(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: -)
أشراط الساعة - الوابل   (يوسف الوابل)

القسم: العقيدة


الكتاب: أشراط الساعة

المؤلف: يوسف بن عبد الله بن يوسف الوابل

أصل الكتاب: رسالة علمية، مُنح المؤلف بها درجة (الماجستير) بتقدير ممتاز, في شهر محرَّم لعام 1404 هـ من جامعة أم القرى, كلية الشريعة, فرع العقيدة.

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثالثة، 1411 هـ - 1991 م

عدد الصفحات: 483

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1442

কেয়ামতের আলামতসমূহ - আল-ওয়াবিল   (ইউসুফ আল-ওয়াবিল)

বিভাগ: আকীদা


কিতাব: কেয়ামতের আলামতসমূহ

লেখক: ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-ওয়াবিল

মূল কিতাব: একটি বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ, যার মাধ্যমে লেখককে ১৪০৪ হিজরী সালের মুহাররাম মাসে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়াহ অনুষদ, আকীদা শাখা থেকে মুমতাজ (চমৎকার) গ্রেডসহ মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়.

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১১ হিজরী - ১৯৯১ ঈসায়ী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৩

[বইটির সংখ্যাবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১)
رسائِل جَامعيَّة (1)

 

أشرَاطُ السَّاعَةِ

 

تَأليف

يُوسف بن عَبْد اللّه بن يُوسف الوَابل

 

دار ابن الجوزي
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাপত্র (১)

 

কিয়ামতের আলামতসমূহ

 

রচনায়

ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-ওয়াবিল

 

দার ইবনুল জাওজি
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الله تعالى:

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ (1) يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ} [الحج: 1 - 2].

 

وقالَ تَعالى:

{فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا فَأَنَّى لَهُمْ إِذَا جَاءَتْهُمْ ذِكْرَاهُمْ} [محمد: 18].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

মহান আল্লাহ বলেন:

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো; নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন এক অতি ভয়াবহ বিষয়। (১) যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে; আর তুমি মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ, অথচ তারা মাতাল নয়; বরং আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠোর। [হাজ্জ: ১-২]।

 

এবং মহান আল্লাহ বলেন:

তবে কি তারা কেবল কিয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে, তা তাদের নিকট হঠাৎ এসে পড়ুক? অথচ কিয়ামতের আলামতসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কিয়ামত যখন তাদের নিকট এসে পড়বে, তখন তারা উপদেশ গ্রহণ করার সুযোগ কোথায় পাবে? [মুহাম্মদ: ১৮]।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ৩)
أَشرَاطُ السَّاعَةِ
কিয়ামতের আলামতসমূহ
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ৪)
جَميع الحقُوق مَحفوظَة

 

الطبعة الأولى: 1409 هـ - 1989 م

الطبعة الثانية: 1411 هـ - 1990 م

الطبعة الثالثة: 1411 هـ - 1991 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

 

প্রথম সংস্করণ: ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

তৃতীয় সংস্করণ: ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ৫)
هذا الكتاب

 

رسالة علمية تقدَّم بها المؤلف لنيل درجة التخصُّص الأولى (الماجستير) من جامعة أم القرى ، كلية الشريعة ، فرع العقيدة.

وقد مُنح المؤلف عليها درجة (الماجستير) بتقدير ممتاز ، وذلك في شهر محرَّم سنة (1404 هـ).
এই গ্রন্থটি

 

এটি একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ যা লেখক উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের আকীদা বিভাগ হতে প্রথম বিশেষায়িত ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জনের জন্য পেশ করেছেন।

লেখককে এর ওপর ১৪০৪ হিজরী সনের মুহাররম মাসে চমৎকার (মুমতাজ) মানসহ (মাস্টার্স) ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

إن الحمد الله؛ نحمده، ونستعينُه، ونستغفره، ونعوذ بالله مِن شُرور أنفسنا، ومِن سيِّئات أعمالِنا، مَن يهدِه الله؛ فلا مضلَّ له، ومَن يُضْلِل؛ فلا هاديَ له.

وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحدَه لا شريكَ له، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}(1)

--------------------------------------------

(1) هذه خطبة الحاجة التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمها أصحابه. =
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে দাবি করে থাকো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী। (১)} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}(১)

--------------------------------------------

(১) এটি হলো খুতবাতুল হাজাহ (প্রয়োজনের খুতবা), যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন। =
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ৮)
[الأحزاب: 70 - 71].

أمّا بعد:

فإن الله تعالى أرسل محمَّدًا صلى الله عليه وسلم بالحق بشيرًا ونذيرًا بين يدي السّاعة، فلم يترك خيرًا؛ إِلَّا دلَّ أمَّتَه عليه، ولا شرًّا؛ إِلَّا حذَّرها منه.

ولمَّا كانت هذه الأمة هي آخر الأمم، ومحمَّدٌ صلى الله عليه وسلم هو خاتَم الأنبياء؛ خَصَّ الله تعالى أمَّته بظهور أشراط السّاعة فيها، وبيَّنَها لهم على لسان نبيِّه صلى الله عليه وسلم أكمل بيان وأتمَّه، وأخبر أن علامات السّاعة ستخرج فيهم لا محالة، فليس بعد محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نبيٌّ آخر يبيِّنُ للناس هذه العلّامات، وما سيكون في آخر الزّمان من أُمور عظامٍ مؤذِنَةٍ بخراب هذا العالم، وبداية حياة جديدة؛ يُجازى فيها كلٌّ بحسب ما قدَّمت يداه، {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ.

--------------------------------------------

= انظر: "خطبة الحاجة" للشيخ محمّد ناصر الدين الألباني، طبع المكتب الإسلامي.

وهي في "سنن ابن ماجه"، كتاب النِّكاح، باب خطبة النِّكاح، من رواية عبدالله بن مسعود رضي الله عنه، (1/ 609 - 610)، تحقيق محمّد فؤاد عبدالباقي،، ط. دار إحياء التراث العربي، عام (1395 هـ).

ورواه الإمام أحمد (5/ 272) (ح 3721)، تحقيق أحمد شاكر وقال: "إسناده من طريق أبي عبيدة ضعيف لانقطاعه، ومن طريق أبي الأحوص عوف بن مالك بن نضلة صحيح لاتصاله". "المسند"، طبع دار المعارف بمصر، (1367 هـ).

وقال الألباني على الطريق الثّاني: "صحيح على شرط مسلم". "خطبة الحاجة" (ص 14).

وقد ورد ذكر طرف من هذه الخطبة في "صحيح مسلم"، كتاب الجمعة، باب خطبته صلى الله عليه وسلم في الجمعة، (6/ 157 - مع شرح النووي)، طبعة دار الفكر، ط. ثالثة، (1389 هـ).
[আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিয়ামতের প্রাক্কালে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। ফলে তিনি এমন কোনো কল্যাণ বাকি রাখেননি যার দিকে তাঁর উম্মতকে দিকনির্দেশনা দেননি, আর এমন কোনো অকল্যাণ বাকি রাখেননি যা থেকে তাদের সতর্ক করেননি।

যেহেতু এই উম্মত হলো সর্বশেষ উম্মত এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন সর্বশেষ নবী; তাই মহান আল্লাহ এই উম্মতকেই কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশের মাধ্যমে বিশিষ্টতা দান করেছেন এবং তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবানে তাদের নিকট তা পূর্ণাঙ্গ ও সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের আলামতসমূহ অবশ্যই তাদের মধ্যে প্রকাশিত হবে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর আর কোনো নবী নেই যিনি মানুষের জন্য এই আলামতসমূহ এবং শেষ যামানায় সংঘটিতব্য এমন সব বড় বড় বিষয় বর্ণনা করবেন যা এই পৃথিবী ধ্বংসের ও এক নতুন জীবনের সূচনার সংকেত দেবে; যেখানে প্রত্যেককে তার নিজ হাতের কৃতকর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে। {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখতে পাবে।

--------------------------------------------

= দ্রষ্টব্য: শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী রহ.-এর ‘খুতবাতুল হাজাহ’, আল-মাকতাবুল ইসলামী কর্তৃক মুদ্রিত।

এটি ‘সুনানে ইবনে মাজাহ’-তে রয়েছে, বিবাহ অধ্যায়, বিবাহে খুতবা অনুচ্ছেদ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা হতে, (১/ ৬০৯-৬১০), মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী কর্তৃক তাহকীককৃত, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবী প্রকাশনী, (১৩৯৫ হি.)।

ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (৫/ ২৭২, হাদীস নং ৩৭২১), আহমাদ শাকের এটি তাহকীক করেছেন এবং বলেছেন: “আবু উবাইদাহ-এর সূত্রটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে দুর্বল, আর আবুল আহওয়াস আওফ বিন মালিক বিন নাদলাহ-এর সূত্রটি নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সহীহ।” ‘আল-মুসনাদ’, দারুল মা’আরিফ মিশর কর্তৃক মুদ্রিত (১৩৬৭ হি.)।

আলবানী দ্বিতীয় সূত্রের ব্যাপারে বলেছেন: “মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহীহ।” ‘খুতবাতুল হাজাহ’ (পৃষ্ঠা ১৪)।

এই খুতবার কিছু অংশ ‘সহীহ মুসলিম’-এ বর্ণিত হয়েছে, জুমুআ অধ্যায়, জুমুআর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুতবা অনুচ্ছেদ, (৬/ ১৫৭ - ইমাম আন-নাবাবীর ব্যাখ্যাসহ), দারুল ফিকর প্রকাশনী, ৩য় সংস্করণ (১৩৮৯ হি.)।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ৯)
وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ (8)} [الزلزلة: 7 - 8].

ولمَّا كان من العقائد الّتي يجب الإِيمان بها: الإِيمان باليوم الآخر وما فيه من ثواب وعقاب، ولما كان نظر الإِنسان قد لا يعدو هذه الحياة وما فيها من مَتاعٍ، فينسى اليوم الآخر، ولا يعمل له؛ جَعَلَ اللهُ بين يدي السّاعة أماراتٍ تدلُّ على تحقُّقها، وأنّها ستقع حتمًا، حتّى لا يخامر النَّاس أدنى شك فيها، ولا يفتنهم شيءٌ عنها.

فمن المعلوم أن الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم إذا ذكر من أشراطها شيئًا، ورأى النَّاس وقوعَ ذلك الشيء؛ علموا يقينًا أن السّاعة آتيةٌ لا ريب فيها، فيعملوا لها، ويستعدُّوا لذلك اليوم، ويتزوَّدوا بالصَّالحات قبل فوات الأوان وانقضاء الأجل المحدود: {أَنْ تَقُولَ نَفْسٌ يَاحَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ وَإِنْ كُنْتُ لَمِنَ السَّاخِرِينَ (56) أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ (57) أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى الْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِي كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ} [الزمر:56 - 58].

وكان النّبيّ صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته: "بُعِثْتُ أنا والساعة كهاتين".

وكان إذا ذَكَر السّاعة؛ احمرَّتْ وجنتاهُ، وعلا صوتُه، واشتدَّ غضبه؛ كأنّه نذير جيش يقول: صبَّحكم مسَّاكم(1).

--------------------------------------------

(1) "صحيح مسلم"، كتاب الجمعة، باب خطبته صلى الله عليه وسلم في الجمعة، (6/ 153 - مع شرح النووي)، و"سنن النسائي" - واللفظ له-، كتاب صلاة العيدين، باب كيف الخطبة، (3/ 188 - 189 - مع شرح السيوطيّ وحاشية السندي)، تصحيح حسن المسعودي، طبع دار إحاء التراث العربي، الشركة العامة، بيروت، و "سنن ابن ماجه"، المقدِّمة، باب اجتناب البدع والجدل، (1/ 17)، تحقيق محمّد فؤاد عبدالباقي.
এবং যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে (৮)। [যিলযাল: ৭ - ৮]।

যেহেতু বিশ্বাস করা আবশ্যক এমন আকিদাহসমূহের অন্যতম হলো: পরকাল এবং তাতে বিদ্যমান সওয়াব ও শাস্তির প্রতি ঈমান রাখা; আর যেহেতু মানুষের দৃষ্টি অনেক সময় এই পার্থিব জীবন এবং এর ভোগবিলাসের গণ্ডি অতিক্রম করতে পারে না, ফলে সে পরকালকে ভুলে যায় এবং এর জন্য আমল করে না; তাই আল্লাহ কিয়ামতের পূর্বে এমন কিছু নিদর্শন নির্ধারণ করেছেন যা তার সত্যতাকে প্রমাণ করে এবং এটি যে অবশ্যই সংঘটিত হবে তা নিশ্চিত করে, যাতে মানুষের মনে এ নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ না থাকে এবং কোনো কিছুই যেন তাদেরকে এ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।

এটি সুবিদিত যে, সত্যবাদী ও সত্যয়নকৃত (সাদিকুল মাসদুক) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কিয়ামতের আলামতসমূহের কোনো কিছু উল্লেখ করেন এবং মানুষ সেটির বাস্তব প্রতিফলন দেখে, তখন তারা নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে কিয়ামত অবশ্যই আসবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফলে তারা তার জন্য আমল করে, সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি নেয় এবং সময় ফুরিয়ে যাওয়ার ও নির্ধারিত আয়ু শেষ হওয়ার পূর্বেই নেক আমলের পাথেয় সংগ্রহ করে: {যাতে কোনো ব্যক্তি বলতে না পারে, ‘হায় আফসোস! আল্লাহর প্রতি আমার যে কর্তব্য ছিল তাতে আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য, আর আমি তো উপহাসকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম’ (৫৬) অথবা বলতে না পারে, ‘যদি আল্লাহ আমাকে পথ প্রদর্শন করতেন, তবে আমি অবশ্যই মুত্তাকিদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’ (৫৭) অথবা শাস্তি প্রত্যক্ষ করার সময় বলতে না পারে, ‘যদি আমি আরেকবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেতাম, তবে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’} [যুমার: ৫৬ - ৫৮]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলতেন: "আমি এবং কিয়ামত এই দুইটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি।"

তিনি যখন কিয়ামতের কথা আলোচনা করতেন, তখন তাঁর দুই গাল লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উঁচু হতো এবং ক্রোধ তীব্র হতো; যেন তিনি এমন এক সেনাদলের সতর্ককারী যিনি বলছেন: শত্রু তোমাদের ওপর সকালে কিংবা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে।(১)

--------------------------------------------

(১) "সহিহ মুসলিম", জুমুআ অধ্যায়, জুমুআর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবা অনুচ্ছেদ, (৬/ ১৫৩ - নববীর ব্যাখ্যাসহ), এবং "সুনানে নাসাঈ" - শব্দবিন্যাস তাঁর -, দুই ঈদের সালাত অধ্যায়, খুতবা প্রদানের নিয়ম অনুচ্ছেদ, (৩/ ১৮৮ - ১৮৯ - সুয়ূতির ব্যাখ্যা ও সিন্ধির টীকাসহ), হাসান আল-মাসউদী কর্তৃক সম্পাদিত, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি মুদ্রণ, আশ-শারিকাতুল আম্মাহ, বৈরুত, এবং "সুনানে ইবনে মাজাহ", মুকাদ্দিমা, বিদআত ও বিতর্ক পরিহার অনুচ্ছেদ, (১/ ১৭), মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি কর্তৃক তাহকীককৃত।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১০)
وفد أشفق الصّحابة رضي الله عنهم من قيام السّاعة عليهم، وظهر ذلك جليًّا عندما وصف لهم النّبيّ صلى الله عليه وسلم الدَّجًالَ، كما جاء في حديث النواس بن سمعان رضي الله عنه، قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدَّجَّال ذات غداة، فخفض فيه ورفع، حتّى ظنَّناه في طائفة النخل، فلما رحنا إليه؛ عرف ذلك فينا، فقال: "ما شأنُكُم؟ ". قلنا: يا رسول الله! ذكرتَ الدَّجَّالَ غداة، فخفضتَ فيه ورفعتَ حتّى ظننَّاه في طائفة النخل. فقال: "غيرَ الدَّجال أخوفني عليكُم، إن يخرجْ وأنا فيكم؛ فأنا حجيجه دونَكم، وإن يخرجْ ولستُ فيكم؛ فامرؤ حَجيجُ نفسه، والله خليفتي على كلّ مسلم"(1).

وقد ظهر كثيرٌ من أشراط السّاعة، وتحقَّق ما أخبر به المصطفى صلى الله عليه وسلم، فكل يوم يزداد فيه المؤمنون إيمانًا به، وتصديقًا له، إذ يظهر مِن دلائل نبوَّته وآيات صدقِه ما يوجب على المسلمين التمسُّك بهذا الدين الحنيف.

وكيف لا يزدادون إيمانًا وهم يرونَ هذه المغيَّبات الّتي أخبر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم تقع كما أخبر؟! فإن كلّ واحدة من هذه الأشراط الّتي تحدث لَمعجزة بيَّنةٌ لنبي هذه الأمة صلى الله عليه وسلم. فالويل ثمّ الويل لأولئك الجاحدين لرسالته، الصادِّين عنها، أو المتشكَّكين فيها.

 

وتأتي‌‌ أهمِّيَّةُ هذا البحث في هذا الوقت الّذي أخذ فيه بعض الكتاب المُعاصِرينَ يشكِّك في ظهور ما أخبر ب صلى الله عليه وسلم من المغيَّبات الّتي يجب الإِيمان بها، ومنها أشراط السّاعة، فمنهم مَنْ أنكر بعضها، ومنهم من أوَّلها بتأويلات باطلة!

--------------------------------------------

(1) "صحيح مسلم"، كتاب الفتن وأشراط السّاعة، باب ذكر الدجال، (18/ 63 - 65 - مع شرح النووي).
সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কিয়ামত তাঁদের ওপর সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত ভীত ছিলেন এবং যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের সামনে দাজ্জালের বর্ণনা দেন, তখন তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। যেমনটি নাওয়াস ইবনে সামআন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন সকালে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করলেন; তিনি তার বর্ণনায় কণ্ঠস্বর নিচু ও উঁচু করলেন (কখনো তাকে তুচ্ছ দেখালেন আবার কখনো তার ফিতনাকে ভয়াবহ করে বর্ণনা করলেন), এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে সে হয়তো নিকটস্থ খেজুর বাগানেই অবস্থান করছে। অতঃপর যখন আমরা তাঁর কাছে গেলাম, তিনি আমাদের চেহারায় সেই আশঙ্কার ছাপ লক্ষ্য করলেন এবং বললেন: "তোমাদের কী হয়েছে?" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সকালে দাজ্জালের কথা আলোচনা করেছেন এবং তার বর্ণনায় কখনো কণ্ঠ নিচু করেছেন আবার কখনো উঁচু করেছেন, ফলে আমরা ধারণা করেছি যে সে হয়তো খেজুর বাগানের মধ্যেই আছে। তখন তিনি বললেন: "দাজ্জাল ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে আমি তোমাদের ব্যাপারে অধিক আশঙ্কাবোধ করছি। যদি আমি তোমাদের মাঝে থাকাকালীন সে আত্মপ্রকাশ করে, তবে তোমাদের পরিবর্তে আমিই তার মোকাবিলা করব। আর যদি সে এমন সময় বের হয় যখন আমি তোমাদের মাঝে থাকব না, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের পক্ষ থেকে তার মোকাবিলা করবে, আর আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আমার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অভিভাবক হবেন"(1).

ইতিমধ্যেই কিয়ামতের অনেক নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে এবং মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে মুমিনদের ঈমান ও তাঁর প্রতি বিশ্বাস প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে; কারণ তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণাদি ও সত্যতার নিদর্শনসমূহ যা প্রকাশিত হচ্ছে, তা মুসলিমদের জন্য এই সত্য দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য করে দেয়।

তাঁদের ঈমান কেনই বা বৃদ্ধি পাবে না যখন তাঁরা সেই অদৃশ্যের বিষয়গুলো বাস্তবে ঘটতে দেখছেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছিলেন?! প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত হওয়া এই নিদর্শনগুলোর প্রতিটিই এই উম্মতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এক একটি সুস্পষ্ট মুজিযা। সুতরাং সেই সকল অস্বীকারকারীদের জন্য ধ্বংসের পর ধ্বংস যারা তাঁর রিসালাতকে অস্বীকার করে, তা থেকে মানুষকে বিমুখ করে অথবা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে।

 

বর্তমানে এই গবেষণার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ বর্তমান যুগের কিছু লেখক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক প্রদানকৃত অদৃশ্যের সংবাদসমূহ—যাতে ঈমান আনা ওয়াজিব—সেগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। কিয়ামতের আলামতসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত; তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর কিছু অংশ অস্বীকার করেছে, আবার কেউ কেউ এগুলোকে বাতিল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিকৃত করে ফেলেছে!

--------------------------------------------

(1) "সহীহ মুসলিম", কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতুস সাআহ (ফিতনা ও কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়), দাজ্জালের আলোচনা পরিচ্ছেদ, (১৮/ ৬৩ - ৬৫ - ইমাম নববীর শরহসহ)।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১১)
لهذا وذاك أحببتُ أن أجمع بحثًا مشتملًا على أشراط السّاعة الصغرى والكبرى، بأدلَّتها الثابتة من القرآن الكريم والسُّنَّة المطهَّرة، ولم يكن البحث في هذا الموضوع سهلًا؛ فإنّه يحتاج إلى بحث عن صحة الأحاديث، والجمع بين الروايات المختلفة.

وقد ألَّف بعض العلماء مؤلَّفات في أشراط السّاعة، ولكنَّهم لم يلتزموا فيها الاقتصار على ما ثبتَ من الأحاديث، بل تجدهم يسردون كثيرًا من الروايات؛ دون تعرًّض لدرجة الحديث من حيث الصِّحَّة والضعف؛ إِلَّا في النادر، وهذا يجعل المطالع لها يختلط عليه الأمر، فلا يميِّز بين الصّحيح من غيره، وكذلك لم يتعرَّضوا لشرح ما جاء في هذه الأحاديث ممّا يحتاج إلى بيان، ولكنهم رحمهم الله جمعوا لنا كثيرًا من الأحاديث، ووفَّروا علينا كثيرًا من الجهد.

ومن هذه الكتب:

1 - "الفتن": للحافظ نُعيم بن حمَّادَ الخُزاعي، المتوفى سنة (228 هـ) رحمه الله.

2 - "النهاية" أو "الفتن والملاحم": للحافظ ابن كثير، المتوفَّى سنة (774 هـ) رحمه الله.

3 - "الإِشاعة لأشراط السّاعة": للشريف محمّد بن رسول الحسيني البرزنجي، المتوفى سنة (1103هـ) رحمه الله.

4 - "الإِذاعة لما كان وما يكون بين يدي السّاعة": للشيخ محمّد صديق حسن القنوجي، المتوفى سنة (1307 هـ) رحمه الله.
এসব কারণেই আমি কিয়ামতের ছোট ও বড় নিদর্শনাবলী সংবলিত একটি গবেষণা সংকলন করতে চেয়েছি, যা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এই বিষয়ে গবেষণা করা সহজ ছিল না; কারণ এতে হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাই এবং বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজন ছিল।

কিছু আলেম কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা কেবল প্রমাণিত হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি। বরং আপনি দেখবেন যে, তাঁরা অনেক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন; খুব কম ক্ষেত্রেই হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা তথা মান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এর ফলে পাঠকের নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়ে এবং সে সহিহ ও জয়িফের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। একইভাবে তাঁরা এই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যাও প্রদান করেননি যার বিশ্লেষণ প্রয়োজন ছিল। তবে আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন, তাঁরা আমাদের জন্য অনেক হাদিস সংগ্রহ করেছেন এবং আমাদের অনেক পরিশ্রম কমিয়ে দিয়েছেন।

এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - "আল-ফিতান": হাফেজ নুয়াইম বিন হাম্মাদ আল-খুজায়ি (মৃত্যু ২২৮ হি.), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

২ - "আন-নিহায়া" অথবা "আল-ফিতান ওয়াল মালাহিম": হাফেজ ইবনে কাসির (মৃত্যু ৭৭৪ হি.), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

৩ - "আল-ইশাআ লি আশরাতিস সাআহ": শরিফ মুহাম্মদ বিন রাসূল আল-হুসাইনি আল-বারজানজি (মৃত্যু ১১০৩ হি.), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

৪ - "আল-ইযাআ লিমা কানা ওয়ামা ইয়াকুনু বাইনা ইয়াদায়িস সাআহ": শেখ মুহাম্মদ সিদ্দিক হাসান কান্নৌজি (মৃত্যু ১৩০৭ হি.), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১২)
5 - "إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط السّاعة": للشيخ حمود بن عبدالله التويجري النَّجدي، ولا يزال الشّيخ موجودًا حفظه الله.

… إلى غير ذلك من المؤلِّفات الّتي تناولت الحديث عن أشراط السّاعة

وقد استفدتُ ممَّن سبقني، ورأيت أن أسلك في هذا البحث مسلكًا ألزمتُ به نفسي، وهو أنني لا أذكر فيه شرطًا، إِلَّا ما نصَّ عليه النّبيّ صلى الله عليه وسلم أنّه من أشراط السّاعة- صريحًا أو دِلالةً-، والتزمتُ كذلك أن لا أذكر فيه إِلَّا ما كان صحيحًا أو حسنًا من الأحاديث، مسترشدًا في ذلك بأقوال علماء الحديث في تصحيح الحديث أو تضعيفه.

وإيثارًا للاختصار؛ فإنني لم أذكر جميع الأحاديث الصحيحة في كلّ شرط، بل اكتفيتُ ببعض الأحاديث الّتي تثبِتُ أن هذه العلّامة من أشراط السّاعة.

وذكرتُ أيضًا ما يحتاجُ إليه كلّ شرطٍ، مِن بيان لمعنى لفظ غريب، أو بيان للأماكن الّتي ورد ذكرها في الأحاديث، وكذلك أعقبتُ كلّ علاْمة بشرح موجز مقتبس من كلام العلماء، أو ممَّا جاء من الأحاديث الّتي لها علاقة بالعلّامة المشروحة، وتعرَّضتُ للرَّدِّ على بعض من أنكر شيئًا من أشراط السّاعة، أو تأوَّلها بغير ما تدلُّ عليه أحاديثُها، وبيَّنتُ أن أشراط السّاعة من الأمور الغيبيَّةِ الّتي يجب الإِيمان بها كما جاءت، ولا يجوزُ ردُّها أو جعلها رموزًا للخير أو للشر أو ظهور الخرافات.

ولما كان كثيرٌ مِن أشراط السّاعة ورد في أخبار آحاد، عقدتُ في أول
৫ - "ইতহাফুল জামাআ বিমা জাআ ফিল ফিতানি ওয়াল মালাহিমি ওয়া আশরাতিস সাআহ": এটি শায়খ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী আন-নাজদীর রচনা, এবং শায়খ এখনও জীবিত আছেন, আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন।

… কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এমন আরও অন্যান্য গ্রন্থসমূহ।

আমি আমার পূর্বসূরিদের থেকে উপকৃত হয়েছি এবং এই গবেষণায় একটি বিশেষ পথ অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা আমি নিজের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছি; আর তা হলো, কিয়ামতের আলামত হিসেবে আমি এমন কোনো বিষয় উল্লেখ করব না, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের আলামত হিসেবে—স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে—উল্লেখ করেননি। আমি আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি যে, এই গ্রন্থে শুধুমাত্র সহীহ অথবা হাসান হাদিসগুলোই উল্লেখ করব, আর এক্ষেত্রে হাদিস সহীহ বা জয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে হাদিস বিশারদগণের বক্তব্যের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছি।

সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি প্রতিটি আলামতের স্বপক্ষে সমস্ত সহীহ হাদিস উল্লেখ করিনি, বরং এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যা প্রমাণ করে যে উক্ত নিদর্শনটি কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও আমি প্রতিটি আলামতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, যেমন—দুর্বোধ্য শব্দের অর্থ বর্ণনা করা অথবা হাদিসে উল্লিখিত স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান করা। একইভাবে প্রতিটি আলামতের পর আমি আলেমদের বক্তব্য থেকে সংগৃহীত একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা অথবা আলোচিত আলামতের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য হাদিস উল্লেখ করেছি। যারা কিয়ামতের কোনো আলামতকে অস্বীকার করেছে অথবা সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোর সুস্পষ্ট অর্থের বাইরে অপব্যাখ্যা করেছে, আমি তাদের খণ্ডন করার প্রয়াস পেয়েছি। আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, কিয়ামতের আলামতসমূহ গায়বী বা অদৃশ্যের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ওপর যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই ঈমান আনা ওয়াজিব; এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা অথবা কল্যাণ-অকল্যাণের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা কিংবা কুসংস্কারের বহিঃপ্রকাশ মনে করা জায়েজ নয়।

যেহেতু কিয়ামতের অনেক আলামত 'আহাদ' সংবাদের (খবরে ওয়াহিদ) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, তাই আমি গ্রন্থের শুরুতে একটি অধ্যায় নির্ধারণ করেছি...
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১৩)
البحث فصلًا في بيان حجِّيَّةِ خبر الآحاد، وذلك للرَّدِّ على مَنْ أنكر حجِّيَّةَ الآحاد، وزعم أنّها لا تقوم عليها عقيدة.

وكذلك؛ فإن هذا البحثَ دعوةٌ للإِيمان بالله تعالى وباليوم الآخر، وتصديقٌ لما أخبر به الصادق المصدوق الذي لا ينطق عن الهوى، إن هو إلاوحيٌ يُوحى، صلّى الله عليه واله وصحبه وسلَّم تسليمًا كثيرًا.

وهو أيضًا دعوةٌ للتأهُّب لما بعد الموت؛ فإن السّاعة قد قَرُبَت، وظهر كثيرٌ من أشراطها، وإذا ظهرتِ الأشراط الكبرى، تتابعت كتتابعِ الخَرَزِ في النِّظام إذا انفرط عقده، وإذا طلعتِ الشّمسُ من مغربها؛ قُفِل باب التوبة، وخُتِمَ على الأعمال، فلا ينفع بعدذلك إيمانٌ ولا توبةٌ؛ إِلَّا مَنْ كان قبل ذلك مؤمنًا أو تائبًا: يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا (158)} [الأنعام: 158].

{يَوْمَ يَتَذَكَّرُ الْإِنْسَانُ مَا سَعَى (35) وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِمَنْ يَرَى (36) فَأَمَّا مَنْ طَغَى (37) وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا (38) فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى (39) وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى (40) فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى} [النازعات: 35 - 41].

نسأل الله العظيم، ربَّ العرش العظيم، أن يجعلنا من الآمنين يوم الفزع الأكبر، وممَّن يُظلِّهُمُ في ظلِّه يوم لا ظلَّ إلاظلُّه.

 

*‌‌ خطة البحث:

يشتمل هذا البحث على مقدمة، وتمهيد، وبابين، وخاتمة:

- أمّا المقدِّمة؛ فتشتمل على أهمية هذا الموضوع، وخطته.
এই গবেষণাটি খবর-এ-আহাদের প্রামাণিকতা বর্ণনার জন্য একটি অধ্যায়, আর এটি তাদের খণ্ডনস্বরূপ যারা খবর-এ-আহাদের প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে এর ওপর আকিদা প্রতিষ্ঠিত হয় না।

একইভাবে, এই গবেষণাটি মহান আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমানের আহ্বান এবং সত্যবাদী ও প্রত্যায়িত রাসূল (সা.) যা সংবাদ দিয়েছেন তার সত্যায়ন, যিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, বরং তা তো কেবল প্রত্যাদেশ (ওহী) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

এটি মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতিরও একটি আহ্বান; কারণ কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং এর অনেক আলামত প্রকাশ পেয়েছে। আর যখন বড় আলামতগুলো প্রকাশ পাবে, তখন সেগুলো একটির পর একটি এমনভাবে আসতে থাকবে যেমন মালার সুতা ছিঁড়ে গেলে দানাগুলো একের পর এক ঝরতে থাকে। আর যখন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে, তখন তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে এবং আমলনামার ওপর মোহর মেরে দেওয়া হবে। এরপর আর কোনো ঈমান বা তাওবা উপকারে আসবে না; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে এর পূর্বেই মুমিন ছিল বা তাওবা করেছিল: “যেদিন আপনার রবের কোনো কোনো নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোনো ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না যে আগে ঈমান আনেনি অথবা যে তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি।” [আল-আনআম: ১৫৮]।

“সেদিন মানুষ স্মরণ করবে সে যা করার চেষ্টা করেছিল। আর দর্শকদের জন্য জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে। তবে যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করেছে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, নিশ্চয়ই জাহান্নামই হবে তার ঠিকানা। আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং নিজেকে কুপ্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত রেখেছে, নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।” [আন-নাযিআত: ৩৫-৪১]।

আমরা মহান আরশের রব মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সেই মহা আতঙ্কের দিনে নিরাপদদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাঁদের তিনি তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না।

 

*‌‌ গবেষণার রূপরেখা:

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত:

- আর ভূমিকাটি এই বিষয়ের গুরুত্ব ও এর রূপরেখা নিয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأمّا التمهيد، فيشتمل على عدة مباحث:

المبحث الأوّل: تحدثتُ فيه عن أهمية الإِيمان باليوم الآخر، وأثر ذلك على سلوك الفرد والمجتمع.

المبحث الثّاني: ذكرتُ فيه أن من مظاهر الاهتمام باليوم الآخر - إلى جانب ذكر أشراطه - كثرة ذكره في القرآن بأسماء مننوعة، وذكرتُ طرفًا من هذه الأسماء، مع ذكر الأدلَّة من القرآن الكريم على ذلك.

المبحث الثّالث: تحدثتُ فيه عن حجِّيَّة خبر الواحد في أمور العقيدة وغيرها، وبيَّنْتُ فيه أن الحديث إذا صحَّ، وجب اعتقاد ما جاء فيه.

وتأتي أهمية هذا المبحث أنّه ردٌّ على الذين لا يأخذون بخبر الواحد في أمور العقيدة، وبيَّنتُ أن قولهم كذا يستلزم رد مئات الأحاديث الصحيحة، وأنّه قولٌ مُبْتَدَعٌ في الدين، ليس عليه دليلٌ ولا برهانٌ.

المبحث الرّابع: بينتُ فيه أن النّبيّ صلى الله عليه وسلم أخبر أمته عما كان وما يكون إلى قيام السّاعة، ومن ذلك أشراط السّاعة الّتي نالت من ذلك النصيب الأوفر، ولذلك جاءت أحاديث أشراط السّاعة كثيرة جدًّا، ورُوِيَت بألفاظ مختلفة.

المبحث الخامس: تحدَّثتُ فيه عن علم قيام السّاعة، وبيَّنْتُ فيه أن علمها ممَّا استأثر الله تعالى به، وذكرتُ الأدلَّة في ذلك، ثمّ رددتُ على مَنْ قال بأن النّبيّ صلى الله عليه وسلم يعلم وقتها، وكذلك على مَنْ قال بتحديد عمر الدنيا، وبيَّنْتُ أنَّ هذا القول مصادمٌ للقرآن والسُّنَّة، وذكرتُ طائفة من أقوال العلماء في الرَّدَّ على مثل هذه الأقوال.
আর ভূমিকাটি বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদের ওপর مشتمل:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি পরকালের প্রতি ঈমান আনার গুরুত্ব এবং ব্যক্তি ও সমাজের আচরণের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি উল্লেখ করেছি যে, পরকালের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের একটি দিক হলো—এর নিদর্শনসমূহ বর্ণনার পাশাপাশি—কুরআনে বিভিন্ন নামে এর অধিক আলোচনা। আমি এ সংক্রান্ত কিছু নাম এবং সেগুলোর স্বপক্ষে কুরআনুল কারিমের দলিলসমূহ উল্লেখ করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি আকিদাহ ও অন্যান্য বিষয়ে একক সূত্রে বর্ণিত সংবাদের (খবরে ওয়াহিদ) প্রামাণিকতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, হাদিস যখন সহিহ হবে, তখন তাতে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক।

এই পরিচ্ছেদের গুরুত্ব হলো, এটি তাদের একটি খণ্ডন যারা আকিদার ক্ষেত্রে খবরে ওয়াহিদ গ্রহণ করে না। আমি স্পষ্ট করেছি যে, তাদের এই দাবি শত শত সহিহ হাদিস প্রত্যাখ্যান করাকে আবশ্যক করে তোলে এবং এটি দ্বীনের মধ্যে একটি নব-উদ্ভাবিত মত (বিদআত), যার কোনো ভিত্তি বা দলিল নেই।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে আমি স্পষ্ট করেছি যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে অতীত এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এর মধ্যে কিয়ামতের নিদর্শনাবলি একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। এ কারণেই কিয়ামতের আলামত সংক্রান্ত হাদিসগুলো বিপুল সংখ্যায় বর্ণিত হয়েছে এবং বিভিন্ন শব্দে এসেছে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এতে আমি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, কিয়ামতের সঠিক সময় একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। আমি এ বিষয়ে দলিলসমূহ উপস্থাপন করেছি। এরপর আমি তাদের প্রতিবাদ করেছি যারা দাবি করে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের সময় জানেন, অথবা যারা দুনিয়ার নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে দেয়। আমি বর্ণনা করেছি যে, এই ধরনের কথা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং এ জাতীয় বক্তব্যের খণ্ডনে আলেমদের একগুচ্ছ অভিমত পেশ করেছি।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث السّادس: تحدَّثتُ فيه عن قرب السّاعة، وأنّه لم يبقَ مِن الدنيا إِلَّا القليل بالنسبة إلى ما مضى من عمرها.

- وأمّا الباب الأوّل، فيشتمل على ثلاثة فصول:

الفصل الأوّل: تحدثتُ فيه عن تعريف معنى الشرط في اللُّغة والاصطلاح، وكذلك معنى السّاعة في اللُّغة والاصطلاح الشرعي، وبينتُ فيه أن السّاعة جاءت على ثلاث معان:

1 - السّاعة الصغرى.

2 - السّاعة الوسطى.

3 - السّاعة الكبرى.

الفصل الثّاني: تحدَّثتُ فيه عن أقسام أشراط السّاعة، وأنّها تنقسم إلى قسمين:

1 - أشراط صغرى.

2 - وأشراط كبرى.

وعرَّفتُ كلّ قسمٍ، وذكرتُ أن بعض العلماء قسَّمها من حيث ظهورُها إلى ثلاثة أقسام:

1 - قسم ظهر وانتهى.

2 - قسم ظهر ولا زال يكثر ويتتابع.

3 - قسم لم يظهر إلى الآن.

الفصل الثّالث: تحدَّثتُ فيه عن أشراط السّاعة الصغرى، وهي:

1 - بعثة النّبيّ صلى الله عليه وسلم.
ষষ্ঠ আলোচনা: এতে আমি কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং এ কথা ব্যক্ত করেছি যে, পৃথিবীর অতিক্রান্ত সময়ের তুলনায় এর অবশিষ্ট আয়ু অত্যন্ত অল্প।

- আর প্রথম অধ্যায়টি তিনটি পরিচ্ছেদের সমাহার:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি আভিধানিক ও পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'শর্ত' (আলামত)-এর সংজ্ঞা এবং একইভাবে আভিধানিক ও শারঈ পরিভাষায় 'সা'আত' (কিয়ামত)-এর অর্থ আলোচনা করেছি। আমি এতে স্পষ্ট করেছি যে, 'সা'আত' শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

১ - ছোট কিয়ামত।

২ - মধ্যম কিয়ামত।

৩ - বড় কিয়ামত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি কিয়ামতের আলামতসমূহের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং উল্লেখ করেছি যে, এগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:

১ - ছোট আলামতসমূহ।

২ - বড় আলামতসমূহ।

আমি প্রতিটি প্রকারের সংজ্ঞা প্রদান করেছি এবং উল্লেখ করেছি যে, কোনো কোনো আলেম প্রকাশের সময়কাল বিবেচনা করে এগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:

১ - এমন এক প্রকার যা প্রকাশ পেয়েছে এবং শেষ হয়ে গেছে।

২ - এমন এক প্রকার যা প্রকাশ পেয়েছে এবং তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে ও একের পর এক প্রকাশ পাচ্ছে।

৩ - এমন এক প্রকার যা এখন পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি, আর সেগুলো হলো:

১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভ।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - موته صلى الله عليه وسلم

3 - فتح بيت المقدس.

4 - طاعون عمواس.

5 - استفاضة المال والاستغناء عن الصَّدقة.

6 - ظهور الفتن.

7 - ظهور مدَّعي النبوَّة.

8 - انتشار الأمن.

9 - ظهور نار الحجاز.

10 - قتال الترك.

11 - قتال العجم.

12 - ضياع الأمانة.

13 - قبض العلم وظهور الجهل.

14 - كثرة الشرط وأعوان الظلمة.

15 - انتشار الزِّنا.

16 - انتشار الرِّبَا.

17 - ظهور المعازف واستحلالها.

18 - كثرة شرب الخّمْرِ واستحلالها.

19 - زخرفة المساجد والتباهي بها.

20 - التطاول في البنيان.

21 - ولادة الأُمَّة لربتها.

22 - كثرة القتل.
2 - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল।

3 - বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়।

4 - আমওয়াসের মহামারি।

5 - সম্পদের প্রাচুর্য এবং সদকা গ্রহণের লোকের অভাব।

6 - ফিতনার বহিঃপ্রকাশ।

7 - নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদারদের আত্মপ্রকাশ।

8 - নিরাপত্তার ব্যাপকতা।

9 - হিজাযের আগুনের বহিঃপ্রকাশ।

10 - তুর্কিদের সাথে যুদ্ধ।

11 - অনারবদের সাথে যুদ্ধ।

12 - আমানতদারিতা বিলুপ্ত হওয়া।

13 - ইলম উঠিয়ে নেওয়া এবং অজ্ঞতার প্রকাশ।

14 - প্রহরীদের আধিক্য এবং যালিমদের সহযোগীদের বৃদ্ধি।

15 - ব্যভিচারের প্রসার।

16 - সুদের প্রসার।

17 - বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ এবং তা বৈধ জ্ঞান করা।

18 - মদ্যপানের আধিক্য এবং তা বৈধ জ্ঞান করা।

19 - মসজিদ সুসজ্জিত করা এবং তা নিয়ে গর্ব করা।

20 - অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করা।

21 - দাসী কর্তৃক তার মনিবকে জন্মদান।

22 - হত্যাকাণ্ডের আধিক্য।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১৭)
23 - تقارب الزّمان.

24 - تقارب الأسواق.

25 - ظهور الشرك في هذه الأمة.

26 - ظهور الفُحش وقطيعة الرّحم وسوء الجوار.

27 - تشَبُّب المشيخة.

28 - كثرة الشُّح.

29 - كثرة التجارة.

30 - كثرة الزلازل.

31 - ظهور الخسف والمسخ والقذف.

32 - ذهاب الصالحين.

33 - ارتفاع الأسافل.

34 - أن تكون التحيَّة للمعرفة.

35 - التماس العلم عند الأصاغر.

36 - ظهور الكاسيات العاريات.

37 - صدق رؤيا المؤمّن.

38 - كثرة الكتابة وانتشارها.

39 - التهاون بالسنن الّتي رغَّب فيها الإسلام.

40 - انتفاخ الأهلَّة.

41 - كثرة الكذب وعدم التثبُّت في نقل الأخبار.

42 - كثرة شهادة الزور وكتمان شهادة الحق.

43 - كثرة النِّساء وقلة الرجال.
23 - সময় সংকুচিত হওয়া।

24 - বাজারগুলো নিকটবর্তী হওয়া।

25 - এই উম্মতের মধ্যে শিরকের আবির্ভাব।

26 - অশ্লীলতা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং প্রতিবেশীর সাথে খারাপ আচরণের প্রকাশ।

27 - বৃদ্ধদের যুবকদের মতো বেশ ধারণ করা।

28 - কৃপণতার আধিক্য।

29 - ব্যবসার আধিক্য।

30 - ভূমিকম্পের আধিক্য।

31 - ভূমিধস, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের প্রাদুর্ভাব।

32 - নেককার লোকদের প্রস্থান।

33 - নিচু স্তরের লোকদের উচ্চাসনে আরোহণ।

34 - কেবল পরিচিতদের সালাম প্রদান করা।

35 - অল্পজ্ঞানীদের নিকট ইলম সন্ধান করা।

36 - পোশাক পরিহিতা উলঙ্গ নারীদের প্রকাশ।

37 - মুমিনের স্বপ্ন সত্য হওয়া।

38 - লেখালেখির আধিক্য এবং এর প্রসার।

39 - ইসলামে উৎসাহিত সুন্নাতসমূহের প্রতি অবহেলা করা।

40 - নতুন চাঁদ বড় হয়ে দেখা দেওয়া।

41 - মিথ্যার আধিক্য এবং সংবাদ আদান-প্রদানে যাচাই-বাছাই না করা।

42 - মিথ্যা সাক্ষ্যের আধিক্য এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা।

43 - নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুরুষের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১৮)
44 - كثرة موت الفجأة.

45 - وقوع التناكر بين النَّاس.

46 - عود أرض العرب مروجًا وأنّهارًا.

47 - كثرة المطر وقلة النبات.

48 - حَسْر الفرات عن جبل من ذهب.

49 - كلام السِّباع والجمادات للإِنس.

55 - تمنِّي الموت من شدة البلاء.

51 - كثرة الروم وقتالهم للمسلمين.

52 - فتح القسطنطينية.

53 - خروج القحطاني.

54 - قتال اليهود.

55 - نفي المدينة لشرارها ثمّ خرابها.

56 - ظهور الريح الّتي تقبض أرواح المؤمنين.

57 - استحلال البيت الحرام وهدم الكعبة.

- أمّا الباب الثّاني؛ فالحديث فيه عن أشراط السّاعة الكبرى، ويشتمل على تمهيد وتسعة فصول:

والتمهيد: يشتمل على مبحثين:

الأوّل: ترتيب أشراط السّاعة الكبرى.

والثّاني: تتابع أشراط السّاعة الكبرى.

وأمّا الفصول؛ فهي:
44 - আকস্মিক মৃত্যুর আধিক্য।

45 - মানুষের মাঝে পারস্পরিক বিমুখতা বা অপরিচিতি ভাব সৃষ্টি হওয়া।

46 - আরব ভূখণ্ড পুনরায় চারণভূমি ও নদ-নদীতে রূপান্তরিত হওয়া।

47 - বৃষ্টির আধিক্য এবং উদ্ভিদের স্বল্পতা।

48 - ফোরাত নদী থেকে স্বর্ণের পাহাড় উন্মোচিত হওয়া।

49 - হিংস্র প্রাণী ও জড় পদার্থের মানুষের সাথে কথা বলা।

55 - বিপদের তীব্রতার কারণে মৃত্যু কামনা করা।

51 - রোমকদের সংখ্যাবৃদ্ধি এবং মুসলমানদের সাথে তাদের যুদ্ধ।

52 - কনস্টান্টিনোপল বিজয়।

53 - কাহতানি-র আত্মপ্রকাশ।

54 - ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ।

55 - মদিনা কর্তৃক তার মন্দ লোকদের বহিষ্কার এবং পরবর্তীতে তা জনশূন্য বা বিরান হওয়া।

56 - সেই বায়ুর আবির্ভাব যা মুমিনদের রূহ কবজ করবে।

57 - বাইতুল হারামের পবিত্রতা নষ্ট করা এবং কাবা ধ্বংস করা।

- আর দ্বিতীয় অধ্যায়; এতে কিয়ামতের বড় নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং এটি একটি ভূমিকা ও নয়টি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

ভূমিকা: এটি দুটি আলোচনার বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম: কিয়ামতের বড় নিদর্শনসমূহের পর্যায়ক্রম।

দ্বিতীয়: কিয়ামতের বড় নিদর্শনসমূহের একের পর এক সংঘটন।

আর পরিচ্ছেদগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأوّل: تحدثت فيه عن ظهور المهدي.

ويشتمل الكلام فيه على اسمه، وصفته، ومكان خروجه، ثمّ ذكرتُ الأدلَّة من السنة على ظهوره، سواء ما كان فيه النصُّ عليه أو ذكر صفته، وذكرتُ أيضًا ما ورد في الصحيحين من الأحاديث الّتي تشتمل على صفة المهدي، وإن لم يردّ ذكر اسمه.

ثمّ ذكرتُ كلام العلماء على تواتر أحاديث المهدي، وأعقبتُ ذلك بذكر الكتب الّتي صُنِّفتْ فيه، مع ذكر مؤلِّفيها من العلماء.

ثمّ تعرضتُ لذكر مَنْ أنكر ظهور المهدي، والرد عليه.

ثمّ تكلمتُ على حديث: "لا مهدي إِلَّا عيسى بن مريم"، وبيَّنتُ أنّه لا يصلح حجة لمن أنكر ظهور المهدي.

وأمّا الفصل الثّاني؛ فتحدَّثتُ فيه عن المسيح الدجَّال.

وكان الكلام فيه على معنى لفظي المسيح والدجَّال.

ثمّ ذكرتُ صفة الدجَّإل، والأحاديث الواردة في ذلك.

ثمّ الكلام على حياة الدجَّال؛ هل هو حىٌّ أم لا؟

واستلزم ذلك الحديث عن ابن صيَّاد، فذكرتُ نبذة عن حياته، واسمه، وأحواله، وامتحان النّبيّ صلى الله عليه وسلم، والاشتباه في أمره، ثمّ وفاته، ثمّ تكلمتُ عن اختلاف العلماء فيه؛ هل هو الدجَّال الأكبر أم لا؟ فذكرتُ كلام الصّحابة أوَّلًا، وما ورد من الأحاديث في ذلك، ثمّ ذكرتُ أقوال العلماء في ابن صيَّاد، ورددتُ على مَنْ قال: إن ابن صيَّاد خرافة جازت
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি মাহদীর আত্মপ্রকাশ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

এতে তাঁর নাম, বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর আত্মপ্রকাশের স্থান সম্পর্কে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অতঃপর আমি তাঁর আত্মপ্রকাশের ব্যাপারে সুন্নাহ থেকে প্রমাণাদি উল্লেখ করেছি, চাই তাতে তাঁর ব্যাপারে স্পষ্ট ভাষ্য থাকুক কিংবা তাঁর বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ থাকুক। এছাড়া আমি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত সেই হাদীসগুলোও উল্লেখ করেছি যা মাহদীর বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তাতে সরাসরি তাঁর নামের উল্লেখ নেই।

এরপর আমি মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মুতাওয়াতির হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছি এবং তার পরপরই এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ ও সেগুলোর লেখক আলেমগণের নাম উল্লেখ করেছি।

এরপর আমি মাহদীর আত্মপ্রকাশ যারা অস্বীকার করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করেছি এবং তার জবাব দিয়েছি।

অতঃপর আমি এই হাদীসটি নিয়ে আলোচনা করেছি: "ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত কোনো মাহদী নেই", এবং আমি স্পষ্ট করেছি যে, যারা মাহদীর আত্মপ্রকাশকে অস্বীকার করে তাদের জন্য এটি দলিল হিসেবে যোগ্য নয়।

আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ; এতে আমি মাসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

এতে মাসীহ এবং দাজ্জাল—এই শব্দ দুটির আভিধানিক অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অতঃপর আমি দাজ্জালের বৈশিষ্ট্য এবং এ সংক্রান্ত বর্ণিত হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি।

এরপর দাজ্জালের জীবন সম্পর্কে আলোচনা এসেছে; সে কি জীবিত নাকি জীবিত নয়?

আর এর সূত্র ধরেই ইবনে সাইয়্যাদ সম্পর্কে আলোচনার অবতারণা করতে হয়েছে। ফলে আমি তার জীবনবৃত্তান্ত, নাম, অবস্থা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাকে পরীক্ষা করা, তার বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেছি। এরপর আমি তার ব্যাপারে আলেমদের মতভেদ নিয়ে আলোচনা করেছি যে, সে-ই বড় দাজ্জাল কি না? এক্ষেত্রে আমি প্রথমে সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য এবং এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি। এরপর ইবনে সাইয়্যাদ সম্পর্কে আলেমগণের মতামত উল্লেখ করেছি এবং যারা বলেন যে, ইবনে সাইয়্যাদ একটি উপকথা মাত্র—তাদের কথার খণ্ডন করেছি।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২০)
على بعض العقول! وبيَّنْتُ أنّه حقيقة بالأدلَّة الصحيحة من السنة.

ثمّ تحدَّثتُ عن مكان خروج الدجَّال، وأن الدَّجَّال يدخل جميع البلدان ما عدا مكّة والمدينة.

ثمّ ذكرتُ أتباع الدَّجَّال، وفتنته.

ثمّ رددتُ على مَنْ أنكر ظهور الدجَّال، وبيَّنتُ أن ما يُعطاه من الخوارق أمور حقيقية.

وتحدثتُ كذلك عن كيفية الوقاية من فتنة الدجَّال، وما يجب على المسلم أن يتسلَّح به حتّى ينجو من هذه الفتنة العظيمة.

ثمّ الكلام على الحكمة في عدم ذكر الدجَّال في القرآن صراحةً.

ثمّ ختمتُ الحديث عن الدجَّال بذكر كيفية هلاكه والقضاء على فتنته.

وأمّا الفصل الثّالث، فكان الحديث فيه عن نزول عيسى عليه السلام آخر الزّمان؛ إمامًا مقسطًا، وحكمًا عادلًا.

وقبل الكلام على نزوله تحدَّثتُ عن صفته الّتي جاءت بها الروايات الصحيحة، مع ذكر هذه الروايات.

ثمّ تحدَّثتُ عن صفة نزوله عليه السلام، وموضع نزوله.

ثمّ ذكرتُ أقوالَ العلّماءِ الَّذينَ نَصُّوا على تواتُرِ الأحاديثِ الواردةِ في نُزولِ عيسى عليه السلام، وأنَّ نزولَه آخر الزَّمان ذَكَرَهُ طائفةٌ مِن العلماء في عقيدة أهل السنَّة والجماعة.
কিছু বুদ্ধির ওপর! এবং আমি সুন্নাহর বিশুদ্ধ দলিলের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি যে, এটি বাস্তব সত্য।

এরপর আমি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের স্থান সম্পর্কে আলোচনা করেছি, এবং এ কথা বর্ণনা করেছি যে দাজ্জাল মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সকল জনপদে প্রবেশ করবে।

অতঃপর আমি দাজ্জালের অনুসারী এবং তার ফিতনা সম্পর্কে উল্লেখ করেছি।

এরপর আমি তাদের প্রতিবাদ করেছি যারা দাজ্জালের আবির্ভাবকে অস্বীকার করে, এবং আমি বর্ণনা করেছি যে তাকে যেসব অলৌকিক বিষয় প্রদান করা হবে সেগুলো বাস্তব সত্য।

আমি দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় এবং এই ভয়াবহ ফিতনা থেকে পরিত্রাণ পেতে একজন মুসলমানের কী ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত, সে সম্পর্কেও আলোচনা করেছি।

এরপর কুরআনে দাজ্জালের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকার রহস্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অতঃপর দাজ্জালের ধ্বংস হওয়া এবং তার ফিতনার পরিসমাপ্তি ঘটার পদ্ধতি বর্ণনার মাধ্যমে দাজ্জাল বিষয়ক আলোচনা সমাপ্ত করেছি।

আর তৃতীয় পরিচ্ছেদে শেষ জামানায় ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে; যেখানে তিনি একজন ইনসাফকারী ইমাম এবং ন্যায়পরায়ণ বিচারক হিসেবে আগমন করবেন।

তাঁর অবতরণ সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে আমি বিশুদ্ধ রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করেছি এবং সেই সাথে ঐ বর্ণনাগুলোও উল্লেখ করেছি।

অতঃপর তাঁর (আলাইহিস সালাম) অবতরণের ধরন এবং অবতরণের স্থান সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

এরপর আমি ঐ সকল আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি যারা ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসগুলো মুতাওয়াতির হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন, এবং এটিও উল্লেখ করেছি যে শেষ জামানায় তাঁর অবতরণের বিষয়টি একদল আলেম আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২১)
ثمّ ذكرتُ أدلةَ نزوله من الكتاب والسُّنَّة؛ علامةً على قرب السّاعة، فبدأت بأدلَّة نزوله من القرآن الكريم، مع ذكر كلام المفسِّرين في ذلك، ثمّ ذكرتُ الأحاديث الدَّالة على نزوله، وأنّها متواترة لا يجوز ردُّها، بل يجب الإِيمان بها.

ثمّ ذكرتُ الحكمة في نزوله عليه السلام دون غيره من الأنبياء عليهم السلام، وبينتُ أنّه ينزل حاكمًا بشريعة الإسلام لا ناسخًا لها، مع ذكر الأدلَّة على ذلك.

وتحدَّثتُ كذلك عن عهد عيسى عليه السلام، وأنّه عصرُ أمن وسلام، تنزل السَّماء فيه بركاتها، وتُخْرِج الأرض خيراتها.

ثمّ ختمتُ الكلام فيه ببيان مدة. بقائه بعد نزوله، ثمّ وفاته عليه السلام. وأمّا الفصل الرّابع؛ فهو عن ظُهور يأجوج ومأجوج، وقد بدأتُ بالحديث عن اشتقاق لفظتي (يأْأجوج) و (مأجوج)، ثمّ تكلَّمتُ عن أصلهم، وبيَّنتُ أنّهم مِن ذُرَّيَّةِ آدم عليه السلام، ثمّ ذكرتُ صفتَهم، وكيفية خروجهم، مع ذكر الأدلَّة من الكتاب والسنَة على ثبوت ظهورِهم في آخر الزّمان، ثمّ تحدَّثْتُ عن سدِّ يأجوج ومأجوج، وأن هذا السدَّ غير معروف مكانه، وبيَّنتُ أن الأدلَّةَ تدلُّ على أنَّه لم يندكَّ إلى الأن، ورددتُ على مَنْ قال؛ إنّه قد اندكَّ، وإن يأجوج ومأجوج قد خرجوا، وإنهم التَّتار الذين ظهروا في القرن السابع الهجري.

وأمّا الفصل الخامس؛ فكان عن الخسوفات الثّلاثة، وهي خسفٌ
অতঃপর আমি কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার আলামত হিসেবে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে তাঁর অবতরণের প্রমাণাদি উল্লেখ করেছি। আমি পবিত্র কুরআন থেকে তাঁর অবতরণের প্রমাণসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছি এবং এ বিষয়ে মুফাসসিরগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছি। এরপর আমি তাঁর অবতরণের নির্দেশক হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছি এবং এটি স্পষ্ট করেছি যে, সেগুলো মুতাওয়াতির; যা প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়, বরং সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব।

এরপর আমি অন্যান্য নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) পরিবর্তে বিশেষভাবে তাঁর (আলাইহিস সালাম) অবতরণের হিকমত বা প্রজ্ঞা উল্লেখ করেছি। আমি আরও স্পষ্ট করেছি যে, তিনি ইসলামের শরিয়ত অনুযায়ী বিচারক হিসেবে অবতরণ করবেন, এর রহিতকারী হিসেবে নয়। সেই সাথে এর স্বপক্ষে দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি।

আমি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর যুগ সম্পর্কেও আলোচনা করেছি যে, তা হবে নিরাপত্তা ও শান্তির যুগ। সেই সময়ে আকাশ থেকে বরকত নাযিল হবে এবং যমিন তার কল্যাণসমূহ বের করে দেবে।

অতঃপর অবতরণের পর তাঁর অবস্থানের সময়সীমা এবং তাঁর ইন্তেকাল (আলাইহিস সালাম) বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা শেষ করেছি। আর চতুর্থ অধ্যায়টি ইয়াজুজ ও মাজুজের আত্মপ্রকাশ সম্পর্কে। আমি 'ইয়াজুজ' ও 'মাজুজ' শব্দদ্বয়ের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি। অতঃপর তাদের উৎস সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে তারা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর। এরপর তাদের বৈশিষ্ট্য এবং বের হওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করেছি। সেই সাথে শেষ জামানায় তাদের আত্মপ্রকাশ সুনিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি। এরপর ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, এই প্রাচীরের অবস্থান অজ্ঞাত। আরও বর্ণনা করেছি যে, দলীলসমূহ একথাই প্রমাণ করে যে তা এখন পর্যন্ত ধসে পড়েনি। যারা দাবি করেন যে তা ধসে গেছে এবং ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হয়ে পড়েছে—অর্থাৎ যারা মনে করে যে তারা হলো সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে আবির্ভূত তাতার জাতি—আমি তাদের মতের খণ্ডন করেছি।

আর পঞ্চম অধ্যায়টি ছিল তিনটি ভূ-ধস সম্পর্কে; সেগুলো হলো—
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২২)
بالمشرق، وخسفٌ بالمغرب، وخسفٌ في جزيرة العرب.

تحدَّثت أوَّلًا عن معنى الخسف، ثمّ بيَّنتُ أن هذه الخسوفات الثّلاثة من أشراط السّاعة الكبرى، وأنّها لم تقع إلى الآن، وأمّا ما وقع من بعض الخسوفات، فإنّما هي خسوفات جزئية، ذكرتها في أشراط السّاعة الصغرى.

وأمّا الفصل السّادس؛ فكان الحديث فيه عن الدُّخان.

ذكرتُ أوَّلًا الأدلَّة من القرآن الكريم على ثبوت ظهوره، وذكرتُ كذلك أقوال العلماء في هذا الدُّخان: هل وقع أم لا؟ مع بيان الراجح، ثمّ ذكرتُ الأدلَّة من السنة المطهرة.

وأمّا الفصل السابع؛ فتحدثت فيه عن طلوع الشّمس من مغربها.

ذكرتُ أوَّلًا الأدلة من القرآن الكريم، مع ذكر بعض أقوال المفسرين، ثمّ الأدلَّة من السنة، ثمّ مناقشة الشّيخ محمّد رشيد رضا في ردَّه لحديث أبي ذرًّ رضي الله عنه في سجود الشّمس.

ثمّ بيَّنتُ أنّه بعد طلوع الشّمس من مغربها لا يقبل الإِيمان، ولا التوبة، بل يختم على الأعمال، ورددتُ على مَنْ قال بخلاف ذلك بالأدلَّة الصحيحة.

وأمّا الفصل الثّامن؛ فتكلَّمتُ فيه عن خروج دابَّة الأرض.

وذكرتُ أوَّلًا الأدلة من القرآن الكريم، ثمّ الأدلَّة من السنة الشريفة.

ثمّ تحدَّثتُ عن مكان خروج هذه الدَّابَّة.
একটি (ভূমিধস) পূর্বে, একটি পশ্চিমে এবং একটি আরব উপদ্বীপে।

আমি প্রথমত 'খাসফ' (ভূমিধস)-এর অর্থ আলোচনা করেছি, অতঃপর স্পষ্ট করেছি যে এই তিনটি ভূমিধস কিয়ামতের বড় আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো এখন পর্যন্ত সংঘটিত হয়নি। আর যা কিছু কিছু ভূমিধস সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো মূলত আংশিক ভূমিধস, যা আমি কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি।

ষষ্ঠ অধ্যায়; এতে 'দুখান' বা ধোঁয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আমি প্রথমত এর (ধোঁয়ার) আবির্ভাবের সত্যতা সম্পর্কে কুরআন মাজীদ থেকে দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি। আমি এই ধোঁয়া সম্পর্কে আলিমগণের বক্তব্যসমূহও উল্লেখ করেছি যে: এটি কি সংঘটিত হয়ে গেছে নাকি হয়নি? এর সাথে বিশুদ্ধতম মতটিও স্পষ্ট করেছি। অতঃপর পবিত্র সুন্নাহ থেকে দলীলসমূহ পেশ করেছি।

সপ্তম অধ্যায়; এতে আমি পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

আমি প্রথমত কুরআন মাজীদ থেকে দলীলসমূহ পেশ করেছি এবং সেই সাথে মুফাসসিরগণের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছি। অতঃপর সুন্নাহ থেকে দলীলসমূহ বর্ণনা করেছি। এরপর সূর্যের সিজদা করা সম্পর্কিত আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে শায়খ মুহাম্মদ রশীদ রিযার বক্তব্যের সমালোচনা ও পর্যালোচনা করেছি।

অতঃপর আমি বর্ণনা করেছি যে, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পর ঈমান কিংবা তাওবা গ্রহণ করা হবে না, বরং আমলসমূহের ওপর মোহর মেরে দেওয়া হবে। আর যারা এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন, সহীহ দলীলসমূহের মাধ্যমে তাদের জবাব দিয়েছি।

অষ্টম অধ্যায়; এতে আমি 'দাব্বাতুল আরদ' বা ভূগর্ভস্থ প্রাণীর বের হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

আমি প্রথমত কুরআন মাজীদ থেকে দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি, অতঃপর পবিত্র সুন্নাহ থেকে দলীলসমূহ পেশ করেছি।

এরপর আমি এই প্রাণীর বের হওয়ার স্থান সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثمّ ذكرتُ الأقوال في نوع هذه الدابَّة، مع ذكر الراجح.

ثمّ ذكرتُ عمل هذه الدَّابَّة إذا ظهرت.

وأمّا الفصل التّاسع؛ فهو عن ظهور النّار الّتي تَحْشُرُ النَّاس.

تحدثت عن مكان خروجها، والأدلَّة على ذلك، ثمّ كيفيَّة حشرها للناس، مع ذكر الأدلَّة أيضًا.

ثمّ تكلَّمت عن الأرض الّتي يحشر النَّاس إليها، ثمّ ذكرتُ فضل أرض الشّام، والأحاديث الدالة على الترغيب في سكناه، والرد على من أنكر أن تكون أرض الشّام هي أرض المحشر.

ثمّ بيَّنتُ أن هذا الحشر المذكور في الأحاديث يكون في الدنيا قبل يوم القيامة، وذكرتُ خلاف العلماء في ذلك، وبيان الراجح من الأقوال.

- الخاتمة: ذكرتُ فيها أهم النتائج الّتي توصلتُ إليها.

وبعد:

فإني أحمد الله وأشكره أوَّلًا وآخرًا، وظاهرًا وباطنًا، على تيسِيره وتسهيله، وأسأله المزيد من عونه وتوفيقه.

ولا أدَّعي أنني استكملتُ جميع جوانب البحث؛ فإن الكمال لله عز وجل، والنقص من طبيعة البشر، ولكنني بذلتُ وسعي، فما كان فيه من صواب؛ فمن توفيق الله عز وجل، وما كان غير ذلك؛ فاستغفر الله منه، وهو حسبي ونعم الوكيل.

وسبحان ربك رب العزة عما يصفون، وسلام على المرسلين،
এরপর আমি এই পশুর ধরণ সম্পর্কে মতামতগুলো উল্লেখ করেছি এবং সেই সঙ্গে অগ্রগণ্য মতটিও তুলে ধরেছি।

এরপর আমি এই পশুর কাজ সম্পর্কে আলোচনা করেছি যে, এটি আবির্ভূত হওয়ার পর কী করবে।

আর নবম অধ্যায়টি হলো সেই আগুন প্রকাশ হওয়া সম্পর্কে, যা মানুষকে একত্রিত করবে।

আমি এর বের হওয়ার স্থান এবং এ সংক্রান্ত দলীলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি, অতঃপর মানুষের হাশর করার পদ্ধতি এবং এ বিষয়েও দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি।

এরপর আমি সেই ভূমি সম্পর্কে কথা বলেছি যেখানে মানুষদের একত্রিত করা হবে, অতঃপর শাম দেশের মর্যাদা এবং সেখানে বসবাসের উৎসাহ প্রদানকারী হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছি। আর যারা শাম দেশ হাশরের ভূমি হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে, তাদের জবাবও দিয়েছি।

অতঃপর আমি স্পষ্ট করেছি যে, হাদীসে বর্ণিত এই হাশর কিয়ামত দিবসের পূর্বে দুনিয়াতেই সংঘটিত হবে। এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতবিরোধ এবং মতামতসমূহের মধ্যে অগ্রগণ্য মতটি উল্লেখ করেছি।

- উপসংহার: এতে আমি গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি।

অতঃপর:

আমি শুরুতে ও শেষে এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি তাঁর কাজ সহজ ও সুগম করে দেওয়ার জন্য। আর আমি তাঁর নিকট অধিক সাহায্য ও তাওফীক প্রার্থনা করছি।

আমি দাবি করছি না যে আমি এই গবেষণার সকল দিক পূর্ণ করেছি; কেননা পূর্ণতা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য আর অপূর্ণতা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা মহান আল্লাহর তাওফীক স্বরূপ, আর যা এর ব্যতিক্রম হয়েছে তার জন্য আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিপতি, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২৪)
والحمد لله رب العالمين ..

وصلّى الله وسلَّم على عبده ورسوله محمّد إمام المتَّقين، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.

* * * * *
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য ..

এবং আল্লাহর দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ—মুত্তাকীদের ইমামের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসারী হবে তাদের ওপর।

* * * * *
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌التمهيد

ويشتمل على المباحث التالية:

- الأول: أهمية الِإيمان باليوم الآخر وأثر ذلك على سلوك الإنسان.

- الثاني: أسماء يوم القيامة.

- الثالث: حجِّية خبر الآحاد في العقائد.

- الرابع: إخبار النبي صلى الله عليه وسلم عن الغيوب المستقبلة.

- الخامس: علم الساعة.

- السادس: قرب قيام الساعة.
প্রারম্ভিকা

এটি নিম্নলিখিত পরিচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:

- প্রথম: পরকালের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব এবং মানব আচরণের ওপর এর প্রভাব।

- দ্বিতীয়: কিয়ামত দিবসের নামসমূহ।

- তৃতীয়: আকিদার ক্ষেত্রে খবরুল ওয়াহিদ-এর প্রামাণিকতা।

- চতুর্থ: ভবিষ্যতের গায়বি বিষয়াদি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদ প্রদান।

- পঞ্চম: কিয়ামতের জ্ঞান।

- ষষ্ঠ: কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নিকটবর্তীতা।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الأوّل: أهميَّة الإِيمان باليوم الآخر وأثره على سلوك الإِنسان

الإِيمان باليوم الآخر ركنٌ من أركان الإِيمان، وعقيدةٌ من عقائد الإسلام الأساسية، فإن قضية البعث في الدَّار الآخرة هي الّتي يقوم عليها بناء العقيدة بعد قضية وحدانية الله تعالى.

والإِيمان بما في اليوم الآخر وعلاماته من الإِيمان بالغيب الّذي لا يدركه العقل، ولا سبيل لمعرفته؛ إِلَّا بالنص عن طريق الوحي.

ولأهمِّية هذا اليوم العظيم؛ نجد أن الله تعالى كثيرًا ما يربط الإِيمان به بالإِيمان باليوم الآخر؛ كما قال تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ (177)} [البقرة: 177]، وكقوله تعالى: {ذَلِكُمْ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ (2)} [الطّلاق: 2] … إلى غير ذلك من الآيات الكثيرة.

وقلَّ أن تمرَّ على صفحة من القرآن؛ إِلَّا وتجد فيها حديثًا عن اليوم الآخر، وما فيه من ثواب وعقاب.

والحياة في التصوُّر الإِسلامي ليست هي الحياة الدُّنيا القصيرة المحدودة، وليست هي عمر الإِنسان القصير المحدود.
প্রথম পরিচ্ছেদ: পরকালের প্রতি বিশ্বাসের গুরুত্ব এবং মানুষের আচরণের ওপর তার প্রভাব

পরকালের প্রতি বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম একটি রুকন এবং ইসলামের মৌলিক আকিদাহসমূহের একটি। পরকালীন জীবনে পুনরুত্থানের বিষয়টি এমন একটি বিষয়, যার ওপর আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের বিষয়ের পর আকিদাহর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।

পরকালের ঘটনাবলি এবং তার নিদর্শনসমূহের প্রতি বিশ্বাস গায়েব বা অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত, যা বুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করা যায় না এবং ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত নস (দলীল) ব্যতীত তা জানার কোনো উপায় নেই।

এই মহান দিবসের গুরুত্বের কারণে আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা প্রায়শই নিজের প্রতি ঈমানকে পরকালের প্রতি ঈমানের সাথে যুক্ত করেছেন; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্য তো তার, যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনল (১৭৭)} [আল-বাকারাহ: ১৭৭], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তাদের এ বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে (২)} [আত-তালাক: ২] ... এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

কুরআনের খুব কম পৃষ্ঠাই এমন পাওয়া যাবে যেখানে পরকাল এবং এর পুরস্কার ও শাস্তি সম্পর্কে কোনো আলোচনা নেই।

ইসলামি ধারণায় জীবন বলতে কেবল এই সংক্ষিপ্ত ও সীমাবদ্ধ পার্থিব জীবনকে বোঝায় না এবং এটি কেবল মানুষের সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল নয়।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২৮)
إن الحياة في التصوُّر الإِسلامي تمتدُّ طولًا في الزّمان إلى أبد الآباد، وتمتدُّ في المكان إلى دار أخرى في جنَّة عرضها السماوات والأرض، أو نار تتَّسع لكثير من الأجيال الّتي عمَّرت وجه الأرض أحقابًا من السنين(1):

قال تعالى: {سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ رُسُلِهِ (21)} [الحديد: 21].

وقال تعالى: {يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلَأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ (30)} [ق: 30].

إن الإِيمان بالله واليوم الآخر وما فيه من ثواب وعقاب هو الموجِّه الحقيقي لسلوكِ الإِنسانِ سبيلَ الخير، وليس هناك أي قانون من قوانين البشر يستطيع أن يجعل سلوك الإِنسان سويًّا مستقيمًا كما يصنعه الإِيمان باليوم الآخر.

ولهذا؛ فإن هناك فرقًا كبيرًا وبونًا شاسعًا بين سلوك من يؤمن بالله واليوم الآخر، ويعلم أن الدنيا مزرعة الآخرة، وأن الأعمال الصالحة زاد الآخرة؛ كما قال الله تعالى: {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ (197)} [البقرة: 197]، وكما قال الصحابي الجليل عُمير بن الحمام(2):

--------------------------------------------

(1) انظر: "اليوم الآخر في ظلال القرآن" (ص 3 - 4)، جمع و إعداد أحمد فائز، مطبعة خالد حسن الطرابيشي، الطبعة الأولى، (1395هـ).

(2) عمير بن الحمام بن الجموح بن زيد الأنصاري رضي الله عنه: استشهد يوم بدر، وهو الّذي رمى التّمرات عندما قال النّبيّ صلى الله عليه وسلم: "قوموا إلى جنة عرضها السماوات والأرض،، وقال: بخ بخ. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما يحملك على قول: بخ بخ؟ ". قال: لا والله يا رسول الله إِلَّا رجاءة أن أكون من أهلها. قال: "فإنك من أهلها". فقال: لئن أنا =
ইসলামি ভাবধারায় জীবন সময়ের দিক থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং স্থানের দিক থেকে তা আসমান ও যমীনের সমান প্রশস্ত জান্নাত কিংবা এমন এক জাহান্নাম নামক অন্য এক আবাসস্থল পর্যন্ত বিস্তৃত, যা পৃথিবীর বুকে দীর্ঘকাল বসবাসকারী বহু প্রজন্মের সংকুলান করতে সক্ষম(১):

মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মতো, যা প্রস্তুত করা হয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে (২১)} [আল-হাদিদ: ২১]।

মহান আল্লাহ বলেন: {সেদিন আমি জাহান্নামকে বলব, 'তুমি কি পূর্ণ হয়েছ?' সে বলবে, 'আরও কি বেশি আছে?' (৩০)} [ক্বাফ: ৩০]।

নিশ্চয়ই আল্লাহ ও পরকালের প্রতি এবং তাতে বিদ্যমান পুরস্কার ও শাস্তির প্রতি বিশ্বাসই হলো মানুষের আচরণকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করার প্রকৃত নিয়ামক। মানুষের তৈরি কোনো আইনই মানুষের আচরণকে পরকালের প্রতি বিশ্বাসের মতো সঠিক ও সুসংহত করতে সক্ষম নয়।

এই কারণেই, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং জানে যে দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র এবং নেক আমল হলো পরকালের পাথেয়, তার আচরণের মধ্যে এবং অন্যদের আচরণের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান ও বিস্তর ফারাক বিদ্যমান। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া (আল্লাহভীতি)। হে বুদ্ধিমানগণ! তোমরা আমাকেই ভয় করো (১৯৭)} [আল-বাকারা: ১৯৭]। আর মহান সাহাবী উমাইর ইবনুল হুমাম (রা.) যেমনটি বলেছেন(২):

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আল-ইয়াওমুল আখির ফি জিলালিল কুরআন" (পৃ. ৩-৪), সংকলন ও সম্পাদনায়: আহমদ ফাইজ, খালিদ হাসান আত-তরাবিশি প্রেস, প্রথম সংস্করণ, (১৩৯৫ হিজরি)।

(২) উমাইর ইবনুল হুমাম ইবনুল জামুহ ইবনে যাইদ আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু): তিনি বদরের যুদ্ধে শহীদ হন। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি খেজুরগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "তোমরা এমন এক জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের সমান।" তখন তিনি বলেছিলেন: "বাহ্ বাহ্ (বাখিন বাখিন)!" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমাকে কেন 'বাহ্ বাহ্' বলতে উদ্বুদ্ধ করল?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এর অধিবাসী হওয়ার আশাতেই এটি বলেছি।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি এর অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।" এরপর তিনি বললেন: "আমি যদি..."
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ২৯)
رَكْضًا إلى اللهِ بِغَيْرِ زَادِ … إِلَّا التُّقَى وَعَمَلِ المَعَادِ

والصَّبْرِ في اللهِ عَلى الجِهادِ … وكُلُّ زَادٍ عُرْضَةُ النَّفادِ

غَيْرَ التُّقَى والبِرِّ والرَّشَادِ(1)

هناك فرقٌ بين سلوك مَنْ هذا حاله، وبين سلوك آخر لا يؤمن بالله، ولا باليوم الآخر وما فيه من ثواب وعقاب، "فالمصدِّق بيوم الدين يعمل وهو ناظرٌ لميزان السَّماء لا لميزان الأرض، ولحساب الآخرة لا لحساب الدنيا"(2)، له سلوك فريدٌ في الحياة، نرى فيه الاستقامة، وسعة التصور، وقوة الإِيمان، والثبات في الشدائد، والصبر على المصائب؛ ابتغاء للأجر والثواب، فهو يعلم أن ما عند الله خيرٌ وأبقى.

روى الإمام مسلم عن صهيب رضي الله عنه؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "عجبًا لأمر المؤمّن! إن أمره كلَّه خير، وليس ذاك لأحدٍ إِلَّا للمؤمن، إن أصابته سرَّاء؛ شكَرَ؛ فكان خيرًا له، وان أصابتهُ ضرَّاء؛ صَبَرَ؛ فكان خيرًا له"(3).

--------------------------------------------

= حييت حتّى آكل تمراتي هذه؛ إنها لحياة طويلة. ثمّ رمى بها وقاتل حتّى قُتِل.

انظر: "صحيح مسلم"، كتاب الأمارة، باب ثبوت الجنَّة للشهيد، (13/ 45 - 46 - مع شرح النووي)، و "تجريد أسماء الصّحابة" (1/ 422) للإِمام الذهبي، ط. دار المعرفة- بيروت، و"فقه السيرة" (ص 243 - 244)، للشيخ محمّد الغزالي، تحقيق الشّيخ محمّد ناصر الدين الألباني، مطبعة حسان، الناشر دار الكتب الحديثة، الطبعة السابعة، (1976 م).

(1) "فقه السيرة" (ص 244) للغزالي.

(2) "اليوم الآخر في ظلال القرآن" (ص 20).

(3) "صحيح مسلم"، كتاب الزهد، باب في أحاديث متفرقة، (18/ 125 - مع شرح النووي).
পাথেয়হীন আল্লাহর দিকে এক দ্রুত ধাবন … কেবল তাকওয়া এবং পরকালের আমল ছাড়া

এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিতে জিহাদের ওপর ধৈর্য ধারণ … আর প্রতিটি পাথেয়ই নিঃশেষ হওয়ার সম্মুখীন

তাকওয়া, পুণ্য এবং সঠিক পথপ্রাপ্তি ব্যতীত(১)

যার অবস্থা এমন, তার আচরণ এবং অন্য এমন এক ব্যক্তির আচরণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি এবং তাতে বিদ্যমান পুরস্কার ও শাস্তির প্রতি বিশ্বাস রাখে না। "কেননা বিচার দিবসে বিশ্বাসী ব্যক্তি আসমানের মানদণ্ডের দিকে তাকিয়ে কাজ করে, জমিনের মানদণ্ডের দিকে নয়; এবং আখেরাতের হিসাবের জন্য কাজ করে, দুনিয়ার হিসাবের জন্য নয়"(২), জীবনে তার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যাতে আমরা সততা, দৃষ্টিভঙ্গির বিশালতা, ঈমানের দৃঢ়তা, বিপদে অটলতা এবং মুসিবতে ধৈর্য দেখতে পাই; সওয়াব ও প্রতিদানের আশায়, কারণ সে জানে যে আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা-ই উত্তম ও চিরস্থায়ী।

ইমাম মুসলিম সুহাইব (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের বিষয়টি কতই না বিস্ময়কর! তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর, আর এটি মুমিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। যদি তার কোনো সুখের বিষয় অর্জিত হয়, সে শুকরিয়া আদায় করে; ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তার ওপর কোনো দুঃখ-কষ্ট আপতিত হয়, সে ধৈর্য ধারণ করে; ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়"(৩)।

--------------------------------------------

= আমি যদি এই খেজুরগুলো খাওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তবে তা হবে এক দীর্ঘ জীবন। তারপর তিনি সেগুলো ফেলে দিলেন এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করলেন।

দেখুন: "সহীহ মুসলিম", কিতাবুল ইমারাহ, শহীদদের জন্য জান্নাত সাব্যস্ত হওয়া অনুচ্ছেদ, (১৩/ ৪৫ - ৪৬ - নববীর ব্যাখ্যাসহ), এবং ইমাম জাহাবী রচিত "তাজরীদু আসমায়িস সাহাবাহ" (১/ ৪২২), দারুল মা'রিফাহ- বৈরুত সংস্করণ, এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-গাজালী রচিত "ফিকহুস সিরাহ" (পৃষ্ঠা ২৪৩ - ২৪৪), তাহকীক: শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী, মাতবাআতু হাসসান, প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-হাদিসাহ, সপ্তম সংস্করণ, (১৯৭৬ খ্রি.)।

(১) আল-গাজালী রচিত "ফিকহুস সিরাহ" (পৃষ্ঠা ২৪৪)।

(২) "আল-ইয়াওমুল আখির ফী জিলালিল কুরআন" (পৃষ্ঠা ২০)।

(৩) "সহীহ মুসলিম", কিতাবুজ জুহদ, বিবিধ হাদিস সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, (১৮/ ১২৫ - নববীর ব্যাখ্যাসহ)।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ৩০)
والمسلم لا يقتصر نفعه على البشرية، بل يمتدُّ إلى الحيوان؛ كما في القول المشهور عن عمر بن الخطَّاب رضي الله عنه: "لو عَثَرت بغلةٌ في العراق؛ لظننتُ أن الله سيسألني عنها: لِمَ لَمْ تُسَوِّ لها الطريق يا عمر"(1).

هذا الشعور هو من آثار الإِيمان بالله واليوم الآخر، والإِحساس بثقل التَّبعة، وعظم الأمانة، الّتي تحملها الإِنسان وأشفقت منها السماوات والأرض والجبال، إذ يعلم أن كلّ كبيرة وصغيرة مسؤول عنها، ومحاسَب بها، ومجازى عليها، إن خيرًا؛ فخير، وان شرًّا؛ فشر:

{يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِنْ سُوءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا (30)} [آل عمران:30].

{وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَاوَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا (49)} [الكهف: 49].

وأمّا الّذي لا يؤمن بالله ولا باليوم الآخر وما فيه من حساب وجزاء؛ فهو يحاول جاهدًا أن يحقِّق مآربه في الحياة الدُّنيا؛ لاهثًا وراء مُتَعها، متكالبًا على جمعها، منَّاعًا للخير أن يصل النَّاس عن طريقه، قد جعل الدُّنيا أكبر همه، ومبلغ علمه، فهو يقيس الأمور بمنفعته الخاصة، لا يهمه غيره، ولا يلتفت إلى بني جنسه؛ إِلَّا في حدود ما يحقِّق النفع له في هذه

--------------------------------------------

(1) رواه أبو نعيم بلفظ: "لو ماتت شاة على شط الفرات ضائعة؛ لظننت أن الله سائلي عنها يوم القيامة". "حلية الأولياء وطبقات الأصفياء" (1/ 53)، طبع دار الكتاب العربي.
একজন মুসলিমের উপকারিতা কেবল মানবতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পশুপাখি পর্যন্ত বিস্তৃত; যেমনটি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ উক্তিতে রয়েছে: "যদি ইরাকে কোনো একটি খচ্চর হোঁচট খায়, তবে আমি মনে করি যে আল্লাহ আমাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন: হে উমর, তুমি কেন তার জন্য রাস্তা সমান করে দাওনি?"(১).

এই অনুভূতি হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান ও পরকালের বিশ্বাসের প্রভাব, এবং সেই দায়িত্বের ভার ও আমানতের বিশালত্বের উপলব্ধি যা মানুষ বহন করেছে এবং যা থেকে আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও পর্বতসমূহ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়েছিল। কেননা সে জানে যে, প্রতিটি ছোট-বড় কাজের জন্য সে দায়ী, সেটির হিসাব নেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী তাকে প্রতিদান দেওয়া হবে; যদি ভালো হয় তবে ভালো, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ:

{যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার করা সৎকাজসমূহ সামনে উপস্থিত পাবে এবং সে যা মন্দ কাজ করেছে তাও; তখন সে কামনা করবে যে, যদি তার এবং সেই মন্দ কাজের মধ্যে এক সুদীর্ঘ ব্যবধান থাকত।} [আলে ইমরান: ৩০]।

{আর আমলনামা সামনে রাখা হবে, তখন আপনি অপরাধীদের দেখবেন যে তাতে যা আছে তার কারণে তারা আতঙ্কিত এবং তারা বলছে: 'হায় আফসোস! এ কেমন কিতাব! যা ছোট কিংবা বড় কোনো কাজই বাদ দেয়নি বরং সব হিসাব করে রেখেছে।' তারা তাদের কৃতকর্ম সামনে উপস্থিত পাবে এবং আপনার রব কারো প্রতি যুলুম করবেন না।} [আল-কাহফ: ৪৯]।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকালের হিসাব ও প্রতিদানের ওপর বিশ্বাস রাখে না; সে ইহকালীন জীবনে নিজের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে; এর বিলাসিতার পেছনে হন্যে হয়ে ছোটে, তা সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং মানুষের কাছে তার মাধ্যমে কল্যাণ পৌঁছাতে বাধা দান করে। সে দুনিয়াকেই তার প্রধান চিন্তার বিষয় এবং তার জ্ঞানের শেষ সীমা বানিয়ে নিয়েছে। তাই সে সবকিছুকে তার ব্যক্তিগত স্বার্থ দিয়ে বিচার করে, অন্যের কথা সে ভাবে না এবং তার স্বগোত্রীয়দের দিকে সে ভ্রুক্ষেপও করে না; কেবল সেই সীমার মধ্যে ব্যতীত যা এই জীবনে তার নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে...

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যদি ফোরাত নদীর তীরে একটি বকরিও অযত্নে মারা যায়, তবে আমি মনে করি যে কিয়ামতের দিন আল্লাহ আমাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।" "হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া" (১/ ৫৩), দারুল কিতাব আল-আরাবি সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআ - আল ওয়াবিল (পৃষ্ঠা: ৩১)
الحياة القصيرة المحدودة، يتحرَّك وحدوده هي حدود الأرض وحدود لهذا العمر، ومن ثَمَّ يتغير حسابه، وتختلف موازينه، وينتهي إلى نتائج خاطئة(1)؛ لأنّه مستبعدٌ للبعث، {بَلْ يُرِيدُ الْإِنْسَانُ لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ (5) يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ} [القيامة: 5 - 6].

هذا التصوُّر الجاهلي المحدود الضيِّق جعل أهل الجاهلية يسفكون الدماء، وينهبون الأموال، ويقطعون الطريق؛ لأنّهم لا يؤمنون بالبعث والجزاء؛ كما صوَّر الله حالهم بقوله تعالى: {وَقَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ (29)} [الأنعام: 29]، وكما قال قائلهم: "إنّما هي أرحام تدفع، وأرض تبلع".

وتَمُرًّ القرون، ويأتي العجب، فيحدث من الإِنكار أكبر من لهذا، فنرى إنكارًا كليًّا لما وراء المادة المحسوسة؛ كما في الشيوعية الماركسية الملحدة، الّتي لا تؤمن بالله تعالى ولا باليوم الآخر، وتصف الحياة بأنّها (مادة) فقط! وليس وراء المادة المحسوسة شيء آخر؛ فإن زعيمهم (ماركس) الملحد يرى أنّه لا إلهٌ! والحياة مادَّة! ولذلك فهم كالحيوانات؛ لا يدركون معنى الحياة وما خُلِقوا له، بل هم ضائعون تائهون، إن تحقَّق لهم اجتماعٌ؛ ففي ظل الخوف من سطوة القانون.

وتجد هذا الصنف من النَّاس من أشد النَّاس حرصًا على الحياة؛ لأنّهم لا يؤمنون بالبعث بعد الموت؛ كما قال تعالى في وصف المشركين من اليهود وغيرهم: {وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ

--------------------------------------------

(1) انظر: "اليوم الآخر في ظلال القرآن" (ص 20).
এই সংক্ষিপ্ত ও সীমাবদ্ধ জীবন; সে বিচরণ করে এবং তার সীমা হলো এই পৃথিবীর সীমা এবং এই বয়সের সীমা। এর ফলে তার হিসাব-নিকাশ পাল্টে যায়, তার মানদণ্ডগুলো ভিন্ন হয়ে যায় এবং সে ভুল পরিণতির দিকে ধাবিত হয়(১); কারণ সে পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করে। {বরং মানুষ চায় তার সামনে পাপাচার করে যেতে (৫) সে প্রশ্ন করে, কিয়ামতের দিন কবে আসবে? (৬)} [কিয়ামাহ: ৫ - ৬]।

এই সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ জাহেলি ধারণা জাহেলিয়াতের লোকদের রক্তপাত করতে, সম্পদ লুণ্ঠন করতে এবং রাহাজানি করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল; কারণ তারা পুনরুত্থান ও প্রতিদানে বিশ্বাস করত না। যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন এই বলে: {আর তারা বলে, আমাদের এই পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন এবং আমাদের আর পুনরুত্থিত করা হবে না (২৯)} [আল-আনআম: ২৯]। আর যেমন তাদের কেউ বলেছিল: "এটি তো কেবল জরায়ুর সন্তান প্রসব এবং মাটির গ্রাস।"

যুগ অতিবাহিত হয় এবং বিস্ময়কর বিষয়ের উদয় ঘটে, ফলে এর চেয়েও বড় অস্বীকারের ঘটনা ঘটে। আমরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর বাইরের সবকিছুকে পূর্ণরূপে অস্বীকার করতে দেখি; যেমন নাস্তিক্যবাদী মার্ক্সবাদী কমিউনিজমে, যা আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না এবং জীবনকে কেবল 'বস্তু' হিসেবে অভিহিত করে! আর এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর পেছনে অন্য কিছু নেই। কেননা তাদের নাস্তিক নেতা (মার্ক্স) মনে করত যে, কোনো ইলাহ নেই এবং জীবন হলো স্রেফ বস্তু! এই কারণে তারা পশুর মতো; তারা জীবনের প্রকৃত অর্থ এবং তারা কেন সৃষ্টি হয়েছে তা উপলব্ধি করতে পারে না। বরং তারা বিভ্রান্ত ও পথহারা। যদি তাদের মাঝে কোনো সংহতি অর্জিত হয়, তবে তা আইনের প্রতাপের ভয়ের ছায়াতলে।

আপনি এই শ্রেণির মানুষদের জীবনের প্রতি সবচেয়ে বেশি লোভী হিসেবে পাবেন; কারণ তারা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করে না। যেমন আল্লাহ তাআলা ইহুদি ও অন্যান্য মুশরিকদের বর্ণনায় বলেছেন: {আর আপনি অবশ্যই তাদের জীবনের প্রতি সব মানুষের চেয়ে বেশি লোভী পাবেন এবং তাদের থেকেও যারা...}

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আল-ইয়াওমুল আখির ফি জিলালিল কুরআন" (পৃষ্ঠা ২০)।