(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: -)
العقيدة الواسطية - ت ابن مانع القسم: العقيدة
الكتاب: العقيدة الواسطية
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)
الناشر: مكتبة المعارف، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: بدون طبعة أو عام نشر
عدد الصفحات: 32
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1437
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক: ইবনে মানি' বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ
লেখক: তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হানবালী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: সংস্করণ নম্বর বা প্রকাশের বছর বিহীন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১)
العقيدة الواسطية
تصنيف
شيخ الإسلام تقي الدين أبي العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية الحراني المتوفى سنة 728 هـ بدمشق رحمه الله تعالى
كتبها سنة 698 هـ إجابة لطلب أحد قضاة واسط
تقريظ الأديب على زين العابدين خريج الكلية الحربية بمصر:
تلك (العقيدة) ما أجل سناها
… قبس يشع على القلوب هداها
فيها من القرآن كل فضيلة
… تهدي الضليل إلى الهدي بضياها
فيها الفلاح لمن أراد سعادة
… في الدين والدنيا إذا يغشاها
زفت لنا (الإيمان) أجلى صورة
… وروت (صفات الله) في معناها
جلت عن التعطيل والتكييف والتشبية والتمثيل ما أسماها
فتمسكن بعرى العقيدة إنها
… وثقت وصيغ من الهدى مبناها
وزهت بتصحيح (ابن مانع) الذي
… زاد العقيدة قوة وجلاها
فإذا بها شمس يشع ضياؤها
… في كل قلب ضمها ووعاها
علق حواشيها وأشرف على تصحيحها فضيلة العلامة الشيخ: محمد بن عبد العزيز بن مانع مدير المعارف العام - أجزل الله له الثواب وأدامه ذخراً للعلم وطلابه.
আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ
রচনায়
শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী, মৃত্যু ৭২৮ হিজরী, দামেস্ক, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
ওয়াসিতের জনৈক বিচারকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এটি ৬৯৮ হিজরী সালে লিখেছিলেন
মিশরের মিলিটারি কলেজের স্নাতক সাহিত্যিক আলী যাইনুল আবেদীনের প্রশংসা-বাণী:
সেই (আকিদাহ) কতই না মহান তার দীপ্তি
… এক অগ্নিশিখা যা অন্তরে হেদায়াতের আলো বিকিরণ করে
এতে রয়েছে কুরআনের প্রতিটি ফযিলত
… যা বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে তার আলোয় হেদায়েতের দিকে পরিচালিত করে
এতে রয়েছে তার জন্য সাফল্য যে সুখ প্রত্যাশা করে
… দ্বীন ও দুনিয়ায় যখন সে একে গ্রহণ করে
এটি আমাদের কাছে (ঈমান)-কে অত্যন্ত স্বচ্ছ রূপে পেশ করেছে
… এবং (আল্লাহর গুণাবলী) তার প্রকৃত অর্থে বর্ণনা করেছে
এটি নিষ্ক্রিয়করণ, ধরন নির্ধারণ, সাদৃশ্য দান ও তুলনা প্রদান হতে মুক্ত—কতই না সুউচ্চ এটি!
অতএব আকিদাহর এই মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরুন, কেননা এটি
… অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং এর ভিত্তি হেদায়াত দ্বারা নির্মিত
এটি (ইবন মানি’)-র সংশোধনে সুশোভিত হয়েছে
… যিনি এই আকিদাহর শক্তি বৃদ্ধি করেছেন এবং একে স্পষ্ট করেছেন
ফলে এটি এক সূর্য যার জ্যোতি বিকিরিত হয়
… প্রতিটি অন্তরে যা একে ধারণ ও অনুধাবন করেছে
এর টীকা সংযোজন এবং সংশোধনের তদারকি করেছেন ফযিলতধারী আল্লামা শায়খ: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি’, মহাপরিচালক, শিক্ষা বিভাগ - আল্লাহ তাঁকে প্রচুর প্রতিদান দান করুন এবং জ্ঞান ও জ্ঞানান্বেষীদের জন্য পাথেয় হিসেবে তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمة المؤلفبسم الله الرحمن الرحيم (1)
الحمد لله الذي (2) أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله وكفى بالله شهيداً، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إقراراً به وتوحيداً، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه (3) وعلى آله وسلم تسليماً مزيدا.
أما بعد: فهذا اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة، أهل السنة والجماعة، وهو الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث بعد الموت والإيمان بالقدر خيره وشره.
الإيمان بما وصف الله به نفسه في كتابهومن الإيمان بالله الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه وبما وصفه به رسوله محمد صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل (4)
بل يؤمنون بأن الله سبحانه ليس كمثله شيء وهو السميع البصير.
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য (২) যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—তাঁর প্রতি স্বীকৃতিস্বরূপ ও তাওহীদের ঘোষণা হিসেবে। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর (৩) এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর: কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকিদা এটিই, যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। আর তা হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনা।
আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তার ওপর ঈমানআল্লাহর ওপর ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ নিজের কিতাবে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তার ওপর কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অর্থহীনকরণ (তা’তীল), ধরন গঠন (তাকয়ীফ) ও সদৃশকরণ (তামসীল) ব্যতিরেকে ঈমান আনা। (৪)
বরং তারা ঈমান আনেন যে, মহান আল্লাহর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ৩)
فلا ينفون عنه ما وصف به نفسه ولا يحرفون الكلم عن مواضعه، ولا يلحدون في أسماء الله وآياته (1) ولا يكيفون ولا يمثلون صفاته بصفات خلقه (2) لأنه سبحانه لا سميّ (3) له، ولا كُفُوَ له، ولا نِدَّ له (4) ولا يقاس
--------------------------------------------
তারা আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করেন না এবং শব্দাবলিকে তাদের নির্ধারিত স্থান থেকে বিকৃত করেন না। আল্লাহর নামসমূহ ও নিদর্শনে তারা বিচ্যুতি ঘটান না (১)। তারা আল্লাহর গুণাবলির ধরন নির্ধারণ করেন না এবং তাঁর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করেন না (২)। কারণ মহান আল্লাহ এমন যে, তাঁর কোনো সমনাম নেই (৩), তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর কোনো সমতুল্য নেই (৪)। আর তাঁর তুলনা করা যায় না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ৪)
بخلقه سبحانه وتعالى فإنه أعلم بنفسه وبغيره، وأصدق قيلا وأحسن حديثا من خلقه. ثم رسله صادقون مصدوقون، بخلاف الذين يقولون عليه ما لا يعلمون، ولهذا قال (سبحان ربك رب العزة عما يصفون، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين) فسبح نفسه عما وصفه به المخالفون للرسل، وسلم على المرسلين لسلامة ما قالوه من النقص والعيب. وهو سبحانه قد جمع فيما وصف وسمىَّ به نفسه بين النفي والإثبات، فلا عدول لأهل السنة والجماعة عما جاء به المرسلون. فإنه الصراط المستقيم، صراط الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين.
وقد دخل في هذه الجملة ما وصف به نفسه في سورة الإخلاص التي تعدل ثلث القرآن حيث يقول: (قل هو الله أحد الله الصمد، لم يلد، ولم يولد، ولم يكن له كفواً أحد) وما وصف به نفسه في أعظم آية في كتابه حيث يقول: (الله لا إله إلا هو الحي القيوم، لا تأخذه سنة ولا نوم، له ما في السماوات وما في الأرض، من ذا الذي يشفع عنده إلا بإذنه، يعلم ما بين أيديهم وما خلفهم ولا يحيطون بشيء من علمه إلا بما شاء وسع كرسِيه السماوات والأرض ولا يؤوده حفظهما - أي لا يَكْرِثه ولا يُثْقِلُه (1) - وهو العلي العظيم) ولهذا كان من قرأ هذه الآية في ليلة لم يزل عليه من الله حافظ ولا يقربه شيطان حتى يصبح. وقوله سبحانه: (هو الأول والآخِر والظاهر والباطن وهو بكل شيء عليم) وقوله سبحانه: (وتوكل على الحي الذي لا يموت) وقوله (وهو العليم الحكيم)، (وهو الحكيم الخبير)، (يعلم ما يلج في الأرض وما يخرج منها وما ينزل من السماء وما يعرج فيها) - (وعنده مفاتح الغيب لا يعلمها إلا هو ويعلم ما في البر والبحر
--------------------------------------------
তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সুবহানাহু ওয়া তাআলা, নিশ্চয়ই তিনি নিজের সম্পর্কে এবং অন্যদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত, এবং তাঁর সৃষ্টির চেয়ে তাঁর কথা অধিক সত্য এবং তাঁর বাণী অধিক সুন্দর। অতঃপর তাঁর রাসূলগণ সত্যবাদী এবং সত্য বলে সমর্থিত, তাদের বিপরীতে যারা আল্লাহর ব্যাপারে এমন কথা বলে যা তারা জানে না। এই কারণেই তিনি বলেছেন: (পবিত্রতা ঘোষণা করছি আপনার প্রতিপালকের, যিনি সম্মানের অধিপতি, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে। আর সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি। এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির প্রতিপালক)। সুতরাং তিনি নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন সেইসব বর্ণনা থেকে যা রাসূলগণের বিরোধীরা তাঁর প্রতি আরোপ করেছে, এবং রাসূলগণের প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন কারণ তাদের বক্তব্যসমূহ যাবতীয় ত্রুটি ও খুঁত থেকে মুক্ত। তিনি সুবহানাহু তাঁর নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং নিজের যে নামকরণ করেছেন তাতে নেতিবাচক (অস্বীকৃতি) ও ইতিবাচক (স্বীকৃতি) উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। সুতরাং রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো অবকাশ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নেই। কেননা এটিই হলো সরল পথ; সেই ব্যক্তিদের পথ যাদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ।
এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেইসব গুণাবলি যা তিনি সূরা আল-ইখলাসে নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন, যা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য, যেখানে তিনি বলেন: (বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই)। এবং সেইসব গুণাবলি যা তিনি তাঁর কিতাবের শ্রেষ্ঠতম আয়াতে নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: (আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন। তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আর এই দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না - অর্থাৎ তা তাঁর জন্য কঠিন হয় না এবং তাঁকে ভারাক্রান্ত করে না (১) - আর তিনি সমুন্নত, মহান)। আর একারণেই যে ব্যক্তি রাতে এই আয়াতটি পাঠ করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সর্বদা একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান তার নিকটবর্তী হতে পারবে না। এবং সুবহানাহু-র বাণী: (তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই অপ্রকাশ্য এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত)। এবং সুবহানাহু-র বাণী: (আর আপনি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করুন যার মৃত্যু নেই)। এবং তাঁর বাণী: (আর তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়), (তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত), (তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে)। এবং (আর তাঁর কাছেই রয়েছে অদৃশ্যের চাবিকাঠি, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। আর তিনি জানেন যা কিছু স্থলে ও জলে রয়েছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ৫)
وما تسقط من ورقة إلا يعلمها ولا حبة في ظلمات الأرض ولا رطب ولا يابس إلا في كتاب مبين) وقوله: (وما تحمل من أنثى ولا تضع إلا بعلمه) وقوله: (لتعلموا أنَّ الله على كل شيء قدير وأنَّ الله قد أحاط بكل شيء علماً) وقوله: (إن الله هو الرزاق ذو القوة المتين) وقوله: (ليس كمثله شيء وهو السميع البصير)، وقوله: (إن الله نِعِمَّا يعظكم به إن الله كان سميعاً بصيراً) وقوله: (ولولا إذ دخلت جنتك قلت ما شاء الله لا قوة إلا بالله) - (ولو شاء الله ما اقتتلوا ولكن الله يفعل ما يريد) وقوله: (أحلت لكم بهيمة الأنعام إلا ما يُتلى عليكم غير محلىِّ الصيدِ وأنتم حُرُم.
إن الله يحكم ما يريد)، وقوله: (فمن يرد الله أن يهديه يشرح صدره للإسلام ومن يرد أن يضله يجعل صدره ضيقاً حرجاً كأنما يصعد في السماء) وقوله: (وأحسنوا إن الله يحب المحسنين) - (وأقسطوا إن الله يحب المقسطين) - (فما استقاموا لكم فاستقيموا لهم إن الله يحب المتقين) - (إن الله يحب التوابين ويحب المتطهرين) وقوله: (قل إن كنتم تحبون الله فاتبعوني يحببكم الله) وقوله: (فسوف يأتي الله بقوم يحبهم ويحبونه) وقوله: (إن الله يحب الذين يقاتلون في سبيله صفاً كأنهم بنيان مرصوص) وقوله: (وهو الغفور الودود) وقوله: (بسم الله الرحمن الرحيم) - (ربنا وسعت كل شيء رحمة وعلما) - (وكان بالمؤمنين رحيما) - (ورحمتي وسعت كل شيء) - (كتب ربكم على نفسه الرحمة) - (وهو الغفور الرحيم) - (فالله خير حافظاً وهو أرحم الراحمين) وقوله: (رضي الله عنهم ورضوا عنه) وقوله: (ومن يقتل مؤمناً متعمداً فجزاؤه جهنم خالداً فيها وغضب الله عليه ولعنه) وقوله: (ذلك بأنهم اتَّبعوا ما أسخط الله وكرهوا رضوانه)، وقوله: (فلما آسفونا انتقمنا منهم) وقوله: (ولكن كرهَ الله انبعاثهم فثبطهم) وقوله: (كبر مقتاً عند الله أن تقولوا ما لا تفعلون) وقوله: (هل ينظرون إلا أن يأتيهم الله في ظلل من الغمام والملائكة وقضي الأمر)، وقوله: (هل ينظرون إلا أن تأتيهم
আর কোনো পাতা ঝরে না যা তিনি জানেন না, এবং মাটির অন্ধকারে কোনো শস্যকণাও নেই, আর না কোনো সজীব বা শুষ্ক বস্তু, যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই) এবং তাঁর বাণী: (আর কোনো নারী গর্ভধারণ করে না এবং কোনো সন্তান প্রসব করে না তাঁর জ্ঞান ব্যতীত) এবং তাঁর বাণী: (যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে বেষ্টন করে আছেন) এবং তাঁর বাণী: (নিশ্চয় আল্লাহই হলেন রিযিকদাতা, প্রবল ক্ষমতার অধিকারী ও পরাক্রমশালী) এবং তাঁর বাণী: (কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা), এবং তাঁর বাণী: (নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের যা উপদেশ দিচ্ছেন তা কতই না চমৎকার! নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা) এবং তাঁর বাণী: (আর যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে তখন কেন বললে না, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়েছে), আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই’) - (এবং যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা লড়াই করত না, কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন) এবং তাঁর বাণী: (তোমাদের জন্য চতুষ্পদ গৃহপালিত পশু হালাল করা হয়েছে, তবে সেগুলো ব্যতীত যা তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়েছে; ইহরাম অবস্থায় শিকার করাকে হালাল মনে করো না।
নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন সেই নির্দেশই দেন), এবং তাঁর বাণী: (সুতরাং আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেওয়ার ইচ্ছা করেন তার বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন, আর যাকে বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করেন তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও অত্যন্ত আড়ষ্ট করে দেন, মনে হয় যেন সে আকাশে আরোহণ করছে) এবং তাঁর বাণী: (এবং তোমরা সদাচরণ করো, নিশ্চয় আল্লাহ সদাচারীদের ভালোবাসেন) - (এবং ন্যায়বিচার করো, নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচারকদের ভালোবাসেন) - (সুতরাং যতক্ষণ তারা তোমাদের প্রতি প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকে, তোমরাও তাদের প্রতি অটল থাকো; নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালোবাসেন) - (নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন) এবং তাঁর বাণী: (বলুন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন’) এবং তাঁর বাণী: (অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালোবাসবে) এবং তাঁর বাণী: (নিশ্চয় আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, যেন তারা সিসা ঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর) এবং তাঁর বাণী: (আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও প্রেমময়) এবং তাঁর বাণী: (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে) - (হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার দয়া ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যপ্ত করে আছে) - (আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু) - (এবং আমার দয়া প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যপ্ত করে আছে) - (তোমাদের প্রতিপালক নিজের ওপর দয়া করা অবধারিত করে নিয়েছেন) - (আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু) - (সুতরাং আল্লাহই শ্রেষ্ঠ রক্ষক এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু) এবং তাঁর বাণী: (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে) এবং তাঁর বাণী: (আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিফল হবে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তাকে অভিশাপ দিয়েছেন) এবং তাঁর বাণী: (এটি এজন্য যে, তারা এমন বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করেছে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে), এবং তাঁর বাণী: (অতঃপর তারা যখন আমাদের রাগান্বিত করল, তখন আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম) এবং তাঁর বাণী: (কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করলেন, তাই তিনি তাদের বিরত রাখলেন) এবং তাঁর বাণী: (তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ঘৃণ্য) এবং তাঁর বাণী: (তারা কি কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, আল্লাহ মেঘমালার ছায়ায় তাদের নিকট আসবেন এবং ফেরেশতারাও আসবে, আর সকল বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে?), এবং তাঁর বাণী: (তারা কি কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে (ফেরেশতারা) আসবে...
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ৬)
الملائكة أو يأتي ربك أو يأتي بعض آيات ربك) - (كلا إذا دُكَّت الأرض دكاً دكا وجاء ربك والملك صفاً صفا) - (ويوم تَشَقَّقُ السماء بالغمام ونزل الملائكة تنزيلا) وقوله: (ويبقى وجه ربك ذو الجلال والإكرام) - (كل شيء هالك إلا وجهه) وقوله: (ما منعك أن تسجد لما خلقت بيدي) - (وقالت اليهود يد الله مغلولة غلت أيديهم ولعنوا بما قالوا، بل يداه مبسوطتان ينفق كيف يشاء) وقوله: (واصبر لحكم ربك فإنك بأعيننا) - (وحملناه على ذات ألواح ودسر، تجري بأعيننا جزاء لمن كان كفر) - (وألقيت عليك محبة مني ولتصنع على عيني) وقوله: (قد سمع
الله قول التي تجادلك في زوجها وتشتكي إلى الله، والله يسمع تحاوركما إن الله سميع بصير) وقوله: (لقد سمع الله قول الذين قالوا إن الله فقير ونحن أغنياء) - (أم يحسبون أنا لا نسمع سرهم ونجواهم، بلى ورسلنا لديهم يكتبون) وقوله: (إنني معكما أسمع (1) وأرى) وقوله: (ألم يعلم بأن الله يرى) - (الذي يراك حين تقوم وتقلبك في الساجدين إنه هو السميع العليم) - (وقل اعملوا فسيرى الله عملكم ورسوله والمؤمنون) وقوله: (وهو شديد المحال) (2)
وقوله: (ومكروا ومكر الله (3) والله خير الماكرين)،
--------------------------------------------
(...ফেরেশতাগণ আসবে অথবা আপনার রব আসবেন অথবা আপনার রবের কোনো কোনো নিদর্শন আসবে) - (কখনো নয়, যখন জমিন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলিসাৎ হবে এবং আপনার রব আসবেন ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন) - (এবং যেদিন আকাশ মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাগণকে ব্যাপকভাবে নামিয়ে দেয়া হবে) এবং তাঁর বাণী: (এবং আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে) - (তাঁর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল) এবং তাঁর বাণী: (যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি তাকে সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?) - (আর ইয়াহুদিরা বলে আল্লাহর হাত রুদ্ধ, তাদের হাতই রুদ্ধ হোক এবং তাদের উক্তির কারণে তাদের প্রতি অভিশাপ, বরং তাঁর দুই হাতই প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন) এবং তাঁর বাণী: (আর আপনি আপনার রবের ফয়সালার জন্য ধৈর্য ধারণ করুন, কারণ আপনি আমাদের চোখের সামনে রয়েছেন) - (এবং আমি তাকে তক্তা ও পেরেক বিশিষ্ট এক নৌযানে আরোহণ করালাম, যা আমাদের চোখের সামনে চলত, এটি ছিল সেই ব্যক্তির প্রতিদান যাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল) - (এবং আমি আপনার ওপর আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম যাতে আপনি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হন) এবং তাঁর বাণী: (আল্লাহ অবশ্যই
সেই মহিলার কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিল। আর আল্লাহ আপনাদের কথোপকথন শুনছিলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা) এবং তাঁর বাণী: (অবশ্যই আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছিল নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবগ্রস্ত এবং আমরা অভাবমুক্ত) - (নাকি তারা মনে করে যে আমি তাদের গোপন কথা ও গোপন পরামর্শ শুনি না? অবশ্যই, আর আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তাদের নিকট থেকে লিখে রাখে) এবং তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি (১) এবং দেখি) এবং তাঁর বাণী: (সে কি জানে না যে আল্লাহ দেখেন?) - (যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাজে দাঁড়ান এবং সাজদাহকারীদের মধ্যে আপনার আনাগোনাও দেখেন, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ) - (আর বলুন, তোমরা আমল করো, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসুল ও মুমিনগণও দেখবেন) এবং তাঁর বাণী: (এবং তিনি কৌশলে অত্যন্ত শক্তিশালী) (২)
এবং তাঁর বাণী: (এবং তারা কৌশল করল আর আল্লাহও কৌশল করলেন (৩), আর আল্লাহই শ্রেষ্ঠ কৌশলী),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقوله: (ومكروا مكراً ومكرنا مكراً وهم لا يشعرون)، وقوله: (إنهم يكيدون كيداً وأكيد كيداً) وقوله: (إن تبدوا خيراً أو تخفوه أو تعفوا عن سوء فإن الله كان عفواً قديرا) - (وليعفوا وليصفحوا ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور رحيم)، وقوله: (ولله العزة ولرسوله وللمؤمنين)، وقوله عن إبليس: (فبعزتك لأغوينهم أجمعين)، وقوله: (تبارك اسم ربك ذي الجلال والإكرام)، وقوله: (فاعبده واصطبر لعبادته، هل تعلم له سميا (1)) - (ولم يكن له
كفواً أحد)، (فلا تجعلوا لله أنداداً وأنتم تعلمون) - (ومن الناس من يتخذ من دون الله أنداداً يحبونهم كحب الله) - (وقل الحمد لله الذي لم يتخذ ولدا ولم يكن له شريك في الملك ولم يكن له ولي من الذل وكبره تكبيرا) - (يسبح لله ما في السماوات وما في الأرض له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير) - (تبارك الذي نزل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيراً الذي له ملك السماوات والأرض ولم يتخذ ولداً ولم يكن له شريك في الملك وخلق كل شيء فقدره تقديراً) - (ما اتخذ الله من ولد وما كان معه من إله إذا لذهب كل إله بما خلق ولعلا بعضهم على بعض سبحان الله عما يصفون، عالم الغيب والشهادة فتعالى عما يشركون) - (فلا تضربوا لله الأمثال إن الله يعلم وأنتم لا تعلمون) - (قل إنما حرم ربي الفواحش ما ظهر منها وما بطن والإثم والبغي بغير الحق وأن تشركوا بالله ما لم ينزل به سلطاناً وأن تقولوا على الله
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: "এবং তারা এক চক্রান্ত করল, আর আমিও এক চক্রান্ত করলাম, অথচ তারা বুঝতে পারল না", এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই তারা এক ভীষণ কৌশল অবলম্বন করে, আর আমিও এক কৌশল অবলম্বন করি", এবং তাঁর বাণী: "যদি তোমরা কোনো ভাল কাজ প্রকাশ কর কিংবা তা গোপন রাখ অথবা কোনো মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, সর্বশক্তিমান" - "এবং তারা যেন ক্ষমা করে ও মার্জনা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু", এবং তাঁর বাণী: "আর সম্মান তো কেবল আল্লাহরই জন্য, এবং তাঁর রাসূলের ও মুমিনদের জন্য", এবং ইবলীস সম্পর্কে তাঁর বাণী: "সে বলল: আপনার সম্মানের শপথ! আমি অবশ্যই তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব", এবং তাঁর বাণী: "মহিমান্বিত আপনার রবের নাম, যিনি মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী", এবং তাঁর বাণী: "সুতরাং আপনি তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে অবিচল থাকুন। আপনি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জানেন?" - "এবং তাঁর
সমকক্ষ কেউ নেই", "সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর সাথে কোনো শরীক স্থির করো না" - "আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার ন্যায় ভালোবাসে" - "আর বলুন: সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো অংশীদার নেই এবং অপদস্থতা থেকে বাঁচতে কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই তাঁর। আর আপনি সগৌরবে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করুন" - "আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে; সার্বভৌমত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই; আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান" - "পরম বরকতময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন। যাঁরই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, যাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো অংশীদার নেই এবং যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তা যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন" - "আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; থাকলে প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং তাদের একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র! তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তারা যা শরীক করে তিনি তা থেকে অনেক উর্ধ্বে" - "কাজেই তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না" - "বলুন: আমার প্রতিপালক তো নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, আর পাপ ও অন্যায় বিদ্রোহ, আর আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরীক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ৮)
ما لا تعلمون) وقوله: (الرحمن (1) على العرش استوى) (2) في سبعة مواضع: في سورة الأعراف قوله: (إن ربكم الله الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش)، وقال في سورة يونس عليه السلام: (إن ربكم الله الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش)، وقال في سورة الرعد (الله الذي رفع السماوات بغير عمد ترونها
--------------------------------------------
যা তোমরা জানো না) এবং তাঁর বাণী: (পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন) সাতটি স্থানে: সূরা আল-আরাফ-এ তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর উঠেছেন), এবং সূরা ইউনুস আলাইহিস সালাম-এ বলেছেন: (নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর উঠেছেন), এবং সূরা আর-রা'দ-এ বলেছেন: (আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহকে কোনো খুঁটি ছাড়াই উপরে তুলেছেন যা তোমরা দেখতে পাও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثم استوى على العرش) وقال في سورة طه: (الرحمن على العرش استوى) وقال في سورة الفرقان: (ثم استوى على العرش الرحمن) وقال في سورة ألم السجدة: (الله الذي خلق السماوات والأرض وما بينهما في ستة أيام ثم استوى على العرش) وقال في سورة الحديد: (هو الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش) وقوله: (يا عيسى إني متوفيك ورافعك إلي) - (بل رفعه الله إليه) - (إليه يصعد الكلم الطيب والعمل الصالح يرفعه) - (يا هامان ابن لي صرحاً لعلي أبلغ الأسباب، أسباب السماوات فأطلع إلى إله موسى وإني لأظنه كاذباً) - (أأمنتم من في السماء أن يخسف بكم الأرض فإذا هي تمور، أم أمنتم من في السماء أن يرسل عليكم حاصباً فستعلمون كيف نذير) وقوله: (هو الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش يعلم ما يلج في الأرض وما يخرج منها وما ينزل من السماء وما يعرج فيها وهو معكم إينما كنتم والله بما تعملون بصير) - (ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم ولا خمسة إلا هو سادسهم ولا أدنى من ذلك ولا أكثر إلا هو معهم أينما كانوا ثم ينبئهم بما عملوا يوم القيامة إن الله بكل شيء عليم) وقوله: (لا تحزن إن الله معنا) - (إنني معكما أسمع وأرى) - (إن الله مع الذين اتقوا والذين هم محسنون) - (واصبروا إن الله
مع الصابرين) - (كم من فئة قليلة غلبت فئة كثيرة بإذن الله والله مع الصابرين) وقوله: (وَمَنْ أصدق من الله حديثاً) - (ومن أصدق من الله قيلا) - (وإذ قال الله يا عيسى ابن مريم) - (وتمت كلمت ربك صدقاً وعدلا) - (وكلم الله موسى تكليما) - (منهم من كلم الله) - (ولما جاء موسى لميقاتنا وكلَّمه ربه) - (وناديناه من جانب الطور الأيمن وقربناه نجيا) - (وإذ نادى ربك موسى أن ائت القوم الظالمين) - (وناداهما ربهما ألم أنهكما عن تلكما الشجرة) - (ويوم يناديهم فيقول: ماذا أجبتم المرسلين) - (وإن أحد من المشركين استجارك فأجره حتى يسمع كلام الله) -
অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন) এবং তিনি সূরা ত্বহা-তে বলেছেন: (পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন) এবং সূরা আল-ফুরকানে বলেছেন: (অতঃপর পরম করুণাময় আরশের উপর উঠলেন) এবং সূরা আলিফ-লাম-মীম আস-সাজদাহ-তে বলেছেন: (আল্লাহ তিনিই যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন) এবং সূরা আল-হাদীদে বলেছেন: (তিনিই যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন) এবং তাঁর বাণী: (হে ঈসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে গ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার কাছে তুলে নেব) - (বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন) - (তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্মকে তিনি উপরে তুলে নেন) - (হে হামান! আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি অবলম্বনসমূহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, আসমানসমূহের অবলম্বনসমূহ পর্যন্ত; ফলে আমি মূসার ইলাহকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি, আর নিশ্চয়ই আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি) - (তোমরা কি তাঁর থেকে নির্ভয় হয়ে গেছ যিনি আসমানে আছেন যে, তিনি তোমাদেরসহ জমিনকে ধসিয়ে দেবেন না? এমতাবস্থায় তা কাঁপতে থাকবে। নাকি তোমরা তাঁর থেকে নির্ভয় হয়ে গেছ যিনি আসমানে আছেন যে, তিনি তোমাদের উপর পাথরকুচি নিক্ষেপকারী বায়ু পাঠাবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে আমার সতর্কবাণী কেমন ছিল) এবং তাঁর বাণী: (তিনিই আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন। তিনি জানেন যা কিছু জমিনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে নির্গত হয়, আর যা কিছু আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা কিছু তাতে আরোহণ করে। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তিনি তোমাদের সাথে আছেন, আর তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা দেখেন) - (তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না, আর পাঁচ ব্যক্তিরও নয় যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না; আর এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন যা কিছু তারা করেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ) এবং তাঁর বাণী: (তুমি দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন) - (নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি) - (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল) - (এবং তোমরা ধৈর্য ধরো, নিশ্চয়ই আল্লাহ
ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন) - (কত ছোট দল আল্লাহর নির্দেশে বড় দলের ওপর বিজয়ী হয়েছে, আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন) এবং তাঁর বাণী: (আর কথার দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?) - (আর বাণীর দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?) - (এবং যখন আল্লাহ বললেন: হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা!) - (আর সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে তোমার রবের বাণী পূর্ণ হয়েছে) - (আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন) - (তাদের মধ্য থেকে কারো সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন) - (আর যখন মূসা আমার নির্ধারিত সময়ে এল এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন) - (এবং আমি তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে ডাকলাম এবং তাকে গোপন আলাপের জন্য নিকটবর্তী করলাম) - (এবং যখন তোমার রব মূসাকে ডাকলেন এই বলে যে, তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও) - (এবং তাদের রব তাদের উভয়কে ডেকে বললেন: আমি কি তোমাদের উভয়কে এই বৃক্ষটি থেকে নিষেধ করিনি?) - (এবং যেদিন তিনি তাদের ডাকবেন আর বলবেন: তোমরা রাসূলগণকে কী জবাব দিয়েছিলে?) - (আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়) -
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১০)
(وقد كان فريق منهم يسمعون كلام الله ثم يحرفونه من بعد ما عقلوه وهم يعلمون) - (يريدون أن يبدلوا كلام الله قل لن تتبعونا كذلكم قال الله من قبل) - (واتل ما أوحي إليك من كتاب ربك لا مبدل لكلماته) - (إن هذا القرآن يقص على بني إسرائيل أكثر الذي هم فيه يختلفون) - (وهذا كتاب أنزلناه مبارك) - (لو أنزلنا هذا القرآن على جبل لرأيته خاشعاً متصدعاً من خشية الله) - (وإذا بدلنا آية مكان آية والله أعلم بما ينزل قالوا إنما أنت مفتر بل أكثرهم لا يعلمون) - (قل نزله روح القدس من ربك بالحق ليثبت الذين آمنوا وهدى وبشرى للمسلمين، ولقد نعلم أنهم يقولون إنما يعلمه بشر، لسان الذي يلحدون إليه أعجمي وهذا لسان عربي مبين) وقوله: (وجوه يومئذ ناضرة إلى ربها ناظرة) - (على الأرائك ينظرون) - (للذين أحسنوا الحسنى وزيادة) (1)
- (لهم ما يشاءون فيها ولدينا مزيد) وهذا الباب في كتاب الله كثير، من تدبر القرآن طالباً للهدى منه تبين له طريق الحق.
--------------------------------------------
(আর তাদের একটি দল আল্লাহর বাণী শুনত, অতঃপর তা অনুধাবন করার পর জেনে-শুনে তা বিকৃত করত) - (তারা আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে চায়। আপনি বলুন: তোমরা কখনো আমাদের অনুসরণ করবে না; আল্লাহ আগেই এমনটি বলেছেন) - (এবং আপনার নিকট আপনার প্রতিপালকের কিতাব থেকে যা ওহী করা হয়েছে তা পাঠ করুন; তাঁর বাণীসমূহ পরিবর্তন করার কেউ নেই) - (নিশ্চয়ই এই কুরআন বনী ইসরাঈলের নিকট অধিকাংশ বিষয় বর্ণনা করে যেগুলোতে তারা মতভেদ করে) - (আর এটি একটি কিতাব যা আমরা অবতীর্ণ করেছি, বরকতময়) - (যদি আমরা এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে আপনি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতেন) - (এবং যখন আমরা এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত পরিবর্তন করি—আর আল্লাহ যা নাযিল করেন সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক জ্ঞাত—তখন তারা বলে: আপনি তো কেবল একজন মিথ্যা রচনাকারী। বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না) - (বলুন, একে পবিত্র আত্মা (জিবরাঈল) আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মুমিনদের সুদৃঢ় করেন এবং এটি মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ; এবং আমরা অবশ্যই জানি যে তারা বলে: তাকে তো কেবল একজন মানুষ শিক্ষা দেয়। তারা যার দিকে ইঙ্গিত করছে তার ভাষা তো অনারব, অথচ এটি স্পষ্ট আরবি ভাষা) এবং তাঁর বাণী: (সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে) - (তারা সুসজ্জিত আসনে বসে তাকিয়ে থাকবে) - (যারা কল্যাণকর কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং আরও অতিরিক্ত) (১)
- (সেখানে তারা যা চাইবে তাদের জন্য তা-ই থাকবে এবং আমাদের নিকট রয়েছে আরও অতিরিক্ত) আর আল্লাহর কিতাবে এই বিষয়টি অনেক রয়েছে। যে ব্যক্তি হেদায়েত লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার কাছে সত্যের পথ স্পষ্ট হয়ে যাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১১)
الإيمان بما وصف الرسول صلى الله عليه وسلم به ربهثم في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم
فالسنة تفسر القرآن وتبينه وتدل عليه وتعبر عنه (1) وما وصف الرسول به ربه عز وجل من الأحاديث الصحاح التي تلقاها أهل المعرفة بالقبول وجب الإيمان بها (2).
فمن ذلك مثل قوله صلى الله عليه وسلم: (ينزل ربنا إلى السماء الدنيا كل ليلة حين يبقى ثلث الليل الآخر فيقول: من يدعوني فأستجب له؟ من يسألني فأعطيه؟ من يستغفرني فأغفر له؟) متفق عليه. وقوله صلى الله عليه وسلم: (لله أشد فرحاً بتوبة عبده من أحدكم براحلته) الحديث متفق عليه. وقوله صلى الله عليه وسلم: (يضحك الله إلى رجلين يقتل أحدهما الآخر كلاهما يدخلان الجنة) متفق عليه. وقوله (3):
(عجب ربنا من قنوط عباده وقرب غيره (4)، ينظر إليكم أزلين (5) قنطين فيظل يضحك يعلم أن فرَجكم قريب)
--------------------------------------------
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবকে যে সকল গুণাবলিতে বিশেষায়িত করেছেন সেগুলোর ওপর ঈমান আনয়নএরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর বর্ণনায়
সুন্নাহ কুরআনকে ব্যাখ্যা করে, একে সুস্পষ্ট করে, এর ওপর পথনির্দেশ করে এবং এর ভাব প্রকাশ করে (১)। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মহান রবকে যে সকল সহীহ হাদীসের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন—যা বিজ্ঞজনেরা (আহলে ইলম) সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছেন—সেগুলোর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব (২)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী: (আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে যে আমি তাকে ক্ষমা করব?) এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: (নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ তার হারানো সওয়ারি খুঁজে পেলে যতটা খুশি হয়, আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তার চেয়েও বেশি খুশি হন।) এই হাদীসটিও বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: (আল্লাহ এমন দুইজন লোকের প্রতি হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করে, অথচ তারা উভয়ই জান্নাতে প্রবেশ করে।) এটিও বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর বাণী (৩):
(আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশা এবং তাঁর পরিবর্তনের নৈকট্য দেখে বিস্মিত হন। তিনি তোমাদের চরম দুর্দশাগ্রস্ত ও নিরাশ অবস্থায় দেখেন এবং হাসতে থাকেন; কারণ তিনি জানেন যে তোমাদের মুক্তি অতি নিকটে।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১২)
حديث حسن. وقوله صلى الله عليه وسلم: (لا تزال جهنم يلقى فيها وهي تقول: هل من مزيد؟ حتى يضع رب العزة فيها رجله - وفي رواية عليها قدمه فينزوي بعضها إلى بعض فتقول قط قط) متفق عليه. وقوله: (يقول تعالى: يا آدم. فيقول: لبيك وسعديك. فينادي بصوت: إن الله يأمرك أن تخرج من ذريتك بعثا إلى النار) متفق عليه. وقوله: (ما منكم من أحد إلا سيكلمه ربه وليس بينه وبينه ترجمان). وقوله في رقية المريض: (ربنا الله الذي في السماء تقدس اسمك، أمرك في السماء والأرض كما رحمتك في السماء اجعل رحمتك في الأرض اغفر لنا حوبنا وخطايانا أنت رب الطيبين، أنزل رحمة من رحمتك وشفاء من شفائك على هذا الوجع فيبرأ) حديث حسن رواه أبو داود وغيره. وقوله: (ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء) حديث صحيح. وقوله: (والعرش فوق الماء والله فوق العرش، وهو يعلم ما أنتم عليه) حديث حسن رواة أبو داود وغيره. وقوله للجارية: (أين الله (1)؟)
قالت: (في السماء) قال: (من أنا؟) قالت: (أنت رسول الله) قال: (أعتقها فإنها مؤمنة) رواة مسلم. (أفضل الإيمان أن تعلم أن الله معك حيث ما كنت) حديث حسن. وقوله: (إذا قام أحدكم إلى الصلاة فلا يبصقن قبل وجهه ولا عن يمينه فإن الله قبل وجهه. ولكن عن يساره أو تحت قدمه) (2) متفق عليه. وقوله صلى الله
--------------------------------------------
হাসান হাদিস। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: (জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে এবং সে বলতে থাকবে: আরো কি আছে? যতক্ষণ না ইজ্জতের প্রতিপালক তাতে তাঁর পা রাখেন - অন্য বর্ণনায় আছে তাঁর পা তার ওপর রাখেন, ফলে এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে যাবে এবং সে বলবে: যথেষ্ট, যথেষ্ট) মুত্তাফাকুন আলাইহি। এবং তাঁর বাণী: (আল্লাহ তাআলা বলবেন: হে আদম। তখন তিনি বলবেন: আমি আপনার দরবারে উপস্থিত ও আপনার অনুগত। তখন তিনি উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলবেন: নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন আপনার বংশধর থেকে একদলকে জাহান্নামের জন্য বের করতে) মুত্তাফাকুন আলাইহি। এবং তাঁর বাণী: (তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার প্রতিপালক কথা বলবেন না এমন অবস্থায় যে তার ও তাঁর মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না)। এবং অসুস্থ ব্যক্তির রুকইয়াহর বিষয়ে তাঁর বাণী: (আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আসমানে রয়েছেন, আপনার নাম পবিত্র, আসমান ও জমিনে আপনার নির্দেশ কার্যকর, আসমানে আপনার যেমন রহমত রয়েছে জমিনেও আপনার রহমত বর্ষণ করুন, আমাদের গুনাহ ও ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করুন, আপনি পবিত্রদের প্রতিপালক, আপনার রহমত থেকে রহমত এবং আপনার শেফা থেকে শেফা এই ব্যথার ওপর অবতীর্ণ করুন যাতে তা সুস্থ হয়ে যায়) হাসান হাদিস, এটি আবু দাউদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর বাণী: (তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না, অথচ আমি তাঁর আমানতদার যিনি আসমানে রয়েছেন?) সহিহ হাদিস। এবং তাঁর বাণী: (আর আরশ পানির ওপরে এবং আল্লাহ আরশের ওপরে, আর তোমরা যে অবস্থায় আছ তিনি তা জানেন) হাসান হাদিস, এটি আবু দাউদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। এবং দাসীর প্রতি তাঁর বাণী: (আল্লাহ কোথায়? (১))
সে বলল: (আসমানে)। তিনি বললেন: (আমি কে?) সে বলল: (আপনি আল্লাহর রাসুল)। তিনি বললেন: (তাকে মুক্ত করে দাও, কেননা সে মুমিন) মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (ঈমানের সর্বোত্তম স্তর হলো এটি জানা যে, তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহ তোমার সাথে আছেন) হাসান হাদিস। এবং তাঁর বাণী: (যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়াবে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে অথবা ডান দিকে থুথু না ফেলে, কারণ আল্লাহ তার সামনের দিকে থাকেন। বরং তার বাম দিকে অথবা পায়ের নিচে ফেলবে) (২) মুত্তাফাকুন আলাইহি। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عليه وسلم: (اللهم رب السماوات السبع والأرض ورب العرش العظيم ربنا ورب كل شيء خالق الحب والنوى منزل التوراة والإنجيل والقرآن أعوذ بك من شر نفسي ومن شر كل دابة أنت آخذ بناصيتها أنت الأول فليس قبلك شيء وأنت الآخر فليس بعدك شيء وأنت الظاهر فليس فوقك شيء وأنت الباطن فليس دونك شيء اقض عني الدين وأغنني من الفقر) رواة مسلم. وقوله لما رفع الصحابة أصواتهم بالذكر: (أيها الناس أربعوا على أنفسكم فإنكم لا تدعون أصم ولا غائبا إنما تدعون سميعاً بصيراً قريباً إن الذي تدعونه أقرب إلى أحدكم من عنق راحلته) متفق عليه. وقوله: (إنكم سترون ربكم كما ترون القمر ليلة البدر لا تضامون في رؤيته فإن استطعتم أن لا تغلبوا على صلاة قبل طلوع الشمس وصلاة قبل غروبها فافعلوا) متفق عليه. إلى أمثال هذه الأحاديث التي يخبر فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ربه بما يخبر به فإن الفرقة الناجية أهل السنة والجماعة يؤمنون بذلك (1)
كما يؤمنون بما أخبر الله به في كتابه، من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل، بل هم الوسط في فرقة الأمة كما أن الأمة هي الوسط في الأمم فهم وسط في باب صفات الله سبحانه وتعالى: بين أهل التعطيل الجهمية وأهل التمثيل المشبهة (2):
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: (হে আল্লাহ, সাত আসমান ও যমীনের রব এবং মহান আরশের রব, আমাদের রব এবং প্রতিটি বস্তুর রব, শস্যদানা ও আঁটি বিদীর্ণকারী, তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী; আমি আপনার কাছে আমার নফসের অনিষ্টতা থেকে এবং আপনি যার কপালের চুল ধরে আছেন এমন প্রতিটি বিচরণশীল প্রাণীর অনিষ্টতা থেকে পানাহ চাই। আপনিই প্রথম, আপনার আগে কিছুই নেই; আপনিই শেষ, আপনার পরে কিছুই নেই; আপনিই প্রকাশ্য, আপনার উপরে কিছুই নেই; আর আপনিই গোপন, আপনার নিচে কিছুই নেই। আমার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অভাবমুক্ত করুন।) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এবং সাহাবীগণ যখন যিকিরের সময় তাদের আওয়াজ উচ্চ করেছিলেন তখন তাঁর বাণী: (হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও, কেননা তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। তোমরা তো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও অতি নিকটবর্তী সত্তাকে ডাকছ। তোমরা যাকে ডাকছ তিনি তোমাদের কারো কাছে তার বাহনের ঘাড়ের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী।) এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। এবং তাঁর বাণী: (তোমরা তোমাদের রবকে অচিরেই দেখতে পাবে যেমন তোমরা পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে দেখতে পাও; তাঁকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কোনো ভিড়ের বা কষ্টের শিকার হবে না। অতএব তোমরা যদি সূর্যোদয়ের আগের সালাত এবং সূর্যাস্তের আগের সালাত আদায় করতে সক্ষম হও, তবে তা করো।) এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। এ জাতীয় আরও অনেক হাদীস যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব সম্পর্কে যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন, নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত তাতে ঈমান রাখে। (১)
যেমন তারা আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে ঈমান রাখে—কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ) ও অস্বীকার (তাতিল) ছাড়া এবং কোনো প্রকার স্বরূপ নির্ধারণ (তাকিয়িফ) ও সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়া। বরং উম্মতের বিভিন্ন দলের মধ্যে তারা হলো মধ্যপন্থী, যেমন উম্মতে মুহাম্মদী অন্যান্য উম্মতের মাঝে মধ্যপন্থী। তাই তারা আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে মধ্যপন্থী: গুণাবলি অস্বীকারকারী জাহমিয়াহ এবং সাদৃশ্য প্রদানকারী মুশাব্বিহাহদের মাঝে। (২):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وهم وسط (1)
في باب أفعال الله بين الجبرية والقدرية وغيرهم، وفي باب (2)
--------------------------------------------
তারা আল্লাহর কার্যাবলীর ক্ষেত্রে জাবরিয়া এবং কাদরিয়া ও অন্যদের মাঝে মধ্যমপন্থী। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وعيد الله بين المرجئة والوعيدية من القدرية وغيرهم وفي باب (1)
أسماء الإيمان
--------------------------------------------
আল্লাহর শাস্তির হুমকির বিষয়ে মুরজিয়া এবং কাদারিয়া ও অন্যদের মধ্য থেকে যারা শাস্তির প্রবক্তা (ওয়াইদিয়্যাহ) তাদের মাঝে এবং (১)
ঈমানের নামসমূহের অধ্যায়ে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والدين بين الحرورية والمعتزلة وبين المرجئة والجهمية وفي أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الرافضة والخوارج (1).
--------------------------------------------
আর এই দ্বীন হলো হারুরিয়াহ ও মুতাজিলাদের মাঝামাঝি এবং মুরজিআ ও জাহমিয়াহদের মাঝামাঝি; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ক্ষেত্রে তা রাফেযী ও খারেজীদের মাঝামাঝি (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الإيمان بأنه فوق عرشهوقد دخل فيما ذكرناه من الإيمان بالله الإيمان بما أخبر به في كتابه وتواتر عن رسوله وأجمع عليه سلف الأمة من أنه سبحانه فوق سماواته على عرشه على خلقه وهو سبحانه معهم أينما كانوا يعلم ما هم عاملون، كما جمع بين ذلك في قوله: (هو الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش يعلم ما يلج في الأرض وما يخرج منها وما ينزل من السماء وما يعرج فيها وهو معكم أينما كنتم والله بما تعملون بصير). وليس معنى قوله وهو معكم أنه مختلط بالخلق، فإن هذا لا توجبه اللغة، وهو خلاف ما أجمع عليه سلف الأمة، وخلاف ما فطر الله عليه الخلق بل القمر آية من آيات الله من أصغر مخلوقاته وهو موضوع في السماء، وهو مع المسافر وغير المسافر أينما كان، وهو سبحانه فوق عرشه رقيب على خلقه مهيمن عليهم مطلع عليهم، إلى غير ذلك من معاني ربوبيته. وكل هذا الكلام الذي ذكره الله - من أنه فوق العرش وأنه معنا - حق على حقيقته لا يحتاج إلى تحريف.
ولكن يصان عن الظنون الكاذبة مثل أن يظن أن ظاهر قوله (في السماء) أن السماء تقله أو تظله وهذا باطل بإجماع أهل العلم والإيمان فإن الله قد وسع كرسيه السماوات والأرض وهو الذي يمسك السماوات والأرض أن تزولا، ويمسك السماء أن تقع على الأرض إلا بإذنه. ومن آياته أن تقوم السماء والأرض بأمره.
الإيمان بأنه قريب مجيبوقد دخل في ذلك الإيمان بأنه قريب مجيب كما جمع بين ذلك في قوله: (وإذا سألك عبادي عني فإني قريب) الآية. وقوله صلى الله عليه وسلم: (إن الذي تدعونه أقرب إلى أحدكم من عنق راحلته) وما ذكر في الكتاب
তিনি তাঁর আরশের উপরে রয়েছেন—এই বিশ্বাসআল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের যে আলোচনা আমরা ইতিপূর্বে করেছি, তার অন্তর্ভুক্ত হলো—তিনি তাঁর কিতাবে যা সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর রাসূল থেকে যা মুতাওয়াতির বর্ণনায় এসেছে এবং উম্মতের সালাফ (পূর্বসূরিগণ) যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তার ওপর ঈমান আনা। আর তা হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর আসমানসমূহের উপরে, তাঁর আরশের উপরে এবং তাঁর সৃষ্টির ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। তা সত্ত্বেও তিনি তাদের সাথেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন; তারা যা আমল করে তিনি তা জানেন। যেমন তিনি এই উভয় বিষয়কে তাঁর এই বাণীতে একত্রিত করেছেন: (তিনিই সেই সত্তা যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা)। তাঁর বাণী "তিনি তোমাদের সাথে আছেন"—এর অর্থ এই নয় যে, তিনি সৃষ্টির সাথে সংমিশ্রিত হয়ে আছেন। কেননা ভাষা এটি দাবি করে না, আর এটি উম্মতের সালাফদের ঐকমত্যের পরিপন্থী এবং আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে যে স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন তারও বিপরীত। বরং চাঁদ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন এবং তাঁর ক্ষুদ্রতম সৃষ্টিসমূহের অন্যতম, যা আসমানে অবস্থিত; অথচ সেটি পথচারী বা ঘরে অবস্থানকারী—সবার সাথেই থাকে সে যেখানেই থাকুক না কেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর আরশের উপরে থেকেও তাঁর সৃষ্টির প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন, তাদের ওপর কর্তৃত্বশীল এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত; এছাড়াও তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের অন্যান্য অর্থ তো রয়েছেই। আল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন—যে তিনি আরশের উপরে এবং তিনি আমাদের সাথে আছেন—এই সকল কথা এর প্রকৃত অর্থেই সত্য, যা কোনো প্রকার বিকৃতির মুখাপেক্ষী নয়।
তবে একে ভ্রান্ত ধারণা থেকে রক্ষা করতে হবে। যেমন কেউ যেন ধারণা না করে যে, "আসমানে আছেন" বাণীর প্রকাশ্য অর্থ হলো আসমান তাঁকে বহন করে আছে কিংবা তাঁকে ছায়া দিচ্ছে। ইলম ও ঈমানওয়ালাদের ঐকমত্যে এটি একটি বাতিল ধারণা। কেননা আল্লাহর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। তিনিই আসমান ও জমিনকে স্থির রাখেন যেন তারা বিচ্যুত না হয়, এবং তিনি আসমানকে ধরে রাখেন যেন তাঁর অনুমতি ব্যতীত তা জমিনের ওপর না পড়ে। তাঁর অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁরই আদেশে আসমান ও জমিন দণ্ডায়মান থাকা।
তিনি নিকটবর্তী ও সাড়াদানকারী—এই বিশ্বাসএর অন্তর্ভুক্ত হলো এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তিনি অত্যন্ত নিকটবর্তী এবং আহ্বানকারীর ডাকে সাড়াদানকারী। যেমন তিনি এই উভয় বিষয়কে তাঁর এই বাণীতে একত্রিত করেছেন: (আর যখন আমার বান্দারা আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন আমি নিশ্চয়ই নিকটবর্তী...) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (নিশ্চয়ই তোমরা যাকে ডাকছো, তিনি তোমাদের কারো কাছে তার সওয়ারির ঘাড়ের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী) এবং কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والسنة من قربه ومعيته لا ينافي ما ذكر من علوه وفوقيته فإنه سبحانه ليس كمثله شيء في جميع نعوته وهو عليُّ في دنوه قريبٌ في علوه.
الإيمان بأن القرآن كلام الله منزل غير مخلوقومن الإيمان بالله وكتبه: الإيمان بأن القرآن كلام الله منزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، وأن الله تكلم به حقيقة، وأن هذا القرآن الذي أنزله على محمد صلى الله عليه وسلم هو كلام الله حقيقة لا كلام غيره، ولا يجوز إطلاق القول بأنه حكاية (1) عن كلام الله أو عبارة (2) بل إذا قرأه الناس أو كتبوه في المصاحف لم يخرج بذلك عن أن يكون كلام الله تعالى حقيقة (3) فإن الكلام إنما يضاف حقيقة إلى من قاله مبتدئاً لا إلى من قاله مبلغاً مؤدياً، وهو كلام الله حروفه ومعانيه ليس كلام الله الحروف دون المعاني (4) ولا المعاني دون الحروف (5).
الإيمان برؤية المؤمنين لربهموقد دخل أيضاً فيما ذكرناه من الإيمان به وبكتبه وبملائكته وبرسله الإيمان بأن المؤمنين يرونه يوم القيامة عياناً بأبصارهم كما يرون الشمس صحواً ليس بها سحاب وكما يرون القمر ليلة البدر لا يضامون (6)
في رؤيته يرونه سبحانه
--------------------------------------------
আর সুন্নাহ অনুযায়ী আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁর সাথী হওয়া তাঁর সুউচ্চতা ও উপরে থাকার পরিপন্থী নয়। কারণ তিনি সুবহানাহু তাঁর সকল গুণাবলিতে অতুলনীয়, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই। তিনি তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার অবস্থায় সুউচ্চ এবং সুউচ্চ হওয়ার অবস্থায় নিকটবর্তী।
কুরআন আল্লাহর বাণী, যা অবতীর্ণ এবং সৃষ্ট নয়—এ বিষয়ে ঈমানআল্লাহ ও তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, কুরআন আল্লাহর বাণী, যা অবতীর্ণ এবং সৃষ্ট নয়। তাঁর নিকট থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর নিকটেই এটি ফিরে যাবে। আল্লাহ প্রকৃতপক্ষে এটি দিয়ে কথা বলেছেন। আর এই কুরআন যা তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন, তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই বাণী, অন্য কারও বাণী নয়। কুরআন আল্লাহর বাণীর কাহিনী (হিকায়াত) (১) বা বর্ণনা (ইবারাত) (২) বলে সাধারণ মন্তব্য করা জায়েয নয়। বরং মানুষ যখন এটি পাঠ করে বা মুসহাফসমূহে (কুরআনের কপিতে) লেখে, তখন এর দ্বারা এটি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বাণী হওয়া থেকে বের হয়ে যায় না (৩)। কারণ, কথা প্রকৃতপক্ষে তারই দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যিনি এটি প্রথম বলেছেন, তার দিকে নয় যে এটি পৌঁছে দিয়েছেন বা আদায় করেছেন। এটি আল্লাহর বাণী—এর শব্দ এবং অর্থ উভয়ই; আল্লাহর বাণী শুধু শব্দ নয় (অর্থ ছাড়া) (৪) কিংবা শুধু অর্থ নয় (শব্দ ছাড়া) (৫)।
মুমিনগণ তাঁদের রবকে প্রত্যক্ষ করবেন—এ বিষয়ে ঈমানআল্লাহ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনার যে বর্ণনা আমরা দিয়েছি, তার অন্তর্ভুক্ত হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, মুমিনগণ কিয়ামতের দিন তাঁদের রবকে চাক্ষুষভাবে স্বচক্ষে দেখতে পাবেন, যেমন তারা মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশে সূর্যকে দেখে এবং যেমন তারা পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে দেখে—তাঁকে দেখার ব্যাপারে তারা কোনো ভিড়ের চাপের বা অবিচারের সম্মুখীন হবে না (৬)।
তাঁকে দেখার ব্যাপারে তারা তাঁকে সুবহানাহুকে দেখতে পাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهم في عرصات (1) القيامة ثم يرونه بعد دخول الجنة كما يشاء الله تعالى.
الإيمان بما بعد الموتومن الإيمان باليوم الآخر الإيمان بكل ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم مما يكون بعد الموت. فيؤمن بفتنة القبر، وبعذاب القبر ونعيمه. فأما الفتنة فإن الناس يمتحنون في قبورهم فيقال للرجل: ما ربك وما دينك ومن نبيك؟ فيثبت الله الذين آمنوا بالقول الثابت في الحياة الدنيا وفي الآخرة، فيقول المؤمن: ربي الله والإسلام ديني ومحمد صلى الله عليه وسلم نبيي. وأما المرتاب فيقول: هاه هاه لا أدري سمعت الناس يقولون شيئاً فقلته: فيضرب بمرزبة (2) من حديد فيصيح صيحة سمعها كل شيء إلا الإنسان ولو سمعها الإنسان لصعق - ثم بعد هذه الفتنة - إما نعيم وإما عذاب إلى أن تقوم القيامة الكبرى فتعاد الأرواح إلى الأجساد، وتقوم القيامة التي أخبر الله بها في كتابه وعلى لسان رسوله وأجمع عليها المسلمون، فيقوم الناس من قبورهم لرب العالمين حفاة عراة غرلا (3) وتدنو منهم الشمس ويلجمهم العرق، فتنصب الموازين فتوزن بها أعمال العباد (فمن ثقلت موازينه فأولئك هم المفلحون، ومن خفت موازينه فأولئك الذين خسروا أنفسهم في جهنم خالدون) وتنشر الدواوين - وهي صحائف الأعمال - فآخذ كتابه بيمينه وآخذ كتابه بشماله أو من وراء
--------------------------------------------
তারা কিয়ামতের ময়দানসমূহে (১) থাকবে, অতঃপর জান্নাতে প্রবেশের পর তারা তাঁকে দেখবে যেমনটি মহান আল্লাহ চান।
মৃত্যুর পরবর্তী বিষয়ের ওপর ঈমানআর পরকালের ওপর ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত হলো মৃত্যুর পর যা ঘটবে সে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছেন তার সবকিছুর ওপর ঈমান আনা। সুতরাং সে কবরের ফিতনা (পরীক্ষা) এবং কবরের আযাব ও নিয়ামতের ওপর ঈমান আনবে। আর ফিতনার বিষয়টি হলো, নিশ্চয়ই মানুষকে তাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে। অতঃপর ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে? অতঃপর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে অবিচল রাখবেন। তখন মুমিন বলবে: আমার রব আল্লাহ, ইসলাম আমার দ্বীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নবী। আর সংশয়বাদী ব্যক্তি বলবে: হায়! হায়! আমি জানি না, আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছিলাম তাই আমিও তা-ই বলেছি। অতঃপর তাকে লোহার হাতুড়ি (২) দিয়ে আঘাত করা হবে, ফলে সে এমনভাবে চিৎকার করবে যা মানুষ ব্যতীত প্রতিটি সৃষ্টি শুনতে পাবে; আর মানুষ যদি তা শুনতে পেত তবে সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ত। অতঃপর এই ফিতনার পর—হয় নিয়ামত অথবা আযাব চলতে থাকবে মহাপ্রলয় বা বড় কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত। তখন রূহসমূহকে শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে যার সংবাদ আল্লাহ তাঁর কিতাবে ও তাঁর রাসূলের মুখে দিয়েছেন এবং যার ওপর মুসলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। অতঃপর মানুষ তাদের কবর থেকে বিশ্বজগতের রবের উদ্দেশ্যে খালি পায়ে, নগ্ন দেহে ও খত্নাবিহীন (৩) অবস্থায় দাঁড়াবে। সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে এবং ঘাম তাদের লাগামবদ্ধ করে ফেলবে। তখন মিযানসমূহ (পাল্লা) স্থাপন করা হবে যার দ্বারা বান্দাদের আমলসমূহ ওজন করা হবে (অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম, আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে)। আর দপ্তরসমূহ—যা আমলনামা—তা উন্মুক্ত করা হবে। অতঃপর কেউ তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করবে এবং কেউ তার আমলনামা বাম হাতে অথবা পিঠের পেছন দিক থেকে গ্রহণ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২০)
ظهره كما قال سبحانه وتعالى: (وكل إنسان ألزمناه طائره في عنقه (1) ونخرج له يوم القيامة كتاباً يلقاه منشوراً، اقرأ كتابك كفى بنفسك اليوم عليك حسيبا) ويحاسب الله الخلائق ويخلو بعبده المؤمن فيقرره بذنوبه كما وصف ذلك في الكتاب والسنة، وأما الكفار فلا يحاسبون محاسبة من توزن حسناته وسيئاته فإنه لا حسنات لهم ولكن تعد أعمالهم فتحصى فيوقفون عليها وُيقَرَّون بها. وفي عرصات القيامة الحوض المورود للنبي صلى الله عليه وسلم ماؤه أشد بياضاً من اللبن وأحلى من العسل، آنيته عدد نجوم السماء، وطوله شهر وعرضه شهر من يشرب منه شربة لا يضمأ بعدها أبدا.
والصراط منصوب على متن جهنم وهو الجسر الذي بين الجنة والنار يمر الناس على قدر أعمالهم، فمنهم من يمر كلمح البصر ومنهم من يمر كالبرق ومنهم من يمر كالريح ومنهم من يمر كالفرس الجواد ومنهم من يمر كركاب الإبل ومنهم من يَعْدو عدْواً ومنهم من يمشي مشياً ومنهم من يزحف زحفاً ومنهم من يخطف خطفاً ويلقى في جهنم. فإن الجسر عليه كلاليب تخطف الناس بأعمالهم، فمن مر على الصراط دخل الجنة، فإذا عبروا عليه وقفوا على قنطرة بين الجنة والنار فيقتص لبعضهم من بعض، فإذا هُذِّبوا ونقوا أذن لهم في دخول الجنة.
وأول من يستفتح باب الجنة محمد صلى الله عليه وسلم، وأول من يدخل الجنة من الأمم أمته وله صلى الله عليه وسلم في القيامة ثلاث شفاعات: أما الشفاعة الأولى فيشفع في أهل الموقف حتى يقضى بينهم بعد أن يتراجع الأنبياء: آدم ونوح وإبراهيم وموسى وعيسى بن مريم من الشفاعة حتى تنتهي إليه. وأما الشفاعة الثانية فيشفع في أهل الجنة أن يدخلوا الجنة، وهاتان الشفاعتان خاصتان له، وأما الشفاعة الثالثة فيشفع فيمن استحق النار، وهذه
--------------------------------------------
...পিঠের পিছন থেকে, যেমনটি মহান ও পবিত্র আল্লাহ বলেছেন: (আর আমি প্রত্যেক মানুষের আমলনামাকে তার গলায় লগ্ন করে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য একটি কিতাব বের করব যা সে উন্মুক্ত অবস্থায় পাবে। তুমি তোমার কিতাব পাঠ করো, আজ তোমার নিজের হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট)। আল্লাহ সকল সৃষ্টিজীবের হিসাব গ্রহণ করবেন এবং তিনি তাঁর মুমিন বান্দার সাথে একান্তে মিলিত হবেন এবং তাকে তার পাপসমূহের স্বীকারোক্তি করাবেন, যেমনটি কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে। আর কাফেরদের হিসাব সেভাবে হবে না যেভাবে তাদের হিসাব নেওয়া হয় যাদের নেকি ও বদি ওজন করা হয়; কেননা তাদের কোনো নেকি নেই, তবে তাদের আমলগুলো গণনা ও সংরক্ষণ করা হবে, অতঃপর তাদের তা অবগত করানো হবে এবং তাদের দ্বারা তা স্বীকার করানো হবে। আর কিয়ামতের ময়দানসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি আগত হাউজ থাকবে যার পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি, এর পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায়, এর দৈর্ঘ্য এক মাসের পথ এবং প্রস্থ এক মাসের পথ; যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না।
আর জাহান্নামের পিঠের ওপর সিরাত স্থাপন করা হবে, এটি জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি সেতু। মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী তা অতিক্রম করবে। তাদের মধ্যে কেউ চোখের পলকে পার হবে, কেউ বিদ্যুতের ন্যায়, কেউ বাতাসের ন্যায়, কেউ তেজস্বী ঘোড়ার ন্যায়, কেউ উটের আরোহীর ন্যায়, কেউ দৌড়ে, কেউ হেঁটে এবং কেউ হামাগুড়ি দিয়ে পার হবে; আর কাউকে ছিনিয়ে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। কারণ সেই সেতুর ওপর অনেক আঁকশ থাকবে যা মানুষের আমল অনুযায়ী তাদের ছিনিয়ে নেবে। অতঃপর যারা সিরাত পার হবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। যখন তারা তা পার হয়ে যাবে, তখন তারা জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি ছোট পুলে (কানত্বারাহ) অবস্থান করবে এবং সেখানে একে অপরের থেকে পাওনা বা হক আদায় করা হবে। যখন তারা পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হবে, তখন তাদের জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
আর সর্বপ্রথম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের দরজা খোলার আবেদন করবেন এবং জাতিসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিয়ামতের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তিনটি সুপারিশ থাকবে: প্রথম সুপারিশ হলো, তিনি কিয়ামতের ময়দানে অবস্থানকারীদের জন্য সুপারিশ করবেন যাতে তাদের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়, যখন আদম, নূহ, ইবরাহীম, মুসা এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমুস সালাম) সুপারিশ করতে অপারগতা প্রকাশ করবেন এবং শেষ পর্যন্ত তা তাঁর নিকট এসে পৌঁছাবে। দ্বিতীয় সুপারিশ হলো, তিনি জান্নাতবাসীদের জন্য সুপারিশ করবেন যাতে তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে; এই দুটি সুপারিশ কেবল তাঁর জন্যই নির্ধারিত। আর তৃতীয় সুপারিশ হলো, তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করবেন যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২১)
الشفاعة له ولسائر النبيين والصديقين وغيرهم فيشفع فيمن استحق النار أن لا يدخلها ويشفع فيمن دخلها أن يخرج منها، ويخرج الله من النار أقواماً بغير شفاعة بل بفضله ورحمته ويبقى في الجنة فضل عمن دخلها من أهل الدنيا فينشيء الله لها أقواماً فيدخلهم الجنة. وأصناف ما تضمنته الدار الآخرة من الحساب والثواب والعقاب والجنة والنار وتفاصيل ذلك مذكورة في الكتب المنزلة من السماء والآثار من العلم المأثور عن الأنبياء. وفي العلم الموروث عن محمد صلى الله عليه وسلم من ذاك ما يشفي ويكفي فمن ابتغاه وجده.
الإيمان بالقدر خيره وشرهوتؤمن الفرقة الناجية - أهل السنة والجماعة - بالقدر خيره وشره والإيمان بالقدر على درجتين كل درجة تتضمن شيئين:
(فالدرجة الأولى) الإيمان بأنّ الله تعالى عليم بما الخلق عاملون بعلمه القديم الذي هو موصوف به أزلا وأبدا، وعلم جميع أحوالهم من الطاعات والمعاصي والأرزاق والآجال ثم كتب الله في اللوح المحفوظ مقادير الخلق فأول ما خلق الله القلم (1)
قال له: اكتب. قال: ما أكتب؟ قال: اكتب ما هو كائن إلى يوم القيامة. فما أصاب الإنسان لم يكن ليخطئه، وما أخطأه لم يكن ليصيبه جفت الأقلام وطويت الصحف كما قال تعالى: (ألم تعلم أن الله يعلم ما في السماء والأرض إن ذلك في كتاب، إن ذلك على الله يسير)، وقال: (ما أصاب من مصيبة في الأرض ولا في أنفسكم إلا في كتاب من قبل
--------------------------------------------
তাঁর জন্য এবং অন্যান্য সকল নবী, সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং অন্যদের জন্য শাফায়াত সাব্যস্ত। সুতরাং তিনি এমন ব্যক্তির জন্য শাফায়াত করবেন যার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে যেন সে তাতে প্রবেশ না করে, এবং এমন ব্যক্তির জন্য শাফায়াত করবেন যে তাতে প্রবেশ করেছে যেন সে তা থেকে বের হতে পারে। আর আল্লাহ তাআলা কোনো শাফায়াত ছাড়াই কেবল তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় জাহান্নাম থেকে অনেক সম্প্রদায়কে বের করবেন। দুনিয়াবাসীদের মধ্য থেকে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের প্রবেশের পর জান্নাতে আরও অতিরিক্ত স্থান অবশিষ্ট থাকবে, তখন আল্লাহ তাআলা জান্নাতের জন্য নতুন কিছু সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। পরকালীন আবাসের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয় যেমন হিসাব-নিকাশ, প্রতিদান ও শাস্তি এবং জান্নাত ও জাহান্নাম—এসবের বিস্তারিত বিবরণ আসমান থেকে অবতীর্ণ কিতাবসমূহে এবং নবীগণের থেকে বর্ণিত ইলমের ঐতিহ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইলমের মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যা যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত; সুতরাং যে ব্যক্তি তা অন্বেষণ করবে সে তা পেয়ে যাবে।
তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমানমুক্তিপ্রাপ্ত দল—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত—তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান রাখে। তাকদীরের প্রতি ঈমান আনা দুটি স্তরে বিভক্ত, প্রতিটি স্তর আবার দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
(প্রথম স্তর) এই বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সেই অনাদি জ্ঞান দ্বারা মাখলুকাত কী আমল করবে সে সম্পর্কে অবগত, যে গুণে তিনি অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত গুণান্বিত। তিনি তাদের আনুগত্য, পাপাচার, রিজিক এবং আয়ুসহ সকল অবস্থা সম্পর্কে অবগত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজে মাখলুকাতের তাকদীরসমূহ লিখে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম (১)
তিনি তাকে বললেন: লেখো। সে বলল: আমি কী লিখব? তিনি বললেন: কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লেখো। সুতরাং মানুষের যা কিছু জুটেছে তা তাকে ভুল করে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে এড়িয়ে গেছে তা তার ভাগ্যে জোটার ছিল না। কলমসমূহ শুকিয়ে গেছে এবং দপ্তরসমূহ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তুমি কি জানো না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয়ই তা একটি কিতাবে সংরক্ষিত; নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ), এবং তিনি বলেছেন: (পৃথিবীতে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপদই আসে তা একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, তা সৃষ্টির পূর্বেই...)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২২)
أن نبرأها، إن ذلك على الله يسير) وهذا التقدير - التابع لعلمه سبحانه - يكون في مواضع جملة وتفصيلا فقد كتب في اللوح المحفوظ ما شاء، وإذا خلق جسد الجنين قبل خلق الروح فيه بعث إليه ملكاً فيؤمر بأربع كلمات فيقال له: اكتب رزقه وأجله وعمله وشقي أم سعيد ونحو ذلك. فهذا التقدير قد كان ينكره غلاة القدرية قديماً ومنكروه اليوم قليل.
(وأما الدرجة الثانية) فهي مشيئة الله النافذة وقدرته الشاملة وهو الإيمان بأن ما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن، وأنه ما في السماوات وما في الأرض من حركة ولا سكون إلا بمشيئة الله سبحانه. لا يكون في ملكه ما لا يريد (1) وأنه سبحانه على كل شيء قدير من الموجودات والمعدومات، فما من مخلوق في الأرض ولا في السماء إلا الله خالقه سبحانه لا خالق غيره ولا رب سواه. ومع ذلك فقد أمر العباد بطاعته وطاعة رسله ونهاهم عن معصيته، وهو سبحانه يحب المتقين والمحسنين والمقسطين ويرضى عن الذين آمنوا وعملوا الصالحات، لا يحب الكافرين، ولا يرضى عن القوم الفاسقين، ولا يأمر بالفحشاء ولا يرضى لعباده الكفر، ولا يحب الفساد (2).
--------------------------------------------
...আমরা তা সৃষ্টি করার আগে, নিশ্চয়ই তা আল্লাহর জন্য সহজ)। আর এই নির্ধারণ—যা মহান আল্লাহর ইলমের অনুগামী—তা সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তিনি লউহে মাহফূযে যা চেয়েছেন তা লিখে রেখেছেন। আর যখন ভ্রূণের রূহ সৃষ্টির পূর্বে তার দেহ সৃষ্টি করা হয়, তখন তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠানো হয় এবং তাকে চারটি বিষয় লিখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়: তার রিযিক, আয়ু, আমল এবং সে কি দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান—তা লিখে দাও; এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। তাকদীরের এই বিষয়টি প্রাচীনকালে কদরিয়া সম্প্রদায়ের চরমপন্থীরা অস্বীকার করত, তবে বর্তমানে তা অস্বীকারকারীর সংখ্যা খুবই কম।
(আর দ্বিতীয় স্তরটি হলো) আল্লাহর কার্যকর ইচ্ছা এবং তাঁর সর্বব্যাপী ক্ষমতা। আর তা হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ যা চান তা হয় এবং যা তিনি চান না তা হয় না। আসমান ও যমীনে যা কিছু গতিশীল বা স্থির রয়েছে, তা মহান আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে হয় না। তাঁর রাজত্বে এমন কিছু ঘটে না যা তিনি চান না (১)। আর তিনি বিদ্যমান ও অবিদ্যমান সকল বস্তুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আসমান ও যমীনে এমন কোনো সৃষ্টি নেই যার স্রষ্টা মহান আল্লাহ নন। তিনি ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা নেই এবং তিনি ছাড়া আর কোনো প্রতিপালক নেই। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলদের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদেরকে তাঁর অবাধ্য হতে নিষেধ করেছেন। তিনি মুত্তাকী, সৎকর্মশীল ও ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন এবং যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন। তিনি কাফিরদের ভালোবাসেন না, পাপাচারী সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন না, অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না, তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না এবং তিনি বিপর্যয় পছন্দ করেন না (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والعباد فاعلون حقيقة والله خالق أفعالهم، والعبد هو المؤمن والكافر، والبر والفاجر، والمصلي والصائم. وللعباد القدرة على أعمالهم ولهم إرادة (1)
والله خالقهم وخالق قدرتهم وإرادتهم كما قال الله تعالى: (لمن شاء منكم أن يستقيم، وما تشاءون إلا أن يشاء الله رب العالمين).
وهذه الدرجة من القدر يكذب بها عامة القدرية الذين سماهم النبي صلى الله عليه وسلم مجوس هذه الأمة ويغلو فيها قوم من أهل الإثبات (2) حتى سلبوا العبد قدرته واختياره ويخرجون عن أفعال الله وأحكامه حكمها ومصالحها.
الإيمان قول وعمل يزيد وينقصومن أصول أهل السنة والجماعة أن الدين والإيمان قول وعمل: قول القلب واللسان وعمل القلب واللسان والجوارح.
وأن الإيمان يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية، وهم مع ذلك لا يكفرون أهل القبلة بمطلق المعاصي والكبائر كما يفعله الخوارج بل الأخوة الإيمانية ثابتة مع المعاصي كما قال سبحانه في آية القصاص: (فمن عفى له من أخيه شيء فاتباع بالمعروف) وقال: (وإن طائفتان من المؤمنين اقتتلوا فأصلحوا بينهما فإن بغت إحداهما على الأخرى فقاتلوا التي
--------------------------------------------
বান্দারা প্রকৃতপক্ষে কাজ সম্পাদনকারী এবং আল্লাহ তাদের কাজের স্রষ্টা। বান্দাই হলো মুমিন ও কাফির, পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ এবং নামাজি ও রোজা পালনকারী। বান্দাদের তাদের আমলের ওপর সক্ষমতা রয়েছে এবং তাদের ইচ্ছা রয়েছে
আর আল্লাহ তাদের স্রষ্টা এবং তাদের সক্ষমতা ও ইচ্ছার স্রষ্টা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্য। আর তোমরা জগতসমূহের রব আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে অন্য কিছু ইচ্ছা করতে পারো না।"
তাকদিরের এই স্তরটি সাধারণ কাদারিয়া সম্প্রদায় অস্বীকার করে, যাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উম্মতের মাজুস (অগ্নিউপাসক) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর সাব্যস্তকারীদের (আহলুল ইসবাত) একদল এতে অতি বাড়াবাড়ি করে, ফলে তারা বান্দার সক্ষমতা ও পছন্দ করার ক্ষমতাকে ছিনিয়ে নেয় এবং তারা আল্লাহর কাজ ও বিধানসমূহ থেকে সেগুলোর প্রজ্ঞা ও কল্যাণকে রহিত করে দেয়।
ঈমান কথা ও কাজের নাম, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের একটি মূলনীতি হলো, দ্বীন ও ঈমান হচ্ছে কথা ও কাজ: অন্তরের কথা ও জিহ্বার কথা এবং অন্তরের কাজ, জিহ্বার কাজ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ।
আর ঈমান আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়। তা সত্ত্বেও তারা কেবল গুনাহ ও কবিরা গুনাহের কারণে কিবলাপন্থীদের কাফির গণ্য করে না, যেমনটি খাওয়ারিজরা করে থাকে। বরং গুনাহ থাকা সত্ত্বেও ঈমানি ভ্রাতৃত্ব অটুট থাকে, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিসাসের আয়াতে বলেছেন: "অতঃপর যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা করা হয়, তবে যেন প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়।" এবং তিনি বলেছেন: "আর যদি মুমিনদের দুই দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে তোমরা সেই দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تبغي حتى تفيء إلى أمر الله، فإن فاءت فأصلحوا بينهما بالعدل وأقسطوا إن الله يحب المقسطين، إنما المؤمنون اخوة فأصلحوا بين أخويكم).
ولا يسلبون الفاسق المللي (1) الإسلام بالكلية، ولا يخلدونه في النار كما تقوله المعتزلة بل الفاسق يدخل في اسم الإيمان المطلق كما في قوله: (فتحرير رقبة مؤمنه) وقد لا يدخل في اسم الإيمان المطلق كما في قوله تعالى: (إنما المؤمنون الذين إذا ذكر الله وجلت قلوبهم وإذا تليت عليهم آياته زادتهم إيمانا). وقوله صلى الله عليه وسلم: (لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن، ولا يسرق السارق حين يسرق وهو مؤمن، ولا يشرب الخمر حين يشربها وهو مؤمن، ولا ينتهب نهبة ذات شرف يرفع الناس إليه فيها أبصارهم حين ينتهبها وهو مؤمن) ونقول: هو مؤمن ناقص الإيمان أو مؤمن بإيمانه فاسق بكبيرته فلا يعطى الاسم المطلق ولا يسلب مطلق الاسم.
وجوب حب الصحابة وأهل البيتومن أصول أهل السنة والجماعة سلامة قلوبهم وألسنتهم لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كما وصفهم الله به في قوله تعالى: (والذين جاءوا من بعدهم يقولون ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان ولا تجعل في قلوبنا غلا للذين آمنوا ربنا إنك رؤوف رحيم) وطاعة النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: (لا تسبوا أصحابي فوالذي نفسي بيده لو أن أحدكم أنفق مثل أُحُدٍ ذهباً ما بلغ مُدَّ أحدهم ولا نصيفه).
ويقولون ما جاء به الكتاب والسنة والإجماع من فضائلهم ومراتبهم، ويفضلون من أنفق من قبل الفتح وهو صلح الحديبية
--------------------------------------------
সীমালঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তবে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে মীমাংসা করে দাও এবং ন্যায়বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন। মুমিনরা তো কেবল পরস্পর ভাই ভাই, অতএব তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।
আর তারা মিল্লাতভুক্ত (ইসলামের অন্তর্ভুক্ত) পাপাচারী (১) থেকে ইসলামকে পুরোপুরি ছিনিয়ে নেয় না এবং তারা তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামীও বলে না, যেমনটি মুতাজিলারা বলে থাকে। বরং পাপাচারী ব্যক্তি ঈমানের সাধারণ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (একজন মুমিন দাস মুক্ত করা)। আবার কখনও সে নিরঙ্কুশ বা পূর্ণাঙ্গ ঈমানের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয় না, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহর স্মরণ করা হয় তখন তাদের অন্তরসমূহ কেঁপে ওঠে, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয়)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না, চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না, মদখোর যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন থাকে না এবং যখন কেউ এমন কোনো মূল্যবান বস্তু ছিনতাই করে যার দিকে মানুষ চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মুমিন থাকে না)। আর আমরা বলি: সে অপূর্ণ ঈমানের অধিকারী মুমিন, অথবা সে তার ঈমানের কারণে মুমিন আর কবিরা গুনাহর কারণে পাপাচারী। অতএব তাকে পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার বলা হবে না, আবার তার থেকে ঈমানের নামটিকে একেবারে ছিনিয়েও নেওয়া হবে না।
সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইতকে ভালোবাসা ওয়াজিব হওয়াআর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একটি মূলনীতি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে তাদের অন্তর ও জিহ্বার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, যেমনটি আল্লাহ তাদের গুণ বর্ণনা করে বলেছেন: (এবং যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন। আর যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর আনুগত্য করা: (তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করে, তবে তা তাদের এক ‘মুদ’ বা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবেরও সমান হবে না)।
এবং কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা অনুযায়ী সাহাবীদের যে সমস্ত মর্যাদা ও স্তর বর্ণিত হয়েছে তারা তা স্বীকার করে। আর তারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে—তথা হুদায়বিয়ার সন্ধির আগে—যারা দান ও জিহাদ করেছেন তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقاتل على من أنفق من بعد وقاتل، ويقدمون المهاجرين على الأنصار، ويؤمنون بأن الله قال لأهل بدر وكانوا ثلاثمائة وبضعة عشر: (اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم) وبأنه لا يدخل النار أحد بايع تحت الشجرة كما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم بل لقد رضي الله عنهم ورضوا عنه وكانوا أكثر من ألف وأربعمائة، ويشهدون بالجنة لمن شهد له رسول الله صلى الله عليه وسلم كالعشرة وثابت بن قيس بن شماس وغيرهم من الصحابة ويقرون بما تواتر به النقل عن أمير المؤمنين على بن أبي طالب رضي الله عنه وغيره من أن خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكر ثم عمر، ويثلثون بعثمان ويربعون بعلي رضي الله عنهم كما دلت عليه الآثار وكما أجمع الصحابة على تقديم عثمان في البيعة مع أن بعض أهل السنة كانوا قد اختلفوا في عثمان وعلي رضي الله عنهما بعد اتفاقهم على تقديم أبي بكر وعمر - أيهما أفضل فقدم قوم عثمان وسكتوا وربّعوا بعلي، وقدم قوم علياً، وقوم توقفوا لكن استقر أمر أهل السنة على تقديم عثمان ثم علي وإن كانت هذه المسألة - مسألة عثمان وعلي - ليست من الأصول التي يضلل المخالف فيها عند جمهور أهل السنة، لكن التي يضلل فيها مسألة الخلافة وذلك أنهم يؤمنون أن الخليفة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو بكر وعمر ثم عثمان ثم علي، ومن طعن في خلافة أحد من هؤلاء فهو أضل من حمار أهله.
ويحبون أهل بيت رسول الله ويتولونهم ويحفظون فيهم وصية رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال يوم (1)
غدير خم: (أذكركم الله في أهل بيتي، وقال أيضاً للعباس عمه وقد اشتكى إليه أن بعض قريش يجفو بني هاشم فقال: (والذي نفسي بيده لا يؤمنون حتى يحبوكم لله ولقرابتي)
--------------------------------------------
তারা (মক্কা বিজয়ের) আগে ব্যয়কারী ও যুদ্ধকারীদেরকে পরে ব্যয়কারী ও যুদ্ধকারীদের ওপর প্রাধান্য দেন। তারা আনসারদের ওপর মুহাজিরদের অগ্রগণ্য মনে করেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে—যাদের সংখ্যা ছিল তিনশ দশের কিছু বেশি—বলেছেন: "তোমরা যা ইচ্ছে করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।" তারা আরও বিশ্বাস করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন সংবাদ দিয়েছেন, গাছের নিচে (বাইয়াতে রিদওয়ান) শপথ গ্রহণকারীদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। বরং আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন; তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশ’রও বেশি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন, তারা তাদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দেন; যেমন আশারায়ে মুবাশশারা (সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন), সাবিত ইবনে কায়স ইবনে শাম্মাস এবং অন্যান্য সাহাবীগণ। তারা আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্যদের পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত) বর্ণনা দ্বারা সাব্যস্ত বিষয়টিকে স্বীকার করেন যে, নবীর পর এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর। তারা তৃতীয় স্থানে উসমানকে এবং চতুর্থ স্থানে আলীকে রাখেন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), যেমনটি আসারসমূহ (বর্ণনাসমূহ) নির্দেশ করে এবং যেমনটি সাহাবীগণ বাইয়াতের ক্ষেত্রে উসমানকে অগ্রগণ্য করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন। যদিও আবু বকর ও উমরকে অগ্রগণ্য করার ব্যাপারে একমত হওয়ার পর আহলে সুন্নাতের কেউ কেউ উসমান ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-র মধ্যে কে বেশি শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে মতভেদ করেছিলেন। এক দল উসমানকে অগ্রগণ্য করেছেন এবং আলীকে চতুর্থ স্থানে রেখে চুপ থেকেছেন; এক দল আলীকে অগ্রগণ্য করেছেন; আবার এক দল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। তবে আহলে সুন্নাতের সিদ্ধান্ত উসমানকে এবং তারপর আলীকে অগ্রগণ্য করার ওপর স্থির হয়েছে। যদিও উসমান ও আলীর শ্রেষ্ঠত্বের এই মাসআলাটি—অর্থাৎ শ্রেষ্ঠত্বের ক্রম—জুমহুর আহলে সুন্নাতের নিকট এমন কোনো মূলনীতি নয় যার বিরোধিতাকারীকে পথভ্রষ্ট বলা হবে; তবে যে বিষয়ে পথভ্রষ্ট বলা হয় তা হলো খেলাফতের মাসআলা। আর তা হলো, তারা বিশ্বাস করেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর খলীফা হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান এবং তারপর আলী। যে ব্যক্তি এদের কারো খেলাফত নিয়ে কটাক্ষ করবে, সে তার পালিত গাধার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট।
তারা রাসূলুল্লাহর আহলে বায়তকে (পরিবারবর্গ) ভালোবাসেন, তাদের অভিভাবক হিসেবে মান্য করেন এবং তাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়ত রক্ষা করেন, যখন তিনি গাদীরে খুমের দিন বলেছিলেন: (১)
গাদীরে খুম: "আমি তোমাদের আমার আহলে বায়তের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।" তিনি তাঁর চাচা আব্বাসের উদ্দেশ্যেও বলেছিলেন—যখন তিনি তাঁর কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে কুরাইশদের কেউ কেউ বনু হাশেমের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করে—তিনি বলেছিলেন: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আমার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তোমাদের ভালোবাসবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال: (إن الله اصطفى بني إسماعيل واصطفى من بني إسماعيل كنانة واصطفى من كنانة قريشاً واصطفى من قريش بني هاشم واصطفاني من بني هاشم) ويتولون أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم أمهات المؤمنين ويؤمنون بأنهن أزواجه في الآخرة خصوصاً خديجة رضي الله عنها أم أكثر أولاده أول من آمن به وعاضده على أمره وكان لها منه المنزلة العالية والصِّدّيقة بنت الصّدّيق رضي الله عنها التي قال النبي صلى الله عليه وسلم: (فضل عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام)، ويتبرءون من طريقة الروافض الذين يبغضون الصحابة ويسبونهم وطريقة النواصب الذين يؤذون أهل البيت بقول أو عمل (1)
ويمسكون عما شجر من الصحابة ويقولون: إن هذه الآثار المروية في مساويهم منها ما هو كاذب ومنها ما قد زيد فيه ونقص، وغُيِّر عن وجهه. والصحيح منه هم فيه معذورون إما مجتهدون مصيبون، وإما مجتهدون مخطئون. وهم مع ذلك لا يعتقدون أن كل واحد من الصحابة معصوم عن كبائر الإثم وصغائره بل يجوز عليهم الذنوب في الجملة ولهم من السوابق والفضائل ما يوجب مغفرة ما يصدر عنهم إن صدر، حتى إنهم يغفر لهم من السيئات ما لا يغفر لمن بعدهم، لأن لهم من الحسنات التي تمحو السيئات مما ليس لمن بعدهم. وقد ثبت بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم إنهم خير القرون وأن المُدَّ مِن أحدهم إذا تصدق به كان أفضل من جبل أحد ذهبا ممن بعدهم، ثم إذا
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহর মধ্য থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশের মধ্য থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন)। আর তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের তথা মুমিনদের জননীদের ভালোবাসেন এবং বিশ্বাস করেন যে তাঁরা পরকালেও তাঁর স্ত্রী হিসেবে থাকবেন; বিশেষ করে খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা, যিনি তাঁর অধিকাংশ সন্তানের জননী, সর্বপ্রথম তাঁর প্রতি ঈমান এনেছেন, তাঁর কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন এবং তাঁর নিকট তাঁর উচ্চ মর্যাদা ছিল। আর সিদ্দীক-কন্যা সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহা যাঁর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সমস্ত নারীর ওপর আয়িশার শ্রেষ্ঠত্ব তেমনি, যেমন সমস্ত খাদ্যের ওপর সারীদের শ্রেষ্ঠত্ব)। তারা রাফেযীদের পথ থেকে দায়মুক্ততা ঘোষণা করেন যারা সাহাবায়ে কেরামকে ঘৃণা করে ও গালিগালাজ করে, এবং নাসিবীদের পথ থেকেও যারা কথা বা কাজের মাধ্যমে আহলে বায়তকে কষ্ট দেয়। (১)
আর সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যে পারস্পরিক বিবাদ সংঘটিত হয়েছিল সে বিষয়ে তারা নীরবতা অবলম্বন করেন এবং বলেন: তাঁদের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে যেসব বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি মিথ্যা, কোনোটিতে বাড়ানো বা কমানো হয়েছে এবং কোনোটিকে তার প্রকৃত রূপ থেকে বিকৃত করা হয়েছে। আর এর মধ্যে যা সহীহ, সে ক্ষেত্রে তাঁরা ওজরপ্রাপ্ত; হয় তাঁরা ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, অথবা ইজতিহাদ করতে গিয়ে ভুল করেছেন। তা সত্ত্বেও তারা এই বিশ্বাস করেন না যে সাহাবায়ে কেরামের প্রত্যেকেই কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে মাসুম বা নিষ্পাপ; বরং সাধারণভাবে তাঁদের দ্বারা গুনাহ সংঘটিত হওয়া সম্ভব। তবে তাঁদের এমন অনেক পূর্ববর্তী অবদান ও মর্যাদা রয়েছে যা তাঁদের থেকে কোনো ভুল প্রকাশ পেলে (যদি হয়ে থাকে) তার ক্ষমা অবধারিত করে। এমনকি তাঁদের এমন সব মন্দ কাজ মাফ করে দেওয়া হয় যা পরবর্তী লোকদের জন্য মাফ করা হয় না; কারণ তাঁদের এমন সব নেক আমল রয়েছে যা মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়, যা পরবর্তীকালের কারো নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর দ্বারা এটি প্রমাণিত যে তাঁরা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম এবং তাঁদের কেউ যদি এক মুদ (অল্প পরিমাণ) সদকা করেন, তবে তা পরবর্তীকালের লোকদের ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ সদকা করার চেয়েও উত্তম। অতঃপর যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كان قد صدر من أحدهم ذنب فيكون قد تاب منه، أو أتى بحسنات تمحوه أو غفر له بفضل سابقته، أو بشفاعة محمد صلى الله عليه وسلم الذي هم أحق الناس بشفاعته، أو ابتلى ببلاء في الدنيا كُفِّرَ به عنه. فإذا كان هذا في الذنوب المحققة فكيف الأمور التي كانوا فيها مجتهدين إن أصابوا فلهم أجران، وإن أخطأوا فلهم أجر واحد والخطأ مغفور.
ثم القدر الذي ينكر من فعل بعضهم قليل نزر مغفور في جنب فضائل القوم ومحاسنهم من الإيمان بالله ورسوله والجهاد في سبيله والهجرة والنصرة والعلم النافع والعمل الصالح.
ومن نظر في سيرة القوم بعلم وبصيرة وما من الله عليهم به من الفضائل علم يقيناً أنهم خير الخلق بعد الأنبياء لا كان ولا يكون مثلهم وأنهم الصفوة من قرون هذه الأمة التي هي خير الأمم وأكرمها على الله.
وجوب التصديق بكرامات الأولياءومن أصول أهل السنة: التصديق بكرامات الأولياء (1) وما يجري الله على أيديهم من خوارق العادات في أنواع العلوم والمكاشفات وأنواع القدرة
--------------------------------------------
তাদের কারো পক্ষ থেকে কোনো গুনাহ হয়ে থাকতে পারে, যার জন্য তারা তওবা করেছেন, অথবা এমন নেক আমল করেছেন যা তা মিটিয়ে দিয়েছে, অথবা তাদের পূর্ববর্তী শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে, অথবা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশের মাধ্যমে ক্ষমা করা হয়েছে যাদের ব্যাপারে তিনি সুপারিশ করার সবচেয়ে বেশি হকদার, অথবা দুনিয়াতে এমন কোনো বিপদে তারা আক্রান্ত হয়েছেন যার মাধ্যমে সেই গুনাহ মোচন করে দেওয়া হয়েছে। যদি সুনিশ্চিত গুনাহের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন হয়, তবে সেই সব বিষয়ের অবস্থা কেমন হবে যেগুলোতে তারা ইজতিহাদ করেছেন? যদি তারা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তবে তাদের জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব, আর ভুল করলে রয়েছে একটি সওয়াব এবং সেই ভুলটি ক্ষমাযোগ্য।
অতঃপর তাদের কারো কারো কাজের মধ্যে যে অংশটুকু অপছন্দ করা হয়, তা এই জামাআতের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান, আল্লাহর পথে জিহাদ, হিজরত, নুসরাত (সাহায্য), উপকারী ইলম এবং নেক আমলের মতো ফযিলত ও গুণাবলির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য এবং ক্ষমাযোগ্য।
আর যে ব্যক্তি ইলম ও দূরদর্শিতার সাথে এই জামাআতের জীবনী এবং আল্লাহ তাদের যে সকল ফযিলত দান করেছেন সেদিকে দৃষ্টিপাত করবে, সে নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে যে, নবীগণের পরে তারাই সৃষ্টির সেরা। তাদের মতো কেউ ছিল না এবং হবেও না। তারা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের মনোনীত ব্যক্তি, যে উম্মত সকল উম্মতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত।
আউলিয়াদের কারামতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ওয়াজিব হওয়াআহলে সুন্নাতের মূলনীতিসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: আউলিয়াদের কারামতের (১) প্রতি এবং আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান, উন্মোচন (মুকাশাফাহ) ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে যে সকল অলৌকিক বিষয় প্রকাশ করেন সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والتأثيرات والمأثور عن سالف الأمم في سورة الكهف وغيرها وعن صدر هذه الأمة من الصحابة والتابعين وسائر فرق الأمة وهي موجودة فيها إلى يوم القيامة.
من علامات أهل السنة الإتباع وليس الابتداعثم من طريقة أهل السنة والجماعة اتباع آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم باطناً وظاهراً واتباع سبيل السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار واتباع وصية رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال: (عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل بدعة ضلالة) ويعلمون أن أصدق الكلام كلام الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم ويؤثرون كلام الله على غيره من كلام أصناف الناس، ويقدمون هدي محمد صلى الله عليه وسلم على هدى كل أحد ولهذا سموا أهل الكتاب والسنة وسموا أهل الجماعة لأن الجماعة هي الاجتماع وضدها الفرقة وإن كان (لفظ) الجماعة قد صار اسماً لنفس القوم المجتمعين والإجماع هو الأصل الثالث (1) الذي يعتمد عليه في العلم والدين وهم يزنون بهذه الأصول الثلاثة جميع ما عليه الناس من أقوال وأعمال باطنة أو ظاهرة مما له تعلق بالدين.
والإجماع الذي ينضبط هو ما كان عليه السلف الصالح. إذ بعدهم كثر الاختلاف وانتشرت الأمة.
--------------------------------------------
এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহ সম্পর্কে সূরা আল-কাহফ ও অন্যান্য সূরায় যা বর্ণিত হয়েছে এবং এই উম্মতের প্রথম যুগের সাহাবী, তাবিঈ ও উম্মতের অন্যান্য দলসমূহের নিকট হতে যা বর্ণিত হয়েছে, তা কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।
আহলুস সুন্নাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অনুসরণ করা, উদ্ভাবন করা নয়এরপর, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ককে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে অনুসরণ করা এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে অগ্রবর্তী প্রথম পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের পথ অনুসরণ করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়ত পালন করা যেখানে তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরে হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; একে শক্তভাবে ধরো এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা।" তারা জানে যে, সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কালাম এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েত। তারা আল্লাহর কালামকে অন্যান্য সকল মানুষের কথার উপর প্রাধান্য দেয় এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েতকে অন্য যে কারও হেদায়েতের উপর অগ্রাধিকার দেয়। এ কারণেই তাদেরকে 'আহলুল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ' বলা হয় এবং 'আহলুল জামাআত' বলা হয়। কারণ জামাআত মানে হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যার বিপরীত হলো অনৈক্য বা বিভেদ; যদিও 'জামাআত' শব্দটি এখন ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায়ের নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়ে গেছে। আর ইজমা (ঐক্যমত্য) হলো তৃতীয় মূলনীতি (১) যার ওপর ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়। দ্বীনের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষের সকল বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কথা ও কাজকে তারা এই তিনটি মূলনীতির মানদণ্ডে যাচাই করে।
আর যে ইজমা সুনিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব, তা হলো যা সালাফে সালেহীন বা সৎকর্মশীল পূর্বসূরীদের আমলে ছিল। কারণ তাদের পরবর্তী সময়ে মতভেদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উম্মত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক ইবনু মানি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
متفرقات والخاتمةثم هم مع هذه الأصول يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر على ما توجبه الشريعة ويرون إقامة الحج والجهاد والجمع والأعياد مع الأمراء أبراراً كانوا أو فجاراً، ويحافظون على الجماعات ويدينون بالنصيحة للأمة ويعتقدون معنى قوله صلى الله عليه وسلم: (المؤمن للمؤمن كالبنيان يشدُّ بعضه بعضا) وشبك بين أصابعه، وقوله صلى الله عليه وسلم: (مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم كمثل الجسد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر) ويأمرون بالصبر عند البلاء، والشكر عند الرخاء، والرضا بِمُرِّ القضاء، ويدعون إلى مكارم الأخلاق ومحاسن الأعمال ويعتقدون معنى قوله صلى الله عليه وسلم: (أكمل المؤمنين إيماناً أحسنهم خلقا) ويندبون إلى أن تصل من قطعك وتعطي من حرمك وتعفو عمن ظلمك ويأمرون ببر الوالدين، وصله الأرحام، وحسن الجوار، والإحسان إلى اليتامى والمساكين وابن السبيل والرفق بالمملوك وينهون عن الفخر والخيلاء والبغي والاستطالة على الخلق بحق أو بغير حق ويأمرون بمعالي الأخلاق، وينهون عن سفسافها (1) وكل ما يقولونه ويفعلونه من هذا وغيره فإنما هم فيه متبعون للكتاب والسنة وطريقتهم هي دين الإسلام الذي بعث الله به محمداً صلى الله عليه وسلم.
لكن لما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أن أمته ستفترق على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة وهي الجماعة، وفي حديث عنه أنه قال: (هم من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي) صار المتمسكون بالإسلام المحض الخالص عن الشوب هم أهل السنة والجماعة وفيهم الصديقون والشهداء والصالحون ومنهم أعلام الهدى ومصابيح الدجى أولوا المناقب المأثورة، والفضائل
--------------------------------------------
বিবিধ বিষয় এবং উপসংহারঅতঃপর তারা এই সকল মূলনীতির সাথে সাথে শরীয়তের নির্দেশিত পন্থায় সৎকাজের আদেশ দেন এবং অসৎকাজে নিষেধ করেন। আর তারা শাসক নেককার হোক কিংবা পাপাচারী, তাদের নেতৃত্বে হজ, জিহাদ, জুমুআ এবং দুই ঈদের জামাত কায়েম করা বৈধ মনে করেন। তারা জামাতের সাথে সালাত আদায়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন এবং উম্মতের প্রতি কল্যাণকামিতার আদর্শে বিশ্বাসী। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মর্মার্থ বিশ্বাস করেন: "একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি সুদৃঢ় প্রাচীর সদৃশ, যার এক অংশ অন্য অংশকে মজবুত করে", এবং তিনি (এ কথা বলে) এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর ওপরও তারা বিশ্বাস রাখেন: "পরস্পর সম্প্রীতি, দয়া এবং সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন দেহের কোনো অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের অবশিষ্টাংশ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।" তারা বিপদে ধৈর্য ধারণের, সুসময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এবং তাকদিরের তিক্ত ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ দেন। তারা মহৎ চরিত্র ও উত্তম আমলের দিকে আহ্বান করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মর্ম বিশ্বাস করেন: "মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে তারাই পূর্ণাঙ্গ, যারা চরিত্রে সবচাইতে উত্তম।" তারা এই মর্মে উৎসাহিত করেন যে—যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার সাথে সম্পর্ক যুক্ত করো, যে তোমাকে বঞ্চিত করে তাকে দান করো এবং যে তোমার প্রতি জুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দাও। তারা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, প্রতিবেশীর সাথে সুআচরণ, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের প্রতি দয়া এবং অধীনস্থদের প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তারা অহংকার, দম্ভ, অবাধ্যতা এবং সৃষ্টির ওপর ন্যায় বা অন্যায়ভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন থেকে নিষেধ করেন। তারা উন্নত চরিত্রের নির্দেশ দেন এবং হীন ও তুচ্ছ বিষয়সমূহ থেকে বিরত রাখেন। তারা এসব ক্ষেত্রে যা কিছু বলেন বা করেন, তাতে তারা কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী। তাদের পথই হলো ইসলামের সেই দ্বীন, যা দিয়ে আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন।
তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে এবং একটি দল ছাড়া বাকি সব জাহান্নামী হবে, আর সেই দলটি হলো 'আল-জামাআহ'। এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে এসেছে: "তারা হলো তারা, যারা আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর আছি তার ওপর প্রতিষ্ঠিত।" ফলে যারা কলুষমুক্ত বিশুদ্ধ ইসলামকে আঁকড়ে ধরেন, তারাই হলেন 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'। তাদের মধ্যেই রয়েছেন ছিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ। তাদের মধ্যেই রয়েছেন হেদায়াতের পতাকাবাহী ও অন্ধকারের প্রদীপসমূহ, যারা বর্ণিত শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার অধিকারী।
--------------------------------------------