(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: -)
الكوكب الوهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج   (محمد الأمين الهرري)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: شرح صحيح مسلم (المسمَّى: الكوكب الوهَّاج والرَّوض البَهَّاج في شرح صحيح مسلم بن الحجاج)

جمع وتأليف: محمد الأمين بن عبد الله الأُرَمي العَلَوي الهَرَري الشافعي، نزيل مكة المكرمة والمجاور بها

مراجعة: لجنة من العلماء برئاسة البرفسور: هاشم محمد علي مهدي

المستشار برابطة العالم الإسلامي - مكة المكرمة

الناشر: دار المنهاج - دار طوق النجاة

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: 26

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 جُمادَى الآخرة 1438

আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহিহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ   (মুহাম্মদ আল-আমিন আল-হারারি)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: শারহু সহিহ মুসলিম (নামকরণকৃত: আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ ওয়ার-রাওদুল বাহহাজ ফি শারহি সহিহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ)

সংকলন ও রচনা: মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আবদুল্লাহ আল-উরামি আল-আলাভি আল-হারারি আশ-শাফিঈ, মক্কা মুকাররমার বাসিন্দা ও সেখানে অবস্থানকারী

পর্যালোচনা: প্রফেসর: হাশিম মুহাম্মদ আলী মাহদির নেতৃত্বে একদল উলামা

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের উপদেষ্টা - মক্কা মুকাররমা

প্রকাশক: দারুল মিনহাজ - দারু তুকিন নাজাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২৬

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহর তত্ত্বাবধানে রাবিতাতুন নুসসাখ দল

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জুমাদাল আখিরাত ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১)
شرح صحيح مسلم

المسمَّى

الكوكب الوهَّاج والرَّوض البَهَّاج في شرح صحيح مسلم بن الحجاج

 

جمع وتأليف

محمد الأمين بن عبد الله الأُرمي

العلوي الهَرَري الشافعي

نزيل مكة المكرمة والمجاور بها

 

مراجعة لجنة من العلماء

برئاسة

البرفسور هاشم محمد علي مهدي

المستشار برابطة العالم الإسلامي - مكة المكرمة

 

المقدمة

الجزء الأول

دار المنهاج

دار طوق النجاة
সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা

যা নামে অভিহিত

সহীহ মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ-এর ব্যাখ্যায় আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ ওয়ার রাওদুল বাহহাজ

 

সংকলন ও রচনায়

মুহাম্মাদ আল-আমিন বিন আব্দুল্লাহ আল-উরামি

আল-আলাভি আল-হারারি আশ-শাফিঈ

মক্কা আল-মুকাররামার বাসিন্দা ও তথাকার প্রতিবেশী

 

একদল আলিমের তত্ত্বাবধানে পর্যালোচিত

সভাপতিত্বে

প্রফেসর হাশিম মুহাম্মাদ আলী মাহদী

উপদেষ্টা, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ - মক্কা আল-মুকাররামা

 

ভূমিকা

প্রথম খণ্ড

দারুল মিনহাজ

দারু তওকিন নাজাত
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى

1430 هـ - 2009 م

جميع الحقوق محفوظة للناشر

لا يسمح بإعادة نشر هذا الكتاب أو أي جزء منه، وبأيِّ شكلٍ من الأشكال، أو نسخه، أو حفظه في أي نظام إلكتروني أو ميكانيكي يمكِّن من استرجاع الكتاب أو أي جزء منه، وكذلك لا يسمح بالاقتباس منه أو ترجمته إلى أي لغة أخرى دون الحصول على إذن خطي مسبقًا من الناشر

دار المنهاج للنشر والتوزيع

المملكة العربية السعودية- جدة

حي الكندرة- شارع أبها تقاطع شارع ابن زيدون

هاتف رئيسي 6326666 - الإدارة 6300655

المكتبة 6322471 - فاكس 6320392

ص. ب 22943 - جدة 21416

هاتف المؤلف 0562009188

ISBN 978 - 9953 - 498 - 36 - 2

WWW.alminhaj.com

E-mail: info@alminhaj.com
প্রথম সংস্করণ

১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

সকল স্বত্ব প্রকাশকের সংরক্ষিত

প্রকাশকের আগাম লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এই বই বা এর কোনো অংশ কোনো রূপেই পুনরায় প্রকাশ করা, এর অনুলিপি তৈরি করা অথবা কোনো ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক সিস্টেমে সংরক্ষণ করা যাবে না যার মাধ্যমে বইটি বা এর কোনো অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। অনুরূপভাবে এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা বা অন্য কোনো ভাষায় এর অনুবাদ করাও অনুমোদিত নয়।

দার আল-মিনহাজ প্রকাশনী ও পরিবেশনী

সৌদি আরব রাজ্য- জেদ্দা

আল-কান্দারাহ এলাকা- আবহা সড়ক, ইবনে যায়দুন সড়কের সংযোগস্থল

প্রধান ফোন ৬৩২৬৬৬৬ - প্রশাসন ৬৩০০৬৫৫

লাইব্রেরি ৬৩২২৪৭১ - ফ্যাক্স ৬৩২০৩৯২

ডাক বক্স ২২৯৪৩ - জেদ্দা ২১৪১৬

লেখকের ফোন ০৫৬২০০৯১৮৮

ISBN 978 - 9953 - 498 - 36 - 2

WWW.alminhaj.com

E-mail: info@alminhaj.com
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩)
شرح صحيح مسلم
সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم

الحمد لله الذي بعث في الأميين رسولًا، واصطفاه من بين خلقه حبيبًا وخليلًا، وأنزل عليه الكتاب والحكمة ليكون للعالمين ضياءً ودليلًا، وجعل اتباع أمره والتخلق بأخلاقه صلى الله عليه وسلم لمرضاته عز وجل طريقًا وسبيلًا، وأفضل الصلاة وأتم السلام تتواليان أبدًا سرمدًا على أشرف خلق الله وخاتم رسل الله؛ سيدنا وحبيبنا وشفيعنا ومعلمنا محمد بن عبد الله، وعلى آله المطهرين، وأصحابه الغر الميامين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد:

فإن خير ما بيِّن به كلام ربنا الكريم، وفسر به نظم القرآن العظيم، حديث سيدنا رسول الله الصادق الوعد الأمين، صلوات الله وسلامه عليه، الذي نقله لنا صحابته الأكرمون، فالتزموا وألزموا من بعدهم الاعتناء بهذا الكنز الثمين؛ لما في ذلك من خدمة لهذا الدين العظيم.

وقد قيض الله بمنِّه وكرمه لخدمة السنة رجالًا أفذاذًا فحولًا، قاموا بحفظها وضبطها وحملها وروايتها وشرحها ودرايتها ونقلها على أتم وجه عن سيد الأنبياء صلى الله عليه وسلم، حتى صارت ميسرة محفوظة، ومفسرة محظوظة.

وما ذلك إلا لبشرى النبي الكريم صلى الله عليه وسلم ودعائه لهم حيث قال: "نضَّر الله امرأً سمع مقالتي فوعاها وحفظها وبلغها"، وقوله صلى الله عليه وسلم: "يحمل هذا العلم من كل خلَف عدولُه، ينفون عنه تحريف الغالين، وتأويل الجاهلين، وانتحال المبطلين".

ومن أهم ما اعتنى به علماء السنة المطهرة: "صحيحَا البخاري ومسلم" رضي الله عنهما وأجزل الأجر لهما، ولقد حظيا بالنصيب الأوفر، والقسط الأزخر، وقد أكرمنا الله عز وجل بنشر الطبعة اليونينية الأميرية لـ "صحيح الإمام البخاري" رحمه الله تعالى في طبعة مصححة مرقمة منقحة قيمة، فخرجت في أربع مجلدات.

وأما كتاب الإمام مسلم تلميذ الإمام البخاري .. فكانت العناية به بعد فراغنا من العناية بسالفه، ومن توفيق الله تعالى بروز هذا الشرح الموسَّع له الذي يعدُّ موسوعة
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

 

‌‌উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উম্মীদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন এবং স্বীয় সৃষ্টির মধ্য থেকে তাঁকে প্রিয়তম ও অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁর ওপর কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন যাতে তা বিশ্ববাসীর জন্য আলোকবর্তিকা ও পথপ্রদর্শক হয়। তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ অনুসরণ ও তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়াকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ ও মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম এবং আল্লাহর রাসূলগণের মোহর; আমাদের নেতা, আমাদের প্রিয়জন, আমাদের সুপারিশকারী এবং আমাদের শিক্ষক মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর উজ্জ্বল ও বরকতময় সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর সর্বদা ও চিরকাল সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আমাদের মহান রবের কালামের সবচেয়ে উত্তম ব্যাখ্যা এবং আল-কুরআনের সুসংবদ্ধ বাণীর শ্রেষ্ঠ বিশ্লেষণ হলো আমাদের নেতা, সত্যবাদী ও আমানতদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস, যা তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরা নিজেরা এই মূল্যবান রত্নভাণ্ডারের প্রতি যত্নশীল হওয়াকে আবশ্যক করে নিয়েছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তীদের ওপরও তা আবশ্যক করেছিলেন; কারণ এতে রয়েছে এই মহান দ্বীনের সেবা।

আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় সুন্নাহর সেবার জন্য এমন কিছু অনন্য ও অসাধারণ ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন, যাঁরা নবীগণের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তা সংরক্ষণ, বিন্যাস, বহন, বর্ণনা, ব্যাখ্যা, অনুধাবন এবং যথাযথভাবে হস্তান্তরের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গরূপে আঞ্জাম দিয়েছেন। ফলে তা সহজসাধ্য ও সংরক্ষিত হয়েছে এবং সৌভাগ্যমণ্ডিত ব্যাখ্যাকৃত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

আর এটি কেবল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুসংবাদ ও তাঁদের জন্য তাঁর দুআরই প্রতিফলন, যখন তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির চেহারা সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা অনুধাবন করেছে, মুখস্থ রেখেছে এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।" এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরাই এই ইলম বহন করবে; তারা তা থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, মূর্খদের অপব্যাখ্যা এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ দূর করবে।"

পবিত্র সুন্নাহর আলিমগণ সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন তা হলো: "সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম", আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। এই কিতাবদ্বয় সর্বাধিক গুরুত্ব ও বিশাল মর্যাদা লাভ করেছে। মহান আল্লাহ আমাদের ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "সহীহ"-এর 'ইউনিনিয়া আমিরিয়া' সংস্করণটি একটি সংশোধিত, নম্বরযুক্ত, পরিমার্জিত ও মূল্যবান পাণ্ডুলিপি হিসেবে প্রকাশের তাওফীক দিয়েছেন, যা চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

আর ইমাম বুখারীর ছাত্র ইমাম মুসলিমের কিতাবের বিষয়টি.. পূর্ববর্তী কিতাবটির কাজ সম্পন্ন করার পর আমরা এটির প্রতি মনোনিবেশ করেছি। আল্লাহর তাওফীকেই এর এই বিস্তৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থের আত্মপ্রকাশ ঘটছে, যা একটি বিশ্বকোষ হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৬)
في العلوم الحديثية، إذ هو لعالم جليل، وجهبذ ليس له بديل، بقر بطون الكتب سالكًا في ذلك طريق السلف الأولين، فقطع مفاوز الطلب حتى وصل إلى بحار العلم، وغاص في لججها، واستخرج دررها، وحَسْبُ من يقرأ في هذا الكتاب الثمين أن يرشف من هذا البحر رشفات، فتزيده ظمأ لإكمال هذا السفر الجليل؛ فإن مؤلفه -متع الله به- جمع فيه ما استطاع من خلاصة كتب السابقين، وزينه بدرر وفرائد تدل على مكانته العلمية الرفيعة، فجاء كحسناء تتيه بقدها المياد، ولا تأبه بأعين الحساد، وصار جديرًا بما أسماه به مؤلفه: "الكوكب الوهاج والروض البهاج"؛ فإنه كوكب يتوهج في سماء تلك الشروح، وروض يبهج قلوب طلبة هذا العلم الشريف؛ لما فيه من ورود وأزهار يفوح شذاها على من ينتشق ذلك الأريج.

وختامًا: نرجو من الله تعالى أن يتقبل منا ذلك لوجهه الكريم، إنه على ما يشاء قدير، وبالإجابة جدير، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم

 

وكتبه

البرفسور هاشم محمد علي مهدي

المستشار برابطة العالم الإسلامي- مكة المكرمة
হাদিস শাস্ত্রসমূহের ক্ষেত্রে, যেহেতু এটি একজন মহান আলেম এবং এমন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিশেষজ্ঞের রচনা, যিনি পূর্বসূরি সালাফদের পথ অনুসরণ করে কিতাবসমূহের গভীর তলদেশ উন্মোচন করেছেন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণের মরুপ্রান্তর পাড়ি দিয়ে ইলমের সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছেছেন এবং এর গভীরতায় ডুব দিয়ে আহরণ করেছেন মুক্তোরাজি। এই মূল্যবান কিতাবের পাঠকের জন্য এ সমুদ্র থেকে সামান্য চুমুক দেওয়াই যথেষ্ট, যা তাকে এই মহান গ্রন্থটি সমাপ্ত করার জন্য আরও তৃষ্ণার্ত করে তুলবে। এর লেখক —আল্লাহ তাকে এর দ্বারা উপকৃত করুন— এতে পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহের নির্যাস যতটুকু সম্ভব সংগ্রহ করেছেন এবং এটিকে এমন সব দুর্লভ মুক্তো ও অনন্য রত্ন দিয়ে সজ্জিত করেছেন যা তার উচ্চতর ইলমি মর্যাদার পরিচয় দেয়। ফলে এটি এমন এক লাবণ্যময়ীর ন্যায় আত্মপ্রকাশ করেছে যে তার সুঠাম গড়নে বিভোর এবং হিংসুকদের দৃষ্টির পরোয়া করে না। এটি লেখকের দেওয়া নামকরণের সার্থক রূপ লাভ করেছে: "আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ ওয়ার-রওদুল বাহহাজ"; কেননা এটি সেইসব ব্যাখ্যাগ্রন্থের আকাশে এক দেদীপ্যমান নক্ষত্র এবং এই মহান ইলমের ছাত্রদের হৃদয়ের জন্য এক প্রফুল্ল উদ্যান; কারণ এতে রয়েছে এমন সব গোলাপ ও পুষ্পরাজি যার সুগন্ধি সেই ঘ্রাণ গ্রহণকারীর নিকট বিচ্ছুরিত হয়।

পরিশেষে: আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পক্ষ থেকে এটি কেবল তাঁরই মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং দুআ কবুলের যোগ্য। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

ইতি—

প্রফেসর হাশেম মুহাম্মদ আলী মাহদী

উপদেষ্টা, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ (রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী) - মক্কা মুকাররমা
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة الشارح

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد:

فإِني أريد أن أجمع بعض التراجم للشيخ محمد أمين بن عبد الله الهرري، نزيل مكة المكرمة، المدرس في دار الحديث الخيرية في القسم العالي من هذه الدار، وكان مدرسًا في الحرم الشريف نحو ثمان سنوات قبل أن يتفرغ للتأليف.

 

‌‌اسمه:

هو محمد الأمين بن عبد الله بن يوسف بن حسن، أبو ياسين الأرمي (1) جنسًا، العلوي قبيلة، الإِثيوبي دولة، الهرري منطقة، الكرِّي ناحيةً، البُوَيطِي قرية، السلفي عقيدة الشافعي مذهبًا، السعودي إِقامة، نزيل مكة المكرمة، جوار الحرم الشريف في المسفلة حارة الرشد سابقًا، وبحيِّ الزاهر الآن.

 

‌‌مولده:

ولد في الحبشة في منطقة الهرر في قرية بويطة، في عصر يوم الجمعة أواخر شهر ذي الحجة سنة (1348) من الهجرة النبوية على صاحبها أفضل الصلوات وأزكى التحيات.

 

‌‌نشأته:

تربَّى بيدِ والده، وهو يتيم عن أمه، ووضعه عند المعلم وهو ابن أربع سنين، وتعلم القرآن وختمه وهو ابن ست سِنين، ثم حوَّله إِلى مدارس علوم التوحيد والفقه، وحفظ من توحيد الأشاعرة "عقيدة العوام" للشيخ أحمد المرزوقي، و"الصغرى"

--------------------------------------------

(1) الأرمي: نسبة إِلى شعب أُرمُو، وهي أكثر مَن في الحبشة بنسبة 85%، العلويُّ: نسبة إِلى عليِّ بن قَلْعو بن هُنْبَنَّا بن أرمو، أبو قبيلةٍ كبيرةٍ.
ব্যাখ্যাকারকের জীবনী

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদার, আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

আমি মক্কাতুল মোকাররমায় বসবাসকারী, এই প্রতিষ্ঠানের উচ্চতর বিভাগে দারুল হাদিস আল-খাইরিয়ার শিক্ষক শায়খ মুহাম্মদ আমিন বিন আবদুল্লাহ আল-হারারীর কিছু জীবনীমূলক তথ্য সংকলন করতে চাই। তিনি গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করার পূর্বে প্রায় আট বছর যাবৎ হারাম শরীফে শিক্ষকতা করেছেন।

 

তাঁর নাম:

তিনি হলেন মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন হাসান, আবু ইয়াসিন, বংশগতভাবে ওরোমো (১), গোত্রীয়ভাবে আলাউয়ি, রাষ্ট্রীয়ভাবে ইথিওপীয়, অঞ্চলগতভাবে হারারি, এলাকাগতভাবে কাররি, গ্রামগতভাবে বুয়াইতি, আকিদাগতভাবে সালাফি, মাযহাবগতভাবে শাফেয়ি এবং আবাসস্থল হিসেবে সৌদি। তিনি মক্কাতুল মোকাররমার হারাম শরীফের সন্নিকটে মিসফালাহ এলাকার রুশদ মহল্লায় পূর্বে বসবাস করতেন এবং বর্তমানে যাহের মহল্লায় বসবাস করছেন।

 

তাঁর জন্ম:

তিনি হাবাশার (ইথিওপিয়া) হারার অঞ্চলের বুয়াইতা গ্রামে এক জুমার দিন বিকেলে হিজরি ১৩৪৮ সনের জিলহজ মাসের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ওপর (রাসূলুল্লাহর ওপর) সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক।

 

তাঁর বেড়ে ওঠা:

তিনি তাঁর পিতার কাছে লালিত-পালিত হন, তিনি মাতৃহীন এতিম ছিলেন। তাঁর বয়স যখন চার বছর, তখন তাঁর পিতা তাঁকে শিক্ষকের কাছে সোপর্দ করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি কুরআন শিক্ষা সমাপ্ত করেন। অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে তাওহিদ ও ফিকহ শাস্ত্রের মাদরাসাসমূহে স্থানান্তরিত করেন। সেখানে তিনি আশআরিদের তাওহিদ বিষয়ক গ্রন্থ শায়খ আহমদ আল-মারজুকি রচিত ‘আকিদাতুল আওয়াম’ এবং ‘আস-সুগরা’ মুখস্থ করেন।

--------------------------------------------

(১) ওরোমো: ওরোমো জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কিত, যা হাবাশার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশ। আলাউয়ি: আলি বিন কালআউ বিন হুনবান্না বিন ওরোমো-এর সাথে সম্পর্কিত, যিনি একটি বড় গোত্রের আদি পিতা।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৮)
و"صغرى الصغرى" و"الكبرى" و"كبرى الكبرى" للشيخ محمد السنوسي؛ لأن أهل الحبشة كانوا وَقْتَئذ من الأشاعرة.

وحفظ من مختصرات فقه الشافعية كثيرًا كـ" مختصر بافضل الحضرمي"، و"مختصر أبي شجاع" مع "كفاية الأخيار"، و"عمدة السالك" لأحمد بن النقيب، و "زبد أحمد رسلان" ألفية في فقه الشافعية، وقرأ "المنهاج" للإِمام النووي مع شرح "مغني المحتاج"، و"المنهج" لشيخ الإِسلام الأنصاري مع شرحه "فتح الوهاب"، وقرأ كثيرًا من مختصرات فقه الشافعية ومبسوطاتها على مشايخ عديدة من مشايخ بلدانه.

 

‌‌رحلته:

ثم رحل إِلى سيبويه زمانه وفريد أوانه أبي محمد الشيخ موسى بن محمد الأديلي (1)، وبدأ عنده دراسة الفقه، بدأ بـ "شرح جلال الدين المحلي" على "منهاج النووي"، ثم بعد ما وصل إِلى (كتاب السلم) .. حوله شيخه المذكور -رحمه الله تعالى- إِلى دراسة النحو؛ لما رأى فيه من النجابة والاجتهاد في العلم، فقرأ عليه مختصرات النحو كـ"متن الآجرومية" وشروحها العديدة، و"متن الأزهرية"، و"ملحة الإِعراب" مع شرحه "كشف النقاب" لعبد الله الفاكهي، و"قطر الندى" مع شرحه "مجيب الندا" لعبد الله الفاكهي، وقرأ "الألفية" لابن مالك مع شروحها العديدة كـ"شرح ابن عقيل"، و"شرح المكودي"، و"شرح السيوطي".

ثم اشتغل بكتب الصرف والبلاغة والعروض والمنطق والمقولات والوضع واجتهد فيها، وحفظ "ألفية ابن مالك" و"ملحة الإِعراب" و"لامية الأفعال" و"السلم" في المنطق، و"الجوهر المكنون" في البلاغة.

وكان لا ينام كل ليلة حتى يختم القصائد المذكورة حفظًا، وكان قليل النوم في صغره إِلى كبره، حتى كان لا ينام غالبًا بعد ما كبر إِلا أربع ساعات من أربع وعشرين ساعة؛ لكثرة اجتهاده في مذاكرة العلم، وكان يدرس هذه الفنون جنب حلقة شيخه مع دراسته على الشيخ المذكور.

--------------------------------------------

(1) الأدَّيليِّ: بفتح الهمزة وتشديد الدال المفتوحة: نسبة إِلى أدَّيْلَ من أعمال دِرْدوا.
এবং শায়খ মুহাম্মদ আস-সানুসীর "সুগরা আস-সুগরা", "আল-কুবরা" ও "কুবরা আল-কুবরা"; কারণ আবিসিনিয়ার (হাবশা) অধিবাসীরা সেই সময়ে আশআরী মতাদর্শের অনুসারী ছিল।

তিনি শাফেয়ী ফিকহের বহু সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ মুখস্থ করেছিলেন, যেমন "মুখতাসার বা ফাদল আল-হাদরামি", "মুখতাসার আবু শুজা"র সাথে "কিফায়াতুল আখইয়ার", আহমদ বিন আল-নাকীবের "উমদাতুস সালিক" এবং আহমদ রাসলালের শাফেয়ী ফিকহের সহস্রপদী কাব্য "যুবাদ"। তিনি ইমাম নববীর "আল-মিনহাজ" এর সাথে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "মুগনী আল-মুহতাজ", এবং শায়খুল ইসলাম আল-আনসারীর "আল-মানহাজ" এর সাথে তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "ফাতহুল ওয়াহহাব" পাঠ করেন। এ ছাড়া তিনি তাঁর অঞ্চলের বিভিন্ন শায়খদের নিকট শাফেয়ী ফিকহের বহু সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত গ্রন্থ পাঠ করেন।

 

‌‌তাঁর সফর:

অতঃপর তিনি তাঁর সময়ের সিবওয়াইহ এবং যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব আবু মুহাম্মদ শায়খ মুসা বিন মুহাম্মদ আল-আদীলী (১)-এর কাছে গমন করেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ অধ্যয়ন শুরু করেন। তিনি ইমাম নববীর "মিনহাজ" এর ওপর "জালালুদ্দিন আল-মহল্লীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ" দিয়ে পাঠ শুরু করেন। অতঃপর যখন তিনি (কিতাবুস সালাম) পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন তাঁর উক্ত শায়খ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—তাঁকে নাহু (ব্যাকরণ) অধ্যয়নের দিকে ধাবিত করলেন; কারণ তিনি তাঁর মাঝে মেধা ও ইলমের প্রতি গভীর পরিশ্রম লক্ষ্য করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর কাছে নাহুর সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহ যেমন "মাতনুল আজুরুম্মিয়াহ" ও এর বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ, "মাতনুল আযহারিয়াহ", আব্দুল্লাহ আল-ফাকিহীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "কাশফুন নিকাব" সহ "মুলহাতুল ইরাব", এবং আব্দুল্লাহ আল-ফাকিহীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "মুজীবুন নিদা" সহ "কাতরুন নাদা" পাঠ করেন। এ ছাড়াও তিনি ইবনে মালিকের "আলফিয়াহ" এবং এর ওপর ইবনে আকীল, আল-মাকুদী ও আস-সুয়ূতীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের মতো বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন।

অতঃপর তিনি সরফ (শব্দতত্ত্ব), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), আরূয (ছন্দতত্ত্ব), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), মাকুলাত এবং ওয়াদ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ নিয়ে ব্যস্ত হন এবং সেগুলোতে কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি ইবনে মালিকের "আলফিয়াহ", "মুলহাতুল ইরাব", "লামিয়াতুল আফআল", মানতিক শাস্ত্রের "আস-সুল্লাম" এবং বালাগাত শাস্ত্রের "আল-জাওহারুল মাকনুন" মুখস্থ করেন।

তিনি প্রতি রাতে উল্লেখিত কাসিদাহগুলো (কবিতাগুলো) মুখস্থ আবৃত্তি করে শেষ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত তিনি স্বল্প নিদ্রায় অভ্যস্ত ছিলেন, এমনকি বড় হওয়ার পর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সাধারণত চার ঘণ্টার বেশি ঘুমাতেন না; ইলম চর্চায় তাঁর অত্যধিক নিমগ্নতার কারণে। তিনি উক্ত শায়খের কাছে পড়ার পাশাপাশি শায়খের মজলিসের পার্শ্ববর্তী স্থানে এই বিদ্যাগুলো পাঠ দান করতেন।

--------------------------------------------

(১) আল-আদীলী: হামযায় ফাতাহ এবং দাল-এ তাশদীদ ও ফাতাহ যোগে: দিরদওয়ার অন্তর্গত 'আদীল' অঞ্চলের দিকে নেসবত বা সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
ثم رحل من عنده بعد ما لازمه نحو سبع سنوات إِلى شيخه خليل زمانه وحبيب عصره وأوانه الشيخ محمد مديد الأديلي أيضًا، فقرأ عنده مطولات كتب النحو كـ "مجيب الندا على قطر الندى" و"مغني اللبيب" كلاهما لابن هشام، و"الفواكه الجنية على المتممة الآجرومية" وغير ذلك من مطولات علم النحو، وكان يدرس أيضًا جنب حلقة شيخه وقرأ عليه أيضًا التفسير إِلى سورة (يس).

ثم رحل من عنده بعد ما لازمه ثلاث سنوات إِلى شيخه الشيخ الحاوي المفسر في زمانه الشيخ إِبراهيم بن ياسين المَاجَتِيِّ (1)، فقرأ عليه التفسير بتمامه، والعروض من مختصراته ومطولاته كـ "حاشية الدمنهوري على متن الكافي"، و"شرح شيخ الإِسلام الأنصاري على المنظومة الخزرجية"، و"شرح الصبان على منظومته في العروض"، وقرأ عليه أيضًا مطولات المنطق والبلاغة، ولازمه نحو ثلاث سنوات.

ثم رحل من عنده إِلى الشيخ الفقيه الشيخ يوسف بن عثمان الوَرْقِي (2)، وقرأ عليه مطولات علم الفقه كـ "شرح الجلال المحلي على المنهاج"، و"فتح الوهاب على المنهج" لشيخ الإِسلام مع "حاشيته" لسليمان البُجَيرِمي و"حاشيته" لسليمان الجمل، و"حاشية التوشيح على متن أبي شجاع"، و"مغني المحتاج" للشيخ الخطيب إِلى (كتاب الفرائض)، وقرأ عليه غير ذلك من كتب الفرائض كـ "حواشي الرحبية"، و"الفُرَاتِ الفائض في فَنِّ الفرائض" -هو كتاب جيد من مطولاتها- ولازمه نحو أربع سنوات.

ثم رحل من عنده إِلى الشيخ إِبراهيم المُجِّي (3)، فقرأ عليه "فتح الجواد" لابن حجر الهيتمي على "متن الإِرشاد" لابن المقرئ الجزءين الأولين منه.

ثم رحل من عنده إِلى شيخ المحدثين الحافظ الفقيه الشيخ أحمد بن إِبراهيم الكَرِّي، وقرأ عليه "البخاري" بتمامه، و"صحيح الإِمام مسلم" وبعض كتب الاصطلاح.

ثم رحل من عنده إِلى مشايخ عديدة، وقرأ عليهم السنن الأربعة، والموطأ، وغير ذلك من كتب الحديث مما يطول بذكره الكلام.

--------------------------------------------

(1) المَاجَتِيِّ: نسبة إِلى ماجة من بلاد وَلَّو.

(2) الورقي: نسبة إِلى وَرْقَةَ من أعمال مدينة هرر.

(3) المُجِّي: نسبة إِلى قبيلة من قبائل نُولَى.
তারপর তিনি তাঁর সান্নিধ্যে প্রায় সাত বছর অতিবাহিত করার পর তাঁর সময়ের অনন্য উস্তাদ এবং যুগের প্রিয় ব্যক্তিত্ব শায়খ মুহাম্মদ মদীদ আল-আদীলীর নিকট গমন করেন। সেখানে তিনি নাহু শাস্ত্রের বিস্তারিত গ্রন্থাবলী পাঠ করেন, যেমন ইবনে হিশামের 'মুকীবুন নিদা আলা ক্বাতরিন নাদা' ও 'মুগনীল লাবীব', এবং 'আল-ফাওয়াকিহ আল-জানিয়্যাহ আলাল মুতাম্মিমাহ আল-আজরুমিয়্যাহ' সহ নাহু শাস্ত্রের অন্যান্য বিস্তারিত কিতাবসমূহ। তিনি তাঁর উস্তাদের পাঠদানের মজলিসের পাশে নিজেও পাঠদান করতেন এবং তাঁর নিকট সূরা ইয়াসীন পর্যন্ত তাফসীরও পাঠ করেন।

তারপর তিনি তাঁর নিকট তিন বছর অতিবাহিত করার পর তাঁর সময়ের বিশিষ্ট মুফাসসির শায়খ ইবরাহীম বিন ইয়াসীন আল-মাজাতীর (১) নিকট গমন করেন। তাঁর নিকট তিনি সম্পূর্ণ তাফসীর সমাপ্ত করেন। এছাড়াও আরুজ (ছন্দশাস্ত্র) শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত কিতাবসমূহ পাঠ করেন, যেমন 'মাতনুল কাফী'-র ওপর 'হাশিয়া আদ-দামানহুরী', 'খাজরাজিয়্যাহ' পদ্যের ওপর 'শারহু শায়খিল ইসলাম আল-আনসারী' এবং ছন্দশাস্ত্রের ওপর রচিত তাঁর নিজের পদ্যের ওপর 'শারহুস সাব্বান'। এছাড়াও তিনি তাঁর নিকট মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) এবং বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)-এর বিস্তারিত কিতাবসমূহ পাঠ করেন এবং প্রায় তিন বছর তাঁর সান্নিধ্যে কাটান।

এরপর তিনি তাঁর নিকট থেকে ফকীহ শায়খ ইউসুফ বিন উসমান আল-ওয়ারকীর (২) নিকট গমন করেন। সেখানে তিনি ফিকহ শাস্ত্রের বিস্তারিত কিতাবসমূহ পাঠ করেন, যেমন 'মিনহাজ'-এর ওপর 'শারহুল জালাল আল-মাহাল্লী', শায়খুল ইসলামের 'ফাতহুল ওয়াহহাব আলাল মানহাজ' এবং এর সাথে সুলায়মান আল-বুজাইরিমী ও সুলায়মান আল-জামালের হাশিয়া, 'মাতনু আবি শুজা'-র ওপর 'হাশিয়াতুত তাওশীহ' এবং শায়খ খাতীবের 'মুগনিল মুহতাজ' (উত্তরাধিকার আইন অধ্যায় পর্যন্ত)। এছাড়াও তিনি ফারায়েদ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন, যেমন 'হাওয়াশির রাহবিয়্যাহ' এবং ফারায়েদ শাস্ত্রের একটি চমৎকার বিস্তারিত কিতাব 'আল-ফুরাতুল ফায়িদ ফি ফাননিল ফারায়েদ'। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে প্রায় চার বছর অবস্থান করেন।

এরপর তিনি তাঁর নিকট থেকে শায়খ ইবরাহীম আল-মুজ্জীর (৩) নিকট গমন করেন। তাঁর নিকট ইবনে মাকরীর 'মাতনুল ইরশাদ'-এর ওপর ইবনে হাজার আল-হাইতামী রচিত 'ফাতহুল জাওয়াদ'-এর প্রথম দুই খণ্ড পাঠ করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর নিকট থেকে মুহাদ্দিসদের প্রধান, হাফেজ ও ফকীহ শায়খ আহমদ বিন ইবরাহীম আল-কুররীর নিকট গমন করেন। তাঁর নিকট তিনি সম্পূর্ণ 'বুখারী', 'সহীহ ইমাম মুসলিম' এবং উসূলে হাদীসের কিছু কিতাব পাঠ করেন।

এরপর তিনি আরও অনেক মাশায়েখের নিকট গমন করেন এবং তাঁদের নিকট সুনানে আরবাআ (চার সুনান), মুয়াত্ত্তা এবং হাদীসের অন্যান্য কিতাবসমূহ পাঠ করেন যা বর্ণনা করতে গেলে কথা দীর্ঘ হয়ে যাবে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজাতী: ওয়াল্লু অঞ্চলের মাজা নামক স্থানের সম্বন্ধীয়।

(২) আল-ওয়ারকী: হারার শহরের অন্তর্ভুক্ত ওয়ারকাহ নামক স্থানের সম্বন্ধীয়।

(৩) আল-মুজ্জী: নুলা গোত্রসমূহের একটি গোত্রের সম্বন্ধীয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم رحل من عندهم إِلى الشيخ عبد الله نُورَوْ القَرْسِي (1)، فقرأ عليه مطولات كتب البلاغة كـ "شروح التلخيص" لسعد الدين التفتازاني وغيره، ومطولات كتب أصول الفقه كـ "شرح جمع الجوامع" لجلال الدين المحلي، وقرأ عليه من النحو "حاشية الخضري على ابن عقيل".

وقرأ على غير هؤلاء المشايخ كتبًا عديدة من فنون متنوعة مما يطول الكلام بذكره من كتب السيرة وكتب الأمداح النبوية كـ "بانت سعاد" و"همزية البوصيري" و"بردته" و"القصيدة الوترية" و"الطرَّاف والطرائف" و"إِضاءة الدُّجُنَّة "-ألفية في كتب الأشاعرة- وغير ذلك مما يطول الكلام بذكره.

وكان يدرِّس مع دراسته جنب حلقة مشايخه ما درس عليهم من أربع عشرة سنة من عمره، ثم استجاز من مشايخه هؤلاء كلهم التدريس استقلالًا فيما درس عليهم فأجازوا له، فبدأ التدريس استقلالًا في جميع الفنون في أوائل سنة ألف وثلاثمائة وثلاث وسبعين في اليوم الثاني عشر من ربيع الأول من الهجرة النبوية، فاجتمع عنده خلق كثير من طلاب كل الفنون زهاء ستمائة طالب أو سبعمائة طالب.

وكان يدرِّس من صلاة الفجر إِلى صلاةِ العشاء الآخرة نحو سبع وعشرين حِصَّة من حصص الفنون المتنوعة، وكان يحيي ليله دائمًا بكتابةِ التآليف، وبما قدر الله له من طاعاته.

 

‌‌مؤلفاته:

مؤلفاته كثيرة من كل الفنون حتى أوشكت ألا تحصى، المطبوع المنتشر منها اثنا عشر كتابًا:

1 - الباكورة الجنية في إِعراب متن الآجرومية.

2 - الفتوحات القيومية في علل وضوابط متن الآجرومية.

3 - الدرر البهية في إِعراب أمثلة الآجرومية.

4 - جواهر التعليمات شرح على التقريظات ومقدمة علم النحو.

5 - هَديّة أولي العلم والإِنصاف في إِعراب المنادى المضاف.

--------------------------------------------

(1) القرسي: نسبة إِلى فَرسا ناحية من أعمال دردوا.
এরপর তিনি তাদের নিকট থেকে শাইখ আবদুল্লাহ নুরো আল-কুরসি (১)-এর কাছে গমন করেন। সেখানে তিনি বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)-এর দীর্ঘ কিতাবসমূহ পাঠ করেন, যেমন সাদ উদ্দিন আল-তাফতাযানির "শারহুত তালখিস" ও অন্যান্য এবং উসুলে ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি)-এর বিস্তারিত কিতাবসমূহ যেমন জালালুদ্দিন আল-মহল্লির "শারহু জামউল জাওয়ামি" পাঠ করেন। আর নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র থেকে ইবনে আকিলের ওপর "আল-খুদরির হাশিয়া" পাঠ করেন।

তিনি এই শাইখগণ ছাড়াও আরও অনেকের নিকট বিভিন্ন শাস্ত্রের অসংখ্য কিতাব পাঠ করেন, যা বর্ণনা করতে গেলে কথা দীর্ঘ হয়ে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে সীরাত ও নবি-প্রশস্তি বিষয়ক কিতাবসমূহ যেমন "বানাত সুয়াদ", বুসিরির "হামযিয়্যাহ" ও তাঁর "বুরদাহ", "আল-কাসিদাতুল বিতরিয়্যাহ", "আত-তাররাফ ওয়াত তারাফ" এবং আশআরিদের আকিদা বিষয়ক আলফিয়্যাহ গ্রন্থ "ইদাআতুদ দুজুন্নাহ" সহ আরও অনেক কিতাব যা উল্লেখ করলে আলোচনা দীর্ঘ হবে।

তিনি তাঁর পড়াশোনার পাশাপাশি চৌদ্দ বছর বয়স থেকে তাঁর শাইখদের মজলিসের পাশে বসেই তাঁদের কাছে যা পড়েছেন তার পাঠদান করতেন। এরপর তিনি এই সকল শাইখদের থেকে স্বতন্ত্রভাবে পাঠদানের অনুমতি প্রার্থনা করেন এবং তাঁরা তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তেরোশ তেহাত্তর হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে সকল শাস্ত্রে স্বতন্ত্রভাবে পাঠদান শুরু করেন। ফলে তাঁর নিকট সকল শাস্ত্রের বিপুল সংখ্যক ছাত্র সমবেত হয়, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ছয়শ থেকে সাতশ জনের মতো।

তিনি ফজর নামাজ থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রায় সাতাশটি পাঠ প্রদান করতেন। তিনি সবসময় রাত জেগে গ্রন্থ রচনা করতেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তাঁর রাত অতিবাহিত করতেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

সকল শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি এত অধিক যে তা প্রায় গণনার বাইরে। তন্মধ্যে মুদ্রিত ও বহুল প্রচলিত কিতাব বারোটি:

১ - আল-বাকুরাতুল জানিয়্যাহ ফি ইরাবি মাতনিল আজরুমিয়্যাহ।

২ - আল-ফুতুহাতুল কাইয়ুমিয়্যাহ ফি ইলাল ওয়া দাওয়াবিত মাতনিল আজরুমিয়্যাহ।

৩ - আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ফি ইরাবি আমসিলাতিল আজরুমিয়্যাহ।

৪ - জাওয়াহিরুত তালিমাত শারহু আলাত তাকরিজাত ওয়া মুকাদ্দিমাতু ইলমিন নাহু।

৫ - হাদিয়াতু উলিল ইলমি ওয়াল ইনসাফ ফি ইরাবিল মুনাদাল মুদাফ।

--------------------------------------------

(১) আল-কুরসি: এটি দিরাদাওয়া অঞ্চলের অন্তর্গত 'ফারসা' নামক স্থানের দিকে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن الصرف:

6 - مناهل الرجال على لامية الأفعال.

7 - تحنيك الأطفال على لامية الأفعال.

 

أيضًا ومن المصطلح:

8 - الباكورة الجنية على منظومة البيقونية.

9 - هداية الطالب المعدم على ديباجة صحيح مسلم.

10 - خلاصة القول المفهم على تراجم رجال صحيح مسلم (مجلدان).

 

ومن كتب الأسماء والصفات:

11 - هدية الأذكياء على طيبة الأسماء في توحيد الأسماء والصفات.

 

ومن التفسير:

2 1 - حدائق الرَّوْحِ والريحان في روابي علوم القرآن (ثلاثة وثلاثون مجلدًا، جمع فيه سبعة فنون بل ثمانية بل تسعة، لم يُسبق له نظيرٌ من كتب التفسير).

 

وغير المطبوع منها من الفنون المتنوعة:

من النحو:

3 1 - رفع الحجاب عن مُخَيَّمَات كشف النقاب حاشية على كشف النقاب على ملحة الإِعراب.

14 - هدية الطُّلاب في إِعراب ملحة الإِعراب.

15 - الصور العقلية على تراجم الألفية ومشكلاتها لابن مالك.

16 - التقريرات على حاشية الخَضِري على الألفية.

17 - المطالب السنية حاشية على الفواكه الجنية على متممة الآجرومية.

18 - التقريرات على مجيب النِّدا على قطر الندى كلاهما لعبد الله الفاكهي.

 

ومن البلاغة:

19 - الدرُّ المصون على الجوهر المكنون لعبد الرحمن الأخضري.

20 - التقريرات على مختصر سعد الدين على تلخيص المفتاح.
এবং সরফ (শব্দরূপান্তর তত্ত্ব) থেকে:

৬ - মানাহিলুর রিজাল আলা লামিয়াতিল আফআল।

৭ - তাহনিকুল আতফাল আলা লামিয়াতিল আফআল।

 

এবং আরও হাদীস পরিভাষা থেকে:

৮ - আল-বাকুরাতুল জানিইয়াহ আলা মানজুমাতিল বাইকুনিইয়াহ।

৯ - হিদায়াতুত তালিবিল মুদাম আলা দিবাযাতি সহীহ মুসলিম।

১০ - খুলাসাতুল কাওলিল মুফহিম আলা তারাযিমি রিজালি সহীহ মুসলিম (দুই খণ্ড)।

 

এবং আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে:

১১ - হাদিয়াতুল আযকিয়া আলা ত্বিইবাতিল আসমা ফি তাওহিদিল আসমা ওয়াস সিফাত।

 

এবং তাফসীর থেকে:

১২ - হাদায়িকুর রাওহি ওয়ার রায়হান ফি রাওয়াবি উলুমিল কুরআন (তেত্রিশ খণ্ড, এতে তিনি সাতটি, বরং আটটি, এমনকি নয়টি শাস্ত্র একত্রিত করেছেন; তাফসীরের কিতাবসমূহের মধ্যে এর কোনো নজির আগে দেখা যায়নি)।

 

এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিসমূহ:

নাহু (ব্যাকরণ) থেকে:

১৩ - রাফউল হিজাব আন মুখাইয়ামাতি কাশফিন নিকাব (মুলহাতুল ইরাব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কাশফুন নিকাব-এর ওপর হাশিয়া)।

১৪ - হাদিয়াতুত তুল্লাব ফি ইরাবি মুলহাতিল ইরাব।

১৫ - আস-সুওয়ারুল আকলিয়াহ আলা তারাযিমিল আলফিয়্যাহ ওয়া মুশকিলাতিহা লি-ইবনি মালিক।

১৬ - আত-তাকরীরাত আলা হাশিয়াতিল খাদারি আলাল আলফিয়্যাহ।

১৭ - আল-মাতালিবুস সানিয়্যাহ (মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-ফাওয়াকিহুল জানিয়্যাহ-এর ওপর হাশিয়া)।

১৮ - আত-তাকরীরাত আলা মুজীবিন নিদা আলা কাতুরিন নাদা (উভয়টিই আব্দুল্লাহ আল-ফাকিহী-র)।

 

এবং বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) থেকে:

১৯ - আদ-দুররুল মাসুন আলাল জাওহারিল মাকনুন (আব্দুর রহমান আল-আখদারি-র)।

২০ - আত-তাকরীরাত আলা মুখতাসারি সা’দিদ্দীন আলা তালখীসিল মিফতাহ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
ومن المنطق:

21 - الكنز المُكَتَّمُ على متن السلم للأخضري.

22 - التذهيب على متن التهذيب في المنطق.

 

ومن العروض:

23 - الفتوحات الربانية على منظومة الخزرجية في العروض.

24 - التبيان على منظومة الصبان في العروض.

 

ومن الحديث:

25 - النهر الجاري على تراجم البخاري ومشكلاته.

26 - رفعُ الصدود على سنن أبي داود على الربع الأول منه لم يكمل.

 

ومن الأصول:

27 - التقريرات على شرح المحلي على جمع الجوامع في الأصول.

 

ومن الفقه:

28 - سلم المعراج على مقدمة المنهاج.

29 - التقريرات على شرح المحلي وحاشيتي القليوبي وعميرة على المنهاج في فقه الشافعية.

30 - الإمداد من رب العباد حاشية على فتح الجواد على متن الإِرشاد في فقه الشافعية.

31 - أضوأ المسالك على عمدة الناسك لأحمد بن النقيب.

32 - التقريرات على التوشيح على غاية الاختصار.

33 - التقريرات على فتح الوهاب مع حاشية التجريد لسليمان البجيرمي.

34 - التقريرات على قصيدة زبد أحمد بن رسلان.

 

ومن المدائح النبوية والسيرة المرضية:

35 - نيل المراد على متن بانت سعاد لكعب بن زهير الصحابي الجليل رضي الله عنه.

36 - البيان الصريح على بردة المديح للبوصيري.

37 - البيان الظريف على العنوان الشريف.
এবং যুক্তিবিদ্যা থেকে:

২১ - আল-কানজুল মুকাত্তাম আলা মাতনিস সুল্লাম (আল-আখদারী রচিত)।

২২ - আত-তাযহীব আলা মাতনিত তাহযীব (যুক্তিবিদ্যায়)।

 

এবং ছন্দশাস্ত্র থেকে:

২৩ - আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ আলা মানযুমাতিল খাজরাজিয়্যাহ (ছন্দশাস্ত্রে)।

২৪ - আত-তিবইয়ান আলা মানযুমাতিল সাব্বান (ছন্দশাস্ত্রে)।

 

এবং হাদীস থেকে:

২৫ - আন-নাহরুল জারী আলা তারাজিমিল বুখারী ওয়া মুশকিলাতিহি (বুখারীর জীবনবৃত্তান্ত ও জটিল বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা)।

২৬ - রাফউস সুদুুদ আলা সুনানে আবি দাউদ (এর প্রথম এক চতুর্থাংশের উপর, যা পূর্ণ হয়নি)।

 

এবং উসূলে ফিকহ থেকে:

২৭ - আত-তাকবীরাত আলা শারহিল মাহাল্লী আলা জামউল জাওয়ামে' (উসূলে ফিকহে)।

 

এবং ফিকহ থেকে:

২৮ - সুল্লামুল মি'রাজ আলা মুকাদ্দিমাতিল মিনহাজ।

২৯ - আত-তাকবীরাত আলা শারহিল মাহাল্লী এবং কালয়ূবী ও উমাইরার দুই হাশিয়া আলাল মিনহাজ (শাফেয়ী ফিকহে)।

৩০ - আল-ইমদাদ মিন রব্বিল ইবাদ (শাফেয়ী ফিকহের আল-ইরশাদ মাতনের ব্যাখ্যা ফাতহুল জাওয়াদের উপর টীকা)।

৩১ - আদওয়াউল মাসালিক আলা উমদাতিন নাসিক (আহমদ বিন আন-নাকীব রচিত)।

৩২ - আত-তাকবীরাত আলাত তাওশীহ আলা গায়াতিল ইখতিসার।

৩৩ - আত-তাকবীরাত আলা ফাতহিল ওয়াহহাব (সুলাইমান আল-বুজাইরিমী রচিত হাশিয়াতুত তাজরীদ সহ)।

৩৪ - আত-তাকবীরাত আলা কাসিদাতি যুবদ (আহমদ বিন রুসলান রচিত)।

 

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা ও পছন্দনীয় সীরাত থেকে:

৩৫ - নীলুল মুরাদ আলা মাতনি বানাত সুয়াদ (মর্যাদাবান সাহাবী কা'ব বিন যুহাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু রচিত)।

৩৬ - আল-বায়ানুস সারীহ আলা বুরদাতিল মাদীয়াহ (বুসীরী রচিত)।

৩৭ - আল-বায়ানুয যারীফ আলাল উনওয়ানিশ শারীফ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
38 - المقاصد السنية على القصائد البرعية.

39 - التقريرات على همزية البوصيري.

 

ومنها في المصطلح:

40 - جوهرة الدرر على ألفية الأثر لعبد الرحمن السيوطي.

 

ومنها في التوحيد:

41 - فتح الملك العلام في عقائد أهل الإِسلام على ضوء الكتاب والسنة.

42 - نُزُلُ كِرَامِ الضيفان مقدمة حدائق الرَّوْح والرَّيحان.

 

ومنها:

43 - مجمع الأسانيد ومظفر المقاصِدْ في أسانيدِ كل الفنون (يحتوي على أسانيد أربعمائة وخمسة وثمانين كتابًا) مطبوع.

 

ومنها:

44 - نزهة الألباب وبشرة الأحباب على ملحة الإِعراب (مجلد ضخم على نحو أربعمائة صفحة) مطبوع.

ومنها:

45 - الكوكب الوهاج والروض البهَّاج في شرح صحيح مسلم بن الحجاج، وهو الذي بين أيدينا الآن.

ومنها:

46 - مُرْشِدُ ذوي الحجا والحاجة على سنن ابن ماجه.

ومنها:

47 - المقاصد الوفية في جمع ما وقع في مسلم من الأسانيد الرباعية.

ومنها:

48 - الجُهيريات في جمع الثمينيات.

ومنها:

49 - البُويطيات في جمع التسيعيّات.
৩৮ - বুরঈ-এর কাসিদাগুলোর ওপর আল-মাকাসিদ আস-সানিয়্যাহ।

৩৯ - বুসিরি-র হামজিয়্যাহ-এর ওপর আত-তাকরিরাত।

 

এবং এর মধ্যে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় রয়েছে:

৪০ - আবদুর রহমান সুয়ূতী-র আলফিয়াতুল আসার-এর ওপর জাওহারাতুদ দুরার।

 

এবং এর মধ্যে তাওহীদ বিষয়ে রয়েছে:

৪১ - কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে আহলে ইসলামের আকীদার বর্ণনায় ফাতহুল মালিকিল আল্লাম।

৪২ - হাদাইকুর রাওহ ওয়ার রাইহান-এর ভূমিকা হিসেবে নুজুলু কিরামিল দাইফান।

 

এবং এর মধ্যে রয়েছে:

৪৩ - সকল বিদ্যার সনদ বর্ণনায় মাজমাউল আসানিদ ওয়া মুজাফফারুল মাকাসিদ (এতে চারশত পঁচাশিটি কিতাবের সনদ রয়েছে) - মুদ্রিত।

 

এবং এর মধ্যে রয়েছে:

৪৪ - মুলহাতুল ইরাব-এর ওপর নুযহাতুল আলবাব ওয়া বুশরাতুল আহবাব (এটি প্রায় চারশত পৃষ্ঠার একটি বিশাল খণ্ড) - মুদ্রিত।

এবং এর মধ্যে রয়েছে:

৪৫ - সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ ওয়াল রাওদুল বাহহাজ, যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে।

এবং এর মধ্যে রয়েছে:

৪৬ - সুনানে ইবনে মাজাহ-এর ওপর মুরশিদু যাবিল হিজা ওয়াল হাজাহ।

এবং এর মধ্যে রয়েছে:

৪৭ - সহীহ মুসলিমে আগত চার রাবীবিশিষ্ট (রুবায়িয়াত) সনদসমূহ সংকলনের ক্ষেত্রে আল-মাকাসিদুল ওয়াফিয়্যাহ।

এবং এর মধ্যে রয়েছে:

৪৮ - আট রাবীবিশিষ্ট (সামানিয়্যাত) সনদসমূহ সংকলনের ক্ষেত্রে আল-জুহায়রিয়্যাত।

এবং এর মধ্যে রয়েছে:

৪৯ - নয় রাবীবিশিষ্ট (তিসইয়্যাত) সনদসমূহ সংকলনের ক্ষেত্রে আল-বুয়াইতিয়্যাত।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومنها:

50 - بحيرة السَّيحون على الجوهر المكنون.

ومنها:

51 - التقريرات على حاشية الصبان في المنطق.

ومنها:

52 - التقريرات على حاشية البيجوري في المنطق.

ومنها:

53 - التقريرات على البيجوري على متن السمرقندي في الاستعارة.

ومنها:

54 - التقريرات على بلوغ المرام في تقاسيم الأحاديث وتفاصيلها على التراجم.

ومنها:

55 - التقريرات على حاشية المخلوف على الجوهر المكنون في البلاغة.

ومنها:

56 - التقريرات على شرح شيخ الإسلام وشرح الدمامينيّ، وكلاهما على المنظومة الخزرجية في العروض.

ومنها:

57 - التقريرات على المقدمة الحضرمية الكبيرة، المسماة بـ "بافضل".

ومنها:

58 - شرح المقدمة الحضرمية الصغيرة المسمى بـ "التبصير على المختصر الصغير".

ومنها:

59 - التقريرات على حاشية أبي النجا على الأجرومية.

ومنها:

60 - التقريرات على حاشية العطار على الأزهرية.
এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫০ - আল-জাওহারুল মাকনুন-এর ওপর বুহাইরাতুস সাইহুন।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫১ - মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) শাস্ত্রে সাব্বানের হাশিয়ার ওপর আত-তাকরীরাত।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫২ - মানতিক শাস্ত্রে বাজুরীর হাশিয়ার ওপর আত-তাকরীরাত।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫৩ - ইস্তি'আরাহ (অলঙ্কারশাস্ত্রের রূপক) বিষয়ে সমরকন্দীর মাতনের ওপর বাজুরীর ব্যাখ্যার ওপর আত-তাকরীরাত।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫৪ - হাদীসের শ্রেণিবিভাগ এবং শিরোনাম অনুযায়ী এর বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে বুলুগুল মারাম-এর ওপর আত-তাকরীরাত।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫৫ - বালাগাত (অলঙ্কার শাস্ত্র) বিষয়ে আল-জাওহারুল মাকনুন-এর ওপর মাখলুফের হাশিয়ার ওপর আত-তাকরীরাত।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫৬ - আরুয (ছন্দপ্রকরণ শাস্ত্র) বিষয়ে আল-মানযুমাতুল খাযরাজিয়ার ওপর শায়খুল ইসলাম এবং দামামিনীয়ার ব্যাখ্যার ওপর আত-তাকরীরাত; এবং এই উভয় ব্যাখ্যাই উক্ত মানযূমার ওপর লিখিত।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫৭ - আল-মুকাদ্দিমাতুল হাযরামিয়াতুল কাবিরাহ-এর ওপর আত-তাকরীরাত, যা "বা ফাযল" নামে পরিচিত।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫৮ - আল-মুকাদ্দিমাতুল হাযরামিয়াতুস সাগিরাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম "আত-তাবসীরু আলাল মুখতাসারিস সাগীর"।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৫৯ - আজরুমীয়ার ওপর আবু নাজার হাশিয়ার ওপর আত-তাকরীরাত।

এগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

৬০ - আযহারীয়ার ওপর আত্তারের হাশিয়ার ওপর আত-তাকরীরাত।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومنها:

61 - كتاب التقريرات على جمع ما وقع في فقه الشافعية من الصور. مجلد ضخم.

ومنها:

62 - التقريرات على بعض ابن ماجه … إلى غير ذلك.

 

‌‌هجرته:

هجرته من الحبشة إِلى هذه المملكة السعيدة كانت في تاريخ سنة ثمان وتسعين بعد ألف وثلاثمائة كما أرخه بقوله:

هاجرت في ثمان وتسعين … من بعد ألف وثلاثِ مِئِينْ

وكان سبب هجرته: اتفاق الشيوعيين على قتله حين أسَّس في منطقته الجبهة الإِسلامية الأروميَّة، وجاهد بهم، وأوقع في الشيوعيين قتلًا ذريعًا، وحاصروه لقتله، وخرج من بين أيديهم بعصمة الله تعالى.

وكان -بعد ما دخل هذه المملكة وحصل على النظام- مدرسًا في دار الحديث الخيرية من بداية سنة ألف وأربعمائة، وكان أيضًا مدرسًا في المسجد الحرام ليلًا نحو ثمان سنوات بإِذن رئاسة شؤون الحرمين.

وله أسانيد عديدة من مشايخ كثيرة في جميع الفنون، خصوصًا في التفسير والأمهات الست، فسبحان المنفرد بالكمال، والله سبحانه وتعالى أعلم.

ولقد أجزتُ لِحامل هذه الترجمة في الرواية عني جميعَ مروياتي من كل الفنون وجميع مؤلفاتي كذلك إِجازة عامة، وأوصيه وإِياي بتقوى الله تعالى في السر والعلن وصالحِ الدعوة لي في الحياة وبعد الممات، للأخ الفاضل.

وعلى هذا جرى التوقيع من المجيز والختم منه.
এবং এগুলোর মধ্য হতে:

৬১ - কিতাবুত তাকরীরাত আলা জামই মা ওয়াকাআ ফী ফিকহিশ শাফিইয়্যাহ মিনাস সুওয়ার। একটি বিশাল খণ্ড।

এবং এগুলোর মধ্য হতে:

৬২ - ইবনে মাজাহ-এর কিছু অংশের ওপর তাকরীরাত ... এ ছাড়াও আরও অন্যান্য।

 

‌‌তাঁর হিজরত:

হাবশা (ইথিওপিয়া) থেকে এই সৌভাগ্যবান রাজ্যে তাঁর হিজরত ছিল তেরোশত আটানব্বই হিজরী সনে, যেমনটি তিনি তাঁর এই পঙ্ক্তির মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণ করেছেন:

আমি হিজরত করেছি তেরোশ’ আটানব্বই সনে ...

তাঁর হিজরতের কারণ ছিল: কমিউনিস্টরা তাঁকে হত্যার ব্যাপারে একমত হয়েছিল যখন তিনি তাঁর অঞ্চলে জাবহাতুল ইসলামিয়্যাহ আল-উরোমিয়্যাহ (অরোমো ইসলামিক ফ্রন্ট) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে জিহাদ করেছিলেন। তিনি কমিউনিস্টদের মাঝে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিলেন, ফলে তারা তাঁকে হত্যার জন্য ঘেরাও করে। কিন্তু আল্লাহ তাআলার বিশেষ সুরক্ষায় তিনি তাদের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

এই রাজ্যে প্রবেশ করার এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ম-পদ্ধতি লাভ করার পর তিনি চৌদ্দশ হিজরীর শুরু থেকে দারুল হাদীস আল-খাইরিয়্যাহ-তে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি হারামাইন প্রেসিডেন্সির অনুমতিতে প্রায় আট বছর মসজিদে হারামে রাত্রিকালীন শিক্ষকতা করেছেন।

সকল বিদ্যায়, বিশেষ করে তাফসীর এবং উম্মাহাতুস সিত্তা (ছয়টি প্রধান হাদীস গ্রন্থ)-এর ক্ষেত্রে অসংখ্য মাশায়েখ থেকে তাঁর বহু সনদ রয়েছে। সুতরাং মহিমা সেই সত্তার, যিনি একাই পরিপূর্ণতার অধিকারী, আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-ই সর্বাধিক অবগত।

আমি এই জীবনী বহনকারী ফাযেল ভাইয়ের জন্য আমার পক্ষ থেকে আমার বর্ণিত সকল শাস্ত্রের রেওয়ায়েতসমূহ এবং আমার সকল কিতাব বর্ণনার জন্য একটি সাধারণ ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করলাম। আমি তাঁকে এবং নিজেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহ তাআলার তাকওয়া অবলম্বন করার এবং আমার ইহকালীন জীবনে ও মউতের পরে আমার জন্য নেক দুআ করার ওসিয়ত করছি।

এর ওপরই ইজাজতদাতার স্বাক্ষর এবং তাঁর মোহর অঙ্কিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الكوكب الوهاج والروض البهاج في شرح صحيح مسلم بن الحجاج

 

ألَّفه وجَمَعه: محمد الأمين بن عبد الله الهرري ثم المكي، نزيل مكة المكرمة جوارَ الحرم الشريف في المسفلة، المدرّس في دار الحديث الخيرية نحوَ إحدى وثلاثين سنة وحاليًا، غفر الله سبحانه له ولوالديه ولجميع المسلمين والمسلمات، الأحياء منهم والأموات. آمين

 

ولقد أجاد مَن قال في مدح كتب الحديث:

لنا جلساء لا يُمَلُّ حديثُهُم … أَلِبَّاءُ مأمونون غيبًا ومشهدا

إِذا ما خَلَونا كان خيرُ حديثهم … معينًا على نَفْيِ الهُمومِ مؤيِّدا

يُفيدُوننا مِن عندهم عِلْمَ مَن مضى … وعقلًا وتأديبًا ورأيًا مسدَّدا

فلا رِيبة تُخْشى ولا سُوءَ عِشرة … ولا نَتَّقِي منهم لسانًا ولا يدا

فإنْ قلْتَ أموات فلسْتَ بكاذب … وإِن قلتَ أحياء فلستَ مُفنّدا

***
আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ ওয়াল-রাওদুল বাহহাজ ফি শারহি সহীহ মুসলিম বিন আল- হাজ্জাজ

 

এটি রচনা ও সংকলন করেছেন: মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আব্দুল্লাহ আল-হারারি অতঃপর আল-মাক্কি; পবিত্র মক্কার মিসফালাহ এলাকায় হারাম শরীফের সন্নিকটে বসবাসকারী; দারুল হাদিস আল-খাইরিয়াতে প্রায় একত্রিশ বছর যাবৎ এবং বর্তমানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিম পুরুষ ও নারীকে, তাদের মধ্যে যারা জীবিত এবং যারা মৃত, তাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আমীন।

 

হাদিসের কিতাবসমূহের প্রশংসায় যিনি নিম্নোক্ত কবিতাটি বলেছেন তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন:

আমাদের এমন কিছু সঙ্গী আছে যাদের আলোচনা কখনো ক্লান্তি আনে না … তারা বুদ্ধিমান এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য।

যখন আমরা নির্জনে থাকি, তখন তাদের কথা হয় সর্বোত্তম আলোচনা … যা দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করে এবং শক্তি জোগায়।

তারা আমাদের পূর্ববর্তীদের জ্ঞান দান করে … আর দান করে বুদ্ধি, শিষ্টাচার ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।

সেখানে কোনো সন্দেহের ভয় নেই, নেই কোনো অসদাচরণ … আর আমরা তাদের জিহ্বা বা হাত থেকে কোনো অনিষ্টের আশঙ্কা করি না।

যদি তুমি তাদের মৃত বলো তবে তুমি মিথ্যাবাদী নও … আর যদি তাদের জীবিত বলো তবে তোমাকে ভ্রান্ত বলা যাবে না।

***
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

وَبهِ نستعين

 

‌‌خطبة الكتاب

الحمدُ للهِ الذي شَرَحَ صُدُورَ أوليائِهِ بمعارفِ أحاديثِ خيرِ أنبيائه، ورَوَّحَ بسماعها أرواحَ أهلِ ودادهِ وأصفيائِه، فسَرَّحَ سرائِرَهم في رِياضِ روضةِ قُدْسِهِ وثنائِهِ، أحمدُهُ على ما تَفَضَّلَ من توفيقِهِ وإِرشادهِ، وأَسْدَى إِلينا من آلائهِ ونعمائهِ، وأشكرُهُ على فَضْلهِ المتواترِ، وطَوْلهِ الكاملِ الوافر، وأسألهُ المزيدَ من عطائِهِ، وكشفَ حِجَابه وغِطائِه.

وأشهدُ أنْ لا إِلهَ إِلا اللهُ الواحدُ الفَرْدُ الصَّمَد، الذي لم يَلِدْ ولم يُولَدْ، ولم يكن له في ذاتهِ وصفاتِه كُفُوًا أَحَد، الْمُنْفَرِدُ في صَمَدَانِيَّتِهِ بعِزِّ كبريائهِ، وَاصِلُ مَنْ تَبَتَّلَ إِليهِ إِلى حضرةِ قُرْبِهِ وولائِهِ، وساقي علومِ معارفهِ وأسرارِهِ قلوبَ أوليائهِ وأصفيائِهِ، ومُدْرِجُ أهلِ مُرَاقَبَتهِ ومُشَاهَدَتِه في سلسلةِ خاصَّتهِ وأَحبَّائِه.

وأشهدُ أَنَّ سَيِّدنَا مُحَمَّدًا عبدُهُ ورسولهُ، المُرْسَلُ بصحيحِ القولِ وحَسَنِه إِلى كافَّةِ خَلْقِهِ من إِنْسِهِ وجِنِّهِ، رحمةً لأهلِ أرضهِ وسمائِه، الآمِرُ بالحقّ المشروعِ، والناهي عن المُخْتَلَقِ الموضوعِ، الماحي للوثنيَّةِ الموضوعة، بِبَوارقِ سُيوفهِ الخاطفة، وشُموسِ أنوارهِ الساطعة، فأشرقتْ مشكاةُ مصابيح الجامعِ الصحيحِ مِن أنوارِ شريعتهِ وأَنْبَائِهِ، صلَّى اللهُ -سبحانه- وسَلَّمَ عليهِ وعلى آَلهِ وأصحابهِ وخُلفائِه، وعلى كُلِّ مُتَمَسِّكٍ بدِينهِ وشريعتهِ، وداعٍ إِليهِ إِلى يومِ عَرْضِه ولقائِه.

أمَّا بعدُ: فإِنَّ عِلْمَ الأحاديثِ النبويةِ بعدَ الكتابِ العزيزِ أعظمُ العلومِ قَدْرًا، وأرقاها شَرَفًا وفَخْرًا، إِذْ عليهِ مَبْنَى قواعدِ أحكامِ الشريعةِ الإِسلاميةِ، وبهِ تظهرُ تفاصيلُ مجملاتِ الآياتِ القرآنيةِ، وكيف لا ومَصْدَرُهُ ممَّنْ لا يَنْطِقُ عَنِ الهَوى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى؟ !

فهوَ المُفَسِّرُ للكتابِ وإِنما … نَطَقَ النبيُّ لنا به عن ربهِ

ولمَّا قَضَت نتائجُ العقول وأدلَّةُ الشَّرعِ المنقولِ أَنَّ سعادةَ الدَّارَينِ مَنُوطةٌ بمتابعةِ هذا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।

 

‌‌গ্রন্থের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তরসমূহকে তাঁর শ্রেষ্ঠ নবীর হাদিসের মারিফাত (জ্ঞান) দ্বারা উন্মুক্ত করেছেন, এবং তাঁর সান্নিধ্য ও শুদ্ধতার অধিকারীদের আত্মাকে তা শ্রবণের মাধ্যমে প্রশান্ত করেছেন। ফলে তাদের অন্তঃকরণ তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসার উদ্যানের প্রাঙ্গণে বিচরণ করে। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর পক্ষ থেকে প্রদত্ত তাওফিক ও নির্দেশনার অনুগ্রহের জন্য, এবং তিনি আমাদের প্রতি যে সকল নেয়ামত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন তার জন্য। তাঁর ধারাবাহিক অনুগ্রহ এবং পরিপূর্ণ ও প্রশস্ত দানের জন্য আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি তাঁর দান আরও বৃদ্ধি করার এবং তাঁর পর্দা ও আবরণ উন্মোচন করার।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি অদ্বিতীয়, একক, অমুখাপেক্ষী; যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, এবং তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি তাঁর অমুখাপেক্ষীতায় স্বীয় মহত্ত্বের গৌরবে একক। তিনি ঐ সকল ব্যক্তিকে তাঁর নৈকট্য ও আনুগত্যের দরবারে পৌঁছে দেন যারা পার্থিব সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁর অভিমুখী হয়েছে। তিনি তাঁর প্রিয় ও খাঁটি বান্দাদের হৃদয়ে স্বীয় মারিফাতের জ্ঞান ও রহস্যের পানীয় পান করান। তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণ ও দিদার (দর্শন) লাভের অধিকারীদের স্বীয় বিশেষ বান্দা ও প্রিয়জনদের শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেন।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। সত্য ও সুন্দর বাণীর সাথে তাঁকে তাঁর সমস্ত সৃষ্টি—মানুষ ও জিন জাতির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, যা তাঁর যমীন ও আসমানবাসীদের জন্য রহমতস্বরূপ। তিনি বিধিবদ্ধ সত্যের আদেশদাতা এবং উদ্ভাবিত ও জাল বিষয়াবলি হতে নিষেধকারী। তিনি তাঁর বিদ্যুতের ন্যায় তীক্ষ্ণ তরবারি এবং সূর্যের ন্যায় প্রোজ্জ্বল নূরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত মূর্তিপূজাকে বিলুপ্তকারী। ফলে তাঁর শরিয়ত ও সংবাদসমূহের নূর থেকে 'জামে সহিহ'-এর প্রদীপসমূহের কুলুঙ্গি আলোকিত হয়ে উঠেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবা এবং তাঁর খলিফাগণের ওপর এবং সেই সাথে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর দীন ও শরিয়তকে আঁকড়ে ধরবে এবং এর দিকে আহ্বান জানাবে, তাদের সকলের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

অতঃপর: মহান আল্লাহর কিতাবের পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের জ্ঞানই মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সম্মান ও গৌরবের দিক দিয়ে সর্বোচ্চ। কেননা এরই ওপর ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধানের মূলভিত্তি প্রতিষ্ঠিত এবং এরই মাধ্যমে কুরআনের আয়াতের সংক্ষিপ্ত বিষয়াবলির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে এর উৎস হলেন এমন একজন সত্তা যিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না? তা তো কেবল ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।

সুতরাং তিনিই কিতাবের ব্যাখ্যাকারী এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম … তাঁর রবের পক্ষ থেকে আমাদের নিকট তা ব্যক্ত করেছেন।

যখন বিচারবুদ্ধির ফলাফল এবং শরিয়তের বর্ণিত দলীলসমূহ এই ফয়সালা প্রদান করল যে, উভয় জাহানের সৌভাগ্য এর অনুসরণের ওপরই নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
الرسولِ، وأَنَّ المحبَّةَ الحقيقيةَ باقتفاءِ سبيلهِ واجبةُ الحصولِ .. انْتَهَضَتْ هِمَمُ أعلامِ العلماءِ والسادةِ الفضلاءِ إِلى البحثِ عن آثارهِ: أقوالهِ وأفعالهِ وإِقرارِه، فحَصَّلُوا ذلك ضبطًا وحفظًا، وبَلَّغُوهُ إِلى غيرِهم مُشَافهة ونقلًا، ومَيَّزُوا صحيحَهُ من سقيمِهِ، ومُعْوَجَّهُ من مستقيمِهِ، إِلى أن انتهَى ذلكَ إِلى إِمامَي علماءِ الصحيحِ، المُبَرِّزَينِ في علمِ التعديلِ والتجريحِ: أبي عبد اللهِ مُحَمَّدِ بنِ إِسماعيلَ الجُعْفِيِّ البُخَارِيِّ، وأَبي الحُسَينِ مسلمِ بنِ الحَجَّاجِ القُشَيرِيّ النَّيسابُورِيِّ، فجَمَعَا كتابَيهِمَا على شَرْطِ الصِّحَّةِ، وبَذَلا جُهْدَهُمَا في تَصْفِيَتِهِمَا مِنْ كُلِّ عِلَّةٍ، فتَمَّ لَهُمَا المُرادُ، وانعقدَ الإِجماعُ على تَلْقيبهما باسمِ "الصحيحينِ" (1) أو كاد (2)، فجزاهما اللهُ تعالى عنِ الإِسلامِ أفضلَ الجزاءِ، ووَفَّاهُما مِنْ أَجْرِ مَن انتفعَ بكتابَيهما أفضلَ الإِجزاءِ.

غيرَ أنه قد ظَهَرَ لكثيرٍ من أئمَّةِ النَّقْلِ وجَهَابِذَةِ النقْدِ أَنَّ لمسلمٍ ولكتابهِ من المَزِيَّةِ

--------------------------------------------

(1) قلتُ: والاسم العلمي لكتاب "صحيح مسلم" كما سمَّاه به مؤلِّفُه هو: "المسند الصحيح المختصر من السُّنَن بنَقْلِ العَدْلِ عن العَدْلِ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم"، وهذا الاسمُ يَدُلُّ على مضمونِ هذا الكتابِ وأُسُسِهِ التي أُنشئ عليها، وقد ورد هذا الاسم كاملًا عند الحافظ ابن خير الإِشبيلي في "فهرست ما رواه عن شيوخه" (ص 98)، والعلَّامةِ التُّجيبي في "برنامجه" (ص 83) إلَّا أنه قال: إِلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وورد اسمه مختصرًا عند غيرهما من الحُفَّاظ، انظر تفصيل ذلك في "تحقيق اسمي الصحيحين" (ص 33 - 52).

(2) قال الإِمام أبو العباس القرطبي: (وأمَّا انعقادُ الإِجماعِ على تسميتهما بالصحيحَينِ .. فلا شكَّ فيهِ، بل قد صارَ ذِكْرُ الصحيحِ عَلَمًا لهما وإِنْ كان غيرهما بعدهما قد جمع الصحيح واشترط الصحة، كابي بكر الإِسماعيلي الجرجاني، وأبي الشيخ ابن حَيَّان الأصبهاني، وأبي بكر البَرْقاني، والحاكم أبي عبد الله، وإِبراهيم بن حمزة، وأبي ذرّ الهَرَوي، وغيرهم، لكنِ الإِمامان أحرزا قصب السباق، ولُقِّبَ كتاباهما بـ "الصحيحين" بالاتفاق. قال أبو عبد الله الحاكم: أهلُ الحجاز والعراق والشامِ يشهدون لأهل خُراسان بالتقدُّم في معرفة الحديث، لسَبْقِ الإِمامين البخاريِّ ومسلمٍ إِليه، وتفَرُّدِهما بهذا النوع. "المفهم" (1/ 99 - 100).

وقال الإِمام عبد الحقِّ الإِشبيلي في مقدّمة كتابه "الجمع بين الصحيحين" (1/ 6):

(والغَرَضُ من هذا المختصَرِ: أنْ يَخِفَّ به الكتابان على مَنْ أعياه حفظ الأسانيد، واعتمدَ في العلم بها على التقليد، لاسيما وقد اشتهرا في الصحة شهرةً لا مطعن عليها، وتَضَمَّنا من الأخبار ما لجأَ الناسُ في الأكثرِ إِليها، وحَسْبُكَ من هذين الكتابين أنهما إِنما يُعرفان بـ "الصحيحين").
রাসূলের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর পথ অনুসরণের মাধ্যমে প্রকৃত ভালোবাসা অর্জন করা যে অপরিহার্য—তা অনুধাবন করে প্রথিতযশা আলেম ও গুণী ব্যক্তিবর্গের হিম্মত তাঁর নিদর্শনসমূহ: তাঁর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি অনুসন্ধানে সচেষ্ট হয়েছে। তাঁরা তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও কণ্ঠস্থ করেছেন এবং মৌখিকভাবে ও বর্ণনার মাধ্যমে অন্যের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরা এর বিশুদ্ধ (সহিহ) অংশকে ত্রুটিযুক্ত অংশ থেকে এবং সঠিককে বক্র থেকে পৃথক করেছেন। অবশেষে এই ধারা বিশুদ্ধ হাদিস বিশারদগণের দুই ইমামের নিকট এসে পর্যবসিত হয়েছে, যাঁরা জারাহ ও তাদিল (বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই) বিদ্যায় অনন্য: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-জুফি আল-বুখারি এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরি আন-নিশাপুরি। তাঁরা উভয়েই সহিহ হওয়ার শর্তানুসারে নিজ নিজ কিতাব সংকলন করেছেন এবং যাবতীয় ত্রুটি থেকে সেগুলোকে মুক্ত করতে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। ফলে তাঁদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে এবং এই কিতাবদ্বয়কে 'সহিহাইন' (১) বা এর কাছাকাছি (২) নামে অভিহিত করার বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়কে ইসলামের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং যাঁরা তাঁদের কিতাব দুটি থেকে উপকৃত হয়েছে, তাদের সওয়াবের মধ্য থেকে তাঁদেরকে শ্রেষ্ঠতম বিনিময় দান করুন।

তবে বহু হাদিস বিশারদ এবং সূক্ষ্মদর্শী সমালোচকদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইমাম মুসলিম এবং তাঁর কিতাবের এমন কিছু বিশেষত্ব রয়েছে

--------------------------------------------

(১) আমি (গ্রন্থকার) বলছি: 'সহিহ মুসলিম' কিতাবের শাস্ত্রীয় নাম—যা স্বয়ং এর রচয়িতা দিয়েছেন—তাহলো: 'আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসারু মিনাস সুনানি বিনাকলিল আদলি আনিল আদলি আন রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' (সুন্নাহর মধ্য থেকে সংক্ষেপিত এমন নির্ভরযোগ্য সহিহ মুসনাদ যা ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী কর্তৃক ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত)। এই নামটি এই কিতাবের বিষয়বস্তু এবং এর মৌলিক ভিত্তিসমূহকে নির্দেশ করে। হাফেজ ইবনে খায়ের আল-ইশবিলি তাঁর 'ফিহরিসতু মা রাওয়াহু আন শুয়ুখিহি' (পৃ. ৯৮) গ্রন্থে এই নাম পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লামা আত-তুজিবি তাঁর 'বারনামাজ' (পৃ. ৮৩) গ্রন্থেও তা উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি 'ইলা রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' পর্যন্ত বলেছেন। অন্যান্য হাফেজদের নিকট এর সংক্ষিপ্ত নামও বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য 'তাহকিকু ইসমি আস-সহিহাইন' (পৃ. ৩৩-৫২) দেখুন।

(২) ইমাম আবু আব্বাস আল-কুরতুবি বলেন: (আর এই দুই কিতাবকে 'সহিহাইন' নামে নামকরণের ক্ষেত্রে ঐকমত্য বা ইজমা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বরং 'সহিহ' শব্দটি এখন এই দুই কিতাবের জন্যই পারিভাষিক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও তাঁদের পরবর্তী সময়ে অন্যরাও সহিহ হাদিস সংকলন করেছেন এবং বিশুদ্ধতার শর্তারোপ করেছেন, যেমন আবু বকর আল-ইসমাঈলি আল-জুরজানি, আবু শেখ ইবনে হাইয়ান আল-আসফাহানি, আবু বকর আল-বারকানি, আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ, ইব্রাহিম ইবনে হামজাহ, আবু যার আল-হারাউই এবং আরও অনেকে। তবে এই দুই ইমাম শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হয়েছেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে তাঁদের কিতাবদ্বয় 'সহিহাইন' উপাধিতে ভূষিত হয়েছে। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেছেন: হিজাজ, ইরাক ও সিরিয়াবাসী হাদিসশাস্ত্রে খুরাসানবাসীদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেন, কারণ এই দুই ইমাম বুখারি ও মুসলিম এই বিদ্যায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এবং এই শিল্পে অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন। - 'আল-মুফহিম' (১/৯৯-১০০)।

ইমাম আব্দুল হক আল-ইশবিলি তাঁর 'আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন' কিতাবের ভূমিকায় (১/৬) বলেন:

(এই সংক্ষিপ্তসারটির উদ্দেশ্য হলো: এই কিতাব দুটি যেন সেই ব্যক্তির জন্য সহজসাধ্য হয়, যার জন্য সনদ মুখস্থ করা দুঃসাধ্য এবং যে এই শাস্ত্রের জ্ঞানের ক্ষেত্রে অনুসরণের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে এই কিতাব দুটি বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে এমন প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যার বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি নেই এবং এতে এমন সব হাদিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা মানুষের অধিক প্রয়োজন পড়ে। এই কিতাব দুটির জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, এগুলো 'সহিহাইন' নামেই সমধিক পরিচিত।)
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
ما يُوجِبُ لهما أولَويَّةً، فقد حكى القاضي أبو الفَضْلِ عِياضُ بن موسى الإِجماعَ على إِمامتهِ وتقديمهِ، وصِحَّةِ حديثهِ وتميُّزهِ، وثقتهِ وقَبُولِ كتابهِ.

وكان أبو زرعة وأبو حاتم يُقَدِّمانهِ في الحديث على مشايخ عصرهما.

وقال أبو عليٍّ الحُسَينُ بن علي النيسابوريُّ: ما تحت أديم السماء أصحُّ من كتاب مسلم (1).

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ ابن حجر: (وأمّا قولُ أبي علي النيسابوري .. فلم نَقِفْ قطُّ على تصريحه بأَنَّ كتابَ مسلمٍ أَصَحُّ من كتابِ البخاري، بخلاف ما يقتضيه إِطلاق الشيخ محيي الدين في "مختصره في علوم الحديث" وفي مقدمة "شرح البخاري" أيضًا حيث يقول: اتفق الجمهورُ على أَنَّ "صحيح البخاري" أصحّهما صحيحًا، وأكثرهما فوائد، وقال أبو علي النيسابوريُّ وبعضُ علماءِ المغربِ: صحيحُ مسلمٍ أَصَحُّ. اهـ

ومقتضَى كلام أبي عليّ: نَفْي الأصحيَّة عن غير كتاب مسلمٍ عليه، أمَّا إِثباتُها له .. فلا؛ لأن إِطلاقه يحتملُ أنْ يريدَ ذلك، ويحتملُ أنْ يُريدَ المساواة، والله أعلم.

والذي يظهرُ لي من كلام أبي علي: أنه إِنما قَدَّمَ "صحيحَ مسلمٍ" لمعنىً غيرِ ما يرجعُ إِلى ما نحن بصدده من الشرائطِ المطلوبةِ في الصحة، بل ذلك لأنَّ مسلمًا صَنَّفَ كتابَه في بلدهِ بحضورِ أصولهِ في حياةِ كثير من مشايخهِ، فكان يتحرَّزُ في الألفاظ، ويتحرَّى في السِّياق، ولا يتصدَّى لِمَا تصدَّى له البخاريُّ من استنباط الأحكام ليُبوِّبَ عليها، ولزمَ من ذلك تقطيعه للحديث في أبوابه، بل جَمَعَ مسلمٌ الطُّرُقَ كُلَّها في مكانٍ واحدٍ، واقتصرَ على الأحاديثِ دونَ الموقوفات، فلم يُعَرِّجْ عليها إِلا في بعض المواضع على سبيل النُّدور تبعًا لا مقصودًا، فلهذا قال أبو عليّ ما قال، مع أني رأيتُ بعض أئمتنا يُجَوِّزُ أن يكون أبو علي ما رأى "صحيح البخاري"، وعندي في ذلك بُعْدٌ، والأقربُ ما ذكرتهُ، وأبو علي لو صَرَّحَ بما نُسِبَ إِليهِ .. لكانَ محجوجًا بما قَدَّمْناهُ مجملًا ومفصّلًا، واللهُ الموفق.

وأمَّا بعضُ شيوخِ المغاربةِ .. فلا يُحْفَظُ عن أحدٍ منهم تقييدُ الأفضليةِ بالأصحيَّة، بل أطْلَقَ بعضُهم الأفضلية، وذلك فيما حكاهُ القاضي أبو الفضلِ عياض في "الإِلماع" عن أبي مروان الطُّبْني، قال: كان بعض شيوخي يُفَضِّلُ صحيح مسلم على صحيح البخاري. اهـ

وقد وجدتُ تفسيرَ هذا التفضيل عن بعض المغاربة؛ فقرأتُ في "فهرست أبي محمد التجيبي" قال: كان أبو محمد بن حَزْم يُفَضِّلُ كتاب مسلم على كتاب البخاري؛ لأنه ليس فيه بعد خطبتِه إلا الحديثُ السرد. اهـ

وعندي: أَنَّ ابن حزم هذا هو شيخ أبي مروان الطبْني الذي أبهمه القاضي عياض، ويجوزُ أن يكونَ غيرَه، ومحلُّ تفضيلهما واحد.

ومن ذلك قولُ مَسلَمة بن قاسم القرطبي -وهو من أقران الدارقطني- لمَّا ذكرَ في "تاريخه" =
যা তাদের উভয়ের অগ্রাধিকারকে আবশ্যক করে, নিশ্চয়ই কাজী আবুল ফজল ইয়াদ বিন মুসা তার ইমামত ও অগ্রগণ্যতা, তার হাদিসের বিশুদ্ধতা ও বৈশিষ্ট্য, তার নির্ভরযোগ্যতা এবং তার কিতাবের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) বর্ণনা করেছেন।

আবু যুরআ এবং আবু হাতিম তাকে হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের সমসাময়িক যুগের শায়খদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন।

আবু আলী আল-হুসাইন বিন আলী আন-নাইসাবুরি বলেছেন: আকাশের নিচে মুসলিমের কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কিছু নেই (১)।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: (আর আবু আলী আন-নাইসাবুরির উক্তির বিষয়ে... আমরা কখনোই তার এমন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাইনি যে মুসলিমের কিতাব বুখারীর কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। এর বিপরীত বিষয়টি শেখ মহিউদ্দিনের ‘মুখতাসার ফি উলুমিল হাদিস’ এবং ‘শারহে বুখারী’-এর ভূমিকায় তার সাধারণ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যেখানে তিনি বলেন: জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ‘সহীহ বুখারী’ এই দুটির মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ এবং অধিক ফায়দাপূর্ণ। আর আবু আলী আন-নাইসাবুরি এবং মরক্কোর কোনো কোনো আলেম বলেছেন: সহীহ মুসলিম অধিক বিশুদ্ধ। সমাপ্ত।

আবু আলীর বক্তব্যের দাবি হলো: মুসলিমের কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব তার ওপর অধিক বিশুদ্ধ হওয়াকে অস্বীকার করা, কিন্তু মুসলিমের কিতাবকে অন্য সবকিছুর ওপর সাব্যস্ত করা নয়; কারণ তার সাধারণ বক্তব্যে সেই উদ্দেশ্যও হতে পারে আবার সমতার উদ্দেশ্যও হতে পারে, আল্লাহই ভালো জানেন।

আবু আলীর বক্তব্য থেকে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো: তিনি ‘সহীহ মুসলিম’কে এমন একটি কারণে অগ্রাধিকার দিয়েছেন যা আমাদের আলোচ্য বিশুদ্ধতার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। বরং এর কারণ হলো, ইমাম মুসলিম তার কিতাবটি নিজ শহরে তার মূল পাণ্ডুলিপিসমূহের উপস্থিতিতে এবং তার অনেক শায়খদের জীবদ্দশায় সংকলন করেছেন; তাই তিনি শব্দচয়নে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং বর্ণনার ধারাক্রমের প্রতি গভীর দৃষ্টি রেখেছেন। তিনি ইমাম বুখারীর মতো আহকাম (বিধান) উদ্ভাবন করে সে অনুযায়ী অনুচ্ছেদ বিন্যাস করার দায়িত্ব নেননি, যার ফলে ইমাম বুখারীকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে হাদিস খণ্ডন করতে হয়েছে। বরং ইমাম মুসলিম একটি হাদিসের সকল সূত্র এক স্থানে জমা করেছেন এবং কেবল মারফু হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, মাওকুফ বর্ণনাসমূহ উল্লেখ করেননি। খুব কম ক্ষেত্র ব্যতীত তিনি সেদিকে মনোযোগ দেননি এবং তা মূল উদ্দেশ্য হিসেবেও ছিল না। এই কারণেই আবু আলী যা বলার তা বলেছেন। যদিও আমি আমাদের কোনো কোনো ইমামকে বলতে দেখেছি যে, সম্ভবত আবু আলী ‘সহীহ বুখারী’ দেখেননি; কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এটি দূরবর্তী সম্ভাবনা। আমি যা উল্লেখ করেছি সেটিই নিকটতর। আর আবু আলী যদি তার দিকে যা নিসবত করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বলতেন, তবে আমরা সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে যা পেশ করেছি তার দ্বারা তিনি খণ্ডিত হতেন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

আর মরক্কোর কোনো কোনো শায়খদের বিষয়ে... তাদের কারো কাছ থেকেই এই শ্রেষ্ঠত্বকে বিশুদ্ধতার সাথে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়টি সংরক্ষিত নেই। বরং তাদের কেউ কেউ সাধারণভাবে শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলেছেন। কাজী আবুল ফজল ইয়াদ তার ‘আল-ইলমা’ কিতাবে আবু মারওয়ান আত-তুবনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমার কোনো কোনো শায়খ সহীহ বুখারীর ওপর সহীহ মুসলিমকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন। সমাপ্ত।

আমি কোনো কোনো মরক্কোবাসী আলেমের পক্ষ থেকে এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছি; আমি ‘ফিহরিস্ত আবু মুহাম্মদ আত-তুজীবী’-তে পড়েছি যে, তিনি বলেছেন: আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বুখারীর কিতাবের ওপর মুসলিমের কিতাবকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন; কারণ এতে ভূমিকা (খুতবা)-র পরে কেবল ধারাবাহিকভাবে হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। সমাপ্ত।

আমার মতে, এই ইবনে হাজমই হলেন আবু মারওয়ান আত-তুবনীর সেই শায়খ যাকে কাজী ইয়াদ অস্পষ্ট রেখেছেন। আবার তিনি অন্য কেউও হতে পারেন, তবে তাদের উভয়ের শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার কারণ একই।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মাসলামা বিন কাসিম আল-কুরতুবীর উক্তি—যিনি দারা কুতনীর সমসাময়িক ছিলেন—যখন তিনি তার ‘তারিখ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন =
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال أبو مروان الطُبْنِيُّ (1): كان من شيوخي مَنْ يُفَضِّلُ كتابَ مسلمٍ على كتاب البخاري.

وقال مَسْلَمة بن القاسم في "تاريخه": مسلم جليلُ القَدْرِ، ثقةٌ من أئمَّةِ المُحَدِّثين، وذَكَرَ كتابَهُ "الصحيحَ" فقال: لم يَضَعْ أَحَدٌ مِثْلَهُ.

وقال أبو حامد بن الشَّرْقِيّ: سَمِعْتُ مسلمًا يقول: ما وَضَعْتُ شيئًا في هذا المسند إِلَّا بحُجَّةٍ، وما أسقطتُ منهُ إِلَّا بحُجَّةٍ.

وقال ابنُ سفيان: قال مسلمٌ: ليس كُلُّ الصحيحِ وَضَعْتُ هنا، إِنَّما وَضَعْتُ ما أجمعوا عليهِ.

وقال مسلمٌ: ولقد عَرَضْتُ كتابي هذا على أبي زُرْعة الرازيِّ فكُلُّ ما أشارَ عليَّ أَنَّ لهُ عِلَّةً .. تَرَكْتهُ، وما قال: هو صحيحٌ ليسَ له عِلَّةٌ .. أَخْرَجْتُه (2).

--------------------------------------------

= صحيح مسلم قال: (لم يَضَعْ أحدٌ مِثْلَهُ) فهذا محمولٌ على حُسْنِ الوضع وجودة الترتيب، وقد رأيتُ كثيرًا من المغاربة ممَّن صَنَّف في الأحكام بحذف الأسانيد كعبد الحق في "أحكامه" و"جَمْعِه" يعتمدون على كتاب مسلم في نَقْلِ المتونِ وسياقِها دون البخاري؛ لوجودِها عند مسلمٍ تامَّةً وتقطيع البخاري لها، فهذه جهةٌ أخرى من التفضيل لا تَرْجِعُ إِلى ما يتعلق بنفس الصحيح، والله أعَلم. "هدي الساري" (ص 12 - 13). وانظر في ذلك: "صيانة صحيح مسلم" (ص 67)، و"شرح صحيح مسلم" (1/ 14). و"شرح البخاري" (ص 7) وكلاهما للنووي، و"تحفة الأخباري" لابن ناصر الدين (ص 195 - 200)، و"عمدة القارئ والسامع" للسخاوي (ص 48 - 52)، و"الإِمام مسلم بن الحجاج ومنهجه في الصحيح" (2/ 562 و 578).

(1) هو عبد الملك بن زِيَادة الله بن علي، أبو مروان الطُبْنِيُّ، من أهل بيت جلالة ورئاسة، وكانتْ له عنايةٌ تامَّةٌ في تقييد العلم والحديث، توفي سنة سبع وخمسين وأربعمائة. والطُبْنِيُّ: نِسْبة إِلى طُبْنَة، وهي بلدةٌ في طرف إِفريقية ممَّا يلي المغرب على ضفة الزاب، وهي بضمِّ الطاء المهملة، ثم موحدة ساكنة، ثم نون مفتوحة، ثم هاء. انظر ترجمته في: "جذوة المقتبس" (ص 284)، و"الصلة" لابن بشكوال (2/ 360)، و"معجم البلدان" (4/ 21)، و"تكملة الإِكمال" لابن نقطة (3/ 50) (زيادة)، و (4/ 68) (الطبني)، و"توضيح المشتبه" (6/ 41)، و"تبصير المنتبه" (3/ 879)، و"هدي الساري" (ص 12)، ووقع في "المفهم" للقرطبي (1/ 100): (الطِّيبي) فليُصحح.

(2) انظر هذه الأقوال في "إِكمال المُعْلِم بفوائد مسلم" للقاضي عياض (1/ 79 - 81)، و"المُفْهِم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم" للقرطبي (1/ 100 - 101)، و"تقييد =
আবু মারওয়ান আত-তুবনি (১) বলেন: আমার শায়খদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যারা মুসলিমের কিতাবকে বুখারির কিতাবের ওপর প্রাধান্য দিতেন।

মাসলামা ইবনুল কাসিম তাঁর "তারিখ"-এ বলেন: মুসলিম সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং মুহাদ্দিস ইমামদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি তাঁর কিতাব "সহিহ" সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: এর মতো (কিতাব) কেউ রচনা করতে পারেননি।

আবু হামিদ ইবনুশ শারকি বলেন: আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: আমি এই মুসনাদে (সহিহ মুসলিম) কোনো কিছু দলীল ছাড়া অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং এখান থেকে কোনো কিছু দলীল ছাড়া বাদ দেইনি।

ইবনু সুফিয়ান বলেন: মুসলিম বলেছেন: আমি সমস্ত সহিহ হাদিস এখানে স্থান দিইনি, বরং আমি শুধুমাত্র তাই অন্তর্ভুক্ত করেছি যেগুলোর (সহিহ হওয়ার) ব্যাপারে তাঁরা (উলামায়ে কেরাম) ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

ইমাম মুসলিম বলেন: আমি আমার এই কিতাবটি আবু জুরআ আর-রাজির সামনে পেশ করেছি। তিনি যার ব্যাপারেই আমাকে ইঙ্গিত করেছেন যে তাতে কোনো ত্রুটি (ইল্লাত) আছে, আমি তা বর্জন করেছি। আর যা সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে এটি সহিহ এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই, আমি তা সংকলন করেছি (২)।

--------------------------------------------

= সহিহ মুসলিম সম্পর্কে তিনি বলেছেন: (এর মতো কেউ রচনা করতে পারেননি), এটি রচনার সৌন্দর্য এবং বিন্যাসের উৎকর্ষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। আমি অনেক মাগরিবি (উত্তর আফ্রিকান/স্পেনীয়) আলেমকে দেখেছি যারা সনদ বাদ দিয়ে বিধান সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন আব্দুল হক তাঁর "আহকাম" ও "জাম" গ্রন্থে। তারা মতনের বর্ণনা ও তার পূর্বাপর বিন্যাসের ক্ষেত্রে বুখারির পরিবর্তে মুসলিমের কিতাবের ওপর নির্ভর করেন; কারণ মুসলিমের কাছে হাদিসগুলো পূর্ণাঙ্গ থাকে আর বুখারি তা খণ্ড খণ্ড করে উল্লেখ করেন। সুতরাং এটি হচ্ছে শ্রেষ্ঠত্বের অন্য একটি দিক যা সহিহ হওয়ার মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়, আর আল্লাহই ভালো জানেন। "হাদইউস সারি" (পৃ. ১২-১৩)। এ বিষয়ে আরও দেখুন: "সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম" (পৃ. ৬৭), এবং "শারহু সহিহ মুসলিম" (১/১৪), এবং "শারহুল বুখারি" (পৃ. ৭); এই উভয়টিই নববী রচিত, এবং ইবনু নাসিরুদ্দীনের "তুহফাতুল আখবারি" (পৃ. ১৯৫-২০০), এবং সাখাভির "উমদাতুল ক্বারি ওয়াস সামি" (পৃ. ৪৮-৫২), এবং "আল-ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ওয়া মানহাজুহু ফিস সহিহ" (২/৫৬২ ও ৫৭৮)।

(১) তিনি হলেন আব্দুল মালিক বিন জিয়াদাতুল্লাহ বিন আলি, আবু মারওয়ান আত-তুবনি। তিনি একটি সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় পরিবারের লোক ছিলেন। ইলম এবং হাদিস লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ণ মনোযোগ ছিল। তিনি ৪৫৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। "আত-তুবনি" শব্দটি "তুবনাহ" এর দিকে সম্পৃক্ত, যা আফ্রিকার প্রান্তে মাগরিবের (মরক্কো) নিকটবর্তী জাব নদীর তীরে অবস্থিত একটি শহর। এটি ত্বা বর্ণে পেশ, তারপর বা বর্ণে সাকিন, তারপর নুন বর্ণে জবর এবং শেষে হা যোগে উচ্চারিত হয়। তাঁর জীবনী দেখুন: "জাযওয়াতুল মুকতাবিস" (পৃ. ২৮৪), ইবনু বাশকুয়ালের "আস-সিলাহ" (২/৩৬০), "মুজামুল বুলদান" (৪/২১), ইবনু নুকতার "তাকমিলাতুল ইকমাল" (৩/৫০) (জিয়াদা), এবং (৪/৬৮) (আত-তুবনি), "তাওদিহুল মুশতাবিহ" (৬/৪১), "তাবসিরুল মুনতাব্বিহ" (৩/৮৭৯), "হাদইউস সারি" (পৃ. ১২)। কুরতুবির "আল-মুফহিম" (১/১০০) গ্রন্থে "আত-তিবি" এসেছে, যা সংশোধনযোগ্য।

(২) এই বক্তব্যগুলো দেখুন: কাযি ইয়াযের "ইকমালুল মুলিম বি-ফাওয়াইদি মুসলিম" (১/৭৯-৮১), কুরতুবির "আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম" (১/১০০-১০১), এবং "তাকয়িদ...
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا مع أَن الكتابَ أحسنُ الأحاديثِ مساقًا، وأكمل سياقًا، وأَقَلّ تكرارًا، وأتقنُ اعتبارًا، وأَيسَرُ للحِفْظِ، وأَسْرَعُ للضَّبْطِ، مع أنه ذَكَرَ صَدْرًا مِنْ علمِ الحديث، ومَيَّزَ طبقاتِ المحدثين في القديمِ والحديث (1).

ولمَّا كان هذا الكتابُ بهذه الصِّفَةِ، ومُصَنِّفُهُ بهذه الحالةِ .. خَطَرَ لي أنْ أُعَلِّقَ عليهِ شرحًا يَفُكُّ مَبَانِيَه، ويَحُلُّ معانيَه، ويُفسِّرُ غَرائبَه، ويُبيِّنُ أغراضَه متنًا وسَنَدًا، ويشرحُ متابعتَه تابعًا ومتبوعًا، لفظًا ونحوًا ومعنىً، ويُبَيِّنُ موضعَ التراجمِ من الأحاديث، ويذكرُ التراجمَ للأحاديث التي لم يُتَرْجَمْ لها، وحكمةَ ما يُدْخِلُه في خلال الأسانيد مِن نحو: (يعني)، ومراجعَ الضمائر والإِشارات في نحو قوله: (مِثْلَه) و (نحوه) و (معناه)، وفي قوله: (بهذا الإِسناد) مما قد زَلَّتْ فيه أقدامُ كثيرٍ من ضُعفاءِ الطلَبة، وغَيرِ ذلك من الفوائد التي انْفَرَدَ بها عن سائرِ شُروح السابقين مما يطولُ ذِكْرُه، ويَصْعُبُ تَعْدَادُهُ ونشرُه -فيا كوكبًا وهَّاجًا للسالكين في مَسْرَاه، وروضا بهَّاجًا للنازلِينَ في مَغْنَاهُ- فَشَمَّرْتُ ذَيلَ العَزْمِ عن ساقِ الحَزْمِ، وأتيتُ بُيوتَ التصنيفِ من أبوابِها، وقُمتُ في جامعِ جوامعِ التأليفِ بَينَ أَئِمتِهِ بمحرابها، وأطلقتُ لسانَ القلمِ في ساحَاتِ الحِكَم بعبارةٍ صريحةٍ واضحةٍ، وإِشارةٍ قريبةٍ لائحة، لَخَّصْتُها من كلامِ الكُبراء الذين رَقَتْ في معارج علومِ هذا الشأن أفكارُهم، ومن إِشاراتِ الأَلِبَّاءِ الذين أنفقوا على اقتناصِ شواردِه أَعمَارَهُم، وبَذَلْتُ الجهدَ في تَفَهُّمِ أقاويلِ الفُهماءِ المُشَارِ إِليهم بالبَنَانِ، ومُمَارَسَةِ الدواوين المُؤَلَّفةِ في هذا الشأن.

ولم أتردَّد عن الإِعادة في الإِفادة عند الحاجة إِلى البيان، ولا في ضبْط الواضح عند علماء هذا الشأن؛ قصدًا لنفع الخاصّ والعامّ، راجيًا ثوابَ ذي الطَّوْل والإِنعام.

فدُونَك شرحًا قد أشرقَتْ عليهِ مِن شُرُفاتِ هذا الجامع أضواءُ نورِه اللامع، وصَدَعَ

--------------------------------------------

= المهمل" للغسّاني (1/ 66 - 67)، و"غرر الفوائد المجموعة" للعطار (2/ 764)، و"برنامج التجيبي" (ص 93).

(1) يعني بـ (القديم): مَنْ تَقَدَّم زمانَ مسلم، وبـ (الحديث): زمانَ من أدركه، وهذا إِشارةٌ إِلى قول مسلم في صدر كتابه: أنه يعمدُ إِلى جملة ما أُسند من الأخبار عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيقسمها على ثلاثة أقسام وثلاث طبقات. "المفهم" (1/ 101).
এ সত্ত্বেও গ্রন্থটি হাদীসসমূহ বিন্যাসের দিক থেকে উত্তম, প্রসঙ্গের বিচারে পূর্ণাঙ্গ, পুনরাবৃত্তির দিক থেকে সংক্ষিপ্ততম, পর্যালোচনার দিক থেকে সুনিপুণ, মুখস্থ করার জন্য সহজতর এবং আত্মস্থ করার জন্য দ্রুততর। পাশাপাশি এতে হাদীস শাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ আলোচিত হয়েছে এবং প্রাচীন ও আধুনিক মুহাদ্দিসগণের স্তরসমূহকে পৃথক করা হয়েছে (১)।

যেহেতু এই গ্রন্থটি এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং এর সংকলক এই মর্যাদার অধিকারী, তাই আমার মনে উদিত হলো যে, আমি এর ওপর এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি যা এর শব্দজট খুলবে, এর অর্থসমূহকে উন্মোচিত করবে, এর দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা দেবে এবং মতন ও সনদ উভয় দিক থেকে এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা করবে। এটি শব্দগত, ব্যাকরণগত ও অর্থগতভাবে অনুগমনকারী ও অনুগমনকৃত বিষয়ের অনুসরণকে ব্যাখ্যা করবে। হাদীসসমূহে পরিচ্ছেদের শিরোনামের স্থানসমূহ চিহ্নিত করবে এবং যেসব হাদীসের শিরোনাম দেওয়া হয়নি সেগুলোর শিরোনাম উল্লেখ করবে। সনদের মাঝে ব্যবহৃত 'অর্থাৎ', এবং 'অনুরূপ', 'এর ন্যায়', 'এই অর্থে' এবং 'এই সনদে' ইত্যাদি শব্দের সর্বনাম ও ইশারা যেদিকে ফিরেছে তার রহস্য বর্ণনা করবে; যাতে অনেক দুর্বল শিক্ষার্থীর পা পিছলে যায়। এছাড়াও এতে পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে স্বতন্ত্র এমন সব বিরল ফায়দা উল্লেখ থাকবে যা বর্ণনা করা দীর্ঘ এবং গণনা ও প্রচার করা কঠিন। হে পথযাত্রীদের জন্য তাদের চলার পথে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং এর ছায়াতলে অবস্থানকারীদের জন্য এক প্রফুল্ল বাগান! অতঃপর আমি সতর্কতার পা থেকে দৃঢ় সংকল্পের প্রান্ত উঁচু করলাম এবং রচনার ঘরে এর দ্বার দিয়ে প্রবেশ করলাম। সংকলনের শ্রেষ্ঠত্বের পাদপীঠে এর ইমামগণের মাঝে মিহরাবে দাঁড়িয়ে গেলাম। প্রজ্ঞা ও হিকমতের ময়দানে কলমের জিহ্বাকে উন্মুক্ত করলাম এক সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল অভিব্যক্তিতে এবং এক নিকটবর্তী ও স্পষ্ট ইশারায়। আমি একে এমন মহান ব্যক্তিদের কথা থেকে সারসংক্ষেপ করেছি যাদের চিন্তা-চেতনা এই বিষয়ের জ্ঞানের সোপানে আরোহণ করেছে এবং এমন বুদ্ধিমানদের ইশারা থেকে গ্রহণ করেছি যারা এর দুর্লভ বিষয়গুলো শিকারে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি অঙ্গুলি নির্দেশিত বিজ্ঞজনদের বক্তব্য অনুধাবন করতে এবং এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলি পর্যালোচনায় পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি।

ব্যাখ্যার প্রয়োজনে উপকার সাধনের স্বার্থে পুনরাবৃত্তি করতে আমি দ্বিধা বোধ করিনি, আর এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট যা স্পষ্ট তা সুনির্দিষ্ট করতেও পিছপা হইনি; যাতে করে বিশেষ ও সাধারণ সবাই উপকৃত হয়। আমি অসীম দাতা ও অনুগ্রহকারীর নিকট এর সওয়াব প্রত্যাশা করছি।

সুতরাং গ্রহণ করুন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি, যার ওপর এই জামে’র (সংকলনের) উচ্চশিখর হতে এর উজ্জ্বল আলোর আভা বিকিরিত হয়েছে...

--------------------------------------------

গাসসানী কৃত "আল-মুহমাল" (১/ ৬৬-৬৭), আত্তার কৃত "গুরারুল ফাওয়ায়িদিল মাজমুআহ" (২/ ৭৬৪) এবং "বারনামাজুত তুজীবী" (পৃষ্ঠা ৯৩)।

(১) 'প্রাচীন' বলতে তিনি ইমাম মুসলিমের যুগের পূর্ববর্তীদের বুঝিয়েছেন এবং 'আধুনিক' বলতে যারা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন তাদের বুঝিয়েছেন। এটি ইমাম মুসলিমের তাঁর কিতাবের শুরুতে করা উক্তির প্রতি ইশারা: যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহকে তিন ভাগে এবং তিন স্তরে বিন্যস্ত করার সংকল্প করেছেন। "আল-মুফহিম" (১/ ১০১)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
خَطِيبُه على منبره السَّامي بالحُجَج القواطع القلوبَ والمسامع، أضاءَتْ بهجتُه فاختفَتْ منهُ الكواكبُ الطالعةُ قَبْلَه.

وبالجملةِ: فإنما أنا من لوامع أنوارهم مُقْتَبس، ومن فواضِل فضائلهم مُلْتَمِس، وخَدَمْتُ بهِ الأبوابَ النبويةَ، والحضرةَ المصطفيةَ، راجيًا أن يُتَوِّجني بتاج القبول والإِقبال، ويُجيزني بجائزةِ الرِّضا في الحال والمآل، ويُتمّم مُرادي فيه وفي جميعِ الآمالِ.

 

وسمّيتهُ:

"الكوكب الوَهَّاج والروض البَهَّاج في شرح صحيح مسلم بن الحَجَّاج"

واللهَ سبحانه وتعالى أسألُ التوفيقَ والهدايةَ، والإِرشادَ إِلى سلوكِ طُرُقِ الصواب والسَّداد، والمساعدةَ لي من فُيوضاته الهاطلة وسُيولاته السائلة من أمطار سحائب جوده وفضله بمنه وكرمه وإِحسانه وطَوْله، وأنْ يُعينَني فيما قَصَدْتُه على التكميل، قبل أن يختَرِمَني الأجلُ والترحيل، فهو سبحانَهُ حسبي ونعْمَ الوكيل، وما أحسنَ قولَ بعضِهم (1):

اغْتَنِمْ فِي الفَرَاغِ شُغْلَ عُلومٍ … فَعَسَى أنْ يَكُونَ مَوْتُكَ بَغْتَهْ

كَمْ صَحِيحٍ رَأَيتَ مِنْ غَيرِ سُقْمٍ … ذَهَبَتْ نَفْسُهُ الصحيحةُ فَلْتَهْ

وقد استحسنتُ قبلَ الشُّروعِ فيهِ أنْ أذكرَ مُقَدّماتٍ مشتملة على ما لا بُدَّ للطالب من معرفته.

رَبِّ أَكْرِمْنِي بالنهاية كما وَفَّقْتَنِي بالبدايةِ، واجْعَلْ لِي في عُمُرِي البركةَ إِلى أنْ أكمّله وشَرْحَ ابنِ مَاجَهْ. آمين.

4/ 1 / 1419 هـ

--------------------------------------------

(1) وهو الإِمام البخاري رحمه الله تعالى، ذكر ذلك الحاكم في "تاريخ نيسابور". انظر "هدي الساري" للحافظ ابن حجر (ص 481)، و"عمدة القارئ والسامع" للحافظ السخاوي (ص 47)، و"طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي (2/ 235)، والشطر الأولُ فيها: اغْتَنِمْ في الفراغ فَضْلَ ركوع. وعقّب الحافظ ابن حجر على هذين البيتين بقوله: (وكان من العجائب أنه هو وَقَعَ له ذلك أو قريبًا منه كما سيأتي في ذِكْر وفاته" (ص 493).
তাঁর সুউচ্চ মিম্বরে তাঁর খতিব এমন অকাট্য দলীলসমূহের মাধ্যমে ভাষণ দেন যা অন্তর ও শ্রবণেন্দ্রিয়কে জয় করে নেয়; তাঁর জ্যোতি এমনভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে যে, তাঁর পূর্বে উদিত সকল উজ্জ্বল নক্ষত্র তাতে ম্লান হয়ে গেছে।

সারকথা: আমি তো কেবল তাঁদের জ্ঞানের প্রজ্জ্বলিত আলোকচ্ছটা থেকে গ্রহণকারী এবং তাঁদের সুমহান ফযিলতের অতিরিক্ত অংশ থেকে অন্বেষণকারী মাত্র। আমি এর মাধ্যমে নববী দরবার ও মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহান সান্নিধ্যের সেবা করেছি, এই প্রত্যাশায় যে, তিনি আমাকে কবুলিয়ত ও সৌভাগ্যের মুকুটে ভূষিত করবেন, ইহকাল ও পরকালে সন্তুষ্টির পুরস্কার দান করবেন এবং এই কিতাবে ও আমার সকল আশা-আকাঙ্ক্ষায় আমার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন।

 

আমি এর নামকরণ করেছি:

"আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ ওয়াল-রাওদুল বাহহাজ ফি শারহি সহিহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ"

আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট তাওফিক, হিদায়াত এবং সঠিক ও ঋজু পথে চলার দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করছি। আমি তাঁর অনুগ্রহ, মহানুভবতা, ইহসান ও বদান্যতার মাধ্যমে তাঁর দান ও কৃপার মেঘমালা থেকে অঝোর ধারায় বর্ষিত করুণা ও প্রসাদধারার সাহায্য কামনা করছি। মৃত্যু ও বিদায়ের সময় উপস্থিত হওয়ার আগেই আমি যা সংকল্প করেছি তা পূর্ণ করতে তিনি যেন আমাকে সহায়তা করেন; কেননা তিনি পবিত্র সত্তা, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। জনৈক কবির উক্তি কতই না চমৎকার (১):

অবসর সময়ে জ্ঞানচর্চাকে গনিমত জ্ঞান করো ... কেননা হতে পারে তোমার মৃত্যু হবে আকস্মিক।

কত সুস্থ মানুষকে তুমি দেখেছ কোনো ব্যাধি ছাড়াই ... যার সুস্থ প্রাণটি হঠাৎ নির্গত হয়ে গেছে।

মূল বিষয় শুরু করার আগে আমি এমন কিছু ভূমিকা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি, যা জানা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য।

হে আমার প্রতিপালক! আপনি যেভাবে আমাকে সূচনার তাওফিক দিয়েছেন, তদ্রূপ সমাপ্তির মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করুন। আমার আয়ুর মধ্যে বরকত দান করুন যতক্ষণ না আমি এটি এবং ইবনে মাজাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পন্ন করি। আমিন।

৪/ ১ / ১৪১৯ হিজরী

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। হাকেম এটি "তারিখু নিসাবুর"-এ উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার প্রণীত "হাদয়ুস সারি" (পৃষ্ঠা ৪৮১), হাফেজ সাখাওয়ী প্রণীত "উমদাতুল ক্বারি ওয়াস সামি" (পৃষ্ঠা ৪৭) এবং সুবকী প্রণীত "তাবাক্বাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা" (২/২৩৫) দেখুন। এতে প্রথম পঙ্‌ক্তিটি হলো: "অবসরে রুকুর (নামাজ) ফযিলতকে গনিমত মনে করো।" হাফেজ ইবনে হাজার এই দুই পঙ্‌ক্তির ওপর মন্তব্য করে বলেন: "আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তাঁর নিজের ক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটেছিল অথবা এর কাছাকাছি কিছু ঘটেছিল, যা তাঁর মৃত্যুর বিবরণে সামনে আসবে" (পৃষ্ঠা ৪৯৩)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌مقدِّماتٌ

‌‌المقدمةُ الأُولى في ترجمة الإِمام مسلم رحمه الله تعالى

هو الإِمام الحافظ الحُجَّة مُسْلِم بن الحَجَّاج بن مُسْلِم القُشَيرِي (1)، أبو الحُسَين النَّيسابوري.

روى عن القَعْنَبِي، وأحمد بن يونس، وإِسماعيل بن أبي أُوَيس، وداود بن عَمْرو الضبيّ، ويحيى بن يحيى النَّيسابوري، والهيثم بن خارجة، وسعيد بن منصور، وشَيبان بن فَرُّوخ، وخَلْقٍ كثير قد ذُكِرُوا في هذا الجامع.

وروى عنه الترمذيُّ حديثًا واحدًا: عن يحيى بن يحيى، عن أبي معاوية، عن محمد بن عَمْرو، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة حديث: "أَحْصُوا هلال شعبانَ لرمضان" (2)، ما له في جامع الترمذي غيره.

--------------------------------------------

(1) قلتُ: اختُلف في نِسْبة الإِمام مسلم إِلى قبيلة قُشَير بن كعب، هل هو من أنفسهم أو من مواليهم؟ فقال الإِمام ابنُ الصلاح في "علوم الحديث" (ص 14) في (النوع الأول من أنواع علوم الحديث معرفة الصحيح من الحديث): (القُشَيري من أنفسهم)، وتَرَدَّدَ الحافظ الذهبيُّ في ذلك، فقال في "سير أعلام النبلاء" (12/ 558): (فَلَعَلَّهُ من موالي قُشَير)، وقال الإِمام القاسم بن يوسف التجيبي في "برنامجه" (ص 93): (تنبيه: رُوِّينا عن الحافظ أبي عَمْرو بن الصلاح رحمه الله تعالى: أنه ذَكَرَ مسلمًا هذا فقال فيه: "القُشَيري من أنفسهم"، وكذلك رأيتُ كثيرًا من أهل الحديث يقولون فيه: "القُشيري" مطلقًا.

وأخبرنا العلّامة النسّابة شرف الدين أبو محمد التوني -أُعجوبة زمانهِ في حفظ الأنساب- بقراءتي عليه في بعض تخاريجه ومجموعاته إِثْرَ حديثٍ وَقَعَ له مصافحة لمسلمٍ رحمه الله تعالى، قال فيه: "لكأني شافهتُ فيه الإِمامَ الناقدَ أبا الحُسَين مسلم بنَ الحَحاج المُضَري القيسي الهوازني العامري القُشَيري، مولى قُشَير بن كعب … " انتهى كلام الشرف التوني، وقال فيه: "مولى قُشَير" وهو حُجَّةٌ في هذا الباب، والله تعالى أعلم بالصواب).

(2) "سنن الترمذي" حديث رقم (687)، كتاب الصوم، 4 - باب ما جاء في إِحصاء هلال شعبان لرمضان.
ভূমিকা সমূহ

ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহির জীবনী বিষয়ক প্রথম ভূমিকা

তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, হুজ্জাহ (দলিল) মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী (১), আবু আল-হুসাইন আন-নিশাপুরী।

তিনি আল-কায়নাবী, আহমদ ইবনে ইউনুস, ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস, দাউদ ইবনে আমর আদ-দাব্বি, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আন-নিশাপুরী, আল-হাইসাম ইবনে খারি জাহ, সাঈদ ইবনে মানসুর, শাইবান ইবনে ফাররুখ এবং আরও বহুসংখ্যক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের কথা এই সংকলনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিরমিযী তাঁর নিকট থেকে মাত্র একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "রমজানের উদ্দেশ্যে শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো" (২); জামে তিরমিযীতে তাঁর থেকে এটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস নেই।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: কুশাইর ইবনে কাব গোত্রের সাথে ইমাম মুসলিমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তিনি কি স্বয়ং সেই বংশের লোক নাকি তাদের মুক্ত করা গোলাম (মাওয়ালি)? ইমাম ইবনুস সালাহ 'উলুমুল হাদিস' (পৃষ্ঠা ১৪) গ্রন্থে (হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদের প্রথম প্রকার: সহিহ হাদিস পরিচিতি আলোচনায়) বলেছেন: (তিনি মূল কুশাইরী বংশেরই অন্তর্ভুক্ত), তবে হাফেজ আয-যাহাবি এ বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। তিনি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১২/৫৫৮) গ্রন্থে বলেছেন: (সম্ভবত তিনি কুশাইর গোত্রের মাওয়ালি ছিলেন)। ইমাম কাসেম ইবনে ইউসুফ আত-তুজিবি তাঁর 'বারনামাজ' (পৃষ্ঠা ৯৩) গ্রন্থে বলেছেন: (সতর্কবার্তা: আমরা হাফেজ আবু আমর ইবনুস সালাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি মুসলিমের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি মূল কুশাইরী বংশের লোক"। একইভাবে আমি হাদিস বিশারদদের অনেককেই তাকে নিঃশর্তভাবে "কুশাইরী" বলতে দেখেছি।

বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ আল্লামা শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আত-তুনি—যিনি বংশলতিকা সংরক্ষণে তাঁর যুগের বিস্ময় ছিলেন—তাঁর নিকট পাঠকালে তিনি তাঁর কিছু সংকলনে ইমাম মুসলিমের (রহ.) সাথে মুসাফাহা করার একটি সনদের হাদিসের পরে আমাকে জানিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেছেন: "আমি যেন এই হাদিসটি সরাসরি পারদর্শী ইমাম আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-মুদারি আল-কাইসি আল-হাওয়াজিনি আল-আমিরি আল-কুশাইরী থেকে শ্রবণ করেছি, যিনি কুশাইর ইবনে কাবের মাওয়ালি (মুক্ত করা গোলাম) ছিলেন..."। শরফ আত-তুনির কথা এখানেই শেষ। তিনি তাকে "কুশাইরের মাওয়ালি" বলেছেন এবং এ বিষয়ে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ। আল্লাহ তাআলাই সঠিক বিষয়ে অধিক অবগত)।

(২) "সুনান তিরমিযী" হাদিস নং (৬৮৭), রোজা অধ্যায়, ৪ - রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وروى عنه أيضًا: أبو الفضل أحمد بن سلمة، وإِبراهيم بن أبي طالب، وأبو عَمْرو الخفَّاف، وحُسَين بن محمد القَبَّاني، وأبو عَمْرو الْمستَمْلِي، وصالح بن محمد الحافظ، وعلي بن الحَسَنِ الهلالي، ومحمد بن عبد الوهّاب الفرَّاء وهما من شيوخه، وعلي بن الحُسَين بن الجُنَيد، وابن خُزَيمة، ويحيى بن محمد بن صاعد، والسَّرَّاج، ومحمد بن عَبْد بن حُمَيد، وأبو حامد وعبد الله ابنا الشرقي، وعلي بن إِسماعيل الصفَّار، وأبو محمد بن أبي حاتم الرازي، وإِبراهيم بن محمد بن سفيان، ومحمد بن مَخْلَد الدُّوري، وإِبراهيم بن محمد بن حمزة، وأبو عَوَانة الإِسفراييني، ومحمد بن إِسحاق الفاكهي في "كتاب مكة"، وأبو حامد الأعمشي، وأبو حامد بن حسنويه، وخَلْقٌ آخرون.

قال أبو عَمْرو المُسْتَمْلِي: أَمْلَى علينا إِسحاقُ بن منصورٍ سنة إِحدى وخمسين ومائتين، ومسلم ينتخبُ عليه وأنا أستملي، فنَظَرَ إِسحاقُ بن منصورٍ إِلى مسلمٍ فقال: لن نَعْدَمَ الخيرَ ما أبقاكَ اللهُ للمسلمين.

وقال الحاكم (1): سمعتُ أبا عبد الله محمد بن يعقوب، سمعتُ أحمد بن سلمة يقول: عُقِدَ لمسلمٍ مجلسٌ للمذاكرة، فذُكِرَ لهُ حديثٌ فلم يعرفه، فانصرفَ إِلى منزله، وقُدِّمَتْ له سَلَّةٌ فيها تمرٌ، فكان يطلبُ الحديثَ ويأخذُ تمرةً تمرةً فأصبح وقد فَنِيَ التمرُ ووَجَدَ الحديثَ. زاد غيرهُ: فكان ذلك سببَ موتهِ (2).

تُوفِّي عشية يوم الأحد، ودُفِنَ يوم الاثنين، قال محمد بن يعقوب: مات لخمسٍ بَقِينَ من رجب سنة إِحدى وستين ومائتين، وقد وافى سنّ الكهولة، مات وهو ابنُ خمسٍ وخمسين سنة، وقال غيره: وُلِدَ سنة أربع ومائتين (3).

--------------------------------------------

(1) في "تاريخ نيسابور" كما نصَّ على ذلك ابن الصلاح في "صيانة صحيح مسلم"، (ص 63).

(2) قال ابنُ الصلاح: فكان لموته سَبَبٌ غريبٌ نشأَ عن غمرةٍ فكريةٍ عِلمية. (المصدر السابق ص 62).

(3) قال ابن الصلاح: مات مسلم رحمه الله سنة إِحدى وستين ومائتين بنيسابور، وهذا مشهور، لكنَّ تاريخَ مولدهِ ومقدارَ عُمُرِه كثيرًا ما تطلَّبَ الطلابُ عِلْمَه فلا يجدونه، وقد وَجَدْنَاه ولله الحمدُ، فذكرَ الحاكمُ أبو عبد اللهِ بنُ البَيِّع الحافظُ في كتاب "المزكّين لرواة الأخبار": أنه سَمعَ أبا عبد الله بنَ الأخرم الحافظَ يقولَ: تُوفِّي مسلمُ بن الحَجَّاج رحمه الله عشيّة يوم الأحد، ودُفن يوم الاثنين لخمسٍ بقين من رجب سنة إِحدى وستين ومائتين، وهو ابنُ خمسٍ =

26
তাঁর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন: আবু আল-ফজল আহমদ বিন সালামাহ, ইব্রাহিম বিন আবি তালিব, আবু আমর আল-খাফফাফ, হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-কাব্বানি, আবু আমর আল-মুস্তামলি, সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-হাফিজ, আলী বিন আল-হাসান আল-হিলালি এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ফাররা—যাঁরা উভয়ই তাঁর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আলী বিন আল-হুসাইন বিন আল-জুনায়েদ, ইবনে খুজাইমাহ, ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ, আস-সাররাজ, মুহাম্মদ বিন আবদ বিন হুমাইদ, আবু হামিদ এবং আব্দুল্লাহ—আশ-শারকির দুই পুত্র, আলী বিন ইসমাইল আস-সাফফার, আবু মুহাম্মদ বিন আবি হাতিম আর-রাজি, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান, মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আদ-দুরি, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন হামজাহ, আবু আওয়ানাহ আল-ইসফরাইনি, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ফাকিহি তাঁর "কিতাব মক্কা" গ্রন্থে, আবু হামিদ আল-আমাসি, আবু হামিদ বিন হাসনুয়াহ এবং আরও অনেকে।

আবু আমর আল-মুস্তামলি বলেন: ২৫১ হিজরি সনে ইসহাক বিন মানসুর আমাদের নিকট হাদিস শ্রুতিলিপি (ইমলা) দিচ্ছিলেন, ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে হাদিস চয়ন করছিলেন এবং আমি তা লিখে নিচ্ছিলাম। তখন ইসহাক বিন মানসুর মুসলিমের দিকে তাকিয়ে বললেন: যতক্ষণ আল্লাহ আপনাকে মুসলমানদের জন্য জীবিত রাখবেন, ততক্ষণ আমরা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হব না।

আল-হাকিম বলেন (১): আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আহমদ বিন সালামাহকে বলতে শুনেছি: ইমাম মুসলিমের জন্য একবার একটি হাদিস পর্যালোচনার (মুজাকারাহ) মজলিসের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তাঁর সামনে একটি হাদিস উল্লেখ করা হলে তিনি সেটি চিনতে পারলেন না। এরপর তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে এলেন। তাঁর সামনে এক ঝুড়ি খেজুর পেশ করা হলো। তিনি হাদিসটি অনুসন্ধান করতে লাগলেন এবং একটি একটি করে খেজুর খেতে থাকলেন। ভোর হয়ে গেল, খেজুরও শেষ হয়ে গেল এবং তিনি হাদিসটিও খুঁজে পেলেন। অন্য বর্ণনাকারী যোগ করেছেন: এটিই ছিল তাঁর মৃত্যুর কারণ (২)।

তিনি রবিবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন এবং সোমবার তাঁকে দাফন করা হয়। মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বলেন: ২৬১ হিজরি সনের রজব মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি তখন প্রৌঢ়ত্বে উপনীত হয়েছিলেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল পঞ্চান্ন বছর। অন্য বর্ণনাকারী বলেন: তিনি ২০৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) "তারিখু নাইসাবুর" গ্রন্থে, যেমনটি ইবনে আস-সালাহ "সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম" (পৃষ্ঠা ৬৩) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

(২) ইবনে আস-সালাহ বলেন: তাঁর মৃত্যুর একটি অদ্ভুত কারণ ছিল যা মূলত জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নিমগ্নতা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। (পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬২)।

(৩) ইবনে আস-সালাহ বলেন: ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২৬১ হিজরি সনে নাইসাবুরে ইন্তেকাল করেন, এটি প্রসিদ্ধ। তবে তাঁর জন্ম তারিখ এবং বয়সের পরিমাণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই জানতে চাইত কিন্তু তা খুঁজে পেত না। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা তা খুঁজে পেয়েছি। হাফিজ আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-বাইয়্যি' তাঁর "আল-মুজাক্কিনা লি-রুওয়াতিল আখবার" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-আখরামকে বলতে শুনেছেন: মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২৬১ হিজরি সনের রজব মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে রবিবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন এবং সোমবার তাঁকে দাফন করা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল পঞ্চান্ন বছর =

২৬
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قلتُ -القائل هو الحافظ ابن حجر-: حَصَلَ لمسلمٍ في كتابهِ حَظٌّ عظيمٌ مفرطٌ لم يحصل لأحدٍ مثله؛ بحيث إِنَّ بعض الناس كان يُفَضِّلُه على "صحيح" محمد بن إِسماعيل، وذلك لما اخْتَصَّ به من جَمْعِ الطُّرُق، وجَوْدَةِ السِّياق، والمحافظةِ على أداء الألفاظ كما هي من غير تقطيع ولا روايةٍ بمعنىً، وقد نَسَجَ على مِنْوَالِهِ خَلْقٌ من النَّيسَابُورِيِّينَ فلم يبلغوا شَأْوَه، وحفظت منهم أكثر من عشرين إِمامًا ممن صَنَّفَ المستخرج على مسلم، فسبحانَ المعطي الوهَّاب.

وله من التصنيف غير الجامع: كتاب "الانتفاع بجلود السباع"، و"الطبقات" مختصر، و"الكنى" كذلك، و"مسند حديث مالك"، وذكره الحاكم في "المستدرك" (1) في كتاب الجنائز استطرادًا.

وقيل: إِنَّه صَنَّف مسندًا كبيرًا على الصحابة لم يتمّ.

قال الحاكم: كان تامَّ القامة، أبيضَ الرأس واللحية، يُرخي طرف عمامته بين كَتِفَيه.

قال فيه شيخه محمد بن عبد الوهاب الفَرَّاء: كان مسلمٌ من علماء الناس وأوعية العلم، ما علمته إِلا خيرًا، وكانَ بَزَّازًا، وكان أبوه الحَجَّاجُ من المشيخة.

وقال ابن الأخرم: إِنما أخرجتْ مدينتُنا هذه من رجال الحديث ثلاثةً: محمدَ بنَ يحيى، وإِبراهيمَ بنَ أبي طالب، ومسلم بن الحَجَّاج.

وقال ابن عُقْدة: قَلَّما يقعُ الغلطُ لمسلمٍ في الرجال؛ لأنه كَتَبَ الحديثَ على وجهه.

وقال أبو بكر الجارودي: حَدَّثنا مسلم بن الحجاج وكان من أوعية العلم.

وقال مَسْلَمَة بن قاسم: ثقةٌ جليلُ القَدْرِ من الأئمة.

--------------------------------------------

= وخمسين سنة، وهذا يتضمَّن أَن مولده كان في سنة ستّ ومائتين، والله أعلم. "صيانة صحيح مسلم" (ص 62).

وكذلك صرَّح ابنُ الأثير في "جامع الأصول" (1/ 109) أنه وُلِدَ سنةَ ستّ ومائتين.

(1) (1/ 352) حديث رقم (1300)، ونصُّه فيه: وعند حديث مالك جَمْع مسلم بن الحجاج بَدَأَ بهذا الحديث من شيوخ مالك.
আমি বলছি—যিনি বলছেন তিনি হলেন হাফেজ ইবন হাজার—: মুসলিম তাঁর কিতাবের মাধ্যমে এমন এক বিশাল ও অসামান্য মর্যাদা লাভ করেছেন যা তাঁর মতো আর কেউ পাননি; এমনকি কোনো কোনো মানুষ একে মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের "সহীহ"-এর ওপরও প্রাধান্য দিতেন। আর এটি হয়েছে বিভিন্ন সূত্রের একত্রীকরণ, বিন্যাসের শ্রেষ্ঠত্ব এবং শব্দাবলিকে কোনো প্রকার কর্তন বা মর্মগত বর্ণনা ছাড়াই হুবহু সংরক্ষণের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে। নিসাবুরের বহু লোক তাঁর পদ্ধতিতে গ্রন্থ রচনা করেছেন কিন্তু কেউ তাঁর উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। আমি তাঁদের মধ্য থেকে বিশজনেরও বেশি ইমামের কথা জানি যারা মুসলিমের ওপর "মুস্তাখরাজ" সংকলন করেছেন। সুতরাং মহিমান্বিত সেই মহান দাতা ও দানশীল।

তাঁর "জামে" (সহীহ মুসলিম) ব্যতীত অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে: "হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহারের বিধান" নামক কিতাব, "আত-তাবাকাত" (সংক্ষিপ্ত), "আল-কুনা" (সংক্ষিপ্ত), এবং "মুসনাদু হাদিসি মালিক"। হাকেম তাঁর "আল-মুস্তাদরাক" (১) গ্রন্থের জানাজা অধ্যায়ে প্রসঙ্গক্রমে এর উল্লেখ করেছেন।

বলা হয়েছে যে, তিনি সাহাবীদের বর্ণনার বিন্যাসে একটি বিশাল "মুসনাদ" সংকলন করেছিলেন যা সমাপ্ত হয়নি।

হাকেম বলেন: তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন, তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি ছিল সাদা, এবং তিনি তাঁর পাগড়ির প্রান্তভাগ দুই কাঁধের মাঝখানে ঝুলিয়ে রাখতেন।

তাঁর সম্পর্কে তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ফাররা বলেন: মুসলিম ছিলেন শ্রেষ্ঠ আলেমদের একজন এবং জ্ঞানের আধার; আমি তাঁর সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই জানি না। তিনি কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তাঁর পিতা হাজ্জাজ ছিলেন প্রবীণ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত।

ইবনুল আখরাম বলেন: আমাদের এই শহর হাদিসের ইমামদের মধ্য থেকে কেবল তিনজনকে বের করে এনেছে: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, ইব্রাহিম বিন আবু তালিব এবং মুসলিম বিন হাজ্জাজ।

ইবনু উকদাহ বলেন: বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে মুসলিমের ভুল হওয়া খুবই বিরল; কারণ তিনি হাদিসকে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন।

আবু বকর আল-জারুদি বলেন: মুসলিম বিন হাজ্জাজ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন জ্ঞানের আধার।

মাসলামাহ বিন কাসিম বলেন: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ইমাম।

--------------------------------------------

...এবং পঞ্চাশ বছর। এটি নির্দেশ করে যে তাঁর জন্ম ছিল ২০৬ হিজরি সনে, আল্লাহই ভালো জানেন। "সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম" (পৃষ্ঠা ৬২)।

একইভাবে ইবনুল আসির "জামেউল উসুল" (১/ ১০৯) গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ২০৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।

(১) (১/ ৩৫২) হাদিস নম্বর (১৩০০), এবং সেখানে এর ভাষ্য হলো: ইমাম মালিকের হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে মুসলিম বিন হাজ্জাজ মালিকের উস্তাদদের থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি দিয়ে শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال ابنُ أبي حاتم: كتبتُ عنه، وكان ثقةً من الحُفَّاظ، له معرفةٌ بالحديث، وسُئِلَ عنه أبي فقال: صدوق.

وقال بُنْدَار: الحُفَّاظُ أربعة: أبو زُرْعة، ومحمد بن إِسماعيل، والدَّارِمي، ومسلم". اهـ من " تهذيب التهذيب".

***
ইবনে আবু হাতিম বলেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে লিখেছি, তিনি হাফেযদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ছিলেন এবং হাদীস শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ বুৎপত্তি ছিল। আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: 'সদুক' (সত্যবাদী)।"

বুন্দার বলেন: "হাফেয হলেন চারজন: আবু যুরআ, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল, আদ-দারিমি এবং মুসলিম।" — 'তহযীবুত তহযীব' থেকে সমাপ্ত।

***
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المقدمة الثانية في ميزة "جامعه"

قال في "كشف الظنون" (1/ 555): (الجامع الصحيح للإِمام الحافظ أبي الحُسَين مسلم بن الحَجَّاج القُشَيري النيسابوري الشافعي، المتوفى سنة إِحدى وستين ومائتين، هو الثاني من الكتب الستّة، وأحدُ الصحيحَينِ اللذّينِ هما أَصَحُّ الكُتب بعد كتاب الله العزيز).

وذَكَرَ الإِمامُ النَّوَويّ في أول شرحهِ (1/ 14): أَن أبا عليٍّ الحُسَينَ بنَ عليّ النيسابوريَّ شيخَ الحاكمِ قال: (ما تحت أديم السماء أصحّ من كتاب مسلم)، ووافَقَهُ بعضُ شيوخِ المغرب، وعن النَّسائي قال: (ما في هذه الكتب كلّها أجود من كتاب البخاري).

قال النوويّ: (وقد انْفَرَدَ مسلمٌ بفائدةٍ حسنةٍ، وهي كونهُ أسهلَ متناولًا من حيثُ إِنه جَعَلَ لكُلِّ حديثٍ موضعًا واحدًا يَلِيقُ بهِ، جَمَعَ فيهِ طُرُقَهُ التي ارتضاها، وأَوْرَدَ فيهِ أسانيدَهُ المتعددةَ، وألفاظَه المختلِفة، فيَسْهُلُ على الطالب النَّظَرُ في وُجُوهِهِ واستثمارُها، ويحصلُ له الثقةُ بجميعِ ما أورده مسلمٌ من طُرُقهِ، بخلافِ البخاري في ذلك.

وعن مكي بن عبدان رحمه الله تعالى قال: سمعتُ مسلمًا يقول: لو أَن أهلَ الحديثِ يكتبون مئتي سنة الحديثَ .. فمدارُهم على هذا المسند -يعني صحيحَه- وقال: صنَّفْتُ هذا المسند من ثلاثمائة ألف حديث مسموعة ((1).

قال ابنُ الصلاح: (شَرْطُ مسلمٍ في "صحيحه": أن يكون الحديثُ متّصلَ الإِسنادِ، بنَقْلِ الثقة عن الثقة من أوله إِلى مُنتهاه، سالمًا من الشُّذوذ ومن العِلَّة، قال: وهذا حَدُّ الصحيح، وكم من حديثٍ صحيحٍ على شرط مسلم وليس بصحيحٍ على شرط البخاري؛ لكَوْنِ الرُّواةِ عنده ممن اجتمعتْ فيهم الشُّرُوطُ المُعْتَبَرَةُ، ولم يَثْبُتْ عند البخاري ذلك فيهم) (2).

--------------------------------------------

(1) "شرح النووي" (1/ 14 - 15)، وهو من كلام ابن الصلاح في "صيانة صحيح مسلم" (ص 69).

(2) "صيانة صحيح مسلم" (ص 72 - 73).
দ্বিতীয় ভূমিকা: তাঁর "জামে"-এর (সংকলনের) বিশেষত্ব প্রসঙ্গে

"কাশফুয যুনুন" (১/ ৫৫৫) গ্রন্থে বলা হয়েছে: (ইমাম হাফিজ আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী আন-নাইসাবুরী আশ-শাফিঈ—যিনি ২৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন—কর্তৃক সংকলিত "আল-জামে আস-সহীহ" হলো কুতুবে সিত্তাহ বা ছয়টি কিতাবের মধ্যে দ্বিতীয়, এবং এটি সেই 'সহীহাইন'-এর (দুটি সহীহ গ্রন্থ) একটি যা আল্লাহর কিতাব মহিমান্বিত কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব)।

ইমাম আন-নববী তাঁর শারাহ বা ব্যাখ্যার শুরুতে (১/ ১৪) উল্লেখ করেছেন যে, আল-হাকিমের উস্তাদ আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আন-নাইসাবুরী বলেছেন: (আকাশের নিচে মুসলিমের কিতাব অপেক্ষা বিশুদ্ধতর আর কোনো কিতাব নেই), এবং মাগরিব অঞ্চলের কিছু শায়খ তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আর নাসায়ী থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: (এই সকল কিতাবের মধ্যে বুখারীর কিতাব অপেক্ষা উৎকৃষ্ট আর কিছু নেই)।

নববী বলেন: (ইমাম মুসলিম একটি চমৎকার বৈশিষ্ট্যে অনন্য হয়ে আছেন, আর তা হলো—এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহজতর। কারণ তিনি প্রতিটি হাদীসের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর মনোনীত সনদ বা পথগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং সেখানে হাদীসের একাধিক সনদ ও বিভিন্ন শব্দবিন্যাস উল্লেখ করেছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীর জন্য হাদীসের বিভিন্ন দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করা ও তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয় এবং ইমাম মুসলিম তাঁর উদ্ধৃত সনদগুলোর মাধ্যমে যা বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীর পূর্ণ আস্থা অর্জিত হয়; যা বুখারীর ক্ষেত্রে ভিন্নতর)।

মাক্কী ইবনে আবদান (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইমাম মুসলিমকে বলতে শুনেছি: যদি হাদীসবিদগণ দুইশ বছর ধরেও হাদীস লিখে চলেন, তবে তাঁদের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে এই মুসনাদ—অর্থাৎ তাঁর "সহীহ" গ্রন্থ। তিনি আরও বলেন: আমি তিন লক্ষ শ্রুত হাদীস থেকে এই মুসনাদ সংকলন করেছি।

ইবনুস সালাহ বলেন: (তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে ইমাম মুসলিমের শর্ত হলো: হাদীসটির সনদ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর থেকে বর্ণনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে এবং তা শায (ব্যতিক্রমী) ও ইল্লাত (সুক্ষ্ম ত্রুটি) থেকে মুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন: আর এটিই হলো 'সহীহ' হাদীসের সংজ্ঞা। এমন অনেক হাদীস রয়েছে যা ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ কিন্তু ইমাম বুখারীর শর্ত অনুযায়ী সহীহ নয়; কারণ মুসলিমের নিকট সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য শর্তাবলি বিদ্যমান থাকলেও ইমাম বুখারীর নিকট তাদের ব্যাপারে তা প্রমাণিত হয়নি)।

--------------------------------------------

(১) "শারহু নববী" (১/ ১৪-১৫), এবং এটি ইবনুস সালাহ-এর "সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম" (পৃষ্ঠা ৬৯) থেকে গৃহীত।

(২) "সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম" (পৃষ্ঠা ৭২-৭৩)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وعددُ من احتجَّ بهم مسلمٌ في "الصحيح" ولم يحتجَّ بهم البخاريّ لسِتّ مئةٍ وخمسةٌ وعشرون شيخًا، ورُوي عن مسلم: أَنَّ كتابه (أربعةُ آلافِ حديثٍ) دون المُكَرَّرات (1)، وبالمُكَرَّرات (سبعةُ آلاف ومئتان وخمسةٌ وسبعون حديثًا) (2).

ثم إِنَّ مسلمًا رَتَبَ كتابَه على الأبواب، ولكنه لم يذكر تراجمَ الأبواب، وقد ترجم جماعةٌ أبوابَه استنباطًا من الحديث بحسب ما ظَهَرَ لهم، ولكنه فيه أحاديث لم يذكروا ترجمتها، ولا تدخل في الترجمة السابقة، فيعترض بها على الترجمة؛ لعدم مطابقتها للترجمة، فتحتاج إِلى استنباط ترجمةٍ جديدةٍ لها من الحديث، وذلك موجودٌ فيه في مواضع عديدة (3).

وذكر مسلمٌ في أول مقدمة "صحيحه" أنه قسم الأحاديثَ ثلاثةَ أقسام:

الأول: ما رواه الحُفَّاظُ المُتْقِنُون المشهورون.

الثاني: ما رواه المستورون المتوسطون في الحِفْظ والإِتقان.

الثالث: ما رواه الضعفاء المتروكون، فاختلف العلماء في مراده بهذا التقسيم.

وقال ابنُ عساكر في "الإِشراف على معرفة الأطراف": (إِنه رَتَّبَ كتابَه على قسمَينِ، وقَصَدَ أنْ يذكر في الأول أحاديثَ أهلِ الثقة والإِتقان، وفي الثاني أحاديثَ أهلِ الستر والصِّدْق الذين لم يبلغوا درجة المُتثبّتين، فحال حلول المَنِيَّة بينه وبين هذه الأُمنيّة، فمات قبل إِتمامِ كتابه واستيعابِ تراجمه وأبوابه، غيرَ أَنَّ كتابَه مع إِعوازه

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ الذهبي: (يعني بالمكرَّر: أنه إِذا قال: "حدثنا قتيبة وأخبرنا ابنُ رُمْح" .. يُعَدَّانِ حديثَينِ، اتَّفقَ لفظهما أو اختَلَفَ في كَلمة). "سير أعلام النبلاء" (12/ 566).

(2) انظر "صيانة صحيح مسلم" (ص 101 - 102)، و"شرح صحيح مسلم" (1/ 21).

(3) قال الحافظ ابن الصلاح: (ثم إِنَّ مسلمًا رحمه الله وإِيانا- رَتَّبَ كتابه على الأبواب، فهو مُبَوَّبٌ في الحقيقة، ولكنه لم يذكر فيه تراجمَ الأبواب؛ لئلّا يزداد بها حجمُ الكتاب أو لغير ذلك).

قال الإِمام النووي بعد ذلك: (وقد ترجم جماعةٌ أبوابَه بتراجم، بعضُها جيّدٌ، وبعضُها ليس بجيد؛ إِمّا لقُصورِ في عبارة الترجمة، وإِمّا لركاكة لفظها، وإِمّا لغير ذلك، وأنا -إِن شاء الله- أحرصُ على التعبيرِ عنها بعباراتٍ تَلِيقُ بها في مواطنها، والله أعلم). "صيانة صحيح مسلم" (ص 103)، و"شرح صحيح مسلم" (1/ 21).
ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে যাদের থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন কিন্তু ইমাম বুখারী তাদের থেকে দলীল গ্রহণ করেননি, এমন মাশায়েখ বা শিক্ষকের সংখ্যা হলো ছয়শত পঁচিশ জন। এবং ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর গ্রন্থটি (পুনরাবৃত্তি ছাড়া) চার হাজার হাদীস সম্বলিত (১), আর পুনরাবৃত্তিসহ এটি (সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি হাদীস) (২)।

অতঃপর, ইমাম মুসলিম তাঁর গ্রন্থটিকে অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করেছেন, কিন্তু তিনি অধ্যায়গুলোর শিরোনাম উল্লেখ করেননি। একদল আলিম হাদীস থেকে উদ্ভূত অর্থ অনুযায়ী নিজেদের বিচারবুদ্ধি মোতাবেক অধ্যায়গুলোর শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন। তবে এতে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যেগুলোর কোনো শিরোনাম তারা উল্লেখ করেননি এবং সেগুলো পূর্ববর্তী শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত হয় না। ফলে শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্য না থাকার কারণে সেই শিরোনামের ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয়; তাই হাদীস থেকে সেগুলোর জন্য নতুন শিরোনাম উদ্ঘাটন করার প্রয়োজন পড়ে। আর এটি অনেক স্থানেই বিদ্যমান (৩)।

ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের মুকাদ্দিমার শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাদীসসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন:

প্রথম: যা প্রখ্যাত সুসংরক্ষণকারী হাফেযগণ বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়: যা মধ্যম স্তরের হেফজ ও নিপুণতার অধিকারী অপ্রসিদ্ধ (মাস্তুর) রাবীরা বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়: যা দুর্বল ও পরিত্যক্ত রাবীরা বর্ণনা করেছেন। এই বিভাজনের ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল তা নিয়ে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন।

ইবনে আসাকির ‘আল-ইশরাফ আলা মা’রিফাতিল আতরাফ’ গ্রন্থে বলেছেন: (তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে দুই ভাগে বিন্যস্ত করেছেন এবং তিনি প্রথম অংশে নির্ভরযোগ্য ও নিপুণ বর্ণনাকারীদের হাদীসসমূহ এবং দ্বিতীয় অংশে সেই সব সত্যবাদী ও অপ্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের হাদীসসমূহ উল্লেখ করার সংকল্প করেছিলেন যারা সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি। তবে মৃত্যু তাঁর ও তাঁর এই আকাঙ্ক্ষার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল; ফলে তিনি তাঁর গ্রন্থটি পূর্ণ করার এবং এর সকল শিরোনাম ও অধ্যায় সমাপ্ত করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর এই গ্রন্থটি অসম্পূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও...

--------------------------------------------

(১) হাফেয যাহাবী বলেন: (পুনরাবৃত্তি বলতে তিনি বুঝিয়েছেন: যখন তিনি বলেন: "আমাদের কাছে কুতাইবা বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু রুমহ সংবাদ দিয়েছেন"... তবে শব্দদ্বয় হুবহু এক হোক বা কোনো শব্দে পার্থক্য থাকুক, এ দুটিকে দুটি হাদীস হিসেবে গণ্য করা হবে)। ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ (১২/৫৬৬)।

(২) দেখুন: ‘সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম’ (পৃষ্ঠা ১০১ - ১০২) এবং ‘শারহু সহীহ মুসলিম’ (১/২১)।

(৩) হাফেয ইবনুস সালাহ বলেন: (অতঃপর ইমাম মুসলিম—আল্লাহ তাঁর প্রতি ও আমাদের প্রতি দয়া করুন—তাঁর গ্রন্থটিকে অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করেছেন; সুতরাং এটি প্রকৃতপক্ষে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস সমৃদ্ধ, তবে তিনি এতে অধ্যায়গুলোর শিরোনাম উল্লেখ করেননি; যাতে গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধি না পায় অথবা অন্য কোনো কারণে)।

ইমাম নববী এরপর বলেন: (একদল আলিম এর অধ্যায়গুলোর শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন, যার কিছু চমৎকার এবং কিছু ততটা ভালো নয়; শিরোনামের শব্দ চয়নে সীমাবদ্ধতার কারণে হোক, বা শব্দের দুর্বলতার কারণে হোক অথবা অন্য কোনো কারণে। ইনশাআল্লাহ আমি সংশ্লিষ্ট স্থানে শিরোনামগুলো যথাযথ শব্দ দিয়ে উল্লেখ করার বিষয়ে সচেষ্ট থাকব। আল্লাহই ভালো জানেন)। ‘সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম’ (পৃষ্ঠা ১০৩) এবং ‘শারহু সহীহ মুসলিম’ (১/২১)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওকাবুল ওয়াহহাজ শারহু সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
اشْتَهر، وسار صيتُه في الآفاق وانتشَرَ) اهـ، ولم يذكر القسم الثالث (1).

ثم إِنَّ جماعة من الحُفَّاظ استدركوا على "صحيح مسلم" وصَنَّفُوا كُتُبًا؛ لأنَّ هؤلاء تأخروا عنه وأدركوا الأسانيد العالية، وفيهم مَنْ أدرك بعضَ شيوخ مسلم فخَرَّجُوا أحاديثَه (2).

قال الشيخ أبو عَمْرو بن الصلاح: (هذه الكتب المُخَرَّجة تلتحق بصحيِح مسلم في أَنَّ لها سِمَةَ الصحيح وإِنْ لم تَلْتَحِقْ به في خصائصه كلها، ويُستفادُ من مُخرَّجاتهم ثلاثُ فوائدَ: عُلُوُّ الإِسناد، وزيادةُ قُوَّة الحديث بكثرة طُرُقه، وزيادةُ ألفاظٍ صحيحة مفيدة.

ثم إِنهم لم يلتزموا فيها الموافقة في ألفاظ الأحاديث من غير زيادةٍ ولا نَقْصٍ؛ لكونهم يَرْوُونها بأسانيد أُخر، فأوجب ذلك بعض التفاوت في بعض الألفاظ) (3).

 

‌‌فصل في ذكر الكتب المخرجة على صحيح مسلم

والكتب المستخرجة على صحيح مسلم كثيرة (4):

الأول منها: مستخرج أبي جعفر أحمد بن حَمْدان بن علي النيسابوري (5)،

--------------------------------------------

(1) انظر "سير أعلام النبلاء" (12/ 573 - 574)، وكتاب "الإِشراف" لابن عساكر في أطراف السنن الأربعة، وانظر مقدمة "إِطراف المسند المعتلي" (1/ 29).

(2) قال الحافظ الذهبي رحمه الله تعالى في "سير أعلام النبلاء" (12/ 568 - 569) ما يلي:

(قلتُ: ليس في "صحيح مسلم" من العوالي إِلَّا ما قَلَّ كالقَعْنبي عن أفلح بن حُميد، ثم حديث حَمَّاد بن سلمة وهَمَّام ومالك والليث، وليس في الكتاب حديثٌ عالٍ لشُعْبة ولا للثَّوْري ولا لإِسرائيل، وهو كتابٌ نفيسٌ كاملٌ في معناه، فلمَّا رآه الحُفاظُ .. أُعجبوا به، ولم يسمعوه لنُزُولهِ، فَعَمَدُوا إِلى أحاديث الكتاب، فساقوها من مرويّاتهم عاليةً بدرجةٍ وبدرجتَين ونحو ذلك، حتى أَتَوْا على الجميع هكذا، وسَمَّوْه: "المستخرج على صحيح مسلم"، فَعَلَ ذلك عِدَّةٌ من فُرسان الحديث).

(3) "صيانة صحيح مسلم" (ص 88)، وانظر "علوم الحديث" (ص 19 - 20).

(4) انظر "صيانة صحيح مسلم" (ص 88 - 90)، و"شرح صحيح مسلم" (1/ 26 - 27)، و"الإِمام مسلم بن الحجاج ومنهجه في الصحيح" (2/ 603 - 608).

(5) قال الإِمام ابن الصلاح: (الزاهد العابد المُجاب، رَحَل في حديث واحدٍ منه إِلى أبي يعلى المَوْصلي، ورَحَلَ في أحاديثَ معدودةٍ منه لم يكن سمعها حتى سمعها، ورُوِّينا أنه سمعه منه =
(প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং তাঁর সুখ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে) উদ্ধৃতি সমাপ্ত, আর তিনি তৃতীয় প্রকারটি উল্লেখ করেননি (১)।

অতঃপর একদল হাফিজ "সহিহ মুসলিম"-এর ওপর অতিরিক্ত কাজ (ইস্তিদরাক) করেছেন এবং কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন; কারণ তাঁরা ইমাম মুসলিমের পরবর্তী প্রজন্মের ছিলেন এবং উচ্চতর সনদ লাভে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা ইমাম মুসলিমের কিছু শাইখকে পেয়েছিলেন, ফলে তাঁরা তাঁর সংকলিত হাদিসগুলো (নিজস্ব উচ্চতর সনদে) বের করেন (২)।

শাইখ আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেছেন: (এই মুস্তাকরাজ কিতাবগুলো সহিহ মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয় এই অর্থে যে, এগুলোর মধ্যে সহিহ হাদিসের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, যদিও এটি সহিহ মুসলিমের সকল বৈশিষ্ট্যের সমপর্যায়ভুক্ত নয়। তাঁদের এই মুস্তাকরাজগুলো থেকে তিনটি উপকারিতা অর্জিত হয়: উচ্চতর সনদ লাভ, বহু সূত্রের কারণে হাদিসের শক্তি বৃদ্ধি এবং উপকারী বিশুদ্ধ শব্দাবলির সংযোজন।

অতঃপর তাঁরা এই কিতাবগুলোতে কোনো প্রকার সংযোজন বা বিয়োজন ছাড়া হাদিসের শব্দাবলির হুবহু মিল রাখার বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করেননি; কারণ তাঁরা এগুলো অন্যান্য সনদে বর্ণনা করেছেন, ফলে কিছু শব্দের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে) (৩)।

 

‌‌সহিহ মুসলিমের ওপর রচিত মুস্তাকরাজ কিতাবসমূহের বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

সহিহ মুসলিমের ওপর রচিত মুস্তাকরাজ কিতাবসমূহ অনেক (৪):

তন্মধ্যে প্রথমটি হলো: আবু জাফর আহমাদ ইবনে হামদান ইবনে আলী আন-নাইসাবুরীর মুস্তাকরাজ (৫),

--------------------------------------------

(১) দেখুন "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১২/ ৫৭৩-৫৭৪), এবং ইবনে আসাকিরের কিতাব "আল-ইশরাফ" যা সুনানে আরবাআর আতরাফ বিষয়ক, এবং দেখুন "ইতরাফুল মুসনাদিল মুতালি" (১/ ২৯)-এর ভূমিকা।

(২) হাফিজ আয-যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১২/ ৫৬৮-৫৬৯) গ্রন্থে নিম্নোক্ত কথাটি বলেছেন:

(আমি বলছি: "সহিহ মুসলিম"-এ উচ্চতর সনদ সম্বলিত হাদিস খুবই কম, যেমন কা'নাবি সূত্রে আফলাহ ইবনে হুমাইদ থেকে বর্ণিত হাদিস, এরপর হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, হাম্মাম, মালিক এবং লাইস-এর হাদিস। এই কিতাবে শু'বা, সাওরি কিংবা ইসরাইলের কোনো উচ্চতর সনদ সম্বলিত হাদিস নেই। এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও এর উদ্দেশ্যের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ কিতাব। ফলে যখন হাফিজগণ এটি দেখলেন... তাঁরা এতে মুগ্ধ হলেন, কিন্তু সনদের স্তর নিচু হওয়ার কারণে তাঁরা (উচ্চতর সনদের সন্ধানে) এটি গ্রহণ করেননি। তাই তাঁরা এই কিতাবের হাদিসগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করলেন এবং সেগুলোকে তাঁদের নিজস্ব বর্ণনাসূত্রে এক বা দুই স্তর বা তদ্রূপ উচ্চতর সনদে বর্ণনা করলেন, এমনকি তাঁরা এভাবেই পুরো কিতাবটি সম্পন্ন করলেন এবং এর নাম দিলেন: "আল-মুস্তাকরাজ আলা সহিহ মুসলিম"। হাদিস শাস্ত্রের বহু পারদর্শী বিশেষজ্ঞ এই কাজ সম্পাদন করেছেন)।

(৩) "সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম" (পৃ. ৮৮), এবং দেখুন "উলূমুল হাদিস" (পৃ. ১৯-২০)।

(৪) দেখুন "সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম" (পৃ. ৮৮-৯০), "শারহু সহিহ মুসলিম" (১/ ২৬-২৭), এবং "আল-ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ওয়া মানহাজুহু ফিস সহিহ" (২/ ৬০৩-৬০৮)।

(৫) ইমাম ইবনুস সালাহ বলেছেন: (তিনি ছিলেন যাহিদ, আবেদ ও মুজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়)। তিনি এর মাত্র একটি হাদিসের জন্য আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির কাছে সফর করেছিলেন এবং এর নির্দিষ্ট কয়েকটি হাদিসের জন্য সফর করেছিলেন যেগুলো তিনি ইতিপূর্বে শোনেননি, অবশেষে সেগুলো শ্রবণ করেন। আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তা তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন =