(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: -)
المرتجل في شرح الجمل لابن الخشاب القسم: النحو والصرف
الكتاب: المرتجل (في شرح الجمل)
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن أحمد بن أحمد بن أحمد ابن الخشاب (492 - 567 هـ)
تحقيق ودراسة: علي حيدر (أمين مكتبة مجمع اللغة العربية بدمشق)
الطبعة: دمشق، 1392 هـ - 1972 م
عدد الصفحات: 346
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
تنبيه: عقد المحقق في آخر الكتاب جدولا للخطأ والصواب، وقد عدلنا هذه المواضع في صلب الكتاب
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 شعبان 1438
ইবনুল খাশশব রচিত আল-মুরতাজাল ফি শারহিল জুমাল বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আল-মুরতাজাল (ফি শারহিল জুমাল)
লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আহমদ বিন আহমদ ইবনুল খাশশব (৪৯২ - ৫৬৭ হিজরি)
সম্পাদনা ও গবেষণা: আলি হায়দার (দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমির গ্রন্থাগারিক)
সংস্করণ: দামেস্ক، ১৩৯২ হিজরি - ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৬
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
সতর্কতা: সম্পাদক গ্রন্থের শেষে একটি ভুল-সংশোধনী তালিকা যুক্ত করেছেন، আমরা মূল গ্রন্থে এই স্থানগুলো সংশোধন করে দিয়েছি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ শাবান ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১)
المرتجل في شرح الجمل
لأبي محمد عبد الله بن أحمد بن أحمد بن أحمد بن الخشاب
(492 - 567 هـ)
আল-মুরতাজিল ফি শারহিল জুমাল
আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে আহমদ ইবনুল খাশশাব প্রণীত
(৪৯২ - ৫৬৭ হিজরি)
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
المرتجل في شرح الجمل
لأبي بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجاني قدس الله روحه، مما أملاه الشيخ الإمام العالم ألصدر أوحد الزمان، فريد العصر، زين الدين أبو محمد عبد الله بن أحمد بن أحمد بن أحمد بن الخشاب. رحمة الله عليه. الحمد لله (1).
--------------------------------------------
আল-মুরতাজিল ফী শারহিল জুমাল
আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান আল-জুরজানি (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) এর রচনার ওপর, যা শায়খ, ইমাম, আলিম, প্রধান মনীষী, জামানার অদ্বিতীয় ও যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব যাইনুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আহমাদ বিন আহমাদ বিন আল-খাশশাব শ্রুতলিখন (إملاء) করিয়েছেন। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر بفضلك (1). الحمد لله رب العالمين، وصلواته (2) على سيدنا محمد والنبي وآله الطيبين الطاهرين.
(قال الشيخ الأجل الإمام العالم الأوحد، زين الدين، أوحد العصر أبو محمد عبد الله بن أحمد بن الخشاب النحوي اللغوي، رحمه الله عليه) (3): هذا (4) إملاء على مختصر أبي بكر، عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجاني، رحمه الله، الذي وسمه بالجمل، يجري مجرى الشرح له، وإن كان غير مستقصى. (ارتجلته مملياً في أيام قليلة العدد، قبل سنة عشرين وخمسمائة، وكان مستمليه على جناح سفر، فوسمته لذلك بالمرتجل، فإن عثر فيه على ما ليس بمحرر، فقد بينت العذر فيه، وعلى الله اعتمد وبه اعتضد) (5).
قوله:
اعلم أن الكلمات ثلاث.
الكلمات جمع كلمة، جمع قلة، لأن الثلاث (6) أقل جمع، والكلمة هي
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আমার রব! আপনার অনুগ্রহে সহজ করে দিন (১)। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর রহমত ও দরুদ (২) বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, সকল নবী এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন বংশধরদের প্রতি।
(মহান শায়খ, ইমাম, অদ্বিতীয় আলেম, যাইনুদ্দিন, যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনুল খাশশব আন-নাহবী আল-লুগাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন) (৩): এটি (৪) আবু বকর আব্দুল কাহের ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরাজনী (রাহিমাহুল্লাহ) এর রচিত 'আল-জুমাল' নামক সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ (مختصر) এর ওপর একটি শ্রুতলিখন (إملاء), যা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত, যদিও এটি অসম্পূর্ণ বা বিস্তারিত (غير مستقصى) নয়। (আমি ৫২০ হিজরির পূর্বে অল্প কয়েক দিনে এটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করেছি; এর শ্রুতলিখন গ্রহণকারী (مستملي) সফরের প্রস্তুতিরত ছিলেন, তাই আমি এর নাম রেখেছি 'আল-মুর্তাজিল'। যদি এতে কোনো অপরিশোধিত (غير محرر) অংশ পরিলক্ষিত হয়, তবে আমি তার কারণ ব্যাখ্যা করেছি। আল্লাহর ওপরই আমি ভরসা করি এবং তাঁরই সাহায্য কামনা করি) (৫)।
তাঁর উক্তি:
জেনে রাখুন, শব্দ তিন প্রকার।
'আল-কালিমাত' শব্দটি 'কালিমাহ' এর বহুবচন, যা স্বল্পতা জ্ঞাপক বহুবচন (جمع قلة), কারণ তিন (৬) হলো বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা। আর 'কালিমাহ' হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
اللفظة المفردة، وإن شئت قلت: الجزء المفرد. هذا الأصل (1)، وغير اتساع. وجميع ما يتخاطب به الناس (2) من الجمل المفيدة التي سماها جمهور النحويين كلاماً ألفاظ مؤلفة. وكل مؤلف فله مفردات منها ألف، فالكلام مؤلف، مفرداته هذا الكلم الثلاث (3)، فهو ينتظمها (4)، ومنها ينتظم.
وهي: كلمة يصح الإخبار عنها وبها، وكلمة (5) يخبر بها ولا يصح الإخبار عنها، وكلمة (6) لا يخبر بها ولا عنها (7). الأولى تلقب اسماً والثانية تلقب (8) فعلاً، والثالثة تلقب حرفاً.
ولكل منها حد (9) وعلامات واشتقاق. فالحد (10) يحصر ذات المحدود والعلامة (11) تعرفه، والاشتقاق يكشف عن وضع لفظه.
وانقسمت الكلم إلى ثلاثة أقسام لا رابع لها، قسمة (12) ضرورية أو كالضرورية، لأن العبارات دوال على المعاني التي تحتها، والمعاني منقسمة إلى ثلاثة أقسام (13)، فوجب أن تكون الألفاظ الدالة عليها ثلاثة لا أقل ولا أكثر.
--------------------------------------------
একক শব্দ (اللفظة المفردة), অথবা আপনি চাইলে বলতে পারেন: একক অংশ। এটিই মূল ভিত্তি (১), এবং কোনোরূপ প্রসারণ ব্যতিরেকে। মানুষ পরস্পর কথোপকথনে (২) যে সকল অর্থবোধক বাক্য ব্যবহার করে, যাকে অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ 'কালাম' হিসেবে অভিহিত করেছেন, তা মূলত সুবিন্যস্ত শব্দ সমষ্টি। প্রতিটি সুবিন্যস্ত বিষয়েরই কিছু একক উপাদান থাকে যা থেকে তা গঠিত হয়। সুতরাং 'কালাম' হলো একটি সুবিন্যস্ত রূপ, যার একক উপাদানগুলো হলো এই তিনটি পদ (৩); এটি সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে (৪) এবং সেগুলোর মাধ্যমেই এটি গঠিত হয়।
আর সেগুলো হলো: এমন শব্দ (كلمة) যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা এবং যার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা উভয়ই সঠিক হয়; এমন শব্দ (৫) যার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা হয় কিন্তু তার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা সঠিক হয় না; এবং এমন শব্দ (৬) যার মাধ্যমে বা যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা যায় না (৭)। প্রথমটিকে বিশেষ্য (اسم) নামে অভিহিত করা হয়, দ্বিতীয়টিকে ক্রিয়া (فعل) (৮) এবং তৃতীয়টিকে অব্যয় (حرف) বলা হয়।
এগুলোর প্রত্যেকেরই সংজ্ঞা (حد) (৯), আলামত ও ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) রয়েছে। সুতরাং সংজ্ঞা (১০) (حد) সংজ্ঞায়িত বস্তুর সত্তাকে সীমাবদ্ধ করে, আলামত (১১) তাকে চিনিয়ে দেয় এবং ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) তার শব্দের গঠনগত উৎস উন্মোচন করে।
শব্দসমূহ তিন প্রকারেই বিভক্ত যার চতুর্থ কোনো প্রকার নেই। এই বিভাজন (১২) অপরিহার্য (ضرورية) অথবা অপরিহার্যের কাছাকাছি; কারণ শব্দসমূহ তার অন্তর্নিহিত অর্থসমূহের নির্দেশক, আর অর্থসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত (১৩)। ফলে সেই অর্থগুলোর নির্দেশক শব্দগুলোও তিনটি হওয়া আবশ্যক—কমও নয়, বেশিও নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
والمعاني ذات يخبر عنها وهي الاسم، وخبر عن تلك الذات (1) وهو الفعل، وواسطة بينهما، إما لإثبات الخبر للمخبر عنه، أو لنفيه عنه، أو لغير ذلك من المعاني وذلك هو الحرف (2).
فأما الاسم (3)، فاشتقاقه عند البصريين من سما يسمو إذا علا، كأن أصله سمو كقنو، أو سمو كعضو، بدلالة قولهم في جمعه: أسماء، فهذا كعدل واعدال، وقفل وأقفال، أو كقنو وأقناء، وعضو وأعضاء، ثم حذفوا لامه - وهي الواو - حذفاً، وسكنوا أوله - وهو السين - ليعوضوه من الحذف الذي أجروه الذي أجروه عليه اعتباطاً، فاجتلبوا له همزة الوصل ليقع الابتداء بها فصار اللفظ اسماً كما ترى.
وذهب الكوفيون إلي أنه مشتق من السمة، فأصله على هذا عندهم وسم، لأن السمة العلامة، والاسم لدلالته على مسماه كالعلامة له. والذي ذهبوا إليه صحيح (4) من طريق المعنى، فاسد بمقاييس اللفظ، لأنه لو كان من الوسم، وهو أصل السمة لقيل في اشتقاق الفعل منه على فعلت: وسمت ولم يقل: سميت، ولقيل: أوسمت، إذا كان على أفعلت، ولم يقل أسميت، إلا أن يدعوا فيه القلب. وليس القلب بقياس (5)، ولقيل في جمعه: أوسام، ولم يقل: أسماء، ولقيل (6) في جمع الجمع: أواسم وأواسيم ولم تقل أسام، ولقيل في تصغيره: وسيم (7) لاسمي، ولما جاء فيه في بعض لفاته سمى كهدى (8) كما أنشدوا:
--------------------------------------------
অর্থসমূহ হলো এমন সত্তা যা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয় এবং তা হলো ইসম (বিশেষ্য); আর সেই সত্তা (১) সম্পর্কে যা সংবাদ প্রদান করে তা হলো ফিল (ক্রিয়া); আর এই দুইয়ের মাঝে একটি মাধ্যম থাকে, যা হয় সংবাদদাতার জন্য সংবাদটি সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা তা অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অর্থের জন্য—আর তা হলো হারফ (অব্যয়) (২)।
পক্ষান্তরে ইসম (৩) এর কথা বলতে গেলে, বসরার ব্যাকরণবিদদের মতে এর ব্যুৎপত্তি ‘সামা-ইয়াসমু’ থেকে যখন তা উচ্চ হয়, যেন এর মূল রূপ ছিল ‘সুমুউ’ যেমন ‘কিনউ’ বা ‘উযউ’। এর প্রমাণ পাওয়া যায় যখন তারা এর বহুবচন হিসেবে ‘আসমা’ ব্যবহার করে। এটি ‘আদল’ ও ‘আদাল’, ‘কুফল’ ও ‘আকফাল’ অথবা ‘কিনউ’ ও ‘আকনা’ এবং ‘উযউ’ ও ‘আদউ’ এর ওজনের মতো। এরপর তারা এর শেষ বর্ণ—যা হলো ‘ওয়াও’—বিলুপ্ত করেছে এবং এর প্রথম বর্ণ ‘সীন’ কে সাকিন (স্থির) করেছে যাতে বিলুপ্ত বর্ণের পরিবর্তে অন্য কিছু যুক্ত করা যায়। অতঃপর শুরুতে উচ্চারণের সুবিধার্থে তারা এর আগে হামজাতুল ওয়াসল যুক্ত করেছে, ফলে শব্দটি ‘ইসম’ এ পরিণত হয়েছে যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন।
আর কুফার ব্যাকরণবিদগণের অভিমত হলো এটি ‘সিমাহ’ থেকে ব্যুৎপন্ন। তাদের মতে এর মূল হলো ‘ওয়াসম’, কারণ ‘সিমাহ’ মানে হলো চিহ্ন, আর ‘ইসম’ তার নামধারী সত্তাকে নির্দেশ করার কারণে তা একটি চিহ্নের মতো। তারা যে মত পোষণ করেছেন তা অর্থের বিচারে সঠিক (صحيح) (৪), কিন্তু শব্দের ব্যাকরণগত মানদণ্ডে তা ত্রুটিযুক্ত। কারণ যদি এটি ‘ওয়াসম’ থেকে হতো—যা ‘সিমাহ’ এর মূল—তবে এর ক্রিয়া রূপে ‘সামাইতু’ এর স্থলে ‘ওয়াসামতু’ বলা হতো। এবং যদি তা ‘আফআলতু’ এর ওজনে হতো তবে ‘আসামাইতু’ এর বদলে ‘আউসামতু’ বলা হতো, যদি না এতে কালব (অক্ষর পরিবর্তন) দাবি করা হয়। আর কালব কোনো নিয়মসিদ্ধ (قياس) (৫) বিষয় নয়। এছাড়া এর বহুবচনে ‘আসমা’ এর স্থলে ‘আউসাম’ বলা হতো, এবং বহুবচনের বহুবচনে (৬) ‘আসাম’ এর স্থলে ‘আওয়াসিম’ বা ‘আওয়াসিম’ বলা হতো। এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপে ‘সুমান’ এর বদলে ‘উসাইম’ (৭) বলা হতো। অথচ এর কিছু কিছু উপভাষায় ‘হুদা’ এর মতো ‘সুমান’ শব্দটি এসেছে (৮) যেমনটি তারা কাব্যে পাঠ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
والله أسماك سمى مباركا (1)
وإن كان لا قاطع شاهد فيه.
وكل هذه التصاريف تشهد بصحة قول البصريين. وأيضاً فالتعويض (2) ينبغي أن يكون مخالفاً موضعه موضع المعوض منه (3) فهم إذا أوقعوا الحذف أولاً وأرادوا التعويض عوضوا آخراً، وإذا (4) حذفوا آخرا وعوضوا عوضوا أولاً، بدليل قولهم: عدة وصاة وبابهما، فاتهم لما حذفوا فاء الكلمة - وهي الواو من عدة - ألزموها تاء التأنيث في آخرها عوضاً من حذف فائها، فلو كان المحذوف من اسم فاءه للزم التعويض لامه، وليس الأمر كذلك.
وأما حده فقد طال (5) الناس فيه وأكثروا، وأقرب ما حدوه به إلى الصحة عند تحقيق النظر قول من قال: الاسم لفظ يدل على معنى في نفسه غير مقترن بزمان محصل.
فقولهم (6): "لفظ" هو جنس للاسم، قريب منه، وهكذا يجب أن يوضع في أول الحد جنس المحدود الأقرب، ثم يؤتى من بعده بالفصول التي تميز المحدود من الأنواع المشاركة له (7) في جنسه.
وقولهم: (8) "دال على معنى في نفسه" فصل يميز الاسم من الحرف، لأن الحرف يدل على معنى لكن في غيره.
--------------------------------------------
আল্লাহ আপনার নাম রেখেছেন একটি বরকতময় নাম (১)
যদিও এতে কোনো অকাট্য প্রমাণ (شاهد) নেই।
আর এই সমস্ত শব্দ-রূপান্তরসমূহ বসরীয় ব্যাকরণবিদদের মতের সঠিকতা (صحة) সাক্ষ্য দেয়। আরও বলা যায় যে, প্রতিস্থাপন (التعويض) (২) এমন হওয়া উচিত যার স্থান মূল শব্দের (যার পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত হয়েছে) (৩) স্থান থেকে ভিন্ন হয়। সুতরাং তারা যখন শব্দের শুরুতে বিলোপ ঘটান এবং তার পরিবর্তে কিছু আনতে চান, তখন শব্দের শেষে তা প্রতিস্থাপন করেন। আর যখন (৪) শব্দের শেষে বিলোপ ঘটান, তখন শব্দের শুরুতে প্রতিস্থাপন করেন। এর প্রমাণ তাদের শব্দপ্রয়োগ: 'ইদাতুন' (عدة), 'সিলাতুন' (صاة) এবং এই পর্যায়ের শব্দসমূহ। কারণ তারা যখন শব্দের প্রথম বর্ণ (ফা-কালিমা)—যা 'ইদাতুন' শব্দে 'ওয়াও' (و)—বিলোপ করেন, তখন তারা তার বিলোপের পরিবর্তে শব্দের শেষে 'তা-এ তানিছ' যুক্ত করা আবশ্যকীয় করে দেন। সুতরাং যদি 'ইসম' (اسم) শব্দ থেকে বিলুপ্ত হওয়া বর্ণটি তার প্রথম বর্ণ (ফা-কালিমা) হতো, তবে তার শেষ বর্ণে (লাম-কালিমা) প্রতিস্থাপন আবশ্যক হতো, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়।
আর এর (বিশেষ্যের) সংজ্ঞার বিষয়ে মানুষ দীর্ঘ (৫) আলোচনা ও বিস্তর বর্ণনা করেছেন। সূক্ষ্ম পর্যালোচনায় তাদের প্রদানকৃত সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সঠিকতার (صحة) সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো ওই ব্যক্তির কথা যিনি বলেছেন: বিশেষ্য (ইসম) হলো এমন একটি শব্দ যা তার সত্তাগত অর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো নির্দিষ্ট কালের সাথে সম্পৃক্ত নয়।
সুতরাং তাদের কথা (৬): "শব্দ" (لفظ) হলো বিশেষ্যের জন্য একটি সাধারণ শ্রেণি (জিনস), যা তার অতি নিকটবর্তী। আর এভাবেই সংজ্ঞার শুরুতে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের নিকটতম সাধারণ শ্রেণি (জিনস) উল্লেখ করা আবশ্যক, অতঃপর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য (ফাসল) নিয়ে আসা হয় যা সংজ্ঞায়িত বিষয়কে তার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য প্রকার (৭) থেকে পৃথক করে।
আর তাদের কথা: (৮) "সত্তাগত অর্থ প্রকাশকারী" হলো একটি বৈশিষ্ট্য (ফাসল) যা বিশেষ্যকে অব্যয় (হরফ) থেকে পৃথক করে, কারণ অব্যয় অন্য শব্দের সাহায্য ব্যতীত অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقولهم (1): "غير مقترن بزمان" فصل يميزه من الفعل، لأن الفعل يدل على معنى في نفسه، ولكن (2) مقترن بزمان ذلك المعنى.
وقولهم (3): "محصل" احتراز (4) من المصدر واسم الفاعل وما جرى مجراهما من الأسماء الدالة على معنى مقترن بزمان، أزمنة هذه مبهمة غير معينة ولا منحصلة.
وأما علاماته فتقسم قسمين: لفظية ومعنوية، فاللفظية إما أن تلحقه من أوله أو في حشوه أو في آخره.
فالتي تلحق من (5) أوله، كالألف واللام اللتين للتعريف، كقولك: رجل والرجل وغلام والغلام، وكحروف الجر وهي نحو من وإلى وعن وعلى، تقول: من زيد وإلى عمرو (6) وعن زيد وعلى زيد.
وأما العلامة التي تلحقه في حشوه فنحو ياء التصغير كقولك: رجل ورجيل ودرهم ودريهم.
والتصغير خاصة من خواص الاسم، وربما دخل (7) ضرباً من الفعل، إلا أنه في الاسم يتناول لفظه، ولإيراد بتصغيره تصغير شيء غيره في معناه، وإذا لحقت الفعل تناولت لفظه، وكان المراد بتصغيره تصغير
--------------------------------------------
তাদের উক্তি (১): "সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়" (غير مقترن بزمان) এমন একটি ব্যবচ্ছেদ (فصل) যা তাকে ক্রিয়া (فعل) থেকে পৃথক করে। কারণ ক্রিয়া (فعل) নিজস্ব সত্তায় একটি অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু (২) তা সেই অর্থের সময়ের সাথে সম্পৃক্ত।
এবং তাদের উক্তি (৩): "সুনির্দিষ্ট" (محصل) কথাটি ক্রিয়ামূল (مصدر), কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) এবং সেই সকল বিশেষ্য যা এদের অনুরূপ এবং সময়ের সাথে সম্পৃক্ত অর্থ প্রদান করে, তা থেকে সতর্কতামূলক বর্জন (احتراز) (৪) স্বরূপ। এগুলোর সময় অস্পষ্ট (مبهمة), অনির্দিষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট নয় (غير منحصلة)।
আর এর চিহ্নসমূহ (علاماته) দুই ভাগে বিভক্ত: শব্দগত (لفظية) এবং অর্থগত (معنوية)। শব্দগত চিহ্নগুলো হয় শব্দের শুরুতে যুক্ত হয়, অথবা মাঝে কিংবা শেষে।
শুরুতে যুক্ত হওয়া চিহ্নগুলো (৫) যেমন 'আলিফ' ও 'লাম', যা নির্দিষ্টকরণের (تعريف) জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি: 'রজুল' (رجل) ও 'আর-রজুল' (الرجل) এবং 'গুলাম' (غلام) ও 'আল-গুলাম' (الغلام)। তদ্রূপ অব্যয়সমূহ (حروف الجر), যেমন: 'মিন' (من), 'ইলা' (إلى), 'আন' (عن) ও 'আলা' (على)। আপনি বলবেন: 'মিন যাইদিন' (من زيد), 'ইলা আমরিন' (إلى عمرو) (৬), 'আন যাইদিন' (عن زيد) এবং 'আলা যাইদিন' (على زيد)।
আর যে চিহ্নটি শব্দের মাঝে যুক্ত হয় তা হলো ক্ষুদ্রার্থবোধক ইয়া (ياء التصغير); যেমন আপনার উক্তি: 'রজুল' (رجل) ও 'রুজাইল' (رجيل) এবং 'দিরহাম' (درهم) ও 'দুরাইহিম' (دريهم)।
ক্ষুদ্রার্থবোধকতা (تصغير) বিশেষ্যের (اسم) অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য (خاصة)। কখনো কখনো এটি (৭) ক্রিয়ার (فعل) কোনো কোনো প্রকারের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করে; তবে বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এটি তার শব্দকেই অন্তর্ভুক্ত করে এবং ক্ষুদ্রার্থবোধকতার মাধ্যমে অর্থের দিক থেকে ভিন্ন কোনো কিছুর ক্ষুদ্রত্ব উদ্দেশ্য হয় না। কিন্তু যখন এটি ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয় তখন তা তার শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর ক্ষুদ্রার্থবোধকতার দ্বারা উদ্দেশ্য হয় ক্ষুদ্রত্ব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
مصدره (1) كقولك في التعجب: ما أحيينه وما أميلحه. فالتصغير قد تناول لفظ الفعل والمراد تصغير المصدر، وهو الحسن والملاحة، ونحو ألف التكسير في قولك: دراهم ودنانير.
وأما ما يلحقه آخراً فنحو التنوين في قولك: رجل وقوس. والتنوين: نون ساكنة تلحق آخر الاسم المتمكن علامة لخفتيه، ويدخل الكلام على خمسة أقسام.
الأول: التنوين الدال على خفة الاسم المذكور.
والثاني: تنوين يلحق الاسم المبني فرقاً بين المعرفة والنكرة كقولك: صهْ وصهِ، ومهْ ومهٍ، فهذا الاسم وما جرى مجراه، إذا لم تنونته كان معرفة (2)، وإذا نونته كان نكرة، فإذا قلت صهِ، كان كأنك قلت: افعل السكوت، وإذا قلت صهٍ كان كأنك قلت افعل سكوتاً.
والثالث: تنوين يدخل عوضاً من جملة محذوفة كأن الأصل أن تذكر، وذلك في نحو إذ، إذا قلت حينئذ ويومئذ، فإذ ظرف زماني مبني على السكون والأصل أن تقول: كأن كذا يوم إذ كأن كذا، ثم تحذف الجملة المضاف إليها "إذ" علماً بها واستغناء بما تقدم عنها، وتعوض "إذ" من الجملة المحذوفة التنوين فيلتقي التنوين وهو ساكن بالذال وهي ساكنة فتكسر الذال لالتقاء الساكنين فيصير اللفظ على ما رأيت، قال الله تعالى {يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ} (3) [الحاقة: 18]، {فَيَوْمَئِذٍ لا يُسْأَلُ عَنْ ذَنْبِهِ إِنسٌ وَلا جَانٌّ} (4) [الرحمن: 39].
--------------------------------------------
এর উৎস (مصدر) হলো বিস্ময়সূচক বাক্যে আপনার বলা কথা: ‘সে কতই না প্রাণবন্ত’ এবং ‘সে কতই না সুন্দর’। এখানে শব্দলঘুকরণ (تصغير) ক্রিয়ার শব্দের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, তবে এর উদ্দেশ্য হলো ক্রিয়ামূলের (مصدر) লঘুকরণ প্রকাশ করা, আর তা হলো সৌন্দর্য ও শ্রী। একইভাবে আপনার বলা ‘দিরহামসমূহ’ এবং ‘দিনারসমূহ’ শব্দে বহুবচনবোধক আলিফ (ألف التكسير)-এর ব্যবহারও অনুরূপ।
আর যা শব্দের শেষে যুক্ত হয়, তা হলো আপনার বলা ‘ব্যক্তি’ এবং ‘ধনুক’ শব্দদ্বয়ের তানউইন (تنوين)। তানউইন (تنوين) হলো একটি সুকুনযুক্ত নুন (نون ساكنة) যা শব্দের সাবলীলতার চিহ্ন হিসেবে পরিবর্তনশীল বিশেষ্যের (الاسم المتمكن) শেষে যুক্ত হয়। এর আলোচনা পাঁচটি ভাগে বিভক্ত।
প্রথম: যা উল্লিখিত বিশেষ্যের (الاسم) সাবলীলতা নির্দেশকারী তানউইন (تنوين)।
দ্বিতীয়: এমন তানউইন (تنوين) যা নির্দিষ্ট (معرفة) ও অনির্দিষ্টের (نكرة) মধ্যে পার্থক্য করার জন্য অপরিবর্তনশীল বিশেষ্যের (الاسم المبني) শেষে যুক্ত হয়। যেমন আপনার বলা: ‘সহ্’ ও ‘সহিন’, এবং ‘মাহ্’ ও ‘মাহিন’। এই বিশেষ্য এবং এর অনুরূপ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে যখন আপনি তানউইন (تنوين) ব্যবহার করবেন না, তখন তা নির্দিষ্ট (معرفة) হিসেবে গণ্য হবে। আর যখন তানউইন (تنوين) যুক্ত করবেন, তখন তা অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং আপনি যখন ‘সহি’ বলবেন, তখন তার অর্থ হবে এমন যেন আপনি বলছেন: ‘তুমি চুপ করো’। আর যখন ‘সহিন’ বলবেন, তখন তার অর্থ হবে এমন যেন আপনি বলছেন ‘তুমি যেকোনো নীরবতা অবলম্বন করো’।
তৃতীয়: এমন তানউইন (تنوين) যা একটি উহ্য বাক্যের (جملة محذوفة) বিনিময় (عوض) হিসেবে আসে, যা মূলত উল্লেখ করার কথা ছিল। এটি ‘ইয’ শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে, যখন আপনি বলেন ‘তখন’ এবং ‘সেদিন’। এখানে ‘ইয’ হলো সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত কালবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف زماني) এবং মূলত আপনার বলার কথা ছিল: ‘অমুক দিন এমন হয়েছিল যখন অমুক ঘটনা ঘটেছিল’। এরপর ‘ইয’ শব্দের সাথে যুক্ত অনুগামী বাক্যটিকে (المضاف إليها) সেটি সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে এবং পূর্বের আলোচনার প্রেক্ষিতে সেটি অপ্রয়োজনীয় হওয়ার দরুন বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর বিলুপ্ত বাক্যের বিনিময় (عوض) হিসেবে ‘ইয’ শব্দের সাথে তানউইন (تنوين) যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সুকুনযুক্ত তানউইন এবং সুকুনযুক্ত ‘যাল’ অক্ষরটি একত্রিত হয়; তখন দুই সুকুনের মিলন (التقاء الساكنين) ঘটার কারণে ‘যাল’ অক্ষরে কাসরা বা জের প্রদান করা হয়। ফলে শব্দটির রূপ তেমন হয় যেমনটি আপনি দেখছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে} [আল-হাক্কাহ: ১৮], {সেদিন কোনো মানুষ বা জিনকে তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না} [আর-রহমান: ૩৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن ذلك قوله الهذلي (1):
(نهيتك عن طلابك أم عمرو
… بعافية وأنت إذ صحيح (2))
والأصل: وأنت - إذ نهيتك - صحيح، ثم حذفت (3) الجملة وعوض منها التنوين.
والرابع: تنوين يلحق آخر الجموع المؤنثة السالمة، نظيراً للنون في الجموع المذكورة السالمة، وذلك في نحو مسلمات وصالحات. فالتنوين في هذا الجمع نظير للنون في مسلمين ورسيل لها، وليس بتنوين الصرف، بدليل قوله عز وجل {فإذا أفضتم من عرفات (4)، فنون "عرفات"، وهي مؤنث معرفة، وما كان فيه علتان من العلل التسع التي تذكر - إن شاء الله - في باب ما لا ينصرف فإنه يمنع الصرف (5)، وقد رأيت عرفات كيف استعملت منونة، فدل على أن تنوينها ليس بتنوين الصرف.
ويدلك على أنها معرفة قولهم: هذه عرفات مباركاً فيها، فمباركاً حال منها (6)، والحال أصلها أن تقع من المعرفة لا من النكرة.
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো হুজালীর (১) উক্তি:
(আমি তোমাকে উম্মে আমরের অনুসন্ধান থেকে নিষেধ করেছিলাম... সুস্থতার সাথে, যখন তুমি সুস্থ ছিলে (২))
মূল বাক্যটি ছিল: "আর তুমি - যখন আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম - সুস্থ ছিলে", অতঃপর বাক্যটি (৩) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে তানউইন আনা হয়েছে।
চতুর্থটি হলো: এমন তানউইন যা নিয়মিত স্ত্রীবাচক বহুবচনের শেষে যুক্ত হয়, যা উল্লিখিত নিয়মিত পুরুষবাচক বহুবচনের 'নুন'-এর সমরূপ, যেমন- 'মুসলিমাত' এবং 'সালিহাত' শব্দে। সুতরাং এই বহুবচনের তানউইন হলো 'মুসলিমিন' শব্দের 'নুন'-এর সদৃশ এবং তার সমতুল্য; এটি রূপান্তরশীলতার তানউইন নয়। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তোমরা আরাফাত (৪) থেকে প্রত্যাবর্তন করবে}, এখানে 'আরাফাত' শব্দে তানউইন ব্যবহৃত হয়েছে, অথচ এটি একটি নির্দিষ্ট স্ত্রীবাচক বিশেষ্য। আর যাতে নয়টি কারণের (যা ইনশাআল্লাহ রূপান্তরহীন অধ্যায়ে উল্লেখ করা হবে) মধ্যে দুটি কারণ বিদ্যমান থাকে, তা রূপান্তরহীন (৫) হিসেবে গণ্য হয়। আপনি দেখেছেন যে 'আরাফাত' শব্দটি কীভাবে তানউইনযুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এর তানউইন রূপান্তরশীলতার তানউইন নয়।
এটি যে নির্দিষ্ট বিশেষ্য তা আপনার কাছে স্পষ্ট হবে তাদের এই উক্তির মাধ্যমে: "এটি বরকতময় আরাফাত", এখানে 'মুবারাকান' শব্দটি 'হাল' বা অবস্থা নির্দেশক (৬) হিসেবে এসেছে। আর 'হাল'-এর নিয়ম হলো তা নির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে আসে, অনির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
والخامس: تنوين يلحق أواخر الكلم التي تقع في قواف في الشعر (1) المطلق عوضاً عن مذات الترنم، ومدات الترنم الألف في مثل قوله:
(أقلي اللوم عاذل والعتابا
… وقولي إن أصبت لقد أصابا (2))
والواو في مثل قوله:
( ........
… سقيت الغيث أيتها الخيامو (3))
والياء في مثل قوله:
( .........
… كانت مباركة من الأيامي (4))
--------------------------------------------
পঞ্চম প্রকার: সেই তানউইন (تنوين) যা মুক্ত (المطلق) ছন্দের কবিতার অন্ত্যমিলের (قواف) (১) শেষে সুরের গুঞ্জনের (الترنم) দীর্ঘধ্বনির (مدات) পরিবর্তে যুক্ত হয়। সুরের দীর্ঘধ্বনি হলো 'আলিফ', যেমন কবির এই উক্তিতে:
(হে তিরস্কারকারিণী, নিন্দা ও অনুযোগ কমিয়ে দাও
… আর বলো যে, আমি যদি সঠিক করে থাকি তবে আমি সঠিকই করেছি (২))
এবং 'ওয়াও', যেমন কবির এই উক্তিতে:
( ........
… হে তাবুসমূহ! তোমরা বৃষ্টি দ্বারা সিক্ত হও (৩))
এবং 'ইয়া', যেমন কবির এই উক্তিতে:
( .........
… সেগুলো ছিল দিনগুলোর মধ্যে বরকতময় (৪))
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
فيقع هذا التنوين موقع هذه الحروف، فيكون الإنشاد:
(أقلي اللوم عاذل والعتابن
… وقولي إن أصبت لقد أصابن)
وكذلك ينشد الذاهب هذا المذهب في الإنشاد:
( ........
… سقيت الغيث أيتها الخيامن)
(و ............
… كانت مباركة من الأيامن)
فهذه أقسام التنوين في قول الجمهور من النحاة.
والتنوين الذي يعتبر (1) به الاسم فيكون علامة له هو الأول وما يليه وهو غنة تلحق آخر الاسم، تثبت وصلا في اللفظ وتحذف في الخط لأن موضوع على الوقف.
ومن خواص الاسم اللفظية اللاحقة آخره الفذ التثنية وواو الجمع في مثل قولك: الزيدان والزيدون، والياء الواقعة موقعهما في (2) مثل الزيدين والزيدين.
ومن خواصه: الإضافة، وهو أن يضاف أو يضاف إليه كقولك: غلام زيد، فغلام اسم مضاف وزيد اسم مضاف إليه.
ومن خواصه أن يوصف، كقولك: الرجل: الظريف، أو (3) يضمر كقولك زيد مررت به.
فهذه أغلب علاماته اللفظية.
وأما علاماته المعنوية فنحو (4) أن يكون فاعلاً أو مفعولا كقولك:
--------------------------------------------
এই তনউইন (تنوين) এই হরফগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়, ফলে আবৃত্তিটি হবে নিম্নরূপ:
(হে তিরস্কারকারিণী! তুমি তিরস্কার ও ভর্ৎসনা কমিয়ে দাও
… এবং বলো, যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে অবশ্যই সে সঠিক কাজ করেছে)
অনুরূপভাবে যিনি আবৃত্তির ক্ষেত্রে এই মতটি পোষণ করেন, তিনি এভাবে আবৃত্তি করেন:
( ........
… হে তাঁবুসমূহ! তোমরা রহমতের বৃষ্টি দ্বারা সিক্ত হও)
(এবং ............
… তা দিনগুলোর মধ্যে বরকতময় ছিল)
ব্যাকরণবিদদের (نحاة) জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে এগুলো হলো তনউইনের (تنوين) প্রকারভেদ।
আর যে তনউইন (تنوين) দ্বারা ইসম (اسم) বা বিশেষ্যকে চেনা যায় (১) এবং যা তার আলামত (علامة) হিসেবে গণ্য হয়, তা হলো প্রথম প্রকার এবং তার পরবর্তীগুলো। আর তা হলো একটি গুন্নাহ (غنة) যা ইসমের (اسم) শেষে যুক্ত হয়, যা উচ্চারণের সময় (وصلا) বহাল থাকে কিন্তু লিপি বা লেখার সময় (خطا) বিলুপ্ত হয়, কারণ এটি ওয়াকফ (وقف) বা বিরতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত।
ইসমের (اسم) শব্দগত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে যা তার শেষে যুক্ত হয় তা হলো দ্বিবচনের আলিফ (ألف التثنية) এবং জমার ওয়াও (واو الجمع); যেমন আপনার উক্তি: ‘যাইদান’ এবং ‘যাইদুন’। এবং ঐ দুইটির স্থলাভিষিক্ত ‘ইয়া’, যেমন (২) ‘যাইদাইনি’ এবং ‘যাইদিনা’।
এর বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: ইদাফাত (إضافة), আর তা হলো মুদাফ (مضاف) হওয়া অথবা মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হওয়া। যেমন আপনার উক্তি: ‘গুলামু যাইদিন’, এখানে ‘গুলাম’ হলো মুদাফ (مضاف) ইসম এবং ‘যাইড’ হলো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) ইসম।
এর আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে: গুণান্বিত (يوصف) হওয়া, যেমন আপনার উক্তি: ‘ভদ্র ব্যক্তিটি’, অথবা (৩) সর্বনামের মাধ্যমে ব্যক্ত হওয়া (يضمر), যেমন আপনার উক্তি: ‘যাইড, আমি তার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম’।
এগুলো হলো এর অধিকাংশ শব্দগত আলামত (علامة)।
আর এর অর্থগত আলামতগুলো হলো (৪) যেমন ফায়েল (فاعل) বা মাফউল (مفعول) হওয়া, যেমন আপনার উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ضرب زيد عمراً، فزيد فاعل وعمرو مفعول، وأن يخبر عنه تارة، ويخبر به أخرى كقولك: الرجل قائم، فالرجل مخبر عنه (1)، والقائم الرجل، فالرجل ها هنا خبر، وعلى هذا علاماته المعنوية.
* * *
--------------------------------------------
যায়েদ আমরকে প্রহার করেছে, এখানে যায়েদ হলো কর্তা (فاعل) এবং আমর হলো কর্ম (مفعول)। কখনও তার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয় এবং কখনও তার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা হয়; যেমন আপনার উক্তি: "ব্যক্তিটি দণ্ডায়মান", এখানে "ব্যক্তিটি" হলো যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়েছে (مخبر عنه) (১)। আবার "দণ্ডায়মান হলো ব্যক্তিটি", এখানে "ব্যক্তিটি" হলো সংবাদ (خبر)। এভাবেই এর অর্থগত চিহ্নসমূহ নির্ধারিত হয়।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فصل في حد الفعلوأما الفعل، فحده أنه لفظة تدل على معنى في نفسها مقترن بزمان محصل. فقولنا: "تدل على معنى في نفسها" احتراز من الحرف (1)، لأن الخرف يدل على معنى في غيره.
وقولنا (2): "تدل على زمان"، لأن الفعل وضع ليدل على الزمان، ولهذا انقسمت معانيه في الدلالة على الزمان بانقسام الزمان، فكأن ماضياً وحاضراً ومستقبلاً، كما أن الزمان منه ماض وحاضر ومستقبل.
والفرق بينه وبين الاسم أن الاسم لا يدل مع معناه على زمان ذلك المعنى، إلا المصادر خاصة فإنها تدل على أزمنة مبهمة، فزادوا في حد الفعل لفظة "محصل" ليقع الفرق بين الأفعال ومصادرها.
--------------------------------------------
ক্রিয়ার (فعل) সংজ্ঞা বিষয়ক পরিচ্ছেদআর ক্রিয়া (فعل) প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এর সংজ্ঞা হলো: এটি এমন এক শব্দ যা নিজস্ব অর্থ প্রকাশে সক্ষম এবং যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের (زمان محصل) সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের উক্তি: "নিজস্ব অর্থ প্রকাশে সক্ষম"—এর মাধ্যমে অব্যয় (حرف) থেকে সংজ্ঞাকে পৃথক করা হয়েছে (১), কারণ অব্যয় (حرف) কেবল অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়েই অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
আমাদের উক্তি (২): "সময়ের সাথে সম্পৃক্ত", কারণ ক্রিয়াকে (فعل) গঠনই করা হয়েছে সময়ের ওপর নির্দেশ করার জন্য। এই কারণেই সময়ের বিভাজনের সাথে সাথে ক্রিয়ার অর্থের সময়ও বিভাজিত হয়েছে; ফলে তা অতীত (ماض), বর্তমান (حاضر) ও ভবিষ্যৎ (مستقبل) হিসেবে গণ্য হয়; ঠিক যেমন সময়ও অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—এই তিন ভাগে বিভক্ত।
ক্রিয়া ও বিশেষ্যের (اسم) মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, বিশেষ্য (اسم) তার অর্থের সাথে সেই অর্থের সময়কে নির্দেশ করে না, কেবল বিশেষ কিছু ক্রিয়ামূল (مصادر) ব্যতীত; কারণ সেগুলো অস্পষ্ট সময়ের (أزمنة مبهمة) ওপর নির্দেশ করে। তাই ক্রিয়া (فعل) ও ক্রিয়ামূলের (مصادر) মধ্যে পার্থক্য করার জন্য বিশেষজ্ঞগণ ক্রিয়ার সংজ্ঞায় 'নির্দিষ্ট' (محصل) শব্দটি যুক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وسموه فعلاً ولم يسموه عملاً، لأن الفعل أهم من العمل (1)، ألا ترى أنك إذا أمرت مأموراً بالبناء مثلاً، فقلت: ابن داراً فائتمر جاز أن يقول: قد عملت ما أردت، وجاز أن يقول: قد فعلت، ولو قلت: تكلم مثلاً، ففعل، لم يقل إلا: قد فعلت ولم يحسن أن يقول: قد عملت فالفعل على ما أريتك أعم من العمل، فلذلك لقبوا هذا القسم فعلاً ولم يلقبوه عملاً، ولعلة أخرى حسنت فيه هذا اللقب دون غيره (2).
فأما علاماته فمنها أيضاً لفظية، ومنها معنوية، فمن اللفظية أن يحسن دخول قد عليه كقولك: قد قام، وقد قعد، وقد يقوم وقد يقعد.
وقد حرف يقرب (3) الفعل الذي يدخل عليه من زمن الوجود أي الحال.
ومنها السين وسوف، وهما حرفان إذا دخلا على الفعل المضارع (4) أخلصاه للاستقبال وخلصاه من الشياع الذي كان يحتمله قبل دخولهما عليه، وذلك أن لفظ المضارع - مجرداً (5) من قرينة - يحتمل الحال والاستقبال، فهو صالح لهما على سبيل
--------------------------------------------
তারা একে ক্রিয়া (فعل) বলে অভিহিত করেছেন এবং একে কর্ম (عمل) নামকরণ করেননি, কারণ ক্রিয়া (فعل) শব্দটি কর্ম (عمل) অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ (১); আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনি যদি কোনো আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে যেমন নির্মাণের আদেশ দেন এবং বলেন: 'একটি ঘর নির্মাণ করো', অতঃপর সে তা পালন করে, তবে তার পক্ষে এটি বলা বৈধ যে: 'আমি আপনার অভিপ্রায় অনুযায়ী কাজ করেছি' (قد عملت ما أردت), আবার এটি বলাও বৈধ যে: 'আমি করেছি' (قد فعلت)। কিন্তু আপনি যদি উদাহরণস্বরূপ তাকে বলেন: 'কথা বলো', এবং সে তা করে, তবে সে কেবল এটাই বলবে: 'আমি করেছি' (قد فعلت); সেখানে তার জন্য 'আমি কাজ করেছি' (قد عملت) বলা সমীচীন হবে না। সুতরাং ক্রিয়া (فعل) শব্দটির ব্যবহার, আমি আপনাকে যেমনটি দেখালাম, কর্ম (عمل) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। এই কারণেই তারা এই বিভাগকে ক্রিয়া (فعل) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং একে কর্ম (عمل) হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। সম্ভবত অন্য কোনো কারণেও এই নামটি অন্য নামের চেয়ে অধিক সংগত মনে হয়েছে (২)।
আর এর আলামত বা চিহ্নসমূহের মধ্যে কিছু শাব্দিক এবং কিছু অর্থগত। শাব্দিক আলামতের মধ্যে একটি হলো এর শুরুতে 'কাদ' (قد) অব্যয়টি আসা শুদ্ধ হওয়া; যেমন আপনার বলা: 'সে দাঁড়িয়েছে' (قد قام), 'সে বসেছে' (قد قعد), 'সে দাঁড়াচ্ছে বা দাঁড়াবে' (قد يقوم) এবং 'সে বসছে বা বসবে' (قد يقعد)।
'কাদ' (قد) হলো এমন একটি অব্যয় যা (৩) যে ক্রিয়ার শুরুতে এটি আসে, তাকে অস্তিত্বের সময় তথা বর্তমান (حال) অবস্থার নিকটবর্তী করে।
এর আরও কিছু আলামত হলো 'সীন' (س) এবং 'সাওফা' (سوف)। এই দুটি এমন অব্যয় যা যখন বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) (৪)-এর শুরুতে আসে, তখন তাকে ভবিষ্যতের (استقبال) জন্য সুনির্দিষ্ট করে দেয় এবং প্রবেশের পূর্বে এর মধ্যে যে ব্যাপকতা বা দ্ব্যর্থবোধকতার (شياع) সম্ভাবনা ছিল তা থেকে একে মুক্ত করে। আর তা এই জন্য যে, বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع)-এর রূপটি—কোনো অনুষঙ্গ বা কারিনা থেকে মুক্ত (৫) থাকা অবস্থায়—বর্তমান (حال) এবং ভবিষ্যৎ (استقبال) উভয় সময়ের সম্ভাবনা রাখে। ফলে এটি উভয় সময়ের জন্যই উপযুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
البدل، فإذا قلت (1): زيد يضرب احتمل "يضرب" أن يكون الحال، وجاز أن يكون للاستقبال، والحال أولى به لأنها الحاصلة الموجودة فإذا (2) أردت أن تخلصه للاستقبال وترفع عنه احتماله للحال أدخلته السين أو سوف فقلت: سيقوم أو سوف يقوم، فخلص للاستقبال، ولم يحتمل مع دخولهما إياه معنى غيره.
وهما - وإن دلا على هذا المعنى واشتركا فيه - فبينهما فرق في الاستعمال، وذلك (3) أن سوف أشد تنفيساً زماناً من الزمان الذي تدل عليه السين. وكل مع ذاك للاستقبال.
فقولك على هذا: سوف أكرمك، أشد تراخياً وبعداً في الزمن المستقبل من قولك: سأكرمك، وسأكرمك أقرب إلى زمن وجودك من سوف أكرمك.
وتتصل السين بالفعل اتصالاً أشد من اتصال سوف به، وذلك ظاهر لأنها - أعني السين - على حرف واحد، فهي أشبه بما عليه غالب الحروف في اللفظ، وسوف على ثلاثة أحرف، فهي (4) قريبة الشبه من صيغ الأسماء (ومن خاصة الأسماء في الدلالة الاستقبال والاكتفاء) (5) ولذلك ساغ دخول اللام على سوف في مثل قوله عز وجل {وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ
--------------------------------------------
পরিবর্তন (البدل); সুতরাং আপনি যখন বলেন (১): "জায়েদ প্রহার করছে" (زيد يضرب), তখন "প্রহার করছে" (يضرب) শব্দটি বর্তমান (الحال) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, আবার ভবিষ্যৎ (الاستقبال) হওয়ারও সুযোগ রয়েছে। তবে এটি বর্তমান (الحال) হওয়াই অধিক শ্রেয়, কারণ এটিই বিদ্যমান বাস্তবতা। এরপর (২) আপনি যখন এটিকে ভবিষ্যতের (الاستقبال) জন্য নির্দিষ্ট করতে চাইবেন এবং বর্তমানের (الحال) সম্ভাবনা দূর করতে চাইবেন, তখন এর শুরুতে ‘সীন’ (السين) অথবা ‘সাওফা’ (سوف) যুক্ত করবেন। ফলে আপনি বলবেন: ‘সায়াকুমু’ (سيقوم) অথবা ‘সাওফা ইয়াকুমু’ (سوف يقوم)। তখন এটি ভবিষ্যতের (الاستقبال) জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যাবে এবং এই দুই হরফ প্রবেশের পর অন্য কোনো অর্থ প্রকাশের সম্ভাবনা থাকবে না।
এই দুটি হরফ—যদিও তারা এই অর্থের ওপর নির্দেশ প্রদান (دلالة) করে এবং তাতে অংশীদার হয়—তথাপি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর তা (৩) হলো, ‘সাওফা’ (سوف) শব্দটি ‘সীন’ (السين)-এর নির্দেশিত সময়ের চেয়ে অধিকতর সময় সম্প্রসারণকারী (تنفيساً)। তবে উভয়ই ভবিষ্যতের (الاستقبال) জন্য ব্যবহৃত হয়।
এ হিসেবে আপনার কথা: ‘সাওফা উকরিমুকা’ (আমি তোমাকে অচিরেই সম্মানিত করব), তা ‘সা-উকরিমুকা’ বলার চেয়ে ভবিষ্যৎ সময়ের ক্ষেত্রে অধিক বিলম্ব ও দূরত্ব নির্দেশ করে। আর ‘সা-উকরিমুকা’ শব্দটি ‘সাওফা উকরিমুকা’র চেয়ে আপনার বর্তমান সময়ের অধিক নিকটবর্তী।
ক্রিয়ার সাথে ‘সীন’ (السين)-এর সংশ্লিষ্টতা ‘সাওফা’ (سوف)-এর সংশ্লিষ্টতার চেয়ে অধিক শক্তিশালী। এটি স্পষ্ট, কারণ ‘সীন’ মাত্র একটি বর্ণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। ফলে উচ্চারণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ হরফের যে রূপ থাকে, এটি তারই সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে ‘সাওফা’ (سوف) তিনটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত, ফলে এটি (৪) বিশেষ্যের (الأسماء) রূপের কাছাকাছি (এবং ভবিষ্যৎ নির্দেশ করা ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া বিশেষ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য) (৫)। এই কারণেই ‘সাওফা’ (سوف)-এর শুরুতে ‘লাম’ (اللام) যুক্ত হওয়া বৈধ হয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {ওয়ালা সাওফা ইউ’তীকা...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رَبُّكَ فَتَرْضَى} (1) [الضحى: 5] ولم يجز دخولها في السين، فلا تقول مثلاً: ولسأكرمك (2).
وليست عند المحققين (3) - أعني السين - محذوفة من سوف، وإن أعطت معناها وكانت كبعض لفظها، بل كل منهما حرف موضوع برأسه.
وذهب الكوفيون لما رأوا السين تدل من الإخلاص للاستقبال على ما تدل عليه سوف، وأنها كبعض لفظها (4) إلى أنها محذوفة منها ورووا: سوف أفعل، وسوف أفعل - بحذف الفاء - وسأفعل بحذف الواو والفاء (5) (وليس باب الحروف الحذف ولا التصرف).
ويدلك على الميزة بينهما أنك تفرق بينهما في التسمية بهما - لو سميت - فتقول: إذا سميت بسوف أو أجريتها اسماً بإخبارك عنها هذا سوف وإن سوفاً كما قال: إن ليتا (6)، ولو أردت هذا في السين لقلت فيه: ساء، بما بينوه، فاعلمه (7).
ومن علاماته اللفظية اتصال تاء الضمير وواوه وألفه ونونه به كقولك: قمت وقاما وقاموا وأشباه ذلك من (8) ضمائر الفاعلين.
وإنما كانت هذه خاصة للفعل - أعني اتصال هذه الضمائر به - لأنها (9) فاعلة والفاعل يفتقر إليه الفعل، والأسماء لا تفتقر إلى
--------------------------------------------
{আপনার প্রতিপালক, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন} (১) [আদ-দুহা: ৫] এবং 'সীন'-এর ওপর এর প্রবেশ বৈধ নয়। সুতরাং আপনি উদাহরণস্বরূপ বলতে পারেন না: 'ওয়া-লা-সা-উকরিমুকা' (২)।
এবং গবেষকদের মতে—অর্থাৎ 'সীন'—'সাওফা' থেকে বিলুপ্ত হওয়া কোনো অংশ নয়, যদিও তা তার অর্থ প্রদান করে এবং তার শব্দের একটি অংশের মতো মনে হয়; বরং এগুলোর প্রতিটিই স্বতন্ত্রভাবে গঠিত একটি বর্ণ।
কুফাবাসীরা যখন দেখলেন যে 'সীন' ভবিষ্যৎকালকে সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে সেই অর্থই প্রকাশ করে যা 'সাওফা' প্রকাশ করে এবং এটি তার শব্দের একটি অংশের মতো, তখন তারা এই মত পোষণ করেছেন যে এটি তার থেকে বিলুপ্ত হওয়া অংশ। তারা বর্ণনা করেছেন: 'সাওফা আফআলু', এবং 'সাও আফআলু'—'ফা' বিলুপ্ত করার মাধ্যমে—এবং 'সা-আফআলু'—'ওয়াও' ও 'ফা' বিলুপ্ত করার মাধ্যমে (আর বর্ণের ক্ষেত্রে বিলুপ্তি বা রূপান্তর কোনো নিয়ম নয়)।
এই দুটির মধ্যকার বৈশিষ্ট্য আপনাকে এই দিকনির্দেশনা দেবে যে, আপনি যদি এগুলোর মাধ্যমে কোনো কিছুর নামকরণ করেন—যদি আপনি নামকরণ করতেন—তবে আপনি এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করতেন। আপনি বলবেন: যখন আপনি 'সাওফা' দিয়ে নামকরণ করবেন অথবা কোনো সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে একে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করবেন, তবে এটি 'সাওফা' এবং নিশ্চয়ই 'সাওফান', যেমনটি বলা হয়েছে: 'নিশ্চয়ই লাইতা' (৬)। আর আপনি যদি 'সীন'-এর ক্ষেত্রে এটি করতে চাইতেন, তবে তারা যা বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী আপনি বলতেন: 'সা-আন'। বিষয়টি জেনে রাখুন (৭)।
আর ক্রিয়ার শাব্দিক চিহ্নসমূহের মধ্যে রয়েছে এর সাথে সর্বনামীয় 'তা', 'ওয়াও', 'আলিফ' এবং 'নূন' যুক্ত হওয়া; যেমন আপনার কথা: 'ক্বুমতু', 'ক্বামা', 'ক্বামু' এবং এই জাতীয় কর্তাবাচক সর্বনামসমূহ (৮)।
আর এই সর্বনামগুলোর যুক্ত হওয়া কেবল ক্রিয়ার সাথেই নির্দিষ্ট ছিল—অর্থাৎ এগুলোর সাথে এই সর্বনামগুলো যুক্ত হওয়া—কারণ এগুলো হলো কর্তা, আর ক্রিয়া কর্তার মুখাপেক্ষী হয়, কিন্তু বিশেষ্য বা নামপদগুলো সেভাবে মুখাপেক্ষী হয় না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الفاعل بحق الأصل، فلم تتصل هذه الضمائر به.
فإن اتفق من الأسماء ما يفتقر إلى الفاعل (1) كالمصادر المعملة عمل الأفعال، وأسماء الفاعلين الجارية عليها، والصفات المشبهة بها، وما جرى هذا المجرى (كانت في الاحتياج إلى الفاعل محمولة على الفعل و) (2) لم تتصل هذه الضمائر به (3) كاتصالها بالفعل، لأن الفعل له العمل بحق الأصل، وهذه الأسماء فروع عليه (في العمل) (4) معها جملة مستغنية قائمة بنفسها، والأفعال معتد بما تتضمنه من الضمائر، ألا ترى أنك إذا قلت: زيد يضرب، كان "يضرب" جملة تامة (5) من فعل وفاعل بالضمير الذي يتضمنه "يضرب"، إذ التقدير زيد يضرب هو، ولو قلت: زيد ضارب لكان (6) ضارب متحملاً ضميراً يرجع إلى زيد، ويرتفع بضارب رفع الفاعل بفعله، ولكن لا يعتد به، فيكون مع ضارب جملة كما كان جملة مع الفعل بدليل أنه يجوز أن تقول: يعجبني الذي يضرب، ولا تقول: يعجبني الذي ضارب إلا على تقدير ضعيف في القياس، وهو أن يقدر حذف فيكون التقدير الذي هو ضارب.
ومن خواصه اتصال التاء الساكنة للتأنيث بآخره (7)، كقولك: قامت جمل وقعدت هند ونعمت المرأة وبئست الجارية، كما قال الشاعر:
--------------------------------------------
মূলগতভাবে অধিকারপ্রাপ্ত কর্তার কারণে এই সর্বনামগুলো তার সাথে যুক্ত হয়নি।
যদি বিশেষ্যগুলোর মধ্যে এমন কিছু পাওয়া যায় যা কর্তার মুখাপেক্ষী (১), যেমন ক্রিয়ার ন্যায় আমলকারী ক্রিয়ামূলসমূহ, তার অনুরূপ কর্তৃবাচক বিশেষ্যসমূহ, তার সদৃশ গুণবাচক বিশেষণসমূহ এবং এই ধারার অন্যান্য বিষয়গুলো, তবে (কর্তার প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে সেগুলোকে ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল করা হবে এবং) (২) এই সর্বনামগুলো তার সাথে সেভাবে যুক্ত হবে না (৩) যেভাবে ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়। কারণ ক্রিয়া মূলগতভাবেই আমল করার অধিকার রাখে, আর এই বিশেষ্যগুলো আমলের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার শাখা মাত্র। এগুলোর সাথে কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্য গঠিত হয় না, যেখানে ক্রিয়াগুলো তার অন্তর্ভুক্ত সর্বনামের মাধ্যমে স্বতন্ত্র বাক্য হিসেবে গণ্য হয়। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যখন বলেন: ‘যায়েদ প্রহার করছে’, তখন ‘প্রহার করছে’ শব্দটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য (৫) হিসেবে গণ্য হয়, যা ক্রিয়া এবং তার অন্তর্ভুক্ত সর্বনামরূপী কর্তার সমন্বয়ে গঠিত? কেননা এর বিশ্লেষণ হলো: ‘যায়েদ প্রহার করছে সে’। কিন্তু আপনি যদি বলেন: ‘যায়েদ প্রহারকারী’, তবে ‘প্রহারকারী’ শব্দটি এমন একটি সর্বনাম বহন করবে যা যায়েদের দিকে ফিরে আসে এবং ‘প্রহারকারী’ শব্দের কারণে তা কর্তার ন্যায় রাফা লাভ করবে, কিন্তু তা বাক্য হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে ‘প্রহারকারী’ শব্দের মাধ্যমে এমন বাক্য গঠিত হবে না যেমনটি ক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। এর প্রমাণ হলো—আপনি বলতে পারেন: ‘যে প্রহার করছে সে আমাকে মুগ্ধ করে’, কিন্তু আপনি বলতে পারেন না: ‘যে প্রহারকারী সে আমাকে মুগ্ধ করে’; কেবল কিয়াসের ক্ষেত্রে একটি দুর্বল (ضعيف) অনুমানের ভিত্তিতে তা বলা যেতে পারে, আর তা হলো সেখানে একটি উহ্য শব্দ ধরে নেওয়া, অর্থাৎ ‘যে সে প্রহারকারী’।
আর ক্রিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর শেষে স্ত্রীলিঙ্গবাচক স্থির ‘তা’ যুক্ত হওয়া (৭), যেমন আপনার কথা: ‘জামাল দাঁড়িয়েছে’, ‘হিন্দ বসেছে’, ‘মহিলাটি কতই না উত্তম’ এবং ‘বালিকাটি কতই না মন্দ’, যেমনটি কবি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
( .................
… ... نعمت زورق البلد (1))
تاء التأنيث تدخل الأسماء على حد، وتدخل الأفعال على غير ذلك الحد في المعنى، فلذلك اختلف حكماها (2) في اللفظ، لأن التي تلحق الأسماء (تلحقها) (3) (لمعنى) يصح وجوده في الاسم حقيقة، وهو التأنيث، وتتناول لفظ الفعل لمعنى لا يصح وجوده في الفعل حقيقة، إذ الأفعال لا يكون منها مذكر، ومنها مؤنث على الحقيقة (4) فدخول التاء (الساكنة) (5) فيها إنما هو للدلالة على تأنيث فاعلها.
فالتي (6) تدخل الأسماء تتحرك وتكون حرف إعراب في الاسم، ويختلف حكمها في الوصل والوقف في اللغة الجيدة، فتكون تاء في الوصل، فإذا وقفت عليها قلبتها هاء، كقولك: قائمة ومسلمة (والخط على الوقف فلذلك كتبت في حالتيها هاء .. وهي في الفعل كيف وقعت تاء ممدودة) (7). ومن (8) العرب من يقف على لفظها الذي لها في الوصل، فتكون تاء في
--------------------------------------------
( .................
… ... কী চমৎকার দেশের তরী (১))
স্ত্রীবাচক তা (تاء التأنيث) বিশেষ্যের (أسماء) মধ্যে এক পদ্ধতিতে প্রবেশ করে এবং ক্রিয়ার (أفعال) ক্ষেত্রে অর্থের দিক থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রবেশ করে। এই কারণেই উচ্চারণের ক্ষেত্রে এই দুটির বিধান (২) ভিন্ন হয়ে থাকে। কারণ, যা বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয় তা এমন একটি অর্থের (৩) জন্য যুক্ত হয় যা বিশেষ্যের মধ্যে প্রকৃতপক্ষেই বিদ্যমান থাকা সম্ভব, আর তা হলো স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث) হওয়া। পক্ষান্তরে, এটি ক্রিয়ার শব্দের সাথে এমন এক অর্থের জন্য যুক্ত হয় যা ক্রিয়ার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে থাকা সম্ভব নয়; কারণ ক্রিয়ার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে পুংলিঙ্গ (مذكر) বা স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) হওয়া সম্ভব নয় (৪)। সুতরাং ক্রিয়ার মধ্যে স্থির (ساكنة) (৫) 'তা' যুক্ত হওয়া কেবল তার কর্তার (فاعل) স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث) হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করার জন্য।
অতএব, যে 'তা' (৬) বিশেষ্যের (أسماء) মধ্যে প্রবেশ করে তা স্বরযুক্ত হয় এবং বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ইরাব-এর বর্ণ (حرف إعراب) হিসেবে গণ্য হয়। শুদ্ধ ভাষায় শব্দ মিলিয়ে পড়া (وصل) এবং থামার (وقف) সময় এর বিধানে পার্থক্য দেখা দেয়। শব্দ মিলিয়ে পড়ার (وصل) সময় এটি 'তা' হিসেবে উচ্চারিত হয়, কিন্তু যখন আপনি এর ওপর থামবেন (وقف), তখন একে 'হা'-তে রূপান্তরিত করবেন। যেমন আপনার উক্তি: কা-ইমাহ এবং মুসলিমাহ। (আর লিপি যেহেতু থামার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হয়, তাই উভয় অবস্থায় এটি 'হা' হিসেবেই লেখা হয়েছে... আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটি যেভাবে আসুক না কেন, তা দীর্ঘ 'তা' হিসেবে গণ্য হয়) (৭)। আরবদের মধ্যে এমন লোকও (৮) রয়েছে যারা বিশেষ্যের ওপর সেভাবেই থামে যেভাবে তারা মিলিয়ে পড়ার (وصل) সময় উচ্চারণ করে থাকে। ফলে এটি তখন 'তা' হিসেবেই থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
الحالتين فيقول: هذه قائمة ومسلمت، وعليه أنشدوا:
(الله نجاك بكفي مسلمت
… .......... (1))
وروي في بعض كلامهم: يا أصحاب سورة البقرة، فأجاب المجيب: والله ما معي منها آيت، يريد ذلك البقرة، ويريد هذا آية.
والتاء الداخلة على الفعل تاء ساكنة في الوصل والوقف، لا تتحرك إلا أن يلقاها ساكن كقولك: قامت المرأة.
ومن خواصه دخول حرف الجزم عليه كقولك: لم يضرب ولم يقم ولم يرم.
وحروف الجزم في الأفعال نظيرتها (2) حروف الجر في الأسماء، لأن معاني كل واحد من القسمين - أعني الجوار والجوازم - إنما تصح فيما اختصت به فالجوار - مختصة بالاسم، لأن معانيها لا تصح إلا فيه، والجوازم مختصة بالأفعال لأن معانيها لا تصح إلا فيها، والحرف إنما وضع (3) بحيث يصح معناه.
ومن خواصه اتصال النون الشديدة أو الخفيفة به للتأكيد كقولك: هل تقومن يا زيد وهل تقومن يا عمرو، فهاتان النونان تدخلان الفعل لتأكيده، فهما من خواصه كما أن التنوين من خواص الأسماء.
فأما علاماته الفعل المعنوية، فمثل أن (4) يكون أبداً مسنداً إلى غيره
--------------------------------------------
তিনি উভয় অবস্থায় বলেন: এটি কায়িমাহ এবং মুসলিমাত; আর এর স্বপক্ষে তারা পাঠ করেছেন:
(আল্লাহ তোমাকে মুসলিমাত-এর দুই হাতের মাধ্যমে নাজাত দিয়েছেন
… .......... (১))
তাদের কোনো কোনো কথায় বর্ণিত হয়েছে: হে সূরা বাকারার সাথীরা! তখন উত্তরদাতা জবাব দিলেন: আল্লাহর কসম, আমার কাছে এর কোনো আয়িত (আয়াত) নেই। এখানে প্রথমজন 'বাকারা' এবং দ্বিতীয়জন 'আয়িত' (আয়াত) বুঝিয়েছেন।
আর ক্রিয়ার সাথে যুক্ত 'তা' হলো সাকিন 'তা', যা মিলিয়ে পড়ার সময় এবং বিরতি দেওয়ার সময় স্থির থাকে। এটি নড়াচড়া (হরকত) করে না, যতক্ষণ না এর পরে কোনো সাকিন অক্ষরের মিলন ঘটে; যেমন আপনার উক্তি: قامَتِ المرأة (মহিলাটি দাঁড়িয়েছে)।
এবং এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ওপর জযম প্রদানকারী বর্ণ যুক্ত হওয়া; যেমন আপনার উক্তি: لم يضرب, لم يقم এবং لم يرم।
আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে জযম প্রদানকারী বর্ণসমূহ বিশেষ্যের ক্ষেত্রে যের প্রদানকারী বর্ণসমূহের (২) অনুরূপ। কারণ এই দুই প্রকারের—অর্থাৎ যের প্রদানকারী ও জযম প্রদানকারী বর্ণমালার—প্রত্যেকটির অর্থ কেবল তখনই শুদ্ধ হয় যখন তা তার নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়। সুতরাং যের প্রদানকারী বর্ণসমূহ বিশেষ্যের সাথে সুনির্দিষ্ট, কারণ এগুলোর অর্থ কেবল বিশেষ্যের মধ্যেই শুদ্ধ হয়। আর জযম প্রদানকারী বর্ণসমূহ ক্রিয়ার সাথে সুনির্দিষ্ট, কারণ এগুলোর অর্থ কেবল ক্রিয়ার মধ্যেই শুদ্ধ হয়। আর বর্ণ বা অব্যয় (৩) মূলত এমনভাবেই গঠিত হয়েছে যাতে তার অর্থ শুদ্ধভাবে প্রকাশ পায়।
এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য এর সাথে নুনে শাদিদাহ বা নুনে খফিফাহ যুক্ত হওয়া; যেমন আপনার উক্তি: হে জায়েদ, তুমি কি অবশ্যই দাঁড়াবে? এবং হে আমর, তুমি কি অবশ্যই দাঁড়াবে? এই দুই নুন ক্রিয়াকে তাকিদ বা জোরালো করার জন্য তাতে যুক্ত হয়। সুতরাং এগুলো ক্রিয়ারই বৈশিষ্ট্য, যেমন তানভীন হলো বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্য।
আর ক্রিয়ার অর্থগত আলামত বা চিহ্ন হলো (৪) এটি সর্বদা অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولا يسند غيره إليه، وربما جعل (1) هذا حداً له وليس بحد بل رسم (2) له والحد التام له ما بدأنا به.
ولفظة الإسناد أعم من لفظة الإخبار، لأن الإخبار ما احتمل الصدق والكذب فلم ينطلق إلا على ما احتملهما، والإسناد ينطلق على ما احتملهما وهو الخبر وعلى ما لا يحتملهما كالاستفهام والنهي وما أشبه ذلك مما ليس بخبر، فكل خبر مسند، وليس كل مسند خبراً، فلهذا كان استعمال الإسناد في تعريف الفعل أولى من استعمال الإخبار.
فأما انقسام الفعل في الصيغ إلى ثلاثة أقسام، فأمر يخص لفظه، وهو المعنى الذي يسمى التصرف.
فمنها أن يكون للماضي فيكون آخره مفتوحاً أبداً ما لم يتصل به ضمير الفاعل كقولك: قام زيد وخرج عمرو أو زيد قام وعمرو خرج، فإذا اتصل به ضمير الفاعل سكن آخره مع تاء المتكلم والمخاطب، ذكراً كان أو أنثى، ونون جماعة الإناث كقولك: ذهبتُ، وذهبتَ، وذهبتِ، وذهبنَ، وذهبتما، وذهبتم، وذهبتن، وضم مع اتصال الواو التي للغيب الفاعلين به، فقلت: ذهبوا.
ومنها أن تدخله الزوائد الأربع في أوله كهمزة المتكلم في قولك: أقوم أنا وتاء المخاطب المذكر كقولك: تقوم أنت، والمؤنثة الغائبة كقولك: نقوم هي، ونون المتكلم ومن معه، أو الواحد العظيم في نفسه حملاً على الجامعة نحو: نقوم نحن، وياء المذكر الغائب نحو: يقوم هو.
فهذه الحروف الأربعة تسمى حروف المضارعة، والفعل الذي دخلته يسمى مضارعاً، وسمي مضارعاً لمشابهته الأسماء، والمضارعة في اللغة المشابهة
--------------------------------------------
অন্য কিছুকে এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত (يسند) করা হয় না। কেউ কেউ সম্ভবত (১) একে এর সংজ্ঞা (حد) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তবে এটি প্রকৃত সংজ্ঞা (حد) নয় বরং একটি পরিচয়জ্ঞাপক বিবরণ (رسم)। এর পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা (حد) তাই যা আমরা শুরুতে আলোচনা করেছি।
ইসনাদ (الإسناد) শব্দটি ইখবার (الإخبار) শব্দ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। কারণ, ইখবার (الإخبار) হলো এমন বিষয় যা সত্য বা মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে; তাই এটি কেবল সত্য-মিথ্যা সম্ভাবনাময় বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। অন্যদিকে, ইসনাদ (الإسناد) সত্য-মিথ্যা সম্ভাবনাময় বিষয় অর্থাৎ সংবাদ (الخبر) এবং যা সত্য-মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে না—যেমন প্রশ্নবোধক বাক্য (الاستفهام) ও নিষেধজ্ঞাপক বাক্য (النهي) এবং সংবাদ (الخبر) নয় এমন সমজাতীয় বিষয়াদির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। সুতরাং প্রত্যেক সংবাদই (الخبر) সম্বন্ধযুক্ত (مسند), কিন্তু প্রত্যেক সম্বন্ধযুক্ত (مسند) বিষয় সংবাদ (الخبر) নয়। এই কারণে ক্রিয়ার (الفعل) সংজ্ঞায় ইখবার (الإخبار) শব্দের তুলনায় ইসনাদ (الإسناد) শব্দের ব্যবহার অধিক যুক্তিযুক্ত।
রূপগত দিক থেকে ক্রিয়ার (الفعل) তিনটি ভাগে বিভক্ত হওয়া মূলত এর শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়, যাকে রূপান্তর (التصرف) বলা হয়।
এর মধ্যে একটি হলো অতীতকাল (الماضي), যার শেষাক্ষর সর্বদা জবরযুক্ত (مفتوحاً) থাকে যতক্ষণ না তার সাথে কর্তার সর্বনাম (ضمير الفاعل) যুক্ত হয়। যেমন আপনার উক্তি: قام زيد এবং خرج عمرو অথবা زيد قام এবং عمرو خرج। যখন এর সাথে উত্তম পুরুষ (المتكلم) ও মধ্যম পুরুষ (المخاطب) এর 'তা' যুক্ত হয়—সেটি পুরুষবাচক হোক বা স্ত্রীবাচক—এবং স্ত্রীবাচক বহুবচনের 'নুন' যুক্ত হয়, তখন এর শেষাক্ষর সাকিনযুক্ত (سكن) হয়। যেমন আপনার উক্তি: ذهبتُ, ذهبتَ, ذهبتِ, ذهبنَ, ذهبتما, ذهبتم, ذهبتن। আর যখন নাম পুরুষ বহুবচন বাচক 'ওয়াও' যুক্ত হয়, তখন শেষাক্ষর পেশযুক্ত (ضم) হয়, যেমন আপনি বলেন: ذهبوا।
আরেকটি হলো যার শুরুতে অতিরিক্ত চারটি বর্ণ (الزوائد الأربع) যুক্ত হয়। যেমন উত্তম পুরুষের হামজা, আপনার উক্তি: أقوم أنا; এবং মধ্যম পুরুষ পুরুষবাচকের 'তা', যেমন আপনার উক্তি: تقوم أنت; এবং নাম পুরুষ স্ত্রীবাচকের ক্ষেত্রে, যেমন: تقوم هي; এবং উত্তম পুরুষ বহুবচন অথবা আত্মমর্যাদাবোধক একবচনের ক্ষেত্রে 'নুন', যেমন: نقوم نحن; এবং নাম পুরুষ পুরুষবাচকের ক্ষেত্রে 'ইয়া', যেমন: يقوم هو।
এই চারটি বর্ণকে মুদারে-এর বর্ণ (حروف المضارعة) বলা হয়। আর যে ক্রিয়ার শুরুতে এগুলো যুক্ত হয় তাকে মুদারে (مضارع) বলা হয়। বিশেষ্যের (الأسماء) সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে একে মুদারে (مضارع) নামকরণ করা হয়েছে। শাব্দিক অর্থে মুদারাআহ (المضارعة) মানে হলো সাদৃশ্য (المشابهة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
وشبهه (1) بالاسم أنه يكون شائعاً بين الزمانين: الحال والاستقبال، تقول: يقوم زيد ويصلي عمرو فيصلح للحال، أي هو في حال قيام وصلاة، ويصلح للاستقبال أي يقوم غذاً، ويصلى غداً أو وقتاً ما (2) آخر من أوقات الاستقبال فإذا دخلته السين أو سوف أخلصتاه للاستقبال وقصرتاه بعد أن كان شائعاً على مخصوص، فكان ذلك كالاسم المنكور، يكون مشتركاً بين أشخاص النوع شائعاً فيها، يصلح لكل واحد منها على وجهة البدل، فإذا أرادت إخلاصه لأحدها واختصاصه به ألحقته الألف واللام (كقولك: رجل، ثم تقول: الرجل، فيختص بهما، أعني الألف واللام) (3)، فقد شابه الفعل المضارع الاسم من هذه الجهة، ومن جهات أخر، منها لحاق اللام له في قولك: إن زيداً ليقوم كما تلحق الاسم في مثل: إن زيداً لقائم، ولا تدخل هذه اللام على (4) الفعل الماضي إذا وقع خبراً، لأنك لا تقول: إن زيداً لقام على حد قولك ليقوم، لأن الماضي لا نسبة بينه وبين الاسم في معنى كما بين المضارع وبين الاسم، فللمضارعة بينهما جاز أن يدخله بعض ما يدخل الاسم.
ولا يزال هذا الفعل مرفوعاً ما عري من (5) النواصب والجوازم ولم يعرض له ما يرده مبنياً، ورفعه بوقوعه موقع الاسم، فالعامل فيه الرفع على هذا معنوي.
والثالث من أمثلة الفعل هو المثال الموقوف الآخر، وذلك هو فعل الأمر للمواجه في قول البصريين، وهو مبني عندهم لأنه باق على أصله، لم يشبه الاسم فيستحق الإعراب، كقولك: قم يا زيد، وأكرم يا عمرو.
فأما فعل الأمر للغائب فتلحقه اللام كقولك: ليقم زيد وليخرج عمرو، وهو مغرب مجزوم عند البصريين والكوفيين إجماعاً.
--------------------------------------------
বিশেষ্যের (اسم) সাথে এর (১) সাদৃশ্য হলো এটি বর্তমান (حال) ও ভবিষ্যৎ (استقبال)—এই দুই সময়ের মধ্যে সাধারণ বা ব্যাপক অর্থ প্রদান করে। আপনি বলেন: ‘যায়িদ দাঁড়াচ্ছে (يقوم)’ এবং ‘আমর নামাজ পড়ছে (ويصلي)’; ফলে এটি বর্তমান সময়ের জন্য উপযোগী হয়, অর্থাৎ সে এখন দণ্ডায়মান ও নামাজরত অবস্থায় আছে। আবার এটি ভবিষ্যতের জন্যও উপযোগী হয়, অর্থাৎ সে আগামীকাল দাঁড়াবে বা ভবিষ্যতে অন্য কোনো সময়ে (২) নামাজ পড়বে। যখন এর শুরুতে ‘সিন’ (س) অথবা ‘সাওফা’ (سوف) যুক্ত হয়, তখন সেগুলো শব্দটিকে ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয় এবং ব্যাপক অর্থ থেকে সংকীর্ণ করে ফেলে। এটি তখন অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (اسم منكور) মতো হয়ে যায়, যা সেই জাতীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ থাকে এবং পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য হয়। অতঃপর আপনি যখন একে কোনো একটির জন্য নির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত করতে চান, তখন এর সাথে ‘আলিফ-লাম’ (ال) যুক্ত করেন (যেমন আপনার কথা: ‘রাজুল’ বা একজন পুরুষ, তারপর আপনি বলেন: ‘আর-রাজুল’ বা নির্দিষ্ট পুরুষটি; ফলে আলিফ ও লামের মাধ্যমে এটি নির্দিষ্ট হয়ে যায়) (৩)। সুতরাং ফিয়েল মুদারি‘ (فعل مضارع) এই দিক থেকে এবং অন্যান্য আরও কিছু দিক থেকে বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো আপনার উক্তিতে ‘লাম’ (لام) যুক্ত হওয়া: ‘নিশ্চয়ই যায়িদ দাঁড়াচ্ছে (إن زيداً ليقوم)’, ঠিক যেমন বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয়: ‘নিশ্চয়ই যায়িদ দণ্ডায়মান (إن زيداً لقائم)’। এই ‘লাম’ ফিয়েল মাজি (فعل ماضي) বা অতীতকালীন ক্রিয়ার ওপর (৪) প্রবেশ করে না যখন তা খবর (خبر) হিসেবে আসে। কারণ আপনি ‘ইন্না যায়িদান লাক্ব-মা (إن زيداً لقام)’ বলতে পারেন না যেভাবে ‘লাইয়াকূমু (ليقوم)’ বলেন। কেননা অর্থের দিক থেকে মাজির সাথে বিশেষ্যের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই যেমনটি মুদারি‘ ও বিশেষ্যের মধ্যে রয়েছে। মূলত এই পারস্পরিক সাদৃশ্যের কারণেই বিশেষ্যের ওপর যা প্রবেশ করে তার কিছু কিছু মুদারি‘র ওপর প্রবেশ করা বৈধ হয়েছে।
এই ক্রিয়াটি ততক্ষণ মারফু (مرفوع) থাকে যতক্ষণ না এটি নসব প্রদানকারী (نواصب) ও জজম প্রদানকারী (جوازم) অব্যয়সমূহ থেকে মুক্ত থাকে (৫) এবং এমন কিছু উপস্থিত না হয় যা একে মাবনি (مبني) করে দেয়। এক্ষেত্রে রাফ‘ (رفع) হওয়ার কারণ হলো এর বিশেষ্যের স্থানে উপনীত হওয়া; সুতরাং এমতাবস্থায় রাফ‘ প্রদানকারী আমিল (عامل) বা عاملটি হলো মানবী (معنوي) বা অর্থগত।
ক্রিয়ার উদাহরণসমূহের মধ্যে তৃতীয়টি হলো যার শেষাংশ স্থির (موقوف الآخر)। বসরাবাসীদের মতে এটি হলো উপস্থিত ব্যক্তিকে নির্দেশক আমর (فعل الأمر)। তাঁদের নিকট এটি মাবনি (مبني); কারণ এটি তার মূল অবস্থার ওপর বহাল রয়েছে এবং বিশেষ্যের সদৃশ হয়নি যে ই‘রাব (إعراب) প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য হবে। যেমন আপনার কথা: ‘হে যায়িদ, দাঁড়াও (قم يا زيد)’ এবং ‘হে আমর, সম্মান করো (أكرم يا عمرو)’।
পক্ষান্তরে অনুপস্থিত ব্যক্তিকে নির্দেশক আমরের (فعل الأمر للغائب) ক্ষেত্রে ‘লাম’ যুক্ত হয়, যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়িদ যেন দাঁড়ায় (ليقم زيد)’ এবং ‘আমর যেন বের হয় (ليخرج عمرو)’। এটি বসরা ও কুফাবাসীদের সর্বসম্মত মতে মু‘রাব (مغرب) তথা মাজযুম (مجزوم)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فصل في تعريف الحرفقوله: الحرف ما جاء لمعنى، ليس فيه معنى اسم ولا فعل (1)
…الحرف هو القسم الثالث من الكلم الثلاث، وينحط عن رتبة الفعل كما انحط الفعل عن رتبة الاسم، وذلك أن الاسم يخبر عنه وبه كما علمت، والفعل يخبر به، ولا يخبر عنه، والحرف لا يخبر به ولا عنه.
وحده أنه كلمة تجيء لمعنى في غيرها من إثبات أو نفي، أو غير ذلك من المعاني. وربما قالوا: الحرف ما جاء لمعنى ليس بمعنى اسم ولا فعل. وربما قيل أيضاً: الحرف ما لم يكن أحد جزئي الجملة وجزءا الجملة ركناها، وهما: الخبر والمخبر عنه.
فأما الرسم الأول، وهو كونه دالاً على معنى في غيره فبين، وذلك أنك (2) إذا قلت: قام زيد كان هذا الكلام خبراً محضاً يحتمل الصدق والكذب، فإذا ألحقته هل فقلت: هل قام زيد؟ صار (3) الكلام استفهاماً لا يحتمل صدقاً ولا كذباً بعد أن كان خبراً يحتملهما، فقد دلت هل وهي الحرف على معنى - وهو الاستفهام - في غيرها وهو قيام زيد.
وأما كونه لفظة دالة على معنى، ليس باسم ولا فعل فلأن معنى الاستفهام في مثالنا الذي مثلنا به، ليس بالفعل الذي هو قام، ولا الاسم الذي
--------------------------------------------
হরফের (الحرف) সংজ্ঞা বিষয়ক পরিচ্ছেদতাঁর উক্তি: হরফ (الحرف) হলো তা যা কোনো অর্থের জন্য আসে, যাতে বিশেষ্য (اسم) বা ক্রিয়ার (فعل) অর্থ বিদ্যমান নেই (১)
…হরফ (الحرف) হলো তিন প্রকার শব্দের তৃতীয় প্রকার, যা ক্রিয়ার (فعل) স্তর থেকে নিম্নতর, যেমনটি ক্রিয়া (فعل) বিশেষ্যের (اسم) স্তর থেকে নিম্নতর। আর তা এজন্য যে, বিশেষ্য (اسم) সম্পর্কে সংবাদ (خبر) দেওয়া যায় এবং তার দ্বারাও সংবাদ (خبر) প্রদান করা যায় যেমনটি আপনি জেনেছেন; অন্যদিকে ক্রিয়ার (فعل) মাধ্যমে সংবাদ (خبر) দেওয়া যায় কিন্তু তার সম্পর্কে সংবাদ (خبر) দেওয়া যায় না, আর হরফের (الحرف) ক্ষেত্রে তার মাধ্যমে বা তার সম্পর্কে কোনো সংবাদ (خبر) দেওয়া যায় না।
এর সংজ্ঞা হলো যে, এটি এমন একটি শব্দ যা অন্য কোনো কিছুর মধ্যে থাকা অর্থের জন্য আসে, তা হোক ইতিবাচকতা (إثبات) বা নেতিবাচকতা (نفي) অথবা অন্য কোনো অর্থ। অনেক সময় তারা বলেন: হরফ (الحرف) হলো তা যা এমন অর্থের জন্য আসে যা বিশেষ্য (اسم) বা ক্রিয়ার (فعل) অর্থ নয়। কখনো আবার বলা হয়: হরফ (الحرف) হলো যা বাক্যের দুই অংশের কোনোটিই নয়; আর বাক্যের দুই অংশ হলো তার দুটি ভিত্তি (রুকন), যথা: সংবাদ (الخبر) এবং যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয় (المخبر عنه)।
প্রথম সংজ্ঞার বিষয়টি, অর্থাৎ অন্য কিছুর মাঝে থাকা অর্থের পরিচায়ক হওয়া—তা সুস্পষ্ট। আর তা এজন্য যে, আপনি যখন বলেন: 'জায়েদ দাঁড়িয়েছে' (قام زيد), তখন এই কথাটি একটি বিশুদ্ধ সংবাদ (خبر) যা সত্য (صدق) বা মিথ্যা (كذب) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। অতঃপর যখন আপনি এর সাথে 'هل' যুক্ত করে বলেন: 'জায়েদ কি দাঁড়িয়েছে?' (هل قام زيد؟), তখন কথাটি জিজ্ঞাসায় (استفهام) রূপান্তরিত হয় যা সত্য (صدق) বা মিথ্যা (كذب) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না, অথচ ইতিপূর্বে সংবাদ (خبر) হিসেবে এটি উভয়টিরই সম্ভাবনা রাখত। সুতরাং 'هل'—যা একটি হরফ (الحرف)—তা অন্য একটির (অর্থাৎ জায়েদের দাঁড়ানো) মাঝে থাকা একটি অর্থ তথা জিজ্ঞাসার (الاستفهام) পরিচয় প্রদান করেছে।
আর এর এমন একটি শব্দ হওয়া যা বিশেষ্য (اسم) বা ক্রিয়ার (فعل) অর্থ নয় এমন অর্থ প্রকাশ করে—এর কারণ হলো, আমাদের উল্লিখিত উদাহরণে জিজ্ঞাসার (الاستفهام) অর্থটি 'ক্বামা' (قام) নামক ক্রিয়ার (فعل) মধ্যে নেই, আর না 'জায়েদ' নামক বিশেষ্যের (اسم) মধ্যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هو زيد.
وإن شئت فسرته بأن الاسم يدل على معنى في ذاته، وكذلك الفعل، والحرف يدل على معنى في غيره، فليس معناه حينئذ معنى اسم ولا فعل، إذ كان لا يدل على معنى في ذاته.
وكونه ليس بأحد جزئي الجملة ظاهر أيضاً في تمثيلنا، لأن الحديث هو قولك: قام وهو ركن، وإن شئت قلت: جزء (1) للجملة.
وزيد المحدث عنه، وهو جزء الجملة الآخر (2)، وهل الداخلة عليهما للاستفهام (3) ليس بواحد منهما، إذ لو كانت ركناً من أركان الجملة لم يكن للجملة بد منها، وفي استقلال الجملة بنفسها دونها دليل على أنها نيف وزيادة لمعنى لا هو الخبر ولا المخبر عنه.
فأما اشتقاقه فمن حرف الشيء وهو طرفه، وذلك أنه يكون تارة وصلة للاسم وتارة وصلة للفعل، فهو كالطرف لهما.
والحرف ينقسم انقسامات: منها انقسامه من طريق العمل والإهمال، وذلك أنه لا يخلو من أن يكون عاملاً، وهو كل حرف اختص بأحد القبيلين: الاسم أو الفعل، فيعمل فيما اختص به، كحروف الجر المختصة بالأسماء، وكحروف الجزء المختصة بالأفعال، أو يكون مهملاً فلا يعمل، وذلك إذا كان متردداً في الدخول على القبيلين: الاسم والفعل، يدخل على هذا تارة وعلى هذا أخرى، كحروف الاستفهام وما أشبهها، ألا ترى أنك تقول: هل قام زيد وهل زيد قائم. أو يكون عاملاً عند قوم على صفة مخصوصة ومهملاً عند غيرهم، كما النافية عند أهل الحجاز، فأنها عاملة عندهم عمل ليس من رفع الاسم ونصب الخبر، بشرط ألا ينتفض النفي الذي تدل عليه، ولا يتقدم خبرها على اسمها.
--------------------------------------------
তিনি হলেন জায়েদ।
আপনি চাইলে একে এভাবেও ব্যাখ্যা করতে পারেন যে, বিশেষ্য (اسم) এমন শব্দ যা তার নিজস্ব অর্থের ওপর নির্দেশ করে; ক্রিয়াও (فعل) তাই। আর অব্যয় (حرف) এমন শব্দ যা অন্য পদের সাথে মিলিত হওয়া ব্যতীত অর্থ প্রকাশ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে এর অর্থ বিশেষ্য বা ক্রিয়ার মতো হয় না, কারণ এটি নিজস্ব সত্তাগত কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।
আমাদের উপস্থাপিত উদাহরণে এটি যে জুমলার (বাক্যের) দুটি প্রধান অংশের কোনোটিই নয়, তা স্পষ্ট। কারণ হাদিস হলো আপনার বক্তব্য: ‘ক্বামা’ (সে দাঁড়িয়েছে), যা একটি রুকন (ركن), অথবা আপনি চাইলে বলতে পারেন জুমলার একটি অংশ (جزء) (১)।
আর জায়েদ হলো যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে (المحدث عنه), যা জুমলার অপর একটি অংশ (جزء) (২)। আর তাদের উভয়ের ওপর যুক্ত হওয়া প্রশ্নবোধক (استفهام) ‘হাল’ (هل) (৩) এই দুটির কোনোটিই নয়। কারণ এটি যদি জুমলার অন্যতম রুকন (ركن) হতো, তবে জুমলা এটি ছাড়া অসম্পূর্ণ থাকত। এটি ছাড়াই জুমলা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া একথাই প্রমাণ করে যে, এটি জুমলার অতিরিক্ত একটি অংশ যা এমন এক অর্থের জন্য এসেছে যা সংবাদ (خبر) কিংবা যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে (مخبر عنه) এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থের কথা বললে, এটি কোনো বস্তুর প্রান্ত (حرف) বা কিনারা থেকে নির্গত। এর কারণ হলো, এটি কখনো বিশেষ্যের (اسم) সাথে সংযোগকারী হয়, আবার কখনো ক্রিয়ার (فعل) সাথে; ফলে এটি এ দুটির জন্য প্রান্তস্বরূপ।
অব্যয় (حرف) বিভিন্নভাবে বিভক্ত হয়: এর মধ্যে একটি হলো আমল (عمل) এবং ইহমাল (إهمال) এর দিক থেকে বিভাজন। বিষয়টি হলো, অব্যয়টি হয় আমিল (عامل) হবে—আর এটি সেই সব অব্যয় যা বিশেষ্য (اسم) বা ক্রিয়া (فعل)-র কোনো একটি পদের জন্য নির্দিষ্ট এবং সেই নির্দিষ্ট পদের ওপর আমল (عمل) করে; যেমন বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট হারফে জার (حروف الجر) এবং ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট হারফে জজম (حروف الجزم)। অথবা এটি মুহমাল (مهمل) হতে পারে—অর্থাৎ এটি কোনো আমল (عمل) করবে না; আর এটি তখন হয় যখন এটি বিশেষ্য (اسم) ও ক্রিয়া (فعل) উভয়ের পূর্বেই ব্যবহৃত হতে পারে—কখনো বিশেষ্যের ওপর আসে, কখনো ক্রিয়ার ওপর; যেমন প্রশ্নবোধক অব্যয় (حروف الاستفهام) এবং এই জাতীয় অন্যান্য। আপনি কি দেখেন না যে আপনি বলেন: ‘হাল ক্বামা যায়দুন’ এবং ‘হাল যায়দুন ক্বায়িমুন’। অথবা এটি কোনো এক সম্প্রদায়ের নিকট বিশেষ অবস্থায় আমিল (عامل) হিসেবে গণ্য হয় এবং অন্যদের নিকট মুহমাল (مهمل) হিসেবে; যেমন হিজাজবাসীদের নিকট না-বোধক মা (ما النافية)। তাদের মতে এটি ‘লাইসা’ (ليس)-র মতো আমল (عمل) করে, অর্থাৎ ইসমকে (اسم) রফআ (رفع) এবং খবরকে (خبر) নসব (نصب) প্রদান করে; তবে শর্ত হলো এর দ্বারা নির্দেশিত না-বোধক অর্থ যেন ক্ষুণ্ণ না হয় এবং এর খবর (خبر) যেন তার ইসমের (اسم) আগে চলে না আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وهي عند تميم وغيرهم من العرب، خلال الحجازيين مهملة غير عاملة. ومن انقساماته انقسامه (1) من طريق لفظه وصيغته، وذلك أن منه ما هو على حرف واحد كباء الجر وواو العطف، ويسمى أحادياً، ومنه ما هو على حرفين كعن وهل وقد وبل ويسمى ثنائياً، ومنه ما هو على ثلاثة أحرف كأن وثم وسوف ويسمى ثلاثياً، ومنه ما هو على أربعة أحرف نحو حتى وإلا وأما ويسمى رباعياً، ومنه ما هو على خمسة أحرف وهو لكن وذلك نزر فيه. ومنه ما هو موقوف الآخر كمن وما ومنه ما هو محرك الآخر، إما بالفتح كثم وليث وإنَّ أو بالضم وهو منذ (2) في لغة من يجربها، أو بالكسر نحو جير في قول من يراها حرفاً، إلى غير ذلك من خواصه.
وربما عرف بعلامة سلبية فقيل: الحرف ما لم تحسن فيه علامات الأسماء ولا علامات الأفعال، ألا ترى أنك لا تقول: من قد ولا قد سوف.
فأما معاني الحروف التي وضعت لها لتدل عليها، فتجيء في فرش الأبواب إن الله شاء.
وإذ قد عرفت هذه الخواص، لهذه الكلم الثلاث التي يمتاز بها بعضها عن بعض، فربما وردت عليك لفظة لا تكاد تقبل في الظاهر شيئاً منها، فإذا أردت سَبرَها - هل هي اسم أو فعل أو حرف - فعرضت (3) عليها علامات الأسماء فلم تقبلها وعلامات الأفعال فلم تصح فيها ثم لم ترها تدل على ما تدل عليه الحروف من المعنى في غيرها عدلت إلى الحكم عليها بأنها اسم لأن الاسم هو الأصل، والمجهولات ترد إلى الأصول وتحمل عليها دون الفروع.
--------------------------------------------
এটি তামিমি এবং অন্যান্য আরব গোত্রের নিকট (ব্যবহৃত হয়), পক্ষান্তরে হিজাজিদের নিকট এটি উপেক্ষিত এবং আমলবিহীন (غير عاملة)। এর বিভাজনগুলোর মধ্যে একটি হলো (১) এর শব্দ ও কাঠামোগত দিক থেকে এর বিভাজন, আর তা হলো: এর কোনটি একাক্ষরবিশিষ্ট (أحادياً), যেমন: জরের 'বা' ও আতাফের 'ওয়াও'; কোনটি দ্ব্যক্ষরবিশিষ্ট (ثنائياً), যেমন: 'আন', 'হাল', 'কাদ' ও 'বাল'; কোনটি ত্র্যক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثياً), যেমন: 'আন্না', 'সুম্মা' ও 'সাওফা'; কোনটি চতুর্অক্ষরবিশিষ্ট (رباعياً), যেমন: 'হাত্তা', 'ইল্লা' ও 'আম্মা'; এবং কোনটি পঞ্চাক্ষরবিশিষ্ট, যেমন: 'লাকিন্না' এবং এটি খুবই বিরল। এর মধ্যে কোনটি শেষে সুকুনযুক্ত (موقوف الآخر), যেমন: 'মান' ও 'মা'; আবার কোনটি শেষে হরকতযুক্ত (محرك الآخر), হয় জবরযুক্ত (بالفتح), যেমন: 'সুম্মা', 'লাইতা' ও 'ইন্না', অথবা পেশযুক্ত (بالضم), যেমন: 'মুনজু' (২) ওই সকল ভাষারীতি অনুযায়ী যারা এটিকে অব্যয় হিসেবে ব্যবহার করে, অথবা জেরযুক্ত (بالكسر), যেমন: 'জায়রি' তাদের মতে যারা একে অব্যয় বা হরফ (حرفاً) মনে করেন; এছাড়াও এর আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
কখনো কখনো একে নেতিবাচক চিহ্নের মাধ্যমেও সংজ্ঞায়িত করা হয়, তাই বলা হয়: হরফ (الحرف) হলো তা-ই যার মধ্যে বিশেষ্যের (الأسماء) আলামতসমূহ বা ক্রিয়ার (الأفعال) আলামতসমূহ গ্রহণযোগ্য হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি বলতে পারেন না: 'মান কাদ' কিংবা 'কাদ সাওফা'।
আর হরফসমূহের অর্থসমূহ যা বুঝানোর জন্য এগুলো গঠন করা হয়েছে, সেগুলো আল্লাহ চাহেন তো সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলোতে আলোচিত হবে।
যেহেতু আপনি এই তিনটি শব্দের প্রকারভেদের বৈশিষ্ট্যসমূহ জেনেছেন যার মাধ্যমে একটি অপরটি থেকে পৃথক হয়, এমতাবস্থায় আপনার নিকট এমন কোনো শব্দ আসতে পারে যা আপাতদৃষ্টিতে এর কোনোটিকেই গ্রহণ করে না। এমতাবস্থায় যখন আপনি সেটি পরীক্ষা করতে চাইবেন—তা বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) নাকি অব্যয় (حرف)—এবং তার উপর বিশেষ্যের (الأسماء) আলামতসমূহ প্রয়োগ করার (৩) পর তা গ্রহণ না করে এবং ক্রিয়ার (الأفعال) আলামতসমূহও তাতে সঠিক না হয়, আর আপনি যদি দেখেন যে তা অন্য শব্দ ব্যতীত নিজে কোনো অর্থ প্রদান করছে না যা হরফ (الحروف) করে থাকে, তবে আপনি একে ইসম (اسم) হওয়ার হুকুমের (الحكم) দিকে ফিরিয়ে দেবেন। কেননা ইসমই হলো মূল (الأصل), আর অজ্ঞাত বিষয়গুলোকে মূলের (الأصول) দিকেই প্রত্যাবর্তন করানো হয় এবং অপ্রধান বিষয়ের (الفروع) পরিবর্তে মূলের ওপরই ন্যস্ত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فمن ذلك "كيف" (1)، لا تحسن فيها علامات الأسماء في اللغة الجيدة (2) وإن كانوا قد حكوا في الشواذ: على كيف تبيع الأحمرين؟ وحكوا أيضاً: انظر إلى كيف يصنع، فأدخلوا عليه حروف الجر كما ترى، فليس ذلك بالشائع ولا القياس (3)، وإن كان فيه بعض التنبيه على أن العرب وضعت الكلمة اسماً.
وطريق النظر إن سبرتَ وقَسمتَ أن تحللها، فتقول: لا تخلو كيف من أن تكون اسماً، أو فعلاً، أو حرفاً (وقد قدمنا أن الأسماء هي الأصول) (4)، فلا تكون فعلا لأن الأفعال تليها إذا قلت: كيف تصنع؟ وكيف تقول؟ ، والفعل لا يلي الفعل إلا أن يكون بينهما (5) حاجز مقدر، وذلك في التحقيق لم يله وليس بين كيف وما وليها من الفعل حاجز مقدر - أعني ضميراً مستتراً - فبطل أن تكون فعلاً، ولا تكون حرفاً لا يستقل به مع الاسم كلام تام إلا في النداء نحو قولك (6): يا زيد، وليس قولك: كيف زيد بنداء، وهو كلام تام فبطل أن تكون حرفاً، فإذا لم تكن فعلاً ولا حرفاً بقي أن تكون اسماً. وعلى (7) هذا فقس أمثاله.
--------------------------------------------
তার একটি উদাহরণ হলো "কাইফা" (১), পরিমার্জিত ভাষায় এতে বিশেষ্যের (اسم) চিহ্নসমূহ যথাযথভাবে প্রকাশ পায় না (২)। যদিও তারা বিরল ও ব্যতিক্রমী (شواذ) প্রয়োগের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন: "আলা কাইফা তাবি’উল আহমারাইন?" (তুমি কীভাবে লাল বস্তু দুটি বিক্রয় করছ?); এবং তারা আরও বর্ণনা করেছেন: "উনযুর ইলা কাইফা ইয়াসনা’" (দেখো সে কীভাবে করছে)। এখানে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, তারা শব্দটির পূর্বে পদান্বয়ী অব্যয় (حروف الجر) যুক্ত করেছেন। তবে এটি বহুল প্রচলিত বা নিয়মমাফিক (قياس) (৩) নয়, যদিও এতে এই বিষয়ের প্রতি কিছুটা ইঙ্গিত রয়েছে যে আরবরা শব্দটিকে বিশেষ্য (اسم) হিসেবেই গঠন করেছে।
আর পর্যালোচনার পদ্ধতি হলো, আপনি যদি বিষয়টিকে বিশ্লেষণাত্মক পরীক্ষণ ও শ্রেণীকরণের (سبر وقسم) মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন, তবে আপনি বলবেন: "কাইফা" শব্দটি বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) অথবা অব্যয় (حرف) হওয়ার সম্ভাবনা থেকে মুক্ত নয় (আর আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে বিশেষ্যই হলো মূল ভিত্তি) (৪)। এটি ক্রিয়া (فعل) হতে পারে না, কারণ আপনি যখন বলেন: "কাইফা তাসনা’?" (তুমি কীভাবে করছ?) এবং "কাইফা তাকুলু?" (তুমি কী বলছ?), তখন এর পরপরই ক্রিয়া (فعل) আসে। আর একটি ক্রিয়া (فعل) অন্য একটি ক্রিয়ার (فعل) অনুগামী হয় না, যদি না তাদের মাঝে (৫) কোনো উহ্য ব্যবধান থাকে। প্রকৃত অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেখানে কোনো ব্যবধান ছিল না এবং "কাইফা" ও তার পরবর্তী ক্রিয়ার মাঝে কোনো উহ্য ব্যবধান নেই—অর্থাৎ কোনো গোপন সর্বনাম (ضمير مستتر) নেই—সুতরাং এটি ক্রিয়া (فعل) হওয়া বাতিল প্রমাণিত হলো। এটি অব্যয় (حرف) হতে পারে না; কারণ অব্যয় বিশেষ্যের (اسم) সাথে যুক্ত হয়ে স্বতন্ত্রভাবে পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠন করতে পারে না, কেবল সম্বোধনের (نداء) ক্ষেত্রে ব্যতীত, যেমন আপনার উক্তি (৬): "ইয়া যায়দ" (হে যায়দ)। কিন্তু আপনার উক্তি: "কাইফা যায়দুন" (যায়দ কেমন আছে?) কোনো সম্বোধন (نداء) নয়, অথচ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য। অতএব এটি অব্যয় (حرف) হওয়াও বাতিল হয়ে গেল। সুতরাং যখন এটি ক্রিয়া (فعل) অথবা অব্যয় (حرف) নয়, তখন এটি বিশেষ্য (اسم) হিসেবেই অবশিষ্ট থাকল। আর (৭) এর ওপর ভিত্তি করেই অনুরূপ বিষয়গুলোতে অনুমান (قياس) করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فصل
أعلم أن الكلم الثلاث، إذا ألف بعضها مع بعض حصل (1) من ذلك ستة تآليف، اثنان منها مفيدان إفادة مطردة، وآخر منها مفيد إفادة مخصوصة بموضع واحد مقصورة عليه، وثلاث مطرحة لأنها لا تفيد.
والقسمان الأولان: الاسم مع الاسم كقولك: زيد منطلق، والله إلهنا والفعل مع الاسم كقولك: قام زيد وانطلق بشر، والثالث مخصوص وهو الحرف مع الاسم، في النداء خاصة، كقولك يا زيد، والثلاثة المطرحة هي الفعل مع الفعل والحرف مع الفعل، والحرف مع الحرف.
فإذا وقعت الفائدة بالتآليف على ما ذكرنا، سمي ذلك المؤتلف كلاماً. فالكلام اسم للمفيد عند النحويين، يدلك على ذلك من رأيهم قول سيبويه (2): "وأعلم أن كلمة "قلت"، إنما وقعت في كلام العرب
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ
জেনে রাখুন যে, তিনটি পদ যখন একটির সাথে অন্যটি বিন্যস্ত করা হয়, তখন তা থেকে (১) ছয়টি বিন্যাস তৈরি হয়। তার মধ্যে দুটি নিয়মিতভাবে পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে, একটি বিশেষ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ থেকে অর্থ প্রকাশ করে এবং বাকি তিনটি বর্জনীয়, কারণ সেগুলো কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।
প্রথম দুই প্রকার হলো: বিশেষ্যের সাথে বিশেষ্য, যেমন আপনার উক্তি: "জায়েদ প্রস্থানকারী" এবং "আল্লাহ আমাদের ইলাহ"; এবং ক্রিয়ার সাথে বিশেষ্য, যেমন আপনার উক্তি: "জায়েদ দাঁড়ালো" এবং "বিশর প্রস্থান করলো"। তৃতীয়টি হলো বিশেষ প্রকার, যা বিশেষ্যের সাথে অব্যয়, বিশেষ করে সম্বোধনের ক্ষেত্রে, যেমন আপনার উক্তি: "হে জায়েদ"। আর বর্জনীয় তিনটি বিন্যাস হলো: ক্রিয়ার সাথে ক্রিয়া, অব্যয়ের সাথে ক্রিয়া এবং অব্যয়ের সাথে অব্যয়।
যখন আমাদের বর্ণিত বিন্যাসের মাধ্যমে পূর্ণ অর্থ অর্জিত হয়, তখন সেই সুসংবদ্ধ রূপকে 'কালাম' বলা হয়। ব্যাকরণবিদদের নিকট অর্থবোধক বাক্যের নামই হলো 'কালাম'। তাদের এই মতের স্বপক্ষে সিবওয়াইহ (২)-এর এই উক্তিটি আপনাকে পথ দেখাবে: "আর জেনে রাখুন যে, 'কুলতু' (আমি বলেছি) শব্দটি কেবল আরবদের কালামেই ব্যবহৃত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
على أن يحكى بها، وإنما يحكى بها بعد القول ما كان كلاماً لا قولاً نحو: قلت: زيد منطلق" (1).
يريد بالكلام الجملة التامة قد عمل بعضها في بعض، تقع بعد قلت محكية للفظ، فيكون موضعها نصباً بقلت كقولك: قلت: زيد قائم وقلت: انطلق زيد، وقلت: هل زيد منطلق، وقلت: قم يا زيد: .
كل هذه جمل محكية بعد "قلت" مستقلة بأنفسها في الفائدة، وهي التي تسمى كلاماً.
واشتقاق الكلام من الكلم وهو الجرح، لأن له تأثيراً في نفس السامع وفي سمعه أيضاً، ولهذا قال الشاعر:
( .............
… وجرح اللسان كجرح اليد (2))
قال الآخر:
( ..................
… والقول ينفذ ما لا تنفذ الإبر (3))
وقال الآخر:
(فإن القوافي يتلجن موالجاً
… تضايق عنها أن تولجها الإبر (4))
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে উদ্ধৃত করা হয়, তবে 'কওল' (বলার) পরে শুধুমাত্র যা 'কালাম' (বাক্য) হিসেবে গণ্য তাই উদ্ধৃত হয়, কেবল শব্দ নয়; যেমন: আমি বললাম: "জায়েদ প্রস্থানকারী" (১)।
'কালাম' (বাক্য) দ্বারা তিনি এমন পূর্ণাঙ্গ বাক্য বুঝিয়েছেন যার এক অংশ অপর অংশের ওপর ব্যাকরণগত প্রভাব বিস্তার করে, যা 'ক্বলতু' (আমি বলেছি) এর পরে উচ্চারিত শব্দের বর্ণনা হিসেবে আসে। ফলে এটি 'ক্বলতু' এর কারণে নসব (নাসব) এর স্থানে থাকে। যেমন আপনার উক্তি: আমি বললাম: "জায়েদ দণ্ডায়মান", আমি বললাম: "জায়েদ চলে গেল", আমি বললাম: "জায়েদ কি প্রস্থানকারী?", এবং আমি বললাম: "হে জায়েদ, ওঠো"।
এই সবকটিই 'ক্বলতু' এর পর উদ্ধৃত বাক্য যা অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ; আর এগুলোকেই 'কালাম' (বাক্য) বলা হয়।
'কালাম' শব্দটির ব্যুৎপত্তি ঘটেছে 'কালম' থেকে, যার অর্থ হলো ক্ষত (الجرح); কারণ শ্রোতার মনে এবং তার শ্রবণে এর একটি প্রভাব রয়েছে। এ কারণেই কবি বলেছেন:
( .............
… আর জিহ্বার ক্ষত (الجرح) হাতের ক্ষতের মতোই (২))
অন্য একজন বলেছেন:
( ..................
… আর কথা সেখানে প্রবেশ করে যেখানে সুঁইও প্রবেশ করতে পারে না (৩))
আরেকজন কবি বলেছেন:
(নিশ্চয়ই পদ্যসমূহ এমন সব পথে প্রবেশ করে, যেখানে সুঁই প্রবেশ করতেও সংকীর্ণতা বোধ করে (৪))
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وفسر المفسرون قوله عز وجل {أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِنَ الأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ} (1) [النمل: 82] من الكلام ومن الجراح، وقرأ بعض القراء: تكلمهم، بالتخفيف وفتح التاء. وحدث الكلام أنه جملة (2) مؤلفة من الحروف المسموعة المتمايزة المفيدة فائدة تامة يحسن السكوت عليها، وهو في قول المحققين اسم موضوع موضع المصدر، وليس بمصدر، لأنه لا يخلو من أن يكون مصدراً لكلم أو تكلم، ومصدر كلم التكليم، قال الله عز وجل {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} (3) [النساء: 164]، ومصدر تكلم التكلم بدليل قول القائل:
( .............
… ونشتم بالأفعال لا بالتكلم (4))
وأنت تقول: كلمته كلاماً حسناً، وتكلمت كلاماً جيداً، وليس الكلام
--------------------------------------------
মুফাসসিরগণ (المفسرون) মহান আল্লাহর বাণী {আমি তাদের জন্য ভূমি থেকে একটি প্রাণী বের করব যা তাদের সাথে কথা বলবে} (১) [আন-নামল: ৮২]-এর ব্যাখ্যায় একে কথা বলা এবং আহত করা—উভয় অর্থেই গ্রহণ করেছেন। জনৈক কিরাত বিশেষজ্ঞ (القراء) 'তুকাল্লিমুহুম' শব্দটিকে হালকাভাবে এবং 'তা' বর্ণে জবর দিয়ে 'তাকলিমুহুম' পড়েছেন। কথা বা বক্তব্যের (الكلام) সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, এটি এমন একটি বাক্য (جملة) (২) যা শ্রবণযোগ্য এবং স্বতন্ত্র বর্ণমালার সমন্বয়ে গঠিত, যা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে যার ওপর নীরব থাকা সঠিক। গবেষকদের (المحققين) মতে, এটি মূলধাতুর (المصدر) স্থলাভিষিক্ত একটি বিশেষ্য, এটি মূলধাতু (المصدر) নয়; কারণ এটি হয় 'কাল্লামা' অথবা 'তাকাল্লামা'-এর মূলধাতু হওয়া থেকে মুক্ত নয়। অথচ 'কাল্লামা'-এর মূলধাতু হলো 'তাকলিম' (التكليم); মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং আল্লাহ মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} (৩) [আন-নিসা: ১৬৪]। আর 'তাকাল্লামা'-এর মূলধাতু হলো 'তাকাস্লুম' (التكلم), যার প্রমাণ হলো কবির এই উক্তি:
( .............
… এবং আমরা কর্মের দ্বারা নিন্দা করি, কথা বলার (التكلم) দ্বারা নয় (৪))
আর আপনি বলে থাকেন: আমি তার সাথে সুন্দর কথা বলেছি, এবং আমি চমৎকার কথা বলেছি। এখানে কথা (الكلام) শব্দটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুরতাজাল ফী শারহিল জুমাল লি-ইবনিল খাশশাব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بأحد المصدرين المتقدمين الجاريين على الفعلين (1)، فهو لذلك واقع موقعهما، وهو بمنزلة السلام من التسليم، إذا قلت: سلمت سلاماً، فسلام اسم واقع موقع التسليم، والفرق بينه وبين الكلم أن الكلم جنس لكلمة يعمها (2)، فكلمة وكلم كثيفة ونبق ولبنة ولبن.
والكلام (3) أقل ما يكون ثلاثة أجزاء، ويكون مفيداً وغير مفيد والكلام لا يشترط فيه عدة الأجزاء، ولكن تشترط فيه الإفادة فقط. والقول أعم منهما، فإذا قلت: زيد منطلق، سميت هذا اللفظ كلاماً لأنه مفيد وقولاً لأنه ينطلق (4) على المفيد وغير المفيد ولم تسمه كلماً، لأن أقل ما ينطلق عليه الكلم كما تقدمنا ما كان ثلاثة أجزاء.
وقولك: زيد منطلق جزءان، إلا في قول من يطلق على الاثنين اسم الجمع، وليس ذلك بالمأخوذ به في التحقيق (5).
--------------------------------------------
পূর্বোক্ত দুটি ক্রিয়ামূলের (مصدر) মধ্যে যেকোনো একটির মাধ্যমে (১), তাই এটি সেই দুটির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এটি ‘তাসলিম’ থেকে ‘সালাম’-এর মর্যাদাসম্পন্ন; যেমন আপনি যখন বলেন: ‘সাল্লামতু সালামান’, তখন ‘সালাম’ শব্দটি ‘তাসলিম’-এর স্থলাভিষিক্ত একটি বিশেষ্য। আর এটি ও ‘কালিম’-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, ‘কালিম’ হলো ‘কালিমা’-এর এমন একটি জাতিবাচক বিশেষ্য যা তাকে অন্তর্ভুক্ত করে (২), যেমন: ‘কালিমা’ ও ‘কালিম’ হলো ‘কাছিফাহ’ ও ‘কাছিফ’, ‘নাবিকাহ’ ও ‘নাবিক’ এবং ‘লাবিনাহ’ ও ‘লাবিন’-এর মতো।
আর কালাম (৩) ন্যূনতম তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত হয় এবং তা অর্থবোধক বা নিরর্থক উভয়ই হতে পারে। তবে কালাম-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক অংশ থাকা শর্ত নয়, বরং শুধুমাত্র অর্থবোধক হওয়া শর্ত। আর ‘কাউল’ এই উভয়টির চেয়েও ব্যাপক। সুতরাং আপনি যখন বলেন: ‘জায়দুন মুনতালিকুন’, তখন এই শব্দগুচ্ছকে ‘কালাম’ বলা হয় কারণ এটি অর্থবোধক, এবং একে ‘কাউল’ বলা হয় কারণ এটি (৪) অর্থবোধক ও নিরর্থক উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু একে ‘কালিম’ বলা যাবে না, কারণ যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, ‘কালিম’ শব্দটির প্রয়োগ হওয়ার জন্য ন্যূনতম তিনটি অংশ থাকা আবশ্যক।
আর আপনার কথা: ‘জায়দুন মুনতালিকুন’ হলো দুটি অংশ বিশিষ্ট; তবে তাদের মত ভিন্ন যারা দ্বিবচনের ওপর বহুবচনের নাম প্রয়োগ করেন। কিন্তু সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের (تحقيق) বিচারে এটি গ্রহণযোগ্য মত নয় (৫)।
--------------------------------------------