(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: -)
الرد على الجهمية للدارمي - ت الشوامي   (عثمان بن سعيد الدارمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: الرَّدُّ عَلى الجَهَمِّيَة

المؤلف: أبو سَعِيدٍ عُثمَانَ بن سعِيدٍ الدَّارمِيِّ

المحقق: أَبوُ عَاصِم الشَّوَامِيّ الأَثرِي

الناشر: المكتبة الإسلامية، القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 195

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1437

আদ-দারিমী কর্তৃক জাহমিয়াদের প্রতিবাদ - আশ-শাওয়ামীর তাহকীক   (উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমী)

বিভাগ: আকিদা


বই: আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ (জাহমিয়াদের প্রতিবাদ)

লেখক: আবু সাঈদ উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমী

তাহকীককারী: আবু আসিম আশ-শাওয়ামী আল-আসারি

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ, কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৫

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২)
الرَّدُّ عَلى الجَهَمِّيَة

تَصْنيفُ

أبي سَعِيدٍ عُثمَانَ بن سعِيدٍ الدَّارمِيِّ

 

حَقَّقَهُ وضَبَطَ نَصَّهُ

أَبوُ عَاصِم الشَّوَامِيّ الأَثرِي

وبِذَيْلِهِ

التَّخريجَاتُ العِلمِيَّة لِكتابِ الرَّدِّ عَلى الجَهْمِيَّة

تَصْنِيفُ

أبي عَاصِمٍ الشَّوَامِيّ الأَثريِ
জহমিয়াদের খণ্ডন

রচনা

আবু সাঈদ উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি

 

তাহকিক ও পাঠ্য বিন্যাস করেছেন

আবু আসিম আশ-শাওয়ামি আল-আসারি

এবং এর পরিশিষ্টে রয়েছে

‘জহমিয়াদের খণ্ডন’ গ্রন্থের ইলমি তাখরিজসমূহ

রচনা

আবু আসিম আশ-শাওয়ামি আল-আসারি
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقدَّمةُ التحْقِيق

الحمدُ لله الكَبِيرِ المُتعَالِ، المُتَّصفُ بصفاتِ الجَلالِ ونُعوتِ الكَمَالِ، الذي خَلَقَ السماواتِ والأرضَ وأَرسَى فيها الجِبَالَ، تَقَدَّسَ وتنَزَّه عن الشَّبِيهِ والمِثالِ، {وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَنْ يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ}، نَحْمَدُكَ الَّلهُمَّ ونَسْتَهْدِيكَ ونَسْتَغْفِرُكَ، ونَتَوَكَّلُ عليكَ ولا نَكْفُركَ، ونَخْلَعُ مَن يَكفُرك، وصلى الله على نَبِيِّنا مُحمَّدٍ الدَّاعي إلى الهُدى والرَّشَادِ، وعَلى أَبَوَيْهِ إِبْرَاهِيمَ وإِسْمَاعِيلَ، وعلى أَصْحَابِ رَسُولِه، الذين اصْطَفَاهُم مِنْ خَلْقِهِ، لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ وائْتَمنَهُم على حِفْظِ كِتَابِهِ، صَلاةً وسَلامًا دَائِمَيْن، ما نَاحَتْ مُطَوَّقةٌ وما ذَرَّ شَارِقٌ.

وبعد:

فهذا كتاب «الرَّدُّ عَلَى الجَهْمَيَّة» للحافظ العلامة المحقق أبي سعيد عثمان بن سعيد الدارمي، وهو من أَجَلِّ ما صُنِّف في هذا الباب، أو هو من أَجلِّ ما وصَلَ إِلينا مما صُنِّف في هذا الباب، فقد صنف تحت هذا العنوان، أكثر أهل العلم، كالإمام أبي محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم، والإمام عبد الله بن الإمام أحمد، ونعيم بن حماد، وغيرهم، وذلك في مصنفات مستقلة، أو في طِيَّات كِتابٍ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদনা পরিচিতি

সকল প্রশংসা সুমহান, সুউচ্চ আল্লাহর জন্য, যিনি মহিমাময় গুণাবলি এবং পূর্ণাঙ্গ বিশেষণে বিশেষিত। যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে পাহাড়সমূহ সুদৃঢ় করেছেন। তিনি সমরূপ ও সাদৃশ্য থেকে পবিত্র ও ঊর্ধ্বে। "বজ্র তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতারাও তাঁর ভয়ে; তিনি বজ্রপাত করেন এবং এর দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন, তবুও তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।" হে আল্লাহ! আমরা আপনার প্রশংসা করি, আপনার কাছে হেদায়াত চাই, আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার ওপর ভরসা করি। আমরা আপনার কুফরি করি না এবং যে আপনার কুফরি করে তার সঙ্গে আমরা সম্পর্ক ছিন্ন করি। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর, যিনি হিদায়াত ও সঠিক পথের দিকে আহ্বানকারী, এবং তাঁর দুই পিতা ইবরাহীম ও ইসমাঈলের ওপর, এবং তাঁর রাসূলের সাহাবীদের ওপর, যাঁদেরকে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন তাঁর নবীর সাহচর্যের জন্য এবং তাঁর কিতাব সংরক্ষণের জন্য তাঁদেরকে আমানতদার বানিয়েছেন। এই সালাত ও সালাম চিরস্থায়ীভাবে বর্ষিত হতে থাকুক, যতক্ষণ কপোত কূজন করবে এবং সূর্য উদিত হবে।

অতঃপর:

এটি হাফেজ, আল্লামা, গবেষক আবু সাঈদ উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমী রচিত 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' (জাহমিয়্যাহদের খণ্ডন) নামক কিতাব। এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ, অথবা এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তার মধ্যে এটি অন্যতম মর্যাদাশীল। কারণ অধিকাংশ আলেম এই শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম, ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল ইমাম আহমাদ, নুআইম ইবনে হাম্মাদ এবং আরও অনেকে। আর তা ছিল স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে অথবা কোনো গ্রন্থের পরিচ্ছেদ হিসেবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৬)
جَامِعٍ؛ كالبُخَاريِّ، وبعضِ أصحابِ السُّنَنِ، وكابنِ بَطَّة، والأَشْعَري، والَّلَالَكَائِي، والآجُرِّي، وغَيْرِهِم.

وقد اهتم العلماء في القرن الثالث الهجري بالتَّصَدِّي لهؤلاءِ الزَّائِغَة -أعنِي الجَهمية- الذين هم كما ذكر المصنف أضل من اليهود والنصارى؛ بحيث إنهم قد عطلوا صفات الرب تبارك وتعالى، فجعلوه كالعدم، سبحانه وتعالى عما يقول الظالمون عُلوًا كبيرًا.

وكان مما يُمَيِّزُ هذه الحِقْبَةَ الزمنية في التصنيف؛ سهولةُ العبارة، والبعد عن التعقيد والتَّكلُّف، واستخدامِ اصطلاحات المناطقة والفلاسفة وعلماء الكلام، الذي ليس من تحته طائِل إلا تشتيت الذهن، وعرقلته عن الوصول إلى الحق، وأيضًا مما يميز هذه الفترة في التصنيف؛ الاهتمامُ بالأسانيد والتنافسُ في العلو بها، وذلك لعلمهم أن ذلك من الدين، فكانوا لا يَصْدُرُونَ عن رأيهم، ولا عن هوى أنفسهم، إنما كان قَائِدُهُم الإِسنادُ، بِقَالَ اللهُ، وقَالَ رَسُولُه صلى الله عليه وسلم، ومن يقرأ في هذا الكتاب وفي أمثاله ممن نَسَجَ عَلى مِنْوَالِهِ، سيجدُ هَذا بيِّنًا لاحِبًا لا لَبْسَ فيه.

فكان واجبنا -ونحن نحاول أن نُسْهِمَ في إحياء تراث هذه الأمة التي أتت بما لم تأت به أمةٌ من الأمم قبلها- أن نكونَ أُمناء على هذا الإِرْثِ العظيم الذي تركه لنا أسلافُنا، ليكون نِبْراسًا لنا، نَستضيءُ به في ظلمات الجهل والضلال، وأعني بالأمانة هنا؛ أمانة إخراج النص إلى الناس دون تحريف أو تصحيف أو تبديل لأي كلمة وردت في أصل خطي ورثناه عن أسلافنا، ولا
জামে; যেমন বুখারী, এবং সুনান গ্রন্থসমূহের কতিপয় সংকলক, এবং ইবনে বাত্তাহ, আল-আশআরী, আল-লালাকাঈ, আল-আজুররী ও তাঁদের ন্যায় অন্যান্যগণ।

হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর আলেমগণ এই পথভ্রষ্টদের—অর্থাৎ জাহমিয়াদের—প্রতিহত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যারা গ্রন্থকারের বর্ণনা অনুযায়ী ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট; কেননা তারা বরকতময় ও সুউচ্চ রবের গুণাবলিকে অকার্যকর করে দিয়েছে, ফলে তারা তাঁকে অস্তিত্বহীনের ন্যায় গণ্য করেছে; জালিমরা যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র এবং বহু ঊর্ধ্বে সুউচ্চ।

এই যুগের রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ভাষার সাবলীলতা, জটিলতা ও কৃত্রিমতা বর্জন করা এবং যুক্তিবিদ, দার্শনিক ও ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের পরিভাষা পরিহার করা, যার পেছনে মনকে বিক্ষিপ্ত করা এবং সত্যে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপকার নেই। এছাড়াও এই যুগের রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সনদের প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং উচ্চ সনদ অর্জনে প্রতিযোগিতা করা; কারণ তাঁরা জানতেন যে এটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা নিজেদের রায় কিংবা খেয়াল-খুশি অনুযায়ী কোনো কথা বলতেন না, বরং তাঁদের পথপ্রদর্শক ছিল সনদ—যাতে রয়েছে 'আল্লাহ বলেছেন' এবং 'আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন'। যে ব্যক্তি এই কিতাব বা এর আদলে রচিত কিতাবসমূহ পড়বে, সে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে যেখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

তাই আমাদের দায়িত্ব ছিল—যেহেতু আমরা এই উম্মতের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় অবদান রাখার চেষ্টা করছি, যা এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা পূর্ববর্তী কোনো জাতি আনেনি—আমাদের পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া এই মহান উত্তরাধিকারের আমানতদার হওয়া, যাতে এটি আমাদের জন্য আলোর মশাল হয়, যার মাধ্যমে আমরা মূর্খতা ও গোমরাহীর অন্ধকারে আলোকবর্তিকা পেতে পারি। আর এখানে আমানত বলতে আমি উদ্দেশ্য করছি—মূল পাঠ্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আমানত রক্ষা করা; আমাদের পূর্বসূরিদের থেকে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপির কোনো শব্দের কোনো প্রকার বিকৃতি, ভুল পাঠ বা পরিবর্তন না করে; এবং না...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৭)
يَتَأَتَّى ذلك إلا بتعظيم هذا الإرث والتعامل معه بحذر شديد، وإفراغ الجهد في البحث عن أي إشكال يقابلنا أثناء التحقيق، ومحاولة توجيه النص بقدر الطاقة.

وهذا وللأسف البالغ أصبح أمرًا عزيزًا جدًا في هذه الأوقات، وأصبح تحقيق النصوص؛ مسخًا لها، بحيث إذا وجد المحقق! كلمة في النص الذي وَرِثَه من أسلافه لا يستطيع أن يفهمها، حذفها بسفاهة جرأته ووضع غيرها مكانها دون أن يَتَعنَّى في البحث عن هذه الكلمة ومحاولة توجيهها، وهذا لعمر الله من أقبح الخيانة.

وهذا ما حاولت أن أتلافاه في تحقيقي لهذا الكتاب العظيم في بابه، بقدر طاقتي، والله ولي التوفيق.

 

‌‌توثيق نسبة الكتاب:

اشتهر هذا الكتاب جدًا بنسبته إلى مُصَنِّفِه مما لا يدع مجالا للشَّك في ذلك، وقد نقل منه كثير من العلماء ونسبوه لمصنفه، وعلى رأس هؤلاء الذين نقلوا منه؛ شيخُ الإِسلامِ ابن تيمية، فقد نَقَل منه فقرات كاملة تجد ذلك بوضوح في كتابه القيم «درء تعارض العقل والنقل»، وكذلك تلميذه ابن قيم الجوزية في كتابه «اجتماع الجيوش الإسلامية»، وأيضا الإمام الذهبي والذي قد انتقى من كتاب الرد على الجهمية جملة من أحاديثه رواها بإسناده إلى المصنف في كتابه «المنتقى من كتاب الرد على الجهمية» -وهو مطبوع-، وهذا على سبيل المثال، لا الحصر.
এটি কেবল এই ঐতিহ্যকে সম্মান করা, এর সাথে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আচরণ করা এবং তাহকিকের সময় আমাদের সামনে আসা যেকোনো জটিলতা নিরসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা এবং সাধ্যমতো পাঠ্যের সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমেই কেবল সম্ভব।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে এটি অত্যন্ত বিরল হয়ে পড়েছে। এখন পাঠ্য-সম্পাদনা বা তাহকিক মানেই হলো সেটিকে বিকৃত করা; অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যখন কোনো সম্পাদক (মুহাক্কিক) তার পূর্বসূরিদের থেকে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিতে এমন কোনো শব্দ পান যা তিনি বুঝতে পারছেন না, তখন তিনি নিজ ধৃষ্টতা ও মূর্খতাবশত শব্দটিকে মুছে দিয়ে সেখানে অন্য কিছু বসিয়ে দেন। অথচ সেই শব্দটির উৎস সন্ধান বা তার সঠিক মর্ম ব্যাখ্যা করার সামান্যতম কষ্টও তিনি করেন না। আল্লাহর কসম! এটি জঘন্যতম খিয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।

এই বিষয়ের ওপর রচিত এই মহান গ্রন্থটির তাহকিকের ক্ষেত্রে আমি আমার সাধ্যমতো এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। আর আল্লাহই তাওফিক দাতা।

 

‌‌গ্রন্থের নিসবত বা লেখক-সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা:

এই গ্রন্থটি এর লেখকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এতটাই প্রসিদ্ধ যে, তা এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না। বহু আলিম এই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি পেশ করেছেন এবং একে এর লেখকের কাজ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। যারা এই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তাদের শীর্ষে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ; তিনি তার মূল্যবান গ্রন্থ 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকল'-এ এখান থেকে পূর্ণাঙ্গ অনুচ্ছেদসমূহ উদ্ধৃত করেছেন যা স্পষ্টভাবে সেখানে বিদ্যমান। একইভাবে তার ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ তার 'ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ' গ্রন্থে এবং ইমাম যাহাবিও এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ইমাম যাহাবি 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থ থেকে একগুচ্ছ হাদিস নির্বাচন করেছেন এবং নিজ সনদে লেখকের দিকে সম্বন্ধ করে তার 'আল-মুনতাকা মিন কিতাবি আর-রাদ্দি আলাল জাহমিয়্যাহ' নামক গ্রন্থে (যা মুদ্রিত) বর্ণনা করেছেন। এগুলো কেবল উদাহরণস্বরূপ, সীমাবদ্ধ অর্থে নয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌موضوعه وأهميته:

ولا يخفى موضوع الكتاب وأهميته وأكتفي بذكر قول العلامة ابن القَيِّم، حيث قال: «وكِتَابَاهُ مِنْ أَجَلِّ الكتب المُصنَّفة في السُّنة وأَنْفَعِهَا، وينبغي لكل طَالبِ سُنَّة -مراده الوقوف على ما كان عليه الصحابة والتابعون والأئمة- أن يقرأ كتابَيْه، وكان شيخ الإسلام ابن تيمية يُوصي بهذين الكتابين أشد الوصية، ويعظمهما جدًا، وفيهما من تقرير التوحيد والأسماء والصفات بالعقل والنقل ما ليس في غيرهما». أهـ من كتاب اجتماع الجيوش الإسلامية (1/ 143).

قلت: ويعني بكتابيه؛ كتابنا هذا، وكتاب نقض الدارمي لبشر المريسي.

 

‌‌وصف النسخة الخطية:

اعتمدت في تحقيقي لهذا الكتاب على نسخة وحيدة، وهي من محفوظات مكتبة كوبرلي رقم (850) وتقع ضمن مجموع من صفحة ست وسبعين إلى صفحة مائة وعشرة، أي في حوالي أربع وثلاثين ورقة، وجهان في كل ورقة، ومسطرتها زهاء خمس وعشرين سطرًا، في كل سطر زهاء خمس عشرة كلمة، وبداية هذا المجموع يحتوي على كتاب نقض الإمام أبي سعيد عثمان بن سعيد على المريسي الجهمي العنيد، للمُصَنِّف أيضًا، وناسخ المجموع كله واحد وقد كتبت بخط نسخي عادي، واضح، وفي رأيي أن هذه النسخة قيمة جدًا لاسيما وفي بداية الكتاب العديد من السماعات لشيخ الإسلام ابن
এর বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব:

এই কিতাবের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব কারও অজানা নয় এবং এ বিষয়ে আমি আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্যটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করি। তিনি বলেছেন: «সুন্নাহর বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে তাঁর কিতাব দুটি সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও উপকারী। সুন্নাহর প্রত্যেক তালিবে ইলম—যার উদ্দেশ্য হলো সাহাবী, তাবিঈ ও ইমামগণ যে মতাদর্শের ওপর ছিলেন তা অবগত হওয়া—তাদের জন্য এই কিতাব দুটি পড়া আবশ্যক। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই কিতাব দুটির ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অসিয়ত করতেন এবং এ দুটিকে অনেক সম্মান করতেন। এ দুটিতে আকল (যুক্তি) ও নকলের (দলিল) মাধ্যমে তাওহীদ এবং আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি) যেভাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা অন্য কোথাও নেই।» ইজতিমাউল জুইউশিল ইসলামিয়্যাহ (১/১৪৩) থেকে সমাপ্ত।

আমি বলছি: তিনি তাঁর দুটি কিতাব দ্বারা আমাদের আলোচ্য এই কিতাব এবং বিশর আল-মারীসীর বিপক্ষে ইমাম দারেমীর রচিত 'নাকদ' কিতাবটিকে বুঝিয়েছেন।

 

পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

এই কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এটি কোপরুলু লাইব্রেরিতে ৮৫০ নম্বরে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি। এটি একটি সংকলনের ৭৬ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে ১১০ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত; অর্থাৎ প্রায় চৌত্রিশটি পত্র, যার প্রতিটি পত্রে দুটি করে পিঠ রয়েছে। এর প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় পঁচিশটি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় পনেরোটি করে শব্দ রয়েছে। এই সংকলনের শুরুতে হঠকারী জাহমী মারীসীর বিপক্ষে ইমাম আবু সাঈদ উসমান ইবনে সাঈদের রচিত 'নাকদ' কিতাবটিও রয়েছে, যা এই লেখকেরই রচনা। পুরো সংকলনটির অনুলিপিকার একজনই এবং এটি স্পষ্ট ও সাধারণ নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে। আমার মতে, এই পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত মূল্যবান, বিশেষ করে কিতাবটির শুরুতে শাইখুল ইসলাম ইবনে
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৯)
تيمية، وأبي الحجاج يوسف المِزِّي، وابن المُحِب، ويوسف بن عبد الهادي، وغيرهم.

وقد تم الفراغ من نسخ كتاب الرد على الجهمية في شهر رجب الفرد سنة خمس وثلاثين وسبعمائة (735) بمدرسة الحافظ ضياء الدين بسفح قَاسْيُون ظاهر دمشق، جاء ذلك مكتوبًا على آخر ورقة من المخطوط.

هذا وقد صنف الدارمي هذا الكتاب تقريبًا سنة مائتين وخمسين من الهجرة النبوية، فقد قال في صفحة (224) وهو يتحدث عن القرآن «لم يَأْتُوا بمثله مُنْذُ مائَتَيّ وخمسين سنة».

 

‌‌عملي في الكتاب:

قابلت هذه النسخة الخطية على مطبوعة مكتبة الدار السلفية والتي قام بتحقيقها فضيلة الشيخ بدر بن عبد الله البدر حفظه الله تعالى (الطبعة الأولى، سنة 1405 هـ) وهي أفضل الموجود من المطبوعات لهذا الكتاب، وإن كان بها بعض القصور، ويعتذر له عن ذلك حيث لم يعتمد الشيخ على نسخة خطية، وإنما اعتمد على الطبعة الأولى والتي طبعت في ليدن (سنة 1960 م) بتحقيق أحد المستشرقين ويدعى (جوستا فيتستام)، ولا يخفى القصور في عمل المستشرقين، فأثبتت ما كان في الأصل الخطي، ووجهته حسب ما تقتضيه الفصحى، وأشرتُ إلى بعض الأخطاء في مكانها، وضبطت أكثر النص بالشكل، ورقمت أسانيد الكتاب بالتسلسل.
তাইমিয়া, আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিযযি, ইবনুল মুহিব, ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি এবং অন্যান্যরা।

'আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থটির অনুলিপি করার কাজ সমাপ্ত হয়েছে সাতশ পঁয়ত্রিশ (৭৩৫) হিজরি সালের একাকী রজব মাসে, দামেস্কের উপকণ্ঠে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে হাফেজ জিয়াউদ্দিনের মাদ্রাসায়। পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠায় এটি এভাবেই লিখিত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আদ-দারিমি এই কিতাবটি হিজরি দুইশ পঞ্চাশ সালের দিকে সংকলন করেছেন। তিনি (২২৪) নং পৃষ্ঠায় কুরআনের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন: "বিগত দুইশ পঞ্চাশ বছর ধরে তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারেনি।"

 

‌‌এই কিতাবে আমার কাজ:

আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে মাকতাবাতুদ দার আস-সালাফিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত সংস্করণের সাথে মিলিয়ে দেখেছি, যা তাহকিক করেছেন সম্মানিত শায়খ বদর বিন আব্দুল্লাহ আল-বদর (আল্লাহ তাআলা তাকে রক্ষা করুন) (প্রথম সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরি)। এটি এই কিতাবের মুদ্রিত সংস্করণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো, যদিও এতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শায়খের পক্ষ থেকে এর কারণ হিসেবে বলা যায় যে, তিনি কোনো পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেননি, বরং লাইডেনে (১৯৬০ সালে) একজন প্রাচ্যবিদ—যার নাম (গুস্তাভ উইটস্টাম)—কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছেন। আর প্রাচ্যবিদদের কাজের সীমাবদ্ধতা কারোরই অজানা নয়। তাই আমি মূল পাণ্ডুলিপিতে যা ছিল তা বহাল রেখেছি এবং শুদ্ধ আরবির চাহিদা অনুযায়ী তা বিন্যস্ত করেছি। যথাস্থানে কিছু ভুলের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, অধিকাংশ টেক্সটে হরকত প্রদান করেছি এবং কিতাবের সনদগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১০)
وإِتمامًا للفائدة فقد ذَيَّلْتُ الكتاب بكتابي «التخريجات العلمية لكتاب الرد على الجهمية»، وهو تخريجٌ وسط، لم أسهب فيه، أدرس فيه أسانيد الكتاب، وأحكم عليها بما تقتضيه قواعد علم الحديث، وقد وجدت في تخريجات فضيلة الشيخ بدر حفظه الله جملة من الأخطاء رأيت أنه لا يحسن السكوت عليها، فنبهت عليها في موضعها من الكتاب، ويعلم الله أني أُجِلُّ الشيخ وإنما كان قصدي إظهار الخطأ ومعالجته بطريقة علمية ليكون مثالا يحتذى، خدمة للعلم لا أكثر، والله على ما أقول شهيد.

وأخيرًا قمت بصناعة فهارس علمية للكتاب.

وفي الخِتَامِ أَوَدُّ أن أتقدم بالشكر لكل من ساهم في إخراج هذا الكتاب القيم، وأخص بالذكر منهم:

أولا: أشكر الشيخين الجليلين؛ الدكتور أحمد مَعْبَد عبد الكريم، والشيخ أبا إسحاق الحُوَيْنِي، متعهما الله بالعافية والستر في الدنيا والآخرة؛ فهما كانا وراء ما أنتجت وما سأنتج إن شاء الله.

ثم: فضيلة الشيخ أبا الفضل عبد السلام بن عبد الكريم، صاحب المكتبة الإسلامية بالقاهرة، فهو الذي لفت انتباهي لهذا الكتاب وأشار عَلَيَّ بتحقيقه، ولم يكن هذا في حسباني، ولكن الله إذا أراد شيئًا هيَّأ أسبابه.

وأخي الفاضل أبا عمر عبد المحسن بن محمد بن فهيم، فقد قام معي بمقابلة الجزء الأكبر من المخطوط، فجزاه الله خيرًا.
উপকারের পূর্ণতার লক্ষ্যে আমি বইটির শেষে আমার লিখিত ‘আত-তাখরিজাতুল ইলমিয়্যাহ লিকিতাব আর-রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ’ কিতাবটি যুক্ত করেছি। এটি একটি পরিমিত তাখরিজ, যেখানে আমি খুব বেশি দীর্ঘায়ন করিনি। এতে আমি কিতাবটির সনদসমূহ বিশ্লেষণ করেছি এবং ইলমে হাদিসের নীতিমালা অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান করেছি। আমি শ্রদ্ধেয় শায়খ বদর (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর তাখরিজে কিছু ভুলত্রুটি পেয়েছি যেগুলোর ব্যাপারে চুপ থাকা আমি সমীচীন মনে করিনি। তাই কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানে আমি সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছি। আল্লাহ জানেন যে আমি শায়খকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি, কেবল ভুলগুলো প্রকাশ করা এবং ইলমি পদ্ধতিতে তার সমাধান করাই আমার উদ্দেশ্য ছিল যেন এটি একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়। এটি ইলমের খিদমত ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি যা বলছি তার ওপর আল্লাহ সাক্ষী।

এবং সবশেষে আমি কিতাবটির জন্য ইলমি সূচিপত্র তৈরি করেছি।

পরিশেষে আমি এই মূল্যবান কিতাবটি প্রকাশে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিশেষভাবে উল্লেখ করছি:

প্রথমত: আমি দুই জন সম্মানিত শায়খকে ধন্যবাদ জানাই; ডক্টর আহমদ মা'বাদ আব্দুল কারিম এবং শায়খ আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনি। আল্লাহ তাঁদের উভয়কে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াত ও নিরাপত্তার সাথে রাখুন। আমার বর্তমান এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যৎ সকল ইলমি কাজের পেছনে তাঁদের অবদান রয়েছে।

অতঃপর: শ্রদ্ধেয় শায়খ আবুল ফদল আব্দুস সালাম বিন আব্দুল কারিম, কায়রোর ‘মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ’-এর স্বত্বাধিকারী। তিনি এই কিতাবটির প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং এটি তাহকিক করার জন্য আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। এটি আমার পরিকল্পনায় ছিল না, কিন্তু আল্লাহ যখন কোনো কিছু চান তখন তিনি তার উপকরণ তৈরি করে দেন।

এবং আমার সম্মানিত ভাই আবু উমর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ বিন ফাহিম, তিনি পাণ্ডুলিপির বড় একটি অংশ মিলিয়ে দেখার কাজে আমার সাথে অংশগ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১১)
وأخيرًا أشكر أخي الباحث النحرير واللغوي القدير الشيخ صفاء الدين بن محمد بن إبراهيم آل قُمِّيح، والذي أرشدني لتوجيه إشكالات الكتاب اللغوية، فأسأل الله تبارك وتعالى أن يجعله في ميزان حسناته.

ومما لا أشك فيه أنه قد وقع خلل أو خطأ فيما كتبته وذهبت إليه، فذلك مما لا يسلم منه بنو آدم، وأنا لا أستنكف أبدًا أن أراجع الصواب إن ظهر لي، فجزى الله خيرًا أخا كريمًا نظر في عملي نظرة إنصاف، فسددني إن وجد خطأً، ودعا لي إن وجد خيرًا.

واللهَ تعالى أسأل أن يجعل عملي هذا خالصًا لوجهه الكريم، وأن لا يخزني يوم يبعثون {يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ (88) إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ (89)} والحمد لله ظاهرًا وباطنًا، أولاً وآخرًا.

وكتبه راجي عفو ربه الكريم

أبو عاصم الشَّوَامِي محمد بن محمود بن إبراهيم

في الثامن والعشرين من شهر رمضان

سنة واحد وثلاثين وأربعمائة وألف

من هجرة النبي صلى الله عليه وسلم -
এবং পরিশেষে আমি আমার ভাই প্রাজ্ঞ গবেষক ও দক্ষ ভাষাবিদ শেখ সাফাউদ্দিন বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-কুম্মিহ-কে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমাকে গ্রন্থের ভাষাগত জটিলতাগুলো নিরসনে পথনির্দেশনা দিয়েছেন। আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় কবুল করেন।

আর এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, আমি যা লিখেছি বা যে মত পোষণ করেছি তাতে কোনো ত্রুটি বা ভুল বিচ্যুতি ঘটেছে, কারণ তা থেকে আদম সন্তান মুক্ত নয়। আর সঠিক বিষয়টি আমার নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠলে আমি তা গ্রহণ করতে কখনোই কুণ্ঠাবোধ করব না। অতএব, আল্লাহ সেই মহানুভব ভাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন যিনি ইনসাফের দৃষ্টিতে আমার কাজের পর্যালোচনা করবেন; ফলে ভুল পেলে আমাকে সংশোধন করে দেবেন এবং ভালো কিছু পেলে আমার জন্য দোয়া করবেন।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং পুনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত না করেন {যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না (৮৮) তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে (৮৯)}। আর প্রকাশ্য ও গোপনে, শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

তাঁর মহান রবের ক্ষমার প্রত্যাশী এটি লিখেছেন

আবু আসিম আশ-শাওয়ামি মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন ইবরাহিম

রমজান মাসের আটাশ তারিখে

চৌদ্দশত একত্রিশ হিজরি সনে

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরত অনুসারে -
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ترجمة المصنف

قال الحافظ الذهبي في سير أعلام النبلاء (13/ 319):

الدارمي: عثمان بن سعيد بن خالد بن سعيد: الإمام، العلامة، الحافظ، الناقد، شيخ تلك الديار، أبو سعيد، التميمي، الدارمي، السجستاني، صاحب «المسند» الكبير والتصانيف.

ولد قبل المائتين بيسير، وطوف الأقاليم في طلب الحديث.

وسمع: أبا اليمان، ويحيى بن صالح الوحاظي، وسعيد بن أبي مريم، ومسلم بن إبراهيم، وعبد الغفار بن داود الحراني، وسليمان بن حرب، وأبا سلمة التبوذكي، ونعيم بن حماد، وعبد الله بن صالح، كاتب الليث، ومحمد بن كثير، ومسدد بن مسرهد، وأبا توبة الحلبي، وعبد الله بن رجاء الغداني، وأبا جعفر النفيلي، وأحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني، وإسحاق بن راهويه، وفروة بن المغراء، وأبا بكر بن أبي شيبة، ويحيى الحماني، وسهل بن بكار، وأبا الربيع الزهراني، ومحمد بن المنهال، والهيثم بن خارجة، وخلقًا كثيرًا، بالحرمين والشام، ومصر والعراق، والجزيرة وبلاد العجم.

وصنف كتابًا في «الرد على بشر المريسي»، وكتابًا في «الرد على الجهمية» رُوِّينَاهُمَا.

وأخذ علم الحديث وعلله عن علي، ويحيى، وأحمد، وفاق أهل زمانه، وكان لَهِجًا بالسُّنة، بَصيرًا بالمناظرة.
গ্রন্থকারের জীবনী

হাফিয আয-যাহাবি ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (১৩/ ৩১৯) গ্রন্থে বলেন:

আদ-দারিমি: উসমান বিন সাঈদ বিন খালিদ বিন সাঈদ: ইমাম, আল্লামাহ, হাফিয, সমালোচক, সেই অঞ্চলের শায়খ, আবু সাঈদ, আত-তামিমি, আদ-দারিমি, আস-সিজিস্তানি, বিশাল ‘মুসনাদ’ ও বিভিন্ন গ্রন্থের প্রণেতা।

তিনি দুইশত হিজরির কিছুকাল পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাদীস অন্বেষণে বিভিন্ন দেশ পরিভ্রমণ করেন।

তিনি যাদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন: আবুল ইয়ামান, ইয়াহইয়া বিন সালিহ আল-উহাযি, সাঈদ বিন আবি মারয়াম, মুসলিম বিন ইবরাহিম, আব্দুল গাফফার বিন দাউদ আল-হাররানি, সুলাইমান বিন হারব, আবু সালামাহ আত-তাবুযাকি, নুআইম বিন হাম্মাদ, আব্দুল্লাহ বিন সালিহ (লাইসের লেখক), মুহাম্মাদ বিন কাসীর, মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ, আবু তাওবাহ আল-হালাবি, আব্দুল্লাহ বিন রাজা আল-গাদানি, আবু জাফর আন-নুফাইলি, আহমাদ বিন হাম্বল, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আলী বিন আল-মাদিনি, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, ফারওয়াহ বিন আল-মাগরা, আবু বকর বিন আবি শাইবাহ, ইয়াহইয়া আল-হিমানি, সাহল বিন বাক্কার, আবু রাবি আয-যাহরানি, মুহাম্মাদ বিন আল-মিনহাল, হাইসাম বিন খারিজাহ এবং মক্কা-মদিনা, শাম, মিশর, ইরাক, জাযিরা ও অনারব ভূখণ্ডের অসংখ্য ব্যক্তি।

তিনি ‘বিশর আল-মারিসির খণ্ডন’ বিষয়ক একটি গ্রন্থ এবং ‘জাহমিয়াদের খণ্ডন’ বিষয়ক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে।

তিনি আলী, ইয়াহইয়া ও আহমাদ-এর নিকট থেকে হাদীস শাস্ত্র ও এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইল্লাল) সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেন এবং স্বীয় যুগের মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন। তিনি সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী এবং বিতর্ক বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
حدث عنه: أبو عمرو: أحمد بن محمد الحيري، ومحمد بن إبراهيم الصرام، ومُؤَمِّل بن الحسين، وأحمد بن محمد بن الأزهر، ومحمد بن يوسف الهروي، وأبو إسحاق بن ياسين، ومحمد بن إسحاق الهروي، وأحمد بن محمد بن عبدوس الطرائفي، وأبو النضر محمد بن محمد الطُّوسِي الفقيه، وحامد الرفاء، وأحمد بن محمد العنبري، وأبو الفضل يعقوب القراب، وخلق كثير من أهل هراة، وأهل نيسابور.

قال الحاكم: سمعت محمد بن العباس الضبي، سمعت أبا الفضل يعقوب بن إسحاق القراب يقول: ما رأينا مثل عثمان بن سعيد، ولا رأى عثمان مثل نفسه، أخذ الأدب عن ابن الأعرابي، والفقه عن أبي يعقوب البويطي، والحديث عن ابن معين وابن المديني، وتقدم في هذه العلوم،.

وقال أبو حامد الأعمشي: ما رأيت في المحدثين مثل محمد بن يحيى وعثمان بن سعيد، ويعقوب الفسوي.

وقال أبو عبد الله بن أبي ذهل: قلت لأبي الفضل القراب: هل رأيت أفضل من عثمان بن سعيد الدارمي؟ فأطرق ساعة، ثم قال: نعم، إبراهيم الحربي، وقد كنا في مجلس الدارمي غير مرة، ومَرَّ به الأمير عمرو بن الليث، فسلم عليه، فقال: وعليكم، حدثنا مسدد … ولم يزد على رد السلام.

قال ابن عبدوس الطرائفي: لما أردتُ الخروج إلى عثمان بن سعيد يعني إلى هراة - أتيت ابن خزيمة، فسألته أن يكتب لي إليه، فكتب إليه،
তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু আমর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হায়রি, মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আস-সাররাম, মুয়াম্মিল বিন আল-হুসাইন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আজহার, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-হারাভি, আবু ইসহাক বিন ইয়াসিন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-হারাভি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুস আত-তারাফি, আবুল নাদর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তুসি আল-ফকিহ, হামিদ আর-রাফ্ফা, আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আম্বারি, আবুল ফজল ইয়াকুব আল-কাররাব এবং হেরাত ও নিশাপুরের অসংখ্য মানুষ।

হাকিম বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আদ-দাব্বিকে বলতে শুনেছি, আমি আবুল ফজল ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-কাররাবকে বলতে শুনেছি: আমরা উসমান বিন সাঈদের মতো কাউকে দেখিনি, এবং উসমানও নিজের মতো কাউকে দেখেননি। তিনি ইবনুল আরাবি থেকে আদব (সাহিত্য), আবু ইয়াকুব আল-বুয়াইতি থেকে ফিকহ এবং ইবনে মায়িন ও ইবনুল মাদিনি থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং এই বিজ্ঞানগুলোতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন।

আবু হামিদ আল-আমাশি বলেন: আমি মুহাদ্দিসদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, উসমান বিন সাঈদ এবং ইয়াকুব আল-ফাসাভির মতো কাউকে দেখিনি।

আবু আব্দুল্লাহ বিন আবু যুহল বলেন: আমি আবুল ফজল আল-কাররাবকে বললাম: আপনি কি উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমির চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখেছেন? তিনি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন, তারপর বললেন: হ্যাঁ, ইবরাহিম আল-হারবি। আমরা একাধিকবার দারিমির মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, একদা আমির আমর বিন আল-লাইস তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি উত্তরে বললেন: ওয়া আলাইকুম (এবং আপনাদের ওপরও), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ ... তিনি সালামের উত্তরটুকুর বেশি আর কিছুই বলেননি।

ইবনে আবদুস আত-তারাফি বলেন: যখন আমি উসমান বিন সাঈদের কাছে—অর্থাৎ হেরাতে—যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন ইবনে খুজাইমার নিকট আসলাম এবং তাঁর কাছে আমাকে সুপারিশ করে একটি পত্র লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানালাম। তখন তিনি তাঁর নিকট পত্র লিখে দিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
فدخلت هراة في ربيع الأول، سنة ثمانين ومائتين، فأوصلته الكتاب، فقرأه، ورحب بي، وسأل عن ابن خزيمة، ثم قال: يا فتى! متى قدمت؟ قلت: غدًا.

قال: يا بني! فارجع اليوم، فإنك لم تقدم بعد، حتى تقدم غدًا.

قال أحمد بن محمد بن الأزهر: سمعت عثمان بن سعيد الدارمي يقول: أتاني محمد بن الحسين السجزي، وكان قد كتب عن يزيد بن هارون، وجعفر بن عون، فقال: يا أبا سعيد! إنهم يجيئوني، فيسألوني أن أحدثهم، وأنا أخشى أن لا يسعني ردهم.

قلت: ولم؟ قال: لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من سئل عن علم، فكتمه، ألجم بلجام من نار» قال: إنما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن علم تعلمه، وأنت لا تعلمه.

قال يعقوب القراب: سمعت عثمان بن سعيد الدارمي يقول: قد نويت أن لا أحدث عن أحد أجاب إلى خلق القرآن.

قال: فتوفي قبل ذلك.

قلت: من أجاب تقية، فلا بأس عليه، وترك حديثه لا ينبغي.

قلت: كان عثمان الدارمي جِذْعًا في أعين المبتدعة، وهو الذي قام على محمد بن كَرَّام، وطرده عن هراة، فيما قيل.

قال عثمان بن سعيد: من لم يجمع حديث شعبة وسفيان ومالك، وحماد بن زيد، وسفيان بن عيينة، فهو مفلس في الحديث - يريد أنه ما بلغ درجة الحفاظ -.
আমি দুইশ আশি হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে হেরাতে প্রবেশ করলাম। আমি তাঁর নিকট কিতাবটি পৌঁছালাম। তিনি সেটি পাঠ করলেন, আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং ইবনে খুজাইমা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। এরপর বললেন: হে যুবক! তুমি কখন আগমন করেছ? আমি বললাম: আগামীকাল।

তিনি বললেন: হে বৎস! আজ ফিরে যাও, কারণ তুমি এখনও আগমন করোনি, যতক্ষণ না তুমি আগামীকাল আগমন করবে।

আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আজহার বলেন: আমি উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমিকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সিজজি আমার নিকট আগমন করলেন—যিনি ইয়াজিদ বিন হারুন ও জাফর বিন আউন থেকে হাদিস লিখেছিলেন—এবং বললেন: হে আবু সাঈদ! তারা আমার নিকট আসে এবং তাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করার জন্য আমাকে অনুরোধ করে। আমি আশঙ্কা করছি যে, তাদের প্রত্যাখ্যান করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।

আমি বললাম: কেন? তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "যাকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় আর সে তা গোপন করে, তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।" তিনি (উসমান আদ-দারিমি) বললেন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই জ্ঞান সম্পর্কেই এমনটি বলেছেন যা তুমি অবগত আছো, অথচ এটি তো তুমি জানো না।

ইয়াকুব আল-কাররাব বলেন: আমি উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমিকে বলতে শুনেছি: আমি এই মর্মে সংকল্প করেছি যে, যে ব্যক্তি কুরআন সৃষ্টির মতবাদে স্বীকৃতি দিয়েছে, তার থেকে আমি কোনো হাদিস বর্ণনা করব না।

তিনি বলেন: অতঃপর এর পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।

আমি বললাম: যারা আত্মরক্ষার্থে (তাকিয়া) সাড়া দিয়েছিল, তাদের ওপর কোনো দোষ নেই, এবং তাদের হাদিস পরিত্যাগ করা অনুচিত।

আমি বললাম: বিদআতিদের চোখে উসমান আদ-দারিমি ছিলেন কণ্টকসদৃশ। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি মুহাম্মদ বিন কাররামের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী তাকে হেরাত থেকে বিতাড়িত করেছিলেন।

উসমান বিন সাঈদ বলেন: যে ব্যক্তি শু’বা, সুফিয়ান, মালিক, হাম্মাদ বিন জায়েদ এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনার হাদিসসমূহ সংগ্রহ করেনি, সে হাদিস শাস্ত্রে নিঃস্ব—এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, সে ব্যক্তি হাফেজদের স্তরে পৌঁছেনি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وبلا ريب، أن من جمع علم هؤلاء الخمسة، وأحاط بسائر حديثهم، وكتبه عاليًا ونازلًا، وفهم عِلَلَهُ، فقد أحاط بشطر السنة النبوية، بل بأكثر من ذلك، وقد عدم في زماننا من ينهض بهذا، وببعضه، فنسأل الله المغفرة.

وأيضا فلو أراد أحد أن يتتبع حديث الثوري وحده، ويكتبه بأسانيد نفسه على طولها، ويبين صحيحه من سقيمه، لكان يجئ مسنده في عشر مجلدات، وإنما شأن المحدث اليوم الاعتناء بالدواوين الستة، ومسند أحمد بن حنبل، وسنن البيهقي، وضبط متونها وأسانيدها، ثم لا ينتفع بذلك حتى يتقي ربه، ويدين بالحديث، فعلى علم الحديث وعلمائه ليبك من كان باكيًا، فقد عاد الإسلام المحض غريبًا كما بدأ، فليسع امرؤ في فكاك رقبته من النار، فلا حول ولا قوة إلا بالله.

ثم العلم ليس هو بكثرة الرواية، ولكنه نور يقذفه الله في القلب، وشرطه الاتباع، والفرار من الهوى والابتداع.

وفقنا الله وإياكم لطاعته.

قال المحدث يحيى بن أحمد بن زياد الهروي، صاحب ابن معين: رأيت في النوم كأن قائلا يقول: إن عثمان - يعني الدارمي - لذو حظ عظيم.

وقال محمد بن المنذر شكر: سمعت أبا زرعة الرازي، وسألته عن عثمان بن سعيد، فقال: ذاك رُزِقَ حسن التصنيف.
নিঃসন্দেহে, যে ব্যক্তি এই পাঁচজনের ইলম একত্রিত করেছে, তাদের সমস্ত হাদিস আয়ত্ত করেছে, তা উচ্চ ও নিম্ন সনদে লিপিবদ্ধ করেছে এবং সেগুলোর ইল্লত অনুধাবন করেছে, সে নবুওয়তি সুন্নাহর অর্ধেক, বরং তার চেয়েও বেশি পরিবেষ্টন করেছে। বর্তমান যুগে এমন লোক নেই বললেই চলে যারা এই কাজে অথবা এর আংশিক কাজেও অগ্রসর হতে পারে। সুতরাং আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আরও কথা হলো, কেউ যদি কেবল ছাওরির হাদিসগুলো অনুসন্ধান করতে চায় এবং দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও নিজের সনদে তা লিপিবদ্ধ করতে চায় এবং সেগুলোর সহিহ ও দুর্বল অংশগুলো পৃথক করতে চায়, তবে তার মুসনাদ দশ খণ্ডে দাঁড়াবে। বর্তমান সময়ের মুহাদ্দিসদের কাজ কেবল কুতুবুস সিত্তাহ, আহমাদ বিন হাম্বলের মুসনাদ ও বায়হাকির সুনানের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সেগুলোর মতন ও সনদসমূহ আয়ত্ত করা। এরপর সে তা দিয়ে ততক্ষণ উপকৃত হবে না যতক্ষণ না সে তার রবকে ভয় করে এবং হাদিসের অনুসারী হয়। সুতরাং ইলমে হাদিস ও এর আলিমদের অবস্থার জন্য ক্রন্দনকারীর ক্রন্দন করা উচিত; কেননা বিশুদ্ধ ইসলাম আবারও সূচনাকালের মতো অপরিচিত হয়ে পড়েছে। অতএব প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা; আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

অতঃপর ইলম অধিক বর্ণনার নাম নয়; বরং এটি এমন এক নূর যা আল্লাহ অন্তরে নিক্ষেপ করেন। এর শর্ত হলো অনুসরণ করা এবং প্রবৃত্তি ও বিদআত থেকে পলায়ন করা।

আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদেরকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দান করুন।

ইবনে মায়িনের সহযোগী মুহাদ্দিস ইয়াহইয়া বিন আহমাদ বিন যিয়াদ আল-হারাবি বলেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম এক ব্যক্তি বলছে: নিশ্চয়ই উসমান—অর্থাৎ আদ-দারিমি—মহা সৌভাগ্যের অধিকারী।

মুহাম্মাদ বিন মুনযির শাকার বলেন: আমি আবু যুরআ আর-রাযিকে উসমান বিন সাঈদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি, তখন তিনি বলেছিলেন: তাকে চমৎকার গ্রন্থ রচনার সক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال أبو الفضل الجارودي: كان عثمان بن سعيد إمامًا يُقْتَدَى به في حياته وبعد مماته.

قال محمد بن إبراهيم الصرام: سمعت عثمان بن سعيد يقول: لا نكيف هذه الصفات، ولا نكذب بها، ولا نفسرها.

وبلغنا عن عثمان الدارمي، أنه قال له رجل كبير يحسده: ماذا أنت لولا العلم؟ فقال له: أردتَ شينًا فصار زينًا.

أخبرنا الحسن بن علي، أخبرنا عبد الله بن عمر، أخبرنا أبو الوقت السجزي، أخبرنا أبو إسماعيل الأنصاري، حدثنا محمد بن أحمد الجارودي، ويحيى بن عمار، ومحمد بن جبريل أملوه، وأخبرنا محمد بن عبد الرحمن، قالوا: أخبرنا أبو يعلى أحمد بن محمد الواشقي هروي، أخبرنا عثمان بن سعيد الدارمي، أخبرنا يحيى الحماني، عن ابن نمير عن مجالد، عن الشعبي، عن جابر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو بدا لكم موسى فاتبعتموه وتركتموني لضللتم عن سواء السبيل، ولو كان حيا ثم أدرك نبوتي لاتبعني» هذا حديث غريب، ومجالد ضعيف الحديث.

ومن كلام عثمان في كتاب «النقض» له: اتفقت الكلمة من المسلمين أن الله تعالى فوق عرشه، فوق سماواته.

قلت: أوضح شئ في هذا الباب قوله عز وجل: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى (5)} [طه: 5].
আবু ফজল আল-জারুদী বলেছেন: উসমান ইবনে সাঈদ তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরে একজন অনুকরণীয় ইমাম ছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আস-সাররাম বলেছেন: আমি উসমান ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: আমরা এই গুণাবলির ধরণ নির্ধারণ করি না, এগুলিকে অস্বীকার করি না এবং এগুলির ব্যাখ্যা করি না।

উসমান আদ-দারেমী থেকে আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাকে হিংসা করে এমন একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি তাকে বলেছিল: জ্ঞান না থাকলে আপনি কী হতেন? তখন তিনি তাকে বলেছিলেন: তুমি আমাকে অপমান করতে চেয়েছিলে, কিন্তু তা সৌন্দর্যে পরিণত হয়েছে।

আল-হাসান ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ওয়াক্ত আস-সিজজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসমাঈল আল-আনসারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-জারুদী, ইয়াহইয়া ইবনে আম্মার এবং মুহাম্মদ ইবনে জিবরীল আমাদের কাছে শ্রুতলিপি দিয়েছেন এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেছেন: আবু ইয়ালা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াশকি আল-হারাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারেমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া আল-হিমানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যদি মূসা তোমাদের সামনে আবির্ভূত হতেন আর তোমরা আমাকে ছেড়ে তাঁর অনুসরণ করতে, তবে তোমরা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হতে। তিনি যদি জীবিত থাকতেন এবং আমার নবুওয়াতকাল পেতেন, তবে অবশ্যই তিনি আমার অনুসরণ করতেন» এটি একটি গরীব হাদীস, আর মুজালিদ হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।

উসমানের 'আন-নাকদ' কিতাবের কিছু কথা হলো: মুসলিমদের এই মর্মে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে, তাঁর আকাশমণ্ডলীর উপরে রয়েছেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই অধ্যায়ে সবচেয়ে স্পষ্ট বিষয় হলো মহান আল্লাহর বাণী: {দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন (৫)} [ত্বহা: ৫]।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
فليمر كما جاء، كما هو معلوم من مذهب السلف، وينهى الشخص عن المراقبة والجدال، وتأويلات المعتزلة {رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ} [آل عمران: 53].

قال يعقوب بن إسحاق: سمعت عثمان بن سعيد يقول: ما خاض في هذا الباب أحد ممن يذكر إلا سقط، فذكر الكرابيسي فسقط حتى لا يذكر، وكان معنا رجل حافظ بصير، وكان سليمان بن حرب والمشايخ بالبصرة يكرمونه، وكان صاحبي ورفيقي - يعني فتكلم فيه - فسقط.

وقال الحسن بن صاحب الشاشي: سألت أبا داود السجستاني عن عثمان بن سعيد، فقال: منه تعلمنا الحديث.

قال أبو إسحاق أحمد بن محمد بن يونس: توفي عثمان الدارمي في ذي الحجة سنة ثمانين ومائتين.

وهكذا أَرَّخَه إسحاق القَرَّاب وغيره، وما رواه أبو عبد الله الضبي عن شيوخه، أنه مات سنة اثنتين وثمانين ومائتين، فوهم ظاهر.

أخبرنا عمر بن عبد المنعم قراءة، عن أبي القاسم بن الحرستاني، عن أبي نصر أحمد بن عمر الحافظ، أخبرنا عبد الرحمن بن الأحنف، أخبرنا إسحاق بن يعقوب القراب، أخبرنا محمد بن الفضل المُزَكِّي، أخبرنا محمد بن إبراهيم الصرام، حدثنا عثمان بن سعيد الحافظ، حدثنا عبد الله بن صالح، عن ليث بن سعد، عن يحيى بن سعيد، عن خالد بن أبي عمران، عن أبي عَيَّاش بن أبي
এটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই রাখা উচিত, যেমনটি সালাফদের মাযহাব থেকে সুপরিচিত। আর ব্যক্তিকে (এসকল বিষয়ে) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা, বিতর্ক করা এবং মুতাযিলাদের অপব্যাখ্যা থেকে নিষেধ করা হবে। "হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং রাসূলের অনুসরণ করেছি" [আল-ইমরান: ৫৩]।

ইয়াকুব ইবনে ইসহাক বলেন: আমি উসমান ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: যারা উল্লেখযোগ্য তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই এ বিষয়ে (তর্ক-বিতর্কে) লিপ্ত হয়েছে, সে-ই পতিত হয়েছে। অতঃপর তিনি আল-কারাবিসীর কথা উল্লেখ করলেন, সে-ও এমনভাবে পতিত হয়েছে যে তার আর উল্লেখই করা হয় না। আমাদের সাথে একজন হাফেজ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন, সুলাইমান ইবনে হারব ও বসরার মাশায়েখগণ তাকে সম্মান করতেন, তিনি আমার বন্ধু ও সাথী ছিলেন—অর্থাৎ তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন—অতঃপর তিনিও পতিত হলেন।

হাসান ইবনে সাহিব আশ-শাশী বলেন: আমি আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিকে উসমান ইবনে সাঈদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: আমরা তাঁর কাছ থেকেই হাদিস শিখেছি।

আবু ইসহাক আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস বলেন: উসমান আদ-দারিমি ২৮০ হিজরির জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন।

এভাবেই ইসহাক আল-কাররাব ও অন্যরা তাঁর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেছেন। আর আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি তাঁর শিক্ষকদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ২৮২ হিজরিতে মারা গেছেন, তা স্পষ্ট ভুল।

উমর ইবনে আব্দুল মুনইম কিরাআতের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুল কাসিম ইবনে আল-হুরস্তানি থেকে, তিনি হাফেজ আবু নাসর আহমদ ইবনে উমর থেকে, আব্দুর রহমান ইবনে আল-আহনাফ আমাদের জানিয়েছেন, ইসহাক ইবনে ইয়াকুব আল-কাররাব আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল আল-মুযাক্কি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আস-সাররাম আমাদের জানিয়েছেন, হাফেজ উসমান ইবনে সাঈদ আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের জানিয়েছেন, লাইস ইবনে সা’দ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আবু ইমরান থেকে, তিনি আবু আইয়্যাশ ইবনে আবু থেকে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
مِهْران، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنما قلب ابن آدم بين أصبعين من أصابع الرحمن عز وجل».

هذا حديث غريب جدًا، والمتن قد روي من وجوه، وهو في صحيح مسلم.

قال الحاكم أبو عبد الله: والدارمي سجزي، سكن هراة، سمع: ابن أبي مريم، وأبا صالح بمصر، وابن أبي أويس بالحجاز، وسليمان بن حرب، ومحمد بن كثير، وأبا سلمة بالبصرة، وأبا غسان، وأحمد بن يونس بالكوفة، ويحيى بن صالح، والربيع بن روح، ويزيد بن عبد ربه بالشام.

 

* * *
মিহরান, আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আদম সন্তানের অন্তর পরম করুণাময় মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙ্গুলের মাঝে রয়েছে»।

এটি অত্যন্ত গরিব (সূত্রে একক) একটি হাদিস, আর এর মূল পাঠটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এটি সহীহ মুসলিমে বিদ্যমান।

আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর দারেমি ছিলেন সিজিস্তানি, তিনি হেরাতে বসবাস করতেন। তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন: মিশরে ইবন আবি মারইয়াম ও আবু সালিহ থেকে, হিজাজে ইবন আবি উওয়াইস থেকে, সুলায়মান ইবন হারব, মুহাম্মদ ইবন কাসীর এবং বসরার আবু সালামা থেকে, আবু গাসসান এবং কুফার আহমাদ ইবন ইউনুস থেকে এবং শামে ইয়াহইয়া ইবন সালিহ, আল-রাবী ইবন রাওহ ও ইয়াযীদ ইবন আব্দ রাব্বিহ থেকে।

 

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌صور المخطوط
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২০)
الصفحة الأولى من المجموع وعليها عنوان كتاب النقض، ويظهر عليها السماعات، وعلى اليسار الإشارة إلى وجود كتاب الرد على الجهمية ضمن المجموع.
সংকলনের প্রথম পৃষ্ঠা যাতে 'কিতাবুন নাকদ' গ্রন্থের শিরোনাম বিদ্যমান এবং এতে শ্রবণ-সনদসমূহ (সামাআত) পরিলক্ষিত হয়; আর বাম পাশে সংকলনটির অন্তর্ভুক্ত 'কিতাবুর রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থের উপস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২১)
صفحة العنوان
শিরোনাম পাতা
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২২)
الصفحة الأولى من الكتاب
কিতাবের প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২৩)
الصفحة الأخيرة
শেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২৫)
الرَّدُّ عَلى الجَهَمِّيَة

تَصْنيفُ

أبي سَعِيدٍ عُثمَانَ بن سعِيدٍ الدَّارمِيِّ

المتوفى سنة 280 هـ

 

حَقَّقَهُ وضَبَطَ نَصَّهُ

أَبوُ عَاصِم الشَّوَامِيّ الأَثرِي

وبِذَيْلِهِ

التَّخريجَاتُ العِلمِيَّة لِكتابِ الرَّدِّ عَلى الجَهْمِيَّة

تَصْنِيفُ

أبي عَاصِمٍ الشَّوَامِيّ الأَثريِ
জাহমিয়াদের প্রতিবাদ

রচনা

আবু সাঈদ উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি

মৃত্যু: ২৮০ হিজরি

 

সম্পাদনা ও পাঠ্য বিন্যাস

আবু আসিম আশ-শাওয়ামি আল-আসারি

এবং এর পরিশিষ্টে রয়েছে

জাহমিয়াদের প্রতিবাদ গ্রন্থের ইলমি তাখরিজাত

রচনা

আবু আসিম আশ-শাওয়ামি আল-আসারি
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

رَبِّ يَسِّرْ وأَعِنْ بِرَحمَتِكَ

أخبرنا أبو المكارِم عبدُ العظيمِ بن عبد اللطيف بن أبِي نصرٍ الشَّرابِي الأصبهاني في كتابه إلينا قال: أخبرتنا الشَّيْخةُ أمُّ الصُّبْحِ؛ ضَوءُ النِّسَاءِ بِنْتُ أبي الفتحِ عبدِ الرزَّاقِ بنِ مُحمَّدٍ بْنِ سَهلٍ الشَّرابي، بقراءتِي عليها في ربيع الثاني من سنة سبع وستين وخمسمائة، قالت: أخبرنا أبي؛ الإمامُ أبو الفَتْحِ عبدُ الرَّزَّاقِ، قِراءةً عليه في دَارِنا بِأصْبَهَانَ، في صَفَر سَنَةَ تِسعٍ وعِشْرِينَ وخَمْسِمَائة.

قال: حدثنا الشيخُ الإمامُ نجمُ الخُطباءِ؛ أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن محمد المُذَكِّر الهروي، المقيم بصع (1) قرية من قُرى هَرَاة، فيما قرأت عليه بها من أصل سماعه، بخط الحافظ أبي الفتحِ بن سَمْكَوَيْهِ، قلت له: أخبركم الشيخ الفقيه أبو رَوْحٍ ثابتُ بنُ محمدٍ الأزدي السعدي، في شهور سنة ست وخمسين وأربعمائة، قال: أخبرنا أبِي؛ أبو محمدٍ مُحمدُ بنُ أحمدَ بنِ محمدِ بنِ الفَضْلِ قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن إبراهيم القُرَشِي، أنَّ الإمام أبا سعيد عثمان بن سعيد، حَدَّثَهُم قال:

الحمدُ للهِ الذي له ما في السَّماواتِ وما في الأرضِ وما بينهُما وما تَحْتَ الثَّرَى عَالمِ الغَيبِ، لا يَعْزُبُ عنه مِثقَالَ ذَرَّةٍ في السماواتِ ولا في الأَرضِ، يَعْلَمُ سِرَّ خَلقِهِ وجَهْرَهُم، ويَعلَمُ ما يَكسِبُون، نَحْمَدُهُ بجميع محامدِه، ونَصِفُهُ بما وصَفَ به نفسَهُ، ووصَفَهُ بِه الرسولُ.

--------------------------------------------

(1) كذا رسمها في المخطوط، ولم أقف فيما لدي من مصادر على هذه القرية حتى أضبطها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার রব! আপনি আপনার রহমতে সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।

আবু আল-মাকারিম আব্দুল আজিম ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে আবু নাসর আশ-শারাবি আল-আসফাহানি তাঁর কিতাবে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: শাইখা উম্মুস সুব্হ; দাউউন নিসা বিনতে আবুল ফাতহ আব্দুর রাজ্জাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাহল আশ-শারাবি আমাদের জানিয়েছেন—পাঁচশত সাতষট্টি হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে তাঁর নিকট আমার পাঠের সময়—তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আমার পিতা ইমাম আবুল ফাতহ আব্দুর রাজ্জাক; পাঁচশত ঊনত্রিশ হিজরি সনের সফর মাসে আসফাহানে আমাদের নিজ বাড়িতে তাঁর নিকট পাঠের সময়।

তিনি বলেন: শাইখ ইমাম নাজমুুল খুত্বাবা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুযাক্কির আল-হারাউই আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি হারাতের একটি গ্রাম সা' (১)-তে বসবাস করতেন; তাঁর শোনা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমি সেখানে তাঁর নিকট যা পাঠ করেছি এবং তা হাফেজ আবু ফাতহ ইবনে সামকাওয়াইহ-এর হাতের লেখা ছিল। আমি তাঁকে বলেছিলাম: ফকিহ শাইখ আবু রাওহ সাবিত ইবনে মুহাম্মদ আল-আযদি আস-সাদি কি আপনাদের চারশত ছাপ্পান্ন হিজরি সনের মাসসমূহে জানিয়েছেন? তিনি বলেন: আমাকে জানিয়েছেন আমার পিতা আবু মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফযল, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-কুরাশি যে, ইমাম আবু সাঈদ উসমান ইবনে সাঈদ তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, যা তাদের মাঝে আছে এবং মাটির নিচে যা আছে তা সবই তাঁর। তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত; আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়। তিনি তাঁর সৃষ্টির গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়াদি জানেন এবং তারা যা অর্জন করে তাও জানেন। আমরা সকল প্রকার প্রশংসা দ্বারা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁকে সেই সমস্ত গুণে গুণান্বিত করি যে সব গুণে তিনি স্বয়ং নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর রাসুল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই লেখা আছে, তবে আমার কাছে থাকা উৎসগুলোতে আমি এই গ্রামের কথা খুঁজে পাইনি যাতে এর সঠিক উচ্চারণ নির্ণয় করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২৮)
فهو اللهُ الرحمنُ الرحيمُ، قريبٌ مجيبٌ متكلمٌ قائلٌ، وشاءٍ مُريدٌ فَعَّالٌ لما يُرِيدُ، الأولُ قَبْلَ كُلِّ شَيْءٍ، والآخِرُ بَعْدَ كُلِّ شَيء، له الأمر مِنْ قَبْلُ ومِنْ بعد، وله الخَلْقُ والأَمْرُ، تبارك اللهُ ربُّ العَالمينَ، وله الأسماءُ الحُسْنَى، يُسبِّحُ له ما في السماواتِ والأرضِ وهو العزيز الحكيم، يَقْبِضُ ويَبْسُطُ، ويَتَكَلَّمُ، ويَرضَى ويَسْخَطُ ويَغْضَبُ، ويُحِبُّ ويَبْغَضُ ويَكْرَهُ، ويَضْحَكُ، ويَأْمُرُ ويَنْهَى، ذو الوجهِ الكريمِ، والسَّمعِ السَّمَيع، والبَصَرِ البَصِير، والكَلَامِ المُبِينِ، واليَدَيْنِ والقَبْضَتَينِ، والقُدْرَةِ والسُّلْطَانِ، والعَظَمَةِ والعِلمِ الأَزَليِّ، لم يَزَلْ كذلك ولا يَزَال، استوى على عَرشِهِ فَبَانَ مِنْ خَلْقِهِ، لا تَخفَى عليه منهم خَافيةٌ، عِلْمُهُ بهم مُحيطٌ، وبَصَرُهُ فيهم نافِذٌ، ليس كمثله شيءٌ، وهو السَّمِيعُ البَصِير.

فبهذا الربِّ نُؤمِنُ، وإيَّاه نَعْبُدُ، وله نُصلِّي ونَسْجُدُ، فَمَن قَصَدَ بعبادتِهِ إلى إلهٍ بخلافِ هذه الصفات؛ فإنما يَعبدُ غَيْرَ الله، وليس معبودُهُ بإله -كُفْرَانَهُ لا غُفْرانَهُ -.

فَنَشْهَدُ أن لا إله إلا اللهُ وحدهُ لا شريكَ له، وأن محمدًا عبدُهُ ورسُوُلُه اصطفاهُ لِوَحْيِهِ وانْتَجَبَهُ لِرِسَالَتِهِ واخْتَارَهُ من خَلْقِهِ لخلْقِهِ، فَأَنْزَلَ عليْهِ كَلامَهُ المُبِين وكِتَابَه العزيز، الذي لا يأتيه البَاطِلُ مِنْ بَيْن يَدَيهِ ولا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيد، قُرآنًا عَرَبِيًّا غَيرَ ذِي عِوَجٍ يهدي للتي هي أقوم، ويبشر [المؤمنين] (1)، فيه نبأُ الأولين وخبرُ الآخرين، لا تنقضي عِبَرُهُ ولا تَفْنَى عَجَائِبُهُ، غير مخلوق ولا منسوب إلى مخلوق، نزل به الروح الأمين على قلبك؛ لتكون من المنذرين، من لدن حكيم عليم.

قال: {وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ (6)} [النمل:6].

--------------------------------------------

(1) في الأصل «الأولين» وكتب فوقها كذا.
তিনিই আল্লাহ, পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু; তিনি নিকটবর্তী, সাড়াদানকারী, কথা বলেন ও বক্তব্য প্রদানকারী; তিনি অভিপ্রায়কারী, সংকল্পকারী এবং যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী। তিনি সবকিছুর পূর্বে প্রথম এবং সবকিছুর পরে শেষ। সকল কর্তৃত্ব পূর্বাপর তাঁরই এবং সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই অধিকারে; বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ অতীব বরকতময়। তাঁরই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ; আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তিনি মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তিনি সংকীর্ণ করেন ও প্রশস্ত করেন, কথা বলেন, সন্তুষ্ট হন, অসন্তুষ্ট হন ও রাগান্বিত হন; তিনি ভালোবাসেন, অপছন্দ করেন ও ঘৃণা করেন। তিনি হাসেন, আদেশ করেন ও নিষেধ করেন। তিনি সম্মানীত চেহারা, সর্বশ্রোতা শ্রবণশক্তি, সর্বদ্রষ্টা দৃষ্টিশক্তি এবং সুস্পষ্ট বাণীর অধিকারী। তিনি দুই হাত ও দুই মুষ্টির অধিকারী এবং চিরন্তন ক্ষমতা, আধিপত্য, মহিমা ও জ্ঞানের অধিকারী। তিনি সর্বদাই এমন ছিলেন এবং সর্বদা এমন থাকবেন। তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, ফলে তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা; তাদের কোনো গোপনীয়তাই তাঁর কাছে গোপন নয়। তাদের সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান পরিবেষ্টনকারী এবং তাদের মাঝে তাঁর দৃষ্টি পরিব্যাপ্ত। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

আমরা এই রবের প্রতিই ঈমান আনি, তাঁরই ইবাদত করি এবং তাঁরই জন্য সালাত আদায় ও সিজদাবনত হই। সুতরাং যে ব্যক্তি এই গুণাবলি বহির্ভূত কোনো উপাস্যের ইবাদত করার সংকল্প করে, সে মূলত আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুরই ইবাদত করল এবং তার উপাস্য কোনো ইলাহ নয়—তার জন্য রয়েছে কুফরি, ক্ষমা নয়।

আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল; তিনি তাঁকে তাঁর ওহির জন্য মনোনীত করেছেন, তাঁর রিসালাতের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে তাঁর সৃষ্টির হিদায়াতের জন্য পছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর ওপর তাঁর সুস্পষ্ট বাণী ও সম্মানীত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার সামনে কিংবা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা বা বাতিল আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও চির প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটি এক আরবি কুরআন, যা বক্রতামুক্ত এবং যা সুদৃঢ় পথের দিকে পরিচালিত করে ও [মুমিনদের] (১) সুসংবাদ দান করে। এতে রয়েছে পূর্ববর্তীদের ইতিবৃত্ত এবং পরবর্তীদের সংবাদ; এর শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ কখনো ফুরিয়ে যায় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হয় না। এটি কোনো সৃষ্টি নয় এবং কোনো সৃষ্টির দিকে সম্বন্ধযুক্তও নয়। মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় সত্তার পক্ষ থেকে রুহুল আমিন আপনার অন্তরে এটি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, যেন আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

তিনি বলেছেন: {আর অবশ্যই আপনি এই কুরআন লাভ করছেন প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী সত্তার পক্ষ থেকে।} [আন-নামল: ৬]

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'পূর্ববর্তীগণ' (আল-আউয়ালীন) ছিল এবং তার উপরে এরূপ লেখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195)} [الشعراء:193 - 195]، من قال به صدق ومن تمسك به هُدِي إلى صراط مستقيم. ثم قال لنبيه صلى الله عليه وسلم: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا (106)} [الإسراء: 106] فقرأه كما أمر، دعا إليه سِرًّا وجَهرًا، فلما سمع المشركون آيات مُبَيِّنَاتٍ قالوا: ساحرٌ وكاهنٌ وشاعرٌ ومُعلَّمٌ {وَانْطَلَقَ الْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ امْشُوا وَاصْبِرُوا عَلَى آلِهَتِكُمْ إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ يُرَادُ (6) مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الْآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلَّا اخْتِلَاقٌ (7)} [ص: 6 - 7] و {إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ (25)} [المدثر: 25]

و {لَوْ نَشَاءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ (31)} [الأنفال: 31] وقالوا: {إِنْ هَذَا إِلَّا إِفْكٌ افْتَرَاهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ} [الفرقان: 4] {وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا} [الفرقان: 5]، إنما يعلمه بشر مخلوق بكلام مخلوق مختلق.

فَكَذَّبَ اللهُ عز وجل قولهَم، وأبطلَ دعواهَم؛ فقال تعالى: {فَقَدْ جَاءُوا ظُلْمًا وَزُورًا} [الفرقان:4] وقال تعالى: {قُلْ أَنْزَلَهُ الَّذِي يَعْلَمُ السِّرَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا (6)} [الفرقان: 6] {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ (102)} [النحل:102] وقال: {لِسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُبِينٌ (103)} [النحل: 103].

ثم قال: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا (88)} [الإسراء:88].

ثم نَدَبَهُم جميعًا إلى أن يَأْتُوا بِمِثْلِهِ تَخَرُّصًا وتَعلُّمًا من الخُطَبَاءِ والشُّعَرَاءِ
এবং তিনি বলেছেন: {তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বস্ত আত্মা (১৯৩) আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন (১৯৪) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় (১৯৫)} [আশ-শুআরা: ১৯৩-১৯৫]। যে ব্যক্তি এটি অনুযায়ী কথা বলবে সে সত্য বলবে এবং যে একে মজবুতভাবে ধারণ করবে সে সরল পথের দিশা পাবে। অতঃপর তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: {আর আমি কুরআনকে ভাগে ভাগে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে বিরতি দিয়ে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি তা ক্রমে ক্রমে অবতীর্ণ করেছি (১০৬)} [আল-ইসরা: ১০৬]। ফলে তিনি তা পাঠ করেছেন যেভাবে তাঁকে আদেশ করা হয়েছিল, এবং তিনি এর দিকে গোপনে ও প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছেন। অতঃপর মুশরিকরা যখন সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ শুনল, তখন তারা বলল: জাদুকর, গণক, কবি এবং শিখিয়ে দেওয়া ব্যক্তি। {আর তাদের মধ্যকার নেতৃস্থানীয়রা এই বলে প্রস্থান করল যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের উপাসনায় অবিচল থাকো। নিশ্চয়ই এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক বিষয় (৬)। আমরা পূর্ববর্তী ধর্মে এমন কথা শুনিনি; এটি একটি মনগড়া মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয় (৭)} [সোয়াদ: ৬-৭] এবং {এটি তো মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয় (২৫)} [আল-মুদ্দাসসির: ২৫]

এবং {আমরা ইচ্ছা করলে এর মতো অবশ্যই বলতে পারতাম; এ তো কেবল পূর্ববর্তীদের উপকথা ছাড়া আর কিছু নয় (৩১)} [আল-আনফাল: ৩১]। তারা আরও বলল: {এটি তো একটি মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয় যা সে নিজে উদ্ভাবন করেছে এবং অন্য এক দল তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে (৪)} [আল-ফুরকান: ৪]। {তারা বলল: এগুলো তো পূর্ববর্তীদের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; অতঃপর এগুলো তার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করা হয় (৫)} [আল-ফুরকান: ৫]। আসলে তাকে এক সৃষ্টি করা মানুষ এক সৃষ্টি করা ও মিথ্যা উদ্ভাবিত বাণীর মাধ্যমে শিক্ষা দিচ্ছে।

অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদের বক্তব্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন এবং তাদের দাবিকে নস্যাৎ করেছেন; ফলে মহান আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই তারা জুলুম ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে (৪)} [আল-ফুরকান: ৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলুন, এটি তিনি অবতীর্ণ করেছেন যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রহস্য জানেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৬)} [আল-ফুরকান: ৬]। {বলুন, পবিত্র আত্মা আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ এটি অবতীর্ণ করেছেন যাতে যারা ঈমান এনেছে তাদের সুদৃঢ় করা হয় এবং এটি মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ (১০২)} [আন-নাহল: ১০২]। তিনি আরও বলেছেন: {তারা যার দিকে কুৎসা রটানোর উদ্দেশ্যে ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারবি, অথচ এটি হচ্ছে সুস্পষ্ট আরবি ভাষা (১০৩)} [আন-নাহল: ১০৩]।

অতঃপর তিনি বলেছেন: {বলুন, যদি মানুষ ও জিন জাতি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয় (৮৮)} [আল-ইসরা: ৮৮]।

অতঃপর তিনি তাদের সকলকে বাগ্মী ও কবিদের থেকে শেখার মাধ্যমে কিংবা মিথ্যা উদ্ভাবন করে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ জানালেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وغَيرِهِم إن كانوا صَادِقين، فقال تبارك وتعالى: {فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (13)} [هود: 13] وأتوا {بِسُورَةٍ مِثْلِهِ} [يونس:38]، {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (23) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 23 - 24].

فلم يَقْدَر الجنُّ والأنسُ عَربُها وعَجَمُها، من عَبَدَةِ الأَوْثَانِ، وعُلَماءِ أهلِ الكِتَابَيْنِ، أن يَأتُوا بِسُورَةٍ ولا بِبَعْضِ سُورَةٍ، ولَوْ عَلِمُوا أَنَّهم قادرونَ عليها؛ لَدَعَوْا شُهَدَاءَهُم إلى ذلك، وبَذَلُوا فيها الرَّغَائِبَ من الأموالِ وغَيرِهَا لخطبائهم وشعرائهم وأَحْبَارِهِم وأَسَاقِفَتِهِم وكَهَنَتِهِمْ وسَحَرَتِهِم؛ أن يأتوا بسورة مثلها تَصْدِيقًا لما ادَّعَوا من الزُّورِ تكذيبًا بمحمدٍ صلى الله عليه وسلم.

وأنَّى يأتي المخلوقُ بمثل كلام الخالق؟! وكيف يَقْدِرُ عليه؟! وقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالى: وَلَنْ تَفْعَلُوا، فلن تفعلوا إلى يوم القيامة، فكما أنه ليس كمثله شيء؛ فليس ككلامه كلام.

فلم يزلْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يدعو النَّاسَ إلى اللهِ وإِلى كتابه وكلامه سِرًّا وجَهْرًا، مُحْتَمِلاً لما نَالَهُ من أَذَاهُم صَابرًا عليه.

حتَّى أظهره اللهُ وأعزَّهُ وأنزل عليه نَصرَهُ؛ فضربَ وجوهَ العَرَبِ والعَجَمِ بالسيوفِ؛ حتى ذَلُّوا ودَانُوا ودخلوا الإِسْلَامَ طَوْعًا وكَرْهًا، واستقاموا حَيَاتَهُ وبعدَ وفاتِهِ، لا يَجْتَرِئُ كافرٌ ولا منافقٌ مُتَعَوِّذٌ بالإسلام أن يُظهِرَ ما في نفسه من الكُفْرِ وإِنْكَارِ النُّبوَّةِ؛ فَرَقاً من السَّيف وتَخَوُّفاً من الافْتِضَاحِ، بَلْ كَانُوا يَتَقَلَّبُونَ مع المسلمين بِغَمٍّ، ويعيشون فيهم على رُغمٍ دَهْرًا
এবং অন্যান্যরা যদি তারা সত্যবাদী হয়; তবে বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেছেন: {তবে তোমরা এর অনুরূপ দশটি মনগড়া সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} [হূদ: ১৩] এবং নিয়ে এসো {এর মতো একটি সূরা} [ইউনুস: ৩৮], {আর আমরা আমাদের বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষ্যদাতাদের ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি তোমরা তা না করো—এবং কখনোই করতে পারবে না—তবে তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।} [বাকারা: ২৩ - ২৪]।

সুতরাং জিন ও মানুষ, তাদের মধ্যকার আরব ও অনারব, মূর্তিপূজক এবং আহলে কিতাবের পণ্ডিতগণ একটি সূরা বা সূরার অংশবিশেষ আনতে সক্ষম হয়নি। যদি তারা জানত যে তারা এতে সক্ষম, তবে তারা তাদের সাক্ষ্যদাতাদের সেই লক্ষ্যে আহ্বান করত; এবং তারা তাদের বাগ্মী, কবি, পণ্ডিত, বিশপ, গণক ও জাদুকরদের এর জন্য বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও অন্যান্য কাঙ্ক্ষিত বস্তু উৎসর্গ করত; যাতে তারা তাদের করা মিথ্যা দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসতে পারে।

আর সৃষ্টি কীভাবে স্রষ্টার বাণীর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসবে?! এবং কীভাবে সে এর ক্ষমতা রাখবে?! অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না", সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত তোমরা তা করতে পারবে না। অতএব, যেমন তাঁর সদৃশ কোনো কিছু নেই; তেমনি তাঁর বাণীর সদৃশও কোনো বাণী নেই।

সুতরাং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে আল্লাহর দিকে এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর বাণীর দিকে গোপনে ও প্রকাশ্যে দাওয়াত প্রদান অব্যাহত রাখলেন, তাদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কষ্ট সহ্য করে ও তার ওপর ধৈর্য ধারণ করে।

শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাঁকে বিজয়ী করলেন, সম্মানিত করলেন এবং তাঁর ওপর তাঁর সাহায্য অবতীর্ণ করলেন; ফলে তিনি তরবারি দ্বারা আরব ও অনারবদের মুখমণ্ডল প্রহার করলেন; এমনকি তারা বশীভূত হলো, আনুগত্য স্বীকার করল এবং স্বেচ্ছায় ও অনিচ্ছায় ইসলামে দাখিল হলো। তারা তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর মৃত্যুর পর সুদৃঢ় থাকল; কোনো কাফির বা ইসলামের আড়ালে আত্মগোপনকারী মুনাফিক তার অন্তরের কুফরি ও নবুওয়াত অস্বীকারের বিষয়টি প্রকাশ করার সাহস পেত না—তরবারির ভয়ে এবং লাঞ্ছিত হওয়ার শঙ্কায়। বরং তারা দীর্ঘকাল মুসলমানদের সাথে বিষণ্ণ মনে বিচরণ করত এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করত।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৩১)
من الدَّهرِ وزَمَانًا مِنَ الزَّمَانِ، وكان أولُ من أَظْهَرَ شيئًا منه بعد كُفَّارِ قُريش؛ «الجَعْدُ بن دِرْهَم» (1) بالبَصْرةِ، و «جَهْمٌ» (2) بخُرَاسَان؛ اقتداءً بكفار قريش، فَقَتَلَ اللهُ جَهْمًا شَرَّ قِتْلة.

وأما الجعدُ فأخذه خالدٌ بن عبد الله القَسْرِي (3)، فذبحه ذبحًا بواسط في يوم أضحى (4) على رؤوس من شهد العيد معه من المسلمين، لا يَعِيبُهُ به عَائِبٌ، ولا يطعن عليه طاعن، بل استحسنوا ذلك من فعله، وصَوَّبوه من رأيه (5).

(1) حدثناه القَاسِمُ بنُ محمد البَغْدَادِيُّ، حدثنا عبدُ الرحمنِ بنُ محمد بنِ حَبِيبِ بنِ أَبِي حَبيب، عن أَبِيِه، عن جَدِّهِ حَبيبِ بنِ أَبِي حَبِيبٍ، قال: … «خَطَبَنا خَالدُ بنُ عبدِ اللهِ القَسْرِيُّ بِواسِط يوم أضحى (6) فقال: أَيُّهَا النَّاسُ! ارجعوا فَضَحُّوا تَقَبَّلَ اللهُ منَّا ومِنْكُم؛ فإنِّي مُضَحٍّ بالجعد بن درهم؛ إِنَّه زَعَمَ أنَّ اللهَ لم يتخذْ إبراهيمَ خَليلاً، ولم يُكَلِّم موسى تَكليمًا، وتعالى الله عما يقولُ الجَعْدُ بنُ دِرْهَم عُلوًّا كَبيرًا، ثم نَزَلَ فَذَبَحَهُ» (7).

--------------------------------------------

(1) «الجعد بن درهم»: من أهل الشام وهو مؤدب مروان الحمار، وهو شيخ الجهم بن صفوان الذي تنسب إليه الجهمية، ينظر ترجمته في سير أعلام النبلاء (5/ 433).

(2) هو جهم بن صفوان أبو محرز الرَّاسبِي؛ أُسُّ الضلالة ورأس الجهمية، قُتِل سنة ثمان وعشرين ومائة، وانظر خبر قتله في البداية والنهاية (10/ 29).

(3) هو الأمير الكبير أبو الهيثم خالد بن عبد الله بن يزيد القسري الدمشقي، ينظر ترجمته في سير أعلام النبلاء (5/ 425).

(4) في المطبوعة «الأضحى» والمثبت من الأصل.

(5) في الأصل «وصَوّبه من رأيه»، والمعنى هكذا لا يستقيم، وما أثبتناه من عند المصنف فقد أعاد هذا الحرف في باب إكفار الجهمية.

(6) في المطبوعة «الأضحى» والمثبت من الأصل.

(7) أخرجه البخاري في التاريخ الكبير (1/ 64)، وفي خلق أفعال العباد (ص 19)، والبيهقي في السنن الكبرى (10/ 205 - 206)، وفي الأسماء والصفات (569)، وغيرهم؛ من … =

= طريق عبد الرحمن بن محمد بن حبيب بن أبي حبيب عن أبيه عن جده، وعبد الرحمن مقبول وأبوه مجهول وجده صدوق يخطئ كما ذكر الحافظ رحمه الله؛ فهذا إسناد ضعيف.

لكن للخبر طريق آخر فقد أخرجه ابن أبي حاتم في كتاب الرد على الجهمية -كما في كتاب العلو للعلي الغفار للذهبي (ص 131) - قال حدثنا عيسى بن أبي عمران الرملي حدثنا أيوب بن سويد عن السري بن يحيى قال: خطبنا خالد، فذكر القصة، وهذا إسناد رجاله ثقات، غير أيوب بن سويد، قال الحافظ: صدوق يخطئ، فالقصة إسنادها حسن إن شاء الله، لاسيما وقد رواها الأئمة في كتبهم، واحتجوا بها.
দীর্ঘকাল এবং সময়ের একটি দীর্ঘ ব্যবধান জুড়ে; আর কুরাইশ কাফিরদের পর যে ব্যক্তি প্রথম এ বিষয়ে কিছু প্রকাশ করেছিল, সে হলো বসরার 'জাদ ইবনে দিরহাম' (১) এবং খুরাসানের 'জাহম' (২); কুরাইশ কাফিরদের অনুসরণে। অতঃপর আল্লাহ জাহমকে অত্যন্ত নিকৃষ্টভাবে হত্যা করেন।

আর জাদের ব্যাপারে কথা হলো, খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসরি (৩) তাকে পাকড়াও করেন। এরপর তিনি তাকে ঈদুল আজহার দিনে (৪) ওয়াসিত নামক স্থানে সেই সব মুসলমানদের সামনে জবাই করেন যারা তার সাথে ঈদে উপস্থিত ছিলেন। কোনো সমালোচকই এজন্য তাকে নিন্দা জানায়নি এবং কোনো আক্রমণকারীও তার ওপর দোষারোপ করেনি; বরং তারা তার এই কাজকে উত্তম মনে করেছেন এবং তার এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে গণ্য করেছেন (৫)।

(১) আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন কাসেম ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব ইবনে আবি হাবিব, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা হাবিব ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: … "ঈদুল আজহার দিনে (৬) ওয়াসিতে খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসরি আমাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! আপনারা ফিরে যান এবং কোরবানি করুন, আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আমি জাদ ইবনে দিরহামকে কোরবানি করছি। কারণ সে দাবি করেছে যে, আল্লাহ ইবরাহিমকে খলিল (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেননি এবং মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেননি। জাদ ইবনে দিরহাম যা বলে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং সুমহান। এরপর তিনি মিম্বার থেকে নামলেন এবং তাকে জবাই করলেন" (৭)।

--------------------------------------------

(১) 'জাদ ইবনে দিরহাম': তিনি সিরিয়ার অধিবাসী ছিলেন এবং মারওয়ান আল-হিমারের শিক্ষক ছিলেন। তিনি জাহম ইবনে সাফওয়ানের উস্তাদ ছিলেন যার দিকে জাহমিয়া মতবাদটি সম্বন্ধিত করা হয়। তার জীবনী দেখুন 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (৫/৪৩৩) গ্রন্থে।

(২) তিনি হলেন জাহম ইবনে সাফওয়ান আবু মুহরিজ আর-রাসিবি; ভ্রষ্টতার মূল ভিত্তি এবং জাহমিয়াদের প্রধান। তিনি ১২৮ হিজরিতে নিহত হন। তার নিহত হওয়ার খবর দেখুন 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১০/২৯) গ্রন্থে।

(৩) তিনি হলেন মহান আমির আবু হাইসাম খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-কাসরি আদ-দিমাশকি। তার জীবনী দেখুন 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (৫/৪২৫) গ্রন্থে।

(৪) মুদ্রিত সংস্করণে 'আল-আজহা' রয়েছে, তবে মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী এটি সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'وصوّبه من رأيه' রয়েছে, তবে অর্থটি এভাবে ঠিক হয় না। আমরা গ্রন্থকারের কাছ থেকে যা সাব্যস্ত করেছি তা হলো, তিনি জাহমিয়াদের কাফির ঘোষণার অধ্যায়ে এই অংশটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন।

(৬) মুদ্রিত সংস্করণে 'আল-আজহা' রয়েছে, তবে মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী এটি সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৭) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি 'আত-তারিখুল কাবির' (১/৬৪) ও 'খালকু আফআলিল ইবাদ' (পৃ. ১৯) গ্রন্থে, বায়হাকি 'আস-সুনানুল কুবরা' (১০/২০৫-২০৬) ও 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' (৫৬৯) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা; … =

= আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব ইবনে আবি হাবিবের সূত্রে, তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে। আব্দুর রহমান গ্রহণযোগ্য (মকবুল), তার পিতা অজ্ঞাত (মাজহুল) এবং তার দাদা সত্যবাদী হলেও ভুল করতেন যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) রহ. উল্লেখ করেছেন; সুতরাং এই সনদটি দুর্বল। তবে এই সংবাদের আরেকটি সূত্র রয়েছে। ইবনে আবি হাতিম 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়া' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন—যেমনটি আল্লামা যাহাবির 'আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার' (পৃ. ১৩১) গ্রন্থে রয়েছে—তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে আবি ইমরান আর-রামলি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ, তিনি সারিয়্য ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি বলেন: খালিদ আমাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন, এরপর তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করেন। এই সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ ব্যতীত; হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: তিনি সত্যবাদী তবে ভুল করতেন। সুতরাং এই ঘটনার সনদটি ইনশাআল্লাহ 'হাসান' (উত্তম), বিশেষ করে আইম্মায়ে কেরাম তাদের কিতাবসমূহে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال أبو سعيد: ثم لم يزالوا بعد ذلك مَقْمُوعِينَ أَذِلَّةً مدحورين حتَّى كان الآن بأخرة؛ حيثُ قَلَّتِ الفُقهاء وقُبِضَ العلماءُ، ودَعَا إلى البِدَعِ دُعاةُ الضَّلالِ؛ فَصَدَّ (1) ذَلِكَ طَمَعَ كلِّ مُتَعَوِّذٍ في الإسلام من أبناء اليهود والنصارى وأَنْبَاطِ العراق، وَوَجَدُوا فُرصَةً للكلام؛ فَجَدُّوا في هَدمِ الإسلام وتَعْطِيلِ ذِي الجلالِ والإكرام، وإِنْكارِ صِفَاتِهِ وتَكْذِيبِ رُسُلِهِ وإِبْطَالِ وَحْيِهِ؛ إِذْ وجَدُوا فُرصتَهُم وأَحَسُّوا من الرُّعَاعِ (2) جَهلاً، ومِنَ العُلماءِ قِلَّةً؛ فَنَصَبُوا عِنْدَهَا الكُفرَ للناس إِمامًا بِدَعْوَتِهم إليه، وأظهروا لهم أُغْلُوطَات من المسائل وعَمَايَات من الكلام، يُغالِطون بها أهلَ الإسلام؛ ليُوقِعُوا في قلوبهم الشك ويلبسوا عليهم أمرَهم ويُشَكِّكُوهُم في خَالِقِهم، مقتدين بأئمتهم الأقدمين الذين قالوا: {إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ (25)} [المدثر: 25] و {إِنْ هَذَا إِلَّا اخْتِلَاقٌ} [ص: 7].

--------------------------------------------

(1) في المطبوعة: «فشد» وما أثبتناه من الأصل، وهو لغة متوجه؛ قال صاحب التاج في مادة صدد: وصَدَّ يَصُدُّ بالضّمّ ويَصِدُّ بالكسر صَدّاً وصَدِيداً: عَجَّ وَضَجَّ، وفي التنْزيل: «ولمَّا ضُرِبَ ابنُ مَرْيَمَ مَثَلاً إِذَا قَوْمُكَ مِنه يَصِدُّونَ» أَي يَضِجُّون ويَعِجُّون وقال قُرِئ: «يَصُدُّون» أَي يُعْرِضُون، قال الأزهريّ تقول صَدَّ يصُدُّ ويصِدُّ مثل شَدَّ يَشُدّ ويَشِدّ.

(2) كذا في الأصل، بضم الراء وقد أثبتها محقق المطبوعة بالفتح وقد جانبه الصواب في ذلك؛ قال صاحب التاج: الرُّعاعُ كالزُّجاجِ من النّاسِ: وهُمُ الرُّذالُ الضُّعفاءُ وهم الذينَ إذا فُزِّعوا طاروا.
আবু সাঈদ বলেন: এরপর তারা অবদমিত, লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায় ছিল, যতক্ষণ না বর্তমানের এই শেষ সময়টি এল; যখন ফকীহগণের সংখ্যা কমে গেছে এবং আলেমগণ বিদায় নিয়েছেন, আর ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বানকারীরা বিদআতের দিকে ডাকছে। এটি ইসলামের ছদ্মাবরণে আশ্রয় গ্রহণকারী ইয়াহুদি, নাসারা এবং ইরাকের নবতীদের বংশধরদের প্রত্যেকের লোভকে জাগিয়ে তুলেছে (১)। তারা কথা বলার সুযোগ পেয়ে গেল; ফলে তারা ইসলাম ধ্বংস করতে, মহিমাময় ও দয়াবান আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করতে, তাঁর সিফাতসমূহকে অস্বীকার করতে, তাঁর রসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এবং তাঁর ওহীকে বাতিল করতে সচেষ্ট হলো। যখন তারা তাদের সুযোগ পেল এবং সাধারণ মূর্খদের (২) মাঝে অজ্ঞতা এবং আলেমদের স্বল্পতা অনুভব করল; তখন তারা কুফরকে মানুষের জন্য আদর্শ হিসেবে দাঁড় করাল এবং মানুষকে সেদিকে দাওয়াত দিল। তারা তাদের সামনে মাসআলার বিভ্রান্তি এবং বাকচাতুর্যের অন্ধকার উপস্থাপন করল, যার মাধ্যমে তারা ইসলামপন্থীদের বিভ্রান্ত করতে চায়; যাতে তাদের অন্তরে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিতে পারে, তাদের দ্বীনি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলতে পারে এবং তাদের স্রষ্টা সম্পর্কে তাদের সন্দিহান করে তুলতে পারে। তারা তাদের সেই পূর্ববর্তী ইমামদের অনুসরণ করছিল যারা বলেছিল: "এটি মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়" [আল-মুদ্দাসসির: ২৫] এবং "এটি একটি মনগড়া উদ্ভাবন ছাড়া আর কিছুই নয়" [সোয়াদ: ৭]।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে 'ফাশাদ্দা' রয়েছে, তবে আমরা পাণ্ডুলিপি থেকে যা সাব্যস্ত করেছি তা-ই সঠিক এবং এটি ভাষাগতভাবে অগ্রগণ্য। 'তাজুল আরূস' এর লেখক 'সাদাদ' অধ্যায়ে বলেছেন: 'সাদ্দা' ক্রিয়াটি 'যম্মা' এবং 'কাসরা' উভয় যোগে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করা বা শোরগোল করা। পবিত্র কুরআনে এসেছে: "যখন মারইয়াম তনয়কে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হলো, তখন তোমার সম্প্রদায় শোরগোল শুরু করল", অর্থাৎ তারা চিৎকার ও শোরগোল করতে লাগল। এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, "ইয়াসুদদুন" পাঠ করা হয়েছে, যার অর্থ হলো তারা বিমুখ হয়। আল-আযহারী বলেন: তুমি 'সাদ্দা' শব্দটিকে 'ইয়াশুদ্দু' ও 'ইয়াশিদ্দু' বলতে পারো, যেমন 'শাদ্দা' শব্দটিকে 'ইয়াশুদ্দু' ও 'ইয়াশিদ্দু' বলা হয়।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'র' বর্ণে পেশ দিয়ে এভাবেই আছে। যদিও মুদ্রিত কপির মুহাক্কিক এটিকে জবর দিয়ে সাব্যস্ত করেছেন, তবে এক্ষেত্রে তিনি সঠিক হতে পারেননি। 'তাজুল আরূস' এর লেখক বলেন: 'আর-রুআ' মানুষের মধ্যে নিচু ও দুর্বল শ্রেণীর লোকজনকে বলা হয়; যারা আতঙ্কিত হলে পলায়ন করে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লিদ দারিমী - তাহকীক আশ-শাওয়ামী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فحين رَأَيْنَا ذلك منهم، وفَطِنَّا لمذهبهم وما يقصدون إليه من الكفر وإِبْطَالِ الكُتُبِ والرُّسُلِ، ونَفْيِ الكلامِ والعِلْمِ والأَمْرِ عن الله تعالى؛ رَأَيْنَا أن نُبَيِّنَ من مذاهبهم رُسُومًا من الكتاب والسنة، وكلام العلماء ما يَسْتَدِلُّ به أهلُ الغَفْلَةِ من النَّاسِ على سُوءِ مَذْهَبِهِم؛ فَيَحْذَرُوهُم على أنفسهم وعلى أولادهم وأهليهم، ويجتهدوا في الرَّدِّ عليهم؛ محتسبين مُنَافِحِينَ عن دين الله تعالى، طالبين به ما عند الله.

وقد كان من مَضَى مِنَ السَّلَفِ يكرهون الخَوْضَ في هذا وما أشبهه، وقد كانوا رُزِقُوا العافية منهم، وابْتُلِينَا بهم، عند دُرُوسِ الإِسلامِ وذَهَابِ العُلماءِ؛ فلم نَجِدْ بُدًّا من أَنْ نَرُدَّ ما أَتَوْا به من البَاطِلِ بالحَقِّ، وقَدْ كَانَ رَسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَتَخَوَّفُ ما أشبه هذا على أمته، ويحذرها إياهم، ثم الصحابة بعده والتابعون؛ مَخَافَةَ أن يَتَكَلَّمُوا في الله وفي القرآن بأهوائهم؛ فَيَضِلُّوا، ويَتَمَارَوْا به على جَهْلٍ؛ فَيَكْفُرُوا.

فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد قال: «المِراءُ في القُرآنِ؛ كُفْرٌ» (1).

وحتَّى أَنَّ بَعْضَهُم كانوا يَتَّقُونَ تَفْسِيرَهُ؛ لأن القَائِلَ فيه إنما يقول على الله.

قال أَبو بَكْرِ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه: أَيُّ أَرْضٍ تُقِلُّنِي، وأَيُّ سَماءٍ تُظِلُّنِي؛ إِذَا قُلتُ في كلام الله ما لا أعلم (2).

وسُئِل عَبِيدَةُ السَّلْمَاني عن شيءٍ من تَفْسِيرِ القرآنِ فقال: اتَّقِ اللهَ،

--------------------------------------------

(1) صحيح، أخرجه أبو داود (4605)، وأحمد (7848)، وابن حبان (74)، وأبو يعلى (6016)، وغيرهم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا.

(2) صحيح، أخرجه ابن أبي شيبة في المصنف (30727)،والبيهقي في المدخل (646)، والخطيب في الجامع (1585)، وابن عبد البر في جامع بيان العلم (825)، وغيرهم، من طرق عن أبي بكر رضي الله عنه، لا تخلو من مقال، لكن تصلح أن يشد بعضها بعضًا.
যখন আমরা তাদের মধ্যে এটি লক্ষ্য করলাম এবং তাদের মাযহাব ও তাদের কুফরি উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুধাবন করলাম—যা হলো কিতাবসমূহ ও রাসূলদের দাওয়াত বাতিল করা এবং মহান আল্লাহ থেকে কালাম (বাক্য), ইলম (জ্ঞান) ও আমর (আদেশ) অস্বীকার করা; তখন আমরা সংকল্প করলাম যে, কিতাব, সুন্নাহ এবং ওলামাদের বাণী থেকে তাদের মতবাদের কিছু নমুনা বর্ণনা করব, যার মাধ্যমে অসতর্ক মানুষ তাদের মাযহাবের মন্দ দিক সম্পর্কে প্রমাণ পাবে; ফলে তারা নিজেদের, নিজেদের সন্তান ও পরিজনদের ব্যাপারে তাদের থেকে সতর্ক থাকতে পারবে এবং তাদের প্রতিবাদে সচেষ্ট হবে; মহান আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষা করে সওয়াবের প্রত্যাশায় এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তা পাওয়ার আশায়।

অতীতকালের সালাফগণ এই ধরনের এবং এর সদৃশ বিষয়ে লিপ্ত হওয়া অপছন্দ করতেন। তাঁরা তাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ ছিলেন। কিন্তু ইসলামের নিদর্শনসমূহ মিটে যাওয়ার এবং আলেমদের বিদায় নেওয়ার এই সময়ে আমরা তাদের মাধ্যমে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি। তাই তারা যে বাতিল নিয়ে এসেছে, সত্যের মাধ্যমে তার প্রতিবাদ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের ব্যাপারে এই জাতীয় বিষয়ের আশঙ্কা করতেন এবং তাদের এ ব্যাপারে সতর্ক করতেন। অতঃপর তাঁর পরবর্তী সাহাবী ও তাবেয়ীগণও সতর্ক করতেন; এই ভয়ে যে তারা যেন আল্লাহ এবং কুরআন সম্পর্কে নিজেদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী কথা না বলে; ফলে তারা পথভ্রষ্ট হবে এবং অজ্ঞতাবশত এ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হবে, যার ফলে তারা কুফরিতে লিপ্ত হবে।

কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআন নিয়ে বিবাদ করা কুফরি" (১)।

এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ কুরআনের তাফসীর করতেও অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন; কারণ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যকারী আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকেই কথা বলে (অর্থাৎ আল্লাহর উদ্দেশ্য বর্ণনার দাবি করে)।

আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "কোন জমিন আমাকে ধারণ করবে আর কোন আসমান আমাকে ছায়া দেবে, যদি আমি আল্লাহর কালাম সম্পর্কে এমন কিছু বলি যা আমি জানি না" (২)।

উবায়দাহ আস-সালমানীকে কুরআনের কোনো তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আল্লাহকে ভয় করো,"

--------------------------------------------

(১) সহীহ, আবু দাউদ (৪৬০৫), আহমাদ (৭৮৪৮), ইবনে হিব্বান (৭৪), আবু ইয়ালা (৬০১৬) এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(২) সহীহ, ইবনে আবি শায়বা আল-মুসান্নাফে (৩০৭২৭), বায়হাকী আল-মাদখালে (৬৪৬), খতিব আল-জামে'তে (১৫৮৫), ইবনে আব্দুল বার জামেউ বায়ানিল ইলমে (৮২৫) এবং অন্যান্যরা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। যদিও এগুলোর বর্ণনাসূত্রে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে, তবে সেগুলো একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করার উপযোগী।