(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ابن الناظم على ألفية ابن مالك القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح ابن الناظم على ألفية ابن مالك
المؤلف: بدر الدين محمد ابن الإمام جمال الدين محمد بن مالك (ت 686 هـ)
المحقق: محمد باسل عيون السود
الناشر: دار الكتب العلمية
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 621
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الأولى 1437
আলফিয়্যাতুবনু মালিকের ওপর ইবনে নাযিমের শারহ বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আলফিয়্যাতুবনু মালিকের ওপর ইবনে নাযিমের শারহ
লেখক: বদরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইমাম জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মালিক (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ বাসিল উয়ুনুস সুদ
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, (মারকাযুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)-এর পৃষ্ঠপোষকতায়
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল উলা ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
[خطبة الكتاب][2] // قال الشيخ الإمام العالم العامل الفاضل الكامل المتقن المحقق مجمع الفضائل فريد دهره ولسان عصره بدر الدين أبو عبد الله محمد بن الإمام حجة العرب محمد بن مالك الطائي الجياني تغمده الله برحمته:
أما بعد حمد الله سبحانه بما له من المحامد على ما أسبغ من نعمه البوادي والعوائد، والصلاة والسلام على سيدنا محمد، المرسل رحمة للعالمين وقدوة للعارفين، وعلى آله وأصحابه الطاهرين، وعلى سائر عباد الله الصالحين.
فإني ذاكر في هذا الكتاب أرجوزة والدي رحمه الله في علم النحو، المسماة بالخلاصة. ومرصعها بشرح يحل منها المشكل، ويفتح من أبوابها كل مقفل.
جانيت فيها الإيجاز المخل، والإطناب الممل، حرصًا على التقريب لفهم مقاصدها، والحصول على جملة فوائدها. راجيًا من الله تعالى حسن التأييد والتوفيق والتسديد، بمنه وعونه.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
[গ্রন্থের ভূমিকা][২] // শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আমলকারী, শ্রেষ্ঠ গুণসম্পন্ন, পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব, সুনিপুণ গবেষক, সকল গুণের আধার, স্বীয় সময়ের অদ্বিতীয় ও নিজ যুগের মুখপাত্র বদরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ইমাম হুজ্জাতুল আরব মুহাম্মদ ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জায়ানি (আল্লাহ তাকে আপন রহমতে আবৃত করুন) বলেন:
অতঃপর, মহান আল্লাহর সেই সকল প্রশংসার পর যা তাঁর প্রাপ্য—সেই সব প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতের জন্য যা তিনি অবারিত করেছেন—এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে এবং আরেফীনদের (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) জন্য আদর্শ হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আর তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের ওপরও।
আমি এই গ্রন্থে ইলমে নাহু (ব্যাকরণ শাস্ত্র) বিষয়ে আমার পিতার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একটি ছন্দোবদ্ধ রচনা উল্লেখ করছি, যার নাম ‘আল-খুলাসাতু’। আর আমি একে এমন এক ব্যাখ্যা দ্বারা সুশোভিত করছি যা এর জটিল বিষয়গুলোর সমাধান করবে এবং এর প্রতিটি রুদ্ধ দ্বার উন্মোচন করবে।
আমি এতে এমন অতি-সংক্ষিপ্ততা পরিহার করেছি যা বিষয়বস্তু বুঝতে ব্যাঘাত ঘটায় এবং এমন দীর্ঘসূত্রতাও বর্জন করেছি যা বিরক্তি সৃষ্টি করে; যেন এর উদ্দেশ্যগুলো বোঝা সহজ হয় এবং এর সামগ্রিক উপকারিতা লাভ করা যায়। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও সাহায্যের মাধ্যমে উত্তম সমর্থন, তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪)
وهذه أول الأرجوزة:
1 - قال محمد هو ابن مالك
… أحمد ربي الله خير مالك
2 - مصليًا على الرسول المصطفي
… وآله المستكملين الشرفا
3 - وأستعين الله في ألفيه
… مقاصد النحو بها محويه
النحو في اللغة: هو القصد.
وفي اصطلاحنا: عبارة عن العلم بأحكام مستنبطة من استقراء كلام العرب،
[3] أعني أحكام الكلم في ذواتها، أو فيما يعرض لها بالتركيب لتأدية أصل // المعاني من الكيفية والتقديم والتأخير، ليحترز بذلك عن الخطأ في فهم معاني كلامهم، وفي الحذو عليه.
4 - تقرب الأقصى بلفظٍ موجز
… وتبسط البذل بوعدٍ منجز
يقول: إن هذه الألفية؛ مع أنها حاوية للقصد الأعظم من علم النحو لما فيها من المزية على نظائرها؛ أنها تقرب إلى الإفهام المعاني البعيدة، بسبب وجازة اللفظ وإصابة المعنى وتنقيح العبارة وتبسط الذل أي: توسع العطاء بما تمنحه من الفوائد لقرائها واعدة بحصول مأربهم، وناجزة بوفائها.
5 - وتقتضي رضًا بغير سخط
… فائقةً ألفية ابن معط
6 - وهو بسبقٍ حائز تفضيلا
… مستوجب ثنائي الجميلا
7 - والله يقضي بهباتٍ وافره
… لي وله في درجات الآخرة
এটি উরজুজা (কবিতা)-এর শুরু:
১ - মুহাম্মদ—যিনি ইবনে মালিক—বলছেন
… আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি সর্বোত্তম মালিক।
২ - মনোনীত রাসূল এবং তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি দরুদ পাঠ করছি
… যারা পূর্ণ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।
৩ - আর আমি এক হাজার পঙক্তিবিশিষ্ট কাব্যের (আলফিয়্যাহ) ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি
… যাতে নাহু শাস্ত্রের উদ্দেশ্যসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে।
আভিধানিক অর্থে নাহু হলো: লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য।
আর আমাদের পরিভাষায়: এটি এমন এক বিজ্ঞান যা আরবদের কালাম বা কথাবার্তা পর্যালোচনার মাধ্যমে সংগৃহীত বিধানাবলি থেকে অর্জিত হয়,
[৩] অর্থাৎ শব্দের মূল অবস্থার বিধানসমূহ, অথবা বাক্যে ব্যবহারের ফলে শব্দের শেষে যা কিছু আপতিত হয় সেসবের বিধানসমূহ; যেন অবস্থা অনুযায়ী শব্দের বিন্যাস ও অগ্র-পশ্চাৎ করার মাধ্যমে মূল অর্থ সঠিকভাবে প্রকাশ করা যায় এবং এর মাধ্যমে তাদের (আরবদের) বক্তব্যের মর্ম উপলব্ধি করতে ও তা অনুসরণে ভুল থেকে বেঁচে থাকা যায়।
৪ - এটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী ভাবকে নিকটে নিয়ে আসে
… এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে দানের প্রসার ঘটায়।
তিনি বলছেন: এই আলফিয়্যাহ; নাহু শাস্ত্রের সমজাতীয় অন্যান্য গ্রন্থের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব থাকার কারণে এতে যদিও এই শাস্ত্রের মহান উদ্দেশ্যসমূহ বিদ্যমান রয়েছে; এটি সংক্ষিপ্ত শব্দ চয়ন, সঠিক অর্থ উপস্থাপন এবং পরিমার্জিত বর্ণনার মাধ্যমে দুরূহ অর্থসমূহকেও বুঝার নাগালে নিয়ে আসে। আর এটি দানের প্রসার ঘটায় অর্থাৎ এর পাঠকদের এটি যেসব জ্ঞানগত উপকারিতা প্রদান করে তার মাধ্যমে এটি অনুগ্রহকে বিস্তৃত করে, যা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তা বাস্তবায়নেও পারদর্শী।
৫ - এটি এমন সন্তুষ্টি দাবি করে যাতে কোনো অসন্তুষ্টি নেই
… এবং এটি ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহর চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
৬ - তিনি (ইবনে মু'তি) অগ্রগামী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী
… এবং তিনি আমার সুন্দর প্রশংসার যোগ্য।
৭ - আল্লাহ যেন পরকালের সুউচ্চ মাকামে
… আমার ও তাঁর জন্য প্রচুর পুরস্কারের ফয়সালা করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৫)
الكلام وما يتألف منه8 - كلامنا لفظ مفيد كاستقم
… واسم وفعل ثم حرف الكلم
9 - واحده كلمة والقول عم
… وكلمة بها كلام قد يؤم
وهذا ما أراده بقوله:
........ مفيد كاستقم
… .........................
كأنه قال: الكلام لفظ مفيد فائدة تامة، يصح الاكتفاء بها كالفائدة في (استقم) فاكتفى عن تتميم الحد بالتمثيل.
ولابد للكلام من طرفين: مسند، ومسند إليه، ولا يكونان إلا اسمين نحو: زيد قائم، أو اسمًا وفعلا نحو: قام زيد، ومنه (استقم) فإنه مركب من فعل أمر، وفاعل: هو ضمير المخاطب، تقديره: استقم أنت.
وقوله:
....................
… واسم وفعل ثم حرف الكلم
واحده كلمة ..............
… ........................
কালাম এবং এটি যা দ্বারা গঠিত হয়৮ - আমাদের কালাম হলো অর্থবহ শব্দ যেমন 'ইস্তাকিম' (সোজা হয়ে দাঁড়াও)
… আর ইসিম, ফে’ল ও হরফ হলো 'কিলম'
৯ - এর একক হলো কালিমা এবং 'কাউল' হলো সাধারণ বা ব্যাপক
… আর কালিমার মাধ্যমে কখনও পূর্ণ কালামকেও বোঝানো হয়
আর এটিই তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছেন:
........ অর্থবহ যেমন ইস্তাকিম
… .........................
তিনি যেন বলছেন: কালাম হলো এমন শব্দ যা পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে, যার ওপর নির্ভর করা সঠিক হয়, যেমন 'ইস্তাকিম' শব্দটির দ্বারা অর্জিত উপকারের ন্যায়। তাই তিনি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা দেওয়ার পরিবর্তে উদাহরণ দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন।
কালামের জন্য দুটি পক্ষ থাকা অপরিহার্য: মুসনাদ এবং মুসনাদ ইলাইহি। আর এই দুটি কেবল দুটি ইসিম হতে পারে যেমন: 'যাইদুন কায়িমুন' (যাইদ দণ্ডায়মান), অথবা একটি ইসিম এবং একটি ফে’ল হতে পারে যেমন: 'কামা যাইদুন' (যাইদ দাঁড়াল)। 'ইস্তাকিম' শব্দটিও এর অন্তর্ভুক্ত, কেননা এটি একটি আমর বা আদেশবাচক ক্রিয়া এবং ফায়েল (কর্তা) এর সমন্বয়ে গঠিত; আর ফায়েলটি হলো সম্বোধিত সর্বনাম, যার উহ্য রূপ হলো: 'ইস্তাকিম আনতা' (তুমি সোজা হয়ে দাঁড়াও)।
এবং তাঁর উক্তি:
....................
… এবং ইসিম, ফে’ল অতঃপর হরফ হলো 'কিলম'
এর একক হলো কালিমা ..............
… ........................
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৬)
يعني: أن الكلم اسم جنس، واحده كلمة، كلبنة ولبن، ونبقة ونبق.
وهي على ثلاثة أقسام: اسم وفعل وحرف؛ لأن الكلمة إما أن يصح أن تكون ركنًا للإسناد، أو لا، الثاني الحرف، والأول: إما أن يصح أن يسند إليه، أو لا، الثاني الفعل، والأول الاسم.
وقد ظهر من هذا انحصار الكلمة في ثلاثة أقسام.
والمراد بالكلمة: لفظ بالقوة، أو لفظ بالفعل، مستقل، دال بجملته على معنى مفرد بالوضع.
(فاللفظ) مخرج للخط والعقد والإشارة والنصب (وبالقوة) مدخل للضمير
[4] في نحو: افعل، وتفعل، و (لفظ بالفعل) مدخل لنحو زيد // في قام زيد، و (مستقل) مخرج للأبعاض الدالة على معنى كألف المفاعلة، وحروف المضارعة، و (دال) معمم لما دلالته ثابتة، كرجل، ولما دلالته زائلة، كأحد جزأي امرئ القيس، لأنه كلمة، ولذلك أعرب بإعرابيين: كل على حدة، و (بجملته) مخرج للمركب، كغلام زيد، فإنه دال بجزءيه على جزءي معناه، و (بالوضع) مخرج للمهمل، ولما دلالته عقلية، كدلالة اللفظ على حال اللافظ به.
وبين الكلام، والكلم عموم من وجه، وخصوص من وجه.
فالكلام أعم من قبل أنه يتناول المركب من كلمتين فصاعدًا، وأخص من قبل: أنه لا يتناول غير المفيد.
والكلم أعم من قبل: أنه يتناول المفيد، وغير المفيد، وأخص من قبل أنه لا يتناول المركب من كلمتين؛ لأن أقل الجمع ثلاثة.
وقوله:
............. والقول عم
… ..........................
يعني: أن القول يطلق على الكلم والكلمة والكلام، فهو أعم.
অর্থাৎ: 'কালিম' (শব্দসমষ্টি) হলো একটি ইসমে জিনস (জাতীয় বিশেষ্য), যার একবচন হলো 'কালিমাহ' (শব্দ); যেমন 'লাবিনাহ' (একটি ইট) এবং 'লাবান' (ইটসমূহ), অথবা 'নাবিকাহ' (একটি বরই) এবং 'নাবিক' (বরইসমূহ)।
আর এটি তিন প্রকার: বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) এবং অব্যয় (হারফ); কারণ শব্দটি হয়তো ইসনাদ বা অন্বয়ের ভিত্তি হওয়ার যোগ্যতা রাখে, অথবা রাখে না। দ্বিতীয়টি হলো অব্যয় (হারফ)। আর প্রথমটি (যা ইসনাদের ভিত্তি হতে পারে) হয়তো এমন যে তার দিকে ইসনাদ করা (উদ্দেশ্য হওয়া) সঠিক, অথবা নয়। দ্বিতীয়টি হলো ক্রিয়া (ফেল), আর প্রথমটি হলো বিশেষ্য (ইসম)।
এ থেকে এটি স্পষ্ট হলো যে, শব্দ তিন প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
আর 'কালিমাহ' (শব্দ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সম্ভাব্য উচ্চারণ অথবা প্রত্যক্ষ উচ্চারণ, যা স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং যা শব্দগত বিন্যাসের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে একক অর্থের ওপর নির্দেশ করে।
(উচ্চারণ) কথাটি দ্বারা লিপি, গাণিতিক চিহ্ন, ইঙ্গিত এবং সংকেত চিহ্নকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর (সম্ভাব্য) কথাটি দ্বারা অন্তলীন সর্বনামকে
[৪] অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেমন: 'ইফআল' (তুমি করো) এবং 'তাফআল' (তুমি করছো/করবে)-এর মতো শব্দের ভেতরের সর্বনাম। এবং (প্রত্যক্ষ উচ্চারণ) দ্বারা 'কামা যাইদুন' (যাইদ দাঁড়িয়েছে)-এ 'যাইদ'-এর মতো শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবং (স্বয়ংসম্পূর্ণ) কথাটি দ্বারা এমন অংশগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করে কিন্তু স্বতন্ত্র নয়, যেমন মুফাআলাহ-এর আলিফ এবং মুদারে বা বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালের শুরুতে যুক্ত বর্ণসমূহ। এবং (নির্দেশক) কথাটি এমন শব্দকেও অন্তর্ভুক্ত করে যার নির্দেশিত অর্থ অপরিবর্তনীয়, যেমন 'রাজুলুন' (পুরুষ), আবার যার নির্দেশিত অর্থ (প্রসঙ্গভেদে) বিলুপ্ত হয়েছে তাকেও শামিল করে, যেমন 'ইমরুল কায়েস'-এর দুটি অংশের যেকোনো একটি, কেননা সেটিও একটি শব্দ। এই কারণেই একে দুই ধরনের বিভক্তি প্রদান করা হয়েছে: প্রত্যেকটিকে আলাদা আলাদা ভাবে। এবং (সামগ্রিকভাবে) কথাটি দ্বারা যৌগিক শব্দসমষ্টিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেমন 'গুলামু যাইদিন' (যাইদের দাস); কারণ এর দুটি অংশ তার অর্থের দুটি পৃথক অংশের ওপর নির্দেশ করে। এবং (শব্দগত বিন্যাসের মাধ্যমে) কথাটি দ্বারা অর্থহীন শব্দকে এবং যার অর্থ যুক্তিগত, তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে; যেমন কোনো উচ্চারিত ধ্বনি দ্বারা উচ্চারণকারীর অবস্থার জ্ঞান লাভ করা।
আর কালাম (বাক্য) এবং কালিম (শব্দসমষ্টি)-এর মধ্যে 'উমুম ওয়া খুসুস মিন ওয়াজহ' (এক দিক থেকে সাধারণ ও অন্য দিক থেকে বিশেষ হওয়ার) সম্পর্ক বিদ্যমান।
সুতরাং 'কালাম' এই দিক থেকে অধিক ব্যাপক যে, এটি দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত বাক্যকে শামিল করে; কিন্তু এই দিক থেকে তা অধিক সুনির্দিষ্ট যে, এটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না।
আর 'কালিম' এই দিক থেকে অধিক ব্যাপক যে, এটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশকারী এবং অর্থ প্রকাশ করে না এমন উভয় ধরনের শব্দসমষ্টিকেই শামিল করে; কিন্তু এই দিক থেকে তা অধিক সুনির্দিষ্ট যে, এটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত বাক্যকে শামিল করে না; কারণ বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো তিন।
এবং তাঁর উক্তি:
............. এবং কওল (উক্তি) হলো ব্যাপক
… ..........................
অর্থাৎ: 'কওল' শব্দটি কালিম, কালিমাহ এবং কালাম—সবগুলোর ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, তাই এটি সবচেয়ে ব্যাপক।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقوله:
.....................
… وكلمة بها كلام قد يؤم
يعني أنه قد يقصد بالكلمة ما يقصد بالكلام: من اللفظ الدال على معنى يحسن السكوت عليه، كقوله صلى الله عليه وسلم: (أصدق كلمةٍ قالها شاعر كلمة لبيدٍ، وهي قوله: [من الطويل]
1 - ألا كل شيء ما خلا الله باطل
… وكل نعيم لا محالة زائل)
وكقولهم: (كلمة الشهادة) يريدون بها: (لا إله إلا الله محمد رسول الله). وهو من باب تسمية الشيء باسم بعضه، كتسميتهم ربيئة القوم عينا، والبيت من الشعر قافية.
وقد يسمون القصيدة قافية، لاشتمالها عليها، قال الشاعر: [من الوافر]
2 - وكم علمته نظم القوافي
… فلما قال قافية هجاني
أراد قصيدة.
10 - بالجر والتنوين والندا وأل
… ومسندٍ للاسم تمييز حصل
قد عرفت أن الكلمة تنقسم إلى ثلاثة أقسام: اسم وفعل وحرف، فلابد من معرفة ما يميز بعضها عن بعض، وإلا فلا فائدة في التقسيم.
ولما أخذ في بيان ذلك ذكر للاسم علامات تخصه، ويمتاز بها عن قسيميه. وتلك العلامات هي: الجر والتنوين والنداء والألف واللام والإسناد إليه.
এবং তাঁর উক্তি:
.....................
… এবং কালিমাহ দ্বারা কখনো কালাম (বাক্য) উদ্দেশ্য করা হয়
অর্থাৎ কখনো কখনো 'কালিমাহ' দ্বারা সেই অর্থই উদ্দেশ্য করা হয় যা 'কালাম' দ্বারা উদ্দেশ্য করা হয়: অর্থাৎ এমন শব্দ যা এমন একটি অর্থ প্রকাশ করে যার ওপর নীরব হওয়া সঠিক হয়। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (কোনো কবির বলা সবচেয়ে সত্য কালিমাহ হলো লাবীদের কালিমাহ, আর তা হলো: [তাবীল ছন্দ থেকে]
১ - জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই বাতিল
… আর প্রতিটি নেয়ামত অবশ্যই নশ্বর)
এবং যেমন তাঁদের উক্তি: (কালিমাতুশ শাহাদাহ), এর দ্বারা তাঁরা উদ্দেশ্য করেন: (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ)। আর এটি কোনো বস্তুকে তার কোনো অংশের নামে নামকরণ করার অন্তর্ভুক্ত, যেমন তাঁরা দলের গুপ্তচরকে 'চোখ' বলে অভিহিত করেন এবং কবিতার একটি পঙ্ক্তিকে 'কাফিয়াহ' বলেন।
এবং কখনো তাঁরা সম্পূর্ণ কাসিদাহকে 'কাফিয়াহ' বলেন, যেহেতু কাসিদাহর মধ্যে তা অন্তর্ভুক্ত থাকে। কবি বলেছেন: [ওয়াফির ছন্দ থেকে]
২ - আমি তাকে কতই না কবিতা রচনা করতে শিখিয়েছি
… অথচ যখনই সে একটি কবিতা বলল, তখনই সে আমার নিন্দা করল
এখানে তিনি কবিতা উদ্দেশ্য করেছেন।
১০ - জার, তানভীন, নিদা, আলিফ-লাম
… এবং মুসনাদ-এর মাধ্যমে ইসম-এর বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়
আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন যে, কালিমাহ তিন প্রকারে বিভক্ত: ইসম, ফিলাল এবং হারফ। সুতরাং তাদের একটিকে অন্যটি থেকে পৃথককারী বিষয়গুলো জানা আবশ্যক, নতুবা এই বিভাজনের কোনো সার্থকতা থাকবে না।
যখন তিনি তা বর্ণনার উদ্যোগ নিলেন, তখন ইসম-এর জন্য এমন কিছু আলামত বা চিহ্ন উল্লেখ করলেন যা তার সাথে সুনির্দিষ্ট এবং যার মাধ্যমে সে অপর দুই প্রকার থেকে পৃথক হয়। আর সেই আলামতগুলো হলো: জার, তানভীন, নিদা, আলিফ ও লাম এবং তার প্রতি ইসনাদ করা।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما الجر؛ فمختص بالأسماء، لأن كل مجرور مخبر عنه في المعنى، ولا يخبر إلا عن الاسم، فلا يجر إلا الاسم، كزيد وعمرو، في قولك: مررت بزيد، ونظرت إلى عمرو.
وأما التنوين؛ فهو نون ساكنة زائدة، تلحق آخر الاسم لفظًا، وتسقط خطا. وهو على أنواع:
تنوين الأمكنية: كزيد وعمرو.
وتنوين التنكير: كسيبويه وسيبويهٍ آخر.
وتنوين المقابلة: كمسلماتٍ.
وتنوين التعويض: كحينئذٍ.
[5] وتنوين الترنم: وهو المبدل من حرف الإطلاق نحو قول الشاعر: // [من الرجز]
3 - يا صاح ما هاج العيون الذرفن
[وقوله: من الرجز]
4 - من طلل كالأتحمي أنهجن
আর 'জ্বর' (শব্দের শেষে জের হওয়া) বিশেষ্য বা ইসিমের জন্য নির্দিষ্ট, কারণ অর্থগতভাবে প্রতিটি 'মজরুর' (জেরযুক্ত শব্দ) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়, আর কেবল ইসিম সম্পর্কেই সংবাদ প্রদান করা সম্ভব। সুতরাং ইসিম ব্যতীত অন্য কিছু মজরুর হয় না, যেমন জায়েদ ও আমর; আপনার এই উক্তিতে: "আমি জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম" এবং "আমি আমরের দিকে তাকালাম" বাক্যদ্বয়ে ব্যবহৃত জায়েদ ও আমর।
আর তানউইন হলো একটি অতিরিক্ত সাকিনযুক্ত 'নুন', যা উচ্চারণের সময় ইসিমের শেষে যুক্ত হয়, কিন্তু লিখার সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর এটি কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে:
তানউইনে আমকানিয়্যাহ: যেমন জায়েদ ও আমর।
তানউইনে তানকির: যেমন সিবওয়াইহি এবং অন্য একজন (অনির্ধারিত) সিবওয়াইহি।
তানউইনে মুকাবালাহ: যেমন 'মুসলিমাত' শব্দের তানউইন।
তানউইনে তা'ওয়িদ: যেমন 'হীনা ইযিন' শব্দের তানউইন।
[5] তানউইনে তারাননুম: এটি ঐ নুন যা ছন্দবদ্ধ করার জন্য প্রলম্বিত স্বরবর্ণের (হারফে ইতলাক) পরিবর্তে আসে। যেমন কবির উক্তি: // [রাজায ছন্দ থেকে]
3 - হে বন্ধু! কোন জিনিসটি অশ্রুসিক্ত চোখগুলোকে আন্দোলিত করল?
[এবং কবির উক্তি: রাজায ছন্দ থেকে]
4 - জীর্ণ সেই ধ্বংসাবশেষ হতে যা ডোরাকাটা ইয়েমেনি বস্ত্রের ন্যায় পুরোনো হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৯)
وتنوين الغالي، وهو اللاحق للروي المقيد، كقول الشاعر: [من الرجز]
5 - وقاتم الأعماق خاوي المخترقن
… مشتبه الأعلام لماع الخفقن
على ما حكاه الأخفش.
وهذه الأنواع كلها؛ إلا تنوين الترنم والغالي؛ مختصة بالأسماء؛ لأنها لمعان لا تليق بغيرها؛ لأن الأمكنية، والتنكير، والمقابلة للجمع المذكر السالم، وقبول الإضافة، والتعويض عنها مما استأثر به الاسم على غيره.
وأما النداء، كقولك: يا زيد، ويا رجل؛ فمختص بالاسم أيضًا؛ لأن المنادى مفعول به، والمفعول به لا يكون إلا اسمًا؛ لأنه مخبر عنه في المعنى.
وأما الألف واللام، وهي المعبر عنها بأل فهي من خواص الأسماء أيضًا؛ لأنها موضوعة للتعريف، ورفع الإبهام، وإنما يقبل ذلك الاسم، كقولك في رجل: الرجل، وفي غلام: الغلام.
وأما الإسناد إليه فهو أن ينسب إلى اللفظ باعتبار معناه ما تتم به الفائدة، كقولك: زيد قائم، وعمرو منطلق، وهو من خواص الأسماء، فإن الموضوع بالنسبة إليه باعتبار مسماه هو الاسم، لا غير.
وقد عبر عن هذه العلامات البيت المذكور، وتقديره: حصل للاسم تمييز عن الفعل والحرف؛ بالجر والتنوين والنداء وأل ومسند أي: والإسناد إليه، فأقام اسم المفعول مقام المصدر، واللام مقام إلى، وحذف صلته اعتمادًا على التنوين، وإسناد المعنى إليه.
এবং তানউইনে গালি, যা রওয়ি মুকাইয়্যাদ (আবদ্ধ অন্ত্যানুপ্রাস) এর শেষে যুক্ত হয়, যেমন কবির উক্তি: [রাজায ছন্দ থেকে]
৫ - অন্ধকারাচ্ছন্ন গভীর তলদেশ এবং জনশূন্য পথ... অস্পষ্ট পথচিহ্ন এবং পতপত শব্দের চমক
যেমনটি আল-আখফাশ বর্ণনা করেছেন।
আর এই সব প্রকার তানউইন; তানউইনে তারান্নুম এবং তানউইনে গালি ব্যতীত; বিশেষ্যের (ইসম) জন্য নির্দিষ্ট; কেননা এগুলি এমন অর্থের প্রকাশ ঘটায় যা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ আমকানিয়্যাত (পূর্ণতা), তানকির (অনির্দিষ্টকরণ), জামউ মুজাক্কার সালিমের বিপরীতে আসা এবং ইদাফাত গ্রহণ করা বা তার পরিবর্তে আসা—এসবই কেবল বিশেষ্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য।
আর নিদা (সম্বোধন), যেমন আপনার উক্তি: হে যাইদ, এবং হে ব্যক্তি; এটিও বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট; কারণ যাকে সম্বোধন করা হয় (মুনাদা) সে মূলত মাফউল বিহি (কর্মপদ), আর মাফউল বিহি কেবল বিশেষ্যই হতে পারে; কারণ অর্থের দিক থেকে তার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়।
আর আলিফ এবং লাম, যা 'আল' দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তাও বিশেষ্যের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি সংজ্ঞা প্রদান (মারিফা করা) এবং অস্পষ্টতা দূর করার জন্য নির্ধারিত হয়েছে, আর তা কেবল বিশেষ্যই গ্রহণ করে থাকে। যেমন 'ব্যক্তি' এর ক্ষেত্রে আপনার উক্তি: 'ব্যক্তিটি', এবং 'বালক' এর ক্ষেত্রে: 'বালকটি'।
আর ইসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য হওয়া) হলো অর্থের দিক থেকে কোনো শব্দের দিকে এমন কিছু সম্বন্ধ করা যার মাধ্যমে বক্তব্য পূর্ণ হয়, যেমন আপনার উক্তি: যাইদ দণ্ডায়মান, এবং আমর প্রস্থানকারী। এটি বিশেষ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, কারণ যার দিকে কিছু সম্বন্ধ করা হয় তা কেবল বিশেষ্যই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
উল্লিখিত কবিতাটি এই চিহ্নগুলোকেই ব্যক্ত করেছে, যার সারমর্ম হলো: জার, তানউইন, নিদা, আল এবং মুসনাদ অর্থাৎ ইসনাদ ইলাইহির মাধ্যমে বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) ও অব্যয় (হরফ) থেকে স্বাতন্ত্র্য লাভ করেছে। এখানে 'ইসমুল মাফউল'কে (মুসনাদ) 'মাসদার' এর (ইসনাদ) স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, এবং 'লাম' অব্যয়কে 'ইলা' এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, আর তানউইনের ওপর ভিত্তি করে এবং অর্থের দিকে সম্বন্ধ করার কারণে এর পরবর্তী অংশটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولما فرغ من ذكر علامات الأسماء أخذ في ذكر علامات الأفعال، فقال:
11 - بتا فعلت وأتت ويا افعلي
… ونون أقبلن فعل ينجلي
أي يعرف الفعل، وينجلي أمره بالصلاحية لدخول تاء ضمير المخاطب عليه، كقولك في فعل: فعلت، وفي ليس: لست ذاهبًا، وفي: تبارك تباركت يا رحمن.
أو بتاء التأنيث الساكنة، كقولك في أقبل: أقبلت، وفي أتى: أتت، أو ياء المخاطبة، كقولك في افعل: افعلي، أو نون التأكيد، كقولك في أقبل: أقبلن.
فمتى حسن في الكلمة شيء من هذه العلامات المذكورة علم أنها فعل، ومتى لم يحسن في الكلمة شيء من العلامات المذكورة للأسماء والأفعال علم أنها حرف، ما لم يدل على نفي الحرفية دليل، فتكون أسماء، نحو قط، فإنه لا يحسن فيه شيء من هذه العلامات المذكورة، ومع ذلك فهو اسم، لامتناع أن يكون فعلا أو حرفًا، لاستعماله مسندًا إليه في المعنى، فإنك إذا قلت: ما فعلته قط، فهو في قوة قولك: ما فعلته في الزمان الماضي، وغير الاسم لا يسند إليه، لا لفظًا ولا معنًى.
[6] وقد عرف الحرف بقوله //:
12 - سواهما الحرف كهل وفي ولم
… فعل مضارع يلي لم كيشم
13 - وماضي الأفعال بالتا مز وسم
… بالنون فعل الأمر إن أمر فهم
يعني أن هل وفي ولم حروف لامتناع كونها أسماءً أو أفعالا، لعدم صلاحيتها لعلاماتها، وعدم ما يمنع الحرفية.
وقوله:
.................. فعل مضارع يلي لم كيشم
مع البيت الذي يليه بيان على أن الفعل على ثلاثة أقسام: مضارع وماضٍ وأمر.
فعلامة المضارع: أن يحسن فيه لم، كقولك في يشم: لم يشم، وفي يخرج، وينطلق: لم يخرج، ولم ينطلق، وهو يصلح للحال والاستقبال، تقول: يفعل الآن، وهو يفعل، ويفعل غدًا. ويسمى مضارعًا لمشابهته الاسم في احتمال الإبهام والتخصيص، وقبول لام الابتداء، والجريان على حركات اسم الفاعل وسكناته.
যখন তিনি ইসম বা বিশেষ্যের আলামতসমূহ বর্ণনা শেষ করলেন, তখন তিনি ফে'ল বা ক্রিয়ার আলামতসমূহ বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং বললেন:
১১ - ‘ফায়ালতা’-এর ‘তা’, ‘আতাত’-এর ‘তা’, ‘ইফআলী’-এর ‘ইয়া’ এবং ‘আক্ববিলান’-এর ‘নুন’ দ্বারা ফে'ল বা ক্রিয়া সুস্পষ্ট হয়।
অর্থাৎ ফে'লকে চেনা যায় এবং এর বিষয়টি স্পষ্ট হয় এতে সম্বোধনের সর্বনাম ‘তা’ যুক্ত হওয়ার যোগ্যতা থাকার মাধ্যমে। যেমন ‘ফায়ালা’ ফে'লের ক্ষেত্রে আপনি বলেন: ‘ফায়ালতা’, ‘লাইসা’-এর ক্ষেত্রে বলেন: ‘লাসতা যাহিবান’ (তুমি গমনকারী নও), এবং ‘তাবারাকা’-এর ক্ষেত্রে বলেন: ‘তাবারাকতা ইয়া রহমান’ (হে পরম করুণাময়, আপনি বরকতময়)।
অথবা সাকিনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ দ্বারা; যেমন ‘আক্ববালা’-এর ক্ষেত্রে আপনার উক্তি: ‘আক্ববালাত’, এবং ‘আতা’-এর ক্ষেত্রে: ‘আতাত’। অথবা সম্বোধনসূচক স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘ইয়া’ দ্বারা; যেমন ‘ইফআল’-এর ক্ষেত্রে আপনার উক্তি: ‘ইফআলী’। অথবা তাকিদ বা গুরুত্বজ্ঞাপক ‘নুন’ দ্বারা; যেমন ‘আক্ববালা’-এর ক্ষেত্রে আপনার উক্তি: ‘আক্ববিলান’।
সুতরাং যখন কোনো শব্দের মধ্যে উল্লেখিত আলামতগুলোর কোনো একটির ব্যবহার সঠিক হয়, তখন জানা যাবে যে সেটি একটি ফে'ল। আর যখন কোনো শব্দের মধ্যে ইসম ও ফে'লের জন্য উল্লেখিত আলামতগুলোর কোনোটিই সঠিক হয় না, তখন জানা যাবে যে সেটি হারফ বা অব্যয়—যদি না তার হারফ হওয়াকে নাকচ করার মতো কোনো দলিল পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে সেগুলো ইসম হবে, যেমন ‘ক্বাত্তু’। কারণ এতে উল্লেখিত আলামতগুলোর কোনোটিই খাটে না, তা সত্ত্বেও এটি একটি ইসম; কারণ এটি ফে'ল বা হারফ হওয়া অসম্ভব। কেননা অর্থের দিক থেকে এটি ‘মুসনাদ ইলাইহি’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আপনি যখন বলেন: ‘মা ফায়ালতুহু ক্বাত্তু’ (আমি এটি কখনো করিনি), তখন এটি আপনার এই কথার সমতুল্য: ‘মা ফায়ালতুহু ফিস যামানিল মাদী’ (আমি অতীতকালে এটি করিনি)। আর ইসম ছাড়া অন্য কিছুর দিকে শব্দগতভাবে বা অর্থগতভাবে কোনো কিছুকে সম্বন্ধ (ইসনাদ) করা যায় না।
[৬] তিনি হারফের পরিচয় দিয়েছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে:
১২ - এই দুটি (ইসম ও ফে'ল) ব্যতিরেকে যা থাকে তা হলো হারফ, যেমন: ‘হাল’, ‘ফী’ এবং ‘লাম’। ফে'লে মুজারি তা-ই যা ‘লাম’-এর পরে আসে, যেমন: ‘ইয়াশাম্মু’।
১৩ - আর মাদি বা অতীতকালীন ফে'লকে ‘তা’ দ্বারা পৃথক করো এবং আমর বা আদেশসূচক ফে'লের পরিচয় দাও ‘নুন’ দ্বারা, যদি তা দ্বারা আদেশ বুঝা যায়।
এর অর্থ হলো, ‘হাল’, ‘ফী’ এবং ‘লাম’ হলো হারফ; কারণ এগুলো ইসম বা ফে'ল হওয়া অসম্ভব, যেহেতু এগুলোতে সেগুলোর আলামতসমূহ খাটানোর যোগ্যতা নেই এবং হারফ হওয়ার পথে কোনো অন্তরায়ও নেই।
এবং তাঁর উক্তি:
.................. ফে'লে মুজারি তা-ই যা লাম-এর পরে আসে যেমন ইয়াশাম্মু
পরবর্তী লাইনের সাথে মিলে এই বর্ণনা দিচ্ছে যে, ফে'ল তিন প্রকার: মুজারি (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন), মাদি (অতীতকালীন) এবং আমর (আদেশসূচক)।
সুতরাং মুজারির আলামত হলো: তাতে ‘লাম’ যুক্ত হওয়া সঠিক হওয়া; যেমন ‘ইয়াশাম্মু’-এর ক্ষেত্রে আপনার উক্তি: ‘লাম ইয়াশাম’, এবং ‘ইয়াখরাজু’ ও ‘ইয়ানতালিকু’-এর ক্ষেত্রে: ‘লাম ইয়াখরাজ’ ও ‘লাম ইয়ানতালিক’। এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় কালের জন্য উপযোগী। আপনি বলেন: ‘ইয়াফআলুল আনা’ (সে এখন করছে), এবং সে করছে বা করবে, এবং সে আগামীকাল করবে। একে ‘মুজারি’ (সদৃশ) বলা হয় ইসমের সাথে এর সাদৃশ্য থাকার কারণে—অস্পষ্টতা ও নির্দিষ্টকরণের সম্ভাবনা রাখা, ‘লামুল ইবতিদা’ গ্রহণ করা এবং ইসমে ফায়িলের হরকত ও সাকিনসমূহের অনুরূপ হওয়ার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১১)
وعلامة الماضي أن يحسن فيه تاء التأنيث الساكنة، نحو: نعمت، وبئست، وهو موضوع للماضي من الأزمنة.
وعلامة فعل الأمر أن تدل الكلمة على الأمر، ويحسن فيه نون التأكيد، نحو: قم، فإنه يدل على الأمر كما ترى، ويحسن فيه نون التأكيد، نحو: قومن.
14 - والأمر إن لم يك للنون محل
… فيه هو اسم نحو صه وحيهل
إذا دلت الكلمة على معنى فعل الأمر، ولم تصلح لنون التأكيد فهي اسم فعل، نحو: (صه) بمعنى اسكت، و (حيهل) بمعنى أقبل أو أسرع أو عجل.
فهذان اسمان؛ لأنهما يدلان على الأمر، ولا يدخلهما نون التأكيد، لا تقول: صهن، ولا حيهلن، وكذا إذا رادفت الكلمة الفعل الماضي، ولم تصلح لتاء التأنيث الساكنة، كهيهات بمعنى بعد، أو رادفت الكلمة الفعل المضارع، ولم تصلح لـ (لم)، كأوه بمعنى: أتوجع، وكأف بمعنى: أتضجر، فهي اسم.
والحاصل أن الكلمة متى رادفت الفعل، ولم تصلح لعلاماته فهي اسم، لانتفاء الفعلية، لانتفاء لازمها، وهو القبول لعلامات الفعل، وانتفاء الحرفية، لكون ما يرادف الفعل قد وقع أحد ركني الإسناد فوجب أن يكون اسمًا، وإن لم يحسن فيه العلامات المذكورة للأسماء، لأن الاسم أصل، فالإلحاق به عند التردد أولى.
আর অতীতকালীন ক্রিয়ার চিহ্ন হলো এতে স্থির ‘তা-এ-তানিছ’ (স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’) যুক্ত হওয়া সংগত হওয়া, যেমন: ‘নি’মাত’ এবং ‘বি’সাত’। এটি কালসমূহের মধ্য থেকে অতীত কালের জন্য নির্ধারিত।
এবং আদেশসূচক ক্রিয়ার চিহ্ন হলো শব্দটি আদেশ প্রদান করা বোঝাবে এবং এতে ‘নুন-এ-তাকিদ’ (দৃঢ়তাসূচক ‘নুন’) যুক্ত হওয়া সংগত হওয়া, যেমন: ‘কুম’ (দাঁড়াও); কেননা এটি আপনার দৃশ্যমান আদেশের অর্থ প্রকাশ করে এবং এতে ‘নুন-এ-তাকিদ’ যুক্ত হওয়া সংগত, যেমন: ‘কুমুন্না’।
১৪ - আর আদেশসূচক অর্থ যদি ‘নুন’ গ্রহণ করার স্থান না পায়
... তবে তা হলো বিশেষ্য, যেমন: ‘সাহ’ এবং ‘হায়্যাহাল’
যখন শব্দটি আদেশসূচক ক্রিয়ার অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু ‘নুন-এ-তাকিদ’ গ্রহণ করার উপযোগী হয় না, তখন তা ‘ক্রিয়া-বিশেষ্য’, যেমন: ‘সাহ’ যার অর্থ ‘চুপ করো’, এবং ‘হায়্যাহাল’ যার অর্থ ‘এসো’ বা ‘দ্রুত করো’ বা ‘তাড়াতাড়ি করো’।
সুতরাং এই দুটি শব্দ হলো বিশেষ্য; কারণ তারা আদেশের অর্থ প্রকাশ করে অথচ তাদের ওপর ‘নুন-এ-তাকিদ’ প্রবেশ করে না। আপনি বলবেন না: ‘সাহান্ন’ কিংবা ‘হায়্যাহালান্ন’। তদ্রূপ শব্দটি যদি অতীতকালীন ক্রিয়ার সমার্থক হয় অথচ স্থির ‘তা-এ-তানিছ’ গ্রহণের উপযোগী না হয়, যেমন ‘হায়হাতা’ যা ‘দূরে হওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত হয়; অথবা শব্দটি যদি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার সমার্থক হয় অথচ ‘লাম’ গ্রহণের উপযোগী না হয়, যেমন ‘আওয়াহ’ যা ‘আমি ব্যথিত হচ্ছি’ অর্থে এবং ‘উফ’ যা ‘আমি বিরক্ত হচ্ছি’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা বিশেষ্য।
সারকথা হলো, যখনই কোনো শব্দ ক্রিয়ার সমার্থক হয় কিন্তু তার আলামতসমূহ গ্রহণের উপযোগী হয় না, তখন তা বিশেষ্য। কেননা ক্রিয়ার অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ ক্রিয়ার আলামতসমূহ গ্রহণের অনুপস্থিতির কারণে তার ‘ক্রিয়া’ হওয়ার বিষয়টি নাকচ হয়ে যায়। আবার তার ‘অব্যয়’ হওয়ার বিষয়টিও নাকচ হয়ে যায়, কারণ যা ক্রিয়ার সমার্থক হয় তা বাক্যগঠনের ভিত্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে তার জন্য বিশেষ্য হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যদিও তাতে বিশেষ্যের উল্লিখিত আলামতসমূহ প্রকাশ না পায়। কারণ বিশেষ্য হলো মূল, আর কোনো বিষয়ে সংশয় দেখা দিলে তাকে মূলের সাথে যুক্ত করাই অধিকতর শ্রেয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১২)
المعرب والمبني15 - والاسم منه معرب ومبني
… لشبهٍ من الحروف مدني
تقدير الكلام: أن الاسم منه معرب ومنه مبني، أي أن الاسم منحصر في قسمين: أحدهما المعرب، وهو: ما سلم من شبه الحرف، ويسمى متمكنًا.
[7] والثاني المبني، وهو ما أشبه الحرف // شبهًا تاما، وهو المراد بقوله:
.....................
… لشبهٍ من الحروف مدني
أي يبني الاسم لشبه بالحرف، مقرب منه. ثم بين جهات الشبه، فقال:
16 - كالشبه الوضعي في اسمي جئتنا
… والمعنوي في متى وفي هنا
17 - وكنيابةٍ عن الفعل بلا
… تأثرٍ وكافتقار أصلا
يبني الاسم لشبهه بالحرف في الوضع، أو في المعنى، أو في الاستعمال، أو في الافتقار.
أما بناؤه لشبهه بالحرف في الوضع، فإذا كان الاسم على حرف واحد، أو حرفين، فإن الأصل في الأسماء أن تكون على ثلاثة أحرف، فصاعدًا، والأصل في الحروف أن تكون على حرف واحد (كباء الجر، أو لامه) أو حرفين كـ (من، وعن).
فإذا وضع الاسم على حرف واحد، أو حرفين بني حملا على الحرف، فالتاء في قوله: (جئتنا) اسم، لأنه مسند إليه، وهو مبني لشبهه بالحرف في الوضع على حرف واحد، و (نا) أيضًا من (جئتنا) اسم، لأنه يصح أن يسند إليه، كقولك: (جئتنا) ويدخله حرف الجر، نحو: مررت بنا، وهو مبني لشبهه بالحرف في الوضع على حرفين.
মু'রাব ও মাবনি (পরিবর্তনশীল ও অপরিবর্তনশীল বিশেষ্য)১৫ - বিশেষ্যের (ইসিম) মধ্যে কিছু মু'রাব এবং কিছু মাবনি
… হরফ বা অব্যয়ের সাথে নিকটবর্তী সাদৃশ্য থাকার কারণে।
কথার তাৎপর্য হলো: বিশেষ্য বা ইসিম দুই প্রকার; মু'রাব ও মাবনি। অর্থাৎ ইসিম এই দুই প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রথমটি হলো মু'রাব, যা হরফের সাদৃশ্য থেকে মুক্ত থাকে এবং একে 'মুতামাক্কিন' বলা হয়।
[৭] দ্বিতীয়টি হলো মাবনি, যা হরফের সাথে পূর্ণাঙ্গ সাদৃশ্য রাখে; আর লেখকের এই কথার দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য:
.....................
… হরফ বা অব্যয়ের সাথে নিকটবর্তী সাদৃশ্য থাকার কারণে।
অর্থাৎ হরফের সাথে এমন সাদৃশ্যের কারণে ইসিম মাবনি হয় যা তাকে হরফের সদৃশ করে দেয়। এরপর তিনি সাদৃশ্যের দিকগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
১৬ - যেমন 'জি'তানা' (তুমি আমাদের নিকট এসেছ) শব্দটির অন্তর্গত দুটি ইসিমের গঠনগত সাদৃশ্য
… এবং 'মাতা' (কখন) ও 'হুনা' (এখানে) শব্দদ্বয়ের মধ্যকার অর্থগত সাদৃশ্য।
১৭ - আর প্রভাব গ্রহণ করা ছাড়াই ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়া
… এবং মৌলিক মুখাপেক্ষিতার মতো।
ইসিম মাবনি হয় হরফের সাথে তার গঠনগত, অর্থগত, ব্যবহারিক অথবা মুখাপেক্ষিতার সাদৃশ্য থাকার কারণে।
গঠনগত সাদৃশ্যের কারণে মাবনি হওয়ার বিষয়টি হলো, যখন কোনো ইসিম এক বা দুই বর্ণের ওপর গঠিত হয়। কারণ ইসিমের মূল নীতি হলো তা তিন বা ততোধিক বর্ণের হবে। আর হরফের মূল নীতি হলো তা এক বর্ণের (যেমন যরের 'বা' অথবা 'লাম') অথবা দুই বর্ণের (যেমন 'মিন' এবং 'আন') হওয়া।
সুতরাং যখন কোনো ইসিমকে এক বা দুই বর্ণের ওপর গঠন করা হয়, তখন হরফের সাথে সাদৃশ্য বিবেচনা করে তাকে মাবনি বলা হয়। অতএব, 'জি'তানা' বাক্যে 'তা' একটি ইসিম, কারণ এটি মুসনাদ ইলাইহি (কর্তা); আর এটি এক বর্ণের ওপর গঠিত হওয়ায় হরফের সাথে গঠনগত সাদৃশ্যের কারণে মাবনি। অনুরূপভাবে 'জি'তানা' এর 'না'-ও একটি ইসিম, কারণ এটি মুসনাদ ইলাইহি হওয়া সঠিক, যেমন আপনার কথা: 'জি'তানা' (আমরা এসেছি), এবং এতে অব্যয় বা হরফে জরও প্রবেশ করে, যেমন: 'মারারতা বিনা' (আপনি আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছেন); আর এটি দুই বর্ণের ওপর গঠিত হওয়ায় হরফের সাথে গঠনগত সাদৃশ্যের কারণে মাবনি।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإن قلت: يد، ودم على حرفين، ونراه معربًا. قلت لأنه موضوع في الأصل على ثلاثة أحرف، والأصل فيهما يدي، ودمي، بدليل قولهم؛ الأيدي، والدماء، واليديان، والدميان، فما لم يكن موضوعًا في الأصل على حرفين لم يكن قريب الشبه من الحرف، فلم يعتبر.
وأما بناء الاسم لشبهه بالحرف في المعنى، فإذا تضمن الاسم معنى من معاني الحروف تضمنًا لازمًا للفظ أو المحل، غير معارض بما يقتضي الإعراب، يبني كـ (متى وهنا) وكالمنادى المفرد المعرفة، نحو: يا زيد.
أما (متى وهنا) فهما اسمان لدخول حرف الجر عليهما، نحو: إلى متى تقيم؟ ومن هنا تسير، وهما مبنيان لشبههما بالحرف في المعنى، للزوم (متى) تضمن معنى همزة الاستفهام ولزوم (هنا) تضمن معنى الإشارة، فإنه معنى من معاني الحروف، وإن لم يوضع له لفظ يدل عليه، ولكنه كالخطاب والتنبيه، فمن حق اللفظ المتضمن معنى الإشارة أن يبني، كما يبني سائر ما تضمن معنى الحرف، فلما لازمت (متى وهنا) تضمن معنى الحرف بلا معارض تعين بناؤهما.
وأما المنادى المفرد المعرفة نحو: (يا زيد)، فهو مبني للزوم محله تضمن معنى الخطاب، فإن كل منادى مخاطب غير مظهر معه حرف الخطاب، فلما لازم محله تضمن معنى الحرف؛ بلا معارض؛ بني ولو لم يكن تضمن الاسم لمعنى الحرف لازمًا للفظ، أو المحل، الذي وقع فيه لم يؤثر، كما في نحو: سرت يومًا وفرسخًا، فإن يومًا وفرسخًا مما يستعمل ظرفًا تارةً، وغير ظرف أخرى، ولو عارض شبه الحرف ما يقتضي الإعراب
[8] // استصحب، لأنه الأصل في الاسم، وذلك نحو (أي) في الاستفهام نحو: أيهم رأيت؟ وفي الشرط، نحو: أيهم تضرب أضرب، فإنها بالنظر إلى تضمنها معنى الحرف تستحق البناء، لكن عارض لزوم الإضافة إلى الاسم المفرد، التي هي من خواص الأسماء، فأعربت.
وأما بناء الاسم لشبهه بالحرف في الاستعمال، فإذا لازم طريقة هي للحرف، كأسماء الأفعال، والأسماء الموصولة.
أما أسماء الأفعال نحو: (صه، ومه، ودراك، وهيهات) فإنها مبنية لشبهها بالحرف في الاستعمال.
যদি আপনি বলেন: হাত এবং রক্ত শব্দ দুটি মাত্র দুটি বর্ণবিশিষ্ট, অথচ আমরা সেগুলোকে পরিবর্তনশীল বা শব্দ বিভক্তিযুক্ত (মু'রাব) দেখি। আমি বলব: কারণ এগুলো মূলত তিনটি বর্ণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত ছিল। শব্দ দুটির মূল ছিল 'ইয়াদায়ুন' এবং 'দামায়ুন', যার প্রমাণ হলো তাদের বহুবচন হিসেবে 'হাতসমূহ' এবং 'রক্তসমূহ' বলা এবং দ্বিবচন হিসেবে 'দুটি হাত' ও 'দুটি রক্ত' বলা। সুতরাং যা মূলত দুই বর্ণের ওপর গঠিত নয়, তা অক্ষরের (হরফ) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, তাই তা ধর্তব্য নয়।
আর অর্থের দিক থেকে অক্ষরের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে বিশেষ্যের (ইসম) অব্যয়ত্ব (মাবনি) হওয়া; তা হলো যখন বিশেষ্যটি অক্ষরের অর্থসমূহের মধ্য থেকে কোনো অর্থকে শব্দের উচ্চারণে বা প্রয়োগস্থলে অবধারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং সেখানে এমন কোনো প্রতিবন্ধক না থাকে যা তার পরিবর্তনশীলতাকে (ই'রাব) দাবি করে। যেমন: 'কখন' এবং 'এখানে', এবং নির্দিষ্ট একক সম্বোধিত ব্যক্তি, যেমন: হে যায়িদ।
'কখন' এবং 'এখানে' শব্দ দুটি বিশেষ্য হওয়ার প্রমাণ হলো এগুলোর শুরুতে অব্যয় (হরফে জার) যুক্ত হওয়া। যেমন: 'কতক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান করবে?' এবং 'এখান থেকে যাত্রা করো'। এ দুটি অক্ষরের সাথে অর্থের দিক থেকে সাদৃশ্য থাকার কারণে অব্যয় বা অপরিবর্তনীয়। কারণ 'কখন' শব্দটি প্রশ্নবোধক চিহ্নের অর্থকে অবধারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং 'এখানে' শব্দটি ইশারা বা নির্দেশের অর্থকে অবধারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি অক্ষরের অর্থসমূহেরই একটি অর্থ, যদিও এর জন্য কোনো পৃথক বর্ণ বা শব্দ গঠিত হয়নি। তবে এটি সম্বোধন ও সতর্কীকরণের মতো। সুতরাং যে শব্দ ইশারা বা নির্দেশের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, তার নিয়ম হলো অব্যয় হওয়া, যেমন অন্যান্য শব্দ যা অক্ষরের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে সেগুলো অব্যয় হয়। যখন 'কখন' এবং 'এখানে' শব্দ দুটি কোনো বাধা ছাড়াই অক্ষরের অর্থকে অবধারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করল, তখন সেগুলোর অব্যয় হওয়া নির্ধারিত হয়ে গেল।
আর নির্দিষ্ট একক সম্বোধিত ব্যক্তি যেমন: (হে যায়িদ), এটি অব্যয় হওয়ার কারণ হলো তার প্রয়োগস্থলটি অবধারিতভাবে সম্বোধনের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা প্রত্যেক সম্বোধিত ব্যক্তিই মূলত এমন একজন যার দিকে মুখ করে কথা বলা হয়, যদিও সেখানে সম্বোধনের কোনো অক্ষর স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। যখন তার প্রয়োগস্থলটি কোনো বাধা ছাড়াই অক্ষরের অর্থকে অবধারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করল, তখন তা অব্যয় হিসেবে গণ্য হলো। আর যদি বিশেষ্যের মধ্যে অক্ষরের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকাটা শব্দের উচ্চারণে বা প্রয়োগস্থলে অবধারিত না হয়, তবে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না। যেমন: 'আমি একদিন এবং এক ফারসাখ পথ চলেছি'। এখানে 'দিন' এবং 'ফারসাখ' শব্দ দুটি কখনো সময় বা স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো অন্যভাবে ব্যবহৃত হয়। আর যদি অক্ষরের সাদৃশ্যের বিপরীতে এমন কিছু থাকে যা শব্দ বিভক্তি বা পরিবর্তনশীলতাকে দাবি করে—
[৮] // তবে আদি অবস্থাকেই বহাল রাখা হবে, কারণ বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এটাই মূল নীতি। যেমন জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে 'কোনটি'; যেমন: 'তাদের মধ্যে কাকে তুমি দেখেছ?' এবং শর্তের ক্ষেত্রে, যেমন: 'তাদের মধ্যে যাকে তুমি প্রহার করবে, আমিও তাকে প্রহার করব'। যদিও অক্ষরের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার কারণে এটি অব্যয় হওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু শব্দটির একক বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার আবশ্যকতা, যা বিশেষ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, একে পরিবর্তনশীল (মু'রাব) করে দিয়েছে।
আর ব্যবহারের ক্ষেত্রে অক্ষরের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে বিশেষ্যের অব্যয় হওয়া; তা হলো যখন বিশেষ্যটি এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে যা মূলত অক্ষরের জন্য নির্ধারিত, যেমন: ক্রিয়ামূলক বিশেষ্য এবং সংযোগকারী বিশেষ্য।
ক্রিয়ামূলক বিশেষ্যসমূহ যেমন: (চুপ করো, বিরত থাকো, ধরো এবং অনেক দূর) ব্যবহারের দিক থেকে অক্ষরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে অব্যয় বা অপরিবর্তনীয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وهذا، لأن أسماء الأفعال ملازمة للإسناد إلى الفاعل فهي أبدًا عاملة، ولا يعمل فيها شيء فأشبهت في استعمالها الحروف العاملة كـ (إن وأخواتها) فبنيت لذلك.
وأما الأسماء الموصولة، نحو (الذي والتي) مما يفتقر إلى الوصل بجملة خبرية، مشتملة على ضمير عائد فإن حقها البناء، لأنها تلازم الجمل، فهي كالحروف في الاستعمال، فإن الحروف بأسرها لا تستعمل إلا مع الجمل: إما ظاهرة، أو مقدرة، ولو عارض شبه الحرف في الاستعمال ما يقتضي الإعراب عمل به، ولذلك أعرب (اللذان واللتان) وإن أشبها الحرف في الاستعمال، لأنه قد عارض ذلك ما فيهما من التثنية التي هي من خواص الأسماء.
18 - ومعرب الأسماء قد سلما
… من شبه الحرف كأرض وسما
المعرب من الأسماء ما سلم من شبه الحرف على الوجه المذكور. فمثل للمعرب من الأسماء بمثال من الصحيح، وهو (أرض)، وبمثال من المعتل وهو (سما) على وزن هدى، لغة في الاسم، تنبيهًا على أن المعرب على ضربين: أحدهما يظهر إعرابه، والآخر يقدر فيه.
19 - وفعل أمرٍ ومضي بنيا
… وأعربوا مضارعًا إن عريا
20 - من نون توكيدٍ مباشرٍ ومن
… نون إناثٍ كير عن من فتن
الأصل في الأفعال البناء، لاستغنائها عن الإعراب باختلاف صيغها، لاختلاف المعاني التي تعتور عليها، فجاء مثال الماضي والأمر على وفق الأصل فبني الماضي على الفتح، نحو: قام، وقعد، وبني الأمر على السكون، نحو: قم، واقعد.
وأما المضارع فأعرب حملا على الاسم، لشبهه به في الإبهام والتخصيص، ودخول لام الابتداء، والجريان على حركات اسم الفاعل وسكناته.
لكن إعرابه مشروط بألا يتصل به نون توكيد ولا نون إناث، فإن اتصل به نون التوكيد بني على الفتح، نحو: لا تفعلن، لأنه تركب مع النون تركيب خمسة عشر، فبني
এটি এজন্য যে, ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যসমূহ (আসমাউল আফআল) কর্তার (ফায়িল) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়াকে অপরিহার্য করে নেয়, ফলে সেগুলো সর্বদা আমলকারী হয়ে থাকে এবং সেগুলোর ওপর অন্য কিছু আমল করে না। তাই ব্যবহারের দিক থেকে এগুলো আমলকারী হরফগুলোর (যেমন: ইন্না ও তার সমগোত্রীয়গুলো) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে এবং এ কারণেই এগুলো মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হয়েছে।
আর সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যসমূহ (আসমাউল মাউসুলাহ), যেমন (আল্লাযী এবং আল্লাতী) যা একটি বর্ণনামূলক বাক্যের (জুমলা খবরিয়্যাহ) সাথে যুক্ত হওয়ার মুখাপেক্ষী থাকে, যে বাক্যে একটি প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম (দমীর আয়িদ) থাকে; এগুলোর প্রাপ্য হলো মাবনি হওয়া। কারণ এগুলো জুমলার সাথে থাকা অপরিহার্য করে নেয়। ফলে এগুলো ব্যবহারের দিক থেকে হরফের মতো, কেননা সকল হরফই জুমলা ব্যতীত ব্যবহৃত হয় না—তা প্রকাশ্য হোক বা উহ্য। আর ব্যবহারের ক্ষেত্রে হরফের সাদৃশ্যের বিপরীতে যদি এমন কিছু আসে যা ইরাব (পরিবর্তনশীলতা) দাবি করে, তবে সে অনুযায়ী আমল করা হয়। এই কারণেই (আল্লাযানি এবং আল্লাতানি) মু'রাব (পরিবর্তনশীল) হয়েছে, যদিও এগুলো ব্যবহারের দিক থেকে হরফের সদৃশ; কারণ এগুলোর ক্ষেত্রে দ্বিবচন হওয়া (তাসনিয়াহ) সেই সাদৃশ্যের বিপরীতে এসেছে, যা বিশেষ্যের (ইসিম) অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
১৮ - আর বিশেষ্যসমূহের মধ্যে মু'রাব সেটি যা মুক্ত হয়েছে
… হরফের সাদৃশ্য থেকে, যেমন: আরদ (জমিন) এবং সুমা (নাম)।
বিশেষ্যের মধ্যে মু'রাব হলো তা যা উল্লিখিত পদ্ধতিতে হরফের সাদৃশ্য থেকে মুক্ত হয়েছে। মু'রাব বিশেষ্যের উদাহরণের জন্য তিনি একটি সহীহ (সুস্থ) শব্দের উদাহরণ দিয়েছেন, যা হলো (আরদ), এবং একটি মু'তাল (রুগ্ন) শব্দের উদাহরণ দিয়েছেন, যা হলো (সুমা)—যা 'হুদান'-এর ওজনে 'ইসিম' শব্দের একটি ভাষাগত রূপভেদ। এটি এ বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে, মু'রাব দুই প্রকার: একটির ইরাব প্রকাশ্য হয় এবং অন্যটির ইরাব উহ্য থাকে।
১৯ - আর আমরের ক্রিয়া এবং মাদীর ক্রিয়া মাবনি হয়েছে
… আর তারা মুদারে-কে মু'রাব করেছে যদি তা মুক্ত থাকে—
২০ - সরাসরি যুক্ত হওয়া নুনে তাকিদ থেকে এবং
… স্ত্রীবাচক নুন থেকে, যেমন: 'ইয়ারিনা মান ফাতান' (যে ব্যক্তি ফিতনায় লিপ্ত হয়েছে তার পাশ দিয়ে তারা চলে যায়)।
ক্রিয়া বা ফিলের মূল হলো মাবনি হওয়া, কারণ বিভিন্ন অর্থের আবর্তনের জন্য এর রূপান্তরই যথেষ্ট, তাই ইরাবের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে মাদী এবং আমরের উদাহরণ মূল নীতি অনুযায়ী এসেছে; সুতরাং মাদী ফাতাহ (যবর) এর ওপর মাবনি হয়েছে, যেমন: কমা (সে দাঁড়ালো), ক'আদা (সে বসলো); এবং আমর সুকুন (যযম) এর ওপর মাবনি হয়েছে, যেমন: কুম (দাঁড়াও), উক'উদ (বসো)।
আর মুদারে-কে বিশেষ্যের (ইসিম) ওপর ভিত্তি করে মু'রাব করা হয়েছে; দ্ব্যর্থতা (ইবহাম) ও নির্দিষ্টকরণ (তাখসীস), লামে ইবতিদার প্রবেশ এবং ইসমুল ফায়িলের হরকত ও সুকুনের সাথে সামঞ্জস্য থাকার কারণে।
কিন্তু এর মু'রাব হওয়া শর্তযুক্ত এই যে, তার সাথে নুনে তাকিদ অথবা স্ত্রীবাচক নুন (নুনে ইনাছ) যুক্ত হতে পারবে না। যদি এর সাথে নুনে তাকিদ সরাসরি যুক্ত হয় তবে তা ফাতাহর ওপর মাবনি হবে, যেমন: 'লা-তাফআলান্না'। কারণ এটি নুনের সাথে 'খামসাতা আশারা' (পনেরো)-এর মতো যৌগিক রূপ ধারণ করেছে, ফলে তা মাবনি হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بناءه، ولهذا لو حال بين الفعل، والنون ألف الاثنين، أو واو الجمع، أو ياء المخاطبة، نحو: هل تضربان وهل تضربن وهل تضربن، لم يحكم عليه بالبناء، لتعذر الحكم عليه
[9] // بالتركيب إذ لم يركبوا ثلاثة أشياء، فيجعلوها شيئًا واحدًا. والأصل في نحو: هل تضربان، هل تضربانن، فاستثقلت النونات، فحذفت نون الرفع تخفيفًا، وبقي الفعل مقدر الإعراب.
وإلى هذا أشار بقوله:
من نون توكيدٍ مباشرٍ ......
… ....................
وإذا اتصل بالمضارع نون الإناث بني على السكون، لأنه اتصل به ما لا يتصل هو، ولا نظيره بالأسماء، فضعف شبهه بالاسم، فرجع إلى أصله من البناء، وحمل على نظيره من الماضي المسند إلى النون فبني على السكون، فقالوا: هن يقمن، ويرعن، ونحو ذلك، فأسكنوا ما قبل النون في المضارع، كما قالوا: قمن، ورعن، بإسكان ما قبلها في الماضي.
21 - وكل حرف مستحق للبنا
… والأصل في المبني أن يسكنا
22 - ومنه ذو فتح وذو كسرٍ وضم
… كأين أمس حيث والساكن كم
الحروف كلها مبنية، لاحظ لها في الإعراب، لأنها لا تتصرف، ولا يعتور عليها من المعاني ما يحتاج إلى الإعراب لبيانها، فبنيت لذلك.
وقد ظهر من قوله:
والاسم منه معرب ومبني
… ...................
إلى هنا؛ أن الكلمات منحصرة في قسمين: معرب ومبني:
وأن المعرب هو الاسم المتمكن، والفعل المضارع غير المتصل بنون التوكيد، أو بنون الإناث.
وأن المبني منها هو الاسم المشبه بالحرف، والفعل الماضي، وفعل الأمر، والمضارع المتصل بنون التوكيد، أو نون الإناث، وكل الحروف.
فإن قلت: من الكلمات ما هو محكي، كقولك: من زيد؟ لمن قال: مررت بزيد، ومنها ما هو متبع، كقراءة بعضهم (الحمد لله رب العالمين) [الفاتحة /2]، وذلك ينافي الانحصار في القسمين.
তার মাবনি হওয়া। এই কারণেই যদি ক্রিয়া এবং নূনের মাঝে আলিফ আল-ইছনাইন (দ্বিবচনের আলিফ), অথবা ওয়াও আল-জামাআহ (বহুবচনের ওয়াও), অথবা ইয়া আল-মুখাতাবাহ (স্ত্রীলিঙ্গ সম্বোধনের ইয়া) ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায়, যেমন: 'হাল তাদরিবা-ন্নি', 'হাল তাদরিবু-ন্না', এবং 'হাল তাদরিবি-ন্না', তবে একে মাবনি হিসেবে গণ্য করা হবে না। কারণ এর ওপর
[9] // তারকীব বা সংমিশ্রণের বিধান প্রয়োগ করা অসম্ভব, যেহেতু তারা তিনটি বিষয়কে একত্রে মিশ্রিত করে একটি বস্তুতে পরিণত করেননি। আর 'হাল তাদরিবা-ন্নি' এর মতো শব্দগুলোর মূল রূপ ছিল 'হাল তাদরিবা-নান্নি'; এখানে নূনগুলোর আধিক্য শ্রুতিকটু হওয়ায় সহজ করার উদ্দেশ্যে রাফা-র নূনটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং ক্রিয়াটি উহ্য ইরাবের ওপর বহাল রয়েছে।
আর এরই প্রতি তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:
সরাসরি যুক্ত তাকিদসূচক নূন হতে ......
… ....................
আর যখন মুদারে ক্রিয়ার সাথে নারীবচক নূন যুক্ত হয়, তখন তা সুকুন-এর ওপর মাবনি হয়। কারণ এর সাথে এমন কিছু যুক্ত হয়েছে যা স্বয়ং ইসম (বিশেষ্য) বা ইসমের সদৃশ কোনো কিছুর সাথে যুক্ত হয় না। ফলে ইসমের সাথে এর সাদৃশ্য দুর্বল হয়ে যায় এবং এটি মাবনি হওয়ার মূল অবস্থায় ফিরে যায়। একে তার সমজাতীয় মাযী (অতীতকালীন) ক্রিয়ার ওপর কিয়াস করা হয়েছে যা নূনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, তাই এটি সুকুনের ওপর মাবনি হয়। যেমন তারা বলেন: 'হুন্না ইয়াকুমনা' (তারা নারীরা দণ্ডায়মান হচ্ছে), 'ইয়ারআইনা' (তারা দেখছে) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। তারা মুদারে ক্রিয়াতে নূনের পূর্ববর্তী বর্ণকে সাকিন করেছেন, যেমনটি তারা মাযী ক্রিয়াতে নূনের পূর্ববর্তী বর্ণকে সাকিন করে 'কুমনা' ও 'রাআইনা' বলেছেন।
২১ - প্রত্যেকটি হরফ (অব্যয়) মাবনি হওয়ার যোগ্য
… আর মাবনির মূল নিয়ম হলো সাকিন হওয়া।
২২ - তন্মধ্যে কোনটি ফাতাহ (যবর), কোনটি কাসরা (জের) এবং কোনটি দম্মা (পেশ) বিশিষ্ট হয়
… যেমন: আয়না, আমসি, হাইসু এবং সাকিন বিশিষ্ট কাম।
সকল হরফই মাবনি, ইরাবে এদের কোনো অংশ নেই। কারণ এগুলোর রূপান্তর হয় না এবং এগুলোর অর্থের মধ্যে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটে না যা স্পষ্ট করার জন্য ইরাবের প্রয়োজন হয়; তাই এগুলোকে মাবনি করা হয়েছে।
নিচের এই বাণী থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে:
এবং ইসমের মধ্যে কোনটি মু'রাব এবং কোনটি মাবনি
… ...................
এখান পর্যন্ত এটি স্পষ্ট হলো যে, শব্দসমূহ দুই ভাগে সীমাবদ্ধ: মু'রাব এবং মাবনি।
আর মু'রাব হলো 'ইসম মুতামাক্কিন' এবং সেই মুদারে ক্রিয়া যার সাথে তাকিদসূচক নূন অথবা নারীবচক নূন সরাসরি যুক্ত হয়নি।
আর মাবনি হলো সেই ইসম যা হরফের সদৃশ, এবং মাযী ক্রিয়া, আমর (আদেশসূচক) ক্রিয়া, তাকিদসূচক নূন বা নারীবচক নূন যুক্ত মুদারে ক্রিয়া এবং সকল হরফ।
এখন আপনি যদি বলেন: শব্দসমূহের মধ্যে এমন কিছু আছে যা 'হিকায়াত' (অনুকরণ বা উদ্ধৃতি) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'মান যায়দুন?' (যায়দ কে?) এমন ব্যক্তির উত্তরে যে বলেছে: 'মারারতু বি-যায়দিন' (আমি যায়দের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি)। আবার কিছু শব্দ 'ইত্তিবা' (পূর্ববর্তী শব্দের হরকত অনুসরণ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন কারো কিরাত: 'আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' (সকল প্রশংসা আল্লাহর)। আর এটি শব্দকে কেবল দুই প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قلت: لا ينافيه؛ لأن المحكي، والمتبع داخلان في قسم المعرب، بمعنى القابل للإعراب، والأصل في البناء أن يكون على السكون؛ لأنه أخف من الحركة، فاعتباره أقرب، فإن منع من البناء على السكون مانع ألجئ إلى البناء على الحركة، وهي: فتح، أو كسر، أو ضم.
فالبناء على السكون يكون في الاسم، نحو: من، وكم، وفي الفعل، نحو: قم، واقعد، وفي الحرف، نحو: هل، وبل.
والبناء على الفتح يكون في الاسم، نحو: أين، وكيف، وفي الفعل، نحو: قام، وقعد، وفي الحرف، نحو: إن، وليت.
والبناء على الكسر يكون في الاسم، نحو: أمسن، وهؤلاء، وفي الحرف، نحو: جير، بمعنى نعم، وفي نحو باء الجر، ولامه، ولا كسر في الفعل.
والبناء على الضم يكون في الاسم، نحو: حيث، وقبل، وبعد، وفي الحرف، نحو: منذ على لغة من جر بها، ولا ضم في الفعل.
23 - والرفع والنصب اجعلن إعرابا
… لاسم وفعل نحو لن أهابا [10] //
24 - والاسم قد خصص بالجر كما
… قد خصص الفعل بأن ينجزما
الإعراب أثر ظاهر، أو مقدر يجلبه العامل في آخر المعرب.
والمراد بالعامل، ما كان معه جهة، مقتضية لذلك الأثر، نحو: جاءني، ورأيت، من قولك: جاءني زيدً، ورأيت زيدًا، أو دعا الواضع إلى ذلك، كالحروف الجارة، فإن الواضع لما رآها ملازمة للأسماء، وغير منزلة منها منزلة الجزء، ورأي أن كل ما لازم شيئًا، ولم ينزل منزلة الجزء أثر فيه غالبًا استحسن أن يجعلها مؤثرة في الأسماء، وعاملة فيها عملا، ليس للفعل، وهو الجر، كالباء من قولك: مررت بزيدٍ، وسنوضح هذا في موضع آخر إن شاء الله تعالى.
وأنواع الإعراب أربعة: رفع، ونصب، وجر، وجزم.
فالرفع والنصب يشترك فيهما الاسم والفعل، والجر يختص بالأسماء، والجزم يختص بالأفعال.
وأنواع الإعراب في الاسم ثلاثة: رفع، ونصب، وجر، لا رابع لها؛ لأن المعاني التي جيء بها في الاسم لبيانها بالإعراب ثلاثة أجناس: معنى هو عمدة في الكلام، لا
আমি বলি: এটি তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ অনুকৃত এবং অনুসৃত শব্দসমূহ মু'রাব বা পরিবর্তনশীল প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যার অর্থ হলো ই'রাব গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখা। আর বিনার (অপরিবর্তনীয়তা) মূল ভিত্তি হলো সুকুন হওয়া; কারণ এটি হারাকাত বা স্বরচিহ্নের চেয়ে সহজতর, তাই একে ভিত্তি হিসেবে গণ্য করাই অধিক নিকটবর্তী। অতঃপর যদি কোনো বাধা সুকুনের ওপর বিনা হতে বাধা প্রদান করে, তবে হারাকাতের ওপর বিনার আশ্রয় গ্রহণ করা হয়। আর তা হলো: ফাতহা, কাসরা অথবা দাম্মা।
সুকুনের ওপর বিনা হয়ে থাকে ইসমে (বিশেষ্য), যেমন: মান এবং কাম; ফে'লে (ক্রিয়া), যেমন: কুম এবং উবকুস; এবং হারফে (অব্যয়), যেমন: হাল এবং বাল।
ফাতহার ওপর বিনা হয়ে থাকে ইসমে, যেমন: আইনা এবং কাইফা; ফে'লে, যেমন: কমা এবং কা'আদা; এবং হারফে, যেমন: ইন্না এবং লাইতা।
কাসরার ওপর বিনা হয়ে থাকে ইসমে, যেমন: আমসি এবং হাউলায়ি; এবং হারফে, যেমন: জায়রি—যার অর্থ 'হ্যাঁ'—এবং হারফে জার 'বা' ও 'লাম' এর মতো শব্দে। তবে ফে'লে কোনো কাসরা হয় না।
দাম্মার ওপর বিনা হয়ে থাকে ইসমে, যেমন: হাইসু, কাবলু এবং বাদু; এবং হারফে, যেমন: মুনজু—যাদের লুগাত বা ভাষা অনুযায়ী এর মাধ্যমে জার প্রদান করা হয়। আর ফে'লে কোনো দাম্মা হয় না।
২৩ - রাফ' এবং নাসবকে ই'রাব হিসেবে নির্ধারণ করুন... ইসম এবং ফে'লের জন্য, যেমন: আমি কক্ষনো ভয় পাব না [১০] //
২৪ - আর ইসমকে জার-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে যেমন... ফে'লকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে জাজম হওয়ার মাধ্যমে।
ই'রাব হলো এমন এক প্রকাশ্য বা অনুমিত প্রভাব, যা আমেল (প্রভাবক) মু'রাব শব্দের শেষে আনয়ন করে।
আর আমেল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন বিষয়, যার মধ্যে ঐ প্রভাব সৃষ্টির দাবিদার কোনো দিক বিদ্যমান থাকে। যেমন: 'জাআ-নী' (সে আমার কাছে এসেছে) এবং 'রাআইতু' (আমি দেখেছি)—আপনার এই উক্তি থেকে: 'যাইদ আমার কাছে এসেছে' এবং 'আমি যাইদকে দেখেছি'। অথবা যা ভাষাতত্ত্ববিদগণ এর দিকে আহ্বান করেছেন, যেমন হারফে জারসমূহ। কারণ ভাষাতত্ত্ববিদগণ যখন দেখলেন যে এগুলো ইসমের সাথে অবিচ্ছেদ্য এবং এগুলো ইসমের কোনো অংশ হিসেবে গণ্য হয় না, এবং তারা দেখলেন যে যা কিছু কোনো জিনিসের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকে অথচ তার অংশ হিসেবে গণ্য হয় না, তা সাধারণত তার ওপর প্রভাব ফেলে, তখন তারা সেগুলোকে ইসমের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এবং তাতে এমন একটি আমল বা কাজ সম্পাদনকারী হিসেবে নির্ধারণ করাকে উত্তম মনে করলেন যা ফে'লের ক্ষেত্রে হয় না—আর তা হলো 'জার'। যেমন আপনার উক্তি 'আমি যাইদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম' এর মধ্যে 'বা' বর্ণটি। আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা অন্য কোনো স্থানে এটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব।
ই'রাবের প্রকার চারটি: রাফ', নাসব, জার এবং জাজম।
রাফ' এবং নাসবের ক্ষেত্রে ইসম ও ফে'ল উভয়ই অংশগ্রহণ করে, আর জার কেবল ইসমের জন্য নির্দিষ্ট এবং জাজম কেবল ফে'লের জন্য নির্দিষ্ট।
ইসমের মধ্যে ই'রাবের প্রকার তিনটি: রাফ', নাসব এবং জার। এর চতুর্থ কোনো প্রকার নেই। কারণ ইসমের মধ্যে ই'রাবের মাধ্যমে যে অর্থগুলো বর্ণনা করার জন্য আনা হয় তা তিন জাতীয়: এমন অর্থ যা বাক্যের প্রধান অংশ, যা...
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يستغنى عنه، كالفاعلية، وله الرفع، ومعنى هو فضلة، يتم الكلام بدونه، كالمفعولية، وله النصب، ومعنى هو بين العمدة والفضلة، وهو المضاف إليه، نحو: غلام زيد، وله الجر.
وأما الفعل المضارع فمحمول في الإعراب على الاسم، فكان له ثلاثة أنواع من الإعراب، كما للاسم، فأعرب بالرفع والنصب إذا لم يمنع منهما مانع، ولم يعرب بالجر، لأنه لا يكون إلا للإضافة، والأفعال لا تقبلها، لأن الإضافة إخبار في المعنى، والفعل لا يصح أن يخبر عنه أصلا، فلما لم يعرب بالجر عوض عنه بالجزم. فالرفع بضمة نحو: زيد يقوم، والنصب بفتحة نحو: لن أهاب زيدًا، والجر بكسرة نحو: مررت بزيدٍ، والجزم بسكون نحو: لم يقم زيد.
وقد يكون الإعراب يغير ما ذكر؛ على طريق النيابة؛ كما قال:
25 - فارفع بضم وانصبن فتحًا وجر
… كسرًا كذكر الله عبده يسر
26 - واجزم بتسكينٍ وغير ما ذكر
… ينوب نحو جا أخو بني نمر
مثل للرفع، والنصب، والجر بقوله:
........................
… ............... كذكر الله عبده يسر
ومثل لما يعرب بغير ما ذكر على طريق النيابة بقوله:
.........................
… ................ أخو بني نمر
(فأخو) مرفوع وعلامة رفعه الواو نيابة عن الضمة، و (بني) مجرور، وعلامة جره الياء نيابة عن الكسرة.
ثم أخذ في بيان مواضع النيابة، فقال:
27 - وارفع بواو وانصبن بالألف
… واجرر بياء ما من الأسما أصف
28 - من ذاك ذو إن صحبة أبانا
… والفم حيث الميم منه بانا [11] //
29 - أب أخ حم كذاك وهن
… والنقص في هذا الأخير أحسن
30 - وفي أب وتالييه يندر
… وقصرها من نقصهن أشهر
31 - وشرط ذا الإعراب أن يضفن لا
… لليا كجا أخو أبيك ذا اعتلا
في الأسماء المتمكنة ستة أسماء يكون رفعها بالواو، ونصبها بالألف، وجرها بالياء، بشرط الإضافة إلى غير ياء المتكلم.
যা থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়, যেমন ফায়িলিয়্যাত বা কর্তা হওয়া; আর এর জন্য রয়েছে রফ্ (পেশ)। আর 'ফাদলাহ' (অতিরিক্ত) এর অর্থ হলো, যা ছাড়া বাক্য পূর্ণ হতে পারে, যেমন মাফঊলিয়্যাত বা কর্ম হওয়া; আর এর জন্য রয়েছে নাসব (জবর)। আর যা উমদাহ (অপরিহার্য অংশ) এবং ফাদলাহ (অতিরিক্ত অংশ) এর মধ্যবর্তী পর্যায়ের, তা হলো মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধ পদ); যেমন: যায়েদের গোলাম, আর এর জন্য রয়েছে জার (জের)।
আর ফে'লে মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) ই'রাবের ক্ষেত্রে ইসমের (বিশেষ্যের) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তাই ইসমের ন্যায় এরও তিন প্রকারের ই'রাব রয়েছে। সুতরাং এটি রফ্ ও নাসব প্রাপ্ত হয় যদি কোনো বাধা না থাকে। তবে এটি জার প্রাপ্ত হয় না, কারণ জার কেবল ইদাফাত (সম্বন্ধ)-এর জন্য হয়ে থাকে, আর ক্রিয়া তা গ্রহণ করে না; কেননা ইদাফাত মূলত অর্থগতভাবে একটি সংবাদ প্রদান করা, আর ক্রিয়া সম্পর্কে আদতেই কোনো সংবাদ প্রদান করা শুদ্ধ নয়। ফলে যখন এটি জার গ্রহণ করল না, তখন জারের পরিবর্তে তাকে জজম প্রদান করা হলো। সুতরাং রফ্ হয় দম্মাহ (পেশ) দ্বারা যেমন: যায়েদ দাঁড়াচ্ছে; নাসব হয় ফাতহাহ (জবর) দ্বারা যেমন: আমি যায়েদকে কখনোই ভয় পাব না; জার হয় কাসরাহ (জের) দ্বারা যেমন: আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম; এবং জজম হয় সুকুন দ্বারা যেমন: যায়েদ দাঁড়ায়নি।
কখনো কখনো ই'রাব উল্লিখিত নিয়মগুলোর পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মাধ্যমেও হতে পারে; যেমনটি তিনি বলেছেন:
২৫ - রফ্ করো দম্মাহ দিয়ে, নাসব করো ফাতহাহ দিয়ে আর জার করো
… কাসরাহ দিয়ে; যেমন আল্লাহর তাঁর বান্দাকে স্মরণ করা আনন্দদায়ক হয়।
২৬ - আর জজম করো সুকুন দিয়ে। আর যা উল্লিখিত হয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু
… স্থলাভিষিক্ত হবে; যেমন বনী নামিরের ভাই এসেছে।
তিনি রফ্, নাসব এবং জারের উদাহরণ দিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে:
........................
… ............... যেমন আল্লাহর তাঁর বান্দাকে স্মরণ করা আনন্দদায়ক হয়।
আর যা স্থলাভিষিক্ত হওয়ার নিয়মে উল্লিখিত চিহ্ন ছাড়া অন্যভাবে ই'রাব প্রাপ্ত হয়, তার উদাহরণ দিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে:
.........................
… ................ বনী নামিরের ভাই।
(আখু) শব্দটি মারফু', আর তার রফ্-এর আলামত বা চিহ্ন হলো 'ওয়াও', যা দম্মাহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর (বনী) শব্দটি মাজরুর, আর তার জার-এর আলামত হলো 'ইয়া', যা কাসরাহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
অতঃপর তিনি স্থলাভিষিক্ত হওয়ার স্থানসমূহ বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং বললেন:
২৭ - ওয়াও দিয়ে রফ্ করো, আলিফ দিয়ে নাসব করো
… আর ইয়া দিয়ে জার করো সেই সব ইসমকে যা আমি বর্ণনা করছি।
২৮ - তার মধ্যে রয়েছে 'যু' যদি তা সাহচর্য অর্থ প্রকাশ করে
… এবং 'ফাম' যেখানে তা থেকে 'মীম' বিলুপ্ত হয়ে যায়। [১১] //
২৯ - আবু, আখু, হামু এবং তেমনিভাবে 'হানুন'
… আর এই শেষোক্ত শব্দটিতে 'নাকস' বা অক্ষর বিলোপ হওয়াই অধিক উত্তম।
৩০ - আর 'আবু' এবং তার পরবর্তী দুইটিতে (আখু ও হামু) তা বিরল
… তবে সেগুলোকে 'কাসর' করা 'নাকস' করার চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ।
৩১ - আর এই ই'রাবের শর্ত হলো সেগুলোকে মুদাফ হতে হবে, তবে
… ইয়া-এ-মুতাকাল্লিমের দিকে নয়; যেমন তোমার পিতার ভাই উচ্চ মর্যাদা নিয়ে এসেছে।
সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্যগুলোর (ইসম মুতামাক্কিন) মধ্যে ছয়টি বিশেষ্য এমন রয়েছে যেগুলোর রফ্ হয় 'ওয়াও' দ্বারা, নাসব হয় 'আলিফ' দ্বারা এবং জার হয় 'ইয়া' দ্বারা; এই শর্তে যে সেগুলো 'ইয়া-এ-মুতাকাল্লিম' (আমার অর্থবোধক ইয়া) ব্যতীত অন্য কোনো শব্দের দিকে মুদাফ বা সংযুক্ত হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهي (ذو) بمعنى صاحب، و (الفم) بغير الميم، والأب، والأخ، والحم، والهن، فإن قلت لم اعتبر كون (ذو) بمعنى صاحب؛ و (الفم) بغير الميم، قلت: احترازًا من (ذو) بمعنى الذي، فإن الأعراف فيه البناء كقوله: [من الطويل]
6 - فحسبي من ذو عندهم ما كفانيا
وإعلامًا بأن الفم ما دامت ميمه باقية يعرب بالحركات، وأنه لا يعرب بالحروف، إلا إذا زالت ميمه، نحو: هذا فوك، ورأيت فاك، ونظرت إلى فيك.
فإن قلت: لم كان شرطًا في إعراب هذه الأسماء بالحروف إضافتها إلى غير ياء المتكلم؟
قلت: لأن ما كان منها غير مضاف فهو معرب بالحركات، نحو: أب، وأخ، وحم، وما كان منها مضافًا إلى ياء المتكلم قدر إعرابه كغيره، مما يضاف إلى الياء، نحو: هذا أبي، ورأيت أبي، ومررت بأبي، وما كان منها مضافًا إلى غير ياء المتكلم أعرب بالواو رفعًا، وبالألف نصبًا، وبالياء جرا، كما في قوله:
.........................
… .............. جا أخو أبيك ذا اعتلا
والسبب في أن جرت هذه الأسماء هذا المجرى، هو أن أواخرها حال الإضافة معتلة، فأعربوها بحركات مقدرة، وأتبعوا تلك الحركات حركة ما قبل الآخر، فأدى ذلك إلى كونه واوًا في الرفع، وألفًا في النصب، وياءً في الجر.
بيان ذلك: أن (ذو): أصله ذوى، بدليل قولهم في التثنية: ذويان، فحذفت الياء، وبقيت الواو حرف الإعراب، ثم ألزم الإضافة إلى اسم الجنس، والإتباع، تقول في الرفع: هاذ ذو مال، أصله ذو مال، بواو مضمومة للرفع، وذال مضمومة للإتباع، ثم استثقلت الضمة على الواو المضموم ما قبلها فكسنت، كما في نحو: يغزو، فصار ذو مال،
সেগুলো হলো ‘যু’ যা ‘অধিকারী’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, এবং ‘মীম’ বর্ণহীন ‘ফাম’, এবং পিতা (আব), ভাই (আখ), শ্বশুর (হাম) এবং লজ্জাস্থান (হান)। আপনি যদি প্রশ্ন করেন, কেন ‘যু’-কে ‘অধিকারী’ অর্থে এবং ‘ফাম’-কে ‘মীম’ মুক্ত হওয়ার শর্তে গণ্য করা হয়েছে? আমি বলব: ‘যু’ শব্দটি যখন ‘যে’ (আল্লাযী) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য; কেননা সেক্ষেত্রে নিয়ম হলো সেটি অপরিবর্তনীয় থাকা, যেমন কবির উক্তি:
৬ - আমার জন্য তাদের নিকটস্থ সেই ব্যক্তিই যথেষ্ট যে আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে।
আর এটি জানানোর জন্য যে, ‘ফাম’ শব্দটিতে যতক্ষণ ‘মীম’ অবশিষ্ট থাকবে, ততক্ষণ এটি স্বরচিহ্ন দ্বারা রূপান্তরিত হবে। আর এটি বর্ণের মাধ্যমে রূপান্তরিত হবে না যতক্ষণ না এর ‘মীম’ বিলুপ্ত হয়, যেমন: ‘এটি তোমার মুখ’, ‘আমি তোমার মুখ দেখেছি’ এবং ‘আমি তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি’।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন: এই বিশেষ্যগুলোর বর্ণের মাধ্যমে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কেন বক্তার ‘ইয়া’ (ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম) ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া শর্ত করা হয়েছে?
আমি বলব: কারণ এই শব্দগুলোর যেটি সম্বন্ধযুক্ত নয়, সেটি স্বরচিহ্ন দ্বারা রূপান্তরিত হয়, যেমন: পিতা, ভাই, শ্বশুর। আর যা কিছু বক্তার ‘ইয়া’-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে, তার রূপান্তর অন্যসব ‘ইয়া’ যুক্ত শব্দের মতোই ঊহ্য থাকবে, যেমন: ‘ইনি আমার পিতা’, ‘আমি আমার পিতাকে দেখেছি’ এবং ‘আমি আমার পিতার নিকট দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছি’। আর যা কিছু বক্তার ‘ইয়া’ ছাড়া অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে, তা ‘রাফ’ অবস্থায় ‘ওয়াও’ দ্বারা, ‘নসব’ অবস্থায় ‘আলিফ’ দ্বারা এবং ‘জার’ অবস্থায় ‘ইয়া’ দ্বারা রূপান্তরিত হবে, যেমনটি এই উক্তিতে রয়েছে:
.........................
… .............. তোমার পিতার ভাই উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন হয়ে এসেছেন।
এই বিশেষ্যগুলো এই নিয়মে চলার কারণ হলো, সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় এদের শেষ বর্ণগুলো দুর্বল বা স্বরহীন হয়ে পড়ে। ফলে তারা এগুলোকে ঊহ্য স্বরচিহ্ন দ্বারা রূপান্তর করেছেন এবং সেই স্বরচিহ্নগুলোকে তার আগের বর্ণের স্বরচিহ্নের অনুগামী করেছেন। এর ফলে ‘রাফ’ অবস্থায় তা ‘ওয়াও’, ‘নসব’ অবস্থায় ‘আলিফ’ এবং ‘জার’ অবস্থায় ‘ইয়া’ হিসেবে প্রকাশ পায়।
এর ব্যাখ্যা হলো: ‘যু’ (ذو) এর মূল রূপ ছিল ‘যাওয়ি’, যার প্রমাণ হলো দ্বিবচনে তারা বলে ‘যাওয়াইয়ানি’। অতঃপর ‘ইয়া’ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং ‘ওয়াও’ বর্ণটি রূপান্তরের বর্ণ হিসেবে রয়ে গেছে। এরপর একে জাতিবাচক বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং পূর্ববর্তী বর্ণের অনুগামিতা আবশ্যক করা হয়েছে। আপনি ‘রাফ’ এর ক্ষেত্রে বলবেন: ‘ইনি সম্পদের অধিকারী’, এর মূল রূপ ছিল ‘যুউ মালিন’, যেখানে ‘রাফ’ এর জন্য ‘ওয়াও’-এর ওপর পেশ ছিল এবং অনুগামিতার জন্য ‘যাল’-এর ওপরও পেশ ছিল। এরপর পেশযুক্ত বর্ণের পরবর্তী ‘ওয়াও’-এর ওপর পেশের উচ্চারণ ভারী মনে হওয়ায় তাকে স্বরহীন (সাকিন) করা হয়েছে, যেমনটি ‘ইয়াগযূ’ শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। ফলে তা ‘যু মালিন’ হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وتقول في النصب: رأيت ذا مال، أصله ذو مال بواو مفتوحة للنصب، وذال مفتوحة للإتباع، فتحركت الواو، وانفتح ما قبلها، فقلبت الواو ألفا، فصار ذا مال، وتقول في الجر: مررت بذي مال، أصله بذو مال، بواو مكسورة للجر، وذال مكسورة للإتباع، ثم استثقلت الكسرة على الواو المكسور ما قبلها، كما تستثقل على الياء المكسور ما قبلها، كما تستثقل على الياء المكسور ما قبلها، فحذفت، وقلبت الواو ياء لسكونها وانكسار ما قبلها، فصار: بذي مال.
وأما (فم) فأصله فوه، بدليل قولهم في الجمع أفواه، وفي التصغير فويه، فحذفت منه الهاء، ثم إذا لم يضف يعوض عن واوه ميم؛ لأنها من مخرجها، وأقوى منها
[12] على الحركة، فيقال: // هذا فم، ورأيت فمًا، ونظرت إلى فم، وإذا أضيف جاز فيه التعويض وتركه، وهو الأكثر، وإذا لم يعوض يلزم الإتباع، فيقال: هذا فوك، ورأيت فاك، ونظرت إلى فيك، والأصل: فوك، وفوك، وفوك، ففعل به ما فعل بـ (ذو).
وأما (أب، وأخ، وحم) فأصلها أبو، وأخو، وحمو، لقولهم في التثنية: أبوان، وأخوان، وحموان، ولكنهم حذفوا في الإفراد، والإضافة إلى ياء المتكلم أواخرها، وردوا المحذوف في الإضافة إلى غير ياء المتكلم، كما ردوه في التثنية، وأتبعوا حركة العين بحركة اللام، فصارت بواو في الرفع، وألف في النصب، وياء في الجر على ما تقدم.
ونظير هذه الأسماء في الإتباع فيها لحركة الإعراب امرؤ، وابنم، تقول: هذا امرؤ، وابنم، ورأيت امرأ وابنمًا، ومررت بامرئٍ وابنم.
وأما (هن) وهو الكناية عن اسم الجنس، فأصله هنو، بدليل قولهم في هنة: هنية، وهنوات. وله استعمالان:
أحدهما: أنه يجري مجرى أب، وأخ، كقولهم: هذا هنوك، ورأيت هناك، ومررت بهنيك.
والاستعمال الآخر، وهو الأفصح والأشهر أن يكون مستلزم النقص جاريًا مجرى يد ودم في الإضافة، وغيرها، كقوله صلى الله عليه وسلم: (من تعزى بعزاء الجاهلية فأعضوه بهن أبيه، ولا تكنوا).
وإلى هذا أشار بقوله:
.......................
… والنقص في هذا الأخير أحسن
এবং নসবের অবস্থায় আপনি বলবেন: আমি সম্পদশালী ব্যক্তিকে দেখেছি (রআইতু যা মালিন)। এর মূল ছিল 'যু মালিন' (ওয়াও-এর সাথে), যা নসবের জন্য জবরযুক্ত ওয়াও ছিল এবং পূর্ববর্তী 'যাল' হরফটি অনুকরণের কারণে জবরযুক্ত ছিল। এরপর ওয়াওটি হরকতযুক্ত হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বের হরফটি জবরযুক্ত হওয়ার কারণে ওয়াওটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে তা 'যা মালিন' হয়েছে। এবং জরের অবস্থায় আপনি বলবেন: আমি সম্পদশালী ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি (মারারতু বি-যী মালিন)। এর মূল ছিল 'বি-যু মালিন', জরের জন্য যেরযুক্ত ওয়াও এবং অনুকরণের কারণে যেরযুক্ত যাল। তারপর যেরযুক্ত হরফের পরবর্তী ওয়াও-এর ওপর যের অত্যন্ত ভারী মনে হওয়ায় (যেমনটি যেরযুক্ত হরফের পরের ইয়া-এর ওপর ভারী মনে হয়), তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এবং ওয়াওটি সাকিন হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বের হরফটি যেরযুক্ত হওয়ার কারণে ওয়াওটিকে ইয়া-তে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ফলে তা হয়েছে: বি-যী মালিন।
আর 'ফামুন' (মুখ) শব্দটির মূল হলো 'ফুহু', যার প্রমাণ হলো এর বহুবচনে 'আফওয়াহুন' এবং ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দে 'ফুইয়াইহুন' বলা হয়। এরপর এখান থেকে 'হা' হরফটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অতঃপর যখন এটি মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, তখন এর ওয়াও-এর পরিবর্তে 'মীম' নিয়ে আসা হয়; কারণ মীম এবং ওয়াও-এর উচ্চারণস্থল এক, এবং মীম হরকতের ক্ষেত্রে ওয়াও অপেক্ষা শক্তিশালী।
[১২] তাই বলা হয়: এটি মুখ, আমি মুখ দেখেছি, এবং আমি মুখের দিকে তাকিয়েছি। আর যখন এটি মুদাফ হয়, তখন মীম বজায় রাখাও জায়েয এবং বর্জন করাও জায়েয, তবে বর্জন করাই অধিক প্রচলিত। যখন বিনিময় (মীম) ব্যবহার করা হয় না, তখন অনুকরণ (ইতবা') অপরিহার্য হয়। তখন বলা হয়: এটি তোমার মুখ, আমি তোমার মুখ দেখেছি, এবং আমি তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি। এর মূল ছিল: ফুউকা, ফাউকা এবং ফিউকা। এরপর এর সাথে তাই করা হয়েছে যা 'যু' শব্দের সাথে করা হয়েছিল।
আর 'আব' (পিতা), 'আখ' (ভাই) এবং 'হাম' (শ্বশুর/দেবর) শব্দগুলোর মূল হলো 'আবাওয়ুন', 'আখাওয়াউন' এবং 'হামাওয়ুন'। এর প্রমাণ হলো দ্বিবচনে এদেরকে 'আবাওয়ানি', 'আখাওয়ানি' এবং 'হামাওয়ানি' বলা হয়। কিন্তু একবচনের অবস্থায় এবং ইয়া-এ-মুতাকাল্লিমের দিকে মুদাফ হওয়ার সময় তারা শেষাংশ বিলুপ্ত করে দিয়েছে। তবে ইয়া-এ-মুতাকাল্লিম ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে মুদাফ হওয়ার সময় তারা বিলুপ্ত অংশটি ফিরিয়ে আনে, যেমনটি তারা দ্বিবচনের ক্ষেত্রে ফিরিয়ে এনেছে। আর তারা আইন কালেমার হরকতকে লাম কালেমার হরকতের অনুসারী করেছে। ফলে ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী এটি রফ-এর অবস্থায় ওয়াও, নসব-এর অবস্থায় আলিফ এবং জর-এর অবস্থায় ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়েছে।
ই'রাবের হরকতের ক্ষেত্রে অনুকরণের দিক দিয়ে এই শব্দগুলোর অনুরূপ হলো 'ইমরুউন' (ব্যক্তি) এবং 'ইবনামুন' (পুত্র)। আপনি বলবেন: এটি একজন ব্যক্তি ও একজন পুত্র, আমি একজন ব্যক্তি ও একজন পুত্রকে দেখেছি, এবং আমি একজন ব্যক্তি ও একজন পুত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি।
আর 'হান' শব্দটি, যা একটি অস্পষ্ট বিশেষ্য (ইসমে কিনায়া), এর মূল হলো 'হানাওয়ুন'। এর প্রমাণ হলো 'হানাহ' শব্দের ক্ষেত্রে তাদের 'হুনাইয়াহ' এবং 'হানাওয়াত' বলা। এর দুটি ব্যবহার রয়েছে:
প্রথমটি হলো: এটি 'আব' ও 'আখ'-এর মতো ব্যবহৃত হয়। যেমন তাদের উক্তি: এটি তোমার বস্তু, আমি তোমার বস্তু দেখেছি এবং আমি তোমার বস্তুর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি।
দ্বিতীয় ব্যবহারটি হলো, যা অধিক বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ, তা হলো শব্দটিকে অপূর্ণ (নাকিস) রাখা এবং এটি মুদাফ হওয়া বা না হওয়া উভয় অবস্থায় 'হাত' (ইয়াদ) ও 'রক্ত' (দাম) শব্দের মতো ব্যবহৃত হওয়া। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: (যে ব্যক্তি জাহেলি যুগের আভিজাত্য নিয়ে গর্ব করে, তাকে তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরতে বলো এবং এক্ষেত্রে তোমরা কোনো রূপক শব্দ ব্যবহার করো না)।
আর এই বিষয়ের প্রতিই তিনি তার এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:
.......................
… এবং এই শেষেরটিতে অপূর্ণতা রাখাই উত্তম।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقوله:
وفي أبٍ وتالييه يندر
… ..........................
يعني: أنه قد ندر في بعض اللغات التزام نقص أب، وأخ، وحم، كقولك: جاءني أبك، وأخك، وحمك. قال الشاعر: [من الرجز]
7 - بأبه اقتدى عدي في الكرم
… ومن يشابه أبه فما ظلم
وقوله:
.........................
… وقصرها من نقصهن أشهر
يعني: أن في أب، وأخ، وحم لغة ثالثة أشهر من لغة النقص، وهي القصر، نحو: جاءني الأبا، والأخا، والحما.
قال الشاعر: [من الرجز]
8 - إن أباها وأبا أباها
… قد بلغا في المجد غايتاها
وفي المثل: (مكره أخاك لا بطل).
এবং তাঁর বাণী:
"আবু (পিতা) এবং তার পরবর্তী দুটিতে (আখু ও হামু) বিরলভাবে..."
… ..........................
অর্থাৎ: কোনো কোনো উপভাষায় ‘আবু’, ‘আখু’ ও ‘হামু’ শব্দগুলোতে ‘নাকস’ বা শেষাক্ষর বিলোপ করা বিরলভাবে দেখা যায়। যেমন আপনার উক্তি: "তোমার পিতা আমার কাছে এসেছেন", "তোমার ভাই এসেছেন" এবং "তোমার শ্বশুর এসেছেন"। কবি রাজায ছন্দে বলেছেন:
৭ - আদি দানশীলতায় তার পিতার অনুসরণ করেছে
… আর যে তার পিতার সদৃশ হয় সে তো কোনো অন্যায় করেনি।
এবং তাঁর বাণী:
.........................
… "এবং সেগুলোকে ‘কাসর’ করা সেগুলোর ‘নাকস’ অপেক্ষা অধিক প্রসিদ্ধ।"
অর্থাৎ: ‘আবু’, ‘আখু’ ও ‘হামু’ শব্দের ক্ষেত্রে তৃতীয় একটি উপভাষা রয়েছে যা ‘নাকস’ অপেক্ষা অধিক প্রসিদ্ধ; আর তা হলো ‘কাসর’ (অর্থাৎ সকল অবস্থায় আলিফ রাখা)। যেমন: "পিতা আমার কাছে এসেছেন", "ভাই এসেছেন" এবং "শ্বশুর এসেছেন"।
কবি রাজায ছন্দে বলেছেন:
৮ - নিশ্চয়ই তার পিতা এবং তার পিতার পিতা
… উভয়েই মর্যাদার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছেন।
এবং প্রবাদে রয়েছে: "তোমার ভাই (কাজে) বাধ্য, সে কোনো বীর নয়।"
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২১)
32 - بالألف ارفع المثنى وكلا
… إذا بمضمر مصطفًا وصلا
33 - كلتا كذاك اثنان واثنتان
… كابنين وابنتين يجريجيان
34 - وتخلف اليا في جميعها الألف
… جرا ونصبًا بعد فتحٍ قد ألف
المثنى: هو الاسم الدال على اثنين بزيادة في آخره، صالحا للتجريد، وعطف مثله عليه، نحو: زيدان وعمران، فإنه يصح فيهما التجريد والعطف، نحو: زيد وزيد، وعمرو وعمرو.
فإن دل الاسم على التثنية، بغير الزيادة، نحو: شفع وزكا، فهو اسم للتثنية،
[13] وكذا إذا كان // بالزيادة، ولم يصلح للتجريد والعطف، نحو: اثنان، فإنه لا يصح مكانه اثن واثن.
وإذ قد عرفت هذا فنقول: إعراب المثنى يكون بزيادة ألف في الرفع، وياء مفتوح ما قبلها في الجر والنصب، يليهما نون مكسورة، تسقط للإضافة.
وحمل على المثنى من أسماء التثنية كلمات منها: (كلا وكلتا) بشرط إضافتهما إلى مضمر، كما ينبئ عنه قوله:
..................... وكلا
… إذا بمضمر مضافًا وصلا
كلتا كذاك ............
… .........................
أي كلتا مثل كلا: في أنها لا تعرب بالحروف إلا إذا وصلت مضافة بمضمر، تقول: جاءني كلاهما وكلتاهما، ورأيت كليهما وكلتيهما، ومررت بكليهما وكلتيهما: بالألف رفعًا، وبالياء نصبًا وجرًا، لإضافتهما إلى المضمر.
فلو أضيفا إلى الظاهر لم تقلب ألفهما ياء. وكانا اسمين مقصورين، يقدر فيهما الإعراب، نحو: جاءني كلا الرجلين، ورأيت كلا الرجلين، ومررت بكلا الرجلين.
ومنها: (اثنان واثنتان) مطلقًا، أي: سواء كانا مجردين أو مضافين، وهذا ما أراد بقوله:
....................... اثنان واثنتان
… كابنين وابنتين يجريان
يعني: أن هذين الاسمين ليسا في إلحاقهما بالمثنى مثل: (كلا وكلتا) في اشتراط الإضافة إلى المضمر، بل هما كالمثنى من غير فرق.
فإن قيل: لم كان إعراب المثنى بالألف في الرفع، وبياء مفتوح ما قبلها في النصب والجر؟ ولم وليهما نون مكسورة؟ ولم حذفت للإضافة؟
৩২ - আলিফ দ্বারা মুসান্নাকে (দ্বিবচন) রফ’ প্রদান করো এবং ‘কিলা’ শব্দটিকেও, যখন তা কোনো সর্বনামের সাথে মুদাফ হিসেবে যুক্ত হবে।
৩৩ - ‘কিলতা’ শব্দটিও তদ্রূপ। ‘ইসনানি’ এবং ‘ইসনাতানি’ শব্দ দুটি ‘ইবনাইনি’ এবং ‘ইবনাতাইনি’ শব্দের ন্যায় কার্যকর হয়।
৩৪ - আর এই সকল শব্দে জর ও নাসব অবস্থায় আলিফের স্থলাভিষিক্ত হয় ‘ইয়া’, যা ফাতহার (জবর) পরবর্তী হয়ে থাকে এবং এটিই নিয়ম হিসেবে সুপরিচিত।
মুসান্না বা দ্বিবচন: এটি এমন একটি ইসিম যা তার শেষে অতিরিক্ত হরফ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দুইয়ের অর্থ প্রদান করে, যা সেই অতিরিক্ত অংশ থেকে মুক্ত হওয়ার এবং তার অনুরূপ অন্য একটি শব্দের ওপর আতাফ (সংযুক্ত) হওয়ার যোগ্যতা রাখে। যেমন: ‘জাইদানি’ (দুই জাইদ) এবং ‘উমরানি’ (দুই উমর)। কেননা এই শব্দ দুটি থেকে অতিরিক্ত অংশ বিযুক্ত করা এবং আতাফ করা শুদ্ধ হয়; যথা: ‘জাইদ ও জাইদ’ এবং ‘উমর ও উমর’।
যদি কোনো ইসিম অতিরিক্ত হরফ ছাড়াই দ্বিবচনের অর্থ প্রদান করে, যেমন: ‘শাফউন’ (জোড়) এবং ‘জাকুন’ (এক প্রকার সংখ্যা), তবে তাকে ‘ইসমুত তাসনিয়া’ (দ্বিবচনের অর্থজ্ঞাপক বিশেষ্য) বলা হয়।
[১৩] অনুরূপভাবে যদি শব্দটিতে অতিরিক্ত হরফ থাকে কিন্তু তা বিযুক্ত হওয়া ও আতাফ হওয়ার যোগ্যতা না রাখে, যেমন: ‘ইসনানি’ (দুই); তবে এটিও ইসমুত তাসনিয়া। কেননা এর স্থলে ‘ইসনুন ও ইসনুন’ বলা শুদ্ধ নয়।
যেহেতু আপনি বিষয়টি অবগত হলেন, তাই আমরা বলছি: মুসান্নার ইরাব হলো রফ’ অবস্থায় অতিরিক্ত আলিফ দ্বারা এবং জর ও নাসব অবস্থায় পূর্বের হরফে ফাতহাযুক্ত ‘ইয়া’ দ্বারা; যার পরে একটি কাসরাযুক্ত ‘নুন’ থাকে, যা ইদাফাত বা সম্বন্ধের সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
দ্বিবচনের অর্থজ্ঞাপক শব্দসমূহের মধ্য থেকে কিছু শব্দকে মুসান্নার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: (কিলা ও কিলতা)। তবে শর্ত হলো এগুলোকে কোনো সর্বনামের দিকে ইদাফাত করতে হবে, যেমনটি লেখকের এই বক্তব্য ইঙ্গিত প্রদান করে:
..................... এবং কিলা … যখন তা সর্বনামের সাথে মুদাফ হিসেবে যুক্ত হবে।
কিলতা-ও তদ্রূপ ............ … .........................
অর্থাৎ ‘কিলতা’ হলো ‘কিলা’-এর মতো: হরফের মাধ্যমে এর ইরাব হবে না যতক্ষণ না এটি সর্বনামের সাথে মুদাফ হিসেবে যুক্ত হবে। আপনি বলবেন: ‘আমার কাছে তাদের দুই ব্যক্তি ও দুই নারী এসেছে’, ‘আমি তাদের দুই ব্যক্তি ও দুই নারীকে দেখেছি’, এবং ‘আমি তাদের দুই ব্যক্তি ও দুই নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। এখানে রফ’ অবস্থায় আলিফ এবং নাসব ও জর অবস্থায় ‘ইয়া’ ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ শব্দ দুটি সর্বনামের দিকে মুদাফ হয়েছে।
যদি এগুলো কোনো প্রকাশ্য বিশেষ্যের (ইসম জাহির) দিকে মুদাফ হয়, তবে এগুলোর আলিফ ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত হবে না। তখন এগুলো ‘ইসম মাকসুর’ হিসেবে গণ্য হবে এবং এগুলোতে ইরাব উহ্য থাকবে। যেমন: ‘আমার কাছে দুই ব্যক্তি এসেছে’, ‘আমি দুই ব্যক্তিকে দেখেছি’, এবং ‘আমি দুই ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’।
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ‘ইসনানি’ ও ‘ইসনাতানি’ শব্দ দুটি শর্তহীনভাবে। অর্থাৎ চাই এগুলো এককভাবে ব্যবহৃত হোক বা মুদাফ হিসেবে। আর এটিই তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন:
....................... ইসনানি এবং ইসনাতানি … ইবনাইনি এবং ইবনাতাইনি-এর ন্যায় পরিচালিত হয়।
অর্থাৎ: এই শব্দ দুটিকে মুসান্নার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ‘কিলা’ ও ‘কিলতা’-এর মতো সর্বনামের দিকে মুদাফ হওয়ার শর্ত নেই। বরং এগুলো কোনো পার্থক্য ছাড়াই মুসান্নার মতো কার্যকর হয়।
যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন মুসান্নার ইরাব রফ’ অবস্থায় আলিফ দ্বারা এবং নাসব ও জর অবস্থায় পূর্বের হরফে ফাতহাযুক্ত ‘ইয়া’ দ্বারা হয়? কেন এগুলোর পরে কাসরাযুক্ত নুন থাকে? আর কেনই বা ইদাফাতের সময় তা বিলুপ্ত হয়ে যায়?
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২২)
قلت: أما إعراب المثنى بالحروف؛ فلأن التثنية لما كانت كثيرة الدوران في الكلام ناسب أن تستتبع أمرين:
خفة العلامة الدالة عليها، وترك الإخلال بظهور الإعراب، احترازًا عن تكثير اللبس، فجعلت علامة التثنية ألفًا، لأنها أخف الزوائد، ومدلول بها على التثنية مع الفعل: اسمًا في نحو: أفعلا، وحرفًا في نحو: فعلا أخواك، وجعل الإعراب بالانقلاب؛ لأن التثنية مطلوب فيها ظهور الإعراب.
والألف لا يمكن عليها ظهور الحركة، فلجئ إلى الإعراب بقرار الألف على صورتها في حالة الرفع.
فإذا دخل عليها عامل الجر قلبوا الألف ياء لمكان المناسبة، وأبقوا الفتحة قبلها، إشعارًا بكونها ألفًا في الأصل، وحملوا النصب على الجر، لأن قلب الألف في النصب إلى غير الياء غير مناسب، فلم يبق إلا حمل النصب على الرفع أو الجر، فكان حمله على الجر أولى؛ لأنه مثله في الورود فضلة في الكلام.
تقول في الرفع: جاءني الزيدان، فالألف علامة التثنية من حيث هي زيادة في الآخر، لدلالتها على التثنية، وعلامة الرفع أيضًا من حيث هي على صورتها في أول الوضع.
وتقول في الجر: مررت بالزيدين، فالياء علامة التثنية من حيث هي زيادة في الآخر لمعنى التثنية، وعلامة الجر أيضًا من حيث هي منقلبة عن ألف.
وتقول في النصب: رأيت الزيدين، والقول فيه كالقول في الجر.
وأما النون فإنما لحقت المثنى عوضًا عما فاته من الإعراب بالحركات، ومن دخول
[14] التنوين // عليه، وكسرت على الأصل في التقاء الساكنين.
وأما حذف النون في الإضافة، دون غيرها، فللتنبيه على التعويض، فحذفت في الإضافة نظرًا إلى التعويض بها عن التنوين، ولم تحذف مع الألف واللام، وإن كان التنوين يحذف معهما نظرًا إلى التعويض بها عن الحركة أيضًا.
فإن قيل: لم كان لـ (كلا وكلتا) حالان في الإعراب: الإجراء مجرى المثنى، والإعراب بالحركات المقدرة؟ ولم خص إجراؤها مجرى المثنى بحال الإضافة إلى المضمر؟
قلت: (كلا وكلتا) اسمان ملازمان للإضافة، ولفظهما مفرد، ومعناهما مثنى ولذلك أجيز في ضميريهما اعتبار المعنى فيثنى، واعتبار اللفظ فيفرد.
আমি বলি: দ্বিবচনের (মুসান্না) হরফের মাধ্যমে ইরাব হওয়ার কারণ হলো—কথোপকথনে দ্বিবচনের ব্যবহার অত্যন্ত অধিক হওয়ার কারণে এর সাথে দুটি বিষয় যুক্ত হওয়া সমীচীন ছিল:
এর পরিচায়ক চিহ্নের লঘুতা (সহজসাধ্যতা), এবং অস্পষ্টতা পরিহারের লক্ষ্যে ইরাব প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি না রাখা। তাই দ্বিবচনের চিহ্ন হিসেবে 'আলিফ' নির্ধারণ করা হয়েছে; কারণ এটি অতিরিক্ত বর্ণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা। ক্রিয়ার সাথে এটি দ্বিবচন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়: যেমন 'আফ'আলা' শব্দে এটি ইসিম (সর্বনাম), আর 'ফা'আলা আখওয়াকা' বাক্যে এটি একটি হরফ। আর এর ইরাব পরিবর্তনশীলতার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে; কারণ দ্বিবচনের ক্ষেত্রে ইরাব প্রকাশ পাওয়া আবশ্যক।
আর আলিফের ওপর হরকত প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তাই রাফা-এর অবস্থায় আলিফকে তার নিজ সুরতে বহাল রেখে ইরাব প্রদানের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
অতঃপর যখন এর ওপর জারের আমেল প্রবেশ করে, তখন সামঞ্জস্য রক্ষার খাতিরে তারা আলিফকে 'ইয়া' তে রূপান্তরিত করেন এবং তার পূর্বের বর্ণে ফাতহাহ (যবর) বহাল রাখেন, যাতে এটি মূলে আলিফ ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। আর তারা নসবকে জারের অনুগামী করেছেন; কারণ নসবের অবস্থায় আলিফকে 'ইয়া' ব্যতীত অন্য কিছুতে রূপান্তর করা মানানসই নয়। ফলে নসবকে রাফা অথবা জারের যেকোনো একটির অনুগামী করা ছাড়া উপায় ছিল না। এমতাবস্থায় জারের অনুগামী করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত ছিল; কারণ বাক্যে প্রয়োগের ক্ষেত্রে জারের মতো নসবও অতিরিক্ত অংশ হিসেবে আসে।
আপনি রাফা-এর অবস্থায় বলবেন: 'জা-আনিয যাইদানি', এখানে আলিফ হলো দ্বিবচনের চিহ্ন যেহেতু এটি শব্দের শেষে দ্বিবচন বোঝাতে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে; আবার এটি রাফা-এর চিহ্নও বটে, যেহেতু এটি তার মূল রূপ অনুযায়ী বিদ্যমান।
আর জারের অবস্থায় আপনি বলবেন: 'মারারতু বিয যাইদাইনি', এখানে 'ইয়া' হলো দ্বিবচনের চিহ্ন যেহেতু এটি দ্বিবচনের অর্থের জন্য শেষে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে; আবার এটি জারের চিহ্নও বটে, যেহেতু এটি আলিফ থেকে রূপান্তরিত হয়েছে।
নসবের অবস্থায় আপনি বলবেন: 'রাআইতুয যাইদাইনি', এক্ষেত্রেও ব্যাখ্যা জারের অবস্থার মতোই।
আর 'নুন' বর্ণটি দ্বিবচনের শেষে যুক্ত হয়েছে হরকতের মাধ্যমে ইরাব এবং এর ওপর
[১৪] তানভীন প্রবেশ না করার বিকল্প হিসেবে। আর দুই সাকিন একত্র হওয়ার মূল নিয়ম অনুযায়ী এতে কাসরাহ (জের) প্রদান করা হয়েছে।
আর অন্য কোনো ক্ষেত্রে নয় বরং কেবল ইজাফাতের (সম্বন্ধ পদ) সময় নুন বিলুপ্ত হওয়ার কারণ হলো—বিনিময় বা বিকল্প হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া। সুতরাং ইজাফাতের সময় নুনকে বিলুপ্ত করা হয়েছে একে তানভীনের স্থলাভিষিক্ত বিবেচনা করে। তবে আলিফ-লাম যুক্ত শব্দের সাথে একে বিলুপ্ত করা হয়নি, যদিও আলিফ-লামের কারণে তানভীন বিলুপ্ত হয়ে থাকে; কারণ একে হরকতেরও বিকল্প হিসেবে গণ্য করা হয়।
যদি প্রশ্ন করা হয়: 'কিলা' এবং 'কিলতা'-এর ইরাবের ক্ষেত্রে কেন দুটি অবস্থা রয়েছে: দ্বিবচনের ন্যায় হওয়া এবং উহ্য হরকতের মাধ্যমে ইরাব হওয়া? আর কেনই বা এদেরকে দ্বিবচনের ন্যায় গণ্য করাকে কেবল সর্বনামের দিকে ইজাফাতের অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে?
আমি বলি: 'কিলা' ও 'কিলতা' এমন দুটি বিশেষ্য যা সর্বদা ইজাফাত অবস্থায় থাকে। এদের শব্দগত রূপ একবচন, কিন্তু অর্থগত দিক থেকে দ্বিবচন। এই কারণেই এদের সর্বনামের ক্ষেত্রে অর্থের বিবেচনায় দ্বিবচন এবং শব্দের বিবেচনায় একবচন—উভয়টিই ব্যবহার করা বৈধ।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد اجتمع الاعتباران في قوله: [من البسيط]
9 - كلاهما حين جد الجري بينهما
… قد أقلعا وكلا أنفيهما رابي
إلا إن اعتبار اللفظ أكثر، وبه جاء التنزيل، قال الله عز وجل: (كلتا الجنتين آتت أكلها) [الكهف /33]. ولم يقل: آتتا.
فلما كان لـ (كلا وكلتا) حظ من الإفراد، وحظ من التثنية أجريا في إعرابهما مجرى المفرد تارة، ومجرى المثنى أخرى، وخص إجراؤهما مجرى المثنى بحال الإضافة إلى المضمر، لأن الإعراب بالحروف فرع عن الإعراب بالحركات، والإضافة إلى المضمر فرع عن الإضافة إلى الظاهر؛ لأن الظاهر أصل المضمر، فجعل الفرع مع الفرع، والأصل مع الأصل تحصيلا لكمال المناسبة.
35 - وارفع بواو وبيا اجرر وانصب
… سالم جمع عامرٍ ومذنب
36 - وشبه ذين وبه عشرونا
… وبابه الحق والأهلونا
37 - أولو وعالمون عليونا
… وأرضون شذ والسنونا
38 - وبابه ومثل حينٍ قد يرد
… ذا الباب وهو عند قومٍ يطرد
القول في هذه الأبيات يستدعي تقديم مقدمة، وهي أن الاسم الدال على أكثر من اثنين على ثلاثة أضرب: جمع، واسم جمع، واسم جنس.
وذلك، لأن الدال على أكثر من اثنين بشهادة التأمل: إما أن يكون موضوعًا للآحاد المجتمعة، دالا عليها دلالة تكرار الواحد بالعطف، وإما أن يكون موضوعًا لمجموع
এবং এই উভয় বিবেচনার সমাবেশ ঘটেছে কবির এই উক্তিতে: [বসীত ছন্দ থেকে]
৯ - যখন তাদের উভয়ের মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা তীব্র হলো
… তখন তারা উভয়েই থেমে গেল এবং তাদের উভয়ের নাসিকা স্ফীত হয়ে উঠল।
তবে শাব্দিক বিবেচনাই (একবচন ধরা) বেশি প্রচলিত, এবং আল-কুরআনে এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: (উভয় উদ্যানই তার ফল দান করল) [আল-কাহাফ / ৩৩]। তিনি 'আতাতা' (দ্বিবচন) বলেননি।
যেহেতু (কিলা এবং কিলতা) শব্দ দুটির মধ্যে একবচন হওয়ারও অবকাশ আছে আবার দ্বিবচন হওয়ারও অবকাশ আছে, তাই তাদের কারক বিভক্তি (ইরাব) প্রদানের ক্ষেত্রে কখনো একবচনের ন্যায় এবং কখনো দ্বিবচনের ন্যায় গণ্য করা হয়। তবে যখন সর্বনামের (দমির) দিকে সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাত) হয়, তখন তাদের দ্বিবচনের ন্যায় গণ্য করাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কারণ অক্ষরের (হরফ) মাধ্যমে কারক বিভক্তি প্রদান করা হলো স্বরচিহ্নের (হরকত) মাধ্যমে কারক বিভক্তি প্রদানের একটি শাখা। আর সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া হলো প্রকাশ্য বিশেষ্যের (ইসম জাহির) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার একটি শাখা; কেননা প্রকাশ্য বিশেষ্য হলো সর্বনামের মূল। সুতরাং শাখাটিকে শাখার সাথে এবং মূলটিকে মূলের সাথে যুক্ত করা হয়েছে যাতে পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্য অর্জিত হয়।
৩৫ - আপনি 'ওয়াও' দ্বারা রফা প্রদান করুন এবং 'ইয়া' দ্বারা জর ও নসব প্রদান করুন
… 'আমির' এবং 'মুজনিব' এর মতো শব্দের নিরাপদ (সালেম) বহুবচনের ক্ষেত্রে।
৩৬ - এবং এই দুই প্রকারের সদৃশ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে। আর এর সাথে 'ইশরুনা' (বিশ) ও এর অনুগামী শব্দসমূহ এবং 'আহলুনা' (পরিবারবর্গ) শব্দকে যুক্ত করা হয়েছে।
৩৭ - 'উলু', 'আলামুনা', 'ইল্লিয়্যুনা'
… এবং 'আরাদুনা'—যা ব্যতিক্রম হিসেবে এসেছে—ও 'সিনুনা' (বছরসমূহ)।
৩৮ - এবং এর অনুগামী শব্দসমূহ। এই পরিচ্ছেদটি (সিনুনা-এর পরিচ্ছেদ) কখনো কখনো 'হীন' (সময়) শব্দের ন্যায় ব্যবহৃত হতে পারে
… আর এটি কোনো কোনো সম্প্রদায়ের নিকট নিয়মিত নিয়ম হিসেবে প্রচলিত।
এই পঙক্তিগুলোর আলোচনা একটি ভূমিকা পেশ করার দাবি রাখে, আর তা হলো: দুইয়ের অধিক অর্থ নির্দেশকারী বিশেষ্য (ইসম) তিন প্রকার: বহুবচন (জাম'), সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জাম') এবং জাত্যর্থক বিশেষ্য (ইসমুল জিনস)।
আর এটি এই কারণে যে, গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, যা দুইয়ের অধিক অর্থ নির্দেশ করে: তা হয় একত্রিত এককগুলোর জন্য নির্ধারিত হবে—যা সংযোজক অব্যয়ের মাধ্যমে একক শব্দের পুনরাবৃত্তির অর্থ প্রদান করবে—অথবা তা কোনো সমষ্টির জন্য নির্ধারিত হবে...
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الآحاد، دالاً عليها دلالة المفرد على جملة أجزاء مسماة، وإما أن يكون موضوعًا للحقيقة، ملغى فيه اعتبار الفردية والجمعية، إلا أن الواحد ينتفي بنفيه.
فالموضوع للآحاد المجتمعة هو الجمع، سواء كان له واحد من لفظه مستعمل، كرجال، وأسود، أو لم يكن كأبابيل، والموضوع لمجموع الآحاد، هو اسم الجمع سواء كان
[15] له واحد // من لفظه كركب وصحب، أو لم يكن كقوم ورهط.
والموضوع للحقيقة بالمعنى المذكور، هو اسم الجنس، وهو غالب فيما يفرق بينه وبين واحده بالتاء، كثمرة وثمر، وعكسه: جبأة وكمأة.
ومما يعرف به الجمع كونه على وزن لم تبن عليه الآحاد، كأبابيل، وغلبة التأنيث عليه، ولذلك حكم على نحو: تخم أنه جمع تخمة، مع أن نظيره رطبة، ورطب محكوم عليه أنه اسم جنس، لأن تخمًا غلب عليه التأنيث، يقال: هذه تخم، ولا يقال: هذا تخم.
فعلم أنه في معنى جماعة، وليس مسلوكًا به سبيل رطب ونحوه.
ومما يعرف به اسم الجمع كونه على وزن الآحاد، وليس له واحد من لفظه، كقوم، ورهط، وكونه مساويًا للواحد في تذكيره، والنسبة إليه.
ولذلك حكم على نحو غزي: أنه اسمٍ لجمع غازٍ، وإن كان نحو: كليب، جمع لكلب، لأن غزيا ذكر، وكليبا مؤنث. وحكم أيضًا على نحو ركاب أنه اسم لجمع ركوب، لأنهم نسبوا إليه، فقالوا: زيت ركابي، والجموع لا ينسب إليها إلا إذا غلبت، كأنصاري.
وإذ قد عرفت هذا، فنقول: الجمع ينقسم إلى جمع تصحيح، وهو ما سلم فيه لفظ الواحد، وإلى جميع تكسير، وهو ما تغير فيه لفظ الواحد تحقيقًا أو تقديرًا.
ثم جمع التصحيح، ويسمى السالم ينقسم إلى مذكر ومؤنث.
فالمؤنث: هو ما زيد في آخره ألف وتاء، كمسلمات.
وأما جمع المذكر السالم فيلحق آخره واو مضموم ما قبلها رفعًا، وياء مكسور ما قبلها جرا ونصبًا، يليهما نون مفتوحة نحو: جاء المسلمون، ومررت بالمسلمين، ورأيت المسلمين.
এককগুলো, যার দ্বারা সেই এককগুলোকে এমনভাবে বোঝানো হয় যেভাবে একটি একবচন শব্দ তার নামযুক্ত অংশগুলোর সমষ্টিকে বোঝায়। অথবা এটি সত্তার (হাকিকত) জন্য নির্ধারিত হতে পারে, যেখানে একবচন বা বহুবচন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয় না, তবে এককটি তার নেতিকরণের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
সুতরাং একত্রিত এককগুলোর জন্য যা নির্ধারিত হয় তা হলো বহুবচন (জাম'), চাই তার নিজ শব্দ থেকে ব্যবহৃত কোনো একবচন থাকুক, যেমন: 'রিজাল' এবং 'উসুদ', অথবা না থাকুক যেমন: 'আবাবিল'। আর এককসমূহের সমষ্টির জন্য যা নির্ধারিত হয় তা হলো সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জাম'), চাই তার
[১৫] নিজ শব্দ থেকে // কোনো একবচন থাকুক যেমন: 'রাকব' ও 'সাহব', অথবা না থাকুক যেমন: 'কাওম' ও 'রাহ্ত'।
আর উল্লিখিত অর্থে সত্তার (হাকিকত) জন্য যা নির্ধারিত তা হলো জাতিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জিনস)। এটি সাধারণত সেই সব শব্দে হয় যার একবচন ও এই শব্দের মধ্যে 'তা' দ্বারা পার্থক্য করা হয়, যেমন: 'সামারাহ' ও 'সামার'। এর বিপরীত হলো: 'জুবআহ' ও 'কামআহ'।
বহুবচন চেনার একটি উপায় হলো এটি এমন ওজনে হওয়া যা একবচন শব্দের ওজনে আসে না, যেমন: 'আবাবিল'। এছাড়া এতে স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার প্রাধান্য থাকে। এই কারণেই 'তুখাম' শব্দটিকে 'তুখামাহ'-এর বহুবচন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যদিও এর সদৃশ শব্দ 'রাতবাহ' এবং 'রাতাব'-কে জাতিবাচক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ 'তুখাম' শব্দে স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার প্রাধান্য রয়েছে; বলা হয়: 'হাজিহি তুখাম', 'হাযা তুখাম' বলা হয় না।
সুতরাং বোঝা গেল যে এটি সমষ্টির অর্থে ব্যবহৃত এবং এটি 'রাতাব' ও এই জাতীয় শব্দের নিয়মে চলে না।
আর সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জাম') চেনার উপায় হলো এটি একবচন শব্দের ওজনে হওয়া এবং তার নিজ শব্দ থেকে কোনো একবচন না থাকা, যেমন: 'কাওম' ও 'রাহ্ত'। এছাড়া পুংলিঙ্গ হওয়া এবং এর দিকে সম্বন্ধ (নিসবত) করার ক্ষেত্রে এটি একবচন শব্দের মতোই হয়ে থাকে।
এ কারণেই 'গুজ্জা' শব্দটিকে 'গাজি'-র সমষ্টিবাচক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যদিও 'কুলাইব' শব্দটি 'কালব'-এর বহুবচন; কারণ 'গুজ্জা' হলো পুংলিঙ্গ এবং 'কুলাইব' হলো স্ত্রীলিঙ্গ। অনুরূপভাবে 'রিকাব' শব্দটিকে 'রাকুব'-এর সমষ্টিবাচক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, কারণ আরবগণ এর দিকে সম্বন্ধ করেছে। তারা বলেছে: 'জাইত রিকাবি' (রিকাবি তেল)। আর বহুবচন শব্দের দিকে সম্বন্ধ করা হয় না যদি না তা নামের মতো প্রসিদ্ধ হয়ে যায়, যেমন: 'আনসারি'।
যখন আপনি বিষয়টি বুঝতে পারলেন, তখন আমরা বলব: বহুবচন দুই ভাগে বিভক্ত। এক. অক্ষত বহুবচন (জাম' তাসহিহ), যাতে একবচনের রূপটি অক্ষত থাকে। দুই. ভগ্ন বহুবচন (জাম' তাকসির), যাতে একবচনের রূপটি দৃশ্যত বা উহ্যভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়।
অতঃপর অক্ষত বহুবচন—যাকে 'সালিম'ও বলা হয়—তা পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ এই দুই ভাগে বিভক্ত।
স্ত্রীলিঙ্গ হলো তা যার শেষে আলিফ ও তা বৃদ্ধি করা হয়, যেমন: 'মুসলিমাত'।
আর পুংলিঙ্গ অক্ষত বহুবচনের শেষে রফ'-এর অবস্থায় পূর্বের বর্ণে পেশসহ ওয়াও এবং জর ও নাসব-এর অবস্থায় পূর্বের বর্ণে যেরসহ ইয়া যুক্ত হয়। এগুলোর পরে একটি জবরযুক্ত নুন থাকে। যেমন: মুসলিমরা এসেছে, আমি মুসলিমদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি এবং আমি মুসলিমদের দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والسبب في أن إعراب هذا الجمع بهذا الإعراب هو أنه كالمثنى في كثرة دوره في الكلام، فأجرى مجرى المثنى في خفة العلامة، وترك الإخلال بظهور الإعراب، فجعلت علامة الجمع المذكر السالم في الرفع واوًا، لأنها من أمهات الزوائد، ومدلول بها على الجمعية، مع الفعل: اسمًا في نحو قولهم: فعلوا، وحرفًا في نحو: أكلوني البراغيث، وضموا ما قبل الواو إتباعًا، وجعلوا الإعراب فيه بالانقلاب، لامتناع ظهور الحركات على الواو، المضموم ما قبلها فلجئ إلى الإعراب بقرار الواو في الرفع على صورتها في أول الوضع، فإذا دخل عامل الجر قلبوا الواو ياء، لمكان المناسبة، وكسروا ما قبل الياء، كما ضموا ما قبل الواو لئلا يلتبس الجمع بالمثنى في بعض الصور في حالة الإضافة، وحملوا النصب على الجر، كما في التثنية، ولأنك لو قلبت الواو ألفًا في النصب لأفضى ذلك إلى الالتباس بالمثنى المرفوع، ولحقت النون عوضًا عن الحركة والتنوين، ولذلك تحذف للإضافة، وفتحوها تخفيفًا. ولما أخذ في بيان ما يعرب بالواو رفعًا، وبالياء جرًا، ونصبًا قال:
وارفع بواو وبيا اجرر وانصب
… سالم جمع عامرٍ ومذنب
فأضاف الجمع إلى مثال ما يطرد فيه.
[16] // وذلك أن جمع المذكر السالم مطرد في كل اسم خالٍ من تاء التأنيث، لمذكر عاقل علمًا، كعامر وسعيد، أو صفة تقبل تاء التأنيث باطراد، إن قصد معناه، أو في معنى ما يقبلها، كضارب ومذنب، والأحسن والأفضل، فيقال: عامرون وسعيدون، وضاربون ومذنبون، والأحسنون والأفضلون، وكذلك ما أشبهها.
قوله:
................. وبه عشرونا
… وبابه ....................
(الخ). معناه: أنه قد ألحق بجمع المذكر السالم المطرد أسماء جموع، وجموع تكسير وجموع تصحيح لم تستوف الشروط.
فمن أسماء الجموع عشرون وبابه، وهو ثلاثون إلى تسعين.
ومنه (عليون) مما ليس له واحد من لفظه، و (كعالمين) مما واحده أعم في الدلالة منه.
এই বহুবচনের এই প্রকারের ইরাব হওয়ার কারণ হলো কথা বলার সময় এর ব্যবহারের আধিক্যের দিক থেকে এটি দ্বিবচনের (মুসান্না) মতো। তাই চিহ্নের লঘুতা বজায় রাখতে এবং ইরাব প্রকাশে ব্যাঘাত না ঘটাতে একে দ্বিবচনের নিয়মে পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে রাফ-এর অবস্থায় 'জমউল মুজাক্কার আস-সালিম'-এর চিহ্ন হিসেবে 'ওয়াও' নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ এটি অতিরিক্ত বর্ণসমূহের মূল অংশসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি ক্রিয়ার সাথে বহুবচনের অর্থ প্রদান করে; বিশেষ্য হিসেবে যেমন তাদের কথা: 'তারা করেছে' (ফায়া’লূ), এবং বর্ণ হিসেবে যেমন: 'আমাকে মাছিগুলো খেয়েছে' (আকালূনী আল-বারাগীস)। তারা 'ওয়াও'-এর পূর্বের বর্ণে পেশ (যম্মাহ) প্রদান করেছেন অনুবর্তিতাহেতু। আর এতে ইরাব বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন, কারণ পেশযুক্ত বর্ণের পরবর্তী 'ওয়াও'-এর ওপর হরকত প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। ফলে রাফ-এর অবস্থায় 'ওয়াও'কে তার মূল গঠন অনুযায়ী বহাল রেখে ইরাব প্রদানের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অতঃপর যখন জারের আমিল প্রবেশ করে, তখন তারা সামঞ্জস্য রক্ষার খাতিরে 'ওয়াও'কে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করে দেয় এবং 'ইয়া'-এর পূর্ববর্তী বর্ণে যের (কাসরা) প্রদান করে, ঠিক যেমন তারা 'ওয়াও'-এর পূর্বে পেশ প্রদান করেছিল। এটি করা হয়েছে যেন ইদাফতের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে বহুবচনটি দ্বিবচনের সাথে সংশয় সৃষ্টি না করে। আর দ্বিবচনের ন্যায় নসবকেও জারের অনুগামী করা হয়েছে। কারণ আপনি যদি নসবের অবস্থায় 'ওয়াও'কে 'আলিফ' দ্বারা পরিবর্তন করতেন, তবে তা রাফ-এর অবস্থায় থাকা দ্বিবচনের সাথে সংশয় তৈরি করত। আর হরকত ও তানভীনের পরিবর্তে এখানে 'নুন' যুক্ত করা হয়েছে। একারণেই ইদাফতের সময় তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তারা উচ্চারণের সহজতার জন্য এই নূনে জবর (ফাতহা) প্রদান করেছেন। যখন তিনি রাফ-এর ক্ষেত্রে 'ওয়াও' এবং জার ও নসবের ক্ষেত্রে 'ইয়া' দ্বারা ইরাব হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করতে শুরু করলেন, তখন বললেন:
আর তুমি 'ওয়াও' এর মাধ্যমে রাফ প্রদান করো এবং 'ইয়া' এর মাধ্যমে জার ও নসব করো
… আমির এবং মুজনিব-এর ন্যায় সহীহ (সালেম) বহুবচনে
তিনি বহুবচনকে এমন উদাহরণের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন যাতে এটি নিয়মিতভাবে ঘটে।
[১৬] // আর তা হলো, 'জমউল মুজাক্কার আস-সালিম' প্রত্যেক এমন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে নিয়মিত যা স্ত্রীলিঙ্গের 'তা' মুক্ত, বিবেকসম্পন্ন পুরুষের নাম (আলম), যেমন: আমির ও সাঈদ। অথবা এমন গুণবাচক শব্দ (সিফাত) যা নিয়মিতভাবে স্ত্রীলিঙ্গের 'তা' গ্রহণ করে, যদি তার অর্থ উদ্দেশ্য হয়, অথবা এমন শব্দের অর্থে হয় যা তা গ্রহণ করে; যেমন: দ্বরিব (প্রহারকারী) ও মুজনিব (পাপী), এবং আল-আহসান (সবচেয়ে সুন্দর) ও আল-আফদ্বল (সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ)। তখন বলা হয়: আমিরূনা, সাঈদূনা, দ্বরিবূনা, মুজনিবূনা, আল-আহসানূনা ও আল-আফদ্বলূনা এবং অনুরূপ শব্দসমূহ।
তাঁর উক্তি:
................. এবং এর সাথে ইশরূনা (বিশ)
… এবং এর অধ্যায় ....................
(ইত্যাদি)। এর অর্থ হলো: নিয়মিত জমউল মুজাক্কার আস-সালিমের সাথে কিছু সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমে জম), ভগ্ন বহুবচন (জময়ে তাকসীর) এবং এমন সহীহ বহুবচন (জময়ে তাসহীহ) যা শর্তাবলি পূর্ণ করেনি, সেগুলোকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের (ইসমে জম) অন্তর্ভুক্ত হলো 'ইশরূনা' (বিশ) এবং এর সংশ্লিষ্ট অধ্যায়, যা ত্রিশ থেকে নব্বই পর্যন্ত।
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'ইল্লিয়্যুন' যার নিজ শব্দ থেকে কোনো একবচন নেই, এবং 'আলামীন'-এর মতো শব্দসমূহ যার একবচনটি অর্থের দিক থেকে বহুবচন অপেক্ষা অধিক ব্যাপক।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن جموع التكسير (أرضون، وستون) وبابه، وهو كل ثلاثي في الأصل قد حذفت لامه، وعوض عنها هاء التأنيث، كأرة وأرين، وظبةً وظبين، وقلة وقلين.
فهذه كلها جموع تكسير، لتغير لفظ الواحد فيها، ولكنها أجريت مجرى جمع الصحيح في الإعراب، تعويضًا عن المحذوف.
ومن جموع التصحيح، التي لم تستوف الشروط (أهلون) مما سلم فيه بناء واحده، فإنه جمع أهل، وهو لا علم، ولا صفة، فتصحيحه شاذ، كما شذ تصحيح الوابل في قول الهذلي: [من البسيط]
10 - تلاعب الريح بالعصرين قسلطه
… والوابلون وتهتان التجاويد
فإنه لما لا يعقل، فحقه ألا يصح، ولكنه ورد فوجب قبوله، وكما شذ تصحيح مرقة في قول بعضهم: (أطعمنا مرقة من مرقين) أي: أمراقًا من لحوم شتى.
وكثر هذا الاستعمال في باب (سنين) وهو كل مؤنث بالتاء، محذوف اللام، غير ثابت التكسير، فيجيء بسلامة ما أوله مكسور، كأرة وأرين، ومائة ومئين، وبتغير ما أوله مفتوح، كسنة وسنين، وبوجهين ما أوله مضموم، كقلة، وقلين.
ومثل هذا الاستعمال فيما ثبت تكسيره كظبة وظبين، وفيما يحذف منه غير اللام كلذة ولدين، ورقة ورقين.
قوله:
............ ومثل حين قد يرد
… ذا الباب ..................
يعني: باب (سنين) قد يستعمل مثل (حين)، فيجعل إعرابه بالحركات على النون منونة، ولا تسقطها الإضافة نحو: هذه سنين، ورأيت سنينًا، ومررت بسنينٍ،
আর জুমউত তাকসির (ভগ্ন বহুবচন)-এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'আরদুন' ও 'সিত্তুন' এবং এই পর্যায়ের শব্দগুলো। আর এটি এমন প্রত্যেক তিন বর্ণবিশিষ্ট শব্দ যার মূল অক্ষরের শেষ বর্ণটি (লাম কালিমাহ) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'হা' (তা-য়ে তানিছ) যুক্ত করা হয়েছে, যেমন: 'আরাহ' থেকে 'আরিন', 'জুবাহ' থেকে 'জুবিন' এবং 'কুইল্লাহ' থেকে 'কুইলিন'।
এগুলো সবই জুমউত তাকসির বা ভগ্ন বহুবচন, কারণ এগুলোতে একবচনের রূপ পরিবর্তিত হয়েছে। তবে বিলুপ্ত বর্ণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে শব্দ বিভক্তির (ইরাব) ক্ষেত্রে এগুলোকে জুমউস সহিহ বা সুস্থ বহুবচনের নিয়মে পরিচালনা করা হয়েছে।
আর জুমউত তাসহিহ বা সুস্থ বহুবচনের মধ্যে যে শব্দগুলো শর্ত পূরণ করেনি তার মধ্যে রয়েছে 'আহলুন'। এতে যদিও একবচনের গঠন অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তবুও এটি 'আহল' শব্দের বহুবচন—যা কোনো বিশেষ্য (আলম) নয়, আবার বিশেষণও (সিফাত) নয়। ফলে এর সুস্থ বহুবচন হিসেবে ব্যবহার হওয়াটি বিরল (শাজ), যেমনটি হুজালি কবির উক্তিতে 'ওয়াবিল' (প্রবল বৃষ্টি) শব্দের সুস্থ বহুবচন হওয়াটা বিরল ছিল: [বসিত ছন্দ থেকে]
১০ - বায়ু অপরাহ্নে ধূলিকণাকে নিয়ে খেলা করে... এবং প্রবল বর্ষণ ও বিরামহীন ভারী বৃষ্টিপাতও।
কেননা এটি যেহেতু বিবেকহীন (গাইরে আকিল) বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী এর সুস্থ বহুবচন হওয়া উচিত ছিল না; কিন্তু যেহেতু এটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, তাই তা গ্রহণ করা আবশ্যক। যেমনটি বিরলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে 'মারাকাহ' (ঝোল) শব্দের সুস্থ বহুবচন কারও এই উক্তিতে: 'আমাদের বিভিন্ন পদের ঝোল থেকে এক প্রকার ঝোল খাওয়ান' অর্থাৎ: বিভিন্ন প্রকারের মাংসের ঝোল।
আর এই ধরনের ব্যবহার 'সিনিন' (বছরসমূহ) পরিচ্ছেদে অধিক প্রচলিত। আর তা হলো এমন প্রতিটি স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ যা 'তা' যোগে গঠিত হয়েছে, যার শেষ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং যার ভগ্ন বহুবচনের রূপটি অপরিবর্তিত নয়। ফলে যার প্রথম বর্ণ কাসরাযুক্ত (জের), তার সুস্থ বহুবচন আসে; যেমন: 'আরাহ' থেকে 'আরিন' এবং 'মিয়াহ' থেকে 'মিয়িন'। আর যার প্রথম বর্ণ ফাতহাযুক্ত (জবর), তা পরিবর্তনের মাধ্যমে আসে; যেমন: 'সানাহ' থেকে 'সিনিন'। আর যার প্রথম বর্ণ দম্মাযুক্ত (পেশ), তা উভয়ভাবে আসে; যেমন: 'কুইল্লাহ' থেকে 'কুইলিন'।
আর এই ধরনের ব্যবহার সেই শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেগুলোর ভগ্ন বহুবচন সুপ্রমাণিত, যেমন: 'জুবাহ' থেকে 'জুবিন'। আবার যাতে শেষ বর্ণ ব্যতীত অন্য বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে, যেমন: 'লাজ্জাহ' থেকে 'লাজ্জিন' এবং 'রিক্কাহ' থেকে 'রিক্কিন'।
তাঁর উক্তি:
............ এবং এই পরিচ্ছেদটি কখনও 'হিন' (কাল) এর ন্যায় ব্যবহৃত হতে পারে ..................
অর্থাৎ: 'সিনিন' পরিচ্ছেদটি কখনও 'হিন' (কাল) শব্দের মতো ব্যবহৃত হতে পারে। সেক্ষেত্রে এর বিভক্তি বা ইরাব নুন বর্ণের ওপর হারাকাত ও তানভিনের মাধ্যমে প্রদান করা হয় এবং ইজাফাত (সম্বন্ধ) করার কারণে তা বিলুপ্ত হয় না। যেমন: 'এগুলো কতগুলো বছর', 'আমি কতগুলো বছর দেখেছি' এবং 'আমি কতগুলো বছরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছি'।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال الشاعر: [من الطويل]
11 - دعاني من نجدٍ فإن سنينه
… لعبن بنا شيبًا وشيبننا مردا
وفي الحديث على بعض الروايات: (اللهم اجعلها عليهم سنينًا كسنين يوسف). قوله:
.........................
… ............ وهو عند قومٍ يطرد
يعني: أن إجراء (سنين) وبابه مجرى (حين) مطرد عند قوم من النحويين، منهم الفراء، وقد استعمله غيرهم على وجه الشذوذ، كما في الحديث المذكور.
39 - ونون مجموعٍ وما به التحق
… فافتح وقل من بكسره نطق [17] //
40 - ونون ما ثني والملحق به
… بعكس ذاك استعملوه فانتبه
قد تقدم الكلام على نوني التثنية، والجمع على حدة، ولم يبق فيه إلا ما نبه عليه من أن نون الجمع حقها الفتح، وقد تكسر، وأن نون التثنية حقها الكسر، وقد تفتح.
فأما كسر نون الجمع فإنه يجيء للضرورة، كقول جرير: [من الوافر]
12 - عرين من عرينة ليس منا
… برئت إلى عرينة من عرين
عرفنا جعفرًا وبني أبيه
… وأنكرنا زعانف آخرين
কবি বলেছেন: [তবীল ছন্দ হতে]
১১ - আমাকে নজদ থেকে রেহাই দাও, কেননা তার বছরগুলো... বৃদ্ধাবস্থায় আমাদের নিয়ে খেলা করেছে এবং আমাদের যৌবনেই বৃদ্ধ করে দিয়েছে।
এবং হাদিসের কিছু বর্ণনায় এসেছে: (হে আল্লাহ! একে তাদের জন্য ইউসুফের বছরগুলোর ন্যায় [দুর্ভিক্ষের] বছর হিসেবে নির্ধারণ করুন)। তাঁর উক্তি:
.........................
… ............ আর তা একদলের নিকট নিয়মসিদ্ধ বা মুত্তারিদ
অর্থাৎ: 'সিনীন' এবং এই পর্যায়ের শব্দগুলোকে 'হীন'-এর ন্যায় গণ্য করা একদল ব্যাকরণবিদের নিকট নিয়মিত বা মুত্তারিদ, যাদের মধ্যে আল-ফাররা রয়েছেন। অন্যরা একে বিরল বা ব্যতিক্রম হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যেমনটি উল্লিখিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
৩৯ - বহুবচনের নুন এবং যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট... তাতে ফাতহাহ (যবর) প্রদান করো; খুব অল্প সংখ্যকই একে কাসরাহ (জের) দিয়ে উচ্চারণ করেছেন [১৭] //
৪০ - আর যা দ্বিবচন করা হয়েছে এবং যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট... তারা এর বিপরীতভাবে এটি ব্যবহার করেছেন, সুতরাং এ বিষয়ে সচেতন হও।
দ্বিবচন এবং বহুবচনের নুন নিয়ে আলোচনা পৃথকভাবে পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। এখন শুধু এই বিষয়ে সতর্ক করা বাকি রয়েছে যে, বহুবচনের নুনের মূল প্রাপ্য হলো ফাতহাহ, তবে কখনো তা কাসরাহ হতে পারে। আর দ্বিবচনের নুনের মূল প্রাপ্য হলো কাসরাহ, তবে কখনো তা ফাতহাহ হতে পারে।
বহুবচনের নুনকে কাসরাহ প্রদান করা কাব্যিক প্রয়োজনের কারণে হয়ে থাকে, যেমন জারীরের উক্তি: [ওয়াফির ছন্দ হতে]
১২ - উরাইনাহ গোত্রের উরাইন আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়... আমি উরাইনাহর নিকট উরাইন থেকে মুক্তি চাই।
আমরা জাফরকে এবং তার পিতার সন্তানদের চিনেছি... আর আমরা অন্যদের নিকৃষ্ট অনুসারীদের অস্বীকার করেছি।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكقول الآخر: [من الوافر]
13 - أكل الدهر حل وارتحال
… أما يبقي على ولا يقيني
وماذا يبتغي الشعراء مني
… وقد جاوزت حد الأربعين
وأما فتح نون التثنية فلغة قوم من العرب، حكي ذلك الفراء، وأنشد: [من الطويل]
14 - على أحوذيين استقلت عشية
… فما هي إلا لمحة وتغيب
بفتح نون التثنية.
এবং অন্য কবির উক্তি: [ওয়াফির ছন্দ থেকে]
১৩ - সারাটা জীবন কি কেবল অবস্থান এবং প্রস্থান?
… সে কি আমাকে অবশিষ্ট রাখবে না এবং আমাকে কি সুরক্ষা দিবে না?
আর কবিগণ আমার কাছে কীইবা চায়,
… অথচ আমি চল্লিশের সীমা অতিক্রম করেছি।
আর দ্বিবচনের নূনের ওপর ফাতহা প্রদান করা আরবদের একটি গোত্রের ভাষা, আল-ফাররা তা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আবৃত্তি করেছেন: [ত্বাবীল ছন্দ থেকে]
১৪ - দুই দ্রুতগামী ডানার ওপর ভর করে সে সন্ধ্যায় উড়ে গেল
… যা কেবল এক পলক দেখাই ছিল এবং এরপর তা অদৃশ্য হয়ে গেল।
দ্বিবচনের নূনের ওপর ফাতহা প্রদানের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
41 - وما بتا وألفٍ قد جمعا
… يكسر في الجر وفي النصب معا
42 - كذا أولات والذي اسمًا قد جعل
… كأذرعاتٍ فيه ذا أيضًا قبل
الذي يجمع بالألف، والتاء هو جمع المؤنث السالم، وله إعرابٍ على حدة، وذلك لأن رفعه بالضمة، ونصبه وجره بالكسرة، نحو: هؤلاء مسلمات، ورأيت مسلماتٍ، ومررت بمسلماتٍ، أجروه في النصب مجراه في الجر، كما فعلوا ذلك في جمع المذكر السالم، وحمل على جمع المؤنث السالم في إعرابه أولات، وما سمي به كعرفاتٍ، وأذرعاتٍ.
فأما (أولات) فهو اسم جمع لا واحد له من لفظه، وهو بمعنى ذوات، ولكنهم أجروه مجرى الجمع، هؤلاء أولات فضل، ورأيت أولات فضل، ومررت بأولات فضل.
وأما ما سمي به فالأكثر فيه إجراؤه مجرى الجمع، نحو: هذه أذرعات، ورأيت أذرعاتٍ، ومررت بأذرعاتٍ.
ومنهم من يجعله كأرطاة: غير منصرف علمًا، فيقول: هذه أذرعات، ورأيت أذرعات، ومررت بأذرعات. فإذا وقف عليه قلبت التاء هاء.
ومنهم من يحذف التنوين، ويعربه بالضمة في الرفع، وبالكسرة في الجر والنصب.
43 - وجر بالفتحة ما لا ينصرف
… ما لم يضف أو يك بعد أل ردف
[18] // الاسم المعرب على ضربين: منصرف، وغير منصرف. فالمنصرف ما لم يشابه الفعل كزيد وعمرو. وغير المنصرف ما يشابه الفعل كأحمد ومروان.
فالمنصرف ينون ويجر بالكسرة في كل حال، نحو: هذا زيد، ورأيت زيدًا، ومررت بزيدٍ.
وغير المنصرف لا ينون، ويجر بالفتحة، ما لم يضف، أو يدخله الألف واللام، نحو: هذا أحمد، ورأيت أحمد، ومررت بأحمد.
وذلك أن الاسم إذا شابه الفعل ثقل، فلم يدخله التنوين، لأنه علامة الأخف عليهم، والأمكن عندهم.
৪১ - আর যা আলিফ এবং তা দ্বারা বহুবচন করা হয়েছে
… তা জর এবং নসব উভয় অবস্থায় কাসরা (যের) যুক্ত হবে।
৪২ - তদ্রূপ 'উলাতু' এবং যা নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে
… যেমন 'আদরিয়াত', সেগুলোর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম গ্রহণ করা হয়েছে।
যা আলিফ এবং তা-এর মাধ্যমে বহুবচন করা হয়, তা হলো জাম' মুআন্নাস সালেম (অপরিবর্তিত স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন)। এর জন্য একটি স্বতন্ত্র ইরাব (শব্দরূপ) রয়েছে; আর তা এই জন্য যে, এর রফা (কর্তৃকারক) দম্মা (পেশ) দ্বারা হয় এবং নসব (কর্মকারক) ও জর (সম্বন্ধ পদ) কাসরা (যের) দ্বারা হয়। যেমন: এরা মুসলিম নারী (হাউলাই মুসলিমাতুন), আমি মুসলিম নারীদের দেখেছি (রাইতু মুসলিমাতিন), এবং আমি মুসলিম নারীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (মারারতু বি-মুসলিমাতিন)। তারা নসবের ক্ষেত্রে একে জরের অনুগামী করেছে, যেমনটি তারা জাম' মুজাক্কার সালেমের (অপরিবর্তিত পুংলিঙ্গ বহুবচন) ক্ষেত্রে করেছে। আর ইরাবের ক্ষেত্রে 'উলাতু' এবং যে সব শব্দ নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমন 'আরাফাত' ও 'আদরিয়াত', সেগুলোকে জাম' মুআন্নাস সালেমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
'উলাতু' (أولات) এর ক্ষেত্রে বলা যায়, এটি একটি ইসমু জাম' (সমষ্টিবাচক বিশেষ্য) যার মূল শব্দ থেকে কোনো একবচন নেই। এটি 'যাওয়াতি' (ذوات) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে তারা একে বহুবচনের নিয়মে পরিচালনা করেছে। যেমন: এরা মর্যাদাবান নারী (হাউলাই উলাতু ফাদলিন), আমি মর্যাদাবান নারীদের দেখেছি (রাইতু উলাতি ফাদলিন), এবং আমি মর্যাদাবান নারীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (মারারতু বি-উলাতি ফাদলিন)।
আর যে শব্দগুলোকে নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অধিকাংশের মত হলো সেগুলোকে বহুবচনের নিয়মে পরিচালনা করা। যেমন: এটি আদরিয়াত (হাজিহি আদরিয়াতুন), আমি আদরিয়াত দেখেছি (রাইতু আদরিয়াতিন), এবং আমি আদরিয়াতের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (মারারতু বি-আদরিয়াতিন)।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে 'আরতাহ' (أرطاة)-এর মতো গণ্য করেন; অর্থাৎ আলম (নাম) হিসেবে গায়রে মুনসারিফ (পরিবর্তনহীন)। ফলে তারা বলে: এটি আদরিয়াত (হাজিহি আদরিয়াকতু), আমি আদরিয়াত দেখেছি (রাইতু আদরিয়াতা), এবং আমি আদরিয়াতের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (মারারতু বি-আদরিয়াতা)। আর যখন এর ওপর ওয়াকফ (থামা) করা হয়, তখন শেষ বর্ণ 'তা' টি 'হা' এ রূপান্তরিত হয়।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ তানউইন বিলুপ্ত করেন এবং রফার অবস্থায় দম্মা (পেশ) দ্বারা এবং জর ও নসবের অবস্থায় কাসরা (যের) দ্বারা ইরাব প্রদান করেন।
৪৩ - আর গায়রে মুনসারিফ শব্দকে ফাতহা (জবর) দ্বারা জর প্রদান করো
… যতক্ষণ না তা মুদাফ (সংযুক্ত) হয় অথবা 'আলিফ-লাম' এর পরে আসে।
[১৮] // মুরব ইসম (পরিবর্তনশীল বিশেষ্য) দুই প্রকার: মুনসারিফ এবং গায়রে মুনসারিফ। মুনসারিফ হলো সেই শব্দ যা ক্রিয়ার (ফিয়েল) সাদৃশ্য রাখে না, যেমন যায়েদ এবং আমর। আর গায়রে মুনসারিফ হলো যা ক্রিয়ার সাদৃশ্য রাখে, যেমন আহমাদ এবং মারওয়ান।
মুনসারিফ শব্দে তানউইন হয় এবং সর্বাবস্থায় কাসরা (যের) দ্বারা জর হয়। যেমন: এটি যায়েদ (হাজা যায়েদুন), আমি যায়েদকে দেখেছি (রাইতু যায়েদান), এবং আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (মারারতু বি-যায়েদিন)।
আর গায়রে মুনসারিফ শব্দে তানউইন হয় না এবং তা ফাতহা (জবর) দ্বারা জর হয়, যতক্ষণ না তা মুদাফ হয় অথবা তাতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়। যেমন: ইনি আহমাদ (হাজা আহমাদু), আমি আহমাদকে দেখেছি (রাইতু আহমাদা), এবং আমি আহমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (মারারতু বি-আহমাদা)।
এর কারণ হলো, ইসম বা বিশেষ্য যখন ক্রিয়ার সদৃশ হয় তখন তা ভারী হয়ে যায়, ফলে তাতে তানউইন প্রবেশ করে না। কারণ তানউইন হলো তাদের নিকট হালকা হওয়ার এবং পূর্ণ বিশেষ্য হওয়ার নিদর্শন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنع الجر بالكسرة تبعًا لمنع التنوين، لتآخيهما في اختصاصهما بالأسماء، وتعاقبهما على معنى واحد في باب راقود خلا، وراقود خلٍ، فلما لم يجروه بالكسرة، عوضوه عنها بالفتحة، فإذا أضيف ما لا ينصرف، أو دخله الألف واللام فأمن فيه التنوين جر بالكسرة، نحو: مررت بأحمدكم، وبالحمراء.
44 - واجعل لنحو يفعلان النونا
… رفعًا وتدعين وتسألونا
45 - وحذفها للجزم والنصب سمه
… كلم تكوني لترومي مظلمه
المراد بنحو يفعلان، وتدعين، وتسألون: كل فعل مضارع اتصل به ألف الاثنين، أو واو الجمع، أو ياء المخاطبة، فإن المضارع إذا اتصل به أحد هذه الثلاثة كانت علامة رفعه نونًا مكسورة بعد الألف، مفتوحة بعد الواو والياء، وعلامة جزمه ونصبه حذف تلك النون، تقول في الرفع: يفعلان، ويفعلون، وتفعلين، فإذا دخل الجازم قلت: لم يفعلا، ولم يفعلوا، ولم تفعلي، بحذف النون للجزم، كما ثبت للرفع.
والنصب كالجزم، نحو: لن يفعلا، ولن يفعلوا، ولن تفعلي، حملوا النصب على الجزم هنا، كما حملوا النصب على الجر في التثنية، والجمع، لأن الجزم في الفعل نظير الجر في الاسم.
قوله:
.......................
… كلم تكوني لترومي مظلمه
مثال لحذف نون الرفع في الجزم والنصب: (فتكوني) مجزوم بلم، وكان أصله ترومي، وأصله ترومين، فلما دخل الناصب حذفت النون، كما حذفت في الجزم.
46 - وسم معتلا من الأسماء ما
… كالمصطفي والمرتقي مكارما
47 - فالأول الإعراب فيه قدرا
… جميعه وهو الذي قد نصرا
48 - والثاني منقوص ونصبه ظهر
… ورفعه ينوى كذا أيضًا يجر
اعلم أن الاسم المعرب على ضربين: صحيح، ومعتل.
والمعتل على ضربين: مقصور، ومنقوص.
فالمقصور: هو الاسم المعرب الذي آخره ألف لازمة، نحو: الفتى، والعصا،
[19] // والمصطفي، وقيدت الألف بكونها لازمة احترازًا من نحو الزيدان في الرفع، ومن نحو: أخاك، وإياك في النصب.
তানউইন (nunation) নিষিদ্ধ হওয়ার অনুবর্তিতায় কাসরাহ (জের) দ্বারা যার (genitive case) প্রদান করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ এই উভয় বিষয় বিশেষ্যের (ইসম) জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া 'রাকুদু খাল্লা' (সিরকা ভর্তি কলস) এবং 'রাকুদু খাল্লিন' এর প্রয়োগে তারা একই অর্থের জন্য একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়। যখন তারা একে কাসরাহ দ্বারা মাজরুর করতে পারল না, তখন তারা এর পরিবর্তে ফাতহাহ (যবর) ব্যবহার করল। সুতরাং যখন গইরুন মুনসারিফ (পরিবর্তনহীন বিশেষ্য) শব্দ ইদাফাত হয় অথবা তাতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়, তখন তাতে তানউইনের ভয় থাকে না বিধায় তা কাসরাহ দ্বারা মাজরুর হয়। যেমন: আমি তোমাদের আহমদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম (মারারতু বি-আহমাদিকুম) এবং লাল রঙের বস্তুর পাশ দিয়ে (ওয়াবিল হামরাই)।
৪৪ - ইয়াফআলা-নি সদৃশ শব্দের জন্য রাফ' অবস্থায় নুন নির্ধারণ করো... এবং তাদঈ-না ও তাসআলু-না এর ক্ষেত্রেও।
৪৫ - আর জাজম ও নাসব অবস্থায় এই নুন বিলুপ্ত হওয়াকে আলামত হিসেবে গণ্য করো; যেমন: 'লাম তাকুনি লিতারুমি মাজলামাহ' (তুমি যেন কোনো অন্যায়ের ইচ্ছা না করো)।
'ইয়াফআলা-নি', 'তাদঈ-না' এবং 'তাসআলু-না' বলতে এমন প্রতিটি মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) ক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে যার সাথে দ্বিবচনের আলিফ, বহুবচনের ওয়াও অথবা সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া যুক্ত হয়। কেননা মুদারে ক্রিয়ার সাথে যখন এই তিনটির কোনো একটি যুক্ত হয়, তখন তার রাফ'-এর আলামত হয় আলিফের পরে কাসরাহ যুক্ত (জেরযুক্ত) নুন এবং ওয়াও ও ইয়া-এর পরে ফাতহাহ যুক্ত (যবরযুক্ত) নুন। আর তার জাজম ও নাসব-এর আলামত হয় সেই নুন বিলুপ্ত হওয়া। তুমি রাফ'-এর অবস্থায় বলবে: ইয়াফআলা-নি, ইয়াফআলু-না এবং তাফআলি-না। যখন জাজম প্রদানকারী অব্যয় আসবে তখন বলবে: 'লাম ইয়াফআলা', 'লাম ইয়াফআলু' এবং 'লাম তাফআলি'। এখানে রাফ'-এ সাব্যস্ত নুনকে জাজমের কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
আর নাসবও জাজমের মতোই, যেমন: 'লান ইয়াফআলা', 'লান ইয়াফআলু' এবং 'লান তাফআলি'। এখানে নাসবকে জাজমের অনুগামী করা হয়েছে, যেমনটি দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে নাসবকে জারের অনুগামী করা হয়েছিল। কারণ ক্রিয়ার ক্ষেত্রে জাজম হচ্ছে বিশেষ্যের ক্ষেত্রে জারের অনুরূপ।
কবির উক্তি:
.......................
… যেমন তুমি যেন কোনো অন্যায়ের ইচ্ছা না করো
জাজম ও নাসব অবস্থায় রাফ'-এর নুন বিলুপ্ত হওয়ার উদাহরণ: (তাকুনি) শব্দটি 'লাম' দ্বারা মাজজুম হয়েছে। আর 'তারুমি' শব্দটির মূল ছিল 'তারুমিনা'। যখন নাসব প্রদানকারী অব্যয় প্রবেশ করল, তখন নুন বিলুপ্ত হলো, যেমনটি জাজমের ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয়েছিল।
৪৬ - বিশেষ্যসমূহের মধ্যে সেই শব্দকে 'মু'তাল' (ত্রুটিপূর্ণ) হিসেবে অভিহিত করো যা... 'আল-মুসতফা' এবং 'আল-মুরতাকি মাকারিম' (মর্যাদার উচ্চ শিখরে আরোহণকারী)-এর মতো।
৪৭ - প্রথম প্রকারটির (মাকসুর) সমস্ত ইরাব (বিভক্তি) উহ্য থাকে; আর এটিই সেই শব্দ যা 'মানসুর' (বা মাকসুর) হিসেবে পরিচিত।
৪৮ - আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো 'মানকুস', যার নাসব (যবর) প্রকাশ্য হয়... এবং এর রাফ' (পেশ) ও জার (জের) উহ্য থাকে।
জেনে রাখুন যে, মু'রাব (পরিবর্তনশীল) ইসম বা বিশেষ্য দুই প্রকার: সহিহ (সুস্থ/অপরিবর্তনীয়) এবং মু'তাল (ত্রুটিপূর্ণ/পরিবর্তনশীল)।
মু'তাল আবার দুই প্রকার: মাকসুর এবং মানকুস।
মাকসুর হলো সেই মু'রাব ইসম যার শেষে আলিফে লাজিমা (অপরিহার্য আলিফ) থাকে, যেমন: 'আল-ফাতা' (যুবক) এবং 'আল-আসা' (লাঠি),
[১৯] // এবং 'আল-মুসতফা'। আলিফকে 'লাজিমা' বা অপরিহার্য বলে শর্তযুক্ত করা হয়েছে রাফ'-এর অবস্থায় 'যাইদানি' এবং নাসব-এর অবস্থায় 'আখাকা' ও 'ইয়্যাকা'-এর মতো শব্দগুলোকে বাদ দেওয়ার জন্য।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনিন নাযিম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والمنقوص: هو الاسم المعرب الذي آخره ياء لازمة تلي كسرة، كالقاضي، والداعي، والمرتقي.
واحترزت باللزوم من نحو: الزيدين، وأخيك، وبقولي: (تلي كسرة) مما آخره ياء ساكن ما قبلها، نحو: نحي، وظبي، فإنه معدود من باب الصحيح.
وقد ظهر من هذا: أن الاسم المعرب ينقسم إلى صحيح، ومقصور، ومنقوص، ولكل منها حكم.
فالصحيح: يظهر فيه الإعراب كله، ولا يقدر فيه شيء منه، أي من الإعراب.
والمقصور: يقدر فيه الإعراب كله، لتعذر الحركة على الألف، تقول: جاءني الفتى، ورأيت الفتى، ومررت بالفتى، فالفتى أولا مرفوع بضمة مقدرة على الألف، وثانيًا منصوب بفتحة مقدرة على الألف، وثالثًا مجرور بكسرة مقدرة على الألف.
والمنقوص: يقدر فيه الرفع والجر لثقل الضمة، والكسرة على الياء المكسور ما قبلها، ويظهر فيه النصب بالفتحة لخفتها، تقول: جاءني القاضي، ورأيت القاضي، ومررت بالقاضي، فالقاضي أولا مرفوع، وعلامة رفعه ضمة مقدرة على الياء، وثانيًا منصوب، وعلامة نصبه فتحة الياء، وثالثًا مجرور، وعلامة جره كسرة مقدرة على الياء. وعلى هذا يجري جميع المقصور والمنقوص في الكلام.
49 - وأي فعل آخر منه ألف
… أو واو أو ياء فمعتلا عرف
50 - فالألف أنو فيه غير الجزم
… وأبد نصب ما كيدعو يرمى
51 - والرفع فيهما انو واحذف جازما
… ثلاثهن تقض حكمًا لازما
الفعل المضارع كالاسم في كونه ينقسم إلى صحيح ومعتل، وهو ما آخره ألف كيخشى، أو ياء كيرمي، أو واو كيدعو.
فأما الصحيح فيظهر فيه الإعراب.
وأما المعتل: فإن كان بالألف لم يظهر فيه الرفع، والنصب، لتعذر الحركة على الألف، ويظهر فيه الجزم بحذف الألف، تقول في الرفع: هو يخشى، فعلامة الرفع فيه ضمة مقدرة على الألف، وفي النصب: لن يخشى، فعلامة النصب فيه فتحة مقدرة على الألف، وفي الجزم: لم يخش، فعلامة الجزم حذف الألف، أقاموا حذف الألف مقام السكون في الجزم، كما أقاموا ثبوتها ساكنة مقام الحركة.
মানকুস হলো সেই মু'রাব ইসম (পরিবর্তনশীল বিশেষ্য), যার শেষে একটি অপরিহার্য 'ইয়া' থাকে এবং তার পূর্বের বর্ণে কাসরা (জের) থাকে। যেমন: আল-কাদি, আল-দায়ি এবং আল-মুরতাকি।
'অপরিহার্য' বলার মাধ্যমে আমি 'যাইদাইনি' এবং 'আখিকা'-এর মতো শব্দগুলোকে বাদ দিয়েছি। আর 'কাসরা-র পরবর্তী হওয়া' বলার মাধ্যমে এমন শব্দগুলোকে বাদ দিয়েছি যার শেষের 'ইয়া' এর পূর্বের বর্ণ সাকিন (যজমযুক্ত), যেমন: 'নাহয়ুন' এবং 'দাবিউন'; কারণ এগুলো সহীহ (সুস্থ) শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, মু'রাব ইসম তিন ভাগে বিভক্ত: সহীহ, মাকসুর এবং মানকুস; এবং এদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন বিধান রয়েছে।
সহীহ শব্দে সমস্ত ইরাব (বিভক্তি চিহ্ন) প্রকাশ পায় এবং এতে ইরাবের কোনো কিছুই উহ্য থাকে না।
মাকসুর শব্দে সমস্ত ইরাব উহ্য থাকে, কারণ আলিফের ওপর হরকত (স্বরচিহ্ন) উচ্চারণ করা অসম্ভব। আপনি বলবেন: 'যুবকটি আমার কাছে এসেছে', 'আমি যুবকটিকে দেখেছি' এবং 'আমি যুবকটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি'। এখানে 'যুবক' শব্দটি প্রথমত আলিফের ওপর উহ্য দম্মা দ্বারা মারফু, দ্বিতীয়ত আলিফের ওপর উহ্য ফাতহা দ্বারা মানসুব এবং তৃতীয়ত আলিফের ওপর উহ্য কাসরা দ্বারা মাজরুর হয়েছে।
আর মানকুস শব্দে রাফা এবং জার উহ্য থাকে, কারণ কাসরা-যুক্ত বর্ণের পরের 'ইয়া'-র ওপর দম্মা ও কাসরা উচ্চারণ করা কষ্টকর। তবে হালকা হওয়ার কারণে এতে ফাতহা দ্বারা নাসাব প্রকাশ পায়। আপনি বলবেন: 'বিচারক আমার কাছে এসেছে', 'আমি বিচারককে দেখেছি' এবং 'আমি বিচারকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি'। এখানে 'বিচারক' শব্দটি প্রথমত মারফু এবং এর রাফার চিহ্ন হলো 'ইয়া'-র ওপর উহ্য দম্মা; দ্বিতীয়ত মানসুব এবং এর নাসাবের চিহ্ন হলো 'ইয়া'-র ওপর প্রকাশ্য ফাতহা; তৃতীয়ত মাজরুর এবং এর জারের চিহ্ন হলো 'ইয়া'-র ওপর উহ্য কাসরা। কথোপকথনে সমস্ত মাকসুর ও মানকুস শব্দ এভাবেই ব্যবহৃত হয়।
৪৯ - যে ক্রিয়ার শেষে আলিফ … অথবা ওয়াও অথবা ইয়া থাকে, তাকে মু'তাল হিসেবে গণ্য করা হয়।
৫০ - আলিফযুক্ত ক্রিয়ায় জজম ব্যতীত বাকি অবস্থায় ইরাব উহ্য ধরুন … আর 'ইয়াদ'উ' ও 'ইয়ারমী'-এর মতো শব্দগুলোতে নাসাব প্রকাশ করুন।
৫১ - এই উভয় প্রকার ক্রিয়ায় রাফাকে উহ্য ধরুন এবং জজমের অবস্থায় … তিনটি বর্ণকেই বিলুপ্ত করুন; এর মাধ্যমে আপনি একটি অপরিহার্য বিধান পালন করবেন।
ফে'ল মুজারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) ইসমের মতোই সহীহ এবং মু'তাল—এই দুই ভাগে বিভক্ত। মু'তাল হলো যার শেষে আলিফ থাকে যেমন 'ইয়াখশা', অথবা ইয়া থাকে যেমন 'ইয়ারমী', অথবা ওয়াও থাকে যেমন 'ইয়াদ'উ'।
সহীহ ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইরাব প্রকাশ পায়।
আর মু'তাল ক্রিয়ার ক্ষেত্রে: যদি সেটি আলিফ দ্বারা হয়, তবে আলিফের ওপর হরকত উচ্চারণ করা অসম্ভব হওয়ার কারণে তাতে রাফা ও নাসাব প্রকাশ পাবে না। তবে আলিফ বিলুপ্ত করার মাধ্যমে জজম প্রকাশ পাবে। রাফার ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: 'সে ভয় পায়'; এখানে রাফার চিহ্ন হলো আলিফের ওপর উহ্য দম্মা। নাসাবের ক্ষেত্রে: 'সে কখনোই ভয় পাবে না'; এখানে নাসাবের চিহ্ন হলো আলিফের ওপর উহ্য ফাতহা। আর জজমের ক্ষেত্রে: 'সে ভয় পায়নি'; এখানে জজমের চিহ্ন হলো আলিফ বিলুপ্ত হওয়া। তারা জজমের ক্ষেত্রে সুকুনের পরিবর্তে আলিফ বিলুপ্তিকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, যেমনিভাবে তারা সাকিন অবস্থায় আলিফের বিদ্যমান থাকাকে হরকতের স্থলাভিষিক্ত করেছেন।