(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: -)
أسئلة وأجوبة في الإيمان والكفر القسم: العقيدة
الكتاب: أسئلة وأجوبة في الإيمان والكفر
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 44
عدد الصفحات: 77
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ঈমান ও কুফর বিষয়ক প্রশ্নোত্তর বিভাগ: আকীদা
বই: ঈমান ও কুফর বিষয়ক প্রশ্নোত্তর
লেখক: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-রাজহী
প্রকাশক: বইটি তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৪৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৭
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه........أما بعد:
فهذه بعض الأسئلة التي عرضت على فضيلة الشيخ / عبد العزيز بن عبد الله الراجحي -حفظه الله - في مسائل الإيمان والكفر وأجاب عليها بهذه الأجوبة نسأل الله أن ينفع بها وأن يجعلها في موازين حسناته.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়াতের অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অতঃপর:
এগুলো হলো ঈমান ও কুফর সংক্রান্ত এমন কিছু প্রশ্ন যা সম্মানিত শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহী -আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন- এর নিকট পেশ করা হয়েছিল এবং তিনি এগুলোর এই উত্তরগুলো প্রদান করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২)
السؤال الأول:
بم يكون الكفر الأكبر أو الردة؟ هل هو خاص بالاعتقاد والجحود والتكذيب أم هو أعم من ذلك؟
فقال الشيخ غفر الله له:
بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبد الله ورسوله نبينا وإمامنا وقائدنا محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين........أما بعد:
فإن الكفر والردة - والعياذ بالله - تكون بأمورٍ عدة:
- فتكون بجحود الأمر المعلوم من الدين بالضرورة.
- وتكون بفعل الكفر.
- وبقول الكفر.
- وبالترك والإعراض عن دين الله عز وجل.
فيكون الكفر بالاعتقاد كما لو اعتقد لله صاحبة ًأو ولدا أو اعتقد أن الله له شريك في الملك أو أن الله معه مدبرٌ في هذا الكون أو اعتقد أن أحدا يشارك الله في أسمائه أو صفاته أو أفعاله أو اعتقد أن أحدا يستحق العبادة غير الله أو اعتقد أن لله شريكا في الربوبية فإنه يكفر بهذا الاعتقاد كفرا أكبر مخرجا من الملة.
প্রথম প্রশ্ন:
বড় কুফর বা ধর্মত্যাগ কীসের মাধ্যমে হয়? এটি কি কেবল বিশ্বাস, অস্বীকার এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করার সাথে সীমাবদ্ধ, নাকি এটি তার চেয়েও ব্যাপক?
অতঃপর শাইখ (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বললেন:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম ও আমাদের নেতা মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।........অতঃপর:
নিশ্চয়ই কুফর ও ধর্মত্যাগ —আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই— বেশ কিছু বিষয়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয়:
- এটি দ্বীনের অকাট্যভাবে প্রমাণিত (জরুরি) কোনো বিষয়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে হয়।
- এটি কুফরি কাজের মাধ্যমে হয়।
- এটি কুফরি কথার মাধ্যমে হয়।
- এবং মহান আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া ও তা বর্জন করার মাধ্যমে হয়।
সুতরাং বিশ্বাসের মাধ্যমে কুফর হয়, যেমন কেউ যদি বিশ্বাস করে যে আল্লাহর কোনো স্ত্রী বা সন্তান আছে, অথবা বিশ্বাস করে যে রাজত্বে আল্লাহর কোনো অংশীদার আছে, অথবা আল্লাহর সাথে এই মহাবিশ্বের কোনো পরিচালক আছে, অথবা বিশ্বাস করে যে আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি বা কার্যাবলিতে কেউ তাঁর সাথে শরীক আছে, অথবা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য, অথবা বিশ্বাস করে যে প্রভুত্বে (রুবুবিয়্যাত) আল্লাহর কোনো অংশীদার আছে—তবে সে এই বিশ্বাসের কারণে এমন বড় কুফরে লিপ্ত হবে যা তাকে ধর্ম (মিল্লাত) থেকে বের করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ৩)
ويكون الكفر بالفعل كما لو سجد للصنم أو فعل السحر أو فعل أي نوع من أنواع الشرك كأن دعا غير الله أو ذبح لغير الله أو نذر لغير الله أو طاف بغير بيت الله تقربا لذلك الغير فالكفر يكون بالفعل كما يكون بالقول.
* ويكون الكفر بالقول كما لو سب الله أو سب رسوله صلى الله عليه وسلم أو سب دين الإسلام أو استهزأ بالله أو بكتابه أو برسوله صلى الله عليه وسلم أو بدينه، قال الله تعالى في جماعة في غزوة تبوك استهزؤوا بالنبي صلى الله عليه وسلم وبأصحابه: {قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} {لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} فأثبت لهم الكفر بعد الإيمان فدل على أن الكفر يكون بالفعل كما يكون بالاعتقاد ويكون بالقول أيضا كما سبق في الآية فإن هؤلاء كفروا بالقول.
কুফর কর্মের মাধ্যমেও হয়ে থাকে, যেমন প্রতিমাকে সিজদা করা, যাদু করা অথবা শিরকের যেকোনো প্রকার সম্পাদন করা; যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা, আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে যবাই করা, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে মানত করা কিংবা অন্য কারও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘর ব্যতীত অন্য কিছুর তাওয়াফ করা। সুতরাং কথা দ্বারা যেমন কুফর হয়, কর্মের মাধ্যমেও তেমনই কুফর হয়ে থাকে।
* আবার কুফর কথার মাধ্যমেও হয়; যেমন আল্লাহকে গালি দেওয়া, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়া, ইসলাম ধর্মকে গালি দেওয়া অথবা আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তাঁর ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপ করা। আল্লাহ তাআলা তাবুক যুদ্ধের সময় একদল লোক যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের নিয়ে উপহাস করেছিল, তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে? তোমরা ওজর পেশ করো না; তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করেছ।" এখানে আল্লাহ ঈমান আনার পর তাদের কুফরি সাব্যস্ত করেছেন, যা প্রমাণ করে যে, অন্তরের বিশ্বাসের মাধ্যমে যেমন কুফর হয়, কর্মের মাধ্যমেও তেমনই হয়; আবার পূর্বোক্ত আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী কথার মাধ্যমেও কুফর হয়; কেননা এরা কথার মাধ্যমেই কুফরি করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ৪)
* ويكون الكفر بالجحود والاعتقاد وهما شيء واحد وقد يكون بينهما فرق فالجحود كأن يجحد أمرًا معلوما من الدين بالضرورة كأن يجحد ربوبية الله أو يجحد ألوهية الله أو استحقاقه للعبادة أو يجحد ملكا من الملائكة أو يجحد رسولا من الرسل أو كتابا من الكتب المنزلة أو يجحد البعث أو الجنة أو النار أو الجزاء أو الحساب أو ينكر وجوب الصلاة أو وجوب الزكاة أو وجوب الحج أو وجوب الصوم أو يجحد وجوب بر الوالدين أو وجوب صلة الرحم أو غير ذلك مما هو معلوم من الدين بالضرورة وجوبه أو يجحد تحريم الزنا أو تحريم الربا أو تحريم شرب الخمر أو تحريم عقوق الوالدين أو تحريم قطيعة الرحم أو تحريم الرشوة أو غير ذلك مما هو معلوم من الدين بالضرورة تحريمه.
* ويكون الكفر بالإعراض عن دين الله والترك والرفض لدين الله كأن يرفض دين الله بأن يعرض عن دين الله لا يتعلمه ولا يعبد الله فيكفر بهذا الإعراض والترك قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا عَمَّا أُنْذِرُوا مُعْرِضُونَ} وقال تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ} .
* কুফর কখনো অস্বীকার ও বিশ্বাসের মাধ্যমে হয় এবং এ দুটি মূলত একই বিষয়, তবে কখনো কখনো এ দুটির মধ্যে পার্থক্যও থাকতে পারে। যেমন অস্বীকার বলতে বুঝায় দ্বীনের এমন কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহর প্রভুত্বকে অস্বীকার করা, কিংবা আল্লাহর উপাস্য হওয়ার অধিকার বা তিনি ইবাদতের যোগ্য হওয়াকে অস্বীকার করা; অথবা কোনো ফেরেশতা, কোনো রাসূল কিংবা অবতীর্ণ কোনো কিতাবকে অস্বীকার করা; অথবা পুনরুত্থান, জান্নাত, জাহান্নাম, প্রতিদান কিংবা হিসাবকে অস্বীকার করা; অথবা সালাত, যাকাত, হজ কিংবা সিয়ামের আবশ্যকতাকে অস্বীকার করা; অথবা পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ কিংবা আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার আবশ্যকতা অথবা দ্বীনের এ জাতীয় অন্যান্য অকাট্যভাবে প্রমাণিত আবশ্যিক বিষয়কে অস্বীকার করা; অথবা ব্যভিচার, সুদ, মদপান, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা কিংবা ঘুষ হারাম হওয়া অথবা দ্বীনের এ জাতীয় অন্যান্য অকাট্যভাবে প্রমাণিত হারাম বিষয়সমূহকে অস্বীকার করা।
* আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া, তা বর্জন করা এবং প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমেও কুফর হতে পারে। যেমন আল্লাহর দ্বীনকে এভাবে প্রত্যাখ্যান করা যে, সে আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হয়ে থাকে—তা শেখেও না এবং আল্লাহর ইবাদতও করে না; ফলে এই বিমুখতা ও বর্জনের কারণে সে কুফরিতে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যারা কুফরি করেছে, তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে তা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দেওয়ার পর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।"
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ৫)
فالكفر يكون بالاعتقاد ويكون بالجحود ويكون بالفعل ويكون بالقول ويكون بالإعراض والترك والرفض.
ومن أُكره على التكلم بكلمة الكفر أو على فعل الكفر فإنه يكون معذورا إذا كان الإكراه ملجئا كأن يُكرهه إنسان قادر على إيقاع القتل به فيهدده بالقتل وهو قادر أو يضع السيف على رقبته فإنه يكون معذورا في هذه الحالة إذا فعل الكفر أو تكلم بكلمة الكفر بشرط أن يكون قلبه مطمئنا بالإيمان، أما إذا اطمئن قلبه بالكفر فإنه يكفر حتى مع الإكراه نسأل الله السلامة والعافية.
فالذي يفعل الكفر له خمس حالات:
1- إذا فعل الكفر جادا فهذا يكفر.
2- إذا فعل الكفر هازلا فهذا يكفر.
3- إذا فعل الكفر خائفا فهذا يكفر.
4- إذا فعل الكفر مكرها واطمئن قلبه بالكفر فهذا يكفر.
কুফর বিশ্বাস, অস্বীকৃতি, কর্ম, কথা এবং বিমুখতা, বর্জন ও প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
আর যাকে কুফরি কথা বলতে বা কুফরি কাজ করতে বাধ্য করা হয়, সে ওজরগ্রস্ত বলে গণ্য হবে যদি সেই জবরদস্তি নিরুপায় হওয়ার মতো হয়; যেমন—এমন কোনো ব্যক্তি তাকে বাধ্য করল যে তাকে হত্যা করতে সক্ষম, সে তাকে হত্যার হুমকি দিল আর সে তা করার ক্ষমতাও রাখে, অথবা তার ঘাড়ে তলোয়ার রাখল; এমতাবস্থায় সে যদি কুফরি কাজ করে বা কুফরি কথা বলে তবে সে ওজরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবে, এই শর্তে যে তার অন্তর ঈমানের ওপর অটল থাকে। পক্ষান্তরে, যদি তার অন্তর কুফরি দ্বারা আশ্বস্ত হয়, তবে জবরদস্তির শিকার হওয়া সত্ত্বেও সে কাফির হয়ে যাবে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।
সুতরাং যে ব্যক্তি কুফরি করে, তার পাঁচটি অবস্থা রয়েছে:
১- যদি গুরুত্বের সাথে কুফরি করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে।
২- যদি উপহাসবশত কুফরি করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে।
৩- যদি ভীত হয়ে কুফরি করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে।
৪- যদি বাধ্য হয়ে কুফরি করে এবং তার অন্তর কুফরিতে আশ্বস্ত থাকে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ৬)
5- إذا فعل الكفر مكرها واطمئن قلبه بالإيمان فهذا لا يكفر لقول الله تعالى {مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} {ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ} .
5- যদি কেউ বাধ্য হয়ে কুফরি কাজ করে এবং তার অন্তর ঈমানের ওপর অটল থাকে, তবে সে কাফির হবে না; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যে ব্যক্তি তার ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করে—তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে সন্তুষ্ট—কিন্তু যে কুফরির জন্য নিজের বুক উন্মুক্ত করে দেয়, তবে তাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।} {তা এই কারণে যে, তারা পার্থিব জীবনকে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দিয়েছে এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।}।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ৭)
السؤال الثاني:
هناك من يقول:
(الإيمان قول وعمل واعتقاد لكن العمل شرط كمال فيه) ، ويقول أيضا: (لا كفر إلا باعتقاد) ، فهل هذا القول من أقوال أهل السنة أم لا؟
الجواب:
ليست هذه الأقوال من أقوال أهل السنة، أهل السنة يقولون: الإيمان هو قول باللسان وقول بالقلب وعمل بالجوارح وعمل بالقلب، ومن أقوالهم: الإيمان قول وعمل؛ ومن أقوالهم: الإيمان قول وعمل ونية، فالإيمان لا بد أن يكون بهذه الأمور الأربعة:
1- قول اللسان وهو النطق باللسان.
2- قول القلب وهو الإقرار والتصديق.
3- عمل القلب وهو النية والإخلاص.
4- عمل الجوارح.
فالعمل جزء من أجزاء الإيمان الأربعة، فلا يقال: العمل شرط كمال أو أنه لازم له فإن هذه أقوال المرجئة، ولا نعلم لأهل السنة قولا بأن العمل شرط كمال.
দ্বিতীয় প্রশ্ন:
এমন লোক আছে যারা বলে:
(ঈমান হলো কথা, কাজ এবং বিশ্বাস, কিন্তু আমল এতে পূর্ণতার শর্ত) , তারা আরও বলে: (বিশ্বাস ব্যতিরেকে কোনো কুফর নেই), এই কথাটি কি আহলুস সুন্নাহর বক্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত নাকি নয়?
উত্তর:
এই কথাগুলো আহলুস সুন্নাহর বক্তব্য নয়। আহলুস সুন্নাহ বলেন: ঈমান হলো জিহ্বার কথা, অন্তরের কথা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ এবং অন্তরের কাজ। তাদের বক্তব্যসমূহের মধ্যে রয়েছে: ঈমান হলো কথা ও কাজ; তাদের আরও বক্তব্য হলো: ঈমান হলো কথা, কাজ ও নিয়ত। সুতরাং ঈমানকে অবশ্যই এই চারটি বিষয়ের সমন্বিত রূপ হতে হবে:
১- জিহ্বার কথা, আর তা হলো জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করা।
২- অন্তরের কথা, আর তা হলো স্বীকৃতি ও সত্যয়ন।
৩- অন্তরের কাজ, আর তা হলো নিয়ত ও ইখলাস।
৪- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ।
কাজ বা আমল হলো ঈমানের চারটি অংশের অন্যতম একটি অংশ। সুতরাং এ কথা বলা যাবে না যে: আমল হলো পূর্ণতার শর্ত অথবা এটি ঈমানের জন্য আবশ্যকীয় একটি বিষয়; কারণ এগুলো হলো মুরজিয়াদের বক্তব্য। আহলুস সুন্নাহর পক্ষ থেকে আমলকে পূর্ণতার শর্ত হিসেবে অভিহিত করার কোনো বক্তব্য আমাদের জানা নেই।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكذا قول من قال: (لا كفر إلا باعتقاد) فهذا قول المرجئة، ومن أقوالهم: (الأعمال والأقوال دليلٌ على ما في القلب من الاعتقاد) وهذا باطل، بل نفس القول الكفري كفر ونفس العمل الكفري كفر كما مر في قول الله تعالى {قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} {لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} أي: بهذه المقالة
অনুরূপভাবে তাদের বক্তব্যও (বাতিল), যারা বলে: (বিশ্বাস বা আকিদা ব্যতিরেকে কোনো কুফর নেই)। এটি মুরজিয়াদের বক্তব্য। তাদের অন্যতম বক্তব্য হলো: (আমল ও কথা হলো অন্তরে থাকা বিশ্বাসের প্রমাণ মাত্র)। এটি বাতিল; বরং কুফরি কথাটি নিজেই কুফর এবং কুফরি কাজ নিজেই কুফর, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে গত হয়েছে: {বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে উপহাস করছিলে?} {তোমরা ওজর পেশ করো না, তোমরা তো তোমাদের ঈমান আনার পর কুফরি করেছো}। অর্থাৎ: এই কথার মাধ্যমেই (তারা কুফরি করেছে)।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ৯)
السؤال الثالث:
هل
الأعمال ركن في الإيمان وجزء منه أم هي شرط كمال فيه؟
الجواب:
الإيمان قول باللسان وقول بالقلب وعمل بالقلب وعمل بالجوارح كما سبق.
ولا يقال: إنها شرط كمال أو إنها خارجة عن الإيمان أو إنها لازم من لوازم الإيمان أو من مقتضى الإيمان أو هي دليل على الإيمان إذ كل هذه من أقوال المرجئة.
তৃতীয় প্রশ্ন:
কি
আমল ঈমানের রুকন (স্তম্ভ) এবং তার অংশ, নাকি এটি ঈমানের পূর্ণতার জন্য একটি শর্ত?
উত্তর:
ঈমান হলো জিহ্বার স্বীকৃতি, অন্তরের বিশ্বাস (বক্তব্য), অন্তরের আমল এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের সমষ্টি, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর এটি বলা যাবে না যে: আমল ঈমানের পূর্ণতার শর্ত, অথবা এটি ঈমান থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয়, অথবা এটি ঈমানের কোনো আবশ্যিক অনুষঙ্গ বা ঈমানের দাবি মাত্র, কিংবা এটি ঈমানের প্রমাণ; কারণ এ সবগুলিই মুরজিআদের মতবাদ।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১০)
السؤال الرابع:
ما أقسام المرجئة؟ مع ذكر أقوالهم في مسائل الإيمان؟
الجواب:
المرجئة طائفتان:
الطائفة الأولى: المرجئة المحضة أو الغلاة وهم الجهمية وزعيمهم الجهم بن صفوان فإن الجهم بن صفوان اشتهر بأربع عقائد بدعية هي:
1- عقيدة نفي الصفات وأخذها عنه الجهمية.
2- عقيدة الإرجاء وأخذها عنه المرجئة.
3- عقيدة الجبر - أي أن العبد مجبور على أعماله - وأخذها عنه الجبرية.
4- عقيدة القول بفناء الجنة والنار.
فهذه أربع عقائد خبيثة اشتهر بها الجهم.
والمرجئة المحضة عقيدتهم في الإيمان أنه مجرد المعرفة، أي مجرد معرفة الرب بالقلب، فمن عرف ربه بقلبه فهو مؤمن، ولا يكون الكفر إلا إذا جهل ربه بقلبه، وبهذا ألزمهم العلماء بأن إبليس مؤمن؛ لأنه يعرف ربه قال الله تعالى عن إبليس {قَالَ رَبِّ فَأَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ} ويكون فرعون أيضا مؤمن لأنه يعرف ربه بقلبه، قال تعالى عنه وعن قومه.
{وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ}
চতুর্থ প্রশ্ন:
মুরজিয়াদের প্রকারভেদ কী কী? ঈমানের মাসআলাসমূহে তাদের বক্তব্য উল্লেখসহ বর্ণনা করুন।
উত্তর:
মুরজিয়ারা দুই দল:
প্রথম দল: খাঁটি মুরজিয়া বা কট্টরপন্থী, তারা হলো জাহমিয়া এবং তাদের নেতা হলো জাহম বিন সাফওয়ান। নিশ্চয়ই জাহম বিন সাফওয়ান চারটি বিদআতি আকিদার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, সেগুলো হলো:
১- আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার আকিদা, যা জাহমিয়ারা তার থেকে গ্রহণ করেছে।
২- ইরজা এর আকিদা, যা মুরজিয়ারা তার থেকে গ্রহণ করেছে।
৩- জবর এর আকিদা - অর্থাৎ বান্দা তার আমলের ক্ষেত্রে বাধ্য - যা জবরিয়ারা তার থেকে গ্রহণ করেছে।
৪- জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আকিদা।
এই চারটি হলো নিকৃষ্ট আকিদা যার জন্য জাহম পরিচিতি পেয়েছে।
আর খাঁটি মুরজিয়াদের ঈমান বিষয়ক আকিদা হলো যে, ঈমান কেবল জানার নাম, অর্থাৎ অন্তর দিয়ে কেবল রবকে চেনার নাম। সুতরাং যে ব্যক্তি তার অন্তর দিয়ে তার রবকে চিনলো সে-ই মুমিন। আর কুফর কেবল তখনই হবে যখন সে তার অন্তর দিয়ে তার রব সম্পর্কে অজ্ঞ থাকবে। এই কারণে উলামায়ে কেরাম তাদের ওপর এ বিষয়টি আবশ্যক করে দিয়েছেন যে, (তাদের মতে) ইবলিসও একজন মুমিন; কারণ সে তার রবকে চেনে। আল্লাহ তাআলা ইবলিস সম্পর্কে বলেন, {সে বলল, হে আমার রব! আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন}। ফেরাউনও মুমিন হবে কারণ সে অন্তর দিয়ে তার রবকে চিনত। আল্লাহ তাআলা তার এবং তার সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন:
{তারা অন্যায় ও অহংকারবশত নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল। সুতরাং দেখুন, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।}
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১১)
وذكر ابن القيم - رحمه الله تعالى - في الكافية الشافية فصلا طويلا في بيان معتقد المرجئة المحضة وقال: إنه أخفى هذا مدة ثم أظهره وبيّن أن عقيدتهم مجرد معرفة الرب بالقلب وأنه لو فعل الأعمال الكفرية مع ذلك فلا تؤثر في إيمانه، فلو سبَّ الله أو سبَّ الرسول صلى الله عليه وسلم أو سبَّ دين الإسلام وقتل الأنبياء والمصلحين وهدم المساجد وفعل جميع المنكرات فلا يكفر ما دام يعرف ربه بقلبه وهذا هو أفسد قول قيل في تعريف الإيمان، وهو قول أبي الحسين الصالحي من القدرية.
ويليه في الفساد قول الكرّامية القائلين: بأن الإيمان هو النطق باللسان فقط، فمن شهد أن لا إله إلا الله بلسانه فإنه يكون مؤمنا ولو كان مكذبا بقلبه ويسمونه مؤمنا كامل الإيمان وإن كان مكذبا بقلبه فهو مخلد في النار فيلزمهم على هذا أن المؤمن الكامل الإيمان مخلدٌ في النار وهذا من أعظم الفساد وهو يلي قول الجهم في الفساد.
الطائفة الثانية: مرجئة الفقهاء وهم أهل الكوفة كأبي حنيفة رحمه الله وأصحابه وأول من قال بأن الأعمال غير داخلة في مسمى الإيمان هو حماد بن أبي سليمان شيخ الإمام أبي حنيفة، وأبو حنيفة له روايتان في حد الإيمان:
ইবনুল কায়্যিম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- ‘আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া’-তে বিশুদ্ধ মুরজিয়াদের আকিদা বর্ণনায় একটি দীর্ঘ পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি (জাহম) এটি একটি দীর্ঘ সময় গোপন রেখেছিলেন, এরপর তা প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট করেন যে, তাদের আকিদা হলো কেবল অন্তরের মাধ্যমে রবকে চেনা; এবং এর সাথে যদি কেউ কুফরি কাজও করে, তবে তা তার ঈমানে কোনো প্রভাব ফেলবে না। সুতরাং যদি সে আল্লাহকে গালি দেয়, কিংবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দেয়, কিংবা ইসলাম ধর্মকে গালি দেয় এবং নবীগণ ও সংস্কারকদের হত্যা করে, মসজিদসমূহ ধ্বংস করে এবং সকল প্রকার গর্হিত কাজ করে, তবুও সে কাফের হবে না যতক্ষণ সে তার রবকে অন্তরে চিনে রাখবে। আর ঈমানের সংজ্ঞায় এটিই এ পর্যন্ত বলা সবচেয়ে ভ্রষ্ট উক্তি, এবং এটি কাদারিয়্যাদের অন্তর্ভুক্ত আবুল হুসাইন আস-সালিহীর মত।
ভ্রষ্টতার দিক থেকে এর পরেই রয়েছে কাররামিয়াদের উক্তি, যারা বলে: ঈমান হলো কেবল জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তার জিহ্বা দিয়ে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, সে মুমিন হবে—যদিও সে অন্তরে অবিশ্বাস করে। তারা তাকে পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার মুমিন বলে অভিহিত করে। যদিও সে অন্তরে অবিশ্বাস করার কারণে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামী হবে। ফলে তাদের এই বক্তব্য অনুযায়ী এটি অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায় যে, পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার ব্যক্তি চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামী হবে; এটি চরমতম ভ্রষ্টতা এবং ভ্রষ্টতার বিচারে এটি জহমের মতের পরেই অবস্থান করে।
দ্বিতীয় দল: ফুকাহায়ে মুরজিয়া। তারা হলেন কুফাবাসী, যেমন আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ এবং তাঁর সাথীবর্গ। আর আমল ঈমানের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়—একথা প্রথম যিনি বলেছিলেন তিনি হলেন ইমাম আবু হানিফার উস্তাদ হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান। ঈমানের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আবু হানিফার থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأولى: أنه تصديق القلب وقول اللسان، وهذه الرواية عليها أكثر أصحابه.
والثانية: أن الإيمان هو تصديق القلب فقط وأما قول اللسان فهو ركن زائد خارج عن مسمى الإيمان.
وعلى هذه الرواية يوافق قول الماتريدية أن الإيمان هو تصديق القلب فقط.
ولكن الأعمال مطلوبة عندهم كالصلاة والزكاة والصوم والحج فالواجبات واجبات والمحرمات محرمات ومن فعل الواجب فإنه يستحق الثواب والمدح ومن فعل الكبائر فإنه يستحق العقوبة ويقام عليه الحد، ولكن لا يسمونه إيمانا. يقولون:الإنسان عليه واجبان: واجب الإيمان وواجب العمل ولا يدخل أحدهما في مسمى الآخر.
وجمهور أهل السنة يقولون: العمل من الإيمان وهو جزء منه فالأعمال واجبة وهي من الإيمان، ومرجئة الفقهاء يقولون: الأعمال واجبة وليست من الإيمان، ولهذا قال من قال بأن الخلاف بينهم وبين جمهور أهل السنة خلاف لفظي، وقال بهذا شارح الطحاوية والصواب أنه ليس لفظيا.
প্রথমটি হলো: এটি অন্তরের বিশ্বাস ও জিহ্বার মৌখিক স্বীকৃতি, আর তাঁর অধিকাংশ অনুসারী এই বর্ণনার ওপর রয়েছেন।
দ্বিতীয়টি হলো: ঈমান কেবল অন্তরের বিশ্বাস; আর মৌখিক স্বীকৃতি হলো একটি অতিরিক্ত রুকন (স্তম্ভ) যা ঈমানের সংজ্ঞার বহির্ভূত।
এই বর্ণনা অনুযায়ী এটি মাতুরিদিয়াদের মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, ঈমান হলো কেবল অন্তরের বিশ্বাস।
তবে তাঁদের নিকট আমলসমূহ কাম্য যেমন সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ; সুতরাং ওয়াজিবসমূহ ওয়াজিব এবং হারামসমূহ হারাম। যে ব্যক্তি ওয়াজিব পালন করবে সে সওয়াব ও প্রশংসার যোগ্য হবে, আর যে কবিরা গুনাহ করবে সে শাস্তির উপযুক্ত হবে এবং তার ওপর হদ কার্যকর করা হবে; কিন্তু তাঁরা আমলকে ঈমান নামে অভিহিত করেন না। তাঁরা বলেন: মানুষের ওপর দুটি ওয়াজিব রয়েছে: ঈমানের ওয়াজিব এবং আমলের ওয়াজিব; আর এর একটি অন্যটির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।
জমহুর আহলে সুন্নাত বলেন: আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ঈমানের একটি অংশ, সুতরাং আমলসমূহ ওয়াজিব এবং সেগুলো ঈমানের অংশ; অন্যদিকে মুরজিআতুল ফুকাহা বলেন: আমলসমূহ ওয়াজিব কিন্তু সেগুলো ঈমানের অংশ নয়। এ কারণেই কেউ কেউ বলেছেন যে, তাঁদের ও জমহুর আহলে সুন্নাতের মধ্যকার বিরোধটি শাব্দিক; তাহাবিয়ার ব্যাখ্যাকারকও এমনটি বলেছেন, তবে সঠিক কথা হলো এটি কেবল শাব্দিক বিরোধ নয়।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
السؤال الخامس:
هل
خلاف أهل السنة مع مرجئة الفقهاء في أعمال القلوب أو الجوارح لفظيٌ أم معنوي؟
الجواب:
قال بعضهم إن الخلاف بين مرجئة الفقهاء وأهل السنة خلاف لفظي وقال بهذا شارح الطحاوية ابن أبي العز رحمه الله قال: إن الخلاف بين جمهور أهل السنة وأبي حنيفة وأصحابه خلاف لفظي والنزاع نزاع ٌ في أمرٍ اسمي لفظي لا يترتب عليه فسادٌ في الاعتقاد وقال: إن الدليل على أن الخلاف بينهم لفظي أن كلا من الطائفتين يقولون: الأعمال واجبة وكلا من الطائفتين يقولون: إن المسلم إذا فعل الواجبات أثيب عليها ومن ترك شيئا من الواجبات أو فعل المحرمات فإنه يعاقب ويقام عليه الحد، ولكن النزاع بينهم في أنه هل هذا الواجب هو من الإيمان أو ليس بإيمان؟ قال بالأول جمهور أهل السنة وقال بالثاني أبو حنيفة وأصحابه ولكن عند التأمل والنظر لا يجد طالب العلم أن الخلاف لفظيٌ من جميع الوجوه، صحيح أنه لا يترتب عليه فساد في الاعتقاد لكن له آثار تترتب عليه، من هذه الآثار:
পঞ্চম প্রশ্ন:
অন্তরের আমলসমূহ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলসমূহের ক্ষেত্রে
আহলুস সুন্নাহর সাথে মুরজিআতুল ফুকাহার মতবিরোধ কি শাব্দিক নাকি অর্থগত?
উত্তর:
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, মুরজিআতুল ফুকাহা এবং আহলুস সুন্নাহর মধ্যকার মতবিরোধ শাব্দিক। আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকার ইবনু আবিল ইয (রাহিমাহুল্লাহ) এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন: জমহুর আহলুস সুন্নাহ এবং আবু হানিফা ও তাঁর সঙ্গীদের মধ্যকার মতবিরোধ শাব্দিক; আর এই বিবাদটি নামীয় এবং শব্দগত একটি বিষয়ে, যার ফলে আকিদাহ বা বিশ্বাসের কোনো ক্ষতি সাধিত হয় না। তিনি আরও বলেছেন: তাঁদের মধ্যকার মতবিরোধ যে শাব্দিক, তার প্রমাণ হলো—উভয় পক্ষই একমত যে: আমলসমূহ ওয়াজিব। উভয় পক্ষই বলে: একজন মুসলিম যখন ওয়াজিব কাজগুলো সম্পাদন করে, তখন সে তার প্রতিদান পায়; আর যে ব্যক্তি ওয়াজিবের কোনো কিছু বর্জন করে অথবা হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে এবং তার ওপর হদ কার্যকর করা হবে। তবে তাঁদের মধ্যে বিবাদ হলো—এই ওয়াজিব কাজগুলো কি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নাকি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়? জমহুর আহলুস সুন্নাহ প্রথম মতটি পোষণ করেন, আর আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবৃন্দ দ্বিতীয় মতটি পোষণ করেন। কিন্তু গভীর পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার পর একজন তালিবে ইলম দেখতে পাবেন যে, এই মতবিরোধ সবদিক থেকে কেবল শাব্দিক নয়। এটি সত্য যে, এর ফলে আকিদাহর কোনো বিপর্যয় ঘটে না, তবে এর কিছু প্রভাব বা ফলাফল রয়েছে। সেই প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
1- أن جمهور أهل السنة وافقوا الكتاب والسنة في اللفظ والمعنى فتأدبوا مع النصوص، ومرجئة الفقهاء وافقوا الكتاب والسنة معنا وخالفوهما لفظا، ولا يجوز للمسلم أن يخالف النصوص لا لفظا ولا معنى. قال الله تعال: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} {الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} {أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا} فبين الله تعالى أن هذه الأعمال كلها من الإيمان، فوجل القلب عند ذكر الله هذا عمل قلبي، وزيادة الإيمان عند تلاوة القرآن عمل قلبي {وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} عمل قلبي ويشمل أيضا أعمال الجوارح من فعل الأسباب والإنفاق مما رزقهم الله، كل هذه الأشياء سماها إيمانا. وقال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} وقال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا
১- আহলুস সুন্নাহর জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলিমগণ কিতাব ও সুন্নাহর শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রে একমত পোষণ করেছেন, ফলে তাঁরা দালিলিক পাঠসমূহের প্রতি যথাযথ আদব রক্ষা করেছেন। পক্ষান্তরে মুরজিআতুল ফুকাহা অর্থের দিক থেকে কিতাব ও সুন্নাহর সাথে একমত পোষণ করলেও শব্দের দিক থেকে সেগুলোর বিরোধিতা করেছেন। অথচ কোনো মুসলিমের জন্য দালিলিক পাঠের বিরোধিতা করা বৈধ নয়—না শব্দের ক্ষেত্রে, আর না অর্থের ক্ষেত্রে। মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহকে স্মরণ করার সময় প্রকম্পিত হয়, আর যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।} {যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।} {তারাই হলো প্রকৃত মুমিন।} সুতরাং আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সকল আমলই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। তাই আল্লাহর জিকিরের সময় অন্তরের কম্পন একটি কালবি (অন্তরসংশ্লিষ্ট) আমল। কুরআন তিলাওয়াতের সময় ঈমান বৃদ্ধি পাওয়াও একটি কালবি আমল। {আর তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে}—এটিও একটি কালবি আমল এবং এর মধ্যে উপায়-উপকরণ গ্রহণ এবং আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করার মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলসমূহও অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা এই সব কিছুকেই ঈমান নামে অভিহিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিন কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে, তারপর আর সন্দেহ পোষণ করেনি এবং তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই হলো সত্যবাদী।} মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তবে না, আপনার রবের শপথ, তারা...}
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} وثبت في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «الإيمان بضعٌ وسبعون شعبة» وفي رواية البخاري: «بضعٌ وستون شعبة فأعلاها قول: لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق والحياء شعبة من الإيمان» فهذا من أقوى الأدلة في الرد على المرجئة فجعل النبي صلى الله عليه وسلم الإيمان بضعا وسبعين شعبة ومثّل لقول اللسان بكلمة التوحيد على أنها من قول اللسان ومثّل لعمل الجوارح بإماطة الأذى عن الطريق ومثّل لعمل القلب بالحياء؛ لأن الحياء خلقٌ داخلي يحمل الإنسان على فعل المحامد وترك القبائح. فأعلى شعب الإيمان كلمة التوحيد وأدناها إماطة الأذى عن الطريق وبينهما شعب متفاوتة منها ما يقرب من شعبة الشهادة ومنها ما يقرب من شعبة الإماطة، فالصلاة شعبة والحج شعبة والزكاة شعبة والصوم شعبة وبر الوالدين شعبة وصلة الأرحام شعبة والجهاد في سبيل الله شعبة والأمر بالمعروف شعبة والنهي عن المنكر شعبة والإحسان إلى الجار شعبة، إلى غير ذلك من الشعب، فهذه كلها
তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে তাদের বিবাদসমূহের ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, অতপর আপনি যা ফয়সালা করেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণ আনুগত্যের সাথে মেনে নেয়। এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে।" বুখারীর বর্ণনায় এসেছে: "ষাটেরও বেশি শাখা; যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো এই কথা বলা যে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আর সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।" এটি মুরজিয়াদের মতবাদ খণ্ডনের ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী দলিল; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানকে সত্তরটিরও বেশি শাখায় বিভক্ত করেছেন এবং জিহ্বার কথার উদাহরণ দিয়েছেন তাওহীদের কালেমা দিয়ে—যেহেতু এটি জিহ্বার কথা—আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের উদাহরণ দিয়েছেন রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া দিয়ে এবং অন্তরের আমলের উদাহরণ দিয়েছেন লজ্জা দিয়ে; কারণ লজ্জা হলো একটি অভ্যন্তরীণ চরিত্র যা মানুষকে প্রশংসনীয় কাজ করতে এবং মন্দ কাজ বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা হলো তাওহীদের কালেমা এবং তার সর্বনিম্ন শাখা হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া; আর এই দুইয়ের মাঝে বিভিন্ন স্তরের শাখা রয়েছে, যার কোনটি শাহাদাত (তাওহীদ)-এর শাখার নিকটবর্তী আবার কোনটি সরিয়ে ফেলার শাখার নিকটবর্তী। সুতরাং সালাত একটি শাখা, হজ একটি শাখা, জাকাত একটি শাখা, সিয়াম একটি শাখা, পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা একটি শাখা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা একটি শাখা, আল্লাহর পথে জিহাদ একটি শাখা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া একটি শাখা, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা একটি শাখা এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ একটি শাখা—এভাবেই অন্যান্য শাখাসমূহ। এই সবগুলোই...
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أدخلها النبي صلى الله عليه وسلم في مسمى الإيمان فكيف يقال إن الأعمال خارجة عن مسمى الإيمان، وكذلك من أقوى الأدلة أيضا على أن الأعمال داخلة في مسمى الإيمان حديث وفد عبد القيس في الصحيحين وذلك أن «وفد عبد القيس جاءوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: يا رسول الله، إن بيننا وبينك هذا الحي من كفار مضر وإنا لن نخلص إليك إلا في الشهر الحرام فمرنا بأمر فصل نعمل به ونخبر به من ورائنا فقال صلى الله عليه وسلم: (آمركم بأربع وأنهاكم عن أربع: آمركم بالإيمان بالله وحده، أتدرون ما الإيمان بالله وحده؟ شهادة أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصوم رمضان وأن تؤدوا خُمس ما غنمتم) » ففسر الإيمان بأعمال الجوارح وهذا دليل واضح صريح على أن الأعمال داخلة في مسمى الإيمان. فجمهور أهل السنة تأدبوا مع النصوص وأدخلوا الأعمال في مسمى الإيمان ومرجئة الفقهاء وافقوا النصوص في المعنى لكن خالفوها في اللفظ ولا يجوز للإنسان مخالفة النصوص لا في اللفظ ولا في المعنى بل الواجب موافقة النصوص لفظا ومعنى.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোকে ঈমান নামকরণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং কীভাবে বলা সম্ভব যে, আমলসমূহ ঈমান নামকরণের বাইরে? তেমনিভাবে আমল যে ঈমান নামকরণের অন্তর্ভুক্ত, তার অন্যতম শক্তিশালী দলিল হলো সহীহাইন-এ বর্ণিত আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলের হাদিসটি। আর তা হলো এই যে, আব্দুল কায়েসের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ও আপনার মাঝে মুদার গোত্রের এই কাফেরদের বসবাস। তাই আমরা নিষিদ্ধ মাস ব্যতীত আপনার নিকট পৌঁছাতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু চূড়ান্ত নির্দেশ দিন যার ওপর আমরা আমল করতে পারি এবং আমাদের পেছনে যারা রয়েছেন তাদেরও তা জানাতে পারি।" তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "(আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: আমি তোমাদের এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনার আদেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জানো এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনা কী? তা হলো—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তাঁর কোনো শরিক নেই, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং তোমরা গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে।)" এখানে তিনি ঈমানকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন এবং এটি একটি স্পষ্ট ও সুনিশ্চিত দলিল যে, আমলসমূহ ঈমান নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং জুমহুর আহলে সুন্নাত দলিলের প্রতি আদব বজায় রেখেছেন এবং আমলসমূহকে ঈমান নামকরণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর ফুকাহায়ে মুরজিআগণ অর্থের দিক দিয়ে দলিলের সাথে একমত পোষণ করলেও শব্দের ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছেন। অথচ কোনো মানুষের জন্য শব্দ বা অর্থ—কোনো দিক দিয়েই দলিলের বিরোধিতা করা জায়েজ নয়; বরং শব্দ ও অর্থ উভয় দিক দিয়ে দলিলের অনুগামী হওয়া আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
2- أن خلاف مرجئة الفقهاء مع جمهور أهل السنة فتح بابا للمرجئة المحضة الغلاة فإن مرجئة الفقهاء لما قالوا: (إن الأعمال ليست من الإيمان وإن كانت واجبة) فتحوا بابا للمرجئة المحضة فقالوا: الأعمال ليست واجبة وليست مطلوبة ولهذا قال المرجئة المحضة: الصلاة والصوم والزكاة والحج هذه كلها ليست بواجبة ومن عرف ربه بقلبه فهو مؤمن كامل الإيمان ويدخل الجنة من أول وهلة والأعمال ليست مطلوبة والذي فتح لهم الباب مرجئة الفقهاء.
২- ফুকাহা মুরজিয়াদের সাথে আহলুস সুন্নাহর জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের যে মতবিরোধ রয়েছে, তা চরমপন্থী নিরেট মুরজিয়াদের জন্য একটি পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কেননা ফুকাহা মুরজিয়ারা যখন বললেন: (আমলসমূহ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও তা ওয়াজিব), তখন তারা নিরেট মুরজিয়াদের জন্য পথ খুলে দিলেন। ফলে তারা বলল: আমলসমূহ ওয়াজিব নয় এবং তা কাঙ্ক্ষিতও নয়। এই কারণেই নিরেট মুরজিয়ারা বলেছে: সালাত, সিয়াম, জাকাত এবং হজ—এসবের কোনটিই ওয়াজিব নয়। আর যে ব্যক্তি তার অন্তর দিয়ে তার রবকে চিনেছে, সে পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার এবং সে প্রথমবারেই জান্নাতে প্রবেশ করবে; আমলসমূহ কাঙ্ক্ষিত নয়। আর তাদের জন্য এই পথটি ফুকাহা মুরজিয়ারাই উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
3- أن مرجئة الفقهاء باختلافهم مع جمهور أهل السنة فتحوا بابا للفُسَّاق والعصاة فدخلوا معه، فلما قال مرجئة الفقهاء: إن الإيمان شيء واحد لا يزيد ولا ينقص وهو التصديق وإيمان أهل الأرض وأهل السماء واحد؛ دخل الفساق فيأتي الفاسق السكير العربيد ويقول: أنا مؤمن كامل الإيمان؛ إيماني كإيمان جبريل وميكائيل وكإيمان أبي بكر وعمر، فإذا قيل له: كيف تقول إن إيمانك كإيمان أبي بكر وعمر وأبو بكر له أعمال عظيمة؟ قال: الأعمال ليست داخلة في مسمى الإيمان، أنا مصدِّق وأبو بكر مصدِّق، وجبريل مصدِّق وأنا مصدِّق فإيماني كإيمانهم، وهذا من أبطل الباطل، ولهذا جاء في الحديث: «لو وزن إيمان أبي بكر بإيمان أهل الأرض لرجح» والمراد ما عدا الرسل عليهم الصلاة والسلام، فكيف يقال إن الإيمان واحد وأن إيمان أهل السماء وأهل الأرض واحد.
৩- ফকীহ মুরজিয়ারা আহলুস সুন্নাহর জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমদের সাথে ভিন্নমত পোষণের মাধ্যমে পাপাচারী ও অবাধ্যদের জন্য একটি পথ খুলে দিয়েছেন, ফলে তারা এর ভেতরে প্রবেশ করেছে। যখন ফকীহ মুরজিয়ারা বলল: নিশ্চয়ই ঈমান একটি অবিভাজ্য বিষয় যা বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না, আর তা হলো কেবল সত্যায়ন (তাসদীক), এবং জমিনের অধিবাসী ও আসমানের অধিবাসীদের ঈমান এক ও অভিন্ন; তখন পাপাচারীরা এতে ঢুকে পড়ল। ফলে একজন মদ্যপ ও উচ্ছৃঙ্খল পাপাচারী এসে বলে: আমি পূর্ণাঙ্গ মুমিন; আমার ঈমান জিবরাঈল ও মিকাঈলের ঈমানের মতো এবং আবু বকর ও উমরের ঈমানের মতো। তাকে যখন বলা হয়: তুমি কীভাবে বলছ যে তোমার ঈমান আবু বকর ও উমরের ঈমানের মতো, অথচ আবু বকরের তো সুমহান আমলসমূহ রয়েছে? তখন সে বলে: আমল তো ঈমান নামক সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়; আমি সত্যায়নকারী এবং আবু বকরও সত্যায়নকারী, জিবরাঈলও সত্যায়নকারী এবং আমিও সত্যায়নকারী, অতএব আমার ঈমান তাদের ঈমানের মতোই। আর এটি অসারতম বাতিল কথা। এই কারণেই হাদীসে এসেছে: "যদি আবু বকরের ঈমানকে পৃথিবীর অধিবাসীদের ঈমানের সাথে ওজন করা হতো, তবে আবু বকরের ঈমানই ভারী হতো।" আর এখানে রাসূলগণ (তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) ব্যতীত অন্যদের কথা বোঝানো হয়েছে। সুতরাং কীভাবে বলা যেতে পারে যে ঈমান এক এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের ঈমান অভিন্ন?
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
4- مسألة الاستثناء في الإيمان وهو قول القائل: (أنا مؤمن إن شاء الله) فمرجئة الفقهاء يمنعون الاستثناء في الإيمان؛ لأن الإيمان شيء واحد هو التصديق، فيقولون: أنت تعلم أنك مصدِّق بالقلب فكيف تقول: أنا مؤمن إن شاء الله. إذاًََ أنت تشك في إيمانك، ولهذا يسمون المؤمنين الذين يستثنون في إيمانهم الشكَّاكة، فأنت تعلم في نفسك أنك مصدِّق كما تعلم أنك قرأت الفاتحة وكما تعلم أنك تحب الله ورسوله صلى الله عليه وسلم وتبغض اليهود فكيف تقول: إن شاء الله، بل قل: أنا مؤمن؛ اجزم ولا تشك في إيمانك. وأما جمهور أهل السنة فإنهم يفصِّلون فيقولون: إن قال القائل: (أنا مؤمن إن شاء الله) يقصد الشك في أصل إيمانه فهذا ممنوع؛ فأصل الإيمان التصديق، وأما إن نظر إلى الأعمال والواجبات التي أوجبها الله والمحرمات التي حرمها الله ورأى أن شعب الإيمان متعددة والواجبات كثيرة فالإنسان لا يزكِّي نفسه ولا يقول بأنه أدّى ما عليه؛ بل يتهم نفسه بالتقصير ويزري على نفسه فإذا قال: (أنا مؤمن إن شاء الله) فإن الاستثناء راجع إلى الأعمال، فهذا لا بأس به بل حسن أن يقول: إن شاء الله. وكذلك إذا أراد عدم علمه بالعاقبة وأن
৪- ঈমানের মধ্যে ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম) করার মাসআলা, যা হলো কোনো ব্যক্তির এই কথা বলা যে: (আমি আল্লাহর ইচ্ছায় মুমিন)। ফুকাহা মুরজিআগণ ঈমানের মধ্যে ইস্তিসনা করাকে নিষিদ্ধ করেন; কারণ তাদের মতে ঈমান হলো একটি একক বিষয় আর তা হলো তাসদীক (অন্তরের বিশ্বাস)। তারা বলে: তুমি তো জানো যে তুমি অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করেছ, তবে তুমি কেন বলছ যে: 'আমি আল্লাহর ইচ্ছায় মুমিন'? তার মানে তুমি তোমার ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছ। এ কারণেই তারা সেই সব মুমিনদের 'সন্দেহকারী' বলে অভিহিত করে যারা তাদের ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনা করে। তারা বলে, তুমি নিজের ব্যাপারে জানো যে তুমি বিশ্বাসী, যেমনটা তুমি জানো যে তুমি সূরা ফাতিহা পাঠ করেছ এবং যেমনটা তুমি জানো যে তুমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসো এবং ইহুদিদের ঘৃণা করো; তবে কেন তুমি 'ইনশাআল্লাহ' বলো? বরং বলো: 'আমি মুমিন'; দৃঢ়ভাবে বলো এবং তোমার ঈমানের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করো না। কিন্তু জুমহুর আহলে সুন্নাত এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তাঁরা বলেন: যদি কেউ 'আমি আল্লাহর ইচ্ছায় মুমিন' বলার মাধ্যমে তার মূল ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা উদ্দেশ্য নেয়, তবে তা নিষিদ্ধ; কেননা ঈমানের মূল ভিত্তি হলো তাসদীক বা বিশ্বাস। পক্ষান্তরে, সে যদি আল্লাহর ওয়াজিব করে দেওয়া আমল ও কার্যাবলি এবং আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বিষয়সমূহের দিকে লক্ষ্য করে এবং দেখে যে ঈমানের শাখা-প্রশাখা বহুবিধ এবং ওয়াজিবসমূহ অনেক, তবে মানুষ নিজেকে নিজে পবিত্র ঘোষণা করে না এবং একথা বলে না যে সে তার ওপর অর্পিত হকসমূহ পুরোপুরি আদায় করেছে; বরং সে নিজেকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করে এবং নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। এমতাবস্থায় সে যদি বলে: (আমি আল্লাহর ইচ্ছায় মুমিন), তবে এই ইস্তিসনা বা ব্যতিক্রম আমলসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়। এতে কোনো অসুবিধা নেই, বরং 'ইনশাআল্লাহ' বলা তখন উত্তম। অনুরূপভাবে যদি সে তার শেষ পরিণাম সম্পর্কে অবগত না থাকাকে উদ্দেশ্য করে এবং...
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২০)
العاقبة لا يعلمها إلا الله فلا بأس بالاستثناء، وكذلك إذا أراد التبرك بذكر اسم الله فلا بأس.
فهذه من ثمرات الخلاف وإن كان لا يترتب عليه فساد في العقيدة ولكن هذه ثمرات تدل على أن الخلاف ليس لفظياًََ.
পরিণাম আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেন না, তাই ইস্তিসনা (ঈমানের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলা) করায় কোনো দোষ নেই। অনুরূপভাবে আল্লাহর নাম যিকিরের মাধ্যমে বরকত লাভের ইচ্ছা করলেও কোনো অসুবিধা নেই।
এগুলো হলো মতভেদের ফলাফল, যদিও এর কারণে আকিদাহগত কোনো বিপর্যয় ঘটে না, তবুও এই ফলাফলগুলো একথাই প্রমাণ করে যে মতভেদটি নিছক শাব্দিক নয়।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২১)
السؤال السادس:
ما حكم
من ترك جميع العمل الظاهر بالكلية وهو يقر بالشهادتين ويقر بالفرائض ولكنه لا يعمل شيئا ألبته فهل هذا مسلم أم لا؟ علما بأنه ليس له عذر شرعي يمنعه من القيام بتلك الفرائض؟
الجواب:
هذا لا يكون مؤمنًا، فالذي يزعم أنه مصدِّق بقلبه ولا يقر بلسانه ولا يعمل؛ لا يتحقق إيمانه؛ لأن هذا إيمان كإيمان إبليس وكإيمان فرعون؛ لأن إبليس أيضا مصدِّق بقلبه، قال الله تعالى {قَالَ رَبِّ فَأَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ} وفرعون وآل فرعون قال الله تعالى عنهم: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا} فهذا الإيمان والتصديق الذي في القلب لا بد له من عمل يتحقق به فلا بد أن يتحقق بالنطق باللسان ولا بد أن يتحقق بالعمل؛ فلا بد من تصديق وانقياد، وإذا انقاد قلبه بالإيمان فلا بد أن تعمل الجوارح، أما أن يزعم أنه مصدِّق بقلبه ولا ينطق بلسانه ولا يعمل بجوارحه وهو قادر فأين الإيمان؟!! فلو كان التصديق تصديقا تاما وعنده إخلاص لأتى بالعمل، فلا بد من عمل يتحقق به هذا التصديق وهذا الإيمان؛ والنصوص جاءت بهذا.
ষষ্ঠ প্রশ্ন:
যে ব্যক্তি
কালিমা শাহাদাত এবং ফরজসমূহ স্বীকার করা সত্ত্বেও সকল বাহ্যিক আমল সম্পূর্ণরূপে বর্জন করে এবং মোটেও কোনো কাজ করে না, তার বিধান কী? সে কি মুসলিম নাকি নয়? উল্লেখ্য যে, এই ফরজ কাজগুলো পালনে তার কোনো শারঈ ওজর নেই।
উত্তর:
সে মুমিন হবে না। যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে অন্তরে বিশ্বাসী কিন্তু মুখে স্বীকার করে না এবং আমল করে না; তার ঈমান অর্জিত হয় না। কারণ এটি ইবলিসের ঈমান এবং ফেরাউনের ঈমানের মতো; কারণ ইবলিসও অন্তরে বিশ্বাস করত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {সে বলল, হে আমার রব! তবে আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।} এবং ফেরাউন ও ফেরাউনের বংশধর সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা অন্যায় ও অহংকারবশত সেগুলো অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো ধ্রুব সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল।} সুতরাং অন্তরের এই ঈমান ও বিশ্বাসের জন্য অবশ্যই এমন আমল থাকতে হবে যার মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হয়। অতএব, জবানের উচ্চারণ এবং কর্মের মাধ্যমে তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে। সুতরাং বিশ্বাস ও আনুগত্য থাকা জরুরি। আর যদি তার অন্তর ঈমানের অনুগত হয়, তবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশ্যই আমল করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দাবি করে যে সে অন্তরে বিশ্বাসী কিন্তু মুখে উচ্চারণ করে না এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করে না, তবে ঈমান কোথায়?!! যদি বিশ্বাস পূর্ণাঙ্গ হতো এবং তার ইখলাস থাকত, তবে সে অবশ্যই আমল করত। সুতরাং এমন আমল থাকা আবশ্যক যার মাধ্যমে এই বিশ্বাস ও ঈমান বাস্তবায়িত হবে; আর শারঈ দলিলসমূহ এই মর্মেই এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২২)
كما أن الذي يعمل بجوارحه ويصلي ويصوم ويحج لا بد لأعماله هذه من إيمان في الباطن وتصديق يصححها وإلا صارت كإسلام المنافقين؛ فإن المنافقين يعملون؛ يصلون مع النبي صلى الله عليه وسلم ويجاهدون ومع ذلك لم يكونوا مؤمنين؛ لأنه ليس عندهم إيمان وتصديق يصحح هذا العمل، فلا بد من أمرين لصحة الإيمان:
- تصديق في الباطن يتحقق بالعمل.
- وعمل في الظاهر يصح بالتصديق.
أما تصديق في الباطن دون عمل فأين الدليل عليه؟ أين الذي يصححه؟ أين الانقياد؟.
لا يمكن أن يكون هناك تصديق صحيح لا يصلي صاحبه ولا ينطق بالشهادتين وهو يعلم ما أعد الله لمن نطق بالشهادتين ولمن تكلّم بكلمة التوحيد من الثواب، ولما أعدّ الله للمصلين من الثواب ولمن ترك الصلاة من العقاب، فلو كان عنده تصديق صحيح وإيمان صحيح لبعثه على العمل، فلو كان عنده تصديق صحيح وإيمان صحيح لأحرق الشبهات والشهوات؛ فترك الصلاة إنما يكون عن شبهة والمعاصي إنما تكون عن شهوة والإيمان الصادق يحرق هذه الشهوات والشبهات.
ঠিক তেমনিভাবে, যে ব্যক্তি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করে, সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে এবং হজ করে, তার এই আমলগুলোর জন্য অন্তরে এমন ঈমান ও সত্যায়ন থাকা আবশ্যক যা এগুলোকে শুদ্ধ করবে; অন্যথায় এগুলো মুনাফিকদের ইসলামের মতো হয়ে যাবে। কারণ মুনাফিকরা আমল করে; তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করে এবং জিহাদ করে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা মুমিন ছিল না; কেননা তাদের নিকট এমন ঈমান ও সত্যায়ন নেই যা এই আমলকে শুদ্ধ করতে পারে। সুতরাং ঈমান শুদ্ধ হওয়ার জন্য দুটি বিষয় অপরিহার্য:
- অন্তরের সত্যায়ন যা আমলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
- বাহ্যিক আমল যা সত্যায়নের মাধ্যমে শুদ্ধ হয়।
আর আমলহীন কেবল অন্তরের সত্যায়ন—তাহলে তার প্রমাণ কোথায়? তাকে শুদ্ধ করার ভিত্তিই বা কোথায়? আনুগত্যই বা কোথায়?।
এমন কোনো সঠিক সত্যায়ন থাকা সম্ভব নয় যেখানে এর অধিকারী ব্যক্তি সালাত আদায় করে না এবং শাহাদাতাইন পাঠ করে না, অথচ সে জানে যে ব্যক্তি শাহাদাতাইন পাঠ করে এবং তাওহীদের বাণী উচ্চারণ করে তার জন্য আল্লাহ কী প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন, আর সালাত আদায়কারীদের জন্য আল্লাহ কী পুরস্কার এবং সালাত ত্যাগকারীদের জন্য কী শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। সুতরাং তার নিকট যদি সঠিক সত্যায়ন ও সঠিক ঈমান থাকত, তবে তা তাকে আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করত। তার নিকট যদি সঠিক সত্যায়ন ও সঠিক ঈমান থাকত, তবে তা সন্দেহ ও কুপ্রবৃত্তিকে জ্বালিয়ে দিত; কারণ সালাত ত্যাগ করা তো কেবল সংশয় থেকেই উদ্ভূত হয় এবং পাপাচার কেবল কুপ্রবৃত্তি থেকেই জন্মে; আর সত্য ঈমান এই সকল কুপ্রবৃত্তি ও সংশয়কে ভস্মীভূত করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا يدل على أن قلبه خالٍ من الإيمان الصحيح وإنما هو لفظ باللسان نطق به ولم يتجاوزه، وإلا لو كان عنده تصديق بقلبه أو إقرار بقلبه فقط ولم يتلفظ؛ فقول القلب لم يتجاوز إلى أعمال القلوب وإلى الانقياد فالمقصود أن الذي يزعم أنه مصدِّق بقلبه ولا يعمل بجوارحه هذا هو مذهب الجهمية.
ولهذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: يعسر التفريق بين المعرفة والتصديق المجرد. فيعسر التفريق بين المعرفة بالقلب والتصديق الذي ليس معه شيء من أعمال الجوارح؛ ويقول هذا هو إيمان الجهمية - نسأل الله العافية -. فالذي يزعم أنه مؤمن ولا ينطق بلسانه ولا يعمل بجوارحه مع قدرته هذا هو مذهب الجهمية، فلا بد من عمل يتحقق به هذا التصديق كما أن الذي يعمل لا بد له من تصديق في الباطن يصححه.
এটি নির্দেশ করে যে তার অন্তর সঠিক ঈমান থেকে শূন্য; এটি কেবল জিহ্বার একটি উচ্চারণ যা সে বলেছে কিন্তু তা অতিক্রম করেনি। অন্যথায়, যদি তার অন্তরে কেবল বিশ্বাস বা অন্তরে কেবল স্বীকৃতি থাকত এবং সে তা মুখে উচ্চারণ না করত; তবে অন্তরের কথা অন্তরের কাজ এবং আনুগত্য পর্যন্ত পৌঁছাত না। মূল উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে অন্তরে বিশ্বাসী অথচ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করে না, এটিই হলো জাহমিয়াদের মতবাদ।
একারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: জ্ঞান এবং নিছক বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন। তাই অন্তরের জ্ঞান এবং এমন বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন যার সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের কোনো অংশ নেই; তিনি বলেন, এটিই হলো জাহমিয়াদের ঈমান—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে মুমিন কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মুখে উচ্চারণ করে না এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করে না, এটিই হলো জাহমিয়াদের মতবাদ। অতএব, এমন আমল অবশ্যই থাকতে হবে যার দ্বারা এই বিশ্বাস বাস্তবায়িত হয়, যেমনভাবে যে ব্যক্তি আমল করে তার অন্তরে এমন বিশ্বাস থাকা আবশ্যক যা সেই আমলকে বিশুদ্ধ করে।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
السؤال السابع:
هل تصح هذه المقولة: (أن من قال: الإيمان قول وعمل واعتقاد يزيد وينقص فقد برئ من الإرجاء كله حتى لو قال: لا كفر إلا باعتقاد وجحود؟)
الجواب:
المقولة الثانية تنقض المقولة الأولى فقوله: (الإيمان قول وعمل واعتقاد يزيد وينقص) هذا حق وهو قول أهل السنة والجماعة، لكن قوله بعد ذلك: (لا كفر إلا باعتقاد وجحود) هذا ينقض المقالة الأولى، فكما أن الإيمان يكون بالقول والعمل والاعتقاد فكذلك الكفر يكون بالقول والعمل والاعتقاد فلا بد أن تصحح المقولة الثانية فتكون: (والكفر يكون بالقول والعمل والاعتقاد) أما بقاء هذه المقولة على حالها فإنها تنقض الأولى.
সপ্তম প্রশ্ন:
এই উক্তিটি কি সঠিক: (যে ব্যক্তি বলে: ঈমান হলো কথা, কাজ এবং বিশ্বাস, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়, সে ব্যক্তি সমস্ত ইরজা থেকে মুক্ত হয়ে গেল, যদিও সে বলে: বিশ্বাস এবং অস্বীকার ব্যতীত কোনো কুফর নেই?)
উত্তর:
দ্বিতীয় উক্তিটি প্রথম উক্তিকে বাতিল করে দেয়। তার কথা: (ঈমান হলো কথা, কাজ এবং বিশ্বাস, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়) এটি সত্য এবং এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বক্তব্য। কিন্তু এরপর তার এই কথা: (বিশ্বাস ও অস্বীকার ব্যতীত কোনো কুফর নেই) এটি প্রথম উক্তিটিকে খণ্ডন করে। কেননা, ঈমান যেমন কথা, কাজ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে হয়, তেমনি কুফরও কথা, কাজ ও বিশ্বাসের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সুতরাং দ্বিতীয় উক্তিটিকে সংশোধন করা আবশ্যক যাতে তা এভাবে হয়: (এবং কুফর কথা, কাজ ও বিশ্বাসের মাধ্যমেই হয়)। নতুবা এই উক্তিটি বর্তমান অবস্থায় বহাল থাকলে তা প্রথমটিকে বাতিল করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
السؤال الثامن:
هل هذا القول صحيح أم لا: (أن سب الله وسب الرسول صلى الله عليه وسلم ليس بكفر في نفسه، ولكنه أمارة وعلامة على ما في القلب من الاستخفاف والاستهانة؟)
الجواب:
هذا القول ليس بصحيح، بل هو قول المرجئة وهو قول باطل، بل إن نفس السب كفر ونفس الاستهزاء كفر كما قال تعالى: {قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} {لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} فأثبت لهم الكفر بعد الإيمان بهذه المقالة ولم يقل إن كنتم تعتقدون في قلوبكم شيئا، فالله تعالى أطلق الكفر عليهم بهذه المقالة، فدل على أن القول بأن كلام الكفر أو قول الكفر ليس بكفر بل هو علامة على ما في القلب هذا باطل، فالقلب لا يعلم ما فيه إلا الله تعالى والكفر يكون بالقلب ويكون بالقول ويكون بالعمل، والمقصود أن هذه المقالة تتمشى مع مذهب المرجئة.
অষ্টম প্রশ্ন:
এই কথাটি সঠিক কি না: (আল্লাহকে গালি দেওয়া এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দেওয়া স্বয়ং কুফরি নয়, বরং তা অন্তরে বিদ্যমান তুচ্ছজ্ঞান ও অবজ্ঞার একটি আলামত ও চিহ্ন মাত্র?)
উত্তর:
এই কথাটি সঠিক নয়, বরং এটি মুরজিয়াদের বক্তব্য এবং এটি একটি বাতিল কথা। বরং স্বয়ং গালি দেওয়াই কুফরি এবং স্বয়ং বিদ্রূপ করাই কুফরি, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন: তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে?} {তোমরা ওজর পেশ করো না; তোমরা তোমাদের ঈমানের পর কুফরি করেছ।} সুতরাং এই উক্তির কারণে ঈমানের পর তিনি তাদের জন্য কুফরি সাব্যস্ত করেছেন এবং তিনি বলেননি যে 'যদি তোমরা তোমাদের অন্তরে কোনো কিছুর বিশ্বাস পোষণ করো'। অতএব আল্লাহ তাআলা এই উক্তির মাধ্যমেই তাদের ওপর কুফরি আরোপ করেছেন। যা প্রমাণ করে যে, কুফরি কথা বা কুফরি বাক্য কুফরি নয় বরং তা অন্তরের বিষয়ের আলামত মাত্র - এমন কথা বাতিল। অন্তরে কী আছে তা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ জানেন না; আর কুফরি অন্তরের মাধ্যমে হয়, কথার মাধ্যমে হয় এবং কাজের মাধ্যমেও হয়। মূল কথা হলো, এই বক্তব্যটি মুরজিয়া মাযহাবের সাথে সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
السؤال التاسع:
ما حكم من يسب الله ورسوله ويسب الدين فإذا نُصح في هذا الأمر تعلَّل بالتكسب وطلب القوت والرزق، فهل هذا كافر أم هو مسلم يحتاج إلى تعزير وتعذيب؟ وهل يقال هنا بالتفريق بين السب والساب؟
الجواب:
নবম প্রশ্ন:
যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং দ্বীনকে গালি দেয়, আর যখন তাকে এই বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হয় তখন সে জীবিকা অন্বেষণ ও অন্ন-সংস্থানের অজুহাত পেশ করে—তার বিধান কী? তবে সে কি কাফির, নাকি সে একজন মুসলিম যাকে শাসন ও শাস্তি প্রদান করা প্রয়োজন? আর এখানে কি গালি এবং গালি প্রদানকারীর মধ্যে পার্থক্যের অবকাশ রয়েছে?
উত্তর:
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لا أدري ما معنى التعلل بالتكسب وطلب القوت؟! إن كان المراد أنه إذا قيل له تعلَّم الدين يتعلَّل بالكسب، التعلُّم شيء آخر لكن الآن نحكم عليه بهذا السب ونقول: من سب الله أو سب رسوله صلى الله عليه وسلم أو سب الدين فإن هذا كفر باتفاق أهل السنة والجماعة، أما مسألة التعلل بالكسب وطلب القوت إذا قيل له تعلم دينك؛ فهذا التعلل باطل ويجب على الإنسان أن يتعلم ما يقيم به دينه؛ كما أنه يطلب الكسب والقوت فيجب عليه أن يتعلم دينه؛يتعلم ما يصح به إيمانه؛ يتعلم ما أوجب الله عليه من الاعتقاد الصحيح وأن الله مستحق للعبادة وحده؛ وما أوجب الله عليه من الطهارة والصلاة والصوم والزكاة والحج، فهذا التعلل لا وجه له. فإذا قيل له: تعلَّم ما أوجب الله عليك أو اسأل العلماء عن مقالتك هل هي كفر أم غير كفر تعلل بالكسب فهذا باطل؛ لأن الكسب لا يمنع الإنسان من تعلم دينه وتعلم أن هذه المقالة كفرية أو يسأل عنها؛ لأن الكسب لا يأخذ وقتاًََ كثيرا والكسب له أوقات واسعة وليس هناك فرق بين السب والساب فنقول: من سب الله أو سب الرسول صلى الله عليه وسلم أو سب دينه فهو كافر والساب كافر؛ لأنه لا عذر له في هذا، والذي يعذر
জীবিকা নির্বাহ এবং অন্নসংস্থানের অজুহাত পেশ করার অর্থ কী তা আমি জানি না?! এর দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয় যে, তাকে যখন দ্বীন শেখার কথা বলা হয় তখন সে জীবিকা নির্বাহের অজুহাত দেয়, তবে শেখা একটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু এখন আমরা এই গালি দেওয়ার কারণে তার ওপর বিধান দেব এবং আমরা বলব: যে ব্যক্তি আল্লাহকে গালি দেয় অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয় অথবা দ্বীনকে গালি দেয়, তবে তা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐকমত্যে কুফরি। আর যখন তাকে তার দ্বীন শেখার কথা বলা হয় তখন জীবিকা নির্বাহ এবং অন্নসংস্থানের অজুহাত দেওয়ার বিষয়টি; এই অজুহাত বাতিল এবং মানুষের জন্য তা-ই শেখা ওয়াজিব যার মাধ্যমে সে তার দ্বীন প্রতিষ্ঠা করবে; ঠিক যেমন সে জীবিকা ও অন্ন অন্বেষণ করে, তেমনি তার ওপর তার দ্বীন শেখা ওয়াজিব; সে তা শিখবে যার মাধ্যমে তার ঈমান সঠিক হয়; আল্লাহ তার ওপর সঠিক আকিদার যে বিষয়গুলো ওয়াজিব করেছেন সে তা শিখবে এবং এটিও যে আল্লাহ একাই ইবাদতের যোগ্য; আর পবিত্রতা, সালাত, সিয়াম, জাকাত ও হজ সংক্রান্ত যা কিছু আল্লাহ তার ওপর ওয়াজিব করেছেন তা-ও শিখবে। সুতরাং এই অজুহাতের কোনো ভিত্তি নেই। অতএব যদি তাকে বলা হয়: আল্লাহ তোমার ওপর যা ওয়াজিব করেছেন তা শেখো অথবা তোমার বক্তব্যটি কুফরি কি না সে সম্পর্কে আলেমদের জিজ্ঞেস করো, আর তখন সে জীবিকা নির্বাহের অজুহাত দেয়, তবে তা বাতিল; কারণ জীবিকা নির্বাহ মানুষকে তার দ্বীন শেখা থেকে এবং এই বক্তব্যটি কুফরি কি না তা জানা বা সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা থেকে বিরত রাখে না; কেননা জীবিকা নির্বাহ খুব বেশি সময় নেয় না এবং উপার্জনের জন্য প্রশস্ত সময় রয়েছে। আর গালি দেওয়া এবং গালি প্রদানকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাই আমরা বলি: যে ব্যক্তি আল্লাহকে গালি দেয় অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয় অথবা তাঁর দ্বীনকে গালি দেয়, তবে সে কাফির এবং গালি প্রদানকারীও কাফির; কারণ এ ক্ষেত্রে তার কোনো অজুহাত নেই, আর যাকে ওজর দেওয়া হয়...
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فيه إنما هي الكلمات التي فيها إيهام؛ فهذا الذي يفرق فيها بين المقالة والقائل فلو تكلم الإنسان بكلم موهمة أو كلمة يحتمل أن يكون لصاحبها عذر فهذا الذي يقال فيه بالفرق بين المقالة والقائل فيقال: المقالة كفرية والقائل لا يكفر إلا إذا وجدت الشروط وانتفت الموانع وقامت عليه الحجة؛ أما من سب الله وسب رسوله صلى الله عليه وسلم وسب دينه فهذا أمر واضح لا إشكال في كفره.
এতে কেবল সেই শব্দগুলো রয়েছে যাতে অস্পষ্টতা আছে; আর এটিই সেই ক্ষেত্র যেখানে বক্তব্য ও বক্তার মধ্যে পার্থক্য করা হয়। সুতরাং যদি কোনো মানুষ অস্পষ্ট কোনো কথা বলে বা এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করে যার স্বপক্ষে বক্তার ওজর থাকার সম্ভাবনা থাকে, তবে এটিই সেই ক্ষেত্র যেখানে বক্তব্য ও বক্তার মাঝে পার্থক্যের নীতি ব্যক্ত করা হয়। তখন বলা হয়: বক্তব্যটি কুফরি, কিন্তু বক্তাকে কাফির বলা হবে না যতক্ষণ না শর্তসমূহ পূর্ণ হয়, প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে গালি দেয়, তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গালি দেয় এবং তাঁর দ্বীনকে গালি দেয়, তবে এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় এবং তার কাফির হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।
(খণ্ড: ১)
আসইলাতু ওয়া আজউিবাহ ফিল ঈমান ওয়াল কুফর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
السؤال العاشر:
إذا سب الله أو سب رسوله صلى الله عليه وسلم أو سب الدين وتعلَّل بالتكسب والرزق؛ مقصوده المجاملة كأن يقول: إذا سببت الله سيأتيني الرزق والدنيا.
الجواب:
لا شك في كفر هذا؛ لأنه كما سبق أنه من فعل الكفر قاصدا وعامدا فإنه يكفر؛ ومن فعل الكفر هازلا فإنه يكفر ومن فعله خائفا فإنه يكفر؛ وإذا فعله لقصد المال فهذا كافر بنص الآية قال الله تعالى: {مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} {ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ} .... الآية.
فأخبر الله بأن لهم حظًّا من الدنيا فقدَّموا حظ الدنيا، فالآية نصٌ في هذا الصنف من الناس وأنه إنما فعل الكفر تفضيلًا وإيثارًا للدنيا على الآخرة فيكون داخلًا في هذه الآية.
দশম প্রশ্ন:
যদি কেউ আল্লাহকে গালি দেয়, অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয়, অথবা দ্বীনকে গালি দেয় এবং উপার্জন ও রিযিকের অজুহাত দেখায়; তার উদ্দেশ্য হলো তোষামোদ করা, যেমন সে বলে: যদি আমি আল্লাহকে গালি দেই তবে আমার কাছে রিযিক এবং দুনিয়া আসবে।
উত্তর:
এমন ব্যক্তির কুফরির ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই; কারণ পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ও সজ্ঞানে কুফরি কাজ করে, সে কাফির হয়ে যায়; আর যে বিদ্রূপবশত কুফরি করে সেও কাফির হয়, এবং যে ভয়ের কারণে তা করে সেও কাফির হয়। আর যদি কেউ অর্থের উদ্দেশ্যে এটি করে, তবে সে আয়াতের অকাট্য ভাষ্য অনুযায়ী কাফির। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করে—তবে তাকে ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অটল—কিন্তু যে ব্যক্তি কুফরির জন্য নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করে দেয়, তবে তাদের ওপর আল্লাহর গজব এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা আজাব। এটা এ কারণে যে, তারা পার্থিব জীবনকে পরকালের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে" .... আয়াত।
আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের পার্থিব স্বার্থ রয়েছে এবং তারা পার্থিব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সুতরাং আয়াতটি এই শ্রেণির মানুষের ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, সে পরকালের তুলনায় দুনিয়াকে পছন্দ ও প্রধান্য দেওয়ার কারণেই মূলত কুফরি করেছে, ফলে সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে।