(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: -)
الأشباه والنظائر لابن الملقن ت الأزهري القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: قواعد ابن الملقن أو «الأشباه والنظائر في قواعد الفقه»
المؤلف: سراج الدين أبو حفص عمر بن علي الأنصاري المعروف بـ ابن الملقن (ت 804 هـ)
تحقيق ودراسة: مصطفى محمود الأزهري
الناشر: (دار ابن القيم للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية)، (دار ابن عفان للنشر والتوزيع، القاهرة - جمهورية مصر العربية)
الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م
عدد الأجزاء: 2
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 محرم 1440
আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে আল-মুল্লাকিন, তাহকীক: আল-আযহারী বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: ইবনে আল-মুল্লাকিনের কাওয়াইদ অথবা «আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর ফী কাওয়াইদিল ফিকহ»
লেখক: সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী আল-আনসারী, যিনি ইবনে আল-মুল্লাকিন নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরী)
সম্পাদনা ও গবেষণা: মুস্তফা মাহমুদ আল-আযহারী
প্রকাশক: (দার ইবনে কায়্যিম প্রকাশনী ও পরিবেশনী, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র), (দার ইবনে আফফান প্রকাশনী ও পরিবেশনী, কায়রো - মিশর আরব প্রজাতন্ত্র)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরী - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামিলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দুহায়িয়ান চ্যারিটেবল ওয়াকফ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ মুহাররম ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد ابن الملقن
أو
الأشباه والنظائر في قواعد الفقه
تصنيف
العلامة الإمام المحقق سراج الدين أبي حفص عمر بن علي الأنصاري المعروف بـ «ابن الملقن» (المتوفى سنة 804 هـ)
تحقيق ودراسة
مصطفى محمود الأزهري
[المجلد الأول]
ইবনুল মুলাক্কিনের কাওয়াইদ
অথবা
ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিমালায় আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর
রচনায়
আল্লামা ইমাম মুহাক্কিক সিরাজুদ্দিন আবি হাফস উমর বিন আলী আল-আনসারী, যিনি ‘ইবনুল মুলাক্কিন’ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮০৪ হিজরী)
তাহকিক ও গবেষণা
মুস্তফা মাহমুদ আল-আযহারী
[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ৩)
قَوَاعِدُ ابْنِ الْمُلَقِّنِ
أو
الأَشْبَاهُ وَالْنَّظَائِرُ فِي قَوَاعِدِ الْفِقْهِ
المجَلَّد الأوَّل
ইবনুল মুলাক্কিনের মূলনীতিসমূহ
অথবা
ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহের সাদৃশ্য ও সমরূপসমূহ
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ৪)
جَمِيع حُقُوق الملكية الأدبية والفنية مَحْفُوظَة للناشر ويحظر طبع أَو تَصْوِير أَو تَرْجَمَة أَو إِعَادَة تنضيد الْكتاب كَامِلاً أَو مجزأ أَو تسجيله على أشرطة كاسيت أَو إِدْخَاله على الكمبيوتر أَو برمجته على إسطوانات ضوئية إِلَّا بِمُوجب مُوَافقَة خطية من الناشر
الطبعة الأولى
1431 هـ - 2010 م
رقم الْإِيدَاع: 21417/ 2009
الترقيم الدولي: 0 - 105 - 375 - 977 - 978
دَار ابْن الْقيم للنشر والتوزيع
هَاتِف: 4315882 - فاكس: 4318891
الرياض: ص. ب: 156471
الرَّمْز البريدي: 11778
المملكة الْعَرَبيَّة السعودية
E- mail: ebnalqayyam@hotmail.com
دَار ابْن عَفَّان للنشر والتوزيع
الْقَاهِرَة: 11 درب الأتراك خلف الْجَامِع الْأَزْهَر
ت: 25066420 - مَحْمُول: 0101583626
الإدارة: الجيزة برج الْأَطِبَّاء أول شَارِع فيصل
تليفون: 35693615 - تليفاكس: 35692850 - 33255820
ص. ب: 8 بَين السريات
جمهورية مصر الْعَرَبيَّة
E- mail: ebnaffan@hotmail.com
সকল সাহিত্যিক ও শৈল্পিক স্বত্ব প্রকাশকের পক্ষ হতে সংরক্ষিত। প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত বইটির সম্পূর্ণ বা আংশিক মুদ্রণ, অনুলিপি করা, অনুবাদ করা, পুনরায় বিন্যাস করা, অডিও ক্যাসেটে রেকর্ড করা, কম্পিউটারে তথ্য প্রবেশ করানো অথবা সিডিতে প্রোগ্রাম করা নিষিদ্ধ।
প্রথম সংস্করণ
১৪৩১ হিজরী - ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ
জমাদান নম্বর: ২১৪১৭/ ২০০৯
আন্তর্জাতিক মানক পুস্তক সংখ্যা (ISBN): ৯৭৮ - ৯৭৭ - ৩৭৫ - ১০৫ - ০
দার ইবনুল কায়্যিম প্রকাশনা ও বিতরণ
ফোন: ৪৩১৫৮৮২ - ফ্যাক্স: ৪৩১৮৮৯১
রিয়াদ: পো. ব.: ১৫৬৪৭১
পোস্টাল কোড: ১১৭৭৮
সৌদি আরব রাজ্য
ই-মেইল: ebnalqayyam@hotmail.com
দার ইবনে আফফান প্রকাশনা ও বিতরণ
কায়রো: ১১ দরব আল-আতরাক, আল-আযহার মসজিদের পেছনে
ফোন: ২৫০৬৬৪২০ - মোবাইল: ০১০১৫৮৩৬২৬
প্রশাসন: গিজা, বুর্জ আল-আতিব্বা, ফয়সাল রোডের শুরুতে
টেলিফোন: ৩৫৬৯৩৬১৫ - টেলিফ্যাক্স: ৩৫৬৯২৮৫০ - ৩৩২৫৫৮২০
পো. ব.: ৮ বাইনাস সারায়াত
আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
ই-মেইল: ebnaffan@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقالحمد لله مقلِّب الأبصار البصائر، المنزه عن الأشباه والأمثال والنظائر، الذي كلُّ شيء منه كائن وإليه صائر، الذي أنشأ الأرض مهدًا ورفع السماء بلا قواعد، ووسع كل شيء علمًا، فعنده علم النوازل والصواعد، أحكم الشرع الحنيف وأتم دينه بخير المقاصد، ونصلي ونسلم على من أوتي جوامع الكلم، ومجامع الحكم، وكشف الله بنور هديه الظُّلَم، ورفع بهدي نوره الغُمَم، وأتم ببركة رسالته النِّعَم، وأزال بإرسال بركته النِّقم، وأكمل ببلاغِهِ دين خير الأمم، سيدنا محمد بن عبد الله خاتم المرسلين، ورحمة الله للعالمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:
فإن علم قواعد الفقه الإسلامي علمٌ ذو خطر في أهميته ولزومه لعلم الفقه، وهو علم يطلع الناظرين على خطر الفقه الإسلامي ورسوخه وعلو مكانته، فإن الشيء لا يؤسس على قواعد متينة إلا إذا كان راسخًا في ذاته شامخًا في بنيانه؛ من هنا أتى اهتمام محققي المذاهب الأربعة وحرصهم على أن يردوا مذاهبهم إلى قواعد كلية وضوابط عامة تلم شتات الفروع وتضبط منثورها، وتسهل على الفقيه استحضار الحكم الفرعي؛ إذ من الصعب أن يكون حافظًا لكل فروع مذهبه، ولكن استحضاره للقاعدة ييسر له ذلك كثيرًا.
كما أن اطلاع المجتهد والمفتي والمشتغل بالفقه على القواعد الكلية للفقه يعصم أحكامه واستنباطه من الوقوع في التناقض والاضطراب، فإن من سار على
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টির পরিবর্তনকারী; যিনি সদৃশ, উপমা ও সমতুল্য থেকে পবিত্র; যাঁর পক্ষ থেকে সবকিছু অস্তিত্ব লাভ করেছে এবং যাঁর কাছেই সবকিছু প্রত্যাবর্তনকারী; যিনি জমিনকে শয্যা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং খুঁটি ছাড়াই আসমানকে উন্নত করেছেন; যাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর তাঁর কাছেই রয়েছে নিচে অবতরণকারী এবং উপরে আরোহণকারী সবকিছুর জ্ঞান; তিনি এই একনিষ্ঠ শরিয়তকে সুদৃঢ় করেছেন এবং সর্বোত্তম উদ্দেশ্যের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি তাঁর প্রতি, যাঁকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য এবং প্রজ্ঞার ভাণ্ডার দান করা হয়েছে; আল্লাহ যাঁর হিদায়াতের নূর দিয়ে অন্ধকার দূরীভূত করেছেন, যাঁর নূরের দিশায় দুশ্চিন্তা সরিয়ে দিয়েছেন, যাঁর রিসালাতের বরকতে নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন, যাঁর বরকত প্রেরণের মাধ্যমে বিপদ-আপদ দূর করেছেন এবং যাঁর প্রচারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ উম্মতের দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন; তিনি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি রাসুলগণের সমাপ্তি ঘটানো মোহর এবং বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর রহমত। আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইসলামি ফিকহের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফিকহ শাস্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এটি এমন একটি ইলম যা অধ্যায়নকারীদের ইসলামি ফিকহের গুরুত্ব, এর দৃঢ়তা এবং এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবগত করে। কেননা কোনো কিছুকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর তখনই স্থাপন করা হয় যখন তা স্বয়ং দৃঢ় এবং তার কাঠামো সমুন্নত হয়। এখান থেকেই চার মাজহাবের গবেষক ইমামগণের বিশেষ মনোযোগ ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, যেন তাঁরা তাঁদের মাজহাবের বিষয়গুলোকে এমন কিছু সার্বিক মূলনীতি এবং সাধারণ বিধানের অধীনে নিয়ে আসতে পারেন যা বিক্ষিপ্ত শাখা-প্রশাখাগুলোকে একত্রিত করবে এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলোকে সুসংবদ্ধ করবে। এটি ফকিহদের জন্য শাখা মাসয়ালার বিধান স্মরণ করা সহজ করে দেয়; কেননা কোনো ফকিহ্র পক্ষে তাঁর মাজহাবের প্রতিটি শাখা মাসয়ালা মুখস্থ রাখা অত্যন্ত কঠিন, তবে মূলনীতিগুলো জানা থাকলে তা তাঁর জন্য বিষয়টি অনেক সহজ করে দেয়।
তদ্রূপ কোনো মুজতাহিদ, মুফতি এবং ফিকহ নিয়ে গবেষণারত ব্যক্তির জন্য ফিকহের সার্বিক মূলনীতিগুলোর জ্ঞান থাকা তাঁর প্রদত্ত হুকুম এবং বিধান আহরণকে বৈপরীত্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করে। কারণ, যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ৬)
قاعدة فقهية كانت أحكامه سائرة وَفقَ منهج واحد.
وعلم القواعد يجعل المرء مطلعًا على أسرار الشريعة، فاقهًا مقاصدها، قادرًا متمرسًا على استعمال القياس، متمكنًا من معرفة أحكام النوازل الجديدة، فإنه عندما يعرف علل الأحكام والقواعد التي ترد إليها الأحكام يكون بذلك قادرًا على استنباط أحكام النوازل الجديدة.
فعلم القواعد الفقهية علمٌ عظيم القدر، جليل الشأن، عميم نفعه، غزيرة فوائده، غالية نفائسه وفرائده، تعطرت بمداد أقلامه صحائف أولى النُّهى، واكتحلت بإثمده مُقَلُ ذوي النظر، إذ هو قواعد الأحكام، المؤسس لمصالح الأنام، والضابط لموازين الحلال والحرام، لا غناء عنه لكل فقيه، ولا مقنع في غيره لكل مجتهد نبيه.
وكتاب "القواعد" للإمام المحقق المتقن الحافظ سراج الدين بن الملقن لبنة غضَّةٌ يانعة، عَمِلنا في إثمارها حتى أينعت وبرزت للطالب واستوت على سوقها أمام نواضر الراغب، سائلين الحق تعالى أن ينفع به الطالب والراقم والكاتب.
وعلى الله قصد السبيل
একটি ফিকহি মূলনীতি যার বিধানসমূহ একটি সুসংহত পদ্ধতির ওপর পরিচালিত ছিল।
আর মূলনীতি শাস্ত্র একজন ব্যক্তিকে শরিয়তের রহস্যসমূহ সম্পর্কে অবগত করে, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করতে সাহায্য করে এবং কিয়াস প্রয়োগে পারদর্শী ও অভিজ্ঞ করে তোলে। এটি তাকে নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির বিধানসমূহ জানতে সক্ষম করে তোলে; কেননা যখন সে বিধানসমূহের কারণ এবং সেই মূলনীতিগুলো জানতে পারে যেগুলোর ওপর বিধানগুলো আবর্তিত হয়, তখন সে নতুন উদ্ভূত সমস্যার বিধান উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়।
বস্তুত ফিকহি কাওয়াইদ শাস্ত্র অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা ও মহিমাপূর্ণ এক শাস্ত্র, যার উপকারিতা সর্বজনীন এবং সুফল প্রচুর। এর দুর্লভ ও সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ অত্যন্ত মূল্যবান। প্রজ্ঞাবানদের কলমের কালিতে এর পৃষ্ঠাসমূহ সুবাসিত হয়েছে এবং দূরদর্শী ব্যক্তিবর্গের চক্ষুযুগল এর সুরমায় সজ্জিত হয়েছে। কেননা এটি হলো বিধানের মূলসূত্রসমূহ, যা সৃষ্টির কল্যাণকে সুসংহত করে এবং হালাল-হারামের মানদণ্ডকে সুশৃঙ্খল করে। কোনো ফকিহ এর জ্ঞান ব্যতীত চলতে পারেন না এবং কোনো তীক্ষ্ণধী মুজতাহিদের জন্য এটি ব্যতিরেকে তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
আর মুহাক্কিক, বিজ্ঞ হাফেজ ইমাম সিরাজুদ্দীন ইবনুল মুলাক্কিন-এর 'আল-কাওয়াইদ' গ্রন্থটি একটি সজীব ও ফলপ্রসূ ভিত্তির ন্যায়, আমরা এটিকে ফলবান করার জন্য কাজ করেছি যতক্ষণ না তা পরিপক্ক হয়েছে, শিক্ষার্থীর নিকট প্রকাশিত হয়েছে এবং জ্ঞানপিপাসুর চোখের সামনে আপন কাণ্ডের ওপর ভর করে উঠেছে। আমরা পরম সত্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, সংকলক এবং লেখককে উপকৃত করেন।
আর সরল পথ প্রদর্শন আল্লাহরই দায়িত্বে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمةُ ابْنِ المُلَقِّنِ (1)
•
اسمه ونسبه:هو عمر بن علي بن أحمد بن محمد بن عبد الله، الأندلسي الأصل، المصري، الشافعي.
•
لقبه:مات والد ابن الملقن في صِغَر ولده وكان والده إذ ذاك نحويًّا بارزًا، فتزوجت أمه من الشيخ عيسى المغربي الملقِّن (وسُمِّيَ بالملقن، لأنه كان يلقن الصِّبية القرآن) فعُرفَ به وأطلق عليه من يومها: ابن الملقَن، ومن الطريف أنه لم يكن يحب أن يُدعى بهذا اللقب، وكان يقول لأصحابه: قولوا ابن النحوي.
•
ولادته ونشأته:ولد في شهر ربيع الأول سنة ثلاث وعشرين وسبعمائة (723 هـ)، وكان أبوه قد توفي بعد ولادته بسنة، وقد أوصى به إلى عيسى المغربي، فتزجت أمه من
--------------------------------------------
ইবনে আল-মুলাক্কিনের জীবনী (১)
•
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন ওমর বিন আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, বংশগতভাবে আন্দালুসীয়, মিশরীয় এবং শাফেয়ী।
•
তাঁর উপাধি:ইবনে আল-মুলাক্কিন ছোট থাকাবস্থায় তাঁর পিতা মারা যান। তাঁর পিতা তৎকালীন সময়ে একজন প্রখ্যাত ব্যাকরণবিদ ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর মাতা শেখ ঈসা আল-মাগরিবি আল-মুলাক্কিনকে বিবাহ করেন। (তাঁকে 'মুলাক্কিন' বলা হতো কারণ তিনি শিশুদের কুরআন তালকিন বা পাঠদান করতেন)। ফলে তিনি তাঁর পরিচয়ে পরিচিত হন এবং সেদিন থেকে তাঁকে 'ইবনে আল-মুলাক্কিন' বলা হতে থাকে। মজার ব্যাপার হলো, তিনি এই উপাধিতে ডাক পেতে পছন্দ করতেন না এবং তাঁর সাথীদের বলতেন: "তোমরা আমাকে ইবনে আন-নাহবি (ব্যাকরণবিদের পুত্র) বলো।"
•
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:তিনি ৭২৩ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের এক বছর পর তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। তিনি (পিতা) ঈসা আল-মাগরিবিকে তাঁর (পুত্রের) ব্যাপারে অসিয়ত করেছিলেন। অতঃপর তাঁর মা বিবাহ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ৮)
عيسى المغربي، وكان رجلًا صالحًا فقام بإقرائه القرآن فحفظه ثم اتجه به لدراسة المذهب الشافعي فحفظ "منهاج الطالبين" للنووي، ثم لما شبَّ عن الطوق وكبر أخذ بسبيله إلى طلب العلم.
•
حياته العلمية:بدأت رحلة ابن الملقن في سبيل الطلب فلازم علماء القاهرة المعمورة، ونهل من علمهم في صتى العلوم، الفقه وأصوله، والقرآن وعلومه، والحديث وفنونه، ثم رحل إلى دمشق سنة سبعين وسبعمائة طلبًا لعلم الحديث، ورحل إلى بيت المقدس ومكة وغيرهما طلبًا للعلم.
•
شيوخه:لقد تلمذ ابن الملقن لعدد كبير من الجهابذة والحفاظ في شتى العلوم، ومن أبرز هؤلاء:
1 - الإمام العلامة: أبو الفتح محمد بن محمد بن أحمد بن عبد الله بن سيد الناس الأندلسي، المصري، الشافعين المتوفى سنة (734 هـ)، أخذ عنه علم الحديث.
2 - الإمام الحافظ: أبو الحجاج يوسف بن عبد الرحمن بن يوسف بن عبد الملك بن يوسف بن علي بن أبي الأزهر، الإمام العلامة الحافظ الكبير، شيخ المحدثين، عمدة الحفاظ، الحلبي، الدمشقي، المِزِّي، المتوفي سنة (742 هـ)، أخذ عنه ابن الملقن الحديث وأجاز له.
3 - الإمام اللغوي المفسر: أبو حيان محمد بن يوسف بن علي بن يوسف بن حيان، الأندلسي، النحوي، اللغوي، البحر، المتوفي سنة (745 هـ)، أخذ عنه العربية.
4 - العلامة المحقق الإمام: أبو الحسن تقي الدين، علي بن عبد الكافي بن علي السبكي الشافعي، المتوفى سنة (756 هـ)، أخذ عنه الفقه.
ঈসা আল-মাগরিবী, তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন। তিনি তাকে কুরআন পাঠ করালেন এবং তিনি তা মুখস্থ করলেন। অতঃপর তিনি তাকে শাফেয়ী মাযহাবের অধ্যয়নের দিকে পরিচালিত করলেন, ফলে তিনি নববীর "মিনহাজুত তালিবীন" মুখস্থ করলেন। এরপর যখন তিনি সাবালক ও প্রাপ্তবয়স্ক হলেন, তখন তিনি ইলম অর্জনের পথে অগ্রসর হলেন।
•
তাঁর ইলমি জীবন:ইলম অন্বেষণের পথে ইবনুল মুলাক্কিনের সফর শুরু হয়েছিল, তিনি জনবহুল কায়রোর আলেমদের সান্নিধ্য গ্রহণ করেন এবং ফিকহ ও তার উসুল, কুরআন ও তার উলুম, এবং হাদিস ও তার ফুনুনসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। অতঃপর তিনি হাদিস শাস্ত্রের সন্ধানে সাতশ সত্তর হিজরিতে দামেশকে সফর করেন এবং ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে বাইতুল মুকাদ্দাস, মক্কা ও অন্যান্য স্থানেও সফর করেন।
•
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:ইবনুল মুলাক্কিন বিভিন্ন শাস্ত্রে বহু সংখ্যক বিদগ্ধ পণ্ডিত এবং হাফেজের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১ - ইমাম আল্লামা: আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন সাইয়িদিন নাস আল-আন্দালুসী আল-মিসরী আশ-শাফেয়ী, যিনি (৭৩৪ হি.) সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর কাছ থেকে তিনি হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেন।
২ - ইমাম হাফেজ: আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আবদুর রহমান বিন ইউসুফ বিন আবদুল মালিক বিন ইউসুফ বিন আলী বিন আবিল আজহার, ইমাম আল্লামা আল-হাফেজ আল-কাবীর, শায়খুল মুহাদ্দিসীন, উমদাতুল হুফফাজ, আল-হালাবী আদ-দিমাশকী আল-মিযযী, যিনি (৭৪২ হি.) সালে ইন্তেকাল করেন। ইবনুল মুলাক্কিন তাঁর কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করেন এবং তিনি তাঁকে ইজাযত প্রদান করেন।
৩ - ইমাম ভাষাবিদ মুফাসসির: আবু হাইয়্যান মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আলী বিন ইউসুফ বিন হাইয়্যান আল-আন্দালুসী আন-নাহবী আল-লুগাবী আল-বাহর, যিনি (৭৪৫ হি.) সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর নিকট থেকে তিনি আরবি ভাষা শিক্ষা করেন।
৪ - আল্লামা মুহাক্কিক ইমাম: আবুল হাসান তাকিউদ্দীন আলী বিন আবদুল কাফি বিন আলী আস-সুবকী আশ-শাফেয়ী, যিনি (৭৫৬ হি.) সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর নিকট থেকে তিনি ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ৯)
5 - الإمام العلامة الحافظ: خليل بن كيكلدي، صلاح الدين، العلائي، الشافعي، المتوفى سنة (176 هـ)، أخذ عنه الحديث.
6 - العلامة النحوي المحقق: جمال الدين عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله بن هشام الأنصاري، المتوفى سنة (176 هـ)، أخذ عنه النحو والعربية.
7 - العلامة الأصولي: جمال الدين عبد الرحيم بن الحسن بن علي الإسنوي، الشافعي، المتوفى سنة (772 هـ)، أخذ عنه الفقه.
وغيرهم من العلماء والحفاظ، كزين الدين الرحبي، وعلاء الدين مغلطاي.
•
طلبته:تلمذ لابن الملقن عدد كبير في كمِّه، جليل في كيفه وقدره، فقد كان تلامذته من جهابذة العلماء بعد ذلك، ومن أبرزهم:
1 - العلامة الحافظ: أحمد بن عبد الرحيم بن الحسين، أبو زرعة ابن الحافظ العراقي، المتوفي سنة (826 هـ).
2 - العلامة حافظ دمشق: محمد بن عبد الله بن محمد القيسي الحموي، الدمشقي المعروف بابن ناصر الدين الدمشقي، المتوفى سنة (837 هـ).
3 - العلامة الإمام: إبراهيم بن محمد بن خليل الحلبي الشافعي المعروف بسبط ابن العجمي، المتوفى سنة (184 هـ).
4 - الإمام شيخ الإسلام خاتمة الحفاظ: أحمد بن علي ابن حجر العسقلاني، المتوفى سنة (852 هـ).
•
كلام العلماء فيه ثناءً وغمزًا:لم يترجم لابن الملقن أحد ممن ترجم له إلا استهل كلامه بالثناء الحسن، والمدح الجميل، والتفويه بجلالة قدره وعلمه وبراعة تصانيفه وحسن عبارته.
৫ - ইমাম আল্লামা আল-হাফিয: খলিল বিন কায়কালদি, সালাহুদ্দিন, আল-আলাই, আশ-শাফিয়ি, মৃত্যু (১৭৬ হিজরি), তাঁর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন।
৬ - আল্লামা ব্যাকরণবিদ ও গবেষক: জামালুদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিশাম আল-আনসারি, মৃত্যু (১৭৬ হিজরি), তাঁর নিকট থেকে নাহু ও আরবি সাহিত্য গ্রহণ করেছেন।
৭ - আল্লামা উসুলবিদ: জামালুদ্দিন আব্দুর রহিম বিন আল-হাসান বিন আলি আল-ইসনাভি, আশ-শাফিয়ি, মৃত্যু (৭৭২ হিজরি), তাঁর নিকট থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন।
এবং অন্যান্য আলেম ও হাফিযগণ, যেমন যায়নুদ্দিন আর-রাহবি এবং আলাউদ্দিন মুগলতাই।
•
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:ইবনুল মুলাক্কিনের নিকট বিপুল সংখ্যক ছাত্র শিক্ষাগ্রহণ করেছেন, যারা গুণগত মান ও মর্যাদায় ছিলেন সুমহান। পরবর্তীতে তাঁর ছাত্ররা বড় বড় পণ্ডিত আলিমে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১ - আল্লামা আল-হাফিয: আহমদ বিন আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন, আবু জুরআ ইবনুল হাফিয আল-ইরাকি, মৃত্যু (৮২৬ হিজরি)।
২ - দামেস্কের আল্লামা ও হাফিয: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-কাইসি আল-হামাভি আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনু নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি নামে পরিচিত, মৃত্যু (৮৩৭ হিজরি)।
৩ - আল্লামা ইমাম: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল আল-হালাবি আশ-শাফিয়ি, যিনি সিবত ইবনুল আজমি নামে পরিচিত, মৃত্যু (১৮৪ হিজরি)।
৪ - ইমাম শাইখুল ইসলাম ও হাফিযদের ধারাক্রম সমাপ্তকারী: আহমদ বিন আলি ইবনু হাজার আল-আসকালানি, মৃত্যু (৮৫২ হিজরি)।
•
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা ও সমালোচনা:ইবনুল মুলাক্কিনের জীবনী যারা আলোচনা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর উত্তম প্রশংসা, সুন্দর গুণকীর্তন এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা, জ্ঞান, রচনার নিপুণতা ও চমৎকার বর্ণনাশৈলী বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال ابن قاضي شهبة: "الشيخ الإمام العالم العلامة، عمدة المصنفين سراج الدين أبو حفص الأنصاري".
وقال الحافظ ابن حجر: "تخرج في الحديث بزين الدين الرحبي وعلاء الدين مغلطاي، وكتب عنهما الكثير، وأكثر من تحصيل الأجزاء وسماع الكتب وعنى بالفقه، فأخذ عن شيوخ عصره، ومهر في الفنون، وكان أول أمره ذكيًّا فطنًا، رأيت خطوط فضلاء ذلك العصر في طبقات السماع بوصفه بالحفظ، وفحوه من الصفات العلية
… ".
وقال غيره: "كان فريد الدهر في كثرة التواليف وحُسْنها، وعبارته حسنة، وكان منقطعًا عن الناس جدًّا، وكان من أعذب الناس ألفاظًا، وأحسنهم خلقًا، وأجملهم صورة، كثير المروءة والإحسان والتواضع، وكان موسعًا عليه، كثير الكتب جدًّا، ثم احترق غالبها قبل موته".
وقد أخذ عليه بعض معاصريه من أقرانه وطلبته قلة الاستحضار للمسائل، وغلبة الكتابة والتصنيف عليه مما أدى إلى توقف ذهنه.
قال الحافظ ابن حجر: "ولكن لما رأيناه لم يكن في الاستحضار ولا في التصرف بذاك، فكأنه لما طال عمره استروح، وغلبت عليه الكتابة فوقف ذهنه، واعتنى بالتصنيف".
وقال ابن قاضي شهبة: "فلما دخل الشام فاتَحُوه في كثير من مشكلات تصانيفه فلم يكن له بذلك شعور، ولا أجاب عن شيء منه، فقالوا في حقه: ناسخ كثير الغلط، وقد تغير قبل موته فحجبه ولده إلى أن مات".
وقال الحافظ ابن جِحِّي: "والمصريون ينسبونه إلى سرقة تصانيفه -أي تصانيف عز الدين بن جماعة- فإنه ما كان يستحضر شيئًا؛ ولا يحقق علمًا، ويؤلف المؤلفات الكثيرة على معنى النسخ من كتب الناس".
ইবনে কাজী শুহবাহ বলেন: "শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আল্লামা, গ্রন্থকারগণের অবলম্বন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস আল-আনসারী।"
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "তিনি জয়নুদ্দীন আর-রাহবী ও আলাউদ্দীন মুগলতাই-এর নিকট হাদিসে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং তাঁদের থেকে অনেক লিপিবদ্ধ করেন। তিনি হাদিসের খণ্ডসমূহ সংগ্রহ ও কিতাবসমূহ শ্রবণে অনেক শ্রম দেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে মনোনিবেশ করেন। তিনি তাঁর সমসাময়িক শাইখদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করেন। শুরুর জীবনে তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। আমি সেকালের বিদগ্ধ পণ্ডিতদের লেখায় হাদিস শ্রবণের স্তরগুলোতে তাঁর স্মৃতিশক্তি এবং তাঁর উচ্চতর গুণাবলীর বর্ণনা দেখেছি
… "।
অন্যজন বলেন: "তিনি রচনার আধিক্য ও সেগুলোর সৌন্দর্যের দিক থেকে যুগের অদ্বিতীয় ছিলেন। তাঁর প্রকাশভঙ্গি ছিল চমৎকার। তিনি জনবিচ্ছিন্ন থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মিষ্টভাষী, উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং সুন্দর অবয়বের মানুষ। তিনি অত্যন্ত পরোপকারী, দয়ালু ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি সচ্ছল ছিলেন এবং তাঁর সংগ্রহে প্রচুর কিতাব ছিল, যার অধিকাংশ তাঁর মৃত্যুর আগে পুড়ে যায়।"
তাঁর সমসাময়িক কিছু সহপাঠী ও ছাত্র মাসআলাসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে স্মরণে রাখার ঘাটতি এবং লিখন ও সংকলনের কাজে অত্যধিক নিমগ্ন থাকার কারণে তাঁর মেধা স্থবির হয়ে পড়ার বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "কিন্তু যখন আমরা তাঁকে দেখেছি, তখন তিনি স্মৃতিচারণ বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তেমন দক্ষ ছিলেন না। যেন বার্ধক্যের কারণে তিনি কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছিলেন এবং লিখনকার্য তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল, ফলে তাঁর মেধা থমকে গিয়েছিল এবং তিনি কেবল সংকলনেই মনোযোগী ছিলেন।"
ইবনে কাজী শুহবাহ বলেন: "যখন তিনি সিরিয়ায় প্রবেশ করলেন, তখন লোকেরা তাঁর রচিত কিতাবগুলোর অনেক জটিল বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা শুরু করলেন, কিন্তু তিনি সে সম্পর্কে কিছুই অনুভব করতে পারলেন না এবং কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। তাই তাঁরা তাঁর সম্পর্কে বললেন: তিনি একজন অনুলিপিকার যিনি অনেক ভুল করেন। মৃত্যুর আগে তাঁর মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছিল, ফলে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পুত্র তাঁকে মানুষের কাছ থেকে আড়ালে রেখেছিলেন।"
হাফেজ ইবনে জিহি বলেন: "মিশরীয়রা তাঁকে তাঁর রচনাসমূহ চুরির অপবাদ দিতেন—অর্থাৎ ইজ্জুদ্দীন ইবনে জামাআহ-এর রচনাসমূহ। কেননা তিনি কোনো কিছুই স্মৃতিতে রাখতে পারতেন না, কোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়েরও যাচাই-বাছাই করতেন না এবং মানুষের কিতাব থেকে স্রেফ অনুলিপি করার ঢঙে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করতেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১১)
•
مكانته العلمية:كان لابن الملقن وزن راسخ بين أقرانه وعلماء عصره، فدرس وأفتى، وبرع في العلوم الشرعية، واشتهر اسمه وطار صيته، وصنف التصانيف الكثيرة في أنواع العلوم، واشتهرت في حياته، ونقلت إلى البلاد، ورغب الناس فيها لكثرة فوائدها وبسطها وجودة ترتيبها، وكانت براعته في التصنيف تفوق براعته في الإلقاء والاستحضار (1).
قال ابن حجر: "واعتنى بالتصنيف، فشرح كثيرًا من الكتب المشهورة: كالمنهاج، والتنبيه، والحاوي، فله على كل واحد منها عدة تصانيف، يشرح الكتاب شرحًا كبيرًا ووسطًا وصغيرًا، ويُفْرِدُ لغاته وأدلته وتصحيحه ونحو ذلك".
وقال ابن قاضي شهبة: "صنف في كل فن، فشرح الألفية في العربية، ومنهاج البيضاوي، ومختصر ابن الحاجب، وعمل الأشباه والنظائر، وجمع في الفقه كتابًا سماه "الكافي" أكثر فيه من النقول الغربية".
وكان مغرمًا بحفظ الأجزاء الحديثية حتى قيل إنه ذكر مرة أنه سمع ألف جزء حديثية.
ومن العجائب التي نُقلت لنا في ترجمة ابن الملقن أن المشايخ الثلاثة: هو والبلقيني والعراقي كانوا أعجوبة هذا العصر على رأس القرن: الشيخ البلقيني في التوسع في معرفة مذهب الشافعي، وابن الملقن في كثرة التصانيف، العراقي في معرفة الحديث وفنونه، وكل من الثلاثة ولد قبل الآخر بسنة ومات قبله بسنة.
--------------------------------------------
তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা:ইবনুল মুলাক্কিনের তাঁর সমসাময়িক ও যুগের আলেমদের মধ্যে এক সুদৃঢ় অবস্থান ছিল। তিনি অধ্যাপনা করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং শরয়ী ইলমসমূহে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তাঁর নাম ও খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই সেগুলো প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাঁর কিতাবসমূহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছেছিল এবং মানুষ সেগুলোর প্রচুর উপকারিতা, বিস্তারিত আলোচনা ও চমৎকার বিন্যাসের কারণে সেগুলোর প্রতি আগ্রহী ছিল। গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা বক্তৃতা প্রদান ও স্মৃতি থেকে উপস্থাপনের দক্ষতার চেয়েও বেশি ছিল (১)।
ইবনে হাজার বলেন: "তিনি গ্রন্থ রচনার প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেছিলেন। ফলে তিনি 'আল-মিনহাজ', 'আত-তানবিহ' এবং 'আল-হাউয়ি'র মতো অনেক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। এর প্রত্যেকটির উপর তাঁর একাধিক রচনা রয়েছে; তিনি মূল গ্রন্থটিকে বৃহৎ, মাঝারি ও সংক্ষিপ্ত—এই তিন স্তরে ব্যাখ্যা করতেন। আবার কখনও এগুলোর শব্দবিশ্লেষণ, দলীলসমূহ এবং বিশুদ্ধতা নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করতেন।"
ইবনে কাযী শুহবাহ বলেন: "তিনি প্রত্যেক শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি আরবী ব্যাকরণে 'আলফিয়্যাহ'র ব্যাখ্যা লিখেছেন, বায়যাবীর 'মিনহাজ', ইবনুল হাজিবের 'মুখতাসার' এবং 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর' রচনা করেছেন। ফিকহ শাস্ত্রে তিনি 'আল-কাফি' নামে একটি গ্রন্থ সংকলন করেন, যাতে তিনি প্রচুর পরিমাণে দুর্লভ উদ্ধৃতি সমাবেশ করেছেন।"
হাদীসের বিভিন্ন খণ্ড (জুয) মুখস্থ করার প্রতি তাঁর অত্যন্ত অনুরাগ ছিল, এমনকি বলা হয় যে তিনি একবার উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি হাদীসের এক হাজারটি খণ্ড শ্রবণ করেছেন।
ইবনুল মুলাক্কিনের জীবনীতে বর্ণিত বিস্ময়কর বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো—তিনজন শায়খ: তিনি, আল-বুলকিনী এবং আল-ইরাকী শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে এ যুগের বিস্ময় ছিলেন। শায়খ বুলকিনী শাফেয়ী মাযহাবের গভীর জ্ঞানার্জনে, ইবনুল মুলাক্কিন প্রচুর গ্রন্থ রচনায় এবং আল-ইরাকী হাদীস শাস্ত্র ও এর বিভিন্ন শাখায় পারদর্শিতার জন্য অনন্য ছিলেন। এই তিনজনের প্রত্যেকেই একে অপরের চেয়ে এক বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং এক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১২)
•
تصانيفه (1):
اشتهر ابن الملقن بكثرة التصانيف، ورَزقه الله فيها قبولًا فطارت شهرتُها في الآفاق وعُرفت بالتنقيح والتحقيق، ومن أبرزها:
1 - أخبار قضاة مصر (2).
2 - إرشاد النبيه إلى تصحيح التنبيه (3).
3 - الإشارات إلى ما وقع في المنهاج من الأسماء والأماكن واللغات (4).
4 - الأشباه والنظائر: وهو كتاب "القواعد" هذا.
5 - الإشراف على أطراف الكتب الستة (5).
6 - الإعلام بفوائد عمدة الأحكام (6).
7 - الاعتراض على مستدرك الحاكم (7).
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলী (১):
ইবনুল মুলাক্কিন তাঁর প্রচুর সংখ্যক রচনার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর এ সকল রচনায় কবুলিয়্যাত দান করেছেন যে, দিগন্তজুড়ে এগুলোর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং এগুলো পরিমার্জন ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের জন্য পরিচিতি লাভ করে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
১ - আখবারু কুদাতু মিসর (মিসরের বিচারকদের সংবাদ) (২)।
২ - ইরশাদুন নাবিহ ইলা তাসহিহিত তানবিহ (৩)।
৩ - আল-ইশারাত ইলা মা ওয়াকাআ ফিল মিনহাজ মিনাল আসমা ওয়াল আমাকিন ওয়াল লুগাত (৪)।
৪ - আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর: আর এটিই হলো বর্তমানের এই "কাওয়াইদ" (মূলনীতিমালা) গ্রন্থটি।
৫ - আল-ইশরাফ আলা আতরাফিল কুতুবিস সিত্তাহ (৫)।
৬ - আল-ইলাম বি-ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম (৬)।
৭ - আল-ইতিরাদ আলা মুস্তাদরাকিল হাকিম (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
8 - الاعتراض على المنهاج (1).
9 - إكمال تهذيب الكمال (2).
10 - أمنية النبيه فيما يرد على تصحيح التنبيه (3).
11 - إنجاز الوعد الوافي في شرح جامع الترمذي (4).
12 - إيضاح الارتياب في معرفة ما يشتبه ويتصحف من الأسماء والأنساب والألفاظ والكنى والألقاب الواقعة في تحفة المحتاج إلى أحاديث المنهاج (5).
13 - البدر المنير في تخريج الأحاديث والآثار الواقعة في الشرح الكبير للرافعي (6).
14 - البُلغة في الحديث على ترتيب المنهاج (7).
15 - التأديب في مختصر التدريب في الفقه (8).
--------------------------------------------
৮ - আল-ইতিরাজ আলাল মিনহাজ (১)।
৯ - ইকমালু তাহজীবিল কামাল (২)।
১০ - উমনিয়াতুন নাবিহ ফিমা ইয়ারুদদু আলা তাসহিহিত তানবিহ (৩)।
১১ - ইনজাযুল ওয়াদিল ওয়াফি ফি শারহি জামিয়িত তিরমিজি (৪)।
১২ - ইয়াদাহুল ইরতিয়াব ফি মারিফাতি মা ইয়াসতাবিহু ওয়া ইয়াতাসাহহাফু মিনাল আসমায়ি ওয়াল আনসাবি ওয়াল আলফাজি ওয়াল কুনা ওয়াল আলক্বাব আল-ওয়াকিআতি ফি তুহফাতিল মুহতায ইলা আহাদিসিল মিনহাজ (৫)।
১৩ - আল-বাদরুল মুনির ফি তাখরিজিল আহাদিসি ওয়াল আসারিল ওয়াকিআতি ফিশ শারহিল কাবির লির-রাফিয়ি (৬)।
১৪ - আল-বুলগাহ ফিল হাদিস আলা তারতিবিল মিনহাজ (৭)।
১৫ - আত-তাদিব ফি মুখতাসারিত তাদরিব ফিল ফিকহ (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
16 - تاريخ بيت المقدس (1).
17 - تاريخ الدولة التركية (2).
18 - تحرير الفتاوى الواقعة في الحاوي (3).
19 - تحفة المحتاج إلى أدلة المنهاج (4).
20 - تخريج أحاديث المهذب، سماه المحرر - في مجلدين (5)
21 - تخريج أحاديث الوسيط (6).
22 - تخريج أحاديث منهاج الأصول للبيضاوي (7).
23 - تذكرة الأخيار بما في الوسيط من الأخبار (8).
24 - التذكرة في علوم الحديث (9).
--------------------------------------------
১৬ - বায়তুল মাকদিসের ইতিহাস (১)।
১৭ - তুর্কি রাষ্ট্রের ইতিহাস (২)।
১৮ - আল-হাউই গ্রন্থে বর্ণিত ফাতাওয়াসমূহের সম্পাদনা (৩)।
১৯ - তুহফাতুল মুহতাজ ইলা আদিলাতিল মিনহাজ (মিনহাজের দলীলসমূহের প্রতি মুখাপেক্ষীদের জন্য উপহার) (৪)।
২০ - আল-মুহাযযাব-এর হাদীসসমূহের তাখরীজ, যার নামকরণ করেছেন আল-মুহাররার - দুই খণ্ডে (৫)
২১ - আল-ওয়াসীত-এর হাদীসসমূহের তাখরীজ (৬)।
২২ - বায়যাওয়ীর মিনহাজুল উসূল-এর হাদীসসমূহের তাখরীজ (৭)।
২৩ - তাযকিরাতুল আখইয়ার বিমা ফিল ওয়াসীত মিনাল আখবার (আল-ওয়াসীত-এর বর্ণনাসমূহ নিয়ে নেককারদের জন্য স্মারক) (৮)।
২৪ - আত-তাযকিরাহ ফি উলূমিল হাদীস (হাদীস শাস্ত্রের আলোচনা) (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
25 - التذكرة في الفقه على مذهب الإمام الشافعي (1).
26 - تذكرة المبتدي وتبصرة المنتهى (2).
27 - تذكرة المحتاج إلى أحاديث المنهاج (3).
28 - ترجمان شعب الإيمان (4).
29 - تصحيح الحاوي في الفروع (4).
30 - تصحيح المنهاج للنووي في الفروع (4).
31 - تفسير غريب القرآن (5).
32 - تلخيص مسند الإمام أحمد، وصحيح ابن حِبَّان (6)
33 - تلخيص الوقوف على الموقوف (7).
34 - التوضيح لشرح الجامع الصحيح (8).
35 - جمع الجوامع في الفروع (4).
--------------------------------------------
২৫ - ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের স্মারক (১)।
২৬ - শিক্ষার্থীর স্মারক ও অভিজ্ঞের অন্তর্দৃষ্টি (২)।
২৭ - আল-মিনহাজ গ্রন্থের হাদিসসমূহের জন্য অভাবীদের স্মারক (৩)।
২৮ - শুআবুল ঈমানের অনুবাদক (৪)।
২৯ - ফুরু বা শাখা জ্ঞান বিষয়ক আল-হাবী গ্রন্থের সংশোধন (৪)।
৩০ - শাখা জ্ঞান বিষয়ক ইমাম নববীর আল-মিনহাজ গ্রন্থের সংশোধন (৪)।
৩১ - কুরআনের বিরল বা কঠিন শব্দাবলির তাফসির (৫)।
৩২ - ইমাম আহমাদের মুসনাদ এবং সহীহ ইবনে হিব্বানের সারসংক্ষেপ (৬)
৩৩ - আল-উকুফ আলাল মাওকুফ-এর সারসংক্ষেপ (৭)।
৩৪ - আল-জামে আস-সহীহ-এর ব্যাখ্যার স্পষ্টীকরণ (৮)।
৩৫ - শাখা জ্ঞান বিষয়ক জামউল জাওয়ামি (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
36 - حدائق الحقائق في الحديث (1).
37 - خصائص النبوة (2).
38 - خلاصة البدر المنير في تخريج الأحاديث والآثار الواقعة في الشرح الكبير للرافعي (3).
39 - خلاصة الفتاوي في تسهيل أسرار الحاوي (4).
40 - درر الجواهر في مناقب الشيخ عبد القادر (5).
41 - الذيل على الطبقات (6).
42 - شرح الأربعين النووية (7).
43 - شرح ألفية ابن مالك في النحو (8).
--------------------------------------------
৩৬ - হাদিসের ক্ষেত্রে হাদায়েকুল হাকায়েক (১)।
৩৭ - খাসাইসুন নুবুওয়াহ (নবুওয়াতের বৈশিষ্ট্যসমূহ) (২)।
৩৮ - রাফিয়ীর ‘আশ-শারহুল কাবীর’-এ বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ বিষয়ে ‘খুলাসাতুল বদরিল মুনীর’ (৩)।
৩৯ - ‘আসরারুল হাভী’ সহজীকরণে ‘খুলাসাতুল ফাতাওয়া’ (৪)।
৪০ - শায়খ আব্দুল কাদিরের মানাকিব (মর্যাদা) বর্ণনায় ‘দুরারুল জাওয়াহির’ (৫)।
৪১ - আদ-যায়লু আলাত তাবাকাত (৬)।
৪২ - শারহুল আরবাঈন আন-নববী (৭)।
৪৩ - নাহু শাস্ত্রে ইবনে মালিকের আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
44 - شرح الحاوي الصغير للقزويني في الفروع (1).
45 - شرح صحيح البخاري في عشرين مجلدة (2)، ولعله التوضيح.
46 - شرح زوائد مسلم، والي داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجة (3)
47 - شرح مختصر ابن الحاجب (4).
48 - شرح مختصر التبريزي في "الفروع" (5).
49 - شرح منهاج الوصول في الأصول للبيضاوي (6).
50 - طبقات الأولياء ومناقب الأصفياء (7).
51 - طبقات المحدثين (8).
52 - طبقات القراء (9).
--------------------------------------------
44 - ফুরু বা ব্যবহারিক ফিকহের ওপর কাজভীনী রচিত আল-হাভী আস-সাগীর-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (১)।
45 - বিশ খণ্ডে সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (২), সম্ভবত এটি আত-তাওদীহ।
46 - মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহর অতিরিক্ত হাদিসসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৩)
47 - মুখতাসার ইবনে আল-হাজিব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৪)।
48 - "ফুরু" বা ব্যবহারিক ফিকহের ওপর মুখতাসার আত-তাবরীযী-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৫)।
49 - বায়যাভী রচিত উসূলুল ফিকহের গ্রন্থ মিনহাজুল উসূল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৬)।
50 - তবাকাতুল আউলিয়া ওয়া মানাকিবুল আসফিয়া (৭)।
51 - তবাকাতুল মুহাদ্দিসীন (৮)।
52 - তবাকাতুল কুররা (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
53 - عجالة المحتاج إلى توجيه المناهج (شرح لمنهاج الطالبين للنووي) (1).
54 - العقد المذهب في حملة المذهب (طبقات الشافعية) (2).
55 - عقود الكمام في متعلقات الحمام (3).
56 - عمدة المفيد وتذكرة المستفيد (4).
57 - غاية مأمول الراغب في معرفة أحاديث ابن الحاجب (5).
58 - غنية الفقيه في شرح التنبيه لأبي إسحاق الشيرازي (6).
59 - الكافي في فروع المذهب الشافعي (7).
60 - ما تمس إليه الحاجة على سنن ابن ماجة (8).
61 - مختصر استدراك الحافظ الذهبي على مستدرك الحاكم (9).
--------------------------------------------
৫৩ - উজালতুল মুহতাজ ইলা তাওজিহিল মানাহিজ (নববীর মিনহাজুত তালিবীন-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ) (১)।
৫৪ - আল-ইকদুল মুযাহহব ফী হামালাতিল মাযহাব (শাফেয়ী মাযহাবের জীবনীগ্রন্থ) (২)।
৫৫ - উকূদুল কিমাম ফী মুতাআল্লাকাতিল হাম্মাম (৩)।
৫৬ - উমদাতুল মুফীদ ওয়া তাযকিরাতুল মুস্তাফীদ (৪)।
৫৭ - গায়াতু মামূলির রাগিব ফী মারিফাতি আহাদীসি ইবনিল হাজিব (৫)।
৫৮ - আবু ইসহাক আল-শিরাজীর আত-তানবীহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ গুনিয়াতুল ফকীহ (৬)।
৫৯ - আল-কাফী ফী ফুরুয়িল মাযহাবিশ শাফেয়ী (৭)।
৬০ - মা তামাসসু ইলাইহিল হাজাহ আলা সুনানি ইবনি মাজাহ (৮)।
৬১ - হাকেমের মুসতাদরাক-এর ওপর হাফেজ যাহাবীর ইসতিদরাক-এর সংক্ষিপ্তসার (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
62 - مختصر إيضاح الارتياب في معرفة ما يشتبه ويتصحف من الأسماء والأنساب والألقاب (1).
63 - مختصر تهذيب الكمال للمزي ورجال الكتب الستة الزائدة على ذلك: مسند أحمد، وصحيحي ابن خزيمة وابن حبان، ومستدرك الحاكم، وسنن الدارقطني والبيهقي (2).
64 - المعين على تفهم الأربعين (3).
65 - المغني في تلخيص كتاب ابن بدر (4).
66 - المقنع في علوم الحديث (5).
67 - المنتقى من الخلاصة للبدر المنير (6).
68 - الناسك لأم المناسك (7).
69 - نزهة العارفين من تواريخ المتقدمين (7).
--------------------------------------------
৬২ - ইযাহুল ইরতিয়াব ফি মারিফাতি মা ইয়াশতাবিহু ওয়া ইয়াতাসাহহাফু মিনাল আসমা ওয়াল আনসাব ওয়াল আলকাব-এর সংক্ষিপ্তসার (১)।
৬৩ - মিযযির তাহযিবুল কামাল এবং এর সাথে কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত গ্রন্থসমূহের—অর্থাৎ মুসনাদে আহমাদ, সহিহ ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বান, হাকেমের মুস্তাদরাক এবং সুনানে দারা কুতনি ও বায়হাকি-র—রিজাল শাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার (২)।
৬৪ - আল-মুঈন আলা তাফহিমিল আরবাঈন (৩)।
৬৫ - আল-মুগনি ফি তালখিসি কিতাব ইবনে বদর (৪)।
৬৬ - আল-মুকনি ফি উলুমিল হাদিস (৫)।
৬৭ - আল-মুন্তাকা মিনাল খুলাসাহ লিল বদরিল মুনির (৬)।
৬৮ - আন-নাসিক লি উম্মিল মানাসিক (৭)।
৬৯ - নুযহাতুল আরিফিন মিন তাওয়ারিখিল মুতাকদ্দিমিন (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২০)
70 - نزهة النظار في قضاة الأمصار (1).
71 - النكت اللطاف في بيان الأحاديث الضعاف (2).
72 - النكت على الحاوي (3).
73 - هادي النبيه في شرح التنبيه (4).
هذه جُملةٌ من مصنفات العلامة ابن الملقن وبيان بالمطبوع منها والمخطوط، مع الإعلام بأن هذا العدد المذكور لا يتجاوز ثلث ما كتبه ابن الملقن، فقد قال بعضهم: "بلغت مصنفاته نحو ثلاثمائة مصنَّف" (5).
•
وفاته:وبعد عُمُر زاخم بالتدريس والإفتاء والقضاء والتصنيف والترحال، أذنت شمس السراج بن الملقن بالمغيب ليلة الجمعة سادس عشر ربيع الأول، سنة أربع وثمانمائة من الهجرة (804 هـ)، ودفن بحوش الصوفية خارج باب النصر، بالقاهرة.
رحم الله العلامة ابن الملقن
* * *
--------------------------------------------
৭০ - নুজহাতুন নাজ্জার ফী কুদাতিল আমসার (১)।
৭১ - আন-নুকাতুল লাতাফ ফী বায়ানিল আহাদিসিজ যি'আফ (২)।
৭২ - আন-নুকাত আলাল হাবী (৩)।
৭৩ - হাদিন নাবিহ ফী শারহিত তানবিহ (৪)।
এগুলো আল্লামা ইবনুল মুলাক্কিনের রচনাবলির একটি অংশ এবং এর মধ্যে যেগুলো মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে তার বিবরণ। এর সাথে এটিও জানিয়ে রাখা প্রয়োজন যে, উল্লিখিত এই সংখ্যাটি ইবনুল মুলাক্কিন যা লিখেছেন তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি নয়। কেননা কেউ কেউ বলেছেন: "তাঁর রচনাবলি প্রায় তিনশত পর্যন্ত পৌঁছেছে" (৫)।
•
তাঁর মৃত্যু:অধ্যাপনা, ফতোয়া প্রদান, বিচারকার্য, গ্রন্থ রচনা এবং দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণের বৈচিত্র্যময় এক দীর্ঘ জীবনের পর, হিজরি ৮০৪ সনের ১৬ই রবিউল আউয়াল শুক্রবার দিবাগত রাতে সিরাজ ইবনুল মুলাক্কিনের জীবন-সূর্য অস্তমিত হয়। কায়রোর বাবুন নাসরের বাইরে হাওশুস সূফিয়্যাহ নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
আল্লাহ তাআলা আল্লামা ইবনুল মুলাক্কিনকে রহম করুন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২১)
تعريفٌ بأهم المصطلحات الجارية في علم القواعد الفقهية
ফিকহি মূলনীতি শাস্ত্রে প্রচলিত সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাসমূহের পরিচিতি
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعريفٌ بأهم المصطلحات الجارية في علم القواعد الفقهية
القاعدة الفقهية[تعريفها لغة واصطلاحًا - أهميتها - الاستدلال بها - علاقتها بالفقه وأصوله - حكم تعلمها - أقسامها]
أولًا: تعريفها:وتعرف باعتبارين هما: الوصفية والعلمية:
فباعتبار الوصفية [أي: التركيب، : لفظ مؤلف من جزئين: أحدهما: القواعد، والآخر: الفقهية.
القاعدة في اللغة: الأساس، فالقاف والعين والدال تدل على الاستقرار والثبات.
وقواعد البيت: أسسه، وتجمع على قواعد، ومنه قوله عز وجل: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ} [البَقَرَة: الآية 127]، وقوله: {فَأَتَى اللَّهُ بُنْيَانَهُمْ مِنَ الْقَوَاعِد} [النّحل: الآية 26].
فالقواعد: أسس الشيء وأصوله حسيًّا كان هذا الشيء كقواعد البيت، أو معنويًا كقواعد الشريعة (1).
--------------------------------------------
কাওয়াইদে ফিকহিয়্যাহ শাস্ত্রে প্রচলিত গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগুলোর পরিচয়
আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ[এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা - এর গুরুত্ব - এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ - ফিকহ ও উসুলে ফিকহ এর সাথে এর সম্পর্ক - এটি শিক্ষা করার বিধান - এর প্রকারভেদ]
প্রথমত: এর সংজ্ঞা:একে দুটি দিক বিবেচনায় সংজ্ঞায়িত করা হয়, যথা: বর্ণনামূলক ও পারিভাষিক:
বর্ণনামূলক তথা কাঠামোগত বিবেচনায়: এটি দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত একটি শব্দবন্ধ: যার একটি হলো ‘কাওয়াইদ’ এবং অপরটি হলো ‘ফিকহিয়্যাহ’।
আভিধানিক অর্থে ‘কায়েদাহ’ হলো: ভিত্তি। কেননা ‘কাফ’, ‘আইন’ ও ‘দাল’ বর্ণত্রয় স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তার অর্থ প্রদান করে।
ঘরের ‘কাওয়াইদ’ বলতে এর ভিত্তিসমূহকে বোঝায়, যা ‘কায়েদাহ’ শব্দের বহুবচন। এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করো যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল ঘরের ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিল} [সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ১২৭], এবং তাঁর বাণী: {ফলে আল্লাহ তাদের ইমারতের ভিত্তিতে আঘাত করলেন} [সূরা আন-নাহল: আয়াত ২৬]।
সুতরাং ‘কাওয়াইদ’ হলো কোনো বিষয়ের ভিত্তি ও মূলনীতি, তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হোক—যেমন ঘরের ভিত্তি, অথবা অর্থগত হোক—যেমন শরিয়তের মূলনীতিসমূহ (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والفقه في اللغة: الفهم (1)، وفي الاصطلاح: هو العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسبة من أدلتها التفصيلية (2).
والفقهية: مصدر صناعي من الفقه.
والقاعدة اصطلاحًا (3): "هي قضية كلية منطقة على جميع جزئياتها".
وقيل: "قضية كلية من حيث اشتمالها بالقوة على أحكام جزئيات موضوعها".
وقيل: "هي الأمر الكلي الذي ينطبق على جزئيات كثيرة تُفهم أحكامها منه".
وقيل: "حكم كلي ينطبق على جزئياته ليتعرف أحكامها منه".
--------------------------------------------
আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো: অনুধাবন (১), এবং পারিভাষিক অর্থে: এটি হলো বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে আহরিত আমল-সম্পর্কিত শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান (২)।
এবং ফিকহিয়্যাহ: এটি ফিকহ শব্দ থেকে গঠিত একটি কৃত্রিম মাসদার।
এবং পারিভাষিক অর্থে কায়েদাহ (৩): "এটি এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা তার সকল খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য।"
বলা হয়েছে: "এটি এমন একটি সামগ্রিক বিষয়, যা সম্ভাব্যভাবে তার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্গত খুঁটিনাটি বিষয়সমূহের বিধানাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।"
বলা হয়েছে: "এটি এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়, যার মাধ্যমে সেগুলোর বিধানাবলি জানা যায়।"
বলা হয়েছে: "এটি একটি সামগ্রিক বিধান যা এর অন্তর্ভুক্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য হয়, যাতে সেগুলোর বিধানাবলি এর মাধ্যমে জানা যায়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويمكن الخلوص من هذه التعريفات للقاعدة الفقهية بتعريف مناسب على النحو التالي فنقول:
القاعدة الفقهية: "هي أصل فقهي كلي يتضمن أحكامًا تشريعية عامة من أبواب متعددة في القضايا التي تدخل تحت موضوعه" (1).
أما تعريف القواعد الفقهية باعتبار العلمية [أي: باعتبارها لقبًا وعَلَمًا على الفن المخصوص، : فهي العلم بالأحكام الكلية الفقهية التي تنطق على جزئيات تُعرف أحكامها منها (2).
وقيل: هي القضايا الكلية الفقهية التي جزئيات كل قضية فيها تمثل قضايا كلية فقهية.
ثانيًا: أهمية القواعد الفقهية:إن لدراسة القواعد الفقهية أثرًا عظيمًا نافعًا في بناء الملكات الفقهية وتدعيم شخصية الفقيه، ومن فوائد تعلمها (3):
1 - أنها تجعل الإنسان لا يضطرب في المسائل الفقهية، فإنه من سار على
--------------------------------------------
ফিকহী মূলনীতির এই সংজ্ঞাগুলো থেকে নিম্নোক্তভাবে একটি উপযুক্ত সংজ্ঞায় উপনীত হওয়া সম্ভব, আমরা বলি:
ফিকহী মূলনীতি: "এটি একটি সামগ্রিক ফিকহী মূলনীতি, যা এর বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ইস্যুগুলোতে বিভিন্ন অধ্যায় থেকে সাধারণ শরয়ী বিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে" (১)।
আর স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে ফিকহী মূলনীতির সংজ্ঞা [অর্থাৎ নির্দিষ্ট একটি বিদ্যার নাম হিসেবে]: এটি এমন একটি বিদ্যা যা সামগ্রিক ফিকহী বিধানাবলি নিয়ে আলোচনা করে, যা এমন সব শাখা-প্রশাখার ওপর প্রযোজ্য হয় যার বিধানগুলো এ থেকে জানা যায় (২)।
আর বলা হয়েছে: এগুলো হলো ফিকহী সামগ্রিক বিষয়াবলি, যার অন্তর্গত প্রতিটি বিষয়ের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সামগ্রিক ফিকহী বিষয় হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে।
দ্বিতীয়ত: ফিকহী মূলনীতিসমূহের গুরুত্ব:ফিকহী মূলনীতিসমূহ অধ্যয়নের ফলে ফিকহী প্রজ্ঞা নির্মাণে এবং একজন ফকীহর ব্যক্তিত্ব সুদৃঢ় করতে এক মহান ও উপকারী প্রভাব রয়েছে। আর এটি শেখার কিছু উপকারিতা হলো (৩):
১ - এটি মানুষকে ফিকহী মাসআলাসমূহে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচায়; কারণ যে ব্যক্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قاعدة فقهية كانت أحكامه الفقهية سائرة على منهج واحد، أما من لم يراع القواعد
الفقهية فإن ترجيحاته تكون مضطربة غير سائرة على منهج واحد.
2 - أن علم القواعد يجعل المرء يعرف أسرار الشريعة ويفقه المقاصد التي تقصدها من خلال تقرير الأحكام الفقهية.
3 - أن القواعد الفقهية موجزة الألفاظ سهلة العبارات يمكن للفقيه أن يحيط بها وأن يحفظها بخلاف الفروع الفقهية.
4 - أن القواعد الفقهية تعطي دارسها القدرة على استعمال القياس، فإنه عندما يعرف العلة التي من أجلها ثبت الحكم الحق بقية المسائل بهذه المسألة؛ كما أنه يكون قادرًا بها على معرفة حكم النوازل الجديدة، فإنه عندما يعرف علل الأحكام والقواعد التي ترد إليها الأحكام يكون بذلك عارفًا بأحكام النوازل الجديدة.
وقد أكد العلماء والمحققون قديمًا وحديثًا على ضرورة الاهتمام بالقواعد الفقهية تصنيفًا وتدريسًا وضبطًا.
يقول الشهاب القرافي: "وهذه القواعد مهمة في الفقه، عظيمة النفع، وبقدر الإحاطة بها يعلو قدر الفقيه ويشرف، ويظهر رونق الفقه ويعرف، وتتضح مناهج الفتاوى وتكشف، فيها تنافس العلماء وتفاضل الفضلاء، وبرز القارح على الجذع، وحاز قصب السبق من فيها برع، ومن جعل يخرج الفروع بالمناسبات الجزئية دون القواعد الكلية تناقضت عليه الفروع واختلفت وتزلزلت خواطره فيها واضطربت، وضاقت نفسه لذلك وقنطت، واحتاج إلى حفظ الجزئيات التي لا تتناهى، وانتهى العمر ولم تقض نفسه من طِلْبة مناها، ومن ضبط الفقه بقواعده استغنى عن حفظ أكثر الجزئيات لإندراجها في الكليات، واتحد عنده ما تناقض
ফিকহী মূলনীতি; তার ফিকহী বিধানগুলো একটি নির্দিষ্ট মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর পরিচালিত হয়। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি ফিকহী মূলনীতিসমূহ বিবেচনা করে না, তার অগ্রাধিকার প্রদানসমূহ (তারজিহ) অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির ওপর পরিচালিত হয় না।
২ - মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম একজন মানুষকে শরীয়তের রহস্যসমূহ জানতে সাহায্য করে এবং ফিকহী বিধানসমূহ নির্ধারণের মাধ্যমে শরীয়ত যে উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদ) হাসিল করতে চায়, তা বুঝতে সাহায্য করে।
৩ - ফিকহী মূলনীতিসমূহ শব্দচয়নে সংক্ষিপ্ত এবং বাক্যগঠনে সহজ; একজন ফকীহ এগুলো আয়ত্ত করতে এবং মুখস্থ রাখতে পারেন, যা ফিকহী শাখা-প্রশাখাগুলোর (ফুরু) ক্ষেত্রে ভিন্নতর।
৪ - ফিকহী মূলনীতিসমূহ এর শিক্ষার্থীকে কিয়াস (তূলনামূলক অনুমান) ব্যবহারের সক্ষমতা প্রদান করে। কারণ, যখন সে সেই কারণটি (ইল্লত) জানতে পারে যার জন্য বিধানটি সাব্যস্ত হয়েছে, তখন সে অন্যান্য মাসআলাগুলোকে এই মাসআলার সাথে যুক্ত করতে পারে। একইভাবে এর মাধ্যমে সে নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতিগুলোর (নাওয়াযিল) বিধান সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়। কেননা যখন সে বিধানগুলোর কারণ এবং সেই মূলনীতিগুলো জানতে পারে যার দিকে বিধানগুলো ফিরে যায়, তখন সে নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির বিধানসমূহ সম্পর্কেও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে।
প্রাচীন ও বর্তমানকালের আলেম ও গবেষকগণ ফিকহী মূলনীতিসমূহ সংকলন, শিক্ষাদান এবং আয়ত্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শিহাব আল-কারাফী বলেন: "এই মূলনীতিসমূহ ফিকহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপকভাবে কল্যাণকর। এগুলো আয়ত্ত করার মাত্রানুযায়ী একজন ফকীহর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় ও তিনি সম্মানিত হন, ফিকহের সৌন্দর্য প্রকাশিত ও পরিচিত হয় এবং ফতোয়া প্রদানের পদ্ধতিসমূহ সুস্পষ্ট ও উন্মোচিত হয়। এ বিষয়েই আলেমগণ একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেছেন এবং গুণীজনরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। অভিজ্ঞ ব্যক্তি নবীনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন এবং যে এতে পারদর্শী হয়েছেন তিনি সফলতার উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি সামগ্রিক মূলনীতি ছাড়াই আংশিক সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখাগুলোর (ফুরু) সমাধান বের করতে চায়, তার কাছে শাখা-প্রশাখাগুলো পরস্পরবিরোধী ও বৈচিত্র্যময় মনে হয়, সে বিষয়ে তার চিন্তাচেতনা টালমাটাল ও অস্থির হয়ে পড়ে এবং এতে তার মন সংকীর্ণ ও হতাশ হয়ে যায়। তখন তাকে অগণিত খুঁটিনাটি বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজন পড়ে এবং তার জীবন ফুরিয়ে যায় কিন্তু তার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূর্ণ হয় না। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি ফিকহকে তার মূলনীতিসহ আয়ত্ত করে, সে অধিকাংশ খুঁটিনাটি বিষয় মুখস্থ করা থেকে অব্যহতি পায়; কারণ সেগুলো সামগ্রিক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং তার কাছে আপাত বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোও সুসমন্বিত হয়ে ধরা দেয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عند غيره وتناسب، وأجاب الشاسع البعيد وتقارب، وحصل طلبته في أقرب الأزمان، وانشرح صدره لما أشرق فيه من البيان" (1).
وبقول الحافظ ابن رجب الحنبلي: "فهذه قواعد مهمة وفوائد جمة تضبط للفقيه أصول المذهب، وتطلعه من مآخذ الفقه على ما كان عنه قد تغيب، وتنظم له منثور المسائل في سلك واحد، وتقيد له الشوارد، وتقرب عليه كل متباعد، فلينعم الناظر فيه النظر، وليوسع العذر، إن اللبيب من عذر" (2).
ويقول التاج ابن السبكي: "حق على كل طالب التحقيق ومن يتشوف إلى المقام الأعلى في التصور والتصديق أن يُحْكِم قواعد الأحكام؛ ليرجع إليها عند الغموض، وينهض بعبء الاجتهاد أتم نهوض، ثم يؤكدها بالاستكثار من حفظ الفروع، لترسخ في الذهن مثمرة عليه بفوائد غير مقطوع فضلها ولا ممنوع، أما استخراج القوى وبذل المجهود في الاقتصار على حفظ الفروع من غير معرفة أصولها ونظم الجزئيات بدون فهم مأخذها، فلا يرضاه لنفسه ذو نفس أبية ولا حاملة من أهل العلم بالكلية" (3).
ويقول البدر الزركشي: "إن ضبط الأمور المنتشرة المتعددة في القوانين المتحدة هو أوعى لحفظها وأدعى لضبطها، وهي إحدى حكم العدد التي وضع لأجلها، والحكيم إذا أراد التعليم لابد له أن يجمع بينن بيانين إجمالي تتشوف إليه النفس، وتفصيلي تسكن إليه" (4).
--------------------------------------------
...অন্যদের কাছে যা ছিল এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে, যা সুদূর ছিল তা সাড়া দিয়েছে ও নিকটবর্তী হয়েছে, আর সে অতি অল্প সময়েই তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু অর্জন করেছে এবং তার অন্তর সেই বর্ণনার প্রভাবে প্রশস্ত হয়েছে যা সেখানে উদ্ভাসিত হয়েছে" (১)।
এবং হাফেজ ইবনু রাজাব আল-হানবালীর উক্তি: "এগুলো গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা এবং প্রচুর ফায়দা যা একজন ফকিহ-এর জন্য মাযহাবের মূলনীতিগুলোকে সুশৃঙ্খল করে, এবং ফিকহ-এর উৎসসমূহ থেকে এমন সব বিষয় তার সামনে উন্মোচন করে যা তার কাছে অনুপস্থিত ছিল। এগুলো তার জন্য বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একটি সুতায় গেঁথে দেয়, দুর্লভ বিষয়গুলোকে আয়ত্তে আনে এবং প্রতিটি দূরবর্তী বিষয়কে তার নিকটবর্তী করে দেয়। সুতরাং পাঠক যেন এতে গভীর দৃষ্টিপাত করেন এবং ভুলত্রুটির ক্ষেত্রে মার্জনার পরিধি প্রশস্ত করেন, নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই যে ক্ষমা করে" (২)।
আর তাজ ইবনুস সুবকী বলেন: "প্রত্যেক সত্য অনুসন্ধানী এবং ইলম ও উপলব্ধির সর্বোচ্চ মাকামে পৌঁছাতে ইচ্ছুক ব্যক্তির কর্তব্য হলো আহকামের নীতিমালাগুলোতে পারদর্শিতা অর্জন করা; যাতে অস্পষ্টতার সময় তিনি সেগুলোর দিকে ফিরে আসতে পারেন এবং ইজতিহাদের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করতে পারেন। অতঃপর অধিক পরিমাণে শাখা মাসআলা মুখস্থ করার মাধ্যমে তিনি সেগুলোকে সুদৃঢ় করবেন, যাতে তা হৃদয়ে এমনভাবে প্রোথিত হয় যা এমন সব নিরবচ্ছিন্ন ও অবারিত উপকার দেয় যা কখনো শেষ হবার নয়। পক্ষান্তরে, মূলনীতি না জেনে কেবল শাখা মাসআলা মুখস্থ করা এবং উৎস না বুঝে খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে বিন্যস্ত করার পেছনে শ্রম ও শক্তি ব্যয় করা এমন কাজ যা কোনো আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি কিংবা ইলমের বাহক মোটেও নিজের জন্য পছন্দ করবেন না" (৩)।
আর বদর আয-যারকাশী বলেন: "বিক্ষিপ্ত ও বহুমুখী বিষয়গুলোকে অভিন্ন নিয়মের অধীনে আনা তা মুখস্থ রাখার জন্য অধিকতর সহায়ক এবং আয়ত্তে রাখার জন্য অধিকতর কার্যকর। এটি গণনার সেই হিকমতগুলোর একটি যার জন্য তা প্রবর্তন করা হয়েছে। আর প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি যখন শিক্ষা দিতে চান, তখন তাকে অবশ্যই দুই ধরণের বর্ণনার সমন্বয় করতে হয়: একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা যার প্রতি মন লালায়িত হয় এবং একটি বিস্তারিত বর্ণনা যার মাধ্যমে মন প্রশান্তি পায়" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وبقول الزين بن نجيم: "معرفة القواعد التي تردُّ إليها وفرعوا الأحكام عليها، وهي أصول الفقه في الحقيقة، وبها يرتقي الفقيه إلى درجة الاجتهاد ولو في الفتوى" (1).
ثالثًا: الاستدلال بالقواعد الفقهية:ونعنى بالاستدلال بالقواعد الفقهية: أن القاعدة الفقهية: إن كانت مبنية على نصٍّ شرعي صحيح السند والمعنى، فإنما الحجة تكون بالنص الدال عليها في كون هذه القاعدة كليةً تخرج عليها فروع شتى؛
مثل قاعدة: "الضرر يزال"، فإن أصلها قوله صلى الله عليه وسلم: "لا ضرر ولا ضرار".
وقاعدة: "الأمور بمقاصدها"، فإن أصلها قوله صلى الله عليه وسلم "إنما الأعمال بالنيات".
وقاعدة: "العادة محكَّمة"، فإن أصلها قوله صلى الله عليه وسلم: "ما رآه المسلمون حسنًا فهو عند الله حسن".
أما إن عدم النص، ونتجت القاعدة عن الاستقراء الصحيح، فالقاعدة الفقهية حجة للاستقراء، وعملًا بالظن الراجح؛ ولعموم أدلة القياس (2).
رابعًا: علاقة القواعد الفقهية بالفقه وأصوله:الفقه علم بالفروع الفقهية العملية بأدلتها التفصيلية، وأصول الفقه علم بأدلة الفقه الإجمالية، والقواعد الفقهية علم بالأحكام الكلية للفروع الفقهية.
--------------------------------------------
আর যাইন বিন নুজাইমের উক্তি: "সেই সকল মূলনীতির জ্ঞান যেগুলোর দিকে শাখা-মাসআলাসমূহকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফকীহগণ বিধানসমূহ আহরণ করেছেন; আর এটিই মূলত উসূলে ফিকহ। এর মাধ্যমেই একজন ফকীহ ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হন, যদিও তা কেবল ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে হয়।" (১)।
তৃতীয়: ফিকহী মূলনীতি দ্বারা দলিল গ্রহণ:ফিকহী মূলনীতি দ্বারা দলিল গ্রহণের অর্থ হলো: যদি ফিকহী মূলনীতিটি সহীহ সনদ ও অর্থের কোনো শরয়ী দলিলের (নাস) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই দলিলের ভিত্তিতেই মূলনীতিটি একটি সামগ্রিক বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং এর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শাখা-মাসআলা বের করা হবে;
যেমন একটি মূলনীতি: "ক্ষতি দূর করতে হবে", যার ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না।"
এবং মূলনীতি: "বিষয়াবলি তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল", যার ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।"
এবং মূলনীতি: "প্রথা বা অভ্যাস বিচার্য", যার ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "মুসলমানরা যাকে উত্তম মনে করে, তা আল্লাহর কাছেও উত্তম।"
আর যদি কোনো (সুনির্দিষ্ট) শরয়ী দলিল না থাকে এবং মূলনীতিটি সঠিক আরোহ পদ্ধতির (ইসতিখরা) মাধ্যমে উদ্ভূত হয়, তবে সেই ফিকহী মূলনীতিটি আরোহ পদ্ধতির কারণে এবং প্রবল ধারণার ভিত্তিতে আমলযোগ্য হওয়ার কারণে দলিল হিসেবে গণ্য হবে; এছাড়া কিয়াসের সাধারণ দলিলসমূহের কারণেও (২)।
চতুর্থ: ফিকহ ও উসূলে ফিকহের সাথে ফিকহী মূলনীতির সম্পর্ক:ফিকহ হলো বিস্তারিত দলিলসহ ব্যবহারিক ফিকহী শাখাসমূহ সংক্রান্ত জ্ঞান; উসূলে ফিকহ হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ সংক্রান্ত জ্ঞান; এবং ফিকহী মূলনীতি হলো ফিকহী শাখাসমূহের সামগ্রিক বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فالقواعد الفقهية أخص من الفقه، ومن أصوله.
واستمداد القواعد الفقهية من فروع الفقه وأدلته التفصيلية ومتعلقها أفعال المكلفين (1).
خامسًا: حكم تعلم القواعد الفقهية:مما سبق بيانه في أهمية دراسة القواعد الفقهية يتبين تأكدها في حكم الفقيه المتصدر للإفتاء، المعتني باستنباط الأحكام من أدلتها، فهي تضبط له أصول مذهبه، وتجمع له المنثور من الفروع في لفظ موجز سهل العبارة، وتقي أحكامه من التناقض والاضطراب، فحكم تعلم القواعد الفقهية إذًا في حق الفقيه متأكد مندوب إليه، كما يستحب لمن يشتغل بالفقه وتقنينه من الباحثين والمتخصصين أن يكون على دراية بها فهي تدعم دراسته، وتضبط بحثه، وتزين حكمه، وتقوي ترجيحه، وتطلعه على أسرار الشريعة ومقاصدها.
سادسًا: أقسام القواعد الفقهية:يمكن تقسيم القواعد الفقهية بعدة اعتبارات:
فهي باعتبار الأصالة والتبعية تنقسم إلى قسمين: أصلية - وتبعية.
• أصلية، (أو أساسية): وهي التي لا يؤول معناها إلى قاعدة أكبر منها كالقواعد الخمس الكبرى التي تعد أمهات قواعد الإسلام، ويبنى عليها معظم المسائل والأحكام، وهي:
1 - الأمور بمقاصدها.
2 - اليقين لا يزول بالشك.
--------------------------------------------
সুতরাং ফিকহী মূলনীতিসমূহ ফিকহ এবং এর উসূল অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট।
আর ফিকহী মূলনীতিসমূহের উৎস হলো ফিকহের শাখাসমূহ ও এর বিস্তারিত দলীলসমূহ, এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো মুকাল্লাফদের আমল (১)।
পঞ্চম: ফিকহী মূলনীতিসমূহ শিক্ষা করার বিধান:ফিকহী মূলনীতি পাঠের গুরুত্ব সম্পর্কে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত এবং দলীল থেকে বিধান আহরণে মনোনিবেশকারী ফকীহদের ক্ষেত্রে এটি শিক্ষা করার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। কেননা এটি তাঁর জন্য তাঁর মাযহাবের মূলনীতিসমূহ সুসংবদ্ধ করে দেয়, এবং বিক্ষিপ্ত শাখা-প্রশাখাগুলোকে সংক্ষিপ্ত ও সহজ বাক্যে একত্রিত করে দেয়। আর এটি তাঁর প্রদত্ত বিধানসমূহকে পরস্পরবিরোধিতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করে। অতএব, ফকীহদের ক্ষেত্রে ফিকহী মূলনীতিসমূহ শিক্ষা করার বিধান হলো এটি অত্যন্ত তাকিদপূর্ণ ও মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে যারা ফিকহ ও এর আইন প্রণয়ন নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্যও এটি সম্পর্কে অবগত থাকা মুস্তাহাব। কারণ এটি তাদের অধ্যয়নকে সমৃদ্ধ করে, গবেষণাকে সুশৃঙ্খল করে, সিদ্ধান্তকে সুন্দর করে, অগ্রাধিকারমূলক মতকে শক্তিশালী করে এবং শরীয়তের গূঢ় রহস্য ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের অবহিত করে।
ষষ্ঠ: ফিকহী মূলনীতিসমূহের প্রকারভেদ:ফিকহী মূলনীতিসমূহকে বিভিন্ন বিবেচনায় বিভক্ত করা সম্ভব:
মৌলিকতা এবং অনুগামী হওয়ার বিবেচনায় এগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: মৌলিক এবং অনুগামী।
• মৌলিক (বা অত্যাবশ্যকীয়): এগুলি এমন মূলনীতি যার অর্থ এর চেয়ে বড় কোনো মূলনীতির দিকে ফিরে যায় না; যেমন পাঁচটি বড় মূলনীতি (আল-কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা), যেগুলোকে ইসলামের মূলনীতিসমূহের জননী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং যার ওপর অধিকাংশ মাসআলা ও আহকাম ভিত্তি করে। সেগুলো হলো:
১ - সকল বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল।
২ - নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর লিইবনিল মুলাক্কিন ত আয-আযহারী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
3 - المشقة تجلب التيسير.
4 - الضرر يزال.
5 - العادة محكَّمة.
• وتبعية: وهي القواعد المتفرعة عنها:
كقولهم: "من القواعد المنتزعة من قاعدة (الضرر يزال): "الضرورات تبيح المحظورات"، و"متى أمكن الدفع بأسهل الوجوه لم يعدل إلى أصعبها"، و"الضرر لا يزال بالضرر"، و"درء المفاسد أولى من جلب المصالح" (1).
وتنقسم باعتبار الشمول إلى قسمين: كلية كبرى، وكلية.
• فالكلية الكبرى: هي القواعد الخمس المذكورة.
• والكلية: هي التي يتخرج عليها ما لا ينحصر من الصور الجزئية إلا أنها أقل اتساعًا وشمولًا من القواعد الخمس الكبرى.
وقد جمع ابن السبكي من هذا النوع ستًّا وعشرين قاعدة، وجمع السيوطي منها أربعين قاعدة، وجمع ابن نجيم تسع عشرة قاعدة.
- ومن أمثلتها:
- (الاجتهاد لا ينقض بالاجتهاد) (2).
- (إذا اجتمع الحلال والحرام غلب الحرام) (3).
--------------------------------------------
৩ - কষ্ট সহজতা বয়ে আনে।
৪ - ক্ষয়ক্ষতি দূর করা হবে।
৫ - প্রথা বা অভ্যাস বিচার্য বিষয় হিসেবে গণ্য।
• এবং অনুগামী (তাবেয়াহ): এগুলো হলো সেই সব নীতি যা মূল নীতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে:
যেমন তাদের উক্তি: "(ক্ষয়ক্ষতি দূর করা হবে) নীতি থেকে উৎসারিত কিছু নীতি হলো: 'অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে', এবং 'যখন সহজতম উপায়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব, তখন কঠিনতম উপায়ের দিকে ফিরে যাওয়া হবে না', এবং 'ক্ষয়ক্ষতিকে অন্য ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা দূর করা যাবে না', এবং 'অকল্যাণ রোধ করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য' (১)।
ব্যাপকতা ও অন্তর্ভুক্তির বিচারে এগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: বৃহৎ মূলনীতি (কুল্লিয়াহ কুবরা) এবং সাধারণ মূলনীতি (কুল্লিয়াহ)।
• বৃহৎ মূলনীতি: এগুলো হলো উপরে উল্লেখিত পাঁচটি মূলনীতি।
• সাধারণ মূলনীতি: এগুলো হলো এমন নীতি যার অধীনে অসংখ্য খুঁটিনাটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে এগুলো পাঁচটি বৃহৎ মূলনীতির তুলনায় পরিধি ও ব্যাপকতায় কম।
ইবনে সুবকি এই প্রকারের ছাব্বিশটি নীতি সংকলন করেছেন, সুয়ূতি এর মধ্য থেকে চল্লিশটি নীতি সংকলন করেছেন এবং ইবনে নুজাইম উনিশটি নীতি সংকলন করেছেন।
- এগুলোর কিছু উদাহরণ হলো:
- (ইজতিহাদ অন্য ইজতিহাদ দ্বারা বাতিল হয় না) (২)।
- (যখন হালাল ও হারাম একত্রিত হয়, তখন হারাম প্রাধান্য পায়) (৩)।
--------------------------------------------