(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: -)
القواعد الأصولية والفقهية المتعلقة بالمسلم غير المجتهد   (سعد الشثري)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: القواعد الأصولية والفقهية المتعلقة بالمسلم غير المجتهد

المؤلف: د سعد بن ناصر بن عبد العزيز الشثري

الناشر: دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 59

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

অ-মুজতাহিদ (غير المجتهد) মুসলিমের সাথে সংশ্লিষ্ট উসুল (الأصولية) ও ফিকহ শাস্ত্রীয় (الفقهية) মূলনীতিসমূহ   (সা'দ আল-শাশরি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية)


গ্রন্থ: অ-মুজতাহিদ (غير المجتهد) মুসলিমের সাথে সংশ্লিষ্ট উসুল (الأصولية) ও ফিকহ শাস্ত্রীয় (الفقهية) মূলনীতিসমূহ

লেখক: ড. সা'দ বিন নাসির বিন আব্দুল আজিজ আল-শাশরি

প্রকাশক: দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ১)
القواعد الأصولية والفقهية المتعلقة بالمسلم غير المجتهد

 

تأليف

الدكتور سعد بن ناصر بن عبد العزيز الشثري

دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
অ-মুজতাহিদ (غير مجتهد) মুসলিমের সাথে সংশ্লিষ্ট উসূলি এবং ফিকহি মূলনীতিসমূহ

 

রচনায়

ড. সাদ বিন নাসির বিন আব্দুল আজিজ আল-শাথরি

দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২)
القواعد الأصولية والفقهية المتعلقة بالمسلم غير المجتهد
অ-মুজতাহিদ (غير مجتهد) মুসলিমের সাথে সংশ্লিষ্ট উসূলি (أصولية) এবং ফিকহি (فقهية) মূলনীতিসমূহ (قواعد)
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৪)
القواعد الأصولية والفقهية المتعلقة بالمسلم غير المجتهد

 

تأليف

الدكتور سعد بن ناصر بن عبد العزيز الشثري

دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
অ-মুজতাহিদ (المجتهد) মুসলিমের সাথে সংশ্লিষ্ট উসূলী (الأصولية) এবং ফিকহী (الفقهية) নীতিমালা (القواعد)

 

রচনা

ডক্টর সাদ ইবনে নাসির ইবনে আব্দুল আজিজ আল-শাশরি

দার কুনুজ ইশবিলিয়া পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:

فلا شك أن علم الأصول من العلوم الشرعية التي يثاب الإنسان على تعلمها لوجه الله تعالى، وهذا الثواب ليس مقتصراً على من يتعلم علم الأصول من المجتهدين، بل يتناول أيضاً من يتعلمه من غير المجتهدين، وقد اشتهر عند كثير من العلماء أن علم الأصول من فروض الكفايات (1) بحيث يجب على مجموع الأمة أن يخرج فيها من يتعلم هذا العلم؛ ليكون في الأمة مجتهدون يستخرجون الأحكام الشرعية من الأدلة ليسير الناس على فتاواهم، إلا أن الناظر في مفردات هذا العلم ومسائله، يجد أن مسائل هذا العلم بالنسبة لمجموع الأمة على نوعين:

النوع الأول: مسائل توصل إلى رتبة الاجتهاد، ويحتاجها المجتهد ليستخرج الأحكام من الأدلة، أما العامي فلا يستفيد منها حال كونه عامياً، وإن كانت تؤهله إلى رتبة الاجتهاد إذا استكمل تعلم علم الأصول وأصبح لديه معرفة بالأدلة الشرعية، فهذا النوع يكون تعلمه من فروض الكفايات.

النوع الثاني: مسائل أصولية يحتاج إليها العامي، فأصبحت من فروض الأعيان يجب على كل مسلم أن يتعلمها من أجل حاجته إلى العمل بمفادها.

--------------------------------------------

(1) المسودة ص 571، صفة الفتوى والمفتي والمستفتي ص 14، المحصول 1/ 54، شرح الكوكب المنير 1/ 47، أصول الفقه للباحسين ص 130.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। এরপর:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উসুল শাস্ত্র (أصول) হলো এমন শরয়ি জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অর্জন করলে মানুষ সওয়াব লাভ করে। আর এই সওয়াব কেবল মুজতাহিদদের (مجتهدين) মধ্যে যারা উসুল শাস্ত্র শেখে তাদের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে যারা মুজতাহিদ (مجتهد) নয় অথচ এই শাস্ত্র শেখে। অনেক আলিমের নিকট এটি প্রসিদ্ধ যে, উসুল শাস্ত্র শিক্ষা করা ফরজে কিফায়ার (فرض كفاية) (১) অন্তর্ভুক্ত; যাতে করে উম্মতের মধ্য থেকে একদল লোক এই শাস্ত্র শিক্ষা করে, যেন উম্মতের মধ্যে এমন মুজতাহিদ (مجتهد) তৈরি হয় যারা দলিলসমূহ থেকে শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) উদ্ভাবন করতে পারেন এবং মানুষ তাদের ফতোয়া অনুযায়ী চলতে পারে। তবে এই শাস্ত্রের খুঁটিনাটি ও মাসআলাগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, গোটা উম্মতের সাপেক্ষে এই শাস্ত্রের মাসআলাগুলো দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: এমন সব মাসআলা যা ইজতিহাদের (اجتهاد) স্তরে পৌঁছে দেয় এবং মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য দলিল থেকে বিধান আহরণের জন্য এসবের প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে, একজন সাধারণ মানুষ (عامي) তার সাধারণ অবস্থায় থাকাকালীন তা থেকে উপকৃত হতে পারে না; যদিও উসুল শাস্ত্র শিক্ষা সম্পন্ন করলে এবং শরয়ি দলিলসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করলে তা তাকে ইজতিহাদের (اجتهاد) স্তরের যোগ্য করে তোলে। এই প্রকারের ইলম অর্জন করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)।

দ্বিতীয় প্রকার: এমন সব উসুলি মাসআলা যার প্রয়োজন সাধারণ মানুষেরও (عامي) রয়েছে। ফলে এগুলো ফরজে আইনের (فرض عين) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শিক্ষা করা ওয়াজিব; কারণ এর মর্মার্থ অনুযায়ী আমল করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-মুসাউয়াদাহ পৃষ্ঠা ৫৭১, সিফাতুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি পৃষ্ঠা ১৪, আল-মাহসুল ১/৫৪, শারহুল কাওকাবিল মুনির ১/৪৭, উসুলুল ফিকহ লিল বাহাসিন পৃষ্ঠা ১৩০।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৬)
ولإعراض كثير من الأصوليين عن الإشارة إلى هذا القسم، أحببت أن أبرز هذه المسائل من أجل أن يتعلمها العوام ويعملوا بها.

وكان المسلم في الغرب محتاجاً إلى تعلم هذه القواعد كغيره من المسلمين، بل هو أولى لقلة العلماء هناك، خصوصاً عندما يستشعر الباحث ما يعيشه المسلم هناك من غربة وحاجة، مع مخالطة غير المسلمين على اختلاف أنواعهم، والتمشي مع الأنظمة التي تسير عليها تلك البلدان، وبذا تظهر أهمية هذا الموضوع.

وقد قسمت البحث إلى مقدمة وتمهيد وثلاثة فصول:

أما المقدمة: وهذه هي فقد ذكرت فيها أهمية الموضوع وخطة بحثه ومنهج دراسة جزئياته.

والتمهيد: عن فوائد تعلم العامي لعلم الأصول إجمالاً.

والفصل الأول: القواعد الأصولية التي تعين العامي عند نزول الواقعة به. وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: حكم فعل المكلف ما لا يعلم حكمه.

المبحث الثاني: سبب التزام المكلف بالأحكام الشرعية.

المبحث الثالث: طريقة استخراج الحكم الشرعي.

الفصل الثاني: القواعد الأصولية التي تعين العامي فيما يتعلق بالاستفتاء، وفيه أحد عشر مبحثاً:

المبحث الأول: أدب العامي مع المفتي.

المبحث الثاني: من يحق للعامي أن يسأله.

المبحث الثالث: لزوم فتوى المجتهد للعامي إذا عمل بها.

المبحث الرابع: علم العامي عند تغير اجتهاد من سأله أولاً.
অনেক উসূলবিদ (الأصوليين) এই বিভাগটি উল্লেখ করা থেকে বিমুখ থাকার কারণে, আমি এই বিষয়গুলোকে সুস্পষ্ট করতে চেয়েছি যাতে সাধারণ মানুষ (العوام) এগুলো শিখতে পারে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারে।

পাশ্চাত্যে বসবাসরত মুসলিমদের অন্যান্য মুসলিমদের মতোই এই নিয়মাবলী শেখার প্রয়োজন রয়েছে, বরং সেখানে আলেমদের স্বল্পতার কারণে তাদের জন্য এটি অধিকতর অগ্রগণ্য। বিশেষ করে যখন একজন গবেষক সেখানে বসবাসরত মুসলিমদের একাকীত্ব ও প্রয়োজনের বিষয়টি অনুধাবন করেন, সেই সাথে বিভিন্ন শ্রেণির অমুসলিমদের সাথে মেলামেশা এবং ওই দেশগুলোর প্রচলিত ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে চলার বিষয়গুলো বিবেচনা করেন, তখনই এই বিষয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা এবং তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:

ভূমিকা: এটিই সেই অংশ যেখানে আমি বিষয়ের গুরুত্ব, গবেষণা পরিকল্পনা এবং এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যালোচনার পদ্ধতি উল্লেখ করেছি।

উপক্রমণিকা: সাধারণভাবে উসূল শাস্ত্র শেখার ক্ষেত্রে একজন সাধারণ মানুষের (العامي) উপকারিতা সম্পর্কে।

প্রথম অধ্যায়: কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে যে উসূলী নীতিমালাগুলো সাধারণ মানুষকে (العامي) সাহায্য করে। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: যার বিধান জানা নেই এমন বিষয়ে শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) কাজের বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি বিধানসমূহ পালনে শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) অনুগত থাকার কারণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি বিধান আহরণের পদ্ধতি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ফতোয়া প্রার্থনার ক্ষেত্রে যে উসূলী নীতিমালাগুলো সাধারণ মানুষকে (العامي) সাহায্য করে, এতে এগারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুফতির সাথে সাধারণ মানুষের (العامي) আদব বা শিষ্টাচার।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ মানুষ (العامي) কার কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করার অধিকার রাখে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুজতাহিদের (المجتهد) ফতোয়া অনুযায়ী আমল করার পর সাধারণ মানুষের (العامي) জন্য তা মেনে চলার আবশ্যকতা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যার কাছে আগে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তার ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তিত হলে সাধারণ মানুষের (العامي) করণীয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الخامس: عمل العامي عند اختلاف المفتين.

المبحث السادس: من يسأله العامي عند تعدد المجتهدين.

المبحث السابع: الحكم إذا لم يجد العامي مجتهداً.

المبحث الثامن: تقليد المتساهل بالفتيا.

المبحث التاسع: تتبع الرخص.

المبحث العاشر: تمذهب العامي.

المبحث الحادي عشر: تكرير المستفتي للاستفتاء عند تكرر الحادثة.

الفصل الثالث: القواعد الفقهية والأصولية الأخرى التي لها تعلق مباشر بالعامي، وفيه أحد عشر مبحثاً أيضاً:

المبحث الأول: المراد بالأحكام الشرعية الواردة في الفتوى.

المبحث الثاني: علاقة العامي بالقراءات.

المبحث الثالث: الأفعال النبوية.

المبحث الرابع: إصدار العامي للفتوى.

المبحث الخامس: ما يتعلق بالعامي من أحكام الواجب الموسع.

المبحث السادس: المطالب بالواجب الكفائي.

المبحث السابع: قطع الطاعة بعد الشروع فيها.

المبحث الثامن: تكليف الكفار بالفروع.

المبحث التاسع: تفسير العامي للقرآن.

المبحث العاشر: نقل العامي للحديث بالمعنى.

المبحث الحادي عشر: القواعد الفقهية التي يستفيد العامي مباشرة من تعلمها.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুফতিগণের (المفتين) মতপার্থক্যের সময় সাধারণ ব্যক্তির (العامي) করণীয়।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: একাধিক মুজতাহিদের (المجتهدين) উপস্থিতিতে সাধারণ ব্যক্তি (العامي) কাকে প্রশ্ন করবে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সাধারণ ব্যক্তি (العامي) কোনো মুজতাহিদ (مجتهداً) না পেলে তার বিধান।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: ফতোয়া প্রদানে শিথিলতাকারীর তাকলীদ (تقليد) করা।

নবম পরিচ্ছেদ: শরীয়তের সহজ সুযোগ-সুবিধাগুলো অনুসন্ধান (تتبع الرخص) করা।

দশম পরিচ্ছেদ: সাধারণ ব্যক্তির (العامي) নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণ (تمذهب) করা।

একাদশ পরিচ্ছেদ: একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ফতোয়া প্রার্থীর (المستفتي) পুনরায় ফতোয়া তলব (الاستفتاء) করা।

তৃতীয় অধ্যায়: ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية) এবং অন্যান্য উসূল সংক্রান্ত (الأصولية) নিয়মাবলি যা সরাসরি সাধারণ ব্যক্তির (العامي) সাথে সংশ্লিষ্ট; এতেও এগারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ফতোয়ায় উল্লিখিত শরয়ী বিধান (الأحكام الشرعية) দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিরাতসমূহের (القراءات) সাথে সাধারণ ব্যক্তির (العامي) সম্পর্ক।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নববী কার্যাবলি (الأفعال النبوية)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাধারণ ব্যক্তির (العامي) ফতোয়া প্রদান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: প্রশস্ত ওয়াজিব (الواجب الموسع) সংক্রান্ত বিধানাবলির মধ্যে যা সাধারণ ব্যক্তির (العامي) সাথে সংশ্লিষ্ট।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সমষ্টিগত ওয়াজিব (الواجب الكفائي) পালনে আদিষ্ট ব্যক্তি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: ইবাদত শুরু করার পর তা মাঝপথে ছিন্ন করা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: অমুসলিমদেরকে শরীয়তের শাখা-বিধানসমূহের (بالفروع) অনুসারী করা।

নবম পরিচ্ছেদ: সাধারণ ব্যক্তির (العامي) কুরআন তাফসীর করা।

দশম পরিচ্ছেদ: সাধারণ ব্যক্তির (العامي) মর্মার্থ অনুযায়ী (بالمعنى) হাদিস বর্ণনা করা।

একাদশ পরিচ্ছেদ: ঐ সকল ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية) যা শেখার মাধ্যমে সাধারণ ব্যক্তি (العامي) সরাসরি উপকৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد راعيت أن تكون كتابة هذا البحث متناسبة مع المستوى العام لغير المجتهدين، بحيث أستبعد الخلاف الذي لا يستفيدون منه، وأحاول أن يتناسب مع عصرنا الحاضر، وقد وثقت كل مسألة بذكر مصادرها معها.

هذا، وأسأل الله للجميع التوفيق والإعانة.

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، ،
আমি এই গবেষণাটি রচনার ক্ষেত্রে অ-মুজতাহিদ (مجتهدين) সাধারণ পাঠকদের স্তরের সাথে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি বিবেচনা করেছি, যাতে আমি এমন মতভেদ বর্জন করতে পারি যা তাদের জন্য ফলপ্রসূ নয় এবং আমি একে আমাদের বর্তমান সময়ের সাথে উপযোগী করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি বিষয়কে আমি তার মূল উৎস উল্লেখের মাধ্যমে প্রামাণ্য (وثقت) করেছি।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট সকলের জন্য তাওফিক এবং সাহায্যের প্রার্থনা করছি।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর (صحابة) ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تمهيد في فوائد تعلم العامي لعلم الأصول إجمالاً

لئن تعين على العامي معرفة بعض القواعد الأصولية وجوباً، فإن تعلم العامي للأصول إجمالاً له فوائد عظيمة، من أهمها ما يأتي:

1 - علم الأصول علم شرعي يحصل بطلبه مع النية الثواب الذي رتبه الشرع على طلب العلم.

2 - علم الأصول يؤهل الإنسان لاستخراج أحكام الشريعة، فينقل العامي إلى رتبة الاجتهاد.

3 - علم الأصول يعطي الإنسان القدرة على فهم النصوص الشرعية.

4 - علم الأصول يوضح المصطلحات العلمية التي يستخدمها العلماء في فتاواهم ومؤلفاتهم.

5 - علم الأصول يجعل الإنسان يضبط كلامه وألفاظه، بحيث يستخدم اللفظ الذي يريد معناه.

6 - علم الأصول يعطي العامي الثقة في صحة الاجتهاد الذي سار عليه المجتهد الذي يتبع كلامه.

7 - علم الأصول يعرف الإنسان كيف يسأل العلماء، ويعرفه من هم الذي يسألهم (1).

--------------------------------------------

(1) راجع في بعض هذه الثمرات وغيرها: دراسات في مقدمات علم أصول الفقه ص 162، أصول الفقه للباحسين ص 128.
সাধারণ মানুষের (العامي) জন্য সামগ্রিকভাবে মূলনীতি শাস্ত্র (علم الأصول) শিক্ষা করার উপকারিতা সম্পর্কে ভূমিকা

যদিও সাধারণ মানুষের (العامي) জন্য নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক নিয়মাবলি (القواعد الأصولية) জানা আবশ্যক (وجوباً) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তথাপি সাধারণ মানুষের (العامي) জন্য সামগ্রিকভাবে মূলনীতি শাস্ত্র (الأصول) শিক্ষা করার মহৎ উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো নিম্নরূপ:

১ - মূলনীতি শাস্ত্র (علم الأصول) একটি শরয়ী জ্ঞান, যা নিয়তসহ অন্বেষণ করলে সেই সওয়াব অর্জিত হয় যা শরিয়ত জ্ঞান অন্বেষণের ওপর নির্ধারিত করেছে।

২ - মূলনীতি শাস্ত্র (علم الأصول) মানুষকে শরিয়তের বিধানসমূহ (أحكام الشريعة) আহরণ করার যোগ্য করে তোলে, যা সাধারণ মানুষকে (العامي) ইজতিহাদের স্তরে (رتبة الاجتهاد) উন্নীত করে।

৩ - মূলনীতি শাস্ত্র (علم الأصول) মানুষকে শরয়ী মূলপাঠ (النصوص الشرعية) অনুধাবন করার সক্ষমতা দান করে।

৪ - মূলনীতি শাস্ত্র (علم الأصول) সেই সকল জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিভাষাগুলোকে (المصطلحات العلمية) স্পষ্ট করে, যা আলেমগণ তাদের ফতোয়া ও গ্রন্থাবলিতে ব্যবহার করেন।

৫ - মূলনীতি শাস্ত্র (علم الأصول) মানুষকে তার কথা ও শব্দাবলিকে সুসংহত করতে শেখায়, যাতে সে তার কাঙ্ক্ষিত অর্থের জন্য যুতসই শব্দ (اللفظ) ব্যবহার করতে পারে।

৬ - মূলনীতি শাস্ত্র (علم الأصول) সাধারণ মানুষকে (العامي) সেই ইজতিহাদের (الاجتهاد) শুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে আশ্বস্ত করে, যা সেই মুজতাহিদ (المجتهد) অনুসরণ করেছেন যার অনুসরণ সে করছে।

৭ - মূলনীতি শাস্ত্র (علم الأصول) মানুষকে অবগত করে যে আলেমদের কীভাবে প্রশ্ন করতে হয় এবং কাদেরকে প্রশ্ন করতে হবে (১)।

--------------------------------------------

(১) এই সকল ও অন্যান্য কিছু উপকারিতার জন্য দেখুন: দিরাসাত ফি মুকাদ্দিমাত ইলমি উসুলিল ফিকহ পৃষ্ঠা ১৬২, উসুলুল ফিকহ লিল বাহাসিন পৃষ্ঠা ১২৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الفصل الأول

القواعد الأصولية التي تعين العامي عند نزول الواقعة به

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: حكم فعل المكلف ما لا يعلم حكمه.

المبحث الثاني: سبب التزام المكلف بالأحكام الشرعية.

المبحث الثالث: طريقة استخراج الحكم الشرعي.
প্রথম অধ্যায়

উসূলি মূলনীতিসমূহ (القواعد الأصولية) যা কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে সাধারণ ব্যক্তিকে (العامي) সহযোগিতা করে

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আদিষ্ট ব্যক্তির (المكلف) এমন কাজ করার বিধান (حكم) যার বিধান (حكم) সে জানে না।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ী বিধানাবলির (الأحكام الشرعية) প্রতি আদিষ্ট ব্যক্তির (المكلف) দায়বদ্ধতার কারণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ী বিধান (الحكم الشرعي) আহরণের পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المبحث الأول

حكم فعل المكلف ما لا يعلم حكمه

قرر العلماء أنه يجب على الإنسان معرفة حكم أي فعل قبل أن يقدم عليه لئلا يكون هذا الفعل حراماً، وقد حكي الإجماع على تحريم فعل المكلف ما لا يعلم حكمه (1).

وورد عن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه كان لا يسمح لمن لا يعرف أحكام البيع والشراء بمزاولة مهنة البيع في السوق فكان يقول: (لا يبع في سوقنا إلا من قد تفقه في الدين) (2).

وقد ذكر العلماء أن البلد إذا خلت من المفتي، ولم يتيسر للعامي فيها مراجعة المجتهدين وجب على العامي الهجرة منها ولم يحل له المقام فيها (3).

ولكن هذه المسألة لا مكان لها اليوم لتوفر وسائل الاتصال الحديثة.

--------------------------------------------

(1) كشاف القناع 3/ 135، مطالب أولي النهى 3/ 3، حاشية الروض المربع 4/ 325.

(2) أخرجه الترمذي (2/ 357 ح 487) كتاب الوتر، باب ما جاء في فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم وقال: هذا حديث حسن غريب.

(3) المسودة ص 550، المجموع 1/ 94، مذكرة في علم الأصول ص 4.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

শরীয়তের বিধান না জেনে মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তির কোনো কাজ করার বিধান

উলামায়ে কেরাম এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার আগে মানুষের জন্য সেই কাজের শরয়ী বিধান জেনে নেওয়া ওয়াজিব, যাতে সেই কাজটি হারাম না হয়ে যায়। আর মুকাল্লাফ ব্যক্তি যে কাজের বিধান জানে না, তা করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণিত হয়েছে (১)।

আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বেচাকেনার বিধান জানেন না এমন ব্যক্তিকে বাজারে ব্যবসা করার অনুমতি দিতেন না। তিনি বলতেন: (আমাদের বাজারে কেবল সেই ব্যক্তিই যেন কেনাবেচা করে, যে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে) (২)।

উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে, কোনো এলাকা যদি মুফতি শূন্য হয়ে যায় এবং সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য মুজতাহিদগণের (المجتهدين) শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব না হয়, তবে সাধারণ মানুষের জন্য সেই এলাকা থেকে হিজরত করা ওয়াজিব এবং সেখানে অবস্থান করা তার জন্য বৈধ নয় (৩)।

তবে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমান সময়ে এই মাসআলার প্রাসঙ্গিকতা নেই।

--------------------------------------------

(১) কশশাফুল কিনা ৩/ ১৩৫, মাতালিবু উলিন নুহা ৩/ ৩, হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি ৪/ ৩২৫।

(২) এটি তিরমিযি (২/ ৩৫৭ হা. ৪৮৭) সংকলন করেছেন, কিতাবুল বিতর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের ফযীলত অধ্যায়। তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) ও গরীব (غريب)।

(৩) আল-মুসাউওয়াদাহ পৃ. ৫৫০, আল-মাজমু ১/ ৯৪, মুযাক্কিরাহ ফি ইলমিল উসুল পৃ. ৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الثاني

سبب التزام المكلف بالأحكام الشرعية

من رحمة الله بعباده أن جعل تطبيق الأحكام الشرعية تحصل به مصلحة الخلق في الدنيا والآخرة، فالأحكام الشرعية معللة بمصالح الخلق فضلاً من الله ورحمة منه بعباده (1).

وقد تظهر للمكلف هذه الحكمة التي شرع الحكم من أجلها، وقد تكون خافية عليه (2).

إلا أنه لا يحسن بالمكلف أن يمتثل الحكم الشرعي ومقصوده بامتثاله الحصول على المنفعة الدنيوية فقط، بل ينبغي أن يكون مقصوده وجه الله والدار الآخرة حتى يثاب على ذلك.

أما إذا قصد المكلف بفعله المنافع الدنيوية فقط فحينئذ لا يستحق عليه الأجر الأخروي (3) كما قال تعالى: {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ (15) أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (16)} [هود: 15، 16]، وقال: {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَدْحُورًا (18)} [الإسراء: 18].

--------------------------------------------

(1) شرح الكوكب المنير 1/ 312، الموافقات 2/ 6، 4/ 195.

(2) قواعد الأحكام 1/ 43.

(3) تيسير العزيز الحميد ص 475، فتح المجيد ص 333.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

শরয়ী বিধান পালনে মুকাল্লাফের দায়বদ্ধতার কারণ

বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত এই যে, তিনি শরয়ী বিধানাবলি প্রয়োগের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে সৃষ্টির কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। সুতরাং শরয়ী বিধানসমূহ সৃষ্টির কল্যাণের হেতু দ্বারা নির্ধারিত; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দয়া (১)।

যেই হিকমতের (প্রজ্ঞা) উদ্দেশ্যে বিধানটি প্রণীত হয়েছে, তা মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনের উপযুক্ত ব্যক্তি) নিকট স্পষ্ট হতে পারে, আবার কখনও তা তার নিকট অস্পষ্টও থাকতে পারে (২)।

তবে মুকাল্লাফের জন্য এটি সমীচীন নয় যে, সে কেবল পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে শরয়ী বিধান পালন করবে; বরং তার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল, যাতে সে এর জন্য সওয়াব প্রাপ্ত হয়।

পক্ষান্তরে, মুকাল্লাফ যদি তার কর্মের দ্বারা কেবল পার্থিব উপকারিতা অর্জনের সংকল্প করে, তবে সে পরকালীন প্রতিদান পাওয়ার যোগ্য হবে না (৩); যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যারা পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করে, আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের পূর্ণ ফল প্রদান করি এবং সেখানে তাদের প্রতি কোনো কমতি করা হয় না (১৫)। তারা এমন লোক যাদের জন্য আখিরাতে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং তারা যা কিছু করেছিল সেখানে তা সব বিনষ্ট হয়েছে এবং তারা যা করত তা ছিল নিষ্ফল (১৬)} [হুদ: ১৫, ১৬]। এবং তিনি আরও বলেছেন: {যে ব্যক্তি এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া কামনা করে, আমি যাকে ইচ্ছা এবং যা ইচ্ছা তাকে অতি দ্রুত এখানেই দিয়ে দেই। অতঃপর তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করি, যেখানে সে নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে (১৮)} [আল-ইসরা: ১৮]।

--------------------------------------------

(১) শারহুল কাওকাবিল মুনীর ১/ ৩১২, আল-মুওয়াফাকাত ২/ ৬, ৪/ ১৯৫।

(২) কাওয়ায়িদুল আহকাম ১/ ৪৩।

(৩) তাইসীরুল আজিজিল হামিদ পৃষ্ঠা ৪৭৫, ফাতহুল মাজীদ পৃষ্ঠা ৩৩৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فإذا قصد بفعله المنافع الدنيوية فقط فلا يخلو الحال من أحد أمرين:

الأول: أن يكون فعله لا يقع إلا على جهة العبادة مثل الصلاة، فحينئذ يكون فعله فاسداً غير معتبر شرعاً.

الثاني: أن يكون فعله يحتمل العبادة وغيرها مثل النفقة وصلة الرحم وترك المحرمات، فحينئذ يكون فعله صحيحاً يسقط به الواجب ويرفع عنه الإثم ولا يستحق الأجر والثواب الأخروي.
সুতরাং যদি তিনি তাঁর কর্মের দ্বারা কেবলমাত্র পার্থিব উপকার লাভের সংকল্প করেন, তবে বিষয়টি দুটি অবস্থার কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হবে:

প্রথমত: তাঁর কাজটি যদি এমন হয় যা কেবল ইবাদত হিসেবেই সম্পাদিত হয়, যেমন সালাত; তবে এমতাবস্থায় তাঁর কাজটি অকার্যকর (فاسد) হবে এবং শরয়িভাবে তা গ্রহণযোগ্য (غير معتبر) হবে না।

দ্বিতীয়ত: তাঁর কাজটি যদি ইবাদত এবং ইবাদত ব্যতীত অন্য কিছুরও সম্ভাবনা রাখে—যেমন ব্যয়ভার বহন করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিষিদ্ধ বিষয়াবলি বর্জন করা—তবে এমতাবস্থায় তাঁর কাজটি সঠিক (صحيح) বলে গণ্য হবে; যার মাধ্যমে ওয়াজিব (واجب) দায়িত্বটি পালন হয়ে যাবে এবং তাঁর থেকে পাপ মোচন হবে, কিন্তু তিনি পরকালীন কোনো সওয়াব বা প্রতিদানের অধিকারী হবেন না।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الثالث

طريقة استخراج الحكم الشرعي

إذا نزلت واقعة بالمكلف وأراد معرفة حكم الله فيها، فإنه لا يخلو من أحد حالين:

الأول: أن يكون قادراً على الاجتهاد، فهنا يأخذ الحكم من الأدلة الشرعية بواسطة القواعد الأصولية.

الثاني: أن يكون غير قادر على الاجتهاد، فإنه حينئذ يتعرف على الحكم من خلال سؤال العلماء (1). وقد دل على ذلك عدد من الأدلة منها:

1 - قوله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (43)} [النحل: 43] و [الأنبياء: 7]، فأمر من لا علم عنده بسؤال أهل الذكر.

2 - قوله تعالى: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ (122)} [التوبة: 122].

3 - حديث العسيف حيث سأل أهل العلم فأفتوه ولم ينكر عليه النبي صلى الله عليه وسلم سؤالهم (2).

--------------------------------------------

(1) التمهيد 4/ 399، المسودة ص 459، شرح مختصر الروضة 3/ 650، شرح تنقيح الفصول ص 430، البحر المحيط 6/ 280، ميزان الأصول ص 676.

وقد أشبعت المسألة بحثاً في: التفريق بين الأصول والفروع 2/ 355، القطع والظن عند الأصوليين 2/ 576، التقليد وأحكامه ص 189.

(2) الموافقات 4/ 261.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

শরয়ি বিধান (حكم شرعي) আহরণের পদ্ধতি

যখন কোনো মুকাল্লাফ (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কোনো ঘটনার সম্মুখীন হন এবং তাতে আল্লাহর বিধান জানতে চান, তখন তিনি দুই অবস্থার যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত থাকেন:

প্রথম: তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে সক্ষম হবেন; এক্ষেত্রে তিনি উসুলি মূলনীতিসমূহের (القواعد الأصولية) সাহায্যে শরয়ি দলিলসমূহ থেকে বিধান গ্রহণ করবেন।

দ্বিতীয়: তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে সক্ষম হবেন না; এমতাবস্থায় তিনি আলেমদের জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে বিধানটি জেনে নেবেন (১)। এর সপক্ষে বেশ কিছু দলিল রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

১ - মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩] এবং [আল-আম্বিয়া: ৭]। এখানে তিনি যার জ্ঞান নেই তাকে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

২ - মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়} [আত-তাওবা: ১২২]।

৩ - আসিব সংক্রান্ত হাদিস; যেখানে সে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করেছিল এবং তারা তাকে ফতোয়া দিয়েছিলেন, আর নবী (সা.) তাদের নিকট তার এই জিজ্ঞাসাকে অস্বীকার করেননি (২)।

--------------------------------------------

(১) আত-তামহিদ ৪/৩৯৯, আল-মুসাউওয়াদা পৃ. ৪৫৯, শারহু মুখতাসারি রওদা ৩/৬৫০, শারহু তানকিহিল ফুসুল পৃ. ৪৩০, আল-বাহরুল মুহিত ৬/২৮০, মিজানুল উসুল পৃ. ৬৭৬।

এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে: আত-তাফরিক বাইনাল উসুল ওয়াল ফুরু ২/৩৫৫, আল-কাতউ ওয়াজ-জান্নু ইনদাল উসুলিইয়্যিন ২/৫৭৬, আত-তাকলিদ ওয়া আহকামুহু পৃ. ১৮৯।

(২) আল-মুওয়াফাকাত ৪/২৬১।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
4 - قول النبي صلى الله عليه وسلم: (ألا سألوا إذ لم يعلموا فإنما شفاء العي السؤال) (1).

قال الشاطبي رحمه الله: (إن المقلد إذا عرضت له مسألة دينية فلا يسعه في الدين إلا السؤال عنها على الجملة) (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (ح 6827) كتاب الحدود، باب الاعتراف بالزنا، ومسلم (ح 1697).

(2) أخرجه أبو داود (1/ 366 ح 332)، وابن ماجه (1/ 89 ح 572)، والحاكم 1/ 178، وابن حبان (2/ 304 ح 1311) وصححاه.
৪ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (জেনে রেখো, যখন তারা জানত না, তখন কেন জিজ্ঞাসা করল না? কেননা অজ্ঞতার প্রতিকার হলো জিজ্ঞাসা করা) (১)।

ইমাম আল-শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (একজন অনুসরণকারীর সামনে যখন কোনো ধর্মীয় মাসআলা উপস্থাপিত হয়, তখন সাধারণভাবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা ছাড়া দ্বীনের ব্যাপারে তার কোনো গত্যন্তর থাকে না) (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (হাদিস ৬৮২৭) ‘কিতাবুল হুদুদ’, ‘ব্যভিচার স্বীকার করা’ পরিচ্ছেদ এবং মুসলিম (হাদিস ১৬৯৭) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি আবু দাউদ (১/ ৩৬৬, হাদিস ৩৩২), ইবনে মাজাহ (১/ ৮৯, হাদিস ৫৭২), হাকেম (১/ ১৭৮) এবং ইবনে হিব্বান (২/ ৩০৪, হাদিস ১৩১১) বর্ণনা করেছেন এবং তারা এটিকে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الثاني

القواعد الأصولية التي تعين العامي فيما يتعلق بالاستفتاء

وفيه أحد عشر مبحثاً:

المبحث الأول: أدب العامي مع المفتي.

المبحث الثاني: من يحق للعامي أن يسأله.

المبحث الثالث: لزوم فتوى المجتهد للعامي إذا عمل بها.

المبحث الرابع: عمل العامي عند تغير اجتهاد من سأله أولاً.

المبحث الخامس: عمل العامي عند اختلاف المفتين.

المبحث السادس: من يسأله العامي عند تعدد المجتهدين.

المبحث السابع: الحكم إذا لم يجد العامي مجتهداً.

المبحث الثامن: تقليد المتساهل بالفتيا.

المبحث التاسع: تتبع الرخص.

المبحث العاشر: تمذهب العامي.

المبحث الحادي عشر: تكرير المفتي للاستفتاء عند تكرر الحادثة.
‌দ্বিতীয় অধ্যায় (الفصل الثاني)

ফতোয়া প্রার্থনা (الاستفتاء) সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষের (العامي) জন্য সহায়ক উসূলি মূলনীতিসমূহ (القواعد الأصولية)

এতে এগারোটি পরিচ্ছেদ (المبحث) রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): মুফতির (المفتي) সাথে সাধারণ মানুষের (العامي) শিষ্টাচার।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): সাধারণ মানুষের (العامي) কার নিকট জিজ্ঞাসা করার অধিকার রয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): মুজতাহিদের (المجتهد) ফতোয়া অনুযায়ী আমল করলে সাধারণ মানুষের (العامي) জন্য তা আবশ্যক হওয়া।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ (المبحث الرابع): যার নিকট প্রথমে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তার ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তিত হলে সাধারণ মানুষের (العامي) করণীয়।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ (المبحث الخامس): মুফতিদের (المفتين) মতপার্থক্যের সময় সাধারণ মানুষের (العامي) করণীয়।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ (المبحث السادس): একাধিক মুজতাহিদ (المجتهدين) বিদ্যমান থাকলে সাধারণ মানুষ (العامي) কাকে প্রশ্ন করবে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ (المبحث السابع): সাধারণ মানুষ (العامي) কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) না পেলে তার বিধান।

অষ্টম পরিচ্ছেদ (المبحث الثامن): ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারীর তাকলিদ (تقليد) করা।

নবম পরিচ্ছেদ (المبحث التاسع): রুখসত বা সহজ সুযোগসমূহ (الرخص) তালাশ করা।

দশম পরিচ্ছেদ (المبحث العاشر): সাধারণ মানুষের (العامي) মাযহাব অনুসরণ (تمذهب) করা।

একাদশ পরিচ্ছেদ (المبحث الحادي عشر): ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে মুফতির কাছে পুনরায় ফতোয়া প্রার্থনা (الاستفتاء) করা।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الأول

أدب العامي مع المفتي

هناك عدد من الصفات التي ينبغي بالعامي التحلي بها مع المجتهد المفتي، من أبرزها ما يأتي:

أولاً: أن يحفظ جانب الأدب مع المفتي.

ثانياً: أن يجل العالم ويرفع منزلته، فلا يفعل العامي مع المفتي ما جرت عادة العوام بفعله بينهم كإيمائه بيده في وجهه أو يقول له ما لا ينبغي.

ثالثاً: أن لا يسأل المفتي حال كون المفتي في حال ضجر أو هم أو غضب أو نحو ذلك.

رابعاً: ذكر بعض العلماء أنه لا ينبغي للعامي سؤال العالم عن دليل فتواه في نفس مجلس الفتوى؛ لئلا يكون ذلك عدم ثقة بقوله بينما الشارع قد أمره بسؤاله والعمل بقوله، ولأن العامي قد لا يفهم الدليل أو وجه الاستدلال به.

وقيل: يجوز للعامي بلا كراهة أن يسأل العالم عن دليل فتواه إذا كان مسترشداً غير متعنت، ويجيبه العالم إذا كان الدليل قطعيّاً تشترك الأذهان في فهمه (1).

--------------------------------------------

(1) انظر آداب المستفتي في: شرح الكوكب المنير 4/ 593، الفقيه والمتفقه 2/ 98 - 180، المجموع 1/ 98، الموافقات 4/ 321.
প্রথম পরিচ্ছেদ

মুফতির সাথে সাধারণ মানুষের শিষ্টাচার

গবেষণাকারী (مجتهد) মুফতির সাথে একজন সাধারণ মানুষের বেশ কিছু গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্যতম হলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: মুফতির সাথে শিষ্টাচারের দিকটি বজায় রাখা।

দ্বিতীয়ত: আলেমকে সম্মান করা এবং তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখা; সুতরাং সাধারণ মানুষ মুফতির সাথে এমন আচরণ করবে না যা সাধারণ মানুষরা সাধারণত নিজেদের মধ্যে করে থাকে, যেমন তাঁর মুখের সামনে হাত দিয়ে ইশারা করা কিংবা তাঁকে এমন কিছু বলা যা অনুচিত।

তৃতীয়ত: মুফতি যখন বিরক্ত, চিন্তিত, রাগান্বিত বা এই জাতীয় কোনো অবস্থায় থাকেন, তখন তাঁকে প্রশ্ন না করা।

চতুর্থত: কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের জন্য ফতোয়া প্রদানের মজলিসেই আলেমের কাছে তাঁর ফতোয়ার দলিল (دليل) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা অনুচিত; যাতে এটি তাঁর কথার প্রতি আস্থাহীনতা হিসেবে গণ্য না হয়, অথচ বিধানদাতা (الشارع) তাকে প্রশ্ন করার এবং তাঁর কথা অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া সাধারণ মানুষ দলিল (دليل) কিংবা দলিল হতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি (استدلال) বুঝতে সক্ষম নাও হতে পারে।

আবার বলা হয়েছে: সাধারণ মানুষের জন্য কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) ছাড়াই আলেমের কাছে তাঁর ফতোয়ার দলিল (دليل) জিজ্ঞাসা করা বৈধ, যদি সে হঠকারী না হয়ে সঠিক পথের দিশা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে। আর আলেম তাকে উত্তর দেবেন যদি দলিলটি এমন সুনিশ্চিত (قطعي) হয় যা বুঝতে সকল সাধারণ বুদ্ধিমান মানুষ অংশীদার হতে পারে (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ‘আদাবুল মুস্তাফতি’: শারহুল কাওকাবিল মুনীর ৪/৫৯৩, আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ২/৯৮-১৮০, আল-মাজমু’ ১/৯৮, আল-মুয়াফাকাত ৪/৩২১।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الثاني

من يحق للعامي أن يسأله

إذا وقعت مسألة للعامي وأراد أن يعرف حكم الله فيها بطريق السؤال، فليس كل إنسان صالحاً لأن يُسأل، وإنما هناك شروط معينة يجب توافرها في الشخص المسؤول بأن يكون عالماً بالأدلة الشرعية إجمالاً وتفصيلاً، قادراً على تطبيق القواعد الأصولية عليها (1). لكن السؤال هنا كيف يعرف العامي أن من يسأله قد توافرت فيه شروط الاجتهاد؟

وذكر العلماء عدداً من الطرق يتمكن بها العامي من معرفة أهلية من يسأله للإفتاء، منها (2):

1 - أن يكون قد عرفه معرفة سابقة بالعلم والعدالة.

2 - أن يراه منتصباً للإفتاء والتدريس معظماً عند الناس؛ لأن ذلك دليل على علمه وأهليته للإفتاء، ولعل ذلك إذا عرف أنه لا ينتصب لذلك إلا المجتهد، بحيث من لم يكن كذلك مُنع منه.

3 - أن يدله عدل خبير عليه، فيصفه بالاجتهاد والعدالة.

4 - أن يستفيض عند الناس أنه أهل للفتيا أو يتواتر.

5 - رجوع العلماء إلى أقواله وفتاواه.

--------------------------------------------

(1) شرح الكوكب المنير 4/ 459، المستصفى 2/ 250، شرح تنقيح الفصول ص 437، تيسير التحرير 4/ 180، فواتح الرحموت 2/ 363، إرشاد الفحول ص 250، الموافقات 4/ 262.

(2) انظر هذه الطرق في: تيسير التحرير 4/ 238، فواتح الرحموت 2/ 403، شرح الكوكب المنير 4/ 541، إرشاد الفحول ص 271، التقليد ص 117.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য কার নিকট জিজ্ঞাসা করা বৈধ

যদি কোনো সাধারণ মানুষের (عامي) সামনে কোনো মাসআলা উপস্থিত হয় এবং সে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে সে বিষয়ে আল্লাহর বিধান জানতে চায়, তবে জিজ্ঞাসিত হওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিই উপযুক্ত নয়। বরং যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তার মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত থাকা আবশ্যক; যেমন—তাকে শরয়ি দলীলসমূহ (الأدلة الشرعية) সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে পরিজ্ঞাত হতে হবে এবং সেগুলোর ওপর উসুলি মূলনীতিসমূহ (القواعد الأصولية) প্রয়োগ করতে সক্ষম হতে হবে (১)। তবে এখানে প্রশ্ন হলো, সাধারণ মানুষ (عامي) কীভাবে বুঝবেন যে, যাকে তিনি জিজ্ঞাসা করছেন তার মধ্যে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর শর্তাবলি বিদ্যমান রয়েছে?

ওলামায়ে কেরাম এমন কিছু পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ (عامي) ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে পারেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো (২):

১ - তার ইলম ও ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত থাকা।

২ - তাকে ফতোয়া প্রদান (إفتاء) ও পাঠদানে নিয়োজিত এবং জনগণের নিকট সম্মানিত দেখা; কারণ এটি তার ইলম এবং ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) যোগ্যতার প্রমাণ। সম্ভবত এটি তখন প্রযোজ্য, যখন জানা যায় যে, মুজতাহিদ (مجتهد) ব্যতীত অন্য কেউ এ কাজে আসীন হয় না এবং যে মুজতাহিদ (مجتهد) নয় তাকে এ থেকে বিরত রাখা হয়।

৩ - কোনো নির্ভরযোগ্য (عدل) বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি তাকে পথনির্দেশ করবেন এবং তাকে ইজতিহাদ (اجتهاد) ও ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) বিশেষণে ভূষিত করবেন।

৪ - জনগণের মাঝে বিষয়টি প্রসিদ্ধ (مستفيض) হওয়া যে তিনি ফতোয়া প্রদানের (فتيا) যোগ্য, অথবা বিষয়টি মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছানো।

৫ - আলেমগণের তার বক্তব্য ও ফতোয়ার (فتاوى) দিকে প্রত্যাবর্তন করা।

--------------------------------------------

(১) শারহুল কাওকাব আল-মুনীর ৪/৪৫৯, আল-মুস্তাসফা ২/২৫০, শারহু তানকিহিল ফুসুল পৃ. ৪৩৭, তায়সিরুত তাহরির ৪/১৮০, ফাওয়তিহুর রাহমুত ২/৩৬৩, ইরশাদুল ফুহুল পৃ. ২৫০, আল-মুওয়াফাকাত ৪/২৬২।

(২) এই পদ্ধতিগুলো দেখুন: তায়সিরুত তাহরির ৪/২৩৮, ফাওয়তিহুর রাহমুত ২/৪০৩, শারহুল কাওকাব আল-মুনীর ৪/৫৪১, ইরশাদুল ফুহুল পৃ. ২৭১, আত-তাকলিদ পৃ. ১১৭।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن لم يعرف العامي أهليته للاجتهاد لا يحق له سؤاله.

ولابد من سكون نفس العامي إلى أن فتوى المفتي هي شرع الله بحيث تطمئن نفسه إليه (1).

--------------------------------------------

(1) شرح الكوكب المنير 4/ 574.
এবং কোনো সাধারণ লোক (عامي) যদি কারো ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্যতা সম্পর্কে অবগত না হয়, তবে তার জন্য তাকে (মাসআলা) জিজ্ঞাসা করা বৈধ নয়।

আর সাধারণ লোকের (عامي) মনে এই স্থিরতা থাকা আবশ্যক যে, মুফতির (مفتي) ফতোয়া (فتوى) হলো আল্লাহরই বিধান, যাতে তার মন সে বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারে (১)।

--------------------------------------------

(১) শরহুল কাওকাব আল-মুনীর ৪/৫৭৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الثالث

لزوم فتوى المجتهد للعامي إذا عمل بها

إذا عمل العامي في حادثة بما أفتاه مجتهد فإنه يلزم هذا العامي العمل بهذه الفتوى والبقاء عليه، وليس له الرجوع عن فتواه إلى فتوى غيره في هذه المسألة ونقل الإجماع على ذلك (1) إلا إذا علم مخالفتها للأدلة الشرعية.

أما إذا لم يعمل العامي بفتوى المجتهد فلا يلزمه العمل بفتواه، إلا إذا ظن أنها حكم الله في المسألة فيجب عليه العمل بهذه الفتوى (2).

--------------------------------------------

(1) انظر المسألة في: شرح الكوكب المنير 4/ 579، تيسير التحرير 4/ 53، إرشاد الفحول ص 272، فواتح الرحموت 2/ 405، المجموع 1/ 98، الإحكام للآمدي 4/ 318، التقليد ص 146.

(2) شرح الكوكب المنير 4/ 580، المجموع 1/ 98.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

সাধারণ ব্যক্তি (عامي) যদি মুজতাহিদের (مجتهد) ফতোয়া অনুযায়ী আমল করে, তবে তা অনুসরণ করা তার জন্য অপরিহার্য হওয়া

সাধারণ ব্যক্তি (عامي) যদি কোনো ঘটনায় কোনো মুজতাহিদের (مجتهد) দেওয়া ফতোয়া অনুযায়ী আমল করে, তবে উক্ত ব্যক্তির জন্য সেই ফতোয়া অনুযায়ী আমল জারি রাখা এবং তার উপর অবিচল থাকা অপরিহার্য হয়ে যায়। তার জন্য এই মাসআলায় উক্ত ফতোয়া পরিত্যাগ করে অন্য কারো ফতোয়ার দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) বর্ণিত হয়েছে (১); তবে যদি উক্ত ফতোয়া শরয়ি দলিলসমূহের (الأدلة الشرعية) পরিপন্থী হওয়ার বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে ভিন্ন কথা।

পক্ষান্তরে, সাধারণ ব্যক্তি (عامي) যদি মুজতাহিদের ফতোয়া অনুযায়ী আমল শুরু না করে থাকে, তবে তার ফতোয়া মেনে চলা তার জন্য অপরিহার্য নয়; তবে সে যদি প্রবল ধারণা (ظن) পোষণ করে যে, এই মাসআলায় এটাই আল্লাহর বিধান, তবে উক্ত ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা তার জন্য আবশ্যক (واجب) হয়ে যাবে (২)।

--------------------------------------------

(১) বিষয়টি দেখুন: শারহুল কাওকাব আল-মুনির ৪/৫৭৯, তায়সিরুত তাহরির ৪/৫৩, ইরশাদুল ফুহুল পৃষ্ঠা ২৭২, ফাওয়াতিহুর রাহমুত ২/৪০৫, আল-মাজমু' ১/৯৮, আল-ইহকাম লিল-আমিদি ৪/৩১৮, আত-তাকলিদ পৃষ্ঠা ১৪৬।

(২) শারহুল কাওকাব আল-মুনির ৪/৫৮০, আল-মাজমু' ১/৯৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الرابع

عمل العامي عند تغير اجتهاد من سأله أولاً

إذا أفتى المجتهد في مسألة اجتهادية عامياً باجتهاد، ثم تغير اجتهاد المفتي، فماذا يعمل العامي؟ هل يستمر على العمل بالفتوى الأولى أو يعمل بالاجتهاد الجديد؟ لا يخلو الحال من أحد أمرين:

الأول: أن يكون قد عمل بالاجتهاد الأول، فحينئذ يجوز للعامي الاستمرار على الاجتهاد الأول ولا يجب عليه العمل بالاجتهاد الجديد؛ لأن من القواعد المقررة أن الاجتهاد لا ينقض بالاجتهاد، ومثل القاضي إذا حكم باجتهاده ثم تغير اجتهاده.

الثاني: ألا يكون العامي قد عمل بالاجتهاد الأول، فحينئذ يعمل بالاجتهاد الجديد دون الاجتهاد الأول (1).

--------------------------------------------

(1) انظر المسألة في: شرح الكوكب المنبير 4/ 512، المستصفى 2/ 382، شرح تنقيح الفصول ص 441، فواتح الرحموت 2/ 396، المسودة ص 472، 543.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

যাকে প্রথমে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তার ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তিত হলে সাধারণ ব্যক্তির (العامي) করণীয়

যদি কোনো মুজতাহিদ (المجتهد) গবেষণালব্ধ কোনো বিষয়ে কোনো সাধারণ ব্যক্তিকে (العامي) তার ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন, অতঃপর ফতোয়াদাতার (المفتي) ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে সাধারণ ব্যক্তির (العامي) করণীয় কী? তিনি কি প্রথম ফতোয়া অনুযায়ী আমল অব্যাহত রাখবেন নাকি নতুন ইজতিহাদ (الاجتهاد الجديد) অনুযায়ী আমল করবেন? বিষয়টি দুটি অবস্থার কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

প্রথমত: যদি তিনি প্রথম ইজতিহাদ (الاجتهاد الأول) অনুযায়ী আমল করে থাকেন, তবে এমতাবস্থায় সাধারণ ব্যক্তির (العامي) জন্য প্রথম ইজতিহাদের ওপর আমল অব্যাহত রাখা বৈধ এবং তার জন্য নতুন ইজতিহাদ (الاجتهاد الجديد) অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক নয়; কারণ সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহের অন্যতম হলো যে, ইজতিহাদ (الاجتهاد) অন্য ইজতিহাদ দ্বারা খণ্ডন করা যায় না। এটি সেই বিচারকের (القاضي) মতো যিনি নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী ফয়সালা দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে তার ইজতিহাদ পরিবর্তিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: যদি সাধারণ ব্যক্তি (العامي) প্রথম ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল না করে থাকেন, তবে এমতাবস্থায় তিনি প্রথম ইজতিহাদ বাদ দিয়ে নতুন ইজতিহাদ (الاجتهاد الجديد) অনুযায়ী আমল করবেন (১)।

--------------------------------------------

(১) বিষয়টি দেখুন: শারহুল কাওকাব আল-মুনির ৪/৫১২, আল-মুস্তাসফা ২/৩৮২, শারহু তানকিহিল ফুসুল পৃ. ৪৪১, ফাওয়তিহুর রাহমুত ২/৩৯৬, আল-মুসওয়াদাহ পৃ. ৪৭২, ৫৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث الخامس

عمل العامي عند اختلاف المفتين

إذا استفتى العامي عدداً من المجتهدين واختلفوا، فإنه حينئذ يلزمه الترجيح بين المفتين بحسب العمل والورع؛ لأنه لا مزية لأحدهما على الآخر إلا بذلك، ولأن الظن بصواب الأعلم والأورع أرجح، فلا يجوز له مخالفة الصواب في غالب ظنه.

ولأن أحد القولين خطأ، لأن الحق في أحد الأقوال، وقد تعارضت عند العامي هذه الأقوال فلزمه الأخذ بأرجح القولين بحسب العلم والورع، كالمجتهد يلزمه الأخذ بأرجح الدليلين.

والعامي مطالب باتباع شرع الله، ولا يعرف شرع الله إلا بقول المفتي، فإذا اختلفت عليه أقوال المفتين وجب عليه العمل بما يغلب على ظنه أنه شرع الله سواء غلب على ظنه بواسطة كثرة المفتين بأحد الأقوال، أو بأفضلية القائلين به، أو بالأدلة الشرعية (1).

--------------------------------------------

(1) انظر المسألة في: شرح الكوكب المنير 4/ 573 و 580، المجموع 1/ 97، المستصفى 2/ 391، الموافقات 4/ 132، المنخول ص 483، روضة الطالبين 11/ 105، التقليد ص 162.
‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

মুফতিগণের (المفتين) মতভেদের সময় সাধারণ ব্যক্তির (العامي) করণীয়

যদি একজন সাধারণ ব্যক্তি (العامي) একাধিক মুজতাহিদগণের (المجتهدين) কাছে ফতোয়া প্রার্থনা করেন এবং তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন, তবে আমল ও পরহেজগারির (الورع) ভিত্তিতে মুফতিদের মধ্যে প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) করা তাঁর জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ এ বিষয়গুলো ছাড়া একজনের ওপর অন্যজনের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকে না। এছাড়া অধিকতর জ্ঞানী ও পরহেজগার (الأورع) ব্যক্তির সিদ্ধান্তের সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা অধিক প্রবল (أرجح), তাই নিজের প্রবল ধারণায় (غالب ظنه) যা সঠিক, তার বিরোধিতা করা তাঁর জন্য বৈধ নয়।

এছাড়া দুটি মতের যেকোনো একটি ভুল, কারণ সত্য কেবল একটি মতের মধ্যেই নিহিত থাকে। যেহেতু সাধারণ ব্যক্তির (العامي) নিকট এই বক্তব্যগুলো পরস্পরবিরোধী হয়ে পড়েছে, তাই জ্ঞান ও পরহেজগারির (الورع) বিচারে দুটি মতের মধ্যে অধিক অগ্রগণ্যটি (أرجح) গ্রহণ করা তাঁর জন্য আবশ্যক, ঠিক যেমন একজন মুজতাহিদ (المجتهد)-এর জন্য দুটি দলিলের মধ্যে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح) দলিলটি গ্রহণ করা আবশ্যক।

সাধারণ ব্যক্তি (العامي) আল্লাহর বিধান (شرع الله) অনুসরণে আদিষ্ট। আর মুফতির (المفتي) বক্তব্য ব্যতীত আল্লাহর বিধান (شرع الله) জানা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং মুফতিদের বক্তব্য যদি ভিন্ন ভিন্ন হয়, তবে তাঁর প্রবল ধারণায় যা আল্লাহর বিধান (شرع الله) বলে মনে হয়, সে অনুযায়ী আমল করা তাঁর জন্য ওয়াজিব (وجب)। এই প্রবল ধারণা কোনো একটি মতের পক্ষে মুফতিদের (المفتين) সংখ্যার আধিক্য দেখে হতে পারে, অথবা প্রবক্তাদের শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে হতে পারে, কিংবা শারয়ী দলিলসমূহ (الأدلة الشرعية)-এর মাধ্যমেও হতে পারে (১)।

--------------------------------------------

(১) মাসআলাটি দেখুন: শারহু কাওকাবিল মুনীর ৪/৫৭৩ ও ৫৮০, আল-মাজমু ১/৯৭, আল-মুস্তাসফা ২/৩৯১, আল-মুয়াফাকাত ৪/১৩২, আল-মানখুল পৃষ্ঠা ৪৮৩, রাওদাতুত তালিবীন ১১/১০৫, আত-তাকলীদ পৃষ্ঠা ১৬২।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث السادس

من يسأله العامي عند تعدد المجتهدين

ذهب جمهور العلماء إلى جواز سؤال العامي لأي مجتهد من المجتهدين وعمله بفتواه عند تعدد المجتهدين سواء كان فاضلاً أو مفضولاً، واستدلوا على ذلك بعدد من الأدلة منها:

- قوله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (43)} [النحل: 43]، والمجتهد المفضول من أهل الذكر، فجاز سؤاله.

- ولإجماع السلف على إصدار المفضول للفتوى مع وجود الفاضل، واشتهر ذلك وتكرر ولم ينكر فكان إجماعاً على جواز استفتائه مع القدرة على استفتاء الفاضل.

كما استدل على ذلك بأن العامي قد لا يمكنه الترجيح لقصوره، إذ الترجيح بين أعيان المفتين يحتاج إلى اجتهاد ومعرفة.

واعترض على هذا الاستدلال بأن الترجيح بين المجتهدين قد يظهر للعامي بالتسامع أو رجوع العلماء إليه، أو لكثرة المستفتين، أو لتقديم العلماء له (1).

--------------------------------------------

(1) انظر المسألة في: شرح الكوكب المنير 4/ 571، المجموع 1/ 94، المسودة ص 462، المستصفى 2/ 390، المنخول ص 479، تيسير التحرير 4/ 251، إرشاد الفحول ص 271، التمهيد 4/ 403، التقليد ص 159.
‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

মুজতাহিদগণের (مجتهد) সংখ্যাধিক্যের সময় সাধারণ মানুষ (عامي) কাকে প্রশ্ন করবে

অধিকাংশ আলিম (جمهور العلماء) এই মত পোষণ করেছেন যে, মুজতাহিদগণের (مجتهد) সংখ্যাধিক্যের সময় সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য যেকোনো মুজতাহিদের (مجتهد) কাছে প্রশ্ন করা এবং তার ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা বৈধ; চাই তিনি তুলনামূলক শ্রেষ্ঠ (فاضل) হোন কিংবা অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য (مفضول) হোন। তারা এর সপক্ষে বেশ কিছু দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

- আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো (৪৩)} [আন-নাহল: ৪৩]। আর অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য (مفضول) মুজতাহিদও (مجتهد) জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত, তাই তাকে জিজ্ঞাসা করা বৈধ।

- এবং শ্রেষ্ঠ (فاضل) ব্যক্তির উপস্থিতিতে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য (مفضول) ব্যক্তির ফতোয়া প্রদানের ব্যাপারে সালাফগণের ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে। এই বিষয়টি সুপরিচিত ও বারবার সংঘটিত হয়েছে এবং কেউ এর প্রতিবাদ করেননি। ফলে শ্রেষ্ঠ (فاضل) ব্যক্তিকে প্রশ্ন করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য (مفضول) ব্যক্তির নিকট ফতোয়া চাওয়ার বৈধতার ওপর এটি একটি ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

আরও দলিল পেশ করা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের (عامي) পক্ষে তার সীমাবদ্ধতার কারণে মুজতাহিদগণের (مجتهد) মধ্যে একজনকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) করা সম্ভব নাও হতে পারে। কেননা মুফতিগণের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠজনকে বাছাই বা প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) ও গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন।

এই দলিলের বিপক্ষে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, মুজতাহিদগণের (مجتهد) মধ্যে প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) করা সাধারণ মানুষের (عامي) কাছে জনশ্রুতি, আলিমগণের তার শরণাপন্ন হওয়া, ফতোয়াপ্রার্থীর আধিক্য অথবা আলিমগণ কর্তৃক তাকে অগ্রগণ্য করার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে (১)।

--------------------------------------------

(১) বিষয়টি দেখুন: শারহুল কাওকাবিল মুনীর ৪/৫৭১, আল-মাজমু ১/৯৪, আল-মুসাওয়াদ্দাহ পৃ. ৪৬২, আল-মুস্তাসফা ২/৩৯০, আল-মানখুল পৃ. ৪৭৯, তাইসীরুত তাহরীর ৪/২৫১, ইরশাদুল ফুহুল পৃ. ২৭১, আত-তামহীদ ৪/৪০৩, আত-তাকলীদ পৃ. ১৫৯।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث السابع

الحكم إذا لم يجد العامي مجتهداً

اختلف العلماء في العامي إذا لم يجد مجتهداً، على أقوال: فمنهم من يقول: تخرج على حكم ما قبل الشرع، ومنهم من يخرجها على مسألة تعارض الأدلة عند المجتهد، ومنهم من يقول: يجب عليه أن يتقي الله ما استطاع (1).

وهذه المسألة قليلة الوقوع في زماننا هذا لتوافر آلات الاتصال ووسائل المواصلات، فمن كان في أمريكا أو بريطانيا مثلاً يمكنه أن يتصل على العلماء في المملكة العربية السعودية، بحيث يكلمه العالم هناك في نفس الوقت، فالحمد لله الذي هيأ لنا هذه الوسائل لتكون عوناً على طاعته سبحانه.

--------------------------------------------

(1) شرح الكوكب المنير 4/ 553، المسودة ص 550، المجموع 1/ 99، الموافقات 4/ 291، إعلام الموقعين 4/ 279، التقليد ص 178.
সপ্তম পরিচ্ছেদ

সাধারণ ব্যক্তি (العامي) যদি মুজতাহিদ (مجتهد) খুঁজে না পান, তবে তার বিধান

সাধারণ ব্যক্তি (العامي) যদি মুজতাহিদ (مجتهد) খুঁজে না পান, সে ক্ষেত্রে আলেমদের মাঝে বিভিন্ন মতামত রয়েছে: তাদের মধ্যে কেউ বলেন, এটি শরিয়ত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেউ কেউ একে মুজতাহিদ (مجتهد)-এর নিকট দলিলের পারস্পরিক বৈপরীত্য (تعارض الأدلة) দেখা দেওয়ার মাসআলার ওপর ভিত্তি করে সমাধান করেন। আবার কেউ বলেন, তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা ওয়াজিব বা আবশ্যক (১)।

বর্তমান যুগে যোগাযোগ মাধ্যম ও যাতায়াত ব্যবস্থার সহজলভ্যতার কারণে এই সমস্যাটি খুব কমই দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকা বা ব্রিটেনে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তি সৌদি আরবে অবস্থানরত আলেমদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং তৎক্ষণাৎ তাঁদের সাথে কথা বলতে পারেন। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যে সাহায্য করার জন্য আমাদের সামনে এই মাধ্যমগুলোকে সহজ করে দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) শারহুল কাওকাব আল-মুনীর ৪/৫৫৩, আল-মুসাওয়াদাহ পৃষ্ঠা ৫৫০, আল-মাজমু ১/৯৯, আল-মুওয়াফাকাত ৪/২৯১, ই’লামুল মুওয়াক্কি’ইন ৪/২৭৯, আত-তাকলীদ পৃষ্ঠা ১৭৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الثامن

تقليد المتساهل بالفتيا

إذا عرف العامي عن مجتهد التساهل (1) في الفتوى حرم على العامي أن يعمل بفتياه؛ لأن العامي إنما عمل بقول المجتهد لأنه يغلب على ظنه أن قوله موافق لحكم الشرع، فإذا عرف عن شخص التساهل في الفتوى فإنه يغلب على ظن العامي أن فتواه غير موافقة لحكم الشرع، وبالتالي انتفت العلة التي من أجلها يجب العمل بفتواه (2).

--------------------------------------------

(1) المراد بالتساهل في الفتوى؛ الإفتاء في مسألة قبل بحثها وتقليب النظر فيها.

(2) انظر المسألة في: شرح الكوكب المنير 4/ 588، المجموع 1/ 81، إعلام الموقعين 4/ 282، المسودة ص 537، التقليد ص 154.
অষ্টম পরিচ্ছেদ

ফতোয়া প্রদানে শৈথিল্য (تساهل) প্রদর্শনকারীর তাকলীদ (تقليد) করা

যদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি (عامي) কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) সম্পর্কে ফতোয়া প্রদানে শৈথিল্য (تساهل) (১) প্রদর্শনের বিষয়টি অবগত হন, তবে উক্ত সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য তার ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা হারাম (حرام); কারণ সাধারণ ব্যক্তি (عامي) মুজতাহিদ (مجتهد)-এর কথা অনুযায়ী আমল কেবল এই জন্যই করেন যে, তার মনে এই প্রবল ধারণা (غلبة الظن) থাকে যে মুজতাহিদের বক্তব্য শরীয়তের বিধানের অনুকূল। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তির মাঝে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে শৈথিল্য (تساهل) পরিলক্ষিত হয়, তখন সাধারণ ব্যক্তির (عامي) মনে এই প্রবল ধারণা (غلبة الظن) তৈরি হয় যে তার ফতোয়া শরীয়তের বিধানের অনুকূল নয়। ফলশ্রুতিতে, সেই কারণটি (علة) বিলুপ্ত হয়ে যায় যার ভিত্তিতে তার ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক ছিল (২)।

--------------------------------------------

(১) ফতোয়া প্রদানে শৈথিল্য (تساهل) বলতে উদ্দেশ্য হলো—কোনো বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার পূর্বেই ফতোয়া প্রদান করা।

(২) বিষয়টি দেখুন: শারহুল কাওকাবিল মুনীর ৪/ ৫৮৮, আল-মাজমু ১/ ৮১, ই'লামুল মুয়াক্কি'ঈন ৪/ ২৮২, আল-মুসাউওয়াদাহ পৃষ্ঠা ৫৩৭, আল-তাকলীদ পৃষ্ঠা ১৫৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المبحث التاسع

تتبع الرخص

ذكر العلماء الإجماع على أن العامي يحرم عليه تتبع الرخص، بحيث كلما وجد رخصة في فتوى أحد علماء عصره عمل بها، بل حكم كثير من العلماء عليه بالفسق بتتبع الرخص؛ لأنه لا يقول بإباحة جميع الرخص أحد من علماء المسلمين، فإن القائل بالرخصة في هذه المسألة لا يقول بالرخصة في المسألة الأخرى (1). ويدل على ذلك ما ورد من التحذير من زلة العالم (2).

ويدل على ذلك أيضاً النصوص الواردة في ترغيب المكلف بالاحتياط لدينه ومنها قول النبي صلى الله عليه وسلم: (الحلال بين والحرام بين وبينهما مشتبهات لا يعلمها كثير من الناس، فمن اتقى الشبهات فقد استبرأ لدينه وعرضه) (3)، وقوله صلى الله عليه وسلم: (دع ما يريبك إلى ما لا يريبك) (4).

--------------------------------------------

(1) انظر المسألة في: شرح الكوكب المنير 4/ 577، المجموع 1/ 96، المسودة ص 218، الموافقات 4/ 144 و 259، فواتح الرحموت 2/ 406، إرشاد الفحول ص 272، المستصفى 2/ 391، تيسير التحرير 4/ 254، التقليد ص 154.

(2) انظر بعض النصوص في ذلك في: التقليد ص 155، الموافقات 4/ 170.

(3) أخرجه البخاري (ص 405 ح 2051) كتاب البيوع، باب الحلال بين، ومسلم (2/ 1219 ح 1559) كتاب المساقاة، باب أخذ الحلال.

(4) أخرجه الترمذي (4/ 576 ح 2518)، والنسائي (8/ 327)، وأحمد (1/ 200 ح 1723)، والطيالسي (ح 1178)، والبيهقي (5/ 335)، والحاكم (2/ 13 و 4/ 96) وصححه ووافقه الذهبي.
‌‌নবম পরিচ্ছেদ

সহজ সুযোগ বা ছাড় অন্বেষণ করা (تتبع الرخص)

আলেমগণ এই বিষয়ে ঐক্যমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন যে, একজন সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য সহজ সুযোগ বা ছাড় অন্বেষণ করা (تتبع الرخص) হারাম; অর্থাৎ যখনই সে তার সমসাময়িক কোনো আলেমের ফতোয়ায় কোনো ছাড় পায়, সে অনুযায়ী আমল করে। এমনকি অনেক আলেম কেবল সহজ সুযোগ বা ছাড় অন্বেষণ করার (تتبع الرخص) কারণে তাকে পাপাচারী (فسق) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। কারণ মুসলিম আলেমদের মধ্যে কেউ সকল সহজ সুযোগ বা ছাড়কে (رخص) বৈধ বলার কথা বলেননি। কেননা যিনি একটি মাসআলায় ছাড়ের (رخصة) কথা বলেন, তিনি অন্য মাসআলায় ছাড়ের কথা বলেন না (১)। আর এটি আলেমের পদস্খলন (زلة العالم) সম্পর্কে বর্ণিত সতর্কবাণী দ্বারাও প্রমাণিত হয় (২)।

এটি সেই সব টেক্সট (نصوص) দ্বারাও প্রমাণিত যা শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে (مكلف) তার দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা (احتياط) অবলম্বনে উৎসাহিত করে। এর মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট, আর এই উভয়ের মাঝে কিছু সন্দেহজনক বিষয় (مشتبهات) রয়েছে যা অনেক মানুষই জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে হেফজ করল) (৩)। এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ করে তাতে মনোনিবেশ করো যাতে সন্দেহ নেই) (৪)।

--------------------------------------------

(১) মাসআলাটি দেখুন: শারহুল কাওকাব আল-মুনীর ৪/৫৭৭, আল-মাজমু ১/৯৬, আল-মুসাউয়াদাহ পৃষ্ঠা ২১৮, আল-মুওয়াফাকাত ৪/১৪৪ ও ২৫৯, ফাওয়তিহুর রাহমুত ২/৪০৬, ইরশাদুল ফুহুল পৃষ্ঠা ২৭২, আল-মুসতাসফা ২/৩৯১, তাইসীরুত তাহরীর ৪/২৫৪, আত-তাকলীদ পৃষ্ঠা ১৫৪।

(২) এই বিষয়ে কিছু টেক্সট (نصوص) দেখুন: আত-তাকলীদ পৃষ্ঠা ১৫৫, আল-মুওয়াফাকাত ৪/১৭০।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (পৃষ্ঠা ৪০৫, হাদিস ২০৫১) কিতাবুল বুয়ু, অধ্যায়: হালাল স্পষ্ট; এবং মুসলিম (২/১২১৯, হাদিস ১৫৫৯) কিতাবুল মুসাকাত, অধ্যায়: হালাল গ্রহণ।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (৪/৫৭৬, হাদিস ২৫১৮), নাসায়ি (৮/৩২৭), আহমাদ (১/২০০, হাদিস ১৭২৩), তায়ালিসি (হাদিস ১১৭৮), বাইহাকি (৫/৩৩৫), হাকেম (২/১৩ এবং ৪/৯৬) এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المبحث العاشر

تمذهب العامي

لا يلزم العامي أن ينتسب إلى مذهب يأخذ بعزائمه ورخصه، والجمهور على عدم جوازه؛ لأن العامي لا يعرف كلام أهل المذاهب ولا اصطلاحاتهم فيجب عليه أن يسأل أحد المفتين في عصره (1).

فإن قال قائل: إن العلماء لا زالوا يؤلفون في مذاهب العلماء في الأحكام الشرعية، فهذه كتب فقهاء الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة فما الفائدة من تأليفها إذا لم يلزم العمل بها، ووجب على العامي سؤال المجتهدين في عصره؟

أجيب عن ذلك بأن هذه المؤلفات المراد بها التعلم لا العمل بما فيها، فهذه الكتب مهمة ولها قيمة عالية في الاستعانة بها على فهم كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، وتعلم صور المسائل الفقهية (2).

--------------------------------------------

(1) انظر المسألة في: شرح الكوكب المنير 4/ 574، المسودة ص 465، تيسير التحرير 4/ 253، شرح تنقيح الفصول ص 432، إرشاد الفحول ص 252، التقليد ص 142.

(2) تيسير العزيز الحميد ص 486، فتح المجيد ص 343 - 345.
দশম পরিচ্ছেদ

সাধারণ ব্যক্তির (عامي) মাজহাব (مذهب) গ্রহণ

কোনো সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাজহাবের (مذهب) সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত হওয়া আবশ্যক নয় যে সে কেবল সেটিরই কঠোর বিধান (عزائم) ও শিথিলতা (رخص) অনুসরণ করবে। জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের মতে এটি বাধ্যতামূলক হওয়া বৈধ নয়; কারণ সাধারণ ব্যক্তি (عامي) মাজহাবের (مذهب) ইমামগণের বক্তব্য কিংবা তাদের পারিভাষিক শব্দসমূহ (اصطلاحات) সম্পর্কে অবগত নন। অতএব তার জন্য আবশ্যক হলো তার নিজ সময়ের মুফতিদের (مفتين) মধ্যে কারো নিকট থেকে জেনে নেওয়া (১)।

যদি কেউ বলেন: আলেমগণ তো অবিরত শরয়ী বিধানের (أحكام شرعية) ক্ষেত্রে ফকীহদের মাজহাব (مذهب) অনুযায়ী গ্রন্থ রচনা করে আসছেন, যেমন—হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের (فقهاء) কিতাবসমূহ। যদি এগুলোর ওপর আমল করা আবশ্যক না-ই হয় এবং সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য তার সমসাময়িক মুজতাহিদদের (مجتهدين) নিকট জিজ্ঞাসা করা আবশ্যক হয়, তবে এই গ্রন্থগুলো রচনার সার্থকতা কী?

উত্তরে বলা যায় যে, এই সংকলনগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা অর্জন করা, সরাসরি এগুলোর ভেতরে যা আছে কেবল সেটির ওপর আমল করা নয়। আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী বোঝার ক্ষেত্রে সহায়তা নিতে এবং ফিকহী (فقهية) মাসআলাসমূহের স্বরূপ ও প্রকৃতি শিখতে এই গ্রন্থগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী (২)।

--------------------------------------------

(১) মাসআলাটি দেখুন: শরহুল কাওকাব আল-মুনীর ৪/৫৭৪, আল-মুসাউওয়াদাহ পৃষ্ঠা ৪৬৫, তাইসীরুত তাহরীর ৪/২৫৩, শরহু তানকীহিল ফুসুল পৃষ্ঠা ৪৩২, ইরশাদুল ফুহুল পৃষ্ঠা ২৫২, আত-তাকলীদ পৃষ্ঠা ১৪২।

(২) তাইসীরুল আজিজিল হামিদ পৃষ্ঠা ৪৮৬, ফাতহুল মাজীদ পৃষ্ঠা ৩৪৩ - ৩৪৫।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المبحث الحادي عشر

تكرير المستفتي الاستفتاء عند تكرر الحادثة

إذا استفتى العامي مجتهداً في واقعة نزلت به وعمل بفتواه، ثم تكررت عليه الواقعة فهل يلزمه تكرير السؤال؟

لا يخلو الحال من أحد أمرين:

الأول: أن يعلم العامي أن المجتهد قد استند في فتواه على نص أو إجماع فحينئذٍ لا حاجة إلى إعادة السؤال قطعاً.

الثاني: ألا يعلم العامي مستند المجتهد في فتواه أو عَلِمَ أنه استند على دليل يسوغ الاجتهاد فيه، فحينئذ هل يلزمه إعادة الاستفتاء؟ اختلف العلماء في ذلك على قولين:

الأول: أنه يلزمه إعادة الاستفتاء لأنه قد يتغير اجتهاد المجتهد.

الثاني: أنه لا يلزمه لأنه قد استند على فتوى سابقة (1).

--------------------------------------------

(1) انظر هذه المسألة في: شرح الكوكب المنير 4/ 555، المجموع 1/ 98، المسودة ص 467، البرهان 2/ 1343، تيسير التحرير 2/ 232، شرح تنقيح الفصول ص 432، التقليد ص 195.
একাদশ পরিচ্ছেদ

ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ফতোয়া প্রার্থীর (المستفتي) জন্য পুনরায় ফতোয়া গ্রহণ (الاستفتاء)

যদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি (العامي) তার ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার বিষয়ে কোনো মুজতাহিদের (المجتهد) নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করে এবং তাঁর ফতোয়া অনুযায়ী আমল করে, অতঃপর পুনরায় যদি সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তার জন্য কি পুনরায় প্রশ্ন করা আবশ্যক?

বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে নয়:

প্রথম: সাধারণ ব্যক্তি (العامي) যদি জানে যে, মুজতাহিদ (المجتهد) তাঁর ফতোয়ার ক্ষেত্রে কোনো অকাট্য দলিল (نص) অথবা ঐক্যমত্যের (إجماع) ওপর ভিত্তি করেছেন, তবে সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই পুনরায় প্রশ্ন করার কোনো প্রয়োজন নেই।

দ্বিতীয়: সাধারণ ব্যক্তি (العامي) যদি মুজতাহিদের ফতোয়ার ভিত্তি সম্পর্কে অবগত না থাকে অথবা সে জানতে পারে যে মুজতাহিদ এমন কোনো দলিলের (دليل) ওপর ভিত্তি করেছেন যাতে ইজতিহাদ (الاجتهاد) করার অবকাশ রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে কি তার জন্য পুনরায় ফতোয়া গ্রহণ (الاستفتاء) করা আবশ্যক? এ বিষয়ে আলেমগণ দুটি মত পোষণ করেছেন:

প্রথম: তার জন্য পুনরায় ফতোয়া গ্রহণ (الاستفتاء) করা আবশ্যক; কারণ মুজতাহিদের (المجتهد) ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তিত হতে পারে।

দ্বিতীয়: তার জন্য এটি আবশ্যক নয়; কারণ সে পূর্ববর্তী ফতোয়ার ওপর নির্ভর করেছে (১)।

--------------------------------------------

(১) এই মাসআলাটি দেখুন: শারহুল কাওকাবিল মুনির ৪/৫৫৫, আল-মাজমু ১/৯৮, আল-মুসাওয়াদাহ পৃষ্ঠা ৪৬৭, আল-বুরহান ২/১৩৪৩, তাইসিরুত তাহরির ২/২৩২, শারহু তানকিহিল ফুসুল পৃষ্ঠা ৪৩২, আত-তাকলিদ পৃষ্ঠা ১৯৫।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الثالث

القواعد الفقهية والأصولية الأخرى التي لها تعلق مباشر بالعامي

وفيه أحد عشر مبحثاً:

المبحث الأول: المراد بالأحكام الشرعية الواردة في فتوى المجتهد.

المبحث الثاني: علاقة العامي بالقراءات.

المبحث الثالث: الأفعال النبوية.

المبحث الرابع: إصدار العامي للفتوى.

المبحث الخامس: ما يتعلق بالعامي من أحكام الواجب الموسع.

المبحث السادس: المطالب بالواجب الكفائي.

المبحث السابع: قطع الطاعة بعد الشروع فيها.

المبحث الثامن: تكليف الكفار بالفروع.

المبحث التاسع: تفسير العامي للقرآن.

المبحث العاشر: نقل العامي للحديث بالمعنى.

المبحث الحادي عشر: القواعد الفقهية التي يستفيد العامي مباشرة من تعلمها.
তৃতীয় অধ্যায়

অন্যান্য ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية) ও উসূলী মূলনীতিসমূহ (الأصولية) যেগুলোর সাথে সাধারণ মানুষের (العامي) সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে

এতে এগারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুজতাহিদের ফতোয়ায় বর্ণিত শরয়ি বিধানসমূহের (الأحكام الشرعية) তাৎপর্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিরাআতসমূহের (القراءات) সাথে সাধারণ মানুষের (العامي) সম্পর্ক।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নববী কার্যাবলি (الأفعال النبوية)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাধারণ মানুষের (العامي) পক্ষ থেকে ফতোয়া প্রদান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: প্রশস্ত ওয়াজিব (الواجب الموسع) সংক্রান্ত বিধানাবলির মধ্যে যা সাধারণ মানুষের (العامي) সাথে সংশ্লিষ্ট।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সামষ্টিক ওয়াজিবের (الواجب الكفائي) প্রতি সম্বোধিত ব্যক্তি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: আনুগত্য বা ইবাদত শুরু করার পর তা ছিন্ন করা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: কাফেরদের ওপর শরিয়তের শাখা-বিধানের (الفروع) বিধানারোপ।

নবম পরিচ্ছেদ: সাধারণ মানুষ (العامي) কর্তৃক কুরআনের তাফসির।

দশম পরিচ্ছেদ: সাধারণ মানুষ (العامي) কর্তৃক অর্থের ভিত্তিতে (بالمعنى) হাদিস বর্ণনা।

একাদশ পরিচ্ছেদ: ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) যা শেখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ (العامي) সরাসরি উপকৃত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদুল উসূলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المبحث الأول

المراد بالأحكام الشرعية الواردة في الفتوى

كثيراً ما يستعمل المفتي ألفاظ الأحكام التكليفية، وبالتالي فالعامي محتاج إلى معرفة أقسام الحكم التكليفي، ومعنى كل قسم وأسمائه، وما يترتب على فعله وعلى تركه. فالحكم التكليفي خمسة أقسام هي:

 

‌‌القسم الأول: الواجب:

وهو ما طلبه الشارع طلباً جازماً (1).

ومثاله: الصلاة، طلبها الشارع طلباً جازماً بقوله: {أَقِمِ الصَّلَاةَ} [الإسراء: 78] فتكون واجبة.

ومن أسمائه: المكتوب، والفرض، والحتم، واللازم (2).

 

‌‌القسم الثاني: المندوب:

وهو ما رغب الشارع في فعله من غير إيجاب (3).

ومثاله: العفو عن إساءة الآخرين، رغب الشارع في فعله في قوله تعالى: {وَلَمَنْ صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ (43)} [الشورى: 43]، ولم يوجبه فيكون مندوباً.

وحكمه: يستحق فاعله الثواب إذا نوى به التقرب لله ولا يعاقب تاركه (4).

--------------------------------------------

(1) شرح الكوكب المنير 1/ 340، إرشاد الفحول ص 6.

(2) شرح الكوكب المنير 1/ 349، إرشاد الفحول ص 6، البحر المحيط 1/ 185.

(3) شرح الكوكب المنير 1/ 340، إرشاد الفحول ص 6.

(4) شرح الكوكب المنير 1/ 402، إرشاد الفحول ص 6، البحر المحيط 1/ 284.
প্রথম পরিচ্ছেদ

ফতোয়ায় উল্লিখিত শরয়ী বিধানসমূহের উদ্দেশ্য

মুফতিগণ প্রায়শই তাকলিফী বিধান (الأحكام التكليفية) সংশ্লিষ্ট পরিভাষা ব্যবহার করেন। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য তাকলিফী বিধানের (الحكم التكليفي) প্রকারভেদ, প্রতিটি প্রকারের অর্থ ও নামসমূহ এবং তা পালন বা বর্জনের পরিণাম সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাকলিফী বিধান (الحكم التكليفي) পাঁচ প্রকার:

 

প্রথম প্রকার: ওয়াজিব (الواجب):

এটি হলো এমন কাজ যা শরীয়ত প্রণেতা সুদৃঢ়ভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন (১)।

এর উদাহরণ: সালাত; শরীয়ত প্রণেতা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা সুদৃঢ়ভাবে পালন করতে বলেছেন: {সালাত কায়েম করুন} [আল-ইসরা: ৭৮], ফলে এটি ওয়াজিব (واجب) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

এর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: মাকতুব (المكتوب), ফরজ (الفرض), হাতম (الحتم) এবং লাজিম (اللازم) (২)।

 

দ্বিতীয় প্রকার: মানদুব (المندوب):

এটি হলো এমন কাজ যার প্রতি শরীয়ত প্রণেতা উৎসাহ প্রদান করেছেন কিন্তু তা আবশ্যক (إيجاب) করেননি (৩)।

এর উদাহরণ: অন্যের অন্যায়ের ক্ষমা করা; শরীয়ত প্রণেতা মহান আল্লাহর বাণীতে এটি পালনের উৎসাহ দিয়েছেন: {আর যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে দেয়, তবে তা তো হবে সাহসিকতার কাজ।} [আশ-শুরা: ৪৩], কিন্তু তিনি তা আবশ্যক করেননি, ফলে এটি মানদুব (مندوب) হিসেবে গণ্য।

এর বিধান (حكم): এটি সম্পাদনকারী সওয়াবের অধিকারী হবে যদি সে এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করে, আর এটি বর্জনকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না (৪)।

--------------------------------------------

(১) শারহুল কাওকাবিল মুনির ১/ ৩৪০, ইরশাদুল ফুহুল পৃ. ৬।

(২) শারহুল কাওকাবিল মুনির ১/ ৩৪৯, ইরশাদুল ফুহুল পৃ. ৬, আল-বাহরুল মুহিত ১/ ১৮৫।

(৩) শারহুল কাওকাবিল মুনির ১/ ৩৪০, ইরশাদুল ফুহুল পৃ. ৬।

(৪) শারহুল কাওকাবিল মুনির ১/ ৪০২, ইরশাদুল ফুহুল পৃ. ৬, আল-বাহরুল মুহিত ১/ ২৮৪।