(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: -)
التيسير في أصول واتجاهات التفسير   (عماد علي عبد السميع)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: التيسير في أصول واتجاهات التفسير

المؤلف: عماد علي عبد السميع (معاصر)

الناشر: دار الإيمان - الإسكندرية

تاريخ النشر: 2006

عدد الصفحات: 137

أعده للشاملة: محمود الجيزي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 20 ربيع الآخر 1437

আত-তয়সির ফি উসুল ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসির   (ইমাদ আলী আবদুস সামি')

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


বই: আত-তয়সির ফি উসুল ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসির

লেখক: ইমাদ আলী আবদুস সামি' (সমসাময়িক (معاصر))

প্রকাশক: দারুল ইমান - আলেকজান্দ্রিয়া

প্রকাশকাল: ২০০৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৭

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: মাহমুদ আল-জিজি

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণকপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২০ রবিউস সানি ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة الدكتور علي أحمد فراج]

بسم الله الرحمن الرحيم

تقديم

بقلم فضيلة الأستاذ الدكتور/ علي أحمد فراج علي (حفظه الله)

 

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد:

فقد قرأت الكتاب المعنون بـ[التيسير في أصول واتجاهات التفسير].

للدكتور/ عماد علي عبد السميع، والكتاب من عنوانه "التيسير" فقد صيغ بأسلوب سهل سلس، يسهل فهمه وقراءته لمن يريد أن يتعرف على أصول واتجاهات المفسرين قديمًا وحديثًا.

وقد استفاد الباحث في كتاباته من خبرة وآراء السابقين له وخاصة العلماء المعاصرين الذين بذلوا جهودا مضنية في سبيل إبراز هذه الصورة المشرقة لعلماء التفسير قديمًا وحديثًا.

فنسأل الله أن يجعل ذلك في ميزان حسناته، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

تقديم أ. د/ علي أحمد فراج علي

أستاذ ورئيس قسم التفسير وعلوم القرآن

والعميد الأسبق لكلية أصول الدين والدعوة الإسلامية

فرع جامعة الأزهر بأسيوط
[ড. আলী আহমদ ফারাজের ভূমিকা]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

উপস্থাপনা

লিখনীতে: ফযীলাতুশ শাইখ প্রফেসর ড. আলী আহমদ ফারাজ আলী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

আমি [আত-তাইসীর ফী উসূল ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর] শিরোনামের বইটি পড়েছি।

বইটি ড. ইমাদ আলী আব্দুস সামী'-এর লেখা। বইটির শিরোনাম "আত-তাইসীর" (সহজীকরণ) অনুযায়ী এটি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল শৈলীতে রচিত হয়েছে, যা প্রাচীন ও আধুনিককালের মুফাসসিরগণের মূলনীতি (أصول) ও ব্যাখ্যা পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে জানতে আগ্রহীদের জন্য পাঠ ও অনুধাবন করা সহজ করে তোলে।

গবেষক তাঁর এই লেখায় পূর্বসূরিদের অভিজ্ঞতা ও মতামত থেকে উপকৃত হয়েছেন, বিশেষ করে সেই সমসাময়িক আলেমদের থেকে, যারা প্রাচীন ও আধুনিককালের তাফসীর শাস্ত্রের পণ্ডিতদের এই উজ্জ্বল চিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আর আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

উপস্থাপনায়: প্রফেসর ড. আলী আহমদ ফারাজ আলী

অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান, তাফসীর ও কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ

সাবেক ডিন, উসূলুদ্দীন (أصول الدين) ও ইসলামি দাওয়াহ অনুষদ

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, আসিউত শাখা
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

تقديم

بقلم فضيلة الاستاذ الدكتور/ مجاهد محمد هريدي (حفظه الله)

 

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه.

وبعد:

فقد راجعت هذا العمل العلمي الذي كتبه، الدكتور/ عماد علي عبد السميع والذي هو بعنوان: [التيسير في أصول واتجاهات التفسير] فوجدته عملا طيبا، ذا فائدة قيمة، حيث تناول تلك المباحث المتعددة بصورة مختصرة يسهل فهمها على طلاب العلم، وبخاصة المبتدئين منهم، وهو بذلك قد بذل هذا الجهد المتواضع في خدمة كتاب الله تعالى.

فنسأل الله عز وجل أن ينفعه بما كتب وأن ينفع قارئيه بما سطّر، وأن يوفق الجميع للعمل بكتاب الله تعالى بسنّة رسوله صلى الله عليه وسلم القائل: «خيركم من تعلم القرآن وعلمه»، وبالله التوفيق.

تقديم أ. د/ مجاهد محمد هريدي

أستاذ ورئيس قسم التفسير وعلوم القرآن

بكلية أصول الدين - جامعة الأزهر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

উপস্থাপনা

লিখনীতে: সম্মানিত প্রফেসর ডক্টর মুজাহিদ মুহাম্মদ হারীদী (আল্লাহ তাঁকে হিফজ করুন)

 

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর।

অতঃপর:

আমি ডক্টর ইমাদ আলী আবদুস সামী’র লিখিত এই গবেষণামূলক কর্মটি পর্যালোচনা করেছি, যার শিরোনাম হলো: [আত-তায়সীর ফী উসূল (أصول) ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর]। আমি এটিকে একটি অত্যন্ত উত্তম ও মূল্যবান কাজ হিসেবে পেয়েছি। এতে তিনি বিভিন্ন বিষয়াবলি সংক্ষিপ্তাকারে এমনভাবে আলোচনা করেছেন যা ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য, বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বোঝা সহজসাধ্য। এর মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের খিদমতে এক বিনম্র প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে এই লেখনীর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং তাঁর লিপিবদ্ধ বিষয়ের মাধ্যমে পাঠকদের উপকৃত করেন। আল্লাহ যেন সকলকে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী আমল করার তাওফিক (توفيق) দান করেন, যিনি বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।’ আর আল্লাহর মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়।

উপস্থাপনায়: প্রফেসর ডক্টর মুজাহিদ মুহাম্মদ হারীদী

প্রফেসর এবং বিভাগীয় প্রধান, তাফসীর ও উলূমুল কুরআন বিভাগ

উসূলুদ্দীন অনুষদ - আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدّمة

الحمد لله رب العالمين، أنزل كتابه وأمرنا بتدبره وفهمه فقال: كتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْك مُبارَك لِيَدَّبَّرُوا آياتِهِ ولِيَتَذَكرَ أُولُوا الْأَلْبابِ (29) [ص: 29].

والصلاة والسلام على من قيل له: وأَنْزَلْنا إِلَيْك الذِّكرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ ولَعَلَّهُمْ يَتَفَكرُونَ [النحل: 44].

ثم أما بعد:

فإني أكره التعقيد وأمقته مقتًا شديدًا، وأحب التيسير حبًّا شديدًا، واستبشر كلما قرأت كلام الله تعالى: سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا [الطلاق: 7].

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (5) إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (6) [الشرح: 5، 6].

ودائما أرجو ربي وأدعوه: قالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي (25) ويَسِّرْ لِي أَمْرِي (26) واحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسانِي (27) يَفْقَهُوا قَوْلِي (28) واجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي (29) [طه: 25 - 29].

ولهذا عندما كلفت بتدريس مادة أصول التفسير بكلية العلوم الإسلامية وجدت معظم الكتب لا يتناسب مع قدرات الطلاب - برغم تفوقهم والحمد لله - لأن أكثر المطروح من كتب أصول التفسير يلاحظ عليه ضخامة الحجم، وهذا لا يساعد الدارس في مرحلة الطلب على تجميع معلومة مرتبة.

فاستعنت بالله عز وجل للكتابة لتيسير تلك المادة على الطلاب لعل الله أن ييسر لنا طريقا إلي الجنة.

وأعترف - ليس اعتراف مدعي التواضع بل اعتراف من عرف قدر نفسه - أن كتابتي لا ترقي في مستواها إلي ما كتب العلماء الفحول؛ أمثال شيخنا الدكتور محمد لطفي الصباغ، أو الدكتور/ البلتاجي أو
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও অনুধাবনের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: “এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।” [সুরা সদ: ২৯]।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁকে বলা হয়েছে: “এবং আমি আপনার প্রতি জিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।” [সুরা আন-নাহল: ৪৪]।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আমি জটিলতাকে ঘৃণা করি এবং একে তীব্রভাবে অপছন্দ করি। পক্ষান্তরে আমি সহজীকরণকে অত্যন্ত ভালোবাসি এবং যখনই মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করি তখনই আশান্বিত হই: “আল্লাহ কষ্টের পর স্বস্তি দান করবেন।” [সুরা আত-তালাক: ৭]।

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।” [সুরা আশ-শারহ: ৫, ৬]।

আমি সর্বদা আমার রবের নিকট আশা রাখি এবং তাঁর কাছে দুআ করি: তিনি (মূসা আ.) বললেন: “হে আমার পালনকর্তা! আমার বুক প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। এবং আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত করে দিন।” [সুরা ত্বহা: ২৫-২৯]।

একারণেই, যখন আমাকে ‘কুল্লিয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়্যাহ’-তে (ইসলামী শিক্ষা অনুষদ) ‘তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)’ বিষয়টি পড়ানোর দায়িত্ব প্রদান করা হলো, তখন আমি দেখতে পেলাম যে অধিকাংশ কিতাবই শিক্ষার্থীদের মেধার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—যদিও আলহামদুলিল্লাহ তারা অত্যন্ত মেধাবী। কেননা তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) বিষয়ে যেসব কিতাব বর্তমানে সচরাচর পাওয়া যায়, সেগুলোর বিশাল কলেবর লক্ষ্য করা যায়; যা জ্ঞানার্জনের প্রাথমিক স্তরে থাকা একজন শিক্ষার্থীর জন্য সুশৃঙ্খল তথ্য আহরণে সহায়ক নয়।

তাই আমি এই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ করার উদ্দেশ্যে লেখনীর কাজে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম, যেন আল্লাহ এর উসিলায় আমাদের জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।

আর আমি স্বীকার করছি—এটি কোনো বিনয়ের ভান নয়, বরং নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন এক ব্যক্তির অকপট স্বীকারোক্তি—যে আমার এই লেখনী সেই সব বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ আলেমদের উচ্চতায় পৌঁছানোর দাবি রাখে না; যেমন আমাদের শায়খ ডক্টর মুহাম্মদ লুৎফি আস-সাব্বাগ, অথবা ডক্টর আল-বেলতাজি অথবা...
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৮)
الشيخ السعدي .. وغير ذلك.

ولقد أغراني بالكتابة ما وجدته من كلام طيب للدكتور/ الصباغ - وهو يحث طلاب العلم أمثالي على مزيد من البحث في أصول التفسير - قال: (وعلم أصول التفسير يمكن أن نصنفه في العلوم القابلة للنمو، ذلك لأن العلوم أنواع: فمنها ما بلغ الغاية في النضج حتى قال عنه الباحثون إنه احترق .. ومنها علوم نضجت ولم تحترق، ومنها علوم ما زالت سائرة في طريق النضج ولما تبلغ تلك النهاية التي بلغتها العلوم الأخرى .. ونستطيع أن نلحق علم أصول التفسير بهذه الزمرة من العلوم) (1).

وقد ناقش الشيخ في هامش بحوثه في أصول التفسير عبارة: «إن من العلوم ما بلغ الغاية في النضج حتى احترق»، وقال هذه مبالغة، فالعلم مهما بحث فيه الباحثون لا يفسد ولا يحترق بل يزداد نضجا إن كان المنهج المتبع فيه سليما، والفساد يمكن أن يتسرب إلي كل علم عند ما يكون منهج البحث فيه منحرفا معوجا ولو لم يصل إلي مرحلة النضج.

كل هذا أزال عني التردد في أن أكتب في هذا الموضوع، الذي هو من أهم الموضوعات لطلاب العلم، إذ هو يتعلق بأشرف كتب الله على الإطلاق - القرآن الكريم - ورجائي من إخواني الطلاب والطالبات بذل الجهد لفهم تلك الأصول التي تضبط فهمنا لكتاب ربنا تعالى، لنفهم صوابا ونعمل صوابا بتوفيق من الله.

كما أرجو من كل مطالع لهذه الصفحات أن يعينني على تصويب أخطائي

--------------------------------------------

(1) د/ محمد لطفي الصباغ: بحوث في أصول التفسير ص 12.
শায়খ আস-সাদী... এবং আরও অন্যান্য।

ড. আস-সাব্বাগ-এর কিছু চমৎকার কথা আমাকে এই বিষয়ে লিখতে উৎসাহিত করেছে—যেখানে তিনি আমার মতো ইলম অন্বেষণকারীদের তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) নিয়ে আরও গবেষণা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন—তিনি বলেছেন: (তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) সংক্রান্ত ইলমকে আমরা বিকাশযোগ্য জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। কারণ জ্ঞান বা বিজ্ঞান কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে: এর মধ্যে কিছু এমন আছে যা পরিপক্বতার এমন চরম শিখরে পৌঁছেছে যে গবেষকরা তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন যে এটি পুড়ে গেছে (অর্থাৎ এর প্রতিটি দিক বিস্তারিত আলোচিত হয়ে শেষ হয়ে গেছে)... আবার কিছু ইলম আছে যা পরিপক্ব হয়েছে কিন্তু পুড়ে যায়নি। আবার এমন কিছু ইলমও আছে যা এখনও পরিপক্বতার পথে এগিয়ে চলছে এবং অন্যান্য ইলম যে শিখরে পৌঁছেছে তা এখনও স্পর্শ করতে পারেনি... আমরা তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) সংক্রান্ত ইলমকে বিজ্ঞানের এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করতে পারি) (১)।

শায়খ তাঁর তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير) বিষয়ক গবেষণার টীকায় এই উক্তিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন: «নিশ্চয় কিছু ইলম পরিপক্বতার চরম শিখরে পৌঁছে পুড়ে গেছে»। তিনি বলেছেন, এটি একটি অতিশয়োক্তি; কেননা কোনো বিষয়ে গবেষকরা যতই গবেষণা করুন না কেন, তা নষ্ট হয় না বা পুড়ে যায় না, বরং অনুসৃত পদ্ধতি (المنهج) যদি সঠিক (سليم) হয়, তবে তা আরও বেশি পরিপক্বতা লাভ করে। আর গবেষণার পদ্ধতি (المنهج) যদি বিচ্যুত ও বক্র হয়, তবে যেকোনো ইলমেই বিপর্যয় প্রবেশ করতে পারে, এমনকি যদি তা পরিপক্বতার স্তরে নাও পৌঁছায়।

এই সব কিছু এই বিষয়ে লেখার ব্যাপারে আমার দ্বিধা দূর করে দিয়েছে, যা ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা এটি নিরঙ্কুশভাবে আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম কিতাব—কুরআনুল কারীম—এর সাথে সম্পৃক্ত। আমার ছাত্র ও ছাত্রী ভাই-বোনদের প্রতি আমার আকুল আবেদন যেন তারা সেই মূলনীতিসমূহ (الأصول) বোঝার জন্য যথাযথ চেষ্টা ব্যয় করেন যা আমাদের রবের কিতাব সম্পর্কে আমাদের অনুধাবনকে সুশৃঙ্খল করে, যাতে আমরা আল্লাহর তাওফিকে সঠিকভাবে বুঝতে পারি এবং সঠিকভাবে আমল করতে পারি।

সেই সাথে আমি এই পৃষ্ঠাসমূহ পাঠকারী প্রত্যেকের কাছে এই প্রত্যাশা রাখি যে, তারা যেন আমার ভুলত্রুটি সংশোধনে আমাকে সহযোগিতা করেন।

--------------------------------------------

(১) ড. মুহাম্মদ লুতফি আস-সাব্বাগ: তাফসিরের মূলনীতি সংক্রান্ত গবেষণা, পৃষ্ঠা ১২।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৯)
فيها، فهي ليست متعمدة وأن يسامحني، وأن يسأل الله لنفسه ولي معه أن ييسر لنا بالعلم مع رحمته طريقا إلي الجنة.

هذا: وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

 

وكتبه

عماد علي عبد السّميع حسين

رئيس قسم علوم القرآن

بكلية العلوم الإسلامية
তাতে (কোনো ভুলত্রুটি থেকে থাকলে) তা ইচ্ছাকৃত নয়; তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন এবং আল্লাহর নিকট নিজের জন্য ও আমার জন্য প্রার্থনা করেন যেন তিনি ইলমের মাধ্যমে তাঁর রহমতসহ আমাদের জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন।

পরিশেষে: আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আর আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

এটি লিখেছেন

ইমাদ আলী আবদুস সামী' হুসাইন

বিভাগীয় প্রধান, কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ

ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المبحث الأول معنى أصول التفسير

لكي نستطيع الوقوف على معنى أو حقيقة أي مصطلح لا بدّ من مراجعته في اللغة، وكذلك إن كان مركبا إضافيا يستحسن تحليله أولا ثم إضافة أجزاء هذا التحليل إلي بعضها واستنتاج المعنى الإضافي، وعلى هذا فنحن أمام مصطلح مركب إضافي (أصول التفسير) ولبيانه نقول:

 

‌‌أولا: معنى أصول التفسير بالمعنى التحليلي:

(أصول) في اللغة: جمع أصل، والأصل أسفل كل شيء (1).

واصطلاحا: هو ما يبني عليه غيره، أو يفتقر إليه ولا يفتقر إلي غيره (2).

(التفسير) في اللغة: الكشف والإظهار والإبانة (3).

واصطلاحا: هو الكشف عن معاني ألفاظ القرآن الكريم في سياقاتها حسب قواعد وأصول معروفة لفهم مراد الله تعالى من وحيه المنزل (4).

 

‌‌ثانيا: معنى أصول التفسير بالمعنى الإضافي:

هو: أصول وقواعد تحكم خطة المفسر، وتحول بينه وبين الخطأ في الفهم والاستنباط، وتعينه على أداء مهمة التفسير على الوجه الأفضل.

--------------------------------------------

(1) لسان العرب 1/ 155.

(2) التعريفات للجرجاني ص 22.

(3) لسان العرب 1/ 261.

(4) انظر كشاف اصطلاحات الفنون للتهانوي ص 33.
প্রথম পরিচ্ছেদ: উসুল আত-তাফসিরের (أصول التفسير) অর্থ

কোনো পরিভাষার (مصطلح) অর্থ বা প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবনের জন্য তা আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা আবশ্যক। একইভাবে সেটি যদি একটি সম্বন্ধযুক্ত শব্দ হয়, তবে প্রথমে তার অংশগুলোর বিশ্লেষণ করা এবং এরপর সেই বিশ্লেষণের অংশগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে সম্বন্ধযুক্ত অর্থটি আহরণ করা উত্তম। সেই প্রেক্ষিতে আমরা ‘উসুল আত-তাফসির’ (أصول التفسير) নামক একটি সম্বন্ধযুক্ত পরিভাষার সম্মুখীন এবং এর ব্যাখ্যায় আমরা বলতে পারি:

 

‌‌প্রথমত: বিশ্লেষণাত্মক অর্থে উসুল আত-তাফসিরের (أصول التفسير) সংজ্ঞা:

‘উসুল’ (أصول) আভিধানিকভাবে: এটি ‘আসল’ (أصل) শব্দের বহুবচন, আর ‘আসল’ হলো কোনো বস্তুর নিম্নভাগ বা ভিত্তি (১)।

পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থে: এটি এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে, অথবা যা অন্য কিছুর নিকট প্রয়োজনীয় কিন্তু নিজে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী নয় (২)।

‘তাফসির’ (التفسير) আভিধানিকভাবে: উন্মোচন করা, প্রকাশ করা এবং স্পষ্ট করা (৩)।

পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থে: অবতীর্ণ ওহির মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য বোঝার জন্য সুপরিচিত উসুল (أصول) ও নিয়মনীতি অনুযায়ী আল-কুরআনের শব্দাবলির অর্থ তার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী উন্মোচন করা (৪)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সম্বন্ধযুক্ত অর্থে উসুল আত-তাফসিরের (أصول التفسير) সংজ্ঞা:

এটি হলো: এমন কিছু উসুল (أصول) ও নিয়মনীতি (قواعد) যা একজন মুফাসসিরের কর্মপন্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকে অনুধাবন ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুল থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি তাফসিরের দায়িত্বটি সর্বোত্তম উপায়ে আঞ্জাম দিতে তাকে সহায়তা করে।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ১/১৫৫।

(২) আত-তারিফাত লিল জুরজানি, পৃ. ২২।

(৩) লিসানুল আরব ১/২৬১।

(৪) দেখুন: কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন লিত-তাজানওয়ি, পৃ. ৩৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الثاني أهمية ومكانة علم التفسير

لعلم التفسير أهمية بالغة، ذلك لأن القرآن أنزله الله ليتدبره الناس ويفهمونه، وبالفهم تستريح الأنفس للعمل به وتطبيق ما فيه.

ولقد أشار الله تعالى إلي أهمية التفسير عند ما دعا إلي تدبر القرآن، فمثلا:

يقول سبحانه وتعالى: كتابٌ أَنْزَلْناهُ إِلَيْك مُبارَك لِيَدَّبَّرُوا آياتِهِ ولِيَتَذَكرَ أُولُوا الْأَلْبابِ (29) [ص: 29].

وقال تعالى: أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلي قُلُوبٍ أَقْفالُها (24) [محمد: 24].

وقال تعالى أيضا - آمرا نبيه صلى الله عليه وسلم بالقيام بمهمة التفسير: وأَنْزَلْنا إِلَيْك الذِّكرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ ولَعَلَّهُمْ يَتَفَكرُونَ [النحل: 44].

وقد قام النبي صلى الله عليه وسلم بالمهمة خير قيام فكان أصحابه إذا أشكل عليهم شيء من القرآن سألوه صلى الله عليه وسلم فيوضح ويبين لهم.

قال الإمام الطبري رحمه الله وهو يبين أهمية التفسير: (اعلموا عباد الله - رحمكم الله - أن أحق ما صرفت إلي علمه العناية، وبلغت في معرفته الغاية ما كان لله في العلم به رضي وللعالم إلي سبيل الرشاد هدي، وإن اجمع ذلك لباغيه كتاب الله الذي لا ريب فيه، وتنزيله الذي لا مرية فيه، الفائز بجزيل الذخر وسني الأجر تاليه، الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد) (1).

وصدق الطبري فيما قال، فقد كان العلماء من قبله يرحلون إلي بلاد بعيدة من أجل الوقوف على معنى آية وتفسيرها، قال عبد الله بن مسعود: (ما من

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري 1/ 15.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসির (تفسير) বিজ্ঞানের গুরুত্ব ও মর্যাদা

তাফসির (تفسير) বিজ্ঞানের গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক, কেননা আল্লাহ তাআলা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষ তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে এবং তা অনুধাবন করে। আর অনুধাবনের মাধ্যমেই সে অনুযায়ী আমল করা এবং এতে যা আছে তা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।

আল্লাহ তাআলা যখন কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করার আহ্বান জানিয়েছেন, তখনই তিনি তাফসিরের (تفسير) গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ:

মহান আল্লাহ বলেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা যেন উপদেশ গ্রহণ করে।" [সুরা সাদ: ২৯]।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো রয়েছে?" [সুরা মুহাম্মদ: ২৪]।

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাফসিরের (تفسير) দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে আরও বলেন: "এবং আমি আপনার প্রতি জিকির (الذكر) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা (تبين) করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যেন তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" [সুরা নাহল: ৪৪]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন। ফলে তাঁর সাহাবীগণের নিকট কুরআনের কোনো বিষয় জটিল মনে হলে তাঁরা তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করতেন এবং তিনি তাঁদের নিকট তা সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যা (تبين) করে দিতেন।

ইমাম তাবারী (রহ.) তাফসিরের (تفسير) গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন। জেনে রাখুন, যে বিষয়ের জ্ঞান অর্জনে সর্বাধিক যত্নশীল হওয়া এবং যার গভীর জ্ঞান লাভে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো আবশ্যক, তা হলো এমন জ্ঞান যা অর্জনে আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত এবং যা জ্ঞান অন্বেষণকারীকে সঠিক পথের দিশা দেয়। আর কোনো অন্বেষণকারীর জন্য এই সবকিছুর সমষ্টি হলো আল্লাহর কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এবং তাঁর অবতীর্ণ কালাম (تنزيل) যাতে কোনো সংশয় নেই। এর তিলাওয়াতকারী বিপুল সওয়াব ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদান লাভে সফল হয়। এর সামনে কিংবা পেছন থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও চির প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (১)।

ইমাম তাবারী যা বলেছেন তা সত্য। কেননা তাঁর পূর্ববর্তী আলেমগণ একটি আয়াতের অর্থ ও তার তাফসির (تفسير) অবগত হওয়ার জন্য দূর-দূরান্তের দেশে সফর করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: "এমন কোনো...

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে তাবারী ১/১৫।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১২)
آية في كتاب الله عز وجل إلا وأنا أعلم أين نزلت وفيم نزلت ولو أعلم أحدا أعلم بكتاب الله مني تركب إليه الإبل لركبت) (1).

وقد أشار الإمام القرطبي رحمه الله أيضا إلي أهمية علم التفسير فعقد لذلك فصلا موجزا في مقدمة تفسيره (الجامع لأحكام القرآن) أورد فيه ما يدل على أهمية التفسير ومن ذلك:

(ورد عن إياس بن معاوية في فضل التفسير قال: مثل الذين يقرءون القرآن وهم لا يعلمون تفسيره كمثل قوم جاءهم كتاب من ملكهم ليلا وليس عندهم مصباح فتداخلهم روعة، ولا يدرون ما في الكتاب، ومثل الذي يعرف التفسير كمثل رجل جاءهم بمصباح فقرءوا ما في الكتاب) (2).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله عن أهمية التفسير: «وحاجة الأمة ماسة إلي فهم القرآن الذي هو حبل الله المتين والذكر الحكيم، والصراط المستقيم …» (3).

وما من واحد من المفسرين إلا وكتب في مقدمة تفسيره عن أهمية التفسير لكتاب الله عز وجل يستشهد على ذلك بالآيات الواردة في الحث على التدبر في كتاب الله تعالى.

فليعلم طلاب العلم - خصوصا - والمسلمون عموما أن التفسير مهم جدا فهو الطريق إلي العمل بكتاب الله تعالى وتطبيقه كمنهج للحياة.

«.. وإن امتلأت نفس طالب العلم بجلالة علم التفسير وأهميته دفعه ذلك إلي مضاعفة جهده وحثه على مواصلة ليله بنهاره في البحث والدرس والتنقيب، وجعل التعب لديه راحة .. لأن السعي إلي الغايات يكون بحسب

--------------------------------------------

(1) راجع هذا الأثر في تفسير ابن كثير 1/ 3.

(2) الجامع لأحكام القرآن 1/ 26.

(3) مقدمة في أصول التفسير ص 22 بشرح ابن عثيمين.
মহান আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো আয়াত নেই যার সম্পর্কে আমি জানি না যে তা কোথায় এবং কী বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। আর আমি যদি এমন কাউকে জানতাম যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জানে এবং উটের পিঠে চড়ে (সফর করে) তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে আমি অবশ্যই তার কাছে যেতাম (১)।

ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) ও তাফসির শাস্ত্রের গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি তাঁর তাফসির গ্রন্থ আল-জামি লি আহকামিল কুরআন-এর ভূমিকায় এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন, যাতে তিনি তাফসিরের গুরুত্বের প্রমাণসমূহ উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো:

(তাফসিরের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: যারা কুরআন পাঠ করে অথচ এর তাফসির জানে না, তাদের উদাহরণ সেই সম্প্রদায়ের মতো যাদের কাছে রাতের বেলা তাদের বাদশাহর পক্ষ থেকে কোনো পত্র এসেছে অথচ তাদের কাছে কোনো প্রদীপ নেই। ফলে তারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়ে যায় এবং পত্রে কী আছে তা জানে না। আর যে ব্যক্তি তাফসির জানে, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে তাদের কাছে একটি প্রদীপ নিয়ে এলো এবং তারা পত্রে যা আছে তা পাঠ করল) (২)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাফসিরের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন: «কুরআন অনুধাবনের ক্ষেত্রে উম্মাহর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক, যা আল্লাহর সুদৃঢ় রশি, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সরল পথ …» (৩)।

মুফাসসিরগণের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি তাঁর তাফসিরের ভূমিকায় মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসিরের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেননি। সেখানে তাঁরা মহান আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা (تدبر) করার উৎসাহমূলক আয়াতসমূহ দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।

সুতরাং জ্ঞানান্বেষীদের (طلاب العلم) - বিশেষ করে - এবং সাধারণ মুসলিমদের জানা উচিত যে, তাফসির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এটি মহান আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমল করার এবং জীবন বিধান হিসেবে তা বাস্তবায়নের পথ।

«.. যদি জ্ঞানান্বেষীর (طالب العلم) অন্তর তাফসির শাস্ত্রের মাহাত্ম্য ও গুরুত্বের অনুভূতিতে পূর্ণ হয়, তবে তা তাকে প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে এবং গবেষণা, পাঠ ও অনুসন্ধানে দিন-রাত এক করে দিতে উদ্বুদ্ধ করবে। তখন ক্লান্তিও তার কাছে প্রশান্তিতে পরিণত হবে। কারণ লক্ষ্যপানে ধাবিত হওয়া সেই লক্ষ্যের মর্যাদানুযায়ী হয়ে থাকে..

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসিরের তাফসিরে এই বর্ণনাটি (أثر) দেখুন ১/৩।

(২) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ১/২৬।

(৩) মুকাদ্দিমা ফি উসুলিত তাফসির, পৃ. ২২, ইবনে উসাইমীনের ব্যাখ্যাসহ।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
أهميتها وقيمتها» (1).

وعلى هذا فعلم التفسير أشرف العلوم لتعلقه بكتاب الله الذي هو أشرف الكتب على الإطلاق، وقد جعل بعض أهل العلم: العلم بالتفسير من فروض الكفاية الذي لا تبرأ ذمة الأمة إلا بوجود ولو طائفة منها على مر الزمان تتعلمه وتتقن أصوله وتدل الناس عليه.

--------------------------------------------

(1) د/ محمد لطفي الصباغ: بحوث في أصول التفسير ص 20 ط المكتب الإسلامي - 1988 بتصرف.
এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য» (১)।

সেই অনুযায়ী, তাফসির বিজ্ঞান হলো জ্ঞানসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম; কারণ এটি আল্লাহর কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব। কোনো কোনো আলিম তাফসিরের জ্ঞান অর্জন করাকে ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية) হিসেবে গণ্য করেছেন, যার দ্বারা উম্মাহর দায়বদ্ধতা ততক্ষণ পর্যন্ত সমাপ্ত হয় না, যতক্ষণ না সর্বকালে অন্তত এমন একটি দল বিদ্যমান থাকে যারা এটি শিক্ষা করবে, এর মূলনীতিসমূহে (أصول) ব্যুৎপত্তি অর্জন করবে এবং মানুষকে এর সঠিক পথ প্রদর্শন করবে।

--------------------------------------------

(১) ড. মুহাম্মদ লুতফি আস-সাব্বাগ: বুহুস ফি উসুলিত তাফসির, পৃষ্ঠা ২০, আল-মাকতাবুল ইসলামি সংস্করণ - ১৯৮৮, পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الثالث أهمية علم أصول التفسير

أهمية علم أصول التفسير من أهمية علم التفسير نفسه، لأن أصول التفسير بالنسبة للتفسير بمثابة الوسائل للغايات، فهو له كعلم النحو للغة العربية وكأصول الفقه للفقه، وكأصول الحديث للحديث، …

فأصول التفسير تضبط فهمنا لكتاب الله عز وجل من الزلل أو الشطط، وبها نعرف عموم الآيات وخصوصها، ومحكمها ومتشابهها .. وغير ذلك.

وعلى هذا فأصول التفسير واحد من أجل علوم القرآن، بل هو علم ينتظم علوما في سلكه، فمن الأصول كما سنعرف - إن شاء الله - معرفة المطلق والمقيد والناسخ والمنسوخ وأسباب النزول وشروط المفسر وآدابه، وطرق التفسير .. إلي غير ذلك.

«وعلم أصول التفسير بوصفه هذا يعبر عن منهجية رائعة، فأمة الإسلام عرفت هذه المنهجية في كافة جوانب الثقافة والفكر .. وبسبب هذه المنهجية استطاع المسلمون أن يتخذوا المنهج التجريبي أساسا يصدرون عنه في حياتهم العلمية قبل أن يتوصل إليه الغرب (1)، بل المنصفون من علماء الغرب يعترفون بأن المنهج التجريبي هو هدية المسلمين إلي الفكر الإنساني والحضارة الإنسانية» (2).

--------------------------------------------

(1) الحاسدون من علماء الغرب دائما يحاولون سلب المسلمين شرف الإبداع فينكرون أن يكون المسلمون عرفوا المنهج التجريبي قبلهم وينسبون هذا المنهج إلي فرانسيس بيكون.

(2) انظر: د/ محمد لطفي الصباغ: بحوث في أصول التفسير ص 10.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উসুল আত-তাফসির বিজ্ঞানের গুরুত্ব

উসুল আত-তাফসির বিজ্ঞানের গুরুত্ব স্বয়ং তাফসির বিজ্ঞানের গুরুত্বেরই অংশ; কারণ তাফসিরের ক্ষেত্রে উসুল আত-তাফসিরের অবস্থান হচ্ছে লক্ষ্যের বিপরীতে উপায়ের মতো। এটি ভাষার জন্য নাহু (ব্যাকরণ) বিজ্ঞানের মতো, ফিকহের জন্য উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) বিজ্ঞানের মতো এবং হাদিসের জন্য উসুল আল-হাদিস (أصول الحديث) বিজ্ঞানের মতো, …

উসুল আত-তাফসির মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে বিচ্যুতি বা ভুল থেকে রক্ষা করে এবং এর মাধ্যমেই আমরা আয়াতের সাধারণত্ব (عموم) ও বিশেষত্ব (خصوص), সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলো জানতে পারি।

এই ভিত্তিতে, উসুল আত-তাফসির হলো উলুমুল কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি শাখা। বরং এটি এমন একটি বিজ্ঞান যা অনেকগুলো জ্ঞানশাখাকে নিজের মধ্যে গেঁথে রাখে। ইনশাআল্লাহ আমরা যেমনটি জানতে পারব—উসুলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: শর্তহীন (مطلق) ও শর্তযুক্ত (مقيد), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول), মুফাসসিরের শর্তাবলি ও আদব এবং তাফসিরের পদ্ধতিসমূহ (طرق التفسير) ইত্যাদি।

«উসুল আত-তাফসির বিজ্ঞান এর এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে একটি চমৎকার কর্মপদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে। মুসলিম উম্মাহ সংস্কৃতি ও চিন্তার সকল ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি সম্পর্কে অবগত ছিল... এবং এই পদ্ধতির কারণেই পশ্চিমারা (১) পৌঁছানোর আগেই মুসলমানরা তাদের বৈজ্ঞানিক জীবনে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিকে (المنهج التجريبي) ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছিল। বরং পশ্চিমা পণ্ডিতদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ, তারা স্বীকার করেন যে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি (المنهج التجريبي) হলো মানবীয় চিন্তা ও সভ্যতার প্রতি মুসলিমদের একটি উপহার» (২)।

--------------------------------------------

(১) পশ্চিমা পণ্ডিতদের মধ্যে যারা ঈর্ষাপরায়ণ, তারা সর্বদা মুসলিমদের উদ্ভাবনী শ্রেষ্ঠত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে তারা মুসলিমরা যে তাদের আগে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি (المنهج التجريبي) সম্পর্কে জানত তা অস্বীকার করে এবং এই পদ্ধতিটিকে ফ্রান্সিস বেকনের দিকে সম্বন্ধ করে।

(২) দেখুন: ড. মুহাম্মদ লুৎফী আস-সাব্বাগ: বুহুস ফি উসুল আত-তাফসির, পৃষ্ঠা: ১০।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الرابع نشأة علم التفسير وأصوله

لقد نشأ علم التفسير منذ عصر الرسول صلى الله عليه وسلم فقد كان الصحابة رضي الله عنهم يسألونه عما يشكل عليهم فهمه من القرآن، مثل:

سؤالهم له عند ما نزل قوله تعالى: الَّذِينَ آمَنُوا ولَمْ يَلْبِسُوا إِيمانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولئِك لَهُمُ الْأَمْنُ وهُمْ مُهْتَدُونَ (82) [الأنعام: 82]، قالوا: وأينا لم يظلم نفسه يا رسول الله؟، فقال لهم مفسرا معنى الظلم، وهو الشرك، أما قرأتم قول الله تعالى: إِنَّ الشِّرْك لَظُلْمٌ عَظِيمٌ [لقمان: 13] (1).

وسؤالهم لما نزل قول الله تعالى: مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ [النساء: 123]، فبين لهم ما الذي يجزون به، قال لأبي بكر لما جاء مشفقا وهو يقول: كيف النجاة بعد هذه الآية؟ فقال له: ألست تمرض؟ أليس يصيبك النصب؟، قال: بلي، قال: فذلك الذي تجزون به (2).

وفسر لهم معنى البياض والسواد في آية الصيام: وكلُوا واشْرَبُوا حَتَّي يَتَبَيَّنَ لَكمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ [البقرة: 187]

وكان الأمر قد التبس عليهم، حتى إن أحدهم كان قد أخذ خيطين حقيقين فوضعهما تحت وسادته يريد أن يجعلهما علامة على الإمساك للصيام فلم ير سودا ولا بياضا، فأخبر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك فقال له: إنك لعريض الوساد، البياض بياض الصبح والسواد سواد الليل (3).

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري 3/ 455 وأصله في البخاري برقم 32.

(2) تفسير الطبري 3/ 37 وأصله في مسند احمد 1/ 11 والحاكم 3/ 74 وصححه الذهبي.

(3) انظر/ تفسير القرطبي 2/ 320 وأصله في البخاري.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাফসির বিজ্ঞানের উদ্ভব ও এর মূলনীতিসমূহ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকেই তাফসির বিজ্ঞানের সূচনা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম কুরআনের যেসব বিষয় বুঝতে তাঁদের নিকট অস্পষ্ট মনে হতো, সে সম্পর্কে তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন। যেমন:

মহান আল্লাহর এই বাণী যখন নাযিল হলো: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা আর তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত" [আল-আনআম: ৮২], তখন তাঁদের প্রশ্ন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের প্রতি জুলুম করেনি? তখন তিনি তাঁদের নিকট জুলুমের অর্থের ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন যে, এটি হলো শিরক। তোমরা কি মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করোনি: "নিশ্চয়ই শিরক হলো চরম জুলুম" [লুকমান: ১৩] (১)।

আর তাঁদের প্রশ্ন যখন মহান আল্লাহর এই বাণী নাযিল হলো: "যে কেউ মন্দ কাজ করবে, তাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে" [আন-নিসা: ১২৩]। তখন তিনি তাঁদের নিকট স্পষ্ট করলেন যে কিসের মাধ্যমে বিনিময় দেওয়া হয়। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন অত্যন্ত চিন্তিত অবস্থায় এসে বললেন: এই আয়াত নাযিলের পর মুক্তির উপায় কী? তখন তিনি তাঁকে বললেন: তুমি কি অসুস্থ হও না? তুমি কি ক্লান্তিতে আক্রান্ত হও না? তিনি বললেন: অবশ্যই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এ সবেরই মাধ্যমেই তোমাদেরকে বিনিময় দেওয়া হয় (২)।

সিয়ামের আয়াতে তিনি তাঁদের নিকট সাদা ও কালো সুতার অর্থের ব্যাখ্যা করেছেন: "আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায়" [আল-বাকারা: ১৮৭]।

বিষয়টি তাঁদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এমনকি তাঁদের একজন তো দুটি বাস্তব সুতা নিয়ে তাঁর বালিশের নিচে রেখেছিলেন। তিনি সিয়ামের পানাহার বর্জনের চিহ্ন হিসেবে এগুলো ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কালো বা সাদা কিছুই দেখতে পেলেন না। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা অবহিত করলে তিনি তাঁকে বললেন: তোমার বালিশ তো অনেক প্রশস্ত! এখানে সাদা সুতা হলো সুবহে সাদিকের শুভ্রতা এবং কালো সুতা হলো রাতের অন্ধকার (৩)।

--------------------------------------------

(১) তাফসির আল-তাবারী ৩/৪৫৫ এবং এর মূল বর্ণনা সহিহ বুখারি-তে হাদিস নং ৩২-এ রয়েছে।

(২) তাফসির আল-তাবারী ৩/৩৭ এবং এর মূল বর্ণনা মুসনাদ আহমদ ১/১১ ও আল-হাকিম ৩/৭৪-এ রয়েছে, আর আয-যাহাবী একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

(৩) দেখুন: তাফসির আল-কুরতুবী ২/৩২০ এবং এর মূল বর্ণনা সহিহ বুখারি-তে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولم تكن هذه مواقف فردية وإنما حرص الصحابة على فهم القرآن لأنه طريق العمل - كما قلنا - بل ورد عنهم قالوا: «كنا إذا نزلت عشر آيات من كتاب الله تعالى لم نبرحها حتى نحفظها ونفهم معانيها ونعمل بها حتى إذا اكتمل القرآن نزولا كان قد اجتمع لدينا ثلاث: الحفظ والفهم والعمل» (1).

وربما لم يثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم ترك تفسيرا كاملا للقرآن، وذلك لأنه لم تكن هناك أسباب داعية إليه، فأصحابه كانوا يتمتعون بذكاء وسلامة فطرة منقطعة النظير، ومع ذلك وضح لهم ما أشكل عليهم، وهم بدورهم بلغوا ما فسره لهم، ووضحوا أيضا من خلال مشاهداتهم لنزول الوحي والأحوال المقترنة به ما وسعهم توضيحه.

ثم جاء عصر التابعين فتكلم الأئمة: منهم الحسن البصري وعكرمة مولي ابن عباس وسعيد بن المسيب، ثم مجاهد وقتادة وأبو إسحاق السبيعي … وغيرهم.

وكانت مرويات التفسير تروي على أنها أبواب من الحديث، ولم يظهر تفسير كامل استوعب القرآن من فاتحته إلي خاتمته إلا في أواخر القرن الثالث وأوائل الرابع الهجري على يد شيخ المفسرين محمد بن جرير الطبري (ت 310 هـ)، ثم توالي التصنيف في التفسير والتفنن في مذاهبه.

ولا زال إلي الآن يكتب في التفسير ويتوصل إلي جديد من معاني كلام الله تعالى، وسيظل ما دامت السماوات والأرض زاخرا بالمعاني التي يعد تفسيرها تجديدا لإعجازه.

وعن نشأة أصول التفسير: لقد نشأ علم أصول التفسير مقترنا بالتفسير وإن لم يكن تحت هذا المصطلح

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير 1/ 3.
এগুলো কেবল ব্যক্তিগত অবস্থান ছিল না, বরং সাহাবীগণ কুরআন অনুধাবন করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, কারণ আমরা যেমনটি বলেছি—এটিই ছিল আমলের পথ। বরং তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলতেন: «আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে যখন দশটি আয়াত নাযিল হতো, আমরা সেগুলো অতিক্রম করতাম না যতক্ষণ না সেগুলো মুখস্থ করতাম, সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করতাম এবং তদানুযায়ী আমল করতাম। অবশেষে যখন কুরআনের অবতরণ পূর্ণ হলো, তখন আমাদের নিকট তিনটি বিষয় একত্রিত হলো: মুখস্থকরণ, অনুধাবন এবং আমল।» (১)।

সম্ভবত এটি সাব্যস্ত (ثبت) হয়নি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ তাফসীর রেখে গেছেন; কারণ এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ বিদ্যমান ছিল না। কেননা তাঁর সাহাবীগণ নজিরবিহীন মেধা ও স্বভাবজাত সুস্থ বিবেকের অধিকারী ছিলেন। তা সত্ত্বেও, তাঁদের নিকট যা অস্পষ্ট মনে হতো, তিনি তা স্পষ্ট করে দিতেন। তাঁরাও নবীজি তাঁদের নিকট যা ব্যাখ্যা করেছেন তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং ওহী নাযিলের চাক্ষুষ প্রত্যক্ষলব্ধ জ্ঞান ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক অবস্থার আলোকে যতটুকু সম্ভব ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

অতঃপর তাবেয়ীদের যুগ এল এবং ইমামগণ এই বিষয়ে আলোচনা করলেন: তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাসান বসরী, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব; অতঃপর মুজাহিদ, কাতাদাহ এবং আবু ইসহাক আস-সুবাইঈ … ও অন্যান্যরা।

তাফসীর বিষয়ক বর্ণনা (مرويات) গুলো হাদিসের বিভিন্ন অধ্যায় হিসেবে বর্ণিত (تروي) হতো। আর কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণকারী কোনো তাফসীর হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগ এবং চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকের আগে আত্মপ্রকাশ করেনি, যা 'শায়খুল মুফাসসিরিন' মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (ওফাত: ৩১০ হিজরি)-এর হাতে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে তাফসীর বিষয়ক গ্রন্থ রচনা এবং এর বিভিন্ন ধারায় পাণ্ডিত্যের বিকাশ ঘটতে থাকে।

বর্তমান সময় পর্যন্ত তাফসীর রচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আল্লাহর বাণীর নতুন নতুন অর্থ ও তাৎপর্য আবিষ্কৃত হচ্ছে। আসমান ও জমিন যতক্ষণ বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ এটি এমন সব অর্থে পরিপূর্ণ থাকবে, যার ব্যাখ্যা কুরআনের আলৌকিকত্বের (إعجاز) নবায়ন হিসেবে গণ্য হবে।

উসূলুত তাফসীরের (أصول التفسير) উদ্ভব প্রসঙ্গে: উসূলুত তাফসীর (أصول التفسير) শাস্ত্রটি তাফসীরের সাথেই উদ্ভূত হয়েছে, যদিও শুরুতে তা এই পরিভাষার অধীনে ছিল না।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর ১/ ৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
- لكن يلاحظ من تورع الصحابة رضي الله عنهم عن القول في تفسير القرآن بالهوى وبدون علم: أنهم كانوا يرون أن التفسير لا يتم إلا بضوابط حتى لا يحصل الزلل والخطأ في الفهم.

قال أبو بكر رضي الله عنه: (أي أرض تقلني، وأي سماء تظلني، إن أنا قلت في القرآن برأيي). وفي رواية: (لأن تضرب عنقي ولا أقول في القرآن برأيي) (1).

«ويعتبر الإمام الشافعي رحمه الله (ت 204 هـ) أول واضع لأصول التفسير في كتابه الرسالة، وإن كان قصد بها التقعيد لأصول الفقه لكنه تعرض في مباحث كثيرة للمطلق والمقيد، والناسخ والمنسوخ .. وغير ذلك من المباحث المهمة في أصول التفسير فاعتبرها العلماء باكورة ما كتب في هذا الشأن» (2).

ثم توالت الكتابات في أصول التفسير، لكنها كانت بمثابة مقدمات في كتب التفسير يبدأ بها العلماء، ومن أهم تلك المقدمات مقدمة تفسير الإمام الطبري رحمه الله وكذلك القرطبي، ثم ظهرت مقدمة شيخ الإسلام ابن تيمية في أصول التفسير، وكذلك كانت توجد أصول التفسير متناثرة في بطون كتب علوم القرآن، أما في العصر الحاضر فقد كتب غير واحد من العلماء في أصول التفسير جمعا لهذا المتناثر في القرآن تقريبا وتسهيلا على الطلاب.

ومع ذلك يبقي علم أصول التفسير كما قال الدكتور: محمد لطفي الصباغ - من العلوم القابلة للنمو - والتي تحتاج إلي جهد وعناية كبيرة (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: فضائل القرآن لأبي عبيد القاسم ص 227 وهو مرسل.

(2) انظر: خالد عبد الرحمن العك: أصول التفسير وقواعده ص 35.

(3) انظر: بحوث في أصول التفسير ص 12.
তবে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের খেয়ালখুশি মাফিক এবং ইলম ছাড়া কোরআনের তাফসির করার ব্যাপারে যে সতর্কতা ও পরহেজগারি লক্ষ্য করা যায়, তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে: তারা মনে করতেন বুঝার ক্ষেত্রে যাতে কোনো পদস্খলন বা ভুল না হয় সেজন্য কিছু নীতিমালা ছাড়া তাফসির করা সম্ভব নয়।

আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "কোন জমিন আমাকে আশ্রয় দিবে আর কোন আকাশ আমাকে ছায়া দিবে, যদি আমি কোরআনের ব্যাপারে নিজের মনগড়া মত প্রকাশ করি?"। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "আমার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হোক তা-ও ভালো, তবুও আমি কোরআনের ব্যাপারে মনগড়া কিছু বলব না" (১)।

«ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত ২০৪ হি.)-কে তার আর-রিসালাহ গ্রন্থে উসুলুত তাফসিরের প্রথম প্রণেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও তিনি এর মাধ্যমে উসুলুল ফিকহের মূলনীতি প্রণয়ন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেখানে এর ব্যাপক আলোচনায় শর্তহীন (المطلق) ও শর্তযুক্ত (المقيد), রহিতকারী (الناسخ) ও রহিতকৃত (المنسوخ)... এবং উসুলুত তাফসিরের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাই আলেমগণ এই শাস্ত্রের বিষয়ে লিখিত প্রথম কাজ হিসেবে এটিকে বিবেচনা করেন» (২)।

এরপর উসুলুত তাফসির বিষয়ক লেখালেখি চলতে থাকে, তবে সেগুলো তাফসির গ্রন্থসমূহের ভূমিকা হিসেবে ছিল যা দিয়ে আলেমগণ শুরু করতেন। এই ভূমিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইমাম তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) এবং কুরতুবীর তাফসিরের ভূমিকা। এরপর শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর উসুলুত তাফসিরের ভূমিকা প্রকাশিত হয়। এছাড়া উসুলুত তাফসিরের মূলনীতিগুলো উলুমুল কোরআনের কিতাবসমূহের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। বর্তমান যুগে অনেক আলেম শিক্ষার্থীদের জন্য সহজসাধ্য ও নিকটবর্তী করার লক্ষ্যে এই বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে উসুলুত তাফসিরের ওপর গ্রন্থাকারে সংকলন করেছেন।

তা সত্ত্বেও, ডক্টর মুহাম্মদ লুতফি আস-সাব্বাগ যেমনটি বলেছেন—উসুলুত তাফসির শাস্ত্রটি উত্তরোত্তর বৃদ্ধির যোগ্য এমন একটি বিজ্ঞান, যার জন্য প্রচুর পরিশ্রম ও বিশেষ যত্নের প্রয়োজন (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আবু উবাইদ আল-কাসিম রচিত ফাদাইলুল কুরআন পৃষ্ঠা ২২৭ এবং এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা।

(২) দেখুন: খালিদ আব্দুর রহমান আল-আক: উসুলুত তাফসির ওয়া কাওয়াইদুহু পৃষ্ঠা ৩৫।

(৩) দেখুন: বুহুস ফি উসুলিত তাফসির পৃষ্ঠা ১২।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المبحث الخامس أهم المصنفات في أصول التفسير

بعد أن تكلمنا في المبحث السابق عن نشأة علم أصول التفسير، وسبقت الإشارة إلي أسماء بعض المصنفات في هذا العلم، أري من الضروري أن نقف هنا وقفة مع أهم المصنفات في أصول التفسير لنأخذ فكرة موجزة عن كل مصنف منها بقدر الإمكان:

[1] كتاب (الرسالة): لمؤلفه الإمام محمد بن إدريس الشافعي، ت 204 هـ وهو تمهيد لكتابه الأم في الفقه، وهذه الرسالة القيمة كانت فتحا في علم الأصول في كافة فروعه، حتى تنازعها العلماء، في أصول الفقه، وفي أصول التفسير وفي أصول الحديث (المصطلح) .. كل يعتبرها قاعدته التي عنها يصدر، وبأحكامها ينضبط (1).

[2] كتاب (مقدمة في أصول التفسير): لمؤلفه الإمام أبي العباس أحمد بن تيمية شيخ الإسلام المتوفي 728 هـ، وهي رسالة قيمة ذكر فيها أن سبب تأليفه لها أن بعض الإخوان سأله أن يكتب له مقدمة تتضمن قواعد كلية، تعين على فهم القرآن ومعرفة تفسيره .. فاستجاب لهذا الطلب وكتب هذه الرسالة (2).

وتعرض شيخ الإسلام لفصول مهمة منها: (تدبر القرآن وكيفية دراسته والعمل به)، وحاجة الأمة الماسة إلي فهم القرآن) (واختلاف السلف في التفسير) وبيّن أنه قليل، وهو اختلاف تنوّع وليس تضاد. وهو في كل

--------------------------------------------

(1) وقد طبعت بتحقيق الشيخ/ احمد محمد شاكر - بمطبعة مصطفي البابي الحلبي - بالقاهرة 1940 م.

(2) طبعت بتحقيق د/ عدنان زرزور - بمطبعة دار القلم - بيروت 1391 هـ.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাফসির শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول التفسير) বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ

পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে আমরা তাফসির শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول التفسير) বিদ্যার উদ্ভব নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এই শাস্ত্রের কিছু গ্রন্থের নামের প্রতি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছি। এরপর আমি এখানে তাফসির শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول التفسير) বিষয়ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজনীয় মনে করছি, যাতে প্রতিটি গ্রন্থ সম্পর্কে সম্ভবপর একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা লাভ করা যায়:

[১] কিতাবুর রিসালাহ: এর লেখক হলেন ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ২০৪ হিজরি)। এটি তাঁর ফিকহ শাস্ত্রীয় গ্রন্থ আল-উম্ম-এর ভূমিকা স্বরূপ। এই মূল্যবান রিসালাহ বা পত্রটি উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের সকল শাখায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিল, এমনকি ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه), তাফসির শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول التفسير) এবং হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) [পরিভাষা (المصطلح)]-এর পণ্ডিতগণও এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রত্যেকেই একে নিজেদের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেন যেখান থেকে তাঁরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এর বিধানাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন (১)।

[২] কিতাব (মুকাদ্দিমা ফি উসুলুত তাফসির): এর লেখক হলেন শাইখুল ইসলাম ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়াহ (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)। এটি একটি মূল্যবান পুস্তিকা। তিনি এতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি রচনার কারণ হলো—তাঁর জনৈক দ্বীনি ভাই তাঁকে এমন একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন যা কিছু সামষ্টিক মূলনীতি (قواعد كلية) অন্তর্ভুক্ত করবে, যা কুরআন বুঝতে এবং এর তাফসির জানতে সাহায্য করবে। তিনি এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই পুস্তিকাটি রচনা করেন (২)।

শাইখুল ইসলাম এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: (কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা, এর অধ্যয়ন পদ্ধতি ও তদানুযায়ী আমল করা), (কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে উম্মাহর তীব্র প্রয়োজনীয়তা) এবং (তাফসিরের ক্ষেত্রে সালাফদের মতভেদ)। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই মতভেদ সামান্য এবং তা বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف تنوع), বৈপরীত্যমূলক মতভেদ (اختلاف تضاد) নয়। তিনি প্রতিটি...

--------------------------------------------

(১) এটি শাইখ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকিরের তাহকিকসহ কায়রোর মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি প্রেস থেকে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) এটি ডক্টর আদনান যারযূরের তাহকিকসহ বৈরুতের দারুল কলাম প্রেস থেকে ১৩৯১ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
هذا يكثر من الشواهد ويناقش المسائل.

[3] كتاب (الفوز الكبير في أصول التفسير): لمؤلفه الشيخ/ ولي الله أحمد قطب الدين الدهلوي الهندي (ت 1176 هـ) تحدث فيه عن العلوم التي بينها القرآن وعالج فيه كثيرا من مشكلات التفسير، ووضع لها الضوابط ونبه على خطورة الغلو والاجتراء على التفسير بغير علم ..

[4] كتاب (الإكسير في أصول التفسير): لمؤلفه سليمان بن عبد القوي الطوفي البغدادي (ت 716 هـ)، ويقال إنه كان شيعيا رافضيا تعرض فيه المؤلف لفصول منها: فرق بين التفسير والتأويل ثم تعرض للعلوم التي يحتاج إليها المفسر من نحو وصرف ولغة وقراءات وفقه وأصول وتاريخ وطب وحساب ونجوم وهندسة وغيره .. ثم أكثر من الكلام على علمي المعاني والبيان حتى استغرق بقية الكتاب (1).

[5] المقدمات في كتب التفسير: ومن أهمها مقدمة تفسير الطبري، ومقدمة تفسير القرطبي، ومقدمة تفسير ابن كثير، حيث فيها ذكر لكثير من أصول التفسير وشروط المفسر وآدابه والعلوم التي تلزمه، والتحذير من الإسرائيليات في التفسير وكذلك من الشطط في الفهم .. وغير ذلك.

وتعتبر مقدمة تفسير الطبري من أهم وأجود ما كتب في أصول التفسير.

[6] بحوث في أصول التفسير: لمؤلفه الدكتور محمد لطفي الصباغ.

[7] أصول التفسير وقواعده: لمؤلفه الشيخ خالد عبد الرحمن العك.

[8] القواعد الحسان في تفسير القرآن: للشيخ عبد الرحمن السعدي.

--------------------------------------------

(1) طبع بمكتبة الآداب - بمصر 1977 م.
তিনি এতে প্রচুর পরিমাণে সাক্ষ্য-প্রমাণ (شواهد) উল্লেখ করেন এবং বিষয়াদি (مسائل) নিয়ে আলোচনা করেন।

[৩] কিতাব (আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর): এর লেখক শাইখ শাহ ওয়ালিউল্লাহ আহমদ কুতুবুদ্দীন দেহলভী আল-হিন্দি (মৃত্যু ১১৭৬ হি.)। এতে তিনি কুরআন যেসকল জ্ঞান (علوم) বর্ণনা করেছে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তাফসীরের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করেছেন। তিনি এর জন্য নীতিমালা (ضوابط) নির্ধারণ করেছেন এবং অতিরঞ্জন (غلو) ও ইলম ছাড়া তাফসীর করার দুঃসাহসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন...

[৪] কিতাব (আল-ইকসীর ফী উসূলিত তাফসীর): এর লেখক সুলাইমান ইবন আব্দুল কাওয়ী আত-তুফী আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৭১৬ হি.)। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি শিয়া রাফেযী (رافضيا) ছিলেন। লেখক এতে বিভিন্ন অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: তাফসীর ও তাবীলের (تأويل) পার্থক্য। এরপর তিনি একজন মুফাসসিরের প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমূহ (علوم) নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন—নাহু, সরফ, ভাষা, কিরাত, ফিকহ, উসূল (أصول), ইতিহাস, চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও প্রকৌশল বিদ্যা ইত্যাদি। এরপর তিনি ইলমুল মাআনী ও ইলমুল বয়ান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা বইটির বাকি অংশ জুড়ে রয়েছে (১)।

[৫] তাফসীর গ্রন্থসমূহের ভূমিকা: এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে কুরতুবী এবং তাফসীরে ইবনে কাসীরের ভূমিকা। যেখানে তাফসীরের অনেক মূলনীতি (أصول), মুফাসসিরের শর্তাবলী, আদব ও প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমূহ (علوم) উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তাফসীরের ক্ষেত্রে ইসরাইলিয়াত (إسرائيليات) এবং বুঝের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি (شطط) সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে... ইত্যাদি।

আর তাফসীরে তাবারীর ভূমিকা উসূলুত তাফসীর বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বোৎকৃষ্ট হিসেবে বিবেচিত।

[৬] বুহুস ফী উসূলিত তাফসীর: এর লেখক ডক্টর মুহাম্মদ লুতফী আস-সাব্বাগ।

[৭] উসূলুত তাফসীর ওয়া কাওয়ায়িদুহু: এর লেখক শাইখ খালিদ আব্দুর রহমান আল-আক।

[৮] আল-কাওয়ায়িদুল হিসান ফী তাফসীরিল কুরআন: শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা’দী এর রচিত।

--------------------------------------------

(১) এটি মিশরের মাকতাবাতুল আদাব থেকে ১৯৭৭ সালে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث السادس مصادر علم التفسير

إن لكل نهر نبعه وروافده التي يستمد منها ماءه فيجري، ولما كان القرآن الكريم هو كلام الله عز وجل الذي تنفد الأقلام ولو كانت كل ما في الأرض من شجر، والمحابر ولو كانت بحارا يمد بعضها بعضا قال تعالى: ولَوْ أَنَّما فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلامٌ والْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ ما نَفِدَتْ كلِماتُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكيمٌ (27) [لقمان: 27].

لهذا كان التفسير بحرا عظيما ولا بد له من مصادر يستمد منها مادته، وقد تكلم العلماء عن مصادره، ويعنون بها العلوم اللازمة للمفسر عند تفسير القرآن الكريم ومن كلامهم نستطيع أن نقول إن مصادر التفسير كالآتي:

[1] اللغة والاشتقاق: ونعني بذلك معرفة الألفاظ القرآنية واستعمالاتها في لغة العرب وهذا ما يسمي بعلم أصول اللغة، فها هو ابن عباس رضي الله عنهما برغم فصاحته إلا أنه يقرر أنه توقف في تفسير بعض الآيات حتى عرفها من كلام العرب، يقول: (ما كنت أعرف معنى فاطر حتى سمعت رجلين يختصمان في بئر وكل منهما يقول أنا فطرتها أي أنشأتها) (1)، ويقول - أيضا -: ما كنت اعرف معنى قوله تعالى: مَتاعُ الْغُرُورِ حتى سمعت فتاة تقول لأمها غررت يا أماه فقالت لها أمها: تمتعي تمتعي، فعلمت أن الدنيا لا تساوي عند الله تعالى الخرقة التي تنظف المرأة بها فرجها من دم الحيض).

ومما يتصل بمعرفة الألفاظ ومد لولاتها في الاستعمال: معرفة المترادف والمشترك وغير ذلك فهذا مهم جدا للوصول إلي الفهم الدقيق.

--------------------------------------------

(1) انظر: الإتقان في علوم القرآن 1/ 113 وتأويل مختلف الحديث ص 20.
‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাফসির শাস্ত্রের উৎসসমূহ

নিশ্চয়ই প্রতিটি নদীর একটি উৎস ও উপনদী থাকে যেখান থেকে এটি পানি আহরণ করে প্রবাহিত হয়। যেহেতু কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর বাণী, যার জন্য যদি পৃথিবীর সব গাছও কলম হয়ে যায় এবং সকল সমুদ্র কালিতে পরিণত হয় এবং এক সমুদ্রের পর আরও সাতটি সমুদ্র কালি হিসেবে যোগ হয়, তবুও তাঁর বাণীসমূহ শেষ হবে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আর পৃথিবীতে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্র (হয় কালি), তার সাথে আরও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়, তবুও আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।” (সুরা লুকমান: ২৭)।

এ কারণেই তাফসির হলো এক বিশাল সমুদ্র এবং এর বিষয়বস্তু আহরণের জন্য অবশ্যই কিছু উৎসের প্রয়োজন। ওলামায়ে কেরাম এর উৎসসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তা দ্বারা তাঁরা কুরআন ব্যাখ্যার সময় মুফাসসিরের (المفسر) জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমূহকে বুঝিয়েছেন। তাঁদের আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি যে, তাফসিরের উৎসসমূহ নিম্নরূপ:

[১] ভাষা ও শব্দমূল (الاشتقاق): এর মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য হলো কুরআনের শব্দাবলি এবং আরবি ভাষায় সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। একেই মূলত ভাষাতত্ত্বের মূলনীতি (علم أصول اللغة) বলা হয়। যেমন ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতা সত্ত্বেও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কুরআনের কিছু আয়াতের তাফসিরের ক্ষেত্রে ততক্ষণ পর্যন্ত বিরত থাকতেন যতক্ষণ না তিনি আরবদের কথোপকথন থেকে এর অর্থ জানতেন। তিনি বলেন: ‘আমি ফাত্বির (فاطر) শব্দের অর্থ জানতাম না, যতক্ষণ না আমি দুই ব্যক্তিকে একটি কূপ নিয়ে বিবাদ করতে শুনলাম যেখানে তাদের প্রত্যেকেই বলছিল—আমি এটি ফাত্বির করেছি (فطرتها), অর্থাৎ আমি এর সূচনা করেছি।’ (১) তিনি আরও বলেন: ‘আমি আল্লাহ তাআলার বাণী ‘মাতাউল গুরুর’ (متاع الغرور) এর অর্থ জানতাম না, যতক্ষণ না আমি একজন তরুণীকে তার মাকে বলতে শুনলাম—‘মা, আমি প্রতারিত হয়েছি’, তখন তার মা তাকে বললেন—‘উপভোগ করো, উপভোগ করো’। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহর কাছে দুনিয়ার মূল্য সেই তুচ্ছ কাপড়ের সমানও নয় যা দিয়ে ঋতুমতী নারী রক্ত পরিষ্কার করে।’

শব্দাবলি এবং ব্যবহারে সেগুলোর অর্থগত ব্যাপ্তি উপলব্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: সমার্থক (المترادف) ও বহুমুখী অর্থবোধক (المشترك) শব্দসমূহ এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। সূক্ষ্ম উপলব্ধিতে পৌঁছানোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন ১/১১৩ এবং তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস, পৃষ্ঠা ২০।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২১)
[2] النحو والصرف: لأن فهم المعنى يتوقف في كثير من الأحيان على معرفة الإعراب ويقع الذين يجهلون هذين العلمين في أغلاط شنيعة إذا تصدوا للتفسير، كما حدث لبعضهم في تفسير قوله تعالى: يَوْمَ نَدْعُوا كلَّ أُناسٍ بِإِمامِهِمْ فقد فهم أن (إمام) جمع (أمّ) وأن الناس يدعون يوم القيامة بأمهاتهم دون آبائهم، قال الزمخشري: (وهذا غلط أوجبه جهله بالتصريف فإن (أما) لا تجمع على (إمام) (1).

[3] الأدب وعلوم البلاغة: وهذه العلوم تعين المفسر وتغذي التفسير بأوجه الإعجاز البيانية، والجمال الفني في التعبيرات القرآنية، وذوق هذه الأشياء لا يتأني إلا من الاشتغال بالأدب وعلوم البلاغة (بيانها وبديعها ومعانيها) (2).

قال صاحب الكشاف رحمه الله: «من حق مفسر كتاب الله الباهر، وكلامه المعجز، أن يتعاهد بقاء النظم على حسنه والبلاغة على كمالها، وما وقع به التحدي سليما من القادح» (3).

[4] علم الآثار: ونعني به المأثور من كلام النبي صلى الله عليه وسلم ومن كلام الصحابة والتابعين وأئمة التفسير في القرآن وهذا المأثور أحق ما يستمد منه تفسير القرآن بعد تفسير القرآن بالقرآن.

[5] علم القراءات: ونعني تنوع القراءات لأنه يفيد معان متجددة في الغالب، فيستمد التفسير من اختلاف القراءات مادة ثرية كلما قلب المفسر في أوجهها المختلفة، مع مراعاة ثبوتها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

[6] علم أصول الفقه: لأن المفسر لا يخلو من التعرض لتفسير الآيات القرآنية التي ذكر فيها بعض الأحكام الشرعية، فكان لا بدّ من رجوعه إلي أصول

--------------------------------------------

(1) انظر: الزمخشري: الكشاف 2/ 459.

(2) انظر: المرجع السابق 1/ 15.

(3) انظر: تفسير الطبري 1/ 51.
[2] নাহু ও সরফ (ব্যকরণ ও রূপান্তরবিদ্যা): কারণ অর্থ অনুধাবন করা অনেক ক্ষেত্রেই ই’রাব (বাক্যরীতি) জানার ওপর নির্ভর করে। যারা এই দুই বিদ্যায় অজ্ঞ, তারা যখনই তাফসীরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখনই ভয়াবহ ভুল করে বসেন। যেমনটি তাদের কেউ কেউ মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে করেছেন: "যেদিন আমি প্রত্যেক মানুষকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করব।" তখন তিনি বুঝেছিলেন যে, (ইমাম) শব্দটি (উম্মুন) বা মা শব্দের বহুবচন। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন মানুষকে তাদের মায়েদের নামে ডাকা হবে, তাদের পিতাদের নামে নয়। আল-যামাখশারী বলেন: "এটি একটি ভুল যা তার সরফ (রূপান্তরবিদ্যা) বিষয়ক অজ্ঞতার কারণে হয়েছে। কারণ 'উম্মুন' এর বহুবচন 'ইমাম' হয় না।" (১)

[3] সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্র: এই শাস্ত্রগুলো মুফাসসিরকে সাহায্য করে এবং কুরআনের বর্ণনার অলৌকিকত্বের দিকসমূহ ও কুরআনিক বাচনভঙ্গির শৈল্পিক সৌন্দর্য দ্বারা তাফসীরকে সমৃদ্ধ করে। সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (বয়ান, বাদী’ ও মা’আনী) চর্চা ছাড়া এগুলোর স্বাদ আস্বাদন সম্ভব নয়। (২)

কাশশাফ গ্রন্থপ্রণেতা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহর মহান কিতাব ও তাঁর অলৌকিক বাণীর মুফাসসিরের জন্য সমীচীন হলো এর চমৎকার শব্দবিন্যাস ও পূর্ণাঙ্গ অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মান রক্ষা করা এবং যার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে তাকে ত্রুটিমুক্ত রাখা।" (৩)

[4] ইলমুল আছার: এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী (الصحابة), তাবিঈ (التابعين) এবং তাফসীর শাস্ত্রের ইমামগণের কাছ থেকে বর্ণিত ঐতিহ্য (المأثور)। কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসীরের পর এই বর্ণিত ঐতিহ্য (المأثور) হলো তাফসীর গ্রহণের সবচেয়ে উপযুক্ত উৎস।

[5] কেরাআত শাস্ত্র: এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন কেরাআত বা পাঠরীতি; কারণ এটি সাধারণত নিত্যনতুন অর্থ প্রদান করে। তাই মুফাসসির যখনই এর বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করেন, তখনই কেরাআতের ভিন্নতা থেকে তাফসীরের জন্য সমৃদ্ধ উপাদান লাভ করেন। তবে শর্ত হলো, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثبوت) হতে হবে।

[6] উসূলে ফিকহ: কারণ মুফাসসির কুরআনের আয়াতগুলোর তাফসীর করার সময় শরীয়তের বিধি-বিধান সম্বলিত আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান থেকে মুক্ত নন। তাই তাকে অবশ্যই উসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-যামাখশারী: আল-কাশশাফ ২/ ৪৫৯।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস ১/ ১৫।

(৩) দেখুন: তাফসীরে তাবারী ১/ ৫১।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২২)
الفقه لإتقان عملية الاستنباط للأحكام الشرعية من الآيات.

[7] علم العقيدة: فالقرآن الكريم قد أصّل بناء العقيدة السليمة ونقاها مما شابها من أدران الشرك، فالمفسر بدوره يتعرض لشرح الأمور العقدية التي تضمنتها الآيات القرآنية من التدليل على ثبوت الألوهية والربوبية والرسالات، والبعث والجزاء، والجنة والنار، ومناقشة عقائد المشركين الفاسدة.

[8] علم التاريخ: لأن القرآن الكريم قد تعرض لقصص الأمم السابقة، ووجه الهدف نحو استخلاص العبرة والعظة منها، وقصص القرآن أحسن القصص كما قال تعالى: نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْك أَحْسَنَ الْقَصَصِ [يوسف: 3]، (وذلك لامتيازه بالصدق والواقعية، وللقصة تأثير خطير على القارئ والسامع مهما كان مستواه الثقافي، فالإنسان يجد - أحيانا - نفسه في تلك القصة، ويتذكر مواقف تعرض لها ربما تشبه هذا القصص، فتنغمس روحه في بحور من الراحة والسعادة، وقد يكون في القصة ما يوحي بحل إشكال وقف أمامه زمنا طويلا عاجزا لا يدري ما يصنع.

[9] العلوم الكونية: ونعني بها العلوم التي تعنى بدراسة الكون من طب للإنسان والحيوان أو للظواهر الطبيعية كالسحاب والرعد والبرق والمطر .. أو لطبقات الأرض والجبال ومكوناتها .. أو غير ذلك، يستعين بها المفسر في شرح الآيات القرآنية التي ورد فيها ذكر شيء من تلك الظواهر الكونية وما أكثرها في القرآن الكريم.

وبالجملة فكل علم محترم شرعا يعتبر من مصادر علم التفسير التي يستمد منها مادته، ولكن يراعي أنه يجب على المفسر وهو يستمد من تلك العلوم أن لا يكثر من تفريع هذه العلوم داخل التفسير، فهي موجودة في مظانها ومصنفاتها، ويحسن به أن يأخذ منها فقط ما يعينه على توضيح المعنى المراد.
আয়াতসমূহ থেকে শরিয়তের বিধানাবলি আহরণের (استنباط) প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য ফিকহ শাস্ত্রের প্রয়োজন।

[৭] আকিদাহ (عقيدة) বিজ্ঞান: কেননা পবিত্র কুরআন বিশুদ্ধ আকিদাহর ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং শিরকের যাবতীয় পঙ্কিলতা থেকে একে পবিত্র করেছে। তাই মুফাসসিরের দায়িত্ব হলো কুরআনের আয়াতসমূহে বর্ণিত আকিদাগত বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা; যেমন—উলুহিয়্যাত (الألوهية), রুবুবিয়্যাত (الربوبية), রিসালাত (الرسالات), পুনরুত্থান (البعث) ও প্রতিদান (الجزاء), জান্নাত ও জাহান্নামের সত্যতার প্রমাণ পেশ করা এবং মুশরিকদের ভ্রান্ত আকিদাহসমূহ খণ্ডন করা।

[৮] ইতিহাস বিজ্ঞান: কারণ পবিত্র কুরআন পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাহিনী বর্ণনা করেছে এবং তা থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের লক্ষ্য স্থির করেছে। কুরআনের কাহিনীসমূহ হলো সর্বোত্তম কাহিনী, যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আমি আপনার নিকট সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি" [ইউসুফ: ৩]। (এর কারণ হলো সত্যতা ও বাস্তবতায় এর অনন্য বৈশিষ্ট্য। এছাড়া পাঠক ও শ্রোতার ওপর কাহিনীর গভীর প্রভাব রয়েছে, তাদের সাংস্কৃতিক স্তর যাই হোক না কেন। মানুষ মাঝে মাঝে এই কাহিনীর মাঝে নিজেকে খুঁজে পায় এবং এমন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে যা সম্ভবত এই কাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে তার আত্মা প্রশান্তি ও সুখের সাগরে নিমজ্জিত হয়। কখনও কখনও কাহিনীতে এমন বিষয়ের ইঙ্গিত থাকে যা দীর্ঘদিনের কোনো জটিল সমস্যার সমাধান দেয়, যে সমস্যার সামনে সে দীর্ঘকাল ধরে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এবং কী করবে তা বুঝতে পারছিল না।)

[৯] মহাজাগতিক বিজ্ঞান: এর দ্বারা আমরা সেই সব বিজ্ঞানকে বোঝাচ্ছি যা মহাবিশ্ব নিয়ে আলোচনা করে; যেমন—মানুষ ও প্রাণীর চিকিৎসা বিজ্ঞান অথবা প্রাকৃতিক ঘটনাবলী যেমন মেঘ, গর্জন, বিদ্যুৎ ও বৃষ্টি... অথবা ভূ-স্তর, পাহাড় ও এর উপাদানসমূহ... বা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। মুফাসসির কুরআনের সেই সব আয়াতের ব্যাখ্যায় এসব বিজ্ঞানের সহায়তা গ্রহণ করেন যেখানে মহাজাগতিক নিদর্শনাদির উল্লেখ রয়েছে; আর পবিত্র কুরআনে এ জাতীয় আয়াত অনেক বেশি রয়েছে।

সারকথা হলো, শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য প্রতিটি জ্ঞানই তাফসির শাস্ত্রের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত, যা থেকে এটি তার উপাদান সংগ্রহ করে। তবে লক্ষ্য রাখা উচিত যে, মুফাসসির যখন এসব বিজ্ঞান থেকে উপাদান গ্রহণ করবেন, তখন যেন তাফসিরের মধ্যে এগুলোর অতিরিক্ত শাখা-প্রশাখা আলোচনা না করেন। কেননা এই বিষয়গুলো তাদের নিজস্ব মূল উৎস ও গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে রয়েছে। বরং মুফাসসিরের জন্য উত্তম হলো সেখান থেকে শুধু ততটুকুই গ্রহণ করা যা কাঙ্ক্ষিত অর্থ স্পষ্ট করতে সহায়ক হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث السابع أنواع التفسير

روي ابن جرير الطبري رحمه الله عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال:

«التفسير أربعة أنواع:

الأول: تفسير يعرف من كلام العرب.

الثاني: تفسير لا يعذر أحد بجهالته.

الثالث: تفسير لا يعلمه إلا العلماء.

الرابع: تفسير لا يعلمه إلا الله تعالى».

فأما الذي يعرف من كلام العرب فهو الذي يحتاج إلي رجوع إلي لغة العرب والنظر إلي مدلول الألفاظ التي يراد تفسيرها في استعمال العرب، مثل قوله تعالى: والْمُطَلَّقاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ [البقرة 228] (فلفظ القرء هنا من الألفاظ المشتركة بين الحيض والطهر، ولا يحسم الأمر فيه إلا الرجوع إلي الاستعمال الأكثر ولا يعرف هذا إلا من لغة العرب الذين نزل القرآن بلغتهم).

وأما الذي لا يعذر أحد بجهالته فمثاله معظم آيات الأمر والنهي والحلال والحرام وآيات العقيدة .. وأَقِيمُوا الصَّلاةَ وآتُوا الزَّكاةَ [البقرة: 83]، ولا تَقْرَبُوا الزِّني [الإسراء: 22]، ولا تَنْكحُوا ما نَكحَ آباؤُكمْ مِنَ النِّساءِ إِلَّا ما قَدْ سَلَفَ [النساء: 22]، ولا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ [الأنعام: 151]، لا تَأْكلُوا الرِّبَوا [آل عمران: 130] (.. فهذه الآيات لا يعذر أحد بجهالتها إذ واضح أن الأمر فيها يوجب القيام بمقتضاه، والنهي يوجب الانتهاء.

وكذلك قوله تعالى: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ [محمد: 19]،
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাফসিরের প্রকারভেদ

ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

«তাফসির চার প্রকার:

প্রথম: এমন তাফসির যা আরবদের ভাষা থেকে জানা যায়।

দ্বিতীয়: এমন তাফসির যার অজ্ঞতা কারও জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

তৃতীয়: এমন তাফসির যা কেবল আলেমরাই জানেন।

চতুর্থ: এমন তাফসির যা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কেউ জানে না।»

আর যা আরবদের ভাষা থেকে জানা যায়, তা হলো সেই অংশ যা অনুধাবনের জন্য আরবি ভাষার শরণাপন্ন হওয়া এবং আরবরা যে অর্থে এই শব্দগুলো ব্যবহার করত সেই শব্দের অর্থের (مدلول الألفاظ) প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যেমন আল্লাহ তা'আলার বাণী: "আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ‘কুরু’ পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে" [আল-বাকারাহ: ২২৮]। (এখানে ‘কুরু’ শব্দটি ঋতুস্রাব (حيض) ও পবিত্রতা (طهر) উভয় অর্থেই ব্যবহৃত দ্ব্যর্থবোধক শব্দের (الألفاظ المشتركة) অন্তর্ভুক্ত, আর এ বিষয়ে আরবরা সর্বাধিক কোন অর্থে শব্দটি ব্যবহার করত তা অনুসন্ধান করা ছাড়া বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। আর এটি কেবল আরবদের ভাষা থেকেই জানা সম্ভব, যাদের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে)।

আর যে সব বিষয়ে অজ্ঞতা কারও জন্য গ্রহণযোগ্য নয়, তার উদাহরণ হলো আদেশ (أمر), নিষেধ (نهي), হালাল, হারাম এবং আক্বিদা সংক্রান্ত অধিকাংশ আয়াত। যেমন: "তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো" [আল-বাকারাহ: ৮৩], "তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না" [আল-ইসরা: ৩২], "তোমাদের পিতারা যে নারীদের বিবাহ করেছে তাদের তোমরা বিবাহ করো না, তবে যা গত হয়ে গেছে" [আন-নিসা: ২২], "আল্লাহ যে জীবনকে হারাম করেছেন তাকে তোমরা ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করো না" [আল-আনআম: ১৫১], "তোমরা সুদ খেয়ো না" [আল-ইমরান: ১৩০]। (.. এই আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে অজ্ঞ থাকা কারও জন্য গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এ কথা স্পষ্ট যে, এতে থাকা আদেশ (أمر) তার দাবি অনুযায়ী কাজ করাকে আবশ্যক করে এবং নিষেধ (نهي) তা থেকে বিরত থাকাকে আবশ্যক করে।

তদ্রূপ আল্লাহ তা'আলার বাণী: "জেনে রেখো যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই" [মুহাম্মাদ: ১৯]।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
واضح في الدلالة على وحدانية الله عز وجل والأمر باعتقادها.

وأما الذي لا يعلمه إلا العلماء: فهو المتشابه أي الذي يحمل أكثر من معني، مثل قوله تعالى: نِساؤُكمْ حَرْثٌ لَكمْ فَأْتُوا حَرْثَكمْ أَنَّي شِئْتُمْ [البقرة: 222].

والذَّارِياتِ ذَرْوًا (1) فَالْحامِلاتِ وِقْرًا (2) [الذاريات: 1 - 2].

والْمُرْسَلاتِ عُرْفًا (1) [المرسلات: 1].

فلفظ (أني) هنا معناه متشابه، هل هو «كيف» أم «حيث» أم «متي» … والذاريات، والحاملات، والمرسلات، والعاصفات، أيضا معانيها متشابهة هل هي الرياح أم الملائكة، ولا يستطيع ترجيح معنى هنا إلا العلماء العارفين بالقرائن، وبالسياق وغير ذلك من أصول الترجيح.

وأما الذي لا يعلمه إلا الله فهو المتشابه من الآيات التي اشتملت على غيبيات استأثر الله بعلم تفاصيلها لنفسه، كموعد قيام الساعة ونزول المطر وتحديد الآجال.

يَسْئَلُونَك عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْساها (42) فِيمَ أَنْتَ مِنْ ذِكراها (43) [النازعات: 42 - 44].

وهُوَ الَّذِي يَتَوَفَّاكمْ بِاللَّيْلِ ويَعْلَمُ ما جَرَحْتُمْ بِالنَّهارِ ثُمَّ يَبْعَثُكمْ فِيهِ لِيُقْضي أَجَلٌ مُسَمًّي ثُمَّ إِلَيْهِ مَرْجِعُكمْ ثُمَّ يُنَبِّئُكمْ بِما كنْتُمْ تَعْمَلُونَ (60) [الأنعام: 60].

وهذه الأنواع الأربعة للتفسير تدور كل الآيات القرآنية في فلكها وفائدة ذكرها: أن يعلم المتعرض لتفسير القرآن أنه لا يستطيع تفسير جميع الألفاظ القرآنية فمنها ما استأثر الله بتفسيره، ومنها ما لا يعلمه إلا العلماء، ومنها ما يحتاج إلي رجوع لكلام العرب … فإن أحسن واحدا من تلك الأنواع خاض فيه، وإلا فالكف والتورع يكون له أهدي سبيلا.
এটি আল্লাহর একত্ববাদ এবং তা বিশ্বাস করার নির্দেশের ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।

আর যা কেবল আলেমগণই জানেন, তা হলো অস্পষ্ট (متشابه) অর্থাৎ যা একাধিক অর্থ বহন করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।" [আল-বাকারাহ: ২২২]।

"শপথ সেই বায়ুর যা ধূলিকণা উড়িয়ে দেয়। অতঃপর শপথ সেই মেঘমালার যা বোঝা বহন করে।" [আয-যারিয়াত: ১-২]।

"শপথ সেই বায়ুর যা নিরন্তর প্রেরিত হয়।" [আল-মুরসালাত: ১]।

এখানে 'আন্না' (أني) শব্দটির অর্থ অস্পষ্ট (متشابه); এর অর্থ কি 'কিভাবে' নাকি 'যেখানে' নাকি 'কখন' … একইভাবে আয-যারিয়াত, আল-হামিলাত, আল-মুরসালাত এবং আল-আসিফাত শব্দগুলোর অর্থও অস্পষ্ট (متشابه); এগুলো কি বায়ু নাকি ফেরেশতা? পারিপার্শ্বিক অবস্থা, প্রসঙ্গ এবং অগ্রাধিকার প্রদানের মূলনীতিসমূহ (أصول الترجيح) সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেমগণ ব্যতীত এখানে কোনো নির্দিষ্ট অর্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব নয়।

আর যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না, তা হলো ঐ সকল অস্পষ্ট (متشابه) আয়াত যা এমন সব গায়বি বা অদৃশ্য বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করে যেগুলোর বিস্তারিত জ্ঞান আল্লাহ কেবল নিজের জন্যই নির্ধারিত রেখেছেন। যেমন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়, বৃষ্টি বর্ষণ এবং আয়ুষ্কাল নির্ধারণ।

"তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, তা কখন ঘটবে? তা বর্ণনা করার সাথে আপনার কী সম্পর্ক!" [আন-নাযিয়াত: ৪২-৪৪]।

"আর তিনিই রাতে তোমাদের মৃত্যু (নিদ্রা) দেন এবং দিনে তোমরা যা অর্জন করো তা তিনি জানেন। অতঃপর দিনে তোমাদেরকে পুনরায় জীবিত (জাগ্রত) করেন যাতে নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়। তারপর তাঁর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তোমরা যা করতে তিনি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেবেন।" [আল-আন'আম: ৬০]।

তাফসিরের এই চারটি প্রকারের চারপাশেই কুরআনের সমস্ত আয়াত আবর্তিত হয়। এগুলো উল্লেখ করার উপকারিতা হলো: যে ব্যক্তি কুরআনের তাফসির করতে প্রবৃত্ত হবে, সে যেন জানতে পারে যে তার পক্ষে কুরআনের সকল শব্দের ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। কেননা এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার ব্যাখ্যা আল্লাহ কেবল নিজের জন্যই রেখেছেন, কিছু এমন যা কেবল আলেমগণই জানেন এবং কিছু এমন যা বুঝতে আরবি ভাষার প্রয়োগের দিকে ফিরে যেতে হয় … সুতরাং কেউ যদি এই প্রকারগুলোর কোনো একটিতে পারদর্শী হয়, তবেই যেন সে তাতে লিপ্ত হয়; অন্যথায় বিরত থাকা এবং পরহেজগারিতা অবলম্বন করাই হবে তার জন্য সঠিক পথ।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الثامن أحسن طريقة للتفسير

إن أفضل طريقة لاقت قبولا عند أهل العلم والمشتغلين بالتفسير، هي تفسير القرآن بالقرآن، فإن لم يوجد في القرآن ففي السّنّة، وإلا ففي أقوال الصحابة ثم التابعين.

وقد أورد ابن كثير رحمه الله في مقدمة تفسيره سؤالا، يعتبر الجواب عليه من أعظم أصول التفسير، قال: فإن قال قائل: فما أحسن طرق التفسير؟.

فالجواب: أن أصح الطرق في ذلك أن يفسر القرآن بالقرآن، فما أجمل في مكان فإنه قد بسط في موضع أخر، فإن أعياك ذلك فعليك بالسنة فإنها شارحة للقرآن وموضحة له، بل قد قال الإمام أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي رحمه الله: كل ما حكم به رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو مما فهمه من القرآن، قال الله تعالى: إِنَّا أَنْزَلْنا إِلَيْك الْكتابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكمَ بَيْنَ النَّاسِ بِما أَراك اللَّهُ ولا تَكنْ لِلْخائِنِينَ خَصِيمًا (105) [النساء: 105].

وقال تعالى: وما أَنْزَلْنا عَلَيْك الْكتابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وهُديً ورَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ (64) [النحل: 64] وقال تعالى: وأَنْزَلْنا إِلَيْك الذِّكرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ ولَعَلَّهُمْ يَتَفَكرُونَ (44) [النحل: 44].

ولهذا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه» يعني السّنّة، والسّنّة تنزل عليه بالوحي كما ينزل القرآن، إلا أنها لا تتلي كما يتلي القرآن .. والغرض أنك تطلب تفسير القرآن فيه، فإن لم تجده ففي السّنّة، كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذ حين بعثه إلي اليمن: بم تحكم؟ قال: بكتاب الله، قال: فإن لم تجد؟ قال: فبسنّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: فإن لم تجد؟ قال: أجتهد
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাফসিরের সর্বোত্তম পদ্ধতি

বিদগ্ধ আলেমগণ এবং তাফসির শাস্ত্রের চর্চাকারীবৃন্দ যে পদ্ধতিটিকে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা হলো কুরআনের তাফসির কুরআনের মাধ্যমে করা। যদি কুরআনে তা না পাওয়া যায়, তবে সুন্নাহর মাধ্যমে; অন্যথায় সাহাবীগণের বক্তব্যের মাধ্যমে এবং এরপর তাবেয়ীবৃন্দের বক্তব্যের মাধ্যমে তাফসির করতে হবে।

ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) তাঁর তাফসির গ্রন্থের ভূমিকায় একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, যার উত্তরটি তাফসিরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মূলনীতি (أصول التفسير) হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বলেছেন: যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, তাফসিরের সর্বোত্তম পদ্ধতি কোনটি?

উত্তর হলো: এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) পদ্ধতি হলো কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআনের মাধ্যমে করা। কারণ, যা এক স্থানে সংক্ষিপ্ত (مجمل) ভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা অন্য স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যদি এটি আপনাকে ক্লান্ত করে (অর্থাৎ সেখানে সমাধান না পান), তবে সুন্নাহর প্রতি মনোনিবেশ করুন; কারণ সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী। বরং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ (রহ.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) যা কিছু ফয়সালা দিয়েছেন, তা তিনি কুরআন থেকেই উপলব্ধি করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করেন এবং আপনি খিয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হবেন না।" [সূরা নিসা: ১০৫]।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: "আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি কেবল এজন্য যে, তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছে তা আপনি তাদের নিকট সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত।" [সূরা নাহল: ৬৪]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা নাজিল করা হয়েছে তা তাদের নিকট সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" [সূরা নাহল: ৪৪]।

এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে।" অর্থাৎ সুন্নাহ তাঁর ওপর ওহীর মাধ্যমেই নাজিল হতো যেভাবে কুরআন নাজিল হতো, তবে সুন্নাহ কুরআনের মতো তিলাওয়াত করা হয় না। মূল উদ্দেশ্য হলো আপনি কুরআনের তাফসির কুরআনেই খুঁজবেন; যদি সেখানে না পান তবে সুন্নাহর মধ্যে খুঁজবেন। যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) মুয়াজ (রা.)-কে যখন ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন তখন তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তুমি কিসের মাধ্যমে ফয়সালা করবে?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে।" তিনি বললেন: "যদি তা না পাও?" তিনি বললেন: "তবে আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহর মাধ্যমে।" তিনি বললেন: "যদি সেখানেও না পাও?" তিনি বললেন: "আমি গবেষণা (أجتهد) করব।"
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
رأيي، قال فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم في صدره وقال: الحمد لله الذي وفق رسول رسول الله لما يرضي رسول الله» (1).

«وحينئذ إذا لم نجد التفسير في القرآن ولا في السّنّة رجعنا إلي أقوال الصحابة فإنهم أدري بذلك: لما شاهدوا من القرائن والأحوال التي اختصوا بها، ولما لهم من الفهم التام والعلم الصحيح والعمل الصالح، ولا سيما علماؤهم وكبراؤهم كالأئمة الأربعة الخلفاء الراشدين والأئمة المهتدين وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم» (2).

وقد أشار القرطبي رحمه الله في مقدمة تفسيره - أيضا - إلي مثل تلك الطريقة في التفسير وأنها لا بدّ أن تكون مضبوطة بالأصول المحكمة قال: «وهذا صحيح وهو الذي اختاره غير واحد من العلماء، فإن من قال فيه بما سنح في وهمه وخطر على باله من غير استدلال عليه بالأصول فهو مخطئ، وإن من استنبط معناه بحمله على الإشارة المحكمة المتفق على معناها فهو ممدوح» (3).

ويرفض القرطبي الاقتصار على السماع فقط في التفسير، ويرد على من قال ذلك مستدلا بقوله تعالى: فَإِنْ تَنازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَي اللَّهِ والرَّسُولِ [النساء: 59].

فإن تنازعتم في شيء فردوه إلي الله والرسول (بأنه استدلال فاسد. فطريقة القرطبي إذن في التفسير القرآن بالقرآن ثم بالسّنّة ثم بالاجتهاد المحكم بالضوابط والأصول.

وهذه طريقة لا يختلف اثنان في حسنها وأفضليتها في تفسير كتاب الله عز وجل.

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير 1/ 3.

(2) انظر: تفسير ابن كثير 1/ 3.

(3) تفسير القرطبي 1/ 33 بتصرف.
আমার রায় (বা বিচারবুদ্ধি)। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বুকে চাপড় দিলেন এবং বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফিক দান করেছেন যা আল্লাহর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে।" (১)।

«এমতাবস্থায় আমরা যদি কুরআন বা সুন্নাহতে কোনো তাফসির না পাই, তবে আমরা সাহাবীগণের বক্তব্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করি। কেননা তাঁরা এ বিষয়ে অধিকতর পরিজ্ঞাত। কারণ তাঁরা এমন সব পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিস্থিতির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন যা কেবল তাঁদের সাথেই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। অধিকন্তু তাঁদের ছিল পূর্ণাঙ্গ অনুধাবন ক্ষমতা, সঠিক ইলম এবং নেক আমল; বিশেষ করে তাঁদের মধ্যকার আলেম ও বড় ব্যক্তিবর্গ, যেমন: চার ইমাম অর্থাৎ খোলাফায়ে রাশেদীন, হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণ এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)» (২)।

ইমাম কুরতুবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর তাফসিরের ভূমিকাতেও তাফসিরের এই পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, এটি অবশ্যই সুদৃঢ় মূলনীতিসমূহের (الأصول المحكمة) দ্বারা সুশৃঙ্খল হতে হবে। তিনি বলেছেন: «এটিই সঠিক এবং একাধিক আলেম একেই পছন্দ করেছেন। কেননা যে ব্যক্তি মূলনীতিসমূহের (الأصول) দলিল ব্যতিরেকে কেবল নিজের খেয়ালখুশি ও মনে যা উদয় হয় তার ভিত্তিতে কোনো কথা বলবে, সে ভুলকারী। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি এর অর্থকে এমন সুদৃঢ় ইঙ্গিতের (الإشارة المحكمة) দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভাবন (استنباط) করবে যার অর্থের ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق عليه) রয়েছে, সে প্রশংসিত» (৩)।

ইমাম কুরতুবী তাফসিরের ক্ষেত্রে কেবল শ্রুতি বা বর্ণনার (السماع) ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যারা এরূপ কথা বলেন তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যুত্তর দিয়েছেন: "অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও" [আন-নিসা: ৫৯]।

"অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও" - (এটিকে কেবল শ্রুতির ওপর সীমাবদ্ধ রাখার সপক্ষে দলিল হিসেবে গ্রহণ করাকে) তিনি ভ্রান্ত ইস্তিদলাল (استدلال فاسد) হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুতরাং তাফসিরের ক্ষেত্রে কুরতুবীর পদ্ধতি হলো: কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির, এরপর সুন্নাহর মাধ্যমে, অতঃপর এমন ইজতিহাদের (الاجتهاد) মাধ্যমে যা নিয়মাবলি ও মূলনীতিসমূহ (الأصول) দ্বারা সুসংবদ্ধ।

এটি এমন একটি পদ্ধতি যার সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসির করার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমত নেই।

--------------------------------------------

(১) তাফসির ইবনে কাসির ১/৩।

(২) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির ১/৩।

(৩) তাফসির কুরতুবী ১/৩৩, পরিমার্জিত (بتصرف)।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث التاسع شروط المفسر وآدابه

الحق أن أكثر من كتبوا في شروط المفسّر وآدابه خلطوا بين ما هو شرط في المفسر كآداب وأخلاق ونحوه، وما هو شرط في المفسر كناحية علمية لا بدّ من توفرها.

وفي هذا المبحث سوف نذكر أولا الشروط التي هي كآداب للمفسر ثم نذكر الشروط التي تتعلق به من الناحية العلمية.

 

‌‌الشروط التي لا بدّ من توفرها في المفسر كآداب:

الأول: صحة الاعتقاد:

فسلامة العقيدة أمر مهم بالنسبة للمفسر، لأنه لو تطرق إليه فساد في عقيدته لفسر القرآن حسب مذهبه واعتقاده الفاسد فيكون تفسيره ظاهر التكلف والبعد عما يحتمله اللفظ القرآني.

قال الإمام السيوطي رحمه الله: «اعلم أن من شرطه - أي المفسر - صحة الاعتقاد أولا، ولزوم سنة الدين فإن من كان مغموصا عليه في دينه - أي مطعونا - لا يؤتمن على الدنيا، فكيف على الدين؟ ثم لا يؤتمن في الدين على الإخبار عن عالم، فكيف يؤتمن في الإخبار عن أسرار الله تعالى؟، ولأنه لا يؤتمن إن كان متهما بالإلحاد أن يبغي الفتنة ويغرّ الناس بليّه وخداعه، كدأب الباطنية وغلاة الرافضة، وإن من كان متهما بهوى لا يؤمن أن يحمله هواه على ما يوافق بدعته كدأب القدرية - فإن أحدهم يصنف الكتاب في التفسير ومقصوده منه الإيضاح الساكت ليصدهم عن اتباع السلف ولزوم طريق الهدي» (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: السيوطي: الإتقان 2/ 176.
নবম পরিচ্ছেদ: মুফাসসিরের (مفسر) শর্তাবলি ও আদবসমূহ

প্রকৃতপক্ষে, যারা মুফাসসিরের (مفسر) শর্তাবলি ও আদব সম্পর্কে লিখেছেন, তাদের অধিকাংশ মুফাসসিরের (مفسر) ব্যক্তিগত আদব ও চরিত্র এবং মুফাসসির (مفسر) হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় জ্ঞানগত যোগ্যতার মধ্যে পার্থক্য করতে ভুল করেছেন।

এই পরিচ্ছেদে আমরা প্রথমে মুফাসসিরের (مفسর) আদব সংক্রান্ত শর্তাবলি উল্লেখ করব এবং এরপর তার জ্ঞানগত যোগ্যতা সংক্রান্ত শর্তাবলি আলোচনা করব।

 

‌মুফাসসিরের (مفسر) জন্য আবশ্যকীয় আদব সংক্রান্ত শর্তাবলি:

প্রথম: আকিদার বিশুদ্ধতা (صحة الاعتقاد):

মুফাসসিরের (مفسر) ক্ষেত্রে আকিদার সঠিকতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ যদি তার আকিদাতে কোনো বিচ্যুতি প্রবেশ করে, তবে সে কুরআনকে তার নিজস্ব ভ্রান্ত মতাদর্শ ও বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যাখ্যা করবে। ফলে তার তাফসির বা ব্যাখ্যায় কৃত্রিমতা প্রকাশ পাবে এবং তা কুরআনের শব্দের সম্ভাব্য অর্থ থেকে দূরে সরে যাবে।

ইমাম সুয়ুতি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «জেনে রাখুন, মুফাসসিরের (مفسر) অন্যতম শর্ত হলো প্রথমত আকিদার বিশুদ্ধতা (صحة الاعتقاد) এবং দ্বীনের সুন্নাহর অনুগত্য বজায় রাখা। কারণ যার দ্বীনদারিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ (مغموص عليه) — অর্থাৎ সমালোচিত (مطعون) — তাকে পার্থিব কোনো বিষয়েই বিশ্বাস করা যায় না, তাহলে দ্বীনের বিষয়ে কীভাবে বিশ্বাস করা যাবে? এরপর দ্বীনের সাধারণ কোনো আলিমের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রেই যেখানে তাকে বিশ্বাস করা যায় না, সেখানে মহান আল্লাহর রহস্যসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাকে কীভাবে বিশ্বাস করা যাবে? তদুপরি, কেউ যদি ধর্মহীনতার (إلحاد) অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, তবে সে ফিতনা (فتنة) সৃষ্টি করতে চাইবে এবং তার বাকচাতুর্য ও প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে — যেমনটা বাতেনি (باطنية) এবং চরমপন্থী রাফেজিদের (غلاة الرافضة) রীতি। আর যে ব্যক্তি খেয়ালখুশির (هوى) অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত, তার প্রবৃত্তি তাকে নিজস্ব বিদআতের (بدعة) অনুকূলে ব্যাখ্যা করতে প্ররোচিত করবে না — এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেমনটা কাদারিয়াদের (قدرية) ক্ষেত্রে দেখা যায় — তাদের কেউ কেউ তাফসির গ্রন্থ রচনা করেন যার মূল উদ্দেশ্য থাকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মানুষকে সালাফদের (سلف) অনুসরণ এবং হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত করা» (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুয়ুতি: আল-ইতকান ২/ ১৭৬।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال ابن القيم رحمه الله: «لا يدرك معاني القرآن ولا يفهمه إلا القلوب الطاهرة، وحرام على القلب المتلوث بنجاسة البدع والمخالفات أن ينال معانيه» (1).

ثانيا: صحة المقصد:

يعني أن يخلص المفسر فلا يطلب بتفسيره عرضا من أعراض الدنيا الزائلة، وإنما يبتغي وجه الله تعالى.

قال السيوطي رحمه الله أيضا: «ومن شرطه - أي المفسر - صحة المقصد فيما يقول ليلقي التسديد فقد قال تعالى: والَّذِينَ جاهَدُوا فِينا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنا [العنكبوت: 69]، «وإنما يخلص له القصد إذا زهد في الدنيا، لأنه إذا رغب فيها لم يؤمن أن يتوسل به إلي غرض يصده عن صواب قصده، ويفسد عليه صحة عمله» (2)، وليت المفسر وطالب التفسير يدرك هذا الاستدلال الخطير من الإمام السيوطي رحمه الله بالآية السابقة والَّذِينَ جاهَدُوا فِينا، فكأنه يشير إلي أن تفسير القرآن جهاد إذا صح المقصد، وكيف لا يكون جهادا وقد قال الله لنبيه صلى الله عليه وسلم: فَلا تُطِعِ الْكافِرِينَ وجاهِدْهُمْ بِهِ جِهادًا كبِيرًا (52) [الفرقان: 52].

ثالثا: التقوي:

يشترط في المفسر أن يكون على أعلى مستوي من التقوي، وليكن دليل تقواه التأثر بما في القرآن في كل شيء في حياته.

قال الإمام الشهيد/ سيد قطب رحمه الله: «… فالتقوي في القلب هي التي تؤهله للانتفاع بهذا الكتاب، هي التي

--------------------------------------------

(1) ابن القيم: التبيان في أقسام القرآن ص 143 ط دار الكتاب العربي - بيروت 1414 هـ.

(2) الإتقان 20/ 176.
ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «পবিত্র হৃদয় ব্যতীত কেউ কুরআনের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না এবং তা বুঝতে পারে না। বিদআত (بدعة) ও অবাধ্যতার অপবিত্রতায় কলুষিত হৃদয়ের জন্য কুরআনের অর্থগুলো লাভ করা নিষিদ্ধ» (১)।

দ্বিতীয়ত: উদ্দেশ্যের বিশুদ্ধতা (صحة المقصد):

এর অর্থ হলো মুফাসসির (ব্যাখ্যাদাতা) ইখলাস অবলম্বন করবেন, ফলে তিনি তাঁর তাফসিরের মাধ্যমে নশ্বর দুনিয়ার কোনো পার্থিব স্বার্থ অন্বেষণ করবেন না, বরং কেবল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করবেন।

সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: «মুফাসসিরের জন্য একটি শর্ত হলো—যা তিনি বলছেন তাতে উদ্দেশ্যের বিশুদ্ধতা (صحة المقصد) থাকা, যাতে তিনি সঠিক পথনির্দেশ লাভ করেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যারা আমার পথে সাধনায় লিপ্ত হয়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব" [আনকাবুত: ৬৯]», «আর তাঁর উদ্দেশ্য কেবল তখনই বিশুদ্ধ হতে পারে যখন তিনি দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ (زهد) হবেন। কারণ তিনি যদি দুনিয়ার প্রতি লালায়িত হন, তবে আশঙ্কা থাকে যে তিনি তাফসিরকে এমন কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যে ব্যবহারের মাধ্যম বানাবেন যা তাঁকে সঠিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করবে এবং তাঁর আমলের বিশুদ্ধতাকে নষ্ট করে দেবে» (২)। আফসোস, যদি মুফাসসির ও তাফসির অন্বেষণকারী ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক পূর্বোক্ত আয়াতের 'যারা সাধনা করে' অংশের মাধ্যমে কৃত এই গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক প্রয়োগটি অনুধাবন করতেন! যেন তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, উদ্দেশ্য যদি বিশুদ্ধ হয় তবে কুরআনের তাফসির করাও একটি জিহাদ (جهاد)। আর তা কেন জিহাদ (جهاد) হবে না, অথচ আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: «সুতরাং আপনি কাফিরদের আনুগত্য করবেন না এবং এর (কুরআনের) সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে এক মহান জিহাদে (جهادا كبيرا) লিপ্ত হোন» [ফুরকান: ৫২]।

তৃতীয়ত: তাকওয়া (تقوى):

মুফাসসিরের জন্য শর্ত হলো তিনি তাকওয়ার (تقوى) সর্বোচ্চ স্তরে থাকবেন এবং তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের বিষয়বস্তু দ্বারা প্রভাবিত হওয়াটাই যেন তাঁর তাকওয়ার (تقوى) প্রমাণ হয়।

শহীদ ইমাম সাইয়্যেদ কুতুব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «… হৃদয়ের তাকওয়াই (تقوى) মানুষকে এই কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার যোগ্য করে তোলে, এটিই সেই গুণ যা...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কায়্যিম: আত-তিবইয়ান ফি আকসামিল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৪৩, দারুল কিতাব আল-আরাবি প্রকাশনী - বৈরুত ১৪১৪ হিজরি।

(২) আল-ইতকান ২০/ ১৭৬।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
تفتح مغاليق القلب له، فيدخل ويؤدي دوره هناك، هي التي تهيئ لهذا القلب أن يلتقط وأن يتلقي وأن يستجيب، لا بدّ لمن يريد أن يجد الهدي في القرآن أن يجئ إليه بقلب سليم، بقلب خالص. ثم يجئ إليه بقلب يخشي ويتوقي ويحذر أن يكون على ضلالة، وعندئذ يتفتح القرآن عن أسراره وأنواره، ويسكبها في هذا القلب الذي جاء إليه متقيا خائفا حساسا مهيئا للتلقي» (1).

رابعا: العمل بما في القرآن:

ومن أخص شروط المفسر العمل بما في القرآن، إذ لا يمكن أن يتصور أبدا أن يوفق الإنسان لفهم القرآن وهو لا يعمل بما فيه.

وإذا كان قد ثبت في الحديث أنه: «رب قارئ للقرآن والقرآن يلعنه».

فلا أدري كيف يحالف التوفيق من أراد التفسير واللعنات تنزل عليه لعدم عمله بما في كتاب الله، نسأل الله المعافاة.

قال الدكتور/ محمد لطفي الصباغ: «إن هذا الكتاب الكريم لا يفتح خزائن كنوزه وجواهره ودرره إلا لمن آمن بمنزله، وعمل به كله وأحل حلاله وحرّم حرامه، وأخلص لله النية في فهمه وطلبه العلم الذي يبلغه تفسيره وتدبره» (2).

خامسا: البعد عن خوارم المروءة:

مهم جدا للمفسر - وطالب التفسير - أن يبتعد عن كل ما يزري به، إذ ينبغي أن يكون لحامل القرآن ومفسره فضل على غيره، بمزيد أدب ورجاحة عقل وبعد عما يشين الإنسان.

--------------------------------------------

(1) في ظلال القرآن 1/ 38/ 39.

(2) بحوث في أصول التفسير ص 28.
এর মাধ্যমেই হৃদয়ের বন্ধ কবাটসমূহ উন্মোচিত হয়, ফলে তা ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে স্বীয় ভূমিকা পালন করে। এটিই সেই অবস্থা যা অন্তরকে (হেদায়াত) ধারণ করতে, গ্রহণ করতে এবং সাড়া দিতে প্রস্তুত করে। যে ব্যক্তি কুরআনের মাঝে হেদায়াত পেতে চায়, তার জন্য আবশ্যক হলো একটি সুস্থ ও নির্মল অন্তর নিয়ে কুরআনের কাছে আসা। অতঃপর এমন এক অন্তর নিয়ে আসা যা আল্লাহকে ভয় করে, সতর্কতা অবলম্বন করে এবং ভ্রষ্টতা (ضلالة) থেকে বেঁচে থাকে। তখনই কুরআন তার রহস্য ও নূরসমূহ উন্মোচন করে এবং তা সেই হৃদয়ে ঢেলে দেয় যা তাকওয়া (تقوى), ভয় ও সংবেদনশীলতা নিয়ে এবং গ্রহণের উপযুক্ত হয়ে তাঁর কাছে এসেছে। (১)

চতুর্থত: কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করা:

একজন মুফাসসিরের অন্যতম বিশেষ শর্ত হলো কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করা। কারণ, এটি কখনো কল্পনা করা সম্ভব নয় যে, একজন ব্যক্তি কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করবে না অথচ সে কুরআন অনুধাবনের তাওফিক লাভ করবে।

আর যদি হাদিসে এটি প্রমাণিত (ثابت) হয়ে থাকে যে: "অনেক কুরআন তিলাওয়াতকারী এমন আছে, যাদেরকে কুরআন অভিশাপ দেয়।"

সেক্ষেত্রে আমি জানি না, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমল না করার কারণে অভিশপ্ত হয়, সে কীভাবে তাফসির করার তাওফিক লাভ করবে! আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।

ডক্টর মুহাম্মদ লুতফী আল-সাব্বাগ বলেন: "নিশ্চয়ই এই সম্মানিত কিতাব তার গুপ্তধনের ভাণ্ডার এবং মণি-মুক্তার রহস্য কেবল তার নিকটই উন্মোচন করে, যে এর অবতীর্ণকারীর প্রতি ঈমান এনেছে, এর ওপর পূর্ণরূপে আমল করেছে, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনে নিয়েছে এবং এটি বুঝার ক্ষেত্রে আল্লাহর জন্য নিয়তকে বিশুদ্ধ করেছে এবং এমন জ্ঞান অন্বেষণ করেছে যা তাকে এর তাফসির ও গভীর অনুধাবন (تدبر) পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।" (২)

পঞ্চমত: ব্যক্তিত্ব বিনাশী বিষয় (خوارم المروءة) থেকে দূরে থাকা:

একজন মুফাসসির এবং তাফসিরের শিক্ষার্থীর জন্য এমন সব বিষয় থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি যা তাকে লোকচক্ষুতে হেয় করে। কেননা, কুরআনের ধারক এবং মুফাসসিরের জন্য বাঞ্ছনীয় হলো উন্নত শিষ্টাচার, প্রজ্ঞা এবং মানুষের জন্য কলঙ্কজনক বিষয় থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা।

--------------------------------------------

(১) ফি জিলালিল কুরআন ১/৩৮/৩৯।

(২) বুহুস ফি উসুলিত তাফসির, পৃষ্ঠা ২৮।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال الإمام القرطبي رحمه الله: «قال عبد الله بن عمرو: لا ينبغي لحامل القرآن أن يخوض مع من يخوض، ولا يجهل مع من يجهل، ولكن يعفو ويصفح، لحق القرآن، لأن في جوفه كلام الله تعالى».

ثم قال القرطبي - بعد هذا الأثر -: «وينبغي له أن يأخذ نفسه بالتصاون عن طرق الشبهات، ويقلل الضحك والكلام في مجالس القرآن وغيرها بما لا فائدة فيه، ويأخذ نفسه بالحلم والوقار وينبغي له أن يتواضع للفقراء، ويتجنب التكبر والإعجاب، ويتجافي عن الدنيا وأبنائها إن خاف على نفسه الفتنة، ويترك الجدال والمراء، ويأخذ نفسه بالرفق والأدب، وينبغي له أن يكون ممن يؤمن شره، ويرجي خيره ويسلم من ضره، وألا يسمع ممن نم عنده، ويصاحب من يعاونه على الخير ويدله على الصدق ومكارم الأخلاق ويزينه ولا يشينه» (1).

سادسا: مداومة ذكر الله تعالى: قال القرطبي رحمه الله:

(وينبغي له - أي حامل القرآن ومفسره - أن يكون لله حامدا، ولنعمه شاكرا، وله ذاكرا، وعليه متوكلا، وبه مستعينا، وإليه راغبا، وبه معتصما، وللموت ذاكرا وله مستعدا، وينبغي له أن يكون خائفا من ذنبه، راجيا عفو ربه) (2).

وبالجملة فيشترط في المفسر كل أدب يؤهله لحمل كتاب الله تعالى وفهمه وتوضيحه للناس، وإن هو أخل بتلك الآداب أزري بنفسه وبعلمه فقلّ أن يفهم الفهم التام، وإن فهم لم يقبل منه، لأن الله تعالى لا يقبل من الأعمال إلا ما كان خالصا وابتغي به وجهه.

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري 1/ 21.

(2) المرجع السابق 1/ 20.
ইমাম কুরতুবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আবদুল্লাহ ইবনে আমর বলেছেন: কুরআনের বাহকের জন্য উচিত নয় অনর্থক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের সাথে লিপ্ত হওয়া, কিংবা মূর্খদের সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করা। বরং কুরআনের হকের খাতিরে সে ক্ষমা ও মার্জনা করবে, কেননা তার অভ্যন্তরে আল্লাহ তাআলার বাণী রয়েছে।»

অতঃপর কুরতুবি—এই বর্ণনা (أثر) এর পর—বলেন: «এবং তার উচিত সন্দেহযুক্ত (شبهات) বিষয়াদি থেকে নিজেকে রক্ষা করা, কুরআনের মজলিস ও অন্যান্য স্থানে হাসি এবং অনর্থক কথাবার্তা কমিয়ে দেওয়া যাতে কোনো উপকার নেই, এবং নিজেকে ধৈর্য ও গাম্ভীর্যের সাথে পরিচালিত করা। তার উচিত অভাবগ্রস্তদের প্রতি বিনয়ী হওয়া, অহংকার ও আত্মমুগ্ধতা পরিহার করা এবং নিজের ওপর ফিতনার আশঙ্কা থাকলে দুনিয়া ও দুনিয়াদারদের থেকে বিমুখ থাকা। ঝগড়া ও বিতর্ক বর্জন করা এবং নম্রতা ও শিষ্টাচার অবলম্বন করা তার কর্তব্য। তাকে এমন হতে হবে যার থেকে অনিষ্টের ভয় থাকবে না, যার কল্যাণের আশা করা যাবে এবং যার ক্ষতি থেকে মানুষ নিরাপদ থাকবে। যে তার কাছে চোগলখুরি করে তার কথা সে শুনবে না, এবং এমন ব্যক্তির সাহচর্য গ্রহণ করবে যে তাকে কল্যাণের কাজে সহায়তা করবে, সত্য ও মহৎ চরিত্রের পথ দেখাবে এবং তাকে সুশোভিত করবে, কলঙ্কিত করবে না।» (১)।

ষষ্ঠত: আল্লাহ তাআলার জিকির সর্বদা বজায় রাখা: কুরতুবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

(এবং তার জন্য—অর্থাৎ কুরআনের বাহক ও ব্যাখ্যাকারীর (مفسر) জন্য—উচিত আল্লাহর প্রশংসাকারী হওয়া, তাঁর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী হওয়া, তাঁকে স্মরণকারী হওয়া, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুলকারী হওয়া, তাঁর কাছে সাহায্যপ্রার্থী হওয়া, তাঁর প্রতি অনুরাগী হওয়া, তাঁকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা, মৃত্যুকে স্মরণকারী এবং তার জন্য প্রস্তুত থাকা। তার উচিত নিজ পাপের ব্যাপারে ভীত থাকা এবং তার রবের ক্ষমার প্রত্যাশী হওয়া।) (২)।

সারকথা হলো, ব্যাখ্যাকারীর (مفسر) ক্ষেত্রে এমন সব আদব বা শিষ্টাচার থাকা শর্ত যা তাকে আল্লাহর কিতাব ধারণ, তা অনুধাবন এবং মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করার যোগ্য করে তোলে। সে যদি এই শিষ্টাচারগুলোর পরিপন্থী কাজ করে, তবে সে নিজেকে এবং নিজের ইলমকে তুচ্ছ প্রতিপন্ন করল। ফলে সে খুব কমই পূর্ণাঙ্গ বুঝ লাভ করতে পারবে, আর বুঝলেও তা গৃহীত হবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা কোনো আমল কবুল করেন না যদি না তা একনিষ্ঠ (خالص) হয় এবং তা দ্বারা কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য থাকে।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে তবারি ১/ ২১।

(২) প্রাগুক্ত ১/ ২০।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌أما الشروط التي تتعلق به من الناحية العلمية: (1)

ربما تفهم للذكي الأريب من خلال مبحث مصادر علم التفسير، ولكن لا بأس أن نعددها هنا على سبيل الإجمال والاختصار:

[1] أن يكون المفسر عالما بالحديث، فهو يحتاج إليه في بيان المجمل والمبهم من القرآن.

[2] أن يكون عالما باللغة متبحرا فيها، لأن بها يتمكن من شرح مفردات الألفاظ ومدلولاتها.

[3] أن يكون عالما بالصرف لأن به تعرف أبنية الكلمات، ومن الألفاظ ما لا يعرف إلا بتصريفه ومعرفة أصله.

[4] أن يكون عالما بالنحو لأن المعنى يتغير ويختلف باختلاف الإعراب فلا بد منه.

[5] أن يكون عالما بالاشتقاق، لأن الإسم إذا كان اشتقاقه من مادتين مختلفتين اختلف باختلافها، كالمسيح مثلا: هل هو من السياحة أو من المسح.

[6] أن يكون عالما بالبلاغة بأقسامها الثلاثة المعاني والبيان والبديع حتى يعرف خواص تركيب الكلام من جهة إفادة المعنى ومن جهة اختلافه بحسب وضوح الدلالة وخفائها، ووجوه تحسين الكلام.

[7] أن يكون عالما بالقراءات، فهي جزء من الوحي لا بدّ من الوقوف على معانيها.

[8] أن يكون عالما بأصول الدين وأمور العقيدة.

[9] أن يكون عالما بأصول الفقه اذ به يعرف كيف يستنبط الأحكام الشرعية.

--------------------------------------------

(1) راجع: الإتقان 2/ 175 وما بعدها، أصول التفسير وقواعده ص 186/ 187.
বৈজ্ঞানিক বা জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক থেকে মুফাসসিরের সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি: (১)

একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তির নিকট হয়তো তা 'তাফসির শাস্ত্রের উৎসসমূহ' শীর্ষক আলোচনার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে সেগুলো উল্লেখ করায় কোনো দোষ নেই:

[১] মুফাসসিরকে হাদিস শাস্ত্রে পণ্ডিত হতে হবে; কারণ কুরআনের সংক্ষিপ্ত (المجمل) ও অস্পষ্ট (المبهم) বিষয়গুলো ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে হাদিসের প্রয়োজন পড়ে।

[২] তাকে ভাষাতত্ত্বে পারদর্শী ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে; কারণ এর মাধ্যমেই শব্দের বিশ্লেষণ ও তার অর্থগত প্রায়োগিক রূপ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।

[৩] তাকে রূপতত্ত্ব (الصرف) সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে; কারণ এর মাধ্যমে শব্দের গঠন জানা যায়। কিছু শব্দ এমন আছে যা তার রূপান্তর ও মূল উৎস জানা ছাড়া স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

[৪] তাকে বাক্যতত্ত্ব (النحو) বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে; কারণ ব্যাকরণিক অবস্থান বা ই’রাবের পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থ পরিবর্তিত ও ভিন্ন হয়ে যায়, তাই এটি অপরিহার্য।

[৫] তাকে শব্দমূলতত্ত্ব (الاشتقاق) সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে; কেননা কোনো বিশেষ্য যদি দুটি ভিন্ন শব্দমূল থেকে উদ্ভূত হয়, তবে তার অর্থও সেই উৎসের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে যায়। যেমন: ‘আল-মাসীহ’ শব্দটি; এটি কি ‘সিয়াহাত’ (ভ্রমণ) থেকে উদ্ভূত নাকি ‘মাসহ্’ (মুছে দেওয়া) থেকে।

[৬] তাকে অলঙ্কারশাস্ত্রের (البلاغة) তিনটি শাখা—অর্থালঙ্কার (المعاني), বর্ণনাশৈলী (البيان) এবং শব্দালঙ্কার (البديع) সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে; যাতে বাক্যের গঠনগত বৈশিষ্ট্য, অর্থের পরিস্ফুটন, দালালাত বা নির্দেশের স্পষ্টতা ও অস্পষ্টতার ভিন্নতা এবং বাক্যকে অলঙ্কৃত করার পদ্ধতিসমূহ অনুধাবন করা যায়।

[৭] তাকে বিভিন্ন পাঠরীতি (القراءات) সম্পর্কে অবহিত হতে হবে; কারণ এটি ওহীর অংশ এবং এর অর্থগত বৈচিত্র্য সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক।

[৮] তাকে ধর্মের মূলনীতি (أصول الدين) এবং আকাইদ সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে।

[৯] তাকে ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) সম্পর্কে জানতে হবে; কারণ এর মাধ্যমেই শরিয়তের বিধানসমূহ কীভাবে আহরণ (استنباط) করতে হয় তা জানা যায়।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ইতকান ২/১৭৫ এবং পরবর্তী অংশ; উসুলুত তাফসির ওয়া কাওয়াইদুহু, পৃষ্ঠা ১৮৬/১৮৭।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩২)
[10] أن يكون عالما بأسباب النزول.

[11] أن يكون عالما بالناسخ والمنسوخ.

[12] أن يستجمع ولو طرفا من العلوم الكونية كالطب والهندسة وغيره.

وهذا يعني أن المفسر لكتاب الله تعالى ينبغي أن يكون موسوعة علمية حاضرة في كافة المجالات الثقافية والمعرفية، وقد كان أسلافنا فعلا موسوعات في كافة الفروع، أما نحن فأجدر كلمة عزاء نقولها لأنفسنا في أنفسنا: إِنَّا لِلَّهِ وإِنَّا إِلَيْهِ راجِعُونَ [البقرة: 156].
[10] তাকে অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) সম্পর্কে জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে।

[11] তাকে রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ) বিষয়সমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।

[12] তাকে জাগতিক বিজ্ঞান যেমন—চিকিৎসাশাস্ত্র, প্রকৌশলবিদ্যা এবং এই জাতীয় অন্যান্য শাস্ত্রের অন্তত কিছু অংশ হলেও আয়ত্ত করতে হবে।

এর অর্থ হলো, মহান আল্লাহ তাআলার কিতাবের ব্যাখ্যাকারীকে (مفسر) সংস্কৃতি ও জ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে এক সদাপ্রস্তুত জ্ঞানকোষ হতে হবে। আমাদের পূর্বসূরিগণ প্রকৃতপক্ষে সকল শাখায় এমন বিশ্বকোষতুল্যই ছিলেন। আর আমাদের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে নিজেদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বাক্য, যা আমরা নিজেদের সম্পর্কে বলতে পারি, তা হলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’ [আল-বাকারা: ১৫৬]।
(খণ্ড: ১) আত-তাইসীর ফী উসুলি ওয়া ইত্তিজাহাতিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المبحث العاشر التأويل عند السلف والمتكلمين والفرق بين التفسير والتأويل

لقد ورد ذكر التأويل في القرآن الكريم أكثر من التفسير فما هو التأويل؟

وهل هو مرادف للتفسير أم بينهما فرق؟، وكيف كان فهم علماء السلف والمتكلمين له؟.

أولا: التأويل عند علماء السلف: (1)

التأويل في اللغة هو: تفعيل من أوّل يؤوّل تأويلا، ومادته من الفعل «آل» بمعنى رجع وصار، ومعناه: نقل ظاهر اللفظ عن وضعه الأصلي إلي ما يحتاج إلي دليل، لولاه ما ترك ظاهر اللفظ. وقيل هو تفسير الكلام الذي تختلف معانيه ولا يصح بغير بيان لفظه (2).

وفي الاصطلاح هو: صرف اللفظ عن الاحتمال الظاهر إلي احتمال مرجوح به لاعتضاده بدليل يصير به اغلب الظن من المعنى الذي دل عليه الظاهر (3).

وهذا المعنى للتأويل عبّر به علماء الأصول، وهو قريب من فهم المفسرين من علماء السلف - أيضا - للتأويل، فشيخ المفسرين الطبري رحمه الله يعبر عن

--------------------------------------------

(1) مصطلح (السلف) في الغالب يطلق على صدر هذه الأمة من أهل النقاء والصفاء وحصره بعض العلماء في أهل القرون الثلاثة الأولي المشهود لها بالخير على لسان النبي صلى الله عليه وسلم فهؤلاء لم يخالط إيمانهم فكر فلسفي ولا غيره من البدع ولم يقدموا على كلام الله ورسوله شيئا وقد أمرنا باتباع سبيلهم وحذرنا من السير في غير طريقهم قال تعالى: ومَنْ يُشاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ ما تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدي ويَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ ما تَوَلَّي [النساء: 115]، وقد سار على دربهم علماء أجلاء دافعوا عن منهجهم فاستحقوا أن يلحقوا بهم.

(2) لسان العرب 1/ 264 (مادة أول).

(3) انظر: روضة الناظر: لابن قدامة بشرح ابن بدران 2/ 30 وما بعدها.
দশম পরিচ্ছেদ: সালাফ (سلف) ও কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمين) নিকট ব্যাখ্যা (تأويل) এবং তাফসির ও ব্যাখ্যার (تأويل) মধ্যকার পার্থক্য

পবিত্র কুরআনে 'তাফসির' শব্দের তুলনায় ব্যাখ্যা (تأويل) শব্দটির উল্লেখ অধিক হারে এসেছে। তাহলে ব্যাখ্যা (تأويل) কী?

এটি কি তাফসিরের সমার্থক নাকি উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য রয়েছে? এবং সালাফ (سلف) ও কালামশাস্ত্রবিদগণ (متكلمين) একে কীভাবে বুঝেছেন?

প্রথমত: সালাফী (سلف) উলামায়ে কিরামের নিকট ব্যাখ্যা (تأويل): (১)

অভিধান অনুযায়ী 'তাউইল' শব্দটি 'তাফয়ীল' (تفعيل) ছাঁচে 'আওয়ালা-ইউয়াউয়িলু' (أوّل يؤوّل) থেকে আগত। এর মূল ধাতু হলো 'আ-লা' (آل), যার অর্থ ফিরে আসা বা পরিণত হওয়া। এর অর্থ হলো: শব্দের বাহ্যিক (ظاهر) রূপকে তার মৌলিক অবস্থান থেকে এমন অর্থের দিকে সরিয়ে নেয়া যার জন্য দলিলের প্রয়োজন হয়; যদি সেই দলিল না থাকতো তবে শব্দের বাহ্যিক (ظاهر) রূপ পরিত্যাগ করা হতো না। কেউ কেউ বলেন, এটি হলো এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা (تفسير) যার অর্থ বহুমুখী হতে পারে এবং শব্দের সুস্পষ্ট বর্ণনা ব্যতীত যা সঠিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয় (২)।

আর পরিভাষায় (اصطلاح) এটি হলো: কোনো শব্দকে তার বাহ্যিক সম্ভাবনা (الاحتمال الظاهر) থেকে সরিয়ে এমন এক অপ্রধান সম্ভাবনার (احتمال مرجوح) দিকে ফিরিয়ে নেয়া, যা কোনো দলিলের মাধ্যমে সমর্থিত হওয়ার কারণে বাহ্যিক অর্থের চেয়ে অধিকতর প্রবল ধারণার (أغلب الظن) স্তরে উন্নীত হয় (৩)।

উসুলবিদগণ (علماء الأصول) ব্যাখ্যার (تأويل) এই অর্থই ব্যক্ত করেছেন। এটি সালাফী (سلف) মুফাসসিরদের উপলব্ধিরও নিকটবর্তী। ইমামুল মুফাসসিরীন তাবারী (রহ.) বর্ণনা করেন—

--------------------------------------------

(১) 'সালাফ' (سلف) পরিভাষাটি সাধারণত এই উম্মতের প্রথম যুগের বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কতিপয় আলেম একে প্রথম তিন শতাব্দীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, যাদের কল্যাণের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের ঈমানের সাথে কোনো দার্শনিক চিন্তা বা অন্য কোনো বিদআতের (بدعة) সংমিশ্রণ ঘটেনি এবং তাঁরা আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূলের বাণীর ওপর কোনো কিছুকেই প্রাধান্য দেননি। আমাদের তাঁদের পথ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের পথ ব্যতীত অন্য পথে চলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "কারও কাছে সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ (سبيل المؤمنين) ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরে যায়।" [আন-নিসা: ১১৫]। অনেক মহান আলেম তাঁদের প্রদর্শিত পথে চলেছেন এবং তাঁদের মানহাজ (منهج) রক্ষা করেছেন, ফলে তাঁরাও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন।

(২) লিসানুল আরব ১/ ২৬৪ (আ-ওয়া-লা মূলধাতু)।

(৩) দেখুন: রওদাতুন নাজির: ইবনে কুদামা কৃত, ইবনে বদরানের ব্যাখ্যাসহ ২/ ৩০ এবং পরবর্তী অংশ।