(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: -)
تخليص الشواهد وتلخيص الفوائد القسم: النحو والصرف
الكتاب: تخليص الشواهد وتلخيص الفوائد
المؤلف: جمال الدين أبو محمد عبد الله بن يوسف بن هشام الأنصاري (ت: 761 هـ)
المحقق: د. عباس مصطفى الصالحي (كلية التربية - بغداد)
الناشر: دار الكتاب العربي
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 515
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الأولى 1437
তখলীসুল শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: তখলীসুল শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
লেখক: জামাল উদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে হিশাম আল-আনসারী (মৃত্যু: ৭৬১ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ড. আব্বাস মুস্তাফা আল-সালিহী (শিক্ষা অনুষদ - বাগদাদ)
প্রকাশক: দার আল-কিতাব আল-আরাবি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতি: মারকাজ আল-নুখাব আল-ইলমিয়ার তত্ত্বাবধানে রাবিতাত আল-নুসসাখ দল
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১৫
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল উলা ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: -)
تخليص الشواهد وتلخيص الفوائد
تصنيف الشيخ جمال الدين أبي محمد عبد الله بن يوسف بن هشام الأنصاري
الشهير بـ "ابن هشام الأنصاري"
ت: 761 هـ
تحقيق وتعليق/
الدكتور/ عباس مصطفى الصالحي
كلية التربية - بغداد
الناشر: دار الكتاب العربي
তাখলিসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখিসুল ফাওয়াইদ
শায়খ জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন হিশাম আল-আনসারি এর সংকলন (تصنيف)
যিনি "ইবনে হিশাম আল-আনসারি" নামে পরিচিত
মৃত্যু: ৭৬১ হিজরি
সম্পাদনা (تحقيق) ও টীকা (تعليق)/
ডক্টর আব্বাস মুস্তফা আল-সালিহি
শিক্ষা অনুষদ - বাগদাদ
প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وسلم. بحمدك نستفتح يا من تفرد بالقدم، ومن فيض فضلك نستمنح، يا من اخترع الموجودات من العدم، وإليك نرغب في أن تهدي أشرف صلواتك، وأزكى تحياتك، إلى من أرسلته على فترة من الرسل، وابتعثته على انقطاع من السبل، فجاء مجيء الصبح والليل مظلم، وحلَّ محل الغيث والقفر ممحل، وأن توفقنا إلى اقتباس أنواره، واقتفاء آثاره، وأن تجعلنا خداماً لكتابك المبين، وأعواناً للمستمسكين بحبلك المتين، وأن توضح السبل الموصلة إليه، وترشدنا إلى حقائق الشواهد الدالة عليه، وأن تجعله أنيسنا في اللحود، ودليلنا إلى دار كرامتك في اليوم المشهود بمنك وكرمك، وبعد: فقد شكا إلي جماعة من الطلاب، الراغبين في تحقيق علم الاعراب، ما يجدونه من نكد الشواهد الشعرية المستشهد بها في «شرح الخلاصة الألفية»، وأنهم لم يجدوا من يحسن إيرادها، ولا من يسعف بمطلوبه مرتادها، ولا من يفتح بسعة علمه مقفلها ولا من يوضح بلطف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। হে সেই সত্তা, যিনি অনাদিত্বে অদ্বিতীয়! আপনার প্রশংসার মাধ্যমে আমরা শুরু করছি; আপনার অনুগ্রহের প্রবাহ থেকে আমরা প্রার্থনা করছি। হে সেই সত্তা, যিনি অনস্তিত্ব থেকে সকল সৃষ্টিকে উদ্ভাবন করেছেন! আপনার নিকট আমাদের আকুল আকাঙ্ক্ষা যেন আপনি আপনার সর্বোত্তম সালাত এবং পবিত্রতম সালাম বর্ষণ করেন সেই সত্তার ওপর, যাঁর প্রেরণ রাসূলগণের আগমনের দীর্ঘ বিরতিকালে এবং সরল পথসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সন্ধিক্ষণে। অতঃপর তাঁর শুভাগমন ঘটল অন্ধকার রাতে ভোরের আগমনের ন্যায়, আর তাঁর উপস্থিতি হলো শুষ্ক প্রান্তরে মুষলধারে বৃষ্টির মতো। (আমরা আরও প্রার্থনা করি) যেন আপনি আমাদের তাঁর নূর থেকে শিক্ষা গ্রহণের এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণের তাওফিক দান করেন; আমাদের আপনার সুস্পষ্ট কিতাবের সেবক এবং আপনার মজবুত রজ্জু ধারণকারীদের সহায়ক বানান। আপনি সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর পথসমূহ স্পষ্ট করে দিন এবং এর সত্যতার প্রমাণাদি (الشواهد)-এর প্রকৃত রহস্যের দিকে আমাদের পথপ্রদর্শন করুন। আপনার দান ও অনুগ্রহে একে কবরের নির্জনতায় আমাদের সঙ্গী এবং সেই মহাদিবসে আপনার সম্মাননার আবাসে পৌঁছানোর পথপ্রদর্শক হিসেবে কবুল করুন। অতঃপর: ই'রাব (বাক্য বিশ্লেষণ) শাস্ত্রে পারদর্শী হতে আগ্রহী একদল ছাত্র আমার কাছে সেই দুঃখ-কষ্টের অভিযোগ করেছে, যা তারা 'শারহুল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ' গ্রন্থে ব্যবহৃত কাব্যিক উদ্ধৃতি বা প্রমাণাদি (الشواهد) বোঝার ক্ষেত্রে অনুভব করছে। তারা এগুলোর যথাযথ উপস্থাপক খুঁজে পায়নি, পায়নি এমন কাউকেও যে অনুসন্ধানকারীর কাম্য বিষয় মেটাতে পারে, কিংবা নিজ ইলমের বিশালতায় এর জটিল বিষয়গুলো উন্মোচন করতে পারে অথবা অনুগ্রহের সাথে তা ব্যাখ্যা করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
إدراكه مشكلها، وأنهم عطشى الأكباد إلى تأليفٍ يجمع ذلك، وتصنيف يهتدون به إلى تلك المسالك، فأنشأت لهم هذا المختصر المسمى بـ «تخليص الشواهد وتلخيص الفوائد»، محتوياً على تفسير لفظها، وتحرير ضبطها، وبيان الشاهد منها، وإيراد بعض ما تقدمها من الأبيات وما تأخر عنها، أو نسيباً مستلذاً أو غزلاً، وفصلت ذلك كله مسألة مسألة، /3/ وتخيرت لها العبارة الموجزة والإشارة المستسهلة، ثم أنني رأيت أن من إتمام الفائدة، وإكمال العائدة، ألا أقتصر على شرح شواهد الشرح، ولا على مسائل تلك الشواهد، فأردفتها بشواهد كثيرة لم يشتمل عليها، ووشحتها بمسائل عديدة لم يتضمن التصريح بها، ولا الإشارة إليها، ومن الله سبحانه أستمد، وإلى ركنه الحصين أستند، على جوده العميم أعتمد، ولا حول ولا قوة إلى بالله العلي العظيم.
এর জটিল বিষয়গুলো অনুধাবন করা, এবং তাদের অন্তরসমূহ এমন এক সংকলনের প্রতি তৃষ্ণার্ত ছিল যা এসব বিষয়কে একত্রিত করবে এবং এমন একটি বিন্যাস যা দ্বারা তারা এই পথগুলোর দিশা পাবে। তাই আমি তাদের জন্য 'তাখলিসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখিসুল ফাওয়াইদ' নামক এই সংক্ষিপ্তসার (مختصر) রচনা করেছি, যা এর শব্দাবলির ব্যাখ্যা, এর নির্ভুলতা (ضبط) যাচাই, এর কাব্যিক প্রমাণ (شاهد) বর্ণনা এবং এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কিছু কাব্যচরণ অথবা চিত্তাকর্ষক প্রেমমূলক কবিতা কিংবা গজল উপস্থাপনকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমি এই সবটুকুই প্রতিটি মাসআলা (مسألة) অনুযায়ী পৃথক করেছি, /৩/ এবং এর জন্য সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ও সহজবোধ্য ইঙ্গিত পছন্দ করেছি। অতঃপর আমি অনুধাবন করলাম যে, পূর্ণ উপকারিতা ও পরিপূর্ণ সুফল লাভের জন্য শুধু মূল ব্যাখ্যার কাব্যিক প্রমাণগুলোর (شواهد) ব্যাখ্যার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, কিংবা শুধু সেই প্রমাণগুলোর মাসআলাসমূহের (مسائل) ওপর নয়; তাই আমি এর সাথে আরও অনেক কাব্যিক প্রমাণ (شواهد) যুক্ত করেছি যা এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং একে এমন অনেক মাসআলা (مسألة) দ্বারা অলঙ্কৃত করেছি যার স্পষ্ট বর্ণনা বা ইঙ্গিত সেখানে ছিল না। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁর সুদৃঢ় আশ্রয়ে ভরসা করছি, তাঁর ব্যাপক করুণার ওপর নির্ভর করছি; আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
شواهد باب الكلام وما يتألف منه
مسألة [1]قد يقصد بالكلمة الكلامكقوله عليه السلام: "أصدق كلمة قالها شاعر كلمة لبيد، ألا كل شيء ما خلا الله باطل".
وهذا الحديث في الصحيح من رواية أبي هريرة رضي الله عنه، ومن ألفاظه، أن أصدق كلمة، ومنها: أن أصدق بيت قاله الشاعر:
ألا كل شيء ما خلا الله باطل، ومنها: أصدق
'কালাম' (বাক্য) এবং তা যা দ্বারা গঠিত হয় তার অধ্যায়ের প্রমাণসমূহ
মাসআলা [১]কখনো 'কালিমা' (শব্দ) দ্বারা 'কালাম' (বাক্য) উদ্দেশ্য হতে পারেযেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "একজন কবির উচ্চারিত সবচেয়ে সত্য শব্দ হলো লাবিদের শব্দ: 'জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই অসার'।"
এই হাদিসটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী সহিহ গ্রন্থে রয়েছে। এর শব্দগত পাঠের (لفظ) মধ্যে রয়েছে: "নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য শব্দ", এবং তার মধ্যে আরও রয়েছে: "নিশ্চয়ই কোনো কবির বলা সবচেয়ে সত্য পঙক্তি:"
জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই অসার; এবং তার মধ্যে রয়েছে: সবচেয়ে সত্য
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
بيت قالته الشعراء، والثلاثة في صحيح مسلم، ومنها: أشعر وكاد أمية بن أبي الصلت أن يسلم، ومنها: أصدق بيت قالته الشعراء، والثلاثة في صحيح مسلم، ومنها: اشعر كلمة تكلمت بها العرب، أورده ابن مالك في باب الضمير من شرح التسهيل، ولبيد هو ابن ربيعة العامري، صحابي شاعر مجيد، هجر الشعر حين أسلم، واستنشده عمر، فقال: أبدلني الله خيراً منه، سورتي البقرة وآل عمران، فزاد في عطائه، قيل: وليس له في الإسلام سوى قوله: [البسيط].
(الحمد لله إذ لم يأتني أجلي
… حتى اكتسيت من الإسلام سربالاً)
وقوله:
(ما عاتب الحر الكريم كنفسه
… والمرء ينفعه القرين الصالح)
وهذه الكلمة مما قاله قبل الإسلام، ولما أنشد الشطر الأول قال له
কবিদের বলা কাব্য পঙ্ক্তি, আর এই তিনটি বর্ণনা সহিহ মুসলিম-এ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: (উমাইয়্যা) সবচেয়ে বড় কবি এবং উমাইয়্যা বিন আবিস সালত প্রায় ইসলাম গ্রহণ করেই ফেলেছিলেন। এর মধ্যে আরও রয়েছে: কবিদের বলা সবচেয়ে সত্য কাব্য পঙ্ক্তি, আর এই তিনটি বর্ণনা সহিহ মুসলিম-এ রয়েছে। এর মধ্যে আরও রয়েছে: আরবদের বলা সবচেয়ে কাব্যময় কথা। ইবনে মালিক এটি শরহে তাসহিল-এর 'জামির' (সর্বনাম) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। আর লাবিদ হলেন ইবনে রাবিআহ আল-আমিরি, তিনি একজন সুপ্রসিদ্ধ কবি ও সাহাবি (صحابي)। ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি কবিতা চর্চা বর্জন করেন। ওমর (রা.) তাকে কবিতা আবৃত্তি করতে বললে তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহ আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু—সুরা আল-বাকারা ও সুরা আলে ইমরান—বিনিময় হিসেবে দান করেছেন।" এতে তিনি (ওমর) তার ভাতা বাড়িয়ে দেন। বলা হয় যে, ইসলাম গ্রহণের পর এই পঙ্ক্তিটি ছাড়া তার আর কোনো কবিতা নেই: [আল-বাসিত ছন্দ]।
(সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেহেতু আমার মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়নি
… যতক্ষণ না আমি ইসলামের পোশাকে ভূষিত হয়েছি।)
এবং তার উক্তি:
(কোনো স্বাধীন ও সম্মানিত ব্যক্তি নিজেকে যেভাবে শাসন করে, অন্য কেউ তা পারে না
… আর সৎ সঙ্গী একজন মানুষের জন্য কল্যাণকর হয়।)
এই কথাটি তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই বলেছিলেন। আর যখন তিনি প্রথম পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করলেন, তখন তিনি তাকে বললেন:
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
/4/ عثمان بن مظعون رضي الله عنه: صدقت، فلما أنشد الثاني قال له: كذبت، إن نعيم الآخرة لا يزول.
والباطل في الأصل غير الحق، والمراد به هنا الهالك، والبيت من معنى قوله تعالى: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ} [سورة القصص: 88]، ولكن الشاعر عبّر عن الهالك بالباطل، لقصد التصريع، وهو تصريع في أثناء القصيدة.
وذكر النحويون أنه اعترض بالاستثناء بين المبتدأ والخبر، و (ما) عندهم في نحو: قام القوم ما خلا زيدا، مصدرية، ومحلها مع صلتها نصب على الحال، أي خالين عن زيد، أو على الظرف، على حذف مضاف، أي وقت خلوهم عن زيد.
وفي النهاية لابن الخباز قال شيخنا: ليس هذا باستثناء، بل (ما) زائدة، وخلا الله صفة لكل أو لشيء، والمعنى: كل شيء غير [بالرفع] أو غير [بالجر] باطل. انتهى.
وليس الشاهد في البيت، بل في الحديث مع البيت، لاشتمال الحديث
/৪/ উসমান ইবনে মাজউন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর যখন তিনি দ্বিতীয় পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন: আপনি মিথ্যা বলেছেন, নিশ্চয়ই পরকালের নেয়ামত কখনো শেষ হবে না।
মূলত 'বাতিল' হলো সত্যের বিপরীত, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ধ্বংসশীল। কবিতার এই চরণটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ প্রকাশ করে: {তাঁর সত্তা ব্যতীত প্রতিটি বস্তু ধ্বংসশীল} [সূরা আল-কাসাস: ৮৮]। তবে কবি ধ্বংসশীল বুঝাতে 'বাতিল' শব্দটি ব্যবহার করেছেন অন্ত্যমিল রক্ষার উদ্দেশ্যে; আর এটি কবিতার মধ্যস্থলে অন্ত্যমিল ব্যবহারের একটি উদাহরণ।
ব্যাকরণবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, এখানে মুক্তাদা ও খবরের মাঝখানে ব্যতিক্রম প্রকাশের মাধ্যমে ব্যবধান তৈরি করা হয়েছে। তাদের নিকট "قام القوم ما خلا زيدا" এর ন্যায় বাক্যে 'মা' হলো মাসদারিয়া। এটি তার পরবর্তী পদের সাথে মিলে 'হাল' হিসেবে নসবের অবস্থায় রয়েছে, অর্থাৎ 'যায়েদকে বাদ দেওয়া অবস্থায়'; অথবা এটি একটি উহ্য মুদাফের কারণে যরফ হিসেবে গণ্য হবে, যার অর্থ: 'তাদের থেকে যায়েদ পৃথক থাকার সময়কাল'।
ইবনুল খাব্বাজের 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আমাদের শায়খ বলেছেন: এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়, বরং এখানে 'মা' হলো অতিরিক্ত। আর 'খালাল্লাহ' শব্দটি 'কুল্লুন' অথবা 'শাইউন' পদের জন্য সিফাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়: আল্লাহ ব্যতীত প্রতিটি বস্তু—চাই তা রফ (পেশ) অবস্থায় বা জর (জের) অবস্থায় যেভাবেই পঠিত হোক না কেন—বাতিল। সমাপ্ত।
এখানে প্রামাণ্য বিষয়টি (شاهد) কেবল কবিতার চরণে নয়, বরং কবিতার চরণের পাশাপাশি হাদিসটির মধ্যেও নিহিত; কারণ হাদিসটির অন্তর্ভুক্ত বিষয়...
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
على تسمية البيت كلمة، وأول الكلمة: [الطويل].
(ألا تسألان المرء ماذا يحاول
… أنحب فيقضى أم ضلالٌ وباطل)
(أرى الناس لا يدرون ما قدرُ أمرهم
… بلى كل ذي لُب إلى الله واسل)
وبعد البيت:
(وكل أناس سوف تدخل بينهم
… دويهية تصفر منها الأنامل)
(وكل امرئ يوماً سيعلم غيبه
… إذا حصلت عند الإله المحاصل)
(إذا المرء أسرى ليلة خال أنه
… قضى عملاً والمرء ما دام عامل)
(فقولا له ان كان يقسم أمره
… ألما يعظم الدهر أمك هابل)
(فإن أنت لم ينفعك علمك فانتسب
… لعلك تهديك القرون الأوائل)
(فإن لم تجد من دون عدنان والدا
… ودون معد فلتزعك العواذل)
/5/ والبيت الأول يأتي عليه الكلام إن شاء الله تعالى في باب الموصول، ومعنى البيت الثاني: أن الناس لا يدرون ما هم فيه من خطر الدنيا وسرعة فنائها، وأن كل ذي عقل متوسل إلى الله سبحانه بصالح عمله، وقوله: واسل، معناه ذو وسيلة، مثل: لابن وتامر. وقوله: سوف تدخل، دليل على جواز وقوع (سيفعل) خبراً، وذلك جائزاً اتفاقاً إذا كان المخبر عنه مبتدأ عاماً كما في البيت، أو اسماً لأن، نحو: {إِنَّ الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ
একটি পূর্ণ চরণকে কালিমা (শব্দ) হিসেবে নামকরণের ক্ষেত্রে, আর কালিমার শুরুটি হলো: [তবিল (الطويل) ছন্দ]।
(তোমরা কি সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করবে না যে সে কী পাওয়ার চেষ্টা করছে? তা কি কোনো মানত যা পূর্ণ করা হবে, নাকি তা কেবল বিভ্রান্তি ও নিরর্থক?)
… (আমি দেখছি মানুষ তাদের বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছে না; অথচ প্রত্যেক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিই মহান আল্লাহর দিকে মাধ্যম তালাশকারী (واسل))
(আমি দেখছি মানুষ তাদের বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছে না
… অবশ্যই প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি আল্লাহর দিকে মাধ্যম তালাশকারী (واسل))
আর উক্ত চরণের পরে:
(এবং প্রত্যেক জনসমষ্টির মধ্যেই অচিরেই এমন এক মহাবিপদ প্রবেশ করবে
… যার আতঙ্কে আঙুলের অগ্রভাগ বিবর্ণ হয়ে যাবে।)
(এবং প্রত্যেক ব্যক্তি একদিন তার অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে
… যখন মহান আল্লাহর নিকট যাবতীয় আমলনামা উপস্থিত করা হবে।)
(যখন কোনো ব্যক্তি এক রাত পথ চলে সে মনে করে যে সে
… তার কাজ শেষ করেছে, অথচ মানুষ যতক্ষণ জীবিত থাকে ততক্ষণ সে আমলকারীই থাকে।)
(তাকে বলো, যদি সে তার বিষয়কে বিন্যস্ত করে থাকে
… মহাকাল কি তোমার নিকট মহিমান্বিত হয়নি? তোমার মা কি সন্তানহারা হয়েছে?)
(যদি তোমার অর্জিত জ্ঞান তোমার উপকারে না আসে, তবে তুমি বংশপরিচয় তালাশ করো
… হয়তো পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলো তোমাকে সঠিক পথ দেখাবে।)
(আর যদি তুমি আদনান ব্যতীত অন্য কোনো পিতাকে না পাও
… এবং মা'দ ব্যতীত কাউকে না পাও, তবে নিন্দুকদের তিরস্কারই তোমাকে নিবৃত্ত রাখুক।)
/৫/ প্রথম চরণটি সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ তাআলা সংযুক্ত পদ (الموصول) পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হবে। আর দ্বিতীয় চরণের অর্থ হলো: দুনিয়ার বিপদ এবং এর দ্রুত বিনাশশীলতা সম্পর্কে মানুষ যা ভাবছে তা তারা অনুধাবন করতে পারছে না; আর প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই তার সৎ আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণকারী। তাঁর উক্তি: 'ওয়াসিল' (واسل), এর অর্থ হলো মাধ্যমধারী (ذو وسيلة), যেমন: দুগ্ধধারী (لابن) এবং খেজুরধারী (تامر)। আর তাঁর উক্তি: 'অচিরেই প্রবেশ করবে' (سوف تدخل) অংশটি 'সে করবে' (سيفعل) ক্রিয়াটি খবর (خبر) হিসেবে ব্যবহারের বৈধতার প্রমাণ। আর এটি সর্বসম্মতভাবে (اتفاقاً) বৈধ যখন যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে তা একটি সাধারণ মুক্তদা (مبتدأ) হয় যেমনটি এই চরণে রয়েছে, অথবা 'ইন্না'-এর ইসিম (اسم) হয়, যেমন: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে...}
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
سيجعل لهم الرحمن ودا} ويمتنع عند ابن الطراوة وتلميذه السهيلي في غير ذلك، نحو: زيد سيقوم، والأكثرون على الجواز، بدليل قوله: [الطويل].
(فلما رأته أمنا هان وجدها
… وقالت أبونا هكذا سوف يفعل)
وقوله: دويهية، استدل به الكوفيون على ثبوت تصغير التعظيم؛ إذ المعنى: داهية عظيمة، وأجيب بأنها إنما صغرت لدقتها وخفائها، فهو راجع إلى معنى التقليل، وفي (المحكم) أنه يروى: خويخية، بمعجمتين، بمعنى دويهية.
وقوله: فإن أنت، أصله: فإن إياك، ثم أناب المرفوع عن المنصوب كقراءة الحسن: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} [سورة الفاتحة: 5]، = إياك (يعبد)، وفيه أوجه آخر.
{পরম করুণাময় তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন}। এটি ইবনুত তারওয়াহ এবং তাঁর ছাত্র আস-সুহাইলি-র নিকট অন্যান্য ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ, যেমন: 'যায়েদ শীঘ্রই দণ্ডায়মান হবে'। তবে অধিকাংশ আলেম এটি বৈধ (جواز) হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, যার প্রমাণ কবির এই পংক্তি: [তবীল ছন্দ]:
(যখন আমাদের মা তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁর মনোবেদনা লাঘব হলো
… এবং তিনি বললেন: আমাদের পিতা এভাবেই করবেন)
এবং তাঁর উক্তি: 'দুয়াইহিয়্যাহ' (বিপদ), কুফাবাসী ভাষাবিদগণ এর মাধ্যমে মহত্ত্ব প্রকাশকারী ক্ষুদ্রতাজ্ঞাপক বিশেষ্য (تصغير التعظيم) সাব্যস্ত করার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন; কেননা এর অর্থ হলো: এক মহাবিপদ। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, একে তাসগির বা ক্ষুদ্রতা জ্ঞাপক করা হয়েছে এর সূক্ষ্মতা ও গোপনীয়তার কারণে, যা মূলত স্বল্পতা (تقليل) জ্ঞাপক অর্থের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, এটি দুই নুকতাহযুক্ত বর্ণ (بمعجمتين) সহকারে 'খুখাইখিয়্যাহ' শব্দে বর্ণিত (يروى) হয়েছে, যার অর্থ 'দুয়াইহিয়্যাহ'।
এবং তাঁর উক্তি: 'ফাইন আন্তা', এর মূল রূপ হলো: 'ফাইন ইয়্যাকা', অতঃপর মানসুব (منصوب) পদের পরিবর্তে মারফু (مرفوع) পদকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে; যেমনটি আল-হাসানের কিরাত (قراءة) এ রয়েছে: {ইয়্যাকা নাবুদু} [সূরা আল-ফাতিহা: ৫], অর্থাৎ ইয়্যাকা (ইয়াবুদু বা তাঁরই ইবাদত করা হয়), এবং এর আরও কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
ومعنى البيتين الأخيرين: أن غايةالإنسان الموت، فينبغي له أن يتعظ بأن ينسب نفسه إلى عدنان أو معد، فإن لم يجد من بينه وبينهما من الأباء باقياً فليعلم أنه يصير إلى مصيرهم، فينبغي له أن ينزع عما هو عليه. ويقال: وزعه يزعه إذا كفه، والعواذل هنا حوادث الدهر وزواجره، وإسناد العذل إليها مجاز، ونصب (دون) بالعطف على محل (من دون)؛ لأن معنى: إن لم تجد من دون عدنان، وإن لم تجد دون عدنان، واحد.
مسألة [2]/6/ تسميتهم الكلام كلمة مجاز من باب تسمية الشيء باسم بعضه كتسمية القصيدة قافية، قال: [الوافر].
(وكم علمته نظم القوافي
… فلما قال قافية هجاني)
وقبله:
(أعلمه الرماية كل يوم
… فلما استد ساعده رماني)
و (استد) بالسين المهملة، من السداد، ومن أعجمها فقد صحف و (كم) خبرية بمعنى كثير، وتمييزها محذوف، وإعرابها بحسبه، فإن قدّرت:
وكم وقت، فهي ظرف، أو كم تعليم، فهي مفعول مطلق، و (نظم) مفعول ثان؛ لأن (علّم) منقول بالتضعيف من (علم) بمعنى عرف.
শেষ দুটি পংক্তির অর্থ হলো: মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মৃত্যু, তাই তার উচিত এই থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা যে সে নিজেকে আদনান বা মাআদ-এর বংশধরের সাথে সম্পর্কিত করবে। যদি সে নিজের এবং তাদের মধ্যবর্তী পূর্বপুরুষদের মধ্য থেকে কাউকে অবশিষ্ট না পায়, তবে তার জেনে রাখা উচিত যে সে তাদের পরিণতির দিকেই ধাবিত হচ্ছে। অতএব, তার উচিত বর্তমান অবস্থা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করা। বলা হয়ে থাকে: 'ওয়াযাআহু ইয়াযাউহু' যখন সে তাকে বিরত রাখে। এখানে 'ভর্ৎসনাকারীগণ' (আওয়াযিল) বলতে মহাকালের বিবর্তন ও তার সতর্কবাণীসমূহকে বোঝানো হয়েছে এবং এদের প্রতি ভর্ৎসনার সম্বন্ধ করাটি একটি রূপক (مجاز)। আর 'দুন' শব্দটি 'মিন দুন'-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে সংযোজনের কারণে নসব প্রাপ্ত হয়েছে; কারণ 'যদি তুমি আদনান ব্যতীত কাউকে না পাও' এবং 'যদি তুমি আদনান ছাড়া কাউকে না পাও'—উভয় বাক্যের অর্থ একই।
মাসয়ালা [২]/৬/ কোনো কথাকে 'কালিমা' (শব্দ) হিসেবে অভিহিত করা একটি রূপক (مجاز), যা মূলত কোনো বস্তুকে তার একাংশের নামে নামকরণ করার অন্তর্ভুক্ত, যেমন পুরো কবিতাকে 'কাফিয়া' বা অন্ত্যমিল বলা হয়, কবি বলেন: [ওয়াফির ছন্দ]।
(আমি তাকে কতই না কাব্য রচনা শিখিয়েছি... অথচ যখনই সে একটি অন্ত্যমিল বা পংক্তি বলতে পারল, তখনই সে আমার নিন্দা করল)
এবং এর পূর্ববর্তী পংক্তিটি হলো:
(আমি তাকে প্রতিদিন তীর চালনা শেখাতাম... কিন্তু যখনই তার বাহু শক্তিশালী হলো, সে আমাকেই লক্ষ্য করে তীর ছুড়ল)
এখানে 'ইসতাদ্বা' শব্দটি নুকতাহীন 'সিন' বর্ণ দিয়ে গঠিত, যা 'সাদাদ' (সঠিক হওয়া) ধাতু থেকে আগত। যে ব্যক্তি একে নুকতাহযুক্ত বর্ণ দিয়ে পাঠ করবে, সে মূলত শব্দবিকৃতি (تصحيف) করেছে। আর 'কাম' শব্দটি এখানে সংবাদবাচক যা 'অনেক' অর্থ প্রদান করে এবং এর বিশেষণীয় পদটি এখানে উহ্য। এর কারক বিভক্তি উহ্য পদ অনুযায়ী হবে; যদি আপনি 'কত সময়' ধরে নেন তবে তা কালবাচক অব্যয় হবে, অথবা যদি 'কতবার শিক্ষা দান' ধরে নেন তবে তা ক্রিয়াজাত কর্ম হবে। আর 'নাজম' শব্দটি এখানে দ্বিতীয় কর্মপদ; কারণ 'আল্লামা' শব্দটি 'আলিমা' (জানা) ধাতু থেকে তাশদীদযুক্ত হয়ে রূপান্তরিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
مسألة [3]تنوين الترنمهو المبدل من حرف الإطلاق، كقوله: [الزجر].
(يا صاح ما هاج العيوم الذرفن
… من طلل كالأتحميٌ انهجنْ)
كذا قال الشارح، وقد وقع له ولغيره في هذا الموضع وهمان، أحدهما: تسمية هذا التنوين تنوين الترنم، والصواب: تنوين ترك الترنم، إذ الترنم إنما هو في أحرف الإطلاق، قال سيبويه: أما إذا ترنموا فإنهم يلحقون الألف والواو والياء؛ لأنهم أرادوا مدّ الصوت، وإذا أنشدوا ولم يترنموا، فأهل الحجاز يدعون القوافي على حالها في الترنم، وناس كثير من بني تميم يبذلون مكان المدة النون. انتهى، وكذا قال ابن السراج وغيرهما.
والوهم الثاني اعتقاد أن المصراعين من ارجوزة واحدة، وذلك غير متأت، لاختلاف رويهما بالفاء والجيم، ويتضح لك ذلك إذا استعملتها بحرف الإطلاق، والصواب أنهما من ارجوزتين، والأول صدر الأرجوزة، وبعده:
মাসআলা [৩]সুরের তানউইন (تنوين الترنم)এটি হলো সম্প্রসারণ বর্ণের (حرف الإطلاق) স্থলাভিষিক্ত হওয়া বর্ণ, যেমন কবির উক্তি: [আল-যাজর ছন্দ]।
(হে বন্ধু! অশ্রুসিক্ত নয়নকে কী ব্যাকুল করল
… জীর্ণ হয়ে যাওয়া আল-আতহামি কাপড়ের ন্যায় ধ্বংসাবশেষ থেকে)
ভাষ্যকার এমনটিই বলেছেন। তবে এই স্থানে তাঁর এবং অন্যদের পক্ষ থেকে দুটি ভুল সংঘটিত হয়েছে। প্রথমটি হলো: এই তানউইনকে সুরের তানউইন (تنوين الترنم) হিসেবে নামকরণ করা। অথচ সঠিক হলো: সুর বর্জনের তানউইন (تنوين ترك الترنم); কারণ সুর মূলত সম্প্রসারণ বর্ণসমূহের (أحرف الإطلاق) মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সিবওয়াইহি বলেছেন: "বস্তুত যখন তারা সুর দেয়, তখন তারা আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া যুক্ত করে; কারণ তারা ধ্বনিকে দীর্ঘায়িত করতে চায়। আর যখন তারা সুরহীনভাবে আবৃত্তি করে, তখন হিজাজবাসীরা অন্ত্যমিলসমূহকে (قوافي) সুর প্রদানের অবস্থার ন্যায় বহাল রাখে, এবং বনু তামীম গোত্রের অনেক মানুষ দীর্ঘস্বরের (مدة) স্থলে নুন যুক্ত করে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইবনুল সাররাজ এবং অন্যান্যরাও অনুরূপ বলেছেন।
দ্বিতীয় ভুলটি হলো—এই বিশ্বাস করা যে, চরণদ্বয় (مصراعين) একই আরজুযাহ কবিতার অন্তর্ভুক্ত। অথচ ফা এবং জিম বর্ণের ভিন্নতার কারণে তাদের মূল অন্ত্যমিল বর্ণ (روي) আলাদা হওয়ায় তা সম্ভব নয়। আপনি যখন এগুলোকে সম্প্রসারণ বর্ণ (حرف الإطلاق) সহযোগে প্রয়োগ করবেন, তখন বিষয়টি আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে। সঠিক হলো, এই চরণদ্বয় দুটি ভিন্ন আরজুযাহদ্বয় (أرجوزتين) থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রথমটি হলো একটি আরজুযাহর প্রথম চরণ (صدر), এবং এর পরবর্তী অংশ হলো:
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
(من طلل أمسى يحاكي المصحفا)
والثاني ثاني شطري الأخرى، وقبله:
(ما هاج أحزاناً وشجواً قد شجا)
وكلاهما /7/ للعجاج، وهو عبد الله بن رؤبة التميمي الراجز، ولقب العجاج لقوله:
(حتى يعج عندها من عجعجا)
روى عن أبي هريرة أحاديث، وقال له سليمان بن عبد الملك: أنك لا تحسن الهجاء، فقال:
إن لنا أعلاماً تمنعنا أن نظلم وأحساباً تمنعنا أن نظلم وهل رأيت بانياً لا يحسن أن يهدم؟
و (صاح) منادى مرخم على لغة من ينتظر، ولم يسمع ترخيمه على لغة التمام، وأصله صاحب، وترخيمه شاد؛ لأنه ليس بعلم، ولا ذي تأنيث، وقيل: أصله صاحبي، فرخم بحذف المضاف إليه، ثم رخم بحذف آخر المضاف، وليس بشيء. و (ما) استفهام مبتدأ، وفاعل (هاج) ضمير ما، وهاج يتعدى ولا يتعدى، تقول: هاج الحزن، وهاجه التذكار، والمعنى:
(এমন এক ধ্বংসাবশেষ থেকে যা এখন পবিত্র মাসহাফের অনুরূপ)
দ্বিতীয়টি অন্যটির দ্বিতীয় পংক্তি, আর তার পূর্বে রয়েছে:
(যা দুঃখ-বেদনা ও মনস্তাপকে নাড়া দিয়েছে যা আগে থেকেই ব্যথিত ছিল)
এই উভয় পংক্তিই আল-আজ্জাজের, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে রু’বাহ আত-তামিমি আর-রাজজ। তাঁর নিম্নোক্ত উক্তির কারণে তাঁকে ‘আল-আজ্জাজ’ উপাধি দেওয়া হয়েছে:
(এমনকি সেখানে উচ্চস্বরে চিৎকারকারী চিৎকার করতে থাকে)
তিনি আবু হুরায়রা থেকে বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক তাঁকে বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই তুমি ব্যঙ্গাত্মক কবিতা ভালো পারো না।” উত্তরে তিনি বললেন:
“নিশ্চয়ই আমাদের এমন সুউচ্চ নিদর্শন রয়েছে যা আমাদের ওপর জুলুম করতে বাধা দেয় এবং এমন বংশগৌরব রয়েছে যা আমাদের অন্য কারো ওপর জুলুম করা থেকে বিরত রাখে। আপনি কি কখনও এমন কোনো নির্মাতাকে দেখেছেন যে ধ্বংস করতে জানে না?”
এবং (صاح) শব্দটি হলো সংক্ষেপিত সম্বোধন (মুনাদা মুরাখখাম) তাদের ভাষা অনুযায়ী যারা মূল শব্দের শেষাংশ ফেরার অপেক্ষায় থাকে। পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের রীতিতে এর সংক্ষেপায়ন শোনা যায়নি। এর মূল শব্দ হলো ‘সাহিব’, আর এর সংক্ষেপায়ন হলো ব্যতিক্রমী (شاذ); কারণ এটি কোনো সংজ্ঞাবাচক নাম নয় এবং এতে কোনো স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্নও নেই। কেউ কেউ বলেছেন: এর মূল হলো ‘সাহিবী’, অতঃপর সম্বন্ধপদ (মুদাফ ইলাইহি) বিলুপ্ত করার মাধ্যমে একে সংক্ষেপ করা হয়েছে, এরপর মূল শব্দের শেষ অংশ বিলুপ্ত করে সংক্ষেপ করা হয়েছে; তবে এই মতটি গুরুত্বহীন। আর (ما) হলো প্রশ্নবোধক অব্যয় যা উদ্দেশ্য (মুবতাদা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, ‘হাজ’ ক্রিয়ার কর্তা (ফায়েল) হলো ‘মা’ এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম। ‘হাজ’ শব্দটি অকর্মক ও সকর্মক উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: দুঃখ জেগে উঠেছে, এবং স্মৃতি তাকে ব্যথিত করেছে। আর এর অর্থ হলো:
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
أي شيء هيّج الدموع، والجملة خبر ما، والذرف، بالذال المعجمة، جمع ذارف، اسم فاعل من ذرف الدمع، كضرب، بمعنى سال، وإسناد الذروف إلى ضمير العيون مجاز عقلي، مثل: {تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ} [سورة البقرة: 25]، ويروي الدموع بدل العيون، فالاسناد حقيقة، و (من) للابتداء، وتعلقها بهاج. و (الطلل) ما شخص من آثار الديار، وجمعه أطلال، وطلول، و (الأتحمي) بهمزة مفتوحة فتاء مثناة فحاء مهملة مفتوحة: برد يمنّي، وتشبه به الأطلال من أجل الخطوط التي فيه كما تشبه بالمصحف، لذلك، وانهج الثوب، بالنون والجيم: أخذ في البلى، قال: [الطويل].
(فما زال بردي طيباً من ثيابها
… إلى الحول حتى انهج البرد باليا)
والظرف صفة لطلل، وأنهج حال من الأتحمي، أو صفة له؛ لأن تعريفه جنسي.
مسألة [4]/8/ التنوين الغالي اللاحق للروي المقيد.
أي الذي ليس ألفاً ولا واواً ولا ياءً، كقوله: [الرجز].
কোন বস্তু অশ্রুকে উদ্বেলিত করেছে? বাক্যটি 'মা' (কী) এর সংবাদ (খবর)। 'আয-যারফ' শব্দটি নুকতাযুক্ত 'যাল' বর্ণ সহযোগে গঠিত; এটি 'যারফ' এর বহুবচন, যা 'অশ্রু প্রবাহিত হওয়া' অর্থে 'দারাবা' ওজনের কর্তৃবাচক বিশেষ্য থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রবাহিত হওয়া। আর প্রবাহিত হওয়ার এই সম্বন্ধ (إسناد) চক্ষুসমূহের সর্বনামের দিকে করা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়} [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৫]। এখানে 'চক্ষুসমূহ' এর পরিবর্তে 'অশ্রুসমূহ' শব্দটিও বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে এই সম্বন্ধ (إسناد) হবে প্রকৃত। আর 'মিন' শব্দটি প্রারম্ভিকতা নির্দেশ করে এবং তা 'হাজা' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। 'আত-তালাল' হলো বসতবাড়ির ধ্বংসাবশেষের দৃশ্যমান চিহ্ন, এর বহুবচন হলো 'আতলাল' এবং 'তুলুল'। 'আল-আতাহমি' শব্দটি যবরযুক্ত হামযা, দুই নুকতাযুক্ত 'তা' এবং নুকতাহীন যবরযুক্ত 'হা' সহযোগে গঠিত: এটি একটি ইয়ামানি চাদর। গৃহের ধ্বংসাবশেষকে এর সাথে তুলনা করা হয় এতে থাকা রেখা বা নকশার কারণে, যেমনটি সেগুলোকে মাসহাফের সাথে তুলনা করা হয়। 'আনহাজাস সাওব' শব্দটি 'নুন' ও 'জীম' যোগে গঠিত: এর অর্থ কাপড়টি জীর্ণ হতে শুরু করেছে। কবি দীর্ঘ (তবিল) ছন্দে বলেন:
(তার পোশাকের সংস্পর্শে আমার চাদরটি এক বছর পর্যন্ত সুগন্ধিময় ছিল … অবশেষে চাদরটি জীর্ণ ও পুরোনো হয়ে গেল)
আর 'আয-যারফ' শব্দটি 'তালাল' এর বিশেষণ, এবং 'আনহাজা' শব্দটি 'আল-আতাহমি' থেকে অবস্থাজ্ঞাপক (হাল) অথবা তার বিশেষণ; কারণ এটি জাতিবাচক অর্থ প্রদান করে।
মাসয়ালা (مسألة) [৪]/৮/ তানউইন গালি যা আবদ্ধ অন্ত্যমিল বর্ণের অনুগামী হয়।.
অর্থাৎ যা আলিফ, ওয়াও বা ইয়া নয়, যেমন কবির উক্তি: [রাজায ছন্দ]।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وقاتم الأعماق خاوى المخترقن.
وإنما سمي غالياً لأنه زيادة على الوزن، والغلو في اللغة الزيادة، والأخفش يسمي الحركة التي قبله غلواً، وهي الكسرة؛ لأنها الأصل في حركة التقاء الساكنين، وكقوله: يومئذٍ، وصه، فكسروا ما قبل التنوين.
وزعم ابن الحاجب أنه إنما سمى التنوين غالباً لقلته، وأن الأولى أن تكون الحركة قبله فتحة كما في نحو: أضربا، وأن هذا أولى من أن يقاس على يومئذٍ؛ لأن ذاك له أصل في المعنى، وهو العوض من المضاف إليه، ولنا أنه لا يعرف غلا الشيء بمعنى قلّ، ولكن غلو قيمة الشيء لازمة عن قلة وجوده، وأما غلا بمعنى زاد فثابت، فتفسيرنا أولى، وكذلك قياس التنوين على التنوين أولى لاتحاد جنسهما ولأنهما يكونان في الاسم، والنون لا تكون إلا في الفعل، ثم إن فتحة (أضربا) للتركيب كما في خمسة عشر لا لالتقاء الساكنين بدليل لتضربن، وبدليل ردهم حرف العلة في نحو: قومن وأقعدن بخلاف نحو: {قُمِ اللَّيْلَ} [سورة المزمل: 2]، قال: [الطويل].
(فلا تقبلن ضيماً مخافة ميتة
… وموتاً بها حراً وجلدك أملس)
অন্ধকারাচ্ছন্ন গভীর তলদেশ এবং জনশূন্য পথ।
একে ‘গালি’ (غالياً) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি ছন্দের মাত্রার ওপর অতিরিক্ত (زيادة); আর আভিধানিক অর্থে ‘গুলুউ’ শব্দের অর্থ হলো বৃদ্ধি (الزيادة)। আল-আখফাশ এর পূর্ববর্তী হরকাহ বা স্বরচিহ্নকেও ‘গুলুউ’ (غلواً) বলে অভিহিত করেছেন, যা হলো কাসরাহ (الكسرة); কারণ দুই সাকিনের মিলনের (التقاء الساكنين) ক্ষেত্রে কাসরাহই হলো মূল হরকাহ। যেমন তাঁর উক্তি: ‘ইয়াওমাইযিন’ এবং ‘সাহ’, যেখানে তাঁরা তানউইন (التنوিন)-এর পূর্বের বর্ণে কাসরাহ প্রদান করেছেন।
ইবনুল হাজিব দাবি করেছেন যে, তানউইন (التنوিন)-কে ‘গালি’ নামকরণ করা হয়েছে এর স্বল্পতার (قلته) কারণে। তিনি মনে করেন এর পূর্বের হরকাহ ফাতহা (فتحة) হওয়াই অধিকতর যুক্তিযুক্ত (الأولى), যেমনটি ‘আদ্বরিবান’ শব্দে দেখা যায়। তাঁর মতে ইয়াওমাইযিন-এর ওপর কিয়াস (قياس) করার চেয়ে এটিই শ্রেয়; কারণ সেটির একটি অর্থগত ভিত্তি রয়েছে, যা হলো মুদওয়াফ ইলাইহি (المضاف إليه)-এর পরিবর্তে বিনিময় (العوض) হিসেবে আসা। আমাদের পক্ষ থেকে উত্তর হলো, ‘গালা’ শব্দটি ‘কমে যাওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত হয় না; তবে কোনো জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া (غلو) তার দুষ্প্রাপ্যতার আবশ্যিক ফল হতে পারে। কিন্তু ‘গালা’ শব্দের অর্থ যে বৃদ্ধি পাওয়া (زاد), তা সুপ্রমাণিত; সুতরাং আমাদের ব্যাখ্যাটিই অধিকতর সঠিক (أولى)। তেমনিভাবে এক তানউইন (التنوিন)-কে অন্য তানউইন (التنوিন)-এর ওপর কিয়াস (قياس) করা অধিক যুক্তিযুক্ত তাদের শ্রেণিগত ঐক্যের কারণে এবং যেহেতু তারা উভয়ই বিশেষ্য (الاسم)-এর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, আর নুন (النون) কেবল ক্রিয়া (الفعل)-এর সাথেই যুক্ত হয়। তদুপরি, ‘আদ্বরিবান’ শব্দের ফাতহা (فتحة) মূলত গঠনগত (التركيب) কারণে হয়েছে, যেমনটি ‘খামসাতা আশারা’ শব্দে দেখা যায়, এটি দুই সাকিনের মিলনের (التقاء الساكنين) জন্য নয়; যার প্রমাণ হলো ‘লাতাদ্বরিবান্না’। এর আরেকটি প্রমাণ হলো ‘ক্বুমান’ এবং ‘আক্বউদান’ এর মতো শব্দে দুর্বল বর্ণের (حرف العلة) প্রত্যাবর্তন, যা {কুমি আল-লায়লা} [সূরা আল-মুয্যাম্মিল: ২] আয়াতের পরিপন্থী। তিনি তওয়ীল ছন্দে বলেছেন:
(মৃত্যুর ভয়ে কোনো লাঞ্ছনা গ্রহণ করো না
… বরং স্বাধীন ও সম্মানিত অবস্থায় মৃত্যুকে বরণ করো যখন তোমার গায়ের চামড়া মসৃণ)
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وفائدة هذا التنوين التطريب والتغني عند ابن يعيش، وجعله ضرباً من تنوين الترنم، وزعم أن تنوين الترنم يراد به ذلك، وقد مضى أن ذلك وهم.
وقال عبد القاهر: فائدته الإيذان بأن المتكلم واقف؛ لأنه إذا أنشد عجلاً والقوافي ساكنة لم يعلم أواصل هو أم واقف؟
وأنكر هذا التنوين الزجاج والسيرافي، وزعما أن رؤبية كان يزيد في أواخر الأبيات (أن)، فلما ضعف صوته بالهمزة لسرعة الإيراد ظن السامع أنه نون.
ইবনে ইয়াইশের মতে এই তানভীনের (تنوين) উপকারিতা হলো সুর ও ছন্দ সৃষ্টি করা; তিনি একে এক প্রকারের তানভীনুত তারাননুম (تنوিন الترنم) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তানভীনুত তারাননুম (تنوين الترنم) দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য। তবে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, এই ধারণাটি একটি ভ্রম।
আব্দুল কাহির বলেন: এর উপকারিতা হলো বক্তা যে বিরতি নিচ্ছেন তা অবগত করা; কারণ তিনি যখন দ্রুত কবিতা আবৃত্তি করেন এবং চরণের অন্ত্যমিলগুলো সুকুনযুক্ত (ساكنة) থাকে, তখন তিনি কি মিলিয়ে পড়ছেন নাকি বিরতি দিচ্ছেন তা স্পষ্ট হয় না।
আয-যাজ্জাজ এবং আস-সিরাফী এই তানভীনকে (تنوين) অস্বীকার করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন যে, রু’বাহ কবিতার চরণের শেষে ‘আন’ (أن) বৃদ্ধি করতেন; অতঃপর দ্রুত পাঠের দরুন যখন হামযা (همزة) উচ্চারণে তাঁর কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে পড়ত, তখন শ্রোতা মনে করত যে এটি নুন (نون)।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
قال الناظم: "وهذا تقرير صحيح مخلص من زيادة ساكن /9/ على ساكن بعد تمام الوزن"، قلت: لكن فيه توهيم الرواة الضابطين بمجرد الاحتمال المرجوح، وليس هذا التنوين في أواخر الأبيات بأبعد من الخزم في أوائلها. وهذا البيت أول أرجوزة شهيرة لرؤبة بن العجاج المتقدم ذكره، وبعده:
(مشتبه الأعلام لمّاع الخفق
… يكل وفد الريح من حيث انخرق)
و (القاتم) بالقاف والتاء المثناة: المغبر، والقتام، بالفتح: الغبار، وهو صفة لمحذوف، وجره برب محذوفة، والأصل: ورب بلد قاتم، والواو عاطفة على شيء قدره في نفسه؛ إذ لا شيء قبله في اللفظ فيعطف عليه.
واستدل بظاهره من زعم أن الواو هي الخافضة، وليست عاطفة، وأنها المفيدة لمعنى رب. واحتج الجماعة بأن العاطف لا يدخل عليه بخلاف واو القسم، نحو {فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ} [سورة الحجر: 92].
(والأعماق) بالمهلة: جمع عمق، بضم العين وفتحها: ما بعد من أطراف المفاوز، مستعار من عمق البئر وعمقها.
و (الخاوي) بالمعجمة: الخالي. و (المخترق)، بضم الميم وبالمعجمة والمثناة والراء المفتوحة: الممر؛ لأن المار يخترقه.
নাযিম (কবিতা রচয়িতা) বলেন: "এটি একটি সঠিক (صحيح) বর্ণনা যা ওযন পূর্ণ হওয়ার পর একটি সুকুনবিশিষ্ট বর্ণের ওপর অতিরিক্ত সুকুন হওয়া থেকে মুক্ত", আমি বলি: কিন্তু এতে কেবল দূরবর্তী সম্ভাবনার ভিত্তিতে প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (الضابطين) বর্ণনাকারীগণকে (الرواة) ভ্রম সাব্যস্ত করার (توهيم) বিষয়টি রয়েছে; আর পঙক্তির শেষে এই তানউইন ব্যবহার করা তার শুরুতে 'খাযম' (الخزم) ব্যবহারের চেয়ে বেশি দূরবর্তী কিছু নয়। আর এই পঙক্তিটি পূর্বে উল্লিখিত রু'বাহ ইবনুল আজ্জাজ-এর একটি বিখ্যাত 'আরজুযাহ'-এর প্রথম অংশ, এবং এর পরের অংশটি হলো:
(অস্পষ্ট নিশানাসমূহ, চমকপ্রদ কম্পন
… যেখান থেকে বায়ুর প্রবাহ বিদীর্ণ হয় সেখানে বায়ুর ঝাপটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে)
আর 'আল-কাতিম' (القاتم) 'কাফ' এবং দুই নুক্তাবিশিষ্ট 'তা' সহযোগে: ধূলিমলিন; আর 'আল-কাতাম' (القتাম) জবর সহযোগে: ধূলিকণা। এটি একটি উহ্য শব্দের গুণবাচক বৈশিষ্ট্য (صفة), এবং একে উহ্য 'রুব্বা' (رب) দ্বারা জের প্রদান করা হয়েছে। মূলত বাক্যটি ছিল: 'ওয়া রুব্বা বালাদিন কাতিমিন' (আর কতই না ধূলিমলিন শহর)। আর এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি মনে মনে উহ্য রাখা কোনো বিষয়ের ওপর সংযোজক (عاطفة); কারণ এর পূর্বে শাব্দিক অর্থে এমন কিছু নেই যার ওপর একে আতফ (عطف) করা যায়।
এর বাহ্যিক রূপ থেকে তারা দলীল পেশ করেছেন যারা মনে করেন যে, এখানে 'ওয়াও' বর্ণটিই জের প্রদানকারী (خافضة), এবং এটি সংযোজক (عاطفة) নয়; বরং এটি 'রুব্বা' (رب)-এর অর্থ প্রদান করে। আর জমহুর উলামাগণ (الجماعة) দলীল দিয়েছেন যে, সংযোজক (عاطف) বর্ণের ওপর অন্য কোনো সংযোজক প্রবেশ করে না, যা শপথের 'ওয়াও'-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন। যেমন: {অতঃপর তোমার রবের শপথ, আমি অবশ্যই তাদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করব} [সূরা আল-হিজর: ৯২]।
আর 'আল-আ'মাক' (الأعماق) নুক্তাবিহীন (مهملة) বর্ণসহ: এটি 'উমক' (عمق)-এর বহুবচন, 'আইন' বর্ণে পেশ অথবা জবর সহযোগে: মরুভূমির শেষ প্রান্তের দূরবর্তী স্থান; যা কূয়ার গভীরতা শব্দ থেকে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আর 'আল-খাভি' (الخاوي) নুক্তাবিশিষ্ট (معجمة) বর্ণ সহযোগে: শূন্য বা খালি। আর 'আল-মুখতারাক' (المخترق) 'মিম' বর্ণে পেশ, নুক্তাবিশিষ্ট (معجمة) বর্ণ, দুই নুক্তাবিশিষ্ট 'তা' এবং 'রা' বর্ণে জবর সহযোগে: পথ বা পারাপারের স্থান; কারণ পথচারী এটি অতিক্রম করে।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
و (الأعلام)، جمع علم بفتحتين: وهي الجبال وكل ما يهتدي به، يريد أن اعلامه يشبه بعضها بعضاً، فلا يحصل الاهتداء بها للسالكين. و (الخفق): الاضطراب، وهي في الأصل بسكون الفاء، وإنما حرك للضرورة، يريد أنه يلمع فيه السراب ويضطرب، و (وفد الريح): أولها: مثل وفد القوم، وهذا تمثيل، وإذا اتسع الموضع فترت فيه الريح، وإذا ضاق اشتدت، ومنها أيضاً:
(فيها خطوط من سواد وبلق
… كأنه في الجلة توليع البهق)
و (التوليع): ألوان شتى. و (البهق): بياض يخرج في عنق الإنسان وصدره، قال أبو عبيدة /10/ معمر: قلت لرؤبة، إن أردت بقولك كأنه كان الخطوط فقل: كأنها، أو كأن السواد والبلق فقل: كأنهما، فقال: أردت كأن ذلك، ومنها:
لواحق الأقراب فيها كالمقق
ويأتي شرحه إن شاء الله تعالى في باب حروف الجر.
شواهد باب المعرب والمبني.
مسألة [5]ذو على وجهين.
بمعنى صاحب فتستعمل بالواو والألف والياء، وبمعنى الذي، والأعرف فيها البناء، كقوله: [الطويل].
এবং (الأعلام), যা 'আলম' (علم) শব্দের বহুবচন (উভয় বর্ণে ফাতাহ বা জবর যোগে): এটি পর্বতসমূহ এবং প্রতিটি ওই বস্তুকে বোঝায় যার মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ করা হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, এর চিহ্নগুলো একে অপরের সদৃশ, ফলে পথচারীদের পক্ষে এগুলোর মাধ্যমে সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় না। এবং (الخفق): অস্থিরতা বা কম্পন (الخفق), এটি মূলত 'ফা' বর্ণে সুকুন যোগে গঠিত, তবে কাব্যিক প্রয়োজনে একে হরকত প্রদান করা হয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, সেখানে মরীচিকা চমকায় ও আন্দোলিত হয়। এবং (وفد الريح): বায়ুর প্রারম্ভিক প্রবাহ: এটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের মতো। এটি একটি রূপক (تمثيل) প্রয়োগ। যখন স্থান প্রশস্ত হয় তখন বায়ু সেখানে মন্থর হয়ে যায়, আর যখন সংকীর্ণ হয় তখন তা প্রবল হয়ে ওঠে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো:
(তাতে কালো ও সাদার রেখা রয়েছে
… যেন তা চামড়ার পাত্রে শ্বেত রোগের বিচিত্র বর্ণের ন্যায়)
এবং (التوليع): বিচিত্র বর্ণ (التوليع)। এবং (البهق): শুভ্রতা (البهق) যা মানুষের ঘাড় ও বুকে প্রকাশ পায়। আবু উবাইদা /১০/ মুয়াম্মার বলেন: আমি রু'বাহ-কে বললাম, আপনি যদি আপনার উক্তি 'কআন্নাহু' দ্বারা রেখাগুলোকে বুঝিয়ে থাকেন তবে 'কআন্নাহা' বলুন, অথবা যদি কালো ও সাদার সংমিশ্রণ বুঝিয়ে থাকেন তবে 'কআন্নাহুমা' বলুন। তিনি উত্তরে বললেন: আমি 'কআন্না যালিকা' (যেন বিষয়টি এমন) বুঝিয়েছি। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো:
পার্শ্বদেশগুলো অত্যন্ত ক্ষীণকায়...
ইনশাআল্লাহ পদান্বয়ী অব্যয় (حروف الجر) অধ্যায়ে এর ব্যাখ্যা আসবে।
রূপান্তরশীল (المعرب) ও অপরিবর্তনীয় (المبني) অধ্যায়ের প্রমাণসমূহ.
মাসআলা [৫]'যু' (ذو) শব্দটি দুই ভাবে ব্যবহৃত হয়.
অধিকারী (صاحب) অর্থে, এমতাবস্থায় এটি ওয়াও, আলিফ এবং ইয়া সহযোগে ব্যবহৃত হয়। এবং 'যা/যিনি' (الذي) অর্থে, যার অধিক পরিচিত রূপ হলো অপরিবর্তনীয় (المبني) হওয়া, যেমন কবির উক্তি: [তবিল ছন্দ]।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
(فأما كرام موسرون لقيتهم
… فحسبي من ذو عندهم ما كفانيا)
وحكى ابن درستويه في "الإرشاد" وابن جني في "المحتسب": أن بعض طيء يقول: جاءني ذو قام، ورأيت ذا قام، ومررت بذي قام.
وزعم ابن الضايع أنها إنما تعرب في حالة الجر كهذا البيت، فإنه روي بالوجهين، ولم يطلع المرزوقي على هذه اللغة البتة، فزعم أن (ذي) في البيت بمعنى صاحب، كقوله: هذا ذو زيد، أي صاحب هذا الاسم،
(অতঃপর আমি যখন কিছু বিত্তবান মহানুভব ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম
… তখন তাদের নিকট যা আছে তা-ই আমার জন্য যথেষ্ট হলো)
ইবনে দুরুসতাওয়াইহ "আল-ইরশাদ" গ্রন্থে এবং ইবনে জিন্নি "আল-মুহতাসাব" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তাইয়ি গোত্রের কেউ কেউ বলে থাকে: 'জায়ানি যু ক্বাম', 'রাআইতু যা ক্বাম' এবং 'মারারতু বি-যি ক্বাম'।
ইবনুয যায়ে' দাবি করেছেন যে, এটি কেবল সম্বন্ধসূচক (জার) অবস্থায় ই'রাব গ্রহণ করে যেমনটি এই কবিতায় দেখা যায়; কেননা এটি উভয় পদ্ধতিতে বর্ণিত (روي) হয়েছে। আল-মারযুকি এই উপভাষা সম্পর্কে একেবারেই অবগত ছিলেন না, ফলে তিনি দাবি করেছেন যে, কবিতায় ব্যবহৃত (যি) শব্দটি 'সাহিব' বা অধিকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন বলা হয়: 'হাযা যু যাইদ', অর্থাৎ এই নামের অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وليس بشيء؛ لأن المشهور في البيت (ذو) بالواو، وذلك لا يجوز في التي بمعنى صاحب، لاستلزامه أن يخفض (عند) بالإضافة؛ إذ لا تدخل التي بمعنى صاحب إلا على اسم مخفوض، أو (تسلم) في قولهم: اذهب بذي تسلم، ولم يسمع خفض (عند) بغير من، وهذا البيت لمنظور بن سحيم الفقعسي، وقبله:
(ولست بهاج في القرى أهل منزل
… على زادهم أبكي وأبكّي البواكيا)
(فأما كرام موسدون أتيتهم
… البيت)
وبعده:
(وأما كرام معسرون عذرتهم
… وأما لئام فادّخرت حيائيا)
(وعرضي أبقى ما ادخرت ذخيرة
… وبطني أطويه كطي ردائيا)
ومعنى هذا الشعر التمدح بالقناعة، والكف عن أعراض الناس، يقول: الناس ثلاثة أنواع: موسرون كرام فاكتفي منهم بمقدار كفايتي، /11/ ومعسرون كرام فاعذرهم، وموسرون لئام فاكف عن ذمهم حياء.
وقوله: في القرى، هو بكسر القاف، طعام الضيف، و (في) للسببية، مثلها في قوله تعالى: {لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ}، وربما توهم متوهم أنها للظرفية، فضم القاف على أنه جمع لقرية، وقوله: (على زادهم
… إلخ) صورته الإثبات، ومعناه النفي؛ لأنه تفسير لخبر ليس، وإن قدر خبراً ثانياً فلا أشكال، وذكر البكاء تمثيل، والمعنى: أنه لا يأسف لما يرى من الحرمان أسف من يبكي ويبكّي غيره.
আর এটি উল্লেখযোগ্য কিছু নয় (ليس بشيء); কারণ কবিতায় প্রসিদ্ধ (مشهور) পাঠ হলো ‘ওয়াও’ বর্ণ সহ ‘জু’ (ذو), যা ‘অধিকারী’ অর্থে ব্যবহার করা এখানে বৈধ নয়। কারণ এর ফলে ‘ইজাফাত’ বা সম্বন্ধ হওয়ার কারণে পরবর্তী শব্দ ‘ইনদা’ (عند)-কে ‘জর’ বা নিম্নস্বর প্রদান করতে হবে। কেননা ‘অধিকারী’ অর্থবোধক শব্দ কেবল ‘জর’ বিশিষ্ট বিশেষ্যের পূর্বেই ব্যবহৃত হয়, অথবা তাদের প্রবাদ ‘ইজহাব বিজি তাসলাম’ (নিরাপদে চলে যাও)-এর মতো ব্যবহার হতে পারে। অথচ ‘মিন’ অব্যয় ব্যতীত ‘ইনদা’ শব্দটিকে ‘জর’ প্রদান করার প্রয়োগ শোনা যায়নি। এই কবিতাটি মনজুর ইবনে সুহাইম আল-ফাকআসি-র রচিত, যার আগের চরণটি হলো:
(আমি জনপদে অবস্থানকারী কোনো গৃহবাসীকে নিন্দা করি না
… তাদের খাবারের শোকে আমি কাঁদি না এবং ক্রন্দনকারীদের কাঁদাই না)
(আর যারা সেই সব সম্মানিত ধনী যাদের কাছে আমি এসেছি
… কবিতাংশটি)
এর পরবর্তী অংশটি হলো:
(আর যারা সম্মানিত অভাবী, তাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি
… আর যারা কৃপণ, তাদের ক্ষেত্রে আমি আমার লজ্জাশীলতাকে পুঁজি করেছি)
(আমার সম্মানই হলো আমার সঞ্চিত শ্রেষ্ঠ সম্পদ
… আর আমার উদরকে আমি চাদর ভাঁজ করার মতো সংকুচিত করে রাখি)
এই কবিতার মূল উদ্দেশ্য হলো অল্পেতুষ্টির প্রশংসা করা এবং মানুষের মান-সম্মানের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা। কবি বলছেন: মানুষ তিন প্রকার—প্রথমত, এমন উচ্চমনা ধনী যাদের থেকে আমি আমার প্রয়োজন অনুযায়ী তুষ্ট থাকি; দ্বিতীয়ত, এমন উচ্চমনা দরিদ্র যাদের আমি অপারগ মনে করে ক্ষমা করি; এবং তৃতীয়ত, এমন কৃপণ ধনী যাদের প্রতি লজ্জাবশত আমি তাদের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকি।
আর তার উক্তি ‘ফিল ক্বিরা’ শব্দটিতে ‘ক্বফ’ বর্ণে ‘কাসরা’ বা জের হবে, যার অর্থ মেহমানদারি বা অতিথির খাবার। এখানে ‘ফি’ অব্যয়টি কারণ দর্শাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “তোমরা যে বিষয়ে লিপ্ত ছিলে, তজ্জন্য তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হতো”। অনেক সময় কেউ কেউ ভুলবশত একে স্থানবাচক মনে করে ‘ক্বফ’ বর্ণে ‘পেশ’ দিয়ে পড়েন, যা ‘কুরয়াহ’ (গ্রাম) শব্দের বহুবচন। আর তার উক্তি ‘তাদের খাবারের ওপর...’ এটি বাহ্যত ইতিবাচক বাক্য মনে হলেও এর অর্থ নেতিবাচক; কারণ এটি ‘লাইসা’-এর খবরের ব্যাখ্যা। আর যদি একে দ্বিতীয় খবর হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। এখানে কান্নার কথা উল্লেখ করা একটি রূপক অলংকার; এর অর্থ হলো কবি বঞ্চিত হওয়ার কারণে এমন আক্ষেপ করেন না যা কোনো ক্রন্দনকারী বা অন্যদের কাঁদানো ব্যক্তির আক্ষেপের মতো হয়।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وقوله: (فأما) هو بكسر الهمزة، كذا ثبت في نسخ (الحماسة) وغيرها، وعليه (شرح التبريزي)، إلا أنه قدرها كلمتين أن الشرطية وما الزائدة، وقدر الاسم معمولاً لفعل محذوف بعدها مبني للمفعول، أي فأما يقصد كرام، كما قدروا في قوله: [الكامل] لا تجزعي. إن منفس أهلكته [وإذا هلكت فعند ذلك فاجزعي] إن أهلك فنفس.
والصواب أنها إما التي في قولك: جاءني إما زيد وإما عمرو، وأن الاسم بعدها خبر لمبتدأ مقدر قبلها، أي: فالناس إما كرام، بدليل قوله: وإما لئام، وليس بعده فعل يفسر المحذوف الذي زعمه، والجملتان من قوله: أتيتهم وعذرتهم صفتان، وقوله: فحسبي
… البيت، أي فكافي من عطائهم ما يكفيني لحاجتي، أي لا أبتغي منهم زيادة على الحاجة، ولولا هذا التأويل لفسد، لاتحاد المبتدأ والخبر.
مسألة [6]في (الأب) مضافاً إلى غير الياء ثلاث لغات، أكثرها كونه بالواو
এবং তাঁর উক্তি: (ফা-আম্মা) এটি হামযাহ-র কাসরা (জের) সহযোগে; এভাবেই ‘আল-হামাসাহ’ ও অন্যান্য গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে সাব্যস্ত হয়েছে। ‘শারহুত তিবরিজি’ এই মতের ওপর ভিত্তি করেই রচিত, তবে তিনি একে দুটি পৃথক শব্দ হিসেবে গণ্য করেছেন—শর্তবাচক ‘ইন’ এবং অতিরিক্ত ‘মা’। তিনি এর পরবর্তী বিশেষ্যটিকে পরবর্তী একটি ঊহ্য কর্মবাচ্য ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, অর্থাৎ: ‘অতঃপর যদি সম্মানিত ব্যক্তিদের সংকল্প করা হয়’। যেমনটি তারা এই পঙ্ক্তিতে নির্ধারণ করেছেন: [আল-কামিল ছন্দ] “ঘাবড়িও না; যদি কোনো মূল্যবান সম্পদ আমি ব্যয় করি [আর আমি যখন ধ্বংস হয়ে যাব, তখন তুমি বিলাপ করো]” অর্থাৎ: যদি একটি প্রাণ বিনাশ হয়।
আর সঠিক কথা হলো, এটি সেই ‘ইম্মা’ যা আপনার এই উক্তির মতো: ‘আমার নিকট হয় যায়িদ এসেছে অথবা আমর এসেছে’। এর পরবর্তী বিশেষ্যটি তার পূর্বে অবস্থিত একটি ঊহ্য উদ্দেশ্যর বিধেয়; অর্থাৎ: ‘মানুষ হয় সম্মানিত’, যার প্রমাণ হলো তাঁর পরবর্তী কথা: ‘অথবা নীচ’। সেখানে এমন কোনো ক্রিয়া নেই যা তাঁর দাবিকৃত সেই ঊহ্য অংশকে ব্যাখ্যা করতে পারে। তাঁর উক্তি ‘আতাইতুহুম’ ও ‘আজারতুহুম’—এই বাক্য দুটি হলো বিশেষণ। আর তাঁর উক্তি ‘ফাহাসবি’
… কবিতাংশটির অর্থ হলো: তাদের দান থেকে যা আমার প্রয়োজন তা-ই আমার জন্য যথেষ্ট। অর্থাৎ, আমি তাদের নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু চাই না। আর এই ব্যাখ্যা না থাকলে অর্থটি অশুদ্ধ হয়ে যেত, কারণ তখন উদ্দেশ্য ও বিধেয় অভিন্ন হয়ে পড়ত।
মাসআলা [৬]‘ইয়া’ ব্যতীত অন্য শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ‘আবু’ শব্দটির তিনটি ভাষাগত রীতি রয়েছে, যার মধ্যে ‘ওয়াও’ সহযোগে হওয়াটিই অধিক প্রচলিত।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
والألف والياء، وأقلها كونه منقوصاً، أي على حرفين كما كان في الإفراد على حد يدٍ ودمٍ وحرٍ وغدٍ وبينهما كونه مقصوراً، أي بالألف دائماً، وهي مقتضى الأصل إذ أصله أبو، بفتحتين، بدليل (أبوان)، وشاهد النقص /12/ قول بعضهم: أبان، وقول راجز:
(بأبه اقتدى عديّ في الكرم
… ومن يشابه أبه فما ظلم)
إذ لم يقل بأبيه، ولا ومن يشابه أباه، وقدّم (بأبه) ليفيد الاختصاص، مثل: {لَإِلَى اللَّهِ تُحْشَرُونَ} [سورة آل عمران: 158]، وعديّ هذا كأنه الصحابي ابن حاتم الطائي، ومعنى (ما ظلم): ما وضع الشبه في غير موضعه، وفيه رد على اللحياني؛ إذ زعم أن الصواب في المثل "ومن أشبه أباه فما ظلمت" أي أمه، أي أنها لم تزن، ومما يرده أيضاً أن اسم الشرط على تأويله لم يعد إليه ضمير من خبره، وبهذا يرد على الميداني في قوله: "إن الضمير في ظلم في المثل راجع إلى الأب، أي فما ظلم الأب إذ زرع في موضع أدى إليه الشبه. وشاهد القصر ما" ثبت في صحيح البخاري من قوله: حدثنا يعقوب الرقي، حدثنا ابن عُلية، حدثنا سليمان التيمي حدثنا أنس قال: قال رسول
আলিফ এবং ইয়া; এবং এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া, অর্থাৎ একবচনে যেমন 'য়্যাদ' (হাত), 'দাম' (রক্ত), 'হির' এবং 'গদ' শব্দগুলোর ন্যায় এটি দুই অক্ষরের হওয়া। এবং এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থা হলো এটি সীমাবদ্ধ হওয়া, অর্থাৎ সর্বদা আলিফ যোগে হওয়া। আর এটিই মূল প্রকৃতির দাবি, কেননা 'আবওয়ান' দ্বিবচন রূপের প্রমাণ অনুযায়ী এর মূল রূপ ছিল 'আবাউ' (দুইটি ফাতহা যোগে)। আর সংক্ষিপ্ত রূপের সপক্ষে দলিল হলো কারো কারো উক্তি: 'আবান', এবং জনৈক রাজায কবির উক্তি:
(তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে আদি মহানুভবতায়
… আর যে তার পিতার সদৃশ হয়েছে সে কোনো অন্যায় করেনি)
কেননা তিনি 'বি-আবিহি' বলেননি এবং 'মান ইউশাবিহা আবাহু'ও বলেননি। আর (বি-আবিহি) শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে বিশেষায়নের অর্থ প্রদানের জন্য, যেমন: {তোমরা আল্লাহর নিকটেই একত্রিত হবে} [সূরা আলে ইমরান: ১৫৮]। আর এই আদি ব্যক্তিটি সম্ভবত সাহাবী (صحابي) ইবনে হাতিম আত-তায়ী। আর 'সে কোনো অন্যায় করেনি' এর অর্থ হলো: সে সাদৃশ্যকে অযোগ্য স্থানে রাখেনি। এর মাধ্যমে আল-লিহয়ানির মত খণ্ডন করা হয়েছে; কেননা তিনি দাবি করেছিলেন যে, প্রবাদটির সঠিক রূপ হলো: "যে তার পিতার সদৃশ হলো সে (মা) কোনো অন্যায় করেনি", অর্থাৎ তার মা ব্যভিচার করেননি। তাঁর এই মতটি আরও একটি কারণে খণ্ডনযোগ্য যে, তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী শর্তবাচক শব্দের খবরের মধ্য থেকে কোনো সর্বনাম তার দিকে ফিরে আসে না। আর এর মাধ্যমে আল-মাইদানির বক্তব্যেরও প্রতিবাদ করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন: "প্রবাদটিতে 'যালামা' ক্রিয়ার সর্বনামটি পিতার দিকে ফিরেছে, অর্থাৎ পিতা কোনো ভুল করেননি যেহেতু তিনি এমন স্থানে বীজ বপন করেছেন যা তার মতো অনুরূপ সন্তান উৎপাদন করেছে।" আর সীমাবদ্ধ রূপের সপক্ষে দলিল হলো যা সহীহ বুখারীতে প্রমাণিত হয়েছে, তাঁর বাণী থেকে: ইয়াকুব আর-রাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে উলাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), সুলাইমান আত-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
الله صلى الله عليه وسلم يوم بدر ما صنع أبو جهل، فانطلق ابن مسعود، فوجده قد ضربه ابنا عفراء حتى برد، فقال له: أنت أبا جهل، قال ابن علية، قال سليمان: هكذا قالها أنس، قال: أنت أبا جهل، قلت: فهذا من أوضح الأدلة، وهو مما روي بلفظه لا بمعناه.
واستدل ابن مالك وغيره بقوله: [الزجر].
(أن أباها وأبا أباها
… قد بلغا في المجد غايتاها)
والشاهد في (أبا) الثالث، فإنه مضاف إليه ولم يجيء بالياء، فأما الأولان فمنصوبان، فكان الظاهر، لولا مجيء الثالث بالألف، أن الألف فيها علامة النصب، وفيه أيضاً إقامة الظاهر مقام المضمر، والأصل أن أباها وأباه.
وفي قوله: (غايتاها) استعمال المثنى بالألف مطلقاً، ونسبها الكسائي لبلحارث وزبيد وخثعم وهمدان، وأبو الخطاب لكنانة
আল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের দিন জিজ্ঞেস করলেন আবু জেহেলের কী হয়েছে? তখন ইবনে মাসউদ রওনা হলেন এবং তাকে এমন অবস্থায় পেলেন যে আফরার দুই পুত্র তাকে আঘাত করেছে এমনকি সে নিথর হয়ে পড়েছে। তিনি তাকে বললেন: তুমিই কি আবু জেহেল? ইবনে উলাইয়্যাহ বলেন, সুলায়মান বলেছেন: আনাস এভাবেই বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: তুমিই কি আবু জেহেল? আমি বলি: এটি অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণগুলোর একটি এবং এটি সেই সব বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত যা শাব্দিকভাবে (لفظه) বর্ণিত হয়েছে, মর্মার্থের ভিত্তিতে (معناه) নয়।
ইবনে মালিক এবং অন্যান্যরা এই পঙক্তিটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: [রাজায ছন্দ]।
(নিশ্চয়ই তার পিতা এবং তার পিতার পিতাও
… মর্যাদার চরম শিখরে পৌঁছেছেন)
এখানে আলোচনার মূল উদাহরণ (شاهد) হলো তৃতীয় ‘আবা’ (أبا) শব্দটি, কারণ এটি মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হওয়া সত্ত্বেও ‘ইয়া’ যোগে আসেনি। তবে প্রথম দুটি শব্দ মানসুব (منصوب) অবস্থায় ছিল, তাই বাহ্যত মনে হতে পারত যে—যদি তৃতীয়টি আলিফ যোগে না আসত—তবে আলিফটি সেখানে নসবের চিহ্ন (علامة النصب)। এতে সর্বনামের (المضمر) স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য (الظاهر) ব্যবহারের উদাহরণও রয়েছে; কারণ মূল বাক্যটি হওয়ার কথা ছিল: তার পিতা ও তার বাবা (أباها وأباه)।
আর তাঁর কথা ‘গায়াতাহা’ (غايتاها)-তে দ্বিবচনকে (المثنى) সর্বাবস্থায় আলিফ যোগে ব্যবহার করা হয়েছে। কিসায়ী একে বনু হারিস, জুবায়দ, খাশআম ও হামদান গোত্রের ভাষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আবু الخطাব একে কিনানা গোত্রের বৈশিষ্ট্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وبعضهم لبلعنبر وبلهجيم وبطون من ربيعه، وأنكر المبرد جواز ذلك في كلام أو شعر، وهو محجوج بنقل الأئمة، كأبي زيد وأبي الخطاب وأبي الحسن /13/ والكسائي.
ومما سمع: ضربت يداه، ولو استطعت لأتيتك على يداي.
نعم في الاستشهاد بقوله (غايتاها) نظر من وجهين، أحدهما: أنه يحتمل وهو الظاهر أن الأصل (غايتها) بالأفراد، ثم أشبع الفتحة كقوله: [الوافر].
(وأنت من الغوائل حين تُرمى
… ومن ذم الرجال بمنتزاح)
وقوله: [الزجر].
(أعوذ بالله من القراب
… الشائلات عُقد الأذناب)
والثاني: أن أبا زيد الأنصاري قال في نوادره: قال المفضل: أنشدني أبو الغول لبعض أهل اليمن:
এবং তাঁদের কেউ কেউ একে বনু আল-আম্বার, বনু আল-হুজাইম এবং রাবিআ গোত্রের শাখাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আল-মুবররাদ গদ্য বা পদ্যে এর বৈধতা অস্বীকার করেছেন, তবে আবু জাইদ, আবু আল-খাত্তাব, আবু আল-হাসান এবং আল-কিসায়ির মতো ইমামগণের বর্ণনা (نقل) দ্বারা তাঁর এই মত খণ্ডন করা হয়েছে।
আর যা শ্রুত হয়েছে: 'তার দুই হাত প্রহার করেছে', এবং 'আমি সক্ষম হলে আমার দুই হাতের ওপর ভর করেই তোমার কাছে আসতাম'।
হ্যাঁ, কবির উক্তি (গায়াতাহা) দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে দুটি দিক থেকে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। প্রথমটি হলো: এটি সম্ভব—এবং এটিই স্পষ্ট—যে এর মূল রূপ ছিল একবচন (إفراد), অতঃপর ফাতাহ-কে দীর্ঘ করা হয়েছে, যেমন কবির পঙ্ক্তিতে রয়েছে: [ওয়াফির ছন্দ]।
(এবং যখন তুমি বিপদে আক্রান্ত হও তখন তুমি তা থেকে মুক্ত
… এবং তুমি মানুষের নিন্দা থেকে অনেক দূরে।)
এবং কবির উক্তি: [রাজায ছন্দ]।
(আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই সেই সব নিকটবর্তী উটনী থেকে
… যারা তাদের লেজের অগ্রভাগ উঁচিয়ে রাখে।)
দ্বিতীয়ত: আবু জাইদ আল-আনসারি তাঁর নাওয়াদির গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আল-মুফাদ্দাল বলেছেন, আবু আল-গুল ইয়েমেনের জনৈক কবির এই পঙ্ক্তিটি আমাকে শুনিয়েছেন:
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
(أي قلوص راكب تراها
… شالوا علاهن فشل علاها)
(واشدد بمثنى حقب حقواها
… ناجية وناجيا أباها)
إن أباها
… البيت.
ثم قال: قال أبو حاتم: سألت عن هذه الأبيات أبا عبيدة فقال: انقط عليه، هذا من صنعة المفضل، وفي بعض نسخ النوادر اسقط منها بيت الاستشهاد.
يقال شال الشيء يشول إذا ارتفع، فالأمر شُل بالضم، ويتعدى بالهمزة وبالياء، يقال: أشلته وشلت به، وقول العامة شلته بالكسر لحن من وجهين/ الأول كسر الشين والثاني تعديته بنفسه، والمفعول محذوف، أي حالهم وبرحلك.
وقوله (علاهن وعلاها) قال أبو زيد: أصله الياء، ولكن بلحارث يقلبون الياء الساكنة المفتوح منا قبلها ألفا فيقولون: أخذت الدرهمان واشتريت الثوبان والسلام علاكم انتهى.
وكذا قال غيره، الصواب أن يقال أنهم يلتزمون ألف المثنى وألف على وإلى ولدى، وأنه ليس عندهم ياء ثم قلبت.
والمعنى: أن الركب قد رفعوا رحالهم على قُلُصهم فارفع رحلك على قلوصك، وأشدد حقوبها، بمثنى حقب، وهو حبل تشد به الرحل إلى
(কোন আরোহী উষ্ট্রীর পানে তুমি চেয়ে আছ
… তারা তাদের উষ্ট্রীর পিঠে আসবাবপত্র তুলেছে, তুমিও তোমার উষ্ট্রীর পিঠে সওয়ারি তোলো)
(আর দ্বিগুণ রশি দিয়ে তার কটিদেশ মজবুত করে বাঁধো
… সে দ্রুতগামী এবং তার পিতাও ছিল দ্রুতগামী)
নিশ্চয়ই তার পিতা
… কাব্য পঙক্তি।
অতঃপর তিনি বললেন: আবু হাতিম বলেছেন: আমি আবু উবাইদাহকে এই কাব্য পঙক্তিগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এটি চিহ্নিত করা হয়েছে (انقط عليه), এটি মুফাদ্দালের কৃত্রিম রচনা; আর নাওয়াদির-এর কিছু পাণ্ডুলিপিতে (نسخ) সাক্ষ্য প্রদানের পঙক্তিটি (بيت الاستشهاد) বাদ দেওয়া হয়েছে।
বলা হয় 'শলা' যখন কোনো কিছু উপরে ওঠে, তখন আদেশবাচক রূপ হবে 'শুল' (شُل) পেশ যোগে। এটি হামজা এবং ইয়া-এর মাধ্যমে সকর্মক হয়; যেমন বলা হয়: 'আশালতুহু' এবং 'শিলতু বিহি'। সাধারণ মানুষের (العامة) উক্তি 'শিলতুহু' যের যোগে পাঠ করা দুটি কারণে ভাষাগত ভুল (لحن); প্রথমত 'শীন' বর্ণে যের প্রদান এবং দ্বিতীয়ত একে সরাসরি সকর্মক হিসেবে ব্যবহার করা। এখানে কর্মপদটি উজ্জহ্য রয়েছে, যার অর্থ: তাদের অবস্থা এবং তোমার আসবাবপত্র নিয়ে।
তার উক্তি 'আলাহুন্না' এবং 'আলাহা' সম্পর্কে আবু জায়েদ বলেছেন: এর মূল (أصل) ছিল 'ইয়া', কিন্তু বনু হারিস গোত্রের লোকেরা পূর্বের জবর বিশিষ্ট সাকিন 'ইয়া'-কে আলিফে রূপান্তর করে। ফলে তারা বলে থাকে: 'আখাযতুদ দিরহামান' এবং 'ইশতারাইতুস সাওবান' এবং 'আস-সালামু আলাকুম'। কথা সমাপ্ত।
অনুরূপভাবে অন্যরাও বলেছেন, সঠিক (الصواب) কথা হলো তারা দ্বিবচনের (المثنى) আলিফ এবং 'আলা', 'ইলা' ও 'লাদা' শব্দের আলিফকে অপরিবর্তিত রাখে। তাদের নিকট সেখানে কোনো 'ইয়া' ছিল না যা পরবর্তীতে রূপান্তরিত হয়েছে।
অর্থ (المعنى): আরোহী দলটি তাদের উটগুলোর ওপর তাদের আসবাবপত্র উঠিয়েছে, সুতরাং তুমিও তোমার উটের ওপর তোমার আসবাবপত্র তোলো এবং এর কোমরবন্ধের রশি মজবুত করো; যা এমন এক জোড়া রশি যা দিয়ে উটের পিঠে আসবাবপত্র বা সওয়ারি মজবুতভাবে বাঁধা হয়।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
بطن البعير. والناجية: السريعة، وانتصابها بـ (امدح) محذوفاً، وأباها فاعل بـ "ناج"، وجاء (أبا) هنا على لغة القصر أيضاً، أو هو مثنى على لغة النقص، وحذفت نونه للإضافة، ولا يمكن ذلك في قوله (إن أباها)، لقوله (قد بلغا) ولم يقل: بلغن.
ولم يطلع ابن عبد ربه /14/ على لغة القصر في الأب مع شهرتها، فلحن بعض الأئمة في قوله: ولو ضربه بابا قبيس.
مسألة [7]في الأخ مضافاً لغير الياء اللغات الثلاث.
وشاهد النقص قول بعضهم (أخان)، وأنكر الفراء القصر وأثبته هشام، لقولهم في المثل (8): "مكره أخاك لا بطل" إذ أخاك مبتدأ
উটপাখির পেট। আর আল-নাজিয়াহ হলো দ্রুতগামী; এর নসব হওয়াটি একটি উহ্য 'আমদাহু' ক্রিয়া দ্বারা হয়েছে। 'আবাহা' শব্দটি 'নাজ' এর কর্তা হিসেবে এসেছে। এখানে 'আবা' শব্দটি 'আল-কাসর' রীতি অনুযায়ীও এসেছে, অথবা এটি 'আন-নাকস' রীতি অনুযায়ী দ্বিবচন, যার 'নুন' বর্ণটি ইদাফাত বা সম্বন্ধের কারণে বিলুপ্ত হয়েছে। তবে 'ইন্না আবাহা' উক্তির ক্ষেত্রে এটি সম্ভব নয়, কারণ এরপর 'কাদ বালাগয়া' বলা হয়েছে, 'বালাগনা' বলা হয়নি।
ইবনে আবদ রাব্বিহি /১৪/ 'পিতা' শব্দের ক্ষেত্রে 'আল-কাসর' রীতিটি প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এ কারণে তিনি কোনো কোনো ইমামের এই উক্তিটিতে ভুল ধরেছেন: "যদি তাকে বাবা কুবাইস দ্বারা আঘাত করা হতো"।
মাসআলা [৭]'ইয়া' ব্যতীত অন্য শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত 'ভাই' শব্দের ক্ষেত্রে তিনটি ভাষাগত রীতি বিদ্যমান.
'আন-নাকস' বা অসম্পূর্ণ রূপের প্রমাণ হলো কারো কারো উক্তি 'আখান'। আল-ফাররা 'কাসর' রীতিকে অস্বীকার করেছেন এবং হিশাম একে সাব্যস্ত করেছেন; কারণ প্রবাদে বলা হয় (৮): "মুকরাহুন আখাকা লা বাতাল", যেখানে 'আখাকা' শব্দটি মুক্তাদা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
مؤخر، وفاعل عند أبي الحسن، والمشهور مكره أخوك، وقيل وأول من قاله عمرو بن العاص إذ عزم عليه معاوية ليخرجن إلى مبارزة علي رضي الله عنهم، فلما التقيا قال ذلك، فأعرض عنه.
وذكر الأخ للاستعطاف، ومثله: {أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَاكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ} [سورة الحجرات: 12]، {فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ} [سورة البقرة: 178]، واستدل ابن مالك بقوله: [الطويل].
(أخاك الذي ان تدعه لملمةٍ
… يجبك بما تبغي ويكفيك من يبغي)
(وأن تجفه يوماً فليس مكافئاً
… فيُطمع ذا التزوير والوشي أن يصغي)
وهذا محتمل للمفعولية بتقدير (الزم) كما قال الآخر: [الطويل].
(أخاك أخاك ان من لا أخاً له
… كساعٍ إلى الهيجا بغير سلاح)
مسألة [8]في الهن مضافاً لغير الياء اللغات الثلاث.
وأغربها القص، ولم أر من حكاه غير أبي البقاء في اللباب، والأندلسي في شرح المفصل، ولم يذكرا له شاهداً، ولا دليل في قولهم: هنوان؛ لأنه
বিলম্বিত (مؤخر), এবং আবুল হাসানের মতে এটি কর্তা (فاعل); আর প্রসিদ্ধ প্রবাদটি হলো 'তোমার ভাই বাধ্য' (مكره أخوك)। বলা হয়ে থাকে যে, এই কথাটি সর্বপ্রথম আমর ইবনুল আস (রা.) বলেছিলেন যখন মুআবিয়া (রা.) তাকে আলী (রা.)-এর সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার সংকল্প করেছিলেন। যখন তারা মুখোমুখি হলেন, তিনি এটি বললেন এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
এখানে 'ভাই' শব্দটি সহমর্মিতা উদ্রেক করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর উদাহরণ আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে?} [সূরা আল-হুজুরাত: ১২], {অতঃপর তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে যাকে কিছুটা ক্ষমা করা হয়েছে} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৭৮]। ইবনে মালিক নিম্নোক্ত পঙক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: [তাকবীল ছন্দ]।
(তোমার সেই ভাই যাকে তুমি বিপদের সময় ডাকলে
… সে তোমার কাঙ্ক্ষিত সাড়া দেয় এবং তোমার শত্রুর বিরুদ্ধে তোমার জন্য যথেষ্ট হয়)
(যদি তুমি কোনোদিন তার সাথে রূঢ় আচরণ করো, তবে সে তার প্রতিদান দেয় না
… ফলে কোনো মিথ্যাচারী বা পরনিন্দাকারী তার কথা শোনার লোভ পায় না)
এটি 'কর্মপদ' (مفعولية) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যেখানে (অপরিহার্য করে নাও - الزم) শব্দটি উহ্য ধরা হয়। যেমনটি অন্য একজন কবি বলেছেন: [তাকবীল ছন্দ]।
(তোমার ভাই, তোমার ভাই! নিশ্চয়ই যার কোনো ভাই নেই
… সে রণক্ষেত্রে অস্ত্রহীন ধাবমান ব্যক্তির মতো)
মাসআলা [৮]'হান' (هن) শব্দটি যখন 'ইয়া' ব্যতীত অন্য পদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হয়, তখন তাতে তিনটি ভাষা বা ভঙ্গি প্রচলিত।.
এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভুত হলো 'কাস' বা সংক্ষেপণ (القص), আর আল-লুবাব গ্রন্থে আবুল বাকা এবং শারহুল মুফাসসাল গ্রন্থে আল-আন্দালুসি ছাড়া অন্য কাউকে আমি এটি বর্ণনা করতে দেখিনি। তারা এর কোনো কাব্যিক প্রমাণ (شاهد) উল্লেখ করেননি। আর তাদের 'হানাউয়ান' (هنوان) কথাটিতেও কোনো দলিল নেই; কারণ এটি...
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
قد يكون على لغة من يستعمله بالأحرف الثلاثة.
وقد جزم بذلك سيبويه فقال في باب النسب، فقال ومن العرب من يقول هنوك وهناك ومررت بهنيك. وهنوان فيجر به مجرى الأب انتهى، ولم يطلع الفراء والزجاجي وجماعة على أنه يستعمل بالأحرف الثلاثة فلذلك يقولون الأسماء الخمسة، فيسقطونه من بينها.
وأما النقص فهو اللغة المشهورة وعليه قوله: [السريع].
(وأنتِ لو باكرتِ مشمولة
… صفرا كلون الفرس الأشقر /15/)
(رُحت في رجليك ما فيهما
… وقد بدا هنك من المئزر)
إذ أصله هناك بالضم، تم سكنه تشبيهاً له بعضد، والمبرد يرويه: وقد بدا ذاك، ولا يرى أن علامة الإعراب تذهب في نثر ولا شعر، وقصد
সম্ভবত এটি ঐ সকল ব্যক্তির ভাষায় হয়েছে যারা একে তিনটি বর্ণের মাধ্যমে ব্যবহার করে।
সিবওয়াইহ এ বিষয়ে দৃঢ় মত পোষণ করেছেন এবং নসব বা সম্বন্ধসূচক অধ্যায় (باب النسب)-এ বলেছেন, আরবদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: 'হানুকা', 'হানাকা' এবং 'বি-হানিকা'। এবং দ্বিবচনে 'হানাওয়ান' বলা হয়; ফলে একে 'আব' (পিতা) শব্দের নিয়মে চালানো হয় (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আল-ফাররা, আজ-জাজ্জাজি এবং একটি দল অবগত ছিলেন না যে এটি তিনটি বর্ণের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, যার ফলে তারা একে পাঁচটি বিশেষ্য (الأسماء الخمسة) বলেন এবং একে সেগুলোর মধ্য থেকে বাদ দিয়ে দেন।
আর বিলোপ বা নাকস (النقص) হলো প্রসিদ্ধ ভাষা এবং এর ভিত্তিতে কবির উক্তি: [আস-সারী ছন্দ]।
(আর তুমি যদি ভোরে উত্তরীয় বায়ু মিশ্রিত শরাব পান করতে
… যা লালচে ঘোড়ার রঙের মতো পীতবর্ণের /১৫/)
(তুমি তোমার দুই পায়ে চলে গিয়েছ যাতে কিছুই নেই
… অথচ তোমার লজ্জাস্থান লুঙ্গি থেকে প্রকাশ হয়ে গিয়েছিল)
কেননা এর মূল রূপ ছিল পেশ বা যম্মাহ (الضم) সহকারে 'হানাকা', অতঃপর একে 'আদুদ' (বাহু) শব্দের সদৃশ করে সাকিন করা হয়েছে। আল-মুবররিদ এটি বর্ণনা করেছেন এভাবে: 'আর সেটি প্রকাশ হয়ে গিয়েছিল', এবং তিনি মনে করেন না যে গদ্য বা পদ্যে ইরাবের চিহ্ন (علامة الإعراب) বিলুপ্ত হয়; আর তিনি উদ্দেশ্য করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
(صفراً) للضرورة، وفيه رد على الفراء؛ لأن فعلاء أفعل مما مده قياسي.
وهو يقول: إنما يقصر للضرورة، ما مده سماعي لا قياسي، ويروي: صفراء لون، بالمد وإسقاط الكاف، وفي الحديث: (9) "من تعزّى بعزاء الجاهلية فأعضّوه بهن أبيه، ولا تكنوا"، ولم يقل بهني أبيه، وتعزّى: انتمى وانتسب، وعزاء الجاهلية بفتح العين، والمد: وهو أن يقول يا لفلان.
وفي رسالة الغفران أن رجلاً صاح بالبصرة: يا لقيس، فجاءه النابغة الجعدي بعصبة له، فأخذه شرط إلى أبي موسى الأشعري فجلدوه؛ إذ أجاب دعوى الجاهلية. وقوله عليه السلام: (فأعضّوه) بهمزة مفتوحة وعين
(সাফরা) কাব্যিক প্রয়োজনে (ضرورة), আর এতে আল-ফাররার মতের খণ্ডন রয়েছে; কারণ ‘আফ‘আল’ এর ওজনে ‘ফাউলা’ এর দীর্ঘ উচ্চারণ (مد) হলো নিয়মসিদ্ধ (قياسي)।
তিনি বলেন: কেবল যা শ্রুতিসিদ্ধ (سماعي), নিয়মসিদ্ধ (قياسي) নয়, তা-ই কাব্যিক প্রয়োজনে (ضرورة) হ্রস্ব করা যায়। বর্ণিত রয়েছে: ‘সাফরাউ লাউন’, দীর্ঘ উচ্চারণ (مد) এবং ‘কাফ’ বিলুপ্তিসহ। হাদিসে এসেছে: (৯) “যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের দোহাই (عزاء الجاهلية) দিয়ে নিজের বংশের পরিচয় দেয়, তাকে তার পিতার লিঙ্গ কামড়ে ধরতে বলো এবং তা অস্পষ্ট করো না।” এখানে ‘বিহানি আবিহি’ বলা হয়নি। ‘তা’আয্যা’ (تعزّى) অর্থ হলো সম্পৃক্ত হওয়া বা বংশ পরিচয় দেওয়া। জাহিলিয়াতের দোহাই (عزاء الجاهلية) হলো ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা এবং দীর্ঘ উচ্চারণের (مد) সাথে; আর তা হলো কারো এভাবে বলা: “হে অমুক গোত্রের লোক!”
‘রিসালাতুল গুফরান’-এ বর্ণিত আছে যে, বসরায় এক ব্যক্তি চিৎকার করে ডাকল: “হে কায়স গোত্র!” তখন আন-নাবিগাহ আল-জা'দি তার একটি দল নিয়ে তার কাছে এলেন। অতঃপর প্রহরীরা তাকে আবু মুসা আল-আশআরির কাছে নিয়ে গেল এবং তারা তাকে বেত্রাঘাত করল; যেহেতু সে জাহিলিয়াতের আহ্বানে (دعوى الجاهلية) সাড়া দিয়েছিল। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: ‘(ফা-আ’দিজ্জুহু)’ হামযাহতে ফাতহা এবং আইন সহ...
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
مهملة مكسورة: أي قولوا له استهزاءً به اعضض بكذا من أبيك، ولا تكنوا بالهن تأدباً معه، بل اذكروا له صريح اسم الفرج تنكيلاً له، وقد جمع الحديث إيضاح المراد مع حسن الأدب؛ إذ لا حاجة إلى ذكر اللفظ الفاحش الآن، وتكنوا، بفتح التاء وسكون الكاف.
مسألة [9]كلا وكلتا عند البصريين مفردان لفظاًمثنيان معنىفلذلك يعود الضمير عليهما مفرداً، وهو الأكثر، نحو:
(1) {كِلْتَا الْجَنَّتَيْنِ آَتَتْ أُكُلَهَا} [سورة الكهف: 33]، وقوله: [الطويل].
(كلانا غني عن أخيه حياته
… ونحن إذا متنا أشد تغانياً)
ومثنى كقوله:
(كلاهما لا يطيعان الكحيا)
والكيح، بكاف مكسورة، وياء منقلبة عن الواو، وحاء مهملة: عرض الجبل، وجمعه أكواح، وقد اجتمعا في قول الفرزدق: [البسيط].
নুকতাহীন ও কাসরাযুক্ত: অর্থাৎ তাকে উপহাস করার উদ্দেশ্যে বলুন, ‘তোমার পিতার অমুক অঙ্গ কামড়ে ধরো’, এবং তার প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন করতে গিয়ে রূপক শব্দ ব্যবহার করবেন না; বরং তাকে অপমান করার উদ্দেশ্যে লজ্জাস্থানের স্পষ্ট নাম উল্লেখ করুন। হাদিসটিতে উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার পাশাপাশি উত্তম শিষ্টাচারও বজায় রাখা হয়েছে; যেহেতু বর্তমানে অশ্লীল শব্দটি সরাসরি উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আর ‘তাকনু’ শব্দটি তা বর্ণের ফাতহা এবং কাফ বর্ণের সুকুন সহযোগে পড়তে হবে।
মাসআলা [৯]বসরাবাসীদের মতে ‘কিলা’ এবং ‘কিলতা’ শব্দ দুটি শব্দগতভাবে একবচনকিন্তু অর্থগতভাবে দ্বিবচনএ কারণে এগুলোর ক্ষেত্রে সর্বনাম সাধারণত একবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা অধিক প্রচলিত; যেমন:
(১) {উভয় উদ্যানই তাদের ফল দান করল} [সূরা আল-কাহাফ: ৩৩], এবং কবির উক্তি: [তওয়ীল ছন্দ]
(আমরা উভয়েই আমাদের সারাজীবনের প্রয়োজনে একে অপরের থেকে অমুখাপেক্ষী... আর আমরা যখন মারা যাব তখন তো আরও বেশি অমুখাপেক্ষী হব)
এবং দ্বিবচন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন কবির উক্তি:
(তাদের উভয়েই পাহাড়ের প্রশস্ত অংশের আনুগত্য করে না)
‘কিহ’ শব্দটি কাফ বর্ণে কাসরা, ওয়াও থেকে পরিবর্তিত ‘ইয়া’ এবং নুকতাহীন ‘হা’ সহযোগে গঠিত: যার অর্থ পাহাড়ের প্রশস্ত অংশ, এর বহুবচন হলো ‘আকওয়াহ’। ফারাজদাকের কবিতায় এই উভয় রূপই একত্রে এসেছে: [বাসীত ছন্দ]।
(খণ্ড: ১)
তাখলীসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখীসুল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
(ما بال لومكها وجئت تجتلها
… حتى اقتحمت بها اسكفّه الباب)
((11) /16/ كلاهما حين جد الجري بينهما
… قد أقلعا وكلا أنفيهما رابي)
يقال: عتله إذا حمله حملاً عنيفاً، ابن دريد: إذا جذبه جذباً عنيفاً، ابن سيدة: جذيه جذباً عنيفاً فحمله صاحب العين: إذا أخذ بتلبيبه فجرّه وذهب به إلى بليّة، ومنه {خُذُوهُ فَاعْتِلُوهُ}.
ويقال: اقتحم المنزل، إذا هجمه، وإلا سكفه، بضم الهمزة وتشديد الفاء: العتبة السفلى، وهي عند ثعلب من استكف أي اجتمع، وهو
(কী কারণে তাকে তোমার ভর্ৎসনা করা এবং তাকে নিগ্রহের সাথে নিয়ে আসা
… এমনকি তাকে নিয়ে তুমি দরজার চৌকাঠে সজোরে প্রবেশ করলে)
((১১) /১৬/ তাদের উভয়ের মাঝে যখন দৌড় প্রতিযোগিতা তীব্র হলো
… তারা উভয়েই ক্ষান্ত হলো এবং তাদের উভয়ের নাসারন্ধ্র ছিল স্ফীত)
বলা হয়: নিগ্রহসহকারে বহন করা (عتله) যখন তাকে নিষ্ঠুরভাবে বহন করা হয়। ইবনে দুরাইদ বলেন: যখন তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ (جذبه) করা হয়। ইবনে সিদাহ বলেন: তাকে সজোরে আকর্ষণ করা এবং এরপর তাকে বহন করা। কিতাবুল আইন প্রণেতা বলেন: যখন কারো কলার ধরে টেনে নেওয়া (جرّه) হয় এবং তাকে কোনো বিপদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়; এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {তাকে ধরো এবং কঠোরভাবে টেনে (فاعتلوه) নিয়ে যাও}।
আর বলা হয়: হঠাৎ হানা দেওয়া (اقتحم) অর্থাৎ গৃহে অতর্কিতে প্রবেশ করা। আর হামযাহ-তে যম্মাহ এবং ফা-তে তাশদীদ সহযোগে চৌকাঠ (اسكفّة): যার অর্থ নিচের চৌকাঠ (العتبة السفلى); আর সা’লাবের মতে এটি ‘একত্রিত হওয়া’ (استكف) থেকে উদ্ভূত, আর এটি হলো...