد ذكرت نبذا مما نقله عنه ابن الخباز في كتابه، عندما تحدثت عنه في الفصل الثاني ومن أهم هذه المصادر أيضًا ما يأتي.

(1) البصريون. … (2) الكوفيون.

(3) البغداديون ومن تلاهم.

أولًا - البصريون:

يعد سيبويه شيخ المدرسة البصرية في مقدمة البصريين الذين أفاد منهم ابن الخباز في كتابه هذا، فكتاب سيبويه كان ولا يزال موردًا عذبًا ومنهلًا فريدًا، لطالبي علم العربية أو راغبي التعمق فيه، حيث إنه بلغ من الشمول والسعة درجة كبيرة، فحق على من أراد التأليف في هذا الفن أن يرد حياضه، ويرشف من رحقيقه، ويعب من سلافه، ولهذا فقد صح إلى حد بعيد القول المشهور الذي يقول: «من أراد أن يعمل كتابًا كبيرًا في النحو بعد كتاب سيبويه فليستحي» فلا عجب إذن أن يغترف من بحره كل نحوي يأتي بعده، فما من كتاب في النحو إلا واسم سيبويه يرتدد بين جنباته أكثر من غيره، فالنحاة جميعًا عيال عليه.

والقارئ لكتاب «توجيه اللمع» يدرك بوضوح مدى الأثر الكبير الذي تركه سيبويه عليه، فاسم سيبويه يتردد في ثنايا الكتاب أكثر من غيره من أعلام النحو واللغة وهذا لأثر بدأ في كتاب ابن الخباز متخذًا أشكالًا متنوعة، منها:

أولًا - إفادته الكثير من آراء سيبويه، ونجدها منتشرة في معظم أبوابه.

ثانيًا - إفادته كثيرًا من الشواهد الشعرية، فكان كثيرًا ما يقول: أنشد سيبويه.

ثالثًا - أفاد ابن الخباز من كتاب سيبويه بنقل آراء بعض النحويين الذين وردت لهم آراء فيه كالخليل بن أحمد ويونس.

ومن البصريين الذين استعان ابن الخباز في كتابه بآرائهم: الأصمعي، وعيسى بن عمر والأخفش ويونس وأبو محمد اليزيدي وأبو عثمان المازني والمبرد.
ইবনুল খাব্বাজ তাঁর গ্রন্থে যাদের থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাঁর শাইখ মাজদুদ্দীন ইবনে আবি হাফস উমর ইবনে আহমদ। সিবওয়াইহি খলিলের সাথে এবং ইবনু জিন্নি ফারেসির সাথে যে আচরণ করতেন, তিনিও প্রায়ই তাঁর সাথে তেমনটি করতেন। তিনি বলতেন: "আমি আমাদের শাইখকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) জিজ্ঞাসা করেছি" অথবা "আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন" অথবা "আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন"। দ্বিতীয় অধ্যায়ে তাঁর সম্পর্কে আলোচনার সময় ইবনুল খাব্বাজ তাঁর গ্রন্থ থেকে যা নকল করেছেন, আমি তার কিঞ্চিৎ উল্লেখ করেছি। এছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ উৎসসমূহ নিম্নরূপ।

(১) বসরাবাসীগণ। … (২) কুফাবাসীগণ।

(৩) বাগদাদবাসীগণ এবং তাদের পরবর্তীগণ।

প্রথমত - বসরাবাসীগণ:

বসরিয়দের মধ্যে সিবওয়াইহি হলেন বসরা মাযহাবের প্রধান শাইখ, যাঁর থেকে ইবনুল খাব্বাজ তাঁর এই গ্রন্থে উপকৃত হয়েছেন। সিবওয়াইহির কিতাবটি আরবি ভাষার ইলম অন্বেষণকারী বা এতে গভীর জ্ঞান লাভে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য সর্বদা একটি সুমিষ্ট উৎস এবং অনন্য ঝর্ণাধারা হিসেবে পরিগণিত। যেহেতু এটি ব্যাপকতা ও পরিধির দিক থেকে এক বিশাল স্তরে পৌঁছেছে, তাই এই শিল্পে যারা গ্রন্থ রচনা করতে চান, তাদের জন্য এর ঘাট থেকে পানি পান করা, এর সুধা আস্বাদন করা এবং এর নির্যাস গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই কারণেই প্রসিদ্ধ উক্তিটি বহুলাংশে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: «সিবওয়াইহির কিতাবের পর যে ব্যক্তি নাহু শাস্ত্রে কোনো বড় কিতাব রচনা করতে চায়, তার লজ্জা পাওয়া উচিত»। সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, তাঁর পরবর্তী প্রত্যেক নাহুবিদ তাঁর সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করবেন। নাহু শাস্ত্রের এমন কোনো কিতাব নেই যাতে সিবওয়াইহির নাম অন্য কারো চেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় না; প্রকৃতপক্ষে সকল নাহুবিদই তাঁর ওপর নির্ভরশীল।

‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থের পাঠক স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন যে, সিবওয়াইহি এর ওপর কত বড় প্রভাব রেখে গেছেন। নাহু ও লুগাতের অন্যান্য ইমামদের তুলনায় সিবওয়াইহির নাম এই কিতাবের পরতে পরতে বেশি উচ্চারিত হয়েছে। ইবনুল খাব্বাজের কিতাবে এই প্রভাব বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেয়েছে, যেমন:

প্রথমত - সিবওয়াইহির অনেক মত থেকে তাঁর উপকৃত হওয়া; যা কিতাবটির অধিকাংশ অধ্যায়ে ছড়িয়ে আছে।

দ্বিতীয়ত - অনেক কাব্যিক উদাহরণ থেকে তাঁর উপকৃত হওয়া; তিনি প্রায়ই বলতেন: সিবওয়াইহি এই কবিতা পাঠ করেছেন।

তৃতীয়ত - সিবওয়াইহির কিতাব থেকে ইবনুল খাব্বাজ এমন কিছু নাহুবিদের মত বর্ণনা করে উপকৃত হয়েছেন যাদের মতামত সেখানে উল্লেখ ছিল, যেমন খলিল ইবনে আহমদ ও ইউনুস।

বসরিয়দের মধ্যে আরও যাদের মতামতের সাহায্য ইবনুল খাব্বাজ তাঁর গ্রন্থে নিয়েছেন তারা হলেন: আসমায়ী, ঈসা ইবনে উমর, আখফাশ, ইউনুস, আবু মুহাম্মদ আল-ইয়াযিদি, আবু উসমান আল-মাযিনি এবং মুবাররাদ।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ثانيًا الكوفيون:

أما الكوفيون فقد كان ابن الخباز يذكر رأيهم في المسائل الخلافية، وبناقشه مناقشة حرة، بعيدة عن العصبية الممقوتة التي تجافي العلم، ولا تتفق وطبع العلماء. علمًا بأن ميله إلى المذهب البصري كان واضحًا، لكن ولاءه للمدرسة البصرية لم يمنعه من عرض آراء رجل المدرسة الكوفية، وبيان موقفهم من قضايا النحو المختلفة، مما يشعر بأنه قرأ كتبهم وتفهم أسرارها بدقة، وكان رحمه الله ذا عقلية ناقدة فاحصة، فكان يقبل ما يراه صحيحًا- وإن كان من غير المدرسة التي ينتمي إليها - ويرد ما يراه فاسدًا - وإن كان من رجال مدرسته - ومن الكوفيين الذين ذكر لهم آراء فردية الكسائي وثعلب والفراء.

ثالثًا: البغداديون ومن تلاهم:

وهم من استفاد ابن الخباز من آرائهم أو كتبهم ولم يشملهم إصطلاح بصري أو كوفي، وقد كونوا لهم آراء خاصة بهم في المسائل النحوية، تتفق أو تختلف عن مذهب المدرستين التقليديتين: البصرية، والكوفية، وفي مقدمة من استفاد منهم من رجال هذه المدرسة: أبو سعيد السيرافي وأبو علي الفارسي فآراؤهما تنتشر في كتابه بكثرة، ومن هؤلاء أيضًا: الزجاج وابن السراج والزجاجي والزمخشري والرماني، وابن الدهان وغيرهم، ولست أراني بحاجة إلى ذكر النماذج هنا لكثرتها ووضحوها في كتابه.

توثيق نسبة كتاب «توجيه اللمع» إلى ابن الخباز:

يمكن أن نثبت بما لا يدع مجالًا للشك - أن كتاب «توجيه اللمع» لأحمد بن الحسين المعروف بابن الخباز بثلاثة أدلة:

الأول: إشارة كتب التراجم إلى أن لابن الخباز شرحًا على كتاب «اللمع» لابن جني ومن هذه الكتب معجم المؤلفين، وهدية العارفين، وكشف الظنون.

الثاني: اتفاق كتابي ابن الخباز (توجيه اللمع) و (الغرة المخفية) في الأسلوب وعرض بعض المسائل التي ينقلها العلماء منسوبة لابن الخباز كقول السيوطي في (الأشباه والنظائر) (2/ 14): قال ابن الخباز في شرح (الدرة الألفية): الحروف العاملة أربعة أقسام: قسم يرفع وينصب، وهو أن وأخواتها، ولا المشبهة بأن وما ولا المشبهات بليس، وقسم ينصب فقط، وذلك حروف النداء ونواصب الفعل المضارع … وقسم يجر فقط
দ্বিতীয়ত: কুফিবাসীগণ:

কুফিবাসীগণের ক্ষেত্রে ইবনুল খাব্বায মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাদের মতামত উল্লেখ করতেন এবং তা নিয়ে মুক্তভাবে আলোচনা করতেন। তিনি সেই নিন্দনীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত ছিলেন যা ইলম বা জ্ঞান অর্জনের পথে অন্তরায় এবং যা আলেমদের স্বভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। যদিও বসরা ঘরানার প্রতি তাঁর ঝোঁক সুস্পষ্ট ছিল, তবুও বসরার প্রতি এই আনুগত্য তাঁকে কুফি ঘরানার ব্যক্তিদের মতামত তুলে ধরতে এবং ব্যাকরণের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের অবস্থান বর্ণনা করতে বাধা দেয়নি। এটি একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁদের কিতাবসমূহ পাঠ করেছেন এবং তার গূঢ় রহস্যগুলো সূক্ষ্মভাবে অনুধাবন করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সমালোচনামূলক মেধার অধিকারী ছিলেন; তাই তিনি যা সঠিক মনে করতেন তা গ্রহণ করতেন—চাই তা নিজ ঘরানার বাইরের কোনো ব্যক্তি থেকেই হোক না কেন—এবং যা ভ্রান্ত মনে করতেন তা প্রত্যাখ্যান করতেন—চাই তা নিজ ঘরানার কোনো ব্যক্তিরই হোক না কেন। কুফিবাসীদের মধ্যে যাঁদের ব্যক্তিগত মতামত তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন আল-কিসায়ি, সা’লাব এবং আল-ফাররা।

তৃতীয়ত: বাগদাদিগণ ও পরবর্তীগণ:

তাঁরা হলেন এমন সব ব্যক্তি যাঁদের মতামত অথবা কিতাবসমূহ থেকে ইবনুল খাব্বায উপকৃত হয়েছেন এবং যাঁদেরকে নির্দিষ্টভাবে ‘বাসরি’ বা ‘কুফি’ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ব্যাকরণিক মাসআলাগুলোতে তাঁদের নিজস্ব মতামত ছিল, যা প্রচলিত দুই মাযহাব—বসরা ও কুফার সাথে মিলে যেত অথবা ভিন্ন হতো। এই ঘরানার ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা অগ্রগণ্য ছিলেন এবং যাঁদের থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন তাঁরা হলেন: আবু সাঈদ আস-সিরাফি এবং আবু আলী আল-ফারিসি। তাঁর কিতাবে তাঁদের মতামত প্রচুর পরিমাণে ছড়িয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আয-যাজ্জাজ, ইবনুস সাররাজ, আয-যাজ্জাজি, আয-যামাখশারি, আর-রুমমানি, ইবনুুদ দাহহান এবং আরও অনেকে। এই কিতাবে তাঁদের মতামতের আধিক্য ও সুস্পষ্টতার কারণে আমি এখানে তার নমুনা পেশ করার প্রয়োজন মনে করছি না।

ইবনুল খাব্বাযের প্রতি ‘তাওজিহুল লুমা’ কিতাবটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা:

আমরা কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই তিনটি দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারি যে, ‘তাওজিহুল লুমা’ কিতাবটি আহমাদ বিন আল-হুসাইন এর, যিনি ইবনুল খাব্বায নামে পরিচিত:

প্রথমত: জীবনী গ্রন্থসমূহে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, ইবনু জিন্নীর ‘আল-লুমা’ কিতাবের ওপর ইবনুল খাব্বাযের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। এ জাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে মুজামুল মুয়াল্লিফীন, হাদিয়াতুল আরিফীন এবং কাশফুয যুনুন।

দ্বিতীয়ত: ইবনুল খাব্বাযের ‘তাওজিহুল লুমা’ এবং ‘আল-গুররাতুল মাখফিয়্যাহ’ নামক কিতাবদ্বয়ের রচনাশৈলী এবং কিছু মাসআলা উপস্থাপনার ধরনের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা, যা আলেমগণ ইবনুল খাব্বাযের নামে উদ্ধৃত করেন। যেমন আস-সুয়ূতী ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির’ (২/১৪) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনুল খাব্বায ‘শারহুদ দুররাতুল আলফিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: আমলকারী বর্ণসমূহ চার প্রকার: এক প্রকার রফ্ (পেশ) দেয় এবং নসব (যবর) দেয়, আর তা হলো ইন্না ও তার সমজাতীয় শব্দসমূহ, এবং ইন্না-এর সাদৃশ্যপূর্ণ লা, এবং লাইসা-এর সাদৃশ্যপূর্ণ মা ও লা। অন্য এক প্রকার শুধুমাত্র নসব (যবর) দেয়, আর তা হলো নিদা বা আহ্বানের বর্ণসমূহ এবং মুযারে ফে’লকে নসব প্রদানকারী বর্ণসমূহ … এবং এক প্রকার শুধু জর (যের) দেয়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وهي حروف الجر. وقسم يجزم فقط وهي حروف الجزم.

فهذا النص ثابت في (الغرة المخفية) لابن الخباز ق 7 - و (توجيه اللمع) (باب أن وأخواتها).

وكذلك اتفاق الكتابين في نقل ابن الخباز عن شيخه أبي حفص الضرير نقلًا كثيرًا لا يوجد في غير تأليف ابن الخباز.

والثالث: أني وجدت كثيرًا من النصوص والآراء التي نقلها عنه المتأخرون في كتبهم موجودة في كتاب «توجيه اللمع» وهذا دليل قاطع على إثبات إن الكتاب له وليس لغيره، ومن هذه النصوص ما يأتي:

قال ابن باز: «اختلف النحاة في تعريف العامل، فقال المطرزي: هو ما أوجب كون آخر الكلمة على وجه مخصوص من الإعراب، وقال ابن الخباز: هو ما أحدث في آخر الكلمة رفعًا أو جرًا أو جزمًا وكلام ابن الخباز موجود في كتاب «توجيه اللمع» ونصبه: والعامل كل ما أثر في كلمة رفعًا أو نصبًا أو جرًا أو جزمًا».

قال ابن إياز أيضًا عند الكلام على «ما دام»: فسرها الجزولي وابن عصفور أنها لمقارنة الصفة الموصوف في الحال، إذا كانت ناصبة كقولك: أزورك ما دمت محسنًا، وقال ابن الخباز: فيه خلل، وذلك لأن معناها التأييد ورأى ابن الخباز هذا في (توجيه اللمع) ونصه: وما دام للتأييد.

وقال المرادي في «الجني الداني» (الواو) قال ابن الخباز: وذهب الشافعي إلى إنها للترتيب وقول ابن الخباز هذا في «توجيه اللمع» أيضًا ونصه: وحكوا عن الشافعي أنه ذهب إلى أنها تفيد الترتيب.

وقال المرادي أيضًا (قد): قال ابن الخباز: إذا دخل «قد» على الماضي أثر فيه معنيين: تقريبه من زمن الحال، وجعله خبرًا منتظرًا.

وكلام ابن الخباز هنا موجود في (توجيه اللمع) أقال: «قد» تلى المضارع والماضي فمعناها في الماضي تقريبه من الحال.
আর এগুলো হলো হরফে জার। আর এক প্রকার কেবল জজম প্রদান করে, সেগুলো হলো হরফে জজম।

এই পাঠটি ইবনুল খাব্বাজের ‘আল-গুররাতুল মাখফিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা ৭) এবং ‘তাওজিহুল লুমা’ (ইন্না ও তার সমগোত্রীয় পরিচ্ছেদ) গ্রন্থে প্রমাণিত।

অনুরূপভাবে, ইবনুল খাব্বাজ কর্তৃক তাঁর শায়খ আবু হাফস আদ-দরীর থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে উভয় কিতাবের মধ্যে মিল রয়েছে, যা ইবনুল খাব্বাজের রচনা ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

তৃতীয়ত: আমি এমন অনেক পাঠ ও মতামত পেয়েছি যা পরবর্তী যুগের আলিমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন, অথচ সেগুলো ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থে বিদ্যমান। এটি একটি অকাট্য দলিল যে কিতাবটি তাঁরই, অন্য কারো নয়। সেই পাঠগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ইবনে বাজ বলেছেন: “আমিল-এর সংজ্ঞায় বৈয়াকরণগণ মতভেদ করেছেন। মুতাররিজি বলেছেন: এটি এমন যা শব্দের শেষাংশকে একটি নির্দিষ্ট ইরাবি (বিভক্তি) রূপ প্রদান করতে বাধ্য করে। আর ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন: এটি এমন যা শব্দের শেষে রফা, জার বা জজম সৃষ্টি করে। ইবনুল খাব্বাজের এই কথাটি ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থে বিদ্যমান এবং এর পাঠ হলো: আমিল হলো এমন প্রতিটি জিনিস যা শব্দের মধ্যে রফা, নাসব, জার বা জজম-এর প্রভাব ফেলে।”

ইবনে আইয়াজ ‘মা দামা’ প্রসঙ্গে আলোচনার সময় আরও বলেছেন: জাযুলি এবং ইবনে আসফুর এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটি বর্তমান কালে সিফাত (গুণ) ও মাওসুফ (গুণান্বিত)-এর একত্র হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, যখন এটি নাসব প্রদানকারী হয়; যেমন আপনার কথা: ‘আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব যতক্ষণ আপনি সদাচারী থাকবেন’। ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন: এতে ত্রুটি রয়েছে, কেননা এর অর্থ হলো স্থায়িত্ব। ইবনুল খাব্বাজের এই অভিমতটি ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থে রয়েছে এবং এর পাঠ হলো: মা দামা স্থায়িত্বের জন্য ব্যবহৃত হয়।

মুরাদী ‘আল-জানিয়ুদ দানী’ গ্রন্থে (ওয়াও প্রসঙ্গে) বলেছেন: ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন যে, ইমাম শাফেয়ী একে তারতীব বা ক্রমিকতার অর্থবোধক মনে করতেন। ইবনুল খাব্বাজের এই কথাটি ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থেও রয়েছে এবং এর পাঠ হলো: তাঁরা শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মনে করতেন এটি ক্রমিকতার অর্থ প্রদান করে।

মুরাদী আরও বলেছেন (‘কাদ’ প্রসঙ্গে): ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন: যখন ‘কাদ’ অতীতকালের ওপর আসে, তখন এটি তাতে দুটি অর্থের প্রভাব ফেলে: একে বর্তমান কালের নিকটবর্তী করা এবং একে একটি প্রতীক্ষিত সংবাদে পরিণত করা।

ইবনুল খাব্বাজের এই কথাটি এখানে ‘তাওজিহুল লুমা’ গ্রন্থে বিদ্যমান যেখানে তিনি বলেছেন: “‘কাদ’ মুজারে এবং মাজি উভয়ের পরেই আসে; মাজি-এর ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো একে বর্তমান কালের নিকটবর্তী করা।”
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقال المرادي في (حتى): إذا عطف بحتى على مجرور، قال ابن عصفور: الأحسن إعادة الجار، ليقع الفرق بين العاطفة والجارة. وقال ابن الخباز: لزم إعادة الجار فرقًا بينها وبين الجارة، وقال ابن الخباز في (توجيه اللمع): «وإذا قلت: مررت بهم حتى بزيد، وجب إعادة الجار، لأن المعطوف عليه مضمر مجرور، وقد حصل من ذلك الفرق بين العاطفة والجارة» فمضمون كلامه في توجيه اللمع هو ما نص عليه المرادي في الجني الداني.

وقال السيوطي: «قال ابن الخباز: إن قلت ما الفرق بين: زيد أخوك وأخوك زيد؟

قلت: من وجهين:

أحدهما: أن زيدًا أخوك، تعريف للقرابة، وأخوك زيد، تعريف للاسم.

والثاني: أن زيدًا أخوك، لا ينفي أن يكون له أخ غيره، لأنك أخبرت بالعام عن الخاص، وأخوك زيد، ينفي أن يكون له أخ غيره، لأنك أخبرت بالخاص عن العام، وهذا ما يشير إليه الفقهاء في قولهم: زيد صديقي وصديقي زيد، نقله ابن هشام في تذكرته وهذا النص وجد بحروفه في (توجيه اللمع) لابن الخباز (باب خبر المبتدأ) وقال السيوطي: قال ابن الخباز: إنما لم يبنوا «اثني عشر» لأنه لا نظير له، إذ ليس لهم مركب صدره مثنى وهذا النص بعينه ذكره ابن الخباز في (باب العدد) قال: أما اثنا عشر فإن شطره الأول معرف، لأنهم لو بنوه للتركيب لم يكن له في كلامهم نظير، لأنه ليس في كلامهم مركب أول شطريه مثنى.

وقال السيوطي أيضًا: قال ابن الخباز: الاثنان هجر جانبة في موضعين:

الأول: أن الأعداد من الثلاثة إلى العشرة بنوا منها صيغ الجمع من ثلاثين إلى تسعين، ولم يقولوا من الاثنين: ثنيين.

والثاني: أن من الثلاثة إلى العشرة اشتقت من ألفاظها الكسور، فقيل: ثلث وربع إلى العشر، ولم يقل في الاثنين: ثني، بل نصف وهذا النص كذلك في توجيه اللمع (باب العدد).

فهذه النصوص التي نقلها العلماء بعده عنه وأودعوها بطون كتبهم والتي ثبت أنها موجودة في ثنايا كتاب «توجيه اللمع» تدل دلالة قاطعة على صحة نسبة هذا الكتاب إلى ابن الخباز.
আল-মুরাদি 'হাত্তা' প্রসঙ্গে বলেছেন: যখন 'হাত্তা' দ্বারা কোনো মাজরুর শব্দের ওপর আতিফ (সংযোজন) করা হয়, তখন ইবনে উসফুর বলেছেন: অব্যয়টি (জার) পুনরায় উল্লেখ করাই উত্তম, যাতে সংযোজক 'হাত্তা' এবং অব্যয়মূলক 'হাত্তা'-র মধ্যে পার্থক্য করা যায়। ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন: অব্যয়মূলক ও সংযোজক 'হাত্তা'-র মধ্যে পার্থক্যের খাতিরে অব্যয়টি পুনরায় উল্লেখ করা আবশ্যক। ইবনুল খাব্বাজ 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থে বলেছেন: «এবং যখন আপনি বলবেন: 'আমি তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি, এমনকি জায়েদের পাশ দিয়েও', তখন অব্যয়টি পুনরায় উল্লেখ করা ওয়াজিব; কারণ যার ওপর আতিফ করা হয়েছে সেটি একটি মাজরুর সর্বনাম। এর মাধ্যমেই সংযোজক ও অব্যয়মূলক 'হাত্তা'-র মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়েছে»। সুতরাং 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থে তার আলোচনার মূল কথা সেটিই যা আল-মুরাদি 'আল-জানি আদ-দানি' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

এবং আস-সুয়ুতি বলেছেন: «ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন: আপনি যদি প্রশ্ন করেন যে, 'জায়েদ তোমার ভাই' এবং 'তোমার ভাই জায়েদ' বাক্য দুটির মধ্যে পার্থক্য কী?

আমি বলব: দুটি দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে:

প্রথমত: 'জায়েদ তোমার ভাই' বলা হলো আত্মীয়তার পরিচয় দেওয়া, আর 'তোমার ভাই জায়েদ' বলা হলো নামের পরিচয় দেওয়া।

দ্বিতীয়ত: 'জায়েদ তোমার ভাই' বাক্যটি তার অন্য কোনো ভাই থাকার সম্ভাবনাকে নাকচ করে না, কারণ আপনি এখানে বিশেষ সম্পর্কে সাধারণ সংবাদ দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে 'তোমার ভাই জায়েদ' বাক্যটি তার অন্য কোনো ভাই থাকার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়, কারণ এখানে আপনি সাধারণ সম্পর্কে বিশেষ সংবাদ দিচ্ছেন। ফকিহগণ তাদের এই উক্তিতে একথার দিকেই ইশারা করেছেন: 'জায়েদ আমার বন্ধু' এবং 'আমার বন্ধু জায়েদ'। ইবনে হিশাম তার 'তাজকিরাহ' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আর এই পাঠটি হুবহু ইবনুল খাব্বাজের 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থের 'মুক্তাদা-খবর অধ্যায়'-এ পাওয়া যায়। আস-সুয়ুতি বলেছেন: ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন: তারা 'বারো' শব্দটিকে মাবনি (অপরিবর্তনীয়) করেনি কারণ এর কোনো নজির নেই; যেহেতু তাদের ভাষায় এমন কোনো যৌগিক শব্দ নেই যার প্রথমাংশ দ্বিবচন। এই বক্তব্যটিই ইবনুল খাব্বাজ 'সংখ্যা অধ্যায়'-এ উল্লেখ করে বলেছেন: বারো-এর ক্ষেত্রে এর প্রথমাংশটি পরিবর্তনশীল (মু'রাব); কারণ তারা যদি এটিকে যৌগিক হিসেবে মাবনি করত, তবে আরবি ভাষায় এর কোনো নজির থাকত না। কেননা তাদের ভাষায় এমন কোনো যৌগিক শব্দ নেই যার প্রথমাংশ দ্বিবচন।

আস-সুয়ুতি আরও বলেছেন: ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন: 'দুই' সংখ্যাটির প্রয়োগ দুটি ক্ষেত্রে বর্জন করা হয়েছে:

প্রথমত: তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যাগুলো থেকে তারা ত্রিশ থেকে নব্বই পর্যন্ত বহুবচনের রূপ গঠন করেছে, কিন্তু 'দুই' থেকে তারা 'দুই-এর বহুবচন' (বিশ অর্থে) বলেনি।

দ্বিতীয়ত: তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর শব্দমূল থেকে ভগ্নাংশ গঠন করা হয়েছে, যেমন বলা হয়: এক-তৃতীয়াংশ ও এক-চতুর্থাংশ থেকে দশমাংশ পর্যন্ত। কিন্তু 'দুই' এর ক্ষেত্রে এমন কোনো রূপ ব্যবহার করা হয়নি, বরং 'অর্ধেক' (নিসফ) বলা হয়েছে। এই পাঠটিও একইভাবে 'তাওজিহুল লুমা' (সংখ্যা অধ্যায়)-এ রয়েছে।

সুতরাং পরবর্তী যুগের আলেমগণ তার থেকে যে সকল উদ্ধৃতি নকল করেছেন এবং তাদের কিতাবসমূহে সংরক্ষণ করেছেন, যা 'তাওজিহুল লুমা' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান বলে প্রমাণিত হয়েছে, তা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে এই গ্রন্থটি ইবনুল খাব্বাজেরই রচনা।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
منهج ابن الخباز في «توجيه اللمع»

لقد ألمح ابن الخباز في مقدمة كتابه «توجيه اللمع» إلى بعض خصائص منهجه حين قال في شأن كتابه هذا: فضمنت لهم إملاء مختصرًا أقتصر به على توجيه مسائله وتبليغ وسائله، وكلما مررت ببيت ذكرت إعرابه، أو بلفظ لغوي جليته تجلية تزيل استغرابه، ونحن في هذا المجال نبرز أهم السمات المنهجية التي وضحت في كتابه، فنقول:

1 - التقسيمات:

إن القارئ لكتاب «توجيه اللمع» ليدرك بوضوح مدى حرص ابن الخباز وولعه بتقسيم الفكرة نظرًا لاعتبار معين فلا يكاد يخلو منها باب من أبواب كتابه، وهو يفعل ذلك سواء بالنسبة للمسائل العامة، أو بالنسبة لتفريعاتها وإليك بعض النماذج التي توضح لنا هذه الناحية.

قال ابن الخباز (باب معرفة الأسماء المرفوعة): وانقسم المرفوع إلى هذه الأقسام الخمسة، لأن عامل الرفع لا يخلو من أن يكون معنويًا أو لفظيًا، فإن كان معنويًا: فهو عامل الابتداء والخبر، وإن كان لفظيًا: لم يخل من أن يكون فعلًا أو حرفًا، فإن كان فعلًا: لم يخل من أن يكون حقيقيًا أو غير حقيقي، فإن كان حقيقيًا: لم يخل من أن يكون مسمى الفاعل أو غير مسمى الفاعل، فإن كان مسمى الفاعل: فالمرفوع به فاعل، وإن لم يكن مسمى الفاعل: فالمرفوع به مفعول لم يسم فاعله، وإن كان غير حقيقي: فهو باب (كان وأخواتها) والمرفوع به مشبه بالفاعل وإن حرفًا فهو (باب إن وأخواتها) والمرفوع به مشبه بالفاعل أيضًا.

وقال (باب خبر المبتدأ): وإذا أردت الإخبار عن المبتدأ بالظرف نشأ للمبتدأ تقسيم إلى الجثة والحدث، فالجثة: الجسم كزيد وفرس وحجر، والحدث: المصدر كالقيام والقعود والأكل والشرب، وإنما انقسم المبتدأ إلى هذين مع الظرف، لأن حكمهما مختلف مع الأخبار بالظرف.

وغير ذلك كثير من نماذج التقسيم التي انتشرت في ثنايا كتابه، وهذا يدل على أنه
«তওজিহুল লুমা»-তে ইবনুল খাব্বাজের পদ্ধতি

ইবনুল খাব্বাজ তাঁর «তওজিহুল লুমা» গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর পদ্ধতির কিছু বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি তাঁর এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলেছিলেন: "আমি তাদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত শ্রুতিলিপি প্রদান করেছি যাতে আমি এর মাসআলাগুলোর বিশ্লেষণ এবং এর মাধ্যমগুলো পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। যখনই আমি কোনো কাব্য চরণের পাশ দিয়ে গিয়েছি, আমি সেটির ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাব) উল্লেখ করেছি, অথবা কোনো ভাষাগত শব্দ আসলে আমি তা এমনভাবে স্পষ্ট করেছি যা তার অস্পষ্টতা দূর করে।" আমরা এই ক্ষেত্রে তাঁর গ্রন্থে ফুটে ওঠা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরছি, আমরা বলছি:

১ - বিভাজনসমূহ:

«তওজিহুল লুমা» গ্রন্থের পাঠক স্পষ্টভাবেই উপলব্ধি করবেন যে, ইবনুল খাব্বাজ কোনো নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে কোনো বিষয়কে বিভাজন করার ব্যাপারে কতটা আগ্রহী ও অনুরাগী ছিলেন। তাঁর গ্রন্থের এমন কোনো অধ্যায় নেই বললেই চলে যা এই বিভাজন থেকে মুক্ত। তিনি সাধারণ মাসআলা এবং সেগুলোর শাখা-প্রশাখা—উভয় ক্ষেত্রেই এটি করে থাকেন। নিচে কিছু নমুনা দেওয়া হলো যা আমাদের কাছে এই দিকটি স্পষ্ট করবে।

ইবনুল খাব্বাজ বলেছেন (মরফু বা পেশযুক্ত বিশেষ্যসমূহ পরিচিতি অধ্যায়): "মরফু (পেশযুক্ত পদ) এই পাঁচটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে, কারণ রাফা প্রদানকারী আমেল (কারক) হয় অর্থগত হবে অথবা শাব্দিক হবে। যদি অর্থগত হয়, তবে তা মুবতাদা ও খবরের আমেল। আর যদি শাব্দিক হয়, তবে তা ক্রিয়া বা হরফ (অব্যয়) হওয়া থেকে খালি নয়। যদি ক্রিয়া হয়, তবে তা হয় প্রকৃত হবে অথবা অপ্রকৃত হবে। যদি প্রকৃত হয়, তবে তা হয় নামধারী কর্তা (মুসাম্মা ফায়েল) হবে অথবা নামধারী কর্তা হবে না। যদি নামধারী কর্তা হয়, তবে তার দ্বারা মরফু হওয়া পদটি হলো ফায়েল (কর্তা)। আর যদি নামধারী কর্তা না হয়, তবে তার দ্বারা মরফু হওয়া পদটি হলো এমন মাফুল যার ফায়েল বা কর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর যদি অপ্রকৃত হয়, তবে সেটি হলো (কানা ও তার সমগোত্রীয় ক্রিয়া) অধ্যায় এবং এর দ্বারা মরফু হওয়া পদটি ফায়েলের সদৃশ। আর যদি হরফ হয়, তবে সেটি হলো (ইন্না ও তার সমগোত্রীয় অব্যয়) অধ্যায় এবং এর দ্বারা মরফু হওয়া পদটিও ফায়েলের সদৃশ।"

তিনি আরও বলেছেন (মুবতাদার খবর অধ্যায়): "আপনি যখন 'জরফ' (স্থান বা কালবাচক শব্দ) দ্বারা মুবতাদা সম্পর্কে খবর দিতে চাইবেন, তখন মুবতাদার ক্ষেত্রে 'জুসসা' (বস্তু) এবং 'হাদাস' (ঘটনা) - এই দুই প্রকার বিভাজন তৈরি হয়। 'জুসসা' হলো দেহ বা শরীর যেমন যায়েদ, ঘোড়া এবং পাথর। আর 'হাদাস' হলো মাসদার (ক্রিয়ামূল) যেমন দাঁড়ানো, বসা, খাওয়া এবং পান করা। মূলত 'জরফ'-এর সাথে মুবতাদা এই দুই ভাগে বিভক্ত হয় কারণ 'জরফ' দিয়ে খবর দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুইয়ের বিধান ভিন্ন।"

এ ছাড়াও বিভাজনের আরও অনেক নমুনা তাঁর গ্রন্থের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে, যা নির্দেশ করে যে তিনি...