(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: -)
الانتهاض في ختم «الشفا» لعياض   (السخاوي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الانتهاض في ختم «الشفا» لعياض - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (32)

المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد السخاوي (ت 902 هـ)

دراسة وتحقيق: عبد اللطيف بن محمد الجيلاني

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 53

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1437

আয়ায বিরচিত ‘আশ-শিফা’ সমাপ্তিকরণ বিষয়ক আলোচনা   (আস-সাখাবী)

বিভাগ: সুন্নাহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ


কিতাব: আয়ায বিরচিত «আশ-শিফা» সমাপ্তিকরণ বিষয়ক আলোচনা - মসজিদে হারামের শেষ দশকের মজলিস ধারাবাহিকতা (৩২)

লেখক: শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ আস-সাখাবী (মৃত্যু ৯০২ হি.)

গবেষণা ও সম্পাদনা: আবদুল লতিফ বিন মুহাম্মদ আল-জিলানী

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হি. - ২০০১ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (32)

 

الانتهاض في ختم «الشفا» لعياض

 

تأليف

الحافظ شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي (ت 902 هـ)

 

دراسة وتحقيق

عبد اللطيف بن محمد الجيلاني

 

ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের মজলিস (৩২)

 

আইয়াদ রচিত ‘আশ-শিফা’ সমাপ্তকরণ বিষয়ক তৎপরতা

 

রচনায়

হাফেজ শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাভী (ওফাত ৯০২ হিজরি)

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

আব্দুল লতিফ বিন মুহাম্মাদ আল-জিলানি

 

হারামাঈন শরীফাইনের কিছু পুণ্যবান ব্যক্তি ও তাঁদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এর মুদ্রণে সহযোগিতা করেছেন

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظَة

الطبعَةُ الأولى

1422 هـ - 2001 م

 

دارَ البشائر الإسلامية للطّباعَة وَالنشر والتوزيع

هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611

بيروت - لبنان ص ب: 5955/ 14

 

e-mail:bashaer@cyberia.net.lb
সকল সত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

 

মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়া

ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১

বৈরুত - লেবানন ডাক বাক্স: ৫৯৫৫/ ১৪

 

ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه ثقتي

 

المُقدِّمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، نبينا محمَّد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد:

فهذا جزء لطيف، وتعليق طريف، ألّفه الحافظ الناقد البارع أبو الخير شمس الدين محمَّد بن عبد الرحمن السخاوي الشافعي (902 هـ) برسم الانتهاء من إقراء كتاب الشفا بتعريف حقوق المصطفى صلى الله عليه وسلم، لعالم المغرب الشهير القاضي عياض بن موسى اليحصبي (ت 544 هـ).

وقد جَرَتْ عادته رحمه الله أن يصنِّف ختومًا للكتب التي قام بإقرائها وتدريسها، وكان رحمه الله قد أقرأ كثيراً من كتب الحديث والسيرة وجملة من تصانيفه، لا سيَّما عند مجاورته بالحرمين الشريفين مكة والمدينة، وَأَسَاسُ تصنيفِ تلك الختوم هو مجلس ختم الكتاب المقرر إقراؤه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা

 

ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা এবং চমকপ্রদ ব্যাখ্যা, যা হাফেজ, সমালোচক ও বিজ্ঞ আলেম আবুল খায়ের শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আস-সাখাভী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৯০২ হিজরি) মাগরেবের প্রখ্যাত আলেম কাজী আইয়াজ বিন মুসা আল-ইয়াহসুবি (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি) রচিত ‘আশ-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’ কিতাবটির পাঠদান সম্পন্ন করার স্মারক হিসেবে রচনা করেছেন।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর অভ্যাস ছিল যে তিনি যেসব কিতাব পাঠদান ও অধ্যাপনা করতেন, সেগুলো সমাপ্তি উপলক্ষে ‘খতম’ (সমাপ্তি-পুস্তিকা) রচনা করতেন। তিনি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) হাদিস ও সিরতের বহু কিতাব এবং তাঁর নিজের অনেক রচনা পাঠদান করেছেন, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার হারামাইন শরিফাইনে তাঁর অবস্থানের সময়। এই ‘খতম’গুলো রচনার মূল ভিত্তি ছিল নির্ধারিত কিতাবটির পাঠদান সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত মজলিস।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৪)
وكانت مجالس الختم من المجالس العلمية المشهودة، والمحافل العلمية المحمودة، حيث يتناول فيها الحافظ السخاوي بعد الانتهاء من تدريس الكتاب طَرَفاً من منهج المؤلف في كتابه، وَيُبَيِّنُ خصائص الكتاب، ومزاياه، وَيُعَدِّدُ مناقب مؤلفه، وَيَسْرُدُ أسانيده إليه، وَيَنْثُرُ في غُضُونِ ذلك إفاداتٍ علميّة متنوعة، ولم يكن يَتَخَلَّفُ عن تلك المجالس كَبِيرُ أَحَدٍ، فكان يحضرها الأمراء والأعيان، وَتُنْشَدُ فيها القصائد (1).

يقول السّخاوي: "وكان لكثير من ذلك -أي الكتب التي أقرأها- ختوم حافلة، ورسوم أرجو أن تكون للقبول شاملة" (2).

وقد ألّف السخاوي هذا الختم المبارك بمكة في رمضان عام

893 هـ (3)، وله خَتْم آخر على الشفا بسط فيه القول وتوسّع فيه كثيراً واسمه: "الرياض في ختم الشفا لعياض" (4)، وقد اعْتَادَ السّخاوي إقراء ختومه للطلبة بالمسجد الحرام (5)، ويبدو أن هذا الختم من ضمنها.

ويشاء الله تعالى أن تتجَدَّدَ قراءته بعد مضي أكثر من خمسة قرون بالمسجد الحرام أيضاً، فقرأته ليلة السابع والعشرين من رمضان عام (1421 هـ)

--------------------------------------------

(1) إرشاد المناوي بل إسعاف الطالب الراوي بترجمة السخاوي للمصنف ل 65/ أ (مخطوط).

(2) المصدر السابق.

(3) كما في آخر المخطوطة.

(4) وهو مخطوط، له نسخة بالمدينة وأخرى باليمن، وسأعمل إن شاء الله على إخراجه في القريب العاجل.

(5) انظر إرشاد المناوي ل 64/ أ، وه 6/ ب، و 66/ أ، و 81/ أ.
খতমের মজলিসগুলো ছিল সুপরিচিত ইলমি মজলিস এবং প্রশংসিত জ্ঞানতাত্ত্বিক সমাবেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সেখানে হাফিজ সাখাভি কিতাব পাঠদান সমাপ্ত করার পর কিতাবটিতে লেখকের কর্মপদ্ধতির একটি অংশ নিয়ে আলোচনা করতেন, কিতাবের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী বর্ণনা করতেন, লেখকের মর্যাদা ও গুণাবলি গণনা করতেন এবং লেখকের প্রতি তার সনদগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতেন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধরণের ইলমি ফায়দা বা জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকারিতা ছড়িয়ে দিতেন। এসকল মজলিসে বড় পর্যায়ের কেউ অনুপস্থিত থাকতেন না; সেখানে আমির ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হতেন এবং সেখানে কবিতা আবৃত্তি করা হতো (১)।

সাখাভি বলেন: "এর মধ্য থেকে অনেকগুলো কিতাবের জন্য—অর্থাৎ যে কিতাবগুলো আমি পাঠ করিয়েছি—ছিল বর্ণাঢ্য খতম অনুষ্ঠান এবং কিছু রীতিনীতি যা কবুল হওয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমি আশা করি" (২)।

সাখাভি এই বরকতময় খতমটি মক্কায় ৮৯৩ হিজরি সালের রমজান মাসে রচনা করেন (৩)। 'আশ-শিফা' কিতাবের ওপর তার আরেকটি খতম (সমাপনী গ্রন্থ) রয়েছে যাতে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং অনেক দীর্ঘ করেছেন, যার নাম: "আর-রিয়াদ ফি খতমিশ শিফা লি-ইয়াদ" (৪)। সাখাভি সাধারণত মাসজিদুল হারামে ছাত্রদের জন্য তার খতমগুলো পাঠ করাতে অভ্যস্ত ছিলেন (৫), এবং মনে হয় এই খতমটিও তার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আর আল্লাহ তাআলা চাইলেন যে, পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর মাসজিদুল হারামে পুনরায় এর পাঠ নবায়ন হোক। তাই আমি এটি ১৪২১ হিজরি সালের রমজানের সাতাশতম রাতে পাঠ করেছি।

--------------------------------------------

(১) মুসান্নিফ বা লেখকের জীবনী নিয়ে 'ইরশাদুল মুনাউয়ি বাল ইসআফুত তালিবির রাউয়ি বিতরজামাতিল সাখাভি' লি: ৬৫/আ (পাণ্ডুলিপি)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) পাণ্ডুলিপির শেষে যেমনটি রয়েছে।

(৪) এটি একটি পাণ্ডুলিপি, এর একটি কপি মদিনায় এবং অন্যটি ইয়ামেনে রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমি অচিরেই এটি প্রকাশের কাজ করব।

(৫) দেখুন: ইরশাদুল মুনাউয়ি লি: ৬৪/আ, এবং ৬/বা, এবং ৬৬/আ, এবং ৮১/আ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৫)
في صحن المسجد تجاه الكعبة المشرفة مع ثلة كريمة من أهل العلم والفضل (1)؛ ليكون حلقة ضمن سلسلة الأعلاق النفيسة، والرسائل القيمة المفيدة؛ التي تصدر عن "لقاء العشر الأواخر من رمضان في المسجد الحرام".

وَيُعَدُّ هذا الختمُ وثيقةٌ مهمّة، وشهادةً جليلة، بِعُلُوِّ كَعْبِ القاضي عياض، ونَفَاسَةِ كتابه الشفا، فقد أثنى السّخاوي على القاضي عياض وكتابه المذكور ثناء عاطراً، وأورد قصائد ومقطوعات في ذلك، ثم ذكر أسانيده إلى كتاب الشفا.

ولا يخفى على أحد مكانة كتاب الشفا بين المصنفات في موضوعه، فهو من أهم المؤلَّفات في السيرة النبوية، وقد كتب الله له القبول والذيوع فحمله الناس عن مؤلفه واستمدوا منه، وطارت نسخه شرقاً وغرباً، وأقبل الناس على قراءته عَجَماً وَعُرْباً، ولا غَرْوَ في ذلك، فقد أبدع فيه مؤلفه كل الِإبداع، وأجاد في تصنيفه وترتيبه، وكل من حقق نظره في تدقيقه، ودقق فكره في تحقيقه، سلّم بأن ذلك منحة ربانية خصّ الله بها هذا الِإمام، وحلاّه بها، وما أحسن ما قال القائل: كُلُهُمْ حَاوَلَ الدَّوَاءَ وَلَكِنْ … مَا أَتَى بِالشِّفَا إِلَاّ عِيَاضُ

--------------------------------------------

(1) منهم الشيخ المطلع النابغة المحقق محمَّد بن ناصر العجمي، والشيخ العلَّامة نظام بن محمَّد صالح يعقوبي، والأستاذ الدكتور اللغوي المطلع عبد الله بن حمد المحارب، والأستاذ المحقق الناشر رمزي دمشقية، والأستاذ الفاضل هاني بن عبد العزيز ساب، وغيرهم من الأفاضل حفظ الله تعالى جميعهم، ووفقهم لما يحبه ويرضاه.
মাসজিদুল হারামের চত্বরে সম্মানিত কা'বার অভিমুখে একদল ইলম ও মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গের সাথে (১); যেন এটি 'মাসজিদুল হারামে রমজানের শেষ দশ দিনের আসর' থেকে প্রকাশিত অত্যন্ত মূল্যবান ও সারগর্ভ পত্রাবলি ও উচ্চমানের গ্রন্থাবলির সিরিজের একটি অংশ হয়।

এই সমাপ্তি-আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং ইমাম কাযী আয়াযের শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর কিতাব 'আশ-শিফা'-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যের এক মহান সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত। আল-সাখাভী কাযী আয়ায এবং তাঁর উক্ত কিতাব সম্পর্কে সুগন্ধিযুক্ত (উচ্চকিত) প্রশংসা করেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন কবিতা ও কাব্যিক পঙক্তি উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি 'আশ-শিফা' কিতাব পর্যন্ত তাঁর সনদসমূহ বর্ণনা করেছেন।

নিজ বিষয়ের গ্রন্থাবলির মধ্যে 'আশ-শিফা' কিতাবের মর্যাদা কারও অজানা নয়। এটি সীরাতুন নবী-এর উপর রচিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিতাব। আল্লাহ তাআলা একে কবুলিয়াত ও ব্যাপক প্রসিদ্ধি দান করেছেন; ফলে মানুষ এর লেখকের কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেছে এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। এর পাণ্ডুলিপিসমূহ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আরব-অনারব নির্বিশেষে সকল মানুষ এটি পড়ার জন্য আগ্রহী হয়েছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কেননা এর লেখক এতে চরম সৃজনশীলতা দেখিয়েছেন এবং এর বিন্যাস ও সজ্জায় চরম পারদর্শিতা প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তিই এর সূক্ষ্ম পর্যালোচনায় দৃষ্টি দিয়েছে এবং এর গবেষণায় চিন্তাকে নিবিষ্ট করেছে, সে স্বীকার করেছে যে এটি একটি খোদায়ী দান যার মাধ্যমে আল্লাহ এই ইমামকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং এর দ্বারা তাঁকে অলঙ্কৃত করেছেন। কবির সেই উক্তিটি কতই না সুন্দর: সবাই ওষুধের চেষ্টা করেছিল কিন্তু … আয়ায ছাড়া আর কেউই ‘শিফা’ নিয়ে আসতে পারেনি।

--------------------------------------------

(১) তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাজ্ঞ ও মেধাবী গবেষক শেখ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি, আল্লামা শেখ নিযাম বিন মুহাম্মদ সালেহ ইয়াকুবী, বিজ্ঞ ভাষাবিদ অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-মুহারিব, গবেষক ও প্রকাশক রামজি দামেশকিয়া, এবং মহৎ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক হানি বিন আব্দুল আজিজ সাব ও অন্যান্য গুণী ব্যক্তিবর্গ; আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলকে হিফাজত করুন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করে এমন সব কাজে তাঁদের তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৬)
ومع أن كتاب الشفا قد بلغ هذه المرتبة العظيمة، فإنه قد انتقد على مؤلفه فيه أشياء، وهكذا طبيعة عمل البشر، لا بدَّ أن يعتوره النقص والخطأ مهما بلغ من الِإجادة والِإتقان.

وقد اعتمدت في إخراج هذا الختم على نسخة يتيمة محفوظة بمكتبة الحرم المكي العامرة، واجتهدت في ضبط نصه، وخدمته والتعليق عليه بما يسر أهل العلم والقراء إن شاء الله تعالى، وما توفيقي إلَاّ بالله، عليه توكلت، وإليه أنيب.

وختاماً أسال الله جلَّ وعلا أن يتقبل مني هذا العمل، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، إنه سبحانه نعم المسؤول، والحمد لله أولاً وآخراً، وظاهراً وباطناً.

 

وكتب

عبد اللطيف بن محمَّد الجيلاني الآسفي

لطف الله به وغفر له ولوالديه

بالمسجد النبوي الشريف

في يوم الأربعاء غرَّة شهر صفر عام 1422 هـ
যদ্যপি কিতাবুল শিফা এই সুমহান মর্যাদায় পৌঁছেছে, তবুও এর মধ্যে লেখকের কিছু বিষয়ের সমালোচনা করা হয়েছে। আর এটাই মানবীয় কর্মের প্রকৃতি; তা উৎকর্ষ ও নিপুণতার যে স্তরেই পৌঁছাক না কেন, তাতে অপূর্ণতা ও ত্রুটি থাকা অনিবার্য।

আমি এই সমাপ্তি অংশটি সম্পাদনায় মক্কার হারাম শরীফের সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। আমি এর পাঠ্য বিন্যাস, পর্যালোচনা এবং টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, যা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় আলেম সমাজ ও পাঠকদের জন্য সহায়ক হবে। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।

পরিশেষে আমি মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে এই আমল কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য একনিষ্ঠ করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।

 

লিখেছেন

আব্দুল লতিফ বিন মুহাম্মদ আল-জিলানি আল-আসফি

আল্লাহ তাঁর প্রতি সদয় হোন এবং তাঁকে ও তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন

মসজিদে নববী শরীফে

১৪২২ হিজরি সনের পহেলা সফর, বুধবার।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌التعريف بالمصنف

العلَاّمة شمس الدين السخاوي

هو العلَاّمة الحافظ الناقد شمس الدِّين محمَّد بن عبد الرحمن ابن محمَّد السخاوي القاهري المصري الشافعي، مولده بالقاهرة سنة (831 هـ)، ونشأ في رعاية والده الذي اهتم بتربيته وتعليمه، فحفظ القرآن ولازم شيوخ عصره في فنون شتى كالعربية والحديث والفقه وغير ذلك، ورحل إلى أقطار شتى، وكتب العالي والنازل، واستكثر من الشيوخ حتى زاد عددهم على أربعمائة نفس.

وانتفع كثيراً بشيخه الحافظ ابن حجر رحمه الله فكان لا ينفك عن ملازمته حتى أصبح أمثل تلاميذه وأقربهم إليه، ثم صار رحمه الله من أشهر علماء زمانه، وبرع في الحديث والتاريخ، وتصدى رحمه الله للِإقراء والتدريس لا سيَّما عند إقامته بالحرمين مكة والمدينة، فأقبل عليه الطلبة من كل حدب وصوب، وأخذ عنه من الخلائق من لا يحصى كثرة، وأثنى عليه شيوخه وأقرانه وتلاميذه ثناء عاطراً، واعترفوا له بسعة الاطلاع، والتضلع في العلوم.

قال عنه المتقي ابن فهد: "زين الحفاظ، وعمدة الأئمة الأيقاظ،
গ্রন্থকারের পরিচিতি

আল্লামা শামসুদ্দীন আস-সাখাভী

তিনি হলেন আল্লামা, হাফেজ ও সমালোচক শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাখাভী আল-কাহেরি আল-মিসরি আশ-শাফিঈ। তাঁর জন্ম কায়রোতে (৮৩১ হিজরি) সনে। তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন, যিনি তাঁর লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং তাঁর সমসাময়িক শায়খদের নিকট আরবি ভাষা, হাদিস, ফিকহসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন এবং উচ্চ ও নিম্ন উভয় স্তরের বর্ণনা সংগ্রহ করেন। তিনি বিপুল সংখ্যক শায়খের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন, এমনকি তাঁদের সংখ্যা চার শতাধিক ছাড়িয়ে যায়।

তিনি তাঁর উস্তাদ হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাধ্যমে অত্যন্ত উপকৃত হন এবং সর্বদা তাঁর সাথে লেগে থাকতেন, এমনকি তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ ও নিকটতম ছাত্রে পরিণত হন। এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সময়ের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং হাদিস ও ইতিহাস শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি শিক্ষাদান ও পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার হারামাইনে অবস্থানকালে। ফলে চারদিক থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে সমবেত হয় এবং অসংখ্য মানুষ তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন। তাঁর উস্তাদগণ, সমসাময়িকগণ এবং ছাত্ররা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও বিভিন্ন শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের কথা স্বীকার করেছেন।

মুত্তাকি ইবনে ফাহাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "হাফেজদের অলংকার এবং জাগ্রত ইমামগণের প্রধান অবলম্বন,
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৮)
شمس الدنيا والدين، ممن اعتنى بخدمة حديث سيِّد المرسلين، واشتهر بذلك في العالمين، على طريقة أهل الدين والتقوى، فبلغ فيه الغاية القصوى".

وقال عنه المتقي الشمني: "الإِمام العلَاّمة الثقة الفهامة الحجة، مفتي المسلمين، إمام المحدثين، حافظ العصر، شيخ السنة النبوية ومحررها وحامل راية فنونها ومقررها من صار الاعتماد عليه، والمرجوع في كشف المعضلات إليه، أمتع الله بفوائده وأجراه على جميل عوائده".

وقد أثرى رحمه الله المكتبة الِإسلامية بتصانيف كثيرة في الحديث والتاريخ وغيرهما من الفنون، وهي في مجملها متقنة محرّرة، ولذلك نالت استحسان العلماء وثناءهم، فقد كان العز الكناني الحنبلي يثني عليها ويكثر من مطالعتها والانتقاء منها (1).

ومن أشهر هذا التصانيف: كتاب الضوء اللامع لأهل القرن التاسع، وفتح المغيث بشرح ألفية الحديث للعراقي، والغاية في شرح الهداية للسخاوي، والأجوبة المرضية فيما سئل عنه من الأحاديث النبوية، والمقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة، والقول البديع في الصلاة على الحبيب الشفيع، وغيرها، وكلها مطبوعة متداولة.

--------------------------------------------

(1) ذكر هذا السخاوي نفسه، ونقل عنه أنه قال في حق بعضها: "إن لم تكن التصانيف هكذا وإلَاّ فلا فائدة". (إرشاد المناوي ل 80/ ب).
দুনিয়া ও দীনের সূর্য, যিনি রাসূলগণের সরদারের হাদিসের খিদমতে মনোনিবেশ করেছেন এবং ধর্মপ্রাণ ও আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করে বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, এমনকি এই বিদ্যায় তিনি চূড়ান্ত শিখরে আরোহণ করেছেন।

মুত্তাকী আশ-শুমনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি একজন ইমাম, আল্লামা, নির্ভরযোগ্য, প্রজ্ঞাবান এবং অকাট্য দলিল, মুসলিমদের মুফতি, মুহাদ্দিসগণের ইমাম, সমকালীন হাফেজ, সুন্নাতে নববীর শাইখ ও এর সংস্কারক, এই ইলমের বিভিন্ন শাখার ঝাণ্ডাবাহী ও এর সুপ্রতিষ্ঠাকারী; যাঁর ওপর নির্ভর করা হয় এবং জটিল সমস্যা নিরসনে যাঁর দিকে ফিরে আসা হয়। আল্লাহ যেন তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং তাঁর উত্তম ধারাকে অব্যাহত রাখেন।"

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি হাদিস, ইতিহাস এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর বহু রচনার মাধ্যমে ইসলামি পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করেছেন। এই কাজগুলো সামগ্রিকভাবে অত্যন্ত নিপুণ ও পরিমার্জিত। এ কারণেই এগুলো ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। আল-ইয আল-কিনানি আল-হাম্বলি তাঁর এই কাজগুলোর প্রশংসা করতেন এবং অধিক পরিমাণে এগুলো পাঠ করতেন ও সেখান থেকে সারাংশ গ্রহণ করতেন (১)।

তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'আদ-দাওউল লামি লি আহলিল করনিত তাসি', ইরাকির আলফিয়্যাতুল হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল মুগিস', সাখাভির 'আল-গায়া ফি শারহিল হিদায়া', রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর সম্বলিত 'আল-আজউয়িবাতুল মারদিয়্যাহ', মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হাদিসগুলোর বর্ণনায় 'আল-মাকাসিদুল হাসানাহ', সুপারিশকারী প্রিয় নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের বিষয়ে 'আল-কাওলুল বাদি', ইত্যাদি। এর সবগুলোই বর্তমানে মুদ্রিত ও প্রচলিত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সাখাভি নিজেই এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি এগুলোর কোনো কোনোটি সম্পর্কে বলেছিলেন: "যদি রচনা এমনই না হয়, তবে তাতে কোনো ফায়দা নেই।" (ইরশাদুল মুনাউয়ি, পত্র ৮০/ খ)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৯)
توفي رحمه الله بعد حياة حافلة بطلب العلم والتدريس والِإقراء والِإفتاء والتصنيف سنة (952 هـ) بالبقيع بالمدينة النبوية على ساكنها أفضل الصلاة وأزكى التسليم، رحمه الله رحمة واسعة وجزاه عن الإِسلام والمسلمين خير الجزاء (1).

• • •

--------------------------------------------

(1) رأيت الاكتفاء بهذه الترجمة المقتضبة جدّاً مراعاة مني للمقام، فإنه لا يتسع لأكثر من هذا، لا سيما والسخاوي قد ترجمة لنفسه ترجمة موسعة في الضوء اللامع (8/ 2 - 32)، ثم عاد وأفرد كتابأ كبيراً وحافلاً في ترجمته سماه: "إرشاد الغاوي بل إسعاف الطالب الراوي بترجمة السخاوي"، وهو مخطوط محفوظ بخزانة أيا صوفيا بتركيا بخط ابن فهد وعليه خط مصنفه، ولدي مصورة عنه، ومن هذين الكتابين استقيت معظم هذه الترجمة.

كما أن له ترجمة في تاريخ النور السافر عن أخبار القرن العاشر للعيدروسي ص 18 - 23، والكواكب السائرة بأعيان المائة العاشرة للغزي 1/ 53، 54، وشذرات الذهب لابن العماد 8/ 15 - 17، والبدر الطالع للشوكاني وَكُتِبَتْ عنه العديد من الدراسات، أذكر منها: السخاوي مؤرخاً لعبد الله بن ناصر الشقاري، رسالة دكتوراه بجامعة الإِمام محمَّد بن سعود بالرياض سنة 1406. والسخاوي محدثاً لسعيد حليم، رسالة ماجستير بجامعة الحسن الثاني بالمغرب عام 1414 هـ. والسخاوي وجهوده في الحديث وعلومه لبدر العماش، رسالة دكتوراه بقسم علوم الحديث بالجامعة الِإسلامية بالمدينة عام 1419 هـ، وقد صدرت مؤخراً في مجلدين عن مكتبة الرشد بالرياض، وغيرها كثير.
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) জ্ঞান অন্বেষণ, শিক্ষাদান, কুরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষাদান, ফতোয়া প্রদান এবং গ্রন্থ রচনার এক কর্মমুখর জীবন অতিবাহিত করার পর ৯৫২ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারার বাকী গোরস্থানে ইন্তেকাল করেন—মদিনার বাসিন্দার (নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম বিনিময় দান করুন (১)।

• • •

--------------------------------------------

(১) বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আমি এই অতি সংক্ষিপ্ত জীবনীতে সীমাবদ্ধ থাকাই সঙ্গত মনে করেছি, কারণ এটি এর চেয়ে বেশি পরিসরের জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে ইমাম সাখাবি নিজেই তাঁর 'আদ-দউ আল-লামি' গ্রন্থে (৮/ ২ - ৩২) নিজের একটি বিস্তারিত জীবনী লিখেছেন। এরপর তিনি পুনরায় তাঁর জীবনীর ওপর 'ইরশাদুল গাউয়ি বাল ইসআফুত তালিবির রাউয়ি বি তারজামাতিস সাখাবি' নামে একটি বৃহৎ ও সমৃদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেন। এটি ইবনে ফাহদের হস্তাক্ষরে তুরস্কের আয়া সোফিয়া লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত আছে এবং এতে গ্রন্থকারের নিজের হাতের লেখাও রয়েছে। আমার কাছে এর একটি ফটোকপি রয়েছে এবং এই দুটি গ্রন্থ থেকেই আমি এই জীবনীর অধিকাংশ তথ্য গ্রহণ করেছি।

এছাড়াও তাঁর জীবনী আইদারুসি রচিত 'তারিখুন নুরিস সাফির আন আখবারিল কারনিস আশির' (পৃষ্ঠা ১৮-২৩), গাজ্জি রচিত 'আল-কাওয়াকিবুত সাইয়িরাহ বি আইয়ানিল মিআতির আশিরাহ' (১/ ৫৩, ৫৪), ইবনুল ইমাদ রচিত 'শাযারাতুয যাহাব' (৮/ ১৫-১৭) এবং শাওকানি রচিত 'আল-বাদরুত তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তাঁকে নিয়ে অনেক গবেষণা প্রবন্ধ রচিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্য থেকে আমি উল্লেখ করছি: আবদুল্লাহ বিন নাসির আল-শিকারি রচিত 'সাওখাবি একজন ঐতিহাসিক হিসেবে', এটি ১৪০৬ হিজরিতে রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি থিসিস হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল। সাইদ হালিম রচিত 'সাখাবি একজন মুহাদ্দিস হিসেবে', এটি ১৪১৪ হিজরিতে মরক্কোর হাসানুস সানি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স থিসিস হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল। এবং বদর আল-আম্মাশ রচিত 'সাখাবি এবং হাদিস ও এর শাখাগুলোতে তাঁর অবদান', এটি ১৪১৯ হিজরিতে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি থিসিস হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল। এটি সম্প্রতি রিয়াদের মাকতাবাতুর রুশদ থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌التعريف بالكتاب

‌‌موضوع الكتاب:

يُعَدُّ هذا الكتاب من كتب الختم، وهي كتب يصنفها الشيخ أو يصليها برسم الانتهاء من إقرائه لكتاب من كتب الحديث أو السيرة أو الفقه أو غيرها من الفنون، ويكون الكلام فيه على فضائل مصنف الكتاب ومناقبه ومآثره، وخصائص كتابه ومزاياه ومنهجه فيه، ويسوق أسانيده إليه، وقد يشرح آخر حديث في الكتاب، ويتكلم عليه سنداً ومتناً. وتعتبر كتب الختم مرجعاً مهمّاً في دراسة مناهج المصنفين؛ إذا يتضمن كثير منها خلاصة الاستقراء لتلك المناهج (1)، ولذلك فلا ينبغي إهمال الرجوع إليها لِكُلِّ مَنْ رَامَ البحث في تراجم العلماء أو مناهجهم في تصانيفهم أو النظر في أسانيد الكتب ومعرفة مدى انتشارها واهتمام الناس بها.

--------------------------------------------

(1) نبّه على هذا شيخنا الدكتور عبد العزيز بن محمَّد العبد اللطيف رحمه الله وتغمده برحمته في مقدمة تحقيقه لكتاب: "بغية الراغب المتمني في ختم النسائي برواية ابن السني"، ص 5.
বই পরিচিতি

বইটির বিষয়বস্তু:

এই বইটি ‘খতম’ গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয়। এগুলো এমন সব কিতাব যা শাইখগণ হাদিস, সিরাত, ফিকহ বা অন্য কোনো শাস্ত্রের কোনো কিতাব পড়ানো শেষ করার স্মারক হিসেবে রচনা করেন অথবা পাঠ করেন। এতে মূল কিতাবের লেখকের গুণাবলি, মর্যাদা ও কীর্তিসমূহ এবং তার কিতাবের বৈশিষ্ট্য, শ্রেষ্ঠত্ব ও তাতে অনুসৃত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। লেখক সেই কিতাব পর্যন্ত নিজের সনদসমূহ উপস্থাপন করেন। কখনও কখনও কিতাবের সর্বশেষ হাদিসটির সনদ ও মতনসহ ব্যাখ্যা করেন। গ্রন্থকারদের লিখনপদ্ধতি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ‘খতম’ গ্রন্থগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত; কারণ এগুলোর অনেকগুলোতে সেই পদ্ধতিসমূহের পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকে (১)। তাই আলেমদের জীবনী বা তাদের কিতাবসমূহের মানহাজ নিয়ে গবেষণা করতে ইচ্ছুক অথবা কিতাবসমূহের সনদ এবং সেগুলোর ব্যাপকতা ও মানুষের আগ্রহের বিষয়াদি জানতে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের জন্য এগুলোর সাহায্য নেওয়া উপেক্ষা করা উচিত নয়।

--------------------------------------------

(১) আমাদের শাইখ ড. আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-আব্দুল লতিফ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পাদিত ‘বুগইয়াতুর রাগিবিল মুতামান্নি ফি খাতমিন নাসায়ি বি রিওয়ায়াতি ইবনিস সুন্নি’ কিতাবের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৫) এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد بدأت العناية بهذا اللّون من التصنيف تبعاً لظهور التصنيف في افتتاح الكتب، أعني كتب الافتتاحيات، وهي كتب يصنفها الشيخ أو يمليها برسم الشروع في إقراء كتاب من الكتب أو تدريسه، فتكون بمثابة المقدمة أو المدخل لذلك الكتاب، ويتناول فيها المصنف ما يتناوله مؤلفو كتب الختم من ترجمة صاحب الكتاب المراد إقراؤه، والكلام على خصائص كتابه ومنهجه فيه، وَسَوْقِ أسانيده إليه، وَعَرْضِ ما قيل في الثناء عليه نظماً ونثراً.

وأوَّل من علِمته صنّف في ذلك الحافظ أبو طاهر السِّلَفِي (ت 576 هـ) حيث أملى مقدمة على كتاب معالم السنن للخطابي (1)، ومقدمة أخرى على كتاب الاستذكار لابن عبد البر القرطبي (2)، ولم يشتهر التصنيف في الختم إلَاّ مع مطلع القرن التاسع الهجري، فالّف في ذلك العلَاّمة ابن الجزري (ت 833 هـ) كتابه: "المصعد

--------------------------------------------

(1) طبعت في آخر كتاب معالم السنن 8/ 138 - 163.

(2) قمت بتحقيقها على نسختين خطِّيَّتين، وقد نشرف بفضل الله ضمن سلسلة لقاء العشر الأواخر من رمضان، وممن ألف في الافتتاحيات أيضاً الحافظ ابن ناصر الدين الدمشقي (ت 842 هـ) له كتاب: "افتتاح القاري لصحيح البخاري" مخطوط بمكتبة الموسوعة الفقهية بوزارة الأوقاف الكويتية برقم: 286/ 1، وللحافظ السيوطي (ت 911 هـ): "رفد القاري بما ينبغي تقديمه عند افتتاح صحيح البخاري" مخطوط بالخزانة العامة بالرباط برقم: 2711 ك، ولمحمد بن المدني بن الغازي بن الحسني الرباطي كتاب: "ثالث افتتاح لأصح الصحاح" مخطوط بالخزانة العامة بالرباط ضمن مجموع برقم: 1821 د.
এই ধরণের রচনার প্রতি মনোযোগ শুরু হয়েছে গ্রন্থসমূহের শুরুর দিকে রচনার আবির্ভাবের অনুগামী হয়ে, অর্থাৎ উদ্বোধনী গ্রন্থসমূহ। এগুলো এমন বই যা কোনো শায়খ কোনো একটি গ্রন্থ পাঠদান বা অধ্যাপনা শুরু করার প্রাক্কালে রচনা করেন বা শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করেন, ফলে তা ঐ গ্রন্থের ভূমিকা বা প্রবেশিকা হিসেবে গণ্য হয়। এতে গ্রন্থকার সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন যা সাধারণত সমাপ্তি (খতম) গ্রন্থের লেখকরা আলোচনা করে থাকেন; যেমন—যে গ্রন্থটি পাঠদান করা হবে তার লেখকের জীবনী, গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য ও তার পদ্ধতি বর্ণনা করা, লেখকের দিকে গ্রন্থের সনদসমূহ উপস্থাপন করা এবং কবিতা ও গদ্যে সেই গ্রন্থের প্রশংসায় যা বলা হয়েছে তা পেশ করা।

আমার জানামতে এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফি (মৃত্যু ৫৭৬ হি.), যেখানে তিনি খাত্তাবীর 'মাআলিমুস সুনান' গ্রন্থের ওপর একটি ভূমিকা শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করেছিলেন (১), এবং ইবনে আবদিল বার আল-কুরতুবীর 'আল-ইস্তিজকার' গ্রন্থের ওপর অপর একটি ভূমিকা প্রদান করেন (২)। আর সমাপ্তি বিষয়ক রচনা নবম হিজরি শতাব্দীর শুরু ছাড়া প্রসিদ্ধি লাভ করেনি, তখন আল্লামা ইবনুল জাজারি (মৃত্যু ৮৩৩ হি.) এ বিষয়ে তাঁর গ্রন্থ: "আল-মুসআদ" রচনা করেন...

--------------------------------------------

(১) এটি মাআলিমুস সুনান গ্রন্থের শেষে ৮/ ১৩৮ - ১৬৩ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে।

(২) আমি দুটি পাণ্ডুলিপির সাহায্যে এটি সম্পাদনা করেছি এবং আল্লাহর অনুগ্রহে এটি লিক্বাউল আশরিল আওয়াহির মিন রামাদান সিরিজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। উদ্বোধনী গ্রন্থ রচয়িতাদের মধ্যে হাফেজ ইবনু নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৮৪২ হি.)-ও রয়েছেন, তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে: "ইফতিতাহুল ক্বারী লি-সহীহিল বুখারী", যা কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ফিক্বহ বিশ্বকোষ লাইব্রেরিতে ২৮৬/১ নম্বরে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত। হাফেজ সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হি.)-এর রয়েছে: "রিফদুল ক্বারী বিমা ইয়ামবাগি তাক্বদীমুহু ইনদা ইফতিতাহি সহীহিল বুখারী", এটি রাবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারে ২৭১১ কাফ নম্বরে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত। এবং মুহাম্মদ ইবনুল মাদানী ইবনুল গাজী ইবনুল হাসানী আর-রাবাতীর একটি গ্রন্থ আছে: "সালিছ ইফতিতাহ লি-আসাসিস সিহাহ", এটি রাবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারে ১৮২১ দাল নম্বরের একটি সংকলনের মধ্যে পাণ্ডুলিপি হিসেবে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১২)
الأحمد في ختم مسند الإِمام أحمد" (1)، وألّف الحافظ ابن ناصر الدين الدمشقي (ت 842 هـ) في ختم البخاري ومسلم (2) والسيرة النبوية لابن هشام (3) والشفا (4).

ثم أتى بعدهما الحافظ محمَّد بن عبد الرحمن السخاوي فاعتنى بتصنيف كتب الختم عناية كبرى لا نجدها عند غيره من المصنفين، فألّف ثلاثة عشر كتاباً في ذلك، سماها عندما ترجم لنفسه في الضوء اللاّمع، وكذا في الترجمة التي أفردها لنفسه، وفيما يلي أسماء هذه الكتب مرتبة على حروف المعجم (5):

1 - الِإلمام في ختم السيرة النبوية لابن هشام (6).

--------------------------------------------

(1) ألّفه في مكة المكرمة عند ختمه المسند الإِمام أحمد سنة 828 هـ، وقد طبع بمطبعة السعادة بمصر سنة 1347 هـ، ثم قامت بطبعه مكتبة السنة بالقاهرة سنة 1410 هـ اعتماداً على طبعة مطبعة السعادة.

(2) ذكرهما ضمن مؤلفات ابن ناصر الدين: السخاوي في الضوء اللامع 8/ 104.

(3) طبع بعنوان: "مجلس في ختم السيرة النبوية بتحقيق: إبراهيم صالح عن دار البشائر بدمشق عام 1419 هـ.

(4) له نسخة خطية بمكتبة أورشليم، وعنها مصورة بمكتبة الملك فهد الوطنية بالرياض.

(5) انظر: الضوء اللامع 8/ 18، وإرشاد المناوي بل إسعاد الراوي بترجمة السخاوي ل 80/ أ- 81/ أ (مخطوط).

(6) يوجد مخطوطاً بدار الكتب الوطنية بتونس ضمن مجموع برقم: 6662، في خمس ورقات، نسخ بخط محمد بن أحمد بن محمَّد الشلبي الحنفي في =
"আল-আহমাদ ফি খাতমি মুসনাদিল ইমাম আহমাদ" (১), এবং হাফেজ ইবনু নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকী (মৃ. ৮৪২ হি.) বুখারি ও মুসলিমের সমাপ্তি (খাতম) (২), ইবনু হিশামের সিরাতুন্নাবাবিয়্যাহ (৩) এবং আশ-শিফা (৪) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন।

অতঃপর তাঁদের পরে আসলেন হাফেজ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাবি। তিনি গ্রন্থ সমাপ্তকরণ (খাতম) বিষয়ক কিতাব রচনায় এমন ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেন যা অন্য কোনো গ্রন্থকারের মাঝে দেখা যায় না। তিনি এই বিষয়ে তেরোটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি 'আদ-দাওউল লামি' গ্রন্থে নিজের জীবনী রচনার সময় এবং তাঁর নিজের জন্য নিবেদিত স্বতন্ত্র জীবনীতে এগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন। নিম্নে বর্ণানুক্রম অনুযায়ী এই গ্রন্থগুলোর নাম দেওয়া হলো (৫):

১ - আল-ইলমাম ফি খাতমিস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনি হিশাম (৬)।

--------------------------------------------

(১) তিনি এটি মক্কা মুকাররামায় ৮২৮ হিজরিতে ইমাম আহমাদ রহ.-এর মুসনাদ সমাপ্ত করার সময় রচনা করেন। এটি ১৩৪৭ হিজরিতে মিসরের মাতবাআতুস সাআদাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে। পরবর্তীতে ১৪১০ হিজরিতে কায়রোর মাকতাবাতুস সুন্নাহ, মাতবাআতুস সাআদাহ-এর মুদ্রণের ওপর ভিত্তি করে এটি প্রকাশ করে।

(২) সাখাবি 'আদ-দাওউল লামি' (৮/১০৪) গ্রন্থে ইবনু নাসিরুদ্দীনের রচনার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এই দুটির কথা উল্লেখ করেছেন।

(৩) এটি "মাজলিসুন ফি খাতমিস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ" শিরোনামে ইবরাহিম সালিহের সম্পাদনায় ১৪১৯ হিজরিতে দামেস্কের দারুল বাশায়ির থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) জেরুজালেম লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে এবং রিয়াদের বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারে এর একটি অনুলিপি রক্ষিত আছে।

(৫) দেখুন: আদ-দাওউল লামি ৮/১৮, এবং ইরশাদুল মুনাউয়ি বাল ইসআদুর রাওয়ি বি-তারজামাতিল সাখাবি ৮০/ক-৮১/ক (পাণ্ডুলিপি)।

(৬) এটি তিউনিসিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগারে ৬৬৬২ নম্বর সংকলনের অধীনে পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান। এটি পাঁচটি পাতায় মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আশ-শিলবি আল-হানাফি-এর হস্তলিপিতে প্রতিলিপি করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - الانتهاض في ختم الشفا لعياض (1).

3 - بذل المجهود في ختم سنن أبي داود (2).

4 - بغية الراغب المتمني في ختم النسائي رواية ابن السني (3)

5 - الجوهرة المزهرة في ختم التذكرة للقرطبي.

6 - رفع الِإلباس في ختم السيرة لابن سيد الناس.

7 - الرياض في ختم الشفا لعياض (4).

8 - عجالة الضرورة والحاجة عند ختم السنن لابن ماجه (5).

9 - عمدة القاري والسامع في ختم الصحيح الجامع (6).

--------------------------------------------

= شوال سنة 1044 هـ، وله مصورة بقسم المخطوطات بالجامعة الِإسلامية بالمدينة المنورة، ويعمل على تحقيقه الأخ الباحث الأستاذ أنس بن الحسن وكاك من المغرب.

(1) وهو هذا الختم الذي بين أيدينا.

(2) انتهيت من تحقيقه على نسختين خطيتين، وسيطبع قريباً بإذن الله تعالى.

(3) طبع بتحقيق شيخنا الدكتور عبد العزيز العبد اللطيف رحمه الله عام 1414 هـ بمكتبة العبيكان بالرياض.

(4) منه نسخة باليمن، وأخرى بخزانة الشيخ عارف حكمت بالمدينة ضمن مجموع برقم: 308، يسَّر الله لي تحقيقه ونشره.

(5) مخطوط بدار الكتب المصرية.

(6) طبع بتحقيق علي العمران اعتماداً على نسخة دار الكتب المصرية، وهي بخط تلميذ المؤلف القسطلاني ونشرفه دار عالم الفوائد بمكة المكرمة، ثم نشر مؤخراً بتحقيق د. مبارك الهاجري الكويتي في مجلة كلية الشريعة التي تصدر عن جامعة الكويت/ السنة: 16 العدد: 44 ذو الحجة 1421 هـ - مارس 2001 م، اعتماداً على نسختين: النسخة المشار إليها، ونسخة مكتبة =
২ - আল-ইনতিহাদ ফি খাতমিশ শিফা লি-ইয়াজ (১)।

৩ - বাযলুল মাজহুদ ফি খাতমি সুনানি আবি দাউদ (২)।

৪ - বুগইয়াতুর রাগিবিল মুতামান্নি ফি খাতমিন নাসায়ি রিওয়ায়াতু ইবনিস সুন্নি (৩)

৫ - আল-জাওহারাতুল মুযহিরাহ ফি খাতমিত তাযকিরাহ লিল কুরতুবি।

৬ - রাফউল ইলবাস ফি খাতমিস সিরাহ লি-ইবনি সাইয়্যিদিন নাস।

৭ - আর-রিয়ায ফি খাতমিশ শিফা লি-ইয়াজ (৪)।

৮ - উজ্বালাতুদ দারুরাতি ওয়াল হাজাহ ইনদা খাতমিস সুনানি লিবনি মাজাহ (৫)।

৯ - উমদাতুল কারি ওয়াস সামি' ফি খাতমিস সহিহ আল-জামি' (৬)।

--------------------------------------------

= শাওয়াল ১০৪৪ হিজরি। মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগে এর একটি অনুলিপি রয়েছে এবং মরক্কোর গবেষক ভাই উস্তাদ আনাস ইবনুল হাসান ওয়াকাক এটি সম্পাদনার কাজ করছেন।

(১) এটি সেই সমাপ্তি-গ্রন্থ (খাতম) যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে।

(২) আমি দুইটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এর সম্পাদনা শেষ করেছি এবং ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই এটি মুদ্রিত হবে।

(৩) এটি আমাদের শায়খ ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-আব্দুল লতিফ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সম্পাদনায় ১৪১৪ হিজরিতে রিয়াদের আল-উবাইকান লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

(৪) এর একটি অনুলিপি ইয়ামেনে এবং অন্যটি মদিনার শায়খ আরিফ হিকমত লাইব্রেরির ৩০৮ নম্বর সংকলনের অধীনে রয়েছে। আল্লাহ আমার জন্য এর সম্পাদনা ও প্রকাশনা সহজ করে দিন।

(৫) মিসরের দারুল কুতুব-এ পাণ্ডুলিপি হিসেবে রক্ষিত।

(৬) এটি আলি আল-ইমরানের সম্পাদনায় দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে মুদ্রিত হয়েছে, যা লেখকের ছাত্র কাসতালানির হস্তলিপিতে লিখিত এবং মক্কার দারু আলমিল ফাওয়ায়িদ থেকে প্রকাশিত। পরবর্তীতে এটি কুয়েতি ডক্টর মুবারক আল-হাজরির সম্পাদনায় কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত শরীআহ অনুষদ সাময়িকীতে (বর্ষ: ১৬, সংখ্যা: ৪৪, যিলহজ ১৪২১ হিজরি - মার্চ ২০০১ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়েছে। এটি দুইটি অনুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত: একটি উল্লিখিত অনুলিপি এবং অন্যটি [ফাঁকা] লাইব্রেরির অনুলিপি। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
1 - غنية المحتاج في ختم صحيح مسلم بن الحجاج (1).

11 - القول المرتقي في ختم دلائل النبوة للبيهقي.

12 - القول المعتبر في ختم النسائي رواية ابن الأحمر (2).

13 - اللّفظ النافع في ختم كتاب الترمذي الجامع (3).

وقد اهتم السخاوي بإقراء ختومه وإسماعها للطلبة لا سيَّما كتابه في ختم الشفا، يقول في ترجمة أحمد بن محمَّد بن إبراهيم المعروف بابن ظهيرة: "سمع عليَّ الشفا ومؤلَّفي في ختمه، وحضر علي قبل ذلك أشياء" (4)، وقال في ترجمة محمَّد بن محمَّد بن إبراهيم المعروف بابن ظهيرة المكي: "قرأ علي الشفا بمكة ومؤلَّفي في ختمه وسمع قبل ذلك وبعده مني وعلي أشياء" (5).

--------------------------------------------

= تشستربيتي بإرلندا وهي بخط البلبيسي، وهو أيضاً تلميذ للمؤلف، وفاته هو والذي قبله اعتماد نسخة أخرى مهمة محفوظة بخزانة الشيخ عارف حكمت ضمن مجموع برقم: 308.

(1) طبع بتحقيق نظر الفاريابي ونشرفه مكتبة الكوثر بالرياض، اعتماداً على نسخة سقيمة محفوظة بمكتبة الحرم المكي، وفاته اعتماد نسختين مهمتين أولاهما: محفوظة بخزانة الشيخ عارف حكمت ضمن مجموع برقم: 358، والثانية: محفوظة بدار الكتب المصرية برقم: 2569 حديث، وكتب عنوان هذه النسخة بخط المؤلف.

(2) نشرته دار ابن حزم ببيروت بتحقيق جاسم المري.

(3) مخطوط بدار الكتب المصرية.

(4) إرشاد الغاوي ل 184/ ب (مخطوط).

(5) المصدر السابق ل/ 217/ أ.
১ - সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজের সমাপ্তি প্রসঙ্গে অভাবী ব্যক্তির সম্পদ (১)।

১১ - বায়হাকীর দালাউলুন নুবুওয়াহর সমাপ্তি প্রসঙ্গে উন্নত বক্তব্য।

১২ - ইবনে আহমারের বর্ণনায় নাসাঈর সমাপ্তি প্রসঙ্গে নির্ভরযোগ্য বক্তব্য (২)।

১৩ - তিরমিযীর জামে কিতাবের সমাপ্তি প্রসঙ্গে উপকারী বাণী (৩)।

সাখাভী তাঁর সমাপ্তি বিষয়ক কিতাবগুলোর পাঠদান এবং ছাত্রদের তা শ্রবণের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, বিশেষ করে আশ-শিফা গ্রন্থের সমাপ্তি বিষয়ক তাঁর গ্রন্থটি। তিনি ইবনে যুহাইরা হিসেবে পরিচিত আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীমের জীবনীতে বলেন: "সে আমার নিকট আশ-শিফা এবং এর সমাপ্তি বিষয়ক আমার রচিত গ্রন্থটি শ্রবণ করেছে, আর এর আগে সে আমার কাছে আরও অনেক মজলিসে উপস্থিত ছিল" (৪)। তিনি মক্কী ইবনে যুহাইরা হিসেবে পরিচিত মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীমের জীবনীতে বলেন: "সে মক্কায় আমার নিকট আশ-শিফা এবং এর সমাপ্তি বিষয়ক আমার রচিত গ্রন্থটি পাঠ করেছে এবং এর আগে ও পরে সে আমার নিকট থেকে এবং আমার সামনে অনেক কিছু শ্রবণ করেছে" (৫)।

--------------------------------------------

= আয়ারল্যান্ডের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে রক্ষিত পাণ্ডুলিপিটি আল-বালবীসীর হস্তাক্ষরে লিখিত, যিনি লেখকের একজন ছাত্রও ছিলেন। তিনি এবং তাঁর পূর্ববর্তী ব্যক্তি শায়খ আরিফ হিকমতের লাইব্রেরিতে ৩০৮ নম্বর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংরক্ষিত অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করার সুযোগ হারিয়েছেন।

(১) এটি নজর আল-ফারিয়াভীর তাহকীকে রিয়াদের মাকতাবাতুল কাওসার থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এটি মক্কা হারামের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি ত্রুটিপূর্ণ পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এতে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে; প্রথমটি: শায়খ আরিফ হিকমতের লাইব্রেরিতে ৩৫৮ নম্বর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংরক্ষিত, আর দ্বিতীয়টি: মিশরের দারুল কুতুবের ২৫৬৯ নম্বর হাদীস হিসেবে সংরক্ষিত, এবং এই পাণ্ডুলিপির শিরোনামটি লেখকের নিজ হাতে লেখা।

(২) জাসিম আল-মাররীর তাহকীকে বৈরুতের দারু ইবনু হাযম এটি প্রকাশ করেছে।

(৩) মিশরের দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি।

(৪) ইরশাদুল গাভী, পৃষ্ঠা ১৮৪/খ (পাণ্ডুলিপি)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২১৭/ক।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَرَافَقَ مجالس ختمه للبخاري احتشاد واهتمام من طرف الولاة والأعيان حيث لم يكن يتخلف منهم أحد عن الحضور في مجلس الختم، بل كانوا يوزعون العطايا والهبات على الطلبة والحاضرين، يقول السخاوي: "وكان لبعض ختوم ذلك أوقات حافلة، وأما بالمدينة فختم في يوم جمعة بالروضة النبوية: البخاري ومسند الشافعي ودلائل النبوة والقول البديع وغيرها، ولم يتخلف عنه كبير أحد، وأنشدت قصائد مبتكرة لغير واحد ذكرتها في محلها، وخلع الخواجا الشمسي ابن الزمن على القراء والمادحين، جوزي خيراً ونرجو القبول والمغفرة" (1).

ويقول في ترجمة أحمد بن عبد الرحيم بن محمود العيني القاهري أحد الوجهاء والمقدمين في مصر: "سار على سيرة أكابر الملوك في الِإنعام والمماليك خصوصاً، فإنه فعل من المعروف والِإحسان شيئاً كثيراً، وعُقِدَ عنده مجلس الحديث فما تخلف كبير أحد عن حضور مجلسه، وصار يعطيهم الصُّرَرَ عند الختم والخلع وغير ذلك … " (2).

ويبدو أن الاهتمام بمجالس الختم قد استمر على نفس هذه الوتيرة في العصور التالية، بل ربما قد أولي عناية أكبر، فهذا العلَاّمة أبو سالم العياشي (ت 1090 هـ) يصف مجلس ختم كتاب الشفا على شيخه أبي مهدي عيسى الثعالبي أثناء مقامه بمكة فيقول: "وسمعت من لفظه نحو النصف من كتاب الشفا للقاضي عياض رواية ودراية يقرره

--------------------------------------------

(1) إرشاد الغاوي ل 65/ أ.

(2) طبقات الحنفية ص 27 (مخطوط بالمكتبة الأحمدية بحلب).
বুখারি খতমের মজলিসগুলোর সাথে শাসকবর্গ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ব্যাপক সমাগম ও গভীর আগ্রহ পরিলক্ষিত হতো। খতমের মজলিসে উপস্থিত হতে তাদের কেউই পিছপা হতেন না; বরং তারা ছাত্র ও উপস্থিতদের মাঝে দান-দক্ষিণা ও উপঢৌকন বিতরণ করতেন। সাখাবি বলেন: "সেসব খতমের কোনো কোনোটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হতো। আর মদিনায় এক জুমুআর দিনে রওজায়ে নববিতে বুখারি, মুসনাদে শাফিঈ, দালািলুন নুবুওয়াহ, আল-কাওলুল বাদি' এবং অন্যান্য কিতাবের খতম সম্পন্ন হয়। এতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই অনুপস্থিত ছিলেন না। অনেকের রচিত নতুন নতুন কসিদা পাঠ করা হয় যা আমি যথাস্থানে উল্লেখ করেছি। খাজা শামসি ইবনুয যামান ক্বারি ও প্রশংসাকারীদের সম্মানি পোশাক প্রদান করেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং আমরা কবুলিয়ত ও ক্ষমা প্রার্থনা করি" (১)।

মিসরের অন্যতম প্রভাবশালী ও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব আহমদ ইবনে আব্দুর রহিম ইবনে মাহমুদ আল-আইনি আল-কাহিরি-র জীবনীতে তিনি বলেন: "তিনি দান-সদকা ও বিশেষ করে দাসদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে মহান রাজন্যবর্গের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। তিনি প্রচুর নেক আমল ও ইহসান করতেন। তাঁর নিকট হাদিসের মজলিস অনুষ্ঠিত হতো এবং তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই বাকি থাকতেন না। তিনি খতমের সময় তাদেরকে অর্থের থলে, সম্মানসূচক পোশাক এবং অন্যান্য সামগ্রী প্রদান করতেন … " (২)।

প্রতীয়মান হয় যে, খতমের মজলিসগুলোর প্রতি এই গুরুত্ব ও আগ্রহ পরবর্তী যুগগুলোতেও একই গতিতে অব্যাহত ছিল, বরং সম্ভবত আরও বেশি যত্ন প্রদান করা হয়েছিল। আল্লামা আবু সালিম আল-আইয়াশি (মৃত্যু ১০৯০ হিজরি) মক্কায় অবস্থানকালে তাঁর শায়খ আবু মাহদি ঈসা আস-সা'লাবি-র নিকট 'কিতাবুশ শিফা' সমাপ্তির মজলিসের বর্ণনা দিয়ে বলেন: "আমি তাঁর মুখে বর্ণনা ও ব্যাখ্যামূলক পঠনসহ কাজি আয়াজের 'কিতাবুশ শিফা'-র প্রায় অর্ধেক শুনেছি যা তিনি পাঠ করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন

--------------------------------------------

(১) ইরশাদুল গাভি, ৬৫/ক।

(২) তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৭ (আলেপ্পোর আহমদিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
أحسن تقرير، ويبين مقاصده، ويطالع عليه شرح شيخنا شهاب الدين الخفاجي، وكنت أمسكه عليه في حال التقرير وأسرد له المحتاج منه، ويحضر مجلسه فيه غالب النجباء من متفقهي أهل مكة، وكان يوم ختمه يومًا مشهودًا حضره أكابر الفقهاء وأديرت فيه كؤوس الأشربة الحلوة، وأطلقت فيه أنواع البخور والروائح الطيبة، وهذه أنهى تكرمة عند أهل ذلك القطر" (1).

ومما ينبغي التنبيه عليه بخصوص المؤلفات في الختم أن السخاوي قد شَهَر هذا اللون من التصنيف، فَسَارَ على منواله في ذلك الجم الغفير من أهل العلم، وممن ألّف في ذلك من أهل عصره العلَاّمة القسطلاني (ت 926 هـ فله كتاب: "تحفة السّامع والقاري بختم صحيح البخاري" (2)، وبعده ألّف العلَاّمة المحدث محمَّد علي بن علاّن الصديقي المكي (ت 1057 هـ) كتاب: "الوجه الصّبيح في ختم الصحيح" (3)، وكتاب: "الابتهاج في ختم المنهاج" (4)؛ أي المنهاج بشرح صحيح مسلم للنووي، وهو من المختصرات المعتمدة في فقه الشافعية.

--------------------------------------------

(1) ماء الموائد أو الرحلة العياشية 2/ 176.

(2) ذكره له السخاوي في الضوء اللامع 2/ 104، وانظر نسخه الخطية في الفهرس الشامل للتراث العربي الِإسلامي المخطوط (الحديث النبوي الشريف وعلومه ورجاله) 1/ 341.

(3) انظر: هدية العارفين لِإسماعيل باشا 2/ 525.

(4) انظر المصدر السابق.
উৎকৃষ্ট উপস্থাপনা, যা এর উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করে এবং এর উপর আমাদের শায়খ শিহাব উদ্দিন আল-খাফাজির ব্যাখ্যা পাঠ করা হয়। আমি উপস্থাপনার সময় এটি তার জন্য ধরতাম এবং তার যা প্রয়োজন হতো তা তাকে পড়ে শোনাতাম। মক্কার ফকিহদের মধ্যে অধিকাংশ মেধাবী ব্যক্তিবর্গ তার মজলিসে উপস্থিত হতেন। এর সমাপ্তির (খতম) দিনটি ছিল একটি স্মরণীয় দিন, যেখানে বড় বড় ফকিহগণ উপস্থিত হতেন। তাতে মিষ্টি পানীয়র পেয়ালা পরিবেশন করা হতো এবং বিভিন্ন প্রকারের ধূপ ও সুগন্ধি প্রজ্বলন করা হতো। আর এটিই সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে সর্বোচ্চ সম্মাননা। (১)

খতম বিষয়ক গ্রন্থাবলির ব্যাপারে যে বিষয়টি সতর্ক করা প্রয়োজন তা হলো, সাখাভি এই ধরনের রচনাশৈলীকে জনপ্রিয় করেছিলেন, ফলে এক বিশাল সংখ্যক আলেম তার পথ অনুসরণ করেছেন। তার সমসাময়িকদের মধ্যে যারা এ বিষয়ে লিখেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা আল-কাসতালানি (মৃত্যু ৯২৬ হি.), তার গ্রন্থ হলো: "তুহফাতুস সামি' ওয়াল কারি বি-খতমি সহিহিল বুখারি" (২)। তার পরে আল্লামা মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ আলি বিন আল্লান আস-সিদ্দিকি আল-মাক্কি (মৃত্যু ১০৫৭ হি.) লিখেছেন: "আল-ওয়াজহুস সাবিহ ফি খতমিল সহিহ" (৩) এবং "আল-ইবতিহাজ ফি খতমিল মিনহাজ" (৪) নামক গ্রন্থ; অর্থাৎ ইমাম নববীর সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-মিনহাজ। আর এটি শাফেয়ি ফিকহশাস্ত্রে নির্ভরযোগ্য সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর অন্যতম।

--------------------------------------------

(১) মাউল মাওয়াইদ অথবা আর-রিহলাতুল আয়ইয়াশিয়া ২/ ১৭৬।

(২) সাখাভি এটি 'আদ-দাওউল লামি' গ্রন্থে (২/ ১০৪) তার জন্য উল্লেখ করেছেন। দেখুন এর পাণ্ডুলিপিগুলো: 'আল-ফিহরিস আশ-শামিল লিত-তুরাছিল আরাবি আল-ইসলামি আল-মাখতুত' (আল-হাদিস আন-নববী আশ-শারিফ ওয়া উলুমুহু ওয়া রিজালুহু) ১/ ৩৪১।

(৩) দেখুন: ইসমাইল পাশা রচিত 'হাদিয়াতুল আরিফিন' ২/ ৫২৫।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأشهر من اعتنى بتأليف كتب الختم بعد عصر السخاوي العلَاّمة المحدث عبد الله بن سالم البصري (ت 1134 هـ) فله ختوم على الموطأ وصحيح البخاري، وجامع الترمذي وسنن أبي داود وسنن ابن ماجه (1)، وبعده ألّف العلَاّمة أبو الفضل محمَّد تاج الدين بن عبد المحسن بن سالم القلعي (ت 1149 هـ) "منتخب الدراري في ختم صحيح البخاري"، وختم صحيح مسلم (2)، وعموماً فإن المتأخرين قد أكثروا من التأليف في الختم بحيث يضيق المجال هنا بحصر تصانيفهم في ذلك.

هذا ما حضرني عن كتب الختم ومدى اهتمام العلماء بالتصنيف فيها.

أما عن هذا الكتاب الذي بين أيدينا فهو مجلس في ختم كتاب الشفا للقاضي عياض بن موسى اليحصبي السّبتي (ت 544 هـ) (3).

وكتاب الشفا من التصانيف البهية في السيرة المحمدية، وهو كتاب مشهور، وبالمحاسن مذكور، أبدع فيه مؤلفه كل الِإبدل، وَسَلَّمَ كَفَاءَتَه فيه جُلّ الأتباع، وكتب له القبول فطارت نسخة شرقاً وغرباً،

--------------------------------------------

(1) لهذه الختوم نسخة بمكتبة الحرم المكي ضمن مجموع. برقم: 3808 فلم: 260 - 264، ولختم الموطأ والترمذي وابن ماجه نسخة أخرى بخزانة المحمودية بالمدينة ضمن مجموع برقم: 2600.

(2) كلاهما مخطوط بمكتبة الحرم المكي ضمن مجموع برقم: 3808.

(3) تحدثت عن مضامين هذا الختم وقيمته العلمية في المقدمة فأغنى عن إعادته هنا.
আল্লামা সাখাভী (রহ.)-এর যুগের পরে যারা ‘খতম’ (গ্রন্থ সমাপন) বিষয়ক গ্রন্থ রচনায় বিশেষ যত্ন নিয়েছেন, তাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন সালিম আল-বসরী (মৃত্যু ১১৩৪ হিজরি)। মুয়াত্ত্তা, সহীহ আল-বুখারী, জামি‘ আত-তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ এবং সুনানে ইবনে মাজাহ-এর ওপর তাঁর ‘খতম’ বা সমাপনী আলোচনা সংবলিত রচনা রয়েছে (১)। তাঁর পরবর্তী সময়ে আল্লামা আবুল ফজল মুহাম্মদ তাজউদ্দীন বিন আব্দুল মুহসিন বিন সালিম আল-কালায়ী (মৃত্যু ১১৪৯ হিজরি) ‘মুনতাখাবুদ দারারি ফি খতমি সহীহিল বুখারী’ এবং সহীহ মুসলিমের ‘খতম’ রচনা করেন (২)। সামগ্রিকভাবে, পরবর্তী যুগের আলেমগণ খতম বিষয়ক রচনায় এত ব্যাপক অবদান রেখেছেন যে, এখানে তাদের সকল কিতাবের তালিকা প্রদান করা সম্ভব নয়।

খতম বিষয়ক কিতাবসমূহ এবং এ বিষয়ে আলেমদের আগ্রহ ও অবদানের যতটুকু আমার স্মরণে এসেছে, তা এখানে উল্লেখ করা হলো।

আমাদের হাতে বিদ্যমান এই বর্তমান কিতাবটি মূলত কাযী আইয়ায বিন মূসা আল-ইয়াহসুবি আস-সাবতী (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি)-এর ‘আশ-শিফা’ গ্রন্থের খতম উপলক্ষে আয়োজিত একটি মজলিস (৩)।

‘আশ-শিফা’ গ্রন্থটি সীরাতে মুহাম্মদী (সা.)-এর ওপর রচিত চমৎকার কিতাবগুলোর অন্যতম। এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ এবং এর অসংখ্য গুণের কারণে এটি সর্বত্র সুপরিচিত। এর রচয়িতা কিতাবটিতে তাঁর সৃজনশীলতার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন এবং অধিকাংশ উত্তরসূরি পণ্ডিত এর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। কিতাবটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং এর পাণ্ডুলিপিগুলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

--------------------------------------------

(১) এই খতমগুলোর একটি পাণ্ডুলিপি মক্কা হারামের লাইব্রেরিতে একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যার নম্বর: ৩৮০৮, ফিল্ম: ২৬০-২৬৪। আর মুয়াত্ত্তা, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ-এর খতমের আরেকটি কপি মদীনার মাহমুদিয়া কুতুবখানায় একটি সংকলনের অধীনে রয়েছে, যার নম্বর: ২৬০০।

(২) এ দুটিই মক্কা হারামের লাইব্রেরিতে ৩৮০৮ নম্বর সংকলনের অধীনে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত আছে।

(৩) আমি এই খতমের বিষয়বস্তু এবং এর ইলমী গুরুত্ব সম্পর্কে ভূমিকায় আলোচনা করেছি, তাই এখানে তার পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকলাম।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
بُعداً وقرباً (1)، وأثنوا عليه نثراً ونظماً، وتكلّموا عليه إيضاحاً وفهماً.

وربما انتقد في بعضه، كانتقاد الحافظ الذهبي (ت 748 هـ) له في إيراده للأحاديث الضعيفة والواهية في كتابه، وذكره لبعض التأويلات البعيدة، فإنّه قال في كتابه سير أعلام النبلاء: "تواليفه نفيسة، وأجلّها وأشرفها كتاب الشفا لولا ما قد حشاه بالأحاديث المفتعلة، عَمَلَ إِمَامٍ لا نقد له في فن الحديث ولا ذوق، والله يثيبه على حسن قصده، وينفع بشفائه وقد فعل، وكذا فيه من التأويلات البعيدة ألوان، ونبينا صلوات الله عليه وسلامه غَنِيٌّ بمدحة التنزيل عن الأحاديث، وبما تواتر من الأخبار عن الآحاد، وبالآحاد النظيفة الأسانيد عن الواهيات، فلماذا يا قوم نتشبع بالموضوعات، فيتطرق إلينا مقال ذوي الغل والحسد، ولكن من لا يعلم معذور، فعليك يا أخي بكتاب دلائل النبوة

--------------------------------------------

(1) كتب الله لكتاب الشفا القبول، فأخذه عن مؤلفه جم غفير من تلاميذه، فذاع وانتشر، وصار أحد الكتب المعتمدة في حلقات الدرس بالمغرب والمشرق، واستكثر الناسخ من نسخه، واليوم نجد نسخه المخطوطة متوافرة في معظم الخزائن والمكتبات. لا سيما الخزائن المغربية، فنسخه المحفوظة بها تعد بالمئات، ثم إنه من أوائل الكتب التي حظيت بالطاعة فقد طبع بالأستانة بتركيا على الحجر عام 1264 هـ، ثم طبع بعد ذلك مراراً بالمغرب ومصر والهند وغيرها من البلدان تارة مجرداً، وتارة مع شرح من شروحه الكثيرة.

(انظر حول مخطوطاته وطبعاته البحث الحافل لأستاذنا العلَاّمة الفقيه محمَّد بن عبد اللهادي المنوني حول رواة الشفا ورواياته ومخطوطاته الأصيلة ضمن كتابه: قبس من عطاء المخطوط المغربي 1/ 159 - 175، 206 - 208).
দূর ও নিকট হতে (১), এবং তারা গদ্য ও পদ্যে এর প্রশংসা করেছেন এবং একে সুস্পষ্টকরণ ও অনুধাবনের মাধ্যমে এ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

আর সম্ভবত এর কিছু কিছু বিষয়ে সমালোচনা করা হয়েছে, যেমন হাফেজ আয-যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮ হি.) তাঁর গ্রন্থে দুর্বল ও অসার হাদীসগুলোর সমাবেশ ঘটানো এবং কিছু দূরবর্তী ব্যাখ্যার উল্লেখ করার কারণে তাঁর সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ গ্রন্থে বলেছেন: “তাঁর সংকলনগুলো অত্যন্ত মূল্যবান, আর সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ হলো ‘আশ-শিফা’ গ্রন্থটি, যদি না তিনি এতে বানোয়াট হাদীসগুলো ঢুকিয়ে দিতেন। এটি এমন এক ইমামের কাজ যার হাদীস শাস্ত্রে কোনো সমালোচনা করার দক্ষতা বা রুচিবোধ নেই। আল্লাহ তাঁকে তাঁর উত্তম উদ্দেশ্যের জন্য প্রতিদান দিন এবং তাঁর ‘শিফা’র মাধ্যমে উপকৃত করুন—আর তিনি তা করেছেনও। অনুরূপভাবে এতে নানা ধরণের দূরবর্তী ব্যাখ্যা রয়েছে। আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীসসমূহের পরিবর্তে ওহীর (কুরআনের) প্রশংসার মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী, এবং একক বর্ণনার পরিবর্তে মুতাওয়াতির সংবাদের মাধ্যমে, আর অসার বর্ণনার পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন সনদের একক বর্ণনার মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী। তবে হে জাতি! কেন আমরা বানোয়াট বর্ণনা দিয়ে পরিতৃপ্ত হই, যার ফলে বিদ্বেষী ও হিংসুকদের কথা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে যায়? কিন্তু যে জানে না সে ক্ষমার যোগ্য। অতএব হে ভাই! আপনার জন্য ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থটি অনুসরণ করা আবশ্যক।”

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ তাআলা ‘আশ-শিফা’ গ্রন্থের জন্য কবুলিয়াত নির্ধারণ করেছেন, ফলে তাঁর এক বিশাল সংখ্যক ছাত্র তাঁর নিকট থেকে এটি গ্রহণ করেছেন। ফলে এটি ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দরসগাহগুলোতে অন্যতম নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে পরিণত হয়। লিপিকারগণ এর অনুলিপি বৃদ্ধিতে সচেষ্ট ছিলেন এবং আজ আমরা এর পাণ্ডুলিপিগুলো অধিকাংশ ভাণ্ডার ও পাঠাগারে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেখতে পাই। বিশেষ করে মরক্কোর ভাণ্ডারগুলোতে এর সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির সংখ্যা শত শত। অধিকন্তু এটি সেই সমস্ত প্রাথমিক গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা মুদ্রণ সৌভাগ্য লাভ করেছে; এটি তুরস্কের আস্তানায় ১২৬৪ হিজরিতে লিথোগ্রাফি পদ্ধতিতে মুদ্রিত হয়। এরপর মরক্কো, মিশর, ভারত ও অন্যান্য দেশে বারবার কখনো এককভাবে, আবার কখনো এর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথে মুদ্রিত হয়েছে।

(এর পাণ্ডুলিপি ও সংস্করণ সম্পর্কে আমাদের শিক্ষক আল্লামা ফকীহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদী আল-মানুনীর ‘আশ-শিফা’-এর বর্ণনাকারী, বর্ণনা ও এর মূল পাণ্ডুলিপি বিষয়ক সমৃদ্ধ গবেষণাটি দেখুন তাঁর রচিত: ‘কাবাসুন মিন আতাউল মাখতুতুল মাগরিবী’ ১/ ১৫৯-১৭৫, ২০৬-২০৮ গ্রন্থে)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
للبيهقي، فإنه شفاء لما في الصدور، وهدى ونور" (1).

وقد علَّق الحافظ السخاوي على كلام الذهبي هذا قائلاً: "وهو مَاشٍ في الِإنكار على طريقته، بل قد أدخل أبا القاسم الطبراني وغيره من أئمة النقد والحفظ في ميزانه المعقود لمن تكلم فيه لكونهم يروون الموضوعات ونحوها بأسانيدهم ساكتين عنها، ولكن كان يمكنه التعبير هنا بألين من هذه العبارة؛ لأنه لا يخفى عليه ولا على غيره من أئمة الإِسلام المتأخرين عن القاضي عياض جلالته سيَّما في الحديث بحيث اعتمده جمهور من جاء بعده كما صنعه بعض من وافقه على التعرض للقدح في بعض أحاديثه مع التحامي عن تدوينه اعترافاً بحقه وصوناً لهذا الكتاب البديع، في الجناب الرفيع، عن تنقيصه وتوهينه.

فقال البرهان الشارح مع كونه ممن تعرض لشيء من ذلك، كما صرّح به في خطبة كتابه حيث قال: وقد تكلمت على بعض أحاديث فيه، وعلى الجملة في ذكره إياها من مكان، وقد يكون في الكتب الستة أو بعضها ما نصه، وقد بلغني عن شيخنا حافظ الوقت الزين العراقي أنه أراد أن يعزو أحاديثه ويتكلم عليها ثم رجع عن ذلك، قلت معللاً لرجوعه بقوله (2): هذا كتاب قد تلقي بالقبول فلا أحب التعرض له حكاه لنا شيخنا رحمه الله، وهو ممن كان أيضاً يقول: أيعجب من القاضي مع جلالته في إيراد أسانيده في كثير من الأحاديث التي ينقلها عن مشهور الكذب ويترك إفادتنا تعيين المكان الذي نقل منه ما لا نعرفه إلَاّ منه.

--------------------------------------------

(1) السير 20/ 216.

(2) كذا في الأصل.
বায়হাকীর জন্য, নিশ্চয়ই তা অন্তরের ব্যাধিসমূহের আরোগ্য এবং হেদায়াত ও নূর (১)।

হাফিজ সাখাবী যাহাবীর এই বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "তিনি তার নিজস্ব পদ্ধতিতে আপত্তির বিষয়ে এগিয়ে চলেছেন; এমনকি তিনি আবুল কাসেম তাবারানী এবং অন্যান্য সমালোচনা ও মুখস্থবিদ্যার ইমামদেরকেও তার সেই 'মীযান' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা এমন ব্যক্তিদের জন্য রচিত যাদের নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এর কারণ হলো, তাঁরা জাল বর্ণনা ও অনুরূপ বিষয়সমূহ তাদের সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং সে বিষয়ে নীরব থেকেছেন। তবে তিনি এখানে এই অভিব্যক্তির চেয়ে আরও নম্র শব্দ ব্যবহার করতে পারতেন। কেননা, কাযী আইয়াযের মর্যাদা তার কাছে কিংবা পরবর্তী যুগের ইসলামের অন্যান্য ইমামদের কাছে গোপন নয়, বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রে। কারণ তার পরবর্তী অধিকাংশ আলিমই তার ওপর নির্ভর করেছেন। এমনকি যারা তার বর্ণিত কিছু হাদিসের সমালোচনার ক্ষেত্রে তার সাথে একমত পোষণ করেছেন, তারাও তার অধিকারের স্বীকৃতি স্বরূপ এবং এই উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন অপূর্ব কিতাবটিকে অবমূল্যায়ন ও দুর্বল করা থেকে রক্ষা করার নিমিত্তে তা লিপিবদ্ধ করা থেকে বিরত থেকেছেন।

ব্যাখ্যাকারী বুরহান নিজেও এ জাতীয় বিষয়ের অবতারণা করা ব্যক্তিদের একজন হওয়া সত্ত্বেও তার কিতাবের ভূমিকায় স্পষ্ট করে বলেছেন: আমি এর কিছু হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং সামগ্রিকভাবে এক স্থান থেকে সেগুলো উল্লেখ করেছি। কুতুবে সিত্তাহ বা এর কোনো কোনোটিতে এমন বক্তব্য থাকতে পারে। আমার কাছে আমাদের শাইখ, সময়ের হাফিজ যাইনুল ইরাকী সম্পর্কে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি এর হাদিসগুলোর উৎস উল্লেখ করতে এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তা থেকে ফিরে আসেন। আমি তার ফিরে আসার কারণ বর্ণনা করে বলেছি (২): 'এটি এমন একটি কিতাব যা সর্বজনগ্রাহ্যতা লাভ করেছে, তাই আমি এর সমালোচনা করা পছন্দ করি না।' আমাদের শাইখ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনিও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বলতেন: কাযী আইয়াযের মতো এমন মহান ব্যক্তি অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে তার সনদ উল্লেখ করছেন যা তিনি প্রসিদ্ধ মিথ্যাবাদীদের থেকে বর্ণনা করছেন, অথচ তিনি যেখান থেকে তা গ্রহণ করেছেন সেই স্থানটি আমাদের নির্ধারণ করে দিচ্ছেন না, যা কেবল তাঁর মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি—এটি কি আশ্চর্যজনক নয়?

--------------------------------------------

(১) আস-সিয়ার ২০/২১৬।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২০)
والذي عندي في الجواب عن القاضي رحمه الله أن توجهه لهذا الأسلوب الرائق، والمطلوب الفائق، الذي يلتذ به السامع، وتصير حواسه كلها لطربه به مسامع، والأجوبة الحسنة المتضمنة للمثوبة البينة، وكون القصد المشي في الطريق الذي لم نر من سار فيه كسيره منه من التشاغل بتمييز الصحيح من غيره؛ سيَّما وهي في الفضائل المتسامح فيها بين الأوائل، وإن فقد في بعضها بعض الشروط، كما هو مقرر مضبوط، فكان القاضي لا يتقيد به، هذا مع أنه قد قال في أثناء كتابه أنه اقتصر في كثير من الأحاديث وغريبها على ما صحّ واشتهر، لا يسأل من غريبه مما ذكره مشاهير الأئمة، وحذفنا الإِسناد في جمهوره طلباً للاختصار، بل يتكلم في الأمور الضرورية غالباً".

ثم ذكر السخاوي نماذج من كلام القاضي عياض على بعض أحاديث الشفا، ثم قال: "وهو شاهد لما اعتذرت به عنه من كونه لا يسكت عن الضروري بخلاف غيره من الفضائل ونحوها، فكلامه مشعر به، ولذا مشى عليه خاصة في شفائه، وأما ما قاله الذهبي في التأويلات (1)، فالقاضي رحمه الله يحكي الأقوال ويرجح ويختار … " (2)، إلى آخر كلامه رحمه الله.

وفيما ذكره السخاوي رحمه الله مواضع تحتاج إلى توضيح وتعليق، لكن الذي ينبغي التنبيه عليه هنا هو أن المآخذ على كتاب

--------------------------------------------

(1) مما أخذ عليه الغلو في مسألة العصمة. (انظر: أزهار الرياض 5/ 9، 10، ومجموع الفتاوى 4/ 319، 15/ 148).

(2) الرياض في ختم الشفا لعياض ل/8 ب- 9/ أ (مخطوط).
কাযী (রহ.)-এর পক্ষ থেকে উত্তরের ব্যাপারে আমার নিকট যা রয়েছে তা হলো, তাঁর এই চমৎকার শৈলী এবং অত্যুচ্চ লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হওয়া—যা শ্রবণকারীকে আনন্দিত করে এবং তার সমস্ত ইন্দ্রিয়কে এর উন্মাদনায় শ্রবণে পরিণত করে। আর সুস্পষ্ট সওয়াব সংবলিত উত্তম উত্তরসমূহ এবং উদ্দেশ্য ছিল সেই পথে চলা যে পথে অন্য কাউকে তাঁর মতো করে চলতে আমরা দেখিনি—যাতে সহীহ হাদীসকে গায়রে সহীহ থেকে আলাদা করার ব্যাপারে ব্যস্ততা রয়েছে; বিশেষ করে যখন এটি এমন সব ফযীলতের ব্যাপারে যাতে পূর্ববর্তীদের মধ্যে সহনশীলতা ছিল, যদিও তার কোনো কোনোটিতে কোনো কোনো শর্তের অভাব রয়েছে, যেমনটি নির্ধারিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই কাযী এর দ্বারা সীমাবদ্ধ হননি। অথচ তিনি তাঁর কিতাবের মাঝে এও বলেছেন যে, তিনি অনেক হাদীস ও তার মধ্যকার দুর্লভ বর্ণনার ক্ষেত্রে যা সহীহ ও প্রসিদ্ধ তার উপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন; ইমামদের প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলো থেকে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যকার দুর্লভ বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না; আর সংক্ষেপের জন্য আমরা এর অধিকাংশের সনদ বাদ দিয়েছি; বরং তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করেন।

অতঃপর সাখাবী ‘শিফা’ গ্রন্থের কিছু হাদীসের ওপর কাযী আয়াজ-এর বক্তব্যের কিছু নমুনা উল্লেখ করলেন এবং বললেন: "এটি তাঁর পক্ষ থেকে আমার পেশকৃত ওজরের প্রমাণস্বরূপ যে, তিনি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ে চুপ থাকতেন না, ফযীলত বা অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ের বিপরীতে। তাঁর বক্তব্য এটাই ইঙ্গিত করে এবং এই কারণেই তিনি বিশেষভাবে তাঁর ‘শিফা’ গ্রন্থে এই পন্থা অবলম্বন করেছেন। আর ইমাম যাহাবী ব্যাখ্যাসমূহের ব্যাপারে যা বলেছেন (১), কাযী (রহ.) মূলত বিভিন্ন মত বর্ণনা করেন এবং প্রাধান্য দান ও নির্বাচন করেন … " (২), তাঁর (রহ.) বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

সাখাবী (রহ.) যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে এমন কিছু স্থান রয়েছে যা ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনার মুখাপেক্ষী; তবে এখানে যে বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন তা হলো, কিতাবটির ওপর যেসব আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) তাঁর ওপর কৃত একটি আপত্তি হলো ইসয়ামাত (নিষ্পাপতা) সংক্রান্ত মাসআলায় বাড়াবাড়ি করা। (দেখুন: আযহারুর রিয়ায ৫/ ৯, ১০ এবং মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/ ৩১৯, ১৫/ ১৪৮)।

(২) আর-রিয়ায ফী খাতমিশ শিফা লি-আয়াজ, ল/৮ ব - ৯/ আ (পাণ্ডুলিপি)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২১)
الشفا لا تغض من قيمته ولا تحط من قدره، وإنما هي من قبيل المآخذ التي لا يسلم منها أي عمل بشري مهما بلغ من الجودة والإِتقان.

ويكفي لاستدراك ما وقع فيه من قصور أو هنات أن يتصدى أحد العلماء لتحقيقه والتعليق عليه، وأحسن من ذلك أن تتولى هذه المهمة مؤسسة علمية أو مركز من مراكز البحث العلمي التي تتولَّى خدمة السُنَّة والسِّيرة النَّبويَّة، والله الموفق.

 

‌‌تحقيق نسبة الكتاب إلى مؤلفه وإثبات عنوانه:

هذا الختم ثابت النسبة للِإمام السخاوي لأمور منها:

1 - ما ورد على طرة نسخته الخطية من نسبة الكتاب إليه.

2 - ذكر المصنف في ترجمته لنفسه أن له ختماً صغيراً على الشفا (1)، وهو هذا الختم الذي بين أيدينا، وذكر أيضاً أن له ختماً آخر على الشفا كبير ومبسوط (2)، وقد عثرت عليه.

3 - نسب هذا الختم إليه إسماعيل باشا ومحمد عبد الحي الكتاني (3).

4 - أسانيده التي ساقها في آخر هذا الختم لكتاب الشفا تؤكد

--------------------------------------------

(1) انظر: الضوء اللامع 8/ 18، وإرشاد المناوي بل إعلام الطالب الراوي بترجمة السخاوي ل 81/ أ (مخطوط).

(2) انظر: الضوء اللامع 8/ 18، وإرشاد الغاوي ل 66/ أ، 79/ ب، 181/ ب (مخطوط)، والإِعلان بالتوبيخ، ص 243.

(3) انظر: هدية العارفين 2/ 219، وفهرس الفهارس 2/ 990.
আশ-শিফা-এর মান এতে ক্ষুণ্ণ হয় না এবং এর মর্যাদাও এতে হ্রাস পায় না। বরং এগুলো হলো এমন কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি যা থেকে কোনো মানুষের কাজই মুক্ত থাকতে পারে না, তা গুণগত মান ও নিপুণতার দিক থেকে যতই ঊর্ধ্বে হোক না কেন।

এতে যে সীমাবদ্ধতা বা ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি রয়েছে তা সংশোধনের জন্য কোনো একজন আলেমের এর তাহকীক ও টীকা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করাই যথেষ্ট। আর এর চেয়েও উত্তম হলো কোনো বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো গবেষণা কেন্দ্র এই দায়িত্ব গ্রহণ করা, যা সুন্নাহ ও সীরাতে নববীর খেদমতে নিয়োজিত। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

 

‌‌লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধের যাচাই এবং এর শিরোনামের প্রমাণ:

এই খতমটি (সমাপ্তি অংশ) ইমাম সাখাভীর প্রতি সুসাব্যস্ত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

১ - এর পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে কিতাবটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করার যে বর্ণনা এসেছে।

২ - লেখক নিজের জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আশ-শিফা-এর ওপর তাঁর একটি ছোট খতম রয়েছে (১), আর এটিই সেই খতম যা আমাদের হাতে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আশ-শিফা-এর ওপর তাঁর আরেকটি বড় ও বিস্তারিত খতম রয়েছে (২), যা আমি খুঁজে পেয়েছি।

৩ - ইসমাইল পাশা এবং মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল-কাত্তানী এই খতমটিকে তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন (৩)।

৪ - আশ-শিফা কিতাবের জন্য এই খতমের শেষে তিনি যে সনদগুলো উল্লেখ করেছেন তা নিশ্চিত করে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদ-দউউল লামি ৮/১৮, এবং ইরশাদুল মুনাবী তথা ই'লামুত তালিবির রাবী বি-তারজামাতিল সাখাভী, পৃষ্ঠা ৮১/আ (পাণ্ডুলিপি)।

(২) দেখুন: আদ-দউউল লামি ৮/১৮, এবং ইরশাদুল গাভী, পৃষ্ঠা ৬৬/আ, ৭৯/বা, ১৮১/বা (পাণ্ডুলিপি), এবং আল-ই'লানু বিত-তাওবীখ, পৃষ্ঠা ২৪৩।

(৩) দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফিন ২/২১৯, এবং ফিহরিসুল ফাহারিস ২/৯৯০।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২২)
أن صاحبها هو السخاوي، فقد روى عن ابن حجر وأبي عبد الله الرشيدي والمجد الحريري، وهؤلاء من شيوخه المعروفين.

وأما بخصوص العنوان فقد وَرَد على غلاف النسخة الخطية لهذا الختم ما يلي: "مجلس في ختم الشفا لكاتبه محمد بن السخاوي، عمله سريعاً في ساعة، نفع الله به"، وقال الناسخ عقبه: "هكذا بخط المصنف بظهر أول ورقة من الأصل المنقول عنه"، وقد سمّى المصنف ختمه الصغير على الشفا -وهو هذا الذي بين أيدينا- بـ"الانتهاض في ختم الشفا لعياض"، وذلك في كتابيه الضوء اللامع وإرشاد المناوي، وكذلك سماه إسماعيل باشا والكتاني (1).

وأما ختمه الكبير على الشفا فسماه: "الرياض في ختم الشفا لعياض"، وقد تقدم الِإلماع إليه وقد وقفت له على نسخة خطية بمكتبة الملك عبد العزيز بالمدينة النبويَّه، يسَّر الله تعالى تحقيقه ونشره.

 

‌‌وصف النسخة المعتمدة في التحقيق:

اعتمدت في تحقيق هذا الختم على نسخة فريدة توجد بمكتبة الحرم المكي العامرة بمكة المكرمة برقم: 53 ضمن مجموع، وهي في أربع ورقات، تعبداً من الورقة (99/ أ) وتنتهي عند الورقة (152/ ب)، تحتوي كل ورقة على وجهين، كل وجه يتضمن (23) سطراً، كل سطر يضمّ ما يقارب تسع كلمات.

وقد كتب المخطوط بخط نسخ مشرقي معتاد، وهو بخط الشيخ أحمد بامزروع، والنسخة عارية عن تاريخ النسخ، لكنها مصححة

--------------------------------------------

(1) انظر المصادر السابقة.
এর রচয়িতা হলেন আস-সাখাভী, কেননা তিনি ইবনে হাজার, আবু আব্দুল্লাহ আর-রাশিদী এবং আল-মাজদ আল-হারীরী থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তাঁরা তাঁর সুপরিচিত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত।

আর শিরোনামের ব্যাপারে, এই সমাপ্তি-ভাষণের (খতম) পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে: "আশ-শিফা সমাপ্তি উপলক্ষে একটি মজলিস, লেখক মুহাম্মদ বিন আস-সাখাভী, তিনি এটি দ্রুত এক ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুত করেছেন, আল্লাহ এর দ্বারা কল্যাণ দান করুন।" অনুলিপিকারক এর পরপরই বলেছেন: "মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে লেখকের হস্তাক্ষরে এভাবেই ছিল।" লেখক আল-শিফা-র ওপর তাঁর এই সংক্ষিপ্ত সমাপ্তি-পুস্তিকাটিকে—যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে—নামকরণ করেছেন "আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-আয়াজ" নামে। তিনি তাঁর 'আদ-দাও আল-লামি' এবং 'ইরশাদুল মুনাভি' গ্রন্থদ্বয়ে এটি উল্লেখ করেছেন। একইভাবে ইসমাইল পাশা এবং আল-কাত্তানিও একে এই নামেই অভিহিত করেছেন (১)।

আর আল-শিফা-র ওপর তাঁর দীর্ঘ সমাপ্তি-পুস্তিকাটির নামকরণ করেছেন: "আর-রিয়াজ ফী খাতমিশ শিফা লি-আয়াজ"। ইতিপূর্বে এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং আমি মদিনা মুনাওয়ারায় কিং আব্দুল আজিজ লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি দেখেছি। আল্লাহ তাআলা এর সম্পাদনা ও প্রকাশনা সহজ করে দিন।

 

‌‌সম্পাদনায় নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

এই সমাপ্তি-পুস্তিকাটির সম্পাদনায় আমি মক্কা মুকাররমার সমৃদ্ধ হারামাইন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার নম্বর: ৫৩ (একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত)। এটি চার পত্রের, যা ৯৯/ক পৃষ্ঠা থেকে শুরু হয়ে ১৫২/খ পৃষ্ঠায় শেষ হয়েছে। প্রতিটি পত্রের দুটি পিঠ রয়েছে, প্রতিটি পিঠে ২৩টি করে লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় নয়টি করে শব্দ রয়েছে।

পাণ্ডুলিপিটি সাধারণ মাশরিকী নাসখ লিপিতে শেখ আহমদ বামাজরু-এর হস্তাক্ষরে লিখিত। পাণ্ডুলিপিটিতে অনুলিপিকরণের কোনো তারিখ উল্লেখ নেই, তবে এটি সংশোধিত।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎসসমূহ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومقابلة، وقد صرّح الناسخ في خاتمة المخطوط أنه قابل نسخته على نسخة جاء في آخرها: "انتهى نقله من مسوّدة المصنف، وهي بخطه رحمه الله"، فهذه النسخة منقولة من نسخة منقولة هي الأخرى عن مسودة المصنف رحمه الله.

 

‌‌منهجي في التحقيق

ويتلخَّص ذلك في النقاط التالية:

1 - قدمت للرسالة بدراسة موجزة تناولت فيها بإيجاز ترجمة المؤلف، وموضوع التصنيف في الختم عند المحدثين.

2 - قمت بنسخ المخطوط وفق القواعد الِإملائية الحديثة، وحرصت على ضبط نصوصه بالشكل.

3 - شرحت بعض الكلمات الغريبة التي قد يشكل فهمها على بعض القراء.

4 - عرَّفت بمؤلفات القاضي عياض التي أشار إليها المؤلف.

5 - ضبطت الأشعار التي أوردها المؤلف وأشرف إلى أسماء منشديها، حيث أهمل المؤلف ذكر أسمائهم.

6 - عرَّفت برجال الأسانيد التي ذكرها المؤلف إلى كتاب الشفا في آخر هذا الختم.

7 - علّقت على بعض المواضع التي تحتاج إلى تعليق.

إلى غير ذلك مما يجده القارئ في ثنايا الرسالة.
এবং তুলনা করা হয়েছে, আর অনুলিপিকার পাণ্ডুলিপির শেষে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি তার কপিটিকে এমন একটি কপির সাথে মিলিয়েছেন যার শেষে বর্ণিত হয়েছে: "গ্রন্থকারের খসড়া থেকে এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে, আর তা তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) নিজ হাতের লেখা ছিল", সুতরাং এই কপিটি এমন একটি কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যা আবার খোদ গ্রন্থকারের (রহিমাহুল্লাহ) খসড়া থেকে অনুলিপি করা হয়েছিল।

 

‌‌সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি

তা নিচের পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১ - আমি এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার অবতারণা করেছি, যেখানে গ্রন্থকারের জীবনী এবং মুহাদ্দিসগণের নিকট 'খতম' বিষয়ক রচনার বিষয়টি সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।

২ - আমি আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছি এবং এর পাঠ্যাংশগুলো হরকত প্রদানের মাধ্যমে বিন্যস্ত করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি।

৩ - আমি কিছু দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা করেছি যা কোনো কোনো পাঠকের নিকট অস্পষ্ট মনে হতে পারে।

৪ - গ্রন্থকার কাজী আয়াজ-এর যে সকল গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আমি সেগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি।

৫ - গ্রন্থকার যেসব কবিতা উল্লেখ করেছেন আমি সেগুলো বিন্যস্ত করেছি এবং সেগুলোর রচয়িতাদের নামের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যেহেতু গ্রন্থকার তাদের নাম উল্লেখ করেননি।

৬ - এই খতমের শেষে গ্রন্থকার 'কিতাব আশ-শিফা' পর্যন্ত যেসব সনদ উল্লেখ করেছেন, আমি সেগুলোর বর্ণনাকারীদের পরিচয় দিয়েছি।

৭ - আমি এমন কিছু স্থানে টীকা প্রদান করেছি যেগুলোতে টীকা প্রয়োজন ছিল।

এ ছাড়াও আরও অনেক বিষয় যা পাঠক এই পুস্তিকার ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে পাবেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
صورة لورقة العنوان
শিরোনাম পৃষ্ঠার চিত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
صورة لبداية المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রারম্ভিক অংশের চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
صورة لنهاية المخطوط
পাণ্ডুলিপির শেষাংশের চিত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (32)

 

الانتهاض في ختم «الشفا» لعياض

 

تأليف

الحافظ شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي (ت 902 هـ)

 

دراسة وتحقيق

عبد اللطيف بن محمد الجيلاني
মসজিদে হারামে শেষ দশ দিনের সাক্ষাত (৩২)

 

আইয়ায রচিত ‘আশ-শিফা’ সমাপ্তকরণ বিষয়ক উদ্যোগ

 

রচনা

আল-হাফিজ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আস-সাখাভী (মৃত্যু ৯০২ হিজরি)

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

আবদুল লতিফ বিন মুহাম্মদ আল-জিলানী
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه الاستعانة، يا كريم

 

مُقدِّمة

الحَمْدُ لله المانِحِ لِعِبَادِهِ المؤمنين شِفَا، والمانِعِ عَنْ أَحْبَابِهِ الموحدين شَقَا، باعثِ النبيين، مُبَشَرِينَ وَمُنْذِرِين، ومُيَسِّرين غَيْرَ مُعَسّرِين، بالآيات البَاهِرَاتِ، والمعْجِزَاتِ الظَّاهِرَاتِ، والبَرَاهِينِ السَّاطِعَاتِ، ونَاعِتِ الجَمِيعِ، بالوَصْفِ البَدِيعِ، والسِّتْرِ المَنِيع، والحِجَابِ الرَّفِيعِ، وَجَاعِلِ نبينا أكملهم ذاتاً، وأجملهم صفاتا، وأرفعهم قدراً، وأجمعهم فخراً، وأزكاهم كرامةً، وأوفاهم معجزة وآيةَ. بِهِ خَتَمَ النبيين، وَفَضَّلَهُ على سَائِرِ الخَلْقِ أجمعين، وَجَعَلَ أُمَّتَهُ خَيْرَ الأُمَمِ.

وأعطاه جوامعَ الكَلِمِ، وبدائع الحِكَمِ، وَنَسَخَ الشّرائع بشريعَتِهِ، وَعَمَّ سَائرَ الخلقِ بِبِعْثَتِهِ، وأعطاهُ المقامَ المحمودَ، والحَوْضَ المورودَ، والشَّفَاعَةَ العُظْمَى في اليَوْمِ المشهودِ، واصْطَفَاهُ بالمحبّة والخُلَّةِ، والقُرْبِ والدُّنُوِّ، والمعراجِ، والصلاةِ بالأنبياءِ، ولِوَاءِ الحَمْدِ، والبِشَارَةِ والنَّذَارَةِ، والهِدَايةِ والأمانةِ، وإتمامِ النِّعْمَةِ.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, হে মহানুভব।

 

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের আরোগ্য দানকারী এবং তাঁর একত্ববাদী বন্ধুদের থেকে দুর্গতি নিবারণকারী। যিনি নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং সহজকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, কঠিনকারী হিসেবে নয়; উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী, প্রকাশ্য মুজিযা এবং দীপ্তিমান প্রমাণাদিসহ। তিনি সকলকে অপূর্ব বৈশিষ্ট্য, দুর্ভেদ্য আবরণ ও সুউচ্চ পর্দার দ্বারা বিভূষিত করেছেন। আর যিনি আমাদের নবীকে সত্তাগতভাবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, গুণাবলীতে সবচেয়ে সুন্দর, মর্যাদায় সবচেয়ে উচ্চ, গৌরবে সবচেয়ে সমৃদ্ধ, সম্মানে সবচেয়ে পবিত্র এবং মুজিযা ও নিদর্শনে সবচেয়ে পরিপূর্ণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি নবীগণের সিলসিলা সমাপ্ত করেছেন, তাঁকে সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত করেছেন।

এবং তাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী ও চমৎকার প্রজ্ঞাসমূহ দান করেছেন। তাঁর শরিয়তের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল শরিয়ত রহিত করেছেন এবং তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁকে দান করেছেন প্রশংসিত স্থান, আগমনকৃত হাউয এবং মহাপ্রলয়ের দিনে মহা-শাফায়াত। তাঁকে মনোনীত করেছেন ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, নৈকট্য, সান্নিধ্য, মিরাজ, নবীগণের ইমামতি, প্রশংসার পতাকা, সুসংবাদ প্রদান ও সতর্কীকরণ, হেদায়েত ও আমানতদারি এবং নেয়ামতের পূর্ণতা প্রদানের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিহাদ ফী খাতমিশ শিফা লি-ইয়াদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأعطاهُ الرِّضَى والعَفْوَ عَمَّا تَقَدَّم وَتأَخرَ، وَشَرْحَ الصَّدْرِ، وَرُجْحَانَ الفَضْلِ، وَوَضْعَ الْوِزْرِ، وَرَفْعَ الذِّكْرِ، وَعِزَّ النَصْرِ، ونُزُولَ السَّكِينَةِ، والتأييدَ بالملائكة، وإيتاءَ الكتاب والحكمة، والسبعَ المثاني، والقرآنَ العظيم، والحُكْمَ بين الناس بما أَرَاهُ الله، والْقَسَمَ بِاسْمِهِ، وَإِجَابَةَ دَعْوَتِهِ، وَإِحْيَاءَ الموْتَى، وإِسْمَاعَ الصُّمَ، وَرَدَّ الشَّمْسِ، وَقَلْبَ الأَعْيَانِ، والاطِّلَاع على الغيبِ بإذنه، وَظِلَّ الغَمَامِ، وإِبْرَاءَ الآلَامِ، والعصمةَ من الناس، وَصَلَاةَ اللهِ وَمَلائَكَتَهُ عليه، وَجَعْلَهُ رحمةً للعالمين، ووضع الِإصر والأغلال عن أمته، إلى غير ذلك مما ادَّخَرَهُ له في الآخرة من الكَرَامَةِ والسَّعَادَةِ الوَافِرَةِ.

فَلَة الحَمْدُ على مَا أَنْعَمَ، وله الشُّكْرُ فيما إِلَيْهِ أَلْهَمَ، من اتِّبَاعِ آثَارِ هذا النَّبِيّ الكَرِيمِ، وإِسْمَاعِ نُبَذٍ من مَآثِرِهِ وشمائِلِهِ وخَصَائِصِهِ في الجمِّ العميمِ.

وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، شهادةَ مُعْتَرِفٍ بِالعَجْزِ والتَّقْصِيرِ، وَمُغْتَرِفٍ من بَحْرِ كَرَمِهِ وَجُودِهِ ما يُكْتَفَى به المسير، وأشهد أن سيدنا محمداً عبدُهُ وَرَسُولُهُ، وَحَبِيبُهُ وَخَلِيلُهُ، وَصفِيُّهُ وَنَجِيُّهُ، سَيدُ الخَلْقِ، والنبيّ الحَق، أَرْسَلَهُ {بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ (9)} (1).

اللهُمَّ صَل وَبَارِكْ وَتَرَحَّمْ على عبدك ونبيك ورسولك النَّبِيِّ الأُمَيِّ، سَيدِ المرسلينَ، وَإِمَامِ المتقينَ، وخاتمِ النبيينَ، إِمَامِ الخَيْرِ،

--------------------------------------------

(1) سورة الصف: آية 9.
এবং তিনি তাঁকে দান করেছেন সন্তুষ্টি এবং তাঁর পূর্বাপর সকল বিষয়ের ক্ষমা, বক্ষ প্রশস্তকরণ, শ্রেষ্ঠত্বের প্রাধান্য, ভার লাঘব করা, সুউচ্চ খ্যাতি, বিজয়ের মর্যাদা, প্রশান্তি নাজিল করা, ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করা, কিতাব ও হিকমত দান করা, সাবউল মাছানি (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত), মহান কুরআন, আল্লাহর প্রদর্শিত পন্থায় মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালা করা, তাঁর নামে শপথ করা, তাঁর দোয়া কবুল করা, মৃতদের জীবিত করা, বধিরদের শ্রবণ করানো, সূর্যকে ফিরিয়ে আনা, বস্তুর হাকিকত পরিবর্তন করা, আল্লাহর অনুমতিতে অদৃশ্যের সংবাদ অবগত হওয়া, মেঘের ছায়া লাভ করা, রোগ-ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়া, মানুষের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা প্রদান করা, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়া বর্ষণ করা, তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে সৃষ্টি করা এবং তাঁর উম্মতের ওপর থেকে গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারণ করা। এছাড়া পরকালে তাঁর জন্য গচ্ছিত রাখা সম্মান ও প্রচুর সৌভাগ্য তো রয়েছেই।

সুতরাং তিনি যে নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য সমস্ত প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য, এবং তিনি যা ইলহাম বা প্রেরণা দিয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতাও তাঁরই; আর তা হলো এই সম্মানিত নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর মাহাত্ম্য, চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যসমূহের কিঞ্চিৎ শ্রবণ করানো।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ব্যক্তি নিজের অক্ষমতা ও ত্রুটি স্বীকার করে এবং তাঁর দয়া ও মহানুভবতার সমুদ্র থেকে পথচলার পাথেয় হিসেবে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু গ্রহণ করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর প্রিয় ও অন্তরঙ্গ বন্ধু, তাঁর মনোনীত ও বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সত্য নবী; আল্লাহ তাঁকে {হেদায়েত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সকল দীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে (৯)} (১)।

হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা, নবী ও রাসূল, উম্মী নবী, রাসূলগণের সর্দার, মুত্তাকীদের ইমাম এবং সর্বশেষ নবী, কল্যাণের ইমামের ওপর রহমত, বরকত ও করুণা বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আস-সাফ: আয়াত ৯।