(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
شرح الإلمام بأحاديث الأحكام   (ابن دقيق العيد)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: شرح الإلمام بأحاديث الأحكام

المؤلف: تقي الدين أبو الفتح محمد بن علي بن وهب بن مطيع القشيري، المعروف بابن دقيق العيد (ت 702 هـ)

حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه: محمد خلوف العبد الله

الناشر: دار النوادر، سوريا

الطبعة: الثانية، 1430 هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 ربيع الأول 1437

শরহুল ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম   (ইবন দাকীক আল-ঈদ)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


কিতাব: শরহুল ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম

লেখক: তাক্বীউদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন ওয়াহাব বিন মুতী' আল-কুশাইরী, ইবন দাকীক আল-ঈদ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭০২ হিজরি)

তাহকীক, তালীক ও হাদিস তাখরীজ করেছেন: মুহাম্মাদ খালূফ আল-আবদুল্লাহ

প্রকাশক: দারুন নাওয়াদির, সিরিয়া

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
شرح الإلمام بأحاديث الأحكام

 

تأليف

الإمام المجتهد ابن دقيق العيد

أبي الفتح تقي الدين محمد بن علي بن وهب القشيري المصري (625 هـ - 702 هـ)

 

«يطبع لأول مرة كاملا محققا على ثلاث نسخ خطية»

 

حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه

محمد خلوف العبد الله

 

دار النوادر
শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম

 

রচনায়

ইমাম মুজতাহিদ ইবনে দাকীকুল ঈদ

আবুল ফাতহ তাকীউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন ওয়াহাব আল-কুশাইরী আল-মিসরী (৬২৫ হিজরি - ৭০২ হিজরি)

 

«তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ও সম্পাদিত আকারে মুদ্রিত»

 

সম্পাদনা, টীকাভাষ্য ও হাদিস বিশ্লেষণ করেছেন

মুহাম্মদ খালুফ আল-আবদুল্লাহ

 

দারুন নাওয়াদির
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩)
شَرْحُ الإلْمَامِ
শরহু আল-ইলমাম
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪)
جَمِيعُ الحُقُوقِ مَحْفُوظَة

الطَّبْعَةُ الأُولَى

مِن إِصْدَارَاتِ

وَزَارَة الشُّؤُونِ الإِسْلَامِيَّةِ وَالأَوْقَافِ وَالدَّعْوَةَ وَالإِرْشَادِ

المَمْلَكَةُ العَرَبِيَّةُ السُّعُودِيَّةُ

1429 هـ - 2008 م

 

الطَّبْعَةُ الثَّانِيَة

مِنْ إِصْدَارَاتِ

دَارُ النَّوَادِرِ

1430 هـ - 2009 م

 

دَارُ النَّوَادِرِ

لصاحبها ومديرها العام

نُورِ الدِّين طَالِب

سوريا - دمَشق - ص. ب: 24306

لبنان - بيروت - ص. ب: 5180/ 14

هاتف: 00963112227001 - فاكس: 00963112227011

www.daralnawader.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

এর প্রকাশনা থেকে

ইসলামী বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়

সৌদি আরব রাজ্য

১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

এর প্রকাশনা থেকে

দারুন নাওয়াদির

১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুন নাওয়াদির

এর স্বত্বাধিকারী ও মহাপরিচালক

নূরুদ্দীন তালিব

সিরিয়া - দামেস্ক - পি. ও. বক্স: ২৪৩০৬

লেবানন - বৈরুত - পি. ও. বক্স: ৫১৮০/ ১৪

টেলিফোন: ০০৯৬৩১১২২২৭০০১ - ফ্যাক্স: ০০৯৬৩১১২২২৭০১১

www.daralnawader.com
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

مقدمة

إنَّ الحمدَ للهِ نحمدُه ونستعينُه ونستغفره، ونعوذُ بالله من شرورِ أنفسِنا، وسيئات أعمالِنا، مَنْ يهدِه اللهُ فلا مضلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له.

وأشهدُ أن لا إلهَ إلا اللهُ وحدَه لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبدُه ورسولُه.

أمّا بعد:

فإن كتاب "الإمام في معرفة أحاديث الأحكام" للإمام المجتهد المجدِّد ابن دقيق العيد رحمه الله لا نظير له في الكتب المصنَّفة في الأحكام الجامعة بين الحلال والحرام، حتى قال عنه: أنا جازم أنه ما وُضِعَ في هذا الفنِّ مثلُه (1).

وهو القائل أيضاً: ما وقفتُ على كتاب من كتب الحديث وعلومه المتعلقة به، سُبِقْتُ بتأليفه وانتهى إليَّ، إلَّا وأودعتُ منه فائدةً

--------------------------------------------

(1) انظر: "الطالع السعيد" للأدفوي (ص: 575).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনের কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইমাম মুজতাহিদ মুজাদ্দিদ ইবনে দাকীকুল ঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত "আল-ইমাম ফী মা'রিফাতি আহাদীসিল আহকাম" গ্রন্থটি হালাল ও হারামের বিধান সংক্রান্ত সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অতুলনীয়। এমনকি তিনি এর সম্পর্কে বলেছেন: "আমি সুনিশ্চিত যে, এই শাস্ত্রে এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি" (১)।

তিনি আরও বলেছেন: "হাদীসের কিতাব এবং এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের মধ্য থেকে আমার আগে রচিত এবং আমার নিকট পৌঁছেছে এমন কোনো কিতাব আমি দেখিনি, যা থেকে আমি কোনো না কোনো উপকারিতা এতে সন্নিবেশিত করিনি।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদফাউয়ী রচিত "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃষ্ঠা: ৫৭৫)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬)
في هذا الكتاب (1).

ولذا قال عنه شيخُ الإسلام ابنُ تيمية: هو كتاب الإسلام، وقال: ما عَمِلَ أحدٌ مثلَه، ولا الحافظُ الضِّياءُ، ولا جدِّي أبو البركات (2).

ثم إنَّه رحمه الله قد اختصرَ كتابَه هذا، لَمَّا رأى استخشانَ بعضِ أهل عصره لإطالته، فصنف "الإلمام بأحاديث الأحكام"، وهو من أجلِّ كتابٍ وُضِع في أحاديث الأحكام، يحفظُه المبتدئ المستفيدُ، ويناظِرُ فيه الفقيهُ المفيدُ (3)، ومن فَهِمَ مغزاه، شدَّ عليه يدَ الضِّنانة، وأنزله من قلبه وتعظيمهِ الأعزَّين مكاناً ومكانة (4).

وقد شرطَ فيه مؤلِّفُه أن لا يوردَ إلا حديثَ من وثَّقه إمام من مزكِّي رواة الأخبار، وكان صحيحاً على طريقة بعض أهل الحديث الحفَّاظ، أو أئمة الفقه النظَّار (5).

ثم إنه رحمه الله قد شرح هذا الكتاب؛ أعني "الإلمام" شرحاً عظيماً (6)، وصل فيه إلى نهاية باب صفة الوضوء، أتى فيه

--------------------------------------------

(1) انظر: "مقدمة الإمام في معرفة أحاديث الأحكام" (1/ 52) نقلاً عن "ملء العيبة" لابن رُشيد (3/ 260).

(2) انظر: "الطالع السعيد" للأدفوي (ص: 575 - 576).

(3) انظر: "الاهتمام بتلخيص الإلمام" لقطب الدين الحلبي (ص: 5).

(4) انظر: "مقدمة هذا الشرح" (1/ 25).

(5) انظر: "مقدمة هذا الشرح" (1/ 26).

(6) انظر: "تذكرة الحفاظ" للذهبي (4/ 1482).
এই কিতাবে (১)।

এই কারণেই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি ইসলামের কিতাব। তিনি আরও বলেছেন: এর মতো কাজ আর কেউ করেনি, হাফেজ দিয়াও নয় এবং আমার দাদা আবু বারাকাতও নয় (২)।

অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই কিতাবটিকে সংক্ষেপ করেছেন, যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর সমসাময়িক কিছু লোক এর দীর্ঘতায় বিরক্তি প্রকাশ করছে। ফলে তিনি "আল-ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম" রচনা করেন। আহকামের হাদিস বিষয়ক রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব; উপকৃত হতে ইচ্ছুক নতুন শিক্ষার্থীরা এটি মুখস্থ করে এবং বিজ্ঞ ফকিহগণ এতে পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা ও বিতর্ক করেন (৩)। আর যে ব্যক্তি এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে, সে একে অতি সযত্নে আঁকড়ে ধরেছে এবং একে নিজের অন্তরে ও সম্মানের ক্ষেত্রে অতি উচ্চ মর্যাদা ও স্থানে আসীন করেছে (৪)।

এর গ্রন্থকার এতে শর্তারোপ করেছেন যে, তিনি কেবল এমন হাদিসই উল্লেখ করবেন যার বর্ণনাকারীকে হাদিস বিশারদ ইমামদের মধ্যে কোনো সত্যায়নকারী নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করেছেন, এবং যা হাফেজ মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অথবা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ফকিহ ইমামদের নিকট বিশুদ্ধ (সহিহ) হিসেবে গণ্য (৫)।

অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবটির—অর্থাৎ "আল-ইলমাম"-এর—একটি বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন (৬), যাতে তিনি ওযুর পদ্ধতির অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছেন। এতে তিনি নিয়ে এসেছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "মুকাদ্দিমাতুল ইমাম ফি মারিফাতি আহাদিসিল আহকাম" (১/ ৫২), যা ইবনে রুশাইদের "মিলউল আইবাহ" (৩/ ২৬০) থেকে উদ্ধৃত।

(২) দেখুন: আদফাউয়ীর "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃষ্ঠা: ৫৭৫ - ৫৭৬)।

(৩) দেখুন: কুতুবুদ্দিন আল-হালাবীর "আল-ইহতিমাম বি তালখিসিল ইলমাম" (পৃষ্ঠা: ৫)।

(৪) দেখুন: "এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকা" (১/ ২৫)।

(৫) দেখুন: "এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকা" (১/ ২৬)।

(৬) দেখুন: যাহাবীর "তাযকিরাতুল হুফফাজ" (৪/ ১৪৮২)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭)
بالعجائب الدالة على سَعَة دائرته في العلوم، خصوصاً في الاستنباط، كما قال الحافظُ ابنُ حجر (1).

وقيمة هذا الكتاب "شرح الإلمام بأحاديث الأحكام" تتجلَّى لمُطالعه حالما ينظر فيه، فقد أسفر فيه المؤلف عن نكت وفوائد بديعة.

وأورد فيه من النوادر والمباحث الدقيقة ما يأخذ بالألباب.

وأوضح فيه منهجاً سليماً قوياً في كيفية الاستدلال والاستنباط من السنة والكتاب.

وأبرز فيه من التقريرات والتوجيهات الأصولية ما انفرد به عن نظرائه، وفاق كثيراً من قرنائه.

وأفصح فيه عن كثير من العلوم الخادمة لفهم النصوص الشرعية؛ كعلوم العربية، والمباحث المنطقية والأصولية، والقواعد العقلية.

ومن هنا قال الحافظ قطب الدين الحلبي: إنه لم يتكلم على الحديث من عهد الصحابة إلى زماننا مثل ابن دقيق العيد، ومن أراد معرفة ذلك، فعليه بالنظر في القطعة التي شرح فيها "الإلمام"، فإن جملة ما فيها: أنه أورد حديثَ البراءِ بن عازب: "أمرنا رسولُ الله صلى عليه وسلم بسبع، ونهانا عن سبع"، واشتمل على أربع مئة فائدة (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: "الدرر الكامنة" لابن حجر (5/ 348).

(2) انظر: "رفع الإصر عن قضاة مصر" لابن حجر (ص: 395).
বিজ্ঞানে তাঁর জ্ঞানের পরিধির বিশালতা প্রমাণের ক্ষেত্রে চমৎকার সব বিষয় রয়েছে, বিশেষ করে মাসয়ালা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে, যেমনটি হাফিজ ইবনে হাজার (১) বলেছেন।

এবং এই কিতাব ‘শারহুল ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম’-এর গুরুত্ব এর পাঠকের কাছে এটি দেখার সাথে সাথেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে; কেননা লেখক এতে অপূর্ব সব সূক্ষ্ম বিষয় ও চমৎকার উপকারিতা প্রকাশ করেছেন।

এবং তিনি এতে এমন সব বিরল ও সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক আলোচনা উপস্থাপন করেছেন যা বিবেককে বিমোহিত করে।

এবং তিনি এতে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল গ্রহণ ও মাসয়ালা উদ্ভাবন পদ্ধতির একটি নির্ভুল ও শক্তিশালী পন্থা ব্যাখ্যা করেছেন।

এবং তিনি এতে এমন সব উসূলি সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা ফুটিয়ে তুলেছেন যাতে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের থেকে অনন্য এবং তাঁর অনেক সমকক্ষদের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।

এবং তিনি এতে শারঈ নস (মূল পাঠ) বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক অনেক শাস্ত্র স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন; যেমন আরবি ভাষাবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা ও উসূল সংক্রান্ত আলোচনা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতিসমূহ।

আর এখান থেকেই হাফিজ কুতুবুদ্দিন আল-হালাবি বলেছেন: সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত ইবনে দাকীক আল-ঈদের মতো আর কেউ হাদিসের ব্যাখ্যায় এমন আলোচনা করেননি। আর যে ব্যক্তি তা জানতে চায়, তার উচিত ‘ইলমাম’-এর সেই অংশটি দেখা যেখানে তিনি এটি ব্যাখ্যা করেছেন; কেননা তার সারসংক্ষেপ হলো: তিনি বারা বিন আযিব-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন”, আর এটি চারশটি উপকারিতা অন্তর্ভুক্ত করেছে (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজারের ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৫/ ৩৪৮)।

(২) দেখুন: ইবনে হাজারের ‘রাফউল ইসর আন কুদাতিল মিসর’ (পৃষ্ঠা: ৩৯৫)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮)
إن كتاباً أَرْبت مواردُه على المئتين والثلاثين من أمهات كتب الإسلام، أعتمد مؤلفُه عليها في أواخر القرن السابع الهجري، لجديرٌ بالوقوف عليه.

وإن كتاباً قاربت فوائدهُ الثلاثةَ آلافِ فائدة ومسألة من شرح سبعة وخمسين حديثاً، لحقيق أن يُنْظَر في ما حواه، وأن يُنْعَمَ النظرُ في فحواه.

هذا وقد منَّ الله عليَّ بتحقيق هذا السفر الجليل، والاضطلاع بأعباء تصحيح نصوصه وتقويمها، وتخريج أحاديثه وآثاره وأشعاره وغيرها مما تراه في منهج التحقيق، ثم إني قدَّمت للكتاب بفصلين، اشتمل أولهما على ترجمة الإمام ابن دقيق العيد رحمه الله، وكان الآخر لدراسة الكتاب، وفي كل واحد منهما مباحث وفوائد متنوعة.

ويعلم الله، كم قد تحمَّلتُ، في هذه الأوقات التي كنت أعمل فيها في هذا الكتاب، شغلاً وهمًّا، وديناً وغُرماً، وظلماً وهضماً. ولكن أسأل الله أن ينفع بعملي هذا، ويثيبني به في الآخرة، فمنه سبحائه أستمدُّ العَون، ومن الخسارة فيما أرجِّي ربحَه أسألُهُ الصَّون، ولا حول ولا قوة إلا به.

ولا بد في الختام من التوجُّه بالشُّكْر والامتنان إلى كل من كان له يد في إخرأج هذا الكتاب إلى عالم المطبوع، وأخصُّ بالذِّكر منهم:

- فضيلة الشيخ المحقق المدقق نور الدِّين طالب، الذي أتحفني بتصوير النسخة الخطية لمكتبة كوبريلي، وأمدَّني بالمراجع والمصادر المخطوطة والنادرة المتوفرة لديه، كما كان له الفضلُ في بعث الهمة على إنجاز هذا العمل وإخراجِه على نحوٍ مرضيٍّ.
একটি গ্রন্থ যার উৎস ইসলামি ঐতিহ্যের ২৩০টিরও অধিক মূল কিতাব থেকে সংগৃহীত, সপ্তম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে এর লেখক যার ওপর নির্ভর করেছেন, সেটি অবশ্যই পর্যালোচনার যোগ্য।

আর একটি গ্রন্থ যাতে ৫৭টি হাদিসের ব্যাখ্যা থেকে প্রায় ৩০০০ শিক্ষণীয় বিষয় ও মাসআলা সন্নিবেশিত হয়েছে, তার বিষয়বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং এর মর্মার্থ গভীরভাবে অনুধাবন করা একান্ত প্রয়োজন।

আল্লাহ তাআলা এই মহান গ্রন্থটির তাহকিক করার এবং এর মূল পাঠ সংশোধন ও পরিমার্জন, এর হাদিস, আসার ও কবিতাগুলোর তাখরিজসহ তাহকিক পদ্ধতিতে উল্লিখিত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের তাওফিক দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন। এরপর আমি গ্রন্থটির শুরুতে দুটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছি; প্রথমটি ইমাম ইবনু দাকিকিল ঈদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর জীবনী এবং দ্বিতীয়টি গ্রন্থটির পরিচিতি ও পর্যালোচনা সম্পর্কিত। এগুলোর প্রত্যেকটিতে বিবিধ গবেষণা ও শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।

আল্লাহ জানেন, এই গ্রন্থটির কাজ করার সময় আমাকে কতটা ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা, ঋণ, আর্থিক ক্ষতি, জুলুম ও লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে। তবে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজের মাধ্যমে উপকার সাধন করেন এবং পরকালে এর বিনিময় দান করেন। আমি সুমহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং যে কাজে লাভের আশা করি তাতে ক্ষতি থেকে তাঁরই সুরক্ষা কামনা করি। তাঁর সাহায্য ছাড়া আর কোনো উপায় বা শক্তি নেই।

পরিশেষে, এই গ্রন্থটি মুদ্রণ আকারে প্রকাশের পেছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি:

- শ্রদ্ধেয় শায়খ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ নূরুদ্দীন তালিব, যিনি আমাকে কুপরিলি লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির অনুলিপি উপহার দিয়ে ধন্য করেছেন এবং তাঁর কাছে থাকা দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও উৎস গ্রন্থগুলো দিয়ে সাহায্য করেছেন। পাশাপাশি এই কাজটি সম্পন্ন করতে এবং একটি সন্তোষজনক রূপে এটি প্রকাশ করতে উৎসাহ প্রদানের কৃতিত্বও তাঁর।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৯)
- فضيلة الشيخ المفيد المجيد عبد الباري بن حمَّاد الأنصاري، الذي تفضَّل بتصوير النسختين الخطيتين لدار الكتب المصرية والمكتبة البديعية.

- الإخوة الأفاضل الذين كانوا لي خير معين - بعد الله عز وجل في إخراج هذا الكتاب، من العمل معي في النسخ والمقابلة والتصحيح والفهرسة والتنضيد والإخراج، وأخصُّ بالذكر منهم الإخوة: إدريس أبيدمي، ومحمد عبد الحليم بعاج، وجمعة الرحيم.

أسأل الله - إن كان لي من حظٍّ في هذا الكتاب عنده - أن يضربَ لكلِّ واحد من هؤلاء المشايخ الأماثل والإخوة الأفاضل بسهمٍ فيه، وأن يشركوني في أجرِ نشرِ هذا العلم وتبليغِه، إنه سبحانه وليُّ ذلك، وهو حسبنا ونعمَ الوكيل.

وكتبه

أَبُو عَبْدِ الله

محمّد خلّوف العبْدالله

حَامِدًا للهِ تَعَالَى عَلَى أَفْضَالِهِ

وَمُصَلِّيًا وَمُسَلِّمًا عَلَى نَبِيِّه وَآلِهِ

وَمُتَرَضيًا عَن صَحْبِهِ وَأَتْبَاعِهِ
- শ্রদ্ধেয় শায়খ, কল্যাণকামী ও সম্মানিত আব্দুল বারি বিন হাম্মাদ আল-আনসারি, যিনি মিসরীয় দারুল কুতুব এবং আল-মাকতাবাতুল বাদিইয়াহ-এর দুটি পাণ্ডুলিপি ছবি তুলে সরবরাহ করার মহানুভবতা দেখিয়েছেন।

- সম্মানিত ভাইগণ, যারা এই গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর পর আমার জন্য সর্বোত্তম সহযোগী ছিলেন—অনুলিপি তৈরি, পাণ্ডুলিপি যাচাই, সংশোধন, নির্ঘণ্ট প্রণয়ন, বিন্যাস এবং মুদ্রণকার্যে। আমি তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করছি ভাই ইদ্রিস আবিদামি, মুহাম্মাদ আব্দুল হালিম বা'আজ এবং জুমআ আল-রাহিমকে।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—যদি তাঁর নিকট এই গ্রন্থে আমার কোনো অংশ থেকে থাকে—তবে তিনি যেন এই মহান শায়খগণ এবং সম্মানিত ভাইদের প্রত্যেককে এর সওয়াবের অংশীদার করেন, এবং এই ইলম প্রচার ও পৌঁছে দেওয়ার প্রতিদানে তারা যেন আমার সাথে শরিক হন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, তিনিই এর অভিভাবক এবং তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।

আর এটি লিখেছেন

আবু আব্দুল্লাহ

মুহাম্মাদ খাল্লাফ আল-আব্দুল্লাহ

মহান আল্লাহর প্রশংসাকারী হিসেবে তাঁর অনুগ্রহসমূহের জন্য

তাঁর নবী এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম পেশকারী হিসেবে

এবং তাঁর সাহাবী ও অনুসারীদের জন্য সন্তুষ্টির দুআকারী হিসেবে
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأوّل

تَرْجَمَةُ الإِمَامِ ابْن دَقيق العِيدِ
প্রথম পরিচ্ছেদ

ইমাম ইবনে দাকীক আল-ঈদের জীবনী
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأَوَّل

 

*‌‌ اسمه ونسبه وولادته:

هو الإمام، المجدد، المجتهد، شيخ الإسلام، محمد بن علي ابن وهب بن مطيع بن أبي طاعة المنفلوطي القوصي (1) الثَّبَجِي (2) المصري المالكي الشافعي، تقي الدين أبو الفتح ابن القاضي الإمام أبي الحسن القشيري، من ذرية بهز بن حكيم القشيري رضي الله عنه (3)، المشهور ب: ابن دقيق العيد (4).

ولد في شعبان سنة (625 هـ)، في ينبع على ساحل البحر الأحمر، عندما كان والدُه متوجهاً من قُوص إلى مكةَ للحج.

--------------------------------------------

(1) نسبة إلى مدينة قوص من مدن الصعيد في جنوب مصر.

(2) الثَّبَجي: بمثلثة ثم موحدة مفتوحتين. قال العراقي في "شرح الألفية المسماة بالتبصرة والتذكرة" (1/ 281 - 282) شارحاً قوله: "استشكل الثبجي". قال: المعني بقولي: "استشكل الثبجي": هو ابن دقيق العيد، وربما كان يكتب هذه النسبة في خطه؛ لأنه ولد بثبج البحر بساحل ينبُع من الحجاز، ومنه الحديث الصحيح: "يركبون ثبج هذا البحر"؛ أي: ظهره، وقيل: وسطه، انتهى. وكذا قال الأُدفُوي في "الطالع السعيد" (ص: 570) أنه رآه بخطه: الثبجي.

(3) قال الذهبي في "المعجم المختص" (ص: 169): فيما بلغنا. وقال الحافظ في "الدرر الكامنة" (5/ 350): ويُذْكَر ذلك.

(4) قال الأُدفُوي في "الطالع السعيد" (ص: 435) في ترجمة والد الإمام ابن دقيق: الشيخ مجد الدين علي: وسبب تسمية جده - يعني: مطيعاً -: دقيق العيد: أنه كان عليه يوم عيد طيلسان شديد البياض، فقال بعضهم: كأنه دقيق العيد، فلقب به رحمه الله.
প্রথম পরিচ্ছেদ

 

*‌‌ তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:

তিনি হলেন ইমাম, মুজাদ্দিদ, মুজতাহিদ, শাইখুল ইসলাম, মুহাম্মদ বিন আলী ইবনে ওয়াহাব বিন মুতি' বিন আবি তা'আ আল-মানফালুতি আল-কুসি (১) আস-সাবাজি (২) আল-মিসরি আল-মালিকি আশ-শাফিয়ি, তাকিউদ্দিন আবুল ফাতহ ইবনুল কাজি ইমাম আবুল হাসান আল-কুশাইরি। তিনি বাহয বিন হাকিম আল-কুশাইরি (রাদিআল্লাহু আনহু) (৩)-এর বংশধর এবং 'ইবনে দাকীক আল-ঈদ' (৪) হিসেবে প্রসিদ্ধ।

তিনি ৬২৫ হিজরির শাবান মাসে লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু'তে জন্মগ্রহণ করেন, যখন তাঁর পিতা কুস থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে হজে যাচ্ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) মিসরের দক্ষিণাঞ্চলীয় আস-সা’ঈদের কুস শহরের সাথে সম্পৃক্ত।

(২) আস-সাবাজি: এটি সা (তিন নুকতাযুক্ত) এবং এরপর বা (এক নুকতাযুক্ত)-এর ফাতহা (যবর) সহকারে। ইরাকি তাঁর "শারহুল আলফিয়্যাহ আল-মুসাম্মা বিত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ" (১/ ২৮১ - ২৮২) গ্রন্থে তাঁর এই উক্তিটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: "আস-সাবাজি সমস্যা বোধ করেছেন"। তিনি বলেন: "আস-সাবাজি" বলতে আমি ইবনে দাকীক আল-ঈদকে বুঝিয়েছি। সম্ভবত তিনি নিজের হস্তাক্ষরে এই নিসবতটি (সম্বন্ধ) লিখতেন; কারণ তিনি হিজাজের ইয়ানবু' উপকূলের সমুদ্রের 'সিবজ'-এ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সহিহ হাদিসে এসেছে: "তারা এই সমুদ্রের সিবজে আরোহণ করবে"; অর্থাৎ সমুদ্রের উপরিভাগে, আবার কারো মতে সমুদ্রের মাঝখানে। সমাপ্ত। আল-উদফুয়ি "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃষ্ঠা: ৫৭০) গ্রন্থে অনুরূপ বলেছেন যে, তিনি তাঁর হস্তাক্ষরে "আস-সাবাজি" লেখা দেখেছেন।

(৩) আয-যাহাবি "আল-মু'জামুল মুখতাস" (পৃষ্ঠা: ১৬৯) গ্রন্থে বলেন: "যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে।" আর হাফিজ (ইবনে হাজার) "আদ-দুরারুল কামিনাহ" (৫/ ৩৫০) গ্রন্থে বলেন: "এটি উল্লেখ করা হয়।"

(৪) আল-উদফুয়ি "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃষ্ঠা: ৪৩৫) গ্রন্থে ইমাম ইবনে দাকীকের পিতার জীবনীতে বলেন: শাইখ মাজদুদ্দিন আলী: এবং তাঁর দাদা—অর্থাৎ মুতি'কে—"দাকীক আল-ঈদ" ডাকার কারণ হলো: ঈদের দিনে তাঁর পরিধানে অত্যন্ত শুভ্র চাদর (তাইলিসান) ছিল, তখন কেউ একজন বলেছিলেন: এটি যেন ঈদের আটা (দাকীক আল-ঈদ), ফলে তিনি এই উপাধিতে ভূষিত হন, রহিমাহুল্লাহ।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
*‌‌ نشأته وطلبه للعلم:

نشأ الإمام ابن دقيق العيد في أسرة علمية، مشهورة بالتدين والصلاح؛ فأبوه الشيخ مجد الدين أبو الحسن علي، جمع بين العلم والعمل والعبادة والورع والتقوى والزَّهَادة والإحسان إلى الخلائق مع اختلافهم، وبذل المجهود في اجتماع قلوبهم وائتلافهم، وقد ارتحل إليه الناس من سائر الأقطار، وقصدوه من كل النواحي والأمصارِ (1).

أما أمُّه: فهي بنت الشيخ الصالح تقي الدين مظفر بن عبد الله المشهور بالمقترَح.

قال الأُدفُوي: فأصلاه كريمان، وأبواه عظيمان.

وقد ذكر والدُه: أنه أخذه عند ولادته وطاف به الكعبة، وجعل يدعو الله أن يجعلَه عالماً عاملاً.

فابتدأ الشيخ بقراءة القرآن العظيم، حتى حصل منه على حظٍّ جسيم، ونشأ بقوص على حالة واحدة من الصمت والاشتغال بالعلوم، ولزوم الصيانة والديانة، فاشتغل بالفقه على مذهب الإمامين مالك والشافعي على والده، وكان قد اشتغل بمذهب الشافعي أيضاً على تلميذ والده الشيخ بهاء الدين هبة الله القِفْطي، وكان يقول: البهاء مُعلِّمي.

--------------------------------------------

(1) انظر: "الطالع السعيد" للأدفوي (ص: 424)، و"مرآة الجنان" لليافعي (4/ 166)، وكان قد توفي رحمه الله سنة (667 هـ).
তাঁর বেড়ে ওঠা এবং ইলম অর্জন:

ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ এক ইলমী পরিবারে বেড়ে ওঠেন, যা ধার্মিকতা ও সততার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। তাঁর পিতা শায়খ মাজদুদ্দীন আবুল হাসান আলী জ্ঞান, আমল, ইবাদত, পরহেজগারি, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা এবং বিচিত্র সব মানুষের প্রতি ইহসানের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি মানুষের হৃদয়গুলোকে একত্রিত করতে এবং তাদের মাঝে সম্প্রীতি স্থাপনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন। তাঁর নিকট পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সফর করে আসত এবং প্রতিটি দিক ও জনপদ থেকে লোকেরা তাঁরই সন্ধানে আসত (১)।

আর তাঁর মাতা ছিলেন: পুণ্যবান শায়খ তাকিউদ্দীন মুযাফফর ইবনে আবদুল্লাহর কন্যা, যিনি 'আল-মুকতারাহ' নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

আল-উদফুয়ী বলেন: তাঁর পিতৃ ও মাতৃ উভয় বংশপরম্পরা ছিল অত্যন্ত সম্মানিত এবং পিতামাতা ছিলেন মহান ব্যক্তিত্ব।

তাঁর পিতা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর জন্মের সময় তাঁকে নিয়ে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করেছিলেন এবং আল্লাহর নিকট দুআ করতে থাকেন যেন তিনি তাঁকে একজন আমলকারী আলেম বানান।

অতঃপর শায়খ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন পাঠের মাধ্যমে শিক্ষা শুরু করেন এবং তা থেকে এক বিশাল পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি কূস শহরে নীরবতা, জ্ঞানচর্চায় মগ্নতা এবং চারিত্রিক পবিত্রতা ও দ্বীনদারির একনিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী—উভয় ইমামের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ চর্চা করেন। এছাড়া তিনি তাঁর পিতার ছাত্র শায়খ বাহাউদ্দীন হিবাতুল্লাহ আল-কিফতির নিকটও শাফেয়ী মাযহাবের ইলম অর্জন করেন এবং বলতেন: “বাহা আমার শিক্ষক”।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-উদফুয়ী রচিত "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃ. ৪২৪), এবং আল-ইয়াফেয়ী রচিত "মিরআতুল জানান" (৪/১৬৬)। তিনি (পিতা) রহমতুল্লাহি আলাইহি ৬৬৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقرأ الأصول على والده، ثم سمع بمصر والشام والحجاز، على تحرٍّ في ذلك واحتراز، فرحل إلى القاهرة فقرأ على شيخ الإسلام العز ابن عبد السلام، وقرأ العربية على الشيخ شرف الدين محمد بن أبي الفضل المُرْسِي، وغيره.

ثم ارتحل في طلب الحديث إلى دمشق والإسكندرية وغيرهما، وسمع الحديث من والده، والشيخ الحافظ عبد العظيم المنذري، وأبي العباس أحمد بن عبد الدائم بن نِعْمة المقدسي، والحافظ أبي علي الحسن بن محمد البكري، وخلائق.

ثم درَّس بالمدرسة الفاضلية، والمدرسة المجاورة للشافعي، والكاملية، والصالحية بالقاهرة، ودرَّس بقوص بدار الحديث ببيت له.

وقد اشتُهِر اسمُه في حياة مشايخه، وشاع ذكرُه، وتخرَّج به أئمة، وسمع منه الخلق الكثير، والجم الغفير مع قلة تحديثه رحمه الله.

* * *
তিনি তাঁর পিতার নিকট উসুল (মূলনীতি) পাঠ করেন, এরপর অত্যন্ত সতর্কতা ও সাবধানতার সাথে মিশর, সিরিয়া ও হিজাজে ইলম অর্জন করেন। অতঃপর তিনি কায়রো গমন করেন এবং শাইখুল ইসলাম ইজ্জ ইবনে আবদুস সালামের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি শাইখ শারাফউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবুল ফজল আল-মুরসি এবং অন্যদের নিকট আরবি ভাষা অধ্যয়ন করেন।

এরপর তিনি হাদীস অন্বেষণে দামেস্ক, আলেকজান্দ্রিয়া ও অন্যান্য স্থানে সফর করেন। তিনি তাঁর পিতা, হাফেজ আবদুল আজিম আল-মুনজিরি, আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবদুল দায়েম বিন নিমাহ আল-মাকদিসি, হাফেজ আবু আলি আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-বাকরি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তির নিকট হাদীস শ্রবণ করেন।

অতঃপর তিনি কায়রোর আল-মাদরাসা আল-ফাদিলিয়াহ, আশ-শাফিঈ সংলগ্ন মাদরাসা, আল-কামিলিয়াহ এবং আস-সালিহিয়াহ মাদরাসায় পাঠদান করেন। এছাড়াও তিনি কুস শহরের দারুল হাদীসে এবং তাঁর নিজ গৃহে পাঠদান করেন।

তাঁর শিক্ষকদের জীবদ্দশাতেই তাঁর নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর মাধ্যমে অনেক ইমাম তৈরি হন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন; যদিও তিনি হাদীস বর্ণনায় অত্যন্ত পরিমিত ছিলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।

* * *
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الثَّاني صفاته وأخلاقه

قال ابن سيِّد الناس: ولم يزل حافظاً للسانه، مقبلاً على شأنه، وقف نفسَه على العلوم وقَصَرَها، ولو شاء العادُّ أن يَعُدَّ كلماتهِ لحصرها، وله مع ذلك في الأدب باع وِساع، وكرم طباع، لم يخلُ بعضُها من حسن انطباع، حتى لقد كان محمودُ الكاتب، المحمود في تلك المذاهب، المشهود له بالتقدم فيما يشاء من الإنشاء على أهل المشارق والمغارب، يقول: "لم تر عيني آدبَ منه" (1).

وكان يقول رحمه الله: "ما تكلَّمتُ كلمةً، ولا فعلتُ فعلاً، إلا وأعددت له جواباً بين يدي الله عز وجل" (2).

وكان رحمه الله يسهر ليله في العلم والعبادة؛ قرأ الشيخ ليلة، فقرأ إلى قوله تعالى: {فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ} [المؤمنون: 101]، فما زال يكررها إلى مطلع الفجر (3).

وقال الصاحب شرف الدين محمد بن الصاحب زين الدين أحمد: كان ابن دقيق يقيم في منزلنا بمصر في غالب الأوقات، فكنَّا

--------------------------------------------

(1) انظر: "الطالع السعيد" للأدفوي (ص: 570).

(2) انظر: "طبقات الشافعية" للسبكي (9/ 212).

(3) انظر: "الطالع السعيد" (ص: 579).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র

ইবনুল সিয়্যিদুন নাস বলেন: তিনি সর্বদা স্বীয় জিহ্বা সংযত রাখতেন এবং আপন কাজে মগ্ন থাকতেন। তিনি নিজেকে ইলমের জন্য উৎসর্গ ও সীমাবদ্ধ করেছিলেন। যদি কোনো গণনাকারী তাঁর কথাগুলো গণনা করতে চাইতেন, তবে তা গণনা করে শেষ করতে পারতেন। তা সত্ত্বেও সাহিত্যে তাঁর ছিল বিশাল বিচরণ এবং উন্নত স্বভাব, যার প্রতিটি দিকই ছিল অত্যন্ত চমৎকার। এমনকি মাহমুদ আল-কাতিব—যিনি ঐ সকল বিদ্যায় প্রশংসিত এবং রচনাশৈলীতে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল পণ্ডিতদের ওপর অগ্রগামী হিসেবে স্বীকৃত—তিনি বলতেন: "আমার চোখ তাঁর চেয়ে অধিক সুসংস্কৃত আর কাউকে দেখেনি" (১)।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: "আমি এমন কোনো কথা বলিনি এবং এমন কোনো কাজ করিনি, যার জন্য মহান আল্লাহর সামনে পেশ করার মতো কোনো উত্তর আমি প্রস্তুত রাখিনি" (২)।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইলম ও ইবাদতের মাধ্যমে রাত জেগে কাটাতেন; এক রাতে শায়খ তিলাওয়াত করছিলেন, তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত পৌঁছালেন: {অতঃপর যখন শিঙায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ নেবে না} [আল-মুমিনুন: ১০১], এরপর ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত তিনি কেবল এটিই বারবার তিলাওয়াত করতে থাকলেন (৩)।

সাহিব শরফুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনুল সাহিব যাইনুদ্দিন আহমদ বলেন: ইবনু দাকীক অধিকাংশ সময় মিশরে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করতেন, ফলে আমরা—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদফাউয়ি-র "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃষ্ঠা: ৫৭০)।

(২) দেখুন: সুবকি-র "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ" (৯/ ২১২)।

(৩) দেখুন: "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃষ্ঠা: ৫৭৯)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
نراه في الليل إمَّا مصلياً، وإما يمشي في جوانب البيت، وهو مفكر إلى طلوع الفجر، فإذا طلع الفجر صلى الصبح، ثم اضطجع إلى ضحوة.

قال الصاحب: وسمعت الشيخ الإمام شهاب الدين القَرافي المالكي يقول: أقام الشيخ تقي الدين أربعين سنة لا ينام الليل، إلا أنه كان إذا صلى الصبح اضطجع على جنبه إلى حيث يتضحَّى النَّهار (1).

وكان رحمه الله عديمَ البطش، قليلَ المقايلة على الإساءة، وله في ذلك أخبار.

وكان يحاسب نفسَه على الكلام، ويأخذ عليها بالمَلَام، لكنه تولى القضاء في آخر عمره، وذاق من حلوِّه ومُرِّه، على أنه عزل نفسه مرةً بعد مرة، وتنصَّل منه كَرَّة بعد كرة.

وله في القضاء آثار حسنة، منها انتزاعُ أوقافٍ كانت أُخذت وأقتُطِعت، ومنها أن القضاة كان يُخْلَع عليهم الحرير، فخُلِع على الشيخ الصوف فاستمر، وكان يكتب إلى النواب يُذكِّرهم ويحذِّرهم (2).

وكان رحمه الله كريماً جواداً سخياً، ومن طريف ما يحكى في ذلك: ما ذكره محمد بن الحواسيني الفَرضِي القوصي، وكان من طلبة

--------------------------------------------

(1) انظر: "الدرر الكامنة" لابن حجر (5/ 351).

(2) انظر: "الطالع السعيد" (ص: 596 - 597)، و"رفع الإصر" لابن حجر (ص: 396).
আমরা তাকে রাতে দেখতাম হয় সালাত আদায়রত অবস্থায়, নতুবা ঘরের বিভিন্ন কোণে বিচরণরত অবস্থায়, আর তিনি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত চিন্তামগ্ন থাকতেন। অতঃপর যখন ফজর উদয় হতো, তিনি ফজরের সালাত আদায় করতেন, এরপর চাশতের সময় পর্যন্ত বিশ্রাম নিতেন।

সহচর বলেন: আমি শায়খ ইমাম শিহাবুদ্দিন আল-কারাফি আল-মালিকিকে বলতে শুনেছি: শায়খ তাকিউদ্দিন চল্লিশ বছর এমনভাবে অতিবাহিত করেছেন যে তিনি রাতে ঘুমাতেন না, তবে ফজরের সালাত আদায়ের পর দিনের আলো উজ্জ্বল হওয়া পর্যন্ত তিনি একপার্শ্বে শুয়ে থাকতেন (১)।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কঠোরতা প্রদর্শন থেকে বিমুখ ছিলেন এবং মন্দ আচরণের বিপরীতে খুব সামান্যই প্রতিক্রিয়া দেখাতেন; এ বিষয়ে তাঁর অনেক বর্ণনা রয়েছে।

তিনি তাঁর প্রতিটি কথার হিসাব নিতেন এবং এ জন্য নিজেকে তিরস্কার করতেন। তবে তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এর তিক্ত ও মধুর উভয় স্বাদ আস্বাদন করেন। যদিও তিনি বারবার নিজেকে এ পদ থেকে অব্যাহতি দিতেন এবং বারবার তা থেকে বিযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতেন।

বিচারকার্যে তাঁর অনেক প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো এমন কিছু ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা যা জবরদখল বা কর্তন করা হয়েছিল। আরও একটি বিষয় হলো, তৎকালীন বিচারকদের রেশমি পোশাক প্রদান করা হতো, কিন্তু শায়খকে পশমি পোশাক প্রদান করা হলে তিনি তা-ই গ্রহণ করেন এবং তা অব্যাহত রাখেন। তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের নিকট উপদেশ ও সতর্কবার্তা লিখে পাঠাতেন (২)।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অত্যন্ত মহানুভব, বদান্য ও দানশীল ছিলেন। এ বিষয়ে বর্ণিত চমৎকার ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো মুহাম্মদ বিন আল-হাওয়া সিনি আল-ফারদি আল-কুসির বর্ণনা, যিনি ছিলেন তাঁর ছাত্রদের অন্যতম

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজারের ‘আদ-দুরার আল-কামিনাহ’ (৫/ ৩৫১)।

(২) দেখুন: ‘আত-তালিউস সাঈদ’ (পৃষ্ঠা: ৫৯৬ - ৫৯৭), এবং ইবনে হাজারের ‘রাফউল ইসর’ (পৃষ্ঠা: ৩৯৬)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
الحديث، وأقام بالقاهرة مدة في زمن الشيخ، قال: كان الشيخ يعطيني في كل وقت شيئاً، فأصبحت يوماً مُفلساً، فكتبت ورقة وأرسلتها إليه وفيها: "المملوك محمد القوصي أصبح مضروراً"، فكتب لي بشيء، ثم ثاني يوم كتبت: "المملوك ابن الحواسيني"، فكتب لي بشيء، ثم ثالث يوم كتبت: "المملوك محمد"، فطلبني وقال لي: من هو ابن الحواسيني؟ فقلت: المملوك، قال: ومن هو القوصي؟ قلت: المملوك، قال: تدلِّس عليَّ تدليسَ المحدثين؟! قلت: الضرورة. فتبسم وكتب لي (1).

وكان الشيخ يقول: ضابطُ ما يُطلبُ مِنِّي أنْ يجوزَ شرعاً، ثم لا أبخل (2).

وكان رحمه الله متحرّزاً جداً في أمر النجاسة، مشدِّداً على نفسه، وله في ذلك حكاياتٌ ووقائعُ عجيبة (3).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، (ص: 576 - 577).

(2) المرجع السابق، (ص: 577).

(3) قال الذهبي في "تذكرة الحفاظ" (4/ 1482): وكان في أمر الطهارة والمياه في نهاية الوسوسة رضي الله عنه.

وقال الصفدي في "الوافي بالوفيات" (4/ 138): قد قهره الوسواسُ في أمر المياه والنجاسة، وله في ذلك حكايات ووقائع عجيبة.

وقال التجيبي في "مستفاد الرحلة" (ص: 17): وكان رحمه الله قد التزم التشديد والتضييق على نفسه في العبادات، وبالغ في ذلك، حتى ربما أفضى به الأمر إلى وسواس يعتريه في خاصَّةِ نفسه، لا يفتي به الناس، فتلحقه منه =
হাদিস বিশারদ, তিনি শাইখের যুগে কায়রোতে একটি দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। তিনি বলেন: শাইখ আমাকে সব সময় কিছু না কিছু দিতেন। একদিন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম, তাই আমি একটি চিরকুট লিখে তাঁর কাছে পাঠালাম, যাতে লেখা ছিল: "দাস মুহাম্মদ আল-কুসি বিপদগ্রস্ত হয়েছে"। তিনি আমার জন্য কিছু বরাদ্দ করলেন। এরপর দ্বিতীয় দিন আমি লিখলাম: "দাস ইবনুল হাওয়াসিনি"। তিনি আমার জন্য কিছু বরাদ্দ করলেন। এরপর তৃতীয় দিন আমি লিখলাম: "দাস মুহাম্মদ"। তখন তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: ইবনুল হাওয়াসিনি কে? আমি বললাম: এই দাস (অর্থাৎ আমি)। তিনি বললেন: আর আল-কুসি কে? আমি বললাম: এই দাস। তিনি বললেন: তুমি কি আমার সাথে হাদিস বিশারদদের মতো তথ্য গোপনের কৌশল (তাদলিস) অবলম্বন করছ?! আমি বললাম: অভাবের কারণে করেছি। তিনি মৃদু হাসলেন এবং আমার জন্য কিছু বরাদ্দ করলেন (১)।

শাইখ বলতেন: আমার কাছে যা চাওয়া হবে তার মানদণ্ড হলো সেটি শরীয়তসম্মত হতে হবে, তাহলে আমি কার্পণ্য করব না (২)।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অপবিত্রতার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন, নিজের ওপর অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। এ বিষয়ে তাঁর অনেক বিস্ময়কর কাহিনী ও ঘটনা রয়েছে (৩)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র, (পৃষ্ঠা: ৫৭৬ - ৫৭৭)।

(২) পূর্বোক্ত সূত্র, (পৃষ্ঠা: ৫৭৭)।

(৩) আয-যাহাবি "তাযকিরাতুল হুফফায" (৪/ ১৪৮২) গ্রন্থে বলেন: পবিত্রতা ও পানির বিষয়ে তাঁর চরম পর্যায়ের খুতখুতে স্বভাব ছিল, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আস-সাফাদি "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত" (৪/ ১৩৮) গ্রন্থে বলেন: পানি ও অপবিত্রতার বিষয়ে খুতখুতে স্বভাব তাঁকে পরাভূত করেছিল, এবং এ বিষয়ে তাঁর অনেক বিস্ময়কর কাহিনী ও ঘটনা রয়েছে।

আত-তুজিবি "মুস্তাফাদুল রিহলাহ" (পৃষ্ঠা: ১৭) গ্রন্থে বলেন: তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজের ওপর অত্যন্ত কঠোরতা ও সংকীর্ণতা আরোপ করে নিয়েছিলেন এবং এতে চরম বাড়াবাড়ি করতেন, এমনকি কখনো কখনো বিষয়টি তাঁর নিজের ক্ষেত্রে এমন খুতখুতে স্বভাবে পরিণত হতো যা তাঁকে পেয়ে বসত, অথচ তিনি মানুষের জন্য এমন ফতোয়া দিতেন না। ফলে এর কারণে তিনি...
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وكان رحمه الله عزيزَ النفس، خفيفَ الروح، لطيفاً، على نسك وورع، ودين متَّبع، ينشد الشعر والزَّجَل والمُوشَّح، وكان يستحسن ذلك، رحمه الله تعالى ورضي عنه.

بحسبك أنِّي لا أرى لك عائباً … سوى حاسدٍ والحاسدون كثير

--------------------------------------------

= مشقةٌ عظيمة. قال تلميذُه قطب الدين الحلبي - فيما نقله عنه الذهبي في "التذكرة" (4/ 1483) -: وبلغني أن جده لأمه الشيخ الإمام المحقق تقي الدين بن المقترَح كان يشدد في الطهارة ويبالغ، انتهى.

قلت: هذا ما ذكره من ترجم للإمام ابن دقيق العيد، وكذا قال غيرهم ممن ترجم له، وأنا أذكر هاهنا فائدة جليلة تمُتُّ بصلة وثيقة إلى ما نحن فيه، نقلتها من فوائد الشيخ ابن دقيق في كتابنا هذا، وهي التفرقة بين الورع والوسوسة.

قال رحمه الله (4/ 204 - 205): والفرق بين الوسواس والورع دقيق عَسِر، فالمتساهل يجعل بعضَ الورعِ وسواساً، والمشدِّد يجعل بعض الوسواس ورعاً، والصراط المستقيم دَحضٌ مَزِلَّة.

ومما ينبغي أن يفرق به بينهما: أن كل ما رجع إلى الأصول الشرعية فليس بوسواسٍ، ولا أريد الأدلة الشرعية البعيدة العموم، انتهى.

وعندما تكلم رحمه الله في قاعدة الاقتصاد في المصالح والطاعات، قال أثناء كلام له (5/ 93): وهاهنا أمر دقيق عسِر في العلم به وفي العمل في مواضع: منها الفرق بين الورع والوسواس، فإن الوسواس مذموم، والورع محمود، وآخر كل مرتبة تلي الأخرى، وأول الأخرى تلي آخر الأولى.

ثم قال: فهذا هو العَسِر في معرفة التوسط علماً وعملاً، حيث تتقارب المراتب، فأما إذا تباعدت، فلا إشكال، انتهى.

قلت: ليُتأَملْ كلام الإمام ابن دقيق رحمه الله الذي ذكرتُه، مع ما قيل من أمر تشدده ووسوسته، وأن يزان ما قيل عنه في هذا الباب بقسطاس مستقيم، والله أعلم بحقيقة الحال، وإليه سبحانه المرجع والمآل.
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন আত্মমর্যাদাবান, প্রফুল্লচিত্ত ও কোমল স্বভাবের। তিনি ইবাদত-বন্দেগি, পরহেজগারি ও শরীয়তের অনুসরণে নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি কবিতা, যাজাল (লোকজ কবিতা) ও মুওয়াশশাহ (ছন্দবদ্ধ কাব্য) আবৃত্তি করতেন এবং বিষয়টি তিনি পছন্দ করতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমি আপনার মাঝে কোনো খুঁত দেখি না... কেবল হিংসুক ব্যতীত, আর হিংসুকদের সংখ্যা তো অনেক।

--------------------------------------------

= এটি এক মহান কষ্ট। তাঁর ছাত্র কুতুবুদ্দিন আল-হালাবি বলেছেন—যেমনটি ইমাম আয-যাহাবি তাঁর 'আত-তাযকিরা' (৪/১৪৮৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন—: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাঁর মাতামহ শায়খ ইমাম মুদাক্কিক তাকিউদ্দীন ইবনুল মুকতারাহ পবিত্রতার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরতা ও বাড়াবাড়ি করতেন। সমাপ্ত।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: যারা ইমাম ইবন দাকীক আল-ঈদের জীবনী আলোচনা করেছেন তারা এটি উল্লেখ করেছেন। একইভাবে যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন তারাও এরূপ বলেছেন। আমি এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা উল্লেখ করছি যা আমাদের এই প্রসঙ্গের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এটি আমি আমাদের এই কিতাবে শায়খ ইবন দাকীকের ফায়দাগুলো থেকে গ্রহণ করেছি, যা হলো—পরহেজগারি (ওয়ারা) এবং কুমন্ত্রণা বা সন্দেহপ্রবণতার (ওয়াসওয়াসা) মধ্যে পার্থক্য।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৪/২০৪-২০৫): ওয়াসওয়াসা ও পরহেজগারির মধ্যকার পার্থক্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কঠিন। শিথিলতা অবলম্বনকারী ব্যক্তি অনেক সময় পরহেজগারিকে ওয়াসওয়াসা মনে করে, আবার কঠোরতা অবলম্বনকারী ব্যক্তি কিছু ওয়াসওয়াসাকে পরহেজগারি মনে করে। অথচ সিরাতুল মুস্তাকিম বা সঠিক পথটি পিচ্ছিল ও ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকিপূর্ণ।

এই দুটির মধ্যে যেভাবে পার্থক্য করা উচিত তা হলো: যা কিছু শরীয়তের মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়, তা ওয়াসওয়াসা নয়। তবে এর দ্বারা আমি সাধারণ ও দূরবর্তী শরয়ী দলিলসমূহকে বুঝাচ্ছি না। সমাপ্ত।

যখন তিনি (রহিমাহুল্লাহ) জনকল্যাণ ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে (৫/৯৩) বলেন: এখানে জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে কিছু জায়গায় এমন একটি সূক্ষ্ম ও কঠিন বিষয় রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো পরহেজগারি ও ওয়াসওয়াসার মধ্যকার পার্থক্য। কেননা ওয়াসওয়াসা নিন্দনীয় এবং পরহেজগারি প্রশংসনীয়। তবে এক স্তরের শেষ সীমা অন্য স্তরের সাথে সংযুক্ত এবং দ্বিতীয়টির শুরু প্রথমটির শেষ সীমানার পাশেই অবস্থিত।

অতঃপর তিনি বলেন: জ্ঞানে ও আমলে মধ্যপন্থা নিরূপণ করা এ কারণেই কঠিন, যেহেতু এগুলোর স্তরগুলো একে অপরের অত্যন্ত নিকটবর্তী। তবে যখন এগুলোর ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন আর কোনো সমস্যা থাকে না। সমাপ্ত।

আমি বলছি: ইমাম ইবন দাকীক (রহিমাহুল্লাহ)-এর যে কথা আমি উল্লেখ করলাম তা নিয়ে যেন চিন্তা করা হয়, পাশাপাশি তাঁর কঠোরতা ও ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তাও বিবেচনায় রাখা হয়। আর এ বিষয়ে তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা যেন ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে পরিমাপ করা হয়। প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন এবং তাঁর কাছেই সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثَّالث

 

*‌‌ علم الإمام ابن دقيق رحمه الله:

تفرد الإمام ابن دقيق العيد في علوم كثيرة، فكان حافظاً مُكْثراً، إلا أن الرواية عَسُرت عليه لقلة تحديثه، فإنه كان شديدَ التحرِّي في ذلك (1)، وكان خبيراً بصناعة الحديث، وهو إمام الدنيا في فقه الحديث والاستنباط (2).

قال الذهبي: أربعة تعاصروا: التقي ابن دقيق العيد، والشرف الدمياطي، والتقي ابن تيمية، والجمال المزي، قال الذهبي: أعلمهم بعلل الحديث والاستنباط ابن دقيق العيد، وأعلمهم بالأنساب الدمياطي، وأحفظهم للمتون ابن تيمية، وأعلمهم بالرجال المزي (3).

وكان رحمه الله يحقق المذهبين المالكي والشافعي تحقيقاً عظيماً، وله اليد الطولى في الفروع والأصول، وفي تصانيفه من الفروع الغريبة والوجوه والأقاويل ما ليس في كثير من المبسوطات، ولا يعرفه كثيرٌ من النَّقَلة (4)، وكان لا يسلك المِراء في بحثه، بل يتكلم

--------------------------------------------

(1) انظر: "طبقات الشافعية" للسبكي (9/ 212).

(2) المرجع السابق، (9/ 244).

(3) نقله السيوطي في "تدريب الراوي" (2/ 405) فقال: رأيت في "تذكرة" صاحبنا الحافظ جمال الدين سبط ابن حجر، فذكره.

(4) انظر: "الطالع السعيد" للأدفوي (ص: 580).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

 

*‌‌ ইমাম ইবনে দাকীক রহিমাহুল্লাহ-এর ইলম:

ইমাম ইবনে দাকীক আল-ঈদ বহু বিদ্যায় অনন্য ও অদ্বিতীয় ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন হাফিয এবং অধিক হাদীস বর্ণনাকারী, তবে হাদীস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই করার কারণে তাঁর থেকে সরাসরি রিওয়ায়াত পাওয়া ছিল দুরূহ (১)। তিনি হাদীসশাস্ত্রের কলাকৌশল ও এর সূক্ষ্ম বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং হাদীসের ফিকহ ও মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমকালীন বিশ্বের ইমাম (২)।

যাহাবী বলেন: চারজন মনীষী সমসাময়িক ছিলেন— তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীক আল-ঈদ, শরফুদ্দীন আল-দময়াতি, তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া এবং জামালুদ্দীন আল-মিযযী। যাহাবী আরও বলেন: তাঁদের মধ্যে হাদীসের ইলাল (সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং মাসআলা উদ্ভাবনে সর্বাধিক বিজ্ঞ ছিলেন ইবনে দাকীক আল-ঈদ; বংশতালিকায় সর্বাধিক অভিজ্ঞ ছিলেন আল-দময়াতি; হাদীসের মূল পাঠ (মতন) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে সর্বাধিক পারদর্শী ছিলেন ইবনে তাইমিয়া; আর রাবীদের জীবনবৃত্তান্ত (রিজাল) সম্পর্কে সর্বাধিক অভিজ্ঞ ছিলেন আল-মিযযী (৩)।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মালিকি ও শাফেয়ি উভয় মাযহাবের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চমানের সূক্ষ্ম গবেষণা পেশ করতেন। ফিকহের শাখাগত মাসআলা (ফুরু) এবং মূলনীতির (উসুল) ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ও ব্যুৎপত্তি ছিল। তাঁর রচনাবলীতে এমন অনেক বিরল শাখাগত মাসআলা, বিশ্লেষণ ও মতামত রয়েছে যা অনেক বিশদ কিতাবেও নেই এবং বহু বর্ণনাকারীও সে সম্পর্কে জ্ঞাত নন (৪)। তিনি তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রে বাকবিতণ্ডার পথ অনুসরণ করতেন না, বরং তিনি কথা বলতেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুবকি-কৃত "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ" (৯/ ২১২)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, (৯/ ২৪৪)।

(৩) সুয়ূতি এটি "তাদরীবুর রাবী" (২/ ৪০৫) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন; তিনি বলেছেন: আমি আমাদের সাথী হাফিয জামালুদ্দীন সিবত ইবনে হাজার-এর "তাযকিরা" গ্রন্থে দেখেছি, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

(৪) দেখুন: আদফাউয়ি-কৃত "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃ: ৫৮০)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২১)
كلماتٍ يسيرةً بسكينة ولا يُراجَع (1).

وكان رحمه الله في نقده وتدقيقه لا يُوازى، حتى قال الشيخ صدر الدين بن الوكيل: إذا نَقَد وحرَّر فلا يوفيه أحد (2). فإنه كان رحمه الله صحيحَ الذهن، كما قال علاء الدين الباجي (3).

وله - مع ذلك - النظم الفائق، المشتمل على المعنى البديع واللفظ الرائق، السهل الممتنع، والمنهج المستعذب المنبع، والذي يصبو إليه كلُّ فاضل، ويستحسنه كلُّ أديب كامل.

وله أيضاً نثر أحسن من الدرر، ونظم ابهج من عقود الجوهر، ولو لم يكن له إلا ما تضمنته خطبةُ "شرح الإلمام"، لشهد له من الأدب بأوفر الأقسام (4).

قال الحافظ ابن حجر: ومما يدل على تقدم الشيخ تقي الدين في العلم: أن زكي الدين عبد العظيم بن أبي الأصبغ صاحبَ البديع، ذكره في كتابه فقال: ذكرت للفقيه الفاضل تقي الدين محمد بن علي بن وهب القشيري - أبقاه الله تعالى -، وهو من الذكاء والمعرفة على حالة لا أعرف أحداً في زمني عليها، وذكرت له عدة وجوه المبالغة فيها، وهي عشرة، ولم أذكرها مفصَّلة، وغِبتُ عنه قليلاً ثم اجتمعتُ به، فذكر لي أنه استنبط فيها أربعةً وعشرين وجهاً من المبالغة؛ يعني في قوله تعالى: {أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ}،

--------------------------------------------

(1) انظر: "الدرر الكامنة" لابن حجر (5/ 349).

(2) انظر: "الطالع السعيد" للأدفوي (ص: 581).

(3) المرجع السابق، الموضع نفسه.

(4) المرجع السابق، (ص: 587، 589).
প্রশান্তির সাথে সংক্ষিপ্ত কথা বলতেন এবং তা পুনরায় বলার প্রয়োজন হতো না (১)।

এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সমালোচনা ও সূক্ষ্ম বিচার বিশ্লেষণে অতুলনীয় ছিলেন, এমনকি শায়খ সদরুদ্দীন ইবনুল ওয়াকীল বলেছেন: যখন তিনি সমালোচনা ও পরিমার্জন করতেন, তখন অন্য কেউই তাঁর সমকক্ষ হতে পারত না (২)। কেননা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন, যেমনটি আলাউদ্দিন আল-বাজী বলেছেন (৩)।

তদুপরি তাঁর পদ্য রচনার দক্ষতা ছিল অনন্য, যা চমৎকার অর্থ ও নির্মল শব্দসম্ভারে সমৃদ্ধ, যা একাধারে সহজবোধ্য কিন্তু অনুকরণাতীত, এবং যার উৎসধারা অত্যন্ত সুমিষ্ট। প্রতিটি গুণী ব্যক্তিই এর আকাঙ্ক্ষা করেন এবং প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যিক একে পছন্দ করেন।

এছাড়াও তাঁর গদ্য রচনা মুক্তার চেয়েও সুন্দর এবং পদ্য রচনা রত্নহারের চেয়েও মনোমুগ্ধকর। যদি তাঁর রচনার মধ্যে শুধু "শারহুল ইলমাম" গ্রন্থের ভূমিকাটিই থাকতো, তবে এটিই তাঁর জন্য সাহিত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদার সাক্ষ্য হিসেবে যথেষ্ট হতো (৪)।

হাফিয ইবনে হাজার বলেন: শায়খ তাকিউদ্দিনের জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের একটি প্রমাণ হলো যে, 'আল-বাদি' গ্রন্থের রচয়িতা জাকিউদ্দিন আব্দুল আজীম ইবনে আবিল আসবাগ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন: আমি ফকীহ ও গুণী ব্যক্তি তাকিউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাব আল-কুশায়রী—আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন—এর নিকট একটি প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছি। তিনি মেধা ও জ্ঞানের এমন স্তরে ছিলেন যে, আমার সময়ে এমন কাউকে চিনি না। আমি তাঁর কাছে সেখানে বিদ্যমান অতিশয়োক্তিমূলক অলঙ্কারের কয়েকটি দিকের কথা উল্লেখ করি, যা ছিল দশটি; তবে আমি সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেইনি। এরপর আমি তাঁর কাছ থেকে অল্প সময়ের জন্য দূরে সরে যাই এবং পুনরায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করি। তখন তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি সেখান থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অতিশয়োক্তির চব্বিশটি দিক বের করেছেন; অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: {তোমাদের মধ্যে কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, তার খেজুর ও আঙ্গুরের একটি বাগান থাকবে}।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজারের 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৫/ ৩৪৯)।

(২) দেখুন: আদফাউয়ীর 'আত-তালিউস সাঈদ' (পৃষ্ঠা: ৫৮১)।

(৩) প্রাগুক্ত উৎস, একই স্থান।

(৪) প্রাগুক্ত উৎস, (পৃষ্ঠা: ৫৮৭, ৫৮৯)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২)
فسألته أن يكتبَها لي، فكتبها لي بخطه، وسمعتُها منه بقراءتي، واعترفت له بالفضل في ذلك، انتهى. قال الحافظ: وقد عاش تقي الدين بعد ابن أبي الأصبغ زيادة على أربعين سنة (1).

وكان من العلم بحيث يقضى … له من كل علم بالجميع

قلت: وهذا كلُّه - بعد توفيق الله - نِتاج هِمَّة قعَساء في إدامة المطالعة، والمثابرة والمصابرة في تحصيل العلم، حكى الشيخ زين عمر الدمشقي المعروف بابن الكِتَّاني قال: دخلت عليه بكرة يوم، فناولني مجلدة وقال: هذه طالعتُها في هذه الليلة التي مضت (2).

قال الأُدفُوي: رأيت خزانة المدرسة "النجيبة" بقوص، فيها جملة كتب؛ من جملتها: "عيون الأدلة" لابن القصَّار في نحو من ثلاثين مجلدة، وعليها علامات له، وكذلك رأيت كتب المدرسة "السابقية"؛ رأيت على "السنن الكبير" للبيهقي فيها في كل مجلدة علامة، وفيها "تاريخ الخطيب" كذلك، و"معجم الطبراني الكبير"، و"البسيط" للواحدي، وغير ذلك (3).

وأخبر الشيخ الفقيه سراج الدين الدَّندري: أنه لما ظهر "الشرح الكبير" - وهو فتح العزيز في شرح الوجيز - للرافعي، اشتراه بألف درهم، وصار يصلِّي الفرائضَ فقط، واشتغل بالمطالعة، إلى أن أنهاه مطالعة (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: "الدرر الكامنة" لابن حجر (5/ 351 - 352).

(2) انظر: "الطالع السعيد" للأدفوي (ص: 580).

(3) المرجع السابق، الموضع نفسه.

(4) المرجع السابق، الموضع نفسه.
আমি তাকে সেটি আমার জন্য লিখে দিতে অনুরোধ করলাম, তাই তিনি তা স্বহস্তে আমার জন্য লিখে দিলেন। আমি তার নিকট তা পাঠ করে শুনেছি এবং এ বিষয়ে তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছি—সমাপ্ত। আল-হাফিজ বলেন: তাকিউদ্দিন ইবনে আবি আল-আসবাহ-এর পরে আরও চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় জীবিত ছিলেন (১)।

আর তিনি জ্ঞানের এমন এক স্তরে ছিলেন যে, তাকে প্রতিটি শাস্ত্রের … বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী বলে গণ্য করা হতো।

আমি (গ্রন্থকার) বলি: আল্লাহর তাওফিকের পর এসবই ছিল পড়াশোনায় নিরন্তর নিমগ্ন থাকা এবং জ্ঞান অর্জনে অটল ধৈর্য ও অবিচল সংকল্পের ফসল। শেখ জাইন উমর আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনুল কিত্তানি নামে পরিচিত, বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি একদিন খুব ভোরে তার নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি আমার হাতে একটি খণ্ড তুলে দিলেন এবং বললেন: এই খণ্ডটি আমি গত রাতে পাঠ শেষ করেছি (২)।

আল-উতফুয়ি বলেন: আমি কুস-এর "নাজিবিয়্যাহ" মাদরাসার পাঠাগার দেখেছি, সেখানে অনেক কিতাব ছিল; তার মধ্যে ইবনুল কাসসার-এর "উয়ুনুল আদিল্লাহ" ছিল প্রায় ত্রিশ খণ্ডে, যার ওপর তার (পাঠের) চিহ্ন ছিল। একইভাবে আমি "সাবিকিয়্যাহ" মাদরাসার কিতাবগুলো দেখেছি; সেখানে বায়হাকির "আস-সুনানুল কাবির"-এর প্রতিটি খণ্ডে তার চিহ্ন দেখেছি। একইভাবে তাতে "তারিখুল খাতিব", তাবারানির "আল-মু'জামুল কাবির", ওয়াহিদির "আল-বাসিত" এবং আরও অন্যান্য কিতাব ছিল (৩)।

ফকিহ শেখ সিরাজউদ্দিন আদ-দানদারি সংবাদ দিয়েছেন যে: ইমাম রাফেয়ি-র "আশ-শারহুল কাবির"—যা হলো "ফাতহুল আজিজ ফি শারহিল ওয়াজিজ"—যখন প্রকাশিত হলো, তখন তিনি তা এক হাজার দিরহাম দিয়ে ক্রয় করলেন। এরপর তিনি কেবল ফরজ সালাতগুলো আদায় করতেন এবং পাঠে মগ্ন থাকতেন, যতক্ষণ না তিনি তা পুরোপুরি পড়ে শেষ করলেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজার বিরচিত "আদ-দুরারুল কামিনাহ" (৫/ ৩৫১ - ৩৫২)।

(২) দেখুন: আল-উতফুয়ি বিরচিত "আত-তালিউস সাঈদ" (পৃষ্ঠা: ৫৮০)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, একই স্থান।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, একই স্থান।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم بعد ذلك حُقَّ له أن يقول: ما خرجت من باب من أبواب الفقه واحتجت أن أعودَ إليه (1).

 

*‌‌ بلوغهُ رتبه الاجتهاد:

كان الإمام ابن دقيق رحمه الله من أذكى الأئمة قريحةً، وقد بلغ رحمه الله في العلم قرنَ الكَلأ (2)، فقال عن نفسه رحمه الله: وافق اجتهادي اجتهادَ الشافعي إلا في مسألتين. قال الصفدي: وحسبك بمن يتنزَّل ذهنُه على ذهن الشافعي (3).

وقال الصَّفَدِي: وما أُراه إلا أنه بعثه الله تعالى على رأس المئة ليجدد لهذه الأمة دينَهم (4).

قال الذهبي: وقد كان على رأس السبع مئة شيخُنا أبو الفتح ابن دقيق العيد (5).

قال السُّبكي: ولم ندرك أحداً من مشايخنا يختلف في أن ابن دقيق العيد هو العالم المبعوث على رأس السبع مئة المشار إليه في الحديث المصطفوي النبوي صلى الله عليه وسلم، وأنه أستاذُ زمانِه علماً وديناً (6).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، الموضع نفسه.

(2) أي: غايته وحدَّه.

(3) انظر: "الوافي بالوفيات" للصفدي (4/ 138).

(4) المرجع السابق، (4/ 140).

(5) انظر: "سير أعلام النبلاء" للذهبي (14/ 203).

(6) انظر: "طبقات الشافعية" للسبكي (9/ 209).
এরপর তিনি এ কথা বলার অধিকার রাখেন যে: আমি ফিকহের এমন কোনো দরজা দিয়ে বের হইনি যে তাতে আমাকে পুনরায় ফিরে আসার প্রয়োজন হয়েছে (১)।

 

*‌‌ তাঁর ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানো:

ইমাম ইবনে দাকীক আল-ঈদ রহিমাহুল্লাহ প্রখর মেধার অধিকারী ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ইলমের জগতে চূড়ান্ত সীমায় (২) পৌঁছেছিলেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন: মাত্র দুটি মাসআলা ছাড়া আমার ইজতিহাদ ইমাম শাফিঈর ইজতিহাদের সাথে মিলে গিয়েছে। আস-সাফাদী বলেন: আপনার জন্য সেই ব্যক্তিই যথেষ্ট যার চিন্তা ইমাম শাফিঈর চিন্তার সমান্তরালে চলে (৩)।

আস-সাফাদী আরও বলেন: আমি তাঁকে এভাবেই দেখি যে, মহান আল্লাহ তাঁকে শতাব্দীর শুরুতে পাঠিয়েছেন যেন তিনি এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করেন (৪)।

আয-যাহাবী বলেন: সাতশত হিজরীর শুরুতে আমাদের শায়খ আবুল ফাতহ ইবনে দাকীক আল-ঈদ বিদ্যমান ছিলেন (৫)।

আস-সুবকী বলেন: আমরা আমাদের শায়খদের মধ্যে এমন কাউকেই পাইনি যিনি এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন যে, ইবনে দাকীক আল-ঈদ হলেন সেই আলেম যাকে সাতশত হিজরীর শুরুতে পাঠানো হয়েছে, যার প্রতি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর তিনি ইলম ও দ্বীনদারিতে তাঁর সময়ের উস্তাদ ছিলেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, একই স্থান।

(২) অর্থাৎ: তাঁর লক্ষ্য ও চূড়ান্ত সীমা।

(৩) দেখুন: আস-সাফাদীর "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত" (৪/ ১৩৮)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, (৪/ ১৪০)।

(৫) দেখুন: আয-যাহাবীর "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৪/ ২০৩)।

(৬) দেখুন: আস-সুবকীর "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ" (৯/ ২০৯)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد كُتب له "بقية المجتهدين"، وقُرِئ بين يديه، فأقرَّ عليه، ولا شك أنه من أهل الاجتهاد، وما يُنازِعُ في ذلك إلا من هو من أهل العناد.

ومن تأمَّل كلامَه علم أنه أكثرُ تحقيقاً وأمتنُ، وأعلم من بعض المجتهدين فيما تقدم وأتقن (1).

بحسبك أني لا أرى لك عائباً … سوى حاسد والحاسدون كثير

--------------------------------------------

(1) انظر: "الطالع السعيد" للأدفوي (ص: 569). قلت: قال الذهبي في "السير" (14/ 253): "وإن جعلتَ (من يجدد) لفظًا يصدق على جماعة وهو أقوى"، انتهى.

قلت: فيكون على رأس السبع مئة الإمام ابن دقيق العيد، وشيخ الإسلام ابن تيميةْ، والإمام شرف الدين الدمياطي، والحافظ البرزالي، وعلم الحفاظ المزي، ومؤرخ الإسلام الذهبي، وخاتمة المحققين ابن القيم، والإمام المفسر ابن كثير، والفاضل المحقق ابن رجب، وغيرهم رحمهم الله.
তাঁর সম্পর্কে "মুজতাহিদীনের অবশিষ্টাংশ" লেখা হয়েছে এবং তাঁর সামনে তা পাঠ করা হয়েছে, যা তিনি অনুমোদন করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি ইজতিহাদের যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আর এ ব্যাপারে কেবল সেই ব্যক্তিই বিরোধিতা করতে পারে যে হঠকারিতার অন্তর্ভুক্ত।

যে ব্যক্তি তাঁর কথা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে জানতে পারবে যে তিনি পূর্ববর্তী কিছু মুজতাহিদের তুলনায় অধিকতর সূক্ষ্ম গবেষক, অধিক শক্তিশালী এবং অধিক জ্ঞানসম্পন্ন ও সুসংহত ছিলেন (১)।

তোমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে আমি তোমার মাঝে কোনো ত্রুটি দেখি না … কেবল হিংসুক ব্যতীত, আর হিংসুকদের সংখ্যা অনেক।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদফাউয়ি রচিত "আত-তালে’ আস-সা’ঈদ" (পৃষ্ঠা: ৫৬৯)। আমি বলছি: আয-যাহাবি "আস-সিয়ার" গ্রন্থে (১৪/২৫৩) বলেছেন: "আর যদি আপনি (যে সংস্কার করবে) শব্দটিকে একটি দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করেন, তবে তা হবে অধিকতর শক্তিশালী।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: অতএব সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে (মুজাদ্দিদ হিসেবে) থাকবেন ইমাম ইবনে দাকীক আল-ঈদ, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ইমাম শরফুদ্দিন আদ-দুমইয়াতি, হাফিজ আল-বারযালি, হাফিজগণের শিরোমণি আল-মিযযি, ইসলামের ইতিহাসবিদ আয-যাহাবি, গবেষকগণের সমাপ্তি ইবনুল কাইয়্যিম, মুফাসসির ইমাম ইবনে কাসীর, বিজ্ঞ গবেষক ইবনে রজব এবং অন্যান্যরা, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الرابع مشاهير شيوخه

‌‌1 - ابن المقيَّر: الإمام المسند الصالح، رحلة الوقت، أبو الحسن علي بن الحسين بن علي بن منصور بن المقيَّر البغدادي الأَزْجي الحنبلي، كان شيخاً صالحاً، كثير التهجد والعبادة والتلاوة، وكان مشتغلاً بنفسه.

قال التَّجيبي في "مستفاد الرحلة" (1): وهو أقدم من سمع عليه سناً (2). توفي سنة (643 هـ) (3).

 

‌‌2 - المنذري: الحافظ الكبير، والإمام الثبت النحرير، عبد العظيم بن عبد القوي بن عبد الله بن سلامة، أبو محمد المنذري الشامي المصري.

--------------------------------------------

(1) (ص: 19).

(2) فائدة: قال العراقي في "شرح الألفية" (2/ 86): وكان الشيخ تقي الدين ابن دقيق العيد لا يجيز رواية سماعه كله، بل يقيده بما حدث به من مسموعاته. هكذا رأيته بخطه في عدة إجازات، ولم أر له إجازة تشمل مسموعه؛ وذلك أنه شك في بعض سماعاته، فلم يحدث به ولم يجزه، وهو سماعه على ابن المقيَّر، فمن حدث عنه بإجازته منه بشيء مما حدث به من مسموعاته، فهو غير صحيح، انتهى.

قال السخاوي في "فتح المغيث" (1/ 354): وأما امتناع ابن دقيق العيد من التحديث عن ابن المقيَّر مع صحة سماعه منه؛ لكونه شك هل نعس حال السماع أم لا؛ فلورعه، فقد كان من الورع بمكان رحمه الله.

(3) نظر: "سير أعلام النبلاء" (23/ 119)، و"العبر" كلاهما للذهبي (5/ 178)، و"الوافي بالوفيات" للصفدي (21/ 24)، و"شذرات الذهب" لابن العماد (5/ 223).
‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ

‌১ - ইবনুল মুকাইয়ার: ইমাম, মুসনিদ, নেককার ব্যক্তি, সমকালীন সময়ের ইলমি সফরের অন্যতম গন্তব্য, আবুল হাসান আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মানসুর ইবনুল মুকাইয়ার আল-বাগদাদী আল-আজজী আল-হাম্বলী। তিনি ছিলেন একজন পুণ্যবান শায়খ, যিনি অধিক পরিমাণে তাহাজ্জুদ, ইবাদত এবং তিলাওয়াত করতেন। তিনি সর্বদা নিজের আত্মশুদ্ধির কাজে নিমগ্ন থাকতেন।

আত-তাজিবি "মুস্তাফাদুল রিহলা" গ্রন্থে (১) বলেন: তিনি বয়সের দিক থেকে তাঁর নিকট শ্রুত উস্তাদদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ ছিলেন (২)। তিনি ৬৪৩ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন (৩)।

 

‌২ - আল-মুনযিরি: সুপ্রসিদ্ধ হাফেজ এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদক্ষ ইমাম, আব্দুল আজিম ইবনে আব্দুল কাবি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ, আবু মুহাম্মাদ আল-মুনযিরি আশ-শামী আল-মিসরী।

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা: ১৯)।

(২) ফায়দা: আল-ইরাকি "শারহুল আলফিয়া" গ্রন্থে (২/৮৬) বলেন: শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদ তাঁর নিকট যা শুনেছেন তার সবটুকুর বর্ণনা করার অনুমতি দিতেন না; বরং তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা কেবল তাঁর শ্রুত হাদিসগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখতেন। আমি তাঁর নিজের হাতের লেখায় এমনটি একাধিক ইজাজাহ বা অনুমতিপত্রে দেখেছি। আমি এমন কোনো ইজাজাহ দেখিনি যা তাঁর শ্রুত সমস্ত হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর কারণ হলো, তিনি তাঁর কিছু শ্রুত হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতেন, ফলে তিনি তা বর্ণনাও করতেন না এবং তার অনুমতিও দিতেন না। আর এটি ছিল ইবনুল মুকাইয়ারের নিকট তাঁর শোনার ব্যাপারে। সুতরাং কেউ যদি তাঁর পক্ষ থেকে ইজাজাহ বা অনুমতির মাধ্যমে তাঁর শ্রুত হিসেবে বর্ণনা করে, তবে তা সঠিক নয়। সমাপ্ত।

আস-সাখাভি "ফাতহুল মুগীস" গ্রন্থে (১/৩৫৪) বলেন: ইবনুল মুকাইয়ারের নিকট থেকে শ্রবণ বিশুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ইবনে দাকীকুল ঈদের হাদিস বর্ণনা থেকে বিরত থাকার কারণ হলো: তিনি সন্দেহ করেছিলেন যে শোনার সময় তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন কি না; এটি ছিল তাঁর তাকওয়া বা পরহেজগারির কারণে। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি তাকওয়ার এক উচ্চ মাকামে ছিলেন।

(৩) দেখুন: আয-যাহাবির "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (২৩/১১৯) ও "আল-ইবার" (৫/১৭৮); আস-সাফাদির "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফাইয়াত" (২১/২৪) এবং ইবনুল ইমাদের "শাযারাতুয যাহাব" (৫/২২৩)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
كان عديمَ النظير في معرفة علم الحديث على اختلاف فنونه، عالماً بصحيحه وسقيمه، ومعلوله وطرقه، متبحراً في معرفة أحكامه ومعانيه ومشكله.

له تصانيف عدة منها: "الترغيب والترهيب"، و"مختصر مسلم"، و"مختصر سنن أبي داود". قال السبكي: وبه تخرَّج أبو محمد الدِّمياطي، وإمام المتأخرين تقي الدين ابن دقيق العيد. توفي سنة (656 هـ) (1).

 

‌‌3 - العز بن عبد السلام: شيخ الإسلام، وحيد عصره، وسلطان العلماء، عبد العزيز بن عبد السلام، أبو محمد السلمي الدمشقي ثم المصري الشافعي.

برع في الفقه والأصول، ودرَّس وأفتى وصنف، وبلغ رتبة الاجتهاد، وانتهت إليه رئاسة المذهب مع الزهد والورع، والأمرِ بالمعروف والنهي عن المنكر، والصلابة فِي الدين.

قال عنه الشيخ ابن دقيق: كان ابنُ عبد السلام أحدَ سلاطين العلماء، ويقال: إن ابن دقيق هو أول من لقَّبه بـ: سلطان العلماء.

ويحكى أن ابن عبد السلام كان يقول: ديار مصر تفتخر برجلين في طرفيها: ابن منيِّر بالإسكندرية، وابن دقيق العيد بقوص. توفي سنة (660 هـ) (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: "طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي (8/ 259)، و"طبقات الشافعية" لابن قاضي شهبة (2/ 111)، و"الوافي بالوفيات" للصفدي (19/ 10)، و"طبقات الحفاظ" للسيوطي (ص: 504)، و"شذرات الذهب" لابن العماد (5/ 277).

(2) انظر: "طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي (8/ 209)، و"طبقات الشافعية" لابن قاضي شهبة (2/ 109)، و"العبر" للذهبي (5/ 260)، و"البداية والنهاية" لابن كثير (13/ 235).
তিনি হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় জ্ঞানের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় ছিলেন; তিনি হাদিসের বিশুদ্ধ ও দুর্বল, ত্রুটিযুক্ত ও বর্ণনাসূত্র সম্পর্কে বিজ্ঞ এবং এর বিধান, অর্থ ও জটিল বিষয়সমূহ অনুধাবনে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।

তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: "আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব", "মুখতাসার মুসলিম" এবং "মুখতাসার সুনানে আবি দাউদ"। আস-সুবকি বলেন: তাঁর কাছেই আবু মুহাম্মদ আদ-দিময়াতি এবং পরবর্তী যুগের ইমাম তাক্বিউদ্দিন ইবনে দাক্বীক আল-ঈদ শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি ৬৫৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

 

‌‌৩ - আল-ইয বিন আব্দুস সালাম: শাইখুল ইসলাম, তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, সুলতানুল উলামা (আলেমদের সুলতান), আব্দুল আযীয বিন আব্দুস সালাম, আবু মুহাম্মদ আস-সুলামি আদ-দিমাশকি অতঃপর আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি।

তিনি ফিকহ ও উসূলে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন, শিক্ষকতা করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন ও গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তিনি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছেছিলেন। মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে সমাপ্ত হয়েছিল, সেই সাথে তাঁর মাঝে ছিল দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারি, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং দ্বীনের ব্যাপারে আপসহীনতা।

শাইখ ইবনে দাক্বীক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ইবনে আব্দুস সালাম ছিলেন আলেমদের সুলতানদের অন্যতম। বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে দাক্বীক-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁকে 'সুলতানুল উলামা' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

বর্ণিত আছে যে, ইবনে আব্দুস সালাম বলতেন: মিসর তার দুই প্রান্তের দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে গর্ব করে: আলেকজান্দ্রিয়ায় ইবনু মুনাইয়ির এবং ক্বূস-এ ইবনে দাক্বীক আল-ঈদ। তিনি ৬৬০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সুবকি রচিত "ত্ববাকাতুশ শাফিয়িয়াহ আল-কুবরা" (৮/২৫৯), ইবনে ক্বাদি শুহবা রচিত "ত্ববাকাতুশ শাফিয়িয়াহ" (২/১১১), আস-সাফাদি রচিত "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত" (১৯/১০), আস-সুয়ূতি রচিত "ত্ববাকাতুল হুফফাজ" (পৃষ্ঠা: ৫০৪) এবং ইবনুল ইমাদ রচিত "শাযারাতুয যাহাব" (৫/২৭৭)।

(২) দেখুন: আস-সুবকি রচিত "ত্ববাকাতুশ শাফিয়িয়াহ আল-কুবরা" (৮/২০৯), ইবনে ক্বাদি শুহবা রচিত "ত্ববাকাতুশ শাফিয়িয়াহ" (২/১০৯), আয-যাহাবি রচিত "আল-ইবার" (৫/২৬০) এবং ইবনে কাসীর রচিত "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" (১৩/২৩৫)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌4 - رشيد الدين بن العطار: الإمام الحافظ الثقة، رشيد الدين أبو الحسين يحيى بن علي بن عبدالله القرشي الأموي النابلسي المصري المالكي.

حصَّل الأصول، وتقدم في الحديث، وولي مشيخة الكاملية ست سنين.

وكان ثقة مأموناً، متقناً حافظاً، حسن التخريج. توفي سنة (662 هـ) (1).

 

‌‌5 - الفخر بن البخاري: مسند الدنيا، أبو الحسن علي بن أحمد ابن عبد الواحد الفخر بن البخاري السَّعْدي المقدسي الصالحي الحنبلي.

طال عمُره، ورحل الطلبة إليه من البلاد، وألحق الأسباط بالأجداد في علوِّ الإسناد، وقد تفرد في الدنيا بالرواية العالية.

قال الذهبي: قال شيخنا ابن تيمية: ينشرح صدري إذا أدخلتُ ابن البخاري بيني وبين النبي رضي الله عنه في حديث. توفي سنة (690 هـ) (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: "تذكرة الحفاظ" (4/ 1443)، و"العبر" كلاهما للذهبي (5/ 271)، و"طبقات الحفاظ" للسيوطي (ص: 505)، - و"شذرات الذهب" لابن العماد (5/ 311).

(2) انظر: "العبر" للذهبي (5/ 368)، و"الوافي بالوفيات" للصفدي (20/ 121)، و"المقصد الأرشد" لابن مفلح (2/ 210)، و"شذرات الذهب" لابن العماد (5/ 414).
৪ - রশীদ উদ্দীন ইবনুল আত্তার: ইমাম, হাফেজ ও বিশ্বস্ত; রশীদ উদ্দীন আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-কুরাশী আল-উমাবী আন-নাবুলুসী আল-মিসরী আল-মালিকী।

তিনি উসুল (মূলনীতি) অর্জন করেছিলেন, হাদীস শাস্ত্রে অগ্রগামী ছিলেন এবং ছয় বছর কামিলিয়্যাহর শাইখ (প্রধান) পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য, সুনিপুণ হাফেজ এবং উত্তম তাখরীজকারী ছিলেন। তিনি ৬৬২ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

 

‌‌৫ - আল-ফখর বিন আল-বুখারী: দুনিয়ার মুসনিদ (বিখ্যাত বর্ণনাকারী), আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-ফখর বিন আল-বুখারী আস-সা’দী আল-মাকদিসী আস-সালিহী আল-হাম্বলী।

তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে সফর করে আসত এবং উচ্চতর সনদের ক্ষেত্রে তিনি উত্তরসূরিদের পূর্বসূরিদের স্তরে উন্নীত করেছিলেন। উচ্চতর বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি পৃথিবীতে অনন্য ছিলেন।

আয-যাহাবী বলেন: আমাদের শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: কোনো হাদীসের সনদে যখন আমি নিজের এবং নবীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাঝে ইবনুল বুখারীকে রাখি, তখন আমার অন্তর প্রশান্ত হয়ে যায়। তিনি ৬৯০ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আয-যাহাবীর "তাজকিরাতুল হুফফাজ" (৪/১৪৪৩) এবং "আল-ইবার" (৫/২৭১); আস-সুয়ূতী রচিত "তাবাকাতুল হুফফাজ" (পৃষ্ঠা: ৫০৫) এবং ইবনুল ইমাদের "শাযারাতুয যাহাব" (৫/৩১১)।

(২) দেখুন: আয-যাহাবীর "আল-ইবার" (৫/৩৬৮), আস-সাফাদীর "আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত" (২০/১২১), ইবনে মুফলিহের "আল-মাকসাদুল আরশাদ" (২/২১০) এবং ইবনুল ইমাদের "শাযারাতুয যাহাব" (৫/৪১৪)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الخامس مشاهير تلامذته

‌‌1 - نجم الدين بن الرِّفعة الشافعي: الإمام العلامة، أحمد بن محمد بن علي بن مرتفع أبو العباس المصري الشافعي، حامل لواء الشافعية في زمانه، كان فقيهاً فاضلاً، وإماماً في علوم كثيرة، وقد أثنى عليه الإمام ابن دقيق، وكان يعظِّمه، ويقول له إذا خاطبه: يا فقيه (1).

وله تصانيف لطاف؛ منها: "المطلب في شرح الوسيط" وهو أعجوبة في كثرة النصوص والمباحث، ومنها: "الكفاية في شرح التنبيه" وقد فاق به على الشروح السابقة. توفي سنة (710 هـ) رحمه الله تعالى (2).

 

‌‌2 - علاء الدين الباجي: الإمام الفقيه المتقن، علي بن محمد بن عبد الرحمن بن خطَّاب الباجي المغربي المصري، إمام الأصوليين في

--------------------------------------------

(1) قال السبكي: كان الإمام ابن دقيق يخاطب عامةَ الناس؛ السلطانَ فمن دونَه بقوله: يا إنسان، وإن كان المخاطب فقيهاً كبيراً قال: يا فقيه، وتلك كلمة لا يسمح بها إلا لابن الرفعة ونحوه.

انظر: "طبقات الشافعية الكبرى" (9/ 212).

(2) انظر: "طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي (9/ 24)، و"البداية والنهاية" لابن كثير (14/ 60)، و"الدرر الكامنة" لابن حجر (1/ 236)، و"مرآة الجنان" لليافعي (4/ 249)، و"شذرات الذهب" لابن العماد (6/ 22)، و"البدر الطالع" للشوكاني (1/ 115).
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ

১ - নাজমুদ্দিন ইবনুর রিফ’আ আশ-শাফেঈ: ইমাম আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুরতাফি' আবুল আব্বাস আল-মিসরী আশ-শাফেঈ। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের শাফেঈ মাজহাবের পতাকাবাহী। তিনি একজন বিজ্ঞ ফকিহ এবং বহু শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন। ইমাম ইবনু দাকীক তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁকে সম্মান দিতেন; তিনি যখন তাঁকে সম্বোধন করতেন, তখন বলতেন: হে ফকিহ (১)।

তাঁর কিছু চমৎকার সংকলন রয়েছে; তন্মধ্যে রয়েছে: “আল-মাতলাব ফী শারহিল ওয়াসীত”, যা প্রচুর উদ্ধৃতি ও গবেষণার প্রাচুর্যের কারণে একটি বিস্ময়কর গ্রন্থ। আরও রয়েছে: “আল-কিফায়াহ ফী শারহিত তানবীহ”, যা পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি ৭১০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন (২)।

 

২ - আলাউদ্দিন আল-বাজী: ইমাম, ফকিহ ও পারদর্শী পণ্ডিত, আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন খাত্তাব আল-বাজী আল-মাগরিবি আল-মিসরী। তিনি ছিলেন উসুলবিদদের ইমাম...

--------------------------------------------

(১) সুবকী বলেন: ইমাম ইবনু দাকীক সাধারণ মানুষ—সুলতান থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের সবাইকে ‘হে মানুষ’ বলে সম্বোধন করতেন। তবে সম্বোধনকৃত ব্যক্তি যদি বড় ফকিহ হতেন, তবে বলতেন: ‘হে ফকিহ’। আর এটি এমন একটি শব্দ যা তিনি ইবনুর রিফ’আ বা তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো জন্য ব্যবহার করতেন না।

দেখুন: “তাবাকাতুশ শাফেঈয়াতিল কুবরা” (৯/ ২১২)।

(২) দেখুন: সুবকীর “তাবাকাতুশ শাফেঈয়াতিল কুবরা” (৯/ ২৪), ইবনে কাসীরের “আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া” (১৪/ ৬০), ইবনে হাজারের “আদ-দুরারুল কামিনাহ” (১/ ২৩৬), ইয়াফেঈর “মিরআতুল জানান” (৪/ ২৪৯), ইবনুল ইমাদের “শাযারাতুয যাহাব” (৬/ ২২) এবং শাওকানীর “আল-বাদরুত তালি” (১/ ১১৫)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
زمانه، وكان عمدة في الفتوى، قال بعض أصحابه: كان لا يفتي بمسألة حتى يقوم عنده الدليلُ عليها، فإن لم ينهض عنده، قال: مذهب الشافعي كذا، أو الأصح عند الأصحاب كذا، ولا يجزم. وكان الإمام ابن دقيق العيد يقول له: يا إمام، ويخصُّه بها. وكان يقول أيضاً: علاء الدين الباجي يُطْلَق عليه عالم. توفي سنة (714 هـ) (1).

 

‌‌3 - تاج الدين الفاكهاني: الإمام الفقيه الفاضل، أبو حفص عمر بن علي بن سالم بن عبد الله اللخمي الإسكندراني المالكي، صنف شرح العمدة في الأحكام (2)، ومَهَر في العربية، وكان إماماً متفنناً في الحديث والفقه والأصول، وكان على حظ وافر من الدين المتين، والصلاح، واتباع السلف الصالح. توفي سنة (731 هـ) (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: "طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي (10/ 339)، و"الوافي بالوفيات" للصفدي (21/ 299)، و"الدرر الكامنة" لابن حجر (4/ 120)، و"شذرات الذهب" لابن العماد (6/ 34).

(2) سماه: "رياض الأفهام في شرح عمدة الأحكام"، وهو كثير النقل عن شيخه ابن دقيق في كتابيه "إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام"، و"شرح الإلمام"، وقد أكثر في ذكر المباحث والاستدلالات من "شرح الإلمام" خصوصاً، وتارة يذكر شيخه باسمه، وتارة يرمز له بحرف (ق)، والكتاب كثير الفوائد، جم العوائد. وقد قارب الأخ والشيخ الفاضل نور الدين طالب من إنهاء تحقيقه وإخراجه إلى حيز المطبوع، نسأل الله له التوفيق والسَّداد.

(3) انظر: "البداية والنهاية" لابن كثير (14/ 168)، و"الدرر الكامنة" لابن حجر (4/ 209)، و"الديباج المذهب" لابن فرحون (ص: 186)، و"شذرات الذهب" لابن العماد (6/ 96).
তার সময়ের, এবং তিনি ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন ছিলেন। তাঁর কিছু সাথী বলেছেন: কোনো বিষয়ে তাঁর কাছে দলিল সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ফতোয়া দিতেন না। যদি দলিল তাঁর নিকট পর্যাপ্ত মনে না হতো, তবে তিনি বলতেন: শাফিঈ মাযহাবের বক্তব্য এমন, অথবা তাঁর সাথীদের নিকট অধিকতর সঠিক মত এটি, তবে তিনি তা নিশ্চিতভাবে বলতেন না। ইমাম ইবনে দাকীকুল ঈদ তাঁকে 'হে ইমাম' বলে সম্বোধন করতেন এবং কেবল তাঁকেই এই বিশেষ সম্বোধনে সম্বোধিত করতেন। তিনি আরও বলতেন: আলাউদ্দীন আল-বাজীকে আক্ষরিক অর্থেই 'আলেম' বলা যায়। তিনি ৭১৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (১)।

 

‌‌৩ - তাজউদ্দীন আল-ফাকিহানি: মহিমান্বিত ইমাম ও ফকীহ, আবু হাফস উমর বিন আলী বিন সালিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাখমি আল-ইস্কান্দারানি আল-মালিকি। তিনি 'উমদাতুল আহকাম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন (২), এবং আরবি ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। তিনি হাদিস, ফিকহ এবং উসুল শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ইমাম ছিলেন। তিনি সুদৃঢ় দ্বীনদারি, সততা এবং সালাফে সালেহীনের অনুসরণে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি ৭৩১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুবকী রচিত "তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা" (১০/ ৩৩৯), সাফাদী রচিত "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত" (২১/ ২৯৯), ইবনে হাজার রচিত "আদ-দুরারুল কামিনাহ" (৪/ ১২০) এবং ইবনুল ইমাদ রচিত "শাযারাতুয যাহাব" (৬/ ৩৪)।

(২) তিনি এর নামকরণ করেছেন: "রিয়াযুল আফহাম ফি শারহি উমদাতিল আহকাম"। তিনি তাঁর উস্তাদ ইবনে দাকীক-এর দুই কিতাব "ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম" এবং "শারহুল ইলমাম" থেকে এতে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। বিশেষত "শারহুল ইলমাম" থেকে আলোচনা ও দলিলাদি তিনি অধিক মাত্রায় উল্লেখ করেছেন। কখনো তিনি তাঁর উস্তাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আবার কখনো (ক্বফ) অক্ষরের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করেন। কিতাবটি অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং অত্যন্ত উপকারী। আমাদের ভাই এবং সম্মানিত শায়খ নূরুদ্দীন তালিব এটির তাহকীক ও প্রকাশনার কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে নিয়ে এসেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর তাওফীক ও সঠিক পথের ওপর অটল থাকার দোয়া করি।

(৩) দেখুন: ইবনে কাসীর রচিত "আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ" (১৪/ ১৬৮), ইবনে হাজার রচিত "আদ-দুরারুল কামিনাহ" (৪/ ২০৯), ইবনে ফারহুন রচিত "আদ-দীবাজুল মুযাহহাব" (পৃষ্ঠা: ১৮৬) এবং ইবনুল ইমাদ রচিত "শাযারাতুয যাহাব" (৬/ ৯৬)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌4 - ابن سَيِّد الناس: الحافظ العلامة المتفنن، والأديب المشهور، محمد بن محمد بن محمد بن أحمد أبو الفتح فتح الدين اليعمُري الشافعي. لازم ابن دقيق، وتخرج عليه في أصول الفقه، وأعاد عنده، وكان يحبه ويؤثره، ويسمع كلامه ويثني عليه، ويركن إلى نقله، قال عماد الدين بن القيسراني: كان ابن دقيق إذا حَضَرْنا درسه، وجاء ذكر أحد من الصحابة والرجال قال: أيش ترجمة هذا يا أبا الفتح؟ فيأخذ في الكلام ويسرد، والناس سكوت، والشيخ مُصْغٍ إلى ما يقول.

قال الأُدفُوي: وشرع لشرح الترمذي، ولو اقتصر فيه على فن الحديث من الكلام على الأسانيد لكمل، لكنه قصد أن يتبع شيخه ابن دقيق العيد، فوقف دون ما يريد. توفي سنة (734 هـ) (1).

 

‌‌5 - قطب الدين الحلبي: الحافظ المتقن المقرئ المجيد، عبد الكريم بن عبد النور بن منيِّر، أبو علي الحلبي ثم المصري، مفيد الديار المصرية، كان كيِّساً متواضعاً، غزيرَ المعرفة، متقناً لما يقول، اختصر كتاب "الإلمام" لابن دقيق في كتاب سماه

--------------------------------------------

(1) انظر: "طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي (9/ 268)، و"طبقات الشافعية" لابن قاضي شهبة (2/ 295)، و"الدرر الكامنة" لابن حجر (5/ 476)، و"الوافي بالوفيات" للصفدي (1/ 219)، و"طبقات الحفاظ" للسيوطي (ص: 523)، و"شذرات الذهب" لابن العماد (6/ 108).
৪ - ইবন সাইয়্যিদ আন-নাস: হাফিজ, আল্লামা, বহুমুখী পণ্ডিত এবং সুপ্রসিদ্ধ সাহিত্যিক, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আবু আল-ফাতহ ফাতহুদ দ্বীন আল-ইয়ামুরি আশ-শাফিয়ি। তিনি ইবন দাকিকের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তিনি তাঁর নিকট পাঠ পুনরাবৃত্তি করতেন; শায়খ তাঁকে ভালোবাসতেন এবং অগ্রাধিকার দিতেন, তাঁর কথা শুনতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর বর্ণনার ওপর নির্ভর করতেন। ইমাদুদ্দীন ইবন আল-কায়সারানি বলেন: "আমরা যখন ইবন দাকিকের পাঠে উপস্থিত থাকতাম এবং কোনো সাহাবি বা রাবির উল্লেখ আসত, তখন তিনি বলতেন: 'হে আবু আল-ফাতহ! এর জীবনী কী?' তখন তিনি বলতে শুরু করতেন এবং বিরামহীনভাবে বর্ণনা করে যেতেন, উপস্থিত সকলে নিস্তব্ধ হয়ে থাকত এবং শায়খ অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাঁর কথা শুনতেন।"

আল-উদফুয়ি বলেন: "তিনি তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখতে শুরু করেছিলেন। তিনি যদি এতে কেবল সনদ ও হাদিস শাস্ত্রের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে তা পূর্ণতা পেত। কিন্তু তিনি তাঁর শায়খ ইবন দাকিক আল-ঈদের পদ্ধতি অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই থেমে যান। তিনি ৭৩৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)।"

 

৫ - কুতুবুদ্দীন আল-হালাবি: সুদক্ষ হাফিজ, প্রথিতযশা ক্বারি, আব্দুল কারিম বিন আব্দুল নুর বিন মুনাইয়ির, আবু আলি আল-হালাবি অতপর আল-মিসরি, মিসর অঞ্চলের প্রথিতযশা আলিম। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান, বিনয়ী ও অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং নিজ বক্তব্যে অত্যন্ত সুনিপুণ ছিলেন। তিনি ইবন দাকিকের "আল-ইলমাম" গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করে একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সুবকির "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা" (৯/২৬৮), ইবন কাজি শুহবার "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ" (২/২৯৫), ইবন হাজারের "আদ-দুরারুল কামিনাহ" (৫/৪৭৬), সাফাদির "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত" (১/২১৯), সুয়ুতির "তাবাকাতুল হুফফাজ" (পৃষ্ঠা: ৫২৩), এবং ইবনুল ইমাদের "শাযারাতুজ যাহাব" (৬/১০৮)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
"الاهتمام"، وهو حسنٌ خالٍ عن الاعتراضات الواردة على "الإلمام" مع الإثبات لما فيه (1). وشرح سيرة عبد الغني، وشرح معظم صحيح البخاري. توفي سنة (735 هـ) (2).

 

‌‌6 - المزي: الإمام العلامة، الحافظ الكبير، وعمدة الحفاظ، أعجوبة الزمان، أبو الحجاج يوسف بن عبد الرحمن بن يوسف المزي الشافعي. قال الذهبي: كان خاتمة الحفاظ، وناقد الأسانيد والألفاظ، وهو صاحب معضلاتِنا، وموضح مشكلاتنا، وكان محباً للآثار، معظماً لطريقة السلف.

وله تصانيف تدل على سعة علمه، وحسن معرفته، ولو لم يكن له إلا "تهذيب الكمال" لكفاه. توفي سنة (742 هـ) (3).

 

‌‌7 - الذهبي: الحافظ الكبير، مؤرخ الإسلام، محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز التركماني الدمشقي، كان علامة زمانه في الرجال وأحوالهم، حديد الفهم، ثاقب الذهن، جمع "تاريخ الإسلام" فأربى

--------------------------------------------

(1) انظر: "طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي (6/ 249). وقد طبع كتابه بمؤسسة الكتب الثقافية ببيروت سنة (1410 هـ)، بإشراف حسام رياض.

(2) انظر: "المعجم المختص" للذهبي (ص: 106)، و"الدرر الكامنة" لابن حجر (3/ 198)، و "طبقات الحنفية" لابن أبي الوفاء (ص: 325)، و"طبقات الحفاظ" للسيوطي (ص: 523)، و "شذرات الذهب" لابن العماد (6/ 110).

(3) انظر: "طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي (10/ 395)، و "الدرر الكامنة" لابن حجر (6/ 228)، و"طبقات الحفاظ" للسيوطي (ص: 521)، و "شذرات الذهب" لابن العماد (6/ 136).
'আল-ইহতিমাম', যা একটি উত্তম কাজ, এটি 'আল-ইলমাম'-এর ওপর আসা আপত্তিগুলো থেকে মুক্ত এবং তাতে যা আছে তার সপক্ষে প্রমাণসহ (১)। এবং আবদুল গনির সীরাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এবং সহীহ বুখারীর অধিকাংশের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তিনি (৭৩৫ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

 

‌‌৬ - আল-মিযযী: ইমাম, আল্লামা, মহান হাফিজ, হাফিজদের মূল স্তম্ভ, যুগের বিস্ময়, আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-মিযযী আশ-শাফিঈ। আয-যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন হাফিজদের পরিসমাপ্তি, সনদ ও শব্দাবলির সমালোচক, তিনি আমাদের জটিল বিষয়গুলোর সমাধানকারী ও আমাদের সমস্যাগুলোর স্পষ্টকারী। তিনি আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা) প্রিয় ছিলেন এবং সালাফদের পদ্ধতির প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শনকারী ছিলেন।

তাঁর এমন কিছু রচনা রয়েছে যা তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা এবং উত্তম পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। যদি তাঁর কেবল 'তাহযীবুল কামাল' ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবে সেটিই তাঁর জন্য যথেষ্ট হতো। তিনি (৭৪২ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

 

‌‌৭ - আয-যাহাবী: মহান হাফিজ, ইসলামের ইতিহাসবিদ, মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কায়মায আত-তুর্কমানি আদ-দিমাশকি। তিনি বর্ণনাকারী ও তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে তাঁর যুগের আল্লামা ছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রখর বোধশক্তিসম্পন্ন ও তীক্ষ্ণ মেধাবী ছিলেন। তিনি 'তারীখুল ইসলাম' সংকলন করেন এবং সেটিকে সমৃদ্ধ করেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সুবকির 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা' (৬/ ২৪৯)। তাঁর বইটি বৈরুতের মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ থেকে (১৪১০ হিজরি) সনে হুসাম রিয়াদের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) দেখুন: আয-যাহাবীর 'আল-মু'জামুল মুখতাস' (পৃ. ১০৬), ইবনে হাজারের 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৩/ ১৯৮), ইবনে আবিল ওয়াফা-এর 'তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ' (পৃ. ৩২৫), আস-সুয়ুতির 'তাবাকাতুল হুফফাজ' (পৃ. ৫২৩) এবং ইবনুল ইমাদের 'শাযারাতুয যাহাব' (৬/ ১১০)।

(৩) দেখুন: আস-সুবকির 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা' (১০/ ৩৯৫), ইবনে হাজারের 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৬/ ২২৮), আস-সুয়ুতির 'তাবাকাতুল হুফফাজ' (পৃ. ৫২১) এবং ইবনুল ইমাদের 'শাযারাতুয যাহাব' (৬/ ১৩৬)।