0/0
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: -)
مجموع فيه أربع رسائل - الحجاوي   (الحجاوي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: مجموعٌ فيه أربع رسائل للحجاوي

1 - قاعدة في معرفة الأرطال العراقيَّة بالأوزان الدِّمشقية وغيرها من البلدان الآفاقية

2 - فُتيا في مسألة في الربا (بيع التمر المعجون) والفصل بين الشويكي وابن عطوة فيها

3 - جواب عن الكتاب المعتمد في المذهب

4 - نظم أحكام الوضوء والصلاة

المؤلف: موسى بن أحمد الحجاوي الحنبلي (ت 968 هـ)

المحقق: عبد السلام بن محمد الشويعر

الناشر: ركائز للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م

عدد الصفحات: 67

أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الأولى 1443

আল-হাজ্জাওয়ীর চারটি পুস্তিকা সম্বলিত সংকলন   (আল-হাজ্জাওয়ী)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


কিতাব: আল-হাজ্জাওয়ীর চারটি পুস্তিকা সম্বলিত সংকলন

১ - দামেস্কি ওজন ও অন্যান্য দিগন্তের দেশসমূহের ওজনের মাধ্যমে ইরাকি রতল পরিমাপের মূলনীতি

২ - সুদ সংক্রান্ত একটি মাসআলায় ফতোয়া (পিষানো খেজুর বিক্রয়) এবং এ বিষয়ে শুওয়াইকী ও ইবনে আতওয়ার মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা

৩ - মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাব সম্পর্কে উত্তর

৪ - ওযু ও সালাতের বিধানসমূহের পদ্য

লেখক: মুসা বিন আহমাদ আল-হাজ্জাওয়ী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৯৬৮ হি.)

তাহকীক: আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-শুওয়াই'ইর

প্রকাশক: রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হি. - ২০১৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭

শামেলার জন্য উপহার দিয়েছেন: রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩)
مؤلفات الحجاوي

 

مجموعٌ فيه أربع رسائل:

1/ قاعدة في معرفة الأرطال العراقيَّة بالأوزان الدِّمشقية وغيرها من البلدان الآفاقية

2/ فُتيا في مسألة في الربا (بيع التمر المعجون) والفصل بين الشويكي وابن عطوة فيها

3/ جواب عن الكتاب المعتمد في المذهب

4/ نظم أحكام الوضوء والصلاة

 

للشيخ موسى بن أحمد الحجَّاوِي الحَنبلي

(ت 968 هـ)

اعتنى بها وحققها:

أ. د. عبدالسَّلام بن محمد الشُّويعر
আল-হাজ্জাবীর রচনাবলী

 

এতে চারটি রিসালাহ সংকলিত হয়েছে:

১/ দামেস্কীয় ওজন এবং অন্যান্য দূরবর্তী অঞ্চলের মাধ্যমে ইরাকি আর্তাল (রিল) চেনার মূলনীতি

২/ সুদের একটি মাসআলা (খেজুরের কাই বিক্রয়) সংক্রান্ত ফতোয়া এবং এ বিষয়ে আশ-শুওয়াইকী ও ইবনে আতওয়ার মধ্যকার মীমাংসা

৩/ মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাব সম্পর্কে উত্তর

৪/ ওযু ও সালাতের বিধানের কাব্যরূপ

 

শায়খ মুসা বিন আহমাদ আল-হাজ্জাবী আল-হান্বালীর

(মৃত্যু ৯৬৮ হিজরি)

সম্পাদনা ও তাহকীক করেছেন:

প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ আশ-শুওয়াইয়ির
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله، وأشهد أن لا إله إلا الله، واشهد أنّ محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وآله وسلم. أمّا بعد.

فهذا مجموعٌ فيه أربع رسائل من مؤلفات الشيخ موسى الحجاوي (ت 968 هـ)، سَعيتُ في إخراجه بعد أن وفّق الله تعالى في إخراج كتابه الأول (شرح منظومة الآداب) في عام 1425 هـ.

وهما ثلاث رسائل مَنَّ الله تعالى عليَّ بالسعي في إخراجها بعد أن ظلَّت رَهينَةَ المَحبَسَين (الذِّكْرِ، وخزانة الكتب)، فلم تُذكر في فهارسِ المخطوطات، ولم يعدّها المؤرخون ضمن مؤلفات الشيخ العلامة موسى بن أحمد الحجاوي مع ما لهما من أهمية لا تُنكر.

والرسائل هي:

1/ قاعدة في معرفة الأرطال العِرَاقيَّة بالأوزَانِ الدِّمشقِيَّة، وَغيرها من البلدان الآفاقية.

2/ فُتيا في مسألة في الربا.

3/ جواب للشيخ مُوسَى الحجَّاوي عن الكتاب المعتمد في المذهب.

4/ ورابع هذه الرسائل: نظم أحكام الوضوء والصلاة.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আর আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর।

এটি শেখ মুসা আল-হাজ্জাউই (মৃত্যু ৯৬৮ হি.)-এর রচনাবলি থেকে সংগৃহীত চারটি বার্তার একটি সংকলন; আল্লাহ তাআলা ১৪২৫ হিজরিতে তাঁর প্রথম কিতাব (শারহু মানজুমাতিল আদাব) প্রকাশের তৌফিক দান করার পর আমি এটি প্রকাশের প্রচেষ্টা চালিয়েছি।

এগুলো এমন তিনটি বার্তা যা প্রকাশের প্রচেষ্টায় আল্লাহ তাআলা আমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন, দীর্ঘকাল যা বিস্মৃতি এবং গ্রন্থাগারের নিভৃত কোণে বন্দি ছিল। ফলে এগুলো পাণ্ডুলিপির কোনো সূচিপত্রে উল্লেখিত হয়নি এবং ইতিহাসবিদগণও সুপ্রসিদ্ধ আলেম শেখ মুসা বিন আহমদ আল-হাজ্জাউই-এর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত করেননি, যদিও এগুলোর অনস্বীকার্য গুরুত্ব রয়েছে।

বার্তাগুলো হলো:

১/ দামেস্ক এবং অন্যান্য দূরবর্তী অঞ্চলের ওজন অনুসারে ইরাকি রাতল (পরিমাপক) চেনার মূলনীতি।

২/ সুদ সংক্রান্ত একটি মাসআলায় ফতোয়া।

৩/ মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাব সম্পর্কে শেখ মুসা আল-হাজ্জাউই-এর উত্তর।

৪/ আর এই বার্তাগুলোর চতুর্থটি হলো: অজু ও নামাজের বিধানাবলির কাব্যরূপ।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬)
أمّا‌‌ الرسالة الأولى:

فإنّها تتحدث عن مقاييس الأرطال، واختلافها، وتعديلها بالدَّراهم. وقد قارن فيها المؤلِّفُ بين الأرطَال العراقية وغيرها من أرطال البلدان الآفاقية؛ كالدمشقي، والمصري، والليثي، والاسكندري، والبعلبكي، والطبراني، والقدسي، والنابلسي، والحمصي، والحلبي، والبيروتي، والحَمَوي، والبَصْري، والمكي، والمدني، وغيرِها.

فحَفِظَت لنا هذه الرسالةُ -على صغرها- مَعلُومَاتٍ هامةً في الفرق بين هذه الأرطال في الوزن، والتي قلَّما نجدها في الكُتب المطبوعة والمتداولة بين أيدينا.

إضافةً لتعديل هذه الأرطال وحساب كيفية تحويل المقاييس إليها؛ بالمقاييس الأخرى الشرعية؛ كالصَّاع، والقلتين ونحو ذلك.

كما أنها تبين لنا طريقةَ علماء القرن العاشر في بعض المسائل الحسابية، والجبرية ذات المجهولين.

والرَّطل يُستخدم كوحدةِ كَيْلٍ في الغالب، وقد يُستخدَمُ كوحدةِ وَزْنٍ في أحايين مُعيّنة(1).

--------------------------------------------

(1) قال أبو العباس العزفي السبتي (633 هـ) في كتابه [إثبات ما ليس منه بُد ص 142]: (الرّطل اسم مذكر يقال بالفتح في الراء والكسر، وهو اسم لمقدار من الموزونات تقديره بالعرف لا بالوضع، وهو أيضا اسم لما يعايره به الموزونات من حديد أو نحاس أو رصاص أو حجر، وقد يكون اسماً لما يكال به مثل المد والصاع).

وقال الأزهري في [المزهر]: (ويكون كيلاً ووزناً).

প্রথম রিসালাহ (পুস্তিকা) সম্পর্কে বলা যায় যে:

এটি রতলের পরিমাপসমূহ, তাদের মধ্যকার ভিন্নতা এবং দিরহামের মাধ্যমে সেগুলোর সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করে। এতে লেখক ইরাকি রতল এবং দিগন্তের অন্যান্য দেশ ও শহরের রতলগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন; যেমন: দামেশকি, মিসরি, লাইসি, ইসকান্দারি, বালবাকি, তাবরানি, কুদসি, নাবলুসি, হিমসি, হালাবি, বৈরুতি, হামাউই, বাসরি, মক্কি, মাদানি এবং অন্যান্য।

এই ক্ষুদ্র রিসালাহটি আমাদের জন্য এই রতলগুলোর ওজনের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করেছে, যা আমাদের হাতে বিদ্যমান মুদ্রিত এবং প্রচলিত বইগুলোতে সচরাচর পাওয়া যায় না।

এছাড়া এই রতলগুলোর সমন্বয় এবং অন্যান্য শরয়ি পরিমাপ—যেমন সা' এবং কুল্লাতাইন ও এই জাতীয় পরিমাপগুলো—থেকে এগুলোতে রূপান্তরের হিসাবের পদ্ধতিও এতে রয়েছে।

এটি আমাদের কাছে দশম শতাব্দীর আলেমদের গণিতশাস্ত্রের কিছু পদ্ধতি এবং দুই অজ্ঞাত রাশি সংবলিত বীজগণিতীয় সমস্যার সমাধান পদ্ধতিও স্পষ্ট করে।

রতল সাধারণত আয়তনের পরিমাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটি ওজনের একক হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে(১)।

--------------------------------------------

(১) আবু আব্বাস আল-আজফি আস-সাবতি (৬৩৩ হি.) তাঁর 'ইসবাতু মা লাইসা মিনহু বুদ' কিতাবের ১৪২ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (রতল একটি পুংলিঙ্গ শব্দ, যা 'র' বর্ণে জবর অথবা যের উভয়ভাবেই পড়া যায়। এটি ওজনি বস্তুসমূহের একটি পরিমাণের নাম, যার নির্ধারণ আভিধানিক সংজ্ঞার চেয়ে প্রথাগত ব্যবহারের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এটি লোহা, তামা, সীসা বা পাথরের তৈরি সেই বাটখারাকেও বোঝায় যা দিয়ে ওজনি বস্তু পরিমাপ করা হয়। আবার এটি আয়তনের পরিমাপক হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন মুদ এবং সা')।

আল-আযহারি 'আল-মুযহির' গ্রন্থে বলেছেন: (এটি আয়তন এবং ওজন উভয়ই হতে পারে)।

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৭)
ولكنه في إطلاقات الفقهاء المتأخرين، واستخدامات عامة الناس يعدُّ أحد أنواع المكاييل المعروفة في العصور السابقة(1) والتي يُكَالُ به السوائل وغيرها(2).

ويختلف قدر (الرطل) وحجمه بحسب اصطلاح أهل الأقاليم؛ كما ذكر ذلك الجرجاني في (التعريفات)(3)، قال الشيخ أبو الحسن الماوردي (ت 450 هـ): (وقد اصطلح أهل كل أقليم على أرطال تتفاضلُ في الزيادة والنقصان .. وفي المحلات أرطال مختلفة والتعامل بها في الأسواق، ولم أسمع أن بلدةً وافق رطلُها الأخرى إلا نادراً)(4).

وقال الشيرازي: (وقد اصطلح أهل كل إقليم وبلد في المعاملة على أرطال تتفاضل في الزيادة والنقصان سيما أهل الشام خاصة)(5).

--------------------------------------------

(1) ذكر ابن مفلح في [الفروع 4/ 77] أن المكاييل نُقل تقديرها إلى الوزن ليُحفظ ويُنقل.

(2) يذكر د. سامح فهمي في كتابه (المكاييل في صدر الإسلام ص 46) أن الرطل مكيال للسوائل فحسب؛ استدلالاً بقول الشاعر:

لها رطل تكيل الزيت فيه … وفلاح يسوق بها حمارا

لكن هذا الاستدلال لا يرقى لتخصيص هذا المكيال بالسوائل فقط، فقد جاء الكثير من النصوص التراثية بقياس اللحم والخبز وغيرها بالرّطل، فدلَّ على أن الرطل مكيال ليس خاصاً بالسوائل فقط.

(3) التعريفات للجرجاني ص 240.

(4) الرتبة في طلب الحسبة، للماوردي ص 168، 173.

(5) نهاية الرتبة ص 15.

কিন্তু পরবর্তী যুগের ফকীহদের পরিভাষা এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারে এটি পূর্ববর্তী যুগসমূহের পরিচিত পরিমাপের (মাকায়ীল) প্রকারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হয়(১) যার মাধ্যমে তরল ও অন্যান্য বস্তু পরিমাপ করা হতো(২)।

অঞ্চলভেদে অধিবাসীদের পরিভাষা অনুযায়ী ‘রতল’ (الرطل)-এর পরিমাণ ও আয়তন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; যেমনটি জুরজানী ‘আত-তারিফাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন(৩)। শায়খ আবুল হাসান আল-মাওয়ারদী (মৃত ৪৫০ হিজরী) বলেছেন: (প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ এমন কিছু ‘রতল’-এর বিষয়ে একমত হয়েছে যা বাড়া-কমার ক্ষেত্রে একে অপরের চেয়ে ভিন্ন... এবং বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন ‘রতল’ প্রচলিত ও বাজারে সেগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয়। আমি খুব কমই শুনেছি যে এক শহরের ‘রতল’ অন্য শহরের সাথে হুবহু মিলে গেছে)(৪)।

এবং আশ-শিরাজী বলেছেন: (লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি অঞ্চল ও শহরের অধিবাসীরা এমন সব ‘রতল’-এর বিষয়ে একমত হয়েছে যা বাড়া-কমার ক্ষেত্রে একে অপরের চেয়ে ভিন্ন, বিশেষ করে শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য)(৫)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মুফলিহ ‘আল-ফুরু’ (৪/ ৭৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, পরিমাপকগুলোর (মাকায়ীল) পরিমাণ ওজনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে যাতে তা সংরক্ষণ ও বর্ণনা করা সহজ হয়।

(২) ড. সামেহ ফাহমি তাঁর ‘আল-মাকায়ীল ফী সদরিল ইসলাম’ (পৃ. ৪৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, রতল শুধুমাত্র তরল পদার্থের জন্য একটি পরিমাপক; কবির এই উক্তি থেকে দলিল গ্রহণ করে:

তার একটি রতল রয়েছে যাতে সে তেল পরিমাপ করে … এবং একজন কৃষক তা দিয়ে তার গাধা তাড়িয়ে নিয়ে যায়

কিন্তু এই দলিল এই পরিমাপককে কেবল তরল পদার্থের জন্য নির্দিষ্ট করার পর্যায়ে পৌঁছায় না। কারণ ঐতিহ্যবাহী অনেক গ্রন্থে মাংস, রুটি এবং অন্যান্য বস্তু ‘রতল’ দ্বারা পরিমাপ করার কথা এসেছে। যা প্রমাণ করে যে, রতল কেবল তরল পদার্থের জন্য বিশেষ কোনো পরিমাপক নয়।

(৩) জুরজানী কৃত আত-তারিফাত, পৃ. ২৪০।

(৪) আল-মাওয়ারদী কৃত আর-রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ, পৃ. ১৬৮, ১৭৩।

(৫) নিহায়াতুর রুতবাহ, পৃ. ১৫।

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال ابن الإخوة (ت 729 هـ): (الرطل فيه اختلاف كثير في الأمصار والبلدان … ولم أسمع أن بلداً وافق رطلها لبلدة أخرى إلا نادراً، أو قرية لقرية لا يؤبه لها)(1).

وقال ابن الهُمام (ت 861 هـ): (الرطل والأوقية مختلف فيها عرف الأمصار ويختلف في المصر الواحد أمر المبيعات)(2).

بل إنه ذُكرَ أنَّ أهلَ البلد الواحد يتعاملون بأكثر من رطل؛ فللَّحمِ، وللخُبز رطلٌ غيره، وتختلف عن رطل باقي الحوائج وهكذا(3).

حتى قال ابن دريد اللغوي المعروف (ت 321 هـ): (الرطل كَيلٌ لا أقفُ على مقداره)(4).

وهذا الاختلاف في المكاييل (ومثله الاختلاف في الموازين المتداولة) يُوقِع في الكثيرِ من الاستشكال والحَرَج؛ لذا همَّ عمر بن عبد العزيز (ت 101 هـ) أن يُوحِّد المكاييل والأوزان فجاء عنه أنه كتب إلى عُمَّاله: (نرى أنَّ تمام مكيال الأرض وميزانها أن يكون واحداً في جميع الأرض كُلِّها)(5).

--------------------------------------------

(1) معالم القربة، لابن الإخوة ص 82.

(2) فتح القدير 7/ 17.

(3) المصدر السابق.

(4) إثبات ما ليس منه بد ص 135.

(5) رواه ابن عبد الحكم في (سيرة عمر بن عبد العزيز على ما رواه مالكٌ وأصحابه ص 87).

ইবনুল ইখওয়াহ (মৃত্যু ৭২৯ হি.) বলেন: (রাতলের ক্ষেত্রে শহর ও জনপদগুলোতে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে … আর আমি শুনিনি যে কোনো একটি শহরের রাতল অন্য কোনো শহরের রাতলের সাথে মিলেছে, কেবল বিরল ক্ষেত্রে ছাড়া; অথবা এক গ্রামের রাতল অন্য গ্রামের সাথে মিলেছে যা ধর্তব্যের বিষয় নয়)(১)।

ইবনুল হুমাম (মৃত্যু ৮৬১ হি.) বলেন: (রাতল এবং উকিয়ার ব্যাপারে শহরগুলোর প্রথা অনুযায়ী ভিন্নতা রয়েছে, এমনকি একটি শহরের ভেতরেও বিক্রয়যোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন ভিন্ন হয়)(২)।

এমনকি এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, একই শহরের অধিবাসীরা একাধিক রাতল ব্যবহার করত; যেমন মাংসের জন্য এক রাতল, আবার রুটির জন্য তার থেকে ভিন্ন অন্য একটি রাতল ছিল। অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের রাতলও এর থেকে আলাদা হতো এবং এভাবেই চলত(৩)।

এমনকি প্রখ্যাত ভাষাবিদ ইবনু দুরাইদ (মৃত্যু ৩২১ হি.) বলেছেন: (রাতল হলো এমন একটি পরিমাপ, যার প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে আমি অবগত নই)(৪)।

পরিমাপের এই ভিন্নতা (আর প্রচলিত ওজনের ক্ষেত্রেও একই রূপ ভিন্নতা) অনেক জটিলতা এবং অসুবিধার সৃষ্টি করে; এ কারণে উমর ইবনু আব্দুল আযীয (মৃত্যু ১০১ হি.) পরিমাপ ও ওজনকে একীভূত করার সংকল্প করেছিলেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর গভর্নরদের কাছে লিখেছিলেন: (আমরা মনে করি ভূমির পরিমাপ এবং ওজনের পূর্ণতা হলো এটি সমস্ত ভূখণ্ডে অভিন্ন হওয়া)(৫)।

--------------------------------------------

(১) মাআলিমুল কুরবাহ, ইবনুল ইখওয়াহ, পৃষ্ঠা ৮২।

(২) ফাতহুল কাদির ৭/১৭।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(৪) ইসবাতু মা লাইসা মিনহু বুদ্দ, পৃষ্ঠা ১৩৫।

(৫) ইবনু আব্দিল হাকাম এটি বর্ণনা করেছেন (সীরাতু উমর ইবনু আব্দিল আযীয আলা মা রাওয়াহু মালিকুন ওয়া আসহাবুহু, পৃষ্ঠা ৮৭)।

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৯)
وهذا الأمر وإن لم يتم في ذلك الزمان سياسةً (وتمَّ بعد ذلك بقرون)، إلا أن علماء المسلمين لم يغفلوا هذا الجانب حقَّه مِن البحث والنظر، ولم يقتصر ذلك على مَن كتب في الحساب والجبر فقط، بل وتعداهم إلى فقهاء الشريعة وعلمائها فعُنوا بالفروق بين الأرطال ومقاييسها؛ فنرى العديدَ منهم يتحدث عن هذا الموضوع في الكتب الفقهية، أو كتب السياسة الشرعية، أو في كتب الكُتَّاب وأصحاب الخراج، بل وفي الرحلات أيضاً؛ فيذكر الأستاذ أحمد فارس الشدياق عندما زار بريطانيا سنة 1848 م مقدار الرطل الإنجليزي وأنه يعادل نحو 150 درهماً(1)، وهذا منه استناناً بالأوائل فكتاب المقدسي حفظ لنا الكثير من هذه المقاييس حتى عُدَّ مرجعاً مهماً لكثيرٍ ممن كتب في هذا الموضوع.

--------------------------------------------

(1) كشف المخبا عن تمدن أوربا، أحمد فارس الشدياق ص 91.

এই বিষয়টি যদিও সেই সময়ে রাজনৈতিকভাবে সম্পন্ন হয়নি (বরং কয়েক শতাব্দী পরে তা সম্পন্ন হয়েছিল), তথাপি মুসলিম উলামায়ে কেরাম গবেষণা ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই দিকটির প্রাপ্য গুরুত্ব প্রদানে কোনো অবহেলা করেননি। আর এটি কেবল হিসাববিজ্ঞান ও বীজগণিত বিষয়ে লেখকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা অতিক্রম করে শরীয়তের ফকীহ ও আলেমদের পর্যন্ত পৌঁছেছিল; ফলে তাঁরা 'রাতাল' (ওজনের একক) এবং এর পরিমাপসমূহের মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাপারে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। অতএব আমরা তাঁদের অনেককেই ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে, অথবা সিয়াসাতে শারইয়াহ (ইসলামী রাজনীতি) বিষয়ক কিতাবসমূহে, অথবা প্রশাসনিক লেখক ও ভূমি রাজস্ব (খরাজ) সংশ্লিষ্টদের কিতাবসমূহে, এমনকি ভ্রমণকাহিনীগুলোতেও এই বিষয়ে আলোচনা করতে দেখি। যেমন, উস্তাদ আহমদ ফারিস আশ-শিদইয়াক যখন ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেন সফর করেন, তখন তিনি ইংরেজি রাতালের পরিমাণ উল্লেখ করেন এবং জানান যে এটি প্রায় ১৫০ দিরহামের সমান(১)। এটি ছিল মূলত পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর একটি প্রয়াস; কারণ আল-মাকদিসীর গ্রন্থটি আমাদের জন্য এই পরিমাপগুলোর অনেক কিছুই সংরক্ষণ করেছে, যার ফলে তা এই বিষয়ে পরবর্তী লেখকদের অনেকের কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) কশফুল মুখাব্বা আন তামাদ্দুনি ইউরোব্বা, আহমদ ফারিস আশ-শিদইয়াক, পৃষ্ঠা ৯১।

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد عُني الفقهاء المسلمين بتحديد مقادير وحدات الكيل والأوزان تحديداً بيناً واضحاً خشية من الوقوع في الإثم والتطفيف، وأُوكل ذلك إلى المحتسبين؛ وجعل من وظائفهم.

وأمّا عنايتهم بتقدير حجم الرطل بالخصوص؛ فلأن الفقهاء اعتمدوه، وجعلوه معياراً للكيل، قال أبو محمد ابن القطان (ت بعد 647 هـ): (إنما نظرنا في معنى الرطل من حيث الأخذ في تفهم المد المذكور، لا لأنه واقع في لفظ النبي × في هذا الباب ولا في غيره)(1).

وما هذه الرسالة إلا واحدةٌ من جهود العلماء في هذا الباب.

--------------------------------------------

(1) نقله عنه: الخزاعي في (تخريج الدلالات السمعية ص 615).

মুসলিম ফকিহগণ পাপ এবং ওজনে কারচুপিতে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে পরিমাপ ও ওজনের এককসমূহের পরিমাণ অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। আর এই বিষয়টি মুহতাসিবদের (বাজার পরিদর্শক) নিকট ন্যস্ত করা হয়েছে এবং একে তাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষভাবে রতলের (Ratl) আয়তন নির্ধারণে তাদের এই মনোযোগের কারণ হলো, ফকিহগণ একে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একে পরিমাপের মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আবু মুহাম্মদ ইবনে আল-কাত্তান (মৃত ৬৪৭ হিজরির পরে) বলেছেন: (আমরা রতলের অর্থের প্রতি লক্ষ্য করেছি কেবল উল্লিখিত ‘মুদ্দ’ অনুধাবনের প্রেক্ষিতে, এজন্য নয় যে এটি এই অধ্যায়ে বা অন্য কোথাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে উদ্ধৃত হয়েছে)(১)।

আর এই পুস্তিকাটি এই ক্ষেত্রে আলেমদের প্রচেষ্টাসমূহেরই একটি অংশ মাত্র।

--------------------------------------------

(১) আল-খুজায়ি এটি তার ‘তাখরিজ আদ-দালালাত আস-সামইয়্যাহ’ (পৃ. ৬১৫)-তে তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الرسالة الثانية التي ألفها الشيخ موسى الحجاوي: فُتيا سُئل عنها الشيخ عن التمر إذا عُجن وصار معجوناً فهل يعتبر موزوناً لأم مكيلاً؟ ومِن ثمَّ هل يصحّ بيع هذا التمر المعجون باللحم الموزون؟ أم لا؟

وهذه المسألة كثر فيها كلام فقهاء الحنابلة في ذلك الوقت؛ كالمشايخ الشويكي الدمشقي، وأحمد بن عطوة، وعبد الله بن رَحمة النجدِيَين، وغيرهم ممّن قبلهم وبعدهم ممن عاصر هذه المسألة، وقد جمعتُ أسماءهم وكلامهم في هامش هذه الرسالة.

فكتب فيها الشيخ موسى هذه الرسالة المختصرة للفصل فيها بين شيخيه الشويكي وأحمد بن يحيى بن عطوة.

ولعلّ هذه الفتيا تكون مكملةً لبحث هذه المسألة من أعلام فقهاء مذهب الإمام أحمد في ذلك الوقت، ونهاية العِقد فيها -فيما أحسب-، فلم أقف على إثارتها بعدَه.

 

و‌‌الرسالة الثالثة: جوابٌ عن سؤال سُئله الشيخ موسى الحجاوي، فيما إذا تعارض ما كتبه في «الإقناع»، وفي «حاشية التنقيح»، مع ما في «التنقيح» للمرداوي؟ فأيها المقدّم.

ثم تعليق للشيخ العلامة محمد ابن ذهلان على هذه الفتوى.
দ্বিতীয় রিসালাহ যা শাইখ মুসা আল-হাজ্জাভী রচনা করেছেন: এটি একটি ফতওয়া যাতে শাইখকে খেজুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, খেজুর যখন মথিত হয়ে পিণ্ডে পরিণত হয়, তখন তা কি ওজনযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে নাকি পরিমাপযোগ্য হিসেবে? অতঃপর, এই মথিত খেজুর কি ওজনে বিক্রয়যোগ্য গোশতের বিনিময়ে বিক্রি করা বৈধ হবে? নাকি হবে না?

এই মাসআলাটি নিয়ে সেই সময়ের হাম্বলি ফকিহগণের মাঝে প্রচুর আলোচনা হয়েছে; যেমন শাইখ শুওয়াইকি আদ-দিমাশকি, আহমাদ ইবনে আতওয়াহ এবং আবদুল্লাহ ইবনে রহমাহ আন-নাজদিয়াইন এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য আলেমগণ যাঁরা এই মাসআলার সমসাময়িক ছিলেন। আমি এই রিসালার টীকায় তাঁদের নাম ও বক্তব্যসমূহ একত্র করেছি।

তাই শাইখ মুসা তাঁর দুই উস্তাদ শুওয়াইকি এবং আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আতওয়াহর মধ্যকার বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য এই সংক্ষিপ্ত রিসালাহটি লিখেছেন।

সম্ভবত এই ফতওয়াটি সেই সময়ের ইমাম আহমদের মাযহাবের প্রখ্যাত ফকিহগণের এই মাসআলা সংক্রান্ত গবেষণার একটি পূর্ণতা এবং আমার ধারণা মতে এটিই এই বিষয়ের চূড়ান্ত সমাধান—কেননা তাঁর পরে আমি আর কাউকে এটি উত্থাপন করতে দেখিনি।

 

এবং তৃতীয় রিসালাহ: শাইখ মুসা আল-হাজ্জাভীকে করা একটি প্রশ্নের উত্তর—যদি তাঁর রচিত ‘আল-ইকনা’ এবং ‘হাশিয়াতুত তানকিহ’-এর বক্তব্যের সাথে মারদাভী রচিত ‘আত্তানকিহ’-এর বক্তব্য সাংঘর্ষিক হয়, তবে কোনটি অগ্রগণ্য হবে?

অতঃপর এই ফতওয়ার ওপর আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ ইবনে যাহলানের একটি মন্তব্য।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد أيّد ابن منقور جواب الحجاوي، وقال عنه: (ولقد صدق وأنصف).

وهو جواب مختصر على السؤال، لكن له من الأهمية الكبيرة ما هو بيّن.

 

و‌‌الرسالة الرابعة: نظمٌ لشروط الوضوء وفروضه، وشروط الغسل، وشروط التيمم، وشروط الصلاة، وأركان الصلاة، وشروط الإمامة.

وعدد أبياتها مجموعةً 31 بيتاً.

وقد سعيتُ لإخراج هذه الرسائل لما أرجوه من النفع بها، أسأل الله تعالى الإخلاص في القول والعمل، وأن يرزقنا الفقه في دينه، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
এবং ইবনে মানকুর আল-হাজ্জাবীর জবাবকে সমর্থন করেছেন এবং সে সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি সত্য বলেছেন এবং ইনসাফ করেছেন)।

এটি প্রশ্নের একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর, তবে এর গুরুত্ব অপরিসীম যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

 

এবং চতুর্থ রিসালাহ: ওযুর শর্ত ও ফরযসমূহ, গোসলের শর্তাবলি, তায়াম্মুমের শর্তাবলি, সালাতের শর্তাবলি, সালাতের রুকনসমূহ এবং ইমামতির শর্তাবলির কাব্যিক বিন্যাস।

এর মোট পঙক্তি সংখ্যা ৩১টি।

আমি এই রিসালাহগুলো প্রকাশের প্রচেষ্টা চালিয়েছি এর মাধ্যমে উপকারের আশায়; আমি মহান আল্লাহর কাছে কথা ও কাজে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আমাদের তাঁর দীনের ফিকহ (গভীর জ্ঞান) দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌التعريف بالمؤلف (1):

*‌‌ اسمه وَنسبُه:

هو الشَّيخ العَلامة شَرف الدِّين أبو النَّجَا مُوسَى بن أحمَد بن مُوسَى بن سَالم بن عيسَى بن سَالم الحَجَّاوِيُّ، المَقْدِسِي، ثم الصَالِحِي، الدِّمَشْقِي، الحنبلي.

مفتي الحنابلة في (دمشق)، وَعمدة المتأخرين من الحنابلة.

 

*‌‌ مولده:

ولد الشيخ موسَى في سنة (895 هـ) في «حَجَّة» -بفتح الحاء، وَتشديد الجيم المفتوحة-؛ إحدى نواحي نَابلس.

 

*‌‌ شيوخه:

قرأ الشَّيخ مُوسَى عَلى جَمعٍ من المشايخ، وَعلماء عصره؛ قال ابنُ حميد: " ارتحَلَ إلى دمشقَ فسَكَنَ في (مدرسة شيخ الإسلامِ أبي عُمَر)، وَقرأ على مشايخ عصرِه ".

ومِن الذين تتلمذ عليهم (الشيخُ مُوسَى الحجَّاوي):

- أحمد بن محمد الشُّويكِي النَّابُلسِي (939 هـ).

--------------------------------------------

(1) هذه الترجمة مأخوذة باختصار من مقدمة تحقيقي لشرح منظمة الآداب للمؤلف.

লেখকের পরিচিতি (১):

*‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শায়খ আল্লামা শরফুদ্দীন আবুন্নাজা মুসা বিন আহমদ বিন মুসা বিন সালিম বিন ঈসা বিন সালিম আল-হাজ্জাউয়ি, আল-মাকদিসি, অতঃপর আস-সালিহি, আদ-দিমাশকি, আল-হাম্বলি।

দামেস্কে হাম্বলিদের মুফতি এবং পরবর্তী যুগের হাম্বলি আলিমদের প্রধান নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

 

*‌ তাঁর জন্ম:

শায়খ মুসা ৮৯৫ হিজরি সনে ‘হাজ্জাহ’ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন—হা বর্ণে ফাতহাহ (যবর) এবং জীম বর্ণে তাশদীদ ও ফাতহাহ (যবর) সহ—যা নাবলুস অঞ্চলের অন্যতম একটি এলাকা।

 

*‌ তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:

শায়খ মুসা তাঁর যুগের একদল মাশায়েখ ও আলিমদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন; ইবনে হুমাইদ বলেন: "তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং ‘শায়খুল ইসলাম আবু উমর মাদরাসা’-তে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁর সমসাময়িক মাশায়েখদের নিকট জ্ঞান অর্জন করেন।"

যাঁদের কাছে শায়খ মুসা আল-হাজ্জাউয়ি শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

- আহমদ বিন মুহাম্মদ আশ-শুওয়াইকি আন-নাবলুসি (৯৩৯ হিজরি)।

--------------------------------------------

(১) এই জীবনীটি লেখকের ‘শারহু মানযুমাতিল আদাব’ গ্রন্থের আমার তাহকীককৃত সংস্করণের ভূমিকা থেকে সংক্ষেপে সংকলিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৪)
- نجم الدين عمر بن إبراهيم ابن مُفلح (910 هـ).

- أبو البركات محب الدين أحمد بن محمد خطيب مكة العقيلي.

- كمال الدين محمد بن حمزة الحسيني (933 هـ).

وغيرهم.

 

*‌‌ تلاميذه:

تتلمذ على الشيخِ موسى الحجاوي عددٌ كبير مِن طلاب العلم من بلاد متعددة.

- وَمنهم: ابنُه يحيى بن موسى الحجَّاوي.

- شهاب الدين الوفائي (1035 هـ).

- زامل بن سلطان (قاضي الرياض).

- أحمد بن محمد بن مشرَّف.

- القاضي شهاب الدين أحمد بن محمد الشويكي (1007 هـ).

- أبو بكر بن زيتون الصالحي (1012 هـ).

- محمد بن شهاب الدين المرداوي المقدسي الشهير (بابن الديوان).

- محمد بن أحمد الكردي الصالحي. وَغيرهم كثير.
- নজম উদ্দীন উমর বিন ইবরাহীম ইবনে মুফলিহ (৯১০ হি.)।

- আবুল বারাকাত মুহিব্বুদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ খতীব মক্কা আল-উকাইলি।

- কামাল উদ্দীন মুহাম্মাদ বিন হামযাহ আল-হুসাইনি (৯৩৩ হি.)।

এবং আরও অনেকে।

 

*‌‌ তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

শাইখ মুসা আল-হাজ্জাউয়ির নিকট বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিপুল সংখ্যক ইলম অন্বেষী (শিক্ষার্থী) শিক্ষা লাভ করেছেন।

- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া বিন মুসা আল-হাজ্জাউয়ি।

- শিহাবুদ্দীন আল-ওয়াফায়ি (১০৩৫ হি.)।

- যামিল বিন সুলতান (রিয়াদের কাজি)।

- আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুশাররাফ।

- কাজি শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শুওয়াইকি (১০০৭ হি.)।

- আবু বকর বিন যাইতুন আস-সালিহি (১০১২ হি.)।

- মুহাম্মাদ বিন শিহাবুদ্দীন আল-মারদাওয়ি আল-মাকদিসি, যিনি 'ইবনুদ দিওয়ান' নামে সুপরিচিত।

- মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-কুর্দি আস-সালিহি। এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৫)
*‌‌ مؤلفاته:

ألّفَ الشيخ موسى العديدَ من المؤلفات التي طرح اللهُ تعالى لهَا القبولَ بين الناس؛ حتى صار عليها المعوَّلُ، وَإليها المرجعُ في الفَتوَى عند الأصحاب؛ قال الكمال الغزي: (صاحب المؤلفات التي سارت بها الركبان، وَتلقاها الناس بالقبول زماناً بعد زمان)(1).

ومنها:

- الإقناع لطالب الانتفاع. طبع.

- حاشية على الإقناع.

- حاشية على التنقيح المشبع. طبع.

- شرح منظومة الآداب. طبع بتحقيقي عن دار ابن الجوزي بالدمام.

- رسالة في معرفة الأرطال العراقية بالأوزان الدمشقية وَغيرها. وهي هذه الرسالة، وسيأتي الحديث عنها بالتفصيل.

- زاد المستقنع في اختصار المقنع. طبع.

- شرح المفردات.

- منظومة الكبائر. طبع مع شرح السَّفاريني لها.

--------------------------------------------

(1) النعت الأكمل صـ 124.

‌ তাঁর রচনাবলি:

শায়খ মূসা অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন যেগুলোর জন্য আল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝে কবুলিয়াত বা গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন; এমনকি সেগুলোই মাযহাবের অনুসারীদের নিকট ফতোয়া প্রদানের প্রধান ভিত্তি ও নির্ভরযোগ্য উৎসে পরিণত হয়েছে। আল-কামাল আল-গাজ্জি বলেন: "তিনি এমন সব গ্রন্থের রচয়িতা যা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যুগের পর যুগ মানুষ তা অত্যন্ত কবুলিয়াতের সাথে গ্রহণ করেছে"(১)।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

- আল-ইকনা লি তালিবিল ইনতিফা। এটি মুদ্রিত।

- আল-ইকনা-র ওপর হাশিয়া (টিকা)।

- আত-তানকিহ আল-মুশবি-র ওপর হাশিয়া (টিকা)। এটি মুদ্রিত।

- শারহু মানজুমাতিল আদাব। দাম্মামস্থ দার ইবনুল জাওযী থেকে আমার সম্পাদনায় মুদ্রিত।

- দামেস্কি ওজন ও অন্যান্য এককের মাধ্যমে ইরাকি রতলের পরিমাপ বিষয়ক পুস্তিকা। এটিই সেই পুস্তিকা, এবং এর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

- যাদুল মুস্তাকনি ফি ইখতিসারিল মুকনি। এটি মুদ্রিত।

- শারহুল মুফরাদাত।

- মানজুমাতুল কাবাইর। আস-সাফফারিনির ব্যাখ্যাসহ মুদ্রিত।

--------------------------------------------

(১) আন-নাতুল আকমাল, পৃষ্ঠা ১২৪।

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৬)
- وغيرها من الكتب.

 

*‌‌ وفاته:

توفي الشَّيخ مُوسَى بن أحمد الحجَّاوي يوم الخميس، ثاني عشَر ربيع الأول، سنة «968 هـ». ودفن (بسَفْحِ قَاسيُون) -رحمه الله تعالى، وَغَفَرَ لَه وَرَحمَه-.
- এবং অন্যান্য কিতাবসমূহ।

 

*‌‌ তাঁর মৃত্যু:

শাইখ মুসা ইবন আহমাদ আল-হাজ্জাউয়ি ৯৬৮ হিজরি সনের ১২ই রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন। তাঁকে (কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে) দাফন করা হয় -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর প্রতি দয়া করুন-।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌وصف المخطوط، وطريقة العمل

‌‌(1) الرسالة الأولى:

‌‌أولاً: وصف المخطوط:

اعتمدتُ في إخراج هذه الرسالة على مخطوط فريد محفوظ في مكتبة (بريستون) بالولايات المتحدة الإمريكية برقم (375 ب). ومنه نسخة مصورة في مكتبة الملك فهد الوطنية بالرياض، وقد حصلت على هذه المخطوطة عن طريقهم فلهم من الله الجزاء بالخير، ومني الدُّعَاءُ والثناء.

وهذه المخطوطة ملحقة بمخطوط للجراعي ومجلدة معها، لذا لم يفطن لها المُفهرِس للتعريف بها.

وتقع المخطوطة في (6) صفحات. وقد كتبت في سنة 966 هـ (أي في حياة المؤلف، وقبيل وفاته بعامين) وكتبها تلميذه محمد بن أحمد الكردي الصالحي.

وهي نسخة جيدة في الجملة، لولا سقوط بعض الكلمات، والجمل، حاولت إثباتها في المتن بناءً على نتائج الحساب.

 

‌‌ثانياً: إثبات نسبته للمؤلف:

إثبات هذه الرسالة للمؤلف من المسائل المهمة؛ لأن إسناد القول
পাণ্ডুলিপির বর্ণনা এবং কর্মপদ্ধতি

‌(১) প্রথম রিসালাহ:

‌প্রথমত: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

আমি এই রিসালাহটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (প্রিন্সটন) লাইব্রেরিতে (৩৭৫ বি) নম্বরে সংরক্ষিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। রিয়াদের কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এর একটি ফটোকপি সংস্করণ রয়েছে এবং আমি তাদের মাধ্যমেই এই পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করেছি। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য দোয়া ও প্রশংসা রইল।

এই পাণ্ডুলিপিটি আল-জারায়ির একটি পাণ্ডুলিপির সাথে সংযুক্ত এবং একত্রে বাঁধানো ছিল, যার ফলে ক্যাটালগার (সূচিপত্র প্রস্তুতকারী) এটি শনাক্ত করার বিষয়টি লক্ষ্য করেননি।

পাণ্ডুলিপিটি (৬) পৃষ্ঠা সম্বলিত। এটি ৯৬৬ হিজরি সনে (অর্থাৎ লেখকের জীবদ্দশায় এবং তার মৃত্যুর দুই বছর আগে) প্রতিলিপি করা হয়েছে এবং এটি লিখেছেন তার ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কুর্দি আস-সালিহি।

সামগ্রিকভাবে এটি একটি চমৎকার অনুলিপি, তবে কিছু শব্দ এবং বাক্য বাদ পড়ে গিয়েছিল, যা আমি গণনার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি।

 

‌দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততার প্রমাণ:

লেখকের প্রতি এই রিসালাহটির সম্পৃক্ততা প্রমাণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কারণ কোনো বক্তব্যের সম্বন্ধ করা...
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৮)
لقائله يُعطِي المقولَ فائدةً وقوَّة.

وقد دلَّ على نسبة هذه الرسالة للشيخ موسى بن أحمد الحجاوي أمور منها:

أولاً: ما أثبت على الصفحة الأولى من المخطوط من نسبتها لمؤلفها، مع تقدّم نسخ المخطوط في حياة المؤلف.

ثانياً: تشابه أسلوب هذه الرسالة مع غيرها من مؤلفات الشيخ موسى، وذلك باعتنائه فيها بالمذهب الحنبلي، بالإضافة لتشابه فكرة هذه الرسالة مع تعليقه على كتاب (التنقيح المشبع) للمرداوي.

إضافة لما يُرى من اعتناء الشيخ موسى بهذه الجزئية في أكثر مِن موضع من مؤلَّفته(1)، غيرَ مَا أملاه في هذه الرِّسَالة المختصَرة.

 

‌‌ثالثاً: تسمية الرسالة:

لم أقف في المخطوط على اسمٍ لهذه الرسالة، ولم أجد اسمها في كُتب المترجمين، فجعلتُ لها اسماً أخذاً من مقدمة المؤلف فإنه قال: (فهذه قاعدة نافعة -إن شاء الله تعالى- تَنفعُ المُبتَدِي، وَتُعِينُ المُنتَهِي في مَعرفَةِ الأرطَال العِرَاقيَّة بالأوزان الدَّمشقية، وَغيرِها من البُلدَانِ الآفَاقِيَّة).

--------------------------------------------

(1) ينظر: حواشي التنقيح ص 77 - 78، 92، الإقناع 1/ 13، وينظر كذلك: كشاف القناع 3/ 400.

তার প্রবক্তার জন্য এটি বক্তব্যের উপযোগিতা ও শক্তি বৃদ্ধি করে।

এই রিসালাটি শেখ মুসা ইবনে আহমদ আল-হাজ্জাউয়ির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে বেশ কিছু বিষয় প্রমাণ বহন করে, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠায় এর লেখকের প্রতি যে সম্বন্ধ প্রতিপন্ন করা হয়েছে, তার সাথে লেখকের জীবদ্দশায় পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করার প্রাচীনতা।

দ্বিতীয়ত: শেখ মুসার অন্যান্য রচনার শৈলীর সাথে এই রিসালাটির শৈলীর সাদৃশ্য, যেখানে তিনি হাম্বলি মাযহাবের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এর পাশাপাশি এই রিসালাটির মূল ভাবনার সাথে মারদাউয়ি রচিত 'আত-তানকিহ আল-মুশবি' গ্রন্থের ওপর তাঁর টীকা বা মন্তব্যের সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়া শেখ মুসার অন্যান্য রচনার একাধিক স্থানে এই বিশেষ বিষয়ের প্রতি তাঁর যে যত্নশীলতা পরিলক্ষিত হয়(১), তা এই সংক্ষিপ্ত রিসালায় তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার অতিরিক্ত।

 

‌‌তৃতীয়ত: রিসালাটির নামকরণ:

আমি পাণ্ডুলিপিতে এই রিসালাটির কোনো নাম দেখতে পাইনি এবং জীবনীকারদের গ্রন্থেও এর কোনো নাম খুঁজে পাইনি। তাই আমি লেখকের ভূমিকা থেকে গ্রহণ করে এর একটি নাম দিয়েছি, কেননা তিনি বলেছেন: (এটি একটি উপকারী মূলনীতি -ইনশাআল্লাহ তায়ালা- যা প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে এবং ইরাকি রতলকে দামেস্কি ও অন্যান্য দূরবর্তী অঞ্চলের ওজনে রূপান্তরের ক্ষেত্রে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: হাওয়াশিত্তানকিহ পৃ. ৭৭ - ৭৮, ৯২; আল-ইকনা ১/ ১৩; এবং আরও দ্রষ্টব্য: কাশশাফুল কিনা ৩/ ৪০০।

(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌(2) الرسالة الثانية:

‌‌أولاً: وصف المخطوط:

اعتمدتُ في إخراج هذه الرسالة على مخطوط أصلي محفوظ في المكتبة المركزية في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، مكونة من صفحتين، ولم يذكر فيها اسم الناسخ ولا تاريخ النسخ.

وتقع الرسالة في صفحتين بخط النسخ، والورق متأخرٌ من الورق الصناعي، وأظنها مكتوبة في آخر القرن الثالث عشر على أبعد تقدير، أو أوائل الرابع عشر.

 

‌‌ثانياً: إثبات نسبته للمؤلف:

هذه الرسالة في مضمونها ما يدلُّ على إثبات صحة نسبتها للشيخ موسى الحجاوي، فإضافةً للتصريح بنسبة هذه الفتيا للشيخ موسى الحجاوي في الغلاف، فإن فيها نقلاً عن اثنين من شيوخ المؤلف وهما الشويكي وابن عطوة؛ كما سيأتي في التوثيق.

كما أنّها تتناول مسألةً مشهورةً في ذلك الزمان عند فقهاء الحنابلة عموماً، وفقهاء دمشق ونجد بالخصوص.
(২) দ্বিতীয় পত্র:

প্রথমত: পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

এই পত্রটি সম্পাদনায় আমি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত একটি মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা দুই পৃষ্ঠা সম্বলিত; তবে এতে অনুলিপিকারকের নাম কিংবা অনুলিপি করার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

পত্রটি নসখ লিপিতে দুই পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং এর কাগজটি পরবর্তী সময়ের কৃত্রিম কাগজ। আমার ধারণা, এটি সর্বোচ্চ তেরো শতকের শেষে অথবা চৌদ্দ শতকের শুরুতে লিখিত হয়েছে।

 

দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রমাণ:

এই পত্রের বিষয়বস্তুতে এমন কিছু রয়েছে যা শায়খ মুসা আল-হিজ্জাবির প্রতি এর সম্বন্ধের সঠিকতা প্রমাণ করে। মলাটে এই ফতোয়াটি শায়খ মুসা আল-হিজ্জাবির দিকে স্পষ্টভাবে সম্বন্ধ করার পাশাপাশি এতে লেখকের দুইজন উস্তাদ—তথা আশ-শুয়াইকি এবং ইবনে আতওয়া—থেকে উদ্ধৃতি রয়েছে; যেমনটি তথ্যসূত্রের বিবরণে সামনে আসবে।

এছাড়া এটি এমন একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করে যা সেই সময়ে সাধারণভাবে হাম্বলি ফকিহদের নিকট এবং বিশেষভাবে দামেস্ক ও নজদের ফকিহদের নিকট সুপরিচিত ছিল।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌(3) الرسالة الثالثة:

‌‌‌‌أولاً: وصف المخطوط:

اعتمدتُ في إخراج هذه الرسالة على فائدة مكتوبة على هامش إحدى النسخ الخطية الأصلية المحفوظة بالرياض.

وهذا الجواب مكتوب في هامش الكتاب.

 

‌‌‌‌ثانياً: إثبات نسبته للمؤلف:

هذا الجواب مضمونه يدلّ على صحة نسبته للحجاوي، وخصوصاً أنّ الشيخ أحمد ابن منقور، قد نقلها بالسند إليه.

 

‌‌(4) الرسالة الرابعة:

أولاً: وصف المخطوط:

هذه الأبيات ملحقة بالمخطوط المحفوظ في دار الكتب المصرية برقم 739 مجاميع، في وجه الورقة 20 وظهرها.

والفضل بعد الله للتنبه لها، وإخراجها للأستاذ صالح بن محمد بن عبد الفتاح، حيث نشرها في كتابه (التقييدات الشهية ص 177)، ومنه استفدتُ في إخراجها.

ثانياً: إثبات نسبته للمؤلف:

هذه الأبيات منسوبة للشيخ موسى، وهو معروفٌ بنظمه الكثير، كما أن مضمون الأبيات متوافق مع مذهب الحنابلة، وفيها مسائل تعدُّ من مفرداته.
(৩) তৃতীয় রিসালা:

প্রথমত: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

এই রিসালাটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি রিয়াদে সংরক্ষিত একটি মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় লিখিত একটি টীকা বা নোটের ওপর নির্ভর করেছি।

আর এই উত্তরটি বইটির পার্শ্বটীকায় লিখিত রয়েছে।

 

দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রমাণ:

এই উত্তরের বিষয়বস্তু আল-হাজ্জাওয়ীর প্রতি এর সম্বন্ধের সঠিকতা প্রমাণ করে, বিশেষ করে শেখ আহমদ ইবনে মানকুর এটি তাঁর নিকট থেকে সনদসহ বর্ণনা করেছেন।

 

(৪) চতুর্থ রিসালা:

প্রথমত: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

এই পঙক্তিগুলো মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ ৭৩৯ নম্বর 'মজমুআ' (সংকলন) হিসেবে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির ২০ নম্বর পৃষ্ঠার উভয় পিঠে (পৃষ্ঠা ও তার অপর পিঠ) সংযুক্ত রয়েছে।

আল্লাহর অনুগ্রহের পর, এই পঙক্তিগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ এবং তা প্রকাশের কৃতিত্ব উস্তাদ সালেহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ-র; তিনি এটি তাঁর (আত-তাকয়িদাত আশ-শাহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭৭) গ্রন্থে প্রকাশ করেছেন এবং তা সম্পাদনায় আমি তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছি।

দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রমাণ:

এই পঙক্তিগুলো শেখ মুসার দিকে সম্বন্ধযুক্ত, এবং তিনি অধিক কাব্য রচনার জন্য সুপরিচিত। এছাড়া পঙক্তিগুলোর বিষয়বস্তু হাম্বলি মাজহাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতে এমন কিছু মাসআলা রয়েছে যা এই মাজহাবের একক বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২১)
ثالثاً:‌‌ طريقة العمل في التحقيق:

قمت بنسخ المخطوطات، وتصحيح ما وقع فيه من التحريف، أو السقط، وهي مواضع قليلة، نبهت عليها في الهامش.

وذلك أن الرسالة الأولى تعتمد على الحساب في كثير من أجزائها، وربما كان من الناسخ سبق نظر فأسقط بعض الكلمات، أو الجمل، فأثبتها في المتن بين معكوفتين []، مع الإشارة لذلك في الهامش.

وأمّا الرسالة الثالثة فإن التعليقات التي أوردها الناسخ فإني أثبتها في الهامش كما هي.

ثم علَّقتُ بعد ذلك على بعض المواضع التي رَأيتُ أنها ذات أهمية في ذلك. ووَثَّقتُ المَسَائلَ التي ذكرَهَا المؤلِّفُ.
তৃতীয়ত: সম্পাদনার কর্মপদ্ধতি:

আমি পাণ্ডুলিপিগুলো প্রতিলিপি করেছি এবং এতে যে সকল বিকৃতি বা বিচ্যুতি ঘটেছে তা সংশোধন করেছি। এ জাতীয় স্থানগুলো সংখ্যায় খুব কম, যা আমি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।

কারণ প্রথম রিসালাহটির (পুস্তিকাটির) অধিকাংশ অংশই গণনার ওপর নির্ভরশীল। সম্ভবত অনুলিপিকারীর দৃষ্টিবিভ্রমের কারণে তিনি কিছু শব্দ বা বাক্য বাদ দিয়ে ফেলেছিলেন, যা আমি মূল পাঠে বন্ধনীর [] মধ্যে সন্নিবেশিত করেছি এবং পাদটীকায় সেদিকে ইঙ্গিত প্রদান করেছি।

আর তৃতীয় রিসালাহটির ক্ষেত্রে অনুলিপিকারীর প্রদত্ত টীকাগুলো আমি পাদটীকায় অবিকলভাবে রেখে দিয়েছি।

এরপর আমি নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মন্তব্য করেছি যেগুলোকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি। সেই সঙ্গে লেখক যে সকল মাসআলা উল্লেখ করেছেন আমি সেগুলোর প্রামাণ্যকরণ ও উৎস নির্দেশ করেছি।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌صور المخطوطات:
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ:
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২৬)
صورة مخطوط الرسالة الثانية
দ্বিতীয় রিসালার পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২৭)
صورة مخطوط الرسالة الثالثة
তৃতীয় পত্রের পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌قاعدة

في معرفة الأرطال العِرَاقيَّة بالأوزَانِ الدِّمشقِيَّة، وَغيرها من البلدان الآفاقية

للشيخ الفقيه موسى بن سالم الحجَّاوي الحنبلي

(ت 968 هـ)

اعتنى بتحقيقها والتعليق عليها:

أ. د. عبد السلام بن محمد الشويعر
একটি মূলনীতি

দামেস্কি এবং অন্যান্য দূরবর্তী দেশের ওজনের মাধ্যমে ইরাকি রতলের পরিমাপ জানা প্রসঙ্গে

শেখ ফকিহ মুসা বিন সালিম আল-হাজ্জাউয়ি আল-হাম্বলি-এর রচনা

(মৃত্যু ৯৬৮ হিজরি)

এর সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন:

অধ্যাপক ডক্টর আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ আশ-শুওয়াইর
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العَالمين. وَصلى الله على سيدنا محمد وَآله وَصحبه أجمعين .. وَبعد.

فهذه قاعدة نافعة(1) -إن شاء الله تعالى- تَنفعُ المُبتَدِي، وَتُعِينُ المُنتَهِي في مَعرفَةِ الأرطَال العِرَاقيَّة(2) بالأوزان الدَّمشقية، وَغيرِها من

--------------------------------------------

(1) لخّص المؤلِّفُ هذه المباحث في قاعدة ذكرها في (حواشي التنقيح ص 78) فقال: (قاعدة تعرف منها الأوزان العراقية بالرطل المصري والدمشقي والقدسي والحلبي والبعلي.

فإن زدتَ على الأوزان العراقية في القلتين وغيرهما مثلها خمس المرات ومثل ربعها ثم أخذت سُبع المجتمع فهو المصري.

وإن زدتَ مثل ثمنها ثم أخذت سُبع المجتمع فهو القدسي.

وإن زدتَ مثل ربعها ثم أخذتَ سُبع المجتمع فهو الحلبي.

وإن أخذتَ سُبع العراقي من غير زيادة فهو البعلي).

(2) خُصّ التقديرُ بالأرطال العراقيّة؛ لأن المصنفين الأوائل من الحنابلة كانوا يقدّرون الكيل بها؛ وجُلّهم من حنابلة العراق؛ فمِنهم على سبيل المثال:

أبو علي ابن أبي موسى (ت 428 هـ) في (الإرشاد ص 21)، وأبو الخطاب الكلوذاني (ت 510 هـ) في (الهداية 1/ 11)، والسامري (ت 616 هـ) في (المستوعب 1/ 10)، والبعقوبي (617 هـ)، وابن تميم (ت 675 هـ) في (مختصره 1/ 36)، وأبو طالب البصري (ت 684 هـ) في (الحاوي الصغير ص 20)، و (الحاوي الكبير 1/ 77، 142)، وابن حمدان (ت 695 هـ) في (الرعاية الصغرى 1/ 328)، والدجيلي (ت 732 هـ) في (الوجيز 1/ 113).

وتبعهم الموفق ابن قدامة (620 هـ) في كُتبه (الكافي 1/ 17)، و (المغني)، و (المقنع).

وأمّا في (العمدة) فإنه قدّرها بالدمشقي. وهذا ما سار عليه مؤلفو الحنابلة الدماشقة؛ مثل: يوسف ابن عبد الهادي (ت 909 هـ) في (الدر النقي 1/ 50)، وابن النجار في (المنتهى 1/ 21)، وابن بلبان (ت 1083 هـ) في (أخصر المختصرات 1/ 45 مع كشف المخدرات).

بينما مؤلفو الحنابلة المصريون اعتمدوا تقدير القلتين بالرطل المصري؛ مثل البهوتي (ت 1059 هـ) في (عمدة الفقه ص 11)، وابن قايد النجدي ثم المصري في (هداية الراغب 1/ 20).

وأمّا البعليون من الحنابلة فإنهم ذكروا الثلاثة السابقة معاً، وأضافوا لها تقديرها بالرطل البعلي؛ كمحمد ابن بلبان البعلي (ت 1083 هـ) في (كافي المبتدي ص)، وأحمد البعلي (ت 1083 هـ) في (الروض الندي 1/ 27).

وأمّا الحرانيون فذكروها بالرطل الحراني، كابن تميم في (مختصره 3/ 248).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর—

এটি একটি উপকারী মূলনীতি —মহান আল্লাহ যদি চান— যা শিক্ষানবিশদের জন্য কল্যাণকর হবে এবং দামেস্কি ও অন্যান্য ওজনের মাধ্যমে ইরাকি রাতলসমূহ চিনতে অভিজ্ঞদের সাহায্য করবে...

--------------------------------------------

(১) লেখক এই আলোচনাগুলো একটি মূলনীতিতে সংক্ষেপ করেছেন যা তিনি (হাওয়াশি আত-তানকিহ, পৃষ্ঠা ৭৮)-এ উল্লেখ করে বলেছেন: (এটি এমন একটি মূলনীতি যার মাধ্যমে আপনি মিশরীয়, দামেস্কি, কুদসি, হালাবি এবং বালি রাতলের মাধ্যমে ইরাকি ওজনসমূহ জানতে পারবেন।

যদি আপনি দুই মটকা (কুল্লাইন) বা অন্য কিছুর ইরাকি ওজনের সাথে তার সমপরিমাণ পাঁচ গুণ এবং তার এক-চতুর্থাংশ বৃদ্ধি করেন, অতঃপর মোট যোগফলের এক-সপ্তমাংশ গ্রহণ করেন, তবে তা হবে মিশরীয় ওজন।

আর যদি তার এক-অষ্টমাংশের সমপরিমাণ বৃদ্ধি করেন, অতঃপর মোট যোগফলের এক-সপ্তমাংশ গ্রহণ করেন, তবে তা হবে কুদসি ওজন।

আর যদি তার এক-চতুর্থাংশের সমপরিমাণ বৃদ্ধি করেন, অতঃপর মোট যোগফলের এক-সপ্তমাংশ গ্রহণ করেন, তবে তা হবে হালাবি ওজন।

আর যদি কোনো বৃদ্ধি ছাড়াই ইরাকি ওজনের এক-সপ্তমাংশ গ্রহণ করেন, তবে তা হবে বালি ওজন)।

(২) পরিমাপ নির্ধারণকে ইরাকি রাতলের সাথে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে; কারণ হাম্বলি মাযহাবের আদি গ্রন্থকারগণ এর মাধ্যমেই পরিমাপ নির্ধারণ করতেন; তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন ইরাকের হাম্বলি আলিম; উদাহরণস্বরূপ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

আবু আলী ইবনে আবি মুসা (মৃত্যু ৪২৮ হিজরি) তাঁর (আল-ইরশাদ, পৃষ্ঠা ২১) গ্রন্থে, আবু আল-খাত্তাব আল-কালওয়াজানি (মৃত্যু ৫১০ হিজরি) তাঁর (আল-হিদায়া ১/১১) গ্রন্থে, আস-সামিরি (মৃত্যু ৬১৬ হিজরি) তাঁর (আল-মুস্তাউবিব ১/১০) গ্রন্থে, আল-বাকুবি (৬১৭ হিজরি), ইবনে তামিম (মৃত্যু ৬৭৫ হিজরি) তাঁর (মুখতাসার ১/৩৬) গ্রন্থে, আবু তালিব আল-বাসরি (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি) তাঁর (আল-হাবি আস-সগির, পৃষ্ঠা ২০) এবং (আল-হাবি আল-কাবির ১/৭৭, ১৪২) গ্রন্থে, ইবনে হামদান (মৃত্যু ৬৯৫ হিজরি) তাঁর (আর-রিআয়াহ আস-সুগরা ১/৩২৮) গ্রন্থে এবং আদ-দুজাইলি (মৃত্যু ৭৩২ হিজরি) তাঁর (আল-ওয়াজিজ ১/১১৩) গ্রন্থে।

আল-মুওয়াফফাক ইবনে কুদামা (৬২০ হিজরি) তাঁর গ্রন্থসমূহ (আল-কাফি ১/১৭), (আল-মুগনি) এবং (আল-মুকনি)-এ তাঁদের অনুসরণ করেছেন।

তবে (আল-উমদাহ) গ্রন্থে তিনি দামেস্কি ওজন অনুযায়ী পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন। দামেস্কের হাম্বলি লেখকগণ এই পথই অনুসরণ করেছেন; যেমন: ইউসুফ ইবনে আব্দুল হাদি (মৃত্যু ৯০৯ হিজরি) তাঁর (আদ-দুর আন-নাকি ১/৫০) গ্রন্থে, ইবনে নাজ্জার (আল-মুনতাহা ১/২১) গ্রন্থে এবং ইবনে বালবান (মৃত্যু ১০৮৩ হিজরি) (আখসারুল মুখতাসারাত ১/৪৫-এর সাথে কাশফুল মুখাদ্দারাত)-এ।

অন্যদিকে মিশরের হাম্বলি লেখকগণ দুই মটকার (কুল্লাইন) পরিমাপ নির্ধারণে মিশরীয় রাতলের ওপর নির্ভর করেছেন; যেমন: আল-বাহুতি (মৃত্যু ১০৫৯ হিজরি) তাঁর (উমদাতুল ফিকহ, পৃষ্ঠা ১১) গ্রন্থে এবং ইবনে কায়েদ আন-নাজদি আল-মিসরি (হিদায়াতুর রাগিব ১/২০) গ্রন্থে।

আর বালি অঞ্চলের হাম্বলিগণ পূর্বোক্ত তিনটি পরিমাপ একত্রে উল্লেখ করেছেন এবং সাথে বালি রাতলের পরিমাপও যোগ করেছেন; যেমন: মুহাম্মদ ইবনে বালবান আল-বালি (মৃত্যু ১০৮৩ হিজরি) তাঁর (কাফিয়ুল মুবতাদি) গ্রন্থে এবং আহমদ আল-বালি (মৃত্যু ১০৮৩ হিজরি) তাঁর (আর-রাওদ আন-নাদি ১/২৭) গ্রন্থে।

আর হাররানিগণ হাররানি রাতলের মাধ্যমে এটি উল্লেখ করেছেন, যেমন ইবনে তামিম তাঁর (মুখতাসার ৩/২৪৮) গ্রন্থে করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩২)
البُلدَانِ الآفَاقِيَّة.

وَمعرفَةُ ذلك يَتَوقَّفُ على مَعرفة زِنَةِ (الرّطل العراقي) بالدِّرهَم الوَزني(1)؛ لأن الدِّرهمَ الوَزْنيَّ لم يختلف في جاهلية وَلا إسلام(2)، فلذلك جُعل الضَّبطُ بِه في المَكَاييل العِرَاقيَّة؛ لأن أصلَها الكيل، وَإنما نقلوا ذلك إلى الوَزنِ ليُحفَظ؛ لأن المكاييلَ تتغيَّر كَثيراً، وَالوَزنُ لا

--------------------------------------------

(1) «الدرهم الوزني» ويُسمّى بدرهم الكيل، وهو الدرهم الذي ضربه عبد الملك بن مروان.

(2) قال وهب بن كيسان: (رأيتُ الدنانير والدراهم قبل أن ينقشها عبد الملك ممسوحة. وهى وزن الدنانير التي ضربها عبد الملك). ويُنظر: فتوح البلدان للبلاذري ص 472، الخراج والنظم المالية د. محمد ضياء الريس ص 343.

وذكر ابن ظهيرة في (كفاية المحتاج ص 321) أنّ ذلك يُسمّى درهم الكيل؛ لأن الدرهم الشرعي يتركب منه، ومقداره خمسون حبّة وخُمسا حبّة.
দূরবর্তী অঞ্চলসমূহ।

আর এটি ওজনকৃত দিরহামের ভিত্তিতে (ইরাকি রতলের) ওজন জানার ওপর নির্ভর করে(১); কেননা ওজনকৃত দিরহাম জাহেলিয়াত কিংবা ইসলাম কোনো যুগেই পরিবর্তিত হয়নি(২), একারণেই ইরাকি পরিমাপকগুলোর (মাকায়িল) ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে মান নির্ধারণ করা হয়েছে। কেননা এগুলোর মূল ভিত্তি ছিল পরিমাপ (কাইল), কিন্তু তা সংরক্ষণের জন্য ওজনে রূপান্তরিত করা হয়েছে; কারণ পরিমাপকগুলো প্রায়ই পরিবর্তিত হয়ে যায়, কিন্তু ওজনের ক্ষেত্রে তেমনটি হয় না।

--------------------------------------------

(১) «ওজনকৃত দিরহাম» একে পরিমাপের দিরহামও বলা হয়, আর এটি সেই দিরহাম যা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান প্রবর্তন করেছিলেন।

(২) ওহাব ইবনে কাইসান বলেন: (আমি আব্দুল মালিক কর্তৃক নকশা করার পূর্বে দিনার ও দিরহামগুলোকে মসৃণ অবস্থায় দেখেছি। সেগুলো আব্দুল মালিক কর্তৃক প্রবর্তিত দিনারগুলোর ওজনের সমানই ছিল)। দ্রষ্টব্য: ফুতুহুল বুলদান, আল-বালাজুরি, পৃষ্ঠা ৪৭২; আল-খারাজ ওয়ান-নিযামুল মালিয়্যাহ, ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রইস, পৃষ্ঠা ৩৪৩।

ইবনে জহিরা 'কিফায়াতুল মুহতাজ' (পৃষ্ঠা ৩২১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, একে পরিমাপের দিরহাম বলা হয়; কারণ শরয়ি দিরহাম এর সমন্বয়ে গঠিত হয়, আর এর পরিমাণ হলো পঞ্চাশটি দানা এবং একটি দানার দুই-পঞ্চমাংশ।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
يَتغير؛ كما تقدَّم(1).

وَالأوزَانُ المذكورةُ في كُتُبِ الفقه(2)، وَغيرها في القُلتين وَغيرهما مِن قَدرِ المَاء الّذي يُتَوَضَّأُ به وَيُغتَسَل(3)، وَنِصَاب الزكاة من الحُبوب، وَالثمار(4)، وَالعسل(5)، والكفارات، وَالفطرة(6)،

--------------------------------------------

(1) الفقهاء قدروا المكاييل بالوزن؛ بسبب عدم وجود مقياسٍ متفق عليه للمساحة عند الأوائل إذ كثيراً ما تتغير أحجام المكاييل؛ قال الحجاوي (مؤلف هذه الرسالة) في كتابه (حواشي تنقيح ص 127): (والوسق والصاع والمد مكاييل نقلت إلى الوزن لأنها لا تعقل).

وهذه المسألة -وهي تقدير المكاييل بالوزن- كان وما زالت محلّ إشكال عند كثير من الفقهاء حتى قال ابن الفخَّار القُرطبي المالكي (ت 419 هـ) معترضاً على مَن فعل ذلك: (المكيل لا يُعرَف بالوزن، والوزن لا يُعرَف بالمكيل، وما كان أصلُه الوزن فالكيل فيه مجهول) [التبصرة في نقد الرسالة لابن الفخار ص 108].

(2) ذكر الشيخ تقي الدين أن عادة النبي × أنه يُقدّر المقدرات بأوعيتها؛ كالصاع، والوسق، والقلال، ونحوها [الفتاوى الكبرى 1/ 216].

(3) يحتاج إلى معرفة الكيل في أبواب الطهارة لتقدير الماء الذي لا يحمل الخبث وهو ما زاد على قلتين. ولمعرفة المقدار الذي يستحب الوضوء به وهو مدٌّ، أو يغتسل به وهو الصاع.

(4) والمقدار الذي ورد النصُّ به في زكاة الحبوب هو (الوسق).

(5) وهذا فرع على خلاف اختلاف الفقهاء في زكاة العسل. والمشهور من مذهب الحنابلة وجوب الزكاة فيه وأن نصابَه عشرة أَفْرَاقٍ، كل فَرَق ستون رطلاً. [مسائل الكوسج 1/ 275، الشرح الكبير والإنصاف 6/ 567].

(6) وتقدر الكفارات وزكاة الخارج من الأرض، وزكاة الفطر بوحدة الصاع أو نصفه، أو بالمُد وضعفه. على حسب نوع الكفارة، مع مراعاة خلاف العلماء في ذلك، ونوع الطعام المُخرَج.
পরিবর্তিত হয়; যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে(১)।

এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে(২) ও অন্যান্য স্থানে দুই কুল্লাহ এবং অযূ ও গোসলের পানির পরিমাপের বর্ণনায় উল্লিখিত ওজনসমূহ(৩), এবং শস্য ও ফলের(৪) যাকাতের নিসাব, মধু(৫), কাফফারা ও ফিতরা(৬) সংক্রান্ত পরিমাপসমূহ,

--------------------------------------------

(১) ফকীহগণ ওজনের মাধ্যমে পরিমাপের পাত্রগুলোকে (মাকায়িল) নির্ধারণ করেছেন; কারণ প্রাচীনদের নিকট আয়তন পরিমাপের এমন কোনো সর্বসম্মত মানদণ্ড বিদ্যমান ছিল না যা পরিবর্তিত হতো না, ফলে প্রায়শই পরিমাপের পাত্রের আকার পরিবর্তিত হতো; হিজজাবী (এই রিসালার লেখক) তার ‘হাওয়াশি তানকিহ’ (পৃষ্ঠা ১২৭) কিতাবে বলেছেন: (ওয়াসাক, সা’ এবং মুদ্দ হলো পরিমাপের পাত্র যা ওজনের এককে স্থানান্তরিত হয়েছে কারণ সেগুলোর আয়তন নির্দিষ্টভাবে অনুধাবন করা যায় না)।

এই বিষয়টি—অর্থাৎ ওজনের মাধ্যমে পরিমাপের পাত্রের পরিমাণ নির্ধারণ করা—অনেক ফকীহর নিকট অতীতে এবং বর্তমানেও জটিলতার বিষয় হয়ে আছে, এমনকি ইবনুল ফাখখার আল-কুরতুবী আল-মালিকি (মৃত্যু ৪১৯ হি.) যারা এটি করেছেন তাদের বিরোধিতা করে বলেছেন: (পাত্রে পরিমাপযোগ্য বস্তু ওজনের মাধ্যমে জানা যায় না, এবং ওজনে পরিমাপযোগ্য বস্তু পাত্রের মাধ্যমে জানা যায় না; আর যে জিনিসের মূল ভিত্তি ওজন, তাতে পাত্রের পরিমাপ অজ্ঞাত থেকে যায়) [ইবনুল ফাখখার কৃত আত-তাবসিরাহ ফি নাকদির রিসালাহ, পৃষ্ঠা ১০৮]।

(২) শায়খ তাকিউদ্দীন উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অভ্যাস ছিল যে তিনি নির্ধারিত পরিমাপগুলোকে সেগুলোর পাত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করতেন; যেমন সা’, ওয়াসাক, কুল্লাহ এবং এই জাতীয় পাত্র [আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা ১/২১৬]।

(৩) পবিত্রতার অধ্যায়সমূহে পরিমাপের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন সেই পানির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য যা নাপাকি বহন করে না (নাপাক হয় না), আর তা হলো যা দুই কুল্লাহর অতিরিক্ত। আর ওযূর জন্য মুস্তাহাব পরিমাণ জানার জন্য যা হলো এক মুদ্দ, অথবা গোসলের জন্য যা হলো এক সা’।

(৪) শস্যের যাকাতের ব্যাপারে যে পরিমাণের বর্ণনা দলিলে এসেছে তা হলো (ওয়াসাক)।

(৫) এটি মধুর যাকাত নিয়ে ফকীহগণের মতভেদের একটি শাখা। হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো এতে যাকাত ওয়াজিব হওয়া এবং এর নিসাব হলো দশ ‘আফরাক’ (ফারাক-এর বহুবচন), প্রত্যেক ফারাক হলো ষাট রতল। [মাসাইলুল কুসাজ ১/২৭৫, আশ-শারহুল কাবীর ওয়াল ইনসাফ ৬/৫৬৭]।

(৬) এবং কাফফারা, ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসলের যাকাত এবং সদকাতুল ফিতর সা’ বা তার অর্ধেক, অথবা মুদ্দ বা তার দ্বিগুণের এককে নির্ধারণ করা হয়। এটি কাফফারার প্রকারভেদের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, সাথে এই বিষয়ে ওলামাদের মতভেদ এবং প্রদানকৃত খাদ্যের প্রকারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَغير ذلك(1) إنما هو بالعِرَاقي(2) فاحتَاجَ أهلُ كُلِّ بَلَدٍ مَعرفةَ هذه الأوزان.

فإن كان رطلُهم مُوافقَاً لها؛ أي بقدر أوزانها؛ كبغداد اكتفوا بذكرها. وإن كان رطلُهم مخالفاً؛ كأكثر البلدان فإنهم محتاجون إلى

--------------------------------------------

(1) كتقدير الخراج، ومقدار الجزية على أهل الذمّة ومَن في حكمهم.

وكتقدير المهر، فقد قال إسحاق الحربي: (السنة الزواج على رطل).

(2) ذكر الحجَّاوي هنا أن الرطل المذكور في كتب الفقهاء إنما هو الرطل العراقي. وهو كذلك فإن التقدير بالرطل العراقي هو الغالب عند الفقهاء حتى قال المحب الطبري: (إنه الرطل الشرعي) [كفاية الأخيار 1/ 382].

لكن ذكر ابن مفلح في (المبدع 3/ 381) أن الرطل العراقي لم يكن في مَنصوصِ أحمد، وإنما كان المكيِّ.

ومِن النصوص عن الإمام أحمد في تقدير الرطل، ما روى الأثرم قال: سُئل أبو عبد الله: إذا أخذ ثلاثة عشر رطلاً وثلثاً دقيقاً، فخبزه وقسم الخبز على عشرة مساكين؟، فقال: (أعجب إليّ ما جاء به الخبز مُدُّ بر، وهذا أرجو أن يجزئه) [الروايتين والوجهين للقاضي أبي يعلى 2/ 188].

وفي (مسائل عبد الله ص 170) قلتُ: الصاع كم رطل هو؟، فقال: (قدرناه خمسة أرطال وثلث حنطة).

وقال الإمام أحمد أيضاً: (المد رطل وثلث) [مسائل عبد الله ص 186، مسائل حرب 188 مخطوط].

وقال عبد الله [مسائله 389]: سألت أبي: عن رجل أوصى أن تكفر عنه أيمان كيف يتصدق بها؟ قال: (أقل الأيمان ثلاثة أيمان، يُعطَى لكلِّ مسكين اقله مُدُّ برٍّ؛ هو رطل وثلث دقيق، أو ثلاثة أرطال إلا ثلث تمراً لكل مسكين).

وفي (مسائل ابنه صالح 189): قلتُ: الصاع كم رطلاً؟ قال: (قدرناه فهو خمسة أرطال وثلث حنطة أو تمر).
এবং অন্যান্য বিষয়াবলীও(১) ইরাকি পরিমাপ অনুযায়ীই নির্ধারিত;(২) ফলে প্রতিটি শহরের অধিবাসীদের জন্য এই ওজনগুলো জানা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

যদি তাদের ‘রতল’ (ওজন) এর সাথে মিল থাকে—অর্থাৎ এর ওজনের সমান হয়—যেমন বাগদাদ, তবে তারা কেবল এটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করতেন। আর যদি তাদের রতল ভিন্ন হয়—যেমন অধিকাংশ শহর—তবে তারা মুখাপেক্ষী হন...

--------------------------------------------

(১) যেমন খরাজ (ভূমি রাজস্ব) নির্ধারণ এবং জিম্মি ও তাদের পর্যায়ভুক্তদের ওপর জিজিয়ার পরিমাণ নির্ধারণ।

এবং মহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে; কেননা ইসহাক হারবি বলেছেন: (রতলের ভিত্তিতে বিবাহ করা সুন্নাহ)।

(২) হাজ্জাউয়ি এখানে উল্লেখ করেছেন যে, ফকিহগণের কিতাবসমূহে উল্লিখিত ‘রতল’ হলো ‘ইরাকি রতল’। বিষয়টি এমনই, কারণ ফকিহগণের নিকট ইরাকি রতলের মাধ্যমে পরিমাপ করাই অধিক প্রচলিত, এমনকি মুহিব্ব আত-তবারি বলেছেন: (এটিই হলো শরিয়তসম্মত রতল) [কিফায়াতুল আখইয়ার ১/৩৮২]।

কিন্তু ইবনে মুফলিহ ‘আল-মুবদি’ (৩/৩৮১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমদের স্পষ্ট বক্তব্যসমূহে ইরাকি রতলের কথা ছিল না, বরং তা ছিল মক্কি রতল।

রতলের পরিমাপ সম্পর্কে ইমাম আহমদের স্পষ্ট বক্তব্যসমূহের মধ্যে একটি হলো যা আসরাম বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কেউ যদি তেরো রতল ও এক-তৃতীয়াংশ আটা গ্রহণ করে তা দিয়ে রুটি তৈরি করে দশজন মিসকিনের মধ্যে বণ্টন করে দেয়, তবে কি হবে? তিনি বললেন: (আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় হলো যা রুটির আকারে এক ‘মুদ’ গম হয়, আর আমি আশা করি এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে) [আল-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন লি-কাজি আবু ইয়া’লা ২/১৮৮]।

এবং ‘মাসায়েল আবদুল্লাহ’ (পৃষ্ঠা ১৭০) গ্রন্থে আছে, আমি জিজ্ঞাসা করলাম: এক ‘সা’ কত রতল? তিনি বললেন: (আমরা একে গমের ওজনে পাঁচ রতল ও এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছি)।

ইমাম আহমদ আরও বলেছেন: (এক মুদ হলো এক রতল ও এক-তৃতীয়াংশ) [মাসায়েল আবদুল্লাহ পৃষ্ঠা ১৮৬, মাসায়েল হারব ১৮৮ পান্ডুলিপি]।

আবদুল্লাহ বলেছেন [তার মাসায়েল, ৩৮৯]: আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার শপথের কাফফারা আদায়ের অসিয়ত করেছে, সে কীভাবে তা সদকা করবে? তিনি বললেন: (শপথের সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো তিনটি শপথ, প্রতিটি মিসকিনকে কমপক্ষে এক ‘মুদ’ গম দিতে হবে; যা হলো এক রতল ও এক-তৃতীয়াংশ আটা, অথবা প্রতিটি মিসকিনের জন্য এক-তৃতীয়াংশ কম তিন রতল খেজুর)।

এবং তাঁর পুত্র সালেহর ‘মাসায়েল’ (১৮৯) গ্রন্থে আছে: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: এক ‘সা’ কত রতল? তিনি বললেন: (আমরা তা নির্ধারণ করেছি, আর তা হলো গমের বা খেজুরের ওজনে পাঁচ রতল ও এক-তৃতীয়াংশ)।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
معرفته برطلهم وَأوزانهم؛ لأنه أعرفُ عندهم.

فجُعل لذلك ضوابطُ وَقواعد كلُّها راجعة إلى الحِسَاب، وَلا بُدَّ لمَن رَامَ ذلك مِن معرفة قدر رطلي البَلَدَين؛ العراقي كما تقدم، وَالآخر رطل البلد المطلوب مَعرفةُ العِرَاقيِّ به(1).

 

‌‌[تحديد الرطل العراقي](2)

الرطل العراقي زنتُهُ مائةُ درهم وَثمانيةٌ وَعشرون درهماً وَأربعة أسبَاع درهم على الأصح من الأقوال الأربعة(3).

--------------------------------------------

(1) ذكر المؤلف في (الإقناع 1/ 13) قاعدة عامة في معرفة القلتين بأي رطل، ثم بسط ذلك في هذه الرسالة، فقال: (إذا أردت معرفة القلتين بأي رطل أردت، فاعرف عدد دراهمه، ثم اطرحه من دراهم القلتين مرة بعد أخرى حتى لا يبقى منها شيء، واحفظ الأرطال المطروحة فما كان فهو مقدار القلتين بالرَّطل الذي طرحت به. وإن بقي أقل من رطل فانسبه منه، ثم اجمعه إلى المحفوظ) أ. هـ.

(2) العنوان بين المعكوفتين من المحقق للتوضيح.

(3) في زنة الرطل العراقي أربعة أقوال في المذهب؛ حكاها في (الإنصاف 1/ 122) وغيره:

الأول: ما ذكره المؤلف، وصححه أن الرطل يزن مائة درهم وثمانية وعشرين درهما، وأربعة أسباع درهم. وصححه في (الإنصاف) وقال: " وعلى هذا جمهور الأصحاب "، وقال في (المبدع 1/ 59): " وهو المشهور "، واعتمده المؤلِّف في (الإقناع 1/ 13).

واختاره الشيخ تقي الدين (مجموع الفتاوى 21/ 52، و 25/ 51). وهو المذهب عند الشافعية [تحرير التنبيه ص 110، المجموع 1/ 180، الإقناع للشربيني 1/ 222]، وصححه بعض فقهاء المالكية [مواهب الجليل 2/ 279].

الثاني: أنه مائة وثمانية وعشرون وثلاثة أسباع درهم. [ينظر: شرح الزركشي على الخرقي 1/ 125]. قال في (الإنصاف): " نقله الزركشي عن صاحب التلخيص فيه ولم أجد في النسخة التي عندي إلا كالمذهب المتقدم " أ. هـ.

الثالث: أنه يزن مائة وثمانية وعشرين درهماً؛ وهو في (المغني) القديم. وهو قول عند المالكية [ينظر: الذخيرة 3/ 78، مواهب الجليل 2/ 279]، وقول عند فقهاء الشافعية [ينظر: المجموع 1/ 180].

قال أبو محمد ابن القطان: (وهو مذهب جماهير العلماء) [ينظر: تخريج الدلالات السمعية للخزاعي ص 615].

الرابع: أنه يزن مائة وثلاثين درهماً. ذكره في (الرعاية).

وهو قول عند المالكية. ينظر: الذخيرة 3/ 77، إثبات ما ليس منه بد ص 77.

وهو الذي ذكره الرافعي في (العزيز)، وابن الإخوة في (معالم القربة ص 82) قولَ الشافعيّة. قال النووي في (المجموع 6/ 16): (وهو غريب ضعيف)، وقال في (إعانة الطالبين 1/ 31): (وهو خلاف المعتمد).

قال ابنُ الرفعة: (اختلف النقلةُ في الرطل البغدادي. فقيل: إنه مائة وثمانية وعشرون درهماً. وقيل: مائة وثمانية وعشرون درهماً وأربعة أسباع درهم، وهذا الذي صححه النووي. وقيل: مائة وثلاثون درهماً، وهو الذي يقتضيه إيراد الشيخ أبي إسحاق صاحب المهذب. وهو المصحح عند غيره، وهو الذي تقوَّى في النفس صحته بحسب التجربة .. إلخ) ينظر: الإيضاح والتبيان في معرفة المكيال والميزان لابن الرفعة ص 36، 37.

قال ابن ظهيرة في (كفاية المحتاج ص 327): (وهو الذي يقوي في النفس صحته بحسب التجربة)، ثم ذكر ما يؤيده وأطال.

وقد وجّه هذا الرأي بعض الفقهاء، قال ابن مفلح في (المبدع 1/ 199): (الرطل العراقي مائة درهم وثمانية وعشرون وأربعة أسباع درهم وهو تسعون مثقالاً، والمثقال درهم وثلاثة أسباع درهم هكذا كان قديماً. ثم إنهم زادوا فيه مثقالا فجعلوه واحداً وتسعين مثقالا وكمل مائة وثلاثين درهما، وقصدوا بذلك زوال الكسر والعمل على الأول لأنه الذي كان وقت تقدير العلماء المد به).

وانظر: المطلع ص 8، الميزان في الأقيسة والأوزان لعلي باشا مبارك ص 89.
তাদের রতল এবং ওজনের মাধ্যমে এটি জানা; কারণ তাদের নিকট এটিই সমধিক পরিচিত।

এজন্য কিছু নিয়ম ও মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে যার সবই গণনার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর যে ব্যক্তি তা আয়ত্ত করতে চায়, তার জন্য উভয় জনপদের রতলের পরিমাণ জানা আবশ্যক; একটি ইরাকি রতল যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, এবং অন্যটি হলো সেই জনপদের রতল যার প্রেক্ষিতে ইরাকি রতলের পরিমাণ জানা আবশ্যক(1)।

 

‌‌[ইরাকি রতলের পরিমাপ নির্ধারণ](2)

চারটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী ইরাকি রতলের ওজন হলো একশত আটাশ দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের চার ভাগ(3)।

--------------------------------------------

(1) লেখক ‘আল-ইকনা’ (১/১৩) গ্রন্থে যেকোনো রতলের মাধ্যমে কুল্লাতাইন জানার একটি সাধারণ নিয়ম উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি এই পুস্তিকায় তা বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেছেন: (তুমি যদি যেকোনো রতলের মাধ্যমে কুল্লাতাইন সম্পর্কে জানতে চাও, তবে এর দিরহামের সংখ্যা জেনে নাও, অতঃপর কুল্লাতাইনের দিরহাম থেকে তা বারবার বিয়োগ করতে থাকো যতক্ষণ না কিছু অবশিষ্ট থাকে। বিয়োগকৃত রতলগুলোর সংখ্যা মনে রাখো, যা পাওয়া যাবে তাই হবে সেই রতলের মাপে কুল্লাতাইনের পরিমাণ যা দিয়ে তুমি বিয়োগ করেছ। আর যদি এক রতলের কম অবশিষ্ট থাকে, তবে তাকে রতলের অনুপাতে গণ্য করো, অতঃপর তা সংরক্ষিত সংখ্যার সাথে যোগ করো)। সমাপ্ত।

(2) বন্ধনীভুক্ত শিরোনামটি ব্যাখ্যার সুবিধার্থে মুহাক্কিক (সম্পাদক) কর্তৃক সংযোজিত।

(3) ইরাকি রতলের ওজনের ক্ষেত্রে মাজহাবে চারটি মত রয়েছে; যা ‘আল-ইনসাফ’ (১/১২২) ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথম: যা লেখক উল্লেখ করেছেন এবং বিশুদ্ধ বলেছেন যে, রতলের ওজন একশত আটাশ দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের চার ভাগ। ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে একে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে এবং তিনি বলেছেন: “এর ওপরই অধিকাংশ আসহাব (আইনজ্ঞগণ) রয়েছেন।” ‘আল-মুবদি’ (১/৫৯) গ্রন্থে বলা হয়েছে: “এটিই প্রসিদ্ধ।” লেখক ‘আল-ইকনা’ (১/১৩) গ্রন্থে এটিই নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

শাইখ তাকিউদ্দীনও একে পছন্দ করেছেন (মাজমুউল ফাতাওয়া ২১/৫২ এবং ২৫/৫১)। শাফেয়ি মাজহাবেও এটিই মাজহাব (গৃহীত মত) [তাহরিরুত তানবিহ পৃ. ১১০, আল-মাজমু ১/১৮০, শুরবিনি কৃত আল-ইকনা ১/২২২], এবং মালেকি মাজহাবের কোনো কোনো ফকিহ একে বিশুদ্ধ বলেছেন [মাওয়াহিবুল জলিল ২/২৭৯]।

দ্বিতীয়: এটি একশত আটাশ দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের তিন ভাগ। [দ্রষ্টব্য: আল-খারাকির ওপর যারকাশির শারহ ১/১২৫]। ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: “যারকাশি এটি এতে ‘আত-তালখিস’ প্রণেতার বরাতে বর্ণনা করেছেন, তবে আমার নিকট থাকা পাণ্ডুলিপিতে আমি পূর্বোক্ত মাজহাবের অনুরূপ ছাড়া আর কিছু পাইনি।” সমাপ্ত।

তৃতীয়: এর ওজন একশত আটাশ দিরহাম; এটি প্রাচীন ‘আল-মুগনি’ গ্রন্থে রয়েছে। এটি মালেকিদের একটি মত [দ্রষ্টব্য: আজ-জাখিরা ৩/৭৮, মাওয়াহিবুল জলিল ২/২৭৯], এবং শাফেয়ি ফকিহদের একটি অভিমত [দ্রষ্টব্য: আল-মাজমু ১/১৮০]।

আবু মুহাম্মদ ইবনুল কাত্তান বলেছেন: (এটিই জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামাদের মাজহাব) [দ্রষ্টব্য: আল-খুজায়ি কৃত তাখরিজুদ দালালাতিস সামইয়্যাহ পৃ. ৬১৫]।

চতুর্থ: এর ওজন একশত ত্রিশ দিরহাম। এটি ‘আর-রিয়ায়াহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

এটি মালেকিদের একটি মত। দ্রষ্টব্য: আজ-জাখিরা ৩/৭৭, ইসবাতু মা লাইসা মিনহু বুদ্দ পৃ. ৭৭।

এটিই রাফেয়ি ‘আল-আজিজ’ গ্রন্থে এবং ইবনুল ইখওয়াহ ‘মাআলিমুল কুরবাহ’ (পৃ. ৮২) গ্রন্থে শাফেয়িদের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নববী ‘আল-মাজমু’ (৬/১৬) গ্রন্থে বলেছেন: (এটি বিরল ও দুর্বল), এবং ‘ইনাতুত তালিবিন’ (১/৩১) গ্রন্থে বলেছেন: (এটি নির্ভরযোগ্য মতের পরিপন্থী)।

ইবনুর রিফআহ বলেছেন: (বাগদাদি রতলের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীগণ মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে: এটি একশত আটাশ দিরহাম। আবার বলা হয়েছে: এটি একশত আটাশ দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের চার ভাগ, যা নববী বিশুদ্ধ বলেছেন। আরও বলা হয়েছে: এটি একশত ত্রিশ দিরহাম, যা ‘আল-মুহাজ্জাব’ প্রণেতা শাইখ আবু ইসহাকের বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয়। এটি অন্যদের নিকট বিশুদ্ধকৃত, এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখে এটিই মনে প্রবলভাবে শুদ্ধ মনে হয়... ইত্যাদি)। দ্রষ্টব্য: ইবনুর রিফআহ কৃত আল-ইদাহ ওয়াত তিবইয়ান ফি মারিফাতিল মিকয়াল ওয়াল মিজান পৃ. ৩৬, ৩৭।

ইবনে জুহাইরা ‘কিফায়াতুল মুহতাজ’ (পৃ. ৩২৭) গ্রন্থে বলেছেন: (বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখে এটিই মনে প্রবলভাবে শুদ্ধ মনে হয়), অতঃপর তিনি এর সপক্ষে প্রমাণাদি উল্লেখ করে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

কোনো কোনো ফকিহ এই মতের ব্যাখ্যা দিয়েছেন; ইবনে মুফলিহ ‘আল-মুবদি’ (১/১৯৯) গ্রন্থে বলেছেন: (ইরাকি রতল হলো একশত আটাশ দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের চার ভাগ যা নব্বই মিসকালের সমান। মিসকাল হলো এক দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের তিন ভাগ, প্রাচীনকালে এমনটিই ছিল। অতঃপর তারা এতে এক মিসকাল বৃদ্ধি করে একে একানব্বই মিসকাল সাব্যস্ত করে এবং একশত ত্রিশ দিরহাম পূর্ণ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভগ্নাংশ দূর করা। তবে আমল প্রথমটির ওপরই হবে, কারণ ওলামায়ে কেরাম যখন ‘মুদ’-এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছিলেন তখন সেটিই প্রচলিত ছিল)।

আরও দেখুন: আল-মাতলা পৃ. ৮, আলী পাশা মুবারক কৃত আল-মিজান ফিল আকইয়াসাহ ওয়াল আওজান পৃ. ৮৯।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَأوقيته(1) عشرة دراهم وَخمسة أسباع درهم، وَهي سبعة مثاقيل وَنصف.

وَالرطل تسعون مثقالاً(2).

وهو -أي الرطل العراقي- سُبع الرطل الدمشقي، وَنصف

سُبعه(3).

--------------------------------------------

(1) «الأوقية»: وحدة وزنية تعدل أربعين درهماً في الأصل؛ كما ذكر ذلك الخليل بن أحمد في كتاب (العين 5/ 240).

ولكن الأوقية في الأرطال تختلف عن تقديرها في الأصل اللغوي، إذ العلماء متفقون على أن الرطل اثنا عشر أوقية.

قال الماوردي: (والرطل اثني عشر أوقية .. هذا لا خلاف فيه) [الرتبة ص 170].

وقد أشار للاختلاف في تقدير أوقية الأرطال، وأنها غير الأوقية اللغوية: أبو العباس ابن البنا المراكشي (ت 721 هـ) فقال: (الأوقية المقدر بها الرطل. قيل: إنها زنة عشرة دراهم وثلثي درهم، وهو قول الفقيه أبي يحيى المواق، وأبي الحسن علي بن فرجون .. وقيل: إنها عشرة دراهم، وهو قول الداودي). [مقالة في مقادير المكاييل الشرعية لابن البنا المراكشي ص 74]

فذهب أبو يحيى المواق (ت 599 هـ) إلى أن الأوقية عشرة دراهم وثلثا درهم الكيل، ففي الرطل مائة درهم وثمانية وعشرون درهماً) [مقالة في المكاييل والموازين للمواق ص 98].

(2) هناك آراءٌ في عدد مثاقيل الرطل الواحد:

الأول: أنها تسعون مثقالاً، وهو قول الجمهور. والثاني: أنها واحدٌ وتسعون مثقالاً. وقيل غير ذلك. ينظر: الإنصاف 1/ 122، مغني المحتاج 1/ 383.

(3) قال المرداوي في (الإنصاف 1/ 122): (الصحيح من المذهب أن الرطل العراقي سبع الرطل الدمشقي ونصف سبعه وعلى هذا جمهور الأصحاب). وقاله في (المبدع 1/ 59)، و (الدر النقي 1/ 50)، و (غاية المطلب ص 33).
এবং এর এক উকিয়া(১) দশ দিরহাম এবং এক দিরহামের সাত ভাগের পাঁচ ভাগ; আর তা হলো সাড়ে সাত মিসকাল।

আর এক রতল হলো নব্বই মিসকাল(২)।

আর তা -অর্থাৎ ইরাকি রতল- হলো দামেস্কি রতলের সাত ভাগের এক ভাগ এবং সাত ভাগের এক ভাগের অর্ধেক(৩)।

--------------------------------------------

(১) «উকিয়া»: ওজনের একটি একক, যা মূলগতভাবে চল্লিশ দিরহামের সমান; যেমনটি খলিল ইবনে আহমদ তার 'কিতাবুল আইন' (৫/২৪০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

তবে রতলের হিসেবে উকিয়ার পরিমাণ ভাষাগত মূল পরিমাণের চেয়ে ভিন্ন; কেননা আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, এক রতল হলো বারো উকিয়া।

মাওয়ার্দি বলেন: (আর রতল হলো বারো উকিয়া... এতে কোনো দ্বিমত নেই) [আর-রুতবা, পৃষ্ঠা ১৭০]।

রতলের উকিয়ার পরিমাপ নির্ধারণে যে মতভেদ রয়েছে এবং তা যে ভাষাগত উকিয়া থেকে ভিন্ন, সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন আবু আব্বাস ইবনুল বান্না আল-মাররাকুশি (মৃত্যু ৭২১ হিজরি)। তিনি বলেন: (রতলের পরিমাপক উকিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এর ওজন দশ দিরহাম এবং এক দিরহামের তিন ভাগের দুই ভাগ; এটি ফকিহ আবু ইয়াহইয়া আল-মাওয়াক এবং আবুল হাসান আলী ইবনে ফারজুনের অভিমত... আবার বলা হয়েছে যে, এটি দশ দিরহাম; এটি আদ-দাউদির অভিমত)। [ইবনুল বান্না আল-মাররাকুশি রচিত 'মাকালা ফি মাকাদিরিল মাকায়িলিশ শারইয়্যাহ', পৃষ্ঠা ৭৪]

সুতরাং আবু ইয়াহইয়া আল-মাওয়াক (মৃত্যু ৫৯৯ হিজরি) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, উকিয়া হলো দশ দিরহাম এবং পরিমাপের দিরহামের তিন ভাগের দুই ভাগ; ফলে এক রতলে একশত আটাশ দিরহাম হয়। [আল-মাওয়াক রচিত 'মাকালা ফিল মাকায়িল ওয়াল মাওয়াজিন', পৃষ্ঠা ৯৮]

(২) এক রতলে কত মিসকাল হবে সে সম্পর্কে কয়েকটি মত রয়েছে:

প্রথমত: তা হলো নব্বই মিসকাল, যা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমদের অভিমত। দ্বিতীয়ত: তা হলো একানব্বই মিসকাল। এছাড়াও অন্যান্য কথা বলা হয়েছে। দেখুন: আল-ইনসাফ ১/১২২, মুগনী আল-মুহতাজ ১/৩৮৩।

(৩) মারদাউই 'আল-ইনসাফ' (১/১২২) গ্রন্থে বলেন: (মাযহাবের বিশুদ্ধ মত হলো, ইরাকি রতল দামেস্কি রতলের সাত ভাগের এক ভাগ এবং সাত ভাগের এক ভাগের অর্ধেক। আর অধিকাংশ ফকিহ এই মতই পোষণ করেছেন)। তিনি একই কথা বলেছেন 'আল-মুবদি' (১/৫৯), 'আদ-দুররুন নাকি' (১/৫০) এবং 'গায়াতুল মাতলাব' (পৃষ্ঠা ৩৩) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) মাজমুউন ফীহি আরবাউ রাসায়িল - আল-হাজ্জাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَستة أسباع المصري، وَرُبع سبعه(1). وَهو أجود من قوله في

(التنقيح)(2): (نصفه، وَربعه، وَسبعه). وَإن كان معناهما واحداً؛ لأن الكَسْرَ إذا كَانَ مِن جنس واحدٍ خيرٌ من أن يكون من أجناس.

وأربعة أسباع الليثي(3) وَنصف سبعه.

وثلاثة أسباع الأسكَندري.

وَسُبع البعلبكي(4).

وثلاثة [أرباع](5) سُبْعِ الطَّبرَاني(6) (رطل يتعامل به في بَرِّ صَفَد(7).

وسُبع الرَّقِّي(8)، وَسَبعَةُ أثمان سُبعِهِ.

--------------------------------------------

(1) انظر الإقناع 1/ 13.

(2) التنقيح المشبع، لعلاء الدين المرداوي ص 33.

(3) نسبة إلى (منية الليث) من أعمال الغربية بمصر [حاشية معالم القربة ص 82].

(4) انظر الإقناع 1/ 13.

(5) في الأصل [أسباع]، والصوب ما أُثبت؛ بناءً على سيذكره المؤلف في الحساب.

(6) «طبران»: بلدة من بلدان فلسطين، تقع على بحيرة الجليل التي عرفت باسم (بحيرة طبرية) في وادي الغور بالأردن.

(7) قال في (معجم البلدان 3/ 412): («صَفَد» بالتحريك مدينة في جبال عاملة المطلة على حمص بالشام وهي من جبال لبنان).

والمقصود أن هذا الرطل يُستخدم في هذه البقاع، أمّا الرطل الصَّفدي فسيأتي ص.

(8) «الرقة»: مدينة تقع شرقي حلب على نهر الفرات.
এবং মিসরীয় (রতল)-এর সাত ভাগের ছয় ভাগ এবং এক সপ্তমাংশের এক চতুর্থাংশ(১)। এবং এটি (আত-তানকিহ)(২) গ্রন্থে তার উক্তি: (এর অর্ধেক, এক চতুর্থাংশ এবং এক সপ্তমাংশ) অপেক্ষা অধিক উত্তম। যদিও উভয়ের অর্থ অভিন্ন; কেননা ভগ্নাংশ যখন একই জাতীয় হয়, তখন তা ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় হওয়ার চেয়ে উত্তম।

এবং লাইসি(৩) (রতল)-এর সাত ভাগের চার ভাগ ও এক সপ্তমাংশের অর্ধেক।

এবং ইসকান্দারি (রতল)-এর সাত ভাগের তিন ভাগ।

এবং বালবাক্কি(৪) (রতল)-এর এক সপ্তমাংশ।

এবং তাবারানি(৬) (রতল)-এর এক সপ্তমাংশের তিন [চতুর্থাংশ](৫) (এটি এমন এক রতল যা সাফাদের সমতল ভূমিতে(৭) লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়)।

এবং রাক্বি(৮) (রতল)-এর এক সপ্তমাংশ এবং তার এক সপ্তমাংশের আট ভাগের সাত ভাগ।

--------------------------------------------

(১) আল-ইকনা ১/১৩ দেখুন।

(২) আলাউদ্দীন আল-মারদাউয়ি বিরচিত আত-তানকিহুল মুশব্বিহ, পৃষ্ঠা ৩৩।

(৩) এটি মিসরের গারবিয়্যাহ অঞ্চলের অন্তর্গত 'মুনিয়াতুল লাইস'-এর সাথে সম্পর্কিত [মাআলিমুল কুরবাহ-এর টীকা, পৃষ্ঠা ৮২]।

(৪) আল-ইকনা ১/১৩ দেখুন।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে [সাত ভাগ] ছিল, কিন্তু যা সাব্যস্ত করা হয়েছে সেটিই সঠিক; লেখক সামনে গণনার ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করবেন তার ভিত্তিতে।

(৬) 'তাবারান': ফিলিস্তিনের একটি শহর, যা জর্ডানের ওয়াদি আল-গাওরে অবস্থিত গালীল হ্রদের (যা তাবারিয়াহ হ্রদ নামে পরিচিত) তীরে অবস্থিত।

(৭) মু'জামুল বুলদান ৩/৪১২-এ বলা হয়েছে: ('সাফাদ' শামের হিমস অভিমুখে আমিলা পাহাড়ের একটি শহর, যা লেবানন পাহাড়ের অংশ)।

উদ্দেশ্য হলো এই রতলটি এসব অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়, আর সাফাদি রতলের বর্ণনা সামনে আসবে।

(৮) 'রাক্কা': এটি ফোরাত নদীর তীরে আলেপ্পোর পূর্বে অবস্থিত একটি শহর।