(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
التنبيهات على رسالة الألباني في الصلاة   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفقه العام


الكتاب: التنبيهات على رسالة الألباني في الصلاة

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413 هـ)

الناشر: مطابع القصيم، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1387 هـ

عدد الصفحات: 57

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1437

নামায বিষয়ক আলবানীর রিসালাতের ওপর সতর্কবার্তা   (হামুদ বিন আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: নামায বিষয়ক আলবানীর রিসালাতের ওপর সতর্কবার্তা

লেখক: হামুদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামুদ বিন আবদুর রহমান আত-তুওয়াইজিরী (মৃত্যু ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: মাতাবি আল-কাসিম، রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৭ হি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১)
التنبيهات على رسالة الألباني في الصلاة

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

حمود بن عبد الله التويجري

غفر الله له ولوالديه

 

الطبعة الأولى

عام 1387 هـ

حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

طبع في مطابع القصيم بالرياض
আলবানীর সালাত বিষয়ক পুস্তিকার ওপর সতর্কবাণীসমূহ

 

আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত

হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজরী

আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন

 

প্রথম সংস্করণ

১৩৮৭ হিজরি

মুদ্রণস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত

রিয়াদের আল-কাসিম প্রেসে মুদ্রিত
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله مِن شُرُور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، مَن يهده الله فلا مُضل له، ومَن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، اللهم صلِّ على عبدك ورسولك محمد، وعلى آله وأصحابه، ومَن تبعهم بإحسان إلى يوم الدِّين، وسلِّم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد، فهذه تنبيهات على النبذة المسماة: "صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم"؛ تأليف الشيخ/ محمد ناصر الدين الألباني الدمشقي، الطبعة الثانية سنة 1375 هـ بدمشق.

وقبل ذكر التَّنْبيهات، نبدأ بشكر الشيخ الألباني على اعتنائه بشأن الصلاة، وعلى إنكاره على المبتدعين في النِّية، وعلى ردِّه على من أنكر الصلاة على آل النبي صلى الله عليه وسلم وعلى إنكاره على المحافظين على التوسلات المبتدعة؛ كالتوسل بالجاه، والحرمة، والحق، وغير ذلك مما لا يجوز التوَسُّل به.

والله المسؤول أن يجعلنا وإياه من حزبه المفلحين الذين يدعون إلى الخير، ويأمرون بالمعروف، وينهون عن المنكر.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর, এটি শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি আদ-দিমাশকি রচিত "সিফাতু সালাতিন নবী" নামক পুস্তিকাটির ওপর কিছু সতর্কবার্তা; যার দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৭৫ হিজরিতে দামেস্কে প্রকাশিত হয়েছে।

সতর্কবার্তাগুলো উল্লেখ করার পূর্বে, আমরা শেখ আলবানিকে ধন্যবাদ জানাই সালাতের বিষয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্নের জন্য, নিয়তের ক্ষেত্রে বিদআতী (المبتدعين) ব্যক্তিদের কঠোর বিরোধিতার জন্য, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার-পরিজনের ওপর সালাত পাঠকে অস্বীকার করে তাদের খণ্ডন করার জন্য এবং যারা বিদআতী (المبتدعة) উসীলার ওপর অটল থাকে তাদের প্রতিবাদের জন্য; যেমন সম্মান, মর্যাদা, অধিকার বা হকের উসীলা দেওয়া এবং এমন অন্যান্য উসীলা যা ব্যবহার করা জায়েজ নয়।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ও তাঁকে তাঁর সেই সফলকাম দলের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌التنبيه الأول

قال المؤلِّف في آخر الصفحة الأولى من مقدمة الطبع، وأول الصفحة الثانية منها ما نصه: "وقد أظهروا إعجابهم بأسلوب الكتاب وطريقة عرضه لهدْي النبي صلى الله عليه وسلم في أعظم ركن من أركان الإسلام، ألا وهو الصلاة". اهـ.

أقول: قد سها المؤلف - عفا الله عنا وعنه - فيما أطلقه من القول بأن الصلاة هي أعظم أركان الإسلام؛ إذ لا بد مِن تقييد ذلك بما بعد الشهادتين، وهذا مما لا خِلاف فيه بين المسلمين.

وفي الصَّحيحَيْن، و"مسند الإمام أحمد"، و"جامع الترمذي"، و"سنن النسائي"؛ عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((بُني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وحج البيت، وصوم رمضان))، وقد رواه محمد بن نصر المروذي في كتاب الصلاة بلفظ: ((بُني الإسلام على خمس دعائم))، والباقي مثله، وفي رواية لمسلم: ((بُني الإسلام على خمسة))، والباقي نحوه.

وروى الإمام أحمد، وأبو بكر الآجري: عن جرير بن عبدالله البجلي رضي الله عنه قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن الإسلام بني على خمس …))، فذكر مثل حديث ابن عمر رضي الله عنهما.

وفي "المسند"، و"صحيح مسلم"، و"السنن"، عن عمر رضي الله عنه: أنَّ جبريل قال للنبي صلى الله عليه وسلم: أخبرني عن الإسلام؟ قال: ((الإسلام أن تشهد
প্রথম সতর্কতা

লেখক মুদ্রণ ভূমিকার প্রথম পৃষ্ঠার শেষে এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠার শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ হলো: "তারা বইটির শৈলী এবং ইসলামের মহানতম স্তম্ভ অর্থাৎ সালাত সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশনার উপস্থাপনার পদ্ধতির প্রতি তাদের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।" (সমাপ্ত)।

আমি বলছি: লেখক—আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন—সালাত ইসলামের মহানতম স্তম্ভ হওয়ার বিষয়ে যে নিঃশর্ত উক্তিটি করেছেন তাতে তিনি ভুলবশত একটি বিষয় এড়িয়ে গেছেন; কারণ একে অবশ্যই শাহাদাতদ্বয়ের (কালিমা শাহাদাত) পরবর্তী বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ করা আবশ্যক এবং এ বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

সহীহাইন, 'মুসনাদে ইমাম আহমাদ', 'জামে তিরমিযী' ও 'সুনানে নাসাঈ'-তে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহর হজ করা এবং রমাদানের সিয়াম পালন করা।" মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী 'কিতাবুস সালাত'-এ এটি "ইসলাম পাঁচটি খুঁটির ওপর প্রতিষ্ঠিত" শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং বাকি অংশ একই। মুসলিমের একটি বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে: "ইসলাম পাঁচটির ওপর প্রতিষ্ঠিত", এবং অবশিষ্ট অংশ অনুরূপ।

ইমাম আহমাদ এবং আবু বকর আল-আজুররী জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত..." অতঃপর তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের মতো উল্লেখ করেছেন।

'আল-মুসনাদ', 'সহীহ মুসলিম' এবং 'আস-সুনান'-এ উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: জিবরীল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন? তিনি বললেন: "ইসলাম হলো তুমি সাক্ষ্য দেবে যে...
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
أن لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله، وتُقيم الصلاة، وتُؤتي الزكاة، وتَصُوم رمضان، وتحج البيت إنِ استطعت إليه سبيلاً))، قال: صدقت.

ورواه البخاري، ومسلم، وأهل السنن إلا الترمذي، من حديث أبي هريرة رضي الله عنه بنحوه.

ففي هذه الأحاديث كلها الأهم فالأهم، ومن المعلوم بالضرورة أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يؤمر في أول البعثة بغير الدعاء إلى التوحيد والإقرار برسالته، وكان على هذا في مدَّة عشر سنين أو نحوها، ثم فرضت عليه الصلوات الخمس بعد، وهذا يدل على الاهتمام بالشهادتين، ويدل على أنهما أعظم أركان الإسلام.

وفي الصحيحين، والمسند، والسنن عن ابن عباس رضي الله عنهما: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذًا إلى اليمن قال: ((إنك تأتي قومًا من أهل الكتاب، فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله، فإن هم أطاعوك لذلك، فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة …)) الحديث.

وهذا يدلُّ على الاهتمام بالشهادتين، وأنهما أعظم أركان الإسلام، وقد اختلف العلماءُ في كُفر تارك الصلاة عمْدًا، وحل دمه وماله إذا دعي إلى فعلها فأصرَّ على الترْك، ولم يختلفوا في كُفر تارك الشهادتين أو إحداهما، وحل دمه وماله، والدليل على ذلك ما في الصحيحين، والمسند، والسنن، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أُمرت أن أقاتلَ الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، فمَن قال: لا إله إلا الله، فقد عصم مني نفسه وماله إلا بحقه، وحسابه على الله)).
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ পালন করা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।

বুখারি, মুসলিম এবং তিরমিজি ব্যতীত সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ (بنحوه) হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এই সকল হাদিসের মধ্যে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ক্রমানুসারে এসেছে। এটি অকাট্যভাবে জ্ঞাত যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুয়তের প্রারম্ভে তাওহিদের দাওয়াত এবং তাঁর রিসালাতের স্বীকৃতির নির্দেশ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর আদেশ পাননি। প্রায় দশ বছর তিনি এই অবস্থাতেই ছিলেন, অতঃপর তাঁর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ (فرض) করা হয়। এটি শাহাদাতাইনের (কালিমা শাহাদাতের দুই অংশ) গুরুত্ব নির্দেশ করে এবং এটিও প্রমাণ করে যে, এই দুটিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ রুকন।

সহিহাইন, মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদের এই সাক্ষ্য প্রদানের প্রতি আহ্বান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ (فرض) করেছেন..." হাদিস।

এটি শাহাদাতাইনের গুরুত্ব এবং এগুলো ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ রুকন হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে। আলেমগণ ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগকারীর কুফরি (كفر) এবং তার রক্ত ও সম্পদ বৈধ হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন—যখন তাকে সালাত আদায়ের আহ্বান জানানো হয় কিন্তু সে তা বর্জন করায় অটল থাকে। তবে শাহাদাতাইন বা তার কোনো একটির পরিত্যাগকারীর কুফরি (كفر) এবং তার রক্ত ও সম্পদ বৈধ হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা কোনো মতভেদ করেননি। এর প্রমাণ হলো সহিহাইন, মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে। যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, সে আমার পক্ষ থেকে তার জান ও মাল রক্ষা করল, তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী পাওনা হক ব্যতীত; আর তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।"
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وفي "صحيح مسلم" عنه رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((أمرتُ أن أُقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، ويؤمنوا بي وبما جئت به، فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله)).

والأحاديث في هذا كثيرة، وكلها تدل على الاهتمام بالشهادتين قبل جميع الواجبات، وتفيد أنها أعظم أركان الإسلام.

وقد أفاد هذان الحديثان وغيرهما من الأحاديث: أن الصلاة من حقوق لا إله إلا الله، بل هي آكد حقوقها بعد الشهادة بالرسالة، وهذا دليل على أن الصلاة ليستْ أعظم أركان الإسلام، وإنما أعظم أركانه الشهادتان، ثم الصلاة بعدهما، وهذا بيِّن - بحمد الله تعالى - ولا خلاف فيه بين المسلمين.

وما وقع من المؤلف - وفَّقنا الله وإياه - فهو - لا شك - سهْو منه، وقلَّ مَن يسْلم من ذلك، ولا معصوم إلا الأنبياء - صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين.
এবং "সহিহ মুসলিম"-এ তাঁর (রা.) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তারা আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।"

এ বিষয়ে হাদিসসমূহ অনেক, আর এগুলোর প্রতিটিই সমস্ত ওয়াজিব পালনের পূর্বে শাহাদাতাইন (দুটি সাক্ষ্য)-এর প্রতি গুরুত্বারোপের প্রমাণ দেয় এবং এটি ব্যক্ত করে যে, তা ইসলামের মহানতম স্তম্ভ (أركان)।

এই হাদিসদ্বয় এবং অন্যান্য হাদিস হতে প্রমাণিত হয় যে, সালাত হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর হকের অন্তর্ভুক্ত, বরং রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদানের পর এটি এর সবচেয়ে সুদৃঢ় হক। এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, সালাত ইসলামের মহানতম স্তম্ভ (أركان) নয়, বরং এর মহানতম স্তম্ভ (أركان) হলো শাহাদাতাইন, অতঃপর সালাত। আর এটি—আল্লাহ তাআলার প্রশংসায়—সুস্পষ্ট এবং এ ব্যাপারে মুসলমানদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই।

লেখকের পক্ষ থেকে যা ঘটেছে—আল্লাহ আমাদের এবং তাঁকে তাওফিক দান করুন—তা নিঃসন্দেহে তাঁর একটি অসতর্কতা (سهو), আর এ ধরনের ভুল থেকে খুব কম মানুষই রক্ষা পান। নবীগণ—তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—ব্যতীত আর কেউ নিষ্পাপ (معصوم) নন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌التنبيه الثاني

قال المؤلِّف في حاشية صفحة 43 ما نصه: "وأما الجمْع بين الوَضْع والقبض فبِدْعة". اهـ.

وأقول: الجزم بالتبديع فيما ذكر ها هنا فيه نظر؛ إذ لا يخفى أن مَن قبض بيمينه على شماله فقد وضعها عليها، ولا يتأتى قبض بدون وضع، والظاهر من الأحاديث أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقبض باليُمنى على اليسرى تارة، وتارة يضعها عليها بدون قبض، والقبض يستلزم الوضع، ولا ينعكس.

وإذا كان من المعلوم أن القبض لا يكون إلا بعد الوضع، فكيف يطلق على فاعله أنه مبتدع.

 

‌‌التنبيه الثالث

قال المؤلف في حاشية صفحة 48، تعليقًا على قول النبي صلى الله عليه وسلم في الدعاء المشهور: ((والشر ليس إليك))، ما نصه: "أي: لا ينسب الشر إلى الله - تعالى - لأنه ليس من فعله - تعالى - بل أفعاله عز وجل كلها خير؛ لأنها دائرة بين العدل والفضل والحكمة، وهذا كله خير لا شر فيه، والشر إنما صار شرًّا لانقطاع نسبته، وإضافته إليه - تعالى.
‌দ্বিতীয় সতর্কতা

লেখক ৪৩ নম্বর পৃষ্ঠার টীকায় যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "আর হাত রাখা ও ধরার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হলো বিদআত (بدعة)"। সমাপ্ত।

আমি বলি: এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে সে ক্ষেত্রে বিদআতী সাব্যস্ত করার (تبديع) বিষয়টি চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করার ব্যাপারে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কারণ এটি অস্পষ্ট নয় যে, যিনি তার ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরেন, তিনি মূলত তার ওপর হাত রেখেছেন। রাখা ব্যতীত ধরা সম্ভব নয়। হাদিসসমূহ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন, আবার কখনও ধরা ছাড়াই তার ওপর হাত রাখতেন। আর হাত ধরা হাত রাখার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু এর বিপরীতটি (অর্থাৎ হাত রাখলেই যে ধরা হবে এমনটি) আবশ্যক নয়।

যখন এটি সর্বজনবিদিত যে, রাখা ব্যতীত ধরা সম্ভব নয়, তখন কীভাবে এর আমলকারীকে বিদআতী (مبتدع) বলা যেতে পারে?

 

‌তৃতীয় সতর্কতা

লেখক ৪৮ নম্বর পৃষ্ঠার টীকায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রসিদ্ধ দোয়ার বাণী: ((আর মন্দ আপনার দিকে নয়)) এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "অর্থাৎ: মন্দের সম্বন্ধ আল্লাহ তাআলার দিকে করা যাবে না; কারণ এটি আল্লাহ তাআলার কাজ নয়। বরং মহান আল্লাহর সকল কাজই কল্যাণময়; কারণ তা ন্যায়বিচার, অনুগ্রহ ও প্রজ্ঞার মাঝে আবর্তিত হয়। আর এসবই কল্যাণকর যাতে কোনো মন্দ নেই। মন্দ কেবল তখনই মন্দে পরিণত হয় যখন আল্লাহ তাআলার সাথে তার নিসবত বা সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
قال ابن القيِّم - رحمه الله تعالى -: وهو - سبحانه - خالق الخير والشر، فالشرُّ في بعض مخلوقاته لا في خلْقه وفعله، ولهذا تَنَزَّه - سبحانه - عن الظلم الذي حقيقته: وضع الشيء في غير محله، فلا يضع الأشياء إلا في مواضعها اللائقة بها، وذلك خير كله، والشر: وضْع الشيء في غير محله، فإذا وضع في محلِّه لم يكنْ شرًّا، فعُلم أن الشر ليس إليه. اهـ.

وأقول: في أول كلام الشيخ الألباني نظر؛ لأن إخراج الشر مِن أفعال الله - تعالى - يقتضي أن يكون للشر خالق غير الله - تعالى - وهذا من أقوال المجوس والقدَرية، وقد قال الله - تعالى -: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الزمر: 62]، وقال - تعالى -: {هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ} [فاطر: 3]، وقال - تعالى -: {وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً} [الأنبياء: 35]، وهذه الآية الكريمة صريحة في رد قول مَن قال: إن الشر ليس من فعل الله - تعالى - ومثلها قوله - تعالى -: {وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ} [الأعراف: 168]؛ أي: بالنِّعَم والمصائب؛ {لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ}، وقوله - تعالى -: {وَإِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِكَ قُلْ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ} [النساء: 78]، وقال - تعالى -: {وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَالٍ} [الرعد: 11]، وقال - تعالى -: {قُلْ مَنْ ذَا الَّذِي يَعْصِمُكُمْ مِنَ اللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوءًا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً} [الأحزاب: 17]، وقال - تعالى - إخبارًا عن الجن: {وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا} [الجن: 10]، قال ابن كثير - رحمه الله تعالى -: وهذا مِن أدبهم في العبارة، حيث أسندوا الشر إلى غير فاعل، والخير أضافوه إلى الله عز وجل؛ اهـ.

وقال - تعالى -: {قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِنْ ذَلِكَ مَثُوبَةً عِنْدَ اللَّهِ مَنْ لَعَنَهُ
ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: তিনি—পবিত্র ও মহান তিনি—কল্যাণ ও অকল্যাণের স্রষ্টা। সুতরাং অকল্যাণ তাঁর কিছু সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান, তাঁর সৃষ্টি বা কর্মের মধ্যে নয়। আর এ কারণেই তিনি—পবিত্র ও মহান তিনি—জুলুম থেকে মুক্ত, যার প্রকৃত অর্থ হলো: কোনো বস্তুকে তার অনোপযুক্ত স্থানে রাখা। অথচ তিনি সকল বস্তুকে কেবলমাত্র তাদের উপযুক্ত স্থানেই স্থাপন করেন, আর তা সবই কল্যাণ। এবং অকল্যাণ হলো: কোনো বস্তুকে তার অনোপযুক্ত স্থানে রাখা; সুতরাং যখন তা তার উপযুক্ত স্থানে রাখা হয়, তখন তা আর অকল্যাণ থাকে না। ফলে জানা গেল যে, অকল্যাণ বা মন্দ তাঁর প্রতি বর্তায় না। [সমাপ্ত]

আর আমি বলছি: শায়খ আলবানীর বক্তব্যের শুরুর অংশে আপত্তির অবকাশ (نظر) রয়েছে; কারণ মহান আল্লাহর কার্যাবলি থেকে অকল্যাণকে বাদ দেওয়ার অর্থ দাঁড়ায় যে, আল্লাহ ছাড়া অকল্যাণের অন্য কোনো স্রষ্টা রয়েছে। আর এটি হলো মজুসি (অগ্নিউপাসক) এবং কাদারিয়া (القدرية) সম্প্রদায়ের বক্তব্য। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা} [যুমার: ৬২], তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহ ছাড়া আর কি কোনো স্রষ্টা আছে?} [ফাতির: ৩], তিনি আরও বলেছেন: {আমি তোমাদের মন্দ ও ভালোর মাধ্যমে পরীক্ষা করি} [আম্বিয়া: ৩৫]। আর এই সম্মানিত আয়াতটি ঐ ব্যক্তির বক্তব্যের খণ্ডনে সুস্পষ্ট দলিল, যে বলে যে: অকল্যাণ মহান আল্লাহর কাজ নয়। অনুরুপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি তাদের ভাল ও মন্দের দ্বারা পরীক্ষা করেছি} [আরাফ: ১৬৮]; অর্থাৎ: নেয়ামত ও বিপদের মাধ্যমে; {যাতে তারা ফিরে আসে}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছায়, তবে তারা বলে—এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ পৌঁছায়, তবে তারা বলে—এটা আপনার পক্ষ থেকে। আপনি বলুন, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে} [নিসা: ৭৮]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর আল্লাহ যখন কোনো জাতির অমঙ্গল চান, তখন তা রদ করার কেউ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই} [রাদ: ১১]। আল্লাহ আরও বলেছেন: {বলুন, কে আছে এমন যে তোমাদেরকে আল্লাহ থেকে রক্ষা করবে, যদি তিনি তোমাদের অমঙ্গল চান কিংবা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চান?} [আহযাব: ১৭]। মহান আল্লাহ জিনদের সংবাদ দিয়ে আরও বলেছেন: {আর আমরা জানি না যে, জমিনে যারা আছে তাদের কোনো অমঙ্গল চাওয়া হয়েছে, না কি তাদের প্রতিপালক তাদের সৎপথ দেখাতে চেয়েছেন} [জিন: ১০]। ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: এটি তাঁদের কথা বলার ক্ষেত্রে এক প্রকার শিষ্টাচার, যেখানে তাঁরা অকল্যাণকে কোনো নির্দিষ্ট কর্তার দিকে সম্বন্ধ না করে উল্লেখ করেছেন, আর কল্যাণকে মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। [সমাপ্ত]

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {বলুন, আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট এর চেয়েও মন্দ প্রতিদান সম্পর্কে সংবাদ দেব? যাকে আল্লাহ লানত করেছেন...}
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ أُولَئِكَ شَرٌّ مَكَانًا وَأَضَلُّ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ} [المائدة: 60]، وقال - تعالى -: {قُلْ أَفَأُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِنْ ذَلِكُمُ النَّارُ وَعَدَهَا اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَبِئْسَ الْمَصِيرُ} [الحج: 72]، وقال - تعالى -: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49]، وقال - تعالى -: {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ كَذَلِكَ يَجْعَلُ اللَّهُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ} [الأنعام: 125]، وقال - تعالى -: {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى * وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى * وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى * وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى} [الليل: 5 - 10]، وقال - تعالى -: {فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} [الشمس: 8].

إلى غير ذلك منَ الآيات الدَّالة على أن الله تبارك وتعالى خالق الخير والشر، وأنه لا يكون في الوجود شيء إلا بقضائِه وقدره، وما شاء كان، وما لم يشأ لم يكن، وأنه تبارك وتعالى يفعل بمن شاء من عباده خيرًا، وييسر لهم أسباب ذلك نعمة منه وفضلاً، ويفعل بآخرين شرًّا، وييسر لهم أسباب ذلك حكمة منه وعدلاً، لا يُسأل عما يفعل، وهم يسألون.

وفي الدعاء المأثور عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول: ((اللهم إني أسألك من كل خير خزائنه بيدك، وأعوذ بك من كل شر خزائنه بيدك))؛ رواه الحاكم في "مستدركه" من حديث ابن مسعود رضي الله عنه وصححه.

وفي حديث آخر: ((أسألك أن تجعل كل قضاء قضيته لي خيرًا))؛ رواه ابن ماجه من حديث عائشة رضي الله عنها وصححه الحاكم،
আল্লাহ যার প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং যার ওপর তিনি রাগান্বিত হয়েছেন, আর তাদের মধ্য থেকে কতককে বানর ও শূকর বানিয়েছেন এবং যারা তাগুতের উপাসনা করেছে; তারাই অবস্থানের দিক থেকে নিকৃষ্ট এবং সরল পথ থেকে সর্বাধিক বিচ্যুত।" [আল-মায়িদাহ: ৬০], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? তা হলো আগুন; আল্লাহ কাফিরদের জন্য এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য!" [আল-হাজ্জ: ৭২], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত তকদির অনুযায়ী।" [আল-ক্বামার: ৪৯], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "অতঃপর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করার ইচ্ছা করেন, ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেন; আর যাকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সংকুচিত করে দেন, যেন সে আকাশে আরোহণ করছে। এভাবেই আল্লাহ যারা ঈমান আনে না তাদের ওপর অপবিত্রতা আরোপ করেন।" [আল-আন‘আম: ১২৫], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "অতঃপর যে দান করল এবং তাকওয়া অবলম্বন করল, আর যা উত্তম তা সত্য বলে বিশ্বাস করল, অচিরেই আমি তার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব। আর যে কার্পণ্য করল এবং নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করল, আর যা উত্তম তা অস্বীকার করল, অচিরেই আমি তার জন্য কঠোর পরিণতির পথ সুগম করে দেব।" [আল-লায়ল: ৫-১০], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "অতঃপর তিনি তাকে (আত্মাকে) তার পাপাচার ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন।" [আশ-শামস: ৮]

এগুলো ছাড়াও আরও অনেক আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়েরই স্রষ্টা এবং তাঁর ফয়সালা ও তকদির ব্যতিরেকে এই অস্তিত্বে কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না। তিনি যা চান তা-ই হয়, আর যা তিনি চান না তা হয় না। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়া হিসেবে কল্যাণের তৌফিক দান করেন এবং তার উপায়সমূহ সহজ করে দেন। আবার অন্য কারো ক্ষেত্রে স্বীয় প্রজ্ঞা ও ন্যায়বিচার অনুযায়ী অকল্যাণ অবধারিত করেন এবং তার পথ সুগম করে দেন। তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না, বরং তারাই জিজ্ঞাসিত হবে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত দোয়ায় এসেছে যে, তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সেই সমস্ত কল্যাণ প্রার্থনা করছি যার ভাণ্ডার আপনার হাতে, আর আপনার কাছে সেই সমস্ত অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যার ভাণ্ডার আপনার হাতে।" এটি হাকিম তাঁর "মুসতাদরাক" গ্রন্থে ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আপনি আমার জন্য যে ফয়সালাই নির্ধারণ করেন তা যেন কল্যাণকর হয়।" এটি ইবনে মাজাহ আয়িশা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাকিম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ووافقه الذَّهَبي في تلخيصه، وفي حديث المنام المشهور: أن الله - تعالى - قال لنبيه صلى الله عليه وسلم: ((يا محمد إذا صليت فقل: اللهم إني أسألك فعل الخيرات، وترْك المنكرات، وحب المساكين، وإذا أردتَ بعبادك فتنة فاقبضني إليك غير مفتون))؛ رواه الترمذي وغيره من حديث ابن عباس رضي الله عنهما وقال الترمذي: حسن غريب، ورواه الإمام أحمد والحاكم وغيرهما من حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه.

ورواه الحاكم أيضًا من حديث عبدالرحمن بن عائش الحضرمي رضي الله عنه وقال: "صحيح الإسناد، ولم يخرجاه"، ووافقه الحافظُ الذهبي في تلْخيصه.

وفي هذه الأحاديث مع ما تقدم من الآيات أبلغ رد على مَن قال: إن الله - تعالى - لم يخلق الشر، أو إن الله - تعالى - لا يفعله بأحد من خلقه، كما يقول ذلك المجوس، والقدرية الذين هم مجوس هذه الأمة.

قال الخطابي: إنما جعلهم مجوسًا لمُضاهاة مذهبهم مذهب المجوس في قولهم بالأصلين، وهما النور والظلمة، يزعمون أن الخير من فعل النور، والشر من فِعْل الظُّلمة، فصاروا ثانوية، وكذلك القدرية يضيفون الخير إلى الله عز وجل والشر إلى غيره.

والله سبحانه وتعالى خالقُ الخير والشر، لا يكون شيء منهما إلا بمشيئته، وخلقه الشر شرًّا في الحكمة كخلقه الخير خيرًا، فالأمران معًا مضافان إليه خلقًا وإيجادًا، وإلى الفاعلين لهما من عباده فعلاً واكتسابًا، انتهى.

وأحسن ما قيل في قوله صلى الله عليه وسلم: ((والشر ليس إليك)) ما نقله النووي
এবং আয-যাহাবি তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। স্বপ্নের প্রসিদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: "হে মুহাম্মদ! যখন তুমি সালাত আদায় করবে তখন বলো: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কল্যাণকর কাজ করার, মন্দ কাজ বর্জন করার এবং অভাবী লোকদের ভালোবাসার তাওফিক প্রার্থনা করছি। আর যখন আপনি আপনার বান্দাদের কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন করার ইচ্ছা করেন, তখন আমাকে ফিতনাগ্রস্ত না করে আপনার কাছে তুলে নিন।" এটি তিরমিজি ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন: এটি হাসান (حسن) গরিব (غريب)। আর ইমাম আহমদ, হাকেম ও অন্যান্যরা মুয়াজ বিন জাবাল (রাযিআল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

হাকেম এটি আব্দুর রহমান বিন আইশ আল-হাদরামি (রাযিআল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এর সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), তবে তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেননি।" আর হাফিজ আয-যাহাবি তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

এই হাদিসগুলোতে এবং পূর্বে উল্লিখিত আয়াতসমূহের মধ্যে ওই ব্যক্তিদের কথার বলিষ্ঠতম প্রত্যাখ্যান রয়েছে যারা বলে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মন্দ সৃষ্টি করেননি, অথবা আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির কারও মাধ্যমে মন্দ সংঘটিত করেন না; যেমনটি অগ্নিপূজক এবং কদরিয়্যাহরা বলে থাকে—যারা এই উম্মতের অগ্নিপূজক।

খাত্তাবি বলেছেন: তিনি (রাসূল) তাদেরকে অগ্নিপূজক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কারণ তাদের মতাদর্শ অগ্নিপূজকদের মতাদর্শের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তারা দুটি মূল সত্তার প্রবক্তা—একটি হলো আলো এবং অন্যটি অন্ধকার। তারা দাবি করে যে, কল্যাণ আলোর কাজ এবং অকল্যাণ অন্ধকারের কাজ; ফলে তারা দ্বৈতবাদী হয়ে পড়েছে। অনুরূপভাবে, কদরিয়্যাহরা কল্যাণকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং অকল্যাণকে অন্যের দিকে।

অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়েরই স্রষ্টা। তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত এর কোনোটিই সংঘটিত হয় না। প্রজ্ঞার বিচারে তাঁর পক্ষ থেকে মন্দকে মন্দ হিসেবে সৃষ্টি করা ঠিক তেমনই, যেমনটি তিনি কল্যাণকে কল্যাণ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং সৃষ্টি এবং অস্তিত্বদানের বিচারে এ দুটি বিষয়ই আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, আর তা সম্পাদন এবং অর্জনের বিচারে বান্দাদের (কর্মকর্তাদের) দিকে সম্বন্ধযুক্ত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "এবং মন্দ আপনার দিকে (সম্পর্কিত) নয়" -এর ব্যাখ্যায় সবচেয়ে উত্তম কথা হলো যা ইমাম নববী বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
عن الخطابي، ونقله ابن الأثير عن الهروي: إنه إرشاد إلى الأدَب في الثناء على الله - تعالى - بأن تُضاف إليه محاسن الأمور دون مساويها على جهة الأدَب.

قلتُ: وهذا كما أخبر الله - تعالى - عن الجن أنهم أضافوا الخير إليه، وأضافوا الشر إلى غير فاعل، ومثل ذلك ما في فاتحة الكتاب: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 6، 7]، ففي هؤلاء الآيات الكريمات الإرشاد إلى الأدب في الدُّعاء والثناء على الله - تعالى - بأن تضاف إليه محاسن الأمور؛ كالإنعام، والهداية، وغير ذلك من أنواع الخير، وبأن يضافَ الشر والغضب وما في معنى ذلك إلى غير فاعل، مع العلم بأن الله - تعالى - هو خالِقُ الخير والشر، والمتَّصف بالإنعام والغضَب.

قال النووي رحمه الله: وأما قوله: ((والشر ليس إليك))، فمما يجب تأويله؛ لأن مذهب أهل الحق: أن كل المحدثات فعل الله - تعالى - وخلقه، سواء خيرها وشرها، وحينئذٍ يجب تأويله، وفيه خمسة أقوال: أحدها: معناه: لا يتقرب به إليك؛ قاله الخليل بن أحمد، والنضر بن شميل، وإسحاق بن راهويه، ويحيى بن معين، وأبو بكر بن خُزيمة، والأزهري، وغيرهم.

والثاني: حكاه الشيخ أبو حامد عن المزَني، وقاله غيره أيضًا، معناه: لا يُضاف إليك على انفراده، لا يُقال: يا خالق القردة والخنازير،
আল-খাত্তাবি থেকে বর্ণিত, আর ইবনুল আসির এটি আল-হারাউয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন: এটি মহান আল্লাহর স্তুতি ও প্রশংসার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার (الأدب) অবলম্বনের একটি নির্দেশনা যে, আদব রক্ষার্থে তাঁর প্রতি কেবল উত্তম বিষয়গুলোকেই সম্পৃক্ত করা হবে, মন্দ বিষয়গুলোকে নয়।

আমি বলছি: এটি ঠিক তেমনই যেমন মহান আল্লাহ জিনদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা কল্যাণকে আল্লাহর প্রতি সম্পৃক্ত করেছে এবং অকল্যাণকে কোনো সুনির্দিষ্ট কর্তার উল্লেখ ছাড়াই বর্ণনা করেছে। এর উদাহরণ পবিত্র কুরআনের প্রারম্ভিক সূরা ফাতিহায় বিদ্যমান: {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। সেই সমস্ত লোকের পথ, যাদের আপনি নিআমত দান করেছেন। তাদের পথ নয় যারা অভিশপ্ত এবং যারা পথভ্রষ্ট।} [সূরা ফাতিহা: ৬, ৭]। সুতরাং এই মহান আয়াতগুলোতে দুআ এবং মহান আল্লাহর স্তুতি ও প্রশংসার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার (الأدب) অবলম্বনের নির্দেশনা রয়েছে যেন তাঁর দিকে উত্তম বিষয়সমূহ যেমন: নিআমত দান, হেদায়েত এবং অন্যান্য কল্যাণকর বিষয় সম্পৃক্ত করা হয়। আর মন্দ, ক্রোধ এবং এই জাতীয় অর্থবহ বিষয়গুলোকে কোনো সুনির্দিষ্ট কর্তার উল্লেখ ছাড়াই বর্ণনা করা হয়। অথচ এটি স্বীকৃত যে, মহান আল্লাহই কল্যাণ ও অকল্যাণ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি অনুগ্রহ ও ক্রোধ—উভয় গুণেরই অধিকারী।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আর তাঁর বাণী: "এবং মন্দ আপনার প্রতি সম্পৃক্ত নয়", এটি এমন একটি বাক্য যার ব্যাখ্যা (تأويل) করা আবশ্যক; কারণ সত্যপন্থীদের মাযহাব (مذهب) হলো: নবোদ্ভূত সকল বিষয় (المحدثات) মহান আল্লাহর কর্ম ও তাঁর সৃষ্টি, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। এমতাবস্থায় এর ব্যাখ্যা (تأويل) করা আবশ্যক। এ বিষয়ে পাঁচটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো: এর অর্থ—এর মাধ্যমে আপনার নৈকট্য লাভ করা যায় না। এটি খলিল ইবনে আহমদ, নাদর ইবনে শুমাইল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবু বকর ইবনে খুজাইমা, আল-আজহারি এবং অন্যান্যরা বলেছেন।

দ্বিতীয়টি: যা শায়খ আবু হামিদ আল-মুজানি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যরাও এটি বলেছেন; এর অর্থ হলো: এটি এককভাবে কেবল আপনার প্রতি সম্পৃক্ত করা হবে না। যেমন বলা যাবে না: 'হে বানর ও শূকরের স্রষ্টা'।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ويا رب الشر، ونحو هذا، وإن كان خالق كل شيء، ورب كل شيء، وحينئذٍ يدخل الشر في العُمُوم.

والثالث: معناه: والشر لا يصعد إليك، إنما يصعد الكلِم الطيِّب والعمل الصالح.

والرابع: معناه: والشر ليس شرًّا بالنسبة إليك، فإنك خلقته بحكمة بالغة، وإنما هو شر بالنسبة إلى المخلوقين.

والخامس: حكاه الخطابي: أنه كقولك: فلان إلى بني فلان، إذا كان عداده فيهم أوصفوه إليهم؛ انتهى.

والقول الرابع: هو الذي قرَّره ابنُ القيِّم - رحمه الله تعالى، كما تقدَّم في كلامه - فإنه قرَّر أولاً أن الله - تعالى - خالق الخير والشر، ثم قرَّر أنَّ الشر إنما يكون شرًّا بالنسبة إلى المخلوقين، وأما بالنسبة إلى الخالق فلا يكون شرًّا؛ لأنه لا يضع شيئًا إلا في محله اللائق به، وهذا معنى قوله: "لا في خلقه وفعله"؛ يعني: أن خلقه وفعله الشر لا يُسمى في حقه شرًّا؛ لأنه - تعالى - حكيم، يضع الأشياء في مواضعها، وعدل لا يجور ولا يظلم أحدًا، فعُلم من هذا أنَّ الشر ليس إليه، وأن خلقه وفعله كله خير، وإن تضرَّر بذلك بعض المخلوقين، وكان شرًّا بالنسبة إليهم.

فإن قيل: إن كلام الشيخ الألباني قريبٌ من كلام ابن القيم - رحمه الله تعالى - فما وجه الاعتراض على الألباني؟

فالجواب أن يقال: إن بين كلام ابن القَيِّم وبين أول كلام الألباني بَوْنًا بعيدًا؛ أمَّا الألباني فإنه نفى أنْ يكونَ الشر من أفعال الله - تعالى - وهذا
এবং "হে অকল্যাণের পালনকর্তা" ও তদ্রূপ বিষয়সমূহ; যদিও তিনি প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা এবং প্রতিটি বস্তুর পালনকর্তা, আর এমতাবস্থায় অকল্যাণ এই সাধারণ (عموم) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।

তৃতীয়ত: এর অর্থ হলো— অকল্যাণ আপনার নিকট আরোহণ করে না, বরং কেবল পবিত্র বাণীসমূহ এবং নেক আমলই আরোহণ করে।

চতুর্থত: এর অর্থ হলো— অকল্যাণ আপনার সাপেক্ষে অকল্যাণ নয়, কেননা আপনি তা সুগভীর হিকমতের সাথে সৃষ্টি করেছেন; বরং এটি কেবল সৃষ্টির সাপেক্ষে অকল্যাণ।

পঞ্চমত: যা খাত্তাবি বর্ণনা করেছেন যে— এটি আপনার এ কথার মতো: 'অমুক ব্যক্তি অমুক গোত্রের অন্তর্ভুক্ত', যখন সে তাদের গণনায় থাকে অথবা তাকে তাদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; সমাপ্ত।

চতুর্থ অভিমতটি হলো সেটিই যা ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) প্রতিষ্ঠিত করেছেন—যেমনটি পূর্বে তাঁর বক্তব্যে অতিবাহিত হয়েছে—নিশ্চয়ই তিনি প্রথমে এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা কল্যাণ ও অকল্যাণের স্রষ্টা; অতঃপর তিনি এটিও সাব্যস্ত করেছেন যে, অকল্যাণ কেবল সৃষ্টির সাপেক্ষে অকল্যাণ হিসেবে গণ্য হয়, কিন্তু স্রষ্টার সাপেক্ষে তা অকল্যাণ নয়। কারণ তিনি কোনো কিছুকেই তার উপযুক্ত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও স্থাপন করেন না। আর এটিই হলো তাঁর এই বাণীর অর্থ: "তাঁর সৃষ্টি ও কর্মের মধ্যে (অকল্যাণ নেই)"; অর্থাৎ তাঁর অকল্যাণ সৃষ্টি করা এবং তা সম্পাদন করাকে তাঁর ক্ষেত্রে অকল্যাণ বলা হবে না; কেননা তিনি প্রজ্ঞাময়, তিনি সকল বিষয়কে তাদের যথাযোগ্য স্থানে স্থাপন করেন এবং তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل), তিনি অন্যায় করেন না এবং কারো প্রতি জুলুম করেন না। এ থেকে জানা গেল যে, অকল্যাণ তাঁর দিকে বর্তায় না এবং তাঁর সৃষ্টি ও কর্মের পুরোটাই কল্যাণময়, যদিও এর ফলে কোনো কোনো সৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাদের সাপেক্ষে তা অকল্যাণকর হয়ে থাকে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: নিশ্চয়ই শায়খ আলবানীর বক্তব্য ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর বক্তব্যের কাছাকাছি, তবে আলবানীর ওপর আপত্তির দিকটি কী?

উত্তরে বলা হবে: ইবনুল কায়্যিমের বক্তব্য এবং আলবানীর প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে; আলবানী তো অকল্যাণ আল্লাহ তাআলার কাজ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, আর এটি...
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
هو قولُ القدَرية بعينه، وأما ابن القيم - رحمه الله تعالى - فإنه أثبت أن الله - تعالى - خالق الخير والشر، ثم نزَّه أفعال الرب تبارك وتعالى عن الاتِّصاف بوصْف الشر؛ لأنه - تعالى - لا يضَع شيئًا إلا في مَوْضِعه اللائق به، وذلك عدل منه - تعالى - وليس شرًّا بالنسبة إليه، وهذا من أقوال أهل الحق.

ولو أن الشيخ الألباني قال: إن الشر لا يُنْسَب إلى الله - تعالى - لأنه ليس في فعله تبارك وتعالى شر - أي: بالنسبة إليه - لسلم من الاعتراض، ولكان قوله موافقًا لقول ابن القيم - رحمه الله تعالى - والله سبحانه وتعالى أعلم.

ثم إن قول الألباني: ((والشر ليس إليك)) إنما صار شرًّا؛ لانقطاع نسبته، وإضافته إلى الله - تعالى - بالكلية، فلا يقال: إنه خالق الشر، ولا إنه يفعل الشر بأحد مِن خلقه.

وهذا هو قولُ القدَرية بعينه، والذي اتَّفق عليه أهلُ السنة والجماعة: أن الله - تعالى - خالق الشر كما أنه خالق الخير، وأنه يفعل بمن شاء خيرًا، وبمن شاء شرًّا، فالأمران معًا مُضافان إليه خلقًا وإيجادًا؛ كما قال - تعالى -: {وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً} [الأنبياء: 35]، وغيرها من الآيات التي تقدَّم ذكرُها.

وإنما كان أهلُ السنة والجماعة يعدلون عن نسبة الشر وإضافته إلى الله - تعالى - على وجه الأدب في العبارة، لا على أنه منقطع النسبة، والإضافة إلى الله بالكلية، ومَن تدَبَّر ما قرَّره الشيخ الألباني في أثناء كلامه، لم يشك في حُسن عقيدته في باب القدَر، وما وقع في أول كلامه وآخره فذلك خطأ في العبارة، وقَلَّ أن يسلمَ منَ
এটি হুবহু ক্বাদারিয়াদেরই (القدرية) বক্তব্য। পক্ষান্তরে ইবনুল কাইয়্যিম -আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়েরই স্রষ্টা। অতঃপর তিনি রব্ব তাবারাকা ওয়া তায়ালার কার্যাবলীকে ‘মন্দ’ বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত হওয়া থেকে পবিত্র রেখেছেন; কেননা আল্লাহ তায়ালা কোনো কিছুকে তার উপযুক্ত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও স্থাপন করেন না। আর এটি তাঁর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার (عدل), এবং তাঁর সাপেক্ষে এটি কোনো মন্দ নয়। এটিই সত্যপন্থীদের (أهل الحق) অন্যতম বক্তব্য।

শায়খ আলবানি যদি বলতেন: মন্দকে আল্লাহ তায়ালার দিকে সম্বন্ধ করা হয় না কারণ তাঁর তাবারাকা ওয়া তায়ালার কার্যাবলীতে কোনো মন্দ নেই—অর্থাৎ তাঁর সাপেক্ষে—তবে তিনি আপত্তির হাত থেকে রক্ষা পেতেন এবং তাঁর কথাটি ইবনুল কাইয়্যিম -আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- এর বক্তব্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতো। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অধিক পরিজ্ঞাত।

অতঃপর শায়খ আলবানির উক্তি: "এবং মন্দ আপনার দিকে (সম্বন্ধযুক্ত) নয়"—এটি কেবল এজন্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে যে, এতে আল্লাহর সাথে এর নিসবত বা সম্বন্ধকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে এমনটি বলা যাবে না যে, তিনি মন্দের স্রষ্টা অথবা তিনি তাঁর কোনো সৃষ্টির সাথে মন্দ আচরণ করেন।

আর এটি হুবহু ক্বাদারিয়াদেরই (القدرية) বক্তব্য। অথচ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন তা হলো: আল্লাহ তায়ালা মন্দের স্রষ্টা যেমন তিনি কল্যাণেরও স্রষ্টা। আর তিনি যার জন্য ইচ্ছা কল্যাণ করেন এবং যার জন্য ইচ্ছা অকল্যাণ করেন। সুতরাং সৃষ্টি ও অস্তিত্ব প্রদানের বিচারে উভয় বিষয়ই তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {এবং আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করি} [আল-আম্বিয়া: ৩৫] এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াত যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

বস্তুত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কেবল শব্দচয়নের শিষ্টাচারের খাতিরে আল্লাহর দিকে মন্দের নিসবত বা সম্বন্ধ করা থেকে বিমুখ থাকতেন; আল্লাহর সাথে এর সম্বন্ধ বা সংযুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন গণ্য করে নয়। যে ব্যক্তি শায়খ আলবানি তাঁর আলোচনার মাঝে যা সাব্যস্ত করেছেন তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে তাকদির (القدر) অধ্যায়ে তাঁর আকিদা বা বিশ্বাসের (عقيدة) বিশুদ্ধতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করবে না। তাঁর আলোচনার শুরুতে ও শেষে যা প্রকাশ পেয়েছে তা মূলত শব্দচয়নের ভুল (خطأ في العبارة), আর খুব কম ব্যক্তিই রক্ষা পান...
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الخطأ أحدٌ منَ البشَر.

والله المسؤول أن يوفقنا وإياه وجميع المسلمين لما يُحب ويرضى من الأقوال والأعمال، وأن يسلك بالجميع سبيل السلَف الصالح من الصحابة والتابعين لهم بإحسان، إن ربِّي لسميع الدعاء، قريبٌ مجيب.

 

‌‌التنبيه الرابع

الرابع قال المؤلف في صفحة 82 ما نصه: "صلاة الجنازة السنة أن يُقرأ فيها بفاتحة الكتاب وسورة". اهـ، ثم ذكره في الحاشية: أنه رواه البخاري، وأبو داود والنسائي.

وهذا فيه إيهام؛ فإن رواية البخاري وأبي داود ليس فيها ذكر السورة، وإنما ذلك في إحدى روايتي النسائي، وهو ما رواه عن الهيثم بن أيوب، قال: حدَّثنا إبراهيم وهو ابن سعد، قال: حدثنا أبي، عن طلحة بن عبدالله بن عوف،
ভুল মানুষেরই হয়ে থাকে।

আর আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের, তাকে এবং সকল মুসলিমকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কথা ও কাজের তাওফিক দান করেন, এবং সকলকে সাহাবী (صحابة) ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণসহ (تابعين) পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) পথে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই আমার রব দোয়া কবুলকারী, অতি নিকটবর্তী ও সাড়াদানকারী।

 

‌‌চতুর্থ সতর্কতা

চতুর্থত: লেখক ৮২ পৃষ্ঠায় যা লিখেছেন তার ভাষ্য হলো: "জানাজার সালাতে সুন্নাত (سنة) হলো সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করা।" উদ্ধৃতি শেষ। এরপর তিনি টীকায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি বুখারী, আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

আর এর মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির অবকাশ (إيهام) রয়েছে; কারণ বুখারী ও আবু দাউদের বর্ণনাতে (رواية) অতিরিক্ত সূরা পাঠের উল্লেখ নেই। বরং এটি নাসাঈর দুটি বর্ণনার (رواية) একটিতে রয়েছে, যা তিনি হাইসাম বিন আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (হাইসাম) বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম—যিনি ইবনে সা’দ—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট তালহা বিন আব্দুল্লাহ বিন আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال: صليت خلف ابن عباس رضي الله عنهما على جنازة، فقرأ بفاتحة الكتاب وسورة، وجهر حتى أسمعنا، فلما فرغ أخذت بيده، فسألته، فقال: "سنة وحق".

وقد رواه الإمام الشافعي في مسنده بدون ذكر السورة، فقال: أخبرنا إبراهيم بن سعد، عن أبيه، عن طلحة بن عبدالله بن عوف، قال: صلَّيْتُ خلف ابن عباس رضي الله عنهما على جنازة، فقرأ فاتحة الكتاب، فلمَّا سلَّم سألته عن ذلك، فقال: "سنة وحق"، إسناده صحيحٌ على شرط البخاري.

فهذا هو المحفوظ عن ابن عباس رضي الله عنهما ليس فيه ذِكْر السورة، وكذا رواه شعبة وسفيان، عن سعد بن إبراهيم بدون ذكر السورة، فأما رواية شعبة فأخرجها البخاري والنسائي، وأما رواية سفيان فأخرجها البخاري وأبو داود والترمذي، وقال: هذا حديث حسن صحيح.

قال البيهقي: ذكر السورة غير مَحْفوظ، قلتُ: ويدل على ذلك ما ذكرته ها هنا، ويدلُّ عليه أيضًا ما رواه الشافعي في مسنده: أخبرنا ابن عيينة، عن محمد بن عجلان، عن سعيد بن أبي سعيد، قال: سمعتُ ابن عباس رضي الله عنهما يجهر بفاتحة الكتاب على الجنازة، ويقول: إنما فعلت لتعلموا أنها سنَّة.

وقد رواه الحاكم في مستدركه من طريق: ابن أبي عمر، عن سفيان بن عيينة، وقال: هذا حديثٌ صحيح على شرْط مسلم، ووافَقه الذهبي في تلخيصه، قال الحاكِمُ: وقد أجمعوا على أن قول الصحابي سنَّة، حديث مسند.

وقال الشافعي أيضًا: أخبرنا بعض أصحابنا، عن ليث بن سعد، عن الزهري، عن أبي أمامة - وهو ابن سهل بن حنيف - قال: السنة أن يقرأ على الجنازة بفاتحة الكتاب، وقد رواه النسائي
তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পেছনে একটি জানাজার নামাজ আদায় করেছি, তখন তিনি সুরা ফাতিহা ও একটি সুরা পাঠ করলেন এবং উচ্চস্বরে পাঠ করলেন যাতে আমরা শুনতে পাই। যখন তিনি শেষ করলেন, আমি তাঁর হাত ধরলাম এবং তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "এটি সুন্নাহ (سنة) এবং হক।"

ইমাম শাফেয়ী তাঁর মুসনাদ-এ সুরা পাঠের উল্লেখ ব্যতিরেকে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন। তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি তালহা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পেছনে একটি জানাজার নামাজ আদায় করেছি, তিনি সুরা ফাতিহা পাঠ করলেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, আমি তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "এটি সুন্নাহ (سنة) এবং হক।" এর সনদ (إسناد) বুখারির শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)।

সুতরাং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটিই সংরক্ষিত (محفوظ), যাতে অন্য কোনো সুরা পাঠের উল্লেখ নেই। তদ্রূপ শু'বাহ ও সুফিয়ান সুরা পাঠের উল্লেখ ছাড়াই এটি সাদ ইবনে ইবরাহিম থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন। শু'বাহর বর্ণনাটি (رواية) বুখারি ও নাসায়ি সংকলন (أخرج) করেছেন। আর সুফিয়ানের বর্ণনাটি (رواية) বুখারি, আবু দাউদ ও তিরমিজি সংকলন (أخرج) করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।

বায়হাকি বলেন: সুরার উল্লেখটি সংরক্ষিত নয় (غير محفوظ)। আমি (গ্রন্থকার) বলি: আমি এখানে যা উল্লেখ করেছি তা এরই প্রমাণ বহন করে। এছাড়া ইমাম শাফেয়ী তাঁর মুসনাদ-এ যা বর্ণনা (رواه) করেছেন তাও এর প্রমাণ দেয়: ইবনে উয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জানাজার নামাজে উচ্চস্বরে সুরা ফাতিহা পাঠ করতে শুনেছি এবং তিনি বলছিলেন: "আমি এটি কেবল এ জন্যই করেছি যাতে তোমরা জানতে পারো যে এটি সুন্নাহ (سنة)।"

وقد رواه الحاكم في مستدركه من طريق: ابن أبي عمر، عن سفيان بن عيينة، وقال: هذا حديثٌ صحيح على شرْط مسلم، ووافَقه الذهبي في تلخيصه، قال الحاكِمُ: وقد أجمعوا على أن قول الصحابي سنَّة، حديث مسند.

হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক-এ ইবনে আবু ওমর-এর সূত্র (طريق) হয়ে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح), এবং যাহাবি তাঁর তালখিস-এ এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। হাকেম বলেন: সাহাবির (صحابي) বক্তব্যকে সুন্নাহ (سنة) বলা হলে সেটিকে মুসনাদ (مسند) হাদিস হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত পোষণ (أجمعوا) করেছেন।

ইমাম শাফেয়ী আরও বলেন: আমাদের কিছু সঙ্গী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আবু উমামা—যিনি ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ—থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুন্নাহ (سنة) হলো জানাজায় সুরা ফাতিহা পাঠ করা। নাসায়ি এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
في سُننه، فقال: أخبرنا قُتيبة، قال: حدَّثنا الليث، عن ابن شهاب، عن أبي أمامة، أنه قال: السُّنة في الصلاة على الجنازة أن يقرأ في التكبيرة الأولى بأُمِّ القرآن مخافتة، ثم يكبِّر ثلاثًا، والتسليم عن الآخرة، إسناده صحيح على شرط الشيخَيْن.

ثم قال النسائي: أخبرنا قتيبة، قال: حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن محمد بن سويد الدمشقي الفهري، عن الضحَّاك بن قيس الدمشقي، بنحو ذلك، وهذا إسنادٌ جَيِّد.

وقد رواه الشافعي في مسنده من طريق معمر، عن الزُّهري، حدثني محمد الفهري، عن الضحاك بن قيس، أنه قال مثل قول أبي أمامة.

وقد جاء في هذا الباب أحاديثُ مرْفوعة؛ منها ما رواه التِّرْمذي وابن ماجَهْ من حديث الحكم، عن مقسم، عن ابن عباس رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم قرأ على الجنازة بفاتحة الكتاب، قال الترمذي: ليس إسناده بذاك القوي والصحيح عن ابن عباس رضي الله عنهما قوله من السنة القراءة على الجنازة بفاتحة الكتاب.

قال: وفي الباب عن أم شريك، قلتُ: وهو ما رواه ابن ماجه في سُنَنه بإسناد حسن عنها رضي الله عنها قالتْ: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نقرأ على الجنازة بفاتحة الكتاب.

وقال الشافعي في مسنده: أخبرنا إبراهيم بن محمد، عن عبدالله بن محمد بن عقيل، عن جابر بن عبدالله رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم كبَّر على الميت أربعًا، وقرأ بأُمِّ القرآن يمد التكبيرة الأولى.
তিনি তাঁর সুনানে বলেছেন: কুতাইবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে, আবু উমামাহ থেকে, তিনি বলেন: জানাজার নামাজে সুন্নাত হলো প্রথম তাকবীরে অনুচ্চস্বরে উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) পাঠ করা, অতঃপর আরও তিনবার তাকবীর বলা এবং শেষে সালাম ফেরানো। এর সনদ (إسناد) শাইখাইনের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح)।

অতঃপর নাসাঈ বলেন: কুতাইবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে, মুহাম্মদ ইবনে সুওয়াইদ আদ-দিমাশকী আল-ফিহরী থেকে, দাহহাক ইবনে কাইস আদ-দিমাশকী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; আর এই সনদটি (إسناد) উত্তম (جيد)।

আর ইমাম শাফিঈ তাঁর মুসনাদে এটি মা’মার-এর সূত্রে জুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ আল-ফিহরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন দাহহাক ইবনে কাইস থেকে, তিনি আবু উমামাহ-এর বক্তব্যের মতো বলেছেন।

এই অনুচ্ছেদে মারফু (مرفوع) হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে; তার মধ্যে একটি তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ হাকাম-এর হাদিস থেকে মিকসাম-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাজার নামাজে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করেছেন। তিরমিজি বলেন: এর সনদটি (إسناد) ততোটা শক্তিশালী (قوي) নয়; তবে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এই বক্তব্যটি বিশুদ্ধ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত যে, জানাজার নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি (তিরমিজি) বলেন: এই অনুচ্ছেদে উম্মু শারীক থেকে বর্ণনা রয়েছে। আমি বলছি: সেটি ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে উম্মু শারীক (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে হাসান (حسن) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের জানাজার নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইমাম শাফিঈ তাঁর মুসনাদে বলেন: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত ব্যক্তির জানাজায় চার তাকবীর দিয়েছেন এবং প্রথম তাকবীর দীর্ঘ করে উম্মুল কুরআন পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
إبراهيم بن محمد هو ابن أبي يحيى المدني، وثَّقَه الشافعي، وضعفه غير واحد من الأئمة، وتركه بعضهم، وقال ابن عقدة: ليس بمنكر الحديث، وقال ابن عدي: هو كما قال ابن عقدة.

وقد روى هذا الحديث الحاكم في مستدركه مستشهدًا به، ولم يتكلَّم فيه بشيء، وأقره الذهبي، فإن قيل: إن الهيثم بن أيوب ثقة عند النسائي، وقد زاد ذِكْر السورة مع الفاتحة، والزيادة من الثقة مقبولة.

فالجواب: أن يقال: إنها زيادة شاذة؛ لمُخالفتها لرواية شعبة وسفيان والشافعي، وكل منهم أوثق وأثبت وأجل من الهيثم بن أيوب، فالعمدة في حديث ابن عباس رضي الله عنهما على روايتهم، لا على ما خالفها، والله أعلم.
ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ হলেন ইবনে আবি ইয়াহইয়া আল-মাদানি। ইমাম শাফিঈ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) আখ্যা দিয়েছেন, তবে একাধিক ইমাম তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন এবং তাদের কেউ কেউ তাকে বর্জন (تركه) করেছেন। ইবনে উকদাহ বলেছেন: তিনি মুনকার (منكر) হাদিস বর্ণনাকারী নন; ইবনে আদিও বলেছেন: তিনি ইবনে উকদাহ যা বলেছেন তেমনই।

ইমাম হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে এই হাদিসটি সাক্ষ্য হিসেবে (مستشهدًا) বর্ণনা করেছেন এবং এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, আর ইমাম আয-যাহাবিও তা বহাল রেখেছেন। যদি বলা হয় যে: আল-হাইসাম ইবনে আইয়ুব ইমাম নাসায়ির নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة), আর তিনি সুরা ফাতিহার সাথে অন্য সুরা পাঠ করার বিষয়টি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন, আর নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة)।

এর উত্তর হলো: এটি একটি শায (شاذة) বা ত্রুটিপূর্ণ অতিরিক্ত বর্ণনা; কারণ এটি শু'বাহ, সুফিয়ান এবং শাফিঈর বর্ণনার (رواية) পরিপন্থী। তাদের প্রত্যেকেই আল-হাইসাম ইবনে আইয়ুবের তুলনায় অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق), অধিকতর দৃঢ় (أثبت) এবং সুমহান। সুতরাং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের বর্ণনার (رواية) ওপরই নির্ভর করা হবে, এর পরিপন্থী বর্ণনার ওপর নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌التنبيه الخامس

قال المؤلف في حاشية صفحة 99 ما نصه: "ولستُ أشك أنَّ وضع اليدين على الصدر في هذا القيام بدعة ضلالة؛ لأنه لَم يَرِدْ مُطلقًا في شيء من أحاديث صفة الصلاة". اهـ، والقيام الذي أشار إليه هو القيام بعد الركوع.

وأقول: إن الجزم بالتبديع والتضليل فيما ذكر ها هنا فيه نظر؛ لما رواه النسائي في أول كتاب الافتتاح من سننه الصغرى عن وائل بن حجر رضي الله عنه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كان قائمًا في الصلاة قبض يمينه على شماله، إسناده جيد.

وقد رواه الدارقطني في سننه من طريق النسائي، ولا أعلم لهذا الحديث معارضًا ولا مخصصًا، وظاهره يفيد العموم لما قبل الركوع وما بعده؛ لأنَّ كلاًّ منهما يسمى قيامًا، ومن خَصَّص ذلك بما قبل الركوع فعليه الدليل، وليس في باقي الرِّوايات عن وائل رضي الله عنه ولا في الأحاديث عن غيره ما ينفي وضع اليدين على الصدر، أو تحت السُّرَّة فيما بعد الركوع كما يفعل قبله، والله أعلم.

وقد ذكر ابن مُفلح في "الفروع والنكت"، عن الإمام أحمد - رحمه الله تعالى - أنه قال: إن شاء أرسل يديه - يعني: بعد الرفع من الركوع - وإن شاء وضع يمينه على شماله، قال في "النُّكَت": وقطع به القاضي
পঞ্চম সতর্কবার্তা

লেখক ৯৯ নম্বর পৃষ্ঠার টিকায় যা বলেছেন তার পাঠ হলো: "আমি এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করি না যে, এই দণ্ডায়মান অবস্থায় (কিয়াম) বুকের ওপর হাত রাখা একটি পথভ্রষ্ট বিদআত (بدعة ضلالة); কারণ নামাজের পদ্ধতি বিষয়ক কোনো হাদিসের মধ্যেই এটি মোটেও বর্ণিত হয়নি।" সমাপ্ত। আর তিনি যে দণ্ডায়মান হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো রুকু থেকে ওঠার পরবর্তী কিয়াম।

আমি বলব: এখানে বিদআত ও ভ্রষ্টতা হিসেবে যে অকাট্য সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে তা পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ নাসায়ি তাঁর সুনান আল-সুগরা-এর কিতাবুল ইফতিতাহ-এর শুরুতে ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি যে, যখন তিনি নামাজে দণ্ডায়মান থাকতেন, তখন ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন। এর সনদ উত্তম (جيد)।

দারাকুতনি তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি নাসায়ির সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আমি এই হাদিসের কোনো বিপরীতধর্মী (معارض) বা সীমাবদ্ধকারী (مخصص) দলিল জানি না। এর বাহ্যিক অর্থ রুকুর আগের এবং পরের উভয় সময়ের ব্যাপকতা (العموم) প্রকাশ করে; কারণ উভয় অবস্থাকেই কিয়াম (দণ্ডায়মান হওয়া) বলা হয়। আর যে ব্যক্তি একে রুকুর পূর্ববর্তী সময়ের জন্য সুনির্দিষ্ট করবে, তাকেই প্রমাণ (الدليل) পেশ করতে হবে। ওয়াইল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনা কিংবা অন্যদের থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসে রুকু থেকে ওঠার পর বুকের ওপর বা নাভির নিচে হাত রাখাকে অস্বীকার করা হয়নি, যেমনটি রুকুর আগে করা হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

ইবনে মুফলিহ "আল-ফুরু ওয়া আল-নুকাত" গ্রন্থে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: "সে চাইলে তার হাত ছেড়ে দেবে—অর্থাৎ রুকু থেকে মাথা তোলার পর—আর চাইলে তার ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখবে।" তিনি "আল-নুকাত" গ্রন্থে বলেছেন: কাজী এটিকেই অকাট্য ও চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
في الجامع؛ لأنه حالة قيام في الصلاة، فأشبه ما قبل الرُّكوع، قال: وذكر في المذهب والتلخيص أنه يرسلهما بعد رفعه، وذكر في الرِّعاية أنَّ الخلافَ هنا كحالة وضعهما بعد تكبيرة الإحرام؛ انتهى.

ومنَ المعْلُوم عند العلماء كافَّة ما كان عليه الإمام أحمد - رحمه الله تعالى - من مزيد التمسك بالآثار، والبُعد عن البدَع والضلالات، وقد قال في هذه الرواية بالتخيير بين إرسال اليدين في القيام بعد الركوع، وبين وضْع اليمين على الشمال، والقول بالوضع هو الصَّواب لعُمُوم حديث وائل الذي ذكرنا، والله أعلم.

 

‌‌التنبيه السادس

قال المؤلِّف في صفحة 100 ما نصه: "وكان أحيانًا يرفع يديه إذا سجد". اهـ، وقال أيضًا في صفحة 162 ما نصه: "وكان يرفع يديه مع هذا التكبير أحيانًا". اهـ، يعني به: التكبير عند الرفع من السجود، وقال مثل ذلك في صفحة 115، وقال أيضًا في صفحة 133 ما نصه: "وكان يرفع يديه مع هذا التكبير أحيانًا". اهـ، يعني به: التكبير عند القيام من السجود إلى الركعة الرابعة.

وجميع ما ذكره في هذه المواضع مَرْدُود بالحديث المتَّفق
'আল-জামে' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে; কারণ এটি সালাতে দণ্ডায়মান অবস্থার অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি রুকুর পূর্ববর্তী অবস্থার অনুরূপ। তিনি বলেন: 'আল-মাযহাব' এবং 'আত-তালখিস' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রুকু থেকে উঠার পর তিনি হাত দুটি ছেড়ে দিতেন। 'আর-রিয়াহ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ক্ষেত্রে মতপার্থক্যটি তাকবীরে তাহরীমার পর হাত বাঁধার মতপার্থক্য সদৃশ। সমাপ্ত।

সকল আলিমের নিকট এটি সুবিদিত যে, ইমাম আহমাদ —রহিমাহুল্লাহু তাআলা— সুন্নাহর নিদর্শনসমূহ (آثار) অনুসরণে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং বিদআত ও ভ্রষ্টতা থেকে দূরে থাকতেন। তিনি এই বর্ণনায় (رواية) রুকুর পর দণ্ডায়মান অবস্থায় হাত ছেড়ে দেওয়া এবং ডান হাতকে বাম হাতের ওপর রাখার মধ্যে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন। তবে হাত রাখাই হলো সঠিক, কারণ আমরা ওয়ায়েল বর্ণিত যে হাদিসটি উল্লেখ করেছি তার ব্যাপকতার কারণে। আল্লাহ ভালো জানেন।

 

‌‌ষষ্ঠ সতর্কতা

লেখক ১০০ পৃষ্ঠায় যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "আর তিনি মাঝে মাঝে সিজদাহ করার সময় হাত তুলতেন"। সমাপ্ত। তিনি ১৬২ পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন: "আর তিনি মাঝে মাঝে এই তাকবীরের সাথে হাত তুলতেন"। সমাপ্ত। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সিজদাহ থেকে উঠার সময়ের তাকবীর। অনুরূপ কথা তিনি ১১৫ পৃষ্ঠায়ও বলেছেন। এছাড়া তিনি ১৩৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আর তিনি মাঝে মাঝে এই তাকবীরের সাথে হাত তুলতেন"। সমাপ্ত। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সিজদাহ থেকে চতুর্থ রাকাতে ওঠার সময়ের তাকবীর।

এই স্থানগুলোতে তিনি যা কিছু উল্লেখ করেছেন তা সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিস দ্বারা প্রত্যাখ্যাত (مردود)।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
على صحته عن ابن عمر رضي الله عنهما: "أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يرفع يديه في السجود"؛ رواه مالك، والشيخان، وأهل السنن، وفي رواية للبخاري والنسائي: "ولا يفعل ذلك حين يسجد، ولا حين يرفع رأسه من السجود"، وفي رواية للشافعي، وأحمد، ومسلم: "ولا يرفعهما بين السجدتين"، ورواه أهل السنن بهذا اللفظ، وقال التِّرْمذي: حديثٌ حسَن صحيح، وفي رواية لمسلم: "ولا يفعله حين يرفع رأسه من السجود".

ورَوى الإمامُ أحمد أيضًا في مُسنده، والبخاري في جزء رفع اليدين، وأبو داود، والترمذي، والدارقطني، وفي سُننهم عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنه كان لا يرفع يديه في شيء من صلاته وهو قاعد"، قال التِّرْمذي: حديث حسن صحيح، وصحَّحه أيضًا: أحمد، والبخاري، وابن خُزَيمة، وابن حبَّان.

وروى الدارقطني أيضًا، والبيهقي من طريق حماد بن سلمة، عن الأزرق بن قيس، عن حطان بن عبدالله، عن أبي موسى الأشْعري رضي الله عنه قال: هل أريكم صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فكبَّر ورفع يديه، ثم كبر ورفع يديه للركوع، ثم قال: سمع الله لمن حمده، ثم رفع يديه، ثم قال هكذا فاصنعوا، ولا يرفع بين السجدتين.

وقد وردت أحاديث كثيرة صحيحة أنه صلى الله عليه وسلم كان يرفع يديه إذا افتتح الصلاة، وإذا أراد أن يركع، وإذا أراد رفع رأسه من الركوع، وفي بعضها أنه كان يفعل ذلك إذا قام من التشهُّد الأول، وكلها توافق حديث ابن عمر، وعلي، وأبي موسى رضي الله عنهم وترد
ইবনে উমর (রা.) থেকে এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে: "নবী (সা.) সিজদার সময় হাত উত্তোলন করতেন না"; এটি মালিক, শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। বুখারি ও নাসাঈর এক বর্ণনায় এসেছে: "তিনি সিজদা করার সময় এবং সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তা করতেন না।" শাফেয়ী, আহমদ ও মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: "তিনি দুই সিজদার মাঝখানে হাত উত্তোলন করতেন না।" সুনান গ্রন্থকারগণ এই শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস। মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে: "তিনি যখন সিজদা থেকে মাথা তুলতেন তখন তা করতেন না।"

ইমাম আহমদ তার মুসনাদ গ্রন্থে এবং বুখারি 'জুযউ রাফইল ইয়াদাইন' গ্রন্থে, এবং আবু দাউদ, তিরমিজি ও দারাকুতনি তাদের সুনান গ্রন্থসমূহে আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে: "তিনি বসে থাকা অবস্থায় নামাজের কোনো অংশে হাত উত্তোলন করতেন না।" তিরমিজি বলেন: এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস। আহমদ, বুখারি, ইবনে খুজাইমা এবং ইবনে হিব্বানও একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন।

দারাকুতনি ও বায়হাকিও হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর সূত্রে, আজরাক ইবনে কায়েস থেকে, তিনি হিতান ইবনে আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি আবু মুসা আল-াশআরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজ দেখাব না? অতঃপর তিনি তাকবির দিলেন ও হাত উত্তোলন করলেন, এরপর রুকুর জন্য তাকবির দিলেন ও হাত তুললেন, তারপর 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বললেন এবং হাত তুললেন। অতঃপর বললেন: তোমরা এভাবেই করবে। আর তিনি দুই সিজদার মাঝে হাত তুলতেন না।

অনেকগুলো সহিহ (صحيحة) হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সা.) যখন নামাজ শুরু করতেন, যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন হাত উত্তোলন করতেন। এগুলোর কোনো কোনোটিতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি প্রথম তাশাহহুদ থেকে ওঠার সময়ও এরূপ করতেন। এগুলোর সবই ইবনে উমর, আলী এবং আবু মুসা (রা.)-এর হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা প্রত্যাখ্যান করে...
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الروايات الشاذة أنه كان يرفع يديه في السجود والرفع منه.

قال العلامة ابن القيم - رحمه الله تعالى - في الهدي: روي عنه - يعني عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يرفعهما - أي: يرفع يديه إذا خرَّ للسجود - وصححه بعض الحفاظ كأبي محمد بن حزم، وهو وَهْمٌ فلا يصح ذلك عنه ألْبتة، والذي غره أن الراوي غلط من قوله: وكان يكبر في كل خفض ورفع إلى قوله: كان يرفع يديه عند كل خفض ورفع، وهو ثقة ولم يفطن لسبب غلط الراوي، ووهمه فصححه.

وقال صاحب القاموس في كتابه "سفر السعادة": الذي ورد في بعض الأحاديث: أنه كان يرفع يديه في كل خفض ورفع سهو، والرواية الصحيحة: أنه كان يكبر في كل خفض ورفع؛ انتهى.

وقد جاء في رفع اليدين في السجود وفي كل خفض ورفع أحاديث ضعيفة جدًّا، منها ما رواه الإمام أحمد، وابن ماجه من حديث إسماعيل بن عياش، عن صالح بن كيسان، عن عبدالرحمن الأعرج، عن أبي هريرة رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يرفع يديه حذو منكبيه حين يكبِّر ويفتتح الصلاة، وحين يركع، وحين يسجد، وإسماعيل بن عياش فيه مقال.

قال النسائي: ضعيف، وقال مُسلم في مُقدِّمة صحيحه: حدثنا عبدالله بن عبدالرحمن الدارمي، أخبرنا زكريا بن عدي، قال: قال لي أبو إسحاق الفزاري: لا تكتب عن إسماعيل بن عياش ما روى عن المعروفين ولا عن غيرهم، وقد وثَّقَه أحمد، وابن معين، ودحيم، والفلاس، والبخاري، والفسوي، وابن عدي، في أهل الشام،
সেই অস্বাভাবিক (شاذة) বর্ণনাগুলো যে, তিনি সিজদাহ করার সময় এবং সিজদাহ থেকে ওঠার সময় হাত উত্তোলন করতেন।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-হাদি' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর থেকে অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর হাতদ্বয় উত্তোলন করতেন—অর্থাৎ সিজদায় যাওয়ার সময় হাত তুলতেন—এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের মতো কিছু হাদিস বিশারদ (حفاظ) একে সঠিক (صحيح) বলে গণ্য করেছেন। তবে এটি একটি ভ্রম (وهم), তাঁর থেকে এটি একেবারেই প্রমাণিত নয়। মূলত যে বিষয়টি তাঁকে বিভ্রান্ত করেছে তা হলো, বর্ণনাকারী এই কথা থেকে ভুল করেছেন যে: "তিনি প্রতিটি অবনমন ও উত্তোলনের সময় তাকবির বলতেন," এর পরিবর্তে তিনি বলে ফেলেছেন: "তিনি প্রতিটি অবনমন ও উত্তোলনের সময় হাত উত্তোলন করতেন।" অথচ উক্ত বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন, কিন্তু তিনি (ইবনে হাজম) বর্ণনাকারীর ভুলের কারণ ও তার ভ্রম (وهم) ধরতে পারেননি, ফলে তিনি একে সঠিক (صحيح) বলে সাব্যস্ত করেছেন।

'আল-কামুস' প্রণেতা তাঁর 'সিফরুস সাআদাহ' গ্রন্থে বলেছেন: কিছু হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি প্রতিটি অবনমন ও উত্তোলনের সময় হাত তুলতেন, তা একটি ভুল (سهو); বরং সঠিক বর্ণনা (رواية صحيحة) হলো: তিনি প্রতিটি অবনমন ও উত্তোলনের সময় তাকবির বলতেন। ইতি।

সিজদার সময় এবং প্রতিটি অবনমন ও উত্তোলনের সময় হাত তোলার ব্যাপারে অত্যন্ত দুর্বল (ضعيفة جدا) কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণিত হাদিস যা ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি সালিহ ইবনে কাইসান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আল-আরাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকবির বলতেন এবং নামাজ শুরু করতেন, এবং যখন রুকু ও সিজদা করতেন তখন কাঁধ বরাবর হাত তুলতেন। তবে ইসমাইল ইবনে আইয়াশ সম্পর্কে সমালোচনা (مقال) রয়েছে।

ইমাম নাসায়ি বলেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ মুসলিমের ভূমিকায় বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, জাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-ফাযারি আমাকে বলেছেন: ইসমাইল ইবনে আইয়াশ পরিচিত বা অপরিচিত যাদের থেকেই বর্ণনা করুক না কেন, তাঁর থেকে লিখো না। যদিও আহমাদ, ইবনে মায়িন, দুহায়িম, ফাল্লাস, বুখারি, ফাসাউয়ি এবং ইবনে আদি শামবাসীদের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وضعفوه في الحجازيين.

وذكر البَيْهقي عن البخاري أنه قال: إسماعيل مُنكر الحديث عن أهل الحجاز وأهل العراق، وقال الطبراني في "معجمه الصغير": حدَّثَنا محمد بن عثمان بن أبي شيبة، قال: سمعْتُ يحيى بن معين يقول: إسماعيل بن عياش ثقة فيما روى عن الشاميين، وأما روايته عن أهل الحجاز فإنَّ كتابه ضاع، فخلط في حفظه عنهم.

وقال دحيم: هو في الشاميين غاية، وخلط عن المدنيين، وقال عمرو بن علي: إذا حدث عن أهل بلاده فصحيح، وإذا حدث عن أهل المدينة فليس بشيء.

قلتُ: وهذا الحديث من روايته عن أهْلِ المدينة، فالحديثُ لذلك ضعيفٌ، والمحفوظ عن أبي هريرة رضي الله عنه ما رواه أبو داود من حديث أبي بكر بن عبدالرحمن - كما سيأتي قريبًا إن شاء الله.

ومنها ما رواه الإمام أحمد أيضًا من حديث إسماعيل بن عياش، عن صالح بن كيسان، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل حديث أبي هريرة رضي الله عنه والكلام في هذا الحديث مثل الكلام في الذي قبله، والمحفوظ عن ابن عمر رضي الله عنهما نفْي الرَّفْع في السجود - كما تقدَّم قريبًا.

ومنها ما رواه ابن ماجَهْ من حديث رفدة بن قضاعة الغساني: حدثنا الأوزاعي، عن عبدالله بن عبيد بن عمير، عن أبيه، عن جده عمير بن حبيب رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يرفع يديه مع كل تكبيرة في الصلاة المكتوبة، قال النسائي: رفدة بن قضاعة
তারা তাঁকে হিজাজীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন।

বায়হাকী ইমাম বুখারী থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: ইসমাইল হিজাজ ও ইরাকবাসীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হাদিস (منكر الحديث) বর্ণনাকারী। তাবারানি তাঁর 'মুজাম আস-সাগীর' গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবু শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলতে শুনেছি যে, ইসমাইল বিন আইয়াশ শামী বর্ণনাকারীদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة); কিন্তু হিজাজবাসীদের থেকে তাঁর বর্ণনার বিষয়টি হলো তাঁর কিতাব হারিয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি তাদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর স্মৃতি থেকে গুলিয়ে ফেলেছেন।

দুহাইম বলেছেন: শামী বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় তিনি অত্যন্ত দক্ষ, কিন্তু মদিনাবাসীদের বর্ণনায় তিনি গুলিয়ে ফেলেছেন। আমর বিন আলী বলেছেন: যখন তিনি নিজ অঞ্চলের লোকদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তখন তা বিশুদ্ধ (صحيح), আর যখন মদিনাবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন তখন তা ধর্তব্য নয় (ليس بشيء)।

আমি বলছি: এই হাদিসটি মদিনাবাসীদের থেকে তাঁর বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, তাই এই কারণে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। আর আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যা সংরক্ষিত (محفوظ) তা হলো আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত আবু বকর বিন আব্দুর রহমানের হাদিস—যেমনটি ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই সামনে আসবে।

এর মধ্যে ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত ইসমাইল বিন আইয়াশ থেকে, তিনি সালেহ বিন কাইসান থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে নবী (সা.)-এর সূত্রে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনাটিও রয়েছে। আর এই হাদিসের ব্যাপারে বক্তব্যও ঠিক তার আগের হাদিসের মতোই। ইবনে উমর (রা.) থেকে যা সংরক্ষিত (محفوظ) তা হলো সিজদাহ করার সময় হাত তোলাকে অস্বীকার করা—যেমনটি অল্প কিছু আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।

এর মধ্যে ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত রিফদাহ বিন কুদাআহ আল-গাসসানি-এর হাদিসটিও রয়েছে: আমাদের নিকট আওযাঈ বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন উবাইদ বিন উমাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা উমাইর বিন হাবিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ফরয সালাতের প্রতিটি তাকবীরের সাথে হাত তুলতেন। ইমাম নাসায়ী বলেছেন: রিফদাহ বিন কুদাআহ...
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ليس بالقوي، وقال البخاري: في أحاديثه مناكير، وقال أيضًا: لا يتابع في حديثه، وقال أبو حاتم: منكر الحديث، وقال الدارقطني: متْروك، وقال الإمام أحمد: لا أعرف رفدة.

وعبدالله بن عبيد قيل: لم يسمع من أبيه، قال الإمام أحمد، ويحيى بن معين في هذا الحديث: ليس بصحيح، ولا يعرف عبدالله بن عبيد بن عمير يحدث عن أبيه شيئًا، ولا عن جده.

ومنها ما رواه ابن ماجه أيضًا من حديث عمر بن رباح، عن عبدالله بن طاوس، عن أبيه، عن ابن عباس رضي الله عنهما: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يرفع يديه عند كل تكبيرة، قال البخاري: - رحمه الله تعالى -: حدَّثني عمرو بن علي - يعني الفلاس - قال: عمر بن رباح أبو حفص الضرير البصري عن ابن طاوس دجال، وقال النسائي: متروك الحديث.

ومنها ما رواه الإمام أحمد في مسنده، وأبو داود في سننه من حديث ابن لَهيعة، عن ابن هُبيرة، عن ميمون المكي: أنه رأى ابن الزبير عبدالله، وصلى بهم يشير بكفه حين يقوم، وحين يركع، وحين يسجد، وحين ينهض للقيام، فيقوم فيشير بيديه، قال: فانطلقت إلى ابن عباس رضي الله عنهما فقلت له: إني قد رأيت ابن الزبير صلى صلاة لم أرَ أحدًا يصليها، فوصف له هذه الإشارة، فقال: إن أحببت أن تنظر إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فاقتد بصلاة ابن الزبير.

ابن لَهيعة قال فيه يحيى بن معين: ليس بالقوي، وقال أيضًا: هو ضعيف قبل أن تحترق كتبه وبعد احتراقها،
তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي), এবং বুখারি বলেন: তাঁর হাদিসসমূহে প্রত্যাখ্যাত (مناكير) বর্ণনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন: তাঁর হাদিসের ক্ষেত্রে কাউকে অনুসরণ করা হয় না (لا يتابع)। আবু হাতিম বলেন: তিনি প্রত্যাখ্যাত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)। দারা কুতনী বলেন: বর্জনীয় (متروك)। ইমাম আহমাদ বলেন: আমি রিফদাহকে চিনি না।

আর আব্দুল্লাহ বিন উবাইদ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে: তিনি তাঁর পিতা থেকে হাদিস শোনেননি। ইমাম আহমাদ এবং ইয়াহইয়া বিন মাইন এই হাদিস সম্পর্কে বলেন: এটি সহিহ নয় (ليس بصحيح)। আর এটি পরিচিত নয় যে, আব্দুল্লাহ বিন উবাইদ বিন উমাইর তাঁর পিতা বা তাঁর দাদা থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করেছেন।

এগুলোর মধ্যে আরও একটি হলো যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন উমর বিন রাবাহ-এর হাদিস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতিটি তাকবীরের সময় হাত তুলতেন। বুখারি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বলেন: আমর বিন আলী—অর্থাৎ ফাল্লাস—আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে তাউস থেকে বর্ণনাকারী উমর বিন রাবাহ আবু হাফস আদ-দরীর আল-বাসরী একজন চরম মিথ্যাবাদী (دجال)। নাসাঈ বলেন: তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে বর্জনীয় (متروك الحديث)।

এগুলোর মধ্যে আরও আছে যা ইমাম আহমাদ মুসনাদ-এ এবং আবু দাউদ সুনান-এ ইবনে লাহিয়াহ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে হুবাইরাহ থেকে, তিনি মাইমুন আল-মাক্কী থেকে বর্ণনা করেন: তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়েরকে দেখেছেন যখন তিনি তাঁদের নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন; তিনি দাঁড়ানোর সময়, রুকু করার সময়, সিজদা করার সময় এবং দাঁড়ানোর জন্য উঠার সময় হাতের তালু দিয়ে ইশারা করছিলেন, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে দুই হাত দিয়ে ইশারা করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে বললাম: আমি ইবনে যুবায়েরকে এমনভাবে নামাজ পড়তে দেখেছি যা অন্য কাউকে পড়তে দেখিনি। এরপর তিনি তাঁর কাছে সেই ইশারার বর্ণনা দিলেন। তখন তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: যদি তুমি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নামাজ দেখতে পছন্দ করো, তবে ইবনে যুবায়েরের নামাজের অনুসরণ করো।

ইবনে লাহিয়াহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)। তিনি আরও বলেন: তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার আগে এবং পুড়ে যাওয়ার পরে—সর্বদাই তিনি দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال يحيى أيضًا وأبو زرعة: لا يحتج به، وقال النسائي: ضعيف، وقال البخاري: حدثنا محمد، حدثنا الحميدي، عن يحيى بن سعيد أنه كان لا يراه شيئًا، وقال مسلم: تركه وكيع، ويحيى القطان، وابن مهدي، وميمون المكي مَجْهُول.

ومنها ما رواه أبو داود، والنَّسائي في سُننيهما من حديث النَّضْر بن كثير - يعني السَّعْدي - قال: صلى إلى جنبي عبدالله بن طاوس في مسجد الخيف، فكان إذا سجد السجدة الأولى فرفع رأسه منها، رفع يديه تلقاء وجهه فأنكرت ذلك، فقلت لوهيب بن خالد، فقال له وهيب: تصنع شيئًا لم أرَ أحدًا يصنعه، قال ابن طاوس: رأيت أبي يصنعه، وقال أبي: رأيت ابن عباس يصنعه، ولا أعلم إلا أنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يصنعه.

قال المنذري في "تهذيب السنن": النضر بن كثير أبو سهل السعدي البصري ضعيف الحديث، وقال الحافظ أبو أحمد النيسابوري: هذا حديثٌ منكر من حديث ابن طاوس، قلْتُ: وقال أبو حاتم في النضر بن كثير: فيه نظر، وقال البخاري: عنده مناكير، وقال ابن حبَّان: يروي الموضوعات عن الثقات، لا يجوز الاحتجاج به بحال.

إذا علم ما ذكرنا، فأصح ما رأيته في هذا الباب ما رواه النسائي في سننه: أخبرنا محمد بن المثنى، قال: حدثنا ابن أبي عدي، عن شعبة، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه: أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم رفع يديه في صلاته، وإذا ركع،

ইয়াহইয়া এবং আবু যুরআহ আরও বলেছেন: তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না (لا يحتج به)। নাসাঈ বলেছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)। বুখারি বলেছেন: মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হুমায়দী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে গুরুত্বহীন মনে করতেন। মুসলিম বলেছেন: ওয়াকি, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং ইবনে মাহদী তাকে বর্জন করেছেন (تركه)। আর মায়মুন আল-মক্কি হলেন অপরিচিত (مجهول)।

এর মধ্যে একটি হলো যা আবু দাউদ এবং নাসাঈ তাদের সুনান গ্রন্থদ্বয়ে নযর ইবনে কাসীর—অর্থাৎ আস-সাদী—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মসজিদে খায়েফে আবদুল্লাহ ইবনে তাউস আমার পাশে সালাত আদায় করছিলেন। যখন তিনি প্রথম সিজদা শেষ করে মাথা তুলতেন, তখন তিনি তার চেহারার সামনে হাত উত্তোলন করতেন। আমি এতে বিস্ময় প্রকাশ করলাম এবং ওহাইব ইবনে খালিদকে তা জানালাম। তখন ওহাইব তাকে বললেন: আপনি এমন কিছু করছেন যা আমি কাউকে করতে দেখিনি। ইবনে তাউস বললেন: আমি আমার পিতাকে তা করতে দেখেছি, এবং আমার পিতা বলেছেন: আমি ইবনে আব্বাসকে তা করতে দেখেছি। আর আমি যতটুকু জানি তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেছেন: নবী (সা.) এটি করতেন।

মুনযিরি 'তাহযিবুস সুনান' গ্রন্থে বলেছেন: নযর ইবনে কাসীর আবু সাহল আস-সাদী আল-বাসরি হলেন হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف)। হাফেজ আবু আহমাদ আন-নিশাপুরি বলেছেন: এটি ইবনে তাউসের হাদিসের মধ্যে একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস। আমি বলছি: আবু হাতিম নযর ইবনে কাসীর সম্পর্কে বলেছেন: তার ব্যাপারে আপত্তি আছে (فيه نظر)। বুখারি বলেছেন: তার কাছে অনেক প্রত্যাখ্যাত (مناكير) বর্ণনা রয়েছে। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের বরাতে জাল (موضوعات) হাদিস বর্ণনা করেন, কোনো অবস্থাতেই তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (الاحتجاج به) বৈধ নয়।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যখন জানা গেল, তখন এই অধ্যায়ে আমি যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হলো সেই হাদিসটি যা নাসাঈ তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শু'বা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি নাসর ইবনে আসেম থেকে, তিনি মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি নবী (সা.)-কে সালাতে হাত উত্তোলন করতে দেখেছেন, এবং যখন তিনি রুকু করতেন,

(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا رفع رأسه من الركوع، وإذا سجد، وإذا رفع رأسه من السجود، حتى يحاذي بهما فروع أذنيه.

حدثنا محمد بن المثنى، قال حدثنا عبدالأعلى، قال حدثنا سعيد، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه: أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم رفع يديه … فذكر مثله.

حدثنا محمد بن المثنى، قال: حدَّثنا معاذ بن هشام، قال: حدثني أبي، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه: أن نبي الله صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل في الصلاة … فذكر نحوه، وزاد فيه: وإذا ركع فعل مثل ذلك، وإذا رفع رأسه من الركوع فعل مثل ذلك، وإذا رفع رأسه من السجود فعل مثل ذلك.

وهذه روايات شاذة انفرد بإخراجها النسائي، وقد رواها الأئمة بدون ذكر الزيادة الشاذة، فأما حديث شعبة فقال البخاري - رحمه الله تعالى - في جزء رفع اليدين: حدثنا أبو الوليد هشام بن عبدالملك وسليمان بن حرب، قالا: حدَّثَنا شعبة، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا كبر رفع يديه، وإذا ركع، وإذا رفع رأسه من الركوع.

وقال البخاري أيضًا: حدثنا آدم بن أبي إياس، حدثنا شعبة، حدثنا قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يرفع يديه إذا كبر، وإذا ركع، وإذا رفع رأسه من الركوع حذاء أذنيه.
এবং যখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, এবং যখন সিজদাহ করতেন, এবং যখন সিজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন, এমনকি হাত দুটিকে তাঁর কানের উপরিভাগ বরাবর নিয়ে যেতেন।

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল আ’লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদা থেকে, তিনি নসর ইবনে আসিম থেকে, তিনি মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাত উত্তোলন করতে দেখেছেন … অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়ায ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদা থেকে, তিনি নসর ইবনে আসিম থেকে, তিনি মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে প্রবেশ করতেন … অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত বৃদ্ধি (زاد) করেছেন: "এবং যখন তিনি রুকু করতেন তখন অনুরূপ করতেন, যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন অনুরূপ করতেন, এবং যখন সিজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন তখন অনুরূপ করতেন।"

আর এই বর্ণনাগুলো (روايات) হলো ব্যতিক্রমী (شاذة), যা আন-নাসায়ী এককভাবে (انفرد) উদ্ধৃত করেছেন। অথচ ইমামগণ এই ব্যতিক্রমী অতিরিক্ত অংশ (الزيادة الشاذة) উল্লেখ করা ছাড়াই তা বর্ণনা করেছেন। শু'বার হাদিসের বিষয়ে বুখারি -রহমাতুল্লাহি তা'আলা- জুযউ রাফয়িল ইয়াদাইন-এ বলেছেন: আবুল ওয়ালিদ হিশাম ইবনে আবদুল মালিক ও সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: শু'বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদা থেকে, তিনি নসর ইবনে আসিম থেকে, তিনি মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবির দিতেন তখন হাত উত্তোলন করতেন, এবং যখন রুকু করতেন, এবং যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন।

বুখারি আরও বলেছেন: আদম ইবনে আবি ইয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নসর ইবনে আসিম থেকে, তিনি মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবির দিতেন, এবং যখন রুকু করতেন, এবং যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন তাঁর কান বরাবর হাত উত্তোলন করতেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال أبو داود في سننه: حدثنا حفص بن عمر، أخبرنا شعبة، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يرفع يديه إذا كبر، وإذا ركع، وإذا رفع رأسه من الركوع حتى يبلغ بهما فروع أذنيه.

وقال النسائي في سننه: أخبرنا محمد بن عبدالأعلى، قال: حدثنا خالد، قال: حدثنا شعبة، عن قتادة، قال: سمعت نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث، وكان من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا صلى رفع يديه حين يكبر حيال أذنيه، وإذا أراد أن يركع، وإذا رفع رأسه من الركوع.

وروى الدارقطني في سننه من طريقين: عن عبدالرحمن بن مهدي، حدثنا شعبة، عن قتادة … فذكر نحو ما تقدم، فهؤلاء ستة من الأئمة الأثبات، رووا حديث شعبة لم يذكروا ما ذكره ابن أبي عدي عنه من رفع اليدين إذا سجد، وإذا رفع رأسه من السجود.

وأما حديث سعيد بن أبي عروبة، فرواه مسلم في صحيحه: عن محمد بن المثنى، حدثنا ابن أبي عدي، عن سعيد، عن قتادة، وليس فيه ذكر رفع اليدين إذا سجد وإذا رفع رأسه من السجود، وقال البخاري - رحمه الله تعالى - في جزء رفع اليدين: حدثنا خليفة بن خياط، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا سعيد، عن قتادة، أن نصر بن عاصم حدثهم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يرفع يديه إذا ركع، وإذا رفع رأسه من الركوع حتى يحاذي بهما فروع أذنيه.
আবু দাউদ তাঁর সুনানে বলেছেন: আমাদের কাছে হাফস ইবনে ওমর বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে শু'বা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি নাসর ইবনে আসিম থেকে, তিনি মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি যখন তাকবীর বলতেন, যখন রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন তাঁর হাত দুটি কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত উত্তোলন করতেন।

নাসাঈ তাঁর সুনানে বলেছেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আ'লা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে শু'বা বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নাসর ইবনে আসিমকে মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি যখন তাকবীর বলতেন তাঁর কান বরাবর হাত তুলতেন, এবং যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন।

দারা কুতনী তাঁর সুনানে দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, আমাদের কাছে শু'বা বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে … অতঃপর তিনি পূর্বের ন্যায় উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এই ছয়জন হলেন সুদৃঢ় (الأثبات) ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত, তাঁরা শু'বার হাদিস বর্ণনা করেছেন কিন্তু ইবনে আবি আদি তাঁর থেকে সিজদাহ করার সময় এবং সিজদাহ থেকে মাথা তোলার সময় হাত তোলার যে কথা উল্লেখ করেছেন, তা তাঁরা উল্লেখ করেননি।

আর সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ-এর হাদিসটি মুসলিম তাঁর সাহিহ-তে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না থেকে, আমাদের কাছে ইবনে আবি আদি বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে; আর তাতে সিজদাহ করার সময় এবং সিজদাহ থেকে মাথা তোলার সময় হাত তোলার কোনো উল্লেখ নেই। আর ইমাম বুখারী -রাহিমাহুল্লাহ তাআলা- 'জুযউ রাফইল ইয়াদাইন'-এ বলেছেন: আমাদের কাছে খলিফা ইবনে খইয়্যাত বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইয়াযীদ ইবনে যুরাই' বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, নাসর ইবনে আসিম তাঁদের কাছে মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি তিনি যখন রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন হাত দুটি কানের লতি পর্যন্ত উত্তোলন করতেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال النسائي في سننه: أخبرنا إسماعيل بن مسعود، قال: حدثنا يزيد - وهو ابن زريع - قال: حدثنا سعيد، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، أنه حدثهم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه: أنه رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم يرفع يديه إذا ركع، وإذا رفع رأسه من الركوع حتى يحاذي بهما فروع أذنيه.

قال النَّسائي: يزيد بن زريع من أثبت أصحاب سعيد بن أبي عروبة، وقال النسائي أيضًا: أخبرنا يعقوب بن إبراهيم، قال: حدثنا ابن أبي علية، عن ابن أبي عروبة، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: رأيتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم حين دخل في الصلاة رفع يديه، وحين ركع، وحين رفع رأسه من الركوع حتى حاذى فروع أذنيه.

وقال النسائي أيضًا: أخبرنا علي بن حجر، قال: أنبأنا إسماعيل، عن سعيد، عن قتادة، عن نصر بن عاصم الليثي، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يرفع يديه إذا كبر، وإذا ركع، وإذا رفع رأسه من الركوع حتى بلغتا فروع أذنيه.

فهؤلاء ثلاثة من الأئمة الأثبات رووا حديث سعيد بن أبي عروبة، ولم يذكروا ما ذكره عبدالأعلى من رفع اليدين إذا سجد وإذا رفع رأسه من السجود.

وأما حديث هشام الدستوائي، فقال ابن ماجه في سننه: حدَّثَنا حميد بن مسعدة، حدَّثَنا يزيد بن زريع، حدثنا هشام، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه: أن
ইমাম নাসায়ি তাঁর সুনানে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন মাসউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ—যিনি ইবনে জুরআই—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ, কাতাদাহ হতে, তিনি নসর বিন আসিম হতে যে, তিনি তাদের নিকট মালিক বিন আল-হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হাত উত্তোলন করতে দেখেছেন যখন তিনি রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন, এমনকি হাত দুটি তাঁর কানের উপরিভাগ বরাবর পৌঁছে যেত।

নাসায়ি বলেন: ইয়াজিদ বিন জুরআই হলেন সাঈদ বিন আবি আরুবাহর সাথীদের মধ্যে সুদৃঢ়তম (أثبت)। নাসায়ি আরও বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উলাইয়্যাহ, ইবনে আবি আরুবাহ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি নসর বিন আসিম হতে, তিনি মালিক বিন আল-হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি যখন তিনি নামাজে প্রবেশ করতেন তখন হাত তুলতেন, আর যখন রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে তাঁর মাথা তুলতেন তখন কানের উপরিভাগ বরাবর হাত তুলতেন।

নাসায়ি আরও বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন হুজর, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন ইসমাইল, সাঈদ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি নসর বিন আসিম আল-লাইসি হতে, তিনি মালিক বিন আল-হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি যখন তিনি তাকবির দিতেন, যখন রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে তাঁর মাথা তুলতেন তখন হাত তুলতেন, এমনকি তা তাঁর কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে যেত।

এঁরা হলেন সুদৃঢ় (الأثبات) ইমামগণের (الأئمة) মধ্যে তিনজন যারা সাঈদ বিন আবি আরুবাহর হাদিস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা আব্দুল আলা কর্তৃক বর্ণিত সিজদাহ করার সময় এবং সিজদাহ থেকে মাথা তোলার সময় হাত তোলার বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

আর হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ির হাদিস প্রসঙ্গে ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ বিন মাসআদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন জুরআই, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, কাতাদাহ হতে, তিনি নসর বিন আসিম হতে, তিনি মালিক বিন আল-হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে যে...
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا كبر رفع يديه حتى يجعلهما قريبًا من أذنيه، وإذا ركع صنع مثل ذلك، وإذا رفع رأسه من الركوع صنع مثل ذلك، فهذا يزيد بن زريع، وهو منَ الحفاظ الأعلام روى حديث هشام الدستوائي، ولم يذكر ما ذكره معاذ عن أبيه من رفع اليدين إذا رفع رأسه من السجود.

ويزيد ومعاذ ليسا سواء عند أهل العلم بالرجال؛ أما يزيد، فقال فيه ابن معين: ثقة مأمون، وقال أبو حاتم: ثقة إمام، وقال الإمام أحمد: ما أتقنه! ما أحفظه! وأما معاذ فقال فيه ابن معين: صدوق، ليس بحجة، وقال ابن عدي: له حديث كثير، ربما يغلط، وأرجو أنه صَدُوق.

وبما ذكرنا يعلم شذوذ رواية ابن أبي عدي عن شعبة، ورواية عبدالأعلى عن سعيد بن أبي عروبة، ورواية معاذ بن هشام، عن أبيه، ومما يدل على شذوذ رواياتهم أيضًا ما رواه حماد بن سلمه وأبو عوانة عن قتادة.

فأما حديث حماد بن سلمة فقال البخاري - رحمه الله تعالى - في جزء رفع اليدين: حدثنا موسى بن إسماعيل، حدثنا حماد بن سلمة، أنبأنا قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل في الصلاة رفع يديه إلى فروع أذنيه، وإذا رفع رأسه من الركوع فعل مثله.

وأما حديث أبي عوانة، فقال مسلم في صحيحه: حدثنا أبو كامل الجحدري، حدثنا أبو عوانة، عن قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকবীর দিতেন তখন তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন, এমনকি হাত দুটি তাঁর কানদ্বয়ের সন্নিকটে নিয়ে যেতেন। আর যখন রুকু করতেন তখনও অনুরূপ করতেন, এবং যখন রুকু থেকে তাঁর মাথা উত্তোলন করতেন তখনও অনুরূপ করতেন। ইনি হলেন ইয়াযিদ বিন যুরাই'; তিনি প্রখ্যাত হাফিযদের (الحفاظ) অন্যতম। তিনি হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ীর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে মু'আয তাঁর পিতার সূত্রে সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় হাত তোলার বিষয়ে যা উল্লেখ করেছেন, তিনি তা উল্লেখ করেননি।

ইলমুর রিজাল (رجال) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট ইয়াযিদ এবং মু'আয সমান স্তরের নন। ইয়াযিদ সম্পর্কে ইবনে মাঈন বলেছেন: নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত (ثقة مأمون), আবু হাতিম বলেছেন: নির্ভরযোগ্য ইমাম (ثقة إمام), এবং ইমাম আহমদ বলেছেন: তিনি কতই না নিপুণ! কতই না প্রখর হিফয শক্তির অধিকারী! পক্ষান্তরে মু'আয সম্পর্কে ইবনে মাঈন বলেছেন: সত্যবাদী (صدوق), তবে তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য (ليس بحجة) নন। ইবনে আদি বলেছেন: তাঁর বর্ণিত প্রচুর হাদিস রয়েছে, তবে সম্ভবত তিনি ভুল করেন; আর আমি আশা করি তিনি সত্যবাদী (صدوق)।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে শু'বাহর সূত্রে ইবনে আবি আদির বর্ণনা, সাঈদ বিন আবি আরুবার সূত্রে আব্দুল আলার বর্ণনা এবং মু'আয বিন হিশামের তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত বর্ণনার অসংগতি (شذوذ) ফুটে ওঠে। তাদের বর্ণনাগুলোর অসংগতির (شذوذ) ওপর ক্বাতাদাহর সূত্রে হাম্মাদ বিন সালামাহ এবং আবু আওয়ানাহর বর্ণিত বর্ণনাটিও প্রমাণ বহন করে।

হাম্মাদ বিন সালামাহর হাদিস সম্পর্কে বুখারি (রহিমাহুল্লাহ তা'আলা) ‘জুযউ রাফইল ইয়াদাইন’-এ বলেছেন: মূসা বিন ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ক্বাতাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নসর বিন আসিম থেকে, তিনি মালিক বিন হুয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন নামাজ শুরু করতেন তখন কানের লতি পর্যন্ত তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা উত্তোলন করতেন তখনও অনুরূপ করতেন।

আর আবু আওয়ানাহর হাদিস সম্পর্কে মুসলিম তাঁর সহিহ-এ বলেছেন: আবু কামিল আল-জাহদারী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ক্বাতাদাহ থেকে, তিনি নসর বিন আসিম থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بن الحويرث رضي الله عنه: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا كبر رفع يديه حتى يحاذي بهما أذنيه، وإذا ركع رفع يديه حتى يحاذي بهما أذنيه، وإذا رفع رأسه من الركوع فقال: ((سمع الله لمن حمده)) فعل مثل ذلك، وقد رواه الدارقطني في سننه: عن عبدالله بن عبدالعزيز، عن أبي كامل فذكره بنحوه.

فهذا هو المحفوظ عن قتادة، ليس فيه ذكر رفع اليدين إذا سجد، وإذا رفع رأسه من السجود، ومما يدل على شذوذ الرواية بذلك أيضًا ما رواه الشيخان في صحيحيهما من حديث خالد الحذاء، عن أبي قلابة: أنه رأى مالك بن الحويرث رضي الله عنه إذا صلى كبر، ورفع يديه، وإذا أراد أن يركع رفع يديه، وإذا رفع رأسه من الركوع رفع يديه، وحدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صنع هكذا.

فهذه الرِّواية المتَّفق على صحتها توافق ما رواه الأئمة الأثبات من حديث قتادة، عن نصر بن عاصم، عن مالك بن الحويرث رضي الله عنه وترد ما شذ به من شذ عنهم، والعمدة في حديث مالك بن الحويرث رضي الله عنه على هذه الرواية، وعلى ما وافقها، وأيضًا فإن الروايات التي فيها ذكر الرفع في السجود، والرفع منه قد عنعنها قتادة، وهو مدلِّس، وهذه علة أخرى غير الشذوذ، والله أعلم.

ومِن أصح ما رأيتُ أيضًا في رفع اليدين عند الرفع من السجود ما رواه أبو داود في سننه: حدثنا عبيدالله بن عمر بن ميسرة،
...ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকবীর বলতেন, তখন তাঁর উভয় হাত কান বরাবর উত্তোলন করতেন। যখন রুকু করতেন, তখনও কান বরাবর হাত উত্তোলন করতেন। আর যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন এবং 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদা' বলতেন, তখনও তদ্রূপ করতেন। আদ-দারা কুতনি এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ থেকে, তিনি আবু কামিল থেকে—অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।

এটিই কাতাদাহ থেকে বর্ণিত সংরক্ষিত (محفوظ) বর্ণনা; এতে সিজদা করার সময় এবং সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় হাত তোলার উল্লেখ নেই। এই বর্ণনার বিচ্ছিন্নতা বা ব্যতিক্রমধর্মীতার (شذوذ) ওপর আরও যা প্রমাণ বহন করে তা হলো শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি মালিক ইবনুল হুওয়াইরিসকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দেখেছেন যে, তিনি যখন সালাত আদায়কালে তাকবীর দিতেন তখন হাত তুলতেন, যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন হাত তুলতেন, আর যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখনও হাত তুলতেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবেই করতেন।

সুতরাং এই বর্ণনাটি, যার বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে সকলে একমত, তা কাতাদাহ থেকে নাসর ইবনে আসিম হয়ে মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সুদৃঢ় (أثبات) ইমামগণের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি তাঁদের বর্ণনার বিপরীতে যা বিচ্ছিন্ন (شذ) হয়েছে তাকে প্রত্যাখ্যান করে। মালিক ইবনুল হুওয়াইরিসের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হাদিসের মূল ভিত্তি হলো এই বর্ণনা এবং এর অনুকূল বর্ণনাসমূহ। তাছাড়া, সিজদায় যাওয়ার সময় এবং সিজদা থেকে ওঠার সময় হাত তোলার বর্ণনায় কাতাদাহ 'আন' শব্দযোগে বর্ণনা (عنعنة) করেছেন, অথচ তিনি একজন তাদলিসকারী (مدلس)। এটি ব্যতিক্রমধর্মীতা (شذوذ) ছাড়াও আরেকটি ত্রুটি (علة)। আল্লাহই ভালো জানেন।

সিজদা থেকে ওঠার সময় হাত তোলার বিষয়ে আমি যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হলো যা আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাইসারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তানবীহাত আলা রিসালাতিল আলবানী ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
حدثنا عبدالوارث بن سعيد، حدثنا محمد بن جحادة، حدثني عبدالجبار بن وائل بن حجر، قال: كنتُ غلامًا لا أعقل صلاة أبي، فحدثني علقمة بن وائل، عن أبي حجر رضي الله عنه قال: صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان إذا كبر رفع يديه، قال: ثم التحف، ثم أخذ شماله بيمينه، وأدخل يده في ثوبه، قال: فإذا أراد أن يركع أخرج يديه ثم رفعهما، وإذا أراد أن يرفع رأسه من الركوع رفع يديه ثم سجد، ووضع وجهه بين كفيه، وإذا رفع رأسه من السجود أيضًا رفع يديه، حتى فرغ من صلاته، قال محمد: فذكرت ذلك للحسن بن أبي الحسن، فقال: هي صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فعله من فعله، وتركه من تركه.

قال أبو داود: روى هذا الحديث همام، عن ابن جحادة لم يذكر الرفع مع الرفع من السجود، قلت: وحديث همام رواه مسلم في صحيحه عن زهير بن حرب، حدثنا عفان، عن حدثنا همام، حدثنا محمد بن جحادة، حدثني عبدالجبار بن وائل، عن علقمة بن وائل ومولى لهم أنهما حدثاه، عن أبيه وائل بن حجر رضي الله عنه: أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم رفع يديه حين دخل في الصلاة كبر - وصف همام حيال أذنيه - ثم التحف بثوبه، ثم وضع يده اليمنى على اليسرى، فلما أراد أن يركع أخرج يديه من الثوب، ثم رفعهما، ثم كبر فركع، فلما قال: ((سمع الله لمن حمده))، رفع يديه، فلما سجد سجد بين كفيه.

وقد روي حديث علقمة من وجه آخر، وليس فيه ذكر الرفع
আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল জব্বার ইবনে ওয়াইল ইবনে হুজর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তখন এক কিশোর ছিলাম, আমার পিতার সালাত আমি পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারতাম না। অতঃপর আলকামা ইবনে ওয়াইল আমার নিকট তাঁর পিতা ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন হাত উত্তোলন করতেন। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তিনি কাপড় জড়িয়ে নিতেন এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন ও নিজের হাত কাপড়ের ভেতরে প্রবেশ করাতেন। তিনি বলেন: যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন হাত বের করতেন এবং তা উত্তোলন করতেন। আর যখন রুকু থেকে মাথা উত্তোলন করতে চাইতেন তখন হাত উত্তোলন করতেন, অতঃপর সিজদাহ করতেন এবং তাঁর চেহারা দুই হাতের তালুর মাঝে রাখতেন। আর যখন সিজদাহ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন তখনও হাত উত্তোলন করতেন, এমনকি তিনি তাঁর সালাত শেষ করলেন। মুহাম্মদ বলেন: আমি হাসান ইবনে আবিল হাসানের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: এটিই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত; যে এটি আমল করার সে তা করেছে, আর যে তা বর্জন করার সে তা বর্জন করেছে।

আবু দাউদ বলেন: হাম্মাম এই হাদিসটি ইবনে জুহাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি সিজদাহ থেকে ওঠার সময়ের হাত উত্তোলনের কথা উল্লেখ করেননি। আমি বলছি: হাম্মামের হাদিসটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে যুহাইর ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি আফফান থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহ থেকে, তিনি আব্দুল জব্বার ইবনে ওয়াইল থেকে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াইল এবং তাঁদের এক মুক্তদাস (مولى) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে তাঁর নিকট তাঁর পিতা ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন যে, তিনি যখন সালাতে প্রবেশের সময় তাকবীর বলতেন তখন হাত উত্তোলন করতেন—হাম্মাম কানের লতি বরাবর হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন—অতঃপর নিজের কাপড় জড়িয়ে নিতেন এবং ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতেন। যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন কাপড় থেকে হাত বের করতেন, তারপর হাত উত্তোলন করতেন, এরপর তাকবীর বলে রুকু করতেন। যখন তিনি 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন তখন হাত উত্তোলন করতেন, আর যখন সিজদাহ করতেন তখন দুই হাতের তালুর মাঝে সিজদাহ করতেন।

আর আলকামার হাদিসটি অন্য একটি সূত্র (وجه) থেকেও বর্ণিত (روي) হয়েছে, কিন্তু তাতে হাত উত্তোলনের উল্লেখ নেই।