(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: -)
العمل الصالح القسم: كتب السنة
الكتاب: العمل الصالح (ويتقدمه رسم شجري لبعض مصطلحات الحديث)
المؤلف: سامي محمد
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للأصل وهو غير مطبوع، وقد أهداه مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 محرم 1433
নেক আমল বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: নেক আমল (এবং এর শুরুতে হাদিসের কিছু পরিভাষার একটি বৃক্ষচিত্র রয়েছে)
লেখক: সামি মুহাম্মদ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[কিতাবটির নম্বরকরণ মূলের অনুরূপ এবং এটি মুদ্রিত নয়, এর লেখক - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন - এটি মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য উপহার দিয়েছেন]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ মুহররম ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١)
العَمَل الصَّالِح
خَيرُ الزَّادِ وَخَير رَفِيقاً لِيَومِ المَعَادِ
مَعَ تَعْلِيقَات
مُحَمَّد نَاصِر الدِّين الألبَايِن
وَغَيرِهِ مِنَ العُلَمَاء
وَيَتَقَدَّمُهُ رَسْمٌ شَجَرِيٌّ لِبَعض مُصطَلَحَات الحَدِيث
নেক আমল
পরকালের পাথেয় হিসেবে সর্বোত্তম এবং কিয়ামত দিবসের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী
টীকা ও ব্যাখ্যাসহ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
এবং অন্যান্য আলেমগণ
এর প্রারম্ভে হাদীসশাস্ত্রের কিছু পরিভাষার একটি বৃক্ষচিত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
حقوق النسخ متاحة لكل مسلم سواء للتوزيع الخيري أو التجاري على أن لا يزاد فيه ولا ينقص منه
পুনর্মুদ্রণের অধিকার প্রত্যেক মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত, চাই তা জনহিতকর বিতরণ বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হোক; শর্ত এই যে, এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করা যাবে না এবং কোনো কিছু হ্রাস করা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحَمْدُ للهِ وَحْدَهُ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنْ لَا نَبِيَّ بَعْدَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً صلى الله عليه وسلم عَبْدُهُ وَرَسُوله؛ أَمَّا بَعْد.
فَهَذِهِ أَحَادِيثُ مُخْتَصَرَة عَنْ فَضَائِلِ الأَعْمَال، أَحَادِيثُ تَرغِيبٍ وَبَعْضٌ مِنْ أَحَادِيثِ التَّرهِيبِ، بِالإِضَافَةِ إِلَى بَعْضِ أَحَادِيثِ أَحْكَامِ الطَّهَارَةِ وَالصَّلَاةِ لأَهَمِّيَتِهَا، وَإِلاَّ فَأَصْلُ الْكِتَابِ عَنْ فَضَائِلِ الأَعْمَالِ، وَبِالإضَافَةِ أَيْضاً إِلَى أَوْصَافِ أُمَّة مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَأُمُور الآخِرَةِ، وَوَصْف الْجَنَّةِ، وَالنَّار.
وَهَذَا الْكِتَابُ هُوَ مُتَوسِّطٌ بَينَ الْكِتَابَين: الطَّوِيلِ الْمُمِلِّ وَالْمُخْتَصَرِ الْمُخِلّ، بِحَسَبِ أَهَمِّيَةِ الْمُوضُوعِ تَكُونُ الإِطَالَةُ أَوْ الإيْجَازُ.
وَتَرتِيبُ أَحَادِيْثَة الأوْلَى فَالأوْلَى! مِثَالُ ذَلِكَ: إِذَا أَرَدتَ الْوضُوءَ فَإِنَّكَ تَبْدَأُ باِلبَسْمَلَة، ثُمَّ الوُضُوء، ثُمَّ التَّشَهُّد، وَكَذَلِكَ فِي تَرْتِيب فَضَائِل الْوُضُوء، أَوَّلاً يَكُونُ الْكَلَامُ عَنْ الْبَسْمَلَةِ، ثُمَّ عَنْ فَضْلِ الْوُضُوءِ، ثُمَّ عَنْ فَضْلِ التَّشَهد بَعْدَ الْوضُوء، مِثَالٌ آخَرُ فِي تَرْتِيب فَضَائِل الْقُرآن: أَوَّلاً فَضْلُ سُورَة الْفَاتِحَة، ثُمَّ فَضْلُ آيَة الكُرسِي، ثُمَّ الآيَتَينِ مِنْ آخِر سُورَة الْبَقَرَة، ثُمَّ فَضْل السُّورَة.
عِلماً بِأَنَّ مَرَاتبْ أَحَادِيثِ هَذَا الْكِتَاب هِي كَالآتِي.
*صحيح و *حسن صحيح و *صحيح لغيره و *إسناد جيد و *حسن و *حسن لغيره وهناك الـ *مرسل والـ *موقوف
وَتَعْرِيفُ كُلٍّ مِنْهَا كَمَا يَلِي.
تَعْرِيف الْحَدِيث الصَّحِيحقَالَ ابنُ الصَّلَاح: «أَمَّا الحَدِيث الصَّحِيح فَهُوَ الحَدِيث المُسنَد الَّذِي يَتَّصِلُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যার পরে কোনো নবী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতপর:
এগুলো নেক আমলের ফজিলত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত হাদিসসমূহ; নেক আমলের প্রতি উৎসাহব্যঞ্জক হাদিস ও কিছু ভীতিপ্রদর্শনমূলক হাদিস। এছাড়া গুরুত্বের কারণে পবিত্রতা ও সালাতের বিধান সম্পর্কিত কিছু হাদিসও এতে যুক্ত করা হয়েছে; নতুবা মূলত গ্রন্থটি আমলের ফজিলত সংক্রান্ত। পাশাপাশি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের গুণাবলি, আখিরাতের বিষয়াদি এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনাও এতে রয়েছে।
এই গ্রন্থটি দীর্ঘ-বিরক্তিকর এবং সংক্ষিপ্ত-ত্রুটিপূর্ণ—এই দুই ধরণের গ্রন্থের মাঝামাঝি পর্যায়ের। বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী এতে দীর্ঘায়ন বা সংক্ষিপ্তকরণ করা হয়েছে।
এর হাদিসগুলোর বিন্যাস করা হয়েছে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে। উদাহরণস্বরূপ: আপনি যখন ওজু করতে চান, তখন বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করেন, এরপর ওজু করেন, এরপর তাশাহহুদ পাঠ করেন। ওজুর ফজিলতের বিন্যাসেও একইভাবে প্রথমে বিসমিল্লাহ সংক্রান্ত আলোচনা এসেছে, এরপর ওজুর ফজিলত, এরপর ওজুর পরবর্তী তাশাহহুদের ফজিলত সম্পর্কে। কুরআনের ফজিলত বিন্যাসের অন্য একটি উদাহরণ হলো: প্রথমে সূরা আল-ফাতিহার ফজিলত, এরপর আয়াতুল কুরসির ফজিলত, এরপর সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত, অতপর সূরার ফজিলত।
উল্লেখ্য যে, এই গ্রন্থের হাদিসসমূহের স্তরবিন্যাস নিম্নরূপ:
*সহিহ, *হাসান সহিহ, *সহিহ লি-গাইরিহি, *ইসনাদ জায়্যিদ, *হাসান, *হাসান লি-গাইরিহি এবং সেখানে *মুরসাল ও *মাওকুফ হাদিসও রয়েছে।
এগুলোর প্রত্যেকটির সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো:
সহিহ হাদিসের সংজ্ঞাইবনুস সালাহ বলেন: «সহিহ হাদিস হলো সেই মুসনাদ হাদিস যা নিরবচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত...
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
إِسنَادُه بِنَقلِ العَدْل الضَّابِط عَنِ العَدْل الضَّابِط إِلَى مُنتَهَاهُ، وَلَا يَكُونُ شَاذّاً وَلَا مُعَلَّلاً».
(1)وَسَأَذكُر تَعرِيفاً آخَر لابن حَجَر قَالَ:
«وَخَبَرُ الآحَادِ بِنَقْلِ عَدْلٍ تَامِّ الضَّبطِ مُتَّصِلِ السَّنَدِ غَيرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذٍّ هُوَ الصَّحِيحُ لِذَاتِهِ».
(2)وَبِمَعْنًى أَوْضَحَ: هُوَ حَدِيثٌ تَوَفَّرَتْ فِيهِ خَمْسُ شُرُوطٍ وَهِيَ:
1 - اتِّصَالُ السَّنَدِ، وَمَعْنَاهُ: أَنَّ كُلَّ رَاوٍ مِنْ رُوَاتِهِ قَدْ أَخَذَهُ مُبَاشَرَةً عَمَّنْ فَوْقَهُ مِنْ أَوَّلِ السَّنَدِ إِلَى مُنْتَهَاهُ.
2 - عَدَالَةُ الرُّواة: أَيْ: كُلُّ رَاوٍ مِنْ رُوَاتِهِ صِفَتُهُ بِأَنَّهُ مُسْلِمٌ بَالِغٌ عَاقِلٌ غَيْرُ فَاسِقٍ، وَغَيْرُ مَخْرومِ الْمُروءَةِ.
3 - ضَبْط الرُّوَاة: أَيْ أَنَّ كُلَّ رَاوٍ مِنْ رُوَاتِهِ صِفَتُهُ بِأَنَّهُ تام الضَّبْط، إِمَّا ضَبْطُ صَدْرٍ، أَوْ ضَبْطُ كِتَابٍ، وَمَعْنَى الضَّبْط: أَيْ: الْحِفْظُ، وَرَجُلٌ ضَابِطٌ أَيْ: حَافِظٌ.
4 - عَدَمُ الشُّذُوذ: أَيْ: لَا يَكُون الْحَدِيثُ شَاذًّا، وَالشُّذُوذ: هُوَ مُخَالَفَةُ الثِّقَةِ لِمَنْ هُوَ أَوْثَقُ مِنْهُ.
5 - عَدَمُ الْعِلَّةِ: أَيْ لَا يَكُونُ الْحَدِيثُ مَعْلُولاً، وَالْعِلَّةُ سَبَبٌ غَامِضٌ خَفِيٌّ يَقْدَحُ فِي صِحَّةِ الْحَدِيث، مَعَ أَنَّ الظَّاهِرَ السَّلَامَةُ مِنْهُ.
--------------------------------------------
এর সনদটি একজন ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক তাঁর সমতুল্য ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হতে হবে, এবং তা শায (বিচ্যুত) কিংবা মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) হবে না।»
(১)এবং আমি ইবনে হাজারের দেওয়া আরেকটি সংজ্ঞা উল্লেখ করব, তিনি বলেছেন:
«আর খবরে ওয়াহিদ যা পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতা ও পূর্ণ নির্ভুল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক অবিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত এবং যা ত্রুটিযুক্ত ও বিচ্যুত নয়, সেটিই হলো সহীহ লি-যাতিহি।»
(২)আরও স্পষ্ট অর্থে: এটি এমন একটি হাদীস যাতে পাঁচটি শর্ত পাওয়া যায়, সেগুলো হলো:
১ - সনদের অবিচ্ছিন্নতা: এর অর্থ হলো সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী তাঁর ঊর্ধ্বস্থ বর্ণনাকারী থেকে সরাসরি হাদীসটি গ্রহণ করেছেন।
২ - বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা: অর্থাৎ এর প্রত্যেক বর্ণনাকারীর বৈশিষ্ট্য হলো তিনি একজন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, পাপাচারী নন এবং তাঁর মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী কোনো বিষয় থেকে মুক্ত।
৩ - বর্ণনাকারীদের নির্ভুলতা: অর্থাৎ এর প্রত্যেক বর্ণনাকারীর বৈশিষ্ট্য হলো তিনি পূর্ণ নির্ভুল স্মৃতিসম্পন্ন, চাই তা অন্তরে মুখস্থ রাখার মাধ্যমে হোক কিংবা পাণ্ডুলিপিতে লিখে রাখার মাধ্যমে। আর ‘দাবত’ শব্দের অর্থ হলো সংরক্ষণ করা, এবং ‘দাবিত’ ব্যক্তি বলতে হিফজকারী বা সংরক্ষণকারীকে বোঝায়।
৪ - শায বা বিচ্যুতির অনুপস্থিতি: অর্থাৎ হাদীসটি শায হবে না। আর শায হওয়া বলতে বোঝায় একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর তাঁর চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা।
৫ - সূক্ষ্ম ত্রুটির অনুপস্থিতি: অর্থাৎ হাদীসটি মুআল্লাল বা ত্রুটিযুক্ত হবে না। আর ‘ইল্লত’ হলো এমন একটি অস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম কারণ যা হাদীসের বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা দোষমুক্ত মনে হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
وَيَنْقَسِمُ الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ إِلَى سَبْعِ مَرَاتِبَ هِيَ:
1 - الْمُتَّفَق عَلَيْهِ: وَهُوَ مَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ. "وَهَذَا أَعْلَى الْمَرَاتِب".
2 - ثُمَّ مَا انْفَرَدَ بِهِ الْبُخَارِيُّ.
3 - ثُمَّ مَا انْفَرَدَ بِهِ مُسْلِمٌ.
4 - ثُمَّ مَا كَانَ عَلَى شَرْطِهِمَا وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ.
(1) 5 - ثُمَّ مَا كَانَ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِيّ وَلَمْ يُخَرِّجْهُ.
6 - ثُمَّ مَا كَانَ عَلَى شَرْطِ مُسْلِم وَلَمْ يُخَرِّجْهُ.
7 - ثُمَّ مَا صَح عِنْدَ غَيْرِهِمَا مِنْ الأئِمَّة كَأَصْحَابِ السُّنَنِ وابنِ خُزَيْمَةَ وابنِ حِبَّان وَالْمَسَانِيدِ مِمَّا لَمْ يَكُنْ عَلَى شَرْطِهِمَا.
وَالْبُخَارِيُّ الْتَزَمَ بِشَرْطٍ
(2) لِقَبُولِ الْحَدِيثِ وَكَذَلِكَ مُسْلِمٌ رَحِمَهُمَا اللهُ، فَشَرْطُ الْبُخَارِيّ هُوَ:
اللُّقْيَا: أَيْ كُلُّ رَاوٍ يَكُونُ قَدْ لَقِيَ مَنْ رَوَى عَنْهُ.
(3)وَشَرْطُ مُسْلِمٌ: الْمُعَاصَرَةُ
(4)--------------------------------------------
সহীহ হাদীস সাতটি স্তরে বিভক্ত, সেগুলো হলো:
১ - মুত্তাফাকুন আলাইহি: আর এটি হলো যা বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। "আর এটি স্তরের দিক থেকে সর্বোচ্চ।"
২ - এরপর যা ইমাম বুখারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
৩ - এরপর যা ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
৪ - এরপর যা তাঁদের উভয়ের শর্ত অনুযায়ী ছিল কিন্তু তাঁরা তা উল্লেখ করেননি।
(১) ৫ - এরপর যা ইমাম বুখারীর শর্ত অনুযায়ী ছিল কিন্তু তিনি তা উল্লেখ করেননি।
৬ - এরপর যা ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী ছিল কিন্তু তিনি তা উল্লেখ করেননি।
৭ - এরপর যা তাঁদের উভয় ব্যতীত অন্যান্য ইমামগণের নিকট সহীহ বলে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন সুনান গ্রন্থসমূহের লেখকগণ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান এবং মাসানীদ গ্রন্থসমূহের লেখকগণ, যা তাঁদের (বুখারী ও মুসলিমের) শর্ত অনুযায়ী নয়।
ইমাম বুখারী হাদীস গ্রহণের জন্য একটি শর্তের অনুসরণ করেছেন এবং ইমাম মুসলিমও (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন)। ইমাম বুখারীর শর্তটি হলো:
লুকইয়া (সাক্ষাৎ): অর্থাৎ প্রত্যেক বর্ণনাকারী যেন তাঁর উস্তাদের সাথে (যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন) সাক্ষাৎ করেছেন বলে প্রমাণিত হয়।
(৩)এবং ইমাম মুসলিমের শর্ত হলো: মুআসারাত (সমসাময়িকতা)
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
مَلْحُوظَة: بَعْضٌ مِنَ النَّاسِ يَثِقُ فِي الأحاديث الَّتِي يَرْوِيهَا الْبُخَارِيّ وَمُسْلِم فَقَطْ، وَهَذَا خَطَأ، فَكَلَامُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرُ وَأَعْظَمُ مِنْ أَنْ يُحْصِيهِ رَجُلَان.
فَقَدْ نُقِلَ عَنِ البُخَارِيّ أَنَّهُ قَالَ: «مَا تَرَكْتُ مِنَ الصِّحَاحِ أَكْثَر».
وَقَالَ مُحَمَّد بن حمدويه سَمِعتُ البُخَارِيَّ يَقُولُ: «أَحْفَظُ مائَةَ أَلْف حَدِيث صَحِيح، وَأَحْفَظُ مائَتَي أَلف حَدِيث غَيْرِ صَحِيح».
(1)وَصَحِيح الْبُخَارِيّ فِيهِ بِحَذْف الْمُكَرَّر (2602) حَدِيث وَبِالْمُكَرَّرِ (7397) حَدِيثاً.
فَهُنَاكَ قرابة (97400) سَبْعَة وَتِسعينَ ألفاً وَأربَعِ مائةِ حَدِيثٍ عِنْدَ الْبُخَارِيّ لَمْ يَرْوِهَا وَكُلّهَا صَحِيحَة.
--------------------------------------------
লক্ষ্য করুন: কিছু মানুষ কেবল বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপরই আস্থা রাখে, অথচ এটি ভুল। কেননা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী দুজন মানুষের পক্ষে গণনা করার চেয়ে অনেক বেশি এবং মহান।
বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «আমি যে পরিমাণ সহিহ হাদিস বর্জন করেছি তা (কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করার চেয়ে) অনেক বেশি»।
মুহাম্মদ ইবনে হামদওয়াইহ বলেন, আমি বুখারিকে বলতে শুনেছি: «আমি এক লক্ষ সহিহ হাদিস মুখস্থ করেছি এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ করেছি»।
(১)সহিহ বুখারিতে পুনরাবৃত্তি বাদে ২৬০২টি হাদিস রয়েছে এবং পুনরাবৃত্তিসহ ৭৩৯৭টি হাদিস রয়েছে।
সুতরাং বুখারির নিকট প্রায় ৯৭,৪০০ (সাতানব্বই হাজার চারশ) হাদিস ছিল যা তিনি বর্ণনা করেননি এবং এর সবগুলোই সহিহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
وَكَثِير مِنْ أَحَادِيث أَصْحَاب السُّنَن وَالْمَسَانِيد وَغَيْرهم، رِجَالُهَا رِجَال الصَّحِيحَين، أَو الْبُخَارِيّ أَوْ مُسْلِم، وَلَيْسَتْ مَوْجُودَةً عِنْدَ الْبُخَارِيّ وَمُسْلِم.
تَعْرِيف الْحَدِيثِ الْحَسَنِ الصَّحِيحِقَدْ اخْتَلَف الْعُلَمَاءُ فِي مُرَادِ التِّرمِذِيّ بِقَوْلِهِ:"حسن صحيح" وَذَكَرُوا أَقْوَلاً كَثِيرَة وَمِنْهَا:
- إِذَا كَانَ لِلْحَدِيث إِسْنَادَانِ فأَكْثَر، فَالْمَعْنَى: حَسَنٌ بِاعتِبَار إِسنَادٍ، صَحِيحٌ بِاعتِبَار إِسنَادٍ آخَرَ.
- وَإِنْ كَانَ لِلحَدِيث إِسنَاد وَاحِد فَقَطْ فَهُنَاكَ رَاوٍ مِنْ روَاتِهِ مُخْتَلَفٌ فِيهِ فَمِنهُم مَنْ وَثَّقَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ تَكَلَّمَ فِيهِ فَيَكُونُ حَسَنَ الحَدِيثِ عِندَ قَومٍ صَحِيح الحَدِيث عِند الآخَرِين.
تَعْرِيف الْحَدِيث الصَّحِيح لِغَيرِههَوُ الْحَسَنُ لِذَاتِهِ إِذَا رُوِيَ مِنْ طَرِيقٍ آخَرَ مِثْلهُ أَوْ أَقْوَى مِنْهُ، وَسُمّيَ صَحِيح لِغَيْرِهِ لأَنَّ الصِّحةَ لَمْ تَأْتِهِ مِنْ ذَات السَّنَد، وَإِنَّمَا جَاءَت مِن انْضِمَامِ غَيْره لَهُ.
مَرْتَبتُه: أَعْلَى مِنْ مَرْتَبَة الْحَسَن لِذَاتِهِ، وَأَقَلُّ مِن مَرتَبة الصَّحِيح لِذَاتِهِ.
تَعْرِيف «إِسْنَادُه جَيد».
هُوَ كَالْحَسَن، وَالْبَعْض يَرَى أَنَّهُ أَرْفَعُ مِنَ الْحَسَنِ.
تَعْرِيف الْحَدِيث الْحَسَنهَوُ: مَا رَوَاهُ عَدلٌ خَفِيفُ الضَّبْطِ مُتَّصِلُ السَّنَد وَلَا يكَوُن شَاذًّا وَلَا مُعَلَّلاً.
সুনান ও মাসানিদ গ্রন্থাবলি এবং অন্যান্য সংকলনের অনেক হাদিস রয়েছে যেগুলোর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিম অথবা শুধু বুখারি বা শুধু মুসলিমের বর্ণনাকারী, অথচ হাদিসগুলো বুখারি ও মুসলিমে বিদ্যমান নেই।
'হাসান সহিহ' হাদিসের সংজ্ঞাইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর উক্তি "হাসান সহিহ" দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নিয়ে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন এবং তারা অনেকগুলো অভিমত উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- যদি হাদিসটির দুই বা ততোধিক সনদ থাকে, তবে এর অর্থ হলো: একটি সনদের বিচারে এটি হাসান এবং অপর একটি সনদের বিচারে এটি সহিহ।
- আর যদি হাদিসের কেবল একটিই সনদ থাকে, তবে তার বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাকে নিয়ে মতভেদ আছে; তাদের মধ্যে কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন আবার কেউ তাকে সমালোচিত বলেছেন। ফলে হাদিসটি একদল আলেমের নিকট 'হাসান' এবং অন্যদের নিকট 'সহিহ' বলে গণ্য হয়।
'সহিহ লি-গাইরিহি' হাদিসের সংজ্ঞাএটি মূলত 'হাসান লি-জাতিহি' হাদিস যখন তা সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে শক্তিশালী অন্য কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়। একে 'সহিহ লি-গাইরিহি' (অন্যের কারণে সহিহ) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর বিশুদ্ধতা সনদের নিজস্ব সত্তা থেকে আসেনি, বরং অন্য সূত্রের সংযুক্তির ফলে অর্জিত হয়েছে।
এর মর্যাদা: 'হাসান লি-জাতিহি' অপেক্ষা উচ্চতর এবং 'সহিহ লি-জাতিহি' অপেক্ষা নিম্নতর।
"সনদটি উত্তম (জায়্যিদ)"-এর সংজ্ঞা.
এটি হাসানের অনুরূপ, তবে কেউ কেউ মনে করেন এটি হাসান অপেক্ষা উচ্চতর।
হাসান হাদিসের সংজ্ঞাহাসান হাদিস হলো: যা এমন কোনো ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যার ধারণক্ষমতা সামান্য শিথিল, সনদটি নিরবচ্ছিন্ন এবং তা শায (বিচ্ছিন্ন) কিংবা মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
قاَلَ ابْنُ حَجَر: «وَخَبَرُ الآحَاد بِنَقْل الْعَدْل تَامِّ الضَّبط مُتَّصِل السَّنَد غَيْرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذ هُوَ الصَّحِيح لِذَاتِهِ، فَإِنْ خَفَّ الضَّبْط فَالْحَسَن لِذَاتِهِ».
(1)والْحَدِيث الْحَسَنُ كُلُّ شُرُوطِ الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ مُتَوَفِّرَةٌ فِيهِ مَا عَدَا تَمَام الضَّبط.
فَفِي الْحَدِيث الصَّحِيح: يَكُون الرَّاوِي تَامَّ الضَّبْطِ.
وَفِي الْحَدِيث الْحَسَن: يَكُون الرَّاوِي خَفِيفُ الضَّبْط.
حُكْمُهُ: هُوَ كاَلصَّحِيح فِي الاحْتِجَاج بِهِ، وَإِنْ كَانَ دُونَهُ فِي الْقُوَّة، وَقَدْ أَدْرَجَهُ بَعْضُ الْمُتَسَاهِلِينَ فِي نَوْع الصَّحِيح، كَالْحَاكِم وابن حِبَّان وابن خُزَيْمَةَ، مَعَ قَوْلهم بَأَنَّهُ دُونَ الصَّحِيح.
تَعْرِيف الْحَدِيث الْحَسَن لِغَيرِههُوَ: الضَّعِيف إِذَا تَعَدَّدَتْ طُرُقه، وَلَمْ يَكُن سَبَب ضَعْفه فِسق الرَّاوِي أَوْ كَذِبه.
يُسْتَفَاد مِنْ هَذَا التَّعْرِيف: أَنَّ الْحَدِيث الضَّعِيف يَرتَقِي إِلَى دَرَجَة الْحَسَنُ لِغَيْرِهِ بثلاثة أمور هي:
أ) أَنْ يُروَى مِنْ طَرِيق آخَر فَأَكْثَر.
ب) أَنْ يَكُون الطَّرِيق الآخَر مِثلهُ أَوْ أَقْوَى.
ج) أَنْ يَكُونَ سَبَب ضَعْف الْحَدِيث إِمَّا سُوء حِفْظ رُوَاتِه، أَو انْقِطَاع فِي
--------------------------------------------
ইবনে হাজার বলেন: «ন্যায়পরায়ণ, পূর্ণ আয়ত্তশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত, বিচ্ছিন্নতাহীন সনদ সংবলিত, যা কোনো ত্রুটিপূর্ণ এবং বৈসাদৃশ্যপূর্ণ নয়, এমন একক সংবাদ (খবর আল-আহাদ)-ই হলো সহিহ লি-যাতিহি। আর যদি আয়ত্তশক্তি কিছুটা কম হয়, তবে তা হাসান লি-যাতিহি»।
(১)আর হাসান হাদিসের মধ্যে সহিহ হাদিসের সকল শর্ত বিদ্যমান থাকে, শুধু পূর্ণ আয়ত্তশক্তির বিষয়টি ব্যতীত।
সুতরাং সহিহ হাদিসের ক্ষেত্রে: বর্ণনাকারী পূর্ণ আয়ত্তশক্তিসম্পন্ন হয়ে থাকেন।
আর হাসান হাদিসের ক্ষেত্রে: বর্ণনাকারীর আয়ত্তশক্তি কিছুটা শিথিল হয়ে থাকে।
এর বিধান: দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে এটি সহিহ হাদিসের মতোই, যদিও শক্তির দিক থেকে এটি তার চেয়ে নিম্নস্তরের। কোনো কোনো শিথিলতা অবলম্বনকারী আলেম একে সহিহ-এর প্রকারভুক্ত করেছেন, যেমন হাকেম, ইবনে হিব্বান এবং ইবনে খুযাইমাহ; যদিও তারা এটি উল্লেখ করেছেন যে এটি সহিহ-এর চেয়ে নিম্নমানের।
হাসান লি-গাইরিহি হাদিসের সংজ্ঞাতা হলো: এমন দুর্বল (যয়িফ) হাদিস যার বর্ণনাসূত্র একাধিক এবং যার দুর্বলতার কারণ বর্ণনাকারীর পাপাচার বা মিথ্যাচার নয়।
এই সংজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, একটি দুর্বল হাদিস তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে হাসান লি-গাইরিহি স্তরে উন্নীত হয়, সেগুলো হলো:
ক) অন্য এক বা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হওয়া।
খ) অপর সূত্রটি সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে শক্তিশালী হওয়া।
গ) হাদিসের দুর্বলতার কারণ বর্ণনাকারীদের মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা হওয়া অথবা বর্ণনাসূত্রে বিচ্ছিন্নতা থাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
سَنَدهِ، أَوْ جَهَالَة فِي رِجَالِهِ.
* وَيَجُوزُ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيث وَغَيْرهم رِوَايَة الأَحَادِيث الضَّعِيفَة وَالتَّسَاهُل فِي أَسَانِيْدهَا مِنْ غَيْرِ بَيَان ضَعْفهَا بِشَرْطَينِ:
1) أَنْ لَا تَتَعَلَّق بِالْعَقَائِد، كَصِفَاتِ اللهِ تَعَالَى.
2) أَنْ لَا تَكُون فِي بَيَان الأَحْكَام الشَّرْعِيِّة، مِمَّا يَتَعَلَّقُ بِالْحَلَال وَالْحَرَام.
وَالَّذِي عَلَيْهِ جمْهُور الْعُلَمَاء أَنَّهُ يُسْتَحَب الْعَمَل بِالْحَدِيثِ الضَّعِيفِ فِي فَضَائِل الأَعْمَال وَلَكِنْ بِشُرُوطٍ ثَلَاثَة أَوْضَحَهَا الْحَافِظ ابْنُ حَجَر وَهِيَ:
1) أَنْ يَكُونَ الْضَّعْف غَيرَ شَدِيدٍ.
2) أَنْ يَنْدَرِجَ الْحَدِيث تَحْتَ أَصْلٍ مَعْمُولٍ بِهِ.
3) أَنْ لَا يَعْتَقِد عِنْدَ الْعَمَل بِهِ ثُبُوتهُ، بَلْ يَعْتَقِد الاحْتِيَاط.
قَوْله: أَنْ يَنْدَرِجَ الْحَدِيثُ تَحْتَ أَصْلٍ مَعْمُولٍ بِهِ، أَيْ لَا يَكُون عَمَلاً مُحْدَثاً لَا أَصْلَ لَهُ؛ وَاللهُ تَعَالَى أَعْلَم.
* وَيُسْتَثنى مِنْ ذَلِكَ الْحَدِيث الْمَوضُوع وَهُوَ أَشَرُّ الأَحَادِيث الضَّعِيفَة وَأَقْبَحهَا وَبَعْضُ الْعُلَمَاء يَعْتَبِرُهُ قِسْماً مُسْتَقِلاًّ وَلَيْسَ مِنْ أَنْوَاع الأَحَادِيث الضَّعِيفَة، فَلَا يَجُوزُ نَقْلُه.
تَعْرِيف الْحَدِيث الْمُرسَلهُوَ مَا قَالَ فِيهِ التَّابِعِّي: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كذا أو فعل كذا.
তার সনদে, অথবা তার বর্ণনাকারীদের মধ্যে অজ্ঞাত থাকা।
* মুহাদ্দিসগণ এবং অন্যদের নিকট দুর্বল হাদিস বর্ণনা করা এবং সেগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট না করেই সনদের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা দুটি শর্তে বৈধ:
১) এটি যেন আকিদা সংক্রান্ত না হয়, যেমন মহান আল্লাহর গুণাবলি।
২) এটি যেন শরিয়তের বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে না হয়, যা হালাল ও হারামের সাথে সংশ্লিষ্ট।
জুমহুর (অধিকাংশ) উলামায়ে কেরামের মত হলো, আমলের ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করা মুস্তাহাব। তবে তিনটি শর্ত সাপেক্ষে যা হাফেজ ইবনে হাজার স্পষ্ট করেছেন, আর সেগুলো হলো:
১) দুর্বলতা যেন প্রকট না হয়।
২) হাদিসটি যেন এমন কোনো মূলনীতির (শরয়ি আসলের) অন্তর্ভুক্ত থাকে যার ওপর আমল বিদ্যমান।
৩) এর ওপর আমল করার সময় সেটি প্রমাণিত হওয়ার বিশ্বাস রাখা যাবে না, বরং সতর্কতামূলক আমল করার বিশ্বাস রাখতে হবে।
তাঁর উক্তি: "হাদিসটি যেন এমন কোনো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত থাকে যার ওপর আমল বিদ্যমান", অর্থাৎ সেটি যেন এমন কোনো নবউদ্ভাবিত আমল না হয় যার কোনো ভিত্তি নেই; আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
* এর থেকে মাওজু (জাল) হাদিস ব্যতিক্রম। এটি দুর্বল হাদিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও মন্দ। কোনো কোনো আলেম একে একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করেন এবং একে দুর্বল হাদিসের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করেন না; সুতরাং এটি বর্ণনা করা জায়েজ নয়।
মুরসাল হাদিসের সংজ্ঞাএটি এমন হাদিস যাতে তাবেয়ি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন বা এমনটি করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وَمُجْمَل أقوَال العُلَمَاء فِي المُرسَل ثَلَاثَة أَقْوَال هِيَ:
أ) ضَعِيفٌ مَردُود: عِندَ جُمهور المُحَدِّثِين، وَكَثَيرٌ مِنْ أَصحَاب الأُصُول وَالفُقَهَاء. وَحُجَّة هَؤلَاء الجَهْل بِحَال الرَّاوِي المَحذُوف لاحْتِمَال أَنْ يَكُونَ غَيرَ الصَّحَابِي.
ب) صَحِيحٌ يُحْتَجُّ بِهِ: عِنْدَ الأَئِمَّة الثَّلَاثَة: أَبي حَنِيفَة، وَمَالِك، وَأَحْمَد فِي الْمَشْهُور عَنْهُ، وَطَائِفَةٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ: صَحِيح يُحْتَجُّ بِهِ بِشَرْط.
أَنْ يَكُونَ الْمُرْسِلُ ثِقَة، وَلَا يُرْسِلُ إِلاَّ عَنْ ثِقَة، وَحُجَّتهُمْ:
أَنَّ التَّابِعِي الثِّقَة لا يَسْتَحِلُّ أَنْ يَقُولَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ إِذَا سَمِعَهُ مِنْ ثِقَة.
ج) قبوله بِشُروط: أي: يَصِحُّ بِشُروط، وَهَذَا عِندَ الشَّافِعِي وَبَعضِ أَهْل العِلم.
1 - أَنْ يَكُونَ المُرسِل مِنْ كِبَار التَّابِعِين.
2 - وَإِذَا سَمَّى مَنْ أَرسَلَ عَنهُ سَمَّى ثِقَة.
3 - وَإِذَا شَارَكَ الحُفَّاظ المأمُونون لَمْ يُخَالفُوه.
4 - وَأَنْ يَنْضَمَّ إِلَى هَذِهِ الشُّرُوط الثَّلَاثَة وَاحِد مِمَّا يَلِي:
أ) أَنْ يُروَى الحَدِيث مِنْ وَجْه آخَر مُسنَدا.
ب) أَوْ يُروَى مِنْ وَجْهٍ آخَر مُرسَلاً، أَرْسَلَهُ مَنْ أَخَذ العِلمَ عَنْ غَيرِ رِجَال المُرسَل الأوَّل.
ج) أَوْ يوَافِق قَول صَحَابِي.
মুরসাল হাদিস সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের সংক্ষিপ্ত মতামত তিনটি, তা হলো:
ক) দুর্বল ও প্রত্যাখ্যাত: জুমহুর (অধিকাংশ) মুহাদ্দিস এবং উসুলবিদ ও ফকিহগণের অনেকের নিকট। তাদের যুক্তি হলো, বিলুপ্ত রাবির অবস্থা অজ্ঞাত থাকা, কারণ তিনি সাহাবি না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খ) সহিহ ও দলিলযোগ্য: তিন ইমামের নিকট: আবু হানিফা, মালিক এবং আহমাদ (তাঁর থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ মতানুসারে), এবং একদল আলেমের নিকট: শর্তসাপেক্ষে এটি সহিহ ও দলিলযোগ্য।
শর্তটি হলো মুরসালকারী যেন বিশ্বস্ত হন এবং তিনি কেবল বিশ্বস্ত ব্যক্তি থেকেই মুরসাল বর্ণনা করেন। তাদের দলিল হলো:
একজন বিশ্বস্ত তাবেয়ি ততক্ষণ পর্যন্ত "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন" বলাকে বৈধ মনে করেন না, যতক্ষণ না তিনি তা কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি থেকে শুনে থাকেন।
গ) শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ করা: অর্থাৎ এটি শর্তসাপেক্ষে সহিহ হবে। এটি ইমাম শাফেয়ি এবং কতিপয় আলেমদের মত।
১ - মুরসালকারী যেন বড় তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত হন।
২ - তিনি যার থেকে মুরসাল বর্ণনা করেছেন তার নাম উল্লেখ করলে যেন তিনি বিশ্বস্ত হন।
৩ - যদি নির্ভরযোগ্য হাফেজগণ তাঁর সাথে বর্ণনায় শরিক হন, তবে তারা যেন তাঁর বিরোধিতা না করেন।
৪ - এবং এই তিনটি শর্তের সাথে নিচের যেকোনো একটি যুক্ত হতে হবে:
ক) হাদিসটি অন্য কোনো সূত্র থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হতে হবে।
খ) অথবা অন্য কোনো সূত্র থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হতে হবে, যা এমন ব্যক্তি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি প্রথম মুরসালকারীর রাবিগণ ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে ইলম হাসিল করেছেন।
গ) অথবা হাদিসটি কোনো সাহাবির বক্তব্যের সাথে মিল থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
د) أَوْ يُفْتِي بِمُقتَضَاهُ أَكْثَرُ أَهْل العِلم.
تَعْرِيف الْحَدِيث الْمُوقُوفهَوُ: مَا أُضِيفَ إِلَى الْصحَابِي مِنْ قَوْلٍ أَوْ فِعْل، شَرِيطَةَ ألاَّ يُوجَد مَا يَدُلُّ عَلَى رَفْعِهِ حُكْماً.
*******
وَهُنَاكَ تَعرِيف آخَر بِالنِّسبَة لِلْحَسَن، وَالصَّحِيح لِغَيرِهِ وَالْحَسَن الصَّحِيح؛ وَلَكِن التَّعْرِيف الْمَذْكُور مِنْ أَشْهَرِهَا.
مُعْظَم هَذِهِ التَّعَارِيف مِنْ كِتَاب: تَيسِير مُصْطَلَح الْحَدِيث.
مَلْحُوظَة: فِي نِهَايَة حَاشِيَة كُل حَدِيث
(1) سَتَجِدُ تَعْلِيقاً عَلَيهِ مِنْ صِحَّة وَحُسن وَغَيْرهَا وَهَذَا التَّعْلِيق لأحْد الْعُلَمَاء الْمَعْرُوفِين كَالألْبَانِي وَشُعَيب، وَقَدِيْماً كَالذَّهَبِي وَابْن حَجَر وَابْن كَثِير وَغَيْرِهُم؛ وَأَكْثَر مِن 95% هِيَ
--------------------------------------------
ঘ) অথবা অধিকাংশ আলেম এর দাবি অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন।
মাওকুফ হাদিসের সংজ্ঞাতা হলো: যা কোনো সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, চাই তা কথা হোক বা কাজ, শর্ত হলো এমন কিছু বিদ্যমান থাকবে না যা সেটাকে হুকমান (পরোক্ষভাবে) মারফু হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে।
*******
হাসান, সহিহ লি-গাইরিহি এবং হাসান সহিহ-এর ব্যাপারে অন্য আরও সংজ্ঞা রয়েছে; তবে উল্লিখিত সংজ্ঞাটিই অধিক প্রসিদ্ধ।
এই সংজ্ঞাগুলোর অধিকাংশ 'তাইসিরু মুস্তালাহিল হাদিস' গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রত্যেক হাদিসের টীকা শেষে
(১) আপনি তার সহিহ, হাসান বা অন্যান্য হওয়ার ব্যাপারে একটি মন্তব্য পাবেন। এই মন্তব্যটি কোনো একজন সুপরিচিত আলেমের, যেমন আলবানী ও শুআইব; এবং প্রাচীনদের মধ্যে যেমন যাহাবী, ইবনে হাজার, ইবনে কাসীর ও অন্যান্যদের। আর ৯৫ শতাংশেরও বেশি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
تَعْلِيقَات الألبَانِي رحمه الله.
مَلْحُوظَة أُخْرَى: بَعْض مِنَ الأحَادِيث يَكُونُ قَدْ رَوَاهَا أَهْلُ السُّنَن جَمِيعُهُم وَلَكِنْ يَكْفِي ذِكْرُ وَاحِدٍ أَوْ اثْنَينِ مِنْهُم لأنَّ الْغَايَة عَزُو الْحَدِيث وَلَيْسَ تَخْرِيْجهُ.
وَخِتَاماً
أَقُولُ عَنْ أَخْطَائِي فِي هَذَا الْكِتَاب- وَلَا سِيَّمَا النَّحْوِيَّة - كَمَا قَالَ الشَّيْخ أَبُو الْحَسَن مُحَمَّد حَسَن الشَّيْخ "إِنْ وُفِّقْتُ فِيهِ إِلَى الصَّوَابِ فَذَلِكَ مِنْ فَضْلِ اللهِ تَعَالَى وَكَرَمِهِ، وَإِنْ لَمْ أُوَفَّقْ فِيهِ إِلَى الصَّوَابِ فَحَسْبِي أَنِّي كُنْتُ حَرِيصاً عَلَيْهِ، فَرَحِمَ اللهُ أَخَاً نَظَرَ فِيهِ نَظْرَةَ تَجَرُّدٍ وَإِنْصَاف وَدَعَا لِي بَظَهْرِ الْغَيبِ عَلَى صَوَابٍ وَفَّقَنِي اللهُ إِلَيْهِ، وَاسْتَغْفَرَ لِي زَلاَّتِي".
وَأَيْضاً لِيَكُونَ الصَّوَاب وَالْكَمَال مِنْ بَين الْكُتُب لِكِتَابِ اللهِ تَعَالَى.
*******
আলবানীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) টীকা ও মন্তব্যসমূহ।
অন্য একটি দ্রষ্টব্য: কিছু হাদীস সম্ভবত সুনান গ্রন্থসমূহের সকল ইমামই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে একজনের বা দুইজনের নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট; কারণ উদ্দেশ্য হলো হাদীসের উদ্ধৃতি প্রদান করা, এর বিস্তারিত উৎস ও সনদ বিশ্লেষণ (তাখরীজ) নয়।
পরিশেষে
এই গ্রন্থে আমার ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে—বিশেষ করে ব্যাকরণগত ভুল—আমি তাই বলব যা শায়খ আবু আল-হাসান মুহাম্মদ হাসান আল-শায়খ বলেছেন: “যদি আমি এতে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরে থাকি, তবে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দান। আর যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারি, তবে আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি সে বিষয়ে সচেষ্ট ছিলাম। আল্লাহ সেই ভাইয়ের প্রতি দয়া করুন, যিনি নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠার সাথে এটি দেখবেন এবং আল্লাহ আমাকে যে সঠিক বিষয়ের তাওফীক দিয়েছেন তার জন্য আমার অগোচরে আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমার পদস্খলনগুলোর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।”
আর যাতে সকল গ্রন্থের মধ্যে কেবল মহান আল্লাহর কিতাবই নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ হিসেবে সাব্যস্ত থাকে।
*******
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
رَسْم شَجَرِي لِبَعْض مِن مُصطَلَحَات الْحَدِيث
হাদিসের কিছু পরিভাষার বৃক্ষচিত্র
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
مراتب رجال الحديثهَذَا تَقْسِيم الشَّيخ أَحْمَد شَاكِر رحمه الله. (الباعث الحثيث 1/ 319)، وَلَكِنْ مَنْ تَتَبَّعَ طَرِيقَتَهُ فِي التَّصْحِيح يَجِدْ أَنَّهُ لَمْ يَلْتَزِمْ بِهَذَا التَّقْسيم؟!.
হাদিস বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহএটি শায়খ আহমদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ)-এর শ্রেণিবিন্যাস। (আল-বাঈস আল-হাসিস ১/৩১৯), তবে যে ব্যক্তি হাদিস বিশুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি অনুসরণ করবে, সে দেখতে পাবে যে তিনি এই শ্রেণিবিন্যাস মেনে চলেননি?!।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
المرفوعالْمَرْفُوع هُوَ: مَا أُضِيفَ إِلَى الرَّسُول صلى الله عليه وسلم مِنْ قَولٍ أَوْ فِعلٍ أَو تَقْرِير وَيُسَمَّى أَيضاً مُسنداً.
মারফূমারফূ হলো: যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কোনো কথা, কাজ কিংবা মৌনসম্মতি হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; একে মুসনাদও বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الموقوفالْمَوْقُوف هُوَ: مَا أُضِيفَ إِلَى الصَّحَابِي مِنْ قَولٍ أَوْ فِعل [أَوْ تَقْرِير مَعَ خِلَافٍ فِيهِ].
شَرَيطَة أَلاَّ يُوجَد مَا يَدُلُّ عَلَى رَفْعِهِ حُكْماً.
انظر إِلَى الحَدِيث رقم (1945) فَهُوَ مَوْقُوفٌ عَلَى عَلِيٍّ وَلَكِنَّهُ فِي حُكْم المَرفُوع إِذْ لَا مَجَالَ لِلرَّأي فِي مِثلِ هَذِهِ الأمُور.
মাওকুফমাওকুফ হলো: যা সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—চাই তা উক্তি হোক কিংবা কর্ম [অথবা মৌনসম্মতি, যদিও এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে]।
শর্ত হলো, সেখানে এমন কোনো কিছু বিদ্যমান না থাকা যা নির্দেশ করে যে এটি হুকমান (কার্যত) মারফূ।
হাদিস নম্বর (১৯৪৫)-এর দিকে লক্ষ্য করুন; এটি আলীর ওপর মাওকুফ, কিন্তু এটি হুকমান মারফূ-এর অন্তর্ভুক্ত, কেননা এ জাতীয় বিষয়ে নিজস্ব মতামতের কোনো অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الأثرالأَثَر هُوَ أَيْضاً أَقْوَال الصَّحَابَة رضي الله عنهم.
আসারআসার হলো সাহাবীগণের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বাণীসমূহও।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
المرسلالْمُرسَل هُوَ: مَا قَالَ فِيهِ التَّابِعِّي قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كذا أو فعل كذا.
فِي هَذَا الشَّكْل أَسْقَطَ صَحَابِي فَقَط، وَقَدْ يُسْقِطُ صَحَابِيَّان أو ثَلَاثَة .. إلخ
مَثَلاً لَوْ قَالَ ابن عُمَر حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
…فِي هَذِا الحَال لَوْ قَالَ التَّابِعِي عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
…يَكُونُ قَدْ أَسْقَطَ صَحَابِيَّانِ.
المُهِمّ إِنْ كَانَ أَسْقَطَ الصَّحَابَة فَقَط فَلَا إِشْكَال لأنَّ جَهَالَة الصَّحِابِيّ لا تَضُر.
وَلَكِنَّ المُشكِلَة فِي إِسْقَاط تَابِعِيّ آخَر فَلَا يُدْرَى عَنْ حَالهِ، انْظُر إِلَى المِثَال الآتِي.
মুরসালমুরসাল হলো: যাতে তাবেয়ি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন বলেছেন অথবা এমন করেছেন।
এই অবস্থায় শুধুমাত্র একজন সাহাবি বাদ পড়তে পারেন, আবার কখনও দুইজন বা তিনজন সাহাবিও বাদ পড়তে পারেন.. ইত্যাদি।
উদাহরণস্বরূপ, যদি ইবনে উমর বলেন যে, আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন
…এমতাবস্থায় যদি তাবেয়ি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সরাসরি বলেন যে তিনি বলেছেন
…তবে তিনি সম্ভবত দুইজন সাহাবিকে বাদ দিয়েছেন।
মূল কথা হলো, যদি তিনি শুধুমাত্র সাহাবিদের বাদ দিয়ে থাকেন তবে এতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ সাহাবির পরিচয় অজ্ঞাত থাকা কোনো ক্ষতি করে না।
কিন্তু সমস্যা হলো অন্য কোনো তাবেয়িকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে, কারণ তার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় না। নিচের উদাহরণটি দেখুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
مرسل آخرهَذَا الحَدِيث رَوَاهُ التَّابِعِيّ عَنْ تَابِعِيّ آخَر، عَنِ الصَّحَابِي فَأَسْقَطَ الاثْنَين كَمَا تَرَى وَأَصْبَحَ مُعْضَلٌ مُرْسَل.
وَمِن هُنَا يَتَبَيَّنُ أَهَمِّيَّةُ شَرطِ الشَّافِعِي فِي قَبُول المُرسَل بِقَولِهِ: «أَنْ يَكُونَ المُرسِل مِنْ كِبَار التَّابِعِين».
لأنَّ أَكْثَر مَشَايِخ كِبَارُ التَّابِعِين هُمُ الصَّحَابَة بِخِلَاف صِغَار التَّابِعِين الَّذِينَ أَكْثَر مَشَايِخَهُم كِبَار التَّابِعِينَ وَقَلِيلٌ مِنَ الصَّحَابَة.
অন্য একটি মুরসালএই হাদিসটি একজন তাবিঈ অন্য একজন তাবিঈ থেকে, তিনি সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন; ফলে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে তিনি দুইজনকে বিলুপ্ত করেছেন এবং এটি মু'দাল মুরসালে পরিণত হয়েছে।
এখান থেকেই মুরসাল হাদিস কবুল করার ক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈর শর্তের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়, যেখানে তিনি বলেছেন: «মুরসাল বর্ণনাকারীকে অবশ্যই সিনিয়র তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে»।
কেননা সিনিয়র তাবিঈদের অধিকাংশ উস্তাদই হলেন সাহাবীগণ, পক্ষান্তরে জুনিয়র তাবিঈদের বিষয়টি ভিন্ন, যাদের অধিকাংশ উস্তাদ হলেন সিনিয়র তাবিঈগণ এবং সাহাবীদের সংখ্যা খুবই সামান্য।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
المقطوعالْمَقْطُوع هُوَ: مَا أُضِيفَ إِلَى التَّابِعِي صَغِيرا كَانَ أو كَبِيرا مِنْ قَوْلٍ أو فِعْلٍ، وَهُوَ كَالْمَوْقُوف وَلَكِن إِنْ كَانَ مُنْتَهَى السَّنَد الصَّحَابِي سُمِّي: مَوْقُوفاً، وَإِنْ كَانَ التَّابِعِي سُمِّي: مَقْطُوعاً.
شَرِيطَة أَلاَّ يُوجَد مَا يَدُلُّ عَلَى رَفْعِهِ حُكْماً.
মাকতুমাকতু হলো: যা কোনো তাবেয়ীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—তিনি বয়সে ছোট হোন কিংবা বড়—চাই তা কোনো কথা হোক কিংবা কাজ। এটি মাওকুফ হাদিসের অনুরূপ; তবে যদি সনদের প্রান্তসীমা সাহাবী হন তবে তাকে ‘মাওকুফ’ বলা হয়, আর যদি তাবেয়ী হন তবে তাকে ‘মাকতু’ বলা হয়।
শর্ত হলো, সেখানে এমন কোনো কিছু বিদ্যমান থাকবে না যা এটিকে হুকুমগতভাবে ‘মারফু’ হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
المنقطعالْمُنْقَطِع هُوَ: مَا سَقَطَ مِن وَسَط إِسنَادِه رَاوٍ أَوْ أَكْثَر لَا عَلَى التَّوَالِي.
মুনকাতিমুনকাতি হলো: যার সনদের মধ্যভাগ থেকে একজন বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে, তবে তা ধারাবাহিকভাবে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
نوع آخر منقطعهَذَا الإِسْنَاد فِيهِ انْقِطَاعَينِ وَلَوْ كَنَا مُتَتَاليين لَكَانَ مُعْضَلاً كَمَا فِي الشَّكْل الآتِي.
মুনকাতি’র (বিচ্ছিন্ন সনদের) অন্য একটি প্রকারএই সনদে দুটি বিচ্ছিন্নতা রয়েছে; আর যদি তারা ধারাবাহিক হতো, তবে তা ‘মু’দাল’ হতো, যেমনটি পরবর্তী চিত্রে দেখানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
المعضلالْمُعْضَل هُوَ: مَا سَقَطَ مِنْ وَسَطِ إِسنَادِه رَاوِيَان عَلَى التَّوَالِي.
আল-মুদালমুদাল হলো: যার সনদের মধ্যভাগ থেকে ধারাবাহিকভাবে দুইজন রাবী বাদ পড়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
المعلقالْمُعَلَّق هُوَ: مَا سَقَطَ مِنهُ رَاوٍ أَوْ أَكْثَر مِن بِدَايَة الإسنَاد.
মুআল্লাকমুআল্লাক হলো: যার সনদের শুরু থেকে এক বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
نوع آخر معلقهَذَا نَوع آخَر قَدْ حُذِفَ مِنهُ رَاوِيَانِ.
অন্য এক প্রকার মুআল্লাকএটি অন্য এক প্রকার যাতে দুইজন বর্ণনাকারীকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
نوع آخر معلقوَهَذَا نَوع آخَر مُعَلَّق.
অন্য এক প্রকার মুআল্লাকএবং এটি অপর একটি মুআল্লাক প্রকার।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
نوع آخر معلقوَهَذَا نَوع آخَر، وَالْحَدِيث الْمُعَلَّق نَوع مِنْ أَنْوَاع الْحَدِيث الضَّعِيف لِفُقْدَانِهِ شَرط مِنْ شُرُوط الصِّحَة وَهُوَ اتِّصَالُ السَّنَد، وَأَمَّا الْمُعَلَّقَات الَّتِي فِي الْبُخَارِيّ إِنْ كَانَتْ بِصِيغَة الْجَزْم فَهِي صَحِيحَة إِلَى مَنْ عَلَّقَهَا عَنهُ - أَيْ أَنَّ السَّنَد صَحِيح مِنَ الْبُخَارِيّ إِلَى مَوْضِع التعليق وَيُنْظر فِيمَا بَعْده - مِثَالُ ذَلِكَ إِنْ قَالَ الْبُخَارِيّ: قَالَ بَهْزُ بْنُ حَكِيم عَنْ أبيه عَنْ جَدِّه عَنْ رَسُولِ اللهُ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ السَّنَدَ مِنَ الْبُخَارِيّ إِلَى بَهْز بن حَكِيم صَحِيح وَلَكِن يُنْظَرُ فِي بَهْز وَمَنْ بَعْدَهُ، وَكَذَلِك مُعَلَّقَات مُسْلِم، وَإِنْ كَانَتْ بِصِيغَة التَّمْرِيض كَأَنْ يَقُولُ: قِيلَ أَوْ يُروَى أَوْ يُذْكَر أَوْ نَحْوَهَا؛ فَفِي هَذِهِ الْحَالَة لَا يُحْكَمُ عَلَيهَا بِالصِّحة إِلاَّ إِذَا رُويَت مُتَّصِلَة فِي مَكَان آخَر مِنَ الصَّحِيح أَو غَيره مِنَ الْكُتُب شَرِيطَة أَنْ يَصِح إِسنَادها.
অন্য প্রকার: মুয়াল্লাকএটি অন্য একটি প্রকার, আর মুয়াল্লাক হাদীস যঈফ বা দুর্বল হাদীসের প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে সহীহ হওয়ার অন্যতম শর্ত অর্থাৎ সনদের নিরবচ্ছিন্নতা অনুপস্থিত। তবে বুখারীর মুয়াল্লাক বর্ণনাগুলো যদি দৃঢ়তার শব্দে (সিগাতুল জাযম) বর্ণিত হয়, তবে তা যার থেকে মুয়াল্লাক করা হয়েছে তার পর্যন্ত সহীহ—অর্থাৎ ইমাম বুখারী থেকে মুয়াল্লাক করার স্থান পর্যন্ত সনদটি সহীহ এবং পরবর্তী অংশটি পর্যালোচনা সাপেক্ষ—এর উদাহরণস্বরূপ, ইমাম বুখারী যদি বলেন: বাহয ইবনে হাকিম তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে ইমাম বুখারী থেকে বাহয ইবনে হাকিম পর্যন্ত সনদটি সহীহ, কিন্তু বাহয এবং তার পরবর্তী বর্ণনাকারীদের অবস্থা বিবেচনা করা হবে। ইমাম মুসলিমের মুয়াল্লাক বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আর যদি তা সংশয়সূচক শব্দে (সিগাতুত তামরীয) বর্ণিত হয়, যেমন তিনি বললেন: ‘বলা হয়েছে’ অথবা ‘বর্ণিত হয়েছে’ অথবা ‘উল্লেখ করা হয়েছে’ কিংবা এই জাতীয় শব্দ দ্বারা; তবে এমতাবস্থায় সেটিকে সহীহ হিসেবে গণ্য করা হবে না, যতক্ষণ না তা ‘সহীহ’ গ্রন্থের অন্য কোনো স্থানে অথবা অন্য কোনো গ্রন্থে নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত হয় এবং সেই সনদটি সহীহ সাব্যস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الغريبالْغَرِيب هُوَ: مَا رُوِيَ مِنْ طَرِيقٍ وَاحِد، وَلَا يُشْتَرَط أَنْ يَكُون التَّفَرّد فِي جَمِيع الطَّبَقَات وَلَكِن يَكْفِي أَنْ يَكُونَ التَّفَرُّد فِي طَبَقَة، كَأَنْ يَتَفَرَّد بِهِ التَّابِعِي عَنِ الصَّحَابِي، وَصُور الْغَرِيب كَثِيرَة مِنهَا هَذِهِ الأَشْكَال الآتِيَة.
গরিবগরিব হলো: যা কেবল একটি সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে। এটি শর্ত নয় যে, বর্ণনার এককত্ব সমস্ত স্তরেই থাকতে হবে, বরং যেকোনো একটি স্তরে একক বর্ণনা থাকাই যথেষ্ট। যেমন কোনো তাবিঈর একজন সাহাবী থেকে এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করা। গরিবের বহু রূপ রয়েছে, যার মধ্যে নিম্নোক্ত ধরনগুলো অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
نوع آخر غريبهَذَا أيضا حَدِيث غَرِيب.
অন্য এক প্রকার বিরল বর্ণনাএটিও একটি বিরল হাদিস।