(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح المنظومة البيقونية ليوسف جودة   (يوسف بن جودة الداودي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح المنظومة البيقونية

(مستلة من حولية كلية أصول الدين والدعوة بالمنوفية)

المؤلف: يوسف بن جودة يس يوسف الداودي

الناشر: دار الأندلس للطباعة - شبين الكوم، مصر

عدد الصفحات: 104

[الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 محرم 1438

ইউসুফ জুদাহ কর্তৃক মানজুমা আল-বাইকুনিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা   (ইউসুফ বিন জুদাহ আদ-দাউদি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: মানজুমা আল-বাইকুনিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা

(মানুফিয়ার কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন ওয়াদ দাওয়াহ-এর বার্ষিক সাময়িকী হতে সংকলিত)

লেখক: ইউসুফ বিন জুদাহ ইয়াসিন ইউসুফ আদ-দাউদি

প্রকাশক: দারুল আন্দালুস লিত-তিবাআহ - শিবিন আল-কুম, মিশর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪

[গ্রন্থটি মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ই মুহররম ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১)
جامعة الأزهر

كلية أصول الدين والدعوة الإسلامية بالمنوفية

شرح المنظومة البيقونية في علم مصطلح الحديث

الدكتور يوسف بن جودة يس الداودي

عضو هيئة التدريس جامعة طيبة المدينة المنورة

--------------------------------------------

مستلة من حولية كلية أصول الدين والدعوة بالمنوفية

العدد الرابع والثلاثون لعام 1436 هـ - 2015 م

والمودعة بدار الكتب تحت رقم 6157/ 2015

دار الأندلس للطباعة - أمام كلية الهندسة - عمارات الزراعيين - شبين الكوم ت: 0482222090
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়

মনোফিয়া উসুলুদ্দীন ও দাওয়াহ ইসলামিয়া অনুষদ

হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত মানজুমা আল-বায়কুনিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা

ড. ইউসুফ ইবনে জাওদাহ ইয়াস আদ-দাউদি

শিক্ষক পর্ষদের সদস্য, তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা

--------------------------------------------

মনোফিয়া উসুলুদ্দীন ও দাওয়াহ অনুষদের বার্ষিকী থেকে সংগৃহীত অংশ

৩৪তম সংখ্যা, ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ

দারুল কুতুব-এ ৬১৫৭/ ২০১৫ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত

দারুল আন্দালুস মুদ্রণালয় - ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সামনে - জিরায়ী (কৃষিবিদ) ভবনসমূহ - শিবিন আল-কম, ফোন: ০৪৮২২২২০৯০
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أّن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أَنَّ محمداً عبْدُهُ ورسولُهُ.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تسآءلون بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1]، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71].

 

أما بعد، فإنَّ أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة (1). الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي اسْتَخْلَصَ الْعُلَمَاءَ بِعِنَايَتِهِ وَجَمِيلِ لُطْفِهِ مِنْ غَيَاهِبِ الْجَهَالاتِ، وَجَعَلَهُمْ أُمَنَاءَ عَلَى خَلْقِهِ يَقُومُونَ بِحِفْظِ شَرِيعَتِهِ حَتَّى يُؤَدُّوا إلَى الْخَلْقِ تِلْكَ الأَمَانَاتِ، فَهُمْ مَصَابِيحُ الأَرْضِ وَخُلَفَاءُ الأَنْبِيَاءِ، يَسْتَغْفِرُ لَهُمْ كُلُّ شَيْءٍ حَتَّى الْحِيتَانُ فِي الْبَحْرِ، وَيُحِبُّهُمْ أَهْلُ السَّمَاءِ، فإنَّ مِن أَعْظَم الْمِنَن أَنْ يُوَفَّق العبد لمعرفة حديث خير البَريَّة

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في المسند، من حديث جابر بن عبدالله رضي الله عنه، طبعة مؤسسة الرسالة 1421 هـ، بيروت، ق: شعيب الأرنؤوط، (22/ 237)، برقم (14334)، وأخرجه ابن ماجه في السنن من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، كتاب الإيمان، بَابُ اجْتِنَابِ الْبِدَعِ وَالْجَدَلِ، طبعة دار إحياء الكتب، ق: محمد فؤاد عبد الباقي، (1/ 18)، برقم (46).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১], {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]।

 

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা (১)। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধান ও চমৎকার অনুগ্রহের মাধ্যমে আলেমগণকে অজ্ঞতার গহীন অন্ধকার থেকে চয়ন করেছেন এবং তাঁদেরকে তাঁর সৃষ্টির ওপর বিশ্বস্ত আমানতদার বানিয়েছেন, যাতে তাঁরা সৃষ্টির নিকট সেই আমানতসমূহ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর শরীয়ত সংরক্ষণ করেন। তাঁরাই হলেন জমিনের প্রদীপ এবং নবীগণের উত্তরসূরি। প্রতিটি বস্তু তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছও; এবং আসমানবাসীরা তাঁদের ভালোবাসেন। নিশ্চয়ই মহান নেয়ামতসমূহের অন্যতম হলো কোনো বান্দাকে সৃষ্টির সেরা মানবের হাদিস জানার তাওফিক দান করা...

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ তাঁর মুসনাদে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ ১৪২১ হি., বৈরুত, তাহকিক: শুআইব আল-আরনাউত, (২২/২৩৭), হাদিস নং (১৪৩৩৪)। ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ঈমান, বিদআত ও বিতর্ক পরিহার সংক্রান্ত অধ্যায়, দারু ইহয়ায়িল কুতুব সংস্করণ, তাহকিক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি, (১/১৮), হাদিস নং (৪৬)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
- صلى الله عليه وسلم، ويميز الصَّحيح من الضَّعيف، ليعبد الله عز وجل علي بصيرةٍ؛ وحتى لا يُحَدِّث بحديثٍ إلا وهو ثَابتٌ عن رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ولا يُحَدِّث بِكُلِّ ما يسمع، فإن ذلك قد يوقعه في الوعيد الذي ورد في صحيح مُسْلِمٍ: عَنِ الْمُغِيرَة بْنِ شُعْبَةَ رضي الله عنه، قَالَ قَالَ: رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَدَّثَ عَنِّي بِحَدِيثٍ يُرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ» (1).

 

فلا مِرْيَة أنَّ أَهْلَ الْحَدِيثِ هُم الرِّجال الذين نَدَبُوا أنفسهم للقيام بحق حديث رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم والدِّفاع عنه، قال سُفْيَانُ الثَّوْريّ: "الْمَلائِكَةُ حُرَّاسُ السَّمَاءِ، وَأَصْحَابُ الحَدِيثِ حُرَّاسُ الأَرْض" (2)، فقاموا بتأصيل علم الحديث، وتفريع فروعه، وكتبوا تلك القواعد والأصول في مُصَنَّفَات، ونَظَمُوا لها الْمَنْظُومَات فكان من أشهر تلك الْمَنْظُومات في علوم الحديث قصيدة غرامي صحيح في ألقاب الحديث لشهاب الدين أحمد بن فرج الأشْبِيليّ (ت: 699 هـ)، وألفية العراقي المسماة بـ: التَّبصرة والتَّذكرة في علوم الحديث، لأبي الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين (ت: 806 هـ)، وكذا ألفية الحديث، لعبد الرَّحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت: 911 هـ)، وغيرها من الْمَنْظُومات في علم الحديث.

 

وكان من أهم تلك الْمَنْظُومات المَنْظُومَة البَيْقُونِيَّة، لعمر - أو طه - بن محمد بن فتوح البَيْقُونِي الدِّمَشْقِيّ، كان حيًا سنة 1080 هـ، وتَبرُز أهميتها في مُنَاسَبَتِها للمبتدئين من طلاب العلم، فهي منظومة من بحر الرجز تقع في (34)

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه، المقدمة، بَابُ وُجُوبِ الرِّوَايَةِ عَنِ الثِّقَاتِ، طبعة دار إحياء التراث، بيروت، ق: محمد فؤاد عبد الباقي، (1/ 8).

(2) شرف أصحاب الحديث، أحمد بن علي الخطيب البغدادي (ت: 463 هـ)، دار إحياء السنة النَّبوية، أنقرة (ص 44).
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এবং সহিহ (الصحيح) কে দুর্বল (الضعيف) থেকে পৃথক করেন, যাতে তিনি চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে মহান আল্লাহর ইবাদত করতে পারেন; এবং যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদিস সাব্যস্ত (ثابت) হয় ততক্ষণ যেন তিনি তা বর্ণনা না করেন। আর তিনি যা শুনেন তার সবকিছুই যেন বর্ণনা না করেন, কারণ তা তাকে সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত সেই সতর্কবাণীর অন্তর্ভুক্ত করে দিতে পারে: মুগিরা ইবনে শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা মিথ্যা (كذب) বলে মনে করা হয়, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন» (১)।

 

নিঃসন্দেহে আহলে হাদিসগণই সেই ব্যক্তি যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের হক আদায় এবং তা রক্ষায় নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। সুফিয়ান আস-সাওরি বলেন: "ফেরেশতারা আকাশের প্রহরী আর আহলে হাদিসরা জমিনের প্রহরী" (২)। সুতরাং তারা হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন, এর শাখা-প্রশাখা বিন্যস্ত করেছেন এবং সেই সমস্ত নিয়ম ও উসুলসমূহ বিভিন্ন সংকলনে (مصنفات) লিপিবদ্ধ করেছেন। তারা এ বিষয়ের ওপর বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থ (منظومات) রচনা করেছেন। হাদিস শাস্ত্রের সেই প্রসিদ্ধ কাব্যগ্রন্থগুলোর (منظومات) মধ্যে অন্যতম হলো শিহাব উদ্দিন আহমদ বিন ফারাহ আল-ইশবিলি (মৃ: ৬৯৯ হি)-র হাদিসের পরিভাষাসমূহ (ألقاب) নিয়ে রচিত কবিতা 'গরামি সহিহ'; আবু ফজল জয়নুদ্দিন আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন (মৃ: ৮০৬ হি)-র হাদিস শাস্ত্রের ওপর আলফিয়্যাতুল ইরাকি যা 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ' নামে পরিচিত; এবং তেমনিভাবে আবদুর রহমান বিন আবু বকর জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃ: ৯১১ হি)-র রচিত 'আলফিয়্যাতুল হাদিস' এবং হাদিস শাস্ত্রের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো (منظومات)।

 

সেই সমস্ত কাব্যগ্রন্থগুলোর (منظومات) মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো 'মানজুমা আল-বাইকুনিয়্যাহ', যা উমর—বা ত্বহা—বিন মুহাম্মদ বিন ফুতুহ আল-বাইকুনি আদ-দিমাশকি কর্তৃক রচিত, যিনি ১০৮০ হিজরি সনে জীবিত ছিলেন। এর গুরুত্ব ফুটে ওঠে ইলম অন্বেষী নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এর উপযোগী হওয়ার মাধ্যমে। এটি বাহরে রাজায ছন্দে রচিত একটি কাব্য যা ৩৪টি (চরণ বিশিষ্ট)...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তার সহিহ-তে এটি বর্ণনা করেছেন, মুকাদ্দিমা, নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস বর্ণনার অপরিহার্যতা অধ্যায়, দারু ইহয়ায়িত তুরাস প্রকাশনী, বৈরুত, মুহাক্কিক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি, (১/৮)।

(২) শরাফু আসহাবিল হাদিস, আহমদ বিন আলী খতিব আল-বাগদাদি (মৃ: ৪৬৩ হি), দারু ইহয়ায়িস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, আঙ্কারা (পৃ. ৪৪)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بيتًا كما ذكر المؤلف ذلك في آخرها بقوله: "فَوْقَ الثَّلاثيَن بأرْبَعٍ أتَت … ْأقْسامُهَا ثمَّ بخيٍر خُتِمتْ". وذكر العلماء أن من سمة العالم الرَّبَّانِيّ أنَّه يُرَبِّي النَّاسَ بِصِغَارِ العِلْمِ قَبْلَ كِبَارِهِ (1)، فإنَّ النَّاسَ ليسوا على مستوى واحد من التَّيقُّظ والضَّبْط والحفظ، وليسوا كذلك في مستوى واحد من الاهتمام والتَّثَبت والدِّقَّة. فلابد من محقق وضابط وشارح لتلك الأصول بطريقة سهلةٍ مُيسَّرة، ولا يخفى أنَّ لكل عصر مفاهيم واعتبارات خاصة به فينبغي على الشارح أن يسلك أيسر السُّبل، ويختار أدق العبارات التي توصل الطالب لفهم تلك الأصول والمصطلحات الخاصة بأهل الحديث.

 

‌‌الدِّرَاسَات السَّابقة:

لقد حازت المَنْظُومَةُ البَيْقُونِيَّة عِنْدَ أهل الحديث أهميةً بالغة، إذ أنَّ لَهَا شُرُوحًا كثيرة، واعتنى بها عدد من الأفاضل المختصين بهذا الشأن بالشرح والضبط والتَّعليق، فكان من أشهر تلك الشروح على المَنْظُومَةِ البَيْقُونِيَّة:

1 - تلقيح الفكر بشرح منظومة الأثر، لأحمد بن محمد الحموي (ت 1098 هـ) (2).

2 - شرح منظومة البَيْقُوني، لمحمد بن أحمد البديري الدُّميَاطِي (ت 1140 هـ) (3).

--------------------------------------------

(1) ذكره البخاري في صحيحه، كتاب العلم، بَابٌ: العِلْمُ قَبْلَ القَوْلِ وَالعَمَلِ، طبعة دار طوق النجاة، محمد زهير بن ناصر الناصر، (1/ 24).

(2) هدية العارفين، لإسماعيل باشا الباباني البغدادي (5/ 300) طبعة إستانبول 1951 - 1955 م، وفهرس دار الكتب المصرية (1/ 184).

(3) فهرس الفهارس، لعبد الحي الكتاني (ت: 1382 هـ)، طبعة دار الغرب الإسلامي - بيروت 1982 م، (1/ 216 - 218)، ومنه بدار الكتب المصرية نسختان كما في فهرستها (1/ 257).
...টি পঙ্ক্তি (بيت), যেমনটি লেখক এর শেষে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: "ত্রিশের অধিক চারের সমন্বয়ে (অর্থাৎ চৌত্রিশটি পঙ্ক্তিতে) এটি এসেছে … এর প্রকারগুলো (أقسام), অতঃপর কল্যাণের সাথে এটি সমাপ্ত হলো।" আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, রব্বানি আলেমের একটি বৈশিষ্ট্য হলো তিনি মানুষকে বড় বড় জ্ঞানের পূর্বে ছোট ছোট জ্ঞান দিয়ে গড়ে তোলেন (১)। কেননা মানুষ সচেতনতা, নির্ভুলতা (ضبط) এবং মুখস্থবিদ্যার (حفظ) দিক থেকে এক স্তরের হয় না; তেমনি তারা গুরুত্বারোপ, যাচাই-বাছাই (تثبت) এবং সূক্ষ্মতার দিক থেকেও একই স্তরের নয়। তাই সহজ ও প্রাঞ্জল পদ্ধতিতে সেই মূলনীতিগুলো (أصول) বিশ্লেষণকারী, নির্ভুল বিন্যাসকারী (ضابط) ও ব্যাখ্যাদাতার প্রয়োজন রয়েছে। এটি অস্পষ্ট নয় যে, প্রতিটি যুগের নিজস্ব ধারণা ও বিবেচনা থাকে, তাই ব্যাখ্যাকারীর উচিত সহজতম পথ অবলম্বন করা এবং এমন সব সূক্ষ্ম বাক্য চয়ন করা যা শিক্ষার্থীকে হাদিস বিশারদগণের সেই মূলনীতি (أصول) ও বিশেষ পরিভাষাগুলো (مصطلحات) বুঝতে সহায়তা করবে।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

হাদিস বিশারদগণের নিকট 'মানজুমা আল-বাইকুনিইয়াহ' অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছে, কেননা এর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح) রয়েছে। এই বিষয়ের একদল বিশেষজ্ঞ গুণীজন এর ব্যাখ্যা, নির্ভুল বিন্যাস (ضبط) এবং টীকা প্রদানের (تعليق) মাধ্যমে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। মানজুমা আল-বাইকুনিইয়াহ-র সেই প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - তালকিহুল ফিকর বি-শারহি মানজুমাতিল আসার, আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হামাভী (মৃত্যু: ১০৯৮ হিজরি) রচিত (২)।

২ - শারহু মানজুমাতিল বাইকুনি, মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-বুদাইরি আদ-দুমইয়াতি (মৃত্যু: ১১৪০ হিজরি) রচিত (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান অর্জন, দারুত তাওকুন নাজাত সংস্করণ, মুহাম্মদ জুহাইর বিন নাসির আন-নাসির, (১/ ২৪)।

(২) হাদিয়াতুল আরিফিন, ইসমাইল পাশা আল-বাবানি আল-বাগদাদি (৫/ ৩০০), ইস্তাম্বুল সংস্করণ ১৯৫১ - ১৯৫৫ খ্রি., এবং ফিহরিসু দারিল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ (১/ ১৮৪)।

(৩) ফিহরিসুল ফাহারিস, আব্দুল হাই আল-কাত্তানি (মৃত্যু: ১৩৮২ হিজরি) রচিত, দারুল গারব আল-ইসলামি সংস্করণ - বৈরুত ১৯৮২ খ্রি., (১/ ২১৬ - ২১৮), এবং এর দুইটি পাণ্ডুলিপি মিশরের দারুল কুতুবে সংরক্ষিত আছে যেমনটি এর ক্যাটালগে (১/ ২৫৭) উল্লেখ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
3 - شرح المَنْظُومَةِ البَيْقُونِيَّة، لحسن بن غالي الأزهري الجداوي (ت 1202 هـ) (1).

4 - شرح المَنْظُومَةِ البَيْقُونِيَّة، لمحمد بن عبد الباقي الزّرقاني (ت 1122 هـ) (2).

5 - الكواكب النُّورانية على البَيْقُونِيَّة، لعبد الله بن علي الدمليجي (ت 1234 هـ) (3).

6 - لطائف منح المغيث في مصطلح البَيْقُونِي في الحديث، لمحمد بن عثمان الميرغني المكي الحنفي (ت 1268 هـ) (4).

7 - البهجة الوضية شرح متن البَيْقُونِيَّة، لمحمود بن محمد بن عبد الدائم الشهير بنشابة المتوفي سنة (1308 هـ)، طبع سنة (1328 هـ).

8 - الدرة البهية في شرح المنظومة البيقونية، شرح الشيخ محمد بدر الدين بن يوسف المدني الدمشقي المتوفي سنة (1354 هـ) منه نسخة في الخزانة العامة في الرباط (5).

9 - التَّقْرِيرَات السَّنية شرح المَنْظُومَة البَيْقُونِيَّة في مصطلح الحديث، لحسن بن محمد المشاط المالكي (ت: 1399 هـ)، طبع شرحه في جدة عام

--------------------------------------------

(1) هدية العارفين (5/ 300).

(2) المطبوع مع حاشية الشيخ عطية الأجهوري (ت: 1190 هـ)، طبعة دار الكتب العلمية 1425 هـ، بيروت، ق: صلاح محمد عويضة.

(3) الفهرس الشامل، طبعة مؤسسة آل البيت، (2/ 1320/حديث).

(4) الفهرس الشامل، طبعة مؤسسة آل البيت، (2/ 1335 - 1336/حديث).

(5) منها صورة في مكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية برقم (6439 ف).
3 - শারহু মানযুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ, হাসান বিন গালি আল-আযহারি আল-জিদাওয়ি (মৃত্যু ১২০২ হিজরি) রচিত (১)।

4 - শারহু মানযুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি আল-যারকানি (মৃত্যু ১১২২ হিজরি) রচিত (২)।

5 - আল-কাওয়াকিবু আন-নুরানিয়্যাহ আলাল বাইকুনিয়্যাহ, আব্দুল্লাহ বিন আলি আদ-দামলিজি (মৃত্যু ১২৩৪ হিজরি) রচিত (৩)।

6 - লাতায়েফু মানহিল মুগিস ফি মুসতালাহিল বাইকুনি ফিল হাদিস, মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-মিরগানি আল-মাক্কি আল-হানাফি (মৃত্যু ১২৬৮ হিজরি) রচিত (৪)।

7 - আল-বাহজাতুল ওয়াদিয়্যাহ শারহু মাতনিল বাইকুনিয়্যাহ, মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল দাইম—যিনি বিনশাবাহ নামে পরিচিত—রচিত, মৃত্যু বছর (১৩০৮ হিজরি), মুদ্রিত বছর (১৩২৮ হিজরি)।

8 - আদ-দুররাতুল বাহিয়্যাহ ফি শারহিল মানযুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ, শায়খ মুহাম্মাদ বদরুদ্দিন বিন ইউসুফ আল-মাদানি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১৩৫৪ হিজরি) রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ; রাবাতের আল-খাযানাতুল আম্মাহ-তে এর একটি অনুলিপি রয়েছে (৫)।

9 - আত-তাকরিরাতুস সানিয়্যাহ শারহুল মানযুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফি মুসতালাহিল হাদিস, হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-মাশশাত আল-মালিকি (মৃত্যু ১৩৯৯ হিজরি) রচিত, তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি জেদ্দায় মুদ্রিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(1) হাদিয়াতুল আরিফিন (৫/ ৩০০)।

(2) শায়খ আতিয়্যাহ আল-আঝুরি (মৃত্যু ১১৯০ হিজরি) এর পাদটীকা (حاشية) সহ মুদ্রিত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ প্রকাশনী ১৪২৫ হিজরি, বৈরুত, তত্ত্বাবধানে: সালাহ মুহাম্মাদ উইদাহ।

(3) আল-ফিহরাস আশ-শামিল, মুয়াসসাসাতু আলিল বাইত সংস্করণ, (২/ ১৩২০/হাদিস)।

(4) আল-ফিহরাস আশ-শামিল, মুয়াসসাসাতু আলিল বাইত সংস্করণ, (২/ ১৩৩৫ - ১৩৩৬/হাদিস)।

(5) ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে এর একটি অনুলিপি (৬৪৩৯ ফ) নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
1392 هـ، وطبع أيضاً في دار الكتاب العربي ببيروت عام 1417 هـ، وطبع طبعات أخرى غير هاتين الطبعتين.

10 - الثمرات الجنية شرح المَنْظُومَةِ البَيْقُونِيَّة، للشيخ عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين اعتنى به الشيخ سعد بن عبد الله السعدان، طبعته دار العاصمة للنشر والتوزيع في الرياض الطبعة الأولى سنة (1417 هـ).

11 - شرح المَنْظُومَةِ البَيْقُونِيَّة، للشيخ محمد بن صالح العثيمين (ت: 1421 هـ)، وطبع شرحه بالقاهرة عام 1415 هـ.

 

‌‌مشكلة الدِّرَاسَة:

إنَّ البُحوثَ التي عنيت بشرح المنْظُومَةِ البَيْقُونِيَّة وأعمل عُلمَاءُ المسلمين قرائحهم فيها على كثرتها وعظيم فائدتها وإثرائها للمكتبة الإسلامية إلا أنَّ بعضها كان كثير الإسهاب والإطناب في ذكر أقوال المحدثين، ومسائل الخلاف في علم المصطلح التي حيرت عقول أفذاذ العلماء، وكل ذلك يُقَدم في قالبٍ علمي قديم لا يعرفه إلا المتمرسين في هذا الفن، فقول لي بربك كيف يصلح هذا الإسهاب والتَّطويل لطالب العلم المبتدئ؟ ؛ ولهذا السبب بدا لنا من الضَّرُوري أن نتناول الموضوع من جديد، وأن نعالجه تبعًا لفهم طلاب العلم في هذا العصر، فإنَّ لكلِّ علمٍ باب يوصل إليه بأقصر سبيل، وأيسر طريق، وأوضح دليل.

هذا إلى جانب أنَّ هذه المنْظُومَة لم تستوعب جميع أنواع علوم الحديث، وربما ذَكر النَّاظم فيها أكثر من نوع تحت باب واحد دون استيعاب لبقية الأنواع التي تندرج تحت هذا الباب؛ وتأخير ما حقه التَّقديم وغير ذلك؛ لذا كان لزامًا علينا أن نقدم بعض الأنواع مثل: "الحديث الموقوف" فقد تم تقديم شرحه مع الحديث المرفوع والمقطوع لمناسبته للباب، كما نبهتُ إلى بعض النقص في
১৩৯২ হিজরি, এবং এটি ১৪১৭ হিজরিতে বৈরুতের দারুল কিতাব আল-আরাবি থেকেও প্রকাশিত হয়েছে, এবং এই দুটি সংস্করণ ছাড়াও আরও কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

১০ - আস-সামারাতুল জানিয়্যাহ শারহুল মানযুমাহ আল-বাইকুনিইয়্যাহ, শাইখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন কর্তৃক রচিত, এর তত্ত্বাবধান করেছেন শাইখ সা'দ বিন আবদুল্লাহ আস-সা'দান। এটি রিয়াদের দারুল আসিমাহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি থেকে ১৪১৭ হিজরিতে প্রথম সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

১১ - শারহুল মানযুমাহ আল-বাইকুনিইয়্যাহ, শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (মৃত্যু: ১৪২১ হিজরি) কর্তৃক রচিত। তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ১৪১৫ হিজরিতে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে।

 

‌‌গবেষণার সমস্যা:

মানযুমাহ আল-বাইকুনিইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যার প্রতি নিবেদিত গবেষণাসমূহ, যাতে মুসলিম উলামায়ে কিরাম তাদের মেধা ও মনন ব্যয় করেছেন, তার সংখ্যাধিক্য, সুমহান উপকারিতা এবং ইসলামি পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করা সত্ত্বেও সেগুলোর কোনো কোনোটি মুহাদ্দিসগণের উক্তি এবং পরিভাষা বিদ্যার (علم المصطلح) মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো বর্ণনায় অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিস্তারিত ছিল, যা অনেক বিজ্ঞ আলিমের বুদ্ধিবৃত্তিকে পর্যন্ত কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই উপস্থাপন করা হয়েছে এমন এক প্রাচীন তাত্ত্বিক কাঠামোতে যা কেবল এই শাস্ত্রে পারদর্শীগণই উপলব্ধি করতে সক্ষম। আল্লাহর শপথ করে বলুন, এই বিস্তৃতি ও দীর্ঘসূত্রতা একজন শিক্ষানবিশ তালিবে ইলমের জন্য কতটা উপযুক্ত হতে পারে? এই কারণেই আমাদের কাছে এটি জরুরি মনে হয়েছে যে, আমরা বিষয়টি নতুনভাবে উপস্থাপন করি এবং বর্তমান যুগের শিক্ষার্থীদের বোধগম্যতার আলোকে এটি পরিচালনা করি। কেননা প্রতিটি বিদ্যারই এমন একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে যার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ততম পন্থায়, সহজতম উপায়ে এবং স্পষ্টতম দলিলের সাহায্যে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব।

তদুপরি, এই মানযুমাহ-টি হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদগুলোর (علوم الحديث) সব কটি অন্তর্ভুক্ত করেনি। সম্ভবত কবি এতে একটি পরিচ্ছেদের অধীনে একাধিক প্রকার উল্লেখ করেছেন কিন্তু ওই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত বাকি প্রকারগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেননি; এবং যা অগ্রগণ্য ছিল তা পরে আনা হয়েছে ইত্যাদি। তাই আমাদের জন্য কিছু প্রকারকে আগে উপস্থাপন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যেমন: "মাওকুফ (الحديث الموقوف)" হাদিস; পরিচ্ছেদের সাথে সামঞ্জস্যের কারণে এর ব্যাখ্যা মারফু (الحديث المرفوع) এবং মাকতু (الحديث المقطوع) হাদিসের সাথে আগেই প্রদান করা হয়েছে। তেমনিভাবে আমি এতে বিদ্যমান কিছু অসম্পূর্ণতা সম্পর্কেও সতর্ক করেছি...
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
المنْظُومَة كما في تعريف حَدِّ "الحديث الضَّعيف"، بالإضافة إلى ذِكر بعض أنواع الحديث التي لم يذكرها النَّاظم ويحتاج إليها المبتدأ كمبحث "الحديث الحسن لغيره"، وما كان على شاكلته، ولم أستوعب جميع ما فات النَّاظم من الأنواع، لِعِلْمِى أنَّ ذلك لا يفيد الْمُبْتَدأ بل يَضُّرّه، فتركتها حتى لا يَمَلّ من ليس له دِرَاية؛ لأنَّ المقام ليس مقام بسط الأنواع، وإنما مقَام إعلام وشرح لينتفع به المبتدِئون، ومما سبق وبعد الوقوف على أشهر شروح المنْظُومَة، يُدْرك القارئ الواعي مدى إضافة هذا الشَّرح لطلبة العلم في هذا العصر إضافة ذات قيمة لا تقدر في هذا الباب، من حيث المنهج والأسلوب والتقسيمات والخرائط الذِّهنية، ولسوف يفيد منها المبتدئ سعةً، وعمقًا، وتَعلمًا - إن شاء الله تعالى-، ولا يستغني عنها المنتهي.

 

‌‌خطة البحث:

البحث ويشتمل على:

- المقدمة وفيها: أهمية الدِّراسة، وأسباب اختيار الموضوع، والدِّرَاسَات السابقة، مشكلة الدِّرَاسَة، وخطة الدِّراسة، ومنهج الدِّراسة.

- شرح المنْظُومَة البَيْقُونِيَّة وقد شمل تعريف أقسام الحديث:

- من حيث اعتبار القبول والرد.

وفيه الحديث الصحيح، والحسن، والحسن لغيره، والضعيف، والتمثيل لكل نوع.

- من حيث اعتبار من أُسْنِدَ إِليهِ.

وفيه تعريف المرفوع، والموقوف، والمقطوع، والتمثيل لكل نوع.

- من حيث اعتبار عدد طرق الحديث.

وفيه تعريف المشهور، والعزيز، والغريب، والتمثيل لكل نوع.
এই মানজুমা যেমনটি "দুর্বল (ضعيف)" হাদিসের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে করেছে, তদ্রূপ এতে হাদিসের এমন কিছু প্রকারও উল্লেখ করা হয়েছে যা রচয়িতা (নাজিম) উল্লেখ করেননি কিন্তু একজন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর জন্য তা প্রয়োজন; যেমন: "অন্যান্য সূত্রের কারণে উত্তম (حسن لغيره)" হাদিস সংক্রান্ত আলোচনা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। রচয়িতা যে প্রকারগুলো বাদ দিয়েছেন আমি তার সবগুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত করিনি, কারণ আমি জানি যে তা একজন নতুন শিক্ষার্থীর উপকারে আসার চেয়ে বরং বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই আমি সেগুলো এড়িয়ে গেছি যাতে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ধৈর্য না হারায়; কারণ এটি বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়, বরং এটি প্রাথমিক ধারণা প্রদান এবং ব্যাখ্যার স্থান যাতে নতুন শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। পূর্ববর্তী আলোচনা এবং এই মানজুমার প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো পর্যালোচনার পর সচেতন পাঠক উপলব্ধি করতে পারবেন যে, বর্তমান যুগের জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এই ব্যাখ্যাটি পদ্ধতি, শৈলী, বিন্যাস এবং মাইন্ড ম্যাপের দিক থেকে এই শাস্ত্রে কতটা মূল্যবান ও অমূল্য এক সংযোজন। ইনশাআল্লাহ তায়ালা, একজন নতুন শিক্ষার্থী এর মাধ্যমে ব্যাপকতা, গভীরতা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন এবং একজন উচ্চস্তরের বিদগ্ধ ব্যক্তিও এর প্রয়োজন থেকে মুক্ত নন।

 

‌‌গবেষণা পরিকল্পনা:

গবেষণাটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

- ভূমিকা, যার মধ্যে রয়েছে: গবেষণার গুরুত্ব, বিষয়টি নির্বাচনের কারণ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণার সমস্যাবলি, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণা পদ্ধতি।

- মানজুমা আল-বাইকুনিয়ার ব্যাখ্যা, যা হাদিসের প্রকারভেদগুলোর সংজ্ঞাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

- গ্রহণ ও বর্জনের বিবেচনার ভিত্তিতে।

এতে রয়েছে বিশুদ্ধ (صحيح), উত্তম (حسن), অন্যান্য সূত্রের কারণে উত্তম (حسن لغيره), এবং দুর্বল (ضعيف) হাদিস ও প্রতিটি প্রকারের উদাহরণ।

- যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তার বিবেচনার ভিত্তিতে।

এতে রয়েছে উন্নীত (مرفوع), স্থগিত (موقوف), এবং বিচ্ছিন্ন (مقطوع) হাদিসের সংজ্ঞা ও প্রতিটি প্রকারের উদাহরণ।

- হাদিসের সূত্রের সংখ্যার বিবেচনার ভিত্তিতে।

এতে রয়েছে প্রসিদ্ধ (مشهور), শক্তিশালী (عزيز), এবং বিরল (غريب) হাদিসের সংজ্ঞা ও প্রতিটি প্রকারের উদাহরণ।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
- ثم ذكر أنواع الحديث الضعيف.

وقد فُصِّل فيها أنواع الحديث الضعيف مثل المرسل، والمنقطع، والشاذ، والمعلل، والموضوع، وغير ذلك من الأنواع التي ذكرها النَّاظم.

- الخاتمة: وفيها أهم النتائج والتَّوصيات.

- ثبت المصادر والمراجع

- الفهارس العلمية:

فهرس الآيات القُرْآنِية.

فهرس الأَحَادِيثِ والآثَارِ المذكورة في الشَّواهد.

فهرس الْمُصْطلحات الْحَدِيثِية الوَارِدة في الدِّراسة.

فهرس الْمَوْضُوعَات

 

‌‌منهج الدِّرَاسَة

قد سَلكتُ في شرح هذه المنظومة المباركة سبيل من قال: "لا خَيرَ في حَشوِ الكَلامِ إِذا اهتَدَيتَ إِلى عُيونِه"؛ فجعلتُ الشَّرح بألخص عِبَارة، وأَيْسَر إشارة ليسهل تناوله، وبالإيجاز غير المخل، ولم أُطلْ النفس في التِّعريفات والمصطلحات مما لا طائل وراءه، فقسمت أنواع الحديث من حيث الاعتبارات إلى أقسام ثلاثة، ورسمت لها الخرائط الذهنية، ثم شرحت بالتَّحقيق كُلّ نوع من أنواع الحديث المذكورة في المنظومة، وبيان مراد النَّاظم منها، والتنبيه على ما يُشْكَل من المصطلحات كالمنقطع والمقطوع وغيرهما، وقد أفرغتُ جهدي في اختيار الأمثلة لتقع موقع البيان الشَّافي لمعنى حَد الحديث المذكور، وضربت الأمثلة لفروع تلك الأنواع، وأعقبت ذلك بتنبيهات في نهاية كل نوع، وفي كل هذا لم آل جهدًا في تيسير واختيار العبارات المناسبة في تعريف مصطلحات
- তারপর তিনি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের প্রকারভেদ আলোচনা করেছেন।

এতে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের বিভিন্ন প্রকারভেদ যেমন: মুরসাল (مرسل), মুনকাতি (منقطع), শায (شاذ), মুআল্লাল (معلل), মাওদু (موضوع) এবং নাজিম (কাব্যকার) কর্তৃক উল্লিখিত অন্যান্য প্রকারসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

- উপসংহার: এতে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

- উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা

- জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্টসমূহ:

কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

উদাহরণ হিসেবে উল্লিখিত হাদিস ও আসার (آثار) সমূহের নির্ঘণ্ট।

গবেষণায় ব্যবহৃত হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষাসমূহের (المصطلحات الحديثية) নির্ঘণ্ট।

বিষয়সূচি

 

‌‌গবেষণা পদ্ধতি

এই বরকতময় কাব্যগ্রন্থটির ব্যাখ্যায় আমি সেই ব্যক্তির পথ অনুসরণ করেছি যিনি বলেছেন: "যখন তুমি কথার মূল নির্যাস পেয়ে যাবে, তখন অনর্থক বাক্য বিস্তারে কোনো কল্যাণ নেই।" তাই আমি ব্যাখ্যাটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শব্দে ও সহজ ইশারায় সাজিয়েছি যাতে তা সহজে গ্রহণীয় হয়। আমি উদ্দেশ্যহীন সংজ্ঞা ও পরিভাষার বিস্তারিত বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রতা না করে সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ রূপ বজায় রেখেছি। আমি বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে হাদিসের প্রকারভেদগুলোকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছি এবং সেগুলোর জন্য মানসিক মানচিত্র (মাইন্ড ম্যাপ) তৈরি করেছি। এরপর কাব্যগ্রন্থে উল্লিখিত হাদিসের প্রতিটি প্রকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করেছি এবং তা দ্বারা নাজিমের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছি। সেই সাথে মুনকাতি (منقطع) ও মাকতু (مقطوع) এর মতো জটিল পরিভাষাসমূহের ব্যাপারে সতর্ক করেছি। প্রতিটি হাদিসের সংজ্ঞাকে স্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য সঠিক উদাহরণ চয়নে আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং সেই প্রকারগুলোর শাখা-প্রশাখার জন্যও উদাহরণ পেশ করেছি। প্রতিটি প্রকারের শেষে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা যুক্ত করেছি। পরিভাষাসমূহের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে উপযুক্ত শব্দ চয়ন এবং সহজীকরণে আমি কোনো চেষ্টার ত্রুটি করিনি।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الحديث، وبيان علاقات المصطلحات والمفردات بعضها ببعض؛ فإن خصائص كثير من الأشياء لا تظهر إلا بمعرفة العلاقات والفروق بينها.

فجاء هذا الجزء اليسير مُلِمًّا بغالب أنواع الحديث وتحريرها بأُسْلُوبٍ سَهْلٍ قَرِيب مِن المبتدأ، وقد جمعتُ فيه أَخْبَارًا نَيرات مع الشَّرح والتعليق مُسْتَندا بما حرَّره العلماء الفُحول، وحبَّره أئمة الحديث، وأَذْعَنَ له جمهُورهم بالتلقي والقبول، ومَقَالات أَهْلِ العلم والبَاحِثِين في هذا الشأن ممَّا وقفتُ عليه، جَامِعًا لأَشْتَاتِ ما تَفَرَّق في الدَّواوين، سَائِلاً الله العظيم بفضلهِ ومَنِّهِ أَنْ يَجْعَله خَالصًا لِوَجْهِهِ الكَرِيم، وأَنْ يَجْعَله مُفِيدًا دَومًا لطلاب عِلْمِ الحديث فِي مشارق الأرض ومغاربها، فإنَّهُ سُبْحَانه هو وَحْدَهُ القَادُرُ عَلَى ذَلِكَ، وهُو السَّميعُ العَلِيمُ.

 

‌‌عملي في تحقيق نص المنْظُومَة البَيْقُونِيَّة

قد أوليتُ المنْظُومَة البَيْقُونِيَّة عنايةً بالغةً بضبط نصها وتحقيقها على أفضل النسخ الخطية، فقابلتُ المتن على نسختين من نفائس النسخ الخطية عتيقةٍ ومتقنةٍ، وكذلك النسخ المطبوعة للشروح، ثم قمت بضبط أبيات المنْظُومَة ضبطًا جيدًا، وتصحيح التصحيف والسقط، وعلّقتُ على بعض المواطن التي تستوجب التعليق كي يزداد النفع، مما لا يخفى على من يراجع كتابنا هذا، وكانت نسخ متن المنْظُومَة التي اعتمدنها في هذا الشرح هي:
হাদিস এবং এর বিভিন্ন পরিভাষা ও শব্দাবলির পারস্পরিক সম্পর্কের বর্ণনা; কেননা অনেক বিষয়ের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে না যতক্ষণ না সেগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও পার্থক্য সম্পর্কে জানা যায়।

অতএব, এই সংক্ষিপ্ত অংশটি হাদিসের অধিকাংশ প্রকার (أنواع الحديث) এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে সংকলিত হয়েছে, যা শিক্ষানবিসদের জন্য সহজ ও নিকটবর্তী একটি পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে আমি ব্যাখ্যা ও টীকা সহকারে উজ্জ্বল কিছু বর্ণনা সংকলন করেছি, যা বিজ্ঞ আলেমদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত এবং হাদিসের ইমামগণের সুনিপুণ বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আর তাঁদের অধিকাংশ এই বিষয়গুলোকে গ্রহণ ও সমর্থনের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়েছেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেম ও গবেষকগণের যে সকল প্রবন্ধ আমার নজরে এসেছে, সেগুলোরও সহায়তা নিয়েছি। আমি কিতাবসমূহে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত তথ্যগুলোকে এতে একত্রিত করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দানশীলতার অসিলায় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমের সকল হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য একে সর্বদা উপকারী করে তোলেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এককভাবে এর সক্ষমতা রাখেন এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

 

‌‌মানজুমা আল-বাইকুনিয়ার পাঠ্য সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি

আমি মানজুমা আল-বাইকুনিয়ার পাঠ্য বিন্যাস এবং তা সর্বোত্তম পাণ্ডুলিপিসমূহের ভিত্তিতে সম্পাদনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছি। আমি এর মূলপাঠকে (متن) দুটি অত্যন্ত মূল্যবান, প্রাচীন ও নির্ভুল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি, সেই সঙ্গে এর বিভিন্ন ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থের মুদ্রিত সংস্করণগুলোর সাথেও তুলনা করেছি। অতঃপর আমি মানজুমার কবিতাগুলোর বিন্যাস যথাযথভাবে করেছি এবং এতে ঘটা শব্দগত পরিবর্তন (تصحيف) ও বাদ পড়া (سقط) অংশগুলো সংশোধন করেছি। উপকারিতা বৃদ্ধির লক্ষে আমি এমন কিছু স্থানে টীকা যুক্ত করেছি যা টীকা প্রদানের দাবি রাখে, যা এই কিতাবটি পাঠকারীর কাছে অস্পষ্ট থাকবে না। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে মানজুমার মূলপাঠের যে কপিগুলোর ওপর আমি নির্ভর করেছি, সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
1 - مخطوطة متن المنْظُومَة البَيْقُونِيَّة المحفوظة في بدار الكتب المصرية تحت رقم: (180) مصطلح الحديث، تاريخ النسخ: 1232 هـ، اسم الناسخ: محمد حسن أبو بكر، عدد الأوراق: (4 ق)، المقاس: (17 X 24)، وهي نسخة قيمة وموثقة، ورمزتُ لها بالرمز (أ)، وهذا هو الوجه الأول منها:

(صورة مخطوط)
1 - মিসরের ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’-তে ১৮০ নম্বর ক্রমিকের অধীনে সংরক্ষিত ‘মানজুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ’-এর মূল পাঠের (متن) পাণ্ডুলিপি, বিষয়: হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث); প্রতিলিপি তৈরির তারিখ: ১২৩২ হিজরি; লিপিকারের নাম: মুহাম্মদ হাসান আবু বকর; পৃষ্ঠা সংখ্যা: (৪টি পাতা); পরিমাপ: (১৭ x ২৪); এটি একটি মূল্যবান ও নির্ভরযোগ্য (موثقة) অনুলিপি এবং আমি এটিকে (أ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি; এটি এর প্রথম পৃষ্ঠা:

(পাণ্ডুলিপির চিত্র)
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
2 - مخطوطة متن المنْظُومَة البَيْقُونِيَّة المحفوظة في بدار الكتب المصرية تحت رقم: (179) مصطلح الحديث، تاريخ النسخ: لم يعرف، اسم الناسخ: لم يعرف، عدد الأوراق: (2 ق)، المقاس: (15 X 20)، وهي نسخة واضحة الخط، ورمزتُ لها بالرمز (ب)، وهذا هو الوجه الأول منها.

(صورة مخطوط)
২ - মিসরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে (১৭৯) হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত ‘মাতন আল-মানজুমা আল-বাইকুনিয়া’-এর পাণ্ডুলিপি। অনুলিপির তারিখ: অজ্ঞাত, অনুলিপিকারীর নাম: অজ্ঞাত, পত্র সংখ্যা: (২টি পাতা), পরিমাপ: (১৫ x ২০); এটি স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত একটি অনুলিপি এবং আমি একে (ب) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি এর প্রথম পৃষ্ঠা।

(পাণ্ডুলিপির ছবি)
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌ترجمة النَّاظم

الْمُتأَمِّلُ الْمُنْصِفُ يجد أَنَّ البَيْقُونِي رحمه الله على الرغم من أنَّه لم يكن مشهورًا بين النَّاس، ولا يُعْرَف له ترجمة عن حياته وشيوخه وتلاميذه ونحو ذلك - كما أفاد ذلك جمع من الشُّرَاح ممن هو قريب العهد بالنَّاظم (1) - ولا يُعْلَم له مؤلفات إلا هذه المنظومة، نَشَراللهُ عِلْمَهُ بين النَّاس واستفاد منه الكبير والصغير والقاصي والداني؛ فإنَّه بذلك أشبه السلف رضوان الله عليهم قَدَرًا؛ فإنَّ أَئِمَّةَ السَّلفِ رضوان الله عليهم كانوا أكثر علمًا وأقلّ كلامًا، وأكبر نفعًا، قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ رَجَبٍ رحمه الله: "وانظر إلى أَكَابِر الصَّحابة وعُلَمَائِهِم كأَبِي بَكْرٍ، وعُمَرَ، ومُعَاذٍ، وابْنِ مَسْعُودٍ، وزَيدِ بنِ ثَابِتٍ رضي الله عنهم كيف كَانَ كلامهم أَقلّ من كَلامِ ابنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه وهُم أَعْلمُ منه، كذلك كلام التَّابعين أكثر من الصَّحابة والصَّحابة أعلم منهم؛ فليس العِلم بكثرة الرِّواية ولا بكثرةِ المقال؛ ولَكِنَّهُ نُور يقْذِفُه اللهُ في قَلْبِ العبد المؤمن فَيَفْهَم بهِ الْحَقَّ، ويُمَيِّز به بَيْنَهُ وبَيْنَ البَاطل، ويُعبر عَنْ ذَلك بِعِبَاراتٍ وَجِيزةٍ مُحَصلة للمقَاصِد" (2). رَزَقَنَا اللهُ حُبَّهُم، وجَعَلنا من حِزبهم، ومَلأ قُلُوبَنَا من مَعَارِفِهم وعُلُومِهم.

 

‌‌اسم النَّاظم: كما في مخطوطات المنْظُومَة البَيْقُونِيَّة، عمر - أو طه - بن محمد بن فتوح البَيْقُونِي الدِّمَشْقِيّ، وأَنَّه توفي سنة 1080 هجرية، أو كان حياً قبل ذلك

--------------------------------------------

(1) قال الحموي (ت: 1098 هـ) في شرحه تلقيح الفكر بشرح منظومة الأثر: (ولم أقف للنَّاظم رحمه الله تعالى على ترجمة يعلم منها اسمه وحاله ولا أدري ما هذه النسبة هل هي لبلدة أو قرية أو أب أو جد"، الشرح مخطوطة منها صورة في مكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

(2) فضل علم السلف على الخلف، لعبد الرحمن بن رجب الحنبلي (ت: 795 هـ)، (ص 5).
গ্রন্থকারের জীবনী

একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক দেখতে পাবেন যে, ইমাম বাইকুনি (رحمه الله) মানুষের মাঝে খুব একটা প্রসিদ্ধ না থাকা সত্ত্বেও এবং তাঁর জীবন, শিক্ষকগণ, ছাত্রবৃন্দ এবং এই জাতীয় কোনো জীবনী সম্পর্কে জানা না থাকা সত্ত্বেও - যেমনটি গ্রন্থকারের সমসাময়িক একদল ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন (১) - এবং এই কাব্যগ্রন্থটি ছাড়া তাঁর আর কোনো রচনার কথা জানা না থাকা সত্ত্বেও, আল্লাহ তাআলা তাঁর জ্ঞান মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে ছোট-বড় ও কাছে-দূরের সকলেই উপকৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মর্যাদার দিক থেকে সালাফ (পূর্বসূরিদের) সদৃশ হয়েছেন; কেননা সালাফ ইমামগণ জ্ঞানের দিক থেকে ছিলেন অধিক সমৃদ্ধ, কিন্তু কথার দিক থেকে ছিলেন পরিমিত এবং উপকারের দিক থেকে ছিলেন সুমহান। হাফেজ ইবনে রজব (رحمه الله) বলেন: "আপনি প্রবীণ সাহাবী এবং তাঁদের মধ্যকার আলেমদের দিকে লক্ষ্য করুন, যেমন- আবু বকর, উমর, মুয়াজ, ইবনে মাসউদ এবং জায়েদ বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহুম); তাঁদের কথা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথার চেয়ে কত কম ছিল, অথচ তাঁরা তাঁর চেয়েও বেশি জ্ঞানী ছিলেন। একইভাবে তাবেয়ীদের কথা সাহাবীদের চেয়ে বেশি ছিল, অথচ সাহাবীগণ তাঁদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। সুতরাং জ্ঞান কেবল বর্ণনার (رواية) আধিক্য বা কথা বাড়নোর নাম নয়; বরং এটি হলো একটি নূর (জ্যোতি) যা আল্লাহ মুমিন বান্দার অন্তরে ঢেলে দেন, যার মাধ্যমে সে সত্য অনুধাবন করে এবং সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। আর তিনি সেটাকে উদ্দেশ্য পূরণকারী সংক্ষিপ্ত বাক্যে প্রকাশ করেন" (২)। আল্লাহ আমাদের তাঁদের ভালোবাসা নসিব করুন, আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাদের অন্তরকে তাঁদের পরিচিতি ও ইলম দ্বারা পূর্ণ করে দিন।

 

গ্রন্থকারের নাম: মানজুমা আল-বাইকুনিয়া-এর পাণ্ডুলিপিসমূহে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি হলেন উমর - অথবা ত্বহা - বিন মুহাম্মদ বিন ফাতুহ আল-বাইকুনি আদ-দিমাশকি। তিনি ১০৮০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন অথবা তার পূর্বে জীবিত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-হামাউয়ি (মৃ: ১০৯৮ হি.) তাঁর 'তালকিহুল ফিকর বি-শরহি মানজুমাতিল আসার' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: "আমি গ্রন্থকারের (رحمه الله) এমন কোনো জীবনী পাইনি যার মাধ্যমে তাঁর নাম ও অবস্থা জানা যায়। এমনকি আমি জানি না যে এই নিসবত (সম্বন্ধ) কোনো শহর, গ্রাম, পিতা নাকি দাদার দিকে করা হয়েছে।" পাণ্ডুলিপিকৃত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি কপি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

(২) ফাদলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ, আবদুর রহমান বিন রজব আল-হাম্বলি (মৃ: ৭৯৫ হি.), (পৃষ্ঠা ৫)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
العام من غير أن يُعرف تاريخ وفاته على وجه التحديد. وأما النسبة "البَيْقُونِي"، فقد قال الشيخ بدر الدين الحسني (ت: 1354 هـ) في آخر صفحة من شرحه المسمى بـ (الدرر البهية) ما نصه: " … [البيقوني] توقَّف في هذه النسبة غالب من كتب هنا، ورأيت لبعضهم أنها إلى بيقون قرية في إقليم أذربيجان بقرب الأكراد". وأما "الدِّمَشْقِيّ"، فقد يكون أصله من أذربيجان لكنَّه هو أو آباؤه وأجداده ممن سكن دمشق فَنُسِبَ إليها.
সাধারণভাবে তার মৃত্যুর সঠিক তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। আর 'আল-বায়কুনি' সম্বন্ধের (النسبة) বিষয়ে শায়খ বদরউদ্দীন আল-হাসানি (মৃত্যু: ১৩৫৪ হিজরি) তার ‘আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ’ নামক ব্যাখ্যার শেষ পৃষ্ঠায় যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: " … [আল-বায়কুনি] এই সম্বন্ধের (النسبة) বিষয়ে এখানে যারা লিখেছেন তাদের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই সিদ্ধান্তহীনতা (توقف) প্রকাশ করেছেন, এবং আমি কারো কারো লেখায় পেয়েছি যে এটি আজারবাইজান অঞ্চলের কুর্দিদের নিকটবর্তী 'বায়কুন' নামক একটি গ্রামের সাথে সম্পর্কিত।" আর 'আদ-দিমাশকি' পরিচয়ের ব্যাপারে বলা যায়, হতে পারে তার আদি উৎস আজারবাইজান ছিল, কিন্তু তিনি অথবা তার পিতা-পিতামহগণ দামেস্কে বসবাসকারী ছিলেন বিধায় তাকে সেই অঞ্চলের দিকে সম্বন্ধিত (نسبة) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

شَرحُ الْمَنْظُومَةِ البَيْقُونِيَّةِ

1 - أبدأُ بالحمدِ مُصَلِّيًا عَلَى … مُحَمَّدٍ خَيْرِ نبيٍّ أُرْسِلا

2 - وذِي من أقْسَامِ الحَدِيثِ عِدَّهْ … وَكُلُّ واحدٍ أَتَى وحدَّه

 

قَالَ النَّاظمُ رحمه الله: … أَبدأُ مَنْظُومَتِى بِالْحَمْد لله تَعَالَى اقْتِدَاءً بِالْكتابِ الْعَزِيز، مُصَلِّيًا أَي: أُصَلِّي فَهِيَ حَال للتَعْبِير عَلَى دَوَامِ الصَّلاة عليه صلى الله عليه وسلم، [وَمُسَّلمًا] عَلَى سيدنَا مُحَمَّد خير نَبِي أُرْسِلا أَي: أنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم هو خَير من أُرْسِلَ للخَلقِ، واستخدم النَّاظم في أُرْسِلا ألف الإطلاق للدَّلالة على أنَّه أفضل من أُرْسِل، وذِي اسم إشارة إلى الْمَنْظُومَةِ وما تَحويهِ مِنْ أَقْسامِ الحديث، وعبر النَّاظمُ بـ مِنْ للتبعيض لأنَّه لم يَذكُر مِنْ أنواع الحديث إلا اثنتين وثلاثين نَوعًا؛ في حين أن ابن الصَّلاح ذَكَرَ بضعة وستين نَوعًا، قَولُهُ: عِدَّه أي أَنَّ هذه الأنواع كثيرة جدًا، والتَّحقيق أَنَّ كُلَّ هذه الأنواع تدخل تحت ثلاثة أقسام الصَّحيح والحسن والضعيف، وَكُلُّ واحدٍ أَتَى وحدَّه: بِالدَّال الْمُشَدّدَة الْمَفْتُوحَة أي كُلّ نوع مِنْ هذه الأنواع يأتي في هذا النَّظم مع تعريفه الاصطلاحي الجامع المانع الذي يُمَيِّزُهُ عن غيره، وأصل التقسيم في مُصْطَلحِ الحديث يكون من ثلاث جهات:

1 - من حيث اعتبار القبول والرد.

2 - من حيث اعتبار من أُسْنِدَ إِليهِ.

3 - من حيث اعتبار عدد طرق الحديث.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শারহুল মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ (আল-বাইকুনিয়্যাহ কাব্যের ব্যাখ্যা)

1 - আমি আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করছি এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করছি, যিনি প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

2 - এটি হাদিসের প্রকারভেদ (أقسام الحديث) সম্বলিত, যার সংখ্যা অনেক; এবং এর প্রতিটি প্রকারই তার নির্দিষ্ট সংজ্ঞাসহ উপস্থাপিত হয়েছে।

 

গ্রন্থকার (নাজিম) রহিমাহুল্লাহ বলেন: আমি আল-কুরআনুল কারিমের অনুসরণ করে মহান আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে আমার কাব্যটি শুরু করছি। 'মুসাল্লিয়ান' (সালাত পাঠরত অবস্থায়) অর্থাৎ আমি সালাত পাঠ করছি; যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর সালাত বা দরুদ অব্যাহত রাখার অভিব্যক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর সালাম পেশ করছি, যিনি সৃষ্টির প্রতি প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। গ্রন্থকার 'উর্সিলা' শব্দে আলিফ আল-ইতলাক ব্যবহার করেছেন এটি বুঝাতে যে, তিনি প্রেরিতদের মধ্যে সর্বোত্তম। 'যী' হলো একটি নির্দেশক শব্দ যা এই কাব্য এবং এতে বিদ্যমান হাদিসের প্রকারভেদ (أقسام الحديث)-এর দিকে নির্দেশ করছে। গ্রন্থকার এখানে 'মিন' অব্যয়টি আংশিকত্ব বুঝাতে ব্যবহার করেছেন, কারণ তিনি হাদিসের প্রকারগুলোর মধ্যে মাত্র বত্রিশটি প্রকার উল্লেখ করেছেন; অথচ ইবনে আস-সালাহ ষাটেরও বেশি প্রকার উল্লেখ করেছেন। তাঁর উক্তি 'ইদ্দাহ' এর অর্থ হলো—এই প্রকারগুলো সংখ্যায় অনেক। তবে গবেষণালব্ধ সঠিক মত হলো, এই সকল প্রকার মূলত তিনটি বিভাগের অধীনে অন্তর্ভুক্ত: সহীহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং যঈফ (ضعيف)। 'ওয়াকুল্লু ওয়াহিদিন আতা ওয়া হাদ্দাহ': এখানে দাল বর্ণে তাশদীদ ও ফাতহা যোগে এর অর্থ হলো—এই প্রকারগুলোর প্রতিটিই এই কাব্যে তার এমন সুসংহত পারিভাষিক সংজ্ঞা (تعريف اصطلاحي) সহ বর্ণিত হয়েছে যা তাকে অন্য প্রকার থেকে পৃথক করে। মূলত হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث)-এ হাদিসের শ্রেণিবিভাগ তিনটি প্রেক্ষিত থেকে হয়ে থাকে:

1 - গ্রহণ ও বর্জনের (القبول والرد) বিবেচনায়।

2 - যাঁর প্রতি হাদিসটি সম্বন্ধযুক্ত (من أُسْنِدَ إِليهِ) করা হয়েছে তাঁর বিবেচনায়।

3 - হাদিসের সূত্রের সংখ্যার (عدد طرق الحديث) বিবেচনায়।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وموضوع علم الحديث معرفة الرَّاوي (الإسناد)، والمروي (المتن) من حيث القبول والردّ، وإليك هذه الخريطة الذِّهنية لِغَالب أَقْسَام الحديث؛ حتى يكون عندك تصور إجمالي لها.

 

خريطة ذهنية لأقسام الحديث

 

‌‌الحدِيثُ الصَّحِيحُ:

ثم بعد أبيات المقدمة فِي الْمَنْظُومَة بَدأَ النَّاظمُ رحمه الله بأَوْلِ أَقْسَام عُلُومِ الحديث وهي من حيث اعتبار القبول والرد؛ فبدأ بالحديث الصَّحيح، وما يُمَيِّزُهُ عن غيره فقال:

3 - أوَّلُها الصَّحِيحُ وَهْوَ مَا اتَّصل … إسْنَادُهُ وَلَمْ يَشُذَّ أَوْ يُعَلْ

4 - يَرْوِيهِ عَدْلٌ ضَابِطٌ عَنْ مِثْلِه … مُعْتَمَدٌ فِي ضَبْطِهِ وَنَقْلِه

 

أوَّلُها: أي أول أقسام الحديث، الصَّحِيحُ: في اللُّغةِ ضد المريض، وفي الاصطلاح عَرَّفه النَّاظمُ رحمه الله بشروطه وأوصافه، وهَذَا نَوْعٌ مِن أَنْواعِ تعريف الحد الاصطلاحي، أَنْ يُذكر التَّعريف بِذِكر الشُّروط، ويكون التَّعريف بالمثال أحيانًا، وكذا قد يكون التَّعريف بالماهية أَحيانًا، قَولُهُ: وَهْوَ أي حَدُّ الحديث الصَّحِيح، مَا اتَّصل إسْنَادُهُ: أي الشرط الأول: الاتصال في السند، وتعريف الإسناد: هُوَ حكاية طَرِيق الْمَتْن، أي سلسلة الرَّواة الذين رَوُوا متن
হাদিস শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো গ্রহণ ও বর্জনের (القبول والرد) দিক থেকে বর্ণনাকারী (الراوي) বা সনদ (الإسناد) এবং বর্ণিত বিষয় বা মতন (المتن) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আপনার জন্য অধিকাংশ হাদিসের প্রকারভেদের একটি মানসিক মানচিত্র এখানে দেওয়া হলো; যাতে এ বিষয়ে আপনার একটি সামগ্রিক ধারণা সৃষ্টি হয়।

 

হাদিসের প্রকারভেদের মানসিক মানচিত্র

 

‌সহিহ (الصحيح) হাদিস:

অতঃপর কাব্যগ্রন্থের ভূমিকার পঙক্তিগুলোর পর রচয়িতা (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিস বিজ্ঞানের প্রথম প্রকার থেকে আলোচনা শুরু করেছেন, যা গ্রহণ ও বর্জনের বিবেচনার দিক থেকে; তিনি সহিহ (الصحيহ) হাদিস দিয়ে শুরু করেছেন এবং অন্যান্য হাদিস থেকে এর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেছেন:

3 - এগুলোর প্রথমটি হলো সহিহ (الصحيح), আর তা হলো যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং তা শায (شاذ) নয় কিংবা ত্রুটিযুক্ত (معلول) নয়।

4 - এটি এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী তার অনুরূপ ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করেন, যার স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (ضبط) এবং বর্ণনার (نقل) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা স্বীকৃত।

 

"এগুলোর প্রথমটি": অর্থাৎ হাদিসের প্রকারগুলোর মধ্যে প্রথমটি। "সহিহ" (الصحيح): শাব্দিক অর্থে এটি রুগ্ন বা অসুস্থের বিপরীত। আর পারিভাষিক (الاصطلاح) অর্থে রচয়িতা (রাহিমাহুল্লাহ) এর শর্তাবলি ও গুণাবলির মাধ্যমে এর সংজ্ঞা দিয়েছেন। এটি পারিভাষিক সংজ্ঞা (الحد الاصطلاحي) প্রদানের একটি পদ্ধতি যে, শর্তাবলি উল্লেখ করে সংজ্ঞা প্রদান করা। কখনও সংজ্ঞা উদাহরণের মাধ্যমে হয়, আবার কখনও কখনও সংজ্ঞা সত্তাগত (الماهية) বর্ণনার মাধ্যমে হয়ে থাকে। তাঁর কথা: "আর তা হলো" অর্থাৎ সহিহ (الصحيح) হাদিসের সংজ্ঞা, "যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন" (ما اتصل إسناده): অর্থাৎ প্রথম শর্ত হলো সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال)। আর সনদের (الإسناد) সংজ্ঞা হলো: এটি মতন (المتن) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথের বর্ণনা, অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের সেই ধারাবাহিকতা যারা মতন (المتن) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الحديث، وأما الاتصال في السند يَعنِي: أَنْ يروي كُلُّ رجل في الإسناد عن شيخه الذي فوقه من غير واسطة بينهما من أول السند إلى منتهاه.

 

خريطة ذهنية لأقسام الحديث من حيثُ اعتبار القبول والرد

 

قَالَ النَّاظمُ: وَلَمْ يَشُذَّ، يَصِحُ أَنْ تقول: "يَشُذّ أو يَشِذّ"، أي الشرط الثاني: سَلامَةُ الحديثِ من الشُّذُوذ وهو عند أَهْلِ اللغة: الإنفراد، وقال بعضهم إنَّ الشُّذُوذ هو الْمُخَالَفة، والشُّذُوذ في الاصطلاح: هو ما رواه الثقة مُخَالفًا لمن هو أَوثَقُ منه، أو مُخَالفًا لجماعةٍ من الثِّقَات، قَوْلُهُ: أَوْ يُعَلْ أي الشرط الثالث: سَلامَةُ الحديثِ مِنَ العِلَّةِ وهي عند أَهْلِ اللغة: المرض، والعِلَّةُ في الاصطلاح: هي سَبَبٌ غَامِضٌ خَفيٌّ يَقْدحُ في صِحَّةِ الحديث، مع أنَّ الظاهر السَّلامة منه، وبين العِلَّةِ والشُّذُوذ عُمُوم وخُصُوص مُطلق، فَكُلّ شُذُوذ عِلَة، وليس كُلُّ عِلّة شُذُوذًا، وكُلٌّ مِنَ الشُّذُوذ والعِلَّة نَاتِج عن خطأ الرَّاوي في حديثه؛ ولكن قد خص بعض أهل الحديث - على المشهور- الشُّذُوذ بالخطأ الذي يُسْتَدل به على تفرد الرَّاوي، والعِلَّة بالخطأ الذي يُسْتَدل به على الاختلاف بين الرواة، ولا يُدْرِك العِلَّة إِلا خَواص الْمُحَدِّثين.

 

قَوْلُه: يَرْوِيهِ عَدْلٌ: أي الشرط الرابع: أَنْ يكونَ رُواته عُدُولاً، والعَدَالةُ: حَدَّها العلماءُ بشروط: الْمُسلم الْمُكَلف السَّالِم من الْفسق وصغائر الخسة، وأكثر أحواله طاعة الله.
হাদিস, আর সনদের অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال) বলতে বোঝায়: সনদের (الإسناد) প্রতিটি স্তরের বর্ণনাকারী তার উপরের শাইখের কাছ থেকে কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই হাদিসটি বর্ণনা করবেন, যা সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন হবে।

 

গ্রহণযোগ্যতা এবং বর্জনের বিচারে হাদিসের প্রকারভেদের একটি মানসিক মানচিত্র

 

কাব্য রচয়িতা বলেছেন: "ওয়াল্লাম ইয়াশুজ্জ", আপনি "ইয়াশুজ্জু" বা "ইয়াশিজ্জু" উভয়ভাবেই বলতে পারেন; অর্থাৎ দ্বিতীয় শর্তটি হলো: হাদিসটি শায বা বিচ্ছিন্নতা (الشذوذ) থেকে মুক্ত হওয়া। ভাষাবিদদের মতে এর অর্থ হলো: একক হওয়া (الانفراد), আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, শায (الشذوذ) এর অর্থ হলো বিরোধিতা করা (المخالفة)। পারিভাষিক অর্থে শায (الشذوذ) হলো: কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী যখন তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق) কারো বিরোধিতা করে অথবা একদল নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করে হাদিস বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য: "আও ইউআল", অর্থাৎ তৃতীয় শর্তটি হলো: হাদিসটি ত্রুটি (العلة) থেকে মুক্ত হওয়া। ভাষাবিদদের মতে এর অর্থ হলো: রোগ (المرض)। পারিভাষিক অর্থে ইল্লত বা ত্রুটি (العلة) হলো: এমন একটি অস্পষ্ট (غامض) ও সূক্ষ্ম (خفي) কারণ যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষতিগ্রস্ত করে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত মনে হয়। ইল্লত (العلة) এবং শায (الشذوذ) এর মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের (عموم وخصوص مطلق) সম্পর্ক বিদ্যমান; ফলে প্রতিটি শায (شذوذ)-ই একটি ইল্লত (علة), কিন্তু প্রতিটি ইল্লত (علة) শায (شذوذ) নয়। শায (الشذوذ) এবং ইল্লত (العلة) উভয়টিই বর্ণনাকারীর (الراوي) ভুলের কারণে সৃষ্টি হয়; তবে প্রসিদ্ধ মতে কতিপয় হাদিস বিশারদ শায (الشذوذ) শব্দটিকে এমন ভুলের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা দ্বারা বর্ণনাকারীর একক হওয়া (تفرد) প্রমাণিত হয়, আর ইল্লত (العلة) শব্দটিকে এমন ভুলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যা দ্বারা বর্ণনাকারীদের মধ্যকার মতভেদ (الاختلاف) স্পষ্ট হয়। আর বিশেষজ্ঞ হাদিস বিশারদগণ (المحدثين) ব্যতীত অন্য কেউ ইল্লত (العلة) অনুধাবন করতে পারেন না।

 

তাঁর বক্তব্য: "ইয়ারউইহি আদলুন", অর্থাৎ চতুর্থ শর্ত হলো: বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণ (عدول) হওয়া। আলেমগণ ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) সংজ্ঞায় কিছু শর্ত প্রদান করেছেন: বর্ণনাকারীকে মুসলিম হতে হবে, বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক (مكلف) হতে হবে, পাপাচার (الفسق) ও মর্যাদাহানিকর হীন কাজ থেকে মুক্ত থাকতে হবে এবং তার অধিকাংশ অবস্থা আল্লাহর আনুগত্যের ওপর হতে হবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ضَابِطٌ: أي الشرط الخامس: أي يجب أَنْ يكون رواة الحديث ضابِطينَ، وهو نوعان:

1 - ضَبطُ صَدْر: وَهُوَ أَن يثبت مَا سَمعه بِحَيْثُ يتَمَكَّن من استحضاره مَتى شَاءَ.

2 - ضَبطُ كِتَاب: وَهُوَ صيانته عِنْده من يَوْم سمع مَا فِيهِ وَصَححهُ إلى أَن يُؤَدِّي مِنْهُ.

قَوْلُهُ: عَنْ مِثْلِه أي يجب أَنْ يكون كُلُّ راوٍ في الإسناد مُتَّصِفًا بالعدالة والضبط عَن مثله من أَول السَّنَد إلى مُنْتَهَاه، مُعْتَمَدٌ فِي ضَبْطِهِ: إشارة لضبط الصدر، وَنَقْلِه: إشارة لضبط الكتاب. فخلاصة ذلك أنَّ الحديث الصحيح هو: مَا اتصَل إِسْنَادُه بِرِوَايةِ عَدْلٍ تَام الضَّبط مِن غَير شُذُوذٍ وَلا عِلّةٍ قَادِحة، وهو قسمان عند أهل الحديث: صحيح لذاته وصحيح لغيره،

ومثال الصحيح لذاته متوفر بكثرةٍ في الصحيحين، ومثاله: قَالَ البُخَاريُّ فِي أول حَدِيثٍ في جامعه: حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ … ابْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ رضي الله عنه عَلَى المِنْبَرِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ».

 

‌‌الحدِيثُ الحسَنُ:

ثم انتقل النَّاظمُ رحمه الله إلى النَّوع الثَّاني من حيث اعتبار القبول والرد فقال:

5 - والْحَسَنُ المعروفُ طُرْقاً وَغَدَتْ … رِجَالُهُ لَا كالصَّحِيحِ اشْتَهَرَتْ
সংরক্ষণকারী (ضابط): অর্থাৎ পঞ্চম শর্ত: অর্থাৎ হাদিসের বর্ণনাকারীদের অবশ্যই সংরক্ষণকারী (ضابطين) হতে হবে, আর তা দুই প্রকার:

1 - অন্তস্থ সংরক্ষণ (ضبط صدر): আর তা হলো যা শুনেছেন তা এমনভাবে সুদৃঢ় রাখা যাতে তিনি যখনই ইচ্ছা তা উপস্থাপন করতে সক্ষম হন।

2 - লিখিত সংরক্ষণ (ضبط كتاب): আর তা হলো শ্রুত বিষয় যা তিনি সংশোধন করেছেন, তা তাঁর নিকট শ্রবণের দিন থেকে বর্ণনা করার দিন পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখা।

তাঁর উক্তি: 'অনুরূপ ব্যক্তি থেকে' অর্থাৎ সনদের (إسناد) প্রতিটি বর্ণনাকারীকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) ও সংরক্ষণ দক্ষতার (ضبط) গুণসম্পন্ন অনুরূপ বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করতে হবে। 'তাঁর সংরক্ষণের ওপর নির্ভরশীল': এটি অন্তস্থ সংরক্ষণের (ضبط الصدر) দিকে ইঙ্গিত দেয় এবং 'তাঁর বর্ণনা': এটি লিখিত সংরক্ষণের (ضبط الكتاب) দিকে ইঙ্গিত দেয়। এর সারসংক্ষেপ হলো এই যে, সহিহ হাদিস হলো: যার সনদ (إسناد) বিচ্ছিন্নতাহীনভাবে এমন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও পূর্ণ সংরক্ষণকারী (تام الضبط) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত যা কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) ও দোষযুক্ত ত্রুটি (علة قادحة) থেকে মুক্ত। হাদিস বিশারদদের নিকট এটি দুই প্রকার: স্বীয় গুণেই সহিহ (صحيح لذاته) এবং অন্য কারণে সহিহ (صحيح لغيره),

স্বীয় গুণেই সহিহ (صحيح لذاته) এর উদাহরণ সহিহাইন গ্রন্থে প্রচুর রয়েছে। এর উদাহরণ: ইমাম বুখারি তাঁর জামে গ্রন্থে প্রথম হাদিসে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদি আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারী, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি যে, তিনি আলকামাহ … ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসিকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে বা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হয়, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।»

 

‌‌হাসান (حسن) হাদিস:

অতঃপর গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের বিচারে দ্বিতীয় প্রকারের দিকে অগ্রসর হয়ে বলেন:

5 - আর হাসান (حسن) হলো যার সূত্রসমূহ সুপরিচিত এবং যার বর্ণনাকারীরা সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীদের মতো প্রসিদ্ধি লাভ করেনি।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
قَوْلُهُ: والْحَسَنُ أَي تَعْرِيف حَدّ الحديث الحسن هو: المعروفُ طُرْقاً: بِضَم فَسُكُون أي: أَنَّ الحديث الحسن هو الذي عُرِفَ مخرج طُرُقه يَعْنِي اتِّصَال سَنَده؛ لأنَّ مخارج الحديث تَدُور على رِجَالٍ معرفين (1)، مثل الزُّهريّ فِي الشَّامِيِّين، وقَتَادَة، ويَحْيَى بن أَبِي كَثِيرٍ فِي الْبَصرِيين، والأَعْمَش فِي أَهْلِ الكُوفَة، فَخَرج غير المعروف من الأحاديث الضعيفة مثل: الحديث الْمُنْقَطِع وهو الذي فيه سقط في إسناده، وتُومِئ لفظة: "المعروفُ طُرْقاً" كذلك للاحْتِرَازِ مِن الشُّذُوذ؛ لأَنَّ ما عُرِفَ مَخْرَجُه من الحديث لا يكون شاذًّا.

وأمَّا قَولُ النَّاظِمِ رحمه الله: وَغَدَتْ رِجَالُهُ لَا كَالصَّحِيحِ اشْتَهَرَتْ: أي صَارَت رِجَال الحديث الحسن أَقلّ اشتهارًا عِنْد الْمُحدثين فِي الْحِفْظِ وَالإِتْقَانِ والضَّبط مِن رُتبة رجال الصَّحِيح، فثبت بذلك التَّعريف للحديث الحسن عند النَّاظِمِ جميع شروط الصِّحة - مع قلة الضَّبط - إلا السَّلامة من العِلَّة، وعند التَّحقيق فِي كَلامِ أَهْل الحديث، والجَمْعِ بَيْنَ أَطْرَافِ كَلامِهِمْ نجد أنَّ الحديث الحسن عندهم قِسْمَان:

 

‌‌1 - الحسن لذاته: وحدُّه الْجَامِع المانع هُوَ مَا اتَّصل سَنَده بِنَقْل عَدْلٍ ضَابِطٍ قَلَّ ضَبطه قلَّة لا تلْحقهُ بِحَال بِمَن يُعد تَفَرُّده مُنْكرًا، وَسلم كذلك من الشُّذُوذ وَمن الْعِلَّةِ. قَالَ ابنُ الصَّلاح فِي المقدمة: "مِثَالُهُ: حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ … أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَوْلا أَنْ

--------------------------------------------

(1) قَالَ عَلَيُّ بْنُ المدينِي رحمه الله: " نظرت فإذا الإسناد يدور على سِتةٍ: الزُّهْرِيِّ، وعَمْرو بن دِينَارٍ، وقَتَادَةَ، ويَحْيَى بنِ أَبِي كَثِيرٍ، وأَبِي إسْحَاقَ السَّبيعيِّ، والأَعْمَشِ ثم صَار علم هؤلاء السِّتة إلى أصحاب التصانيف ممن صنف". كما في الجرح والتعديل لابن أبي حاتم الرازي (ت: 327 هـ)، دار الكتب العلمية، الطبعة الأولى (الهندية) سنة 1271 هـ، (1/ 34).
তাঁর বক্তব্য: হাসান (الحسن) অর্থাৎ হাসান (الحسن) হাদিসের সংজ্ঞা হলো: যার সূত্রসমূহ সুপরিচিত (المعروفُ طُرْقاً)। এটি বর্ণের ওপর পেশ এবং পরবর্তী বর্ণের ওপর জজম যোগে গঠিত। অর্থাৎ হাসান (الحسن) হাদিস হলো সেটি যার সূত্রসমূহের নির্গমনস্থল সুপরিচিত, যার অর্থ হলো তার সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال سنده); কেননা হাদিসের উৎসসমূহ সুপরিচিত বর্ণনাকারীদের (رجال) কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় (১), যেমন সিরীয়দের মধ্যে জুহরী, বসরাবাসীদের মধ্যে কাতাদাহ ও ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির এবং কুফাবাসীদের মধ্যে আমাশ। এর ফলে অপরিচিত তথা দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ বর্জিত হয়েছে, যেমন: বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস, যার সনদে কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে। এবং 'সুপরিচিত সূত্রসমূহ' কথাটি দ্বারা অসংগতি (الشذوذ) থেকেও বেঁচে থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে; কারণ যে হাদিসের উৎস সুপরিচিত তা অসংগতিপূর্ণ (شاذ) হয় না।

আর গ্রন্থকারের (রহ.) উক্তি: 'এবং এর বর্ণনাকারীবৃন্দ সহিহ-এর মতো প্রসিদ্ধি লাভ করেনি', অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণের নিকট হাসান (الحسن) হাদিসের বর্ণনাকারীদের মুখস্থশক্তি (حفظ), পারদর্শিতা (إتقان) ও নির্ভুলতা (ضبط) সহিহ (الصحيহ) হাদিসের বর্ণনাকারীদের স্তরের তুলনায় কম প্রসিদ্ধ। এর মাধ্যমে গ্রন্থকারের নিকট হাসান (الحسن) হাদিসের সংজ্ঞায় সহিহ হওয়ার (الصحة) সমস্ত শর্ত সাব্যস্ত হয়েছে — নির্ভুলতার (ضبط) স্বল্পতা সত্ত্বেও — কেবল ত্রুটি (العلة) থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টি ছাড়া। মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং তাদের বিভিন্ন বক্তব্যের সমন্বয়ে দেখা যায় যে, তাঁদের নিকট হাসান (الحسن) হাদিস দুই প্রকার:

 

‌‌১ - স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته): এর পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত সংজ্ঞা হলো, যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (اتصل سنده) এবং যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও নির্ভুল (ضابط) বর্ণনাকারীর বর্ণনায় প্রাপ্ত, যার নির্ভুলতায় কিছুটা কমতি রয়েছে, তবে তা এমন পর্যায়ের নয় যা তাকে সেই ব্যক্তির স্তরে নামিয়ে দেয় যার একক বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যাত (منكر) গণ্য করা হয়। তদুপরি তা অসংগতি (الشذوذ) ও ত্রুটি (العلة) থেকেও মুক্ত থাকে। ইবনুস সালাহ তাঁর মুকাদ্দিমায় বলেন: "এর উদাহরণ হলো: মুহাম্মাদ ইবনে আমর, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: 'যদি না আমি..."

--------------------------------------------

(১) আলী ইবনুল মাদিনী (রহ.) বলেন: "আমি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি যে, হাদিসের সনদ (إسناد) ছয়জন ব্যক্তির ওপর আবর্তিত হয়: জুহরী, আমর ইবনে দীনার, কাতাদাহ, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির, আবু ইসহাক আস-সাবিঈ এবং আমাশ। এরপর এই ছয়জনের ইলম গ্রন্থকারদের কাছে পৌঁছেছে যারা কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন।" যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ইবনে আবি হাতিম আর-রাজী (মৃ. ৩২৭ হি.) রচিত আল-জারহ ওয়াত তাদীল গ্রন্থে, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম প্রকাশ (ভারতীয় সংস্করণ), ১২৭১ হি., (১/৩৪)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاةٍ» (1). فَمُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ مِنَ الْمَشْهُورِينَ بِالصِّدْقِ وَالصِّيَانَةِ، لَكِنَّهُ لَمْ يَكُنْ مِنْ أَهْلِ الْإِتْقَانِ، حَتَّى ضَعَّفَهُ بَعْضُهُمْ مِنْ جِهَةِ سُوءِ حِفْظِهِ، وَوَثَّقَهُ بَعْضُهُمْ لِصِدْقِهِ وَجَلالَتِهِ، فَحَدِيثُهُ مِنْ هَذِهِ الْجِهَةِ حَسَنٌ". (2)

 

‌‌2 - الحسن لغيره:

وهَو مَا عَرَّفه التِّرْمِذِيُّ رحمه الله: "كُلُّ حَدِيثٍ يُرْوَى لا يَكُونُ فِي إِسْنَادِهِ مَنْ يُتَّهَمُ بِالْكَذِبِ، وَلا يَكُونُ حَدِيثًا شَاذًّا، وَيُرْوَى مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ نَحْو ذَلِكَ فَهُو عِندَنَا حَدِيثٌ حَسَنٌ". (3) وأَشَار ابنُ الصَّلاحِ إلى كَلام التِّرْمِذِيِّ السابق شَارِحًا له فَقَالَ: "أي الْحَدِيثُ الَّذِي لا يَخْلُو رِجَالُ إِسْنَادِهِ مِنْ مَسْتُورٍ لَمْ تَتَحَقَّقْ أَهْلِيَّتُهُ، غَيْرَ أَنَّهُ لَيْسَ مُغَفَّلا كَثِيرَ الْخَطَأِ فِيمَا يَرْوِيهِ، وَلا هُوَ مُتَّهَمٌ بِالْكَذِبِ فِي الْحَدِيثِ، أَيْ لَمْ يَظْهَرْ مِنْهُ تَعَمُّدُ الْكَذِبِ فِي الْحَدِيثِ وَلا سَبَبٌ آخَرُ مُفَسِّقٌ، وَيَكُونُ مَتْنُ الْحَدِيثِ مَعَ ذَلِكَ قَدْ عُرِفَ بِأَنْ رُوِيَ مِثْلُهُ أَوْ نَحْوُهُ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ أَوْ أَكْثَرَ حَتَّى اعْتَضَدَ بِمُتَابَعَةِ مَنْ تَابَعَ رَاوِيَهُ عَلَى مِثْلِهِ، أَوْ بِمَا لَهُ مِنْ شَاهِدٍ، وَهُوَ وُرُودُ حَدِيثٍ آخَرَ بِنَحْوِهِ، فَيَخْرُجُ بِذَلِكَ عَنْ أَنْ يَكُونَ شَاذًّا وَمُنْكَرًا ". (4)

--------------------------------------------

(1) الحديث مخرج في الصحيحين؛ لكن الإسناد الذي أراده ابن الصلاح هنا هو ما أخرجه الترمذيُّ في السنن، كتاب الطهارة، بَاب مَا جَاءَ فِي السِّوَاكِ، طبعة: مصطفى البابي الحلبي، مصر، ق: أحمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي، (1/ 34)، برقم (22).

(2) مقدمة ابن الصلاح، طبعة دار الفكر المعاصر، بيروت 1406 هـ، (ص 35).

(3) شرح علل الترمذي لابن رجب، طبعة مكتبة المنار، الزرقاء، الأردن 1407 هـ (2/ 573)، وهنا يَنْبَغي التَّنْبِيه عَلَى أنَّ بَعْضَ الْمُحَدِّثِينَ اسْتَخْدَموا لفظة الحسن بِمَعْنَى الْمُنْكَر فلا تخلط بينها، مثل: قيل لِشُعْبَةَ رحمه الله: لِمَ تَرَكْت فُلانًا، وَأَحَادِيثُهُ حِسَانٍ؟ قَالَ: "مِنْ حُسْنِهَا فَرَرْتُ! ".

(4) مقدمة ابن الصلاح، (ص 31).
"...আমার উম্মতের ওপর যদি কষ্টসাধ্য মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম" (১)। মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা সত্যবাদিতা (الصدق) ও পরহেজগারির (الصيانة) জন্য সুপরিচিত ছিলেন, কিন্তু তিনি সূক্ষ্মতা ও নিখুঁত বর্ণনার অধিকারী (أهل الإتقان) ছিলেন না। এমনকি তাঁর মুখস্থ শক্তির দুর্বলতার (سوء حفظه) কারণে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ তাঁকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন, আবার কেউ তাঁর সত্যবাদিতা ও মর্যাদার কারণে তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন; ফলে তাঁর বর্ণিত হাদিস এই দৃষ্টিকোণ থেকে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য।" (২)

 

‌‌২ - হাসান লি গাইরিহি (الحسن لغيره):

ইমাম তিরমিজি (রহ.) এর সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন: "এমন প্রত্যেক হাদিস যার বর্ণনাসূত্রে (إسناده) মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (يتهم بالكذب) কেউ নেই, হাদিসটি শায (شاذًا) নয় এবং এটি সমজাতীয় ভিন্ন কোনো সূত্র (وجه) থেকেও বর্ণিত হয়েছে, সেটিই আমাদের নিকট হাসান (حسن) হাদিস।" (৩) ইবনুস সালাহ ইমাম তিরমিজির পূর্বোক্ত কথার দিকে ইঙ্গিত করে এর ব্যাখ্যায় বলেন: "অর্থাৎ এমন হাদিস যার বর্ণনাসূত্রের (إسناده) ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ এমন মাসতুর (مستور) রয়েছে যার যোগ্যতা (أهلية) সুনিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সে এমন গাফেল (غافل) বা অসতর্ক নয় যে তার বর্ণনায় ভুলের আধিক্য (كثير الخطأ) দেখা যায়। সে হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) নয়, অর্থাৎ হাদিস বর্ণনায় তার থেকে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা প্রকাশ পায়নি এবং অন্য কোনো পাপাচারমূলক (مفسق) কারণও পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি হাদিসের মূল পাঠ (متن) অন্য এক বা একাধিক সূত্র থেকে বর্ণিত হওয়ার কারণে পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে এটি অন্য বর্ণনাকারীর সমর্থনের (متابعة) দ্বারা অথবা শাহিদ (شاهد) বা সমার্থক অন্য কোনো হাদিসের উপস্থিতির মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে। এভাবে হাদিসটি শায (شاذًا) এবং মুনকার (منكرًا) হওয়া থেকে বেরিয়ে আসে।" (৪)

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি সহিহাইন-এ সংকলিত হয়েছে; তবে ইবনুস সালাহ এখানে যে বর্ণনাসূত্রের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে, তাহারাত অধ্যায়, মিসওয়াক বিষয়ক অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, প্রকাশনী: মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি, মিসর, সম্পাদনা: আহমদ শাকের ও মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি, (১/৩৪), হাদিস নম্বর: ২২।

(২) ইবনুস সালাহ এর মুকাদ্দিমাহ, দারুল ফিকর আল-মুয়াসির সংস্করণ, বৈরুত ১৪০৬ হিজরি, (পৃ. ৩৫)।

(৩) ইবনু রজব এর শারহু ইলালিত তিরমিজি, মাকতাবাতুল মানার সংস্করণ, যারকা, জর্ডান ১৪০৭ হিজরি (২/৫৭৩)। এখানে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন যে, কোনো কোনো মুহাদ্দিস 'হাসান' শব্দটিকে মুনকার (المنكر) অর্থে ব্যবহার করেছেন, তাই এই দুইয়ের মাঝে গুলিয়ে ফেলবেন না। যেমন: শু'বা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনি কেন অমুককে ত্যাগ করেছেন অথচ তার হাদিসগুলো হাসান (حسان)?" তিনি বললেন: "তার হাসান (حسنها) হওয়ার কারণেই তো আমি পলায়ন করেছি!" [অর্থাৎ অদ্ভুত বা মুনকার হওয়ার কারণে]।

(৪) ইবনুস সালাহ এর মুকাদ্দিমাহ, (পৃ. ৩১)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ومثاله: مَا رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ فَقَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الحَسَنِ الكُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا … أَبُو يَحْيَى إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَقٌّ عَلَى المُسْلِمِينَ أَنْ يَغْتَسِلُوا يَوْمَ الجُمُعَةِ، وَلْيَمَسَّ أَحَدُهُمْ مِنْ طِيبِ أَهْلِهِ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَالمَاءُ لَهُ طِيبٌ». وهذا حديثٌ ضَعِيفٌ؛ لِضَعفِ أبِي يَحْيَى التَّيْمِيّ، ولكن تابعه هُشَيْمٌ عند التِّرْمِذِيِّ أيضًا فَقَالَ: "حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ … أَبِي زِيَادٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ. حَدِيثُ البَرَاءِ حَدِيثٌ حَسَنٌ، وَرِوَايَةُ هُشَيْمٍ أَحْسَنُ مِنْ رِوَايَةِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ يُضَعَّفُ فِي الحَدِيثِ". (1)

 

‌‌الحدِيثُ الضَّعِيفُ:

ثم انتقل النَّاظمُ إلى النَّوع الثَّالث من حيث اعتبار القبول والرد فقال:

6 - وكُلُّ مَا عَنْ رُتْبَةِ الْحُسنِ قَصُرْ … فَهْوَ الضَّعِيفُ وَهْوَ أَقْسَامًا كُثُرْ

 

قوله: وكُلُّ مَا عَنْ رُتْبَةِ الْحُسنِ قَصُرْ: أي كُلُّ حَدِيثٍ انحط عَن رتبة الحديث الحسن، فهو بذلك قد انحط عن رتبة الصحيح كذلك من باب أَوْلَى، فَهْوَ الضَّعِيفُ: أي فهو حَدُّ الحديث الضَّعيف، وفي اللغة هو: العَلِيل والسَّقِيم ضد الصَّحيح (2)، وَهْوَ أَقْسَامًا كُثُرْ: أي أَنَّ أنواعه كثيرة حَسْبَ اختلال شروط الصحة في الحديث، فإذا انخرم شرط الاتصال مثلا نتج عَنْ ذلك عدة أنواع

--------------------------------------------

(1) أَبُو عِيسَى الترْمِذِيّ، السنن، كتاب الصلاة، بَابٌ فِي السِّوَاكِ وَالطِّيبِ يَوْمَ الجُمُعَةِ، طبعة مصطفى البابي، مصر 1395 هـ، أحمد شاكر (2/ 407 - 408).

(2) لسان العرب، لمحمد بن مكرم بن منظور الأنصاري الإفريقي (ت: 711 هـ)، طبعة دار صادر، بيروت سنة 1414 هـ، (9/ 204).
এর উদাহরণ হলো: ইমাম তিরমিজি যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আলি ইবনুল হাসান আল-কুফি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট … আবু ইয়াহইয়া ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে আবি জিয়াদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «জুমার দিনে গোসল করা মুসলিমদের জন্য কর্তব্য, আর তাদের প্রত্যেকে যেন তার পরিবারের সুগন্ধি ব্যবহার করে, আর যদি সে তা না পায় তবে পানিই তার জন্য সুগন্ধি»। আর এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস; আবু ইয়াহইয়া আত-তাইমির দুর্বলতার (ضعف) কারণে, তবে তিরমিজিতেও হুশাইম তার অনুসরণ (تابعه) করেছেন এবং বলেছেন: "আমাদের নিকট আহমদ ইবনে মানি' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে … আবি জিয়াদ থেকে এই একই সূত্রে অনুরূপ। বারা-এর হাদিসটি একটি হাসান (حسن) হাদিস, আর হুশাইমের বর্ণনাটি ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমির বর্ণনার চেয়ে অধিকতর উত্তম, এবং ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমিকে হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (يضعف) গণ্য করা হয়।" (১)

 

‌‌দুর্বল (الضعيف) হাদিস:

অতঃপর নাজেম (কবিতা রচয়িতা) গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের বিচারে তৃতীয় প্রকারের বর্ণনায় উপনীত হয়ে বলেন:

৬ - আর যা কিছু হাসান (الحسن)-এর স্তর থেকে নিচে … তা-ই দুর্বল (الضعيف) এবং এর অনেক প্রকার রয়েছে।

 

তাঁর উক্তি: "আর যা কিছু হাসান-এর স্তর থেকে নিচে": অর্থাৎ যে হাদিস হাসান (حسن) হাদিসের স্তর থেকে নিচে নেমে গেছে, তা স্বাভাবিকভাবেই সহিহ (صحيح) হাদিসের স্তর থেকেও নিচে অবস্থান করে। "তা-ই দুর্বল": অর্থাৎ এটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সংজ্ঞা। আভিধানিক অর্থে এটি হলো: রুগ্ন ও অসুস্থ, যা সহিহ (صحيح)-এর বিপরীত (২)। "এবং এর প্রকার অনেক": অর্থাৎ হাদিসের সহিহ হওয়ার শর্তাবলির বিচ্যুতির প্রেক্ষিতে এর প্রকারভেদ অনেক। যেমন যদি সূত্র নিরবচ্ছিন্ন (الاتصال) হওয়ার শর্তটি লঙ্ঘিত হয়, তবে তার ফলে বেশ কিছু প্রকারের সৃষ্টি হয়।

--------------------------------------------

(১) আবু ঈসা তিরমিজি, সুনান, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জুমার দিনে মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার, মুস্তফা আল-বাবি সংস্করণ, মিসর ১৩৯৫ হি., আহমদ শাকির (২/ ৪০৭ - ৪০৮)।

(২) লিসানুল আরব, মুহাম্মদ ইবনে মাকরাম ইবনে মানজুর আল-আনসারি আল-ইফ্রিকি (মৃত্যু: ৭১১ হি.), দার সাদির সংস্করণ, বৈরুত ১৪১৪ হি., (৯/ ২০৪)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
منها: الْمُرْسل والْمُنْقَطِع والْمُعْضَل، والْمُدَلَّس وغَيْرها، وهكذا في بقية الشروط. وقصد النَّاظُم رحمه الله عموم الحديث الْمَرُدود بجميع أنواعه.

وعند التَّحقيق نجد أنَّ هذا الحد الذي عَرَّفه النَّاظُم رحمه الله هُنَا ليس جَامِعًا مَانِعًا فقد

يَدْخُل فِي هَذَا التَّعريف الحديث الحسن لغيره، وقد يدخل فيه الحديث الموضوع فإنَّه قد قَصُر عن رتبة الحسن أيضًا، والحديث الْمَوْضُوع مجزوم بأنه ليس من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكن الضَّعيف فيه احتمال أَنْ يكون من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد أَفْرَدَ النَّاظِمِ نَفْسَه للحديثِ الْمُوضُوعِ تعريفًا خاصًا فِي آخر الْمَنْظُومَةِ، والأَوْلَى أنَّ يَقُول: "وكُلُّ مَا عَنْ شَرْطِ القَبُولِ انخرم"، أي أنَّ كُلّ حَدِيثٍ لم تتوفر فيه أحد شُرُوط القبول المذكورة فِي حَدَّي الصَّحيح والحسن، كان هو الحديث الضَّعيف، وهذا حَدٌّ يُدْخِلُ جميع الأجناس تحت مُصْطَلحِ الضَّعيف، ويُخْرِج ما ليس منها.

وخلاصة ذلك أنَّ تعريف الحديث الضعيف: هو ما لم يتوفر فيه أحد شُرُوط القبول المذكورة فِي حَدَّي الصَّحيح والحسن.

 

ومِثَالُهُ: مَا أَخْرَجَهُ أَبُو دَاودَ فِي السُّنَن، مِنْ طَريقِ مَكْحُولٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الصَّلاةُ الْمَكْتُوبَةُ وَاجِبَةٌ خَلْفَ كُلِّ مُسْلِمٍ بَرًّا كَانَ أَوْ فَاجِرًا وَإِنْ عَمِلَ الْكَبَائِرَ». (1)، هَذَا حَدِيثٌ ضَعِيف انتفى فيه شرط الاتصال؛ فهو منقطعٌ بين مَكْحُولٍ وأَبِى هُرَيْرَةَ رضي الله عنه؛ والسبب أَنَّ مَكْحُولا هَذَا وهُو أَبُو عَبْدِ الله الشَّامي لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَحَدٍ مِنْ الصَّحابةِ إلا ثلاثةٌ ليس منهم

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود، كتاب الصلاة، بَاب إِمَامَةِ الْبَرِّ وَالْفَاجِرِ، طبعة المكتبة العصرية، بيروت، ق: محمد محيي الدين عبد الحميد، برقم (594).
এর মধ্যে রয়েছে: বিচ্ছিন্ন (مرسل), বিযুক্ত (منقطع), অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ (معضل), লুক্কায়িত (مدلس) এবং অন্যান্য প্রকার; একইভাবে বাকি শর্তগুলোর ক্ষেত্রেও। আর নাযিম (কবিতা রচয়িতা) -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- এর মাধ্যমে সকল প্রকারের প্রত্যাখ্যাত (مردود) হাদিসকে বুঝিয়েছেন।

সূক্ষ্ম পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, নাযিম -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- এখানে যে সংজ্ঞাটি প্রদান করেছেন তা যথাযথ ও ব্যাপক (جامع مانع) নয়; কারণ

এই সংজ্ঞার মধ্যে অন্য বর্ণনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য (الحسن لغيره) হাদিসও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে। আবার এর মধ্যে জাল (موضوع) হাদিসও ঢুকে পড়তে পারে, কারণ সেটিও হাসান (حسن) হাদিসের স্তর হতে বিচ্যুত। অথচ জাল (موضوع) হাদিসের ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত যে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস নয়। কিন্তু দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ক্ষেত্রে সেটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস হওয়ার একটি সম্ভাবনা থেকে যায়। স্বয়ং নাযিম এই কাব্যগ্রন্থের শেষে জাল (موضوع) হাদিসের জন্য আলাদা একটি বিশেষ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তাই অধিকতর উত্তম হলো এটি বলা যে: "আর যা কিছু গ্রহণের শর্ত থেকে বিচ্যুত হয়েছে।" অর্থাৎ, সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) হাদিসের সংজ্ঞায় বর্ণিত গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলির কোনো একটি শর্ত যে হাদিসে অনুপস্থিত থাকে, সেটিই হলো দুর্বল (ضعيف) হাদিস। এটি এমন একটি সংজ্ঞা যা দুর্বল (ضعيف) পরিভাষার অধীনে এর সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় সেগুলোকে বের করে দেয়।

এর সারসংক্ষেপ হলো দুর্বল হাদিসের সংজ্ঞা: যাতে সহিহ (صحيহ) ও হাসান (حسن) এর সংজ্ঞায় উল্লেখিত গ্রহণযোগ্যতার শর্তসমূহের কোনো একটির অভাব থাকে।

 

এর উদাহরণ: যা আবু দাউদ তাঁর সুনানে মাকহুল হতে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক মুসলমানের পেছনে ফরজ নামাজ আদায় করা ওয়াজিব, সে নেককার হোক বা পাপাচারী, যদিও সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত থাকে।" (১)। এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস, কারণ এতে সূত্র নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার (الاتصال) শর্তটি অনুপস্থিত। ফলে মাকহুল এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মধ্যে এটি বিযুক্ত (منقطع); এর কারণ হলো এই মাকহুল -যিনি আবু আব্দুল্লাহ আশ-শামী- তিনি মাত্র তিনজন সাহাবী ব্যতীত আর কারো থেকে হাদিস শ্রবণ করেননি এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নন।

--------------------------------------------

(1) সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: নেককার ও পাপাচারীর ইমামতি, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়া সংস্করণ, বৈরুত, মুহাক্কিক: মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ, হাদিস নং (৫৯৪)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، وقد نَصَ عَلَى الثَّلاثةِ الإمامُ التِّرْمِذِيُّ فِي السُّنَن فَقَالَ: "وَمَكْحُولٌ قَدْ سَمِعَ مِنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَأَبِي هِنْدٍ الدَّارِيِّ، وَيُقَالُ إِنَّهُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلا مِنْ هَؤُلاءِ الثَّلاثَةِ وَمَكْحُولٌ شَامِيٌّ يُكْنَى أَبَا عَبْدِاللَّهِ وَكَانَ عَبْدًا فَأُعْتِقَ". (1)

 

‌‌الحديثُ الْمَرْفُوعُ والْمَوقُوفُ والْمَقْطُوعُ:

ثم تكلم النَّاظمُ عن القسم الثاني من أَقْسَام الحدِيثِ وهو باعتبار من أُسْنِدَ إِليهِ، أي إضافة الكلام إلى قائله والفعل إلى فاعله فَقَالَ:

7 - وَمَا أُضيفَ لَلنَّبِي الْمَرْفُوعُ … وَمَا لِتَابِعٍ هو الْمَقْطُوع

قَوْلُه: وَمَا أُضيفَ لَلنَّبِي الْمَرْفُوعُ أي: كُلُّ ما أُضيفَ لَلنَّبِي صلى الله عليه وسلم، من قَولِهِ أو فعلِهِ أو إقرارِهِ أو صِفَةٍ من صِفَاتِهِ - خَلْقِيَّةً كانت أو خُلُقيَّةً؛ فهو حَدَّ الحديث المَرْفُوع، فهو لا ينسب لمن دون النَّبِي صلى الله عليه وسلم؛ بل ينتهي لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وتَعْرِيف النَّاظِم حَدّ الحديث

الْمَرْفُوعُ بإِطْلاقٍ يَعْنِي سواء رفعه الصَّحابِيُّ أو غيره فمثلا: إِذَا قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: "قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم "، فَهَذا حَدِيثٌ مَرْفُوعٌ مِن قِبَل الصَّحابي، وإِذَا قَالَ الزُّهْرِيُّ: "قَالَ … رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم "، فَهَذا حَدِيثٌ مَرْفُوعٌ مِن قِبَل التَّابعي، وإِذَا قَالَ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ: "قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم "، فَهَذا حَدِيثٌ مَرْفُوعٌ مِن قِبَل أتباع التَّابِعِين؛ وهكذا فالمقصود أَنَّه مجرد إضافة الحديث لرسول الله صلى الله عليه وسلم يُعْتَبر مَرْفُوعًا، وعلى هذا التَّعريف غَالِب أَهْل الْحَدِيثِ، وبهذا خَرَجَ الْمَوْقُوف والْمَقْطُوع، وكُلّ هَذِهِ مِن حَيثُ اعتبار من أسنده.

--------------------------------------------

(1) سنن الترمذي، أَبْوَابُ صِفَةِ الْقِيَامَةِ وَالرَّقَائِقِ وَالْوَرَعِ، طبعة مصطفى البابي الحلبي، مصر سنة 1395 هـ، ق: أحمد محمد شاكر، (4/ 662)، حديث رقم (2506).
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু); আর ইমাম তিরমিজি সুনান-এ এই তিনজনের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "মাকহুল ওয়াসিলা বিন আসকা, আনাস বিন মালিক এবং আবু হিন্দ আদ-দারি থেকে শ্রবণ করেছেন। বলা হয় যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে এই তিনজন ব্যতীত আর কারও থেকে শ্রবণ করেননি। মাকহুল ছিলেন সিরীয়, তাঁর কুনিয়া ছিল আবু আব্দুল্লাহ এবং তিনি একজন দাস ছিলেন যাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।" (১)

 

‌মারফু (الْمَرْفُوعُ), মাওকুফ (الْمَوْقُوفُ) এবং মাকতু (الْمَقْطُوعُ) হাদিস:

অতঃপর গ্রন্থকার হাদিসের প্রকারভেদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় প্রকার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা সনদ যার দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে তার বিচারে; অর্থাৎ কথাকে তার বক্তার দিকে এবং কাজকে তার সম্পাদনকারীর দিকে সম্পৃক্ত করার বিচারে তিনি বলেছেন:

7 - আর যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্পৃক্ত করা হয় তা মারফু (الْمَرْفُوعُ)... আর যা তাবিঈর (تابعي) দিকে সম্পৃক্ত করা হয় তা হলো মাকতু (الْمَقْطُوعُ)।

তাঁর বক্তব্য: "আর যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্পৃক্ত করা হয় তা মারফু (الْمَرْفُوعُ)"। এর অর্থ হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে যা কিছুই সম্পৃক্ত করা হয়েছে—চাই তা তাঁর কথা, কাজ, অনুমোদন কিংবা তাঁর কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্য হোক, শারীরিক হোক কিংবা চারিত্রিক—তা মারফু (الْمَرْفُوعُ) হাদিসের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা নিম্নস্তরের কারও দিকে সম্পৃক্ত হয় না; বরং তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। আর গ্রন্থকার মারফু (الْمَرْفُوعُ) হাদিসের সংজ্ঞা সাধারণভাবে (بإطلاق) দিয়েছেন,

অর্থাৎ তা কোনো সাহাবী (الصَّحابِيُّ) বর্ণনা করুন কিংবা অন্য কেউ। উদাহরণস্বরূপ: যখন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন", তখন এটি একজন সাহাবীর (الصَّحابِيُّ) পক্ষ থেকে বর্ণিত মারফু (مَرْفُوعٌ) হাদিস। আবার যখন যুহরী বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন", তখন এটি একজন তাবিঈর (التَّابِعي) পক্ষ থেকে বর্ণিত মারফু (مَرْفُوعٌ) হাদিস। একইভাবে যখন শুআইব বিন আবু হামজাহ বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন", তখন এটি তাবি-তাবিঈনের (أتباع التَّابِعِين) পক্ষ থেকে বর্ণিত মারফু (مَرْفُوعٌ) হাদিস। মূল উদ্দেশ্য হলো, কেবল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে হাদিসটি সম্পৃক্ত হওয়াকেই মারফু (مَرْفُوعًا) হিসেবে গণ্য করা হয়। অধিকাংশ মুহাদ্দিস এই সংজ্ঞার ওপরই রয়েছেন। এর মাধ্যমে মাওকুফ (الْمَوْقُوفُ) এবং মাকতু (الْمَقْطُوعُ) পৃথক হয়ে যায়; আর এই সবই হলো হাদিসটি কার দিকে সনদসহ সম্পৃক্ত (أسنده) করা হয়েছে সেই বিচারে।

--------------------------------------------

(১) সুনান তিরমিজি, কিয়ামতের বিবরণ, কোমলতা এবং পরহেজগারী অধ্যায়সমূহ, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি সংস্করণ, মিসর ১৩৯৫ হিজরি, তাহকিক: আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির, (৪/৬৬২), হাদিস নম্বর (২৫০৬)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
خريطة ذهنية لأقسام الحديث من حيثُ اعتبار من أُسند إليه

 

مثال الْمَرفُوع القَولِي: حَدِيثُ الاغْتِبَاطِ فِي العِلْمِ وَالحِكْمَةِ: فعَن عَبْدِاللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى صلى الله عليه وسلم: «لَا حَسَدَ إِلا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَسُلِّطَ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا». (1)

ومثال الْمَرفُوع الفِعْلِيّ: حَدِيثُ صِفة سجود النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: فعَنْ عَبْدِاللَّهِ بْنِ مَالِكٍ بْنِ بُحَيْنَةَ رضي الله عنهم، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا صَلَّى فَرَّجَ بَيْنَ يَدَيْهِ حَتَّى يَبْدُوَ بَيَاضُ إِبْطَيْهِ». (2)

مثال الْمَرفُوع إقرارًا: عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «كُنَّا نَعْزِلُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالقُرْآنُ يَنْزِلُ». (3)

--------------------------------------------

(1) الجامع الصحيح، للبخاري، كتاب العلم، بَاب الاغْتِبَاطِ فِي العِلْمِ وَالحِكْمَةِ، طبعة دار طوق النجاة، ق: محمد زهير بن ناصر الناصر (1/ 25)، برقم (73).

(2) المصدر نفسه، كتاب الصلاة، بَاب يُبْدِي ضَبْعَيْهِ وَيُجَافِي فِي السُّجُودِ، (1/ 87)، برقم (390).

(3) المصدر نفسه، كتاب النِّكاح، بَاب العَزْلِ (7/ 33)، برقم (5207).
যার প্রতি হাদিস সম্পৃক্ত করা হয়েছে তার বিবেচনায় হাদিসের প্রকারভেদের একটি চিত্র

 

উক্তি বিষয়ক মারফু (مرفوع قولي)-এর উদাহরণ: জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে ঈর্ষা বিষয়ক হাদিস: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: «কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, অতঃপর তাকে সত্যের পথে তা ব্যয় করার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছেন; আর ঐ ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেছেন, অতঃপর সে তার মাধ্যমে বিচার ফয়সালা করে এবং তা শিক্ষা দেয়»। (১)

কর্ম বিষয়ক মারফু (مرفوع فعلي)-এর উদাহরণ: নবী (সা.)-এর সিজদাহ করার পদ্ধতির হাদিস: আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে বুহাইনা (রা.) থেকে বর্ণিত, «নবী (সা.) যখন সালাত আদায় করতেন তখন তিনি তাঁর দুই হাত এমনভাবে প্রসারিত ও পৃথক রাখতেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেত»। (২)

মৌন সম্মতিমূলক মারফু (مرفوع إقرارا)-এর উদাহরণ: জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমরা নবী (সা.)-এর যুগে 'আজল' (সহবাসের সময় বাইরে বীর্যপাত) করতাম এমতাবস্থায় যে কুরআন নাজিল হচ্ছিল»। (৩)

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, কিতাবুল ইলম (জ্ঞানের অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে ঈর্ষা, দারু তওকিন নাজাত সংস্করণ, তাহকিক: মুহাম্মদ জুহাইর বিন নাসির আন-নাসির (১/ ২৫), হাদিস নং (৭৩)।

(২) একই উৎস, কিতাবুস সালাত (নামাজের অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: সিজদাহ করার সময় দুই বাহু প্রকাশ করা ও আলাদা রাখা, (১/ ৮৭), হাদিস নং (৩৯০)।

(৩) একই উৎস, কিতাবুন নিকাহ (বিবাহের অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: আজল করা (৭/ ৩৩), হাদিস নং (৫২০৭)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وحَدِيثُ إقرار النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم للنِّسَاءِ عَلَى صَلاة الفَجْر فِي الْمَسْجدِ، وفيه: أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنهم، قَالَتْ: لَقَدْ «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الفَجْرَ، فَيَشْهَدُ مَعَهُ نِسَاءٌ مِنَ المُؤْمِنَاتِ مُتَلَفِّعَاتٍ فِي مُرُوطِهِنَّ، ثُمَّ يَرْجِعْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ مَا يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ». (1)

مثال الْمَرفُوع فيه صِفَة خَلْقِيَّةٌ لَلنَّبِي صلى الله عليه وسلم: عَنِ الجُعَيْدِ، قَالَ: سَمِعْتُ السَّائِبَ رضي الله عنه (2)، يَقُولُ: ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَجِعٌ، «فَمَسَحَ رَاسِي وَدَعَا لِي بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ تَوَضَّأَ فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ، وَقُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ، فَنَظَرْتُ إِلَى خَاتَمِ النُّبُوَّةِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، مِثْلَ زِرِّ الحَجَلَةِ». (3)

مثال الْمَرفُوع فيه صِفَة خُلُقيَّةٌ لَلنَّبِي صلى الله عليه وسلم: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ القُرْآنَ، فَلَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدُ بِالخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ المُرْسَلَةِ». (4)

ونَحْسَبُ أَنَّهُ من الواجب إضافة أَنَّ الرَّفْعَ قد يَكُون صَرِيحًا وقد يَكُون حُكْمًا ومثال ذلك: المرفوع الصَّرِيح: كَقَوْل الصَّحَابِيّ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول كَذَا، أَوكَقَوْلِه أَي الصَّحَابِيّ أَو قَول غَيره قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، أَو عَن رَسُول

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه، كتاب الصلاة، بَابٌ: فِي كَمْ تُصَلِّي المَرْأَةُ فِي الثِّيَابِ، (1/ 84)، برقم (372).

(2) هو السَّائِبُ بنُ يَزِيْدَ بنِ سَعِيْدِ الكِنْدِيُّ صحابيٌّ جليلٌ مات سنة (91 هـ) -التهذيب برقم (839).

(3) الجامع الصحيح، للبخاري، كِتَاب الوُضُوء، بَابُ اسْتِعْمَالِ فَضْلِ وَضُوءِ النَّاسِ (7/ 120).

(4) المصدر نفسه، بَابُ بَدْءِ الوَحْيِ، (1/ 8)، حديث رقم (6).
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মসজিদে নারীদের ফজরের সালাত আদায়ের অনুমোদনের (إقرار) হাদিস; যাতে আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন মুমিন নারীরা তাদের চাদর মুড়ি দিয়ে তাঁর সাথে সালাতে শরিক হতেন। অতঃপর তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতেন এবং (অন্ধকারের কারণে) তাঁদের কাউকেও চেনা যেত না।" (১)

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত মারফু (مرفوع) হাদিসের উদাহরণ: জু'আয়দ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সায়িব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (২)-কে বলতে শুনেছি: আমার খালা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগ্নে অসুস্থ। "তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং আমি তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম। তারপর আমি তাঁর পিঠের পেছনে দাঁড়ালাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে কবুতরের ডিমের মতো নবুয়তের মোহর দেখতে পেলাম।" (৩)

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত মারফু (مرفوع) হাদিসের উদাহরণ: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। রমজান মাসে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) যখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ বয়ে আনা দ্রুতগামী বাতাসের চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন।" (৪)

আমরা মনে করি এটি যোগ করা আবশ্যক যে, মারফু সাব্যস্ত হওয়া (الرفع) কখনও স্পষ্ট (صريح) হতে পারে, আবার কখনও হুকমি বা পরোক্ষ (حكم) হতে পারে। এর উদাহরণ হলো: স্পষ্ট মারফু (المرفوع الصريح): যেমন কোনো সাহাবীর বক্তব্য: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটি বলতে শুনেছি", অথবা সাহাবীর বা অন্য কারও বক্তব্য: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন", অথবা "রাসূলুল্লাহ হতে বর্ণিত..."

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: নারী কতটি পোশাকে সালাত আদায় করবে, (১/ ৮৪), হাদিস নং (৩৭২)।

(২) তিনি হলেন সায়িব ইবনে ইয়াজিদ ইবনে সাঈদ আল-কিন্দি, একজন মহান সাহাবী (صحابي), তিনি (৯১ হিজরি) সালে মৃত্যুবরণ করেন - আত-তাহযীব, নং (৮৩৯)।

(৩) সহিহ বুখারী, কিতাবুল ওযু, অধ্যায়: মানুষের ওযুর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার করা (৭/ ১২০)।

(৪) একই উৎস, ওহীর সূচনা অধ্যায়, (১/ ৮), হাদিস নং (৬)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الله صلى الله عليه وسلم. وَفِي الْفعْلِيّ كَقَوْل الصَّحَابِيّ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فعل كَذَا، أَو عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ فَعَلَ كَذَا. (1)

المرفوع الْحُكْمِيّ: كإخبار الصَّحَابِيّ الَّذِي لم يُحَدِّثْ عَنْ أَهْلِ الكِتَابِ مَا لا مجَال للاجْتِهَاد فِيهِ عَن الأَحْوَال الْمَاضِيَة كأخبار الأَنْبِيَاء، أَو الآتِيَة كالملاحم والفتن وأهوال يَوْم الْقِيَامَة، أَو عَن تَرَتُّبِ ثَوَابٍ مَخْصُوصٍ، أَو عِقَابٍ مَخْصُوصٍ عَلَى فعلٍ؛ فَإِنَّهُ لا سَبِيل إِلَيْهِ إِلا السَّماع مِنَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم، أَو يخبر الصَّحَابِيّ بِأَنَّهُم كَانُوا يَفْعَلُونَ كَذَا فِي زمَان النَّبِي صلى الله عليه وسلم. (2)

 

وجديرٌ بِنَا فِي هذا الموضع أَنْ نَذْكُر الحديث الْمَوقُوف وإن أخَّرَه النَّاظمُ؛ فإنَّ الأشياء تَشْرُف بما تتعلق به والحديث الْمَوقُوف متعلق بالصَّحابة وهم بلا خِلاف أفضل الأمَّة على الإطلاق، فَحَدُّ الحديث الْمَوقُوف هو: مَا أُضِيف إلى الصَّحابِي من قَولِهِ أو من فِعْلِهِ ولم يكن له حُكم الرَّفع، سَوَاء اتَّصَلَ إسْنَاده إليه أم انْقَطع.

والصَّحابِي: هو كُلُّ مَنْ لَقِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم مؤمنًا وَقْتَ لِقَائهِ به ومَاتَ عَلَى ذَلِكَ. فَمَنْ سَمِعَ من النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَالَ كُفْرِهِ ثم أَسْلَم بعد وفَاتِهِ صلى الله عليه وسلم فليس صَحَابِيًا. (3)

مثال الْمَوقُوف القَوْلِي: كَقَولِ عَوْفِ بْنِ مَالكٍ الأَشْجَعِىّ رضي الله عنه: "فَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُ أَحَدِهِمْ، فَمَا يَسْأَلُ أَحَدًا يُنَاوِلُهُ إِيَّاهُ". (4)

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن الصلاح، (ص 45).

(2) نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر، لابن حجر العسقلاني (ت: 852 هـ)، مطبعة سفير بالرياض 1422 هـ، ق: عبد الله بن ضيف الله الرحيلي (ص 132).

(3) المصدر نفسه، (ص 140).

(4) الوقوف على الموقوف، لابن حجر العسقلاني، مؤسسة الكتب الثقافية، بيروت 1406 هـ، ق: عبد الله الليثي الأنصاري، (ص 25).
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আর কর্মগত (الفعلي) মারফু এর ক্ষেত্রে যেমন সাহাবীর (الصحابي) কথা: "আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন করতে দেখেছি", অথবা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি এমন করেছেন। (১)

হুকমি মারফু (المرفوع الحكمي): যেমন সেই সাহাবীর (الصحابي) সংবাদ প্রদান—যিনি আহলে কিতাব (أهل الكتاب) থেকে বর্ণনা করেন না—এমন বিষয় সম্পর্কে যাতে ইজতিহাদের (الاجتهاد) কোনো অবকাশ নেই। যেমন অতীতকালের সংবাদ তথা নবীদের সংবাদ, অথবা ভবিষ্যৎকালের সংবাদ যেমন মহাযুদ্ধ, ফিতনা ও কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা, কিংবা কোনো কাজের ওপর বিশেষ সওয়াব বা বিশেষ শাস্তির ঘোষণা; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শোনা ব্যতীত এসব জানার কোনো পথ নেই। অথবা সাহাবীর (الصحابي) এই সংবাদ দেওয়া যে, তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এমনটি করতেন। (২)

 

এই স্থানে মাওকুফ (الموقوف) হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করা আমাদের জন্য সঙ্গত, যদিও কিতাব রচয়িতা একে বিলম্বে উল্লেখ করেছেন; কেননা কোনো বিষয় যার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, তার মাধ্যমেই তা মর্যাদা লাভ করে। আর মাওকুফ (الموقوف) হাদিস সাহাবীদের (الصحابة) সাথে সংশ্লিষ্ট, যারা কোনো মতভেদ ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে এই উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। মাওকুফ (الموقوف) হাদিসের সংজ্ঞা হলো: যা সাহাবীর (الصحابي) কথা বা কাজ হিসেবে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং যা মারফু (الرفع) হওয়ার বিধান রাখে না, চাই তার সনদ (إسناده) তাঁর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (اتصل) হোক বা বিচ্ছিন্ন (انقطع) হোক।

সাহাবী (الصحابي) হলেন: এমন ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কুফরি অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা শুনেছেন, অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তিনি সাহাবী (الصحابي) নন। (৩)

মাওকুফ কউলি (الموقوف القولي)-এর উদাহরণ: যেমন আউফ বিন মালিক আল-আশজাঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: "আমি সেই দলের কিছু লোককে দেখেছি যাদের কারো চাবুক পড়ে গেলে তিনি কাউকে তা তুলে দিতে বলতেন না।" (৪)

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ, (পৃষ্ঠা ৪৫)।

(২) নুজহাতুন নজর ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার, ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি), মতবাআ সাফির, রিয়াদ ১৪২২ হিজরি, তাহকিক: আবদুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আল-রুহাইলি (পৃষ্ঠা ১৩২)।

(৩) একই উৎস, (পৃষ্ঠা ১৪০)।

(৪) আল-উকুফ আলাল মাওকুফ, ইবনে হাজার আসকালানি, মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়াহ, বৈরুত ১৪০৬ হিজরি, তাহকিক: আবদুল্লাহ আল-লাইসি আল-আনসারি, (পৃষ্ঠা ২৫)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
مثال الْمَوقُوف الفِعْلِيّ: كإِنْكَار كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ الأَنْصَارِيّ رضي الله عنه عَلَى مَنْ خَطَبَ قَاعِدًا.

وبُكَاءُ عَمْرو بْن الْعَاصِ، فعَنِ ابْنِ شِمَاسَةَ الْمَهْرِيِّ، قَالَ: حَضَرْنَا عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ رضي الله عنه، وَهُوَ فِي سِيَاقَةِ الْمَوْتِ، يَبَكِي طَوِيلا، وَحَوَّلَ وَجْهَهُ إِلَى الْجِدَارِ. (1)

وأما قَوْلُ النَّاظمِ: وَمَا لِتَابِعٍ هو الْمَقْطُوع: أي أَنَّ حَدَّ الحديث الْمَقْطُوع هو كُلُّ مَا أُضِيفَ إِلَى التَّابِعِي أو من دونه سواء كان قولاً أو فعلاً فَهُو الْمَقْطُوع (2)، والتَّابِعِيّ هُوَ مَنْ رَأَى الصَّحَابِي وَلَمْ يَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وبهذا الحدّ خَرَجَ الْمَرْفُوع والْمَوقُوف. (3)

 

مثال الْمَقْطُوع القَوْلِي: أَنْ يَقُولَ الرَّاوِي قَالَ سَعيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ: كذا وكذا، وكَقَولِ الزُّهْرِيّ: " ثمَّ كَانَ الأَمر عَلَى ذَلِك فِي خلافَة أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِن خِلافَةِ عُمَر". وقَول يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ: "لا يُسْتَطَاعُ الْعِلْمُ بِرَاحَةِ الْجَسَدِ"، المقصود أنَّ السَّنَد انتهى عند التَّابعي، وأضيف الكلام له وليس لغيره.

مثال الْمَقْطُوع الفِعْلِيّ: أَنْ يَقُولَ الرَّاوِي فِي مَسَائلٍ تخص العبادات مثلاً: كان قَتَادَة يفعل كذا وكذا، أوكَانَ الْحَسَنُ البَصْرِيّ يفعل فِي الصَّلاةِ كذا وكذا، كُلّ هذه الأمثلة للحَدِيثِ الْمَقْطُوعِ؛ لأنَّ هؤلاء المذكورين من جملة التَّابعين.

--------------------------------------------

(1) الجامع الصحيح، لمسلم بن الحجاج النيسابوري (ت: 261 هـ)، كتاب الإيمان، بَاب كَوْنِ الإِسْلامِ يَهْدِمُ مَا قَبْلَهُ، دار إحياء التراث العربي، بيروت، (1/ 112)، برقم (121).

(2) بَعْضُ الْمُحَدِّثِينَ اسْتَخْدَموا الْمَقْطُوع بِمَعْنَى الْمُنْقَطِع، مِثْل الإِمَام الشَّافِعِيّ، والطَّبرانيّ، وابن عبدالبر رحمهم الله ولَيْسَ هَذَا هو الْمَشْهُور عِندَ أَهْل الفَنِ، ولكن لا مَشَاحَةَ فِي الاصطلاح.

(3) مقدمة ابن الصلاح، (ص 51).
কর্মসংক্রান্ত মওকুফ (الموقوف الفعلي)-এর উদাহরণ: যেমন কাব বিন উজরাহ আল-আনসারী (রা.)-এর সেই ব্যক্তিকে তিরস্কার করা যে বসে খুতবা প্রদান করছিল।

এবং আমর ইবনুল আস (রা.)-এর ক্রন্দন; ইবনে শিমাসা আল-মাহরি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নিকট উপস্থিত হলাম যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কাঁদলেন এবং দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। (১)

আর নাযিম (কবিতা রচয়িতা)-এর কথা: "যা তাবেয়ী পর্যন্ত পৌঁছায় তা-ই মাকতু (المقطوع)"; অর্থাৎ মাকতু (المقطوع) হাদিসের সংজ্ঞা হলো যা কিছু তাবেয়ী (التابعي) বা তার পরবর্তী স্তরের কারোর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, চাই তা কথা হোক বা কাজ, তাকেই মাকতু (المقطوع) বলা হয় (২)। আর তাবেয়ী (التابعي) হলেন তিনি যিনি সাহাবীকে দেখেছেন কিন্তু নবী (সা.)-কে দেখেননি। আর এই সংজ্ঞার দ্বারা মরফু (المرفوع) এবং মওকুফ (الموقوف) হাদিস স্বতন্ত্র হয়ে গেল। (৩)

 

বচনসংক্রান্ত মাকতু (المقطوع القولي)-এর উদাহরণ: বর্ণনাকারী কর্তৃক বলা যে, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেছেন: এমন এমন। যেমন যুহরীর উক্তি: "অতঃপর আবূ বকরের খিলাফতকালে এবং উমরের খিলাফতের প্রথম দিকে বিষয়টি এভাবেই ছিল।" এবং ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীরের উক্তি: "শরীরের আরামে ইলম অর্জন করা সম্ভব নয়।" এখানে উদ্দেশ্য হলো সনদ (السند) তাবেয়ী (التابعي) পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে এবং কথাটি অন্য কারোর পরিবর্তে তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

কর্মসংক্রান্ত মাকতু (المقطوع الفعلي)-এর উদাহরণ: যেমন কোনো বর্ণনাকারী ইবাদত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বলেন: কাতাদাহ এমন এমন করতেন, অথবা হাসান বসরী সালাতে এমন এমন করতেন। এই সবকটিই মাকতু (المقطوع) হাদিসের উদাহরণ; কারণ উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ তাবেয়ীগণের (التابعين) অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) জামিউস সহিহ মুসলিম, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী (মৃত্যু: ২৬১ হি.), কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: ইসলাম পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়, দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, (১/ ১১২), হাদিস নং (১২১)।

(২) কিছু মুহাদ্দিস মাকতু (المقطوع)-কে বিচ্ছিন্ন (المنقطع) অর্থে ব্যবহার করেছেন, যেমন ইমাম শাফিঈ, তাবারানী এবং ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুমুল্লাহ); তবে শাস্ত্রীয় পণ্ডিতদের নিকট এটি প্রসিদ্ধ নয়। তবে পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই।

(৩) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ, (পৃষ্ঠা ৫১)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فَائِدةٌ عَزِيزةٌ: إقرار الصَّحابي لا يَدُلُّ على الموافقة إلا بحجة تثبت ذلك، كَدَلالَةِ السِّياقِ عَلَى ذلك وغَيره؛ لأنَّ السُّكُوت قد يكون لخوف أو غير مناسبة المقام وغيرها من الأسبابِ، ويجب أَنْ نلفت الانتباه إلى أنَّ الحديث المقطوع من صفات المتون، على خلاف المنقطع فإنَّه من صفات السَّند في الأحاديث النَّبوية.

ومما ينبغي معرفته في هذا المقام أنَّ وصف الحديث بالْمَرْفُوعِ أو بالْمَوْقُوفِ أو بالْمَقْطُوعِ لا يَدُلُّ ذلك عَلَى أَنَّهُ صَحِيحٌ أو ضَعِيفٌ، فقد يكونُ مَرفُوعًا صَحِيحًا عند استكمال شروط الصِّحة، ويكونُ مَرفُوعًا ضَعِيفًا عند اختلال الشُّروط وهكذا الْمَوْقُوف والْمَقْطُوع.

 

‌‌الحديثُ الْمُسْنَدُ:

ثم انتقل النَّاظمُ رحمه الله إلى مَبْحَثٍ آخَر مِن أَنْواعِ الحديث فقال:

8 - والْمُسنَدُ الْمُتَّصِلُ الإسنادِ مِنْ … رَاوِيهِ حَتَّى المُصْطَفَى وَلَمْ يَبِنْ

قَوْلُ النَّاظمِ: والْمُسْنَدُ: في اللغةِ: اسم مَفْعُول من أسْنَدَ إلى الشيء وهو الْمُعْتَمَد، وفِي الاصطلاح: أنَّ حَدَّ الحديث الْمُسْنَد هو: الْمُتَّصِلُ الإسنادِ: أي يجب أن يكون فيه شرط الاتصال، مِنْ رَاوِيهِ حَتَّى الْمُصْطَفَى: أي ينتهي إلى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَعْنِي يُشْتَرط أَنْ يَكُونَ مَرْفُوعًا، وَلَمْ يَبِنْ: من بَانَ يَبِينُ أي انقطع، وهو تَاكِيد شرط الاتصال.

خلاصة ذلك: أنَّ حَدَّ الحديث الْمُسْنَد هو: "مَا اجْتَمَعَتْ فيه صِفَتا اتصال السَّنَدِ (في الظَّاهِر)، والرَّفع إلى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَعًا".
একটি মূল্যবান জ্ঞাতব্য (فائدة عزيزة): সাহাবীর মৌন সম্মতি (إقرار) কোনো দলীল ব্যতিরেকে একমত হওয়াকে নির্দেশ করে না, যেমন বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা (سياق) বা অন্য কিছুর প্রমাণ; কেননা নীরবতা কখনও ভয় বা পরিস্থিতির অনুপযুক্ততা অথবা অন্য কোনো কারণে হতে পারে। আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিত যে, মাকতু (المقطوع) হাদিস হলো মতনের (المتون) একটি বৈশিষ্ট্য, যা মুনকাতি (المنقطع) এর বিপরীত; কেননা মুনকাতি (المنقطع) হলো নবিজির হাদিসসমূহের সনদের (السند) একটি বৈশিষ্ট্য।

এ পর্যায়ে যা জানা আবশ্যক তা হলো, কোনো হাদিসকে মারফু (المرفوع), মাওকুফ (الموقوف) কিংবা মাকতু (المقطوع) হিসেবে অভিহিত করা সেটি সহিহ (صحيح) নাকি যঈফ (ضعيف) হওয়ার প্রমাণ দেয় না। কেননা কোনো হাদিস মারফু (مرفوع) হওয়া সত্ত্বেও সহিহ (صحيহ) হওয়ার শর্তাবলি পূর্ণ হওয়ার দরুন সহিহ (صحيহ) হতে পারে, আবার শর্তাবলির অভাবে মারফু (مرفوع) হওয়া সত্ত্বেও যঈফ (ضعيف) হতে পারে। মাওকুফ (الموقوف) ও মাকতু (المقطوع) এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।

 

‌‌মুসনাদ হাদিস:

অতঃপর গ্রন্থকার রাহিমাহুল্লাহ হাদিসের প্রকারভেদসমূহের মধ্য থেকে অন্য একটি পরিচ্ছেদে গিয়ে বলেন:

8 - আর মুসনাদ হলো যার সনদ (الإسناد) তার বর্ণনাকারী থেকে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (المتصل) এবং যা বিচ্ছিন্ন (لم يبن) হয়নি।

গ্রন্থকারের উক্তি: 'মুসনাদ': আভিধানিক অর্থে এটি 'আসনাদা' (أسند) ধাতু থেকে ইসমে মাফউল, যার অর্থ হলো 'নির্ভরযোগ্য'। আর পারিভাষিক অর্থে মুসনাদ হাদিসের সংজ্ঞা হলো: নিরবচ্ছিন্ন সনদ (المتصل الإسناد): অর্থাৎ এতে নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) এর শর্ত থাকা আবশ্যক। 'তার বর্ণনাকারী থেকে শুরু করে মুস্তফা পর্যন্ত': অর্থাৎ এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে; এর অর্থ হলো এতে মারফু (مرفوع) হওয়ার শর্তারোপ করা হয়। 'বিচ্ছিন্ন হয়নি' (لم يبن): এটি 'বানা-ইয়াবিনু' থেকে এসেছে যার অর্থ বিচ্ছিন্ন (انقطع) হওয়া। এটি নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) এর শর্তকে সুদৃঢ় করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

এর সারকথা হলো: মুসনাদ হাদিসের সংজ্ঞা হলো: "যাতে সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند) - বাহ্যিকভাবে - এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু হওয়ার (الرفع) বৈশিষ্ট্য দুটি একত্রে বিদ্যমান থাকে।"
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومثاله: ما أَخْرَجَه البُخَاريُّ فِي صحيحه، فقال: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُصَلِّي أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى عَاتِقَيْهِ شَيْءٌ». (1)

وكما ترى فِي هَذَا الحدِيثِ يَجْتَمِعُ فيه صِفَتا الاتصال والرَّفع مَعًا حَتَى يُطْلَق عَلَيه حَدِيثًا مُسْنَدًا؛ فإذا اختل أَحَد الشَّرطين مثل: انقطاع السَّند أو كَانَ الحدِيثُ مَوقُوفًا أو مَقْطُوعًا فلا يُسَمَّى مُسْنَدًا، حَتَى يَكُون مُتَّصِلاً مَرفُوعًا، وقد يَكُون صَحِيحًا أَو ضَعِيفًا تبعًا للسَّندِ.

 

‌‌الحديثُ الْمُتَّصِلُ:

لَمَّا قَيَّدَ النَّاظِمُ رحمه الله الْمُسْنَدَ بالْمُتَّصِلِ؛ ناسب أَنْ يُتْبعَ ذَلكَ حَدَّ الْمُتَّصِل فقال:

9 - وَمَا بِسَمْعِ كُلِّ رَاوٍ يَتَّصِل … إسْنَادُهُ لِلْمُصْطَفَى فَالْمُتَّصِل

 

قَولُهُ: وَمَا بِسَمْعِ كُلِّ رَاوٍ: أي أنَّ الحديث الذي يأتي بسماع كُلِّ رَاوٍ من رُوَاتِه ممن فَوقَه فِي الإسْنَادِ، يَتَّصِل إسْنَادُهُ لِلْمُصْطَفَى: إلى أَنْ ينتهي السَّماع إلى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم؛ فَالْمُتَّصِل: أي هو حَدّ الْمُتَّصِل، فَدَخَل الْمَرْفُوع: "كَمَالَك عَن نَافِع عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم "، وَالْمَوْقُوف كَمَالَك عَن نَافِع عَن ابْن عمر رضي الله عنه، وَخرج بِقَيْد الاتِّصَال كُلُّ حَدِيثٍ انقطع إسْنَادُه، وخلاصة ذلك: "كُلُّ مُسْنَدٍ مُتَّصِلٌ (وَلَوْ ظَاهِرًا)، وَلَيْسَ كُلُّ مُتَّصِلٍ مُسْنَدًا فبينهما عُمُومٌ وخُصُوصٌ فَالْمُسْنَدُ يَشْمَلُ الْمُتَّصِلَ؛ لأَنَّ الْمُتَّصِلَ قَدْ يَكُونُ مَوْقُوفًا أو مَقْطُوعًا، والْمُسْنَدُ لابُدَّ أَنْ يَكُونَ مَرْفُوعًا مَعَ الإِتِّصَالِ ".

--------------------------------------------

(1) الجامع الصحيح، للبخاري، كتاب العلم، بَابٌ: إِذَا صَلَّى فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ فَلْيَجْعَلْ عَلَى عَاتِقَيْهِ (1/ 81)، برقم (359).
এবং এর উদাহরণ হলো: ইমাম বুখারি যা তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আসিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন এক কাপড়ে এমনভাবে সালাত আদায় না করে যে তার কাঁধের ওপর কিছুই নেই»। (১)

আপনি যেমনটি এই হাদিসে দেখতে পাচ্ছেন যে, এতে নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) এবং মারফু (الرفع) হওয়ার বৈশিষ্ট্যদ্বয় একত্রে বিদ্যমান, যাতে করে একে মুসনাদ (مسند) হাদিস বলা যায়। সুতরাং যদি এই দুই শর্তের কোনো একটি বিঘ্নিত হয়, যেমন: সনদের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع السند) ঘটে অথবা হাদিসটি মাওকুফ (موقوف) কিংবা মাকতু (مقطوع) হয়, তবে তাকে মুসনাদ (مسند) বলা হবে না, যতক্ষণ না তা নিরবচ্ছিন্ন (متصل) ও মারফু (مرفوع) হয়। আর সনদ অনুযায়ী এটি সহিহ (صحيح) বা দুর্বল (ضعيف) হতে পারে।

 

‌মুত্তাসিল (المتصل) হাদিস:

যেহেতু গ্রন্থকার (রহ.) মুসনাদ (المسند)-কে নিরবচ্ছিন্নতার (بالاتصال) সাথে শর্তযুক্ত করেছেন, তাই এর পরপরই মুত্তাসিল (المتصل)-এর সংজ্ঞা প্রদান করা সংগতিপূর্ণ মনে করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন:

৯ - যা প্রত্যেক রাবির শ্রবণের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন হয় … মোস্তফা (সা.) পর্যন্ত এর সনদ পৌঁছালে তা-ই মুত্তাসিল (المتصل)

 

তাঁর বক্তব্য: 'وَمَا بِسَمْعِ كُلِّ رَاوٍ': অর্থাৎ যে হাদিসটি তার প্রত্যেক রাবি তার উপরের রাবির নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেন, 'ইসনাতুহু লিল মুস্তফা' (ইসনাতটি মোস্তফা সা. পর্যন্ত): অর্থাৎ শ্রবণ করার এই ধারা রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। 'ফাল মুত্তাসিল' (فالمتصل): অর্থাৎ এটিই মুত্তাসিল (المتصل)-এর সংজ্ঞা। এর ফলে মারফু (المرفوع) হাদিস এর অন্তর্ভুক্ত হলো, যেমন: "মালিক বর্ণনা করেছেন নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে"। এবং মাওকুফ (الموقوف) হাদিসও এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমন: "মালিক বর্ণনা করেছেন নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে"। আর নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) শর্তের কারণে এমন প্রত্যেক হাদিস বাদ পড়ে যাবে যার সনদ বিচ্ছিন্ন। এর সারকথা হলো: "প্রত্যেক মুসনাদ (مسند) হাদিসই মুত্তাসিল (متصل) (তা বাহ্যত হলেও), কিন্তু প্রত্যেক মুত্তাসিল (متصل) হাদিস মুসনাদ (مسند) নয়। এ দুয়ের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান; মুসনাদ মুত্তাসিলকে অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ মুত্তাসিল হাদিস কখনো মাওকুফ (موقوف) বা মাকতু (مقطوع) হতে পারে, কিন্তু মুসনাদ হওয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) পাশাপাশি মারফু (مرفوع) হওয়া আবশ্যক।"

--------------------------------------------

(১) আল-জামেউস সহিহ, বুখারি, কিতাবুল ইলম, অনুচ্ছেদ: যখন কেউ এক কাপড়ে সালাত আদায় করে তখন যেন তার কাঁধের ওপর কিছু রাখে (১/৮১), হাদিস নং (৩৫৯)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ লি ইউসুফ জাওদাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الحديثُ الْمُسَلْسَلُ:

ثم تكلم النَّاظمُ عَن مَبْحَثٍ آخَر مِن أَنْواعِ الحديث وَهُوَ مِن مَبَاحِثِ الإِسْنَادِ، فقال:

10 - مُسَلْسَلٌ قُلْ مَا عَلَى وَصْفٍ أَتَى … مِثْلُ أَمَا وَاللهِ أنْبأنِي الْفَتَى

11 - كذَاكَ قَدْ حَدَّثَنِيهِ قَائما … أَوْ بَعْدَ أَنْ حَدَّثَنِي تَبَسَّمَا

 

قَولُهُ: مُسَلْسَلٌ: اسْمُ مَفْعُول مِن سَلْسَلَ يُسَلْسِل (1)، وَهُوَ لُغَة التَّتَابُع والتَّشَابُه، وفِي الاصطلاح قِسْمَانِ: القسم الأول: حَدِيث اتّفقت رِجَاله على وصف الرُّوَاة كَمَا أَشَارَ النَّاظمُ فِي قَولِهِ: قُلْ مَا عَلَى وَصْفٍ أَتَى: أي إذا أتى الحديث بتكرير كُلّ راوٍ لِصِفَةٍ مُعَينَةٍ في جميع طَبَقَاتِ السَّندِ، والصَّفةُ قَدْ تَكُون قَولِية أَوْ فِعْلِيَّة.

فأما القولية: مِثْلُ أَمَا وَاللهِ أنْبأنِي الْفَتَى: أَمَا بِمَعْنَى أَلا الاسْتِفْتَاحِيَّة، ثم ضرب النَّاظِمُ مثلاً للحديث الْمُسَلْسَل بقوله هذا: "أَمَا وَاللهِ أنْبأنِي الْفَتَى"، بِمَعنَى أنَّ الرَّواي للحديث يَقُولُ عَند التَّحْدِيث بهذه الجملة وهَكَذَا يَقُول الأخر مثل ذَلِك حتى يكون هَذَا التَّكْرَار فِي جميع طَبَقاتِ السَّنَد.

ومِثَاله: مَا أَخْرَجَه النَّسائي فِي سننه فقال: أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ حَيْوَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ الصُّنَابِحِيّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: أَخَذَ بِيَدِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «إِنِّي لأُحِبُّكَ يَا مُعَاذُ»، فَقُلْتُ: وَأَنَا أُحِبُّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فَلا تَدَعْ أَنْ تَقُولَ فِي كُلِّ صَلاةٍ: رَبِّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ

--------------------------------------------

(1) الصحاح تاج اللغة، إسماعيل بن حماد الجوهري (المتوفى: 393 هـ)، طبعة دار العلم للملايين، بيروت سنة 1407 هـ (ص 51).
অনুবর্তী (مسلسل) হাদিস:

অতঃপর গ্রন্থকার হাদিসের প্রকারভেদসমূহের মধ্য থেকে অন্য একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা সনদ (إسناد) সংক্রান্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেছেন:

১০ - অনুবর্তী (مسلسل) বলো তাকে, যা কোনো নির্দিষ্ট গুণের ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত হয়েছে... যেমন: "সাবধান! আল্লাহর কসম, যুবকটি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।"

১১ - অনুরূপভাবে তিনি আমার নিকট দাঁড়িয়ে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন... অথবা বর্ণনা করার পর তিনি মুচকি হেসেছেন।

 

তার উক্তি: "মুসালসাল (مسلسل)": এটি ‘সালসালা’ (سلسل) ক্রিয়ামূল থেকে নির্গত কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول), যার শাব্দিক অর্থ হলো ধারাবাহিকতা এবং সাদৃশ্য। আর পরিভাষায় (اصطلاح) এটি দুই প্রকার: প্রথম প্রকার: এমন হাদিস যার বর্ণনাসূত্রের ব্যক্তিবর্গ (رجال) বর্ণনাকারীদের (رواة) কোনো একটি গুণের ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন, যেমনটি গ্রন্থকার তাঁর এই উক্তিতে ইঙ্গিত করেছেন: "বলো তাকে যা কোনো গুণের ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত হয়েছে": অর্থাৎ যদি হাদিসটি সনদের (سند) সকল স্তরে (طبقات) প্রত্যেক বর্ণনাকারী (راوي) কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট গুণের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে বর্ণিত হয়। আর এই গুণটি বাচনিক (قولية) অথবা কার্মিক (فعلية) হতে পারে।

বাচনিক (قولية) গুণের ক্ষেত্রে: যেমন "সাবধান! আল্লাহর কসম, যুবকটি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।" এখানে ‘আমা’ (أما) শব্দটি প্রারম্ভিক অব্যয় ‘আলা’ (ألا)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অতঃপর গ্রন্থকার অনুবর্তী (مسلسل) হাদিসের উদাহরণ হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন: "সাবধান! আল্লাহর কসম, যুবকটি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।" এর অর্থ হলো, হাদিস বর্ণনাকারী (راوي) হাদিস বর্ণনা করার সময় এই বাক্যটি বলবেন এবং তাঁর পরবর্তী বর্ণনাকারীও একইভাবে বলবেন, যাতে করে সনদের (سند) সকল স্তরে (طبقات) এই বাক্যটির পুনরাবৃত্তি ঘটে।

এর উদাহরণ: যা ইমাম নাসাঈ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাইওয়াকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি উকবা ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আস-সুনাবিহী থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: «হে মুয়াজ! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ভালোবাসি», তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তুমি প্রত্যেক নামাজের পর এই দোয়াটি পাঠ করতে ছাড়বে না: হে আমার প্রতিপালক, আমাকে সাহায্য করুন আপনার জিকির করার জন্য...

--------------------------------------------

(১) আস-সিহাহ তাজুল লুগাহ, ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ আল-জাওহারী (মৃত্যু: ৩৯৩ হি.), দারুল ইলম লিল-মালাঈন সংস্করণ, বৈরুত ১৪০৭ হি. (পৃষ্ঠা ৫১)।