(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: -)
ضعيف الترغيب والترهيب القسم: كتب السنة
الكتاب: ضعيف الترغيب والترهيب
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع - الرياض
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 جُمادَى الآخرة 1436
দয়ীফ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: দয়ীফ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব
লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ প্রকাশনী ও পরিবেশনা - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খন্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাহতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
المقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره
(1)، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}.
أما بعد، فقد كنت شرعت منذ نحو عشرين سنة، وأنا لا أزال في مهاجري الأول (دمشق) - في طباعة كتابي "ضعيف الترغيب والترهيب"، وقطعت في
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি
(১)। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট অধিকার দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}
অতঃপর, আমি প্রায় বিশ বছর পূর্বে আমার প্রথম হিজরতভূমি (দামেস্ক)-তে থাকাকালীন আমার গ্রন্থ "যঈফ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব" মুদ্রণের কাজ শুরু করেছিলাম এবং এর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৪)
ذلك شوطاً بعيداً، ثم حالت دون إتمامه هجرتي الثانية إلى عمان سنة (1400 هـ / 1980 م).
والآن وقد تيسر من يقوم بطباعته ونشره بعد تحقيقه من جديد، وهو الأخ الفاضل الشيخ سعد الراشد، وقد أعدت النظر فيه على النحو الذي جريت عليه في قسيمه "صحيح الترغيب والترهيب"، وقد شرحت ذلك في مقدمته الجديدة، فلا داعي لبيانه هنا مرة أخرى، فمن رام التفصيل رجع إليه إن شاء الله تعالى.
ولهذا فقد تطلّب ذلك مني أن أجعل مراتب أحاديث الكتاب خمس مراتب، مكان الثلاث منها سابقاً، وهي:
1 - ضعيف. وهو ما كان فيه علة قادحة من علل الحديث المعروفة، مثل ضعف أحد رواتة، أو الاضطراب، أو النكارة، أو الشذوذ ونحوها.
2 - ضعيف جداً. وهو ما كان في سنده متروك أو شديد الضعف، كثرت المناكير في رواياته حتى خشي أن تكون من وضعه، من مثل ما يقول فيه الإِمام البخاري: "منكر الحديث".
3 - موضوع. وهو ما كان في إسناده كذاب أو وضاع، أو تكون لوائح الوضع على متنه ظاهرة مع علة في إسناده جلية.
(1)
4 - منكر، أو منكر جداً. وهو الذي في إسناده ضعيف خالف الثقة في
--------------------------------------------
সেটি ছিল দীর্ঘ পথ, অতঃপর ১৪০০ হিজরী / ১৯৮০ সালে আম্মানে আমার দ্বিতীয় হিজরত সেটি সম্পন্ন করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
আর এখন যেহেতু এটি পুনরায় তাহকীক করার পর এর মুদ্রণ ও প্রকাশের দায়িত্ব নেওয়ার মতো একজন ব্যক্তি পাওয়া সহজ হয়েছে, যিনি হলেন সম্মানিত ভাই শেখ সাদ আল-রাশেদ। আমি এতে সেভাবেই পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছি যেভাবে এর সমজাতীয় গ্রন্থ "সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব"-এর ক্ষেত্রে করেছি। আমি এর নতুন ভূমিকায় তা ব্যাখ্যা করেছি, তাই এখানে পুনরায় তা বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি বিস্তারিত জানতে চায়, সে আল্লাহর ইচ্ছায় সেদিকে ফিরে যেতে পারে।
আর এই কারণেই এটি আমার নিকট দাবি রাখে যে, আমি এই কিতাবের হাদিসগুলোর স্তরকে পূর্বের তিনটির পরিবর্তে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করি, আর সেগুলো হলো:
১ - যঈফ (দুর্বল)। এটি এমন হাদিস যাতে হাদিস শাস্ত্রের পরিচিত ত্রুটিগুলোর মধ্য থেকে কোনো দোষণীয় ত্রুটি রয়েছে, যেমন এর কোনো একজন বর্ণনাকারীর দুর্বলতা, অথবা ইযতিরাব (অস্থিরতা), অথবা মুনকার হওয়া, অথবা শাজ (অস্বাভাবিকতা) এবং এই জাতীয় কিছু।
২ - যঈফ জিদ্দান (অত্যন্ত দুর্বল)। এটি এমন হাদিস যার সনদে কোনো পরিত্যক্ত বা অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে, যার বর্ণনাগুলোতে আপত্তিকর বিষয়ের আধিক্য রয়েছে, এমনকি এটি তার নিজের জাল করা হওয়ার আশঙ্কা করা হয়; যেমন কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন: "মুনকারুল হাদীস" (হাদিসের ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য)।
৩ - মাওযূ (জাল/বানোয়াট)। এটি এমন হাদিস যার সনদে কোনো চরম মিথ্যাবাদী বা হাদিস জালকারী ব্যক্তি রয়েছে, অথবা যার মূল পাঠে জাল হওয়ার চিহ্নসমূহ প্রকাশ্য থাকে এবং সাথে সাথে এর সনদেও সুস্পষ্ট ত্রুটি থাকে।
(১)
৪ - মুনকার, অথবা অত্যন্ত মুনকার। এটি এমন হাদিস যার সনদে এমন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে যে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৫)
متنه، وقد يكون منكر المتن، ولو لم يخالف
(1).
5 - شاذ. وهو ما رواه الثقة مخالفاً لمن هو أوثق منه، وبخاصة إذا خالف الثقات، وقد يكون إسناداً
(2) وقد يكون متناً.
وأعلم أخي القارئ! أن المراتب الثلاثة الأولى من المعهود استعمال أهل العلم لها قديماً وحديثاً، بخلاف المرتبتين الأخيرتين: المنكر والشاذ -فهما معروفتان قديماً، مهجورتان حديثاً إلا ما ندر، ولذلك فقد رأيت أن استعمالهما مع ما فيه من إحياء ما كاد أن يندرس من العلم- فإن فيه بياناً أقوى لعلة الحديث وأوضح، كما فعلت في الكتاب الآخر من استعمال مراتب "حسن صحيح " و"صحيح لغيره " و"حسن لغيره" {فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَنِعْمَةً}، وإن كان هذا قد كلفني تعباً شديداً، وجهداً جهيداً كما شرحته هناك، راجياً الأجر والمثوبة من الله عز وجل؛ فإن الثواب على قدر المشقة، ولا سيما في خدمة حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتمييز ضعيفه من صحيحه، والمحافظة على سنته التي هي بيان لكتاب الله تبارك وتعالى.
* وقد رأيت أن تطبع المرتبة من تلك المراتب في حاشية الصفحة تجاه قول المؤلف: "عن فلان
… " ونحوه.
* ولم أعْنَ في التعليق ببيان أسبابها إلا نادراً، كان أقول مثلاً: في إسناده فلان، وهو ضعيف، أو ضعيف جداً، أو كذاب، أو فيه فلان، وهو ضعيف، وقد
--------------------------------------------
এর মতন (মূল পাঠ), আর কখনও কখনও এটি মতনগতভাবে মুনকার হতে পারে, যদিও তা প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী না হয়
(১)।
৫ - শায। এটি এমন বর্ণনা যা একজন নির্ভরযোগ্য রাবী তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিরোধপূর্ণ হয়ে বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে যদি তিনি একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিরোধিতা করেন। আর এটি কখনও সনদে হতে পারে
(২) আবার কখনও মতনে হতে পারে।
হে পাঠক ভাই! জেনে রাখুন যে, প্রথম তিনটি স্তরের ব্যবহার আলেমদের নিকট প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সুপরিচিত। তবে শেষোক্ত দুটি স্তর অর্থাৎ 'মুনকার' এবং 'শায'-এর বিষয়টি ভিন্ন; এ দুটি প্রাচীনকালে সুপরিচিত থাকলেও বর্তমানে খুব অল্প ক্ষেত্র ব্যতীত পরিত্যক্ত। তাই আমি মনে করেছি যে, এগুলোর ব্যবহারের মাধ্যমে ইলমের প্রায় বিলুপ্ত হতে যাওয়া অংশকে যেমন পুনরুজ্জীবিত করা হবে, তেমনি এতে হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী ও স্পষ্টতর বর্ণনা ফুটে উঠবে। যেমনটি আমি আমার অন্য কিতাবে 'হাসান সহিহ', 'সহিহ লি-গাইরিহি' এবং 'হাসান লি-গাইরিহি' স্তরগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে করেছি। এটি 'আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নেয়ামত স্বরূপ'। যদিও এতে আমাকে অনেক বেশি ক্লান্তি এবং কঠোর পরিশ্রম সইতে হয়েছে, যেমনটি আমি সেখানে ব্যাখ্যা করেছি। আমি মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে এর সওয়াব ও প্রতিদান প্রত্যাশা করি; কারণ কষ্ট অনুযায়ীই প্রতিদান পাওয়া যায়। বিশেষ করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের খেদমত, সহিহ ও জয়িফ (দুর্বল) হাদিসের পার্থক্য নিরূপণ এবং তাঁর সুন্নাহর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে—যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কিতাবেরই ব্যাখ্যা।
* আমি সমীচীন মনে করেছি যে, সেই স্তরগুলো থেকে নির্দিষ্ট স্তরটি পৃষ্ঠার পাদটীকায় লেখকের বক্তব্য: "অমুক থেকে বর্ণিত..." এবং অনুরূপ বক্তব্যের ঠিক বিপরীতে মুদ্রিত হোক।
* আমি টীকায় তার কারণগুলো ব্যাখ্যা করার দিকে খুব কম ক্ষেত্র ব্যতীত গুরুত্ব দিইনি। যেমন হয়তো আমি বলেছি: এর সনদে অমুক ব্যক্তি আছে, যে দুর্বল, অথবা অত্যন্ত দুর্বল, অথবা চরম মিথ্যাবাদী, অথবা এতে অমুক রয়েছে, যে দুর্বল, এবং সে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৬)
خالف فلان الثقة، أو فيه فلان وهو ثقة لكنه خالف فلاناً، وهو أوثق منه، ونحو ذلك؛ لم ألتزم هذا إلا نادراً عند الحاجة، غير أنني رأيت من الضروري التزام ذلك في حالة واحدة، وهي حينما يتبين لي وهم المؤلف أو غيره في تقوية الحديث أو توثيق راويه، أو أشار إلى ذلك، ففي هذه الحالة التزمت ذلك ما أمكنني دفعاً للقيل والقال، وليكون إخواننا القراء على بصيرة مما نقول أو يقال.
* وقد يكون الحديث في الكتاب معزواً لمصدر من المصادر التي لم أقف عليها، فلم أدر ما حال إسناده -وهو نادر-، مثل كتاب "تجريد الصحاح" لرَزين العبدري، ويبدو لي من النظر في متنه أنه لا يصح؛ فإني أورده في كتابي هذا، دون أن أرمز له بمرتبة من تلك المراتب، وأطبع مكانها إشارة الاستفهام المعروفة (؟)، تبرئة للذمة، ورفعاً للمسؤولية، وهذا فيما لم يضعفه المؤلف، أو يكشف عن علته، وإلا رمزت بالضعف كما سترى في الحديث الآتي قريباً برقم (6).
* يورد المؤلف أحياناً الحديث الصحيح، وفيه جملة أو كلمة لا تصح، أو يورد ذلك في رواية أخرى له، فتردد النظر بين إيراده في "الصحيح"، أو في "الضعيف" مع التعليق عليه بما يلزم.
وكذلك تردد النظر فيما لو كان الحديث ضعيفاً، وفيه جملة صحيحة، فترجح عندي إيراد الأول في "الصحيح" مع اقتطاع الجملة أو الكلمة من الحديث والنزول بها إلى التعليق، وبيان سبب ضعفها كما شرحته في مقدمة الطبعة الجديدة لـ "الصحيح"، فلا داعي للإعادة.
وعلى العكس من ذلك، فقد رأيت في الحديث الضعيف أن أورده في هذا
অমুক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (অন্যের) বিরোধিতা করেছেন, অথবা এতে অমুক রয়েছেন যিনি নির্ভরযোগ্য কিন্তু তিনি অন্য এমন এক ব্যক্তির বিরোধিতা করেছেন যিনি তাঁর চেয়েও অধিকতর নির্ভরযোগ্য, ইত্যাদি; আমি প্রয়োজনের খাতিরে কদাচিৎ ছাড়া এ পদ্ধতি অনুসরণ করিনি। তবে একটি ক্ষেত্রে আমি এটি অনুসরণ করা অপরিহার্য মনে করেছি; আর তা হলো যখন আমার কাছে মূল লেখক বা অন্য কারো কোনো হাদিসকে শক্তিশালী গণ্য করা অথবা বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলার ক্ষেত্রে ভুল স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কিংবা তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেন। এমতাবস্থায় আমি সাধ্যমতো সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি যাতে বিবাদ-বিতর্ক নিরসন হয় এবং আমাদের পাঠক ভাইয়েরা আমরা যা বলছি বা যা বলা হচ্ছে সে সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখতে পারেন।
* আবার কখনো কখনো বইটির কোনো হাদিস এমন একটি উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত থাকে যা আমার হস্তগত হয়নি, ফলে তার সনদের অবস্থা আমার জানা নেই—যদিও এমনটি বিরল—যেমন রাজীন আল-আবদারীর 'তাজরীদুস সিহাহ' গ্রন্থটি। এর মূল পাঠ পর্যালোচনায় আমার কাছে এটি সহিহ মনে হয়নি; তাই আমি দায়মুক্ত হওয়ার জন্য এবং দায়িত্ব পালনার্থে কোনো স্তরের চিহ্ন ছাড়াই এটি আমার এই গ্রন্থে উল্লেখ করেছি এবং তার স্থলে পরিচিত প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) বসিয়ে দিয়েছি। এটি কেবল তখনই করেছি যখন লেখক সেটিকে দুর্বল বলেননি কিংবা এর কোনো ত্রুটি প্রকাশ করেননি; অন্যথায় আমি দুর্বলতার চিহ্নই ব্যবহার করেছি, যেমনটি অচিরেই ৬ নম্বর হাদিসে আপনি দেখতে পাবেন।
* লেখক কখনো কখনো কোনো সহিহ হাদিস উল্লেখ করেন যার অন্তর্গত কোনো বাক্য বা শব্দ সহিহ নয়, অথবা তিনি তার অন্য কোনো বর্ণনায় সেটি নিয়ে আসেন। এমতাবস্থায় এটি 'সহিহ' সংকলনে নাকি 'যয়িফ' সংকলনে প্রয়োজনীয় টীকা সহকারে উল্লেখ করব, সে বিষয়ে আমি দ্বিধায় পড়ে যাই।
অনুরূপভাবে, কোনো হাদিস যদি দুর্বল হয় কিন্তু তাতে কোনো সহিহ বাক্য থাকে, তবে সেক্ষেত্রে আমার কাছে অগ্রগণ্য সিদ্ধান্ত হলো: প্রথমোক্তটিকে 'সহিহ' গ্রন্থে স্থান দেওয়া এবং অপ্রমাণিত বাক্য বা শব্দটিকে হাদিস থেকে বিযুক্ত করে টীকায় নিয়ে যাওয়া এবং এর দুর্বলতার কারণ ব্যাখ্যা করা, যেমনটি আমি 'সহিহ' গ্রন্থের নতুন সংস্করণের ভূমিকায় সবিস্তারে বর্ণনা করেছি। তাই এখানে তার পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই।
এর বিপরীতে, দুর্বল হাদিসের ক্ষেত্রে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তা আমি এই গ্রন্থে উল্লেখ করব...
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৭)
الكتاب مع النزول بالجملة الصحيحة إلى التعليق إذا أمكن ولم يختل سياق الحديث، وبيان صحتها، والإشارة إلى حذفها بطبع نقط مكانها، وإلا اكتفيت بالبيان، كما فعلت بحديث شهر بن حوشب الطويل الآتي برقم (21)، فقد علقت عليه بما يبين صحة قوله صلى الله عليه وسلم فيه: "إن الشيطان قد يئس أن يعبد في جزيرة العرب"، ونحوه حديث ابن عباس برقم (32)، وغيره كثير وكثير جداً كما سيرى القراء ذلك إن شاء الله تعالى، ومثال المشار إليه بالنقط حديث أبي الدرداء الآتي في (5 - الصلاة/ 10)، وأمثلته في "الصحيح" كثيرة.
وقد يكون سياق الحديث مساعداً لاقتطاع الجملة الصحيحة منه، وطبعها في "الصحيح"، لكن يكون الحديث قد أورده المؤلف في الباب المناسب له دون الجملة، كمثل حديث علي رضي الله عنه قال: نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أقرأ وأنا راكع، وقال: "يا علي! مثل الذي لا يقيم صلبه
… " الحديث: ذكره في باب "الترهيب من عدم إتمام الركوع
… " لمناسبته لما بعد الجملة، فذكري إياها في "الصحيح" مما لا يناسب الباب المذكور كما هو ظاهر، فرأيت إبقاءها مع الحديث، والتعليق عليه ببيان صحتها، وقد أشار المؤلف إلى تضعيفه بتصديره إياه بقوله: "وروي"، ومشى على ظاهره بعض الجهلة، فضعفوا الحديث دون أن يستثنوا الجملة كما سيأتي بيانه في التعليق عليه هناك (5 - الصلاة/ 34).
هذا ما حضرني ذكره في هذه المقدمة كمنهاج لما جريت عليه في هذا الكتاب النافع إن شاء الله تعالى، سائلاً المولى سبحانه وتعالى أن يأخذ بيدي، وأن يوفقني إلى ما يحبه ويرضاه من القول والعمل.
وإن مما لا بد لي من التذكير هنا بأنني كنت قد وضعت مقدمة ضافية مفيدة
কিতাবটিতে সম্ভব হলে সহিহ বাক্যটিকে নিচে টীকা আকারে নিয়ে আসা হয়েছে যদি হাদিসের প্রাসঙ্গিক প্রবাহে বিঘ্ন না ঘটে, এবং এর বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করা হয়েছে। আর হাদিসের কোনো অংশ বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সেখানে বিন্দুর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় কেবল বর্ণনার মাধ্যমেই তা স্পষ্ট করেছি। যেমনটি আমি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসটির ক্ষেত্রে করেছি যা সামনে ২১ নম্বরে আসবে। আমি সেখানে টীকা যুক্ত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করেছি যে: "শয়তান জাজিরাতুল আরবে তার ইবাদত করা হবে বলে নিরাশ হয়েছে"। অনুরূপ ইবনে আব্বাসের ৩২ নম্বর হাদিস এবং আরও অনেক অনেক হাদিস রয়েছে যা পাঠকরা ইনশাআল্লাহ দেখতে পাবেন। বিন্দুর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়ার একটি উদাহরণ হলো আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি যা সামনে (৫-নামাজ/১০) অধ্যায়ে আসবে এবং "সহিহ" গ্রন্থে এর প্রচুর উদাহরণ রয়েছে।
কখনও কখনও হাদিসের প্রাসঙ্গিকতা বাক্যটিকে সেখান থেকে পৃথক করে "সহিহ" অংশে ছাপানোর উপযোগী হয়, কিন্তু লেখক হাদিসটিকে এমন এক উপযুক্ত অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যেখানে বাক্যটি বাদ পড়েছে। যেমন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে রুকু অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "হে আলী! যে ব্যক্তি তার পিঠ সোজা করে না তার উদাহরণ হলো
… " হাদিসটি। এটি "রুকু পূর্ণ না করার ভীতি প্রদর্শন
… " অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ বাক্যের পরবর্তী অংশের সাথে এর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। সুতরাং "সহিহ" অংশে আমার সেটি উল্লেখ করা উক্ত অধ্যায়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হয় না যেমনটি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তাই আমি বাক্যটিকে হাদিসের সাথেই রাখা এবং এর বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করে টীকা দেওয়া সমীচীন মনে করেছি। লেখক হাদিসটি শুরু করার সময় "বর্ণিত আছে" শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে এর দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন। আর কিছু অজ্ঞ লোক এর বাহ্যিক রূপ দেখে পুরো হাদিসটিকেই দুর্বল বলে গণ্য করেছে এবং তারা এই বাক্যটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেনি, যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে (৫-নামাজ/৩৪) টীকায় আসবে।
এই উপকারী কিতাবে আমি যে কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করেছি তার রূপরেখা হিসেবে এই ভূমিকায় যা আমার মনে এসেছে তা উল্লেখ করলাম, ইনশাআল্লাহ। মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমার হাত ধরেন এবং আমাকে এমন কথা ও কাজের তৌফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
এখানে যে বিষয়টি অবশ্যই মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন তা হলো, আমি ইতিপূর্বে একটি বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ ভূমিকা লিখেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৮)
جداً بين يدي كتابي "صحيح الترغيب والترهيب"، تضمنت فصولاً عديدة، وفوائد جديدة، حول كتاب المنذري "الترغيب" ومزاياه، وما يؤخذ عليه وعلى غيره من المؤلفين في علم الحديث؛ الكثير منها مما يعزً الوقوف عليه في غيرها.
ومع ذلك فإني أرى أنه لا ضرورة إلى إعادة نشرها هنا، لأنني أفترض أن من اقتنى هذا فسيقتني معه قسيمه "صحيح الترغيب والترهيب"، فهو واجدها في مقدمته، فأحيله إليها.
ولكن لا بد لي من تقديم خلاصة عنها تتناسب مع موضوع هذا الكتاب، فأقول:
قد بينت فيها إصطلاح الحافظ المنذري رحمه الله في "ترغيبه"، وأنه جعل أحاديثه على قسمين:
أحدهما: صدًره بلفظ (عن)، وهو المشعر عنده بقوته.
والآخر: صدًره بلفظ (روي) المبني للمجهول، وهو المشعر عنده بضعفه.
وأنه أدخل في كل من القسمين ثلاثة أقسام، وأنه تقسيم مبهَم محيّر مضطرب، لا يكاد عامة القراء يستفيدون منه مراده، وفصلت القول في ذلك تفصيلاً، لا أظن أحداً تعرض له، أو سبقني إليه، والفضل في ذلك كله لله وحده، وله الحمد والثناء كله.
ومن ذلك أنه أدخل في القسم الأول "ما قارب الصحيح والحسن" -على حد قوله- مما هو ضعيف معروف الضعف عند المحدثين، فقد قال عطفاً على قوله المذكور:
"وكذلك إن كان: مرسلاً، أو منقطعاً، أو معضلاً، أو في إسناده راوٍ
আমার গ্রন্থ "সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব"-এর শুরুতে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে অনেকগুলো অধ্যায় এবং নতুন কিছু ইলমী ফায়দা অন্তর্ভুক্ত করেছি, যা আল-মুনযিরীর কিতাব "আত-তারগীব", এর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর ও অন্যান্য গ্রন্থকারদের ভুলত্রুটির বিষয়ে আলোকপাত করে; যার অধিকাংশ তথ্যই অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর।
তৎসত্ত্বেও আমি মনে করি সেগুলো এখানে পুনরায় উল্লেখ করার কোনো আবশ্যকতা নেই, কারণ আমার ধারণা যে ব্যক্তি এই গ্রন্থটি সংগ্রহ করবেন, তিনি এর অপর অংশ "সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব"-ও সংগ্রহ করবেন। সুতরাং তিনি উক্ত গ্রন্থের ভূমিকাতেই সেগুলো পেয়ে যাবেন, তাই আমি পাঠককে সেদিকেই দৃষ্টিপাত করার অনুরোধ করছি।
তবে এই গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সে সম্পর্কে একটি সারসংক্ষেপ পেশ করা আমি জরুরি মনে করছি। আমি বলছি:
আমি সেখানে হাফেয আল-মুনযিরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "আত-তারগীব" গ্রন্থের পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করেছি এবং দেখিয়েছি যে তিনি তাঁর হাদীসগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:
এক: যে হাদীসগুলো তিনি ‘আন’ (হতে) শব্দ দিয়ে শুরু করেছেন, যা তাঁর নিকট হাদীসটির শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ।
দুই: যে হাদীসগুলো তিনি কর্মবাচ্যের শব্দ ‘রুউইয়া’ (বর্ণিত হয়েছে) দিয়ে শুরু করেছেন, যা তাঁর নিকট হাদীসটির দুর্বল হওয়ার লক্ষণ।
আর তিনি এই দুই প্রকারের প্রত্যেকটির মধ্যে পুনরায় তিনটি করে উপ-বিভাগ করেছেন, যা মূলত একটি অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর ও বিশৃঙ্খল বিভাজন। সাধারণ পাঠকরা এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য প্রায় অনুধাবন করতে পারেন না বললেই চলে। আমি এ ব্যাপারে এমন বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি যা ইতিপূর্বে অন্য কেউ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আর এর সকল তাওফীক ও মর্যাদা একমাত্র আল্লাহরই, এবং সকল প্রশংসা ও স্তুতি তাঁরই জন্য।
এরই একটি দৃষ্টান্ত হলো, তিনি প্রথম প্রকারের মধ্যে এমন কিছু হাদীস ঢুকিয়েছেন যা—তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী—"সহীহ ও হাসানের নিকটবর্তী", অথচ সেগুলো মুহাদ্দিসগণের নিকট সুপরিচিত যঈফ বা দুর্বল হাদীস। তিনি তাঁর পূর্বোক্ত কথার সাথে যুক্ত করে বলেছেন:
"অনুরূপভাবে হাদীসটি যদি মুরসাল, মুনকাতি‘, মু‘দাল হয় অথবা এর সূত্রে এমন কোনো বর্ণনাকারী থাকে..."
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৯)
مبهم
… أو روي مرفوعاً، والصحيح وقفه، أو متصلاً، والصحيح إرساله، أو كان إسناده ضعيفاً، لكن صححه أو حسنه بعض من خرجه"!
وذكرت هناك بعض الأمثلة.
* وأنه قلد المتساهلين في التصحيح أحياناً كالترمذي وابن حبان والحاكم، كالأحاديث الآتية (2 و 29 و 34 و 35) وغيرها، وهو كثير جداً.
* ومن ذلك أنه في كثير من الأحاديث يقول في تخريجها: "رواته ثقات" ونحوه، وهو في ذلك اما مصيب، أو مخطئ، ويصدره بإصطلاحه الأول: (عن)، فيتوهم من لا علم عنده، أن الحديث صحيح أو حسن، ويكون فيه علة قادحة من العلل المشار إليها آنفاً كالإرسال والإنقطاع والشذوذ؛ مما يدفع تحسينه فضلاً عن تصحيحه: مثل حديث ابن عباس في التحذير من الحمام، فقد صدق في قوله فيه: "ورواته كلهم محتج بهم في الصحيح"، لكن خفي عليه -والله أعلم- أنه شاذ؛ لمخالفة راويه الثقة لمن هو أوثق منه، وقد أرسله. ومثله حديث عائشة: "لزمت السواك"، وهما في (4 - الطهارة برقم 127 و 147).
والأمثلة من هذا القبيل كثيرة جداً جداً. وإن من أسوئها قوله في حديث ثعلبة بن الحكم في فضل العلماء (61): "ورواته ثقات"! وفيه راوٍ متهم بالوضع!
* ومن ذلك أنه لا يميز ما يصدّره من الأحاديث بقوله: (روي) بين ما هو ضعيف، أو ضعيف جداً، أو موضوع، وبين ما هو شاذ أو منكر؛ إلا نادراً، فلا يعرف القراء مرتبة الحديث على الحقيقة، إلا إذا أتبعه بما يدل عليها من بيانه، وهذا عزيز جداً.
অস্পষ্ট
… অথবা এটি মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সঠিক হলো এটি মাওকুফ; অথবা এটি মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণিত, কিন্তু সঠিক হলো এটি মুরসাল; অথবা এর সনদটি দুর্বল, কিন্তু তা সংকলনকারীদের কেউ কেউ একে সহীহ বা হাসান বলেছেন!"
এবং আমি সেখানে কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছি।
* এবং তিনি কখনো কখনো হাদিস সহীহ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারী আল-তিরমিজি, ইবনে হিব্বান এবং আল-হাকিম-এর অনুকরণ করেছেন, যেমন নিচের হাদিসগুলোতে (২, ২৯, ৩৪ ও ৩৫) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে; আর এর সংখ্যা অনেক বেশি।
* এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তিনি অনেক হাদিসের তাখরিজে বলেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য" বা এই জাতীয় কিছু; আর এক্ষেত্রে তিনি হয় সঠিক অথবা ভুল করেন। তিনি তার প্রথম পরিভাষা 'থেকে' (আন) দিয়ে এটি শুরু করেন, ফলে যার জ্ঞান নেই সে ধারণা করে বসে যে হাদিসটি সহীহ বা হাসান। অথচ এতে ইতিপূর্বে উল্লিখিত 'ইল্লাত' বা ত্রুটিগুলোর (যেমন মুরসাল হওয়া, বিচ্ছিন্নতা বা শায হওয়া) কোনো একটি বিদ্যমান থাকে যা একে হাসান এমনকি সহীহ হওয়া থেকেও বিরত রাখে। যেমন গোসলখানা সম্পর্কে সতর্ককারী ইবনে আব্বাসের হাদিসটি; তিনি এটি সম্পর্কে এ কথা ঠিকই বলেছেন যে: "এর বর্ণনাকারীগণ সকলে সহীহ হাদিসের দলিল হিসেবে গৃহীত হওয়ার যোগ্য", কিন্তু তার কাছে এটি অস্পষ্ট রয়ে গেছে—আল্লাহই ভালো জানেন—যে হাদিসটি মূলত 'শায'; কারণ এর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি একে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ আয়েশা (রা.)-এর হাদিস: "আমি মেসওয়াক করা অপরিহার্য করে নিয়েছি", এই উভয় হাদিস (৪-পবিত্রতা অধ্যায়, নং ১২৭ ও ১৪৭)-এ রয়েছে।
এই ধরণের উদাহরণ অনেক অনেক বেশি। আর এর মধ্যে সবচেয়ে মন্দ হলো আলেমদের মর্যাদা সম্পর্কে সা'লাবা ইবনুল হাকাম বর্ণিত হাদিসের (৬১) ক্ষেত্রে তার এই উক্তি: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য!" অথচ এতে এমন একজন বর্ণনাকারী আছেন যিনি হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত!
* এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তিনি 'বর্ণিত হয়েছে' শব্দ দিয়ে যে হাদিসগুলো শুরু করেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল, অতি দুর্বল বা জাল হাদিসের মধ্যে এবং শায বা মুনকার হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করেন না; কেবল ব্যতিক্রম ছাড়া। ফলে পাঠকরা হাদিসের প্রকৃত মর্যাদা জানতে পারেন না, যদি না তিনি নিজে এর বর্ণনায় এমন কিছু উল্লেখ করেন যা এর স্তরের ওপর ইঙ্গিত প্রদান করে, আর এটি খুবই বিরল।
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১০)
* وقد بينت هناك المحظور الذي يترتب على هذا الإصطلاح، والأمثلة على ذلك كثيرة جداً بحيث يتعسر إحصاؤها في مثل هذه المقدمة، فانظر على سبيل المثال الأحاديث الآتية (3 و 6 و 7 و 11 و 12 و 15 و 23).
ومن العزيز النادر الذي أشرت إليه حديث معاذ الطويل في آخر كتاب الإخلاص، والمصدّر بقوله: "وروي"؛ إلا أنه ختم الكلام عليه بعد أن خرجه:
"وبالجملة فآثار الوضع ظاهرة عليه في جميع طرقه، وبجميع ألفاظه".
* ومن ذلك إعتماده في التوثيق على ابن حبان وغيره ممن عرفوا عند العلماء أنهم من المتساهلين في التوثيق، ويكون الموثق مجهولاً عند التحقيق.
إلى غير ذلك من الأمور التي جعلت الاستفادة من كتاب "الترغيب" قليلة جداً، بل لعله كان من الأسباب القوية في انتشار الأحاديث الضعيفة والواهية؛ بين الطلاب بل والعلماء على اختلاف تخصصاتهم، الذين لا معرفة عندهم بهذا العلم الشريف، بسبب إصطلاحاته الموهمة! خلاف ما قصد إليه من التمييز بين الصحيح والضعيف.
* وفي مقدمة "الصحيح" -الذي منه لخصت الفوائد المذكورة- فصل هام جداً، لا يسعني إلا أن أنقله إلى هنا؛ لوثيق صلته بكتابنا هذا، لما فيه من الأمثلة التي تناسب هذه المقدمة، وقد تكون من المتممات لبعض الفوائد المزبورة، فمعذرة إلى القراء الكرام إن استطالوا ذلك.
قلت هناك:
"40 - أنواع أوهام المنذري الهامة في خطوط عريضة مع الأمثلة.
* আমি সেখানে সেই আপত্তিকর দিকগুলো স্পষ্ট করেছি যা এই পরিভাষার ব্যবহারের ফলে উদ্ভূত হয়। এর উদাহরণ এতো বেশি যে এই ধরণের এক ভূমিকায় তা গণনা করা কঠিন। উদাহরণস্বরূপ নিম্নোক্ত হাদীসগুলো দেখুন (৩, ৬, ৭, ১১, ১২, ১৫ এবং ২৩)।
আমি যে বিরল এবং দুর্লভ বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তার মধ্যে একটি হলো ‘কিতাবুল ইখলাস’-এর শেষে বর্ণিত মুয়াযের দীর্ঘ হাদীসটি, যা 'বর্ণিত আছে' কথাটি দিয়ে শুরু করা হয়েছে। তবে তিনি হাদীসটি বর্ণনা করার পর তার আলোচনার সমাপ্তি টেনেছেন এই বলে:
"সারকথা হলো, এর সকল সূত্র এবং সকল শব্দে জাল হওয়ার চিহ্নসমূহ সুস্পষ্ট।"
* এর মধ্যে আরও রয়েছে রাবীদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বান ও অন্যদের ওপর তাঁর নির্ভরতা, যারা আলেমদের নিকট এ বিষয়ে শিথিলকারী হিসেবে পরিচিত। অথচ নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, যাকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে সে মূলত অজ্ঞাত।
এছাড়াও অন্যান্য বিষয় রয়েছে যা ‘আত-তারগীব’ কিতাবটি থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত করে দিয়েছে। বরং সম্ভবত এটিই ছিল ছাত্র এবং এমনকি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ আলেমদের মাঝে—যাদের এই মহান বিদ্যা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান নেই—দুর্বল ও ভিত্তিহীন হাদীসগুলো ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ; আর তা হয়েছে বিভ্রান্তিকর পরিভাষাগুলোর দরুন! অথচ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সহীহ ও যয়ীফ হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করা।
* ‘সহীহ’ (আস-সহীহা) কিতাবের ভূমিকায়—যেখান থেকে আমি উল্লিখিত ফায়দাগুলো সারসংক্ষেপ করেছি—একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ রয়েছে। আমাদের এই কিতাবের সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক থাকায় সেটি এখানে উদ্ধৃত না করে পারছি না। কারণ এতে এমন কিছু উদাহরণ রয়েছে যা এই ভূমিকার জন্য উপযুক্ত এবং তা পূর্বে বর্ণিত কিছু ফায়দার পরিপূরক হতে পারে। তাই সম্মানিত পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যদি এটি তাদের নিকট দীর্ঘ মনে হয়।
আমি সেখানে বলেছি:
"৪০ - উদাহরণসহ স্থূল দৃষ্টিতে আল-মুনজিরীর গুরুত্বপূর্ণ ভুল-ভ্রান্তির প্রকারভেদসমূহ।"
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১১)
أما بعد
… "، إلى صفحة 89 نصفها.
وختمت المقدمة بقولي:
"إن الذي نذرت له نفسي لخدمة هذا الكتاب إنما هو تمييز صحيحه من ضعيفه -كما شرحت ذلك في أول هذه المقدمة-، لأنه أهم شيء عندي بعد كتاب الله تبارك وتعالى، ولا يصح بوجه من الوجوه أن يُقرن معه إلا ما صح من الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم، فإنه هو الأصل الثاني الذي أجمعت عليه الأمة".
وعلى هذا فإذا وجد شيء من الأخطاء في مشروعي هذا تبعاً لأصله، فعذري هذا الذي ذكرت، والعذر عند كرام الناس مقبول".
ومع ذلك فإن الله تعالى قد وفقني ويسر لي -وله الفضل والمنة- لتصويب كثير من الأخطاء المختلفة التي وقعت في الأصل، ولا علاقة لها بما نذرت له نفسي، كما شرحت ذلك في مقدمة الطبعة الجديدة للجزء الأول من "صحيح الترغيب"، هذا التصويب الذي أخل به كل الإخلال أولئك المعلقون الثلاثة الذين طلعوا على الناس بطبعة جديدة لكتاب المنذري "الترغيب" في أربعة مجلدات ضخمة مبرقشة مزخرفة، يعجبك مظهرها، ويسوؤك مخبرها، فقد امتلأت بأنواع من الأخطاء الفاحشة، والأفكار التافهة، التي تدل دلالة قاطعة على جهل القائمين بالتعليق عليها وتحقيقها، جهلاً فاضحاً بالغاً لا حدود له، في كل ما يخطر في بال القراء من العلوم التي ينبغي أن يتحقق بها من يدعي تحقيق هذا الكتاب الذي تبرم من كثرة أخطائه وأوهامه الحافظ إبراهيم الناجي -كما تقدم-، فهم جهلة في اللغة والتحقيق والرجوع إلى الأصول، فضلاً عن
অতঃপর
… " ৮৯ পৃষ্ঠার অর্ধেক পর্যন্ত।
এবং আমি আমার এই কথাটি দিয়ে ভূমিকাটি শেষ করেছি:
"নিশ্চয়ই আমি এই কিতাবটির খিদমতে নিজেকে যে বিষয়ের জন্য উৎসর্গ করেছি, তা হলো এর সহীহ হাদিসকে যয়ীফ হাদিস থেকে পৃথক করা—যেমনটি আমি এই ভূমিকার শুরুতেই ব্যাখ্যা করেছি—। কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কিতাবের পর এটিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর কোনোভাবেই কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর কিতাবের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেবল সেই হাদিসগুলো ছাড়া অন্য কিছু যুক্ত করা সঠিক নয় যা সহীহ হিসেবে প্রমাণিত। কেননা এটিই হলো দ্বিতীয় মূল উৎস যার ওপর উম্মাহ ঐক্যমত পোষণ করেছে।"
আর এই প্রেক্ষিতে, যদি মূল কিতাবের অনুকরণে আমার এই প্রকল্পে কোনো ভুল-ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে আমার ওজর বা অজুহাত সেটিই যা আমি উল্লেখ করেছি। আর মহানুভব ব্যক্তিদের নিকট ওজর গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে।"
তা সত্ত্বেও, আল্লাহ তাআলা আমাকে তাওফিক দিয়েছেন এবং আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন—সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ কেবল তাঁরই—মূল কিতাবে বিদ্যমান বহুবিধ ভুল সংশোধন করার জন্য, যেগুলোর সাথে আমার উৎসর্গকৃত বিষয়ের (সহীহ-যয়ীফ পার্থক্যকরণ) কোনো সম্পর্ক ছিল না। যেমনটি আমি 'সহীহুত তারগীব'-এর প্রথম খণ্ডের নতুন সংস্করণের ভূমিকায় ব্যাখ্যা করেছি। এই সংশোধনের ক্ষেত্রে সেই তিন জন টীকাকার চরম অবহেলা করেছেন যারা মুনযিরীর কিতাব 'আত-তারগীব'-এর একটি নতুন সংস্করণ নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হয়েছেন; যা চারটি বিশাল, চাকচিক্যময় ও কারুকার্যখচিত খণ্ডে বিন্যস্ত। এর বাহ্যিক রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবে কিন্তু এর অভ্যন্তরীণ কদর্যতা আপনাকে ব্যথিত করবে। এটি এমন সব জঘন্য ভুল এবং তুচ্ছ চিন্তাধারায় পরিপূর্ণ যা এর টীকা প্রদানকারী ও তাহকীককারীদের চরম ও সীমাহীন অজ্ঞতার অকাট্য প্রমাণ দেয়। পাঠকদের মনে উদিত হতে পারে এমন সকল বিদ্যায় তাদের এই জঘন্য অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে, অথচ যে ব্যক্তি এই কিতাবটি তাহকীক করার দাবি করে তার সেই বিদ্যাসমূহে পারদর্শী হওয়া আবশ্যক ছিল। হাফিয ইব্রাহিম আন-নাজী—যেমনটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে—এই কিতাবটির ভুল ও ভ্রান্তির আধিক্যের কারণে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। তারা ভাষা, তাহকীক এবং মূল উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে নিতান্তই অজ্ঞ, তদুপরি...
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفقه وعلوم الحديث والجرح والتعديل، فهم والحق يقال: لا يحسنون شيئاً إلا التقليد، وسرقة جهود الآخرين، والتشبع بما لم يعطوا، مع التعالي والتعالم وحب الظهور والمخالفة!!
وقد شرحت ذلك شرحاً كافياً في المقدمة المشار إليها، مع ذكر بعض الأمثلة المهمة التي تدمغهم وتدينهم بما ذُكر، فمن شاء الوقوف على ذلك رجع إليها.
غير أنه لا بد لي هنا من ذكر نماذج أخرى مما وقع لهم في طبعتهم من الجهل فيما يتعلق بأحاديث كتابنا هذا "ضعيف الترغيب"، وفاءً بما كنت وعدت به في مقدمة "صحيح الترغيب"، وذلك في مقاطع من الكلام على نحو ما فعلت هناك، فأقول:
1 - عجزهم عن تحقيق النص وتصحيحه بالرجوع إلى الأصول واللغة؛ لجهلهم بذلك كله! ومن الأمثلة على ذلك كلمة (يُرَبِّثون) في حديث علي في الترغيب في التبكير إلى الجمعة (7 - الجمعة/3/ تحت الحديث الأول)، من (رَبَّث يربث)، تصحف في طبعة الجهلة وغيرها إلى (تَرَيَّثَ)، مع أن في شرح المؤلف إياها على الصواب؛ ما يكفي لتعليم الجاهل، وتنبيه الغافل.
وانظر الصفحات التاليات تجد فيها أنواعاً أخرى من الأمثلة الدالة على ذلك (77 و 181 و 187 و 234 و 239 و 279 و 316 و 320 و 333 و 335).
2 - تحسينهم لأحاديث الضعفاء والمدلسين والمجهولين، وتناقضهم في ذلك، مثل حديث شهر، وليث بن سُليم، ومحمد بن إسحاق وغيرهم، ومع معرفتهم
ফিকহ, হাদিস শাস্ত্র এবং জারহ ও তাদিল; সত্য বলতে তারা এসকল বিষয়ে অন্ধ অনুকরণ ছাড়া আর কিছুই ভালো করে জানে না। তারা অন্যদের শ্রম চুরি করে, যা তাদের দেওয়া হয়নি তা নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে, আর এর সাথে রয়েছে তাদের অহমিকা, পাণ্ডিত্য জাহির করা, লোকদেখানো মনোভাব এবং বিরোধিতা!!
আমি উল্লিখিত ভূমিকায় এ বিষয়টি যথেষ্ট ব্যাখ্যা করেছি এবং এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ উল্লেখ করেছি যা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং উল্লিখিত বিষয়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। সুতরাং যে কেউ বিষয়টি জানতে চায়, সে যেন সেদিকে ফিরে যায়।
তবে "সহিহুত তারগিব"-এর ভূমিকায় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পূরণকল্পে, আমাদের এই বই "জইফুত তারগিব"-এর হাদিসসমূহ সম্পর্কে তাদের সংস্করণে অজ্ঞতাবশত যেসব ভুল ঘটেছে, তার আরও কিছু নমুনা এখানে উল্লেখ করা আমার জন্য আবশ্যক। এটি সেখানে যেভাবে করেছিলাম সেভাবেই অনুচ্ছেদে বর্ণনা করছি, আমি বলছি:
১ - মূল উৎস এবং ভাষার দিকে প্রত্যাবর্তন করে পাঠ্য যাচাই ও সংশোধনে তাদের অক্ষমতা; এ সবকিছু সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে! এর অন্যতম উদাহরণ হলো জুমার নামাজে সকাল সকাল যাওয়ার উৎসাহ প্রদান সংক্রান্ত আলী (রা.) বর্ণিত হাদিসে 'ইউরাব্বিছুন' শব্দটি (৭ - জুমা/৩/ প্রথম হাদিসের অধীনে), যা 'রাব্বাছা ইউরাব্বিছু' ধাতু থেকে এসেছে। কিন্তু সেই অজ্ঞদের সংস্করণে এবং অন্যান্য জায়গায় এটি 'তারাইয়্যাছা' হিসেবে বিকৃত হয়েছে। অথচ লেখকের সঠিক ব্যাখ্যায় একজন অজ্ঞকে শেখানোর জন্য এবং একজন অসতর্ক ব্যক্তিকে সতর্ক করার জন্য যথেষ্ট উপকরণ ছিল।
পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো দেখুন, সেখানে আপনি এর স্বপক্ষে আরও বিভিন্ন ধরণের উদাহরণ পাবেন (৭৭, ১৮১, ১৮৭, ২৩৪, ২৩৯, ২৭৯, ৩১৬, ৩২০, ৩৩৩ এবং ৩৩৫)।
২ - দুর্বল, মুদাল্লিস এবং মাজহুল (অজ্ঞাত) বর্ণনাকারীদের হাদিসকে 'হাসান' সাব্যস্ত করা এবং এক্ষেত্রে তাদের স্ববিরোধিতা। যেমন শাহর, লাইস বিন সুলাইম, মুহাম্মদ বিন ইসহাক এবং অন্যদের হাদিস; যদিও তারা এ সম্পর্কে অবগত...
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بالعلة في بعض الأحيان، مثل حديث (شهر) رقم (19)، حسنوه، وقالوا فيه: "صدوق"، ثم صرحوا بتضعيف حديثه الآتي بعده بحديث (21)! وما ذاك إلا بسبب الجهل والتقليد، ولو أنهم قالوا في الأول منهما: "حسن لغيره" -كما قالوا في غيره- لكان أخف!
ونحوه الحديث (145) نقلوا عن الهيثمي إعلاله بالتدليس، وسلموا به، ومع ذلك حسنوه!! ومثله الحديث (148) -وانظر الأحاديث التالية أرقامُها: (363 و 466 و 484 و 518 و 528 و 592 - وهوموضوع- و 599 و 644).
3 - يحسنون تارة، ويصححون تارة الأحاديث التي يقول المؤلف فيها أو الهيثمي: "رجاله ثقات" أو "رجاله رجال الصحيح"، بل وما يقول فيه: "رجاله موثقون"، وهو من بالغ جهلهم بعلم مصطلح الحديث، فإن ذلك لا يعني أكثر من تحقق شرط من شروط الصحة أو الحسن كما كنت شرحت ذلك في مقدمة "صحيح الترغيب"، وأشرت إلى جهلهم هذا في مقدمة الطبعة الجديدة منه.
والأمثلة على ذلك كثيرة جداً في هذا المجلد الأول، فما بالك في كثرتها في المجلدات الأخرى؛ من أسوئها أنهم حسنوا الحديث الموضوع الآتي في (7 - الجمعة/ 1 الحديث 6) في مغفرة الله لجميع المسلمين يوم الجمعة! وانظر الحديث رقم (26)، والأحاديث (573 و 578 و 615 و 616 و 635).
وإن مما يؤكد لك جهلهم المذكور أنهم قالوا في حديث من تلك الأحاديث التي لم يزد الهيثمي على توثيق رجاله: "وقد صححه الهيثمي"!
(1)--------------------------------------------
কখনো কখনো ত্রুটির (ইল্লাত) কারণে, যেমন ১৯ নম্বর (শাহর) বর্ণিত হাদীসটি, তারা সেটিকে 'হাসান' বলেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: "সাদুক" (সত্যবাদী), এরপর তারা স্পষ্টভাবে তার পরবর্তী ২১ নম্বর হাদীসটিকে দুর্বল (যয়ীফ) সাব্যস্ত করেছেন! এটি কেবল অজ্ঞতা এবং অন্ধ অনুকরণের (তাকলীদ) কারণেই হয়েছে; তারা যদি প্রথমটির ক্ষেত্রে বলতেন: "হাসান লি-গাইরিহি" (অন্যান্য সূত্রের কারণে হাসান) —যেমনটি তারা অন্যগুলোর ক্ষেত্রে বলেছেন— তবে তা কিছুটা লঘু বা সহনীয় হতো!
অনুরূপভাবে ১৪৫ নম্বর হাদীসটির ক্ষেত্রে তারা আল-হায়সামী থেকে সেটির তাদলীস জনিত ত্রুটি বর্ণনা করেছেন এবং তা মেনেও নিয়েছেন, তা সত্ত্বেও তারা সেটিকে 'হাসান' বলেছেন!! এর অনুরূপ হলো ১৪৮ নম্বর হাদীসটি —এবং পরবর্তী এই নম্বরের হাদীসগুলো দেখুন: (৩৬৩, ৪৬৬, ৪৮৪, ৫১৮, ৫২৮, ৫৯২ —আর এটি জাল— ৫৯৯ এবং ৬৪৪)।
৩ - কখনো তারা সেই হাদীসগুলোকে 'হাসান' বলেন এবং কখনো 'সহীহ' বলেন যেগুলোর ব্যাপারে লেখক বা আল-হায়সামী বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য" অথবা "এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী", এমনকি যার ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সমর্থিত", এটি হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা সম্পর্কে তাদের চরম অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। কারণ এটি সহীহ বা হাসান হওয়ার শর্তগুলোর মধ্য থেকে কেবল একটি শর্ত পূরণ হওয়াকেই বুঝায়, যেমনটি আমি 'সহীহুত তারগীব'-এর ভূমিকায় ব্যাখ্যা করেছি এবং এর নতুন সংস্করণের ভূমিকায় তাদের এই অজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করেছি।
এই প্রথম খণ্ডে এর উদাহরণ অনেক বেশি, তাহলে অন্য খণ্ডগুলোতে এর আধিক্য কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়; এর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো তারা জুমুআর দিনে সমস্ত মুসলিমের জন্য আল্লাহর ক্ষমা সংক্রান্ত (৭ - জুমুআ/ ১ হাদীস ৬)-এ বর্ণিত জাল হাদীসটিকে 'হাসান' বলেছেন! এবং ২৬ নম্বর হাদীস ও হাদীস নম্বর (৫৭৩, ৫৭৮, ৬১৫, ৬১৬ ও ৬৩৫) দেখুন।
তাদের উল্লিখিত অজ্ঞতাকে যা আরও নিশ্চিত করে তা হলো, তারা এমন একটি হাদীসের ক্ষেত্রে বলেছে যার বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বলার বাইরে আল-হায়সামী আর কিছুই করেননি: "আল-হায়সামী একে সহীহ বলেছেন"!
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
4 - يحسنون بعض الأحاديث بالشواهد، وتارة بالشاهد، ولا شيء من ذلك في كثير من الأحيان، أو يكون شاهداً قاصراً يشهد لبعض الحديث دون بعضه الآخر، كما شرحت ذلك في "مقدمة الصحيح" المقطع (13).
وأذكر هنا بعض الأمثلة، من ذلك قولهم في حديث حذيفة: "لا يقبل الله لصاحب بدعة صوماً
… يخرج من الإسلام كما يخرج الشعر من العجين".
قالوا: "حسن بشواهده"! وهو موضوع كما بينت هناك رقم (43)، ومثله حديث أم حبيبة في صلاة أربع ركعات قبل العصر (327).
ونحو ذلك ما سيأتي التنبيه عليه تحت الأحاديث (34 و 131 و 182 و 663)، وغيرها كثير.
5 - وأما ما حسنوه أو صححوه لذاته؛ إما تقليداً أو خبط عشواء؛ فشيء مخيف لكثرته، وكل ذلك بشطبة قلم، دون أي تعليق أو توجيه، وعلى ما تبين لي من جهلهم المطبق، لو قيل لهم: "لم حسنتم أو صححتم؟ "؛ لم يحيروا جواباً، أو لقالوا: حسنه فلان، أو صححه فلان! فانظر على سبيل المثال الأرقام (7 و 13 و 26 و 73 و 80 و 93 و 117 و 132 و 145 و 192 و 214 و 228 و 259 و 273 و 300 و 327 و 339 و 342 و 343 و 346 و 363 و 415 و 426 و 436 و 453 و 465 و 473 و 478 و 565 و 628 و 635 و 637). وغيرها مما سيأتي إن شاء الله تعالى التنبيه عليه أيضاً في هذا المجلد والمجلد الثاني.
والرقم الأول منها (13) يمثل نوعاً خاصاً من جهالاتهم، ذلك لأن المؤلف ساق حديثه عن أبي هريرة في الرياء مطولاً، مشيراً لضعفه، ثم قال:
৪ - তারা কিছু হাদিসকে সমর্থনমূলক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) এর মাধ্যমে হাসান বলেন, আবার কখনও একটি শাহেদ (সাক্ষ্য) দ্বারা; অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এর কোনো ভিত্তি থাকে না। অথবা সেটি এমন এক অসম্পূর্ণ শাহেদ হয় যা হাদিসের এক অংশের সাক্ষ্য দেয় কিন্তু অন্য অংশের দেয় না, যেমনটি আমি 'সহিহ এর মুকাদ্দিমায়' ১৩ নং অনুচ্ছেদে ব্যাখ্যা করেছি।
আমি এখানে কিছু উদাহরণ উল্লেখ করছি। তার মধ্যে একটি হলো হুযায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য: "আল্লাহ কোনো বিদআতীর রোজা কবুল করেন না... সে ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যায় যেমন আটা থেকে চুল বের হয়ে আসে।"
তারা বলেছে: "এটি তার সমর্থনমূলক বর্ণনাসমূহের কারণে হাসান!" অথচ এটি জাল (মাওজু), যেমনটি আমি সেখানে ৪৩ নং ক্রমিকে বর্ণনা করেছি। অনুরূপভাবে উম্মে হাবীবা (রা.)-এর আসরের আগে চার রাকাত নামাজ সংক্রান্ত হাদিসটি (৩২৭)।
এ ধরনের আরও অনেক উদাহরণ আসবে যা ৩৪, ১৩১, ১৮২ ও ৬৬৩ নম্বর হাদিসের অধীনে সতর্ক করা হবে এবং এ ছাড়াও আরও অনেক রয়েছে।
৫ - আর তারা যা হাসান লি-যাতিহি বা সহিহ লি-যাতিহি বলেছে; তা হয় অন্ধ অনুকরণের বশবর্তী হয়ে, না হয় লক্ষ্যহীনভাবে; যা এর আধিক্যের কারণে অত্যন্ত ভয়াবহ। আর এ সব কিছুই কেবল কলমের খোঁচায় করা হয়েছে, কোনো মন্তব্য বা দিকনির্দেশনা ছাড়াই। তাদের যে চরম মূর্খতা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, তাতে যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হতো: "আপনারা কেন একে হাসান বা সহিহ বলেছেন?"; তবে তারা কোনো জবাব দিতে পারত না, অথবা বলত: অমুক ব্যক্তি একে হাসান বলেছেন, অথবা অমুক ব্যক্তি একে সহিহ বলেছেন! উদাহরণস্বরূপ এই নম্বরগুলো দেখুন: (৭, ১৩, ২৬, ৭৩, ৮০, ৯৩, ১১৭, ১৩২, ১৪৫, ১৯২, ২১৪, ২২৮, ২৫৯, ২৭৩, ৩০০, ৩২৭, ৩৩৯, ৩৪২, ৩৪৩, ৩৪৬, ৩৬৩, ৪১৫, ৪২৬, ৪৩৬, ৪৫৩, ৪৬৫, ৪৭৩, ৪৭৮, ৫৬৫, ৬২৮, ৬৩৫ ও ৬৩৭)। এ ছাড়া আরও যা আছে সে সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ তাআলা এই খণ্ডে এবং দ্বিতীয় খণ্ডেও সতর্ক করা হবে।
এগুলোর মধ্যে প্রথম নম্বরটি (১৩) তাদের মূর্খতার এক বিশেষ দৃষ্টান্ত। কারণ লেখক লোক দেখানো ইবাদত (রিয়া) সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি দীর্ঘভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এর দুর্বলতার দিকে ইশারা করেছেন, তারপর তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
"ورواه مختصراً من حديث ابن عمر، وقال: حديث حسن".
ومع أن هذا ضعيف أيضاً كما ستراه مبيناً هناك، فقد شملهما الجهلة بالتحسين، فقالوا:
"حسن، رواه الترمذي
… عن أبي هريرة
… وعن ابن عمر"!!
6 - ومن ذلك أنهم يقفون على تصحيح المؤلف للحديث ومتابعةِ مثلِ الهيثمي له، فيخالفون، ويقولون: "حسن"؛ دون أي بيان كعادتهم، وذلك من تحفظاتهم التي تنبئ الباحث أنهم يَشْعُرون بجهلهم بهذا العلم، فيتوسطون هم بين من صحح ومن يكون قد وقف على من ضعف أو يحتمل، والواقع أنهم هم مخطؤون في التحسين، مثاله الأثر الآتي عن ابن مسعود: أن "من لم يزكَّ فلا صلاة له"! رقم (465)، ونحوه رقم (655).
7 - ومنها أنهم يخلطون مع الصحيح من الحديث ما لم يصح منه، فانظر الأمثلة في الأرقام (208 و 489 و 501 و 569 و 583 و 642).
8 - ونحوه خلطهم بين ما هو ضعيف من الحديث، وما هو ضعيف جداً، فيطلقون عليهما كليهما: "ضعيف"! وقد ينقلون عقبه من كلام بعض الحفاظ ما ينقضه، وقد يكون الحديث موضوعاً!! فانظر إن شئت بعض الأرقام: (114 و 484 و 586 - 587 و 587 - 588 و 615 و 645 و 664 و 675 و 677).
9 - ومن آفاتهم تقليدهم الأعمى، الذي لا يصحبه أي بحث أو تحقيق، الذي لا يعجز عنه أجهل الناس، والصفحات التالية تشير إلى بعض الأمثلة: (21 و 38 و 95 و 108 و 111 و 119 و 123 و 126 و 141 و 227 و 304 و 310 و 321 و 335).
"এবং তিনি ইবনে উমরের হাদীস থেকে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটি হাসান।"
যদিও এটিও দুর্বল, যেমনটি আপনি সেখানে বিস্তারিত দেখতে পাবেন, তবুও মূর্খরা উভয়কেই হাসান বলার অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং বলেছে:
"হাসান, তিরমিযী বর্ণনা করেছেন
… আবু হুরায়রা থেকে
… এবং ইবনে উমর থেকে"!!
৬ - এর মধ্যে রয়েছে যে, তারা লেখকের হাদীস সহীহ করার বিষয় এবং হাইসামীর মতো ব্যক্তিদের তাঁকে অনুসরণ করার বিষয়ে অবগত হয়, তবুও তারা এর বিরোধিতা করে এবং তাদের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বলে: "হাসান"; এটি তাদের এমন এক ধরণের সতর্কতা যা গবেষকের কাছে প্রকাশ করে দেয় যে, তারা এই বিদ্যায় নিজেদের অজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতন। ফলে তারা হাদীস সহীহকারী এবং যারা এর দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন বা হওয়ার সম্ভাবনা রেখেছেন, তাদের মাঝামাঝি অবস্থান গ্রহণ করে। বাস্তবতা হলো, তারা হাসান বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন; এর উদাহরণ হলো ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত পরবর্তী আসারটি (বর্ণনা): "যে ব্যক্তি যাকাত প্রদান করেনি, তার সালাত নেই"! নম্বর (৪৬৫), এবং অনুরূপ নম্বর (৬৫৫)।
৭ - এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তারা সহীহ হাদীসের সাথে এমন সব বর্ণনা মিশিয়ে ফেলে যা সহীহ নয়। উদাহরণ হিসেবে এই নম্বরগুলো দেখুন: (২০৮, ৪৮৯, ৫০১, ৫৬৯, ৫৮৩ এবং ৬৪২)।
৮ - অনুরূপভাবে, তারা দুর্বল হাদীস এবং অত্যন্ত দুর্বল হাদীসের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটায়। তারা উভয় প্রকারের হাদীসকেই ঢালাওভাবে "দুর্বল" বলে অভিহিত করে! অথচ তারা এর পরপরই কোনো হাফিযের এমন বক্তব্য উদ্ধৃত করে যা তাদের কথাকে নাকচ করে দেয়, এমনকি হাদীসটি জালও হতে পারে!! আপনি চাইলে এই নম্বরগুলো দেখতে পারেন: (১১৪, ৪৮৪, ৫৮৬ - ৫৮৭, ৫৮৭ - ৫৮৮, ৬১৫, ৬৪৫, ৬৬৪, ৬৭৫ এবং ৬৭৭)।
৯ - তাদের অন্যতম ব্যাধি হলো অন্ধ অনুকরণ, যার সাথে কোনো প্রকার অনুসন্ধান বা গবেষণা থাকে না, যা করতে সবচাইতে অজ্ঞ ব্যক্তিও অক্ষম নয়। পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো কিছু উদাহরণের দিকে ইঙ্গিত করছে: (২১, ৩৮, ৯৫, ১০৮, ১১১, ১১৯, ১২৩, ১২৬, ১৪১, ২২৭, ৩০৪, ৩১০, ৩২১ এবং ৩৩৫)।
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
10 - أنواع أخرى مختلفة من جهالاتهم وخبطاتهم في الفقه، والحديث والرواة والشواهد، واللغة، والمؤلفات، وخلطهم بين ما صح من القصص وما لم يصح، فانظر الصفحات التاليات: (22 و 29 و 31 و 98 و 110 و 124 و 217 و 222 و 279 و 285 و 286 و 310 و 313 و 323 و 324 و 333 و 335).
11 - وختاماً أقول:
لو أن هؤلاء الجهلة كان عندهم شيء من العلم يقدمونه إلى القراء في تعليقهم على الكتاب لنفَّذوا ما تعهدوا به في مقدمته الشطر الأول من قولهم فيها (صفحة 7):
"تحقيق النصوص وسلامتها
… والحكم على أحاديث غير الصحيحين"، ولكانوا صادقين مع أنفسهم في قولهم (صفحة 21):
"وإنّ حرصنا الشديد على تخريج أحاديث الكتاب وعزوها إلى مصادرها قد أفادنا كثيراً في الوصول بنص الكتاب إلى ما أراده المؤلف رحمه الله، أو قريباً منه، والتخلص من تصحيفات النساخ وتحريفاتهم"!
ولكن الواقع يدل -مع الأسف الشديد- أنهم لم يكونوا عند حسن الظن بهم، ولم يفوا بما تعهدوا به، فلم يستفيدوا من التخريج ولا أفادوا القراء شيئاً مما زعموه من التحقيق والوصول
… مع أنه أيسر ما يكون، فقد وقع في مطبوعتهم كثير جداً من الأخطاء والسقط في متون الأحاديث وغيرها، مما يصعب إحصاؤه وتتبعه، فلنقنع بضرب من الأمثلة تؤكد ما ذكرت، ونحيل في سائرها التي تيسرت لي إلى أرقامها ليرجع إليها من شاء من القراء أن يأخذ فكرة عامة
১০ - ফিকহ, হাদিস, বর্ণনাকারী, প্রমাণাদি, ভাষা ও গ্রন্থাদির বিষয়ে তাদের বিবিধ প্রকারের অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি এবং বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধ কাহিনীর মধ্যে তাদের সংমিশ্রণ; দেখুন পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো: (২২, ২৯, ৩১, ৯৮, ১১০, ১২৪, ২১৭, ২২২, ২৭৯, ২৮৫, ২৮৬, ৩১০, ৩১৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩৩৩ এবং ৩৩৫)।
১১ - পরিশেষে আমি বলি:
এই অজ্ঞদের নিকট যদি পাঠকদের উদ্দেশ্যে পেশ করার মতো নূন্যতম কোনো ইলম থাকত, তবে তারা কিতাবটির টীকা লিখতে গিয়ে তাদের ভূমিকার প্রথম অংশে (পৃষ্ঠা: ৭) যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন করত:
“মূল পাঠের তাহকিক ও তার বিশুদ্ধতা... এবং সহীহাইন ব্যতীত অন্যান্য হাদিসের মানের বিষয়ে হুকুম প্রদান”। এবং তারা তাদের এই বক্তব্যে (পৃষ্ঠা: ২১) নিজেদের প্রতি সত্যবাদী হতো:
“নিশ্চয়ই কিতাবের হাদিসগুলোর তাখরিজ করা এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করার প্রতি আমাদের ঐকান্তিক আগ্রহ লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যা চেয়েছিলেন—অথবা তার কাছাকাছি—মূল পাঠে পৌঁছাতে এবং অনুলিপিকারীদের লিখনজনিত ভুল ও বিকৃতি থেকে মুক্ত হতে আমাদের অনেক সাহায্য করেছে!”
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের সাথে বাস্তব চিত্র এই সাক্ষ্য দেয় যে, তারা তাদের প্রতি রাখা সুধারণার যোগ্য হতে পারেনি এবং তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তারা না এই তাখরিজ থেকে নিজেরা উপকৃত হয়েছে, আর না পাঠকদের সেই তাহকিক ও মূল পাঠে পৌঁছানোর দাবির কোনো সুফল দিতে পেরেছে... অথচ এটি ছিল অত্যন্ত সহজতর কাজ। তাদের মুদ্রিত সংস্করণে হাদিসের মূল পাঠ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এতো অধিক পরিমাণ ভুল ও বিচ্যুতি ঘটেছে যে, তা গণনা করা ও অনুসন্ধান করা দুরূহ। সুতরাং আমি যা উল্লেখ করেছি তার সত্যতা নিশ্চিত করতে কতিপয় উদাহরণের ওপরই সন্তুষ্ট থাকছি এবং অবশিষ্ট যা আমার জন্য সহজসাধ্য হয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে পৃষ্ঠা নম্বরের উদ্ধৃতি দিচ্ছি, যাতে আগ্রহী পাঠকগণ একটি সাধারণ ধারণা লাভের জন্য সেখানে ফিরে যেতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عنها، مما وقع لهم في هذا الجزء الأول، ويقيس عليها ما لهم من هذا النوع وما قبله فيما يأتي من الأجزاء التالية:
الأول: سقط من حديث أبي أمامة رقم (121) جملتان من "الترغيب" لم يستدركوهما مع فساد المعنى بسقوط أحدهما، وعزوهم إياه لأحمد بالجزء والصفحة!!
والآخر: سقط آخر من حديث عثمان رقم (398) جملة بكاملها قدر سطر، مفسدة للمعنى أيضاً، مع أنهم عزوه لـ "مجمع الزوائد" ولابن السني، بالأرقام أيضاً، وهي فيهما!!
وانظر الأرقام التالية تحتها نماذج أخرى مختلفة تؤكد إخلالهم بالتحقيق الذي زعموه مع يسره! (رقم 13 و 21 و 46 و 73 و 84 و 223 و 224 و 267 و 272 و 294 و 318 و 351 و 353 و 433 و 453 و 460 و 519 و 572 و 663 و 673).
هذا ما تيسر التنبيه عليه فيما يتعلق بمنهجي في هذا الكتاب، وما يؤخذ على المنذري رحمه الله من أمور وأوهام وقعت له في أحاديثه، والرد على أولئك الجهلة -هداهم الله- بذكر نماذج من جهالاتهم التي وقعت لهم؛ تحذيراً لقرائهم، ونصحاً لهم لعلهم يعودون إلى رشدهم، ويتوبون إلى ربهم، ويصبرون على الاستمرار في طلب العلم، حتى يتأهلوا لتقديمه لغيرهم، يبتغون به وجه الله تبارك وتعالى، ولسان حالهم -على الأقل- يقول: {لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا}، وإلا فقد علم كل ذي عقل ولب: أن (فاقد الشيء لا يعطيه)، وأن
...তাদের থেকে এই প্রথম খণ্ডে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে, এবং তিনি এর ওপর ভিত্তি করে এই জাতীয় বিষয়সমূহ এবং এর আগে ও পরে যা কিছু পরবর্তী খণ্ডগুলোতে আসবে তা অনুমান করবেন:
প্রথমত: আবু উমামাহ বর্ণিত ১২১ নম্বর হাদীস থেকে 'আত-তারগীব'-এর দুটি বাক্য বাদ পড়েছে যা তারা পুনরায় যুক্ত করেনি, অথচ একটি বাক্য না থাকার ফলে অর্থের বিকৃতি ঘটেছে। আর তারা এর রেফারেন্স হিসেবে আহমাদ-এর খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছে!!
অন্যটি: উসমান বর্ণিত ৩৯৮ নম্বর হাদীস থেকে প্রায় এক লাইন সমপরিমাণ একটি পূর্ণ বাক্য বাদ পড়েছে, যা একইভাবে অর্থকে বিকৃত করেছে। অথচ তারা এর উদ্ধৃতি 'মাজমাউজ যাওয়াইদ' এবং ইবনুস সুন্নীর নম্বরসহ প্রদান করেছে, আর বাক্যটি ঐ গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান রয়েছে!!
এবং নিচের নম্বরগুলো দেখুন যেখানে বিভিন্ন ধরণের অন্যান্য নমুনা রয়েছে যা তাদের দাবিকৃত তাহকীক বা গবেষণার ত্রুটিকে নিশ্চিত করে, যদিও তা সংশোধন করা সহজ ছিল! (নম্বর ১৩, ২১, ৪৬, ৭৩, ৮৪, ২২৩, ২২৪, ২৬৭, ২৭২, ২৯৪, ৩১৮, ৩৫১, ৩৫৩, ৪৩৩, ৪৫৩, ৪৬০, ৫১৯, ৫৭২, ৬৬৩ এবং ৬৭৩)।
এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি সংক্রান্ত যা কিছু উল্লেখ করা সহজ হয়েছে তা এগুলোই। এছাড়া আল-মুনযিরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হাদীসসমূহে যেসব ভুল ও বিভ্রম ঘটেছে তার বর্ণনা এবং ঐ সকল মূর্খদের—আল্লাহ তাদের হিদায়াত দান করুন—মূর্খতার নমুনা উল্লেখপূর্বক তাদের জবাব দেওয়া হয়েছে; যা তাদের পাঠকদের জন্য সতর্কবার্তা এবং তাদের জন্য উপদেশ স্বরূপ যাতে তারা সুপথে ফিরে আসে, তাদের রবের নিকট তাওবা করে এবং জ্ঞান অর্জনে ধৈর্য ধরে লেগে থাকে, যতক্ষণ না তারা তা অন্যের কাছে উপস্থাপনের যোগ্যতা অর্জন করে। তারা এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টি কামনা করবে এবং তাদের অবস্থা অন্তত এই সাক্ষ্য দেবে: "আমরা তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না।" অন্যথা প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই অবগত যে: "যার নিজের কাছে কিছু নেই সে অন্যকে কিছু দিতে পারে না," এবং...
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(من استعجل الشيء قبل أوانه، ابتلي بحرمانه)، والله عز وجل يقول: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا}.
أسأل الله تعالى أن يسدد خطانا، وأن يزيدنا علماً، وعملاً صالحاً، وأن يجعله لوجهه خالصاً، وأن لا يجعل لأحد فيه شيئاً.
وسبحانك اللهم وبحمدك، أشهد أن لا اله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك.
عمان الأردن / 22 ربيع الأول / 1418 هـ
وكتب
محمد ناصر الدين الألباني
(যে ব্যক্তি কোনো কিছু তার নির্ধারিত সময়ের আগে পেতে তাড়াহুড়ো করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়), এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তঃকরণ—এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে তাকে কৈফিয়ত তলব করা হবে।}
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আমাদের জ্ঞান ও নেক আমল বৃদ্ধি করে দেন, একে (এই কাজকে) যেন একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এতে অন্য কারো জন্য কোনো অংশ না রাখেন।
হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।
আম্মান, জর্ডান / ২২ রবিউল আউয়াল / ১৪১৮ হিজরি
ইতি লেখক
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[1 -
كتاب الإخلاص](1)
1 -
(الترغيب في الإخلاص والصدق والنية الصالحة)
1 - (1) [ضعيف] وعن أنسِ بن مالكٍ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"من فارقَ الدنيا على الإخلاصِ لله وحدَه لا شريكَ له، وأقامَ الصلاةَ، وآتى الزكاةَ؛ فارقها واللهُ عنه راضٍ".
رواه ابن ماجه، والحاكم وقال:
"صحيح على شرط الشيخين"
(2).
2 - (2) [ضعيف] وعن معاذِ بن جبلٍ؛ أنه قال حي بُعث إلى اليمن:
يا رسول الله! أوصني. قال:
"أخلص دينَك؛ يَكْفِكَ العملُ القليل".
رواه الحاكم من طريق عبُيد الله بن زَحْرٍ عن ابن أبي عمران وقال:
"صحيح الإسناد". كذا قال
(3).
3 - (3) [موضوع] ورُوي عن ثوبانَ قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
"طوبى للمخلِصين، أولئك مصابيحُ الهدى، تَنجلي عنهم كلُّ فتنةٍ ظَلماءَ".
--------------------------------------------
[১ -
ইখলাস (নিষ্ঠা) অধ্যায়](১)
১ -
(ইখলাস, সত্যবাদিতা এবং নেক নিয়তের প্রতি উৎসাহ প্রদান)
১ - (১) [দুর্বল] আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা (ইখলাস) পোষণ করে এমতাবস্থায় দুনিয়া ত্যাগ করে যে, তাঁর কোনো শরীক নেই, আর সে সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে; তবে সে এমন অবস্থায় দুনিয়া ত্যাগ করল যে, আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট।"
এটি ইবন মাজাহ এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন:
"এটি শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ"
(২)।
২ - (২) [দুর্বল] মুআয ইবন জাবাল থেকে বর্ণিত; তাকে যখন ইয়ামেনে পাঠানো হচ্ছিল তখন তিনি বললেন:
হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন:
"তোমার দ্বীনকে খাঁটি করো, তাহলে অল্প আমলই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।"
হাকেম উবায়দুল্লাহ ইবন যাহর-এর সূত্রে ইবন আবি ইমরান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন:
"এর সনদ সহীহ।" তিনি এমনই বলেছেন
(৩)।
৩ - (৩) [জাল] সাওবান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"সুসংবাদ মুখলিসদের (একনিষ্ঠদের) জন্য। তাঁরাই হলেন হিদায়াতের প্রদীপ। তাঁদের মাধ্যমেই সকল অন্ধকার ফিতনা দূরীভূত হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২০)
رواه البيهقي.
4 - (4) [ضعيف موقوف] وعن عُبادة بن الصامتِ رضي الله عنه قال:
يجاءُ بالدنيا يومَ القيامة فيقالُ: مِيزوا ما كان منها لله عز وجل، فيُمازُ، وُيرمى سائرُه في النارِ.
رواه البيهقي عن شهر بن حوشب عنه موقوفاً.
5 - (5) [ضعيف موقوف] ورواه أيضاً عن شهرٍ عن عَمرو بن عَبَسَةَ رضي الله عنه قال:
إذا كان يومُ القيامة جيءَ بالدنيا فَيُميَّزُ منها ما كان لله، وما كان لِغَيرِ الله رُميَ به في نارِ جَهنمَ.
موقوف أيضاً.
قال الحافظ:
"وقد يقال: إن مثل هذا لا يقال من قبل الرأي والاجتهاد، فسبيله سبيل المرفوع"
(1).
6 - (6) [ضعيف] ورُوي عن ابن عباسٍ؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"من أخلصَ لله أربعينَ يوماً، ظهرتْ يَنابيعُ الحكمةِ من قلبهِ على لسانهِ".
ذكره رَزين العَبْدري
(2) في "كتابه" ولم أره في شيء من الأصول التي جمعها، ولم
--------------------------------------------
বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।
৪ - (৪) [যয়ীফ মাওকুফ] উবাদাহ বিন সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে আনা হবে, অতঃপর বলা হবে: এর মধ্যে যা মহান আল্লাহর জন্য ছিল তা পৃথক করো। তখন তা পৃথক করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
বায়হাকী শাহর ইবনে হাওশাব থেকে তার সূত্রে মাওকুফ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।
৫ - (৫) [যয়ীফ মাওকুফ] এবং তিনি (বায়হাকী) শাহর থেকে আমর ইবনে আবাসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রেও এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
যখন কিয়ামতের দিন হবে, দুনিয়াকে আনা হবে। অতঃপর যা আল্লাহর জন্য ছিল তা পৃথক করা হবে, আর যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য ছিল তা জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
এটিও মাওকুফ।
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন:
"বলা হয়ে থাকে যে, এই ধরণের কথা নিজস্ব মতামত বা ইজতিহাদ থেকে বলা সম্ভব নয়, তাই এটি মারফু হাদীসের পর্যায়ভুক্ত"
(১)।
৬ - (৬) [যয়ীফ] ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হবে, তার অন্তর থেকে প্রজ্ঞার ঝর্ণাধারা তার জিহ্বায় প্রকাশিত হবে।"
এটি রাজীন আল-আবদারী
(২) তার "কিতাব"-এ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি যে মূল গ্রন্থগুলো সংকলন করেছেন সেগুলোর কোনোটিতে আমি এটি দেখিনি, এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২১)
أقف له على إسناد صحيح ولا حسن. إنما ذكر في كتب "الضعفاء" كـ "الكامل" وغيره، ولكن رواه الحسين بن الحسن المروزي في "زوائده" في "كتاب الزهد" لعبد الله بن المبارك
(1) فقال: حدثنا أبو معاوية: أنبأنا حجاج عن مكحول عن النبي صلى الله عليه وسلم فذكر مرسلاً.
وكذا رواه أبو الشيخ ابن حَيّان
(2) وغيره عن مكحول مرسلاً. والله أعلم.
7 - (7) [ضعيف] ورُوي عن أبي ذرٍ؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"قد أَفلحَ من أخلصَ قلْبَه للإيمان، وجعل قلبَه سليماً، ولسانَهُ صادقاً، ونفسَه مطمئنةً، وخَليقتَهُ مُستقيمةً، وجعلَ أُذُنَهُ مُستمعةً، وعينَهُ ناظِرَةً، فأَما الأُذُنُ فَتَعي، والعينُ مُقِرَّةٌ بما يُوعي القلبُ، وقد أفلحَ من جَعَلَ قلبَه واعياً".
رواه أحمد والبيهقي، وفي إسناد أحمد احتمال للتحسين
(3).
قال الحافظ عبد العظيم رحمه الله:
"وسيأتي أحاديث من هذا النوع متفرقة في أبواب متعددة من هذا الكتاب إن شاء الله تعالى".
--------------------------------------------
আমি এর জন্য কোনো সহীহ বা হাসান সনদ খুঁজে পাইনি। এটি কেবল "আয-যুআফা" (দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ক) গ্রন্থসমূহ যেমন "আল-কামিল" এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। তবে আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-মারওয়াযী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের "কিতাবুয যুহদ"-এর "যাওয়ায়েদ"-এ এটি বর্ণনা করেছেন
(১)। তিনি বলেছেন: আবু মুআবিয়াহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: হাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাকহুল থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন।
অনুরূপভাবে আবুশ শাইখ ইবনে হাইয়ান
(২) এবং অন্যান্যরা মাকহুল থেকে মুরসাল হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
৭ - (৭) [যঈফ] আবু যার থেকে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"সেই ব্যক্তি সফলকাম হয়েছে, যে তার অন্তরকে ঈমানের জন্য একনিষ্ঠ করেছে, তার অন্তরকে সুস্থ-সবল করেছে, তার জিহ্বাকে সত্যবাদী করেছে, তার নাফসকে প্রশান্ত করেছে এবং তার স্বভাব-চরিত্রকে সঠিক ও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। আর সে তার কানকে শ্রবণকারী এবং চক্ষুকে দর্শনকারী বানিয়েছে। কান হলো (উপদেশ) সংরক্ষণকারী আর চক্ষু হলো অন্তরে যা সংরক্ষিত হয় তার সত্যায়নকারী। নিশ্চিতভাবেই সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যে তার অন্তরকে অনুধাবনকারী বানিয়েছে।"
এটি আহমাদ ও বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদের সনদে হাসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
(৩)।
হাফেয আব্দুল আযীম রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
"ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই ধরণের হাদীসসমূহ এই গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ে বিক্ষিপ্তভাবে সামনে আসবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২২)
2 -
(الترهيب من الرياء، وما يقوله من خاف شيئاً منه).
8 - (1) [ضعيف] وعن عبد الله بن عمرو بن العاصي قال:
قلت: يا رسول الله! أخبرني عن الجهاد والغزو؟ فقال:
"يا عبد الله بنَ عَمرو! إن قاتلتَ صابراً محتسباً؛ بعثكَ اللهُ صابراً محتسباً، وإن قاتلتَ مُرائياً مكاثراً، بَعثك الله مرائياً مكاثراً، يا عبد الله بنَ عمرو! على أي حال قاتلتَ، أو قُتِلتَ؛ بَعثك الله على تلك الحال".
رواه أبو داود
(1).
قال الحافظ:
"وستأتي أحاديث من هذا النوع في باب مفرد في "الجهاد" [12/ 10] إن شاء الله تعالى".
9 - (2) [ضعيف] وعن ابن عباسٍ رضي الله عنهما قال:
قال رجلٌ: يا رسولَ الله! إني أقفُ الموقفَ أُريدُ وجهَ اللهِ، وأريدُ أن يُرى موطني؟ فلم يَرُدَّ عليه رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حتى نزلت: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا}.
رواه الحاكم وقال: "صحيح على شرطهما"، والبيهقي من طريقه، ثم قال:
"رواه عبدان عن ابن المبارك فأرسله، لم يذكر فيه ابن عباس"
(2).
--------------------------------------------
২ -
(রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত সম্পর্কে ভীতিপ্রদর্শন এবং যে ব্যক্তি রিয়া হওয়ার ভয় করে তার দোয়া).
৮ - (১) [যঈফ] আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে জিহাদ এবং যুদ্ধ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন:
"হে আবদুল্লাহ ইবনে আমর! তুমি যদি ধৈর্যধারণকারী ও সওয়াবের প্রত্যাশী হয়ে লড়াই করো, তবে আল্লাহ তোমাকে ধৈর্যধারণকারী ও সওয়াবের প্রত্যাশী হিসেবেই পুনরুত্থিত করবেন। আর যদি তুমি লোকদেখানো ও দম্ভ প্রকাশকারী হিসেবে লড়াই করো, তবে আল্লাহ তোমাকে লোকদেখানো ও দম্ভকারী হিসেবেই পুনরুত্থিত করবেন। হে আবদুল্লাহ ইবনে আমর! তুমি যে অবস্থায় লড়াই করবে বা নিহত হবে, আল্লাহ তোমাকে সেই অবস্থাতেই পুনরুত্থিত করবেন।"
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন
(১)।
হাফিজ (আল-মুনজিরি) বলেন:
"ইনশাআল্লাহ তাআলা, এ ধরণের হাদিস সামনে 'জিহাদ' অধ্যায়ে [১২/ ১০] পৃথক অনুচ্ছেদে আসবে।"
৯ - (২) [যঈফ] ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
জনৈক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন কোনো অবস্থানে দাঁড়াই যেখানে আমি আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) কামনা করি, আবার এটাও চাই যে আমার অবস্থানটি (মানুষের কাছে) দৃশ্যমান হোক? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোনো উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না এই আয়াত নাজিল হলো: {সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে}।
আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "উভয় শায়খের শর্তানুযায়ী এটি সহিহ", এবং আল-বায়হাকি তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর বলেছেন:
"আবদান এটি ইবনুল মুবারক থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেখানে ইবনে আব্বাসের নাম উল্লেখ করেননি"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
10 - (3) [ضعيف جداً] والطبراني
(1) ولفظه [يعني عن أبي هند الداريّ]؛ أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
"من راءى باللهِ لغيرِ اللهِ؛ فقد برئَ من اللهِ".
11 - (4) [موضوع] ورُوي عن أبي هريرةَ رضي الله عنه قال: سمعتُ رسولَ صلى الله عليه وسلم يقول:
"من تَزَيَّنَ بِعملِ الآخرةِ وهو لا يريدُها ولا يَطلُبها؛ لُعِنَ في السموات والأرضِ".
رواه الطبراني في "الأوسط".
12 - (5) [ضعيف جداً] ورُوي عن الجارود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"من طلبَ الدنيا بِعملِ الآخرةِ؛ طُمِس وَجههُ، ومُحِقَ ذِكرهُ، وأُثبتَ اسمُه في النارِ".
رواه الطبراني في "الكبير".
13 - (6) [ضعيف جداً] وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"يَخرجُ في آخر الزمان رجالٌ يختُلُون
(2) الدنيا بالدين، يَلبَسون للناسِ جُلودَ الضأنِ من اللَّين، ألسنتُهم أحلى من العَسَلِ، وقلوبُهم قلوبُ الذئابِ، يقول الله عز وجل: أبي يَغتَرُّون، أم عليَّ يَجتَرئون؟! فَبِيَ حلفتُ: لأبعَثَنَّ على أُولئك منهم فتنةً تَدَعُ الحليم [منهم]
(3) حَيْرانَ".
رواه الترمذي من رواية يحيى بن عبيد [الله]
(4): سمعت أبي يقول: سمعت أبا
--------------------------------------------
১০ - (৩) [অত্যন্ত দুর্বল] এবং তাবারানি
(১), আর তাঁর শব্দচয়ন [অর্থাৎ আবু হিন্দ আদ-দারি থেকে বর্ণিত]; তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন:
"যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ব্যবহার করে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে দেখানোর জন্য রিয়া (প্রদর্শনপ্রীতি) করল; সে আল্লাহর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল।"
১১ - (৪) [বানোয়াট] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:
"যে ব্যক্তি আখিরাতের আমল দ্বারা নিজেকে সুশোভিত করল অথচ সে তা (আখিরাত) কামনা করে না এবং তার অনুসন্ধানও করে না; সে আসমানসমূহ ও জমিনে অভিশপ্ত হয়।"
তাবারানি এটি "আল-আওসাত"-এ বর্ণনা করেছেন।
১২ - (৫) [অত্যন্ত দুর্বল] আল-জারুদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আখিরাতের আমল দিয়ে দুনিয়া অন্বেষণ করল; তার চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হবে, তার সুনাম মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামে তার নাম তালিকাভুক্ত করা হবে।"
তাবারানি এটি "আল-কাবীর"-এ বর্ণনা করেছেন।
১৩ - (৬) [অত্যন্ত দুর্বল] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"শেষ যামানায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া শিকার করবে (প্রতারণা করবে)
(২), তারা মানুষের কাছে নিজেদের নম্রতা প্রকাশের জন্য ভেড়ার চামড়া পরিধান করবে, তাদের জবান মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে, কিন্তু তাদের অন্তর হবে নেকড়ে বাঘের অন্তরের মতো। আল্লাহ তায়ালা বলেন: তারা কি আমার ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ে আছে, নাকি তারা আমার বিরুদ্ধে দুঃসাহস দেখাচ্ছে?! আমি নিজের কসম করে বলছি: আমি অবশ্যই তাদের ওপর এমন এক ফিতনা (বিপর্যয়) পাঠাব যা তাদের মধ্যকার ধৈর্যশীল ব্যক্তিকেও [তাদের মধ্য থেকে]
(৩) দিশেহারা করে দেবে।"
তিরমিযি এটি ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদ [আল্লাহ]
(৪)-এর বর্ণনা থেকে রেওয়াত করেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هريرة، فذكره.
14 - (7) [ضعيف] ورواه مختصراً من حديث ابن عمر، وقال: "حديث حسن"
(1).
15 - (8) [موضوع] ورُوي عنه
(2) قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"من تحبَّبَ إلى الناسِ بما يُحبَّون، وبارَزَ اللهَ بما يَكرهُ؛ لَقيَ الله وهو عليه غَضبانُ".
رواه الطبراني في "الأوسط".
16 - (9) [ضعيف] ورُوي عنه أيضاً قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"تَعَوَّذوا باللهِ من جُبَّ الحُزن
(3) ".
قالوا: يا رسول الله! وما جُبَّ الحزْنِ؟ قال:
"وادٍ في جهنَّمَ، تَتَعَوَّذُ منه جَهنمُ كُلَّ يومٍ مئةَ مرةٍ".
قيل: يا رسول الله ومن يَدْخلُه؟ قال:
"القرَّاءُ المراؤون بأَعمالهم".
رواه الترمذي وقال: "حديث غريب"، وابن ماجه ولفظه:
"تَعَوَّذوا باللهِ من جُبِّ الحُزْن".
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.), তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
১৪ - (৭) [যঈফ] এবং এটি ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে, এবং তিনি বলেছেন: "হাসান হাদিস"
(১)।
১৫ - (৮) [মাউযু/জাল] এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে
(২) তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি মানুষের কাছে তাদের পছন্দের জিনিসের মাধ্যমে প্রিয় হওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু আল্লাহর সাথে তাঁর অপছন্দনীয় কাজের মাধ্যমে স্পর্ধা দেখাল; সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যখন তিনি তার উপর রাগান্বিত।"
তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ এটি বর্ণনা করেছেন।
১৬ - (৯) [যঈফ] এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"তোমরা 'জুব্বুল হুযন' (দুঃখের কূপ) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো
(৩) "।
তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! জুব্বুল হুযন কী? তিনি বললেন:
"এটি জাহান্নামের একটি উপত্যকা, যা থেকে জাহান্নাম নিজেই প্রতিদিন একশ বার আশ্রয় প্রার্থনা করে।"
জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সেখানে কারা প্রবেশ করবে? তিনি বললেন:
"সেইসব কারী (কুরআন পাঠকারী), যারা তাদের আমলের মাধ্যমে লোক দেখানো কাজ করে।"
তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এটি একটি গারীব হাদিস", এবং ইবনে মাজাহ-ও এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো:
"তোমরা জুব্বুল হুযন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قالوا: يا رسول الله! وما جُبُّ الحُزن؟ قال:
"وادٍ في جهنم، تَتَعَوَّذُ منه جَهنمُ كلَّ يوم أَربعمئة مرةٍ".
قيل: يا رسول الله! من يَدخلهُ؟ قال:
"أُعِدَّ للقرَّاء المرائين بأعمالهم، وإن مِن أبغض القرَّاء إلى الله الذين يزورون الأمراءَ، -وفي بعض النسخ: الأمراءَ الجَوَرَةَ-"
(1).
[ضعيف جداً] ورواه الطبراني في "الأوسط" بنحوه؛ إلا أنه قال:
"يُلقى فيه الغَزّارون".
قيل: يا رسول الله! وما الغَزّارون؟ قال:
"المراؤون بأَعمالهم في الدنيا".
17 - (10) [ضعيف] رواه أيضاً عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
"إن في جهنم لوادياً تَستَعيذُ جهنمُ من ذلك الوادي في كل يوم أَربعمئَةِ مرةٍ، أُعِدَّ ذلك الوادي للمُرائين من أمةِ محمد صلى الله عليه وسلم؛ لِحاملِ كتابِ الله، والمتَصَدِّقِ في غير ذاتِ الله، والحاجِّ إلى بيت الله، وللخارجِ في سبيلِ الله".
قال الحافظ: "رفع حديث ابن عباس غريب. ولعله موقوف. والله أعلم".
18 - (11) [ضعيف] وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"من أحسنَ الصلاةَ حيثُ يراه الناسُ، وأساءَها حيث يَخلو، فتلك استهانةٌ استهانَ بها ربَّه تبارك وتعالى".
رواه عبد الرزاق في "كتابه"، وأبو يعلى؛ كلاهما من رواية إبراهيم بن مسلم الهَجَري
(2) عن أبي الأحوص عنه.
--------------------------------------------
তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! জুব্বুল হুযন (দুঃখের কূপ) কী? তিনি বললেন:
"এটি জাহান্নামের একটি উপত্যকা, যা থেকে জাহান্নাম নিজেই প্রতিদিন চারশ বার আশ্রয় প্রার্থনা করে।"
জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সেখানে কারা প্রবেশ করবে? তিনি বললেন:
"এটি সেই সব কারীদের (কুরআন পাঠকারী) জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যারা তাদের আমল দ্বারা লোকদেখানো প্রদর্শন করে। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত কারী তারা, যারা আমীরদের (শাসকদের) নিকট যাতায়াত করে। -আর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: যালিম আমীরদের নিকট-"
(১)।
[খুবই দুর্বল] ইমাম তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি বলেছেন:
"তাতে গায্যারুনদের নিক্ষেপ করা হবে।"
জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! গায্যারুন কারা? তিনি বললেন:
"যারা দুনিয়াতে তাদের আমল দ্বারা লোকদেখানো প্রদর্শন করত।"
১৭ - (১০) [দুর্বল] এটি ইবনে আব্বাস থেকেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
"নিশ্চয়ই জাহান্নামে একটি উপত্যকা রয়েছে যা থেকে জাহান্নাম নিজেই প্রতিদিন চারশ বার আশ্রয় প্রার্থনা করে। সেই উপত্যকাটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের লোকদেখানো আমলকারীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে; (তারা হলো) আল্লাহর কিতাব বহনকারী (কারী), আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে দানকারী, আল্লাহর ঘরে হজকারী এবং আল্লাহর পথে জিহাদে নির্গত ব্যক্তি।"
হাফেজ বলেন: "ইবনে আব্বাসের হাদিসটিকে মারফু (নবী পর্যন্ত পৌঁছানো) হিসেবে বর্ণনা করা অদ্ভুত। সম্ভবত এটি মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"
১৮ - (১১) [দুর্বল] ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি মানুষের সামনে সুন্দরভাবে সালাত আদায় করে এবং নির্জনে তা নিকৃষ্টভাবে আদায় করে, তবে তা হলো তার বরকতময় ও মহান রব্বকে তুচ্ছজ্ঞান করা।"
এটি আব্দুর রাজ্জাক তার 'কিতাবে' এবং আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়ই আবু আহওয়াস থেকে বর্ণনা করা ইব্রাহিম ইবনে মুসলিম আল-হাজারীর
(২) বর্ণনাসূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ورواه من هذه الطريق ابن جرير الطبري مرفوعاً أيضاً، وموقوفاً على ابن مسعود، وهو أشبه.
19 - (12) [ضعيف] وعن شَدًاد بنِ أوسٍ رضي الله عنه؛ أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول:
"من صام يرائي فقد أَشركَ، ومن صلى يرائي فقد أَشركَ، ومن تَصدَّق يرائي فقد أشركَ".
رواه البيهقي من طريق عبد الحميد بن بَهرام، عن شهر بن حَوْشَب. وسيأتي أتم من هذا إن شاء الله تعالى [بعد حديث واحد]
(1).
20 - (13) [ضعيف جداً] وعن زيد بن أسلم عن أبيه:
أن عمر رضي الله عنه خرج إلى المسجد، فوجد معاذاً عند قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم يبكي، فقال: ما يبكيك؟ قال: حديثٌ سمعتُه من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"اليسيرُ من الرياء شركُ، ومن عادى أولياءَ الله فقد بارزَ الله بالمحاربةِ، إن الله يحب الأبرارَ الأَتقياءَ الأخفياءَ؛ الذين إن غابوا لم يُفْتَقَدوا، وإن حَضروا لم يُعرفوا، قلوبُهم مصابيحُ الهدى، يخرجون من كل غبراءَ مظلمةٍ".
رواه ابن ماجه والحاكم والبيهقي في "كتاب الزهد" له وغيره. وقال الحاكم:
"صحيح ولا علة له"
(2).
21 - (14) [ضعيف] وعن شهر بن حَوشَبٍ عن عبد الرحمن بن غَنْمٍ قال:
لما دخلتُ مسجد (الجابية) ألفينا عبادةَ بنَ الصامت، فأخذ يميني بِشِماله، وشِمالَ أبي الدرداء بيمينه، فخرج يمشي بيننا، ونحن نَنْتجي، والله
--------------------------------------------
এবং ইবনে জারীর তাবারী এটি এই পথেই মারফু হিসেবে এবং ইবনে মাসউদের ওপর মাওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, আর এটিই অধিকতর সঠিক।
১৯ - (১২) [দুর্বল] এবং শাদ্দাদ ইবনে আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন:
"যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য রোজা রাখল সে শিরক করল, যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করল সে শিরক করল এবং যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য দান-সদকাহ করল সে শিরক করল।"
এটি বায়হাকী আব্দুল হামীদ ইবনে বাহরামের সূত্রে শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা এর পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা সামনে [এক হাদীস পর] আসবে।
(১).
২০ - (১৩) [অত্যন্ত দুর্বল] যায়েদ ইবনে আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন:
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদের দিকে বের হলেন, সেখানে তিনি মুআযকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের কাছে কাঁদতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কেন কাঁদছ? তিনি বললেন: এমন একটি হাদীস যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন:
"সামান্যতম লোক দেখানো আমলও শিরক; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বন্ধুদের সাথে শত্রুতা করে, সে মূলত আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐসব নেককার, মুত্তাকী ও প্রচারবিমুখ বান্দাদের ভালোবাসেন যারা অনুপস্থিত থাকলে কেউ তাদের খোঁজ করে না এবং উপস্থিত থাকলে কেউ তাদের চেনে না। তাদের অন্তরসমূহ হিদায়াতের প্রদীপ স্বরূপ, তারা সকল অন্ধকার ধুলিময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসে।"
এটি ইবনে মাজাহ, হাকিম এবং বায়হাকী তার "কিতাবুয যুহদ" ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেন:
"এটি সহীহ এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই"
(২).
২১ - (১৪) [দুর্বল] শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত, আব্দুর রহমান ইবনে গানম বলেন:
যখন আমি (জাবিয়া) মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন আমরা উবাদাহ ইবনে সামিতকে পেলাম। তিনি তার বাম হাত দিয়ে আমার ডান হাত ধরলেন এবং তার ডান হাত দিয়ে আবু দারদার বাম হাত ধরলেন। এরপর তিনি আমাদের মাঝখান দিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন এবং আমরা কানে কানে কথা বলছিলাম, আল্লাহর শপথ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أعلم بما نتناجى، فقال عبادةُ بن الصامت: لئن طال بكما عُمُرُ أحدِكما أو كلاكما لتوشِكان أن تريا الرجلَ من ثَبَج المسلمين -يعني من وَسط-، قرأ القرآن على لسان محمدٍ صلى الله عليه وسلم، فأعاده
(1) وأبداه، فأحلَّ حلَاله، وحرَّمَ حرامه، ونَزل عند منازِلِه، لا يَحُورُ منه إلا كما يحور رأسُ الحمار الميت
(2).
قال: فبينما نحن كذلك إذ طلع علينا شدّادُ بنُ أوسٍ وعوف بنُ مالكٍ رضي الله عنهما، فجلسا إليه، فقال شدادُ: إن أخوفَ ما أخاف عليكم أيها الناس لَما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
"من الشهوةِ الخفيةِ والشركِ".
فقالَ عبادةُ بن الصامتِ وأبو الدرداء: اللهم غُفْراً، أَوَ لَمْ يَكُنْ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم قد حدثنا:
"إن الشيطان قد يئس أن يُعبَدَ في جزيرة العرب"؟
فأَما الشهوة الخفية فقد عرفناها، هي شهوات الدنيا من نسائها وشهواتها، فما هذا الشرك الذى تخوفنا به يا شداد؟!
فقال شداد: أرأَيتَكُمْ
(3) لو رأيتمُ رجلاً يصلي لرجلٍ، أو يصومُ لرجلٍ، أو يتصدَّق له [أترون أنه قد أشرك؟ قالوا: نَعم والله، إنه من صلى لرجلٍ أو صامَ له أو تصدقَ له]
(4) لقد أشرك.
[فقال شداد: فإني قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
--------------------------------------------
আমি জানি যা আমরা গোপনে আলোচনা করছি, তখন উবাদাহ ইবন সামিত বললেন: যদি তোমাদের কারো বা তোমাদের উভয়ের আয়ু দীর্ঘ হয়, তবে অচিরেই তোমরা মুসলিমদের সাধারণ মধ্যবর্তী স্তর থেকে এমন ব্যক্তিকে দেখতে পাবে যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে বর্ণিত কুরআন পাঠ করবে, তা বারংবার আবৃত্তি করবে
(১) ও প্রকাশ করবে, তার হালালকে হালাল গণ্য করবে এবং হারামকে হারাম সাব্যস্ত করবে এবং তার বিধিবিধানগুলো অনুসরণ করবে, অথচ তা থেকে সে কোনো কল্যাণ নিয়ে ফিরে আসবে না যেমনটি মৃত গাধার মাথা থেকে কোনো কিছু ফিরে আসে না
(২)।
তিনি বললেন: এমতাবস্থায় আমাদের কাছে শাদ্দাদ ইবন আউস এবং আউফ ইবন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আসলেন এবং তাঁর কাছে বসলেন। তখন শাদ্দাদ বললেন: হে লোকসকল! তোমাদের ব্যাপারে আমি সবচেয়ে বেশি যা ভয় করি তা হলো যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
"গোপন কামনা এবং শিরক।"
তখন উবাদাহ ইবন সামিত এবং আবু দারদা বললেন: হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি আমাদের বলেননি যে:
"শয়তান আরব উপদ্বীপে উপাসিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে"?
গোপন কামনা সম্পর্কে তো আমরা জানি, তা হলো দুনিয়ার কামনা-বাসনা যথা নারী ও অন্যান্য লালসা; কিন্তু হে শাদ্দাদ! এই শিরক কী যা দিয়ে আপনি আমাদের ভয় দেখাচ্ছেন?!
শাদ্দাদ বললেন: তোমাদের কী অভিমত
(৩)? যদি তোমরা কোনো ব্যক্তিকে দেখো যে কোনো মানুষের জন্য সালাত আদায় করছে, অথবা কোনো মানুষের জন্য সিয়াম পালন করছে, অথবা তার জন্য দান-সাদকা করছে [তোমরা কি মনে করো সে শিরক করেছে? তারা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি কোনো মানুষের জন্য সালাত আদায় করে বা তার জন্য সিয়াম পালন করে অথবা তার জন্য দান-সাদকা করে]
(৪) সে অবশ্যই শিরক করেছে।
[অতঃপর শাদ্দাদ বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
"من صلى يرائي فقد أشرك، ومن صام يرائي فقد أشرك، ومن تصدق يرأي فقد أشرك"].
قال عوفُ بنُ مالكٍ عند ذلك: أفلا يعمِد اللهُ إلى ما ابتُغيَ به وجهُهُ من ذلك العملِ كلَّه فَيَقْبَلُ ما خلَص له، وَيدعُ ما أَشرك به؟
قال شدادٌ عند ذلك: فإني سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
"إن الله عز وجل قال: أنا خيرُ قَسِيمٍ لمن أَشركَ بي، من أشرك بي شيئاً فإن حَشْدَ عمَلهِ
(1) قليلهِ وكثيرهِ لشريكه الذي أشرك به، وأَنا غني".
رواه أحمد. وشهر يأتي ذكره.
[موضوع] ورواه البيهقي، ولفظه: عن عبد الرحمن بن غَنْم:
أنه كان في مسجد (دمشق) مع نفرٍ من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فيهم معاذُ بنُ جبلٍ، فقال عبدُ الرحمن: يا أَيها الناسُ! إن أخوف ما أخافُ عليكم الشركُ الخَفيُّ. فقال معاذ بن جبل: اللهم غُفراً، أوَ ما سمعتَ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول حيث ودَّعَنا:
"إن الشيطانَ قد يَئسَ أن يُعبدَ في جزيرتِكم هذه، ولكنْ يُطاعُ فيما تَحتقرون من أعمالِكم، فقد رضي بذلك"؟
فقال عبدُ الرحمن: أنشدُكَ اللهَ يا معاذُ! أما سمعتَ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
"من صامَ رياءً فقد أشركَ، ومن تَصَدَّقَ رياءً فقد أَشركَ"؟ فذكر الحديث.
وإسناده ليس بالقائم.
--------------------------------------------
"যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য সালাত আদায় করল সে শিরক করল, যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য সিয়াম পালন করল সে শিরক করল, এবং যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য দান-সদকা করল সে শিরক করল।"
তখন আউফ ইবন মালেক বললেন: আল্লাহ কি সেই আমলের মধ্য থেকে কেবল যা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়েছে তা গ্রহণ করবেন না এবং যাতে শিরক করা হয়েছে তা বর্জন করবেন না?
তখন শাদ্দাদ বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার সাথে শিরক করে, আমি তার জন্য সর্বোত্তম অংশীদার। যে ব্যক্তি আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করে, তবে তার আমলের সমষ্টি
(১)—তা অল্প হোক বা বেশি—সেই অংশীদারের প্রাপ্য যাকে সে শরীক করেছে, আর আমি (তা থেকে) অমুখাপেক্ষী।"
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। আর শাহর (ইবন হাওশাব)-এর আলোচনা সামনে আসবে।
[মউজু] এটি বায়হাকীও বর্ণনা করেছেন, তার শব্দ হলো: আবদুর রহমান ইবন গানম থেকে বর্ণিত:
তিনি (দামেস্কের) মসজিদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীর সাথে ছিলেন যাদের মধ্যে মুয়ায ইবন জাবালও ছিলেন। তখন আবদুর রহমান বললেন: হে লোকসকল! তোমাদের ব্যাপারে আমি যে জিনিসটিকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো ‘শিরকে খফি’ (গোপন শিরক)। তখন মুয়ায ইবন জাবাল বললেন: হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন; আপনি কি শোনেননি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বলেছিলেন:
"নিশ্চয় শয়তান তোমাদের এই দ্বীপে তার ইবাদত করা হবে—এ থেকে নিরাশ হয়ে গেছে, কিন্তু তোমরা তোমাদের যে সকল আমলকে তুচ্ছ মনে করো, সেগুলোতে তার আনুগত্য করা হবে—আর সে তাতেই সন্তুষ্ট"?
তখন আবদুর রহমান বললেন: হে মুয়ায! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেননি:
"যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য সিয়াম পালন করল সে শিরক করল, আর যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য দান করল সে শিরক করল"? এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন।
এবং এর সনদ সুপ্রতিষ্ঠিত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[ضعيف جداً] ورواه أحمد أيضاً والحاكم من رواية عبد الواحد بن زيد عن عبادة بن نُسَيٍ قال:
دخلتُ على شدّادِ بنِ أوسٍ في مصلاه وهو يبكي، فقلت: يا أبا عبد الرحمن! ما الذي أبَكاك؟ قال: حديث سمعتُه من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
قلت: وماهو؟ قال:
بينما أنا عند رسولِ الله صلى الله عليه وسلم إذ رأيتُ بوجهه أمراً ساءني، فقلت: بأبي وأمي يا رسول الله! ما الذى أرى بوجهك؟ قال:
"أرى أمراً أتخوَّفه على أُمتي؛ الشركُ، وشهوةٌ خفية".
قلت: وتشركُ أُمتُكَ من بعدِك؟ قال:
"يا شداد! إنهم لا يعبدون شمساً، ولا وثناً، ولا حجراً، ولكن يراؤون الناس بأَعمالهم".
قلت: يا رسول الله! الرياء شركٌ هو؟ قال:
"نعم".
قلت: فما الشهوة الخفية؟ قال:
"يصبح أحدهم صائماً، فتعرِض له شهوةٌ من شهوات الدنيا فيُفطر"
(1).
قال الحاكم -واللفظ له-: "صحيح الإسناد".
قال الحافظ عبد العظيم: "كيف وعبدُ الواحد بن زيد الزاهد متروك؟! ".
[ضعيف] ورواه ابن ماجه مختصراً من رواية روّاد بن الجراح عن عامر بن عبد الله عن الحسن بن ذكوان عن عُبادَةَ بن نُسَيٍ عن شداد بن أوس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"إن أَخوفَ ما أخافُ على أمتي الإشراكُ بالله، أما إنى لستُ أقولُ:
--------------------------------------------
[অত্যন্ত দুর্বল] আহমদ এবং হাকেমও এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহিদ বিন যায়েদ-এর সূত্রে উবাদাহ বিন নুসাই থেকে, তিনি বলেন:
আমি শাদ্দাদ বিন আউসের নিকট তার নামাজের জায়গায় প্রবেশ করলাম, তখন তিনি কাঁদছিলেন। আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: একটি হাদিস যা আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি।
আমি বললাম: সেটি কী? তিনি বললেন:
একদা আমি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় আমি তাঁর চেহারায় এমন কিছু দেখলাম যা আমাকে ব্যথিত করল। আমি বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক হে আল্লাহর রাসুল! আপনার চেহারায় আমি একি দেখছি? তিনি বললেন:
"আমি এমন একটি বিষয় দেখছি যা আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি; তা হলো শিরক এবং প্রচ্ছন্ন লালসা।"
আমি বললাম: আপনার পর আপনার উম্মত কি শিরক করবে? তিনি বললেন:
"হে শাদ্দাদ! তারা সূর্য, মূর্তি বা পাথরের ইবাদত করবে না, বরং তারা তাদের আমল দ্বারা মানুষকে দেখাবে (লোকদেখানো আমল করবে)।"
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! রিয়া (লোকদেখানো আমল) কি শিরক? তিনি বললেন:
"হ্যাঁ।"
আমি বললাম: তবে প্রচ্ছন্ন লালসা কী? তিনি বললেন:
"তাদের কেউ রোজা রেখে সকাল করে, অতঃপর তার সামনে দুনিয়াবী লালসাগুলোর মধ্য হতে কোনো লালসা উপস্থিত হয় এবং সে রোজা ভেঙে ফেলে"
(১)।
হাকেম বলেন -এবং শব্দাবলি তাঁর-: "এর সনদ সহিহ।"
হাফেজ আবদুল আজিম বলেন: "তা কীভাবে হয় যখন (সনদের) আবদুল ওয়াহিদ বিন যায়েদ আল-জাহিদ পরিত্যাজ্য (মাতরুক)?! "
[দুর্বল] ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন রাওয়াদ বিন আল-জাররাহ-এর সূত্রে আমির বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি হাসান বিন যাকওয়ান থেকে, তিনি উবাদাহ বিন নুসাই থেকে, তিনি শাদ্দাদ বিন আউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে যা সবচেয়ে বেশি ভয় পাই তা হলো আল্লাহর সাথে শরিক করা। তবে আমি একথা বলছি না যে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يَعبدون شمساً ولا قمراً ولا وثناً، ولكن أعمالاً لغير الله، وشهوةً خفية".
وعامر بن عبد الله لا يعرف. ورواد يأتي الكلام عليه إن شاء الله تعالى [يعني في آخر كتابه].
22 - (15) [ضعيف مرسل] وعن القاسم بن مُخَيْمِرَةَ؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
"لا يقبلُ الله عملاً فيه مثقالُ حبةٍ من خردلٍ من رياءٍ".
رواه ابن جرير الطبري مرسلاً.
23 - (16) [موضوع] ورُوي عن عدي بن حاتم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"يؤمرُ يوم القيامة بناسٍ من النار إلى الجنة، حتى إذا دَنَوْا منها، واستنشقوا ريحها، ونظروا إلى قصورها، وما أعَدَّ الله لأهلها فيها، نودوا: أن اصرفوهم عنها، فلا نصيبَ لهم فيها، فيرجعون بحسرةٍ ما رَجعَ الأولون بمثلها، فيقولون: ربَّنا! لو أدخلتنا النارَ قبلَ أن تُريَنا الجنةَ، -وفي رواية: قَبل أن تُرِيَنا ما أرَيتَنا من ثوابِك، وما أعدَدْتَ فيها لأوليائِك- كان أَهون علينا. قال: ذاك أَرَدْتُ بكم، كنتم إذا خَلوتُم بارزتموني بالعظائِم، وإذا لَقيتُم الناسَ لَقيتُمُوهم مُخْبِتين، تُراؤون الناسَ بخلافِ ما تُعطوني من قلوبكم، هِبْتُمُ الناس ولم تَهابوني، وأَجْلَلْتُم الناسَ ولم تُجِلُّوني، وتركتم للناس ولم تتركوا لي، اليومَ أُذيقكم أليمَ العذاب، مع ما حُرمتم من الثواب".
رواه الطبراني في "الكبير"، والبيهقي.
24 - (17) [ضعيف] ورُوي عن أبي الدرداء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"إن الاتَّقاءَ على العَمَلِ؛ أشدُّ من العملِ، وإن الرجلَ ليعملُ العملَ فيُكتبُ له عملٌ صالحٌ، معمولٌ به في السر، يُضَعَّفُ أجرهُ سبعين ضعفاً، فلا
...তারা সূর্য, চন্দ্র বা মূর্তির ইবাদত করে না, বরং আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের জন্য আমল করে এবং গোপন প্রবৃত্তির পূজা করে।"
আর আমির ইবনে আব্দুল্লাহ অজ্ঞাত। আর রুওয়াদ সম্পর্কে আলোচনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে [অর্থাৎ তাঁর কিতাবের শেষে]।
২২ - (১৫) [যঈফ মুরসাল] কাসেম ইবনে মুখাইমিরা থেকে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"আল্লাহ এমন কোনো আমল কবুল করেন না যাতে সরিষার দানা পরিমাণ লোক দেখানো (রিয়া) ভাব রয়েছে।"
ইবনে জারীর তাবারী এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২৩ - (১৬) [মাওযু] আদি ইবনে হাতিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"কিয়ামতের দিন একদল মানুষকে জাহান্নাম থেকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তারা যখন জান্নাতের নিকটে পৌঁছাবে এবং তার ঘ্রাণ পাবে, তার প্রাসাদসমূহ দেখবে এবং আল্লাহ তার অধিবাসীদের জন্য সেখানে যা প্রস্তুত করে রেখেছেন তা দেখতে পাবে, তখন ঘোষণা করা হবে: তাদের এখান থেকে সরিয়ে নাও, এতে তাদের কোনো অংশ নেই। তখন তারা এমন আক্ষেপ নিয়ে ফিরে আসবে যার মতো আক্ষেপ নিয়ে পূর্ববর্তীরা কখনো ফেরেনি। তারা বলবে: হে আমাদের রব! আপনি যদি জান্নাত দেখানোর আগেই আমাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাতেন —অন্য বর্ণনায় রয়েছে: আপনার পক্ষ থেকে নির্ধারিত সওয়াব এবং আপনার বন্ধুদের জন্য যা প্রস্তুত করে রেখেছেন তা দেখানোর আগেই— তবে তা আমাদের জন্য অনেক সহজ হতো। তিনি (আল্লাহ) বলবেন: আমি তোমাদের সাথে এটাই করতে চেয়েছিলাম। তোমরা যখন নির্জনে থাকতে তখন বড় বড় পাপের মাধ্যমে আমার মোকাবিলা করতে, আর যখন মানুষের সাথে দেখা করতে তখন অত্যন্ত বিনয়ী হয়ে দেখা করতে। তোমরা মানুষের সামনে তোমাদের অন্তরের বিপরীত বিষয় প্রদর্শন করতে। তোমরা মানুষকে ভয় পেতে কিন্তু আমাকে ভয় পেতে না, মানুষকে সম্মান করতে কিন্তু আমাকে সম্মান করতে না, মানুষের জন্য (পাপ) বর্জন করতে কিন্তু আমার জন্য করতে না। আজ আমি তোমাদের সওয়াব থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।"
তাবারানী 'আল-কাবীর' গ্রন্থে এবং বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন।
২৪ - (১৭) [যঈফ] আবু দারদা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"নিশ্চয় আমল (ত্রুটিমুক্ত রাখা) আমল করার চেয়েও কঠিন। নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি একটি আমল করে এবং তা তার জন্য গোপনে সম্পাদিত একটি নেক আমল হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যার সওয়াব সত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয়। অতঃপর..."
(খণ্ড: ১)
যাঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يزال به الشيطانُ حتى يَذكرهَ للناس ويُعلنَهُ فيُكْتَبُ علانيةً، ويُمحى تضعيفُ أجرهِ كلِّه، ثم لا يزال به الشيطان حتى يذكرَه للناس الثانيةَ، ويُحبُّ أن يذكرَ به ويُحمَدَ عليه، فيُمحى من العلانية، ويُكتبُ رياءً؛ فاتَّقى الله امرؤٌ صانَ دينَه، وإن الرياءَ شركّ".
رواه البيهقي وقال: "هذا من أفراد بقية عن شيوخه المجهولين".
قال الحافظ عبد العظيم: "أظنه موقوفاً. والله أعلم"
(1).
25 - (18) [ضعيف] وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"إذا كان آخرُ الزمان صارَت أُمتي ثلاثَ فِرَقٍ: فرقةٌ يعبدون اللهَ خالصاً، وفرقة يعبدون الله رياءً، وفرقةٌ يعبدون الله لِيَسْتأْكِلوا به الناسَ، فإذا جمعهم الله يومَ القيامة قال للذي يَسْتَأْكِلُ الناسَ: بعزتي وجلالي؛ ما أردتَ بعبادتي؟ فيقول: وعزَّتك وجلالِكَ؛ أَستأْكِلُ به الناسَ. قال: لم يَنفعْك ما جمعتَ، انطلقوا به إلى النار. ثم يقول للذي كان يعبدُه رياءً: بعزتي وجلالي؛ ما أردتَ بعبادتي؟ قال: بعزتِك وجلالِك، رياءَ الناس. قال: لم يَصعدْ إليَّ منه شيء، انطلقوا به إلى النار. ثم يقول للذي كان يعبده خالصاً: بعزتي وجلالي؛ ما أردتَ بعبادتي؟ قال: بعزَّتِك وجلالك؛ أنت أعلم بذلك من أردتُ به؟ أردتُ به ذِكرَك ووجهَك. قال: صدق عبدي، انطلقوا به إلى الجنة".
رواه الطبراني في "الأوسط" من رواية عبيد بن إسحاق العطار
(2)، وبقية رواته ثقات،
--------------------------------------------
শয়তান তার সাথে লেগেই থাকে যতক্ষণ না সে মানুষের কাছে তা উল্লেখ করে এবং তা প্রকাশ করে দেয়, ফলে তা প্রকাশ্য আমল হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তার সওয়াবের সমস্ত দ্বিগুণ অংশ মুছে ফেলা হয়। অতঃপর শয়তান তার পেছনে লেগেই থাকে যতক্ষণ না সে দ্বিতীয়বার মানুষের কাছে তা উল্লেখ করে এবং সে পছন্দ করে যে এর মাধ্যমে তার কথা স্মরণ করা হোক এবং এর ওপর তার প্রশংসা করা হোক। ফলে তা প্রকাশ্য আমল থেকে মুছে ফেলা হয় এবং রিয়া (লৌকিকতা) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। অতএব, সেই ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করুক যে তার দ্বীনকে রক্ষা করে। আর নিশ্চয়ই রিয়া হলো শিরক।
বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এটি বাক্বিয়াহ-এর একক বর্ণনা, যা তিনি তাঁর অজ্ঞাত শায়খদের থেকে বর্ণনা করেছেন।"
হাফেজ আব্দুল আযীম বলেন: "আমি মনে করি এটি মাওকূফ। আল্লাহই ভালো জানেন"
(১)।
২৫ - (১৮) [যয়ীফ] আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"যখন শেষ যামানা আসবে তখন আমার উম্মত তিন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে: একদল যারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, একদল যারা রিয়া বা লোক-দেখানোর জন্য আল্লাহর ইবাদত করবে এবং একদল যারা এর মাধ্যমে মানুষের সম্পদ ভোগ করার জন্য আল্লাহর ইবাদত করবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ যখন তাদেরকে একত্রিত করবেন, তখন যিনি মানুষের সম্পদ ভোগ করতেন তাকে বলবেন: আমার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আমার ইবাদতের মাধ্যমে তুমি কী ইচ্ছা করেছিলে? সে বলবে: আপনার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আমি এর মাধ্যমে মানুষের সম্পদ ভোগ করতে চেয়েছিলাম। তিনি বলবেন: তুমি যা জমা করেছিলে তা তোমার কোনো উপকারে আসবে না, একে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাও। তারপর যিনি রিয়া বা লোক-দেখানোর জন্য ইবাদত করতেন তাকে বলবেন: আমার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আমার ইবাদতের মাধ্যমে তুমি কী ইচ্ছা করেছিলে? সে বলবে: আপনার মর্যাদা ও মহিমার কসম! মানুষের লোক-দেখানো। তিনি বলবেন: আমার নিকট তার কিছুই উন্নীত হয়নি, একে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাও। এরপর যিনি একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করতেন তাকে বলবেন: আমার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আমার ইবাদতের মাধ্যমে তুমি কী ইচ্ছা করেছিলে? সে বলবে: আপনার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আপনি তো আমার চেয়েও ভালো জানেন আমি কী ইচ্ছা করেছিলাম? আমি এর দ্বারা আপনার জিকির এবং আপনার চেহারা কামনা করেছিলাম। তিনি বলবেন: আমার বান্দা সত্য বলেছে, একে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাও।"
তাবারানী 'আল-আওসাত'-এ উবাইদ বিন ইসহাক আল-আত্তার-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন
(২), আর এর বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।
--------------------------------------------